text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রতিবাদে বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া 'অন্নদাশঙ্কর রায় সম্মান' ফিরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সাহিত্যিক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে ২৬ জুলাই বাংলা একাডেমির তরফে অন্নদাশঙ্কর স্মারক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্য একাডেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আন্দামানের বাসিন্দা অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস। গেলো ২৫শে বৈশাখ সাহিত্য চর্চায় নিরলস সাধনার জন্য বাংলা একাডেমির বিশেষ পুরস্কার পান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছর থেকে প্রথম প্রবর্তিত করা হয় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমির নামাঙ্কিত এই বিশেষ পুরস্কার। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করার পরেও, যারা নিরন্তর সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা একাডেমি। আর প্রথম বছরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের 'কবিতা বিতান' কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশেষ এই পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয় বাংলা একাডেমি। এদিকে মমতাকে এই পুরস্কার দেওয়ার পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ব্যঙ্গাত্মক মিমে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। চিত্র পরিচালক প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রসহ পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন মানুষজন সরাসরি অথবা মজার ছলে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও। নেটিজেনদের একাংশের পক্ষ থেকেও এসেছে কটাক্ষ। একসময় কবিতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি ওঠে ফেসবুকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মমতার 'হরে করো কমবা, গরু ডাকে হামবা' কিংবা "আব্বা ডাব্বা জব্বা" কবিতার পংক্তি ধরে ব্যাখ্যা করতে বসতে হয় তৃণমূল নেতাদের। গোটা ঘটনায় অপমানিত হয়েছেন এমন উল্লেখ করে লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সাহিত্যিক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠি লিখে বাংলা একাডেমিকে বলেছেন 'মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি শুধুমাত্র একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তাই নয়, এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকারের নিরলস চর্চারত সমস্ত মানুষকে অপমানিত করেছে।' বাংলা অ্যাডভাইজারি বোর্ডের অন্যতম সদস্য অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস পদত্যাগ করতে চেয়ে চিঠি দিয়ে বলেছেন, 'এবছরের পঁচিশে বৈশাখ যে ঘটনা ঘটেছে তা বাংলা কবিতা জগতে অপমানের।'
3
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার এক সপ্তাহ আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর গোপন বৈঠকের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার গণমাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলামের (পীর সাহেব ফিরোজশাহ) পক্ষে প্রতিবাদলিপি পাঠানো। তিনি বলেন, 'হেফাজত আমিরের কাছ থেকে আমি জেনেছি- ২০১৩ সালে রিমান্ডে পুলিশকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর কোনোদিন সামনাসামনি দেখা পর্যন্ত হয়নি। অথচ মুঈনুদ্দীন রুহি ও ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তারা এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারবে না'। মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, 'রমজান মাসে আলেম-ওলামার ওপর পুরনো মিথ্যা মামলা সচল করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। গুটিকয়েক নীতি-আদর্শচ্যুত সাবেক নেতাকে এতে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ২০১৩ সাল বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। এখনও ইন্টারনেটে সার্চ দিলে সহজেই জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তখনকার সংবাদ খুঁজে পাওয়া যাবে, সে সময় কোন নেতার কি ভূমিকা ছিল'। প্রতিবাদলিপিতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা এবং অপবাদ বন্ধের দাবি জানান মাওলানা তাজুল ইসলাম। উল্লেখ্য, হেফাজতের তৎকালীন ঢাকা মহানগর প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলামের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন হেফাজতের তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এ ছাড়া, ৫ মে'র সেই সহিংসতায় তৎকালীন বিএনপি ও জাময়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন। সহিংসতায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে মানিকগঞ্জের দুই উপজেলায় ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঘিওর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৬জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৬৫ এবং নারী কাউন্সিলর পদে ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৬৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬২ হাজার ৮৭০ জন এবং নারী ভোটার ৬৩ হাজার ৫৯২ জন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা ভোট নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার সদসস্যের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
হলুদ শাড়ি, সঙ্গে গাঁদা ফুলের মালায় জড়ানো চুলের সাজে নতুনের ছোঁয়া লেগেছে অনেক আগেই। এখন গায়ে হলুদের সাজের ধারায় এসেছে অভিনবত্ব। কেননা প্রত্যেক কনেই চান স্বতন্ত্র সাজপোশাক। তাঁর সাজটা যেন হয়ে একেবারেই আলাদা। তাই তো একরঙা হলুদ শাড়ি শুধু নয়; বরং সবুজ, লাল, পিচ রঙা এমনকি সাদা শাড়িতেও ভিন্ন ভিন্ন সাজে সাজছেন কনেরা। ব্লাউজের নকশায় থাকছে বাহারি রঙের ছোঁয়া। কাটছাঁটেও আসছে ভিন্নতা। থাকছে অনুষঙ্গের প্রাধান্য। হলুদের সাজে ফুলের গয়নার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রুপালি অথবা সোনালি গয়না পরার চল। শুধু বাঁধা চুলেই নয়, হলুদের দিন খোলা চুলেও সাজছেন কনেরা। হলুদের চলতি ধারার সাজে এমনই নানা পরিবর্তন কনের সাজে তুলে ধরছে বিশেষত্ব। হলুদ জামদানিতে স্নিগ্ধ কনে। কনে সেজেছেন তাজা ফুলের গয়নায়। তবে উপস্থাপনায় এসেছে নতুনত্ব। অ্যান্টিক গয়নার ব্যবহার এখন বেশ জনপ্রিয়। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সাদা গোলাপ। খোলা চুলে এক প্যাঁচের শাড়িতে উচ্ছল কনে সাজ।গায়েহলুদের কনে সাজে সুতার গয়না আনতে পারে নতুন চমক। গয়নায় বাহারি রঙের সুতার ব্যবহারে এসেছে হলুদের আমেজ। মেহেদি রঙা শাড়ির সঙ্গে প্যাচওয়ার্কের ব্লাউজ কনেকে দিয়েছে পুরো বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা দূরে গিয়ে বিয়ের চল ইদানীং দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এই আয়োজনে সাজপোশাকেও থাকা চাই স্নিগ্ধতা। তাই শাড়িতে এসেছে ভিন্ন রং। ফিরোজা জামদানিতে শোলার গয়না ব্যতিক্রমী হলুদের কনের সাজ।একরঙা শাড়িতে রংচঙে ব্লাউজ, এই সময়ের হলুদের সাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পোশাকের ধারা। ছবির শাড়িটি টাঙ্গাইল তাঁতের। সঙ্গে পটচিত্রের ব্লাউজ। রুপার গয়নায় করা হয়েছে মুক্তা ও ফুলের ব্যবহার। হাতে আঁকা কেডস আর চশমা পুরো লুকে এনেছে উৎসবের আমেজ। গায়েহলুদ ও মেহেদি-দুটো অনুষ্ঠানই যাঁদের এক দিনে হয়, তাঁদের জন্য এমন সাজপোশাক হবে মানানসই। হালকা সবুজ রঙা জামদানির জমিন, আঁচলে থাকছে গাঢ় সবুজ রঙের ক্রুশের কাজ। সোনালি গয়নায় নিখুঁত মিনার কাজ, সঙ্গে আছে ফুলের ব্যবহার। বাহুতে বাজু কনের সাজে এনে দিয়েছে আভিজাত্য। শুধু জামদানি শাড়িতেই নয়, জামদানির পোশাকেও হলুদের কনে হয়ে উঠতে পারেন অনন্য। ফ্রিল দেওয়া জামদানির সাদা কামিজ, সঙ্গে হলুদ জামদানির কাপড়ে তৈরি ওড়না কনের সাজে এনেছে আভিজাত্য। কৃত্রিম ফুলের টিকলি, চোকার আর রাখিতে অভিজাত কনে।
4
দুই মাসের মধ্যে সারাদেশের প্রতিটি আদালত কক্ষে/এজলাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে সারাদেশের প্রতিটি আদালত কক্ষে/এজলাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছেন। পরে সুবীর নন্দী দাস সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাসের মধ্যে দেশের সকল আদালতে/এজলাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মাস পরে এ আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন। 'আমরা আদালতে বলেছি, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের জাতির জনকের ছবি অফিস-আদালতে রয়েছে। এটার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে জন্য আমরা এ রিটটা করেছি।' পরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, 'আইন অনুসারে কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা উপাসনালয়ে ছাড়া জাতির জনকের প্রতিকৃতি সবপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করতে হবে। আইন প্রণেতারা সেখানে তো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া কাউকে বাদ দেয়নি। তাই আদালত কক্ষেও প্রদর্শন করতে হবে।' রুলের বিবাদীরা হচ্ছেন, আইন সচিব, গণপূর্ত সচিব, অর্থ সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার। চলতি বছরের ২১ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। আইনজীবী সুবীর নন্দী দাসের মতে, সংবিধানের ৪ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে। এ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে রিটটি করা হয়েছে।
6
আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ বুতাফ্লেক গত শুক্রবার ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। স্বাধীন দেশের তিনিই প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দশক দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালে বিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৭৪ সালে বক্তৃতা দিতে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে তিনিই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইয়াসির আরাফাতের এ ভাষণ ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ করতে ভূমিকা রেখেছিল। চীনকে জাতিসংঘের সদস্য করার ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে।তা ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ষাটের দশকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম নেতা।
3
প্যারিসে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের রাতে বাজিমাত করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মোহামেদ সালাহ, সাদিও মানেদের স্তব্ধ করে দিয়ে স্কোর শিটে নাম তুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। রাতটা ভিনিসিয়ুসের বলেই কি না, প্রথমার্ধের ঠিক আগমুহূর্তে করিম বেনজেমার গোল অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়!ম্যাচের শুরু থেকে দাপটে ছিল লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলে রিয়ালের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পাল্টা আক্রমণে পাশার দান উল্টে দেয় রিয়াল। আর এখানে মূল কাজটি যিনি করেছেন, তিনি ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ডি বক্সের ডান দিক থেকে ভালভারদে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে। ততক্ষণে বক্সে ঢুকে পড়েছেন তিনি। বল পেয়েই ঠান্ডা মাথায় আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান। গোলপোস্টে থিবো হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঠিক, তবে ভিনিসিয়ুসের গোলই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আনচেলত্তিএকবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গোল করলেন ২০০০ সালের ১২ জুলাই জন্ম নেওয়া ভিনিসিয়ুস। তাঁর একমাত্র গোলেই ২০১৮ সালের পর আরও একবার লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপার উল্লাসে মাতল লস ব্লাঙ্কোসরা। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো মৌসুমই দুর্দান্ত ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফাইনাল ম্যাচে এসে দিলেন তুলির শেষ আঁচড়টা।লিভারপুল-রিয়ালসম্পর্কিত পড়ুন:অবিশ্বাস্য, অতুলনীয়, অতিমানবীয় কোর্তোয়াদেখে নিন লিভারপুল-রিয়াল ফাইনালের একাদশলিভারপুলকে হারিয়ে আবারও রিয়ালের শ্রেষ্ঠত্বলিভারপুল চ্যালেঞ্জে ভিয়ারিয়ালবার্সা-ম্যানইউকে ছাড়িয়ে শীর্ষে রিয়াল
12
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি জামালপুরের দুই ব্যক্তি। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মাদারগঞ্জ থানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও তৎকালীন জাতীয় পরিষদের সদস্য করিমুজ্জামান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন তালুকদার। তারা দুজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তাদের পরিবার ওই দুজনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান।তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৫৪ সালে মাদারগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন করিমুজ্জামান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক হন রফিক উদ্দিন তালুকদার।তাদের গঠিত কমিটি ১৯৬১ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়। ধারাবাহিক এই রাজনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নজরে আসে। সে কারণে ৭০ এর নির্বাচনে মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান করিমুজ্জামান তালুকদার। এই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন করিমুজ্জামান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন তালুকদার। ১৯৭১ সালে জামালপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম এমপির সভাপতিত্বে ৫১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন রফিক উদ্দিন তালুকদার। ওই সভায় জামালপুর মহকুমার ১০ থানায় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। মাদারগঞ্জ থানা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন রফিক উদ্দিন তালুকদার।করিমুজ্জামান তালুকদার ও রফিক উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে সারা থানায় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার জন্য মাঠে মাঠে যুবক ও ছাত্রদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের যোগদান করানোর জন্য ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জের তুরায় যান এবং জীবনবাজি রেখে রফিক উদ্দিন তালুকদার এলাকায় থেকে যান। রাজাকার আল বদরদের নানা হুমকি ও হামলার পরেও তিনি এলাকার ছাত্র যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠান। রফিক উদ্দিন তালুকদারের গ্রামের বাড়ির কাছারিঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলেন। এখান থেকে এই এলাকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এ কারণে পাকিস্তানি বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হন করিমুজ্জামান তালুকদার ও রফিক উদ্দিন তালুকদারের চাঁদপুর গ্রামের বাড়ি।এই বাড়ি পাকিস্তানি বাহিনীরা জ্বালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ১৯৭১ এর জুলাই মাসে পাকিস্তানী বাহিনী জগন্নাথগঞ্জ ঘাট থেকে প্রচুর গোলা বারুদ ও অস্ত্র নিয়ে বোট যোগে চাঁদপুর গ্রামের কাছে মানচিত্র ভুলে অন্য একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এরপর মাদারগঞ্জ মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে ১৬ ডিসম্বর দেশ স্বাধীন হয়।করিমুজ্জামান তালুকদার স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন এবং তিনিসহ রফিক উদ্দিন তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে বালিজুড়ি এফ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি।রফিক উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল তালুকদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করিমুজ্জামান তালুকদার এবং রফিক উদ্দিন তালুকদারকে যেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
6
মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতুড়ে বিলের ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহক। পরিশোধিত বিলকে বকেয়া ধরে আবার পরিশোধের জন্য বিল বানিয়ে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন হয়রানি হলেও মিলছে না কোনো সমাধান।জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। সচেতন গ্রাহকেরা ভুতুড়ে বিলের কপি নিয়ে নিজেদের কাজকর্ম বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ বিলের অফিসে দৌড়াচ্ছেন। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের কর্মঘণ্টা নষ্ট করে বিল ঠিক করে নিতে হচ্ছে।খালইস্টের বাসিন্দা ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান বলেন, 'মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অনেককেই ভুতুড়ে বিল দেয়। আমাদেরও একবার পরিশোধিত বিল পুনরায় বকেয়া ধরে বিল দিয়েছিল। ২০২১ সালে সেপ্টেম্বর মাসের বিলের সঙ্গে পরিশোধিত আগস্টের বিল যোগ করে জরিমানাসহ করে দিয়েছিল। প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ করেছিল। আমরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করে বিল ঠিক করে নিয়ে আসি। সেই বিলের কপি এখনো আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।'এই ভুতুড়ে বিলের সমস্যার সমাধান তো হয়নি। বরং দিন দিন এটা আরও বাড়ছে। গ্রাহকদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। শত শত গ্রাহককে প্রতিদিন বিদ্যুৎ অফিসে লাইন ধরে বিল ঠিক করে নিতে হচ্ছে।মানিকপুরের গ্রাহক আবুল কাশেম বলেন, 'আমার বাড়িসহ মানিকপুরের ছয়টি বাড়িতে পরিশোধিত বিলকে বকেয়া ধরে বিল করা হয়েছি। গত এপ্রিল মাসের বিলের সঙ্গে মার্চের পরিশোধিত বিলও ধরে দেওয়া হয়েছিল। পরে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল ঠিক করে নিয়ে আসে। এটা এমন এক অবস্থা, যা দেখে মনে হচ্ছে ডিজিটালের বিড়ম্বনা।'মুক্তারপুরের বাসিন্দা সাংবাদিক সুমন ইসলাম বলেন, 'আমার বিদ্যুৎ বিলে দুই ধরনের ভুল করেছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। আমাকে গত মাসের পরিশোধিত বিলকে বকেয়া ধরে নতুন করে বিল দিয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসের ব্যবহৃত ইউনিটের তুলনায় এবার অনেক গুণ বেশি ইউনিট ধরে দিয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে করে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।'মানিকপুরের বাসিন্দা অনিক বলেন, 'আমাদের এখানে ১৩টি আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে গত মাসের পরিশোধিত বিল বকেয়া হিসেবে ধরে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে করে সবার বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গতকাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিলগুলো ঠিক করে এনেছি। গত সোমবার আমার মতো প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী একই কারণে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেছে বিল ঠিক করার জন্য।'এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মোবারকউল্ল্যাহ বলেন, সফটওয়্যারে সমস্যার কারণে এটা হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের লোকজনদের ত্রুটিও আছে। দেখা গেছে, গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে বিল পরিশোধ করেছে। কিন্তু আমাদের স্টাফ ব্যাংক থেকে সে বিল আনতে বিলম্ব করেছে। কিছু লোকজন ২-১ মাসের বকেয়া রাখে। দেখা যায়, বিলম্ব করে বিল পরিশোধ করলে তখন সফটওয়্যারে সেটি পরিশোধ হয় না। এটাকে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তা ছাড়া জনবলের সংকট আছে। এর জন্য আমরা বিব্রত ও লজ্জিত। চেষ্টা করি বিল পরিশোধ করার পর সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারেও পরিশোধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার।'
6
আবদেল খালিদ নবিয়ার। বাড়ি আফগানিস্তানে। তালেবান যখন বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, তখন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেন তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। শুধু নবিয়ার নন, তাঁর মতো হাজারো মানুষ আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে চাইছেন। এ জন্য আফগানিস্তানের পাসপোর্ট অফিসে ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি পাসপোর্ট অফিসের বাইরে এমন হাজারো মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। আফগানরা যে দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তার মূল কারণ নিরাপত্তার অভাব। আর এ অভাব আফগান যুদ্ধের ফসল। এর সূচনা ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলাকে কেন্দ্র করে। ওই হামলার পর 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে' নতুন এক লড়াই শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ জন্য তারা পাশে পায় অন্য পশ্চিমা দেশগুলোকেও। আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দেওয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ আফগানিস্তানে হামলা চালায় তারা। এরপর আফগানিস্তানের ক্ষমতার মসনদ ছাড়তে বাধ্য হয় তালেবান। এ ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো ও মার্কিন সেনাদের মুহুর্মুহু হামলায় সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বাধ্য হয় তালেবান। একটা সময় বিদেশি বাহিনীর সহায়তায় প্রায় পুরো দেশ আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ আবারও খোয়াতে শুরু করেছে আফগান সরকার। আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের নতুন সূচনা হয়েছিল ২০০৫ সালে দিকে। তবে সেই সময় সম্মুখসমর থেকে সরে এসে তালেবান নতুন কৌশল নেয়। তারা আত্মঘাতী হামলার পথ বেছে নেয়। এতে খানিকটা 'সফলও' তারা। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তারা ৬৪টি আত্মঘাতী হামলা চালায়। আফগানিস্তানের জন্য এটা ছিল একেবারে নতুন ঘটনা। এ হামলা দিন দিন তীব্র হতে থাকে। শুধু ২০০৭ সালের নভেম্বরে এমন আত্মঘাতী হামলায় ৭০ জন প্রাণ হারায়। যুদ্ধে আফগানিস্তানে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আসলে অপূরণীয়। এর একটা আংশিক হিসাবও দেওয়া যেতে পারে। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, তালেবানের উত্থানের পর ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩৮ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ সময়ের ব্যবধানে ৭০ হাজার আফগান আহত হয়েছেন। আর সর্বশেষ তিন বছরে এ হামলা আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সরকারি বাহিনী ও তালেবানের সংঘর্ষের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ। ক্ষতি শুধু আফগানিস্তানের জনগণের হয়েছে, এমনটা নয়; মার্কিন ও বিদেশি বাহিনীকেও এর খেসারত দিতে হয়েছে। আফগানিস্তানে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর আড়াই হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি সেনা। ন্যাটোর হিসাব অনুসারে, মার্কিন বাহিনীর পরই ক্ষতি তালিকায় ব্রিটিশ বাহিনী। এ বাহিনীর প্রায় সাড়ে চার শ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আফগানিস্তানের সরকার অবশ্য তাদের বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেয় না। তবে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছিলেন, ২০১৪ সাল থেকে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর ৪৫ হাজারে বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ যুদ্ধের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তাও অপূরণীয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হিসাব অনুসারে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে খরচ করেছে ৭৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। আফগানিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তবে পেন্টাগনের এ হিসাবের সঙ্গে হিসাব মেলে না যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষণার। তারা বলছে, মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর যে অর্থ সহায়তা দিয়েছে, তা এই হিসাবের মধ্যে নেই। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে অর্থ ব্যয় করে, তাও নেই এ হিসাবে। এমনকি হিসাবে নেই সেনাদের চিকিৎসা খরচও। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুসারে, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে' মার্কিন যুদ্ধে ব্যয় সাড়ে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০১ সালের পর সময় যত গড়িয়েছে, তত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তালেবান। এ ছাড়া গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এবং চলতি বছর সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তালেবান। এ লক্ষ্যে হামলাও বাড়িয়েছে তারা। তালেবান এ পর্যন্ত ২২৩টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ১১৬টি জেলায় লড়াই চলছে। দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৭টির রাজধানী তালবানের দখলে চলে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এর মধ্যে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লঙ্করগাহ এখন অবরুদ্ধ। শুধু লঙ্করগাহের নাগরিকেরা যে অবরুদ্ধ, এমনটা নয়; যে এলাকাগুলোয় তালেবান ও সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে, সেখানকার বাসিন্দারাই অবরুদ্ধ। এ কারণে দেশ ছাড়াটাকেই বাঁচার পথ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। আর সেই নবিয়ারের জন্য এটা খানিকটা অপরিহার্য বলা যায়। কারণ, ন্যাটোর একটি ঘাঁটিতে তাঁর দোকান। এ কারণে নিজেকে অনেক বেশি অনিরাপদ মনে করেছেন তিনি। নবিয়ারের ভাষ্য, সবাই এখনই দেশ ছাড়বেন, এমনটা নয়। তাঁরা নিরাপত্তার জন্য পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, যাতে খুব অল্প সময়ে দেশ ছাড়া যায়। ফলে, রাজধানী কাবুলের পাসপোর্ট অফিসে 'দেশ ছাড়তে ইচ্ছুকদের' ভিড় চোখে পড়ার মতো। সূর্যোদয়ের আগেই সেখানে লাইন দাঁড়াতে দেখা যায় অনেককে। আর পাসপোর্ট নিয়ে জনগণের এই আগ্রহে খানিকটা বিরক্ত পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আগে প্রতিদিন পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ত ২ হাজার, তা এখন ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার। বলা যায়, তালেবান অনিশ্চয়তার বীজ বপন করেছে আফগানিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে। আর এ ভয়ে বেশি ভীত দেশটির শিক্ষিত নারীরা। এমনই একজন জিনাত বাহার নাজারি। তিনিও পাসপোর্ট নিতে আগ্রহী। এ জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায তাঁকে। এ সময় তিনি বলেন, 'আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার পরিবারের সদস্যরা বলতেন, তালেবান মানুষ মারছে। তাদের হাতে মানুষ গুম হচ্ছে।' তালেবানকে নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের এই শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ হলো, 'নারীদের প্রতি সহিংস তালেবান যোদ্ধারা। তারা চায় না নারীরা শিক্ষিত হোক। মৌলিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চায় তালেবান।' ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। এ সময় খুব ছোট ছিলেন নাজারি। কিন্তু তিনি জানেন, তালেবান সেই সময় কী করেছে। তিনি বলেন, 'আমি শুধু এটা জানি যে তালেবান সন্ত্রাসী সংগঠন। আপনি যখন পড়াশোনা করবেন, তখন একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করবেন। কিন্তু তালেবান যদি ক্ষমতা গ্রহণ করে, তবে আপনার এই প্রত্যাশায় গুড়ে বালি।' তালেবানকে ও দেশের পরিস্থিতিকে একইভাবে দেখেন সরদার (৫২)। তিনি বলেন, 'আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। কিন্তু আমাদের কোনো কিছু বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই।' অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি ও হুমকির মুখে আফগানরা। এর মধ্যেই তাঁদের বসবাস। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। কিন্তু জানেন না, তাঁরা কোথায় যাবেন বা আদৌ যেতে পারবেন কি না। তবে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশ ছাড়ার। এএফপি, লং ওয়ার জার্নাল, রয়টার্স, ব্রিটানিকা অবলম্বনে মোজাহিদুল ইসলাম মণ্ডল
3
দেশের সার্বভৌমত্ব আছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'অবৈধ সরকার দেশকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। বর্ডারে একের পর এক হত্যা হচ্ছে, সরকার গদির লোভে কিছু বলতে পারছে না।' বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, 'দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, দেশ আজ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। পুলিশের হাতে সবাই নির্যাতিত হচ্ছে। যাকে ইচ্ছে যথন তখন তারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ক্রসফায়ার দিচ্ছে। মহিলারাও তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি তারা ফাহিম নামে এক যুবককে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে।' তিনি বলেন, 'দেশে কোন আইনের শাসন নেই। তাই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে। দেশ যেভাবে চলছে তা দেখে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে- দেশে আইনের শাসন আছে কি-না। সীমান্তে অহরহ দেশের ভেতর থেকে লোকদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে অন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু সরকার গদি রক্ষায় কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না। সরকার সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার পর্যন্ত আকাশ পথে এসে আমাদের দেশে আক্রমণ করছে। সরকার কোনো প্রতিবাদ করছে না। বিচার চাইতে পারছে না। এ সরকার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অনেক ক্ষতি করেছে।' বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, 'দেশে এখন অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার। এ সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দরদ নেই।' তিনি বলেন, 'আমরা কে কোন দল, বড় দল না ছোট দল সেটা বড় কথা নয়। হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ও মুসলিম সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হবে।' অনুষ্ঠানে আগত চিকিৎসকদের অভিনন্দন জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, 'আপনারা জানেন দেশটা কীভাবে চলছে। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আপনাদেরও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।' এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসন ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে পৌঁছলে ড্যাব সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কে এম আজিজুল হক ও মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা তাকে স্বাগত জানান। ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খাইরুল কবির খোকন প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডা.আবদুল মবিন খান, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া প্রমুখ।
9
'আম্মার অসুখডা কিছুতেই কমতেছে না। ওষুধ কিনবার কথা কইয়্যা খালি টাকা চায়। (এদিকে) কত দিন ধইরা হলের দোকানডাও বন্ধ। কাজ না থাকলে টাকা পামু কই। আমি ছোট মানুষ। মায়রে যে কী কইয়া বুঝামু।'এভাবে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে মাসুম (১৪)। আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা হলে মাসুম জানায়, অভাবের তাড়নায় স্কুল ছেড়ে করোনার আগে প্রায় তিন বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের একটি দোকানে কাজ করে আসছিল সে। গত বছরের এপ্রিলে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে বাড়ি চলে যায় মাসুম। পরবর্তী সময়ে মায়ের চিকিৎসার অর্থ জোগাতে ফের টিএসসির একটি ছোট্ট চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে।মাসুম জানায়, বন্ধ ক্যাম্পাসের টিএসসিতে আগের মতো বিক্রি নেই। তাও পেটের দায়ে অল্প টাকার বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছে।দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মাসুমসহ ঢাবির বিভিন্ন হলের ক্যানটিন মালিক, বাবুর্চি, দোকানদার ও অন্যান্য কর্মচারী একই অবস্থায় দিন পার করছেন বলে জানা গেছে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ক্যানটিনের মালিক ডালিম সরকার বলেন, 'গ্রামে বাবার কিছু জমি আছে। চাষ করে কোনো রকমে খাচ্ছি। তবে সংসারে আরও যে বাড়তি খরচ, তা জোগাতে গিয়ে ৩ লাখ টাকার মতো ধার নিসি। দ্রুত ক্যাম্পাস খুললে হয়তো আবার হলে গিয়ে ক্যানটিন চালাব। শোধ দিব ধারের টাকা।'সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ক্যানটিনের ম্যানেজার আজিম মিয়া বলেন, 'অভাবের কথা কাউরে বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। কখনো হাত পাতি নাই।'মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের দোকানদার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মোবাইল ফোনের অপর পাশ থেকে কেঁদে ওঠেন। জালাল বলেন, 'আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দীর্ঘদিন তাদের স্কুল বন্ধ। ছেলে অঙ্কের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে চায়। কিন্তু টাকার অভাবে আমি তাকে নানা বাহানা দিয়ে ঘুরাচ্ছি। জানি না, ও আর স্কুলে যাবে কি না।'টিএসসিতে যাঁরা চা খেতে যান, তাঁদের অনেকেরই প্রিয়মুখ স্বপন মামা। তিনি জানান, লকডাউনে দীর্ঘদিন বাড়িতে বেকার বসে ছিলেন। এর মধ্যে হাজির হয় নানা পারিবারিক সমস্যা।তাঁর এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। এদিকে টিএসসির চায়ের দোকানও বন্ধ।ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে কোনো দোকান কিংবা ক্যানটিনের ভাড়া নেওয়া হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে ক্যানটিনও খুলবে না বলে কর্মচারীদের জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতো এসব কর্মচারীও দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে ক্যানটিন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যৌতুক মামলায় সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বামী মো. সালাহউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতে হাজির হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সালাউদ্দিন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার পরির্দশক (তদন্ত) ছিলেন। সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী তাহমীনা আক্তার পান্না গত ১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক মামলা করেন। এই মামলায় বিচারক সমন জারি করে সালাউদ্দিনকে ১৫ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। সমন অনুসারে রবিবার সালাউদ্দিন আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন স্ত্রী তাহমিনা। রবিবার আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়াও সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় আরো দুটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার প্রথম স্ত্রীও মামলা করেছেন তার বিরুদ্ধে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। কিন্তু বিষয়টি নির্ভর করেছে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল-সউদ। সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপুল ফায়দা বয়ে আনবে। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণে জন্য কোনো চুক্তি করা তখনই সম্ভব হবে যখন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হবে। আর যার মাধ্যমে ১৯৬৭ সাল পূর্ব সীমানা অনুসারে ফিলিস্তিন স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পরিণত হবে। ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, 'আমি জানি না কোনো চুক্তি বাস্তব হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর। সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের একটি চুক্তি আলোচনার টেবিলে আছে, যেটি ২০০২ সাল থেকেই প্রক্রিয়াধীন। এটি আরব শান্তি পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত। এর আগেও আমাদের 'ফেজ উদ্যোগ' ছিল। ১৯৮২ সালে সৌদি আরব এ উদ্যোগটি গ্রহণ করে। এখানে একটি প্রত্যাশা শুরু হয় যে ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধানের বিনিময়ে ইসরাইলের সাথে একটি সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের প্রক্রিয়া পূর্ণ উদ্যোমে চালু হবে। তিনি আরো বলেন, 'এই অঞ্চলে (ইসরাইলের সাথে) সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ তখনই সফল হবে যখন আমরা ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান করতে পারব। আমরা যদি ফিলিস্তিনকে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুসারে স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পরিণত করতে পারি যা ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ও অধিকার দেবে।। আমরা যদি এ বিষয়ে কোনো সমাধান খুঁজে পাই, তাহলে আমরা একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আরো সমৃদ্ধশালী অঞ্চল পাবো। এই সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ প্রক্রিয়া সফল করতে ইসরাইলসহ প্রত্যেকেই অবদান রাখতে পারে। মক্কায় ইসরাইলি মুসলিমদের হজ পালনের অনুমতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, 'আমরা এখনও এ বিষয়টিতে একমত হইনি। কিন্তু, আমি বলতে চাই, যদি আমরা ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অগ্রগতি লাভ করতে পারি, তখন আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সামনে অগ্রসর হব। আশা করি, শুধুমাত্র মুসলিম নয়, ইসরাইলের যেকোনো বিশ্বাসের নাগরিক সৌদি আরবে আসতে পারবেন। তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে।' গত বছর সেপ্টেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তি স্বাক্ষর করে। 'ইবরাহীমি চুক্তি' নামে পরিচিতি পাওয়া ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ভিত্তিতে আরব দেশ দুইটি ইহুদিবাদী দেশটির সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। এর আগে ইসরাইলের সাথে প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৯ সালে মিসর স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে ১৯৯৪ সালে জর্দান ইসরাইলের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপরেই তৃতীয় ও চতুর্থ আরব রাষ্ট্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইরের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই পথ ধরে সুদান ও মরক্কো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সূত্র : আরব নিউজ
3
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ ছয় রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে ১৪ এপিবিএন ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি কার্তুজ ও ২০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক। তিনি বলেন, অভিযানের সময় তারা দেশীয় অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন। পরে তাঁদের উখিয়া থানা-পুলিশে সোপর্দ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- নুর হোসেন (২৭), মোহাম্মদ ফারুক (৩৫), নুর হোসেন (৪০), মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৩০), জিয়াউর রহমান (৩১) ও আয়াতুল্লাহ (২৮)। তারা সবাই উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সোমবার উখিয়ার কুতুপালং জি ব্লকের ৪১ ও ৪২ নম্বর ব্লকের পার্শ্ববর্তী কাঁটাতারের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
6
ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স কোভিড-১৯ এর চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী মহামারীর কারণ হতে পারে বলে সর্তক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স (এএমআর) বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভবিষ্যতের মহামারী প্রতিরোধে ৫টি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রাতে 'হাই লেভেল ইন্টারেকটিভ ডায়লগ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর)' শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্ব এখন ধ্বংসাত্মক কোভিড-১৯ মহামারী প্রত্যক্ষ করছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রাণঘাতী মহামারীর কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, এই বিপদ (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স) সময় মতো সামলাতে না পারলে পরিণামে মানব জীবন, প্রাণী এবং গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্সের কারণে প্রতি বছর ১ কোটি মানুষ মারা যাবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার যা খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে বাধা হয়ে দাড়াবে। ভবিষ্যতের মহামারী প্রতিরোধে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা জরুরি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এএমআর বিষয়ে ২০১৫ সালের গ্লোবাল এ্যাকশন প্ল্যান, ২০১৬ সালের ইউএন পলিটিক্যাল ডিক্লিয়ারেশন এবং এএমআর এর সমস্যা মোকাবেলার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর) এর গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ সভাপতি হিসেবে এএমআর-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করতে নিজের আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা তার প্রথম প্রস্তাবনায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় স্তরে এএমআর বিষয়ে সমন্বিত বহু-বিভাগীয় এবং সম্মিলিত কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় প্রস্তাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিনট্যান্স প্রতিরোধে করতে ভাল উৎপাদন, পরীক্ষাগার অনুশীলন এবং নজরদারি কাঠামোর কথা বলেন শেখ হাসিনা। তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য সাশ্রয়ী এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক্স সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মালিকানা শেয়ার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর করার কথা বলেন। চতুর্থ ও পঞ্চম প্রস্তাবনায় শেখ হাসিনা রাজনৈতিক অঙ্গিকার এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এএমআর প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য টেকসই অর্থায়ন এবং এটির (এএমআর) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্ব জনগণের সচেতনতা সৃষ্টির কথা বলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার তথ্য অনুযায়ী- যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস, প্যারাসাইট সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে নিজের ভেতরে পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং এদের বিরুদ্ধে ওষুধে কাজ করে না তখন সেটিকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর) বলে। এই এএমআর এর কারণে ইনফেকশন চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, মৃত্যু হতে পারে।
6
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় সংবিধান পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেছেন, সংবিধান থেকে সামরিক শাসকদের বুটের ছাপ ও গোঁজামিল দূর করতে হবে। জাসদের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভাপতির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু রাষ্ট্র-শাসন-প্রশাসনব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও অংশীদারত্বমূলক করতে জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন করে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনপদ্ধতি চালু, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সিটি করপোরেশন-জেলা পরিষদ-উপজেলা পরিষদ-ইউনিয়ন পরিষদ-পৌরসভাসহ সব স্থানীয় সরকারকে স্বশাসিত ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংবিধান পর্যালোচনা করার প্রস্তাব করেন তিনি। জাসদ সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় দেশে গড় আয়ু, মাথাপিছু আয়, জীবনযাপনের মান বৃদ্ধি, চরম দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যুতায়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সম্প্রসারণসহ দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও লুটপাট, দলবাজি ও গুণ্ডাতন্ত্র, আর্থসামাজিক বৈষম্য এই চারটি বিপদ প্রতিনিয়ত বড় হয়ে উঠছে। হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রু ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ নির্মূল করে সাম্প্রদায়িক হামলা পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতিবাজ-লুটেরা-দলবাজ ও গুন্ডাদের রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের ছায়া থেকে বের করে দিতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান করে অপরাধী যে-ই হোক, তাদের বিচার ও শাস্তির সম্মুখীন করতে সুশাসন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির 'ভ্রান্ত ধারণা' থেকে বেরিয়ে সমাজতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান হাসানুল হক ইনু। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাসদের ৪৯ বছরের ইতিহাস প্রমাণ করে, জাসদ নেতাদের দল নয়, কর্মীদের দল। দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নেতারা দলের পাহারাদার মাত্র। সভায় অন্যদের মধ্যে জাসদের কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেশাররফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সহসভাপতি মীর হোসাইন আখতার, আফরোজা হক রীনা, নুরুল আখতার, ফজলুর রহমান বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, সহসভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, শফি উদ্দিন মোল্লা, মোহর আলী চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, শওকত রায়হান, রোকনুজ্জামান রোকন, নইমুল আহসান জুয়েল, মো. মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় কৃষক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন কাউছার, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সভাপতি মাইনুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি মহিবুর রহমান, জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবীব শামীম বক্তব্য দেন।
9
কওমি মাদ্রাসা ও হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীকে কটাক্ষ করে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনে রাশেদ খান মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি তুলেছে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন। এ দাবিতে তারা সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে চলছে কয়েক দিন ধরে। এদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশেদ খান মেননের বক্তব্য বিকৃত করে একটি মহল ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে মাঠে নেমেছে। ওয়ার্কার্স পার্টি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছে। ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বক্তব্য দেন। তাতে কওমি সনদের স্বীকৃতি, হেফাজতের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এরপর ৫ মার্চ হেফাজতের আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে সংসদে কওমি মাদ্রাসাকে 'বিষবৃক্ষ' বলে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি অনতিবিলম্বে মেননকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান, অন্যথায় 'সমুচিত জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরদিন ৬ মার্চ মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির আমির মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ গতকাল বিকেলে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে এক সভায় অবিলম্বে মেননের বক্তব্য সংসদের কার্যবিধি থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি করেন। একই বিষয়ে শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। এতে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁরা মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও বিচারের দাবি করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী দাবি করেন, আহমদিয়া মুসলিম জামাতকে কাফের বলতে হবে। রাশেদ খান মেনন আহমদিয়াদের কাফের মনে করেননি। মেনন তাদের পক্ষ নিয়ে কওমি মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলেছেন। বাবুনগরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেননের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশেদ খান মেনন ৩ মার্চ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সংসদের কার্যবিধিতে রয়েছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এই বক্তব্য বিকৃত করে একটি মহল ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে মাঠে নেমেছে।
9
বাগেরহাটে কমিউনিটি বেইজড মেন্টাল হেলথ সার্ভিসের আয়োজনে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিজয়ী প্রতিযোগীদের মধ্যে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।রণবিজয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্ব পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নকিব সিরাজুল হক, ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মরিয়ম বেগম হিরা, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক এহসানুল হক, শিক্ষক সুমন কৃষ্ণ দাস, জয়দেব কুমার দাস প্রমুখ।শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রকল্পের আওতায় পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপ সদস্যেদের মধ্যে এ রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
6
মানুষ ছুটছে। জেলা বোর্ডের সড়ক সবচেয়ে উঁচু। প্রথমে সবাই সেখানে আশ্রয়ের আশায় গিয়েছিলেন। সেই সড়কে এখন কোমরপানি। ঘরে চাল আছে, কিন্তু রাঁধবেন কোথায়? নলকূপ আছে, তা পানির তলায়। বাড়িঘর ছেড়ে উলিপুর-কুড়িগ্রামের দিকে উঁচু জায়গার সন্ধানে ছুটছে মানুষ। কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়ে দাঁড়ালেই বুঝবেন, গাড়ি গাড়ি ভেজা কাপড়ের মানুষেরা কারা। ১০-১২ দিন ধরে এ অবস্থা চলেছে। যেন যুদ্ধাবস্থা! সাত দিন আগে এ অবস্থা ছিল। এখন প্রধান সড়কগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। রাস্তা ভেঙে স্থানে স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বালাবাড়ি থেকে রমনা রেলস্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে রেললাইন ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি চিলমারী-ঢাকা আন্তনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তাও অনিশ্চিত হয়ে গেল। চিলমারীর পুরোনো জোড়গাছ বাজার থেকে দক্ষিণে মনতলা, রাঘব এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ৪০০ বাড়ি ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে চলে গেছে। সবজির খেত ডুবে গেছে। মানুষ তো শুধু ভাত খায় না। ২০ টাকার মরিচ এখন ১৫০ টাকা, ১০ টাকার বেগুন ৫০ টাকা, ৫ টাকার পেঁপে ৩৫ টাকা-একই অবস্থা সর্বত্র। অবলা গরু-ছাগলের দুর্দশার শেষ নেই। গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি কেনার লোক নেই। হাসপাতাল নিজেই পানির তলায়। মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। ফেসবুকও বন্ধ। আমরা দেখি ফেসবুকের চোখে, তাই ভয়াবহতম এই বন্যাটিও 'নাই' হয়ে গেল! তাই এলাকাটি দুর্গত এলাকার 'যোগ্য' হয়নি। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর বর্ণনা এসেছে। সেখানে আড়াই বছরের সন্তানের অসুস্থতার মধ্যে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে মুন্নি আক্তার নামের এক নারী বলেছেন, 'চাইর পাকে (পাশে) পানি, খাওয়াদাওয়ার কষ্ট। ইয়ার মধ্যে ছাওয়াটার তিন দিন থাকি পাতলা পায়খানা। খালি স্যালাইন খোয়য়া থুছি। পানিত ডাক্তারও ডাকপার পাই না, চিকিৎসা করি কেমন করি।' শুধু মুন্নি না, কুড়িগ্রামে পানিবন্দী ৮৯৪টি গ্রামের অনেকের বাড়িতেই এখন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসকের সংকটেও ভুগছেন তাঁরা। যদিও কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামের দাবি, জেলায় ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং কোথাও কোনো চিকিৎসাসংকট নেই। আশ্রয়ের অভাবে নৌকায় গরু-ছাগল নিয়ে অনেকে সংসার পেতেছেন। ২০ জুলাইয়ের প্রথম আলোর যথার্থ শিরোনাম ছিল, 'পানি আসছে কম, ডুবছে বেশি'। '৮৮-র বন্যায়ও যেসব এলাকা জেগে ছিল, এবার তাও গেছে। ব্রহ্মপুত্রে পানি কিঞ্চিৎ কমলেও কাইম এলাকায় পানি বাড়ছেই। সব রাস্তাঘাট তলিয়ে গেলেও নদ-নদীর উচ্চতা সমান না হওয়া পর্যন্ত পানি বাড়তেই থাকে। কিন্তু নদ-নদীতে যত দ্রুত পানি কমে, কাইমে কমে না। কারণ, জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা মানে নতুন নতুন বালাই। পানি চলাচলের মুখ দখল হয়েছে মার্কেট ও মাছের ঘেরের নামে। ফলে আবাদি জমির দামও কমে এসেছে। আবাদ না হলে দাম হয় কীভাবে? সমস্যার আরেক নাম তাই জলাবদ্ধতা। ২. মুক্তিযুদ্ধে শহরকে ঠাঁই দিয়েছে গ্রাম। এই দুর্দিনে গ্রাম শহরে আসছে। কিন্তু শহরের আছে নানা ইস্যু। গ্রামের বেদনা শহরের বুকে বাজে না। পলাশীর পর থেকে বাংলায় বছর বছর মন্বন্তর লেগেই থাকত। ইউরোপীয় গণহত্যার এদেশীয় সংস্করণ ছিল মন্বন্তর। মন্বন্তরে কোম্পানির খাজনাপ্রাপ্তি কমত না। খাজনা আদায়কারীদের ফুর্তির কমতি ছিল না। নায়েব-গোমস্তাদের দায় ছিল না। বর্তমানের নায়েব-গোমস্তাদেরও কোনো দায় নেই। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গ্রামের মানুষ যে দেশ বানালেন, এই তার প্রতিদান? এ কোন শিক্ষিত সমাজ, যাঁদের মোবাইল স্ক্রিনে ডুবন্ত মানুষের বদলে ট্রাম্প আর মোদি ঠাঁই পায়! দেশের বেদনায় যাঁদের হৃদয় জাগে না! রাষ্ট্র নেই, মিডিয়া নেই, জনগণও যদি জনগণের বেদনায় না জাগে, তাহলে আশা কোথায়? গ্রামদেশ পানিতে কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা থেমে নেই। ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামের ১৫ জনসহ মোট ৫৭ জন মারা গেছে। অথচ কুড়িগ্রামের কলেজগুলোতে পরীক্ষা চলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি অন্ধ? কিন্তু অন্ধ হলে কি বন্যা বন্ধ থাকে! এমনকি ২২ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫টি বন্যাদুর্গত জেলার তালিকা ঘোষণা করে, সেখানেও কুড়িগ্রামের নাম ছিল না। পরদিন কুড়িগ্রামের নাম যুক্ত হয়। এখন পর্যন্ত কিছু ত্রাণ তৎপরতা থাকলেও জেলাজুড়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম নেই। এই যে জাতীয় উদাসীনতা, তার ফল কি ভালো হবে? জনগণের নিজস্ব উদ্যোগ প্রস্তুত হতে তো সময় লাগে। স্থানীয় মন্ত্রীসহ কয়েকটি সংগঠন ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। গণকমিটি ঢাকায় 'কনসার্ট ফর কুড়িগ্রাম' আয়োজন করে দেশবাসীর মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা করছে। চিলমারী-রৌমারী-সদর উপজেলার ঘোগাদহে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র খুলবে, তার জন্য অর্থ সহায়তা সংগ্রহ করতে তো সময় লাগবে, দেশবাসী নিশ্চয়ই এগিয়ে আসবেন, কিন্তু তত দিনে...। কুড়িগ্রাম দারিদ্র্যের শীর্ষে অবস্থানকারী জেলা। এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করবে? গত দুই দিনে আবার এক হাত পানি বেড়ে গেছে। জনমনে শঙ্কা জেগেছে ফের। এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, এটা রাষ্ট্রের তরফে অবহিত করা উচিত। যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র প্রস্তুত থাকতে পারবে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ভাষায়, 'কেউ নেই তেমাথায়/ শুধু এক ব্যথিত কুকুর কাঁদে।' নাহিদ হাসান: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি[]
8
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কাজের সমালোচনাকারী বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, নিরাপদ বাক্সে থেকে তারা এখন কথা বলছেন; কিন্তু দায়িত্বে থাকতে কী করেছেন? বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন অধ্যাপক খুরশীদ আলম। এ সময় সাংবাদিকদেরও সমালোচনা করেন তিনি। অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, আমাদের অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যারা একদিনও কোনো রোগীর পাশে গিয়ে দাঁড়াননি, তারা রোগতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ছিলেন; তারা তখন কী করেছিলেন? তারা এখন টেলিভিশনে বসে টকশোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি বলি আমাদের পাশে আসেন, আপনার যে প্রজ্ঞা আছে, যে জ্ঞান আছে, সেটা আমরা কাজে লাগাই। আপনি আমাদের সহযোদ্ধা হোন, আমাদের সাথে হাসপাতালে চলুন, হাসপাতালে রোগীর পাশে দাঁড়ান। সেটা না করে ওই নিরাপদ বাক্সের মধ্যে বসে এই টেলিভিশন থেকে ওই টেলিভিশন, ওই টেলিভিশন থেকে এই টেলিভিশনে গিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই মহাপরিচালক বলেন, আজ আমার ভাষা আপনাদের কাছে রূঢ় মনে হতে পারে, আমার বক্তব্য আপনাদের কাছে খারাপ মনে হতে পারে, মনে হতে পারে আমি ব্যক্তি বিশেষকে আক্রমণ করছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমি এটা দেশের পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকে, আমার নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষ থেকে, আমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের শুধু প্রতিবাদের ভাষা জানালাম।
6
ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইব্রাহিম রাইসির অভিষেক হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ অভিষেক হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসির অভিষেক নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি একটি ডিক্রি জারি করেছেন। ডিক্রিতে বলা হয়, জনগণের পছন্দের ভিত্তিতে জ্ঞানী, অদম্য, অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় ইব্রাহিম রাইসিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের মধ্য দিয়ে মধ্যপন্থী হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হলেন অতিরক্ষণশীল রাইসি। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি রুহানির সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব রাইসির কাঁধে। এ ছাড়া তাঁকে ইরানের গভীর অর্থনৈতিক সংকটও মোকাবিলা করতে হবে। অভিষেকের ভাষণে রাইসি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন ইরানের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার চাইবে। তবে বিদেশিদের ইচ্ছায় ইরানিদের জীবনযাত্রায় কোনো বদল আনবে না তাঁর সরকার। অভিষেকের পর কাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে শপথ নেবেন রাইসি। রাইসি এমন এক সময় ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে এমভি মার্সার স্ট্রিট নামে ইসরায়েল পরিচালিত একটি তেলের জাহাজে হামলা হয়। এ হামলায় জাহাজটির দুই নাবিকের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া নাবিকদের একজন যুক্তরাজ্যের, অপরজন রোমানিয়ার নাগরিক। জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে দেশগুলো। তবে জাহাজে হামলায় সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তারা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েল পরিচালিত জাহাজে হামলার ঘটনার পর এখন আবার ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার ছিনতাইয়ের খবর এসেছে। ট্যাংকারটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানায় নৌযানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স। গত জুনে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির সমর্থন নিয়ে এই নির্বাচনে জয়ী হন রাইসি। রাইসির জয়ের পথ সুগম করতে কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। নির্বাচনে ভোটও পড়ে কম। রাইসি একজন সাবেক বিচারপতি। মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁর অতীত নিয়ে পশ্চিমারা সমালোচনা করে আসছে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় যে কয়েকজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রাইসি অন্যতম।
3
মহিলা বিশ্বকাপের দুর্দান্ত নজির গড়লেন মিতালি রাজ। এমন রেকর্ড ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে ভারতের আর কোনো ক্যাপ্টেনের নেই। এমনকি মহেন্দ্র সিং, কপিল দেব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দেরও নয়। এতদিন মহম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে একাসনে বসেছিলেন মিতালি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলতি মহিলা বিশ্বকাপের ম্যাচে টস করতে নামা মাত্রই আজহারকে টপকে যান তিনি। আসলে মেয়েদের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ক্যাপ্টেন হিসেবে সব থেকে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিতালি রাজ। তিনি ভেঙে দেন অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্দা ক্লার্কের নজির। ক্লার্ক ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের ২৩টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেন। মিতালি ২০০৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মোট ২৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে নামলেন ভারতকে। যদিও সাফল্যের নিরিখে মিতালির থেকে ক্লার্ক অনেকটাই এগিয়ে। ক্লার্কের নেতৃত্বে ২৩টি ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া জয় তুলে নেয় ২১টি ম্যাচে। হারে ১টি ম্যাচ এবং পরিত্যক্ত হয় ১টি ম্যাচ। মিতালির নেতৃত্বে আগের ২৩টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ১৪টিতে জয় তুলে নেয়। হারে ৮টি ম্যাচ এবং পরিত্যক্ত হয়েছে ১টি ম্যাচ। বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার নিরিখে আজহারকেও পিছনে ফেললেন মিতালি। আজহার ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ পযর্ন্ত বিশ্বকাপের মোট ২৩টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্ব ভারত ১০টি ম্যাচ জিতেছে। হেরেছে ১২টি ম্যাচ। পরিত্যক্ত হয়েছে ১টি ম্যাচ। ধোনি ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ভারতকে মোট ১৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কপিল দেব ১৫টি এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বকাপের ১১টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে ওয়ান ডে বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে রিকি পন্টিংয়ের দখলে। পন্টিং বিশ্বকাপের ২৯টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্লেমিং নিউজিল্যান্ডকে ২৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মিতালি রয়েছেন তিন নম্বরে। মিতালি এই নিয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপের মোট ৩৪টি ম্যাচে মাঠে নামেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
12
সিরাজগঞ্জের জামিরুল ইসলাম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করেছিলেন ২০১২ সালে। ১০ বছর অপেক্ষার পর গত ৩০ জানুয়ারিতে তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। শিক্ষকতা করছেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একটি স্কুলে।চাকরি পাওয়ার পর এটাই জামিরুলের প্রথম ঈদ। কিন্তু এখনো কোনো বেতন-ভাতা পাননি তিনি। মা-বাবা এবং স্ত্রী- সন্তানদের নতুন জামাকাপড় দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাঁদের কাছ থেকে টাকা- পয়সা চেয়ে দিন কাটছে জামিরুলের। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'চাকরি পেতে ১০ বছর গেল। আর এখন চাকরি হলেও বেতন-ভাতার খোঁজ নেই।'জামিরুল একা নন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির পর বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেওয়া এমন কয়েক হাজার শিক্ষক এখনো বেতন-ভাতা পাননি।এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বেতন-ভাতা না পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে আছেন প্রায় তিন হাজার। এ ছাড়া বিভিন্ন জটিলতায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষকও এখনো বেতন পাননি বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কারও কাছে নেই বলে জানান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক ফোরামের সভাপতি শান্ত আহাদ।শান্ত আহাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নন-এমপিও কলেজগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় কেউই বেতন পাচ্ছেন না। আর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের নানা অজুহাতে বেতন আটকে আছে। এ ছাড়া অনেক মাদ্রাসায় বিষয় জটিলতার কারণেও অনেকের বেতন আটকে আছে। এসব শিক্ষক ধারদেনা করে চলছেন। এমনকি এই ঈদে সামান্যতম সম্মানীও দেওয়া হচ্ছে না। এর তো একটা সমাধান হওয়া দরকার।'এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন শিক্ষকদের বিএড করা থাকলে ১৬ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাওয়ার কথা। বিএড করা না থাকলে বেতন পাওয়ার কথা মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আর কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ২২ হাজার টাকা। নীতিমালায় যোগদানের দিন থেকেই এই বেতন কাঠামো কার্যকর করতে বলা হয়েছে।নন-এমপিও স্কুল-কলেজের প্রধানরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের ফান্ড না থাকায় তাঁরা বেতন দিতে পারছেন না।তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের প্রশ্ন, বেতন দেওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে এনটিআরসিএ কেন সুপারিশ করল?এ প্রশ্নের জবাবে এনটিআরসিএ সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, 'বেতনসংক্রান্ত বিষয় দেখার কাজ অধিদপ্তরের। আমাদের না।'জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, '৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল। (শিক্ষা) মন্ত্রণালয় থেকে সেটার সমাধান হয়েছে। আর ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজশিক্ষকদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।'এই কর্মকর্তা জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির কাগজপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। সঠিকভাবে কাগজপত্র পাঠালে বেতন নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। যোগদানের দিন থেকেই তাঁরা বেতন পেয়ে যাবেন। তবে ঈদের আগে এর সমাধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০০৫ সাল থেকে নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন করছে এনটিআরসিএ। এ পর্যন্ত ১৬টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষা এনটিআরসিএ আয়োজন করলেও প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করে আসছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠায় ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএকে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষক চাহিদা এনটিআরসিএতে পাঠায়। এর ভিত্তিতে এনটিআরসিএ নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিবন্ধনধারী শিক্ষকেরা এতে আবেদন করে নিয়োগের সুপারিশ পান। এ পর্যন্ত তিনটি গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে তিন দফায় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করেছে এনটিআরসিএ। কিন্তু এই নিয়োগ নিয়েও আছে জটিলতা। নিজের এলাকা থেকে অনেক দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেলে অনেকেই সেখানে থাকতে চান না।পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার আতরখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, 'এনটিআরসিএর সুপারিশে আমরা ভালো শিক্ষক পাচ্ছি, এটা ঠিক। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষকই থাকতে চান না। আমার স্কুলে নীলফামারী থেকে একজনকে সুপারিশ করেছে। তিনি যোগদান করবেন না বলে জানিয়েছেন। এতে স্কুলের এই পদ শূন্যই থাকবে। ছাত্রদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।'২০২১ সালে সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা ৫৪ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি দেয় এনটিআরসিএ। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার পদে কোনো আবেদনই পড়েনি। এরপর মোট ৩৮ হাজার ২৮৩ পদে নিয়োগে সুপারিশ করে এনটিআরসিএ তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করে জমা না দেওয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হন ৩৪ হাজার ১৮৯ জন। গত ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই শিক্ষকদের যোগদানের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো যোগদান করেনি ৩ হাজার ৩২৫ জন।অর্থাৎ ৫৪ হাজারের গণবিজ্ঞপ্তিতে শেষ পর্যন্ত যোগদান করেছে ৩০ হাজার ৮৬৪ জন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত এই শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। তাই অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। এর সঙ্গে বেতন জটিলতা থাকায় আরও কয়েক হাজার পদ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।এ বিষয়ে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক ফোরামের সভাপতি শান্ত আহাদ বলেন, 'দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুপারিশ করে এনটিআরসিএ নন-এমপিও শিক্ষকদের জীবনকে দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।'এই সম্পর্কিত পড়ুন:এখনো বেতন ও উৎসব ভাতা পাননি বেশিরভাগ কারখানা শ্রমিকঈদের আগেই প্রাইভেট কারের চালকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবিরাজপথে পাটকল শ্রমিকেরাবেতনের দাবিতে রাস্তা অবরোধঈদের আগেই বেতন-বোনাস পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
6
আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষকে সহজ ও সাশ্রয়ী লেনদেনের সুযোগ করে দিতে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড থেকে খুব সহজেই ফান্ড ট্রান্সফার বা আন্তলেনদেন সুবিধা চালু করেছে 'নগদ'। এখন থেকে ঢাকা ব্যাংক থেকে অ্যাড মানি এবং লোন ও ডিপিএস-এর কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন 'নগদ' গ্রাহকেরা।সম্প্রতি ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন 'নগদ'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) শেখ আমিনুর রহমান, প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা (সিএসও) মো. শিহাব উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এমরানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) এ এম এম মঈন উদ্দিন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চিফ ইমার্জিং মার্কেট অফিসার মো. মোস্তাক আহমেদ, এসইভিপি এবং করপোরেট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান আখলাকুর রহমানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতাএই সমঝোতা চুক্তির ফলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস 'নগদ'-এর গ্রাহকেরা যে কোনো সময় তাদের ঢাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবেন। ফলে এই প্রক্রিয়ায় 'নগদ' ও ঢাকা ব্যাংকের গ্রাহকেরা আন্তলেনদেনের মাধ্যমে বাঁচাতে পারবেন তাদের মূল্যবান সময় ও অর্থ। পাশাপাশি গ্রাহকদের এই ধরনের অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়া হবে ঝামেলাহীন ও ঝুঁকিমুক্ত।চুক্তির ব্যাপারে 'নগদ'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ বলেন, 'দেশের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে এই সেবার ফলে 'নগদ' ও ব্যাংক, উভয় পর্যায়ের গ্রাহকেরা লাভবান হবেন। এখন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন গ্রাহক চাইলেই ঢাকা ব্যাংক থেকে তার নগদ ওয়ালেটে টাকা আনতে পারবেন। নতুন নতুন আরও কিছু আকর্ষণীয় সেবা নিয়ে কাজ করছে নগদ।'ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড কী, কীভাবে লেনদেন সম্পন্ন হয়'নগদ' মূলত গ্রাহকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে চালু করেছে 'ব্যাংক টু নগদ' অ্যাড মানি সার্ভিস। ফলে কোনো চার্জ ছাড়াই ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকেরা যেকোনো 'নগদ' অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছেন নিমেষেই।তবে ব্যাংক থেকে যেকোনো 'নগদ' অ্যাকাউন্টে দৈনিক ৫ বার সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অ্যাড মানি করতে পারবেন গ্রাহকেরা। এভাবে প্রতি মাসে ২৫ বার সর্বমোট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অ্যাড মানি করতে পারবেন তাদের 'নগদ' ওয়ালেটে।
0
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির নামে হত্যা-খুন, হানাহানি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, রাহাজানির ধারা চলে আসছে। সম্প্রতি বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যা তারই আরেক নৃশংস রূপ। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যে ধারায় চলছে, এমন অবস্থায় সুষ্ঠু ধারার ছাত্ররাজনীতি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির নামে যে ধ্বংসাত্মক ও রক্তাক্ত কর্মকাণ্ড চলছে, তা মানুষ আর নিতে পারছে না। বিশেষ করে, বুয়েটে আবরার হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে টর্চার সেল, র্যাগিং ও নানা অত্যাচার-নির্যাতনের যেসব খবর বেরিয়ে আসছে, তা শিউরে ওঠার মতো। বছরের পর বছর এটা চলছে, কেউ এত দিন টুঁ শব্দ করার সাহস পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর কিংবা বিভাগীয় প্রধানেরাও কোনো ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ সেখানে ছাত্ররাজনীতি তথা দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুসরণ করুক-ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনেকেই তা চাইছেন। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি তথা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা যায় কি না, সেই আলোচনাও সামনে চলে এসেছে। এ ছাড়া মেডিকেল কলেজ এবং প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের ভয়ংকর ছাত্ররাজনীতিকে বিদায় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ সিদ্ধান্তে এটা করতে পারে। একই সঙ্গে ছাত্রদের ন্যায়সংগত দাবিদাওয়ার জন্য ছাত্র সংসদকে কার্যকর ও নিয়মিত নির্বাচন করার উদ্যোগ থাকতে পারে। সরকারকে এ বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বা অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলা নেই। কিন্তু ছাত্র সংসদ গঠনের কথা আছে। প্রতিটির আইনে শিক্ষকরাজনীতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও দলীয় সম্পৃক্ততার কথা বলা নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠন ও নানা রঙের আড়ালে শিক্ষকদের সমিতি বা সংগঠন রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব সমিতি ও সংগঠন দলীয় রাজনীতির শক্তিকে পুঁজি করে দলাদলি ও নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ যেসব প্রতিষ্ঠানেপরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের চাপের মুখে ছাত্ররাজনীতি চালুর অনুমতি দেন উপাচার্য মো. আবদুস সাত্তার। ২০১৪ সালে সেখানে কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া না-পাওয়াকে কেন্দ্র করে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলামকে (রিয়াদ) কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। এই হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শামীম হাসান দুজনই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে এখানে শিক্ষকদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্ররাজনীতি আবার বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখানকার বর্তমান উপাচার্য আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু একজন উপাচার্য তা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। শিক্ষকদের ওপর হামলার পর রিজেন্ট বোর্ডে (সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বোর্ড) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি তথা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা যায় কি না, সেই আলোচনা সামনে এসেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু বলা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধিতে ছাত্ররাজনীতি করা যাবে না মর্মে শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। শুরু থেকে ছাত্ররাজনীতি না থাকা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্ররাজনীতি থাকা না-থাকার মধ্যে বড় পার্থক্য দেখানোর দৃষ্টান্ত হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শোনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নেই। ছাত্ররাজনীতি ছাড়াই কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যে ভালো চলতে পারে, এটি তার একটি দৃষ্টান্ত। নিষিদ্ধ থাকলেও চলছেনিষিদ্ধ থাকলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চলছে। যদিও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের সঙ্গে অঙ্গীকারনামায় বলা আছে, ছাত্ররাজনীতি ও ধূমপান করা যাবে না। এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহিংস ঘটনার পর ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৪ সালে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে। এসব নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি, তবে ছাত্ররাজনীতি চলছে। ২০০৬ সালে চালু হওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ২০ বছর শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকবে। কিন্তু ১১ বছরের মাথায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামানের (চান) সময়ে সেখানে ছাত্ররাজনীতি চালু হয়। অবশ্য একমাত্র ছাত্রলীগ সেখানে কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া সংঘাত ও খুনের ঘটনার পর সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে দুটিতেই আবার ছাত্ররাজনীতি চালু হয়। আইনেও ছাত্ররাজনীতি নেইদেশে এখন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৯। এগুলোর প্রতিটির জন্য রয়েছে আলাদা আইন। তাতে ছাত্ররাজনীতির কথা নেই। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যেখানে ছাত্ররাজনীতি নেই, সেখানকার পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত। এর মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া ও মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেখানে দলাদলি বা খুনোখুনি নেই, ছাত্ররাজনীতিও নেই। আইনে কিছু বলা না থাকলেও দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর) ছাত্ররাজনীতি আছে। তবে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। ওই অধ্যাদেশের পর ৪৬ বছর পার হয়েছে, এটা এখন পুনর্বিবেচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত বুয়েট ও ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকলেও সেখানে ছাত্র সংসদ গঠনের কথা বলা আছে। ১৯৮৯ সালে বুয়েট একাডেমিক কাউন্সিল একটি ছাত্র অধ্যাদেশ পাস করেছিল, সেটাই বুয়েট আইন। যার ১৬ ধারা অনুযায়ী, লিখিত অনুমতি ছাড়া কেউ ছাত্রসংগঠন করতে পারবে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় অবস্থিত চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে কিছু বলা নেই। নব্বই-পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও ছাত্ররাজনীতি করা যাবে, এমন কথা আইনে নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি রশিদ ই মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, 'ছাত্রদের অবশ্য রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে। তবে এখন ছাত্ররাজনীতির নামে যা হচ্ছে, সেটা আমি চাই না।' বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একেকটি বড় ঘটনার পর ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সমালোচনা হয়, এটি বন্ধের দাবি ওঠে। আবার প্রশ্ন ওঠে-ছাত্ররাজনীতি না থাকলে অন্যায়ের প্রতিবাদ বা ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন হবে কীভাবে? এর জবাবে এমন কথা আসছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন ভিসি বা নেতৃত্ব কেন দেওয়া হবে, যাঁদের অযোগ্যতার কারণে ছাত্ররা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তা ছাড়া, ছাত্ররাজনীতি না থাকলেও সাধারণ ছাত্ররা দাবি আদায় করে নিয়েছেন, এমন তিনটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যদের চলে যেতে হয়েছে। বুয়েটে চলমান ছাত্র আন্দোলনটিও অরাজনৈতিক। কোটাবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনও কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে হয়নি; বরং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ বেপরোয়া হামলা করেছে। শিক্ষাবিদেরা বলছেন কার্যকর ছাত্র সংসদের কথা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোথাও ছাত্র সংসদ নেই। সেটাও দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল না। অনেক বছর পর যা-ও ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, সেটাও গ্রহণযোগ্য হয়নি; চলছেও না। বুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র, অভিনেতা, নাট্যকার ও লেখক আবুল হায়াত প্রথম আলোকে বলেন, 'রাজনীতি থাকলে ভালো হবে, না রাজনীতি ছাড়া ভালো চলবে-এটা চট করে বলা কঠিন। তবে আমরা যে পরিবেশে লেখাপড়া করেছি, বড় হয়েছি, সেখানে রাজনীতি দরকার হয়নি। আমরা আমাদের সমস্যার কথা উপাচার্যকে গিয়ে বলতে পেরেছি। এখন ইউকসু নেই। তার ওপর ছাত্ররাজনীতির খারাপ প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া সেখানে উপাচার্য, প্রভোস্ট, শিক্ষক, ছাত্র-সবার মধ্যেই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিবেশটা ভালো নেই, যা ফেরাতে হবে যেকোনো মূল্যে।' শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার এবং শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে সেখানকার রাজনীতি বন্ধ করতে পারে। শিক্ষকরাজনীতি, আসন বরাদ্দরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি খুব ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় শিক্ষকরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ছাত্ররাজনীতি। এ ছাড়া যখন যে সরকার ক্ষমতায়, সেই সরকারের ছাত্রসংগঠনের প্রভাবশালীরা হলের সিট বণ্টন করেন। হল প্রশাসন ছাত্রনেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে, কখনো রাজনৈতিক চাপে, কখনোবা নিজের দলীয় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় রাজনীতি বন্ধ করা গেলে হলের সিট বণ্টনে অনিয়ম থেকে শুরু করে গেস্টরুম কালচার, গণরুম ও র্যাগিংয়ের নামে ভয়ংকর ছাত্রনিপীড়ন বন্ধ হয়ে যাবে।নব্বইয়ের দশকে এইচ এম এরশাদ সরকারের আমলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধে মোট দুই দফায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমবার ১৯৮৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয়বার ১৯৮৯ সালের ২৬ নভেম্বর। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনীতিমুক্ত করা উচিত। ১৯৮৯ সালে রাজনীতিমুক্ত কলেজকে সরকারি অনুদান প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে তখনকার স্বৈরশাসকের উদ্দেশ্য হয়তো ভিন্ন ছিল। স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ছাত্ররাজনীতির নামে হানাহানি বন্ধ হয়নি। ২০০১ সালে ছাত্রদলের হানাহানির কারণে সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে তিন বছর ছাত্রদলের কমিটি স্থগিত রেখেছিল। ২০০২ সালে টেন্ডারবাজি নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে খুন হন বুয়েটের ছাত্রী সাবেকুন নাহার (সনি)। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হানাহানির শুরু স্বাধীনতার পর থেকে, যা দিনে দিনে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সবার অপছন্দছাত্রসংগঠনের নামে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির যে কদর্য চেহারা বছরের পর বছর ধরে তৈরি হয়েছে, তাতে খুব ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো অভিভাবকও এখন আর চান না, তাঁর সন্তান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হোক। এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকদের সন্তানদেরও ছাত্ররাজনীতিতে দেখা যায় না। যদিও অন্যের সন্তানদের ছাত্ররাজনীতির নামে তাদের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহের কমতি নেই। যার কারণে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা উঠলেই সেটাকে 'বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র' আখ্যা দিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি শুরু হয়। তবে বুয়েটে নিহত আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহও চান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হোক। তিনি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করায় বুয়েট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর ছেলেকে হারানোর মধ্য দিয়ে হাজার হাজার ছেলের জীবন যদি ভালো থাকে, এই নষ্ট ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হয়; সেটাও তাঁর জন্য একটা সান্ত্বনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাঁরা পড়াশোনা করেন, তাঁরা ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে বা নেতৃত্বে যেতে চান না। তাঁরা মূলত নিজেকে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়তে চান। তাই সেই সুযোগ দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, প্রয়োজনে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, ছাত্র ও শিক্ষকেরা চাইলে রাজনীতি বন্ধ রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তা স্পষ্ট। এমতাবস্থায় মেডিকেল, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। আরও পড়ুন:ছাত্রলীগের নৃশংসতার শেষ কোথায়আবরার হত্যা: এক আসামির ভয়ংকর বর্ণনা
9
পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছিলেন রাসেল। কিন্তু এ আসাই যে তার শেষ আসা হবে তা কে ভেবেছিল? ঈদ করতে এসে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেল। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙালিয়া ইউনিয়নের চরটেকী গ্রামের মরহুম মঞ্জু মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে বইছে মাতম। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরটেকী গ্রামের রাসেল ঢাকার কালীগঞ্জে ব্যবসা করতেন। মাহিন বারটেক হাইলেট নামের তার একটি প্যান্টের বাটন লাগানোর প্রতিষ্ঠান ছিলো। কোরবানির ঈদ মায়ের সাথে করতে ঈদের আগের দিন বাড়িতে আসে। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার হালকা জ্বর অনুভব করে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে জ্বরের ওষুধও খান। কিন্তু জ্বরের তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ শহরের মিডটাউন প্রাইভেট হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। ওইদিনই ভর্তি হয় কিশোরগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে গত রোববার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মারা যান রাসেল। সোমবার যোহর নামাজের পর চরটেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে রাসেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো বাড়ি। রাসেলের মারা যাওয়ার খবর শুনে দূর-দূরান্তের লোকজন তাদের বাড়িতে এসেছেন। রাসেলের মা ও স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন কেউ কেউ। ঘরের এক কোনে তিন মাস বয়সী বাচ্চাকে নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রয়েছেন রাসেলের স্ত্রী মুন্নী। রাসেলের মা আঙ্গুরা খাতুন বলেন, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে সোহেল সৌদিআরব থাকেন। ছোট ছেলে রাসেল ঢাকায় একটি ছোটখাটো ব্যবসা করতো। ঈদে বাড়িতে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাসেলের মৃত্যু হয়। এতে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। তিনি আরও বলেন, ১২বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছি। এখন হারালাম ছেলেকে। এত কষ্ট সইবো কী করে। রাসেলের স্ত্রী মুন্নী জানান, রোববার সকালে মুঠোফোনে রাসেলের সাথে তার শেষ কথা হয়। ওই সময় রাসেল তাকে বলে, 'আমি আর বাঁচব না, আমার জন্য দোয়া করো। কোনো দাবি-দাওয়া রেখো না।' বিকেলেই খবর পাই উনি (রাসেল) আর নেই। তিনি আরো জানান, ২০০৯সালে তাদের বিয়ে হয়। মাহিন নামে আট বছরের এক ছেলে ও তিন মাস বয়সী মাহিয়া নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। রাসেল এভাবে অকালে চলে যাবে ভাবতেও পারিনি। অভাবের সংসার, ছেলে-মেয়ে নিয়া আমি এখন কিভাবে চলব।
6
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) আয়োজন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। মেলা হলে মানুষের সমাগম বেশি হবে এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে-এমন বিবেচনা রেখেই এ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে নবনির্মিত বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এই মেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। মেলা আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে এক সপ্তাহ আগেও বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ এবারের মেলা শুরু হবে। একই দিন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। মেলা আয়োজনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন আজ রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, 'বলা যায় যে আপাতত স্থগিত। তবে আগামীকাল দুপুরে চূড়ান্ত কথা বলা যাবে।' ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলে ২০ একর জমির ওপর বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানে ৯ বর্গফুট আয়তনের ৮০০টি স্টল রয়েছে। স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্র করার জন্য ২০০৯ সালে প্রাথমিকভাবে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দরের ৩৯ একর খালি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেখানে জায়গা না পাওয়ায় প্রকল্পটি পূর্বাচল উপশহরে সরিয়ে আনা হয়। ২০ একর জমির ওপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রদর্শনী কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেয় চীন সরকার। জমি বাবদ সরকার দেয় ১৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। প্রদর্শনী কেন্দ্রের নির্মাণকাজ করেছে চীনা কোম্পানি।
0
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এবারের রবি মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ফুটতে শুরু করেছে সরিষার হলুদ ফুল। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। কম খরচ ও বেশি লাভের কারণে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বেশি।আমন ধান কাটার পর রৌমারীর কৃষকেরা বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করেন। সরিষা বিক্রির পর একই জমিতে আবারও ধান রোপণ করেন তাঁরা।উপজেলার ইজলামারী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি প্রতি বছর আমন ধান কাটার পর জমিতে সরিষা চাষ করি। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার গাছ ভালো হয়েছে। আশা করছি ফলনও ভালো হবে। বাজারে দাম ভালো পেলে বোরো ধান লাগাতে বেগ পেতে হবে না।'চুলিযারচর গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, সরিষা চাষে খরচ কম লাভ বেশি। আর সরিষা চাষ করলে বোরো রোপণের সময় আলাদাভাবে ওই জমিতে আর সার দিতে হয় না। সরিষা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা তেলের চাহিদা মেটানো যায়। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা, ভালো সরিষা হলে ১৫ মণ হয়। ১ হাজার ৬০০ টাকা করে বিক্রি করলে ২৪ হাজার টাকা আসে তাতে খরচ বাদ দিলে বিঘায় লাভ থাকে ১৮ হাজার। দাম বেশি হলে লাভের অঙ্ক আরও বাড়ে। দাম কমলে লাভের অঙ্ক কমে আশে।রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, 'কৃষকেরা এই ফসলটাকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে চাষ করেন। এবার রৌমারীতে সরিষা চাষ হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা সরিষার ফলনও ভালো পাবেন।
6
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলী প্রকাশ মাহাদুকে (৫০) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার আসামি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খোরশেদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাতেসাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার এড়াতে নিজের এলাকা মিঠাপানির ছড়া পরিবর্তন করে পাশের ইউনিয়ন বাহারছড়ার নোয়াখালী পাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। গ্রেফতার মো. আলী প্রকাশ মাহাদুর বিরুদ্ধে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 'বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প' নামের ওই প্রকল্পের জন্য যমুনা নদীর তীরে ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গার একটি বড় অংশ দখলে নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার বালুর ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে যেমন প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বালু আনা-নেওয়া করা বড় বড় নৌযানের ধাক্কায় ভাঙছে নদীর তীর। এতে পুরো প্রকল্পটিই হুমকির মুখে পড়েছে।জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের সময়ে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে 'বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প' হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের যমুনাতীরবর্তী বেলটিয়া, বিনোদ লুহুরিয়া, শ্যামশৈল এলাকায় গাইড বাঁধ নির্মাণ ও সেডিমেন্ট বেসিন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যমুনা নদীর পানি নতুন ধলেশ্বরী, ঝিনাই, বংশাই, তুরাগ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর প্রবাহকে সচল রেখে দূষণ রোধ করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০২০ সালে জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে পাউবোর কাছে হস্তান্তর করে। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।কিন্তু অধিগ্রহণ করা প্রকল্প এলাকা দখল করে বালুর ব্যবসা করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাইসহ তাঁর ব্যবসায়ী অংশীদারকালিহাতী আসনের সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর লোকজন। তাঁরা যমুনা নদী থেকে বালু এনে সেখানে স্তূপ করে রেখে পরে তা ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। এতে প্রকল্প এলাকায় বারবার ভারী নৌযান (বাল্কহেড) চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নকাজ। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকা থেকেও রাতের আঁধারে মাটি উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।এসব অভিযোগ এনে গত ১০ আগস্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অনুমতি চান। এরপর গত ২৪ আগস্ট ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাইকে সতর্ক করে বালু সরিয়ে নিতে চূড়ান্ত নোটিশ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসব নোটিশ ও আবেদনপত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনুলিপি দেওয়া হয়। এরপরও তাঁরা বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।সরেজমিন দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার পাশ দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে নদীর তীরে প্রকল্প এলাকায়। এই রাস্তা ব্যবহার করেই দিন-রাত ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করেন ব্যবসায়ীরা। অধিগ্রহণ করা জায়গায় বালুর বিশাল বিশাল স্তূপ দেখা যায়। তার পাশেই নদীতে বড় বড় বাল্কহেড বাঁধা রয়েছে। ড্রেজার দিয়ে তা থেকে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। বাল্কহেডগুলো চলাচলের কারণে নদীতে সৃষ্ট ঢেউয়ে তীর ভেঙে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হজরত আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই বালুর ব্যবসা মূলত সাংসদ সোহেল হাজারীর। তিনি সিরাজগঞ্জে বালু কিনে এখানে এনে বিক্রি করেন।' স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউল আলম বলেন, 'দখলকারীরা সরকারদলীয় হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।'বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারী ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাইও স্বীকার করেন, ব্যবসাটি মূলত সাংসদ সোহেল হাজারীর। তবে তিনি দাবি করেন, 'সরকারি জমি নদীর মধ্যে। আমরা তো নদী দখল করে ব্যবসা করছি না। আমরা বৈধভাবে বালু কিনে এনে ব্যবসা করছি।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী গতকাল মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'কোনো ধরনের বালুর ব্যবসার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। যদি কেউ আমার নাম বলে থাকে, সেটা ভুল বলেছে। যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁরা সিরাজগঞ্জ থেকে বালু কিনে এনে বিক্রি করছেন। বৈধ ব্যবসা করা অন্যায় কিছু নয়।'টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বালু ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তা চেয়েছি। তিনিও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বালু ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কিছু সময় চেয়েছেন। এ জন্য কিছুটা সময় লাগছে।'জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পানি উন্নয়ন বোর্ডের আবেদন পেয়েছি। তাদের বলে দিয়েছি, যখনই আইনি সহায়তা লাগবে, তখনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। এ জন্য কোনো সময়ক্ষেপণ করা হবে না।'
6
বাবাকে অনুসরণ না করেও বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের। বাবার মতো অভিনয় দিয়ে নয়, পরিচালক হিসেবে বলিউডে পা রাখছেন তিনি। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করেছেন আরিয়ান। এবার সেই স্বপ্নপূরণের দিকেই পা বাড়ালেন তিনি। শুধু পরিচালনা নয়, সিরিজের চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি।অবশ্য আরিয়ান আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি বাবার মতো অভিনেতা হতে চান না। কাজ করতে চান ক্যামেরার পেছনে। তাই তো আমাজন প্রাইম ভিডিওর ওয়েব সিরিজ দিয়ে পরিচালনার কাজ শুরু করলেন এই তারকাপুত্র। কাজের প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের দুই দিন মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে পরীক্ষামূলক শুটিংও করেছেন আরিয়ান। সিরিজটি কবে ফ্লোরে যাবে, সে তথ্য পাওয়া না গেলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার থেকে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সিরিজটির প্রাক্-শুটিংয়ের কাজ চলছে। দ্রুতই প্রকাশ্যে আসবে মূল শুটিংয়ের তারিখ। সব ঠিক থাকলে এই বছর মুক্তি পাবে সিরিজটি। এ ছাড়া আমাজন প্রাইমের পরে আরিয়ান নিজের বাবা-মায়ের প্রযোজনা সংস্থার (রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট) হয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা পরিচালনা করবেন। আরিয়ান পরিচালনায় হলেও শাহরুখকন্যা সুহানা উৎসাহী অভিনয়ে। জোয়া আখতার পরিচালিত 'আর্চিস কমিক্স'-এর মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে সুহানার। ইতিমধ্যে প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এই সিনেমায় সুহানার সঙ্গে অভিনয় করবেন অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা ও শ্রীদেবীর ছোট মেয়ে খুশি কাপুরও।গত বছরের শেষের দিকে মাদক মামলায় জড়িয়ে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন আরিয়ান। ২ অক্টোবর রাতে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) একটি প্রমোদতরিতে অভিযান চালিয়ে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান ও তাঁর দুই বন্ধুকে আটক করে। এ সময় আরিয়ানের কাছ থেকে ১৩ গ্রাম কোকেন, ২১ গ্রাম চরস, ২২টি এমডিএমএ পিলস ও ১ লাখ ৩৩ হাজার রুপি পাওয়া যায়। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা জেরার পর আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাদককাণ্ডে নাম জড়ানোর পর বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন আরিয়ান খান। বারবার জামিন খারিজ হওয়ার পর অবশেষে ১৪টি শর্তে তাঁকে মুক্তি দেন মুম্বাই হাইকোর্ট। ২৮ দিন জেল খেটে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর ঘরে ফেরেন আরিয়ান। এদিকে এই মাদক মামলায় এনসিবির প্রধান সাক্ষী প্রভাকর সেল মারা গেছেন। এ বছর ১ এপ্রিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
2
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ঘোরদৌড়। খাল-বিল ও বাঙালি নদীবেষ্টিত এই গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রব্বানী। তিনি পেশায় একজন কৃষক। চলতি আমন মৌসুমে আট বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন। আর দুই বিঘা জমিতে রকমারি সবজি চাষ করেছেন। বেশ ভালোও হয়েছে এসব জমির ফসল। তবে এখনও পরিপক্ব হয়নি। তাই ওসব জমির ফসল ঘরে উঠতে প্রায় দেড় মাস বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে সপ্তাহব্যাপী অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের পানিতে খাল ও বিলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এমনকি বাড়তি সেই পানিতে ডুবে গেছে ওই গ্রামসহ আশপাশের অন্তত দশটি গ্রামের ফসলি মাঠ। এরই ধারাবাহিকতায় ওই কৃষকের জমিগুলোতে লাগানো ধান ও সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে করে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। শুধু এই কৃষক নন, তার মতো ওই এলাকার বাসিন্দা কৃষক জাকারিয়া হোসেন, শফিকুল ইসলাম, শামছুল হক, আজিজুলহকসহ অনেকেই। তারা ধান ও সবজি ফসল নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন। কিন্তু তাদের ফসল ডুবে যাওয়ায় পানিতে লুটোপুটি খাচ্ছে কৃষকদের সেই স্বপ্ন। তাই ফসল রক্ষায় মাঠে নেমেছেন তারা। একইসঙ্গে ডুবে থাকা জমির ফসল উদ্ধারে সম্মিলিতভাবে বেশ-কয়েকটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাঠের পানি নিষ্কাশনে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপজেলায় আলোচনায় এসেছে। কৃষকরা জানান, স্থানীয় মেঘাই খালের মুখ বন্ধ করে শ্যালো মেশিনে সেচ কাজ করায় পানি কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অনেক জমি জেগে উঠেছে। ফসল রক্ষার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই ওই খালের মুখে একটি সুইচ গেট ও ব্যারেজ নির্মাণের দাবি জানান তারা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বলেও জানান তারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত আলী সেখ লিখিত আবেদন পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কৃষকদের সমস্যা সমাধানে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা চলছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার কারণ জানালেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বললেন, শপথ নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এ চাপ সৃষ্টির বিষয়টি বিএনপি নিশ্চিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, জাহিদুর রহমানের শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের চাপ ছিল। কিন্তু আমরা এতে বিচলিত নই। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত 'রোহিঙ্গা সংকট: সমুদ্রে ভাসমানদের উদ্ধারে জাতিসংঘের আহ্বান' শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিবিসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় ভাসমান আছে। তবে ইউএনএইচসিআর-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা আছে, নৌযানটি আন্দামান সাগরে ভাসমান আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাসমান নৌযানটি বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ১৭শ' কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। অবস্থানটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অনেক দূরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, এর আগে বারবার সমুদ্রসীমায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পর যখন সবাই অস্বীকার করছিল, তখন বাংলাদেশ সরকারই তাদের উদ্ধার করেছিল। এবার অন্যান্য দেশ বিশেষত যাদের জলসীমায় নৌকাটি আছে তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা।
6
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে ফরাসি নাগরিক বেঞ্জামিন ব্রিয়ারকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বেশ কিছুদিন বিচার চলার পর মঙ্গলবার ইরানের আদালত তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ফরাসি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ২০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। শুধু আট বছরের কারাদণ্ড নয়, ইরান এবং ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগ্যান্ডা করা হয়েছে-এই অভিযোগে আরো আট মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন আদালত। বেঞ্জামিনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়টিরও কোনো যুক্তি নেই। কারণ বেঞ্জামিন ইসলামবিরোধী কথা বলেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। যেভাবে ইরানের আদালত বেঞ্জামিনের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করেছে, তা প্রহসন বলে ব্যাখ্যা করেছেন তার আইনজীবীরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। শনিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপরে দেড় হাত পানি জমেছে। রিকশার চাকাগুলো পানিতে দেখা যাচ্ছে না। বিপাকে পড়ছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী নারীসহ সাধারণ জনগণ।
6
কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা এবং ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। হাজারো মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে মৌলবাদের ঠাঁই নেই। এদিন সকাল থেকে দিনভর রাজধানীর রাজপথে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ, জাসদ এবং এসব দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পৃথক বিবৃতিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠন সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। সংসদীয় কমিটির নিন্দা: গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কুষ্টিয়ায় রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামের নামে নারী ধর্ষণ, ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে কোরআন শরিফ পুড়িয়ে ফেলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা এবং ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতা একই সূত্রে গাঁথা। তারা অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ভাস্কর্যকে ইস্যু করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে। সংসদীয় কমিটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সব চক্রান্ত ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার কথা বলেছে। শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, কমিটির সদস্য এবি তাজুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ। রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। ঢাকা মহানগর জাসদের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সফি উদ্দিন মোল্লা, রোকনুজ্জামান রোকন, সাইফুজ্জামান বাদশা, শরিফুল কবির স্বপন, রাশেদুল হক ননী প্রমুখ। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহিলা আওয়ামী লীগ। সংগঠনের সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এর আওতাধীন ৬৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিসহ নেতারা এসব কর্মসূচিতে যোগ দেন। যুবলীগ সারাদেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সারাদিন রাজপথে অবস্থান এবং বিকেল ৩টায় একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেট ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। ফার্মগেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ নেতারা বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, তাজউদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, রফিকুল ইসলাম সৈকত জোয়ার্দার, সাইফুর রহমান সোহাগ, জহির উদ্দিন খসরু, জয়দেব নন্দী, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, জাকির হোসেন বাবুল, মাইনউদ্দিন রানা, ইসমাইল হোসেন, এইচএম রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, কেন্দ্রীয় নেতা গাজী মেসবাউর রহমান সাচ্চু, নির্মল চ্যাটার্জী, আব্দুল আলিম, কেএম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, মেহেদি হাসান মোল্লা, আজিজুল হক, কামরুল হাসান রিপন, সাঈদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। যুব মহিলা লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এতে সংগঠনের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সামাজিক সংগঠন 'অপরাজেয় বাংলা'। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাস্কর্য ভাঙচুর ও বিরোধিতাকারী ও উস্কানিদাতা হেফাজত নেতা মামুনুল হক গংয়ের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। বিবৃতিতে নিন্দা-প্রতিবাদ: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ এসব রাজনৈতিক মোল্লা, ফতোয়াবাজ ও তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হলে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ভোটের স্বার্থে সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা, পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস পরিবর্তন, বিভিন্ন রকম অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করার ফলে সাম্প্রদায়িক শক্তি আজ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের মতো অপতৎপরতা দেখাতে পারছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদ ও ইন্ধনে মৌলবাদী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যে কোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করা হবে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর ও বিরোধিতাকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কেএম সফিউল্লাহ বীরউত্তম, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুরুল আলম, কর্নেল (অব.) সামসুল আলম, ডা. সারওয়ার আলী, ম হামিদ, হারুন হাবীব, আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, শাহজাহান মৃধা বেনু, আব্দুল মাবুদ, ডা. মোহাম্মদ মনসুর, আবুল হাসিম ভূঁইয়া ও মীর আসালত। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বিবৃতিতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে দেশের হাজার বছরের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে উন্নয়নবিমুখ মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার হীন উদ্দেশ্য এ দেশের শিক্ষিত সমাজ সফল হতে দেবে না। বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পৃথক বিবৃতিতে শেখ কবির হোসেন বলেন, যে মহান নেতা জাতির কল্যাণে সারাজীবন কাজ করে গেছেন, জীবনের প্রায় ১৩টি বছর কারাগারের অন্ধকারে কাটিয়েছেন, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ কখনও স্বাধীনতা লাভ করত না, যিনি বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছেন- সেই মহান নেতার ভাস্কর্য ভাঙা খুবই দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন জাতির পিতাকে নিয়ে এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস না পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুইয়া বিবৃতিতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান ও অবমাননা বাঙালি জাতি সহ্য করবে না। পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার সর্বোচ্চ অবস্থান ধরে রাখার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে।
6
শীত শেষ হয়েছে বেশ অনেক দিন হলো। বসন্ত চলছে। তবে ফাল্গুন শেষ হয়ে চৈত্র মাস এল বলে! বুঝতেই পারছেন, আবহাওয়া একেবারে বদলে গেছে। এ বদলে যাওয়া আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে আমাদের শরীরে এবং বিশেষত আমাদের ত্বকে। খেয়াল করলেই দেখবেন, এখন ত্বক কেমন যেন একটু অন্য রকম হয়ে যায়, কোমলতা থাকে না। একটুতেই নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। ফলে চেহারার লাবণ্য যায় হারিয়ে। ত্বকের এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। আর এ বিশেষ যত্নের জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করার কোনোই প্রয়োজন নেই। এখন বাজারে উঠেছে প্রচুর মৌসুমি ফল। রয়েছে বিভিন্ন রকমের সবজি। এ মৌসুমি ফল ও সবজিই হতে পারে আপনার ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়ার প্রধান অস্ত্র। খাবার জন্য আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো ফল কিনি প্রায় প্রতিদিন। সে ফলগুলোরই কিছু অংশ যদি বুদ্ধি করে ত্বকচর্চার কাজে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আপনার ত্বক থাকবে ঝলমলে উজ্জ্বল। অবশ্য শুধু মৌসুমি ফল ত্বকে ব্যবহার করলেই চলবে না। সেই সঙ্গে জীবনযাপনেও থাকতে হবে ভারসাম্য। রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, এ সময়ে বেশি পরিমাণে পানি পান ও ফল খাওয়া ভালো। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুবার মুখে ফেসপ্যাক লাগানো অত্যন্ত জরুরি। ভেষজ উপাদান ব্যবহারে ত্বকের যত্ন হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। ত্বকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তাই ত্বকের সজীবতা ও সৌন্দর্য বাড়াতে হারবাল ফেসিয়ালের গুরুত্ব বেশি। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ফল, সবজি ও মসলাজাতীয় উদ্ভিদ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শসা খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। শসার রস, সয়াবিন, মধু, আঙুরের পেস্ট লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তৈলাক্ত ভাব কমে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ১ চা-চামচ ওটমিল ও পরিমাণমতো শসা পেস্ট একসঙ্গে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। মুখে ও ঘাড়ে মিশ্রণটি ভালোমতো মেখে ২০ মিনিট রাখুন। চাইলে সঙ্গে মধুও যোগ করতে পারেন। মধু ত্বকে লাবণ্য ধরে রাখবে। ত্বক স্বাভাবিক থাকলে সমস্যাও অনেক কম হয়। মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য শসার চাকা, পাতিলেবুর রস ভালো কাজ করে বলে জানান রাহিমা সুলতানা। হাত-পায়ের ত্বকে: শসার রস, আলুর রস, মধু হাতে-পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। নমনীয় ত্বকের জন্য ১ টেবিল চামচ তরমুজের রস ও ১ টেবিল চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাক আপনার মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকে ১ টেবিল চামচ তরমুজের রস ও ১ টেবিল চামচ মধু নিন। দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট ত্বকে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তরমুজের রস না নিয়ে বরং তরমুজ চটকে সেটা মধু দিয়ে মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগান। ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর আপনার মুখ স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হাত-পায়ের ত্বকে: কয়েক টুকরা তরমুজ ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ করতে কাঁচা হলুদ, অলিভ অয়েল, লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ, গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। কাঁচা হলুদ, চন্দনগুঁড়া, কমলার রসের মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগালে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা কমে। স্বাভাবিক ত্বকে একটু হলুদগুঁড়া আর মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট রাখার পরামর্শ দেন রাহিমা সুলতানা। হাত-পায়ের ত্বকে: হাত-পায়ের দাগ দূর করতে হলুদের বিকল্প নেই। কাঁচা হলুদগুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট করে লাগিয়ে নিন। সব ধরনের ত্বকের জন্য আঙুরের রস উপকারী। কয়েকটি আঙুর হাত দিয়ে আলতো করে পুরো মুখে মিনিটখানেক ঘষে নিন। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। একেবারেই প্রাকৃতিক ফেসওয়াশের কাজ করবে এটা সব ধরনের ত্বকে। এ ছাড়া আঙুর ম্যাশ করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। রোদের পোড়া ভাব কাটিয়ে এতে আপনার ত্বক আরও উজ্জ্বল হবে। রাহিমা সুলতানা আরও বলেন, সপ্তাহে এক দিন বাসায় ওপরের ফেসপ্যাকগুলো স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। তবে অতিরিক্ত রূপচর্চা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
4
দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধের অবসানের মধ্য দিয়ে গত ১৫ আগস্ট পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত মঙ্গলবার ক্ষমতাগ্রহণের ১০০ দিন পার করল আফগানিস্তানের এক সময়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। অর্থনৈতিক-সামাজিক সংকট বৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে এরই মধ্যে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে তালেবান সরকার, ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রেও।তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে আফগানিস্তানে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগানিস্তান ইস্যুতে জি-২০ নেতাদের পাশাপাশি বৈঠকের আয়োজন করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ইরান, পাকিস্তান, ভারত, রাশিয়া ও চীন। তবে এসব বৈঠকে তালেবান সরকারের স্বীকৃতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আফগানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওএলও নিউজ।তবে ইরান, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, কাতার, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ইতালি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১টি দেশ সম্প্রতি আফগানিস্তানে দূতাবাস খুলেছে বলে জানা গেছে।এদিকে আগামী সপ্তাহে আবারও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসছে তালেবান। জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই এবং মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা হবে।গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্টের নেতৃত্বে আমেরিকান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তালেবানের দুই সপ্তাহের আলোচনা হবে।দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানে তালেবান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিল টম ওয়েস্ট।তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে একটি খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দ করা আফগান সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
3
আঠাশে পা দিলেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। বিশেষ এই দিনে উপহার হিসেবে ভক্তদের জন্য একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। সোমবার ইনস্টাগ্রামে তিনি ছবিটি পোস্ট করেন। এসএস রাজামৌলির আগামী ছবি 'আরআরআর' এ সীতা চরিত্রে অভিনয় করছেন আলিয়া। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে আলিয়াকে দেখা যায় সীতার বেশে, সবুজ শাড়ি, কানে দুল, মাথায় টিকলি পরা অবস্থায়। পাশাপাশি কোঁচকানো চুলে আলতো করে বেনী বাঁধা, তাতে রয়েছে ফুল লাগানো। কপালে টিপ ও মুখে হালকা মেকআপে আলিয়াকে দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা। আসলে ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে আলিয়া তার চরিত্র 'সীতা'র সঙ্গে ভক্তদের পরিচয় করিয়ে দেন। হ্যাসট্যাগে লিখেন, 'আরআরআর...কোনো শব্দের দরকার নেই।' 'আরআরআর' ছবির ফাস্ট লুক পোস্টার মুক্তি পাওয়ার ইঙ্গিত অবশ্য রোববারই দেন আলিয়া। সেখানে সীতার মূর্তির সামনে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। ক্যাপশানে আলিয়া লিখেন, 'কামিং টুমরো।' ২০১৭ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা 'বাহুবলি টু' এর পরে এসএস রাজামৌলির প্রথম ছবি 'আরআরআর'। ছবিটি একই সঙ্গে হিন্দি, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম ভাষায় মুক্তি পাবে। গত বছরের জুলাইয়ে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও মহামারি করোনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। রাজামৌলির 'আরআরআর' ছবিতে আলিয়া ছাড়াও দেখা যাবে অজয় দেবগণ ও রামচরণকে। ১৯২০ সালের দুই স্বাধীনতা সংগ্রামী আল্লুরি সীতারাম রাজু ও কোমারাম ভীমের জীবনের ওপর ভিত্তি করে ছবিটি তৈরি।
2
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ হওয়া স্কুল শিক্ষার্থী ইমন দাশের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। আজ সোমবার সকালে উপজেলার তালতলা ঘাট এলাকার মাঝ নদী থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।নিহত ইমন দাশ শিলক ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের রতন দাশের ছেলে এবং পশ্চিম শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।ইমনের প্রতিবেশী রবিউল মোস্তফা জানান, গতকাল রোববার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় সে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিলক তালতলা ঘাটের মাঝ নদী থেকে ইমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ইমন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বলেও জানান তিনি।ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান বলেন, গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে ইমন। এ সময় পানির স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুপুর দুই টা থেকে সন্ধ্যা সাত টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।জাহেদুর রহমান আরও বলেন, আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ডুবুরি দল আবারও উদ্ধার কাজে নামে। পরে আধা ঘণ্টা পরে ইমনের লাশ উদ্ধার করেন তাঁরা।
6
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ায়ম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ। সোমবার দুপুরে শেখ ফরিদ স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৯৬-৯৭ সালে বিএ অর্নাস এমএ পাশ করেন । তৎকালীন তিনি আনন্দ মোহন কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।শেখ ফরিদের বাবা আলহাজ্ব আবদুল কাদির মিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের র্দীঘ দিন জ্যৈষ্ঠ সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের দুর্দিনে আবদুল কাদির মধ্য বাজার নিজ জায়গায় অস্থায়ী ভাবে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় স্থাপন করেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে বিপুল ভোটে এলাকার সাংসদ নির্বাচিত করায় তিনি সম্মানিত ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সাফল্যতা কামনা করেন।শেখ ফরিদ পৌরশহরের মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করেন। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির শেখ ফরিদ একজন সক্রিয় সদস্য। শেরপুর-২(নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি মতিয়া চৌধুরীর উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভাবে কাজ করেছেন।শেখ ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দের কাছে আমি পরিচিত একজন আওয়ামীলীগের পরিবারের সন্তান। আওয়ামী যুব লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে সকলের কাছে দোয়া এবং সমর্থন কামনা করছি। আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিজয় সুনিশ্চিত করা হবে। আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও এলাকার সাংসদ মতিয়া চৌধুরীর উন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করা হবে।
6
আইপিএল ক্যারিয়ারে ৪০০০ রান পূর্ণ করলেন দীনেশ কার্তিক। গতকাল রবিবার (৩ অক্টোবর) সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এই অনন্য আইপিএল মাইলস্টোন স্থাপন করলেন কেকেআরের তারকা। কলকাতার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এদিন হায়দরাবাদের রান তাড়া করতে নেমে অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংস খেলার সঙ্গেই আইপিএলে চার হাজার রানের ক্লাবে ঢুকে গেলেন। কেকেআর টুইট করে কার্তিকের নতুন এই কীর্তির বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের জানিয়ে দিল। হায়দরাবাদ ম্যাচের আগে কার্তিক চার হাজার রান থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ছিলেন। এদিন অনায়াসে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করে ফেলেন তিনি। ২০৯টি আইপিএল ম্যাচে কার্তিক ৪০০০ রান পেরিয়ে যান। এমএস ধোনির পর দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসাবে আইপিএলে ৪০০০ রান পূরণ করলেন কার্তিক। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
12
ভারতে বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনার টিকা পাওয়া যাবে। তবে তার জন্য অর্থ গুনতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গতকাল শনিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, করোনার টিকাদান কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেখানে প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে ২৫০ রুপি। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথাও জানিয়েছে, সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্য যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ভারতজুড়ে ১০ হাজারের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অর্থের বিনিময়ে টিকা নিতে পারবে লোকজন। ভারতে গত ১৬ জানুয়ারি করোনার গণটিকাদানের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশটিতে দুটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। একটি পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটে প্রস্তুত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার 'কোভিশিল্ড'। অন্যটি হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেকে তৈরি শতভাগ ভারতীয় টিকা 'কোভ্যাক্সিন'। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলার মধ্যেই কোভ্যাক্সিন টিকাটি জরুরি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয় ভারত সরকার। অর্থাৎ বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতার তথ্য ছাড়াই এই টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তাই এই টিকার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। সোমবার থেকে সম্প্রসারিত টিকাদান শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রসারিত কার্যক্রমে ৬০ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে যাঁরা গুরুতর অসুস্থ, তাঁরাও টিকা পাবেন। তবে এ জন্য অনুমোদিত চিকিৎসকের কাছ থেকে সুপারিশ আনতে হবে। শুরুর ধাপে স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করে ভারত সরকার। তবে ভারতে তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার প্রতি মানুষের অনাগ্রহসহ অন্যান্য কিছু কারণে টিকাদানে আশানুরূপ অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। শুরুর ধাপে টিকা পছন্দ করার কোনো সুযোগ গ্রহীতাদের দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন তা পেতে যাচ্ছেন গ্রহীতারা। কারণ, ভারত সরকার সম্প্রসারিত কার্যক্রমে লোকজনকে তাদের টিকা গ্রহণের কেন্দ্র পছন্দের সুযোগ দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে লোকজনের টিকা পছন্দ করারও সুযোগ তৈরি হবে। এতে টিকা নেওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ভারতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৩ থেকে ৪টি টিকা ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেতে পারে। বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ।
3
কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় ভোরের কাগজের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব আব্দুর রাজ্জক মিলনায়তনে ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলা টিভির এম লিটন উজ জামান, ডেইলি সানের রেজাউল করিম রেজা, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জাহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে। আলোচনা সভা শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার চেতনা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে ভোরের কাগজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সভায় বক্তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
6
আধুনিক সভ্যতার অন্যতম চাহিদা বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছাড়া এখন প্রাত্যহিক জীবন প্রায় অসম্পন্ন। তাই মুজিব বর্ষে সরকার 'ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ' কর্মসূচি নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে 'পিছিয়ে পড়া' অঞ্চল বলা হতো। এই তকমাকে ডিঙিয়ে পাহাড়ে এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হওয়ার পথে। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।সরকার সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম এলাকাসমূহে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করে। যেসব এলাকায় বিদ্যুতের তার ও খুঁটির ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব, সেখানে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পার্বত্য তিন জেলায় ৪২ হাজার ৫০০ পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে।গত ২৫ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে এই প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার ৪০ হাজার পরিবার এবং ২ হাজার ৫০০টি মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, পালিটোল, গির্জা, কমিউনিটি সেন্টার ও পাড়া কেন্দ্র (শিক্ষা কেন্দ্র) সোলারের মাধ্যমে আলোকিত হবে।পার্বত্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড থেকে এই সিস্টেম ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য হারুন অর রশিদকে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, যেসব দুর্গম এলাকায় কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব নয়, এমন দুর্গম এলাকার সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের আওতায় মোট ৪২ হাজার ৫০০ পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় সবাই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে।পার্বত্য মন্ত্রী জানান, গত অর্থ বছরের শেষ দিকে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান (২য় পর্যায়) প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪০ হাজার বাড়িতে ১০০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে বান্দরবানে ১৪ হাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১৩ হাজার করে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে।এ ছাড়া ২ হাজার ৫০০ ধর্মীয়, শিক্ষা ও কমিউনিটি সেন্টারে ৩২০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে বান্দরবানে ৯০০ এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ৮০০ করে সোলার স্থাপন করা হবে।এ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান জেলার সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও রুমা, রাঙামাটি জেলার সদর, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর, কাউখালী, রাজস্থলী এবং খাগড়াছড়ি জেলার সদর, রামগড়, দীঘিনালা, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি উপজেলা রয়েছে।
6
কদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের উইকেটকিপিং করবেন কে?জিম্বাবুয়ে সফরের একাংশ ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মুশফিকুর রহিম-লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে এই দায়িত্ব পালন করেন নুরুল হাসান সোহান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিক-লিটন দলে ফেরায় উইকেটকিপিং নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। তবে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আজ সব দ্বিধা দূর করে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, মুশফিক-সোহান দুজনই উইকেটকিপিং করবেন। আর লিটন আউটফিল্ডে দাঁড়াবেন।গত ২৬ আগস্ট বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, সোহান বাংলাদেশের সেরা উইকেটরক্ষক। এবার ডমিঙ্গো জানালেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সোহানের পাশাপাশি মুশফিকও দাঁড়াবেন উইকেটের পেছনে।আজ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলেছেন, 'প্রথম দুই ম্যাচে সোহান উইকেটকিপিং করবে। এই বিশেষ সিরিজে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে সোহান ও পরের দুই ম্যাচে মুশফিক উইকেটকিপিং করবে। পরে পঞ্চম ম্যাচের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুশফিক না খেলায় ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে মুশফিক ফিরে আসায় ব্যাটিং অর্ডারে আবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে। মুশফিকের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ডমিঙ্গোর ব্যাখ্যা, 'মুশফিক সম্ভবত ৪ নম্বরে ব্যাটিং করবে। সে ইনিংস ধরে রাখতে পারে, মাঝের ওভারগুলোতে স্ট্রাইক পরিবর্তন করে খেলতে পারে। ভালো ফিনিশ করতে পারে। তার ফেরাটা দলের জন্য ভালো।'
12
অতিরিক্ত ফি আদায়, গ্রাহক হয়রানি-হুমকি, পণ্য দেরিতে পৌঁছানো, পণ্য খোয়া যাওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এজেন্ট শাখার বিরুদ্ধে। এই সংবাদ প্রকাশিত হলে এই প্রতিনিধিকে ভবিষ্যতে দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন এজেন্ট শাখার মালিক সেলিম।বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী আজকের পত্রিকার কাছে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজনের অভিযোগ, ২০০ টাকার বুকিং পার্সেলে ৬০০ টাকা দিতে হয়। বেশি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে স্বীকার করে না। আরেকজন জানান, দীঘিনালা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আম পাঠিয়েছিলাম, চলে গেছে বরগুনা। পরে সুন্দরবনের বরগুনা কর্তৃপক্ষ আমের টাকা ফেরত দেয়।অনিয়ন্ত্রিত ফি আদায়ের বিষয়ে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের কাদের হোসেন ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। এ ঘটনায় এজেন্ট শাখার লোকজন কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও ভবিষ্যতে কোন পার্সেল সুন্দরবন কুরিয়ারে বুকিং দিতে নিষেধ করা হয়। এ বিষয়েও কাদেরকে চুপ থাকতে হুমকি দেওয়া হয়।পার্সেল সঠিক সময়ে, অক্ষতভাবে পৌঁছানো নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। এজেন্টটি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন পণ্য আনা নেওয়া করায় অনেকেই সময়মতো পার্সেল পাচ্ছে না। এদিকে এজেন্ট শাখায় কোন পার্সেল বুকিং দিতে গেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পলিব্যাগ কিনতে বাধ্য করেন, না হয় প্যাকেট, চিঠি, পার্সেল বুকিং নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।রয়েছে পণ্য খোয়া যাওয়ার অভিযোগও। উপজেলার সোহেল বড়ুয়া গত ৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের পটিয়া একটি পার্সেল পাঠান। এতে একটি ইলেকট্রিক শেভিং মেশিন, কলমসহ কিছু জরুরি জিনিসপত্র ছিল। এই পার্সেলটি পাঠানোর ১৫ দিন পর পটিয়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে পার্সেল নিতে ফোন করা হয়। তবে এ পার্সেলের শেভিং মেশিন, ২০টি কলমসহ অন্তত ৩ হাজার টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে জানান সোহেল বড়ুয়া। এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও ভ্রুক্ষেপই করেননি সুন্দরবনের দীঘিনালা এজেন্ট শাখা কর্তৃপক্ষ। পরে হটলাইনে যোগাযোগ করলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের হেড অফিস থেকে বলা হয়, প্রমাণসহ অভিযোগ করলে গ্রাহক ক্ষতিপূরণ পাবেন।সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ম্যানেজার মো. ফরিদুল আলম জানান, সুন্দরবন সব সময়ই গ্রাহকের সেবায় সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সুন্দরবনের নিয়মবহির্ভূত ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোন কাজ করলে এজেন্ট বাতিল করা হবে।এদিকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দীঘিনালা এজেন্ট শাখার মালিক সেলিমের সঙ্গে কথা বলতে এজেন্ট শাখায় গেলে সে আজকের পত্রিকার দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধির সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। ২১ আগস্ট শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় দীঘিনালা কলেজ গেট এলাকায় এই প্রতিনিধিকে হুমকিও দেন। পত্রিকায় কুরিয়ার সার্ভিস নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন সেলিম।
6
কয়রার কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ অদ্রীশ আদিত্য মণ্ডলের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, কলেজের অর্থ আত্মসাৎ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টসহ ৩১টি অভিযোগ তুলেছেন নকিব উদ্দিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা।এমনকি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কার্যালয়সহ ২৪টি সরকারি দপ্তর বরাবর লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে গতকাল শুক্রবার।লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রভাষক পদে নিয়োগের আগে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি আবু সাঈদ ও নাজমুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন অদ্রীশ আদিত্য। ২০১৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মুন্সি কুতুবউদ্দিন ও সনিয়া পারভীনের কাছ থেকে কলেজ উন্নয়নের নামে চেকের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ। তা ছাড়া অর্থনীতির শিক্ষক মেহেদী সুলতানাকে বেতন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ২৫ হাজার টাকা নিলেও কোনো প্রকার সহযোগিতা না করা, নিয়োগপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আত্মসাৎ, ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখে ৩৫ জনকে হাজিরা দেখিয়ে খাল ভরাটের নামে ১১ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ২০১৯ সালে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ করে টাকা নেওয়া, ছাত্র-শিক্ষক ও জনতার দাবি উপেক্ষা করে কলেজের একমাত্র শহীদ মিনারটি ভেঙে ইট বিক্রি করে দশ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ দিন ভারতে থেকেও কলেজের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া, অধ্যক্ষের আত্মীয় প্রভাষক মনোজিতকে কলেজের সাইক্লোন শেল্টারের দ্বিতীয় তলা মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকার গোপন চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া, কলেজে মুসলিম শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়াসহ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের ভয় দেখিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, 'সভাপতি ঠিক থাকলে সব ঠিক। কে কি বলবে? কলেজের বর্তমান সভাপতি হলেন কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস।অধ্যক্ষ অদ্রীশ আদিত্য বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে ৩১টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কলেজটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল ধরেননি।
6
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি ও কমিউনিস্ট কৃষক নেতা অমল সেনের স্মরণে শেরপুর কার্যালয়ে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার দুইশত শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। জানা গেছে, কৃষক নেতা অমল সেন ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শেরপুর জেলার ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে স্বরণ সভায় মোবাইলে কমরেড অমল সেনের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ ও আলোচনা করেন সাংবাদিক হুমায়ূন মুজিব। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করায় প্রকল্পের দুই প্রশিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই পদে আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত রোববার চাকরিচ্যুত দুজন উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ওই দুজন জেন্ডার প্রোমোটর (প্রশিক্ষক) হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার এনামুল হক হঠাৎ মোবাইল ফোনে তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান। অব্যাহতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা ওপরের নির্দেশ। অব্যাহতি দেওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী শোকজ নোটিশ পাওয়ার কথা, কিন্তু তা তাঁরা পাননি।'অনিয়ম ঢাকতে' রাতে সড়কে পিচ ঢালাইএদিকে গত ২১ জানুয়ারি ওই দুই প্রশিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হলে জানতে পারেন তাঁদের পরিবর্তে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকৃতরা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বোনের স্বামী আবুল কালাম আজাদ ও আরেক আত্মীয় আবদুল মজিদ। তাঁরা ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। ফলে তাঁরা নিয়োগ কমিটির প্রার্থী নন।চাকরিচ্যুত শাহানুজ্জামান ও আংগুর মিয়া বলেন, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাশতার বরাদ্দ করা টাকা ও ক্লাব কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক ও জেন্ডার প্রোমোটরদের মাসিক ভাতা ২০২১ সালে উত্তোলন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী টাকা বিতরণ না করে মাসের পর মাস উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখেন। এ নিয়ে ওই সময় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা হয়, যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পরবর্তী সময়ে তিনি তড়িঘড়ি করে বকেয়াসহ সব পাওনা পরিশোধ করেন। ওই সময় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করায় তিনি আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি নিজের দুর্নীতি ঢাকতে আমাদের চাকরিচ্যুত করে আত্মীয়দের ওই পদে নিয়োগ দেন।সুপ্রিম কোর্টে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিটি গঠনউপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানা আক্তার নিজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'দুই জেন্ডার প্রোমোটরের অভিযোগ সত্য নয়।' আত্মীয়দের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে তিনি সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল কুমার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
উপকরণ: ইলিশ একটি, আনারসের জুস ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, হলুদের গুঁড়া ১ চা-চামচ, শুকনা মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো। প্রণালি: ইলিশ মাছে হলুদ লবণ মাখিয়ে রাখতে হবে। প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। এবার এতে একে একে পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, শুকনা মরিচের গুঁড়া, কাঁচা মরিচ বাটা এবং লবণ দিয়ে একটু ভুনে নিয়ে অর্ধেক আনারসের জুস দিয়ে মাছগুলো দিয়ে দিতে হবে। ঝোল শুকিয়ে এলে বাকি আনারসের জুসটুকু দিয়ে মাঝারি আঁচে রেখে দিতে হবে। মাখা মাখা হয়ে এলে চুলা বন্ধ করতে হবে।
4
আওয়ামী লীগকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের পতন এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পিক-আপ ভ্যানে তৈরী অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পুজা মণ্কোডপে কোরআন শরীফ রেখে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে সারা দেশে পুজা মণ্ডপ, মন্দির, বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। মিছিলের আগে ফখরুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে র্যালী করে প্রেসক্লাব পর্যন্ত যাবো। কিন্তু সকাল থেকে পুলিশ আমাদের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। সরাকর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরাতে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছে। তিনি বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর এখানে এক সাথে বসবাস করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবার উপর হামলা করে। ফখরুল বলেন, আজ সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এসব করছে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে। আমরা সব সময় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করি আর এ সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই, যারা খুন হয়েছে তার বিচার চাই। আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজ আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে। সকাল ১১ টায় মিছিল শুরু করার কথা থাকলেও সকাল ১০টার আগ থেকে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশের কড়া প্রহরার কারণে তারা সামনে আসতে পারেনি। সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে কাকরাইল মোড় থেকে বিশাল এক মিছিল নয়াপল্টন অভিমুখে আসলে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যায়। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসলে মূহুর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে দিয়ে দাও, লাল সবুজের পতাকায় জিয়া তোমায় দেখা যায়, জালোরে জালো আগুন জালো, এসব স্লোগান দিতে থাকে। নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচী শেষ করে কাকরাইল মোড়ের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে বাঁধা দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। বেশ কিছু বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানান বিএনপি। পাশাপাশি কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তারা। এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।
6
প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,আমি কোনো সহিংসতা চাই না। মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। বিজয়ী করবে।নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে, মাথা পেতে সেই রায় মেনে নেব। রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জয় হবে। মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পক্ষে নিজেদের রায় দেবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি নৌকার জয় হবেই হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। দেশের উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেটা চাই। এর আগে সকাল ৮টা থেকে সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ভোট ঘিরে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দলীয় সরকারের অধীনে এই নির্বাচন ঘিরে নানা শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ভোট উৎসবে রূপ নেবে বলেই সবার প্রত্যাশা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে দেশজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
6
সারা বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৭১ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯২ জনে। রবিবার সকালে ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৪১ জন। মহামারী শুরুর পর এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৮৫ লাখ। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৯২ লাখে বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯২৫ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৮২ জন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
4
ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ মা'রিব প্রদেশের আরও ১,৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মুক্ত করেছে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের যোদ্ধারা এবং তাদের সমর্থিত সামরিক বাহিনী। মা'রিব প্রদেশে গত কয়েক মাস ধরে যে বিশাল সামরিক অভিযান চলছে তার আওতায় এই বিরাট এলাকা মুক্ত হলো। তিনি জানান, "বহুমুখী অভিযানের মাধ্যমে আমাদের যোদ্ধারা মা'রিব প্রদেশ মুক্ত করার জন্য নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সামরিক ভূগোল অনুযায়ী আমাদের সেনারা নতুন পথ উন্মুক্ত করেছেন এবং বিশেষ কিছু কৌশল অনুসরণ করছেন।" জেনারেল সারিয়ি বলেন, যদিও বহুমুখী অভিযান শুরুর ব্যাপারে প্রথমদিকে ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে ইয়েমেনের জনগণ প্রায় প্রতিদিন যুদ্ধের বিস্তারিত খবরাখবর পাচ্ছে। তিনি জানান, মা'রিব প্রদেশের যে সমস্ত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে সেখান থেকে সন্ত্রাসীদেরকে সম্পূর্ণভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী মা'রিব প্রদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর এবং ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
সড়ক দুর্ঘটনায় এ বছর পাঁচ হাজার ৩৭০ জনের প্রাণ গেছে। পুরো বছরের গড় হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারান। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে সেভ দ্য রোড। তারা জানায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭০ হাজার ২২২ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১৯৬ জন আহত হন। ২০১৭ সালে নৌ দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের সংখ্যা কম হলেও চলতি বছর ঘটেছে ৭১২টি ঘটনা। এসব ঘটনায় ১৮৮ জন নিহত ও ৪৬৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন হাজার ৭৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন। নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য রোডের প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ সাভার আঞ্চলিক শাখার সভাপতি শওকত হোসেন, পাথরঘাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন, সেভ দ্য রোডের ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনজুমান আরা শিল্পী, অনলাইন প্রেস ইউনিটির ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব রানা, সুনামগঞ্জ সভাপতি আহমদ আল কবির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ওয়াজেদ রানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মোখলেসুর রহমান তোতা, সজিব কায়েস, সড়কপথ দুর্ঘটনায় আহত সুলতানা রাত্রী, ঢাকা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা, এ্যাড. ফখরুল ইসলাম, গাইবান্ধা শাখার সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা এক লিখিত বক্তব্যে জানান, চলতি বছর সাত হাজার ৫১২টি সড়কপথ দুর্ঘটনায় আমরা যে স্বজন ও প্রিয়জনদেরকে হারিয়েছি, তাদের জন্য দোয়া-প্রার্থনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলীর পাশাপাশি সরকার-বীমা ও মালিক শ্রেণির কাছে সেভ দ্য রোডের পক্ষ থেকে একটা দাবি জানাচ্ছে সেভ দ্য রোড। এর আগেও সংস্থাটি এ দাবি জানিয়ে এসেছে। আর সেই দাবি হলো দুর্ঘটনায় আহতের তিন লাখ টাকা ও নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাতে অপূরণীয় এই ক্ষতি কিছুটা হলেও সামলে নিতে পারে স্বজন-প্রিয়জন হারানো পরিবারটি। একই সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে পারে আহত ব্যক্তিটি ও তার পরিবার। এ বছরের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ হাজার ৩৭০ জনের মধ্যে আমরা ৪২ জন চালক, চার জন চালকের সহযোগী, ৪৭২ জন নারী, ১৭৭ জন শিশু, ১৭৭ জন শিক্ষার্থী, সাত জন সাংবাদিক, ১১ জন চিকিৎসক, ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ২৭ জন রাজনৈতিক নেতাকেও হারিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম থেকে তথ্য নিয়ে দেখেছি- সংগঠিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৩ শতাংশ বাস, ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, পাঁচ দশমিক ৮২ শতাংশ কার-মাইক্রো, তিন দশমিক ১২ শতাংশ অটোরিক্সা, দুই দশমিক ৭৮ শতাংশ নছিমন-করিমন ও পাঁচ দশমিক ৪৮ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংগঠিত দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩০ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়া, ২০ শতাংশ সড়কের বেহাল দশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় ও ছয় শতাংশ অন্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের প্রতি সমবেদনা এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
6
রাঙামাটির নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রউফ টিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীরও দুইজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি। আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাঙামাটির নানিয়ারচর সংলগ্ন বুড়িঘাট এলাকায় রাঙ্গামাটি সেনা জোনের একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) সশস্ত্র চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইউপিডিএফের চাঁদাবাজরা সেনা টহলের উপস্থিত বুঝতে পেরে পার্শ্ববর্তী একটি টিলার উপর থেকে সেনা টহলের উপর আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেনা টহলে থাকা সেনা সদস্যরা এ পর্যায়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। আইএসপিআর জানায়, বর্ণিত গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফের দুইজন সশস্ত্র চাঁদাবাজ নিহত হয় এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনা টহলের সৈনিক শাহাবুদ্দিন নামে একজন সদস্য বাঁম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। সেনা সদস্যরা পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিসহ সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি একে-২২ এসএমজি উদ্ধার করে। আহত সেনা সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয় বলে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
6
পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে সেরেনা নামের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, সংবাদদাতারা বলছেন, পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হোটেলটির গাড়ি পার্কিংয়ে জায়গায় এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি আফগান সীমান্তের নিকটবর্তী বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমদ পাকিস্তানি গণমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ টিভিকে বলেছেন, 'একটি গাড়ি যা বিস্ফোরক ভর্তি ছিল, সেটি হোটেলটিতে বিস্ফোরিত হয়।' তিনি আরও যোগ করেন, চীনা রাষ্ট্রদূত নং রং সেসময় একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। তাই তিনি হোটেলে ছিলেন না। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ ল্যাঙ্গো সাংবাদিকদের বলেন, নং রংয়ের কোয়েটা সফর বৃহস্পতিবার শেষ হবে। বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের স্থান। পাকিস্তানি তালেবানরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই গোষ্ঠী এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
ভারতের তামিলনাড়ুতে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে চারজন। নিহতদের পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে জেনারেল বিপিন রাওয়াতের স্টাফ এবং পরিবারের সদস্যসহ ৯ জন আরোহী ছিলেন। তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি টুইট বার্তায় এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিপিন রাওয়াত দিল্লি থেকে আজ বুধবার সকালে সুলুরে পৌঁছান।তামিলনাড়ুর ওয়েলিংটনে অবস্থিত একটি সেনা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেনা কর্মকর্তারা ওই হেলিকপ্টারে চড়েন।হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও সাবেক সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি।সামরিক হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ ছাড়া সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলীও ছড়িয়ে পড়েছে।
3
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করার পর যদি কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সে সুযোগ দিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। আবেদন ফি পরিশোধ করা প্রার্থীরা আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) থেকে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংশোধনের এ সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু করেন প্রার্থীরা আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হয় ২৪ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা বাদে দেশের বাকি সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন হবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর গ্রেড ১৩ অনুযায়ী ১১০০০ থেকে ২৬৫৯০ টাকা। অনলাইনে আবেদন করার সময় একাডেমিক সার্টিফিকেট গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত না থাকায় আবেদন সম্পন্ন না হওয়া, জেন্ডার (লিঙ্গ) নির্বাচনে ভুলসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হন আবেদনকারীরা। বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আবেদনে ভুল সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিই। ডিপিইর সহকারী পরিচালক নিয়োগ হিসেবে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব আতিক এস বি সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, 'অনেক আবেদনে ভুলত্রুটি হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এসব অভিযোগ আসছে। আবেদনের ভুল সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৮ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব সংশোধন করা হবে। এর মধ্যে প্রার্থীর ও বাবা-মায়ের নাম, জেন্ডার, জন্মতারিখ, জিপিএ-সংক্রান্ত ভুল থাকলে তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশোধন করে নিতে হবে। বোর্ডে সংশোধন হলে আমাদের সার্ভারেও তা সংশোধন করা যাবে। এর বাইরে আবেদন ফি জমা দেওয়া প্রার্থীদের কোনো তথ্য লিখতে ভুল হলে সে জন্য কারেকশন অপশনে গিয়ে রিকোয়েস্ট দিলে তা সংশোধন করতে তাকে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে লিংক পাঠানো হবে। সংশোধন হওয়ার পর তাকে একটি এসএমএস দিয়ে নিশ্চিত করা হবে।' বিজ্ঞপ্তিতে পদের সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫৭৭ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ২৫ হাজার ৬৩০ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে ৬ হাজার ৯৪৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০০৯-১৯ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মুজিব বর্ষে সব শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সম্ভব হয়নি। তবে সেপ্টেম্বরে নিয়োগপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অক্টোবরে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো। মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের পর সেপ্টেম্বরে কোটামুক্ত রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিকের শিক্ষক পদটি ১৩ তম গ্রেড হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট উত্তীর্ণ হন ৫৫ হাজার ২৯৫ জন, নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। এর আগে একই বছর ২০১৪ সালের স্থগিত পরীক্ষাটিও নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ২৯ হাজার ৫৫৫ প্রার্থী। এর মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয় ৯ হাজার ৭৬৭ জনকে। এ দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত নির্বাচিত হননি ৫৬ হাজার ৯৩৬ প্রার্থী। উত্তীর্ণ এসব প্রার্থী ২০১০-১১ সালের মতো প্যানেল নিয়োগ চান। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, প্যানেলে নিয়োগ দেওয়া হবে না। নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
1
উন্নত বিশ্বের মতো হতে গেলে সকল পর্যায়ের কাজে গতিশীলতা আনতে হবে। এ জন্য ই-নথি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-নথি চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন।গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের ইউআরপি ল্যাবে কর্মকর্তাদের ই-নথি শীর্ষক প্রশিক্ষণ (তৃতীয় ধাপ) শেষে সনদপত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।খুবি উপাচার্য বলেন, ই-নথির মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফাইল আটকে রেখে কাজে বিলম্ব ঘটানো একপ্রকার দুর্নীতি। ই-নথি চালু হলে এ ধরনের ঘটনা কমিয়ে দেশের উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখা সম্ভব হবে।ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ই-নথি বিষয়ে ব্রিফ করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আইএমসিটির উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনির উল্লাহ ও প্রোগ্রামার/সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার দিজেন্দ্র চন্দ্র দাশ।প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন উপ-রেজিস্ট্রার নাহিদ পারভীন ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আবদুর রহমান। তৃতীয় ধাপের প্রশিক্ষণে ২০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
1
১৬ জুন প্রশাসনে ১৩৬ জন কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই বিসিএস ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তা। চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১৯৯৮ সালে। ২০ বছরের বেশি চাকরির অভিজ্ঞতা তাঁদের, পদোন্নতি তাই ন্যায্যভাবেই তাঁদের প্রাপ্য। তাঁদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ কিছু কর্মকর্তা, যাঁরা এর আগে নানা কারণে পদোন্নতি পাননি, তাঁরাও এবার পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন। সরকারের যুগ্ম সচিবের মোট পদসংখ্যা কমবেশি ৪৩০। সর্বশেষ এই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের নিয়ে এখন তাঁদের মোট সংখ্যা দাঁড়াল প্রায় ১ হাজারে। বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত কর্মকর্তা হয় ওএসডি হয়ে বসে থাকবেন, নয়তো নিম্ন পদেই কাজ করতে থাকবেন। আর প্রকৃত পদে নিয়োগের জন্য বিদ্যমান প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবেন আরও কিছু। এ প্রতিযোগিতা শুধু যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে না, এ কথা সবাই জানেন। অতিরিক্ত সচিব এবং সম্ভবত সচিব পর্যায়েও একই পরিস্থিতি বিরাজমান। বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি শূন্য পদের বিপরীতেই হওয়ার কথা। বস্তুত, অন্য সব ক্যাডারেই এই নিয়ম খুব কড়াকড়িভাবে পালিত হয়, ব্যতিক্রম শুধু প্রশাসন ক্যাডার। এই 'অনিয়ম' শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ ব্যাচের সব কর্মকর্তাকে একবারে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার মাধ্যমে, আর বহাল আছে আজ অবধি। ১৯৭৯ ও ১৯৮১ ব্যাচে নিয়োগ পরীক্ষায় কড়াকড়ির ফলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল খুব কম, ফলে সমস্যাটি প্রকট হয়ে ওঠেনি। ১৯৮২ থেকে শুরু করে বিপুলসংখ্যক নিয়োগের চাপে প্রশাসন ক্যাডারে সব নিয়মনীতি ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে উপেক্ষিত হয়েছে গুণগত মানের বিষয়টি। স্বাধীনতার পর প্রথম বড় নিয়োগ হয়েছিল ১৯৭৩-এর মুক্তিযোদ্ধা ব্যাচ, যত দূর জানি, শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদানই এ নিয়োগে মূল বিবেচ্য ছিল। পরিপূর্ণ ও মানসম্পন্ন পরীক্ষাপদ্ধতিতে নিয়মিত নিয়োগ শুরু হয় ১৯৭৯ ব্যাচ দিয়ে, ১৯৮১-তেও তা অব্যাহত থাকে। পরীক্ষার উচ্চ মানের কারণে খুব স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা এ দুই ব্যাচে উত্তীর্ণ হন। বিসিএসে উচ্চসংখ্যায় নিয়োগ শুরু হয় ১৯৮২ থেকে। তিন বছরের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ১ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৬৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে, যাঁরা পরে প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত হন। বেশি সংখ্যায় নিয়োগের এ ধারা অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাডারকে প্রশাসনে একীভূত করাও চলছে। প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তার বর্তমান সংখ্যা কমবেশি ৫ হাজার। পার্শ্ববর্তী বিশাল দেশ ভারতে আইএএস কর্মকর্তার সংখ্যাও মোটামুটি তা-ই। বিপুলসংখ্যক নিয়োগে গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন, এটা আমরা সবাই জানি। নিম্ন পদের কর্মকর্তা তো বটেই, এমনকি কোনো কোনো সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার যোগ্যতা নিয়েও প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। ২০৪১-এ উন্নত বিশ্বের অংশ হতে চায় যে দেশ, এই বিলাসিতার সুযোগ নেই সে দেশের। কিছুদিন আগে একটা কথা কানে এসেছিল। খুব ক্ষমতাধর এক আমলা নাকি বলেছেন যে সব সচিব ভালো মানের হওয়ার প্রয়োজন নেই, অল্প কজন মেধাবী হলেই চলে। গাড়ির ইঞ্জিন যদি শক্তিশালী হয়, পেছনের বগি এমনিতেই চলবে। তাঁর এ তত্ত্বের সঙ্গে একমত হওয়া কঠিন। সচিবেরা সবাই ইঞ্জিন হওয়ার কথা, বগি নয়। বগি হবেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যাঁদের সচিব নামক ইঞ্জিন টেনে নিয়ে যাবে। এমনকি সেই বগিও যদি নিম্নমানের হয়, ইঞ্জিন ভালো হলেও গাড়ির গতি সীমিতই থাকবে। বিপুল নিয়োগের আরেকটি সমস্যা হলো, ঊর্ধ্বতন নিয়োগে তদবিরবাজি। এক ব্যাচে যদি ২০০ কর্মকর্তা থাকেন, মেধায় প্রথম ১০ জন পদোন্নতি পেলে শেষ ১০ জন মনঃকষ্টে থাকেন তাঁদের ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা ভেবে। প্রকৃতই মেধার ভিত্তিতে যদি পদোন্নতি হতো, তাহলে এটা খুব সমস্যা সৃষ্টি করত না। কিন্তু আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সেটা কল্পনা করাও কঠিন। চাকরিতে থিতু হওয়ার পরদিন থেকেই তাই তালিকার নিচের অনেকেই পরিকল্পনা শুরু করেন কীভাবে তাঁর ওপরের বিপুল সংখ্যাকে ডিঙিয়ে আগে পদোন্নতি হাসিল করা যায়। আত্মরক্ষার্থে তালিকার ওপরের অনেকেও এই যুদ্ধে শামিল হন। যুদ্ধ ও প্রেমের মতোই এ ক্ষেত্রেও কোনো সীমারেখা থাকে না গৃহীত পদক্ষেপের। ফলে আমলাতন্ত্রের নগ্ন রাজনৈতিকীকরণ। সঠিক যোগসূত্র না থাকলে, যিনি হয়তো মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে পারতেন, তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও অবসরে যেতে পারেন। মান ঠিক রাখতে এবং পদোন্নতির অরাজকতা দূর করতে তাই প্রশাসন ক্যাডারে সীমিত নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিপুল জনগোষ্ঠীকে স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা দিয়ে কীভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে। ভারতে আইএএস ছাড়াও বিপুলসংখ্যক প্রাদেশিক ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। আমাদের দেশেও সিএসপিদের পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে যেমন ইপিসিএসরা ছিলেন। আমাদের প্রদেশ নেই, কিন্তু বিসিএস পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নেন, অথচ যোগ্যতরদের নিচে থাকায় বিজ্ঞাপিত চাকরি পান না, তাঁদের ক্যাডারবহির্ভূত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার বিধান চালু আছে। প্রশাসন ক্যাডারের বিদ্যমান পদসংখ্যার ২০ শতাংশ পদকে ক্যাডারে রেখে বাকি ৮০ শতাংশ পদকে মূল ক্যাডারগুলোর বাইরে একটি অধস্তন ক্যাডারে রূপান্তরিত করা সম্ভব। বিসিএস পরীক্ষায় যাঁরা পদ লাভ করবেন না, তাঁদের মধ্য থেকে এ পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া যায়। তাঁদের চাকরির শুরু হবে এক স্কেল নিচে এবং মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ পদ তাঁরাই অলংকৃত করবেন, যেমন করতেন ইপিসিএসরা। ১০-১২ বছর চাকরির পর তাঁরা প্রথম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এবং চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে কেউ কেউ উপসচিব/জেলা প্রশাসক হিসেবে স্বল্পসংখ্যক নির্দিষ্ট পদে পদোন্নতি পাবেন। এভাবে মেধাতালিকায় ঊর্ধ্বে থেকে যাঁরা ওই ২০ শতাংশ পদে নিযুক্ত হবেন, তাঁরা যথাসময়ে, সহজে এবং লবিং ছাড়াই পদোন্নতি পেতে পারবেন। মানসম্পন্ন কর্মকর্তা নির্বাচনও সহজ হবে। কাজটি শুরু করলে দৃশ্যমান ফল পেতে অনেক দিন লাগবে। তবু শুরু তো করতে হবে কোনো দিন। পদোন্নতির সমস্যা মূলত প্রত্যাশার সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমদের সঙ্গে পড়তেন, লেখাপড়ায়ও ভালোই ছিলেন, এমন কেউ কেউ দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ঢুকে শেষ বয়সে প্রথম শ্রেণিতে পদোন্নতি পেয়ে খুশিমনে অবসর নিয়েছেন। তাঁরা জানতেন, ওটাই তাঁদের সীমা। সমান যোগ্যতার আরেকজন হয়তো অবসরে গেছেন অনেক ক্ষোভ নিয়ে, সচিব পর্যায়ে পদোন্নতিতে কেন তাঁকে বঞ্চিত করা হলো। যাঁরা চাকরিতে ঢুকবেন এটা জেনে যে তাঁর সর্বোচ্চ সীমা উপসচিব, যুগ্ম সচিব না হওয়ার বেদনা তাঁকে কাতর করবে না। মো. তৌহিদ হোসেন:সাবেক পররাষ্ট্রসচিব
8
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যুদ্ধ করতে চায় না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতি ঐক্যবদ্ধ আছে। এ জন্য বিএনপির কথায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) এ সভায় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারাবিশ্ব এখন মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষও এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ। এখন এই ঐক্যে ফাটল ধরাতে ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে। এতে তারা কখনও সাড়া পাবে না। এই ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়েই আছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কি চায় মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে? সরকার যুদ্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায় না। এ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। সূক্ষ্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অথচ গত দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি নেতাদের কোনো কথা বলতে শুনিনি। এখন বলছেন, সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে রোহিঙ্গারা ফেরত যাচ্ছে না। সরকার সারাবিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর বিদেশি চাপ অব্যাহত আছে। এই চাপ আরও বাড়বে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেখানে কিছু এনজিও চক্রান্ত করছে। এই এনজিওদের সঙ্গে কি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলদের আঁতাত হয়েছে? রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে চায়। এটাই তাদের লক্ষ্য। একের পর এক ব্যর্থ হয়ে এখন তারা উন্মাদের মতো ইস্যু খুঁজছে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেড় বছর জেলে। বিএনপি দেড় মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। অনেক দলের অনেক ব্যর্থতা আছে। কিন্তু বিএনপির মতো এমন ব্যর্থ দল আর নেই। কোনো ইস্যু না পেয়ে এখন তারা রোহিঙ্গাদের ওপর ভর করেছে। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, পলাশীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল সেনাপতি মীরজাফর ও ইয়ার লতিফ। আর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল মোশতাক ও সেনাপতি জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বিএমএর মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, বিএমএ নেতা ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, ডা. শফিকুর রহমান, ডা. জামালউদ্দিন খলিফা, ডা. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
6
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সত্য নয়, ভিসা বাতিলের ঘটনা দুঃখজনক।' আজ রবিবার রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
9
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কারখানাগুলোর মান বিশ্ববাজারে তুলে ধরার জন্য মার্চেন্ট বে এবং প্রিমাডলারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর মার্চেন্টবের কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নিজেদের ডিজিটাল প্রোফাইলে 'ফ্যাক্টরি সোশ্যাল স্কোর' যোগ করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক বায়ারদের বিশ্বাস অর্জনে ব্যাপক সহায়তা করবে। ফ্যাক্টরি সোশ্যাল স্কোর সিস্টেম হলো পোশাক কারখানাগুলোর সামাজিক এবং পরিচালন কার্যক্ষমতা মনিটরিংয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক, যা 'ইএসজি' নামে পরিচিত। এটির অ্যালগরিদম বাংলাদেশ ও লন্ডনে নির্মিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত, সামাজিক এবং পরিচালনা পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম। মার্চেন্টবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবরার হোসেন সায়েম বলেন, 'ফ্যাক্টরি সোশ্যাল স্কোর যুক্ত করা আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী সংযোজন। কারখানাগুলো প্রিমাডলারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের রিয়েল টাইম ইএসজি স্কোর মার্চেন্টবে প্রোফাইলে প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক বায়াররা এখন ইএসজি ইস্যুতে খুব মনোযোগী এবং এটি বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের জন্য একটি গো-টু প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আমাদের আরও প্রতিষ্ঠিত করবে।' বাংলাদেশের প্রিমাডলার লিয়াজোঁ অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার মুনাওয়ার উদ্দিন বলেন, 'মার্চেন্টবে টিম ইএসজি-এর ওপর খুব মনোযোগী, তাই আমাদের আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে খুব দ্রুত সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হবে এবং আমরা তাদের সাথে দীর্ঘ সম্পর্ক ও নতুন নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের অপেক্ষায় রয়েছি।' বিডি প্রতিদিন/এমআই
0
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করায় রফিকুল ইসলাম (৪৯) নামের এক হাতুড়ে চিকিৎসককে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ রায় দেন।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শেরপুর সদরের চরমুচারিয়া গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।এ সময় ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসককে আশ্রয়দাতা টরকী বন্দরের আনোয়ারা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি (শহিদুল্লাহ) তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রফিকুল ইসলাম নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ও সাইনবোর্ডসহ প্যাডে এমবিবিএস চিকিৎসক লিখে টরকী বন্দরে আনোয়ারা মেডিকেল হলে বসে দীর্ঘদিন থেকে এলাকার সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন থেকে টরকীর নীলখোলা নামক এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারের সেবা মেডিকেল হল নামের তাঁর আরও একটি চেম্বারে তিনি রোগী দেখতেন। সেখানেও তিনি ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষের চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামকে তার ডাক্তারি যোগ্যতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেন।স্থানীয়দের হাতে আটকের পর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি এইচএসসি পাস করার পর আল্টা মেডিসিন কোর্স সম্পন্ন করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছি। এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।'উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উল্লেখিত রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
6
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাবার সেই ঐতিহাসিক ভাষণের অনুসরণ করে গত বছরগুলোতে বাংলায় ভাষণ দিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারও জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। বিষয়টি সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দুদিনের যাত্রাবিরতি শেষে এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন 'শেখ রাসেল দিবস' উপলক্ষ্যে বিশেষায়িত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠীত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন বিশ্বাস। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রহিম খাঁন এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল বসর চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এতে অংশ নেন। দোয়া মাহফিল শেষে ব্যাংকের চত্বরে বৃক্ষরোপন করা হয়।
0
নতুন নতুন যখন একটা ব্যবসা শুরু করা যায়, তখন উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটা আদর্শ অবস্থা খোঁজার তাড়না থাকে। মনে হয় যেন অনেক কিছু করে ফেলতে হবে, কিন্তু বাছবিচার ছাড়া অনেক কিছু একসঙ্গে করে ফেলার ফল আখেরে খুব ভালো হয় না। যেসব উদ্যোক্তা জীবনে সফল হন, তাঁরা কাজের বিষয়ে গোছানো হন এবং লক্ষ্যেও একমুখী থাকেন। সফল উদ্যোক্তা হতে হলে কাজের বাহুল্য কমিয়ে ফেলতে হবে। উদ্যোক্তাদের সহায়তাকারী ওয়েবসাইট এন্ট্রাপ্রেনিউর জানিয়েছে, ঠিক কোন কোন জায়গায় 'না' বললে উদ্যোগকে বাঁচানো যায় লোকসান থেকে। উদ্যোক্তাদের একটি সাধারণ ভুল হচ্ছে দ্রুতই অনেক টাকা খরচ করে ফেলেন। তার একটি হচ্ছে আগাম ও অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ। হতে পারে একটা সফল উদ্যোগে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর্মী লাগে। তবে তাঁরা কি একদম প্রথম দিনেই এত কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলেন? নতুন উদ্যোগের উচিত প্রত্যেক কর্মীর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা এবং কোনো কাজ যদি একান্তই কোনো পুরোনো কর্মী দ্বারা না হয়, কেবল তখনই নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া। নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এমনিতেও একটি খরচের খাত। তার ওপরে যদি কর্মী কাজের পরিবেশে মানিয়ে না নিতে পারেন, তবে সেটা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, অন্য কর্মী এবং উদ্যোক্তার আত্মবিশ্বাসেও খারাপ প্রভাব ফেলে। ব্যবসায় অর্থের চেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে সময়। একটা ব্যবসাকে সফল করতে কত কাজই না করতে হয়। কিন্তু সারা দিনের সময়সীমা যেহেতু ২৪ ঘণ্টার বেশি নয়, সময়কে বুঝে খরচ করাই ভালো। সফল হতে হলে অপ্রয়োজনীয় মিটিংকে না বলতে হবে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় মিটিংয়ের সময়ও বেঁধে ফেলতে হবে, যেন অযথা গল্পে সময় নষ্ট না হয়। সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে নিজের সারা দিনের কাজের তালিকা করে নিতে হবে। এরপর তালিকা মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এভাবে কাজগুলোর অগ্রগতি চোখের সামনে থাকবে আর সময়েরও সর্বোত্তম ব্যবহার হবে। তরুণ ব্যবসায়ীরা একই সঙ্গে অনেক ব্যবসা শুরু করেন। মনে হয় যেন একটা ব্যবসা আরেকটা ব্যবসাকে সহায়তা করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বরং একসঙ্গে অনেক ব্যবসা উদ্যোক্তার মনঃসংযোগ নষ্ট করে আর কোনোটাতেই ঠিক সফল হওয়া যায় না।একই কথা নতুন কৌশলের জন্য। অনেক কৌশল শুধু কাজে ব্যাঘাতই করে না, সঙ্গে পয়সা নষ্ট তো আছেই। ফলে সফল হতে হলে বহু উদ্যোগ ও অপ্রয়োজনীয় কৌশলকে না বলতে হবে। যা চাইছেন তার সবই হবে, তবে আস্তে আস্তে। একটার পর একটা অর্জন করে পরে সফল হওয়া যাবে।
0
বগুড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন র্যাব-১২ এর সদস্যরা।গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার শাখারিয়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি ধারালো ছুরি, একটি রশি, মুঠোফোন ও কিছু নগদ টাকা জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া সদরের বৃন্দাবনপাড়ার (দক্ষিণপাড়া) ফরহাদ আহম্মেদ (৩২), জামিলনগরের মোনারুল ইসলাম (২৭), উত্তর চেলোপাড়া (শেখপাড়া) এলাকার সজিব শেখ (২৩) ও গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম (২০)।গতকাল বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়া র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সোহরাব হোসেন।
6
বলিউড তারকা আনুশকা শর্মা আর বিরাট কোহলি তাঁদের সন্তানের জন্য সবার কাছে একটা জিনিসই চেয়েছিলেন। আর সেটা হলো গোপনীয়তা। সে জন্য ভারতের পাপারিজ্জিদের কাছে তাঁরা সন্তানের ছবি না তোলার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠির সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন মিষ্টি আর চকলেট। সন্তান জন্মের সুখবর জানিয়েছিলেন বিরাট। এবার সন্তানের নাম জানালেন আনুশকা। আজ সকালে এই বলিউড তারকা নিজেই একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে ফ্রেম ভাগাভাগি করেছেন জীবনসঙ্গী বিরাট কোহলি আর তাঁদের সন্তান ভামিকা। ক্যাপশনে আনুশকা লিখেছেন, 'আমরা দুজন দুজনকে ভালোবেসে, সহযাত্রী হয়ে, কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এক জীবন কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় আমাদের জীবনকে এক ধাক্কায় যেন একটা রোলার কোস্টারে উঠিয়ে দিল আমাদের ছোট্ট কন্যা ভামিকা। চোখের পানি ভেসে যাচ্ছে হাসিতে। দুশ্চিন্তা আর আশীর্বাদ একসঙ্গে হানা দিচ্ছে। একমুহূর্তে এত অনুভূতির রংধনু এর আগে কখনো এভাবে মনের কোণে উঁকি দেয়নি। মিথ্যে বলব না, ঘুমাতে পারছি কম। তবে জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। আমাদের হৃদয় কানায় কানায় পূর্ণ। আপনাদের ভালোবাসা, শুভকামনা আর ইতিবাচক শক্তি আমাদের পরম পাওয়া। সে জন্য আপনাদের প্রতি আমাদের ধন্যবাদের শেষ নেই।' ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইতালির তাসকেনি প্রদেশের ফ্লোরেন্সে এক ঐতিহ্যবাহী রিসোর্টে বিরাট কোহলির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আনুশকা শর্মা। এটি ছিল ২০১৭ সালে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত বিয়ের অনুষ্ঠান। ইতালিতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফিনল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত হানিমুন সেরে আসেন এই জুটি। আগেই জানিয়েছেন বিরাট ও আনুশকা তাঁদের সন্তানকে মানুষের চোখের সামনে বড় করতে চান না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনতে চান না সন্তানকে। পাপারাজ্জিদের একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন, জানিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানের ছবির জন্য যেন বাড়াবাড়ি না করা হয়, কোথাও যেন ছাপা না হয়। বলেছিলেন, 'আমাদের সন্তানবিষয়ক সব তথ্য আপনারা আমাদের কাছ থেকেই পাবেন। কিন্তু আপনাদের অনুরোধ করব, এমন কিছু ছাপাবেন না, যার মধ্যে আমাদের সন্তানের কিছু আছে। আশা করব আপনারা ব্যাপারটা বুঝবেন আর সে জন্য আপনাদের আগে থেকেই ধন্যবাদ জানিয়ে রাখছি।' আজ ছবি শেয়ার করলেও বাচ্চার মুখটি দেখাননি তাঁরা। ছবিতে বিরাটকে দেখা গেছে সাদা টি-শার্ট, চোখে চশমা। গোলাপি হুডিতে কিঞ্চিৎ স্থূলকায় আনুশকাকে সবাই আবার খুব পছন্দ করেছেন। মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, 'তোমাকে যে কী সুন্দর লাগছে! আর কমিও না তো। এ রকমই থেকো। এভাবেই তুমি সব থেকে সুন্দর।' আনুশকার কোলে তাঁদের সন্তান। তবে তার মুখ দেখার কোনো উপায় নেই। দুজনেই তাকিয়ে রয়েছেন সন্তানের দিকে। পেছনে নানা রঙের বেলুনে সাজানো উৎসবমুখর ব্যাকগ্রাউন্ড। তার একটিতে আবার লেখা, 'বেবি গার্ল'। মাত্র চার ঘণ্টায় এই ছবির নিচে 'লাইক' জড়ো হয়েছে ৪২ লাখের বেশি। বলিউড, ক্রিকেট তারকা আর সাধারণ ভক্ত মিলে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ মন্তব্যের উঠান ভরিয়ে তুলেছেন অভিনন্দনবার্তায়।
2
জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে তাঁর নিজ জেলা রংপুরে দাফনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। নেতারা জানিয়েছেন, রংপুরে নেওয়ার পর এরশাদের মরদেহ ঢাকায় ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করবেন। আজ সোমবার দুপুরে রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে দলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তাফিজার বলেন, 'এরশাদ অনেক আগেই তাঁর নিজ বাড়ি রংপুর নগরের দর্শনা এলাকায় পল্লি নিবাসে দাফন করার কথা বলে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের মন এরশাদ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চক্রান্ত চলছে। সর্বস্তরের মানুষ যাতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে সে জন্যই আমরা রংপুরে তাঁকে দাফন করতে চাই।' মোস্তাফিজার রহমান আরও বলেন, 'রংপুর থেকে এরশাদের লাশ কোনোভাবেই ঢাকায় নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি অপচেষ্টা চালায়, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তা প্রতিহত করবে। তবুও রংপুরের পল্লি নিবাসে স্যারের (এরশাদ) দাফন করা হবে।' পার্টির নেতারা এরশাদের নিজের বাড়ি রংপুরের পল্লি নিবাসে দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এ ছাড়া কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে এরশাদের মরদেহ ঢাকা থেকে রংপুরে নিয়ে আসা হবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মেয়র মোস্তাফিজার বলেন, এরশাদের ঘোষিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে দল পরিচালিত হবে। সে জন্য তিনি জি এম কাদেরের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। জরুরি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রশিদ সরকার, রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল ফারুক, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সালেক, সাবেক সাংসদ সাহানারা বেগম, রংপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তিতাস মোস্তফা, ঠাকুরগাঁও জেলা সদস্য সচিব আলী রাজী স্বপন, নীলফামারীর সদস্য সচিব শাজাহান প্রমুখ।
9
শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত চলনবিল অঞ্চল এখন বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে শাক-সবজি, সরিষা ও ভুট্টার চাষ হলেও অর্থকরী ফসল হিসেবে বোরো ধানই একমাত্র ভরসা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে রেখেছিল কৃষক। এখন শুরু করেছেন চারা রোপণ। বীজতলা থেকে চারা তোলা, হাল চাষ, মই টানা, সার প্রয়োগ, পানি সেচ, শ্রমিকদের কাজের জোগান দেওয়াসহ কৃষকদের ব্যস্ততার শেষ নাই। চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইটালী ও চৌগ্রামের কয়েকটি মাঠে সরেজমিন কৃষকদের এই ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। এসব মাঠে স্থানীয় ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা দল বেঁধে কাজ করছেন। কর্ম ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা মাঠেই খাচ্ছেন দুপরের খাবার। কৃষকরা বলছেন, তেল-সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর তাদের খরচটা গতবারের চেয়ে বেশি হচ্ছে। উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার ও মতিন ফকির জানান, এ বছর তেল ও সারের দাম বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। কৃষিবান্ধব এই সরকারের কাছে ধানের ন্যায্য দাবি করেন তারা। একই গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুল খালেক জানান, আমি জমি লিজ নিয়ে বোরো চাষ করি। প্রতি বিঘা জমি লিজ বাবদ ৮ হাজার টাকাসহ মোট খরচ হয় ১৬ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ধান পাই প্রায় ২৫ মণ। শ্রমিকদের ধান কাটা মাড়াই খরচ বাদে ধান ঘরে ওঠে ১৮ থেকে ২০ মণ। ধান কাটার মৌসুমে যদি ধানের দাম মণ প্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পাই, তাহলে লাভের মুখ দেখা যায়। কিন্তু আমরা ওই সময়ে ধানের দাম পাই প্রতিমণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। যার কারণে প্রতি বছর আমার মত বেশির ভাগ বর্গাচাষিরাই বোরো ধান চাষ করে লাভের চেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন। ইটালী ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন জানান, আমার ৩০ বিঘা জমির মধ্যে ১৮ বিঘা রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী সপ্তাহে সব জমির ধান রোপণ শেষ হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, চলতি মৌসুমে সিংড়া উপজেলায় ৩৫ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০ ভাগ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহে বাকি জমির রোপণ কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
7
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার পদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা দম্পতি একসঙ্গে পদোন্নতি পেয়ে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হয়েছেন। তারাসহ ডিএমপিতে কর্মরত মোট ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোঃ মনির হোসেন ও তাঁর সহধর্মীনি ডিএমপির পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগম। সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করা মনির হোসেন ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২৫ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত দক্ষতার জন্য পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)। আর শামীমা বেগম একই সালে একই বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পেশাগত জীবনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিএমপির ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সিআইডি এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (পরিবহন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬-৭ সালে আইভরিকোস্টে এবং ২০১০-১১ সালে সুদানে জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দক্ষতার জন্য তিনিও পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদকও (পিপিএম)। এছাড়া শামীমা বেগম বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) সহ-সভাপতি ও আইএডব্লিওপির রিজিয়ন-২২ এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া ডিএমপির অন্য ৯ জন কর্মকর্তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামান; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিবি-দক্ষিণ) মো. মাহবুব আলম বিপিএম-সেবা, পিপিএম-বার; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, বিপিএম, পিপিএম; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্) মঈনুল হক, বিপিএম-বার, পিপিএম; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. ইলিয়াছ শরীফ, বিপিএম-বার, পিপিএম; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম-বার, পিপিএম; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ আনিসুর রহমান, বিপিএম-বার, পিপিএম-বার; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিপিএম-বার, পিপিএম-বার। সূত্র: ডিএমপি নিউজ বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের 'বিনিয়োগ' নিয়ে গত মঙ্গলবার এক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে পুঁজিবাজারের কোন কোন উপাদানে বিনিয়োগকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের 'পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ' হিসেবে গণ্য করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ বিষয়ে আগে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। তাই বিষয়টি স্পষ্টীকরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দেশনা আগে থেকেই ছিল। এখন তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে আবার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ নির্দেশনার ফলে 'উদীয়মান বন্ড' বাজারটি আবার মার খেতে পারে। কারণ, করপোরেট বন্ডকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাবের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবে। পাশাপাশি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি ব্রোকারেজ হাউস বা পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে গাড়ি কেনা বা ব্যবসা সম্প্রসারণ বা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে কোনো ঋণও দেয়, সেটিও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হবে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ব্রোকারেজ হাউসকে গাড়ি কেনা বা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ দিলে সেটি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা কতটা যৌক্তিক? এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নিরুত্তাপ বন্ড বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে শুরু করেছে। বড় বড় বেশ কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণের বদলে করপোরেট বন্ড ছেড়ে ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহ করেছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব বন্ডের ক্রেতা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু করপোরেট বন্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। বর্তমানে বন্ড নিয়ে কাজ করছেন ও দেশের এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'যখনই আমরা করপোরেট বন্ড নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যাচ্ছি, তখনই তারা বলছে, "আমরা ঋণ দিতে রাজি আছি।" কিন্তু বন্ডে বিনিয়োগে তারা খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, বন্ডে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলে তাঁদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ-নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করবে। তাতে হয়তো শেয়ারবাজারের অন্যান্য বিনিয়োগ কমাতে হবে।' এ কারণে বন্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ বা এক্সপোজারের বাইরে রাখার দাবি উঠেছে। বন্ড বাজার নিয়ে কাজ করছে, এমন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ দাবি এরই মধ্যে তুলে ধরেছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি হচ্ছে, বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিয়ে সেই ঋণ আদায় করতে না পারলে ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে নানা ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু বন্ডের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ যুক্তিরও গ্রহণযোগ্যতা আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কী বন্ড বাজার গড়ে উঠবে না দেশে? সাধারণ মানুষের কাছে এখনো বন্ড বিনিয়োগের জন্য খুব বেশি জনপ্রিয় উপাদান হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাই সাধারণ মানুষের ওপর ভরসা করে বন্ড বাজারের খুব বেশি উন্নতি করার বাস্তবতা এখনো তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে আগে। তবে অবশ্যই সেটি বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। আর সেই বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে আর্থিক খাতের সব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিতভাবে। সেখানেই সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে। আবার শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের নতুন নতুন নানা পণ্য চালু করার পাশাপাশি বাজারকে বড় করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার সমন্বয়ের বড় ঘাটতি। আর সেই সমন্বয়হীনতা থেকে নানা ধরনের সমস্যার উদ্ভব। তার ভুক্তভোগী যেমন হচ্ছেন শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারী, তেমনি পুঁজি সংগ্রহে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান। ফলে ঘুরেফিরে স্বল্পকালীন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস হয়ে থাকছে ব্যাংক। শেয়ারবাজারসহ বিকল্প অর্থায়নের বৈশ্বিক ব্যবস্থাগুলো এ দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংক খাত বা শেয়ারবাজারে নানা কেলেঙ্কারির জন্ম হচ্ছে।
0
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝর্ণা (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিব কাঠুরী গ্রামের পাশে টাঙ্গাইল আরিচা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।মৃত শিশু ঝর্ণা দেলদুয়ার উপজেলার শানপাড়া গ্রামের মো. আব্বাস আলীর মেয়ে। আহত আল-আমিন (২৪) কালীহাতি উপজেলার হাসান মোল্লার ছেলে।স্থানীয়রা জানান, মৃত ঝর্ণা তার মায়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী উপজেলা দৌলতপুর থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের শিব কাঠুরি এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে শিশু ঝর্ণা গুরুতর আহত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ঝর্ণার ফুফা মো. আল-আমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহেদ আল ইমরান বলেন, বিকেল ৫টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ঝর্ণাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।নাগরপুর থানার এসআই মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনায় ঝর্ণা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
6
বিরলে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা একটি ছাগলের খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪৫টি ছাগল ঘটনাস্থলে ভষ্মীভূত হয়েছে। রবিবার(৫ জানুয়ারী) ভোরে উপজেলার ৫ নং বিরল ইউপি'র রবিপুর গ্রামে আদনান-মুন্নার যৌথভাবে গড়ে তোলা একটি বাণিজ্যিক ছাগলের খামারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে বিরল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি। খাামারের স্বত্ত্বাধিকারী আদনান জানান, আমাদের খামারে দেশি-বিদেশী উন্নত হরিয়ানা জাতের পাঁঠা ও টিয়ামুখী জাতের প্রায় ৪৫ টি ছাগল আগুনে পুরে মারা গেছে। কিভাবে আগুন ধরেছে আমরা কেউ বুঝে উঠতে পারছিনা। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত রহমান।
6
বিশ্বমানের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেট রিসার্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলো স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেড। রোববার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুর ডি ও এইচ এস এ অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে। স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সি.ই.ও এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতের ন্যায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেট রিসার্চ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।তাই এই মুহূর্তে ব্যবসা প্রসারের চেয়ে আমাদের এই খাতের সঙ্গে জড়িতদের টিকে থাকতে চেষ্টা করব। আমরা দক্ষ এবং প্রতিভাবান তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।' তিনি বলেন, 'আমরা আশাবাদী অচিরেই কভিড ১৯ এ ব্যাহত হওয়া জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ভবিষ্যৎ সুযোগের কথা ভেবেই এই কঠিন সময়েও আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাত্রা শুরু করেছি।' বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দক্ষিন আমেরিকা এবং ইউরোপে আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২৫ জন কর্মী নিয়ে বর্তমানে স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেড যাত্রা শুরু করেছে। অচিরেই লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কলেবর বৃদ্ধি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক বলেন, 'আমরা আমাদের এই খাতে একটি মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্লায়েন্টদের আস্থা অর্জন করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখব। আমাদের দক্ষ কর্মীরা তাদের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।' স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেড বিশ্বমানের লজিস্টিক্স দ্বারা সজ্জিত যার মাধ্যমে যেকোনো ইভেন্ট ব্যাবস্থাপনা, ভিডিও প্রোডাকশন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, মার্কেট রিসার্চ এবং পরামর্শক সেবা দেওয়া যাবে। পেশাদার এবং দক্ষ কর্মীদের দ্বারা এই সকল খাতের সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেড এগিয়ে যাবে বলে তিনি জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
0
হেফাজতে ইসলামের ডাকা সারাদেশে রবিবার (২৮ মার্চ) হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হরতালকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সদস্যদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্দেশনায় চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ওপর হামলার আশঙ্কায় ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানেও থাকতে বলা হয়। সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পুলিশ ও র্যাব সদর দপ্তরে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি পদ মর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থী, শিশু শিক্ষার্থীদের হরতালে অংশ নেওয়া থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঘটনার পর পুলিশের সব ইউনিটকে বিশেষ করে হেফাজত অধ্যুষিত জেলা শহরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
6
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকদের মধ্যে কাতলাগাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ সময় সংঘর্ষকারীরা ৭টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, ২০টি বাড়িতে ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শনিবার সকালে সারুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রমে অভিযান চালিয়ে ৫০ ব্যক্তিকে আটক করে বলে জানা যায়। এদিকে, সংঘর্ষের পর আটক এড়াতে ইউনিয়নটির বিভিন্ন গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।এলাকাবাসীরা জানায়, ইউপি নির্বাচনে এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মামুন ও একই দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার কায়সার টিপুর মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জুলফিকার কায়সার টিপু ও তার সমর্থকরা শাহবাড়িয়া গ্রামে একটি জানাজায় যান। মোটরসাইকেল যোগে তারা ফেরার পথে কাতলাগাড়ী বাজার এলাকায় পৌঁছলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি ৭টি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী টিপুর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের কর্মী সমর্থকরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাদের ৭ সমর্থকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় ও ১৫ জনকে মারধর করে।এদিকে, মুহুর্তের মধ্যে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে টিপু সমর্থকরা একই ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের অভিযোগ, বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী টিপুর সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে নিজেরা নিজেদের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে তার উপর দোষ চাপাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টিপুর সমর্থকরা কৃষ্ণনগর, ভুলন্দিয়া, বড় মৌকুড়ি গ্রামে তার ২০ সমর্থকের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়ও বলে তিনি অভিযোগ করেন।শৈলকুপা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকা থেকে ৫০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও জানান তিনি।
6
রাশিয়ার জনগণের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ইউক্রেনের শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ কথার পাল্টা জবাব দিয়ে ক্রেমলিন বলেছে, পুতিন ক্ষমতায় থাকবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত বাইডেন নেবেন না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জবাবে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেছেন, পুতিনের ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বাইডেনের নয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন করেছেন রাশিয়ার জনগণ। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাইডেন শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের আহ্বান জানাননি। তিনি বলতে চেয়েছেন, পুতিনকে তাঁর প্রতিবেশী দেশ বা অঞ্চলের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেওয়া যাবে না। বাইডেন এর আগে ওয়ারশতে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি ইউক্রেন সরকারের মন্ত্রী ও পোল্যান্ডে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ইউক্রেনের শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাইডেনকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি প্রতিদিন ভ্লাদিমির পুতিনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখেন। খেয়াল করেন, তিনি এই মানুষগুলোর (শরণার্থী) সঙ্গে কী করছেন। আপনি কী ভাবছেন?' জবাবে বাইডেন বলেন, 'তিনি (পুতিন) একটা কসাই।' এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধাপরাধ করছেন। গত কয়েক সপ্তাহ বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ছেড়েছেন ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছেন ইউক্রেনের পশ্চিমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। বিসিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের লিভিভ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরের উপকণ্ঠে কিছু জায়গা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ বাহিনীর ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছেন ইউক্রেনের সেনারা। এতে রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাশিয়ার স্পুতনিক নিউজ বলছে, রাশিয়ার ছোড়া স্বল্পপাল্লার ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বাক নামের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। রুশ সেনারা আরও সামনে এগিয়েছে। দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলের পুনর্নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া মারিউপোলে লড়াই চলছে। স্পুতনিক আরও বলেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দনবাসে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছে, রাশিয়ার লক্ষ্য ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্ত করা।
3
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নিজেকে স্বাধীন, সার্বভৌম জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণার দিন। মহিমান্বিত সেই দিনটিকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি স্বাধীনতা সংগ্রামের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ হাজার শহীদকে এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। আজকের দিনে আমরা তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। যে স্বপ্ন ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তা এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের তুলনায় দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার পরও মৌলিক খাদ্যচাহিদা পূরণ হয়েছে, শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষায়। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, মানবসম্পদ উন্নয়নের অনেক সূচকে আমাদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অর্জনক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে তার ভূমিকা, জনবহুল দেশে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত, প্রায় সর্বক্ষেত্রে অবকাঠামোবিহীন সেদিনের সেই সদ্যজাত জাতির ৫০ বছরের অর্জনের পরিসংখ্যানও নিতান্ত অপ্রতুল নয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮টি লক্ষ্যের মধ্যে শিক্ষা, শিশুমৃত্যুহার কমানো এবং দারিদ্র হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম। শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। নারীর ক্ষমতায়নে অর্জন; নারী বঞ্চনার তিক্ত অতীত পেরিয়ে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেকদূর এগিয়েছে। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ। আর এই শিল্পের সিংহভাগ কর্মী হচ্ছে নারী। ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়নে ও নারীর ক্ষমতায়নে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ; ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যোগদানের পর শান্তি মিশনে খ্যাতি ও সফলতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। সারা বিশ্বে সরকারপ্রধানরা যখন করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা করোনা পরিস্থিতি সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি। লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট, সাউথ এশিয়ান ল'ইয়ার্স ফোরাম। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
2
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালাতে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়েছে ১৮জন রোহিঙ্গা নাগরিক। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে, ১০ জন শিশু ও ০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোহিঙ্গা নাগরিক। তবে তাৎক্ষণিক জেলা পুলিশ প্রশাসন তাদের নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে রাত আড়াইটার দিকে তাদের আটক করে পুলিশ চেয়ারম্যান ঘাট পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভাসানচর আশ্রয়ণ কেন্দ্র থেকে নৌকাযোগে পালানোর সময় চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী ১৮ রোহিঙ্গাকে আটক করেছেন। আটক রোহিঙ্গাদের পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
6
ফের আলোচনায় উঠে আসল সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর চীন সরকার কর্তৃক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি। বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি দোলকান ইসা সিএনএন-নিউজ১৮ এর সঙ্গে সাক্ষাতকারে বলেন, চীন সরকার পরিকল্পিতভাবে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বিভিন্নভাবে মুসলিম নিধনের কাজ করছে চীন, যা গণহত্যার সামিল। বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, "জাতিসংঘে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চীন বিভিন্নভাবে সেটিকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে জিনজিয়াংয়ে কথিত পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।" তিনি অভিযোগ করে বলেন, "চীন জাতিসংঘের দ্বিতীয় বৃহত্তম দাতা দেশ। তারা বিভিন্নভাবে জাতিসংঘের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে সেটিকে সুকৌশলে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চীন সরকার। ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভারী বৃষ্টিপাত ও হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘোষণা দিলে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ কৃষকরা অনেকটা দুশ্চিন্তায় পড়েন। এ অবস্থায় শ্রীমঙ্গলের প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উদ্যোগ নেয় ধান কাটার। তারা তাদের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে হাইল হাওরে ধান কাটতে যান। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের হাইল হাওর সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইউএনও এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটছেন। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহর তরফদার জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের এই ধান কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজে দেওয়া ইউএনও এর আহ্বানে সারা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন। তিনি জানান, শিক্ষকরা তা করছেন বিপুল উৎসাহ নিয়ে এবং ধান কাটার গতিও সাধারণ কৃষকের ন্যায়। দুই ঘন্টায় তারা কয়েক কিয়ার ধান কেটে দেন। তিনি জানান, এ সময় তাদের সাথে ধান কাটেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। টানা দুই ঘন্টা একটানা ধান কেটেছেন। শুধু প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়, এসময় মাঠে উপস্থিত থেকে ধান কাটেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেছার উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটিও। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি জানান, এ মৌসুমে উপজেলার ৯ হাজার ৬ শত ৫২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলের নিচু জায়গায় ৩ হাজার ৭শত ২৭ হেক্টর জমি রয়েছে। যে জমিগুলো মূলত ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েগেছে বলে জানান তিনি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরে প্রায় ৮০ ভাগ ধান পেকে গেছে। হঠাৎ যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয় তাহলে এই পাকা ধানগুলো পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে। তাই তিনি কৃষি অফিসের সাথে আলোচনা করে ফেসবুকে স্বেচ্ছায়শ্রমে ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দিলে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এগিয়ে আসে। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ছাড়াও ধান কেটে দেয়ার জন্য দল বেঁধে আরও অনেক সংগঠন এগিয়ে আসছে। তিনি ধান কেটে দিতে এগিয়ে আসা সংগঠনগুলোকে একেক দিন একেক জায়গায় ধান কেটে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
6
চিকিৎসকের কাছে মানুষ সর্বাগ্রে প্রত্যাশা করে মানবিকতার আলো। একজন চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দানের পাশাপাশি মানবিকতার ছোঁয়ায় রোগীকে আরোগ্যের পথে নিয়ে যেতে কতটা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আছে অনেক। ডা. কামরুল হাসান খান তেমনই একজন। আর্তমানবতার সেবায় তিনি বরাবরই পালন করে আসছেন অনন্য ভূমিকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ১৯৫৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা এই চিকিৎসক দেশের চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের সব আন্দোলন, পেশাজীবী আন্দোলন, নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সক্রিয় অংশীজন। তিনি ১৯৮৪ থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর তিনি দেশের সব প্রগতিশীল পেশাজীবী সংগঠন নিয়ে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ গড়ে তোলেন এবং পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই সংগঠনের মহাসচিব হিসেবে তিনি নেতৃত্বদানে আপসহীন ভূমিকা পালন করেন। প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ, আইপিজিএমআর, বিএসএমএমইউতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য থাকাকালে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেন। অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৬তে সেভেন এশিয়া এডুকেশন এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। তিনি ১৯৯০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে '৯০-এর গণভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডা. কামরুল ১৯৯০-এ বিএমএর কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ডা. মাজেদ-ডা. জালালের নেতৃত্বে সারাদেশ সফর করে চিকিৎসকদের সংগঠিত করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি তখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে উগ্রজনদের সঙ্গে শুধু গুরুদায়িত্বই পালন করেননি, একই সঙ্গে আন্দোলনের রূপরেখা নির্ণয়েও রাখেন অনন্য ভূমিকা। তিনি বিসিএস কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব এবং বিএমডিসি, বিএমআরসির কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যও ছিলেন। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। তিনি বর্তমানে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রাবস্থায় তিনি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান সন্ধানীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সম্পাদক, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির দু'বার সভাপতি ছিলেন। তিনি পারমাণবিক যুদ্ধবিরোধী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সংগঠন আইপিপিএনডব্লিউ (১৯৮৫) এবং আইসিএএনের (২০১৭) দক্ষিণ এশিয়ার সহসভাপতির দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি নরওয়ের অসলোতে বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে আইপিপিএনডব্লিউর নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই কর্ম অধ্যায়ই স্পষ্ট করে বলে দেয় তিনি শুধু পেশার গণ্ডিতেই নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি, সামাজিক দায়বোধ থেকে কাজের পরিসর বিস্তৃত করেছেন দেশ-বিদেশের নানা ক্ষেত্রে। ডা. কামরুল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, কানাডা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তার প্রায় ৩০টি প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই মানুষটি পেশার প্রতি বরাবরই অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে চেয়েছেন। তার 'বাঙালির মুক্তির ইতিহাস :বঙ্গবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা', 'করোনাভাইরাস :প্রতিরোধ এবং ভ্যাকসিন' ও '৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ডা. মিলন' গ্রন্থগুলো উল্লেখযোগ্য। জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা। মাহমুদ হাসান: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী
8
সাভারের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বুড়িকান্দি গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনিতে থাকতেন। বড় ভাই মানিকের সঙ্গে তিনি হোটেল চালাতেন বলে পরিবারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ। তবে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। জাহাঙ্গীরের বড় ভাই মানিক জানান, জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তাকে মাদক থেকে ফেরাতে সাভারের 'আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র'-এ যোগাযোগ করা হয়। সেখানকার লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরকে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক জুয়েল মোবাইল ফোনে তাদের জানান জাহাঙ্গীর অসুস্থ, তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা জাহাঙ্গীরকে মৃত অবস্থায় পান। মানিক দাবি করেন, চিকিৎসার নামে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনেই তার ভাই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে। এনাম মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেরাজুর রেহান বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃহদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের কারণে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাকিটা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে লাবিব নামে এক যুবক সেখানকার কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
6
আমেরিকা দীর্ঘ ২০ বছর পর গত মাসে আফগানিস্তান থেকে তাদের মিলিটারি ঘাটি সরিয়ে নেয়। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে তালেবান সরকার দেশটির ক্ষমতা দখল করে। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর আতঙ্কে দেশ ছাড়ে অনেক আফগান নাগরিক। যেখানে দেশটির অ্যাথলেট ও তাদের পরিবারের সংখ্যায় ছিল বেশি। বিশেষ করে আফগান নারী ফুটবলাররা ছিল এই সরকারের ভয়ে বেশি আতঙ্কিত। তালেবানের ভয়ে দেশটি থেকে প্রথম ধাপে ৫০ জন নারী ফুটবলার পালিয়ে আশ্রয় নেয় অস্ট্রেলিয়াতে। কিন্তু তখনো দেশে রয়ে গিয়েছিল জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের বেশ কিছু নারী ফুটবলার। এতদিন তারা আত্মগোপনে ছিল। শেষমেশ তারাও আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছেড়ে পালায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে। ইমরান খানের দেশে কমপক্ষে ৯৬ নারী ফুটবলার ও তাদের পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। বর্ডার অতিক্রম করে অনুপ্রবেশে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন তাদের সহযোগিতা করেছে। এর আগে ২০ শতকের শেষ দিকে তালেবান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলা নিষিদ্ধ ছিল আফগানিস্তানে। তখনো আফগানিস্তানের অনেক নাগরিক আশ্রয় নিয়েছিল পাকিস্তানে। সেখানে শরণার্থী শিবিরে থেকে পাকদের সহযোগিতায় ক্রিকেট খেলা চালিয়ে গিয়েছিল আফগানরা। পাকিস্তানে ১৯৯৫ সালে গঠিত হয় আফগান ক্রিকেট বোর্ড। এরপর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দেখে ২০০০ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের একমাত্র খেলা হিসেবে ক্রিকেটকে অনুমতি দেয়। তারপর থেকে আজকের নবী, রশিদদের প্রত্যাবর্তন। তবে সেটা শুধু পুরুষদের জন্য। আফগানরা নারীদের ক্রিকেট খেলার কোনো অনুমতি দেননি। এদিকে ক্রিকেটের মতো আফগান নারী ফুটবলাররা পাকিস্তানে বোর্ড গঠন করে খেলা চালিয়ে যেতে আশ্রয় নেননি। তাদের পরবর্তী গন্তব্য অন্যান্য ফুটবলারদের মতো অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা অথবা ইংল্যান্ড। এ বিষয়ে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা উমর জিয়া বলেন, 'আপাতত পাকিস্তানে থাকবেন এই ফুটবলার ও তাদের পরিবার। ৩০ দিন পর তারা তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। আমেরিকা, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে তাদের পাঠানোর ব্যাপারে চেষ্টা করবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।' এর আগে তোরখাম সীমান্ত দিয়ে তারা পাকিস্তান পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আফগান নারী ফুটবলারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগানিস্তান তালেবান দখলদারির পর থেকে প্রচুর মানুষ দেশ ছাড়ছেন। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও খেলোয়াড়রা। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তানে প্রথম তালেবান শাসনের সময় নারীদের জন্য পথের কাটা হয়ে ছিল তারা। সেখানে মেয়েদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। নারীদের কাজকর্ম করার ব্যাপারেও নেমে এসেছিল নিষেধাজ্ঞা। সে সময় নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ছিল বড় ধরনের অপরাধ। ২০ বছর পর আফগানিস্তান নতুন করে তালেবান শাসনের অধীনে আসার পর একই ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে দেশটিতে। এর আগে নারীদের ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন তালেবান সরকার। দলটির সাংস্কৃতিক কমিশনের প্রধান আহমদউল্লাহ ওয়াসিক জানান, 'ইসলাম নারীদের এমন কোনো খেলা পছন্দ করে না যেখানে শরীরের বিভিন্ন অংশ বোঝা যায়। এ সময় নারীদের ক্রিকেট নিয়ে তিনি জানান, ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে নারীরা তাদের মুখ এবং শরীর ঢেকে খেলতে পারে না।' তিনি আরো জানান, 'এটা গণমাধ্যমের যুগ, এখানে ছবি এবং ভিডিও'র ছড়াছড়ি। যেটা আবার সারা পৃথিবীব্যাপী অনেক মানুষ দেখে থাকে। ইসলাম এবং এর বিধান কখনো ক্রিকেট ও এমন ধরনের খেলার অনুমতি দেয় না যেখানে নারীরা তাদের শরীর প্রকাশ করে থাকে।' তালেবান দখলদারির শুরুতেই আফগানিস্তান নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেয়ে ফুটবলারদের নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব পোস্ট মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি তাদের খেলার সামগ্রীগুলো পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন।
12
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সারাদেশে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তিনি বলেন, নিম্নবিত্তদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্যে দেয়া হচ্ছে। রমজানেও জিনিসপত্রের দাম সহনীয় থাকবে। তিনি বুধবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আশ্রয়হীন মানুষ ঘর পাওয়ায় তাদের শত দুঃখের বোঝা হালকা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে নিজের আনন্দ অনুভূতি প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে প্রবাসে অসহনীয় জীবন ও পরে দেশে ফিরে প্রতিহিংসার শিকারের অতীত কষ্টের কথা সংসদে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরবাড়িহীন দুস্থ মানুষ ঠিকানা পেয়েছেন। ঘর পাওয়ার পর এই ঠিকানাহীন মানুষের আনন্দাশ্রু দেখে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : বাসস
9
মাদক কেলেঙ্কারিতে অভিনেতা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান আর আরবাজ শেঠ মার্চান্টের সাথে এনসিবি হেফাজতে দিন কাটছে মডেল মুনমুন ধমেচার। স্যানিটারি ন্যাপকিনে মাদক লুকিয়েছিলেন তিনি- নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) এমন দাবিতে তোলপাড় গোটা ভারত। কিন্তু কী করে প্রমোদতরীর পার্টিতে পৌঁছলেন তিনি? সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন তার আইনজীবী আলি কাসিব খান। আলির দাবি, আরিয়ান-আরবাজের মতো মুনমুনও গোয়াগামী প্রমোদতরীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তার টিকিটও ছিল না। তদন্তে জানা গিয়েছে, বলরাম নামে এক ব্যক্তি মুনমুনের টিকিট কেটেছিলেন। তার নামে ঘরও ভাড়া নিয়েছিলেন। আইনজীবীর কথায়, 'মুনমুন পেশায় মডেল। পার্টি নজরকাড়া করে তুলতেই তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে তাকে পারিশ্রমিক দেয়া হবে বলা হয়েছিল।' ৩৯ বছর বয়সী মুনমুনের আদি বাড়ি মধ্যপ্রদেশের সাগর নামে এক ছোট শহরে। ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে। মুনমুনের মা পরলোকগমন করেছেন গত বছর। বাবা আলাদা থাকেন। আপাতত দিল্লিতে কর্মরত দাদার সঙ্গেই থাকেন মুনমুন। যদিও মুম্বাইয়ের একাধিক বড় বড় তারকার সাথে ওঠাবসা রয়েছে এই মডেল কন্যার। কিন্তু আইনজীবীর দাবি, কাজের ডাক পেলে তবেই তিনি মুম্বাইয়ে যেতেন। পার্টিতে যাওয়ার আগে আরিয়ান বা আরবাজ কারো সাথেই আলাপ ছিল না মুনমুনের। আলি খান বললেন, 'বড় পার্টিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে মুনমুন খুব খুশি ছিলেন। সেখানে পৌঁছে দাদাকে ভিডিয়ো কল করে সে কথা জানিয়েওছিলেন মুনমুন। বোঝাই যাচ্ছে, পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে কিছু করেননি তিনি।' মুনমুনের সাথে কথা বলে তার আইনজীবী যা যা 'তথ্য' জানতে পেরেছেন সেগুলো সাক্ষাৎকারে বললেন। প্রমোদতরীর বাইরে লেখা ছিল, 'মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ'। মুনমুন যখন প্রমোদতরীতে উঠছিলেন, তাদের তল্লাশি হয়েছে। তখন কিছু পাওয়া যায়নি তার কাছে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বলরাম এবং আরো একটি মেয়ের সাথে নিজের নামে ভাড়া নেয়া ঘরে ঢোকেন মুনমুন। দু'তিন মিনিটের মধ্যেই এনসিবি সেখানে ঢুকে পড়ে। মুনমুন তার আইনজীবীকে জানিয়েছেন, ঘরের মেঝেতে মাদকের প্যাকেট পাওয়া গিয়েছিল। আলি খানের প্রশ্ন, মুনমুনের ঘরে মাদক পাওয়ার সময়ে তার সাথেই ছিলেন বলরাম ও অন্য তরুণী। তা হলে এনসিবি শুধু মুনমুনকেই ধরল কেন? ঘরে পড়ে থাকা মাদকের প্যাকেট তো তাদেরও হতে পারে। কিন্তু শুধু মুনমুনকে জেরা করার জন্য আটক করা হয়। 'মুনমুন আমাকে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করেন, 'কেবল আমি-ই কেন?' বললেন আইনজীবী।সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
2
পাকিস্তানি মডেল কান্দিল বালোচকে হত্যার অভিযোগে তার ভাই ওয়াসিম আজিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে রোববার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের মুলতান পুলিশের মুখপাত্র নাবিলা গাজানফর এপিকে জানান, কান্দিলে বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছে, মুলতানে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় কান্দিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার ভাই ওয়াসিম আজিম। কান্দিলের বাবা-মার বক্তব্যের সূত্র ধরে শনিবারই ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে মুলতান পুলিশ। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসিম জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে পরিবারের সম্মানহানি করার কারণেই কান্দিলকে সে খুন করেছে। কান্দিল বালোচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। টুইটারে তার অনুসারীর সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি, আর ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা সাত লাখেরও বেশি। তার সর্বশেষ মিউজিক ভিডিও 'ব্যান' গত সপ্তাহে প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
3
ঝিনাইদহে ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হবে ১১ ডিসেম্বর। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। কর্মশালায় জানানো হয়, ১১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চার দিনব্যাপী জেলার ৬টি উপজেলায় ১ হাজার ৮২০টি কেন্দ্রে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
6
বলিউডের তারকা জুটি ছিলেন দিয়া মির্জা-সাহিল সংঘ।তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণার পর বলিউডে যখন কানাঘুষা শুরু হয়, ঠিক সেই সময় সামনে আসলো আরও একটি চমকপ্রদ খবর। তাদের বিচ্ছেদের পেছনে নাকি এক সুন্দরী চিত্রনাট্যকারের হাত রয়েছে? বেশ ক'মাস ধরে এই্ সুন্দরীর সঙ্গে গোপনে ডেট করেছেন সাহিল এমন দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। ওই সুন্দরীর নাম 'জাজমেন্টাল হ্যায় ক্যায়া' সিনেমার চিত্রনাট্যকার কণিকা ধিলন। বলিউডে গুঞ্জন, কণিকার কারণেই নাকি সাহিল-দিয়ার ১১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটে। কণিকার সঙ্গে সাহিলের পরকীয়া করছেন এ কথা জানতে পেরে দিয়া এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন বলে খবর বেরোয়। তারা আলাদা হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে খবরটি জানান দিয়া নিজেই।যদিও সাহিলের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা অস্বীকার করেন কণিকা। চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি কণিকা একজন সাহিত্যিকও বটে।বছর দুয়েক আগে কণিকার বিচ্ছেদ হয় 'জাজমেন্টাল হ্যায় ক্যায়া' ছবির পরিচালক প্রকাশ কোভালমুড়ির সঙ্গে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
2
বিজিবিকে বিশ্বমানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ভিশন ২০৪১'পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমাদের সরকার এ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিজিবি পুনর্গঠনের আওতায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের আধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।' এ সময় বিজিবি'র সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য এই বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমি আশাকরি যে, আপনারা সব সময় দেশপ্রেম, সততা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সব সময় এই বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।' শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ডকে একটি বাহিনীর অন্যতম চালিকা শক্তি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার আবেদন থাকবে ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের কমান্ড মেনে চলবেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। আর আপনাদের কোন সমস্যা হলে সেটা দেখার জন্য আমরাতো আছিই।' 'কাজেই আপনারা সবসময় সততার সাথে নিষ্ঠার সাথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। যেন দেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে,' যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'জাতির পিতার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পার হতে হয়েছে। আগামী দিনে এই সীমান্তরক্ষী বাহিনী সারাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করবে-সে বিশ্বাস আমার আছে।' এর আগে, বিজিবি সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানান। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শনকালে বিজিবি'র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম এবং প্যারেড কমান্ডার কর্নেল এ এম এম খায়রুল কবির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া মোটর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুল রউফ পাবলিক কলেজের প্রায় ৬শ' শিক্ষার্থী 'স্বাধীনতা ও উন্নয়নের আগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ'শীর্ষক ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজিবি দিবস উপলক্ষে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিডিআর কর্মকর্তাদের মাঝে বর্ডার গার্ড পদক-২০১৯, রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-২০১৯, বর্ডার গার্ড পদক সেবা-২০১৯ এবং রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা-২০১৯ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে অংশ গ্রহণকারী প্যারেড কমান্ডার এবং অন্যান্য কন্টিনজেন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের বীরউত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং বিজিবি মহাপরিচালক তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর-উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে বিজিবি সদস্যদের বিশেষ দরবারে অংশগ্রহণ করেন। সূত্র: বাসস বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
6
তালেবান কাবুল দখল করলে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি গত ১৫ আগস্ট বিদেশে পালিয়ে যান। অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রচুর অর্থ হেলিকপ্টার ও গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে গেছেন তিনি। এরপরই মার্কিন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা আশরাফ গনির বিরুদ্ধে উঠা সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। এবার নতুন তথ্য সামনে এনেছেন আশরাফ গনির দেহরক্ষী দলের প্রধান কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিরাজ আতা শরিফি। তিনি বলেছেন, আশরাফ গনি ব্যাগে ভর্তি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছেন। তার টাকা নিয়ে পালানোর একটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজও (প্রেসিডেন্ট ভবনের) তার হাতে আছে। ১৬ আগস্ট দেশ ছাড়তে পিরাজ আতা শরিফিও বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। পরিবারসহ এখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তালেবান। পিরাজ আতা শরিফি জানিয়েছেন, তার কাছে একটি বন্দুক ও একটি গুলি আছে। তালেবান তার খোঁজ পেলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, নিরাপদ জায়গা পেলেআশরাফ গনির টাকা নিয়ে পালানোর সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেবেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
রিয়াজুল ইসলাম ও রাশেদ করিম দুই ভাই দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা ১১ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিল অসুস্থ মাকে নিয়ে। তাদের বাবা কর্মহীন, নেই তেমন জমিজিরাতও। অভাবের সংসারে রিয়াজুল বড় ছেলে। সে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়ে। রাশেদ করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে মায়ের চিকিৎসা করাতে তারা এসেছিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে ভর্তি ফি ৩০ টাকা হলেও জোর করে জরুরি বিভাগ ১০০ টাকা নিচ্ছিল। তারা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। টাকা ফেরত না পেয়ে তারা রসিদ চেয়েছিল। এ কারণে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের নির্মম মারধরের শিকার হয় রিয়াজুল ও রাশেদ। রিয়াজুল ইসলাম এক কানে ভালো শুনতে পাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে চাইলেও তা করেনি। রিয়াজুলদের মায়ের চিকিৎসারই টাকা নেই, নিজেদের চিকিৎসা হবে কীভাবে? রিয়াজুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে সেদিনের বর্ণনা দিচ্ছিল আর বলছিল, 'আল্লাহর রহমত, মা এখনো হার্ট অ্যাটাক করেনি।' রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং ভোগান্তি দূর করার জন্য 'প্রতিবাদী রংপুর'-এর আয়োজনে একটি গোলটেবিল বৈঠক সম্প্রতি রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রিয়াজুল ইসলাম বলে, 'আমার অসুস্থ মা সন্ত্রাসীদের পা ধরে কাঁদলেও সন্ত্রাসীরা মারা বন্ধ করেনি।' এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তার কোনো প্রতিবেদন নেই। রিয়াজুলদের দুই ভাই শুধু নয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাপ্রার্থীদের অনেকেই কমবেশি এমন পরিস্থিতির শিকার। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার সহকর্মী উমর ফারুক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। এক সহকর্মীর মা গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান। তবু ভালোবাসা আর আবেগের জোরে উমর ফারুকেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই মৃতদেহ হাসপাতালের ট্রলি থেকে নামানোর সময় কর্মচারীরা উমর ফারুকের কাছে ৫০০ টাকা না নিয়ে নামাতে দেননি। কয়েক দিন আগে একজন কর্মচারী জ্বরে আক্রান্ত এক ব্যক্তির বাসায় গিয়ে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে ২০০ টাকা বেশি নিয়েছিলেন। আমি ওই ব্যক্তিকে ফোনে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে পরে তিনি রোগীকে ২০০ টাকা ফেরত দিয়ে আসেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়। শৌচাগারে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। অনেক বাথরুমে লাইট নেই। মশার অত্যাচারে ঘুমাতে পারেন না রোগীরা। কয়েক দিন আগে সিসিইউয়ে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) প্রবেশ করে আমার চোখ চড়কগাছ। ১০ শয্যাবিশিষ্ট বড় কক্ষ। সার্বক্ষণিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে কক্ষটিতে কোনো জানালা রাখা হয়নি। পাঁচটি বড় বড় এসির একটিও চলছে না। একটি দরজার অর্ধেক বন্ধ। প্রচণ্ড দাবদাহের দিনেও বাইরের বাতাস আসার কোনো উপায় নেই, নেই ফ্যান কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা। সোজা কথায় একটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে এই সিসিইউ। জানতে পারি, এক বছর ধরে সেগুলো নষ্ট হয়ে আছে। হৃদ্রোগের চিকিৎসাকেন্দ্রেরই বেহাল অবস্থা। সিসিইউকেই এখন আইসিইউয়ে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়া জরুরি। সিসিইউয়ের ভেতরে কোনো শৌচাগার নেই। একজন রোগীকে নার্স জানালেন, পট কিনে এনে পর্দা টেনে দিয়ে ওখানেই শৌচকার্য করাতে। পোস্ট সিসিইউয়ে শৌচাগার থাকলেও সেখানে আলোর ব্যবস্থা নেই। সিসিইউর চিকিৎসকদের বেশ তৎপর এবং আন্তরিক মনে হয়েছে। ঘামে পুরো শরীর ভিজে গেলেও চোখে-মুখে কোনোরকম বিরক্তি-ক্লান্তি না দেখিয়ে তাঁরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এর কয়েক দিন পরই প্রথম আলোয় বার্ন ইউনিটের এসিগুলো অচল থাকার খবর প্রকাশিত হলে তখন বার্ন ইউনিটসহ অন্য সব এসি কর্তৃপক্ষ মেরামত করেছে। রংপুর বিভাগের দুই কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। হাসপাতালটিরই চিকিৎসা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসক ভালো হলেই সেবা পাওয়া যাবে না। সেবার জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন জরুরি। এর জন্য হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। হাসপাতালে দালাল চক্র দমনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর দালাল চক্র সেখানে গড়ে উঠতে না পারে। যেসব কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত, তঁাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনো রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অসাধু সন্ত্রাসী কিংবা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যত বড় সিন্ডিকেটই থাকুক না কেন, প্রশাসন চাইলে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিকে জনসেবার অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে। তা না হলে চিকিৎসক বাড়িয়ে আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে না। এমনকি দেশজুড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়নের গল্পই গালগল্প হয়ে থাকবে। তুহিন ওয়াদুদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক এবং নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক
8
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বৈরিতা যখন চরম পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য ন্যাটোকে বিশ্বাস করতে চায় ইউক্রেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, এছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কিয়েভে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন এ বিষয়ে কিছু বললে অন্যরা কীভাবে নেবে, তা আমি ঠিক জানি না; কারণ অনেকেই বলছেন, আমরা নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে ন্যাটোতে যোগ দিতে চাইছি। কিন্তু কীসের উচ্চাকাঙ্ক্ষা? এটি কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে আমরা ১৫ হাজার ইউক্রেনবাসীকে হারিয়েছি। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন এবং জনগণ তাদের জীবন ও দেশের নিরাপত্তা চায়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কেবল ন্যাটোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জনগণের ভবিষ্যতের বিষয়। ন্যাটোতে যোগ দেয়ার বিষয়টি কেবল এর সদস্যপদ পাওয়া নয়। আমরা যদি ন্যাটো, ইইউ, আপাত অধিকৃত অঞ্চল নিয়ে কথা বলি- তাহলে আমরা আমাদের স্বাধীনতার বিষয়েই কথা বলছি। এদিকে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ন্যাটো প্রশ্নে তিনি এখনই 'কার্যকর সমাধান চান'। গত অক্টোবরে ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে রাশিয়া। রাশিয়া-বেলারুশ যৌথ সামরিক মহড়া, ইউক্রেনকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলার পর গত মঙ্গলবার সেনা সরিয়ে নেয় রাশিয়া। এ খবরে বিশ্বাস করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার তিনি ইউক্রেনে আবারও রাশিয়ার হামলার আশঙ্কার কথা জানান। অন্যদিকে রাশিয়া বাইডেনের এ আশঙ্কার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উড়িয়ে দিলেও বৃহস্পতিবার আরও সাত হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
3
দেশে শিক্ষার মান ক্রমহ্রাসমান বলে বিভিন্ন মহল বারবার সতর্ক করছে। কেউ জোর দিয়ে এর বিপরীতেও বলছেন না। তাহলে বক্তব্যটি অসার নয় বলেই ধরে নিতে হবে। ধারণা করতে হয়, আমরা একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আর এ যাত্রাপথ বিপরীতমুখী করতে না পারলে জাতি হিসেবে আমাদের যে অর্জন, তা অর্থহীন হয়ে যাবে। জলাঞ্জলি যেতে পারে অর্জিত সাফল্যগুলো। সম্প্রতি কথাটা জোর দিয়ে সামনে এল লন্ডনের টাইমস হায়ার এডুকেশনাল জরিপের একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে সে তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। রয়েছে চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি ও তাইওয়ানের ৩২টি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম। তালিকায় ঠাঁই নিয়েছে কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় ও নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়। জঙ্গিবাদসহ বহু নেতিবাচক ভাবমূর্তির অধিকারী পাকিস্তানের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে সে তালিকায়। জানা যায়, জরিপে শিক্ষাদান, গবেষণালব্ধ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি আমাদের দেশের শিক্ষার নিম্নমানের একটি স্মারক বলে চিহ্নিত করা যায়। দেশে ৪৫টি সরকারি ও ৫৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কয়েকটিকে নিয়ে রয়েছে আমাদের বিশেষ গৌরববোধ। কিন্তু সেগুলো যে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে পিছিয়ে যাচ্ছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আলোচ্য প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে বড় অভিযোগ, অন্য প্রতিবেশীদের তুলনায় শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় আমাদের সরকারের বিনিয়োগের কমতি। অভিযোগটি অমূলক নয়। তবে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো, তখনো আনুপাতিক বিনিয়োগ তেমন বেশি ছিল, এমনটা বলা যাবে না। প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আরও বলা হয়, এখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে নিয়মিত আপলোড করা হয় না। আর জরিপটি হয়েছে সে তথ্যের ভিত্তিতে। বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রবাহের এ যুগে বিভিন্ন তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড না করার দায় নিজেদের। কাজকর্মের খতিয়ান দিতে হয় ওয়েবসাইটেই। কেউ মনে করেন, শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক দলীয়করণ ও পদোন্নতির ভ্রান্ত নিয়মাবলিও এর জন্য দায়ী। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুই-তৃতীয়াংশ অধ্যাপকের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রি নেই। তাঁদের অনেকেরই নেই মানসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক গুণী ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা তলিয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের জোরালো সমর্থক ও তাদের কর্মসূচিতে অতি মনোযোগী শিক্ষকদের জন্য। এর মধ্যেও অনেক ভালো ছাত্র ডিগ্রি নেন। তাঁরা কৃতী হন দেশ ও বিদেশে। তবে প্রশ্নটা গড় শিক্ষার মান নিয়ে। কোনো কোনো শিক্ষাবিদ এমনটাও বলেন যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাঠক্রমের প্রতি কম মনোযোগী। তাঁদের অনেকে নিয়ত বিসিএসের গাইড বই নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ছাত্রদের এ সময়টা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের গতি নির্ধারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ। উঁচু মানের ভালো ছাত্রদের সবাই আসেন না বিসিএসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা তাঁদের অনেকের প্রথম পছন্দ। এর পাশাপাশি রয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক, এমনকি তামাক প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণ কোম্পানির চাকরি। যাঁরা এগুলো লাভ করেন, তাঁরা পরিবার ও সমাজে আদৃত হন। আর বিসিএস দিয়ে তো শুধু প্রশাসনে আসেন না। সরকারি কলেজশিক্ষক, চিকিৎসক সবাইকে বিসিএস পরীক্ষা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্রজীবনে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি জ্ঞান অন্বেষণের বিবেচনায় পীড়াদায়ক হলেও ভোগবাদী সমাজে দোষের বলা যাবে না। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সবারই নজর দেশের নামীদামি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের মধ্যেও যে ব্যাপক ফারাক, তা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এ বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বাস্তবতাটা সামনে আসত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান নামকরা কলেজশিক্ষকদের চেয়েও পেছনে, এ বক্তব্য প্রায়ই আসে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানে উপযুক্ততা কী পরিমাণ শিক্ষকের আছে, তা পর্যালোচনা না করেই রাতারাতি বাড়ানো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। উপযুক্ত শিক্ষকের পাশাপাশি বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো, পাঠাগার, গবেষণাগার ইত্যাদি ব্যবস্থা করতে না পারলে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা অপূর্ণ থাকবে, এটা বলা বাহুল্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উৎসবের মেজাজে চলছে। সমাবর্তনে এর প্রকাশই দেখা যায়। অথচ গুটিকয়েক বাদ দিলে অবশিষ্টগুলোকে হিসাবে নেওয়াও অসংগত হবে। অনেকগুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকেরা শিক্ষকতা করে টিকিয়ে রাখছেন এগুলো। নিজস্ব ফ্যাকাল্টি জীর্ণ ও বিবর্ণ। এগুলো ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সন্দেহ নেই, সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু মানসম্পন্ন ছাত্র তৈরি হচ্ছে সব প্রতিকূলতার মধ্যে, তবে গড় মান নেমে যাচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় বছর দুয়েক আগে তখনকার ট্রেজারার বক্তব্য দিয়েছিলেন যে সান্ধ্য কোর্সের নামে তাঁদের এখানে নিম্নমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। বক্তব্যের প্রতিবাদ কেউ করেননি। সে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী হচ্ছেন। তাই গড় মান নেমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান আলোচনা। এ বিষয় পরীক্ষিত যে দেশের সব স্তরের শিক্ষার মান নেমে যাচ্ছে। আর বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই। তাদের ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উচ্চতর গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজধারীদের (জিপিএ) বিশাল অংশ পাস নম্বর পান না। ওই স্তরগুলোর শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে বড় ধরনের গলদ। তেমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও সুবিধাদি স্বাধীনতাপূর্ব কালের তুলনায় অনেক গুণ বৃদ্ধি পেলেও সে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক ক্ষেত্রে মান গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানেও কোচিং করতে হয়। সরকারি নিয়মে দিতে হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) নামক পাবলিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণদের বিরাট অংশ মাধ্যমিকে পড়াশোনা চালানো উপযুক্ততা অর্জন করে আসে না। আর মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় যায় একই ধরনের ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে। তবে পরীক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে ভালো জিপিএ থাকে অনেকের। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা আলোচিত হয়েছে। দেশে সর্ববৃহৎ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা তারা নেয়, দেয় সনদ। এর অনেকগুলোর মান গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে বাকি রইল কী? আমাদের শিক্ষার নিম্নমান আলোচনা এখন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন শুধু শ্রমিক নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক মানসম্পন্ন স্নাতকের চাহিদা তৈরি করছে। এর সামান্যই জোগান দিতে পারছি আমরা। বিদেশ থেকে বেশি ব্যয় করে তাদের কর্মী আনতে হয় বলে উদ্যোক্তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে আমাদের স্নাতকেরা নিম্নমানের চাকরির জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে চান। শিক্ষার মানের ক্রম নিম্নমুখিতার জন্য আমাদের কম বিনিয়োগ দায়ী বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। তবে অতি সম্প্রতি একটি বাংলা দৈনিক জরিপ চালিয়ে দেখিয়েছে, সন্তানদের লেখাপড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি ব্যয় করতে হয় বাংলাদেশের অভিভাবকদের। তাদের জরিপে এসেছে প্রাইভেট, কোচিং ইত্যাদি খরচও। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোর বেতন-ভাতাও অনেক। তাহলে এ ব্যয় অর্থবহ হচ্ছে না কেন? সরকারের ব্যয় বাড়ানো উচিত, এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমত নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ অবকাঠামো, পাঠাগার ও গবেষণাগারের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। এগুলো পরিচালনার জন্যও দিতে হবে যথাযথ মঞ্জুরি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ দরকার। আর এগুলো করবেন মূলত শিক্ষকেরা, সে শিক্ষক নিয়োগে একমাত্র মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া নীতির ওপর জোরালো আস্থা দরকার। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষার মেরুদণ্ড শিক্ষক। সে মেরুদণ্ড শক্ত হলে আজকের অবস্থান সময়ান্তরে বিপরীতমুখী হতে বাধ্য। আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব[]
8