id int64 0 8.65k | text stringlengths 54 4.42k | label stringclasses 8 values |
|---|---|---|
0 | জাতক ১২১ ৪। সীমান্ত বড়ুয়ার উপদেশ পালনে কর্মচারীদের জীবন হতে পারে - 1. সুখকর ॥1. শান্তিপূর্ণ 11. মঙ্গলময় নিচের কোনটি সঠিক? ক. !ও]1 খ. 1! ও1!1 গ. 1ও11 ঘ. 1,11ও 1 সৃজনশীল প্রশ্ন ১। সৌরভ চাকমা বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা ও সোবগুশ্রযা করতেন। বন থেকে কাঠ কেটে এনে বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। একদিন বাবা বললেন, “লোভের বশবর্তাঁ হয়ে তুমি গভীর বনে যাবে না, সেখানে গেলে কেউ জীবন নিয়ে ফিরে আসে না।” তবুও প্রচুর কাঠ সংগ্রহের আশায় সে গভীর বনে প্রবেশ করলে বিষধর সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ক. জাতক কী? খ. রাজা বত্রশ্মদত্ত সমস্ত বন্দিকে মুক্তি দেন কেন? গ. সৌরভ চাকমার সাথে জাতকে কার চরিত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ব্যাখ্যা কর। ঘ. সৌরভের বাবার উপদেশ যুক্তিসংগত, কথাটি জাতকের উপদেশের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ২। পুরাকালে বারানসিরাজ ব্রম্মদত্তের সময় বোধিসন্ত্ব বণিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। হঠাৎ বণিকের মৃত্যু হওয়াতে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে ৷ মৃত্যুর পর বোধিসত্ত্ব সুবর্ণ হংস হয়ে জন্ম নেন।৷ বোধিসত্ব তাঁর পূর্ব জন্মের পরিবারের অসহায়ত্ত্বের কথা জানতে পেরে একটি করে সোনার পালক বণিকের স্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেন, বণিকের স্ত্রী তা বিক্রি করে সংসার চালাত ৷ কিন্তু স্ত্রী ছিল লোভী ৷ একসাথে সব পালক নিতে গিয়ে সুবর্ণ হংসকে মেরে ফেলল ৷ তখন সে হায়! হায়! করতে লাগল। ক. সুখ বিহারী জাতকের উপদেশ কী? খ. জাতকের পঠন-পাঠন আবশ্যক কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. বণিকের স্ত্রীর সাথে জাতকে কার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায় - ব্যাখ্যা কর। ছ্ “বণিকের স্ত্রীর শেষ পরিণতি জাতকের সেরিবা ফেরিওয়ালার সাথে সম্পৃক্ত” - এ কথাটির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও । ফর্না - ১৬, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি | religion |
1 | ২০২৫ তৃতীয় অধ্যায় না 'শীল' নৈতিক জীবন গঠনের দিক নির্দেশনা । শীল পালন বৌদ্ধদের অপরিহার্য নিত্যকর্ম ৷ গৃহে কিংবা বিহারে যে কোনো আচার-অনুষ্ঠানের প্রারস্বকে শীল গ্রহণ করা হয়। কারণ, শীল সকল কুশলকর্মের উৎস। বৌদ্ধরা বিভিন্ন রকম শীল পালন করেন। যেমন : গৃহীরা পঞ্চশীল ও অস্টশীল, শ্রমণরা দশশীল এবং ভিক্ষুগণ ২২৭টি শীল পালন করেন । এ অধ্যায়ে আমরা অফ্টশীল সম্পর্কে পড়ব । এ অধ্যায় শেষে আমরা - * অফ্টশীল বর্ণনা করতে পারব। * অফ্টশীল পালনের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব। * অফ্টশীল গ্রহণকারীর করণীয় বর্ণনা করতে পারব। * বাংলা অর্থসহ অফ্টশীল বলতে পারব । * অফ্টশীল অনুশীলনের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার উপায়সমূহ চিহ্নিত করতে পারব। +* অফ্টশীল প্রার্থনার প্রক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারব ৷ পাঠ: ১ অফ্টশীল পরিচিতি পূর্বে আমরা পঞ্চশীল সম্পর্কে জেনেছি। আজ অফ্টশীল সম্পর্কে জানব। অফ্টশীল পঞ্চশীলের উচ্চতর স্তর । প্রতিদিন পঞ্চশীল পালন করা যায়৷ অফ্টশীলও প্রতিদিন পালন করা যায়। তবে, গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে অফ্ষশীল পালন করে। বুদ্ধ ধর্মময় উন্নত জীবন গঠনের জন্য অফ্শীলের প্রবর্তন করেছেন। অফ্টশীল পালনকারীকে উপবাস্ৰরত পালন করতে হয়। তাই অফ্টশীলকে উপোসথ শীলও বলা হয়। অফ্টশীল গ্রহণকারীকে উপোসথিক বলে। 'উপোসথ' শব্দটি উপবাস বা উপবাসক শব্দ হতে গৃহীত ৷ কিন্তু বৌদ্ধমতে, উপোসথ অর্থ কেবল উপবাস করা নয়। উপোসথ গ্রহণকারীকে ধ্যান-সমাথি চর্চা করতে হয়। ধর্মালোচনা শ্রবণ করতে হয়। ধর্মীয় বিষয় অধ্যয়ন করতে হয়। কুশল ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে হয়। লোভ-দ্বেষ-মোহ ও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে ব্রশ্মচর্য পালন করতে হয়৷ 'অফ্ট* শব্দের অর্থ আট ৷ আটটি শীল পালন করতে হয় বলে একে অফ্টশীল বলা হয়৷ | religion |
2 | ১৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা করছিলেন। এঁদিন তিনি উপস্থিত ভিক্ষুসজ্ঘ, দেবতা ও মানুষের সামনে ঘোষণা দিলেন, পরবর্তী বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি আয়ু সংস্কার ত্যাগ করবেন । জগতের আলো গৌতম বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করবেন। অতঃপর তিন মাস অতিক্রান্ত হয়ে বৈশাখী পূর্ণিমার প্রাক্কালে তিনি ভিক্ষুসঙ্সহ কুশীনগরে উপস্থিত হলেন । কুশীনগরের পাবা নামক স্থানে এসে তিনি স্বর্ণকারপুত্র চুন্দের আতিথ্য গ্রহণ করলেন। আহার শেষে তিনি অসুস্থ বোধ করলেন । পাবা থেকে ফিরে বুদ্ধ ম্পদের শালবনে যমক (জোড়া) শালগাছের নিচে বিশ্রামের জন্য শয়ন করলেন। আকাশে তখন বৈশাখী পূর্ণিমার টাদ। বুদ্ধের সেবক প্রিয় শিষ্য আনন্দ ও অন্য ভিক্ষুরা বুদ্ধের চারপাশে উপবিষ্ট ৷ বুদ্ধের অন্তিম সময়ে আনন্দ অত্যন্ত অধীর হয়ে পড়লেন। আনন্দের উদ্দেশে বুদ্ধ বললেন, “আনন্দ ! অত্তদীপা বিহরথ, অত্তসরণা অঞ্ঞসরণা, ধন্মদীপা বিহরথ ধন্মসরণা অঞ্ঞসরণা ৷” অর্থাৎ হে আনন্দ নিজেই নিজের দীপ হয়ে বিচরণ করো, আত্ম শরণই অনন্য শরণ, ধর্মদীপ হয়ে বিচরণ করো। ধর্মের শরণই অনন্য শরণ । তিনি আরও বললেন ,'হে আনন্দ ! আমার অবর্তমানে তোমাদের এরূপ মনে হতে পারে, শাস্তার উপদেশ শেষ হয়েছে, আমাদের আর শাস্তা নেই । আনন্দ ! তোমরা এরূপ মনে করবে না। আনন্দ ! মহৎ কর্তৃক যে ধর্ম-বিনয় দেশিত ও প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছে সেই ধর্ম-বিনয় আমার অবর্তমানে তোমাদের শাস্তা।' অতঃপর, শেষক্ষণে তিনি 'সুভদ্র_কে দীক্ষা দেন। বুদ্ধ শেষবারের মতো উপস্থিত সম্পর্কে কারো কোনো সংশয় আছে কি না। সমবেত ভিক্ষুগণ মৌন রইলেন । এসময় তিনি তার শেষ উপদেশবাণী প্রদান করলেন, “হে ভিক্ষুগণ! সংস্কারসমূহ ব্যয় ধর্মশীল (ক্ষয়শীল)। অপ্রমাদের দাথে নিজ নিজ কর্তব্যপালনে তৎপর হও।” বুদ্ধের শেষ বাণীসমূহ 'মহাপরিনির্বাণ সুত্রে” বর্ণিত হয়েছে। শেষ বাণী উচ্চারণের সাথে সাথে বুদ্ধ ধ্যানে নিমগ্ন হলেন। একটির পর একটি ধ্যানের স্তর অতিক্রম করে তিনি নিরোধ সমাধি মগ্ন হলেন এবং রাত্রির তৃতীয় যামে পরম সুখময় মহাপরিনির্বাণি লাভ করলেন। তখন তার বয়স হয়েছিল আশি বছর । ২ ্্ 6 4 ৭ ১ র্ ২০২৫ | religion |
3 | ১৩২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা করতে চাই ৷ উত্তরে বুদ্ধ বলেছিলেন, দানে দ্রব্য সম্তারের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ নয়। চিত্তের একাগ্রতা ও শ্রদ্ধা ভক্তিই হলো মূল । পরিবর্তীতে বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার, বুদ্ধ ও ভিক্ষুসজ্ঘের সেবা, সুশাসন এবং মহতী দানকর্মের জন্য রাজা প্রসেনজিত এবং রানি মন্ললিকাদেবী বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। অনুশীলনমূলক কাজ বিডুঢ়ভ কেন শাক্যদের নিধন করেছিলেন? কোন কোন রাজা বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন? রাজা প্রসেনজিত ও রাজা বিদ্বিসারের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল? পাঠ: ৪ পূর্ণিকা থেরী এই নারী জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য সঞ্চয়পূর্বক বিপস্সি বুদ্ধের সময় এক সম্ভ্রান্ত বাংশে জন্মগ্রহণ করেন। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে পুনর্জন্মের সম্ভাবনা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে । তিনি ভিক্ষুণীদের নিকট গিয়ে ধর্ম শ্রবণ করে সঙ্জে প্রবেশ করেন। তিনি সম্যকরূপে শীল পালনপূর্বক ভিক্ষুণী জীবন পালন করতে থাকেন। তিনি একাগ্রতা সহকারে ত্রিপিটক অধ্যয়নপূর্বক তাতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। কিন্তু অভিমানজনিত কর্মফলে তিনি গৌতম বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে অনাথপিন্তিকের গৃহের কৃতদাসের কন্যারূপে জন্যগ্রহণ করেন। তখন তার নাম হয় পূর্ণিকা। কথিত আছে যে, তাঁর জন্মের পর সেই গৃহে সন্তান সংখ্যা একশত পূর্ণ হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় পূর্ণা বা পুর্ণিকা। বুদ্ধের সিংহনাদ নামে খ্যাত উপদেশ শ্রবণ করে তিনি স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন। তিনি উদকণুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা স্বমতে আনতে সমর্থ হন! এতে প্রভু তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সঙ্ঘে প্রবেশ করে অর্ত্ব ফল লাভ করেন। ঘটনাটি এরুূপ- দাসী জীবনে ভোর বেলা নদী থেকে জল আহরণ করা ছিল পূর্ণিকার নিত্যকর্ম ৷ প্রভুর দণ্ড ও কটুবাক্যের ভয়ে তিনি শীতের ভোরেও নদীতে নেমে জল আহরণ করতেন। তিনি যে নদীতে জল আনতে যেতেন, সে নদীতে হাড়কাপানো শীতের ভোরে পাপমুক্ত হওয়ার জন্য এক উদকষুদ্ধি ব্রাহ্মণ স্নান করতেন। উদকণুদ্ধি হলো জলে ভিজে জীবন সুদ্ধ করার ব্রত। একদিন ভয়ে শীতের ভোরে নদীতে নেমে জল আহরণ করি । আপনি কিসের ভয়ে হাড় কাপানো শীতের ভোরে স্নান করছেন?” উত্তরে তিনি বললেন, “পুূর্ণিকা ! আমি পাপকর্মের ফল ধৌত করার ব্রভ পালন করছি। বার্ধক্য বা যৌবনে যে পাপ কর্ম করে, সে স্নানশুদ্ধি দ্বারা এ পাপ হতে মুভ্ত হয়।” | religion |
4 | বৌদ্ধধর্মে রাজন্যবর্গের অবদান : রাজা বিদ্বিসার ১০৫ রাজা বিদ্বিসার সুশাসক ছিলেন ৷ তিনি ন্যায়ের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন ৷ প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন । সব সময় প্রজাদের মজ্জালের কথা চিন্তা করতেন ৷ বিশ্বিসারের জীবিতকালেই তার পুত্র অজাতশত্রু রাজা হন ৷ পরে দেবদন্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু পিতবিরোধী হয়ে ওঠেন । একসময় তিনি পিতাকে কারারুদ্ধ করেন । তাঁকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেন বিদ্বিসার কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন৷ তখন তার বয়স হয়েছিল পয়যট্রি বছর ৷ রাজা বিদ্বিসার অন্য রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে অত্যস্ত আগ্রহী ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় রাজা ও ক এগিয়ে এসেছিলেন ৷ গাল্ধারের রাজা পুক্কুরসাতি তার কাছে দূত ৷ অবস্তীরাজ ক একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক ৷ রাজা বিদ্বিসারের রাজ্যে জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম উভয়েই সমসাময়িককালে বিকাশ লাভ করেছিল ৷ মহাবীর জৈন, গৌতমবুদ্ধ এবং রাজা বিদ্বিসার প্রায় সমকালীন ব্যক্তিত্ব ৷ রাজা বিদ্বিসার বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেও জৈনধর্মসহ সে সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন । তিনি নিয়মিত রাজ্য পরিদর্শন করতেন ৷ গ্রামের শাসক গ্রামিকদের সাথে তিনি সব সময় মতবিনিময় করতেন ৷ কথিত আছে, তিনি আশি হাজার গ্রামিকের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য পরিচালনা করতেন ৷ রাজ্ঞ্যের রাস্তা ঘাট ও বীধ নির্মাণ এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরিতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন ৷ পাঠ: ২ বলা লও বিদ্বিসারের জীবনকাহিনি লেখো । বুদ্ধ ও রাজা বিদ্বিসার বুদ্ধত্ব লাভের আগেই রাজা বিদ্বিসারের সাথে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয় ৷ তিনি রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বোধিজ্ঞান লাভের জন্য উপযুক্ত গুরুর সম্ধান করছিলেন ৷ রাজপ্রাসাদ ছেড়ে প্রথমে তিনি অনুপ্রিয় নামক আমবাগানে পৌঁছান । সেখানে তিনি মস্তক মুপ্তন করেন । তারপর কাষায় বস্ত্র পরিধান করে সন্ন্যাস ব্রত ধারণ করেন । এ সময় তিনি ভিক্ষান্নে জীবন ধারণের সিদ্ধান্ত নেন । পায়ে হেঁটে তিনি এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যেতেন ৷ এভাবে তিনি বৈশালী থেকে রাজগৃহে পৌছান ৷ উপযুক্ত গুরুর সন্ধান ও ভিক্ষান্ন সংগ্রহই ছিল তার লক্ষ্য ৷ সৌম্য-শাস্ত অপূর্ব সুন্দর এক যুবক ভিক্ষা করছেন ৷ রাজগৃহের নগররক্ষীরা তাকে দেখে অবাক হন । এ খবর তারা পৌছে দেন রাজা বিদ্বিসারের কাছে ৷ রাজ প্রাসাদ থেকেই রাজা বিদ্বিসার তাকে দেখতে পান। রাজা নিজে এসে তার সাথে দেখা করে ভিক্ষা করার কারণ জানতে চাইলেন । রাজা তাঁকে এই কঠিন ব্রত ছেড়ে রাজসুখ ভোগ করার আহ্বান জানান ৷ সেনাপতির পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন । তখন সিদ্ধার্থ রাজা বিদ্বিসারকে বলেন, 'মহারাজ! আমি সুখপ্রার্থী নই ৷ আমি কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্ধোদনের পুত্র ৷ বুদ্ধত্ব লাভের আশায় আমি সবকিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসৰত গ্রহণ করেছি ।' রাজা বলেন, 'বৎস! আপনার পিতা আমার পরম মিত্র । আপনার উদ্দেশ্য জেনে আমি খুব খুশি হয়েছি । যদি আপনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন,আমাকে একবার দর্শন দেবেন । আমি আপনার সেবা করব , আপনাকে বন্দনা করব ।" রাজা বিদ্বিসারের কথায় সিদ্ধার্থ সম্মতি প্রদান করে সেখান থেকে বের হয়ে যান । রাজা বিদ্বিসারের সঙ্গে বুদ্ধের আবার দেখা হয় বুদ্ধত্ব লাভের পর ৷ তখন বুদ্ধ রাজগৃহের লট্ঠি বন উদ্যানে বসবাস করছিলেন । তার দুই বছর আগেই তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন । লোকমুখে তার যশ-খ্যাতির কথা শুনে রাজা বিদ্বিসার তার সাথে দেখা করেন । বিশ্বিসার ভগবান বুদ্ধের কাছে নতুন ধর্মের বাণী শোনার প্রার্থনা করেন । বুদ্ধ তাকে দান, শীল ও স্বর্গ সম্বন্ধে সরলভাবে ধর্মোপদেশ দান করেন ৷ তারপর, চতুরার্য সত্য, আর্য অফ্টাঙ্গিক মার্গ সম্পর্কে উপদেশ দেন । বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা-৬ষ্ঠ, ফর্মা নং-১৪ | religion |
5 | সঙ্গীতি ৯৯ নেতৃস্থানীয় বিনয়ী ভিক্ষুরা বুদ্ধশাসনের পরিহানির কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন । তাঁদের ধারণা, বুদ্ধের মৃতদেহ বর্তমান থাকতেই যদি এরূপ চিন্তা-চেতনার সূত্রপাত হয় তাহলে অচিরেই ভিক্ষুসজ্ঘ বিনয়চ্যুত হয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে ৷ বুদ্ধবাণী কলুষিত হবে। বিস্মৃত হয়ে হারিয়ে যাবে। ফলে বুদ্ধশাসন পরিহানির সম্মুখীন হবে৷ এরূপ চিত্তা করে ধর্ম-বিনয়ে শ্রদ্ধাশীল ভিক্ষুগণ বিভিন্ন বুদ্ধশিষ্য কর্তৃক স্মৃতিতে ধারণকৃত বুদ্ধবাণীসমূহ একত্রে সংকলন করে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। অতপর, বুদ্ধবাণী সংকলন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজগৃহের সপ্তপণী গুহায় প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়৷ দ্বিতীয় সঙ্গীতির ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছর পর বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুগণ সঙ্জে বিনয় বহির্ভূত দশটি বিধিবিধান চালু করেন। এ দশটি বিধি-বিধানকে 'দসবখুনী' বলা হয়। দ্বিতীয় সঙ্গীতি অধ্যায়ে আমরা দশবৎথুনী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ব। বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুদের প্রবর্তিত দসবখুণী বিনয় সম্মত কিনা, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে বৈশালীর বালুকারামে দ্বিতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করা হয়েছিল । তৃতীয় সঙ্গীতির ইতিহাস সমীক্ষায় দেখা যায়, সম্রাট অশোকের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধধর্ম ভারতবর্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করে৷ তখন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের লাভ-সৎকার বেড়ে যায় এবং তারা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন। ফলে অন্যান্য ধর্মের বহু তীর্থিক বা সন্ন্যাসী লাভ-সৎকারের আশায় মস্তক মুপণ্ডন এবং পাত্র-টীবর ধারণ করে ভিক্ষু বলে পরিচয় দিতে থাকেন । তাঁরা অসদুপায় অবলম্বনপূর্বক বিহার ও মন্দির দখল করে বসবাস করতে থাকেন । তারা ধর্মকে অধর্ম, অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করতে থাকেন। এতে সঙ্ছে যেমন অরাজকতা দেখা দেয়, তেমনি প্রকৃত বুদ্ধবাণী নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়। প্রকৃত বুদ্ধবাণী নির্ধারণ এবং সঙ্ছে বিরাজমান অরাজকতা বিদূরিত করার উদ্দেশ্যে পাটলীপুত্রের অশোকারাম বিহারে তৃতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করা হয়েছিল । চতুর্থ সঙ্গীতির ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, সম্রাট অশোক-পুত্র মহেন্দ্র থের ও কন্যা সঙ্ঘমিত্রার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় বুদ্ধশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভারতীয় তামিলরা শ্রীলঙ্কা দখল করে শাসন করতে থাকে৷ তারা বৌদ্ধ বিহার ও সংস্কৃতি ধ্বংল করতে থাকে। তাদের সঙ্গে সিংহলিদের সবসময় যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকত। অবশেষে সিংহলিদের সহায়তায় রাজা বট্টগামণী তামিলদের বিতাড়িত করে শ্রীলঙ্কার রাজ্যভার গ্রহণ করেন। রাজা বট্টগামণীর সুশাসনে শাস্তি ফিরে আসতে থাকে এবং বৌদ্ধধর্ম নতুন আলোকে উদ্তাসিত হতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকার কারণে সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যুদ্ধবিগ্রহ ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষের মধ্যে ভোগবাদী মনোভাব সৃষ্টি হতে থাকে এবং মানুষ নীতিজ্ঞান হারাতে থাকে। বারবার বিদেশী আক্রমণে বৌদ্ধধর্ম পরিহানির সম্মুখীন হতে থাকে। তা ছাড়া মহাবিহার ও অভয়গিরি নিকায়ের দ্বন্দ্বের কারণে সঙ্ছে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। সঙ্ছে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অধার্মিক ভিক্ষুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে৷ বছ অর্হ€ং ভিক্ষু থাকলেও স্মৃতিতে ত্রিপিটক ধারণ করে রাখা ভিক্ষু সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে৷ এসব কারণে মৌখিকভাবে প্রচলিত বুদ্ধবাণীর বিকৃতি ও পরিহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। অতঃপর রাজা বট্টগামণীর পৃষ্ঠপোষকতায় অট্ঠকথাসহ সমস্ত বুদ্ধবাণী তথা ত্রিপিটক লিপিবদ্ধ করে চিরস্থায়িত্ব দানের উদ্দেশ্যে সিংহলের আলু বিহারে (মতান্তরে আলোক বিহার) চতুর্থ সঙ্গীতি আহ্বান ঁ করা হয়েছিল। আলু বিহারে এই সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে এ সঙ্গীতিকে আলুবিহার সঙ্গীতিও বলে । | religion |
6 | ১১৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৬৮ রাজা জনবম এক সাহসী ও নির্দয় শাসক ছিলেন ৷ তিনি নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে এবং নতুন রাজ্য জয় করতে গিয়ে সেখানে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন। অবসরে তিনি যখন সেই হত্যাকান্ডের কথা ভাবতে লাগলেন ঠিক তখনই এক সন্ন্যাসীকে দেখে তার সাথে কথা বললেন। সন্ন্যাসীর কথা শুনে রাজার মধ্যে ধর্মের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হলো। অতঃপর ধর্মীয় বাণী প্রচারের জন্য তিনি রাজ্যের সর্বত্র উক্ত বাণী লিখে প্রজাদের মধ্যে ধর্ম চেতনা উৎপন্ন করলেন। এর পর থেকে রাজা জনবম রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচারের প্রতি বেশি মনোযোগী হলেন এবং মনে করলেন রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচার অতি শ্রেষ্ঠ কর্ম ক, মগধ বর্তমানে ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত? খ. 'অপ্রমাদ অমৃত লাভের পথ আর প্রমাদ মৃত্যুর পথ' ব্যাখ্যা কর। উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা জনবমের কর্মকাণ্ডে বৌদ্ধধর্মের কোন রাজার সঙ্গে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ছঘ. 'রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচার অতি শ্রেষ্ঠ কর্ম'-রাজা জনবমের বনক্তুব্যটির সঙ্গে তুমি কী একমত ?! পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ২. বিনয় বড়ুয়া নিজ অর্থ ব্যয়ে অনাথ-অসহায়দের ভরণ-পোষণ ও ধর্ম শিক্ষার জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন৷ বিনামূল্যে ও বিনা পরিশ্রমে আহার এবং অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য অনেক ভষ্ড ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে আশ্রমে যোগ দিলেন। একপর্যায়ে ভণ্ড ব্যক্তিরা অনাথ-অসহায়দের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতেন। এতে আশ্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বিনয় বাবু প্রকৃত সত্য নির্ণয় করে ভষ্টদের বের করে দেন। ফলে আশ্রমটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেল। ক. সম্রাট অশোক কার কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন? খ. স্মাট অশোক 'চণ্ডাশোক' থেকে 'ধর্মাশোকে' কীভাবে পরিণত হলেন? গ. বিনয় বড়ুয়ার কাজের সাথে সম্রাট অশোকের কোন ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে-ব্যাখ্যা কর। ঘ. আশ্রম রক্ষায় বিনয় বড়ুয়ার কাজটি স্ম্বাট অশোকের কার্যাবলির প্রতিচ্ছবি-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ২০২৫ | religion |
7 | টু ণ গা সূত্র ও নীতিগাথা ৪৭ বাংলা অনুবাদ : ইন্দ্রিয়সমূহ সংজ্ঞাযুক্ত হবে না, মিথ্যা সংজ্ঞাযুক্তও হবে না, সংজ্ঞাহীনও হবে না, সংজ্ঞা পরিত্যক্তও হবে না, এভাবে অবস্থান করলে রূপের নাশ হয়, প্রপঞ্চসমূহ সংজ্ঞার কারণেই উৎপন্ন হয়ে থাকে । ১৪ ৷ যং তং অপুচ্ছিম্হ তাকিত্তবী নো, অঞঞং তং পুচ্ছাম তদিঙ্খ ক্রুহি; এত্তাবত্নং নু বদস্তি হেলোকে যচিত্তমম সুদ্ধিং ইধ পন্ডিতাসে; উদাহু অঞ্ঞস্পি বদস্তি এতো । বাংলা অনুবাদ : আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তার উত্তর আপনি দিয়েছেন; আপনাকে এখন অন্য প্রশ্ন করব, তা প্রকাশ করুন; এই জগতে কোনো পন্ডিত চিত্ত শুদ্ধিকেই কি শ্রেষ্ঠ জিনিস বলেন না, অথবা তারা কি অন্যরকম বলেন? ১৫ ৷ এত্তাবত গ্লম্পি বদন্তি হেলোকে, চিত্তসৃস সুস্ধিং ইধ পন্ডিতাসে; তেসং পনেকে সমযং বদস্তি, অনুপাদিসেসে কুসলা বদানা । বাংলা অনুবাদঃ: কোন কোন পণ্তিতলোক চিত্তপুদ্ধিকেই শ্রেষ্ঠ জিনিস বলে থাকেন, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়াকে শ্রেষ্ঠ মনে করে থাকেন, জ্ঞানীগণ স্কন্ধসমূহের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হওয়াকেই শ্রেষ্ঠ বলে থাকেন । ১৬ । এতে চ ঞ্বব উপনিস্সিতাতি, ওঞত্বা মুনী নিস্সযে সো বিমংসী, এত্বা বিমুত্তো ন বিবাদ 'মেতি, ভবাভবায ন সমেতি ধীরোতি । বাংলা অনুবাদ: এদের 'আশ্রয়াধীন' জেনে, আশ্রয়সমূহ পরিজ্ঞাত হয়ে, বিমুক্ত হয়ে, অস্বেষণকারী মুনি বিবাদে নিযুক্ত হন না, জ্ঞানীলোক বার বার জন্মগ্রহণ করেন না । পাঠ: ৫ কলহ-বিবাদ সূত্রের তাৎপর্য কলহ-বিবাদ সূত্রে আমরা বুদ্ধের ধর্মের মূল দর্শন সম্পর্কে জানতে পারি । এই সূত্রে নিহিত আছে কলহের কারণ ও কলহ হতে মুক্তির উপায় । এই সূত্রটির যেমন আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তেমন আছে জাগতিক বিষয়ে দিক নির্দেশনা ৷ প্রিয়বস্ত হতে কলহ, বিবাদ, শোক, মাৎসর্য, গর্ব, আত্মপ্রশংসা, পৈণ্ুন্য ইত্যাদির সৃষ্টি হয় । জগতে বিদ্যমান লোভ ও বাসনা থেকে প্রিয়বস্ত উৎপন্ন হয় ৷ ইচ্ছা থেকেই লোভ বাসনা উৎপন্ন হয় । আনন্দ (সাত) এবং শঅপ্রীতিকরতা থেকে ইচ্ছা | religion |
8 | ২০২৫ টে টং +৭ মী ) ৬ রন সে ২০২ ্ ৮১৬০ রণ খু ৭ ১৬ ্ী ১ রা ১১১২ ১১২ তি ৭ লে / ' রদ । %, ৮) তে 41৫0 1 লি পে রা ্ত %%/6/ %% ্ঠ / / ক টা ॥ ” ॥ ১ ৯ ॥ ই ৯৩২২1) ১ ক্ষুস্ কে কঠোর সাধনায় পেরিয়ে গেল ছয়টি বছর। জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে গেলো গৌতমের সুন্দর দেহসৌষ্ঠব ৷ দুর্বল শরীরে একসময় হাঁটা-চলায় অক্ষম হয়ে গেলেন । তিনি এতই দুর্বল ছিলেন যে, একদিন নদীতে স্নান করতে নেমে আর উঠতে পারছিলেন না। অনেক কষ্টে পাশের একটি বড় গাছের শাখা ধরে তিনি পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেন। তিনি অনুধাবন করলেন, এভাবে কঠোর সাধনা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে। দুঃখমুক্তির উপায় জানা সম্ভব হবে না। তিনি উপলব্ধি করলেন, অল্প অল্প আহার করে মধ্যপথ অবলম্বনই হবে সাধনার প্রকৃত পথ ৷ কঠোর সাধনা বা বিলাসীজীবন, কোনোটিই দুঃখমুক্তির অনুকূল নয়। সুতরাং তিনি মধ্যম পথ অবলম্বন করলেন । | religion |
9 | ৬২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বুদ্ধপূর্ণিমার মতো, এ পূর্ণিমা তিথিতেও উপাসক উপাসিকাগণ বিহারে সমবেত হন। তিক্ষুদের কাছ থেকে তারা পঞ্চশীল ও অফ্শীল গ্রহণ করেন। যারা অফ্টশীল গ্রহণ করেন, তাঁরা এঁ দিন উপোসথ পালন করেন। এ সময় ভিক্ষুরা উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা করেন। এতে গৃহীদের মধ্যে ধর্মভাব বৃদ্ধি পায়। এছাড়া একসাথে সম্মিলিত হয়ে ধর্ম শ্রবণ ও ধর্ম চর্চা করার কারণে নিজেদের মধ্যেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ভোর থেকেই আযাটী পূর্ণিমার উৎসব শুরু হয়। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে বৌদ্ধবিহার। সম্ধ্যায় প্রদীপ পুজা, বুদ্ধকীর্তন এবং সাঞ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় সমগ্র কর্মসূচি। অনেকে এ তিথিকে উপলক্ষ করে নিজ বাড়িতে বসে রাত পর্যন্ত বিদর্শন ভাবনা করেন। আবার অনেকে তিন দিন বা এক সপ্তাহের জন্য ধ্যান কার্যক্কমে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে আযাটী পূর্ণিমায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। অনুশীলনমূলক কাজ আযাটী পূর্ণিমায় সংঘটিত বুদ্ধের জীবনের তিনটি ঘটনা বর্ণনা করো ৷ পাঠ: ৫ মধুপূর্ণিমা দান, সেবা ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল মধুপুূর্ণিমা তিথি। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিকেই বলা হয় মধুপুর্ণিমা। এরূপ নামকরণের ক্ষেত্রে দানের একটি কাহিনি রয়েছে, যা বৌদ্ধ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একসময় বুদ্ধ কৌশাম্বিতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিক্ষুদের মধ্যে বিনয় সম্পর্কীয় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হয়। ক্বমে কলহের প্রভাব কৌশাম্ববির সকল আবাসিক ভিক্ষুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভিক্চুরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একসময় বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বুদ্ধ সকল তিক্ষুদের আহ্বান করে কলহ-বিবাদ করা অনুচিত বলে বোঝাতে চেষ্টা করেন। রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো বিষয়ে অনড় থাকা উচিত নয় বলে তিনি সকলকে জানান। এ উপদেশ প্রদানকালে বুদ্ধ তাদের দীর্ধায়ু কুমারের কাহিনি বলেন। সে কাহিনিতে উল্লেখ আছে যে, কলহ ও রাগের প্রভাব জন্য জন্মাস্তরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এতে উতয়ের ক্ষতি ছাড়া কোনো মঙ্গল হয় না। এমনকি শুধু কলহজনিত রাগের কারণে কোনো ভালো কাজও উপযুক্ত সময়ে করা যায় না। তাই সব সময় কলহ-বিবাদ পরিত্যাগ করা উচিত । বুদ্ধের নানাবিধ প্রচেষ্টা সন্তবেও কৌশাম্ধিবাসী ভিক্ষুরা কলহ থেকে বিরত হলেন না। নিজেদের মধ্যে কলহ ত্যাগ করে প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেন না। তখন বুদ্ধ কৌশাম্থিবাসী র সংসগ ত্যাগ করে নিজে একাকী নির্জন গহিন বনে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। একসময়তিনি চলে গেলেন নামক বনে। ভিষ্চুদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে তিনি সেখানে স্বছন্দে অবস্থান করতে লাগলেন। বুদ্ধ বনের মধ্যে একটি ভদ্রশাল গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থান করছিল একটি হাতি । হাতিটি স্বতঃ১্ফূর্ততাবে নিজের শুড় দিয়ে বুদ্ধের বসবাসের জায়গাটি পরিষ্কার করে দেয়। হাতিটি বুদ্ধের জন্য নিয়মিত পানীয় জলও সপ্তাহ করে আনত। সেবা দানের জন্য সব সময় তৎপর থাকত। এতাবে হাতিটি নিজের ইচ্ছাতেই বুদ্ধের সেবায় নিয়োজিত থাকত। বন্য প্রাণী হাতির এরূপ সেবাপরায়ণতা দেখে বনের এক বানরও বুদ্ধকে সেবা করতে আগ্রহী হয়। সেই চেতনায় বানরটি অত্যন্ত শ্রদ্ধাসহকারে বন থেকে মধু সপ্ধাহ করে বুদ্ধকে দান করে। বুদ্ধ বানরের দেওয়া মধু সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেন৷ এতে বানর খুবই প্রীত হয়। মনের সুখে এক বৃক্ষ থেকে অন্য বৃক্ষে লাফাতে থাকে। বানরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে লাফানোর সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বুদ্ধ দিবাচক্ষুতে দেখলেন যে, মধুদানের ফলে বানর পর দেবলোকে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেছে। এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে। এ অনন্য টনাকে সরণ করে বৌদ্ধরা এ পূর্ণিমা তিথিতে তিক্ষুসঙ্সকে মধু দান করে। ২০২৫ | religion |
10 | ৬৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা গ. কুশলাকুশল ফলদায়ী পাপ-পুণ্যকর্ম : কুশলাকুশল বিমিশ্রিত চিত্তে সম্পাদিত কর্ম পাপ পুণ্যময় হয় এবং তাঁর ফল সুখ দুঃখময় হয়৷ এ রকম কর্মের একটি উদাহরণ এখানে প্রদান করা হলো- কোনো এক ব্যক্তি চুরি, শঠতা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি হীন উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। কোনো ব্যক্তি তার কাছ থেকে অর্থ চাইলে সে মুক্ত হস্তে দান করে। দুঃখীর দুঃখ মোচনে সে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ফল লাভের ক্ষেত্রে সে তার বদান্যতা, উদারতা ও পরের উপকার করার ফলস্বরূপ পরবর্তী জন্যে বিত্তশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। তবে চুরি, শঠতা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি অপকর্মের জন্য মিথ্যা অপবাদের ভাগী হতে পারে। বিপুল অর্থ থাকা সত্বেও ভোগে বঞ্চিত হতে পারে। দৈহিক ও মানসিক নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে তার জীবনের অবসান হতে পারে। ঘ. সব রকম কর্মক্ষয়কর কর্ম যার দ্বারা মুক্তি লাভ সম্ভব : মানুষ যখন লোভ-দ্বেষ-মোহে আকৃষ্ট হয়, তখন তার মধ্যে নানারকম কামনা-বাসনা উৎপনু হয়। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্লা, তক ও মনকে সংযত করার মাধ্যমে এগুলোকে দমন করা সম্ভব । তাঁর জন্য দরকার একাগ্র সাধনা, যার মধ্য দিয়ে পরম মুক্তি লাভ সম্ভব৷ বুদ্ধ সংযুক্ত নিকায়ের 'সমিদ্ধি সুত্তে' বলেছেন, 'কায়-বাক্য- মনে কোনোরকম পাপকর্ম করা উচিত নয়। কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে স্মৃতিমান হয়ে অনর্থক দুঃখ সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত'। সুকর্ম ও সুকর্মের ফল ব্যক্তিকে পুণ্যময় কর্মানুষ্ঠানের দিকে নিয়ে যায়৷ অস্গুলিমাল ছিলেন নরঘাতক দস্যু । তিনি ৯৯৯ জনকে নিজ হাতে হত্যা করেছিলেন কিন্তু সেই অঙ্গুলিমালই তার অন্তিম জন্মে অতীতের সমস্ত পাপকর্ম হতে মুক্ত হয়ে অর্হৎ হয়েছিলেন ৷ আলবক যঞ্ষ বুদ্ধের দ্বারা দমিত হয়ে প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করেছিলেন ৷ পরবর্তী সময়ে তিনি তার কর্ম প্রচেষ্টায় স্লোতাপত্তি ফল লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন ৷ গণিকা আম্রপালি বুদ্ধ নির্দেশিত এবং প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে অর্ত্র ফল লাভ করেছিলেন। রাজ্য বিস্তারের মোহে সম্রাট অশোক চণপ্তাশোক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন । সেই চণ্তাশোক পরবর্তীকালে ধর্মাশোক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে বহু জনহিতকর কর্ম সম্পাদন করেছিলেন। পিতৃহত্যাকারী রাজা অজাতশত্রু বুদ্ধের নিকটে এসে ধর্মানুরাগ ও ভক্তির জন্য আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু পিতৃহত্যাজনিত পাপকর্মের ফলে মৃত্যুর পর নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন। ব্রাহ্মণ পুত্র হয়েও ব্রাহ্মণোচিত আচরণের অধিকারী অনেকেই হতে পারে না। অন্যদিকে শুদ্রকুলে জন্ম এহণ করে দৈহিক সুশ্রীতার জন্য অনেক সুনাম-সুখ্যাতির অধিকারী হওয়া যায়। যিনি বৌদ্ধ কর্মফলে বিশ্বাসী, তিনি কোনো জঘন্যতম অপরাধীকেও ঘৃণা করে না। কারণ তিনি জানেন এঁ ব্যক্তি সুযোগ পেলে মহামহীয়ান হতে পারেন। আবার তার সুকর্মের দ্বারা তিনি ইহজীবনেই নিজের কর্মফল ভোগ করতে পারেন । অনুশীলনমূলক কাজ কর্মের ফল বিবেচনায় কর্মের বিধানকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? ২০২৫ | religion |
11 | ৮৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নিচের কোনটি সঠিক? ক, 1ও11 খ. 11 ও 111 গ. 1ও 11 ঘ. 1,11ও [1 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও : রমেশ তালুকদার ত্রিপিটকের একটি গ্রন্থ পড়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পালনীয় শীলের ব্যাখ্যা জানতে পারেন। যাতে ভিক্ষুদের দৈনন্দিন জীবনচর্চা থেকে শুরু করে নৈতিক চরিত্র গঠনের নিয়মসমূহ নিহিত ছিল । ৩। রমেশ তালুকদারের পঠিত বিষয়গুলো কোন গ্রন্থে নিহিত? ক. পরিবার পাঠ খ. খন্ধক গ. সুত্ত বিভঙ্গ ঘ্ব. ভিক্ষুণী বিভঙ্গ ৪। উক্তগ্রস্থ পাঠ করে জানা যায় - 1 ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের বিধিবিধান 1! বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দৈনন্দিন জীবনচর্চা ঢা ত্রিপিটকের পরিচিতি নিচের কোনটি সঠিক? কু 1 খ. 1ও11 গ. 11 ও 111 ঘ. 1,11 ও 111 সৃজনশীল প্রশ্ন ১। অন্য পরিচয়- উরগপুর বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন রচিত গ্রন্থ- বোধিবংস ২০২৫ | religion |
12 | ১০৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা জানা যায় যে, তাদের সংখ্যা ষাট হাজারের অধিক ৷ অতঃপর, সম্রাট অশোক বিনয়ী ভিক্ষুদের বলেন, “ভন্তে ! এখন সজ্জ বিশুদ্ধ হয়েছে। ভিক্ষুসস্ উপোসথ কর্ম সম্পাদন করুন ।” তৎপর বিশুদ্ধ সঙ্ঘ একত্রিত হয়ে অশোকারাম বিহারে উপোসথ কর্ম সম্পাদন করেন। সজ্ঘ বিশুদ্ধ হওয়ার পর মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবির প্রকৃত বুদ্ধবাণী সংকলনের জন্য তৃতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করেন। তিনি সঙ্গীতির জন্য ধর্ম-বিনয়ে পারদশী ত্রিবিদ্যাসম্পন্ এক হাজার অর্হ€হং ভিক্ষু নির্বাচন করেন। এ সঙ্গীতিতে মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবিরের সভাপতিত্বে প্রথম ও দ্বিতীয় সঙ্গীতির অনুকরণে ধর্ম-বিনয় সংগৃহীত হয়। এই সঙ্গীতিতে মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবির 'কথাবথখু' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটিতে অন্যান্য মতবাদীদের মতামত খণ্ডন করে বিভাজ্যবাদীদের মতবাদ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। বুদ্ধবাণীর সারমর্ম প্রতিফলিত হওয়ায় গ্রন্থটি অভিধর্ম পিটকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ নয় মাস ব্যাপী চলে এ সঙ্গীতি ৷ স্মৃতিধর অর্হৎ ভিক্ষুগণ শুদ্ধ বুদ্ধবাণী পুনরায় স্মৃতিতে ধারণ করে নেন। এই সঙ্গীতিতে সর্বপ্রথম অভিধর্ম পিটকের উল্লেখ করা হয় এবং বুদ্ধবচনকে 'ত্রিপিটক' আখ্যা দেওয়া হয় । ধর্মপচারক শ্রেরণ : এই সঙ্গীতির পরেই মহামতি অশোক ভিক্ষুসজ্ঞঘকে দেশবিদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য প্রেরণ করেন। তিনি ধর্মপ্রচারের জন্য 'ধর্ম মহাপাত্র' নামে বিশেষ শ্রেণির রাজকর্মচারীও নিযুক্ত করেন। তাঁরা নগরে প্রান্তরে সর্বত্র ধর্মনীতি প্রচার করতেন । তিনি স্বীয় পুত্র ও কন্যা যথাক্রমে মহেন্দ্র স্থবির ও ভিক্ষুণী সঙ্ঘমিত্রাকেও ধর্মপ্রচারের জন্য প্রেরণ করেন। তৃতীয় সঙ্গীতির পর সম্রাট অশোক যেসব দেশে ধর্মপ্রচারক প্রেরণ করেন তা তুলে ধরা হলো : ফয্িনে নদলক | লগ্ন ক্্্য সোন ও উত্তর থের মহেন্দ্র থেরর নেতৃত্বে ইথিয়, উখিয় ভদ্দসাল, লদ্কাদ্বীপ সম্বল এবং উপাসক সুমন তৃতীয় সঙ্গীতির ফলাফল : তৃতীয় সঙ্গীতির ফলাফল নিয়ে তুলে ধরা হলো : ১. ছদ্মবেশী অবিনয়ী ভিস্ষুদের সঙ্ঘ হতে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ | religion |
13 | চরিতমালা ৮৯ মহানাম । সেখানে তিনি মহাবিহারের সজঙ্ঘপ্রধান সজ্ঘধপাল থের'র নিকট থেরবাদ ও অট্ঠকথা অধ্যয়ন করেন । শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি পালি ভাষায় অট্ঠকথা রচনার উদ্দেশ্যে মহাবিহারে সংরক্ষিত গ্রন্থসমূহ প্রদানের জন্য সঙ্ঘপাল থেরকে অনুরোধ করেন ৷ তখন মহাবিহারের ভিক্ষুসজ্ঘ তাকে দুটি গাথা প্রদান করেন এবং গাথাদ্বয় ত্রিপিটকের সাহায্যে ব্যাখ্যা করে তার যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য আদেশ করেন ৷ গাথাদ্বয়ের ব্যাখ্যাস্বরূপ তিনি বিখ্যাত বিসুদ্ধিমগ্গ বা বিশুদ্ধিমার্গ গ্রস্থটে রচনা করেন। গ্রন্থটিকে ব্রিপিটকের সারসংকলন বলা হয় । এ গ্রন্থটি রচনা করে তিনি প্রভূত যশ খ্যাতি অর্জন করেন । কথিত আছে যে, দেবতারা তার যশ খ্যাতি প্রচারের জন্য গ্রন্থটি লুকিয়ে রাখেন । তখন তিনি পুনরায় আর একটি গ্রন্থ রচনা করেন। দ্বিতীয়বারও দেবতারা গ্রন্থটি লুকিয়ে রাখেন । তিনি পুনরায় গ্রন্থটি রচনা করে যখন সংঘের নিকট সমর্পণ করতে যাচ্ছিলেন তখন দেবতাগণ অপর দুটি গ্রন্থও যথাস্থানে রেখে যান । ভিক্ষুগণ তিনটি গ্রন্থ পাঠ করতে আরম্ভ করেন এবং দেখেন যে তিনটি গ্রন্থই হুবছ এক ৷ তখন মহাবিহারের ভিজ্ছুগণ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে 'মৈত্রেয় বোধিসন্ত্' উপাধিতে ভূষিত করেন । সিংহলের ভিক্ষুসজ্ঘ তার পাপ্তিত্য ও লেখার দক্ষতা দেখে 'অট্ঠকথা' অনুবাদ করার অনুমতি দেন । অতঃপর তিনি অনুরাধপুরার মহাবিহারের গ্রন্থাগারে প্রবেশ করে অট্ঠকথা রচনা করতে থাকেন । তিনি ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন বলে জানা যায় । গ্রন্থগুলো হলো : ১। এাণোদয় (জ্ঞানোদয়) ২। অথসালিনী ৩ ৷ পরিত্তট্ঠকথা ৪ । বিসুদ্ধিমগৃগ (বিশুদ্ধিমার্গ) ৫ । সমস্তপাসাদিকা ৬ ৷ কন্কাবিতরণী ৭ । সুমঙ্গলবিলাসিনী ৮। পপঞ্চসূদনী ৯ ৷ সারখপকাসিনী ১০ । মনোরখথপুরণী ১১ ৷ সম্মোহবিনোদনী ১২। পঞ্চপকরণট্ঠকথা ১৩ ৷ পরমথজোতিকা ১৪ । ধম্মপদট্ঠকথা ১৫ । জাতকট্ঠকথা এবং ১৬ ৷ বিসুদ্ধজনবিলাসিনী । দীর্ঘ পরিশ্রমের পর বুদ্ধঘোষ সিংহলি অটৃঠকথা পালি ভাষায় অনুবাদ করে ভারতে ফিরে আসেন। এভাবে মহাপসন্ডিত বুদ্ধঘোষ অট্ঠকথা রচনা করে বৌদ্ধ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, বৌদ্ধধর্ম দর্শনকেও সহজতর করে তুলেছেন । কালজয়ী গ্রই রচনা করে বৌদ্ধ সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন । অনুশীলনমূলক কাজ অট্ঠকথা শব্দের অর্থ কী? বুদ্ধঘোষ নামের বিশেষত্ব বর্ণনা করো । বুদ্ধঘোষ রচিত গ্রন্থগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো । ফর্মা-১২, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা-অষ্টম শ্রেণি | religion |
14 | ২৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধ জ্ঞান কীরূপ? বোধিসত্ত্ব শব্দের অর্থ কী? পাঠ: ২ বুদ্ধের গুণাবলি বুদ্ধের গণ অসীম । এই বিশাল গুণরাশি একসাথে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য । এগুলোকে শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন করলে নয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় । সে হিসেবে বলা যায় বুদ্ধের গুণ নয়টি । এই নয়টি গুণ হলো নিম্নরূপ: . তিনি অর্হ্ৎ : সর্ববিধ অরি বা শত্রুশূন্য মুক্ত মহাপুরুষ । তিনি সম্যকসম্বুদ্ধ : সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানসম্প্ন্ন ৷ তিনি বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন : অনুশীলনীয়তত্ত্ব ও উপযুক্ত আচরণ জ্ঞানসম্পনন । তিনি সুগত : নির্বাণক্ূপ সুস্থানে সুন্দরভাবে পৌঁছেছেন ! তিনি লোকবিধ : ত্রিলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পনন । তিনি অনুস্তর : শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞাগুণের সর্বোচ্চ স্থানের অধিকারী । তিনি পুরিসদম্ম সারথি : সর্ববিধ অশুভ শক্তির দমনকারী ! তিনি সথা দেবমনুস্সানং : দেব ও মনুষ্যগণের শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক । . তিনি বুদ্ধোভগবা : সর্ববিধ জ্ঞানের পূর্ণতায় তিনি বুদ্ধ, সেই সমুদয় শ্রেষ্ঠ জানের আধার বলে তিনি ভগবান । ফা তে দে দিসেও ! ৮ বুদ্ধের এই গুণসমূহ অর্জন সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি এই গুণরাশির গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধ গুণাবলির যে-কোনো একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এই গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন । এজন্যেই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিস্তনীয় । উপরে বর্ণিত নয়টি গণের প্রত্যেকটি স্তর বহুবিধ বিষয়ে সমন্বিত ও সমৃদ্ধ। যেমন-অর্হ€ৎ বা সর্ববিধ শত্রুশূন্য বলতে আট পর্যায়ের সমাধিচর্যায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বোঝায় । রাগ, দ্বেষ, মোহ ও তৃষ্ণাকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে এগুলো ক্রমান্বয়ে অনুশীলন করতে হয়। এই ক্রমিক সাধনরীতির প্রতিটি পর্যায়ের অর্জিত সুফলকেও সচেতনতার সাথে সুরক্ষা করতে হয়। সাধনচর্যা ও চর্যায় উন্নীত চিত্তাবস্থাকে স্থিত রাখতে পারলেই পরবর্তী পর্যায়ের অনুশীলন করা যায় । এভাবে দীর্ঘদিনের সাধনায় এক-একটি স্তর অতিক্রম সম্ভব হয়। বৌদ্ধ সাহিত্যে এগুলোকে মার্গ ও ফললাভের সাধনা বলা হয়। এগুলো হলো : ১) শ্রোতাপত্তি-মার্গ ২) শ্রোতাপত্তি-ফল ৩) সকৃতাগামী-মার্গ ৪) সকৃতাগামী-ফল ৫) অনাগামী-মার্গ ৬) অনাগামী-ফল ৭) অর্হ€ৎ-মার্গ ৮) অর্হ্ত্ব-ফল। সুতরাং অর্হ€ৃৎ বলতে আট স্তরের উচ্চতর সাধন প্রক্রিয়ার পূর্ণতাকে বোঝায় ৷ যিনি এ স্তরে উন্নীত হন, তিনি সর্বজয়ী সাধক । ২০২৫ | religion |
15 | ১৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বাংলা অনুবাদ : যে সংঘ বিশুদ্ধ, উত্তম দানের পাত্র, শান্তন্দ্রিয়, সকল প্রকার পাপমল বিনাশকারী, অনেক গুণে গুণান্বিত সেই অনাসব সংঘকে আমি প্রণাম জানাচ্ছি। অনলনাীীত মূলক কাজ ত্রিরত্ন বন্দনাটি আবৃত্তি কর। শব্দার্থ : ত্রিরত্ন - তিনটি রতু (বুদ্ধরত্ন, ধর্মরত্ন এবং সংঘরতু), ধম্ম - ধর্ম, সংঘ - সমফ্টি, বিশেষ করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বোঝায়, অহং - আমি, সব্বদা - সব সময়, যো - যিনি, মারং - মার, লোকুত্তমো - শ্রেষ্ঠ, বিজেতুবা - জয় করে, সম্বোধিমাগঞ্চি - সম্বোধি লাভ করেছেন, অট্ঠক্গিকো - আটটি মার্গ, উজু -সহজ ও সরল, বিসুদ্ধো - বিশুদ্ধ, মগ্ন - মার্গ, সন্তিন্দ্রিযো - শান্তন্দ্রিয়, সপ্তিকরো - শাস্তিকর, গুণেহি -গুণের অধিকারী, নেকেহি - অনেক, অনাসবো - অনাসব বা অনাসত্ত্ ৷ ১. ব্রিরত্ন বন্দনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। ২. তুমি কীভাবে ত্রিরত্ন বন্দনা করবে-তা বর্ণনা কর। ৩. বুদ্ধ ও সংঘ বন্দনার বাংলা অনুবাদ লেখ । ২০২৫ | religion |
16 | ২০২৫ সূত্র ও নীতিগাথা ৫৩ অনুশীলনমূলক কাজ দলগতভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে রতন সূত্র পাঠ কর। পাঠ: ৩ রতন সৃূত্র (বাংলা) . ভূমিবাসী ও আকাশবাসী যেসব প্রাণী এখানে সমবেত হয়েছ, সকলে আনন্দিত হও ৷ তারপর আমার বাক্য শ্রবণ কর। . হে ভূতগণ ! সেইহেতু আমার উপদেশ তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর । মানুষের প্রতি মৈত্রীভাবাপন্ন হয়ে তাদের হিত চিন্তা কর। তারা দিনরাত তোমাদের পূজা করে। এ কারণে অপ্রমত্তভাবে তাদের রক্ষা কর। . ইহলোক বা পরলোকে যা কিছু বিত্ত (রত্ন) আছে, অথবা স্বর্গলোকে যা কিছু উত্তম রতন আছে, তাদের কোনোটিই তথাগতের সমান নয়। এ সকল রত্ন হতে বুদ্ধ রত্ন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . ধ্যানপরায়ণ শাক্যমুনি যে লোভ, দ্বেষ ও মোহ ক্ষয়কর, বিরাগ ও উত্তম অমত (নির্বাণ) ধর্ম অবগত হয়েছেন, সেই ধর্মের সমান কিছুই নেই৷ সকল রত্ন হতে এ ধর্মরত্ন শ্রেষ্ঠ এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . বুদ্ধশ্রেষ্ঠ যে শুচি (পবিত্র) সমাধির প্রশংসা করেছেন, যার ফল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, তার সমান অন্য কোনো সমাধি নেই। সকল রতু হতে ধর্মরতু (বুদ্ধ-প্রশংসিত সমাধি) শ্রেষ্ঠ। এ-সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক। . যে আট পুল (পুরুষ) বুদ্ধাদি সাধুগণ কর্তৃক প্রশংসিত, যীরা মার্গ ও ফল ভেদে চার জোড়, তাঁরা সুগতের শ্রাবক এবং দক্ষিণার উপযুক্ত পাত্র। সকল রতন হতে এই সজ্ঘরতন (ভিস্কুসজ্ব) শ্রেষ্ঠ এ-সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . যীরা নিষ্কাম এবং গৌতমের শাসনে (ধর্মে) স্থিরিচিত্তে নিবিষ্ট, তারা অমৃতে ডুব দিয়ে বিনামূল্যে লন্ধ নির্বাণ ভোগ করছেন এবং প্রাপ্তব্য প্রাপ্ত (যা লাভ করতে হয় তা লাভী) নামে প্রসিদ্ধ হয়েছেন, সকল রত্ন হতে সেই সঙ্ঘরত্ন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . ভূমিতে দৃঢ়রূপে প্রোথিত ইন্দ্রবীল (স্তম্ভ) চারদিকের প্রবল বায়ুতেও কাঁপে না। যিনি চতুরার্য সত্য সম্যকরূপে দর্শন করেছেন সেই সৎ পুরুষকেও আমি ইন্দ্রবীলের সঙ্গে তুলনা করি। সকল রতু হতে এই সজঙ্ঘরতুন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । | religion |
17 | ২০২৫ নির্বাণ ৯৫ ২। বিমুক্ত পুরুষের পুনর্জন্ম সম্পূর্ণরূপে নিরোধের কারণ -_ 1. তৃষ্ণার ক্ষয় করা 11. চিত্তমুক্তি লাভ করা 111. লোভ, দ্বেষ, মোহ ধ্বংল করা নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1ও]1 খ. 11ও111 গ. 1ও1 ছঘ. 1,11ওয়1 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও: ধর্মপুর আর্যবিহারের বিহারাধ্যক্ষ কল্যাণশ্রী মহাস্থবির সুপরিকল্পিতভাবে বিহার পরিচালনা করেন বিধায় তার সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে । তিনি সাধনার দ্বারা সম্যক সম্বুদ্ধের প্রদর্শিত ধর্ম ও বিনয়ে অপ্রমত্ত হয়ে বিচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি পঞ্চস্কন্ধ বিদ্যমান অবস্থায় দুঃখ থেকে মুক্তিলাভের উপায় উপলব্ধি করতে সক্ষম হন । কল্যাণশ্রী মহাস্থবির গৌতম বুদ্ধের কোন নির্বাণ জ্ঞান উপলব্ধি করেন? ক. প্রাপ্তি নির্বাণ সাক্ষাৎ খ. সোপাদিসেস নির্বাণ জ্ঞান গ. অনুপাদিসেস নির্বাণ জ্ঞান ঘ. সোপাদিসেস ও অনুপাদিসেস নির্বাণ উক্ত নির্বাণ জ্ঞান লাভের দ্বারা সম্ভব- 1. জন্ম-মৃত্যু প্রবাহ নিরোধ করা |. পঞ্চ ইন্দ্রিয়সমূহের দমন করা 111. দুঃখ ও তৃষ্ণা বিনাশ করা নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1 খ. 1ও]ম1 গ. 11 ও 11! ঘ. 1,11 ও 111 | religion |
18 | ২০২৫ সূত্র ও নীতিগাথা ৪৫ বুদ্ধের উপদেশ শুনে দুই ভিক্ষু ধ্যান সাধনার জন্য বনে গেলেন ৷ তাঁদের মধ্যে একজন প্রমাদ এবং আলস্যের কারণে ধ্যান সাধনায় বেশি দূর অগ্রসর হতে পারলেন না৷ অন্যজন অপ্রমন্ত থেকে অবিচল নিষ্ঠার সঙ্তো ধ্যান সাধনা করতে লাগলেন এবং অর্হততব লাভ করলেন। সাধনা শেষ হলে উভয়ে বুদ্ধের কাছে ফিরে এসে যার যেমন ফল লাভ হয়েছে তা বললেন। তাদের কথা শুনে বুদ্ধ ৯ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । বৈশালীর ক্ূটাগারশালায় একদিন বুদ্ধ মহালি লিচ্ছবীকে দেবরাজ ইন্দ্রের পূর্ব জন্যকথা শোনাচ্ছিলেন। পূর্বের এক জন্যে ইন্দ্র তেত্রিশজন যুবক নিয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল গড়েন ৷ তারা মাতা-পিতা ও গুরুজনের সেবা, নগরে ও গ্রামে আবর্জনা পরিষ্কার, সর্বসাধারণের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কল্যাণকর্মে রত থাকতেন । মৃত্যুর পর তারা সকলে স্বর্গ লাভ করেন এবং ইন্দ্র দেবরাজ হন৷ এই কাহিনির সূত্র ধরে বুদ্ধ ১০ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । বুদ্ধ জেতবনে অবস্থানকালে এক ভিক্ষু তার নিকট ধ্যান শিক্ষা করে বনে গিয়ে ধ্যান অভ্যাস করতে লাগলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টায়ও ফল লাভ না হওয়ায় তিনি বুদ্ধের নিকট ফিরে যাচ্ছিলেন। পথে এক বিরাট দাবাগ্নি তার গতিরোধ করল । তিনি দেখলেন ভীষণ আগুন তার সমস্ত কিছুকে পুড়িয়ে ধবংস করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছে৷ এই দৃশ্য তার মনে নতুন উৎসাহ ও প্রেরণা এনে দিল। এঁ আগুনের মতোই তিনি সমস্ত বাধাবিঘ্নকে জয় করে সাধন পথে এগিয়ে যাবার সংকল্প করলেন। তাঁর সংকল্পের কথা জানতে পেরে বুদ্ধ ১১ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না, বললেই হয়। নিজের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের কাছে ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তার প্রয়োজন মিটত ৷ এর বেশি কিছুর আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না। তাই অনাথপিন্ডিকের মতো শ্রেষ্ঠাদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের আরও বড় দান- উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি । এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তার স্থজনদেরই ভালোবাসেন । বুদ্ধ তিষ্যের এই অল্পে তুষফ্টি আর লোভহীনতার কথা শুনে তার অনেক প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । অনুশীলনমূলক কাজ অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩ নং গাথা বুদ্ধ কাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ করেছিলেন? এবং কেন করেছিলেন বল। ৫ নং থেকে ৭ নং গাথার পটভূমি বর্ণনা কর। পাঠ: ৫ অপ্রমাদ বর্গ (পালি ও বাংলা) ১. অগ্পমাদো অমতং পদং পমাদো মচ্চুনো পদং অগ্পমত্তা ন মীয়ন্তি যে পমত্তা যথা মতা । | religion |
19 | অষ্টম অধ্যায় চরিতমালা বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারে থের-থেরীর অবদান অপরিসীম ৷ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী হিসেবে যারা দশ বছর জীবন অতিবাহিত করেছেন তাদেরকে থের ও থেরী বলা হয় । থেরকে স্থবিরও বলা হয় । স্থবির অর্থ সাধনায় স্থিত থাকা ৷ থের, থেরী, স্থবির প্রভৃতি উপাধি বিশেষ । প্রবীণ, জ্ঞানী ভিক্ষু-ভিক্ষুণীগণ এসব উপাধি প্রাপ্ত হন । মহৎ কর্মগুণে তাঁরা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন । তারা কীভাবে মহৎ জীবন গঠন করেছিলেন তার বর্ণনা বৌদ্ধ সাহিত্যে পাওয়া যায় । তাদের জীবনী এবং ভাষিত গাথাগুলো আমাদের নৈতিক জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করে । বুদ্ধের সময় ও বুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক বৌদ্ধ মনীষী বৌদ্ধধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যের বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছেন ৷ তাঁদের জীবন দর্শন থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে ৷ জীবনকে সুন্দর করার জন্য সেসব থের-থেরী ও বরেণ্য মনীষীদের জীবন চরিত পাঠ করা উচিত ৷ এ অধ্যায়ে আমরা স্থবির অনুরুদ্ধ, স্থবির অঙ্গুলিমাল, মহিয়ষী নারী মল্লিকা দেবী এবং বিখ্যাত অট্ঠকথা রচয়িতা বুদ্ধঘোষ সম্পর্কে পড়ব । এ অধ্যায় শেষে আমরা - * থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীবীদের জীবনী ব্যাখ্যা করতে পারব । * থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের অবদান মূল্যায়ন করতে পারব । পাঠ: ১ স্থবির অনুরুদ্ধ স্থবির অনুরুদ্ধ স্মরণীয় এক বুদ্ধ শিষ্যের নাম। তিনি একান্ত প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই গৌরব অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন । এর জন্য তাঁকে জন্ম-জন্মান্তরে সাধনা করতে হয়েছে । তিনি এক এক জন্যে এক এক নামে পরিচিত ছিলেন ৷ তার এ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল পদুমুত্তর বুদ্ধের সময়ে । গৌতম বুদ্ধের পূর্ববর্তী বুদ্ধদের একজন ছিলেন পদুমুত্তর বুদ্ধ ৷ পদুমুত্তর বুদ্ধের সময়ে তিনি এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মশ্রবণের জন্য একদিন তিনি বিহারে গিয়েছিলেন ৷ তখন পদুমুত্তর বুদ্ধ দিব্যচক্ষুসম্পন্ন এক ভিক্ষুকে ভিক্ষুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠাসনে নিয়োগ দান করেন ৷ তিনিও সেই পদ প্রার্থী হয়ে বুদ্ধ প্রমুখ লক্ষ ভিক্ষুকে এক সপ্তাহ ধরে দান করেন । পদুমুত্তর বুদ্ধ তাকে আশীর্বাদ করলেন যেন গৌতম বুদ্ধের সময় তার মনোবাসনা পূর্ণ হয় । পরে কশ্যপ বুদ্ধের সময় বারানসিতে এক ধনী পরিবারে তিনি জন্ম নেন। কশ্যপ বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ কালে তিনি কনকচৈত্যের চারদিকে ঘৃতপূর্ণ তাম্রপাত্রে প্রদীপ পূজা করেছিলেন ৷ সে ঘৃতভান্ড মাথায় ধারণ করে সারা রাত চৈত্য প্রদক্ষিণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি দেবলোকে উৎপন্ন হন। সেখান রি থেকে আয়ুশেষে পুনরায় বারানসিতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ৷ তখন তার নাম রাখা হয়েছিল % | religion |
20 | জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ৬৯-৭০, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ কর্তৃক প্রকাশিত [ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ] প্রথম সংস্করণ রচনা ও সম্পাদনা অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া গীতাঞ্জলি বড়ুয়া ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া উত্তরা চৌধুরী প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর, ২০১২ পরিমার্জিত সংস্করণ : সেপ্টেম্বর, ২০১৪ পরিমার্জিত সং্করণ : অন্ট্রোবর, ২০২৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য | religion |
21 | ১০৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা পাঠ: ৬ বনুপথ জাতক পুরাকালে বারানসি নগরে ব্রন্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন ৷ সেসময় বোধিসন্ত্ব এক বণিকের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন । বোধিসত্ত্ব বড় হয়ে পাচশত গাড়ি নিয়ে নানা জায়গায় বাণিজ্য করতেন । ব্যবসা উপলক্ষে একবার বোধিসত্ত্ব ষাট যোজন বিস্তৃত এক মরু অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছেন। সেই মরুভূমির বালি এতো মিহি ছিল যে তা হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যেত না। আঙুলের ফীক দিয়ে সে বালি গলে পড়ে যেত। সূর্য ওঠার পর সেই বালুরাশি জ্বলন্ত কয়লার মতো গরম হয়ে উঠত। তখন সেই মরুভূমির ওপর দিয়ে কারও পক্ষে চলাফেরা করা সম্ভব হতো না ৷ সেই ভীষণ মরুপথ পার হতো রাতে, দিনে নিতে হতো বিশ্রাম । ব্যবসায়ীরা সঙ্গে জল, তেল, চাল ও লাকড়ি ইত্যাদি রাখত । সূর্য উদয় হলে যাত্রা বন্ধ করে বলদণ্ডলো গাড়ি থেকে খুলে দিত ৷ গাড়িগুলো গোল করে সাজিয়ে নিয়ে মাঝখানে সামিয়ানা খাটিয়ে নিত । সকাল সকাল রান্নাবান্না করে খেয়ে সামিয়ানার নিচে দিন কাটাত। আবার যখন সূর্য ডুবতে বসত তখন তাড়াতাড়ি রান্না করে খেয়ে নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করত ৷ নাবিকরা যেমন সমুদ্রে চলার সময় নক্ষত্র দেখে দিক নির্ণয় করে তেমনি মরুভূমিতে চলার সময় পথ প্রদর্শকরা নক্ষত্র দেখে পথ চিনে নিতেন। বোধিসনম্ত্ব একদিন সেই মরুভূমির উনষাট যোজন পথ অতিক্রম করে গেলেন। তারপর তিনি ভাবলেন, বাকি একযোজন পথও রাতের মধ্যে পার হয়ে যাবেন ৷ এই ভেবে তিনি সন্ধ্যার পর জল, কাঠ ইত্যাদি অনেক জিনিস দরকার নেই দেখে ফেলে দিতে বললেন ৷ এতে বোঝা হালকা হবে এবং মরুভূমি পার হয়ে গেলে সেসব জিনিস সব জায়গায় পাওয়া যাবে । এভাবে তারা চলতে শুরু করলেন ৷ যে গাড়িখানা দলের আগে চলছে তাতে বসা ছিল পথ প্রদর্শক । তিনি নক্ষত্র দেখে পথ চিনিয়ে দিচ্ছিলেন । দীর্ঘদিন মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলতে চলতে পথ প্রদর্শকের ভালো ঘুম হচ্ছিল না৷ সেই রাতে তার চোখ জুড়ে ঘুম এল । বলদগুলোও আপন খেয়ালে উল্টো দিকে চলতে শুরু করল। সারারাত এভাবে সব গাড়ি চলল ৷ ভোর হওয়ার আগে আগে পথ প্রদর্শকের ঘুম ভাঙল ৷ আকাশের দিকে তাকিয়ে সে তাড়াতাড়ি বলল, গাড়ি ঘোরাও, গাড়ি ঘোরাও ৷ সমস্ত গাড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে সূর্য ওঠার সময় হয়ে গেল ৷ সবাই দেখল আগের সন্ধ্যায় তারা যেখান থেকে যাত্রা করেছিল ঠিক সেই জায়গাতেই তারা আবার ফিরে এসেছে ৷ তখন সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ল। গাড়িতে জল নেই, কাঠ নেই ! উপায় কী হবে ? উপায় না দেখে তারা বলদণ্ডলো খুলে দিয়ে গাড়ি জড়ো করে সামিয়ানা খাটিয়ে হতাশ হয়ে সুয়ে পড়ল । ২০২৫ | religion |
22 | ৫৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নৈস্ক্ম্য পারমী : 'নৈঞ্রম্য' শব্দের অর্থ নির্গমন বা বের হয়ে যাওয়া । সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করে বা সংসার হতে বের হয়ে বিশুদ্ধ জীবনযাপন করাকে নৈঞত্রম্য বলা হয়। জাগতিক ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করে সংসারের বন্ধন হতে মুক্তির জন্য উৎসাহী হওয়ার ব্রতকে নৈষ্্ম্য পারমী বলে । বুদ্ধবংস গ্রহে ন্ক্রম্য পারমীর স্বরূপ সম্পর্কে এরূপ বর্ণনা আছে : “কারাগারে আবদ্ধ বন্ধনজনিত দুঃখে দুঃখিত ব্যক্তি যেমন তথায় চিরকাল বাস করলেও সেখানে থাকতে ইচ্ছা করে না, মুক্তি লাভের চেষ্টা করে; সেরূপ তুমিও ভবত্রয়কে কারাগারের ন্যায় ভেবে মুক্তির জন্য শ্দ্রৈম্যাভিমুখী হও ' বুদ্ধ বলেছেন: গৃহবাস সর্বার্থ, প্রবজ্যা উন্মুক্ত আকাশ তুল্য ৷ প্রবজিত ব্যক্তি যা ইচ্ছা করেন তা সহজেই পূর্ণ করতে পারেন । কারণ তিনি সংসারের জটিল বন্ধন থেকে মুক্ত । লোভ-দ্বেষ-মোহ মুক্ত । তিনি অল্প লাভে সন্তুষ্ট থাকেন ও উদ্যমশীল হন । বৌদ্ধধর্মে প্রবজ্যা অবলম্বনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে । নৈক্রম্য পারমী পূরণের জন্য প্রথমে স্ত্রী-পুত্র, মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বাড়িঘর, সংসার সম্পত্তি প্রভৃতি সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় । বোধিসন্ত্ূগণ অনাগারিক জীবনযাপন করে শ্দ্রম্য পারমী পূর্ণ করেন এবং নির্বাণ লাভের সাধনার পথে অগ্রসর হন । প্রজ্ঞা পারমী : "প্রজ্ঞা' শব্দের অর্থ হলো সম্যক চিন্তা । ভাবনার মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে প্রকৃষ্টরপে জানা । জ্ঞান অর্জনের সাধনাই হলো প্রজ্ঞা পারমী ৷ প্রজ্ঞা পারমী তিন প্রকার ৷ যথা : চিস্তাময় প্রচ্ছা, শ্রতিময় প্রজ্ঞা এবং ভাবনাময় প্রজ্ঞা। অন্য কারো সাহায্য ব্যতীত পুনঃপুনঃ চিন্তা ভাবনার ফলে যে প্রচ্ছা উৎপন্ন হয় তাকে চিন্তাময় প্রজ্ঞা বলে ৷ সম্যকভাবে চিন্তা করলে সকল প্রকার কাজ ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায় । এটিই চিন্তাময় প্রক্ছা ৷ তথাগত বুদ্ধের সর্বজ্ঞতা জ্ঞানকে চিত্তাময় প্রচ্ছা বলা যেতে পারে । কারণ তিনি আপন অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই এ জ্ঞান অর্জন করেন শ্রুতিময় প্রজ্ঞা দুভাবে অর্জন করা যায়। জ্ঞানী-গুণী বা গুরুর নিকট শুনে এ জ্ঞান অর্জন করা যায় । আবার অন্যের সাহায্য ব্যতীত গবেষণার মাধ্যমেও এ জ্ঞান লাভ করা যায় ৷ ধ্যান সমাধির দ্বারা অর্জিত জ্ঞানকে ভাবনাময় প্রজ্ঞা বলে । প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলনে ক্লেশসমূহ ধ্বংস হয়। অনিত্য, দুঃখ এবং অনাত্মা সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি জাগ্রত হয় । বোধিসম্ত্বগণ প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলন করে অর্তত্ব ও বুদ্ধত্ব লাভের পথে অগ্রসর হন । বীর্য পারমী : 'বীর্য' শব্দের অর্থ হলো বীরত্ব, কর্মশক্তি ইত্যাদি ৷ প্রবল উৎসাহ ও সম্যক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কঠিন ব্রত সম্পাদন করাই হচ্ছে বীর্য পারমী ৷ সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে বুদ্ধত্ত লাভের জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন । তিনি কঠিন সংকল্প করে বলেছিলেন, 'আমার শরীর অস্তি মজ্জা শুকিয়ে গেলেও আমি বুদ্ধত্ব লাভ না করে এ আসন থেকে উঠব না ।' বুদ্ধত্ব লাভের এ প্রচেষ্টাই বীর্য পারমী । বোধিসত্ত্ব অতীত জন্যে এক কাঠবিড়ালীরূপে জন্মগ্রহণ করেন ৷ কাঠবিড়ালীরূপী বোধিসত্ত্ব তখন নদীর ধারে এক বটবৃক্ষে বসবাস করত ৷ সেখানে তার দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে । একদিন বাচ্চা দুটি নদীতে পড়ে সাগরে ভেসে যায় । এতে সে খুব কষ্ট পায় এবং লেজ দ্বারা সমুদ্র সেচন করে বাচ্চা দুটি উদ্ধার করার সংকল্প করে । অতঃপর সে লেজ দ্বারা সাগরের পানি সেচন করতে থাকে ৷ তার এ কঠোর পরিশ্রম দেখে দেবরাজ ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে এসে জিজ্ঞাসা সু ০ বা | religion |
23 | ২০২৫ পঞ্চম অধ্যায় সূত্র ও নীতিগাথা 'নিধিকুণ্ড সূত্র" ত্রিপিটকের অন্তর্গত খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত আছে । প্রকৃত সম্পদ বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ নিধিক্ুষ্ড সূত্রটি দেশনা করেন। অপ্রমাদ বর্গ ত্রিপিটকের ধর্মপদ গ্রন্থে পাওয়া যায়। অপ্রমাদ বর্গে কীভাবে জগতে অপ্রমত্ত বা অবিচল থেকে সৎকাজ করা যায় এবং চিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা বর্ণিত আছে । নিধিকুণ্ড সূত্র এবং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলো মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। এ অধ্যায়ের প্রথম অংশে আমরা নিধিক্চুষ্ড সূত্র এবং দ্বিতীয় অংশে অপ্রমাদ বর্গ পড়ব। এ অধ্যায় শেষে আমরা- * নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি বর্ণনা করতে পারব । * প্রকৃত নিধিসমূহ কী উল্লেখ করতে পারব । * সূত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব। * অপ্রমাদের ব্যাখ্যা দিতে পারব। * অপ্রমত্ত থাকার সুফল মূল্যায়ন করতে পারব। * নিধিকুণ্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের তুলনামূলক আলোচনা করতে পারব। পাঠ: ১ নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে এক ধনাঢ্য শ্রেষ্ঠী বাস করতেন। একদিন তিনি ভিক্ষুসংঘসহ বুদ্ধকে পিগুদানে ব্যস্ত ছিলেন৷ সে সময় কোশল রাজ্যের রাজার অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি শ্রেষ্ঠীকে নিয়ে যাবার জন্য দূত প্রেরণ করেন৷ যখন শ্রেষ্ঠী বুদ্ধ ও ভিক্ষুসংঘের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন তখন দূত এসে তাকে রাজার আদেশ জ্ঞাপন করেন৷ তখন শ্রেষ্ঠী দূতকে বলেন, 'এখন যাও, আমি ধন সঞ্চয়ে ব্যস্ত আছি।' শ্রেষ্ঠী এখানে ধন বলতে পুণ্যসম্পদকে বুঝিয়েছেন। অতঃপর ভগবান বুদ্ধ আহার সমাপ্ত করে পুণ্যসম্পদকে যথার্থ নিধি হিসেবে প্রদর্শন করতে নিধিকুণ্ড সূত্র দেশনা করেন। এ হলো নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি ৷ অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধ নিধিকুষ্ড সূত্র কেন দেশনা করেছিলেন? বর্ণনা কর। | religion |
24 | দান ৩৩ প্রয়োজন হয়। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্কুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় তত বেশি ভালো । সংঘদানে সাধারণত ভিক্ষুসংঘের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহ হলো : অনু, বস্ত্র, গঁষধ, সাবান, তেল, ছাতা, সুচ-সুতা ইত্যাদি । সাধারণত ভিক্ষুসংঘ আহার গ্রহণের পূর্বে এ দানকার্য সম্পাদন করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দান সামগ্রী সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটিভাবে আসনে উপবেশন করলে দান অনুষ্ঠানের কার্যক্তম আরম্ভ করা হয়। দানকার্য পরিচালনা করার জন্য ভিক্ষুসংঘের মধ্য থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন ভিক্ষুকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। সভাপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের কার্যক্ম আরম্ভ করা হয়। প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল প্রার্থনা করা হয়। তারপর উপস্থিত ভিক্ষুদের প্রধান বা তাঁর নির্দেশে অভিজ্ঞ একজন ভিক্ষু সংঘদান গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন৷ গাথাটি নিম্নরূপ: “ইমং ভিক্খং সপরিক্খারং ভিক্ষু সংঘস্স দেম, পূজেম' বাংলা অনুবাদ : এই প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য ভিক্ষু সংঘকে দান দিয়ে পূজা করছি। উপস্থিত সকলে গাথাটি সমস্বরে তিনবার আবৃত্তি করেন। অতঃপর, ভিক্ষুসংঘ সমস্বরে করণীয় মৈত্রী সুত্র, মঙ্গল সূত্র প্রভৃতি পাঠ করেন৷ তারপর, “ইদং মে ঞ্াতীনং হোতু, সুখিতা হোস্তু এগাতযো...নিববাণসূস পচ্চযো হোতু'তি (এ পুণ্য আমার জ্ঞাতিগণের মজঙ্গালের হেতু হোক, জ্ঞাতিগণ সুখী হোক ...নির্বাণ লাভের হেতু হোক)' উৎসর্গ গাথাটি তিনবার আবৃত্তি করে সংঘদানের পুণ্যফল জ্ঞাতিগণের উদ্দেশ্যে দান করতে হয়। উৎসর্গ গাথাকে পুণ্যানুমোদন গাথাও বলা হয়। উৎসর্গ গাথা আবৃত্তিকালে দাতা পরিবারের একজন জল ঢেলে পুণ্যরাশি মৃত জ্ঞাতিসহ সকল প্রাণী ও দেবতাদের উদ্দেশ্যে দান করে। বুদ্ধ সংঘদানের ফল সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'যুগে যুগে পৃথিবী, সাগর, মেরু প্রভৃতি ক্ষয় হয়ে যায়। কিন্তু শত সহস্র কল্পেও সংঘদানের ফলে অর্জিত পুণ্যরাশি শেষ হয় না।' অনুশীলনমূলক কাজ সংঘদান অনুষ্ঠানের দান সামগ্রীর একটি তালিকা তৈরি কর (দলীয় কাজ) ৷ পাঠ: ৩ দান কাহিনি কাহিনি : এক বৌদ্ধধর্মে দানের বহু কাহিনি প্রচলিত আছে । সিলদ্ধার্থরূপে জন্মগ্রহণের আগে তিনি আরও ৫৪৯ বার জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধ হতে গেলে দশ পারমী পূর্ণ করতে হয়। তারমধ্যে দান পারমীর স্থান প্রথম ৷ জন্ম-জন্মান্তরে তিনি অসংখ্য দান করে দান পারমী পূর্ণ করেন। একবার বোধিসন্প শিবি রাজা রূপে জন্মগ্রহণ করেন। দাতা হিসেবে তার খুব সুখ্যাতি ছিল । দানশীলতা পরীক্ষা করার জন্য দেবরাজ ইন্দ্র অন্ধ ব্রাহ্মণের বেশ ফর্মা নং ৫, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৭ম | religion |
25 | ২০২৫ সঙ্গীতি ১০৯ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১। কে বুদ্ধের সর্বশেষ শিষ্য ছিলেন? ক. ধর্মরক্ষিত খ. মহাদেব গ. সুভ্দ্র ঘ. আনন্দ ২। দ্বিতীয় সঙ্গীতি আহ্বানের প্রধান কারণ কোনটি? ক. যশ স্থবিরকে সঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করা খ. দুর্বিনীত ভিক্ষুদেরকে স্বীকৃতি দেয়া গ. সভা আয়োজনের ব্যবস্থা করা ঘ. দসবখুনীকে বিনয়-বহির্ভুত ঘোষণা করা । নিচের ছবিটি লক্ষ কর এবং ৩ ও 8 নং প্রশ্নের উত্তর দাও : বরন ৩। বুদ্ধবাণী সংকলন ও সংরক্ষণে মডেলে উল্লিখিত শাসকগণ কী অবদান রাখেন? ক. সঙ্গীতি আহ্বানের খ. সূত্র ও নীতিগাথা প্রচারে গ. জাতকের উপদেশ প্রচারে ঘ. অট্ঠক্থার প্রসারে ৪। উক্ত ব্যক্তিবর্গের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রধানত কোন উদ্দেশ্য নিহিত ছিল ? ক. কর্মযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করা খ. সম্পদ বৃদ্ধি করা গ. রাজ্যের সম্প্রসারণ করা ঘ. ধর্মপ্রচার করা। | religion |
26 | বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান ১০৫ মাইল ৷ তিনি এখানে অনেকগুলো সংঘারাম দেখতে পেয়েছিলেন। তখন সেগুলোর প্রায়ই ছিল জনশূন্য ও ধ্বৎসপ্রাপ্ত। তবে কিছু সংঘারামে তিনি অল্পসংখ্যক মহাযানী বৌদ্ধ ভিক্ষু দেখতে পান । 'হুন' জাতির আক্রমণে এ নগরটি ধ্লংসপ্রাপ্ত হয়। খননকাজের ফলে এখানে বৌদ্ধযুগের বহু স্বূপ ও বিহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রাচীনকালের অনেক মুদ্বাও পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সরকার এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ৷ তক্ষশীলা কোথায় অবস্থিত এবং কেন বিখ্যাত ছিল? পাঠ: ৬ দর্শনীয় স্থান সংরক্ষণের উপায় দর্শনীয় স্থানসমূহ দেশের অতীত গৌরবের স্বাক্ষর বহন করে৷ এগুলো বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্বও আয় হয়। তাই এগুলো মহামূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদ ৷ এঁতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সকলের ৷ নানা কারণে এসব স্থানের ক্ষতি হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চোর বা ডাকাত কর্তৃক লুষ্ঠন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দর্শনার্থীর উচ্ছুঙ্খল আচরণ, পশু-পাখির মল ত্যাগ এবং কীটপতঙ্গের আক্বমণ প্রভৃতি ৷ এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত যত্ন নেওয়া, সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা, পশু-পাখির প্রবেশ রোধ, দর্শনীয় স্থানের নিয়ম-নীতি মেনে চলা, পবিত্রতা রক্ষা করা, মমত্ৃববোধ এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শনই পারে এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ৷ এভাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ ম্ধান সংরক্ষণের প্রতি সকলের যত্নশীল হওয়া উচিত। অনলীন মূলক কাজ কী কী কারণে দর্শনীয় স্থান ধ্বংস হতে পারে? দর্শনীয় স্থান সংরক্ষণের উপায়গুলো কী? শূন্যস্থান পুরণ কর ১. তীর্থস্থান ভ্রমণে ............... হয়। ২. এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও ............ সম্পর্কে জানা যায়। ৩. বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শন চর্চার ................ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ৷ ৪. রাজগৃহে ছিল জীবকের বিশাল ................ ৷ ৫. সপ্তম শতকের দিকে পরিবাজক ................. শ্রাবস্তীতে এসেছিলেন ৷ ফর্মা নং ১৪, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৭ম | religion |
27 | বুদ্ধ ও বোধিসত্ত ২৫ সম্যক সম্বুদ্ধ বলতে স্ব-উদ্যোগে আর্যসত্যকে সম্যকভাবে স্বয়ং জ্ঞাত হওয়াকে বোঝায় এজন্য তাঁকে তিন স্তরের জ্ঞান-মহিমায় সম্পূর্ণতা অর্জন করতে হয়েছে। এগুলো হলো : ১) যা জানা অপরিহার্য তা তিনি জেনেছেন, যেমন আর্ধসত্য জ্ঞান ; ২) যা চিন্তা করার যোগ্য তা তিনি চিন্তা করেছেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কর্ম সম্পাদন করে স্বয়ং জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং ৩) যা ত্যাগ করার যোগ্য তা তিনি সধত্তরে ত্যাগ করেছেন। এভাবে তিনি তৃষ্ণাহীন বিশুদ্ধ মহাপুরুষ হয়েছেন। অনুরূপভাবে বুদ্ধগুণের প্রত্যেক স্তর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বলা হয় বুদ্ধগুণ অবণনীয়, অচিস্তনীয় ৷ অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধের নয়টি গুণ কী কী? মার্গ ও ফললাভের সাধনার স্তরগণুলোর নাম লেখ। পাঠ: ৩ বুদ্ধের প্রকারভেদ বৌদ্ধধর্ম গ্রন্থে তিন প্রকার বুদ্ধের কথা বলা হয়েছে৷ যথা : ১. সম্মাসম্বদ্ধ বা সম্যকসম্বুদ্ধ। ২. পদচ্চেকবুদ্ধ বা প্রত্যেকবুদ্ধ ৷ ৩. সাবকবুদ্ধ বা শ্রাবকবুদ্ধ ৷ নিচে এই তিন প্রকৃতির বুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো । সম্যকসন্ুদ্ধ বুদ্ধগণের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সম্যকসম্বুদ্ধ ৷ সম্যকসস্বুদ্ধ বলতে বোঝায়, যিনি কোনো গুরুর সাহায্য ছাড়া স্বীয় আদর্শ ও কর্মের দ্বারা নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন। তিনি সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী ৷ সম্যকসম্বুদ্ধগণ জন্ম-জন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমী পূর্ণ করেন । তিনি শেষজন্নে মানবকুলে উপযুক্ত পরিবারে জন্যগ্রহণ করেন। পূর্বের অনন্ত জন্মের সুকর্মের প্রভাবে এই জন্মে তিনি অর ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন৷ সম্যকসম্দুদ্বগণ শুধু নিজের জন্য বুদ্ধ হন না। তারা জগতের সর্বসন্তার পরম মুক্তির দ্বার উন্মোচনের ব্রত নিয়েই বুদ্ধ হন। এজন্যে সকল জীবের কল্যাণে তারা দুঃখমুক্তির পথ ও নির্বাগলাভের উপায় প্রচার করেন। ফর্মা নং-৪, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি | religion |
28 | ২০২৫ দান ৩৭ ধর্মীয় জীবন গঠনে দানের প্রভাব : নির্বাণ লাভ করতে হলে দশপারমী পূর্ণ করতে হয় ৷ দশপারমীর মধ্যে দান পারমীর স্থান সর্বাধে ৷ লোভ- দ্বেষ-মোহের কারণে তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। তৃষ্ণাই সকল দুঃখের মূল কারণ ৷ তৃষ্ণার কারণে মানুষ বারবার জন্মগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করে ৷ তৃষ্ণাকে ক্ষয় করতে পারলে দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করা সম্ভব । দানের ফলে লোভ-দ্বেষ-মোহ বিদূরিত হয়। তৃষ্ঞার ক্ষয় হয়। তৃষ্ণা মুক্ত মানুষ আর জন্মগ্রহণ করেন না । ফলে মানুষ দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করে নির্বাণের পথে অগ্রসর হন ৷ দান পারমী পূর্ণকারী ব্যক্তি প্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী এবং অর্ত্ব ফল লাভ করেন । এভাবে দান ধর্মীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে । অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১। দানকি ? ক. কুশল কর্ম খ. সাধনার গ. প্রজ্ঞা ঘ. ত্যাগ ২। কর্ম অনুযায়ী মানুষ ফল ভোগ করে - 1. কুশল কর্মের কুশল ফল 11. অকুশল কর্মের ফল অকুশল 111. কর্মফল সম্পর্কে বিশ্বাসী হয়ে । নিচের কোনটি সঠিক ? কক খ. 1ও1]11 গ. 11ওা1 ঘ. 1,11ও]11 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও কাজল বড়ুয়া পশু-পাখির ব্যবসা করেন। তিনি একদা শ্রদ্ধেয় ভিক্কুসজ্ঘের উদ্দেশ্যে সংজ্ঘদানের ব্যবস্থা করেন৷ দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর হঠাৎ তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন । তিনি মৃত্যুর সময়েও উক্ত দানের কথা স্মরণ করেন । ৩। কাজল বড়ুয়া সংঘদান চেতনার কোন সম্পত্তির প্রতিফলন ঘটেছে ? ক. বন্তসম্পত্তি খ. চিত্তসম্পত্তি গ. প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি ঘ. ভোগসম্পত্তি | religion |
29 | ৫৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সব শুনে বুদ্ধ বললেন, “ভিক্ষুগণ, তোমরা আবার সে-স্থানে ফিরে যাও ৷ আমি তোমাদের বৃক্ষদেবতাদের ভয় থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে দিচ্ছি । বৃক্ষদেবতা বা যক্ষদের সাথে শত্রুভাব পোষণ না করে মৈত্রীভাব পোষণ কর । তোমরা ধৈর্য ধরে তাদের প্রতি মৈত্রী ও করুণা প্রদর্শন কর ।” এই বলে বুদ্ধ তাঁদের করণীয় মৈত্রী সূত্র দেশনা করলেন এবং বললেন, “এই সুত্র শিক্ষা করে বনে ফিরে যাও ৷ প্রতিমাসে অষ্টধর্ম শ্রবণ দিবসে (আটটি উপোসথ দিবসে) এই সূত্র উচ্চস্বরে পাঠ করবে। এ বিষয়ে ধর্মকথা বলবে, প্রশ্নোত্তর করবে, অনুমোদন করবে । সেই অমনুষ্যগণ আর ভয় দেখাবে না। তোমাদের উপকারী ও হিতৈযী হবে ।” বুদ্ধের উপদেশমতো ভিক্ষুরা সেই স্থানে ফিরে গিয়ে করণীয় মৈত্রী সূত্র পাঠ ও মৈত্রী-ভাবনায় রত হলেন। করণীয় মৈত্রী সূত্র পাঠের প্রভাবে বৃক্ষদেবতাদের উপদ্রব বন্ধ হলো। মৈত্রী ও করুণার প্রভাবে বৃক্ষদেবতারা আর ভিক্ষুদের কোনো উৎপাত করল না, অধিকষ্ভ অত্যন্ত সম্ভষ্টচিত্তে তাদের সেবায় রত হলো । অবশেষে ভিক্ষুরা সেখানে বর্ষাবাস শেষ করতে সক্ষম হলেন। এই সূত্রে নির্বাণ লাভে ইচ্ছুক ব্যক্তিগণের করণীয় মৈত্রী ভাবনার নির্দেশনা আছে, তাই সূত্রটির নাম “করণীয় মৈত্রী সূত্র' । পালিতে এই সূত্রের নাম 'করণীয় মেন্তসুত্তং' ৷ পাঠ: ৫ করণীয় মেত্তসুত্তং (পালি) ১. করণীযমথকুসলেন যন্তং সন্তং পদং অভিসমেচ্চ, সঙক্কো উজু চ সুজু চ সুবচো চস্স মুদু অনতিমানী । ২. সন্ভস্সকোচ সুডরো চ অগপ্পকিচ্চো চ সল্পহুকবুত্তি, সন্তিন্দিয়ো চ নিপকো চ অগপ্পগবৃভো কুলেসু অননুগিদ্ধো ৩. নচ খুদ্দং সমাচরে কিঞ্চি যেন বিঞঞু পরে উপবদেয়্যুং, সুখিনো বা খেমিনো হোস্ত সব্দে সত্তা ভবস্তু সুখিতত্তা ৪. যে কেচি পানাভূতথি তা বা থাবরা বা অনবসেসা, দীঘা বা যে মহন্তা বা মদ্ত্বিমা রস্সকাণুকা থুলা । ৫. দিট্ঠা বা যেবা অদিট্ঠা যে চ দূরে বসস্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসী বা সন্রে সত্তা ভবস্ধু সুখিততা ৷ ২০২৫ | religion |
30 | ৭০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা “হে মাণবক! কোনো কোনো নারী বা পুরুষ ঈর্ষাপরায়ণ হয় না। যশ-গৌরব, সম্মান, শ্রদ্ধা পূজা পাওয়া লোকদের তারা ঈর্ষা করে না। ঈর্ষার কারণে কারো প্রতি আক্রোশ প্রকাশ করে না। কাউকে দোষী বলে সাব্যস্ত করে না। এজন্য তারা স্বর্গে যায়। মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলে মহাপরিবারে জন্ম নেয়। এটাই মহাপরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণ। “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ দাতা হয় না। শ্রমণ ব্রাহ্মণকে খাদ্য, পানীয়, কাপড় কোনো কিছুই দান করে না। এরূপ কাজের জন্য তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবকুলে জন্ম নেয়ও তবে তারা খুব গরিব হয়। এটাই গরিব হওয়ার কারণ!" “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো নারী বা পুরুষ অহংকারী হয়। সে অভিবাদনের যোগ্য ব্যক্তিকে অভিবাদন করে না। দাড়িয়ে সম্মান জানানোর যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান করে না। আসন দানের যোগ্য ব্যক্তিকে আসন দান করে না। পূজনীয় ব্যক্তিকে পূজা করে না। মান্য করার যোগ্য ব্যক্তিকে মান্য করে না। এরূপ কাজের জন্য তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবকুলে জন্ম নেয়ও তবে তারা নীচকুলে জন্মগ্রহণ করে৷ এটাই নীচকুলে জন্ম নেওয়ার কারণ ৷” “হে মাণবক, এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ অহংকারী হয় না। অভিবাদনের যোগ্য ব্যক্তিকে তারা অভিবাদন করে। এছাড়া যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শন করে, আসন দানের যোগ্য ব্যক্তিকে আসন দান করে, পূজা করার ব্যক্তিকে পূজা কুরে, মান্য করার যোগ্য ব্যক্তিকে মান্য করে। এজন্য তারা স্বর্গে যায়। আর মানুষ হয়ে জন্ম নিলেও উচ্চকুলে জন্মগ্রহণ করে । এটাই উচ্চকুলে জন্মগ্রহণ করার কারণ ।* 'হে মাণবক, এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী পুরুষ শ্রমণ বা ব্রাহ্মণের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করে- ভন্তে, কুশল কী ? অকুশল কী? কী দোষের নয়? কী সেবা করা উচিত? কী সেবা উচিত নয়?। কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্টকর ও দুঃখকর হবে এবং কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘকাল সুখ বয়ে আনবে? এরূপ কাজ না করলে তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবক্কুলে জন্মও নেয় তবে তারা প্রজ্ঞাহীন হয়। এটাই প্রজ্ঞাহীন হয়ে জন্যগ্রহণের কারণ।' “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ, শ্রমণ বা ব্রাহ্মণের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, কুশল কী? অক্কুশল কী? কী কী দোষের নয়? কিসের সেবা করা উচিত? কিসের সেবা করা উচিত নয়? কোন কাজ করলে তা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট অনিষ্টকর দুঃখকর হবে? কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘকাল সুখ বয়ে আনবে? এরূপ কাজের জন্য তারা স্বর্গে যায়। আর মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলে মহাজ্ঞানী হয়ে জন্ম নেয়। এটাই মহাজ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণ “হে মাণবক! এরূপে অল্প আয়ু, দীর্ঘ আয়ু, জটিল ব্যাধ্য্রস্ত, নিরোগ, বিশ্রী, সুশ্রী, দুঃখী পরিবার, সুখী দেখা যায়! ১০২৫ | religion |
31 | ১২০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১. শুক সন্তান আমের রস খেতে কোথায় যেত? ২. বুড়ি ঠাকুরমার সোনার খালার দাম কত? ৩. লোভী ফেরিওয়ালার লোভের পরিণতি কী হলো? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. বোধিসতপ্তব শুক সন্তানকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন এবং কেন? ২. 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু' কথাটি সেরিবানিজ জাতক অবলমৃনে ব্যাখ্যা কর। ৩. দশরাজধর্মের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। বছনির্বাচনি প্রশ্ন ১। সুখবিহারী জাতকে বোধিসত্ত্ গৃহত্যাগ করে কোথায় চলে গেলেন? ক. গভীর বনে খ. হিমালয়ে গ. নদীর তীরে ঘ. বৌদ্ধবিহারে ২। তপস্থবী : আহা কী সুখ ! -_- এ কথাটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ? ক. রাজাকে অবজ্ঞা করার খ. রাজ্যসুখ ভোগ করার গ. ধ্যান সমাধির সুখে বিভোর হওয়ার ঘ. রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও : সীমান্ত বড়ুয়া পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান । তার পিতা দুইটি গার্মেন্টস শিল্পের মালিক ৷ পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি গার্মেন্টস দুইটির মালিক হন এবং নিয়মনীতি পালনে সক্রিয় ছিলেন । তিনি কর্মচারীদের সম্মান করতেন এবং শীল পালনে ও সৎভাবে স্ব-স্ব কাজ সম্পাদনের উপদেশ দিতেন । ৩। সীমান্ত বড়ুয়ার সাথে জাতকে কোন রাজার চরিত্রের মিল পাওয়া যায় ? ক. জনসন্ধ খ. বেস্সান্তর গ. শিবি ঘ. ইন্দ্র ২০২৫ | religion |
32 | বিশাখা আজীবন অসুস্থ ভিক্ষুর যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন! বিশাখা আজীবন অসুস্থ ভিক্ষুদের পরিচর্যাকারীদেরও আহার্য দান করবেন । বিশাখা আজীবন বিহারের অসুস্থ ভিক্ষুদের জন্য প্রয়োজনীয় পথ্য সরবরাহ করবেন । বিশাখা আজীবন ভিক্ষুদের যাগু-অনু দান করবেন। বিশাখা আজীবন ভিশ্ষুণীদের স্নানবস্ত্র প্রদান করবেন। 122: 2 ২ ০০৮ বিশাখার এ বরপ্রার্থনার মধ্যে তার গভীর দানচেতনা ও উদারতার প্রকাশ ঘটেছে। এভাবে বিশাখা সানন্দে বুদ্ধ ও ভিক্ষুসজ্ঘের সেবায় নিয়োজিত হয়ে অপরিসীম পুণ্য সঞ্চয় করেন৷ বিশাখার বাড়িতে প্রত্যহ পাঁচশত ভিক্ষু আহার গ্রহণ করতেন। বিশাখার দশ পুত্র ও দশ কন্যা ছিল৷ তাঁদের প্রত্যেকেরই দশটি করে সন্তান ছিল। এভাবে তাঁরা সবাই বলশালী ও সম্পদশালী হয়ে সুখে বাস করতেন। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে বিশাখা 'মহাউপাসিকা' নামে খ্যাত হন। এই মহাউপাসিকার জীবনী হতে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, ভোগ নয়, ত্যাগই মানুষকে মহৎ ও মহান করে৷ তাই সকলের দান ও ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়া উচিত । অনুশীলনমূলক কাজ বিশাখার পিতা বিশাখাকে কয়টি উপদেশ দিয়েছিলেন? শ্বশুরকে বিশাখা কীভাবে দীক্ষা প্রদান করেন? বুদ্ধের নিকট বিশাখা কয়টি বর প্রার্থনা করেছিলেন? সেগুলো কী? পাঠ: ৩ রাজা প্রসেনজিত রাজা প্রসেনজিত ছিলেন কোশলের রাজা ৷ শ্রাবন্তী ছিল কোশলের রাজধানী এবং খুবই সমৃদ্ধশালী নগরী । শ্রাবন্তীতে বুদ্ধ অনেক ধর্মোপদেশ দান করেছেন। এখানে তার জীবনের অনেক স্মৃতি বিজড়িত আছে ৷ তাই শ্রাবন্তী বৌদ্ধদের একটি প্রধান তীর্থস্থান । এর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত ৷ এটি বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত ৷ প্রসেনজিত ছিলেন কোশলের রাজা মহাকোশলের পুত্র এবং বুদ্ধের সমসাময়িক । তিনি তক্ষশিলায় লেখাপড়া করেন। লিচ্ছবি মহালি এবং মনল রাজপুত্র ভঞ্জূল ছিলেন তার সহপাঠী ৷ তিনি বিভিন্ন রকম বিদ্যা ও শিল্পকলা শিখে তক্ষশিলা থেকে ফিরে আসেন। পিতা মহাকোশল বিদ্যা ও শিল্পকলায় তার পারদর্শিতা দেখে খুবই সম্ভষ্ট হন এবং তাকে কোশলের সিংহাসনের অধিকারী করান। রাজ্যভার গ্রহণ করে তিনি খুবই নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন । তিনি জ্ঞানী ও সাধু ব্যক্তিদের খুব ভালোবাসতেন এবং তাদের সঙ্গ উপভোগ করতেন। বুদ্ধের বুদ্ধত্ব লাভের পরপরই রাজা প্রসেনজিত বুদ্ধের অনুসারী হন এবং মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি বুদ্ধের উপাসক হয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। ফর্মা - ১৭, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি | religion |
33 | ১৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সামনে হাঁটু ভেঙে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করতে হয়। তারপর ত্রিরত্ন বন্দনা করতে হয় । তারপর অন্যান্য বন্দনা করা হয়। বন্দনা শেষ হলে ভিক্ষু এবং অন্য বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করতে হয়। বুদ্ধং বন্দামি ধন্মং বন্দামি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্বদা ৷ দুতিযম্মি বুদ্ধং বন্দামি দুতিযম্পি ধন্মং বন্দামি দুতিযস্পি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্দ্দা ৷ ততিযম্পি বুদ্ধং বন্দামি ততিযম্পি ধম্মং বন্দামি ততিযম্পি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্দপদা ৷ ত্রিরত্ন বন্দনা (বাংলা অনুবাদ) : আমি বুদ্ধকে বন্দনা করছি আমি ধর্মকে বন্দনা করছি আমি সংঘকে বন্দনা করছি আমি সর্বদা বন্দনা করছি। দ্বিতীয়বার আমি বুদ্ধকে বন্দনা করছি ২০২৫ | religion |
34 | ১৪০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য তিনটি টীবর, যথা : সংঘাটি, উত্তরাসঙ্ঘ ও অন্তর্বাস, ভিক্ষাপাত্র, স্ষুর, সুঁচ-সুতা, কটিবন্ধনী এবং জল ছাঁকনি-এই আটটি ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্য । দ্রব্যগুলো ভিক্ষু-খমণদের জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট বলে বুদ্ধ নির্দেশ করেছেন। সংযম ব্রত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সোনা রূপা গ্রহণ করা একেবারেই বারণ ৷ যদি কোনো গৃহস্থ তা দান করেন তাহলেও ভিক্ষু তা নিজের জন্য রাখতে পারবেন না। হয় তা দাতাকে ফেরত দেবেন অথবা অন্য কোনো গৃহস্থকে দান করবেন। অন্য কোনো গৃহস্থকে দান করার ফলে তিনি তার বিনিময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিতে পারবেন। তবে সেগুলো ভিক্ষু নিজের জন্য নিতে পারবেন না। অন্য ভিক্ষু বা ভিক্ষুসতজ্তেঘর জন্য নিতে পারবেন । বুদ্ধ শাসনের উন্নতির জন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ ভূমি, বিহার প্রভৃতি স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারবেন । বুদ্ধের সময় রাজা, মহারাজা ও গৃহীরা এরকম দান করতেন। তবে এগুলো সজ্ঘসম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হবে । পঞ্চ ভাবনা পঞ্চ ভাবনা ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা । মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা- এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে ভাবনা করতে হয় বিধায় একে পঞ্চ ভাবনা বলে । ভিক্ষু শ্রমণগণ সকাল- সন্ধ্যায় নির্জনে বসে এই পঞ্চ ভাবনা চর্চা করেন৷ পঞ্চ ভাবনা লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে ৷ পঞ্চ ভাবনা হলো : মৈত্রী ভাবনা : সকল প্রাণী শত্রুহীন হোক, বিপদহীন হোক, রোগহীন হোক, ভয়হীন হোক, সুখে বাস করুক-এরূপ কল্যাণ কামনাই মৈত্রী ভাবনা । করুণা ভাবনা: দুঃখীর দুঃখে ব্যথিত হয়ে 'দুঃখমুক্তি' কামনা করাকে করুণা ভাবনা বলে । মুদিতা ভাবনা : অপরের সৌন্দর্য, যশ, লাভ, এঁশ্বর্য, অথবা সৌভাগ্য দেখে নিজ চিত্তে আনন্দ অনুভব করাই মুদিতা ৷ 'সকল প্রাণী যথালক্ধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হোক” -এটি হলো মুদিতা ভাবনার মূলমন্ত্র । অশুভ ভাবনা : শরীর ব্যাধি ও অশুচির আধার, অনিত্য এবং মৃত্যুর অবীন ৷ এ বিষয়গুলো অবলম্বন করে ভাবনা করাই হচ্ছে অশুভ ভাবনা । উপেক্ষা ভাবনা : লাভ-অলাভ, যশ-অযশ, নিন্দা-প্রশংসা, সুখ-দুঃখ ইত্যাদি অষ্টগ্রকার লোকধর্মে চিত্তকে অবিচলিত রেখে ভাবনা করাই হচ্ছে উপেক্ষা ভাবনা । ধ্যান ও সমাধি ধ্যান ও সমাধি ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি বিষয় ৷ ধ্যান অনুশীলন ব্যতীত চিত্তের একাগ্রতা আনয়ন সম্ভব নয়। মানুষ সহজে তৃষ্ণার জালে আবদ্ধ হয়। লোভ, দ্বেষ, মোহ, কামনা, বাসনা প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায় । এসবের তাড়নায় মানবচিত্ত অশান্ত থাকে । চিত্ত স্বভাবত চঞ্চল এবং ভালোমন্দ উভয় দ্বারা প্রলুন্ধ হয়ে থাকে৷ এরূপ চিত্তকে সংযত করতে না পারলে তৃষ্ণা হতে মুক্তি লাভ সম্ভব নয়। ুঁ রা | religion |
35 | ২০২৫ বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান ৯৯ বৰা তার প্রধান শিষ্যগণ গমন করেননি । কিন্তু বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সেগুলোও প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাই এসব স্থানের ধর্মীয় গুরুতু অপরিসীম । এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যায়। ভৌগোলিক ও এঁতিহাসিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। মনে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। জনহিতকর এবং কুশলকর্ম সম্পাদনে মন উদ্বুদ্ধ হয়। ধর্মচর্চায় প্রেরণা লাভ করা যায়। মন পবিত্র হয়৷ কলুষমুক্ত হয়৷ তৃষ্ণা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ক্ষয় হয়। এঁতিহ্যের প্রতি অনুরাগ বাড়ে। দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়। তাই তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম । পরবর্তী পাঠে আমরা চারটি বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানব । অনুশীলনমূলক কাজ দেশ অনুযায়ী বৌদ্ধ দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর (দলীয় কাজ) ৷ পাঠ: ২ নালন্দা নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার অন্তর্গত ছিল । বর্তমানে নালন্দা একটি স্বতন্ত্র জেলা । গৌতম বুদ্ধ অনেকবার নালন্দায় এসেছিলেন ৷ তিনি এখানে শ্রেষ্ঠীপুত্র পাবারিকের আম বাগানে অকথানকালে তার শিষ্যদের ধর্ম দেশনা করেছেন। এখানে অনেক ধনী ব্যক্তি বসবাস করতেন। কয়েকজন ধার্মিক ও ধনী ব্যক্তি ভূসম্পত্তি ক্রয় করে বুদ্ধকে দান করেন। নালন্দা ছিল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী মহানগরী । নালন্দা নামের উৎপত্তি নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তার মধ্যে দুটি ব্যাখ্যা প্রধান। একটি হলো, অতীতকালে এখানে বোধিসত্ু নামে এক ব্যক্তি রাজত্ করতেন। তিনি কখনো কাউকে 'নঅল্মদা' অর্থাৎ 'আমি দেব না' একথা বলতে পারতেন না। সে কারণে এ স্থানের নাম হয় নালন্দা। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, স্থানীয় এক আম বাগানের মধ্যস্থলে একটি পুকুর ছিল ৷ সেখানে নালন্দা নামক এক নাগরাজ বাস করতেন। তার নাম অনুসারে এ জায়গার নাম হয় নালন্দা । জানা যায় গৌতম বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক সারিপুত্রের জন্ম হয়েছিল এই নালন্দায়। পরবর্তীকালে সম্রাট অশোক অগ্রশ্রাবকের স্মরণে এখানে একটি সুবৃহৎ সংঘারাম নির্মাণ করেছিলেন। সেটি নালন্দা মহাবিহার নামে খ্যাত হয়। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে বিখ্যাত বৌদ্ধ পন্ডিত ও দার্শনিক নাগার্জুন নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন ৷ বিহারটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে গড়ে উঠে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমান করা হয়, খ্রিষ্টায় পঞ্চম শতকের পর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে ছোট ছোট বিহার, চৈত্য, স্তূপ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল । পরবর্তীকালে এ সকল স্থাপনার সমন্বয়ে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল জগৎ বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় | religion |
36 | ২০২৫ গৌতম বুদ্ধের সাম্যনীতি ৩ বাসেট্ঠ সূত্রে বুদ্ধ এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, 'জাতি হিসেবে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই । ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের পদচিহ্ন একই রূপ । হাতি, ঘোড়া, বাঘ এরূপ চতুষ্পদ প্রাণীদের মতো মানুষে মানুষে দৈহিক গঠনে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না । প্রাণীদের মধ্যে স্ত্রী, পুরুষ, বর্ণ, শারীরিক গঠন, লোম, চঞ্চ প্রভৃতিতে পার্থক্য আছে ৷ মানুষে মানুষে তেমন পার্থক্য দেখা যায় না ।" মূলত, জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, বুদ্ধিমত্তা, বিচারশক্তি, আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে মানুষে মানুষে অথবা জাতিতে জাতিতে তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না । বুদ্ধের সময়কালে কন্যা সন্তানের জন্ম কাম্য ছিল না ৷ সংযুক্ত নিকায়ের কোসল সংযুক্ত পাঠে জানা যায় যে, রাজমহিধবী মনল্লিকাদেবী কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন শুনে কোশলরাজ প্রসেনজিত খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েন । বুদ্ধ জানতে পেরে রাজসমীপে উপস্থিত হয়ে রাজা প্রসেনজিতকে বললেন, কন্যা সন্তানের জন্ম হেতু কারও দুঃখ পাওয়া উচিত না; কন্যা যদি তীক্ষ্ন বুদ্ধি সম্পন্ন, ধর্মপ্রাণ, সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলে কন্যা সম্ভান পুত্রাপেক্ষা শ্রেয়সী হবার যোগ্যতা রাখে ৷ এমনকি এই কন্যা সন্তান রতুনগর্ভাও হতে পারে ৷ তার গর্ভজাত সম্ভান ভবিষ্যতে মহৎ কার্য সম্পন্ন করতে পারে এবং সুবিশাল রাজ্যের অধিশ্বর হতে পারে ।' বুদ্ধের বাণী শুনে রাজা প্রসেজিত কন্যা সন্তানের জন্মকে শুভ বলে মেনে নেন । বুদ্ধের সময়কালে এরূপ অনেক ধরনের বৈষম্য প্রচলিত ছিল । বুদ্ধ সাম্যনীতির মাধ্যমে তথাকথিত সামাজিক বৈষম্যগুলো দূরীভূত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন ৷ অনাদিকাল থেকেই মানুষ সমাজে সাম্যনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে ৷ বুদ্ধই প্রথম সমাজে সাম্যনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ব শাস্তি প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন । অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধের সাম্যনীতির শিক্ষা কী? কীসের দ্বারা মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয়? পাঠ : ২ বুদ্ধের সাম্যনীতির প্রয়োগ বুদ্ধের সমকালীন সমাজে নিমনশ্রেণির মানুষের তেমন কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার ছিল না। বুদ্ধ অবহেলিত নিম্নশ্রেণির মানুষকে তার প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসজ্জে প্রবেশাধিকার দিয়েছিলেন । সে সময়ে সমাজে নিম্নশ্রেণির মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ধর্ম ও অন্যান্য বিদ্যা শিক্ষায় বিধি-নিষেধ ছিল ৷ বুদ্ধ সঙ্ঘে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে ধর্ম ও বিদ্যা চর্চায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন । নিচে প্রাসঙ্গিক একটি কাহিনি বর্ণনা করা হলো : | religion |
37 | নু তত গল চরিতমালা ৮৫ 'আমার কারণে যারা জ্ঞাতি বিয়োগ দুঃখ ভোগ করেছেন তারা আমার ধর্মকথা শ্রবণ করুন। আমার বাক্য শুনে সকলে বুদ্ধ শাসনে সৎকার্য সম্পাদনে নিযুক্ত হোন । ধার্মিক কল্যাণ মিত্রের সেবা করুন । যাঁরা ক্ষান্তিশীলতার কথা বলেন, মেত্রী ধর্মের প্রশংসা করেন তাদের নিকট ধর্ম শ্রবণ এবং যথাধর্ম আচরণ করুন ৷ কাউকেও হিংসা করবেন না। নির্বাণ প্রাপ্ত হয়ে সকল প্রাণীকে নিজের সন্তানের মতো প্রতিপালন করবেন ৷ হস্তীকে অঙ্কুশ দ্বারা, অশ্বকে কশাঘাত দ্বারা দমন করে ৷ পণ্তিতগণ নিজেকে অর্ত্্ব ফলের দ্বারা দমন করেন ৷ আমি বুদ্ধ কর্তৃক বিনা দণ্ডে দমিত হয়েছি ৷ পূর্বে আমার নাম হিংসক হলেও আমি অহিংসক নামে পরিচিত ছিলাম । আজই আমার অহিংসক নাম সত্যে পরিণত হয়েছে । আমি আর কাউকে হিংসা করি না ।' অনুশীলনমূলক কাজ অঙ্গুলিমালের জন্মের সময় কী হয়েছিল লেখ । আচার্য গুরুদক্ষিণা স্বরূপ অঙ্গুলিমালের নিকট কী চাইলেন? পাঠ: ৩ মহাপ্রজাপতি গৌতমী মহাপ্রজাপতি সুপ্রবুদ্ধের পরিবারে দেবদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি রানি মহামায়ার কনিষ্ঠ বোন ছিলেন ৷ রাজা শুদ্ধোদন দুই বোনকেই বিয়ে করেন । জ্যোতিযীগণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের সন্তান রাজচক্রবর্তী রাজা হবেন । সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্যের সপ্তাহকাল পরে তার মাতা রানি মহামায়ার মৃত্যু হয় । মহাগ্ুজাপতি গৌতমীই সিদ্ধার্থের লালন পালনের ভার গ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন নন্দের মাতা ৷ কথিত আছে, তিনি নিজ পুত্রের দেখাশোনার ভার ধাত্রীর ওপর অর্পণ করে নিজে সিদ্ধার্থ গৌতমকে প্রতিপালন করতেন। গৌতম সিদ্ধার্থের গোত্রের নাম । গৌতমের লালন-পালনকালী হিসেবে তিনি মহাপ্রজাপতি গৌতমী নামে পরিচিতি লাভ করেন । পরিণত বয়সে রাজা শুদ্ধোদনের মৃত্যু হয় । এতে রাজ্য ও সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠেন মহাপ্রজাপতি গৌতমী । এসময় তিনি সন্ন্যাস জীবন লাভে আগ্রহী হলেন। এজন্য কীভাবে কী করা যায় তিনি চিন্তা করতে লাগলেন । সেসময় শাক্য ও কোলিয়দের মধ্যে রোহিনী নদীর জল নিয়ে বিবাদ হয়েছিল ৷ বুদ্ধ সে বিবাদ মীমাংসার জন্য বৈশালী থেকে কপিলাবন্তু যান । এতে মহাপ্রজাপতি গৌতমীর আকাঙ্ক্ষিত সুযোগ উপস্থিত হয় । বিবাদ মীমাংসা হলে বুদ্ধ তাদেরকে কলহবিবাদ সূত্র দেশনা করেন । এসময় পাঁচশত শাক্যকুমার ভিক্ষুসজ্ঘে যোগদান করেন ৷ তাদের স্ত্রীগণ মহাপ্রজাপতি গৌতমীর নেতৃত্বে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে ভিক্ষুণীৰুৃত গ্রহণ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু বুদ্ধ তাদের অনুরোধ | religion |
38 | দশম অধ্যায় বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন ইতিহাস এবং এঁতিহ্য অত্যন্ত গৌরবের । কালের পরিক্রমায় এগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৷ খননকার্ধের ফলে এসব ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাচীন অনেক মুল্যবান নিদর্শন ও প্রতুন্সামগ্রী আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ রাজন্যবর্গের অনেক কীর্তি জড়িত আছে। বাংলাদেশ সরকার এসব ধ্বংসস্তূপ ও আবিষ্কৃত দ্রব্যাদি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক অপুর্ব সুন্দর বৌদ্ধবিহার, বুদ্ধমূর্তি ও চৈত্য আছে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক লোক এগুলো দেখতে আসে। তাই এগুলো বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে খ্যাত। এগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সভ্যতার ইতিহাস। এসব স্থান বৌদ্ধদের নিকট খুবই পবিত্র এবং প্রিয়। এগুলো দর্শন করলে মনের প্রসারতা বৃদ্ধি পায়। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহা ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে পড়ব। এ অধ্যায় শেষে আমরা- * বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বর্ণনা দিতে পারব; * বৌদ্ধ এতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব। পাঠ: ১ বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান পরিচিতি বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ এঁতিহ্া ও দর্শনীয় স্থান আছে। এগুলোর মধ্যে বিহার, চৈত্য, বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব ও দেব-দেবীর মূর্তি, স্তুপ, প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও নগরের ধ্বংসাবশেষ, ব্যবহার্য দ্রব্য, পোড়ামাটির ফলক, চিত্র, মুদ্রা, শিলালিপি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসবের প্রতনতান্তিক গুরুত্ব অপরিসীম । দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য এঁতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। খননকার্যের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহার ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শালবন মহাবিহার, আনন্দবিহার, ভোজবিহার, রূপবান বিহার, ইটাখোলা বিহার, কোৌটিল্যমুড়া, কোটবাড়ীমুড়া, চারপত্রমুড়া, ত্রিরতন্ুড়া উল্লেখযোগ্য। বগুড়া জেলায় আবিষ্কৃত বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মহাস্থানগড়, তাসুবিহার, গোবিন্দভিটা, বৈরাগীর ভিটা অন্যতম । নওগী জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। এছাড়া এ অঞ্চলে হলুদ বিহার, জগদ্দল বিহারের ধ্বংসাবশেষ আছে। দিনাজপুরে সীতাকোট বিহারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। সম্প্রতি নরসিংদী জেলায় উয়ারী-বটেশ্বর, পঞ্চগড়ে পলদ্মবিহার, এবং মুস্সিগঞ্জ জেলার রঘুনাথপুরে বিক্রমপুরী বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো আমাদের অতীত এঁতিহ্যের মারক। বাংলাদেশ সরকার এগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করছে। এসব বৌদ্ধ এঁতিহা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। আধুনিককালে নির্মিত অপুর্ব সুদ্দর বৌদ্ধবিহার ও বুদ্ধমূর্তি আছে, যেগুলো বৌদ্ধ এঁতিহা ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। বৌদ্ধবিহারগুলোর মধ্যে পাহাড়তলীর মহামুনি বিহার, রাউজানের সুদর্শন বিহার, বাগোয়ানের ফরাচিন বিহার, পটিয়ার সেবাসদন বিহার, ঠেগরপুনির বুড়া গৌসাই বিহার, চক্রশালা বিহার, রামুর রামকোট বিহার, কক্সবাজারের অগ্গমেধা বিহার, রাঙামাটির চিতৎ্মরম বিহার, রাজবন বিহার , সীতাকুণ্ডের সঙ্জারাম বিহার , খাগডাছডি্রি পানছড়িতে অবস্থিত অরণ্য কুটির বিহার, ঢাকার গু ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার, বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এসব বিহারে স্থাপিত বুদ্ধমূর্তি ও অন্যান্য | religion |
39 | ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উত্সব ৬৯ বাংলা অনুবাদ : তন্তে, অবকাশ প্রদান করুন, আমি প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করছি। দ্বিতীয়বারও ভন্তে, আমি প্রবৃজ্যা প্রার্থনা করছি। তৃতীয়বারও ভন্তে, আমি প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করছি। এরপর প্রব্রজ্যা প্রার্থনার উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে নিচের প্রার্থনাটি করতে হয়। সব্বদুক্খ নিস্সরণ নির্বাণং সচ্ছিকরণথায ইমং কাসাবং গহেড়া পব্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায। দুতিযষম্পি সব্বদুক্খ নিসৃ্সরণ নিঝ্বাণং সচ্ছিকরণখথায ইমং কাসাবং গহেড়া পরৰ্বাজেখ মং ভষ্তে, অনুকম্পং উপাদায। ততিযম্পি সব্বদুক্খ নিস্সরণ নিব্বাণং সচ্ছিকরণখথায ইমং কাসাবং গহেডত়া পর্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায। বাংলা অনুবাদ : ভদ্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাত ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ব (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন। দ্বিতীয়বার ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । তৃতীয়বার ভন্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বণি প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । তারপর প্রব্রজ্যা প্রার্থীকে দীক্ষাদানকারী আচার্যের হাতে চীবরসমূহ তুলে দিতে হয় । অতঃপর হাতজোড় করে নিচের প্রার্থনাটি করতে হয় : সব্বদুক্খ নিস্সরণ নির্ববাণং সচ্ছিকরণথায এতং কাসাবং দত্বা পববাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । দুতিযম্পি সব্বদুক্থ নিস্সরণ নিৰ্বাণং সচ্ছিকরণথায এতং কাসাবং দত্বা পৰ্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । ততিযস্পি সব্বদুকূখ নিসৃ্সরণ নিব্বাণং সচ্ছিকরণখায এতং কাসাবং দত্বা পববাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । বাংলা অনুবাদ : ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) দিয়ে আমাকে প্রবজ্যা প্রদান করুন । দ্বিতীয়বার ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই ঠঁ কাষায় বস্ত্র চীবরসমূহ) দিয়ে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । বর | religion |
40 | টু ণ গা পাঠ: ৪ মন্পলিকাদেবী পুণ্যশীলা মন্ললিকাদেবী কুশীনগরে জন্মগ্রহণ করেন৷ বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তার সঙ্গে বন্ধুল সেনাপতির বিয়ে হয় । তিনি বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল কোশল রাজ্যে গমন করেন। বন্ধুল ছিলেন কোশলরাজ প্রসেনজিতের সেনাপতি । শ্রাবস্তীর জেতবনে ভগবান বুদ্ধ যখন অবস্থান করতেন মন্লিকাদেবী সেনাপতির স্ত্রী হয়েও দিনে দুবার ত্রিরত্নের সেবা করতে বিহারে যেতেন । মন্ললিকাদেবী বুদ্ধসহ বিহারের সকল ভিক্ষুসংজ্ঞকে সকালে প্রাতঃরাশ দান করতেন ৷ বিকালে ধর্ম শ্রবণের সময় তাঁদের জন্য পানীয় ও পঞ্চ ভৈষজ্য নিয়ে যেতেন ৷ এছাড়া তাদের গৃহেও পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে খাদ্যভোজ্য দান করা হতো ৷ দীর্ঘকাল সংসার করেও মল্লিকাদেবীর কোনো সম্ভান হলো না । তিনি নিঃসন্তান বলে তাঁর স্বামী তাঁকে পিতৃগৃহে চলে যেতে বললেন । স্বামীর আদেশ মেনে নিয়ে তিনি পিতৃগৃহ কুশীনগরে রওনা হলেন । যাবার পথে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে তিনি বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করলেন ৷ বুদ্ধের ধর্মোপদেশ শুনে তিনি স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে মন স্থির করলেন ৷ তখন তিনি পিতৃগৃহে না গিয়ে স্বামীগৃহে ফিরে গেলেন ৷ তাকে দেখে বন্ধুল সেনাপতি বললেন, ফিরে এলে কেন? মপ্লিকাদেবী বললেন, ভগবান বুদ্ধ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন । বন্ধুল সেনাপতি চিন্তা করলেন তথাগত ভবিষ্যত দ্রষ্টা ৷ হয়তো আমার বংশ রক্ষা হবে । তাই তিনি মল্লিকাকে আমার নিকট ফেরত পাঠিয়েছেন ৷ কিছুদিন পর মত্ল্লিকা সন্তানসম্ভবা হলেন ৷ তার দুটি যমজ সন্তান হলো । এভাবে বন্ধুলের গঁরসে মল্লিকার গর্ভে ষোলবার যমজ সন্তান হয়েছিল । প্রত্যেকেই সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। যথাসময়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তারা এক সঙ্গে রাজবাড়িতে গেলে রাজাঙ্গন পূর্ণ হয়ে যেত । বিচারালরের বিচারকার্য থেকে আরম্ভ করে সর্বত্র বন্ধুল সেনাপতির জয়ধ্বনি ঘোষিত হলো । কোশলরাজ প্রসেনজিতের মনে এক সময় সন্দেহ জাগ্রত হলো ৷ একদিন এ বন্ধুল সেনাপতিই হয়তো রাজশক্তি কেড়ে নিতে পারে । তাই রাজা ষড়যন্ত্র করে বন্ধুল সেনাপতি ও তাঁর বত্রিশ পুত্রকে হত্যা করলেন । যেদিন তাদের সবাইকে হত্যা করা হলো সেদিন মন্লিকাদেবী সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন প্রমুখ ভিক্ষুসঙ্জকে পিগ্ুদান করছিলেন ৷ স্বামী ও পুত্রদের মৃত্যু সংবাদ সম্বলিত পত্র পেয়েও তিনি ধৈর্য সহকারে পুণ্যকাজ সম্পন্ন করলেন । সারিপুত্র স্থবির এ প্রসঙ্গে উপদেশ দিলেন - 'কার কখন, কীভাবে মৃত্যু হয় কেউ বলতে পারে না । জীবন ক্ষণস্থায়ী ও দুঃখপূর্ণ ৷ জরা, ব্যাধি একদিন সবাইকে গ্রাস করবে । মৃত্যুই প্রাণিজগতের স্বভাবধর্ম ৷ জন্ম মৃত্যুর কারণ না জেনে শোক করা বৃথা ৷ শোকার্ত ব্যক্তি কৃশ ও বিবর্ণ হয় । এতে মৃত ব্যক্তির কোনো লাভ হয় না । পুণ্য কর্মই মৃতব্যক্তির উপকারে আসে ।' | religion |
41 | বুদ্ধ ও বোধিসন্ত ২৯ আবার সাধনা ব্রতের উৎস বিচারেও বোধিসন্ত্বকে তিন্ভাগে ভাগ করা যায়। কোন প্রেক্ষিতে কীভাবে বোধিচিত্ত বা বোধিসত্ত্ব সাধনার উৎসাহ জাগ্রত হলো, সে উৎসের ভিত্তিতে বোধিসত্ত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্তব ২. শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ব ৩. বীর্যাধিক বোধিসন্ত ১. প্রজ্ঞাধিক বোধিসন্ত্ব - যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে প্রজ্ঞা সাধনাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়, তাঁকে প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব বলে । এ-স্তরের বোধিসত্ত্গণ প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলনের মাধ্যমে স্বীয় চিত্তকে নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রমে অন্য পারমীর পূর্ণতাসাধন করেন। এরূপ বোধিসনত্ত্বগণ সর্বক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী হন৷ তারা প্রজ্ঞার আলোকে প্রত্যেকটি বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করেন। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে তারা স্বীয় পথ পরিক্রমায় অখসর হন। ২. শ্রদ্ধাধিক বোধিসন্ত্ব - যে বোধিসনত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে শ্রদ্ধাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেন, তাকে শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ বলে । এ স্তরের বোধিসন্ত্বগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্রমাস্বয়ে সকল পারমী পূর্ণ করেন। শ্রদ্ধাধিক বোধিসম্ত্পণ নিবেদিত প্রাণ সাধক হন । তারা শ্রদ্ধা চিত্তে একবার যে আদর্শকে গ্রহণ করেন আমৃত্যু সে-ত্রত পূরণে প্রত্যয়াবদ্ধ থাকেন । ৩. বীর্ষাধিক বোধিসন্ত্ব - যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে কর্ম প্রচেষ্টাকেই সর্বাথে স্থান দেন, তাকে বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব বলে ৷ এ-স্তরের বোধিসত্ত্ূগণ বীর্য পারমী'র অনুশীলনের মাধ্যমে স্বীয় চিত্তকে নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রমে অন্য পারমীর পূর্ণতা সাধন করেন। বীর্ষাধিক বোধিসত্ত্গণ কঠিন সাধনা ব্রতের অনুরাগী হন। তারা কঠোর সাধনায় নিয়োজিত থাকেন। বীর্য পারমীর বলে মহীয়ান হয়ে তাঁরা সাধনায় অটল থাকেন। পাঠ: ৬ বুদ্ধ ও বোধিসনত্ত্বের পার্থক্য যিনি বোধিজ্ঞান লাভের জন্য সাধনা করেন তাঁকে বোধিসত্ত্ব বলে । বোধিসত্ত্ব বুদ্ধ নন ৷ তাদের ভাবী বুদ্ধ বা বুদ্ধান্কুর বলা হয়। ভবিষ্যতে কোনো এক জন্মে তিনি বুদ্ধ হবেন । বুদ্ধ হওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন কুলে অসংখ্যবার জন্ম নিতে হয় এবং দশ উপপারমী, দশ পারমী ও দশ পরমার্থ পারমী পূর্ণ করতে হয়৷ অর্থাৎ জন্ম-জন্মান্তরের কর্মের ধারাবাহিকতায় দশ পারমীর প্রত্যেকটি বত্রি-পর্যায়ে অনুশীলন করে আত্ম শুদ্ধির র্ সাধনায় পরিপূর্ণতা অর্জন করতে হয়। নিজেকে সকল আসক্তি থেকে বিমুক্ত করাই বোধিসসত্ত্রের প্রধান লক্ষ্য | religion |
42 | ২০২৫ গৌতম বুদ্ধের জীবন ও শিক্ষা ১৫ পঞ্চাশজন যুবকও ভিক্ষু হলেন। বুদ্ধ এই ভিক্ষুসঙ্ঘকে বর্ষাবাস শেষে দিকে দিকে অনন্য এই ধর্মপ্রচারে প্রেরণ করলেন। তিনি বললেন-'মুত্তাহং ভিক্খবে সব্বপাসেহি, যে দিব্বা যে চ মানুসা, তৃম্হে পি ভিক্খবে মুত্তা সব্বপাসেছি যে দিব্ব যে চ মানুসা, চরথ ভিক্খবে চারিকং বহুজন হিতায় বহুজন সুখায় লোকানুকম্পায, অথায হিতায সুখায দেবমনুস্সানং মা একেন দ্বে অগমিথ, দেসেথ ভিক্খবে ধন্মং আদিকল্যাণং, মন্ে কল্যাণং পরিযোসানকল্যাণং।' অর্থাৎ 'হে ভিক্ষুগণণ ! আমি দেব-মনুষ্য এবং সকল প্রকার সংযোজন হতে মুক্ত। ভিক্ষুগণ ! তোমরাও দেব-মনুষ্য এবং সকল প্রকার সংযোজন হতে মুক্ত হও ৷ হে ভিক্ষুগণ ! বহুজনের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য তোমরা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড় । দু'জন একত্রে গমন করবে না, প্রচার কর সেই ধর্ম যে ধর্মের আদিতে, মধ্যে এবং অস্তে কল্যাণ ।” বুদ্ধ এরূপ নির্দেশ প্রদান করে নিজে উরুবেলার সেনানী গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করলেন! -্্ ৮, ডা উরুবেলার পথে এক নিবিড় বন। সেই বনের মধ্যে বিশাল বৃক্ষের সুশীতল ছায়ায় বুদ্ধ মধ্যাহ্ন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন । এমন সময় একদল যুবক হৈঁচে করে তার নিকটে এসে জিজ্ঞাসা করল, “প্রভু! আপনি কি এ পথ দিয়ে কোনো শ্ত্রীলোককে যেতে দেখেছেন?” তখন বুদ্ধ বললেন, কুমারগণ! স্ত্রীলোকে তোমাদের কী প্রয়োজন? যুবকগণ জানাল, “এঁ স্ত্রীলোক নগর-নন্দিকা, আমাদের সংগে প্রমোদবিহারে এসেছিল। আমরা সকলে প্রমোদে মেতে উঠেছিলাম । এ সুযোগে নগর-নন্দিকা আমাদের মূল্যবান বষ্ছরাদি-জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে । আমরা এখন তার সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছি।' তথাগত এবার যুবকদের প্রশ্ন করলেন, | religion |
43 | ৪৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বাংলা অনুবাদ : ক্রোধ, মিথ্যাকথা এবং সন্দেহ - এরাও দু'পগ্রকার ধর্ম (আনন্দ ও অপ্রীতিকরতা) হতে উৎপন্ন হয়, সংশয়াভিভুত জ্ঞানমার্গে শিক্ষিত হবেন, জ্ঞান দ্বারাই শ্রমণ কর্তৃক ধর্মসমূহ ঘোষিত হয়েছে । ৮ । সাতং অসাতঞ্চ কুতোনিদানা, স কস্মিং অসস্তে ন ভবস্তি হেতে; বিভবং ভবঞ্চাপি যমেতমথং, এতং মে পৰুহি যতোনিদানা । বাংলা অনুবাদ : আনন্দ ও অপ্রীতিকরতার উৎপত্তির কারণ কোথায়, কোন বস্তর অভাব হলে এদের উৎপত্তি হয় না? ধ্বংস ও সৃষ্টি রূপ সংস্কার কোন কারণ হতে উৎপন্ন হয়, প্রকাশ করুন । ৯ ৷ ফলস্সনিদানং সাতং অসাতং, ফস্সে অসপ্তে ন ভবস্তি হেত; বিভবং ভবঞ্চাপি যমেতমথং, এতং মে পকত্রুহি কুতোনিদানং ৷ বাংলা অনুবাদ : স্পর্শের কারণ হতে আনন্দ ও অপ্রীতিকরতার সৃষ্টি হয়; স্পর্শের অভাব হলে তাদের সৃষ্টি হয় না; ধ্বংস ও সৃষ্টি রূপ সংস্কারও তা থেকেই উৎপন্ন হয় । ১০ । ফস্সো নু লোকস্মিং কুতোনিদানো, পরিষ্নহা চাপি কুতোপহুতা; কিস্মিং অসন্তে ন মমত্তং নথি, কম্মিং বিভূতে ন ফুসসন্তি ফস্্সা । বাংলা অনুবাদ : জগতে স্পর্শের উৎপত্তি কোথায়, আসক্তি কী কারণে উৎপন্ন হয়, কোন বস্তুর অভাবে মমত্বের অস্তিত্ব নাই, কীসের নাশ হলে স্পর্শসমূহ স্পর্শে বিরত হয়? ১১ । নামঞ্চ রূপঞ্চ পটিচ্চ ফস্সো, ইচ্ছা নিদানানি পরিগ্গহানি; ইচ্ছায সন্ত্য ন মমত্তং অথি, রূপে বিভূতে ন ফুসস্তি ফস্সা । বাংলা অনুবাদ : নাম রূপের কারণ হতে স্পর্শ সৃষ্টি হয়, ইচ্ছানিদানই আসক্তির উৎপত্তির কারণ: ইচ্ছা না থাকলে মমত্ববের অস্তিত্ব থাকে না, রূপের নাশ হলে স্পর্শ সমূহ স্পর্শ করতে পারে না। ১২ । কথং সমেতস্স বিভোতি রূপং, সুখং দুক্খঞ্চাপি কথং বিভোতি; এতং মে পক্রুহি যথা বিভোতি তং জানিযামাতি মে মনো অহু । বাংলা অনুবাদ : কী রকম অবস্থায় রূপের নাশ হয়, সুখ ও দুঃখের ধ্বংস কীসে হয়? এর ক্ষয় কী রূপে হয় তা প্রকাশ করুন, আমরা জেনে নেব, এই আমার মনস্কাম । ১৩ ৷ ন সঞ্ঞসঞ্এী ন বিসঞ্ঞসঞ্ঞাী, নোপি অসঞ্এঞ ন বিভূতসঞ্ঞী; এবং সমেতস্স বিভোতি রূপং, সঞ্ঞ্ানিদানা হি পপঞ্চসঙ্থা । ২০২৫ | religion |
44 | বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহীদের নিত্যকর্ম ও অনুশাসন ১৪৭ নিত্যপালনীয় ধর্মাচার : প্রতিটি বৌদ্ধ গৃহীর গৃহে নিত্যপালনীয় ধর্মাচারের জন্য একটি বুদ্ধাসন থাকে। সেখানে বুদ্ধের মূর্তি বা চিত্র থাকে৷ গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পারিবারিক বুদ্ধাসনের সামনে দিনে তিনবার নিয়মিত শ্রদ্ধার্থ নিবেদন করতে থাকে । খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ, হাত ও পা ধুয়ে পুষ্প, পানীয়, আহার ও সুগন্ধ ধূপসহ বুদ্ধকে পূজা করা হয়। দুপুর বারোটার পূর্বে অনুরূপভাবে আহার ও পানীয় দিয়ে বুদ্ধকে পূজা করা হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ, সুগন্ধ ধূপ ও পানীয় দিয়ে পুনরায় একইভাবে বুদ্ধের উপাসনা করা হয়। এ সময় নির্ধারিত গাথা আবৃত্তি করে ভক্তিসহকারে পূজাসাম্রী উৎসর্গ করতে হয়। এক্ূপ উপাসনা চিত্তকে পবিত্র ও শান্ত করে। অন্তর থেকে অন্ধকারকরূপী কলুষতা বিদূরীত করে সদ্ধর্মের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে। হী নীতিমালা অনুযায়ী একটি দিনলিপি প্রস্তুত কর। পাঠ: ৪ সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম বুদ্ধের সময় বৈশালী নামে একটি সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল৷ বৈশালীর অধিবাসী বজ্জি ও লিচ্ছবিরা বুদ্ধের অনুসারী ছিলেন। লিচ্ছবিরা বুদ্ধ ও সজ্ঘের বসবাসের জন্য সুরম্য কুটাগারশালা বিহার নির্মাণ করে দেয়। বুদ্ধ এ বিহারে পাঁচবার বর্ষাবাস পালন করেন। বৈশালীতে অবস্থানকালে বুদ্ধ একাধিক সূত্র ও অনুশাসন দেশনা করেন। তার মধ্যে গৃহীদের জন্য 'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম* অন্যতম। 'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম* অর্থ হচ্ছে সাতটি অপরিহার্য কর্তব্য। তথাগত বুদ্ধ বৈশালীর 'সারন্দদ চৈত্যে” অবস্থানকালে বজ্জিগণের উদ্দেশে এই অনুশাসনসমূহ দেশনা করেন। বজ্জিরা এ সাতটি অপরিহার্য উপদেশ অনুসরণ করে প্রাচীন আর্যাবর্তে নিজেদের অজেয় এবং উন্নত জাতিতে পরিণত করেছিলেন । যেকোনো জাতি বা সমাজ এ সাতটি অপরহোর্য ধর্ম বা অনুশাসন পালন করলে তাদের কখনো পরাজয় ঘটবে না৷ এ-সাতটি অপরিহার্য ধর্ম নিম্নরূপ : ১. সভাসমিতির মাধ্যমে সকলে একত্রিত হয়ে যে-কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ২. গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে সম্পাদন করা এবং কোনোরকম নতুন কিছু করার কারণ ঘটলে সবাই মিলিতভাবে করা । ৩. সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে কোনোরকম দুনীতি চালু না করা; প্রচলিত সুনীতি উচ্ছেদ না করা এবং প্রাচীন নীতি ও অনুশাসন মেনে চলা। 8৪. বয়োবৃদ্ধ বা জ্ঞানবৃদ্ধদের শ্রদ্ধা, সম্মান, গৌরব ও পূজা করা এবং তাদের আদেশ পালন করা। ৫. কুলবধূ এবং কুলকুমারীদের প্রতি কোনো রকম অন্যায় আচরণ না করা অর্থাৎ স্ত্রীজাতির মর্যাদা রক্ষা করা। ৬. পূর্বপুরুষদের নির্মিত বিহার, চৈত্য এবং প্রদত্ত সম্পত্তি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ও সমদ্ধর্মের প্রতিপালন করা। ৭. অর্হ€ৃৎ ও শীলবান ভিক্ষুদের প্রয়োজনীয় দান দিয়ে সেবা ও রক্ষা করা, তাদের সুখ ও সুবিধার ব্যবস্থা করা ও নিরাপদ অবস্থান সুনিশ্চিত করা। | religion |
45 | ২০২৫ গৌতম বুদ্ধের জীবন ও শিক্ষা ২১ নিচের কোনটি সঠিক? ক.্1 ও] গ.1ও111 শ্র মল এ ৭ খ.]া1ও 111 ঘ.1,11ও 111 কে হাসটিকে তীরবিদ্ধ করেন? খবি অসিতের ভবিষ্যদ্বাণী কী ছিল? ব্যাখ্যা কর। প্রদর্শিত তথ্য ছকটি কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? ব্যাখ্যা কর। তথ্য ছকে বর্ণিত মনীষী “ছয় বছরের তপস্যায় মধ্যমপথ অবলম্বনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভে সমর্থ হন”-এ বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি প্রদর্শন কর। শুভার্থী সমাজসেবী পরিবারের রূপবতী মেয়ে । তিনি যথাসময়ে শিক্ষা সমাপ্ত করেন৷ তাই শুভারথীরি পিতা তাঁকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন । শিক্ষিত, অশ্বচালনা ও সকল বিষয়ে পারদশীর এক যুবকের সাথে তার বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাদের সুখের সংসারজীবন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি বরং শুভাথীর স্বামী মনের বাসনা পূরণের জন্য বৈরাগ্য জীবনএহণের লক্ষ্যে চলে গেলেন এবং পরমজ্ঞান লাভে ব্রতী হন। ক, খ. রানি মহামায়া কোন পূর্ণিমায় স্বপ্ন দেখলেন? মহর্ষি কালদেবল রাজকুমারকে দেখে প্রথমে খুশি হয়ে পরে কেঁদে ফেললেন কেন ? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার তুলনা করা হয়েছে-ব্যাখ্যা কর। শুভাথীরি স্বামী তাঁর মনের বাসনা পূরণে গৌতমবুদ্ধকে কীভাবে অনুসরণ করেন, তা ধর্মীয় আলোকে বিশ্লেষণ কর। | religion |
46 | ২১০২৫ চরিতমালা ট অহিংসককে বিদ্যাশিক্ষার জন্য তক্ষশীলায় পাঠানো হলো । সে পাঠে অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে ওঠে । সে সময়ের রীতি অনুসারে আচার্যের সেবায়ও সে খুব দায়িত্বশীল ছিল । সে আচার্য ও তার পত্নীকে যত্ন সহকারে সেবা করত। অল্প সময়ের মধ্যে সে সকল শান্ত কৃতিত্বের পরিচয় দিল ৷ সমগ্র বিদ্যালয়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ল ৷ ব্রাহ্মণপত্নীও তাকে খুব আদর-যত্ন করতেন । কিন্তু অন্যান্য ছাত্রদের তা সহ্য হতো না । তারা ষড়যন্ত্র করে এবং মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে আচার্যের কান ভারী করে তুলল ৷ আচার্য ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চরম শাস্তি প্রদানে উদ্যত হলেন । আচার্য ভাবলেন, অহিংসক খুব শক্তিশালী ও মেধাবী । তাকে কৌশলে মেরে ফেলতে হবে ৷ একদিন ছুটি হলে কুমার অহিংসক নগরে যাচ্ছিল । এ সময় আচার্য তাকে ডেকে বললেন, দেখ, তোমার বিদ্যাশিক্ষা শেষ হয়েছে । আমাকে গুরুদক্ষিণা দিয়ে তোমার এখন নিজগৃহে যাওয়া উচিত । অহিংসক বলল, 'আচার্য! উত্তম কথা ' আপনাকে কিরূপ দক্ষিণা দেব? আচার্য বললেন, 'আমাকে দক্ষিণাস্বরূপ মানুষের ডান হাতের এক হাজার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিতে হবে ।' আচার্য ভেবেছিলেন নরহত্যা করলে লোকে তাকে মেরে ফেলবে । অহিংসক গুরুর আদেশ শিরোধার্য করে নিল! গুরুর ইচ্ছা পূরণে সে তৎপর হলো । অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে জালিনী বনে বাসস্থান তৈরি করল অহিংসক ৷ বনটি ছিল আটটি রাজ্যের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বহুলোক এই পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করত। এ বনে অবস্থান করে সে গুরুকে দক্ষিণা দেয়ার জন্য নরহত্যা শুরু করল । অহিংসক একেকটি নরহত্যা করে বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে মালা আকারে গেঁথে গলায় ধারণ করত ৷ সেজন্য সে অঙ্গুলিমাল নামে পরিচিতি লাভ করে ৷ এ সংবাদ ক্রমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল । অঙ্গুলিমালের নৃশংসতায় কোশল রাজ্যের জনগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হলো ৷ সকলের মনে দারুণ উৎকষ্ঠা । সবাই মরণভয়ে ভীত ৷ কোশলরাজ প্রসেনজিতের কাছে এ সংবাদ প্রেরণ করা হলো ৷ তিনি নরঘাতক দস্যুকে ধরার জন্য কিছু সৈন্য প্রেরণ করলেন ৷ পুত্রের প্রাণ রক্ষার জন্য পিতা কোনো চেষ্টাই করলেন না । কিন্তু মা মনস্তানী ছেলের এ বিপদে অস্থির হলেন । শেষে পাগলিনীর মতো ছুটে চললেন জালিনী বনের দিকে ৷ পথিকরা কত নিষেধ করল ৷ সেদিকে তার খেয়াল নেই । দস্যু হলেও নিজের পুত্র ৷ তার জীবন রক্ষা করতেই হবে । সে সময় ভগবান বুদ্ধ জেতবনে অবস্থান করছিলেন ৷ তিনি দিব্যজ্ঞানে অবগত হলেন যে, অঙ্গুলিমাল পূর্বজন্যের বহু সুকৃতির অধিকারী । এই মুহূর্তে ধর্মবাণী শ্রবণ করলেই তার জ্ঞানচক্ষু উৎপন্ন হবে৷ তখন বুদ্ধ অঙ্গুলিমালের পাশবিক শক্তিকে দমন করার জন্য মনস্থির করলেন । মাতৃহত্যা মহাপাপ । এ মুহূর্তে মাতৃহত্যা তার পূর্বজন্মের সুফলকে ম্লান করে দেবে ৷ তার জ্ঞানচক্ষু লাভ চিরতরে রুদ্ধ হবে । সে আজ নিজ মাতাকে হত্যা করে গুরুদক্ষিণা দেবে ৷ বুদ্ধ সে নারীর প্রাণরক্ষার্থে এবং অঙ্গুলিমালকে মাতৃহত্যাজনিত পাপ হতে রক্ষা করার জন্য ঘটনাস্থলে যাত্রা করলেন ৷ সে দিনটি ছিল অঙ্গুলিমালের নরহত্যার শেষ দিন ৷ সে নয়শ' নিরানব্বইটি মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলি সংগ্রহ করেছে । মাত্র আর একটি বাকি । একজন লোক হত্যা করতে পারলেই তার বাসনা পূর্ণ হবে ৷ অঙ্গুলিমাল তার মাতাকে দূর থেকে আসতে দেখল ৷ তখন অঙ্গুলিমালের মনে মাতা- পুত্রের সম্পর্কের লেশমাত্র প্রভাব নেই । অঙ্গুলি সংগ্রহই তার প্রধান লক্ষ্য । সে খড়গ তুলে তার মায়ের | religion |
47 | ৭২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা কর্ম দ্বারা সমাজে মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হয় জন্ম দিয়ে নয়। সুন্দরভাবে প্রতিদিন কর্ম সম্পাদন করলে জীবন সুখময় হয়। তবে সম্পাদিত কর্মের মধ্যে কুশল চেতনা থাকা দরকার। এভাবে কাজ করলে ভালো ফলাফল অবশ্যদ্ভাবী। সেজন্য বৌদ্ধধর্মে কর্মবাদের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ তার নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করতে পারে। কর্মই মানুষকে উচ্চ আসনে আসীন করে। কর্মের সুফল সবদিকেই প্রবাহিত হয়। কর্মই মানুষের চালিকাশক্তি ৷ মানুষ নিজেই নিজের কর্মফল বহন করে। পশ্চাতে ফেলে আসে না। বৌদ্ধ কর্মবাদ অনুসারে, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচারে লিপ্ত না হওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, মাদকদ্রব্য সেবন না করা, বৃথা বাক্য না বলা, কর্কশ বাক্য না বলা-এর বিধান রয়েছে। সুন্দরভাবে জীবিকা অবলম্বনের জন্য অন্যায় ও অসামাজিক সকল প্রকার কাজ করা উচিত নয়। কেননা, নিন্দিত বা খারাপ কাজ যারা করে তাদেরকে সমাজে সবাই অবজ্ঞা করে। ঘৃণার চোখে দেখে ৷ সুতরাং বুদ্ধের কর্মবাদ মনে রেখে কল্যাণময় কর্ম করা উচিত ৷ সুভ বা কুশলকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যে ফল অর্জিত হয় তা কখনো পুণ্যের পথ ধ্বংস করতে পারে না। এমন কর্মসম্পাদন করতে হবে যার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধি পায়। অনুশীলনী শূন্যস্থান পুরণ কর ১. মানুষ নিজ নিজ কর্ম অনুসারে ......... ভোগ করে । ২. ........ নানাত্ব হেতু সকল মানুষ সমান হয় না ৩. বৌদ্ধর্মে ... .. .. .. উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪. কর্মই প্রাণীকে নানাভাবে........... করে। ৫. বর্তমান জীবনের .. ভবিষ্যৎ জীবন গঠন হয়। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১. কর্মবাদ বলতে কী বুঝায়? ২. কর্মের অধীন কারা? ৩. কুশল কর্ম বলতে কী বুঝায়? ৪. অকুশল কর্ম বলতে কী বুঝায়? ৫. কর্মের ছার কয়টি ও কি কি? বর্ণনামূলক প্রশু ১. বৌদ্ধ কর্মবাদ সম্পর্কে একটি নাতিদীর্থ প্রবন্ধ রচনা কর । ২. কুশল এবং অকুশল কর্মের বর্ণনা দাও । ৩. চুল্মকর্ম বিভঙ্গ সূত্রের সারমর্ম ব্যাখ্যা কর। ২০২৫ | religion |
48 | ৯৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা পাঠ: ৩ পাহাড়পুর জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নওগাঁর বদলগাছী থানায় পাহাড়পুর অবস্থিত । পাল বংশের রাজারা এই অঞ্চল শাসন করতেন । এ অঞ্চলটি বৌদ্ধ সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল৷ পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এখানে একটি বৃহৎ বিহার নির্মাণ করেন । বিহারটির নাম 'সোমপুর মহাবিহার। এটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার। এই বিহারের জন্য পাহাড়পুরের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। নিচে সোমপুর মহাবিহারের পরিচয় তুলে ধরা হলো । | , || ॥ ॥ৰ 1॥॥| ॥ ঞ | || | | ৷ | ঠ ৪ 1 ১: নি ন। 111. ১ ক 14 ॥ সোমপুর মহাবিহার লামা সম্ে খননকার্যের ফলে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয় । বিহারটি বর্গাকৃতির ৷ প্রায় ২৭ একর জমিজুড়ে বিহারটি প্রতিষ্ঠিত ছিল ৷ এই বিহারের আয়তন উভ্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট । বিহারের চারদিক ইটের প্রকাণ্ড দেয়াল দিয়ে দ্েবরা । বিশাল বিহারটি দুর্গের মতো দেখায় । এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল । কক্ষগুলোতে কোনো জানালা ছিল না । তবে দেয়ালের মধ্যে কুলুঙ্গি ছিল । সব কটি কক্ষ একই মাপের (১৪ ১:১৩ ফুট) ৷ প্রতিটি কক্ষে একটি প্রবেশপথ রয়েছে । বিহারাজ্গানে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করিণী এবং অন্যান্য স্থাপনা ছড়িয়ে আছে। বিহারের কেন্দ্রস্থলে স্কুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির আছে ৷ প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এর ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত হয়েছে । ২০২৫ | religion |
49 | প্রথম অধ্যায় গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেম আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক। তার ধর্মের অনুসারীদের বৌদ্ধ বলা হয়। আমরা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। গৌতম বুদ্ধের বাল্য নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম । বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি গৌতম বুদ্ধ নামে খ্যাত হন । ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি ছিল তার অপরিসীম মমত্ববোধ ৷ ছোট-বড় সকল প্রাণীকে তিনি সমানভাবে ভালোবাসতেন । তার সেবায় ও আদরে অনেক প্রাণী সুস্থ হয়েছে এবং মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে ত্রিপিটকের গ্রন্থসমূহে গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেমের অনেক কাহিনি পাওয়া যায়। এ অধ্যায়ে আমরা গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেম সম্পর্কে পড়ব। এ অধ্যায় শেষে আমরা -_ * বুদ্ধের জীবপ্রেম ব্যাখ্যা করতে পারব। * গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেমের কাহিনি বর্ণনা করতে পারব। পাঠ: ১ গৌতম বুদ্ধের পরিচিতি খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৩ অন্দে সিদ্ধার্থ গৌতম কপিলাবস্তুর লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শুদ্ধোদন এবং মাতার নাম মহামায়া। তাঁরা শাক্য রাজের রাজা এবং রানি ছিলেন । সিদ্ধার্থের জন্মের সাত দিন পর মাতা রানি মহামায়া মৃত্যুবরণ করেন। তারপর সিদ্ধার্থের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন রানি মহাপ্রজাপতি গৌতমী। তিনি রানি মহামায়ার বোন ছিলেন। বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী কর্তৃক লালিত-পালিত হয়েছিলেন বলে সিদ্ধার্থের অপর নাম হয় গৌতম। শাক্যরাজ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে তিনি শাক্যসিংহ নামেও পরিচিত। সিদ্ধার্থের জন্মের খবর শুনে অনেক জ্যোতিষী রাজপ্রাসাদে আগমন করেন। তারা শিশু সিদ্ধার্থের মধ্যে বত্রিশটি সুলক্ষণ দেখতে পান এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “এই রাজকুমার গৃহে থাকলে রাজচক্রবর্তী রাজা হবেন, সন্ন্যাস জীবন ধারণ করলে মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হবেন। ' কিন্তু একমাত্র খষি অসিত বলেন, রাজকুমার মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হবেন। রানি মহাপ্রজাপতি গৌতমী এবং রাজা শুদ্ধোদনের অপরিসীম ম্েনহ-মমতায় সিদ্ধার্থ ক্রমে বড় হয়ে উঠতে থাকেন। রাজা রাজকুমারের শিক্ষার জন্য বহু শাস্ত্রবিদ পন্ডিত নিয়োগ করেন। তিনি এঁদের নিকট নানা লিপিবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেন। ক্রমে তিনি ঘোড়ায় চড়া, রথচালনা,অসি-চালনা, যুদ্ধকৌশল এবং অন্যান্য বিদ্যা শেখেন। রাজকুমারের বুদ্ধি, মেধা ও স্মৃতিশক্তি দেখে গুরু বিস্মিত হন। অল্প দিনের মধ্যে রাজকুমার সকল শাসত্র ও শিল্পকলায় পারদর্শিতা লাভ করেন। রাজকীয় পরিবেশে রাজকুমার ক্রমে কৈশোরে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু কিশোর বয়স থেকেই রাজকীয় ভোগ-বিলাসে তিনি উদাসীন ছিলেন। প্রায়ই তাকে একাকী নির্জনে ধ্যানমগ্র থাকতে দেখা যেত। রাজকুমারের বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা -৬ষ্ঠ, ফর্মা নং-১ | religion |
50 | ৬৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা 'আমি কারও অনিষ্ট কামনা করব না৷ কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেব না । কষ্ট প্রদানের কারণও হব না। নিজেও অনাচার, অত্যাচার করব না, এর কারণও হব না। পরের ধনে লোভ করব না। কারও লাভ-সংকারের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হব না, বরং সাধুবাদের সাথে তা অনুমোদন করব ৷ কোনো প্রকার মিথ্যা বিষয়ের পরিকল্পনা করব না। গৃহকর্ম বিষয়ে আলোচনায় রত হব না। গৃহীজনোচিত আচার-আচরণ থেকে মুত্ত থাকব। শুধু ধর্মশ্রববণ, ধর্মালোচনা ও ধর্মচিন্তা করে দিন অতিবাহিত করব ।' উপোসথের প্রকারভেদ অনুসরণ রীতি ও সময় অনুসারে উপোসথ পাচ প্রকার ৷ যথা : ১. প্রতিজাগর উপোসথ, ২. গোপালক উপোসথ, ৩. নির্রন্থ উপোসথ, ৪. আর্য উপোসথ এবং ৫. প্রতিহার্য উপোসথ । ১. প্রতিজাগর উপোসথ : সার্বক্ষণিক সজাগ থেকে অত্যন্ত , সচেতন ও যত্নের সঙ্গে অফ্টশীল পালন করার নাম প্রতিজাগর উপোসথ ৷ উপোসথে উপোসথিককে রাতে ঘুমের সময় ছাড়া অন্য সময় প্রতিটি নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে হয়৷ এরূপ শীল গ্রহণকারীগণ উপোসথের দিন ছাড়া অন্যান্য দিনেও উপোসথ পালন করেন । ২. গোপালক উপোসথ : যে উপোসথ গ্রহণকারী ধর্মচিন্তা বাদ দিয়ে খাদ্য, ভোজ্য, অভাব অনটন বিষয়ে চিন্তা করে তাকে গোপালক উপোসথ গ্রহণকারী বলে । গরু পরিচর্যাকারী রাখাল যেমন পরের গরু নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকে, তেমনি এরূপ উপোসথ গ্রহণকারীগণও করণীয় কর্ম না করে অসার ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ করে সময় নষ্ট করে। এটি অত্যন্ত নিমুস্তরের উপোসথ । ৩. নির্্রন্থ উপোসথ : নির্রল্থ অর্থ গ্রন্থহীন অথ্যাৎ নগ্ন । গৌতম বুদ্ধের সময় একরকম নগ্ন সন্ন্যাসী ছিলেন৷ তারা যে উপোসথ গ্রহণ করতেন তার নাম নির্্রন্থ উপোসথ ৷ তারা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতেন । প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকলেও নিজেদের প্রয়োজনে তারা প্রাণিহত্যা করতেন । এতে কোনো পাপ হয় না বলে তারা অভিমত পোষণ করতেন। এরূপ আসত্তচিত্তে উপোসথ পালনকে নির্্র্থ উপোসথ বলা হয়। ৪. আর্য উপোসথ : আর্য শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠ। এই উপোসথই শ্রেষ্ঠ উপোসথ। বুদ্ধ এই মহান উপোসথ ব্রতই প্রবর্তন করেছিলেন। বুদ্ধের শ্রাবকগণ এই উপোসথ পালন করতেন। আর্য উপোসথ গ্রহণকারীগণ উপোসথ গ্রহণ করে জাগতিক সুখ ভোগের চিন্তা ত্যাগ করেন। তারা বুদ্ধানুস্বৃতি, ধর্মানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি ও মৈত্রী ভাবনায় রত থেকে উপোসথবৃত পালন করেন৷ সকলের আর্য উপোসথ গ্রহণ ও পালন করা উচিত । অর্থাৎ অকৃত্রিমভাবে সশ্রদ্ধচিত্তে সকল নিয়ম অনুসরণ করে উপোসথ পালনই আর্য উপোসথ ৷ ৫. প্রতিহার্য উপোসথ : বছরের কিছু সময় নির্দিষ্ করে নিয়মিত উপোসথ পালনকে প্রতিহার্য উপোসথ বলে। এরুপ উপোসথ বিভিন্ন রকম হয়। ১. আষাট়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস প্রতিদিন উপোসথ পালন করাকে বলে উৎকৃষ্ট গ্রতিহার্য উপোসথ ৷ ২. আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত কিংবা ৩. আখ্বিনী পূর্ণিমা থেকে পরবর্তী পনের দিনব্যাপী প্রতিদিন উপোসথ পালন ২০২৫ | religion |
51 | ২০২৫ বৌদ্ধ কর্মবাদ ৬৩ ক. জনক কর্ম : যে কর্ম পুনর্জন্য ঘটায়, জীবিতকালে যে কর্ম স্কন্ধ ও কর্মজরূপ উৎপাদক এবং কুশল-অকুশল চেতনামূলক তাই জনক কর্ম ৷ জনক কর্ম অতীত কর্মেরই ফল । খ. উপস্তম্তক কর্ম : যে কর্ম জনক কর্মকে সাহায্য করে তাই উপত্তম্ভক কর্ম । উপস্তম্তক কর্ম জনক কর্মকে ফল প্রদানে সাহায্য করে। জনক কর্মের প্রভাবে জন্ম হয়, আর বেঁচে থাকা হয় উপস্তম্ভক কর্মের প্রভাবে । গ. উৎপীড়ক বা উপপীড়ক কর্ম : এই জাতীয় কর্ম জনক কর্ম বা উপস্তম্ভতক করের্র বিপাককে দুর্বল করে কিংবা বাধা দেয়। কুশল উৎপীড়ক কর্ম অকুশল উপস্তম্তক কর্মকে, অকুশল উৎপীড়ক কর্ম কুশল উপস্তম্তক কর্মকে বাধা দেয় এবং দুর্বল করে। ঘ.উপঘাতক কর্ম : এ ধরনের কর্মের কাজ হলো বাধা দেওয়া ৷ এ রকম কর্ম শুধু বাধা দেয় না, জনক কর্মকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে । ফল উৎপনন করাই হলো এর কাজ। অনুশীলনমূলক কাজ অস্গুত্তর নিকায়ে বুদ্ধ কী বলেছিলেন? করণীয় অনুসারে কর্ম কয় প্রকার ও কী কী ? পাঠ: ২ কর্মবাদের ধারণা 'কর্ম* ও 'বাদ'- দুটি অর্থবোধক শব্দের সমন্বয়ে 'কর্মবাদ' শব্দটি গঠিত হয়েছে৷ 'কর্ম' বলতে কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াকে বোঝায় ৷ 'বাদ' বলতে তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসকে বোঝায় সুতরাং কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝানো হয়। আয়ু-বর্ণে, ভোগ-এশ্বর্যে এবং জ্ঞান-গরিমায় মানুষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে৷ তার অন্যতম কারণ কর্ম । জীব মাত্রই নিজ নিজ কর্মের অধীন ৷ কর্মই প্রাণীগণকে হীন-উত্তম বা উচু-নিচু বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত করে। পৃথিবীতে সকল মানুষের আচার-আচরণ যেমন এক রকম নয় তেমনি আবার স্বভাব-চরিত্র একই রকৃম নয়। 'মিলিন্দ প্রশ্ন' নামক গ্রন্থে ভিক্ষু নাগসেন ও থ্রিক রাজ মিলিন্দের কথোপকথনে নাগসেন স্থবির বলেছিলেন - সকল মানুষ এক রকম না হওয়ার কারণ হলো তাদের কৃতকর্ম ৷ বিভিন্ন মানুষের কর্মফলে পার্থক্য আছে বলেই মানুষের মধ্যে নানারকম পার্থক্য লক্ষ করা যায়'। তিনি আরো বলেন -'সকল বৃক্ষের ফল সমান হয় না। কিছু টক, কিছু লবণাক্ত, কিছু মধুর রসযুক্ত ৷ এগুলো বীজের নানাত্ব কারণেই হয়'। এভাবে কর্মের নানাত্ব হেতু সকল মানুষ সমান হয় না। কারণ প্রাণী মাত্রই কর্মের অধীন ৷ এ রকম ভিন্নতার অন্যতম কারণ হলো কর্ম। কর্মই প্রাণীকে নানাভাবে বিভাজন করে। জীবের সুখ এবং দুঃখের দাতা কেউ নয়। এগুলো কর্মেরই প্রতিক্রিয়া ৷ বুদ্ধ সুত্তনিপাত নামক গ্রছ্টে বলেন- ন জচ্চা ব্রাহ্মণো হোতি, ন জচ্চা হোতি অব্রাহ্মণো কম্মুনা ব্রাহ্মণো হোতি কম্মূনা হোতি অব্বাহ্মণো ৷ | religion |
52 | ২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা আষাটঢী পূর্ণিমার উৎসব শেষ করে একদিন রানি মায়াদেবী ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ আকাশে পূর্ণিমার টাদ ছিল । চাদের আলোয় চারদিক উদ্ভাসিত । রানি এক অপূর্ব সুন্দর স্বপ্ন দেখলেন ৷ চারদিক থেকে চার দিকপাল দেবতা এসে রানিকে সোনার পালক্কে তুলে নিলেন । তারপর তাঁকে নিয়ে গেলেন হিমালয় পর্বতের মানস সরোবরে। ওখানে দেবতাদের মহিযীরা মায়াদেবীকে স্নান করিয়ে সুবাসিত দিব্যবস্তে ভূষিত করলেন। রানি আরও দেখলেন, তিনি সোনার পালকঙ্কে শুয়ে আছেন। পাশের স্বর্ণপর্বত থেকে এক শ্বেতহপ্তী নেমে এল, তার শুঁড়ে ছিল একটি শ্বেতপল্ন । শ্বেতহস্তীটি রানির পালঙ্কের চারপাশে তিনবার প্রদক্ষিণ করল ৷ এরপর রানির জঠরের দক্ষিণ দিকে শে্বতপদ্মটি প্রবেশ করিয়ে দিল। রানি অলৌকিক আনন্দে শিহরিত হলেন । পাত নি অ০১১১ ১৮০4১, 0 ॥ 4 ১ ৮ ৬ শা & তে 7; পরদিন ঘুম থেকে জেগে রানি তার স্বপ্নের কথা রাজা শুদ্ধোদনকে বললেন । রাজা সকল রাজ-জ্যোতিষীকে ডেকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন । তারা বললেন, "মহারাজ, সুসংবাদ আছে, আনন্দ করুন, রানি মায়াদেবীর পুত্রসন্তান হবে। শাক্যবংশে এক মহাপুরুষের আবির্ভাব হবে। কালে তিনি সর্বজীবের দুঃখহরণকারী মহাজ্ঞানী হবেন । আনন্দ করুন মহারাজ ৷” ২০২৫ | religion |
53 | ৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা শ্রামণ্যফলের অধিকারী হতে পারে।' তিনি আরো বলেন, 'নারীরা উচ্চতর শ্রামণ্যফল লাভের যোগ্য এবং ক্ষেমা, উৎপলবর্ণা, ধর্মদিন্না, ভদ্দকপিলানীর ন্যায় ভিক্ষুণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আমার প্রবর্তিত শাসনের মঙ্গল ব্যতীত অমঙ্গল হবে না বুদ্ধের এ বাণীতে ধর্ম ও বিদ্যা চর্চায় নারীরা পুরুষের সমকক্ষ তা স্বীকৃত হয়েছে । অনুশীলনমূলক কাজ উপালীর উপাধি কী ছিল? তিনি স্মৃতিতে কী ধারণ করে রাখতেন? কতিপয় বুদ্ধ শিষ্যের নাম লেখ যারা বিভিন্ন পেশা থেকে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে খ্যাতিমান হয়েছিলেন ৷ ভিক্ষুণী সজ্ঘ প্রতিষ্ঠার সময় বুদ্ধ আনন্দক্কে কী বলেছিলেন? পাঠ: ৩ বৌদ্ধ সাম্যনীতির সামাজিক প্রভাব সমাজজীবনে বুদ্ধের সাম্যনীতির অশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধের সময়কালে তথাকথিত নিমনবর্ণ হিসেবে সমাজে যারা অবহেলিত, নিগৃহীত, নিষ্পেষিত ও ঘৃণিত ছিল তারা বুদ্ধের সাম্যনীতির প্রভাবে আত্ম- মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা লাভ করেছিল ৷ বুদ্ধের সাম্যনীতি প্রমাণ করেছে যে. পেশাগত দক্ষতা ও মেধার মাধ্যমে সমাজে যে কেউ প্রতিষ্ঠা ও সুখ্যাতি লাভ করতে পারে ৷ এই সত্যটি উপলব্ধি করে সেদিন জন্মগত কারণে অবহেলিত মানুষগুলো করের্র মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়েছিল ৷ বুদ্ধের সাম্যনীতির ফলে ধর্ম ও বিদ্যা চর্চায় নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নারীদের মুক্ত চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হয় । বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটেও বুদ্ধের সাম্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে । বুদ্ধের সাম্যনীতি অনুশীলনের মাধ্যমে : ১। জাতিগত বিদ্বেষ দূর করে এঁক্য প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে । ২। সকলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যেতে পারে । ৩ । পরধর্ম ও পরমতের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের মনোভাব সৃষ্টি করা যেতে পারে । ৪ ৷ পেশা ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে । ৫ । নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে । ৬। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে । ৭ ৷ পরিবার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিরাজমান সকল বৈষম্য দূর করা যেতে পারে । ২০২৫ | religion |
54 | ৩০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ২। বিনয়ানন্দ শ্রমণ মানিকছড়ি ভাবনা কেন্দ্রে গিয়ে ধ্যান চর্চা করতে থাকেন । সেখানে তিনি শ্রামণ্যশীল পালন করে টীবর প্রত্যবেক্ষণ, পিন্ডপাত প্রত্যবেক্ষণ, শয্যাসন প্রত্যবেক্ষণ ও গিলান প্রত্যয় প্রত্যবেক্ষণ - এই চার প্রকার প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা করতে থাকেন । এতে তার চিত্ত সমাহিত হয় । শ্রমণ শব্দের অর্থ কী ? দুঃশীল ব্যক্তি কীরূপ ফল লাভ করে? বর্ণনা করো । বিনয়ানন্দ শ্রমণ কোন ভাবনা করেছেন পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। 'বিনয়ানন্দ শ্রমণ পালনীয় শীলের গুরুত্ব অত্যধিক' - এ বক্তব্যের সাথে তুমি কী একমত, যুক্তি দেখাও । মো । শূন্যস্থান পূরণ কর শীল কুশল ধর্মের . . . বা... ৷ শীল পালনে মনের . . . নির্বাপিত হয়ে শীতল হয় । প্রব্রজ্যা জীবন . . . ও . . , বাসনা মুক্ত । . . . ভাবনা দশশীল পালনকারী শ্রমণের অবশ্য করণীয় । তে কিসে ওত সতত উর প্রশ্ন শীলের অপর নাম কী এবং কেন? পিও-পাত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনার সময় কীরূপ চিন্তা বা ভাবনা করতে হয়? শীলের লক্ষ্য কী? দুঃশীল ব্যক্তির চরিত্র কেমন? উজ রক বর্ণনামূলক প্রশ্ন . দশশীল পালিতে লেখ । দশশীলের বাংলা অনুবাদ লেখ । দশশীলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। দুঃশীলতার কুফল বর্ণনা করো। দশশীল পালনকারীদের কি কি ভাবনা করতে হয় । ডি সেও এত ৮ ২০২৫ | religion |
55 | ২৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সকল প্রানীকে রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করে। দ্বিতীয়টি চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। চুরি একটি সামাজিক অপরাধও বটে। চুরি করলে সাজা এবং দণ্ড ভোগ করতে হয়। সুনাম নষ্ট হয়। পরিবারে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ করা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত। শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীর বই, খাতা, কলম, পেনসিল প্রভৃতি না বলে গ্রহণ করা অনুচিত । পঞ্চশীলের দ্বিতীয় শীলটি মানুষকে কেবল চুরি বা অদন্ত বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত রাখে না, অধিকন্তু সৎ উপায়ে নিজের পরিশ্রমে অর্জিত বস্তু বা অর্থের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতে শিক্ষা দেয়। লোভহীন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। তৃতীয় শীলটি কামাচার বা ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। এই শীলটি মানুষকে অনৈতিক আচার-আচরণ পরিহারপূর্বক নৈতিক জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক জীবন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়। চত্র্থ শীলটি মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। মিথ্যাবাদীকে সকলে ঘৃণা করে, অপছন্দ করে এবং বিশ্বাস করে না। যারা মিথ্যা কথা বলে, তারা সর্বত্র নিন্দিত হয়। এই শীলটি মানুষকে কর্কশ, অপ্রিয়, অশ্লীল, কটু, অসার কথা, পরনিন্দা এবং সত্য গোপন করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। ফলে কায়, বাক্য এবং মন পরিশুদ্ধ হয়। পঞ্চম শীলটি সুরা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের চিস্তাশস্তি নক্ট হয়ে যায়। বিবেক, বুদ্ধি এবং হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। স্বাস্থ্য, ধন-সম্পদ এবং সম্মান নষ্ট হয়। মাদক গ্রহণকারী নানা রকম পাপকর্মে লিপ্ত থেকে মানুষের ক্ষতি সাধন করে। এমনকি দুরারোগ্য অসুখে ভাক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারায়। মাদক গ্রহণকারীকে কেউ পছন্দ করে না। তারা ইহকালে যেমন কষ্ট পায়, তেমনি মৃত্যুর পর নরক যন্ত্রণা ভোগ করে। মাদকদ্রব্যের মতো ধূমপানও ম্বাস্থের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই সকলের মাদকদ্রব্য গ্রহণ এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা উচিত। অনুশীলনমুলক কাজ পঞ্চশীসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শীল ব্যাখ্যা করো । পাঠ: ৩ শীল পালনের প্রয়োজনীয়তা শীল হচ্ছে সমস্ত কুশল ধর্মের আদি। শীল রক্ষাকবচ। মানবজীবনে শীল অমূল্য সম্পদ। শীল পালন ব্যতীত নিজেকে কখনো নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। জীবনকে সুন্দর পথে পরিচালিত করা যায় না। নৈতিক জীবনযাপন করা যায় না। শীল পালন না করলে বিচার, বিবেচনা ও বুদ্ধি লোপ পায়। নিজের এবং অপরের মজ্গাল ও কল্যাণসাধনে শীলের মতো আর কিছুই নেই। শীল পালনের মাধ্যমে মন শান্ত হয়। মন শান্ত হলে সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। এই শীল মানুষকে মহান ও শ্রেষ্ঠ করে তোলে। শীল পালনের মাধ্যমে পরিবারে যেমন শান্তি-শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়, তেমনিভাবে পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সম্ভাবও সুদৃঢ় হয়। এর মাধ্যমে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। যা কুশল, সত্য এবং সুন্দর তা সবই শীলে রয়েছে। যারা নিজের জীবনকে মহৎ করে তুলেছেন, তাঁরা সবাই শীল পালন করেছেন। সুতরাং শীল পালনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম । অনুশীলনমূলক কাজ শীল মানবজীবনে কী পরিবর্তন সাধন করে? ২০২৫ | religion |
56 | ২০২৫ বুদ্ধ ও বোধিসত্ত ২৭ অনুশীলনমূলক কাজ তিন প্রকার বুদ্ধের মধ্যে গৌতম বুদ্ধ কোনটির অন্তর্গত? প্রত্যেকবুদ্ধের গুণাবলি বর্ণনা কর। কয়েকজন শ্রাবকবুদ্ধের নাম বল। পাঠ: ৪ ি নাক বোধিসন্ত্বের পরম গুণ হলো দশ পারমীর পূর্ণতা সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া । এটি বোধিসত্ত্বের অনুশীলনীয় মুখ্য বিষয় । এই পারমীসমূহ চর্চার ফলে বোধিসত্ত্রের জীবনাচরণে স্বাভাবিকভাবে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়, যা অন্য মানুষদের থেকে বোধিসত্ত্বকে অনন্য ও অসাধারণ করে তোলে ৷ এই অসাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহই হলো বোধিসন্ত্বের গণ । বোধিসম্তুগুণ হঠাৎ সৃষ্টি হয় না। গুণগুলো বোধিসত্ত্ব সাধনার ত্রমধারায় ধাপে ধাপে অর্জিত হয় ৷ যেমন, বোধিসত্ব্ব চেতনা সকলের অন্তরে বিরাজমান হলেও সকলেই বোধিসপ্ত্ব পদবাচ্য নয়! যিনি বুদ্ধত্বলাভে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পারমী পূর্ণতার সাধনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে বোধিসত্ব । পারমী পূর্ণতার অভিপ্রায়ে যে-চারিত্রিক গণাবলির অধিকারী হওয়া যায়, সেগুলোই হলো বোধিসন্ত্রের গণ । বোধিসত্তবৰ্বত অনুশীলন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া । জন্ম-জন্মান্তরে এটি অনুশীলন করতে হয়৷ বোধিসনত্তব জীবনলাভের জন্য কিছু গুণ অর্জন করতে হয়। এগুলো এক জন্মের সাধনায় অর্জন করা যায় না। এর জন্য জনা-জন্মান্তরের অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রয়োজন ৷ এরূপ নিরবচ্ছিনু কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমেই বোধিসত্ত্ব গুণের অধিকারী হতে হয়। বোধিসত্ত্ব গুণ নিমনরূপ : ১. সর্ব বিষয় অনিত্য -এ ধারণাকে বোধিসত্ত্ব জীবনাচারের সর্বোচ্চ সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। ২. তথাগত বুদ্ধের দর্শনকেই বোধিসন্ত্রা একমাত্র পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সর্বসত্তার কল্যাণকামী হন। ৩. স্বকৃত কর্মকেই জন্ম-জন্মান্তরের সঙ্গী হিসেবে বোধিসনত্ত্বরা গ্রহণ করেন । তাই নিঃস্বার্থ, নির্মোহ কর্ম অনুশীলনই বোধিসন্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ৷ ৪. বোধিসত্ত্বের একমাত্র লক্ষ্য বুদ্ধত্ব লাভ ৷ নাম, যশ, খ্যাতি নিয়ে তারা চিন্তা করেন না। ৫. বোধিসম্ত্গণ জীবন বিসর্জন দিতে পারেন, কিন্তু সত্যসাধনা হতে বিচ্যুত হন না। বোধিসন্ত্গণ সত্য, ন্যায় ও ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার অনুশীলনে বদ্ধপরিকর হন। ৭. বোধিসন্ত্বগণ সর্বদা সর্বসপ্তার কল্যাণ কামনা করেন। তাঁদের কাছে আপন-পর ভেদাভেদ নেই । ৮. বোধিসন্ত্ূগণ মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষার সর্বোত্তম অনুশীলনকারী হন। | religion |
57 | ২০২৫ সুত্র ও নীতিগাথা ৪৩ ৮। ইথিধুত্তো সুরধুত্তো, অক্খধুত্তো চ যো নরো, লদ্ধং লন্ধং বিনাসেতি, তং পরাভবতো মুখং । বাংলা অনুবাদ : যে ব্যক্তি পরস্তরীতে আসক্ত হয়ে এবং মাদক ও জুয়া খেলায় মত্ত হয়ে যা রোজগার করে তা ব্যয় করে তার পরাজয় ঘটে । ৯ ৷ অতীত যোব্বনো পোসো, আনেতি তিম্বক্বুখনিং, তস্সা ইস্সা ন সুপতি, তং পরাভবতো মুখং ৷ বাংলা অনুবাদ : যে বৃদ্ধ তরুণী কন্যা বিবাহ করে এনে, ঈর্ষায় বিনিদ্রা রজনী যাপন করে পরাজয়ের কারণ হয় । ১০ । ইথি সোষ্তীং বিকিরণিং, পুরিসং বাপি তাদিসং, ইসসরিযস্মিং ঠপেত্্, তং পরাভবতো মুখং । বাংলা অনুবাদ : মাদকসেবনকারী, অনর্থক অর্থ ব্যয়কারী স্ত্রী বা পুরুষকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিযুক্ত করলে তা পরাজয়ের কারণ হয় । ১১ ৷ অপ্পভোগো মহাতণ্হো, খত্তিযে জাযতে কুলে, সো চ রঙ্জং পথযতি, তং পরাভবতো মুখং ৷ বাংলা অনুবাদ : যে ক্ষত্রিয় কুলে জন্ম নিয়েও দরিদ্র ও হীনবল অথচ তার আকাঙ্ক্ষা খুব বেশি এবং এই আকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে সে রাজ্য পাওয়ার ইচ্ছা করে তার পরাজয় ঘটে থাকে । ১২ । এতে পরাভবে লোকে, পঞণ্তিতো সমবেক্খিয, অরিযদস্সন সম্পন্নো, সলোকং ভজতে সিবস্তি ৷ বাংলা অনুবাদ: পরাজয়ের এসব কারণ বুঝে যিনি এঁ সকল কর্ম বর্জন করে কুশল কাজসমূহ সম্পাদন করেন তার কখনো পরাজয় হয় না । | religion |
58 | ৩৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন ১. দাতাকী? ২. কীকী বস্তু সম্পদ দান করা যায়? ৩. কোন ধরনের দাতাকে দানদাস বলা হয়? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. দানপতির বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করো। ২. দানের সুফলসমূহ বর্ণনা করো। ৩. শীলবান ব্যক্তি উত্তম দানের পাত্র - ব্যাখ্যা করো। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১. বৌদ্ধধর্মে অন্যতম কুশলকর্ম কোনটি? ক. মেত্রী খ. শীল গ. দান ঘ্ব, ধ্যান ২. বৌদ্ধধর্মে দাতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে 1. উপযুক্ত পাত্রে দান করা 11. কৃপণতা পরিহার করা 111. সময় বিবেচনা করা নিচের কোনটি সঠিক? ক 1 খে 1ও11 গ. 1]1ও]111 ছঘ. 1,11ও111 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও 8 নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও : অজয় মারমা একজন সৎ স্কুদ্র ব্যবসায়ী ৷ তার ইচ্ছা হলো স্বর্গীয় মায়ের জন্য দান করা ৷ এ উদ্দেশ্যে তিনি ভিক্ষু সঙ্ঘকে নিমস্ত্রণ করলেন । তাই পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ দানীয় বস্তু ক্রয়ের জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করলেন । ৩. অজয় মারমার দানটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিতে কী বলা যায়? ক. পুদগলিক দান খ. সঙ্ঘদান গ. অফ্টপরিষ্কার দান ঘ. কঠিন চীবরদান ২০২৫ | religion |
59 | ৯২ অনুশীলনমূলক কাজ পদ্মরক্ষক তৃতীয় শ্রেষ্ঠীপুত্রকে পদ্ম দিয়েছিলেন কেন? জাতকের গল্পটি পাঠ করে কী শিক্ষা পেলে? বর্ণনা কর। পাঠ: ৬ লটুকিক জাতক পুরাকালে বোধিসতু হস্তীকূলে জন্মগ্রহণ করে আশি হাজার হাতির অধিপতি হয়েছিলেন । সে সময় এক লটুকিক পাখি হাতিদের বিচরণের স্থানে ডিম পেড়েছিল । সেই ডিম ফুটে একসময় ছানা বের হলো । ছানাগুলোর তখনও পাখা গজায়নি, সেজন্য তারা উড়তে পারত না। এমন সময় বোধিসত্ত দলবলসহ সেই পথে এসে উপস্থিত হলেন ৷ তখন মা লটুকিক পাখি তার ছানাদের জীবন বীচাবার চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ল। সে ভাবল, হাতির পায়ের তলে পড়ে এই বুঝি তার ছানাদের প্রাণ যায়। কাজেই সে তার ছানাদের প্রাণ বাচাবার জন্য হস্তীরূপী বোধিসত্পের সামনে গিয়ে দাড়াল । সে তার পাখা দুটি জোড় করে তার ছানাদের প্রাণরক্ষার জন্য বোধিসত্তের কাছে মিনতি জানাল । বলল, হে হস্তীরাজ, আপনার বয়স ষাট বছর, আপনি যশস্বী, পর্বতের ওপরের সমতল ভূমিতে বিচরণ করেন। আমার দুটি পাখা জোড় করে আপনাকে বন্দনা করছি। আমার দুর্বল ছানাগুলোকে মারবেন না৷ বোধিসত বললেন, “হে লটুকিক পাখির মা ! তুমি ভয় পেও না। আমি তোমার ছানাদের রক্ষা করব' - এই বলে তিনি ছানাগুলোকে পায়ের ফাকে আগলে রাখলেন ৷ একে একে আশি হাজার হাতি চলে গেলে তিনি সরে দাড়ালেন। তারপর সেখান থেকে যাওয়ার সময় লটুকিক পাখির মাকে বললেন, আমাদের পিছনে একটি দলছাড়া হাতি আছে। সে একা ৷ সে আমাদের কথা শোনে না, আমার আদেশও মানে না। কাজেই তুমি তার কাছে তোমার বাচ্চাদের বাচাবার জন্য প্রার্থনা করো। লটুকিক পাখি বোধিসত্তকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় জানাল ৷ তারপর সেই দলছুট হাতিটি এলো ৷ মা লটুকিক পাখি দুটি পাখা জোড় করে তার বাচ্চাদের জীবন রক্ষা করার জন্য বিনীত প্রার্থনা জানাল । বলল, হে একাচারী অরণ্যবাসী, যশস্থী হস্তীরাজ, আপনার বয়স ষাট বছর, পর্বতের ওপরে সমতল ভূমিতে আপনি বিচরণ করেন। আমার দুটি পাখা জোড় করে আপনাকে বন্দনা জানাচ্ছি। আমার দুর্বল ছানাগুলোকে আপনি মারবেন না। তখন সেই একাচারী হাতি বলল, লটুকিক পাখি, আমি তোমার বাচ্চাগুলো পায়ে পিষে মারব ৷ তুমি দুর্বল, তুমি আমার কী করতে পারবে? তোমার মতো শত শত লটুকিক পাখিকে আমার এই বাঁ পা দিয়ে শেষ করে দিতে পারি -এই বলে সে বাচ্চাগুলোকে পায়ে দলে পিষে চিৎকার করতে করতে চলে গেল। ১০২৫ | religion |
60 | অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১। অহিংসক কোথায় বিদ্যাশিক্ষা লাভ করেন? ক. বিক্রমশীলায় খ. অনুরাধাপুরে গ. নালন্দায় ঘ. তক্ষশীলায় ২। পুণ্যশীলা মন্লিকাদেবীর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় দিক - 1. ব্রিরত্নের সেবায় নিয়োজিত থাকা 1. ক্ষমাশীলতা অনুসরণ করা 111. বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া নিচের কোনটি সঠিক ? ক. 1ও11 খ. 11ও11 গ. 1ও111 ১ 10:51 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও পুণ্যবতী স্বরূপা বড়ুয়া পরিণত বরসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । তিনি প্রতিদিন সকালে বিহারের ভিক্ষুদেরকে প্রাতঃরাশ দান করতেন এবং সেবা শুশ্যার জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করতেন ৷ একদিন ভিক্ষুদের একাগ্রচিত্তে দান দেয়ার সময় পরিবারের দুঃসংবাদ শুনেও নিজ কর্তব্য সম্পাদন করেন । ৩। অনুচ্ছেদে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে কোন থেরীর ইঙ্গিত বহন করে ? ক. মল্লিকাদেবীর খ. মহাপ্রজাপতি গৌতমীর গ. ক্ষেমার ঘ. উৎপলবর্ণার ৪ ৷ উক্ত থেরীর কর্ম অনুসরণের মাধ্যমে পরকালে পুণ্যবতী স্বরূপা বড়ুয়া কী লাভ করতে পারেন ? ক. স্বর্গলোক খ. দেবলোক গ. ব্রহ্নলোক ঘ. মনুষ্যলোক ২০২৩ | religion |
61 | দান ৩৩ পাঠ: ২ দানীয় বস্তু ছোট-বড় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৌদ্ধরা দান করে থাকেন। এসব অনুষ্ঠান একক বা যৌথভাবে পালন করা যায়। তবে পরিকল্পিত অনুষ্ঠান ছাড়াও দান করা যায়। যা দান করা হয়,তাকে বলা হয় দানীয় বস্তু । কী কী দান করা যায় এ বিষয়ে পালি গাথায় দশ রকমের বস্তুর বর্ণনা আছে। যেমন : অনু্নং পানং বখথুং যানং মালাগন্ধ বিলেপনং সেয্যা বসথ পদীপেষ্যং দানবথু ইসে দসা । বাংলা অনুবাদ : অনু,জল, ক্র, যানবাহন, মালা বা পুষ্প, সুগল্ধ বা সুরভি , বিলেপন বা শরীর পরিষ্কার করার জিনিস, গৃহ, শয্যাসামগ্রী, প্রদীপ ইত্যাদি উত্তম দানীয় বস্তু। এছাড়া বুদ্ধের জীবনী, জাতক ও নীতিগাথায় দানের কাহিনি বর্ণিত আছে, যা থেকে আমরা দানীয় বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। “বেস্সান্তর' জাতকে উল্লেখ আছে যে, রাজা বেস্সান্তর নিজের রাজ্য, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সব দান করে অবশেষে নিজেকেও দান করেছিলেন। এভাবেই তিনি দান পারমী পূর্ণ করেন। শিবি জাতকে শরীর ও চক্ষু দানের উল্লেখ আছে। দাসী পুর্ণা নিজের খাদ্য পোড়া রুটিখানা শ্রদ্ধাভরে এক শ্রমণকে দান করেছিলেন । “কুনাল' জাতকে পঞ্চপাপা এক শ্রমণকে একতাল মাটিও দান করেছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থাৎ শ্রদ্ধাপূর্ণ চিত্তে অন্যের উপকার হয়, এরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দান করা যায়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভিক্ষুসঙ্ঘকে প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ দান করা হয়। বিপদে, দুর্যোগে বিপনন ও দুস্থ মানুষকে এমনকি অন্যান্য প্রাণীকেও প্রয়োজনীয় বস্তু দান করা যায়। ওঁযধসহ সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং শরীরের অজঙ্গ-প্রত্যজ্ঞাও দানীয় বস্তু হতে পারে। তবে দানীয় বস্তু সৎভাবে উপার্জিত হতে হবে। পূর্ববর্তী পাঠে জেনেছি অর্জিত পুণ্যরাশিও বৌদ্ধরা দান করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশনা করার সময় উপাসক ও উপাসিকাদের পুণ্য দান করেন। বৌদ্ধ নর-নারীগণ অর্জিত পুণ্যরাশি জীবিত, মৃত আত্মীয়-অনাত্তরীয়, বন্ধু, জানা-অজানা জ্ঞাতিবর্গ, দেবতা ও প্রেতগণ এমনকি শত্রুর উদ্দেশ্যেও দান করেন। বৌদ্ধরা সকল প্রাণির প্রতি 'সব্বে সত্তা সুখীতা ভবসন্ধু' বলে মেত্রী দান করেন। আমরা জানি বিদ্যা অমূল্য 'ধন,বিদ্যা দান করলে তা আরও বাড়ে । বিদ্যার মতো পুণ্যফলও দান করলে ক্ষয় হয় না, আরও বৃদ্ধি পায়। অনুশীলনমূলক কাজ কী কী দান করা যায় তার একটি তালিকা প্রস্তুত করো (দলীয় কাজ) ৷ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা -৬ষ্ঠ, ফর্মা নং-৫ | religion |
62 | জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ৬৯-৭০, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ কর্তৃক প্রকাশিত [প্রকাশক কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত ] প্রথম সংস্করণ রচনা ও সম্পাদনা অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া গীতাঞ্জলি বড়ুয়া ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া উত্তরা চৌধুরী প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০১২ পরিমার্জিত সং : সেপ্টেম্বর ২০১৪ পরিমার্জিত সংস্করণ : অক্টোবর ২০২৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য | religion |
63 | ২০২৫ পাঠ: ৩ নির্বাণ সাধনার প্রয়োজনীয়তা লোভ, দ্বেষ, কামনা, বাসনার কারণে সৃষ্ট অকুশল কর্ম থেকে বিরত হয়ে কুশল কর্মের মাধ্যমে শান্তিময় জগৎ নিমাণি এবং জন্ম-মৃত্যু, জরা-ব্যাধির শৃঙ্খলে আবদ্ধ দুঃখময় জীবনপ্রবাহ থেকে মুক্তিলাভের জন্যে নির্বণে সাধনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । জগৎ দুঃখময় ৷ তৃষ্ণা থেকে দুঃখের উৎপত্তি । তৃষ্ণার কারণ অবিদ্যা। অবিদ্যার কারণে মানুষ অকুশল চেতনার বশবতী হয়ে বিভিন্ন প্রকার অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে অজ্ঞানী মানুষ নিজের ক্ষতি যেমন করে, অন্যদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে । ফলে সংসার ও জগতে শান্তি বিস্নিত হয়। নির্বাণ সাধনায় রত ব্যক্তিকে সবসময় কুশল কর্ম করতে হয়। চারি আর্ধনত্য সম্যকভাবে উপলব্ধি করে দুঃখের কারণ তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরগ করতে হয়৷ অক্লান্ত সাধনায় লোভ-দ্বেষ-মোহহীন হয়ে অবিদ্যা দূর করতে হয়৷ অবিচ্ছিনন নিরব্বণি সাধনায় তিনি নির্ভয় ও কল্যাণকামী হন। ফলে তিনি নিজের ও সকলের কল্যাণ সাধন করেন এবং জগৎ-সংসারের সর্ব প্রকার মঙ্গলের কারণ হন। অপরের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা, অহংকার ইত্যাদি ত্যাগ করেন৷ আত্মসংযম অনুশীলন করেন। সকলের প্রতি মৈত্রীভাবাপনু হন। নির্বাণ সাধনা এভাবেই নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই সকলের নির্বাণসাধনা করা উচিত । স্বল্প সময় বা স্বল্প চেষ্টায় নির্বাণলাভ সম্ভব নয়। এজন্য কঠোর অনুশীলন করতে হয়। 'নির্বাণ' বুঝতে এবং বোঝাতে কষ্টকর হলেও মানুষের পক্ষেই নির্বাণলাভ সম্ভব৷ বুদ্ধ বলেছেন, মানবজন্ম দুর্লভ। কারণ মানুষের বিবেক আছে। মানুষ ভাল মন্দ বিচার করতে পারে। কুশলকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে মানবজন্ম লাভ করতে পারে৷ দেবতারা শুধু সুখ ভোগ করে। প্রেতরা শুধু দুঃখ ভোগ করে । পশু-পাখিরা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত ৷ একমাত্র মানুষই এ-জগতে দুঃখ এবং সুখ উভয় প্রকার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। জগতে মানুষের পক্ষে কুশল কাজ করা সম্ভব। মানুষ অপেক্ষা ইতর প্রাণীর জীবনধারণ কষ্টকর ও অনিশ্চিত, অকুশল কর্ম করলে ইতর প্রাণীরূপে জন্ম নিতে হবে। নির্বাণ লাভের ইচ্ছা ও চেতনা মনে জাগ্রত করে কুশলকর্ম সম্পাদন করলে ইতর কুলে জন্মের সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। এজন্য 'নির্বাণ' সাধনা করা উচিত ৷ নির্বাণ বৌদ্ধদের জন্য পরম আকাঙ্ক্ষিত । পরম সুখ নির্বাণ লাভের জন্য জন্ম-জন্মান্তর ব্যাপী কুশল কর্ম করে পুণ্যফল অর্জন করতে হয়। চারি আর্যসত্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানপ্রাপ্ত হতে হয়। অনুসরণ করতে হয় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ৷ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করলে নির্বাণের পথে প্রবেশ সম্ভব। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ মানুষকে সৎ পথে চলতে নির্দেশনা দেয়। বলা হয়েছে বৌদ্ধ ধর্ম জ্ঞানের ধর্ম, জ্ঞানীর ধর্ম, কাজেই জ্ঞানী ব্যক্তিই প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করেন যে জগৎ দুঃখময় ৷ তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ । তৃষ্ণার ফলেই বার বার জন্মগ্রহণ করতে হয়৷ জন্ম নিলেই জরা, ব্যাধি, প্রিয়বিচ্ছেদ, অপ্রিয় সংযোগ, মৃত্যু ইত্যাদি বিবিধ প্রকার দুঃখ ভোগ করতে হয়। তৃষ্ণা থেকে মুক্তি লাভ করা সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত৷ এজন্যই জ্ঞানী ব্যক্তির নির্বাণ সাধনা করা প্রয়োজন ৷ | religion |
64 | ২০২৫ অট্ঠকথা লী লী &॥৷ পর অমল ৮৭ গুরুত্ব বিচারে অট্ঠকথাকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়? অট্ঠকথা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। *?' চিহ্নিত স্থানে পাঠ্য বইয়ের অট্ঠকথাচার্য কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ? ব্যাখ্যা কর। “উক্ত আচার্য বৌদ্ধ ধর্মের সাহিত্যকর্মে অশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হন” - তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ কর। চাকমা একজন গ্রন্থপ্রণেতা ৷ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনে তিনি অনেক সুনাম অর্জন করেন। তার সাহিত্যকর্মের অবদান অনস্বীকার্য । কিন্তু সংসারধর্ম পালনে উদাসীন হওয়ায় তিনি গভীর সাধনা করে প্রবৃজ্যা জীবন গ্রহণ করেন । ক. 1 গ. কমঙ্খাবিতরণী গ্রন্থটি কে রচনা করেন? বৌদ্ধধর্মে অট্ঠকথার গুরুত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। অমল চাকমার সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কার কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ব্যাখ্যা কর। উক্ত আচার্যের প্রব্রজ্যা লাভের কাহিনিটি ধর্মীয় আলোকে মূল্যায়ন কর। | religion |
65 | ২০২৫ বৌদ্ধধর্মে রাজন্যবর্গের অবদান : সম্রাট কণিক্ক ১৩১ ১. সম্রাট কণিঙ্ক কীভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন? ২. সম্রাট কণিঙ্ক কী রকম মুদ্রার প্রচলন করেছিলেন? ৩. 'কণিক্ক বিহার' কোথায়? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. কুষাণ বংশের পরিচয় দাও । ২. সম্রাট কণিক্ষের খ্যাতি লাভের কারণসমূহ বর্ণনা করো । ৩. কুষাণ শিল্প কীভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বর্ণনা দাও । ৪. সম্রাট কণিঙ্ক কেন ও কীভাবে সঙ্গীতি অধিবেশনের আয়োজন করেছিলেন লেখ । সমাপ্ত | religion |
66 | | লা চরিতমালা ১২৩ অপরদিকে, মোগ্গলী ব্রাহ্মনীর পুত্র ছিলেন বলে মৌদ্গল্যায়নকে মোগ্গলীপুত্র বলা হতো। তিনি সারিপুত্রের জন্মদিনে রাজগৃহের কোলিত নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন সে খামের প্রধান ব্যক্তিত্ব । সম্ভবত তার বংশের নামে গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছিল৷ গ্রামের এঁতিহ্যসম্পনন কুল বা বংশের পুত্র ছিলেন বলে তাঁকে কোলিত নামেও ডাকা হতো । সারিপুত্রের পরিবারের সঙ্গে মৌদগল্যায়নের পরিবারের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল । ফলে তারা দুজনেই ছেলেবেলা থেকে পরম বন্ধু ছিলেন৷ দুজনে বাস করতেন পাশাপাশি দুটি গ্রামে ৷ তারা প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী ছিলেন। একদিন দুই বন্ধু একত্রে একটি নাটক দেখতে যান। নাটক দেখে তাদের মনে বৈরাগ্য ভাব জাগ্রত হয়। তারা সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সংসার ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । অতঃপর গৃহত্যাগ করে তারা সঞ্জয় বেলট্ঠপুত্রের শিষ্যত্ব বরণ করেন। সঞ্জয় বেলট্ঠপুত্র ছিলেন একজন পরিব্রাজক ব্রাহ্মণ ৷ অল্প দিনের মধ্যে তারা গরুর কাছ থেকে সব বিদ্যা শিখে নেন। তাঁরা গুরুকে জিজ্ঞেস করেন, আচার্য, এতে তো পরম মুক্তির কোনো সন্ধান নেই । আমরা এমন কিছু লাভ করতে চাই, যা লাভ করলে বারবার জন্ম দুঃখ, ব্যাধি দুঃখ, মৃত্যু দুঃখ প্রভৃতি ভোগ করতে হবে না। গুরু সঞ্জয় বেলট্ঠপুত্র এ-প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব থাকেন। তিনি ছিলেন মূলত "বিক্ষেপবাদী” বা 'সংশয়বাদী'। এ মতবাদীরা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না, সর্বদা ইতস্তত অবস্থায় থাকেন । অতঃপর, সারিপুত্র ও মৌদ্গল্যায়ন সমগ্র ভম্মুদধীপ পরিভ্রমণ করে বিভিন্ন পণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে থাকেন। কিন্তু কারো নিকট সন্তোষজনক উত্তর ও মুক্তি পথের দিশা খোঁজে পান না। তারপর তাঁরা দুজন দুই পথে যাবার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রত্যাশিত পথপ্রদর্শক গুরুর সন্ধান পেলে একে অপরকে জানাবেন- এরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দুজন দুই দিকে যাত্রা করেন। যাত্রার কিছুদিন পর সারিপুত্র রাজগৃহে বিচরণ করছিলেন । সেখানে একদিন বুদ্ধের শিষ্য অশ্বজিৎ ভিক্ষানন সংগ্রহ করছিলেন ৷ এমন সময় অশ্বজিৎ-এর সঙ্গে সারিপুত্রের দেখা হয়। অশ্বজিৎ-এর সৌম্য চেহারা দেখে সারিপুত্র মুগ্ধ হন । তিনি অশ্বজিৎকে জিজ্ঞেস করেন, ভন্তে, আপনি কার শিষ্য? আপনার শান্তা কে? তিনি কোন বাদী? অশ্বজিৎ বলেন, শাক্যবংশীয় মহাশ্রমণ গৌতম সম্যকসম্বদদ্ধ আমার গুরু ৷ সারিপুত্র তখন বুদ্ধের ধর্মমত জানতে চান । তখন অশ্বভিৎ তাঁকে বুদ্ধভাবষিত একটি গাথা বলেন। গাথাটির মর্মবাণী হলো : পৃথিবীর সকল কিছুর উৎপত্তির সাথে কারণ নিহিত থাকে৷ কারণ ছাড়া কোনো কিছুই উৎপনু হয় না। বুদ্ধ বলেছেন, সেই কারণেরও নিরোধ আছে। পরম নির্বাণ লাভের মাধ্যমেই এই শাস্তি অর্ধিত হয়। এটিই বুদ্ধের মতবাদ ৷ অতএব বুদ্ধ নির্বাণবাদী ৷ গাথাটি শ্রবণ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। অতঃপর সারিপুত্র গিয়ে মৌদ্গল্যায়নকে বিষয়টি জ্ঞাত করেন। সারিপুত্রের কাছে মৌদ্গল্যায়ন গাথাটি শ্রবণ করে স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন। অতঃপর তারা বুদ্ধের কাছে যাওয়ার জন্য মন স্থির করেন৷ সারিপুত্র কৃতজ্ঞতাস্বরূপ গুরু সঞ্জয় বেলট্ঠপুত্রকেও বুদ্ধের কাছে নিয়ে যেতে ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু অনেক অনুনয় করার পরও তিনি বুদ্ধের কাছে যেতে রাজি হলেন না। তখন সারিপুত্র ও মৌদ্গল্যায়ন সঞ্জয় বেলট্ঠপুত্রের পাচশত শিষ্যসহ বুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এতে সপ্তায় বেলট্ঠপুত্র অত্যন্ত দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ হলেন! সে-সময় বুদ্ধ সারনাথে 'ধর্মচক্রু প্রবর্তন সূত্র' দেশনা করে রাজগৃহের বেণুবন আরামে সশিষ্য বসবাস করছিলেন। | religion |
67 | ২০২৫ ফা ও ন্যায়সম্মত ভাবে অর্জিত া হয়েছে কিনা তা সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও ১. দানের ক্ষেত্রে কি কি বিবেচনা করতে হয়? ২. 'কালদান' কী? ৩. দানশীল ব্যক্তি সমাজে কীভাবে মূল্যায়িত হয়? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. দানের ধর্মীয় গুরুত্ব আলোচনা করো। ২. তিন প্রকার দানের বর্ণনা দাও । ৩. দানের উপযুক্ত পাত্র কে? আলোচনা করো । ৩৯ | religion |
68 | ২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীনতা দেখে রাজা শুদ্ধোদন চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং জ্যোতিযীদের ভবিষ্যদ্বাণী মরণ করে অস্বস্তিতে দিনাতিপাত করতে থাকেন। ক্রমে রাজকুমার সিদ্ধার্থ যৌবনে পদার্গণ করেন। কিন্তু রাজা লক্ষ্য করলেন, যতই দিন যাচ্ছে কুমার ততই উদাসীন হয়ে যাচ্ছেন। তিনি রাজকুমারকে ভোগ-বিলাসে নিমজ্জিত রাখার জন্য সকল প্রকার আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু কোনো কিছুই .বাজকুমারকে আকৃষ্ট করতে পারল না। অবশেষে রাজা অমাত্যদের (মন্ত্রী) সঙ্গে পরামর্শ করেন। অমাত্যগণ রাজকুমারকে সংসারমুখী করার জন্য বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। সপ্তাহব্যাপী জাকজমকপূর্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে যশোধরার সঙ্গে সিদ্ধার্থ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যশোধরা গোপাদেবী নামেও পরিচিত ছিলেন। বাল্যকাল হতে সিদ্ধার্থের মনে যে বৈরাগ্যের সঞ্চার হয়, যৌবনে এসে তা আরো বৃদ্ধি পায়। রাজ-অন্তঃপুরের ভোগ- বিলাসের মধ্যেও সিদ্ধার্থের মনে শাস্তি ছিল না। একদা তার নগরভ্রমণের বাসনা হলো। রাজা ঘোষণা করে দিলেন, রাজকুমার নগরভ্রমণে যাবেন, পথ-ঘাট সব যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়। নির্দেশ দিলেন, কোনো অসুন্দর দৃশ্য যেন রাজকুমারের দৃষ্টির মধ্যে না পড়ে। রাজার আদেশে রাজপথ পরিচ্ছন্ন ও সজ্জিত করা হলো। রাজকুমার নগর ভ্রমণে বের হলেন। সাজসজ্জা দেখে রাজকুমারের প্রথম মনে হলো জগতে দুঃখ, বেদনা, হতাশা নেই। কিছুদূর যাওয়ার পর রাজকুমার দেখলেন, এক জরাজীর্ণ দুর্বল বৃদ্ধ বকুদেহে লাঠিতে ভর দিয়ে অতিকম্টে পথ চলছে। সিদ্ধার্থ রথচালক ছন্দককে জিজ্ঞাসা করলেন, “ও কে?' ছন্দক বললেন, 'এক বৃদ্ধ'। সিদ্ধার্থ বললেন, 'সকলেই কি বৃদ্ধ হবে, আমরাও?” উত্তরে তিনি বললেন,'সকলেই বৃদ্ধ হবে। এটাই জগতের নিয়ম ছন্দকের কথা শুনে বিষ মনে সিদ্ধার্থ রাজপ্রাসাদে ফিরে যান। পরদিন আবার নগরভ্রমণে বের হন। দ্বিতীয় দিন দেখতে পেলেন, ব্যাধিগ্রস্ত এক লোক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সিদ্ধার্থ ছন্দকের নিকট কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এই লোক ব্যাধিগ্রস্ত, সংসারের যে কেউ যে কোনো সময় এ রকম রোগ-ব্যাধিতে আক্কান্ত হতে পারে।” সিদ্ধার্থ বিষণ মনে রাজপ্রাসাদে ফিরে যান। তৃতীয় দিন সিদ্ধার্থ আবার নগরভ্রমণে বের হলেন। দেখলেন, চারজন লোক একটি মৃতদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। পিছনে একদল লোক ক্রন্দন ও বিলাপ করছিল। কারণ জিজ্ঞাসা করলে ছন্দক বলেন, 'জন্মগ্রহণ করলে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সকলেই মৃত্যুর অধীন। জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু মানুষের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।' সিদ্ধার্থ বিষণ মনে পুনরায় রাজপ্রাসাদে ফিরে যান। চতুর্থ দিন রাজকুমার পুনরায় নগর ভ্রমণে বের হলেন। দেখলেন শান্ত, সৌম্য, গেরুয়া বসনধারী মুন্ডিত মস্তক এক সন্ন্যাসী ধীরগতিতে পথ চলেছেন। পরিচয় জানতে চাইলে ছন্দক বলেন, 'ইনি সংসার ত্যাগী বল্ধনহীন এক মুক্ত পুরুষ। ভোগ-বিলাস বিসর্জন দিয়ে শাস্তি অন্বেষণ করছেন।' ছন্দকের কথা শুনে সিদ্ধার্থ খুশি হন এবং গৃহত্যাগের সংকল্প করে রাজপ্রাসাদে ফিরে যান। ২০২৫ | religion |
69 | শীল ২১ তারপর ভিক্ষু ত্রিশরণ প্রদান করে বলবেন : সরণাগমনং সম্পুন্নং (শরণ গ্রহণ সম্পূর্ণ হলো) । শীল গ্রহণকারী : আম ভস্তে (হ্যা ভত্তে) তারপর ভিক্ষু অফ্টশীল প্রদান করবেন । শীল গ্রহণকারী তা মুখে মুখে বলবেন । অফ্টশীল প্রার্থনা শেষ হলে উপস্থিত ভিক্ষু বলবেন, তিসরণেন সদ্ধিং অট্ঠঙ্গ সমন্নাগতং উপোসথসীলং ধন্মং সাধুকং সুরক্থিতং কতৃ়া অগ্পমাদেন সম্পাদেথ (ত্রিশরণসহ অফ্টাঙ্জ সমন্বিত উপোসথ শীলধর্ম উত্তমরূপে সযত্নে পালন কর) । অফ্টশীল গ্রহণকারী বলবেন, আম ভন্তে (হ্যা ভন্তে) এরপর ভিক্ষু অষ্টশীল পালনকারী কিংবা উপোসখথধারীদের মঙ্গল কামনা করে সূত্র পাঠ করবেন । সূত্র পাঠ শেষ হলে তারা তিনবার সাধুবাদ দিবেন । তারপর অফ্টশীল গ্রহণকারী ভিক্ষুকে বন্দনা করে আহার করতে যাবেন। দুপুর বারোটার মধ্যে আহার সম্পন্ন করতে হবে। তারপর পানীয় ছাড়া কিছুই গ্রহণ করা যাবে না। অফ্টশীলের প্রতিটি শীল সযত্নে পালন করতে হবে । | ভ্যান | অফ্টশীল প্রার্থনাটি সমস্বরে আবৃত্তি কর । পাঠ: ৪ অফ্টশীল (পালি ও বাংলা) অফ্টশীল : পালি পাণাতিপাতা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি । অদিন্নাদানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি । অবশ্বচরিযা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি । মুসাবাদা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি ৷ সুরা-মেরেয-মজ্জ পমাদট্ঠানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি । বিকালভোজনা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি । নচ্চ-গীত-বাদিত-বিসুকদস্সন-মালা-গল্ধ-বিলেপন-ধারণমণ্ডন-বিভূসনট্ঠানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি ৷ উচ্চসযনা-মহাসযনা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিযামি ৷ অফ্টশীল : বাংলা আমি প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি। যু আমি অদত্ত বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকব, এ শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি। | religion |
70 | জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ষষ্ঠ শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড , বাংলাদেশ | religion |
71 | ২০২৫ সূত্র ও নীতিগাথা ৪৭ পাঠ: ৮ মজ্ঞালসৃূত্র ও দণ্ডবর্গের শিক্ষা মজ্গালসূত্র ও দণ্ডবর্গে বহু শিক্ষণীয় বিষয় আছে। মঙ্গলসূত্রে মানুষকে জ্ঞানী লোকের সেবা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ জ্ঞানী লোককে অনুসরণ করতে হবে। তার নির্দেশনা মানতে হবে। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের উপযোগী দেশে বসবাস করতে বলা হয়েছে। ভালো কাজের কথা মরণ করে নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। নানা বিষয়ে বিদ্যা অর্জন, বিনয়ী ও সুশিক্ষিত হওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। সব সময় সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে, যাতে কেউ কষ্ট না পায়। মাতা-পিতা গুরুজনের সেবা করতে হবে। স্ত্রী-পুত্রের উপকার করতে হবে। সংৎ ব্যবসা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। দান-কর্ম ও আত্মীয়-স্বজনের উপকার করতে হবে। সমদ্ধর্মে অবিচল থাকতে হবে। শারীরিক বা মানসিক পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। কীর্তিমান সফল ব্যক্তিদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। অল্পে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। উপকারী ব্যক্তির উপকার স্বীকার করতে হবে। যথাসময়ে ধর্মকথা শুনতে হবে। ক্ষমাপরায়ণ হতে হবে। ধৈর্ধ ও প্রতিপদ বাক্য চর্চা করতে হবে। ভিক্ষু-শ্রমণ দর্শন ও ধর্ম আলোচনা করতে হবে। ধ্যান, সমাধি ও চারি আর্ধসত্য অনুধাবন করতে হবে। নির্বাণ পথে পরিচালিত হতে হবে। লাভ-ক্ষতি, খ্যাতি-অখ্যাতি, নিন্দা বা প্রশংসা, সুখ-দুঃখ সর্বক্ষেত্রেই চিত্তকে স্থির রাখা, শোক না করা, লোভ, হিংসা, মোহ প্রভৃতি থেকে মুক্ত থাকার অনুশীলন করে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করতে হবে। যারা এ সকল মেনে জীবনযাপন করে, তারা সব সময় সর্বক্ষেত্রে জয়লাভ করতে পারে। মঞজ্গলসূত্রে বুদ্ধ এ সমস্ত কাজকে উত্তম বা শ্রেষ্ঠ মজ্ঞাল বলেছেন। মজ্গলসূত্রে ওপরে বর্ণিত বিষয়ে শিক্ষা লাভ করতে পারি। দণ্ডব্গ পাঠেও গুরুত্পূর্ণ শিক্ষা লাভ করা যায়। দণ্ডবগ হতে আমরা শিক্ষা পাই যে দণ্ড প্রয়োগ বা শাস্তি দ্বারা অন্যায় প্রবণতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। অন্যায়কারীকে সৎ পথে পরিচালিত করতে পারলেই অপরাধ প্রবণতা ত্রাস করা সম্ভব। কারো প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শাস্তি প্রদান করা উচিত নয়। শাস্তি প্রদানের সময় শাস্তির পরিণাম বিবেচনা করতে হয়। অপরকে কষ্ট দিয়ে নিজে সুখী হওয়া যায় না। প্রচলিত আইনে অপরাধীর জন্য যে শাস্তির বিধান আছে তা প্রয়োগে কর্তৃপক্ষকে খুবই সতর্ক হতে হবে। কারণ বলা আছে, ভুল বিচারে একাধিক দোষী ব্যক্তি ছাড়া পেয়ে যাক, কিন্তু একজনও নিরাপরাধ ব্যক্তি যেন বিনা দোষে শাস্তি না পায়। দণ্ডবর্গে প্রতিহিংসা ত্যাগ করে মেত্রী প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারো প্রতি কটুকথা, ক্রোধপূর্ণ বাক্য বা প্রতিদণ্ড প্রদান করা হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দিলে ইহজগতে এবং পরজন্মে নরক-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ। মেত্রী অনুশীলনের মাধ্যমে শত্রুকেও বন্ধু করা সম্ভব। কারও প্রতি স্ষুম্থ হয়ে প্রতিহিংসাবশত দণ্ড বা শাস্তি প্রদান করা উচিত নয়। আত্মসংযম, সহনশীলতা, মেত্রী ও ক্ষমা অনুশীলন করা উচিত। দণ্ডবগ অন্যের জীবনকে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করে শাস্তি প্রদানের পরিণাম অনুধাবন করতে শিক্ষা দেয়। অনুশীলনমূলক কাজ মজঙ্গলসূত্র ও দণ্ডবর্গের শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করো। | religion |
72 | ত্রিপিটক 8৪১ উল্লিখিত গাথাগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন করে প্রত্যেক জ্ঞানীর বিনয়ে সুশিক্ষিত হওয়া এবং বিনয়ী আচরণ করা উচিত। বিনয় সকল প্রকার কুশলকর্মের ভিত্তিস্বরূপ। বিনয় ভিক্ষু-শ্রমণদের অবশ্য পালনীয় বিধিবিধান হলেও এতে উন্নত পারিবারিক জীবনযাপনের সুন্দর দিক নির্দেশনা রয়েছে৷ বিনয়ের অনুশীলনে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি জাগ্রত হয়। তাই বিনয়ের পঠনপাঠন একান্ত প্রয়োজন ৷ বিনয় পিটক প্রধানত তিনভাগে বিভক্ত যথা : ক. সুত্ত বিভঙ্গ : এটি ভিক্খুবিভঙ্গ এবং ভিক্খুণী বিভঙ্গ নামে দু'ভাগে বিভক্ত । খ. খন্ধক : এটি মহাবগ্গ এবং চূল্পবগ্গ নামে দুভাগে বিভক্ত এবং গ. পরিবার বা পরিবার পাঠ। ক. সুত্ত বিভঙগ বিনয় পিটকের প্রথম গ্রন্থ হলো সুত্ত বিভঙ্গ। সুত্ত শব্দের অর্থ হলো সূত্র, আর 'বিভঙ্গ' শব্দের অর্থ ভেঙে ফেলা অর্থাৎ ভেঙে বা সূক্ষ্মাতিসূ্মভাবে ভাবার্থ ব্যাখ্যা করা। অতএব 'সুত্ত বিভঙ্গ' শব্দের অর্থ হলো “সূত্র ব্যাখ্যা অর্থাৎ বিনয়ের নিয়ম-নীতি বা মূল শিক্ষাপদের বিল্তৃত ব্যাখ্যা । পাতিমোক্খে ২২৭টি শীলের বিল্তৃত ব্যাখ্যা সুত্ত বিভ্গে পাওয়া যায়। এ নিয়মগুলো কোথায় কীভাবে বুদ্ধ কর্তৃক প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছিল? শীল ভঙ্গকারী কে? শীল কর্তৃক বিশুদ্ধি সম্পর্কীয় অপরাধসমূহ কীভাবে নির্ধারণ করতে হয়? কী প্রকারে শাস্তি প্রদান করলে আপস্তিপ্রাপ্ত ভিক্ষু শীলবিপত্তি হতে নিষ্কৃতিলাভ করতে পারে? এসব বিষয়ের সুক্ষ বিশ্লেষণই সুত্ত বিভঙ্গের মূল উপজীব্য। সুত্ত বিভঙ্গের নীতিসমূহ গুরুত্ব অনুসারে আটভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা : পারাজিকা. সংঘাদিসেস, অনিয়ত, নিসপ্পীয়া, পাচিত্তিয়া, পটিদেসনিয়া, সেখিয়া এবং অধিকরণ সমথ। এই নীতিগুলো ভিক্খু বিভঙ্গ এবং ভিক্খুণী বিভঙ্গ- এ দুটি গ্রন্থে সংকলিত ৷ কোন নীতি লজ্ঘনে কী অপরাধ এবং কী তার প্রতিকার, তার ব্যাখ্যা গ্রন্তদ্বয়ে পাওয়া যায়। তাই সুত্ত বিভঙ্কে আইন বা নীতিশান্্র হিসেবেও গণ্য করা হয়। ১. ভিক্ষু বিভঙ্গ : বিনয় পিটকের প্রথম গ্রন্থ। এ-গ্রন্থে ভিক্ষুদের বিনয়সম্পর্কিত নিয়মগুলো লিপিবদ্ধ আছে। বুদ্ধ কোথায়, কীভাবে, কাকে উদ্দেশ করে এসব নির়ম-নীতি নির্দেশ করেন, শীল ভঙ্গকারীর দোষ এবং তা থেকে পরিত্রাণের উপায় এতে বর্ণিত আছে । ভিক্ষুদের প্রতিপালনীয় নিয়মগুলো এ-গ্রছ্থে আটভাগে ভাগ করে বর্ণনা করে হয়েছে। যথা : পারাজিকা. সংঘাদিসেস, অনিয়ত, নিসট্পীয়া, পাচিত্তিয়া, পটিদেসনিয়া সেখিয়া এবং অধিকরণ সমথ ৷ এতে সর্বমোট ২২৭টি শীলের ব্যাখ্যা আছে। ২. ভিক্কুণী বিভঙ্গ : ভিক্ষুণীদের প্রতিপালনীয় নিয়মগুলো এ-গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। ভিক্ষু বিভঙ্গের পরিপূরক হিসেবে এটি রচনা করা হয়। এগ্রছ্থে ভিক্ষুণীদের প্রতিপালনীয় নিয়মগুলো আট ভাগে বিভক্ত করে বর্ণিত হয়েছে। যথা : পারাজিকা. সংঘাদিসেস, অনিয়ত, নিসঙ্পীয়া, পাচিত্তিয়া, পটিদেসনিয়া সেখিয়া এবং অধিকুরণ সমথ ৷ ভিক্ষুণীদের শীলের সংখ্যা ৩১১। উল্লেখ থাকে যে, ভিক্ষুদের চেয়ে ভিজ্ষুলীদের শীলের সংখ্যা ৮৪টি বেশি । সুত্ত বিভঙ্গের অন্তর্গত ভিক্খু বিভঙ্গ ও ভিক্খুণী বিভঙ্গ গ্র্থদ্বয় পারাজিকা ও পাচিত্তিয়া নামেও পরিচিত । ফর্মা নং-৬, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি | religion |
73 | ৩৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৪ ৷ কাজল বড়ুয়ার সংজ্ঘদানের কুশল চেতনায় লাভ করতে পারেন - 1. পুণ্যফল ভোগ 11. মহাফল ভোগ 111. পাপ মোচন । নিচের কোনটি সঠিক ? ক. 1ও11 খ. 1ও111 গ. 11ও111 ঘ. 1,11ও111 সৃজনশীল প্রশ্ন ১। অর্ণব চাকমার মা পক্ষাঘাতজনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালে শয্যাশারী ৷ মায়ের রোগমুক্তির জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়ে ভিক্ষুসজ্ঘের আহারের ব্যবস্থা করেন এবং অফ্ট পরিষ্কার দানও করেন। তার মায়ের প্রতি এরূপ ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখে শ্রদ্ধেয় বিহারাধ্যক্ষ দেশনায় সকলের নিকট তার প্রশংসা করেন । ক. বৌদ্ধধর্মে দানীয় বস্তুর ক্ষেত্রে প্রধানত কয়টি বিষয়ে বিবেচনা করতে হয় ? খ. মিশ্রদান বলতে কী বুঝায় ? গ. অর্ণব চাকমার দানের ঘটনাতে দাতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত দানের প্রভাবে চিত্তকে পরিশুদ্ধ ও ফলপ্রসূ করতে দাতা-গ্রহীতার কিরুপ ভূমিকা প্রয়োজন - পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো । ২। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে রিক্ত চাকমার সংসার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য ছিল । তবে তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন । তার দান করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজের চাপে পুণ্য কাজ সম্পাদনে ব্যর্থ হন । একদা কয়েকজন ভিক্ষু পিণ্াচরণের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে আগমন ঘটলে তিনি কালবিলম্ব না করে পূর্বের রান্নাকৃত ভাত ও তরকারি দান করেন । এতে তিনি খুবই খুশি হন । ক. গৌতমবুদ্ধ চেতনাকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ? খ. রাজা বেস্সান্তর তার পুত্র সন্তানদের দান করলেন কেন ? ব্যাখ্যা করো। গ. রিক্ত চাকমার দানটি পাঠ্যপুস্তকের কোন কাহিনীর সাথে মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত দান চেতনায় তাঁর ধর্মীয় জীবনে কীরুপ প্রভাব পড়তে পারে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো । ২০২৫ | religion |
74 | ১৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা পাঠ: ২ বন্দনার নিয়মাবলি বন্দনা করার আগে এবং বন্দনা করার সময় বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যেমন : বন্দনার আগে তালো করে মুখ, হাত ও পা ধুয়ে নিতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করতে হয়। এতে দেহ ও মন পবিত্র হয়। পবিত্র দেহমনে বন্দনা করলে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। বন্দনার সময় বুদ্ধমূর্তি কিংবা বুদ্ধের ছবির সামনে হাটু তেঙে বসতে হয়। তারপর দুই হাতের তালু যুক্ত করে মনোযোগ সহকারে সুর করে বন্দনাগাথা আবৃত্তি করতে হয়। আবৃত্তি স্পষ্ট হওয়া উচিত। প্রত্যেক বন্দনাগাথা আবৃত্তি করার পর ভূমিতে কপাল ঠেকিয়ে শ্রদ্ধা সহকারে প্রণাম নিবেদন করতে হয়। রাণীর সু্্য্য্া ২২ বালক-বালিকা প্রণাম নিবেদন করছে এখন বুদ্ধের দস্তধাতু, সপ্ত মহাস্থান এবং মাতৃ-পিতূ বন্দনা শিখব। ২০২৫ | religion |
75 | ৩৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা দান কাহিনি পড়ে আমরা জেনেছি উদার চিত্তে এবং শীলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দান করলে তা উৎকৃষ্ দান হিসেবে বিবেচিত হয়। সৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। বৌদ্ধধর্মে দাতা ও গ্রহীতা উভয়কে শীলবান হতে হয়। দানানুষ্ঠান শীলবান ও নীতিপরায়ণ হতে সাহায্য করে। দানানুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী অংশ গ্রহণ করে। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় হয়। এতে সামাজিক কন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয় । ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। যেমন : শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অনাথালয় স্থাপন, রাস্তাঘাট, সেতু, জলাধার তৈরি ইত্যাদি । শরীরের অজ্গ- প্রত্যঙ্গও রক্তু দান করা যায় । এ দানের ফলে অনেক মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। দৃষ্িহীন ব্যক্তি দৃষি ফিরে পায়। ফলে বলা যায়, দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা রাখে । এজন্যে সকলের দানানুষ্ঠানের আয়োজন এবং দানানুষ্ঠানে যোগদান করা উচিত ৷ অনুশীলনমূলক কাজ দানের দ্বারা তোমাদের এলাকায় কী কী ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর (দলীয় কাজ) ৷ শূন্যস্থান পুরণ কর সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন ১. বৌদ্ধরা কেন দান করে? ২. বৌদ্ধরা কোন কোন ধর্মীয় দান অনুষ্ঠান পালন করে? ৩. সংঘদানে কী কী দান করতে পার? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. কীভাবে সংঘদান করতে হয় বর্ণনা কর । ২১০২৫ | religion |
76 | ২০২৫ দান ৩৫ পাঠ: ৪ দানের সুফল 'দান' মানবজীবনের অন্যতম মহৎ গুণ । ছোট-বড় সকল প্রকার দানেরই সুফল আছে ৷ দানের সুফল অনেক । ধর্মগ্রন্থে সেসব সুফলের কথা বর্ণিত আছে । বৌদ্ধরা ধর্মীয়ভাবে যে দান অনুষ্ঠান করে তার মধ্যে সংখদান, অফ্টপরিষ্কার দান ও কঠিন চীবরদান উল্লেখযোগ্য । এসব দানের মাধ্যমে অনেক সুফল অর্জিত হয় ৷ দানের মাধ্যমে দাতা অনেক পুণ্যফল অর্জন করেন ৷ ধন ও যশ-খ্যাতি লাভ করেন ৷ সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন । দীর্ঘজীবী হন ৷ সর্বত্র প্রশংসিত হন । সকলের প্রিয় হন । অভাব ও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন না । সুখে জীবন যাপন করেন । চিত্ত লোভ, দ্বেষ ও মোহমুত্ত হয় ৷ মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করেন ৷ তিনি দুর্গতি হতে মুক্তি লাভ করেন এবং সুগত্িপ্রাপ্ত হন । এছাড়া, দান পারমী পূর্ণ করার মাধ্যমে দাতা স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্নহত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন ৷ তাই মহাকারুণিক বুদ্ধ তার অনুসারীদের যথাসাধ্য দান করার উপদেশ দিয়েছেন । বৌদ্ধধর্মে একক দান অপেক্ষা সমবেত দানকে বেশি ফলদায়ক বলা হয়েছে ৷ এ সমবেত দানসমূহ হলো যেমন, সঙ্ঘ দান, অফ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবরদান ইত্যাদি । এগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যাপিত হয় । অনুশীলনমূলক কাজ দানের সুফলের একটি তালিকা প্রস্তুত করো । অনুশীলনী জ্ঞানীরা প্রাচীনকালেও ------- করে দান করতেন । বস্তু সম্পত্তি বলা হয় । তিনি নিঃস্বার্থভাবে দেবেন । দান্ৰৃতে রত থেকে স্বর্গ লাভ করেন । ভিক্ষু সঙ্ঘকে প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ দান করা হয় । | religion |
77 | কুষাণ শিল্প প্রধানত দুটি ধারায় আত্মপ্রকাশ করে। একটি গান্ধারা শিল্প এবং দ্বিতীয়টি মথুরা শিল্প এ দুই শিল্পের আদর্শই ছিল শাস্তি, সম্প্রীতি ও মানবতাবোধের প্রকাশ ৷ শাস্ত্রে উল্লিখিত সৌম্য স্থির দৃষ্টি সম্পন্ন বুদ্ধের কল্পিত প্রতিরূপ এবং বৌদ্ধ জাতকের কাহিনী গান্ধারা এবং মধুরা শিল্পকর্মের অন্যতম উৎস ও প্রেরণা ছিল ৷ পেশওয়ারে কণিক্কের রাজত্বকালে নির্মিত বৌদ্ধস্ভূপ ও বৌদ্ধ বিহারগুলোর স্থাপত্য শৈলী আজও শিল্প জগতের অনন্য বিস্ময় হিসেবে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করে। অনুশীলনমূলক কাজ গান্ধারা শিল্পরীতি কী? কুষাণ শিল্প প্রধানত কয়টি ধারায় আত্মপ্রকাশ লাভ করেছিল? ২০২৫ | religion |
78 | ৬ & লা বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহীদের নিত্যকর্ম ও অনুশাসন ১৩৯ প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা : আহার, বাসস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ ও ওঁষধ জীবনধারণের এই চারটি মৌলিক উপাদান গ্রহণ সম্পর্কে ভিক্ষু-শ্রমণদের অবশ্যই ভাবনা করতে হয়, যা প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা নামে পরিচিত ৷ এগুলো নিম্নরূপ : ১. চীবর প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা : চীবর পরিধান বিষয়ে ভিক্ষু-শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয় : পোকা-মাকড়, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর কামড়, শীত ও উষ্ণতা নিবারণ, ধুলা-বালি, লজ্জা নিবারণ প্রভৃতি হতে সুরক্ষার জন্য এই চীবর পরিধান করছি। পঞ্চ-কামগুণ উৎপাদনের জন্য নয়। ২. পিগুপাত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা : আহার গ্রহণ করার সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয় : “আমি কেবল জীবনধারণের জন্য এই আহার গ্রহণ করছি। শারীরিক সৌন্দর্য ও বল বৃদ্ধির জন্য নয়।” ৩. শয়নাসন প্রত্যবেক্ষণ : শয়নাসন গ্রহণ করার সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয় : এ শয়নাসন শুধু শীত ও উষ্ণতা নিবারণের জন্য, দংশক-ধুলাবালি-রৌদ্র-পোকামাকড়, সরীসৃপ প্রভৃতির আক্রমণ নিবারণ এবং চিত্তের একাগ্রতা সাধনের জন্য । আলস্য বা নিদ্রায় অনর্থক কালক্ষেপণের জন্য ন্য়। ৪. গিলান প্রত্যয় প্রত্যবেক্ষণ : ওষধ গ্রহণের সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয়: কেবল রোগ উপশমের জন্য প্রয়োজন মতো এ ওষুধ সেবন করছি। অন্য কোনো অকুশল উদ্দেশ্যে নয়। উল্লিখিত মৌলিক উপাদান গ্রহণের সময় প্রত্যবেক্ষণ ভাবনাকে বর্তমান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলা হয়। সূর্যোদয়ের পূর্বে, দুপুরের আহারের পরে এবং সন্ধ্যায় বন্দনার সময়ও প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা করতে হয়। এগুলোকে অতীত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলে। এ ভাবনা না করলে পরিভোগকারীর জন্য এসব চুরি ও খণের পর্যায়ভুক্ত হয়। প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা লোভ-দ্বেষ-মোহ ধ্বংসের হেতু উৎপন্ন করে। চারি অকরণীয় ভিক্ষু - শ্রমণদের চারটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়, যাকে চারি অক্রণীয় বলে ৷ যথা- ১. ব্যভিচার না করা ২. চুরি না করা ৩. জীবহত্যা না করা এবং 8৪. দৈবশক্তিসম্পন্ন বলে দাবি না করা এবং দৈবশক্তি প্রদর্শন না করা। চতুর্থ অনুশাসনটি প্রবর্তিত হয়েছিল বৈশালীতে দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার পর। সে সময় কিছু কিছু ভিক্ষু নিজেদের দৈবশক্তির অধিকারী বলে প্রচার করে গৃহীদের মনোযোগ আকর্ষণপূর্বক খাদ্য সংগ্রহ করত। বুদ্ধ সেজন্য নিজেকে দৈবশক্তিসম্পন্ন বলে প্রচার ও তা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। আহার ভিক্ষুরা একাহারী ৷ তবে মধ্যাহেরর পূর্বে বা দুপুর বারোটার আগে আহার গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত ভিক্ষানু দ্বারা ভিক্ষু-খরমণদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভিক্ষু-খ্রমণগণ গৃহীদের আমন্ত্রণে গৃহে গিয়েও আহার গ্রহণ করতে পারেন। | religion |
79 | ১৩০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন ১। উথোয়াই মং মার্মা এলাকার একজন প্রভাবশালী জমিদার । তার স্বভাব ছিল শান্ত ও কোমল প্রকৃতির ৷ কিন্তু এলাকাবাসীরা ধর্মের প্রতি উদাসীন থাকায় তাদের মধ্যে দ্বন্থ, সংঘাত ও কলহ বিবাদ লেগে থাকত । এ দৃশ্য তাঁকে ব্যথিত করে তোলে ৷ এলাকার শাস্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তিনি বল প্রয়োগের পরিবর্তে ধর্ম চর্চার প্রতি বেশি জোর দেন ৷ সকল ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রকাশ করেন । ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে থাকেন । এছাড়াও শাস্তি, সম্প্রীতি ও মানবতাবাদের আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে তিনি বিভিন্ন শিল্পকর্ম গড়ে তোলেন । ক. গ্রামের প্রধানকে কী বলা হয় ? খ. চতুর্থ সঙ্গীতি আয়োজনের কারণ বর্ণনা কর । গ. উথ্যয়াই মং মার্মার কর্মকাণ্ডে বৌদ্ধধর্মের কোন শাসকের সঙ্গে মিল রয়েছে- ব্যাখ্যা কর । ঘ. শাস্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বল প্রয়োগের পরিবর্তে ধর্ম চর্চার গুরুত্ব উথোয়াই মং মার্মার ক্ষেত্রে কতটুকু যুক্তিযুক্ত সম্রাট কণিঙ্কের কর্মকাণ্ডের আলোকে ব্যাখ্যা কর । সুদশী চাকমা শিল্পপতি ও জ্ঞানী লোক ছিলেন ৷ তিনি ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাসী ছিলেন । তিনি ভিক্ষুসজ্ঘের জন্য আবাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। একদা ব্রিপিটকের অংশ বিশেষ বিনয়বিধি সম্পর্কে বিতর্ক দেখা দেয়! এমতাবস্থায় তিনি একজন পণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচন করেন এবং উক্ত পণ্ডিত বিনয় বিধির উপরে একটি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করেন । ক. 'দেবানামপিয় উপাধি কে লাভ করেছিলেন? খ. সম্রাট কণিল্ক শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন কেন? বর্ণনা করো । গ. সুদশী চাকমার মহৎ উদ্যোগটিতে বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে কোন কবির আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে - ব্যাখ্যা করো। ঘ. বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় সুদর্শী চাকমার কর্মকাণ্ড সম্রাট কণিক্কের সঙ্গে কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ -যুক্তি প্রদর্শন করো । শূন্যস্থান পূরণ কর ২০২৫ | religion |
80 | ৬ ও তা নবম অধ্যায় জাতক 'জাতক' শব্দের অর্থ হলো যে জাত বা জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু বৌদ্ধ সাহিত্যে গৌতম বুদ্ধের পূর্বজন্ম বা জন্ম-জন্মান্তরের জীবন-কাহিনি ও ঘটনাপ্রবাহ জাতক নামে অভিহিত ৷ বুদ্ধ হওয়ার আগে সিদ্ধার্থ গৌতমকে বহু কল্পকাল নানাকুলে জন্মগ্রহণ করে বোধিজ্ঞান বা বুদ্ধত্্ব লাভের জন্য সাধনা করতে হয়েছিল ৷ বোধি বা বুদ্ধত্ব লাভের জন্য যে সত্ত্ব সাধনায় রত থাকেন তাকে বোধিসত্ত্ব বলা হয়। এজন্য প্রতিটি জন্যে তিনি বোধিসন্ত্ব নামে অভিহিত ৷ জন্মজন্মান্তরের জীবনপ্রবাহে কর্মফলের কারণে তিনি রাজা, মন্ত্রী, দেবতা, বণিক, চণ্ডাল, পশু-পাখি প্রভৃতি নানা কুলে জন্মগ্রহণ করে বোধিসত্ত্ব জীবনচর্চা করেছিলেন। বোধিসত্ অবস্থায় দান, শীল, নৈদ্ধ্ম্য, বীর্য, ক্ষান্তি, মৈত্রী, সত্য, ভাবনা, অধিষ্ঠান ও উপেক্ষা-এই দশবিধ পারমিতা চর্চা করে তিনি চরিত্রের চরমোৎকর্ষ সাধন করেন । অতঃপর শেষজন্যে পূর্ণ প্রজ্ঞাসম্পন্ন হয়ে বোধিজ্ঞান লাভ করেন এবং সম্যকসম্বদ্ধ নামে খ্যাত হন। জাতকের কাহিনীগুলোতে গৌতম বুদ্ধের বোধিসত্ জীবনের নানা ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় । জাতকের আখ্যানগুলোতে দেখা যায়, তিনি কোথাও ঘটনার প্রধান চরিত্র, কখনো তিনি ঘটনার পর্যবেক্ষক, আবার কোথাও তাঁর ভূমিকা গৌণ ৷ জাতকের কাহিনীগুলো নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ । জাতকের বিশেষত্ব হলো গল্পের ছলে চারিত্রিক বিশুদ্ধতা ও উৎকর্ষ সাধন করা। বুদ্ধ তার শিষ্য-প্রশিষ্য ও অনুসারীদের প্রসঙ্গক্রমে অতীত জীবনের ঘটনাবলি বর্ণনা করে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশসাধনে উদ্বুদ্ধ করতেন । জাতক পাঠে সৎ গুণাবলিসম্পন্ন আদর্শ জীবন গঠন করা যায় এবং সর্বজীবের প্রতি মৈত্রী, করুণা জাগ্রত হয়। এছাড়া জাতকে গৌতম বুদ্ধের সমকালীন আর্থ-সামাজিক অবস্থার বছ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। জাতকের ভূমিকা! এখানেও সীমাবদ্ধ নয়। যে সমস্ত কথাসাহিত্য লোকপরম্পরা চলে আসছে, আদিম অবস্থায় এগুলোর স্বরূপ কেমন ছিল, কীভাবে পরিবর্তিত হলো এবং এগুলো রচনার উদ্দেশ্য কী ছিল প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে হলেও জাতকের পঠন-পাঠন আবশ্যক । বিশ্ব-সাহিত্যের ভাপ্তারে গল্প-উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনার চিরন্তন উৎস হিসেবেও জাতকের ভূমিকা অনন্যসাধারণ ৷ এ-কারণে জাতককে প্রাচীন ইতিহাসের অনন্য উৎস বলা হয়। এ অধ্যায়ে আমরা শুক জাতক, সেরিবাণিজ জাতক, জনসঙন্ধ জাতক এবং সুখবিহারী জাতক - এই চারটি জাতক পাঠ করব। এ অধ্যায় শেষে আমরা- * বৌদ্ধ জাতকের কাহিনী বর্ণনা করতে পারব; * বৌদ্ধ জাতকের কাহিনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করতে পারব। পাঠ: ১ শুক জাতক অনেক অনেক দিন আগের কথা ৷ বারানসির রাজা ছিলেন ব্রশ্মদত্ত। তখন হিমবস্ত প্রদেশে বোধিসত্তব শুক পাখিরূপে জন্মগ্রহণ করেন। শুক পাখিরূপী বোধিসন্ত্ব ছিলেন বড়ই বলশালী ৷ তিনি হাজার হাজার শুক পাখির দলপতি ছিলেন৷ দলপতি শুক ও তার স্ত্রীর একটি পুত্রসন্তান ছিল ৷ উভয়ে সন্তানকে আদর-স্লেহে লালনপালন করতেন। | religion |
81 | সে ] ॥ 0ম ॥ । আর ৮40 "দে গু |। 8 ] "০ - আচ রণ ১২১০2 । ] 7: | টা দা চা ঢা : ৮ ১] সং ২০১১ ১ |] মো | | | সু রন ৷ / দা ৰ। ১ সা | । ঞ 0) সস ২১ ১০ 1 ৷ ্ ১ 1 পা % ১ পু 0? ্া ,/ ও ও 1: ২ রা 101 / য় সং রথ] ১৬৭০ ১৯৮ নিদ্রামগ্ন গোপাদেবী ও পুত্র রাহুলকে সিদ্ধার্থের শেষ দর্শন শীত্রই বেরিয়ে পড়ব।' ক্রমে সিদ্ধার্থ ২৯ বছর বয়সে উপনীত হন। সেদিন ছিল আযাট়ী পূর্ণিমা। রাজ- অস্তঃপুরের সবাই গভীর নিদ্রায় মগ্ন সিদ্ধার্থ বিদায়কালে গোপাদেবী ও প্রাণপ্রিয় পুত্রকে শেষবারের মতো দেখার জন্য গোপার কক্ষে প্রবেশ করলেন। দেখলেন, গোপা শিশুপুত্রকে বুকে জড়িয়ে গভীর নিদ্রামগ্্ন। একবার ইচ্ছা হলো শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করবেন। পরক্ষণে ভাবলেন, কোলে তুলে নিলে মা জেগে উঠবেন, তাহলে তার যাওয়াই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আত্মসংবরণ করে তিনি গোপার কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। অতঃপর রথচালক হন্দককে নির্দেশ দিলেন অশ্ব কন্থককে প্রস্তুত করে নিয়ে আসতে । ছন্দক কল্থককে নিয়ে এলে উভয়ে অশ্বপৃষ্ঠে চড়ে গৃহত্যাগ করেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগকে 'মহাভিনিস্ক্রমণ' বলা হয়। অনোমা নদী পার হয়ে সিদ্ধার্থ ছন্দককে বললেন, 'তুমি কল্থককে নিয়ে ফিরে যাও।” ছন্দক গৌতমকে খুব ভালোবাসতেন তীর মন কষ্টে ব্যথিত হয়ে উঠল। প্রিয় অশ্ব কমল্থক শোকে সেখানেই মৃত্যুবরণ করল। সিদ্ধার্থ পায়ে হেঁটে বৈশালী নগরে পৌছলেন। খবষি আলার কালাম, রামপুত্র রুদ্রকের কাছে যোগ, ধ্যান ইত্যাদি শিক্ষা গ্রহণ করলেন। তাতে তাঁর মন তৃপ্ত হলো না। সেখান থেকে গেলেন রাজগৃহে। রাজগৃহ থেকে উরুবেলার সেনানী গ্রামে ৷ গ্রামটি নৈরঞ্জনা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। এখানে অশ্বথ গাছের নিচে শুরু করেন কঠোর ধ্যান-সাধনা। ছয় বছর কাটল তার ধ্যান-সাধনায়। অবশেষে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে চে (1ম লস | | ত্র & গ্ি | religion |
82 | ৩৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা অনুশীলনমূলক কাজ সুত্রপিটক কয়ভাগে বিভক্ত? খুদ্দক নিকায়ের গ্রস্থগ্ুলোর নাম লেখ ৷ সুন্তবিভঙ্গ কয়ভাগে বিভক্ত এবং কী কী? অভিধর্ম পিটকের গ্রন্থগুলোর নাম লেখ । পাঠ: ৩ সূত্র পিটক সূত্র পিটক পাচ ভাগে বিভক্ত। যথা : দীঘ নিকায়, মন্ত্রিম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়। নিয়ন নিকায়সমূহের বর্ণনা দেওয়া হলো : ক. দীঘ নিকায় : দীঘ নিকায় সূত্র পিটকের প্রথম ভাগ । দীঘ নিকায়ে সর্বমোট চৌত্রিশটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো তিনটি বর্গে বিভক্ত। যথা : শীল স্কন্ধবর্গ, মহাবর্গ এবং পাটিকবর্গ ৷ প্রথম বর্গে তেরোটি পৃত্র আছে। সূত্রশুলো গদ্যে রচিত । দ্বিতীয় বর্গে দশটি সূত্র, তৃতীয় বর্গে এগারোটি সূত্র আছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্গের বহু সূত্র গদ্যে ও পদ্যে রচিত ৷ দান, শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা, ধ্যান, বিমোক্ষ, অনিত্য, দুঃখ, অনাত্ম, চিত্ত, চৈতসিক ও নির্বাণ ইত্যাদি দীঘ নিকায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয়। কিন্তু প্রসঙ্গত্রমে এ নিকায়ে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, সমাজ-সংস্কৃতি প্রভৃতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পাওয়া যায়। বিশেষত বাষট্টি প্রকার ধর্মীয় ও দার্শনিক মতবাদ এবং জাতিভেদ প্রথা সম্পর্কে দীঘ নিকায়ে যে-বর্ণনা পাওয়া যায়, তা বুদ্ধের সমসাময়িককালের প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে। এ-ছাড়া এ নিকায়ের মহাপরিনির্বাণ সূত্রে বুদ্ধের জীবন চরিতের চিত্তাকর্ষক বর্ণনা পাওয়া যায়। দীঘ নিক্ায়ে ধর্ম-দর্শন অপেক্ষা নৈতিক ও মানবিক জীবন গঠনে অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে । খ. মন্ত্রিম নিকায় : এটি সূত্র পিটকের দ্বিতীয় ভাগ । মন্ত্িম নিকায় পঞ্চ নিকায়ের মধ্যে সর্বোত্তম যে-সুত্রগুলো মধ্যম আকৃতির সেগুলো মদ্ধ্বিম নিকায়ে স্থান পেয়েছে। এতে একশত বায়াননটি সূত্র আছে। সূত্রুলো তিনটি বর্গে বিভক্ত । যথা : মূল পঞ্ঞাসক বর্গ, মদ্ববিম পঞ্ঞাসক বর্গ এবং সেল পঞ্ঞাসক বর্গ । প্রথম ও দ্বিতীয় বর্গে পঞ্চাশটি, তৃতীয় বর্গে বায়ানন্টি সূত্র আছে৷ এ নিকায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো : চারি আর্যসত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ, প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি, পার্থিব ভোগসুখের অসারতা, পরমার্থ সত্য, নির্বাণ ইত্যাদি । এ-গ্রহ্থে বুদ্ধের সমকালীন ছয়টি তীর্থিক সঙ্ঘের ধর্ম-দর্শন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তা ছাড়া ভিক্ষুদের জীবনযাত্রা, ভিক্কুসজ্ঘের সাথে গৃহী ও রাজন্যবর্গের সম্পর্ক, বুদ্ধকালীন ভারতের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সম্পর্কীয় ও ধর্মীয় অবস্থার বিবরণও পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য আচরণীয় বিষয়সমূহ এ-গ্রন্টে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ও সরলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই পাঁচটি নিকায়ের মধ্যে মন্ত্রিম নিকায়কে সর্বোত্তম বলে গণ্য করা হয়। বিখ্যাত আচার্য বুদ্ধঘোষ ত্রিপিটকের অন্তর্গত গ্রন্থসমূহের মধ্যে মস্জিম নিকায়কে সর্বশ্রেষ্ঠ গস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ১০২৫ | religion |
83 | প্রথম অধ্যায় গৌতম বুদ্ধের সাম্যনীতি গৌতম বুদ্ধকে সাম্যনীতির প্রবক্তা বলা হয় । সাম্যনীতি শব্দটি 'সাম্য' ও 'নীতি' শব্দদ্বয়ের সমস্বয়ে গঠিত ৷ সাম্যনীতি বলতে বৈষম্যহীনতা, ন্যায় বিচার, মৌলিক অধিকার, পারস্পরিক মর্যাদাবোধ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা বোঝায় ৷ সাম্যনীতি হচ্ছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য নীতি যার মাধ্যমে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূর করে শাস্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব ৷ বুদ্ধের ধর্মে এ নীতির বহুল প্রয়োগ দেখা যায় । বুদ্ধ তার সঙ্ঘ পরিচালনায় সাম্যনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন । কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ন্যায় বিচার ব্যতীত শাস্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় ৷ তিনি সাম্যনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে বিরাজমান বৈষম্যগুলো দূর করতে চেষ্টা করেছিলেন ৷ এ অধ্যায়ে আমরা গৌতম বুদ্ধের সাম্যনীতি সম্পর্কে পড়ব । এ অধ্যায় শেষে আমরা - * গৌতম বুদ্ধের সাম্যনীতি বর্ণনা করতে পারব * পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বুদ্ধের সাম্যনীতির প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব । পাঠ: ১ বুদ্ধের সাম্যনীতি আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ হিমালয়ের পাদদেশে কপিলাবস্ত (বর্তমান নেপাল) নামক রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন ৷ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন বুদ্ধত্ব লাভের পর থেকে তিনি বুদ্ধ নামে অভিহিত হন । তিনি সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর ধর্ম প্রচার করে আশি বছর বয়সে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন । তার সময়কালে সমাজজীবনে জাতিভেদ প্রথা ও বর্ণ বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল ৷ এ সামাজিক বৈষম্যগুলো দূর করার জন্য তিনি তার ধর্মে সাম্যনীতিকে অগ্রাধিকার দেন । বৌদ্ধধর্ম মতে, সাম্যনীতি হচ্ছে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মৌলিক ভিত্তি ৷ সকল প্রকার দুঃখ, বৈষম্য, অন্যায়, অবিচার, ঘৃণা, সংঘাত প্রভৃতি বিদূরিত করার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে সাম্যনীতি । তাই সমাজে সাম্যনীতির প্রয়োগ অপরিহার্য । সাম্যনীতির কারণেই বৌদ্ধধর্ম ভারতবর্ষের সীমারেখা অতিক্রম করে সমগ্র বিশ্বে প্রসারিত হয়েছে । এজন্য কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ঘটেনি ৷ বুদ্ধের সাম্যনীতি মানুষকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয় । অপরের অভিমত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহিষ্ণু হতে শেখায় । জাতি, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল বৈষম্য ও বিভাজন বিদূরিত করে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন। এ আদর্শকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে বুদ্ধ প্রথমেই ভিক্ষুসজ্ঘ প্রতিষ্ঠায় সাম্যনীতির প্রয়োগ করেন । তিনি তার প্রতিষ্ঠিত সঙ্ছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে প্রবেশাধিকার দিয়েছেন ৷ এ প্রসঙ্গে বুদ্ধ মহা-উপাসিকা বিশাখা নির্মিত শ্রাবস্তীর পূর্বারামে অবস্থান করার সময় ফর্মা-১, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা-অষ্টম শ্রেণি | religion |
84 | ৫চে বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৮. সর্বলোকের প্রতি অপরিমেয় মৈত্রীভাব পোষণ করবে৷ উর্ধ্বে, নিয়ে ও বক্রভাবে (যত প্রাণী আছে তাদের প্রতি) ভেদজ্ঞান-রহিত, বৈরীহীন ও শত্রুতাহীন হবে! ৯. দীড়ানো অবস্থায়, চলমান অবস্থায়, বসা বা শোয়া অবস্থায় এবং না ঘুমানো পর্যন্ত এই স্মৃতি অধিষ্ঠান করবে। একে ব্রহ্মবিহার বলে । ১০. শীলবান ও সম্যক দৃষ্টিসম্পন প্রোতাপনুন ব্যক্তি মিথ্যা দৃষ্টি পরিত্যাগপূর্বক কাম ও ভোগবাসনাকে দমন করে পুনর্বার গর্ভাশয়ে জন্মগ্রহণ করেন না । শব্দার্থ : সন্তং-শান্ত; সক্কো-সক্ষম বা সমর্থ; অভিসমোচ্চ -সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে; উজু-খজু বা সরল; সুজুচ সুখজু বা অতি সরল; সন্ভস্সকো-সন্তুষ্ট ব্যক্তি; সুভরো-সুখপোষ্য বা সহজে প্রতিপালন বা সাহায্য করা যায়; অগ্পকিচ্চো-অগ্পকৃত্য বা অল্প কর্তব্যযুক্ত; সন্পহু কবুত্তি-যে ব্যক্তি সহজে অভাব বোধ করে না এবং অভাববোধ করলে তা সহজে পূর্ণ করে নিতে পারে, অল্পে তুষ্ট: সন্তিস্দ্রিয়ো - শান্তেন্দ্রিয়; নিপকো -প্রজ্ঞাবান; অপ্পগবৃভো-অপ্রগল্ভ, বিনীত, অহংকারহীন, বিবেকবান, লজ্জাশীল, শিষ্ট; অননুগিদ্ধো- অনাসক্ত; উপবদেয্যং-নিন্দা করা: খেমিনো-যিনি নিরাপত্তা বা শাস্তি উপভোগ করেন: পাণভুতথি -জগতের প্রাণিকুল; থাবরা-ছস্ির,অনবসেসা-সম্পূর্ণরূপে; তিরিষঞ্চ-বক্রভাবে,অসরলভাবে; অসম্বাধং-ভেদজ্ঞানরহিত; অবেং-বৈরহীন, অসপত্তং-শত্রুতাহীন: তিট্ঠ-দীড়ানো; বিগতমিষ্ধো-না ঘুমানো পর্যন্ত; অধিট্ঠেয্য-অধিষ্ঠানঃ নিকুঝ্বেখ-বঞ্চনা; মানসং ভাবসে -মৈত্রী পোষণ করবে । অনুশীলনমূলক কাজ করণীয় মৈত্রী সূত্রের বাংলা অনুবাদ লেখ (দলগত কাজ) ৷ পাঠ: ৬ রতন সূত্র ও করণীয় মেত্রী সূত্রের গুরুত্ব মানুষ ও দেবতাদের মধ্যে রতন সূত্রের প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম ৷ রতন সূত্রে বুদ্ধ রত্ন, ধর্ম রতন ও সজ্ঘ রত্নের গুণকীর্তন করা হয়েছে। এই তিনটি রত্নকে একত্রে ত্রিরত্ন বলা হয়। ত্রিরত্নের শরণ নিলে সবরকম অকুশল কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখা যায়৷ চিত্তের সংযম রক্ষা করা যায়। রতন সূত্রে চতুরার্য সত্যের মধ্যে যে অন্তর্নিহিত শক্তি আছে, সেই শক্তির কথা বলা হয়েছে। চতুরার্য সত্যকে যিনি জানতে পারেন, তিনি সংসাররূপ মহাসাগরের সমস্ত কামনা, বাসনা, লোভ, দ্বেষ, মোহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। কামনা-বাসনা বা তৃষ্ণাহীন ব্যক্তি ইন্দ্রধথীল বা প্রোথিত স্তম্ভের সাথে তুলনীয় ৷ ইন্দ্রথীল যেমন প্রবল বায়ুর চাপেও কখনো কম্পিত হয় না, তেমনি চতুরার্য সত্য সম্যকভাবে জ্ঞাত ব্যক্তি লোভ-তৃষ্ণায় কম্পিত বা আসক্ত হন না। তিনি লক্ষ্যে অবিচল থাকেন। তাই বলা যায়, রতন পৃত্র সকল প্রকার অমঙ্গল ও অকুশল কর্ম থেকে বিরত রেখে কুশলকর্ম সম্পাদনে উৎসাহী করে, স্বধর্মের পথে পরিচালিত হতে উদ্বুদ্ধ করে। স্বধর্মের পথে পরিচালিত ব্যক্তি সর্ব দুঃখের অবসান করে নির্বাণ লাভে সক্ষম হন । ২০২৫ | religion |
85 | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১. চন্দ্রগর্ভ কত বছর বয়সে বৌদ্ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন? ক. ১৬ খ. ১৯ গ. ২৭ ঘ. ২৯ ২. উপালি থের'র জীবনী থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়- 1. সংকর্ম করার প্রচেষ্টার 11. সুত্র আবৃত্তির প্রচেষ্ণার 111. নির্পোভ হওয়ার নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1ও11 খ. 1ও]11 গ. 11ও111 ঘ. 1,11ও111 নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও : সুভ্দ্রা তঞ্চঙ্গা রূপে, চেহারায় ও চরিত্রে অনন্যা ৷ যথাসময়ে তার পছন্দ করা এক সূপবান যুবকের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু তার সংসারজীবন ক্ষণস্থায়ী হয় । পরবর্তী সময়ে চিত্ত পরিবর্তন করে তিনি বিহারমুখী হন এবং ব্রশ্মাচর্য পালনে সচেষ্ট হন । ৩. সুভদ্রা তঞ্চঙ্গার সাথে পাঠ্যবইয়ের কার চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ক. মহাপ্রজাপতি গৌতমী খ. কৃশা গৌতমী গ. অভিরূপা নন্দা ঘ. মন্তরিকা 8. ব্রম্মচর্য পালনের মাধ্যমে সুভদ্রা তথ্চঙ্গা করতে পারেন- 1. নতুন জীবন শুরু 11. তৃষ্ণার ক্ষয় 111. মনকে শান্ত ও সংযত নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1 খ. ঢা গ. 1ও11 ঘ. 11ও111 ২০২৫ | religion |
86 | ১৪৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ঘ) দক্ষিণ দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে গুরুর প্রতি কর্তব্য পালন করা। গুরুর প্রতি পাচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা : ১. গুরুর সামনে উচ্চ আসনে না বসা ২. সেবা করা ৩. আদেশ পালন করা ৪. মনোযোগ সহকারে উপদেশ শ্রবণ করা এবং ৫. বিদ্যাভ্যাস করা৷ গুরুকেও শিষ্যের প্রতি পাচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা: ১. সুন্দররূপে বিনীত করা ২. খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষা দেওয়া ৩. পাঠ্য বিষয় নির্বাচন করে দেওয়া ৪. বন্ধুদের নিকট ছাত্রের প্রশংসা করা এবং ৫. বিপদে রক্ষা করা। ড) উর্ধ্ব দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের প্রতি কর্তব্য পালন করা। শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের প্রতি পাচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা : ১. শ্রদ্ধাচিত্তে অনু, বন্ত্র, গুষধ, বাসস্থান প্রভৃতি দিয়ে সেবা করা ২. জনসাধারণকে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাসম্পনু করে তোলা ৩. তাদের হিত কামনা করা ৪. শ্রদ্ধাচিত্তে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো এবং ৫. উৎকৃষ্ট খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আপ্যায়ন করা। শ্রমণ-ব্রাহ্মণগণও গৃহীর প্রতি পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা : ১. তাকে পাপকর্ম হতে নিবৃত্ত রাখা ২. কল্যাণকর্মে প্রবৃত্ত করা ৩. তাদের হিত কামনা করা ৪. অশ্রুত বিষয় ব্যক্ত করা এবং ৫. জ্ঞাত বিষয় সংশোধন করে দেওয়া ও সুমার্গ প্রদর্শন করা। ছ) অধঃ দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে কর্মচারীদের প্রতি কর্তব্য পালন করা । কর্মচারীদের প্রতি পাচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়৷ যথা : ১. সামর্থ্য অনুযায়ী কার্যভার অর্পণ করা ২. উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া ৩. রোগের সময় সেবা করা ৪. উৎকৃষ্ট খাদ্য ভাগ করে দেওয়া এবং ৫. মধ্যে মধ্যে বিশ্রাম দেওয়া । কর্মচারীদেরও গৃহস্বামীর প্রতি পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা : ১. গৃহস্বামীর পূর্বে শয্যা ত্যাগ করা ২. পরে শয়ন করা ৩. কেবল প্রদত্ত বস্তু গ্রহণ করা ৪. যথার্থভাবে কর্ম সম্পাদন করা এবং ৫. গৃহস্বামীর সুখ্যাতি ও প্রশংসা করা। ২) ব্যগৃঘপজ্জ সূত্র একসময় বুদ্ধ কোলীয় গ্রামে অবস্থান করছিলেন । ব্যগৃঘপজ্জ নামক একজন কোলীয় বুদ্ধের নিকট সংসারে আবদ্ধ গৃহীদের ইহকাল ও পরকালের হিতের জন্য কিছু নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ করেন। বুদ্ধ গৃহী জীবনে মঙ্গলজনক চারটি বিষয় মেনে চলার নির্দেশ দেন। এ সকল নির্দেশনা ব্যগৃঘপজ্জ সূত্রে বর্ণিত আছে। নির্দেশনাসমুূহ নিচে তুলে ধরা হলো : উৎসাহ : পরিশ্রম ও সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহে উৎসাহী হতে হবে। যেকোনো কাজ সুসম্পনন করার প্রতি উৎসাহী হতে হবে। সংরক্ষণ : সদুপায়ে কষ্টে অর্জিত অর্থসম্পদ সতর্কতার সাথে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে চোর, অপহরণকারী, ঈর্ষাপরায়ণ জ্ঞাতি বা আগুন দ্বারা নষ্ট না হয়। সৎতলোকের সংশ্রব : ত্রিরত্নে শ্রদ্ধাশীল, প্রজ্ঞাসম্পন্ন, শীলবান, অপরের মঙ্গলকামী ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করা উচিত ৷ এঁদের সৎ গুণাবলি অনুসরণ করা উচিত । এঁরাই কল্যাণমিত্র। সৎ জীবন গঠনে এঁদের সংশ্রব অপরিহার্য ৷ শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন : আয় বুঝে ব্যয় করা গৃহীর একান্ত কর্তব্য । মিতব্যয়ী হতে হবে। আবার কৃপণতাও পরিহার করতে হবে। আয়-ব্যয় সমস্বয় করে যথারীতি জীবিকা নির্বাহকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন বলে। ২০২৫ | religion |
87 | চতুর্থ অধ্যায় দান 'দান' একটি মহৎ মানবীয় গুণ ৷ নিঃস্বার্থভাবে যা দেয়া হয় তা-ই দান । নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অপরের উপকারের জন্য যিনি দান কার্য সম্পাদন করেন, তিনি একজন মহৎ ব্যক্তি । বৌদ্ধধর্মে দানের গুরুত্ব অপরিসীম । দান পারমী পূর্ণ না করলে নির্বাণ লাভ সম্ভব নয়৷ তথাগত বুদ্ধ 'বুদ্ধত্ব' লাভের জন্য দশ পারমীর মধ্যে দান পারমীকেই প্রথম স্থান দিয়েছেন। ধনীরাই দান করতে পারেন তা নয়, চিত্তের উদারতা থাকলে গরিবরাও দান করতে পারে । অনেক বিত্তহীন ব্যক্তি শুধু চিত্তের উদারতার কারণে দান করে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৷ দান করার ক্ষেত্রে পাত্র-অপাত্র, দানীয় বস্তু ও মানসিক অবস্থা প্রভৃতি বিবেচনা করতে হয় । দান একটি কুশল কর্ম ৷ অন্যান্য কুশলকর্মের মতো দানেরও সুফল বা প্রভাব আছে ৷ এ অধ্যায়ে আমরা দানের বিবেচ্য বিষয়, তিনটি দান কাহিনী এবং দানের প্রভাব সম্পর্কে পড়ব ৷ এ অধ্যায় শেষে আমরা - * বৌদ্ধ দান কাহিনী বর্ণনা করতে পারব । * দানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় উল্লেখ করতে পারব । * দানের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব । পাঠ : ১ দানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হয় । তাই কোনো কাজ করার পূর্বে কর্মফল সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত । বৌদ্ধধর্মে নিঃস্বার্থভাবে কোনো কিছু ত্যাগ করলেই দান হয় না, দান দিতে হলে দানীয় বস্তু, দাতা ও দানের ক্ষেত্র বা গ্রহীতার বিষয়ে বিবেচনা করতে হয় । দানের বিবেচ্য বিষয়গুলো নিচে সংক্ষিপ্তভাবে জানব । বৌদ্ধধর্মে দানীয় বস্তর ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যথা: ১। বস্তু সম্পত্তি ২। চিত্ত সম্পত্তি ৩ । প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি । ১। বস্তু সম্পত্তি : বৌদ্ধধর্মে সৎ-উপায়ে অর্তিত বা লব্ধ টাকা-পয়সা বা বস্তুকে বস্তু সম্পত্তি বলা হয়। অর্থাৎ দানীয় বস্তুটি ন্যায়সম্মতভাবে অর্জিত হয়েছে কিনা তা বিবেচনা করা । অসদুপায়ে লব্ধ টাকা-পয়সা বা বস্তু দান করা উচিত নয় । এরূপ দানকে মিশ্রদান বলে । মিশ্রদান হীন দান । দানীয় বস্তু তিন প্রকার । ৬ যথা : আমিষ দান, অভয় দান ও ধর্ম দান । আমিষ দান দুই প্রকার : বাহিরের বস্তু ও ভিতরের 9 বস্তু ৷ বাহিরের বস্তু হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, পানীয়, বাসস্থান, পরিষ্কার করার জিনিস, ধুপ, বাতি, যানবাহন, | religion |
88 | ১১০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা তাই তাঁকে অবস্তীতে দাঙ্গা নিরসনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল ৷ রাজা অমাত্যদের বিদ্রোহ দমনের জন্য উজ্জয়িনীতে তাকে শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োজিত করা হয়৷ তিনি সেখানে শৌর্ষ বীর্যের পরিচয় দিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন। পিতা বিদ্দুসারের মৃত্যুর পর সম্রাট অশোক সিংহাসনে আরোহণ করেন৷ কথিত আছে যে, তিনি সিংহাসনে আরোহণের জন্য ৯৯ জন ভ্রাতাকে হত্যা করেন। প্রথম দিকে সম্রাট অশোক বদমেজাজি এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির রাজা ছিলেন৷ তিনি প্রজাদের খুব নির্যাতন করতেন। সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে তিনি রাজ্য বিস্তারের নেশায় মত্ত থাকতেন তিনি বিভীষিকাময় এক যুদ্ধে কলিঙ্গ জয় করেন। কলিঙ্গ ভারতের উড়িয্যা রাজ্যে অবস্থিত । কথিত আছে, কলিকঙ্গা যুদ্ধে দেড়লক্ষ লোককে বন্দী করা হয়েছিল। এক লক্ষ লোককে হত্যা করা হয়েছিল এবং অসংখ্য লোক আহত হয়েছিল৷ এরুপ নিষ্ঠুর প্রকৃতির স্বভাবের জন্য তিনি 'চণ্ডাশোক' নামে পরিচিত ছিলেন। তখন তিনি তীর্থিক সন্ন্যাসীদের তত্ত্ব ছিলেন৷ 'অশোক' নাম কেন রাখা হয়েছিল? স্মা্ট অশোক কীভাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন? সম্বাট অশোকের স্বভাব কেমন ছিল বর্ণনা কর। পাঠ: ২ কলিঙ্গ বিজয় ও বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ কলিঙ্গ যুদ্ধে জয়ী হলেও সম্রাট অশোক সুখী হলেন না। রাজ্য জয়ের বিনিময়ে দেখলেন রক্তপাত এবং মৃত্যুর বিভীষিকা । কলিঙ্গ যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি দারুণভাবে মর্মাহত হন। অনুতাপ আর অনুশোচনায় ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ৷ দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি চিন্তা করতে লাগলেন : আমি কী করেছি? এটি জয় নাকি পরাজয়? একি ন্যায় নাকি অন্যায়? একি বীরতু নাকি চরম পরাজয়? নিরপরাধ শিশু এবং নারীদের হত্যা করা কি বীরের কাজ? অন্য রাজ্য ধবংস করে কি নিজ রাজ্যের সমৃদ্ধি করা যায়? কেউ স্বামী, কেউ পিতা, কেউ সন্তান হারিয়ে হাহাকার করছে -এসব মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ কি জয় নাকি পরাজয়? একদিন তিনি রাজপ্রাসাদের সিংহদ্বারে দাড়িয়ে এরূপ চিন্তা করছিলেন এবং পাটলিপুত্রের শোভা দেখছিলেন ৷ মনে ছিল অশান্তি ও ভাবাবেগ ৷ এমন সময় সৌম্য, শান্ত ও সংযত সাত বছরের এক শ্রমণ ধীর গতিতে রাজ অজ্গান দিয়ে যাচ্ছিলেন । তাকে দেখামাত্রই স্ম্াট অশোকের মনে শ্রদ্ধা জেগে উঠে। তার নাম নিশ্রোধ শ্রমণ ৷ তিনি ছিলেন বিন্দুসারের প্রথম পুত্র যুবরাজ সুমনের সম্ভতান। অর্থাৎ সম্রাট অশোকের ভ্রাতৃম্পুত্র। সম্রাট অশোক নিশগ্রোধ শ্রমণকে ডেকে আনবার জন্য এক অমাত্যকে পাঠালেন । শ্রমণ ভিক্ষা পাত্র নিয়ে ধীর গতিতে প্রাসাদে এলেন এবং নিজেকে বুদ্ধের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিলেন । সম্রাট অশোক তার মুখে বুদ্ধের অমৃতময় ধর্মবাণী শুনতে চাইলেন ৷ নিশ্রোধ শ্রমণ ধম্মপদ গ্রন্থের 'অপ্রমাদ বর্গের' একটি গাথা সম্রাট অশোককে ব্যাখ্যা করে শোনান । গাথাটির মর্মকথা হলো ঃ 'অপ্রমাদ অমৃত লাভের পথ, আর প্রমাদ মৃত্যুর পথ । অপ্রমত্ত ব্যক্তিরা অমরতু লাভ করেন, কিন্তু যারা প্রমত্ত তারা বেঁচে থেকেও মৃতবৎ। এই সত্য বিশেষরূপে জেনে যারা অপ্রমন্ত হয়ে আর্যদের পথ অনুসরণ করেন, সেই ধ্যাননিষ্ঠট, সতত উদ্যোগী, দৃঢ়পরাক্রমশীল, বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ পরম শান্তিরূপ নির্বাণ বি | religion |
89 | ৯০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা উপদেশ : মূর্খ বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রু ভালো । অনুশীলনমূলক কাজ সূত্রধর কী কাজ করছিল? পাঠ: ৭ জাতকের উপদেশসমূহ অনুসরণের সুফল 'জাতক' হলো গৌতম বুদ্ধের অতীত জন্মবৃত্তান্ত। কিন্তু জাতকগুলোতে অনুসরণীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ পাওয়া যায়। এসব উপদেশ মানবিক ও নৈতিক গুণাবলির উৎকর্ষসাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব উপদেশ অনুসরণ করা একাস্ত উচিত। নিচে জাতক্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় উপদেশ তুলে ধরা হলো। যেমন : কপোত জাতক পাঠে আমরা লোভের পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে পারি। এ শিক্ষামতে , অতিরিক্ত লোভ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে! তাই সকলের লোভ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এভাবে শশক জাতকে শীল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে পারি। এ জাতকের উপদেশ মতে, শীলবান ব্যক্তি সর্বত্র পুজিত হন। আম্রজাতক কুশলকর্ম সম্পাদনে উদ্যমশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। মশক ও রোহিণী জাতকে মুূর্থ বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রু ভালো বলে নির্দেশনা রয়েছে। জাতকগুলোতে এরূপ অনেক উপদেশ পাওয়া যায়, যা নির্বুদ্ধিতা, কৃপণতা,অলসতা, অহংবোধ , ধূর্ততা ইত্যাদি বর্জনের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া এসব উপদেশ আমাদের অকুশলকর্ম পরিত্যাগ করে কুশলকর্ম সম্পাদনের প্রেরণা যোগায়। নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। হিংসা ত্যাগ করে মেত্রীপরায়ণ হতে শিক্ষা দেয়। তাই শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তুলতে জাতকের উপদেশ অনুসরণ অপরিহার্য । অনুশীলনী শূন্যস্থান পূরণ কর ১, এক জন্মের ......... কেউ বুদ্ধ হতে পারে না । ২১০২৫ | religion |
90 | ৯০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা তখন বোধিসত্ত বললেন, 'এখন আমি খুব ক্লান্ত । আগে ক্লান্তি দূর করি। তারপর বলব।” তখন রাক্ষস তাকে ঘ্নান করতে দিল। খাদ্য ও পানীয় দিল ৷ বসার জন্য বিচিত্র আসন সাজিয়ে তাতে বসতে দিল। বোধিসত্ূত সেই আসনে বসলেন রাক্ষস তার পায়ের কাছে বসল। তখন বোধিসন্ত বললেন, 'শান্ত, সত্যপরায়ণ ও নির্মল অন্তরে যিনি ধর্মকাজ করেন তিনি দেবধর্ম পরায়ণ ৷ মনে পাপ জাগলে যিনি নিজে লজ্জা পান তিনি দেবধর্ম পরায়ণ ।' এই ব্যাখ্যা শুনে রাক্ষস সন্তুষ্ট হয়ে বলল, আপনি পণ্ডিত । আমি আপনার কথায় সন্তুষ্ট হলাম । আমি আপনাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আপনার একজন ভাইকে ফিরিয়ে দিচ্ছি । বলুন, কাকে আনব? বোধিসত্ত বললেন, আমার ছোট ভাইকে । রাক্ষস বলল, আপনি দেবধর্ম জানেন। অথচ সেই অনুসারে কাজ করছেন না। মেজ ভাইয়ের বদলে ছোট ভাইকে চাইছেন কেন? বোধিসত্ত উত্তর দিলেন, আমি দেবধর্ম জানি এবং সেই অনুসারে কাজও করি৷ সবচেয়ে ছোট ভাইটি আমার সৎ ভাই । ওর জন্য আমরা বনবাসী হয়েছি। আমার বিমাতা ওকে রাজা করতে চেয়েছিলেন ৷ কিন্তু পিতা তাতে রাজি হননি । আমাদের ছোট ভাইটিও সব শুনে আমাদের সঙ্গে বনবাসী হয়েছে। আমাদের ফেলে সে একদিনও রাজপুরীতে ফেরার কথা ভাবেনি । এখন ফিরে গিয়ে আমি যদি বলি তাকে রাক্ষস খেয়েছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না। এজন্য আমি তাকে চাইছি। রাক্ষস খুশি হয়ে দুই ভাইকে ফিরিয়ে দিল । তখন বোধিসল্ু রাক্ষসকে বললেন, তুমি অতীত জন্যে পাপ করেছিলে বলে রাক্ষস হয়েছ। এতেও তোমার শিক্ষা হয়নি । এ জন্যেও তুমি পাপ করছ। এর ফলে তুমি মৃত্যুর পর নরকে থাকবে৷ কষ্ট পাবে। সুতরাং এখন থেকে সৎকর্ম কর, সৎপথে চলে এসো ৷ তাহলে তুমি মুক্তি পাবে ৷ এভাবে জলরাক্ষসকে সৎ পথে এনে বোধিসত বনে বাস করতে লাগলেন । তারপর একদিন পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাজ্যে ফিরে গেলেন ৷ তিনি বারানসির রাজা হলেন ৷ চন্দ্রকুমারকে করলেন উপরাজ। সূর্যকুমারকে দিলেন সেনাপতির পদ ৷ রাক্ষসের জন্য সুন্দর ঘর ও সুখের ব্যবস্থা করলেন । এভাবে রাজধর্ম পালন করে তিনি পরলোক গমন করলেন । পুণ্যবলে মৃত্যুর পর তিনি স্বর্গ লাভ করলেন। উপদেশ : ধর্মপথে চললে জয় অনিবার্য । অনুশীলনমূলক কাজ রাজা কেন রানিকে বর দিতে চেয়েছিলেন? বোধিসত্ত রাক্ষসকে সৎপথে আনার জন্য কী বলেছিলেন? পাঠ: ৫ পদ্ম জাতক পুরাকালে বারানসিরাজ ব্রহ্ধদত্তের রাজতৃকালে বোধিসতু এক শ্রেষ্ঠীপুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন । তখন নগরের অভ্যস্তরে একটি সরোবরে পদ্ম ফুটত ৷ এক ব্যক্তি এ সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণ করত । তার নাকটি কাটা ছিল। । গা | religion |
91 | ৭৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা হতো ৷ সজ্তেের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা ও নির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিত। যেমন : কেউ বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম বা সঙ্জের নিন্দা করলে, সন্তেঘর বিধিবিধান ভঙ্গ করলে, বুদ্ধবাণীর ভুল ব্যাখ্যা করলে, সঙ্ছে অসুন্দর আচরণ করলে, ক্রোধোন্মত্ত আলোচনা হলে, ধর্ম-দর্শনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক দেখা দিলে, বুদ্ধবাণীর কোনো বিষয় দুর্বোধ্য হলে ভিক্ষুসঙজ্ঘ সমবেত হয়ে বিষয়সমূহ প্রতিকার বা সমাধানের চেষ্টা করতেন। এক্ষেত্রে কখনো বুদ্ধ, কখনো বা তাঁর নেতৃস্থানীয় শিষ্যগণ যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতেন। ব্রিপিটকে এ সম্পর্কে বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন একদা পরিব্রাজক সুপ্রিয় এবং এক তরুণ বুদ্ধ শিষ্যের মধ্যে বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘ বিষয়ে কথোপকথন হচ্ছিল । একদিকে পরিব্রাজক সুপ্রিয় বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ছের নিন্দা করছিলেন ৷ অপরদিকে তরুণ শিষ্য বুদ্ধের উচ্চ প্রশংসা করছিলেন ৷ এতে ভিক্ষুগণ ইতস্তত বোধ করলে বুদ্ধ এ সম্পর্কে করণীয় ও অকরণীয় বিষয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন, দীর্ঘ নিকায়ের সীলক্খন্ধব্নে যার উল্লেখ পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে দেখা যায়, একদা পরিব্রাজক পোতলিপুত্র নবীন ভিক্ষু সমিদ্ধিকে বুদ্ধবাদী ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন : “বন্ধু সমিদ্ধি ! সাক্ষাৎ শ্রমণ গৌতমকে আমি এরূপ বলতে শুনেছি : কায় কর্ম মিথ্যা (নিষ্ফল), বাককর্ম মিথ্যা, একমাত্র মনোকর্মই সত্য । আর সেই সমাপত্তি আছে যা লাভ করে ধ্যানী কিছুই অনুভব করেন না ।” তখন ভিক্ষু সমিদ্ধি পরিব্রাজক পোতলিপুত্রকে বলেন, “বন্ধু পোতলিপুত্র ! এরূপ বলবেন না, ভগবানের অপবাদ ভালো নয়, ভগবান কখনো এরূপ বলবেন না।” এরূপ বলার পর পরিব্রাজক পোতলিপুত্র চলে গেলে ভিক্ষু সমিদ্ধি বিষয়টি আনন্দ থেরকে জ্ঞাত করেন । আনন্দ থের তা বুদ্ধকে পরিজ্ঞাত করেন! বুদ্ধ বিষয়টি সুস্পষ্ট করার নিমিত্তে উদাহরণ ও অর্থসহকারে কর্মের সূষ্মমাতিসূক্ষ ব্যাখ্যা প্রদান করেন, মহাকম্মবিভঙ্গ সূত্রে যার উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধসঙ্ঘ গঠনের প্রথমদিকে এভাবে ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত প্রদানের মাধ্যমে সমস্যাসমুূহ বুদ্ধ নিজেই সমাধান করতেন। কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বৌদ্ধসঙ্ঘ বিস্তৃতিলাভ করলে তার পক্ষে সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতো না। ইতিহাসপাঠে জানা যায়, বুদ্ধের ধর্মপ্রচার আরম্তভের কয়েক বছরের মধ্যেই প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ বা শহর, যেমন : সারনাথ, রাজগৃহ, বৈশালী, নালন্দা, পাবা, উজ্জয়নী, চম্পা, মধুরা, শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চলে বৌদ্ধসঙ্ঘ গড়ে ওঠে এবং উক্ত স্থানগুলো বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। এসব স্থানে সবসময় বুদ্ধের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব ছিল না বিধায় কেন্দ্রসমূহ বুদ্ধের নেতৃস্থানীয় এক-একজন শিষ্যের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে থাকে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন : আনন্দ, মহাকশ্যপ, মহাকচ্চায়ন, মহাকোট্ঠিত, সারিপুত্র এবং মৌদ্গল্যায়ান ৷ বুদ্ধের অবর্তমানে তারা বুদ্ধের ধর্ম-দর্শনের ব্যাখ্যাসহ সঙ্ঘ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সমস্যার সমাধান দিতেন । নেতৃস্থানীয় শিষ্যগণ বুদ্ধের দেশনাসমূহ ভিক্ষুদের অর্থসহকারে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতেন। নেতৃস্থানীয় শিষ্যদের মধ্যে বুদ্ধ অনেককে তাঁর ধর্মোপদেশ তথা ধর্মদর্শন যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দানে সক্ষম মনে করতেন । এক্ষেত্রে মহাকচ্চায়ন, সারিপুত্র এবং মহাকোট্ঠিত থের ছিলেন অগ্রগণ্য । মহাকচ্চায়ন বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত দেশনাসমূহ প্রাঞ্জল এবং সহজ-সরলভাবে শ্রোতাদের নিকট উপস্থাপন করতে পারদশশী ছিলেন। ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যায় তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন এবং বুদ্ধ মহাকচ্চায়নকে ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যায় সর্বাগ্নে স্থান দিয়েছিলেন। তাছাড়া, কেন্দ্রসমূহে ভিক্ষুদের মধ্যে ধর্ম-দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতো। নেতৃস্থানীয় শিষ্যগণ এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব নির্দেশনা ও ব্যাখ্যাদান করতেন, তা বুদ্ধকে যথাসময়ে ২০২১৩ | religion |
92 | ৮৯ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা এসব উপদেশ “মহাপরিনির্বাণ' সূত্রে পাওয়া যায় । আনন্দ থের অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বুদ্ধের সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তিনি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শূনতেন। সব উপদেশ মনে রাখতেন। তাঁর মৃতিশত্তি ছিল খুবই প্রথর। তিনি বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে হুবহু অন্যকে বলতে পারতেন। এ জন্য তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শুতিধর' ভিক্ষু নামে খ্যাত হন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের অক্সকাল পরেই রাজগৃহের সপ্তপর্ণী গুহায় প্রথম মহাসঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। মহাসজ্গীতিতে একমাত্র অর্হ্ং ভিক্ষুদেরই প্রবেশাধিকার ছিল। তবে বুদ্ধের সেবক ও শ্রুতিধর হিসেবে আনন্দের জন্য একটি আসন সংরক্ষিত ছিল। এ আমন্ত্রণ পেয়ে আনন্দ মহাসজ্গীতির পূর্বরাতে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হলেন। সেই রাতেই তিনি অর্হত্ব ফলে উন্নীত হন। অর্ত্ব লাভ করে তিনি ভিক্ষুদের অনেক উপদেশ প্রদান করেন। নিমে দুটি উপদেশ তুলে ধরা হলো : ১. কর্কশ বাক্যভাষী, ক্রোধী, অহংকারী এবং সংঘতেদকারী ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না, তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত নয়। ২. শ্রদ্ধাবান, শীলবান, জ্ঞানবান ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। তাদের সঙ্গ উত্তম! এদিকে মহাসজ্গীতি উপলক্ষে সম্মেলনকক্ষে সকল অর্্ৎ ভিক্ষু সমবেত হন। শুধু আনদম্দ থের ছিলেন অনুপস্থিত । মহাসজ্গীতি শুরু হলো। হঠাৎ সকলেই দেখলেন আনন্দ তার আসনে বসে আছেন। সকলের মন খুশিতে ভরে উঠল। কথিত আছে, তিনি আকাশপথে এসে তাঁর জন্য রাখা নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেছিলেন। প্রথম মহাসজ্গীতিতে আনন্দ ধর্ম (সুত্র ও অতিধর্ম। আবৃত্তি করেছিলেন। ভতিস্ষুণী সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠায় আনন্দের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মহারাজ শুদ্ধোদনের মৃত্যুর পর মহাপ্রজাপতি গৌতমী বুদ্ধের কাছে গিয়ে প্রব্রজ্যা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু বুদ্ধ প্রথমে এতে সম্মত হননি। পরে আনন্দের প্রবল অনুরোধে নারীদেরও সঙ্জে প্রবেশাধিকার অনুমোদন করেন। সে সময়ে নারীদের তিক্ষুণী পদের মর্যাদা প্রদান করা খুবই কঠিন ছিল। নারীদের গৃহে থাকাই ছিল সামাজিক প্রথা। তাই বলা হয়, মাতৃজাতিকে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিতকরণে আনন্দ থের র ভূমিকা ছিল অপরিসীম। অনুশীলনমুলক কাজ পাঠ: ৪ কৃশা গৌতমী থেরী বুদ্ধের সময়ে কৃশা গৌতমী শ্রাবন্তী নগরের এক গরিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম ছিল গৌতমী। তাঁর দেহ অত্যন্ত কৃশ হওয়ায় তিনি কৃশা গৌতমী নামে অভিহিত হন। তার বিবাহিত জীবনে তিনি সুখ লাভ করতে পারেননি। অনাদর-অবহেলায় কেটেছে তার জীবন। অসময়ে তার স্বামীও মৃত্যুবরণ করেন। লোকে তাঁকে অনাথা বলত। কিন্তু এক পুত্রসন্তান প্রসব করে তিনি সম্মান লাভ করেন। পুত্রটিই ছিল তার একমাত্র আশা-ভরসা। পুত্রটি বড় হয়ে ক্রমে কৈশোরে উত্তীর্ণ হলে হঠাৎ তারও মৃত্যু হয়। পুত্রের মৃত্যুতে তিনি শোকে পাগল হয়ে যান। একমাত্র পুত্রের মৃত্যু তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। সকলের কাছে মৃত সন্তানকে বাচানোর জন্য গঁষধ ভিক্ষা চাইলেন। গঁষধ কেউ দিতে পারলেন না। বরং নগরবাসী কেউ কেউ তাঁকে পাগল বলে ভর্না করলেন। কৃশা গৌতমী কারো কথাতেই ভ্রক্ষেপ করলেন না। সন্তানকে এ, বাচানোর আশায় তিনি ছুটে চললেন প্রত্যেকের দুয়ারে দুয়ারে । অবশেষে এক মহৎ ব্যক্তি তাকে তথাগত বুদ্ধের $ | religion |
93 | বৌদ্ধ তীর্থস্থান ১২৩ ডান পাশ থেকে শব্দ বা বাক্যাংশ নিয়ে বাম পাশের সাথে মিল করো । ২. বদ মাপার সাও করন ৩. তৎসম অত ৪. তান পরি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন ১. তীর্থস্থান সমুহের ধর্মীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ২. লুদ্বিনী কাননে সিদ্ধার্থের জন্মকাহিনী বর্ণনা করো । ৩. বোধিপালঙ্ক কী? ৪. বুদ্ধের পঞ্চবগীয় শিষ্য কারা? তারা কেন বিখ্যাত? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. বৌদ্ধ তীর্থস্থান সমূহের এঁতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ২. বৌদ্ধধর্মে কুশীনগরের গুরুত্ব সম্পর্কে যা জানো লেখ । ২১০২৫ | religion |
94 | ১৪৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ভিক্ষুদের সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম : তথাগত বুদ্ধ বৌদ্ধসজঙ্ঘের স্থায়িত্ব বিধানের জন্য সাতটি অপরিহার্য ধর্ম দেশনা করেন, যা মহাপরিনির্বাণ সূত্রে সংকলিত হয়েছে। ভিক্ষুসজ্ঘের ভবিষ্যৎ কল্যাণার্থে বুদ্ধ এ- অনুশাসনসমূহ দেশনা করেন এবং বলেন যে, এগুলো পালন করলে তাঁদের কখনোই পরাজয় হবে না। ভিক্ষুদের সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্মসমূহ নিম্নরূপ : ১. ভিক্ষুগণ একত্রে সম্মিলিত হবেন । ২. ভিক্ষুগণ একতাবদ্ধ থেকে একসঙ্গে সঙ্ঘ-কর্তব্য সম্পাদন করবেন । ৩. ভিক্ষুগণ নির্দেশিত শিক্ষাপদসমূহ পালন করবেন। ৪. ভিক্ষুগণ বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষুদের সম্মান, পূজা ও সেবা করবেন। ৫. ভিক্ষুগণ পুনর্জন্মের কারণ তৃষ্ণার বশবত্তী হবেন না। ৬. ভিস্ষুগণ অরণ্যে বা একান্তে নির্বাণ সাধনায় মনোনিবেশ করবেন । ৭. ভিক্ষুগণ অনাগত ও আগত ভিক্ষু-শ্রমণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করবেন। এভাবেই বুদ্ধ তার অবর্তমানে গৃহী ও ভিক্ষু-খ্রমণদের কল্যাণার্থে এবং সদ্ধর্মের অনুশীলন অব্যাহত রাখার জন্য অবশ্য পালনীয় নীতিমালা ও অনুশাসনসমুূহ দেশনা করেছেন। অনুশীলনমূলক কাজ সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্মের সুফল সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ রচনা লেখ। অনুশীলনী ১. শূন্যস্থান পূরণ কর ক) দুঃখীর দুঃখে ব্যথিত হয়ে “দুঃখ মুক্তি' কামনা করাকে ---- ভাবনা বলে । খ) নেশাখ্রহণের ফলে ---- বিষময় ফল ভোগ করতে হয়। গ) পাপ কর্মে মিথ্যা ---- আরোপিত হয় । ঘ) ওঙগুরুকেও শিষ্যের প্রতি--------- প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয় । ঙ) নিজেই নিজের------- হয়ে বিচরণ করো । ২. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ক) বর্তমান প্রত্যবেক্ষণ কী ব্যাখ্যা কর। খ) ভিক্ষু ও শ্রমণের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর। গ) মিত্রের লক্ষণ কী? ঘ) পরিবারের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ বর্ণনা কর। | religion |
95 | ৫৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১. মার্গ শব্দের অর্থ কী? ক. লক্ষ্য খ. উদ্দেশ্য গ. ধ্যান ঘ. পথ আর্য অফ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলন করার অন্যতম কারণ কোনটি ? ক. ধন সম্পদ অর্জন খ. বিলাস জীবন যাপন গ. পার্থিব সুখ লাভ ঘ. নৈতিক জীবন গঠন নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও- কৌশিক বড়ুয়াকে ধীর ও মিতভাষী হওয়ার কারণে সহপাঠীদের কাছ থেকে প্রায়ই বিভিন্ন কটুক্তি শুনতে হতো। তারপরেও সহপাঠীদের প্রতি সে মৈত্রীভাব পোষণ করত । বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষায় সে প্রথম স্থান লাভ করে এবং শৃঙ্খলার জন্য সে সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়৷ ৩. কৌশিকের আচরণে আর্য অফ্টাঙ্গিক মার্গের কোন পথটিকে নির্দেশ করে? ক. সম্যক দৃষ্টি খ. সম্যক সংকল্প গ. সম্যক কর্ম ঘ. সম্যক স্মৃতি ৪. উক্ত কর্মের ফলে কৌশিক অর্জন করতে পারে - 1. জ্ঞান মার্গ 1. কুশলকর্ম নির্ণয় |. ভ্রান্ত ধারণা নিরসন । নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1 খ. 11 গ. 1ও11 ঘ. 1,11 ও !11 ২০২৫ | religion |
96 | অধ্যায়! শিরোম | পা লং নলমল ০ পপ ঁল্পা তা ৮২-৯২ বাছলাদেশের বৌদ্ধ রা, ও ৯৩-১০৩ দর্শনীয় স্থান একাদশ রাজন্যবর্গের ১০৪--১০৮ অবদান : রাজা বিদ্বিসার | religion |
97 | ৮৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা অট্ঠকথায় ত্রিপিটকের পরে রচিত অনেক গ্রন্থের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে পালি সাহিত্যভাণ্ডারে এ্রন্থসমূহের রচনাকাল সম্পর্কে যে বিতর্ক লক্ষ করা যায়, তা অট্ঠকথার সাহায্যে সমাধান করা যায়। অট্ঠকথা পাঠ করে বুদ্ধের সময়কাল থেকে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত প্রাচীন ভারত এবং শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এর সাহায্যে প্রাচীন রাজন্যবর্গের রাজত্ববকাল এবং জীবন-দর্শন নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক বা সমস্যা সমাধান করা যায়। অট্ঠকথার পরবর্তীকালে বুদ্ধের জীবন-চরিত, ধর্ম-দর্শন, বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার এবং বৌদ্ধ সঙ্ঘের ইতিহাস নিয়ে পালি ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। অট্ঠকথার সাহায্যে সেসব গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যের এঁতিহাসিকত্বব নির্ণয় করা যায়। বাক্যাংশের উদ্ধৃতি দেওয়া আধুনিক অভিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অট্ঠকথায় উদ্ধৃতিসহ প্রচুর শব্দার্থ পাওয়া যায়৷ অট্ঠকথার শঙব্দার্থের সাহায্যে আধুনিক অভিধান রচনা করা সম্ভব । অট্ঠকথা সাহিত্য পালি ভাষায় রচিত । পালি এক ধরনের প্রাকৃত, যা মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা হতে উদ্ভূত ৷ ত্রিপিটক রচনার মধ্য দিয়ে পালি ভাষা সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। পালি ভাষা দু'হাজারেরও অধিক বছরের ইতিহাস ধারণ করে আছে। অটূঠকথায় সমৃদ্ধ ভাষাশৈলী ব্যবহৃত হয়েছে। অট্ঠকথা সাহিত্যের ভাষাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে ভাষাতাত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্যান্য পালি সাহিত্যের ভাষা ও রচনাশৈলীর প্রকৃতি ও স্বরূপ নির্ধারণ করা যায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে পালি ভাষার বিবর্তনের ইতিহাসও জানা সম্ভব। এ-কারণে বলা যায়, ভাষাতাত্ত্তিক গবেষণায় অট্ঠকথার সাহিত্যের গুরুত্ব সমধিক ৷ অট্ঠকথা সাহিত্যে বুদ্ধের সময় প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় সংজ্ঘ ও ধর্মমত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা বুদ্ধের সময়কালে প্রচলিত ধর্মমতের স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। অট্ঠকথা সাহিত্যে প্রাচীন ভারতের নৃতাত্ত্বিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষত লোককাহিনীর সাহায্যে শাক্য, কোলীয়, মনল্ল, লিচ্ছবি প্রভৃতি জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা খুবই চিত্তাকর্ষক । অট্ঠকথা সাহিত্যে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রাচীনকালের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনায় খুবই প্রয়োজনীয় । প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ধর্ম-দর্শন, সমাজ, সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম । অনুশীলনমূলক কাজ অট্ঠকথাকে কেন প্রাচীন ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়? অট্ঠকথায় কোন কোন দেশের তথ্য পাওয়া যায়? প্রাচীনকালে গ্রাম ও রাস্তাঘাটের নামকরণ কীভাবে করা হতো? ২০২৫ | religion |
98 | সৃজনশীল প্রশ্ন ১। ১৫ দিনে অর্হত্বে উন্নীত পবিত্র দেহ ধাতু হ্ন। বেনুবন বিহারে ? ০৬ ৬০০০০৭, ? ত্রিভুবন ঘুরে ঘুরে ধর্ম চু ১০১%১৯০৯। চু মাত ক. শীলভদ্রের জন্মু কত খ্রিষ্টাব্দে ? খ. পূর্ণিকাকে কেন দাসীকর্ম থেকে মুক্তি দেওয়া হলো? গ. ছক-১ এ বর্ণিত বিষয়াবলির সাথে বুদ্ধের কোন শিষ্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক হিসেবে ছক-২-এ বর্ণিত ব্যক্তি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে যে অবদান রাখেন তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর । ২। ঘটনা-১ রুপেন বড়ুয়া শৈশব থেকেই জ্ঞানার্জনের জন্য আগ্রহী ছিলেন৷ বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হলে তার নাম রাখা হয় ধর্মমিত্র। তিনি গভীর সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞানের বহু বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এছাড়াও শাস্ত্রের দুরূহ তত্ত্বের সরল ব্যাখ্যা প্রদানে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সকলে তাকে সমদ্ধর্মের ভাণ্ডার বলে সম্ভাষণ করেন। ঘটনা-২ বৃত্তা বড়ুয়া প্রতিদিন বিহারে গিয়ে ব্রিরত্নের সেবা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। পরিণত বয়সে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । বিবাহের পর তার পিতার দেয়া উপদেশ সাংসারিক জীবনে প্রতিফলিত করেন। শ্রাবস্তীর বর্তমান নাম কী? খ. মৌদ্গল্যায়নকে কেন কালশৈল পর্বতে ঘাতক কর্তৃক আক্রান্ত হতে হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর। গ. খঘটনা-১- এ বর্ণিত কাহিনীটি চরিতমালার কোন চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ঘটনা-২- এ বর্ণিত বৃত্তা বড়ুয়ার কর্মকাণ্ডের প্রভাবে জন্ম-জন্যান্তরে সুগতি লাভ হবে- একথার সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি প্রদর্শন কর। ফর্মা - ১৮, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি | religion |
99 | ৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নগরভ্রমণে বেরিয়ে সিদ্ধার্থ জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও সন্ন্যাসী দেখে মানব জীবনের পরিণতি সম্যকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন । একেই সিদ্ধার্থের চারি নিমিত্ত দর্শন বলা হয়ে থাকে। চার নিমিত্ত দর্শনের পরে সিদ্ধার্থ গৌতমের মনে শাস্তি নেই ৷ সব সময়ই তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। এঁ তরুণ সন্ন্যাসীর গভীর ধ্যানমগ্ন দৃশ্যটি গৌতমের মনে দাগ কেটেছিল ৷ তিনিও দুঃখমুক্তির সন্ধানে গৃহত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন । গৃহত্যাগের আগে তিনি পিতার অনুমতি নেওয়ার কথা ভাবলেন। পিতার নিক্ট গিয়ে তিনি তাঁর সংকলক্পের কথা জানালেন । পুত্রের কথা শুনে রাজা যেন বল্াহত হলেন ৷ অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে প্রাণাধিক পুত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি শাক্যরাজ্যের রাজপুত্র, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, তোমার কিসের অভাব যার জন্যে তুমি সংসার ত্যাগ করতে চাও? সিদ্ধার্থ উত্তরে বললেন, চারটি বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারলে আমি সংসার ত্যাগ করব না। এ চারটি বিষয়- ২০২৫ | religion |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.