content
stringlengths
0
129k
আর তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল
(এসব) শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এসব কি ছিল জানো? উসায়দ বললেন, জি না, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, এটা ছিল মালায়িকাহর (ফেরেশতাগণের) দল
তাঁরা তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার নিকটবর্তী হচ্ছিলেন
তুমি যদি পড়তে থাকতে, ভোর পর্যন্ত তাঁরা ওখানে থাকতেন
লোকেরা তাঁদেরকে দেখতে পেত
মানুষ হতে তাঁরা লুকিয়ে থাকত না
(বুখারী, মুসলিম
তবে মতন বুখারীর
মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, 'সামিয়ানা শূন্যে উঠে গেল,' 'আমি বের হলাম'-এর স্থলে
[1] সহীহ : বুখারী ৫০১৮, মুসলিম ৭৯৬, শু'আবূল ঈমান ২৪২৬
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أُسَيْدَ بنَ حُضَيْرٍ قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ يَقْرَأُ مِنَ اللَّيْلِ سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَفَرَسُهُ مَرْبُوطَةٌ عِنْدَهُ إِذْ جَالَتِ الْفرس فَسكت فَسَكَتَتْ فَقَرَأَ فجالت الْفرس فَسكت فَسَكَتَتْ الْفرس ثُمَّ قَرَأَ فَجَالَتِ الْفَرَسُ فَانْصَرَفَ وَكَانَ ابْنُهُ يحيى قَرِيبا مِن...
وعن أبي سعيد الخدري أن أسيد بن حضير قال: بينما هو يقرأ من الليل سورة البقرة وفرسه مربوطة عنده إذ جالت الفرس فسكت فسكتت فقرأ فجالت الفرس فسكت فسكتت الفرس ثم قرأ فجالت الفرس فانصرف وكان ابنه يحيى قريبا منها فأشفق أن تصيبه فلما أخره رفع رأسه إلى السماء فإذا مثل الظلة فيها أمثال المصابيح فلما أصبح حدث النبي صلى الله عليه و...
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সামনে অন্য হাদীসে সূরা আল কাহাফ তিলাওয়াত করার কথা এসেছে
এর সমাধানে মুহাদ্দিস কিরমানী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) রাতে দু'টি সূরাই তিলাওয়াত করতেন
তিনি যখন রাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন তার তিলাওয়াতে স্বর্গীয় সুর লহরী শুনতে আকাশ থেকে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) অবতীর্ণ হতো, তা দেখে তার ঘোড়াটি ভয়ে লাফালাফি শুরু করত
অতঃপর তিনি তিলাওয়াত বন্ধ করলে মালায়িকাহ্'রা উপরে উঠে যেত ফলে ঘোড়াও শান্ত হয়ে যেত
মুল্লা 'আলী কারী (রহঃ) বলেছেন, আল কুরআনের আস্বাদনের (আনন্দে) ঘোড়া লাফালাফি শুরু করত, তিলাওয়াত বন্ধ করলে সে ঐ স্বাদ হারিয়ে নীরব হয়ে যেত
সাহাবী উসায়দ তিন তিনবার এটা প্রত্যক্ষ করলেন, অতঃপর শেষবার আকাশ পানে তাকিয়ে দেখেন সামিয়ানার ন্যায় যাতে রয়েছে অসংখ্য বাতি
কোন কোন বর্ণনায় সামিয়ানার পরিবর্তে মেঘের আবরণ বা ছায়ার কথা উল্লেখ পাওয়া যায়
ইবনুল বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন, দৃশ্যত ঐ মেঘের আবরণের ন্যায় যা ছিল মূলত তা ছিল সাকীনাহ্ এবং ওর মধ্যে ছিল মালাক (ফেরেশতা)
তিলাওয়াত বন্ধ না করলে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন না, আর ঐ বাড়িতে সাকীনাহ্ বর্ষণ হতেই থাকতো
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১১৭-[৯] বারা ইবনু 'আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সূরা 'আল কাহাফ' পড়ছিল
দু'টি রশি দিয়ে তার ঘোড়া পাশেই বাঁধা ছিল
এমন সময় এক খণ্ড মেঘ তাকে ঢেকে নিলো
মেঘখণ্ডটি ধীরে ধীরে তার নিকটতর হতে লাগল
আর তার ঘোড়াটি লাফাতে লাগল
সে ভোরে উঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা তাঁকে জানাল
(তিনি ঘটনা শুনে) বললেন, এটা ছিল রহমত, যা কুরআনের কারণে নেমে এসেছিল
(বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৫০১১, মুসলিম ৭৯৫, শু'আবূল ঈমান ২২১৭
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ سُورَةَ الْكَهْفِ وَإِلَى جَانِبِهِ حِصَانٌ مَرْبُوطٌ بِشَطَنَيْنِ فَتَغَشَّتْهُ سَحَابَةٌ فَجَعَلَتْ تَدْنُو وَتَدْنُو وَجَعَلَ فَرَسُهُ يَنْفِرُ فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: "تِلْكَ السكين...
وعن البراء بن عازب قال: كان رجل يقرأ سورة الكهف وإلى جانبه حصان مربوط بشطنين فتغشته سحابة فجعلت تدنو وتدنو وجعل فرسه ينفر فلما أصبح أتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فقال: "تلك السكينة تنزلت بالقرآن"
ব্যাখ্যা: (كَانَ رَجُلٌ) কেউ বলেনঃ তিনি হলেন আস্ওয়াদ বিন হুযায়র (রাঃ) যেমনটি তার ইতোপূর্বে বর্ণিত হাদীসে অতিবাহিত হয়েছে
তবে সেখানে তিনি সূরা আল বাকারাহ্ পাঠ করেছিলেন
আর এখানে তিনি সূরা আল কাহাফ পাঠ করেছেন
হাফেয ইবনু হাজার বলেনঃ এই ঘটনাটির সাদৃশ্যতা রয়েছে
সাবিত বিন কায়স বিন সাম্মাস-এর ঘটনার সাথে
তবে সেটা ঘটেছিল সূরা আল বাকারাহ্ পাঠকালে
ইমাম আবূ দাঊদ-এর মুরসাল রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সম্ভবত আস্ওয়াদ বিন হুযায়র সূরা আল বাকারাহ্ পাঠ করেছিলেন
অতঃপর আস্ওয়াদ বিন হুযায়র-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আমি সূরা আল বাকারাহ্ পাঠ করেছিলাম
সম্ভবত তিনি সূরা আল বাকারাহ্ ও আল কাহাফ উভয়টি পাঠ করেছিলেন; অথবা দু'টোর যে কোন একটি পাঠ করেছিলেন
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১১৮-[১০] আবূ সা'ঈদ ইবনু মু'আল্লা (রাঃ) বলেন, মসজিদে আমি সালাত আদায় করছিলাম
এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন
সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি উত্তর দিলাম না
এরপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সালাত আদায় করছিলাম
তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, যখন আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল ডাকেন তখন তাঁদের ডাকের জবাব দাও? অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাসজিদ হতে বের হবার আগে আমি কি তোমাকে (পড়ার জন্য) শ্রেষ্ঠতর সূরাটি শিখাব না?
এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরলেন
তারপর আমরা মাসজিদ হতে বের হতে চাইলে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বলেছিলেন, ''আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা শিখাব না?'' তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটি হলো সূরা ''আলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল 'আ-লামীন''
এ সূরাই (পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত) সে সাতটি আয়াত (সাব্'উল মাসানী) ও মহা কুরআন, যা আমাকে দেয়া হয়েছে
(বুখারী)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৪৪৭৪, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৫, আহমাদ ১৭৮৫১, ইবনু মাজাহ ৮৬২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৩৯৭, সহীহ আল জামি' ১৪৫২, আবূ দাঊদ ১৪৫৮, নাসায়ী ৯১৩
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ: كُنْتُ أُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ فَدَعَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَلم أجبه حَتَّى صليت ثُمَّ أَتَيْتُهُ. فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كنت أُصَلِّي فَقَالَ أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ (اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دعَاكُمْ)
ثمَّ قَالَ لي: "أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ" . فَأَخَذَ بِيَدِي فَلَمَّا أَرَادَ أَن يخرج قلت لَهُ ألم تقل لأعلمنك سُورَة هِيَ أعظم سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ قَالَ: (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ)
هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتهُ . رَوَاهُ البُخَارِيّ
وعن أبي سعيد بن المعلى قال: كنت أصلي في المسجد فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فلم أجبه حتى صليت ثم أتيته. فقلت يا رسول الله إني كنت أصلي فقال ألم يقل الله (استجيبوا لله وللرسول إذا دعاكم) ثم قال لي: "ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد" . فأخذ بيدي فلما أراد أن يخرج قلت له ألم تقل لأعلمنك سورة هي أعظم ...
ব্যাখ্যা: বর্ণনাকারী সাহাবীর এ ঘটনাটি ছিল মসজিদে নাবাবীতে
সালাতরত অবস্থায় তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহবান করলে, তিনি তার ডাকে কোন সাড়া দেননি, কারণ সালাতের মধ্যে কথা বলা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন এবং সালাত ভঙ্গ করতেও নিষেধ করেছেন
আর তিনি এ কথাও ভেবেছেন যে, আল্লাহ ও তার রসূলের ডাকে সাড়া দেয়ার এ হুকুম সালাতের বাইরে
আল্লাহ ও তার রসূলের আহবানে সাড়া দেয়ার অর্থ হলো তার আনুগত্য করা এবং হুকুম পালন করা
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরাটি শিক্ষা দানের কথা বলেছেন
এর দ্বারা উত্তমটি বুঝানো হয়েছে
কেউ কেউ বলেছেন, এর দ্বারা অধিক সাওয়াবের কথা বুঝানো হয়েছে
ইবনুত্ তীন বলেন, বড় সূরার অর্থ হলো, এর সাওয়াব অন্য যে কোন সূরা হতে বেশি
'আল্লামা ত্বীবী বলেন, এটা ঐ সূরার বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যা অন্য কোন সূরার মধ্যে নেই
আর এ সূরায় রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা ও অর্থ
এর দ্বারা কুরআনের এক অংশ অপর অংশের উপর ফাযীলাত বা মর্যাদার কথাও স্বীকৃত
মুল্লা 'আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, সূরা ফাতিহাকে আল কুরআনের বড় সূরা বলার কারণ হলো এতে রয়েছে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা, তার আদেশ নিষেধ পালনের অঙ্গীকার ও তারই জন্য 'ইবাদাতকে খালেসভাবে পেশ করার স্বীকৃতি
সৌভাগ্যের বস্ত্ত তার কাছেই চাওয়া এবং দুর্ভাগ্যের অবস্থান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার মহান শিক্ষা
আল কুরআনের সার্বিক মৌলিক আলোচনা এ সূরাতেই নিহীত, সুতরাং এটি সবচেয়ে বড় সূরা
এ সূরাকে সাব্'উল মাসানী বলা হয়েছে, (সূরা আল হিজর-এর ৮৭ নং দেখুন)
এর অর্থ পুনঃপঠিতব্য সাত আয়াত বিশিষ্ট সূরা, যেহেতু এ সূরাটি প্রতি রাক্'আতেই প্রতি সালাতেই পাঠ করা হয়
অথবা এ সূরাটি একের পর এক, অর্থাৎ- দু'বার নাযিল হয়েছে, তাই এর নাম সাব্'উল মাসানী
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন