content stringlengths 0 129k |
|---|
পর্যটক আকর্ষণ |
কৃতি ব্যক্তিত্ব |
সমসাময়িক পটিয়া |
পটিয়া সদর পৌরসভা |
পটিয়ার ইউনিয়ন |
হাবিলাসদ্বীপ |
দক্ষিণ ভূর্ষি |
গ্রাম-গঞ্জ |
পাঁচমিশালী |
এডিটরস চয়েস |
সমগ্র পটিয়া |
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান |
প্রাথমিক বিদ্যালয় |
মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
কারিগরি ইনস্টিটিউট |
বিশ্ববিদ্যালয় |
এক্সপ্লোর পটিয়া |
যোগাযোগ ব্যবস্থা |
মসজিদ | ধর্মীয় উপাসনালয় |
স্বাস্থ্যকেন্দ্র |
শিল্প প্রতিষ্ঠান |
ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প |
পোলট্রি-ডেইরি |
রপ্তানি পণ্য |
লেটেস্ট ক্যাম্পেইন |
ভিডিও গ্যালারী |
ফটো গ্যালারী |
বিজ্ঞাপন বিভাগ |
@ |
সাম্প্রতিক |
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি |
পৌরসভা নির্বাচন-২০২১ |
পটিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য | |
পটিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য |
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৪৫ সালে পটিয়ায় একটি থানা প্রতিষ্ঠা করা হয় |
১৯৮৪ সালে এটিকে উপজেলায় উন্নীত করা হয় |
১৯৩০ এর দশকে এখানে ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী, বিশেষতঃ যুগান্তর দল ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযানের সাথে জড়িত বিপ্লবীরা এখানে সক্রিয় ছিলেন |
১৯৩০-এর দশকে কালারপোল সংঘর্ষে বিপ্লবী স্বদেশ রায় ইংরেজ সেনাদের গুলিতে নিহত হন |
১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে গৈড়লা গ্রামে বিপ্লবী দলের অধিনায়ক সূর্যসেন ও ব্রজেন্দ্রসেন ইংরেজ সেনাদের হাতে ধরা পড়েন |
১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর দুটি বোমারু বিমান পটিয়া সদরে কয়েকদফা বোমা হামলা চালিয়ে অনেক বেসামরিক লোককে হত্যা করে |
১৯৭১ সালের ৩মে মুজাফফরাবাদ গ্রামে পাকবাহিনী ও রাজাকার-আলবদর সদস্যরা অসংখ্য ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালায় |
১৯২৯ সালে পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী আবদুল গফুর হালী |
তাঁর লেখা অসংখ্য আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারী গান সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয় |
আবদুল গফুর হালীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'মেঠো পথের গান' |
পটিয়া উপজেলার পটভূমি |
ষষ্ঠ শতকে পটিয়াসহ সমগ্র চট্টগ্রাম সমতট রাজ্যভুক্ত হয় |
সপ্তম শতক অবধি সমতটের খড়ুগ রাজবংশের রাজাদের দ্বারা শাসিত হয় |
অষ্টম শতকে ধর্মপালের রাজত্বকালে তা পাল সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল |
নবম শতকে পটিয়াসহ চট্টগ্রাম আবার হরিকেল রাজ্যভুক্ত হয় |
দশম শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময় অর্থাৎ ১৬৬৬ সন পর্যন্ত সাময়িক বিরতি থাকলেও চট্টগ্রাম সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল আরাকান রাজ্যভুক্ত ছিল |
বৌদ্ধযুগে চট্টগ্রাম 'চক্রশালা' নামে বহির্বিশ্বে পরিচিত ছিল |
এ চক্রশালা পটিয়া সদর থেকে দুই মাইল দক্ষিণে অবস্থিত |
আরাকান শাসকরা চক্রশালায় তাদের রাজধানী স্থাপন করে |
রাজা মেং ফালোং (সেকান্দার শাহ) এর শাসনকালে (১৫৭১-৯৩ খ্রি.) 'চক্রশালা' রাজধানী ছিল যেখানে চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশ ও কক্সবাজার তার দখলে ছিল |
পটিয়াসহ পুরো চট্টগ্রাম মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয় সম্রাট আকবরের বাংলা বিজয়ের আরো ৯০ বছর পূর্বে ১৬৬৬ সনে তার প্রপৌত্র সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে |
ব্রিটিশ শাসনের আগে এতদঞ্চল আরাকান আমলে 'চক্রশালা', মোগল আমলে 'চক্রশালা পরগণা' এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে 'চাকলা' নামেই পরিচিত ছিল |
ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ চট্টগ্রামের কেন্দ্র পটিয়ায় ১৯১০ সালে ৫ জন মুন্সেফ নিয়ে মহকুমা মুন্সেফ কোর্ট স্থাপন করে এবং তদানীন্তন পাঁচ থানার প্রশাসনিক কার্য পরিচালনার জন্য একজন সার্কেল অফিসার (ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট) নিয়োগ করে |
উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে পটিয়ার ও রাউজানের কিছু অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা গঠিত হয় |
পরবর্তীতে পটিয়াকে ভেঙে ১৮৯৮ সালে আনোয়ারা, ১৯৩০ সালে বোয়ালখালী ও ১৯৭৬ সালে চন্দনাইশ এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে পটিয়া উপজেলার অধীনে কর্ণফুলী থানা গঠিত হয় (পরবর্তীতে এসব থানাকে উপজেলাতে উন্নীত করা হয়) |
১৯৫৮ সালে পাকিস্তান আমলে পটিয়া মহকুমা (জেলা) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে |
১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পটিয়াকে মহকুমা থেকে উপজেলাতে পরিণত করা হয় |
বাঙালি জাতির ইতিহাসে যে ক'টি বীরত্ব গাঁথা রয়েছে সে সবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বীরত্বগাঁথা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ |
পৃথিবীর খুব কম জাতি রয়েছে, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য প্রাণদিয়েছেন |
মুক্তিযুদ্ধে যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের সুবাদেই বাঙালি জাতি শত শত বছর পরাধীনতার শৃঙ্খলে থাকার পরও বীরের জাতিতে পরিণত হয়েছিল |
এই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে বীর প্রসবিনী পটিয়া |
বৃটিশ শাসনামল হতে শিক্ষা দীক্ষায় অগ্রসর পটিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ছিল অগ্রভাগে |
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম তথাকথিত 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার' অন্যতম আসামী বিভূষি ভূষণ চৌধুরী প্রকাশ মানিক চৌধুরী ছিলেন পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামের সূর্যসন্তান (এই সূর্য সন্তানের জন্য আমরাও গর্বিত) |
১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও সুলতান কুসুমপুরী বিজয়ী হওয়ার পর হতেই মূলত ঐতিহাসিক পটিয়া আন্দোলন সংগ্রামে মুখরিত হয়ে উঠে |
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই কালো রাতে যখন বর্বর পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে ঢাকায় নিরস্ত্র প্রতিরোধের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে, ওই ঘটনা আঁচ করতে পেরে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে প্রথম বিদ্রোহকারী ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালী সেনা... |
সন্ধ্যার দিকে সেখান থেকে |
' , , .' বলে |
মেজর জিয়াউর রহমান |
নিজেকে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন |
২৬ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ হতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন |
২৭ মার্চ পুনরায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ হতে ', , , ' বলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে পটিয়াবাসী তথা সারা দেশের মানুষ উজ্জীবিত হয় |
(তথ্যসূত্র: কর্ণেল অব. ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম) |
সেদিন ঝাউতলা রেলস্টেশনসহ চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিহারী কর্তৃক বাঙালি নিধনের সংবাদেও পটিয়াবাসী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে |
পটিয়ার জাতীয় পরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুল ইলাম চৌধুরী, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, চৌধুরী হারুনুর রশিদ, আবুল মাসুদ চৌধুরী, নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ, শামসুদ্দিন আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী,অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন দাশ, অধ্যাপক শামসুল ইসলামসহ আরও অনেকের নেতৃত্বে পটিয়াবাসী মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে |
পটিয়ার সর্বস্তরের জনতা সেদিন পূর্ববাংলার স্বাধীনতার নেশায় উম্মাদ হয়ে উঠে |
হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় |
অনেকে দেশের অভ্যন্তর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে |
মুষ্ঠিমেয় কিছু স্বাধীনতা বিরোধী থাকলেও মূলতঃ পটিয়া ছিল স্বাধীনতাকামী মুক্তি পাগল জনতার দুর্ভেদ্য দূর্গ |
সম্ভবত একমাত্র পটিয়া'ই ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত হানাদার মুক্ত তথা স্বাধীন ছিল |
পটিয়াবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কথাটি বুঝতে পেরে যুদ্ধের প্রথমদিকেই পাকিস্তানী বিমানবাহিনী ১৪ এপ্রিল শুক্রবারে পটিয়া সদরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে |
সেদিন প্রায় অর্ধশতাধিক লোক শহীদ হন |
যুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানী বাহিনীর এই বর্বরতা পটিয়াবাসীকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জোগায় |
মুক্তিযুদ্ধে শুরুতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাদানকারী মেজর জিয়াউর রহমান ও তৎকালীন পটিয়ার সন্তান ক্যাপ্টেন অলি আহমদ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পতনের পর পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন গ্রামের আমিন শরীফ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্রাম নিয়েছিলেন বলে জানা যায় |
স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন অলি আহমদ 'বীর বিক্রম' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন |
পটিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে অনেকের নাম আজ মনে না থাকলেও কিছু মুক্তিযোদ্ধার ও সংগঠকের নাম আজও স্মৃতিতে জ্বল জ্বল করছে |
তাদের মধ্যে এ্যাডভোকেট জালালউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, এস.এম ইউসুপ, আহমদ শরীফ মনির, ধীরেন দাশ, মোহাম্মদ মহসিন, আহমদ নবী, মাহফুজুর রহমান খান,আবদুস ছালাম, শামসুদ্দিন আহমেদ, আবদুল বারিক, প্রফেসর শামসুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, ফজল আহমদ চৌধুরী, দিলীপ কান্তি দাশ, শাহ আলম, অনিল নালা, আবুল কাশেম, ফজলুল হক, আবদ... |
চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ক্যাপ্টেন করিমের নাম অবিস্মরণীয় হয়ে আছে |
তিনি পটিয়ার অধিবাসী না হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার নাম ছিলেন |
দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে শহীদ হয়েছিলেন |
বিনিনিহারার ডা. শামসুল আলম ও গৈড়লার আহমদ হোসেন মাস্টার মুক্তিযোদ্ধাদের যাবতীয় সহায়তা করতেন বলে জানা যায় |
এ দু'জনের বাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত ছিল |
পটিয়ার মুক্তিযুদ্ধে মিলিটারী পুলের পাক বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধের কথা মনে হলে আজও গা শিউরে উঠে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.