content
stringlengths
0
129k
'মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আমি চলে যাই কলকাতায় এবং অন্যরা দায়িত্ব নিয়ে যায় যার যার অবস্থানে
সিদ্ধান্ত হয়েছিল কলকাতায় আমরা ছাত্র ইউনিয়নের একটি অফিস করব
সেমতো চেষ্টাও চলছিল
কমিউনিস্ট নেত্রী ইলা মিত্র ও রমেন মিত্র পার্ক সার্কাস অঞ্চলে তাঁদের কমিউনিস্ট সহযাত্রীদের বলে যাচ্ছিলেন ঘর সম্পর্কে খোঁজ দেবার জন্য
কিন্তু ছাত্র সংগঠনের জন্য বাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল
পরে অবশ্য আমরা পার্ক সার্কাস ট্রাম্প ডিপোর কাছে বড় একটি ঘর পেয়েছিলাম
এই অফিসেই ছাত্র ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলের কাজকর্ম চালাতে হয়েছিল
একবার সম্ভবত ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে এই অফিসেই ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা হয়েছিল
এই সভায় যোগ দেয়ার জন্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও নুরুল ইসলাম নাহিদ এসেছিলেন আগরতলা থেকে
মুক্তাঙ্গনসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা এই সভায় যোগ দিয়েছিলেন
মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের করণীয় সম্পর্কে এই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল
আমি ও শিল্পী সুবীর চৌধুরী এই অফিসের দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখাশোনা করতাম
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতাম
' (পৃ ১১০)
'৭১ সালের মে মাসে মোহাম্মদ ফরহাদ এবং নুরুল ইসলাম নাহিদ আগরতলা থেকে কলকাতা এসে পৌঁছেন এবং ১৬/১ আমীর আলী অ্যাভিনিউর একটি অফিসঘর রমেন মিত্রের জিম্মায় ভাড়া নেওয়া হয়, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির অফিস করা হয়
বিখ্যাত বিধায়ক এবং পার্ক সার্কাস এলাকার নেতা ডা. এম এ গনি এই ঘর পাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সাহায্য করেন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যে-গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা আমাদের ইতিহাসে খুব বেশি উজ্জ্বলভাবে লেখা হয়নি
বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদ-পরিচালিত প্রবাসী সরকারকে সাহায্য করা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে মণি সিংহ ও অন্য নেতাদের দেখা করে ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, এবং আগস্ট মাসের দিকে ভারত সরকারের রুশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে নেপথ্যে থেকে সাহায্য করা অত্যন্ত বড় কাজ ছিল
ইন্দিরা গান্ধীর দুই সহযোগী পরমেশ্বর নারায়ণ হাকসার এবং দুর্গাপ্রসাদ ধর ছিলেন মার্কসবাদী মনোভাবাপন্ন মানুষ
তাঁরা রুশ সরকারকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে ইন্স্ট্রুম্যানটের ভূমিকায় ছিলেন; কিন্তু আমাদের কমিউনিস্ট পার্টি ও ভারতের সিপিআই নেতারা এই পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করেন
কলকাতার এই অফিস থেকেই নেতারা তাঁদের সাধ্য অনুযায়ী যুদ্ধে যোগ দেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ পরিচালনা করেন
আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, 'কলকাতার এই অফিসকে ঘিরে আমাদের যে কর্মপ্রবাহ চলেছিল পেছন ফিরে তাকালে আজ সত্যিই বিস্মিত হই
... পার্টির নেতৃবৃন্দ যখন আগরতলা ফিরে যেতেন আমি অনেক কষ্টে তাঁদের প্লেনের টিকিট জোগাড় করতাম
সে সময়ে প্লেনের টিকিট পাওয়া খুব কষ্টকর ছিল
ইনডিয়ান এয়ারলাইন্সে বাগচি বলে সিপিআইয়ের একজন পার্টি সদস্যের সঙ্গে রমেনদা আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন
সে-সময় ইনডিয়ান এয়ারলাইন্সের অফিস ছিল চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে
আমি টিকিট সংগ্রহের জন্য তাঁর কাছে গেলে তিনি খুব সহজেই আগরতলা যাওয়ার এবং রিলিফ দ্রব্য - কম্বল, গরম কাপড় ও ওষুধ পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিতেন
এই কাজটি খুব সহজ ছিল না
রিলিফ-দ্রব্য বিতরণ ও ক্যাম্প পরিচালনা ব্যয়ের টাকা পৌঁছে দিতে কোনোদিন গিয়েছি বনগাঁ অশোক নগর মধ্যম গ্রাম, কখনো গিয়েছি হাওড়া স্টেশনে, দিল্লি থেকে প্রেরিত ওষুধের বড় বড় বাক্স ছাড়াতে
কখনো ইলাদি নিয়ে গেছেন কম্বল ও গরম কাপড় সংগ্রহ করার জন্য রেড ক্রস ও কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ পার্টি অফিসে
কোনো কমিউনিস্ট কর্মী গুরুতর অসুস্থ হলে নীলরতন হাসপাতাল বা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করাতে
স্টেনসিল কেটে তা ছাপানোর ব্যবস্থা করা হতো
এছাড়া লন্ডনে বাংলাদেশের একটি ব্রাঞ্চ ছিল
বিখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান, পরবর্তীকালে যিনি আফ্রো-এশীয় গণসংহতি আন্দোলন ও মৈত্রী সমিতির নেতা হন, আন্দোলনের শীর্ষ নেতা হয়ে ওঠেন
নিখিল চক্রবর্তী তখন এই ব্রাঞ্চকে ঘিরে লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন
মোহাম্মদ ফরহাদের নির্দেশে আমি তাঁকে নিয়মিত পার্টি সার্কুলার ও মুক্তিযুদ্ধ পত্রিকা পাঠাতাম
' (পৃ ১১৩) বিখ্যাত সাংবাদিক ও অক্সফোর্ড-শিক্ষিত নিখিল চক্রবর্তী আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন - এ-কথা আমাদের দেশের কম মানুষই জানেন
'৭১ সালের সেপ্টেম্বরের এক ঘোর বর্ষার দিনে কমিউনিস্ট পার্টি কলকাতা প্রেসক্লাবে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স করে
এতে মণি সিংহ লিখিত বক্তব্য দেন এবং মোহাম্মদ ফরহাদ দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন
আরেকটি খুব প্রয়োজনীয় জিনিস ভারতীয় রেলওয়ের পাশ সংগ্রহ করা, যা সিপিআইয়ের কর্মীরা রেলে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী ও নেতাদের দেওয়া হতো, যাতে তাঁরা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন
এই পাশ লেখক আবুল হাসনাত সংগ্রহ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ কমিউনিস্ট পার্টির বউবাজারের অফিস থেকে
এছাড়া স্বাধীন গুহও মাঝে মাঝে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে পৌঁছে দিতেন
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দুজন নেতা ইলা মিত্র এবং রমেন মিত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য যা করেছেন তা কলকাতায় আশ্রিত শরণার্থী বা আমাদের লেখক-বুদ্ধিজীবীরা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা ছাড়াও আগরতলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাদের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সে-সময়, তা কারো পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়
বিশেষ করে স্কটিশ চার্চ কলেজের হোস্টেলের সুপার কবি ও পরিচয় সাহিত্য পত্রিকার এককালীন সম্পাদক তরুণ স্যান্নাল সেই সময়ে এই হোস্টেলের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের জন্য
এটা ছিল অভাবনীয় উদারতা
এছাড়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মণি সিংহের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেন
ওয়াহিদুল হক ও সন্জীদা খাতুন ছাড়াও অনেক তরুণ-তরুণী বাংলাদেশের শিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের গান গেয়ে গেয়ে মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখেন
সেসব সংগীতানুষ্ঠান বা রাস্তায় গাওয়া গানের হাজারো ফুটেজ ধারণ করেন মার্কিন সাংবাদিক লিয়ার লেভিন
সেসব ফুটেজ নিয়ে তারেক মাসুদ ও অন্যরা নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনন্য প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির গান
বাংলাদেশের, বলা যায় পূর্ব পাকিস্তানের, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক জগতের বিবর্তন ঘটেছে পুরো পঞ্চাশ এবং ষাটের দশক জুড়ে
প্রথম বড় বিপর্যয় বাঙালি জাতির ওপর নেমে আসে '৫২ সালে ভাষা-আন্দোলনের সময়ে
সেই থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে নিজেদের আত্মপরিচয় কী এবং তার অধিকারই বা কী, সেসব চিন্তা করোটিতে আঘাত করে
সম্ভবত সেখান থেকেই শিক্ষিত জনসমাজ রবীন্দ্রনাথের শরণ নেন
আবুল হাসনাতের আত্মজীবনী আসলে বাঙালি মধ্যবিত্তের সংস্কৃতি ও রাজনীতির বিবর্তনের ইতিহাস
পঞ্চাশের দশকের বালক এই লেখক ধীরে ধীরে নবাবপুর স্কুলের শিক্ষকমণ্ডলী, বন্ধুবান্ধব, বিশেষত আজকের বিখ্যাত লেখক-সাংবাদিক মতিউর রহমানের সান্নিধ্যে ও সহায়তায় প্রগতিশীল রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন, নিজেকে সাহিত্য ও শিল্পকলার সৌন্দর্যে উজ্জ্বল করেন, সেই ইতিহাস বিধৃত হয়েছে এই গ্রন্থে
বাংলাদেশে গত সাত দশকের সাংস্কৃতিক ধারায় দুটি বিপ্রতীপ চরিত্র লক্ষ করা যায়
এর একটি প্রগতিশীল ধারা, যার সঙ্গে মধ্যপন্থী রাজনীতির গণতন্ত্রমনা মধ্যবিত্ত থেকে আগত মানুষজন ছিলেন
দ্বিতীয় ধারাটি একেবারে বিপরীত, অর্থাৎ ধর্মীয় রাজনীতির অনুসারী ও তার কাছাকাছি রক্ষণশীল মুসলিম মানসে গড়া একটি ধারা; কিন্তু প্রগতিশীল ধারাটি বাঙালি জাতীয়চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল
তাঁদের কাছে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, গান এবং শিল্পাদর্শের দ্যুতিনির্ভর আমাদের আত্মপরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়
এই পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্র ইউনিয়ন, সংস্কৃতি সংসদ, ছায়ানট এবং সংবাদপত্র জগতের মধ্যে দৈনিক সংবাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি
আর সৌভাগ্যক্রমে এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আবুল হাসনাত তরুণ বয়স থেকে প্রায় সারাজীবনই যুক্ত ছিলেন
শুধু যুক্ত ছিলেন তাই নয়, তাঁর জীবনটাই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আদর্শে
তিনি সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন এই ভূখণ্ডের মানুষের রুচি এবং সাংস্কৃতিক উজ্জ্বলতা প্রবৃদ্ধির জন্য
তরুণ বয়সে ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করার পর তিনি নিজেই একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সরাসরি রাজনীতির চেয়ে তিনি সম্ভবত মানসিক গঠনের দিক থেকে সাংস্কৃতিক কাজে বেশি উৎকর্ষ লাভ করতে পারবেন
তাই সংস্কৃতি সংসদ এবং সাহিত্য সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি আমাদের শিল্পরুচি নির্মাণেই জীবনের বেশি সময় ব্যয় করেছেন
১৯৬৫ সাল থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশক তিনি সংবাদে চাকরি করেন
এর মধ্যে প্রায় আড়াই দশক তিনি সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক ছিলেন
এরপর প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় তিনি দেশের অতি উৎকৃষ্ট সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা কালি ও কলম সম্পাদনা করেন
তাঁর জীবনের এই চারটি দশক তিনি নীরবে আমাদের
সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের জগৎকে বুকের উত্তাপ দিয়ে কর্ষণ করেছেন, শিল্পিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন
একজন শিল্পপ্রেমিকের প্রতিকৃতি তিনি, কিন্তু তরুণ বয়স থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর এই সংস্কৃতিচর্চা বা কর্ষণের পেছনে চালিকাশক্তি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার
এই মানুষটির জীবনের এই চল্লিশ বছরের ছবির মধ্যে দিয়ে আমাদের সমাজের শিল্পের ও সংস্কৃতির ছবি পাওয়া যায়
সংস্কৃতি সংসদের ভূমিকা নিয়ে আবুল হাসনাত লিখেছেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বহু ছাত্রছাত্রীর হৃদয়-মনকে আকর্ষণ করেছিল
সংস্কৃতি অনুরাগী অগণিত ছাত্রছাত্রী এই সংগঠনের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিলেন
প্রতিষ্ঠাকালে খান সারওয়ার মুরশিদ, লায়লা সামাদ, মুহম্মদ এনামুল হক, জহির রায়হান প্রমুখ পঞ্চাশের দশকে এই সংগঠনকে কৃতিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করেন
নাটক মঞ্চায়ন, কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানে তৎকালের সম্ভাবনাময় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পীরা অংশগ্রহণ করতেন
কার্জন হলে তখন মঞ্চস্থ হতো নাটক
পরবর্তীকালে ড্রামা সার্কেলে অভিনয় করে যাঁরা খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন তাঁদের অনেকেই সংস্কৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন
আমি যখন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের দশম প্রাদেশিক সম্মেলনের পর বৃহত্তর সাংস্কৃতিক কর্মে যুক্ত হই সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ ছিলেন
তিনি বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের দায় বহন করায় সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি হন সেকালের মেধাবী ছাত্র মাহবুব হোসেন খান এবং সাধারণ সম্পাদক হন আজকের খ্যাতনামা সাংবাদিক মতিউর রহমান
এই সময়ে সংস্কৃতি সংসদের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথের 'তাসের দেশ' মঞ্চায়ন একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কর্ম বলে বিবেচিত হয়েছিল
এই নাটকটি নির্দেশনা দেন মাসুদ আলী খান
দীর্ঘদিন এই নাটকটি মহলা দিয়ে মঞ্চস্থ হয়
আজকের নারীনেত্রী মালেকা বেগম ও ফওজিয়া মোসলেম এই নাটকে অভিনয় করেন এবং নবীন একদল নাট্যকর্মীকে মাসুদ আলী খান নাটক সম্পর্কে দীক্ষিত করে তোলেন
শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার পরিশীলিত ও নিরীক্ষাধর্মী সেট নির্মাণ করেন
তাঁকে সেট নির্মাণে সহায়তা করেন শিল্পী গোলাম সারওয়ার
এই সেটটি হয়ে ওঠে খুবই অর্থবোধক
প্রতীকী এই নাটকটি তৎকালে রাজনৈতিক পটভূমিকায় ও প্রেক্ষাপটে খুবই উদ্দীপক বিভাব সৃষ্টি করেছিল বৃহত্তর ছাত্র সমাজের মধ্যে
মতিউর রহমান তাসের দেশ নাটকের মঞ্চায়নে খুবই পরিশ্রম করেন
ষাটের দশকে সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাসের দেশ নাটকের মঞ্চায়ন অর্থবহ হয়ে উঠেছিল
মর্মবাণী এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নাটকটির মধ্যে আধুনিক সুর ধ্বনিত হয়েছিল
খুব পরিশীলিতভাবে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল
'১৯৬৭ সালে আমি সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও আসাদুজ্জামান নূর হন সভাপতি
এই সময়টি ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খুবই তাৎপর্যময়
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন রেডিও টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের গান প্রচার নিষিদ্ধ করেন
ছায়ানট ও বাফার উদ্যোগে গঠিত হয় 'রবীন্দ্র স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা পরিষদ'
অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবীদের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়
তাঁরা এই বিবৃতিতে রবীন্দ্রনাথ পূর্ব বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ এই সাহসী উচ্চারণ করেন
সেই সময় দেশের বুদ্ধিজীবীদের এই যুক্ত বিবৃতিটি প্রতিবাদের দলিল হয়ে আছে এবং ঐতিহাসিকতার মূল্য পেয়েছে