হারাম উপার্জনের ফলে আল্লাহ সব ধরনের বরকত ছিনিয়ে নেন আপডেট: ২০১৮-০১-১৬ ৮:৫৯:০১ এএম এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। ইসলাম মনে করে, আধ্যাত্মিকতার জন্য হালাল খাবার হচ্ছে সর্ব প্রথম ধাপ। সুতরাং মানুষকে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই হালাল রুজি-রোজগার করার পাশাপাশি তাকে অবশ্যই পবিত্র ও হালাল খাদ্য খেতে হবে। কোরআনে কারিমের সূরা মায়েদার ৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'হে মুমিনগণ! তোমরা ওই সব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্যে হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।' এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে এসেছে, একদিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশ্যে কিয়ামতের বর্ণনা প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সাহাবিরা রাসূলে খোদার বর্ণনা শুনে এতো বেশি আলোড়িত হলো এবং কান্নাকাটি করলো যে, সিদ্ধান্তই নিয়ে নিলো ভালো খাবার দাবার ছেড়ে দেবে। আরাম-আয়েশ, নিজের সুখ শান্তিকে হারাম করে ফেলবে। রাতগুলো ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেবে। দিনের বেলা রোজা রাখবে, দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী সঙ্গ ত্যাগ করবে এমনকি এই সিদ্ধান্তের ওপর তারা স্থির অবিচল থাকবে বলে শপথও নিয়েছিল। এ আয়াতে জীবনের ভারসাম্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের ওপর যা কিছু হারাম করেছেন, সেগুলো করা জায়েজ নয়। আবার যেসব বিষয় তোমাদের ওপর হালাল করা হয়েছে সেগুলোকে হারাম করাও জায়েজ নয়। মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধের প্রতি আত্মসমর্পিত এবং আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যেই পদচারণা করে। না তার চেয়ে অগ্রবর্তী হবে না পশ্চাৎবর্তী। মানুষ যে হালালকে নিজেদের জন্যে হারাম করে নিচ্ছে, তা এক ধরনের আগ্রাসন এবং ঐশী সীমা লঙ্ঘনের শামিল। এ আচরণ ঈমানের আত্মার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যা সূরা মায়েদার ৮৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, 'আল্লাহতায়ালা যেসব বস্তু তোমাদেরকে দিয়েছেন, তন্মধ্য থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু খাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।' ক. পার্থিব সুযোগ-সুবিধাগুলো অর্থাৎ ঐশী নিয়ামতগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে ঈমানদার এবং তাকওয়ার মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। খ. তাকওয়া মানে পৃথিবী অর্থাৎ পার্থিব জগতকে উপেক্ষা করা নয় বরং পার্থিব জগতকে যথার্থভাবে ব্যবহার করা পরকালীন কল্যাণের জন্যে। [otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম/Scientific Name: Eurynorhynchus pygmeus (Linnaeus, 1758) সমনাম: Platalea pygmaea, Linnaeus, 1758 বাংলা নাম: চামচঠুঁটো বাটান, ইংরেজি নাম/Common Name: Spoon-billed Sandpiper. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Scolopacidae গণ/Genus: Eurynorhynchus, Nilsson, 1821; প্রজাতি/Species: Eurynorhynchus pygmeus (Linnaeus, 1758)[/otw_shortcode_info_box] ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Eurynorhynchus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতেও রয়েছে কেবল সেই প্রজাতিটি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে চামচঠুঁটো বাটান। বর্ণনাঃচামচঠুঁটো বাটান চামচ-আকারের ঠোঁটধারী অনন্য সৈকত-পাখি। এর দৈর্ঘ্য ১৭ সেমি, ডানা ১০ সেমি, ঠোঁট ২.২ সেমি, চামচ ১.১ সেমি, পা ২.১ সেমি, লেজ ৩.৮সেমি। কাদাপানি থেকে খাবার সংগ্রহকরার জন্য এর চষ্ণুর প্রান্তচামচের মতো গোলাকার। স্বভাবঃচামচঠুঁটো বাটানশীত মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলের সৈকতের কাদাচর ও কিছুটা নোনা লেগুনে এবং গ্রীষ্মে উত্তরের উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করে। প্রজননের জন্য জুলাই-আগস্ট মাসে এরা সাইবেরিয়ায় ফিরে যায়। গ্রীষ্মে সাইবেরিয়ায় এরা বাসা বাধে এবং শীতে মায়ানমারওবাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে বাস করে। বিস্তৃতিঃ প্রতি বছরই পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখির মধ্যে চামচঠুঁটো বাটানের দেখা মিলছে বাংলাদেশের ভোলার চরাঞ্চলে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে মহাবিপন্ন এ পাখিটি যে কোনো সময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পরে। তারা ধারণা করছেন, বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১শ জোড়া চামুচঠুটো বাটান পাখি অবশিষ্ট রয়েছে। এরা শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। আবার প্রজননের জন্য জুলাই-আগস্ট মাসে এরা নিজ ভূমে ফিরে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও গত একযুগে এই পাখিটির দেখা মিলেনি। স্বভাবত কারণেই চামুচঠুটো বাটান পাখি অন্য পাখির ঝাঁকের মধ্যে থাকে। ভিজা বালি ও কাঁদার উপরের স্তর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। ভোলার দমার চর ও চর শাহাজালালে এ পাখিটির বিচরণ রয়েছে। অবস্থা: ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে দুর্লভ পরিযায়ী পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবিধ: বাংলাদেশের এবং পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখি চামচঠূঁটো বাটান বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম সৈকত পাখি। আকারে চড়ুইয়ের সমান এ পাখিটি এ দেশের কম মানুষেরই চেনা প্রাণির তালিকায় পড়ে। কক্সবাজারের পাশে ছোট্ট এক দ্বীপসোনাদিয়াতেই পৃথিবীর ১০ শতাংশ চামচঠুঁটো বাটান বাস করে। ১৯৮৯ সালে এই সোনাদিয়া দ্বীপেই একসাথে ২০২টি এই পাখি গোণা হয়েছিল। গত ২০১০ সালে ৪৯টি পাখি গোণা হয়েছে পাখিশুমারিতে। ২০১২ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দ্বীপে জরিপ চালিয়ে গণনা করা হয়েছে ২৪টি পাখি। আর ২০১৪ সালের জানুয়ারির ২০ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ৭ দিন ব্যাপী ভোলা জেলায় পাখি গণনাতে এই পাখি দেখা গেছে মাত্র ৩টি। অর্থাৎ এই পাখির সংখ্যা কেবল কমছেই। এই মহাবিপন্ন পাখিটির আবাসস্থল ধ্বংস করলে পুরো পৃথিবী যে আমাদের ধিক্কার দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই মহাবিপন্ন পাখিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোনাদিয়ার কাদাচরে লবণচাষ ও চিংড়িঘের করা, পাকা বাঁধ দেওয়া এবং বাংলাদেশের পুঁজিপতি ও চিনা শিল্পপতিদের বন্দর বানানোর পরিবেশ বিধ্বংসী পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে। অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১২টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন। অশ্বিন বিরাথুর: মিয়ানমারের মোল্লা ওমর | মতামত মান্দালে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। মান্দালে বহু সংস্কৃতির শহর হিসাবেই কয়েক শতক ধরেই পরিচিত। সেখানে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সহ-অবস্থানের চিত্র বেশ পুরানো। শহরটি বাণিজ্যিক পরিচিতিও কয়েক শতকের। ব্রিটিশ শাসিত তৎকালীন বার্মাতে মান্দালে শহরটি একসময় রোমান্টিক শহর হিসাবে সাহিত্যে বিবেচিত হয়ে উঠেছিল। ব্রিটিশ কবি ও সাংবাদিক রুডিয়ার্ড কিপ্লিং ১৮৩২ সালে মান্দালে’র রোমান্স নিয়ে “মান্দালে” কবিতাটি লিখেছেন। কিপ্লিং লিখেছেন- কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে মান্দালের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও বার্মার সুন্দরী তরুণীর টানে বার বার ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং মান্দালে কখন যাননি, তিনি কলকাতা থেকে জাপান ভ্রমণ করার সময় মান্দালে থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে মওলমেইন শহরে অনির্ধারিত যাত্রা বিরতি নেন। আর সেখান থেকেই মান্দাল এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য কল্পনা করেন। তবে মান্দালে এর রোমান্স কেবল কবিতায় নয়, শহরটির কুৎসিত চরিত্রটি বিশ্ব সাহিত্যের গল্প অঙ্গনেও জায়গা করে নিয়েছে। বিখ্যাত ব্রিটিশ গল্পকার জর্জ অরওয়েল ১৯২২ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বার্মাতে ছিলেন। তিনি বছরখানেক মান্দালেও বসবাস করেন। অরওয়েল ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার (প্রশিক্ষণ) হিসাবে মান্দালে দায়িত্ব পালন করেন। মান্দালে নিয়ে ওরিয়েলের মন্তব্যটি বেশ মজার। তিনি মান্দালেকে একটি “ডিসএগ্রিবেল” শহর হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন- ‘শহরটি ধূলিমলিন ও অসহনীয় গরম’। তিনি আরও হতাশার সহিত বলেছেন ‘এই মান্দালে’ এর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। পণ্য পাঁচটির নাম ইংরেজি অক্ষর “P” দ্বারা শুরু। পণ্যগুলি হল “Pagodas, Pariahs, Pigs, Priests, and Prostitutes.” । জর্জ অরওয়েল মান্দালে কে নিয়ে ‘বার্মিজ ডায়েরি’ লিখেছেন ১৯৩৪ সালে। জর্জ ওরিয়েল আজ যদি বেঁচে থাকতেন এবং মান্দালেতে ভ্রমণ করতেন, তিনি আজকেও মান্দালে ইংরেজি আদিক্ষর ‘P’ সেই পাঁচটি পণ্য দেখতে পেতেন। তিনি দেখতে পেতেন মান্দালের সেই সোনালী প্যাগোডাগুলি আজ উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের সাক্ষী হয়ে আছে। নিচ-জাতের মানুষগুলি আজও ডলার দুয়েকে শ্রমজীবী মানুষের সারাদিনের শ্রম কিনছে। শুকরছানা গুলি আগের মতই আছে। ধর্মীয় ব্যবসায়ীদের দাপট আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পতিতারাও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতায় উদ্ভাসিত হয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মান্দালে শহরকে কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং ও গল্পকার জর্জ অরওয়েল এর মূল্যায়নে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং মান্দালে না গিয়েই প্রেমে পড়েন, আর গল্পকার জর্জ অরওয়েল মান্দালের প্রতিটি অলিগলিতে যে কুৎসিত চরিত্রটি রোমান্স জাগানিয়া মুখোশ পরে আছে, সেটি অবলোকন করেন। কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং ও গল্পকার জর্জ অরওয়েলের বার্মা আজ মিয়ানমার। তবে মান্দাল মান্দালেই আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নব্য ভু-রাজনৈ্তিক বাস্তবতায় কেবল পঞ্চ “P” থেকে একটি “P” সরে গেছে। প্রতিস্থাপিত হয়েছে ইংরেজি আরেকটি শব্দ “M” দ্বারা। ইংরেজিতে পুরো শব্দটি দাড়ায় “Monk”। মান্দালে শহর থেকেই বার্মিজ জাতিস্বত্তা রক্ষার আন্দোলনের শ্লোগান এখন বার্মিজদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এখানেই অবস্থিত “মা বা থা” এর হেড কোয়ার্টার। “মা বা থা”র বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় “মিয়ানমারের দেশপ্রেমিক সংগঠন”। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটির জন্ম। সংগঠনটির মূল কাজ হচ্ছে জাতিস্বত্তা রক্ষার নামে মুসলিম বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। যার নেতৃত্বে সেসকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে তার নাম অশ্বিন বিরাথু। মিয়ানমারে জাতিস্বত্তা রক্ষার নামে মুসলিম বিরোধী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের নামে যে আন্দোলনটি চলমান সেটির প্রাণপুরুষ বিতর্কিত ধর্মীয় গুরু অশ্বিন বিরাথু। “মা বা থা” আন্দোলনটিকে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয় ২০০১ সালে। আন্দোলনটি “৯৬৯” নামে প্রথম আত্নপ্রকাশ করে। “৯৬৯” দ্বারা গৌতম বুদ্ধের তিনটি বিশেষগুণের প্রতীকীরূপ বুঝানো হয়। যাহোক, ২০০১ সালের দিকে অশ্বিন বিরাথুর উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের নামে আন্দোলন সামরিক সরকার ভালভাবে নেয়নি। সেই সময় মিয়ানমার ছিল বিশ্ব সমাজের বাইরের একটি জনপদ। সামরিক শাসকদের উপর গণতন্ত্র পূর্ণ উদ্ধারের জন্য বর্হির বিশ্ব থেকে কোন ধরনের চাপ ছিল না। এমনকি অং সান সুচির রাজনৈতিকদলের সাংগঠনিক অবস্থাও ছিল নড়বড়ে। ফলে সরকার বিরোধী জনমতকে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ট্যাবলেট খাইয়ে ঘুমিয়ে রাখার তেমন প্রয়োজন সামরিক শাসকদের ছিল না। এমতাবস্থায় যখনই অশ্বিন বিরাথুর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মোড়কে আন্দোলন করতে চাচ্ছিল, তখনই অশ্বিন বিরাথুকে গ্রেপ্তার করে জেলে প্রেরণ করা হয়। অশ্বিন বিরাথুর “৯৬৯” নামের আন্দোলনে যোগদান করে ২০০১ সালের দিকে। তাকে সামরিক শাসক গোষ্ঠী ২০০৩ সালে সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। অশ্বিন বিরাথুর ২৫ বছরের জেল হয়। তবে অশ্বিন বিরাথু জেলে থাকার সময়টিতে “৯৬৯” আন্দোলনের উগ্রবাদী আদর্শ ক্রমশ দেশটির চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর কাঠামোগত নির্যাতনের কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে মিয়ানমারের উপর চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিতে হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হিসাবে ছিল। পাশে ছিল কেবল চীন। চীন মিয়ানমারের জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বড় বড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে একমাত্র অংশীদার ছিল। দক্ষিণ এশিয়াতে চীনের প্রভাবকে মোকাবেলা করতে ভারত যেমন উঠেপড়ে লেগেছে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমারে একটি ঐতিহাসিক সফর করেন। বারাক ওবামার সফরের পরপরই মিয়ানমারের দৃশ্যপট দ্রুতই বদলে যায়। সফরের পরপরই মিয়ানমার দেশটির কয়েকটি বড় প্রকল্প থেকে চীনকে সরিয়ে দেয়। প্রকল্পগুলিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মিয়ানমারের শাসক গোষ্ঠী বিশ্বের তিন মোড়লকে হাত রাখতে চায়। বলা যায়, তিন মোড়ল হাতে রাখার কৌশলে মিয়ানমার সফল। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র লোক দেখানো চাপ প্রয়োগ ছাড়া মিয়ানমারের স্বার্থবিরোধী কোন পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এমতাবস্থায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে তিন মোড়ল চোখ বন্ধ করে রাখে। যাহোক, ওবামার সফরের পর থেকেই মিয়ানমার ক্রমশ গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করে। গণতন্ত্রের জন্য মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা কয়েক দশক ধরেই দানা বাঁধতে থাকে। পাঁচ দশকের সামরিক শাসকের প্রাতিষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য ২০১২ সালের দিকে সারা মিয়ানমারে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বহু এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ হয় এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঠিক তখনি সামারিক শাসক গোষ্ঠী ধর্মীয় ট্রাম্প কার্ড থলে থেকে বের করে খেলতে শুরু করে। মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের ধর্মীয় কার্ড খেলাটি আমাদের দেশের সামরিক শাসক মেজর জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কিংবা পাকিস্তানের সামরিক শাসক জিয়াউল হুকের ধর্মীয় কার্ড খেলার মতই। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য জিয়াউর রহমানের ধর্মের নামে রাজনীতির লাইসেন্স ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রসারের জন্য মৌন সমর্থন দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের সরকার বিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য ক্ষমতার শেষাংশে এসে মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্র নামক জড় পদার্থটিকে ধার্মিক বানিয়ে ফেলেন; অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রয়োগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি দিতে শুরু করেন। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও মুহাম্মদ এরশাদের পদক্ষেপগুলি ছিল মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের আন্দোলনকে মৌন সমর্থন দেওয়ার মত। পাকিস্তানের সামরিক শাসক জিয়াউল হুক ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মতামতকে উপেক্ষা করে সকল স্তরের জনগণের জন্য জাকাতকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছিলেন। বলা যায়, যখনই সামরিক শাসক গোষ্ঠীর ক্ষমতায় থাকার টানাপড়েন শুরু হয়, তখনই থলে থেকে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মত সমাজ ধ্বংসকারী কৌশলগত কার্ডটি বের করে খেলতে থাকে। যাহোক, ২০১২ সালে অশ্বিন বিরাথুকে সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। জেল থেকে বের হয়ে অশ্বিন বিরাথু আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। বিশ্ব মিডিয়া অশ্বিন বিরাথুকে নিয়ে একে একে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে। অশ্বিন বিরাথুকে নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরঞ্জন সংবাদ পরিবেশন করছে বলেও সামরিক সরকার থেকে প্রতিবাদও জানানো হয়েছিল। সামরিক শাসকের সহযোগিতায় উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের নামে মুসলিম বিরোধী আন্দোলনকে মিন্দালের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, মিন্দালে বসবাসকারী অমুসলিমেরাও “মা বা থা” আন্দোলনে সর্বদাই আতঙ্কে থাকেন। এমনকি চীনের ব্যবসায়ীরা যারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিন্দালে বসবাস করছেন তারাও ভয়ে তটস্থ থাকেন। সামরিক শাসক গোষ্ঠীকে অশ্বিন বিরাথু জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রতিদান দিয়েছেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে অশ্বিন বিরাথুর সমর্থক গোষ্ঠী সামরিক শাসক গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করেন। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। তবু অশ্বিন বিরাথুর প্রভাব কমেনি, বরং বহুগুণে বেড়েছে। অং সান সুচির দল ক্ষমতায় আসার পরে অশ্বিন বিরাথু রাখাইনে সফর করে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের সংগঠিত করেছেন। মুসলিম বিরোধী সভা সমাবেশ করে কট্টরপন্থীদের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের জন্য উস্কানি দিয়েছেন। রাখাইনে যখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন অশ্বিন বিরাথু সেখানে ভ্রমণ করেছেন। অথচ কোন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। ২০১৭ সালে মার্চের মাসের দিকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অশ্বিন বিরাথুর বক্তব্য রাখার উপর একটি নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমার সরকার জারি করে। বিশ্ব মিডিয়ার সমালোচনার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই মিয়ানমার সরকার এই পদক্ষেপটি নেয়। বিষয়টি অনেকটা পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়েবার প্রধান হাফিজ সাইদকে গৃহবন্দি করার মতোই। হাফিজ সাইদ মুম্বাই হামলার প্রধান সমন্বয়ক। অথচ সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদ পাকিস্তানে একজন সমাজ সেবকের মর্যাদা পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের চাপে জাতিসঙ্ঘের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদকে পাকিস্তান গৃহবন্দি করে রাখতে বাধ্য হয়। রাখাইনে কয়েক মাসব্যাপী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দ্বারা যে পাশবিক নির্যাতন ও গণহত্যাটি সংগঠিত হয়ে গেল, সেটির পিছনে অশ্বিন বিরাথুর “মা বা থা”র আন্দোলন বড় নিয়ামক। “মা বা থা”র আন্দোলনের কর্মীরা রাখাইনে সামরিক বাহিনীর সহযোগী হয়ে গ্রামের পর গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। অস্ত্র হাতে নিয়ে নির্বিচারের মানুষ হত্যা করেছে। রক্ষা পায়নি নারী-শিশু, এমনকি সন্তানসম্ভবা নারীও। কেবল তাই হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।তাদের ফসলের মাঠ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাখাইনের এমন মানবিক বিপর্যয়ে ভারত ও চীনের মত শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি নীরব ছিল। তাদের নীরবতার পিছনে রয়েছে বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। মিয়ানমার চীনের কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক বন্ধু ও বড় ধরনের বাণিজ্যিক অংশীদার। তাছাড়া চীনের ভিতরেও রয়েছে ধর্মীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। রাখাইনে যে দেশীয় ও আন্তজাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে সেটি এখন বিশ্বের কোন গোয়েন্দা সম্প্রদায় অস্বীকার করে না। ভারতের গোয়েন্দারা দাবী করে আসছে রাখাইনের সন্ত্রাসবাদীদের সাথে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ভারত ও চীন নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থেই নীরব ছিল। এমতাবস্থায় মিয়ানমারে চলমান উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের মুসলিম বিরোধী আন্দোলনটিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক হিসাব থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক করা দুরূহ। আর সেই সুযোগটি নিচ্ছেন অশ্বিন বিরাথুরা। অশ্বিন বিরাথুর ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক দর্শন বহুলাংশে আফগানিস্তানে জঙ্গি শাসক তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের মত। মোল্লা ওমরের আন্দোলনও শুরু হয়েছিল একটি মফস্বল শহরের মাদ্রাসা থেকে। প্রথম দিকে চল্লিশ-পঞ্চাশ জন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার সাথে ছিল। খুব অল্প সময়েরই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের শ্লোগান দিয়ে, ধর্ম ও জাতিস্বত্বা রক্ষার প্রতিশ্রুতি শুনিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের সমর্থন আদায় করে নেয়। অশ্বিন বিরাথুর নেতৃ্ত্বের মধ্যে তেমনি একটি প্রবণতা স্পষ্টই রয়েছে। মোল্লা ওমর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়কে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, বোমায় উড়িয়ে দিয়েছিল বামিয়ানের বৌদ্ধ মুতিটি। রাখাইনেও আমরা অশ্বিন বিরাথুর অনুসারীদের একই ধ্বংসাত্নক কর্মকাণ্ড করতে দেখতে পাই। মোল্লা ওমর ও অশ্বিন বিরাথুর মধ্যে পার্থক্য একটাই। মোল্লা ওমর ক্ষমতা হাতে নিতে সক্ষম হয়েছিল, আর অশ্বিন বিরাথু এখনো ক্ষমতার খেলোয়াড়দের কৌশলী সম্পদ হিসাবে কাজ করছেন। অং সান সুচি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক বৌদ্ধ ভিক্ষু অশ্বিন বিরাথু মিয়ানমার মিয়ানমার সামরিক বাহিনি রাখাইন অঞ্চল সাম্প্রদায়িক-সহিংসতা One Response -- “অশ্বিন বিরাথুর: মিয়ানমারের মোল্লা ওমর” মিয়ানমারের মোল্লা ওমর না হয়ে হবে ‌মিয়ানমারের মোদি’ হবে। জানুয়ারি ৬, ২০১৮ Reply রাট, কালিঞ্জর, গৌড়প্রভৃতি নানাদেশে অনেক আর্য্য ও মিশ্রজাতির প্রবল ছিলেন। কান্তকুজে তোমার রাজপুতগণ ও গৌড়দেশে পালবংশীয়েরা সমধিক বলশালী হইয়া উঠিয়াছিলেন । পালবংশীয় রাজারা এক প্রকার সাম্রাজ্য ভোগ করিয়া চক্রবন্তী পদ গ্রহণ করিয়াছিলেন । ঐ সময়ের মধ্যেই উজ্জয়নীপতি রাজা বিক্রমাদিত্য অনেক বিদ্যার অনুশীলন করেন। হর্ষবৰ্দ্ধন ও বিশালদেব ইহারাও প্রবল রজি হইয়াছিলেন । ঐ সকল ভিন্ন ভিন্ন রাজবংশের ইতিহাস লিখিতে গেলে স্থানাভাব হয় এজন্য আমি নিরস্ত হইলাম। সংক্ষেপে বক্তব্য এই যে, সূৰ্য্যচন্দ্রবংশের স্থলাভিষিক্ত অনেক রাজপুত রাজারা ঐ সময়ে রাজ্য করেন, কিন্তু তাহারা অপেক্ষাকৃত আধুনিক । পৌরাণিক লেখকেরা তাহাদের অধিক যশঃকীৰ্ত্তন করেন নাই । খ্ৰীষ্টীয় ১,২০৬ অব্দে মুসলমানেরা ভারতবর্ষে রাজ্য সংস্থাপন করিয়া পুনরায় ১,৭৫৭ খ্রীস্টাব্দে, ইংরাজ রাজপুরুষ কর্তৃক রাজ্যচু্যত হন । মুসলমানদিগের শাসনকালে ভারতের সম্যক অমঙ্গল ঘটয়াছিল । দেবমন্দির সকল নিপতিত হয়, আৰ্য্যরক্ত অনেক প্রকারে দুষিত হয়, বর্ণশ্রম ধৰ্ম্মের অনেক অবনতি ঘটে, এবং আর্য্য পুরাতন হতিহাসের আলোচনা প্রায় বিনষ্ট হইয়া যায় । সম্প্রতি ইংলণ্ডীয় মাননীয় মহোদয়গণের রাজ্যে আর্য্যদিগের অনেক হুখ সমৃদ্ধি হইতেছে । আৰ্য্যদিগের পুরাতন * রাত দ্বি জ' ভ’ বযান্তি শূদ্র প্রায় জনffধ পঃ । সিন্ধে শুটিং চন্দ্রভাগই কান্তিং কাশ্মীর মণ্ডলং ॥ ভোগ্য স্ত শূদ ব্রা ত্যাদা স্লেচ্ছ তাত্রহ্ম বর্চসঃ । তুল্যকাল ইমে রাজমৃ মেচ্ছ প্রায়শ্চি ভূভূতঃ ৷ ভাগবতং । আপনি যখন কাটিং-পেস্ট করছেন, নির্বাচিত টেক্সটের ওপর কার্সার টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্যান্য সাধারণ কম্পিউটার কাজ করছেন, তখন তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন। কম্পিউটারের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ সহজ করতে সাহায্য করা কম্পিউটার বিজ্ঞানী লরেন্স টেসলার, যিনি কার্সারের মাধ্যমে টেক্সট কাটিং-পেস্ট করা বা টেক্সট নির্বাচন করা সহজ করে দিতে সাহায্য করেছিলেন, তিনি গত রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার পোর্তোলা ভ্যালির বাসায় মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর। কারণ জানা যায়নি, তাঁর স্ত্রী কলিন বার্টন বলেন, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি আগের সাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। জনাব টেসলার সিলিকন ভ্যালির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিতে কাজ করেছিলেন, যার মধ্যে স্টিভ জবসের অধীনে অ্যাপল অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে তার প্যালো আল্টো রিসার্চ সেন্টারে জেরক্সের একজন তরুণ গবেষক হিসাবে তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছিলেন: একটি গ্রাফিকাল ডেস্কটপ মেটাফর এবং একটি মাউসের উপর ভিত্তি করে আজকের কম্পিউটার মিথস্ক্রিয়া শৈলী বিকাশ করতে সহায়তা করেছিলেন। তার জেরক্স ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে (তিনি ১৯৭৩ সালে সেখানে শুরু করেছিলেন), জনাব টেসলার এবং অন্য গবেষক, টিম মট, জিপসি নামে পরিচিত একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন, যা টেক্সট সম্পাদনাকে জটিল করে তুলেছিল এমন বিধিনিষেধমূলক মোডগুলিকে সরিয়ে দিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, জিপসি পর্যন্ত, বেশিরভাগ টেক্সট-এডিটিং সফটওয়্যারগুলিতে টেক্সট প্রবেশ করার জন্য একটি মোড এবং সম্পাদনার জন্য অন্যটি ছিল। মিঃ টেসলার কম্পিউটারের সাথে মিথস্ক্রিয়া সহজ করার জন্য অনুরাগী ছিলেন। অ্যাপলে তিনি কম্পিউটার মাউসের একটিমাত্র বোতাম থাকা উচিত এই ধারণার জন্য দায়ী ছিলেন। অনেক বছর ধরে তার গাড়ির লাইসেন্স প্লেটে লেখা ছিল, 'নো মোডস'। - জেরক্স পার্কে তার প্রথম সাফল্য আসে যখন তিনি একজন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবকে নিয়েছিলেন, তাকে একটি ফাঁকা কম্পিউটার মনিটরের সামনে বসিয়েছিলেন এবং নোট নিয়েছিলেন যখন তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে কীভাবে তিনি কম্পিউটার দিয়ে নথিগুলি রচনা করতে পছন্দ করবেন। তিনি একটি খুব সহজ পদ্ধতির বর্ণনা করতে এগিয়ে যান, যা মিঃ টেসলার তখন মিঃ মটের সাথে বাস্তবায়ন করেছিলেন। জিপসি প্রোগ্রামটি এমন উদ্ভাবনগুলি সরবরাহ করেছিল যেমন - টেক্সটের ব্লকগুলিকে সরানোর জন্য 'কাট অ্যান্ড পেস্ট' এনালজি এবং মাউসের বোতাম ধরে রেখে কার্সরটি টেনে পাঠ্য নির্বাচন করার ক্ষমতা। এটি একটি পূর্ববর্তী জেরক্স সম্পাদক, ব্রাভোর সাথেও ভাগ করে নিয়েছিল, যা 'যা আপনি দেখেন তা আপনি যা পান' মুদ্রণ (বা ওয়াইওয়াইএসআইওয়াইজি), একটি বাক্যাংশ মিঃ টেসলার একটি কম্পিউটার ডিসপ্লে বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন যা মুদ্রিত আউটপুটকে প্রতিফলিত করে। আর জিপসি কম্পিউটারের ফাইলটি মাউস কার্সার দিয়ে দেখিয়ে শুধু স্ক্রিন আইকনে ক্লিক করে খোলার ধারণাটি বাস্তবায়িত করে। এর আগে ফাইলের নাম কমান্ড লাইনে লিখে ফাইল খুলতে হতো। 'জিরোক্সে তিনি অনেক কিছু সহজ করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন, যা ব্যবহারকারীদের ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করবে', বলেছেন জিরোক্স পার্কে মিস্টার টেসলারের সঙ্গে কাজ করা সিলিকন ভ্যালির একজন অভিজ্ঞ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড লিডল। 'তিনি সব সময়ই বেশ মনোযোগী ছিলেন ব্যবহারকারীদের ওপর - যাঁরা কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডিও নন - মিস্টার টেসলার পরে অ্যালান কে পরিচালিত একটি ছোট গবেষক দলে যোগ দেন, যিনি একজন দূরদর্শী কম্পিউটার বিজ্ঞানী, যিনি তথাকথিত ডায়নাবুকের উদ্ভাবন করেছিলেন, যা আজকের দিনের অনুপ্রেরণা হবে - ল্যাপটপ কম্পিউটার। দলটি স্মলটক নামে একটি সফটওয়্যার পরিবেশ তৈরি করছিল, এবং মিস্টার টেসলার সফটওয়্যার উপাদান অনুসন্ধানের জন্য একটি সিস্টেম তৈরি করেছিলেন, যার নাম দেন ব্রাউজার। 'ব্যক্তিগত কম্পিউটিংয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিকের সত্যিকারের অগ্রদূতদের একজন হিসেবে তাঁকে অভিহিত করা যেতে পারে,' মিস্টার কে বলেন। ১৯৭৫ সালে একটি প্যালো আল্টো হোটেলে প্রাথমিক শৌখিন ব্যক্তিগত কম্পিউটার আলতায়ারের একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পরে, মিঃ টেসলার কম খরচের সিস্টেমের আগমনের বিষয়ে তার সহকর্মীদের সতর্ক করতে পার্কে ফিরে আসেন। তার সতর্কতাগুলি বেশিরভাগই উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি কম খরচের কম্পিউটারের জন্য চাপ দিতে থাকেন। ১৯৭৮ সালে অ্যাডেল গোল্ডবার্গ এবং ডগলাস ফেয়ারবের্নের সাথে, তিনি নোটটেকার নামে একটি বহনযোগ্য মেশিন ডিজাইন করেছিলেন, ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে অসবর্ন, কায়প্রো এবং কমপ্যাক মেশিনের মতো ল্যাগজেবল কম্পিউটারের অগ্রদূত। তবে জেরক্স নোটটেকারকে বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রত্যাখ্যান করেছিল; কেবল কয়েকটি প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছিল। মিস্টার টেসলারই জবসকে জেরক্স আল্টো কম্পিউটার এবং স্মলটক সফটওয়্যার সিস্টেমের বিখ্যাত প্রদর্শনীটি দিয়েছিলেন যা অ্যাপলের ডিজাইনকে প্রভাবিত করবে - লিসা পার্সোনাল কম্পিউটার এবং তারপরে এর ম্যাকিনটোশ। মিস্টার টেসলার ১৯৮০ সালে জেরক্স ছেড়ে অ্যাপলে মিস্টার জবসের জন্য কাজ করার জন্য চলে যান। - অ্যাপল লোকেরা যে প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করছিল তা আমাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছিল, - মিস্টার টেসলারকে উদ্ধৃত করে ২০০৫ সালে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ম্যাগাজিন আইইইই স্পেকট্রাম-এ প্রকাশিত একটি প্রোফাইলে বলা হয়েছিল। 'এমন প্রশ্ন জেরক্সের নির্বাহীদের করা উচিত ছিল কিন্তু তারা করেনি' - লিসা এবং ম্যাকিনটোশের উন্নয়নে সহায়তা করার পাশাপাশি, মিঃ টেসলার অ্যাপল -এর অ্যাডভান্সড টেকনোলজি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন, যার পরে তিনি নিউটন হ্যান্ডহোল্ড কম্পিউটারের নকশার নেতৃত্ব দেন, যদিও তা ব্যর্থ হয়। গ্রুপটি ওয়াই-ফাই ওয়্যারলেস স্ট্যান্ডার্ড হয়ে ওঠা প্রযুক্তির অনেক কিছু তৈরিও করে, এবং মিঃ টেসলার অ্যাপল যৌথ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন এবং আরও দুটি কোম্পানির সাথে অ্যাকর্ন রিসক মেশিন তৈরি করে, নিউটনের জন্য একটি মাইক্রোপ্রসেসর সরবরাহ করার জন্য একটি অংশীদারিত্ব। যদিও অ্যাপল শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগে তার হোল্ডিংগুলি বিক্রি করে দিয়েছিল, তবে এটি আজ স্মার্টফোনের চিপগুলির জন্য বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে চলেছে। অংশীদারিত্বের দ্বারা তৈরি চিপ আর্কিটেকচারটি আজ বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইন। জনাব টেসলার ১৯৯৭ সালে একটি স্টার্টআপের জন্য অ্যাপল ছেড়েছিলেন এবং পরে অ্যামাজন এবং ইয়াহু উভয়ের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে ইয়াহু ছেড়েছিলেন এবং জেনেটিক্স তথ্য সংস্থা ২৩এন্ডমিতে পণ্য ফেলো হিসাবে এক বছর কাটিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি একজন স্বাধীন পরামর্শক ছিলেন। লরেন্স গর্ডন টেসলার ১৯৪৫ সালের ২৪ এপ্রিল ব্রঙ্কসে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইসিডোর এবং মাতা মুরিয়েল (ক্রেখমার) টেসলার। তার পিতা ছিলেন একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট। ১৯৬০ সালে ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্সে পড়ার সময় মি. টেসলার মৌলিক সংখ্যা উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তিনি তার এক শিক্ষককে এটি দেখিয়ে মুগ্ধ হন। পরে টেসলার স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি শিক্ষককে বলেছিলেন যে পদ্ধতিটি একটি সূত্র; শিক্ষক উত্তর দেন, 'না, এটি আসলে একটি সূত্র নয়, এটি একটি অ্যালগরিদম, এটি কম্পিউটারে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। - 'কম্পিউটার কোথায় খুঁজে পান?' টেসলার জিজ্ঞাসা করেন। শিক্ষক বললেন, প্রথমে তাঁকে একটা প্রোগ্রামিং ম্যানুয়াল দিয়ে কম্পিউটার কোথায় পাওয়া যাবে, তা বের করে ফেলবেন। একদিন মি. টেসলার স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় বসে পড়ছিলেন তাঁর ম্যানুয়ালের নির্দেশনা, যেখানে সবচেয়ে নিচু মানের আর্কিন মেশিন প্রোগ্রামিং ভাষায় আইবিএম ৬৫০ মেইনফ্রেম প্রোগ্রামিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক ছাত্র টেসলারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি সেটা দিয়ে কী করছেন?''আমি প্রোগ্রামিং শিখছি', জবাবে টেসলার বললেন। অন্য ছাত্র টেসলারকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল, যেটা হাইস্কুলের ছাত্রদের প্রোগ্রামিংয়ের সময় দিয়েছিল। তিনি কলেজে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রোগ্রাম করতে শেখানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে আধা ঘন্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ব্যবহার করতে সক্ষম ছিলেন। তিনি ১৯৬৫ সালে গণিতের ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হন স্ট্যানফোর্ডে। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত কম্পিউটিংয়ের পূর্বনির্ধারিত বেশ কয়েকটি প্রাথমিক প্রকল্পে জড়িত হয়েছিলেন। জনাব টেসলার নোবেল বিজয়ী জশুয়া লেডারবার্গের জন্য শিক্ষার্থী প্রোগ্রামার হিসাবে কাজ করার সময় লিনক নামে পরিচিত একটি কম্পিউটারে প্রাথমিক প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। এমআইটি পদার্থবিদ ওয়েসলি এ ক্লার্ক দ্বারা ডিজাইন করা লিনককে প্রথম সত্যিকারের ব্যক্তিগত কম্পিউটার বলে অনেক কম্পিউটার ইতিহাসবিদ বিশ্বাস করেন। মিঃ টেসলারের প্রথম স্টার্টআপ উদ্যোগ ছিল স্ট্যানফোর্ড ক্যাম্পাসের পাশের একটি শপিং মলে অবস্থিত একটি প্রোগ্রামিং পরামর্শক সংস্থা। তিনি স্ট্যানফোর্ড ফুটবল গেমসে শিক্ষার্থীদের রুটিং বিভাগের অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি সিস্টেম তৈরি করতে একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করেছিলেন। এটি ছিল, মিঃ কে বলেন, আধুনিক গ্রাফিকাল ডিসপ্লেগুলি কীভাবে প্রোগ্রাম করা হবে তার একটি অগ্রদূত। ১৯৬৯ সালে স্ট্যানফোর্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবরেটরির আরও দুই বিজ্ঞানী মিঃ টেসলার একটি ছোট কম্পিউটারের জন্য একটি নকশা তৈরি করেছিলেন এবং ক্যালকুলেটর সংস্থা ফ্রিডেনকে এটি প্রস্তাব করেছিলেন। যদিও কৌতূহলী, কোম্পানিটি এই ধারণা অনুসরণ করতে অস্বীকার করে। মিঃ টেসলার কিছু সময়ের জন্য কম্পিউটিং ছেড়ে দেন এবং স্বল্পস্থায়ী বিবাহ থেকে তার কন্যাসহ একটি অরেগন কমিউনে চলে যান। কাজের অভাব তাকে বে এরিয়ায় ফিরে আসেন, যেখানে তিনি জেরক্স পার্কে যোগ দেবেন। মিসেস বার্টন, একজন ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী এবং তার মেয়ে লিসা টেসলার ছাড়াও, তিনি চার্লস এবং অ্যালান নামে দুই ভাইয়ের সাথে বেঁচে আছেন। স্ট্যানফোর্ডে এবং তার পরে মিঃ টেসলার যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬০ এর দশকের বিরোধী সংস্কৃতি উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন। তিনি একটি বিকল্প স্কুলে অংশগ্রহণ করেছিলেন, মিড-পেনিনসুলা ফ্রি ইউনিভার্সিটি, যেখানে তিনি ক্লাসগুলি পড়াতেন, যার মধ্যে একটি ছিল শুধুমাত্র বৃষের জাতকদের জন্য। ১৯৬৮ সালে তিনি একটি ক্লাস পড়াতেন যার শিরোনাম ছিল 'হাউ টু এন্ড দ্য আইবিএম মনোপলি'। - বছর পরে, জেরক্সের একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসাবে, তিনি তার কর্মী শিকড়ের কথা স্মরণ করেছিলেন, তার প্রাক্তন সহকর্মী মিসেস গোল্ডবার্গ বলেছিলেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জেরক্স গ্রাহক ছিল, এবং যখন এজেন্সির কর্মীরা একটি সভায় উপস্থিত হন, তখন মিঃ ট্রেনার একটি টেস কোট এবং একটি ফেডোরা পরে উপস্থিত ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন বাংলা সাহিত্য পঠন-পাঠনের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিভাগ ছিল না। সংস্কৃত ও বাংলা নিয়ে ছিল একটি বিভাগ। এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলাকে স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা পেতে সময় লেগেছে। ব্যাপারটা যে খুব অস্বাভাবিক তা বলা যাবে না, ইংল্যান্ডেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পঠনীয় হতে ইংরেজি সাহিত্যকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে প্রাচীনের কদর আছে, নবীনের নেই, সমসাময়িকের তো থাকারই কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারটা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকারের। এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতিতে। এবং এখানে সর্বস্তরে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান চলবে, এটাই তো ছিল প্রত্যাশিত। কেবল প্রত্যাশিত বলি কেন, সেটাই তো হওয়ার কথা ছিল স্বাভাবিক। তাছাড়া বাঙালির সংখ্যা তো কম নয়। পৃথিবীব্যাপী হিসেব করলে দেখা যাবে বাঙালির সংখ্যা পঁচিশ কোটির কম হবে না। এত মানুষের মাতৃভাষা যেখানে বাংলা এবং যেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে গেছে, সেখানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা কেন মাধ্যম হবে না। চ্যালেঞ্জ? অবশ্যই মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ তো বটেই। কিন্তু দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাজার হাজার নৃশংস সদস্যকে বিতাড়ন করাটাও তো খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জই ছিল বৈকি। সেই প্রায় অসম্ভবকে তো আমরা সম্ভব করেছি। তাহলে? সর্বস্তরে বাংলা ভাষার এই চ্যালেঞ্জটা আমরা নিচ্ছি না কেন? নিচ্ছি না এই জন্য যে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমরা পরিচালিত ছিলাম যে সমষ্টিগত স্বপ্নের তাড়নায় সেই স্বপ্নটা আজ আর নেই। আজ আমরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত হয়ে পড়েছি এবং সন্দেহ কী যে ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রচলিত যে ব্যবস্থা রয়েছে, অর্থাৎ মোটামুটি ইংরেজি মাধ্যমের ব্যবস্থা, সেটাকে গ্রহণ করাই ভালো। তদুপরি ব্যবস্থাটা তো বদলাচ্ছে না। আর বদলাচ্ছে না যেহেতু, তাই সেখানে মাথা না কুটে যা পাওয়া যাচ্ছে তার সদ্ব্যবহার করাটা যে ভালো, এ সত্যকে তো সত্য বলে মানতেই হবে। বাংলাদেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। কিন্তু এদের মধ্যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাটাই বেশি। এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনোটিতেই বাংলার জন্য স্বতন্ত্র কোনো বিভাগ নেই। অবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ১৯২১ সালে যেমনটা ছিল তার তুলনায়ও শোচনীয়। কিন্তু যদি স্বতন্ত্র বিভাগ থাকত তাহলেই বা অবস্থাটাকে আশাব্যঞ্জক বলা যেত কি? মোটেই না। হিসাবটা সোজা, কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যদি জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা সাহিত্যে পাঠদানের জন্য আলাদা একটা বিভাগ খুলে বসত তাহলে পরিণতিটা কেমন দাঁড়াত, সেটা অনুমান করা দুঃসাধ্য নয়। যদিও বাস্তবতাটা দুঃখজনক ঠেকে বৈকি। একেবারে নিশ্চিত কণ্ঠেই বলা যায় যে, বাংলা সাহিত্যে পড়ার জন্য একজনও পড়ুয়া পাওয়া যেত না। যার দরুন বিভাগের পাততাড়ি অচিরেই গুটিয়ে ফেলতে হতো। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা এমনকি পদার্থবিজ্ঞান পড়তেও যায় না, তারা যায় বিবিএ ও কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে; লাখ লাখ টাকা পানিতে ফেলে তারা বাংলা সাহিত্যের মতো একটা অকার্যকর বিষয় পড়তে যাবে কোন দুর্বুদ্ধিতে, শুনি? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা না হয় বাদই থাক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে শিক্ষা অতটা দুর্মূল্য নয়, সেখানেই বা বাংলা পড়ার জন্য কতজন আগ্রহ দেখায়। এখন নয়, আজ থেকে পঁচিশ বছর আগের ঘটনা মনে পড়ে। ভর্তি কমিটি একজন ছাত্রীকে বাংলায় ভালো নম্বর পেয়েছে দেখে বাংলা বিভাগে ভর্তির কথা বলেছিল, শুনে মেয়েটি কথা নেই বার্তা নেই, সবার সামনে সশব্দে কেঁদে ফেলেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল যে, প্রস্তাবটি তার কাছে নিতান্তই অপমানকর ঠেকেছে; কেননা বাংলা সাহিত্যে সে তো ঘরে বসেই পড়ে নিতে পারে, তার জন্য আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে কেন? এ ঘটনাকে ব্যতিক্রম বলা ঠিক হবে না; তথাকথিত ভালো ছেলেমেয়েরা পারতপক্ষে বাংলায় ভর্তি হতে চায় না। অথচ এমন কি পাকিস্তান আমলেও এমনটা ছিল না। তখন অনেক মেধাবান ব্যক্তি বাংলা পড়েছেন এবং কালে যশস্বী হয়েছেন। শহীদ মুনীর চৌধুরী প্রথমে ইংরেজি পড়াতেন, পরে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দরুন কারাবন্দি অবস্থায় বাংলায় এমএ পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে বাংলা বিভাগে চলে যান। কিন্তু তাই বলে আজও যে বাংলায় পাস করা ছাত্রছাত্রীরা সামাজিকভাবে উচ্চসম্মান পেতেন, এমন নয়। মুনীর চৌধুরীর নিজের মুখে শোনা একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে। এক বিয়ে বাড়িতে ভদ্র মহিলারা নিজের স্বামীদের বিষয়ে আলাপ করছিলেন, মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী অর্থাৎ আমাদের লিলি ভাবীর স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন শুনে মহিলারা কেউ প্রথমে একটু নড়ে-চড়ে বসেছিলেন, কিন্তু কোন বিষয় পড়ান সেই প্রশ্নের জবাবে ভাবী যখন জানালেন বাংলা তখন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেরে বলেছেন, ‘বাংলা, তাই বলুন।’ নিতান্ত আত্মরক্ষার দায়ে তখন ভাবীকে বলতে হয়েছেল যে, একসময় তার স্বামী ইংরেজি বিভাগেই অধ্যাপনা করতেন। কিন্তু সেটা তো ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক দুঃসময়ের ঘটনা, এখন তো পরিস্থিতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটার কথা। কিন্তু ঘটেনি; বরঞ্চ উল্টোটাই ঘটেছে। না, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু করার কথা আমরা বলছি না, তবে সেখানে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে এক শ’ নম্বরের বাংলা পাঠদানের ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মনে করি। তাতে করে শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। বাংলা ভাষার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন না হয়ে কিছুটা হলেও বাংলা চর্চা করলে শিক্ষার্থীরা যুক্ত থাকতে পারবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এবং সেই সঙ্গে সমাজের সঙ্গেও। বিচ্ছিন্নতা আজকে সমাজে একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা সর্বত্র উৎসাহিত হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় খুব ভালো একটা কাজ করবে যদি দায়িত্ব নেয় বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে তরুণদের সাহায্য করতে। শিল্পী জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে একদিন কথা হচ্ছিল তাঁর আর্ট কলেজে ছাত্রভর্তি নিয়ে। যারা আগে থেকেই ছবি আঁকা কিছুটা শিখে এসেছে তাদের অগ্রাধিকার দেন কি-না এ প্রশ্নের জবাবে শিল্পী তাঁর অতি প্রসন্ন হাসিটি দিয়ে বলেছিলেন, যারা কিছু শিখে আসে তাদের নিয়েই বরং বিপদ হয়। দায়িত্ব পড়ে যেটুকু শিখে এসেছে আগে সেটা ভুলিয়ে তবে কাজ করার। ফাঁকা জমি বরং ভালো, আগাছার চেয়ে, তিনি জানিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ের কাঁধে ওই দায়িত্বটা সবসময়ই থাকে, দায়িত্ব থাকে বাড়ি থেকে ছেলেমেয়েরা উল্টোপাল্টা যা শিখে আসে সেটা ভুলিয়ে তবে নতুন জ্ঞানের কর্ষণ শুরু করার। সমাজ ও গৃহ এখন মহোৎসাহে বিচ্ছিন্নতা শেখাচ্ছে এবং মানুষকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন করে রাখছে, বিদ্যালয়ের পক্ষে তাই সংলগ্ন হওয়ার শিক্ষাদান একটি প্রাথমিক কর্তব্য বটে। আর সংলগ্ন হওয়ার শিক্ষাদানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে মাতৃভাষার চর্চা। সর্বস্তরে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান যে দরকার এটা তো সর্বজনস্বীকৃত। শিক্ষাকে সর্বজনীন করা, তাকে সমাজ ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ব্যাপারটা তো রয়েছেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মাতৃভাষার মাধ্যমে যে শিক্ষা লাভ করা যায় সেটা হয় স্বাভাবিক, চলে যায় গভীরে, অংশ হয়ে যায় সত্তার। আর সর্বজনীন শিক্ষার কথা তো ভাবাই সম্ভব নয় মাতৃভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে। ভাষা সেখানে মাধ্যম থাকে না, পরিণত হয়ে শিক্ষাতেই। শিক্ষা যে সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে-এ বিষয়ে দ্বিমত নেই; কিন্তু মাতৃভাষা পারে অন্তত ভাষা ব্যবহারের ব্যাপারটাতে একটা সমতল প্রতিষ্ঠা করতে। এ রকম কথা বলা হয় যে, মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করলে আমরা প্রাদেশিক হয়ে যাব এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। কথাটা সত্য নয়। বিশ্বে যেসব অগ্রসর জাতি রয়েছে তারা কেউই মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে অন্যের ভাষায় বিদ্যা চর্চা করে না, অথচ তাদের প্রাদেশিক বা জগৎ বিচ্ছিন্ন বলার কোনো উপায়ই নেই। বললেও তা নিতান্ত হাস্যকর শোনাবে। আসল সত্যটা হলো ওইসব জাতি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত, তাই তাদের অতটা সম্মান, উন্নতি ও সম্মান লাভ কিছুতেই সম্ভব হতো না, যদি তারা মাতৃভাষাকে ত্যাগ করে অন্যভাষার আশ্রয়প্রার্থী হতো। অন্যভাষার দ্বারস্থ হওয়া স্বাধীনতার চিহ্ন নয়, অধীনতার চিহ্ন বটে। আমরা যে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারছি না সেটা প্রমাণ করে যে, এখনো আমরা পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারিনি, পরাধীনই রয়ে গেছি এবং আমাদের ক্ষমতা নেই যে নিজের পায়ে দাঁড়াব। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে অন্যকে আশ্রয় করে চলার চেষ্টা খঞ্জের সাজে, সুস্থ মানুষের জন্য ওটি নিতান্তই অশোভন। অশোভনইবা বলব কেন, ওটি তো সামর্থ্য না থাকারই প্রমাণ। মাতৃভাষাকে ত্যাগ করে অবশ্যই ভীষণভাবে গ্রাম্য হয়ে যাচ্ছি আমরা, আন্তর্জাতিক না হয়ে। আন্তর্জাতিকতার প্রথম কথাটাই হলো নিজের পায়ে দাঁড়ানো; যে পরগাছা তার আবার আন্তর্জাতিকতা কী, সে তো ঝড়ের মুখে উপড়ে পড়বে এবং উড়ে যাবে খড়কুটোর মতো। মাতৃভাষার যে প্রচলন চাই সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু কাজটা কীভাবে করা যাবে, বড় প্রশ্ন তো সেটাই। করতে হলে প্রথমে যা দরকার সেটা হলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বলা যায় অঙ্গীকার। এটা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি ছিল; কিন্তু এখন নেই। ওই অঙ্গীকারটিকে ফেরত আনা চাই। কিন্তু আনা যাবে কী করে? এও তো সেই নটে গাছের কাহিনী। হ্যাঁ, আসল কারণ এই যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত রয়েছে তারা ওই অঙ্গীকার ভুলে গেছে। ভোলার প্রধান কারণ তারা মনে করে, শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি চালু রাখলে তাদের বিদেশমুখো ছেলেমেয়েদের খুব সুবিধা হবে, দ্বিতীয় কারণ, সেটাকে প্রধানও বলা চলে, তাদের ভেতর দেশপ্রেমের নিদারুণ অভাব দেখা দিয়েছে। মাতৃভাষার ব্যবহার না করতে পারাটা প্রমাণ করে যে, মুক্ত হব কী, আমরা এখন পর্যন্ত স্বাধীনই হইনি। বিশ্ব পুঁজিবাদ যে আমাদের ওপর প্রভুত্ব করছে তাতে যেমন প্রমাণ হয় যে আমরা স্বাধীন নই, মাতৃভাষার অপ্রচলনও কিন্তু সেই একই সংবাদ ঘোষণা করছে, ভিন্নভাবে যদিও। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা-সব ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা চাই এবং সেই স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে বিকল্প দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা, যে শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতাকে জনগণের কাছে নিয়ে আসবে। রাষ্ট্র তখন জনগণের হবে এবং জনগণের মাতৃভাষাতে শিক্ষাসহ সব কাজ সম্পন্ন হবে। এ কাজটা কারা করবেন? করতে হবে দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীদের। তারা শুরু করবেন, শেষ করবেন জনগণ। বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বৈপ্লবিক ঐক্য গড়ে উঠবে, যে ঐক্য নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতাকে জনগণের হাতে ফেরত দেবে। কিন্তু এটা তো সময়সাপেক্ষ কাজ। ইতিমধ্যে কী করা যাবে এবং করতে হবে? করতে হবে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ। এখানেও বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্বটাই হবে প্রধান। অন্যসব কাজের মধ্যে একটি হবে বই লেখা। জ্ঞানের বই এবং বিজ্ঞানের বই চাই, যেমন চাই সাহিত্যের বই। সাহিত্যের বইয়েও দরকার হবে দার্শনিকতা ও ইতিহাস চেতনার। যাতে পৃথিবীটাকে জানতে ও বুঝতে সুবিধা হয়। বই নানা রকমের হয় । কোন বইয়ের কী বিষয় তাও জানা দরকার। অনুবাদ চাই, অন্যভাষার বই যেমন বাংলায় অনুবাদ হবে, তেমনি বাংলা বইও অনূদিত হবে বিভিন্ন ভাষায়। এই আদান-প্রদানে আমাদের মাতৃভাষা ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। দরকার হবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। কেবল হালকা বইয়ের নয়, গভীর বইয়েরও। সে জন্য একটি গ্রন্থাগার আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। এর জন্য কেন্দ্রীয় উদ্যোগ না হলেও চলবে। স্থানীয় উদ্যোগই যথেষ্ট। পাড়ায়-মহল্লায় যে শিক্ষিত ব্যক্তিরা আছেন তারাই পারেন স্থানীয়ভাবে গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের অধীনে যেসব ভবন আছে সেখানে গ্রন্থাগারের জন্য জায়গা চাওয়া যেতে পারে। উদ্বুদ্ধ হলেও ব্যক্তিও ছেড়ে দিতে পারেন বাড়ির বাড়তি কোনো ঘর। গ্রন্থাগারকে ভ্রাম্যমাণ হিসেবে বিবেচনা করার উপায় নেই, তাকে অবশ্যই হতে হবে স্থানীয় ও যতটা সম্ভব স্থায়ী। প্রত্যেকটি শিক্ষায়তনে যে গ্রন্থাগার থাকবে সেটা তো বলাই বাহুল্য। গ্রন্থাগার বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে কিশোর-কিশোরীদের, বই যাদের সবচেয়ে উপকারী বন্ধুতে পরিণত হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বই সংগ্রহ করা কঠিন, সংগৃহীত বই সংরক্ষণ করাটাও সহজ নয়-এ ব্যাপারে গ্রন্থাগারের যে ভূমিকা তার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কেবল বই কেন, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বহুবিধ আয়োজন প্রয়োজন। গান, নাটক, আবৃত্তি, প্রদর্শনী, খেলাধুলা, পত্রিকা প্রকাশ, দেয়াল পত্রিকা তৈরি করা-সব কিছুই চলবে। কিন্তু কোনো উদ্যোগই উদ্দেশ্যহীন হবে না। পেছনে থাকবে একটি আদর্শ, সেটা হলো দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিকতা তৈরি করা। যাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটতে পারে। রাজনীতিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে আসছি। রাজনীতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনীতি তো গভীর হবে না, যদি না তার অভ্যন্তরে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে থাকে। সমাজে আমরা পরিবর্তন চাই, তার জন্যও দরকার সাংস্কৃতিক কাজ। যারা নতুন সমাজ ও পরিবর্তিত রাষ্ট্র গড়তে চান, প্রতিষ্ঠা করতে চান যথার্থ গণতন্ত্র সংস্কৃতিকে তারা কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না। চাই কি প্রতি বছর একটি সাংস্কৃতিক, লংমার্চের আয়োজন করা যেতে পারে। যাতে অংশগ্রহণ করে সংস্কৃতিকর্মীরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হবেন, আদান-প্রদান করবেন অভিজ্ঞতার, উদ্বুদ্ধ করবেন এবং উদ্বুদ্ধ হবেন এবং সমৃদ্ধ হবেন বিভিন্নভাবে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নবজাগরণের জন্য এ ধরনের একটি কর্মসূচির উপযোগিতা রয়েছে। আমরা রেনেসাঁর কথা শুনেছি, ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে তেমন একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়। তা কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছিল; কিন্তু সেটা যথার্থ রেনেসাঁ নয়। পরাধীন দেশে এবং জনগণকে বাইরে রেখে রেনেসাঁ এটা সম্ভব নয় এবং সেটা ঘটেওনি। কিন্তু ঘটা দরকার। একটি সাংস্কৃতিক মহাজাগরণের জন্য প্রতীক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। মাতৃভাষার মাধ্যমে সর্বস্তরে শিক্ষাদানের যে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করলাম সেটি আসবে ওই মহাজাগরণের পথ ধরে এবং তাকে সম্ভব করে তোলার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করার মধ্য দিয়ে। সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আমাদের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হওয়া দরকার। এটি একটি মস্ত চ্যালেঞ্জ অবশ্যই, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ জয়ের চেয়ে কম নয়, সহজও নয়; কিন্তু এ যুুদ্ধেও আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে, যদি আমরা মুক্তি চাই। আসলে এ ক্ষেত্রে পরাজয়ের কোনো স্থান বা সুযোগ নেই, যেমন ছিল না একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। প্রকৃতপক্ষে এটা তো আমাদের অসম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধেরই পরবর্তী পদক্ষেপ। সংবাদ Leave a Reply মরাল | ছবি: ইন্টারনেট মরাল দুর্লভ পরিযায়ী পাখি হলেও একটা সময়ে সুলভ দর্শন ছিল আমাদের দেশে। হালে দেশে খুব একটা দেখা যায় না। কালেভদ্রে দেখা মেলে শীতে। তখন পরিযায়ী হয়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এরা আমাদের দেশে আসে। ওই সময় চলার পথে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট পাড়ি দিতে হয় ওদেরকে। শীত মৌসুমে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নেয়। তবে ওদের বিচরণক্ষেত্র অবশ্যই নির্জন এলাকা হওয়া চাই। যার ফলে খুব কমই পাখি দেখিয়েদের নজরে পড়ে। এরা ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। প্রধান খাবার: ধান ও জলজ উদ্ভিদের কচিডগা। প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুন। বাসা বাঁধে তিব্বতের হিমালয় অংশের জলাভূমির কাছাকাছি। সমতল ভূমি থেকে যার উচ্চতা প্রায় চার হাজার তিনশ’ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। মরাল নরম মাটিতে পা দিয়ে চেপে চেপে খোদল বানিয়ে তাতে পালক বিছিয়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ে পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৮-৩০ দিন। ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় বনিকদের আগমনঃ জলপথ আবিস্কারঃ ১৪৮৭ সালে পর্তূগীজ নবিক বার্থোলোমিউ দিয়াজ উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে পূর্বদিকে আসার পথ আবিস্কার করেন। ফলে ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা ভারতের কালিকট বন্দরে দিয়াজের সহায়তায় আসেন এবং ভারবর্ষ আবিস্কার করেন। পর্তুগীজদের আগমঃ ১৫১০ সালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসে। ১৫১৭ সালে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে চট্টগ্রাম ও সপ্তগ্রামে। ১০০ বছর তাদের বাণিজ্য একচেটিয়া ছিল। ওলন্দাজদের আগমনঃ নেদারল্যাণ্ডের বাসিন্দারা ওলন্দাজ বা ডাচ নামে পরিচিত। ১৬০২ সালে তারা ‘ডাচ-ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী’ গঠন করে। দিনেমারদের আগমনঃ ১৬১৬ সালে৬ডেনমার্কের লোকেরা ‘দিনেমার ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী’ গঠন করে। ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের নিকট কুঠি বিক্রয় করে চলে যায়। ইংরেজদের আগমনঃ ১৬০০ সালে তারা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী গঠন করে। ১৬১২ সালে তারা সুরাটে কুঠি নির্মঅণ করে। ১৬৩৩ সালে শাহজাহান বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেয়। ইংরেজরা পিপিলাই নামক গ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৬৯০ সালে জব চার্নক কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম ক্রয় করে এবং তাদের রাজার নামানুসারে ‘ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ নির্মাণ করে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। ১৭৬৪ সালে চট্টগ্রাম, মেদিনীপুর ও বর্ধমান জেলা কোম্পানীকে হস্তান্তরের শর্তে মীর কাসিম নবাব হন। ঐ বছরই বক্সারের যুদ্ধ হয় এবং যুদ্ধে কাসিম পরাজিত হন। ১৭৬৪ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। প্রকৃতপক্ষে দিল্লীর সম্রাট শাহ আলম এই খাজনার বিনিময়ে বাংলার মুঘল অধিকার ইংরেজদের নিকট বিক্রি করে দেয়। ফরাসীদের আগমনঃ ১৬৬৪ সালে ফরাসী বনিকগণ ‘ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী’ গঠন করে উপমহাদেশে আসে। বাংলার চন্দননগরে এবং চেন্নাইয়ের পন্ডিচেরীতে তারা কুটি তৈরী করে। ইংরেজদের সাথে প্রবল প্রতিদ্বন্দিতায় টিকতে না পেরে ১৭৬০ সালের পরে তারা ভারত ত্যাগ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারত শাসনঃ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর মীরজাফর বাংলার নবাব হন। তিনি ছিলেন নামমাত্র নবাব। প্রকৃত ক্ষমতা ছিল ইংরেজদের হাতে। ইংরেজরা ১৭৬০ সালে মীরজাফরকে সরিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে বাংলার নবাবী দান করে। কিন্তু শীঘ্রই স্বাধীনচেতা মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের দ্বন্দ বাধে। অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং দিল্লীর সম্রাট শাহ আলমের সহায়তা পাওয়া সত্ত্বেও মীর কাশিম ‘বক্সারের যুদ্ধে’ ইংরেজদের নিকট পরাজিত হন। লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বিতীয়বারের মত বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হলে বাংলায় সরাসরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন চালুর ব্যবস্থা করেন। লর্ড ক্লাইভ ও দ্বৈত শাসন (১৭৬৫-১৭৬৭): ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। ক্ষমতালোভী নবাব বংশধর ও অনুচরদের তুষ্ট রেখে কোম্পানীর আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রচলন করেন। এ নীতি অনুযায়ী রাজস্ব আদায় ও দেশরক্ষার ভার কোম্পানীর হাতে রাখা হয় এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা নবাবের হাতে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থা হতে নবাবের কর্তৃত্ব খর্ব করা হয় এবং জনগণের উপর বিভিন্ন ধরনের কর আরোপের ফলে জনগণের দূর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব হিসেবে পরবর্তীতে বাংলায় ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ সংঘটিত হয়। লর্ড ক্লাইভ বাংলার প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর। গভর্নর নিযুক্ত হওয়ার পর ১৭৬৭ সালে তিনি বীরবেশে দেশে ফিরে যান। গভর্নর কার্টিয়ার (১৭৬৯-১৭৭২): এ সময়ে সমগ্র বাংলায় দ্বৈত শাসনের প্রভাব পড়তে থাকে। দ্বৈত শাসনের প্রভাবে জনগণ ব্যাপক অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজী ১৭৬৯-১৭৭০) বাংলায় ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এই দূর্ভিক্ষ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে খ্যাত। ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২-১৭৭৪, ১৭৭৪-১৭৮৪): কোম্পানীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি প্রথমেই দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন। তিনি মুঘল সম্রাটের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদান বন্ধ করে দেন। ভূমি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে জমিদার শ্রেণী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচশালা ভূমি বন্দোবস্ত প্রতা চালু করেন। লর্ড কর্ণওয়ালিশ (১৭৮৬-১৭৯৩, ১৮০৫): তিনি মারাঠা, নিযাম ও টিপু সুলতানের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হন। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্থায়ী অনুরক্ত শ্রেণী সৃষ্টির মানসে তিনি দশশালা বূমি বন্দোবস্তা প্রথা চালু করেন। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ তিনি ‘চিরস্থায়ী বন্দাবস্তা’ প্রথা চালুর মাধ্যমে ‘সূর্যাস্ত আইন’ বলবৎ করেন। একই সালে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের জন্য সহমরণ বিষয়ক ‘সতীদাহ প্রথা’ প্রবর্তন করেন। লর্ড ওয়েলেসলি ( ১৭৯৮-১৮০৫): ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে উগ্র প্রচেষ্টার জন্য সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়লাট। তিনি ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নীতি প্রবর্তন করেন। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮২৮-১৮৩৫): তার শাসনামল উপমহাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য বিখ্যাত। সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি ভারতীয়দের জন্য ‘সাব জজ’ ও ‘মুন্সেফ’ পদ সৃষ্টি করেন। রাজা রামহোহনের সহায়তায় ১৮২৯ সালে তিনি ‘সতীদাহ প্রথা’ বাতিল করেন। ১৮৩৫ সালে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। একই সালে তিনি ‘ম্যাকলে শিক্ষানীতি’ প্রণয়ন করেন। লর্ড হেনরি হার্ডিঞ্জ (১৮৪৪-১৮৪৮): ভারতবর্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষত বেল যোগাযোগে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি শিখদের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং এককোটি টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য গোলাপ সিং নামে এক ব্যক্তির নিকট ৭৫ লক্ষ টাকায় জম্মু ও কাশ্মীর বিক্রয় করেন। লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬): সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন। তার উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতির কারণে দেশীয় বিভিন্ন গোত্র ও আঞ্চলিক শক্তি ইংরেজদের উচ্ছেদ করার সংকল্প করতে থাকেন যা পরবর্তীতে সিপাহী বিপ্লবের দিকে ভারতবর্ষকে ঠেলে দেয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্রঅসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে তিনি বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড ক্যানিং (১৮৫৬-১৮৫৭): তিনি শেষ গভর্নর জেনারেল। এসময় ইংরেজদের দাসত্ব হতে মুক্তিলাভের জন্য বিখ্যাত ‘সিপাহী বিপ্লব’ (১৮৫৭ সাল) সংঘটিত হয়। তিনি কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন। সিপাহী বিপ্লবঃ ২৬ জানুয়ারী-১৮৫৭ প্রথম দমদমে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ২৯ মার্চ-১৮৫৭ ব্যারাকপুরের সেনা ছাউনিতে ‘মঙ্গল পান্ডে’ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং শহীদ হন। সিপাহী বিদ্রোহে তিনি প্রথম শহীদ হন। সিপাহীরা দিল্লী দখল করে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে স্বাধীন ভারতের ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা করেন। ঢাকায় সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হয় সিপাহী রজব আলীর নেতৃত্বে। বিদ্রোহীদের প্রধান সেনাপতি ছিলেন পেশোয়া বাজীরাওয়ের পোষ্যপুত্র ধন্ধপন্থ (নানা সাহেব)। ব্রিটিশ সেনানায়ক মেজর হাডসন দিল্লী দখল করে সম্রাট বাহাদুর শাহকে গ্রেফতার করে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেন। ১৮৫৮ সালের ৭ জুলাই ইংরেজরা শান্তি ঘোষনা করে। ইস্ট ইন্ডিয়া যুগের অবসানঃ ১৮৫৭ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণার ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনের অবসান ঘটে। এই আইনে বলা হয়, এখন থেকে ব্রিটিশ রাজা ও রানীর পক্ষে মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য ব্রিটিশ ভারতের শাসনভার গ্রহণ করবেন। তার উপাধি হয় ভারত সচিব। তখন থেকে গর্ভনর জেনারেল পদবি ভাইসরয়ে রূপান্তিরিত হয়। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের আইন দ্বারা কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ ছিল একটি নামফলক বদল মাত্র। No comments: Post a Comment স্টিফেন হকিং এবং রজার পেনরোজ। পেনরোজ-হকিং সিঙ্গুলারিটি-ই বিশ্বজগতের আদি মুহূর্ত। ফাইল চিত্র। আরও পড়ুন: আইনস্টাইনের সংশয় দূর করেই পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল রজার পেনরোজের, সঙ্গে আরও দুই অনেক বছর আগে রজার পেনরোজ এবং তাঁর স্ত্রী ভেনেসাকে ক্রিসমাসের সময় আমি দার্জিলিং নিয়ে গিয়েছিলাম ম্যাডাম তেন্ডুফলার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে, বিখ্যাত উইন্ডেমেয়ার হোটেলে। ভুটানের রাজকন্যা ম্যাডাম ওই হোটেলের মালিক এবং বেশ সাহেব ঘেঁষা। বেচারা ভেনেসা অসুস্থ হলেন পাহাড়ের উচ্চতার জন্য। হোটেল ছেড়ে দূরে যাওয়ার উপায় নেই। গপ্পে রজার এক দিন এক ঝরঝরে, মাতাল সমীরণে মত্ত দার্জিলিঙের সকালে শান্ত স্বরে তাঁর অত্যাধুনিক বিস্ময়কর চিন্তাধারা আমাকে বোঝাবার চেষ্টা শুরু করলেন, বিশ্বজগতের সৃষ্টির কি বিচিত্র রূপ। খটমট ভাষায় এই থিয়োরিটার নাম হল ‘কনফর্মাল সাইক্লিক কসমোলজি’ (সিসিজি)। বিগ ব্যাং-কে ডিঙিয়ে সময়ের অতীত এই থিয়োরি মানুষের দৃষ্টিকে টেনে নিয়ে যায়। মুহূর্তেই বোঝা গেল যে, এই থিয়োরির এক অসাধারণ সৌন্দর্য এবং ছন্দ রয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, বৈজ্ঞানিকদের মাথায় যখন কোনও নতুন ভাবনা আসে, সেটা সফল হলে তাঁরা বা আমরাও গবেষণা প্রবন্ধ লিখি এবং ভাল কোনও পত্রিকায় সেটা ছাপাই। কিন্তু রজার পেনরোজ তো সাদামাটা বৈজ্ঞানিক নন। উনি এই অভাবনীয় ভাবনাকে রূপ দিলেন একটি বইয়ে। ‘সাইকেল্স অব টাইম— অ্যান এক্সট্রাঅর্ডিনারি নিউ ভিউ অব দি ইউনিভার্স’। ২০১০ সালে ‘বোডলে হেড’ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ব্যাপারটা হল এই। আমাদের এই বিশ্বজগতের বয়স ১,৪০০ কোটি বছর। এর সৃষ্টি হয়েছিল বিগ ব্যাং, এক অকল্পনীয় শক্তি ফেটে গিয়ে। কিন্তু এই শক্তি এল কোথা থেকে? রজার পেনরোজ বোঝাচ্ছেন যে, বিগ ব্যাংয়েরও আগে আর একটি বিশ্বজগৎ ছিল, আর একটি বিশ্বজাগতিক যুগে। সেই বিশ্বজগৎ সময় ও কালের সঙ্গে, আমাদের এই বিশ্বজগতের মতনই ফুলছে, যেমন হাওয়া দিলে বেলুন ফোলে। বিশ্বজগৎ ‘এক্সপ্যান্ড’ করছে ওই আদি শক্তির চাপে। এই পদ্ধতি চলতে চলতে এমন একটা সময় আসবে যখন বিশ্বজগতের সব শক্তি বিলুপ্ত হয়ে অসম্ভব ঠান্ডা হয়ে কবরজগৎ হবে। এতই ঠান্ডা হবে যে ব্ল্যাক হোলগুলি, কোটি কোটি বিশ্বজগতের তাপমান থেকেও কিঞ্চিৎ গরম থাকবে— তখন এই কোটি কোটি ব্ল্যাক হোল থার্মোডায়নামিক্সের দ্বিতীয় আইন অনুসারে একসঙ্গে ফাটবে। সেই হল দ্বিতীয় বিশ্বজগতের সৃষ্টির বিগ ব্যাংয়ের শক্তির উৎস। আর এক বিশ্বজাগতিক যুগের শুরু। এক যুগ থেকে আর এক যুগ। এই ধ্বংস আর সৃষ্টির তাণ্ডব নৃত্য। আমার শুনে মনে হল, ভাগবৎ গীতার কথা, যুদ্ধের আগে। রজার পেনরোজ মনে হল সেটা জানেন। রজার পেনরোজ বোঝাচ্ছেন যে, বিগ ব্যাংয়েরও আগে আর একটি বিশ্বজগৎ ছিল, আর একটি বিশ্বজাগতিক যুগে। ছবি: শাটারস্টক। আরও পড়ুন: সূর্যের থেকেও দূরের গ্রহাণুকে ছোঁবে সভ্যতা, তুলে আনবে তার ‘মাংস’ ঠিক আছে রজার, কিন্তু প্রমাণ কী, এই সব উদ্ভট ভাবনার? মার্চ ২০২১, আমি রজার পেনরোজকে নেমন্তন্ন করেছি একটি আন্ত্রজাতিক সম্মেলনে। এটা আগে জুন মাসে হওয়ার কথা ছিল। সেটা হয়নি। উনি এক কথায় রাজি হয়েছেন। এবং নিশ্চয়ই আসছেন বলে ক’দিন আগেও আমাকে টেলিফোনে আশ্বাস দিলেন। আমার যথেষ্ট সম্মানের ব্যাপার। ‘‘আর উই সিইং হকিং পয়েন্টস ইন দ্য মাইক্রোওয়েব স্কাই?’’ যাঁরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করেন, তাঁরা কি কিছু দেখেছেন যে এই বিশ্বজগতের আগে বিগ ব্যাংয়ের অতীতে আর একটি বিশ্বজগৎ ছিল? ‘হকিং পয়েন্টস’, অত্যন্ত বড় ব্ল্যাক হোল, ১০০ কোটি সূর্যের সমান, গত অতীতের বিশ্বজাগতিক যুগে গোটা গ্যালাক্সিটিকে গিলে খেয়ে নিয়েছে তার খিদে মেটানোর জন্য। তার পরেই হকিং বিকিরণে সব শক্তির বিলোপ হয়ে যায়। আর ছোট্ট হকিং পয়েন্টে পরিণত হয়। আমাদের চাঁদের ৮ গুণ বড় এই পয়েন্ট। অত্যাশ্চর্য ব্যাপার— এই হকিং পয়েন্টগুলির অস্তিত্ব আমরা দেখেছি, এই হল চরম প্রমাণ। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বজগতে আদি বা অন্ত বলে কিছু নেই। সময়ের না আছে শুরু, না আছে শেষ। স্থানের নেই শুরু, নেই শেষ। নিরন্তর তারা অতিবাহিত হচ্ছে ধ্বংস আর সৃষ্টির মাধ্যমে। শেষে বলি, বিগ ব্যাং রইল। কিন্তু সেটা শেষ কথা নয়। অনন্ত কালে অনন্ত বিগ ব্যাং হয়েছে, হবে। রজার পেনরোজ এক জন অসাধারণ বৈজ্ঞানিক। তাঁর কল্পনার জগৎ বিস্তৃত বিশ্বজগতে। কিন্তু মানুষটি ভদ্র, নম্র, গপ্পে, অহঙ্কারের লেশ মাত্র নেই তাঁর ব্যক্তিত্বে। (লেখক প্রবীণ পরমাণু বিজ্ঞানী, সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের প্রাক্তন অধিকর্তা) রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : “শোক থেকে শক্তি শোক থেকে জাগরণ “ আজ ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে কালিমালিপ্ত এক বেদনা বিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের এ বেদনাদায়ক দিনটিতেই মহান স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূ সহ নিকট আত্মীয়গণ কে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাই জাতি গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করছে৷ আমি শোক দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্বাধীনতার রূপকার। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬-এর ৬-দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকার আদায়ে কখনো আপোষ করেননি৷ ফাসিঁর মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন৷ দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যা ছিলো মূলত স্বাধীনতার ডাক। তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে৷ আসুন,আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিনত করি৷ তার ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার৷ জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক। এম এম শাকিলুজ্জাম পুলিশ সুপার, রাজবাড়ী। গুরু পূর্ণিমা ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ | Hindu Voice Home বিশেষ নিবন্ধ গুরু পূর্ণিমা ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ গুরু পূর্ণিমা ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ " গুরুর্বহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেব মহেশ্বর/ গুরুরেব পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ।" ( শ্রী গুরু দেব ই ব্রহ্মা : গুরু বিষ্ণু: গুরু মহেশ্বর: গুরুদেব পরমব্রহ্ম :সেই গুরুদেব কে প্রণাম করি) বিশ্বে ভারতের পরিচয় তার সনাতন সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতি এভাবেই শ্রদ্ধা জানায় গুরু কে। এর অর্থ এটাই যে ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরু এক বিশেষ স্থানের অধিকারী ।গুরু শব্দটি সংস্কৃত শব্দ দ্বয় 'গু' এবং 'রু' এর সমন্বয়ে তৈরি। গুরু শব্দের অর্থ 'অন্ধকার' আর 'রু' এর অর্থ হল 'বিনাশক'। অর্থাৎ শিষ্যের হৃদয়ের অন্ধকার যিনি নাশ করেন তিনি ই হলেন গুরু । মনে রাখতে হবে গুরুর প্রতি শব্দ শিক্ষক হতে পারে না। শিক্ষক জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে শিক্ষা দেন, কিন্তু গুরু শব্দের তাৎপর্য আরও অনেক গভীর তিনি শিষ্যের ব্রহ্মজ্ঞান অর্জনে সাহায্য করেন। তাই অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি এই গুরু শব্দটি কে সরাসরি ইংরেজি ভাষায় গ্রহণ করেছে। ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে 'গুরু' বলে কিছু হয় না তাই গুরুর ও কোন ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। ভারতীয় পরম্পরা তে গুরু ভারতীয় পরম্পরা তে গুরুর অস্তিত্ব আমরা পাই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে (হেরোডোটাসকে ইতিহাসের জনক বিবেচনা করে ) ।ভারত তথা পৃথিবীর আদি কাব্য রামায়ণে রাজা দশরথের কুলগুরু ছিলেন মহর্ষি বশিষ্ঠ। তিনি শ্রীরাম এবং তাঁর ভ্রাতা গণদেরও গুরু l শ্রী রামের আরেক গুরু ছিলেন মহর্ষি বিশ্বামিত্র। তিনি কিশোর রামকে জ্ঞানের আলো দেখিয়ে ধর্ম ও দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় তাড়কা রাক্ষসী বধ এর সময়, রাম ইতস্তত করছিলেন তাড়কা কে বধ করতে, কেননা তাড়কা রাক্ষসী হলেও একজন নারী। গুরু বিশ্বামিত্র তখন বোঝালেন প্রজা রক্ষার নিমিত্তে কোন নৃশংস বা দোষযুক্ত কর্ম , এমনকি স্ত্রী হত্যা করলেও সেটা সনাতন ধর্মে পাপ হয় না ( বাল্মিকী রামায়ণ: বাল কান্ড: স্বর্গ ২৫: শ্লোক ১৮-১৯) । মহাভারতের কথা উঠলেই আমাদের স্মরণ হবে গুরু দ্রোণাচার্যের প্রসঙ্গ, কিন্তু গুরু দ্রোণ ছিলেন আসলে এক বেতনভুক শস্ত্র শিক্ষক ।তিনি পাণ্ডব ও কৌরবদের শিক্ষা শেষে তাঁদের থেকে এই গুরুদক্ষিণা চান যে রাজকুমাররা পাঞ্চাল রাজ্যের রাজা দ্রুপদ কে বন্দী বানিয়ে নিয়ে আসুক । তাঁর এই রূপ গুরুদক্ষিণা চাওয়ার কারণ ছিল দ্রুপদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা ।কিন্তু একজন প্রকৃত গুরু, শিষ্যের মাধ্যমে এই রূপ নিজের স্বার্থ সিদ্ধির বা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণের কাজ করতে পারেন না ।তাই মহাভারতে প্রকৃত গুরু তিনি নন: বরং শ্রীকৃষ্ণ, যিনি স্বয়ং পরমাত্মা, যিনি ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে অর্জুনকে (জীবাত্মার প্রতীক ) জীবনে চলার প্রকৃত পথ প্রদর্শন করেন, অর্জুনের মনের অন্ধকার দূর করে তাঁকে আলোকোজ্জ্বল পথে নিয়ে আসেন। ভারত ইতিহাসের পরবর্তী অধ্যায় গুলিতেও এইরকম গুরুর সন্ধান আমরা পাই। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের অখণ্ড ভারত নির্মাণের যে প্রচেষ্টা, তার অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন গুরু চাণক্য বা কৌটিল্য ।বহিরাগত সম্রাট আকবরের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নরশার্দুল রানা প্রতাপ কে সাহস ও উপদেশ যোগান গুরু রাঘবেন্দ্র । শিবাজী কে হিন্দু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা তে ছোটবেলাতেই প্রেরণা দেন গুরু দাদাজি কোন্ডদেব। আর ভারতীয় সংস্কৃতিকে যিনি সারা পৃথিবীতে বিস্তারিত করেন, সেই স্বামী বিবেকানন্দের গুরু ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ। মহান ঐতিহাসিক চরিত্র দের মহান করে তোলার জন্য গুরুদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরুর স্থান ঈশ্বর সম। গুরু সনাতন সংস্কৃতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানোর জন্য একটি প্রবচন আছে। "গুরু গোবিন্দ দুয়ো খারে, কাকে লাগু পায় /বলিহারি গুরু আপনে যিন গোবিন্দ দিও বাতায়ে।" এই প্রবচনে একটি পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়েছে , যেখানে গোবিন্দ (ঈশ্বর ) আর গুরু দুজনেই দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন ভক্ত কাকে আগে প্রণাম করবে ? এই প্রবচনেই রয়েছে সমাধান ।আগে ভক্ত গুরুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে, কৃতজ্ঞতা জানাবে , কারণ গুরুই আমাদের ঈশ্বর চেনান। ঠিক এই কারণেই গুরু পূর্ণিমা পালন সনাতন সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। হিন্দু পঞ্জিকার আষাঢ় মাসের যে পূর্ণিমা , সেটাই হলো গুরু পূর্ণিমা তিথি। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী আদিদেব মহাদেব ই হলেন আদিগুরু। তিনি এই বিশেষ তিথিতে আদি গুরু হয়ে সপ্তর্ষি কে ( অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য, মরিচি, ক্রতু) মহাজ্ঞান দেন। অনেকে মনে করেন গুরু পূর্ণিমা হল মহাকবি বেদব্যাসের জন্মতিথি। তাই এই তিথি ব্যাস পূর্ণিমা নামেও খ্যাত ।প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য বেদব্যাস মহাভারত ছাড়াও পুরাণের রচনাকার এবং চতুর্বেদের সম্পাদক ।বৌদ্ধ ধর্মেও এই তিথির প্রভূত গুরুত্ব রয়েছে। এই তিথিতে বোধিজ্ঞান প্রাপ্ত ভগবান বুদ্ধ উত্তর প্রদেশের সারনাথে প্রথম উপদেশ দান করেন। বুদ্ধদেবের জন্মভূমি নেপালে তিথি টি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। গুরু মাহাত্ম্য মনুষ্য জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মোক্ষলাভ। মোক্ষলাভ করতে গেলে প্রয়োজন চৈতন্য লাভের ।আর চৈতন্য লাভ করতে হলে বুঝতে হবে পরমেশ্বর তত্ত্ব। মানুষ আর পরমেশ্বর এর মধ্যে যে সেতু, সেই সেতুই হলো গুরু ।গুরু প্রদত্ত জ্ঞান ই আমাদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে ,অসৎ থেকে সৎ বানায় ।আজকাল আমরা দেখি সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে আমরা কি পাচ্ছি, কি পেয়েছি, আর কি পাব – সর্বদা তারই হিসেব-নিকেশ চলছে এমনকি শিক্ষিত সমাজও এই হিসাবে ব্যস্ত, কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে প্রকৃতিতে তথা জীবজগতে সবাই কিন্তু পাবার সঙ্গে সঙ্গে দিয়েও থাকে। বৃক্ষ মাটি থেকে জল ও খনিজ উপাদান সংগ্রহ করে ।পরিবর্তে অক্সিজেন দেয় । জীব জগতের প্রতিটি প্রাণী তা গ্রহণ করে। আবার ধুপ জ্বলে, আর আমরা তার সুগন্ধ পাই। কিন্তু ধুপ নিজে জ্বলে শেষ হয়ে যায় ।বৃক্ষ বা ধূপের ন্যায় ত্যাগের শিক্ষা আজকাল মানুষ প্রায় ভুলে গেছে। তাই প্রকৃতি ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে মানুষ। অর্থ রোজগারের উদ্দেশ্যে অবলীলায় ধ্বংস করছে প্রকৃতিকে, যা তার নিজের আধার। সবচেয়ে বুদ্ধিমান হয়েও মানুষ আজ বিপথগামী। এই বিপথগামিতা রোধ করার জন্যই প্রয়োজন গুরুর। গুরু পূজন মানুষের বুদ্ধির অহংকার দূর করে; তার মধ্যে সমর্পণের ভাব জাগিয়ে তোলে। আমরা কে না জানি, অর্জুনের সমর্পন ভাবই তাঁকে ভারত পথিক শ্রীকৃষ্ণের কাছে দিব্য জ্ঞান লাভ করতে সাহায্য করেছিল? গুরুপূজন ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ভারতের সনাতন সংস্কৃতিকে মাথায় রেখেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ গুরু পূর্ণিমা পালনের আদর্শ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এটি একটি অন্যতম উৎসব , যা প্রতিবছর মর্যাদা সহকারে পালিত হয় ।এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গুরু কে? উত্তরে বলা যায় সংঘের গুরু কিন্তু কোন ব্যক্তি নয়; বরং একটি তত্ত্ব, যার বহিঃপ্রকাশ হল অগ্নিবর্ণ গৈরিক ধ্বজ। তত্ত্ব হল শাশ্বত, কিন্তু ব্যক্তি তা নয় । তাই সংঘ ব্যক্তি নয় তত্ত্বকে গুরু হিসেবে পূজা করে। আকারে প্রজ্বলিত শিখার ন্যায় গৈরিক ধ্বজ ত্যাগ ও সমর্পণের প্রতীক। অগ্নি স্বয়ম কে প্রজ্বলিত করে জগতকে আলো প্রদান করে। সূর্য নিজে জ্বলে মহাবিশ্বে আলোক প্রদান করে ।তাই গৈরিক ধ্বজও অগ্নি বরণ, কেননা এটি নিজে জ্বলে রাষ্ট্র ও সমাজকে আলোক শিখা প্রদর্শনের প্রতীক। এছাড়াও গৈরিক রঙ ভারতীয় সংস্কৃতিতে এক বিশেষ সম্মানের অধিকারী। সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে ভারতীয় ঋষি ও সাধুগণ গৈরিক বস্ত্র পরিধান করতেন ।মহর্ষি দধীচি যেমন সমাজের কল্যাণের জন্য নিজের প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন , গেরুয়া বসন ধারীরাও ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি উন্নয়নের স্বার্থে এই রূপ করেছেন। তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়েই ধ্বজের রং হয়েছে গৈরিক। মনে রাখতে হবে ভারতের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকারও সবচেয়ে উপরে রঙ হল গৈরিক। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ সমগ্র ভারতীয় তথা হিন্দু সমাজকে রাষ্ট্রীয়তার তথা মাতৃভূমির আধারে সংগঠিত করার কার্য করে থাকে। তাই কোন ব্যক্তি কে গুরুর আসনে না বসিয়ে যজ্ঞের জ্বালাময়ী অগ্নি তথা ত্যাগের প্রতীক গৈরিক ধ্বজ কে গুরুর আসনে আসীন করেছে। মনে রাখতে হবে মহর্ষি দধীচি প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন যাতে করে তাঁর অস্থি থেকে বজ্রায়ুধ তৈরি হতে পারে, আর সেই অস্ত্র অসুর বধ করতে ও জগত কল্যাণের কাজে লাগে। একজন স্বয়ংসেবকের ও সেইরূপ সমর্পণ ভাব মনের মধ্যে জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন , কেননা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতে ব্যক্তির শক্তি বুদ্ধি ও সম্পদের উপর অধিকার ব্যক্তির নয় ; বরং সমাজ তথা রাষ্ট্রের। ব্যক্তি তার থেকে ঠিক ততটুকুই নেবে , যতটুকু বাঁচার তাগিদে তার প্রয়োজন। বাকিটুকু সে দান করবে সমাজ তথা রাষ্ট্র রুপ পরমেশ্বরকে । উদ্দেশ্য সমাজ তথা রাষ্ট্রের হিতসাধন। এই মনোভাবই হল সমর্পণ ভাব আর সেই মনোভাবকে জাগরিত করার উদ্দেশ্যেই পরম পূজনীয় ডাক্তার জি ( শ্রী কেশব বলিরাম হেড গোওয়ার জী) গুরু পূজন উৎসব চালু করেন। সংঘের প্রতিটি স্বয়ংসেবক কে মনে রাখতে হবে সমাজ থেকে আমরা যা পাই , তা অন্যকেউ প্রদান করে বলেই আমরা পাই। তাই আমাদের উচিত আমাদের শক্তি ,বুদ্ধি আর সম্পদ সমাজ হিতে দান করা । আমাদের শক্তি, বুদ্ধি ,সম্পদ- আসলে সবই সমাজের । সূর্য পূজার সময় আমরা যেমন নদীর জল নদীতেই অর্ঘ্য হিসেবে প্রদান করি , সেই রূপ আমাদের শক্তি ,বুদ্ধি ও সম্পদ যা আমরা সমাজ থেকেই প্রাপ্ত করি ,তা সমাজ হিতেই প্রদান করা উচিত। এখানে 'আমি' অহং এর কোন স্থান নেই । মনে রাখতে হবে মুচি ,মেথর, ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার ,অধ্যাপক , বিজ্ঞানী: কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী: গুজরাট থেকে অরুণাচল: গ্রাম থেকে নগর: মফস্বল থেকে বড় শহর – সবাই সমাজ হিতেই অবিরত কর্ম সম্পাদন করছে। সমাজ তথা রাষ্ট্রহিতে ত্যাগ ও কর্মসম্পাদনের ভাবই কিন্তু আমাদের একত্রিত করেছে, জাতি হিসেবে গঠিত করেছে। এই আত্মোৎসর্গের ভাব দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। এর অর্থ এই নয় যে আমরা পরিবারের উন্নতির জন্য কাজ করব না। কিন্তু পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন আমাদের উচিত সমাজ তথা দেশের জন্যও কিছু সেবা ও সময় প্রদান করা। এই আত্মোৎসর্গের ভাবই আমাদের সংস্কৃতি । সমাজে এই ভাবনা প্রতিস্থাপন করলে আমরা হিংসা, দ্বেষ, স্বার্থপরতা এবং ভ্রষ্টাচার মুক্ত হতে পারব ।গড়ে তুলতে পারব এক সুস্থ, সুন্দর, শক্তিশালী সমাজ তথা রাস্ট্র। এই কথা স্মরণ করেই পরম পূজনীয় ডাক্তারজী এবং গুরুজি নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে, সমাজ রাষ্ট্র গঠনের জন্য তৈরি ও পালন করেছিলেন করেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কে। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে ত্যাগের আদর্শকে সামনে রেখেই। পরিশেষে বলা যায় সমাজ তথা রাষ্ট্র নির্মাণ ত্যাগ ও সেবার আদর্শ ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু আজকের সমাজে আমরা দেখছি বস্তুবাদ আর ভোগবাদের আধিক্য । মানুষ আজ সর্বদা কিছু পাবার জন্য ছুটছে ,ভ্রষ্টাচার ও অবৈধ সংসর্গে লিপ্ত হচ্ছে । কিন্তু মনে রাখতে হবে সবাই যখন সেবাদানের আদর্শে ব্রতী হবে, তখনই সুস্থ ,সুন্দর ও শক্তিশালী সমাজ গঠিত হবে। এই সেবাদান তখনই সম্ভব, যখন আমরা হব অহংমুক্ত ও সমর্পিত ।আর এই সমর্পিত ভাব জাগানোর জন্যই প্রয়োজন গুরু পূজন । তমসা থেকে জ্যোতির পথে নিয়ে যেতে পারে একমাত্র গুরুই। আর সকলের সেই গুরু যদি হয় অগ্নিবর্ণ গৈরিক ধ্বজ, তাহলে সমাজ তথা দেশের প্রভাবশালী হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। জাহাজের খালাসি হয়ে বাঙালির আমেরিকা যাত্রা,সুন্দর একটি ইতিহাস জেনে নিন জাহাজের খালাসি হয়ে বাঙালির আমেরিকা যাত্রা,সুন্দর একটি ইতিহাস জেনে নিন জাহাজের খালাসি হয়ে বাঙালির আমেরিকা যাত্রা,সুন্দর একটি ইতিহাস জেনে নিন বাঙালির আমেরিকা যাত্রা এখন কোনো ঘটনাই নয়, কিন্তু আজ থেকে দেড় শ বছর আগে পূর্ব বাংলা থেকে যে গুটিকয় বাঙালি মার্কিন মুলুকে এসেছিলেন, বিস্তর লড়াই করতে হয়েছিল তাঁদের। সেই অজানা গল্প। আমেরিকা। সে এক স্বপ্নের দেশ। এখন আমেরিকায় পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের বাঙালির সংখ্যা অজস্র। তবে ঠিক কবে থেকে ভাগ্যান্বেষণে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমাতে শুরু করল এ দেশের মানুষ? সেই ইতিহাস জানতে আমাদের যেতে হবে আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আছে। তবে এ লেখার শুরুতে এ কথাও বলে নেওয়া দরকার যে সেই শুরুর দিকে পূর্ব বাংলার যেসব বাঙালি আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন, নিদারুণ কষ্ট আর লড়াই-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে সেখানে তাঁরা গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের দাঁড়ানোর পাটাতন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোতে রাখা নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ১৭৮৫ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন পূর্ব বাংলার কিছু লোক আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল। তারা মূলত ছিল শিপ জাম্পার। জাহাজ থেকে লুকিয়ে এবং ইমিগ্রেশনের চোখকে এড়িয়ে গোপনে যারা ভিনদেশের মাটিতে আশ্রয় নেয়, তাদেরকেই বলা হয় শিপ জাম্পার। ভারত তখন ইংল্যান্ডের অধীনে। সেই সময়ে ব্রিটিশদের কড়া নজর এড়িয়ে মোট বারোজন বাঙালি আমেরিকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ওই বারোজন বাঙালির ভাগ্যে কী জুটেছিল, সে সম্পর্কে বিশদভাবে জানার কোনো সুযোগ ঘটেনি। তবে এতটুকু জানা গেছে, বেনিয়ামিন ফ্রাঙ্কলিন নামে এক আমেরিকান ব্যবসায়ী বারোজন বাঙালি নাবিককে পেনসিলভানিয়ার নিউ হ্যাভেন পোর্ট থেকে উদ্ধার করে পেনসিলভানিয়ার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, সে সময় জাহাজের খালাসি হয়ে আমেরিকায় যাওয়ার পথটা কী ছিল? উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে জাহাজের যেকোনো ধরনের একটা খালাসির কাজ নিয়ে আমেরিকা বা বিলেতের বন্দরে গোপনে গা ঢাকা দেওয়ার অভিনব কৌশলটি পূর্ব বাংলাসহ উপমহাদেশের স্বপ্নবাজ কিছু মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তত দিনে বাঙালি জেনে গিয়েছিল, কীভাবে জাহাজ থেকে পালিয়ে খুব সহজেই ভিনদেশের মাটি স্পর্শ করা যায়। পূর্ব বাংলা থেকে আসা বাঙালিদের কাছে যে রুটটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়, তা হলো কলকাতা বা হুগলি বন্দর থেকে কোনো ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান জাহাজে চড়ে প্রথমে লন্ডন, তারপর লিভারপুল এবং লিভারপুল থেকে নিউইয়র্ক বা বাল্টিমোর যাওয়া। নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের (হারলেম, লোয়ার ইস্ট সাইড), ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, স্টেটান আইল্যান্ড, এলিস আইল্যান্ড অথবা ডেট্রয়েটের প্যারাডাইস ভেলি, বোটম অথবা ওয়েস্ট বাল্টিমোরের পেনসেলভানিয়া অ্যাভিনিউ—এই এলাকাগুলো তত দিনে বাঙালিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। জাহাজের শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি খালাসিদের প্রচণ্ড রকম শারীরিক কাজ করতে হতো। জানা যায়, এই ব্রিটিশ জাহাজগুলোতে সপ্তাহে আশি ঘণ্টার মতো করে তাঁদের কাজ করতে হতো। এই হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বিনিময়ে তাঁরা যে পারিশ্রমিক পেতেন, তাতে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় তো দূরের কথা, দেশে ফেলে আসা দরিদ্র সংসারেও কিছু পাঠাতে পারতেন না। তবে যেহেতু তাঁদের সবার মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকা বা বিলেত, তাই অবলীলায় এই কঠিন পরিশ্রমকে হাসিমুখেই মেনে নিতেন। তাঁদের স্বপ্ন ছিল আমেরিকায় পৌঁছে কোনোরকম একটা কাজ জোগাড় করে জীবনটাকে গুছিয়ে নেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বৈধ কাগজপত্র ও ইমিগ্রেশনের কঠোর আইন। সে কারণে বেশির ভাগই স্থানীয় কোনো আমেরিকান (আফ্রিকান আমেরিকান বা পুয়ের্তোরিকান) নারীকে চুক্তিতে বিয়ে করে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকার জন্য বৈধ কাগজপত্র বানাতেন। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ভিনদেশের মাটিতে কীভাবে এক বাঙালি আরেক বাঙালির পাশে এসে দাঁড়াবেন, সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, বৈধ কাগজপত্র করার কৌশলটি শিখিয়ে দেবেন অথবা যেকোনোভাবেই হোক, কারও বৈধভাবে থাকার কোনো গতি করে দেবেন—এসব বিষয়ে তাঁদের সবার মধ্যেই এক অসাধারণ অলিখিত ঐক্য ছিল। নিউইয়র্ক বলুন, বাল্টিমোর বলুন বা নিউ অরলিয়েন্স—বাঙালিরা যাতে চোখ বুজে কারও বাড়িতে উঠতে পারেন, কাজ জোটা না পর্যন্ত দুবেলা খাবার খেতে পারেন এবং কাজ চালানোর জন্য বাড়ির ঠিকানাটা ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য আগেভাগেই করে রাখা হতো সব রকম ব্যবস্থা। ১৮৯০ থেকে ১৯১০—এই কুড়ি বছর আমেরিকায় পূর্ব বাংলা থেকে আসা বাঙালি শিপ জাম্পারদের তৎপরতা রাতারাতি বেশ বেড়ে গিয়েছিল। এতটা বেড়েছিল যে তৎকালীন সময়ে পূর্ব বাংলার শ্রমজীবী মানুষের চোখে বিশেষত সিলেট, চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, নোয়াখালী থেকে জাহাজের খালাসি পদ অর্থাৎ লস্করের একটি পদ বাগিয়ে আমেরিকায় দেশান্তরিত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা ছিল না। সেই সময়ে ঘাট-সারেং পদটিকেও এই ভবিষ্যৎ জাহাজিরা খুব শ্রদ্ধার সঙ্গেই দেখতেন। কারণ, জাহাজি হতে হলে ঘাট-সারেংদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা ছিল জরুরি। তাঁদের খুশি করতে পারলেই লন্ডন বা নিউইয়র্কের কোনো জাহাজের খালাসির চাকরি জোগাড় করা সহজ হতো। বিষয়টা এমন যে একবার জাহাজ যদি লন্ডন বা নিউইয়র্কে নোঙর করতে পারে, তাহলেই সব সমস্যার সমাধান। তারপর সেই জাহাজ থেকে গা ঢাকা দিয়ে গোপনে লুকিয়ে অজানা আমেরিকার কোনো উপকূলে নেমে পড়া যাবে।১৮৯০ থেকে ১৯১০—এই কুড়ি বছর আমেরিকায় পূর্ব বাংলা থেকে আসা বাঙালি শিপ জাম্পারদের তৎপরতা রাতারাতি বেশ বেড়ে গিয়েছিল। এতটা বেড়েছিল যে তৎকালীন সময়ে পূর্ব বাংলার শ্রমজীবী মানুষের চোখে বিশেষত সিলেট, চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, নোয়াখালী থেকে জাহাজের খালাসি পদ অর্থাৎ লস্করের একটি পদ বাগিয়ে আমেরিকায় দেশান্তরিত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা ছিল না। এই প্রসঙ্গে রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্প 'নোনাজল'-এর কিছু অংশ তুলে ধরা যেতে পারে। কারণ, এই গল্পে একজন বাঙালির জাহাজের খালাসি হয়ে কীভাবে আমেরিকায় থিতু হয়েছিলেন, সেই ইতিহাসের অসাধারণ চিত্রায়ণ রয়েছে: 'আমাকে সাহায্য করতে হলো শুধু একটা পেতলের ডেগচি যোগাড় করে দিয়ে। সন্ধ্যার অন্ধকারে সমীরুদ্দী সাঁতারের জাঙিয়া পরে নামল জাহাজের উলটো ধার দিয়ে, খোলা সমুদ্রের দিকে। ডেগচির ভেতরে তার সু, জুতো, মোজা আর একখানা তোয়ালে। বুক দিয়ে সেই ডেগচি ঠেলে ঠেলে বেশ খানিকটা চক্কর দিয়ে সে প্রায় আধ-মাইল দূরে গিয়ে উঠবে ডাঙায়। পাড়ে উঠে, তোয়ালে দিয়ে গা মুছে, জাঙিয়া ডেগচি জলে ডুবিয়ে দিয়ে শিস দিতে দিতে চলে যাবে শহরের ভেতর। সেখানে আমাদেরই এক সিলেটি ভাইকে সে খবর দিয়ে রেখেছিল হামবুর থেকে। পুলিশের খোঁজাখুঁজি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গা-ঢাকা দিয়ে থাকবে কয়েকদিন, তারপর দাড়িগোঁফ কামিয়ে চলে যাবে নুউক থেকে বুগুরে, যেখানে সিলেটিরা কাঁচা পয়সা কামায়। পালিয়ে ডাঙায় উঠতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার যে কোনো ভয় ছিল না তা নয়, কিন্তু একবার সুটটি পরে রাস্তায় নামতে পারলে পুলিশ দেখলেও ভাববে, সে নুউকবাসিন্দা, সমুদ্রপারে এসেছিল হাওয়া খেতে।' এবার কীভাবে একজন জাহাজের খালাসি বন্দর থেকে পালাতেন, সেই বিষয়টি জানা যাক। জাহাজ বন্দরে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলবদ্ধ বা এককভাবে জাহাজ থেকে কারা কীভাবে পালাবে এবং কোন পথে কে কোথায় যাবে, সেটি আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না। তবে যতটুকু সম্ভব নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে এবং অন্য কোনো শিপ জাম্পারের পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই সাহসী স্বপ্নচারী খালাসিরা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে নিজেদের সাধ্যমতো তৈরি রাখতেন। জাহাজ বন্দরে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের সব কর্মচারীকে 'ইমিগ্রেশন সোর পাস' দেওয়া হতো। সেই পাসের কল্যাণে জাহাজের কর্মচারীরা বন্দরে শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকায় আইনগতভাবে থাকার অনুমতি পেতেন। জাহাজ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার তাঁদের বন্দর ত্যাগ করা ছিল বাধ্যতামূলক। একজন খালাসি ঠিক এমন মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় থাকতেন। সোর পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দেওয়াই ছিল তখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় কাজ। জাহাজের খালাসিরা পালানোর জন্য নিউইয়র্কের এলিস আইল্যান্ড, নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি, এলিজাবেথ, আসবারি পার্ক, লং বিচ—এসব নিরাপদ স্থানকে সবচেয়ে ভালো আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিতেন, ইতিহাস এমনই সাক্ষ্য দেয়। নিউইয়র্কের হারলেম, লোয়ার ইস্ট সাইড (ইস্ট ভিলেজ), ব্রুকলিনের ব্রুকলিন হাইটস—এই শহরগুলোও পলাতক জাহাজের খালাসিদের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবার আরেকটা দল ছিল, যারা এলিস আইল্যান্ডে আসত বটে, কিন্তু তাদের গন্তব্য ছিল দক্ষিণে অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যের দিকে। এ ক্ষেত্রে তারা যেত নিউ অরলিয়েন্স, মিশিগানসহ বিভিন্ন শহরে। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগই জাহাজ থেকে পালিয়ে সাউদার্ন রেইলওয়ে ফাস্ট মেইল বা সাউথ ওয়েস্টার্ন ভেস্টিবুলড লিমিটেড ট্রেনে চড়ে ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে নিজেদের বসত গড়তেন। এখানে একটা বিষয় বলা দরকার যে এই শিপ জাম্পারদের আপাতস্বপ্ন আমেরিকায় বসত গড়া হলেও তাঁরা তাঁদের নিজ দেশ থেকে যতটুকু সম্ভব বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র যেমন রেশম, মসলিন বা মনিহারি তৈজসপত্র, মসলাপাতি সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। উদ্দেশ্য একটাই—এসব বিক্রি করে কিছু উপার্জন করা। আর বসন্ত আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসা মনিহারি দ্রব্যাদি আমেরিকা বা লন্ডনের মাটিতে বিক্রি করতেন। ১৯০০ থেকে ১৯১০ সালের আমেরিকার আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউ অরলিয়েন্স শহরেই পূর্ব বাংলা থেকে আসা জাহাজ পলাতকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল। '১৯০০ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত নিউ অরলিয়েন্সে পূর্ব বাংলা থেকে আসা সেই সময়ে বাঙালির সংখ্যা ছিল ৫০ জন। এই ৫০ বাঙালি শহরের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৮টি বাড়ি ভাড়া করে সবাই সেখানে গাদাগাদি করে থাকতেন।' আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আগে এভাবেই কিছু স্বপ্নচারী পূর্ব বাংলা বাংলাদেশের বাঙালি জাহাজের খালাসি হয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে দেশান্তরি হয়েছিলেন, বসতও গড়েছিলেন আমেরিকায়। তাঁদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন অনুসরণ করে মার্কিন মুলুকে পরে ধীরে ধীরে আমরা আমাদের অস্তিত্বের ইতিহাস নির্মাণ করেছি। সূত্র: বিবেক বল্ডের 'বেঙ্গলি হারলেম অ্যান্ড দ্য লস্ট হিস্টোরিস অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকা' ও লেখক প্রণীত 'শিপ জাম্পার: বাঙালির আমেরিকা যাত্রা'। অটোগাড়ি নিয়ে ধাক্কাধাক্কি সম্পাদকীয় … গ্রাম অথবা শহরে সর্বত্র অটোগাড়ির পরিমাণ বেড়েই গেছে। এসব গাড়ির লাইসেন্স কিম্বা গাড়ি চালকদের লাইসেন্স নেই। সেই সাথে এই গাড়িগুলোর দিনের পর দিন যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, সেই সাথে দুর্ঘটনাও বেড়ে চলেছে। কেননা এসব গাড়ির চালকরা কোনোভাবেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। সুতরাং যে কেউ ইচ্ছা করলেই রাস্তায় অটোগাড়ি বের করতে পারে। কোনো নিয়ম কানুন এসব চালকরা মানে না। ফলে দুর্ঘটনায় প্রায়ই মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এসব গাড়ি। প্রিয় সময়ে ‘দোহারের লটাখোলায় অটোগাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মর্মান্তিক ঘটনার কথা। শুধু তাই নয়, প্রায় সময়ই এই হাল্কাযানে চড়ে পথচারীরা দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। তাছাড়া অনেক সময় এসব গাড়ির চালক ও গাড়িতে থাকা যাত্রীরাও প্রাণ হারায়। এমন খবর আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। আমরা প্রায়ই অভিযোগ শুনতে পাই যে, এসব গাড়ির চালকরা খুবই দ্রুত গতিতে অটোগাড়ি চালিয়ে থাকে। ফলে অন্য কোনো গাড়ির সাথে সামান্য আঘাত লাগলেও অটোগাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে ও দুর্ঘটনা শিকার হয়। যে পরিমাণ গতিতে চললে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেই অনুযায়ী চালকরা চালায় না। অনেক সময় দ্রুতগতিতে চালানোর ফলে তিন চাকার যানটি নিজে নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, এমন খবরও আমরা অতীতে পেয়েছি। আর গাড়িতে যদি যাত্রী থাকে তখন যদি দ্রুত গতিতে চালানো হয় তাহলে সামান্য আঘাত লাগলেই খুব সহজে অটোগাড়ি উল্টে যায়। চালক কোনোভাবেই অটোগাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। অটোগাড়ির দুর্ঘটনায় মাথায় ও কোমড়ে গুরুতর আহত হওয়া, স্কুলগামী শিশু ও রাস্তার পাশে চলাফেরারত শিশুদের মৃত্যুসহ নানা দুর্ঘটনার খবর আমরা প্রায়ই শুনতে পাই। শুধু তাই নয়, বড়রাও এর হাত থেকে রক্ষা পায় না। খেটে খাওয়া মানুষকে কাজ করতেই হবে। তাদেরকে বেঁচে থাকার জন্যে জীবিকা গ্রহণ করতেই হবে। হয়তো নিজের জমানো টাকায়, কিস্তিতে কিম্বা লোন করে উপার্জনের জন্যে মানুষ অটোগাড়ি কিনে থাকে ও রাস্তায় নামিয়ে থাকে। চালকের অদক্ষতা, গাড়ি হাল্কা, দুর্বল-এসব আলোচনা ও তর্কে কোনো সমাধান আসবে না। অথবা অটোগাড়ি রাস্তা থেকে তুলে দেয়াটাও বড় কোনো সমাধান হতে পারে না বলে আমরা মনে করি। অতীতে অটোগাড়ি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, হয়েছে নিয়মও। তবে দুর্ঘটনা যেভাবে হচ্ছে তাতে ভালো কোনো সমাধান হয়েছে বলে মনে করি না। তবুও অটোগাড়ি নিয়ে ধাক্কাধাক্কি এখনো কম হচ্ছে না। কিন্তু আমরা মনে করি, এসব অটো চালকের বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। রাস্তায় চলাচলের জন্যে ধরাবাঁধা নিয়ম করে দেয়া উচিত। তাহলে হয়তো এসব অটোগাড়ির দুর্ঘটনার কারণে মানুষের প্রাণহানির পরিমাণ কমে যাবে। অটোগাড়ির কারণে প্রাণ হারিয়েছে এমন পরিসংখ্যান আমাদের জানা না থাকলেও এর পরিমাণ কিন্তু কোনো অংশেই কম নয়। দুর্ঘটনা এড়াতে অটোগাড়ি ও চালকের রাস্তায় চলাচলের জন্যে সরকারি নিয়মনীতি বেধে দিলে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবে পথচারী ও যাত্রীরা। সেই বৃদ্ধের মতো অটোগাড়ির ধাক্কায় আর কেউ প্রাণ হারাবে না। বিষয়টি ভেবে দেখার জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 43 সর্বমোট পড়েছেন, 1 আজ পড়েছেন - Sunday, 07 September 2014 04:45 কুমিল্লার বার্তা রিপোর্ট: সাধারণত প্রাকৃতিক উৎসজাত এমন মাছ যেগুলো পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় সর্বোচ্চ নয় ইঞ্চি বা ২৫ সে.মি. পর্যন্ত আকারের হয়ে থাকে, সেগুলোকে দেশি ছোট মাছ বলে। এ দেশের সাধু পানির ২৬০টি প্রজাতির মাছের মধ্যে অধিকাংশই ছোট মাছ। বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র ৫০ প্রজাতির ছোট মাছ কোনো রকমে টিকে আছে। বাদবাকি মাছ প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভরাট ও সংকোচনসহ মনুষ্যসৃষ্ট নানা ধরনের কারণে বিপদাপন্ন, বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় হতে চলেছে। হাওর-বাঁওড়, বিল-ডোবা, খাল-নালা ও নদনদী-পরিবেষ্টিত বৃহত্তর কুমিল্লায় দেশি মাছের আকাল চলছে। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন ছোট সুস্বাদু মাছ নেই বললেই চলে। এখন আর আমাদের পরের প্রজন্ম দেশি মাছের সেই অতৃপ্ত স্বাদ নিতে পারছে না। স্থানীয় অসাধু জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছের রেণু-পোনা ধরায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ। এ ছাড়া রেণুসহ মা-মাছের আবাসস্থল জলাশয়গুলোয় প্রাকৃতিক কারণে বংশবিস্তারের কোনো সুযোগ না থাকায় ছোট মাছের প্রজননস্থল থাকছে না। বাজারে যৎসামান্য যেসব দেশি মাছ পাওয়া যায়, তার দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে চাষের মাছ এবং আমদানি করা বিদেশি মাছের দামও চড়া। ফলে মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া এখন অনেকেরই সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। একসময় শহর কিংবা গ্রামের বাজারে দেশি মাছ ছিল অনেক। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন, পানি সেচে জলাশয় শুকিয়ে মাছ আহরণ, অনেক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া, কৃষিজমিতে ব্যাপক হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারসহ আরো কিছু কারণে কুমিল্লা অঞ্চলে দিন দিন দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অনেক প্রজাতির দেশি মাছের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। বৃহত্তর কুমিল্লার দেবিদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, গৌরীপুর, তিতাস, হোমনা, দাউদকান্দি উপজেলার হাওর-বাঁওড়, বিল, নদীনালাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে অতীতে দেশি প্রজাতির রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, চিতল, কালিবাউশ, আইড় (গাগট), গজার, শোল, পাবদা, চাপিলা, কৈ, টেংরা, পুঁটি, রানী, মলাসহ আরো অনেক প্রজাতির সুস্বাদু দেশি মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু ক্রমেই এসব মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসময় ২২৮ প্রজাতির দেশি মাছ কুমিল্লা অঞ্চলে থাকলেও এখন সব সময় পাওয়া যায় মাত্র অর্ধশত প্রজাতির মাছ। অঞ্চলভেদে ও মাঝেমধ্যে পাওয়া যায় আরো কিছু দেশি প্রজাতির মাছ। বেসরকারি এক সমীক্ষায় জানা যায়, কুমিল্লার হাওর এলাকায় বিগত দিনে নদীনালা, খালবিল ও ডোবায় দেশি প্রজাতির চিংড়ি, কৈ, শিং, মাগুর, বোয়াল, পাবদা, পুঁটি, শোল, গজার, বাইন, টাকি, খলিশা, ট্যাংরা ইত্যাদি মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বোয়াল, পাবদা, মাগুর, কৈ, টেংরা, মলা, ঢেলা, উটকাল, বেলে, পুঁটিসহ দেশি প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গৌরীপুর, মুরাদনগর, চান্দিনা, দেবিদ্বার, কংশনগর ও বুড়িচং বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মার্কেটই চাষের পাঙ্গাশ, নাইলেনটিকা, সরপুঁটি, মাগুর, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, চিতল ও শিং ছাড়া অন্য কোনো মাছ চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে একাধিক মৎসজীবীর সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়, আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ খালবিল ও নদনদীতে ধানি জমিতে বর্ষার মুহূর্তে দেখা যেত। বৈচিত্র্যময় সরপুঁটি, কালিবাউশ, শোল, বোয়াল ও গনিয়া মাছ স্রোতের সঙ্গে ডিম ছাড়ার জন্য উজানে উঠে ধানক্ষেতে উঠত। কিন্তু আজ রাসায়নিক কীটনাশক ও সার ব্যবহারের ফলে দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে। মাঝে মাঝে কুমিল্লার বাদশামিয়ার বাজার ও রাজগঞ্জে সামান্য কিছু বাইলা, কালিবাউশ, রঙিলা পুঁটি, বেদি, টেংরা ও আউন্না পাওয়া গেলেও তা জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো থেকে দেশি প্রজাতির শোল, টাকি, কৈ, শিং, মাগুর, গজার, পাবদা, চিংড়ি, টেংরাসহ সব ধরনের মাছ বিলুপ্তি হতে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে দেশি মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। দেশি মাছ বিলুপ্তির কারণ জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় ডিম এবং পোনা ধ্বংস হয় এবং মা-মাছ হারিয়ে ফেলে তার প্রজনন-ক্ষমতা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিলুপ্তপ্রায় এসব দেশি প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। দিন দিন বিলুপ্ত হতে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় সবাইকেই সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আবারও পড়ি : অনুবাদ সাহিত্য : সৈয়দ মুজতবা আলী আবারও পড়ি অনুবাদ সাহিত্য সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যের মত অদ্ভুত এবং বেতালা সাহিত্য পৃথিবীতে কমই আছে। রবীন্দ্রনাথ গান আর কবিতা দিয়ে যে বাঙলা গীতিসাহিত্য রচে গিয়েছেন তার কাছে এসে দাঁড়াতে পারে, এমন গীতিসাহিত্য পৃথিবীতে আর নেই বললেও চলে। মেঘদূতের মতো গীতিকাব্য পৃথিবীতে নেই- রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান অনেক স্থলে কালিদাসের মেঘদূতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তার গীতিকাব্য দিয়ে বাঙলা সাহিত্যকে যেন একসঙ্গে তেইশটা ডবল প্রমোশন পাইয়ে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পও বিশ্বসাহিত্যের যে-কোনো কথাসাহিত্যের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। আরো বিস্তর অতুলনীয় সৃষ্টি রবীন্দ্রনাথের কলম দিয়ে বেরিয়েছে, তার উল্লেখ এখানে অবাস্তর। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সৃষ্টিকার। তাঁর পক্ষে অন্য লেখকের রচনা অনুবাদ করবার কোন প্রয়োজন ছিল না। এমন কি একথা বললে ভুল বলা হবে না, যেটুকু অনুবাদ তিনি করেছেন তাতে সময় নষ্ট হয়েছে মাত্র। কদম-ফুলের কেশর ছাড়িয়ে লাট্টু বানিয়ে ছেলেরা জিনিসটাকে কাজে লাগায় বটে, তবু নিষ্কর্মা কদম-ফুলেরই দাম বেশি। অনুবাদ-চর্চা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বেশি সময় নষ্ট করেননি বলেই বোধ করি বাংলা সাহিত্য অনুবাদের দিক দিয়ে এত হীন। তাই বলছিলুম, বাংলা সাহিত্য বেতালা সাহিত্য, গীতিকাব্যে যেন সে পঙ্খিরাজের পিঠে চড়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডময় উড়ে বেড়ায় আর অনুবাদ সাহিত্যের বেলা সে যেন এঁদো কুয়োর ভেতরে খাবি খায়। অথচ উনবিংশ শতকের শেষের দিকে বাংলা ভাষায় যে অনুবাদ সাহিত্যের রচনা দানা বাঁধতে আরম্ভ করে, তার তুলনায় আজকের দিনে তাকিয়ে দেখি সে দানা দিয়ে মিঠাই মণ্ডা তো হলই না, তলানির চিনিটুকু দিয়ে আজ যেন সাহিত্য-সভায় পানসে শরবত বিলানো হচ্ছে। গীতকাব্যে যে সাহিত্য তেইশটে ডবল প্রমোশন পেয়েছিল, অনুবাদে সেই সাহিত্যকেই বাহান্নটা ডিগ্রেডেশন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুবাদ করতে হলে বিদেশি ভাষা জানার প্রয়োজন। আজকের দিনে কলকাতা শহরে শুধু ফরাসি বই বিক্রয়ের জন্যে দোকান হয়েছে- সত্তর বৎসর আগে, ছিল নাÑ তবু আমাদের অনুবাদ-সাহিত্যে যেটুকু শরবত আজ বিলানো হচ্ছে তার আগাগোড়া ইংরেজি থেকে। অথচ উনবিংশ শতকের শেষের দিকেই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ফরাসি সাহিত্যের উত্তম রস-সৃষ্টি বাংলায় অনুবাদ করতে আরম্ভ করেন। বিংশ শতকেও তিনি এই কর্মে লিপ্ত এবং মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ কাজে ক্ষান্ত দেননি। ঠিক স্মরণ নেই, তবে খুব সম্ভব লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলকের বিরাট মারাঠি গীতার অনুবাদই তার শেষ দান। আশ্চর্য বোধ হয় যে, বাঙালি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভুলে গিয়েছে। সংস্কৃত থেকে তিনি যেসব নাটক অনুবাদ করেছিলেন সেগুলোর কথা আজ থাক। উপস্থিত পিয়ের লোতির একখানা বইয়ের কথা স্মরণ করছি। পিয়ের লোতির মত লেখক পৃথিবীতে কমই জন্মেছেন। শুদ্ধমাত্র শব্দের জোরে, সম্পূর্ণ অজানা, অদেখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা গড়ে তোলা যে কি কঠিন কর্ম, তা শুধু তাঁরাই বুঝতে পারবেন, যাঁরা কখনো এ-চেষ্টায় দণ্ডমাত্র কালক্ষেপ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করার মতো দুর্মতি কোনো বাঙালির হওয়ার কথা নয়, তাই বলতে আপত্তি নেই যে, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বাঙালির অদেখা জিনিস নিয়ে কাব্য সৃষ্টি করাটা পছন্দ করতেন না। সাধারণ বাঙালির সঙ্গে পাহাড় এবং সমুদ্রের পরিচয় অতি কম- তাই বোধ করি রবীন্দ্রনাথ এ দুটো জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন যতদূর সম্ভব কম। শীতপ্রধান দেশের পাতা-ঝরা হেমন্ত ঋতু, শুভ্র মল্লিকা বর্ষণের মত বরফপাত যে কী দর্শনীয় বস্তু, সিনেমা থেকেও তার খানিকটে আন্দাজ করা যায়Ñ রবীন্দ্রনাথ এসব দেখেছেন, উপভোগ করেছেন বহুবার; কিন্তু কোথাও তার বর্ণনা করেছেন বলে তো মনে পড়ে না। পিয়ের লোতির বৈশিষ্ট্য এইখানেই। তিনি জাপান, তুর্কি, আইসল্যান্ড এবং আরো নানাদেশের যেসব ছবি ফরাসি ভাষায় এঁকে দিয়ে গিয়েছেন, সেসব পড়ে মনে হয় ভাষার সংগীত, বর্ণ, গন্ধ একসঙ্গে মিলে গিয়ে কী করে এইরূপ রসবস্তু নির্মাণ হতে পারে! মনে হয়, একসঙ্গে যেন পঞ্চেন্দ্রিয় রস গ্রহণ করছে, মনে হয় কারো কলম যদি নিতান্ত অরসিক জনকে দেশ-কাল-পাত্র ভোলাতে সক্ষম হয় তবে সে কলম পিয়ের লোতির। ভারতবর্ষ সম্বন্ধে লোতি যে বইখানা লিখেছেন তার নাম ল্যাঁদ, সাঁজাংলে। অর্থাৎ ‘ভারতবর্ষ, কিন্তু ইংরেজকে বাদ দিয়ে’। অর্থাৎ তিনি ভারতবর্ষের ছবি আঁকতে বসেছেন। কিন্তু মনস্থির করে ফেলেছেন যে, এদেশের ইংরেজদের সম্বন্ধে তিনি কিছু বলবেন না। স্বীকার করি, ‘ইংরেজ-বর্জিত-ভারত’ (‘বসুমতী’ কর্তৃক প্রকাশিত জ্যোতিরিন্দ্র গ্রন্থাবলী দ্রষ্টব্য) ল্যাঁদ, সাঁজাংলের ঠিক অনুবাদ নয়, কিন্তু জ্যোতিরিন্দ্রনাথের অনুবাদশশাঙ্কে ওই একটি মাত্র কলঙ্ক। বাদবাকি পুস্তকখানা অনুবাদ-সাহিত্যে যে কী আশ্চর্য কুতুব-মিনার, তার বর্ণনা দিতে হলে লোতির কলমের প্রয়োজন। ত্রিবাঙ্কুরে লোতি ভারতীয় সঙ্গীত শুনে বিস্ময়ের উচ্ছ্বাসে সে-সংগীতের বর্ণনাতে কত না স্বর কত না ধ্বনি মিশিয়ে দিয়েছেন; জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বাংলা সে-স্বর সে-ধ্বনি অবিকল বাজিয়ে চলেছে। মাদ্রাজে লোতি ভরত-নাট্যম দেখে ভাবাবেগে অভিভূত হয়ে মানবহৃদয়ের যত প্রকারের আশা- নৈরাশ্য, ঘূণা-ক্রোধ, আকুলি-বিকুলি সম্ভব হতে পারে, সব-কটি প্রকাশ করেছেন কখনো গভীর মেঘমন্দ্রে, কখনো মধুর বীণাঝঙ্কারে, কখনো শব্দ সমন্বয়ের চটুল নৃত্যে- জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বাংলা- বীণা যেন প্রতি মন্দ্র, প্রতি ঝঙ্কার, প্রতি ব্যঞ্জনা ঠিক সেই সুরে রস সৃষ্টি করেছে। ইলোরার স্থাপত্য-ভাস্কর্য লোতিকে বিহ্বল ভয়াতুর করে ফেলেছে, অনির্বচনীয় চিরন্তন সত্তার রসস্বরূপে স্বপ্রকাশ দেখিয়ে- জ্যোতিরিন্দ্রনাথের লেখনী লোতির বিহ্বল ভয়ার্ত হৃদয়ের প্রতি কম্পন প্রতি স্পন্দন ধরে নিয়ে যেন বীণাযন্ত্রের চিকণ কাজের সঙ্গে মৃদঙ্গর নিপুণ বোল মিশিয়ে দিয়েছে। এরূপ অদ্ভুত সংগীত দিয়ে বাংলা সাহিত্যের মজলিসে যে অনুবাদ-সাহিত্য আরম্ভ হয়েছিল, আজ তার সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছি সস্তা, রগরগে ইংরেজি উপন্যাসের অনুবাদে। খেমটা আর ‘ফিলমি গানের’ সঙ্গে তার মিতালি। সূত্র : পঞ্চতন্ত্র, সৈয়দ মুজতবা আলী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ১৪২০ ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:০৮ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:০৯ শুধু রাজনৈতিকভাবেই ব্রিটিশদের প্রতিরোধ করা হয়নি; ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছিল। উপনিবেশবিরোধী স্বদেশি চেতনা দিয়েই বিশ শতকের শুরুতে এ দেশে শিল্পকারখানা তৈরির পটভূমি তৈরি হয়েছিল। দেশের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, সেগুলো পরিচিতি পায় ‘স্বদেশি শিল্প’ হিসেবে। এই স্বদেশি উদ্যোগ শুধু কলকাতায় নয়; ঢাকায়ও বিস্তার ঘটে। এই স্বদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ দেশজ শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে পুরোপুরি সফল হতে না পারলেও ঢাকা তথা পূর্ব বাংলায় শিল্পকারখানা বিস্তারের বীজ বপন করে দিয়েছিলেন। ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত বাংলা ও আসাম যখন আলাদা প্রদেশের মর্যাদায় ছিল, তখন স্বদেশি শিল্পের উদ্যোগ বেশি ছিল। শিল্পের এই পুনরুজ্জীবনে তাঁত, হোসিয়ারি, কাপড় কল, ওষুধ, সাবান, পাদুকা, চামড়া—এসব পণ্য প্রাধান্য পায়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রকাশিত ‘ঢাকার বাণিজ্যিক ইতিহাস’ বইয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। ওই বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৪-০৫ সালে গুপ্ত অ্যান্ড কোং নামে ঢাকার পাটুয়াটুলীতে একটি কারখানা গড়ে ওঠে, যার মূলধনের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার টাকা। এই কারখানার ব্যবস্থাপনায় ছিলেন একজন স্বদেশি নেতা। এই কারখানায় সুতা রং করা হতো। ওই সময়ে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নামজাদা ছিল দাস ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং, দে সরকার অ্যান্ড কোং, বেঙ্গল হোসিয়ারি সাপ্লাই অ্যান্ড কোং, স্বদেশি শিল্পালয়, গাঙ্গুলী অ্যান্ড কোং। তবে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের। বিনিয়োগের পরিমাণও কম ছিল। ১৯২২ সালে বড় ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘দি ঢাকেশ্বরী কটন মিল’ নিবন্ধন পায়। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা ছিল দুই হাজারের বেশি। উদ্যোক্তাদের দেশপ্রেম ও স্বদেশি চেতনায় এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। শিল্পের আরেক শাখা, ওষুধশিল্পে স্বদেশি চেতনায় আরেক উদ্যোক্তা শ্রেণি এগিয়ে এসেছিল। হাজার বছর ধরে বাংলার গ্রামগঞ্জে লোকায়ত ‘আয়ুর্বেদীয়’ ওষুধ যুগ যুগ ধরে সমাদৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু উপনিবেশ সরকার ব্রিটিশ ওষুধশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা জোগাতে দেশি ওষুধকে অকার্যকর ও হানিকর বলে প্রচার করে। কিন্তু ঢাকার স্বদেশি উদ্যোক্তারা কলকাতার স্বদেশি শিল্প মালিকদের মতো প্রাচীন শাস্ত্রীয় ওষুধ তৈরি ও বিপণন করার প্রয়াস নেন। দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের মধ্যে অন্যতম ছিল ঢাকা আয়ুর্বেদ ফার্মেসি লিমিটেড। ঢাকার এই প্রতিষ্ঠানটির ওষুধের বিস্তার তৎকালীন পূর্ব ভারতের সর্বত্র ছিল। স্বদেশি প্রতিষ্ঠানের জোয়ারে গড়ে ওঠে আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, গৌর নিতাই আয়ুর্বেদ ঔষধালয়, শক্তি ঔষধালয় ও সাধনা ঔষধালয়। শেষের দুটি প্রতিষ্ঠান এখনো আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ওষুধ বিপণনে বিজ্ঞাপনও দিত। প্রায় ১১৭ বছর আগে ব্রিটিশ প্রসাধনের বিপরীত স্রোতে হেঁটে ঢাকার দেশি উদ্যোক্তারা সাবান কারখানা নির্মাণ করেছিলেন। ১৯০৩ সালে ঢাকার স্বদেশি উদ্যোক্তা কৃষ্ণচন্দ্র সাহা, সত্যমোহন সাহা ও অক্ষয় দাস প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে গড়ে তোলেন ‘বুলবুল সোপ কোম্পানি’। এ ছাড়া স্বদেশি প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে শত বছর আগে ঢাকায় একটি পাদুকা শিল্প কারখানা ও চামড়া কারখানা স্থাপন করা হয়। শতাধিক চর্মকার ওই কারখানায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ওই সময়ে সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিল ‘ইস্ট বেঙ্গল রিভার স্টিম কোম্পানি’। এটির মালিক ছিলেন ঢাকা ভাগ্যকূলের জমিদার রাজা শ্রীনাথ রায়। পদ্মা, মেঘনা ও গঙ্গার বুকে পূর্ব বাংলার কোনো স্বদেশি উদ্যোক্তার প্রথম স্টিমার কোম্পানি ছিল এটি। ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ করার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বদেশি আন্দোলনে ভাটা পড়ে। ধীরে ধীরে শিল্প খাতের এই চেতনা হারিয়ে যেতে থাকে। তবে এই স্বদেশি চেতনা ঢাকার শিল্প-বাণিজ্য খাতে নতুন পথরেখা রেখে যায়। বিশ শতকের শুরুর দিকের এই স্বদেশি শিল্প প্রয়াস ঢাকার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও শিল্পায়নে যে অগ্রযাত্রার সূত্রপাত করেছিল, ১৯৪৭ সালের পর তা আধুনিকতার রূপ নিতে শুরু করে। সেরা ১০ তেল কোম্পানি রহনপুর প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধণ রাজ্যের জনপদে অবস্থিত এবং বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত বিখ্যাত বাণিজ্য কেন্দ্র। কোন কোন ইতিহাস অনুসন্ধানী রহনপুরে প্রাক মুসলিম যুগের উন্নত নগরীর অবস্থানের উল্লেখ করেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্বে এটি তৎকালীন বৃহত্তর মালদহ জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল।[৩]পুনর্ভবা- মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত রহনপুর পাকিস্তান আমলে নবাবগঞ্জ মহকুমার অধীনে আসে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে গোমস্তাপুর থানা উপজেলায় উন্নীত হয় এবং উপজেলার সার্বিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রস্থল হিসেবে রহনপুরে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক অফিস আদালত স্থাপিত হয়।[৪] পরিচ্ছেদসমূহ ১ ইতিহাস ২ প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ ৩ মুক্তিযুদ্ধ ৪ প্রশাসন ৪.১ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ৪.২ ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠা ৫ তথ্যসূত্র ইতিহাস[সম্পাদনা] আমের জন্য বিখ্যাত রহনপুর আমের হাট থেকে তোলা ছবি প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা] নওদা বুরুজ রহনপুর অষ্টভূজি ইমারত এক গম্বুজ বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রহনপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা] রহনপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর এর স্মৃতিস্তম্ভ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রহনপুর ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। পাক সেনারা রহনপুর এ. বি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলে সেনা ক্যাম্প। লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে অত্র এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেন এবং ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ৩০ থেকে ৩৫ জন এর ‍মুক্তিযোদ্ধা দল লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে পাক সেনাদের কে বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। সেই থেকে গোমস্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে প্রতিবছর ১১ ডিসেম্বর দিনটিকে রহনপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।[৫] প্রশাসন[সম্পাদনা] পৌরসভা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা] ১৯৯৫ ইং সালের ১ জানুয়ারি রহনপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট চারটি মৌজা রহনপুর, প্রসাদপুর, হুজরাপুর, খয়রাবাদ নিয়ে গঠিত রহনপুর পৌরসভা ১৯৯৫ইং সালের পূর্বে রহনপুর ও গোমস্তাপুর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত ছিল। বর্তমানে রহনপুর পৌরসভা “ক” শ্রেণীর। ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা] ১৯৯৫ ইং সালের ১ জানুয়ারি গোমস্তাপুর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে রহনপুর পৌরসভা গঠিত হয় এবং বাকি অংশ রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর অধিনে থেকে যায়।[৬] গোমস্তাপুর উপজেলার মোট আয়তন ৩৩.৬৭ (বর্গ কিঃ মিঃ)। লোকসংখ্যা – ২৪,৬৩৮ জন (২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী) এর মধ্যে পুরুষ ১২,০১৮ জন এবং মহিলা ১২,৬২০ জন। রহনপুর ইউনিয়ন এর শিক্ষার হার ৬৫%।[৬] তথ্যসূত্র[সম্পাদনা] ↑ "Area, Population and Literacy Rate by Paurashava –2001" (PDF)। Bangladesh Bureau of Statistics। ২০০৫-০৩-২৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১৯। ↑ ""Statistical Pocket book 2008, Bangladesh Bureau of Statistics"" (PDF)। ১৯ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ↑ "ঐতিহাসিক স্থান"। ChapaiPortal। ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫। ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে গোমস্তাপুর উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৪। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] ↑ "রহনপুর মুক্ত দিবস পালিত" [Rahanpur- Free Day]। চাঁপাই সংবাদ (Bengali ভাষায়)। December 11th, 2015। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (link) [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] ↑ ক খ "এক নজরে রহনপুর ইউনিয়ন"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ২৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫। 'https://bn.wikipedia.org/w/index.php?title=রহনপুর&oldid=4816741' থেকে আনীত বিষয়শ্রেণীসমূহ: প্রাচীন বাংলার জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রহনপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনবহুল স্থান লুকানো বিষয়শ্রেণী: উদ্ধৃতি শৈলী ত্রুটি: তারিখ অকার্যকর বহিঃসংযোগ সহ সমস্ত নিবন্ধ স্থায়ীভাবে অকার্যকর বহিঃসংযোগসহ নিবন্ধ উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা এ পৃষ্ঠায় শেষ পরিবর্তন হয়েছিল ১১:৪১টার সময়, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে। লেখাগুলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন/শেয়ার-আলাইক লাইসেন্সের আওতাভুক্ত; এর সাথে বাড়তি শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। এই সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে, আপনি এটি ব্যবহারের শর্তাবলী ও এর গোপনীয়তা নীতির সাথে সম্মত হচ্ছেন। উইকিপিডিয়া®, অলাভজনক সংস্থা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক। নারাং বাতাসি বৈজ্ঞানিক নাম Lasippa viraja (Moore যার মূল শরীর এবং ডানা দুটি কালো এবং হলুদ বর্ণের ডোরা কাটা। এরা নিমফ্যালিডি পরিবার এবং লিমেনিটিডিনি উপগোত্রের সদস্য। নারাং বাতাসি এর প্রসারিত অবস্থায় ডানার আকার ৫৫-৭৫মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়। প্রজাপতির দেহাংশের পরিচয় বিষদ জানার জন্য প্রজাপতির দেহ এবং ডানার অংশের নির্দেশিকা দেখুন:- ডানার উপরিপৃষ্ঠ স্ত্রী এবং পুরুষ উভয় নমুনারই ডানার উপরিতল কালো এবং কমলা হলুদ বন্ধনী এবং পটি যুক্ত। পিছনের ডানায় তীর্যক খুব চওড়া, কিছুটা ফ্যাকাসে হলুদ একটি সাববেসাল বন্ধনী বিদ্যমান।পোস্টডিসকাল অংশে একটি অপেক্ষাকৃত কম চওড়া তীর্যক বন্ধনী সামান্য বক্রভাবে কোস্টার দিকে উঠে গেছে, যদিও কোস্টা অবধি বিস্তৃত নয়। সাবটার্মিনাল রেখাটি ভিষন অস্পষ্ট এবং ফ্যাকাশে কমলা-হলুদ বর্নের। ডানার নিম্নপৃষ্ঠর নিম্নতলের রঙ ধূসর কালচে বাদামী এবং বন্ধনী এবং দাগগুলি উপরিপৃষ্ঠেরই ন্যায়, তবে অনেকটাই আবছা অথবা অস্পষ্টভাবে বিন্যস্থ। সামনের ডানায় দুটি সরু সাবটার্মিনাল রেখা বিদ্যমান যাদের মধ্যে বাইরের দিকের রেখাটি অস্পষ্ট।পিছনের ডানার বেস অংশে অথবা গোড়ার দিকে কোস্টার রঙ হলদেটে, ডিসকাল এবং সাবটার্মিনাল অংশে সরু ফ্যাকাসে বর্নের দুটি বন্ধনী বর্তমান। উভয় ডানার নিম্নপৃষ্ঠের বন্ধনীগুলির রঙ ধূসর কমলা হলুদ এবং তাতে হালকা বেগুনী ছোঁয়া। শুংগ, মাথা, বক্ষ এবং উদর উপরিপৃষ্ঠ কালো। নিম্নতলে পাল্পি, বক্ষ এবং উদর ধূসর ছাইরংগের। উদরের নিম্নতলে সামান্য কমলা হলুদের ছোঁয়াও চোখে পড়ে। এই প্রজাতির পুরুষ এবং স্ত্রী নমুনাতে এবং আর্দ্র ঋতুরূপ এবং শুষ্কঋতুরূপে পার্থক্য খুবই সামান্য । {{পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্ত নিমফ্যালিডি গোত্রের প্রজাপতির তালিকা}} [[বিষয়শ্রেণী:পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্ত নিমফ্যালিডি গোত্রের প্রজাপতি]] মানুষ চাইলে সব কিছুই সম্ভব! ‘বিশ্বজগত দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে’। কবির কল্পনা বাস্তবে রূপ দিয়ে মানুষ গড়েছে নানা কীর্তি। ঐতিহ্য আর কীর্তিতে সমৃদ্ধ পাবনা জেলা। এমন এক অনন্য কীর্তি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলাকে সংযোগকারী দীর্ঘতম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ঐতিহাসিক এই ব্রিজটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেতুবন্ধন। এ ব্রিজ শত বছর পরেও পৃথিবীর প্রকৌশলীদের কাছে আজও বিস্ময়। কবিগুরু বলেছিলেন,‘ভাবিনি সম্ভব হবে কোনদিন/ আগে ওকে বারবার দেখেছি লালরঙের শাড়িতে/ দালিমের ফুলের মত রাঙা।’ রুপক অর্থে তিনি কি, শৈল্পিক কারুকার্যখচিত বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক লালরঙা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কথা বলেছেন? পদ্মার বুকে ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে স্ব-কীর্তিতে দাঁড়িয়ে আছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। পদ্মার ছিল ভরা যৌবন। খরস্রোতা জলরাশিতে ছিল উত্তাল ঢেউ। এখন যৌবন হারিয়ে বাংলার অমর কীর্তি হার্ডিঞ্জ ব্রিজকে বুকে ধারণ করে আজও শির উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যখন রেল সেতু ছিল না কবির কল্পনা ছন্দময় “ট্রেন তুমি তাড়াতাড়ি চলোনা/ ঘরে নববধূ আছে/ মনে মায়ামধু আছে/ পথ পানে চেয়ে আছে ললনা/ জানো, বড় অভিমানীও নারী/ হাত মুখ ধোবেনা/ জল তাও ছোবেনা/ কথা মতো যেতে যদি না পারি।” তৎকালে বিবিধ সমস্যার কারণে, কলকাতার সঙ্গে অসম, ত্রিপুরাসহ উত্তরাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। ১৮৮৯ সালে সেতু তৈরির প্রস্তাব পেশ করে। ১৯০২-১৯০৫ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে প্রকল্প প্রণয়নের পরিকল্পনা। স্যার ফন্ডিস স্পিং প্রকল্প প্রণয়ন করেন। ১৯০৮ সালে ব্রিজ নির্মাণে মঞ্জুরি প্রদান করা হয়। ১৯০৯ সালে পদ্মা নদীর ওপর সার্ভে শুরু হয়। সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন প্রকৌশলী রবার্ট উইলিয়াম গেইলস। তিনি পুরো প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন করেন। আর ব্রিজের নকশা প্রণয়ন করেন প্রকৌশলী আলেকজান্ডার মেয়াডোস রেন্ডেল । এ ব্রিজ তৈরিতে সমস্যা ছিল নদী শাসন। প্রমত্তা পদ্মার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেতুর নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়া। ১৯১০-১৯১১ সালের পুরোটা সময়জুড়ে শুধু বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গেইলস বৃহদাকৃতির পাথর আর মাটি একত্রে নদীর পাড়ে ফেলতে থাকেন। দু-পাড়ের প্রায় পনেরো কিলোমিটারজুড়ে এভাবে বাঁধ দেন। সে বাঁধ এখনো অক্ষত আছে। একটা পাথরও খসে পড়েনি। সে সময় পাকশীতে ব্রিটিশ নাগরিকের জন্য গড়ে তোলা হয় বাংলো। রবার্ট উইলিয়াম গেইলসের ছিল একটি বড় বাংলো, যা এখনো টিকে আছে। সেখান থেকে তিনি দূরবীনের সাহায্যে নির্মাণকাজের গতিবিধি লক্ষ্য করতেন। এই ব্রিজ নির্মাণে ২৪ হাজার চারশ’ শ্রমিক-কর্মচারী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। এদের অধিকাংশই ছিলেন বাঙালি। ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল বেইন্্স ওয়ালটি অ্যান্ড ক্রিক। ১৯১২ সালে সেতু রক্ষাবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দুপাশে সেতু রক্ষাবাঁধের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ঘনফুট। নদী নিয়ন্ত্রণে দরকার হয় তিন কোটি ৮৬ লাখ ঘনফুট। পাথরের প্রয়োজন হয় তিন কোটি ৮৮ লাখ ঘনফুট। ইটের গাঁথুনির কাজ হয় দুই লাখ ৯৯ হাজার টন। ইস্পাত ব্যবহার করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ড্রাম। ব্রিজে রয়েছে ১৫টি মূল স্প্যান। প্রতিটি স্প্যানের ওজন এক হাজার দুশ’ ৫০ টন এবং দৈর্ঘ্য একশ’ ২০ মিটার। ১৫টি স্প্যান ছাড়াও দুই পাশে রয়েছে তিনটি করে মোট ছয়টি অতিরিক্ত ল্যান্ড স্প্যান। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য ১.৮ কিলোমিটার। এর ওপরে রয়েছে দুইটি ব্রডগেজ রেল লাইন। পাশে পায়ে চলার সরু পথ আছে। তৎকালীন হিসাব অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল তিন কোটি ৫১ লাখ ৩২ হাজার একশ’ ৬৪ ভারতীয় রুপি। সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী মূল স্প্যানের জন্য ব্যয় হয় এক কোটি ৮০ লাখ ৫৪ হাজার সাতশ’ ৯৬ রুপি। স্থাপনের জন্য পাঁচ লাখ ১৩ হাজার আটশ’ ৪৯ রুপি, নদী শাসনের জন্য ৯৪ লাখ ৮ হাজার ৩৪৬ রুপি এবং দুই পাশের রেল লাইনের জন্য ৭১ লাখ ৫৫ হাজার একশ’ ৭৩ রুপি ব্যয় হয়। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক এ ব্রিজটি ১৯১৫ সালের ৪ মার্চে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার নাম অনুসারে ব্রিজটির নামকরণ করা হয় ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যুদ্ধসরঞ্জামসহ সৈন্য পারাপার করত। ফলে ১৪ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর যুদ্ধ বিমান এই ব্রিজের ওপর বোমা ফেলে। এতে ব্রিজের ১২ নং স্প্যান ভেঙে পানিতে পড়ে যায়। ৯ ও ১৫ নং স্প্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সরকারের সাহায্যে মেরামত করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর থেকে পুনরায় ব্রিজটির ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ২০১৫ সালে ঐতিহ্যবাহী এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজের শতবর্ষ পূরণ হয়। ঐতিহ্যের ধারক শৈল্পিক কারুকার্যখচিত এ ব্রিজ দর্শনার্থীদের এখনও মুগ্ধতায় আকৃষ্ট করে। ২০০৪ সালে পদ্মায় বিখ্যাত সুফি সাধক ফকির লালন শাহের নামানুসারে লালন শাহ সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি পদ্মার বুকে ঐতিহ্যবাহী দুটি ব্রিজ এক অপরূপ সৌন্দর্য্যে মিলেমিশে রয়েছে। উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অবলোকনের কৌতূহলে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ভিড় জমায় এখানে। মনপুরা: ভোলার মনপুরায় কৃষি সম্প্রসারন অফিসের নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রথম সাদা জিরা চাষে সফলতা লাভ করেছে। কৃষি সম্প্রসারনে উপসহকারি কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র দে নিজস্ব অর্থায়নে ৩ বছর পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পান। পরে ২০১১/১২ অর্থবছরে পরীক্ষামূলক মনপুরার চরফৈজুদ্দিনের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মোঃ হানিফ ও আলী আকবরের ১ শতাংশ জমিতে চাষ করা হয়। পরে ২০১৩/১৪ অর্থবছরে মনপুরা উপজেলার ১ নং মনপুরায় ২টি, ২নং হাজির হাট ইউনিয়নে ৪টি, ৩ নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে ২টি, ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ২টি মোট ১০টি ব্লকে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। জিরা চাষের প্রকল্প ঘুরে দেখে গেছেন বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও জেলা কৃষি কর্মকর্তা শান্তি রজ্ঞন মন্ডল। সারাবিশ্বে চাহিদার ভারত ৭০ ভাগ, সিরিয়া ৭ ভাগ, তুরুস্ক ৬ ভাগ, ইরান ৬ ভাগ জিরা উৎপন্ন করে। আর বাকি ১১ ভাগ অন্যান্য দেশ উৎপন্ন করে। এক পরিসখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০০/২৫০ টন জিরা আমদানি করতে হয়। সম্পূর্ন আমদানি নির্ভর সাদা জিরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মনপুরা থেকে ১০০/১৫০ টন জিরা উৎপন্ন করা সম্ভব বলে মনে করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। জিরার বীজ: বাজারের রান্নার জন্য ব্যবহৃত জিরা ক্রয় করে প্রথম পরীক্ষমূলক চাষ করা হয়। এবং এর সফল অঙ্কুর উদগমন করা যায়। চাষ পদ্ধতি: রবি মৌসুমে চাষ করতে হবে। প্রথমে মাটিকে জুরজুরা করতে হবে। ৫/৭ বার চাষ দিতে হবে। প্রতি ১ শতাংশে টি.এস.পি ৬ শত গ্রাম, এম.ওপি ৩ শত গ্রাম, ইউরিয়া ৩ শত, জৈব সার ৩ শত গ্রাম লাগবে। সার ছিটানোর পর মাটি সমান করে বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। চারার বয়স ১৫/২০ দিন পর ১ বার ও ফুল আসার পর ১ বার পানি দিতে হবে। ১০০/১২০ দিনের মধ্যে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবে। চাষে খরচ ও উৎপন্ন ফসল: ১ শতাংশ জমিতে জিরা চাষ করতে কৃষকের ২০০ টাকা খরচ পড়বে। আর ১ শতাংশ জমিতে জিরা উৎপন্ন করা যাবে আড়াই কেজি জিরা। যা বাজার দর এক হাজার টাকা। উপজেলা কৃষিসম্প্রারন কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মনপুরায় শীতকালে কুয়াশা পরে না। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়াতে বালাই প্রার্দুভাব কম। চারপাশে নদী থাকায় প্রচুর পরিমানে জলীয়বাষ্প থাকে। তাছাড়া এখানে সূর্যের তীব্র তাপ থাকে তাই এখানে বানিজ্যিকভাবে জিরা চাষ করা যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, দেশের প্রথম আমরা পরীক্ষামুলকভাবে জিরা চাষে সফল হয়েছি। জিরা এদেশের কৃষকের আর্থসামাজিক হাতিয়ার হিসাবে কাজ করবে। আমরা পরীক্ষামূলক সফলতা পেয়েছি এখন বানিজ্যিকভাবে যাবো। বাংলাদেশে বছরে ২০০/২৫০ টন জিরা লাগে যা এ বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল থেকে উৎপন্ন করা সম্ভব। তিনি আরোও বলেন এ সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে হলে এখন দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। আইএম - সিলেক্ট ❶ শব্দ/বাক্য দিয়ে খুঁজতে (বাংলা, ইংরেজি ও আরবী) ❷ যে কোন সূরার একাধিক আয়াত খুঁজতে ❸ একাধিক সূরার একাধিক আয়াত খুঁজতে ❹ শব্দে শব্দে কুরআন থেকে খুঁজতে ❺ হাদিসের শব্দ/বাক্য দিয়ে খুঁজতে (বাংলা, ইংরেজি ও আরবী) ❻ গ্রন্থ অনুসারে হাদিসের শব্দ/বাক্য দিয়ে খুঁজতে ❼ হাদিসের নম্বর দিয়ে খুঁজতে ❽ গ্রন্থসমূহ/মাস'আলা মাসায়েল (শব্দ/বাক্য দিয়ে খুঁজতে) ❾ গুগলের মাধ্যমে খুঁজতে আল-কুরআন অনুবাদ, তাফসীর ও তিলাওয়াত তিলাওয়াত (সমস্ত সূরার কারী অনুসারে তিলাওয়াত (সমস্ত কারীর সূরা অনুসারে যে কোন একটি সূরার একাধিক আয়াত খুঁজতে একাধিক সূরার একাধিক আয়াত খুঁজতে [2:10,5:2] গ্রন্থ অনুসারে হাদিসের ধরণ ফিল্টার হাদিসের শব্দ দিয়ে খুঁজুন (গ্রন্থ অনুসারে) আল্লাহর ৯৯ নাম ও অর্থ মাহরাম ও গায়রে মাহরাম তালিকা কোন ভুল থাকলে সেটি রিপোর্ট করার জন্য অনুগ্রহ করে লগইন করুন। পরিচ্ছেদঃ ২০৫৮. যমযম কূপের কাহিনী ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৩২৬৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৩৫২২ ৩২৬৮। যায়েদ ইবনু আখযাম (রহঃ আবূ জামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন একদিন) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাদিগকে বললেন, আমি কি তোমাদিগকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহনের ঘটনা সবিস্তার বর্ণনা করব? আমার বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম মক্কায় এক ব্যাক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নবী বলে দাবী করেছেন। আমি আমার ভাই (উনাইস)-কে বললাম, তুমি মক্কায় গিয়ে ঐ ব্যাক্তির সহিত সাক্ষাত ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে এস। সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সহিত সাক্ষাত ও আলাপ আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কি খবর নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি একজন মহান ব্যাক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন। আমি বললাম, তোমার সংবাদে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। তারপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কাভিমুখে রওয়ানা হয়ে পড়লাম। মক্কায় পৌছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এই- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞাসা করাও আমি সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে অবস্থান করতে থাকলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলায় আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমন কালে আমার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সাথে আমার বাড়িতে চল। রাস্তায় তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেন নি। আর আমিও ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় পুনরায় মসজিদে গমন করলাম যাতে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। কিন্তু ঐখানে এমন কোন ব্যাক্তি ছিল না যে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ঐ দিনও আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সাথে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বল, তোমার বিষয় কি? কেন এ শহরে আগমন? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখবেন বলে আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি গোপনীয়তা রক্ষা করব। আমি বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক ব্যাক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সাথে সবিস্তর আলাপ আলোচনার করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর খেদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমার অনুসরন করো এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ