text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় এলাকায় ছত্রীসেনা বহনকারী একটি প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। প্লেনটিতে মোট আরোহী ছিলেন ২২ জন। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটের দিকে তাতারস্তান অঞ্চলের মেনজেলিনস্কির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এল-৪১০ মডেলের প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় প্লেনে ২০ জন ছত্রীসেনা ও দুজন ক্রু ছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তারা সবাই প্রশিক্ষণের জন্য ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্লেনটির দুইটি ইঞ্জিনের একটি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। | 3 |
মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। সেটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে থানা। অভিযোগটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে মামলা হিসেবে নেওয়ারও আবেদন করেছেন ঢাবির ওই শিক্ষার্থী।অভিযোগকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার তালুকদার।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. মুরাদ হাসান তাঁর এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্রাব করার সময় ও আমার নাই।' এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, দেশের সর্ব প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাচ্ছিল্য করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী রোকেয়া হল এবং শামসুন্নাহার হলের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করে বলেন, 'তারা রাতে নিজের হলে অবস্থান না করে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে গিয়ে রাত্রি যাপন করে।' এই বাক্য দিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করেছেন। আমরা মনে করি, যেকোনো বিদ্যাপীঠই পবিত্র স্থান এবং একজন নাগরিকের চারিত্রিক বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে একটি সীমারেখা রক্ষা করা সব নাগরিকের দায়িত্ব।ওই দুটি মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং বিদ্যাপীঠ সমূহের প্রতি তীব্র অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় কায়দায় ঘৃণার রাজনীতি করার অপপ্রয়াস দেখিয়েছেন ডা. মুরাদ। অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মূলক বক্তব্য দিয়ে তাঁদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করে নারীর রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অপদস্থ করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অপবাদ দিয়েছেন সে জন্য আমি তাঁর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি করেছি। পাশাপাশি সাইবার ইউনিটে মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেছি।'এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ ডিউটি অফিসার চম্পক চক্রবর্তী বলেন, 'আমরা জিডির কপি হাতে পেয়েছি। এখনো জিডি নাম্বার দেওয়া হয়নি।' | 9 |
আগামীকাল ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৬ বছরের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অর্জন আছে। হয়তো সেই অর্জন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নাও হতে পারে। রাজধানীতে পুরান ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের কারণে এর আকর্ষণ অন্য রকমের। যখন জগন্নাথ কলেজ ছিল, তখনো অন্যরকমের আবেদন ছিল। বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে অনেক পেশাজীবী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন। অনেক রাজনীতিবিদ এখানেই লেখাপড়া করেছেন। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিও এখানে বসে আইন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে তিনি তাঁর স্মৃতিচারণে সে কথা বলেছেন। এ রকম অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিধারণ করছেন।'জগাবাবুর পাঠশালা' বা যে নামেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অভিহিত হোক না কেন, এর একটি অহংকারের ভিত্তি আছে। তবে যে প্রক্রিয়ায় জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে, তা ছিল অনেকটাই ত্রুটিপূর্ণ। সাধারণত একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হলে তার একটি অবকাঠামোগত পরিকল্পনা থাকে। এর কোনোটাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল না। কলেজ আমলের কতগুলো ছাত্রাবাস ছিল, যার অনেকগুলোই বেহাত হয়ে গিয়েছিল। এগুলো ঠিকমতো পরিচালিত হতো কি-না, জানা নেই। মাঝেমধ্যে এলাকাবাসীর সঙ্গে ছাত্রদের কলহ বিবাদ হতো। হল পরিচালনার ব্যাপারে যেভাবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তার অনেকটাই ছিল না। স্বাধীনতার পর কয়েক বছর হলগুলো মোটামুটি সচল ছিল। হলগুলো কীভাবে পরিচালিত হতো, কিংবা এর প্রশাসনিক কার্যক্রম কতটা কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা জানা নেই। এভাবে এগুলো একে একে হাতছাড়া হতে থাকে। এরশাদের আমল থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু। প্রভাবশালীদের দখলে চলে যেতে থাকে একেকটি হল।মাঝেমধ্যে পত্রপত্রিকায় এসব হলের ভেতরে সংগঠিত বিভিন্ন ঘটনার সত্য/মিথ্যা বিবরণ প্রকাশিত হতো। আর হলগুলোর অবস্থান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। দীর্ঘ অনেক বছর এই কলেজ, আর তথাকথিত হলগুলোও নিয়ন্ত্রিত হতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির দ্বারা। এক সময় কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন উঠতে থাকে। তারপরও জগন্নাথ তার স্বকীয় মহিমায় এগিয়ে গিয়েছে। ফলে ২০০৫ সালে এটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর অবকাঠামো কলেজ আমলের মতোই রয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পরিকল্পিত কিছুই এখানে নেই। শুধু অবস্থান রাজধানীতে বলে এর একটি গুরুত্ব আছে। স্বাভাবিক কারণেই এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য অনেক সুবিধা আশা করেন। আবার অনেকে সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যান।এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭/৪ ধারা নামে একটি ধারা ছিল। ধারাটি ছিল পাঁচ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আয়ে চলবে। এই ধারার মধ্যে আর কী কী শর্ত সন্নিবেশিত ছিল, তা আমার এই মুহূর্তে জানা নেই। একই ধারার বলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এর বিরুদ্ধে এই জগন্নাথের ছাত্র-ছাত্রীরা ২০১১ সালে এক জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে এলেন এই সমস্যা সমাধানে। আমরা একদল সিনিয়র শিক্ষক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেজবাহ উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সহযোগিতা করি এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি। তিনি প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বললেন, এটা তো বিশ্ববিদ্যালয় করাই ঠিক হয়নি। আসলে তিনি অবকাঠামোগত অপ্রতুলতার কথা ভেবেই কথাটি বলেছিলেন। সে জন্যই ২৭/৪ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন এবং বিল আকারে এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং বাতিল করেন।সেই থেকেই আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু। নিজস্ব আয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়া মানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় টিউশন ফি পরিশোধ করা। সে জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম দেখাতেই আমাদের বলেছিলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এত বেতন কীভাবে দেবে।১৬ বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন অনেক। সবচেয়ে ঈর্ষণীয় হলো এর শিক্ষকমণ্ডলী। বিদেশ থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে অনেক শিক্ষক এখানে পড়াচ্ছেন ও গবেষণা করেছেন। দেশের বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন। এসব অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সান্নিধ্যে শিক্ষার্থীরাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে।দেশব্যাপী বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজে এখানকার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা প্রশংসাযোগ্য। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জায়গায় নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে চলছে। শিগগিরই মাস্টারপ্ল্যান প্রণীত হবে। দ্রুতই সীমানা দেয়ালের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। সীমাবদ্ধতা অনেক আছে। তারপরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আশাহত নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার হাত ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে; অগণিত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষার্থে অর্থবহ ভূমিকা পালন করবে।অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ: কোষাধ্যক্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | 8 |
সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ মাদরাসা খুলেছেন মাওলানা আহমদ শফি। মাদরাসার নাম দিয়েছেন 'আস-সুফফা কুরআন নিকেতন'। ৫ জানুয়ারি রাজধানীর খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টার-সংলগ্ন বস্তির পাশে এর উদ্বোধন করা হয়। মাওলানা আহমদ শফি নয়া দিগন্ত অনলাইনকে জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে আস-সুফফা কুরআন নিকেতন প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন। শিশুদের পড়াশোনার আগ্রহী করতে ক্লাস শেষে বিরিয়ানিসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করছেন তিনি। মাদরাসায় বাংলা মৌলিক শিক্ষাসহ ইসলাম ধর্মের আবশ্যকীয় বিষয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাওলানা শফি বলেন, 'আমাদের ভ্রাম্যমাণ মাদরাসার পথচলা শুরু হয় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে। এখন এর সংখ্যা ৩০ জন। ওই শিক্ষার্থীরা আগে আরবি তো নয়ই বাংলা অক্ষরও বলতে পারত না। এখন তারা কালিমা, পবিত্র কোরআনের ছোট ছোট সুরা এবং গুরুত্বপূর্ণ দোয়া বলতে পারে।' তিনি বলেন, 'ওইসব পথশিশুর মা-বাবা এখন অনেক খুশি। ওদের মা-বাবা আমার জন্য দোয়া করে। আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলে, আমাদের সন্তানেরা আগে বখাটে ছেলেদের সাথে মিশত, নেশা করত, ভিক্ষাবৃত্তি করত, আপনি তাদের আলোর পথ দেখাচ্ছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বাঁচিয়ে রাখুন।' মাওলানা শফি আরো বলেন, 'যেখানে আমরা শিক্ষা দেয়া শুরু করেছিলাম, সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ ছিল। আমাদের মনে হলো জায়গাটি যদি শিক্ষা দানের উপযোগী করে তুলি ও পথশিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণ করি, তাহলে এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে পড়াশোনার আগ্রহ আরো বেড়ে যাবে। এ উদ্দেশে আমাদের পেইজ থেকে ঘোষণা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ মাদরাসার কাজ শুরু করি।' সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুরা অভাব-অনটন ও মা-বাবার সঠিক নির্দেশনার অভাবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি। মাওলানা শফি বলেন, 'এসব শিশুর মাঝে শিক্ষাদানসহ আমাদের টার্গেট হলো, তাদেরকে নেশা থেকে দূরে রাখা, কিশোর গ্যাঙ থেকে রক্ষা করা এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।' নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও মাওলানা শফি করোনা মহামারির সময় থেকে গরিব, অসহায়, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমে মানুষের মুখে আহার দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, 'আমরা ছোট ছোট ইভেন্ট তৈরি করে বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আমার ব্যক্তিগত এই উদ্যোগকে আরো বড় পরিসরে করতে চাই। কাজ করতে আগ্রহী এমন আরো কিছু যুবককে নিয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো দিতে চাই।' কেউ যদি এই কাজে অংশ নিতে চান, তাহলে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। | 1 |
সাভারের আশুলিয়ায় পরিবহনে চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দুই পরিবহন শ্রমিক নেতাকে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে রোববার সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ হামলার আগে নিজের সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিকলীগ নেতা রাজা মোল্লা (৩৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজা মোল্লা এবং রুবেল শেখ প্রায় কয়েক বছর ধরে আশুলিয়ার বাইপাইলে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। বেশ কিছু দিন ধরে আমির আলী এবং রিয়াজ নামের দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিটি পরিবহন থেকে ৬০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করছিল। কিন্তু রাজা এবং রুবেল তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এ হামলা চালায়। এ ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, আশুলিয়ায় পরিবহনে চাঁদাবাজি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে কিছু লোক আমির, জিহাদ মোল্লা, রিয়াজ, গউছ ও পান্নুর নেতৃত্বে পুনরায় আবার চাঁদাবাজি শুরু করছে। বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা পরিবহন থেকে চাঁদা নিচ্ছে। কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে চাঁদা আদায় করছে তারা। নির্যাতনের শিকার রাজা মোল্লা বলেন, কিছুদিন আগে আমির আলি এবং রিয়াজ মোল্লা এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং দৈনিক প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে আমি তাদের প্রস্তাবে অপারগতা প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৬ মে তারা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। অভিযুক্তরা হলো- আশুলিয়ার ভাদাইয়ের আমির আলী (৫২), রিয়াজ মোল্লা (৩৫), বাইপাইল এলাকার শাহজাহান মন্ডলের ছেলে শাহীন মন্ডল (৪৫), পলাশবাড়ি এলাকার কালাম (৪২), লিয়াকত আলী (৫০), তামিম মোল্লা (৩২), পলাশবাড়ির কামাল গেট এলাকার সামাল (৩০), ডেন্ডাবরের কাঁঠালতলা এলাকার কামরুল (৪০), তুহিন (৩২), সুলতান (৪০), এসএম শওকত (৪৫), পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার গাউস (৩২), পান্নু (৩৮), জিরাবোর কলেজ রোডের রিয়াদ মোল্লা (৪৫), গাজিরচটের আমির উদ্দিনের ছেলে সোহাগ ও বাইপাইল মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মুন্না (৪৩)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত আমীর আলী ভুঁইয়া বলেন, মারপিটের ঘটনা সত্য, তবে এতে আমার কোনো ইন্ধন নেই। আর আমি কোনো পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। শুধু শুধু এ ঘটনায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ১৬ মে বাইপাইলে একটি মারামারির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। | 6 |
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফ্ফর হোসেন এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে জামালপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এমপির ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হাতে শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য কম্বল তুলে দেন এমপি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বার্সেলোনার সঙ্গে লিওনেল মেসির চুক্তি আছে মাস ছয়েক। এখনও নতুন চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সামনে নির্বাচন থাকায় বার্সাও দেয়নি তেমন প্রস্তাব। ওদিকে কাতালানদের সঙ্গে লিও'র সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে ধরে নিয়ে পিএসজি-ম্যানসিটি হাত বাড়িয়ে বসে আছে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ক্যাম্প ন্যুতে মেসি ভালোই আছেন। মৌসুমে সম্ভাব্য সবকিছুর জন্য লড়ে যাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। একক ক্লাবের হয়ে পেলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়া মেসি লা সেক্সাটাকে বলেছেন, 'সত্য হলো, আমি এখন বার্সেলোনায় ভালোই আছি। এটাও সত্য যে, গত গ্রীষ্মে ক্যাম্প ন্যুতে আমার খুবই খারাপ সময় গেছে। যেভাবে মৌসুমটা শেষ হয়েছিল, তাতে অনেক কিছুই ঘটে গিয়েছিল। ব্যুরোফ্যাক্স বলেন কিংবা অন্য যা কিছু। তবে মৌসুম শুরুর আগে আমি সেগুলো পেছনে ফেলে এসেছি।' গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে কাতালানরা ৮-২ গোলে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এরপরই চাউর হয় মেসির ক্লাব ছাড়ার। ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে মেসি বার্সার তৎকালীন সভাপতি জোসেন মারিও বার্তামেউকে তার ক্লাব ছাড়ার কথা জানান। কিন্তু বার্তমেউ কিছুতেই মেসিকে ক্লাব ছাড়তে দেননি। মেসি তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্লাব প্রেসিডেন্টের ওপর। শেষ পর্যন্ত বার্তামেউকে বার্সা ছাড়তে হয়েছে। বার্সা শিবিরেও এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। মেসিও নতুন মৌসুম তার সেরাটা দিয়ে শুরু করেছেন। এখন খেলায় তার পূর্ণ মনোযোগ জানিয়ে বলেছেন, 'আমি বার্সায় থাকতে পেরে উচ্ছ্বসিত। সামনে যা কিছু আছে তার জন্য পুরোটা দিয়ে লড়াই করতে মুখিয়ে আছি। জানি যে, ক্লাব কিছুটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ক্লাব নানান বিষয় নিয়ে কিছুটা সংকটের মধ্যেও আছে। সেগুলো মাথায় রেখেই আমি এখন সামনে তাকাচ্ছি।' মেসির বার্সায় থেকে যাওয়ার ইঙ্গিত নিশ্চিতভাবেই মন ভেঙেছে ম্যানসিটি, পিএসজি, ইন্টার মিলানের মতো ক্লাবের। তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসিকে দলে পেতে মুখিয়ে আছে। ওদিকে বার্সার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হুয়ান লাপোর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হলে সবার আগে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে কথা বলবেন। অন্য এক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অবশ্য কড়া ভাষায় বলেছেন, ক্যাম্প ন্যুতে থাকতে হলে বেতন কম নিতে হবে মেসির। সব মিলিয়ে কাতালান শিবিরে থেকে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২৪ জানুয়ারি বার্সার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরেই মেসি নেবেন বলে মনে হচ্ছে। | 12 |
দাম্পত্য কলহের গল্প নিয়ে নির্মিত এক নাটকে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও জাকিয়া বারী মম। নাম 'নব্বই দিন'। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, দিশা ও সালমানের সংসার জীবনের শেষ দু'বছর তাদের মধে বেশ টানাপড়েন হয়। এক পর্যায়ে তারা বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। জানতে পারেন ডিভোর্স কার্যকর হতে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই ডিভোর্স বাতিল করে তারা আবার এক হতে পারেন, এমন প্রস্তাব সালমানের দিক থেকে আসে, দিশাও রাজি হয়। চলে শেষ চেষ্টা। দিশা ও সালমান একসঙ্গে না থাকলেও বুঝতে পারেন তারা একে অপরকে ভীষণ মিস করেন। তারা কেউই তা প্রকাশ করেন না। এভাবে এগিয়ে যায় গল্প। আসছে ঈদের তৃতীয় দিন চ্যানেল আইতে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নাটকটি প্রচার হবে বলে জানান পরিচালক রতন হাসান। | 2 |
ছেলেটির নাম নাদিম। মেয়েটি নাবিলা। দুজনের নামই 'না' দিয়ে শুরু। যাদের নাম শুরু 'না' দিয়ে, তারা কি একে অপরকে লাইফ পার্টনার করতে 'হ্যাঁ' বলবেন? এই উত্তর পাওয়া যাবে 'তুমি কি আমারই' নাটকে। রোমান্টিক-কমেডি ধাঁচের এই গল্পটি লিখেছেন নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। পরিচালনা করেছেন তিনিই। এতে নাদিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান আহমেদ জোভান ও নাবিলা চরিত্রে তানজিন তিশা। এছাড়াও আছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকীসহ অনেকে। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় এর শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, প্রেম ও হাস্যরসের মিশ্রণে নাটকটি বানিয়েছি। জোভান ও তানজিন তিশার কেমিস্ট্রিটা ভালো মানিয়েছে। দর্শকরা উপভোগ করলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। নাটকটিতে রয়েছে 'তুমি কি আমারই' শিরোনামের একটি গান। এর কথা, সুর ও কণ্ঠ আহমেদ সবুজের। ইউটিউবে গানের ডালি চ্যানেলে এ মাসেই মুক্তি পাবে নাটকটি। | 2 |
দূর থেকে দেখলে মনে হয় পাহাড়টা আকাশ ছুঁয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা-কালো মেঘ। লোকালয়ের ভেতর দিয়ে পাহাড় বেয়ে নেমে এসেছে সরু রাস্তা। কক্সবাজারের টেকনাফ শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের দৃষ্টিনন্দন এই পাহাড়ের নাম শালবাগান। মানুষ চেনে শালবন নামে। এই পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে নয়াপাড়া ২৬-২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প। অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় ক্যাম্পের বাসিন্দাদের।পুলিশ বলছে, ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়টির একেক অংশের একেক নাম। শালবন অংশটুকুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। অন্তত ১০টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ এখানে সক্রিয়। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ও মানব পাচার-সব অপকর্মই হয়। অপরাধীরা নিচে নেমে কাজ সেরে আবার পাহাড়ে চলে যায়। রোহিঙ্গাদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ থাকলেও গহিন এই পাহাড়ের পুরোটাই তাদের অজানা।সাধারণ রোহিঙ্গারা বলছেন, সন্ত্রাসীরা জনবল ও অস্ত্রশস্ত্রে অনেক শক্তিশালী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার অভিযানে গিয়েও সন্ত্রাসীদের দমনে ব্যর্থ হয়েছে।টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, শালবনে অন্তত ১০টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। প্রতিটি গ্রুপের ৮০-৯০ জন সদস্য। তাদের আছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র। ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তারিকুল ইসলামও বিষয়টি অস্বীকার করেননি।গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পাহাড়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আদ্দু বাহিনী, গিয়াস বাহিনী ও সালমান শাহ বাহিনী। এ ছাড়া আছে জাকির বাহিনী, পুতিয়া বাহিনী, খালেক বাহিনী, জাকারিয়া গ্রুপ ও মুন্না গ্রুপ। জাকির বাহিনীর জাকির 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হলে এই বাহিনীর হাল ধরে তাঁর বড় ভাই দিল মোহাম্মাদ আর জামিল।র্যাবের কর্মকর্তা উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় ১১ লাখ মানুষের বাস। শালবন পাহাড়কেন্দ্রিক নয়াপাড়া ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলে সবচেয়ে বেশি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাসিমউল্লাহ ও আজিম উল্লাহ গ্রুপ চাঁদার দাবিতে বাংলাদেশি হাবিব উল্লাহর পরিবারে হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে হাবিবের তিন সন্তান আহত হয়। গত শুক্রবার র্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' হাসিমউল্লাহ নিহত হন।মুক্তিপণ না পেলে খুন২৬ নম্বর শালবাগান ক্যাম্পের আই-৯-এর বাসিন্দা সত্তর ছুঁইছুঁই রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম। ৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে হঠাৎ তাঁর ঘরের দরজার কড়া নাড়ার আওয়াজ। খুলতেই জাকারিয়াবাহিনীর কয়েকজন সন্ত্রাসী পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে রক্তাক্ত করে। তাঁকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরিবারকে বলে যায়, তাঁকে ফেরত পেতে হলে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে।গত শুক্রবার ক্যাম্পের মসজিদের সামনে আলমের ছেলে আজিজুল অভিযোগ করেন, এপিবিএনের কাছে সহায়তা চাইতে গেলে তারা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনার পরামর্শ দেয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় বাবাকে ছাড়িয়ে আনেন তিনি।নয়াপাড়া ক্যাম্পের ব্লক-আইয়ের ২৪,২৫, ২৬,২৭-এর সমন্বয়ক মো. জাফরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পে প্রতিদিন এমন চার-পাঁচটি ঘটনা ঘটে। পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায় না। তিনি নিজেও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। তিনি এখনো সে ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেননি।টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর বলেন, 'ক্যাম্পে অপহরণ, ধর্ষণ, মারামারি, ছিনতাই লেগেই আছে। অনেক সময় আমরা খোঁজ পাই। কিন্তু ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে না। তাই অনেক ঘটনা অজানা থেকে যায়।'কোনো কৌশল কাজে আসছে নাশালবন পাহাড়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সাত-আট শ সদস্য আছে। পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে বসেছে তারা। ঘন জঙ্গলে সেটি বোঝার উপায় নেই। খাবারের জন্য তারা মাঝেমধ্যে সমতলে নামে। কাকে অপহরণ করা হবে, ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা সেটি ঠিক করে। ২৬ নম্বর এই ক্যাম্পের ৫ ব্লকে ৪১ হাজার ৭৭২ রোহিঙ্গার বসবাস।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই বছরে ক্যাম্পে অন্তত ৭০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুই বছরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করা ৪৯৩টি মামলা হয়েছে, যাতে ১ হাজার ৪৫৮ জন আসামি। সবচেয়ে বেশি, প্রায় দুই শ হলো মাদক মামলা। রয়েছে মানব পাচার, অস্ত্র, ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, নারী নির্যাতন, অপহরণ ও পুলিশের ওপর হামলার মামলা।র্যাবের উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলছেন, 'হেলিকপ্টার আর ড্রোন উড়িয়ে আমরা সন্ত্রাসীদের আস্তানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত 'বন্দুকযুদ্ধে' ১২ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।'মানব পাচার, মাদক, স্বর্ণ চোরাচালান থেকে আসে অর্থ। র্যাব-পুলিশের তথ্য বলছে, এসব বাহিনীর অর্থের বড় একটি উৎস ইয়াবা, মানব পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যেসব সিন্ডিকেট ইয়াবা, মানব পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান করছে, তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় তারা। এমনকি সাগরপথে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শুরুতে এই পাহাড়ে রাখা হয়।বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ বলছে, গত ১০ মাসে এসব এলাকায় অনন্ত ১০৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গাদের পাহাড়ি ক্যাম্পে এত অস্ত্র-গোলাবারুদের উৎস কী?আর্মড পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মূল উৎস মিয়ানমার। সে দেশ থেকে মাদকের সঙ্গে আসছে অস্ত্র। বান্দরবানের চাকঢালা, আশারতলী, তুমব্রু, ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে আসছে এসব অস্ত্র। পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের গুদামও রয়েছে।র্যাব ও বিজিবির তথ্যমতে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় গত ছয় মাসে অভিযান চালিয়ে ১৫১টি গোলাবারুদ, ৩৩টি দেশীয় বন্দুক, দুটি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি রিভলবার, দুটি থ্রি কোয়ার্টার গান, তিনটি এলজি, পাঁচটি এসবিবিএল, একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়।ক্যাম্পে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেফ দ্য চিলড্রেনের এক নারী কর্মী বলেন, 'নয়াপাড়া ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ে রোহিঙ্গা ডাকাতদের আস্তানা। দিনে পাহাড় আর রাতে ক্যাম্প চষে বেড়ায় তারা। আমরা নিজেরাও অনিরাপদ বোধ করছি।'কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, 'জেলা পুলিশ ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা একাধিক অভিযান চালিয়েছি। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।' | 6 |
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০ কারারক্ষী করোনায় আক্রান্ত। তারা সবাই ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্বপালন করতেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের নির্বাচিত ৬০ জন সদস্য শপথ গ্রহণ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শপথ পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার।শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাজমিন আলম তুলি, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কবির, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম সুলতানা, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন কানন, ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঞা, জেলা পরিষদের সদস্য রেজিয়া বকুল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।উপজেলার নয় ইউপির মধ্যে গত ২৮ নভেম্বর ১ নম্বর ছাতারপাইয়া, ৩ নম্বর ডমুরুয়া, ৪ নম্বর কাদরা, ৬ নম্বর কাবিলপুর এবং ৮ নম্বর বীজবাগ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চেয়ারম্যানদের শপথপাঠ করান জেলা প্রশাসক। | 6 |
ওমিক্রন শনাক্তের পর গত তিন মাসে বিশ্বে ৫ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, এই সময়ের মধ্যে ৫ লাখ মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্ব রেকর্ড। এই সংখ্যা বিয়োগান্তক ঘটনার চেয়ে আরও বেশি কিছু।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কর্মকর্তা আবদি মাহামুদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যানেলে এসে বলেন, গত নভেম্বরে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বে ১ কোটি ৩০ লাখ করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় বিশ্বে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু হয়েছে।ওমিক্রন করোনার অতিসংক্রামক ধরন ডেলটার চেয়েও বেশি সংক্রমণযোগ্য। যদিও এটি রোগীকে গুরুতর অসুস্থ করে না।আবদি মাহামুদ বলেন, কার্যকর ভ্যাকসিনের যুগে ৫ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। যখন সবাই বলছে ওমিক্রন হালকা, (তারা) এই পয়েন্টটি মিস করেছে যে এটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৫ লাখ মানুষ মারা গেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, আমরা এখনো এই মহামারির মাঝখানে আছি। আমি আশা করি আমরা এটির শেষের কাছাকাছি চলে এসেছি। অনেক দেশ এখনো তাদের ওমিক্রনের চূড়া অতিক্রম করেনি | 3 |
মাঠে গড়াচ্ছে না বল। করোনাভাইরাস আতঙ্কে বল যদি না গড়ায়, তবে অনুশিলনও তো থেমে থাকবে। মুখে বলে কিংবা খাতা কলমে লিখে যদি খেলা হতো, তবে অনলাইনে অনুশিলন সম্ভব হতো। কিন্তু তা তো আর হয়ে উঠছে না। তবে, সকলে ঘরে থাকলেও সবার সাথে যোগাযোগ ও খোঁজ খবর রাখছে ইংলিশ ফুটবল ক্লাব লিভারপুল। নিয়মিত অনলাইন ভিডিও কল মাধ্যম জুম অ্যাপসে মিটিং করে সবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছেন লিভারপুলের কোচ। সবাইকে অনলাইন মিটিং করা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। এটাকে অনুশিলনের মতোই দেখছেন তিনি। ক্লাবটির ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের মতে, সেলফ আইসোলেশনে থেকে সেরা বিষয় হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে এটিও জানিয়েছেন, কেউ যদি ভিডিও কল ধরতে দেরি করে, তাহলে তার জন্য জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যদি কেও মিটিংয়ে যোগ দিতে দেরি করে, তবে মাঠে অনুশিলনের মতোই তার গুনতে হচ্ছে জরিমানা। করোনার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে নিশ্চিত শিরোপার দিকে এগুচ্ছিল লিভারপুল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের পয়েন্টের পার্থক্য ছিল ২২, আর মাত্র ২টি জয় হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেত ক্লপের শিষ্যদের। দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত অনলাইন বৈঠকের ব্যাপারে ক্লপ বলেন, 'অনেকেই হয়তো বলতে পারেন, এটা অন্য স্বাভাবিক আলোচনার মতোই, যেমনটা হয়ে থাকে। কিন্তু বিষয়টা আসলে এমন নয়। আমি এটাও উপভোগ করি।' লিভারপুলের এই অনলাইন সেশন সাধারণত শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। তার আগে সাড়ে ৯টা থেকেই চ্যাট ওপেন করে দেয়া হয় সবার জন্য। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে সবাই যোগ দিলে শুরু হয় আলোচনা। আর কেউ দেরি করলেই তার জন্য রয়েছে জরিমানা। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে ক্লপ বলেন, 'আমরা যখন ১০টায় শুরু করি, তখন সাড়ে ৯টা বাজেই চ্যাট ওপেন করে দেয়া হয়। যাতে সবাই চলে আসতে পারে। যারা শুরুতে আসে, তাদের আড্ডায় পুরো ব্যাপারটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এখন সবাই জানে কীভাবে কী কাজ করে। ফলে যারা পরে আসে, তারাও সময়মতো চলে আসে।' তিনি আরও বলেন, 'না এসেও উপায় নেই! কারণ আমরা জরিমানার ব্যবস্থাও রেখেছি। একটা জুম সেশনে বেশি দেরি করা মানে তোমাকে জরিমানা দিতে হবে। ২০২০ সালে এই অবস্থার ভাল দিক এটাই যে, আমরা টেকনিক্যাল সুযোগটা পাচ্ছি। কল্পনা করুন যে আশির দশকে এমন হয়েছে! তখন পুরো বিষয়টাই গোলমেলে হয়ে যেত। শুধু ফুটবল না, সব বিষয়ের কথাই বলছি।' নিজের শিষ্যদের সঙ্গে এই ভিডিও সেশন উপভোগ করার কথা জানিয়ে লিভারপুল কোচ আরও বলেন, 'এটা সত্যিই অসাধারণ। এতা একদম ভিন্ন। সবকিছু এখন অন্যরকম। আমরা করিও সব নতুন নতুন জিনিস। এমন ট্রেনিং সেশন করার আগে কখনও ভাবিনি যে এত উপভোগ্য হবে। আমি ছেলেদের দেখতে পাই, যতক্ষণ সেশন চলতে থাকে। সবাই দারুণ অবস্থায় আছে। তবে আপনি এদের মিস করবেনই। কারণ এই গ্রুপটা অসাধারণ। আপনি এদের সঙ্গে সবসময় থাকতে চাইবেন।' সবাই এখন বন্দী যার যার ঘরে। এই সংকটময় পরিস্থিতি দূর হলে যেন সবাই স্বাভাবিকরুপে মাঠে ফিরতে পারে, এজন্যই মূলত অনলাইন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন ক্লপ। এ ব্যাপারে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও, বেশ উপভোগই করছেন এ জার্মান কোচ। | 12 |
বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) সরকারি জনতা ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) ৬৩৩ পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ফলাফল পাওয়া যাবে। জনতা ব্যাংকের এ পরীক্ষা ২০১৬ সালভিত্তিক। চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন করেছিলেন ২০১৭ সালে। নানা জটিলতার কারণে নিয়োগ পরীক্ষাটি আটকে ছিল। অবশেষে ২০২০ সালের শেষের দিকে পরীক্ষা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। *পুরো ফলাফল এখানে দেখুন | 1 |
সামরিক জান্তাকে উৎখাত করে ক্ষমতায় যেতে পারলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের একটি ছায়া সরকার। খবর ইয়াঙ্গুন পত্রিকার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার তাদের সম্ভাব্য সংখ্যালঘুনীতি নিয়ে তিন পৃষ্ঠার এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে সামরিক জান্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রোহিঙ্গাদের সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে বিদ্যমান ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে মিয়ানমারে জন্ম নেয়া বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে জন্ম নেয়া মিয়ানমার নাগরিকদের সন্তানদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দানের অঙ্গীকার করেছে এনইউজি। গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির এনএলডি (ন্যাশনাল লি ফর ডেমোক্র্যাসি) সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পরপরই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে চড়াও হয় সামরিক সরকারও। এতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আট শতাধিক মানুষ, বন্দি করা হয়েছে কয়েক হাজার। এ অবস্থায় জান্তাকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে একটি ছায়া সরকার গড়ে তোলেন মিয়ানমারের রাজনীতিবিদরা, যার বেশিরভাগ সদস্যই এনএলডির। জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) নাম দিয়ে এটিকেই মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া, মিয়ানমারে জাতীয় কার্ড ভেরিফিকেশন পদ্ধতিও বিলুপ্ত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনইউজি। দেশটির প্রশাসন এর মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের বিদেশি নাগরিক বলে উল্লেখ করেছিল। ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের চেয়ে ঐক্য সরকারকেই বাংলাদেশের সমর্থন করা উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। | 3 |
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের 'অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (৯ম গ্রেড) ' স্টান্ডার্ড অ্যাপটিউট টেস্টের সময় সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ ঘণ্টাব্যাপী ২০০ নম্বরের এ পরীক্ষা আগামী ১৪ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক হাইস্কুল, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, মতিঝিল, ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা। গত ৩০ নভেম্বরে এর এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই স্টান্ডার্ড অ্যাপটিউট টেস্টে অংশ নেবেন। এমসিকিউ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে (://...) পাওয়া যাবে। প্রার্থীদের স্টান্ডার্ড অ্যাপটিউট টেস্টের জন্য আলাদা কোনো প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে না। এমসিকি পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়েই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় চেকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ০১ (এক) ঘণ্টা পূর্বে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে সারিবদ্ধভাবে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশপত্র ব্যতিরেকে কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, প্রবেশপত্রের একাধিক কপি বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ না করতে নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। মাস্ক না পরলে কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। | 1 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয়। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এর আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবসের দুপুরে এই মেজবানে ৫০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আগত শোকার্ত মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মেজবানে অংশ নেন। ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন জানান, তিনি মেজবানের তত্ত্বাবধান করেছেন। টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য বুধবার ২০টি গরু জবাই করা হয়। এখানে ছিল ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংস, সাদা ভাত, চনার (ছোলার) ডাল দিয়ে লাউ আর নলির ঝোল। আর টুঙ্গিপাড়ার বালাডাঙ্গা এস এম মুসা হাই স্কুল মাঠে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। তাদের খাবারের মেন্যুতে ছিল মুরগি, সাদা ভাত ও লাউ দিয়ে চনার ডাল। মেজবানের আয়োজনের জন্য বাবুর্চিসহ ৪০ সদস্যের একটি টিম গত মঙ্গলবার টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছায়। এ ছাড়া মেজবান সফল করতে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন ও ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী চট্টগ্রাম থেকে ১৫ আগস্ট ভোরে টুঙ্গিপাড়া এসে পৌঁছান। আয়োজনের সব কাজে টুঙ্গিপাড়ার নেতাকর্মীরা আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে টুঙ্গিপাড়ায় মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৫ আগস্ট উপলক্ষে মেজবান শুরু করেন বলে জানান তিনি। | 6 |
রহমত, বরকত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারো এলো পবিত্র মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার এ মাসেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেন। তাই এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে ১৪৪৩ হিজরির পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় এশার নামাজের পর তারাবির নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। শেষরাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। একই সঙ্গে আগামী ২৬ রমজান অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবেকদর পালিত হবে। গতকাল শনিবার সন্ধায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হলো সিয়াম সাধনা। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রোজা একটি ফরজ (অবশ্য পালনীয়) ইবাদত। রমজান সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিননরা! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা মুত্তাকিন হতে পার। এদিকে, করোনা ভাইরাস মহামারির সংক্রমণ অনেকটা কমে আসায় এবার মসজিদে নামাজ আদায়ে তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে সংক্রমণ যেন আর বাড়তে না পারে সেদিকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। তাই মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। | 6 |
টানা দুই জয়ে প্রথম দল হিসেবে ইউরো ফুটবলের নক আউট পর্বের টিকেট পেয়েছে ইতালি। তুরস্ককের হারিয়ে ইউরোর যাত্রা শুরু করা ইতালি বুধবার রাতে ৩-০ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। এ গ্রুপে টানা দুই জয়ে ইতালির পয়েন্ট ৬। ইউরোতে টানা দ্বিতীয়, সব মিলিয়ে টানা দশ ম্যাচে জয় পেল ইতালি। ১০ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে তারা ৩১বার। মজার বিষয় এই দশ ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি ইতালি। তাই বলা যায়, চলমান ইউরোতে তারা খুবই ভয়ংকর। রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ১৯ মিনিটে প্রথম বল জালে পাঠান ইতালি অধিনায়ক জর্জো কিয়েল্লিনি। তবে ভিএআরে সাহায্যে হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান রেফারি, লাফিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় তার হাতে বল লেগেছিল। আফসোস বাড়ে ইতালিয়ান শিবিরে। তবে গোলের জন্য বেশি দেরি করতে হয়নি তাদের। ২৬ মিনিটেই লিড নেয় দলটি। মাঝমাঠে সতীর্থের ক্রস পেয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে ঢুকে বাইলাইনের কাছ থেকে দুজনের মাঝ দিয়ে গোলমুখে বল বাড়ান বেরার্দির। ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে জালে জড়ান লোকাতেল্লি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লোকাতেল্লি। নিকোলো বারেল্লার পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জায়গা বানিয়ে বুলেট গতির শটে জাল কাঁপান তিনি (২-০)।৬৪ মিনিটে সত্যিকার অর্থে প্রথম একটু ব্যস্ত সময় কাটে ইতালি গোলরক্ষক জানলুইজ দোন্নারুমার। ডাবল সেভে ওই পরীক্ষায় দারুণভাবে উতড়ে যান তিনি। খানিক পর দুই মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে দেয়ার দুটি সুযোগ পান ইম্মোবিলে। দূরের পোস্টে নেয়া তার দুটি শটই হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। জয়ের পথে থাকা ইতালি ম্যাচের তৃতীয় গোলটি পান ৮৯ মিনিটে। স্কোরলাইন ৩-০ করেন কিরো ইম্মোবিলে। শেষ পর্যন্ত দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইতালি। এ গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে নক আউট পর্বের সম্ভাবনা জোরাল করেছে ওয়েলস। চার দশক পর তুরস্ককে হারাল বেলরা। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করেছিল ওয়েলস। চার পয়েন্ট নিয়ে ইতালির পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। এ গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামী রোববার ইতালির মুখোমুখি হবে ওয়েলস। একই দিনে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে তুরস্ক। | 12 |
নিউইয়র্ক সিটির 'ব্রুকলিন ওয়াটার ফ্রন্ট আর্ট গ্যালারি'-তে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন রিকশা নিয়ে এক ভিন্নধর্মী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন নিউইয়র্কের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও শিল্পী এ্যান্ডি আইজ্যাকসন। বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত এই বর্ণিল রিকশাটির প্রদর্শনীতে ৬ ডিসেম্বর অংশগ্রহণ করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থীদের সাথে আলাপ করেন এবং রিকশা ও এর নেপথ্য শিল্পীদের সম্পর্কে দর্শনার্থীদের অবগত করেন। তিনি বলেন, রিকশা শিল্পকর্মটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক চেতনার একটি সহজাত প্রকাশ। এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার লোকজন বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবেন বলে কনসাল জেনারেল আশা পোষণ করেন। মার্কিন ধারার সাথে বাংলাদেশের ভিন্নধর্মী, স্বকীয় এবং অকৃত্রিম শিল্পের এ সেতুবন্ধন স্থাপনের জন্য শিল্পী এ্যান্ডি আইজ্যাকসন'কে কনসাল জেনারেল আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
শিল্পী এ্যান্ডি আইজ্যাকসন কনসাল জেনারেলকে জানান যে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এ রিকশার নাম দিয়েছেন "অথেনটিক সাইকেল রিকশা"। পাবলিক আর্ট প্রজেক্টের অংশ হিসেবে এই চমৎকার যানটি কেবল বাহনের কাজই করে না বরং রিকশা শিল্পী'র আঁকা ছবিতে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, আনন্দ, বেদনা ও কল্পনা ফুটে ওঠার বিষয়টি শিল্পীকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রদর্শনী। বাংলাদেশী ও আমেরিকান দর্শক আগ্রহভরে এই রিকশাটি দেখছেন এবং বাংলাদেশের অথেনটিক পাবলিক আর্ট উপভোগ করছেন। উল্লেখ্য, শনি ও রবিবারও (১২ ও ১৩ ডিসেম্বর) এই প্রদর্শনী চলবে বলে জানান।
আরও উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জনকূটনীতিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরীর প্রয়াসে বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
বরগুনার তালতলীর কচুপাত্রা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আট গ্রামের বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু পারাপার হতে হচ্ছে। চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসীর।জানা গেছে, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর ২০০১ সালে শারিকখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাদুরগাছা (নয়াভাঙ্গলী) খালের ওপর এ সেতু নির্মাণ করে। সংস্কারের অভাবে এটি ধীরে ধীরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীরা চলাচল করতে গিয়ে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আটটি গ্রামের তিন-চার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন এই ভাঙা সেতু। স্থানীয়রা কাঠ দিয়ে সেতুটি মেরামত করে চলাচল করছেন। কিন্তু এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতাল নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এলাকাবাসীর দাবি সেতুটি সংস্কার না করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হোক।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার উত্তর বাদুরগাছা এলাকায় খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। স্থানীয়রা কাঠ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছেন। কাঠের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এই সেতুটি অনেক দিন ধরে ভেঙে খালে পড়ে আছে। কিন্তু তাতে প্রশাসনের নজরে নেই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিকল্প ব্যবস্থা করলেও ঝুঁকি নিয়ে এলাকার তিন-চার হাজার মানুষ চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কিন্তু সেতুর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার বলা হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সেতুটি এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করে।আলমাস হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, এই সেতুটি যখন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তখন স্থানীয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সব প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়ে কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে এলাকার ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা-নেওয়া করছেন। এ ছাড়া স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে। সেতুটি না হওয়ায় এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।এ বিষয়ে শারিকখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাশার বাদশা তালুকদার বলেন, এ সেতুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। সেতু দিয়ে চলাচলকারীরা চরম ভোগান্তিতে আছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আহম্মেদ আলী বলেন, এই সেতুটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। আমাদের সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তার ভেতরে থাকলে হয়ে যাবে। যদি না পাঠানো হয়, তাহলে খুব দ্রুত একটি প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হবে। | 6 |
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদের উপন্যাস 'পেন্সিলে আঁকা পরী' অবলম্বনে ছবি বানানোর কথা ছিলো পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর। সেই ছবির জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানে হিসেবে ৬০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিলো তার। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে তিনি ১৮ লাখ টাকা পেয়েছেন অমিতাভ। সে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি জরিমানাসহ অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র) মো. সাইফুল ইসলাম ও অমিতাভ রেজা নিজে। মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা তার (অমিতাভ রেজা) টাকাটা ফেরত পেয়েছি। যেহেতু তিনি ছবিটি বানাচ্ছেন না তাই কিছু টাকা জরিমানাসহ ফেরত দিয়েছেন। আমরা ওনার সরকারি চালানের কপি বুঝে পেয়েছি। অমিতাভ জানান, তিনি গত ২০ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকে সরকারি চালানের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা ১৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ জরিমানা হিসেবে ১৮ হাজার টাকা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে অমিতাভ রেজা জানিয়েছিলেন, তিনি 'পেন্সিলে আঁকা পরী' ছবিটি বানাচ্ছেন না। কারণ হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড এই চলচ্চিত্রের গল্পের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ এবং সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র মুক্তির পর এর আয়ে অংশিদারিত্ব চাওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। | 2 |
ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, এ আসনে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে মানুষ দৌড় সালাউদ্দিন নামেই চিনে। সালাউদ্দিন সাহেবকে এই দৌড়ানি কে দিয়েছে? এই আসনের জনগণই দৌড়ানি দিয়েছে। এবার তাকে আবারও দৌড়ানি দিয়ে ঢাকা-৪ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। গত বুধবার দুপুরে ডেমরার ৭০নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৫ আসনের অন্তর্গত সব স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বেতন অর্ধেকে কমিয়ে আনা হবে। প্রতি বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন করে যে ভর্তি ফি নেয়া হয়, এমপি নির্বাচিত হলে সেটি নেয়াও বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
শেরপুরে মঙ্গলবার বিএনপির করোনা 'হেল্প সেল' উদ্বোধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি ওই হেল্প সেল চালুর উদ্যোগ নেয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকার দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী সশরীর সভায় অংশ নিলেও অতিথিরা যুক্ত হন ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে। জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অজুহাতে অনুষ্ঠানে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও সেখানে আসেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপে তাঁরা কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেন। দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, বাঁধার মুখে শেরপুরের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হওয়ায় বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে শেরপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বন্দে আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। সেই নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বিএনপির নেতারা সভার আয়োজন করেন। তাই তাঁদের দ্রুত সভা শেষ করার জন্য বলা হয়। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এই সভায় যুক্ত হয়ে হেল্প সেল উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ ওয়ারেছ আলী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, শহর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান। পরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহযোগিতায় পাঁচটি অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই), হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও ওষুধপত্র জেলা বিএনপির নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিএনপির নেতা মাহমুদুল হক বলেন, করোনা রোগীদের যেকোনো প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। ড্যাব সদস্য ও জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহেল ওয়াসী খানসহ বিএনপির পরামর্শক কমিটির সদস্যরা এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। | 9 |
অষ্টমবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার বিকালে নির্বাচনী অধিবেশনে দলের শীর্ষ এই দুই পদে তারা নির্বাচিত হন।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা করেন।
দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে রোববার বিকেলে ২০তম এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব জল্পনা কল্পনার অবসান হলো। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান জাহাঙ্গীর কবির নানক। এই পদেও বিকল্প কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কেউ সভাপতি পদে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ ও ২০১২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হলেন যারা: সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ ভট্টাচার্য।
যুগ্ম সম্পাদক হলেন যারা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক এবং আবদুর রহমান। হানিফ, দীপু মনি ও নানক পুরনো কমিটিতেও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন; তাদের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছেন আব্দুর রহমান।
কোষাধ্যক্ষ পদে এন এইচ আশিকুর রহমানই থাকছেন নতুন কমিটিতে। | 9 |
সোমালিয়ায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। শনিবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বালাদউয়েন শহরের এক রেস্টুরেন্টে এই বোমা হামলা করা হয়। হামলায় আরো ২০ জন আহত হয়েছে বলে পুলিশের মুখপাত্র দিনি রোবেল আহমদ সংবাদমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ফলে 'বিপুল ক্ষতি' হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকজনের খাওয়ার সময় ওই রেস্টুরেন্টের খোলা একটি অংশে এই বিস্ফোরণ হয়। রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দূরের এই শহরের পার্লামেন্টের আসনে ভোট শুরুর আগেই এই হামলা হলো। হামলায় নিহতদের মধ্যে দুইজন ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার ও নির্বাচনে অংশ নেয়া একজন প্রার্থী আছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। হামলার জন্য উগ্রবাদী আল-শাবাব গোষ্ঠী দায়িত্ব স্বীকার করেছে। দলটি সোমালিয়ার সরকার পতনের জন্য চেষ্টা করে আসছে। সোমালিয়ায় গত বছর ১ নভেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হয়। ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় নির্বাচন শেষের তারিখ পিছিয়ে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
লেখার শিরোনামটি একটি হিন্দি সিনেমার সংলাপ থেকে নেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠির আগুনে পোড়া লঞ্চের কয়েকটা ছবি দেখছিলাম, বারবার আমির খান অভিনীত দর্শকপ্রিয় বলিউড চলচ্চিত্র পি কের দুটো ডায়ালগের কথা মনে পড়ছিল। সিনেমার শেষের দিকে পিকের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় তপস্যী জি। একপর্যায়ে আমির খান বলছিলেন, ইনসান নেহি, স্রিফ জুতা রাহে যায়ে গা (মানুষ না, শুধু জুতা থেকে যাবে)।গভীর রাতে লঞ্চে আগুনের ঘটনার বিস্তারিত রাজধানীতে বসে জানা যায় ভোরের পর। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদক আল আমিন রাজু রওনা দেন সকালেই। প্রতিদিনই ছবি পাঠান, ভিডিও পাঠান। ২৫ ডিসেম্বর বেশ কিছু ছবি পাঠান স্টোরির সঙ্গে। একঝলক করে সবগুলো ছবিই দেখি। কারও খাবারের বাটি সেভাবেই রয়ে গেছে, কারও হাতের চুড়ি, কেউ বাড়ির জন্য ঢাকা থেকে আঙুর কিনেছিলেন। কিছু পুড়েছে, কিছু অক্ষত রয়ে গেছে। শিশুর দুধ খাওয়ার ফিডার, নতুন কেনা কম্বল, হাতঘড়ি। কিন্তু চোখে ভাসছিল মারা যাওয়া মানুষগুলোর জুতার ছবি। কারও এক পাটি, কারও এক জোড়া। পোড়া, অর্ধপোড়া, একেবারেই না-পোড়া। সবই আছে, শুধু মানুষগুলো নেই।কতভাবে মানুষ হারিয়ে যেতে পারে, এমন গবেষণার জন্য বাংলাদেশের চেয়ে ভালো প্লট বিশ্বে কোথাও নেই বলেই আমার বিশ্বাস। বাচ্চার জন্য চকলেট কিনবেন বলে বাসা থেকে বেরোলেন। গলির মুখের রাস্তায় গাড়িচাপায় হারিয়ে গেলেন। সাদা চোখে একজন, আদতে কিন্তু বেশি। কারও সন্তান, কারও বাবা, কারও স্বামী, কারও ভাই।স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোডের হিসাবে, দেশে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ হারান অন্তত ১৫ জন মানুষ। গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটি জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়কপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫১২ বার আর ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকার। ৭১২টি নৌপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৮ আর রেলপথ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৮ জন। এসব হিসাব ঝালকাঠির লঞ্চে আগুনের দুর্ঘটনার আগের।নির্মাণাধীন ভবনের ইট পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও রাজধানীতে ঘটছে অহরহ। ওই যে হারিয়ে যাওয়ার নানা রকমফের। আজিমপুরে দেয়ালচাপায় ও কয়েক বছর আগে শাহজাহানপুরে পানির পাইপে পড়ে মারা যায় একই নামের দুই শিশু জিহাদ। অনিয়মিত বিরতিতে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা কয়েক বছর ধরেই হচ্ছে। এ বছর কাছাকাছি সময়ে কয়েকটা হয়ে যাওয়ায় গণমাধ্যমে বেশি আলোচিত হয়েছে।বছর দুয়েক আগে পল্টনে খোলা ম্যানহোলে পড়ে হারিয়ে যান এক পথচারী। দুদিন পরে মেলে তাঁর লাশ। ঘটনা শোনার পর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, এ কেমন মৃত্যু! সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর ভাগ্যেই জোটে একই পরিণতি। এখানে হারিয়ে যেতে কোনো কারণ লাগে না।আরেক প্রকার হারিয়ে যাওয়া এ দেশে খুব আলোচিত। দুষ্ট লোকেরা এর নাম দিয়েছে গুম। তবে এতক্ষণ যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আর এই 'গুম' হয়ে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো-মরদেহ পাওয়া না-পাওয়া। যাঁরা অতি ভাগ্যবান সপ্তাহখানেক, মাসখানেক, ছয় মাস পরে তাঁরা ফিরে আসেন। আর বেশির ভাগ আসলেই হারিয়ে যান। কেউ জানে না তাঁরা কোথায়।প্রতিবছর মে মাসের শেষে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের করা মায়ের ডাক নামের একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে। যেখানে তৈরি হয় খুবই আবেগতাড়িত এক পরিস্থিতি। এই মায়ের ডাক যখন শুরু হয়, তখন যে শিশুটিকে কোলে দেখেছিলাম, এখন সে বাবাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মাইক হাতে বক্তব্য দেয়।সাভারের স্পেকট্রাম থেকে শুরু হয়েছিল বড় ভবনধসের ঘটনা। যত দিন গেছে আরও বড় ভবন ধসেছে। বেশি মানুষ হারিয়ে গেছে। রানা প্লাজার পর তো সংজ্ঞাই হারিয়েছে মানুষ মারা যাওয়ার। ১ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ!!!সকালে কাজে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধ মা, ছোট্ট সন্তান আশায় ছিল সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন সবাই। কিন্তু নয়তলা সেই ভবন একেবারে মিশে গিয়েছিল। চাপা পড়া মানুষের সেই আর্তনাদ কাঁদিয়েছিল পুরো দেশবাসীকে। আন্তর্জাতিক মহলেও নাড়া ফেলেছিল রানা প্লাজার দুঃসহ ঘটনা। সেখানেও বহু মানুষের জুতা দেখেছিলাম। মানুষগুলো হারিয়ে গিয়েছিলেন, রয়ে গিয়েছিল জুতা। তাজরীনের ভয়াবহ আগুন থেকে আমরা কোনো শিক্ষা নিইনি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম অনেক। হ্যান হবে, ত্যান হবে। হয়েছে? হ্যাঁ। ট্যাম্পাকো নামের এক কারখানার আগুনে মারা গেছেন বহু মানুষ।চলতি বছর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুডসের মর্মান্তিক আগুনে মারা যান পঞ্চাশের বেশি মানুষ। শেষ হিসাব পর্যন্ত ৫১ জন। জানা গেল কি? পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্র কিছুই নাকি ছিল না তাদের। তাহলে দোষ কার? মরে যাওয়া মানুষগুলোর?কয়লা হয়ে মরেছেন, নম্বর হিসাবে দাফন হয়েছে তাঁদের। পরিবার জানেও না আসলে কোনটা কার লাশ। ওই যে বাসা থেকে ভোরে এসেছেন, তারপর সেই চেহারাতেই হারিয়ে গেছেন সবাই।আবারও মানুষের কয়লা মিলল অভিযান-১০ লঞ্চে; যা বাংলাদেশের মানুষ দেখেনি আগে। প্রতিবারই নতুন করে আগের চেয়ে ভয়াবহ ঘটনা তৈরি হয় এ দেশে।২০১৪ সালের আগস্টে মুন্সিগঞ্জে পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার সেই ভয়ার্ত ভিডিও দেখেননি এমন মানুষ বোধ হয় পাওয়া যাবে না। ডুবে যাওয়া ওই লঞ্চ থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরে আর খোঁজ মেলেনি ৫০ জনের।দেশের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা বলা হয় ২০০৩ সালের এমভি নাসরিন-১ নামের লঞ্চডুবিকে। সেখানে কত যাত্রী ছিল, সে বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য নেই। তবে সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে ৬০০ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।ওই বছরের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী লঞ্চটি চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ডুবে যায়।তার আগের বছর ৩ মে সালাহউদ্দিন-২ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে মারা যায় অন্তত ৪০০ মানুষ। চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে ডুবে যায় লঞ্চটি।এক দশকের পরিসংখ্যান দেখলে মৃতের অঙ্কে অভিযান-১০-এর দুর্ঘটনা ইতিহাসের পাতায় নিচের দিকে জায়গা পাবে। কিন্তু দাউ দাউ করে নিকষ রাতে জ্বলা আগুনের শিখা ভুলতে পারবেন পুড়ে অঙ্গার হওয়া মানুষের স্বজনেরা?নাসরিন, সালাহউদ্দিন, পিনাক-৬, মর্নিং বার্ড-সব ঘটনাই একেকটি অধ্যায়। সেই পুরোনো কথার মতো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। ওগুলো তো ডুবে গেছে। এবার তো পুড়েছে, শিক্ষাটা নেওয়া দরকার না?তদন্ত কমিটি বলেছে, ইঞ্জিনরুম থেকেই লেগেছিল আগুন। মালিকের দাবি, গত মাসেই তিনি নতুন ইঞ্জিন লাগিয়েছেন। তাহলে এত মানুষ মরল কেন? এবারও তদন্ত হবে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, প্রাথমিক দায়ও স্বীকার করেছেন লঞ্চটির মালিক।নৌ-দুর্ঘটনা ঘটার পরেই কেন যাত্রী বেশি ছিল কি না, জীবন রক্ষাকারী, আগুন নেভানোর যন্ত্র পর্যাপ্ত ছিল কি না, এসব প্রশ্ন আসে? যাত্রা শুরুর আগে প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতারা কোথায় থাকেন?এভাবে চলতে থাকবে, আবারও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। মাস্টার চালাচ্ছিলেন কি না, লাইসেন্স আছে কি না, মালিক কোন দল করেন-এসব প্রশ্ন আবারও আসবে। কিন্তু আমির খানের ভাষায়, মানুষ না, রয়ে যাবে শুধু জুতা।রাশেদ নিজাম, প্রধান প্রতিবেদক আজকের পত্রিকা | 6 |
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আশু করণীয় প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি দিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। আজ পাঠানো ওই খোলা চিঠিতে আ স ম রব বলেন, করোনায় সৃষ্ট বৈশ্বিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশও গভীর সংকটগ্রস্ত। একদিকে স্বাস্থ্যসেবা অন্যদিকে আর্থসামাজিক সংকট দুটোই নির্মম বাস্তবতা। এ ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য অনিবার্য। জাতীয় ঐক্যই সমগ্র জাতির মাঝে উচ্চতর আত্মমর্যাদা বোধের জন্ম দেবে এবং ন্যায়বোধ ও মানবিক শক্তির বিকাশ ঘটাবে। জাতীয় ঐক্যের ফলে গড়ে উঠা সম্মিলিত প্রয়াস ও মনোবল আরো শক্তিশালী হবে এবং দুর্যোগ উত্তরণ সহজ হবে। আ স ম রব বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও ভয়ংকর লুন্ঠনে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক দুর্বৃত্ত চক্র গড়ে উঠেছে। দুর্নীতির কালোছায়া সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিদ্যমান মানবিক বিপর্যয়েও ত্রাণ চুরি আত্মসাৎ এবং লুন্ঠনের যে ভয়াবহ দলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, তা জাতির জন্য লজ্জাকর। এর আগে যে দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তাতে অবৈধ সম্পদের ভয়াবহচিত্র, টাকার গোডাউন, স্বর্ণালংকারের স্তুুপ আবিষ্কৃত হয়েছে। আপনার দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দেওয়ার পরও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কেন বন্ধ তা বোধগম্য নয়। জেএসডি সভাপতি বলেন, এই দুর্নীতিবাজরা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলকে বিতর্কিত এবং বঙ্গবন্ধুকে কি পরিমাণ মানসিক যাতনা দিয়েছে তাও আপনি অবগত। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার আপনার দৃঢ় অংগীকার বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ লকডাউনের ফলে দুর্নীতিবাজরা এখন দেশে অবস্থান করছে। আকাশপথ জলপথ স্থলপথসহ সকল পরিবহন এবং সীমান্ত পথে যাতায়ত বন্ধ থাকায় বিদেশ পাড়ি দেওয়ার তাদের সুযোগ নেই। এমন কি লকডাউনে বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পর্যন্ত ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় টাকার গোডাউন স্থানান্তর এবং অর্থ পাচার করাও দূরূহ। র্যাব কর্তৃক সূচিত দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোমে শুরু করা জরুরি। এই কার্যক্রম বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার করে নিরন্ন মানুষের খাদ্য জোগান দেবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারীদের আইনের আওতায় আনার রাষ্ট্রীয় কর্তব্য সম্পন্ন করবে। আশা করছি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পুনরায় গতিশীল করার মাধ্যমে আপনি ঘুনে ধরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
রেলে নিয়োগে দুর্নীতির দুই মামলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধাসহ তিন আসামির দুই বছর করে মোট চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি দুই আসামি হলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক সিনিয়র ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান।
কারাদণ্ড ছাড়া তিন আসামির প্রত্যককে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুই মামলায় মোট পাঁচজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রেলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মৃধার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ফুয়েল চেকার পদে এবং ১৮ আগস্ট সহকারী কেমিস্ট পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় মৃধাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে মৃধাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সবশেষ গত বছরের ৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ঢাকার আদালতে তিন বছরের সাজা হয় মৃধার।
| 9 |
সিরাজগঞ্জে জাতীয় পাট কলে লাগা আগুন সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন লাগে। দমকল বাহিনী, পুলিশ ও মিল শ্রমিকদের সহায়তায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর প্রক্রিয়ার শুরুতে মিলের ভেতরে রাখা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোর কোনটিই তেমন কাজে আসেনি বলে জানিয়েছেন মিল শ্রমিকরা। এছাড়া মিলের দায়িত্বরত অগ্নি নির্বাপক দলগুলোও কার্যকরী ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তারা। আগুনে পাটজাতপণ্য (বেল) পুড়ে গেলেও মিলের ভেতরের যন্ত্রপাতি বা শ্রমিকদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোকাররম হোসেন বলেন, পাটের বেলের কিছুটা ক্ষতি হলেও মিলের ভেতরের মেশিনপত্রের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শ্রমিকরাও অক্ষত আছেন। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিদ্যুতের শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। দমকল বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিনের উৎপাদনজাত পাটজাতপণ্য গোডাউনে না রেখে মিলের ভেতর যত্রতত্র স্তুপাকার করে রাখায় আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহতা দু'টোই বেশি। পাট কলের প্রকল্প প্রধান আমিনুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদনকৃত পাটের বেল গোডাউনে রাখার পরও জায়গা না পেয়ে মিলের মধ্যে রাখা হয়েছিল। আমরা সবসময়ই বিজেএমসিকে তাগিদ দিচ্ছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেন না। আজ যদি তারা উৎপাদনকৃত পাটের বেল সময়মত ডেলিভারি নিতো, তাহলে এমন ক্ষতি হতো না। | 6 |
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পৌরসভার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কোটচাঁদপুর শহরের চৌগাছা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোটচাঁদপুর শহরের তালমিল পাড়ার ফিরোজ হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন (২২) ও কোটচাঁদপুর এলাঙ্গী গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আক্তার হোসেন (২৩)। আহত হয়েছেন সলেমানপুর পুকুরপাড়ার দাউদ হোসেনের ছেলে সোহাগ হোসেন (২৫) ও নাজির উদ্দিন মালিতার ছেলে সাব্বির হোসেন (২১)। এ ঘটনায় ইমন হোসেন ও কামাল হোসেন নামের দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শহরে প্রবেশের সময় ছোট-ছোট যানবাহন থেকে পৌরসভার টোল আদায় করা হয়। প্রতিদিনের মতো ইমন হোসেন ও তাঁর সঙ্গীরা ওই টোল আদায় করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষ একটি দল সেখানে টোল আদায়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইমন ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে জীবন হোসেন, আক্তার হোসেন, সোহাগ হোসেন ও সাব্বির হোসেন গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জীবন হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক ইসরাত জেরিন। আহত অপর তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে যশোরে যাওয়ার পথে আক্তার হোসেনের মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম বলেন, আগে যাঁরা পৌর টোল আদায় করতেন, আজও তাঁদেরই আদায় করার কথা। ৩০ চৈত্র অর্থাৎ গতকাল বাৎসরিক মেয়াদ শেষ হয়েছে। পয়লা বৈশাখ থেকে নতুন বছরের আদায় শুরু হবে। কিন্তু যাঁরা আগে টোল আদায় করতেন, তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন ছেলে টোল আদায় কাজের বাইরে ছিলেন। আজ তাঁরা হঠাৎ জোরপূর্বক টোল আদায়ের জন্য চাপ দিলে তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জানতে চাইলে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে জীবন হোসেনের লাশ পুলিশি হেফাজতে। নিহত আরেকজনের লাশ নিয়ে আসা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। | 6 |
সন্ধ্যা মাত্র শুরু হয়েছে। নরওয়ের আলোকচিত্রী ওইস্টিন লুন্ড অ্যান্ডারসন পশ্চিম জাভার আনিয়ার সৈকতে ছিলেন। তিনি আগ্নেয়গিরির ছবি তোলার কাজ করেন। পরিবারকে ঘুমে রেখে ক্রাকাটা আগ্নেয়গিরির ছবি তোলার চেষ্টা করছিলেন তখন। এমন সময় সৈকতে আঘাত হানে সুনামি। শনিবার রাতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২ জনে। আহত হয়েছেন আরো সাত শতাধিক মানুষ এবং এখনো নিখোঁজ অন্তত ৩০ জন। গতকাল রোববার ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা নিহতের এ সংখ্যার কথা জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সুনামি কোনো ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়নি। ভূগর্ভের ভূমিধসের কারণে হয়েছে। লামপাংয়ের মাউন্ট ক্রাকাটা দ্বীপের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব থেকে এ ভূমিধসের উৎপত্তি হয়েছে। বিবিসিকে এ আলোকচিত্রী তার দেখা সুনামির বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি সৈকতে ছিলাম একা। আমার পরিবার একটি কে ঘুমাচ্ছিল। আমি ক্রাকাটা আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের ছবি তোলার চেষ্টা করছিলাম। সন্ধ্যা শুরু হয়েছে মাত্র। আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ঢেউ সৈকতে আঘাত হানার আগ মুহূর্তে কোনো অগ্ন্যুৎপাত ছিল না। চার দিক অন্ধকার হয়ে যায়। এবং হঠাৎ আমি দেখতে পাই উঁচু ঢেউ ছুটে আসছে। আমি দৌড়াতে শুরু করি। দু'টি ঢেউ আঘাত হানে। প্রথম ঢেউয়ের আঘাতটি খুব শক্তিশালী ছিল না। আমি দৌড়ে সরে আসি। সোজা হোটেলে চলে আসি। এখানে আমার স্ত্রী ও ছেলে ঘুমিয়েছিল। আমি তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলি। শুনতে পাই বড় আরেকটি ঢেউয়ের গর্জন। জানালার দিকে তাকাতেই দেখি দ্বিতীয় ঢেউটি আঘাত হেনেছে। এটি ছিল অনেক বড়। ঢেউটি হোটেল অতিক্রম করে যায়। রাস্তায় থাকা গাড়িগুলো এলোমেলো হয়ে সরে গেছে। আমরা ও হোটেলের অন্যান্য মানুষ দৌড়ে জঙ্গলে (উঁচু স্থানে) চলে যাই। আমরা তখনো সেখানে অবস্থান করছিলাম। ভেসে গেল কনসার্টের মঞ্চসুনামির ঢেউয়ের আঘাতে একটি রক গানের কনসার্টের মঞ্চ ভেসে গেছে। ঢেউ যখন আঘাত হানে তখনো কনসার্ট চলছিল। সুনামির আঘাতের ভয়াবহতা ধরা পড়েছে একটি ভিডিওফুটেজে। ঢেউয়ের আঘাতে এক সঙ্গীতশিল্পীর মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। কনসার্টটি দেখতে উপস্থিত হওয়া অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সাগরের তলদেশে ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট এই সুনামির কারণে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল অস্বাভাবিক বেশি। ইন্দোনেশিয়ান আবহাওয়াবিজ্ঞান, কিম্যাটোলজি ও জিওফিজিক্যাল এজেন্সি (বিএমকেজি) জানায়, এ সুনামি কোনো ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়নি। ভূগর্ভের ভূমিধসের কারণে হয়েছে। লামপাংয়ের মাউন্ট ক্রাকাটা দ্বীপের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব থেকে এ ভূমিধস হয়েছে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১৩ দেশে ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি নিহত হয়েছিলেন শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ধারাবাহিক কয়েকটি সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সহানুভূতিসুনামিতে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়ার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, যারা আপনজন হারিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, সব সময়ের মতোই আমরা যেকোনো প্রয়োজনে ইন্দোনেশিয়ার পাশে আছি। | 3 |
শূন্য হওয়া চার সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানরি গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ায় এবং এই নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও প্রতিটি নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে আগামীতে লক্ষীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।' | 6 |
সপ্তাহ বিরতিতে ঢাকার রাস্তায় আবার ট্রাকে করে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে কোথাও ট্রাক না আসায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে ফিরে গেছেন লোকজন। কোথাও অতিরিক্ত ভিড় হওয়ায় হয়েছে ধস্তাধস্তি। লাইন ভেঙে পণ্য নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারির পর আজ রোববার আবার 'ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম' শুরু করেছে টিসিবি। চলবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫০টি ট্রাকে চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ-এ চারটি খাদ্যপণ্য পাওয়া যাবে। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন বিক্রি হবে এসব পণ্য। আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও বছিলা এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। বছিলায় প্রায় ২০০ নারী-পুরুষ পণ্য নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের অনেকে বলেন, সর্বশেষ পণ্য বিক্রির দিন বলা হয়েছিল, ৬ মার্চ (আজ) আবার গাড়ি আসবে। কিন্তু গাড়ি আসেনি। তাই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে বেলা একটার দিকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। হাসিনা বেগম বছিলা এলাকার একজন গৃহকর্মী। গত মাসে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছিলেন চারবার। কিন্তু অন্যের বাসায় কাজ শেষ করে আসতে দেরি হওয়ায় পণ্য পাননি এক দিনও। তাই আজ এসেছিলেন সকাল সাড়ে আটটায়। আর আজ গাড়িই আসেনি। পণ্য কিনতে আসা নারীদের সারিতে ৩০ নম্বরে ছিলেন হাসিনা বেগম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গাড়ির দেখা না পাওয়ায় অন্যদের মতো তিনিও ছিলেন ক্লান্ত-ক্ষুব্ধ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, কাজ করে সব মিলিয়ে আড়াই হাজার টাকা পান। তা দিয়ে দুই বাচ্চার দেখভাল করতে হয়। শ্বশুরের বাসায় থাকেন। তবে আয়ের পুরোটাই চলে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে। কাজ ফেলে পণ্য নিতে আসা হাসিনা বেগমের কণ্ঠে ছিল হতাশা। বলেন, 'গত মাসে আলুভর্তাই বেশি খাইছি। তেল পাই নাই তো, তাই তরকারি বেশি রান্না করতে পারি নাই। বাচ্চারা আবার ভাজি, তরকারি, ডাল খাইতে চায়। বাইরে তো কিনতে পারি না।' চিনি, ডাল, তেল ও পেঁয়াজ-টিসিবির গাড়ি থেকে চারটি পণ্যেরই প্রতিটি দুই কেজি করে কেনেন হাসিনা বেগম। আর বাইরে থেকে কেনেন মোটা চাল। বলেন, 'দুই কেজিতে সারা মাস চালাই। দুই কেজির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াই থাকতে হইল। তেল পাইলেও মনডা মানত। আইজও পাইলাম না।' বয়োবৃদ্ধ, নারী, শিশু, এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিও ছিলেন টিসিবির গাড়ির অপেক্ষায়। তাঁদের কেউ কেউ জানান, তিন মাস ধরে গাড়ি ঠিকমতো আসে না। মাঝেমধ্যে আসে। ইমাম হোসেন নামের একজন দোকানি টিসিবির ডিলারদের অনুরোধে পণ্য নিতে আসা ব্যক্তিদের হাতে সিরিয়াল নম্বর লিখে দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগ হয়েছে এখানে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ হয়নি। প্রতিদিনই লোকজন পণ্য দেওয়ার তারিখ না জানতে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ পাগল হয়ে গেছে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেল, নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। বিশৃঙ্খলা করছেন কেউ কেউ। সারির মাঝে প্রবেশের চেষ্টা করছেন তাঁরা। আবার সামনে গিয়ে সারির বাইরে থেকে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন দু-একজন। এ প্রতিবেদক সেখানে থাকা অবস্থায় নারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় বেশ কয়েকবার। হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। কটুকথাও বলেন কেউ। টিসিবির পণ্যের জন্য অপেক্ষারত নারীদের কয়েকজন জানালেন, একজন সকালে কলম দিয়ে হাতে সিরিয়াল লিখে দিয়ে গেছেন। তবে একই সিরিয়াল দুজনের হাতেও দেখা গেল। রোজিনা আক্তার সারির মাঝামাঝি ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর হাতে সিরিয়াল নম্বর '৭৭'। একই সিরিয়ালের আরেক নারী লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। রোজিনা আক্তারের দাবি, তিনি সকালে এসে সিরিয়াল নম্বর নিয়ে চলে যান বাসায়। সন্তানকে পড়তে পাঠিয়ে আবার এসেছেন। সারিতে থাকা অন্যরা রোজিনার দাবি মানছিলেন না। তাঁরা বলছিলেন, তিনি নিজে সিরিয়াল লিখে এনেছেন। এ পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। প্রতিবেদক সেখানে সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবস্থানকালে এমন হাঙ্গামা হতে দেখেন বেশ কয়েকবার। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে পণ্য দেওয়া শুরু হয় সকাল পৌনে ১০টার দিকে। কিছুক্ষণ পর কথা হয় মোহাম্মদ এবাদত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'কড়া রোদে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছি। আসার পর ১৩ জনের পেছনে ছিলাম; এখন আছি ২০ জনের পেছনে। অনেকের খাতিরের লোক লাইনে ঢুকছে।' পণ্য বিক্রেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, 'সিরিয়াল (সারি) ঠিক না করলে পণ্য দেব ক্যামনে? আমি তো তর্ক করতে যাব না। পণ্য, টাকা হিসাব করতে করতেই হয়রান।' মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম দেখতে এসেছিলেন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। ধস্তাধস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সব পয়েন্টেই (পণ্য দেওয়ার স্থান) এমন হুড়োহুড়ি হচ্ছে। মানুষজনকে মানানো যায় না। এক পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি দাঁড়ানোর অভিযোগও হরহামেশা শোনা যায়। কিন্তু কেউ লাইনে দাঁড়ালে তো আমরা পণ্য দিতে বাধ্য। যাচাই করার সময় কোথায়?' টিসিবির ট্রাকে চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল লিটার ১১০ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একজন দুই কেজি করে পণ্য ও দুই লিটার তেল কিনতে পারেন। | 6 |
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, নতুন কোনো জাতি সৃষ্টি হলে তার দলিল থাকে। বাংলাদেশের যে জন্ম, উৎপত্তি, তার মৌলিক দলিল হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। পৃথিবীতে খুব বেশি এ রকম দলিল নেই। এটা বাংলাদেশের জন্মসনদ। আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশের গণপরিষদের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন এবং 'বাংলাদেশের গণপরিষদের কার্যবিবরণী ও প্রাসঙ্গিক তথ্য' শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে আমীর-উল ইসলাম এসব কথা বলেন। র্যামন পাবলিশার্স আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এই প্রখ্যাত আইনজীবীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে সেই ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণা করেন আমীর-উল ইসলাম। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র নিয়ে তেমন কোনো কাজ না হওয়ায় আফসোস প্রকাশ করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, 'বাঙালি জাতি অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইতিহাসের জায়গাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। শুধু অর্থসম্পদই যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ শিক্ষা। শিশু-কিশোরদের জন্য আমরা পাঠ্যপুস্তকে কী সম্ভার তৈরি করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি। এটি সব স্কুল-কলেজে কার্যকর করতে হবে।' অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান নিয়ে গবেষণা করবেন, তাঁদের জন্য বইটি খুব প্রয়োজনীয় হবে। বইটিতে সে সময়কার বিভিন্ন ঘটনা উঠে এসেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও ইতিহাসকে নিয়ে যেমন মিথ্যাচার হয়েছে, তেমনি সংবিধান প্রণয়ন নিয়েও প্রচুর মিথ্যাচার হয়েছে। এই বইয়ের কার্যবিবরণী পড়লে সেই মিথ্যাচারের ধোঁয়াশা কেটে যায়। বাংলাদেশের রাজনীতির দর্শনকে ধারণ করতে চাইলে সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে বলে জানান বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, সুবিধাবাদীদের সংমিশ্রণ ঘটানো হলে তাহলে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় না। এখন আপসের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন লুটেরাদের ধনিক শ্রেণির স্বর্গে পরিণত হয়েছে। সমাজ সাম্প্রদায়িকতার দিকে চলে গেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, গণপরিষদের কার্যবিবরণীর মধ্যেও বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখতে পাওয়া যায়। সে সময়েও মতের মিল-অমিল ছিল। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এই সংবিধান শুধু আওয়ামী লীগের নয়, এটা সবার। প্রবীণ বাম নেতা দাউদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন 'বাংলাদেশের গণপরিষদের কার্যবিবরণী ও প্রাসঙ্গিক তথ্য' গ্রন্থের সম্পাদক আবুল খায়ের, র্যামন পাবলিশার্সের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ রহমত উল্লাহ প্রমুখ। | 6 |
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। তবে এর থেকেও বড় বিষয় হলো টাইগারদের পারফর্ম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তামিমের দল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। তাই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চাপ নিয়েই শেষ ওয়ানযেতে বুধবার (৩১ জুলাই) মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালকে দেখা গেল বেশ চিন্তিত ও বিমর্ষ। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো বিভাগেই ভালো করত পারেনি তার দল। এসব নিয়ে বেশ হতাশাই ঝরে পড়লো তার কণ্ঠে, 'যে দুইটা ম্যাচ খেলেছি সেখানে তিন বিভাগেই কোনো না কোনো জায়গায় ভুল করেছি। ব্যাটিংয়ে যেমন শুরুটা আমরা আশা করেছি তেমন হয়নি কিংবা বোলিংয়ে যেমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা দরকার ছিল তেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফিল্ডিংয়েও একই অবস্থা।' 'এই দুইটা ম্যাচে দেখেই অবশ্য বলতে পারি না যে, এ জন্য আমাদের আজকের এই অবস্থান। এর জন্য আমরা সবাই দায়ী। শেষ ওয়ানডেতে ভালো করতে হলে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে, যদি ম্যাচটা জিততে চাই।' হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় পড়া বাংলাদেশ সামনে একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক এই লজ্জা এড়নো। তামিমের মতে, 'আমরা তো সিরিজ হেরে গেছি। তবে ৩-০ এড়াতে হবে। শেষ ম্যাচ ভালো করে নিজেদের প্রমাণ করতে করতে হবে যে প্রথম দুই ম্যাচ যেভাবে খেলতে চেয়েছি সেভাবে পারিনি। নিজের সন্তুষ্টির জন্যও হলেও এটা প্রয়োজন।' ব্যক্তিভাবে ফর্মের কথা বিচার করলে বিশ্বকাপ থেকেই তামিমে ব্যাটে নেই রান। এই সিরিজেও ব্যর্থ। তবে আশা ছাড়ছেন না তামিম। তিনি বলেন, 'প্রতিদিনই অনুভব করি যে আজকে হবে। কিন্তু আমি আউট হওয়ার ধরনগুলো বুঝতেছি। শেষ ছয় ইনিংসে একইভাবে আউট হয়েছি কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে। তবে ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বাসটা রাখতে হবে যে আমি পারব। এই বিশ্বসটা যদি না থাকে তবে সেটা কঠিন হয়ে যাবে।' মাঠে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে না পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তামিম। কলম্বোয় বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি আদতে এখন তামিমদের জন্য মর্যাদা রক্ষার লড়াই। জিততে না পারলে লঙ্কানদের কাছে পঞ্চম ও সবমিলিয়ে ২৫তম হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পুড়তে হবে টাইগারদের। | 12 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে শনিবার ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের 'শতবর্ষের মিলনমেলা' অনুষ্ঠিত হবে। মিলনমেলায় অংশ নিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩৩৭ জন সদস্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, 'শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল সেখানে আসতে পারেনি। আমরা দেখেছি, বিশ্বের ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ র্যাংকিংয়ের ভেতরে আনতে আমাদের সংগঠন কাজ করছে।' তিনি বলেন, '৩০-৪০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো ছিল সেগুলো দিন দিন কমে আসছে। আপনারা দেখবেন ষাটের দশকের পাঠাগার, মেডিকেল সেন্টার কিন্তু এখনও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাড়লেও সেগুলোর ধারণ ক্ষমতার ও সক্ষমতা বাড়েনি। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অর্থাভাবে যথাযথভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন তাদের জন্য কাজ করবে ' তিনি বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ঢাবির গবেষণা খাতে প্রতি বছর সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা বৃত্তি দেয়। বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার জানান, আগামী ১২ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অ্যালামনাই সদস্য ও অতিথিরা প্রবেশ করবেন। সকাল ১০টায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ ও শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে বিভিন্ন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিল্পীর ১০০ ছবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন হবে। মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন অতিথিরা। দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে 'বাংলাদেশের পদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান পালিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ গুণীজনকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম মুকুল, সুভাষ সিংহ রায়, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। | 6 |
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের আঘাতে বড় ভাই খাদিমুল ইসলাম (৩০) নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ধারা ইউনিয়নের চাঁদশ্রী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার (২০জুন) দুপুরে ঘাতক ছোট ভাই মাজাহারুল ইসলামকে (২৭) আটক করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। নিহত খাদিমুল ও ঘাতক মাজাহারুল উপজেলার ধারা ইউনিয়নের চাঁদ্রশী গ্রামের নূর ইসলামের পুত্র। খাদিমুল পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ফোনের মাধ্যমে খবর জানতে পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং ছোট ভাই মাজাহারুলকে আটক করা হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অত্র থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাথরমানব নুরুল আমিন। তাঁর দুই হাতের আঙুলগুলো হঠাৎ করেই শক্ত হয়ে পাথরের মতো হয়ে গেছে। দেখতেও অনেকটা কালচে রঙের, যেন আগুনে পোড়া। ফলে স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, নুরুল আমিন রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস ভাস্কুলাইটিস রোগে আক্রান্ত। আর এটি বিরল ব্যাধি। এ রোগের কারণেই নুরুল আমিনের দুই হাতের আঙুল শুকিয়ে কালচে রঙের হয়ে গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের নুরুল আমিন দোকানে দোকানে স্টেশনারি সামগ্রী ডেলিভারি করতেন। স্ত্রী এবং তিন মেয়ে নিয়েই তার সংসার। স্টেশনারি পণ্য ডেলিভারি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলত তাঁর। কিন্তু রোগাক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই কাজ বন্ধ করে বাড়িতে বসে আছেন।গত জানুয়ারি মাসের ২৯ কিংবা ৩০ তারিখ থেকে হঠাৎ করে দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি আট আঙুলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকেন নুরুল আমিন। ধীরে ধীরে আঙুলগুলোর রং হয়ে ওঠে কালচে। সেই সঙ্গে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায় আঙুলগুলো। একটি হাতের আঙুল দিয়ে অন্য হাতের আঙুলে স্পর্শ করতে গেলেই ঠক করে শব্দ হয়। এখন ছোট-খাটো কাজের জন্যও তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়।নুরুল আমিন জানান, ব্যথা সহ্য করতে না পেরে এবং আঙুলগুলো পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়ায় প্রথমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু তাঁর রোগের চিকিৎসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হবে না বলে জানান চিকিৎসক। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ঢাকায় যান। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবু শাহীনকে দেখান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে জানানো হয়, তিনি বিরল ব্যাধি রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস ভাস্কুলাইটিস রোগে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল।নুরুল আমিন বলেন, এই রোগের কারণে আমি এখন কোনো কাজই করতে পারছি না। আমাকে ভাতও খাইয়ে দিতে হয়। অন্যের সাহায্য ছাড়া কোনো কিছুই করতে পারি না। স্টেশনারি পণ্য ডেলিভারির যে কাজ করতাম, সেটিও এখন বন্ধ। বাধ্য হয়েই ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। তেমন সহায় সম্পদও নেই যে চিকিৎসা করাব। ১৫ দিন পর পর ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। পূর্ণ চিকিৎসার জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা আমার পরিবারের জোগান দেওয়া সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েগুলোকে একটু আদরও করতে পারি না। হৃদয়বানদের কাছে আমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইছি। সবার সহযোগিতায় আমি সুস্থ হয়ে পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই।নুরুল আমিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম জানান, স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন তারা। ভিটে-বাড়ি অবশিষ্ট আছে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকার এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।এই ব্যাপারে ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফাইজুর রহমান জানান, নুরুল আমিনের রোগটি বিরল। হাতের রক্তনালি অতিমাত্রায় ইনফেকশন হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, তখনই এ রকম অবস্থা হয়। এটি বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমরা তাঁকে দেব। | 6 |
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, 'এক সময় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যখন সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য খাদ্য সংস্থান করা যেত না, তখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। এই নাম ঘুচেছে বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিবিদদের জন্য। কৃষক ও কৃষিবিদরাই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়।'আজ শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সিনিয়র কৃষিবিদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কৃষি খাতে গবেষণার জন্য সব ধরনের অর্থ সহায়তা বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর কৃষি গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ করেছেন। তার সুফল আমরা পাচ্ছি। কৃষক ও কৃষিবিদরা তাঁদের মেধা কাজে লাগিয়ে তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশকে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত করেছে।এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাসিম, কৃষিবিদ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দসহ আরও অনেক জ্যৈষ্ঠ কৃষিবিদ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলার যোগ্যতা সবার আগে নিশ্চিত করে ভারত। শুক্রবার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে লঙ্কানদের ছিটকে দিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ আজ রবিবার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলতে নামবেন সাকিবরা। গত শুক্রবারের সেই ম্যাচে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যা ক্রিকেট ইতিহাসেও বিরল। সেই ঘটনার আবিষ্কারক বাংলাদেশের সাইড বেঞ্চে থাকা নুরুল হাসান সোহান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়েও ২৫ ভাগ জরিমানা, এক ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে তার নামের পাশে। সোহানের মতে, ঝামেলাটা শুরু করে লঙ্কান অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। রিয়াদ ভাই নো বল না দেয়া নিয়ে আম্পায়ারের সাথে কথা বলছিল। আমিও সেখানে দাঁড়িয়েছিলাম। লেগ আম্পায়ারকে আমি জিজ্ঞেস করলাম দ্বিতীয় বল বাউন্স হলো কিনা। এতেই হঠাৎ পেরেরা বলে উঠলো এখানে তোমার কি কাজ। যাও! থিসারা আমাকে গালি দিয়ে বলে এটা তোমার কাজ নয়। তখন আমিও তাকে বলছিলাম আমি আম্পায়ারের সাথে কথা বলেছি তোমার সাথে নয়। তুমি কেনো আমার সাথে উত্তেজিত হচ্ছ? এই বলে আমি চলে আসছি। দলের ১২ নম্বর খেলোয়াড় হয়েও সোহান বুঝিয়ে দিলেন, আমরাও প্রতিবাদ করতে শিখে গেছি। যদিও এমন আচরণের জন্য এক ডিমেরিট পয়েন্টসহ ম্যাচ ফি'র ২৫% জরিমানা গুনতে হয়েছে সোহানকে। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি একদিন অবশ্য মুখ ফসকে বলেই ফেলেন, সোহানের পুরো শরীরটাই কলিজা। বিডি প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 12 |
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রোববার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা বৈঠকে আফগানিস্তানের মানবিক সঙ্কট প্রতিরোধে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে ইমরান খানের চীন সফরের পর এটা ছিল দু'দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক। ২০২২ সালের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকে যোগদানের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চীনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার চীন সফর করেন ইমরান খান। ওই আলোচনা বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তানের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ বাড়বে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন আফগানিস্তানের মানবিক সঙ্কট প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং আফগান জনগণকে আরো সহযোগিতা প্রদান করা হয়। ওই যৌথ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তানের দু'শীর্ষ নেতা দু'দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বয়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর | 3 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ ইসিতে জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) তৈমূরের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক এটিএম কামাল লিখিত অভিযোগটি ইসিতে পৌছে দেন। অভিযোগটি রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তার বরাবর দেয়া হয়েছে। এটিএম কামাল জানান, আমরা আগেও অভিযোগ দিয়েছি তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এবারও অভিযোগ দিয়েছি, দেখি কি করে ইসি। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
নগরকান্দা সড়কের নগরকান্দা পৌরসভা এলাকার কুমার নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ে ভেঙে পড়েছে। শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেতু ভেঙে যাওয়ায় ফরিদপুর জেলা শহরের সাথে নগরকান্দা উপজেলার সড়ক পথের যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বালুভর্তি একটি ট্রাক মাগুরার দিক থেকে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটির নম্বর ফরিদপুর-ট-১১-০৩০৭। ট্রাকটি বেইলি সেতুর ওপর উঠলে সেতুটির মধ্যে অংশ দেবে যায়। খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পুরাতন এই সেতুটি দিয়ে ভয়ে লোকজন পারপার করছিলো বেশ কিছুদিন যাবত। বার বার সেখানে একটি নতুন সেতুর দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় চরম ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বিপ্লব বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। | 6 |
সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে মো: আবদুর রহিম শরিফ। এ নিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে হাজির করা হয় শরিফকে। সেখানে তিনি দায় স্বীকার করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জবানবন্দী দেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিতে বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে রাফিকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফা কারাগারে থাকা অধ্যক্ষের সাথে দেখা করেন। ৪ এপ্রিল সকালে 'অধ্যক্ষ মুক্তি পরিষদের' সভা করা হয়। রাতে ১২ জনের এক বৈঠকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তার দায়িত্ব পড়ে মাদরাসার গেটে। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন। মাদরাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এ ছাড়া ছাদে ছিলেন মণি ও পপি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো: শাহ আলম বলেন, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম এবং মো: আবদুর রহিম শরিফসহ তিনজন স্বীকারোক্তিতে একই ধরনের কথা বলেছেন। তাদের স্বীকারোক্তি থেকেও মণির নাম উঠে আসে। | 6 |
ডুমুরিয়া (খুলনা): খুলনার ডুমুরিয়ায় পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রেতা ও জুয়াড়ীসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার ডুমুরিয়া থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো করা হয়েছে।এস আই হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের গোলনা এলাকা থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় গোলনা গ্রামের বাপ্পী খান (২০), মো. ইয়াসিন শেখ (৪০), মহিউদ্দীন শেখ (৩৫), মাহাফুজুর রহমান খান (২০), হেমায়েত খান (২২), আজাদ খান (২৭), শরিফুল ইসলাম শেখ (৩০), রাশেদুল ইসলাম (২৫), আমিনুর রহমান শেখ (২৫), তৈয়েবুর রহমান শেখ (২২), মো. আরিফ খানকে (২২) জুয়া খেলার সরঞ্জাম হিসেবে তাস ও নগদ টাকাসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।এ ছাড়া থানার এস আই শিহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে মালতিয়া এলাকা থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় চুকনগর এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৪), ইয়াসিন গাজী (২৫), নজরুল ইসলাম (২২), রবিউল ইসলাম (৩০) ও মালতিয়া গ্রামের শাহীন মোড়ল (২৮) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তাস ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান জানায়, থানার এস আই হামিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ শনিবার রাতে শাহপুর মধুগ্রাম কলেজের পাশ থেকে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী হাসানপুর গ্রামের কেসমত আলী সরদারের পুত্র আবু মুসা (২০), আনোয়ার সরদারের পুত্র মহিদুল সরদার (২১) ও মধুগ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র জনি গাজীকে (১৯) গ্রেপ্তার করে।এ ছাড়া অপর এক অভিযানে আরাজী সাজিয়াড়া গ্রাম থেকে সিআর মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি আতাউলাহ শেখকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।ওবাইদুর রহমান জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং জুয়া আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এএফএম তারেক মুন্সী এবং তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধামতী গ্রামের আজিম উদ্দিন পীর সাহেবের দরবার শরীফে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতা এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, আসরের নামাজের পর ধামতী গ্রামের আজিম উদ্দিন পীর সাহেবের মাজার জিয়ারত করতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৫-৩০ জন ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।আমার সমর্থকদের পিটিয়ে ১০-১২ জনকে আহত করে। এসময় তারা তিন রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোড়ে। অপরদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুনেছি বিএনপির প্রার্থীসহ তার দলবল নিয়ে ধামতী গ্রামে সভা করার সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিল। এসময় আমার সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মীকে আহত করে। ২-৩টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেছে।আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানাব। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, শুনেছি ধামতী এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পূর্ব ঘোষিত গণসংযোগ করার কথা ছিল। সেখানে বিএনপির প্রার্থী তার লোকজন নিয়ে গণসংযোগ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলেপুলিশ পাঠিয়েছি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ঈদুল আজহার নামাজে গিয়ে ছুরি হামলার শিকার হয়েছেন মালির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আসিমি গোয়েতা। আজ মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মালির রাজধানী বামাকোতে ঈদুল আজহার নামাজের সময় গোয়েতার ওপর দুজন সশস্ত্রধারী হামলা চালায়। এএফপিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর গোয়েতাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা দখল করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কর্নেল অসীম গোয়েতা।গত মে মাসে সাংবিধানিক আদালত মালির অভ্যুত্থানের নেতা আসিমি গোয়েতাকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে গত বছর আগস্টে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুবাকার কেইতার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানেও নেতৃত্বে ছিলেন তিনি | 3 |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'বাংলাদেশ হলো একটি ব-দ্বীপ, যেখানে অসংখ্য নদী, নিচু জমি ও জলাভূমি রয়েছে। আর এটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে আমাদের আগামী প্রজন্ম সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে। তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ পরিকল্পনা নিয়েছেন।' আজ শুক্রবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে 'বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ আন্তর্জাতিক সম্মেলন : সমস্যা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নের ফলে আগামী প্রজন্ম একটি উন্নত দেশে পাবে। এই দেশ টেকসই হবে।' মন্ত্রী বলেন, 'নেদারল্যান্ডসের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার আলোকে সেদেশের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনাটি প্রণীত হয়েছে। ডেল্টা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা প্রয়োজন।' এসময় তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাইকাসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে পাশে থাকার আহ্বান জানান। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি-২০৩০, ভিশন-২০৪১সহ নানা মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার দেশ পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, 'এসব পরিকল্পনা ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ এর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। এই পরিকল্পনার দর্শন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অবশ্যই বিশ্বের বুকে গর্বিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।' পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারা ভারত এবার উড়িয়ে দিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। জোড়া সেঞ্চুরির সাথে রেকর্ড গড়া জুটিতে ১৫৫ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত। এই জয়ে নারী বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে গত আসরের রানার আপ ভারত। এদিন ভারতের হয়ে শতক হাকিয়েছেন স্মৃতি মান্দানা ও হারমানপ্রিত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তোলে। জবাবে ৪০.৩ ওভারে ক্যারিবিয়ানরা ১৬২ রানে শেষ হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর পরে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছিল ভারতের নারী দল। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করেন ক্যারিবিয়রা। দুই ওপেনার দিন্দ্রা ডটিন ও হেলি ম্যাথুজের ব্যাটে ১২ ওভারেই ১০০ তোলে তারা। ডটিন ৪৬ বলে ৬২ এবং ম্যাথুজ ৩৬ বলে ৪৩ রান করেন। কিন্তু ডটিন আউট হওয়ার পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। তারা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে। দুই ওপেনার ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর মাত্র দু'জন শেমাইনি ক্যাম্পবেল, চেদিয়ান নেশন দু'অঙ্কের রান পান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে স্নেহ রানা সেরা ছিলেন। ৯.৩ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া মেঘনা ২টি এবং ঝুলন, রাজেশ্বরী ও পূজা বস্ত্রকার একটি করে উইকেট নেন। এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড করেন ঝুলন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৪৯ রান তোলে ভারত। ইয়াশতিকা ভাটিয়া ২১ বলে ছয়টি চারে ৩১ রান করে ফিরে যান। এরপর মিতালি রাজ (৫) ও দৃপ্তি শর্মা (১৫) ব্যর্থ হন। ৭৮ রানে তিন উইকেট হারানো ভারত এরপর চতুর্থ উইকেটে গড়ে ১৮৪ রানের জুটি। ওপেনার স্মৃতি মান্দানা খেলেন ১১৯ বলে ১২৩ রানের ইনিংস। ১৩টি চার ও দুটি ছক্কার মার তোলেন তিনি। হরমনপ্রীত কাউরের ব্যাট থেকে আসে ১০৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংস। তিনি ১০টি চারের সঙ্গে দেখান দুটি ছক্কার শট। আট বল থাকতে আউট হন তিনি। ভারতীয় নারী দলের সর্বোচ্চ রান ২ উইকেটে ৩৫৮। ২০১৭ সালে পচেপসট্রুমে আয়ারল্যান্ড নারী দলের বিপক্ষে ওই রান তুলেছিলেন দিপ্তি শর্মা (১৮৮) ও পুনাম রাউতরা (১০৯)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিতালি রাজদের এটি দলীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। সব মিলিয়ে ভারতীয় নারীদের তৃতীয়বার তিনশ' রান করার কীর্তি। | 12 |
চরফ্যাশনে ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের মা ও ২ ছেলে সহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মধ্যরাত পৌনে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চরফ্যাসন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিহতরা হলেন মৎসজীবি হানিফ পাটোয়ারির স্ত্রী মোসাম্মদ রিংকু বেগম (৩০), ও তার দুই ছেলে জোনায়েদ (৭) এবং তানজিদ (৪)। দক্ষিন আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানান, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের ২ সন্তান নিয়ে রিংকু বেগম ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় কচ্ছপিয়া এলাকায় আকস্মিক টর্নোডো ঝড়ে তাদের ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মা,ছেলেসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঢালচর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কিছুদিন পূর্বে চর কচ্চপিয়া গ্রামে তারা নতুন ঘর নির্মাণ করেন।অসমাপ্ত নতুন ঘরের কাঠপালা মাথার উপরে পাটাতনের উপরে রাখা ছিল। ঝড়টি অত্যন্ত শক্তিশালি হওয়ায় উপরে রাখা কাঠের চাপা পড়ে নিহতরা। এছাড়াও ঝড়ে আশেপাশে বেশ কিছু গাছপালা ভেঙ্গে যায়। নিহতদের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত জোনায়েদ ও তানজিদ স্থানিয় মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো। এদিকে ঘর চাপায় মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। | 6 |
কমিউনিস্ট চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের সোনায় মোড়ানো বিশালাকার একটি মূর্তি হঠাৎ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কয়েকদিন ধরে মূর্তিটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর আকস্মিক তা ভেঙে ফেলা হলো।
সরকারি অনুমোদন না থাকায় মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।
মাও সেতুংয়ের বসে থাকার ভঙ্গিতে ৩৭ মিটার (১২১ ফুট) উচ্চতা মূর্তিটি নির্মাণ করা হয়েছিল চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হেনানের একটি গ্রামের খালি মাঠে।
এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৩০ লাখ ইউয়ান (৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার)।
মাও সেতুংয়ের বিশালাকার মূর্তিটি হেনান প্রদেশে নির্মাণ করায় অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই এর তীব্র সমালোচনা করেছিল।
কেননা গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে এই হেনান প্রদেশ আক্রান্ত হয়েছিল দুর্ভিক্ষে, যার জন্য মাও সেতুংয়ের অর্থনৈতিক নীতিমালাই দায়ী বলে মনে করা হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৪ কোটি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
| 3 |
মুম্বাইয়ের ওরলিতে সমুদ্রের পাশে নতুন ঠিকানা করে নিয়েছেন শাহিদ-মীরা দম্পতি। আর তাদের নতুন বাড়ি তৈরির খরচ শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ওরলিতে অবস্থিত শাহিদের ওই বিলাসবহুল বাড়িটি প্রায় ৮০০০ স্কয়ার ফিটের। এছাড়া অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে ৫০০ স্কয়ার ফিটের একটি ব্যালকনি। যেখান দাঁড়ালে উপেভোগ করা যাবে সমুদ্রের নীল জল। পাশাপাশি শাহিদের ওই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে রয়েছে স্পা, সুইমিং পুল, জিম ও বলরুমসহ অনেক কিছু। রিপোর্টে প্রকাশ, পুত্র জৈনের জন্মের সময় থেকেই শাহিদ মনের মতো বাড়ি খোঁজ করা শুরু করেন। এরপরই প্রকাশ্যে আসে শাহিদ-মীরার এই নতুন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের খবর। জানা যায়, শাহিদের এই বাড়ির কাজ প্রায় শেষ। খুব শিগগিরই গৃহপ্রবেশ করতে চলেছেন বলিউডের এই কাপুর পরিবার। ইতিমধ্যেই বাড়ির দাম বাবদ ৫৬ কোটি রুপি পরিশোধ করেছেন শাহিদ। প্রসঙ্গত, বর্তমানে জুহুর বাড়িতে থাকেন 'শানদার' অভিনেতা ও তার স্ত্রী। শাহিদের নতুন বাড়ি সাজিয়ে দিয়েছেন শাহরুখ-পত্নী গৌরী খান। সূত্র বলছে, অক্ষয় কুমার, দীপিকা পাডুকোন-রণবীর সিং, অভিষেক বচ্চনরাও ওরলির ওই টাওয়ারের বিভিন্ন তলায় থাকেন।সেখানে সংসার পাতিয়েছেন বিরাট কোহলি-অনুশকা শর্মাও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল শাহিদ কাপুর এবং মীরা রাজপুতের নাম। সূত্র: জিনিউজ | 2 |
ঢাকাই সিনেমায় এই মুহূর্তের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী শবনম বুবলী। গত মাসে জসিম উদ্দীন জাকিরের 'মায়া' ও মোহাম্মদ ইকবালের 'বিট্রে' সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। এর আগে কাছাকাছি সময়ে সৈকত নাসিরের 'তালাশ' ও মোহাম্মদ ইকবালের আরেকটি সিনেমা 'রিভেঞ্জ'-এর শুটিং শেষ করেছেন। বুবলীর আরেকটি সিনেমার খবর পাওয়া গেল গতকাল।নতুন এই সিনেমার নাম 'লোকাল'। ফেরারী ফরহাদের গল্প নিয়ে সিনেমাটি বানাবেন সাইফ চন্দন। টাইগার মিডিয়ার ব্যানারে 'লোকাল' প্রযোজনা করবেন জাহিদ হোসেন অভি। প্রযোজক জানিয়েছেন, এ সিনেমায় বুবলীর নায়ক আদর আজাদ। এর আগে 'তালাশ'-এ প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন বুবলী ও আদর। এখনো এই জুটিকে পর্দায় দেখার সুযোগ হয়নি দর্শকদের। প্রথম সিনেমাটি মুক্তির আগেই 'লোকাল'-এ দ্বিতীয়বার জুটি হলেন তাঁরা। বুবলী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার গল্প নিয়ে তৈরি হবে 'লোকাল'। গল্পে তিনি মফস্বলের এক সাধারণ তরুণী। মায়ের সঙ্গে দেশি খাবারের একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন। আরও খানিকটা খোলাসা করে নির্মাতা সাইফ চন্দন বলেন, 'প্রান্তিক মানুষের সংগ্রাম, জীবনযাপনসহ তাঁদের নানা সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে এ সিনেমায়। সে জন্যই এর নাম লোকাল রাখা হয়েছে। গল্পের একপর্যায়ে বাধা-বিপত্তি আসে। সেটা মোকাবিলা করতেই নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। তখন এগিয়ে আসেন বুবলী।' সহজ কথায়, মফস্বলের এক সাধারণ তরুণীর নেত্রী হয়ে ওঠার গল্প দেখানো হবে 'লোকাল' সিনেমায়।প্রযোজক জানিয়েছেন, সিনেমাটির পরিকল্পনা চলছিল জানুয়ারি থেকে। চূড়ান্ত হয়েছে অভিনয়শিল্পীর তালিকা। আগামীকাল থেকে শুরু হবে শুটিং। বুবলী, আদর ছাড়াও এতে আরও থাকছেন সাঞ্জু জন, শহীদুল আলম সাচ্চু, সিয়াম নাসির, বড়দা মিঠু প্রমুখ। | 6 |
ব্রেন স্ট্রোক করে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন। এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়া হচ্ছে তাকে। তার চিকিৎসার খরচ বাবদ ৪২ লাখ টাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিজ আমজাদ হোসেনের পুত্র সোহেল আরমানকে ডেকে তার হাতে ৪২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। এসময় সোহেল আরমানেরর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ও নির্মাতা এস এ হক অলিক। শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতাই নন আমজাদ হোসেন। একাধারে গীতিকার ও লেখকও তিনি। গত ১৮ নভেম্বর সকালে ব্রেন স্ট্রোক হয় তার। পরে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। শুরু থেকেই লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তির তিনদিনের মাথায় আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে সোহেনল আরমান সমকাল অনলাইনকে বলেন,' বাবার অসুস্থতার খবর জানতে পেরেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে ছিলেন। েবলেছিলেন বাবার চিকিৎসা সব দায়িত্ব নেবেন। তিনি কথা রেখেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে ব্যাংককে নেয়া হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার খরচ বাবদ মোট ৪২ লাখ টাকা প্রদান করেছেন। এরজন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।' | 2 |
পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই যেন অনিশ্চয়তা আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঘনঘটা! সবশেষ ভারত সফরে তাই পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের চোখে-চোখে রাখতে তাদের স্ত্রীদেরও পাঠানো হয়েছিল। এমনটিই জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ।আশরাফের দাবি, খেলোয়াড়রা যাতে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে না পড়েন, সে জন্যই স্ত্রীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০১২-১৩ সালে শেষবার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে ভারতে এসেছিল পাকিস্তান দল। সেই সফর নিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন আশরাফ। সে সময়ের পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, 'আমার আমলে যখন ভারত সফরে গিয়েছিল দল, তখন সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্ত্রীদের যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তো সারাক্ষণ বিতর্কের খোঁজে থাকে। খেলোয়াড়দের ওপর নজর রাখতে তাই সেই সফরে তাদের স্ত্রীদেরও সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল।'ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আশরাফ বলেন, 'প্রত্যেকে বিষয়টি ভালোভাবেই নিয়েছিল এবং ভারতে গিয়েছিল। সবাই শৃঙ্খলা মেনে চলেছিল। যখনই ভারত সফরে যেত পাকিস্তান, তখনই ওদের দেশ (সংবাদমাধ্যম) আমাদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করত এবং আমাদের খেলোয়াড় ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করত। তাই সেটা এড়িয়ে চলা হয়েছিল।' | 12 |
মাহবুব ইসলাম পলাশ। গাছের চারা রোপণই তাঁর নেশা। স্কুলজীবন থেকেই টিফিনের টাকা জমিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেন। এভাবে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে গড়ে তুলেছেন ৩৪৫ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ৫ হাজার গাছের বাগান।এ কাজে সার্বিকভাবে তাঁকে সাহায্য করছেন মা তাকমিনা খাতুন (৬০)। মাহবুব ইসলাম পলাশের বাবা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা আবুল আজাদ।মাহবুব ইসলাম সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাটের শেখপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ২০০৪ সালে উপজেলার ভদ্রঘাট শামছুন মহসিন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে রাজশাহীর শাহ মখদুম কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।মাহবুব ইসলাম পলাশ আজকের পত্রিকাকে বলেন, '২০০৩-২০০৭ সালের মাঝামাঝি বন বিভাগ থেকে এক টাকা দরে বেশ কিছু সেগুন গাছ কিনি। আমার আগ্রহ দেখে তারা বলল, দেশ থেকে প্রায় ৪৫ জাতের গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো সংগ্রহ করলে দেশ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যাবে।' এরপর তিনি ৪৩ জাতের গাছ সংগ্রহ করেন।মাহবুব আরও বলেন, গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি গাছ লাগালে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। তাঁর কাঠজাতীয় সেগুন, মেহগনিসহ যে গাছগুলো আছে সেগুলোর মূল্য ৩৫ লাখ টাকা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বাগানে সুন্দরবনের ১৬ প্রজাতির গাছ আছে।এ ছাড়া আছে সিঁদুর গাছ, উত্তর আমেরিকার ফুলের গাছ তুষারশুভ্র স্যাম্বুকাস, জাপানি ফুলের গাছ ট্যাবাবুয়া, দেশীয় লালপাতা চম্পা, বচি, ধূপ, আগর, তুনসহ নানান বিপন্ন গাছ।এ বিষয়ে উপজেলার ভদ্রঘাট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাহবুব ইসলাম পলাশের মতো যাঁরা বৃক্ষপ্রেমী রয়েছেন বা যাঁরা বৃক্ষ নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও বৃক্ষের চারা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। তাঁর ব্লকে পাঁচ থেকে সাতজন বৃক্ষরোপণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। | 6 |
ভারতের তামিলের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সঙ্গীতা বালানকে দেহ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দেশটির চেন্নাইয়ের পানায়ুরের একটি প্রাইভেট রিসোর্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় পুলিশের তদন্তের জেরে আরও কয়েকজন অভিনেত্রীকেও সেই রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন সূত্রে খবর পেতেই রিসোর্টটিতে হানা দেয় দেশটির পুলিশ সঙ্গীতার সঙ্গে এই ব্যবসায় জড়িত ছিল সুরেশ নামক এক ব্যক্তি তাকেও ওই রিসোর্টটি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০০৯ সালে 'চেল্লামে' ড্রামা সিরিজে ফিমেল গ্যাংস্টার হিসেবে তাঁর অভিনয় দক্ষতায় মুগ্ধ হয় দর্শক এছাড়াও 'অবল' সিরিয়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভনয় করেন সঙ্গীতা তবে 'বানি রানি' হাত ধরে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন তিনি বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার | 5 |
ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে ইফেকটিভনেস বা কার্যকারিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এমন অভিমত উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ডিজিটাল মার্কেটিং সামিটের প্যানেল আলোচনায়।
শনিবার সকালে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হয় বিপণন বিষয়ক দিনব্যাপী এ সম্মেলন।
সম্মেলনের এক পর্যায়ে 'ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ভোক্তার সফল অংশগ্রহণ' শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার শুরুতে কাজী মনিরুল কবির উল্লেখ করেন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইফেকটিভনেস, আমার পেজে কত লাইক আছে তার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমার কতজন আ্যাকটিভ ইউজার আছে। আর যারা ক্যাম্পেইন ডিজাইন করছে তাদের ও পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে, কাদের জন্য ক্যাম্পেইন ডিজাইন করা হচ্ছে।
আ্যানলাইজেন-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর তানজিম রেজওয়ান বলেন, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রি এখনও প্রস্তুত না। ক্লায়েন্ট এবং এজেন্সির আলোচনার ভিত্তিতে একটি পারফেক্ট ক্যাম্পেইন তুলে আনা সম্ভব।
আমরা নেটওয়ার্কসের হেড অফ মার্কেটিং সোলায়মন সুখন উল্লেখ করেন, প্রোপার ভোক্তার কাছে পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোপার কনটেন্ট ডিজাইন করার পাশাপাশি কনটেন্টের মাধ্যমে ইমপ্যাক্ট তৈরি করা জরুরি।
আলোচনায় রবির প্রতিনিধি বলেন, পর্দার পেছনের গল্পকে সামনে তুলে আনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
সেশনটি সঞ্চালনা করেন এসএসডি টেক-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদি।
এ নিয়ে দেশে তৃতীয়বারের মতো বিপণন বিষয়ক এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিবিএফ। এবারের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে হুয়াওয়ে, ডেইলি স্টার এবং এসএসডি টেক।
| 6 |
পোস্ট অফিসে তৈরি হচ্ছে কাঠের ফার্নিচার। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটিই হচ্ছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সদর পোস্ট অফিসে। পোস্ট অফিসের এমন চিত্র সেবাগ্রাহী সবার চোখেই ধরা পড়েছে।গস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফার্নিচার তৈরির কাজ চলে পোস্ট অফিসটিতে। তাঁদের অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পোস্ট মাস্টার হিসেবে এখানে যোগদান করেছেন রফিকুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকেই অফিসে ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা শুরু করেছেন পোস্ট তিনি। এ ছাড়া যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষ চঞ্চল মিয়া নামক এক বহিরাগতকে ভাড়া দেন। ওই কক্ষে চলে ফার্নিচার তৈরির কাজ। আরেকটি কক্ষে রাখা হয়েছে ফার্নিচার তৈরির কাঠ। সরকারি অফিসকে পোস্ট মাস্টার নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবহার করছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোস্ট মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমার মেয়ের বিয়ের জন্য এসব ফার্নিচার তৈরি করা হচ্ছে। কাজকে ভালোভাবে তদারকি করার জন্য অফিসকেই বেছে নিয়েছি।' | 6 |
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা দুর্নীতির মামলার বিচার পেছানোর জন্য যে আবেদন করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বুধবার দেশটির একটি আদালত আবেদনটি খারিজ করেন। আদালতের এই আদেশের অর্থ হলো, ১৯৯০-এর দশকে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারে কোনো বাধা থাকল না। আগামী ১১ এপ্রিল এই বিচারকাজ শুরু হবে। দুর্নীতির বিচার শুরুর পর জ্যাকব জুমা অভিযোগ করেছিলেন, এই মামলার প্রধান কৌঁসুলি বিলি ডাউনারকে বাদ দিতে হবে। বিলির বিরুদ্ধে জুমার অভিযোগ, তিনি পক্ষপাতদুষ্ট। এই অভিযোগ গত বছরই খারিজ করেছেন হাইকোর্টের বিচারক পিট কোয়েন। এরপর গতকাল জুমার করা লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ করলেন তিনি। কোয়েন বলেন, বিচারের এই পর্যায়ে জুমার এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কোয়েন এ-ও উল্লেখ করেছেন, জুমার সঙ্গে কৌঁসুলির কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ নেই। তিনি পক্ষপাতিত্ব করবেন না। ইউরোপের পাঁচ দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনায় জালিয়াতি, দুর্নীতি, কারসাজিসহ ১৬ অভিযোগ রয়েছে জুমার বিরুদ্ধে। আদালতে গৃহীত অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান থালেসের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন জুমা। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। যদিও জুমা বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। থালেসও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। করেছে। | 3 |
অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম। দেশের একমাত্র নারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। বয়স যখন ১০-১২, নানা প্রতিকূতার মধ্যেও মনের অজান্তে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে মুগ্ধ হন। এ সময় তাকে বঙ্গবন্ধু পাগল বলেও ডাকতেন পরিবারে সদস্যরা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থেকে দুর্বলতা চলে আসে আওয়ামী লীগের ওপরও। এরপর রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পাড় করতে হয় তাকে। নব্বই দশকে নিজ উদ্যোগে গঠন করেন রংপুর মহিলা আওয়ামী লীগ। নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেন। দলকে সুসংগঠিত করেন তৃণমূল পর্যন্ত। লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। পরিশ্রমের সফলতা হিসেবে তিনি রংপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। দলের প্রতি ত্যাগ ও নিবেদিত আওয়ামী লীগকর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হন ছাফিয়া খানম। এরপর দলীয় মনোনয়ন পান এবং রেকর্ড গড়ে নির্বাচিত হয়ে যান দেশের প্রথম নারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। ছাফিয়া খানমের জীবনযুদ্ধ ব্যক্তিগত জীবনেও পাহাড় সমান সংগ্রাম করতে হয়েছে ছাফিয়া খানমকে। রাজশাহী জেলার লালপুর থানার প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীরে অজপাড়া গায়ে একটি রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম তার। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। চার বছর বয়সেই বাবাকে হারান। অভিভাবকহীন সংসারে বিপাকে পড়েন মা। দুঃসম্পর্কের চাচার সহযোগিতায় লেখপড়া শুরু করেন ছাফিয়া। এরইমধ্যে পদ্মার ভাঙনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তার। দুই বছর বাড়িতে বসে থাকার পর মা ও চাচার চাপে বাল্য বয়সেই বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। ঘর-সংসার বুঝে ওঠার আগেই কন্যা সন্তানের মা হন। এরপর সন্তানের বয়স নয় মাস হতেই মারা যান ছাফিয়ার স্বামীও। ১৬ বছরেই স্বামী হারা, শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তাকে। আবার তিনি মায়ের কাছে ফিরে আসেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চোখে অন্ধকার। বেঁচে থাকার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে তার। মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। এসময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন বান্ধবী খালেদা খানম। বান্ধবী ছাফিয়াকে ষষ্ঠ শ্রেণির বই-পুস্তক দিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দেয় এবং লেখাপড়ার খরচ ও উৎসাহ জোগায়। কিন্তু বাধ সাধেন চাচাসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা। তারা সাফ জানিয়ে দেন বিধবা মেয়ের লেখাপড়া হবে না। তিনি জেদ ধরেন লেখাপড়া করবেন। এতে স্বজনদের কাছ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। শুরু হয় তার নতুন জীবনযুদ্ধ। সীমাহীন বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-কষ্ট, আর্থিক অনটনের পরও ১৯৭৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন ছাফিয়া। চাকরি জোগাড় করে সন্তানের খরচসহ নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে থাকেন। এইচএসসি পাস করার পর ১৮ মাসের কোর্স করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকের প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বিএ ভর্তি হন। এরইমধ্যে কন্যা বড় হয়ে গেলে তিনি ভাইয়ের স্মরণাপন্ন হয়ে রংপুরে চলে আসেন। রংপুরে আসার পর বিএ, এমএ এবং এলএলবি পাস করেন। পর্যায়ক্রমে অ্যাডভোকেট হয়ে তিনি রংপুর আইন কলেজের প্রিন্সিপাল সিনিয়র আইনজীবী মো. নুরুল হকের জুনিয়র হয়ে কয়েক বছর প্র্যাকটিস করেন। এরপর তার একমাত্র কন্যার লেখাপড়ার কারণে সময় করতে না পেরে তিনি প্র্যা্কটিস ছেড়ে একটি এনজিওতে চাকরি নেন। চাকরির পাশাপাশি পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। দলের প্রতি ছাফিয়ার ভালোবাসা দেখে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, আশিকুর রহমান এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তাকে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক করে নেন। এ পদ পেয়ে তার মাথায় আসে মহিলা আওয়ামী লীগ গঠনের চিন্তা। নব্বই দশকে নারীদের এক করে গড়ে তোলেন মহিলা আওয়ামী লীগ। ১৯৯৩ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ পদে টানা দুই যুগ পার করে রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চান। রংপুরের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাফিয়া খানমকে বেছে নেন। তিনি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন এবং ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি রংপুর জেলা পরিষদের পীরগঞ্জ খালাশপীরের দখল হওয়া ৬০ শতক জমি ও বদরগঞ্জের জমি উদ্ধারসহ দোকান মার্কেট নির্মাণ করে জেলা পরিষদের আয়ের পথ বের করেন। পাশাপাশি রংপুর নগরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের পাশে তিন একর জমির ওপর ১৮তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক রংপুর সিটি সেন্টার মার্কেট নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেন। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান উন্নয়নসহ নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন তিনি। অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম সমকালকে বলেন, জীবন চলার পথে যেমন অনেকের কাছ থেকে অবজ্ঞা-অবহেলা পেয়েছি, তেমনি অনেকের সহযোগিতা-ভালোবাসাও পেয়েছি। তবে কোনো দিন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি এবং আগামীতেও করব না। আমার চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা নিয়েই বাঁচতে চাই। | 6 |
সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। সোমবার তার মেয়ে নুসরাত হুমায়রা সমকালকে এ তথ্য জানান। এর আগে গত রোববার সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হয়। বিএনপিসহ আরও অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শোকবাণীও দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মাহফুজ উল্লাহর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের এমন ঘোষণার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে তারা দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুসংবাদ জানতে পারেন। এই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি শোকবার্তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য বিএনপি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমণ্ডির গ্রিন রোডে মাহফুজ উল্লাহ তার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১০ এপ্রিল তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেওয়া হয়। | 6 |
যুদ্ধের দিনক্ষণ পড়ে গিয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে ইতালি-পর্তুগাল মুখোমুখি হবে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি নয়তো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল বাদ পড়বে সেই হিসাবও কষা ছিল। কিন্তু মহড়া ম্যাচে আত্মসমর্পন করে আগেই বিদায় হয়ে গেছে রর্বাতো ম্যানচিনির ইতালি। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে জিতলেই পর্তুগালের মুখোমুখি হতো আজ্জুরিরা। র্যাংকিংয়ে ৬৫তম অবস্থানে থাকা উত্তর মেসিডোনিয়া ছিল ইতালির জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু। কিন্তু ছোট ওই দলই বড় দান মেরেছে। ইতালির ফুটবলে দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা। যে ধাক্কায় অনেককিছু এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইতালির ফুটবল ফেডারেশন ঝড়টাকে 'দমকা হাওয়ার' মতো করে দেখছে। বিশ্বকাপ থেকে ইতালি বাদ পড়ার পরই কোচকে ছাঁটাই করার প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সংবাদ মাধ্যম লা গেজেত্তে দাবি করেছে, সহজ ওই সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটছে না দেশটির ফেডারেশন। বরং তারা ম্যানচিনিকে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ পর্যন্ত রেখে দেওয়ার কথা ভাবছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে ম্যানচিনি বলেছিলেন, 'গত জুনে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়টা পেয়েছি। এবার পেলাম ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হতাশার স্বাদ।' ওই হতাশা ভুলে এগিয়ে যেতে চান তিনি। গেজেত্তে দাবি করেছে, ইতালিকে সফল হতে সহায়তা করতে চান তিনি। আরেকটি চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সুযোগ চান। খুঁজে বের করতে চান ভুল। | 12 |
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বোকাইনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। জমির মালিক ইমরুল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেছেন।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাইজহাটি মৌজায় ১৫ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান ছিল। গত ৪ জানুয়ারি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক বাদীর পক্ষে রায় দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয় ওই জমিতে বিবাদী বদরুল হাসান বাচ্চুর কোনো দাবি নেই। রায়ের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার মামলার বাদী জমির মালিক ইমরুল হোসেন আল রাজি খোকন জায়গা দখল নিতে গেলে বিরোধ সৃষ্টি হয়।এ সময় ৯৯৯ এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গৌরীপুর থানার পুলিশ।বাদীর অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তাঁর জায়গায় বোকাইনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আবারও দখল নেয় বিবাদী ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বদরুল হাসান বাচ্চু।তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বদরুল হাসান বাচ্চু বলেন, জায়গায়টিতে তাঁর কোনো মালিকানা নেই। এ বিষয়ে তিনি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। দখল ও ছাত্রলীগের সাইনবোর্ডের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন নাউপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উত্তম সরকার জানান, ওই ইউনিয়নে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। কেউ যদি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে থাকে, তবে তা অন্যায় করেছে।গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, আদালতের রায়ের কোনো কপি তিনি পাননি। ঘটনার দিন ৯৯৯ এর কল পেয়ে মাইজহাটি বাজারে যায় পুলিশ। এ সময় বাদীপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে জায়গার দখল নিতে অনুরোধ করে পুলিশ।গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মারুফ বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে জায়গা দখল গর্হিত কাজ। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ঢাকা: চলতি মাসেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন সফটওয়্যার জায়ান্ট বিল গেটস এবং তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডা। তখন দুজনই বলেছিলেন, তাদের দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে এই বিচ্ছেদের কোনো প্রভাব পড়বে না।তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিভোর্সের ঘোষণা দেওয়ার এক মাস না পেরোতেই ফাউন্ডেশনের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা করছেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস।গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশনের জন্য একটি নতুন পর্ষদ গঠন ও সেখানে বাইরের পরিচালক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিল এবং মেলিন্ডা আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূলত মেলিন্ডাই এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিচ্ছেদের পরও যাতে ফাউন্ডেশনের কাজের গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে সে উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা বিশ্বের বৃহত্তম দাতব্য সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। ২৭ বছর আগে বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি গড়ে তোলেন সংস্থাটি।জানা গেছে, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি হিসেবে বর্তমানে তিনজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন-বিল গেটস, মেলিন্ডা গেটস এবং মার্কিন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। বাফেট গত ১৫ বছরে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে ২৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছেন।গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজমান বলেছেন, কর্মীদের সঙ্গে দাতা সংস্থার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক নিশ্চিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে সুজমান বলেন, বিল, মেলিন্ডা এবং ওয়ারেনের সঙ্গে আমি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। | 3 |
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে উজবেকিস্তানেরর তাসখন্দে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠিত 'মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া : আঞ্চলিক যোগাযোগ, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে তারা বৈঠক করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের সুবিধায় সক্রিয় ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার জন্য রাশিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। রাশিয়া মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো বার্তার জন্য রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিনা যুদ্ধেই জয়লাভ করা যাবে, তবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি, সাহস, আস্থা ও মনোবল অটুট থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিক দলের উদ্যোগে 'বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।বিএনপির এই নেতা বলেন, 'এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে দেশের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহ অঙ্গীকার করেছে। এই অঙ্গীকারের প্রতি দেশ ও জনগণের কথা মাথায় রেখে আস্থা, বিশ্বাস এবং মনোবল ঠিক রাখা গেলে সরকারের বিরুদ্ধে বিনা যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করতে পারব।'ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, '১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালবেলায়ও সৈনিকেরা জানত না একটু পরে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা জানত না এরশাদকে পদত্যাগ করতে হবে। আজকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিচের দিকের নেতা-কর্মীদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে তারাও জানেন না তাদের নেত্রী কখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো আত্মসমর্পণ করে এরশাদের মতো পদত্যাগ করবেন।'এই সরকারের জন্য দেশ চালানো কঠিন হয়ে গেছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর আরও বলেন, 'রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বড় শক্তি অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্ট। এর মধ্যে দেখা গেছে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা নেই। শেয়ার মার্কেট থেকে প্রায় ৯০ লাখ কোটি টাকা নাই। এভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা শূন্য হয়ে গেছে। আগে তো তলাবিহীন ঝুড়ি ছিল, এখন হয়তো দেখা যাবে তলা আছে ঝুড়ি নেই। সুতরাং এই অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা খুব কষ্টের।'সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম প্রয়োজনে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান। তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, 'আন্দোলনের ভয়ে নেতা-কর্মীদের জেলে ভরে দিচ্ছেন। তাতে কি আমরা ভয় পাই? আমরা ভয় পাই না। এবার কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নামা হবে। আমাদের কবরের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। অনেককে কবরেও পাঠিয়ে দিয়েছেন। যারা কবরে গেছে তাদেরও শান্তি নাই। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দিচ্ছেন। তাই শান্তি আনার জন্য একটা যুদ্ধ করতে হবে।'শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির খানসহ শ্রমিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। | 9 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়েই সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটা পার্লামেন্ট তৈরি করতে হবে। আসুন আমরা সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ঐক্যের মধ্য দিয়ে দুর্বার একটা গণআন্দোলন সৃষ্টি করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সুকৌশলে গণতন্ত্রের একটা মোড়ক লাগিয়ে এবং গণতন্ত্রের কথা বলে তারা (সরকার) আবার একই কায়দায় এদেশের সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল এবং একটা তাবেদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এদেশের মানুষ সবাই চিরকাল লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে, তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে সবসময়, যুগ যুগ ধরে। আমি বিশ্বাস করি এবং আমি আশাবাদী যে কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে এভাবে পরাজিত করা সম্ভব হবে না। এই সরকারকে অবশ্যই সরে যেতে হবে এবং জনগণের কাছে তাদেরকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িত ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ পরদিন চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরেছেন বুয়েট শাখার ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। মামলায় বুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আবরারের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা একটা সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটা পুরোপুরিভাবে নতজানু রাষ্ট্র করবার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, সেই সংগ্রামের আমরা যাই। অ্যাবের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান চুন্নুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বুয়েট শাখার ছাত্র দলের আহ্বায়ক আসিফ হোসেন রচি প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা ওভারব্রিজ থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০ কিলোমিটার সড়কে সন্ধ্যার পর থেকে চলাচল করা আতঙ্ক এবং ভয়ের। বিশেষ করে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সড়কটুকু বেশি আতঙ্কের।সন্ধ্যার পর মোটরসাইকেল আর রিকশায় চলাচল রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ। সন্ধ্যার পর থেকে এই সড়কে ঢিল ছোড়া হয়; রশি দিয়ে মোটরসাইকেলের মতো যানবাহন আটকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হন অনেক যাত্রী। তাই এই সড়কে চলাচলকারী ছোট পরিবহনের যাত্রীদের দাবি, এই ১০ কিলোমিটার সড়ক যেন নিরাপদ করা হয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই ১০ কিলোমিটার সড়ক, বিশেষ করে ন্যাশনাল পার্কের আশপাশে গভীর গজারি বনের ভেতর ওত পেতে থাকে দুর্বৃত্তরা। তাঁরা এ সড়কে চলাচলকারী ছোট ছোট পরিবহনে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এই সড়কে মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়েছে অনেকের। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। পঙ্গু হয়েছে অনেকেই।অভিনব কায়দায় বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রীবেশে ওঠে ডাকাতদের কবলে পড়ার ঘটনাও কম নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ সব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছেন। তবুও আতঙ্ক রয়ে গেছে এই সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেল আর রিকশাচালকদের। পাশাপাশি এ সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীরাও থাকের শঙ্কিত।জানা যায়, ২০২১ সালে মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা রাকিবুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী। পথে রাজেন্দ্রপুর আসা মাত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। রাস্তায় রশি দিয়ে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে আহত অবস্থায় রাস্তার ফেলে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে তিনি এ বিষয়ে থানায় জিডি করেও মোটরসাইকেল ফেরত পাননি। এ রকম হামলার শিকার হন মাওনা এলাকার ফরিদ মিয়া, মোতাহার হোসেন, কাওরাইদ এলাকার শরিফ আহমেদ।এ সড়কে মোটরসাইকেলযোগে চলাচলকারী মাওনা এলাকার ব্যবসায়ী আজমল হোসেন বলেন, 'গাজীপুরে একটি মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করি। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। মহাসড়কের ভেতরের লেনে দ্রুতগতির পরিবহনের ঝুঁকি, অপরদিকে সড়কের পাশে থাকে ডাকাতদলের ঝুঁকি।'একটি কারখানার কর্মকর্তা স্বাধীন আহমেদ বলেন, 'স্বাভাবিক দিনের চেয়ে ঈদ উপলক্ষে ভয় একটু বেশি। ডাকাত ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।'গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ঈদে ঘরমুখো মানুষের চলাচল নিরাপদ করতে কাজ করছে পুলিশ। যে কোনো ধরনের অপরাধ নির্মূলে কাজ শুরু করা হয়েছে।' | 6 |
কুষ্টিয়ায় কালবৈশাখীতে অনেক গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উড়ে গেছে শত শত ঘরের টিনের চালা। উপড়ে গেছে অনেক গাছ। গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঝড় শুরু হয়। এ ঝড় প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিল।সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। শত শত হেক্টর জমির আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক জুলমত আলী বলেন, ভোরের দিকে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এতে অনেক গাছ ভেঙে গেছে। উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।কৃষক শাহজাহান বলেন, 'পেঁপে বাগানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ পেঁপেগাছ উপড়ে গেছে। আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।'উপজেলার আম ও লিচুর বাগানের মালিক মশিউর রহমান বলেন, ঝড়ে বাগানের আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছের আম-লিচু পড়ে গেছে। এতে অনেক টাকা লোকসান হয়ে গেল।উপজেলার কুরিপোল গ্রামের তুহিন আলী বলেন, 'আজ সকালের ঝড়ে আমার তিনটি ঘরের চালা উড়ে গেছে। এখন মেরামতের কাজ করছি। ঝড়ে আমার খুব ক্ষতি হয়ে গেল।'আম ব্যবসায়ী হানিফ হোসেন বলেন, 'আমি প্রতিবছর বাগান ধরে আম কিনি। এ বছরও কিনেছি। ঝড়ে সব আম পড়ে গেছে। এখন লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাও উঠবে না।' এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, কালবৈশাখীর কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মো. মোকসেমুল হাকিম বলেন, 'কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পুরো জেলা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা মেরামতের কাজ করছি।'কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মামুন আর রশিদ বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৭ ঝড়ের সঙ্গে ২৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তবে কুমারখালী উপজেলায় ঝড়ের মাত্রা অন্যান্য উপজেলার চেয়ে তুলনামূলক কম হয়েছে।কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছেন। | 6 |
সমকামিতা ভারতে আর অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ আমলের এই আইনটির সুবাদে 'অপ্রাকৃতিক যৌনতা'র অপরাধে ভারতে কোনো ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারতো। ১৮৬১ সালের জারি করা ধারাটি ২০০৯ সালে সমকামিতা অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছিল দিল্লির হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আপীল করা হলে ২০১৩ সালে ওই আইনটি বহাল করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। নিজেদের সেই আদেশ আজ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ভারতে এলজিবিটি শ্রেণীভুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তাদের আবেদনে বলেছিলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির সেকশন ৩৭৭ এমন একটি আইন যে কারণে সব সময় তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয় - কারণ তাদের যৌনতার দোহাই দিয়ে পুলিশ যখন খুশি তাদের গ্রেফতার করতে পারে। গত জুলাই মাসে তাদের আবেদনের শুনানি শুরু করেন সুপ্রিম কোর্ট, যা দেশটিতে স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার বিতর্ক তৈরি করে। শুনানির একপর্যায়ে একজন বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'যৌনতার কারণে কাউকে ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করা উচিত নয়।' যা ভারতের সমকামীদের মধ্যে আশাবাদের সৃষ্টি করে। সমকামিতাকে কোনো অপরাধ হিসাবে গণ্য না করার জন্য ভারতে অনেকেই দাবি তুলেছেন। যদিও এখনো ভারতে সমকামিতা নিয়ে সংকোচ রয়েছে এবং অনেকেই এটিকে বেআইনি বলে গণ্য করে। 'সেকশন ৩৭৭' বহাল থাকা না থাকার প্রশ্নে ২০১৬ সালে পুনরায় শুনানি গ্রহণ করতে সম্মত হন আদালত। তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, এটা সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে তারা মনে করেন। 'সেকশন ৩৭৭' কী?এটি ১৫৭ বছর পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের একটি আইন, যেটি ১৮৬১ সালে জারি করা হয়। সেখানে কিছু যৌন অপরাধকে অস্বাভাবিক অপরাধ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যেখানে বলা হয়েছে, 'স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মানুষ, নারী বা কোনো পশুর সঙ্গে যৌন মিলন' করা হলে তা শাস্তিযোগ্য হবে। অ্যাকটিভিস্টরা বরাবরই অভিযোগ করছেন, দেশের সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়কে হয়রানি করতে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। সমঅধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরণের একটি আইন থাকা মানেই প্রমাণ করে যে, যৌনতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে। | 3 |
টাঙ্গাইলের সখীপুরে যুবদলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা এলাকার স্থানীয় এক কোচিং সেন্টারে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন সজল। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবালের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান জুয়েল ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব কায়সার কাশেম প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে দাবি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আজ রোববার সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরীর মশানিধন কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাঈদ খোকন বলেন, 'ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অন্যান্য এলাকার তুলনায় মশার উপদ্রব বা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে কম কিন্তু আমাদের যেসব নতুন ইউনিয়নগুলো যুক্ত হয়েছে কিংবা ধানমন্ডি, মানিকনগর ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বেশ কিছু ঝোপঝাড় রয়েছে, সেখানে গাছপালা রয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক এলাকাতে ডেঙ্গু বা মশার উপদ্রব তেমনভাবে নেই, আমি আমার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলছি।' তিনি বলেন, 'যতটুকু বেড়েছে তা সবাই মিলে দ্রুততম সময়ে. স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো আছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতির বাইরে আমরা যেতে দেব না। সবশেষে যে কথাটি বলব- আতংকিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।' ডিএসসিসি মেয়র বলেন, 'ভয় ধরে গেলে মারাত্মক বিষয় হয়ে যায়। একটা মশায় কামড় দিলে ডেঙ্গু হয়ে যাবে, কমপ্লিকেটেড (জটিল) হয়ে যেতে পারে। বিষয়টা একেবারেই সেই রকম নয়। আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ ডেঙ্গু হচ্ছে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু, ৭ থেকে ১০ দিনের জ্বরে এটা সেরে যায়। এটাতে কেমন কোনো ক্ষতির কারণ থাকে না। আমার এই চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছুই নেই।' কতজন আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, 'গত জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ১০০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৪ জন রোগী বাসায় চলে গেছেন। ৩০০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। মারা গেছেন ২ জন। ১৭ কোটি মানুষের দেশ। এখন বলুন, এটা আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থা কিনা। এটা আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি না।' | 6 |
ভারতের উত্তর প্রদেশে ৯ তলার বারান্দা থেকে স্বামীর হাত ফসকে এক তরুণী নিচে পড়ে গেছে। আর সেই পড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এই ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছর বসয়ীর ওই তরুণী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বারান্দার রেলিংয়ে উঠে নিচে ঝাঁপ দেন। তবে স্বামী তার হাত ধরে ফেলেন। ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 3 |
বাংলাদেশ রাবার গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, করোনায় রাবারের দাম কমে যাওয়ায় বড় হুমকিতে আছে শিল্পটি। অনেক বাগান মালিক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন আজকের পত্রিকাকে।প্রশ্ন: চট্টগ্রামে রাবার বাগান কয়টি? উৎপাদন কেমন হচ্ছে? কত মানুষ জড়িত?কামাল উদ্দিন: চট্টগ্রামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৩১৭টি রাবার বাগান আছে। আর বেসরকারি ও সরকারি মিলে প্রায় ১ লাখ একর জমিতে রাবার বাগান রয়েছে। বছরে ২০ হাজার মেট্রিক টন রাবার উৎপাদিত হয়। এ শিল্পের সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ জড়িত।প্রশ্ন: গত কয়েক বছরে আপনাদের শিল্পে বিশেষ কোনো পরিবর্তন এসেছে? রপ্তানির কী অবস্থা?কামাল উদ্দিন: এ শিল্পের বিকাশে বাধাগুলো আরও জটিল আকারে সামনে আসছে। আমাদের শিল্পের ক্ষতির পাল্লাটাই ভারী। আগে রাবার কেজি প্রতি বিক্রি হতো ৩৫০ টাকায়। সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা করে। এর ওপর সরকারের ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ও অন্যান্য খাতে আরও ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্তে আমরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছি। সবচেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হলো সরকার রাবার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে। এটা বিদেশে থেকে রাবার আমদানিকারকদের উৎসাহী করেছে।প্রশ্ন: করোনায় কী প্রভাব পড়েছে?কামাল উদ্দিন: করোনায় রাবারের দাম কমে যাওয়ায় আমাদের বড় হুমকিতে পড়তে হয়েছে। অনেক বাগান মালিক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। বেকার হয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।প্রশ্ন: রাবার শিল্পে বর্তমান সমস্যাগুলো কী?কামাল উদ্দিন: রাবার বাগান এলাকায় রাস্তাঘাটগুলো একেবারেই অনুন্নত। এগুলো সংস্কার জরুরি। ১৯৯৭ সাল থেকে রাবার শিল্পে ঋণ বন্ধ। এটা চালু হলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। সরকারের আমদানি এবং রপ্তানি নীতি রাবার শিল্প বান্ধব নয় এটি বিবেচনায় আনতে হবে।প্রশ্ন: রাবার শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?কামাল উদ্দিন: বাংলাদেশে রাবার শিল্পের সম্ভাবনা অনেক ভালো। তিন পার্বত্য এলাকার বহু মানুষ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে কর্মসংস্থানমুখী এই শিল্প আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবে। এ শিল্পকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো যাবে।প্রশ্ন: সরকারের কাছে দাবি কী?কামাল উদ্দিন: সরকারের কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি আছে। যেমন, রাবারকে কৃষি পণ্য ঘোষণা, ভ্যাট, ট্যাক্স প্রত্যাহার করা। কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুযোগ দেওয়া। এ চাড়া রাবার বোর্ডের মাধ্যমে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করে শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া, এর সঙ্গে জড়িত মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বাগানের সীমানা নির্ধারন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। | 8 |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কর্মরত ২ টেকনোলজিস্ট করেনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের দুজনকে বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে সহকারি পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডাঃ মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুইজনের মধ্যে একজন সরকারি কর্মচারী ও আরেকজন বেসরকারী ডেইলিবেসিক হিসেবে প্যাথলজিতে কাজ করেন। দুইদিন আগে তারা কিছুটা অসুস্থ্যতা বোধ করলে এই হাসপাতালেই করোনা পরিক্ষানাগারে পরিক্ষা করা হয়। এতে তাদের দুজনের রিপোর্টেই করোনা পজিটিভ আসে। তবে এখনও তাদের দুজনেরই শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। এজন্য তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টানে থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তিতে কোন সমস্যা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। | 6 |
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় মাত্র ২০০ টাকা চুরির অপবাদে এক শিশুকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযুক্ত বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে ক্ষেতলাল থানার পুলিশ।ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ধনতলা বাজারের চা-বিক্রেতা বেলী বেগম চা বিক্রি করছিলেন। এ সময় তিনি ক্যাশবাক্সে ২০০ টাকা না থাকার অভিযোগ করেন। সে সময় ওই শিশু তাঁর চায়ের দোকানের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তখন বেলী বেগম শিশুটিকে সন্দেহ করেন এবং টাকা চুরির অপবাদে বাজারের পাশে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেন। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শিশুটি ২০০ টাকা চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন বেলী বেগম। ভুক্তভোগী শিশু টাকা চুরি করেনি বলে বারবার কাকুতি-মিনতি করছিল।স্থানীয় একজন ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।এ বিষয়ে ওই শিশুর দাদা আলম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে অভিযুক্ত বেলী বেগমকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বেলী বেগম ধনতলা বাজার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী।এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে প্যানাল কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। | 6 |
বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অবশ্যই সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সরকার শুধু মুখে বললেই হবে না, বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের জন্য কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আজ বিকালে বিকল্প যুবধারার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মধ্যবাড্ডার ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বি চৌধুরী বলেন, এই মহামারীর সময় রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির চাইতে জনগণকে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করিই উত্তম। বিকল্প যুবধারার সভাপতি আসাদুজ্জামান বাচ্চুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারার সহ সভাপতি মহসিন চৌধুরী, ওবায়দুর রহমান মৃধা, যুবধারার সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সারোয়ার, যুবধারার সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শিহাব, শ্রমজীবী ধারার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক সুমন, বিকল্পধারার সহ দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলু, চলচ্চিত্র ধারার আহ্বায়ক হানিফ, যুবধারার সহ-সভাপতি হাবিব, যুব পরিষদের সভাপতি এসএম শামসুল আলম নিক্সন, ইসলামী যুব আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য গঠিত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি রোববার সন্ধ্যায় প্রস্তাবিত নাম থেকে ১২/১৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা করেছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এই নাম থেকে ১০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সার্চ কমিটির প্রধান ও আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তবে নামের তালিকা সার্চ কমিটি প্রকাশ করবে না বলে জানান তিনি। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সার্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকটি সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। ওবায়দুল হাসান বলেন, আমরা ১০ জনের নাম আজ চূড়ান্ত করতে পারিনি। ১২/১৩ জনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি সপ্তম বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তালিকা প্রকাশ করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দেবেন। প্রয়োজন হলে তারা প্রকাশ করবে। আমরা তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব। | 6 |
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও করা এক মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'একুশে টেলিভিশনের' (ইটিভি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগ গঠন করে আগামী ১৫ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে এই মামলায় তারেক রহমান ও আবদুস সালামসহ চারজনের বিচার শুরু হলো।মামলার অন্য দুই আসামি হলেন-ইটিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক মাহাথীর ফারুকী খান ও বিশেষ প্রতিনিধি কনক সারওয়ার।২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি তারেক রহমান ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলাটি করেন উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন। পরে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়।গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলায় তারেক রহমান ও আবদুস সালামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ইমদাদুল হক।
| 6 |
বাংলাদেশে হত্যা ও নিপীড়নের দায়মুক্তি পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিপীড়ন ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও দায়মুক্তি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ন, হত্যা ও দুর্নীতির খুব কম সংখ্যক ঘটনাতেই তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। যাতে বেশিরভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ন্যস্ত। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ আছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র্যাব ছাড়াও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এই বাহিনীর ওপরে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নানা ধরনের নিপীড়ন চালিয়ে থাকেন। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব বিষয়ের গ্রহণযোগ্য খবর রয়েছে সেগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বেআইনি হত্যাকাণ্ড, গুম, সরকারের পক্ষে নাগরিকদের নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণ, কারাগারে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী পরিবেশ, নিবর্তনমূলক গ্রেপ্তার বা আটক, রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার, অন্য দেশে অবস্থানরত ব্যক্তির ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার জন্য বাধা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দেয়া, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হুমকি, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি করা, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সমিতির স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, যার মধ্যে রয়েছে সংগঠন, তহবিল বা বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজ সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধমূলক আইন। | 6 |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে প্রথম দেশ হিসেবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন বিশ্বে এক অনন্য নজির। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ৭৮৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ সকল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় দেশকে সক্ষম করতে সহায়ক হবে। সভায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, পিকেএসএফ'র চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বক্তব্য রাখেন। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গুণগতমান নিশ্চিত করা হবে। যথাযথভাবে ও যথাসময়ে চলমান প্রকল্পসমূহ সমাপ্তির লক্ষ্যে মনিটরিং ও সুপারভিশন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ১৮টি চলমান প্রকল্পের আন্তঃখাত সমন্বয় এবং কাজের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি বিষয়ক সংশোধিত প্রস্তাব এবং ৪০ টি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর আবেদন অনুমোদন করা হয়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে নতুন প্রকল্পসহ চলমান প্রকল্পের মেয়াদ অনুমোদিত মেয়াদ/বর্ধিত মেয়াদ হতে ১ বছর বৃদ্ধি এবং চলমান যেসব প্রকল্পের মেয়াদ জুন, ২০২০ এ সমাপ্ত হয়েছে সে সকল প্রকল্পের মেয়াদ অনুমোদিত মেয়াদ হতে ১ বছর বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদন করা হয়। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে অনুমোদিত চলমান প্রকল্পের কাজের ব্যত্যয় বা অনিয়ম হলে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে পিপিআর অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিনের বিকল্প বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগের উদ্ভাবনের উপায় খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারে, সে পরিবেশ মিয়ানমারকেই তৈরি করতে হবে। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আগে ফিরিয়ে নিতে হবে, সেখানে গিয়ে তারাই ঘরবাড়ি বানিয়ে নেবে। মিয়ানমারে আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর নামে সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে এক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু বাড়িঘর মিয়ানমার সরকার তৈরি করেছে। সেখানে আসলে কী অবস্থা হয়েছে তা দেখাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে যাবে। আগে মিয়ানমার এ বিষয়ে রাজি ছিল না, এখন রাজি হয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করতে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা এটা বলছে কারণ আমাদের দিক থেকে রোহিঙ্গারা যায়নি। আমরা কাউকে জোর করে ফেরত পাঠাব না, তারা স্বেচ্ছায় ফিরে যাবে। পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব মিয়ানমারের। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বহু মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় আমরা চিন্তা করিনি ঘরবাড়ি আছে কি-না। পাকিস্তানি আর্মি আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছিল, আমরা এসে ঘরবাড়ি তৈরি করেছি। রোহিঙ্গারাও যখন আমাদের এখানে এলো, তারা কিন্তু ঘরবাড়ির কথা চিন্তা করেনি। পালিয়ে এসেছে। তারা গিয়ে সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে নেবে, না গেলে কীভাবে হবে? তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। | 6 |
টানা লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য। আমদানি, রপ্তানিতে দীর্ঘ হচ্ছে অচলাবস্থা। অর্থনীতির প্রাণ তৈরি পোশাকসহ প্রায় সব ধরনের কারখানা বন্ধের ফলে পুরো সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার কারণে নাজুক হয়ে পড়েছে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি। প্রায় মরে যাচ্ছে পর্যটন খাত। ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শাকসবজি; কৃষি থেকে বড় শিল্প কিংবা সেবা খাত-সর্বত্র শুধুই অনিশ্চয়তা আর অজানা আতঙ্ক।সরকারের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ বলে পরিচিত রাজস্ব আয়ও থমকে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। সব মিলিয়ে কমছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়। গরিব হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। করোনার উচ্চ সংক্রমণে লকডাউন অবধারিত হলেও সার্বিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতি এখন ক্ষতির চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে। এভাবে চলত থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাবে।চলতি অর্থবছর শুরু প্রথম মাস প্রায় শেষের পথে। বিদায়ী অর্থবছরের করোনার কালো থাবার রেশ নতুন অর্থবছরকেও আক্রান্ত করেছে। দফায় দফায় লকডাউনে বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। চলতি অর্থবছরে সরকার ৬ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার বাজেটে শুধু কর রাজস্ব আদায় করার কথা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি কর্মদিবসে আদায় করার কথা ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। এর হেরফের হলেই ঘাটতি বাড়তে থাকবে। তবে এনবিআরের বিভিন্ন কর, ভ্যাট ও শুল্ক কমিশনারেটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজস্ব আয়েও করোনার শক্ত থাবা পড়েছে। জরুরি সেবার আওতায় বলে রাজস্ব অফিস খুলে বসে থাকছেন কর্মকর্তারা।কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসছে না। মাস শেষ না হওয়ায় এ মাসে কত রাজস্ব আয় হলো, তা জানার এখনই সুযোগ নেই।চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার এম ফখরুল আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, লকডাউনের কারণে আমদানি-রপ্তানি কমেছে। কমার প্রভাব বেশি ধরা পড়বে আগামী মাসে। কারণ, এখন যা আসছে আগের পণ্য। শিল্পকারখানা বন্ধের কারণে পণ্য খালাস কমে গেছে। রাজস্ব আয় কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। কুমিল্লার ভ্যাট কমিশনার বেলাল হোসেইন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিল্পকারখানা প্রায় সব বন্ধ। তাই রাজস্ব ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম আদায় হচ্ছে। আয়কর অফিসেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নামমাত্র রাজস্ব জমা হচ্ছে। কোম্পানি ও ব্যক্তির আয় কমছে বলে, সামনে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।অন্য সময় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত চালু থাকে। এবার তা-ও বন্ধ। শুধু রপ্তানিমুখী নয়; স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য যত ধরনের ছোট, বড়, মাঝারি শিল্পকারখানা রয়েছে, সবই বন্ধ। জিডিপির ৫৪ শতাংশ অবদান রাখছে যে সেবা খাত, সেটিও বন্ধ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য বলছে, দেশে মোট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এর মধ্যে স্থায়ী ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৯১টি। আর অস্থায়ী ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৩টি। আর সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত পরিবারের সংখ্যা ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৭১টি। এর মধ্যে পুরুষনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৭টি আর নারীদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬৮টি। লকডাউনে যেহেতু প্রায় সবই বন্ধ রয়েছে, তাতে ধরে নেওয়া যায় যে এই বিশাল পরিমাণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ রয়েছে।বিবিএসের অর্থনৈতিক জরিপের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একজন জানান, ২০১৩ সালের পর অর্থনীতিতে আরও বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে মানুষের মাথাপিছু আয় আরও বেড়েছে। যেহেতু সবকিছু বেড়েছে, সুতরাং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও আরও বেড়েছে-এসবের হিসাব যোগ হয়নি। যেটুকুর হিসাব আছে, তা ধরলেও অর্থনীতিতে কী ক্ষতি হচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যাবে।তবে এর হিসাব না থাকায়, তা জানতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, 'করোনার প্রভাব আমাদের অর্থনীতির কী ক্ষতি হচ্ছে, তা দেখার জন্য আমরা একটা ধারণা জরিপ করতে চাই। শিগগিরই আমি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেব। এর আগেও আমরা এ রকম একটা জরিপ করেছিলাম। এর ফলে আমরা বুঝতে পারব কী পদক্ষেপ নিতে হবে।'রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা জানান, রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অর্ডার আসছে বিপুল হারে। কিন্তু ঠিকমতো জাহাজীকরণ করা যাচ্ছে না। ফলে কনটেইনার জট বন্দরে। রপ্তানিবাহী কনটেইনার পাঠাতে বিলম্বের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে অর্ডার বাতিল এবং নতুন অর্ডার না পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এর ফলে লাভ দূরের কথা বিপুল অঙ্কের লোকসানের আতঙ্কে আছেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে পোশাক, টেক্সটাইল ও খাদ্যপণ্য খাতের উদ্যোক্তা, ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি মনে করি ২০২১ সাল পুরোটাই বন্ধ। এখন টিকে থাকার জন্য একমাত্র আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। এর বেশি কিছু আসলে বলার নাই। আমার ধারণা, এ বছর বেশির ভাগ কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে।'অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও লকডাউনের কারণে বিনিয়োগেও স্থবিরতা চলছে। চলমান শিল্পকারখানাই যেখানে চালু রাখা যাচ্ছে না, সেখানে নতুন বিনিয়োগের কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। ফলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন থমকে আছে। আসছে না যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ। এতে সংকুচিত হবে নতুন চাকরির সুযোগ। এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা সিরাজগঞ্জ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন বলেন, 'এখন বিনিয়োগ একদম থমকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবাই অপেক্ষা করছে। সামনে ভালো সময় আসবে, এ জন্য অপেক্ষায় অনেকে।'বিনিয়োগ যে হচ্ছে না, তা ব্যাংকের ঋণপ্রবাহের তথ্যের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি অনুযায়ী তার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও উদ্যোক্তারা পুরোনো ঋণই পরিশোধ করতে পারছেন না। নতুন ঋণ নেবেন কীভাবে? তাদের কেউ কেউ মনে করেন, যে লোকসানে পড়েছেন, অধিকাংশ মালিকই ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে। এ ব্যাপারে, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও বিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, 'আমরা দেড় বছরের বেশি সময় ধরে একটা কঠিন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছি। আমাদের একটু একটু করে সহায়তা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। না হলে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা ঋণের কিস্তি দিতে পারবে না। এতে অর্থনীতির মূল ভিত্তি বড় রকমের ঝাঁকুনি খাবে বলে মনে করছি।'অর্থনীতির একটি বড় খাত পর্যটন। প্রায় ৪৫ লাখ লোক এ খাতের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত। করোনার সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে এ খাতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ বলেন, 'ইনবাউন্ড, আউটবাউন্ড পর্যটনের মতো দেশীয় পর্যটনের অবস্থাও খারাপ। হোটেল, মোটেল, রিসোর্টে কোনো বুকিং নেই, একেবারেই শূন্য। এর দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। এটি মরে যাচ্ছে।'আমদানি হলে সরকার রাজস্ব পায়। রপ্তানি হলে উদ্যোক্তাদের আয় হয়, তাতে সরকারেরও আয় হয়। সেবা খাত সচল থাকলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ে, এতে সরকার কর পায়। সবকিছু সচল থাকলে সরকার কোথাও শুল্ক, কোথাও ভ্যাট আবার কোথাও থেকে আয়কর পায়। আর এসবই রাজস্ব খাতে জমা হয়।অর্থনীতি চলে এ আয় দিয়ে। সবকিছু বন্ধ মানে, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কোম্পানি, সরকার সবার আয় বন্ধ।এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এ ধরনের লকডাউন আমাদের মতো দেশের অর্থনীতির চাকা একদম বন্ধ করে দেয়। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব জিডিপিতে পড়ে। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, লকডাউনের ক্ষতির মাত্রাটা ওঠানামা করে। এর ফলে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মতো আয় কমে যায়। আর এসএমইর ক্ষতিও ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়। দেশের বিনিয়োগের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। লকডাউন একে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।' | 0 |
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে মরা ডলফিন ও মাছ। আজ রোববার সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার পাতুয়ারটেক সৈকতে একটি মরা ডলফিন ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটি দেখতে পেয়ে বন বিভাগ ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে বিকেলে বন বিভাগ মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার বিকেল ও রাতে কলাতলী সৈকতের এক কিলোমিটার এলাকায় জোয়ারে ভেসে এসেছে অসংখ্য ছোট আকৃতির মাছ। আর এসব মাছ দেখতে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা মাছ ধরতে সৈকতে ভিড় করেন। এ ঘটনায় সৈকতে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ঘটনায় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সরওয়ার আলম বলেন, 'রোববার দুপুরে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক সৈকতে মৃত ডলফিনটি ভেসে আসে। ডলফিনটির শরীরে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধ বেড় হচ্ছে। হয়তো ২-১ দিন আগে এটি মারা গেছে।'এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান বিপ্লব বলেন, "স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সৈকতে গিয়ে মরা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য পাওয়া গেছে মাছগুলো মাছ ধরার জাহাজ থেকে ফেলা হয়েছে। এসব মাছ চামিলা প্রজাতির। যা স্থানীয়দের কাছে 'গরু' নামে পরিচিত। "এ মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, 'মাছগুলো সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি থাকে। তাই গভীর সাগরে এ মাছ ধরা পড়ার কথা নয়। আবার এমনও হতে পারে টানা জালের মাছ ধরার বোট বেশি মাছ পাওয়ায় কমমূল্যের মাছ ফেলে দিয়েছে।'এদিকে শহরের কলাতলীর সৈকতে মাছ ধরার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কৌতূহল দেখা দেয়। ভেসে আসা বেশির ভাগ মাছই পচে-গলে গেছে। এতে ওই স্থানে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কক্সবাজার সামুদ্রিক কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, 'চামেলি প্রজাতির মাছগুলো কম মূল্য হওয়ায় জেলেরা সাগরে ফেলে দেয়। এ রকম ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে।'কক্সবাজারে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বুরি) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, 'মাছ ভেসে আসার খবর পেয়ে বুরির বিজ্ঞানীরা নমুনা সংগ্রহ করেছে। সেখানকার আশপাশের পানিও সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে পানির গুণাগুণে কোনো অসংগতি ধরা পড়েনি।'প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ ও ১০ এপ্রিল সমুদ্রসৈকতের হিমছড়ি এলাকায় ২টি বিশাল আকৃতির মরা তিমি ভেসে আসে। এ তিমিগুলো গভীর সাগরে মারা পড়েছিল বলে জানিয়ে ছিলেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা। তবে সেগুলোর মৃত্যুরও সঠিক কারণ জানা যায়নি। | 7 |
পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় পাথরের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার কয়েক হাজার পাথরশ্রমিক।জানা গেছে, তেঁতুলিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদনদী থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক হাজার মানুষ। তেঁতুলিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদী থেকে পাথর সংগ্রহ করেই চলে তাঁদের সংসারের চাকা। প্রায় ৫০ বছর ধরে নুড়ি পাথর উত্তোলন করে জীবনযাপন করেন এসব মানুষ। করতোয়া ও ডাহুক নদী থেকেও পাথর উত্তোলন করেন হাজার হাজার শ্রমিক।বর্তমানে তেঁতুলিয়া উপজেলায় বিরাজ করছে হাড় কাঁপানো শীত। অধিকাংশ দিনেই এই উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীতে নদীর পানি হিম শীতল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শীতের মৌসুমের শেষ দিকে কমে এসেছে পানির প্রবাহ। এতে পাথর আসছে কম। আয় রোজগার কমে গেছে পাথর শ্রমিকদের। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।ঝড়ুয়াপাড়া গ্রামের পাথর শ্রমিক আনারুল ইসলাম বলেন, 'আগে রোজগার বেশি হতো। এখন দিনে ৩০০-৫০০ টাকা আয় করাই কষ্ট হয়ে পড়েছে।'তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, 'বাংলাবান্ধা থেকে ভজনপুর এলাকা পর্যন্ত নদনদীর অববাহিকা থেকে পাথর সংগ্রহ করে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করেন। সীমান্ত নদনদীগুলোর উৎসমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত এসব নদনদীর অংশে পানি প্রবাহ কমে গেছে। সেভাবে পাথর পাওয়া যায় না। ফলে পাথর শ্রমিকদের আয় রোজগার কমে গেছে।'তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, যুগ যুগ ধরে এই এলাকার মানুষ তাঁদের মূল পেশা হিসেবে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। তীব্র শীতে এসব মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। | 6 |
ফরিদপুরের 'পালাবদলের কবি' খ্যাত কবি ও ছড়াকার এনায়েত হোসেন (৭৬) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১০ জুলাই শনিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান রেল রাস্তা এলাকায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বাদ জোহর তাঁর বাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয় কমলাপুর মাটির গোরস্থানে দাফন করা হয়।ছড়াকার এনায়েত হোসেন দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা করা হয়। চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পড়ে আবার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার মারা যান। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।এনায়েত হোসেন ১৯৪৫ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবন শুরু করেন রাজেন্দ্র কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি সহায়ক হিসেবে। এই পদে থেকেই ২০০৫ সালে তিনি অবসরে যান। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছড়া গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে পালাবদলের ছড়া, কচি কলিদের ছড়া, চোখের জলে আগুন জ্বলে, প্রতিবাদী ছড়া ও ভাবসংগীত এবং শ্রেষ্ঠ ছড়া। তাঁর লেখা জীবনীগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-ছোটদের জসীমউদ্দীন, গানের বই-সুখের পাখি ও কবিতার বই-রাজাপুর।কবি প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক 'সাদা মনের মানুষ' সম্মাননায় ভূষিত হন এ কবি। ২০০৯ সালে পান নকশি কাঁথা সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৩ সালে পান সাংবাদিক গৌতম স্মৃতি পুরস্কার। ২০১৯ সালে পান কবি জসীম উদদীন স্বর্ণপদক।কবির মৃত্যুতে শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে আজাদ, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আবুল ফয়েজ শাহ নেওয়াজসহ বিশিষ্টজনেরা। | 6 |
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১ হাজার ৯৩৪টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। আজরোববার প্রকাশ করা এইচএসসি ও সমমানের ফল বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৩৬টি। এছাড়া মাদ্রাসাশিক্ষা বোর্ডে১ হাজার ৩টিও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রসঙ্গত, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থী। | 6 |
ইন্দোনেশিয়ায় করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আজ শনিবার দেশটিতে মোট সংক্রমণ ২০ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। ডেলটাসহ করোনার অতিসংক্রামক ধরনগুলো ছড়িয়ে পড়ায় কোভিড রোগীদের ভিড় বেড়েছে রাজধানী জাকার্তাসহ ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতালগুলোয়। ইতিমধ্যে হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। করোনা রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে জাকার্তার হাসপাতালগুলো অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে সেবা দিতে শুরু করেছে। খবর এএফপি ও আল-জাজিরার। মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় মারা গেছেন। ইন্দোনেশিয়ার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ৪০১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন করোনার টিকার দুটি ডোজ নিয়েছিলেন। চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল জাভা প্রদেশে টিকা নেওয়ার পরও ৩০০ জনের বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তাঁদের অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হয়েছিল। আগামী বছরের শুরু নাগাদ ইন্দোনেশিয়া সরকার দেশটির ১৮ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ওয়েস্ট জাভার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ইকা মুলইয়ানা বলেন, 'আমাদের এখানে হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে ভরে গেছে। কোনো হাসপাতালে ৯০ শতাংশের বেশি শয্যায় রোগী ভর্তি আর কোনো হাসপাতালে এই সংখ্যা শতভাগ ছাড়িয়েছে। অনেক হাসপাতাল অস্থায়ীভাবে তাঁবু টানিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিচ্ছে। এই হারে করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।' উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রা প্রদেশের কোভিডবিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য ডা. ইনকে নাদিয়া ডি লুবিস জানান, গত ছয় মাসে প্রাদেশিক রাজধানী মেদানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিশুর করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ১৪ জন। বয়স বিবেচনায় বেশির ভাগ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বয়সী। করোনায় আক্রান্ত হওয়া শিশুদের চার ভাগের এক ভাগ সেখানকার হাইস্কুলে পড়ার বয়সী। গত রোজার ঈদে লাখো মানুষ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে স্বজনদের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। দেশটিতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সেটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র আহমাদ ইপুল সাইফুদ্দিন বলেন, ঈদের তিন সপ্তাহ পর থেকে সংক্রমণ বাড়তির পথে রয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে অতিসংক্রামক ডেলটা ধরন। গতকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, ইন্দোনেশিয়া এখন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি পার করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও যথাযথ নীতি গ্রহণ করতে হবে। এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় কোভিড শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৭ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৭১। এই মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৫। | 3 |
দেশের মানুষের হাতে হাতে মুঠোফোনে আর্থিক লেনদেন সেবা পৌঁছে গেলেও এতদিন ঋণ নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। উপরন্তু ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে পাওয়া আমানতের টাকা শহরে এনে বিনিয়োগ করেছে। অথচ অল্প পরিমাণ টাকার জন্যও গ্রামের মানুষ চড়া সুদে ঋণ নিতে ছুটেছে মহাজন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছে। এবার সেই অবস্থার অবসান ঘটছে। দেশের সবচেয়ে বড় মুঠোফোনের আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) বিকাশের গ্রাহকেরা আজ বুধবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুদ্রঋণ নিতে পারবেন। গ্রাহকদের ডিজিটাল উপায়ে ঋণ দেবে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যুগে প্রবেশ করছে। এই ঋণ চালু করে সিটি ব্যাংক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে। কারণ, বিকাশের রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহক। আর ঋণের জন্য ব্যাংকটির কোনো শাখা, উপশাখা বা এজেন্টের কাছে যেতে হবে না। সিটি ব্যাংক ও বিকাশের কর্মকর্তারা নতুন এই সেবাকে 'ডিজিটাল ন্যানো লোন' বলে অভিহিত করেছেন। এ নিয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, 'এত দিন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নামে শুধু টাকা পাঠানো ও টাকা জমা হয়েছে। সবাই গ্রাম থেকে আমানত সংগ্রহে মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নৈতিক সমস্যা ছিল। এখন বিকাশের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের ঋণ পৌঁছে যাবে সবার হাতে হাতে। এতে তাৎক্ষণিক ঋণের চাহিদা মিটবে ও চড়া সুদ পরিশোধ থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দেবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হবে। বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি।' এই ঋণের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদন করার সময় কোনো নথিপত্রের দরকার হবে না। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ক্লিক করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঋণ পাওয়া যাবে। ৯ শতাংশ সুদে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস। নতুন এই সেবা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অল্প পরিমাণ টাকার জন্য মানুষ যে অন্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তার অবসান হবে। এখন এনজিওর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হয়। মহাজনী ঋণের সুদও বেশ চড়া। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি প্রথম আলোকে বলেন, 'এমন ক্ষুদ্র ও তাৎক্ষণিক ঋণ দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ, গ্রামের মানুষ এখনো চড়া সুদের ওপর নির্ভরশীল। এই উদ্যোগ সফল করতে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। আরও ব্যাংক এমন উদ্যোগে আগ্রহী হলে সুফল পাবেন দেশের জনগণ।' জানা গেছে, ২০১২ সালে কেনিয়ায় প্রথম ডিজিটাল ঋণ চালু হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। এখন ছোট অঙ্কের টাকার জন্য এই ডিজিটাল ঋণ বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের জুলাই মাসে সিটি ব্যাংককে পরীক্ষামূলকভাবে বিকাশের গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার অনুমতি দেয়। সেই অনুযায়ী বিকাশের ৩৫ হাজার গ্রাহককে ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয় সিটি ব্যাংক। ৯ শতাংশ সুদ ও ২ শতাংশ মাশুলে ঋণ দেওয়া হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। এসব ঋণের প্রায় ৯৬ শতাংশ ফেরত আসে। খেলাপি হয় মাত্র ৪ শতাংশ। এর পরিপ্রক্ষিতে সিটি ব্যাংককে ডিজিটাল ঋণ চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ঋণের বার্ষিক সুদহার ৯ শতাংশ। আর ঋণের মাশুল হবে ঋণের দশমিক ৫ শতাংশ। সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিকাশের লেনদেন প্রতিবেদন ও ব্যবহারের ধরন দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই (এআই) ঠিক করে দেয়, গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য কি না। অতিক্ষুদ্র এই ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সিটি ব্যাংক ঋণ দেয়। বিকাশ অ্যাপে ক্লিক করে ঋণের আবেদন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পর্যালোচনায় উত্তীর্ণ হলে মুহূর্তেই ঋণের টাকা চলে যায় গ্রাহকের বিকাশ হিসাবে।ঋণ পেতে গ্রাহককে তাঁর বিকাশ অ্যাপ থেকে 'লোন' আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর কেওয়াইসি তথ্য সিটি ব্যাংকের সঙ্গে শেয়ার করার অনুমতি দিতে হবে। কত টাকা ঋণ নিতে চান এবং ঋণের মেয়াদ কত হবে তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ঋণ নেওয়ার শর্তাবলিতে সম্মতি জানাতে হবে। বিকাশ পিন দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গ্রাহকের বিকাশ হিসাবে ঋণের টাকা জমা হয়ে যাবে।তবে সবাই যে ঋণ পাবেন, বিষয়টি তেমন নয়। যাঁরা পাবেন, তাঁরা তাৎক্ষণিকই পেয়ে যাবেন। এ জন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ বা পুনরায় আবেদন করতে হবে না। বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর প্রথম আলোকে বলেন, 'একজন সবজি বিক্রেতার প্রতিদিন চলতি মূলধন ঋণ প্রয়োজন হয়। তিনি সকালে ঋণ নিয়ে পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে সারা দিন বিক্রি করবেন। এরপর আবার শোধ করে দেবেন। এটাই হলো বিকাশের গ্রাহকদের জন্য সিটি ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ সেবা, যা পেতে কোনো জামিনদার লাগবে না।' | 0 |
সব মিলিয়ে ইউক্রেনকে ঘিরে ইউরোপে এখন উত্তেজনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় কিছু সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আচমকা রাশিয়ার হাতে এত শক্তি কোত্থেকে এল যে তারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর দেশগুলোর সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে? হঠাৎ রাশিয়ার ইউক্রেনের সীমানার কাছে এত সৈন্যসামন্ত জড়ো করার দরকার পড়ল কেন? এটা কি অতি সাম্প্রতিক ঘটনার জের, নাকি এর পেছনে ঐতিহাসিক পটভূমি কোনো কাজ করছে? পুতিন আসলে চাইছেনটা কী? তিনি কি ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নেওয়ার পর এখন পুরো ইউক্রেনকেই গিলে ফেলতে চাইছেন, নাকি এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে পশ্চিমাদের কাছে থেকে নিজের চাওয়াগুলোকে 'পাওয়াতে' পরিণত করার মতলবে আছেন? রুশ বাহিনী যদি সত্যি সত্যি ইউক্রেনে ঢুকে পড়ে, তাহলে ন্যাটো কি সে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে? মানুষ এ ধরনের প্রশ্নের জবাব খুঁজছে। চলুন কিছু জবাব খুঁজি। সংকটটা আসলে কী নিয়েগন্ডগোলের কারণ বুঝতে আগে গোড়ায় যাওয়া দরকার। ইউক্রেন সংকটের সেই 'গোড়া' হলো ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল। ক্রিমিয়া দখলেরও একটি 'গোড়ার' ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসেও নজর দেওয়া দরকার।'অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই'-ইউক্রেন ইস্যুতে রবীন্দ্রনাথের এই কথা যে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা একটু পেছনের দিকে ফিরে তাকালেই বোঝা যাবে। ইউক্রেন যখন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ ছিল, তখন প্রায় ২০০ বছর ধরে রাশিয়ার মালিকানায় থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে ইউক্রেনের মালিকানায় দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ 'অধিকার ছাড়িয়া দিবার' এই কাজ করেছিলেন। তখন তিনি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি, কয়েক দশকের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং তখন ক্রিমিয়ার ওপর মস্কোর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন সত্যিই ভেঙে গেল এবং ক্রিমিয়ার ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ ছুটে গেল, তখন মস্কো আবার 'অধিকার রাখিতে যাইবার' চেষ্টা শুরু করল এবং তখন থেকেই ইউক্রেনের সঙ্গে তার 'বিড়ম্বনা'র শুরু। সোভিয়েত থেকে বেরিয়ে ইউক্রেন স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ হওয়ার পর তাদের ভেতরকার জনগণের মধ্যে দুই ধরনের শিবির গড়ে ওঠে। ইউক্রেন রাশিয়ার লাগোয়া এলাকা বলে সেখানে অনেক জাতিগত রুশ নাগরিকের বাস। সেই রুশ নাগরিকেরা সব সময় রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকতে চেয়েছে। অন্যদিকে, বাকিরা ইউরোপসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকতে চেয়েছে। পশ্চিমাপন্থীরা চেয়ে আসছে, ইউক্রেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত হোক। একই সঙ্গে তারা ন্যাটোভুক্ত হোক। এই ন্যাটোর সঙ্গে ইউক্রেনের যুক্ত হতে চাওয়াতেই রাশিয়ার আপত্তি এবং তখনই 'বিড়ম্বনা' থেকে বিতণ্ডার শুরু হয়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। এতে ইউক্রেনের বেশির ভাগ মানুষ খুশি হয়েছিল। কারণ, এই চুক্তিগুলো হলে দেশ আরও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পাবে। ইউক্রেনবাসী খুশি হলেও ইয়ানুকোভিচের এ উদ্যোগ পুতিনকে বিচলিত করে ফেলে। কারণ সেই চুক্তিটি হয়ে গেলে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়া সহজ হয়ে যাবে। আর ইউক্রেন ইইউর সদস্য হয়ে গেলে একসময় রাশিয়ার ঘোর শত্রু ন্যাটোরও সদস্য হয়ে যাবে। এ চিন্তা থেকেই ইয়ানুকোভিচের ওপর পুতিন এমন চাপ দিলেন যে ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে সেই চুক্তির আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেলেন। এত বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ইয়ানুকোভিচ নষ্ট করে দিলেন কেন?-এ প্রশ্ন রেখে ইউক্রেনবাসী বিক্ষোভ করলে ইয়ানুকোভিচের পতন হয় এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর ইউক্রেনের ভেতরে যেসব এলাকায় জাতিগত রুশ লোকের বসত, সেখানে পুতিন ইউক্রেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দেন। বিদ্রোহীরা ইউক্রেন সরকারের বিরুদ্ধে ফেটে পড়ে। পুতিন এই বিদ্রোহীদের সমর্থন দিতে যে সেনাবাহিনী পাঠান, তারা ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে এবং পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার নিজের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করেন। এরপরই 'অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার' আসল 'বিড়ম্বনা' শুরু হয়ে যায়।ওই অঞ্চলে রাশিয়ার আধিপত্য ঠেকাতে ন্যাটো ধীরে ধীরে সেনা মোতায়েন বাড়াতে থাকে। সোভিয়েত ভেঙে যাওয়ার পর একের পর এক ন্যাটোতে যোগ দিয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও আলবেনিয়া। এই দেশগুলো একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ অথবা ওয়ারশ সামরিক জোটের সদস্য ছিল। এদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইছে জর্জিয়া, মলদোভা ও ইউক্রেন। কিন্তু সেখানে রুশপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়াদের শক্ত ঘাঁটি আছে এবং রাশিয়া তাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ওই মিলিশিয়াদের কারণে তারা ন্যাটোতে যোগ দিতে পারছে না। ইউক্রেন ন্যাটোয় যোগ দিলে রাশিয়ার কী ক্ষতি আছে। ক্ষতি আছে। আর সেই ক্ষতি বেশ বড় ধরনের। সে কারণেই ১ কোটি ৭০ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৬ বর্গকিলোমিটারের বিশাল রাশিয়া মরিয়া হয়ে মাত্র ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের পুঁচকে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। রাশিয়া দেশ হিসেবে বিশাল বড় হলেও সারা বছর সচল রাখা যায় উষ্ণ পানির এমন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাদের প্রায় নেই। কিন্তু ক্রিমিয়ার সেভাস্তাপোলে রাশিয়ার যে নৌঘাঁটি গেড়েছে, সেখানে সে ধরনের উষ্ণ পানি আছে। আর রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরে ঢোকার একমাত্র পথও হলো এই বন্দর। এ কারণে ক্রিমিয়ার অবস্থানগত মূল্য অনেক। ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সদস্য হয়, তাহলে সেখানে ন্যাটো বাহিনীর আনাগোনা শুরু হবে। আর সেটি হলে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার যাওয়া-আসা আগের মতো সহজ থাকবে না। কাজেই ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়া রাশিয়ার পক্ষে মানা সম্ভব নয়। এর আগে যতবার পোলিশ, সুইডিশ, ফরাসি, জার্মানসহ অন্যান্য বিদেশিদের আক্রমণের মুখে রাশিয়া পড়েছে, তার সবগুলোই এসেছে উত্তর ইউরোপের সমতল ভূমি দিয়ে। এ কারণে ওই অঞ্চলের দিকে রাশিয়াকে বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে। পুতিন আসলে কী চান সোজা কথায় পুতিন চান ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না। তিনি পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন যে ন্যাটো আর এ অঞ্চল থেকে নতুন করে কোনো দেশকে সদস্য করবে না। কিন্তু পশ্চিমারা তাতে রাজি হয়নি। পুতিন মনে করছেন, পশ্চিমারা ন্যাটোর বাহিনী দিয়ে চারদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ফেলে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছে। এ কারণে তিনিও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পুতিনের খুঁটির জোর কোথায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জোর হলো তার জ্বালানি। ইউক্রেনের মধ্য দিয়েই পাইপলাইনে করে রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস যায়। এ গ্যাস সরবরাহ যদি রাশিয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে ইউরোপের বহু বাড়িতে রান্নার চুলা পর্যন্ত জ্বলবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যে চারটি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে, সেগুলো হলো রাশিয়া, নরওয়ে, আলজেরিয়া ও কাতার। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে আসে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। মানে, প্রায় অর্ধেক। রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ কাঠ ও কয়লা আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, ফিনল্যান্ড এবং এস্তোনিয়া রাশিয়ার জ্বালানির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। জার্মানির প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ আসে রাশিয়া থেকে। রাশিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রধান গ্যাস পাইপলাইনগুলো গেছে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে। রাশিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ যায় এ পাইপলাইন দিয়ে।ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটো যদি 'বৈরী আচরণ' করে, তাহলে রাশিয়া এসব সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এতে গোটা ইউরোপ মহাদেশ বেকায়দায় পড়ে যাবে। যুদ্ধ কি সত্যিই বাধবে? সে ধরনের আশঙ্কা একদম নেই- এমনটি বলা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধের আশঙ্কা ফিকে পর্যায়ে আছে। এখনো গাঢ় হয়নি। উভয় শিবির থেকে শক্ত শক্ত কথা ছোড়া হচ্ছে বটে; কিন্তু সেই শক্ত কথার মধ্যে আপস ও সমঝোতার একটি প্রচ্ছন্ন সুরও দেখা যাচ্ছে। সব ধরনের সংবাদমাধ্যম বলছে, রাশিয়া ইতিমধ্যে ইউক্রেনের সীমানা ঘেঁষে লাখখানেক সেনা মোতায়েন করে ফেলেছে। সেখানে আরও ভারী সাঁজোয়া যান ও জঙ্গি কপ্টার জড়ো করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদিও-বা বলছেন, ইউক্রেনে ঢোকার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই; সে কথায় ভরসা পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে গঠিত জোট ন্যাটো। বাইডেন পশ্চিম ইউরোপে আগে থেকে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে নতুন আরও কিছু সেনা যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শনিবার বলেছেন, রোমানিয়ায় অবস্থানরত ন্যাটো বাহিনীতে তারা আরও সেনা পাঠাচ্ছেন। আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, পূর্ব ইউরোপে তাঁদের আগে থেকেই ১ হাজার ১৫০ জন সেনা মোতায়েন করা আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ফেলা হবে। আর যে দেশকে নিয়ে এত কাণ্ড, সেই ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নেতাদের 'শক্ত হয়ে' রাশিয়াকে মোকাবিলা করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ গত শনিবার বলেছেন, ইউক্রেন যেহেতু ন্যাটোবহির্ভূত দেশ, সে কারণে সে দেশে রাশিয়া আগ্রাসন চালালেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধে সেনা পাঠাতে পারবে না। সে ধরনের কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। অর্থাৎ ন্যাটোর দিক থেকে রাশিয়ার প্রতি আপাতত হুমকি দেখা যাচ্ছে না।তবে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক[] | 8 |
দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু হলো ওয়ালটনের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (গবেষণা ও উদ্ভাবন) সেন্টার। এ উদ্দেশ্যে দেশটির খ্যাতনামা একটি ডিজাইন হাউজের সঙ্গে চুক্তি করেছে ওয়ালটন। চুক্তি অনুযায়ী ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্যের মান ও ডিজাইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তৈরি আন্তর্জাতিকমানের পণ্য দিয়ে বিশ্বজয়ের অগ্রযাত্রায় আরো একধাপ এগিয়ে গেলো ওয়ালটন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়ালটনের এই উদ্যোগের ফলে পণ্যের মান ও ডিজাইনে আমূল পরিবর্তন আসবে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও, বাংলাদেশের ক্রেতারা প্রকৃত অর্থেই পাবেন আন্তর্জাতিক মান ও ডিজাইনের পণ্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। সেই সঙ্গে গ্লোবাল মার্কেটে ওয়ালটন পণ্য আরো বেশি গ্রাহকপ্রিয় হবে। ওয়ালটনের গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের কোরিয়া অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজমল ফেরদৌস বাপ্পির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সেসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সাপ্লাই চেইন মোহসিন সরদার, হেড অব সোর্সিং (রেফ্রিজারেটর) আমিনুল ইসলাম, রেফ্রিজারেটরের হেড অব আরঅ্যান্ডআই তোফায়েল আহমেদ এবং হেড অব ইলেক্ট্রনিক্স আরঅ্যান্ডআই আব্দুল মালেক শিকদার। উল্লেখ্য, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রেতাদের সর্বাধুনিক ডিজাইনের আন্তর্জাতিকমানের পণ্য দিতে এবং গ্লোবাল মার্কেট জয়ের লক্ষ্যে একের পর এক বড় উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি অর্ধশতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় তিনটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড এবং এর প্রোডাকশন প্ল্যান্ট, ৫৭টি দেশে ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট, ডিজাইন এবং সফটওয়্যার লাইসেন্সসহ স্বত্ব লাভ করে। এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার স্থাপন করলো; ওয়ালটনের সঙ্গে যুক্ত হলো দেশটির একটি স্বনামধন্য ডিজাইন হাউজ। ওয়ালটনের এসব উদ্যোগ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা লাভে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার যে টার্গেট ওয়ালটন নিয়েছে, তা অর্জনের পথ সুগম করবে। এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া নিঃসন্দেহে বর্তমান বিশ্বের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের অন্যতম কেন্দ্র। দেশটিতে রিসার্চ সেন্টার স্থাপন এবং খ্যাতনামা একটি ডিজাইন হাউজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজের উদ্যোগ বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স খাতের জন্য একটি জায়ান্ট স্টেপ। এতে ওয়ালটনের সক্ষমতার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপার্টাইজ মিলিয়ে ক্রেতারা আন্তর্জাতিকমানের ইনোভেটিভ ডিজাইনের পণ্য পাবেন। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের চাহিদা ও রুচির ধরন। তাই আধুনিক বিশ্বের নতুন প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় উদ্ভাবনী ডিজাইনের পণ্য দিতে আমাদের এ প্রয়াস। এর ফলে গতানুগতিকতা থেকে বেড়িয়ে এসে গ্রাহকরা ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্যে আধুনিকতা ও উদ্ভাবনী ডিজাইনের নতুন এক সংমিশ্রণ পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করবে আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কোভিড পরবর্তী সময়ে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মাঝে বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দারুণভাবে চলছে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের বিশ্বজয়ের অগ্রযাত্রা, যা বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য শিল্পখাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। | 0 |
চিত্রনায়ক ইমন ও নিরব। দুই তারকার মধ্যে বন্ধুত্ব বহুদিনের। ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বন্ধু ইমন যখন খানিক বেকায়দায় পড়লেন ফাঁস হওয়া একটি অডিও কল নিয়ে, ঠিক তখনই ভারতের রাজস্থানে ছটফট করছিলেন নিরব। ইমনকে ফোনে না পেয়ে বার বার নানা মাধ্যমে আপডেট নিচ্ছিলেন। করছিলেন, আফসোসও। নিরব গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে রাজস্থান উড়াল দেন, একটি শুটিংয়ের কাজে। ভারতীয় বড় প্রজেক্ট। যদিও সেসব বিষয়ে এখনই মুখ খুলছেন না তিনি। বলছেন, ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে খবরটি বলবো। আশা করছি সবাই চমকে যাবেন। তবে ঢাকায় ফিরে সবাইকে চমকে দেওয়ার আগে বন্ধু ইমনের ফোনকল ফাঁস নিয়ে বেজায় বিব্রত ও শঙ্কিত নিরব। বললেন, খুবই দুঃখজনক। তারচেয়ে বড় বিষয় এটি বিব্রতকর। আমি মনে করি এখানে ইমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এই বলেই চুপ হননি। সোমবার বিকেলেই ছুটে যান রাজস্থানের বিখ্যাত আজমির শরিফ দরগায়। সেখানে গিয়ে হাত তোলেন, প্রার্থনা করেন সবার মঙ্গল চেয়ে। যে প্রার্থনার বেশিরভাগ জুড়েই ছিলেন ইমন! নিরব বলেন, সত্যি বলতে রাজস্থানে আশার পরই প্রথম নিয়্যত ছিলো আজমির শরিফে যাওয়ার। কারণ আগে কখনও যাইনি। ইমনের খবরটি পাওয়ার পর মনটাও বিষণ্ণ হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রশান্তি নিয়ে ফিরলাম দরগা থেকে। | 2 |
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু সান্তাহার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি সান্তাহার পৌর এলাকার শহিদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তি মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টুসহ তিনজনকে আসামি করে আদমদীঘি থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে বাদীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ভুট্টুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০১৬ সালের ৩ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে মেয়রের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থ পরিপন্থী এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় বলে ২০০৯ এর ৩১ উপধারা (১) অনুযায়ী তোফাজ্জল হোসেনভুট্টুকেমেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত প্রয়োজন। অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে গত ৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেন। তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জানান, এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। | 6 |
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গত বুধবার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-আফগানিস্তান। আর সেই ম্যাচ নাকি ফিক্সড ছিল। ভারতকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য ইচ্ছা করে খারাপ বোলিং করেছে আফগানিস্তান। বাজে ফিল্ডিং আর সহজ ক্যাচও ফেলেছেন একাধিক আফগান ফিল্ডার। ওই ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আজব দাবি করা শুরু করেন অনেকেই। সেই তালিকায় নাম লেখালেন পাকিস্তানের এক অভিনেত্রীও। পাকিস্তানের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিতে বলা হচ্ছে, যে আফগানরা বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে, লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছে, সেই আফগানরা ভারতের বিরুদ্ধে তেমন লড়াই করেনি। এমনকি, কিছু কিছু পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আবার সরাসরি বলে দেওয়া হচ্ছে, বিসিসিআই এই ম্যাচ আফগানদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। ক্রিকেটের মতো ভদ্রলোকের খেলাকে নষ্ট করছে ভারতীয় বোর্ড। পাক অভিনেত্রীর এই টুইটের জবাব অবশ্য দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াও। অভিনেত্রীর টুইটটি রিটুইট করে আকাশ চোপড়া খোঁচা দিয়ে বলেছেন, যাদের মস্তিষ্ক বন্ধ, তারা যদি মুখটাও বন্ধ রাখত। শুধু আকাশ চোপড়া নন, পাকিস্তানের একাধিক কিংবদন্তি ক্রিকেটারও এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের তত্ত্বকে গুরুত্ব দেননি। ওয়াসিম আকরাম বলছেন, ভারত খুব ভাল দল। তাদের দুইটি দিন খারাপ গেছে। কিন্তু এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।। একই সুরে ওয়াকার ইউনুসও বলেছেন, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা এই অভিযোগ করছে, তাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৬ রানে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা কিছুটা হলেও জিইয়ে রেখেছে ভারত। যদিও ভারতকে সেমিফাইনালে যেতে হলে অত্যন্ত কঠিন কয়েকটি সমীকরণ ঠিক হতে হবে। তাই ভারতীয়রা তেমন একটা আশাও দেখছেন না। কিন্তু তাই বলে আফগানদের বিরুদ্ধে কোহলিদের জয়কে এভাবে খাটো করার কোনও অর্থ হয় না।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 2 |
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বাংলাদেশি এক যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছাটকড়াইবাড়ী সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৫৬ এর অদূরে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশি যুবক রাশেদুল ইসলাম ছাটকড়াইবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি বলে তার পরিবার জানা গেছে। সূত্র জানায়, ওইদিন শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাশেদুল ইসলামসহ কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক অবৈধ ইয়াবা আনতে সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার কাছে যায়। সন্ধ্যার পর ইয়াবাসহ ফেরার সময় ভারতীয় ৬নং গুটালু বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রাশেদুল ইসলাম বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আটকের বিষয়টি শুনেছি। তবে কি কারণে আটক করা হয়েছে তা আমার জানা নাই। এ ব্যাপারে বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধীন দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে ঘটনাটি আমি নিশ্চিত হই। তবে করোনার কারণে ভারতীয় বিএসএফ পতাকা বৈঠকে সম্মত হয়নি। | 6 |
ধানমন্ডির ক্যাফে রিও এবং দি ফরেস্ট লাউঞ্জকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদোত্তীর্ণ তরল দুধ ব্যবহারসহ বেশ কয়েকটি কারণে রেস্তোরাঁ দুটিকে আড়াই লাখ টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার ও মাগফুর রহমান। দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারকে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, "খাবারে মেয়াদোত্তীর্ণ তরল দুধ ব্যবহার করছিল দি ফরেস্ট লাউঞ্জ। এছাড়াও খাবার তৈরি করছিল অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে।" তিনি জানান, ক্যাফে রিওতে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এছাড়াও তারা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পেস্ট্রি তৈরি করছিল। পেস্ট্রিতে উৎপাদনের তারিখ দেওয়া ছিল না। দ্য ডেইলি স্টারকে ক্যাফে রিওর সুপারভাইজার দারাশিকো বলেন, "আমাদের রেস্টুরেন্ট তো বড়। কোনো অন্যায় না পেলেও আমাদেরকে জরিমানা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা আমাদেরকে সাবধান করে দিয়ে গেছেন। বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন আর এই কাজ না করি।" | 6 |
'যে যার খুশিমতো পোশাক' পরে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে হাজির হয়ে সম্প্রতি সেখানে তরুণী হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০ তরুণ-তরুণী। আজ শুক্রবার সকালে তাঁরা এই প্রতিবাদ জানান।শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জগামী আন্তনগর এগারোসিন্দুর ট্রেন থেকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে নামেন ২০ জন তরুণ-তরুণী। 'অহিংস অগ্নিযাত্রা' শিরোনামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সংগঠক ছিলেন অগ্নি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি তৃষিয়া নাশতারান।কর্মসূচিটি সম্পর্কে অগ্নি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'গত ১৮ মে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে এক তরুণী পোশাকের কারণে কুৎসিত আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হন। আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমরা ২০ তরুণ-তরুণী এই স্টেশনে এলাম। আমরা এটাকে প্রতিবাদ হিসেবে দেখছি।'প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ১৭ তরুণী ও তিন তরুণ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। অংশগ্রহণকারীরা অগ্নি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের নারীবাদী গ্রাসরুটস অর্গানাইজিং প্ল্যাটফর্ম 'মেয়ে নেটওয়ার্ক'-এর সঙ্গে যুক্ত। একটি স্টোরিটেলিং প্রকল্প হিসেবে তাঁরা পিতৃতন্ত্রে নারীর আগুনে মোড়ানো পথের গল্পগুলো তুলে আনেন। ঢাকা-নরসিংদী যাত্রা এরই একটা অংশ।প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা হলেন-তৃষিয়া, সুরভী, এ্যানি, আনোয়ার, অর্ণব, নুভা, মম, অপরাজিতা, সামিহা, সানজানা, স্মিতা, লক্ষ্মী, অন্তরা, মিশু, প্রমি, জিসা, নিশা, বিজু, ইফফাত ও নীল। তাঁদের কেউ শিল্পী, কেউ সংগঠক, কেউ নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আবার কেউ আলোকচিত্রী, কেউ-বা গবেষক। নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ-তরুণীরা নারীর জন্য নিরাপদ ও সংবেদনশীল একটি সমাজ চান।নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থেকে নামার পরপরই তাঁরা নানা বয়সী অপেক্ষমাণ যাত্রী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের সঙ্গে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেন। পরে তাঁরা কয়েকটি উপদলে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্টেশনটির নানা প্রান্তে ঘোরেন। পরে স্টেশন মাস্টার এ টি এম মুছার সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন দলটির সদস্যরা। এর আগে তাঁরা রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন।দলটির দলনেতা অগ্নি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি তৃষিয়া নাশতারান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আজ আমরা নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন ও এখানকার মানুষদের দেখতে এসেছি। তাঁদের সঙ্গে আমরা মানবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে চেয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে জনপরিসরে শরীর ও পোশাকের স্বাধীনতার জায়গা রিক্লেইম করা। আমাদের বৈচিত্র্যময় শারীরিক উপস্থিতিই আমাদের বক্তব্য।'তৃষিয়া নাশতারান বলেন, 'জায়গাটা দেখলাম, মানুষগুলোর কথা শুনলাম। আজ রাত ১১টায় মেয়ে নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে আমরা লাইভে এসে আলোচনা করব আজকের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে।'এ বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার এ টি এম মুছা বলেন, 'দলটি ঢাকা থেকে ট্রেনে করে আমাদের স্টেশনে এসে নেমেছেন। তাঁরা স্টেশন ঘুরে দেখেছেন এবং এখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার সঙ্গে তাঁরা বসেছিলেন। জানতে চেয়েছেন ওই দিনের বিস্তারিত সম্পর্কে। আমিও তাঁদের ওই ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছি। তাঁরা তরুণী হেনস্তার প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।'প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে ভোর সোয়া ৫টার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে আসেন এক তরুণী ও দুই তরুণ। সকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত স্টেশনটির ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তাঁরা ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্টেশনে মধ্যবয়সী এক নারী ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেন, 'এটা কী পোশাক পরেছ তুমি'। তরুণীও পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'আপনার তাতে কী সমস্যা হচ্ছে?' এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর মধ্যে সেই বিতর্কে যোগ দেন স্টেশনে অবস্থানরত অন্য কয়েকজন ব্যক্তি।ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই তরুণীকে ঘিরে রেখেছে একদল ব্যক্তি। এর মধ্যেই এক নারী উত্তেজিত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন। বয়স্ক এক ব্যক্তিও তাঁর পোশাক নিয়ে কথা বলছেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে ওই নারী দৌড়ে তাঁকে ধরেন। এ সময় অশ্লীল গালিগালাজ করতে করতে তাঁর পোশাক ধরে টান দেন ওই নারী। কোনো রকমে নিজেকে সামলে দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে চলে যান তরুণী।রেলওয়ে পুলিশ বলছে, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২১ মে রাত ৯টার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত মো. ইসমাইলকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে ভৈরব রেলওয়ে থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরদিন ২২ মে বিকেলে তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠান এবং এই ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন।ওই রাতেই ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় মো. ইসমাইল ও শিলা আক্তারের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন নারী ও ৮ থেকে ১০ জন পুরুষকে আসামি করা হয়।গত সোমবার ইসমাইলকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তবে তরুণীকে গালিগালাজ, মারধর, শ্লীলতাহানি ও মুঠোফোনে ছবি তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং মামলার আসামি ওই নারীকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.