text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ করে খিলগাঁও টু মোহম্মদপুরগামী মিডওয়ে পরিবহনের একটি বাসে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।ঘটনাস্থলে ছিলেন সাংবাদিক সজিব তৌহিদ। তিনি বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শাহবাগ মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। এরপর দেখি, চলন্ত একটি বাস থেকে ধোঁয়া উড়ছে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে যাত্রীরা বাসের জানালা ও দরজা দিয়ে নেমে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে আরও একটি বিস্ফোরণে বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এটা ঘটেছে।তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কিছুক্ষণের মধ্যে আমি জাতীয় জরুরি সেবা কেন্দ্রের ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানাই। ওই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি শাহবাগ এলাকায় নেই এবং তারা বিষয়টা দেখছে বলে জানায়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে গাড়িটি জ্বলতে থাকে। এরপর ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। হুড়োহুড়ি করে বাস থেকে নামার সময় কয়েক জন আহত হলেও বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার মো. রাসেল জানান, খবর পেয়ে তাদের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।শাহবাগ থানার এসআই মো. মিজান জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
| 6 |
যুক্তরাষ্ট্রেএই প্রথম একটি সিটির মেয়র হলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মাহবুবুল আলম তৈয়ব। পেনসিলভেনিয়া স্টেটের মিলবোর্ন সিটির মেয়র হিসেবে চট্টগ্রামের সন্তান মাহবুবুল আলম তৈয়ব ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেন। সেখানকার জজ হ্যারি ক্যাপারেডিয়া তাকে শপথ করান। উল্লেখ্য, ডেমোক্রেটিক পার্টির এই নেতা আগের দুই মেয়াদে এই সিটির কাউন্সিলম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিলাডেলফিয়া মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এই সিটি কাউন্সিলে মোশারফ হোসেন নামক আরেক বাংলাদেশি আমেরিকান কাউন্সিলম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ট্যাক্স কালেক্টর পদটিও জুটেছে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের। শপথ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন পেনসিলভেনিয়ার স্টেট সিনেটর টিম কিয়ারনি, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ জিনা কারি প্রমুখ। একই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে এর আগে আর কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান জয়ী হতে পারেননি। উল্লেখ্য, শাহানা হানিফ হলেন উত্তর আমেরিকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোহাম্মদ হানিফের কন্যা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
গাজীপুরের টঙ্গীতে যৌতুকের জন্য সাজেদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. রুবেল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মেঘনা রোডের বস্তিতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সাজেদা বাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুভারামপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। পুলিশ জানায়, কয়েক বছর আগে রুবেল ও সাজেদার বিয়ে হয়। তারা মেঘনা রোড বস্তিতে থাকতেন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে শনিবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রুবেল তার স্বী শাজেদাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা করা হচ্ছে। পরে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত সাজেদা তিন সন্তানের জননী। টঙ্গী পুর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। | 6 |
সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা রোববার বিকেলে রাজশাহী নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলের পর রাস্তা বন্ধ করে পাঁচ মিনিটের জন্য সমাবেশ করে সংগঠনটি। মহানগর ছাত্রশিবিরের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের গায়ে সাদা রঙের গেঞ্জিতে লেখা ছিল, 'ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিন'। বহরমপুর এলাকায় গিয়ে তাঁরা পাঁচ মিনিটের মতো সমাবেশ করেন। এই সময় শিবিরের কর্মীরা দুটি রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সমাবেশে বক্তারা সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের ১৪৫ জন কর্মীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে, অসংখ্য নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। বেলা ৩টা ৮ মিনিটে সমাবেশ শেষ করে নেতা-কর্মীরা দ্রুত পাড়ামহল্লায় ঢুকে পড়েন। নগরের রাজপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাইদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের টহল দল একটু দূরে ছিল। এই সুযোগে মিনিটখানেকের জন্য শিবির মিছিল নিয়ে এসে তখনই আবার চলে গেছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি। | 6 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপক্ষে অবস্থান নিলে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। তিনি আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, মীর্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই প্রমুখ। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, গত দুবারের সিটি মেয়র আইভীকে দল থেকে মনোনয়ন দেন সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের ভেতরে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। দলে কোনো বিভক্তি নেই। এই সভাতেও জেলা ও মহানগরের সব নেতারা আছেন। তিনি বলেন, 'এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়। এই নির্বাচনে আমি কী অবদান রাখব, সেটিই বিষয়। এই নির্বাচনে আমি আমার দায়িত্ব পালন করব, নাকি করব না, সেটি আমার ওপর নির্ভর করে। আমি যদি কোনো কিছু করতে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, সেই দায়িত্ব আমাকে বহন করতেই হবে। সেই ব্যর্থতার দায়-দায়িত্বের জন্য দলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, সে যে-ই হোন না কেন। নৌকা মার্কা নিয়ে আইভী নির্বাচন করছেন, আমরা আশা করি যাঁরা নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। আর যদি না করেন, তাহলে নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।' জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতি ইঙ্গিত করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, 'জাতীয় পার্টি আমাদের নির্বাচনী জোটের শরিক অংশ। আমরা আশা করি, জাতীয় পার্টির স্থানীয় যে সংসদ সদস্য আছেন, তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করবেন। তিনি নৌকার সমর্থন নিয়ে লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। অথচ তাঁরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাঁদের সমর্থন আশা করি। নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় বিষয় জনসমর্থন, গণসমর্থন। আমার কাছে মনে হয়েছে নৌকার পক্ষে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এই জাগরণের ফলে এবার আইভী লক্ষাধিক ভোটে বিজয়ী হবেন।' দলের বাইরে বা ভেতরে থেকে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, 'রাজনীতি কোনো শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নয়। কেউ দলে অপরিহার্য নয়। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যাঁরা অবস্থান নেবেন, আমরা তাঁদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই করার থাকবে না।' | 6 |
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হার দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের। তৃতীয় ম্যাচে এসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেখা মেলে প্রথম জয়ের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এরপরের সব ম্যাচেই হেরে গিয়েছে বাঘিনীরা। সাত ম্যাচে বাংলাদেশের অর্জন এক জয়। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারটা বড়ই, ১০০ রানের ব্যবধানে। পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের বোলাররা বেশ ভালো করেছে। দৈন্য দশা ছিল ব্যাটিংয়ে। যা দেখা গেল শেষ ম্যাচেও। সাত ম্যাচে একটি জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে সাতে থেকে শেষ করলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও জয় আসতে পারতো, কিন্তু একেবারে কাছেও গিয়ে পারেননি বাংলাদেশের মেয়েরা। শেষ ম্যাচে রোববার টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামে ইংল্যান্ড। ট্যামি বিমন্ট, ন্যাট স্কিভার, অ্যামি জোন্স ও ম্যাচসেরা সোফিয়া ডাঙ্কলের ব্যাটে ৬ উইকেটে ২৩৪ রান তোলে তারা। জবাবে সোফি একলেসটোন, চার্লি ডিন, ফ্রেয়া ডেভিসদের বোলিং তোপের মুখে ৪৮ ওভারে ১৩৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে একেবারে খারাপ শুরু করেনি বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ রান যোগ করেন শামীমা সুলতানা ও শারমিন আক্তার। এই দুজনই ২৩ রান করে করেন। তারা আউট হওয়ার পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও লতা মন্ডলই যা লড়েন। অধিনায়ক নিগার ২২ ও লতা ৩০ রান করেন। এছাড়া ফারজানা হক ও রিতু মনি ১১ রান করে করেন। ইংল্যান্ডের সোফি একলেসটোন ও চার্লি ডিন ৩টি এবং ফ্রেয়া ডেভিস ২টি উইকেট নেন। এর আগে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন সোফিয়া ডাঙ্কলে। ম্যাচেসরার পুরস্কার জেতা ডানহাতি এই ব্যাটার ৭২ বলে ৮টি চারে ৬৭ রান করেন। এ ছাড়া ট্যামি বিমন্ট ৩৩, ন্যাট স্কিভার ৪০ ও অ্যামি জোন্স ৩১ রান করেন। শেষের দিকে ব্যাটিং করা দুই অপরাজিত ব্যাটার ক্যাথেরিন ব্রান্ট ২৪ ও সোফি একলেসটোন ১৭ রান করেন। বাংলাদেশের সালমা খাতুন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান জাহানারা আলম, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন ও লতা মন্ডল। ইতোমধ্যে মেয়েদের বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়ে গেছে। আগামী ৩০ মার্চ প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেরিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পর দিন ৩১ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরস্পরের মোকাবেলা করবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মেয়েরা। ৩ এপ্রিল ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল। | 12 |
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএ'র সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি পরিকল্পনা গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩১ মে থেকে সরকার গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণপরিবহন পরিচালনায় যাত্রী, পরিবহন ও চালক-শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ ছাড় যেন বিষাদে রুপ না নেয়, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী সাধারণ সকলের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আগামীকাল পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসমূহকে নিয়ে বিআরটিএ'র সাথে বৈঠক করে এ সকল বিষয়ে চূড়ান্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরি, অর্থনৈতিক চাকা সচল এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার স্বার্থে সরকার সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে-স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনস্বার্থে দেয়া সরকারের এ ছাড় অবাধে অপপ্রয়োগ করলে হীতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই সকলের উচিৎ ধর্ম-বর্ণ-বয়স-পেশাভেদে অদৃশ্য শত্রু করোনার মোকাবিলা করতে হবে। করোনা আমাদের কারো বন্ধু নয়, কাজেই এ সংকটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার কৌশল হবে আত্মঘাতী। | 6 |
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য জুতা না কিনে দেয়ায় মো. আবির (১২) নামে এক স্কুলছাত্র বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। আজ শনিবার উপজেলার তাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবির ওই তাজপুর গ্রামের সরাজ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে আবির তার বড় ভাই মো. সাব্বিরের কাছে জুতা এনে দেয়ার জন্য বায়না ধরে। জুতা না দিলে সে স্কুলে যাবে না বলে জানায়। বড় ভাই তাকে পরে জুতা এনে দেবেন বলে জানালে সে অভিমানে জমিতে প্রয়োগের জন্য ঘরে থাকা বিষপান করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্যরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ত্রিলোক চাকমা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের শাশ্বতী কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি অনেকেরই খুব প্রিয়। 'একটি কথার দ্বিধাথরথর চূড়ে, ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী'। এই পঙ্ক্তি দুটো নিয়ে কতই-না আলোচনা। একটিমাত্র কথা, তাতেই ভর করেছে একটি নয়, দুটি নয়, সাত-সাতটি অমরাবতী!সুধীন্দ্রনাথ লিখেছেন খুব কম। কবিতার মোট বইয়ের সংখ্যা ছয়টি, গদ্যের বই দুটি। আর লেখা শুরু করেছিলেন আত্মজীবনী, সেটাও রেখে গেছেন অসমাপ্ত। কাব্যের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে এই মানুষটি একবার কবিতায় লিখেছিলেন 'উড়ে চলে গেছে'। শব্দগুলো তাঁর কবিতায় সুপ্রযুক্ত হয়নি ভেবে পরে তিনি লিখেছিলেন 'উড্ডীন' শব্দটি।দারুণ মেধাবী ছিলেন তিনি। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হয়েছিলেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগেই ভর্তি হয়েছিলেন এমএ পড়ার জন্য। পড়ছিলেন বেশ। কিন্তু এ সময় জিওফ্রে চসারকে নিয়ে এক ক্লাসে মাস্টারমশাই বললেন চসার পাঠ করতে। করলেন সুধীন্দ্রনাথ। এরপর তিন-চার দিন ধরে মাস্টার সাহেব সুধীন্দ্রনাথকে দিয়ে চসারই পাঠ করাতে লাগলেন। সেটা ভালো লাগল না সুধীন্দ্রনাথের। তিনি আপত্তি জানালেন। তাতে খেপে উঠলেন শিক্ষক। উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ জানালে ক্ষমা চাইলেন সুধীন্দ্রনাথ, কিন্তু প্রতিবাদে পড়াশোনারও ঘটালেন ইতি।প্রথাগত ডিগ্রি না থাকলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'তুলনামূলক সাহিত্য' বিভাগে সুধীন্দ্রনাথকে চাকরি দিয়েছিলেন। ডিগ্রিহীন শিক্ষক তো নেওয়া হয় না, তাই খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেই সেখানে ক্লাস নিয়েছেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। গোটা কলকাতা জানত, ডিগ্রি না থাকুক, কলকাতায় তুলনামূলক সাহিত্যে মালার্মে, ভালেরি, রিলকে এলিয়ট পড়ানোর জন্য সুধীন্দ্রনাথের চেয়ে যোগ্য মানুষ আর কেউই ছিলেন না।১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মেছিলেন এই কবি।সূত্র: শিশির রায়, আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | 6 |
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৫৩৯ জন। গতকাল বুধবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত হয়। আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯০৭ জনে। আর মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৭০ জন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৮০০ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৬ জন করোনা রোগী।গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৮৭৪টি সক্রিয় ল্যাবে ৩৪ হাজার ৫৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৭ জন। চট্টগ্রামে ২, রাজশাহীতে ৫, খুলনায় ৪, সিলেটে ১ ও রংপুরে ১ জন মারা গেছেন।এর আগে গতকাল বুধবার করোনাভাইরাসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া করোনাক্রান্ত হন ৩ হাজার ৯২৯ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় গতকাল শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ২০ শতাংশ।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
খেলা শুরুর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অন্যরা যখন ফিল্ডিং অনুশীলনে ব্যস্ত তখন উইকেটের ওপর দাঁড়িয়ে ফাফ ডু প্লেসিস যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি। একাগ্র মনে ব্যাটিং শ্যাডো করলেন বহুক্ষণ ধরে। কখনো রক্ষণাত্মক, কখনো উড়িয়ে মারার প্রস্তুতি। যেন আগের দিনের সেই দুর্দান্ত ব্যাটিং আবারও দেখানোর বার্তা। কিন্তু সেটি আর হলো কই। ঝড় তোলার আগেই যে তাঁকে ফিরতে হয় রানআউটে কাটা পড়ার দুঃখ নিয়ে।ডু প্লেসির এমন বিদায়ে যেন লেখা হয়ে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্যও। শেষ পর্যন্ত এই বিপিএলে প্রথমবারের মতো মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার কাছে ৫০ রানের মলিন হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে কুমিল্লাকে।জহুর আহমেদ চৌধুরীর রহস্যময় উইকেটে আগে ব্যাটিং করে মিনিস্টার গ্রুপের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর দুরন্ত ব্যাটিং, তামিম ইকবালের আরও একটি কার্যকরী ইনিংসে ১৮১ রানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার পর আঁটসাঁটো বোলিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিং। তাতেই ১৩১ রানে শেষ কুমিল্লা।কুমিল্লার বিপক্ষে এদিন কী দুর্দান্ত ইনিংসটাই না খেললেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন চার নম্বরে। ঢাকার অধিনায়ককে টলাতে পারেনি কুমিল্লার কোনো বোলাররই। সঙ্গী হিসেবে কাউকেই দীর্ঘক্ষণ পাননি মাহমুদউল্লাহ। কখনো শুভাগত, কখনো আন্দ্রে রাসেল আবার কখনো মোহাম্মদ নাঈম-মাশরাফি। ঘন ঘন সঙ্গী বদল হলেও রানের চাকা থামাননি মাহমুদউল্লাহ।বিপিএলে এবার বড় ইনিংস যেন হয়েও হচ্ছিল না মাহমুদউল্লাহর। তিনবার ফিফটির পথে এগিয়েওে পা হড়কেছে শেষ পর্যন্ত। সেই হতাশা মুছে কাল খেললেন ৪১ বলে ৭০ রানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস। ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংসের দিন মাহমুদউল্লাহ নিজের অর্জনটাকেও বেশ সমৃদ্ধ করলেন। ছুঁয়েছেন দারুণ কিছু মাইলফলকও। তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছেন পাঁচ হাজার রান। শুধু বিপিএল হিসাব করলে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানও হয়ে গেল ঢাকার অধিনায়কের। সব মিলিয়ে ২৭২ ম্যাচে ৫১৪৫ রান এখন মাহমুদউল্লাহর। এর আগে দেশের হয়ে পাঁচ হাজার রান পেরিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ফেরেন মোহাম্মদ শাহজাদ (৬)। এরপর তামিমের সঙ্গী হন ইমরানুজ্জামান। কিন্তু তিনিও হতাশ করেছেন। পরের গল্পটা তামিম-মাহমুদউল্লাহর। দারুণ খেলতে থাকা তামিম ফিফটির ৪ রান আগে থামলে ভাঙে জুটি। তামিম ফেরার পর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ঢাকাকে পৌঁছে দেন রান পাহাড়ে।জবাবে ব্যাটং করতে নেমে শুরুতে লিটনকে হারিয়ে চাপে পড়ে কুমিল্লা। সেই চাপ আরও বাড়ে ডু প্লেসিস ফিরলে। সেই চাপ থেকে আর বেরোতে পারেনি ইমরুল কায়েসের দল। মাঝখানে মাহমুদুল হাসান জয় ও ইমরুল চেষ্টা করলেও দলকে বেশিদূর নিতে পারেননি।ঢাকার সব বোলারই ভালো বোলিং তো করেছেনই, সঙ্গে আগের ম্যাচে কুমিল্লার দুই হিরো ডু প্লেসিস-ক্যামেরুন ডেলপোর্টকে ফিরিয়েছেন দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রানআউট করে। তাতেই ১৫ বল বাকি রেখে দিয়েই অলআউট কুমিল্লা।সংক্ষিপ্ত স্কোরমিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা২০ ওভারে ১৮১/৬মাহমুদউল্লাহ ৭০, তামিম ৪৬তানভীর ২/৩৬, মোস্তাফিজ ১/২৬কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস১৭.৩ ওভারে ১৩১/১০জয় ৪৬, ইমরুল ২৮রাসেল ৩/১৭, কাইস ২/২৭ফল: মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা ৫০ রানে জয়ীম্যাচসেরা : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা) | 12 |
নতুন বছর উপলক্ষে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সংগীত শিল্পী সাইফ শুভ ও এস ডি পিংকি'র নতুন গান 'জল ছবি'। গানটির কথা লিখেছেন পিংকি নিজেই, গানটিতে সুরারোপ ও সংগীত আয়োজন করেছেন সুরকার এবং সংগীত পরিচালক রাজন সাহা। সম্প্রতি গানটির রেকর্ডিং এবং মিউজিক ভিডিও'র কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন অনিক খান। শুভ এবং পিংকি দু'জনকেই দৃষ্টিনন্দন এই মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। নতুন বছর উপলক্ষে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টুডিও জয়া'র অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পেইজে গানটি প্রকাশিত হবে। এছাড়াও জিপি মিউজিক, ভাইপ, স্প্লাশ, অ্যামাজন মিউজিক, আইটিউন্স, স্পটিফাই, সহ শতাধিক ডিজিটাল প্লাটফর্মে গানটি পাওয়া যাবে। গানটি নিয়ে সাইফ শুভ বললেন, 'জল ছবি' 'গানটি একটি রোমান্টিক ধাচের গান। পিংকি'র রঙিন লিখনিকে সুরকার রাজন সাহা তার চমৎকার সুর এবং সংগীত আয়োজনের মধ্যদিয়ে একটি সুন্দর জল ছবিতে রুপ দিয়েছেন। কথার সাথে মিল রেখে গানটির মিউজিক ভিডিওটিও দারুণ হয়েছে। নতুন বছরে এই গানটি দর্শক-শ্রতাদের প্রশংসা কুড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।' | 2 |
রাজধানীতে পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্পভিত্তিক নানা কাজ করতে গিয়ে যানজট সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, 'এই যানজট আমাদেরই সৃষ্টি।' আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা শক্তি ফাউন্ডেশনের ৩০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ডিএনসিসির মেয়র। মেয়র আতিক বলেন, 'রাজধানীর যানজট নিরসন এক দিনের বিষয় নয়। এ যানজট আমাদেরই সৃষ্টি। পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্পভিত্তিক কাজ করতে গিয়ে রাজধানীতে এই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।' যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি করতে গিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের নিচে যে পিলারগুলো রয়েছে, সেগুলো যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন মেয়র। যানজট নিরসনে প্রাকৃতিক পথ, বিশেষ করে নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে জোর দিতে হবে বলে মনে করেন আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শক্তি ফাউন্ডেশনের সদস্যদের তৈরি সামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া শক্তি স্বাস্থ্য ক্যাম্পের পাশাপাশি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান মাহবুবা আক্তার, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হুমায়রা ইসলাম, উপনির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
কাকরাইলে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং মলের পঞ্চম তলায় দুটি স্বর্ণের দোকানে চুরি হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে মোহনা জুয়েলার্স ও বেস্ট অ্যান্ড বেস্ট জুয়েল অ্যাভিনিউ জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।মোহনা জুয়েলার্সের মালিক নির্মল কুমার গুপ্ত আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর দোকান থেকে ৫০০ ভরি স্বর্ণ ও ৭ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। বেস্ট অ্যান্ড বেস্ট জুয়েল অ্যাভিনিউ জুয়েলার্সের মালিক বিপ্লব রায় জানান, তাঁর দোকান থেকে প্রায় ১৬০ ভরি স্বর্ণ ও ডায়মন্ডসহ ৪ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।তা ছাড়া, মার্কেটসংলগ্ন একটি ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার ভোর ৬টার দিকে লুঙ্গি পরা দুজন ব্যক্তি কাঁধে ব্যাগসহ দৌড়ে যাচ্ছেন। তাঁদের দৌড়াতে দেখেন হাঁটতে বের হওয়া দুজন নারী ও একজন পুরুষ।ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, 'শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে চলে যান প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। সকালে এসে দোকান খুলে তাঁরা চুরির বিষয়টি টের পান। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য বিষয় সংগ্রহের চেষ্টা করছি।'ওসি বলেন, কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে, তা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তালিকা করা হচ্ছে। মালিকেরা এলে অভিযোগ দেওয়ার পরে মামলা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে কাজ করছে।বিপ্লবের অভিযোগ, দুর্গাপূজার সময় থেকে মার্কেটে সন্দেহভাজন লোকজন ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন। ওই বন্ধের মধ্যে একদিন দোকানে এসে দেখেছিলেন দুটি তালা খোলা। তবে মালামাল খোয়া যায়নি। পরে দোকান মালিক সমিতি জানায়, এটা কোনো সমস্যা না। মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নাকি ঠিক আছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জেরাদারে আগেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।বেস্ট অ্যান্ড বেস্ট জুয়েল অ্যাভিনিউ জুয়েলার্সের মালিক বিপ্লব বলেন, '১৮ বছর ধরে কাজ করা এক কর্মচারী ৩ ডিসেম্বর হঠাৎ করে চলে গেছেন। যে কারণে দোকানে কী পরিমাণ মালামাল ছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন, বলতে পারছি না।'ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাথরুমের দরজা দিয়ে চোর ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুজন এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া মার্কেটের নিরাপত্তারও ঘাটতি ছিল বলে জানান ডিসি। | 6 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। শনিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা-২৩ মোতাবেক সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। | 6 |
৬ অক্টোবর ২০১৯ যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্কার সাময়িকীতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। 'ভারতীয় গণতন্ত্র নিয়ে অমর্ত্য সেনের আশা ও শঙ্কা' শিরোনামের সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদের প্রথম অংশ আজ প্রকাশিত হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য নিউইয়র্কার-এর স্টাফ রাইটার আইজাক চটিনার। ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক ও গণবুদ্ধিজীবী অমর্ত্য সেন বাস করেন ইংল্যান্ডের কেমব্রিজের এক শান্ত, নিরিবিলি সড়কের পাশে। হার্ভার্ড স্কয়ারের এক কোণে একটি বাড়িতে তাঁর সঙ্গে থাকেন তাঁর স্ত্রী ইতিহাসবিদ এমা রথসচাইল্ড। বাড়িটি সুপরিসর, কিন্তু অগোছালো; পুরোনো খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন এখানে-সেখানে ছড়ানো; টেবিলে টেবিলে তাঁর বইপত্রের স্তূপ। টেড টার্নার ও কফি আনানের ছবিও আছে; বসার ঘরের দেয়ালে দার্শনিক জন রলস ও ডব্লিউ ভি ও কুইনের বাঁধাই করা পেইন্টিং, সেগুলো রলসের স্ত্রীর আঁকা। ঢোকার মুখেই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা ছবি, যা দেখে মনে পড়বে বাংলার প্রিয় সন্তানদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের নামের পাশে অমর্ত্য সেনের নামও উল্লেখ করা হয়। ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এক হিন্দু পণ্ডিত পরিবারে অমর্ত্য সেনের জন্ম। অর্থনীতি পড়তে যান কেমব্রিজে; তারপর শিক্ষকতা করেন দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিকস, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৫ বছর ধরে অধ্যাপনা করছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা ও কল্যাণ অর্থনীতির চর্চায় রূপান্তর এনেছেন; এ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ভূষিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে। তিনি মারথা নুসবমের সঙ্গে মিলে 'ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ' বা সামর্থ্য সৃষ্টির ধারণার প্রবর্তন করেন; এর বক্তব্য হলো, দারিদ্র্য দূর করা থেকে শুরু করে চিন্তা করার অবকাশ সৃষ্টি করাসহ মানুষের সামগ্রিক সুস্থ বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সুযোগ ও সম্পদ বরাদ্দের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করা। ভারত সম্পর্কে তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ সমতার ঘাটতি উন্মোচন, সমাজকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ, বাংলায় ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের কারণসমূহের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল তেতাল্লিশের মন্বন্তরে; এ বিষয়ে কাজের জন্য অমর্ত্য সেনকে ভারত বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষক-পর্যবেক্ষক বলে মনে করা হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত দ্য আর্গুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান (তর্কপ্রিয় ভারতীয়) এবং আরও কয়েকটি বইয়ে অমর্ত্য সেন ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ভারতীয় সংবিধানের উদারপন্থী বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, ভারতের এই দুটি বৈশিষ্ট্য 'সলিটারিজম'-এর ক্ষতিকর দিকগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। একজন মানুষের প্রধান পরিচয় মাত্র একটি-অমর্ত্য সেন এই ভাবনার নাম দিয়েছেন 'সলিটারিজম'। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসনে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ভারতীয় সংবিধানের উদারপন্থী বৈশিষ্ট্যের অবক্ষয় ঘটছে। বিশেষত এ বছরের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ার পর মোদি দৃশ্যত হিন্দুর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁর সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের বিধান স্থগিত করেছে; কয়েক দশক ধরে নিষ্ঠুর দখলদারির শিকার অঞ্চলটিতে এখন কঠোর সামরিক শাসন চলছে; সেখান থেকে খবর আসছে, লোকজনের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং আইনবহির্ভূতভাবে তাদের কারাগারে বন্দী করে রাখা হচ্ছে। অমর্ত্য সেন বরাবর মোদির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সমালোচনা করে আসছেন; তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে মোদির সরকার 'ভুল পথে বিরাট লম্ফ দিয়েছে'। ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ছিলেন অমর্ত্য সেন। মোদি সরকার তাঁর বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে তিনি ২০১৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। অমর্ত্য সেনের খাবার ঘরে বসে আমরা কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা বলি, তারপর দুপুরের খাবার খাই। তাঁর বয়স এখন ৮৫ বছর, লাঠির সাহায্যে সতর্কভাবে হাঁটেন, উচ্চ স্বরে প্রাণ খুলে হাসেন, এবং মানুষ ও ভাবনা সম্পর্কে তাঁর স্মৃতিশক্তি বিস্ময়কর। আমি যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করি, তিনি ভেবে দেখেছেন কি না যে তিনি এখন দেহ ও মনের মধ্যকার পার্থক্যের এক মূর্ত স্বরূপ, তখন তিনি বলেন, 'আমি সেই ধরনের লোক নই যারা স্রষ্টাকে ধন্যবাদ দেয়। কিন্তু যদি হতাম, তাহলে আমি যা হয়েছি তার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতাম, উল্টোটার জন্য নয়।' অমর্ত্য সেন এখনো নিয়মিত লেখেন (একটি স্মৃতিকথাও, যা লিখতে গিয়ে তাঁর নিজেকে 'প্রাচীন' মনে হচ্ছে), শিক্ষকতা করেন এবং হার্ভার্ড সোসাইটি অব ফেলোজ-এর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। এই আলাপে আমরা কথা বলি স্বাধীনতাপূর্ব ভারতবর্ষে তাঁর ছেলেবেলা নিয়ে, ভারতীয় গণতন্ত্রের বিষয়ে তাঁর আশা ও শঙ্কা নিয়ে; সমসাময়িক রাজনীতি কেন তাঁকে নিয়তিবাদের দিকে ঠেলে দেয়নি, ইত্যাদি নিয়ে। আইজাক চটিনার: আপনি তো ভারত বিভাগের সময় থেকে নিয়মিতভাবে দেশটি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন অমর্ত্য সেন: ভারত বিভাগের অনেক আগে থেকেই রাখি। আমার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ব্রিটিশ আমলের ভারতে। আইজাক চটিনার: ব্রিটিশ ভারতের স্মৃতিগুলো কী? অমর্ত্য সেন: ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির পন্থাগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করতাম, সে কথা খুব মনে পড়ে। কাকা, মামা, কাকাতো ও মামাতো ভাইদের স্মৃতি, তাঁদের জেল খাটার স্মৃতি। তাঁদের কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল; ব্রিটিশরা তখন এটাকে বলত 'প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন'। এ জন্য নয় যে তাঁরা কোনো অপরাধ করেছিলেন; বরং এই জন্য যে তাঁদের কারাগারে আটকে রাখা না হলে তাঁরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য ভয়ংকর কিছু করতে পারেন। তাঁরা ভয়ংকর কিছু করেছেন, এমন কোনো প্রমাণের দরকার হতো না। এ বিষয়ে আমার ঠাকুরদার সঙ্গে কথা হতো, সেসব মনে পড়ে। তিনি বলতেন, 'তোমার কি মনে হয়, এই প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের ব্যবস্থা থেকে ভারত কখনো মুক্তি পাবে?' তিনি বলতেন, 'স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত না। সে জন্য আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে।' দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু কংগ্রেস দল প্রথমেই প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন চালু করে। অবশ্য তারা এটাকে একটু নমনীয় করে। তবে এখন এটা অত্যন্ত কঠোর। বেআইনি কর্মকাণ্ড (নিবর্তন) আইন নামে একটা আইন ভারতে আছে। এ বছর সেটা সংশোধন করে সরকারকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে সরকার কোনো প্রমাণ ছাড়াই, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করতে পারবে। আমরা একটা স্বাধীন দেশ হওয়ার পরেও যে এটা ঘটতে পারে, তা আমি কখনো ভাবিনি। আইজাক চটিনার: আপনার কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভারত বিভাগের স্মৃতি আছে? অমর্ত্য সেন: হ্যাঁ। দেশবিভাগের কথা মনে আছে, যুদ্ধের কথা মনে আছে; হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কথা মনে আছে। আমি ঢাকার ছেলে, যে শহরটা এখন বাংলাদেশের রাজধানী। অবশ্য পড়াশোনা করেছি পশ্চিম বাংলায়; মাতামহের পরিবারের সঙ্গে আমি পশ্চিমবঙ্গেই থেকে যাই। পড়াশোনা করি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গড়ে তোলা প্রগতিশীল বিদ্যাপীঠ শান্তিনিকেতনে। বাংলায় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সহিংসতা তেমন ছিল না। এমনকি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনেও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো জয়ী হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪০-এর দশকের শুরুর দিকে দেশবিভাগের পক্ষের শক্তিগুলোর প্রভাব বেড়ে যায়। আমার মনে হয়, মুসলিম লিগ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জিতেছিল ১৯৪৬ সালে, স্বাধীনতার ঠিক আগের বছর। আইজাক চটিনার: ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় আপনার পরিবার কোথায় ছিল? অমর্ত্য সেন: আমার বাবা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। খুব ভালো কয়েকজন অধ্যাপক তাঁর সহকর্মী ছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু (এস এন বোস), যিনি বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিসটিকসের জন্য পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আমার বাবা ছিলেন রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক। ১৯৪৬ সালে পাঁচ-ছয়জন অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন, কারণ সেখানে এত বেশি দাঙ্গাহাঙ্গামা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল যে ক্লাস প্রায় হতোই না। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন অন্য কাজ খোঁজেন, তারপর দিল্লি চলে যান, দিল্লির ভূমি উন্নয়ন কমিশনার নিযুক্ত হন। তারপর তিনি পশ্চিমবঙ্গের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। আইজাক চটিনার: আপনার কখন মনে হয়েছিল যে আপনি ভারত ছাড়তে চান? অমর্ত্য সেন: দু-একটা জায়গা ছিল যেখানে পড়তে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল আমার। কেমব্রিজ তার একটা। সেই যুগে কেমব্রিজ অর্থনীতিতে বেশ ভালো ছিল, বিশেষত ট্রিনিটি কলেজ। আমি সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য দরখাস্ত করি, কিন্তু প্রথমে তারা আমাকে নেয়নি। তারপর কেউ একজন বেরিয়ে গেলে শেষ মুহূর্তে তারা আমাকে ডাকে। অনেক বছর পরে আমি যখন ওই কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করি, তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার ভর্তির ঘটনাটা স্মরণ করে [হাসি]। অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রতি আমার সব সময়ই আগ্রহ ছিল। আগ্রহ ছিল গণিতের প্রতিও। কিন্তু কেমব্রিজের অর্থনীতি বিভাগে তখন গণিত বেশি ছিল না। আইজাক চটিনার: আপনার কি মনে হয়, আপনি যখন অন্য বিষয়ের দিকে চলে গেলেন, তখন গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহটা আপনার কাজে লেগেছিল? অমর্ত্য সেন: হ্যাঁ, আমার তা মনে হয়। আর সেই সময়ে কেমব্রিজ অর্থনীতি ও নিও-ক্ল্যাসিক্যাল অর্থনীতির মধ্যে যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, তাতে ট্রিনিটি কলেজের যে একটা বিশিষ্ট অবস্থান ছিল, সেই ক্ষেত্রেও গণিত আর বিজ্ঞানের একটা সহায়ক ভূমিকা ছিল। আইজাক নিউটন, ফ্রান্সিস বেকনসহ অনেকেই ট্রিনিটি কলেজের ছাত্র ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, নেতৃস্থানীয় মার্ক্সবাদী অর্থনীতিবিদ মরিস ডবসও সেখানে পড়াশোনা করেছেন। আন্তনিও গ্রামসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিয়েরে স্রাফা, যিনি ভিন্ন ধরনের মার্ক্সীয় চিন্তার প্রতিনিধি ছিলেন, তিনিও ছিলেন ট্রিনিটি কলেজের ছাত্র। আবার সেখানকার জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ডেনিস রবার্টসন ছিলেন অত্যন্ত রক্ষণশীল। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। এ বিষয়টা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। আইজাক চটিনার: সেই সময় আপনার রাজনীতি কী ছিল? অমর্ত্য সেন: বামপন্থী। ঠিকভাবে বললে, মধ্যপন্থী বাম। একটা অদ্ভুত অবস্থা ছিল আমার: মার্ক্সবাদী না হয়েও মার্ক্সীয় চিন্তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলাম। মার্ক্সের ১৮৪৪ সালের ম্যানাস্ক্রিপ্টস আমার ভালো লেগেছিল। ভালো লেগেছিল তাঁর জার্মান আইডিওলজি; ১৮৭৫সালে লেখা তাঁর ক্রিটিক অব গোথা প্রোগ্রাম। আর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতির দিকটা দেখলে, আমার মনে হতো, এই ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেওয়ার আছে। কিন্তু অন্যদিকে তাদের রাজনৈতিক তত্ত্বের অভাবটা আমাকে সব সময়ই পীড়িত করত। এটা প্রায়শ স্বীকার করা হয় না যে রাজনৈতিক সংগঠনের বিষয়ে কার্ল মার্ক্সের আগ্রহ ছিল খুবই সামান্য। সর্বহারার একনায়কত্বের ভাবনাটির আসলে কোনো অর্থ হয় না [হাসি]। আর জন কেনেথ গ্যালব্রেইথ যেমন বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা প্রয়োজন, যেটাকে তিনি বলেছিলেন, 'কাউন্টারভেইলিং পাওয়ার' বা ক্ষমতার ভারসাম্য। কমিউনিস্টদের ভাবনায় ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি নেই। কলকাতায়, যেখানে আমার পড়াশোনার শুরু, সেখানে ছাত্রজীবনে দেখেছি, ছাত্রদের একটা বিরাট অংশ দরিদ্র, বঞ্চিত, অস্পৃশ্য, দলিতদের স্বার্থে কথা বলত। এটা আমার খুব ভালো লাগত। কিন্তু রাজনৈতিক বিরুদ্ধ মতও যে গুরুত্বপূর্ণ, এটা তারা মনে করত না দেখে পীড়িত বোধ করতাম। গণতন্ত্র, যাকে প্রায়শ বলা হয় বুর্জোয়া গণতন্ত্র, তাতে সমাজ-সংগঠনের সমস্যার পূর্ণ চিত্র ধরা পড়ে না। তো আমি ছিলাম বামপন্থী; আবার একই সঙ্গে সবকিছু নিয়েই আমার মধ্যে বেশ সংশয় কাজ করত। আমি নিকোলাই বুখারিনের লেখা অনেক পড়েছি; তারপর হঠাৎ শুনতে পেলাম যে বুখারিন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে আসছিলেন এবং তিনি সে কথা স্বীকার করেছিলেন, তারপর আমেরিকান পর্যটক জন গুন্টার বললেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, তখন এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে তাঁকে নির্যাতন করা হয়নি। মনে আছে, আমার সহপাঠীরা আমাকে বলেছিল, 'তুমি যদি এসব কথা বিশ্বাস করো, তাহলে অবিশ্বাস করার কিছুই থাকবে না।' [স্তালিনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বুখারিনকে নির্যাতন করা হয়েছিল, তিনি গুপ্তচরবৃত্তি ও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধ স্বীকার করেছিলেন এবং সে জন্য তাঁকে ১৯৩৮ সালে আরও কয়েকজন বিশিষ্ট বলশেভিক নেতার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল]। সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসে নিকিতা খ্রুশ্চভ যখন স্তালিনের সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন, তখন আমি একটুও অবাক হইনি। তো আমার উপলব্ধি হয় যে আমি কোনো পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ধারার অন্তর্ভুক্ত হব না। আমি সিদ্ধান্ত নিই, মার্ক্সীয় বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া ভাবনা ও ধারণাগুলোর সঙ্গে অন্যান্য ধারার রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনার সংমিশ্রণের ভিত্তিতে আমাকে চলতে হবে। অ্যাডাম স্মিথের অর্থনৈতিক ও দার্শনিক ভাবনার প্রচণ্ড প্রভাব পড়েছিল আমার ওপর। তারপর জন স্টুয়ার্ট মিল। আমাকে আমার নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোর সঙ্গে এই সবকিছুর সংমিশ্রণ ঘটাতে হয়েছে। গণিতের পাশাপাশি সংস্কৃত ছিল আমার প্রিয় বিষয়। আমি ধ্রুপদি সংস্কৃত জানতাম, সেসবের মধ্যে লোকায়তও ছিল, যা কিনা বস্তুবাদী ঘরানার জিনিস। অর্থাৎ, আমার ওপর নানা ধারার, নানা ধরনের চিন্তাভাবনার প্রভাব পড়েছিল। প্রাচীন সংস্কৃতের যে বিদ্যা আমি পেয়েছিলাম, তার সঙ্গে যাকে বলে বামপন্থী বা প্রগতিশীল ইউরোপীয় চিন্তাভাবনা, আমার মননে সেটার বেশ ভালো সংমিশ্রণ ঘটেছিল। আইজাক চটিনার: গত পাঁচ বছরে ভারত যেদিকে মোড় নিয়েছে, তা লক্ষ করে আপনি কি এখন ভারত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং এর সংবিধান সম্পর্কে ভিন্নভাবে চিন্তা করছেন? নাকি এসব একেবারেই পরবর্তীকালের উপলব্ধি? অমর্ত্য সেন: আমার মনে হয়, একদমই পরবর্তীকালের উপলব্ধি। ভারতের সংবিধান সভার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায়, ভারতীয় সংবিধান যথেষ্ট ভালো ছিল। সংবিধান কেমন হওয়া উচিত, সংবিধান সভায় সে বিষয়ে খুব ভালো আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়, সংবিধান সভা ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও একটা বিষয় বিবেচনায় রাখেনি। সেটা হলো, যদি কখনো কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দল, আন্দোলন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বেরিয়ে আসে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে, তাহলে তারা সেটাকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। আমার মনে হচ্ছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে ভীষণ মন্থর ও বিভক্ত। তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ভালো কাজ যা-ই করে থাকুন না কেন, বহুত্ববাদের দেখভাল যেভাবে করতে পারতেন, সেভাবে পারেননি। আজ সবকিছুতেই উন্নাসিক, কট্টর হিন্দুত্ববাদী চিন্তাভাবনার আধিপত্য। আজ ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নেতারা সবাই হিন্দু। কিন্তু ধরা যাক, আজ থেকে ১২ বছর আগে, ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি ছিলেন একজন মুসলমান, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শিখ এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নেতা ছিলেন খ্রিষ্টান। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ছিলেন বটে, কিন্তু তাঁরা নিজেদের চিন্তাভাবনা অন্য সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। কিন্তু আজকে আমরা এমন অবস্থানে পৌঁছে গেছি যে একজন মুসলমানকে গরু খাওয়ার জন্য নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি প্রাচীন সংস্কৃত লেখাপত্রের দিকে তাকান, যেমন বেদের দিকে, তাহলে দেখবেন, সেখানে গরু খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল না। সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতার পরের ভারতে শুধু ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রেরই অবক্ষয় ঘটেনি, হিন্দু ভারতের ঐতিহ্য সম্পর্কে বোধেরও অবক্ষয় ঘটেছে। আমরা এই সত্যও উপেক্ষা করে যাচ্ছি যে প্রাচ্য জগতে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল; খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের আন্তরাজ্য যোগাযোগের অন্যতম ভাষা ছিল সংস্কৃত। এর কারণ ছিল বৌদ্ধচিন্তার প্রভাব। এক হাজার বছর ধরে ভারত ছিল একটা বৌদ্ধ দেশ। এটাও আমাদের ঐতিহ্য। পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল নালন্দা; এর শুরু হয়েছিল পঞ্চম শতাব্দীতে। সেখানে শুধু ভারতীয় ছাত্ররাই পড়ত না; চীন, জাপান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকেও ছাত্ররা নালন্দায় পড়তে আসত। আমরা যখন পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতায় সেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলাম, তখন ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার এটাকে আর কোনো বিশিষ্ট বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হতে দিল না; ক্রমেই এটাকে একটা হিন্দু প্রতিষ্ঠানের মতো চেহারা দেওয়া হলো। আমি নিজেও একজন হিন্দু [হাসি]। হিন্দুধর্ম নিয়ে আমার কোনোই আপত্তি নেই। আসলে, অদ্ভুত লাগবে শুনতে, আমার বয়স যখন কম ছিল, তখন প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন আমার ঠাকুরদাকে হিন্দুধর্ম নিয়ে একটা বই লিখতে বলেছিল। ঠাকুরদা বইটা লিখেছিলেন, তাঁর ইংরেজি জ্ঞান ছিল সীমিত; তাই আমাকে সে বইটা সম্পাদনা ও অনুবাদ করতে হয়েছিল। আমার প্রথম সম্পাদিত ও অনূদিত বইটাই ছিল হিন্দুধর্ম সম্পর্কে একটা বই। ঠাকুরদা সব সময় বলতেন, নেহরুর আমলে ভারতের সমস্যা হলো হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সহিষ্ণুতার কথাই শুধু বলা হয়, কিন্তু সহিষ্ণুতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে কাজ করা। আইজাক চটিনার: আমি লক্ষ করেছি, একজন মানুষের বহুমুখী পরিচয়ের বিষয়টা আপনার লেখায় বারবার ঘুরেফিরে আসে। অমর্ত্য সেন: একদম ঠিক। এটা খুবই কেন্দ্রীয় বিষয়। আর আপনি যদি এটা নিয়ে ভাবেন, দেখবেন, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। একসময় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ভারতের চেয়ে কম ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশের গড় আয়ু ভারতের চেয়ে পাঁচ বছর বেশি। আর হিন্দুত্ববাদী চিন্তায় যে ধরনের সংকীর্ণতা আছে, বাংলাদেশে মুসলমানদের চিন্তায় সেই রকমের সংকীর্ণতা নেই। আমার মনে হয়, বহুমুখী পরিচয় বাংলাদেশের জন্য অনেক উপকারী হয়েছে। ভারতে যত দিন পর্যন্ত বহুমুখী পরিচয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংকুচিত করার চেষ্টা ছিল না, তত দিন সে দেশেও পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতোই ছিল। আরও আগেও সেটা ছিল। ১৯২০-এর দশকে বেশ শক্তিশালী একটা হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ছিল। ফ্যাসিস্ট হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক সদস্য মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। সেই আরএসএসই আজকের বিজেপিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু তখন তারা ক্ষমতায় ছিল না; তারা ছিল একদম প্রান্তিক একটা শক্তি, তাদের তরফ থেকে আমরা কোনো হুমকি অনুভব করিনি। সেই প্রান্তিক শক্তিই দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করেছে, সর্বশেষ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। তাদের সে বিজয়ের আংশিক ভিত্তি ছিল হিন্দুত্ববাদের রাজনৈতিক ফলপ্রসূতা। বহুধর্মভিত্তিক, বহুজাতিগোষ্ঠীভিত্তিক ভারতের বিষয়ে মোদির দূরদৃষ্টি নেই। তিনি ছেলেবেলা থেকেই আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত, ওই গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি শক্তিশালী ও ভীষণভাবে সফল। ফলে নির্বাচনে মোদি একটা ফ্যাক্টর ছিল। তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থও ছিল। তাদের প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বেশ বড় একটা অংশের সমর্থন ছিল। তাদের বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিতি দু-তিনটা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নয়, পুরো ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বেশ বড় অংশের সমর্থন তারা পেয়েছে। এতে আমি বেশ অবাক হয়েছি। নির্বাচনের সময় তারা অন্যান্য দলের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ও অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জিতেছে বটে, কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থাটা ত্রুটিপূর্ণ। মোদি যে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন, সেটা মোট ভোটের ৪০ শতাংশের চেয়েও কম। এটা যে একটা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা, এমনকি আমেরিকার প্রেক্ষাপটেও, সে কথা আমি লিখেছি। আইজাক চটিনার: হ্যাঁ, ট্রাম্প কিংবা এরদোয়ান, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে যাঁদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে, মোদি তাঁদের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়; ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে সমর্থন করে। অমর্ত্য সেন: তা কিন্তু পরিষ্কার নয়। ভারতের লোকসংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। তাদের মধ্যে ২০ কোটি মুসলমান। ২০ কোটি দলিত, বা যাদের বলা হয় অস্পৃশ্য। ১০ কোটি আছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, যাদের বলা হতো শিডিউল ট্রাইবস; ভারতে তাদের অবস্থা দলিতদের চেয়েও খারাপ। তা ছাড়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ আছে, যারা মোদিকে সমর্থন করে না। তাদের অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে এটা বলা কঠিন যে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মোদিকে সমর্থন করে। সব সংবাদপত্র সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না; আর যেসব সংবাদপত্রকে সরকার পছন্দ করে না, তারা সম্ভবত বেসরকারি বিজ্ঞাপনও বেশি পায় না। সরকারের সৃষ্টি করা নানা সমস্যার কারণে টিভি চ্যানেল বা সংবাদপত্রের পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করা ভীষণ কঠিন হয়ে উঠেছে। জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে যে বড় জিনিসটা আমরা জেনেছি, তা হলো, গণতন্ত্র মানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করা। আপনি যদি আলাপ-আলোচনাকে ভীতির ব্যাপারে পরিণত করে তোলেন, তাহলে আপনি গণতন্ত্র পাবেন না, তা সে ভোট আপনি যেভাবেই গণনা করেন না কেন। এই কথাটা এখন ভীষণভাবে সত্য। মানুষ এখন কথা বলতে ভয় পায়। আমি আগে কখনো এ রকম দেখিনি। কেউ যখন টেলিফোনে আমার সঙ্গে কথা বলার সময় সরকার সম্পর্কে সমালোচনামূলক কিছু বলে, তখন বলে, 'এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বললেই ভালো হয়, কারণ কেউ নিশ্চিত আড়ি পেতে আমাদের কথা শুনছে।' সত্যিকারের গণতন্ত্র এইভাবে চলে না। দেশের অধিকাংশ মানুষ কী চায়, তা বোঝার পন্থাও এটা নয়। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মশিউলআলম সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় অংশ:ভারতীয় গণতন্ত্রের সবটুকু শেষ হয়ে যায়নি: অমর্ত্য সেন | 8 |
২৪ বছর পর পাকিস্তানে সফর করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই সফরে টেস্ট সিরিজে জিতলেও স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হারতে হয়েছে সফরকারীদের। ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পথে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন ইমাম-উল-হক। ২৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি এই ব্যাটার অজিদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে করেন দুই সেঞ্চুরি। প্রথম ম্যাচে ১০৩ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ১০৬। লাহোরে সিরিজের তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ করেন অপরাজিত ৮৯ রান। এই ইনিংস খেলে একটি রেকর্ডও গড়েছেন সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার ইনজামাম-উল-হকের ভাতিজা। সেই সঙ্গে আরেকটি মাইলফলকেও পা রেখেছেন পাকিস্তানি ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটার হাশিম আমলার রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন তার।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 12 |
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামীকাল শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই দিন দুবাইয়ে হবে প্রথম সেমিফাইনাল। সেখানে লড়বে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। নতুন বছরের প্রথম দিন দুবাইয়ে হবে ফাইনাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের যুব এশিয়া কাপ প্রস্তুতির মঞ্চ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। গত আসরে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মত যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রাকিবুল বলেন, সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারত 'এ' ও 'বি' দলকে হারানোয় আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। শারজাহর কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়া দলের জন্য এডভানটেজ বলে মনে করছেন রাকিবুল, 'আমরা গত তিনটি ম্যাচই শারজাহতে খেলেছি, ভালো করার জন্য এটা আমাদের বাড়তি সুবিধা পাব বলে মনে করি।' গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ২২৭ রানে কুয়েতকে এবং ১৫৪ রানে নেপালকে হারায়। আর ম্যাচ অফিসিয়ালের করোনার কারণে শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটি বাতিল হয়। গ্রুপ পর্বে দু'টো বড় জয় রান রেটে অনেকখানি এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ফলে রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের যুবারা। | 12 |
ক্যাটরিনা কাইফ এবং ভিকি কৌশল সৌজন্যে বলিউড জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিয়ের সানাইয়ের সুর। তাদের চার হাত এক হওয়ার খবরে উত্তাল মায়ানগরী। ক্যাটরিনা নিজে সেই গুঞ্জন নিয়ে এ বার মুখ খুললেন। সূর্যবংশীর অভিনেত্রী জানিয়েছেন, খবরটাই ভুল। এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না তিনি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। তা হলে আচমকা তার বিয়ে নিয়ে এত মাতামাতি কেন? জবাবে মুম্বাইয়ের এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, এই প্রশ্নটা বিগত ১৫ বছর ধরে আমি নিজেও করে চলেছি। শুধু ক্যাটরিনাই নন, তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের এক ব্যক্তিরও দাবি বিয়ের খবর স্রেফ গুজব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যক্তি বলেছেন, এই খবর সম্পূর্ণ ভুল। ওরা দু'জন এমন কোনও পরিকল্পনাই করেনি। কয়েক মাস পর পর ভিকি এবং ক্যাটরিনাকে নিয়ে এ রকম গুঞ্জন ছড়ানোটা ইদানীং অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভিকি-ক্যাটরিনার প্রেমের ঘটনা বলিউডে নতুন কিছু নয়। আগস্ট মাসেই বাগদান হয়েছিল তাদের। এমনই দাবি করেছিল মুম্বইয়ের এক সংবাদমাধ্যম। এখানেই থেমে থাকেনি চর্চা। বিয়েতে পোশাক শিল্পী সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের লেহেঙ্গায় সেজে উঠবেন ক্যাটরিনা। বিলাসবহুল প্রাসাদে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে তাদের এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে নতুন করে। ক্যাটরিনার মন্তব্যে কিছুটা থমকে গেল সেই উত্তেজনা। | 2 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাল্য বিয়ে করতে গিয়ে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন রহমত মিয়া (২২) নামে এক যুবক। আজ বুধবার বিকেল তিনটায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়া বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এই সাজা দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহমত মিয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের দারমা গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের সুতিয়ারা গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের মেয়ে লিজা বেগম (১৪)-এর সাথে একই উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের দারমা গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে রহমত মিয়ার আজ বুধবার দুপুরে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 6 |
বিতর্কিতই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান, অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। গত ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি থানায় সাদ স্যাম রহমান নামে ভুক্তভোগী এক গ্রাহক মামলাটি করেন বলে শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান। তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়া ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন, আকাশ, আরিফ, তাহের এবং মো. আবু তাইশ কায়েস। মামলার বিষয়ে তাহসান খান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইভ্যালি বিষয়ক অনেকগুলো অভিযোগ চোখে পড়ায় তিনি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন। তাহসান জানান, তিনি ইভ্যালির সঙ্গে কোনো বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়েও কাজ করেননি। মামলাকে "পরিষ্কার হয়রানি" হিসেবে বর্ণনা করে তাহসান বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করে তা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের জানার কথা নয়।" "তদন্তের মাধ্যমে এটা অবশ্যই প্রমাণিত হবে যে ইভ্যালির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই," তাহসান জানান। এদিকে, পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে যেকোনো সময় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হতে পারেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী গ্রাহক সাদ স্যাম রহমান মামলার নথিতে জানান, অভিযুক্তদের কথা এবং ইভ্যালিতে বিভিন্ন প্রমোশনাল কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। যা প্রতারণার মাধ্যমে তার থেকে আত্মসাৎ করেছে ইভ্যালি। যে অর্থ তিনি এখনও উদ্ধার করতে পারেননি। উল্লেখ্য, এ বছরের সেপ্টেম্বরে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করেন হাইকোর্ট। | 6 |
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সোমবার তার সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছেন। তিনি পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বিচারসহ ছয় মন্ত্রণালয়ে এ রদবদল করেন। দেশটির প্রশাসনের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী এ নেতা আগামী ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাচ্ছেন। এছাড়া দেশটিতে করোনার তীব্র সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তার সরকারের উদ্যোগ নিয়ে তিনি যথেষ্ট সমালোচিত হচ্ছেন। উল্লেখ্য, ব্রাজিল ইতোমধ্যে করোনায় পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে বলসোনারো তার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ দেন। করোনা মহামারীকালে তিনি চতুর্থবারের মতো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনেন। এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্র্রী আর্নেস্তো আরাউজু কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের সমালোচনায় করায় ধারণা করা হচ্ছিল বলসোনানোর হয়তো তাকে বরখাস্ত করবেন। কিন্তু অনেককে বিস্মিত করে তিনি একইসাথে এতোগুলো মন্ত্রণালয়ে রদবদলে ঘটিয়েছেন। এছাড়া একইসাথে তিনি নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সরকারি সেক্রেটারি নিয়োগ দেন। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সকল নিয়োগ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে। সূত্র : বাসস | 3 |
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ও জীবন্ত মুখ নেই। মহান মরহুম ও শহীদদের নামে যে রাজনীতি চলে, তাতে জীবিতদের জ্বলন্ত জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব নেই; বরং তৈরি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নতুন নতুন মাইনফিল্ড। মুসলিম লীগের দুটি ধারা ৭৩ বছরের পুরোনো আওয়ামী লীগ ও ৪৩ বছরের পুরোনো বিএনপির মাধ্যমে টিকে আছে। অতীত ভারাক্রান্ত এই রাজনীতির লাগাম পাকেচক্রে ভূত হয়ে যাওয়া ভগবানদের হাতে। গণতন্ত্রের সংগ্রামে একদা তাদের অনেক অবদান ছিল। কিন্তু এখন এপক্ষ গণতন্ত্রকে ভয় পাচ্ছে, ওপক্ষ নিজেদের খোঁড়া গর্তে পড়ে হয়রান। শাহবাগ ও মতিঝিলে দুটি বড় জমায়েত দেশকে আরও বিভক্তই করেছে। সেসবও হয়েছে অতীতের নামে। চেতনা ও অনুভূতির খোঁচায় দেশের মুখ আরও ব্যথিত হয়েছে। ২০০৯-২০২১ এ ইতিহাসের এক যুগ শেষ হয়েছে, কিন্তু ইতিহাসের অবসান হয়নি, ইতিহাস চলমান। সেই ইতিহাস এখন রাজনীতিতে নতুন মুখ খুঁজছে। নতুন একটা শ্রেণিও তার জন্যই যেন মাঠে হাজির। এরা উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ব্যবসার নতুন পথ ধরে গত এক যুগে কয়েক কোটি মানুষ কোনোমতে নিম্ন থেকে নিম্নমধ্যবিত্তে উঠে বসেছে। প্রবাসীদের অর্থে, কৃষকের উদ্বৃত্তে এবং টুকিটাকি অর্থনীতির (ইনফরমাল) বদৌলতে গ্রাম হয়েছে শহর, আর শহরে হয়েছে মফস্বলের উপনিবেশ। পুরোনো মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা, রুচি ও স্বার্থ ছিল গোষ্ঠীকেন্দ্রিক। সারা দেশে কয়েক লাখ মধ্যবিত্ত পরিবার বড় পুঁজি ও বড় রাজনৈতিক শক্তির আনুগত্য করে ভালোই ছিল। রাজধানী ও পাবলিক পরিসরকে তারা আপন আদলে সাজিয়ে নিয়েছিল। উঠতি মধ্যবিত্ত সেই সাজানো জগৎকে বদলে দিয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে পুরোনোরা যেখানে ইউরো-মার্কিনমুখী, সেখানে নতুনেরা দেশটাকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে। রাজনৈতিক বৈরাগীদের আলোকিত ও সুশীল সমাজ তৈরির প্রকল্পও ব্যর্থ হয়েছে। দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতির পক্ষে জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির দাপটের যুগে ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের আর দরকার পড়ছে না। এত দিন শাসক ও শাসিতদের মধ্যে মধ্যস্থতার সুবাদে মধ্যবিত্ত নিজেকে প্রাসঙ্গিক রেখেছিল। এখন অর্ধশিক্ষিত, অর্ধবেকার ও বখাটে তরুণদের একটি দল এই দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির উমেদারি করে তাদের হটিয়ে দিয়েছে। পুরোনো মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক কর্তারা জনতামুখী না হয়ে ক্ষমতামুখী হয়েছে। এ রকম সময়ই মানুষ নতুন নেতা চায়, নতুন রাজনীতি চায়। পুরোনো মধ্যবিত্তের প্রায় অবান্তর হয়ে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে ইচ্ছুক গ্রাম-মফস্বল থেকে আসা নতুন মধ্যবিত্তের প্রতিনিধিরা। তাদের একটা অংশ রাষ্ট্রের পদ ও সম্পদে হিস্যার দাবি নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছে, সড়কে নিরাপত্তা আন্দোলনে রাষ্ট্র মেরামতের ডাক দিয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ীও হয়েছে। উঠতি মধ্যবিত্তের এই হাজিরানা আমাদের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নতুন সামাজিক শক্তির মুখপাত্র হতে চাইছেন। সহযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ গঠনও করেছেন। এই দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী উঠতি মধ্যবিত্ত থেকে আসা। তাঁদের ভাব, ভাষা ও কর্মসূচি দেখে মনে হয়, উঠতি মধ্যবিত্ত ঘরানাই তাঁদের পাওয়ার হাউস। সরকারি নিপীড়নে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ছত্রখান অবস্থা নতুন দলের জন্য সুযোগ এনেছে। গত শতকের তিরিশের দশকে শেরেবাংলার কৃষক-প্রজা পার্টি ছিল বনেদি বাবুশ্রেণির বিপরীতে বঞ্চিত উঠতি মধ্যবিত্তের দল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বনেদি/আশরাফ খাজা-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উঠতি মধ্যবিত্ত ভাসানী-মুজিবের দলে শামিল হয়েছিল। উঠতি মধ্যবিত্ত এভাবে বারবার জাতির সামনের কাতারে চলে এসেছিল, জাতীয় ঐক্যের বর্শার ফলামুখ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু একুশ শতকে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের নানামুখী চাপে গণ অধিকার পরিষদ জনগণের প্রতি কতটা বিশ্বস্ত থাকতে পারবে, সেটা এক বড় প্রশ্ন। লক্ষণ বিচারে তারা মাছকে মাছের জাত মনে হলেও তা মাছ নয়। গুণবিচারে দেখা যায়, এটির মেরুদণ্ড নেই, তাই এটি মাছ নয়। নুরুলদের প্রতিবাদ যেমন সত্য, তেমনি সরকারি ছায়াতলে থাকাটাও সত্য। নুরুলের দল উঠতি মধ্যবিত্তের হলেও দেশের অপরাপর শ্রেণি, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষীণ। গণ-অভ্যুত্থান কিংবা গণনির্বাচন করতে গেলে কেবল নিম্নবিত্তের ভালোবাসায় কুলাবে না, ক্ষমতার বিভিন্ন খুঁটিকে হয় নিজের পক্ষে, নয়তো নিরপেক্ষ রাখতে হবে। তার জন্য বর্তমানে মধ্যপন্থাই উপযুক্ত, যেহেতু ক্ষমতাশালীরাই চরমপন্থী ও মেরুকরণপ্রিয়। মেরুকরণ হতে পারে দেশদরদি ও দেশবিরোধী হিসেবে, বাংলাদেশপন্থী বনাম বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে। একাত্তরের পরাজিতদের ধর্মঘেঁষা মেরুকরণ ও জয়ীদের জাতীয়তাবাদী মেরুকরণ ভয় পায় মানুষ। জাতীয়তাবাদ, পরিচয়বাদ, সম্প্রদায়বাদের আগুনে পোড়া বাংলাদেশের এখন সমন্বয়বাদের শুশ্রূষা দরকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া সেটা হবে না। সেখানেই বিএনপির প্রশ্নটা জেগে আছে। বিএনপিকে ছাড়া অর্থবহ বিরোধী জোট আসলে কতটা বাস্তবসম্মত? বিএনপিও তা মানবে না। বিএনপির জীবনে যেখানে সর্বনাশ, সেখানে নুরুলদের বসন্তকাল দেখে অনেকের মনেই সন্দেহ। তারা কি আরেকটা জাতীয় পার্টি হতে যাচ্ছে? ডাকসুর নির্বাচনে নুরুলদের জয়ী হতে দেওয়া বা নির্বিঘ্নে দল গঠন করায় এই সন্দেহ আরও জোরদার হয়। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিরোধী ডান-বাম দলগুলো কী করবে? বিএনপিকে ছাড়া ভোটে যাওয়াকে সরকারের পক্ষে কাজ করা হিসেবেই সাধারণ মানুষের কাছে বিবেচিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলেও তখন সরকার বলতে পারবে, বহুদলীয় নির্বাচনই হয়েছে। বিএনপিহীন সংসদে যত উচ্চবাচ্যই করা হোক না কেন, তা উদারতার বিজ্ঞাপন হবে। তারা বলতে পারবে, দেখো, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কী সুন্দর নমুনা! সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা যতটা বাড়বে, সরকারের কাছে ছোট দলগুলোর প্রাসঙ্গিকতাও ততটাই বাড়বে। গণ অধিকার পরিষদের মতো নবীন ও ছোট দলগুলো কি বিরোধী জমায়েতকে বিভক্ত করে সরকারের খেলার পুতুল হবে, নাকি ক্ষমতাসীনদের জন্য সত্যিকার চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে, তা সামনের দিনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। উঠতি মধ্যবিত্তের তরুণেরা কিন্তু নতুন রাজনীতির জন্য প্রস্তুত। ফারুক ওয়াসিফ লেখক ও সাংবাদিক[] | 8 |
কৃষকের মধ্যে ৫০ ভাগ প্রণোদনার মাধ্যমে ধান কাটার যন্ত্র (হার্ভেস্টার) বিতরণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেশিন কৃষকের হাতে তুলে দেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন, উপজেলা আ. লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে টোকিও অলিম্পিক। কিন্তু ২১ তারিখ থেকেই শুরু হয়ে গেছে অলিম্পিকের কয়েকটি ইভেন্টের খেলা। সফটবল দিয়ে শুরু হয়েছে এই স্পোর্টস ইভেন্ট। আজ থেকে শুরু অলিম্পিকে ফুটবলের লড়াই। পুরুষ ও মহিলা বিভাগের একাধিক ফুটবল ম্যাচ রয়েছে এদিন। আজ পুরুষদের প্রতিযোগিতায় সব থেকে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে গতবারের অলিম্পিক গোল্ড মেডেলিস্ট দেশ ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ গতবারের রানার্সআপ জার্মানি। ম্যাচ শুরু বিকাল সাড়ে ৫টায়। কদিন আগেই বিশ্ব কাঁপিয়েছে ইউরো ও কোপা আমেরিকা। দুই মহাদেশের ফুটবল লড়াই উত্তাপ ছড়িয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। এবার অলিম্পিকেও সে উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে চায় অনূর্ধ্ব ২৩ দলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু অলিম্পিকের শিরোপা অধরাই ছিল নেইমারদের। ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের ফাইনালে দেশের সে আক্ষেপ ঘুচিয়েছে ব্রাজিলের অলিম্পিক দল। নেইমার মারকুইনহোসদের দাপটে মারাকানা থেকে রৌপ্য পদক নিয়ে ফিরতে হয়েছিল জার্মানিকে। এবার প্রথম ম্যাচেই দেখা হচ্ছে দু'দলের। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আসরে অংশ নেওয়া ব্রাজিলের লক্ষ্য জয় দিযে আসর শুরু করা। প্রতিপক্ষ জার্মানি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে খুব একটা ভাল করতে পারেনি। এবার অলিম্পিকে তরুণদের কাঁধে ভর করে ভাল করার আশা ডাই মানশাফটদের। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে গেল আসরের হারের শোধ নিতে চায় জার্মানির অলিম্পিক দল। | 12 |
যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে খুঁজছে পুলিশ, যার বাবা-মাও আছেন নিহতদের মধ্যে। রোববার সকালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুটি আলাদা ঘটনায় বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে, তবে ঘটনা দু'টি পরস্পর সম্পর্কিত। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ব্যাটন রুজের দক্ষিণে আসেনসিওন ও লিভিংস্টনে গুলির ঘটনা দু'টি ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে তারা ২১ বছর বয়সী ডাকোটা থেরিয়ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সে চুরি করা ধূসর ও রূপালি রংয়ের একটি পিকআপ ট্রাক নিয়ে পালিয়েছে। সন্দেহভাজন এই বন্দুকধারী সম্পর্কে আসেনসিওন প্যারিশের শেরিফ ববি ওয়েব্রা বলেন, তার কাছে 'অস্ত্র আছে এবং সে বিপজ্জনক'। তিনি জানান, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ব্যাটন রুজের ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে গনজালেজ শহরের একটি পার্কে 'পারিবারিক সহিংসতার' একটি ঘটনায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে পুলিশ এলিজাবেথ ও কেইথ থেরিয়ট নামে দু'জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। তবে ৫১ বছর বয়সী দু'জনই তখনও বেঁচে ছিলেন। তারা পুলিশকে জানায়, তাদের ছেলে যে সম্প্রতি বলেছিল যে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এবং আর কখনই ফিরবে না, সেই তাদের গুলি করেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে এই দম্পতির মৃত্যু হয়। এর আগে ওই বন্দুকধারী পার্শ্ববর্তী লিভিংস্টোন প্যারিশে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। | 3 |
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সরকারি সফরে যাবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আগামী মঙ্গলবার বিকেলে সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলার ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।জানা যায়, আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে পাকেরহাটে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী। এরপর পাকেরহাট সরকারি কলেজ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। তাঁর আগমন উপলক্ষে আজ রোববার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং পাকেরহাট সরকারি কলেজ মাঠের সাজসজ্জা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন ইউএনও।এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলা আওয়ামী লীগ, থানা-পুলিশ সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।সাজসজ্জা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন-ওসি কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও আংগারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আজিজুল হক শাহ, এলজিইডি প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, পাকেরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সাহাদত হোসেন সবুজ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। | 6 |
করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ ছিল সব ধরনের যান চলাচল। আকাশ পথও তো এর ব্যতিক্রম নয়। মানুষ চলাচলের জন্য কতোটা উম্মুখ হয়ে আছে তা বোঝা গেল এক দিনেই। বিমান খুলে দেয়ার পর প্রথম এক দিনেই ভারতে ৫৮ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। প্রথম দিনে ৮৩২টি বিমাণে এসব যাত্রীরা চলাচল করেন। দেশের অভন্তরীন বিমান খুলে দেয়ার পর মঙ্গলবার ভারতের পরিবহণমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এ তথ্য জানান। বিমান পরিবহণমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি টুইটে জানান, সোমবার থেকে অন্ধ্রপ্রদেশেও বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে বিমানের সংখ্যা আরও বাড়বে। সোমবার বিভিন্ন বিমানবন্দরেই ব্যস্ততা চোখে পড়ে। তবে বিমান পরিষেবা চালু হলেও ভালো রকমের বিশৃঙ্খলার ছবিও ফুটে ওঠে। ওইদিন থেকেই সব রাজ্যে বিমান পরিষেবা চালু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু রাজ্য আপত্তি জানালে বেশ কিছু বিমান বাতিল করতে হয়। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয় বিমান যাত্রীদের। শেষ মুহুর্তে কিছু বিমান বাতিল হওয়ায় বহু যাত্রী বিমানবন্দরেই আটকে পড়েন। এদিকে টাটা গ্রুপ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের যৌথ উদ্যোগে বেসরকারি বিমানসংস্থা স্পাইসজেট, ভিস্তারা, ইন্ডিগো সহ অনেকেই কঠোর নিয়ম মেনে তাদের বিমান পরিষেবা চালু করে সোমবার থেকেই। ওই বিমান সংস্থাগুলো তাদের পরিবহণ সামর্থ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচল শুরু করে। তবে মুম্বই ও চেন্নাইসহ বড় বড় বিমানবন্দরগুলোতে করোনাভাইরাসজনিত নতুন বিধিনিষেধের কারণে বিমান চলাচলে বেশ দেরি হয়। বিশ্লেষকরা যদিও বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন, লকডাউন থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে ফিরতে হলে বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখা অতি আবশ্যিক। না হলে গত দুইমাসের লকডাউন সতর্কতার ফলে যতটুকু বা করোনা সংক্রমণ আটকানো গেছিল তার সমস্তই বিফলে যাবে। তাই বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও নানা রকম বিধিনিষেধ জারি করেছে ভারত সরকার। | 3 |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, আজ দেশে নির্বাচন বলতে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন একটা আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবগঠিত বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরে-বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এসব কথা বলেন। সেলিমা রহমান বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।নির্বাচন বলতে কিছু নেই। নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়।এমনকি যে, নির্বাচন কমিশন আছে সেটা একটা আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতন হচ্ছে। আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর নামে এক লাখ মামলা চলছে। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল যখন যাকে পাচ্ছে ঘর থেকে হোক, রাস্তা থেকে হোক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য স্বৈরশাসনের অপসারণ করে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা লড়াই করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা রহমান বলেন, আমরা আগেও বলেছি, এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন নির্বাচন করে লাভ নেই। নির্বাচন মানে হলো নতুন সরকার আসা যাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে। সেখানে জবাবদিহি ছাড়া ভোটবিহীন নির্বাচন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আমরা তখনই যাব যখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক হবে। এখন আমরা নির্বাচনে যাওয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা করছি না। আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না। এ সময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বরিশাল দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক মজিবর রহমান নান্টু, সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল, বরিশাল উত্তর জেলা আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (বীর মুক্তিযোদ্ধা), সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল, বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার বাবুল, সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ প্রমুখ। | 6 |
দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহী সংগঠন তালেবান। তবে দেশটির ওপর তালেবানের এই নিয়ন্ত্রণ এখনও মেনে নেয়নি রাশিয়া। শুক্রবার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাশিয়া এখনও তালেবান গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি বা এই গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসেনি। পেসকভ বলেন, তালেবান আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে কতটুকু সক্ষম তা দেখার পরই কেবল তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানে নিযুক্ত রুশ কূটনীতিক ও রুশ কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় তালেবান কতটুকু সক্ষম তা বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে অবিলম্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মস্কো আশা করছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান রাজধানী কাবুল ঘিরে ফেললে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সংগঠনটি। তবে তারা এখনও কোনও সরকার গঠন করেনি। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
এএসআই আব্দুল কাদের মানুষের হারানো মোবাইল খুঁজে বের করাই তাঁর অন্যতম নেশা। তাই কারও মোবাইল হারানোর অভিযোগ পেলেই হন্য হয়ে খুঁজে বের করে তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন। তিনি গুলশান থানায় এএসআই পদে কর্মরত আছেন। থানায় মোবাইল হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি হলেই ডাক পড়ে তাঁর। এরপর তা উদ্ধারে মাঠে নেমে পড়েন তিনি। এএসআই আব্দুল কাদের ২০০৫ সালে কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৬ বছরের চাকরিজীবনে অর্ধেকের বেশি সময় পার করেছেন হারানো মোবাইল উদ্ধারের নেশায়। কোনোটিতে সময় নিয়েছেন পাঁচ দিন, কোনোটির জন্য লেগেছে প্রায় দুই বছর। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার হারানো মোবাইল উদ্ধার করেছেন তিনি। গত আড়াই বছরে শুধু গুলশান থানাতেই জিডির বিপরীতে ৬০০ মোবাইল প্রকৃত গ্রাহকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আবদুল কাদের বলেন, মোবাইলের দাম কত, সেটা কোনো বিষয় নয়। একজন সিএনজিচালক, একজন শ্রমিক বা একজন গার্মেন্টস কর্মী, তাঁদের মোবাইলের যে দামই হোক না কেন, হারিয়ে গেলে তা নতুন করে কেনার মতো সচ্ছল তারা নন। তা ছাড়া প্রাইভেসির কারণে টাকা-পয়সা হারানোর চেয়েও মোবাইল হারালে মানুষ বেশি বিপাকে পড়ে। জিডি করার পর কোনো ব্যক্তির মোবাইল উদ্ধার করে তাকে ফিরিয়ে দিলে অনেক খুশি হোন। অপরকে খুশি করতে পারাটাই আমার আনন্দ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০০ অভিযোগ আসে কাদেরের কাছে। নিজের থানা তো বটেই, অন্য যে কোনো স্থানে মোবাইল হারালেও ভুক্তভোগীরা আসেন গুলশান থানায়। এরই মধ্যে পুলিশ বিভাগ থেকে ১৬ বার পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। | 6 |
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয় উপক্ষো করেই ২০২১ সালকে বরণ এবং পুরোনো ২০২০ সালকে বিদায় জানাতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা। বিশেষ করে দেশের প্রধান দুই সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। বৃহস্পতিবার বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। একই সঙ্গে গতকাল শুক্রবার বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াকাটা সৈকতে ছুটে এসেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পাহাড় আর লেকের অপরূপ সৌন্দর্যের রাঙামাটিও মুখর রয়েছে পর্যটকের পদচারণায়। সমকালের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কক্সবাজারে বছরের শেষ সূর্যাস্ত :বছর ঘুরে থার্টিফার্স্ট নাইট এলেই কক্সবাজারে শেষ সূর্যাস্ত দেখতে ঢেউ নামে পর্যটকের। ২০২০ সালটি করোনায় দুঃসময় কাটলেও সে ভয় উপেক্ষা করে লোকে লোকারণ্য ছিল বিশ্বের এই দীর্ঘতম সৈকত। পর্যটকরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালের দুঃসহ সব স্মৃতি ধুয়েমুছে ২০২১ সালের সূর্যোদয়ের সঙ্গে একটি নতুন পৃথিবী দেখার প্রত্যাশা তাদের। তারা চান নতুন বছর করোনামুক্ত পৃথিবী হোক। তারা আরও জানান, করোনা পরিস্থিতির পর দীর্ঘদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। বছরের শেষ ও নতুন বছরের আগমনটা উপভোগ করতে কক্সবাজারে আসা।
এবারের থার্টিফার্স্ট নাইটের আয়োজন না থাকলেও পর্যটকদের সেবা নিশ্চিতে সতর্ক ছিল ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। পর্যটকদের হয়রানি রোধে বিভিন্ন স্পটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থাও রয়েছে। সমুদ্রস্নানের সময় বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গতকাল কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল মালিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারই ৭০ শতাংশ হোটেল বুকিং ছিল। গতকালের মধ্যে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসের প্রায় সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকেদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, থার্টিফার্স্ট নাইটে সরকারি বিধিনিষেধ ও কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সার্বিকভাবে নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল টিম, পোশাকধারী পুলিশ ও কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পরিদর্শনে এসেছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, করোনার এ সময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে সূর্যাস্ত অবলোকন করা দরকার। প্রতি বছর সৈকতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকলেও এ বছর সরকারি সিদ্ধান্তে সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
কুয়াকাটায় নতুন বছরের নতুন সূর্য :পুরোনা বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করার জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হলো কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। এ সৈকত থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় উভয়ই দেখা যায়। এ কারণে করোনা উপেক্ষা করেই সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দেশি-বিদেশি অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটকের আগম ঘটেছে। আতশবাজি, পটকা ফোটানো নিষেধ থকলেও বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে সৈকতে মোম জ্বালিয়ে ও ফানুস উড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান তারা। গতকাল ভোরে নতুন বছরের নতুন সূর্য উদিত দেখতে ভিড় ছিল সৈকতজুড়ে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, রাখাইন পল্লি, শুঁটকি পল্লিসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে রয়েছে পর্যটকের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি।
কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা তামান্না ও তমা জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কুয়াকাটায় আসা। ভালো লেগেছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। আরও দুই পর্যটক সিলবা ও সুমনা বলেন, আমরা দুই বান্ধবী। সম্প্রতি দু'জনেরই বিয়ে হয়েছে। হানিমুন ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এসেছি। বলা চলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভপাতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, বিশেষ দিনগুলোতে কুয়কাটায় পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে। গত দু'দিন ধরে পর্যটকের আগমন বেড়েছে। তাদের সেবায় আমরা সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি এমএম মিজানুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে পূর্বদিকে গঙ্গামতির লেক, পশ্চিম দিকে লেম্বুর বন পর্যন্ত আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল রয়েছে। মোবাইল টিমসহ রেসকিউ টিমও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে।
লেক-পাহাড়ের দেশ রাঙামাটি :প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ইট-পাথরের শহর ও যান্ত্রিকতার ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতির রানী রাঙামাটিতে ছুটে আসে। উপভোগ করে লেক-পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য। ২০২০ সালে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটকের আনাগোনা একেবারেই কম ছিল। তবে গতকাল ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পর্যটকের ঢল নামে। ঝুলন্ত সেতুসহ আশপাশ এলাকা পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণ ছাড়াও শুভলং ঝরনা, রাজ বনবিহার ও চাকমা রাজবাড়ি ঘুরে দেখছেন। রাঙামাটি জেলা পুলিশের পরিচালিত পলওয়েল পার্কেও পর্যটকের ঢল নামে।
গতকাল ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিলেন। তাই নতুন বছরে স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে রাঙামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন।
পর্যটন ঘাটের ইজারাদার ব্যবস্থাপক রমজান আলী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত বছর পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। নতুন বছরের প্রথম দিনে ভালো পর্যটক এসেছে। তারা কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণসহ দর্শনীয় স্থানগুলো দেখছেন।
রাঙামাটি সরকারি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ূয়া জানান, দু'দিন আগেই তাদের মোটেলের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হ্যান্ড স্যানিটেশনের ব্যবস্থাসহ মাস্ক পরতে বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে।
| 6 |
ফেনীর ফাজিলপুরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে গৃহবধূ শিরিন হত্যা মামলায় স্বামী মো. ইয়াছিনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।গতকাল রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. বেগম জেবুন্নেছা এই রায় দেন। এ সময় আদালত বলেন, আসামি চাইলে আগামী সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৯ সালের ৫ মার্চ রাতে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শিরিনকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুদিন পর ৭ মার্চ খুনের অভিযোগ এনে শিরিনের মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ইয়াছিনকে আসামি করে মামলা করেন।মামলার বাদী রেজিয়া বেগম বলেন, আর কেউ যেন এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে বলেন। তবে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর সাত্তার বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি। রায় একতরফা হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। | 6 |
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ এবং গণপূর্ত বিভাগের ঠেলাঠেলির কারণে কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ফলে সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।নেত্রকোনা গণপূর্ত কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বধলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ করতে উপজেলা সদর ইউনিয়নের ইলাশপুর চৌরাস্তায় ৩৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। মেসার্স মোনালিসা ও এন. এইচ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণের দরপত্র পায়। নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে শেষ হয়।কিন্তু নির্মিত ভবনের দেওয়ালে ড্যামেজ, দরজা ও ফিটিংসসহ নানা ত্রুটি দেখা দেয়। এ ছাড়া ভরনের সামনে মাটি ভরাট না করা হলেও বাকি তিন পাশে মাটি ভরাট না থাকায় ফায়ার সার্ভিস বিভাগ ভবনের দায় দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে।ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হেলিম বলেন, 'এই ভবনের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর হলো। কিন্তু কার্যক্রম এখনো শুরু হলো না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কাজে আসছে না স্টেশনটি।'ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি নেজামুল হক বলেন, 'প্রাক্কলন অনুযায়ী ভবন নির্মাণকাজ হয়েছে। ভবনটি বুঝে নিতে গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস বিভাগ যথাসময়ে ভবনের দায়িত্ব না নেওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।'ভবন নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকন উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ ভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ভবনের কিছু ত্রুটি দেখতে পায়। সেই ত্রুটি ঠিকাদারের মাধ্যমে দূর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এখন ভবনের দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। কার্যক্রমও শুরু করতে পারে।'এ দিকে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের জন্য লোকবল, দুইটি গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যক্রম শুরু না হওয়া পদায়নকৃতদের কাটছে অলস সময়।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নেত্রকোনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, 'নির্মাণকাজের ত্রুটি থাকায় ভবন গ্রহণ করা হয়নি। আর এই স্টেশনে পদায়নকৃত জনবল বর্তমানে অন্য স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। দুইটি গাড়িও জেলার অন্য স্টেশনগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টেশন চালু হলেই জনবল এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। আর গাড়িও যথা সময়ে চলে আসবে।'বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মজিবুর রহমান বলেন, 'ওই স্টেশনের ভবনে কিছু ত্রুটি ছিল। তবে তা সমাধান করে শিগগিরই চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, 'স্টেশনটি চালু না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।' | 6 |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ শিশু শাম্মি আক্তারকে রোববার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে শিশুটির বাবাই তাকে লুকিয়ে রেখে নিখোঁজ নাটক সাজান বলে পুলিশ ও স্বজনরা জানান। শাম্মি (৫) কাশিয়ানীর খায়েরহাট গ্রামের শামীম মোল্যা ও জাহানারা দম্পতির কন্যা। এ ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা পলাতক। গত ১১ মার্চ জাহানারা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। পরের দিন শিশুটির মামা নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিখোঁজ নাটককে বাস্তব প্রমাণ করতে শামীম নিজের মেয়ের সন্ধান চেয়ে তার ফেসবুক আইডিতে মেয়ের ছবি দিয়ে 'হারিয়ে গেছে, সন্ধান পেলে যোগাযোগ করুন, ০১৯৪৬৪৬৮৬১০' লিখে একটি পোস্ট দেন। শিশুটির মা এবং কাশিয়ানী ও ফতুল্লা মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, শামীম এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই দ্বন্দ্ব হয় তার। গত ১১ মার্চ সকালে তাদের দু'জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। দুপুরের খাবার খেয়ে দু'জনে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন। হঠাৎ শাম্মি সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দু'জন অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের ডোবায় অভিযান চালিয়ে হদিস পায়নি। পরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই মধ্যে বাসা থেকে পালিয়ে যান শামীম ও তার ভাই। পরে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শামীমের অবস্থান জেনে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে তার এক আত্মীয় শাম্মির নানিকে মোবাইল ফোনে জানান, শিশুটি জীবিত আছে। এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। শাম্মিকে খায়েরহাটে নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কাশিয়ানী থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করে। কাশিয়ানী থানার এসআই আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। | 6 |
যে আইনে সাজা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে, সেই আইনেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকার অনুমতি দিতে পারে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার নগরের নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ের মাঠে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল আয়োজিত কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন। ডা. শাহাদাত বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে আইনের কোনো বাধা নেই। বাধা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ও সরকার। সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার কারণেই বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। পরে সাজা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করে বাড়িতে রাখা হয়। প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আশরাফুল আলম ফকির লিংকন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন, এটাই নাকি উনি বেশি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং খালেদা জিয়ার জনপ্রিতার কারণে বানোয়াট মামলায় তারই নির্দেশে সাজা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতেই হচ্ছে।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের সমালোচনা করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, তিনি তো চোখে কালো চশমা পরে থাকেন, তাই বিএনপির মিছিল দেখেন না। তা ছাড়া তিনি তো সারাদিন বাসায় বসে থাকেন। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল আলম শহীদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আফসার জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন প্রমুখ। | 6 |
বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ফিন অ্যালেন করোনায় আক্রান্ত। সিরিজে তার খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই অ্যালেনের বদলি হিসেবে দেশ থেকে ডান-হাতি পেসার ম্যাট হেনরিকে উড়িয়ে আনছে কিউইরা। ইতোমধ্যে দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন হেনরি।নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজম্যান্টের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী ৩০ আগস্ট বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন হেনরি। আর দলের সাথেই থাকবেন অ্যালেন। দলের চিকিৎসক প্যাট ম্যাকহাগের পর্যবেক্ষণেই থাকবেন তিনি। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন অ্যালেন। ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডে খেলছেন। ইংল্যান্ডে থাকা ক্রিকেটারদের বাংলাদেশে আনলে সাত দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে কিউইদের। তাই দেশ থেকে হেনরিকে উড়িয়ে আনছে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটসম্যান অ্যালেনের পরিবর্তে পেসার হেনরিই যথার্থ হতে পারেনা বলে স্বীকার করেন নিউজিল্যান্ড হেড গ্যারি স্টিড। তিনি বলেন, 'অবশ্যই অ্যালেনের বদলি হেনরি নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এত অল্প সময়ের মধ্যে সেই আমাদের সেরা অস্ত্র। সে কোভিডের দুই ডোজ টিকাই পেয়েছেন এবং ঢাকা থেকে তার দেশে ফেরার জন্য এমআইকিউ বেডও প্রস্তুত আছে।' নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৬ টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেট নিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী হেনরি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দলে ছিলেন। আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টিসিরিজ। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো হবে ৩, ৫, ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর। | 12 |
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-পিএমএল'র (এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ বলেছেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবো না। শনিবার দিবাগত রাতে জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। এর আগে, অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান খান। দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনে তার বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর আয়াজ সাদিক শাহবাজ শরিফের হাতে ফ্লোর ছেড়ে দেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জোটের সব নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন নতুন সরকার প্রতিশোধের রাজনীতিতে লিপ্ত হবে না। শাহবাজ বলেন, 'আমি অতীতের তিক্ততায় ফিরে যেতে চাই না। আমরা তাদের ভুলে যেতে ও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা প্রতিশোধ নেব না ও অবিচার করব না। আমরা অকারণে মানুষকে কারাগারে পাঠাব না। আইন ও বিচার প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে।' বিডি প্রতিদিন/এমআই | 3 |
ঢাকা: ইন্টার মিলানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে রোনালদোরা! গতকাল রাতের এ জয়ে টেবিলের চারেও ওঠে এসেছিল জুভেন্টাস। তবে এ আনন্দ খুব বেশি স্থায়ী হলো না তুরিনের বুড়িদের। আজ ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে নাপোলির ২-০ গোলের জয়ে আবার পাঁচে নেমে গেছে জুভরা।ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এখন 'যদি' 'কিন্তু' ভরসা ইতালির সফলতম দলটির! লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৩ মে বোলোনিয়ার বিপক্ষে জিতলেও তাই কাজ হচ্ছে না জুভেন্টাসের। তাকিয়ে থাকতে হবে এসি মিলানের শেষ দুই ম্যাচ ও নাপোলির শেষ ম্যাচের দিকে।লিগ শিরোপা আগেই হাতছাড়া হয়েছে জুভেন্টাসের। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনাও মিটিমিটি জ্বলছিল। টিকে থাকার পথে চ্যাম্পিয়ন ইন্টারের বাধা ভালোভাবেই উতরে গিয়েছিল তারা। টেবিলের পাঁচে থাকা নাপোলির চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে চারে উঠে এসেছিল জুভেন্টাস। এক ম্যাচ কম খেলে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে ছিল নাপোলি। তবে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে নাপোলি জেতায় জুভরা নেমে গেছে পাঁচে। ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ওঠে এসেছে নাপোলি।জুভেন্টাসের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে সমান ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে এসি মিলান। শেষ দুই ম্যাচে এসি মিলানের প্রতিপক্ষ কালিয়ারি ও ফিওরেন্তিনা। নাপোলি খেলবে ভেরোনার বিপক্ষে। | 12 |
বগুড়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে অন্য একজন করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ আগস্ট দেশজুড়ে প্রথম দফা গণটিকা কর্মসূচি চলাকালে বগুড়া পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে জালিয়াতির শিকার জাফর উদ্দিন মণ্ডল নামে ৭৪ বছর বয়সী ওই মুক্তিযোদ্ধার করোনার টিকা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কাগজে-কলমে টিকা পাওয়া জাফর উদ্দিন পরে টিকা পেতে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ একাধিক টিকা কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি করেও কোনো ফল পাচ্ছিলেন না। তবে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশুর হস্তক্ষেপে ২০ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়। বগুড়া শহরের কৈগাড়ি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন মণ্ডল জানান, তিনি টিকা না নিলেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর তার মোবাইল ফোনে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে তাকে পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে বলা হয়। ওই বার্তা পাওয়ার পর তিনি রীতিমত বিস্মিত হন। পরবর্তীতে তিনি নিকটবর্তী মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে জানান, জাফর উদ্দিন মণ্ডালের নামে করোনার প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ তার হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র ভিত্তিক টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা একটি ডকুমেন্টও তুলে দেন। মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা টিকা গ্রহণের সেই ডকুমেন্টে নিজের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য দেখার পর জাফর উদ্দিন যেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করাতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, 'ওই ডকুমেন্টের সব তথ্যই ঠিক আছে। কেবল আমি টিকা নিয়েছি এটাই মিথ্যা। তারপর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলি- আমি টিকা নেইনি। উল্টো আমার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ টিকা নিয়েছে। আমি এখন টিকা নিতে চাই। আমাকে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হোক।' তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, 'ডকুমেন্ট অনুযায়ী আপনি টিকা নিয়েছেন। অতএব নতুন করে আর রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই। আপনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আপনার সমস্যার কথা জানান।' পরে মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন মণ্ডল বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে টিকাদান কর্মীদের সঙ্গে ২ দিনে একাধিকবার কথা বলেও কোন কিছু না হওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সরাসরি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশুর সঙ্গে দেখা করে তার সমস্যার কথা জানান। সবকিছু শোনার পর তিনি সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাকে সিনোফার্মের প্রথম ডোজের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। টিকা পেয়ে খুশি মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'টিকা নিয়েও যে এভাবে প্রতারণা করা হবে সেটি আমার ধারণারও বাইরে ছিল। তবে অনেক ঘোরাঘুরির পর সত্যি সত্যি টিকা পাওয়ার পর ভাল লাগছে।' ডা. সামির হোসেন মিশু সমকালকে জানান, এ ধরনের ঘটনা আরও কয়েকটি ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা ধারণা করছি- কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন মণ্ডলের জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি করে গত ৭ আগস্ট গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় টিকা গ্রহণ করেছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে চলা গণটিকা কর্মসূচিতে যেহেতু বিপুল সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, সে কারণে হয়তো টিকা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও একজনের জাতীয় পরিচয়ত্র ব্যবহার করে অন্যের টিকা গ্রহণের বিষয়টি বুঝতে পারেননি।' এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সামির হোসেন মিশু বলেন, 'প্রতারক ব্যক্তি হয়তো করোনার টিকার দুই ডোজই গ্রহণ করেছেন। তবে প্রতারণার মাধ্যমে টিকা নিতে পারলেও প্রকৃতভাবে নিজের নামে সনদ তিনি পবেন না।' | 6 |
ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাসহ দুই মডেলের বাসায় অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। রবিবার (১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পিয়াসার বারিধারার বাসায় অভিযান শুরু হয়। এসময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া মোহাম্মদপুরে আরেক মডেলের বাসায় অভিযান চলছে। অভিযানের বিষয়টি পুলিশের ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ডিবি পুলিশ জানায়, পিয়াসার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। পিয়াসা ছাড়াও ডিবি পুলিশ মোহাম্মদপুরে আরেক মডেলকে আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পিয়াসার বাসায় অভিযান চালিয়ে মদ, সিসা ইয়াবা সহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মহিদুল ইসলাম অভিযানের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে। আপাতত এতটুকুই বলতে পারছি। বাকিটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানাবেন। বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনায় আলোচনায় আসেন পিয়াসা। ২০১৭ সালে মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। প্রথমে মামলা করতে এ ঘটনার ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য জানান। সর্বশেষ গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারে পর যে মামলা হয়েছিল তাতেও পিয়াসার নাম ছিল। জানা গেছে, আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী পিয়াসা। রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ওই ঘটনার কিছু দিন আগেই সাফাতের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। | 2 |
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ১৩টি বিয়ে করেছেন বলে সন্দেহ আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের। রবিবার (১১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি এ সন্দেহ পোষণ করেন। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, 'মামুনুল হকের যত ফোনালাপ ফাঁস হচ্ছে, তত তিনি দাবি করছেন তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এক দুই তিনটি হলো বিয়ে। একটি বৈধ বিয়ে, বাকি দু'টো অবৈধ বা শরিয়তি বিয়ে। ফোনালাপ যদি আরও দুটো ফাঁস হয়, তবে তো তিনি চতুর্থ এবং পঞ্চম বিয়েরও দাবি করবেন। চারটে বিয়ের বেশি তো ইসলামি আইনে করা যায় না। রকম সকম দেখে আমার তো সন্দেহ হচ্ছে মামুনুল হক গোপনে ১৩টি বিয়ে করেছেন। কে জানে, নিজেকে হয়তো তিনি নবী মনে করেন।' এর আগে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীসহ অবরুদ্ধ হন। তখন ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন মামুনুল। যদিও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে মামুনুলের ওই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বেড়িয়ে আসছে একের পর এক ফোন রেকর্ড। ওই ঘটনার পর হেফাজত নেতা মামুনুলের নারী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ঝর্ণাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এবার মামুনুলের তৃতীয় বিয়ের খবর রটেছে। | 6 |
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরী মণি সন্তান ধারণ করবার পর যেন অন্য জন্ম পেয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা সময়টাকে সুন্দরভাবে উপভোগ করছেন। বরাবরই তিনি নিজের মেজাজে চলেন। বিতর্কিত হন বা নিন্দিত হন, আমল দেন না তেমন। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তার ফেসবুক পোস্টে লেখা কথা ও ছবি সকলের মন আনন্দে ভরিয়ে রেখেছে। পরী মণির ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, জীবন থেকে যেমন শিক্ষা নিয়েছেন পরী মণি, তেমনই স্বামী শরিফুল রাজের সরল সুন্দর ভালবাসা তাকে গভীর করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার অন্তঃসত্বা হওয়ার ছবি প্রকাশ করেছেন পরী মণি, যা ভক্তদের খুশি করেছে। চমৎকার উপস্থাপনায় সমাজকে দিয়েছেন মুক্তমনা নারীর নিজস্ব স্বাধীনতার স্পর্শ। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি অদ্ভুত ভালবাসার ছবি পোস্ট করেছেন পরী মণি। গাছের নিবিড় সান্নিধ্যে স্বামী অভিনেতা শরিফুল রাজের কোলে আধশোয়া হয়ে আছেন তিনি। শরিফুল তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন আলতো ভঙ্গিতে। পরি মণির মাতৃত্বের চিহ্ন এখানে যেন জীবনের মধুর পরম্পরার কথা বলছে চুপচাপ। আনন্দবাজার অনলাইনকে পরী মণি জানিয়েছেন ছবিটি ঈদের ছুটি কাটানোর সময় কক্সবাজারে তোলা। ফেসবুক পোস্টে ছবিটির সঙ্গে পরী মণির কথাগুলিও সুন্দর কবিত্বময়। লিখেছেন, "আমি এত এত বার লিখতে চেয়েছি কিছুপারছি কই আর! লিখতে গিয়ে কেবল ছবিটার দিকেই একমনে চেয়ে থাকি। কী যে মায়া! এমন মায়ার মুহূর্তেরা পৃথিবীর সমস্ত সুখ এক করে দেয়। শুকরিয়া।" এই পোস্টে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে মন্তব্য করেছেন রাজও। রাজ লিখেছেন, "হে ভালবাসা, তুমি আমার পৃথিবীকে উজ্জ্বল রঙে এঁকেছো এবং আমার জীবনকে করে তুলেছ অর্থবহ।" পরী মণি-রাজের ভালবাসা পূর্ণতার দিকে চলেছে। এগিয়ে আসছে নতুন শিশুর জন্মের শুভক্ষণ। | 2 |
হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে কদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার আবিদ আলী। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এখন সেরে ওঠার পর্যায়ে আছেন এই ওপেনার। সুস্থ হওয়ার পর আবিদ আবার খেলায় ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে আবিদ বলেছেন, ফের ব্যাট হাতে মাঠে নামতে চান তিনি। নিজের সেরাটা দিয়েই প্রস্তুতি নেবেন বলে জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।অসুস্থ হওয়ার আগে বাংলাদেশ সফর থেকে সুখস্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরেছিলেন আবিদ। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ম্যাচ খেলার সময় আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এই ক্রিকেটার। সম্প্রতি এক আলাপে নিজের অসুস্থতা নিয়ে কথা বলার সময় মাঠে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আবিদ। তিনি বলেন, 'ক্রিকেট আমার জীবন। এটা আমার জীবনের অমূল্য একটি দিক, আমি ক্রিকেট ছাড়তে চাই না। আমি যত দ্রুত সম্ভব ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে সেখানে আমি আবার ক্রিকেটে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী।'ক্রিকেটে ফেরা ও সেরে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে আবিদ আরও বলেন, 'পিসিবির চিকিৎসক দল আমার জন্য একটি পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়েছে। অনুশীলনে আমি যত দ্রুত সম্ভব ব্যাট হাতে নিতে চাই।'অসুস্থ হওয়ার আগে হৃদ্রোগের কোনো সমস্যা ছিল না আবিদের। কীভাবে অসুস্থ হলেন তা জানাতে গিয়ে আবিদ বলেন, 'ব্যাটিং করার সময় আমি হঠাৎ অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভব করতে শুরু করি। ব্যথা বেড়ে গেল আমি কিছুক্ষণ দৌড়ে নেই এবং পার্টনার আজহার আলীর সঙ্গে আলাপ করি। পরে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে মাঠ ত্যাগ করি। কিন্তু সীমানার কাছাকাছি যাওয়ার পর বমি ও মাথা ঘোরানো শুরু হয়। দলের সঙ্গে চিকিৎসক দ্রুত আমার কাছে আসেন। আমার প্যাড খুলে নেন এবং আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।' | 12 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বাণিজ্য বন্ধ, দ্রুত রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ কয়েক দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয় মিছিলটি।সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যলয় বন্ধ ছিল। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে হল ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে অনেক সিট ফাঁকা হয়েছে। এই সিটগুলো ছাত্রলীগ দখলে নিয়েছে এবং একেকটি সিট চার-পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো-আবাসন সংকট নিরসন, স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার পরিবেশন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস।হল প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রাবি সংসদের সভাপতি শাকিলা খাতুন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু হাসানসহ বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
কেপি শর্মা ওলিকে গদিচ্যুত করেও ক্ষমতা দখল করতে ব্যর্থ হল নেপালের বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালের জোট। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে না পারায় ফের নেপালের গদিতে বসতে চলেছেন কেপি শর্মা ওলি। সোমবারই আস্থা ভোটে হারেন কেপি শর্মা ওলি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। তবে এরপর বিরোধী জোটকে সরকার গঠনের আবেদন জানালেও, সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় তারা। আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় ছিল তাদের কাছে। এই আবহে আবারও একবার প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন কেপি শর্মা ওলি। নেপালের সংবিধানের ৭৬ (৩) ধারার অধীনে সেদেশের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি আবারও একবার কেপি শর্মা ওলিকেই প্রধানমন্ত্রী পদে বসাবেন। উল্লেখ্য, নেপালি কংগ্রেস প্রধান শের বাহাদুর দেউবা সিপিএন মাওবাদী দলের প্রধান পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ডের সমর্থন পেলেও জনতা সমাজবাদী পার্টির সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। সেই দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই নেপালি কংগ্রেস সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। নেপালি কংগ্রেসের ৬১ এবং প্রচণ্ডের দলের ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। তবে এদের সম্মিলিত ১১০টি আসন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। ২৭৫ আসন বিশিষ্ট নেপালি সংসদে বর্তমানে ২৭১ জন সদস্য রয়েছেন। এই আবহে ম্যাজিক ফিগার হল ১৩৬। তবে ওলির সমর্থনে রয়েছেন ১২১ জন সদস্য। এই আবহে মাধব নেপালের ২৮ সদস্যের প্রয়োজন হবে ওলির। এদিন সন্ধ্যায় ওলি এবং মাধব বৈঠকেও বসেন। | 3 |
কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র বা ভেন্টিলেটর তৈরিতে নেমেছে দেশের ইলেকট্রনিকস খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেড। ইতিমধ্যে তারা কিছু ভেন্টিলেটর তৈরি করেছে, যা দুটি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে। মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, 'পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটির কার্যকারিতা পাওয়া গেলে এবং কোনো পরিবর্তনের দরকার হলে সেটা করার পর উৎপাদনের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি পেলে সরঞ্জাম প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা দিনে ১০০টির মতো ভেন্টিলেটর তৈরি করতে পারব।' রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ভেন্টিলেটরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানান রাজ্জাক খান। তিনি আরও বলেন, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ভেন্টিলেটরের নকশা দিয়েছে। আর এটি তৈরির তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় ভেন্টিলেটরের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯-এর চিকিৎসায় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন হয়। মিনিস্টার হাইটেক পার্ক মিনিস্টার ব্র্যান্ডের টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি করে। মাইওয়ান ব্র্যান্ডের পণ্যও তাদের। মাইওয়ান ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। রাজ্জাক খান বলেন, তাঁরা উন্নতমানের ভেন্টিলেটর তৈরি করছেন। একেকটির খরচ পড়বে এক লাখ টাকার কাছাকাছি। বাজারে এগুলোর দাম চার-পাঁচ লাখ টাকা। তিনি বলেন, শুরুতে তাঁরা শুধু সরকারকেই দেবেন। পরে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতের চিন্তা রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ ভেন্টিলেটরের পেটেন্ট, নকশা ও সোর্স কোড গ্রহণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মিনিস্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকার এ সপ্তাহের মধ্যেই তাদের নকশার অনুমোদন দিতে পারে বলে আশা করছে তারা। আগামী সপ্তাহ থেকেই উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে তাদের। চীন থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কাঁচামাল আনা হচ্ছে। | 0 |
ঢাকা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মাদারবক্স হলের সাবেক এজিএস নিশতিয়াক আহমেদ রাখি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মাত্র ৫২ বছর বয়সে আজ ভোর রাত চারটার দিকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মাদারবক্স হলের সাবেক ভিপি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার। বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
বাংলাদেশের গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের মিলনমেলা আজ শনিবার। বহুল প্রতীক্ষিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য মিলনমেলা শেষ হবে রাত সাড়ে ৯টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষার্থী মতিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। মিলনমেলার প্রতিপাদ্য- 'বাংলাদেশের পথযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই'। ৯ হাজার ৩৩৭ জন অ্যালামনাই এতে অংশগ্রহণ করার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। অনুষ্ঠান ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মিলনমেলা উপলক্ষে কার্জন হলের মূল ভবনের আদলে তৈরি করা মূল ফটকটি সবার নজর কেড়েছে। মিলনমেলা প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠের পশ্চিম পাশে বিশাল প্যান্ডেলের নিচে মূল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে। পূর্ব পাশের প্যান্ডেলে রয়েছে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন। মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোনায় খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মপ্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠান একসঙ্গে উপভোগ করার সুবিধার্থে মাঠজুড়ে এলইডি স্ট্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ছোট ছোট তাঁবু, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার সমকালকে জানান, মিলনমেলাকে ঘিরে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রত্যেক অ্যালামনাইকে স্যানিটাইজার ও মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। মিলনমেলা স্থলেও পর্যাপ্ত মাস্ক এবং স্যানিটাইজার থাকবে। সকাল-বিকেলে নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা থাকবে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। থাকবে দিনভর চা-কফির ব্যবস্থা। মাঠে পর্যাপ্ত ওষুধ, মেডিকেল সুযোগ-সুবিধাসহ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ২২ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে প্রায় ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এখানে দায়িত্ব পালন করবেন। যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ থাকবে। শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর এলাকায় অ্যালামনাইদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মাঠে প্রবেশ করেন অ্যালামনাই ও অতিথিরা। মিলনমেলা উদ্বোধনের পর শত শিল্পীর লাইভ অর্কেস্ট্রা, সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশিত হবে। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠ শেষে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মুনিরা খান উপস্থাপন করবেন শোক প্রস্তাব। এর পর শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মোড়ক উন্মোচন ও 'শিল্পীর রং তুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেবেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রকীবউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফুল হক মুকুল। প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষার্থী মতিউল ইসলাম। পরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ সভাপতির বক্তব্য দেবেন। এর পর 'বাংলাদেশের পথযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই'- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক জিএস মতিয়া চৌধুরী, লেখক-রাজনীতিবিদ ইনাম আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হামিদা আখতার বেগম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির, সাবেক এমপি শামসুজ্জামান দুদু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের শত গুণীজন সম্মাননা (মরণোত্তর) দেওয়া হবে। পরে শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে রবীন্দ্র, নজরুল ও হারানো দিনের গান পরিবেশন করবেন শিল্পী অদিতি মহসীন, প্রিয়াঙ্কা গোপ ও হৈমন্তী রক্ষিত। পরে শিল্পী চাঁদনউ, সিনথিয়া, মিম চৌধুরী ও তাদের দল ৬০ ও ৭০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গানে নৃত্য পরিবেশন করবেন। এর পর শিল্পী সামিনা চৌধুরী এবং সন্দীপন পরিবেশন করবেন আধুনিক ও পুরোনো দিনের গান। তাদের পরিবেশনা শেষে রায়বেঁশে নৃত্য নিয়ে আসবেন শিল্পী প্রেমা ও তার দল। এর পর থাকবে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের একক সংগীত। পরে গান শোনাবেন বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী নিশীতা বড়ূয়া। | 6 |
কেন শুটিংয়ের আগে বারবার রিহার্সেল করেন অমিতাভ বচ্চন? কেন একই সংলাপ বারবার আওড়াতে হয়? জানা গেল সেই কারণ। নিজেই সেই কথা জানালেন 'বিগ বি'। তাঁর নতুন ছবি 'চেহরে'-এর প্রযোজক আনন্দ পন্ডিতের সঙ্গে এক লাইভ অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে কথা তোলেন অমিতাভ। ওই প্রশ্নোত্তর পর্বে হাজির ছিলেন 'চেহরে' ছবিতে 'বিগ বি'-র সহ-অভিনেতা ইমরান হাশমিও।ইনস্টাগ্রামে ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। ভিডিওতে অমিতাভ, ইমরান এবং আনন্দ এই তিনজনকেই পাওয়া গেছে। অমিতাভের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইমরান হাশমি বলেন, ছবিতে নিজের ৫০০% দেওয়ার পাশাপাশি শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেতাদেরও যথেষ্ট সাহায্য করেন 'বিগ বি'। তার ওপর এই ছবিতে অমিতাভের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি যে একইসঙ্গে আনন্দ ও ভয় পেয়েছিলেন সেকথাও জানান। আরও জানান 'বিগ বি'-র সঙ্গে শুটিংয়ের সময় তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যেন তাঁর দিক থেকে এমন কিছু না হয় যাতে তার সঙ্গের কোন দৃশ্য দ্বিতীয়বার করতে হয়। তাই বারবার সংলাপ পড়ে মুখস্থ রাখতেন তিনি। ইমরানের কথার জের টেনেই অমিতাভ বলেন, একজন ছবির পরিচালক শুটিংয়ের সময় একজন অভিনেতার থেকে যে ধরণের অভিনয় চাইছেন তার বিপরীত কিছু করাটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। তাই যথাসম্ভব ছবির সেটে পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলেন তিনি। যথাসাধ্য তাঁর কথামতো কাজ করার চেস্ট করেন তিনি। তাই তো শুটিংয়ের আগে বারবার নিজের সংলাপ আওড়াতে থাকেন।৭৮ বছর বয়স্ক অমিতাভ বচ্চনের কথায়, 'আমাদের বয়সে এসে পরপর সংলাপ মনে রাখাটা ভীষণ কঠিন। তাই বারেবারে পড়তে থাকি। রিহার্সাল করতে থাকি একা একাই। সংলাপ আমার মুখস্থ করতে হয়। অনেক সময় আমার বিভিন্ন সহ-অভিনেতারা বলেছেন যে, বড্ড বেশি রিহার্সাল করতে থাকি আমি। ওরা জানেন না আমার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই ব্যাপারটা। এ না করলে সংলাপ গুলিয়ে ফেলতে পারি। আমি আমার কাজে জিরো হয়ে যেতে পারি।'রুমি জাফরির পরিচালনায় আজ বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে 'চেহরে'। ছবিতে অমিতাভ-ইমরান ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী, আন্নু কাপুর, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, রঘুবীর যাদব। | 2 |
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপরে ২০১০ সালে উদ্বোধন করা হয় তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু (শাহ আমানত সেতু)। সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর। তবে নির্মাণের ১২ বছরের মাথাই ধরা পড়ল ত্রুটি। গত সোমবার সেতুর ঝুঁকি চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাদের পরামর্শে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারে গতিরোধক (রাম্বল স্ট্রিপ) বসিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, 'সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর। তাই বলে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে না, তা কিন্তু নয়। শাহ আমানত সেতুতে উঠলে সব গাড়ির গতি বেড়ে যায়। গাড়ি ওঠার সময় একটা ধাক্কা লাগে। সেটা ঠেকাতে মূলত রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া তেমন কিছু হয়নি।'পিন্টু চাকমা আরও বলেন, 'তেমন কোনো বড় ত্রুটির বিষয়ে আমি বলতে পারছি না। বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে দেখে গেছে। সেতুর দক্ষিণ অংশে এক্সপানশন জয়েন্টে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এখন এগুলো সারানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের পরামর্শে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন করা হয়েছে।'সূত্রে জানা গেছে, সেতুটিতে বড় ধরনের কোনো জটিলতা দেখা দিলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও কক্সবাজারের সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।অভিযোগ রয়েছে, সেতুতে গতিরোধক বসানোর কারণে তৈরি হয়েছে নতুন ভোগান্তি। দ্রুতগতিতে আসা গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করা যায় না। এতে বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ঘটছে ছোট দুর্ঘটনা।সরেজমিন দেখা গেছে, শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রান্তে গতিরোধক সাদা রং দিয়ে মার্কিং করা হয়েছে। গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করে ধীর গতিতে চলাচল করছে। তবে কিছু মোটরসাইকেল আরোহী ব্রেক না করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে। তারা চোট পাচ্ছে।মোটরসাইকেলচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আগে এ রকম কোনো স্পিডব্রেকার ছিল না। হঠাৎ এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে। আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেছি। আঘাত পেয়েছি।'বাসচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার মুহূর্তে গতিরোধক দেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহন ব্রেক করলে সেতুতে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে। নামার মুহূর্তে গতিরোধক দুর্ঘটনা বাড়াতে পারে।'এ ব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব বলেন, শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে নামার সময় যে গতিরোধক বসানো হয়েছে, তাতে সুবিধার চেয়ে দুর্ঘটনা বেশি হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে শহরে আসেন। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের বাইরে থেকে ও কক্সবাজার বেড়াতে যান মোটরসাইকেল চালিয়ে। সেতুর নামার অংশে ওই গতিরোধকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি তৈরি হয়েছে।শাহ আমানত সেতু টোল প্লাজার পরিচালক (অপারেশন) অপূর্ব সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এটা তেমন কিছু না। সেতুতে গাড়ির ধাক্কা ঠেকাতে মূলত রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়েছে। অন্য কোনো কারণ সম্পর্কে আমার জানা নেই।' | 6 |
স্পেন দলের পতাকা বহন করলেও ইনজুরির কারলে রিওতে টেনিস কোর্টে নামতেই চাননি তিনি। আর সেই নাদালই দেশকে এনে দিলেন অলিম্পিকের স্বর্ণ।
এনিয়ে দুবার অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে টেনিসের এককে সোনা জিতেছিলেন আর কাল বন্ধু মার্ক লোপেজকে নিয়ে জিতলেন দ্বৈতের স্বর্ণ।
রোমানিয়ার ফ্লোরিন মারজেয়া ও ওরিয়া তেকাউকে ৬-২, ৩-৬, ৪-৬ সেটে হারিয়ে দ্বৈতের সোনা জিতেছেন নাদাল ও লোপেজ।
অবশ্য সিঙ্গেলসেও স্বর্ণ জেতার সম্ভাবনা রয়েছে নাদালের। কারণ ব্রাজিলের থমাজ বেলুচ্চিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি।
সেমিতে নাদালের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার হুয়ান দেল পোর্তা।
| 12 |
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে প্রবেশ করেছে রাশিয়ার সেনারা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।খারকিভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ বলেন, হালকা সামরিক যান শহরে প্রবেশ করেছে।সিনেগুবভের বক্তব্যের আগে কিছু ফুটেজে দেখা গেছে কিছু রাশিয়ান সামরিক গাড়ি উত্তর-পূর্ব শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।সিনেগুবভ স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের নির্মূল করছে। বেসামরিক নাগরিকদের রাস্তায় না নামতে বলা হলো।ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং রাশিয়ান সীমান্তের ঠিক পাশেই খারকিভ শহরটি অবস্থিত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শহর মূলত একটি শিল্পাঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। | 3 |
সুধাংশুর কষ্টের কথা শামসুর রাহমান জানতেন। সে জন্যই তিনি লিখেছিলেন: 'সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা, স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।' তবু কবি তাঁকে অনুনয় করেছিলেন দেশ থেকে চলে না যাওয়ার জন্য। বলেছিলেন, 'তবু তুমি যেও না সুধাংশু।' শামসুর রাহমান স্বপ্ন দেখতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি ভেবেছিলেন নিশ্চয়ই সময় পাল্টাবে। নিশ্চয়ই একদিন নতুন সকাল এসে হাজির হবে দুয়ারে। বলেছিলেন, 'আকাশের নীলিমা এখনো হয়নি ফেরারি, শুদ্ধচারী গাছপালা আজও সবুজের পতাকা ওড়ায়, ভরা নদী কোমর বাঁকায় তন্বী বেদেনীর মতো। এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও পরাজিত সৈনিকের মতো সুধাংশু যাবে না।' কিন্তু কবির সে স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। আজও এ দেশে 'সংখ্যাগুরু' ও 'সংখ্যালঘু' শব্দগুলো জ্বলজ্বল করে। আজও এ দেশে সংখ্যালঘুর ঘর পোড়ে, সম্পদ লুট হয়, নারীর সম্ভ্রমহানি হয়, পুরুষেরা অপদস্থ হয়, মেয়েদের জোর করে বিয়ে করা হয়, জমি-বাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়, দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। স্বাধীনতার জন্য যে জাতির আন্দোলন সংগ্রাম চালিত হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের ভিত্তিতে একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্য, যে দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দীর্ঘ বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে, যে রাষ্ট্রের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে রচিত হয়েছিল এমন একটা সংবিধান, যার মূল সুর ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা আর সমাজবাদ তথা সাম্য, যে রাষ্ট্রটির হওয়ার কথা ছিল সবার জন্য সমান একটি আশ্রয়, সেই দেশ আজ যেন আজ উল্টো পথ চলছে। বাঙালি এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে সবাই নিজে স্বাধীনভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে, রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকবে না। বাঙালি চেয়েছিল এমন একটি সমাজ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকবে। থাকবে বাঙালি, পাহাড়ি, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-বাঁচবে একে অপরের সহযোগিতায়, সহমর্মিতায়। স্বাধীনতা লাভের কিছুকাল পরই সেই রাষ্ট্রেরই সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশের চিন্তায়, কর্মে, আচরণে সাম্প্রদায়িকতার উপাদান কীভাবে ঢুকল এবং এদের একটা অংশ সংখ্যালঘুর ওপর কেন নিপীড়নমুখী হয়ে উঠল, আর এই জনগোষ্ঠীর বাকিরা এই নিপীড়নের প্রতি কেন এতটা উদাসীন হয়ে গেল, তা এক গভীর গবেষণার বিষয় হতে পারে। একটা সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়, যদি সমাজ সেক্যুলার না হয় এবং একটা সেক্যুলার সমাজ গঠনের আগে তৈরি করতে হয় জনগণের মধ্যে সেক্যুলার মানস। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটেছে উল্টোটা। ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপে পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিপন্থী লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে, নারী ও বিধর্মীদের প্রতি ধর্মগুরুদের ফতোয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে সেক্যুলার মানস গড়ার পরিবর্তে গড়ে উঠেছে এমন একটা মানস, যা বিজ্ঞান ও যুক্তির পরিপন্থী এবং অনাধুনিক। লেখক, ব্লগার, প্রকাশক হত্যার পরপরই হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করার ও এর বিচারের আশ্বাসের পরিবর্তে যখন দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখে 'কোনো কটূক্তি সহ্য করা হবে না' জাতীয় মন্তব্য শোনা যায় তখন জনগণ যে বার্তাটি পায় তা সেক্যুলার রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে যায় না। বিভিন্ন অজুহাত তুলে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার পরও যখন এসবের বিচার হয় না তখন তখন অপরাধীরা আশ্বস্ত হয়। অপরাধীদের কাছে সরকারের অবস্থানটি পরিষ্কার হয়। একটা দেশের মানুষ কী রকম আচরণ করবে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী রকম হবে, তা নির্ভর করে সে রাষ্ট্রের ও সমাজের প্রিডমিন্যান্ট স্পিরিট তথা প্রধান চেতনাটা কী, তার ওপর। এই প্রধান চেতনাটা গড়ে ওঠে দেশের রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদির প্রভাবে। সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান সংখ্যাগুরুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, সংখ্যাগুরু কেন সংখ্যালঘু সমস্যা নিরসনে সক্রিয় হবেন? একটা দেশের প্রত্যেক নাগরিকই চান তাঁর দেশ একটা উন্নত, আধুনিক রাষ্ট্রে উন্নীত হোক। কারণ, তিনি যখন একটা উন্নত রাষ্ট্রের দিকে তাকান, তখন সেই দেশের পরিপাটি সুশৃঙ্খল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সমাজ ও পরিবেশ, উন্নত জীবনমান, চিকিৎসা শিক্ষার সুব্যবস্থা তাঁকে নিশ্চয়ই আকৃষ্ট করে এবং তখন তিনি ভাবেন, 'আহা আমার দেশটাও যদি ওই রকম হতো!' তাহলে এখন বুঝতে হবে, দেশ উন্নত কীভাবে হয়। উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো যে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের সব মানুষকে শামিল করতে হবে এবং উন্নয়নের ফলাফলও সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। না হলে উন্নয়ন অর্জন করা অসম্ভব, তা যতই চেষ্টা করা হোক না কেন। এই যে উন্নয়ন তত্ত্বের কথা বললাম, এটা অনেকটা বৈজ্ঞানিক সত্যের মতো। যদি আপনি শুধু নিজের জন্যও উন্নতি চান, আপনাকে এ সত্য মানতে হবে। কারণ, সামগ্রিক উন্নয়ন তথা সমাজের ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ছাড়া ব্যক্তির উন্নয়ন হয় না। ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা মানে তাদের দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা, দেশ গড়ায় তাদের মেধা ও শ্রম প্রয়োগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা-অতএব, উন্নয়ন ব্যাহত হতে বাধ্য। তা ছাড়া সংখ্যালঘু সমস্যার মতো একটা বার্নিং ইস্যু চলমান থাকলে দেশ, দেশের অর্থনীতি সুস্থ ধারায় চালিত হতে পারে না। তার মানে হলো, আপনি যদি নিজে সংখ্যালঘু বিদ্বেষীও হন, সমষ্টিগত জীবনের তথা আপনার নিজের উন্নতির স্বার্থে, আপনার নিজের জন্য একটা শান্তিপূর্ণ জীবনের স্বার্থে, আপনার সন্তানের জন্য একটা সুস্থ, সুন্দর, সভ্য সমাজে রেখে যাওয়ার স্বার্থেই আপনার উচিত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে কোনো অন্যায় ও অবিচারের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানো। দেশকে একটা উন্নত আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ব্যক্তির চিন্তার, কর্মের, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য, সমাজে সব মতের, সব ধর্মের, সব গোত্রের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অপরিহার্য-এই উপলব্ধি জনগণের মধ্যে জাগাতে হবে। এই উপলব্ধি সৃষ্টি করতে হবে যে ব্যক্তির চিন্তার, কর্মের, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যুক্তি-বুদ্ধির প্রসার ঘটে না, আর জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যুক্তি-বুদ্ধির প্রসার ছাড়া উন্নত, আধুনিক জীবন লাভ করা যায় না। এই উপলব্ধি সৃষ্টির জন্য দরকার ব্যাপক আধুনিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার, মতবিনিময়, লেখালেখি, আলোচনা, সংগঠন, বিতর্ক, আলোচনা, পথসভা, মিছিল ইত্যাদি সব মাধ্যম, ব্যাপক হারে, ব্যাপকসংখ্যক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের অংশগ্রহণ। ড. এন এন তরুণ রাশিয়ার সাইবেরিয়ান ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর ও সাউথ এশিয়া জার্নালের এডিটর অ্যাট লার্জ। [] | 8 |
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ২০ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত স্বামী মিরাজ জাফরের (২০) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আজ শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিয়ের কয়েক সপ্তাহের ব্যাবধানে গত রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সিডনির নর্থ প্যারামাট্টার পেনান্ট হিলস রোডের বাড়ি থেকে মেডিসিনের শিক্ষার্থী আরনিমা হায়াতের (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ভর্তি একটি বাথটাব থেকে আরনিমার মরদেহ উদ্ধার কররে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী মিরাজ জাফরের সম্পৃক্ততা বুঝতে পেরে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। গত সোমবার (৩১ জানুয়ারি) ব্যাংকটাউন পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করেন মিরাজ জাফর। টেম্প হাইস্কুলে এইচএসসিতে ৯৭ এর বেশি স্কোর করে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনিতে পড়তে যান আরনিমা। মা-বাবার কাছে সার্জন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। ২০০৬ সালে তার বাবা আবু হায়াত অস্ট্রেলিয়ায় গেছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে শিশু বয়সে সেখানে যান আরনিমা। অস্ট্রেলিয়ায় হায়াত দম্পতির দ্বিতীয় এক মেয়ের জন্ম হয়। জাফরকে বিয়ে করার পরিকল্পনা জানালে আরনিমার বাবা পুলিশের শরণাপন্ন হন। কিন্তু তখন তাকে জানানো হয়, কিছু করার নেই, কারণ তারা একে অপরকে ভালোবাসে। জাফরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ২০২১ সালের অক্টোবরে পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন আরনিমা। তখন থেকেই তিনি নর্থ প্যারাম্যাট্টার অ্যাপার্টমেন্টে জাফরের সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। | 6 |
সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ডিমের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, 'সমৃদ্ধ জাতি গড়তে হলে পরিপূর্ণ পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টিসম্মত খাবারের অন্যতম উপাদান ডিম। ডিমের প্রয়োজনীয়তা গ্রামে-গঞ্জেসহ সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন অনুধাবন করতে পারে, খাবারের শ্রেষ্ঠতম একটা উপকরণ ডিম। এই খাদ্য উপাদান যেন ব্যয়বহুল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যতটুকু ব্যয় হয় সেটা কীভাবে কমানো যায় সেজন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যৌথ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, ব্যয়ের কারণে ডিম যেন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে না যায়। ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহজলভ্য করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে হবে, স্বনির্ভর করতে হবে।' তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুণগত উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তিনি দেশের সব কিছুতেই টেকসই উন্নয়নের কথা বলেন। প্রতিবেশী দেশসমূহের তুলনায় বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের এগিয়ে যাওয়া বিস্ময়কর। এ খাতের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।' অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, 'পোল্ট্রি খাতের সমস্যা সমাধানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। করোনার সময় পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বার্ড ফ্লু সংক্রমণ থেকে পোল্ট্রি খাতকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, সে ধারা বজায় রেখে এ খাতকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পোল্ট্রি ও ফিশ ফিডের মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ করার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি। আমি আশ্বস্ত করতে চাই- পোল্ট্রি খাতকে বিকশিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে যত প্রকার সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, সেটা দেওয়া হবে। যাতে বাংলাদেশে এ খাত পিছিয়ে না পড়ে।' বিপিআইসিসি'র সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান ও এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিপিআইসিসি'র সহসভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী এবং বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ মহুয়া। এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পোল্ট্রি খাতের বিশেষজ্ঞ, বিপিআইসিসি, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা ও এফএও'র প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আজ ৮ অক্টোবর 'প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই'-এ প্রতিপাদ্যে সারাদেশে বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন হচ্ছে। | 6 |
শুধু ঘন জঙ্গল নয়, বন্য প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিনই ১৫ কিলোমিটার দুর্গম পথ হেঁটে চিঠি বিলি করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর এক ডাকপিয়ন ডি সিভান। টানা ৩০ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গেই তিনি কাজটি করে গেছেন। সম্প্রতি তিনি কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। কাজের প্রতি তার এই নিষ্ঠা দেখে অনেকেই হয়েছেন আপ্লুত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তার প্রশংসা করে নানা মন্তব্য করছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিভান নামের ওই ব্যক্তি টানা ৩০ বছর চিঠি নিয়ে তামিলনাড়ুর কুন্নুরের দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ছুটেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে। এজন্য তাকে প্রতিদিন হাঁটতে হয়েছে ১৫ কিলোমিটার পথ। চিঠি বিলি করতে গিয়ে ৬৬ বছরের সিভানকে অনেক সময় বন্য হাতি, সাপ, ভালুক এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও নিজের দায়িত্ব থেকে একদিনের জন্যও তিনি পিছু হটেননি। বরং চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন প্রতিদিনই। আইএএস অফিসার সুপ্রিয়া সাহু বুধবার এই ডাকপিয়নের কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর অবসরে যাবার কথা জানিয়েছে টুইটারে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'ডাকপিয়ন ডি সিভান কুন্নুর দুর্গম অঞ্চলে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঘন বনাঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। এজন্য তাকে বন্য হাতি, ভালুক, পিচ্ছিল স্রোত এবং জলপ্রপাত পার হতে হয়েছে প্রতিদিন। গত সপ্তাহে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত ৩০ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।' অনেকে কাজের প্রতি সিভানের নিষ্ঠা দেখে তার প্রশংসা করছেন। কেউ আবার সেবার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ এমন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুরষ্কার দেওয়ার কথাও লিখেছেন। সূত্র: এনডিটিভি ও নিউজ এইট্টিন | 3 |
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নে ধর্ম মামা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাঙ্গালা গ্রাম থেকে ধর্ষক ধর্ম মামা সাইফুল মণ্ডলকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ। আটক সাইফুল মণ্ডল দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রী। এ ব্যাপারে বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন ওই মেয়েটির বাবা। অভিযোগে জানা গেছে, সাইফুল মণ্ডলের সঙ্গে ধর্ম ভাই সম্পর্ক করে ওই শিক্ষার্থীর মা। সে সুবাধে শিক্ষার্থী সাইফুলকে মামা বলে ডাকতো। এ সুযোগে লম্পট সাইফুল সম্প্রতি ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। পরে বিষয়টি সাইফুল ওই মেয়েকে জানিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই স্কুলছাত্রী। এক সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। লম্পট সাইফুল মেয়েটিকে অন্যত্র বিয়ে দেবার প্রলোভন দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ধর্ষক সাইফুল মণ্ডল বিয়ে, জমি ও টাকার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু গ্রামবাসী বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায়। এ ঘটনা জানার পর পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশে ধর্ষক সাইফুলকে আটকে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। গত দুই দিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোরে উপজেলার বাঙ্গালা গ্রামের তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ধর্ষক সাইফুল মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর এসপি স্যারকে অবগত করি। এরপর তার নির্দেশে অভিযুক্ত সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। | 6 |
ফের চর্চায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার)। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ১-১ হওয়া বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে লিয়োনেল মেসির গোল নাকচ হয়ে যায় ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে। তার পরেই ফুটবল বিশ্বে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি দাবি করেছেন, ভার নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হোক। একটি লম্বা কাউন্টার অ্যাটাক শুরু হওয়ার পরে প্রায় ১২ মিটার দূর থেকে মেসি গোল করেন। কিন্তু খেলা থামিয়ে দিয়ে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে থাকেন রেফারি। কারণ? আক্রমণ শুরু হওয়ার সময়ে আর্জেন্টিনার অর্ধেই না কি একটি ফাউল হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মেসির গোলটি বাতিলও করে দেওয়া হয়। যে কারণে জেতার কাছাকাছি এসেও জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। গোড়ালিতে চোট নিয়েই মেসি দেশের জার্সিতে মাঠে নামেন। তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট পেয়ে তাঁরাই এখনও লাতিন আমেরিকা গ্রুপে শীর্ষে। ক্ষিপ্ত স্কালোনি বলেছেন, ''ভিডিও প্রযুক্তির প্রয়োগে ভারসাম্য আনা দরকার। এটা ভাল না খারাপ সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না'' যোগ করেন, ''আমাদের হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হল কারণ আর্জেন্টিনা জেতার জন্য সব কিছুই করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিলাম। এই দলটা জেতায় বিশ্বাস করে। আশা করি, সবাই সেটা বুঝতে পারছে।'' দু'বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ ৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত ছিল। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই তারা পিছিয়ে পড়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন অ্যাঙ্খেল রোমেরো। ২০১৪ এবং ২০১৮-তে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি প্যারাগুয়ে। এ বারে কিন্তু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের জন্য তারা এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে অপরাজিত। তাদের রয়েছে পাঁচ পয়েন্ট। আর্জেন্টিনাও অপরাজিত এবং সাত পয়েন্ট রয়েছে সংগ্রহে। মেসিদের পরের ম্যাচ আগামী মঙ্গলবার পেরুর সঙ্গে। প্যারাগুয়ে এর পর খেলবে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে না পারা বলিভিয়ার বিরুদ্ধে। রোমেরোর গোলে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরে আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেস সমতা ফেরান ৪১ মিনিট। তার কিছুক্ষণ পরেই মেসির গোল বাতিলের ঘটনা ঘটে। যে বিতর্কের রেশ থেকে যায় ম্যাচের পরেও। তবে আর্জেন্টিনার কাছে বড় ধাক্কা মিডফিল্ডার এক্সেসিয়েল পালাসিয়োসের হাঁটুতে চোট পাওয়া। আগামী এক মাস সম্ভবত তিনি খেলতে পারবেন না। যার অর্থ পেরুর বিরুদ্ধে তাঁকে পাবে না আর্জেন্টিনা। উদ্বেগ রয়েছে মেসিকে নিয়েও। সম্ভবত চোটের জন্যই এ দিন তাঁর খেলায় প্রত্যাশিত ছন্দ ছিল না। এ বারের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তিনি একটি মাত্র গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। | 12 |
জমে উঠেছে ইউরো ২০২০-এর লড়াই। জমজমাট নকআউট পর্বে বাংলাদেশ থেকেই চোখ রাখছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ মারুফুল হক। সেই দেখা থেকেই প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য তাঁর বিশ্লেষণ- ইউরোর শেষ আটের প্রথম দিনে আজ শেষ হাসি হাসবে কারা? স্পেনকে এগিয়ে রাখছি সুইসদের বিপক্ষে। ইতালি-বেলজিয়াম পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। গত দুই ম্যাচে স্পেন ১০ গোল করেছে। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই দলটির যে কেউ গোল করতে পারছে। পজেশনাল ও পাসিং ফুটবলের সঙ্গে প্রান্ত বদল করছে স্পেন। এটিকে আমি বলব, আধুনিক টিকিটাকা। কোচ লুইস এনরিকে টিকিটাকার সঙ্গে প্রান্ত বদলের ধারা যোগ করেছেন দলে। ফেরান তোরেস ও পাবলো সারাবিয়া ঘন ঘন প্রান্ত বদল করছে। স্পেনের সামনে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো তাই গোলে পরিণত হচ্ছে। আজকের ম্যাচেও এটা অব্যাহত থাকতে পারে। বল পজেশনের সঙ্গে লম্বা পাসের বৈচিত্র্য এসেছে স্পেনের খেলায়। এই ইউরোতে এখন পর্যন্ত গড়ে ৭৫ শতাংশ বল পজেশন স্পেনের এবং প্রায় ৯০ শতাংশ পাসই সঠিক। মাঝমাঠে খেলা তৈরির পাশাপাশি পাসের রাস্তাগুলো নিপুণভাবে খুলতে পারেন সের্হিও বুসকেতস। নিজেদের রক্ষণের সামনে একটা পর্দা হিসেবেও কার্যকর তিনি। আজও বুসকেতস ছন্দে থাকলে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। সুইজারল্যান্ড গত ম্যাচে ১-৩ গোলে পিছিয়ে থেকেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২ গোল ফেরত দিয়েছে। এটা তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে জাকার অনুপস্থিতি ভোগাতে পারে সুইসদের। জাকার জায়গা নেওয়ার মতো খেলোয়াড় সুজারল্যান্ড দলে নেই। গত ম্যাচে দেখেছি, কান্তে একবারও বল দখলের লড়াইয়ে জাকার সঙ্গে জেতেননি। জাকা নিচ থেকে খেলাটা তৈরি করেন এবং চূড়ান্ত পাসগুলো দেন। তাঁর জায়গায় অন্য কেউ ভালো করতে পারলে হয়তো সুযোগ থাকবে সুইসদের। সুইস রাইট ও লেফটব্যাক গত ম্যাচে প্রতিনিয়ত ওভারল্যাপ করেছে। আজও তারা সেটা পারলে সুইসদের ভালো সম্ভাবনা থাকবে। সুইস কোচ পেতকোভিচের খেলোয়াড় বদল এবং ম্যাচ রিডিং দারুণ লাগে আমার। বেলজিয়ামের ডি ব্রুইনা ও হ্যাজার্ডের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তবু কোচ মার্তিনেজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হয়তো দেখবেন। বেলজিয়াম দলে এই দুজনের প্রভাব অনেক। তবে তারা না থাকলে লুকাকু হবেন বেলজিয়ামের মূল অস্ত্র। সে ক্ষেত্রে কারাসকো ও মের্তেনস খেলতে পারেন। প্রতি-আক্রমণে তাঁরা দুজন কতটা কার্যকর হবেন, তা নিয়ে আমার সংশয় আছে। গত বিশ্বকাপ থেকে দেখে আসছি, বেলজিয়ামের ট্রেডমার্ক প্রতি-আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ছারখার করা। এই কাজে ডি ব্রুইনা-লুকাকুর একটা সমন্বয় থাকে। তবে ডি ব্রুইনা না থাকলে প্রতি-আক্রমণগুলো অতটা ক্ষুরধার না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের রাইট আর লেফটব্যাকের ধারাবাহিকভাবে ওপরে যাওয়া হয়তো ঠিক হবে না। কোচ মার্তিনেজ সম্ভবত ৩-৪-৩ ফরমেশনেই শুরু করবেন আজও। খেলোয়াড়দের ৯০ মিনিট লড়াইয়ের মধ্যে রাখতে পারছেন তিনি। নিজের কৌশলটা মাঠে কার্যকর করার ব্যাপারে খেলোয়াড়দের ওপর তাঁর আস্থা আছে। বেলজিয়ামের প্রতি-আক্রমণ রুখতে ইতালির মাঝমাঠে জর্জিনিওর বড় ভূমিকা চাই। তবে ইতালি দলে গভীরতা অনেক। তাদের হয়তো লুকাকু, ডি ব্রুইনা বা হ্যাজার্ডের মতো খেলোয়াড় নেই। তবে এ পর্যন্ত দলটির ৯ গোলের ৬টিই করেছেন বদলি খেলোয়াড়েরা। এটি বড় শক্তি ইতালির। তা ছাড়া ঐতিহ্যবাহী রক্ষণনির্ভর ফুটবল ছেড়ে আক্রমণাত্মক ও পজেশনাল ফুটবল খেলছে মানচিনির দল। খেলোয়াড়দের খোলস ছেড়ে বের করে আনতে তাঁর জুড়ি নেই। তবু আজ তাঁর বড় পরীক্ষাই নেবে বেলজিয়াম। | 12 |
ফ্রান্সের নাগরিক লুসিলা র্যানডন ইউরোপের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। ১১৭তম জন্মদিন উদ্যাপনের কয়েক দিন আগে তিনি পেলেন সুখবর। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১৯৪৪ সাল থেকে পুরোপুরি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক হিসেবে নিযুক্ত হন লুসিলা। এর সঙ্গে তাঁর নামও বদলে যায়। পরিবর্তিত নাম হয় সিস্টার আঁন্দ্রে। ১৬ জানুয়ারি লুসিলা র্যানডন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু এরপর তাঁর শরীরে করোনার মারাত্মক কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি, এটার (করোনা) বিরুদ্ধে জয়ী হবেন তিনি। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল তুলনের একটি অবসরোত্তর সরকারি ভবনে থাকেন লুসিলা। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অন্য বাসিন্দাদের থেকে একেবারে আইসোলেশনে চলে যান। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। বয়স বেশি হওয়ায় লুসিলা চোখে দেখেন কম। চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে। এরপরও তাঁর করোনা জয় সবার কাছেই বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। ওই অবসরোত্তর সরকারি ভবন সান্তা ক্যাথরিন লেবারের মুখপাত্র ডেভিড টাভেলা বলেছেন, তিনি (লুসিলা) খুবই সৌভাগ্যবান। এত বয়সেও তিনি করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে টাভেলা বলেন, 'তিনি তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাকে কিছু জানাননি। কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন। যেমন ঘুমাতে যাওয়া ও খাবারের সময়সূচি পরিবর্তন করা যায় কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন তিনি।' টাভেলা আরও বলেন, তিনি তাঁর রোগের বিষয়ে ততটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তবে তিনি অন্য বাসিন্দাদের বিষয়ে খুবই উদ্বেগে ছিলেন। করোনার বিষয়ে ভয় পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রান্সের একটি টিভি চ্যানেলকে লুসিলা বলেন, 'না, আমি ভয় পাচ্ছি না। কারণ, আমি মৃত্যুতে ভয় পাই না।' লুসিলার জন্ম ১৯০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। জেরন্টোলজি রিসার্চ গ্রুপের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের তালিকায় লুসিলা ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি। আর বিশ্বে তিনি দ্বিতীয়তম প্রবীণ ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার তিনি ১১৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করবেন। তবে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় এ উদ্যাপন হবে খুব ছোটখাটোভাবে এবং ঘরোয়া পরিবেশে। | 3 |
করোনারোধে দায়িত্ব পালনকালে জীবন দিলেন আরও এক পুলিশ সদস্য। করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী এ যোদ্ধা হলেন নায়েক আল মামুনুর রশিদ (৪৩)। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ১১ বীর সদস্য করোনা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করলেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানায়। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার মরদেহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। | 6 |
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আক্তার হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহ কুতুবী এ রায় দেন। আসামি মো. আক্তার হোসেন কমলনগরের চর লরেন্স এলাকার বেচু ব্যাপারীর ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, চর লরেন্স গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে বিবি সাজুর সাথে একই এলাকার আক্তার হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী সাজুকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে আক্তার হোসেন তার স্ত্রী সাজুকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ | 6 |
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে কৈতক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাগলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।নিহত যুবকের নাম উজির মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার শত্রুমর্দন গ্রামের মৃত কাছা মিয়ার ছেলে। গরু চুরির মামলায় তাকে আটক করেছিল পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর পুলিশের নির্যাতনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন এলাকায় গরুচোর সন্দেহে অভিযান চালায় শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশ। ওই দিন উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন উজির মিয়াকে আদালতে পাঠানো হলে জামিন পান তিনি। জামিন পাওয়ার ১০ দিন পর আজ সোমবার তিনি মারা যান।পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ উজিরকে ধরে নিয়ে থানায় নির্যাতন করেছে। এরপরের দিন তাঁকে একটি চুরির মামলায় আদালতে পাঠালে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরপর থেকে উজির মিয়া গুরুতর অসুস্থ হন। এ অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি মারা যান।এদিকে উজির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দুপুর ২টা থেকে উপজেলার পাগলা বাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে যায়। লম্বা যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশের জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।নিহত যুবকের ছোট ভাই গোলাম সারায়োর মাসুম বলেন, 'পুলিশ আমার নির্দোষ ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা ভাই একটা রাতও ঘুমাতে পারেনি। শুধু যন্ত্রণায় চিৎকার করেছে।'নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, উজির মিয়াকে একটি গরু চুরির মামলায় গরুচোর সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ওই দিন পরিবারের লোকজনদের উপস্থিতিতে আদালতের মাধ্যমে তিনি জামিন মুক্ত হন। তখন আদালতে নাজির মিয়া সুস্থ ছিলেন।দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোক্তাদির আহমদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। | 6 |
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে পলাশ মিনাকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫০ হাজার জারিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী মশিয়ার রহমান এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাশ মিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ঠান্ডু সরদারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় আসামি পলাশ মিনা। রাতে ঠান্ডু সরদার বাড়িতে ফিরে না আসায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন দুপুরে ইতনা বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের ক্ষেত থেকে ঠান্ডুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামি ভুক্তভোগী ঠান্ডু সরদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় মামলা করেন নিহত ঠান্ডুর মা গোলাপী বেগম বাদী। | 6 |
নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় তখন রুশ সাহিত্য নিয়ে মেতে আছেন। পড়েন সিটি কলেজে আইএ, আর পুলে লেনের একটি বাড়িতে মাস্টারি করেন। এর দু-তিন বাড়ি পরেই যতীন্দ্রমোহন বাগচীর বাড়ি। বাগচী-কবির বাড়িতে সে সময় কলকাতার সেরা সান্ধ্য মজলিশ বসত। নৃপেন শুধু ভাবেন এই মজলিশে ঢোকার সুযোগ কি কোনো দিন হবে তাঁর!একদিন নৃপেনের ছাত্র বলল, 'বাগচীবাড়িতে আজ "বিদ্রোহী"র কবি নজরুল আসবেন!' সে কথা শুনে নিজের অলক্ষ্যেই নৃপেন ঢুকে পড়েছেন বাগচীবাড়িতে। নজরুলের গানে ভেসে যাচ্ছে আসর। এরপর পুশকিন, তলস্তয়, গোগল, দস্তয়ভস্কিকে নিয়ে আলোচনা! কেউ কোনো নামে ভুল করলে নৃপেন তা সবিনয়ে সংশোধন করে দিতে লাগলেন। নজরুলের চোখ পড়ল নৃপেনের দিকে।আসর শেষে ঘর থেকে বের হয়েছেন নৃপেন। পেছন থেকে কে যেন ডাকল তাঁকে। আরে! স্বয়ং নজরুল! সঙ্গে মোসলেম ভারতের কর্ণধার আফজালুল হক।নজরুল বললেন, 'আপনার সঙ্গে আলাপ করতে চাই।''তাহলে আসুন, হাঁটি।'নৃপেন থাকতেন কলকাতার উপান্তে চিংড়িঘাটায়। গল্প করতে করতে একেবারে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত চলে গেলেন নজরুল আর আফজাল। এবার নৃপেন বললেন, 'আপনারা পথ চিনে ফিরতে পারবেন না। চলুন, এগিয়ে দিই।' এ কথা বলে নজরুলের আস্তানা কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত চলে এলেন নৃপেন। তখন নজরুল বললেন, 'চলুন, এবার আপনাকে এগিয়ে দিই। পথ তো চিনে ফেলেছি।' সেখানেই নজরুল নৃপেনকে বললেন, ধূমকেতু নামে একটি সাপ্তাহিক বের করছেন। নজরুল নৃপেনকে চাইলেন পত্রিকায়। বললেন, 'আসুন, দেশের ঘুম ভাঙাই, ভয় ভাঙাই।'নৃপেন উৎসাহিত হয়ে বললেন, 'শুভ কাজে দেবতার কাছে আশীর্বাদ ভিক্ষা করবেন না?'নজরুল টেলিগ্রাম করলেন রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথ কবে কাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন? ধূমকেতুর জন্য তিনি লিখে দিলেন, 'আয় চলে আয়রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু...'।সূত্র: অচিন্ত্যকুমার সেন, কল্লোল যুগ, পৃষ্ঠা ৩৩-৩৫ | 6 |
ঢাকা: আগামী ২৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। ফলে ঈদে যারা বাড়ি গিয়েছিলেন তাদের আগের মতোই ঝক্কিঝামেলা করে ফিরতে হচ্ছে। ঈদের পরদিন থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ভিড় করছেন ফেরিঘাটগুলোতে। লঞ্চ বন্ধ থাকায় চিত্রটা সেই ঈদের আগের মতোই। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি তোয়াক্কা না করেই কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ।আজ রোববার সকালে মাওয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায় জনস্রোত। গণপরিবহন বন্ধ রেখে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোয় চরম ক্ষুব্ধ রাজধানীতে ফিরতি যাত্রীরা।করোনারে ভয় কইরা লাভ আছে? উপরে আল্লাহ আছে না? ঈদে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে এভাবেই বলেন আসিফ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদে ফেরিতে করে পদ্মা পার হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন আসিফের মতো অনেকে। আজ একইভাবে ফিরছেন তারা। বরিশাল থেকে ফেরা আসিফ বলেন, কাল থেকে আবার লকডাউন। তাই চলে আসছি। কাজ কাম সব ঢাকায়। ঈদে মা-বাবার সাথে দেখা করতে গেছি। করোনার ঝুঁকির কথা বললে এই যুবক বলেন, ভয়ের কী আছে? উপরে আল্লাহ আছে না?গণপরিবহন বন্ধ রাখায় মাদারীপুর থেকে আসা শামীমা আক্তার ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, সরকার লকডাউন দিয়া আরও বিপদ বাড়াইছে। গাড়িতে ভালোমতে যাইতে পারতাম। কিন্তু এখন এত মানুষের মধ্যে করোনা আরো বেশি ছড়াইবো। আমরা কী করুম? আমগো বাড়িঘর আছে। ঈদে না গেলে তো হয় না!করোনা সংক্রমণ রোধে বারবার লকডাউন বর্ধিত করার নীতি নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ। ফরিদপুর থেকে ফেরা দুলাল বলেন, করোনা আমাদের জন্যই। মরলেও আমরা মরমু। বাঁচলেও আমরা বাঁচমু। সরকারের কী আসে যায়! | 6 |
পিরোজপুর সদর উপজেলার ধুপপাশা কেরাতুল হাফেজীয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে ৪ দিন আগে বের হয়ে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ রেজওয়ান আহম্মেদ রাফি (১৫) জেলার সদর উপজেলার পূর্ব শিকারপুর এলাকার কাবিল হাওলাদারের ছেলে।রাফির বাবা কাবিল হাওলাদার নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমি গত ২২ নভেম্বর ধুপপাশা কেরাতুল হাফেজীয়া মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার ছেলে রাফি ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় মাদ্রাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়। তবে সে বের হওয়ার পর বাড়িতে আসেনি। আমি অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েও তাকে পাইনি। পরে পিরোজপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।'পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় রাফির বাবা পিরোজপুর সদর থানায় একটি জিডি করেছেন। পুলিশ নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে। | 6 |
ঈদের ছুটির সময় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে আট শতাধিক পুলিশ কাজ করবে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মির্জাপুরের গোড়াইয়ে উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে ঈদের আগেই। তাই মহাসড়কের এ অংশে নির্বিঘ্নেযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। এরপরও ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যানজটের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সড়কটুকু। পুলিশ, পরিবহনের চালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন এখন কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়কের কারণে দ্রুত চলে আসতে পারে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুই লেনের সড়ক। আর সেতুটিও দুই লেনের। যানবাহন চার লেনের সুবিধায় দ্রুত এলেঙ্গা পর্যন্ত এসে আটকে যায় দুই লেনের মুখে। সেখান থেকেই যানজটের শুরু হয়। এ ছাড়া সেতুতে টোল দিতে গিয়েও যানজট লেগে যায়। কয়েক বছর ধরে মূলত এ কারণেই যানজট হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২-১৩ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের আগে যানবাহন পারাপার হয় ৩০-৩২ হাজার। স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক যানবাহন পারাপার হওয়ায় দুই লেনের সড়কে যানজট লেগে যায়। সেতুর পশ্চিম প্রান্তেও (সিরাজগঞ্জ অংশে) দুই লেনের সড়ক। এ ছাড়া সেখানে কয়েকটি সরু সেতু রয়েছে। এ কারণে পশ্চিম প্রান্তে যানজট লেগে সেতু অতিক্রম করে টাঙ্গাইল অংশ পর্যন্ত চলে আসে। গতকাল রোববার এই মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চার লেন সড়ক। সড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন সব চালু আছে। যানবাহন দ্রুত গতিতে চলাচল করছে। মির্জাপুরের গোড়াই ফ্লাইওভারের ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অমিত চক্রবর্তী জানান, এই ফ্লাইওভার ঈদের ১০ দিন আগে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তাই এই সড়কে এলেঙ্গা পর্যন্ত আর কোনো সমস্যা থাকছে না। গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, পুলিশ মহাসড়কসংলগ্ন সোহাগপুর এলাকায় বাজার বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে যে ব্যবসায়ীরা ইট-বালু রেখে ব্যবসা করছেন, তাঁদের এগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই এই অংশে যানজট হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঈদের ছুটির সময় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে আট শতাধিক পুলিশ কাজ করবে। এ ব্যাপারে একাধিক সভা করা হয়েছে। | 6 |
অভিনেতা ও নির্মাতা ছাড়াও গল্পকার হিসেবে পরিচিতি আছে তৌকীর আহমেদের। তাঁর লেখা গল্পে এ পর্যন্ত অসংখ্য নাটক নির্মিত হয়েছে। তিনি যে নাটকগুলো বানান, সেগুলোর গল্প-চিত্রনাট্য লেখেন তৌকীর নিজেই। এবার তৌকীর আহমেদের গল্প নিয়ে তৈরি হলো ওয়েব ফিল্ম। নাম 'ড্যাফোডিল'। সম্প্রতি এর শুটিং শেষ হয়েছে। ছবিটি বানিয়েছেন আরিফ খান। 'ড্যাফোডিল' ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, সানজিদা প্রীতি, মৌসুমী মৌ প্রমুখ। আত্মপ্রেমের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে ছবিটি। কেউ কেউ শুধু নিজেকে নিয়েই মশগুল থাকে, সব সময় আত্মঅহংকারে ভোগে; এ বিষয়টিই উঠে আসবে ছবির গল্পে। ২৩ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জ-এ প্রকাশ পাবে ওয়েব সিরিজ 'ড্যাফোডিল'।তৌকীর আহমেদ নির্মিত সর্বশেষ ছবি 'স্ফুলিঙ্গ' মুক্তি পেয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। মাহমুদ দিদারের 'বিউটি সার্কাস', মানিক মানবিকের 'ছেলেটি অদ্ভুত'সহ তৌকীরআহমেদ অভিনীত কয়েকটি ছবি আছে মুক্তির অপেক্ষায়। এ ছাড়া শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তৌকীর আহমেদ। | 2 |
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিচয়দানকারী এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, ব্যক্তিগত সহকারী, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পরিচয়ে মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগর চানকিরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে শেখ আকাশ আহমেদ শরীফ ওরফে শেখ আকাশ ইবনে যুবরাজ (২৬) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরের দূর্গাপুর গ্রামের মো. ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি'র উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নুরে আলম জানান, গ্রেফতার শরীফ উদ্দীন নিজেকে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী, বিশেষ সহকারী, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বেঙ্গল গ্রুপের পরিচালক, সময় টিভির সাংবাদিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন), এফবিসিসিআই'র পরিচালক হিসেবে সিআইপি, ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার (এডমিন) ও রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। তিনি আরো জানান, গ্রেফতার শরীফ উদ্দীনের কাছ থেকে চারটি আইডি কার্ড (সময় টিভির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী, সিআইপি, কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ), দুইটি মোবাইল ফোনসেট, একজোড়া হ্যান্ডকাফ, প্রধানমন্ত্রীর নামসহ একটি সিল, একটি প্রাইভেটকার, ২২০ পিস ইয়াবা, তিনটি স্টিকার (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোগোসহ, বেঙ্গল গ্রুপ ও সময় টিভির) জব্দ করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ও ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে তার এডিট করা ছবি পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে, কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মাদক, প্রতারণার অভিযোগে টঙ্গী থানায় ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ শেষে গুনাহমুক্ত জীবন ও মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি কামনা করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রায় সব মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়। বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেমি নামাজ পূর্ব খুতবার বয়ানে মাহে রমজানের হক আদায় করে রোজা রাখার মাধ্যমে গুনাহমুক্ত জীবনযাপন করার জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানিয়ে করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের রোজা রেখে ইফতারের পূর্বে দোয়া করার আহ্বান জানান। পবিত্র হাদিসের উদ্বৃতি দিয়ে মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেমি বলেন, মাহে রমজানে হক আদায় করে আমাদের রোজা রাখতে হবে। রোজার হক হচ্ছে গুনাহমুক্ত জীবনযাপন করা। কিন্তু রোজা রাখছেন গুনাহ করছেন, সুদ খাচ্ছেন এই রোজা কোনো কাজে আসবে না। পরকালে ঢাল হবে না, বরং তা জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরুপ। এই রোজা পরকালে বান্দাহকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন। একমাত্র রোজার প্রতিদান আল্লাহপাক স্বয়ং নিজ হাতে দিবেন। তাই রোজার রেখে মিথ্যা পরিহার করতে হবে, গুনাহমুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মুসল্লিদের তওবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি সারা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। কখন এই মহামারি থেকে মুক্তি পাবো কেউ জানে না। বিপদমুক্ত হতে হলে বিশুদ্ধ নিয়তে আমাদের তওবা করতে হবে। আর রোজা রেখে তওবা করতে পারলে আল্লাহ আমাদের তওবা কবুল করবেন। বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এদিকে, কঠোর লকডাউনের কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতে পারেননি মুসল্লিরা। ফলে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। জুমার নামাজে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক ফাঁকা ছিল মুসল্লিদের চলাফেরা ও অবস্থান। মূল চত্বর ছাড়া বারান্দা সিঁড়ি-প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে খালি ছিল। অন্যান্য জুমার ন্যায় মাকেট চত্বর বা আশেপাশে কাতার করতে হয়নি মুসল্লিদের। সরেজমিনে দেখা যায়, ভেতরে একটির পর একটি কাতার ছেড়ে মুসল্লিরা বসেছেন। এছাড়া বেশিরভাগ কাতারেই দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হচ্ছে। অজুখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি আগত মুসল্লিদের বেশির ভাগ অংশকেই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে দেখা গেছে। হাতে ছিল জায়নামাজও। তবে, বায়তুল মোকাররমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুমার নামাজ আদায় হলেও রাজধানীর পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে ছিল উল্টো চিত্র। পাড়া-মহল্লার এসব মসজিদে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কাই ছিল না। | 6 |
চট্টগ্রামে 'জিয়া স্মৃতি জাদুঘর'-এর নাম পরিবর্তন ও ঢাকায় 'জিয়ার সমাধি' সরিয়ে ফেলতে সরকার ফের ষড়যন্ত্র শুরু করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হিংস্রাশ্রয়ী সরকার বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের উৎস স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে নিয়ে এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শেরে বাংলা নগররে তার মাজার সরিয়ে ফেলার নীলনকসা বাস্তবায়ন শুরু করার পর এবার চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দখল করতে মাছে নেমেছে তারা। গতকাল নামফলক কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এটা শুধু নোংরামিই নয়, কাপুরুষতাও। শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার অর্থই হলো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে অপমান করা। রিজভী বলেন, জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলেও হৃদয়ের ওপর কোনো হুকুম চলে না। জিয়াউর রহমান কেবল কোনো ব্যক্তি নন, তিনি জাতীয়তাবাদী দর্শন ও আর্দশের পিতা। জনগণের প্রেরণার উৎস। তার নাম বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। কোনো ষড়যন্ত্র তাকে দেশের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, আমি সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, এই আঘাত দেবেন না। এটা নানাভাবে নানা কারণেই প্রত্যাখ্যাত হিসেবে আপনার কাছে ফিরে যাবে। রাষ্ট্রশক্তির হিংস্র আক্রমণকে প্রতিহত করে আপনাদের কালো হাত ভেঙে দেবে দেশের মানুষ। চলমান অধিকারের যুদ্ধে আপনাদের অনাচারের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেবে জনগণ। সময় ঘনিয়ে আসছে। আপনাদের উন্মক্ততার যবনিকাপাত ঘটতে সময় লাগবে না। গণতন্ত্র মানেই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানেই, কথা বলার স্বাধীনতা মানেই জিয়াউর রহমান। তাকে কালি দিয়ে মুছবেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে মনে লেখা নাম তো কালি দিয়ে মুছতে পারবেন না। আপনাদের রাষ্ট্রশক্তি আছে, আপনাদের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব আছে কিন্তু ওই বন্দুক দিয়ে মানুষের হৃদয়ের সেই নাম কি করে মুছবেন আপনারা? মানুষের অন্তরের জিয়াউর রহমানের যে সুর বাজছে তা কখনোই কোনো দিন মুছে ফেলতে পারবেন না। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক এবং প্রযোজকের ভূমিকাতেও দেখা গেছে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে এবার আরও একটি দিক প্রকাশ্যে আসতে চলেছে এই বলিউড সুপারস্টারের খুব শীঘ্রই নিজের মিউজিক কোম্পানি চালু করতে চলেছেন তিনি গানের প্রতি সালমানের ভালবাসার প্রমাণ মিলেছে 'কিক', 'হিরো' এর মতো ছবিতে নিজের গলায় গান গেয়ে ফ্যানদের মন জয় করেছেন এই সুপারস্টার 'ম্যায় হু হিরো তেরা', 'হ্যাংওভার' এর মতো গানগুলি সুপারহিট হয়েছে 'এক থা টাইগার' এবং 'বজরঙ্গি ভাইজান' ছবির পর টিউবলাইট ছবিতে পরিচালক কবীর খানের সঙ্গে তৃতীয়বার জুটি বাঁধছেন সলমন ২০১৭ সালের ঈদে মুক্তি পাবে ছবিটি সালমানের এই ছবিতে এক ঝলক দেখা পাওয়া যাবে বলিউড বাদশা শাহরুখেরও
বিডি-প্রতিদিন/ ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৮ | 2 |
বাংলাদেশে ডেঙ্গু মহামারিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি' শীর্ষক এ সভা হয়। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এই কি বিতর্কিত করার বিষয়? এটা কি বাংলাদেশ ও বর্হিবিশ্বের মানুষ জানে না? তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে, মানুষের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা কেড়ে ক্ষমতাসীনরা মনে করেছিল, তারা দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু দেশ তো চলছে না। আর আজকে যখন দেশ চলছে না, তখন গুজব ও বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের বাহানা কথা বলা হচ্ছে। আজকে বাংলাদেশের কোনো আইনের শাসন নেই মন্তব্য করে খসরু বলেন, একটি দেশের প্রধান বিচারপতিকে জোর করে চাকরিচুত্য করা হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক আছে? জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম মিলনায়তনে এই সভা হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস, ড. এমতাজ হোসেন, জিয়া পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ প্রমুখ। | 9 |
কাপুর পরিবারে বউ এবং মেয়েদের অভিনয় জগতে আসার রীতি ছিলো না। এমনকি নিষেধাজ্ঞাও ছিল, তা সত্ত্বেও মা ববিতার হাত ধরে অভিনয় জগতে পা রাখেন কারিশমা। অভিনয় দিয়ে নিজের প্রমাণ দিয়ে সফল হন পেশাগত জীবনে। কারিশমা সাফল্যের একেবারে শীর্ষে থাকার সময়ই ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরকে ২০০৩ সালে বিয়ে করেন। তারপর সংসার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে নেন। পরে নতুন করে অভিনয় জগতে ফিরতে চাইলেও দর্শক তাকে গ্রহণ করেনি। তারকাদের মানানসই পোশাক, খাবার, ছেলে মেয়েদের স্কুল এবং টিউশন খরচ-- কোনও কিছুর সঙ্গেই আপস করতে হয়নি তাকে। আগের মতোই বিলাসিতাকে সঙ্গী করে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। বিলাসবহুল জীবন কাটানোর জন্য বড় অঙ্কের উপার্জনের প্রয়োজন। অথচ খরচ বহন করার জন্য কোনও ছবিই তার হাতে নেই। তাহলে কীভাবে এই বিশাল খরচের ভার কারিশমা বহন করছেন? জানা গেছে, মা ববিতা এবং বাবা রণধীর কাপুরের যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। যা কারিশমা এবং কারিনা, ২ বোনের মধ্যেই ভাগ হবে পরবর্তীকালে। তার উপর ২০১৬ সালে স্বামী সঞ্জয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর খোরপোষের মামলা করেছিলেন কারিশমা। ২ ছেলেমেয়ের জন্য সঞ্জয়কে আলাদা করে ১৪ কোটি রুপি দিতে হয়েছিল। এছাড়া কারিশমার থাকা-খাওয়ার খরচ হিসাবে প্রতি মাসে ১০ লাখ রুপি করে সঞ্জয়কে দিতে হয়। নিজের খরচ এবং ছেলেমেয়ের স্কুল-টিউশনের খরচ এই টাকা থেকে অনায়াসেই উঠে আসে কারিশমার। ফলে এ নিয়ে ভাবতে হয় না তাকে। এদিকে, কারিশমা অভিনয় জগতে সক্রিয় না থাকলেও বোন কারিনার থেকেও তার ব্যস্ততা অনেক বেশি। একটি শো-য়ে কারিনা নিজেই এ কথা জানিয়েছিলেন। কারিশমা আসলে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। সেই সমস্ত সংস্থার বিজ্ঞাপনী প্রচারের মুখ কারিশমাই। সেখান থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে চলে আসে তার। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
চারঘাটে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হলিদাগাছী আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভায়া বেলঘড়িয়া পর্যন্ত ৮ দশমিক ২২০ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ চলমান আছে। নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে কামাল অ্যাসোসিয়েট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।দরপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ৯ আগস্ট। শুরুর পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। বন্ধ থাকার পর ঠিকাদার নিম্নমানের ইটের সুরকি ফেলে কাজ শুরু করেন। বাধা দেন এলাকাবাসী। নিম্নমানের ইটের ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু ফল মেলেনি। গতকাল সকালে শ্রমিকেরা আবারও কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য বলেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ঠিকাদারের লোকজন।স্থানীয় এখলাস উদ্দীন, মানিক মিয়া ও দেলবার হোসেন অভিযোগ করে জানান, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে রাস্তার ৫০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। এলাকাবাসী কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলে নির্মাণ শ্রমিকেরা চলে যান।স্থানীয় ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিউল আলম রতন বলেন, 'নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করতে ঠিকাদারকে বারবার বলেছি। তিনি কর্ণপাত করছেন না। অবশেষে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।'ঠিকাদার রশিদ আলী বলেন, 'আমি বিটুমিন নিতে চট্টগ্রামে এসেছি। এ সুযোগে ভাটামালিক কিছু নিম্নমানের ইট পাঠিয়েছিল। স্থানীয়রা নিষেধ করায় কাজ বন্ধ রেখেছি। নতুন ইট এনে পুনরায় কাজ শুরু করব।' তা ছাড়া রাস্তার কাজে অন্য কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।ওই রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, 'নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয়রা কাজে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ভালো মানের সামগ্রী নিয়ে এলে পুনরায় কাজ শুরু হবে। এ কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।' | 6 |
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। বাকি রয়েছে সিরিজের আর তিনটি ম্যাচ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হার্ড-হিটার ব্যাটসম্যান আজম খানকে পাচ্ছে না পাকিস্তান। অনুশীলনের সময় মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আজম খানের ইনজুরির ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সূত্রের খবর, হাসপাতালে আজম খানকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সোমবার (২ আগস্ট) ছাড় পাওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে হবে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কিনা। শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। মাঝে কোনো বিরতি ছাড়া আবার রবিবার (১ আগস্ট) মাঠে গড়াবে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। পরে মঙ্গলবারের (৩ আগস্ট) ম্যাচটি দিয়ে শেষ হবে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। শেষ ম্যাচে হয়তো দেখা যেতে পারে আজম খানকে। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দারুণ পারফর্ম করায় জাতীয় দলে জায়গা হয় আজম খানের। বাবা মঈন খানের মতো তিনিও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। গত মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে অভিষেক হয় তার। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে এখনও দলের হয়ে বড় রান করতে পারেননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে ৫ রানে অপরাজিত থাকার পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ১ রান। আর তৃতীয় ম্যাচটি আজমের ব্যাটিংয়ে নামার আগে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 12 |
ঘুষ গ্রহণের মামলায় চার বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছেন মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। একই সঙ্গে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে সোমবার এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে খুরশীদ আলম খান জানান, তার (নাজমুল হুদা) লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। একইসঙ্গে জামিনও দিয়েছেন। এখন তার এ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে কারাগারে থাকা নাজমুল হুদার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। ঘুষ গ্রহণের মামলায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নাজমুল হুদা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এইচ এম রুহুল ইমরান। এরপর কারাগারে থেকেই তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিল আবেদন করেন। নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এই মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। ২০১৭ সালে তার সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালত যেদিন রায় গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ পায়। রায় অনুসারে গত ৬ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন তিনি। | 6 |
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের করা মানহানির মামলা আমলে নিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ উৎপল ভট্টাচার্য মামলাটি গ্রহণ করে শাজাহান খানকে এ ব্যাপারে লিখিত ব্যাখা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতে ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, মামলার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত শাজাহান খানকে লিখিত ব্যাখা দিতে বলেছেন। গত ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চনের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, 'ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান, কী উদ্দেশে পান, সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে নেন- সেই হিসাবটা আমি জনসমক্ষে তুলে ধরব।' তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মানহানির মামলাটি করা হয়। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, শাজাহান খানের 'মিথ্যা বক্তব্য' প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার বা ক্ষমা প্রার্থনা না করায় এ মামলা করা হয়েছে। | 6 |
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে 'না' রোগে পেয়েছে। তারা যা চায় তা পাওয়ার অবস্থা হলে তখন বলে-না, এটা চাই না। নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন চেয়েছিল। সরকার আইন করার উদ্যোগ নেওয়ার পর বলে, না, আইন চাই না। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার বৈধ ও গণতান্ত্রিক উপায় হলো নির্বাচনে জেতা। কিন্তু নির্বাচন এলে বলে, না, নির্বাচনে যাব না। তাহলে কীভাবে ক্ষমতায় যাবে? বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তারপর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তারপর 'মানবতার নেত্রী' খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।কবে এ বিষয়গুলো ঘটবে? কবে হবে বিএনপির ইচ্ছাপূরণ? গয়েশ্বর রায় বলেছেন, সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অচিরেই এই সরকারের পতন হবে। বাতি যেমন নেভার আগে জ্বলে ওঠে, সরকারের অবস্থাও নাকি তাই। কখন নিভে যাবে, তা তারা নিজেরাও টের পাবে না।যদি ধরে নেওয়া হয়, সরকার তার অবস্থা টের পাচ্ছে না, তাহলে কি এই প্রশ্ন আসে না যে, বিএনপি কি নিজের অবস্থা টের পাচ্ছে? দলটি তো কত বছর ধরে জ্বলে ওঠার কথা বলছে। কিন্তু জ্বলে ওঠার আগেই তো দপ করে নিভে যাচ্ছে। আন্দোলনের দিন-তারিখ ঘোষণা করে, আন্দোলন আর হয় না। বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দূরে সরে গেলেই সরকার পড়ে যাবে, কারণ সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সরকারের খুঁটি হয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন। তাই তো হওয়ার কথা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন তো সরকারের অনুগতই হয়। বলা হয়, সরকার বিরোধী দলকে রাজপথে নামতে দেয় না। হামলে পড়ে। এটাই তো স্বাভাবিক।সরকারের সহায়তা নিয়ে, সরকারের আনুকূল্য নিয়ে কি কোনো দেশে বিরোধী দল আন্দোলন-সংগ্রাম করে? জেল-জুলুমের ভয় পেলে কি নেতা হওয়া যায়? শেখ মুজিবুর রহমান কি জেলের ভয়ে কখনো পিছপা হয়েছেন? ফাঁসির দড়ি দেখেও ভীত হননি বলেই তো শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হয়েছেন, জাতির পিতা হতে পেরেছেন।বিএনপি অবশ্য বলতে পারে, কই আমাদের নেতা জিয়াউর রহমানকে তো ক্ষমতায় যেতে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়নি। বুদ্ধিমান হলে ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন কিছু নয়।সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তিনি সফল হয়েছেন। ১৯৭১ সালে অগ্নিঝরা মার্চে তিনি পাকিস্তানের একজন অনুগত সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে অস্ত্রবাহী 'সোয়াত' জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁকে দিয়ে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানোয় পরবর্তী সময়ে তাঁকে বানানো হলো 'স্বাধীনতার ঘোষক'। আবার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী সময়েও তিনি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৌশলের খেলা খেলে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে যান। ক্ষমতা সংহত করতে নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের এক বোতলে ঢুকিয়ে ঘুঁটা দিয়ে এমন এক ককটেল রাজনীতি চালু করেন, যা কার্যত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না। ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন ২০১০ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'জিয়াউর রহমান খুব চালাক ছিলেন, যাকে বলে চিকন বুদ্ধির মানুষ-তিনি অনেক বাম-ডানদের নিয়ে সার্কাস খেলেছিলেন।' কিন্তু 'চিকন বুদ্ধি' তাঁর রক্ষাকবচ হতে পারেনি।বিএনপি জিয়ার অনুসারী বলেই সম্ভবত দলের নেতারা জিয়ার পথই অনুসরণ করতে চান। দলটি সব সময় ক্ষমতায় যাওয়ার শর্টকাট পথ খোঁজে। সুযোগ খোঁজে 'যদি লাইগা যায়'! কিন্তু চিকন বুদ্ধির নেতা না থাকায় দলটি বারবার 'ধরা' খেয়ে খেয়ে এখন এক অসহায় অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।'জোরজবরদস্তি করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না'-এই আপ্তবাক্য উচ্চারণ করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা বাস্তবে অর্থহীন। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড তৈরি করেছেন। বিএনপির নীতি-কৌশলের সঙ্গে মোটাদাগে আওয়ামী লীগকে এখন আলাদা করা কঠিন বলেই মানুষ সম্ভবত বিএনপিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিএনপি সরকারে থেকে যেভাবে দেশ চালিয়েছে আওয়ামী লীগ তার চেয়ে খারাপ চালাচ্ছে, সেটা মানুষ মনে করে না। ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপিতে কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। তারা আর অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ক্ষমতায় গেলে লুটপাটের ধারা বন্ধ করবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংহত হবে, মানুষের জীবনমান উন্নত হবে, বিরোধী মত দমন করা হবে না-এসব অঙ্গীকার কি বিএনপি নেতৃত্ব একবারও করছে? সরকারের সবকিছুতে বিএনপি 'না' বলছে কিন্তু বিএনপিকে মানুষ কেন 'হ্যাঁ' বলবে তা পরিষ্কার করছে না।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'এই যে সার্চ কমিটি যে সার্চ করছে, সেখানে স্বেচ্ছায় লোকজন মিছিল করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার জন্য। এতে দেশের গণতন্ত্রের কী হবে, ভোটের কী হবে, সেটা আমরা সবাই বুঝতে পারি। এই সার্চ কমিটি হুদা কমিশনের চেয়ে বড় কোনো বেহুদা সার্চ কমিটি বানানোর চেষ্টা করছে। আরও কোনো এক বেহুদাকে দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এই সার্চ কমিটি যে কমিশন করতে যাচ্ছে, তাদের আমরা আগাম প্রত্যাখ্যান করছি।'বিএনপির এই প্রত্যাখ্যানে কি নির্বাচন কমিশন গঠন বন্ধ থাকবে? অনুসন্ধান কমিটি ১০ জনের নাম জমা দেওয়ার পর সেই তালিকা থেকে পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করার পর শুধু বিএনপি কেন, আরও অনেকে প্রত্যাখ্যান করলেও কি এখন কমিশন বাতিল হয়ে যাবে? সরকার তো সরকারের পছন্দের লোক নিয়েই কাজ করবে। কারণ সরকার কখনো এই প্রতিশ্রুতি দেয়নি যে তারা বিএনপির কথামতো কাজ করবে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কি সরকার বিরোধী দলের পছন্দ অনুযায়ী প্রশাসন সাজায়? পৃথিবীর কোনো দেশে এমন উদার রাজনীতি চলছে?সবকিছুতে না বলার বা বিরোধিতা করার রাজনীতি বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত কি কোনো সফলতা দেবে? অতীত অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে সরকারকে বেকায়দায় বা চাপে ফেলতে গিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপি যতবার যত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, ততবারই তারা নিজেরাই চাপে বা বেকায়দায় পড়েছে। এর আগে একাধিকবার বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, সরকার পতনের দিন-তারিখ নির্ধারণ করেছে, জামায়াতের মতো যুদ্ধাপরাধীদের গঠিত দলের সহযোগিতা নিয়ে দেশে ব্যাপক সন্ত্রাস-সহিংসতা করেছে, কিন্তু তার পরিণতি কী হয়েছে? বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বর্তমানে সব থেকে কমজোরি অবস্থায় আছে।এর আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি তাদের পছন্দের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। পরের নির্বাচনে পারবে-তার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না; বরং বিএনপি নির্বাচনের ব্যাপারে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা বলছে, আবার দলের লোকজন স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, জয়লাভও করছেন। বিজয়ীদের দল থেকে বের করেও দেওয়া হচ্ছে না। গত সংসদ নির্বাচন নিয়ে কঠোর নিন্দা-সমালোচনা করছে, সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, আবার দলের বিজয়ী সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশও নিচ্ছেন। মানুষ কি বিএনপির এই স্ববিরোধী অবস্থানকে নৈতিকভাবে সঠিক মনে করছে? এতে কি বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে?বিএনপি যদি তাদের মনমতো সরকার না পায়, অর্থাৎ আগামী নির্বাচনও যদি বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কি নির্বাচন থেকে বাইরে থাকবে? সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো আন্দোলন কি বিএনপির পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব হবে? বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট বা মৈত্রী গড়ে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। সরকার পতনের আগামী আন্দোলনে বর্তমান ২০ দলীয় জোটের বাইরে কোন কোন দল বিএনপির নতুন মিত্র হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকারের বিরুদ্ধে থাকলেও সব দল যে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্যের ছাতার নিচে মাথা রাখবে না, তা এখনই বলা যায়। যারা রাজনীতির অতীত থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না, তারা বারবার চুন খেয়ে মুখ পোড়াতে পারে, কিন্তু সাধারণ বোধ-বুদ্ধি থাকলে ভুল রাস্তায় কারও হাঁটার কথা নয়। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দিন কয়েক আগে এটা স্পষ্ট করেই বলেছেন, বিএনপির যে আদর্শিক অবস্থান তাতে সিপিবি অন্তত বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ মসৃণ করার জন্য শতরঞ্জি বিছিয়ে দিতে এগিয়ে যাবে না।সবচেয়ে বড় কথা, যেকোনো আন্দোলন সফল করতে হলে বিশ্বাস করার মতো একটি মুখ প্রয়োজন হয়। আন্দোলনের পেছনে একটি আস্থা রাখার মতো মুখ না দেখলে মানুষ জীবনবাজি রাখতে চায় না। বিএনপির বড় সংকট তাদের কাছে ব্যাপক মানুষের আস্থাভাজন গ্রহণযোগ্য কোনো মুখ নেই। মানুষের সঙ্গে থেকে, লাগাতার লেগে থেকে তাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মতো উজ্জ্বল মুখ বিএনপি ও তার মিত্রদের মধ্যে একটিও নেই। যাঁরা আছেন, তাঁরা ডিগবাজি বিশারদ এবং আগে নিজেরটা গুছিয়ে নিয়ে তারপর দেশ বা দেশের মানুষের কথা ভাবেন।বিভুরঞ্জন সরকার: সহকারী সম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 6 |
করোনাভাইরাসের উৎস জানতে নগদ অর্থ-পুরস্কার ঘোষণা করেছে চীনের একটি শহর। সেখানে সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।গতকাল মঙ্গলবারও চীনে ৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটির প্রায় ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার অতি সংক্রামক ধরন ডেলটা।বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী হেইহে শহর কর্তৃপক্ষ করোনার উৎস জানার জন্য এক লাখ ইউয়ান বা সাড়ে ১৫ হাজার ডলার নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৪ লাখ টাকা।স্থানীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উৎস উদ্ঘাটন করতে এবং সংক্রমণের শৃঙ্খল খুঁজে বের করতে হবে। চীনে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় লাখ লাখ মানুষকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণেও। | 6 |
নরসিংদীর রায়পুরায় উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ওঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ওমর ফারুক মোল্লার সমর্থনে উঠান এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আল আমিন ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ওমর ফারুক মোল্লা। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদ মিলিটারি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ, সাবেক সভাপতি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. আল ফারুক হুমায়ুন কবির, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম, আবদুল বাছেদ মিয়া, বাচ্ছু মিয়া, জামাল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম লুকমান, সুমন মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওমর ফারুক মোল্লা বলেন, 'আমি ক্ষমতার জন্য নির্বাচনে জয়ী হতে চাই না। আমি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হয়ে, তাঁদের সেবা করার জন্য সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে উপস্থাপন করব। নির্বাচিত হলে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করে সুনামের সঙ্গে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা করব।' | 6 |
আজও সূচকের বড় দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। আজ মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪৩ পয়েন্ট। অবস্থান করছে একদম ৬ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩৫ পয়েন্ট। গত কার্যদিবস লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স কমে ২ পয়েন্ট। সূচকটি নেমে আসে ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে। ডিএসইতে আজ মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার, যা গত কার্যদিবসের চেয়ে কিছুটা কম। গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আজ দর বেড়েছে ১৪৭ টির, কমেছে ২০১ টির ও অপরিবর্তিত আছে ২৮ টির দর।ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, আইএফআইসি, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ম্যাকসন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো ফার্মা, বিএটিবিসি, সাইফ পাওয়ার ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। দর বাড়ার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো প্রাইম টেক্সটাইল, এভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেড, ফার কেমিক্যাল, রিংশাইন, ডেলটা স্পিনিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, রহিমা ফুড, সমতা লেদার, রিজেন্ট টেক্সটাইল ও সালভো কেমিক্যাল। অন্যদিকে, সিএসইতে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আজ দর বেড়েছে ১১৬ টির, কমেছে ১৫০ টির ও অপরিবর্তিত আছে ২৩ টির দর। | 0 |
নেত্রকোনার মদনে এক স্কুলছাত্রীকে করোনার টিকার পরপর চার ডোজ দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ডেপুটি সিভিল সার্জন অভিজিৎ লোহকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করে নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক উত্তম কুমার পাল ও জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. মজিবুর রহমান। তাঁদেরকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্য চিকিৎসক উত্তম কুমার পাল আজ সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।' ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর নাম আবিদা বিনতে আজিজ (১৪)। সে মদন শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং মদন পৌরসভার মাহমুদপুর এলাকার আজিজুল হকের মেয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল থেকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবিদা করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে হাসপাতালে যায়। এ সময় টিকাদান কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা একজন নার্স মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে তার ডান হাতে পরপর চার ডোজ টিকা দেন। পরে ওই ছাত্রী নার্সের কাছে জানতে চায়, দ্বিতীয় ডোজের টিকা চারবার দেওয়া হয়েছে কি না? এ সময় বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নার্স কৌশলে টিকাকেন্দ্র থেকে সটকে পড়েন। খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর মা ও স্বজনেরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। সিভিল সার্জন মো. সেলিম মিঞা বলেন, 'ওই স্কুলছাত্রী তার নিজ বাড়িতে থেকে আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। মেয়েটি সুস্থ আছে।' আবিদার চাচা মদন জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'আবিদা বর্তমানে সুস্থ আছে। এখন পর্যন্ত তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে ডান হাতের ব্যথা এখনো কমছে না। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছি।' | 6 |
স্বাভাবিকভাবেই এক জনকে দেখে অন্য জনের হাই তোলার ঘটনা ঘটে থাকে। তা বাস, ট্রেন বা রাস্তাঘাটে যেখানেই হোক কেউ হাই তুললেই অন্য জনও হাই তুলে তার প্রতিক্রিয়া জানান। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন কেন এমনটা হয়? জন ভাবনায় এ নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত থাকলেও তার বেশির ভাগটাই কল্পনা। যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, এ রকম হওয়ার কারণ মূলত শরীরে মিরর নিউরোনের উপস্থিতি। অনেক সময় দেখা যায় অন্য কাউকে আঘাত করলে, শারীরিক ভাবে না হলেও মানসিক ভাবে ব্যথা অনুভূত হয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ তো মূলত দলবদ্ধ জীব। তাই সব সময় দলগত ভাবে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করতে ভালবাসে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। প্রাচীনকাল থেকেই এই ধারা চলে আসছে। কাউকে ঘুরতে যেতে দেখলে তখনই ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে। ঘুমতে দেখলেও ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। একই কারণে হাই তুলতে দেখলেও অসচেতন ভাবেই হাই উঠে যায়। জুরিখে এক দল শিম্পাঞ্জির উপর একটি গবেষণা করা হয়েছিল। এক জন শিম্পাঞ্জির হাই তোলার ভিডিও তুলে অন্য এক দল শিম্পাঞ্জিকে তা দেখানো হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, শিম্পাঞ্জির হাইয়ের ভিডিও দেখে বাকি শিম্পাঞ্জিদেরও হাই ওঠে। একে 'মিররিং বিয়েভিয়ার' বলা হয়। গবেষকরা বলছেন, এই দেখা দেখি হাইয়ের জন্য দায়ী একমাত্র মিরর হরমোন। যে হরমোনের উপস্থিতি মানুষের শরীরে আছে। | 4 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপের আমন্ত্রণ পেয়েছে বিএনপি। সংলাপের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চিঠি পেলেও সংলাপের বিষয়ে বিএনপি তার অবস্থান বদলায়নি বলে জানান তিনি।ফখরুল বলেন, 'আজই (বুধবার) আমরা বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেওয়ার চিঠি পেয়েছি। তবে সংলাপ নিয়ে আমাদের যে অবস্থান, সেটা পরিবর্তন হয়নি। আমরা নিশ্চিতভাবেই সংলাপে অংশ নিচ্ছি না।'রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরুর আগে থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতিতে সংলাপের বিষয়ে অনীহা দেখিয়ে আসছে বিএনপি। সংলাপ নয়, দলটির প্রধান চাওয়া এখন নির্দলীয় সরকারের। যে সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এদিকে সংলাপে অংশ না নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার কথা জানিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সংলাপে অংশ নেয়নি বা নেবে না, এমন দলগুলোই দলটির পছন্দের তালিকায় থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।ইসি গঠন নিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দল অংশ নিয়ে এই বিষয়ে তাদের মত দিয়েছে। | 9 |
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় আজিজ কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় এঘটনা ঘটে।গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক মো. আ. হামিদ জানান, প্রথমে তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আরও ছয়টি ইউনিটসহ মোট নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিক হঠাৎ করে কারখানাটিতে আগুন ধরে। এসময় কারখানার ভেতর থাকা লোকজন চিৎকার করে বাইরে বের হওয়া শুরু করে। মুহুর্তের মধ্যে কারখানার ভেতরের একটি ভবনে আগুনের লেলিহান শিখা বেড়ে যায়। আগুনের ভয়াবহতায় আশপাশের বসতবাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় চলে আসে।শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ পাঠানা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই কারখানার ভেতর রয়েছি। সার্বিকভাবে আগুন পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ব্লিচিং পাউডার রাখার জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত। | 6 |
ঢাকা: লাইন স্ট্রিম, লাইভ চ্যাট ও লাইভ ভিডিও অ্যাপ স্ট্রিমকার। এই অ্যাপটিকে কেন্দ্র করেই দেশে গড়ে উঠেছে একটি অপরাধী চক্র। সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের জুয়ার ফাঁদে ফেলে অপরাধীরা। এরপর হাতিয়ে নেওয়ার হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এতে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয় বিনস () ও জেমস () নামে দুটি ডিজিটাল মুদ্রা। পাচারকারী চক্রের সঙ্গে উঠতি তারকারাও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।গত মাসে পাচারকারী চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও দুই সদস্য নিধু রাম দাস (২৭) ও মো. ফরিদ উদ্দিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কেন্দ্রীয় তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গতকাল বুধবার সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচার করেছে চক্রটি।সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, দেশে স্ট্রিমকার অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ায় ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে যুক্ত হোন ব্যবহারকারীরা। হোস্ট আইডি ব্যবহার করে কিছু চক্র তরুণীদের দিয়ে হোস্টিং করিয়ে জুয়ার ব্যবস্থা করে। এদের মূল টার্গেট যুব সমাজ ও প্রবাসীরা। প্রথমে লাইভে তরুণীদের সঙ্গে আড্ডার প্রলোভন ও পরে জুয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। লাইভে যুক্ত হতে এবং জুয়া খেলতে এজেন্টদের কাছ থেকে বিনস ও জেমস কিনতে হয়। দেশে স্ট্রিমকারের অন্তত ১১টি এজেন্ট রয়েছে।এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১ হাজার ২০ টাকায় এক লাখ বিনস এবং ৬০০ টাকায় এক লাখ জেমস বিক্রি হয়। বিভিন্ন মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান হয়। দেশীয় এজেন্টরা স্ট্রিমকারের বিদেশি এজেন্টদের কাছ থেকে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কিনে আনে। লক্ষাধিক বাংলাদেশি স্ট্রিমকার ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, নেটেলার, স্ক্রিল ও বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুদ্রা কিনছে। অ্যাপটিতে গ্রুপ চ্যাট, লিপ সিং, ড্যান্স, গল্প ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা চ্যানেল তৈরি করে। সেখানে জুয়া খেলার ব্যবস্থা করা হয়।তারকাদের মধ্যে কারা যুক্ত আছেন জানতে চাইলে কামরুল আহসান বলেন,৭-৮ জন উঠতি তারকা স্ট্রিমকারের মাধ্যমে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন। নাম বলতে চাচ্ছি না এখনই কিন্তু অনেকেরই সম্পৃক্ততা পেয়েছি আমরা। তারা হোস্ট এজেন্সির মাধ্যমে বেতনভুক্ত হয়ে সেবা দেন। একটি লাইভের জন্য ১৬ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন তাঁরা। তাঁদের কেন্দ্র করে জুয়ার আসর বসে। আমরা অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করছি।স্ট্রিমকার পরিচালনায় জড়িত প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে গ্রেপ্তার নিধু রাম দাসের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক বছরে ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। ফরিদ উদ্দিনের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাঁদের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেও গত এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।গত মাসে ঢাকার বনশ্রী, সাভার এবং নোয়াখালীর সুধারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট। সংস্থাটি জানায়, দেশে নিষিদ্ধ অ্যাপ স্ট্রিমকার ব্যবহার করে এক বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এ চক্র। | 6 |
জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সাবেক পরিচালক, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে কমিশন। আগামী ১৫ জানুয়ারি সকালে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমির হুকুম দখলের বিষয়ে সকল তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসককে। জানা গেছে, জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সাবেক পরিচালক এনামুল কবির ইমনের বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য, সরকারি কাজের কমিশন আদায় ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত তার বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজে এরই মধ্যে দুদক মাঠে নেমেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। ইমনের কাছে পাঠানো দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে হবে। অন্যথায় অভিযোগের বিষয়ে তার কোন বক্তব্য নেই বলে দুদক মনে করবে। তাকে নিজের ও স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের (যদি থাকে) ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো দুদকের চিঠিতে ইমনের বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সুনামগঞ্জ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির জন্য বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের অনুকূলে আরজ আলীর জমির হুকুম দখলের বিষয়ে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আরো কোন রেকর্ড ও নথি থাকলে তাও দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি এদেশের মাটি ও মানুষের হৃদয়ের সাথে গেঁথে আছে। শত ষড়যন্ত্র করেও বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। বিএনপি জেগে উঠবেই। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতি আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। এ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশের মানুষের মুক্তি মিলবে না। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ছাত্র ফোরামের সভাপতি ব্যরিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রবকত উল্লা বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাবেক ছাত্র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, দেশের এমন কোন থানা বা এলাকা নেই যেখানে বিএনপির অসংখ্য নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়নি এই সরকার। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত সর্বত্র আজ বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় লেগে আছে। তিনি একটি পরিসংখ্যানের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন সারা দেশে বিএনপির ২৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে এই সরকার। শিশু কিশোর বৃদ্ধ অসুস্থ কেউ এই মামলা থেকে রক্ষা পায়নি। একটি অমানবিক পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশবাসী মুক্তি চায়। আর সেই বৃহত্তর মুক্তি আন্দোলনে সবাইকে শরিক হওয়ার জন্য আগামী দিনে প্রস্তুতি নেয়ারও আহবান জানান মির্জা ফখরুল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কয়েকদিন আগে আমি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছি। তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘ দিন বেগম জিয়া নিজে বলেছেন তিনি অসুস্থ্য। তার সুচিকিৎসা দরকার। কিন্তু সরকার তার কোন চিকিৎসারই ব্যবস্থা করছে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নিচ্ছে। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানাই। তাদেরকে জয়ী করতে তিনি সবার সহযোগিতাও আশা করেন। সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে পাঁয়তারা করছে তার বিরুদ্ধে জনগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামবে বলেও সরকারের প্রতি তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। | 9 |
নয়াদিল্লিতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রসচিব, সাংবাদিক, গবেষকসহ সবার সঙ্গে বৈঠকসহ ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কর্নার উদ্বোধন দুই দেশের সম্পর্কে একটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধুর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতিও সেখানে স্থাপিত হয়েছে। এস জয়শঙ্করের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কাঁচামালের অপ্রতুলতার কারণে টিকা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানান, যা বছরের শেষ চতুর্ভাগ অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বরে তাঁরা কাটিয়ে উঠবেন। আশা করি, ভারতে টিকা উৎপাদন জোরদার হলে তাঁরা বাংলাদেশে চুক্তির টিকা সরবরাহে সক্ষম হবেন।' এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ নিয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান তথ্যমন্ত্রী। অনুরাগ সিং ঠাকুরের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অগ্রগতি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ৫০ বছর ২০২১ সাল যৌথভাবে উদ্যাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১ অক্টোবর থেকে বিদেশি টিভির ক্লিন ফিড নিয়ে আইন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।' মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ সময় দিল্লির প্রখ্যাত সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রয়াত পরিচালক ইউ এল বড়ুয়া গ্রন্থিত 'বাংলাদেশ ওয়ার কমেন্ট্রি' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং 'দূরদর্শনে' দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারের কথা জানান এবং বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশ ও মানুষের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এ সময় বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য 'আওয়ামী লীগ নির্যাতনকারী দল'-এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপির রাজনীতিই রক্ত, লাশ ও মানুষকে নির্যাতনের ওপর দাঁড়িয়ে। ফখরুল সাহেব এমন দল করেন, যে দলের নেতা মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন, সেনাবাহিনীর হাজার হাজার জওয়ানকে হত্যা করে তাঁদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকেও সে সময় হত্যা করা হয়েছে। এরপর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফখরুল সাহেবরা যেভাবে মানুষের ওপর পেট্রলবোমা মেরে নিরপরাধ মানুষকে মেরেছেন, দিনের পর দিন অবরোধের নামে মানুষকে নির্যাতন করেছেন, তাতে তাঁর ওই মন্তব্য তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।' | 9 |
উদ্ভাবিত জ্বালানি তেল সাশ্রয়ী প্রাইভেটকার পরীক্ষা করতে গিয়ে গত সোমবার পুলিশের পিটুনির শিকার হয়েছিলেন বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র জিসান হাওলাদার। তিনদিন পর এবারের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় তারই উদ্ভাবিত সেই প্রাইভেটকার দুটি প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই মেলার আয়োজন করেন জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। এতে অংশ নেন বুয়েট, রুয়েট, এমআইএসটি, আহসান উল্ল্যাহ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রথম সারির কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তরুণ উদ্ভাবকরা। সকলকে হার মানিয়ে জিসানের উদ্ভাবন করা তেল সাশ্রয়ী দু'টি যানবাহন সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। জিসান জানায়, সে এক লিটার পেট্রোলে ৬ যাত্রী নিয়ে ১২০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম প্রাইভেটকারসহ তিনটি মোটরযান তৈরি করেছে।
বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেয়ার জন্য জিসান গত সোমবার সকালে নিজের তৈরি যানবাহনগুলো পরীক্ষা করার জন্য নগরীর রাস্তায় বের হন। বটতলা ফাঁড়ির কাছে তার গাড়িটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন তৈরি এই গাড়ি দেখার জন্য পথচারীরা সেখানে ভিড় করেন। বটতলা ফাঁড়ির পুলিশ এসে এ সময় তরুণ উদ্ভাবক জিসানকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। জিসান তখন তার নিজের তৈরি যানবাহনগুলোর কথা ফাঁড়ির এসআই শাহ আলমকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলে ঐ দারোগা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে জিসানকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে এবং এক পর্যায়ে উদ্ভাবিত তিনটি মোটরযানসহ তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। বিডি-প্রতিদিন/২০ ডিসেম্বর, ২০১৫/মাহবুব | 6 |
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অপরাধী দলীয় পরিচয়ধারী কিংবা ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না। রবিবার সকালে রাজধানীতে নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। হাসপাতালসমূহের ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত অনেক রোগী বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের সেবা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ পেতে টেলি-মেডিসিন সেবা ও হটলাইনে সেবার মান বাড়ানোর অনুরোধ করছি। মন্ত্রী বলেন, রোগী মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই। এ রোগ অভিশাপ নয়, নিজেকে সুরক্ষিত রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে দাফন-কাফন করতে পারেন আপনজনরা। সরকারি হাসপাতালসহ চিকিৎসাবিষয়ক সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ রোগী ও উচ্চবিত্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য নয়, সবাইকে সমান চোখে দেখে চিকিৎসা করুন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ভিআইপি কালচারে বিশ্বাসী নয়, সরকার এ সংকটে এমন চর্চাকে নিরুৎসাহিত করে। বর্তমানে ৬৬টি ল্যাবে করোনা টেস্ট হচ্ছে জানিয়েছে মন্ত্রী বলেন, এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জনস্বার্থে পিসিআর ল্যাব স্থাপনে উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ব্রিটেনের এল্লা আদু কিসি ডেবরা নামে এক শিশু ছয় বছর আগে হাঁপানিতে প্রবল অসুস্থ হয়ে মাত্র ৯ বছর বয়সেই প্রাণ হারায়। এতদিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মামলা চলছিল। সম্প্রতি সেই মামলায় বায়ু দূষণকে দায়ী করলেন আদালত। রায়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট সহনক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড ঢুকেছিল এল্লার শরীরে। তাতেই তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও মৃত্যু। এই রায় শুনে তার মায়ের প্রতিক্রিয়া, এতদিন পর মেয়ে সুবিচার পেল। পাশাপাশি আদালতের এই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি জনস্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিটিশদের সতর্কও করেছেন। আরও জানা গেছে, ওই এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। আদালত পর্যবেক্ষণে এও জানিয়েছে যে, এল্লার মাকে মেয়ের অসুস্থতার কারণ ঠিকমতো জানানো হয়নি চিকিৎসকদের তরফ থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল্লার মৃত্যুর কারণ হিসেবে বায়ুদূষণকে দায়ী করা একটা গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা থেকে দূষণ কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এটা জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থার মতোই সংকটজনক পরিস্থিতি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পরিবেশনিয়ে বেশ সচেতন হয়ে উঠেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন রুখে পরিবেশ বাঁচাতে 'সবুজ বিপ্লব'-এর পথে হেঁটে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এমনই সময়ে এল্লার মৃত্যু নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় হয়ে উঠল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। উল্লেখ্য, এল্লার বাসস্থান এলাকার পরিবেশ খতিয়ে দেখে বোঝা যায়, শুধু যানজটের কারণেই সেখানকার বাতাস নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ভাগ অনেক বেশি। প্রতিদিন নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা শরীরে ঢুকেই মেয়েটির শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি করেছিল। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও দামি বাড়ির জন্য হংকং সুপরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি সেখানকার এক ব্যবসায়ী আধুনিক ডিজাইনের 'কফিন অ্যাপার্টমেন্টের' সুবিধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে হংকংয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে।
বিবিসি অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাই ইয়েং পুন জেলার মাত্র ১০টি 'স্পেস ক্যাপসুল' ইউনিট তৈরি হয়েছে, যে ঘরগুলোর আয়তন ৪০ বর্গফুট। এর প্রতিটির জন্য মাসে গুনতে হবে ৬৫৮ মার্কিন ডলার।
স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিটি ঘরে টেলিভিশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধা রয়েছে।
তবে অনেকেই বলছেন, এটি 'কফিনে থাকার' বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসছে ও বাড়ির মালিককে 'বিবেকবর্জিত' বলেও উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।
কিন্তু অনেকে আবার বলছেন, এই অ্যাপার্টমেন্ট 'স্পেসে' অর্থাৎ মহাকাশে থাকার অনুভূতি তৈরি করবে।
| 3 |
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় বর্তমান ও সাবেক সাংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ইউএনবির খবরে বলা হয়, সংসদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ ৭১-এর গেরিলাযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হয়। দেশে এটাই সাদেক হোসেন খোকার প্রথম জানাজা। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম জানাজা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সর্বস্তরের বাংলাদেশিরা অংশ নিয়েছেন। জানাজা শেষে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সাদেক হোসেন খোকা সোমবার বেলা দুইটার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ক্যানসারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাদেক হোসেন খোকা ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বিএনপি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তাঁর দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তাঁর দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০২ সালে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। আরও পড়ুনসাদেক হোসেন খোকা আর নেইসাদেক হোসেন খোকার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে | 9 |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে দেশে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আওয়ামী লীগ দেশের যে অবস্থা করেছে, বিএনপি এলে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। দেশ ও মানুষের কোনো উপকার হবে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাত থেকে মুক্তি চায়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। অনুষ্ঠানে কারবারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশে কাজ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। ট্যাক্স বেড়েছে সব ক্ষেত্রে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়েনি। তাই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে মানুষের জীবনযাপন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের জিডিপি বেড়েছে, জিডিপি কত বেড়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে চায় না। জিডিপি বাড়লে মানুষের পেট ভরে না, তাই চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গেলে ফলাফল বিরাট একটা শূন্য। জি এম কাদের এ সময় বলেন, দেশের মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। দেশের মানুষ জানে, দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট আর বৈষম্য দূর করতে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. এমরান হোসেন মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন খান, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। | 9 |
সার্চ কমিটির চিঠি পেলেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশন গঠনে নাম প্রস্তাব করবে। জাতীয় পার্টি চায় যোগ্য, নিরপেক্ষ ও গ্রহযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। তবে, নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশনকে ক্ষমতা না দিলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের।সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর এক বিশেষ সভায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, 'দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে দেশের রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ শুরু হয়েছে। রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদের হাতে নেই। এতে রাজনীতি ও নির্বাচনের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে সাধারণ মানুষ।'জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ন্যায় আমলানির্ভর প্রশাসনের মাধ্যমে দেশ চলছে, জবাবদিহি নেই কোথাও। এই ব্যবস্থায় সেবার পরিবর্তে শোষণের শিকার হয় মানুষ। দেশের মানুষকে এমন বাস্তবতা থেকে মুক্তি দিতে রাজনীতিবিদদেরই এগিয়ে আসতে হবে।'আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাত থেকে দেশের মানুষ মুক্তি পেতে চায় উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, 'দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির ওপর আস্থা রাখতে চায়। তাই দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।' | 6 |
পদত্যাগ করেছেন চীনের জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ টিকটকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) কেভিন মাইয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় বুধবার পদত্যাগ করলেন তিনি। তিনি গত জুনে ডিজনি এক্সিকিউটিভ পদ থেকে টিকটকে যোগদান করেছিলেন। খবর বিবিসির। সামাজিক ভিডিও অ্যাপ টিকটকের মুল কোম্পানি বাইটড্যান্সের প্রধান কার্যালয় বেইজিংয়ে। চীনে অ্যাপটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অ্যাপটিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটর টিকটকের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানান। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাও এই অ্যাপের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই অ্যাপের মাধ্যমে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে চীন। এই একই অভিযোগ উঠেছিল ভারতেও। ভারত টিকটক বন্ধ করে দেওয়ার পর একই পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। টিকটকের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হবে। বিকল্প হিসেবে, অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেন ট্রাম্প। ওই নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, টিকটকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সঙ্গে আমেরিকানদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করা হবে মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের শাস্তিমূলক এমন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মামলা করেছে টিকটক। তবে মামলার দুই দিনের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন কেভিন মাইয়ার। | 11 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.