text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
দিনকয়েক আগেই মুম্বাইয়ে আবাস গড়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। ২০১৬ সালে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরুর পর তামিল, তেলুগু-কাজ করেছেন দক্ষিণের আলোচিত সব সিনেমায়। ভুবনভোলানো মিষ্টি হাসির এই মেয়েকে এবার দেখা যাবে বলিউডে। দুটি ছবিতে অভিনয়ের খবর পাক্কা-সামনে আসছে আরও অনেক। তাই বাক্সপেটরা গুছিয়ে চলে এসেছেন মুম্বাইয়ে।রাশমিকা এখন ভারতের 'ন্যাশনাল ক্রাশ'। গুগলে 'ন্যাশনাল ক্রাশ অব ইন্ডিয়া' লিখে সার্চ করলে রাশমিকার ছবি ভেসে ওঠে। কেন ভারতজুড়ে তাঁকে নিয়ে এত মাতামাতি? এর পেছনে অবশ্যই রয়েছে স্ক্রিনে তাঁর অনবদ্য উপস্থিতি। তা ছাড়া আরও একটি কারণ তাঁকে ভারতের ন্যাশনাল ক্রাশ করে তুলেছে, সেটি হচ্ছে তাঁর অসম্ভব মিষ্টি হাসি। রাশমিকার হাসিতে নাকি জাদু আছে! আর ভুবনভোলানো সেই হাসিতেই মজেছে তরুণ প্রজন্ম। তামিল, তেলুগু, কন্নড় ছবির ভুবনে রীতিমতো রাজরানি এই রাশমিকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর ভক্তের সংখ্যা অনেক তারকার জন্য ঈর্ষণীয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ছাড়িয়ে গেছে ১৫ মিলিয়ন। রাশমিকা ২০১৬ সালে ছবির দুনিয়ায় পা রাখেন। কন্নড় ছবি 'কিরিক পার্টি' দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। সম্প্রতি 'সুলতান' ছবির মাধ্যমে তামিল ছবির দুনিয়ায় অভিষেক হয়েছে তাঁর। রাশমিকার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১২টির মতো ছবি মুক্তি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩টি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পায়, ৮টিতে বিজয়ী হন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর জনপ্রিয়তা পৌঁছে গেছে তুঙ্গে। শিগগিরই 'মিশন মজনু' দিয়ে বলিউডে অভিষেক হবে তাঁর। শান্তনু বাগচী পরিচালিত এ ছবিতে রাশমিকার বিপরীতে আছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। 'মিশন মজনু' ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন রাশমিকা। ছবির পরিচালক শান্তনু বাগচী। সত্তরের দশকে পাকিস্তানে ভারতের এক গুপ্ত অভিযান নিয়ে বোনা হয়েছে ছবির গল্প।অন্যদিকে রাশমিকা অভিনীত 'গুডবাই' ছবির পরিচালক বিকাশ বহেল। 'চিল্লার পার্টি', 'কুইন', 'সুপার থার্টি' ছবিগুলো পরিচালনা করেছেন বিকাশ। দ্বিতীয় ছবিতেই বিকাশের মতো পরিচালক ও অমিতাভের মতো অভিনেতা পেয়েছেন রাশমিকা। এখানে অমিতাভ বচ্চনের মেয়ে হিসেবে পর্দায় আসবেন 'ডিয়ার কমরেড'খ্যাত এই অভিনেত্রী।
2
সুস্থতার জন্য সুস্থ পরিবেশের কোন বিকল্প নেই, আর সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সংক্রান্ত সামাজিক আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সুস্থতার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করতে হবে।রাজধানীর আশকোনা, দক্ষিণখানে মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য মশক নিধনে চিরুনি অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে হাজী ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৬টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে বর্ধিত মহানগরীর নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক, অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪ হাজার ২৬ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।তিনি বলেন, অন্যান্য বছর সামান্য বৃষ্টিতেই ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যেতো, জলজটে নগরবাসীকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। কিন্তু এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতেও নগরবাসীকে জলজটে ভুগতে হয়নি।তিনি আরও বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।ডিএনসিসি মেয়র বলেন, নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের খোলা প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের খোলা পাত্র, ছাদ কিংবা অন্য কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।আতিকুল ইসলাম বলেন, 'মাস্ক আমার, সুরক্ষা সবার', কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে আমাদের প্রত্যেককেই সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ সরকারি নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্য বিধিসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।এ সময় ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব হাবিব হাসান বলেন, মেয়র যে কর্মসূচি দিয়েছেন আমি, কাউন্সিলরবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগেরকর্মীবৃন্দ সে অনুযায়ী কাজ করে যাবো।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান এবং স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকাই ছবির কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুজাতা গুরুতর অসুস্ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। তার হাসপাতালে ভর্তির খবর সমকালকে নিশ্চিত করেছেন সুজাতার নাতিফারদীন আজিম। তিনি বলেন,মঙ্গলবার বাসায় অবস্থা গুরুতর হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তাকে সিসিইউতে রাখেন চিকিৎকরা। এখনও সিসিইউতেই রয়েছেন। সকাল ১১টার দিকে চিকিৎকরা জানিছেন গতকাল রাতের চেয়ে এখন অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।' এদিকে হাসপাতালে শুরু থেকেই সুজাতার পাশে ছিলেনচিত্রসম্পাদক আবু মুসা দেবু। তিনি বলেন, ' গতরাতে সুজাতা ম্যাডামকে হাসপাতালে নিয়ে যাই আমরা। অবস্থা দেখে ডাক্তাররা তাকে সিসিইউতে রাখেন। সকালে জানালেন তার হার্ট গতকালের চেয়ে আজ ভালো কাজ করছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। ষাটের দশকে চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা সুজাতা। ১৯৬৩ সালে সালাউদ্দিন পরিচালিত 'ধারাপাত'র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। শুরুতে তার নাম ছিলো তন্দ্র মজুমদার। ধারাপাতের পরিচালক তার নাম পরির্তন করে রাখেন সুজাতা। বর্তমানে তিনি সুজাতা নামেই পরিচিত। সুজাতা অভিনীত 'রূপবান'তুমুল জনপ্রিয়তা পায় এই ছবিটিতে মাত্র ১২ বছর বয়সে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত অসংখ্য হিট চলচ্চিত্রের নায়িকা সুজাতা। মাঝে এক যুগেরও বেশি সময় দূরে ছিলেন বড় পর্দা থেকে। তবে ফের প্রাণের টানে ফিরেও এসেছেন অভিনয়ে। নায়িকা হিসেবে সুজাতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- 'রূপবান', 'ডাক বাবু', 'জরিনা সুন্দরী', 'অপরাজেয়', 'আগুন নিয়ে খেলা', 'কাঞ্চনমালা', 'আলিবাবা', 'বেঈমান', 'অনেক প্রেম অনেক জ্বালা', 'প্রতিনিধি' ইত্যাদি। ১৯৭৭ সালে সুজাতা নায়িকা হিসেবে সর্বশেষ রহিম নেওয়াজ পরিচালিত 'রাতের কলি' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৮ সালে 'অর্পণ' সিনেমা পরিচালনা করে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সুজাতা। ছোট পর্দায়ও অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে চআজীবন সম্মাননা।
2
ভোটারদের রায়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হতে পারেননি মৌসুমী। হেরে গেছেন মিশা সওদাগরের কাছে। হেরে গিয়ে কারো বিপক্ষে কোনো অভিযোগ জানাতে চান না। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ জামান শিমুল
2
গণতন্ত্রের সপক্ষের শক্তিকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বি চৌধুরী বলেন, 'ছলচাতুরীর নির্বাচন হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। এবারের সংগ্রাম হবে মানুষের অধিকারের সংগ্রাম। যারাই গণতন্ত্রের সপক্ষের শক্তি, তাদের জেগে উঠতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। প্রহসনের নির্বাচন আমরা মানব না। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এটাই হচ্ছে একমাত্র সংগ্রাম।' ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী সবার অংশগ্রহণের পুনরায় ভোটের ওয়াদা করে তা বরখেলাপ করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিকল্পধারার সভাপতি। তিনি বলেন, 'পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা আছে, ওয়াদার বরখেলাপকারী সত্যিকারের মুসলমান না।' মুসলিম লীগের উদ্দেশে বি চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে মুসলিম লীগের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করতে হবে। অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বি চৌধুরীদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, সবাইকে নিয়ে ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে এনডিএম বা মুসলিম লীগকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তিনি মুসলিম লীগকে আরও উদার রাজনীতি করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দেশ এখন দুটি জোটে বিভক্ত। কিন্তু যে জোটই ক্ষমতায় থাকে দখলের রাজনীতির পরিবর্তন হয় না। আধিপত্যবাদী আগ্রাসন থেকে দেশরক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে হওয়া এ কাউন্সিল থেকে নয়টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির শাহ আতাউল্লাহ, নেজামে ইসলাম পার্টির মুফতি ইজাহারুল ইসলামসহ মুসলিম লীগের বিভিন্ন জেলার নেতারা।
9
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে আজ সোমবার তিনি এ কথা জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৩৪ শতাংশ কাজ। প্রত্যাশিত কাজের চেয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ কাজ বেশি হয়েছে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম। আগামী বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে আমরা উদ্বোধন করতে পারব। এটা দেশের মধ্যে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে আমরা চাইব বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে। অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এখন হয়তো ভালো মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।'করোনা মহামারির সময়ও টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ ছিল না জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, 'করোনার কারণে সারা বিশ্বে প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি কাজে প্রতিবন্ধকতা ছিল। পৃথিবীর সমস্ত কাজ বন্ধ ছিল। তবে আমরা গর্ব করে বলতে পারি, তৃতীয় টার্মিনালের কাজ একদিনের জন্যও বন্ধ হতে দিই নাই। আমরা আমাদের বিমানবন্দরকে এমন ভাবে সাজাব, যাতে যেকোনো পর্যটক বা বিদেশি অতিথি দেশে আসলে অনুধাবন করতে পারে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র।'এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেক প্রমুখ।
6
কয়েক বছর পরেই মানুষ ভিআর হেডসেট পরে অফিস করবেন। বাসে ঝুলে ও হেঁটে আর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ভার্চুয়াল জগৎকে বাস্তবতার আরও কাছাকাছি আনবে মেটাভার্স দুনিয়া। ফলে মিটিং, প্রেজেন্টেশন ও অফিসের কাজ করতে জুম, মাইক্রোসফট টিমস ও টিম ভিউয়ার অ্যাপের প্রয়োজন হবে না। এগুলো হয়ে যাবে পুরোনো।প্রযুক্তি বিশ্বের পরিবর্তন যে খুব দ্রুত ঘটে, এ কথা ফেসবুকের চেয়ে ভালো আর কে জানে?জাকারবার্গ দূরদর্শী বলেই ঘরে বসেও ভার্চুয়াল মিটিং করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে আমাদের চলাফেরাও তত কমে যাবে। আপাতদৃষ্টিতে এর খারাপ দিক নেই। কিন্তু ফেসবুক যে কথা জানিয়েছে, তা ভ্রু জোড়াকে কুঁচকে দিচ্ছে। নিজেদের গায়ে লেগে থাকা কালি মুছতে তারা সাবান ব্যবহার করছে না; বরং তার ওপরে নতুন করে সাদা শার্ট চাপাচ্ছে। এতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। তারা এবারও ঘোষণা করেছে, নাম পরিবর্তন হলেও তাদের ব্যবসায়িক কৌশল বদলাচ্ছে না।সাধারণ এ কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই দশকের ভয়ংকরতম সত্য। গত বছরের জানুয়ারিতে ফেসবুকের ভেতরের অনেক গোপন কথা বেরিয়ে আসে 'দ্য সোশ্যাল ডিলেমা' নামের এক নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টরিতে।এই ডকুমেন্টরি এখন ইউটিউবেও আছে। দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করে দেখার পর সাময়িকভাবে ফেসবুককে এক দানব বলে মনে হবে। সিলিকন ভ্যালির নামীদামি প্রযুক্তিবিদেরা সেখানে জানিয়েছেন, বিবেকের দংশনে তাঁরা ফেসবুকের চাকরি ছেড়েছেন। কেন? ফেসবুকে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা সবাই কি অপেশাদার বা ব্যক্তি হিসেবে খারাপ? উত্তরে তাঁরা জানিয়েছেন, সেখানে একজনও খারাপ মানুষ নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়?সমস্যাটা কী তা ফেসবুকের নিউজফিডে আসা খবরের লিঙ্কের কমেন্ট বক্সে চোখ বোলালেই বুঝতে পারবেন। কত ঘৃণা! কত বিদ্বেষ! নিজের মতামত অন্যের ওপর চাপানোর তীব্র এক লড়াই সেখানে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না।এই ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং নিজের মতামতকেই সঠিক বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা তৈরির জন্য ফেসবুক দায়ী। হ্যাঁ, সরাসরি দায়টা তাদের ওপরেই যায়।ফেসবুকের প্রতিটি ব্যবহারকারীর একটি অবতার আছে। যে তথ্য ফেসবুক আমাদের সম্পর্কে নেয়, সেগুলোই ব্যবহার করে এই ভার্চুয়াল অবতার তৈরি করে। এই অবতারকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করে এনগেজমেন্ট, গ্রোথ ও অ্যাডভার্টাইজিং বিভাগের জন্য তৈরিকৃত তিন অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখার জন্যই এগুলো বানিয়েছে ফেসবুক।আপনার, আমার সম্পর্কে ফেসবুকের হাতে কী পরিমাণ তথ্য আছে, সে ধারণা কারও নেই।কোন পোস্টগুলো কতক্ষণ দেখছেন, সে তথ্যও ফেসবুকের এআইয়ের কাছে আছে। ফলে যে বিষয়গুলোতে আপনার অনেক আগ্রহ, সেসব বিষয় সম্পর্কিত পোস্টই ঘুরেফিরে নিউজফিডে আসবে। উসকানিমূলক ভিডিও দেখতে থাকলে বারবার সেগুলোই আসবে। এতে আবার ভেবে বসবেন না যে সবার নিউজফিড একই রকমের। আপনার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নিউজফিডেও যা আসে তা আপনারটা থেকে অনেকটাই আলাদা। যে তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে মরিয়া, সে কিন্তু উসকানিমূলক ভিডিওর পোস্ট সচরাচর দেখবে না। প্রত্যেকের রুচি ও পছন্দ অনুমান করতে পারে ফেসবুকের এআই। এআই শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করে একেকজনকে একেক রকম পোস্ট দেখায়। ভালো কিংবা মন্দ বিচারের ক্ষমতা এর নেই। ফলে মার্ক জাকারবার্গের এআই দিয়ে গুজব ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি যে ভুয়া, তা জোরেশোরেই বলেছেন প্রযুক্তিবিদেরা।কে কোনটা দেখবে, তা অনুমানের ওপর নির্ভর করেই চলে বিজ্ঞাপন-বাণিজ্য। ফেসবুক আপনাকে যত বেশি ধরে রাখবে, তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে। তেতো সত্যি হলো, বিজ্ঞাপনদাতারাই ফেসবুকের আসল গ্রাহক। তাদের খুশি করার জন্য ব্যবহারকারীদের পরীক্ষাগারের ইঁদুর তো বানানোই যায়। আয়ের এমন সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে নাকি!আপনার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তারা নজর রাখে। আপনি চুপচাপ নাকি বাচাল, হতাশ নাকি উচ্ছল, গভীর রাতে কী করেন, সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার ছবিতে ঢুঁ মারেন কি না, সে তথ্যও জানে এআই। তবে এই তথ্য বিক্রি করা ফেসবুকের উদ্দেশ্য নয়। এগুলো ব্যবহারে করে এআইকে আরও শক্তিশালী করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। এআই যত বেশি তথ্য পাবে অনুমান তত বেশি নির্ভুল হবে। ফেসবুক স্ক্রলের সময় প্রতি ৫টি বা ৬টি পোস্ট পর পর যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখেন সেগুলো হঠাৎ করে আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠে না। আনার পছন্দ, আগ্রহ ও রুচি জেনেই সেগুলোকে সামনে আনা হয়। ফলে এসব পোস্ট দেখতে দেখতে দিনের কত ঘণ্টা চলে যায় তা কেউ বুঝতেও পারে না। যেন কোনো ম্যাজিক আমাদের বুঁদ করে রেখেছে। ফেসবুকেরই এক কর্মী বাসায় এসে ফেসবুকে বেশি সময় দিতেন। ছোট ছোট দুই বাচ্চার সঙ্গে খেলার কথা মনে হলেও সেটা করা হয়ে উঠত না। অথচ ফেসবুকের এই 'ম্যাজিক স্পেল' সম্পর্কে তাঁর খুব ভালো ধারণা ছিল।ফেসবুকের সাবেক কিছু কর্মীর আশঙ্কা, মানুষ যেভাবে উগ্র হয়ে যাচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে দেশে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। এই আশঙ্কার খানিকটা যে সত্যি, তার প্রমাণ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। ভিআর সেট পরে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ, বিনোদনের সুযোগ, কেনাকাটা, অফিসের কাজ সবই অনেক সহজে হবে। অন্যদিকে, কোন বিষয়গুলো আরও কঠিন হবে, সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।আনিকা জীনাত, সহসম্পাদক আজকের পত্রিকা
6
মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকেচিঠি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, কেন তারা অভ্যুত্থান করেছেন। আজ শনিবার রাজধানীতে আর্মি স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, চিঠিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটিতে ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ১০ দশমিক ৪ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করা হয় এবং নির্বাচনে কারচুপির কারণেই সেনাবাহিনী ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
দেশের উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ ঘণ্টায় কুয়াশার সঙ্গে হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর উত্তরাঞ্চলসহ রাজধানীতে বাড়তে থাকবে শীতের প্রকোপ। সোমবার (০৭ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ পূর্বাভাস বলছে, উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও হালকা বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল বাতাস। এর ফলে ক্রমেই শীতের অনুভূতি বাড়ছে। সোমবারও উত্তরাঞ্চলে হালকা বৃষ্টি আর শীতল বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত থাকবে কুয়াশার দাপট। রবিবার নওগাঁর বদলগাছিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, একদিকে তাপমাত্রা কমে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে নিম্নচাপ। এর ফলে সমুদ্র থেকে আসা মেঘ আর উষ্ণ বাতাসের ফলে এখনো শীতের প্রকোপ বাড়েনি। এরই মধ্যে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে ভারতের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে। এটি বর্তমানে একটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবেই বাংলাদেশ ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, মঙ্গলবার থেকে মেঘ কেটে গিয়ে শীত বাড়তে পারে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আবারও আকাশ মেঘলা হয়ে শীত কমে আসতে পারে।
6
মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কেউ ভর্তি হয়নি। এটি পুরোপুরি গুজব বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ১০টায় বিএসএমএমইউয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে দুজন বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি হয়েছেন- সোমবার এমন একটি খবর ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ওই দিনই নিজ প্রতিষ্ঠানে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী ভর্তির বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, এমন কোনো রোগী তার হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। ভাইরাসটি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে শিগগিরই একটি সেমিনারের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। উপাচার্য বলেন, দেশে এখনও এই রোগের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। দেশের মানুষকে যে কোনো গুজব বা আতঙ্কজনক তথ্য এড়িয়ে চলার অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এই রোগ থেকে আমরা জাতিকে নিরাপদ রাখতে পারবো। সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা উপাচার্যের সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, 'বিএসএমএমইউয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে' বলে ফেসবুকে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে বিষয়টি সাংবাদিকরাই আমাদের নজরে এনেছেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করি। তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কাছে মৌখিক সহযোগিতা চাওয়া হয়। তাদের তড়িৎ পদক্ষেপে জানতে পারি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আসিফ ওয়াহিদ অর্কের বরাতে সংশ্লিষ্ট গুজব পোস্ট করা হয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেসেও মাঙ্কিপক্স রোগী ভর্তির কোনো তথ্য নেই।
4
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে অপহরণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক একেএম সুফিউল আনাম। ইয়েমেনের অ্যাডেনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগের ফিল্ড সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেশন অফিসার (হেড) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুফিউল আনামের অপহরণের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইংরেজি দৈনিক "দ্য ডেইলি স্টার"। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, সুফিউল আনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। সুফিউল আনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৯৭৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছেন। শনিবার ইয়েমেনের অ্যাডেনে কর্মরত ৫ জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে অপহরণের বিষয়টি জানায় আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স। গত শনিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মন্ত্রীসভার বরাতে দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, জাতিসংঘের অপহৃত কর্মীদের মুক্ত করার জন্য কাজ করছে সরকার। অপহৃতদের ভেতর ৪ জনই ইয়েমেনের নাগরিক বলেও জাতিসংঘ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনটিতে জানিয়েছে রয়টার্স।
6
শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে নেত্রকোনা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ১. পদের নাম পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। পদের সংখ্যা ১টি। চাকরির গ্রেড ১৬। বেতন স্কেল ৯, ৩০০-২২, ৪৯০ টাকা। শুধু পুরুষ প্রার্থীরা এই পদে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। ২. পদের নাম পরিবার কল্যাণ সহকারী। পদের সংখ্যা ৭০টি। চাকরির গ্রেড ১৭। বেতন স্কেল ৯, ০০০-২১, ৮০০ টাকা। শুধু নারী প্রার্থীরা এই পদে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। ৩. পদের নাম আয়া। পদের সংখ্যা ১১টি। চাকরির গ্রেড ২০। বেতন স্কেল ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা। শুধু নারী প্রার্থীরা এই পদে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয় দেশে। ১৮ মার্চে প্রথম মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে বন্ধ ছিল চাকরির অনেক নিয়োগ ও পরীক্ষা। তাই সরকার চাকরির আবেদনের বয়স কমিয়ে দেয়। গত বছরের ২৫ মার্চ যাঁদের ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে, সরকারি চাকরিতে তাঁদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে নেত্রকোণা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৫ মার্চে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা একই দিনে ৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ২ ও ৩ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা টেলিটক প্রি-পেইড মুঠোফোন সংযোগের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। (....)
1
টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপন-এ দুটোই মূলত দীপা খন্দকারের ঘরদোর। নাটক ও বিজ্ঞাপনে বহুদিনের পথচলা তাঁর। তবে বড় পর্দায় হাজির হতে সময় নিয়েছেন দুই দশকের বেশি। ২০১৮ সালে মুক্তি পায় দীপার প্রথম সিনেমা 'ভাইজান এল রে'। এতে শাকিব খানের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দীপা।নাটকে অভিনয় করে ভালোই ছিলেন। তাই সিনেমা নিয়ে খুব বেশি ভাবনা ছিল না দীপার। তবে গত কয়েক বছরে সিনেমার চিন্তাও মাথায় ঢুকেছে। বিশেষ করে 'ভাইজান এল রে' মুক্তির পর বড় পর্দায় অনেক কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন। বর্তমানে সিনেমায়ও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন দীপা। এরই মধ্যে শেষ করেছেন চারটি সিনেমার শুটিং।দীপা খন্দকার জানিয়েছেন, মো. ইকবালের 'রিভেঞ্জ', শহীদ রায়হানের 'মনোলোক', কামরুজ্জামান রোমানের 'মোনা' ও সাইফুল ইসলাম মান্নুর 'পায়ের ছাপ' সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি সিনেমাতেই তিনি থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। দীপা খন্দকার বলেন, 'সিনেমায় কাজ শুরু করার কারণে ব্যস্ততা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। নিয়মিত সিনেমার কাজ করলে সংসার, পরিবার, সন্তানকে সময় দেওয়া যায় না ঠিকমতো। তবে কাজ তো কাজই।'দীপা খন্দকার ভীষণ পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। পরিবারে সময় দিয়ে যতটুকু সুযোগ পান, হাজির হন ক্যামেরার সামনে। সন্তানদের কষ্ট হবে, এ চিন্তায় বেশি দূরে শুটিংয়ে যান না। দীপা বলেন, 'সংসার, সন্তানকে সময় দিয়েই কাজটা উপভোগ করতে চাই। কারণ, পরিবার সবার আগে। কাজ অবশ্যই বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাজই যদি সবকিছুর ঊর্ধ্বে হয়ে যায়, তখন পরিবার গুরুত্বহীন হয়ে যায়। সেটা আমি চাই না।'গত মা দিবসে একটি ডিটারজেন্ট লিকুইডের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিলেন দীপা। ইসরার আহমেদ আদনানের বানানো ওই বিজ্ঞাপনে দীপার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। দীপা বলেন, 'এ ধরনের গল্পনির্ভর বিজ্ঞাপনে কাজ করে আরাম পাই। শিল্পী হিসেবে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় এসব কাজে।'ঈদের লম্বা ছুটি কাটিয়ে গতকাল থেকে শুটিংয়ে ফিরেছেন দীপা। নিমা রহমানের পরিচালনায় 'গুলশান অ্যাভিনিউ সিজন টু' প্রচার হচ্ছে বাংলাভিশনে। এই নাটকেরই শুটিংয়ে গতকাল অংশ নিয়েছেন তিনি। একই চ্যানেলে ইসমত আরা শান্তির পরিচালনায় 'মেঘমালা' নামে দীপার নতুন একটি ধারাবাহিকের প্রচার শুরু হয়েছে।
6
নতুন বছর থেকে জিপিএ ৫ থাকছে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জিপিএ ৫-এর উন্মাদনা শিশুদের জীবনকে বিষিয়ে দিচ্ছে। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জিপিএ ৫ পেল কিনা, সেটি বড় করে না দেখে শিশু শিখল কিনা, তার জীবন আনন্দময় থাকল কিনা তা বড় করে দেখতে হবে সবাইকে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষাসহ সমাপনী পরীক্ষাগুলোর ফলে জিপিএ ৫ প্রাপ্তি নিয়ে মাতামাতি না করে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকশিত করতে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা যত কম জিপিএ ৫ নিয়ে কথা বলি, তত আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভালো। জিপিএ ৫-এর উন্মাদনা আমাদের শিশুদের শিক্ষাজীবনকে নিরানন্দময় তো করছেই, তার সঙ্গে বিষিয়ে দিচ্ছে। জিপিএ ৫ তো জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। পাবলিক পরীক্ষার বিষয় কমানোর প্রসঙ্গ তুলে দীপু মনি বলেন, আমরা কিছু বিষয় এখন ধারাবাহিক মূল্যায়নে নিয়ে এসেছি। একসময় ধারাবাহিক মূল্যায়নে বাচ্চারা সে কাজগুলো না করেই নম্বর পেয়ে যেত। এখন আর সে সুযোগ নেই। এখন বিষয়টি পাইলটিং হয়ে গেছে। বাচ্চারা তাদের প্রতিটি কাজ প্রতিদিন করতে হবে এবং শিক্ষকদের সেগুলো ডিজিটালি ইনপুট দিয়ে দিতে হবে। এখানে ভুল কিছু করার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা ছাড়া সমাপনী পরীক্ষাগুলোতে পুরো গ্রেডিং সিস্টেমটা তুলে দিয়ে কীভাবে মূল্যায়ন করতে পারি, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।
6
অপরাধ কমাতে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মেয়র এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বন্দুক আইন বদলের পরিকল্পনাও করছেন তিনি। তবে বাইডেনের পরিকল্পনায় খুশি নন রিপাবলিকানরা। বন্দুক আইন নিয়ে বাইডেনের ভাবনার সঙ্গে এখনো সহমত নন তারা। বুধবার মেয়রদের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন বাইডেন। সেখানে তিনি বলেন, অতিমারি নিয়ে লড়াই চলছে আমাদের। পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে গরমে ফের একবার করোনার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না। বাইডেনের বক্তব্য, সমস্যার উৎসে আঘাত হানতে হবে এবং তার জন্য কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তার মতে, আমেরিকায় বেআইনি অস্ত্র বিক্রির চক্র তৈরি হয়েছে এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র পাঁচ শতাংশ অস্ত্র ব্যবসায়ী গোটা আমেরিকাজুড়ে তাদের বেআইনি অস্ত্রের ব্যবসা চালাচ্ছে। ফলে এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কড়া অস্ত্র আইন তৈরি করা দরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরের মেয়রদের তিনি জানিয়েছেন, করোনার জন্য রাজ্যগুলিকে যে ফান্ড দেওয়া হয়েছিল, অপরাধপ্রবণতা বন্ধ করতে সে অর্থ তারা খরচ করতে পারে। রিপাবলিকানদের বিরোধিতা আমেরিকায় অস্ত্র আইন নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। ২০১২ সালে কানেকটিকাটের স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার পর থেকে একাধিকবার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওবামা প্রশাসনও কড়া আইন তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বার বার বাদ সেধেছে রিপাবলিকানরা। কড়া অস্ত্র আইন তৈরির বিরোধী তারা। বাইডেনের সঙ্গেও তারা সহমত নন। রিপাবলিকানদের বক্তব্য, পুলিশি ব্যবস্থা আরো ভালো করা দরকার। পুলিশের বাজেট বাড়ানো দরকার। তার মাধ্যমেই অপরাধ প্রবণতা কমানো যাবে। আলাদা করে অস্ত্র আইনের প্রয়োজন নেই। তবে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের সঙ্গে সহমত নন। এখন দেখার শেষপর্যন্ত বন্দুকের বিরুদ্ধে সত্যিই কোনো কড়া পদক্ষেপ বাইডেন প্রশাসন নিতে পারে কি না। সূত্র: ডয়েচে ভেলে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
কয়েক বছরের বন্দিদশার ফলে গ্রিসের সীমান্তবর্তী এজিয়ান সাগরের বিভিন্ন দ্বীপে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের মাঝে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে মানসিক বিষণ্ণতা। ইতোমধ্যে এদের কারও অবস্থা এতটা জটিল হয়ে উঠেছে যে, তারা মনে করছেন আত্মহত্যাই তাদের জীবনের একমাত্র সমাধান। সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। ছোট-বড় সব মিলিয়ে গ্রিসে প্রায় ৬ হাজারের মতো আইল্যান্ড রয়েছে, গ্রীষ্মকালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এসব আইল্যান্ডে বেড়াতে আসেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসে শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গ্রিসের সরকার অনেক শরণার্থীকে এসব দ্বীপে আশ্রয় দিয়েছেন। এছাড়াও কভিড-১৯ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ১৩০০ এর মতো রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নাগরিকদের গ্রিস সরকার এসব আইল্যান্ডে স্থানান্তরিত করে। গ্রিসে সব মিলিয়ে ৬ হাজারের মতো আইল্যান্ড থাকলেও মাত্র ২২৭টি আইল্যান্ডে জনবসতি রয়েছে, যাদের বেশিরভাগের অবস্থান দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় এজিয়ান সাগরে। এজিয়ান সাগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রিসের সঙ্গে প্রতিবেশি তুরস্কের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এজিয়ান সাগরে গ্রিসের মালিকানাধীন অনেক দ্বীপ রয়েছে যেগুলো গ্রিসের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে কিন্তু তুরস্কের মূল ভূ-খণ্ড থেকে সেগুলো কাছে। এ কারণে চাইলেও এসব দ্বীপের শরণার্থীদের অনেকে দ্বীপের বাইরে অন্য কোথাও যাতায়াত করতে পারেন না। এছাড়াও এসব শরণার্থী শিবিরে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা অপ্রতুল। শীতের আগমন যেন এসব ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের মাঝে বাড়তি দুর্ভোগ যোগ করেছে। ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশ হওয়ায় গ্রিসে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায়। পরিকল্পিত অবকাঠামো না থাকায় বৃষ্টিপাতেও অনেক শরণার্থী শিবির ভেসে যায়। গ্রিসের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস অনেকটা রক্ষণশীল এবং অতি ডানপন্থী মনোভাবের একজন রাজনীতিবিদ। যদিও বর্তমানে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রিসে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি কিন্তু শরণার্থীদের বিষয়ে কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস সরকারের অবস্থান একেবারে ঋণাত্মক। যদিও গ্রিস ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং একইসঙ্গে সেনজেনের সদস্য রাষ্ট্র তবে আক্ষরিক অর্থে গ্রিস সেনজেনভুক্ত অন্যান্য দেশের চেয়ে একেবারে বিচ্ছিন্ন। বর্তমানে গ্রিসে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। এছাড়াও বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের অনেক নাগরিকও দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটি অব পেচে অধ্যয়নরত এক গ্রিক শিক্ষার্থী জেঅ্যানে টিসাভদারি সমকালকে জানিয়েছেন, গ্রিক জাতির চিরন্তন রীতি হচ্ছে আতিথিপরায়ণতা। বাইরের দেশের কোনও নাগরিক যদি আমাদের দেশে আসেন তাহলে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে আমরা তাদের আপ্যায়নের চেষ্টা করি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা আমাদের এ চিরায়ত রীতি থেকে অনেকটা সরে আসতে বাধ্য হচ্ছি। বিশেষত বিভিন্ন দেশ থেকে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা আমাদের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ যোগ করছে। ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ের ঋণ সমস্যা আমাদের অর্থনীতিকে একেবারে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। শরণার্থী সমস্যা সমাধানে জেঅ্যানে কোটাভিত্তিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে শরণার্থী বন্টনের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চিরস্থায়ী শান্তিস্থাপনে কার্যকরি সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
4
গাইবান্ধায় সবকটি নদীর পানি দ্রুত কমতে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে বাড়িঘরে পানি থাকায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের শুকনো খাবার, জ্বালানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে গো-খাদ্যেরও তীব্র সংকট দেখা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমবার সকালে করোতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যার পানিতে গোাবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ভায়া ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক ডুবে থাকায় এই সড়কে ৭ দিন ধরে সব প্রকার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা পানিতে ডুবে থাকায় সেখানে ৮ দিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন কার্যালয় ও রেজিষ্ট্রি অফিসে পানি থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। বন্যার পানির তোড়ে গোবিন্দগঞ্জের বগলাগাড়ীতে করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন নুতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। জেলায় পঞ্চম দফা এই বন্যায় হাজার হাজার একর জমির আমন ধান, কলা, আখ এবং বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ.কে.এম ইদ্রিস আলী জানান, বন্যার্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ও শিশুখাদ্যর জন্য ৪৫ হাজার, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় পৌরসভায় ৮ টন চাল, ৩৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২৫ হাজার টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ৭৫ হাজার টাকা এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ২৫ মেট্রিকটন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যে জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিন উপজেলায় শুকনা খাবার ১ হাজার ৩০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
6
দেশে বর্তমানে দ্বৈত পাসপোর্টধারী নাগরিকের (দুই দেশের) সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি একজনকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। হাইকোর্টকে ইমিগ্রেশন পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন অনুসারে দেশপ্রতি দ্বৈত নাগরিকদের সংখ্যা- আমেরিকায় ১০ হাজার ৭৭৪ জন, আফগানিস্তানে ৯ জন, আলজেরিয়ায় ১ জন, এন্টিগুয়া ৫ জন, অস্ট্রেলিয়া ১৭৮ জন, অস্ট্রিয়ায় ৭ জন, বাহামিয়ান ১ জন, বাহরাইন ২ জন, বারবাডিয়ান ১ জন, বেলজিয়াম ২১ জন, ভুটান ২ জন, বলিভিয়া ১ জন, বসনিয়া ১ জন, ব্রাজেলিয়ান ২ জন, ইংল্যান্ড ৫৬৮ জন, ব্রুনাই ২ জন, বুলগেরিয়া ১ জন, কানাডা ৩৮৯ জন, কম্বোডিয়া ২ জন, চিলি ১ জন, চায়না ১৭৭ জন, ডেনমার্ক ৫ জন, জিবুতি ১ জন, ডমিনিকান ৩ জন, ডাচ ১২ জন, পূর্ব টিমর্স ১ জন, মিশর ১১ জন, সাইপ্রাস ২ জন, ফারো দ্বীপপুঞ্জ ১ জন, ফিলিপাইন ৪০ জন, ফিন্স ২১ জন, ফ্রান্স ২১ জন, জার্মান ২৩৮ জন, গ্রীক ৩ জন, হংকং ১৫ জন, ভারতে ৬১৭ জন, ইন্দোনেশিয়া ৪০ জন, ইরান ৭ জন, ইরাক ৭ জন, আইরিশ ১১ জন, ইতালি ১১৭ জন, জাপান ৬৬ জন, জর্ডান ১ জন, কেনিয়া ৩ জন, উত্তর কোরিয়া ১ জন, দক্ষিণ কোরিয়া ৪১ জন, কুয়েত ২ জন এবং কিরগিজ ২ জন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
টাইব্রেকারে শেষ শটটি নিতে যাচ্ছেন বুকোয়া সাকা। লড়াইটা তখন শুধু ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইগি দোনারুম্মা ও সাকার মাঝে। ইতালির অধিনায়ক জর্জিও কিয়েল্লিনি তখনই দাবার বোর্ডে নতুন চাল দিলেন। সাকার উদ্দেশে 'অভিশাপ' দিয়ে চিৎকার করে বললেন 'কিরিকোচো'! মনে হতে পারে এ আবার কেমন অভিশাপ? কিন্তু এই অভিশাপেই কি না কে জানে, পেনাল্টি ঠিকই মিস করেছেন সাকা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরোর ফাইনাল জিতে নিয়েছে ইতালি। অভিশাপ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কিয়েল্লিনি নিজেও।এরপর থেকে আলোচনায় 'কিরিকোচো'। এটি ফুটবলীয় একটি অভিশাপ, যা কি না ফুটবলাররা কয়েক দশক ধরে প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্য কামনায় বলে থাকেন। হতে পারে এটি কুসংস্কার। কিন্তু মানসিকভাবে এগুলো নিশ্চয় খেলোয়াড়দের মাঝে প্রভাব ফেলে। সাকার মধ্যেও নিশ্চয় ফেলেছিল। কিরিকোচো মূলত মানুষের নাম। যাঁর পুরো নাম জুয়ান কার্লোস কিরিকোচো। ফুটবলভক্ত কিরিকোচোর অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার গল্পটি বেশ অদ্ভুত। তিনি ছিলেন '৮০ দশকে আর্জেন্টাইন ক্লাব এস্তোদিয়ান্তেস দা লা প্লাটার একজন পাঁড় সমর্থক।প্লাটার এই ভক্ত ক্লাবের অনুশীলন দেখতেও হাজির হয়ে যেতেন। কিন্তু ক্লাবের কোচ কার্লোস বিলার্দো এক সময় লক্ষ করলেন, কিরিকোচো মাঠে এলেই তাঁর দলের খেলোয়াড়েরা অদ্ভুতভাবে চোটে পড়ে। কিরিকোচোকে এরপর বিলার্দো ডেকে বলেন সে যেন প্রতিপক্ষের অনুশীলনের সময়ও মাঠে গিয়ে উপস্থিত থাকে। যাতে কিরিকোচো তাঁর 'অলৌকিক' শক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ক্ষতিসাধন করতে পারে! বিলার্দো পরে বলেছিলেন, 'কিরিকোচো তখন থেকেই সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিল। ১৯৮২ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমরা তাঁকে মাসকট হিসেবে গ্রহণ করি।'এরপর থেকেই কিরিকোচোর এই রহস্যময় ঘটনা ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এখন খেলোয়াড়েরা নিয়মিত এই শব্দটি ব্যবহার করেন প্রতিপক্ষকে অভিশাপ দিতে ও মানসিক চাপে ফেলতে।
12
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে প্রচারযুদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে মাসব্যাপী এক পরিবর্তনযাত্রার আয়োজন করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনযাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু করা হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এই পরিবর্তনযাত্রা শুরু করা হবে রাজ্যের পাঁচটি স্থান থেকে। উদ্বোধনী যাত্রা শুরু হবে নদীয়ার নবদ্বীপ থেকে। ওই যাত্রার সূচনা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বাকি যাত্রাগুলো শুরু হবে কোচবিহার, কাকদ্বীপ, ঝাড়গ্রাম ও তারাপীঠ থেকে। ৯ ফেব্রুয়ারি তারাপীঠ থেকে দ্বিতীয় পরিবর্তনযাত্রা এবং ঝাড়গ্রাম থেকে তৃতীয় পরিবর্তনযাত্রার সূচনাও করবেন জে পি নাড্ডাই। ১১ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ পরিবর্তনযাত্রা কোচবিহার থেকে সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর কাকদ্বীপ থেকে শেষ পরিবর্তনযাত্রা বেরোবে। তবে এই শেষ পরিবর্তনযাত্রার উদ্বোধন কে করবেন, তা এখনো বিজেপির তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিটি পরিবর্তনযাত্রা ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে চলবে। একেকটি পরিবর্তনযাত্রা ৫০ থেকে ৬০টি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে যাবে। এক মাস ধরে এই পরিবর্তনযাত্রা চলার পর শেষের দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভা হবে। আর সেই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই পরিবর্তনযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রতিটি যানবাহনকে রথের আদলে সাজানো হবে। থাকবেন তাতে বিজেপির নেতারা। এদিকে এই পরিবর্তনযাত্রাকে বন্ধ করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেছেন হাইকোর্টের আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। তারঁ দাবি, এই রথযাত্রা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। তাই এই রথযাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হোক। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে হওয়া এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি এই সপ্তাহেই হতে পারে। এপ্রিলে এই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে প্রচারের জন্য মাঠে নেমেছে রাজ্যের দুই শক্তিশালী দল তৃণমূল, বিজেপিসহ কংগ্রেস ও বাম দল। চলছে পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জের প্রচার, সঙ্গে জয়ের লক্ষ্যে সব দলের প্রত্যয় ঘোষণা।
3
বিএনপির চলমান বৈঠকের দ্বিতীয় দিনেও ঘুরেফিরে অগ্রাধিকার পেয়েছে আন্দোলন। তবে আগের দিনের তুলনায় এ বৈঠক একটু বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী দিনের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়োগের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ঝুঁকি নেওয়ার তাগিদ আসে বৈঠকে। পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন বক্তারা।গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে অংশ নেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসম্পাদকেরা। যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও অনেকে অংশ নেন।বৈঠকের শেষ ভাগে তারেক রহমানের উদ্দেশে নেতারা বলেন, আপনি আমাদের নেতা। আপনি যদিবলেন কোনো নির্বাচন চাই না। কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।দুর্বার আন্দোলন হবে। সেই আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হবে।বৈঠকে ক্ষোভ নিয়ে অংশগ্রহণকারী এক নেতা বলেন, 'এখানে মিটিংয়ে অনেকে অনেক বড়-বড় কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা যদি ২০ জন নেতা-কর্মী নিয়েও মাঠে নামেন, তাহলে এই সরকারের পতন অনিবার্য। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর বিকল্প নেই।'দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে এক বক্তা বলেন, 'আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। যিনি তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রেখেছেন, যে সরকার তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে, সেই অবৈধ সরকারের কাছেই আমরা তাঁর মুক্তি চাই।'দলের দুরবস্থার ইঙ্গিত করে আরেক নেতা বলেন, 'আমাদের এই দুরবস্থা কেন? বিএনপির জনসভা, সমাবেশের একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। অথচ এখন আমাদের জনসভা আর সমাবেশ প্রেসক্লাব আর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সীমাবদ্ধ। আমাদের পাড়া মহল্লায় কোনো রাজনীতির চর্চা নেই। যার বাসা মোহাম্মদপুরে, তিনি থাকেন উত্তরায়। যার বাসা কাঁঠালবাগান, সে থাকে মহাখালীতে। তাহলে কীভাবে আন্দোলন হবে?দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ নীতি নির্ধারকদের কাছে বেশ কিছু আরজি জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ সম্পাদকেরা। তাঁদের দাবি দলকে আন্দোলনমুখী করতে এবার কঠোর মূল্যায়ন করতে হবে। আন্দোলনের মাঠে পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে।আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির এই ধারাবাহিক বৈঠক শেষ হবে।
9
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি দলের লোকদের চাকরি প্রদান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় গবেষণা, নীতি প্রণয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে কি করতে? আবরার ফাহাদের মতো প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলতে? শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুক্তা বাড়ৈ, সদস্য সচিব শোভন রহমান প্রমুখ। সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে আজ বাংলাদেশের অর্জনগুলোর মোহমুক্ত পর্যালোচনার কোনো পথ সরকার খোলা রাখেনি। বর্তমানে সরকারের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকঢোল পিটিয়ে তার জয়গান গাওয়া এবং বন্দনা ছাড়া ভিন্ন কোনো কথা বললে তার ওপর খড়্গহস্ত হওয়া। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় ক্রমান্বয়ে আকাশচুম্বী হচ্ছে। শাসক গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেন, দেশের মন্ত্রী, এমপিরা কথায় কথায় বলেন বাংলাদেশ ইউরোপ, আমেরিকার মতো উন্নত হয়ে যাচ্ছে। অথচ সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থার কথা তারা সামনে আনতে চান না। যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম সংখ্যক স্কুল বাদে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব স্কুল পাবলিক এডুকেশন সিস্টেমের অন্তর্গত। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পরিবহনের জন্য তাদের আলাদা বাস সার্ভিসও আছে। অথচ আমাদের সরকার হাফ ভাড়াও কার্যকর করতে নারাজ। বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে। রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্ভাবনী ও গবেষণামূলক কাজকে নিরুৎসাহিত করা হয়, বরাদ্দ শূন্যের কোঠায়। প্রযুক্তি বিদেশ থেকে কিনে আনাতেই তাদের লাভ, এতে লুটপাটের মহোৎসব বজায় রাখা যায়। রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যতগুলো শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে, সবগুলোতে একই কথা লেখা আছে, শুধু মোড়ক পাল্টেছে। কথাটি হচ্ছে, শিক্ষাকে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যাও। টাকা না থাকলে শিক্ষা নয়। আজ শিক্ষার নামে যা চলছে, তা হলো বাণিজ্য।
6
টেক্সাসের রব এলিমেন্টারি স্কুলে নির্বিচার গুলির ঘটনায় নিহতদের একজন ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষক ইরমা গার্সিয়া, সেই শোক সইতে পারলেন না তার স্বামী জো; দুদিন পর চিরতরে থেমে গেল তার হৃদযন্ত্র। স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, 'হার্ট অ্যাটাক' হয়েছিল জো গার্সিয়ার। বৃহস্পতিবার এক টুইটে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন ইরমার ভাইপো জন মার্টিনেজ। টুইটে তিনি লিখেছেন, স্ত্রীকে হারানোর কষ্টই জো গার্সিয়ার মৃত্যু ডেকে এনেছে। এই শোক প্রকাশের ভাষা তাদের নেই। টেক্সাসের ইউভালডে শহরের ওই স্কুলে ইরমা গার্সিয়া শিক্ষকতা করে আসছিলেন ২৩ বছর ধরে। গত মঙ্গলবার সেমি অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে ওই স্কুলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় ১৮ বছরের এক তরুণ, তাতে খুন হয় ১৯ শিক্ষার্থী। ইরমা গার্সিয়া ছাড়াও আরেক শিক্ষকের প্রাণ যায় ওই ঘটনায়। জন মার্টিনেজ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তার ফুপুর মৃতদেহ যখন খুঁজে পাওয়া গেল, দেখা গেল তখনও স্কুলের বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে আছেন। তাতে মনে হয়েছে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে গেছেন। ইরমা আর জো গার্সিয়ার দুই যুগের সংসার। এই দম্পতি চার সন্তান রেখে গেলেন, যাদের বয়স ১২ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। স্কুলে গুলির ওই ঘটনায় নিহত অন্য শিক্ষকের নাম ইভা মিরেলেস। ইরমা ও ইভা গত পাঁচ বছর এক সঙ্গে কাজ করেছেন। টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিও শহর থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ওই স্কুলের ৫০০ শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই হিসপানিক ভাষাগোষ্ঠীর। সেখানে মূলত দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়, যাদের বয়স ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।
5
জনসমাগমস্থল এবং গণপরিবহনে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর যৌন হয়রানি এবং সহিংসতা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, জনসমাগমস্থলে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর হয়রানি বন্ধে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালাগুলো যথেষ্ট নয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ জনসমাগমস্থলে নারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত, সম্মিলিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডিইসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই), তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ইয়াং বাংলা, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানবাধিকার কর্মসূচি এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।সভায় বক্তারা বলেন, জনসমাগমস্থল ও চলার পথকে নারীদের জন্য নিরাপদ করতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি রোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। একজন নারীর নিরাপত্তা ও চলার পথকে মসৃণ করতে হলে অবশ্যই তাঁর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনসহ তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা দরকার।তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সবক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার এবং চলাফেরার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ অনুযায়ী শ্রমবাজার ও কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকারসহ সব ধরনের জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে জনসমাগমস্থলে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর হয়রানি বন্ধে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালাগুলো যথেষ্ট নয়।ডিইসি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী সোমেন কানুনগো বলেন, 'গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি বন্ধে বাসগুলোর ভেতরে গাড়ির নম্বর নিশ্চিত করতে হবে। কেউ হয়রানির শিকার হলে দ্রুত নম্বর দেখে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারবে।'
6
বগুড়ার শিবগঞ্জে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম (৫০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে আজ শনিবার সকালে শিবগঞ্জ থানায় এই হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ইয়াকুব আলীসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও চার থেকে পাঁচজনকে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শ্রমিক লীগের সমর্থক ও শহিদুলের শ্যালক আমিরুল ইসলাম এবং ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমিরুল ও তারিকুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শহিদুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার বেলাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিএনপির কিচক বন্দর শাখা ও কিচক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আন্তজেলা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কিচক বন্দর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আন্তজেলা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কিচক বন্দর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে শহিদুলকে সরিয়ে দিয়ে ৫ নম্বর আসামি মোসলেম উদ্দিনকে চেয়ারে বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন ১ নম্বর আসামি ইয়াকুব আলী খাঁ ও ২ নম্বর আসামি আবু সাঈদ। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুলের সংগঠন থেকে পাওয়া দৈনিক ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি কিচক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হন। এর জেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে আসেন আসামিরা। তাঁরা শহিদুলকে পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পদ ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ইয়াকুব আলীর নির্দেশে আবু সাঈদ শহিদুলকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন। অন্য আসামিরা মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাহত শহিদুলকে সেখানে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শহিদুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
6
বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস স্বাক্ষরিত ৭১ সদস্যের কমিটি গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘোষণা হয়।দলীয় কার্যালয়ে এ নতুন কমিটির ঘোষণা করা হয়। এইচ এম জয়নাল আবেদীনকে সভাপতি, জেলা পরিষদের সদস্য রাজু আহম্মেদ হারুন, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুননাহার মেরীসহ ৯ জনকে সহসভাপতি, মো. হারিছুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মোট ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
6
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারতেই কোভিড ভ্যাক্সিনের জন্য সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিশিল্ডের ঘাটতি পড়েছিল আগেই। বুধবার (১২ মে) রাজধানী দিল্লির সরকারও অভিযোগ করেছে কোভ্যাক্সিনের নির্মাতা ভারত বায়োটেকও তাদের নতুন করে আর টিকা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে শতাধিক ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার এর ফলে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। খবর বিবিসির। রাজধানী দিল্লি ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তেই টিকা-প্রত্যাশীরা অ্যাপে বুকিং পাচ্ছেন না, টিকাকেন্দ্রে গিয়েও তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে বা চূড়ান্ত নাকাল হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। গত ১৬ জানুয়ারি ভারতে মহাধূমধামে যে বিশাল টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছিল, একশো দিন যেতে না-যেতেই সেই কর্মসূচি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রথম দু-আড়াই মাসে ভারত প্রায় সত্তরটি দেশে সাড়ে ছয় কোটির মতো ভ্যাক্সিন রফতানিও করেছিল, কিন্তু তা বন্ধ করার পরও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও এখন কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। ভ্যাক্সিন সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে কার্যত প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেছে। আর এরই মধ্যে দিল্লির আম আদমি পার্টির সরকার আজ অভিযোগ করেছে কেন্দ্রের নির্দেশেই ভারত বায়োটেক তাদের কোভ্যাক্সিন পাঠাতে অস্বীকার করেছে। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিশোদিয়া এদিন জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, কোভ্যাক্সিনের নির্মাতা সংস্থা আমাদের চিঠি লিখে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে তারা দিল্লিকে টিকা দিতে পারবে না। কারণ তাদের কাছে দেওয়ার মতো না কি কোনও টিকাই নেই। মি শিশোদিয়া আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারাই এই টিকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন আর তাদের বিমাতৃসুলভ আচরণের কারণেই দিল্লিতে কোভ্যাক্সিনের শতাধিক টিকাকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। অ্যাপে বুকিং পাওয়ার পরও সেন্টার কেন বন্ধ? মুম্বাইয়ের একটি টিকাকেন্দ্রে এসে কৈফিয়ত চাইছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা ঘন্টাখানেকের মধ্যেই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ক্ষমতাসীন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র দাবি করেন, টিকার জোগান বাড়ানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে - এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে এখন টিকার ফর্মুলা দিয়ে টিকা বানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মি পাত্র জানান, মহারাষ্ট্রের হ্যাফকিন বায়োফার্মা, ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যাল লিমিটেড, ভারত ইমিউনোলজিক্যালস এরকম তিন-চারটি সরকারি সংস্থাকে কেন্দ্র কোভ্যাক্সিন বানানোর নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিএমআর ও নানা সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে, বলছে তোমরা আমাদের কাছ থেকে ফর্মুলা নাও, টিকা বানাও! টিকার জোগান নিয়ে বিজেপি রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানালেও টিকা পেতে সাধারণ নাগরিকরা যে নাজেহাল হচ্ছেন, তাতে কিন্তু কোনও ভুল নেই। কোউইন নামে যে সরকারি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে টিকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার কথা সেখানেও স্লট মিলছে না। সকাল পৌনে ছটার সময় টিকাকেন্দ্রে পৌঁছেও তিনি শোনেন, সর্বোচ্চ যে ১৩০জনকে সেদিন টিকা দেওয়া যাবে তাদের সবার নাম না কি লেখা হয়ে গেছে - তার আর সেদিন সুযোগ মিলবে না। টিকাকরণ অভিযানের অঙ্কগুলো কষার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেবে ও পরিকল্পনায় যে মারাত্মক ভুল হয়েছিল, সেটা ভারতে আজ দিনের মতো স্পষ্ট। তার মধ্যে প্রথম দিকে বাংলাদেশ-সহ সত্তরটি দেশে টিকা পাঠিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলা হয়েছে, দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকারসহ অনেকেই এই অভিযোগ এখন বারেবারে তুলছেন।
6
কৃষিকে দারিদ্র্যমোচনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, শিক্ষিত তরুণরা কৃষিখাতে নানা উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এ খাত আধুনিক হলে গ্রামীণ মানুষের দারিদ্র্য আরও হ্রাস পাবে, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে আরটিভি আয়োজিত 'আরটিভি কৃষি পদক ২০২১' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এতে অন্যদের মধ্যে আরটিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এমপি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান বক্তব্য রাখেন। প্রথম বারের মতো 'আরটিভি কৃষি পদক ২০২১' পেয়েছেন আট ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান। সেরা কৃষক হয়েছেন বান্দরবনের ফলচাষি তোয়ো ম্রো ও সেরা কৃষাণি হয়েছেন কক্সবাজারের কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী লাকী শর্মা। ফরিদপুরের সাবিনা ইয়াসমিন সেরা খামারি (গরু, ছাগল, মহিষ), সিলেটের ইমরান হোসাইন সেরা খামারি (পোল্ট্রি) ও চাঁদপুরের সোহেল বেপারী সেরা খামারি (মৎস্য) ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন। সেরা উদ্যান চাষি হয়েছেন সাতক্ষীরার শেখ আব্দুল জলিল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ রহিমকে দেওয়া হয়েছে আজীবন সম্মাননা। সেরা কৃষি উদ্ভাবন (প্রতিষ্ঠান) হিসেবে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। সাতক্ষীরার সাইফুল্লাহ গাজী রঙিন মাছ চাষি হিসেবে সেরা কৃষি উদ্যোক্তা (ব্যক্তি) ও ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) সেরা কৃষি উদ্যোগ (প্রতিষ্ঠান) ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে।
6
কারও হাতে রং-তুলি, কারও হাতে রঙের জার। সবার পরনে সাদা গেঞ্জি। গভীর মনোযোগে সড়কে তারা আলপনা এঁকে চলেছেন। এ দৃশ্য গাইবান্ধা-সাঘাটা-ফুলছড়ি সড়কে। ২৪ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার সড়কে আলপনা এঁকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে চান তারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হয়ে এই আলপনা আঁকা শেষ হবে শুক্রবার দুপুর ২টায়।দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়ূয়া গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের সংগঠন পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব গাইবান্ধা (পুসাগ) এ উদ্যোগ নেয়। অঙ্কনের কাজে অংশ নেওয়া গাইবান্ধা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিকেতন চৌহান মুগ্ধ বলেন, পুসাগের বড় ভাইয়াদের আমন্ত্রণে আমরা নিজেদের ভালো একটি কাজে শরিক করতে পেরে গর্বিত মনে করছি। গাইবান্ধার চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট রেজাউল আমিন আনিছ বলেন, গিনেস বুকে স্থান পাওয়ার মতো দুঃসাহসিক কাজ করছে পুগাসের সদস্যরা, যা বাংলাদেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। তিনি বলেন, যতদূর জানা যায়, সর্বোচ্চ সাড়ে সাড়ে চার কিলোমিটার আলপনা অঙ্কনের রেকর্ড রয়েছে। তিনি পরিকল্পনাকারী ও আয়োজকদের এ ধরনের সৃজনশীল কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। উদ্যোক্তা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক একে প্রামাণিক পার্থ, নির্বাহী সভাপতি ডা. তন্ময় নন্দী আশা করছেন তারা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে গাইবান্ধা জেলার নামটি সংযুক্ত করতে সক্ষম হবেন। সংগঠনের সভাপতি হুসেইন মো. জীম বলেন, ১০টি পয়েন্টে ১২শ শিক্ষার্থী একযোগে অঙ্কন কাজে অংশ নিয়েছে। তাদের নিরাপত্তাসহ স্বাস্থ্যসেবার জন্য পুলিশ ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষকে সারা বিশ্বে স্মরণীয় করে রাখতেই ১০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এই বর্ণিল নান্দনিক আলপনা অঙ্কনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
6
দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। রবিবার (১৭ অক্টোবর) কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ন্যাম ইয়ং শিনের আমন্ত্রণে সিউলে অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল এরোস্পেস এন্ড ডিফেন্স এক্সিবিশনেঅংশগ্রহণ করবেন সেনাবাহিনী প্রধান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। সাক্ষাতকালে তিনি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সফর শেষে আগামী ২৩ অক্টোবর সেনাবাহিনী প্রধান দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
6
করোনা প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে ৬৪ জন সচিবকে জেলা ভাগ করে দায়িত্ব বন্টন করতে জরুরি নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই আদেশ জারি করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবরা সমন্বয় কাজে তার মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দফতর/সংস্থার উপযুক্তসংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, নিয়োগ করা কর্মকর্তারা জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়সাধন করে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার কাজ তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ করবেন। 'জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করবেন।' এতে আরও বলা হয়, সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যা/চ্যালেঞ্জ অথবা অন্যবিধ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দফতর/সংস্থাকে লিখিতভাবে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নিয়মিত অবহিত করবেন। এর আগে সকালে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সচিববৃন্দ রয়েছেন, যেহেতু এখন মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো অনেকটা সীমিত হয়ে গেছে, তাই একেকটা জেলায় একেকজন সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছি, ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা, তারা সে সব জেলায় খোঁজ-খবর নেবেন এবং সেই রিপোর্টটা আমাকে দেবেন। এরপর বিকেলে সচিবদের দায়িত্ব দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
'বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন' এ স্লোগানকে সামনে রেখে শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালাপুরের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে ৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা হয়। খবর আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের পাঠানো।শেরপুর: শেরপুরে গতকাল জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি হয়েছে। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন।শ্রীবরদী : শেরপুরের শ্রীবরদীতে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় দপ্তর এ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার। বক্তব্য রাখেন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনেওয়াজ নোমান প্রমুখ।নকলা : শেরপুরের নকলায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় দপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন। মেলান্দহ : মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে মির্জা আজম অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন-মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুজ্জামান প্রমুখ।সরিষাবাড়ী : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সমবায়ী সংগঠক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপমা ফারিসা সভায় সভাপতিত্ব করেন। বারহাট্টা : নেত্রকোনার বারহাট্টায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা সমবায় অফিসার আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক।দুর্গাপুর : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা প্রশাসন, সমবায় বিভাগ ও স্থানীয় সমবায় সমিতির সদস্যদের আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান।
6
'পপগুরু' আজম খানের জন্মদিন আজ। বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের পথিকৃৎআজম খানের জন্ম ১৯৫০ সালের এই দিনে। আজম খানের সংগীত জীবনের শুরু ষাটের দশকের একেবারে গোড়াতে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি 'ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী'র সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করেন। মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন আজম খান। ১৯৭১ সালের পর গড়ে তোলেন ব্যান্ডদল 'উচ্চারণ'। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বিটিভিতে আজম খানের 'এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে' ও 'চার কালেমা সাক্ষী দেবে' গান দুটি সরাসরি প্রচারিত হলে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৭৪ সালে বিটিভিতে 'বাংলাদেশ' গান গেয়ে সারা দেশে হৈচৈ ফেলে দেন। ২০১১ সালের ৫ জুন সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান আজম খান।
2
রাজশাহী: করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ই দেশে ভারত থেকে সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসে। ওই টিকা থেকে সবচেয়ে কম পেয়েছে রাজশাহী অঞ্চল। এখন করোনার ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ অঞ্চলকে খেসারত দিতে হচ্ছে।তবে যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁরা ভালো আছেন। কেউ কেউ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও সংক্রমিত হলেও খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েননি। বাড়িতে আইসোলেশনেই তাঁরা করোনামুক্ত হচ্ছেন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর রাজশাহী জেলায় শুধু একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, রাজশাহী জেলা সেরামের ১ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা পেয়েছিল। এরপর ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৪ জন টিকার প্রথম ডোজ নেন। নির্দিষ্ট সময় পর ৮১ হাজার ৬৪০ জন দ্বিতীয় ডোজও গ্রহণ করেন। কিন্তু মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ৫২ হাজার ১৩৪ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। গত ১৯ মে প্রথম দফার গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন কিছু টিকা এলেও তা শুধু মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছেন।স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, সবচেয়ে কম টিকা পেয়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। রাজশাহী জেলায় ২ দশমিক ৭৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শূন্য দশমিক ৯৯, নওগাঁয় ২ ও নাটোরে শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। বিভাগের অন্য চার জেলায়ও টিকা প্রয়োগের হার ১ শতাংশের কম। সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ টিকা পেয়েছেন ঢাকার মানুষ।সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে করোনার ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিভাগে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. চিন্ময় কান্তি দাস মনে করেন, প্রথম দফায় গণটিকা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে রাজশাহী অঞ্চলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এতটা বিধ্বংসী হতো না। তিনি বলেন, 'প্রথম দফায় যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁরা অনেক ভালো আছেন। সংক্রমণ নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কিছু মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিয়েও আক্রান্ত হয়েছেন।'রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন ২৫২ জন চিকিৎসক। এ ছাড়া ৫৮০ জন নার্স এবং অন্যান্য ১৫২ জন চিকিৎসাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন করোনা ইউনিটে। এ পর্যন্ত ১২৩ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২০ জনই আক্রান্ত হয়েছেন করোনার প্রথম ঢেউয়ে। হাসপাতালের কিছু নারী চিকিৎসক ছাড়া সবাই টিকা নিয়েছেন। তারপর মাত্র তিনজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এদিকে করোনার প্রথম ঢেউয়ে রামেক হাসপাতালের ২৬৭ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ পর্যন্ত ৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গর্ভবতী থাকা কিংবা অন্যান্য কারণে যাঁরা টিকা নিতে পারেননি, তাঁরাই এবার আক্রান্ত হয়েছেন। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর হাসপাতালের মাত্র ছয়জন চিকিৎসাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথম ঢেউয়ে এ সংখ্যা ছিল ১০১ জন।রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, 'অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কাজ করেছে। টিকা নেওয়ার পর চিকিৎসক-নার্সরা অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। সেটা করোনার দুই ঢেউ তুলনা করলেই বোঝা যায়। টিকার কার্যকারিতা শতভাগের কাছাকাছি। এই টিকা চিকিৎসক, নার্সদের মনোবলও শক্ত রেখেছে।' তিনি আরও বলেন, 'টিকা নেওয়ার পরও যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের উপসর্গ কম। কয়েক দিন পরই তাঁরা করোনামুক্ত হচ্ছেন। অথচ এই টিকা নিয়ে মানুষের মনে কত ভয় ছিল। অনেকে তো ইচ্ছাকৃতভাবেই টিকা নেননি। তাঁরা এখন টিকা খুঁজছেন। না পেয়ে পস্তাচ্ছেন।'টিকা নিয়ে ভীতি দূর করতে রাজশাহীতে প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। দ্বিতীয় ডোজও নিয়েছিলেন সবার আগে। কিন্তু পরে তিনি করোনা পজিটিভ হন। দুই ডোজ টিকা নিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারও আক্রান্ত হন। ফজলে হোসেন বাদশা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর শারীরিক তেমন জটিলতা ছিল না। আর ডাবলু সরকার বাসায় আইসোলেশনে থেকেই করোনামুক্ত হয়েছেন। টিকা নেওয়ার কারণে বড় কোনো সমস্যা হয়নি বলে তাঁরা মনে করেন।দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর রাজশাহীতে মাত্র একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁর নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাসিন্দা ছিলেন। গোলাম মোস্তফার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, গোলাম মোস্তফা করোনায় আক্রান্ত হলে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল ৯ দিন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাঁকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম মোস্তফা মারা গেছেন। তবে রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয় গোলাম মোস্তফার বিষয়টি ২৫ জুন পর্যন্ত জানে না।অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কতটা কার্যকর তা নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত কোনো গবেষণা হয়নি। কোনো ফলাফলও প্রকাশ হয়নি। তবে এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে আইইডিসিআর। মাঠপর্যায়ে আইইডিসিআরের একজন কর্মকর্তা রাজশাহীতেও তথ্য সংগ্রহ করছেন। জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। কারোরই তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে তথ্য মিলেছে তাতে টিকার কার্যকারিতা খুব ভালো বলছেন তাঁরা।নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআরের তথ্য সংগ্রহকারী ওই কর্মকর্তা বলেন, 'টিকার রেজাল্ট খুব ভালো। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর রাজশাহীতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা এক শর মতো। গোটা বিভাগে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই শর কাছাকাছি পাওয়া গেছে। তবে তথ্য সংগ্রহ এখনো শেষ হয়নি।' তিনি বলেন, 'প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত হচ্ছে, সেই তুলনায় টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে আক্রান্তের হারও খুবই কম।'রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, 'টিকার কার্যকারিতা নিয়ে আমাদের দেশে গবেষণার কোনো ফল প্রকাশ হয়নি। তবে আইইডিসিআর চেষ্টা করছে, আমরাও তথ্য পাঠাচ্ছি। যখনই খবর পাচ্ছি টিকা নেওয়ার পরও একজন আক্রান্ত হয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছি। এ পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো খবর পাইনি। তাই বলা যায়, টিকা শতভাগ কার্যকর।'চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর সেই জেলায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছিল। জেলায় বিশেষ লকডাউন দেওয়ার পর সংক্রমণ কমে এসেছে। কিন্তু রাজশাহীতে ১১ জুন থেকে লকডাউন দেওয়া হলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছেই না। এ জেলায় প্রতিদিনই তিন শর বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বিভাগের অন্য জেলাগুলোয়ও বাড়ছে সংক্রমণ। বিভাগের আট জেলা মিলে প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার জন।সিভিল সার্জন বলেন, 'রাজশাহীতে যদি বেশি করে গণটিকা কার্যক্রম চালানো যেত, তাহলে এখন ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট এতটা খারাপভাবে আঘাত করতে পারত না। কিন্তু এখন সংক্রমণের উচ্চপর্যায়ে এসে যদি টিকা পেয়েও যাই, তাও প্রয়োগ ঠিক হবে না। কারণ, আক্রান্ত ব্যক্তি টিকা গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। আমাদের এখন একটু অপেক্ষা করাই ভালো।'
6
অনেকে মহাধুমধামে জন্মদিন উদ্যাপন করেন। কেট কাটা, ভালো খাবার, গানবাজনার মতো জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। কিন্তু পাকিস্তানের এক তরুণী নিজের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যা করলেন, তা হয়তো কল্পনারও বাইরে। অনুষ্ঠানে তিনি হাজির হলেন এক সিংহ নিয়ে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিনোদনের জন্য প্রাণীদের ব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশ কঠোর হচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা সুসান খান বিষয়টিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় সুসানের সম্প্রতি জন্মদিন ছিল। সেই জন্মদিনকে আলাদা রূপ দিতেই সিংহ নিয়ে আসা হয়। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সেখানে বলা হয়েছে, সিংহ নিয়ে সুসান খানের জন্মদিন উদযাপনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, একটি সিংহ বেশ ক্লান্ত ভঙ্গিতে সোফায় বসে আছে। শিকল দিয়ে বাঁধা। শিকলটি একজন ধরে রেখেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বেশ উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে সুসান খান সিংহের গায়ে হাত বোলাচ্ছেন। বিনোদনের জন্য প্রাণী ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন অঙ্গনে। প্রাণী অধিকার সংরক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সুসানের এই কাজের কড়া সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানের 'প্রজেক্ট সেভ অ্যানিমেলস' নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান সাঈদ হাসান বলেছেন, ওই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে সিংহের ওই ভিডিওগুলো পেয়েছেন তিনি। ভাইস নিউজ নামের একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, 'আপনি যদি সিংহের পায়ের দিকে তাকান, তাহলে কোপের চিহ্ন দেখতে পাবেন। তার মানে হচ্ছে, সিংহটির নখ তুলে নেওয়া হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'পাকিস্তানে বাঘ ও সিংহের মতো বন্য প্রাণী নিয়ে লোকজনকে আনন্দ করতে দেখেছি আমি। কিন্তু প্রাণীগুলো মোটেও সুস্থ নয়। প্রাণীগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।' বন্য প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রজেক্ট সেভ অ্যানিমেলস সুসান খানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কিছু ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা তা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একজন লেখেন, 'একেবারে অগ্রহণযোগ্য, অরুচিকর ও জঘন্য কাজ এটা।'
3
কুমিল্লায় তিনজন পেলেন শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষির পুরস্কার। আজ রবিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে তাদের এই সম্মাননা দেয়া হয়। তারা হলেন মো. সামছুউদ্দিন কালু, মো. আলী আহম্মেদ মিয়াজী ও সারোয়ার আলম মজুমদার বাবুল। 'জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১' উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরসমূহের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করেন আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির
6
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এবারও প্রচুর আলুর চাষ হয়েছে। তবে কারচুপির মাধ্যমে মৌসুমি আলু ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পাঁচ-সাত কেজি আলু বেশি নিচ্ছেন। এতে ফলন ও দাম ভালো হলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। টাকার অঙ্কে এই লোকসানের পরিমাণ ৪৬ কোটির বেশি।জানা যায়, এ উপজেলার দুই পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে এবার আলু তোলার মৌসুমে নির্ধারিত ৫০-৬০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় পাঁচ-সাত কেজি করে বেশি নিচ্ছেন দালাল ও ফড়িয়ারা। এমনকি ৫০ কেজির বস্তার পরিবর্তে পাটকলে অর্ডার দিয়ে ইচ্ছেমতো বস্তা তৈরি করেও আলু সংগ্রহ করছেন তাঁরা।এদিকে নিয়মানুযায়ী বস্তার গায়ে ধারণক্ষমতা ও বস্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কৃষক। এ নিয়ে কৃষকেরা প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তানোরে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর। তানোরে মোট আলু উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। এতে মোট বস্তা হওয়ার কথা ৬৬ লাখ ২৫ হাজার। তবে মোট আলুর ৯০ শতাংশ আলু বস্তাবন্দী হয়। ৫০ কেজির বস্তার হিসাবে মোট বস্তা দাঁড়ায় ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি। প্রতি বস্তায় ঢলন হিসেবে ৬ কেজি অতিরিক্ত নিলে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ কেজি আলু লোকসান হচ্ছে কৃষকের। যার বাজারমূল্য ১৩ টাকা কেজি দরে হলে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের আলুচাষি সুকুমার রবিদাস, চাপড়া গ্রামের মোক্তার হোসেন, জিওল গ্রামের শাকিলসহ অনেকে বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকে ঢলনের নামে বস্তায় পাঁচ-সাত কেজি আলু বেশি নিচ্ছেন দালাল ও ফড়িয়ারা। এতে আর্থিকভাবে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে বিভিন্ন জেলার বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তখন প্রতি বস্তায় দু-তিন কেজি আলু বেশি দিয়ে বিক্রি করতে হয়। তা ছাড়া আলু কাঁচা থাকায় কয়েক দিন পর ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়। তাই প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কেনার সময় একটু বেশি করে নেওয়া হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এ মৌসুমে উৎপাদিত ৮৭ লাখ ১৭৫ মেট্রিক টন আলু তানোরের ৫টি হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা যাবে। কিন্তু বস্তার ধারণক্ষমতায় কারচুপি করে আলু ক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজখবর নেওয়া হবে।এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
আজারবাইজানের এক আদালত অবৈধভাবে সীমান্ত পারপারের অভিযোগে আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর ১৩ সদস্যকে ছয় বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, সীমান্ত লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এই সৈন্যদের কারাদণ্ড ভোগের পর আর্মেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের আদালতের এই আদেশের জেরে আর্মেনিয়ার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে আর্মেনীয় সামরিক বাহিনী আজারবাইজানি সৈন্য ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ৪৪ দিনের যুদ্ধে আর্মেনিয়ার দখল থেকে মুক্ত করে আজারবাইজান বিভিন্ন শহর ও অন্তত তিন শ' জনবসতি ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা প্রায় তিন দশক আর্মেনীয় দখলের অধীনে ছিল। যুদ্ধ বন্ধ করতে ও সংঘাতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উদ্দেশে দেশ দু'টি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ১০ নভেম্বর একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুসারে প্রায় তিন দশক আর্মেনিয়ার দখলে থাকা আজারবাইজানি ভূখণ্ড নাগরনো কারাবাখ ও সন্নিহিত অঞ্চল আজারবাইজানের দখলে আসে। যুদ্ধ বন্ধ হলেও আজারবাইজানের ভূমি অতিক্রম করা ৬০ জনের বেশি আর্মেনীয় সৈন্যকে বন্দী রাখে আজারবাইজান। পরে কিছু সৈন্যকে অবশ্য ছেড়ে দেয়া হয়। সূত্র : আলজাজিরা
3
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, রংপুর কর অঞ্চলে করদাতার সংখ্যা অন্য এলাকার চেয়ে ভালো এবং সন্তোষজনক। তারপরও সে অনুপাতে রংপুরের উন্নয়ন হয়নি।গতকাল বুধবার নগরীর আরডিআরএস ভবনের বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে সেরা করদাতাদের সম্মাননা দেওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মেয়র।মোস্তাফিজার রহমান বলেন, 'রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা কর প্রদানে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই নিরিখে রংপুরের উন্নয়ন হয়নি। বাজেট প্রণয়নে রংপুর বিভাগ বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। অন্যান্য বিভাগের চেয়ে আমাদের জন্য বরাদ্দ অনেক কম। এই বৈষম্যের কারণে উন্নয়নেও আমরা এখনো পিছিয়ে রয়েছি।'মেয়র রংপুর অঞ্চলে উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণ ও বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।মেয়র আরও বলেন, 'আমাদের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে করদাতা মাত্র ২৯ লাখ। এটা দুঃখজনক। এই পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যাঁরা স্বাবলম্বী এবং বছরে ৩ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে আয় করছেন, তাঁদের ওপরই কর প্রযোজ্য। কিন্তু ৩ লাখের ওপর আয় করা বেশির ভাগ মানুষই করদাতার তালিকার বাইরে।'অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা জেলা ব্যতীত রংপুর কর অঞ্চলের আওতাধীন রংপুর মহানগরসহ বিভাগের সাত জেলা থেকে চার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জনকে সেরা করদাতা হিসেবে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।এবার এই অঞ্চলের প্রত্যেক জেলা থেকে সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরিতে তিনজন, দীর্ঘমেয়াদি করদাতায় দুজন, নারী করদাতায় একজন ও তরুণ একজন করে সাত জেলা থেকে মোট ৪৯ জন এবং সিটি করপোরেশন থেকে সাতজনসহ মোট ৫৬ জনকে সম্মাননা ও সনদপত্র দেওয়া হয়।২০২০-২১ করবর্ষে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন তৌহিদ হোসেন আশরাফী, মনজুর আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘমেয়াদি করদাতা হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন, আলমগীর হোসেন, সর্বোচ্চ করদাতা নারী হিসেবে সাবা পারভীন ও তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে রোজাফ কবির সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।
6
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কালো টাকা সাদা হওয়ায় অর্থনীতি অনেক বেগবান হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে টাকাগুলো আসায় অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার দুপুরে অনলাইনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাড়ি বিক্রি হচ্ছে অর্থচ বিক্রি দেখাচ্ছে না। আর বিক্রি যেখানে ১০ টাকা সেটা দেখাচ্ছে এক টাকা। ১০ টাকার উপরে গেলে স্ট্যাম ডিউটি দিতে হয়, সেজন্য স্ট্যাম ডিউটি কমিয়ে দিয়েছি। এরকম যেখানে যেখানে হাত দেয়া দরকার সেখানে সেখানে করেছি। সেগুলো করার কারণেই এখন কালো টাকা সাদা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
বরিশাল নগরীর অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। কয়েক বছর ধরে সংস্কার না করায় প্রায় প্রতিটি রাস্তায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বিপরীতে নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে দুই থেকে তিনগুণ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বর্তমান পরিষদের ব্যর্থতায় নগরী ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুক্রবার বরিশালে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। সড়ক সংস্কার ও হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোসহ ৬ দফা দাবিতে শুক্রবার থেকে বরিশালে দাবিপক্ষ পালন কর্মসূচি শুরু করেছে দলটি। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মণিষা চক্রবর্তী। তিনি জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নগরীর সব ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল, পথসভা, গণসংযোগ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। আর ১ ডিসেম্বর নগরীর অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ৬ দফা দাবি হলো- হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট-ড্রেন সংস্কার, নগরীর সব খাল সংস্কার, মাদক-জুয়া-যৌন হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সুষ্ঠু বিনোদনের জন্য প্রতি এলাকায় খেলার মাঠ ও পাঠাগার নির্মাণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিকশা, অটোরিকশা, হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা। ডা. মণিষা বলেন, নগরীর অনেক সড়ক এখন মাছ চাষের উপযোগী হয়েছে। লোক দেখানো দু-একটি সড়ক সংস্কার করা হলেও এর গতি মন্থর। খালগুলো দখলমুক্ত এবং পরিস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সেগুলো এখন মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব নেন। এ সময়ের মধ্যে শুধু নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে হাসপাতাল রোড হয়ে সদর রোড ও বাংলাবাজার সড়ক পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে নগর ভবন থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সড়ক সংস্কারে সহস্রাধিক কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। সেটি অনুমোদিত হলেই সড়ক সংস্কার শুরু হবে।
6
বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ অনেক দিন ধরে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। ছন্দ হারানোর কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল তাকে। এ বোলারের মূল শক্তি লাইন, লেংথ ও নিয়ন্ত্রণ। সঙ্গে দুই ধরনের কাটার মোস্তাফিজকে বাকি বাঁহাতি পেসারদের থেকে আলাদা করে। কিন্তু কাটার আর লেংথ বলগুলো ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের থেকে বেরিয়ে যায়। ব্যাটসম্যানরা লেংথ পড়তে পারলেই হলো, সহজেই মোস্তাফিজের বোলিংয়ে ঝুঁকিহীন ব্যাটিং করা যায়। লেংথ থেকে বল অন্তত ১০ শতাংশ ভেতরে আনলেই মোস্তাফিজ হয়ে উঠতেন আরো ভয়ঙ্কর। কিন্তু কি কারণে কাটার মাস্টার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ প্রোটিয়া কোচ জানান, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে একাদশে থাকছেন না মোস্তাফিজ। বরং নতুন বোলিং কোচের সঙ্গে টেকনিক্যাল বিষয় শেখার জন্য রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। আর মোস্তাফিজকে দলে নেয়ার বিষয়ে যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সবার, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন ডমিঙ্গো। তিনি জানান, আমি জানি মোস্তাফিজের বিষয়টিকে ঘিরে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সবার। ডমিঙ্গো আরো বলেন, আমি মনে করি না মোস্তাফিজ টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুত আছে। এখনো কিছু টেকনিক্যাল কাজ করতে হবে তার। যাতে করে ডান হাতি ব্যাটসম্যানের জন্য ভেতরের দিকে বল ঢোকাতে পারে সে। স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়াটা আসলে এই প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। যাতে করে আমাদের নতুন বোলিং কোচের সঙ্গে সে কাজ করতে পারে। যদি টেস্টে না-ই রাখা হয় তাহলে স্কোয়াডে ডাকা হলো কেন। যেখানে মোস্তাফিজ ছাড়াও রয়েছেন আরো চার পেসার! এই প্রশ্নেরও অবসান ঘটিয়েছেন ডমিঙ্গো। মূলত আগামী পাঁচদিন যেন বোলিং কোচের সঙ্গে নিবিড়ে কাজ করতে পারেন, এ কারণেই নেয়া হয়েছে মোস্তাফিজকে। আর তা করতে পারলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও লাভবান হবে সে। রাসেল আরো বলেন, আমার মতে তাকে খেলানোর জন্য স্কোয়াডে ডাকা হয়নি। তাকে নেয়ার মূল উদ্দেশ্য অনুশীলন করানো এবং নিজের সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনা। এ মুহূর্তে তাকে টেস্টে খেলার মতো দেখছি না আমি। এটা তাকেও বলেছি আমি এবং পরামর্শ দিয়েছি যেন টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করে। টেস্ট দল ঘোষণার পর থেকেই মোস্তাফিজকে নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। গতকাল সেটি দূর করলেন ডমিঙ্গো। দলের নতুন বোলিং কোচ ওটিস গিবসন মোস্তাফিজকে নিয়ে কাজ করবেন। আপাতত তার কাজ এটিই। জাতীয় দলের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে মোস্তাফিজ যেন তার শেখার কাজটা ভালোমতো এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্যই এ ব্যবস্থা।
12
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর থেকে ৯ বোতল বিদেশি মদসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের মাসদাইর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মায়ের দোয়া কনফেকশনারি দোকানের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাসদাইর বাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (২৩) ও মো. মাহফুজের ছেলে রাজু আহম্মেদ (২৩)।পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রিকশারোহী দুই যুবককে জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মায়ের দোয়া কনফেকশনারির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে থামান ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ। এ সময় তাঁরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তাঁদের থেকে ৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।
6
তিন মাস পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে একদিনে কেউ মারা যাননি। এর আগে গত ১৫ জুন এমন মৃত্যুহীন দিন দেখেছিল চট্টগ্রামবাসী।গতকাল সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো করোনা-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিন পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের দিন যা ছিল ৬ শতাংশের বেশি।এ দিন ১ হাজার ৫১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত ৪১ জনের মধ্যে নগরের বাসিন্দা ৩৪ জন। অন্যান্য উপজেলার ৭ জন।আগের দিন চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এদিন মৃত্যু হয় দুজনের।
6
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েছেন চার সন্তানের জননী লুবনা খানম। এর প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে মৌলভীবজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ওই হতভাগ্য গৃহিনীর স্বামী আব্দুস সালামা তালুকদার। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ের এক পর্যায়ে রোগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে ওই ডাঃ ব্যবস্থাপত্রে আবারও ওষুধ লিখেন। ওষুধ খেয়ে লুবনা'র শরীরে আরো অবনতি হয় এবং খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডাঃ রেজাউল করিম মীর নামের এক চিকিৎসককে দেখানো হয়। রোগী দেখে তিনি "চিকেন ফক্স" রোগে আক্রান্ত মর্মে ব্যবস্থাপত্র দেন। ওই ওষুধ সেবনের পর তার দুই চোখসহ শরীর ফেটে রক্তপাত হতে থাকে। এর সাথে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন দেখা দেয়। পরবর্তীতে আরেক ডাঃ স্বপন কুমার সিংহ আরো দুদিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে "চিকেন ফক্স" থাকার কারণে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর ভর্তি নেননি। পরে সিলেটের সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে "ড্রাগ রি-এ্যাকশন" এর ফলে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হয়েছে বলে জানান। এবং "ড্রাগ রি-এ্যাকশন" মর্মে ছাড়পত্র দিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ড্রাগ রি-এ্যাকশনের ফলে রোগীর দুই চোখ ও শরীরের সমস্ত অঙ্গে পচন ধরেছে দেখে রোগীকে প্রথমে স্কীন বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরবর্তীতে চক্ষু বিভাগে স্থানান্তর করে চোখের চিকিৎসা করেন। দেড় মাস ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাৎসাকালীন অবস্থায় শরীরের ক্ষতস্থানের কিছুটা উন্নতি হলেও দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর ডাঃ তারেক আহমদ চৌধুরী, ডাঃ রেজাউল করিম মীর ও ডাঃ স্বপন কুমার সিংহ'র বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমল আদালতে একটি মামলা (নং-৬৮০/১৭) দায়ের করেন তিনি। বিডিপ্রতিদিন/ ০৭ জানুয়ারি, ২০১৮/ ই জাহান
6
গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক না থাকায় ১০ বছর ধরে প্রসূতি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি অবেদনবিদ যোগদান করলেও গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংযুক্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকায় অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ১০ বছর ধরে অবেদনবিদ, প্রসূতি ও গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না। এ জন্য অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সম্প্রতি অবেদনবিদ ডা. চয়ন কুমার সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। কিন্তু গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উম্মুল ওয়ারা খান সংযুক্তিতে এক বছর ধরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত থাকায় এখনই প্রসূতি বিভাগ ও অস্ত্রোপচার পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে বিপাকে পড়েছেন গরিব নারী রোগীরা। বাধ্য হয়ে তাঁদের যেতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিক বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় একদিকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে সন্তান প্রসবসহ ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না।গফরগাঁও পৌরসভার বাসিন্দা ফয়জুল হক বলেন, 'উপজেলা হাসপাতালে যে কোনো অস্ত্রোপচারের রোগী নিয়ে গেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এতে করে রোগী নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্বজন। দরিদ্র মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।'গত মঙ্গলবার পাশের নান্দাইল উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ থেকে গফরগাঁও হাসপাতালে প্রসূতি রোগী নিয়ে আসেন বিলকিস বেগম। তিনি মোবাইলে জানান, যাতায়াত সুবিধার জন্য এখানে রোগী নিয়ে আসা। হাসপাতালে গাইনি ও প্রসূতি রোগের চিকিৎসক না থাকায় কর্তৃপক্ষ রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গফরগাঁও হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, আবাসন, যাতায়াত সমস্যাসহ নানা কারণে মফস্বল এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকতে চান না। অনেকে সংযুক্তি কিংবা তদবির করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, 'এখানে দীর্ঘদিন ধরে অ্যানেসথেসিয়ার (অবেদনবিদ) চিকিৎসক নেই। গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও সংযুক্তিতে অন্যত্র কর্মরত। যে কারণে প্রসূতি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। এখন অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক যোগদান করেছেন। সংযুক্তি বাতিল করে গাইনি বিভাগের চিকিৎসককে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ডিজির কাছে আবেদন জানানো হবে।'ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, 'ইতিমধ্যে সব সংযুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।'
6
বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট আরও বলেছেন, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তাও জানাতে হবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রুল জারি করেন। আগামি চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ), পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য সরবরাহকারি সংস্থাকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আফরোজা সুলতানা। অন্যদিকে রাস্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ আর চালুর সুযোগ না থাকায় ডিমান্ড নোট এর বিপরীতে যারা টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের ক্রস চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। পরে সরকারের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি গ্রাহক ঐক্যজোটের সভাপতি আলমগীর নুর ও মহাসচিব একেএম অলিউল্লাহ হক ও সাধারণ গ্রাহক মো. নুরুল আলম হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সোমবার ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
6
বই পাঠে মানুষকে উৎসাহিত করতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪টি সেলুনে বই বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে সেলুন মালিকদের হাতে বই তুলে দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন ও ইউএনও মো. শামীম হুসাইন।মুজিব জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অর্থায়নে সারা দেশের পরীক্ষামূলক ১০০টি সেলুন লাইব্রেরির মধ্যে সৈয়দপুরে ৪টি সেলুন তালিকাভুক্ত হয়। স্থানীয় সেতুবন্ধন পাঠাগারের ব্যবস্থাপনায় যেসব সেলুন বই পেয়েছে সেগুলো হলো-শহরের তুলসীরাম স্কুল সড়কের বিসমিল্লাহ সেলুন, সৈয়দপুর প্লাজার এসি সেলুন, খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামের কৃষ্ণ সেলুন ও একই এলাকার শ্রী স্বপন চন্দ্র সেলুন।১০ হাজার টাকা সমমূল্যের বইগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য। সেলুন চুল কাটাতে আসা গ্রাহকরা অপেক্ষমান সময়ে এসব বই পড়ে জ্ঞান আহরণে অভ্যস্ত করে তুলতেই এ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেলুনগুলোতে বই রাখার রেক তৈরির জন্য এর আগে ৪ হাজার ২ শ' টাকা করে দেওয়া হয়।বই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুর মোহাম্মদ, নির্বাচন অফিসার মো রবিউল ইসলাম ও সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
6
করোনায় আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর কয়েকজন চিকিৎসক। এ জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিটে কেবিন বুক করা হয়েছে। সেখানে আইসিইউসহ সব ধরনের সুবিধা থাকছে। যদিও বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে, তাতে এখনই আইসিইউ-সুবিধার দরকার নেই। অবশ্য চিকিৎসকেরা বলছেন, দেশে করোনার রোগী বাড়ছে। অল্প সময়ের মধ্যে আইসিইউ-সুবিধা পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে নানা খবর আসছে। এ কারণে আগে থেকেই একটি আইসিইউ বেড ও কেবিন বুক করে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া গত শনিবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা আইসিডিডিআরবিতে দেন। ওই দিন রাতেই রিপোর্ট দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, বিএনপির চেয়ারপারসন করোনায় আক্রান্ত। খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বয়স হয়েছে। এখন তাঁর বয়স ৭৬ বছর। তা ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা আছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের বয়স বেশি এবং অন্য শারীরিক জটিলতা আছে, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিতে থাকেন। এসব বিবেচনায় তাঁরা মনে করছেন, হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলে হাতের কাছেই চিকিৎসাসামগ্রী থাকবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া যাবে। অবশ্য এই চিকিৎসক বলেছেন, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার কোনো জটিলতা নেই।বিএনপির চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক মো. আল মামুন বলেছেন, খালেদা জিয়ার জ্বর, সর্দি, কাশি বা গলাব্যথা-এ ধরনের কোনো উপসর্গ এই মুহূর্তে নেই। তবে তারপরও তাঁরা সব ব্যবস্থা নিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) যে মেডিকেল বোর্ড আছে, সেই বোর্ড নিয়মিত আলোচনা করে তাঁর চিকিৎসা চালাচ্ছে। ডা. মামুন বলেন, 'এখন পর্যন্ত তাঁর অবস্থা স্টেবল। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। আমরা প্রাইভেট হসপিটালে একটা কেবিন ঠিক করে রেখেছি। বাসায় একটা হসপিটাল করা হয়েছে, এখানে সবকিছুর প্রিপারেশন আছে, সব অ্যারেঞ্জমেন্ট আগের থেকে করে রাখা হয়েছে।' চিকিৎসকেরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের পুরো চিকিৎসার বিষয় দেখভাল করেন তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী চিকিৎসক জোবাইদা রহমান। তিনি লন্ডনে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। সব ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট ও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা-সম্পর্কিত তথ্য জোবাইদা রহমানকে পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সবকিছু জানেন। ডা. জোবাইদাসহ অন্যরা মিলে ঠিক করবেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে আপাতত বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে, নাকি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এখন তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন। তারপরও বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের দিক থেকে করণীয় রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন। ওই নেতা বলেন, বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবার চাইলে তাঁরা ব্যবস্থা করবেন। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাখা হয়েছে। ওই হাসপাতালের মালিক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে ফোন করে একটি কেবিন রাখার ব্যাপারে বলা হয়েছে। তবে তিনি এও বলেন, কার জন্য রাখতে হবে, সে ব্যাপারে তাঁকে কিছু বলা হয়নি।
9
ঢাকার অনুরোধে মালেয়শিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালের জেলহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশীয় দৈনিক "দ্য স্টার" এর এক প্রতিবেদনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জাইনুদিন জানিয়েছেন তাকে "আইন মেনে" গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মালয়েশীয় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। খায়রুজ্জামান এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মালেয়শিয়ায় বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মিডিয়া। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর খায়রুজ্জামান ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালের জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইন্টারনেট থেকে পাওয়া একটি ছবির সূত্র থেকে জানা যায়, জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ড নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়া চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান হত্যা মামলার আসামি খায়রুজ্জামান। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামানকে জামিন দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত করা হয় এবং ২০০৪ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। বিএনপির সরকারের আমলে তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলহত্যা মামলা থেকে নাম বাদ পড়ার তিন বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফিরতে বললেও তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ডের মাধ্যমে মালয়েশিয়াতে থাকছিলেন
6
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ১৮৮তম গ্র্যাজুয়েশনে ভিআইপি সংবর্ধনা ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে একমাত্র ছাত্র বক্তা ছিলেন মেহরিন মহসিন আলী। বাংলাদেশি-আমেরিকান বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. মহসিন ও মাহফুজা আলীর কনিষ্ঠ সন্তান মেহরীন ছিলেন এই ইউনিভার্সিটি ছাত্র সংসদের (স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট বোর্ড) প্রেসিডেন্ট। ১৮ মে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে সমাবর্তন-সমাবেশের আগের সন্ধ্যায় ম্যানহাটনে কিমেল সেন্টারে ভিআইপি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথম একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছাত্র লক্ষাধিক ছাত্রের সংসদের এবং কোনো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (স্টুডেন্ট গভর্নিং বোর্ড) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ভোটের মাধ্যমে। আরও উল্লেখ্য, মেহরিন গ্র্যাজুয়েশন করলেন বিশেষ কৃতিত্বের সাথে। অর্থাৎ নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও এগিয়ে ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
4
নতুন একটি নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকা মৌসুমী আক্তার সালমা। 'মরণের পরে' শিরোনামের গানটি গেয়ে তিনি বেশ তৃপ্ত। তার অনুভূতিতে, 'গানটি আমার নিজেরই খুব ভালো লেগেছে। এককথায় হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। এর রেশ শ্রোতাদের মনে অনেক বছর ধরে থেকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।' সালমা বলেন, 'সত্যি বলতে, আমার গাওয়া গান বিভিন্ন নাটকে যুক্ত করা হয়। কিন্তু সেগুলো হয়তো সংশ্লিষ্ট নাটকের জন্য তৈরি হয়নি। এ কারণে গল্পের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই লাগে না কিংবা আমার গায়কীতে গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথভাবে হয়তো আবেগটা ফুটে ওঠে না। রাজ ভাই আমার কথা ভেবেই গানটি সাজিয়েছেন। পুরো বিষয়টি অনুভব করে দরদ দিয়ে গেয়েছি।' 'মরণের পরে' গানটির কথা লিখেছেন জনি হক। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন নাভেদ পারভেজ। সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে ঢাকার নিকেতনে ক্রাউন এন্টারটেইনমেন্ট স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং হয়েছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের রচনা ও পরিচালনায় 'মরণের পরে' নাটকের টাইটেল হিসেবে তৈরি হয়েছে গানটি। সম্প্রতি ঢাকার একটি বস্তিতে নাটকটির শুটিং হয়েছে। এতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও কেয়া পায়েল। এছাড়া থাকছেন মনিরা মিঠু ও তানজিম হাসান অনিক। শিগগিরই সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে 'মরণের পরে'। এরপর ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা মিউজিক চ্যানেলে আসবে গানটির ভিডিও।
2
শিবির সন্দেহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১১ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। দাবি না মানলে রাজপথে নামারও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। আর এ নিয়ে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ওসমান সালেহী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ সুহাইল বলেন, 'শুধুমাত্র সন্দেহের বশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে, তাতে ছাত্রসমাজ হতবাক ও ক্ষুব্ধ। গণমাধ্যমে এসেছে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা জানতে চাই, ছাত্রশিবির কি এ দেশে বেআইনি বা নিষিদ্ধ কোন সংগঠন? ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সন্দেহে ছাত্রদের বহিষ্কার করতে হবে এমন আইন কোথায় আছে?'বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, 'সামান্য সন্দেহকে পুঁজি করে ১১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে বহুবার রক্তাক্ত করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। অথচ এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন লজ্জাজনক ভূমিকায় জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আমরা অবিলম্বে এ অন্যায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারের আজ্ঞাবহ নয় বরং দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও অধিকার আদায়ে আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। আর তখন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।'এর আগে, গত ২৪ মার্চ মধ্যরাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ধূপখোলা এলাকার একটি মেস থেকে অভিযান চালিয়ে শিবির সন্দেহে ১১ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।এরপর দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ১১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ইব্রাহীম আলী, ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ইসরাফিল হোসেন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের আল মামুন রিপন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. মেহেদী হাসান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের মো. রওসন উল ফেরদৌস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের মো. : মেহেদী হাসান, বাংলা বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শ্রাবণ ইসলাম রাহাত, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফাহাদ হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের মো. ওবায়দুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের মো. শাহিন ইসলাম এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রহমান অলি।
9
ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেড জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ ক্লাবে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স ম্যানেজার পদে লোক নেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পদের নাম: ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা: হিসাববিজ্ঞান বা ফিন্যান্সে এমবিএ। সিএ ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কমপক্ষে আট বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। এ ছাড়া মুঠেফোন বিল ও দুটি উৎসব ভাতা রয়েছে।যেভাবে আবেদন: আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা এই ([]) ই-মেইলে সিভি পাঠাতে পারবেন। এ ছাড়া অনলাইনে বিডি জবসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।আবেদনের শেষ সময়: ২৮ জানুয়ারি ২০২২।
1
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তিনগুণ-চারগুণ ভাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সোমবার থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পরও মহাসড়কের এই অংশে থেমে নেই যাত্রী পরিবহন। মঙ্গলবার দাউদকান্দি, চান্দিনা, পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম বাস স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মারুতি, সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ এমনকি মোটরসাইকেল দিয়েও অবাধে যাতায়াত করছে যাত্রীরা। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে চালকরা একেবারেই উদাসীন। মাইক্রোবাস, মারুতিসহ অন্যান্য পরিবহনে একই সিটে ৪-৫ জন করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। মহাসড়কের এই অংশে শুধু বাস ছাড়া সকল যানবাহনই চলাচল করছে। মাইক্রোবাস চালক ফরিদ উদ্দিন বলেন, 'কি করবো? প্রাইভেট ভাড়া নাই, তাই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে পুলিশ আটক করবে না? এমন প্রশ্নে তিনি জানান, 'ব্যবস্থা কইরাই যামু'। যাত্রী আব্দুর রব বলেন, 'ঢাকায় আমার কাজ আছে, তাই ৪০০ টাকা ভাড়া দিয়েই মাইক্রোবাসে উঠেছি। ১১ জন যাত্রী আছে, পুলিশ ধরলে আমরা এক পরিবারের সদস্য বলতে বলেছে চালক।' কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, 'মানুষকে ঘরে রাখতে সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ করেছে সরকার। কিন্তু বাসের বিকল্প সকল পরিবহন চলতে থাকলে সেই 'লকডাউন' কোনো কাজেই আসবে না। বর্তমান ঢেউয়ের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে।' হাইওয়ে ময়নামতি ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, 'চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় আমরা চেক পোস্ট করে অভিযান চালাচ্ছি। বিদেশগামী যাত্রী ও রোগী ব্যতীত সকল প্রাইভেট পরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।' বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিশ্বাস রায়। চাকরির বয়স দুই বছরের কাছাকাছি। বাড়ি সংস্কারের জন্য পরিবারকে সহায়তা করতে চান, কিন্তু হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই। সহকর্মীর পরামর্শে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ (পারসোনাল লোন) নিয়ে পরিবারকে দেন। আর প্রথমবারের মতো পরিবারকে সহায়তা করতে পেরে খুশি বিশ্বাস রায়, সঙ্গে তাঁর বাবা ও মা। এমন সব ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে আপনিও নিতে পারেন ব্যক্তিগত ঋণ। দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমন ঋণ দিয়ে থাকে। এ জন্য আপনাকে হতে হবে চাকরিজীবী অথবা ব্যবসায়ী। আপনার নিয়মিত মাসিক আয় থাকতে হবে। সাধারণত বেতনের সর্বোচ্চ ১০ গুণ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। আর সুদের হার হবে আপনার পেশার ওপর নির্ভর করে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গ্রাহকভেদে ১০ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। যেমন ব্যাংকারদের জন্য সুদহার একটু কম, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য একটু বেশি। এর চেয়ে বেশি সুদ নেয় বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। সঙ্গে রয়েছে ১-২ শতাংশ সেবা মাশুল। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। প্রাইম ব্যাংকের ভোক্তা ঋণ বিভাগের প্রধান এ এস এম মাহফুজ প্রথম আলোকে বলেন, ঋণের সুদহার পেশার ওপর নির্ভর করে। তবে চাকরিজীবীরাই বেশি ব্যক্তিগত ঋণের জন্য আসেন। জরুরি প্রয়োজনে এ ঋণটি বেশ কাজে দেয়। কী কী প্রয়োজনে আপনি ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারেন, তার একটা তালিকা দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি সরঞ্জাম, টেলিভিশন, ল্যাপটপ, মুঠোফোন ও আসবাব কেনাকাটা, বাসার অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, অন্য কারও ঋণ পরিশোধ, ঘোরাঘুরির খরচ মেটানোসহ ব্যক্তিগত নানা খরচ। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের প্রয়োজনেও আপনি এ ঋণ নিতে পারেন। ঋণ পেতে আপনাকে যা যা করতে হবে, তা দেখে নেওয়া যাক। প্রথমে কোনো শাখায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। সব ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যে ঋণ অনুমোদন হয়। ব্যক্তিগত ঋণের সুদহার সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে আপনার ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ সনদ (ইটিআইএন), বেতনের সনদ, মাসিক পে স্লিপ। আর যে ব্যাংকের যে হিসাবে আপনার বেতন দেওয়া হয়, সেই হিসাবের ছয় মাসের লেনদেন বিবরণীও দিতে হবে। আপনার আবাসিক পরিচয় নিশ্চিত হতে দিতে হবে বাসার পরিষেবা বিলের কপি। ঋণের জন্য লাগবে একজন জামিনদার। তাঁরও পরিচয়পত্র, ছবি জমা দিতে হবে। এর সবই যাচাই করবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আপনার পরিচয় নিশ্চিত হতে আবাসিক ঠিকানাতেও যাবে। তাই ঋণের আবেদনের সঙ্গে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। আর ঋণের আবেদনের সময় নিশ্চিত হতে হবে সুদহার সময়ে সময়ে পরিবর্তন হবে নাকি নির্দিষ্ট। সময়ে সময়ে পরিবর্তন হলে বেড়ে যাবে কিস্তির পরিমাণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তিগত ঋণের সুদহার ১৩ শতাংশের মধ্যে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক এশিয়ায় সুদহার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ, ব্র্যাক ও ঢাকা ব্যাংকে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ও ইউসিবিএল সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, ইস্টার্নে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ, এক্সিমে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ, আইএফআইসিতে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ, মার্কেন্টাইলে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্টে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ, প্রাইমে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংকে ১৩ শতাংশ।
0
বগুড়ায় মহামারি করোনায় কর্মহীন মানষের মাঝে জেলা বিএনপি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। জেলা বিএনপি আয়োজিত শুক্রবার বিকেলে বগুড়া শহরে চাম্পা মহলে তৃতীয় দিনে কর্মহীন ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সেরমাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকরেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক সুমন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল ইকবাল হোসেন রাজু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম ডালু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মোরর্শেদ মিলটনসহ বগুড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কপ্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কিছুদিন আগেই সুরেশ রায়নার নাম বাদ পড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসের ওয়েবসাইট থেকে। এবার রায়না এবং হরভজন সিংয়ের সঙ্গেচুক্তি বাতিল করল চেন্নাই। আইপিএল শুরুর আগেই করোনা হানা দিয়েছিল চেন্নাই শিবিরে। তার পরেই ভারতীয় দলের এই দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার ব্যক্তিগত কারণে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেন নিজেদের।। দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার না থাকায় চেন্নাই শিবির যে বিপদে পড়েছে তা দেখা গিয়েছে প্রথম তিন ম্যাচের মধ্যে দুটোতেই হারায়। এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ জিতে দুই পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের একদম শেষে তারা। প্রসঙ্গত, রাজস্থানের বিরুদ্ধে হারার পরেই রায়নাদের ফেরানোর দাবি উঠতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু চেন্নাই শিবির সেই সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছিল। আর এখন সেই পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
12
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোর আরও তৎপর হওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ ২৬ সম্মেলনে যোগদানের পর স্কটিশ পার্লামেন্টারিয়ান ফয়সল চৌধুরী ও সারাহ বোয়াকের সঙ্গে স্কটিশ পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকে স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন হাছান মাহমুদ। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশেক-উন-নবী চৌধুরী এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জলবায়ু তহবিল থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দ হলেও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে না। এর ফলে বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে পড়া দেশগুলোকে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হচ্ছে। এ সময় তথ্যমন্ত্রী স্কটিশ সাংসদদের আরও জানান, অভিযোজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশীয় অর্থায়নে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা খরা, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের শস্য উৎপাদন করেছেন এবং গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্কটিশ পার্লামেন্ট ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
9
টিকার জন্য মানুষ রোদে দাঁড়িয়ে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সময় পার হচ্ছে, লাইন আর আগায় না। ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘর্মাক্ত শরীরে চরম ক্ষোভ আর বিরক্তি নিয়ে তবুও মানুষ অপেক্ষা করছেন। এতো কিছুর পরও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অনেককে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তাঁরা কার্ডে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে এসে হতাশ হয়েছেন।আজ মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। ডিএসসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গণ টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে করোনা টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন শান্তিনগর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৫০)। তিনি বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন টিকা নিতে পারবো জানি না।টিকা প্রত্যাশী মগবাজার এলাকার মিতি আক্তার (৩০) অভিযোগ করেন, টিকা কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে। অনেক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও, অনেকে স্কুলের শিক্ষক ও আনসারের সহযোগিতায় লাইনে না দাঁড়িয়ে টিকা নিয়ে নিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেছেন বেইলি রোড় এলাকার অজিফা আক্তার (৩৫)।মানুষের এতো ভোগান্তির পেছনে কোনো অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি-না খোঁজ নিতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স জেসমিন আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, 'প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার সময় যে লোকবল ছিল, এখন একই লোকবল আছে। তবে আমাদের দ্বিগুণ মানুষকে টিকা দিতে বলা হচ্ছে। ফলে টিকা কেন্দ্রে মানুষের চাপ বেশি।'সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে গণ টিকা কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১ম ডোজের জন্য নির্ধারিত ৭৫টি ওয়ার্ডের ৭৫টি কেন্দ্রেই দ্বিতীয় ডোজের এই টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪ ওয়ার্ডের ৫৪টি কেন্দ্রে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক কেন্দ্রে দিনে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৭০০ জনকে। সেই হিসাবে ১২৯ কেন্দ্রে দিনে করোনা টিকা দেওয়া হবে ৯০ হাজার ৩০০ জনকে। প্রথম ডোজ দেওয়ার সময় প্রতি কেন্দ্রে দিনে ৩০০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিধারণ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফরিদ আহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, দ্বিগুণ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করায় টিকা কেন্দ্রে বাড়তি চাপ পড়েছে। আমাদের লোকবল বাড়ানোর সুযোগ নেই। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে।এদিকে গতকাল সোমবার রাতে হঠাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ফেসবুক লাইভে এসে আজ থেকে গণটিকা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে বলে জানান। এ ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করা হয়েছে। যাঁরা ৭ ও ৮ আগস্ট প্রথম ডোজ নিয়েছেন, আজ শুধু তাঁরাই টিকা নেবেন-বলে জানান তিনি।আবার টিকা কার্ড অনুযায়ী, আজ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা ছিল ৯ আগস্ট প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের। ফলে অনেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঘোষণাটি না জানার কারণে টিকা কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়েছেন। তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে কার্ডে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ শুরু না হওয়ায় গত দুদিনে অনেকে ফেরত গেছেন। অবশ্য তাঁরা আজ টিকা পাচ্ছেন।
6
শেষ পর্যন্ত স্বর্ণনীতিমালা দৃশ্যমান হয়েছে। সম্প্রতি নীতিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। স্বর্ণ নীতিমালার খসড়া প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় লেখকের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ হয়েছিল। স্বর্ণ ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ও মন্ত্রণালয় এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে ও তাঁদের মতামত নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নীতিমালা জারি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে স্বর্ণালংকার আমাদের দেশে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা হলেও সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে আইনানুগ চর্চার অভাব অনুভূত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অনেক দিন থেকেই নীতিমালার কথা বলে আসছেন। তবে তাঁদের দাবিটি জোরালোভাবে উঠে আসে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক একটি বড় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে অভিযানের পর। ঘটনাটি ২০১৬ সালে বনানীতে একটি আবাসিক হোটেলে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে। ধর্ষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, বড় একটা জুয়েলারিতে প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণালংকার পাওয়া গেলেও তার পক্ষে বৈধ আমদানির কাগজপত্র নেই। সংগত কারণে, চোরাচালানের দায়ে পরবর্তী তদন্ত ও বিচারের নিমিত্তে এসব স্বর্ণ কাস্টমস ও অন্যান্য আইন অনুযায়ী জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়। ঘটনাটি দেশের পুরো স্বর্ণ ব্যবসাকে বৈধতার সংকটে ফেলে দেয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কি তাহলে একই অবস্থা বিরাজ করছে? দেশে স্বর্ণের প্রায় ১০ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসার সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ লোক জড়িত। হাজার কোটি টাকার ব্যবসা চলছে, অথচ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তবে স্বর্ণের ক্ষেত্রে এত দিন একেবারেই কোনো নীতিমালা ছিল না-অনেকের এ ধরনের মন্তব্য সর্বতোভাবে সঠিকও নয়। আগেও এ-সংক্রান্ত নানা বিধিবিধান ছিল। কাস্টমস অ্যাক্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন, আমদানি ও রপ্তানি নীতিমালা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টসহ অন্য সংশ্লিষ্ট আইনে আরও পণ্যের মতো স্বর্ণ আমদানি ও রপ্তানি এবং ব্যবসার প্রসার ও নিয়ন্ত্রণের বিধান বিদ্যমান আছে। যেমন বর্তমানের আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী স্বর্ণ নিয়ন্ত্রিত আমদানি পণ্য। ওই আদেশের সেকশন ২৬(২২) অনুসারে যে কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে যেকোনো পরিমাণে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এখানে স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সত্য হলো, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এই অনুমতির জন্য তেমন কেউ আবেদন করেননি। যত দূর জানা যায়, দু-একজন আবেদন করলেও তাতে অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই অনুমোদন দেয়নি। এর অর্থ হলো, এলসি খুলে বৈধ পথে আমদানির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ উৎসাহিত হননি। যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ না করার ফলেও হয়তো কেউ তাড়না অনুভব করেননি। তাই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধান হালনাগাদ এবং যুগোপযোগী করে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের দাবিটি সামনে চলে আসে। আগে বর্ণিত বড় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে অভিযানের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চোখ খুলে দিয়েছে। বিমানবন্দরসহ অন্যান্য স্থানে মণকে মণ স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনার সঙ্গে দেশীয় কতিপয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কোনোভাবে সংযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শুল্ক গোয়েন্দার পর্যবেক্ষণমতে, চোরাচালানের একটা বড় অংশ পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, চোরাচালানকৃত স্বর্ণের অন্য আরেকটা উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধে অর্থায়নের বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে। এর মূল কারণ হলো স্বর্ণ কাগজের মুদ্রার চেয়ে অধিকতর কম জায়গা দখল করে এবং তা লুকানো ও বহন করা সহজতর। এটি 'গ্লোবাল কারেন্সি' হিসেবেও বিবেচিত এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে স্বর্ণের একটা বড় বৈধ বাজারও রয়েছে। দেশের ভেতরে স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরির বিশাল স্বর্ণের ব্যবসা রয়েছে, যাদের অধিকাংশ ভ্যাট ও কর প্রদান করে। টিআইবি বলছে, প্রতিবছর দেশের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন স্বর্ণ। এর মাত্র ১০ ভাগ চাহিদা ট্রেজারি স্বর্ণের মাধ্যমে পূরণ হয়। এই তথ্য নির্দেশ করছে, দেশের এত বড় শিল্পের মূল উপাদান স্বর্ণের বৈধ সরবরাহে সংকট চলছে। এতে সরকার যথাযথ শুল্ক-কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশ্ন হতে পারে, সম্প্রতি জারি করা নীতিমালা কি স্বর্ণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে পারবে? নীতিমালাটিতে অনেক ইতিবাচক বিষয় স্থান পেয়েছে। প্রথমত, স্বর্ণকারদের স্বর্ণপ্রাপ্তিতে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগের বিধানে কেউ উৎসাহিত না হওয়ায় এই নীতিমালায় আমদানির সুযোগ আরও সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার বা কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণকারদের চাহিদা মোতাবেক স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব ডিলার বিনা শুল্কে স্বর্ণ আনবে এবং তাদের এ জন্য বন্ডের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। ভ্যাটে নিবন্ধিত স্বর্ণকারেরা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে এবং শুল্ক-কর দিয়ে বন্ডারের কাছ থেকে স্বর্ণ ক্রয় করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, দেশীয় বাজারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, রপ্তানিতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ীদের বিনা শুল্কে স্বর্ণের ব্যবহার অথবা শুল্ক প্রত্যর্পণের আওতায় সুবিধাদি প্রদান করতে হবে। তাঁদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, সরকারের জন্য শুল্ক-করাদি আদায়ও সহজতর করা হয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায় লেনদেনকৃত হাজার হাজার কোটি টাকার কর জালের আওতায় চলে আসবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণ স্বর্ণ কিনছেন, গয়না তৈরি করছেন এবং অবশিষ্ট কী পরিমাণ মজুত থাকছে-তার সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণপদ্ধতি অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে এই নীতিমালায়। এ কারণে এই ব্যবসা এনবিআরের আরও নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং প্রযোজ্য শুল্ক-করাদি আহরণ নিশ্চিত হবে। চতুর্থত, নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোক্তার স্বার্থের দিকে খেয়াল রাখা। একজন ক্রেতা তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যে গয়না কিনছেন, তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চয়তা পাওয়া তাঁর অধিকার। নীতিমালায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরীক্ষিত প্রতিটি স্বর্ণালংকার বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি স্বর্ণালংকারে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্দিষ্ট হলোগ্রামযুক্ত ও যথাযথ চালান প্রদান করে লেনদেন করতে হবে। এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে ভোক্তা অধিকার আইন অনুসারে তা নিষ্পত্তি করা হবে। মোটকথা, স্বর্ণনীতিমালা প্রণয়নে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় এখন স্বর্ণ ব্যবসায় স্বস্তি ফিরে আসাটা স্বাভাবিক। কেউ এখন অযথা সন্দেহের তির ছুড়তে পারবে না এই ব্যবসার দিকে। ড. মইনুল খান কমিশনার অব কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক
8
এখন থেকে বিকাশে লেনদেন করলেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে যুক্ত হচ্ছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট। পরবর্তী সময় সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে ক্যাশব্যাক ও অন্যান্য অফারের সুবিধা নিতে পারবেন গ্রাহক। অর্জিত রিওয়ার্ড পয়েন্ট সম্পর্কে জানতে বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিনে লোগোর পাশে যুক্ত 'বিকাশ রিওয়ার্ডস' আইকনে ট্যাপ করতে হবে। এখান থেকে গ্রাহক তাঁর অর্জিত পয়েন্ট, রিওয়ার্ড লেভেলে অবস্থান, অফারের পরিমাণ, অর্জিত পয়েন্টের বিবরণী এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ পাবেন। সব বিকাশ গ্রাহকই বিকাশ ব্যবহারে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন এবং বিকাশ অ্যাপ থেকে অর্জিত রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, অ্যাড মানি, পেমেন্ট, পে বিলসহ বিভিন্ন ধরনের বিকাশ লেনদেনে প্রতিবারই নির্দিষ্টসংখ্যক পয়েন্ট যুক্ত হবে। গ্রাহক তাঁর জমা হওয়া পয়েন্ট ব্যবহার করে কোন ধরনের লেনদেনে কত টাকা ক্যাশব্যাক পাবেন, তা দেখতে পারবেন বিকাশ অ্যাপের বিকাশ রিওয়ার্ডস সেকশনে। এ ছাড়া গ্রাহক কোন সেবা থেকে কত পয়েন্ট পেয়েছেন এবং কত পয়েন্ট ব্যবহার করেছেন, তা 'পয়েন্ট বিবরণী' থেকে নিজেই জেনে নিতে পারবেন। জমা পয়েন্টের ভিত্তিতে গ্রাহক ব্রোঞ্জ, সিলভার, টাইটেনিয়াম, গোল্ড, প্লাটিনাম, ডায়মন্ড-ছয়টি রিওয়ার্ড লেভেলে বিভক্ত হবেন। গ্রাহকের সুবিধার্থে বিকাশ রিওয়ার্ডস সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন-উত্তরও যোগ করা হয়েছে বিকাশ রিওয়ার্ডস স্ক্রিনের 'সচরাচর জিজ্ঞাসা' অংশে।বিজ্ঞপ্তি
0
মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) টেড ডেচ বলেছেন, 'জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাস দমন এবং রোহিঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক এবং দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সচেষ্ট থাকবেন।' গত ৫ এপ্রিল ফ্লোরিডা সফরকালে এই কংগ্রেসম্যানের সাথে সাক্ষাৎ ঘটে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামের। সে সময়েই কংগ্রেসম্যান টেড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতার প্রশংসা করেন বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্যে। এমন একটি মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে সহকর্মীদের সাথে নিয়ে কংগ্রেসে সোচ্চার থাকার সংকল্পও ব্যক্ত করেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই কংগ্রেসম্যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কমিউনিটির বিশিষ্টজন ছাড়াও এ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ওয়েস্ট পামবীচের মেয়র কীথ জেমস, বয়েন্টনবীচের মেয়র স্টিভেন গ্র্যান্ট, পাহকি সিটির মেয়র কীথ ব্যাব, বেলে গ্লাডের মেয়র স্টিভ উইলসন এবং সাউথ বে সিটির মেয়র যো কাইল। আরও ছিলেন ব্রায়ার্ড কাউন্টি কমিশনার ডেলে হোলনেস এবং ওয়েস্ট পামবীচ কাউন্টির কমিশনার ক্রেগ কে উইস। সিটি মেয়র এবং কাউন্টি কমিশনারেরা বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠন 'বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা'র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জহীর। বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও ছিলেন জুনায়েদ আকতার, এম ফজলুর রহমান, আব্দুল ওয়াহেদ মাহফুজ। অনুষ্ঠানে বিপুল করতালির মধ্যে রাষ্ট্রদূত শহীদুলকে ব্র্ওায়ার্ড কাউন্টির চাবি প্রদান করেন কমিশনার। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির
4
আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় দেশ সুদানে বিগত তিনমাস ধরে চলা প্রেসিডেন্টবিরোধী আন্দোলনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (০৫ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা। দেশটির মানবাধিকারের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আল-বাশিরের বাহিনী প্রায় সাতটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩৬ জন স্বাস্থ্য কর্মীকে আটক করেছে। তারা আরও বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রের ওয়ার্ডগুলোতে প্রবেশ করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে প্রেসিডেন্টের বাহিনী। পাশাপাশি বহু রোগীকে চিকিৎসাসেবাও নিতে দেয়নি। মূলত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি প্রেসিডেন্ট বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট আল-বাশিরের পদত্যাগের দাবি তোলেন। এ আন্দোলন প্রতিহত করতে সহিংস পদক্ষেপ নিতে শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে পরবর্তীতে এ সংখ্যা বাড়ার তথ্য আর জানায়নি তারা। চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সুবিধাকে কেন্দ্র করে এমন হামলাকে 'মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন' বলে আখ্যায়িত করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক পর্যবেক্ষক দল।
3
রাজধানীর শ্যামবাজারে বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি অবশেষে ভাসিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারীরা। ডুবে যাওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টার দিকে লঞ্চটিকে এয়ার লিফ্টিং ব্যাগ দিয় ভাসিয়ে তোলা হয়। 'ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ডুবুরিরা কাজ করছেন। তবে সকালে এখনও কোনও লাশ উদ্ধার হয়নি। তবে ভেসে উঠা লঞ্চটিতে লাশের সন্ধান করছে ডুবুরিরা। তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর সদস্যরা। ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চটি উদ্ধারের জন্যে জাহাজ প্রত্যয় উদ্ধারের জন্য আসার পথে পোস্তগোলা ব্রিজে আটকে যায়। এতে ব্রিজটির ক্ষতির আশঙ্কা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ কারণে কারণে ব্রিজটিতে এক পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা ও তাৎক্ষণিক ভাবে দাফন করা জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
6
নরসিংদীতে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা ৩৫৫টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে আসন্ন পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এবার জেলার ৩৫৫টি দুর্গা মন্দিরে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা মতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করা হবে। এ সময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।সভায় পুলিশ সুপার শারদীয় দুর্গাপূজা সর্বজনীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া নির্বিঘ্নে উৎসব অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পূজা উদ্যাপন কমিটির সার্বিক সহযোগিতা করেন। এ জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।নরসিংদী পুলিশ লাইনসের অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহেব আলী পাঠান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর-মনোহরদী) সার্কেল মেজবাহ উদ্দিন ও রায়পুরা-বেলাব সার্কেল সত্যজিৎ ঘোষ।
6
বরিশালসহ বিভাগে ৬ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাসপাতালে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৩ জন এবং করোনায় ৫ জন মারা গেছেন। একই সময় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১৪২ জনের। আরটিপিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রমণ তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় বরিশাল জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৩৮ জন। এ পর্যন্ত এই জেলায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭১৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৫৪৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু নিয়ে মোট মারা গেছেন ২১৭ জন। পটুয়াখালীতে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৭১ জন। ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু নিয়ে মোট মারা গেছে ১০৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৫০২ জন। ভোলায় নতুন ৪১ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হলেন ৬ হাজার ৩৩৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু নিয়ে মোট মারা গেছেন ৮৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৪২৬ জন। পিরোজপুরে নতুন ১৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৩৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু না হলেও মোট মারা গেছেন ৮১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮৪১ জন। বরগুনায় নতুন ১৬ জন নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু না হলেও মোট মারা গেছেন ৯০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫ জন। ঝালকাঠিতে নতুন ৯ জন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু না হলেও মোট মারা গেছেন ৬৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৯ জন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের তথ্য সংরক্ষক জাকারিয়া খান স্বপন জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের আইসোলেশনে ১৩ জন ভর্তি হন। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ১১৪ জন চিকিৎসাধীন রোগী আছেন। যার মধ্যে ৩৬ জনের করোনা পজিটিভ, ৭৮ জন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ১৯১ জনের নমুনা আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জন পজিটিভ ও ১৩৮ জন করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩ জন উপসর্গ ও একজন করোনা রোগীসহ মোট ৪ জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ভোলা সদর হাসপাতালে দুইজন এবং বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে দুইজন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেন। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় ২০২০ সালের ৯ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেই থেকে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৭৮ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৩২ জন।
6
জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম সোলায়মান আলী ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তাই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আজ সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। সদর উপজেলা নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম সোলায়মান আলী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
9
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তৈরি পোশাকসহ প্রতিটি কারখানার শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং এপ্রিল মাসের ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এর আগের বকেয়া পরিশোধ করতেও বলা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে জরুরি রপ্তানি থাকলে সে ক্ষেত্রে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন মালিকেরা।আজ সোমবার রাজধানীর শ্রম ভবনে সরকার, মালিক, শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৭১তম সভা এবং আরএমজিবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি-টিসিসি) ১২তম সভায় এসব নির্দেশনা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে কারখানা মালিকরাও ছুটি ঘোষণা করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর আগামী ২ বা ৩ মে উদ্যাপিত হবে। সরকারি ছুটির শুরুর আগেই বোনাস, মার্চ মাসের বেতন, বকেয়া এবং চলতি মাসের ১৫ দিনের বেতন প্রদান করতে হবে।' তবে কত তারিখের মধ্যে দিতে হবে তা তিনি বলেননি।সভায় ২০ রমজানের আগেই পোশাককারখানার শ্রমিকদের বোনাস দেওয়ার দাবি জানিয়ে শ্রমিক নেতা নাজমা বলেন, 'এই সময়ের বোনাস পেলে শ্রমিকেরা নিজের ও পরিবারের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু কেনাকাটা করতে পারবেন। আবার ২৭ রমজানের আগেই এপ্রিল মাসের ন্যূনতম ১৫ দিনের বেতন দিতে হবে। এটা করতে পারলে শ্রমিকেরা নিজ পরিবারের সঙ্গে গ্রামে উৎসব উদ্যাপন করতে পারবেন।'শ্রমিক নেতা রাশেদুল হক রাজু বলেন, 'নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে তা শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। টিসিবির মাধ্যমে শ্রমিকদের পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ঈদে বাসের ভাড়া না বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে।'সভায় অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব এহসান-ই-এলাহী, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মাহমুদ, বিজিএমইএয়ের সহসভাপতি নাসির হোসেন, বিকেএমইএয়ের প্রতিনিধি ফারজানা শামীমা, শ্রমিক নেতা সুলতান আহমেদ, ফিরোজ হোসাইন, নয়মুর হাসান জুয়েল, সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধি সুলতানা নাসরিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
এবার এক তরুণীকে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) লালবাগ থানায় ঢাবির যে শিক্ষার্থী নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন ওই শিক্ষার্থীই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আবারো রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় নুর সহ ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মামলায় ঘটনার স্থান উল্লেখ করা হয়েছে কোতওয়ালী থানা এলাকার সদরঘাট হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। মামলায় ঘটনার দিনক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগক, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি। এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় নুরকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় নুরকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আটক করে পুলিশ। এর দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে ছেড়ে দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে আবার তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে রাত ১টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।
6
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নুরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে মুজিব শতবর্ষের লোগো ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। এ জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসীরা।আজ বুধবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জের ওলিপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ মানুষ। এ সময় মহাসড়কে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে মুজিব শতবর্ষের লোগো ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করেননি নুরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান।এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
6
আজ শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব (আইআইইউএসএফএফ)। করোনা মহামারির কারণে এ বছর উৎসবটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। আজ ও আগামীকাল বিনা মূল্যে উৎসবের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে সরাসরি উপভোগ করা যাবে সিনেমাগুলো। আজ ৬ জুন বিকেল পাঁচটায় দেখা যাবে উৎসবের দর্শকপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সন্ধ্যা সাতটায় নবম ও দশম আন্তর্জাতিক আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের দর্শকপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। রাত সাড়ে আটটায় বিগত বছরগুলোর 'তারেক মাসুদ বেস্ট এমার্জিং ডিরেক্টর' পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। দ্বিতীয় ও শেষ দিন ৭ জুন বিকেল পাঁচটায় অ্যালামনাই শোকেস। দেখা যাবে তরুণ নির্মাতা রামকৃষ্ণ সাহা ও শরিফুল অনিক নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সন্ধ্যা সাতটায় বিগত বছরগুলোর 'জহির রায়হান বেস্ট শর্ট' পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। রাত নয়টায় চলচ্চিত্র আড্ডা আইআইইউএসএফএফ টকস। চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক সাদিয়া খালিদ রীতির সঙ্গে আড্ডায় থাকবেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ২০০৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় এ চলচ্চিত্র উৎসব। বিশ্বব্যাপী তরুণ নির্মাতাদের ছবিগুলোকে দর্শকের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ উৎসবটির আয়োজন করে। এ বছর বিশ্বের ১০৬টি দেশ থেকে উৎসবে জমা পড়েছে ২ হাজার ৮৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। দ্বাদশ আন্তর্জাতিক আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেমা দেখা যাবে ফেসবুকে / ও ইউটিউবে ./ লিংকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (ডিইউএফএস) আয়োজিত এ উৎসবে সহযোগিতা করছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
2
নেটফ্লিক্সের প্রতাপ গত অস্কার আসরেই সবচেয়ে বড় যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল নেটফ্লিক্স। শত শত ছবি বানালেও অস্কার কর্তৃপক্ষ পাত্তা দিচ্ছিল না। কিন্তু নেটফ্লিক্সও বসে থাকার পাত্র নয়। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটটি ঠিকই আদায় করে নিয়েছিল অস্কারের স্বর্ণমূর্তি। রোমা ছবির বদৌলতে সেই যুদ্ধজয়ের কাহিনি এবার দ্য আইরিশম্যান-এর সৌজন্যে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবারের অস্কার আসরে মোট ২৪টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে নেটফ্লিক্সের ছবি। যেকোনো একক মিডিয়া কোম্পানির জন্য এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এরপরের স্থানেই আছে মূল ধারার চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনি, পেয়েছে ২৩টি মনোনয়ন। সনি পেয়েছে ২০টিতে। আর জোকার ছবির সৌজন্যে ওয়ার্নার ব্রাদার্স পেয়েছে ১১টি মনোনয়ন। নেটফ্লিক্সকে ইতিহাস গড়তে উৎসাহিত করেছেন মূলত মার্টিন স্করসিস। এই নন্দিত পরিচালকের তৈরি দ্য আইরিশম্যান পেয়েছে ১০ বিভাগে মনোনয়ন। ৬টি মনোনয়ন পেয়েছে ম্যারেজ স্টোরি, দ্য টু পোপস পেয়েছে ৩টি মনোনয়ন। অ্যানিমেশন বিভাগেও ১টি মনোনয়ন পেয়েছে নেটফ্লিক্সের ব্যানারে তৈরি ক্লাউস। বাকি মনোনয়ন এসেছে দুটি ডকুমেন্টারি ছবির কল্যাণে। তবে নেটফ্লিক্সের এই সুদিন সহজে আসেনি। মূলধারার হলিউডে একসময়ের অচ্ছুত নেটফ্লিক্সই এবার চালকের আসনে আসীন হয়েছে। এবার দেখার পালা, ঠিক কয়টা ট্রফি নেটফ্লিক্সের শোকেসের ঠিকানায় যায়! পুরুষেরাই সব গোল্ডেন গ্লোবের আসর যে বিতর্কে শেষ হয়েছিল, ঠিক সেই বিতর্কের আগুনেই নতুন করে ঘি ঢেলেছে অস্কারের এবারের মনোনয়ন। পুরুষ প্রাধান্যের এক অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছে অস্কার। গত আসরে নারীদের কিছুটা স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেরা পরিচালকের ক্ষুদ্র তালিকায় নারীদের অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত বছর নারী পরিচালকদের বেশ কিছু ছবি বক্স অফিস ও সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লুলু ওয়াংয়ের দ্য ফেয়ারওয়েল, গ্রেটা গারউইগের লিটল উইমেন, লরিন স্কাফারিয়ার হাসলারস ইত্যাদি। এর মধ্যে লিটল উইমেন যদিও ৬টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে, কিন্তু মজার বিষয় হলো, সেরা ছবি ও সেরা অভিনেতার মতো বিভাগে মনোনয়ন পেলেও ছবির পরিচালক গ্রেটা গারউইগের শিকে ছেঁড়েনি। নিন্দুকেরা বলছেন, নারী পরিচালকদের প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে অনীহাই এ ক্ষেত্রে প্রধান কারণ। কৃতিত্ব ও দক্ষতার বদলে সেখানে প্রধান বিবেচ্য হচ্ছে লৈঙ্গিক পরিচয়। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে বর্ণ ও লিঙ্গবৈষম্য কমাতে চেষ্টা করলেও এখনো একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষের মোট সদস্যের ৬৮ শতাংশ পুরুষের দখলে। বলা হচ্ছে, এঁরাই যখন মনোনয়ন চূড়ান্তের ভোট দেন, তখন সচেতনভাবেই এড়িয়ে যান নারীদের। গত ১৩ বছরে হলিউড মোটে ৫৭ জন নারী পরিচালকের দেখা পেয়েছে। ঠিক একই সময়সীমায় পুরুষ পরিচালকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৯১। এবার বুঝে নিন, পার্থক্য কতটা বিশাল! অথচ ওয়ান্ডার ওম্যান, ক্যাপটেন মার্ভেল, দ্য হার্ট লকার, ফ্রোজেন টুর মতো আলোচিত ও ব্যবসাসফল ছবির পরিচালনায় জড়িয়ে আছেন নারীরা। কিন্তু তারপরও ছবি পরিচালনার সুযোগই পাচ্ছেন না তাঁরা। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের সময়সীমা হিসাবে নিলে দেখা যায়, প্রথম ছবির পর মোটে ১৩ শতাংশ নারী পরিচালক দ্বিতীয় ছবি নির্মাণ করতে পারছেন। অথচ পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ২১ শতাংশ। অস্কারের শুরুটা হয়েছিল সেই ১৯২৯ সালে। এতগুলো বছরে মাত্র পাঁচজন নারীকে সেরা পরিচালকের তালিকায় মনোনয়ন দিয়েছে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বিচারক তথা ভোটাররা। আর সেরা ছবি বিভাগে নারী পরিচালকদের তৈরি ছবি মনোনয়ন পেয়েছে কেবল ১৩ বার। এখন প্রশ্ন, নারীদের আর কতটা উপেক্ষা করবে হলিউড? সাদা, সাদা অস্কারে শুভ্র গাত্রবর্ণের আধিক্য নতুন নয়। তবে ২০১৬ সালে এ নিয়ে প্রবল প্রতিবাদের ঝড় উঠলে, একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। গতবার কিছুটা উন্নতি হলেও এবার যেন কয়েক পা পিছিয়ে গেল একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। ৯২তম আসরের মনোনয়নে দেখা গেছে, মনোনীত হওয়া ২০ জন অভিনেতা-অভিনেত্রীর মধ্যে ১৯ জনই শ্বেতাঙ্গ। নিন্দুকেরা বলছেন, শুধু গায়ের রং ও লিঙ্গের ভিন্নতার কারণেই নাকি হাসলারস ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেও মনোনয়ন তালিকায় নাম ওঠাতে পারেননি জেনিফার লোপেজ। এর কারণ-বিচারকদের সাদা রঙে হারিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রবণতা। সমালোচকেরা বলছেন, একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষের বর্ণ ও লিঙ্গবৈষম্য না করার অঙ্গীকার এবার দারুণভাবে হোঁচট খেয়েছে। এই সংস্থার সদস্য প্রায় ৯ হাজার। এঁদের ভোটেই মনোনয়ন ও পুরস্কারগ্রহীতা চূড়ান্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সদস্যরাই বের হতে পারছেন না সাদা রঙের মোহ থেকে। তাঁরা হয়তো ভাবছেন, শ্যামলা ও কৃষ্ণবর্ণের মানুষের অভিনয় ও ছবি নির্মাণের দক্ষতা নেই! ৯২তম আসরে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ৯টি ছবির ৪টির কাহিনিই ভীষণভাবে সাদা মানুষের, সাদা সমাজের। অন্য বর্ণের সেখানে গুরুত্ব নেই। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষের সদস্যদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ছিল শ্বেতাঙ্গের বাইরে অন্য গাত্রবর্ণের। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ শতাংশ। কিন্তু প্রবল সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে লড়াইয়ে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত-এই প্রশ্ন থাকছেই। ভূত নেই, আছে খলনায়ক ঐতিহাসিকভাবেই ভূতদের খুব একটা পাত্তা দেয় না অস্কার কর্তৃপক্ষ। ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও কোনো বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পায়নি ভৌতিক কোনো ছবি। অথচ গত বছর মুক্তি পেয়ে ভালো ব্যবসা করেছে মিডসোমার, আস ও হেরেডিটারির মতো ভয়ের ছবি। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে এসব ছবি। কিন্তু এসব ছবিতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়কে আমলেই নেয়নি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা কমিক বই থেকে তৈরি সুপারহিরোদের ছবির বেলায়। সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী বা সেরা ছবির তালিকায় সুপারহিরোদের স্থান মেলেনি; যা একটু মান রেখেছেন 'জোকার' জোয়াকিন ফিনিক্স। তাঁর কল্যাণেই হিথ লেজারের পর এই প্রথম কোনো কমিক চরিত্রের অস্কার জেতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নায়কের বদলে তাই খলনায়কেই ভরসা রাখতে হচ্ছে কমিকপ্রেমীদের! মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে সমালোচনার যে রোল উঠছে, তা সামনের দিনগুলোয় বাড়তেই থাকবে। এই বিতর্ক ৯ ফেব্রুয়ারি অস্কার আসরের চূড়ান্ত আয়োজনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনবিসি, ভ্যারাইটি, বিবিসি ও ভ্যানিটি ফেয়ার
2
তখন সদ্য উনিশে পা রাখা টগবগে যুবক। মনের ভেতর তুলতুলে আবেগ। একটু ঝাঁকুনিতে চোখের দুই কূল ছাপিয়ে যায়। লিসবনে সেদিন লুইস ফিগো, রুই কস্তাদের মতো পোড় খাওয়া চোখগুলোও ভিজেছিল, সেখানে উনিশ বছরের ছেলেটির চোখে শ্রাবণের ঢল নামাই স্বাভাবিক। দেশের জার্সিতে খেলছেন সবে এক বছর। ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনাল, সেখানে গ্রিক রূপকথার পরাজিত 'বীর' হতে কার সইবে! ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও তাই সহ্য হয়নি। কেঁদেছিলেন শিশুর মতো। ১৭ বছর পরের কথা। এবারও সেই ইউরোর মঞ্চ, রণক্ষেত্র সেভিয়া। দল পর্তুগাল হলেও মোড়কের ভেতরকার নামটা-সোনালি প্রজন্ম। ২০০৪ ইউরোয় পর্তুগালের সেই 'সোনালি প্রজন্মে'র সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন রোনালদো। এবার হোয়াও ফেলিক্স, ডিয়াগো জোতা, ব্রুনো ফার্নান্দেজদের নিয়ে গড়া দলটাও এক অর্থে সোনালি প্রজন্মই-রোনালদো তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতম, দলের মুখ, অধিনায়কের বাহুবন্ধনী নিয়ে দলের পতাকাবাহী। উঠে আসা প্রজন্মের সামনে কান্নাটা ঠিক মানায় না। এই প্রায় দুই দশকে আয়তাকার সবুজ গালিচার রণক্ষেত্রে সব রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া রোনালদো তাই অনূদিত করলেন ট্রোজান বীর হেক্টরকে। একিলিসের কাছে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হারের পর হাঁটু মুড়ে সামনে বসে পড়েছিলেন হেক্টর। অনুচ্চারে বুঝিয়েছিলেন, আমার সৈন্যদল নয় শুধু আমার মাথাটাই নাও। সেভিয়ায় পরশু শেষ ষোলোর মঞ্চে শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠেই রোনালদোর হাঁটু মুড়ে বসে পড়ার দৃশ্যটি মনে আছে? পৃথিবীর সব বিষণ্নতামাখা মুখে কান্না অনূদিত হয়নি। হবে কেন? উনিশ বছর বয়সের সেই তুলতুলে আবেগ এত দিনে পথের নানা বাঁকে হার-জিতের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ পাথরের মতো শক্ত। কথায় আছে, মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের জলের ধারাও শুকিয়ে যায়। যদিও-বা কিছু থাকে, সেটিও জমা রাখতে হয় নিজের একাকিত্বের অর্ঘ্য দিতে। গ্রিক পুরাণে একিলিসের সামনে হেক্টর কাঁদেননি, ইউরোর পুরাণে রোমেলু লুকাকুর সামনেও রোনালদো চোখের জল আটকেছেন। হাঁটু মুড়ে বসে অধিনায়কের বাহুবন্ধনী সামনে খুলে রেখে রোনালদো মনে করিয়েছেন হেক্টরকে। একিলিস কী করেছিলেন, তা সবার জানা। লুকাকু যা করলেন, সেটাও প্রত্যাশিত। এগিয়ে এসে বুকে টেনে নিলেন। ততক্ষণে সবাই ধরে নিয়েছেন, ইউরোর পুরাণে এটাই হয়তো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ ছবি। হয়তো-কথাটা বলতে হচ্ছে নিরাপত্তার খাতিরে। নামটা যে রোনালদো। ছত্রিশ বছর বয়সের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় তাঁর পেটানো শরীর আর ভীষণ লড়াকু মন। আগামী ইউরোয় পা রাখবেন চল্লিশে, তখন তাঁকে দেখার সম্ভাবনা এখন স্বপ্ন মনে হলেও কিংবদন্তিদের কাজই তো স্বপ্নকে বাস্তবে ফলানো। যদিও পরশু রাতে রোনালদোর অধিনায়কের বাহুবন্ধনী খুলে ক্ষোভ ও হতাশাক্লিষ্ট মুখখানি দেখে সে রকম কিছুর ইঙ্গিত মেলে না। তবে একটি অঙ্ক মেলে। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের রণক্ষেত্রে তাঁর পা পড়েছিল এক সোনালি প্রজন্মের হাত ধরে, এবার বিদায়রাগিণী বাজল আরেক সোনালি প্রজন্মকে রেখে। দুবারেই হারের ফল ১-০। পার্থক্যও আছে, এই দুই সোনালি প্রজন্মের সঙ্গেই তিনি 'ট্র্যাজেডি'র চরিত্র। কিন্তু গতবার, ২০১৬ ইউরোয় প্রায় সাদামাটা এক পর্তুগাল দলের সঙ্গেই জিতেছেন ইউরোপসেরার মুকুট। ক্যারিয়ারের পুরো সময় যে কথাটা শুনেছেন বারবার-রোনালদো একা এবং তাঁর সঙ্গে আরও ১০ জন-সেই কথাটার সার্থক রূপায়ণ হয়েছে সেবার। আর এবারের ছবিতে সেই কাঁচা বয়সের আবেগমথিত রোনালদো এবং পরশু রাতের পরিণত মানুষটির মধ্যেও ফারাকটা দেখা গেল-পাথরশীতল চোখের কূল ছাপিয়ে কান্না নয় অব্যক্ত ব্যথার স্পষ্ট ছবি। এটাই কি শেষ ছবি? সেই উত্তর দেবে সময়। আবার এই সময়ই বুঝিয়ে দিচ্ছে, জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকতে হয়। নইলে খিদেটা মরে যায়। ইউরোয় ছোট-বড় সব মিলিয়ে ১৯টি রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়, সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা, সর্বোচ্চসংখ্যক সংস্করণে উপস্থিতি-এসব তো মোটাদাগের খতিয়ান। পুরোটা বলতে গেলে খাতা-কলম নিয়ে বসতে হবে। তার চেয়ে এটুকু বলাই ভালো, ইউরোয় তাঁর মতো এত রেকর্ড নেই আর কারও। শুধু 'সোনায় সোহাগা'র ছাপটুকুই এবার দেওয়া হলো না-আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা তাঁর একার হলো না! এই না হওয়াটাই খিদের জোগান, সামনে পর্তুগালের ম্যাচ তো থাকবেই, এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ, তারপর হয়তো ২০২৪ ইউরোও, কে জানে! রোনালদোদের যে শেষ বলে কিছু নেই-অন্তত তাঁরা শেষ বলার আগে কিছুই বলা যায় না। এবার ইউরোয়ও দেখা গেল সেই নজির। শেষ ষোলো পর্যন্ত পর্তুগাল ৭ গোল করেছে। রোনালদোর বাইরে দলে তারকার অভাব নেই। কিন্তু তাঁর একার গোল ৫টি। এগুলোর মধ্যে ৩টি পেনাল্টি থেকে হলেও ১টি তিনি আদায় করেছেন আর গোল তো গোলই। বুঝতে না পারলে ক্রিকেটের উদাহরণ দেওয়া যায়-সুনীল গাভাস্কারের ভাষায়, 'এমনকি হাফ ভলি ডেলিভারিকেও ঠিকমতো ব্যাটে লাগিয়ে গ্যাপে খেলতে হয়।' তেমনি পেনাল্টি থেকে গোল করতেও স্নায়ুচাপ না নিয়ে গোলকিপারকে ফাঁকি দিতে হয়। এই কাজে রোনালদো যেমন সিদ্ধহস্ত, তেমনি ছত্রিশ বছর বয়সেও মাঝমাঠ থেকে এক দৌড়ে বক্সে ঢুকতে জানেন। তা দেখা গেছে জার্মানির বিপক্ষে, বেলজিয়ামের বিপক্ষেও গোল পেতে নিচে নেমে খেলেছেন, দৌড়েছেন মাঠের অর্ধভাগের ওপাশে প্রায় পুরোটাই, কখনো বক্সে কখনো আবার বক্স ছেড়ে দুই প্রান্তে-কোথায় ছিলেন না! তবু গোল মেলেনি। তাই খিদেটাও থেকে যায়। শেষ বাঁশি বাজার পর বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে রোনালদো বলছিলেন, 'তোমরা ভাগ্যবান। বলটা আজ কোনোভাবেই গোলপোস্টে ঢুকতে চায়নি।' তখন তাঁর চোখেমুখে প্রতিজ্ঞার ছবিটা ছিল স্পষ্ট। এদিকে অস্পষ্ট ছবিটাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেশ আগেই বলে রেখেছেন, ২০২২ বিশ্বকাপ হবে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। সে হিসাবে, রোনালদোর হাঁটু মুড়ে বসে পড়ার ছবিটা চাইলে মনের মধ্যে ইউরোর ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন। আর না-ও দেখা যেতে পারে।
12
পান বিক্রির টাকায় শোধ হচ্ছে না শ্রমিকের মজুরি। বেড়েই যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। অনেকে ক্ষুদ্র ঋণে আটকা। বিকল্প আয় না থাকায় সংসার চালাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর মিষ্টি পানচাষিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে পান আমদানি করছেন আড়তদারেরা। এতে চাহিদা কমেছে মিষ্টি পানের। মৌসুমের দুই মাস পেরোলেও পানের দাম পাচ্ছেন না মহেশখালীর ৩৯ হাজার চাষি।ব্যবসায়ীরা আজকের পত্রিকাকে জানান, ঢাকা ও রাজশাহীর আড়তদারেরা স্থলপথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পান আমদানি করে সারা দেশে সরবরাহ করেন। এ কারণে মিষ্টি পানের চাহিদা কমেছে। গত বছর ইউরোপে মিষ্টি পান রপ্তানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরোতেই রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মহেশখালীর পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ে ও বিলে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। এ পেশায় ৩৯ হাজার চাষির পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ জড়িত।কালারমারছড়ার মিজ্জিরপাড়ার পানচাষি আবদুর রহমান বলেন, '৮০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করেছি। মৌসুমের দুই মাসে মাত্র ১১ হাজার টাকা পেয়েছি। বাকি চার মাসে যা খরচ হয়েছে তা উঠবে কি না সংশয়ে আছি।'একই এলাকার চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, '৫ লাখ টাকা খরচে দেড় কানি জমিতে পান চাষ করেছি। অগ্রহায়ণ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত পান বিক্রি হয়। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছি। লাভ তো দূরের কথা, মূলধন হারানোর শঙ্কায় আছি। পান বিক্রির টাকায় শ্রমিকের মজুরিও শোধ হচ্ছে না।'হোয়ানকের চাষি মনির আলম বলেন, 'পান বিক্রির টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আড়াই লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। তা কীভাবে শোধ করব বুঝে উঠতে পারছি না।'মিজ্জিরপাড়ার পান ব্যবসায়ী আবু নোমান বলেন, 'ঢাকা-চট্টগ্রামের আড়তদারের কাছে মিষ্টি পানের চাহিদা কমেছে। চাষিদের কাছ থেকে তাঁরা এ বছর যে পান বিড়াপ্রতি ১০০ টাকা কিনেছেন, গত মৌসুমে সেগুলো কিনেছিলেন ৩০০-৩৫০ টাকায়। ছোট সাইজের যে পান ৩০-৪০ টাকা ক্রয় করছি, সেগুলো কিনেছি ১০০-১৫০ টাকায়।'বড় মহেশখালীর পান ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, 'শুনেছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পান আমদানি করছেন আড়তদারেরা। এ কারণে মহেশখালীর চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পান আমদানি বন্ধ না হলে চরম সংকটে পড়বেন চাষিরা।'নোনাছড়ি পানবাজার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া বলেন, 'স্থলবন্দর দিয়ে ঢাকা ও রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পান আমদানি করছেন। এই পান চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করছেন। আড়তদারের কাছে মিষ্টি পানের চাহিদা নেই। এ কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। ব্যবসায়ীরাও লোকসান গুনছেন।'এই বাজারের ব্যবসায়ী মনছুর আলম জানান, বিদেশ থেকে পান আমদানির ফলে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। সারা দেশে পান সরবরাহ হচ্ছে না। এ কারণে দামও নিম্নমুখী।জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. মো. এখলাছ উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এ বছর পানের আবাদ ভালো হয়েছে। পান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরখানেক আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি হতো। সেটি আপাতত হচ্ছে না। পান চাষের জন্য সরকারের কোনো প্রকল্প নেই। আমরা চাষিদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিই।'বিদেশ থেকে পান আমদানি হচ্ছে-এমন প্রশ্নে এখলাছ উদ্দিন বলেন, 'রাজশাহী অঞ্চলের পান চট্টগ্রামে আসে। তবে ভারত থেকে পান আমদানির তথ্য আমার কাছে নেই।'
6
মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।শুক্রবার চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি অডিটোরিয়ামে একাডেমির প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদের নামে একাডেমির অডিটোরিয়ামের নতুন নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। শ ম রেজাউল বলেন, 'স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত। এই একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্যাডেটদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রথম বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তৈরি হতে হবে। তাদের আচরণ, গুণগত মান, উৎকর্ষ, কর্তব্য, দায়িত্বশীলতা, সততা, সৃজনশীলতা দেশে ও দেশের বাইরে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।' তিনি বলেন, 'বিদেশের একটা জাহাজে একজন ক্যাডেট যখন কাজ করবেন, তার আচরণ, প্রজ্ঞা, কর্মদক্ষতা দিয়ে পরিস্ফুট হবে যে, এই হচ্ছে বাংলাদেশ। ক্যাডেটদের প্রত্যেককে বাংলাদেশের একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটা প্রত্যাশা করে।' একাডেমির ক্যাডেটদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, 'দায়িত্বের প্রতি সবসময় পবিত্রতার সাথে মনোযোগী থাকবেন। দায়িত্বের কোনো সীমারেখা টানবেন না। কাজের মধ্যে যেন নিষ্ঠা থাকে, ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকে। দায়িত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। তা নাহলে নিজের মেধার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব হবে না। আপনারা অধ্যবসায়ী হবেন, যাতে জীবনে ব্যর্থতা গ্রাস করতে না পারে।' সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান একাডেমির প্রাক্তন অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ। অনুষ্ঠানে একাডেমির উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন মন্ত্রী। একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্মসচিব ড. মো. মশিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য দপ্তর ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানা, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির কর্মকর্তারা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান ক্যাডেটরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে 'ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ অডিটোরিয়াম' নামে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অডিটোরিয়ামের নতুন নামফলক ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
6
২৭ অক্টোবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল সংবাদটি। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি পশ্চিমপাড়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নূর নাহার নামের ১৪ বছরের মেয়েটি মারা গেছে। এ বছর নূর নাহার অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। মেধাবী ছাত্রী হিসেবে স্কুলে তার বেশ সুনামও ছিল। হঠাৎ করে এই করোনার মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রবাসফেরত ৩৫ বছর বয়সী রাজীব খানের সঙ্গে বালিকা নূর নাহারকে বিয়ে দেওয়া হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ায় শারীরিক সম্পর্কের কারণে লাগাতার নূর নাহারের রক্তক্ষরণ হয়। টানা ৩৪ দিন এই ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে মরে গেছে মেয়েটি। ১৪ বছরের শরীর নিতে পারেনি এই ধকল। এই ধরনের হৃদয় হাহাকার করা খবর বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। দুই সপ্তাহ আগে উত্তরবঙ্গের চারটি জেলার আটটি উপজেলায় গবেষণাকাজ করতে গিয়ে সেটাই দেখছি। নূর নাহারের মতো অনেক মেয়ের সঙ্গেই সেখানে কথা হয়েছে, যাদের বয়স এখন ১৬-১৭। তাদের বিয়েও হয়েছে দু-তিন বছর আগে। তাদেরও বিয়ের পর অনেক রক্ষক্ষরণ হয়েছে। তবে তাদের ভাগ্য হয়তো কিছুটা ভালো, তারা বেঁচে আছে এখনো। বাল্যবিবাহের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাল্যবিবাহের নানা ধরনের কুফলের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকলেও খুব কমই ঠেকানো যাচ্ছে বাল্যবিবাহ। করোনাকালে বৃদ্ধি পেয়েছে বাল্যবিবাহ। যদিও করোনার প্রথম দিকেই সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছিল, 'বিশ্বের ৪০ লাখ কন্যাশিশুকে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে ফেলেছে করোনা মহামারি...গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হতে পারে'। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে ৫৯ শতাংশ মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। আর ২২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগেই। করোনকালে অনেকটাই বেড়েছে বাল্যবিবাহ। তবে পাল্টেছে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার স্থান, সময়, ধরন ও অনুঘটকেরা। এ সময় মানুষের চলাচল সীমিত হওয়ায় প্রশাসনসহ অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনের নজরদারি অপেক্ষাকৃত কম।প্রশাসন ও অন্যান্যদের চোখকে ফাঁকি দিতে এখন খুব কম বিয়েই মেয়ের অভিভাবকদের বাড়িতে সম্পন্ন হচ্ছে। নেটজ বাংলাদেশের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, করোনার প্রথম তিন মাসে ৪৩ শতাংশ বাল্যবিবাহ মেয়ের অভিভাবকদের বাড়িতে হয়েছে। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং পাড়াপ্রতিবেশীদের নজর এড়াতে এখন বিয়ে হচ্ছে অন্য এলাকা/গ্রামে কিংবা অন্য জেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে। অনেক ক্ষেত্রে এই বিয়ের কথা বর-কনের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে যাঁরা সচেতন, তাঁদের জানানো হচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও 'সুন্নতে খৎনা' অথবা 'আকিকা' অনুষ্ঠানের ব্যানারে হচ্ছে বাল্যবিবাহ। সবই হচ্ছে কঠিন গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে।বেশির ভাগ বিয়ে হচ্ছে রাত ১০টার পর। দিনেরবেলায় বিয়ে হলে লোক জানাজানি বেশি হয়। সেটি এড়াতেই রাতের শেষ প্রহরকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে বিয়ে পড়ানোর সময় হিসেবে। কাজির বদলে মৌলভিএখন শুধু কলেমা পড়িয়ে মৌলভি ডেকে বেশির ভাগ বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে। সেখানে কোনো রেজিস্ট্রেশন হয় না বা কাজি দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয় না। ১৮ বছরের প্রমাণ হিসেবে বয়স সনদ চেক করে বিয়ে পড়ানোর কথা কাজির। এর আগে 'আঠারো বছরের ভুয়া সনদ' দিয়ে বিয়ে পড়ানো হতো। তবে বয়স সনদ দিয়ে কিছুটা কড়াকড়ি হওয়াতে মৌলভিই হয়ে পড়ছে এ ক্ষেত্রে আস্থাবান। তাই মৌলভি ডেকে বা তাঁর বাড়িতে গিয়েও বিয়ে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বিয়ে থাকছে রেজিস্ট্রিবিহীন। ফলে তালাকের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার সুযোগ মিলছে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রেও পুরোহিতের বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে। শ্বশুরবাড়ি আসা-যাওয়া করতেই ১৮ হয়ে যাবে...এ বিষয়ে যখন ঘটকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন যে কথাগুলো সবচেয়ে বেশি শুনতে পেয়েছি সেগুলো হলো, 'ছোট কই শরীর খারাপ তো হইছে', 'বয়স না হলেও গায়ে-গতরে তো বড় হইছে', এখন বিয়ে না হইলে দায়িত্ব কী আপনে নিবেন?', 'বেশি বয়স হলে যৌতুক বেশি দিতে হবে,' আর 'এখন বয়স ১৫ হলে অসুবিধা কী? শ্বশুরবাড়ি যেতে-আসতে ১৮ হয়ে যাবে?'।কেন বেড়েছে এই হার?করোনা মহামারি দারিদ্র্যের সংখ্যা বাড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশে অনেক কন্যাশিশু স্কুল থেকে বিদায় নিয়েছে ইতিমধ্যেই। কেউ কাজে লেগেছে পরিবারের তাগিদে, নয়তো বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকা, দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়াসহ করোনা সম্পর্কিত নানা কারণ বাল্যবিবাহের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বিপুলসংখ্যক কন্যাশিশু। স্কুল বন্ধ থাকলেই তাদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। লকডাউনের সুযোগে অনেক পরিবার যেমন তাদের মেয়েশিশুদের বাল্যবিয়ে দিচ্ছে এবং এটি গোপন করারও সুযোগ পাচ্ছে। কখনো কখনো স্কুলগুলো মেয়েদের রক্ষা করে বলেই মতপ্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। গিয়েছিলাম আমরা নওগাঁ জেলার সাঁপাহার উপজেলার একটি ইউনিয়নে। উদ্দেশ্য ছিল একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা। গিয়ে দেখি তিনি সালিস করছেন। এটিও একটি বিয়েজনিত সালিস। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠেছি। মেয়েটির বয়স ১২। দুবছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। মেয়েটি জানায়, বিয়ে হওয়ার ছয় মাস পর তার প্রথম মাসিক হয়। সে যে গ্রামে থাকে সেখানে বিশ্বাস করা হয় মেয়েদের প্রথম মাসিক শ্বশুরবাড়িতে হলে সেই মেয়ে 'লক্ষ্মী' হবে। তাই মেয়েকে লক্ষ্মী প্রমাণের চেষ্টা চলে। সেই সালিসে মেয়েটি জানায়, শ্বশুরবাড়িতে তাকে ভাত খেতে দেয় না। শাশুড়িও উপস্থিত ছিলেন সালিসে। বললেন, মেয়েটি কথা শোনে না। কাজকর্মের ফরমাশ দিলে দৌড়ে ঘরের বাইরে চলে যায়, রাস্তাঘাটে ঘোরাঘুরি করে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেয়েটির বাবা-মাকে বোঝাচ্ছিলেন, মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়িতে ফেরত পাঠাতে। বাস্তবতা যখন এই পর্যায়ে তখন আসলেই কী সম্ভব হবে বাল্যবিবাহ ঠেকানো? এই পর্যন্ত যা ঠেকানো হয়েছে তা আদতে খুবই কম। এক জায়গায় ঠেকালেই যে সেই বিয়ে হচ্ছে না তা কিন্তু নয়, ১০-১৫ দিন পর আবার অন্য জায়গায় গিয়ে সেই বিয়ে হচ্ছে।জানা গেছে, বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইনিভাবে কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও সেটির চর্চা খুবই কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়ের পরিবারকেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করা হচ্ছে। কিন্তু ছেলের পরিবার, ঘটক, মৌলভি, কাজি তাঁদের শাস্তি হচ্ছে খুবই কম।আর যেখানে রাজীবের মতো ৩৫ বছরের ছেলেরা ১৪ বছরের মেয়ে খোঁজেন, সেখানে আসলেই কি বন্ধ হবে এই বাল্যবিবাহ? জোবাইদা নাসরীন শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।[]
8
রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠর 'আনসার আল ইসলামের' সাইবার ও দাওয়াতি শাখার এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিউ)। তার নাম মো. সোহেল ওরফে শফিউল্লাহ। রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকালে এন্টি টেররিজম ইউনিটের মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওয়াহিদা পারভীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডার আলাতুন নেছা স্কুল রোডে 'হাফিজ শফিউল্লাহ জেনারেল স্টোর' থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন 'আনসার আল ইসলাম' এর সক্রিয় সদস্য মো. সোহেল ওরফে শফিউল্লাহকে গ্রেফতার করেছে এটিউ। এ সময় তার কাছ থেকে জঙ্গিকাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু উগ্রবাদী মতাদর্শের বই ও চারটি হাতে লেখা ডায়েরি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ধারা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
মানি লন্ডারিং মামলায় একই পরিবারের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি'র) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতেক্যের নামে আলমডাঙ্গা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে জানা যায় যে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার ষ্টেশন পাড়ায় আসামি মিনি খাতুনের বসতবাড়ি। সেখানে ২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি আলমডাঙ্গা থানার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজ নামে ও নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছে। অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেন সিআইডি'র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন। তিনি জানান, আসামিরা অবৈধ মাদক ব্যবসা হতে অর্জিত টাকা দিয়ে আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের নামে/বেনামে জমি ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পলাতক অপর আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তারফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
6
ভারতের কেরালা রাজ্যে অনুপ কৃষ্ণা (৩৫) নামের এক অর্থোপেডিক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কাদাপ্পাকাড়াতে নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর এই সময়ের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ডা. অনুপের সাত বছরের মেয়ের অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যু হয়। সেই অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি নিজেই। এক সপ্তাহ আগেই মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনার তদন্তকারী অফিসাররা সেই বিষয়টিকেও মাথায় রেখেছেন। তবে ওই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ। অনলাইনে বা অফলাইনে তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ একটা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের সময় মেয়েটি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। তার বাবা নিজেই মেয়ের অস্ত্রোপচার করছিলেন। আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। 'অনুপ অর্থো কেয়ার হাসপাতাল' চালাতেন ডা. অনুপ কৃষ্ণা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার সাত বছরের মেয়ে বাবার হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুর জন্য পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। অনুপের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। কোল্লাম পূর্ব পুলিশ স্টেশনে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। তবে ডা. অনুপের পক্ষেও মুখ খুলেছেন কেরালার একাধিক চিকিৎসক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ভয়াবহ হেনস্থা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তারা। একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে মেয়ের হাঁটু অস্ত্রোপচারে রাজি হয়নি অনেক চিকিৎসক। তাই অনুপ একাই ঝুঁকি নিয়ে রাজি হয়েছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি সামাজিকমাধ্যমে লেখেন, 'দুর্ভাগ্যবশত আমরা শিশুটিকে হারিয়ে ফেলেছি।' এরপরই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেট্রায়াল। চিকিৎসকের অপরাধ বলে রায়ও দিয়েছেন অনেকে। এমনকি অনেকেই লিখেছেন বাবা নিজেই মেয়েকে খুন করেছে। এরপর থেকেই অবসাদে ছিলেন অনুপ। তবে ওই কারণেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পরিবার ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন তারা। বিডি প্রতিদিন/এমআই
3
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আর্থিক খাতে যোগ্যতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। স্বাধীনতাবিরোধী, ঋণখেলাপি, করখেলাপি, বিলখেলাপি, দুর্নীতিবাজেরা যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে নতুন নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় অবস্থান দেখাতে হবে। আর মধ্যরাতে ব্যাংকগুলোর সভা করে ঋণখেলাপিদের দায়মুক্তি দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া নৈতিকতাবিরোধী। আজ শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে 'আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছা' শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান হয়। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যে পরিমাণ ঋণ আদায় করা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি অবলোপন করা হচ্ছে। ব্যাংক খাতে ১০ শতাংশ ঋণখেলাপির যে তথ্য দেওয়া হয়, তা সঠিক নয়। কোনো ঋণখেলাপি যাতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি)) সদস্য হতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যাংকমালিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি ও আর্থিক খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদিচ্ছা ও যোগ্যতার অভাব রয়েছে, এমন মন্তব্য করে দেবপ্রিয় বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এড়িয়ে চলেন। গণতন্ত্র ও সুশাসনের পাশাপাশি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ টেকসই হবে না। অনেক দৃশ্যমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাবে শ্রীলঙ্কার মতো দেশকে বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, 'আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা দিনে দিনে ক্যানসারের রূপ ধারণ করছে, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির পরিধি সংকুচিত করছে। আর্থসামাজিক খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও আর্থিক খাতের অনিয়ম আমাদের জন্য একটি কালো অধ্যায়।' তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে গত এক দশকে ৩২ জন ২৪ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে গোল্ডেন ভিসা সংগ্রহ করেছে। অভিবাসী ভিসা নামে এই সুবিধাটি অতিধনীরা নিয়ে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে গোল্ডেন ভিসার নামে এই অর্থ কীভাবে গেল? তিনি অর্থ পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন। আজকের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকেরা যৌথভাবে বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি ও সনদ দেওয়া হয়।
0
মাতৃত্ব নারীর অহংকার। সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা একমাত্র নারীকেই দিয়েছেন। পৃথিবীতে মানুষের জন্মপরম্পরা ধরে রাখতে এটিই আল্লাহর অমোঘ বিধান। একজন নারী গর্ভধারণ ও প্রসবের সময় জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো পার করেন; নিদারুণ কষ্ট সহ্য করেন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা মাতৃত্বের কষ্টের বিনিময়ে তাঁর জন্য বিশাল পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। কোরআন-হাদিসে মাতৃত্বের অনন্য মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে।গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব নিশ্চিতভাবেই একটি কঠিন কাজ। তবে একজন নারী যখন শিশুর জন্ম দেন, তখন একবার সন্তানের ফুটফুটে নিষ্পাপ চেহারার দিকে তাকালেই অতীতের সব কষ্ট-বেদনা মুহূর্তেই ভুলে যান। তাই এই মধুর যন্ত্রণা থেকে পৃথিবীর অধিকাংশ নারীই বঞ্চিত হতে চান না। কারণ, মাতৃত্বের মাধ্যমেই একজন নারীর সহজাত বৈশিষ্ট্য পূর্ণতা লাভ করে। এটি নারীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ আশীর্বাদ। এর মাধ্যমে আল্লাহ নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। মায়ের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে রাসুল (স.) বলেছেন, 'মায়েদের পদতলেই সন্তানদের জান্নাত।' (নাসায়ি, হাদিস: ৩১০৪)সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং প্রসবের কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করা সন্তানের প্রতি মায়ের বিরাট অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহের কথা ভুলে যাওয়া সন্তান কখনোই সুসন্তান হতে পারে না। মা-বাবার আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ যে আয়াতগুলো নাজিল করেছেন, তাতে বিশেষভাবে মায়ের এই অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'আর আমরা মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেন, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমারই কাছেই তো ফিরতে হবে।' (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৪) আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন-গর্ভধারণ, জন্মদান, দুধপান ও বাচ্চা লাললপালন করতে গিয়ে একজন মা অসামান্য শারীরিক পরিশ্রম, কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা বরদাশত করেন।একইভাবে অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার মা-বাবার প্রতি সদয় আচরণের। তার মা নিদারুণ কষ্টে তাকে গর্ভে ধারণ করেন এবং নিদারুণ কষ্ট সহ্য করে তাকে প্রসব করেন। তাকে গর্ভে ধারণ করতে এবং দুধপান ছাড়াতে সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন পূর্ণ শক্তি লাভ করে এবং চল্লিশ বছরে পৌঁছে যায়, তখন সে বলে, 'হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে আর আমার মা-বাবাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান করুন...।' (সুরা আহকাফ, আয়াত: ১৫)একজন গর্ভবতী নারী শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন, নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস সময় পার করেন-এসব কষ্টের বিনিময় আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাঁকে দান করবেন। কোনো মুসলিমের গায়ে একটি ছোট কাঁটা বিঁধে ব্যথা পেলেও আল্লাহ তার বিনিময়ে গুনাহ মাফ করে দেন। সেই তুলনায় সন্তান গর্ভধারণ ও প্রসবযন্ত্রণা অনেক বেশি কষ্টের কাজ; নিশ্চয়ই তার বিনিময়ও হবে বহু গুণ বেশি। এমনকি এক হাদিসে এসেছে, 'যে নারী গর্ভাবস্থায় মারা যান, তিনি শহীদ।' (আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১১)এ কারণেই বিভিন্ন হাদিসের ভাষ্যে বাবার চেয়ে মাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; সেবা করার ব্যাপারে তাঁকে বাবার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এক ব্যক্তি রাসুল (স.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, কে আমার উত্তম আচরণ পাওয়ার বেশি হকদার?' তিনি বললেন 'তোমার মা।' সে বলল, 'তার পর কে?' তিনি বললেন, 'তোমার মা।' সে আবারও বলল, 'তার পর কে?' তিনি বলেন, 'তোমার মা।' সে পুনরায় বলল, 'এর পর কে?' তিনি বলেন, 'তোমার বাবা।' (বুখারি, হাদিস: ৫৯৭১)মাতৃত্বের মর্যাদা এতই বেশি যে মহান আল্লাহ তাঁর নবীদেরও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইসা (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে এরশাদ হয়েছে, 'আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করি। আমাকে করা হয়নি উদ্ধত-অবাধ্য ও দুর্ভাগা-হতভাগ্য।' (সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩০-৩২)এ ছাড়া মাতৃত্বকালকে নারীর জন্য সহজ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। নিরাপদ মাতৃত্ব ও সন্তান লালনপালনের বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামি আইনবিদদের মতে, সাধ্যের চেয়ে বেশি কাজ গর্ভবতী নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈধ নয়। বাচ্চা জন্মদানের পর তার লালনপালনের দায়-দায়িত্ব মা-বাবা দুজনের ওপরই বর্তায়; তবে সন্তানের জন্য যাবতীয় বিষয়ের বন্দোবস্ত করা বাবার দায়িত্ব।মোটকথা ইসলাম কখনোই কারও প্রতি জুলুম করা অনুমোদন করে না। তাই মাতৃত্ব মোটেও নারীর জন্য অভিশাপ হতে পারে না। বরং তা তাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। এটি নারীত্বের পূর্ণতার নিদর্শন এবং দুনিয়া-আখেরাতে বিপুল কল্যাণ লাভের মাধ্যম।
10
গোপালগঞ্জে চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই অপারেশনের দায়ে শান্তিলতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক দেশবন্ধু বিশ্বাসকে (৫০) তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এস.এম মাহফুজুর রহমান এই আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দেশবন্ধু বিশ্বাসের বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার লাটেঙ্গা গ্রামে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এ.এস.এম মাহফুজুর রহমান বলেন, গত ৯ নভেম্বর কোটালীপাড়া উপজেলার পীরারবাড়ি গ্রামের বিধান হালদার গর্ভবতী স্ত্রী বিথী হালদারকে শান্তিলতা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ক্লিনিকের মালিক দেশবন্ধু বিথী হালদারের সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এরপর বিথী হালদার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর স্বামী বিধান হালদার আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শান্তিলতা ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিথী মন্ডলের সিজারিয়ান অপারেশনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক চিকিৎসক অপারেশন করেছেন বলে জানান দেশবন্ধু। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল মোবাইলে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে জানান তিনি অপারেশন করেননি। এমনকি গত দুই মাসে তিনি কোটালীপাড়া আসেননি বলেও জানান। স্বাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে ক্লিনিকে চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া অপারেশন করার অপরাধে দেশবন্ধু বিশ্বাসকে ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। কোটালীপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, শনিবার দণ্ডপ্রাপ্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানানো হয়েছে।
6
গত দুই বছর করোনা পরিস্থিতির জন্য কোনো সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে পারেননি ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা ইয়ামিন হক ববি। মাঝে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিলেও ফিরতে পারেননি সিনেমায়। এবার রাশিদ পলাশ পরিচালিত 'ময়ূরাক্ষী' সিনেমার মাধ্যমে বিরতি ভেঙে ফিরলেন প্রিয় আঙিনায়। যেখানে তার বিপরীতে রয়েছেন তরুণ অভিনেতা সুদীপ বিশ্বাস দীপ। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিনেমাটির প্রথমদিনের শুটিং হয়েছে এফডিসি ও হাতিরঝিলে। পুরো মাস ধরেই রাজধানী ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে এর শুটিং চলবে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন গোলাম রাব্বানী। ববি বলেন, 'দুই বছরেরও বেশি সময় কোনো সিনেমার শুটিং করিনি। এছাড়া আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। 'ময়ূরাক্ষী'র মাধ্যমে আবারও সিনেমার শুটিংয়ে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সামনে বিগ বাজেটের আরও কিছু কাজ করার কথা রয়েছে।' পরিচালক রাশিদ পলাশ জানিয়েছেন, একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক শাহাদাৎ হোসেন লিটন। প্রযোজনায় আজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এর আবহ সংগীত ও গান তৈরি করছেন জাহিদ নিরব।
2
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মেলিতোপোল দখলে নেয় রাশিয়া। মেলিতোপোল শহরের নির্বাচিত মেয়রকে গত শুক্রবার আটক করা হয়। সেখানে নতুন মেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জারোপিরিঝিয়া আঞ্চলিক প্রশাসনের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলিতোপোলের নির্বাচিত মেয়র ইভান ফেডোরভকে গত শুক্রবার আটক করে রাশিয়া। তাঁর পরিবর্তে সিটি কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি গ্যালিনা ড্যানিলচেঙ্কোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।দায়িত্ব নিয়ে নতুন মেয়র গ্যালিনা ড্যানিলচেঙ্কো বলেছেন, 'এখন প্রধান কাজ হলো শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা।'মেয়র গ্যালিনা ড্যানিলচেঙ্কো আরও বলেন, 'সম্মানিত জনপ্রতিনিধিগণ, আমরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছি। সর্বোপরি আমাদের কর্তব্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণের বিষয়টি নিশ্চিত করা।' বিবিসি বলছে, ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের এক ভিডিও পোস্টে দেখা গেছে, শুক্রবার চোখ বেঁধে নির্বাচিত মেয়র ইভান ফেদোরভকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।এদিকে ইউক্রেনের মেয়রকে আটকের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন ইউক্রেনীয়রা। শনিবার মেয়রের মুক্তির দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেন শত শত মানুষ।এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেছেন, 'দখলদাররা মেলিতোপোলের মেয়রকে অপহরণ করেছে। ইউক্রেনের জনগণ তাঁর মুক্তি দাবি করছে। আমাদের দাবি খুবই সহজ, অবিলম্বে তাঁর মুক্তি চাই। ফেদোরভ একজন সাহসী মেয়র। তিনি অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে নিজের শহরের মানুষদের রক্ষা করছিলেন।'রুশ বাহিনীকে আইএসের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তুলনা করে জেলেনস্কি বলেন, 'মেয়রকে অপহরণ করা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেই অপরাধ নয়, এটি একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অপরাধ। এমনকি এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। রুশ বাহিনী আইএসের সন্ত্রাসীদের মতো কাজ করছে।'
3
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ উন্নয়নের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব নিয়ে নতুন সরকার কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল ভোটে এ বিজয় জনগণের বিজয়। আজ রাজধানীর হেয়ার রোডস্থ সরকারি বাসভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া উপলক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন তালুকদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বেগম শামছুন নাহারসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দপ্তর-সংস্থা প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্নের বাংলাদেশ উপহার দিতে চেয়েছিলেন, তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত দশ বছরে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে সে স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন।তিনি বলেন, 'বিগত দশ বছরে দেশে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে বিপ্লব সূচিত হয়েছে তার ধারাবহিকতায় ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জনপদ।' কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পেয়ে আমি আপ্লুত। আপনারা সবসময় দেশের জনগণের স্বার্থ মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন।' তিনি বলেন, সকলে মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে কাজ করতে হবে।
9
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) রাতে করোনা আক্রান্তের বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা লেখেন, বিরতিহীনভাবে একটানা ৩৬৫ দিনের বেশি অফিস করবার পর উপসর্গসহ করোনায় আক্রান্ত হলাম। মহান আল্লাহ এই মহামারি থেকে মানবজাতিকে, বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করুন। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা দেশের প্রথম পাঁচ টিকা গ্রহণকারীর একজন। দেশে গত ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা ২৭ জানুয়ারি টিকা নেন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমও করোনাতে আক্তান্ত হয়ে বাসায় আইসোলেশন আছেন। আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও কর্মকর্তা কর্মচারি।
6
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী ফাজিলহাটি ইউনিয়নের কয়েকটি গস্খামবাসীর যৌথ উদ্যোগে উপজেলার এলেংজানী নদীতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচ দেখতে সকল বয়সী হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। নৌকা বাইচে অংশ নেয়া নৌকার মাঝি-মাল্লাদের হৈ-হুল্লোর ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে নদীর দুই পার। নদী আর নৌকার সাথে গ্রাম-বাংলার মানুষের মিতালী দীর্ঘকাল আগে থেকেই। একটা সময় নৌকা বাইচ ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম অংশ। আধুনিক নাগরিক সভ্যতার কারণে প্রায়ই কমে যাচ্ছে নৌকাবাইচের আয়োজন। হারানো ঐতিহ্য ফিড়িয়ে আনতে এবং করোনা-বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত মানুষের বিনোদনের জন্য শনিবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিল হাটি ইউনিয়নের এলেংজানী নদীতে আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের। প্রতিযোগিতায় শতাধিক ছোট-বড় নৌকা অংশ নেয়।আয়োজন কমিটির সভাপতি ও দেলদুয়ার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. সবদের আলী মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়াম্যান মো.মাহমুদুল হাসান মারুফ, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সস্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিক, সহসভাপতি এস প্রতাপ মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শেষে বিজয়ী নৌকার মাঝি-মাল্লাদের হাতে আর্কষনীয় পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
6
মোহাম্মদপুর কিংবা আদাবর এলাকায় নতুন কোনো ভবনের কাজ শুরু করতে হলে মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে হতো। না দিলে তাঁর ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে কাজ বন্ধ করে দিতেন। অস্ত্রধারী ও প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসীও থাকতেন তটস্থ। অভিযোগ করলে ভয়ভীতি দেখানোসহ মারধর করতেন বলে অভিযোগও আছে তাঁর নামে। তাঁর নামে আছে হত্যাসহ ২৮ মামলা। সেই হাসানকে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় দারুস সালাম এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।গতকাল শনিবার র্যাব-৪-এর মিডিয়া অফিসার এএসপি মাযহারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাযহারুল ইসলাম জানান, আসামি মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার হারিছ চৌধুরী নামে এক কৃষকের ছেলে। ১৯৯০ সালে তিনি বাবার সঙ্গে ঢাকায় আসেন। এর কিছুদিন পরে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।২০১০ সালে মোহাম্মদপুরে বহুল আলোচিত ওহিউদুজ্জামান হত্যা মামলার আসামি। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত হাজতে ছিলেন। জামিনে বেরিয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। মাদক পাচারও করতেন তিনি।লেদু হাসান ২০১৭ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে এস আর পলাশকে হত্যা করেন। আদাবর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে। একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ১০ বছরের সাজা হয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি গাড়িতে আগুন দিয়ে দুই নারীকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন বলে আরও একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর থানাসহ বিভিন্ন থানায় খুন, বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত লেদু হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
6
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রাম থেকে নুরুল আমিন (৪২) নামে এক ভুয়া এনএসআইকে আটক করেছে মেহেরপুর এনএসআইয়ের একটি দল। আটকের পর তাকে গাংনী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক নুরুল আমিন মেহেরপুর জেলা শহরের খন্দকারপাড়ার আব্দুল হকের ছেলে। গতকাল সোমবার গাঁড়াডোব পুকুরপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে কৌশলে মেহেরপুর কোট এলাকা থেকে নুরুল আমিনকে গাঁড়াডোব গ্রামে ডেকে আনে সুমনের পরিবার। এ সময় তার পরিচয়পত্র বা প্রমাণ দেখাতে বলেন। পরিচয় দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় মেহেরপুর জেলা এনএসআই দপ্তরে খবর দিলে তারা তাকে আটক করে। গাংনী থানা সূত্র জানায়, ভুয়া এনএসআই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
একুশে পদকপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিএফইউজের ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ (৭৬) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর দেড়টায় তিনি মারা যান।বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান আজকের পত্রিকাকে জানান, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ দুপুর দেড়টার দিকে মারা গেছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন। তিনি বলেন, রোববার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় তাঁর মরদেহ প্রেসক্লাবে নেওয়া হবে।সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৬ ডিসেম্বর রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দি নিউজ টুডে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন রিয়াজউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের চারবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। সাংবাদিকতায় গৌরবময় অবদানের জন্য রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ১৯৯৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
6
জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার ইস্যুতে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন সাকিব, না হতে পারে ভারত সফর-এমন ইস্যুতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, 'আমি এখনো কিছুই জানি না, বিসিবি'কে জানালে জানাবো'। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এই পর্যন্ত আমি কিছুই জানি না, কিছু না ঘটলে কিভাবে জানাবো... এখন বিসিবি'তে যাচ্ছি, সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো।' বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
লাদাখ সীমান্তে সীমা লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের জোরালো ও যথাযথ পদক্ষেপে যারপরনাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই ড্রাগনকে (চীন) পিছু হটতে ভারতের সর্বাত্মক পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় সেনাদের মনোবল বাড়াতে লেহ সীমান্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী মোদির আচমকা সফরের পর চীনা কর্মকর্তারা প্রতিক্রিয়া দেখানোর শক্তি হারিয়ে তারা এই সফরকে এখন হজম করার চেষ্টা করছেন। ১৫ জুন গালওয়ানে অবৈধভাবে ঢোকা চীনা সেনাদের হাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রথম বিপাকে পড়তে দেখা গেল তাদের। বিশ্বজুড়ে চীনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী মোদি আমলে নিয়েছেন। কভিড-পরবর্তী বিশ্বে চীন লজ্জার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এক কথায়, লাদাখের আগ্রাসনকে চীনের বৈশ্বিক সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনা হিসেবে চীনবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করতে পেরেছেন তিনি। লেহ সীমান্তে উপস্থিত হয়ে নাম উচ্চারণ না করেই চীনকে সাবধান করেছেন মোদি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, 'সম্প্রসারণবাদের আমল শেষ, এখন উন্নয়নবাদের সময়। ইতিহাস সাক্ষী, সম্প্রসারণবাদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অথবা পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হয়েছে।' এতটুকু বলেই শেষ করেন তিনি। মোদি বলেন, 'দুর্বলেরা কখনও শান্তি আনতে পারে না, সাহসীরাই পারে।' সম্প্রসারণবাদের উদাহরণকে তুলে ধরে কৌশলগত আঘাত হেনেছেন মোদি। এটি শুধু লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) লাদাখে ভারতীয় অংশে চীনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনাকে তুলে ধরে না, বরং সীমান্ত নিয়ে যেসব দেশের সঙ্গে চীনের বিরোধ রয়েছে, সেসব প্রতিবেশির অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এক বাক্যে বলতে গেলে, সীমান্ত বিরোধ ইস্যুতে চীনকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চান মোদি। ভারতসহ ২১টি দেশ ও অঞ্চল চীনের অবৈধ তৎপরতার শিকার। মোদির লাদাখ সফরের দিন থেকে চুপচাপ রয়েছে চীন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীন সমর্থকরা নীরব। ওইদিন দুপুর নাগাদ এক বিবৃতির মাধ্যমে মুখ খোলে দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান তাতে বলেন, 'সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করতে কাজ করছে ভারত ও চীন। এ অবস্থায় কোনো পক্ষেরই এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়।' ২১ ভারতীয় সেনাকে হত্যার পরের দিন যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল চীন, তার সঙ্গে চীনের এই সূক্ষ্ণ, পশ্চাদমুখী ও নিরপেক্ষা বার্তার সঙ্গে মিল রয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির ওয়েস্টার্ন কমান্ড থিয়েটারের মুখপাত্র ঝাং শিউলি বলেছিলেন, 'গালওয়ান ভ্যালি সব সময়ই চীনের সার্বভৌমত্বের অংশ।' দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাওও একই ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ কূটনৈতিক পর্যায়ে শোনা যায় না। তিনি ভারতীয় সেনাদের 'সাহসী কর্মকাণ্ডকে' দায়ী করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি ভারতীয় কর্মকাণ্ডকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা হীন প্রকৃতি এবং এর কঠিন পরিণতি রয়েছে। মোদির সীমান্ত সফর নিয়ে এ ধরনের কোনো বেফাঁস মন্তব্য করেনি চীন। তবে ১৫ জুনের সংঘাতের পর চীনের ৫৯টি অ্যাপ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পর ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। এ সম্পর্কে ঝাও বলেন, 'চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।' সুর নরম করে তিনি আরও বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলছি, চীনা ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আইন মেনে চলতে চীন সরকার সবসময় জোর দেয়। চীনসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব ভারতের রয়েছে। চীন অবশ্যই শক্তিশালী একটি পক্ষ। তবে তার অপকৌশলও রয়েছে। ভারত গত এক সপ্তাহে এ বিষয়টি সামনে এনেছে। মোদির লেহ সফরে তাদের এই চেহারা আরও সামনে এসেছে। সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মাশুল দিতে হচ্ছে চীনকে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে, চীন অন্তত বুঝতে পেরেছে এই সময় ভারত মানেই ব্যবসার ক্ষেত্র। এতদিন হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে ভারত চীনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নেয়নি। এবার হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপের পর হংকংবাসীর গণতন্ত্রের দাবির পক্ষে এবং চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। জাতিসংঘ হাইকমিশনারের কাছে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার বিষয়ে দেওয়া রিপোর্টে চীনের আরোপিত নতুন নিরাপত্তা আইনের বিষয়টি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চানদার বলেছেন, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে ভারতীয় কমিউনিটির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ও লেহ সফর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে ভারতের অভ্যন্তরে একটি বিষয় বারবার উঠে আসছে যে, চীন সঠিক পথে নেই। সীমান্তে চীন যেন আর না এগোয়, সেজন্য লাদাখে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ভারত। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিএ) বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। করোনার উৎস ও বিস্তার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য ভারত একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। উত্তর প্রদেশে রেলওয়ের জন্য সিগন্যা ও টেলিকম বিষয়ক বিশাল চুক্তি বাতিল করেছে ভারতের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও চীন থেকে আমদানি বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সরকারগুলোও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুসরণ করে চীনা পণ্য আমদানি বন্ধের দিকে যাচ্ছে। চীনা কোম্পানির সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকার পাঁচ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি বাতিল করেছে। ভারত এখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। চীনের ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করার পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। জাপানের সঙ্গেও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।
3
ফোনে আড়িপাতা যেমন ঠিক না, তেমনি এ নিয়ে মিডিয়া যেভাবে প্রচার করে, তা-ও ঠিক না। এসব বিষয়ে সবার সজাগ থাকা দরকার। আড়িপাতা প্রতিরোধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর শুনানির সময় এ কথা বলেন হাইকোর্ট।আজ সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।শুনানিকালে আদালত বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা একটি বিষয়। আর ব্যক্তিগত বিষয়ে আড়িপাতা আরেকটি দিক। কেউ না কেউ আড়ি পেতেছে, রেকর্ড করেছে। কে রেকর্ড করেছে-তা চিহ্নিত করার বিষয় আছে। এখন তৃতীয় ব্যক্তি যদি রেকর্ড করে বিভিন্ন মিডিয়ায় দেয়, আর মিডিয়া যদি সেটি প্রচার করে, সেখানে মিডিয়ার কিন্তু ভূমিকা আছে। বলা হয়, মিডিয়ায় পাবলিকলি চলে যায়, ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এটি ঠিক।আড়িপাতা প্রতিরোধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ২০টির বেশি ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী ওই রিট করেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আড়িপাতা ও ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এসব রোধে বিটিআরসির নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। ঘটনাগুলোর তদন্ত চাওয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে কারা এসব করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।অন্যদিকে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, রিটকারীরা কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। আইন অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে। তিনি মামলা করতে পারেন। বিটিআরসির কাছে তাঁর অভিযোগ করার সুযোগ আছে। এখানে সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে। আর বিকল্প প্রতিকার থাকলে সে ক্ষেত্রে রিট চলে না। রিট আবেদনকারীদের কেউই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। তাই রিট গ্রহণযোগ্য নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেন বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
6
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত হওয়া গাড়িচালক আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলার চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার্জশিট দুটির অনুমোদন দেয়। দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল শিগগির চার্জশিট দুটি আদালতে পেশ করবেন। জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলা দুটি করেছিলেন। একটি মামলায় শুধু মালেককে আসামি করা হয়। অন্য মামলায় মালেক ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়। মামলা ও চার্জশিটের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, তদন্তকালে ওই দুই আসামির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধিও পায়নি, কমেওনি। মামলা তদন্তের সময় সাধারণত অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। মালেকের বিরুদ্ধে অনুমোদন দেওয়া চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে মোট এক কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৮১০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৮ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও আনা হয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ওইসব সম্পদ তিনি ভোগদখলে রেখেছেন। আসামি মালেক অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ও তা ভোগদখলে রেখে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মালেকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট: অপর চার্জশিটে মালেকসহ তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ পরিমাণ সম্পদ আসামি নার্গিস বেগমের ভোগদখলে রাখার ক্ষেত্রে তার স্বামী আব্দুল মালেক প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় চার্জশিটটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
6
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে দেখা করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তারা হাসপাতালে যান। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আকতার, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব এস এম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সঙ্গে ছিলেন। আইসিইউ থেকে বের হয়ে বেগম রওশন এরশাদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দোয়া করতে অনুরোধ জানান তিনি।
6
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শপথ নিয়েছেন বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ করতোয়ায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন। নান্নু বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় তাঁকে দলের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন নান্নু। নির্বাচনের পর দিন ৩ নভেম্বর দুপুরে উপজেলা সদরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় মেয়র নান্নুর কর্মীদের হাতে চারজন ছুরিকাহত হন। এ ঘটনায় ৩০ জনের নামে মামলা হয়। ওই মামলায় রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে গত ৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
6
প্রতিভাবান, উড়নচণ্ডী, বিনোদনদাতা এবং রাজা-এক শব্দে এভাবেই শেন ওয়ার্নকে ব্যাখ্যা করলেন অ্যালান বোর্ডার, মার্ক টেলর, মার্ভ হিউজ, নাসের হুসেইন ও ব্রায়ান লারা। তবে এত অল্প কথায় কি ওয়ার্নকে আর ধরা যায়?বোর্ডার-লারারাও পারেননি। শেষ বিদায়ে প্রিয় বন্ধু ওয়ার্নকে স্মরণ করতে গিয়ে মনের ডালা খুলে দিয়েছেন কিংবদন্তিরা। এমসিজিতে প্রায় ৫০ হাজার ভক্ত-সমর্থকদের 'ওয়ার্নি' 'ওয়ার্নি' ধ্বনির মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হয় ওয়ার্নের শেষকৃত্যের আয়োজন। শেষ বিদায়ের এই আয়োজনে ভার্চুয়ালি সুরের মূর্ছনা জাগিয়ে ওয়ার্নকে স্মরণ করেছেন কিংবদন্তি সংগীত তারকা স্যার এলটন জন। মঞ্চে ওঠেন এড শিরান, রবি উইলিয়ামস ও ক্রিস মার্টিন। অস্ট্রেলিয়ান সংগীতশিল্পী কাইল মিনোগুয়ে এবং হাগ জ্যাকমানও স্মরণ করেন ওয়ার্নকে।চোখের জল, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ওয়ার্নকে স্মরণ করে বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর বাবা, ভাই ও তিন সন্তান। ওয়ার্নের সন্তানেরা এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এমসিজির নতুন করে নামকরণ করা 'শেন ওয়ার্ন স্ট্যান্ডে'র নামফলক উন্মোচন করেন। ওয়ার্নকে স্মরণ করে তাঁর মেয়ে সামার বলেন, 'তোমার স্বর্গে যাওয়ার আজ ২৬ দিন। তোমাকে আমি সবচেয়ে বেশি মিস করছি।'ওয়ার্নকে স্মরণ করেছেন তাঁর সতীর্থ ক্রিকেটারেরাও। কিংবদন্তি অ্যালান বোর্ডার বলেছেন, 'আমার অধিনায়কত্বকে পুনরুজ্জীবিত করতে তোমায় ধন্যবাদ। আমি সৌভাগ্যবান যে তোমার সঙ্গে দুই বছর কাটাতে পেরেছি।' তাঁর আরেক সতীর্থ মার্ক টেলর বলেন, 'ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ওয়ার্নি। মন্থর বোলিংকে তুমি আরও ফ্যাশনেবল করেছ এবং আমাদের অধিনায়কত্বকে আরও ভালো করেছ।'এমসিজিতে উপস্থিত থেকে ওয়ার্নকে স্মরণ করেছেন কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি বলেন, 'তুমি আমার পরিচিত সেরা অস্ট্রেলিয়ান। আমাদের বন্ধুত্বকে আমি সব সময় লালন করি। তোমার উপস্থিতি সব সময় আমাকে সম্মানিত করেছে।'
6
সরকারি হাসপাতালের 'রোগীর সেবা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকাণ্ড' সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান গত ৮ জুলাই ২০২১ তারিখে যে নোটিশ জারী করেছেন, তা অবিলেম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। ডিইউজের নেতারা আজ ০৯ জুলাই, ২০২১ শুক্রবার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, এ ধরণের নির্দেশনা অবাধ তথ্য প্রবাহের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সাংবাদিকদের কর্ম প্রবাহে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। খেয়াল রাখতে হবে, কোনভাবেই যাতে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার লঙ্ঘন না করা হয়। একই সঙ্গে করোনা দূর্যোগের বর্তমান ক্রান্তিকালে গণমানুষের কাছে দ্রুত সংবাদ পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তথ্য দিয়ে সবার্ত্মক সহযোগিতা করার আহবান জানিয়েছেন ডিইউজের নেতারা। এদিকে আজ শুক্রবার সকালে নারায়নগঞ্জের সেজান জুস কারখানার অগ্নিকান্ডের সংবাদ সংগ্রহের সময় কর্মরত সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। একই সঙ্গে বিবৃতিতে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ শুক্রবার সকালে অতি উৎসাহীরা সাংবাদিকদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। এ ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিবেশ তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছেন ডিইউজের নেতৃবৃন্দ।
6
বেড়ে ওঠা শিবলী সাদিক ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। শিবলী সাদিকের বাবা ছিলেন জেলা খাদ্য পরিদর্শক। বাবার বদলির কারণে ছোটবেলা থেকেই ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকার সুযোগ হয় তাঁর। তখন থেকেই পদ্মা-যমুনা নদীর পাড়, বিস্তীর্ণ গ্রাম, রাখালের গান, সাধারণ মানুষের জীবন তাঁকে খুব টানত। ১৯৫৫ সালে বাবার চাকরির সূত্রে ঢাকায় আসেন শিবলী সাদিক। ১৯৫৮ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। অভিনেতা হতে সিনেমাপাড়ায় দেখতে বেশ সুদর্শনই ছিলেন। চারুকলার বারান্দায় সিনিয়র-জুনিয়ররা, বিভাগের বন্ধুরা তাঁকে ডাকতেন 'স্টাইলিশ বয় সাদিক' নামে। একসময় সহকর্মীরা 'হিরো' নামেও ডাকতে শুরু করেন। এসব শুনে শুনে আঁকিবুকির পাশাপাশি শিবলী সাদিকের নায়ক হওয়ার ইচ্ছা জাগে। তখন নতুন নতুন যাত্রা শুরু করা এফডিসি (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, বর্তমান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন) থেকে তরুণ সেট ডিজাইনার খোঁজা হচ্ছিল। শিবলী সাদিক সেট ডিজাইনার হয়েই ঢোকেন এফডিসিতে। এরপর তাঁর পরিচয় হয় বরেণ্য নির্মাতা সুভাষ দত্ত ও মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তখন তিনি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। চারুকলার ছাত্র শুনে নির্মাতা মুস্তাফিজ তাঁকে সেট ডিজাইনার ও শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেন। তখন থেকেই সিনেমার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন শিবলী সাদিক। পরে বিজ্ঞাপনের ডিজাইনার হিসেবেও বেশ কিছুদিন কাজ করেন। অভিনেতা নাকি নির্মাতা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারেন, সিনেমা নির্মাণই তাঁকে বেশি টানে। প্রথমে ১৯৬৩ সালে মুস্তাফিজুর রহমানের সহকারী পরিচালক হিসেবে তালাশ ছবিতে কাজ করেন। ছবিটির শুটিং করার সময় আরেক সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান এবং ছবির ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করা সুভাষ দত্তের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। পরের বছর ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং এবং ১৯৬৬ সালে কাগজের নৌকা ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন শিবলী সাদিক। পরে একই নির্মাতার আলিঙ্গন (১৯৬৯) ও অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) ছবিতে প্রধান সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। চারুকলা থেকে পড়াশোনা শেষ করে সৈয়দ আওয়ালের সঙ্গে যৌথভাবে শিবলী সাদিক নির্মাণ করেন তাঁর প্রথম সিনেমা বালা। যদিও ছবিটি সেভাবে সাফল্য পায়নি। এই নির্মাতার ভাই ফারুক রোমান হায়দার জানান, নির্মাতা হিসেবে শিবলী সাদিকের প্রথম নির্মাণ ছিল বসতবাড়ি নামের তথ্যচিত্র। বাঘা নির্মাতাদের ভিড়ে মুক্তিযুদ্ধের পর শিবলী সাদিক যখন পুরোদমে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন, তখন প্রযোজক পেতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। সে সময় শিবলী সাদিককে প্রযোজক পেতে এহতেশাম, সুভাষ দত্ত, চাষী নজরুল ইসলাম, নারায়ণ ঘোষ মিতা, কাজী জহির, আলমগীর কুমকুম, আজিজুর রহমান, অশোক ঘোষদের মতো বরেণ্য নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। অবশেষে বাধা পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে শিবলী সাদিক নির্মাণ করেন তারকাবহুল ছবি জীবন নিয়ে জুয়া। এতে অভিনয় করেছিলেন ববিতা, বুলবুল আহমেদ, মিনু রহমান, বেবি জামান, খলিলুর রহমান প্রমুখ। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আবদুল্লাহ আল-মামুন। ১৯৭৫ সালে ছবিটি মুক্তি পায় এবং প্রশংসিত হয়। এরপর শিবলী সাদিককে আর প্রযোজক খুঁজতে হয়নি। শিবলী সাদিক মানেই ছবি হিট প্রথম ছবির সাফল্যের পর শিবলী সাদিক নির্মাণ করেন নোলক। 'ওকি গাড়িয়াল ভাই' গানটি মনে আছে? ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া এই গান সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে ছিল। ছবিটি ভালো ব্যবসাও করে। 'সাদিক ভাই মানেই হিট ছবি'-প্রযোজক মহলে ছড়িয়ে পড়ে এমন কথা। শিবলী সাদিকের স্ত্রী জানান, 'অনেক প্রযোজক বাসায় আসতেন, অফিসে যেতেন। উনাকে (শিবলী সাদিক) দিয়ে ছবি বানাতে চাইতেন। কিন্তু ছবির গল্পে ব্যবসার উপকরণ আছে কি না, এটি মানসম্পন্ন সামাজিক গল্প কি না, গল্পের সঙ্গে চরিত্র মানানসই কি না-এসব ব্যাপারে না জেনে উনি কখনোই শুটিংয়ে যেতেন না। এমনও হয়েছে, চিত্রনাট্য লেখার পর পছন্দ না হলে কাজ করেন নাই।' সুপারহিট ছবি শিবলী সাদিকের তিন কন্যা, ভেজা চোখ, নীতিবান, দুর্নাম, ত্যাগ, মায়ের অধিকার, অন্তরে অন্তরে, আনন্দ অশ্রু-সব ছবিই সুপারহিট। কিছু কিছু ছবির আবেদন তো এখনো আছে আগের মতো। তাঁর পরিচালিত ছবি ভেজা চোখ টানা পাঁচ মাস দেশের প্রায় ২০০ সিনেমা হলে একসঙ্গে চলেছে। উপহার দিয়েছেন যাঁদের ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় নোলক। এই ছবির বেশির ভাগ শিল্পীই ছিলেন নতুন। ফরহাদ, ফয়সল, মিন্না খান, পরে তাঁরা বেশ কটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তিন কন্যা ছবির মধ্য দিয়ে শিবলী সাদিক তুলে ধরেন অভিনেত্রী চম্পাকে। ছিলেন ভোজনরসিক শিবলী সাদিকের বেশির ভাগ ছবির সংগীত পরিচালক আলম খান। তিনি বলেন, 'সাদিক ভাই ছিলেন সাদা মনের মানুষ। সারাক্ষণ হাস্যরসে মাতিয়ে রাখতেন। ছিলেন ভোজনরসিক। খাওয়ার সময় বলতেন, সবজি খাও কবজি ডুবিয়ে, পায়েস খাও আয়েশ করে। এ রকম অনেক মজার কথা বলতেন আর খেতেন। নিজের রাগ, অভিমান কখনো অন্যকে বুঝতে দেননি।' দেখিস, সালমান শাহ অনেক বড় হবে শিবলী সাদিকের হাত ধরেই চলচ্চিত্রে নিয়মিত হয়েছিলেন নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান নবাগত সালমান শাহ ও মৌসুমীকে নিয়ে নির্মাণ করেন কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমা। ওই সময় সালমানের অভিনয় দেখে বেশ প্রশংসা করেন শিবলী সাদিক। সালমান শাহকে নিয়ে বাবার বলা কথাগুলো এখনো শিবলী সাদিকের ছেলে মইন সাদিক মনে রেখেছেন। মইন বলেন, 'বাবা সালমান শাহর অভিনয় খুবই পছন্দ করেছিলেন। বাসায় একাধিকবার বলেছেন, "দেখিস, সালমান শাহ ছেলেটা অনেক বড় হবে। ওকে একবার বললে দ্বিতীয়বার আর কিছু বলে দিতে হয় না।"' ১৯৯৪ সালে সালমান শাহকে নিয়ে শিবলী সাদিক নির্মাণ করেন অন্তরে অন্তরে, ১৯৯৬ সালে মায়ের অধিকার ও ১৯৯৭ সালে আনন্দ অশ্রু। তিনটি ছবিই কালজয়ী। ছবির গান মুখে মুখে ফিরত শিবলী সাদিক ২২টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। প্রথম দুটি ছবি মোটামুটি ব্যবসা করলেও পরের সব কটি ছিল সুপারহিট। তাঁর প্রতিটি ছবির গানই দারুণ জনপ্রিয়তা পেত। 'জীবনের গল্প আছে বাকি গল্প অল্প', 'তুমি আমার কত চেনা', 'কাল তো ছিলাম ভালো', 'ভালবাসিয়া গেলাম ফাঁসিয়া', 'পিঁপড়ায় খাবে বড় লোকের ধন', 'তুমি আমার এমনই একজন', 'তুমি মোর জীবনের ভাবনা', 'তেল গেলে ফুরাইয়া বাত্তি যায় নিভিয়া'-এসব গানই শিবলী সাদিক পরিচালিত সিনেমার গান। পরিবারের চোখে শিবলী সাদিক পুরো নাম শিবলী সাদিক হায়দার। তাঁর স্ত্রী আজমেরী সাদিক উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের বাসায় এখনো স্বামীর সব পুরস্কার যত্নে রেখেছেন। ছেলেমইনশিবলী ও মেয়ে আনিতা এখনো বিভিন্ন জায়গায় বাবার পরিচয় দিলে সবাই নাকি বেশ আপন করে নেয়, জানায় সম্মান। শিবলী সাদিক পরপর দুবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। স্ত্রী আজমেরী সাদিক বলেন, 'সারা জীবন যে মানুষটা ছবির জন্য এত কিছু করেছে। ফিল্মের মানুষকে খুব আপন ভেবেছে। যে মানুষটা দুবার পরিচালক সমিতির সভাপতি ছিলেন, দুইবার মহাসচিব ছিলেন, সততার সঙ্গে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন, এই মানুষটাকে এখন কেউ স্মরণ করে না কেন?'
2