Dataset Viewer
Auto-converted to Parquet Duplicate
id
int64
0
8.65k
text
stringlengths
54
4.42k
label
stringclasses
8 values
0
জাতক ১২১ ৪। সীমান্ত বড়ুয়ার উপদেশ পালনে কর্মচারীদের জীবন হতে পারে - 1. সুখকর ॥1. শান্তিপূর্ণ 11. মঙ্গলময় নিচের কোনটি সঠিক? ক. !ও]1 খ. 1! ও1!1 গ. 1ও11 ঘ. 1,11ও 1 সৃজনশীল প্রশ্ন ১। সৌরভ চাকমা বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা ও সোবগুশ্রযা করতেন। বন থেকে কাঠ কেটে এনে বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। একদিন বাবা বললেন, “লোভের বশবর্তাঁ হয়ে তুমি গভীর বনে যাবে না, সেখানে গেলে কেউ জীবন নিয়ে ফিরে আসে না।” তবুও প্রচুর কাঠ সংগ্রহের আশায় সে গভীর বনে প্রবেশ করলে বিষধর সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ক. জাতক কী? খ. রাজা বত্রশ্মদত্ত সমস্ত বন্দিকে মুক্তি দেন কেন? গ. সৌরভ চাকমার সাথে জাতকে কার চরিত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ব্যাখ্যা কর। ঘ. সৌরভের বাবার উপদেশ যুক্তিসংগত, কথাটি জাতকের উপদেশের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ২। পুরাকালে বারানসিরাজ ব্রম্মদত্তের সময় বোধিসন্ত্ব বণিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। হঠাৎ বণিকের মৃত্যু হওয়াতে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে ৷ মৃত্যুর পর বোধিসত্ত্ব সুবর্ণ হংস হয়ে জন্ম নেন।৷ বোধিসত্ব তাঁর পূর্ব জন্মের পরিবারের অসহায়ত্ত্বের কথা জানতে পেরে একটি করে সোনার পালক বণিকের স্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেন, বণিকের স্ত্রী তা বিক্রি করে সংসার চালাত ৷ কিন্তু স্ত্রী ছিল লোভী ৷ একসাথে সব পালক নিতে গিয়ে সুবর্ণ হংসকে মেরে ফেলল ৷ তখন সে হায়! হায়! করতে লাগল। ক. সুখ বিহারী জাতকের উপদেশ কী? খ. জাতকের পঠন-পাঠন আবশ্যক কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. বণিকের স্ত্রীর সাথে জাতকে কার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায় - ব্যাখ্যা কর। ছ্ “বণিকের স্ত্রীর শেষ পরিণতি জাতকের সেরিবা ফেরিওয়ালার সাথে সম্পৃক্ত” - এ কথাটির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও । ফর্না - ১৬, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি
religion
1
২০২৫ তৃতীয় অধ্যায় না 'শীল' নৈতিক জীবন গঠনের দিক নির্দেশনা । শীল পালন বৌদ্ধদের অপরিহার্য নিত্যকর্ম ৷ গৃহে কিংবা বিহারে যে কোনো আচার-অনুষ্ঠানের প্রারস্বকে শীল গ্রহণ করা হয়। কারণ, শীল সকল কুশলকর্মের উৎস। বৌদ্ধরা বিভিন্ন রকম শীল পালন করেন। যেমন : গৃহীরা পঞ্চশীল ও অস্টশীল, শ্রমণরা দশশীল এবং ভিক্ষুগণ ২২৭টি শীল পালন করেন । এ অধ্যায়ে আমরা অফ্টশীল সম্পর্কে পড়ব । এ অধ্যায় শেষে আমরা - * অফ্টশীল বর্ণনা করতে পারব। * অফ্টশীল পালনের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব। * অফ্টশীল গ্রহণকারীর করণীয় বর্ণনা করতে পারব। * বাংলা অর্থসহ অফ্টশীল বলতে পারব । * অফ্টশীল অনুশীলনের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার উপায়সমূহ চিহ্নিত করতে পারব। +* অফ্টশীল প্রার্থনার প্রক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারব ৷ পাঠ: ১ অফ্টশীল পরিচিতি পূর্বে আমরা পঞ্চশীল সম্পর্কে জেনেছি। আজ অফ্টশীল সম্পর্কে জানব। অফ্টশীল পঞ্চশীলের উচ্চতর স্তর । প্রতিদিন পঞ্চশীল পালন করা যায়৷ অফ্টশীলও প্রতিদিন পালন করা যায়। তবে, গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে অফ্ষশীল পালন করে। বুদ্ধ ধর্মময় উন্নত জীবন গঠনের জন্য অফ্শীলের প্রবর্তন করেছেন। অফ্টশীল পালনকারীকে উপবাস্ৰরত পালন করতে হয়। তাই অফ্টশীলকে উপোসথ শীলও বলা হয়। অফ্টশীল গ্রহণকারীকে উপোসথিক বলে। 'উপোসথ' শব্দটি উপবাস বা উপবাসক শব্দ হতে গৃহীত ৷ কিন্তু বৌদ্ধমতে, উপোসথ অর্থ কেবল উপবাস করা নয়। উপোসথ গ্রহণকারীকে ধ্যান-সমাথি চর্চা করতে হয়। ধর্মালোচনা শ্রবণ করতে হয়। ধর্মীয় বিষয় অধ্যয়ন করতে হয়। কুশল ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে হয়। লোভ-দ্বেষ-মোহ ও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে ব্রশ্মচর্য পালন করতে হয়৷ 'অফ্ট* শব্দের অর্থ আট ৷ আটটি শীল পালন করতে হয় বলে একে অফ্টশীল বলা হয়৷
religion
2
১৮ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা করছিলেন। এঁদিন তিনি উপস্থিত ভিক্ষুসজ্ঘ, দেবতা ও মানুষের সামনে ঘোষণা দিলেন, পরবর্তী বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি আয়ু সংস্কার ত্যাগ করবেন । জগতের আলো গৌতম বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করবেন। অতঃপর তিন মাস অতিক্রান্ত হয়ে বৈশাখী পূর্ণিমার প্রাক্কালে তিনি ভিক্ষুসঙ্সহ কুশীনগরে উপস্থিত হলেন । কুশীনগরের পাবা নামক স্থানে এসে তিনি স্বর্ণকারপুত্র চুন্দের আতিথ্য গ্রহণ করলেন। আহার শেষে তিনি অসুস্থ বোধ করলেন । পাবা থেকে ফিরে বুদ্ধ ম্পদের শালবনে যমক (জোড়া) শালগাছের নিচে বিশ্রামের জন্য শয়ন করলেন। আকাশে তখন বৈশাখী পূর্ণিমার টাদ। বুদ্ধের সেবক প্রিয় শিষ্য আনন্দ ও অন্য ভিক্ষুরা বুদ্ধের চারপাশে উপবিষ্ট ৷ বুদ্ধের অন্তিম সময়ে আনন্দ অত্যন্ত অধীর হয়ে পড়লেন। আনন্দের উদ্দেশে বুদ্ধ বললেন, “আনন্দ ! অত্তদীপা বিহরথ, অত্তসরণা অঞ্ঞসরণা, ধন্মদীপা বিহরথ ধন্মসরণা অঞ্ঞসরণা ৷” অর্থাৎ হে আনন্দ নিজেই নিজের দীপ হয়ে বিচরণ করো, আত্ম শরণই অনন্য শরণ, ধর্মদীপ হয়ে বিচরণ করো। ধর্মের শরণই অনন্য শরণ । তিনি আরও বললেন ,'হে আনন্দ ! আমার অবর্তমানে তোমাদের এরূপ মনে হতে পারে, শাস্তার উপদেশ শেষ হয়েছে, আমাদের আর শাস্তা নেই । আনন্দ ! তোমরা এরূপ মনে করবে না। আনন্দ ! মহৎ কর্তৃক যে ধর্ম-বিনয় দেশিত ও প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছে সেই ধর্ম-বিনয় আমার অবর্তমানে তোমাদের শাস্তা।' অতঃপর, শেষক্ষণে তিনি 'সুভদ্র_কে দীক্ষা দেন। বুদ্ধ শেষবারের মতো উপস্থিত সম্পর্কে কারো কোনো সংশয় আছে কি না। সমবেত ভিক্ষুগণ মৌন রইলেন । এসময় তিনি তার শেষ উপদেশবাণী প্রদান করলেন, “হে ভিক্ষুগণ! সংস্কারসমূহ ব্যয় ধর্মশীল (ক্ষয়শীল)। অপ্রমাদের দাথে নিজ নিজ কর্তব্যপালনে তৎপর হও।” বুদ্ধের শেষ বাণীসমূহ 'মহাপরিনির্বাণ সুত্রে” বর্ণিত হয়েছে। শেষ বাণী উচ্চারণের সাথে সাথে বুদ্ধ ধ্যানে নিমগ্ন হলেন। একটির পর একটি ধ্যানের স্তর অতিক্রম করে তিনি নিরোধ সমাধি মগ্ন হলেন এবং রাত্রির তৃতীয় যামে পরম সুখময় মহাপরিনির্বাণি লাভ করলেন। তখন তার বয়স হয়েছিল আশি বছর । ২ ্্ 6 4 ৭ ১ র্‌ ২০২৫
religion
3
১৩২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা করতে চাই ৷ উত্তরে বুদ্ধ বলেছিলেন, দানে দ্রব্য সম্তারের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ নয়। চিত্তের একাগ্রতা ও শ্রদ্ধা ভক্তিই হলো মূল । পরিবর্তীতে বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার, বুদ্ধ ও ভিক্ষুসজ্ঘের সেবা, সুশাসন এবং মহতী দানকর্মের জন্য রাজা প্রসেনজিত এবং রানি মন্ললিকাদেবী বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। অনুশীলনমূলক কাজ বিডুঢ়ভ কেন শাক্যদের নিধন করেছিলেন? কোন কোন রাজা বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন? রাজা প্রসেনজিত ও রাজা বিদ্বিসারের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল? পাঠ: ৪ পূর্ণিকা থেরী এই নারী জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য সঞ্চয়পূর্বক বিপস্সি বুদ্ধের সময় এক সম্ভ্রান্ত বাংশে জন্মগ্রহণ করেন। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে পুনর্জন্মের সম্ভাবনা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে । তিনি ভিক্ষুণীদের নিকট গিয়ে ধর্ম শ্রবণ করে সঙ্জে প্রবেশ করেন। তিনি সম্যকরূপে শীল পালনপূর্বক ভিক্ষুণী জীবন পালন করতে থাকেন। তিনি একাগ্রতা সহকারে ত্রিপিটক অধ্যয়নপূর্বক তাতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। কিন্তু অভিমানজনিত কর্মফলে তিনি গৌতম বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে অনাথপিন্তিকের গৃহের কৃতদাসের কন্যারূপে জন্যগ্রহণ করেন। তখন তার নাম হয় পূর্ণিকা। কথিত আছে যে, তাঁর জন্মের পর সেই গৃহে সন্তান সংখ্যা একশত পূর্ণ হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় পূর্ণা বা পুর্ণিকা। বুদ্ধের সিংহনাদ নামে খ্যাত উপদেশ শ্রবণ করে তিনি স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন। তিনি উদকণুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা স্বমতে আনতে সমর্থ হন! এতে প্রভু তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সঙ্ঘে প্রবেশ করে অর্ত্ব ফল লাভ করেন। ঘটনাটি এরুূপ- দাসী জীবনে ভোর বেলা নদী থেকে জল আহরণ করা ছিল পূর্ণিকার নিত্যকর্ম ৷ প্রভুর দণ্ড ও কটুবাক্যের ভয়ে তিনি শীতের ভোরেও নদীতে নেমে জল আহরণ করতেন। তিনি যে নদীতে জল আনতে যেতেন, সে নদীতে হাড়কাপানো শীতের ভোরে পাপমুক্ত হওয়ার জন্য এক উদকষুদ্ধি ব্রাহ্মণ স্নান করতেন। উদকণুদ্ধি হলো জলে ভিজে জীবন সুদ্ধ করার ব্রত। একদিন ভয়ে শীতের ভোরে নদীতে নেমে জল আহরণ করি । আপনি কিসের ভয়ে হাড় কাপানো শীতের ভোরে স্নান করছেন?” উত্তরে তিনি বললেন, “পুূর্ণিকা ! আমি পাপকর্মের ফল ধৌত করার ব্রভ পালন করছি। বার্ধক্য বা যৌবনে যে পাপ কর্ম করে, সে স্নানশুদ্ধি দ্বারা এ পাপ হতে মুভ্ত হয়।”
religion
4
বৌদ্ধধর্মে রাজন্যবর্গের অবদান : রাজা বিদ্বিসার ১০৫ রাজা বিদ্বিসার সুশাসক ছিলেন ৷ তিনি ন্যায়ের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন ৷ প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন । সব সময় প্রজাদের মজ্জালের কথা চিন্তা করতেন ৷ বিশ্বিসারের জীবিতকালেই তার পুত্র অজাতশত্রু রাজা হন ৷ পরে দেবদন্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু পিতবিরোধী হয়ে ওঠেন । একসময় তিনি পিতাকে কারারুদ্ধ করেন । তাঁকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেন বিদ্বিসার কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন৷ তখন তার বয়স হয়েছিল পয়যট্রি বছর ৷ রাজা বিদ্বিসার অন্য রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে অত্যস্ত আগ্রহী ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় রাজা ও ক এগিয়ে এসেছিলেন ৷ গাল্ধারের রাজা পুক্কুরসাতি তার কাছে দূত ৷ অবস্তীরাজ ক একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক ৷ রাজা বিদ্বিসারের রাজ্যে জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম উভয়েই সমসাময়িককালে বিকাশ লাভ করেছিল ৷ মহাবীর জৈন, গৌতমবুদ্ধ এবং রাজা বিদ্বিসার প্রায় সমকালীন ব্যক্তিত্ব ৷ রাজা বিদ্বিসার বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেও জৈনধর্মসহ সে সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন । তিনি নিয়মিত রাজ্য পরিদর্শন করতেন ৷ গ্রামের শাসক গ্রামিকদের সাথে তিনি সব সময় মতবিনিময় করতেন ৷ কথিত আছে, তিনি আশি হাজার গ্রামিকের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য পরিচালনা করতেন ৷ রাজ্ঞ্যের রাস্তা ঘাট ও বীধ নির্মাণ এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরিতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন ৷ পাঠ: ২ বলা লও বিদ্বিসারের জীবনকাহিনি লেখো । বুদ্ধ ও রাজা বিদ্বিসার বুদ্ধত্ব লাভের আগেই রাজা বিদ্বিসারের সাথে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয় ৷ তিনি রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বোধিজ্ঞান লাভের জন্য উপযুক্ত গুরুর সম্ধান করছিলেন ৷ রাজপ্রাসাদ ছেড়ে প্রথমে তিনি অনুপ্রিয় নামক আমবাগানে পৌঁছান । সেখানে তিনি মস্তক মুপ্তন করেন । তারপর কাষায় বস্ত্র পরিধান করে সন্ন্যাস ব্রত ধারণ করেন । এ সময় তিনি ভিক্ষান্নে জীবন ধারণের সিদ্ধান্ত নেন । পায়ে হেঁটে তিনি এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যেতেন ৷ এভাবে তিনি বৈশালী থেকে রাজগৃহে পৌছান ৷ উপযুক্ত গুরুর সন্ধান ও ভিক্ষান্ন সংগ্রহই ছিল তার লক্ষ্য ৷ সৌম্য-শাস্ত অপূর্ব সুন্দর এক যুবক ভিক্ষা করছেন ৷ রাজগৃহের নগররক্ষীরা তাকে দেখে অবাক হন । এ খবর তারা পৌছে দেন রাজা বিদ্বিসারের কাছে ৷ রাজ প্রাসাদ থেকেই রাজা বিদ্বিসার তাকে দেখতে পান। রাজা নিজে এসে তার সাথে দেখা করে ভিক্ষা করার কারণ জানতে চাইলেন । রাজা তাঁকে এই কঠিন ব্রত ছেড়ে রাজসুখ ভোগ করার আহ্বান জানান ৷ সেনাপতির পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন । তখন সিদ্ধার্থ রাজা বিদ্বিসারকে বলেন, 'মহারাজ! আমি সুখপ্রার্থী নই ৷ আমি কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্ধোদনের পুত্র ৷ বুদ্ধত্ব লাভের আশায় আমি সবকিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসৰত গ্রহণ করেছি ।' রাজা বলেন, 'বৎস! আপনার পিতা আমার পরম মিত্র । আপনার উদ্দেশ্য জেনে আমি খুব খুশি হয়েছি । যদি আপনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন,আমাকে একবার দর্শন দেবেন । আমি আপনার সেবা করব , আপনাকে বন্দনা করব ।" রাজা বিদ্বিসারের কথায় সিদ্ধার্থ সম্মতি প্রদান করে সেখান থেকে বের হয়ে যান । রাজা বিদ্বিসারের সঙ্গে বুদ্ধের আবার দেখা হয় বুদ্ধত্ব লাভের পর ৷ তখন বুদ্ধ রাজগৃহের লট্ঠি বন উদ্যানে বসবাস করছিলেন । তার দুই বছর আগেই তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন । লোকমুখে তার যশ-খ্যাতির কথা শুনে রাজা বিদ্বিসার তার সাথে দেখা করেন । বিশ্বিসার ভগবান বুদ্ধের কাছে নতুন ধর্মের বাণী শোনার প্রার্থনা করেন । বুদ্ধ তাকে দান, শীল ও স্বর্গ সম্বন্ধে সরলভাবে ধর্মোপদেশ দান করেন ৷ তারপর, চতুরার্য সত্য, আর্য অফ্টাঙ্গিক মার্গ সম্পর্কে উপদেশ দেন । বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা-৬ষ্ঠ, ফর্মা নং-১৪
religion
5
সঙ্গীতি ৯৯ নেতৃস্থানীয় বিনয়ী ভিক্ষুরা বুদ্ধশাসনের পরিহানির কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন । তাঁদের ধারণা, বুদ্ধের মৃতদেহ বর্তমান থাকতেই যদি এরূপ চিন্তা-চেতনার সূত্রপাত হয় তাহলে অচিরেই ভিক্ষুসজ্ঘ বিনয়চ্যুত হয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে ৷ বুদ্ধবাণী কলুষিত হবে। বিস্মৃত হয়ে হারিয়ে যাবে। ফলে বুদ্ধশাসন পরিহানির সম্মুখীন হবে৷ এরূপ চিত্তা করে ধর্ম-বিনয়ে শ্রদ্ধাশীল ভিক্ষুগণ বিভিন্ন বুদ্ধশিষ্য কর্তৃক স্মৃতিতে ধারণকৃত বুদ্ধবাণীসমূহ একত্রে সংকলন করে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। অতপর, বুদ্ধবাণী সংকলন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজগৃহের সপ্তপণী গুহায় প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়৷ দ্বিতীয় সঙ্গীতির ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছর পর বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুগণ সঙ্জে বিনয় বহির্ভূত দশটি বিধিবিধান চালু করেন। এ দশটি বিধি-বিধানকে 'দসবখুনী' বলা হয়। দ্বিতীয় সঙ্গীতি অধ্যায়ে আমরা দশবৎথুনী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ব। বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুদের প্রবর্তিত দসবখুণী বিনয় সম্মত কিনা, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে বৈশালীর বালুকারামে দ্বিতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করা হয়েছিল । তৃতীয় সঙ্গীতির ইতিহাস সমীক্ষায় দেখা যায়, সম্রাট অশোকের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধধর্ম ভারতবর্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করে৷ তখন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের লাভ-সৎকার বেড়ে যায় এবং তারা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন। ফলে অন্যান্য ধর্মের বহু তীর্থিক বা সন্ন্যাসী লাভ-সৎকারের আশায় মস্তক মুপণ্ডন এবং পাত্র-টীবর ধারণ করে ভিক্ষু বলে পরিচয় দিতে থাকেন । তাঁরা অসদুপায় অবলম্বনপূর্বক বিহার ও মন্দির দখল করে বসবাস করতে থাকেন । তারা ধর্মকে অধর্ম, অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করতে থাকেন। এতে সঙ্ছে যেমন অরাজকতা দেখা দেয়, তেমনি প্রকৃত বুদ্ধবাণী নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়। প্রকৃত বুদ্ধবাণী নির্ধারণ এবং সঙ্ছে বিরাজমান অরাজকতা বিদূরিত করার উদ্দেশ্যে পাটলীপুত্রের অশোকারাম বিহারে তৃতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করা হয়েছিল । চতুর্থ সঙ্গীতির ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, সম্রাট অশোক-পুত্র মহেন্দ্র থের ও কন্যা সঙ্ঘমিত্রার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় বুদ্ধশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভারতীয় তামিলরা শ্রীলঙ্কা দখল করে শাসন করতে থাকে৷ তারা বৌদ্ধ বিহার ও সংস্কৃতি ধ্বংল করতে থাকে। তাদের সঙ্গে সিংহলিদের সবসময় যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকত। অবশেষে সিংহলিদের সহায়তায় রাজা বট্টগামণী তামিলদের বিতাড়িত করে শ্রীলঙ্কার রাজ্যভার গ্রহণ করেন। রাজা বট্টগামণীর সুশাসনে শাস্তি ফিরে আসতে থাকে এবং বৌদ্ধধর্ম নতুন আলোকে উদ্তাসিত হতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকার কারণে সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যুদ্ধবিগ্রহ ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষের মধ্যে ভোগবাদী মনোভাব সৃষ্টি হতে থাকে এবং মানুষ নীতিজ্ঞান হারাতে থাকে। বারবার বিদেশী আক্রমণে বৌদ্ধধর্ম পরিহানির সম্মুখীন হতে থাকে। তা ছাড়া মহাবিহার ও অভয়গিরি নিকায়ের দ্বন্দ্বের কারণে সঙ্ছে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। সঙ্ছে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অধার্মিক ভিক্ষুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে৷ বছ অর্হ€ং ভিক্ষু থাকলেও স্মৃতিতে ত্রিপিটক ধারণ করে রাখা ভিক্ষু সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে৷ এসব কারণে মৌখিকভাবে প্রচলিত বুদ্ধবাণীর বিকৃতি ও পরিহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। অতঃপর রাজা বট্টগামণীর পৃষ্ঠপোষকতায় অট্ঠকথাসহ সমস্ত বুদ্ধবাণী তথা ত্রিপিটক লিপিবদ্ধ করে চিরস্থায়িত্ব দানের উদ্দেশ্যে সিংহলের আলু বিহারে (মতান্তরে আলোক বিহার) চতুর্থ সঙ্গীতি আহ্বান ঁ করা হয়েছিল। আলু বিহারে এই সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে এ সঙ্গীতিকে আলুবিহার সঙ্গীতিও বলে ।
religion
6
১১৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৬৮ রাজা জনবম এক সাহসী ও নির্দয় শাসক ছিলেন ৷ তিনি নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে এবং নতুন রাজ্য জয় করতে গিয়ে সেখানে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন। অবসরে তিনি যখন সেই হত্যাকান্ডের কথা ভাবতে লাগলেন ঠিক তখনই এক সন্ন্যাসীকে দেখে তার সাথে কথা বললেন। সন্ন্যাসীর কথা শুনে রাজার মধ্যে ধর্মের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হলো। অতঃপর ধর্মীয় বাণী প্রচারের জন্য তিনি রাজ্যের সর্বত্র উক্ত বাণী লিখে প্রজাদের মধ্যে ধর্ম চেতনা উৎপন্ন করলেন। এর পর থেকে রাজা জনবম রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচারের প্রতি বেশি মনোযোগী হলেন এবং মনে করলেন রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচার অতি শ্রেষ্ঠ কর্ম ক, মগধ বর্তমানে ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত? খ. 'অপ্রমাদ অমৃত লাভের পথ আর প্রমাদ মৃত্যুর পথ' ব্যাখ্যা কর। উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা জনবমের কর্মকাণ্ডে বৌদ্ধধর্মের কোন রাজার সঙ্গে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ছঘ. 'রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্ম প্রচার অতি শ্রেষ্ঠ কর্ম'-রাজা জনবমের বনক্তুব্যটির সঙ্গে তুমি কী একমত ?! পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ২. বিনয় বড়ুয়া নিজ অর্থ ব্যয়ে অনাথ-অসহায়দের ভরণ-পোষণ ও ধর্ম শিক্ষার জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন৷ বিনামূল্যে ও বিনা পরিশ্রমে আহার এবং অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য অনেক ভষ্ড ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে আশ্রমে যোগ দিলেন। একপর্যায়ে ভণ্ড ব্যক্তিরা অনাথ-অসহায়দের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতেন। এতে আশ্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বিনয় বাবু প্রকৃত সত্য নির্ণয় করে ভষ্টদের বের করে দেন। ফলে আশ্রমটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেল। ক. সম্রাট অশোক কার কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন? খ. স্মাট অশোক 'চণ্ডাশোক' থেকে 'ধর্মাশোকে' কীভাবে পরিণত হলেন? গ. বিনয় বড়ুয়ার কাজের সাথে সম্রাট অশোকের কোন ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে-ব্যাখ্যা কর। ঘ. আশ্রম রক্ষায় বিনয় বড়ুয়ার কাজটি স্ম্বাট অশোকের কার্যাবলির প্রতিচ্ছবি-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ২০২৫
religion
7
টু ণ গা সূত্র ও নীতিগাথা ৪৭ বাংলা অনুবাদ : ইন্দ্রিয়সমূহ সংজ্ঞাযুক্ত হবে না, মিথ্যা সংজ্ঞাযুক্তও হবে না, সংজ্ঞাহীনও হবে না, সংজ্ঞা পরিত্যক্তও হবে না, এভাবে অবস্থান করলে রূপের নাশ হয়, প্রপঞ্চসমূহ সংজ্ঞার কারণেই উৎপন্ন হয়ে থাকে । ১৪ ৷ যং তং অপুচ্ছিম্হ তাকিত্তবী নো, অঞঞং তং পুচ্ছাম তদিঙ্খ ক্রুহি; এত্তাবত্নং নু বদস্তি হেলোকে যচিত্তমম সুদ্ধিং ইধ পন্ডিতাসে; উদাহু অঞ্ঞস্পি বদস্তি এতো । বাংলা অনুবাদ : আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তার উত্তর আপনি দিয়েছেন; আপনাকে এখন অন্য প্রশ্ন করব, তা প্রকাশ করুন; এই জগতে কোনো পন্ডিত চিত্ত শুদ্ধিকেই কি শ্রেষ্ঠ জিনিস বলেন না, অথবা তারা কি অন্যরকম বলেন? ১৫ ৷ এত্তাবত গ্লম্পি বদন্তি হেলোকে, চিত্তসৃস সুস্ধিং ইধ পন্ডিতাসে; তেসং পনেকে সমযং বদস্তি, অনুপাদিসেসে কুসলা বদানা । বাংলা অনুবাদঃ: কোন কোন পণ্তিতলোক চিত্তপুদ্ধিকেই শ্রেষ্ঠ জিনিস বলে থাকেন, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়াকে শ্রেষ্ঠ মনে করে থাকেন, জ্ঞানীগণ স্কন্ধসমূহের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হওয়াকেই শ্রেষ্ঠ বলে থাকেন । ১৬ । এতে চ ঞ্বব উপনিস্সিতাতি, ওঞত্বা মুনী নিস্সযে সো বিমংসী, এত্বা বিমুত্তো ন বিবাদ 'মেতি, ভবাভবায ন সমেতি ধীরোতি । বাংলা অনুবাদ: এদের 'আশ্রয়াধীন' জেনে, আশ্রয়সমূহ পরিজ্ঞাত হয়ে, বিমুক্ত হয়ে, অস্বেষণকারী মুনি বিবাদে নিযুক্ত হন না, জ্ঞানীলোক বার বার জন্মগ্রহণ করেন না । পাঠ: ৫ কলহ-বিবাদ সূত্রের তাৎপর্য কলহ-বিবাদ সূত্রে আমরা বুদ্ধের ধর্মের মূল দর্শন সম্পর্কে জানতে পারি । এই সূত্রে নিহিত আছে কলহের কারণ ও কলহ হতে মুক্তির উপায় । এই সূত্রটির যেমন আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তেমন আছে জাগতিক বিষয়ে দিক নির্দেশনা ৷ প্রিয়বস্ত হতে কলহ, বিবাদ, শোক, মাৎসর্য, গর্ব, আত্মপ্রশংসা, পৈণ্ুন্য ইত্যাদির সৃষ্টি হয় । জগতে বিদ্যমান লোভ ও বাসনা থেকে প্রিয়বস্ত উৎপন্ন হয় ৷ ইচ্ছা থেকেই লোভ বাসনা উৎপন্ন হয় । আনন্দ (সাত) এবং শঅপ্রীতিকরতা থেকে ইচ্ছা
religion
8
২০২৫ টে টং +৭ মী ) ৬ রন সে ২০২ ্ ৮১৬০ রণ খু ৭ ১৬ ্ী ১ রা ১১১২ ১১২ তি ৭ লে / ' রদ । %, ৮) তে 41৫0 1 লি পে রা ্ত %%/6/ %% ্ঠ / / ক টা ॥ ” ॥ ১ ৯ ॥ ই ৯৩২২1) ১ ক্ষুস্ কে কঠোর সাধনায় পেরিয়ে গেল ছয়টি বছর। জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে গেলো গৌতমের সুন্দর দেহসৌষ্ঠব ৷ দুর্বল শরীরে একসময় হাঁটা-চলায় অক্ষম হয়ে গেলেন । তিনি এতই দুর্বল ছিলেন যে, একদিন নদীতে স্নান করতে নেমে আর উঠতে পারছিলেন না। অনেক কষ্টে পাশের একটি বড় গাছের শাখা ধরে তিনি পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেন। তিনি অনুধাবন করলেন, এভাবে কঠোর সাধনা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে। দুঃখমুক্তির উপায় জানা সম্ভব হবে না। তিনি উপলব্ধি করলেন, অল্প অল্প আহার করে মধ্যপথ অবলম্বনই হবে সাধনার প্রকৃত পথ ৷ কঠোর সাধনা বা বিলাসীজীবন, কোনোটিই দুঃখমুক্তির অনুকূল নয়। সুতরাং তিনি মধ্যম পথ অবলম্বন করলেন ।
religion
9
৬২ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বুদ্ধপূর্ণিমার মতো, এ পূর্ণিমা তিথিতেও উপাসক উপাসিকাগণ বিহারে সমবেত হন। তিক্ষুদের কাছ থেকে তারা পঞ্চশীল ও অফ্শীল গ্রহণ করেন। যারা অফ্টশীল গ্রহণ করেন, তাঁরা এঁ দিন উপোসথ পালন করেন। এ সময় ভিক্ষুরা উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা করেন। এতে গৃহীদের মধ্যে ধর্মভাব বৃদ্ধি পায়। এছাড়া একসাথে সম্মিলিত হয়ে ধর্ম শ্রবণ ও ধর্ম চর্চা করার কারণে নিজেদের মধ্যেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ভোর থেকেই আযাটী পূর্ণিমার উৎসব শুরু হয়। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে বৌদ্ধবিহার। সম্ধ্যায় প্রদীপ পুজা, বুদ্ধকীর্তন এবং সাঞ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় সমগ্র কর্মসূচি। অনেকে এ তিথিকে উপলক্ষ করে নিজ বাড়িতে বসে রাত পর্যন্ত বিদর্শন ভাবনা করেন। আবার অনেকে তিন দিন বা এক সপ্তাহের জন্য ধ্যান কার্যক্কমে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে আযাটী পূর্ণিমায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। অনুশীলনমূলক কাজ আযাটী পূর্ণিমায় সংঘটিত বুদ্ধের জীবনের তিনটি ঘটনা বর্ণনা করো ৷ পাঠ: ৫ মধুপূর্ণিমা দান, সেবা ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল মধুপুূর্ণিমা তিথি। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিকেই বলা হয় মধুপুর্ণিমা। এরূপ নামকরণের ক্ষেত্রে দানের একটি কাহিনি রয়েছে, যা বৌদ্ধ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একসময় বুদ্ধ কৌশাম্বিতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিক্ষুদের মধ্যে বিনয় সম্পর্কীয় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হয়। ক্বমে কলহের প্রভাব কৌশাম্ববির সকল আবাসিক ভিক্ষুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভিক্চুরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একসময় বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বুদ্ধ সকল তিক্ষুদের আহ্বান করে কলহ-বিবাদ করা অনুচিত বলে বোঝাতে চেষ্টা করেন। রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো বিষয়ে অনড় থাকা উচিত নয় বলে তিনি সকলকে জানান। এ উপদেশ প্রদানকালে বুদ্ধ তাদের দীর্ধায়ু কুমারের কাহিনি বলেন। সে কাহিনিতে উল্লেখ আছে যে, কলহ ও রাগের প্রভাব জন্য জন্মাস্তরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এতে উতয়ের ক্ষতি ছাড়া কোনো মঙ্গল হয় না। এমনকি শুধু কলহজনিত রাগের কারণে কোনো ভালো কাজও উপযুক্ত সময়ে করা যায় না। তাই সব সময় কলহ-বিবাদ পরিত্যাগ করা উচিত । বুদ্ধের নানাবিধ প্রচেষ্টা সন্তবেও কৌশাম্ধিবাসী ভিক্ষুরা কলহ থেকে বিরত হলেন না। নিজেদের মধ্যে কলহ ত্যাগ করে প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেন না। তখন বুদ্ধ কৌশাম্থিবাসী র সংসগ ত্যাগ করে নিজে একাকী নির্জন গহিন বনে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। একসময়তিনি চলে গেলেন নামক বনে। ভিষ্চুদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে তিনি সেখানে স্বছন্দে অবস্থান করতে লাগলেন। বুদ্ধ বনের মধ্যে একটি ভদ্রশাল গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থান করছিল একটি হাতি । হাতিটি স্বতঃ১্ফূর্ততাবে নিজের শুড় দিয়ে বুদ্ধের বসবাসের জায়গাটি পরিষ্কার করে দেয়। হাতিটি বুদ্ধের জন্য নিয়মিত পানীয় জলও সপ্তাহ করে আনত। সেবা দানের জন্য সব সময় তৎপর থাকত। এতাবে হাতিটি নিজের ইচ্ছাতেই বুদ্ধের সেবায় নিয়োজিত থাকত। বন্য প্রাণী হাতির এরূপ সেবাপরায়ণতা দেখে বনের এক বানরও বুদ্ধকে সেবা করতে আগ্রহী হয়। সেই চেতনায় বানরটি অত্যন্ত শ্রদ্ধাসহকারে বন থেকে মধু সপ্ধাহ করে বুদ্ধকে দান করে। বুদ্ধ বানরের দেওয়া মধু সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেন৷ এতে বানর খুবই প্রীত হয়। মনের সুখে এক বৃক্ষ থেকে অন্য বৃক্ষে লাফাতে থাকে। বানরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে লাফানোর সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বুদ্ধ দিবাচক্ষুতে দেখলেন যে, মধুদানের ফলে বানর পর দেবলোকে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেছে। এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে। এ অনন্য টনাকে সরণ করে বৌদ্ধরা এ পূর্ণিমা তিথিতে তিক্ষুসঙ্সকে মধু দান করে। ২০২৫
religion
10
৬৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা গ. কুশলাকুশল ফলদায়ী পাপ-পুণ্যকর্ম : কুশলাকুশল বিমিশ্রিত চিত্তে সম্পাদিত কর্ম পাপ পুণ্যময় হয় এবং তাঁর ফল সুখ দুঃখময় হয়৷ এ রকম কর্মের একটি উদাহরণ এখানে প্রদান করা হলো- কোনো এক ব্যক্তি চুরি, শঠতা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি হীন উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। কোনো ব্যক্তি তার কাছ থেকে অর্থ চাইলে সে মুক্ত হস্তে দান করে। দুঃখীর দুঃখ মোচনে সে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ফল লাভের ক্ষেত্রে সে তার বদান্যতা, উদারতা ও পরের উপকার করার ফলস্বরূপ পরবর্তী জন্যে বিত্তশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। তবে চুরি, শঠতা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি অপকর্মের জন্য মিথ্যা অপবাদের ভাগী হতে পারে। বিপুল অর্থ থাকা সত্বেও ভোগে বঞ্চিত হতে পারে। দৈহিক ও মানসিক নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে তার জীবনের অবসান হতে পারে। ঘ. সব রকম কর্মক্ষয়কর কর্ম যার দ্বারা মুক্তি লাভ সম্ভব : মানুষ যখন লোভ-দ্বেষ-মোহে আকৃষ্ট হয়, তখন তার মধ্যে নানারকম কামনা-বাসনা উৎপনু হয়। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্লা, তক ও মনকে সংযত করার মাধ্যমে এগুলোকে দমন করা সম্ভব । তাঁর জন্য দরকার একাগ্র সাধনা, যার মধ্য দিয়ে পরম মুক্তি লাভ সম্ভব৷ বুদ্ধ সংযুক্ত নিকায়ের 'সমিদ্ধি সুত্তে' বলেছেন, 'কায়-বাক্য- মনে কোনোরকম পাপকর্ম করা উচিত নয়। কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে স্মৃতিমান হয়ে অনর্থক দুঃখ সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত'। সুকর্ম ও সুকর্মের ফল ব্যক্তিকে পুণ্যময় কর্মানুষ্ঠানের দিকে নিয়ে যায়৷ অস্গুলিমাল ছিলেন নরঘাতক দস্যু । তিনি ৯৯৯ জনকে নিজ হাতে হত্যা করেছিলেন কিন্তু সেই অঙ্গুলিমালই তার অন্তিম জন্মে অতীতের সমস্ত পাপকর্ম হতে মুক্ত হয়ে অর্হৎ হয়েছিলেন ৷ আলবক যঞ্ষ বুদ্ধের দ্বারা দমিত হয়ে প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করেছিলেন ৷ পরবর্তী সময়ে তিনি তার কর্ম প্রচেষ্টায় স্লোতাপত্তি ফল লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন ৷ গণিকা আম্রপালি বুদ্ধ নির্দেশিত এবং প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে অর্ত্র ফল লাভ করেছিলেন। রাজ্য বিস্তারের মোহে সম্রাট অশোক চণপ্তাশোক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন । সেই চণ্তাশোক পরবর্তীকালে ধর্মাশোক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে বহু জনহিতকর কর্ম সম্পাদন করেছিলেন। পিতৃহত্যাকারী রাজা অজাতশত্রু বুদ্ধের নিকটে এসে ধর্মানুরাগ ও ভক্তির জন্য আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু পিতৃহত্যাজনিত পাপকর্মের ফলে মৃত্যুর পর নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন। ব্রাহ্মণ পুত্র হয়েও ব্রাহ্মণোচিত আচরণের অধিকারী অনেকেই হতে পারে না। অন্যদিকে শুদ্রকুলে জন্ম এহণ করে দৈহিক সুশ্রীতার জন্য অনেক সুনাম-সুখ্যাতির অধিকারী হওয়া যায়। যিনি বৌদ্ধ কর্মফলে বিশ্বাসী, তিনি কোনো জঘন্যতম অপরাধীকেও ঘৃণা করে না। কারণ তিনি জানেন এঁ ব্যক্তি সুযোগ পেলে মহামহীয়ান হতে পারেন। আবার তার সুকর্মের দ্বারা তিনি ইহজীবনেই নিজের কর্মফল ভোগ করতে পারেন । অনুশীলনমূলক কাজ কর্মের ফল বিবেচনায় কর্মের বিধানকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? ২০২৫
religion
11
৮৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নিচের কোনটি সঠিক? ক, 1ও11 খ. 11 ও 111 গ. 1ও 11 ঘ. 1,11ও [1 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও : রমেশ তালুকদার ত্রিপিটকের একটি গ্রন্থ পড়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পালনীয় শীলের ব্যাখ্যা জানতে পারেন। যাতে ভিক্ষুদের দৈনন্দিন জীবনচর্চা থেকে শুরু করে নৈতিক চরিত্র গঠনের নিয়মসমূহ নিহিত ছিল । ৩। রমেশ তালুকদারের পঠিত বিষয়গুলো কোন গ্রন্থে নিহিত? ক. পরিবার পাঠ খ. খন্ধক গ. সুত্ত বিভঙ্গ ঘ্ব. ভিক্ষুণী বিভঙ্গ ৪। উক্তগ্রস্থ পাঠ করে জানা যায় - 1 ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের বিধিবিধান 1! বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দৈনন্দিন জীবনচর্চা ঢা ত্রিপিটকের পরিচিতি নিচের কোনটি সঠিক? কু 1 খ. 1ও11 গ. 11 ও 111 ঘ. 1,11 ও 111 সৃজনশীল প্রশ্ন ১। অন্য পরিচয়- উরগপুর বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন রচিত গ্রন্থ- বোধিবংস ২০২৫
religion
12
১০৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা জানা যায় যে, তাদের সংখ্যা ষাট হাজারের অধিক ৷ অতঃপর, সম্রাট অশোক বিনয়ী ভিক্ষুদের বলেন, “ভন্তে ! এখন সজ্জ বিশুদ্ধ হয়েছে। ভিক্ষুসস্ উপোসথ কর্ম সম্পাদন করুন ।” তৎপর বিশুদ্ধ সঙ্ঘ একত্রিত হয়ে অশোকারাম বিহারে উপোসথ কর্ম সম্পাদন করেন। সজ্ঘ বিশুদ্ধ হওয়ার পর মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবির প্রকৃত বুদ্ধবাণী সংকলনের জন্য তৃতীয় সঙ্গীতি আহ্বান করেন। তিনি সঙ্গীতির জন্য ধর্ম-বিনয়ে পারদশী ত্রিবিদ্যাসম্পন্‌ এক হাজার অর্হ€হং ভিক্ষু নির্বাচন করেন। এ সঙ্গীতিতে মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবিরের সভাপতিত্বে প্রথম ও দ্বিতীয় সঙ্গীতির অনুকরণে ধর্ম-বিনয় সংগৃহীত হয়। এই সঙ্গীতিতে মোগ্গলীপুত্র তিষ্য স্থবির 'কথাবথখু' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটিতে অন্যান্য মতবাদীদের মতামত খণ্ডন করে বিভাজ্যবাদীদের মতবাদ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। বুদ্ধবাণীর সারমর্ম প্রতিফলিত হওয়ায় গ্রন্থটি অভিধর্ম পিটকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ নয় মাস ব্যাপী চলে এ সঙ্গীতি ৷ স্মৃতিধর অর্হৎ ভিক্ষুগণ শুদ্ধ বুদ্ধবাণী পুনরায় স্মৃতিতে ধারণ করে নেন। এই সঙ্গীতিতে সর্বপ্রথম অভিধর্ম পিটকের উল্লেখ করা হয় এবং বুদ্ধবচনকে 'ত্রিপিটক' আখ্যা দেওয়া হয় । ধর্মপচারক শ্রেরণ : এই সঙ্গীতির পরেই মহামতি অশোক ভিক্ষুসজ্ঞঘকে দেশবিদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য প্রেরণ করেন। তিনি ধর্মপ্রচারের জন্য 'ধর্ম মহাপাত্র' নামে বিশেষ শ্রেণির রাজকর্মচারীও নিযুক্ত করেন। তাঁরা নগরে প্রান্তরে সর্বত্র ধর্মনীতি প্রচার করতেন । তিনি স্বীয় পুত্র ও কন্যা যথাক্রমে মহেন্দ্র স্থবির ও ভিক্ষুণী সঙ্ঘমিত্রাকেও ধর্মপ্রচারের জন্য প্রেরণ করেন। তৃতীয় সঙ্গীতির পর সম্রাট অশোক যেসব দেশে ধর্মপ্রচারক প্রেরণ করেন তা তুলে ধরা হলো : ফয্িনে নদলক | লগ্ন ক্্্য সোন ও উত্তর থের মহেন্দ্র থেরর নেতৃত্বে ইথিয়, উখিয় ভদ্দসাল, লদ্কাদ্বীপ সম্বল এবং উপাসক সুমন তৃতীয় সঙ্গীতির ফলাফল : তৃতীয় সঙ্গীতির ফলাফল নিয়ে তুলে ধরা হলো : ১. ছদ্মবেশী অবিনয়ী ভিস্ষুদের সঙ্ঘ হতে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫
religion
13
চরিতমালা ৮৯ মহানাম । সেখানে তিনি মহাবিহারের সজঙ্ঘপ্রধান সজ্ঘধপাল থের'র নিকট থেরবাদ ও অট্ঠকথা অধ্যয়ন করেন । শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি পালি ভাষায় অট্ঠকথা রচনার উদ্দেশ্যে মহাবিহারে সংরক্ষিত গ্রন্থসমূহ প্রদানের জন্য সঙ্ঘপাল থেরকে অনুরোধ করেন ৷ তখন মহাবিহারের ভিক্ষুসজ্ঘ তাকে দুটি গাথা প্রদান করেন এবং গাথাদ্বয় ত্রিপিটকের সাহায্যে ব্যাখ্যা করে তার যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য আদেশ করেন ৷ গাথাদ্বয়ের ব্যাখ্যাস্বরূপ তিনি বিখ্যাত বিসুদ্ধিমগ্‌গ বা বিশুদ্ধিমার্গ গ্রস্থটে রচনা করেন। গ্রন্থটিকে ব্রিপিটকের সারসংকলন বলা হয় । এ গ্রন্থটি রচনা করে তিনি প্রভূত যশ খ্যাতি অর্জন করেন । কথিত আছে যে, দেবতারা তার যশ খ্যাতি প্রচারের জন্য গ্রন্থটি লুকিয়ে রাখেন । তখন তিনি পুনরায় আর একটি গ্রন্থ রচনা করেন। দ্বিতীয়বারও দেবতারা গ্রন্থটি লুকিয়ে রাখেন । তিনি পুনরায় গ্রন্থটি রচনা করে যখন সংঘের নিকট সমর্পণ করতে যাচ্ছিলেন তখন দেবতাগণ অপর দুটি গ্রন্থও যথাস্থানে রেখে যান । ভিক্ষুগণ তিনটি গ্রন্থ পাঠ করতে আরম্ভ করেন এবং দেখেন যে তিনটি গ্রন্থই হুবছ এক ৷ তখন মহাবিহারের ভিজ্ছুগণ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে 'মৈত্রেয় বোধিসন্ত্' উপাধিতে ভূষিত করেন । সিংহলের ভিক্ষুসজ্ঘ তার পাপ্তিত্য ও লেখার দক্ষতা দেখে 'অট্ঠকথা' অনুবাদ করার অনুমতি দেন । অতঃপর তিনি অনুরাধপুরার মহাবিহারের গ্রন্থাগারে প্রবেশ করে অট্ঠকথা রচনা করতে থাকেন । তিনি ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন বলে জানা যায় । গ্রন্থগুলো হলো : ১। এাণোদয় (জ্ঞানোদয়) ২। অথসালিনী ৩ ৷ পরিত্তট্ঠকথা ৪ । বিসুদ্ধিমগৃগ (বিশুদ্ধিমার্গ) ৫ । সমস্তপাসাদিকা ৬ ৷ কন্কাবিতরণী ৭ । সুমঙ্গলবিলাসিনী ৮। পপঞ্চসূদনী ৯ ৷ সারখপকাসিনী ১০ । মনোরখথপুরণী ১১ ৷ সম্মোহবিনোদনী ১২। পঞ্চপকরণট্ঠকথা ১৩ ৷ পরমথজোতিকা ১৪ । ধম্মপদট্ঠকথা ১৫ । জাতকট্ঠকথা এবং ১৬ ৷ বিসুদ্ধজনবিলাসিনী । দীর্ঘ পরিশ্রমের পর বুদ্ধঘোষ সিংহলি অটৃঠকথা পালি ভাষায় অনুবাদ করে ভারতে ফিরে আসেন। এভাবে মহাপসন্ডিত বুদ্ধঘোষ অট্ঠকথা রচনা করে বৌদ্ধ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, বৌদ্ধধর্ম দর্শনকেও সহজতর করে তুলেছেন । কালজয়ী গ্রই রচনা করে বৌদ্ধ সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন । অনুশীলনমূলক কাজ অট্ঠকথা শব্দের অর্থ কী? বুদ্ধঘোষ নামের বিশেষত্ব বর্ণনা করো । বুদ্ধঘোষ রচিত গ্রন্থগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো । ফর্মা-১২, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা-অষ্টম শ্রেণি
religion
14
২৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধ জ্ঞান কীরূপ? বোধিসত্ত্ব শব্দের অর্থ কী? পাঠ: ২ বুদ্ধের গুণাবলি বুদ্ধের গণ অসীম । এই বিশাল গুণরাশি একসাথে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য । এগুলোকে শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন করলে নয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় । সে হিসেবে বলা যায় বুদ্ধের গুণ নয়টি । এই নয়টি গুণ হলো নিম্নরূপ: . তিনি অর্হ্‌ৎ : সর্ববিধ অরি বা শত্রুশূন্য মুক্ত মহাপুরুষ । তিনি সম্যকসম্বুদ্ধ : সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানসম্প্ন্ন ৷ তিনি বিদ্যা ও আচরণসম্পন্ন : অনুশীলনীয়তত্ত্ব ও উপযুক্ত আচরণ জ্ঞানসম্পনন । তিনি সুগত : নির্বাণক্ূপ সুস্থানে সুন্দরভাবে পৌঁছেছেন ! তিনি লোকবিধ : ত্রিলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পনন । তিনি অনুস্তর : শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞাগুণের সর্বোচ্চ স্থানের অধিকারী । তিনি পুরিসদম্ম সারথি : সর্ববিধ অশুভ শক্তির দমনকারী ! তিনি সথা দেবমনুস্সানং : দেব ও মনুষ্যগণের শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক । . তিনি বুদ্ধোভগবা : সর্ববিধ জ্ঞানের পূর্ণতায় তিনি বুদ্ধ, সেই সমুদয় শ্রেষ্ঠ জানের আধার বলে তিনি ভগবান । ফা তে দে দিসেও ! ৮ বুদ্ধের এই গুণসমূহ অর্জন সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি এই গুণরাশির গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধ গুণাবলির যে-কোনো একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এই গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন । এজন্যেই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিস্তনীয় । উপরে বর্ণিত নয়টি গণের প্রত্যেকটি স্তর বহুবিধ বিষয়ে সমন্বিত ও সমৃদ্ধ। যেমন-অর্হ€ৎ বা সর্ববিধ শত্রুশূন্য বলতে আট পর্যায়ের সমাধিচর্যায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বোঝায় । রাগ, দ্বেষ, মোহ ও তৃষ্ণাকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে এগুলো ক্রমান্বয়ে অনুশীলন করতে হয়। এই ক্রমিক সাধনরীতির প্রতিটি পর্যায়ের অর্জিত সুফলকেও সচেতনতার সাথে সুরক্ষা করতে হয়। সাধনচর্যা ও চর্যায় উন্নীত চিত্তাবস্থাকে স্থিত রাখতে পারলেই পরবর্তী পর্যায়ের অনুশীলন করা যায় । এভাবে দীর্ঘদিনের সাধনায় এক-একটি স্তর অতিক্রম সম্ভব হয়। বৌদ্ধ সাহিত্যে এগুলোকে মার্গ ও ফললাভের সাধনা বলা হয়। এগুলো হলো : ১) শ্রোতাপত্তি-মার্গ ২) শ্রোতাপত্তি-ফল ৩) সকৃতাগামী-মার্গ ৪) সকৃতাগামী-ফল ৫) অনাগামী-মার্গ ৬) অনাগামী-ফল ৭) অর্হ€ৎ-মার্গ ৮) অর্হ্ত্ব-ফল। সুতরাং অর্হ€ৃৎ বলতে আট স্তরের উচ্চতর সাধন প্রক্রিয়ার পূর্ণতাকে বোঝায় ৷ যিনি এ স্তরে উন্নীত হন, তিনি সর্বজয়ী সাধক । ২০২৫
religion
15
১৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বাংলা অনুবাদ : যে সংঘ বিশুদ্ধ, উত্তম দানের পাত্র, শান্তন্দ্রিয়, সকল প্রকার পাপমল বিনাশকারী, অনেক গুণে গুণান্বিত সেই অনাসব সংঘকে আমি প্রণাম জানাচ্ছি। অনলনাীীত মূলক কাজ ত্রিরত্ন বন্দনাটি আবৃত্তি কর। শব্দার্থ : ত্রিরত্ন - তিনটি রতু (বুদ্ধরত্ন, ধর্মরত্ন এবং সংঘরতু), ধম্ম - ধর্ম, সংঘ - সমফ্টি, বিশেষ করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বোঝায়, অহং - আমি, সব্বদা - সব সময়, যো - যিনি, মারং - মার, লোকুত্তমো - শ্রেষ্ঠ, বিজেতুবা - জয় করে, সম্বোধিমাগঞ্চি - সম্বোধি লাভ করেছেন, অট্‌ঠক্গিকো - আটটি মার্গ, উজু -সহজ ও সরল, বিসুদ্ধো - বিশুদ্ধ, মগ্ন - মার্গ, সন্তিন্দ্রিযো - শান্তন্দ্রিয়, সপ্তিকরো - শাস্তিকর, গুণেহি -গুণের অধিকারী, নেকেহি - অনেক, অনাসবো - অনাসব বা অনাসত্ত্ ৷ ১. ব্রিরত্ন বন্দনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। ২. তুমি কীভাবে ত্রিরত্ন বন্দনা করবে-তা বর্ণনা কর। ৩. বুদ্ধ ও সংঘ বন্দনার বাংলা অনুবাদ লেখ । ২০২৫
religion
16
২০২৫ সূত্র ও নীতিগাথা ৫৩ অনুশীলনমূলক কাজ দলগতভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে রতন সূত্র পাঠ কর। পাঠ: ৩ রতন সৃূত্র (বাংলা) . ভূমিবাসী ও আকাশবাসী যেসব প্রাণী এখানে সমবেত হয়েছ, সকলে আনন্দিত হও ৷ তারপর আমার বাক্য শ্রবণ কর। . হে ভূতগণ ! সেইহেতু আমার উপদেশ তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর । মানুষের প্রতি মৈত্রীভাবাপন্ন হয়ে তাদের হিত চিন্তা কর। তারা দিনরাত তোমাদের পূজা করে। এ কারণে অপ্রমত্তভাবে তাদের রক্ষা কর। . ইহলোক বা পরলোকে যা কিছু বিত্ত (রত্ন) আছে, অথবা স্বর্গলোকে যা কিছু উত্তম রতন আছে, তাদের কোনোটিই তথাগতের সমান নয়। এ সকল রত্ন হতে বুদ্ধ রত্ন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . ধ্যানপরায়ণ শাক্যমুনি যে লোভ, দ্বেষ ও মোহ ক্ষয়কর, বিরাগ ও উত্তম অমত (নির্বাণ) ধর্ম অবগত হয়েছেন, সেই ধর্মের সমান কিছুই নেই৷ সকল রত্ন হতে এ ধর্মরত্ন শ্রেষ্ঠ এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . বুদ্ধশ্রেষ্ঠ যে শুচি (পবিত্র) সমাধির প্রশংসা করেছেন, যার ফল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, তার সমান অন্য কোনো সমাধি নেই। সকল রতু হতে ধর্মরতু (বুদ্ধ-প্রশংসিত সমাধি) শ্রেষ্ঠ। এ-সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক। . যে আট পুল (পুরুষ) বুদ্ধাদি সাধুগণ কর্তৃক প্রশংসিত, যীরা মার্গ ও ফল ভেদে চার জোড়, তাঁরা সুগতের শ্রাবক এবং দক্ষিণার উপযুক্ত পাত্র। সকল রতন হতে এই সজ্ঘরতন (ভিস্কুসজ্ব) শ্রেষ্ঠ এ-সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . যীরা নিষ্কাম এবং গৌতমের শাসনে (ধর্মে) স্থিরিচিত্তে নিবিষ্ট, তারা অমৃতে ডুব দিয়ে বিনামূল্যে লন্ধ নির্বাণ ভোগ করছেন এবং প্রাপ্তব্য প্রাপ্ত (যা লাভ করতে হয় তা লাভী) নামে প্রসিদ্ধ হয়েছেন, সকল রত্ন হতে সেই সঙ্ঘরত্ন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক । . ভূমিতে দৃঢ়রূপে প্রোথিত ইন্দ্রবীল (স্তম্ভ) চারদিকের প্রবল বায়ুতেও কাঁপে না। যিনি চতুরার্য সত্য সম্যকরূপে দর্শন করেছেন সেই সৎ পুরুষকেও আমি ইন্দ্রবীলের সঙ্গে তুলনা করি। সকল রতু হতে এই সজঙ্ঘরতুন শ্রেষ্ঠ। এ সত্য বাক্য দ্বারা শুভ (মঙ্গল) হোক ।
religion
17
২০২৫ নির্বাণ ৯৫ ২। বিমুক্ত পুরুষের পুনর্জন্ম সম্পূর্ণরূপে নিরোধের কারণ -_ 1. তৃষ্ণার ক্ষয় করা 11. চিত্তমুক্তি লাভ করা 111. লোভ, দ্বেষ, মোহ ধ্বংল করা নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1ও]1 খ. 11ও111 গ. 1ও1 ছঘ. 1,11ওয়1 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও: ধর্মপুর আর্যবিহারের বিহারাধ্যক্ষ কল্যাণশ্রী মহাস্থবির সুপরিকল্পিতভাবে বিহার পরিচালনা করেন বিধায় তার সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে । তিনি সাধনার দ্বারা সম্যক সম্বুদ্ধের প্রদর্শিত ধর্ম ও বিনয়ে অপ্রমত্ত হয়ে বিচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি পঞ্চস্কন্ধ বিদ্যমান অবস্থায় দুঃখ থেকে মুক্তিলাভের উপায় উপলব্ধি করতে সক্ষম হন । কল্যাণশ্রী মহাস্থবির গৌতম বুদ্ধের কোন নির্বাণ জ্ঞান উপলব্ধি করেন? ক. প্রাপ্তি নির্বাণ সাক্ষাৎ খ. সোপাদিসেস নির্বাণ জ্ঞান গ. অনুপাদিসেস নির্বাণ জ্ঞান ঘ. সোপাদিসেস ও অনুপাদিসেস নির্বাণ উক্ত নির্বাণ জ্ঞান লাভের দ্বারা সম্ভব- 1. জন্ম-মৃত্যু প্রবাহ নিরোধ করা |. পঞ্চ ইন্দ্রিয়সমূহের দমন করা 111. দুঃখ ও তৃষ্ণা বিনাশ করা নিচের কোনটি সঠিক? ক. 1 খ. 1ও]ম1 গ. 11 ও 11! ঘ. 1,11 ও 111
religion
18
২০২৫ সূত্র ও নীতিগাথা ৪৫ বুদ্ধের উপদেশ শুনে দুই ভিক্ষু ধ্যান সাধনার জন্য বনে গেলেন ৷ তাঁদের মধ্যে একজন প্রমাদ এবং আলস্যের কারণে ধ্যান সাধনায় বেশি দূর অগ্রসর হতে পারলেন না৷ অন্যজন অপ্রমন্ত থেকে অবিচল নিষ্ঠার সঙ্তো ধ্যান সাধনা করতে লাগলেন এবং অর্হততব লাভ করলেন। সাধনা শেষ হলে উভয়ে বুদ্ধের কাছে ফিরে এসে যার যেমন ফল লাভ হয়েছে তা বললেন। তাদের কথা শুনে বুদ্ধ ৯ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । বৈশালীর ক্ূটাগারশালায় একদিন বুদ্ধ মহালি লিচ্ছবীকে দেবরাজ ইন্দ্রের পূর্ব জন্যকথা শোনাচ্ছিলেন। পূর্বের এক জন্যে ইন্দ্র তেত্রিশজন যুবক নিয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল গড়েন ৷ তারা মাতা-পিতা ও গুরুজনের সেবা, নগরে ও গ্রামে আবর্জনা পরিষ্কার, সর্বসাধারণের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কল্যাণকর্মে রত থাকতেন । মৃত্যুর পর তারা সকলে স্বর্গ লাভ করেন এবং ইন্দ্র দেবরাজ হন৷ এই কাহিনির সূত্র ধরে বুদ্ধ ১০ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । বুদ্ধ জেতবনে অবস্থানকালে এক ভিক্ষু তার নিকট ধ্যান শিক্ষা করে বনে গিয়ে ধ্যান অভ্যাস করতে লাগলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টায়ও ফল লাভ না হওয়ায় তিনি বুদ্ধের নিকট ফিরে যাচ্ছিলেন। পথে এক বিরাট দাবাগ্নি তার গতিরোধ করল । তিনি দেখলেন ভীষণ আগুন তার সমস্ত কিছুকে পুড়িয়ে ধবংস করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছে৷ এই দৃশ্য তার মনে নতুন উৎসাহ ও প্রেরণা এনে দিল। এঁ আগুনের মতোই তিনি সমস্ত বাধাবিঘ্নকে জয় করে সাধন পথে এগিয়ে যাবার সংকল্প করলেন। তাঁর সংকল্পের কথা জানতে পেরে বুদ্ধ ১১ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না, বললেই হয়। নিজের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের কাছে ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তার প্রয়োজন মিটত ৷ এর বেশি কিছুর আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না। তাই অনাথপিন্ডিকের মতো শ্রেষ্ঠাদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের আরও বড় দান- উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি । এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তার স্থজনদেরই ভালোবাসেন । বুদ্ধ তিষ্যের এই অল্পে তুষফ্টি আর লোভহীনতার কথা শুনে তার অনেক প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২ নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন । অনুশীলনমূলক কাজ অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩ নং গাথা বুদ্ধ কাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ করেছিলেন? এবং কেন করেছিলেন বল। ৫ নং থেকে ৭ নং গাথার পটভূমি বর্ণনা কর। পাঠ: ৫ অপ্রমাদ বর্গ (পালি ও বাংলা) ১. অগ্পমাদো অমতং পদং পমাদো মচ্চুনো পদং অগ্পমত্তা ন মীয়ন্তি যে পমত্তা যথা মতা ।
religion
19
অষ্টম অধ্যায় চরিতমালা বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারে থের-থেরীর অবদান অপরিসীম ৷ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী হিসেবে যারা দশ বছর জীবন অতিবাহিত করেছেন তাদেরকে থের ও থেরী বলা হয় । থেরকে স্থবিরও বলা হয় । স্থবির অর্থ সাধনায় স্থিত থাকা ৷ থের, থেরী, স্থবির প্রভৃতি উপাধি বিশেষ । প্রবীণ, জ্ঞানী ভিক্ষু-ভিক্ষুণীগণ এসব উপাধি প্রাপ্ত হন । মহৎ কর্মগুণে তাঁরা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন । তারা কীভাবে মহৎ জীবন গঠন করেছিলেন তার বর্ণনা বৌদ্ধ সাহিত্যে পাওয়া যায় । তাদের জীবনী এবং ভাষিত গাথাগুলো আমাদের নৈতিক জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করে । বুদ্ধের সময় ও বুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক বৌদ্ধ মনীষী বৌদ্ধধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যের বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছেন ৷ তাঁদের জীবন দর্শন থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে ৷ জীবনকে সুন্দর করার জন্য সেসব থের-থেরী ও বরেণ্য মনীষীদের জীবন চরিত পাঠ করা উচিত ৷ এ অধ্যায়ে আমরা স্থবির অনুরুদ্ধ, স্থবির অঙ্গুলিমাল, মহিয়ষী নারী মল্লিকা দেবী এবং বিখ্যাত অট্‌ঠকথা রচয়িতা বুদ্ধঘোষ সম্পর্কে পড়ব । এ অধ্যায় শেষে আমরা - * থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীবীদের জীবনী ব্যাখ্যা করতে পারব । * থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের অবদান মূল্যায়ন করতে পারব । পাঠ: ১ স্থবির অনুরুদ্ধ স্থবির অনুরুদ্ধ স্মরণীয় এক বুদ্ধ শিষ্যের নাম। তিনি একান্ত প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই গৌরব অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন । এর জন্য তাঁকে জন্ম-জন্মান্তরে সাধনা করতে হয়েছে । তিনি এক এক জন্যে এক এক নামে পরিচিত ছিলেন ৷ তার এ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল পদুমুত্তর বুদ্ধের সময়ে । গৌতম বুদ্ধের পূর্ববর্তী বুদ্ধদের একজন ছিলেন পদুমুত্তর বুদ্ধ ৷ পদুমুত্তর বুদ্ধের সময়ে তিনি এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মশ্রবণের জন্য একদিন তিনি বিহারে গিয়েছিলেন ৷ তখন পদুমুত্তর বুদ্ধ দিব্যচক্ষুসম্পন্ন এক ভিক্ষুকে ভিক্ষুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠাসনে নিয়োগ দান করেন ৷ তিনিও সেই পদ প্রার্থী হয়ে বুদ্ধ প্রমুখ লক্ষ ভিক্ষুকে এক সপ্তাহ ধরে দান করেন । পদুমুত্তর বুদ্ধ তাকে আশীর্বাদ করলেন যেন গৌতম বুদ্ধের সময় তার মনোবাসনা পূর্ণ হয় । পরে কশ্যপ বুদ্ধের সময় বারানসিতে এক ধনী পরিবারে তিনি জন্ম নেন। কশ্যপ বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ কালে তিনি কনকচৈত্যের চারদিকে ঘৃতপূর্ণ তাম্রপাত্রে প্রদীপ পূজা করেছিলেন ৷ সে ঘৃতভান্ড মাথায় ধারণ করে সারা রাত চৈত্য প্রদক্ষিণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি দেবলোকে উৎপন্ন হন। সেখান রি থেকে আয়ুশেষে পুনরায় বারানসিতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ৷ তখন তার নাম রাখা হয়েছিল %
religion
20
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ৬৯-৭০, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ কর্তৃক প্রকাশিত [ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ] প্রথম সংস্করণ রচনা ও সম্পাদনা অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া গীতাঞ্জলি বড়ুয়া ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া উত্তরা চৌধুরী প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর, ২০১২ পরিমার্জিত সংস্করণ : সেপ্টেম্বর, ২০১৪ পরিমার্জিত সং্করণ : অন্ট্রোবর, ২০২৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য
religion
21
১০৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা পাঠ: ৬ বনুপথ জাতক পুরাকালে বারানসি নগরে ব্রন্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন ৷ সেসময় বোধিসন্ত্ব এক বণিকের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন । বোধিসত্ত্ব বড় হয়ে পাচশত গাড়ি নিয়ে নানা জায়গায় বাণিজ্য করতেন । ব্যবসা উপলক্ষে একবার বোধিসত্ত্ব ষাট যোজন বিস্তৃত এক মরু অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছেন। সেই মরুভূমির বালি এতো মিহি ছিল যে তা হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যেত না। আঙুলের ফীক দিয়ে সে বালি গলে পড়ে যেত। সূর্য ওঠার পর সেই বালুরাশি জ্বলন্ত কয়লার মতো গরম হয়ে উঠত। তখন সেই মরুভূমির ওপর দিয়ে কারও পক্ষে চলাফেরা করা সম্ভব হতো না ৷ সেই ভীষণ মরুপথ পার হতো রাতে, দিনে নিতে হতো বিশ্রাম । ব্যবসায়ীরা সঙ্গে জল, তেল, চাল ও লাকড়ি ইত্যাদি রাখত । সূর্য উদয় হলে যাত্রা বন্ধ করে বলদণ্ডলো গাড়ি থেকে খুলে দিত ৷ গাড়িগুলো গোল করে সাজিয়ে নিয়ে মাঝখানে সামিয়ানা খাটিয়ে নিত । সকাল সকাল রান্নাবান্না করে খেয়ে সামিয়ানার নিচে দিন কাটাত। আবার যখন সূর্য ডুবতে বসত তখন তাড়াতাড়ি রান্না করে খেয়ে নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করত ৷ নাবিকরা যেমন সমুদ্রে চলার সময় নক্ষত্র দেখে দিক নির্ণয় করে তেমনি মরুভূমিতে চলার সময় পথ প্রদর্শকরা নক্ষত্র দেখে পথ চিনে নিতেন। বোধিসনম্ত্ব একদিন সেই মরুভূমির উনষাট যোজন পথ অতিক্রম করে গেলেন। তারপর তিনি ভাবলেন, বাকি একযোজন পথও রাতের মধ্যে পার হয়ে যাবেন ৷ এই ভেবে তিনি সন্ধ্যার পর জল, কাঠ ইত্যাদি অনেক জিনিস দরকার নেই দেখে ফেলে দিতে বললেন ৷ এতে বোঝা হালকা হবে এবং মরুভূমি পার হয়ে গেলে সেসব জিনিস সব জায়গায় পাওয়া যাবে । এভাবে তারা চলতে শুরু করলেন ৷ যে গাড়িখানা দলের আগে চলছে তাতে বসা ছিল পথ প্রদর্শক । তিনি নক্ষত্র দেখে পথ চিনিয়ে দিচ্ছিলেন । দীর্ঘদিন মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলতে চলতে পথ প্রদর্শকের ভালো ঘুম হচ্ছিল না৷ সেই রাতে তার চোখ জুড়ে ঘুম এল । বলদগুলোও আপন খেয়ালে উল্টো দিকে চলতে শুরু করল। সারারাত এভাবে সব গাড়ি চলল ৷ ভোর হওয়ার আগে আগে পথ প্রদর্শকের ঘুম ভাঙল ৷ আকাশের দিকে তাকিয়ে সে তাড়াতাড়ি বলল, গাড়ি ঘোরাও, গাড়ি ঘোরাও ৷ সমস্ত গাড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে সূর্য ওঠার সময় হয়ে গেল ৷ সবাই দেখল আগের সন্ধ্যায় তারা যেখান থেকে যাত্রা করেছিল ঠিক সেই জায়গাতেই তারা আবার ফিরে এসেছে ৷ তখন সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ল। গাড়িতে জল নেই, কাঠ নেই ! উপায় কী হবে ? উপায় না দেখে তারা বলদণ্ডলো খুলে দিয়ে গাড়ি জড়ো করে সামিয়ানা খাটিয়ে হতাশ হয়ে সুয়ে পড়ল । ২০২৫
religion
22
৫৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নৈস্ক্ম্য পারমী : 'নৈঞ্রম্য' শব্দের অর্থ নির্গমন বা বের হয়ে যাওয়া । সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করে বা সংসার হতে বের হয়ে বিশুদ্ধ জীবনযাপন করাকে নৈঞত্রম্য বলা হয়। জাগতিক ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করে সংসারের বন্ধন হতে মুক্তির জন্য উৎসাহী হওয়ার ব্রতকে নৈষ্্ম্য পারমী বলে । বুদ্ধবংস গ্রহে ন্ক্রম্য পারমীর স্বরূপ সম্পর্কে এরূপ বর্ণনা আছে : “কারাগারে আবদ্ধ বন্ধনজনিত দুঃখে দুঃখিত ব্যক্তি যেমন তথায় চিরকাল বাস করলেও সেখানে থাকতে ইচ্ছা করে না, মুক্তি লাভের চেষ্টা করে; সেরূপ তুমিও ভবত্রয়কে কারাগারের ন্যায় ভেবে মুক্তির জন্য শ্দ্রৈম্যাভিমুখী হও ' বুদ্ধ বলেছেন: গৃহবাস সর্বার্থ, প্রবজ্যা উন্মুক্ত আকাশ তুল্য ৷ প্রবজিত ব্যক্তি যা ইচ্ছা করেন তা সহজেই পূর্ণ করতে পারেন । কারণ তিনি সংসারের জটিল বন্ধন থেকে মুক্ত । লোভ-দ্বেষ-মোহ মুক্ত । তিনি অল্প লাভে সন্তুষ্ট থাকেন ও উদ্যমশীল হন । বৌদ্ধধর্মে প্রবজ্যা অবলম্বনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে । নৈক্রম্য পারমী পূরণের জন্য প্রথমে স্ত্রী-পুত্র, মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বাড়িঘর, সংসার সম্পত্তি প্রভৃতি সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় । বোধিসন্ত্ূগণ অনাগারিক জীবনযাপন করে শ্দ্রম্য পারমী পূর্ণ করেন এবং নির্বাণ লাভের সাধনার পথে অগ্রসর হন । প্রজ্ঞা পারমী : "প্রজ্ঞা' শব্দের অর্থ হলো সম্যক চিন্তা । ভাবনার মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে প্রকৃষ্টরপে জানা । জ্ঞান অর্জনের সাধনাই হলো প্রজ্ঞা পারমী ৷ প্রজ্ঞা পারমী তিন প্রকার ৷ যথা : চিস্তাময় প্রচ্ছা, শ্রতিময় প্রজ্ঞা এবং ভাবনাময় প্রজ্ঞা। অন্য কারো সাহায্য ব্যতীত পুনঃপুনঃ চিন্তা ভাবনার ফলে যে প্রচ্ছা উৎপন্ন হয় তাকে চিন্তাময় প্রজ্ঞা বলে ৷ সম্যকভাবে চিন্তা করলে সকল প্রকার কাজ ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায় । এটিই চিন্তাময় প্রক্ছা ৷ তথাগত বুদ্ধের সর্বজ্ঞতা জ্ঞানকে চিত্তাময় প্রচ্ছা বলা যেতে পারে । কারণ তিনি আপন অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই এ জ্ঞান অর্জন করেন শ্রুতিময় প্রজ্ঞা দুভাবে অর্জন করা যায়। জ্ঞানী-গুণী বা গুরুর নিকট শুনে এ জ্ঞান অর্জন করা যায় । আবার অন্যের সাহায্য ব্যতীত গবেষণার মাধ্যমেও এ জ্ঞান লাভ করা যায় ৷ ধ্যান সমাধির দ্বারা অর্জিত জ্ঞানকে ভাবনাময় প্রজ্ঞা বলে । প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলনে ক্লেশসমূহ ধ্বংস হয়। অনিত্য, দুঃখ এবং অনাত্মা সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি জাগ্রত হয় । বোধিসম্ত্বগণ প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলন করে অর্তত্ব ও বুদ্ধত্ব লাভের পথে অগ্রসর হন । বীর্য পারমী : 'বীর্য' শব্দের অর্থ হলো বীরত্ব, কর্মশক্তি ইত্যাদি ৷ প্রবল উৎসাহ ও সম্যক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কঠিন ব্রত সম্পাদন করাই হচ্ছে বীর্য পারমী ৷ সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে বুদ্ধত্ত লাভের জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন । তিনি কঠিন সংকল্প করে বলেছিলেন, 'আমার শরীর অস্তি মজ্জা শুকিয়ে গেলেও আমি বুদ্ধত্ব লাভ না করে এ আসন থেকে উঠব না ।' বুদ্ধত্ব লাভের এ প্রচেষ্টাই বীর্য পারমী । বোধিসত্ত্ব অতীত জন্যে এক কাঠবিড়ালীরূপে জন্মগ্রহণ করেন ৷ কাঠবিড়ালীরূপী বোধিসত্ত্ব তখন নদীর ধারে এক বটবৃক্ষে বসবাস করত ৷ সেখানে তার দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে । একদিন বাচ্চা দুটি নদীতে পড়ে সাগরে ভেসে যায় । এতে সে খুব কষ্ট পায় এবং লেজ দ্বারা সমুদ্র সেচন করে বাচ্চা দুটি উদ্ধার করার সংকল্প করে । অতঃপর সে লেজ দ্বারা সাগরের পানি সেচন করতে থাকে ৷ তার এ কঠোর পরিশ্রম দেখে দেবরাজ ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে এসে জিজ্ঞাসা সু ০ বা
religion
23
২০২৫ পঞ্চম অধ্যায় সূত্র ও নীতিগাথা 'নিধিকুণ্ড সূত্র" ত্রিপিটকের অন্তর্গত খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত আছে । প্রকৃত সম্পদ বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ নিধিক্ুষ্ড সূত্রটি দেশনা করেন। অপ্রমাদ বর্গ ত্রিপিটকের ধর্মপদ গ্রন্থে পাওয়া যায়। অপ্রমাদ বর্গে কীভাবে জগতে অপ্রমত্ত বা অবিচল থেকে সৎকাজ করা যায় এবং চিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা বর্ণিত আছে । নিধিকুণ্ড সূত্র এবং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলো মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। এ অধ্যায়ের প্রথম অংশে আমরা নিধিক্চুষ্ড সূত্র এবং দ্বিতীয় অংশে অপ্রমাদ বর্গ পড়ব। এ অধ্যায় শেষে আমরা- * নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি বর্ণনা করতে পারব । * প্রকৃত নিধিসমূহ কী উল্লেখ করতে পারব । * সূত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব। * অপ্রমাদের ব্যাখ্যা দিতে পারব। * অপ্রমত্ত থাকার সুফল মূল্যায়ন করতে পারব। * নিধিকুণ্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের তুলনামূলক আলোচনা করতে পারব। পাঠ: ১ নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে এক ধনাঢ্য শ্রেষ্ঠী বাস করতেন। একদিন তিনি ভিক্ষুসংঘসহ বুদ্ধকে পিগুদানে ব্যস্ত ছিলেন৷ সে সময় কোশল রাজ্যের রাজার অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি শ্রেষ্ঠীকে নিয়ে যাবার জন্য দূত প্রেরণ করেন৷ যখন শ্রেষ্ঠী বুদ্ধ ও ভিক্ষুসংঘের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন তখন দূত এসে তাকে রাজার আদেশ জ্ঞাপন করেন৷ তখন শ্রেষ্ঠী দূতকে বলেন, 'এখন যাও, আমি ধন সঞ্চয়ে ব্যস্ত আছি।' শ্রেষ্ঠী এখানে ধন বলতে পুণ্যসম্পদকে বুঝিয়েছেন। অতঃপর ভগবান বুদ্ধ আহার সমাপ্ত করে পুণ্যসম্পদকে যথার্থ নিধি হিসেবে প্রদর্শন করতে নিধিকুণ্ড সূত্র দেশনা করেন। এ হলো নিধিকুষ্ড সূত্রের পটভূমি ৷ অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধ নিধিকুষ্ড সূত্র কেন দেশনা করেছিলেন? বর্ণনা কর।
religion
24
দান ৩৩ প্রয়োজন হয়। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্কুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় তত বেশি ভালো । সংঘদানে সাধারণত ভিক্ষুসংঘের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহ হলো : অনু, বস্ত্র, গঁষধ, সাবান, তেল, ছাতা, সুচ-সুতা ইত্যাদি । সাধারণত ভিক্ষুসংঘ আহার গ্রহণের পূর্বে এ দানকার্য সম্পাদন করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দান সামগ্রী সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটিভাবে আসনে উপবেশন করলে দান অনুষ্ঠানের কার্যক্তম আরম্ভ করা হয়। দানকার্য পরিচালনা করার জন্য ভিক্ষুসংঘের মধ্য থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন ভিক্ষুকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। সভাপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের কার্যক্ম আরম্ভ করা হয়। প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল প্রার্থনা করা হয়। তারপর উপস্থিত ভিক্ষুদের প্রধান বা তাঁর নির্দেশে অভিজ্ঞ একজন ভিক্ষু সংঘদান গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন৷ গাথাটি নিম্নরূপ: “ইমং ভিক্খং সপরিক্খারং ভিক্ষু সংঘস্স দেম, পূজেম' বাংলা অনুবাদ : এই প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য ভিক্ষু সংঘকে দান দিয়ে পূজা করছি। উপস্থিত সকলে গাথাটি সমস্বরে তিনবার আবৃত্তি করেন। অতঃপর, ভিক্ষুসংঘ সমস্বরে করণীয় মৈত্রী সুত্র, মঙ্গল সূত্র প্রভৃতি পাঠ করেন৷ তারপর, “ইদং মে ঞ্াতীনং হোতু, সুখিতা হোস্তু এগাতযো...নিববাণসূস পচ্চযো হোতু'তি (এ পুণ্য আমার জ্ঞাতিগণের মজঙ্গালের হেতু হোক, জ্ঞাতিগণ সুখী হোক ...নির্বাণ লাভের হেতু হোক)' উৎসর্গ গাথাটি তিনবার আবৃত্তি করে সংঘদানের পুণ্যফল জ্ঞাতিগণের উদ্দেশ্যে দান করতে হয়। উৎসর্গ গাথাকে পুণ্যানুমোদন গাথাও বলা হয়। উৎসর্গ গাথা আবৃত্তিকালে দাতা পরিবারের একজন জল ঢেলে পুণ্যরাশি মৃত জ্ঞাতিসহ সকল প্রাণী ও দেবতাদের উদ্দেশ্যে দান করে। বুদ্ধ সংঘদানের ফল সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'যুগে যুগে পৃথিবী, সাগর, মেরু প্রভৃতি ক্ষয় হয়ে যায়। কিন্তু শত সহস্র কল্পেও সংঘদানের ফলে অর্জিত পুণ্যরাশি শেষ হয় না।' অনুশীলনমূলক কাজ সংঘদান অনুষ্ঠানের দান সামগ্রীর একটি তালিকা তৈরি কর (দলীয় কাজ) ৷ পাঠ: ৩ দান কাহিনি কাহিনি : এক বৌদ্ধধর্মে দানের বহু কাহিনি প্রচলিত আছে । সিলদ্ধার্থরূপে জন্মগ্রহণের আগে তিনি আরও ৫৪৯ বার জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধ হতে গেলে দশ পারমী পূর্ণ করতে হয়। তারমধ্যে দান পারমীর স্থান প্রথম ৷ জন্ম-জন্মান্তরে তিনি অসংখ্য দান করে দান পারমী পূর্ণ করেন। একবার বোধিসন্প শিবি রাজা রূপে জন্মগ্রহণ করেন। দাতা হিসেবে তার খুব সুখ্যাতি ছিল । দানশীলতা পরীক্ষা করার জন্য দেবরাজ ইন্দ্র অন্ধ ব্রাহ্মণের বেশ ফর্মা নং ৫, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৭ম
religion
25
২০২৫ সঙ্গীতি ১০৯ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১। কে বুদ্ধের সর্বশেষ শিষ্য ছিলেন? ক. ধর্মরক্ষিত খ. মহাদেব গ. সুভ্দ্র ঘ. আনন্দ ২। দ্বিতীয় সঙ্গীতি আহ্বানের প্রধান কারণ কোনটি? ক. যশ স্থবিরকে সঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করা খ. দুর্বিনীত ভিক্ষুদেরকে স্বীকৃতি দেয়া গ. সভা আয়োজনের ব্যবস্থা করা ঘ. দসবখুনীকে বিনয়-বহির্ভুত ঘোষণা করা । নিচের ছবিটি লক্ষ কর এবং ৩ ও 8 নং প্রশ্নের উত্তর দাও : বরন ৩। বুদ্ধবাণী সংকলন ও সংরক্ষণে মডেলে উল্লিখিত শাসকগণ কী অবদান রাখেন? ক. সঙ্গীতি আহ্বানের খ. সূত্র ও নীতিগাথা প্রচারে গ. জাতকের উপদেশ প্রচারে ঘ. অট্ঠক্থার প্রসারে ৪। উক্ত ব্যক্তিবর্গের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রধানত কোন উদ্দেশ্য নিহিত ছিল ? ক. কর্মযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করা খ. সম্পদ বৃদ্ধি করা গ. রাজ্যের সম্প্রসারণ করা ঘ. ধর্মপ্রচার করা।
religion
26
বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান ১০৫ মাইল ৷ তিনি এখানে অনেকগুলো সংঘারাম দেখতে পেয়েছিলেন। তখন সেগুলোর প্রায়ই ছিল জনশূন্য ও ধ্বৎসপ্রাপ্ত। তবে কিছু সংঘারামে তিনি অল্পসংখ্যক মহাযানী বৌদ্ধ ভিক্ষু দেখতে পান । 'হুন' জাতির আক্রমণে এ নগরটি ধ্লংসপ্রাপ্ত হয়। খননকাজের ফলে এখানে বৌদ্ধযুগের বহু স্বূপ ও বিহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রাচীনকালের অনেক মুদ্বাও পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সরকার এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ৷ তক্ষশীলা কোথায় অবস্থিত এবং কেন বিখ্যাত ছিল? পাঠ: ৬ দর্শনীয় স্থান সংরক্ষণের উপায় দর্শনীয় স্থানসমূহ দেশের অতীত গৌরবের স্বাক্ষর বহন করে৷ এগুলো বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্বও আয় হয়। তাই এগুলো মহামূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদ ৷ এঁতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সকলের ৷ নানা কারণে এসব স্থানের ক্ষতি হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চোর বা ডাকাত কর্তৃক লুষ্ঠন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দর্শনার্থীর উচ্ছুঙ্খল আচরণ, পশু-পাখির মল ত্যাগ এবং কীটপতঙ্গের আক্বমণ প্রভৃতি ৷ এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত যত্ন নেওয়া, সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা, পশু-পাখির প্রবেশ রোধ, দর্শনীয় স্থানের নিয়ম-নীতি মেনে চলা, পবিত্রতা রক্ষা করা, মমত্ৃববোধ এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শনই পারে এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ৷ এভাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ ম্ধান সংরক্ষণের প্রতি সকলের যত্নশীল হওয়া উচিত। অনলীন মূলক কাজ কী কী কারণে দর্শনীয় স্থান ধ্বংস হতে পারে? দর্শনীয় স্থান সংরক্ষণের উপায়গুলো কী? শূন্যস্থান পুরণ কর ১. তীর্থস্থান ভ্রমণে ............... হয়। ২. এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও ............ সম্পর্কে জানা যায়। ৩. বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শন চর্চার ................ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ৷ ৪. রাজগৃহে ছিল জীবকের বিশাল ................ ৷ ৫. সপ্তম শতকের দিকে পরিবাজক ................. শ্রাবস্তীতে এসেছিলেন ৷ ফর্মা নং ১৪, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ৭ম
religion
27
বুদ্ধ ও বোধিসত্ত ২৫ সম্যক সম্বুদ্ধ বলতে স্ব-উদ্যোগে আর্যসত্যকে সম্যকভাবে স্বয়ং জ্ঞাত হওয়াকে বোঝায় এজন্য তাঁকে তিন স্তরের জ্ঞান-মহিমায় সম্পূর্ণতা অর্জন করতে হয়েছে। এগুলো হলো : ১) যা জানা অপরিহার্য তা তিনি জেনেছেন, যেমন আর্ধসত্য জ্ঞান ; ২) যা চিন্তা করার যোগ্য তা তিনি চিন্তা করেছেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কর্ম সম্পাদন করে স্বয়ং জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং ৩) যা ত্যাগ করার যোগ্য তা তিনি সধত্তরে ত্যাগ করেছেন। এভাবে তিনি তৃষ্ণাহীন বিশুদ্ধ মহাপুরুষ হয়েছেন। অনুরূপভাবে বুদ্ধগুণের প্রত্যেক স্তর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বলা হয় বুদ্ধগুণ অবণনীয়, অচিস্তনীয় ৷ অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধের নয়টি গুণ কী কী? মার্গ ও ফললাভের সাধনার স্তরগণুলোর নাম লেখ। পাঠ: ৩ বুদ্ধের প্রকারভেদ বৌদ্ধধর্ম গ্রন্থে তিন প্রকার বুদ্ধের কথা বলা হয়েছে৷ যথা : ১. সম্মাসম্বদ্ধ বা সম্যকসম্বুদ্ধ। ২. পদচ্চেকবুদ্ধ বা প্রত্যেকবুদ্ধ ৷ ৩. সাবকবুদ্ধ বা শ্রাবকবুদ্ধ ৷ নিচে এই তিন প্রকৃতির বুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো । সম্যকসন্ুদ্ধ বুদ্ধগণের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সম্যকসম্বুদ্ধ ৷ সম্যকসস্বুদ্ধ বলতে বোঝায়, যিনি কোনো গুরুর সাহায্য ছাড়া স্বীয় আদর্শ ও কর্মের দ্বারা নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন। তিনি সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী ৷ সম্যকসম্বুদ্ধগণ জন্ম-জন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমী পূর্ণ করেন । তিনি শেষজন্নে মানবকুলে উপযুক্ত পরিবারে জন্যগ্রহণ করেন। পূর্বের অনন্ত জন্মের সুকর্মের প্রভাবে এই জন্মে তিনি অর ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন৷ সম্যকসম্দুদ্বগণ শুধু নিজের জন্য বুদ্ধ হন না। তারা জগতের সর্বসন্তার পরম মুক্তির দ্বার উন্মোচনের ব্রত নিয়েই বুদ্ধ হন। এজন্যে সকল জীবের কল্যাণে তারা দুঃখমুক্তির পথ ও নির্বাগলাভের উপায় প্রচার করেন। ফর্মা নং-৪, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি
religion
28
২০২৫ দান ৩৭ ধর্মীয় জীবন গঠনে দানের প্রভাব : নির্বাণ লাভ করতে হলে দশপারমী পূর্ণ করতে হয় ৷ দশপারমীর মধ্যে দান পারমীর স্থান সর্বাধে ৷ লোভ- দ্বেষ-মোহের কারণে তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। তৃষ্ণাই সকল দুঃখের মূল কারণ ৷ তৃষ্ণার কারণে মানুষ বারবার জন্মগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করে ৷ তৃষ্ণাকে ক্ষয় করতে পারলে দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করা সম্ভব । দানের ফলে লোভ-দ্বেষ-মোহ বিদূরিত হয়। তৃষ্ঞার ক্ষয় হয়। তৃষ্ণা মুক্ত মানুষ আর জন্মগ্রহণ করেন না । ফলে মানুষ দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করে নির্বাণের পথে অগ্রসর হন ৷ দান পারমী পূর্ণকারী ব্যক্তি প্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী এবং অর্ত্ব ফল লাভ করেন । এভাবে দান ধর্মীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে । অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ১। দানকি ? ক. কুশল কর্ম খ. সাধনার গ. প্রজ্ঞা ঘ. ত্যাগ ২। কর্ম অনুযায়ী মানুষ ফল ভোগ করে - 1. কুশল কর্মের কুশল ফল 11. অকুশল কর্মের ফল অকুশল 111. কর্মফল সম্পর্কে বিশ্বাসী হয়ে । নিচের কোনটি সঠিক ? কক খ. 1ও1]11 গ. 11ওা1 ঘ. 1,11ও]11 নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও কাজল বড়ুয়া পশু-পাখির ব্যবসা করেন। তিনি একদা শ্রদ্ধেয় ভিক্কুসজ্ঘের উদ্দেশ্যে সংজ্ঘদানের ব্যবস্থা করেন৷ দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর হঠাৎ তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন । তিনি মৃত্যুর সময়েও উক্ত দানের কথা স্মরণ করেন । ৩। কাজল বড়ুয়া সংঘদান চেতনার কোন সম্পত্তির প্রতিফলন ঘটেছে ? ক. বন্তসম্পত্তি খ. চিত্তসম্পত্তি গ. প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি ঘ. ভোগসম্পত্তি
religion
29
৫৬ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সব শুনে বুদ্ধ বললেন, “ভিক্ষুগণ, তোমরা আবার সে-স্থানে ফিরে যাও ৷ আমি তোমাদের বৃক্ষদেবতাদের ভয় থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে দিচ্ছি । বৃক্ষদেবতা বা যক্ষদের সাথে শত্রুভাব পোষণ না করে মৈত্রীভাব পোষণ কর । তোমরা ধৈর্য ধরে তাদের প্রতি মৈত্রী ও করুণা প্রদর্শন কর ।” এই বলে বুদ্ধ তাঁদের করণীয় মৈত্রী সূত্র দেশনা করলেন এবং বললেন, “এই সুত্র শিক্ষা করে বনে ফিরে যাও ৷ প্রতিমাসে অষ্টধর্ম শ্রবণ দিবসে (আটটি উপোসথ দিবসে) এই সূত্র উচ্চস্বরে পাঠ করবে। এ বিষয়ে ধর্মকথা বলবে, প্রশ্নোত্তর করবে, অনুমোদন করবে । সেই অমনুষ্যগণ আর ভয় দেখাবে না। তোমাদের উপকারী ও হিতৈযী হবে ।” বুদ্ধের উপদেশমতো ভিক্ষুরা সেই স্থানে ফিরে গিয়ে করণীয় মৈত্রী সূত্র পাঠ ও মৈত্রী-ভাবনায় রত হলেন। করণীয় মৈত্রী সূত্র পাঠের প্রভাবে বৃক্ষদেবতাদের উপদ্রব বন্ধ হলো। মৈত্রী ও করুণার প্রভাবে বৃক্ষদেবতারা আর ভিক্ষুদের কোনো উৎপাত করল না, অধিকষ্ভ অত্যন্ত সম্ভষ্টচিত্তে তাদের সেবায় রত হলো । অবশেষে ভিক্ষুরা সেখানে বর্ষাবাস শেষ করতে সক্ষম হলেন। এই সূত্রে নির্বাণ লাভে ইচ্ছুক ব্যক্তিগণের করণীয় মৈত্রী ভাবনার নির্দেশনা আছে, তাই সূত্রটির নাম “করণীয় মৈত্রী সূত্র' । পালিতে এই সূত্রের নাম 'করণীয় মেন্তসুত্তং' ৷ পাঠ: ৫ করণীয় মেত্তসুত্তং (পালি) ১. করণীযমথকুসলেন যন্তং সন্তং পদং অভিসমেচ্চ, সঙক্কো উজু চ সুজু চ সুবচো চস্স মুদু অনতিমানী । ২. সন্ভস্সকোচ সুডরো চ অগপ্পকিচ্চো চ সল্পহুকবুত্তি, সন্তিন্দিয়ো চ নিপকো চ অগপ্পগবৃভো কুলেসু অননুগিদ্ধো ৩. নচ খুদ্দং সমাচরে কিঞ্চি যেন বিঞঞু পরে উপবদেয়্যুং, সুখিনো বা খেমিনো হোস্ত সব্দে সত্তা ভবস্তু সুখিতত্তা ৪. যে কেচি পানাভূতথি তা বা থাবরা বা অনবসেসা, দীঘা বা যে মহন্তা বা মদ্ত্বিমা রস্সকাণুকা থুলা । ৫. দিট্ঠা বা যেবা অদিট্ঠা যে চ দূরে বসস্তি অবিদূরে, ভূতা বা সম্ভবেসী বা সন্রে সত্তা ভবস্ধু সুখিততা ৷ ২০২৫
religion
30
৭০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা “হে মাণবক! কোনো কোনো নারী বা পুরুষ ঈর্ষাপরায়ণ হয় না। যশ-গৌরব, সম্মান, শ্রদ্ধা পূজা পাওয়া লোকদের তারা ঈর্ষা করে না। ঈর্ষার কারণে কারো প্রতি আক্রোশ প্রকাশ করে না। কাউকে দোষী বলে সাব্যস্ত করে না। এজন্য তারা স্বর্গে যায়। মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলে মহাপরিবারে জন্ম নেয়। এটাই মহাপরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণ। “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ দাতা হয় না। শ্রমণ ব্রাহ্মণকে খাদ্য, পানীয়, কাপড় কোনো কিছুই দান করে না। এরূপ কাজের জন্য তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবকুলে জন্ম নেয়ও তবে তারা খুব গরিব হয়। এটাই গরিব হওয়ার কারণ!" “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো নারী বা পুরুষ অহংকারী হয়। সে অভিবাদনের যোগ্য ব্যক্তিকে অভিবাদন করে না। দাড়িয়ে সম্মান জানানোর যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান করে না। আসন দানের যোগ্য ব্যক্তিকে আসন দান করে না। পূজনীয় ব্যক্তিকে পূজা করে না। মান্য করার যোগ্য ব্যক্তিকে মান্য করে না। এরূপ কাজের জন্য তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবকুলে জন্ম নেয়ও তবে তারা নীচকুলে জন্মগ্রহণ করে৷ এটাই নীচকুলে জন্ম নেওয়ার কারণ ৷” “হে মাণবক, এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ অহংকারী হয় না। অভিবাদনের যোগ্য ব্যক্তিকে তারা অভিবাদন করে। এছাড়া যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শন করে, আসন দানের যোগ্য ব্যক্তিকে আসন দান করে, পূজা করার ব্যক্তিকে পূজা কুরে, মান্য করার যোগ্য ব্যক্তিকে মান্য করে। এজন্য তারা স্বর্গে যায়। আর মানুষ হয়ে জন্ম নিলেও উচ্চকুলে জন্মগ্রহণ করে । এটাই উচ্চকুলে জন্মগ্রহণ করার কারণ ।* 'হে মাণবক, এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী পুরুষ শ্রমণ বা ব্রাহ্মণের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করে- ভন্তে, কুশল কী ? অকুশল কী? কী দোষের নয়? কী সেবা করা উচিত? কী সেবা উচিত নয়?। কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্টকর ও দুঃখকর হবে এবং কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘকাল সুখ বয়ে আনবে? এরূপ কাজ না করলে তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নেয়। আর যদি মানবক্কুলে জন্মও নেয় তবে তারা প্রজ্ঞাহীন হয়। এটাই প্রজ্ঞাহীন হয়ে জন্যগ্রহণের কারণ।' “হে মাণবক! এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ, শ্রমণ বা ব্রাহ্মণের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, কুশল কী? অক্কুশল কী? কী কী দোষের নয়? কিসের সেবা করা উচিত? কিসের সেবা করা উচিত নয়? কোন কাজ করলে তা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট অনিষ্টকর দুঃখকর হবে? কোন কাজ করলে তা আমার জন্য দীর্ঘকাল সুখ বয়ে আনবে? এরূপ কাজের জন্য তারা স্বর্গে যায়। আর মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলে মহাজ্ঞানী হয়ে জন্ম নেয়। এটাই মহাজ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণ “হে মাণবক! এরূপে অল্প আয়ু, দীর্ঘ আয়ু, জটিল ব্যাধ্য্রস্ত, নিরোগ, বিশ্রী, সুশ্রী, দুঃখী পরিবার, সুখী দেখা যায়! ১০২৫
religion
31
১২০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১. শুক সন্তান আমের রস খেতে কোথায় যেত? ২. বুড়ি ঠাকুরমার সোনার খালার দাম কত? ৩. লোভী ফেরিওয়ালার লোভের পরিণতি কী হলো? বর্ণনামূলক প্রশ্ন ১. বোধিসতপ্তব শুক সন্তানকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন এবং কেন? ২. 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু' কথাটি সেরিবানিজ জাতক অবলমৃনে ব্যাখ্যা কর। ৩. দশরাজধর্মের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। বছনির্বাচনি প্রশ্ন ১। সুখবিহারী জাতকে বোধিসত্ত্ গৃহত্যাগ করে কোথায় চলে গেলেন? ক. গভীর বনে খ. হিমালয়ে গ. নদীর তীরে ঘ. বৌদ্ধবিহারে ২। তপস্থবী : আহা কী সুখ ! -_- এ কথাটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ? ক. রাজাকে অবজ্ঞা করার খ. রাজ্যসুখ ভোগ করার গ. ধ্যান সমাধির সুখে বিভোর হওয়ার ঘ. রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও : সীমান্ত বড়ুয়া পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান । তার পিতা দুইটি গার্মেন্টস শিল্পের মালিক ৷ পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি গার্মেন্টস দুইটির মালিক হন এবং নিয়মনীতি পালনে সক্রিয় ছিলেন । তিনি কর্মচারীদের সম্মান করতেন এবং শীল পালনে ও সৎভাবে স্ব-স্ব কাজ সম্পাদনের উপদেশ দিতেন । ৩। সীমান্ত বড়ুয়ার সাথে জাতকে কোন রাজার চরিত্রের মিল পাওয়া যায় ? ক. জনসন্ধ খ. বেস্সান্তর গ. শিবি ঘ. ইন্দ্র ২০২৫
religion
32
বিশাখা আজীবন অসুস্থ ভিক্ষুর যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন! বিশাখা আজীবন অসুস্থ ভিক্ষুদের পরিচর্যাকারীদেরও আহার্য দান করবেন । বিশাখা আজীবন বিহারের অসুস্থ ভিক্ষুদের জন্য প্রয়োজনীয় পথ্য সরবরাহ করবেন । বিশাখা আজীবন ভিক্ষুদের যাগু-অনু দান করবেন। বিশাখা আজীবন ভিশ্ষুণীদের স্নানবস্ত্র প্রদান করবেন। 122: 2 ২ ০০৮ বিশাখার এ বরপ্রার্থনার মধ্যে তার গভীর দানচেতনা ও উদারতার প্রকাশ ঘটেছে। এভাবে বিশাখা সানন্দে বুদ্ধ ও ভিক্ষুসজ্ঘের সেবায় নিয়োজিত হয়ে অপরিসীম পুণ্য সঞ্চয় করেন৷ বিশাখার বাড়িতে প্রত্যহ পাঁচশত ভিক্ষু আহার গ্রহণ করতেন। বিশাখার দশ পুত্র ও দশ কন্যা ছিল৷ তাঁদের প্রত্যেকেরই দশটি করে সন্তান ছিল। এভাবে তাঁরা সবাই বলশালী ও সম্পদশালী হয়ে সুখে বাস করতেন। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে বিশাখা 'মহাউপাসিকা' নামে খ্যাত হন। এই মহাউপাসিকার জীবনী হতে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, ভোগ নয়, ত্যাগই মানুষকে মহৎ ও মহান করে৷ তাই সকলের দান ও ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়া উচিত । অনুশীলনমূলক কাজ বিশাখার পিতা বিশাখাকে কয়টি উপদেশ দিয়েছিলেন? শ্বশুরকে বিশাখা কীভাবে দীক্ষা প্রদান করেন? বুদ্ধের নিকট বিশাখা কয়টি বর প্রার্থনা করেছিলেন? সেগুলো কী? পাঠ: ৩ রাজা প্রসেনজিত রাজা প্রসেনজিত ছিলেন কোশলের রাজা ৷ শ্রাবন্তী ছিল কোশলের রাজধানী এবং খুবই সমৃদ্ধশালী নগরী । শ্রাবন্তীতে বুদ্ধ অনেক ধর্মোপদেশ দান করেছেন। এখানে তার জীবনের অনেক স্মৃতি বিজড়িত আছে ৷ তাই শ্রাবন্তী বৌদ্ধদের একটি প্রধান তীর্থস্থান । এর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত ৷ এটি বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত ৷ প্রসেনজিত ছিলেন কোশলের রাজা মহাকোশলের পুত্র এবং বুদ্ধের সমসাময়িক । তিনি তক্ষশিলায় লেখাপড়া করেন। লিচ্ছবি মহালি এবং মনল রাজপুত্র ভঞ্জূল ছিলেন তার সহপাঠী ৷ তিনি বিভিন্ন রকম বিদ্যা ও শিল্পকলা শিখে তক্ষশিলা থেকে ফিরে আসেন। পিতা মহাকোশল বিদ্যা ও শিল্পকলায় তার পারদর্শিতা দেখে খুবই সম্ভষ্ট হন এবং তাকে কোশলের সিংহাসনের অধিকারী করান। রাজ্যভার গ্রহণ করে তিনি খুবই নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন । তিনি জ্ঞানী ও সাধু ব্যক্তিদের খুব ভালোবাসতেন এবং তাদের সঙ্গ উপভোগ করতেন। বুদ্ধের বুদ্ধত্ব লাভের পরপরই রাজা প্রসেনজিত বুদ্ধের অনুসারী হন এবং মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি বুদ্ধের উপাসক হয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। ফর্মা - ১৭, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি
religion
33
১৪ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা সামনে হাঁটু ভেঙে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করতে হয়। তারপর ত্রিরত্ন বন্দনা করতে হয় । তারপর অন্যান্য বন্দনা করা হয়। বন্দনা শেষ হলে ভিক্ষু এবং অন্য বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করতে হয়। বুদ্ধং বন্দামি ধন্মং বন্দামি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্বদা ৷ দুতিযম্মি বুদ্ধং বন্দামি দুতিযম্পি ধন্মং বন্দামি দুতিযস্পি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্দ্দা ৷ ততিযম্পি বুদ্ধং বন্দামি ততিযম্পি ধম্মং বন্দামি ততিযম্পি সংঘং বন্দামি অহং বন্দামি সব্দপদা ৷ ত্রিরত্ন বন্দনা (বাংলা অনুবাদ) : আমি বুদ্ধকে বন্দনা করছি আমি ধর্মকে বন্দনা করছি আমি সংঘকে বন্দনা করছি আমি সর্বদা বন্দনা করছি। দ্বিতীয়বার আমি বুদ্ধকে বন্দনা করছি ২০২৫
religion
34
১৪০ বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য তিনটি টীবর, যথা : সংঘাটি, উত্তরাসঙ্ঘ ও অন্তর্বাস, ভিক্ষাপাত্র, স্ষুর, সুঁচ-সুতা, কটিবন্ধনী এবং জল ছাঁকনি-এই আটটি ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্য । দ্রব্যগুলো ভিক্ষু-খমণদের জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট বলে বুদ্ধ নির্দেশ করেছেন। সংযম ব্রত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সোনা রূপা গ্রহণ করা একেবারেই বারণ ৷ যদি কোনো গৃহস্থ তা দান করেন তাহলেও ভিক্ষু তা নিজের জন্য রাখতে পারবেন না। হয় তা দাতাকে ফেরত দেবেন অথবা অন্য কোনো গৃহস্থকে দান করবেন। অন্য কোনো গৃহস্থকে দান করার ফলে তিনি তার বিনিময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিতে পারবেন। তবে সেগুলো ভিক্ষু নিজের জন্য নিতে পারবেন না। অন্য ভিক্ষু বা ভিক্ষুসতজ্তেঘর জন্য নিতে পারবেন । বুদ্ধ শাসনের উন্নতির জন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ ভূমি, বিহার প্রভৃতি স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারবেন । বুদ্ধের সময় রাজা, মহারাজা ও গৃহীরা এরকম দান করতেন। তবে এগুলো সজ্ঘসম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হবে । পঞ্চ ভাবনা পঞ্চ ভাবনা ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা । মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা- এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে ভাবনা করতে হয় বিধায় একে পঞ্চ ভাবনা বলে । ভিক্ষু শ্রমণগণ সকাল- সন্ধ্যায় নির্জনে বসে এই পঞ্চ ভাবনা চর্চা করেন৷ পঞ্চ ভাবনা লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে ৷ পঞ্চ ভাবনা হলো : মৈত্রী ভাবনা : সকল প্রাণী শত্রুহীন হোক, বিপদহীন হোক, রোগহীন হোক, ভয়হীন হোক, সুখে বাস করুক-এরূপ কল্যাণ কামনাই মৈত্রী ভাবনা । করুণা ভাবনা: দুঃখীর দুঃখে ব্যথিত হয়ে 'দুঃখমুক্তি' কামনা করাকে করুণা ভাবনা বলে । মুদিতা ভাবনা : অপরের সৌন্দর্য, যশ, লাভ, এঁশ্বর্য, অথবা সৌভাগ্য দেখে নিজ চিত্তে আনন্দ অনুভব করাই মুদিতা ৷ 'সকল প্রাণী যথালক্ধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হোক” -এটি হলো মুদিতা ভাবনার মূলমন্ত্র । অশুভ ভাবনা : শরীর ব্যাধি ও অশুচির আধার, অনিত্য এবং মৃত্যুর অবীন ৷ এ বিষয়গুলো অবলম্বন করে ভাবনা করাই হচ্ছে অশুভ ভাবনা । উপেক্ষা ভাবনা : লাভ-অলাভ, যশ-অযশ, নিন্দা-প্রশংসা, সুখ-দুঃখ ইত্যাদি অষ্টগ্রকার লোকধর্মে চিত্তকে অবিচলিত রেখে ভাবনা করাই হচ্ছে উপেক্ষা ভাবনা । ধ্যান ও সমাধি ধ্যান ও সমাধি ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি বিষয় ৷ ধ্যান অনুশীলন ব্যতীত চিত্তের একাগ্রতা আনয়ন সম্ভব নয়। মানুষ সহজে তৃষ্ণার জালে আবদ্ধ হয়। লোভ, দ্বেষ, মোহ, কামনা, বাসনা প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায় । এসবের তাড়নায় মানবচিত্ত অশান্ত থাকে । চিত্ত স্বভাবত চঞ্চল এবং ভালোমন্দ উভয় দ্বারা প্রলুন্ধ হয়ে থাকে৷ এরূপ চিত্তকে সংযত করতে না পারলে তৃষ্ণা হতে মুক্তি লাভ সম্ভব নয়। ুঁ রা
religion
35
২০২৫ বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান ৯৯ বৰা তার প্রধান শিষ্যগণ গমন করেননি । কিন্তু বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সেগুলোও প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাই এসব স্থানের ধর্মীয় গুরুতু অপরিসীম । এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যায়। ভৌগোলিক ও এঁতিহাসিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। মনে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। জনহিতকর এবং কুশলকর্ম সম্পাদনে মন উদ্বুদ্ধ হয়। ধর্মচর্চায় প্রেরণা লাভ করা যায়। মন পবিত্র হয়৷ কলুষমুক্ত হয়৷ তৃষ্ণা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ক্ষয় হয়। এঁতিহ্যের প্রতি অনুরাগ বাড়ে। দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়। তাই তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম । পরবর্তী পাঠে আমরা চারটি বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানব । অনুশীলনমূলক কাজ দেশ অনুযায়ী বৌদ্ধ দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর (দলীয় কাজ) ৷ পাঠ: ২ নালন্দা নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার অন্তর্গত ছিল । বর্তমানে নালন্দা একটি স্বতন্ত্র জেলা । গৌতম বুদ্ধ অনেকবার নালন্দায় এসেছিলেন ৷ তিনি এখানে শ্রেষ্ঠীপুত্র পাবারিকের আম বাগানে অকথানকালে তার শিষ্যদের ধর্ম দেশনা করেছেন। এখানে অনেক ধনী ব্যক্তি বসবাস করতেন। কয়েকজন ধার্মিক ও ধনী ব্যক্তি ভূসম্পত্তি ক্রয় করে বুদ্ধকে দান করেন। নালন্দা ছিল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী মহানগরী । নালন্দা নামের উৎপত্তি নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তার মধ্যে দুটি ব্যাখ্যা প্রধান। একটি হলো, অতীতকালে এখানে বোধিসত্ু নামে এক ব্যক্তি রাজত্‌ করতেন। তিনি কখনো কাউকে 'নঅল্মদা' অর্থাৎ 'আমি দেব না' একথা বলতে পারতেন না। সে কারণে এ স্থানের নাম হয় নালন্দা। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, স্থানীয় এক আম বাগানের মধ্যস্থলে একটি পুকুর ছিল ৷ সেখানে নালন্দা নামক এক নাগরাজ বাস করতেন। তার নাম অনুসারে এ জায়গার নাম হয় নালন্দা । জানা যায় গৌতম বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক সারিপুত্রের জন্ম হয়েছিল এই নালন্দায়। পরবর্তীকালে সম্রাট অশোক অগ্রশ্রাবকের স্মরণে এখানে একটি সুবৃহৎ সংঘারাম নির্মাণ করেছিলেন। সেটি নালন্দা মহাবিহার নামে খ্যাত হয়। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে বিখ্যাত বৌদ্ধ পন্ডিত ও দার্শনিক নাগার্জুন নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন ৷ বিহারটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে গড়ে উঠে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমান করা হয়, খ্রিষ্টায় পঞ্চম শতকের পর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে ছোট ছোট বিহার, চৈত্য, স্তূপ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল । পরবর্তীকালে এ সকল স্থাপনার সমন্বয়ে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল জগৎ বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
religion
36
২০২৫ গৌতম বুদ্ধের সাম্যনীতি ৩ বাসেট্ঠ সূত্রে বুদ্ধ এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, 'জাতি হিসেবে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই । ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের পদচিহ্ন একই রূপ । হাতি, ঘোড়া, বাঘ এরূপ চতুষ্পদ প্রাণীদের মতো মানুষে মানুষে দৈহিক গঠনে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না । প্রাণীদের মধ্যে স্ত্রী, পুরুষ, বর্ণ, শারীরিক গঠন, লোম, চঞ্চ প্রভৃতিতে পার্থক্য আছে ৷ মানুষে মানুষে তেমন পার্থক্য দেখা যায় না ।" মূলত, জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, বুদ্ধিমত্তা, বিচারশক্তি, আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে মানুষে মানুষে অথবা জাতিতে জাতিতে তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না । বুদ্ধের সময়কালে কন্যা সন্তানের জন্ম কাম্য ছিল না ৷ সংযুক্ত নিকায়ের কোসল সংযুক্ত পাঠে জানা যায় যে, রাজমহিধবী মনল্লিকাদেবী কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন শুনে কোশলরাজ প্রসেনজিত খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েন । বুদ্ধ জানতে পেরে রাজসমীপে উপস্থিত হয়ে রাজা প্রসেনজিতকে বললেন, কন্যা সন্তানের জন্ম হেতু কারও দুঃখ পাওয়া উচিত না; কন্যা যদি তীক্ষ্ন বুদ্ধি সম্পন্ন, ধর্মপ্রাণ, সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলে কন্যা সম্ভান পুত্রাপেক্ষা শ্রেয়সী হবার যোগ্যতা রাখে ৷ এমনকি এই কন্যা সন্তান রতুনগর্ভাও হতে পারে ৷ তার গর্ভজাত সম্ভান ভবিষ্যতে মহৎ কার্য সম্পন্ন করতে পারে এবং সুবিশাল রাজ্যের অধিশ্বর হতে পারে ।' বুদ্ধের বাণী শুনে রাজা প্রসেজিত কন্যা সন্তানের জন্মকে শুভ বলে মেনে নেন । বুদ্ধের সময়কালে এরূপ অনেক ধরনের বৈষম্য প্রচলিত ছিল । বুদ্ধ সাম্যনীতির মাধ্যমে তথাকথিত সামাজিক বৈষম্যগুলো দূরীভূত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন ৷ অনাদিকাল থেকেই মানুষ সমাজে সাম্যনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে ৷ বুদ্ধই প্রথম সমাজে সাম্যনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ব শাস্তি প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন । অনুশীলনমূলক কাজ বুদ্ধের সাম্যনীতির শিক্ষা কী? কীসের দ্বারা মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয়? পাঠ : ২ বুদ্ধের সাম্যনীতির প্রয়োগ বুদ্ধের সমকালীন সমাজে নিমনশ্রেণির মানুষের তেমন কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার ছিল না। বুদ্ধ অবহেলিত নিম্নশ্রেণির মানুষকে তার প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসজ্জে প্রবেশাধিকার দিয়েছিলেন । সে সময়ে সমাজে নিম্নশ্রেণির মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ধর্ম ও অন্যান্য বিদ্যা শিক্ষায় বিধি-নিষেধ ছিল ৷ বুদ্ধ সঙ্ঘে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে ধর্ম ও বিদ্যা চর্চায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন । নিচে প্রাসঙ্গিক একটি কাহিনি বর্ণনা করা হলো :
religion
37
নু তত গল চরিতমালা ৮৫ 'আমার কারণে যারা জ্ঞাতি বিয়োগ দুঃখ ভোগ করেছেন তারা আমার ধর্মকথা শ্রবণ করুন। আমার বাক্য শুনে সকলে বুদ্ধ শাসনে সৎকার্য সম্পাদনে নিযুক্ত হোন । ধার্মিক কল্যাণ মিত্রের সেবা করুন । যাঁরা ক্ষান্তিশীলতার কথা বলেন, মেত্রী ধর্মের প্রশংসা করেন তাদের নিকট ধর্ম শ্রবণ এবং যথাধর্ম আচরণ করুন ৷ কাউকেও হিংসা করবেন না। নির্বাণ প্রাপ্ত হয়ে সকল প্রাণীকে নিজের সন্তানের মতো প্রতিপালন করবেন ৷ হস্তীকে অঙ্কুশ দ্বারা, অশ্বকে কশাঘাত দ্বারা দমন করে ৷ পণ্তিতগণ নিজেকে অর্ত্্ব ফলের দ্বারা দমন করেন ৷ আমি বুদ্ধ কর্তৃক বিনা দণ্ডে দমিত হয়েছি ৷ পূর্বে আমার নাম হিংসক হলেও আমি অহিংসক নামে পরিচিত ছিলাম । আজই আমার অহিংসক নাম সত্যে পরিণত হয়েছে । আমি আর কাউকে হিংসা করি না ।' অনুশীলনমূলক কাজ অঙ্গুলিমালের জন্মের সময় কী হয়েছিল লেখ । আচার্য গুরুদক্ষিণা স্বরূপ অঙ্গুলিমালের নিকট কী চাইলেন? পাঠ: ৩ মহাপ্রজাপতি গৌতমী মহাপ্রজাপতি সুপ্রবুদ্ধের পরিবারে দেবদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি রানি মহামায়ার কনিষ্ঠ বোন ছিলেন ৷ রাজা শুদ্ধোদন দুই বোনকেই বিয়ে করেন । জ্যোতিযীগণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের সন্তান রাজচক্রবর্তী রাজা হবেন । সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্যের সপ্তাহকাল পরে তার মাতা রানি মহামায়ার মৃত্যু হয় । মহাগ্ুজাপতি গৌতমীই সিদ্ধার্থের লালন পালনের ভার গ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন নন্দের মাতা ৷ কথিত আছে, তিনি নিজ পুত্রের দেখাশোনার ভার ধাত্রীর ওপর অর্পণ করে নিজে সিদ্ধার্থ গৌতমকে প্রতিপালন করতেন। গৌতম সিদ্ধার্থের গোত্রের নাম । গৌতমের লালন-পালনকালী হিসেবে তিনি মহাপ্রজাপতি গৌতমী নামে পরিচিতি লাভ করেন । পরিণত বয়সে রাজা শুদ্ধোদনের মৃত্যু হয় । এতে রাজ্য ও সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠেন মহাপ্রজাপতি গৌতমী । এসময় তিনি সন্ন্যাস জীবন লাভে আগ্রহী হলেন। এজন্য কীভাবে কী করা যায় তিনি চিন্তা করতে লাগলেন । সেসময় শাক্য ও কোলিয়দের মধ্যে রোহিনী নদীর জল নিয়ে বিবাদ হয়েছিল ৷ বুদ্ধ সে বিবাদ মীমাংসার জন্য বৈশালী থেকে কপিলাবন্তু যান । এতে মহাপ্রজাপতি গৌতমীর আকাঙ্ক্ষিত সুযোগ উপস্থিত হয় । বিবাদ মীমাংসা হলে বুদ্ধ তাদেরকে কলহবিবাদ সূত্র দেশনা করেন । এসময় পাঁচশত শাক্যকুমার ভিক্ষুসজ্ঘে যোগদান করেন ৷ তাদের স্ত্রীগণ মহাপ্রজাপতি গৌতমীর নেতৃত্বে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে ভিক্ষুণীৰুৃত গ্রহণ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু বুদ্ধ তাদের অনুরোধ
religion
38
দশম অধ্যায় বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন ইতিহাস এবং এঁতিহ্য অত্যন্ত গৌরবের । কালের পরিক্রমায় এগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৷ খননকার্ধের ফলে এসব ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাচীন অনেক মুল্যবান নিদর্শন ও প্রতুন্সামগ্রী আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ রাজন্যবর্গের অনেক কীর্তি জড়িত আছে। বাংলাদেশ সরকার এসব ধ্বংসস্তূপ ও আবিষ্কৃত দ্রব্যাদি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক অপুর্ব সুন্দর বৌদ্ধবিহার, বুদ্ধমূর্তি ও চৈত্য আছে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক লোক এগুলো দেখতে আসে। তাই এগুলো বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে খ্যাত। এগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সভ্যতার ইতিহাস। এসব স্থান বৌদ্ধদের নিকট খুবই পবিত্র এবং প্রিয়। এগুলো দর্শন করলে মনের প্রসারতা বৃদ্ধি পায়। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহা ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে পড়ব। এ অধ্যায় শেষে আমরা- * বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বর্ণনা দিতে পারব; * বৌদ্ধ এতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব। পাঠ: ১ বাংলাদেশের বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান পরিচিতি বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ এঁতিহ্া ও দর্শনীয় স্থান আছে। এগুলোর মধ্যে বিহার, চৈত্য, বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব ও দেব-দেবীর মূর্তি, স্তুপ, প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও নগরের ধ্বংসাবশেষ, ব্যবহার্য দ্রব্য, পোড়ামাটির ফলক, চিত্র, মুদ্রা, শিলালিপি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসবের প্রতনতান্তিক গুরুত্ব অপরিসীম । দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য এঁতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। খননকার্যের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহার ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শালবন মহাবিহার, আনন্দবিহার, ভোজবিহার, রূপবান বিহার, ইটাখোলা বিহার, কোৌটিল্যমুড়া, কোটবাড়ীমুড়া, চারপত্রমুড়া, ত্রিরতন্ুড়া উল্লেখযোগ্য। বগুড়া জেলায় আবিষ্কৃত বৌদ্ধ এঁতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মহাস্থানগড়, তাসুবিহার, গোবিন্দভিটা, বৈরাগীর ভিটা অন্যতম । নওগী জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। এছাড়া এ অঞ্চলে হলুদ বিহার, জগদ্দল বিহারের ধ্বংসাবশেষ আছে। দিনাজপুরে সীতাকোট বিহারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। সম্প্রতি নরসিংদী জেলায় উয়ারী-বটেশ্বর, পঞ্চগড়ে পলদ্মবিহার, এবং মুস্সিগঞ্জ জেলার রঘুনাথপুরে বিক্রমপুরী বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো আমাদের অতীত এঁতিহ্যের মারক। বাংলাদেশ সরকার এগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করছে। এসব বৌদ্ধ এঁতিহা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। আধুনিককালে নির্মিত অপুর্ব সুদ্দর বৌদ্ধবিহার ও বুদ্ধমূর্তি আছে, যেগুলো বৌদ্ধ এঁতিহা ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। বৌদ্ধবিহারগুলোর মধ্যে পাহাড়তলীর মহামুনি বিহার, রাউজানের সুদর্শন বিহার, বাগোয়ানের ফরাচিন বিহার, পটিয়ার সেবাসদন বিহার, ঠেগরপুনির বুড়া গৌসাই বিহার, চক্রশালা বিহার, রামুর রামকোট বিহার, কক্সবাজারের অগ্গমেধা বিহার, রাঙামাটির চিতৎ্মরম বিহার, রাজবন বিহার , সীতাকুণ্ডের সঙ্জারাম বিহার , খাগডাছডি্রি পানছড়িতে অবস্থিত অরণ্য কুটির বিহার, ঢাকার গু ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার, বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এসব বিহারে স্থাপিত বুদ্ধমূর্তি ও অন্যান্য
religion
39
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উত্সব ৬৯ বাংলা অনুবাদ : তন্তে, অবকাশ প্রদান করুন, আমি প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করছি। দ্বিতীয়বারও ভন্তে, আমি প্রবৃজ্যা প্রার্থনা করছি। তৃতীয়বারও ভন্তে, আমি প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করছি। এরপর প্রব্রজ্যা প্রার্থনার উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে নিচের প্রার্থনাটি করতে হয়। সব্বদুক্খ নিস্সরণ নির্বাণং সচ্ছিকরণথায ইমং কাসাবং গহেড়া পব্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায। দুতিযষম্পি সব্বদুক্খ নিসৃ্সরণ নিঝ্বাণং সচ্ছিকরণখথায ইমং কাসাবং গহেড়া পরৰ্বাজেখ মং ভষ্তে, অনুকম্পং উপাদায। ততিযম্পি সব্বদুক্খ নিস্সরণ নিব্বাণং সচ্ছিকরণখথায ইমং কাসাবং গহেডত়া পর্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায। বাংলা অনুবাদ : ভদ্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাত ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ব (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন। দ্বিতীয়বার ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । তৃতীয়বার ভন্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বণি প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) গ্রহণ করে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । তারপর প্রব্রজ্যা প্রার্থীকে দীক্ষাদানকারী আচার্যের হাতে চীবরসমূহ তুলে দিতে হয় । অতঃপর হাতজোড় করে নিচের প্রার্থনাটি করতে হয় : সব্বদুক্খ নিস্সরণ নির্ববাণং সচ্ছিকরণথায এতং কাসাবং দত্বা পববাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । দুতিযম্পি সব্বদুক্থ নিস্সরণ নিৰ্বাণং সচ্ছিকরণথায এতং কাসাবং দত্বা পৰ্বাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । ততিযস্পি সব্বদুকূখ নিসৃ্সরণ নিব্বাণং সচ্ছিকরণখায এতং কাসাবং দত্বা পববাজেথ মং ভন্তে, অনুকম্পং উপাদায । বাংলা অনুবাদ : ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই কাষায় বস্ত্র (চীবরসমূহ) দিয়ে আমাকে প্রবজ্যা প্রদান করুন । দ্বিতীয়বার ভস্তে, সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ ও নির্বাণ প্রত্যক্ষ করার জন্য অনুগ্রহ করে এই ঠঁ কাষায় বস্ত্র চীবরসমূহ) দিয়ে আমাকে প্রব্রজ্যা প্রদান করুন । বর
religion
40
টু ণ গা পাঠ: ৪ মন্পলিকাদেবী পুণ্যশীলা মন্ললিকাদেবী কুশীনগরে জন্মগ্রহণ করেন৷ বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তার সঙ্গে বন্ধুল সেনাপতির বিয়ে হয় । তিনি বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল কোশল রাজ্যে গমন করেন। বন্ধুল ছিলেন কোশলরাজ প্রসেনজিতের সেনাপতি । শ্রাবস্তীর জেতবনে ভগবান বুদ্ধ যখন অবস্থান করতেন মন্লিকাদেবী সেনাপতির স্ত্রী হয়েও দিনে দুবার ত্রিরত্নের সেবা করতে বিহারে যেতেন । মন্ললিকাদেবী বুদ্ধসহ বিহারের সকল ভিক্ষুসংজ্ঞকে সকালে প্রাতঃরাশ দান করতেন ৷ বিকালে ধর্ম শ্রবণের সময় তাঁদের জন্য পানীয় ও পঞ্চ ভৈষজ্য নিয়ে যেতেন ৷ এছাড়া তাদের গৃহেও পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে খাদ্যভোজ্য দান করা হতো ৷ দীর্ঘকাল সংসার করেও মল্লিকাদেবীর কোনো সম্ভান হলো না । তিনি নিঃসন্তান বলে তাঁর স্বামী তাঁকে পিতৃগৃহে চলে যেতে বললেন । স্বামীর আদেশ মেনে নিয়ে তিনি পিতৃগৃহ কুশীনগরে রওনা হলেন । যাবার পথে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে তিনি বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করলেন ৷ বুদ্ধের ধর্মোপদেশ শুনে তিনি স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে মন স্থির করলেন ৷ তখন তিনি পিতৃগৃহে না গিয়ে স্বামীগৃহে ফিরে গেলেন ৷ তাকে দেখে বন্ধুল সেনাপতি বললেন, ফিরে এলে কেন? মপ্লিকাদেবী বললেন, ভগবান বুদ্ধ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন । বন্ধুল সেনাপতি চিন্তা করলেন তথাগত ভবিষ্যত দ্রষ্টা ৷ হয়তো আমার বংশ রক্ষা হবে । তাই তিনি মল্লিকাকে আমার নিকট ফেরত পাঠিয়েছেন ৷ কিছুদিন পর মত্ল্লিকা সন্তানসম্ভবা হলেন ৷ তার দুটি যমজ সন্তান হলো । এভাবে বন্ধুলের গঁরসে মল্লিকার গর্ভে ষোলবার যমজ সন্তান হয়েছিল । প্রত্যেকেই সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। যথাসময়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তারা এক সঙ্গে রাজবাড়িতে গেলে রাজাঙ্গন পূর্ণ হয়ে যেত । বিচারালরের বিচারকার্য থেকে আরম্ভ করে সর্বত্র বন্ধুল সেনাপতির জয়ধ্বনি ঘোষিত হলো । কোশলরাজ প্রসেনজিতের মনে এক সময় সন্দেহ জাগ্রত হলো ৷ একদিন এ বন্ধুল সেনাপতিই হয়তো রাজশক্তি কেড়ে নিতে পারে । তাই রাজা ষড়যন্ত্র করে বন্ধুল সেনাপতি ও তাঁর বত্রিশ পুত্রকে হত্যা করলেন । যেদিন তাদের সবাইকে হত্যা করা হলো সেদিন মন্লিকাদেবী সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন প্রমুখ ভিক্ষুসঙ্জকে পিগ্ুদান করছিলেন ৷ স্বামী ও পুত্রদের মৃত্যু সংবাদ সম্বলিত পত্র পেয়েও তিনি ধৈর্য সহকারে পুণ্যকাজ সম্পন্ন করলেন । সারিপুত্র স্থবির এ প্রসঙ্গে উপদেশ দিলেন - 'কার কখন, কীভাবে মৃত্যু হয় কেউ বলতে পারে না । জীবন ক্ষণস্থায়ী ও দুঃখপূর্ণ ৷ জরা, ব্যাধি একদিন সবাইকে গ্রাস করবে । মৃত্যুই প্রাণিজগতের স্বভাবধর্ম ৷ জন্ম মৃত্যুর কারণ না জেনে শোক করা বৃথা ৷ শোকার্ত ব্যক্তি কৃশ ও বিবর্ণ হয় । এতে মৃত ব্যক্তির কোনো লাভ হয় না । পুণ্য কর্মই মৃতব্যক্তির উপকারে আসে ।'
religion
End of preview. Expand in Data Studio
README.md exists but content is empty.
Downloads last month
13