text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
উদ্যোগী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্য ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগেই বিজেপিবিরোধী বৃহত্তর জোট গঠন। সেই লক্ষ্যে শামিল হলেন দেশের ১৯টি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের সংকল্প, নিজস্ব বাধ্যবাধকতা ভুলে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলা। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দেশের স্বার্থে ১৯ দলের পক্ষে বিভিন্ন রাজ্যে ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গত শুক্রবার সোনিয়া গান্ধীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জোটবদ্ধতার এ সলতে পাকানোর প্রচেষ্টায় যে বিষয়টি অনুচ্চারিত ও অমীমাংসিত রয়ে গেল, শাসক বিজেপির অবিসংবাদিত নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তুরুপের তাস সেটাই। বিরোধী জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন? বস্তুত কংগ্রেসের হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দিতে সবচেয়ে বেশি আপত্তি যাঁর, সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্নভাবে যা তাঁর দলের নেতারা বুঝিয়েও দিয়েছেন, সেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবারের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও তা স্পষ্ট করে দেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, কোনো বিশেষ দলকে প্রাধান্য না দিয়ে জোটের কর্মসূচি ঠিক করতে একটা 'কোর কমিটি' তৈরি করা হোক। কমিটিই ঠিক করবে কোন কোন বিষয়ে কোথায় কীভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মমতার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ও ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সহমত হয়েছেন প্রবীণ মারাঠা রাজনীতিক শারদ পাওয়ারও। জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতৈক্য সত্ত্বেও বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে একাধিক প্রশ্নে নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দেয়। ঠিক হয়েছে, কোর কমিটি গঠিত হলে প্রতি মাসে তারা একবার করে বৈঠক করবে। নেতারাও পারস্পরিক আলোচনা অব্যাহত রাখবেন। এর আগে ২৮ জুলাই মমতার সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন সোনিয়া ও রাহুল। এর দিন কয়েকের মধ্যেই সোনিয়া ২০ আগস্টের বৈঠকের কথা ঘোষণা করেন। তার মধ্যে সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন রাহুল গান্ধীর উদ্যোগে একাধিকবার বিভিন্ন দলের নেতারাও বৈঠক করেন। সেই সব বৈঠকের কোনো কোনো ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিলেও কয়েকটিতে গরহাজির ছিল। প্রকাশ্যে এ কথাও তৃণমূল নেতারা জানিয়ে দিতে ভোলেননি যে ডাকলেই তাঁরা চলে যাবেন, তা যেন কেউ মনে না করে। বস্তুত রাহুলকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোট দানা বাঁধুক, তৃণমূল কংগ্রেস তা চায় না। বরং তারা চায় জোটের নেতৃত্ব দিন মমতাই। শুক্রবারের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে মমতা 'কোর কমিটি' গড়ার প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, 'ভুলে যান কে নেতা। ব্যক্তিগত চাহিদা সরিয়ে রাখুন। আমরা কেউ নেতা নই। জনতাই নেতা বেছে দেবে। লক্ষ্য স্থির রেখে জনগণের স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এই লড়াইয়ে ইগোর কোনো স্থান নেই।' ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা সভার শুরুতেই সোনিয়া শুনিয়ে দেন। সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দেন, প্রত্যেককে নিজস্ব বাধ্যবাধকতা সরিয়ে এগোতে হবে। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেগুলো অস্বীকার করাও যায় না। কিন্তু এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দেশের স্বার্থ। দেশ, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী ধ্যানধারণার স্বার্থে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এখন একজোট হতে হবে।' কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, চার বামপন্থী দল, এনসিপি, ডিএমকে, আরজেডি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপিসহ ১৯টি দলের নেতারা অংশ নিলেও গরহাজির ছিলেন আম আদমি পার্টি, অকালি দল, এসপি, বিএসপি, বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও টিআরএসের মতো দলের নেতারা। আম আদমি পার্টি ও অকালি দল পাঞ্জাবে কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী। এসপি উত্তর প্রদেশের ভোটে একা লড়ার কথা জানিয়েছে। বিএসপির সঙ্গে বিজেপির 'সমঝোতা' রয়েছে বলে রাজনৈতিক প্রচার। বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও টিআরএস গত সাত বছরে নানাভাবে বিজেপি সরকারকে সংসদে উতরে দিয়েছে। রাজ্য চালানোর স্বার্থে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে সংঘাতে যেতে রাজি নয়। এসপি নেতা অখিলেশ যাদব একটি বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, লক্ষ্ণৌর বাইরে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারছেন না। এ দলগুলোকে বৃহত্তর জোটে কেন শামিল করা হবে না, সেই প্রশ্ন বৈঠকে ওঠে। মমতা বলেন, সবাইকে ডাকতে হবে। বিহার ভোটে ভালো ফল করা সিপিআই (এমএল) লিবারেশন নেতা দীপংকর ভট্টাচার্যকে কেন ডাকা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হলে কাউকে বাইরে রাখা উচিত নয়। তিনি বলেন, যে দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নয় অথচ বিজেপির বিরুদ্ধে তাদেরও ডাকা দরকার। এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, গণতন্ত্র ও সংবিধান ধ্বংস করে বিজেপি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগোচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন দল কোন দিকে থাকবে, তা তাদেরই ঠিক করতে হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কিত একটা খসড়া প্রস্তাব নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল তাতে সম্মতিসূচক সই দিতে। মমতা সই করেননি। তাঁর বক্তব্য, বৈঠকের পর সম্মিলিত প্রস্তাব দেখে তিনি সম্মতি দেবেন। ঠিক হয়েছে, সবার জন্য বিনা মূল্যে কোভিডের টিকা, পেট্রল-ডিজেলের মূল্য হ্রাস, কৃষি আইন প্রত্যাহার, বিনা বিচারে ধৃতদের মুক্তি, পেগাসাসের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মতো কয়েকটি দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করা হোক। মানুষের দুর্দশা কমাতে ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে আয়করের আওতার বাইরে থাকা পরিবারের হাতে মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়। সিপিআইয়ের ডি রাজা বলেন, আরএসএস তার খোলস ছড়াচ্ছে। রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে। এ প্রবণতা রোখার দায়িত্ব মানুষের। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, বিজেপি যে অজেয় নয়, তা বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা বিরোধীদের সক্রিয় করে তুললেও সব বিরোধী দলের জোটবদ্ধ না হওয়া ও নেতৃত্বের প্রশ্ন অনুচ্চারিত থাকা আপাতত নরেন্দ্র মোদির শ্লাঘার কারণ হয়েই থাকছে। | 3 |
চার বছরের শিশু ক্লিও স্মিথকে অপহরণের অপরাধে টেরেন্স ড্যারেল কেলিকে (৩৬) দোষী সাব্যস্থ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। খবর বিবিসির।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেরেন্স ড্যারেল কেলিকে কারনারভনের আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম শিশুকে জোরপূর্বক/প্রতারণা/প্রলুদ্ধ করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তার কেলির সঙ্গে অপহরণের শিকার ক্লিও স্মিথের পরিবারের সঙ্গে আগে থেকে কোনো সম্পর্ক ছিল না।অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গ্রেপ্তার টেরেন্স ড্যারেল কেলিকে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।পুলিশের অভিযোগ, তিনি একাই অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা নয়।এর আগে গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর চার বছর বয়সি এক শিশুকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরেনসিক সূত্র ধরে কারনারভন অঞ্চলের একটি বাড়িতে গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়ে ক্লিও স্মিথকে উদ্ধার করা হয়।ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেপুটি কমিশনার কল ব্লানচ এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'পুলিশ ছোট্ট ক্লিওকে (ওই বাড়ির) একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে।' "আমাদের এক কর্মকর্তা শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার নাম কী?' শিশুটি জবাব দেয়, 'আমার নাম ক্লিও", যোগ করেন কল ব্লানচ।মেয়েকে ফিরে পেয়ে ক্লিও স্মিথের মা এলি স্মিথ ইনস্টগ্রামে লিখেছেন, 'আমাদের পরিবার পূর্ণতা ফিরে এল।' | 3 |
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক। আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এ পদটিতে তাকে নবনিযুক্ত করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ আগামী চার বছরের জন্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়াকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'আশা রাখি শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আমরা এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবো। কৃষিক্ষেত্রের এ সূতিকাগারের আমি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ওসংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।' উল্লেখ্য,নরসিংদীর সন্তান নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. ভুঁইয়া ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজননে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় যুক্তরাজ্যের কলেজ অব ওয়ালেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। কৃষিক্ষেত্রে বহুমাত্রিক এ গবেষক সরিষার উন্নত জাত সাউ সরিষা-১ ও সাউ সরিষা-২ এর উদ্ভাবক। দেশি- বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে কৃষি সংশ্লিষ্ট তার ১৯৬টি প্রকাশনা রয়েছে। নবনিযুক্ত এ ভিসি ২০১২-২০১৬ মেয়াদে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 1 |
দীর্ঘ ১৪ বছর আইনি লড়াইয়ের পর চাকরি ফিরে পেলেন বাগেরহাটের শরণখোলার মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধামো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একাধিক মামলা দিয়ে তাকে ২০০৭ সালে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ২০১০ সালে স্বপদে বহালের নিদেশ দেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের ওই আদেশ বহাল রেখে গত ১৫ জানুয়ারি অধ্যক্ষের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন হাইকোট। আদালতে অর্থ আত্মসাতের সবকটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসব মামলার রায়ের প্রমাণাদিসহ বোর্ডে আবেদন করলে বোর্ড তা যাচাই-বাছাই ও একাধিক তদন্তের পর ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ দিলে তাকে কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। বাদী বোর্ডে ওই আদেশ এবং নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের দীর্ঘ সুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৭ ফ্রেুয়ারির বোর্ডের আদেশ, ২০১৬ সালের ৩০নভেম্বর এবং ২০১৭সালের পাঁচ জানুয়ারি বাগেরহাট সাব জজের (১ম) রায় ও ডিক্রি বহাল রেখে হাইকোর্টের বিচারপতি আষিশ রঞ্জন দাসের একক বেঞ্চ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের পক্ষে রায় প্রদান করেন। অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে জামায়াতিরা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ইস্তফাপত্র নিয়ে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে। ১৪ বছর পর রায় পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমার বিরুদ্ধে বাদী ও তার লোকজন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমি যাতে কলেজে যোগদান করতে না পারি সেই অপচেষ্টা করছেন তারা। এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো ওলিয়ার রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম হাইকোর্টের রায় পেলে আমি তাকে স্বাগত জানাই। তার অনুপস্থিতিতে আমি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলে আমার কোন সমস্যা নেই। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, এ বিষয়ে এখনো অফিসিয়ালি কাগজপত্র আসেনি। এলে অধ্যক্ষের যোগদানের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
দুর্যোগে, দখলে ও দূষণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, দুর্যোগে ও দূষণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।আজ সোমবার সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে ভার্চুয়াল সভায় সাংসদ সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, 'কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সকলকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে'-প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলেই উপকূলের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী সংকট মোকাবিলায় সরকার এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করবো সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও পার্শ্ববর্তী জনগণকে নিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় স্বতন্ত্র বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।বাপার সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, 'নদীমাতৃক বাংলাদেশের মা হচ্ছে নদী। আর উপকূলে মায়ের দায়িত্ব পালন করছে সুন্দরবন। কিন্তু রাষ্ট্র ও সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা এই মায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করছেন না। যে কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে সুন্দরবন ও সেখানকার জীববৈচিত্র্য। তাই সরকারকেই সুন্দরবনের গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে সুন্দরবন।' সভায় বক্তারা সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। উপকূল না বাঁচলে সারা দেশে বিপর্যয় দেখা দেবে।সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, আন্তর্জাতিক সংস্থা কেআইএ প্রতিনিধি মাটিল দ্যা টিনা বৈদ্য, স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল, একাত্তর টিভির যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক পলাশ আহসান, স্কাসের চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেন বৈদ্য, সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুল প্রমুখ। | 6 |
নিমেশ চন্দ্র দাশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সবাই চেনেন নিমেশ বাবু নামে। ৪৪ বছর কাজ করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিতে। তাকে ছাড়া যেন এক প্রকার অচল বার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছিলো এই কারিগরের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে গেলেন বারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) নিমেশ চন্দ্র দাশ। বুধবার সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন, সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, বারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন। তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্ট বারের যাত্রার প্রায় শুরু থেকেই সকলের আস্থার প্রতীক ছিলেন তিনি। নিমেশ দাশ একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ প্রশাসক। তাকে আইনজীবী সমিতির সবাই ভালোবেসে 'নিমেশ দা' বলেই ডাকতেন। আইনজীবীদের হ্নদয়ের মনিকোঠায় বেঁচে থাকবেন তিনি। শেষ কর্মদিবসে বুধবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে তাকে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতো দীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতা বারের আর কারও নেই। বিদায় বেলায় সহকর্মীদের বলে গেলেন বারের প্রতি যেন খেয়াল রাখেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের স্বন্নাগ্রামে জন্ম নেওয়া নিমেশ বাবু ১৯৭৬ সালে যখন সুপ্রিমকোর্ট বারে আসেন, তখন সেখানে ছিলো মাত্র ৪টি ফাইল। সেখানে এখন শত শত ফাইলের স্তুপ। অথচ সবকিছুই তার নখদর্পনে। মেধা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বারের গুরুত্বপুর্ণ নথি, ফাইল সমিতির স্বার্থে সংরক্ষণ করে রেখে গেছেন। ওই সময় বারের সদস্য ছিল ৪৯১ জন। বর্তমানে এর সংখ্যা প্রায় আট হাজার। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বেশিরভাগ বিচারপতিই সনদ নিয়েছেন তার হাতে। শেষবারের মতো কর্মস্থল ছাড়ার আগে গর্ব ভরে বললেন সেসব পুরানো কথা। স্বাধীনতার পর এত দীর্ঘ সময় সুপ্রিমকোর্ট বারে কাজের অভিজ্ঞতা আর কারও নেই। তাই মায়ারটানও একটু বেশি। অবসরে যাওয়া নিমেশ চন্দ্র দাশ সমকালকে বলেন, সমিতির চাকরিবিধি অনুযায়ী আমি দীর্ঘ ৪৪ বছর এই সমিতিতে কাজ করেছি। স্বৈরশাসনের সময় অনেক প্রতিকুলতার সঙ্গে কঠিন দায়িত্ব পালন করেছি। সমিতিকে আপন মনে ভালবেসেছি। এতদিনে সমিতির প্রতিটি ইট-কণার সঙ্গে আমার স্মৃতিবিজড়িত আছে। এই সমিতিকে মনে করতাম আমার পরিবারের একটি অংশ। এই সমিতি আমার হদয়ে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন সভাপতি এবং ৩৫ জন সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের অনেকেই একাধিকবার দায়িত্বপালন করেছেন। সমিতি আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে, সম্মান করেছে, স্নেহ করেছে এবং ভালোবেসেছে। ৬৩ বছর বয়সী নিমেশ চন্দ্র বলেন, আইনজীবী সমিতি থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে আমার ভাইবোন-ছেলেমেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিনের চাকরিজীবনের এই অঙ্গনের আলো-বাতাস এখন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। | 6 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। সেই অভিযোগে মাত্রা যুক্ত করেছেন সদ্য বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধী দলের নেতার মুখে একই অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে জেলা পুলিশ বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।গত কয়েক দিন ধরে প্রতিটি বক্তব্য, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দিয়ে তাঁর নেতা-কর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগ তোলেন তৈমুর। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি তিনি।পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সূচনা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের বাসায় পুলিশের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার রাতেই প্রায় ১৫ গাড়ি পুলিশ উপস্থিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রিয়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, 'গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার বাসায় ১৫ গাড়ি প্রশাসনের লোকজন এসেছিল। ডিবি, পুলিশ অন্যান্য বাহিনীর লোকজন এসেছিল। এসে প্রচারণা করার জন্য চাপ দিল। আমি ছাত্রলীগ করি। সেই হিসেবে আমি বরাবরই নৌকার পক্ষে কাজ করব এটাই স্বাভাবিক। প্রশাসন কেন বাসায় এসে এমন করল জানি না।'শনিবার দিবাগত রাতেই বিএনপি নেতা জুলহাসের মিশনপাড়ার বাসায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে। সেখানেও তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৈমুর আলম খন্দকার। রোববার সংবাদ সম্মেলন করে তৈমুর বলেন, 'সরকারদলীয় প্রার্থীর পায়ের নিচে মাটি এতটাই সরে গেছে যে, পুলিশ প্রশাসনের লোক দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতে হচ্ছে। যাঁরা হাতির পক্ষে নেমেছে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে সরকারি প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করায় ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বাসায় তল্লাশি করেছে পুলিশ। একইভাবে ২৭টি ওয়ার্ডে আমার সমর্থক ও নেতৃবৃন্দকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।'গত সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান। মনিরুল ইসলাম রবি তৈমুর আলম খন্দকারের সিদ্ধিরগঞ্জের নির্বাচন সমন্বয়কারী।এদিকে পুলিশের অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দেবেন কি না, জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, 'আমি এই পর্যন্ত তাদের তিনটা চিঠি দিয়েছি। একটি চিঠিরও উত্তর পাইনি, কোনো পদক্ষেপও দেখিনি। এরপর আর চিঠি দিয়ে কী হবে?'এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, 'নারায়ণগঞ্জ পুলিশ কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়, পুলিশ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোনো দল বা ব্যক্তিকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ কোনো ধরনের হয়রানি করে না। তবে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে পারে, যাদের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে, একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।'এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান বলেন, 'আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। তারা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কাজ করে যাচ্ছে। যারা এসব অভিযোগ করছে, তারা কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে দেয়নি।' | 6 |
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত সমমনা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা সভাপতিসহ ১০ পদে জয়লাভ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী-সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা চার পদে জয়ী হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩২৫ ভোটারের মধ্যে ৩১৯ জন ভোট প্রদান করেন। রাত ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনার সমিতির বর্তমান সভাপতি নুর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ভূঞা ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে সমমনা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে সভাপতি পদে মো: নূরুল ইসলাম (৩) ১৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেলে বিমল চন্দ্র শীল ১৩৯ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মোহা গিয়াস উদ্দিন ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী সমমনা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলের আমিনুল করিম মজুমদার পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। এছাড়া সমমনা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সহ-সভাপতি পদে মোহা জুলফিকার বকুল ১৫৮, যুগ্ম-সম্পাদক পদে মো: মঈনুল হোসেন মজনু ১৫৬, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রেজাউল করিম তুহিন ১৬৫, অর্থ সম্পাদক পদে নুরুল আনোয়ার ভূঁইয়া ১৫৬, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মোহাম্মদ হেদায়েত উল্যাহ ভূঁইয়া ১৫৯, সদস্য পদে মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খন্দকার ১৬৯, প্রিন্স মাহমুদ চৌধুরী ১৭২, ইয়াছিন আরাফাত তারেক ১৭৮, মহিব উল্লাহ খান ১৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি পদে মো: গোলাম মহিউদ্দীন ১৫৯, অডিটর পদে মো: আলাউদ্দিন ভূঁইয়া ১৭৭, সদস্য পদে নাছের উদ্দিন মিয়াজী ১৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপর সদস্য পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন শাহ মোহাম্মদ কায়কোবাদ সাগর। প্রতিদ্বন্ধী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে দিলিপ সাহা ১২৬, যুগ্ম-সম্পাদক পদে আবদুল খালেক ১২১, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মো: হুমায়ুন কবীর মোরশেদ ১৪৩, অর্থ সম্পাদক পদে মাসুদুর রহমান ১৫১, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে শিপন কুমার বিশ্বাস ১২৮, সদস্য পদে মো: জাহাঙ্গীর আলম নান্টু ১১৫, মো: সফিরুল ইসলাম ভুঁইয়া শাহিন ১২৩, শরফুদ্দিন আহাম্মদ ডালিম ১২০, সোমেন মজুমদার বিদ্যুৎ ১২৫, মোহাম্মদ হাবিবুল আলম জুয়েল ১৩০, সমমনা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে আমিনুল করিম মজুমদার ১৪৫, সহ-সভাপতি পদে এবিএম আশরাফুল হক ভূঁইয়া ১৩১, অডিটর পদে কাজী মো: শাহজালাল ১৩৪, সদস্য পদে মাহমুদুল হাসান ১২২ ও ঈমাম উদ্দিন ভূঁইয়া ১০২ ভোট পেয়েছেন। | 6 |
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীরের সহযোগী হাজেরা খাতুন ও সানাউল্লাহ নূরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আজ দুপুরের পর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে পল্লবী থানা-পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল হেলাল প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।আইপি টিভি জয়যাত্রার প্রতিনিধি নিয়োগের নামে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পল্লবী থানায় গত সোমবার একটি মামলা হয়। জয়যাত্রা টিভির ভোলা প্রতিনিধি আবদুর রহমান তুহিন এই মামলা করেন। মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীর ছাড়াও জয়যাত্রা টিভির জেনারেল ম্যানেজার হাজেরা খাতুন ও সমন্বয়ক সানাউল্লাহ নূরীকে আসামি করা হয়। | 6 |
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে ৫০ জনকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে কেশবপুর চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে এই কম্বল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন উৎসবের আয়োজনও করা হয়।কেশবপুর চারুপীঠ আর্ট স্কুলের সভাপতি মদন সাহা অপুর সভাপতিত্বে সদরের আল-আমিন মডেল একাডেমির হল রুমে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন।প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক মৌসুমী মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলক কুমার সিকদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মশিউর রহমান, অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রবীর সরকার, আল-আমিন মডেল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর গফুর গাজী ও শিক্ষক সাহা বৈদ্য নাথ। স্বাগত বক্তব্য দেন চারুপীঠ আর্ট স্কুলের পরিচালক উৎপল দে।কম্বল পেয়ে আফসার উদ্দিন বলেন, 'এবার শীতে কেউ এখনো কম্বল দেয়নি। রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। এখন থেকে রাতে ঘুমাতে আর কষ্ট হবে না। কম্বল পেয়ে খুব ভালো লাগছে।'গৃহকর্মী জুলেখা খাতুন, মনিরা বেগম, তানিয়া খাতুনসহ আরও অনেকেই কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।এর আগে শহরের আল-আমিন মডেল একাডেমিতে চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন উৎসবের উদ্বোধন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন। | 6 |
করোনাভাইরাস জয় করেছেন সিলেট-২ আসনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। রবিবার (৫ জুলাই) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি নমুনা দিলে আজ সোমবার (৬ জুলাই) তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর আগে গত ১৫ জুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন মোকাব্বির খান।সেখানে তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। অবস্থা কিছুটা ভাল হলে গত ২১ জুন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ন্যাম ভবনে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণফোরাম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, গত ১৫ জুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন মোকাব্বির খান। সেখানে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। হাসপাতালে কয়েক দিন তিনি আইসিইউতে ছিলেন। ২১ জুন অবস্থার উন্নতি হলে ঢাকার ন্যাম ভবনের বাসায় ফিরে ১৪ দিনের আইসোলেশনে থাকেন তিনি। আজ তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে সিএমএইচ। | 6 |
এডো কোনো সড়ক হইলো? কোমরের ব্যথায় নড়তে পারি না। আইজকে হাসপাতালে যাইতাছি দাক্তর দেহানের জন্যে। কিন্তু এই গাড়িত উইঠা থ্যাকনাতে বইসাও থাইকপার পারতেছি না। মধ্যে মধ্যে গাড়ি উইল্ট্যা যাইবার ধরে। কষ্টে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বয়সী কাঞ্চন বেওয়া। নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে ইজিবাইকে বসে কাজীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। অনেক স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। চলতি বর্ষায় এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে আছে। আর এই গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃদ্ধা কাঞ্চন বেওয়া যে গাড়িতে যাচ্ছিলেন, সেটিও এই গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।গতকাল মঙ্গলবার সকালে একই গাড়িতে বসে এই প্রতিবেদক পেশাগত কাজে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ওঠেন উপজেলার শিমুলদাইড় বাজার থেকে। সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর-সোনামুখী সড়ক এটি। সেই সড়ক থেকে উপজেলার দিকে যেতেই দেড় শ গজ পূর্বে একটি গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হলে কথা হয় ওই বৃদ্ধার সঙ্গে। অনেকটা আক্ষেপ করেই তিনি ওই সব কথা বলছিলেন।জানা গেছে, উপজেলার মেঘাই পুরাতন বাজার থেকে সোনামুখী বাজার হয়ে বগুড়ার ধুনট সীমান্তে পাইকপাড়া (ঢগঢগিয়া বাজার) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। ভারী যানবাহন চলাচলে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরো সড়কই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে এই সড়কে প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছেই। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সোনামুখী-সিরাজগঞ্জ বাস সার্ভিসটি চলছে মেঘাই পুরাতন বাজার থেকে। যেটি আগে সোনামুখী বাজার থেকেই চলাচল করত। শুধু তাই নয়, যাত্রী চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও মেলে না মাঝে মাঝে। যদিও মেলে, ভাড়া গুনতে হয় দেড় বা কখনো কখনো দ্বিগুণ। এতে করে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতিও কম হচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহেই যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই সড়কের বেহাল অবস্থা। মাস ছয়েক আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ গর্তগুলো বালু-খোয়া দিয়ে ভরাট করেছিল। কিন্তু তাতে কী! সপ্তাহ পার না হতেই সব খোয়া উঠে আগের চেয়েও বেশি গর্তে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, শিমুলদাইড় বাজারের ঠিক পূর্ব পাশে ইত্যাদি হার্ডওয়্যার ও মুনলাইট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে তিনটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। গর্তে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে সড়ক দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। মেঘাই, ছালাভরা বাজার, শিমুলদাইড় বাজারের পশ্চিম পাশে, চালিতাডাঙ্গা, রৌহাবাড়ি চৌরাস্তা, সোনামুখী, পাইকপাড়া (ঢগঢগিয়া বাজার) এলাকায়ও এ রকম বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই জায়গাগুলোতেও বৃষ্টির পানি জমে থাকে সব সময়। আর পুরো সড়কে ছোট ছোট গর্ত তো আছেই।শিমুলদাইড় বাজার এলাকার ইত্যাদি হার্ডওয়্যারের মালিক কোব্বাত আলী জানান, গর্তে সব সময় পানি জমে থাকে। সপ্তাহে দু-একটি দুর্ঘটনা ঘটছেই এখানে। পাইকপাড়া ঢগঢগিয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন আগেই গর্তে পড়ে একটা ভ্যান উল্টে গিয়েছিল।ইজিবাইক চালক রিয়াদ বলেন, গর্তের সামনে গিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেই। তার পরও গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। প্রতি সপ্তাহেই যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হচ্ছে।'রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়া ইজিবাইকচালক মোস্তফা জানান, গর্তে পড়ে তার গাড়ির চাকায় খোয়া ঠুকেছে। পুরো হাওয়া বের হেয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত এ রকম কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছেই গাড়ির। তিনি আরও জানান, সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় এই সড়কে আর ভাড়া বহন করেন না তিনি। মেঘাই থেকে সিমান্তবাজার টিপ মারেন। ওই দিন শ্যামপুর থেকে একটা জরুরি ভারা নিয়ে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগে আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন বলেন, ভ্যানে করে ধুনটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি রোগীকে। কিন্তু গাড়ির ঝাঁকুনিতে রোগীর আরও করুণ অবস্থা। এমনিতেই পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। তারপর ভাঙা রাস্তায় গাড়ির ঝাঁকুনি। সব মিলিয়ে রোগী পেটের ব্যথায় কান্না করছেন।'সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, অবশ্যই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে। বৃষ্টি একটু কমলেই খুব দ্রুত এই ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। | 6 |
বরগুনায় প্রতিবন্ধী সংগঠনের নামে সহায়তা কার্ড বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আবদুর রশীদ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী সংস্থা (বিপিএস) নামের একটি সংগঠন থেকে খাদ্য ও সেলাই মেশিন সহায়তা দেওয়ার নাম করে কার্ড বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটা স্রেফ প্রতারণা, প্রতিবন্ধীদের নামে বেসরকারি কোনো সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয় না।গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে শতাধিক নারী-পুরুষ বরগুনা সদর ইউনিয়নের ক্রোক এলাকায় জড়ো হয়ে লিটনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনেন। ক্রোক এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ মিয়া বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে লিটন মিয়া বিপিএস নামে একটি সংগঠনের পরিচালক দাবি করে খাদ্য ও সেলাই মেশিন সহায়তা দেওয়ার নাম করে এলাকায় কার্ড বিক্রি শুরু করেন। লিটন মিয়া তিন প্যাকেজের কার্ড বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ৩৫০ টাকার কার্ডধারীদের প্রতি মাসে দুই কেজি করে আটা, চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেল সহায়তা দেওয়া হবে। একইভাবে ৫০০ টাকার কার্ডধারীরা আটা, চিনি, তেল-ডালের পাশাপাশি পাবেন আধা কেজি গুঁড়া দুধ। এ ছাড়া সেলাই মেশিন দেওয়ার নামে দুই-তিন হাজার টাকার কার্ড বিক্রি করেছেন।ভুক্তভোগী রিয়াজ আরও বলেন, কার্ড বিক্রির পরের মাসে প্রথম দিকের কিছু কার্ডধারীদের স্থানীয় কয়েকটি দোকান থেকে প্রতিশ্রুত খাদ্যসহায়তা দিয়ে আস্থা অর্জন করেন তিনি। এরপর মানুষ দেদারসে তাঁর কাছ থেকে কার্ড কিনেছেন। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত আর কাউকে কার্ডের বিপরীতে কোনো ধরনের খাদ্য বা অন্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।এ সময় রিয়াজ বলেন, 'আমরা তাঁকে ফোন দিয়ে সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে দিনের পর দিন কাল-পরশু দেব বলে ওয়াদা দিচ্ছেন। এভাবে তিন মাস অতিক্রম হয়ে গেলে আমাদের সন্দেহ হয় এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমরা প্রতারণার শিকার।'সেলাই মেশিন পাবেন এমন প্রত্যাশায় লিটনের কাছ থেকে দুই হাজার টাকায় কার্ড কিনেছিলেন বরগুনার ক্রোক এলাকার কনা আক্তার, সালমা বেগম, আসমা বেগম, মেরি বেগমসহ আরও অনেক নারী। ভুক্তভোগী কনা আক্তার বলেন, 'লিটনকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি, আসলে তিনি প্রতারক। এখন আমরা কার্ডের টাকা ফেরত পেলেই হয়, মেশিনের দরকার নাই।'ওই এলাকার ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের ছেলে লিটন। এ কারণে সাধারণ মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছেন। ক্রোক এলাকার দোকানদার পারভীন, সগীর মিয়াসহ বেশ কয়েকজন দোকানদার লিটনের হয়ে কার্ড বিক্রি করেছেন। শুধু বরগুনা সদর ইউনিয়নই না, আশপাশের অনেক ইউনিয়ন এমনকি পাথরঘাটা উপজেলারও বেশ কিছু এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষের কাছে কার্ড বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন লিটন।এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে লিটন মিয়া নিজেকে বিপিএস বাংলাদেশের বরগুনা জেলার পরিচালক পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, 'সংগঠনটি নিবন্ধিত না হলেও ২০০৯ সালে বরগুনা জেলার তৎকালীন ডিডি আবদুল মতিন সংগঠন পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। ঢাকার সরাফ উদ্দীন নামের এক ব্যবসায়ী আমার সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সহায়তা দিচ্ছেন।' কার্ড বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে লিটন বলেন, 'তাঁদের বাড়িতে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার খরচা বাবদ টাকা নিয়েছি।'জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, 'প্রতিবন্ধীদের আমরা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকি। বরগুনা জেলায় কোনো সংগঠনের মাধ্যমে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি না। প্রতিবন্ধী সংগঠনের নামে যদি কেউ সহায়তা দেওয়ার নাম করে টাকাপয়সা নেন, তবে সেটা প্রতারণা। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।' | 6 |
'অতি দ্রুত' ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ চেয়ে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জেলেনস্কি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো সমস্ত ইউরোপের সঙ্গে একত্র হওয়া এবং সবার সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলা পদক্ষেপে থাকা।'ইইউয়ের সদস্য পদ প্রাপ্তিকে তিনি ন্যায্য ও সম্ভব বলে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে এটি ন্যায্য। আমি নিশ্চিত যে এটি সম্ভব।'রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেন আক্রমণের পঞ্চম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদল যুদ্ধ অবসানে লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে। বেলারুশের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানটির নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।অনেক নাটকীয়তার পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসলেও শান্তি আলোচনা শুরুর আগে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বাসভবন থেকে এ দাবি জানানো হয়।ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় রাস্তায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ চলছে। এরই মধ্যে সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিয়েভ প্রশাসন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভে এক সপ্তাহ ধরে চলমান কারফিউ আজ তুলে নেওয়া হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য সবকিছু খোলা থাকবে। রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত আবার কারফিউ বলবৎ থাকবে।কিয়েভ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারফিউ তুলে নেওয়া হলেও একেবারে প্রয়োজন না হলে কিয়েভের বাসিন্দারা যেন ঘরবাড়ি বা আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে না যায়।রুশ সেনাবাহিনী বলেছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বেসামরিক নাগরিকেরা চাইলে নির্ভয়ে কিয়েভ ত্যাগ করতে পারবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এমন কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। | 3 |
ঢাকার নবাবগঞ্জে বান্দুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একসঙ্গে ৯টি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টারি দিকে এ আগুন লাগে। আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। জানা গেছে, বাসগুলো এন মল্লিক পরিবহনের। বাসের আগুন থেকে পার্শবর্তী মার্কেটেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাশে থাকা ১৫টি দোকান পুড়ে গেছে। পাশের ইছামতি নদী থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাস স্ট্যান্ডের পাশে থাকা একটি তেলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্ট্যান্ডে শ্যামলী পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস রাখা ছিল। ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, তবে কি কারণে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ারের ইউনিটগুলো। তবে দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
| 6 |
সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই যৌথভাবে তৈরি করেছে ডিজিটাল ডাটা বিশ্নেষণপ্ল্যাটফর্ম। বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এইপ্ল্যাটফর্মতৈরি করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি। এইপ্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইমিগ্রেশেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টার ৩৩৩, ১৬২৬৩ এবং ইউএসএসডি ৩৩৩২ এর নম্বরে কল করা গ্রাহকদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে কোথায়, কি ধরনের করোনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে সে সম্পর্কে সরকারকে তথ্য দেওয়া হবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এইপ্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সব মোবাইল গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ডিজিটাল ম্যাপ তৈরিও সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী রবির চিফ কর্পোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসরকরাও এক ধরনের বিভ্রান্তিতে আছেন। যে কারণে কোথাও কোথাও সাধারণ অসুখে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএমএ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এবং প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এখন থেকে এ সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, এর আগে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা প্রতি উপজেলা থেকে কমপক্ষে দু'জন করে ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে যে তথ্য দিয়েছিলেন, তাও ভুল। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দেননি। বরং তিনি জানান, প্রতি উপজেলায় তিনজন করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করবে। প্রতিমন্ত্রী পলক জানান, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বিগ ডাটা বিশ্নেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশেও সেই ব্যবস্থাটিই করা হচ্ছে রবির তৈরি করা এইপ্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এ পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিয়ে আনীর চৌধুরী বলেন, সব অপারেটর থেকে আসা কলের তথ্য সরকারের জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটর কেন্দ্রের (এনটিএমসি) মাধ্যমে সমন্বিত করে সেটি এইপ্ল্যাটফর্মেবিশ্লেষণ করা হবে। এই বিশ্লেষণ থেকে দিক-নির্দেশনা পাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার কল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি জানান, কল করা গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হবে না এবং বিশ্বস্বীকৃত পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ফলে 'ডাটা প্রাইভেসি' নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও জানান, বর্তমানে ঢাকার ৯টি স্থান থেকে করোনা পরীক্ষা করা যাবে। এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশের ২৮টি স্থান থেকে করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করেই প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কভিড-১৯ নতুন রোগ হওয়ার কারণে এই রোগ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংসস্থার নির্দেশনাও কয়েকবার বদল হয়েছে। | 6 |
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী জেসমিন সুলতানা। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন দায়ের করেন আইনজীবী জেসমিন সুলতানা। এর আগে ৯ ডিসেম্বর রাতে দেশে বহুল আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে জনপ্রিয় তারকা তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকার কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন। প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করা হয়েছে। আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রেপ্তার হওয়া ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, আকাশ, আরিফ, তাহের ও মো. আবু তাইশ কায়েস। এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শবনম ফারিয়া বলেন, "আমি ইভ্যালিতে যুক্ত হয়েছি গত ৫ জুনে। যিনি মামলা করেছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি পণ্য কিনেছেন মে মাসের শুরুতে। তিনি কি আমাকে স্বপ্নে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্ডার দিয়ে দিয়েছেন?" শবনম ফারিয়া বলেন, "তার (ইভ্যালির গ্রাহক) যে অভিযোগ সেটাই তো ভিত্তিহীন। কারণ, আমি তখন ওখানে (ইভ্যালি) কাজই করতাম না। তিনি আমাকে দেখে কোনোভাবেই উদ্বুদ্ধ হয়ে আসতে পারেন না।" এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে যে কোনো সময় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হতে পারেন। | 2 |
ইয়েমেনে কৌশলগত শহর মারিবের দক্ষিণে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় ১৬০ হুতি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার চালানো বিভিন্ন হামলায় তারা নিহত হয় বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। তবে এ ব্যাপারে হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উত্তর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সবশেষ শক্ত ঘাঁটি মারিব ছিনিয়ে নিতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আভিযান শুরু করে হুতি বিদ্রোহীরা। সাময়িক বিরতির পর সম্প্রতি আবারও লড়াই জোরালো করে তারা। সৌদি জোটকে উদ্ধৃত করে সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, 'গত ২৪ ঘণ্টায় আবদিয়াতে আমরা ৩২টি হামলা চালিয়েছি। এতে ১১টি সামরিক যান ধ্বংস এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা ১৬০টির বেশি উপকরণ নির্মূল করা হয়েছে।' এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে হুতি বিদ্রোহীরা সাধারণত কথা বলে না। আর সে কারণে হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আসলেই ১৬০ কি না, এর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে সৌদি জোটের দাবি, মারিব দখলের জন্য ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে শুধু গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। বিশ্বস্ত এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানায়, চার সপ্তাহের অবরোধ শেষে আবদিয়া জেলার কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে বিদ্রোহীরা। মারিব থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আবদিয়ার অবস্থান। ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, ইয়েমেনি আদিবাসীদের যারা সরকারি বাহিনীকে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের বিদ্রোহীরা 'অপহরণ করেছে, বন্দি করেছে ও নিপীড়ন' চালিয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ অনুগত সেনা ও আদিবাসী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪৭ জন।' ইয়েমেনের এক সামরিক কর্মকর্তাও একই রকম হতাহত মানুষের সংখ্যার কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটি থেকে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে সরকার ও হুতিদের মধ্যে লড়াই চলছে। সে সময় রাজধানী সানা দখল করে মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে হুতি বিদ্রোহীরা। পরে ২০১৫ সালের মার্চে হাদি সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। ইয়েমেন পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে শোচনীয় মানবিক সংকট বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। | 3 |
রাজধানীর গ্রিনরোডে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সাত তলা থেকে পড়ে ইমাম হোসেন (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল দশটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির এ্যাসিস্টেন্ট অ্যাডমিন অফিসার ফয়সেলুজ্জামান জানান, সকালে তিনি যখন ভার্সিটিতে ঢুকছিলেন তখন শুনতে পান ভবন থেকে এক শিক্ষার্থী নিচে পড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করে জানান, ভার্সিটির সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে ওই শিক্ষার্থী নয় তলা ভবনটির সাত তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার বাড়ি ভোলা লালমোহন উপজেলায়। বাবার নাম আক্তার হোসেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ৯৮ নং পূর্ব রাজাবাজারে একটি মেসে থাকতেন। ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। আজ সকালে তার ৩য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। নিহতের চাচা মো. দুলাল পাটুয়ারী জানান, নিহতের নাম ইমাম হোসেন মিশু। গ্রামের বাড়ি লালহোমন উপজেলার পশ্চিম চর উম্মেদ গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলো সে। তার বাবা আক্তার হোসেনের গ্রামে মুরগীর ফার্ম রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ইমামের তেমন যোগাযোগ ছিলো না। সকালে গ্রাম থেকে খবর পাই সে মারা গেছে, তার লাশ ঢাকা মেডিকেলে আছে। এরপর হাসপাতালে এসে মৃতদেহটি দেখতে পাই। কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা কিছুই আমরা জানিনা। স্বজনরা জানায়, তার বাবা মা গ্রামে রয়েছে। তাদেরকে ঢাকায় আনার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। লাশটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তিনি লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। | 6 |
পর্দায় এবার শিল্পা শেঠিকে দেখা যাবে দুর্ধর্ষ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়। আলোচিত নির্মাতা রোহিত শেঠির 'ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স' ওটিটি সিরিজে নতুন এই চরিত্রে অভিনয় করছেন শিল্পা। সম্প্রতি এই বলিউড অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিরিজের প্রথম লুক শেয়ার করেছেন। যেখানে তাকে দেখা গেছে, বন্দুক হাতে লড়াইয়ে ছুটে চলেছেন। ছবি শেয়ার করে শিল্পা লিখেছেন, 'প্রথমবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আগুন লাগানোর জন্য প্রস্তুত। অ্যাকশন কিং রোহিত শেঠির সঙ্গে তার কপ ইউনিভার্স ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স প্রাইম-এ যোগ দিতে পেরে দারুণ রোমাঞ্চিত, এখন চিত্রায়ণ করা হচ্ছে।' ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, 'ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স' সিরিজে শিল্পার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চরিত্রে অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সিরিজটি শিগগিরই অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে। এদিকে ওটিটি ছাড়াও শিল্পা ব্যস্ত আছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রিয়েলিটি শো এবং 'নিকাম্মা' নামের নতুন ছবির কাজ নিয়ে। | 2 |
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি'র কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মেয়ে জেইনাব বলেছেন, ট্রাম্প, তুমি ভেবো না আমার বাবার শাহাদাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল জেনে রাখো বাবার শাহাদাতের ফলে গোটা বিশ্বের প্রতিরোধ ফ্রন্টের মধ্যে মানবিকতা আরও বেশি জাগ্রত হবে। এখন থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের স্ত্রী-সন্তানদের তাদের স্বামী অথবা বাবার মৃত্যুর আশঙ্কায় প্রহর গুণতে হবে। তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব দেখছে ইরাক ও ইরানের মানুষ কীভাবে তাদের বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ট্রাম্প ইরানি ও ইরাকি জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এই শাহাদাতের ঘটনা দুই জাতির মধ্যে বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে, তারা চিরস্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। জেনারেল সোলাইমানির মেয়ে বলেন, আমার বাবার মৃত্যু আমেরিকা ও ইসরাইলের জন্য অন্ধকার দিন নিয়ে এসেছে। এর আগে এক টিভি সাক্ষাৎকারে জেইনাব বলেছেন, তিনি নিশ্চিত লেবাননের হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহও (সোলাইমানি) হত্যার প্রতিশোধ নেবেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর জার্মান জাতি বিভক্ত হয়েছিল, নাকি বিভক্ত করা হয়েছিল, ইতিহাসে সেই আলোচনা এখনো সরব। তবে যুদ্ধাপরাধের দায় মেনে নিয়ে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে ছিল, সেটিই ঐতিহাসিক সত্য। ৪১ বছর বিভক্ত থাকার পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মান জাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এই পুনঃ ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে জার্মানিতে ২০তম জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় দল, আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন কম ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে, আর জোট শরিক জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রথম স্থানে রয়েছে। জার্মানির বড় এই দুই দলই এখন নির্বাচনে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ও ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে পরবর্তী চার বছরের জন্য সরকার গঠনের আলোচনা চালাচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে সবকিছুই নির্ভর করছে, জোটবদ্ধ হতে ইচ্ছুক দলগুলোর রাজনৈতিক মতাদর্শিক ঐক্যর ওপর। তবে শিগগির জার্মানিতে জোট সরকার গঠিত হবে না। জোট গঠনে ইচ্ছুক দলগুলো পরস্পরের সঙ্গে খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করে একটি রূপরেখা তৈরির পর সরকার গঠিত হবে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ও সম্ভাব্য চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে আগামী ডিসেম্বরের বড়দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ক্ষমতায় বহাল থাকবেন। জার্মানির আইনসভা বা বুন্ডেশটাগে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কারণে ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও জোট সরকার গঠিত হবে। তবে চ্যান্সেলর হওয়ার দাবিদার তারই বেশি, যে দল সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে। সে হিসাবে ওলাফ শলৎজ আগামী দিনের সম্ভাব্য জার্মান চ্যান্সেলর। জার্মানির রাজনীতিকদের মধ্যে এই জোটবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার চালানোর প্রবণতা এসেছে, অতীত ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর জার্মান জাতি ইউরোপ তথা বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়ে। ১৯৩৯ সালে বীভৎস আর বিধ্বংসী এই যুদ্ধের শুরু করেছিল জার্মানি, নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। ১৯৩৩ সালে এই নাৎসি হিটলারের ক্ষমতায়ন হয়েছিল, সে সময়ের রাজনীতিকদের অনৈক্যের কারণে। পৃথিবীর আর সব দেশে বাম ঐক্যের ব্যর্থতার মতো বাম রাজনীতির জন্মভূমি জার্মানিতেও সে সময় ভ্রাতৃযুদ্ধ বাদ যায়নি। জার্মান ইতিহাসবিদদের একটা বিরাট অংশ এখনো মনে করে, মধ্য ও বামপন্থীদের মধ্যে আপস না হওয়াই ফ্যাসিবাদ বা হিটলারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছিল। বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান রাজনীতিকদের মধ্যে সুশৃঙ্খল হওয়ার প্রবণতা তথা যুক্ত ইউরোপ গড়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা একসময়ের নাৎসি ও যুদ্ধবাজ জার্মান জাতি সম্পর্কে পুরোনো ভাবনা পাল্টে দিতে অনেকটা সহায়ক হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী ১৯৪৯ সাল থেকে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির বিভেদের প্রতীক বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মান জাতির পুনরেকত্রীকরণ ঘটে। সম্প্রতি একটি নির্বাচনী প্রচারে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, 'জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম, উভয় অংশের জনগণের মধ্যে কিছু ক্ষোভ ও বঞ্চনা রয়েছে। তবু আমাদের আরও প্রত্যয়ী ও সাহসী হয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাদের উভয় অংশের সমাজের আরও সংহতির প্রয়োজন।' উল্লেখ্য, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জার্মানি এগিয়ে গেলেও একটি অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ৩১ বছরেও জার্মানির রাজনীতির পিছু ছাড়েনি। আর তা হলো, জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্য মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। ৩১ বছর আগে পূর্ব জার্মানির জনসাধারণ সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে অধিক গণতন্ত্রের দাবিতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল বা পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছিল। তবে এখন সেখানকার জনগণের কিছু অংশের নানান অগণতান্ত্রিক আচরণ, পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। বিগত কয়েক বছর সাবেক পূর্ব জার্মানির জনগণের একটি অংশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির আক্ষেপ ও দৈন্য এবং অভিবাসী ইস্যুকে পুঁজি করে রাজনীতি করছে। এই রাজনীতির ধারক কট্টরবাদী অলটারনেটিভ ফর ডয়চেল্যান্ড (এএফডি) দলটি। দলটি ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ১০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। জার্মান আইনসভায় তাদের আসনসংখ্যা ৮৩। ৩১ বছর আগে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্য পুনরেকত্রীকরণ ঘটলেও দুই অঞ্চলের মধ্য কিছু বিভেদ রয়েছে। সাবেক পশ্চিম জার্মানি বা জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে সেই ১৯৪৯ সাল থেকেই একধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক বাজারকাঠামো ছিল, যা এখনো বজায় রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দেশ না হয়েও মানুষের মৌলিক চাহিদা যেমন আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি-এসব সেবার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা বজায় ছিল। এখনো রয়েছে। আর সাবেক পূর্ব জার্মানি বা পূর্বাঞ্চল ছিল সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী কাঠামোর রাষ্ট্র। গত ৩১ বছরে পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি-আইন, প্রশাসন, রাস্তাঘাট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা, সবকিছুর আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। আর এসব করতে পশ্চিমের নাগরিকদের দীর্ঘ ৩১ বছর সংহতি ভ্যাট প্রদান করতে হচ্ছে। আদতে ১৬০ লাখ মানুষ-অধ্যুষিত পূর্ব জার্মানিকে নতুন ধাঁচে গড়ে তোলার বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। জার্মান জাতির পুনঃ ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তির প্রাক্কালে অর্থনৈতিক বিষয়ক নানা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দুই অঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবু দশ বছরের বেশি সময় ধরে জার্মানির অর্থনীতি ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। সাবেক পূর্ব জার্মানির পুনর্বাসন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে এই অর্জন বিস্ময়কর। এ বছর জার্মান পুনরেকত্রীকরণ উৎসব পালিত হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলের সালে নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত হালে শহরে। জার্মান ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তিতে 'ঐক্যবদ্ধ ভবিষ্যৎ' শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ঐক্যবদ্ধ জার্মানির ৩১ বছর পূর্তিতে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জার্মান জাতি অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরাফ আহমেদ প্রথম আলোর হ্যানোভার, জার্মানির প্রতিনিধি[] | 8 |
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর রসায়ন অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম কলেজে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলন রসায়ন অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অলিম্পিয়াডে ৩০০ কলেজের আড়াই হাজার প্রতিযোগীসহ প্রায় তিন হাজার জনের সমাগমের প্রস্তুতি ছিল। দেশের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মুজিববর্ষের জনসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করেছে। বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি দেশব্যাপী ১৩ মার্চের প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে পূর্ব নির্ধারিত রসায়ন অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিযোগিতার ওই দিনের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিযোগিতার পরবর্তী তারিখ পরবর্তীতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। আয়োজক কমিটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্য সচিব অধ্যাপক এনকেএম আকবর হোসাইন বলেন, রসায়ন শিক্ষাকে সারাদেশে জনপ্রিয় করতে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে আধুনিক রাষ্ট্র গড়তেই অলিম্পিয়াডের এই ধারাবাহিক আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রসায়ন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক বেনু কুমার দে, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী, আঞ্চলিক কমিটির প্যাট্রন আবুল হাসেম, সদস্য অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক বন গোপাল চৌধুরী ও অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র দাশ। | 6 |
আফগানিস্তানের একেকটা সরকারি অফিস যৌন নিপীড়নের একেকটা ফাঁদ! যৌন নিপীড়নের ভয়াবহতা সেখানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেন এটিও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অফিসগুলোতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে আফগানিস্তানে; অবশ্য কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রাজধানী কাবুলবেষ্টিত একটি এলাকায় একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির এক সংবাদকর্মী। ওই নারীসহ আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথোপকথন এবং বিস্তারিত কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অন্ধকার জগতের নানা ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ওই নারী কর্মকর্তা সাক্ষাতকারে তুলে ধরেছেন তার কর্মজীবনের দুর্বিষহ ঘটনা। তিনি চান; সারা বিশ্ব যেন এই নিপীড়ন সম্পর্কে ধারণা পায়। নির্যাতনের শিকার নারী জানান, চাকরির সময় তাদের কার্যালয়ের প্রধান সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দ্বারা বারবার উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছিলেন। একদিন অফিসে ঢুকামাত্রই তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন ওই মন্ত্রী। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ওই মন্ত্রী আমাকে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি তাকে বললাম- আমি তো যোগ্য এবং চাকরিতে অভিজ্ঞ। আপনি আমাকে এমনটা বলবেন তা কখনও ভাবিনি। 'আমি উঠে দাঁড়ালাম; এসময় তিনি আমার হাত ধরে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তার কক্ষে প্রবেশ করানোর জন্য জোর করলেন, বললেন- আমি কয়েক মিনিট সময় নিব; ভয় পেয়ো না, আসো।' তিনি বলেন, যথেষ্ট হয়েছে- বলেই আমি তাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেই। ওটাই তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা। আমি খুব হতাশ ও রাগান্বিত হয়েছিলাম। ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি নিপীড়নের শিকার আফগানি নারী। তিনি বলেন, আমি এরপর চাকরি ছেড়ে দিলাম। আমি আমার সরকারকে বিশ্বাস করতে পারিনা। আপনি যদি পুলিশ বা আদালতে যান তখন দেখতে পাবেন; কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত তারা। ওই নারী বলেন, দেশে এমন কোনও জায়গা নেই যেটা নিরাপদ বা আপনি সেখানে গিয়ে কোনও অভিযোগ করতে পারেন। কথা বললে সবাই নারীকেই দোষ দেয়। যৌন নিপীড়নের শিকার ওই নারী তার আরও দুই সহকর্মী একই মন্ত্রীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই নারী সহকর্মী আমাকে তাদের ধর্ষণের ঘটনা বলেছেন। অবশ্য এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। সাবেক এই সরকারি নারী কর্মকর্তা বলেন, ওই মন্ত্রী খুব নির্লজ্জভাবেই এগুলো করে যাচ্ছেন; কারণ তিনি সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ দেশের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে কয়েকবছর ধরে শীর্ষে অবস্থান করছে আফগানিস্তান। ২০১৮ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এসব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। জাতিংসঘের ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, কীভাবে সরকারি অফিসে যৌন নিপীড়নের শিকার হন নারীরা। এসব নিয়ে অভিযোগ করলে তারা সহিংসতার শিকার হন; কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভিযোগের জন্য উল্টো তাদেরকেই দায়ী করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন নিয়ে মুখ খোলার ব্যাপারটি মোটেও সহজ নয় বলে বিবিসি বলছে। যে কয়জন নারী এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, যৌন নিপীড়নের এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি মন্ত্রণালয় বা একজন মন্ত্রীর দ্বারাই ঘটছে তা নয়; অধিকাংশ মন্ত্রণালয়েই এমনটি খুঁজে পাওয়া যাবে। যৌন নিপীড়নের শিকার আরেক নারী কথা বলেন বিষয়টি নিয়ে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি তার ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমি একটি সরকারি চাকরির আবেদন করেছিলাম, সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির এক সহযোগীর সঙ্গে দেখা করার কথা হলে সেখানে বিপত্তি ঘটে। ওই নারী বলেন, যিনি আমাকে দেখা করতে বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ছবি ছিল। তিনি আমাকে তার ব্যক্তিগত অফিসে যেতে বলেন। তিনি বললেন- আসো, তোমার কাগজপত্রগুলো দেখব। অফিসে গেলে ওই ব্যক্তি আমাকে তার কাছে গিয়ে বসার এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার হাতে তখন দুটি পথ ছিল। তার প্রস্তাব গ্রহণ করা অথবা তখনই অফিস ত্যাগ করা। বুঝেছিলাম এটা আসলে থামবে না; তিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর আরও কয়েকজন আমার সঙ্গে একই কাজ করবে। আমি খুব বেদনা নিয়ে ফিরে এলাম। খুব ভীত হয়ে পড়েছিলাম। প্রতারণার শিকার এই নারী বলেন, আপনি যদি বিচারক, পুলিশ বা আইনজীবীদের কারো কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করতে যান তারাও আপনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেবে। 'সবাই যদি এভাবে করে; তাহলে কী হবে? নারীকে যৌন নিপীড়নের ব্যাপারটা এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। চারপাশোর সবাই যেন আমাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়।' আফগানিস্তানে অনেক বছর ধরে পুরুষ সহকর্মীর দ্বারা নারী সহকর্মীদের এমন যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ব্যাপারটি অনেকটা অগোচড়েই রয়ে গিয়েছিল; তবে তা প্রকাশ্যে আসে গত মে মাসে। ওই সময় আফগানিস্তানের এক টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে সরকারের মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীদের যৌন নিপীড়নের কথা বলেন প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল হাবিবুল্লাহ আহমেদাজী। তিনি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে 'পতিতালয়ের প্রতি সমর্থন' দেওয়ার অভিযোগ আনেন। হাবিবুল্লাহর অভিযোগের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সরকারের দায়িত্বশীল কোনও ব্যক্তি। এ ব্যাপারে ওই সময় অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দেয় কর্তৃপক্ষ। নারগিস নেহান নামে সরকারের একজন মন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় বলেন, সংসদে একজন নারী সদস্য আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে দেশটির বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও সংসদ সদস্য ফৌজিয়া কফি জানান, সরকারের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীদের যৌন হয়রানি অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। নারীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে; প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই তদন্ত কার্যের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন ব্যক্তিকে। অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের মুখপাত্র জমসিদ রাসোলি বলেন, তদন্ত চলছে। যারা অভিযোগের তদন্তের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে তাদের আমরা নিরাপত্তা দিব। তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। সার্বিক বিষয়ে সতর্কতা অবলম্ববন করা হবে। | 3 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মরণে 'ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট' আয়োজন প্রশংসার দাবী রাখে বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী পালন করছি। কিছু দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করেছি। আগামী ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনও পালন করবো। কাজেই এমন একটি সময়ে এ ধরণের ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে খেলাধুলা চর্চার পাশাপাশি আমাদের যুব সমাজের মাঝে শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই খেলাধুলায় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র "শহীদ শেখ রাসেল এর জন্মদিন" ও "শেখ রাসেল দিবস" উদযাপন উপলক্ষে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের আয়োজনে 'শেখ রাসেল অনুর্ধ্ব-১৯ ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট-২০২১' এর উদ্বোধন করেন। বুধবার (১৩ অক্টোবর) শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইন-ডোর স্টেডিয়ামে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে.এম. শহিদ উল্যা'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি ড. আবদুল মালেক, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা তরফদার মো. রুহুল আমিন ও সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম সিকদার। | 6 |
ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করতে সম্মতি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এতে আনন্দিত রোহিঙ্গারা মঙ্গলবার কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে র্যালি, মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এর আগে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতেশনিবারঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে সেখানে (ভাসানচর) বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মাঝে সৃষ্টি হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এ খবর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে সেখানেও রোহিঙ্গাদের মাঝে সৃষ্টি হয় উৎসাহ-উদ্দীপনা। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। খণ্ড খণ্ড মিছিল করে ব্যানার ফেস্টুন সহকারে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে স্বাগত জানান রোহিঙ্গারা। এ সময়ে রোহিঙ্গারা বলেন, এখন অনেকে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী হবে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা জড়িত হওয়ায় তারাআনন্দিত। এতে ক্যাম্পে আশ্রিতদের খাদ্য, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। র্যালিতে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শ্লোগান দেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল 'স্বাগত জাতিসংঘ', 'ধন্যবাদ বাংলাদেশ'সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন। র্যালি শেষে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা নিজেদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। কুতুপালং-২ ক্যাম্প থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় হাজার দুয়েক রোহিঙ্গা র্যালি বের করেন। রোহিঙ্গা মাঝিদের নেতৃত্বে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে সাধারণ রোহিঙ্গারা অংশ নেন। তারা ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় মসজিদের মাঠে এসে কর্মসূচি শেষ করেন। এখানে রোহিঙ্গাদের হেড মাঝি জাফর আলম বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকার চেয়ে ভাসানচরে পাকা ঘরে থাকা অনেক ভালো হবে। রোহিঙ্গারা এখন বুঝতে পারছে কুতুপালংয়ের চেয়ে ভাসানচর তাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করায় রোহিঙ্গারাঅনেক সন্তুষ্ট। তারা এখন ব্যাপকহারে ভাসানচরের প্রতি আগ্রহী। অনেকে তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করে আনন্দ র্যালিতে অংশ নিয়েছে। রোহিঙ্গা কমিউনিটির এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে কাউকে জোর করা হচ্ছে না। স্বেচ্ছায় যারা ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করবে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। ক্যাম্প-২ ইস্ট এর বাসিন্দা ছৈয়দ নুর বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। ক্যাম্পের এক কক্ষের ছোট একটি ঘরে ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করা কষ্টকর। এখানে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে পরিবার নিয়ে তারা গাদাগাদি করে থাকছেন। তিনি আরও বলেন, ভাসানচরে স্থানান্তর হওয়া স্বজনরা জানিয়েছে, সেখানে বসবাসের পরিবেশ কুতুপালং ক্যাম্পের চেয়ে উন্নত। পরিবার নিয়ে থাকার ব্যবস্থাও এখানকার চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়া খাবার ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ক্যাম্পের চাইতে ভালো রয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে ভাসানচরে যাওয়ার জন্য ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তিনি। ক্যাম্প-১৭ এর অন্য এক মাঝি মোহাম্মদ আমিন বলেন, ভাসানচরে বসবাসের উপযোগিতা নিয়ে এতদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মাঝে নেতিবাচক প্রচারণা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এখন ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। কুতুপালং-৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ক্যাম্পে সৃষ্টি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ইউএনএইচসিআরের অংশ গ্রহণ থাকায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে ভাসানচর যেতে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমিও সেখানে যেতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছি। রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার থেকে প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর বেশ কয়েক দফায় প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ভাসানচরে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। তারা বলেন, ভাসানচরে মানুষ বসবাসের উপযোগিতা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে এক ধরনের নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা ছিল। ফলে অনেক রোহিঙ্গা সেখানে যেতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের মাঝে দেখা দিয়েছে ইতিবাচক মনোভাব। এখন অনেক রোহিঙ্গা সেখানে যেতে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সাধারণ এই রোহিঙ্গারা মঙ্গলবার আনন্দ র্যালি বের করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং-২, ডি-৫, ক্যাম্প-৪, বালুখালী ১৭ নম্বর ক্যাম্প এবং টেকনাফের চাকমারকূল ও নয়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে ভাসানচর যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা খণ্ড খণ্ড আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্প ও ২-ইস্ট ক্যাম্পের দায়িত্বরত ক্যাম্প-ইনচার্জ উপ-সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া গত বছর ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সেটি এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ভাসানচরে যাতায়াতে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় তা স্থগিত ছিল। ক্যাম্প-ইনচার্জ বলেন, ভাসানচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে এখন রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। যারা ভাসানচর যেতে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা যুব সংগঠনের বিবৃতি: এদিকে ভাসানচরে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ-জাতিসংঘ স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রোহিঙ্গাদের একটি যুব সংগঠন। রোহিঙ্গা ইউথ অ্যাসোসিয়েশন নামে সংগঠনটির বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ জানানো হয়। বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কিন মং বলেন, আমরা চুক্তিটিকে স্বাগত জানাচ্ছি, পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি দ্বীপটিতে যেনো রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, জীবিকার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়। | 6 |
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আস্ফালন করে, এই অপশক্তির বিনাশ প্রয়োজন।' বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তিতে বঙ্গবন্ধুর পবিত্র আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাচ্ছে যে, আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুুর স্বপ্ন পূরণের পথে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে, খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পৃথিবীর সামনে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।' 'কিন্তু এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আস্ফালন করে' উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি, তাদের দোসর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত এবং তাদের জোটে এখনো সেই দলগুলো আছে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছিল। তারা এখনো আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন, অগ্রগতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং দেশকে যদি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে এই অপশক্তির বিনাশ প্রয়োজন।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
পাহাড় কাটার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার 'জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদরাসা' নামে একটি কওমি মাদরাসার পরিচালককে ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। অর্থদণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম হাফেজ মো. তৈয়ব। সোমবার (৫ এপ্রিল) পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জরিমানার বিষয়টি চট্টগ্রাম কার্যালয়কে জানানো হয়। পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বলেন, নগরের জালালাবাদ আরেফিন নগর এলাকায় অবস্থিত একটি কওমি মাদরাসার পাশে চারটি স্থানে সর্বমোট এক লাখ ৫৬ হাজার ১৫০ ঘনফুট পাহাড় কাটার প্রমাণ পেয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এ বিষয়ে গত ৩১ মার্চ পরিবেশ অধিদফতরের এক শুনানিতে মাদরাসা পরিচালক মো. তৈয়বকে ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জরিমানার টাকা আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পাহাড় কাটা হয়েছে সেগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অভিযুক্তকে তিন মাসের সময় দেয়া হয়েছে। | 6 |
ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত 'তিতাস একটি নদীর নাম' ছবির প্রযোজক হাবিবুর রহমান। ছবির কাজের জন্যই ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই এক করলেন একঝাঁক মেধাবী মানুষকে। ছবির পেছনে নানা ভূমিকায় কাজ করলেন ফখরুল হাসান বৈরাগী, তমিজ উদ্দীন রিজভী, আখন্দ সানোয়ার মোরশেদ, শমসের আহমেদ, আওলাদ হোসেন চাকলাদার, এ জে মিন্টু ও ছটকু আহমেদ। ছবিটা প্রশংসিত হলেও ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি।তবে হাল ছাড়লেন না হাবিবুর রহমান। গড়ে তুললেন- 'শাওন সাগর লিমিটেড'। সাতজন ছিলেন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। চলচ্চিত্রকার মহীউদ্দিন হলেন চেয়ারম্যান। সৈয়দ হাসান ইমামের তখন আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হলেন তিনি। পরিকল্পনা হলো, ছয়জন ডিরেক্টরের প্রত্যেকেই বাই-রোটেশনে ছবি ডিরেকশন দেবেন, বাকি পাঁচজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করবেন।প্রথম ছবি ফ্লপের পর প্রযোজক হাবিবুর রহমান নিজের হাতখরচের টাকা দিয়ে বৈরাগীর পরিচালনায় বানালেন 'সেয়ানা'। অলিভিয়া আর প্রবীর মিত্র নায়ক-নায়িকা। কিন্তু 'সেয়ানা' ফ্লপ হলো। ছটকু আহমেদ প্রস্তাব করলেন, 'নাটক করি?' তাঁর নির্দেশনায় মহিলা সমিতি মঞ্চে এল নাটক 'আলোকিত অন্ধকার'। প্রবীর মিত্র, রোজিনা, মোতালেব হোসেন, দিলারা, নাহিদ, এ জে মিন্টু, বৈরাগী-অভিনয় করলেন। নাটকটি প্রশংসিত হলো। হাবিব বললেন, 'চলো, আবার ছবি করা যাক।'এবার এ জে মিন্টুর পালা। তিনি ছবির আইডিয়া দিলেন- 'মিন্টু আমার নাম'। ছবির আইডিয়া শুনিয়ে ছটকু আহমেদকে মিন্টু বললেন, 'আপনি স্ক্রিপ্ট লিখে দেন।' স্ক্রিপ্ট হলো, ছবি হলো। ছবিটি বাম্পার হিট হলো। প্রতিষ্ঠান আলোর মুখ দেখল।এরপর এ জে মিন্টু বানালেন 'প্রতিজ্ঞা'। এটাও বাম্পার হিট। তমিজ উদ্দীন রিজভী বানালেন 'ছোট মা'। নিজের স্ক্রিপ্টে ছটকু আহমেদ বানালেন 'নাত বৌ'। সব ছবিই ব্যবসাসফল হয়। 'শাওন সাগর লিমিটেড'-এর নিয়ম ছিল, এই ইউনিটে থাকাকালীন বাইরে কোনো কাজ করা যাবে না। এ জে মিন্টু ইউনিট ছেড়ে চলে গেলেন মির্জা খালেকের 'প্রতিহিংসা' ছবি বানাতে। বৈরাগীও বের হয়ে গেলেন। কারণ তিনি ডিরেক্টর হয়ে যাওয়ার পর অ্যাসিস্ট্যান্সি করাটাকে সমুচিত মনে করেননি।গত ৫০ বছরে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন এই ছয় মেধাবী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। কাজ করেছেন চলচ্চিত্রের উন্নয়নে।তাঁদের সেই অবদানের কথা তুলে ধরতেই ছটকু আহমেদ তৈরি করছেন তথ্যচিত্র 'চলচ্চিত্রে আমাদের ৫০ বছর'। ছটকু আহমেদসহ নির্মাতা এ জে মিন্টু, ফখরুল হাসান বৈরাগী, তমিজ উদ্দিন রিজভী, প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান ও শমশের আহমেদকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই তথ্যচিত্র। প্রকাশিত হবে আগামী বছর ১৬ জুলাই।ছটকু আহমেদ বলেন, 'ওই দিন চলচ্চিত্রে আমাদের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। এই ৫০ বছরে আমরা সাধ্যমতো কাজ করেছি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে। আমাদের স্ট্রাগল ছিল। আমাদের সোনালি দিন ছিল। আমরা কীভাবে হাতে হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি, সেটা বলব এই তথ্যচিত্রে।' এরই মধ্যে তথ্যচিত্রটির শুটিং শুরু হয়েছে। | 2 |
বৈরী আবহাওয়ার কারণে পদ্মানদী উত্তাল থাকায় কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে বন্ধ রয়েছে সকল নৌযান চলাচল। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি বেড়ে গেলে নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া নাব্য সংকটের কারণে আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। বিআইডব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে উত্তাল হয়ে উঠেছে পদ্মা। মাঝ পদ্মায় প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ঝুঁকি এড়াতে ভোর থেকেই লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ী লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকবে। | 6 |
নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ শুক্রবারই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় মহামান্য রাষ্ট্রপতি আজকেই (শুক্রবার) কিছুক্ষণের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নাম ঘোষণা করবেন। নতুন প্রধান বিচারপতি পদে কে আসতে পারেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কোনো নাম প্রস্তাব করি নাই। আর এটা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, এতে হাত দেওয়ার সাহস আমার নেই। গত নভেম্বরে বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করার পর থেকে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন। | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ২০১৫ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে উঠতে এখনো তাঁদের বেগ পেতে হচ্ছে। আন্দোলন নিয়ে নিজ দলের মধ্যে ওঠা সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, এখনো বিএনপি আন্দোলনেই আছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত 'নির্বাচনে আস্থাহীনতা, ইভিএম'র ব্যবহার: বর্তমান প্রেক্ষাপট' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে না বা বড় আন্দোলনে যাচ্ছে না-এ সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'বিএনপি একটি উদারপন্থী দল। এর কাছে কেউ বিপ্লব আশা করলে হবে না। এই দল তার নিজস্ব চরিত্র নিয়ে এগিয়ে যাবে। আমরা প্রতি মুহূর্তে আন্দোলেনর মধ্যে আছি। আমরা কোর্টে যাই, আলোচনা করি, নির্বাচনে যাই সবই আন্দোলনের অংশ। এই আন্দোলনগুলোকে একসঙ্গে করে আমরা বড় আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাব।' হঠাৎ করে কিছু করে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে চান না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের অভিজ্ঞতা আছে যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় এবং ২০১৫ তে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আমাদের এখনো অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। ' ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের অংশ নেয়নি বিএনপি। ২০১৫ সালে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন শুরু করেছিল তারা। টানা তিন মাসের সেই আন্দোলন ছিল কার্যত নিষ্ফল। তার মাশুল এখনো গুনতে হচ্ছে দলটিকে। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী মামলার আসামি কারাগারে যান, অনেকে আত্মগোপনে। এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে নাশকতার ঘটনা বিএনপির ভাবমূর্তি সংকটেও ফেলে। বিএনপির বিভিন্ন মিছিল বা র্যালিতে জনসমাগম হলেও আন্দোলনে নামতে গেলে রাস্তায় লোক কম হচ্ছে কেন? এ সমালোচনার জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক কর্মী নির্যাতনের শিকার হলে, গুম-হত্যার শিকার হলে তখন তার মধ্যে হতাশা কাজ করতে পারে। তাদের অনুপ্রাণিত করেই এগিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের কাজ তাদের অনুপ্রাণিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পরিবেশ এবং ক্ষেত্র তৈরি হলে কর্মীরা উঠে আসে। ঢাকা সিটি নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখন মিছিলে অনেক বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছে। এদেরকে সংহত করে আন্দোলনে নিয়ে যেতে পারলে তাঁরা সফল হবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'এ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্যই অংশ নিয়েছি। জনগণকে এক করতে পারলে বিএনপি এই নির্বাচনে জয়ী হবে।' নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইভিএম একটা গজব। মানুষ যা তৈরি করে, তা নিজের জন্যই করে। ক্ষমতাসীনেরা নিজেদের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ইভিএম আমদানি করিয়েছে। ২০১৮ সালের ভোটের নামে যে 'ডাকাতি' হয়েছে তা পুনরায় করার সুযোগ নেই। তাই তারা ভিন্ন একটা পথ নিয়েছে। একটি মেশিন বের করেছে। তারা সমস্ত দায় মেশিনের ওপরে দেবে। চারদিকে শুধু নৌকার পোস্টার, ধানের শীষের কোনো পোস্টার নেই বলেও জানান মান্না। মান্না বলেন, ২০১৮ সালে ছেড়ে দিলেও এবারের নির্বাচনে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এবারে সিটি নির্বাচনেও ধানের শীষকে জিততে দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে আরও শক্তভাবে মাঠে থাকতে হবে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন। | 9 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক স্কুলছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতা উপজেলার হাতিবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ও একই গ্রামের কৃষক পরিবারের কন্যা। ঘটনাটি ঘটে ১২ আগস্ট বুধবার রাতে। পুলিশ ও ধর্ষিতা ওই ছাত্রী জানায়, ঘটনার দিন রাত ৮ টায় প্রতিবেশী আবু হাসেমের বখাটে ছেলে আবু হুরাইয়া (১৬) কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে। পরে জোরপূর্বক বাড়ির সামনে একটি ঝোঁপের ভেতর নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক আবু হুরাইয়া পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে সোমবার রাতে ধর্ষক ও ২ সহযোগীকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ রাতেই ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ধর্ষক হুরাইয়ার মা ইলিয়াস বেগমকে গ্রেপ্তার করে। ধর্ষক হুরাইয়া ও তার পিতা আবুল হাসেম পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার ধর্ষিকতা স্কুল ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আদালতে ধর্ষিতার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ধর্ষকের মাতা ইলিয়াস বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। | 6 |
মির্জাপুরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাঁদের এ বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়।বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আজগানা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ফতেপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন তালুকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।এ বিষয়ে উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের অঙ্গীকারনামার শর্ত ভঙ্গ করেছেন তাঁরা। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁদের তিনজনকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক বহিষ্কার করা হয়েছে। | 6 |
চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ২২ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যাসিনোকাণ্ডে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সূত্র জানায়, দুদকের এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান দলের প্রধান ও সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এ চিঠি পাঠিয়েছেন। যাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের পাশাপাশি অনুসন্ধান চলমান থাকা ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশে মানিলন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তারা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কথিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সম্রাটের সহযোগী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম (ফিরোজ), অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানের (মিজান) বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতার সম্পাদক কাজী কাজী আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, লোকমান হোসেন ভূইয়ার স্ত্রী নাবিলা লোকমান, গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিদেশযাত্রায়। এছাড়া এনামুল হকের সহযোগী ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ (আজাদ রহমান), রাজধানীর কাকরাইলের জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাকির হোসেন ও সেগুনবাগিচার শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শফিকুল ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে তাদের সবারই বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদলের ছয়টি থানা ও তিনটি কলেজের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে রোববার দুপুর ১২টার দিকে নগরের ভুবন মোহন পার্কের পাশে মালোপাড়া এলাকায় এ কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. আরিফুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নগর বিএনপি নেতারাই একদফা তালা ঝুলিয়েছিলেন কার্যালয়টিতে। তারা নগর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে এ কাণ্ড করেছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে নগরীর ছয়টি থানা ও তিনটি কলেজের কমিটি ঘোষণা ঘোষণা করা হয়। এতে নগর বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের কোন পরামর্শ না নিয়েই পছন্দের লোকদের নেতৃত্বে এনেছে নগর ছাত্রদল। এর প্রতিবাদে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ঘোষিত কমিটি প্রত্যাহার করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান পদবঞ্চিতরা। ছাত্রদলের পদ বঞ্চিতরা জানান, শনিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, মতিহার, শাহমখদুম, কাশিয়াডাঙ্গা, চন্দ্রিমা থানা এবং রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সিটি কলেজ ও নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে নগর ছাত্রদল। মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি আরিফুজ্জামান জানান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে পদ বঞ্চিতরা নগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, নগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত হোসেন অন্তর ও সাফায়েত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি করা হয়। সিটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সোহান, সম্পাদক লিমনসহ ১২ সদস্য বিশিষ্ট এবং নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি অন্তর ও রিজুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও মতিহার থানা ছাত্রদলের সভাপতি পাখি ও পিয়ালকে সম্পাদক করে ২৮ সদস্যর, রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি আসাদ, সম্পাদক রাতুলসহ ২১ সদস্যের, বোয়ালিয়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি সজীব, সম্পাদক রবিনসহ ৪৪ সদস্যের, শাহমখদুম থানা ছাত্রদলের সভাপতি ডলার, সম্পাদক খাইরুলসহ ২১ সদস্যের, কাশিয়াডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের সভাপতি রনি, সম্পাদক মুরাদসহ ২১ সদস্যের এবং চন্দ্রিমা থানা ছাত্রদলের সভাপতি বাবু ও রাশেদকে সম্পাদক করে ২১ সদস্যর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের দাবি, এসব কমিটিতে যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে তারা যোগ্য নন। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের কমিটিতে আনা হয়েছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। নগর ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, যোগ্যদেরই পদে আনা হয়েছে। পদ না পেলে এমন অভিযোগ বঞ্চিতরা আনেনই। এ বিষয়ে কথা বলতে নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন ধরেননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু সমকালকে লেন, বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল অনেক বড়। প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে বসে সম্মেলন করে কমিটি করলে ভাল হতো। তা না করে অফিসে বসে কমিটি করা হয়েছে। এটা তারা খারাপ করেছে। তিনি বলেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। অফিসে তালা ঝুলিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভুল করেছে। এটা সমাধানের জন্য নগর বিএনপির সভাপতি-সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছি। শিগগিরই অফিসের তালা খোলা হবে। এটা তারা খুবই খারাপ কাজ করেছে। | 6 |
নাটোরের কৃতি সন্তান ও বরণ্যে কথা সাহিত্যিক শফিউদ্দীন সরদার মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজেউন)। আজ বৃহপতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় শহরের শুকুলপটিস্থ নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুমের নামাজে জানাযা আজ বাদ মাগরিব শহরের গাড়িখানা গোরস্থান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে । তিনি ১৯৩৫ সালে নাটোর সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ, বিএ অনার্স এবং এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর লন্ডন থেকে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন ডিগ্রি লাভ করার পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি রাজশাহী কলেজ, বানেশর কলেজ ও নাটোর রানীভবানী মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছুদিন রাজনীতিও করেছেন। তার রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস "চলনবিলের পদাবলী" দেশের কোনো প্রকাশক প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তিনি ঐতিহাসিক উপন্যাস নামকরণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকে তিনি একের পর এক রূপ নগরের বন্দী, বখতিয়ারের তলোয়াড়, গোড় থেকে সোনার গাঁ, যায় বেলা অবেলায়, বিদ্রোহী জাতক, বার পাইকার দুরগ, রাজবিহুংগসহ ৪২ উপন্যাস রচনা করেন। ছড়া, কবিতা, গল্প, নাটক, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যে তিনি বিচরণ করেননি। এই গুণি লেখকের প্রত্যেকটি বই পাঠকপ্রিয়। তিনি শওকত ওসমানের সমসাময়িক লেখক। সাহিত্য শাখায় বাংলাদেশে কাজ করেছেন এমন উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকজনের মধ্যে তিনি অন্যতম। বাংলার মুসলিম শাসনের হাজার বছরের গৌরব গাথাকে তিনি তার কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ভোলায় পুকুর পাড়ে মাছ কুড়াতে গিয়ে একই বাড়ির রেয়ানা (৬) ও জাহিদ (৪) নামের দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ ইলিশা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে কালুমিয়ার হাট গ্রামের হামিদউল্লা মাঝি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।ওই বাড়ির মো. খোকন মাঝির বড় মেয়ে রেহানা ও তার চাচাতো ভাই জসিম মাঝির ছোট ছেলে জাহিদ। রেহানা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল ১১টার দিকে জসিম মাঝি বাড়ির পাশের পুকুরে জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে যান। তখন বাড়ির ছেলে মেয়েরা মাছ কুড়াতে যায়। মাছ শিকার শেষে জসিম মাঝি জাল ও মাছ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। আর অন্য ছেলে মেয়েরাও চলে যায়। কিন্তু রিয়ানা ও জাহিদুল তখনো পুকুর পাড়ে খেলছিল। জসিম মাঝি চলে আসার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাড়িতে তাদের খোঁজ শুরু হয়।জসিম মাঝির মেয়ে ও মৃত জাহিদুলের বড় বোন হাফছা পুকুরের পানিতে দুজনকে ভাসতে দেখে চিৎকার করে। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।ধারণা করা হচ্ছে, মাছ কুড়ানোর সময় জাহিদুল পানিতে পড়ে গেলে রেয়ানা তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও পড়ে যায়। এতে দুজনেরই মৃত্যু হয়।ভোলা সদর হাসপাতালে আরএমও ডা. নিরুপম সরকার দুই ভাই-বোনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ইলিশা ইউনিয়ন থেকে পানিতে পড়া ৬ বছর ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। | 6 |
মৃগীরোগ প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি অসুখ-এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। মৃগীরোগ নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে প্রয়োজন সচেতনতা। মৃগীরোগ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ। এটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য। দ্রুত শনাক্ত হলে, চিকিৎসকের পরামর্শমতো চললে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি ওষুধে নিরাময় হয়। তবে এ রোগ নিয়ে ভূতের আসর, জিনে ধরেছে, অভিশাপ-এ ধরনের নানান কুসংস্কার সমাজে প্রচলিত আছে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস। গত শনিবার এ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে চ্যানেল আই ভবনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা এ কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ। এতে সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এতে সম্প্রচার সহযোগী ছিল প্রথম আলো এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই। গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ কোরাইশি বলেন, প্রথমেই মনে রাখতে হবে, রোগটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি অসুখ। বংশগত মৃগীরোগ প্রতিরোধ করা যায় না। তবে শিশুর জন্মকালীন জটিলতার কারণে মস্তিষ্কে আঘাতসহ নানা কারণে মৃগীরোগ অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। রোগীকে সামাজিকভাবে আলাদা করে রাখা, অবহেলা করাকে অপরাধ হিসেবেই উল্লেখ করেন এ অধ্যাপক। মৃগীরোগী ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু নাসার রিজভী মৃগীরোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি জানান, সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সচেতনতা তৈরিতে সভা, সেমিনারের আয়োজন, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মৃগীরোগের বিভিন্ন প্রকারভেদ উল্লেখ করে মৃগীরোগীকে কবিরাজের কাছে না নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা করানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। মৃগীরোগ নির্ণয় প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রোগনির্ণয়ের জন্য রোগীর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা খুব জরুরি। খিঁচুনি হলে রোগী অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছু বলতে পারে না। খিঁচুনির সময় যিনি পাশে ছিলেন, তাকে রোগীর খিঁচুনির সময়ের পুরো ঘটনা চিকিৎসকের কাছে বর্ণনা করতে হবে। একবার খিঁচুনি হয়েছে না বারবার হয়েছে, তা জানাতে হবে। এসব ইতিহাস জানার পাশাপাশি ইইজি, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। মৃগীরোগের ক্ষেত্রে খিঁচুনি এক থেকে দুই মিনিট স্থায়ী হয় উল্লেখ করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোফিজিওলজি বিভাগের এ এফ এম আল মাসুম খান বলেন, খিঁচুনির সময় রোগীর তেমন কোনো করণীয় থাকে না। যিনি পাশে থাকেন, তাঁকে রোগীর চোখে চশমা বা অন্য কিছু যা দিয়ে ব্যথা পেতে পারে এমন কিছু থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে। আঁটসাঁট পোশাক থাকলে তা ঢিলে করে দিতে হবে। ঝাঁকুনির সময় রোগীর মাথার নিচে বালিশ বা কুশন দিতে হবে, যাতে মস্তিষ্কে আঘাত না লাগে। রোগীকে কাত করে শোয়াতে হবে। রোগীর পাশে যিনি থাকবেন, তাঁকে আতঙ্কিত হলে চলবে না। রোগীকে শক্ত করে ধরে না রাখা, জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত পানি বা অন্য কোনো খাবার না খাওয়ানো, দাঁত কামড় দিয়ে থাকলে মুখ খোলার চেষ্টা করা যাবে না। কুসংস্কারের ফলে রোগীকে জুতা শোঁকানো হয়, এটা একেবারেই করা যাবে না। প্রথমবার খিঁচুনি এবং খিঁচুনি পাঁচ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে, আধা ঘণ্টার মধ্যে রোগীর জ্ঞান না ফিরলে, খিঁচুনির সঙ্গে অন্য কোনো জটিল অসুখ থাকলে বা খিঁচুনির সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। রোগনির্ণয়ের পরই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাহবুব আলম। তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও রোগীর স্বজনকে রোগ সম্পর্কে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ সার্বিক বিষয়ে কাউন্সেলিং করা জরুরি। রোগী ও রোগীর স্বজনকে বলে দিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করে দিলে বা নিয়মিত না খেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। একইভাবে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে, তা আগে থেকেই বলে দিতে হবে। খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি রাখা, ধূমপান বা মদ না খাওয়া, রোগটি নিয়ন্ত্রণ হওয়ার আগে চালক, পাইলট এ ধরনের পেশায় যোগ না দেওয়াসহ নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। অধ্যাপক শেখ মাহবুব আলম বলেন, মা-বাবা যাতে কুসংস্কারকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। কত দিন ওষুধ খেতে হবে, তার নির্দিষ্ট সময় নেই, তাই দরিদ্র অভিভাবক হলে চিকিৎসককে কম দামি ওষুধ দিতে হবে। মৃগীরোগ নারীদের মাসিক থেকে শুরু করে সন্তান নেওয়াসহ বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মালিহা হাকিম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মৃগীরোগ হলেও সন্তান ধারণ, স্বাভাবিক প্রসব সবই সম্ভব। শুধু সন্তান নেওয়ার কমপক্ষে ছয় মাস আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।অধ্যাপক মালিহা হাকিম বলেন, মৃগীরোগ থাকলে অনেক নারী বিয়ে করতে ভয় পান। তাঁরা ভাবেন, স্বামী ছেড়ে চলে যাবেন বা সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না। এ ধারণাগুলো ভুল। শুধু বাচ্চা গর্ভে আসার আগে থেকে এবং সন্তান প্রসবের পর অর্থাৎ পুরো সময় চিকিৎসকের মনিটরিংয়ে থাকতে হবে। বাচ্চা বিকলাঙ্গ যাতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা ওষুধ পাল্টে দেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতেও কোনো বাধা নেই। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করলেও চিকিৎসককে তা জানাতে হবে। বড়দের তুলনায় শিশুদের (জন্মের সময় জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণ) মৃগীরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি বলে জানান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের শিশু নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নারায়ণ সাহা। তিনি বলেন, জন্মের পর এক মাস বয়স থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের এ রোগ বেশি হয়।অধ্যাপক নারায়ণ সাহা শিশুর মৃগীরোগ শনাক্ত করার জন্য অভিভাবকদের শিশুর খিঁচুনির সময় মুঠোফোনে তা ভিডিও করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে চিকিৎসক ভিডিও দেখে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করতে পারেন। এর বাইরে বিভিন্ন পরীক্ষা তো আছেই। মৃগীরোগের কিছু ওষুধ শিশুর বুদ্ধির বিকাশ কমিয়ে দিতে পারে-চিকিৎসকেরা তা খেয়াল রেখেই ওষুধ দেন। চিকিৎসায় মৃগীরোগ ভালো হয়-এ সচেতনতা গড়ে উঠলে চিকিৎসার গ্যাপ কমিয়ে আনা সহজ হবে বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কনোজ কুমার বর্মন বলেন, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধে কোনো কাজ হয় না। তাদের জন্য অস্ত্রোপচার, ডিভাইস লাগানোসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। আর ৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তাদের রোগটি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাদের আসলে ভাগ্য খারাপ। তাদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ জানান, মৃগীরোগীদের যাতে কম মূল্যের ওষুধ দেওয়া যায়, সে বিষয়টি নিয়ে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ বাজারজাত করার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে বুকলেট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ তাবাসসুম হুদা। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম স্বাগত বক্তব্য দেন। অতিথিদের ধন্যবাদ দেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী। | 6 |
দক্ষিণ চীন সাগরে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিন। অজ্ঞাত এক বস্তুর সঙ্গে সাবমেরিনটির আঘাতে কমপক্ষে ১৫ জন নাবিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ইউএসএস কানেকটিকাট নামের পারমাণবিক সাবমেরিনটির সঙ্গে একটি অজ্ঞাত বস্তুর সংঘর্ষ হয়। এতে ১৫ নাবিক আহত হয়েছেন।কী কারণে এই সংঘর্ষ তার কারণ এখনো জানা যায়নি।মার্কিন সাবমেরিন এমন সময় দক্ষিণ চীন সাগরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, যখন তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে।মার্কিন নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সাবমেরিনটি গুয়ামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। | 3 |
রূপসা নদী থেকে কখন পশুর নদীতে উঠলাম, বুঝতে পারিনি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের লঞ্চটি একটি ঘোলা পানির উত্তাল নদীর মাঝ দিয়ে ধীর গতিতে চলছে। জিজ্ঞাসা করে জানলাম এটিই পশুর নদী। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে বলেছেন 'পশোর' নদী। এই নদীতে পড়ে সুন্দরবনের আভাস পাওয়া যায়। পাড়গুলোতে সুন্দরবনের গোলপাতা গাছ জন্মেছে। পার্থক্য, এখানে অতটা ঘন নয় এবং একটু দূরেই গ্রাম ও ফসলি জমিগুলো স্পষ্ট।'সুন্দরবনে সাত বৎসর' বইয়ে বিভূতিভূষণ লিখছেন, 'সামনে বিস্তৃত পশোর নদী, ওপারের সবুজ গোলগাছ ও হেঁতাল ঝোপের সারি। অস্পষ্ট দেখাইতেছে দূরের তটরেখা। নদীর বুকে রৌদ্র চিকচিক করিতেছে।' আর আমার ধারণা ছিল পশুর শুধু নামেই নদী, আদতে একটি খাল। বিশালদেহী নদীর মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আমি লজ্জাই পেলাম।এটিই আমার প্রথম সুন্দরবন ভ্রমণ। পেশাগত কাজে আগে খুলনা ও বাগেরহাট আসা হয়েছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় এসেছিলাম বাগেরহাটের শরণখোলা পর্যন্ত। সুন্দরবনে এখনই হয়তো আসা হতো না যদি 'ফেমাস ট্যুরস বিডি'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজির হোসেন রুবেল জোর আমন্ত্রণ না করতেন। যে লঞ্চের কথা বলছিলাম, তার নাম 'এমভি দ্য ভেসপার'। সকালে (১৪ জানুয়ারি, ২০২২) রূপসার সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে ভেড়ানো ছিল। আমি ট্রেন থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা স্টেশনে নামি। সেখান থেকে রিকশায় করে পৌঁছাই জেলখানা ঘাটে। ঘাট থেকে একটি ট্রলার আমাকেসহ প্রায় জনা পঞ্চাশেক পর্যটককে নিয়ে আসে লঞ্চটির কাছে। তিনতলা লঞ্চটির একদম নিচতলায় ইঞ্জিন, জেনারেটর ও রান্নাঘর। দ্বিতীয় তলায় অতিথিদের রুম এবং তৃতীয় তলায় হলরুম; এখানকার লোকজন বলে 'লাউঞ্জ'। লাউঞ্জেই খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। আমার রুমটি দ্বিতীয়তলার সামনের দিকে। সেখান থেকে বাইরের দৃশ্য দারুণ দেখায়। আমাদের দুই রাত, তিন দিনের সফর। এই কয়েকটা দিন এই লঞ্চে করেই জলে ভেসে বেড়াব আমরা। লঞ্চের মৃদু ঘড়ঘড় শব্দ, নদী কাটার ঝিরঝির শব্দ ও হিমেল বাতাস, মনটা আনমনে করে দেয়। কী এক স্বর্গীয় ভালো লাগা ভর করে শরীরে। শুধু চেয়ে থাকতে মন চায় যত দূর চোখ যায়। কোথাও ইটপাথরের বড় বড় দালান নেই, যানজটের বালাই নেই, তীব্র হর্নের ডামাডোল নেই-নেই দম বন্ধ করা ধোঁয়া। বুঁদ হয়েছিলাম অন্য এক দুনিয়ায়। মন ভালো করা চলচ্চিত্রে হুট করেই ঢুকে পড়ল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। মনটা খারাপ হয়ে গেল।পশুর নদীর পাড়েই দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। নদীর পাড়ে কি এক ভয়াবহ কাণ্ড ঘটছে-তা বুঝতে বিজ্ঞানী বা পরিবেশবিদ হতে হয় না। ওখানে গেলেই বোঝা যায়। শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন-সুন্দরবনের কাছে একাধিক সিমেন্ট ও তরল গ্যাস তৈরির কারখানাও তো রয়েছে। যা হোক, বেলা দেড়টার দিকে আমাদের লঞ্চটি এসে থামল মোংলা সমুদ্রবন্দর এলাকায়। আমরা দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। ভাত, মুরগি, মাছ, পালং শাক, আলুর ভর্তা ও ডাল। খাবার সবই লঞ্চে রান্না হয়। খুবই সুস্বাদু, বাড়ির খাবারের মতো। বিশেষ করে কোরাল মাছের স্বাদ মুখে লেগে রইল অনেকক্ষণ। এই মাছ স্থানীয়দের কাছে ভেটকি বলে পরিচিত। মংলা এলাকায় নানা পণ্যের জাহাজ। এখানে রাতদিন বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলে। জাহাজ আসছে, যাচ্ছে।দুপুরের খাওয়া শেষে হাতে এক কাপ চা নিয়ে লঞ্চের এদিক-ওদিক হাঁটছি। দেখলাম লঞ্চের পেছনের দিকে এক কোণে বসে এক নারী আমাদের নোংরা করা বাসনকোসন পরিষ্কার করছেন। তাঁকে দেখতে আমার মায়ের মতো। বয়সও একই, পঞ্চান্নর কাছাকাছি। তাঁর গল্পটা শুনতে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তাঁর নাম তাসলিমা বেগম। তিনি মূলত লঞ্চের বাবুর্চির সহকারী। তরিতরকারি ও মাছ-মাংস কাটা এবং থালা-বাসন ধোয়া তাঁর কাজ। তাসলিমা বেগমও আমাদের সঙ্গে এই লঞ্চে তিন দিন থাকবেন। শুনে অবাক হলাম, এই তিন দিনের অমানবিক পরিশ্রমের বিনিময়ে তিনি পাবেন মাত্র ১ হাজার টাকা! 'টাকা এত কম, কিছু বলেন না?' জানতে চাইলাম। বললেন, লাভ নেই। বেশি দাবি করলে বাবুর্চি তাঁকে বাদ দিয়ে দেবেন। খুলনার তাসলিমা বেগমের একমাত্র ছেলের বাগেরহাটে একটি দোকান ছিল। তখন তাঁদের অবস্থা বেশ ভালোই। করোনাকালে লোকসান ও দেনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। ছেলে এখন রিকশাভ্যান চালায়। আমি তাসলিমা বেগমকে কিছু টাকা দিলাম। টাকাটা পেয়ে তাঁর চোখ ছলছল করে উঠলেও মুখে আনন্দের ঝিলিক স্পষ্ট। বললেন, 'বাবা, আল্লাহ আপনার ভালো করুক।' বেলা ৪টার দিকে আমরা চলে এলাম হাড়বাড়িয়া ইকো টুরিজম কেন্দ্রে। লঞ্চ থেকে আমরা উঠে পড়লাম লঞ্চের সঙ্গে থাকা ট্রলারটিতে। আমাদের নামতে দেখে দুজন নারী নৌকা বেয়ে আমাদের কাছে ছুটে এলেন। তাঁরা ডাব বিক্রি করেন, আমরা যদি কিনি। সেই মোংলার একটি গ্রামে দুই বোন দিলারা ও হাজেরার বসবাস। প্রতিদিন সেখান থেকে ডাব এনে এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিক্রি করেন।ছোট্ট নৌকাটির বইঠা বড় বোন দিলারার হাতে। তাঁর বয়স পঞ্চাশের ঘরে। আর হাজেরার বয়স হবে চল্লিশের মতো। ডাবের দাম ঢাকা থেকেও বেশি। তবুও আমরা কয়েকজন ডাব কিনলাম। ট্রলারে করে ইকোপার্কের ঘাটে যেতে মিনিট পাঁচেকের মতো লাগে। এটি বনের একটি ক্ষুদ্র অংশ। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসে এখানে। এখানে-সেখানে পড়ে আছে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য।বনের এই অংশটিকে ঘিরে একটি কাঠের দীর্ঘ সেতু করা হয়েছে। সেই সেতু ধরে হাঁটতে হাঁটতে পুরো এলাকা চক্কর দেওয়া যায়। যেখান থেকে শুরু, সেখানেই শেষ। এখানে বাঘের দেখা মেলা প্রায় অসম্ভব; অর্থাৎ, এলাকাটি নিরাপদ। তবে একাধিক প্রজাতির বানর ও চিত্রা হরিণ অহরহ চোখে পড়বে। এই পার্কেই প্রথমবার বন্য হরিণের ছবি তুললাম। সাড়ে ৫টা নাগাদ আমরা আবার ট্রলারে ফিরে এলাম। শীতকালে সূর্য তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে, জাগেও অনেক বেলা করে। বিস্তীর্ণ সবুজ বন নিজেকে সঁপে দিল অন্ধকারের হাতে। সারা দিন যে বন দেখার জন্য মানুষের এত আগ্রহ-অন্ধকার নামলেই সেই বন থেকে সবাই পালাতে চায়। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বাতাসের গতি ও শীতলতা। ভারী বাতাসের ছোঁয়ায় মনটাও কোনো কারণ ছাড়াই ভারী হয়ে যায়। 'ভেসপার' চলছে অন্ধকার ও শ্যালা নদী কেটে কেটে।সাগর মোহনায় জোয়ার-ভাটা এবং নোনা ও মিষ্টি পানির প্রবাহ ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় বন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। কারণ, পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় নদী যেখানে সাগরে মেশে, সাগর মোহনার যে অংশে ধীরে ধীরে পলি জমে, সেখানেই ম্যানগ্রোভ বনের সৃষ্টি হয়। সুন্দরবন তেমনি একটি বন। এর বয়স তিন থেকে চার হাজার বছর। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর সভায় দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে সুন্দরবন একটি। ঘোষণার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য, বৈশিষ্ট্য, সৌন্দর্য, অবদান ও পৃথিবীর স্বাভাবিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা ইত্যাদি শর্ত বিবেচনা করা হয়। একই দিনে ইউনেসকো সুন্দরবনের তিনটি অভয়ারণ্যকে '৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য' এলাকা ঘোষণা করে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের ১৬০টি দেশের ১ হাজার ৯৭০টি প্রাকৃতিক জলাভূমি 'রামসার এলাকা' হিসেবে ঘোষিত। এই তালিকাতেও আছে সুন্দরবনের নাম। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ এই বিশেষ এলাকাগুলোর প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ইরানের রামসার শহরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় একে 'রামসার চুক্তি' বলা হয়। সেই চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা কতটা কাজ করছি, তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে। আমাদের সঙ্গে আছেন ফরেস্ট গার্ড আলী হোসেন। ১৯৯৮ সাল থেকে সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত। তাঁর সঙ্গে আলাপ হলো। তিনি জানালেন, এখন পর্যন্ত ১০-১২বার তিনি বাঘ দেখেছেন। একবার হয়েছেন মুখোমুখি। ১৯৯৮ সালের ঘটনা। তিনি মাত্র এসেছেন আন্ধারমানিক ক্যাম্পে। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। একে একে সবার অন্য ক্যাম্পে বদলি হয়ে যায়, রইলেন শুধু তিনিই। পুরো ক্যাম্পে তিনি ও তাঁর বাবুর্চি। বনের মাঝখানে গা ছমছমে পরিবেশে তাঁদের ক্যাম্প। ক্যাম্প বলতে বাঁশ ও কাঠের তৈরি দু-তিনটি ঘর। ক্যাম্পের ভিতটা মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে। এক সন্ধ্যায় ক্যাম্পের পাটাতনে নিরস্ত্র আলী হোসেন বসে আছেন। বাবুর্চিও নেই। তিনি শুনতে পেলেন পাটাতনের নিচে শব্দ হচ্ছে। ভাবলেন বন্য শূকর। তিনি মুখে শব্দ করলেন, যাতে শূকরটি পালিয়ে যায়। একটু পর পাটাতনের নিচ থেকে বের হলো একটি পূর্ণবয়স্ক বেঙ্গল টাইগার!বাঘটি ঘুরে আলী হোসেনের মুখোমুখি দাঁড়াল। আলী হোসেনের গলা শুকিয়ে কাঠ, মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না, বিস্ফোরিত তাঁর চোখ। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। বাঘটি দাঁড়িয়ে ঘড়ঘড় শব্দ করছে। সে বুঝে নিতে চাইছে তার শিকারটি অসহায় কিনা। আলী হোসেন বুঝলেন, এভাবে বসে থাকলে মরতে হবে। তিনি তাঁর সামনে থাকা টেবিলটি টেনে ঢালের মতো করে নিজের সামনে ধরলেন। বাঘটা গর্জন করে জানিয়ে দিল, কাজটি তার পছন্দ হয়নি। আলী হোসেনের মাথায় একটি বুদ্ধি খেলে গেল। তিনি শুনেছেন, বিকট শব্দে বাঘ ভয় পায়। তিনি সময় নষ্ট না করে টেবিলটিতে শরীরের সব শক্তি দিয়ে চাপড় মারতে লাগলেন। জোরে! আরও জোরে! এটাই বাঁচার শেষ চেষ্টা।আলীর ভাগ্য ভালো; বাঘ সত্যিই ভয় পায়। ধীরে ধীরে বাঘটি ফিরে গেল। বাঘটি বনে মিলিয়ে যেতেই আলী হোসেন এক দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। পরে রেঞ্জ অফিসে গিয়ে আলী হোসেন জানিয়ে দিলেন, তিনি আর একা আন্ধারমানিক ক্যাম্পে থাকবেন না। তাঁকে রেঞ্জ অফিসেই রেখে দেওয়া হয়। গল্প শেষে আলী হোসেন বললেন, 'ভাইজান, আমি এক মাস বাঘের ভয় থেইকা বাইর হইতে পারি নাই। একা বনে হাঁটলেই মনে হইতো আমার পিছনে বুঝি সেই বাঘটা আসতাছে।' আরও বললেন, 'খাঁচার বাঘ আর বনের বাঘ এক না। আমি জানি কারে কয় ছাড়া বাঘ।'হাড়বাড়িয়া থেকে কটকা যেতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের লঞ্চ স্রোতের বিপরীতে যাচ্ছে খুব ধীর গতিতে, সতর্কতার সঙ্গে। আমাদের সঙ্গে আছে সুন্দরবন। শ্যালা নদীর দুপাশে সুন্দরবন। বন যেন গার্ড অব অনার দিয়ে পর্যটক বোঝাই লঞ্চগুলোকে নিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের দিকে। শীতের রাতে অদ্ভুত এক রূপে হাজির হয় সুন্দরবন। মাথার উপরে অবারিত ধূসর আকাশ। সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে থোকা থোকা মেঘ। যেন আকাশ ফেটে চৌচির। মেঘের আড়ালে চাঁদ। আড়ালে থেকেও আলো বিলিয়ে যাচ্ছে। এই গভীর রাতে ওই আলোই তো ভরসা। বিভূতিভূষণের বর্ণনা, 'ছোট খাল, দুই ধারে গোলপাতার জঙ্গল নত হইয়া জল স্পর্শ করিয়াছে। জোনাকি-জ্বলা অন্ধকার রাত্রে এই নিবিড় বনভূমির শোভা এমনভাবে কখনো দেখি নাই।' আমিও দেখিনি। জম্পেশ নৈশভোজ শেষে ঘুমাতে গেলাম। প্রথম রাতেই বুঝলাম এই মনোরম রুমটির একটি বিপরীত দিকও রয়েছে। যখন নোঙর ফেলা হয়, তখন সমস্যাটা টের পাওয়া যায়। নোঙর ওঠানো-নামানোর যন্ত্রটা আমার রুমঘেঁষা। নোঙর নামানোর সময় ভয়ংকর দীর্ঘ শব্দ হয়, আর সে সময় যদি আপনি ঘুমে থাকেন, তাহলে আপনার মতো দুর্ভাগা আর একটিও নেই। ভোর তিনটায় আমি বিকট আওয়াজে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম।লঞ্চ কটকা খালে নোঙর ফেলেছে। নোঙর ফেলার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলেও বিছানা ছাড়লাম সাড়ে ৫টার দিকে। তখনো ঘোর অন্ধকার। আকাশে মেঘ নেই। তবে চাঁদটি আকাশের শিরোমণি হয়ে নির্ঘুম দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের এখন গন্তব্য জামতলা সমুদ্রসৈকত। সাড়ে ৬টার দিকে আমরা ট্রলারে করে রওনা হলাম। কটকা থেকে আমাদের ট্রলার গিয়ে পড়ল জামতলা খালে। ভোরের কুয়াশার জন্য সূর্যের আলো সুবিধা করতে পারছে না। ১৫ মিনিটের মধ্যে আমরা একটি ঘাটে নামলাম। সেখান থেকে শুরু হলো আমাদের হাঁটা। কখনো উন্মুক্ত প্রান্তর, কখনো ঘন বন। এদিকটায় অনেক বেশি টাইগার ফার্ন। বাংলাদেশে ২৫০ প্রজাতির ফার্ন হয়। এর বেশির ভাগই জন্মে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকায় টাইগার ফার্ন ( ) বেশি দেখা যায়।এই ফার্নের পাতার রঙের সঙ্গে বেঙ্গল টাইগারের গায়ের রঙের মিল রয়েছে। অনেক সময় শিকারের জন্য এই ফার্নের আড়ালে বাঘ ওত পেতে থাকে। আমার চোখ ঘুরেফিরে ওই ফার্নের ঝোপের দিকে চলে যায়। ভদ্রলোক চুপ করে বসে নেই তো! আমরা হেঁটে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জামতলা সমুদ্রসৈকতে পৌঁছালাম। সৈকতের এদিকটায় প্রচুর সুন্দরী গাছ। এখানে সেখানে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের চিহ্ন। একটি কথা বলে রাখি, আমরা এখন যেদিকেই যাচ্ছি চিত্রা হরিণ চোখে পড়ে। সুতরাং এই হরিণ ও বানর দেখা ডালভাত হয়ে গেছে।আমরা যখন জামতলা সমুদ্র সৈকতে পৌঁছালাম, তখনো সূর্য কুয়াশার কবলে। সৈকতটি খুব দীর্ঘ নয়। এখানকার সমুদ্রের পানি নদীর পানির মতো ঘোলা। সমুদ্রে কেউ নামে না। তবু সমুদ্র তো সমুদ্রই, বড় বড় ঢেউ আছে-আছে গর্জনও। কক্সবাজার বা অন্যান্য সমুদ্র সৈকতে দাঁড়ালে দূরে যেমন জাহাজ বা নৌকা দেখা যায়-এই সৈকত থেকে তেমন কিছু চোখে পড়ল না। এখানকার বালিও ধূসর। এই সৈকতে আপনি যদি একা দাঁড়িয়ে থাকেন, মনে হবে আপনিই প্রথম সৈকতটি আবিষ্কার করলেন। কারণ মানবসভ্যতার কোনো উপকরণ ত্রিসীমানায় নেই। এদিক থেকে এই সৈকতটি ভিন্ন। দুঃখজনক হলো, এখানে সেখানে বর্জ্য পড়ে আছে। দর্শনার্থীরা যাওয়ার সময় খাবারের মোড়ক ও প্লাস্টিক বোতল ফেলে রেখে যায়। সমুদ্রও নানা বর্জ্য উগরে দেয় সৈকতে। এসব পরিষ্কার করার লোক আছে বলে মনে হয়নি। একই দিন, অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে গেলাম টাইগার টিলায়। ঘন বনের মধ্য দিয়ে আমরা কয়েক ঘণ্টা হাঁটলাম। একটু পরপরই হরিণের পাল দেখা যায়। এই এলাকায় প্রচুর সুন্দরী, পশুর, কেওড়া, গেওয়া, কাঁকড়া, ধুন্দুল, ওরা ও বাইন গাছ। এদের অনেকের শুলো হয়। এই শুলো লম্বায় ছয় ইঞ্চি থেকে দেড় মিটার হয়ে থাকে। মাটি ভেদ করে এই শুলোগুলো কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। শুলোর জন্য হাঁটা মুশকিল। এই এলাকার প্রায় পুরোটাই শুলো দিয়ে ছাওয়া। টিলা বলা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এগুলো ঢিবিও না। একটু উঁচু স্থান। এমন কয়েকটা তথাকথিত টিলা পেলাম। এই টিলাগুলোতে নাকি বাঘ বিশ্রাম নেয়। টিলাগুলোতে পুরোনো অবকাঠামোর চিহ্ন স্পষ্ট, আর টিলা এবং এর আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মৃৎপাত্রের অসংখ্য টুকরো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এগুলোকে সুন্দরবনে প্রাচীন মানববসতির নিদর্শন বলে দাবি করা হয়েছে। আমার কাছে মৃৎপাত্রের টুকরোগুলোকে প্রাচীন মনে হয়নি। আরও কিছু দূর গিয়ে আমরা দাঁড়ালাম আরেকটি ধ্বংসস্তূপের সামনে। এটি নাকি কয়েক শ বছরের পুরোনো একটি লবণ কারখানার নিদর্শন। আমি এবারও সম্মত হতে পারলাম না। যা হোক, একাধিক হরিণের পাল, কথিত প্রত্নকেন্দ্র ও শুলোর গালিচা দেখা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লঞ্চে ফিরে এলাম।কটকা নামে খাল হলেও অনেক নদীর চেয়েও বড়। সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের লঞ্চটি সেই কটকা থেকে ছিটা কটকা বা ছোট কটকা খাল ধরে চলা শুরু করল। সবার আশা, এবার কুমির দেখা যাবে। আমার এই পুরো ভ্রমণের এই অংশটুকু বিশিষ্ট।খাল ধরে চলতে গিয়ে সুন্দরবনের এক অনন্য রূপ দেখা গেল। খালগুলোকে সুন্দরবনের ধমনি বলা যায়। গাঙ্গেয় মোহনায় কয়েক শ দ্বীপাঞ্চল নিয়ে সুন্দরবনের পরিবার। তার আয়তন এখন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এখানে নদী-নালা ও খাল-বিলই দখল করে আছে ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। সুন্দরবনের অধিকাংশ পেয়েছে বাংলাদেশ-৬ হাজার ২৪ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে জলভাগ ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। আমরা এখন লঞ্চ নিয়ে যে খাল ধরে যাচ্ছি, তা স্বাভাবিকভাবেই ওই জলভাগের অংশ। এলাকাজুড়ে ভীষণ নীরবতা। কখনো কখনো সেই নীরবতাকে ভাঙে পাখির ডাক। খাল বলেই হয়তো আমাদের লঞ্চটিও খুব ধীর গতিতে চলছে, ফলে শব্দও কম। খালের ঘোলা পানিতে গাছের ছায়া পড়ায় পানির রং সবুজ বলে ভ্রম হয়। সরু খাল ধরে লঞ্চ কখনো ডানে, কখনো বাঁয় যাচ্ছে। অনেক সময় বড় গাছ ঘেঁষে চলতে হচ্ছে লঞ্চটিকে। এদিকটায় নানা প্রজাতির মাছরাঙা বেশি দেখা যায়। ছিটা কটকা থেকে কচিখালী খালে ওঠার একটু আগে কুমিরের দেখা মিলল। একঝলক। খালপাড়ে বসে ছিল একটি কুমির ছানা। লম্বায় মাত্র দেড় হাত হবে। লঞ্চ কাছে আসতেই দ্রুত পানিতে নেমে উধাও হয়ে গেল। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটল যে, আমরা দু-একজন ছাড়া কেউ তা দেখার সুযোগ পেল না। যারা দেখতে পেল না-তাদের সে কী আফসোস! বলা হয়ে থাকে, সুন্দরবনে প্রধানত পাঁচটি প্রাণী দেখার আছে-বাঘ, হরিণ, বানর, শূকর ও কুমির। আমার চারটি দেখা হয়ে গেছে। বাঘ দেখতে পাব সে আশা আমার নেই। বেলা দেড়টার দিকে আমাদের 'ভেসপার' কচিখালী খালে উঠল। লঞ্চ ছুটছে কচিখালী অফিস পার্কের দিকে। সেখানে অনেক হাঁটতে হবে, আমরা দুপুরের খাওয়ার পাট চুকিয়ে ফেললাম। কচিখালী অফিস পার্কে পৌঁছাতে বেলা ২টা ৪০ বেজে গেল। পার্কের নামে সরকারি যত স্থাপনা আছে, সেগুলো এই বনাঞ্চলে একেবারেই বেমানান। এখানেও যত্রতত্রভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ভবন-দেখতে বিকট।একজনকে দেখলাম মসজিদের উন্নয়নের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করছেন। তানজির হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে আমাদের দলটি এসব ফেলে উন্মুক্ত প্রান্তরের দিকে এগিয়ে গেল। তবে এবার সব পর্যটক এই দলে নেই। অর্ধেকই আরাম করতে লঞ্চে রয়ে গেছে। যা হোক, যত দূর চোখ যায় আধমরা কোমরসমান ঘাস (ছন) আর ছোট ছোট বুনোফুলের গাছ দেখা যায়। মাঝে মাঝে আতঙ্ক জাগানো টাইগার ফার্ন এবং দু-একট বড় গাছও রয়েছে। তবে এই খোলা প্রান্তরেরও সীমানা রয়েছে। এর সীমানা প্রাচীর ঘন বন। কিছু দূর হাঁটতেই বুঝলাম আমরা এখানে কেন এসেছি। অদূরেই অসংখ্য চিত্রা হরিণ ঘুরে বেড়াচ্ছে! সবাই দাঁড়িয়ে পড়লাম। নীরবে দেখতে লাগলাম সোনার হরিণের পাল। আমি ছবি তোলার কথা ভুলেই গেলাম। ক্যামেরা নিয়ে পড়লে এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা হবে না। আমরা যেমন হরিণ দেখছি, হরিণও কিন্তু একদল মানুষ দেখছে। সুতরাং হরিণগুলো ঘন বনের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। এই পুরো এলাকা সাফারি পার্কের মতো-আফ্রিকায় যেমন দেখা যায়। হরিণ দেখা শেষে একটি গ্রুপ ফটো তুলে আমরা লঞ্চের দিকে পা বাড়ালাম। এবার ফিরতি পথ ধরবে আমাদের লঞ্চ-যেদিক থেকে এসেছিলাম সেদিকে। ফেরার পথে দেখা হবে ডিমের চর ও করমজল। এখানে বলে রাখি, এই পুরো দলে আমারই কোনো উপদল ছিল না। আমি ঢাকা থেকে একাই এসেছিলাম। কিন্তু প্রথম দিনই আমার একটি দল তৈরি হয়। আমার এই দলে আছে এক তরুণ, এক শিশু আর দুই কিশোর-মাসুম, প্রত্যয়, প্রান্ত ও মাহী। ওরা থাকাতে আমার ভ্রমণটি আরও বেশি উপভোগ্য হয়েছে। এবার আসি 'ডিমের চর' প্রসঙ্গে। বেলা সোয়া ৪টার দিকে ডিমের চরে পা রাখলাম। এই চরের এই অদ্ভুত নামের কারণ কী? জানলাম, চরটি ডিম্বাকৃতির। তবে এর আরেকটি নামও রয়েছে-'চর বিচ্ছু'।এই চরের দক্ষিণ দিকে পক্ষীর চর। পাড় থেকেই বোঝা যায় চরটি গোল। ডিমের চরের চতুর্দিকে অথই পানি। এটি আসলে নদী ও সমুদ্রে ঘেরা একটি দ্বীপ। পাড় থেকে ওপরের দিকে উঠতেই চোখে পড়বে এখানে-সেখানে নানা ধরনের আবর্জনা পড়ে আছে। সাগর ও নদীতে ভেসে আসা আবর্জনার শেষ গন্তব্য এই চর। আর আবর্জনার স্তূপ আরও উঁচু করতে অনেক অসচেতন পর্যটক তো আছেই। এটিকে আবর্জনার চর বললেও ভুল হতো না। আবর্জনার কথা বাদ দিলে চরটি চমৎকার।বিভূতিভূষণের ভাষায় বলতে হয়, 'পিছনে বহিত অনন্ত নীল সাগর, মাথার উপরে মেঘভারাক্রান্ত নভঃস্থল-যেন কোন নূতন দেশের নূতন জীবনের সন্ধান পাইলাম এতদিনে। সমস্ত টাকাকড়ির স্বপ্ন যাহার নিকট তুচ্ছ হইয়া যায়।' সত্যিই তাই, মনে হবে এই নির্জন দ্বীপে যদি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া যেত! বালির গায়ে বসে যাওয়া সর্পিল পথ ধরে চরের ভেতরের দিকে (পূর্বদিক) এগিয়ে যাই। কিছু দূর গিয়ে আমরা থমকে গেলাম। একটু দূরেই ছনের বনে অগণিত চিত্রা হরিণ চরে বেড়াচ্ছে। আমাদের উপস্থিতি তারা টের পেল; কিন্তু পালাল না। হয়তো সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়ায়-সাহসও বেশি। ছনবনের পরেই ঘন বন। আমাদের সুন্দরবনের ডাঙার ৭০ শতাংশ ঘন গাছপালায় ছাওয়া। বাকি ৩০ শতাংশ ঘাসে আবৃত, চর এলাকা, সমুদ্রসৈকত, বালি ও কাদাময় প্রান্তর।আলো পড়ে যাচ্ছে বনের দিকে যাওয়া আর ঠিক হবে না। একটু পর হরিণের ডাক শুনতে পেলাম। একটানা ডেকে যাচ্ছে। আমাদের বলা হলো, সম্ভবত হরিণের পালের কাছাকাছি বাঘ রয়েছে। সূর্যাস্ত দেখতে আমরা আবার পাড়ের দিকে চলে এলাম। এখানে যখন নেমেছিলাম, তখন পানিতে সূর্যের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হয়েছিল পানিতে আগুন জ্বলছে। আর এখন মনে হচ্ছে পানি তরল সোনায় পরিণত হয়েছে। যেন কেউ কোথাও নেই, আছে শুধু সূর্য ও তার জাদুর প্রতিবিম্ব। অন্ধকার বাড়ছে সূর্যও লাল হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার কারণে কিনা জানি না-সূর্য কিন্তু ডুবল না। পানিতে গা ডোবানোর আগেই নীরবে ধূসর আকাশে মিলিয়ে গেল। ঝপ করে নামল অন্ধকার। সূর্যাস্ত দেখতে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, খেয়ালই করিনি আমার পেছনে দুটো বন্য শূকর! আমার ভাগ্য ভালো তারা খাবারের খোঁজে ব্যস্ত ছিল। আমি ট্রলারের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। লঞ্চটি চলছে তো চলছেই। কী নিপুণভাবে নদী ও খাল পাড়ি দিচ্ছে নির্বিঘ্ন। কখনো গতি বাড়ছে, কখনো কমছে। কী রাত কী দিন-ভেসপার ভেসে চলেছে। আসলে তা চলে না-একজন তাকে চালায়। আর যিনি অবিরাম এটি চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি হলেন আবদুর রাজ্জাক। তৃতীয় তলার সামনের অংশে তাঁর অবস্থান। বয়স ত্রিশ। এই তরুণের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। ভেসপার নিয়ন্ত্রণ করতে করতে আমাকে বললেন, তাঁকে কেউ বলে সারেং, কেউ বলে সুকানি, কেউ মাস্টার বলে। অনেকে নাকি ক্যাপ্টেন ও পাইলটও বলে।শেষের লাইনটি বলে নিজেই হেসে ফেললেন রাজ্জাক। জানলাম, তিনি এখানে আছেন চার বছর ধরে। তার আগে কার্গো বোট চালাতেন, ঘুরতে হতো এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তবে খুলনা এসে তিনি খুশি। জানতে চাইলাম, সুন্দরবন ভালো লাগে এ জন্য কাজটা করেন কিনা। উত্তর দিলেন, 'এই কাজ ছাড়া কিছু জানি না, তাই এটাই করি।' রাজ্জাকদের সাপ্তাহিক ছুটি নেই। তিনি একাই। লঞ্চেই থাকা-খাওয়া। পর্যটন স্পট বন্ধ থাকলে অথবা ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফরিদপুরে থাকা তাঁর পরিবারের কাছে ফেরা হয় না-দিনের পর দিন। সুন্দরবনে এটিই শেষ রাত। তাই রাতের খাবারের মেনুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো। মাছ ও মুরগির বারবিকিউ। কয়েকজন গান করলেন, নাচলেন-অনেক মজা হলো। আজ দ্বিতীয়বারের মতো দূর থেকে রাতের সুন্দরবন দেখা হলো। সুন্দরবন দেবীর ঘুম যেন ভেঙে না যায়, সে জন্যই কি রাজ্জাক যতটা সম্ভব নীরবতা বজায় রেখে লঞ্চ চালাচ্ছেন? সুন্দরবনের রাত দেখে বিভূতিভূষণ লিখেছিলেন, 'আবার আকাশে নক্ষত্র উঠিল। মাথার উপর অগণিত নক্ষত্রখচিত আকাশ, নিচে অনন্ত সমুদ্র-মরণের আগে কী রূপই অনন্ত আমার চোখের সামনে খুলিয়া দিলেন! মরিব বটে কিন্তু কাহাকে বলিয়া যাইব যে কী দেখিয়া মরিলাম!' যদিও এখন কুয়াশার কারণে খুব বেশি তারা আকাশে নেই। রাতের বাতাস বেশিক্ষণ সহ্য করা কঠিন। আমি আমার রুমে চলে এলাম। রুম থেকেও শোনা যাচ্ছে, লাউঞ্জে কেউ একজন গান ধরেছেন, 'আমি কেমন করে পত্র লিখিরে বন্ধু/ গ্রাম পোস্টাফিস নাই জানা/ তোমায় আমি হলেম অচেনা...' এই অচীন-অবর্ণনীয় নীরবতা কি মানুষের ভেতরের নীরবতাকেও উসকে দেয়? আর তখন পশুর নদীর মতোই কি ছলকে ওঠে সেই নীরবতা? আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত একটার দিকে চাঁদপাই এলাকায় নোঙর ফেলল ভেসপার। খুলনার দক্ষিণে দুবলার চরের কাছে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে রূপসা নদী-যার একটি শাখা সমুদ্রে নেমেছে। অন্য শাখাটি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদী মংলা খালের সঙ্গে যুক্ত। এর পর দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে শিবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পশুর নামে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। পশুর ভীষণ গভীর ও খরস্রোতা। সেই নদীকে আমি দুর্বল ভেবেছিলাম! সে জন্যই কিনা জানি না-আজ নিজের সক্ষমতা দেখাচ্ছে পশুর। সমুদ্রের মতো তার গর্জন, বিশাল বিশাল ঢেউ, তীব্র তার স্রোত। তার আজ পশুর মতো বল। আচ্ছা নামটি পশুর কেন হলো? পশুর নামের গাছ থেকে? সুন্দরবনে প্রচুর পশুর গাছ জন্মে। বিভূতিভূষণ 'সুন্দরবনে সাত বৎসর' নামের কিশোর উপন্যাসে এই পশুরকেই কি ভুলে 'পশোর' বলেছেন? নাকি মূল নাম পশোরই? পশোরের অর্থই-বা কী? যা হোক, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রলারে উঠে পড়লাম, গন্তব্য-করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। টালমাটাল অবস্থায় ট্রলার ১০ মিনিটের মধ্যেই বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রে পৌঁছে গেল। কুমির দেখার জন্য জায়গাটি আদর্শ। বিভিন্ন চৌবাচ্চায় ছোট-বড় কুমির রয়েছে। একটি পুকুরে 'রোমিও-জুলিয়েট' নামে দুটি কুমিরের বসবাস। কেন্দ্রের লোকজন নাম ধরে ডাকলে সাঁতার কেটে দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হয় তারা। এটি একটি দেখার মতো দৃশ্য। আরেকটি চৌবাচ্চায় কয়েকটি কচ্ছপকে সাঁতার কেটে বেড়াতে দেখলাম। এই কেন্দ্রে যে প্রাণীগুলো সুখে-শান্তিতে নেই, তা বোঝা যায়। গোটা কেন্দ্রটিই শ্রীহীন, চৌবাচ্চার দেয়াল এবং খাঁচার লোহার জালগুলো ভাঙাচোরা, আর মানুষের উৎপাত তো রয়েছেই। বেলা ১১টার দিকে আমরা ফিরে এলাম।বাঘ যে দেখা হলো না, তা নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। আমি বাঘ দেখতে আসিনি-এসেছি সুন্দরবনের সঙ্গে পরিচিত হতে। পরিচয় বললাম, কারণ সুন্দরবনকে জানতে, বুঝতে মাসের পর মাস ব্যয় করলেও কম পড়তে পারে। আমরা গত দু-তিন দিনে বনদেবীর এক শতাংশও দর্শন করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। ছোটবেলা থেকে যে সুন্দরবনের গল্প শুনছি, যার ছবি দেখি-তাকে সরাসরি একবার দেখার সাধ অন্তত মিটল। আমার এবারের প্রত্যাশা তাই ছিল। সুন্দরবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে না হয় আবার আসব। দুপুরের দিকে আমরা ফিরে এলাম খুলনা সদরে। | 4 |
উপমহাদেশের স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন কার্জন হল। এ স্থাপনাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এদেশের মানুষের আবেগ। কার্জন হলের ইতিহাস শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও পুরোনো। সাতচল্লিশের দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ স্থাপনাটি। কার্জন হল যেন এক মৌন ভাষাসংগ্রামী ও মহান মুক্তিযোদ্ধা। ব্রিটিশ ভারতে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নামানুসারে এ ভবনটি টাউন হল হিসেবে নির্মিত হয়। ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরের বছরই বাংলাকে বিভক্ত করা হয় এবং ঢাকা হয় নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে এটি ঢাকা কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহূত হতে থাকে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কার্জন হল এ প্রতিষ্ঠানের ভবন হিসেবে ব্যবহূত হয়। বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের কিছু শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু এটি নির্মাণ করা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে। কার্জন হলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস। ব্রিটিশ সরকার যখন বঙ্গভঙ্গ করার পরিকল্পনা করছিল, তখন ঢাকা হওয়ার কথা ছিল পূর্ব বাংলার রাজধানী। সে সময় ঢাকায় তেমন কোনো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি স্থাপনা ছিল না। ঢাকার গুরুত্ব বুঝতে পেরে ব্রিটিশরা ঢাকায় বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ অনুমোদন করে। তার মধ্যে কার্জন হল অন্যতম। প্রত্নতত্ত্ববিদ আহমাদ হাসান দানী লিখেছেন, কার্জন হল নির্মিত হয়েছিল টাউন হল হিসেবে। তবে শরীফ উদ্দীন আহমদ এক প্রবন্ধে বলেছেন, এ ধারণাটি ভুল। তার মতে, এটি নির্মিত হয়েছিল ঢাকা কলেজের পাঠাগার হিসেবে। তার মতে, এটি নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেন ভাওয়ালের রাজকুমার। ১৯০৪ সালের সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশে লেখা হয়, 'ঢাকা কলেজ নিমতলীতে স্থানান্তরিত হইবে। এই কলেজের সংশ্রবে একটি পাঠাগার নির্মাণের জন্য সুযোগ্য প্রিন্সিপাল ডাক্তার রায় মহাশয় যত্নবান ছিলেন। বড়লাট বাহাদুরের আগমন উপলক্ষ্যে ভাওয়ালের রাজকুমারগণ এ অঞ্চলে লর্ড কার্জন বাহাদুরের নাম চিরস্মরণীয় করিবার নিমিত্তে কার্জন হল নামে একটি সাধারণ পাঠাগার নির্মাণের জন্য দেড় লক্ষ টাকা দান করিয়াছেন।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এলেই নাম চলে আসে ঐতিহাসিক কার্জন হলের। ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচিত এ ভবনটিতে সংযোজিত হয়েছে ইউরোপ ও মোগল স্থাপত্য রীতির দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণ। ঐতিহাসিক শিল্পের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে আধুনিক কারিগরি বিদ্যা। মোগল ধাঁচের খিলান ও গম্বুজে প্রকাশ পায় পাশ্চাত্য ও ইসলামিক স্থাপত্য। আংশিকভাবে মুসলিম স্থাপত্যরীতিও ফুটে উঠেছে। ভবনের বাইরের অংশে গাঢ় লাল রঙের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুটা দূর থেকে এর দৃষ্টিনন্দন খিলান ও গম্বুজগুলো দেখতে চমৎকার দেখায়। কারুকার্যখচিত দৃষ্টিনন্দন এ ভবনে রয়েছে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় হল। ভবনটির সামনে রয়েছে একটি প্রশস্ত বাগান, যেখানে সবুজের বুক চিরে পশ্চিম থেকে পূর্বে চলে গেছে একটি সরু রাস্তা। এর পেছনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর, যার পশ্চিম পাড়ে শেরেবাংলা ফজলুল হক হলের মূল ভবন। কার্জন হলের রং লাল হওয়ার পেছনে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। এ স্থাপনায় ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতির সম্মিলন ঘটেছে। মোগল সম্রাট আকবরের ফতেহপুর সিক্রির দিওয়ান-ই-খাসের অনুকরণে লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে ব্রিটিশরা গাঢ় লাল ইট ব্যবহার করেছে। এ স্থাপনার মাধ্যমে ব্রিটিশরা প্রমাণ করতে চেয়েছে উপমহাদেশে তাদের অবস্থান আকবরের মতো। কেননা একমাত্র আকবরকেই তারা শ্রেষ্ঠ ও যোগ্য মোগল শাসক হিসেবে স্বীকার করত। পুরো ঢাকায় কার্জন হলের সমকক্ষ ঐতিহাসিক স্থাপনা খুব কমই রয়েছে। কার্জন হল একমাত্র স্থাপনা, যা তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও রূপরস ধরে রেখে রেখেছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এ স্থাপনা যেন চিরযৌবনা হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষী কার্জন হল। ভাষা আন্দোলনের জ্বলজ্বলে স্মৃতি নিয়ে কার্জন হল দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৪৮ সালে যখন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এখানে ঘোষণা দেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, তৎক্ষণাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে এ হলের ভূমিকা অপরিসীম। সে সময়ে সব আন্দোলন-সংগ্রামের আঁতুড়ঘর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ কার্জন হল। একইভাবে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও কার্জন হলের নাম স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণভোমরা এ স্থাপনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য দর্শনার্থীর জন্যও একটি আকর্ষণীয় স্থান। ব্রিটিশ স্থাপত্যের স্বাদ নিতে প্রতিদিনই এখানে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমায়। নানা ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের আড্ডা ও পদচারণায় স্থানটি মুখর থাকে। সারাক্ষণ প্রাণচঞ্চল থাকা এ ভবনের পাশেই রয়েছে ফজলুল হক মুসলিম হল ও শহীদুল্লাহ হল। মাঝে এক মনোরম পুকুর স্থাপত্যটিকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন সমকালকে বলেন, কার্জন হল ঢাকার স্থাপত্যকলায় একটি বিশেষ অট্টালিকা। এর আগে ঢাকায় এই ধাঁচের কোনো অট্টালিকা তৈরি হয়নি। সবুজ নিসর্গময় পরিবেশে এই ইমারত তৈরি করা হয়। এতে ভারতীয় স্থাপত্যকলার সকল রীতির মিশ্রণ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো ইমারত এমন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে না। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রধান কেন্দ্রই ছিল এই কার্জন হল। এটি এখনও তা-ই আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যান্ডমার্ক হলো কার্জন হল। | 6 |
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে 'ব্যর্থ হয়েছে' চলমান কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলন। সেখানকার স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ নভেম্বর) এমন মন্তব্য করেছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। শুক্রবার ওই শহরে হাজার হাজার স্কুল শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন গ্রেটা। মিছিল শেষে জর্জ স্কয়ারে সমবেতদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কপ-২৬ ব্যর্থ হয়েছে- এটি এখন আর গোপন কিছু নয়। এটি তো সত্য, জলবায়ুতে যেভাবে আমরা সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, সেভাবে এর সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে বার্ষিক নির্গমন এমন মাত্রায় কমানো প্রয়োজন, যা আগে কখনো হয়নি। খবর বিবিসির। গ্রেটা থানবার্গ বলেন, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ফ্যান্টাসির বুদ্বুদে রাখতে পারেন। তারা হয়তো মনে করতে পারেন, প্রযুক্তির সমাধানে হয়তো সব সংকট দূর হয়ে যাবে। তারা যখন ফ্যান্টাসি নিয়ে পড়ে আছেন, তখন সত্যিকার অর্থে পৃথিবী পুড়ে চলছে। যারা ফ্রন্টলাইনে রয়েছেন, তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন জলবায়ু সংকটের আঘাত। শুক্রবার গ্লাসগোতে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ফ্রাইডে ফর ফিউচার স্কটল্যান্ড নামে তরুণদের একটি দল, যারা মূলত থানবার্গের অনুসারী। চলমান জলবায়ু সম্মেলনের মধ্যে পরিবেশবাদীদের আয়োজিত অন্যতম বড় বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল এটি। | 3 |
ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রিকভারি বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পদের নাম: ইউনিট হেড, রিকভারিপদসংখ্যা: অনির্ধারিতযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফলাফলসহ স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ৭-৯ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে ম্যানেজার পদে ৩-৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাংক ও এনবিএসআইএ-সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চাকরির ধরন: ফুল টাইমকর্মস্থল: ঢাকাবেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। এ ছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড, সপ্তাহে দুই দিন ছুটি, বিমা, গ্রাচুইটি ও বছরে দুটি উৎসব বোনাস দেওয়া হবে। আবেদন যেভাবেআগ্রহীদের এই লিংকে লগইন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার আগে নিয়োগ ও আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এই লিংক থেকে জেনে নিতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২। | 1 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৫২৯ জনের দেহে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৬৬ জনে। রবিবার (৬ মার্চ) নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২০ হাজার ১৩২টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২.৬৩%। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪ জন, চট্টগ্রামের ২ জন এবং খুলনার ২ জন। | 6 |
আজ সোমবার মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেশব রায় চৌধুরী রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। ওই দিন রায় ঘোষণা না করে বিচারক ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।১৯ বছর আগে তিন্নি হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি সাবেক ছাত্রনেতা ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি। অভি পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। পরের দিন সকালে তিন্নির লাশ পাওয়া যায় বুড়িগঙ্গা এক নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর নিচে পিলারের ওপরে ঝুলন্ত অবস্থায়। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. শফি উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামির নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করেন। তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, তিন্নি হত্যাকাণ্ডের আগে ২০০২ সালের ৬ নভেম্বরে তাঁর স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। তিন্নিও তাকে তালাক দেন। ওই দিনই পিয়ালকে তাঁর দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি। কিন্তু অভি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে ১০ নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় লাশ। কিন্তু পানিতে নয়, লাশটি পড়ে পিলারের উঁচু অংশে। পরদিন সকালে লাশ ঘিরে জমে উৎসুক জনতার ভিড়।কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। মর্গে চার দিন রাখার পর ১৫ নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন্নিকে।এদিকে তিন্নি চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হারানো ডায়েরি করেন। করে তিন্নির পরিবারের লোকজন ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করেন।মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এএসপি মোজাম্মেল হক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়। ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হত্যা মামলায় আসামি অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।গোলাম ফারুক অভির উত্থান ঘটে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। এসএসসি এবং এইচএসসিতে বোর্ড পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন ঠেকাতে এরশাদের নজর পান অভি। ওই সময় অপহরণ ও মুক্তিপণ এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের চরম পর্যায়ে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর ছাড়া পেয়েই পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।তিন্নি হত্যাকাণ্ডের পর অভি কানাডায় পালিয়ে যান। কানাডার টরোন্টো থেকে অভি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে এক আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটির স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০১০ সালের ৫ই ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। যার রিট পিটিশন নম্বর ৯৫৩১ / ২০১০। বাংলাদেশে নিম্ন আদালতে চলমান মামলাটিতে অংশ নেওয়ার জন্য (ওই দেশে অবস্থিত) বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট চেয়ে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইচ্ছে থাকলেও দেশে আসতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন। তাই তার ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বার্থে পাসপোর্ট পেয়ে দেশে আসা পর্যন্ত মামলাটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয় অভির পক্ষে। শুনানি শেষে একই বছরের ১৫ই জানুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১১ সালের ২৩শে জুন হাইকোর্ট মামলাটির স্থগিতাদেশ দেন। এই কারণে প্রায় সাত বছর মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পরে হাইকোর্টের আদেশে মামলার কার্যক্রম আবার চালু হয়। | 6 |
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেটে করপোরেট করে ২.৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাজেটের ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি খাত থেকে প্রকল্পিত ব্যয়ের ৩২.৮ শতাংশ ঋণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খাত থেকেই ১৯.৪ শতাংশ আর বিদেশি খাত থেকে ১৩.৪ শতাংশ টাকা। এরপরেও করপোরেট করে ছাড় কেবলই পুঁজিপতিদের স্বার্থ চিন্তা করেই দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। রেজাউল করীম বলেন, করপোরেট কর হার বিবেচনা হতে পারে কিন্তু এ মুহূর্তে যখন গোটা মানব সভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে, যেখানে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, সেসময়ে এই কর ছাড়ে জনগণের ওপরে ঋণ ও সুদের বোঝাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এখন প্রশ্ন মুনাফার নয়, প্রশ্ন বেঁচে থাকার। এ সময়ে অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন মেটাতে করপোরেট কর আরও বৃদ্ধি করে মানুষ বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করা দরকার ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে পুঁজিপতিদের আরও ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। আর মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সুদের ওপরে ঋণ করেছেন। এর মাধ্যমেও সেই পুঁজিপতিরাই লাভবান হবে। আসলতো পাবেই অতিরিক্ত সুদের টাকাও তাদের পকেটে যাবে। এতে ধনীরা আরও ধনী এবং গরিবরা আরও গরিব হবে। করোনার সংকটকে কেন্দ্র করে পুঁজিপতিদের মুনাফার থলে আরও পূরণ করার পায়তারা করছে সরকার। চরমোনাই পীর বলেন, করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব সমর্থন করা যায় না এবং করোনা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন মেটাতে এ অর্থবছরের জন্য অন্তত করপোরেট কর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল। | 6 |
বিশিষ্ট শিল্পপতি ব্যাবসায়ী ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর ছোট ভাই হাসান মাহমুদ চৌধুরী (৬১) আর নেই। সোমবার দুপুর পৌনে ১টায় ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। হাসান মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও কাশেম-নুর ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনি ল্যাটিন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও থাই চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ রাত ৮টায় গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এক কণ্যা ও তিন পুত্র সন্তানসহ বিপুল সংখ্যক গুণগ্রাহী রেছে গেছেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ময়মনিসংহের ঈশ্বরগঞ্জে 'মাস্ক ব্যবহার উৎসাহিত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও মাস্ক বিতরণ' কর্মসূচি পালন করেছে সুহৃদ। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে পৌর এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। 'স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরি, করোনার বিস্তার রোধ করি' এই শ্লোগানে ' ' ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একাত্বতা করে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখা ও সরকারি কলেজ শাখার সদস্যদের অংশ গ্রহণে কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলা পরিষদ থেকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করা হয়। ওই সময় বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন, পৌরসভার মেয়র মো. আবদুস ছাত্তার, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাদি, যুব উন্নয়ন অফিসার আবদুল কাদির ভুঁইয়া হিরু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, মহিউদ্দিন রানা, মুস্তাকীম, আরিফুল হক, শরিফুল আলম, লিংকন, চান মিয়া, আবদুল্লাহ আল নোমান, জহিরুল, আনার কলি বিজয়া প্রমুখ। | 6 |
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩১ মে) পল্টন থানা বিএনপির পক্ষ থেকে চাল-ডাল, পল্টন থানা যুবদলের পক্ষ থেকে শাড়ি-লুঙ্গি ও ঢাকা মহানগর ছাত্রদল এবং ছাত্রদল পশ্চিমের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা সময় এ হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। তিনটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। কিন্তু এই কর্মসূচি পালনকালে মানা হয়নি করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা না থাকায় ত্রাণ নিতে আসা অসহায় ও দুস্থ মানুষদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতেও দেখা গেছে। ত্রাণ নিতে আসা রহিমা খাতুন, শামসুর নাহার ও বেলাল হোসেনসহ কয়েকজন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়। কারণ জানতে চাইলে রহিমা খাতুন বলেন, আমার শাড়ি নিয়ে গেছে। খাবারটা টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলেছে তারা দুইজন। এ নিয়ে জগড়া। যদিও শাড়ি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন শামসুর নাহার। তিনি বলেন, আমার শাড়ি আমি নিয়েছি। তার শাড়ি কেন আমি নেব। ওই শাড়িটা আমাকে দিয়েছে। কিন্তু সে সেটা তার বলে দাবি করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায় হুড়াহুড়ি হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা সুন্দরভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছি। | 6 |
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় সরিষা আবাদে খুশি কৃষক। তাঁদের জমিতে চাষ দিতে হয়নি। এতে বাড়তি খরচও হয়নি। এই পদ্ধতিতে তিন ফসলি জমি থেকে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা উৎপাদনে আশার আলো দেখছেন। এই পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৬টি ব্লকে দুই জাতের বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। মোট সরিষা চাষ করা হয়েছে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। চাষ করে আবাদ হয়েছে ৬১৫ হেক্টর জমিতে এবং বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে ১৭৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৫৩ মেট্রিক টন।আটঘরিয়া পৌরসভা সদর ধলেশ্বর (কেরানির ঢাল) ব্লকে বিনা চাষে সরিষার আবাদ করেছেন আবু দাউদ। তিনি বলেন, তিনি এ বছর চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বিনা চাষে সরিষা চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচ মণ করে ফলন হবে। এতে তাঁর ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।আটঘরিয়ার উপজেলার পৌরসভার উত্তরচক মহল্লার আদর্শ কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এই পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় কম হবে বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। এই পদ্ধতি এখন কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি এ বছর বারি সরিষা-১১, বারি সরিষা-১৪ ও টোরি-৭ জাতে সরিষার আবাদ করেছেন।আটঘরিয়া উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক মো. দুলাল হোসেন মৃধা বলেন, 'কৃষক আব্দুল খালেকের দেখানো পদ্ধতিতে সরিষা চাষ দেখে আমি নিজেও ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হয় তেমনি ফলনও অনেক ভালো।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ বলেন, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত আটঘরিয়া উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে বাড়তি ফসল হিসেবে টরি-৭, বিনা চাষে সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। | 6 |
আইসিসি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করেই বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। প্রথম দুটি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও আজ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে নিগার সুলতানার দল। দারুণ এই জয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন ফাহিমা খাতুন। ৩৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। ম্যাচসেরাও হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই লেগস্পিনার। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে ফাহিমা বলেন, 'সবার আগে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমি। সবসময় দলের জন্য খেলতে প্রস্তুত থাকি। আমি মোটেও নার্ভাস ছিলাম না। শুধু ঠিক জায়গা বোলিং করেছি এবং এতেই সাফল্য এসেছে।' উইকেটে ব্যাটার-বোলারদের জন্য সমান সুবিধা ছিলো জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, 'এই উইকেটে কারও জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল না। স্পোর্টিং উইকেট ছিল। আমি খুবই খুশি এবং উত্তেজিত যে নিজের দলের জন্য পারফর্ম করতে পেরেছি।' | 12 |
আগামী সপ্তাহের রবি-সোমবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পারেন করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল জানিয়ে এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আমি গতরাতে ( বৃহস্পতিবার) ম্যাডামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তিনি বলেন, ম্যাডামের সবগুলো পরীক্ষা শেষে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা পর্যালোচনা করবেন। এরপর তাকে বাসায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আমরা আশা করি, আগামী সপ্তাহ নাগাদ বাসায় ফিরতে পারবেন তিনি। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও হাঁটুর প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা চলছে। তার অনেকগুলো পরীক্ষা করতে হচ্ছে। যার মধ্যে কিছু পরীক্ষা করতে এবং রিপোর্ট পেতে একদিনের বেশি সময় লাগছে। তাই তার সবগুলো পরীক্ষা শেষে হতে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বৈঠক বসবেন সবগুলো পরীক্ষা রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে। এরপর আগামী রবি-সোমবার তাকে বাসায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর আগে বুধবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা খুবই ভালো। উনার আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার সেজন্য আজকে রাতে হাসপাতালে থাকবেন তিনি। করোনার কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, কোনো জটিলতা নেই। গত ১৪ এপ্রিল রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়। তারপর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলেন, সিটি স্ক্যানে খালেদা জিয়ার ফুসফুসে খুবই সামান্য সংক্রমণ হয়েছে। যা সত্যিকার অর্থে মাইল্ড পর্যায়েও পড়ে না। তাই খালেদা জিয়ার আগের ওষুধের সঙ্গে নতুন ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক যুক্ত করা হয়। এর আগে গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। | 6 |
মনোহরদীতে সনদ না থাকলেও দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া দুই ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মনোহরদী বাজার ও বাইপাস রোড এলাকা থেকে এই জরিমানা আদায় করা হয়। মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম এ এস এম কাসেম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।বাইপাস রোডের বাচ্চু ডেন্টালের মালিক নজরুল ইসলাম বাচ্চুকে বিডিএস সনদ না থাকা সত্বেও বেআইনিভাবে দন্ত্য চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মনোহরদী বাজারের স্বদেশ ডেন্টালের মালিক আখতারুজ্জামানকে একই অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবসা বন্ধ রাখতেও নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম রোববার বিকেল নাগাদ মুক্তি পেতে পারেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার। তিনি বলেন, আদেশের নথিতে বিচারকের স্বাক্ষর হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এরপর সব কাগজপত্র যাবে কারাগারে। তখন মুক্তি পাবেন রোজিনা ইসলাম। আমরা ধারণা করছি, বিকেল নাগাদ মুক্তি পেতে পারেন তিনি। রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ। তার বিরুদ্ধে 'রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির' অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গত ১৭ মে শাহবাগ থানায় মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে জামিন দেওয়ার আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ এক পর্যবেক্ষণে বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে আরও দায়ীত্বশীল হতে হবে। তাকে পেশাগত দায়িত্বপালনে আরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি এও বলেন, গণমাধ্যমের কারণে সব প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র একে অপরের অনুষঙ্গ। আদালত ও গণমাধ্যম একে অপরের বাধা হিসেবে কাজ করে না। বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত রোজিনা ইসলামের পাসপোর্ট বা মুচলেকা নিয়ে যদি জামিন দেন, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গত সোমবার রোজিনা সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বেলা ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরের দিন মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনার বিরুদ্ধে পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিন শুনানির জন্য ২০ মে বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীরা ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। তবে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এদিকে রোজিনার বিরুদ্ধে করা মামলাটির তদন্তভার গত বুধবার পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এখন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা শাখা এ মামলা তদন্ত করছে। | 6 |
একটা আইটেম গানেই বাজিমাত করেছেন দক্ষিণী নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু। জোর খবর যে আবার আইটেম গানের মাধ্যমে ঝড় তুলতে প্রস্তুত এই দক্ষিণী তারকা। 'পুষ্পা: দ্য রাইজ' ছবিতে আইটেম নাচ করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন সামান্থা। আর এটা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম আইটেম নাচ। এই ছবির আইটেম নাচে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর রসায়ন আরও নজর কেড়েছে। মাত্র একটা নাচের জন্য এই অভিনেত্রী পাঁচ কোটি রুপি নিয়েছেন। আবার নাকি সামান্থা উষ্ণতা ছড়াতে আসছেন। দক্ষিণী তারকা বিজয় দেওরাকোন্ডার আগামী ছবি 'লাইগার'-এ সামান্থাকে আইটেম নাচ করতে দেখা যেতে পারে। খবর অনুযায়ী, এই ছবির পরিচালক পুরী জগন্নাথ আইটেম নাচের জন্য সামান্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জগন্নাথ এমন এক অভিনেত্রীর সন্ধানে আছেন, যার সঙ্গে বিজয় দেওরাকোন্ডার রসায়ন জমে ক্ষীর হবে। পাশাপাশি এই পরিচালক আইটেম নাচের জন্য এমন এক অভিনেত্রী চেয়েছিলেন যাকে আগে এ ধরনের কোনো নাচে দেখা যায়নি। কিন্তু 'পুষ্পা' ছবিতে সামান্থার আবেদনময়ী নাচ দেখে জগন্নাথ তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছেন। তিনি এখন মনেপ্রাণে সামান্থাকেই চান বলে খবর। সামান্থার নৃত্য শুধু তামিল দর্শকদের নয়, সারা ভারতের সিনেমাপ্রেমীদের মন জয় করেছে। জগন্নাথ পরিচালিত 'লাইগার' ছবিটি প্যান ইন্ডিয়া হতে চলেছে। আর তাই সামান্থার জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে এই পরিচালক তাঁকেই নিতে বিশেষ আগ্রহী। 'লাইগার' ছবিতে বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে। 'পুষ্পা: দ্য রাইজ' ছবিতে সামান্থার আইটেম গানটি এখন ট্রেন্ডিং হয়ে গেছে। 'ও আতবা' গানটি গেয়েছেন ইন্দ্রবতী চৌহান। আর সংগীত পরিচালনা করেছেন দেবী শ্রীপ্রসাদ। | 2 |
রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। নেদারল্যান্ডসের হেগে স্থাপিত আইসিজের বিচারকরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবেন। এর আগে ১৪ জানুয়ারি গাম্বিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের টুইটারে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে করা মামলার রায় ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের ওপর এই নৃশংসতাকে 'গণহত্যা' আখ্যা দিয়ে গেল বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নেদারল্যান্ডসের হেগে গেল বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার ওপর শুনানি হয়। মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত আরো তীব্রতর না হওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি। তবে হেগে শুনানিতে অংশ নেয়া মিয়ানমারের নেত্রী শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু কি গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, এ বিষয়ে মামলা পরিচালনার এখতিয়ার জাতিসংঘের আদালতের নেই। গণহত্যার অভিযোগ খারিজ করতে বিচারককে আহ্বান জানিয়েছিলেন সু কি। তবে গত ২০ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কাছে রোহিঙ্গা 'গণহত্যা' তদন্তের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে দেশটির স্বাধীন তদন্ত কমিশন (আইসিওই)। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ অসম শক্তিপ্রয়োগ করেছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের সামিল। তবে সেটাকে গণহত্যা বলা যায় না। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে রুল জারি করবে কিনা সে বিষয়ে আদেশ দেয়ার আগেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। | 3 |
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীচিত্র 'বঙ্গবন্ধু'তে অভিনয়ের জন্য অডিশন দেওয়ার কথা ছিল অভিনেতা শাকিল আহমেদের। হাতে পেয়েছিলেন প্রবেশপত্র, কিন্তু পরীক্ষাটাই দেওয়া হয়নি তাঁর। এ নিয়ে তাঁর ছিল এক চাপা যন্ত্রণা। আজ রোববার সেই যন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব হবে তাঁর। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে চলছে ১০ দিনের অনুষ্ঠান 'মুজিব চিরন্তন'। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিনে শুরু হয়ে এ অনুষ্ঠান চলবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়ে মূল অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আজ রোববার পঞ্চম দিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সাড়ে ৬টার সাংস্কৃতিক পর্বে থাকবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চনাটক '২৮৮ দিন।' এ নাটকে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকায় আজ দেখা যাবে শাকিল আহমেদকে। এ নাটকে অভিনয় করতে পারার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, 'একজন অভিনেতা হিসেবে স্বপ্ন হচ্ছে শিল্পের সবচেয়ে বড় মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। আর সেটা যদি হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে, সেই সুযোগ জীবনের সেরা সুযোগ। কিন্তু সুযোগটি আমার জীবনে এসেও আসেনি।' বঙ্গবন্ধুর জীবনীচিত্রে অভিনয় করতে না পারার বেদনা ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম যখন বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের জন্য অডিশনের ডাক পেলাম। কিন্তু আশাহত হয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অডিশন না দিতে পারায়। সেই যন্ত্রণা অনেকটা অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পরীক্ষা দিতে না পারার যন্ত্রণার মতোই। সেই যন্ত্রণা এবার কিছুটা লাঘব হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিবেশিত নাটকে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করতে পারায়। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি ভাই ও নাটকের নির্দেশক আমিনুর রহমান মুকুল ভাইকে। আমার যে স্বপ্ন ছিল, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করার, সেটা পূরণ করলো আমার প্রাণের থিয়েটার। থিয়েটারে একটা কথা আছে, "থিয়েটার হলো সমুদ্রের মতো, যা গ্রহণ করে তা আবার ফিরিয়েও দেয়।" শিল্পকলা একাডেমির নাটকের দলের পরিবেশনা '২৮৮ দিন' নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন আসাদুল ইসলাম, নির্দেশনা দিয়েছেন আমিনুর রহমান। শাকিল আহমেদ ছাড়াও এ নাটকে অভিনয় করেছেন শহিদুল আলম সাচ্চুসহ আরও অনেকে। শাকিল আহমেদ দীর্ঘ দিন ধরে অভিনয় করছেন মঞ্চে। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু সিনেমা ও টিভি নাটকেও। বড় পর্দায় শেষ তাঁকে দেখা যায় 'উধাও' ছবিতে। বর্তমানে নিজের নাটকের দল দশরূপক-এ কাজ করছেন তিনি। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সরাসরি প্রচার করবে এ অনুষ্ঠান। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে সরাসরি এ অনুষ্ঠান উপভোগ করা যাবে। | 2 |
এগারো বছর আগে চল্লিশোর্ধ্ব শাহিদাকে (ছদ্ম নাম) তালাক দেন স্বামী। এরপর বাবার বাড়িতে থেকে একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কাজ নেন তিনি। সেখানে কাজের সুবাদে পরিচয় হয় গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী মো. নয়ন মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময়ই একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় তাঁদের। পরে শাহিদা নয়নকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নয়ন কখনো আল্লাহর কসম কেটে, আবার কখনো বিভিন্ন পিরের দরবার গিয়ে কসম খেয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এভাবে সাত বছর তাঁদের সম্পর্ক চলে। অবশেষে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় তাঁদের।কিন্তু সম্প্রতি জানতে পারেন আসলে বিয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন নয়ন।ভুক্তভোগী জানান, পলাশ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) মো. আবু তাহেরের বাড়িতে নয়ন ও শাহিদার বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে কাজি ছাড়াও ছিলেন উকিল বাবা, মাওলানা ও সাক্ষী। সাদা কাগজে নেওয়া হয় পাত্র-পাত্রীর স্বাক্ষর। বিয়ে পড়ানো শেষে করা হয় মিষ্টি বিতরণ। এরপর শাহিদাকে নিয়ে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মুনশুরপুর, দড়িসোম, বাঙ্গালহাওলা ও গাজীপুর মহানগরীর মিরের বাজার এলাকায় বিভিন্ন সময় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করেছেন দীর্ঘ আট বছর। বিভিন্ন সময় ব্যবসায় মন্দার অজুহাতে শাহিদার কাছ থেকে নয়ন হাতিয়ে নেন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। একপর্যায়ে টাকা দিতে না পারায় শাহিদার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন তিনি।এর মাঝে বহুবার কাবিননামা চেয়েছেন শাহিদা। সব সময়ই নানা অজুহাতে এড়িয়ে যান নয়ন। পরে শাহিদা বুঝতে পারেন বিয়ের নাটক সাজানো হয়েছে। তাঁদের সত্যিকার বিয়ে হয়নি। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় যখন পুলিশের ভয় দেখালে নয়ন বলেন, 'তোকে ফুঁ দিয়ে বিয়ে করেছি, ফুঁ দিয়েই আবার তালাক দিয়েছি। পারলে তুই আমার কিছু করিস। আর এ ব্যাপারে তুই যদি কারও কাছে যাস তাহলে তোকে গুম করে দিব।'বিয়ে পড়ানো সেই কাজির কাছে গেলে তিনিও শাহিদাকে জানান, তাঁদের কোনো কাগজপত্র নেই।জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো বিচার পাচ্ছেন না শাহিদা। অবশেষে নয়ন ও কাজিকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।এদিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের মাথিচর গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে নয়ন কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনশুরপুর এলাকায় স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে কালীগঞ্জ বাজারে সবজি ও ফলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নয়ন মিয়া বলেন, তাঁর (শাহিদা) সঙ্গে আমার প্রেম বা বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে বিভিন্ন সময় তাঁর বাড়িতে বাজার-সদাই ও ওষুধসহ বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসতাম।বিয়ে প্রসঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আবু তাহের বলেন, ওই দিন আমার বাড়িতে তাঁরা এসেছিলেন। তবে বিয়ে পড়ানো হয়নি, কোনো কাগজপত্রও হয়নি।ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। আজ এক শোকবাণীতে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন দক্ষ সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদের পাশাপাশি তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। তিনি ধারাবাহিকভাবে সিলেট পৌরসভার নির্বাচিত কমিশনার, পৌর চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে সিলেটের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মতো গুণী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সমগ্র জাতির যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়। শিল্পমন্ত্রী মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। | 6 |
উৎসবমুখর পরিবেশে গুলশান সোসাইটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯ টি পদের মধ্যে ১৮ টিতেই জয়লাভ করেছেন প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা ও ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার নেতৃত্বে গঠিত "ভালবাসার গুলশান" প্যানেল।২০২২-২৪ মেয়াদে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন। বিজয়ীরা হলেন ড. এটিএম শামসুল হুদা (সভাপতি) নিয়াজ রহিম( সহ সভাপতি) ইভা রহমান( সহ-সভাপতি), ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ( মহাসচিব), এনকেএ মবিন এফসিএ (কোষাধ্যক্ষ), মাহফুজুল আজম রোমেল ( যুগ্ম মহাসচিব), ইসরাত জাহান (যুগ্ম মহাসচিব), আমিরুল ইসলাম বাবু ( সহ কোষাধ্যক্ষ), নির্বাহী সদস্যরা হলেন- ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ মিয়া, প্রফেসর তৌহিদা ফারুকী, সৈয়দ এ. হাবিব রানা, সুমালা সুবহাত চৌধুরী, মাসুদা খান লিনা, ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল আহসান, মুহাম্মদ মহসিন, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও আরাফাত ইসলাম। গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ করেন। | 0 |
সিরাজগঞ্জ যুবদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ উভয়পক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক লাঠিচার্জ ছাড়াও ৩০ রাউন্ড শট গানের গুলি ছাড়ে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজেশ বলেন, দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের জন্য জেলা বিএনপি অফিসে কর্মীরা সমবেত হন। এ সময় পুলিশ এসে অফিসের সামনে নির্মিত গেট খুলতে বলে । তখন শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এ সময় পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে । আমরা বাধ্য হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে । এক পর্যায়ে পুলিশ শর্টগান দিয়ে আমাদের দিকে গুলি ছোড়ে । আমরা পালিয়ে যাই। এ সময় আমাদের টিটু, সুমনা, রুবেল, স্বপনসহ ৩৫ জন কর্মী আহত হন। এরমধ্যে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিতে গুরুত্বর আহত মতিকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। গুলিতে আহত সহ-দপ্তর সম্পাদক মুসা, পিয়াসসহ অন্য ৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিরাজগঞ্জ সদর থানা ওসি বলেন, আমরা নিরাপদ দূরত্বে ছিলাম। সভা চলার এক পর্যায়ে যুবদল কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। তারা আমাদের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকেন। এতে আমাদের এস আই সাইফুল ইসলামসহ ৩ জন আহত হন। এক পর্যায়ে আমরা লাঠিচার্জ ছাড়াও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। ওসি আরও বলেন, ইটের আঘাতে গুরুতর আহত এস আই সাইফুল ইসলাম ও সিপাহী বদরুদ্দোজাসহ ৩ জনকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
বাংলাদেশে আর কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, 'নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা বা দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না চায় তাতেও তাদের অধিকার রয়েছে। তবে এই বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো হবে না।' শনিবার দুপুরে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় হানিফ এসব কথা বলেন। আওয়াম লীগ নেতা বলেন, 'মির্জা ফখরুল একটি কথা বলেছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। এ কথাটি ২০০১-২০০৬ সালে একাধিকবার জনসভায় বেগম খালেদা জিয়াও বলেছিলেন আওয়ামী ৩০টির বেশি আসন পাবে না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০টিরও কম আসন পেয়েছিলেন।' তিনি বলেন, 'মির্জা ফখরুলও জানেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনে তারা জনগণ থেকে আবার ধিকৃত হবেন। কারণ তারা দেশের ও জনগণের জন্যে এমন কোনো কাজ করে নাই, যে কারণে জনগণ তাদের জন্যে আস্থাশীল হবেন। তাদের কুকর্ম, অতীতের কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যার কারণে তারা মানুষের থেকে এতটাই দূরে সরে গেছে যে তারা শুধু আগামী নির্বাচন কেন তাদের জীবদ্দশায় কখনো নির্বাচনে জয়লাভ করবে কিনা আমার মনে হয় মানুষ তা ভাবছে না।' আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে উৎসবমুখরভাবে ভোট প্রদান করবেন এবং তারা তাদের পছন্দের দলকে নির্বাচিত করবে, এটাই তাদের প্রত্যাশা। আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এমপি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি বক্তব্য দেন। সূত্র : ইউএনবি | 9 |
চাঁদপুরে ২০০ পিচ ইয়াবাসহ ইউনিয়ন পরিষদের (ই্উপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনের মেয়েকে গ্রেফতার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়ার শিলাস্থান গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মেয়ের নাম হাওয়া নূর (৩৬)। চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এ. কে. এম. দিদারুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়ার শিলস্থান গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি। তখন ৩ নং বিতারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন মনুর মেয়ের জামাতা শাহাদাত হোসেনের বাড়ি থেকে হাওয়া নূরকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ তৈরির লক্ষে চলতি বছর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করছে 'ঢাকা ক্লিন ঢাকা'র একদল স্বপ্নবাজ মানুষ।
শুক্রবারও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশ' শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী মানুষের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম।
মূলত জনসাধারণের মাঝে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এবং বর্জের সঠিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরতেই প্রতি শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
'ঢাকা ক্লিন ঢাকা'র প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় 'ঢাকা ক্লিন উৎসব'-এর উদ্বোধন করেন ক্রীড়াবিদ কায়সার হামিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, সৃজনশীল একাডেমির সত্ত্বাধিকারী তানজিম এলাহী প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় কায়সার হামিদ বলেন, 'দেশের সকলেই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের পাড়া-মহল্লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে তবেই নতুন প্রজন্মের হাতে আমরা জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবো। একই সঙ্গে বিশ্বের মানচিত্রে পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও পরিচিত করা সম্ভব।'
'ঢাকা ক্লিন উৎসব'-এর নামকরণ প্রসঙ্গে ফরিদ উদ্দিন বলেন, 'আমরা যেমন ভালো লাগা থেকে খেলাধুলা করি, তেমনি ভালো লাগা থেকেই যেন নিজের ঘর, বাড়ি থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গণ, প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। আমাদের এই পরিচ্ছন্নতা কাজ যেন এক প্রকার উৎসবের আমেজ তৈরি করতে পারে। সে জন্যেই সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততায় ঢাকা ক্লিনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।'
| 6 |
সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে এখনও ক্রিকেট বোর্ড থেকে কেন বহিষ্কার করা হয়নি, তা নিয়ে বিস্মিয় প্রকাশ করেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এ ঘটনায় ক্রিকেট বিশ্বে বিসিবির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবের হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, যতদিন পর্যন্ত বিচারের কার্যক্রম শেষ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তাকে (লোকমান) সাসপেন্ড করা উচিত। ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল? তখন তো কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। তারপও তার বিরুদ্ধে তড়িতগতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হল। এখন লোকমানের ক্ষেত্রে কেন অনীহা? বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অভিযোগ, একটি নিয়োগ টেন্ডারের অর্থের ভাগ পেতে ছাত্রলীগ প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দৈনিক প্রথম আলো অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ জানুয়ারি কলেজের আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগের দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ। ওই দিন সকাল ১০টায় অধ্যক্ষ টিটো মিঞার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতি। সকালে কর্মচারীরা কলেজে ঢুকতে গেলে ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মচারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পর কর্মচারী সমিতির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জনবল নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতায় আসে। পরে তারা অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে কর্মচারীদের ধাওয়া দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। এ সময় ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকে এক কর্মচারীকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে ওয়ার্ডের ফটক বন্ধ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষ টিটো মিঞা ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির এক নেতা বলেন, "নিয়োগ থেকে ভাগ পেতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা কলেজ প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। টাকার জন্য তারা আমাদের ওপর হামলা করতেও দ্বিধা করেনি। কর্মচারীরা তাদের ওপর কোনো হামলা করেননি।" হামলার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো. আল আমিন বলেন, "চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির এক শীর্ষ নেতা বিএনপির লোক। আমরা মেডিকেলের বঙ্গবন্ধু কর্নারে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ফুল দিতে যাই। তখন কর্মচারীদেরও একটি কর্মসূচি ছিল। কলেজে ঢোকার সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিউল ইসলামসহ কয়েকজনের গায়ে আঘাত করে তারা।" এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, "ভুল-বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি ঘটেছে। এই পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।" | 6 |
বাবার মৃত্যুর শোকের লগ্ন কাটেনি তখনও। কুলখানির আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত গোটা পরিবার। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের কুল-খানিতে আসার নিমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন ছেলে। শনিবার রাতে বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটনকে (২০) নিয়ে কুলখানির খাবার ও জিনিসপত্র কিনতে টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা হন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কণ্ঠশিল্পী পারভেজ রবের ছেলে ইয়াসির আলভী রব। গত বৃহস্পতিবার উত্তরার ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের সামনে ভিক্টর পরিবহনের বাস চাপা দিয়ে প্রাণ কেড়ে নেয় পারভেজের। প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক আপেল মাহমুদের চাচাতো ভাই তিনি। দু'দিনের মাথায় বাবার কুলখানির খাবার কিনতে গিয়ে আবারও একই পরিবহনের অন্য একটি বাসের ধাক্কা ও চাপায় গুরুতর আহত হন ছেলে ইয়াসির। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইয়াসিরের বন্ধু ছোটন। কী ভয়ঙ্কর! বেপরোয়া বাস ইয়াসিরকে পঙ্গু করল। কেড়ে নিল বাবা ও বন্ধুর প্রাণ। আর এতে ভেস্তে গেল বাবার কুলখানির আয়োজনও। আহত ইয়াসিরকে শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আর রোববারই তুরাগের ধউর এলাকায় স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ছোটনকে। এমন মৃত্যু আর দুর্ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না ইয়াসির ও ছোটনের পরিবার। তারা বলছেন, ভিক্টর পরিবহনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যে কেউ দুর্ভাগ্যের শিকার হতে পারেন। ঘাতক বাসচালক ও মালিকের শাস্তি চান তারা। একের পর এক বেপরোয়া বাস রাস্তায় কেড়ে নিচ্ছে একেক জনের প্রাণ। আবার কারও হাত, কারও পা কাটা পড়ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বনানীতে ফুটপাতে বাস উঠে গেলে প্রাণ হারান ফারহা নাজ নামে এক কর্মজীবী নারী। গত ২৭ আগস্ট বাংলামটরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণা রায় চৌধুরী নামে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপকের পায়ের ওপর তুলে দেওয়া হয় বাস। এতে কাটা পড়ে তার এক পা। রোববার ট্রমা সেন্টারে কথা হয় নিহত কণ্ঠশিল্পী পারভেজ রবের স্ত্রী রুমা সুলতানার সঙ্গে। দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইয়াসির বেডে শুয়ে; শরীরে স্যালাইন চলছে। তার পাশেই চেয়ারে মলিন মুখে বসে আছেন তার মা রুমা সুলতানা। মাঝেমধ্যে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর গুমরে কেঁদে উঠছেন। রুমা জানান, শনিবার বিকেলে ধউর এলাকার স্থানীয় আবুল মাতুব্বরের বাড়িতে সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল তার বোন কামরুন্নাহার ও বোন জামাই বাবুল। অন্য পক্ষে ছিল ভিক্টর পরিবহনের মালিকের লোকজন। বৈঠকে তার বোন দুর্ঘটনার জন্য বাস কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে তা ২০ লাখ টাকায় নেমে আসে। তবে বাসের মালিক পক্ষ জানায়, তারা এত টাকা দিতে পারবে না। পরে বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবেন। ওই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন তিনি। এতে বাসচালক, হেলপারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলা করার সময় খবর পান ছেলে তার বন্ধুকে নিয়ে বাবার কুলখানির খাবার কিনতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রুমা আরও জানান, বাসের মালিক পক্ষ বারবার হুমকি দিচ্ছিল, দেখি সাংবাদিকদের দিয়ে আপনারা কত লেখাতে পারেন। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, 'স্বামীকে হারালাম। সন্তানদের নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াব?' ধউর এলাকায় বড় হয়েছে তার ছেলে। হয়তো ভিক্টর পরিবহনের চালক ও হেলপার তার ছেলেকে আগে থেকে চিনত। তাই বাসের ওঠার চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ করে এঁকেবেঁকে বাস চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে বাসে ওঠার সময় তার ছেলে জানত না ওই বাসটি ভিক্টর পরিবহনের। রুমা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তার ছেলে বা ছেলের বন্ধুরা রাস্তায় কোনো গাড়ি ভাংচুর করেনি। গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়নি। অনেকে বলছিল, গাড়ি আটকাতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় ছেলে ও তার বন্ধু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে- এটা ঠিক নয়। গাড়ি আটকাতে কেন দু'জন রাতে সেখানে যাবে। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে রুমা সুলতানা বলেন, চার দিন আগে তার স্বামী পারভেজ রবকে বাসচাপা দিয়ে 'হত্যা' করা হয়েছে। একই কোম্পানির বাসে আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে ছোট ছেলে ইয়াসির। কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন স্বামী পারভেজ। তিনি নেই। ছেলের চিকিৎসা খরচ কীভাবে জোগাবেন তা নিয়ে বড্ড দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন চিকিৎসা খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তার নেই। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'স্বামীর শোক না কাটতেই ছেলে হাসপাতালে! কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। কীভাবে বাঁচব? কে দেখবে আমাদের? ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচইবা কোথায় পাব?' দুর্ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। রুমা সুলতানা জানান, রোববার তার স্বামীর মৃত্যুর চতুর্থ দিন ছিল। এদিন কুলখানি করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ছেলে হাসপাতালে থাকায় কুলখানির অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চিকিৎসাধীন ইয়াসির বলেন, তিনি শনিবার সন্ধ্যায় বাবার কুলখানি অনুষ্ঠানের কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন টঙ্গী বাজারে। সঙ্গে ছিল বাল্যবন্ধু মেহেদী হাসান। ধউর এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে বাস না পেয়ে আব্দুল্লাহপুরগামী একটি ছোট্ট ট্রাকে ওঠেন তারা। বেড়িবাঁধ স্লুইসগেটে পৌঁছালে যানজটে ট্রাক থেমে যায়। এ সময় তারা নেমে পড়েন। যানজটে আটকে থাকা ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের বাসে ওঠার চেষ্টা করেন। বাসে ওঠার আগেই হেলপার ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। পরে তিনি দরজার পাশের খোলা জানালা দিয়ে গেট খুলতে অনুরোধ করেন হেলপারকে। সে সময় চালক ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বাস বেপরোয়াভাবে টান দেন। জানালা ধরে তিনি বুক থেকে মাথার অংশ বাসের ভেতরে ঢুকিয়ে চিৎকার করতে থাকেন- 'তিনি বাসে ঝুলছেন'। বাস থামাতে চালককে অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কথা কর্ণপাত করেননি চালক। এঁকেবেঁকে বাস টানতে থাকেন। ইয়াসির বলেন, 'বাসের সামনের দিকে একটি মিনিবাস ছিল। ওই বাসের সঙ্গে আমার ও মেহেদীর চাপা লাগে। মনে হলো আমার কোমর থেকে হাড় ভেঙে গেল। ১৫-২০ গজ এ অবস্থায় সামনের দিকে যাওয়ার পর চলন্ত অবস্থায় আমি হাত ছেড়ে দিলে রাস্তায় পড়ে যাই। আর উঠে দাঁড়াতে পারিনি।' মোবাইল ফোনে ইয়াসির দুর্ঘটনার খবর জানান এক বন্ধুকে। কাছাকাছি থাকায় ওই বন্ধু ছুটে এসে আহত অবস্থায় মেহেদী ও ইয়াসিরকে রিকশায় করে প্রথমে উত্তরা এলাকার আল আশরাফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। ক্রিসেন্ট হাসপাতালে মেহেদীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রাতেই ইয়াসিরকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোববার দুপুরে সেখান থেকে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তার কোমরের ডান পাশের হাড় 'ফ্যাকচার' হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। পারভেজ রবের বন্ধু খালেদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, রোববার স্বামীবাগের বাসায় পারভেজ রবের কুলখানি হওয়ার কথা ছিল। কীভাবে আয়োজন করা যায় তা নিয়ে শনিবার ধউর এলাকার তার বাসায় আত্মীয়স্বজনরা মিলিত হন। সেখান থেকে শনিবার রাতে মামলা করতে একটি গ্রুপ যায় থানায়। আরেকটি গ্রুপের দায়িত্ব ছিল কেনাকাটার। থানায় থাকার সময় দুর্ঘটনার খবর জানার পরপরই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বজনরা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিরের এক ভাই ও এক বোন। তার বড় ভাই ইয়াসিন ইসরাফ রব মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করেন। ছোট বোন রামিসা ইবনাথ কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ইয়াসির উত্তরা টাউন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানার সোনারচরে। এদিকে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মেহেদীর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে লাশ নেওয়া হয় ধউর এলাকার বাসায়। বিকেলে ধউরের এলাকার কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তিনি এইচএসসি পাস করার পর আর পড়ালেখা করেননি। চাকরি খুঁজছিলেন। মেহেদীর বাবা ইউসুফ মিয়া জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেহেদী ছোট। চাকরি পাওয়ার পর অনার্স ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। মেহেদীর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। নিহত মেহেদীর মামাতো ভাই ও মামলার বাদী ফিরোজ আলম বলেন, 'কেউ কোথাও যেন নিরাপদ নয়। বিচার চাওয়া ছাড়া আর কী বলব। চালকরা যেন নেশার ঘোরে গাড়ি চালায়। কাউকে পরোয়া করে না ওরা।' একই পরিবহনের দুই বাসের চাপায় প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় করা দুটি পৃথক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সাদেক। তিনি জানান, পথচারীদের সহায়তায় শনিবারের দুর্ঘটনার পরপরই ভিক্টর পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৬৭০) চালক রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। চালকের সহকারী সোহেল ও কন্ডাক্টর মোমেন পালিয়েছে। দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩০৪(খ) ও ৩৩৮ (ক) ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তবে পারভেজ রবের দুর্ঘটনায় দায়ী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৩৫৫) চালক মো. শাহ আলমকে গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের কাছে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। তা প্রকৃত কি-না জানতে বিআরটিএ'তে পাঠানো হবে। ওই বাসের মালিক জনৈক দুলাল বলে জানিয়েছেন চালক। তারও আসল পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। | 6 |
প্রচারের পর থেকেই 'এইসব দিনরাত্রি' ধারাবাহিক নাটকটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। নাটকটি ঘিরে দর্শক, অভিনয়শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই একদিন নাটকটি লেখায় ইতি টানেন হুমায়ূন আহমেদ। কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি? আজ তাঁর জন্মদিন। লেখকের জবানিতে 'এইসব দিনরাত্রি' বন্ধ করার পেছনের সেই মজার গল্প তুলে ধরা হলো। হঠাৎ করেই নাটকের জগতে এসেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তার পেছনে কারণ ছিল অর্থ। সে সময় তাঁদের বাসায় কোনো টেলিভিশন ছিল না। তাঁর মেয়েরা নিচের বাসায় টেলিভিশন দেখতে যেত। একটি সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, 'আমার বাচ্চারা নিচের বাসায় টেলিভিশন দেখতে গিয়ে হঠাৎ একদিন কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এল। বলল, তাদের একটি টিভি কিনে দিতে হবে। তাদের পছন্দের প্রোগ্রাম দেখতে পারে নাই। শুনে বললাম, "ঠিক আছে আমি কিনে দেব।" তখন তারা বলল, রঙিন টিভি কিনে দিতে হবে। আমি রাজি হলাম।' সে সময় হুমায়ূন আহমেদ হিসাব করে দেখেন, রঙিন টেলিভিশন কিনতে কত টাকা লাগবে। সেভাবেই তিনি নাটক লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। 'আমি হিসাব করলাম, প্রতি এপিসোড কী পরিমাণ টাকা পাব। সেভাবেই বিটিভির জন্য 'এইসব দিনরাত্রি' নাটক লেখা শুরু করি। রঙিন টিভি কেনার টাকা হয়ে গেলেই নাটক লেখা বন্ধ করে দেব। যে মুহূর্তে রঙিন টিভি কেনার পয়সা হলো, সেই মুহূর্তেই নাটক লেখা বন্ধ করে দিই। সেই টাকা দিয়ে রঙিন টেলিভিশন কিনি। অর্থের জন্যই আমি নাটকটি লিখেছিলাম,' বলেন হুমায়ূন আহমেদ। হঠাৎ হুমায়ূনের এমন সিদ্ধান্তে আহত হয়েছিলেন অভিনয়শিল্পীরা। শিল্পীরা তখন হুমায়ূন আহমেদকে জানিয়েছিলেন, 'আমরা এত আগ্রহ আর আনন্দ নিয়ে নাটকটিতে কাজ করছি, আর আপনি এককথায় লেখা বন্ধ করে দিলেন! আপনি আমাদের ছোট করেছেন।' সব শুনে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, 'আমি তো কাউকে ছোট করি নাই। আমি সত্য কথা বলেছি। টেলিভিশন কিনব বলেই নাটক লিখেছিলাম।' | 2 |
করোনাকালে ব্যবসা বন্ধ থাকায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের শুঁটকি আড়তে প্রায় এক শ টন শুঁটকি মাছ পচে গেছে। অবিক্রীত এসব শুঁটকি এখন মাছের খাদ্য হিসেবেও ক্রয় করছে না ব্যবসায়ীরা। আড়তে বেচাকেনা শুরু হলেও পুঁজির সংকটে ভুগছে দেশের অন্যতম এই শুঁটকি আড়তের ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় মৎস্য বিভাগের সূত্রমতে, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুরে গড়ে উঠে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শুঁটকির আড়ত। এখানে পুঁটি, শৈল, গজার, বাইম, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন শুঁটকি খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা ও নাটোর থেকে মূলত এসব শুঁটকি আমদানি করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। এ আড়ত থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে রপ্তানি করা হয়।আড়তের ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, করোনা সংকটের ১৭ মাসের পুরো সময়টায় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল আড়তের দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময় বেকার হয়ে পড়ে এখানে কাজ করা প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। করোনার প্রভাবে লকডাউন ঘোষণায় সংরক্ষণে তদারকির লোক সংকটে গুদামে গুদামে মজুত থাকা শুঁটকি পচে যায়। সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীদের এমন বড় ধরনের ক্ষতি হতো না।নিয়ামতপুর শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি বাছেদ আলী জানান, করোনায় ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ৮০ ভাগ কর্মচারীরা পেশা বদল করেছে। নতুন কর্মচারী দিয়ে শুঁটকির ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য।বাছেদ আলী আরও জানান, এখানে শুঁটকি মজুত করার জন্য সে ধরনের হিমাগার নেই। তাই মজুতকৃত শুঁটকি রক্ষা করতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।সৈয়দপুর শুঁটকি বন্দর আড়তদার সমিতির সভাপতি রুহুল আলম জানান, দেশি-বিদেশি শুঁটকি সংগ্রহ করে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন আড়তের এসব আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। এ ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে শত শত টন পুঁটি মাছের শুঁটকি ভারতে রপ্তানি হতো এই আড়ত থেকে। এ বছরে ১০-১২ কোটি টাকার প্রায় এক শ টন শুঁটকি পচে গেছে। পচে যাওয়া এসব শুঁটকি দুই কোটি টাকায় পশুখাদ্য হিসাবেও কেউ কিনছে না।সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানি খান মজলিশ জানান, শুঁটকি মাছ সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে বরেন্দ্র এলাকায় হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুঁটকি আড়ত সৈয়দপুরে। সে জন্য এখানকার ব্যবসায়ী ও ব্যবসা সংক্রান্ত সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে হিমাগারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আট পর্বের ম্যারাথন ভোটগ্রহণ শেষে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হচ্ছে আজ। দুপুর একটা পর্যন্ত ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, গত দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছর ধরে রাজ্যটিতে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ২৮৪টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পেতে চলেছে ৭৭টি আসন। রাজ্যটিতে যে রাজনৈতিক জোট টানা সাতবার বা টানা ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে, সেই বামফ্রন্ট (পশ্চিমবঙ্গ) এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত একটি আসনও পায়নি। এবার দেখে নেয়া যাক রাজনীতিতে আসা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ভোটের ফলাফলে কেমন করছেন : রাজনীতিতে পদার্পণ করেই জয়ের মুখ দেখতে চলেছেন অভিনেত্রী জুন মালিয়াতৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন মাত্রই, গত মার্চ মাসে। রাজনীতিতে তার এবারই প্রথম আসা। কিন্তু প্রথমবারের মতো বিধানসভার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে মেদিনীপুরের হাতছাড়া হওয়া আসন আবার ফিরিয়ে আনার পথে রয়েছেন জুন মালিয়া। দুপুর নাগাদ মেদিনীপুর আসনে জুন মালিয়া পেয়েছেন ২৭৭২০ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সমিত কুমার দাস পেয়েছেন ২২০৬৪ ভোট। জয় পেলে এটা হবে অনেকটা যেন জুন মালিয়ার রাজনীতিতে আসা, দেখা আর জয় করার মতো ব্যাপার। বিজেপির টিকেটের প্রার্থী তিন অভিনেত্রী পিছিয়েভোট গণনায় পিছিয়ে পড়ছেন বিজেপির টিকেট পাওয়া পশ্চিমবঙ্গের তিন অভিনেত্রী। নির্বাচনের আগে আগে তিনজনই যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তাদের তিনজনকেই মনোয়ন দিয়েছিল বিজেপি। হাওড়ার শ্যামপুর থেকে তনুশ্রী চক্রবর্তী, বেহালা পূর্ব থেকে পায়েল সরকার আর বেহালা পশ্চিম থেকে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। হেরে যাচ্ছেন অভিনেতা রুদ্রনীলতৃণমূল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জীর কাছে হেরে যাচ্ছেন বিজেপির টিকেটে দাঁড়ানো নায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। ভবানীপুর আসনের নির্বাচনে রুদ্রনীল পেয়েছেন ৬০৬১ ভোট, আর শোভনদেব চ্যাটার্জী পেয়েছেন ৯৫৮১ ভোট। এই আসন এলাকাতেই বসবাস করেন মমতা ব্যানার্জী। সূত্র : বিবিসি | 3 |
ওমান বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটের সিনিয়র শিক্ষক শাহ মো. মিজানুর রহমানের পাশে দাঁড়াল চট্টগ্রাম সমিতি ওমান। গুরুতর অসুস্থ এই প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষকের চিকিৎসা সহায়তা নগদ এক লাখ প্রদান করেছে ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির। রাজধানী মাস্কাটে বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটে স্কুল প্রাঙ্গনে প্রবীণ শিক্ষক মিজানুর রহমানের মেয়ের হাতে নগদ ৪৫০ ওমানি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ টাকা) হস্তান্তর করে সমিতির প্রতিনিধি দল। স্কুলের অধ্যক্ষ ফারজানা করিমের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলে ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তাপস কুমার বিশ্বাস, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জামাল চৌধুরী ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক কাজী রাশেদ। মিজানুর রহমান বিগত ২২ বছর যাবত ডায়বেটিক রোগে ভুগছিলেন। গত আগস্ট মাসে পায়ের সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে এনএমসি হাসপাতালে পরে সুলতান কাবুস ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি হন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পায়ের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে কৃত্রিম পায়ের সাহায্য তাকে চলাফেরা করতে হবে। চট্টগ্রাম সমিতির ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী সিআইপি প্রবীণ শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং সমিতির ছাড়াও যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। চট্টগ্রাম সমিতির এমন মানবিক উদ্যোগে খুশি ভুক্তভোগী পরিবারসহ ওমান প্রবাসীরা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার ২০২২-২০২৩ সেশনের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।গতকাল বুধবার বিকেলে জগন্নাথপুর সদরে অস্থায়ী কার্যালয়ে দ্বিবার্ষিক-বার্ষিক মজলিসের শূরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।এতে সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা আব্দুল মোনাইম শাহিন কামালীকে সভাপতি ও মাওলানা সাইফুর রহমান সাজাওয়ারকে সাধারণ করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়। | 6 |
রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধের মধ্যেই গতকাল শনিবার ইউক্রেন সফরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ সময় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে রাজধানী কিয়েভ ঘুরে দেখেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।এ সময় বরিস জনসন বলেন, ইউক্রেনের শহরগুলোতে বেসামরিক মানুষের মরদেহ আবিষ্কার রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের খ্যাতিকে স্থায়ীভাবে দূষিত করেছে। বুচা ও ইরপিনের মতো জায়গায় পুতিন যা করেছেন তা যুদ্ধাপরাধ।এ সময় জনসন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার জন্য ইউক্রেনের জনগণের প্রশংসা করেন। কিয়েভে রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানান।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ানরা বিশ্বাস করেছিল যে ইউক্রেন কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে। আর কিয়েভও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেনাবাহিনীর হাতে চলে যাবে। কত ভুল ছিল তারা। ইউক্রেনের জনগণ সিংহের মতো সাহস দেখিয়েছে।জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর জনসন ইউক্রেনের জন্য সাঁজোয়া যান ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় জেলেনস্কি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদান এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করার জন্য পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, অন্যান্য পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশের উচিত যুক্তরাজ্যের উদাহরণ অনুসরণ করা। | 3 |
বিখ্যাত পপ সঙ্গীতশিল্পী টেইলর সুইফটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল জনপ্রিয় মার্কিন র্যাপার কেলভিন হ্যারিসের। কিন্তু সম্পর্ক টিকেছিল মাত্র বছরখানেকের মত। তারপর এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদে রূপ নেয়। তার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অভিনেতা টম হিডলটনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই গায়িকা। তবে এই সম্পর্কও বেশিদিন আগাতে পারেনি। কোন এক অজানা কারণে সেই সম্পর্কটিও ভেঙ্গে যায়। কিন্তু কয়দিন আগেই দেখা গেল অন্য ঘটনা। আবার নতুন করে আগের সম্পর্কে ফিরেছেন সুইফট। এবার প্রাক্তন প্রেমিক হ্যারিসের গানে পারফর্ম করলেন জনপ্রিয় পপ তারকা। কিছুদিন আগে একটি কনসার্টে গান করেন গায়িকা। সেখানে ডিজে ও র্যাপার হ্যারিসের একটি বিখ্যাত গান 'দিস ইজ হোয়াট ইউ কেম ফর' গানে এক সাথে পারফর্ম করলেন টেইলর সুইফট। এই গানটি সুইফট নিজে লিখেছিলেন। কিন্তু নিজে লিখলেও এর সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন কেলভিন হ্যারিস। পরে অ্যালবামে গানটি করেন আরেক পপ তারকা রিহানা। | 2 |
অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে অচেতন হয়ে পড়া কলেজশিক্ষক এস এম নাজমুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। নাজমুল ইসলাম চুকনগর ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।চুকনগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ব্রাউন জানান, রোববার কলেজের ক্লাস শেষ করে বেলা ১টার দিকে ব্যাংক থেকে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তিনি। এরপর টাকা নিয়ে খুলনা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে খাতা আনতে যাওয়ার জন্য চুকনগর বাজার থেকে বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন।অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাঁকে অজ্ঞান করে টাকা নিয়ে যায়।বেলা ৩টার দিকে বাস খুলনায় পৌঁছালে বাসের লোকজন তাঁকে সিটের ওপর পড়ে থাকতে দেখে এবং অজ্ঞান অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।এদিকে অধ্যাপক নাজমুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে চুকনগর কলেজে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা এক শোক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন কলেজ অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ব্রাউন, অধ্যাপক এনামুল হক, অধ্যাপক আবদুল হাফিজ মাহমুদ, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক কল্যাণ কান্তি হালদার, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, প্রভাষক আবদুল গাফফার, নিকুঞ্জ বিহারি মণ্ডল, মো. রুমেল হোসেন প্রমুখ। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান জানায়, বিষয়টি তিনি জানেন। তবে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হওয়ার কথা। | 6 |
ধানের শীষের কোনো প্রোগ্রাম বানচালের ষড়যন্ত্র করা হলে নেতা-কমীরা ঘরে বসে থাকবো না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা ১৮ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ৯ নং সেক্টরে গণসংযোগ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ওমর ফারুক শাফিন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার,ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম শ্রাবন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজাউল হক রিয়াজ, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভানেত্রী পিয়ারা মোস্তফাসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই, ভোট কিসে, ধানের শীষে, মা বোনদের কক বলে যাই ধানের শীষে ভোট চাই ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঢাকা ১৮ আসামের জনগণ বিএনপির সাথে ছিল আছে এবং থাকবে। ১২ নভেম্বর সেটা প্রমাণ করে দিবে। ১২ তারিখ সবাই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে থাকবেন। যতই রক্তচক্ষু থাকুক আমরা সেটা মোকাবেলা করবো। ১২ তারিখ সরকারের সকল অন্যায় অবিচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দিবে। ধানের শীষ কে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি নির্ধারণ করি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তারা সেখানে প্রোগ্রাম দিয়ে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করছে। আর যদি আমাদের কোনো প্রোগ্রাম ষড়যন্ত্র করে বানচাল করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে বসে থাকবো না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তাই করব। ধানের শীষের প্রার্থী বলেন, গণতন্ত্র ফেরত চাই, ধানের শীষে ভোট চাই। সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, নির্যাতন চলছে। মা-বোনদের ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। আমরা বলতে চাই কোন নারী নির্যাতনকারীর বাংলাদেশের হবে না। নারী নির্যাতনে সহতাকারী সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। হাজী সেলিমের ছেলে প্রশাসনের ওপর হামলা করেছে। যদি সরকার নীরব থাকে তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার দরকার নেই। | 6 |
ঢাকা: দেশে এক্সিলারেটর ল্যাব বাংলাদেশ নামে একটি নতুন উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে। জার্মান করপোরেশন এবং কাতার ফান্ড ফর ডেভলপমেন্টের (কিউএফএফডি) অর্থায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ ল্যাবের উদ্বোধন করে। এসডিজি অর্জনে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে বলে জানায় ইউএনডিপি।ভার্চুয়ালি আজ বুধবার এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিনেল পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, সচিব ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি নুয়্যেন ভ্যান, এক্সেলারেটর ল্যাব নেটওয়ার্কের টিম লিডার জিনা লুকেরেলিসহ অন্যরা।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ইউএনডিপির এক্সিলারেটর ল্যাবের মতো একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি গ্রাজুয়েশনে সহায়তা করবে।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) জুয়েনা আজিজ বলেন, এসডিজি অর্জনের প্রক্রিয়ার সাথে ইউএনডিপির মতো উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে থাকাটা অবশ্যই জরুরি । ইউএনডিপির এক্সিলারেটর ল্যাব তাদের নতুন প্রযুক্তি, নতুন ধারণা ইত্যাদির মাধ্যমে এসডিজি অর্জনে সহায়তা করবে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ইউএনডিপি সবসময়ই বাংলাদেশের উন্নয়নে সরকারের সাথে কাজ করে আসছে । নতুন চালু হওয়া এই এক্সিলারেটর ল্যাব বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য এবং কোভিডের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসহ অন্য আরো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।২০১৯ সালে ইউএনডিপি এসডিজি উন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলোর ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুততম লার্নিং নেটওয়ার্ক এক্সিলারেটর ল্যাব শুরু করে। ৭৮টি দেশে ৯১টি ল্যাব নিয়ে শুরু হওয়া এই নেটওয়ার্কটি এখন বাংলাদেশসহ ১১৫টি দেশের ৯১টি ল্যাবের মাধ্যেম কাজ পরিচালনা করছে। | 6 |
এই প্রথম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে। হিন্দু যুবক রাহুল দেব জেনারেল ডিউটি পাইলট অফিসার হিসেবে পাক বিমান বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি। সম্প্রতি সেই খবর টুইট করে জানিয়েছে খোদ পাক বিমান বাহিনী। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের থারপরকার জেলার বাসিন্দা রাহুল দেবের বয়স ২০ বছরের আশপাশে। পাক বিমান বাহিনীর টুইটে রাহুলের বয়স উল্লেখ করা না থাকলেও তিনি যে পদে রাহুল যোগ দিয়েছেন তাতে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। পাক বিমান বাহিনী রাহুল দেবের ছবি টুইট করে লিখেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে একটা সুখবর যে, থারপরকারের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে রাহুল দেব জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সরকারি রেডিওতেও দাবি করা হয়েছে, কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি পাক বিমান বাহিনীতে এই প্রথম। রেডিও পাকিস্তান বলে, কোনও হিন্দু যুবকের যোগদানও এই প্রথম। | 3 |
বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় বিয়ের ধুম পড়েছে। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফিরে সদ্যই বিয়ে করেছেন সাব্বির রহমান। এবার বিয়ে করলেন আরেক তরুণ তারকা ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার স্ত্রীর নাম রাবেয়া আখতার প্রীতি। বৃহস্পতিবার খুলনায় ঘরোয়া পরিবেশে তাদের আকদ হয়েছে। বিশ্বকাপ শেষে ঘটা করে অনুষ্ঠান করবেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। মেহেদী হাসান মিরাজের বাড়ি খুলনায়। তার বর্তমান বয়স ২১ বছর। বিয়ে করেছেন খুলনারই পাত্রী। স্ত্রী রাবেয়া আখতার প্রীতির সঙ্গে মিরাজের বোঝাপড়া প্রায় ৬ বছর ধরে। আগামীকাল বিয়ে করবেন জাতীয় দলে মিরাজের সতীর্থ মোস্তাফিজু রহমান। মোস্তাফিজের হবু স্ত্রীর নাম শিমু। পরিচয়ে শিমু হচ্ছেন মোস্তাফিজের মামাতো বোন। শিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বিয়ের জন্য মোস্তাফিজের কেনাকাটাও শেষ হয়েছে। মিরাজের মতো মোস্তাফিজও আকদ করে রাখবেন। বিশ্বকাপ শেষে অনুষ্ঠান করবেন। আর আগামী ১৯ এপ্রিল বিয়ে করবেন মুমিনুল হক। মুমিনুল হকের বিয়ের খবর আগেই জানা গিয়েছিল। তারিখটা গোপন রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারিখটা জানিয়েছেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। আগামী ১৯ এপ্রিল ধুমধাম করেই বিয়ে করবেন মুমিনুল। কনে ফারিহা বাশার, বাসা মিরপুর ডিওএইচএসে। ফারিহা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন মিরাজ। এর আগে সবার মাঝে মিরাজ পরিচিত থাকলেও এই বিশ্বকাপ থেকে মোটামুটি তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। মিরাজের হাত ধরে এই বিশ্বকাপের সেমিতে খেলেছিল বাংলাদেশ। একই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মিরাজের। ওই বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন এই ক্রিকেটার। অভিষেক সিরিজেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেট মাঠ মাতানোর পর এবার জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন মিরাজ। | 12 |
লেবাননের ধ্বংসপ্রাপ্ত বৈরুত বন্দর নতুন করে তৈরির নকশা দিয়ে আন্তর্জাতিক এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করেছেন চার ফিলিস্তিনি প্রকৌশলী। স্থাপত্য নকশার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হাইফা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের এই বছর পুরস্কার জিতে নেন তারা। এর আগে অলাভজনক সংস্থা আইডিএআর- জেরুসালেমের বৈরুত বন্দর নতুন করে তৈরির জন্য প্রকৌশল নকশার আহ্বানে ১২ টির বেশি দেশের প্রকৌশলীদের দল প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৭ মে প্রতিযোগিতায় পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট চার প্রকৌশলী আলা আবু আওয়াদ, মাইস বনি আওদা, দিয়ানা আনদোনিয়া ও মাজিদ আল-মালকির 'দ্য আফটারম্যাথ : এ প্রডাক্টিভ বৈরুত' (পরবর্তী : উৎপাদনশীল বৈরুত) শীর্ষক নকশাটি সর্বশেষ ১৩ প্রতিযোগী দলকে হারিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০২০ সালের ৪ আগস্ট তারিখে লেবাননের বৈরুত বন্দরে ১২ নম্বর ওয়্যারহাউজ গুদামে বিস্ফোরণের ফলে দুই শ'র বেশি মানুষ নিহত হন, আহত হয়েছিলেন ছয় হাজার মানুষ। এ বিস্ফোরণে বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ধ্বংস হয়। প্রতিযোগিতায় রুশ প্রকৌশলীদের দল দ্বিতীয় পুরস্কার পায়। ইতালির প্রকৌশলীদের দল পেয়েছে তৃতীয় পুরস্কার। আল-মনিটরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিজয়ী দলের পক্ষ থেকে মাজিদ আল-মালকি বলেন, 'আমাদের স্থাপত্য প্রকল্পটি একটি নতুন দর্শন ও চিন্তা নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে বৈরুত বন্দর একটি উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় শহরে পরিণত হবে। আমাদের এ স্থাপত্য পরিকল্পনায় এ শহরটি তার ধ্বংসস্তুপ থেকে জেগে উঠবে।' তিনি বলেন, 'বৈরুত বন্দরের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থাকা স্টিল, কাঠ ও কাচগুলোকে এ শহরটির পুনর্নিমানে আবারো ব্যবহার করা হবে। এছাড়া আমাদের এ পরিকল্পনা মতে, আমরা এ শহরটিকে এমনভাবে নির্মাণ করব যাতে করে এ শহরটির স্থানীয় অর্থনীতি অগ্রসর হয়। অন্যসব স্থাপত্যের সাথে এখানে ওয়ার্কশপ, উৎপাদন এলাকা, ভোকেশনাল ও কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবে।' এছাড়া আবাসন ও খাদ্য সংরক্ষণের জন্যও স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান। সূত্র : ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম | 3 |
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় যাত্রীবেশে বাসে উঠে ডাকাতির ঘটনায় অস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- কক্সবাজার জেলা সদরের পোকখালী ইউনিয়নের নাইক্যংদিয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মো. ইয়াহিয়া ওরফে জয়নাল, একই গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে ছলিম উল্লাহ, শিয়াপাড়ার মো. শাহজাহানের ছেলে ছাবের আহমেদ, দক্ষিণপাড়াগ্রামের হাছন আলীর ছেলে আবুল কালাম, চকরিয়া থানার খুটাখালী গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে শাহ আমান ওরফে বাটু ও পতেঙ্গা থানার দক্ষিণ পতেঙ্গা নাজিরপাড়ার মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তাদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী মো. ইয়াহিয়া ডাকাত সর্দার বলে জানিয়েছে র্যাব। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, একটি বুলেট ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের কাছ থেকে ডাকাতির ২০টি মোবাইল ফোনসহ টাকা, বিদেশী মুদ্রা এবং হাতঘড়ি ও স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল জানান, ডাকাতির পরদিন চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়। র্যাব-৭ ছায়াতদন্তে নেমে ডাকাতদের শনাক্ত করে। রোববার দুপুরে ডাকাত সর্দার মো. ইয়াহিয়া ওরফে জয়নালকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছলিম উল্লাহ, ছাবের আহমদ, আবুল কালাম ও শাহ আমান ওরফে বাটুকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করে নেওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহেশখালী থেকে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। তাদের দলের একজন সদস্য পলাতক রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, 'ডাকাতদের দলটির সর্দার ইয়াহিয়া ওরফে জয়নাল। সে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। ডাকাতিতে পাওয়া জিনিসপত্র নয় ভাগ করে তারা। এর মধ্যে জয়নাল ও পলাতক আরেক ডাকাত দুইভাগ করে পায়। কারণ তাদের কাছে অস্ত্র ছিল। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নভেম্বরের ৫ ও ১২ তারিখ তারা আরওদুইটি ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনাও স্বীকার করেছে তারা। এই চক্রটি আগে ছিনতাই করলেও এখন ডাকাতিতে যুক্ত হয়েছে।' র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানী কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলী আশরাফ তুষার, সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে কক্সবাজারগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাসে যাত্রীবেশে ওঠে সাত ডাকাত। বাসটি চকরিয়া এলাকায় পৌঁছালে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। এসময় যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় দুই যাত্রীকে গুলি ও একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। | 6 |
মাঠে খেলতে চাওয়ায় কয়েকটি শিশুকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজধানীর কলাবাগান থানার প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক ও তিনজন কনস্টেবল। তাঁদের ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, 'কলাবাগানের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারজনকে বাচ্চাদের খেলতে বাধা দিতে দেখা গেছে।'ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার তদন্তে ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে (এডিসি) প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা তদন্ত করে বিস্তারিত জানাবেন।অভিযোগ উঠেছে, কলাবাগান থানার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে জায়গাটি নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে আশপাশের শিশুরা খেলাধুলা করে। কয়েক দিন আগে ওই মাঠটি ভবন নির্মাণের জন্য কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। মাঠ ফিরে পেতে শিশুরা মানববন্ধনও করে। এরপর কয়েকটি শিশু খেলতে এলে তাদের কান ধরে ওঠবস করায় থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সেই সঙ্গে তারা যেন আর কখনো ওই মাঠে খেলতে না আসে, সে ব্যাপারে সতর্ক করে শাসিয়ে দেওয়া হয়।এই ঘটনা নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন প্রতিবেদন করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলাবাগান থানার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো। | 6 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতারা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার গফুর শেখের ছেলে মো. সুজন (২৮), মাদারীপুর জেলার চর গোবিন্দপুর এলাকার মাজেদ মাতাব্বরের ছেলে শামীম হাসান (২৭) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলারহাট থানার ওয়ারেশ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই গাড়ির চালকসহ তিনজন নিহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ বিষয়ে মুহুরীগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। | 6 |
নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রসেনানী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর গণির কীর্তিময় জীবন ও আদর্শ চর্চা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, মেজর গণির আদর্শ ও কর্ম প্রতিটি বাঙালির জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, মেজর আবদুল গণি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টবাদী। তিনি বাঙালি জাতির অকুতোভয় সৈনিক, তার হাতে গড়ে উঠেছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মার রণাঙ্গনে মেজর গণির বীরত্বের কারণে বাঙালিদের নিয়ে আলাদা রেজিমেন্ট গঠনের সূত্রপাত হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গশার্দূল মেজর আবদুল গণির ৬২তম মৃত্যু দিবস স্মরণে মেজর গণি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি আয়কর আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম ভূঞা, সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দিদারুল আলম ও ফারুক খান। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে মেজর গণি পরিষদ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন কবি ও লেখক ফৌরদৌসি মাহমুদ। অনুষ্ঠানে মেজর গণির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন নাগাইশ দরবার শরিফের পীর মাওলানা মোশতাক ফয়েজী। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর গণির ৬২তম মৃত্যু দিবস রোববার। তিনি ১৯১৫ সালের ১ ডিসেম্বর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের এক সল্ফ্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালে মেজর গণি যোগ দেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাইওনিয়ার কোরে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে। মেজর গণি মহান ভাষা আন্দোলনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৯৫৩ সালে সামরিক চাকরি থেকে বেরিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ জেলা কুমিল্লার বুড়িচং থেকে বিপুল ভোটে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে জার্মানি সফরকালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। | 6 |
নরসিংদীর বেলাব উপজেলা চেয়ারসম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমসের জামান ভূঁইয়া রিটনের বিরুদ্ধে ভাইস চেয়ারম্যানদের সম্মানী ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও আপ্যায়ন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্ম-সচিব) খান মো: নুরুল আমিনের নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার, অভিযোগকারী, উপজেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হয়। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে নেত্রকোনায় বাড়ছে নদ-নদীর পানি। পাহাড়ি ঢলে ভারতের বাঘমারা থেকে আসা দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তবে এই নদীর পানি বাড়লেও আবার বৃষ্টিপাত না থাকলে কমেও যায়। কিন্তু কংস, মগড়া, উব্দাখালি, নেতাই, ধনু, ঘোরাউতরা, গুমাইসহ বাড়ছে অন্যান্য নদীর পানি। এদিকে, বর্ষাকালে পানি বাড়লেও সব পানি হাওরে গিয়ে প্রবেশ করে বলে পুরোপুরি বর্ষা মৌসুমে বন্যার তেমন আশঙ্কা নেই। তবে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হাওরের নিচু এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাবে। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জানান, সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। পানিগুলো বেড়ে হাওরে যাওয়ার ফলে এলাকাগুলো ডুবছে না। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাভারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালিত নিয়মিত টিকাকেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবারও প্রথম ডোজের টিকা নিতে আসা লোকজনের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ভিড় সামলাতে নারী ও পুরুষদের পাশাপাশি দুটি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। তবে নিবন্ধন ছাড়া ও কোনো তথ্য না রেখেই তাঁদের টিকা দেওয়া হয়। এতে ভবিষ্যতে ভোগান্তিতে পড়বেন বলে মনে করেন টিকাগ্রহীতারা।এদিকে, ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে চলতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। অনেকে আহত হন। এর আগে গত বুধবারও টিকা নিতে এসে শতাধিক নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিলেন।সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিড় সামলাতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টের ভবনে পুরুষ আর পাশের অধর চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের টিকা দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া অব্যাহত থাকবে, এমন প্রচারণা চালানো হয়। এরপরও থামানো যায়নি জনস্রোত।গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নারী ও পুরুষ কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকেন টিকাপ্রত্যাশীরা, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাককর্মী। ভিড়ের কারণে অধিকাংশ টিকাগ্রহীতার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে, এমনকি তাঁদের কোনো তথ্য না রেখেই টিকা দেওয়া হয়।নিবন্ধন ও কোনো প্রকার তথ্য ছাড়া টিকা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়বেন পোশাককর্মীরা। তাঁরা যে টিকা নিয়েছেন তার কোনো প্রমাণ কর্মস্থলে দেখাতে পারবেন না। টিকা সনদ দেখাতে হয়, এমন জায়গাতেই তাঁরা পড়বেন ভোগান্তিতে।পোশাককর্মী গায়ত্রী রানী মালো বলেন, তিনি টিকা নিতে আগ্রহী ছিলেন না। কর্মকর্তাদের চাপে বাধ্য হয়ে তিনি বৃহস্পতিবার টিকা নিয়েছেন। নিবন্ধন করে টিকা নিলেও টিকা নেওয়ার সময় তাঁর নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়নি।গায়ত্রী বলেন, টিকা দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর নিবন্ধন কার্ড দেখতে চাননি, এমনকি তাঁর মুঠোফোন নম্বরও নেননি। এতে টিকা সনদ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ ও কর্মস্থলে তাঁর টিকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করা কষ্টকর হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।পোশাককর্মী তাসমিরা আক্তার বলেন, টিকা নেওয়ার জন্য কারখানা থেকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছুটি দিতে চায় না। টিকার জন্য কর্মস্থলে না গেলে ওই দিন অনুপস্থিত দেখিয়ে বেতন কেটে দেওয়া হয়।জানতে চাইলে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, 'জীবন বাঁচানোর জন্য অধিক সংখ্যক লোকজনকে টিকার আওতায় আনার বিষয়টি মুখ্য, টিকা সনদ পাবেন কি পাবেন না, তা মুখ্য বিষয় নয়।'পোশাককর্মীদের কর্মস্থলে টিকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণের বিষয়ে সায়েমুল হুদা বলেন, 'বিষয়টি ভেবে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' | 6 |
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে অফিস ও গণপরিবহন চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত বড় ভুল। এর ফলে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়বে। এটা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন যদি সবকিছু খুলে দেওয়া হয়, তাহলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। শুক্রবার গণমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তখন বলা হয়েছে, 'না না, এটা কিছু না।' তারপর লকডাউন দেওয়া হলো। সেটাও ঠিকমতো পালিত হয়নি। প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, দেশে এখন যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এর মধ্যে সব খুলে দেওয়া ভুল হবে। করোনা পরীক্ষা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আরও পরীক্ষা করা গেলে আক্রান্তের হার আরও বাড়ত। রেজা কিবরিয়ার বিবৃতি :গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণফোরাম থেকে বহিস্কৃত লতিফুল বারী হামিম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ড. কামাল হোসেনের অনুমতি ছাড়া তার নামের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম জড়িয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করেন। এ ব্যাপারে গণফোরামের নেতাকর্মী ও জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান রেজা কিবরিয়া। | 9 |
১০ দিন ধরে ব্যাপক সহিংসতার পর বেসামরিক মানুষজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনের দুটি শহরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (৫ মার্চ) মারিউপোল এবং ভলনোভাখা শহরে মস্কোর স্থানীয় সময় সকাল দশটা (বাংলাদেশ সময় দুপুর একটা) থেকে এ বিরতি কার্যকর হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য এখন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। ইউক্রেনের সঙ্গে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ছয়টার দিকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এর নিন্দা করতে থাকে। সর্বশেষ ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলকৃত শহর মারিউপুলের মেয়র ভাদিম বৈচেঙ্কো বলেছিলেন, রাশিয়ার চলমান অবরোধ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে এবং তাদের সেনারা 'একরোখা ও বেপরোয়া' হয়ে উঠছে। | 3 |
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে রোববার রেকর্ড প্রায় আড়াইশ' ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা গত এক বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও শয্যা সংকুলান হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুরে সরকারিভাবে ডায়রিয়া রোগীদের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র জেনারেল হাসপাতাল। এখানে ডায়রিয়া রোগীর মোট বেডসংখ্যা ১০টি। বর্তমানে ভর্তিরোগী রয়েছেন আড়াইশর বেশি। সাধারণ রোগীদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে সব ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিপুলসংখ্যাক রোগীকে সেবা দিতে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সব স্টাফদের ছুটি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া ওয়ার্ড ছাড়াও আশেপাশের সব ওয়ার্ডে এখন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। সিট না পেয়ে অনেকেই বারান্দা ও হাসপাতালের গাছতলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী বেশি হওয়ায় তারা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সরকারি ওষুধের সরবরাহ কম। রোগীকে সেলাইন দেয়া হলেও তার স্ট্যান্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে গাছে বা হাত দিয়ে ধরে উঁচু করে রোগীদের সেলাইন দিতে হচ্ছে। নার্স আমেনা খাতুন বলেন 'প্রচুর ডায়রিয়া রোগী আসছেন হাসপাতালে। জায়গা না পেয়ে অনেকেই ফ্লোর, বারান্দা বা গাছতলায় সেবা নিচ্ছেন। আমরা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।' ফরিদপুরের সির্ভিল সাজন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, 'দেড় মাস ধরে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী আসছেন। এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার অনেক বেড়েছে। তবে তিন দিনে আক্রান্তের হার কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। রোববার প্রায় আড়াইশ' রোগী ভর্তি হয়েছেন।' তিনি আরও বলেন, 'সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি, উৎকণ্ঠার কিছু নেই। ডায়রিয়া রোগীরা সঠিক সেবায় দুই থেকে তিন দিনে সুস্থ হন।' | 6 |
নিজ দেশে ফিরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা ত্যাগের আগে এক বিদায়ী বার্তায় আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, 'আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জনগণের উষ্ণতা ও সৌজন্যবোধ। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক হিসেবে গত ৩৫ বছরে আমি এমন কোনো দেশে কখনও কাজ করিনি, যেখানকার মানুষ এত অতিথিপরায়ন, চিন্তাশীল ও অমায়িক। বিদায়ী কূটনীতিকরা সাধারণত বিদায়ের আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পান। তবে, এবার করোনা পরিস্থিতির জন্য বিদায়ী কূটনীতিকরা তাদের সাক্ষাৎ পাননি। বিদায়ের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন মিলার। এসব বৈঠকে ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
প্রাথমিক সূচিতে অনুশীলন শুরুর কথা ছিল রোববার। তবে কাতার পৌঁছানোর পর করানো প্রথম করোনা পরীক্ষায় সবাই নেগেটিভ আসায় এগিয়ে আনা হলো প্রস্তুতি পর্ব। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনুশীলন শুরু হয়ে গেল শনিবার। ৩ জুন আফগানিস্তান, ৭ জুন ভারত ও ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে খেলা জামাল ভূঁইয়াদের। বাংলাদেশ দল কাতারে পৌঁছায় শুক্রবার। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ ৩২ সদস্যের দলটির করোনা পরীক্ষা করা হয় পৌঁছানোর পরপরই। সবার ফলাফল নেগেটিভ আসায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শনিবারই অনুশীলন শুরুর ব্যবস্থা করা হয়। যা শুরু হয় কাতার ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডে। এর আগে সকালে টিম হোটেলে স্কেচিং সেশন করেন ফুটবলাররা। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ বাকি তিনটি। খেলাগুলো 'হোম' হলেও করোনাভাইরাসের কারণে ভেন্যু বদল হয়ে কাতারে স্থানান্তর হয়ে গেছে। বাংলাদেশ দল আগেভাগে কাতারে গিয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেয়েছিল; কিন্তু কাতার রাজি না হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। এরপর সৌদি আরব গিয়ে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করেছিল বাফুফে। সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সেই সফরও আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত ঢাকার মাটিতেই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। এ নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টিও জানান অধিনায়ক জামাল ও কোচ জেমি ডে। কাতার যাত্রার আগে কেবল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে জাতীয় দল। ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ সমতায়। কাতার পৌঁছানোর পর এখন যতটা সম্ভব নিজেদের প্রস্তুত করে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ দল। চলতি বিশ্বকাপ বাছাই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে জেমি ডের দল।২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে কলকাতার সেই ম্যাচ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। | 12 |
বয়স তার ১৭ বছর। কানে শুনতে পায় না। চোখের দৃষ্টিও কম। তবু সেই শারীরিক প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়েই সে রক্ষা করল এক ৩ বছরের একটি ছোট্ট মেয়ের প্রাণ। আপাতত ফেসবুক উত্তাল ম্যাক্স নামের কুকুরটিকে নিয়ে। জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল কুইন্সল্যান্ডের ছোট্ট মেয়ে অরোরা। শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে তার সন্ধান মিলল। কনকনে শীত ও বৃষ্টির ভিতরে সারা রাত তাকে আগলে রেখেছিল ম্যাক্স। পুলিশ ও অরোরার বাড়ির লোকের অনুমান, অন্তত ১৫ ঘণ্টা ম্যাক্স পাহারা দিয়ে আগলে রেখেছিল অরোরাকে। যে বাড়িতে অরোরা ছিল, সেটি পাহাড়ে ঘেরা বেশ দুর্গম একটি জায়গা। নানা রকমে বিপদে পড়তেই পারত অরোরা। কিন্তু ম্যাক্সের কারণেই কোনও রকম বিপদে পড়তে হয়নি অরোরাকে। ঘরের ছোট্ট সদস্য হারিয়ে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে বাড়িতে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক খুশি সবাই। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ ছবিসহ ম্যাক্সের বাহাদুরির কাহিনি পোস্ট করতেই তা ভাইরাল। পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ৬৩ হাজার লাইক ও ১০ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 5 |
বাংলাদেশের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে খেলার আগ্রহ নেই ড্যাশিং ওপেনারখ্যাত তামিম ইকবালের। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তামিম টি-টোয়েন্টিতে খেলতে না চাইলেও সাকিব দেশের হয়ে খেলতে চান তিন ফরম্যাটেই। শনিবার (২২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পাপন। গেল বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেননি তামিম। ইনজুরির কারণে তাকে ছাড়াই বিশ্বকাপে খেলতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্যও পায়নি টিম বাংলাদেশ। মূল পর্বে পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে হেরে লজ্জার জন্ম দেয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনী। অথচ বিশ্বকাপের কদিন আগেই ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এ বছরের ১৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় বসবে এবারের বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ১৩ নভেম্বর। এ আসরকে সামনে রেখে ২১ জানুয়ারি বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ভারত, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। আগেই জানা গিয়েছিল, সপ্তম আসর তথা সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বকাপে বাছাই পর্ব খেলতে হলেও ২০২২ বিশ্বকাপে মূলপর্বেই খেলবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান খেলবে সরাসরি মূলপর্বে। সবশেষ আসরের মতো অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপেও আট দল নিয়ে হবে প্রথম রাউন্ডের খেলা। পরে সেখান থেকে উঠা চার দল ও র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দল নিয়ে হবে সুপার টুয়েলভের খেলা। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডসহ বাছাইপর্ব থেকে আসা আরও চারটি দল যোগ দেবে প্রথম রাউন্ডের খেলায়। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ওমান ও জুন-জুলাইয়ে জিম্বাবুয়েতে হবে বাছাইপর্বের খেলা। সুপার টুয়েলভে গ্রুপ ১-এ থাকবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ 'এ' এর চ্যাম্পিয়ন এবং গ্রুপ 'বি' এর রানার্সআপ। গ্রুপ-২ এ থাকবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ 'এ' এর রানার্সআপ এবং গ্রুপ 'বি' এর চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৪ অক্টোবর গ্রুপ 'এ' এর রানার্সআপের বিপক্ষে, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে হোবার্টে। ২৭ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিডনিতে। ৩০ অক্টোবর ব্রিসবেনে গ্রুপ 'বি' এর চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। ২ নভেম্বর অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৬ নভেম্বর মাঠে নামবে টাইগাররা, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এই ম্যাচটিও অনুষ্ঠিত হবে অ্যাডিলেডে। অস্ট্রেলিয়ার সাতটি মাঠে আসন্ন বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই সাত ভেন্যু হলো এডিলেইড, ব্রিসবেন, জিলং, হোবার্ট, মেলবোর্ন, পার্থ এবং সিডনি। | 12 |
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করছে কিয়েভ। সোমবার তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানায়। খবরে বলা হয়, রোববার রাত থেকে ইউক্রেনে রুশ সামরিক বাহিনী ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ৭৪টি কামান হামলা চালায়। অপরদিকে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির ভেঙে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্যে ৬৪টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশপন্থী সরকারের পতনের পর রাশিয়া দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে ক্রিমিয়া অঞ্চলটি দখল করে নেয়। পাশাপাশি মস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব ইউক্রেনে বিপুল অঞ্চল দখল করে নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা দুই রাষ্ট্র 'দনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক' ও 'লুহানস্ক পিপলস রিপালিক' প্রতিষ্ঠা করে। রাশিয়া ছাড়া আর কোনো দেশ ওই দুই রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালে বেলারুশের মিনস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়া এক চুক্তি করে। মিনস্ক চুক্তি অনুযায়ী এই অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময় ও দোনবাস অঞ্চল থেকে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার বিষয় যুক্ত ছিলো। দোনবাস অঞ্চল থেকে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা সরে গেলে ইউক্রেনের ওই অঞ্চলে গণভোটের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহিংসতার অভিযোগের জেরে এই চুক্তি আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে ২০২০ সালে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ন্যাটো সামরিক জোটের 'ইনহ্যান্সড অপারচুনিটি পার্টনার' পদ পেলে রাশিয়া ক্ষুব্ধ হয়। নিজ দেশের সীমান্তে ন্যাটোর সম্প্রসারণের শঙ্কায় রাশিয়া ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক জোটে যোগ দেয়ার বিরোধিতা করছে। এরই মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে উক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক লাখ সৈন্য ইউক্রেন সীমান্তে মোতায়েন করেছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইউক্রেনে হামলার জন্যই রাশিয়া ওই সৈন্য সমাবেশ করেছে। কিন্তু রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সামরিক বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে ওই সৈন্য সমাবেশ করা হয়েছে। সৈন্য সমাবেশের জেরে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে। উত্তেজনা প্রশমনে বিভিন্ন পন্থায় কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল মাঠে নালা খনন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের সিঁড়ি ভেঙে ফেলা ও নামফলক ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ পাওয়া উঠেছে। অভিযোগটি করেছে পাশাপাশি অবস্থিত আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ডায়নারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগে জানা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডায়নারপাড় গ্রামে একই স্থানে পৃথক দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডায়নারপাড় প্রাথমিক ও ডায়নার পাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মাঠের পূর্বে প্রাথমিক ও পশ্চিমে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন অবস্থিত। দুটি প্রতিষ্ঠান সহাবস্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছে।গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় হঠাৎ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম লোকজনসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে মাঠের মাঝামাঝি উত্তর-দক্ষিণ বরাবর নালা খনন করেন। ভেঙে ফেলেন শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ভবনের সিঁড়ি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ল্যাবের নামফলক।ডায়নারপাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন সরকার বলেন, 'প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক হঠাৎ করে সেদিন লোকজন নিয়ে এই কাণ্ড ঘটান। তিনি সেদিন এতটাই আগ্রাসী ছিলেন যে আমরা ভয় পেয়ে গেছি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করতে সাহস পাইনি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি এ ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি।'ডায়নারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আমার বাবা ইউনুছ আলী বিদ্যালয় দুইটি প্রতিষ্ঠার সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৩৩ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ১৮ শতক জমি দান করেন। মাধ্যমিকের ১৮ শতক জমির বাইরে প্রাথমিকের জমি দখল করে আছে বিদ্যালয়টি। বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি। পক্ষান্তরে কিছুদিন আগে প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ভবন নির্মাণ করেন। এ ভবনের সিঁড়ি এমন এক জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে যে প্রাথমিকের কোমলমতির শিক্ষার্থীরা সেখানে হোঁচট খেয়ে অসুস্থ হন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি আমাকে বলেন -'শিক্ষার্থীদের সুবিধায় আপনার সীমানায় থেকে যা করার দরকার তাই করেন।' পরে আমি ভবনের সিঁড়ি ভেঙে ফেলি। তবে নামফলক ও ভবনে কোনো স্পর্শ করিনি। অপরদিকে প্রাথমিকের জমির সীমানায় মাঠের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর নালা খনন করে সে মাটি প্রাথমিকের মাঠে ফেলেছি। যাতে বৃষ্টির পানি মাঠে জমতে না পারে। এর বাইরে আমার কোনো উদ্দেশ্যই ছিল না।'এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, 'গতকাল সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলীসহ আমরা সরেজমিন গিয়ে লিখিত অভিযোগের অনেকটা সত্যতা পেয়েছি। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' | 6 |
ক্রেতাখরার মধ্যেই প্রথম সপ্তাহ পার করছে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। ১ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী এই মেলা। তবে মেলার প্রথম চার দিনে মোট উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩০ হাজার। মেলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী শুক্রবার থেকে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। মেলার প্রবেশপথের বা গেটের ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান জানান, ঢাকার আগারগাঁওয়ের তুলনায় এবারের মেলায় উপস্থিতি অনেক কম। মেলার প্রথম দিন ছিল শনিবার। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ওই দিন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেন। এটাই এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ উপস্থিতি। এরপরের তিন দিনে উপস্থিতি খুবই কমে যায়। এর মধ্যে গত রোববার মেলার দ্বিতীয় দিনে উপস্থিতি ছিল প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। সোমবার উপস্থিতি ছিল সর্বনিম্ন চার হাজার এবং গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে মাত্র আট হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছেন। সাইদুর রহমান আরও বলেন, ক্রেতা-দর্শনার্থীরা এখনো সেভাবে আসতে শুরু করেননি। মেলার স্থান পরিবর্তনের কারণে ঢাকা শহর থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি এখনো বেশ কম। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি। মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কম উপস্থিতি নিয়ে বড় কোম্পানিগুলো চিন্তিত না হলেও ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা বলছেন, মেলা অংশ নিতে তাঁদের যে খরচ হয়েছে, এ রকম উপস্থিতি থাকলে সেই খরচ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তাঁদের। মেলায় অংশ নেওয়া কুষ্টিয়ার নুরুল টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রিও কম। এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এত দূর থেকে মেলায় এসে লাভের বদলে আর্থিক ক্ষতি হবে। অন্যদিকে, ওয়ালটন কিংবা মিনিস্টারের মতো বড় কোম্পানিগুলো বলছে, মেলায় দর্শনার্থী কম হলেও মেলাকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডের ভালো প্রচারণা চালানো যাচ্ছে। ফলে মেলায় বিক্রি কম হলেও রাজধানীতে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন বড় কোম্পানিগুলোর বিক্রয়কর্মীরা। এদিকে, আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কিছু স্টলের প্রস্তুতি এখনো শেষ হয়নি। মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই সব স্টলের কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মেলার সব স্টলের কাজ আমরা করে দিতে চেয়েছি। তবে মেলায় অংশ নেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ডিজাইনার দিয়ে স্টল করতে চেয়েছে। তাদের অনেকেই মেলা শুরুর আগে প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি। | 0 |
সময় লাগবে ২০০ সেকেন্ড। এরই মধ্যে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উড়িয়ে দেয়া হবে ব্রিটেনকে। আর ন্যাটোয় যোগ দিলে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডকে ধ্বংস করতে সময় লাগবে মাত্র ১০ সেকেন্ড। শনিবার এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন পুতিনের সহযোগী অ্যালেক্সি জুরাভলিয়ভ। এই কাজের জন্য রাশিয়ার অত্যাধুনিক আন্তর্দেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র 'সাটান-২' বা 'সারমাত' ব্যবহার করা হবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে পুতিনের ব্যর্থতা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর ঐক্যে তিতিবিরক্ত হয়েই এমনটা ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিন একটি সাক্ষাৎকারে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান বলেন, 'দেশ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য আমাদের কাছে ফিনল্যান্ডের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।' ফিনল্যান্ডের সীমান্তে রুশ পরমাণু সমরাস্ত্র স্থানান্তরিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'এমনটা করার কোনো প্রয়োজন নেই। সাইবেরিয়া থেকে হামলা চালালেও সহজেই ব্রিটেনে পৌঁছে যাবে সারমাত। কালিনিনগ্রাদ থেকে মাত্র ২০০ সেকেন্ডে দ্বীপরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।' অভিযোগের সুরে জুরাভলিয়ভ বলেন, ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোয় যোগদান করতে জোর করছে ব্রিটেন এবং আমেরিকা। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়েও এদিন উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, 'আমেরিকা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটানোর সবরকম প্রয়াস করবে। পরমাণু যুদ্ধ না হলেও সমগ্র ইউরোপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেতে প্ররোচিত করবে তারা। এভাবেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে চাইবে আমেরিকা।' উল্লেখ্য, গত মাসেই বাল্টিক সাগরে সারমাতের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছিল মস্কো। এরপর থেকেই রাশিয়ার তরফে পরমাণু হামলার আশঙ্কা জোরাল হয়েছে।সূত্র : বর্তমান | 3 |
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনার বিস্তার রোধে সম্প্রতি যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় তেমন প্রভাব ফেলবে না। যত ভয়ের কথা বলা হচ্ছে, তত খারাপ কিছু হবে না। রোববার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে, এবারও সেভাবে করা হবে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিস্তৃত করা হচ্ছে এবং সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে। ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লেও তা মোকাবিলা করতে পারবে সরকার। আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং যাদের জন্য দেওয়া হয়েছে, তারা অবশ্যই পাবেন। বিতরণে দেরি হয়ে থাকলেও বাতিল হয়ে যাবে না। কারণ বাতিলের কোনো ব্যবস্থা নেই। যেসব শর্তে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো পূরণ করলে ব্যবসায়ীরা পাবেন। সম্প্রতি এফবিসিসিআইর এক সভায় ভ্যাট ও আয়কর নিয়ে মাঠ পর্যায়ে হয়রানির শিকার হওয়ার যে অভিযোগ ব্যবসায়ীরা করেছেন- সে প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এফবিসিসিআইর কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই মন্ত্রণালয় দেখবে। অভিযোগ তিনি লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন। গত শনিবার এফবিসিসিআইর এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, মহামারিতে বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেও নানাভাবে হয়রানি ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। মহামারির ধাক্কার মধ্যে সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দাম বাড়ানোর উদ্যোগ বিষয়ে কিছু জানি না। যদি দাম বাড়ানো হয়, তখন যা করণীয় অবশ্যই করা হবে। সরকার জনগণের সরকার। ফলে মানুষের কষ্ট হয় সরকার সে রকম কিছু করবে না। এদিন ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে এক হাজার ৭৮ কোটি টাকার কেনাকাটা করা হবে। সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭০ কোটি টাকা। বাকি প্রায় আট কোটি টাকা আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে। যেসব প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- 'শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা' প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয়। শরীয়তপুর-জাজিরা-নওডোবা (পদ্মা ব্রিজ সংযোগ সড়ক) উন্নয়ন প্রকল্পের ১২৫ কোটি টাকা ও 'কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী- লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ' প্রকল্পের পূর্ত কাজে ৬৪০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক খাদ্য মজুত সুবিধা প্রকল্পের আওতায় আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণকাজে পরামর্শক কাজে অতিরিক্ত সাত কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের জন্য ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভিওআইপি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। | 0 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.