text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সড়কের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা টেকসই হচ্ছে না। এর কারন আমাদের এক্ষেত্রে কারিগরি চিন্তার ঘাটতি রয়েছে। রাস্তায় পানি জমে থাকে, ওভারলোডিংয়ের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আজ রোববার সড়ক ও জনপথ অধিদফতর আয়োজিত 'বাংলাদেশে মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো বিনির্মাণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা' শীর্ষক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত জানান। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো: নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সওজ'র পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। বক্তব্য দেন, বুয়েটের পুরো কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: শামসুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সওজ'র প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান প্রমুখ। ড. শামসুল হক বলেন, আমাদের রাস্তা ব্যয়বহুল। কিন্তু টিকে না। আমাদের সড়কটা কোন আকারে হবে তা আগে নির্ধারন করি না। তিনি বলেন, আমাদের চারলেনের মহাসড়কে থেমে থেমে ধুকে ধুকে যাচ্ছি। এটা উন্নয়ন নয়। আর আমরা যাকে মহাসড়ক বলছি আসলে সেটা মহাসড়ক নয়। মহাসড়ক মানে যেখানে গাড়ি একটানে চলে যাবে। তিনি বলেন, সব চাপ আমরা সড়কের উপর ফেলছি। সড়ক, নৌ ও রেলের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। সড়কের চাপ কমাতে হবে। কাভার্ড ভ্যান ও কার্গো কেন সড়কে? মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাস্তার দু'লেন হলে যথেষ্ট, কিন্তু মানুষের হাঁটাটা আনন্দদায়ক হতে হবে। রাস্তার লোড কমাতে হবে। ওভারলোডিং অনেক বেশি। | 0 |
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্তে আরো ১৩টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগেও কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৫টি নগর মাতৃসদন ও ২২টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ডিএনসিসি এলাকায় এ নিয়ে মোট ৪০টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও নগর মাতৃসদনে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এসকল নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে। এসকল কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ করা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল সাথে-সাথে জানা যাবে। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো হচ্ছে: অঞ্চল ২ (মিরপুর): সূর্যের হাসি ক্লিনিক, বাড়ি নং ১, রোড ৯, ব্লক-ডি, সেকশন-১২, মিরপুর। রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টার, সেকশন-১০, মিরপুর। সূর্যের হাসি ক্লিনিক, রোড ১, ব্লক-এ, সেকশন-১৩ (হারম্যান মেইনার স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন), মিরপুর। অঞ্চল ৩ (মহাখালী): সূর্যের হাসি ক্লিনিক, হোল্ডিং নং গ-১০৭৬, ঈদগাহ জামে মসজিদ রোড, শাহজাদপুর। সূর্যেংর হাসি নেটওয়ার্ক, হাউস নং ৪৫, রোড নং ২, ব্লক-এ, আফতাবনগর। সূর্যের হাসি ক্লিনিক, ৪৬৬/১ শাহিনবাগ, (পশ্চিম নাখাল পাড়া)। অঞ্চল ৪ (মিরপুর-১০): গোলারটেক, দারুস সালাম থানা মাঠ, মিরপুর-১। ২৬/এ, আহম্মেদ নগর, পাইকপাড়া, মিরপুর-১। ২৭৭/১, মধ্য পীরেরবাগ, মিরপুর। ৬৭৪/১, পশ্চিম শেওড়াপাড়া। অঞ্চল ৫ (কারওয়ান বাজার): ১৩৬, তেজকুনিপাড়া, ফার্মগেইট, তেজগাঁও। ৫২/এ, পশ্চিম রাজাবাজার, শেরে বাংলানগর। বাড়ি নং ৩২৪, রোড নং ৩, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, আদাবর। | 6 |
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গাছে বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যান ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ (বিএম) জসিম হাইদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আর তার ছেলে মুশফিক উদ্দিন ওয়াসি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ ঘরের দোতলা থেকে লাফ দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান জসিমের বাম পা ভেঙে যায়। পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। মারধরের শিকার জিতেন কান্তি গুহ হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আহত জিতেন কান্তি গুহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জিতেনের ভাই তাপস কান্তি গুহ বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জসিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। জসিমের ছেলে ওয়াসি মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি। অন্য আসামিরা হলেন- রবিউল হোসেন রবি, চৌধুরী লিউ, মো. সাকিব, হাকিম ও বি চৌধুরী। সবাই হাইদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান জসিমের নির্দেশে জিতেনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন। এদিকে বর্বরোচিত এ হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় আওয়ামী সুপার মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরী প্রমুখ। তারা বর্বরোচিত এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনায় জড়িতদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে বলেও জানানো হয়। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণঘাটা গ্রামে গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে জিতেন কান্তি গুহকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় জিতেনের রক্তাক্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারে হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বি এম জসিমকে ইফতারে মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দুপুরের দিকে জসিমের অনুসারী ৩০-৪০ জন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ধরে গালাগাল করতে থাকেন। জিতেন গুহ বেরিয়ে এলে ইন্দ্রজিৎ লিও নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য জিতেন গুহকে ঘুসি মারেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বাকি লোকজন জিতেন গুহকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, মামলার পর বি এম জসিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। | 6 |
পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। বৃহস্পতিবার রাজস্ব বিভাগের মুখ্য সচিব ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিশি সুনাককে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, জাভিদকে তার সহযোগীদের বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। জবাবে সাজিদ জানিয়েছেন, 'কোনো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মন্ত্রী' এ ধরনের শর্ত মানতে পারেন না। জাভিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এমন একটি সূত্র বলেছেন, জাভিদকে,'প্রধানমন্ত্রী তার সব বিশেষ উপদেষ্টাকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের স্থানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিশেষ উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিতে বলেছিলেন যাতে সবাই মিলে একটি টিম গঠন করা যায়। চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, কোনো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মন্ত্রী সেসব শর্ত মানতে পারেন না।' এর আগে, প্রথম দফা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। থেরেসা মে'র মন্ত্রিসভায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এদিকে, ট্রেজারি বিভাগের মুখ্যসচিব ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। যিনি সাত মাস আগে গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের জুনিয়রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অলক শর্মাকে তার পদ থেকে সরিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৬ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও করবেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার মন্ত্রিসভায় রদবদল করবেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ অর্থমন্ত্রীর পদে পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তির মেয়ের জামাইকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন জনসন। ২০১৫ সালে প্রথম ব্রিটেনের সংসদে পা রাখেন ঋষি। বর্তমানে তিনি ইয়র্কশায়ারের এমপি। ব্রেক্সিটের সময় বরিস জনসনের অন্যতম কৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। রাজনীতিতে প্রবেশ করার আগে ব্রিটেনের একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ফার্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঋষি। ২০০৯ সালে নারায়ণমূর্তির মেয়ে অক্ষতাকে বিয়ে করেন ব্রিটেনের নয়া অর্থমন্ত্রী। | 3 |
নিজের গড়া পল্লী নিবাসেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মঙ্গলবার বিকেল ছয়টার পর এরশাদের রংপুরের বাসভবন পল্লীনিবাসের পাশে তার হাতে গড়া লিচুবাগানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে সাবেক সেনা প্রধান হিসেবে এরশাদের প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়। বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে এরশাদের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে ঢল নামে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার। জানাজার আগে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও এরশাদ পুত্র স্বাদ প্রমুখ। জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়ি মাঠ ছেড়ে যেতে চাইলে নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তারা এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবিতে সেখানেই অবস্থান নেন। এসময় 'এরশাদের দাফন হবে, রংপুরে-রংপুরে' বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পাশাপাশি প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন নেতাকর্মীরা। এরশাদকে ঢাকায় দাফনের সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন রংপুরের নেতাকর্মীরা। পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে সোমবারই কবর খুড়ে রাখা হয়।রংপুরের নেতাকর্মীদের বাধা ঠেলেই লাশ এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ মুুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টি। রংপুরেই এরশাদকে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এরশাদের ভাই জিএম কাদের বলেন, ভাবি (রওশন এরশাদ) বিভিন্ন কারণে চাচ্ছিলেন তাকে ঢাকায় দাফন করতে। তবে রংপুরের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার কারণে সর্বসম্মতভাবে আমরা তাকে এখানেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রওশন এরশাদও এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে পৌঁছে এরশাদের লাশ। এরশাদের লাশ বহনকারী হেলিকপ্টারটি রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করা হয়। এসময় বিপুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাকে শেষ দর্শন করেন। এসময় সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মারা যান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। | 6 |
মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলি! কী করব? কীভাবে করব? করব কি করব না, ইত্যাদি ভাবি। মনের ভেতরে ভাঙচুর চলে! কাউকে কিছু বলতে ইচ্ছে করে না। এই যেমন কয়েক দিন ধরে কাশফুলের সঙ্গে নীল শাড়ি পরা সুন্দরীদের বাহারি সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে দেখে মন পুড়ে যাচ্ছে! আহাএকটু সময় করে আমিও কি নীল পোশাকে ঘুরতে যেতে পারতাম না? মনের ইচ্ছে মনেই পড়ে থাকে, কাউকে বলা হয় না! ওই দিন একটি মার্কেটে দেখলাম এক কিশোর ছেলে বাসা থেকে তৈরি করে আনা খাবারের প্যাকেট হাতে দোকানে দোকানে ঘুরছে। কেউ যদি কেনে! হয়তো মায়ের হাতে রান্না করা খাবারগুলো সে ফেরি করছে। অদ্ভুত সুন্দর, মায়াবী চেহারার ছেলেটির চোখে-মুখে দুঃখভরা অস্ফুট আর্তনাদ যেন! পরবর্তী দু-তিন দিন আমি ওই ছেলেটির চেহারা ভুলতে পারিনি। মনে হচ্ছিল, আহা, মায়াবী ছেলেটি বেঁচে থাকার জন্য কতই না কষ্ট করছে! কে জানে কত না-বলা গল্প আছে তার!বাসার কাছাকাছি সকালের একটি কাঁচাবাজারে আমি প্রায়ই যাই। সেখানে একজন প্রবীণ লোককেও নিয়মিত অল্প কিছু সবজি নিয়ে বিক্রির জন্য বসে থাকতে দেখি। এত অল্প সবজি যে ভাবি, এগুলো বিক্রি থেকে কীই-বা আয় হবে আর এতে তাঁর সংসারই বা কীভাবে চলবে। ওই বৃদ্ধের ভেতরের গল্প আর জানা হয় না। তবে ঠিকই তাঁর কায়ক্লেশের ছবি আমার মনের ভেতরে অদৃশ্য রক্তক্ষরণ বইয়ে দেয়। যাপিত জীবনের এসব সাদা-কালো গল্প ছাপিয়ে, আমাদের ব্যস্ত দিন-রাত্রির শিরোনাম হয়ে ওঠে একের পর এক 'বিগ' ইস্যু। কিছুদিন ধরে খবরের কাগজ আর টেলিভিশনের পর্দাজুড়ে পরীমণি, ই-কমার্সের প্রতারণাসহ অজস্র ঘটনা-রটনা আর সবশেষ কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়া নিয়ে যা হচ্ছে, তা রীতিমতো আমার মাথার ভেতরে হাতুড়িপেটা করছে! বিষয়গুলো নিয়ে লিখব, কথা বলব, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দেব-এমন আগ্রহও জাগছে না। মনে হচ্ছে আমরা সবাই একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। একটু যদি স্থানীয় নির্বাচনের দিকে তাকাই তাহলে কী দেখি? আওয়ামী লীগ যেন নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ! দলীয় মার্কায় নির্বাচন। খবরের কাগজ ভরে যাচ্ছে মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং, দলাদলি আর দ্বন্দ্ব-সংঘাতের খবরে। রক্ত ঝরছে। এমনকি বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের প্রিয়জনও খুন হয়ে যাচ্ছে। টাকা, স্বজনপ্রীতি, খাতিরের কারণে ত্যাগী দলীয় নেতা-কর্মীর বদলে দল মনোনয়ন দিচ্ছে প্রবাসী, অন্য দলের মৌসুমি লোকদেরও। নির্বাচন শেষ হয়নি। এ থেকে সৃষ্ট তিক্ততা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এটা সময়ই বলে দেবে। তবে কথা হচ্ছে কেন এমনটি হবে? দল কি এখনো নিজ দলের ত্যাগী, সৎ, জনপ্রিয় সত্যিকার লোককে মনোনয়ন দেওয়ার মতো রাজনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করেনি? যোগ্য প্রতিনিধি খুঁজে বের করতে একটি বড়, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলের জন্য কঠিন কিছু? আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য, জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য এতটা বেপরোয়া হবেন কেন? তাঁদের ভেতরে কি আজও নীতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ বা উদার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়নি? তাহলে তৃণমূলে সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য রাজনৈতিক চর্চা আর কবে হবে?জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়ে গেছে দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তির ছোড়াছুড়ি। কীভাবে হবে নির্বাচন? কারা থাকবে কমিশনে-ইত্যাদি। বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনে তারা যাবে না। আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচন হবে স্বাভাবিক নিয়মে। মানে বড় দুই দল কে কীভাবে ক্ষমতায় যাবে, এ নিয়েই তাদের রাজনীতি। কোটি মানুষের সমস্যা, তাদের চাওয়া-পাওয়া এসব কারও ভাবনায় আছে বলে মনে হয় না। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদেরা কি একটু জনমানুষঘনিষ্ঠ রাজনীতি করতে পারেন না? তাঁরা কি ক্ষমতায় যাওয়ার মানসিকতার বাইরে গিয়ে এই যে করোনার পর কত মানুষ দরিদ্র হয়ে গেল, অনেকে কাজ হারাল, খাওয়া-পরার সমস্যায় আছে; তাদের জন্য একটু শক্ত করে কথা বলতে পারেন না? তাঁরা কি দেখেন না উন্নত দেশে রাজনীতিটা কেমন করে হয়? স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কি রাজনীতিতে পরিণত বা একটি মানসম্পন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায় না?ই-কমার্সের ঢেউয়ে লাখো মানুষ পথহারা। ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে একেকজন হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের টাকা ফিরে পাওয়ার কোনো খবর নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আজ এখানে, কাল ওখানে চিৎকার করছেন। কেন তাঁরা না বুঝে বিনিয়োগ করলেন-এই অভিযোগ তাঁদের দিকে! ই-কমার্সের এত রমরমা অবস্থা চলছে কয়েক বছর ধরে, অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর না করল কোনো নীতিমালা, না করল মানুষকে সচেতন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি পারত না আগে থেকেই বিষয়টির ওপর নজরদারি করতে? একটি নীতিমালা করা, মানুষকে ই-কমার্সের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন করার কর্মসূচি আগে থেকেই নিতে পারত না? আর যাঁরা একেবারে লোভে পড়ে ই-কমার্সের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তাঁদেরও বিবেক-বুদ্ধিকে একটু কাজে লাগানো উচিত ছিল না?বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যে আগুন! সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও দাম লাগামহীন বাড়ছে। প্রতিটি পণ্যে অতিমুনাফালোভী চক্র সক্রিয়। দাম কমাতে শুল্ক কমানো হয় প্রতিবছর। ব্যবসায়ী-আমদানিকারকেরা ভোক্তার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খান। দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের অজুহাতের শেষ নেই। অথচ সীমিত আয়ের ভোক্তার ত্রাহি অবস্থা। নুন আনতে যেন পান্তা ফুরায়। তার কথা কেউ ভাবে না। আবার যা কিনবেন তা-ও ভেজালে ভরা। মানে বেশি টাকা দিয়ে ভেজাল কিনছেন ভোক্তা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা, মূল্যবোধ আর নীতি-নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো মরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে! না হলে কীভাবে তাঁদের একটি চক্র একজোট হয়ে দামে নৈরাজ্য আর খাদ্যে বিষ মেশাতে পারে? তাঁদেরও তো ঘরে প্রিয়জন আছে। তাঁরাও কী এ বিষে আক্রান্ত হতে পারেন না? শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে প্রত্যেকের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত।শেষ করব পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ অবমাননার ইস্যুটি দিয়ে। আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, আমরা উন্নত হচ্ছি, আমরা শিক্ষার হারে, স্বাস্থ্য সচেতনতায়, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনেক বেশি পরিণত, বিশ্বে আমাদের মানবিক উদারতারও অনেক ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা কি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক হতে পেরেছি? কুমিল্লার ঘটনায় কী প্রমাণ করে? এখানেও কি অপরাজনীতির উসকানি নেই? সত্যিকার যাঁরা ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাঁদের দ্বারা কি এ ধরনের ঘৃণ্য, ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো সম্ভব? সেটা যে ধর্মেরই হোক। আর এটা নিয়ে এখন চলছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের মহোৎসব। কেন এটা নিয়ে রাজনীতি করতে হবে? কেন এর মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর, সম্ভাবনাময় দেশকে বিশ্বদরবারে সাম্প্রদায়িক দেশ বলে খাটো করার সুযোগ দেওয়া হবে? যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা নিয়ে কথা না বলে, রাতের অন্ধকারে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা কার স্বার্থে করছেন?এগুলো আর নিতে পারছি না। আমাদের যাবতীয় সিস্টেম, রাজনীতি, ধর্মনীতি, সমাজনীতি, সুশীলনীতি-সবকিছুতেই যেন কোনো না কোনোভাবে ক্ষুদ্রস্বার্থের গন্ধ! এসব 'বিগ' ইস্যুতে মনে হচ্ছে দেশের আপামর, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, দিবা-রাত্রির কষ্ট, সংগ্রাম আর অসহায়ত্বের আটপৌরে গল্পগুলো অনুপস্থিত! সব মানুষকে দুমুঠো খাবার দিয়ে, বেঁচে থাকার মতো বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের জন্য, একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য সবার এখন প্রতিযোগিতা করা দরকার। ধর্ম নিয়ে অধর্ম না করে, অসুস্থ রাজনীতি, ব্যক্তিস্বার্থে ইন্ধনে ঘি না ঢেলে, পৃথিবী যেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ওই মিছিলে শামিল হতে হবে। সবারই একটা ইস্যু হওয়া উচিত; মানুষ এবং সুন্দর-সুখী, উন্নত সমাজ। এই এক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ কি আমরা নিতে পারি না?ফারুক মেহেদী: সহকারী সম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 6 |
ভারতের কেরালার রেঞ্জিথ সোমারাজন দুবাই প্রবাসী ট্যাক্সি ড্রাইভার। তিনি তেমন বেশি বেতন পেতেন না, মোটামুটি চলতো তার দিনকাল। তবে এবার পাল্টে গেল তার জীবন। নয় বন্ধুর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ মিলিয়ন দিরহামের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ রুপি টাকার) লটারি জিতলেন। খবর গালফ নিউজ ও হিন্দুস্তান টাইমস এর। জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আছেন রেঞ্জিথ। তিনি গত তিন বছর ধরে লটারির টিকিট কিনতেন। কিন্তু কখনও ভাবেননি যে তিনিই প্রথম পুরস্কার জিতবেন। বড়জোর দ্বিতীয় বা তৃতীয় পুরস্কার পাওয়ার আশায় বুক বাঁধতেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
ঢাকা: ন্যাটো সম্মেলনে চীনের সামরিক শক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার (১৫ জুন) এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটি। এতে সোমবার (১৪ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে চীনের সামরিক শক্তিকে 'বিশ্বের সামনে হুমকি' উল্লেখ করাকে খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করা হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক শক্তি বাড়ানোর এখতিয়ার চীনের আছে। সামরিক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিকায়নের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ, যৌক্তিক, উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ। এতে যদি কারও মনে হয়, কোনো রাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য চীন তার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে তাহলে তা খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।বিবৃতির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়-চীনের দাবি, ন্যাটো চীনের হুমকির বিষয়টি অতিরঞ্জন করে বলেছে। এ ধরনের উত্তেজনা পরিহার করতে হবে। চীন কখনো কোনো রাষ্ট্র বা জোটের প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব রাখে না। চীনের সামরিক নীতি রক্ষণাত্মক।সোমবার একদিনের ন্যাটো সম্মেলনে চীন ইস্যুকে মূল আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়। বলা হয়, চীন গোটা বিশ্বের সামনে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ হাজির করেছে যা সামরিক দিক থেকে বিশ্বের জন্য হুমকি। ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টেলটেনবার্গ বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় চীন। হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা ও হংকংয়ের আন্দোলনকর্মীদের আটক করেছে চীন। এ ছাড়া অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের। চীন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ দেশের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এমন আচরণকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেছেন তিনি।এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর প্রতি চীন সংক্রান্ত আলোচনা বাদ দিয়ে নিজেদের বিষয়ে বেশি আলোচনা করার আহ্বান জানায় বেইজিং। বলে, ন্যাটোর উচিত বেইজিংয়ের উন্নয়নকে যৌক্তিক দৃষ্টিতে দেখা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা।প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ৩০টি দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক জোট ন্যাটো গঠিত হয়। অন্যদিকে, চীনের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে বড়। এ বাহিনীতে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি সক্রিয় সদস্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকা মহাদেশে কিছু সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে চীন। সেখানে দেশটির কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। চীনকে নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি মনে করছে ন্যাটো। | 3 |
পাল্লেকেলেতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার বড় রেকর্ডের সুযোগ হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটা ঠিকই নিজেদের করে নিয়েছেন মুমিনুল-শান্ত। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ১০ জুটি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো : ৩৫৯, মুশফিক-সাকিব : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বড় জুটিটি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম এবং সাকিব আল হাসান। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩৫৯ রান করেছিলেন তারা। ৩১২, ইমরুল-তামিম : দ্বিতীয় সেরা জুটিটি এখনো ইমরুল কায়েস আর তামিম ইকবালের নামে লেখা। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসের সূচনা করতে নেমে ৩১২ রান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা। ২৬৭, আশরাফুল-মুশফিক : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটিতে জড়িয়ে আছে মোহাম্মদ আশরাফুলের নাম। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে যোগ করেছিলেন ২৬৭ রান। তারপরইি ভেঙেছিল তাদের পঞ্চম উইকেট জুটি। ২৬৬, মুমিনুল-মুশফিক : আর মাত্র এক রান করলেই দেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড স্পর্শ করতে পারতেন তারা। কিন্তু ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে তাদের চতুর্থ উইকেট জুটি ভেঙে যায় ২৬৬ রানে। ২৩৬, মুমিনুল-মুশফিক : ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন মুমিনুল-মুশফিক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৩৬ রান তুলেছিলেন তারা। ২৩৫, মাহমুদউল্লাহ-সৌম্য : ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ওই ম্যাচটা মাহমুদউল্লাহ আর সৌম্যর নিশ্চয়ই বহুকাল মনে থাকবে। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ২৩৫ রান তুলেছিলেন তারা। ২৪২, নাজমুল শান্ত-মুমিনুল : পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত ১৬৬ রান করার পর কুমারাকে ফিরতি ক্যাচ না দিলে মুমিনুলের সাথে তার তৃতীয় উইকেট জুটিটা কোথায় গিয়ে থামতো কে জানে। শান্ত আউট হওয়ার পর অধিনায়ক মুমিনুলও ফিরে যান ১২৭ রান করে। ২৩২, ইমরুল-শামসুর : সাত বছর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ২৩২ রান এসেছিল ইমরুল কায়েস আর শামসুর রহামানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেকে। ২২৪, ইমরুল-তামিম : ২০১৪ সালে ওপেনার ইমরুল কায়েসের ব্যাটে যেন রানের বন্যা বইছিল। শুরুটা হয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে। তামিম ইকবালকে সাথে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে ২২৪ রান করেছিলেন তিনি। ২২২, মুমিনুল-মুশফিক : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ১০ জুটির দশমটিতে রয়েছেন মুমিনুল-মুশফিক। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২২২ রান তুলেছিলেন তারা। সূত্র : ডয়চে ভেলে | 12 |
রাত পোহালেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হবে চৌগাছার ১১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোট। কিন্তু এই ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আগে নয়, ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানোর দাবিতে লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।তবে একটি ছাড়া কোনো আবেদন জমা নেননি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রার্থীদের বলছেন, নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার চৌগাছার ভোটগ্রহণ (প্রিসাইডিং) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, 'প্রয়োজনে ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণের দিন সকালে কেন্দ্রে নেওয়া হবে।' সে সময় কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান, খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী, জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রকৌশলী কাফী বিন কবির, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত ৩১ অক্টোবর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত যশোরের ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীদের মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। তখন তাঁদের আশ্বস্ত করা হয় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলার ১১ ইউপি নির্বাচনের পাঁচ রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকজন প্রার্থী লিখিত আবেদন নিয়ে তাঁদের কাছে গিয়েছিলেন। তবে এসব আবেদনের মধ্যে গত ৭ নভেম্বর পাতিবিলা ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের আবেদন গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. রফিকুজ্জামান।আবেদনে আতাউর রহমান লেখেন, 'অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ঝুঁকিমুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণের দিন ভোট শুরু হওয়ার পূর্বে ভোট কেন্দ্রে সরবরাহের জন্য অনুরোধ করছি।'রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. রফিকুজ্জামান বলেন, 'পাতিবিলার একজন প্রার্থীর আবেদন পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি।'হাকিমপুর ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হাসান বলেন, 'আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে সেটা নেওয়া হয়নি।'সিংহঝুলি ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাদল বলেন, 'আবেদন নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। সেটা নেওয়া হয়নি।'উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'লিখিত আবেদন জানানোর কোনো সিস্টেম আছে নাকি?'অতিরিক্ত সচিবের উদ্ধৃতি দিলে তিনি বলেন, 'এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনো তো সময় আছে। সিদ্ধান্ত হলে সেভাবেই যাবে।'নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ মুঠোফোনে বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেখানে সকালে ব্যালট পেপার যাবে। চৌগাছায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, স্বাভাবিকভাবে সেখানে সকালেই ভোট কেন্দ্রে যাবে।' | 6 |
সাংবাদিক মাসদুা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায় মানহানির মামলায় আদালতে হাজির করার সময় রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে গ্রেফতারকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যারিস্টার মইনুলকে উপর্যপুরি চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি তার উপর জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করে। বেলা সাড়ে বারোটার সময় আদালত চত্বরে মইনুলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটক দখলে নিয়ে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করছে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার সকাল ১১টা থেকে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। রোববার বেলা ১২ টা ৩৫ মিনিটে তাকে কড়া পুলিশী পাহাড়ায় নেয়া হলেও পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১২ টা ৩২ মিনিটে আদালত চত্বরে মেট্রোপলিটন পুলিশ কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসেন। এরপর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মূল প্রবেশ পথে নিয়ে সাদা রংয়ের একটি গাড়ি থেকে নামানোর সময় ব্যারিস্টার মইনুলকে উদ্দেশ্য করে ইট, জুতা ও ডিম নিক্ষেপ শুরু করে সমেবত ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যারিস্টার মইনুলকে গাড়ি থেকে নামাতে থাকলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে থাপ্পড় মারে। এসময় নেতাকর্মীরা মইনুলকে উদ্দেশ্য করে ডিম, জুতা নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যারিষ্টার মইনুলের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেয়। এসময় সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ করে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এতে মইনুলের আইনজীবীদের সাথে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় । পরে ব্যারিস্টার মইনুলকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে এখন তার জামিন শুনানী শেষে তাঁকে আবারো রংপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। উল্লেখ্য, রংপুর যুব মহিলালীগের কর্মী মিলি মায়া বেগমের দায়ের করা মানহানির মামলায় আজ রোববার রংপুর আদালতে হাজির করার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে। এর আগে, আদালতে ব্যারিস্টার মইনুলকে হাজির করার সংবাদে সকাল ৯ টা থেকে রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের গেটে অবস্থান নেয় আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টায় রংপুর জেলা যুব মহিলালীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ব্যারিষ্টার মইনুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে। এসময় তারা মইনুলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী তুহিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেয়। এদিকে হাজিরা দিতে আসা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস শহিদুল ইসলাম মিজু আদালত প্রাঙ্গনে জানান, আমাদের হাজিরা আছে। কিন্তু আদালতের গেট দখলে নিয়ে যেভাবে ঝাড়ু মিছিল করা হচ্ছে। তাতে আমরা আদালতে প্রবেশ করতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, এভাবে আদালত প্রাঙ্গনে ঝাড়ু মিছিল করাটা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় আঘাত বলে আমি মনে করি। উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির টক-শোর একপর্যায়ে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন চরিত্রহীন বলে উল্লেখ করেন। এরপর গত ২২ অক্টোবর রংপুর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন মিলিমায়া বেগম। ওইদিন সন্ধ্যায়ই ব্যরিস্টার মইনুলকে গ্রেফতার করা হয়। | 9 |
বিসংগঠনটির পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা ফারুক হাসান। তাঁর নেতৃত্বে ২০ এপ্রিল নতুন কমিটি দায়িত্ব নিতে পারে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২১-২৩ সাল মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব নেবে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে। আর এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১টি পরিচালক পদে জয় পেয়েছে। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক হাসান। অন্যদিকে হেরে গেছেন ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ৯০৪ ভোট। আর মাত্র ৯টি ভোট পেলেই তিনি পরিচালক পদে বিজয়ী হতেন। তবে দলনেতা হারলেও ফোরামের হয়ে নির্বাচন করা বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর ছেলে নাভিদুল হক জয়ী হন ৯৪৩ ভোট পেয়ে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিজিএমইএর পর্ষদে আসছেন মা ও ছেলে। দীর্ঘ আট বছর পর বিজিএমইএতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকার র্যাডিসন হোটেল ও চট্টগ্রামে বিজিএমইএর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আট ঘণ্টার পরিবর্তে দশ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রোববার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১ হাজার ৯৯৬ জন বা ৮৬ শতাংশ ভোটার নিজেদের রায় দিয়েছেন। সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বিজিএমইএর নির্বাচন বোর্ড। বিজিএমইএর এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য লড়াই করেন নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের ৭০ জন প্রার্থী। স্বাধীনতা পরিষদ নামের আরেকটি জোট সম্মিলিত পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচন করে।ঢাকায় ফারুক হাসান ছাড়া সম্মিলিত পরিষদের অন্য বিজয়ীরা হলেন এস এম মান্নান, আরশাদ জামাল, শহীদউল্লাহ আজিম, শেহরীন সালাম, আসিফ আশরাফ, মো. মহিউদ্দিন রুবেল, তানভীর আহমেদ, মো. খসরু চৌধুরী, আবদুল্লাহ হিল রাকিব, হারুন অর রশীদ, রাজীভ চৌধুরী, মিরান আলী, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ইমরানুর রহমান, নাছির উদ্দিন ও সাজ্জাদুর রহমান মৃধা। এখানে ফোরামের বিজয়ীরা হলেন রুবানা হক, এম এ রহিম, মাহমুদ হাসান খান, আসিফ ইব্রাহিম, ফয়সাল সামাদ, নাভিদুল হক, ভিদিয়া অমৃত খান, ইনামুল হক খান, মিজানুর রহমান। চট্টগ্রামে সম্মিলিত পরিষদের বিজয়ীরা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তানভীর হাবিব, এ এম শফিউল করিম, মো. হাসান, এম আহসানুল হক, রকিবুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ মেরাজ-ই-মোস্তফা। আর ফোরাম থেকে জয়ী হয়েছেন মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম। নির্বাচিতদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষা শেষে তাঁদের বাবার গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের বাবা অথবা মা সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের পাঁচজন ব্যবসায়ী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। জানতে চাইলে বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, 'সংগঠনের নেতৃত্বে যাঁরা আসছেন, তাঁদের শুভেচ্ছা। আগামী পর্ষদেও আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। সরকারকে সহযোগিতা করব।'ফারুক হাসানের নেতৃত্বে ২০ এপ্রিল নতুন কমিটি বিজিএমইএর দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। যেমন বিজয়ী ৩৫ জন পরিচালক নিজেদের মধ্য থেকে ১৬ এপ্রিল একজন সভাপতি ও সাতজন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। সাত সহসভাপতির মধ্যে ঢাকা থেকে পাঁচজন ও চট্টগ্রাম থেকে দুজন নির্বাচিত হবেন। জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরবর্তী সভাপতি ফারুক হাসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, 'সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচন করলেও আমি সবার সভাপতি হব। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার লক্ষ্য।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'করোনার কারণে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের বেশ কিছু নীতি-সহায়তা দরকার। সেটি বাস্তবায়ন করাই হবে আমার নেতৃত্বাধীন পর্ষদের প্রথম কাজ।' সর্বশেষ ২০১৩ সালে সাধারণ সদস্যদের ভোটে বিজিএমইএর নির্বাচন হয়। এরপর নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম দুই মেয়াদের জন্য সমঝোতা করে। | 0 |
আগামী ২৬ মার্চ দু'দিনের সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরসঙ্গীরা মুজিব কোট গায়ে দিয়ে আসবেন ঢাকায়। শনিবার (২০ মার্চ ) ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, একশ মুজিব কোট সরবরাহ করা হয়েছে। এই কোট গায়ে দিয়ে সফরকারীরা বাংলাদেশে আসবেন। ৬ বোতাম বিশিষ্ট কালো রংয়ের মুজিব জ্যাকেটে নিচের অংশে দুটি পকেট এবং উপরে বাম পাশে বুকে একটি পকেট থাকবে। উন্নত মানের পলি খাদি কাপড় দিয়ে এই মুজিব জ্যাকেট তৈরি করা হয়েছে। ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাদি কাপড়ের পরিবেশ বান্ধবতা বজায় রেখে খাদি ভারতীয় লোগো অ্যামব্রোইডারি করে এই জ্যাকেটগুলোর জন্য কালো খাদি সূতার কাপড়ের কভারও তৈরি করা হয়েছে। | 6 |
দারিদ্রের কারণে দমে যায়নি মিনারা খাতুন। অন্যের বাড়িতে কাজ করেও এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। মিনারা খাতুন আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন আইনজীবী হতে চায়। মিনারার গৃহকর্তা ব্যারিস্টার নুরুজ্জামান জানান, চার বোন ও এক ভাইকে নিয়ে মিনারার পরিবার। তার মা থাকলেও বাবা অন্যত্র বিয়ে করেছে। মিনারার পড়াশোনার আগ্রহ রয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। মিনারার উচ্চ শিক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যা যা করার সব সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন নুরুজ্জামান। | 6 |
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় 'ফরমায়েশি' রায়ের প্রদান নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা জেলা বিএনপি। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগ হতে শেরাটন হোটেল অভিমুখে প্রধান সড়কে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়।এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্তিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় দে রিপন সহ বিএনপি ও বিভিন্ন অংগ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমান সহ দলের অন্য নেতাদের সাজা দেয়ার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেইসাথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তি দাবিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে আসছে বিএনপি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর তারেক রহমানকে গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। | 9 |
জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুরুর দিকে এই ঐক্যের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী)। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে বি. চৌধুরীকে দেখা যায়নি। তবে বিকল্পধারার প্রধান বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। মান্নাই সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা পাঠ করেন। পরে শনিবারই সংবাদ সম্মেলন করে বি. চৌধুরী জানালেন, ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁদের বাদ দিয়েই ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও যুক্তফ্রন্টের নেতা মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে। সেখানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহী বি. চৌধুরী। যোগাযোগ করা হলে মাহী বি. চৌধুরী প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন, ফাঁস হওয়া কথোপকথনটি মাহমুদুর রহমান মান্না ও তাঁর। ফোনালাপের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথম আলোকে বলেন, 'এটা আমার ভয়েস, মাহীর ভয়েস, ঠিক আছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখেন, আমি দেখলাম, ওই পক্ষের কথা খুব শোনা যাচ্ছে। আমরাটা তেমন ভালো করে শোনা যাচ্ছে না। এটা অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে।' পাঠকের জন্য সেই ফোনালাপ তুলে ধরা হলো: মাহী বি. চৌধুরী: মান্না ভাই, আপনি আব্বার সঙ্গে কথা বলে ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন? মাহমুদুর রহমান মান্না: না না, এই মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা হয়েছে। আমার আরও ভালো করে ভাবা উচিত ছিল। রব ভাই কথা বলেছেন স্যারের সঙ্গে। স্যার বলেছেন, হ্যাঁ, আমি এটা চিন্তা করছি, আধা ঘণ্টার মধ্যেই জানাচ্ছি। আমি ভেবেছি উনি আসবেন। মাহী: না না। আব্বা আমার পাশে বসে রব চাচার সঙ্গে কথা বলেছেন। উনি যদি এই কথাটা বলে থাকেন, তা সত্যি নয়। আর আব্বা তো নিজেই আপনার সঙ্গে কথা বলেছে, মান্না ভাই। মান্না: আমার সঙ্গে কথা বলেছেন কি? কথা তো সব ঠিকই আছে। যেভাবে যেভাবে বলবার ব্যাপার সেভাবে আলাপ হয়েছে। আমি অনেস্টলি বলি, আজকের সামগ্রিক বিষয়ের ওপর অনেক কথা আছে, সামনা-সামনি বলব। ফোনে সব বলতে পারব না। কিন্তু একটা সিচুয়েশন হয়েছে, সেটা আমি অ্যাভয়েড করতে পারিনি। নিজে কথাবার্তা বলার পরে এগ্রি হয়েছি। কিন্তু তখনো ঘোষণাপত্র পড়ার কথা হয় নাই। সেটা হয়েছে পরে। আমি তো প্রথমে বলেছি, যাবই না। মাহী: কিন্তু সকালে মঈনুল হোসেন সাহেব কামাল হোসেন সাহেবকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন উনার বাসা থেকে। চিন্তাটা আগেই ছিল মওদুদ সাহেবের যে বি. চৌধুরী ও কামাল হোসেনকে একলা বসতে দেওয়া যাবে না। বি. চৌধুরীকে সম্পূর্ণরূপে অপমান করে দেওয়া, এই যে একটা পরিকল্পনা, এই একটা চক্রের মধ্যে তো আপনারা পড়ে গেলেন. মান্না ভাই! মান্না: না না। এই চক্রের মধ্যে পড়ব কেন। আপনাদের ব্যাপারটাও আমার একটু বোঝা দরকার। আচ্ছা, আপনি আমাকে কেন দোষারোপ করছেন মিছিমিছি? আমি কী বেইমানি করলাম? মাহী: না না। আমি এই ওয়ার্ডটাই উচ্চারণ করিনি। আমি বলেছি, আব্বা যখন নিজে কথা বলেছে। এরপর আপনি বলেছেন-ঠিক আছে, আপনি আমাদের প্রেস কনফারেন্সে থাকবেন না, উনাদের প্রেস কনফারেন্সও থাকবেন না। আমরা সেটা আশা করেছিলাম। তাই আপনি যখন ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন, তখন আব্বা লিটারেলি শকড। বলেছেন, 'মান্নার জন্য কামাল হোসেনের সঙ্গে আমি ফাইট করেছি। সেখানে কামাল হোসেন হয়ে গেল মান্নার কাছের লোক। আমাকে অপমান করল। আর মান্না সেখানে চলে গেল ঘোষণাপত্র পাঠ করতে?' মান্না: এটা আপনি খুব রাইট কথা বলেছেন। আমাকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে, পুশ করে...দ্যাট টাইম ইউর ফাদার সেভড মি। সেটা তো আমি ভুলছি না। তার মানে কি গ্রেটার ইউনিটি চিন্তার বাইরে চলে গেছে, তা তো না। মাহী: কার সঙ্গে গ্রেটার ইউনিটি, যে লোক ভদ্রতা জানে না, তার সঙ্গে? মান্না: পলিটিকসে এ রকম হয়। মাহী: এ রকম পলিটিকস আমরা করি না। রব চাচা, আপনারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে গেলেন, আমরা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলাম। মান্না: বেঁচে গেলাম মানে কী? মানে আপনারা ঐক্য থেকে বেরিয়ে গেলেন? মাহী: আমরা বেরিয়ে যাইনি, আমাদের বের করে দিলেন আপনারা। আপনারা মিটিং করলেন, আমাদের ডাকলেনই না। আপনারা ঘোষণা দেবেন, বি. চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন? আপনি আমাকে বলেন, বি. চৌধুরী সাহেব কামাল হোসেনের বাসায় যাবেন। অথচ উনি বাসায় ছিলেনই না। একবার ফোন করে দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেননি। যৌথ ঘোষণা দেবেন, আমাদের জানিয়েছেন? আমরা কিন্তু ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসিনি। ঐক্য কে চায় না, তা জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। মান্না: ঐক্য যদি চান আপনারা আসেন, তাহলে কী করবেন? মাহী: ঐক্য তো চায় না, আজকে তো বলেই দিলেন। মান্না: প্রেস কনফারেন্সে আপনাদের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে আপনারা আসছেন। মাহী: সেটা তো জাতির সঙ্গে মিথ্যা কথা বলা। ওনার তো প্রেস কনফারেন্সে আসার কথা না। উনাকে তো কেউ প্রেস কনফারেন্সে আসার কথা বলে না। মান্না: প্রেস কনফারেন্সে পরে এটাও বলা হয়েছে, যেকোনো কারণেই হোক, ভুলের কারণেই হোক, উনি এখন এখানে নাই। কিন্তু আমরা তাঁকে ঐক্যের মধ্যেই ধরে আছি। উনি আমাদের সঙ্গে আছেন। মাহী: কাদের সঙ্গে? কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আপনারা ঐক্য করছেন। ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। ওনার নেতৃত্বে জামায়াতের সঙ্গে গোপন আঁতাত হবে, এগুলোর সঙ্গে আমরা থাকতে চাই না, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। বাট প্রশ্ন তো সেটা না। এই বিষয়গুলো আপনারা জাতির সামনে পরিষ্কার করেই বলতেন যে ওনাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। ওনাকে না বলে আমরা চুরি করে মিটিং করছি। এগুলো বলেন নাই কেন? কামাল হোসেন উনার বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে অফিসে গিয়ে মিটিং করে, বি. চৌধুরীকে বাদ দিয়ে আমরা একটা ঐক্য করতে চাই। জামায়াতের সঙ্গে গোপনে গোপনে আমরা ঐক্য করতে চাই। এসব বলতেন। মান্না: আপনি এভাবে বলছেন কেন? মাহী: যা করছেন তা-ই বলতেন। মান্না: ভালো কাজ হয়নি, সেটা আমিও মানছি। তার মানে এই না যে আমরা রেগে গিয়ে বলব, আমরা অন্যায় কাজ করেছি। তাহলে প্রেস কনফারেন্সে আসছেন কেন? ওইটা তো হয় না। যেহেতু ঐক্যটা করতে চাই, তাই করেছি। হ্যাঁ, একটা কথা হলো, একটা বিভ্রান্তির মধ্যেই ছিলাম। মাহী: মান্না ভাই, আমি আপনাকে আজকে আল্লাহর কসম একটা কথা বলি, আপনাকে পছন্দ করি বলেই বলছি। আপনি হান্ড্রেড পার্সেন্ট আন্তরিক ঐক্যের ব্যাপারে। আমিও হান্ড্রেড পার্সেন্ট ঐক্যের ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু ঐক্যের নাম দিয়ে এখানে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আপনাকে দিয়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করানো হচ্ছে, আমাকেও এখানে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকের এই কথাটা শুধু মনে রাখবেন। আর কিছু বলব না। মান্না: চিন্তা করব, আরও কথা বলব, সামনাসামনি। মাহী: জি। আমার মনে হয় একটা চক্রান্তের মধ্যে আপনারা ভিকটিম হয়ে যাচ্ছেন মান্না ভাই। আমার মনে বিশ্বাস থেকে বললাম, ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখানে আমাদের জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমি আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলাম। আপনাকে দিয়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করানো হলো। মান্না: না, আপনি যেভাবে মনে করছেন আমি সেভাবে মনে করছি না। আজকের ঘটনার জন্য আমি মর্মাহত। মাহী: আপনি মনে করছেন আজকের ঘটনাটা এমনি এমনি, ভুলে ভুলে হয়ে গেছে? মনে হয় এর বাইরে জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নাই? মান্না: এমনি হয়ে গেছে ভাবছি না, আবার এত বড় জিনিসও ভাবছি না। মাহী: অনেক বড় জিনিস হয়েছে। একটুখানি নজর দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন, কারা কারা জড়িত। কারা কারা কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীকে একসাথে বসতে দিল না, কারা আপনাকে দিয়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করাল। আপনারাই বিবেচনা করে দেখেন, আপনারা কিসের মধ্যে ঢুকছেন, আমি কিছু বলব না। মান্না: আচ্ছা, আলাপ করব। মাহী: জি, ইনশা আল্লাহ। | 9 |
সেভিয়ার বিপক্ষে নামা মানে নিশ্চিতভাবেই তার নিজের রূপে ফিরে যাওয়া। শনিবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। অ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিশালী সেভিয়ার বিপক্ষে শনিবার কেরিয়ারের ৫০তম হ্যাটট্রিক সেরে ফেললেন আর্জেন্টাইন তারকা লিও মেসি। মেসির হ্যাটট্রিক আর সুয়ারেজের একমাত্র গোলের সুবাদে দু'বার পিছিয়ে গিয়েও লা লিগায় সেভিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিলো বার্সেলোনা। কেরিয়ারে হ্যাটট্রিকের কেবল অর্ধশতক পূর্ণ করাই নয়, লা লিগায় এদিন আরো একটি রেকর্ড এদিন নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন বাঁ-পায়ের জাদুকর। হ্যাটট্রিক করে সেভিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫ ম্যাচে মেসির নামের পাশে জুড়ে গেল ৩৬টি গোল। যা লা লিগায় কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যে কোনও ফুটবলারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের নজির। ৪-২ গোলে জিতলেও শুরুটা যদিও এদিন বার্সাসুলভ হয়নি কাতালান ক্লাবটির। ম্যাচের ২২ মিনিটে সেভিয়ার ঘরের মাঠে এদিন জেসাস নাভাসের গোলে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। যদিও সেই গোল ফিরিয়ে দিতে মিনিট চারেকের বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনা। ইভান রাকিটিচের ক্রসকে কাজে লাগিয়ে ১৬ গজ থেকে দুরন্ত ভলিতে স্কোরলাইন ১-১ করেন লিও মেসি। তবে বিরতির তিন মিনিট আগে ফের ঘরের মাঠে এগিয়ে যায় সেভিয়া। ৪২ মিনিটে সেভিয়াকে এগিয়ে দিয়ে বিরতিতে পাঠান গ্যাব্রিয়েল মার্কাডো। বিরতি থেকে ফিরে এসে ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিগ টপাররা। একঘন্টা পেরোতেই বক্সের মধ্যে আগুয়ান সুয়ারেজকে ফাউল করার অপরাধে বার্সেলোনা পেনাল্টির দাবি তুললেও তা নাকচ করে দেন রেফারি। যদিও এর কয়েক মিনিটের ম্যাচে দ্বিতীয়বারের জন্য দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন মেসি। দেম্বেলের পাস থেকে বিপক্ষ গোলরক্ষক থমাস ভ্যাচলিককে পরাস্ত করে মেসির কিক জড়িয়ে যায় জালে। অনেকেই যখন ধরে নিয়েছেন ম্যাচ অমীমাংসিত ভাবে শেষ হতে চলেছে, তখন আরও একবার জ্বলে ওঠেন মেসি। কার্লেস অ্যালেনার শট সেভিয়া রক্ষণে প্রতিহত গোলে সুযোগসন্ধানী মেসি সেই বল ধরে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে চিপ করে দেন। সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিক এবং কেরিয়ারের ৬৫০ তম গোলের মালিক হন এই আর্জেন্তাইন সুপারস্টার। জয় নিশ্চিত হলেও বার্সার গোলক্ষুধা মেটেনি তখনো। ছয় ম্যাচ গোলহীন থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে সেভিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন উরুগুয়ে স্ট্রাইকার সুয়ারেজ। যদিও গোলের পিছনে অবদান সেই মেসির। ৯৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুরন্ত লবে স্কোরলাইন ৪-২ করেন তিনি। এই জয়ের ফলে ২৫ ম্যাচ পর বার্সেলোনার ঝুলিতে ৫৭ পয়েন্ট। এই মুহূর্তে দ্বিতীয়স্থানে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের থেকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। বদলা নেয়ার জন্য আগামী ১২ মার্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্বে ঘরের মাঠ অ্যালায়েঞ্জ স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের ম্যাচে ০-২ গোলে হারের বদলা নিতে চান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঘনিষ্ঠমহলে তিনি বলেছেন, 'পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে ফ্রি-কিক পেলে আমি ওই ম্যাচে দেখে নেব ওদের।' উল্লেখ্য, বুধবার ম্যাচের প্রারম্ভিক পর্বে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে একটি ফ্রি-কিক পেয়ে ডান পায়ের কামান দাগা শট তিনি গোলে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে আতলেতিকো গোলরক্ষক জান ওবলাক তা ফিস্ট করে বাঁচান। বাকি পর্বেও রোনালদোকে ডাবল জোনাল মার্কিং করেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। তাই আগামী সপ্তাহ থেকেই ফ্রি-কিক নেয়ার জন্য পুরানো দিনের মতো বিশেষ অনুশীলন করতে চান রোনালদো। | 12 |
ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি মানেই বর্তমান বিজ্ঞাপন জগতের বড় একটা নাম। আর হবে নাই বা কেন, শুধু সারা ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে কোহলির কোটি কোটি ভক্ত রয়েছেন। যারা তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বত্র ফলো করেন। যার ফলস্বরূপ কার্যত ভারতীয়দের মধ্যে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি 'চার্জ' করে থাকেন কোহলি। হুপারের ২০২১ ইনস্টাগ্রাম ধনীদের যে তালিকা প্রকাশ পেয়েছে তাতে ১৯তম স্থানে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তবে ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রতি ইনস্টাগ্রাম বাবদ সব থেকে বেশি টাকা 'চার্জ' করেন। এই লিস্টে সবার উপরে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২১ সালে তার প্রতি পোস্টের চার্জ ছিল ১,৬০৪,০০০ ডলার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোহলির চার্জ ৬৮০,০০০ ডলার। ইনস্টাগ্রামে বিরাটের ফলোয়ার সংখ্যা ১৭৭ মিলিয়ন, যা ভারতীয় সেলিব্রিটিদের মধ্যে সব থেকে বেশি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছিলেন কোহলি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যান হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির প্রতিভূ বিএনপি বারবার প্রতারণা ও চাতুর্যের আশ্রয় নিচ্ছে। তাদের চাতুর্য আছে কিন্তু নৈতিকতা নেই- জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াবার সৎ সাহস এবং রাজনৈতিক অবস্থানও নেই। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে চিরাচরিত মিথ্যাচারের রেকর্ড বাজাচ্ছে, তারা শীতনিন্দ্রায় রয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। বহুধা বিভক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্র সাম্প্রদায়িকতা দেশের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যকে নষ্ট করতে চায়, এদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ বিরোধী অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা নস্যাতের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে, যা দুঃখজনক উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই অপশক্তি গণতন্ত্র, প্রগতি ও উন্নয়নের প্রধানতম প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজ দৃশ্যত বিভক্তির মধ্যে আছে, এ বিভক্তি মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এবং চেতনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে এগিয়ে চলছে দেশ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত্রে লিপ্ত সাম্প্রদায়িক শক্তি। তিনি এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন এ ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্ব দিবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযুদ্ধগণ। ৩য় ও ৪র্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছে, তাদের দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে অনতিবিলম্বে সরে দাঁড়াতে কঠোর নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের স্বার্থে সকলকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন সব ভেদাভেদ ভুলে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর হয়ে কাজ করতে হবে,যারা বিদ্রোহ করছে বা করবে তাদের আর কোন ছাড় দেওয়া হবে না।দলের সিদ্ধান্ত মেনেই রাজনৈতিক করতে হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
সৌম্য সরকার পাকিস্তান সফরে ভালোই খেলছিলেন। প্রথম ম্যাচে সাত রানে আউট হলেও বল হাতে ভালোই করেন। ২.৩ ওভার বল করে ২২ রানে উইকেটশূন্য।শনিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ রানে অপরাজিত থাকলেও বোলিংটা করতে পারেননি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন লাহোর থেকে ফোনে জানান, ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন সৌম্য। পরের ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করেন সৌম্য। টপঅর্ডার এ ব্যাটসম্যানকে জাতীয় দলে খেলানো হয় নিচের দিকে। তামিম ইকবাল আর নাঈম শেখ ওপেনিং জুটি করায় হাতে শট থাকার পরও টপঅর্ডারে জায়গা পাচ্ছেন না সৌম্য। অথচ টি২০-তে পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ের জন্য সৌম্য ও লিটন কুমার দাসের জুটি বাঁধলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। সেটা না করে এই দুই ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে যেমন সেরাটা পাচ্ছে না, তেমনি তামিম-নাঈমের কচ্ছপ গতির ব্যাটিংয়ের কারণে চরম ব্যর্থ হচ্ছে দল। | 12 |
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ এবং দক্ষিণ সিটির মেয়রের সাথে বৈঠকের আয়োজনের পর ইন্টারনেট ও ডিস ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যায়োসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এবং ক্যাবল অপারেটর অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও কোয়াব এবং আইএসপিএবি নেতৃবৃন্দ জুম মিটিংয়ে যুক্ত ছিলেন। এ সময় মোস্তফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে জানানো হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সার্বিক বিষয় তুলে ধরবেন। আশা করি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ পাব। আপনারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও কেবল টিভি অপারেটরদের ধমর্ঘটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ঝুলন্ত তার অপসারণ সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে সাতদিন সময় চেয়েছেন। টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আপাতত আর ক্যাবল কাটা হবে না। উল্লেখ্য, আগামীকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা ও ক্যাবল নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াব। | 6 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা চলবে। তবে কেউ যদি অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে চায় সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বিভাগ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।কৃষি অনুষদের ডিন আব্দুল আলীম বলেন, বৈঠকে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা চলবে। তবে কেউ অনলাইনে ক্লাস করতে চাইলে নিজ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।প্রসঙ্গত, গত দুইদিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় যার মধ্যে ৩৮ টিতেই করোনা পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি বৈঠক ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। | 1 |
হঠাৎ করেই বেসামাল হয়ে পড়েছে কাঁচাবাজার। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। সবে চেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়েছে পেঁয়াজের ক্রেতাদের। সবজির ক্ষেত্রে সবকিছুর বিকল্প থাকলেও পেঁয়াজ রান্নার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ফলে বাধ্য হয়েই যত দাম দিয়েই হোক সেই বাড়তি টাকাতেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে তাঁদের।গতকাল শুক্রবার যশোরের ঝিকরগাছা ও বাঘারপাড়ার বাজার ঘুরে এমন তথ্য পেয়েছেন পাওয়া গেছে।ঝিকরগাছা: ঝিকরগাছা বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম তেমন কমেনি। এর মধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে আসা চায়না গাজর বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩০০ টাকা কেজি।বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, চার দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি। অথচ, চার দিন আগেও এর দাম ছিল ৪০ টাকা করে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা কেজি যা আগে ছিল ৩০ টাকা করে।বাজারে কথা হয় সামছুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। তারপর পেঁয়াজের দাম যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। চার দিন আগে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় কিনেছি তা, আজ ৮৫ টাকায় কিনলাম।'বাজারের কাপুড়িয়া পট্টির মুখের সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, 'আমরা যেমন কিনি তেমন বিক্রি করি। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৮৫ টাকা করে। গাজর বিক্রি করছি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। চায়না গাজর যশোরের মোকাম থেকে ২২০ টাকার ওপরে কেজি কিনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহনসহ নানান খরচ রয়েছে। ফলে এমন বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।'বাঘারপাড়া: বাঘারপাড়াতেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার সকালে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ৭০ টাকায়। সাত দিন আগে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম শুক্রবারে ছিল ১০০ টাকা। | 6 |
করোনায় বাংলাদেশ নিজেকে একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি ডোজ ২০ ডলার থেকে ৩০ ডলারে কেনা হয়েছে। এ টিকার পেছনেই বাংলাদেশের খরচ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কিডনি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।মন্ত্রী বলেন, 'যাঁরা এখনো বুস্টার ডোজ নেননি তাঁদের জন্য অল্প দিনের মধ্যেই বুস্টার ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সবাইকে আমরা বুস্টার ডোজ দেব।'টিকার হিসাব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা প্রায় ২২ কোটি ডোজ টিকা দিয়েছি, কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। প্রথম ডোজই দিয়েছি সাড়ে ১২ কোটি, সাড়ে ৮ কোটি দ্বিতীয় ডোজ ও ৫০ লাখ বুস্টার ডোজ। এই টিকাগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনেছি, কোথাও ৩০ ডলার কোথাও ২০ ডলার করে। কিছু টিকা আমরা উপহার পেয়েছি। এই টিকার পেছনেই বাংলাদেশের খরচ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।'টিকা দানে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী জাহিদ মালেক।বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, 'সংক্রামক ব্যাধি সব সময়ই বাংলাদেশের ছিল। সংক্রামক ব্যাধির এখন অনেকটা সমাধান হয়েছে। অসংক্রামক ব্যাধিতেই দেশের মানুষ বেশি আক্রান্ত। করোনার হিসাব জানলেও আমরা কিডনি, হার্টফেল, হার্ট অ্যাটাক এমন রোগগুলোর আমরা কোনো খোঁজ রাখি না।' এগুলো কমিয়ে আনতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।করোনার সময়ে অসংক্রামক চিকিৎসা ক্ষেত্র কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেখান থেকে ধীরে ধীরে আবারও আগের পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, 'প্রতিটি জেলায় কিডনি ডায়ালাইসিস ও আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বছরই সারা বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা চালু করা যাবে। আটটি নতুন হাসপাতাল হচ্ছে যার প্রতিটিতেই কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসার ইউনিট ও কার্ডিয়াক ইউনিট আছে। যেখানে ১৫০টি সিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই কাজগুলো এখনো চলমান আছে। এগুলো চালু হয়ে গেলে ওই জেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা শহরে আসতে হবে না।' | 6 |
বরিশালে করোনা সংক্রমণের হার কমেছে। কিন্তু কমেনি নমুনা পরীক্ষায় দুর্ভোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। আবার নমুনা দেওয়ার পর রিপোর্ট পেতেও বিলম্ব হচ্ছে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ছে। বিভাগের ৬ জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় মাত্র দুটি পিসিআর ল্যাব হওয়ায় দুরদূরান্তের মানুষকে চরম ভোগান্তি সহ্য করে নমুনা দিতে হচ্ছে বরিশাল এসে। ভুক্তভোগীরা নমুনা পরীক্ষা আরও সহজ ও হাতের নাগালে করার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের চেয়ে চাপ কমলেও করোনা পরীক্ষার পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। সেখানে অপেক্ষমান আকাশ, মাইনুল ইসলাম ও জাকারিয়া বলেন, নমুনা সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালাভাব এবং গাফেলতি আছে। সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখায় জীবানু আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার রিপোর্ট দিতেও দেরি করে কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীরা আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার দাবি জানান। এদিকে সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৬ জেলার মধ্যে পিসিআর ল্যাব রয়েছে শুধুমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার আড়াই শ' শয্যা হাসপাতালে এবং বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে। ভোলার পরীক্ষা ভোলায় হলেও বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠী ও বরিশাল জেলা এবং মহানগরীর মানুষের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে মেডিকেল কলেজের ল্যাবে। বাধ্য হয়ে চরম দুর্ভোগ সহ্য করে নমুনা পরীক্ষার জন্য বরিশাল বিভাগীয় সদরে আসতে হয় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে। ভোগান্তি এড়াতে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শের-ই বাংলায় নমুনা দিতে আসা পটুয়াখালীর বাউফলের বৃদ্ধ দুলাল মিস্ত্রি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউকালীন শের-ই বাংলার করোনা ওয়ার্ডে একদিনে সর্বাধিক ৩৮০টি নমুনা সংগৃহীত হয়েছে। ওই সময় প্রতিদিন বরিশাল সিপিআর ল্যাবে নমুনা আসতো ৫ শ'র বেশি। এখন চাপ কমলেও শের-ই বাংলায় ৮০ থেকে ১শ' নমুনা সংগ্রহ হয়। বিভাগের অন্য ৫ জেলা থেকেও বরিশাল ল্যাবে আসে প্রায় ১শ' নমুনা। আগের চেয়ে দ্রুত সময়ে রিপোর্ট পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের টেকনোলজিস্ট প্রিন্স মুন্সি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে আরেকটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। পটুয়াখালীতেও একটি ল্যাব স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিভাগের সকল জেলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট এবং জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কবরোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার আগ্রহও কমে গেছে বলে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে সোমবার রাতে প্রকাশিত সবশেষ রিপোর্টে ১৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৩.৫১ ভাগ। এর আগে রবিবার পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ছিল ২৭.৯০ ভাগ, শনিবার ১০.৩১ ভাগ, শুক্রবার ১৪ ভাগ, বৃহস্পতিবার ১১.২৯ ভাগ, বুধবার ৯.৮৮ ভাগ এবং গত মঙ্গলবার ১২.১৪ ভাগ করোনা শনাক্ত হয়। গত বছরের ৮ এপ্রিল মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব চালুর পর গত ৫ জুলাই সর্বাধিক ৭৩.৯৪ ভাগ করোনা শনাক্ত হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
কুষ্টিয়ার মিরপুরের সেই মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল কাদের তার প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে সেই সুপার দফায় দফায় ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক দেলোয়ার হোসেন আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে ওই মাদ্রাসা সুপার ছাত্রীকে দফায় দফায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। জানা যায়, নির্যাতিতা মেয়েটি মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরুপদহ চকপাড়া এলাকার সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী। গত রবিবার ফজরের নামাজের সময় মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল কাদের মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করেন তিনি। সুপার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে শাসিয়েও দেন। তবে মেয়েটি সোমবার সকালে তার এক সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। আর ওই সহপাঠী ঘটনাটি নিজের বাবাকে জানালে তা এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। মেয়েটির বাবা এ ঘটনায় আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সোমবার মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে রাতে পুলিশ আব্দুল কাদেরকে পোড়াদহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের তার জবানবন্দিতে মেয়েটি দফায় দফায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে মেডিকেল টেস্টের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। | 6 |
দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে খুলনা মহানগরীর নিরালা কবরস্থানের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান। এই অংশের সামনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। এ ছাড়া মূল কবরস্থানের পূর্বপাশের ফটক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। ফলে অবাধে বিচরণ করছে গবাদিপশু।কবরস্থানের ভেতরের অংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেই কোনো পৃথক রেজিস্ট্রি বই এবং নেই স্থায়ী নামফলক। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে জাতির বীরসন্তানদের শেষ স্মৃতিটুকু।খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা যায়, নগরীর নিরালায় ১৪ একর জমির ওপর সরকারি কবরস্থানে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই অংশটুকু আলাদা করে সীমানাপ্রাচীর, নামফলকসহ ফটক নির্মাণ করে দেয় কেসিসি। ২০১৩ সালের ৮ মে মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত কবরস্থানটির ফলক উন্মোচন করেন কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। স্বাধীনতার পর মৃত্যুবরণ করা ৩২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়েছে নিরালা মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে।গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানের সামনের প্রাচীর ভেঙে পড়ে রয়েছে। ভেতরের অংশে আগাছার ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। কবরস্থানের পূর্ব পাশের ফটক দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলের রাস্তায় পরিণত হয়েছে। গবাদিপশুও অবাধে বিচরণ করছে।আশপাশের বাসিন্দাদের গরু-ছাগল বিচরণ করছিল। তবে এই প্রতিবেদককে দেখে কবরস্থানের নিরাপত্তারক্ষী কবরস্থানে বিচরণ করা গরু-ছাগল তাড়িয়ে বের করে দেয়। এ সময় আলাপ হয় নিরালা কবরস্থান জামে মসজিদের ইমাম মুফতি অলি উল্লাহ মাহমুদের সঙ্গে।অলি উল্লাহ মাহমুদ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে পড়ে আছে। সংস্কার করা হচ্ছে না। কবরস্থান সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে রেজিস্ট্রিম্যান ও সিটি করপোরেশনের। আমরা বহুদিন ধরে কবরস্থান সংস্কারের কথা বলে আসছি। শুনেছি শিগগির এ ব্যাপারে কেসিসি উদ্যোগ নেবে।'কবরস্থানের নিরাপত্তাকর্মী কাজী লিটন বলেন, 'প্রাচীর ও গেট ভাঙা থাকায় আশপাশের মানুষ তাঁদের গরু-ছাগল ঘাস খাওয়াতে এর ভেতরে নিয়ে আসেন। তাঁদের বাধা দিতে চেষ্টা করি। কিন্তু সবসময় তা হয়ে ওঠে না।'কবরস্থানের দায়িত্বরত রেজিস্ট্রিম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, গত আম্ফানে গাছ পড়ে কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গেছে। এ বিষয়ে তিনি কেসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তবে এতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না। কবরস্থান সংস্কারের সময়ই সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে বলে। তবে এর মধ্যে কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে চাইলে করতে পারবেন।কেসিসির এস্টেট কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার আজকের পত্রিকাকে জানান, পুরাতন হওয়ায় দু-চার মাস আগে কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় কবরস্থানের ভেতরের অংশ আগাছায় ছেয়ে গেছে। বিষয়টি কেসিসি কর্তৃপক্ষ জানার পর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে। সংস্কার শুরু হলে পুরো কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। | 6 |
রাজশাহীতে নানা আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং দিবস-২০২১ উদ্যাপন করা হয়েছে। 'মুজিব বর্ষের পুলিশ নীতি-জনসেবা আর সম্প্রীতি' প্রতিপাদ্যে গতকাল শনিবার দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। এরপর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। পরে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নগরীর ১২টি থানার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সংগঠকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।উপস্থিত ছিলেন আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বৃহত্তর রাজশাহীর হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তপন কুমার সেন, রাজশাহী হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, নগর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অলোক কুমার দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম, রাজপাড়া থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি আজিজুল আলম বেন্টু প্রমুখ। | 6 |
অতিসংক্রামক ওমিক্রন ধরন ছড়িয়ে যাওয়া রুখতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের করোনার বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে বন্ধ থাকবে সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সুইমিং পুল, জিম, স্পা সেন্টার এবং সেলুনও বন্ধ থাকবে। সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজ করতে পারবেন অর্ধেক কর্মী। গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশের মতো রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত থাকবে কারফিউ। জরুরি কাজ ছাড়া এ সময় কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না। অফিসের মিটিং অনলাইনে করতে হবে। হোম অফিসের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মেট্রো সার্ভিসে একসঙ্গে যেতে পারবেন অর্ধেক যাত্রী। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে লোকাল ট্রেন। | 6 |
এই তো কদিন আগেই অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে জিতেও লিগ শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে লিভারপুলের। মাত্র ১ পয়েন্টের জন্য লিগ শিরোপা জিততে না পারার ক্ষত না শুকানোর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না ক্লপ। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েও প্যারিসে রাতটা নিজেদের করে নিতে পারেননি এই জার্মান কোচ। শিরোপা ছুঁতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে পরের মৌসুমে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।ক্লপ এখনই জানিয়ে দিয়েছেন, পরের বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আবারও খেলবে তার দল। এজন্য ভক্তদের আগামী বছরের ফাইনালের ভেন্যু ইস্তাম্বুলের টিকিট কেটে রাখতে বলেছেন তিনি। এর আগে অবশ্য এমন গল্প একবার লিখেছিলেন ক্লপ। ২০১৮ সালে ফাইনালে এই রিয়ালের কাছেই হেরে পরের বছরই শিরোপা জিতেছিল লিভারপুল। আগামী বছরও তেমন কিছুই করে দেখানোর ইচ্ছা ক্লপের।নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আনচেলত্তিরিয়ালের কাছে শিরোপা হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্লপ বলেন, 'এই ছেলেরা দারুণ লড়াকু। অসাধারণ একটা দল আমাদের। আগামী মৌসুমে আমরা আবার একটা অসাধারণ গ্রুপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব। অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই চেষ্টা করতে হবে আমাদের, তবে সেটা সমস্যা নয়। আগামী বছর ফাইনালটা কোথায়? ইস্তাম্বুল। হোটেল বুক করে রাখুন।'দল হারলেও শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ক্লপ। একই সঙ্গে কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকেও। আর প্রতিপক্ষকে নিয়ে ক্লপের মূল্যায়ন,'যখন একজন গোলরক্ষক ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হয়, তখন বুঝতে হবে প্রতিপক্ষ দল কিছু ঠিকঠাক করতে পারেনি। কোর্তোয়া অবিশ্বাস্য তিনটি সেভ করেছে, কিন্তু যেভাবে আমরা খেলেছি, তাতে এ ধরনের সুযোগ আরও বেশি পেলে আমার ভালো লাগত।'লিভারপুল-রিয়ালসম্পর্কিত পড়ুন:প্যারিসের রাতটা নিজের করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুসঅবিশ্বাস্য, অতুলনীয়, অতিমানবীয় কোর্তোয়াদেখে নিন লিভারপুল-রিয়াল ফাইনালের একাদশলিভারপুলকে হারিয়ে আবারও রিয়ালের শ্রেষ্ঠত্বলিভারপুল চ্যালেঞ্জে ভিয়ারিয়ালবার্সা-ম্যানইউকে ছাড়িয়ে শীর্ষে রিয়াল | 12 |
সৌদি আরবের যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের এক ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেল আজিজ ব্রিটেনে স্বেচ্ছা-নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফিরেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেকে মনে করেন তিনি যুবরাজ মোহাম্মদের জায়গা নিতে পারেন । যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যিনি এমবিএস নামেও পরিচিত, তিনি এখন ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে চাপের মুখে রয়েছেন। প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেল আজিজ এতদিন স্বেচ্ছা-নির্বাসনে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, সৌদি রাজপরিবারে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদের জায়গা নিতে পারেন। রিয়াদে তার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। এরকম কোন নিশ্চয়তা না-ও আসতে পারে। কী শর্তে তিনি ফিরেছেন তাও স্পষ্ট নয়, তবে মনে করা হচ্ছে, তার নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেয়েই তিনি ফিরেছেন। কিন্তু বিবিসির সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, এই খবরটি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে সৌদি রাজপরিবারের সূত্র থেকেই, এবং এ থেকে আভাস পাওয়া যায় যে ওই অঞ্চলে এখন প্রিন্স মোহাম্মদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এর কারণ -সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুন হবার ঘটনা। খাশোগি সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। সৌদি আরব বলেছে, নিয়ম ভঙ্গকারী একদল এজেন্ট তাকে হত্যা করেছে এবং সৌদি যুবরাজের সাথে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এর পর সৌদি আরবে কিছু লোককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলিকে বের করতে হবে - জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ কে দিয়েছিল, এবং হত্যার জন্য ১৫ জনের একটি দলকে কে ইস্তাম্বুল পাঠিয়েছিল। খাশোগির লাশ ফেরত চাইলেন বাগদত্তা হেতিস তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরীর সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক জামাল খাশোগির লাশ ফেরত চেয়েছেন তার বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। সোমবার লন্ডনে খাশোগির স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় আবেগঘন বক্তব্যে হেতিস খাশোগির হত্যাকারীদের পাশাপাশি হত্যার নির্দেশদাতাদেরও শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা মিডলইস্ট মনিটর ও আল শার্ক ফোরাম জামাল খাশোগিকে নিয়ে সোমবার লন্ডনে একটি শোকসভার আয়োজন করে। ওই সভায়ই বক্তব্য দেন তার বাগদত্তা হেতিস। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি তার (খাশোগির) লাশ কোথায় আছে সৌদি আরব তা জানে। তাদের আমার দাবির জবাব দেওয়া উচিত। এটা শুধু একজন বাগদত্তার দাবিই নয়, এটা একটি মানবিক ও ইসলামি দাবিও'। তিনি আরও বলেন, 'এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে চাই'। সৌদি আরবের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি এখন ইস্তাম্বুল সফর করছেন। জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যোগ দিতে অনুমতি দেয়ার জন্যে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট বলেছেন, খাশোগির লাশ কোথায় আছে সৌদি কর্তৃপক্ষকে সেটা খোলাসা করতে হবে। তার লাশ ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। | 3 |
জসপ্রীত বুমরাহে দুরন্ত বোলিংয়ে বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে বড় স্কোর গড়তে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা টাইটানিকের শহরে বিরাট কোহলিদের ২২৮ রানের টার্গেট দিয়েছে প্রোটিয়াবাহিনী প্রথম পাওয়ার প্লে-তে (১০ ওভার) দু' উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৪ রান তুলে ছিল কিন্তু শেষ দিকে ক্রিস মরিস ও কাগিসো রাবাদা'র ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দু'শ' রানের গণ্ডি টপকায় দক্ষিণ আফ্রিকা অষ্টম উইকেটে ৬৬ রান যোগ করেন দু'জনে এটাই দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের সেরা পার্টনারশিপ হ্যাম্পশায়ার বোলে ভারতের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফ্যাফ ডু'প্লেসির কিন্তু ৬ ওভারে মাত্র ২৪ রানে দুই ওপেনারকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের সামনে নাস্তানাবুদ হন প্রোটিয়া ওপেনাররা বিশেষ করে বুমরাহকে সামলাতে হিমশিম খায় প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা চতুর্থ ওভারেই হাশিম আমলাকে (৬) ড্রেসিংরুমের রাস্তা দেখান বুমরাহ দ্বিতীয় স্লিপে আমলার ক্যাচ ধরেন রোহিত শর্মা ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে অপর ওপেনার কুইন্টন ডি'কককে (১০) আউট করেন বুমরাহ তৃতীয় স্লিপে ডি'ককের ক্যাচ ধরেন ক্যাপ্টেন কোহলি প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে দুই ওপেনারকে তুলে নেন বুমরাহ দ্বিতীয় স্পেলে অবশ্য বেশ কিছু রান খরচ করেন বিরাটের দলের নম্বর ওয়ান পেসার ১০ ওভারে ৩৪ রান খরচ করে দু'টি উইকেট পান তিনি বুমরাহের প্রথম স্পেলের পর প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন লেগ-স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল চার প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরান তিনি ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন চাহাল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রোটিয়া ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর মরিসের ৩২ বলে একটি বউন্ডারি ও দু'টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪২ রান করেন তিনি ৩৫ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন রাবাদা এছাড়া ক্যাপ্টেন ডু'প্লেসি ৩৮, ডেভিড মিলার ৩১ এবং ফেলুকাওয়ো ৩৪ রান করেন চোটের জন্য এই ম্যাচে নেই প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিদি কাঁধের চোটের কারণে এদিন বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অভিজ্ঞে পেসার ডেল স্টেইন তবে বাংলাদেশ ম্যাচে না-খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে হাশিম আমলাকে দলে ফেরাল প্রোটিয়া থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড পেসার জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে চিবুকে চোট পাওয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমলাকে বিশ্রাম দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে 'মেন ইন ব্লু'র সাফল্যের রেকর্ড ভালো নয় চারবারের সাক্ষাতে তিনবারই হেরেছে ভারত ১৯৯৯, ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে বাজিমাত করে দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু গত বিশ্বকাপে অর্থাৎ ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে জয় পায় টিম ইন্ডিয়া ১০ দলের টুর্নামেন্টে ভারত শেষ দল হিসেবে এদিন টুর্নামেন্ট শুরু করে বিরাটদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা দু'টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে দু'টি ম্যাচ হেরে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে প্রোটিয়াবাহিনী উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১০৪ রানে পর্যুদস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ২১ রানে হেরেছে ডু'প্লেসি-ডুমিনিরা | 12 |
'বহিরাগত' বলতে যা বোঝায়, আয়ুষ্মান খুরানা ঠিক তা-ই! চণ্ডীগড়ের এক সাধারণ তরুণ। অনেকের মতো সাধ হয়েছিল হিরো হবেন; মুম্বাই যাবেন, বলিউড কাঁপাবেন। সেই স্বপ্ন ভোজবাজির মতো ফস করে সত্য হয়ে গেল! হাজার দর্শকদের সঙ্গে বসে নিজের অভিনীত ভিকি ডোনার সিনেমাটা দেখলেন। তারপর দেখলেন, সবাই তাঁকে দেখছে, তাঁকে নিয়েই কথা বলছে। এই অনুভূতি যেন বদলে দিল আয়ুষ্মানকে। ওই ছবিটায় অন্য কোনো তারকা ছিলেন না। তবু তাঁর প্রথম ছবি ব্লকবাস্টার হিট। বলিউডের কম অভিনয়শিল্পীর ক্ষেত্রে এ রকম ঘটনা ঘটে। অকস্মাৎ পেয়ে যাওয়া তারকাখ্যাতি আয়ুষ্মানকে সাময়িকভাবে করে দিল যেন অন্য এক মানুষ। স্ত্রী তাহিরা কশ্যপের সঙ্গে সম্পর্ক চূড়ান্ত খারাপ হয়ে গেল। আয়ুষ্মানের ভাষায়, 'সাফল্য যে মানুষকে পাগল করে দেয়, সেটা আমি টের পেয়েছি তখনই। ভেবেছিলাম...হয়েই তো গেছি...এবার যা ধরব, সব সোনা হয়ে যাবে। সুতরাং ভুল ভাঙার জন্য, পরিণত হওয়ার জন্য পরপর কয়েকটা ফ্লপ ছবি আমার দরকার ছিল। আমি তাহিরাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আট বছর পর এখন আমি বুঝি যে আমি কতটা বোকা ছিলাম।' সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফিল্মফেয়ারকে এমনটিই বলেছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই তারকা। অভিনেতা হিসেবে আয়ুষ্মান গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছেন। কিন্তু ছেলেমেয়েদের বাবা হিসেবে তিনি কেমন? মজা করে আয়ুষ্মান বলেন, 'তারা যে যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান, সেটা টের পেলাম এই লকডাউনে এসে। আমার আট বছরের ছেলে আর ছয় বছরের মেয়ে-দুজনই অঙ্কে কাঁচা। তাদের একটা সাধারণ অঙ্ক বোঝাতে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। এই যে বাচ্চাদের অঙ্ক করাচ্ছি, তার মানে আমি ভালো বাবা হওয়ার চেষ্টা করছি। আগে কখনো এভাবে সময় পাইনি। বছরে ৩টা ছবি করতে গিয়ে ঘুমানোরই সময় পাইনি।'লকডাউনের সময়টা কেবল স্ত্রী-সন্তানদের দিয়েছেন আয়ুষ্মান। এর আগে স্ত্রীর সঙ্গে এভাবে সময় কাটিয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে। তা ছাড়া নিয়ম করে এখন রাতে সাড়ে আট ঘণ্টা আর দিনে এক ঘণ্টা করে ঘুমাচ্ছেন আয়ুষ্মান। এত ঘুম নাকি জীবনেও ঘুমাননি। | 2 |
২০২২ শিক্ষাবর্ষে দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির লটারি আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর ধানমন্ডির জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) ভবনে বিকেলে এই লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এই স্কুলগুলোতে ভর্তির জন্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিকের সর্বমোট ২ হাজার ৯০৭টি বেসরকারি স্কুলে মোট আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ। ফলে বেসরকারি স্কুলগুলোর প্রায় ৬ লাখ আসন শূন্যই থেকে যাচ্ছে। আবেদনকৃত ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ৭ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম দিয়েছে।এ বিষয়ে স্কুল ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ও মাউশির উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ১৬ ডিসেম্বর বেসরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে যতগুলো আসন রয়েছে, আবেদন তার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার বেসরকারি স্কুলগুলোতে অনেক আসন ফাঁকাই থেকে যাবে।এর আগে গত ২৫ নভেম্বর থেকে সরকারি-বেসরকরি স্কুলে ভর্তির আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়। আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ৮ ডিসেম্বর আবেদনের সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সরকারি স্কুলে ১০ ডিসেম্বর ও বেসরকারিতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আগামীকাল রোববার বেসরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে। আর ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম চলবে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অনুসারে মাউশি জানায়, এবার সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। করোনার কারণে অনলাইনে আবেদনকারীদের লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর ভর্তির সুযোগ পাবে। ভর্তির লটারি হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের আলাদাভাবে। শিক্ষা মন্ত্রণায়ের নির্দেশনা মোতাবেক ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের কম হওয়া যাবে না। | 1 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে ঘরে খিল দিয়ে বসে ছিলেন শামীম (৩৫)। অবশেষে ১৯ দিন পর গতকাল সোমবার রাতে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত ২৬ আগস্ট শামীম বাবার বৈধ অস্ত্র চুরি করে নিজেদের বাড়ির একটি কক্ষে খিল দিয়ে বসে থাকেন। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিরনাল এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তলটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পিস্তলটি ছয় রাউন্ড গুলিভর্তি ছিল। ২২ আগস্ট রূপগঞ্জ থানায় জিডি করেন তিনি। ২৬ আগস্ট তাঁর মাদকাসক্ত ছোট ছেলে শামীম বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করেন এবং সেই অস্ত্রটি দেখান। আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র বেস্ট এডিশন ইনস্টিটিউটের একটি টিম রূপগঞ্জ থানা-পুলিশের সহায়তায় শামীমকে নিতে আসে। ঘরের দরজা ভেঙে বের করার চেষ্টা করলে শামীম তাঁদের লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। একটি গুলি বেস্ট এডিশন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান পরাগের হাতে লাগে। পরের দিন সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কয়েকবার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ কক্ষের ভেতরে শটগানের দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জবাবে শামীমও কয়েক রাউন্ড গুলি করে। শেষ পর্যন্ত থানা-পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ব্যর্থ হয়ে চলে যায়। পুলিশ সদস্যরা এতদিন বাড়িটি ঘিরে রেখেছিলেন। গতকাল সোমবার রাতে শামীম অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ ওই আইনজীবীর কাছে থাকা ৩৫ রাউন্ড গুলিও জব্দ করেছে।রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ মাদকাসক্ত শামীমকে সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র বেস্ট এডিশন ইনস্টিটিউটে হস্তান্তর করা করেছে। আইনজীবীর লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও গুলি থানায় জমা আছে। আইনজীবীর অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। | 6 |
দুই দলেরই শেষ আট নিশ্চিত হয়ে গেছে দিনের প্রথম ম্যাচে উত্তর বারিধারা আর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র হওয়ায়। শেষ আটে লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে এড়াতে চাইলে শেখ রাসেলকে হারাতেই হতো লিগের রানার্সআপ শেখ জামালকে। শেষ পর্যন্ত কেউ কাউকে হারাতে পারেনি।গতকাল 'বি' গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে এবারের দলবদলে অন্যতম সেরা দল গড়া শেখ রাসেল। ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ শেখ জামাল। ২ আর ১ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় গ্রুপের বাকি দুই দল উত্তর বারিধারা ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ফুটবল দলের।কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গতকালকের প্রথম ম্যাচে বারিধারা-বিমান বাহিনীর ম্যাড়ম্যাড়ে ড্রয়ের পর লড়াইয়ের আভাস মিলছিল শেখ রাসেল-শেখ জামাল ম্যাচের প্রথমার্ধে। দেখার মতো এক গোলে ২৭ মিনিটে শেখ জামালকে এগিয়ে দেন রাইটব্যাক শাহিন মিয়া। মাঝ মাঠ থেকে রাহবার ওয়াহেদ খানের দূরপাল্লার পাসে ডি-বক্সের ডান প্রান্তে বল পান শাহিন। বল বাড়ানোর কাউকে না পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে নিজেই নেন শট। সেই শট রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার গ্লাভস এড়িয়ে ঠিকই ঠাঁই নেয় জালে।শেখ রাসেলও সেই গোল শোধ দিয়েছে ২ মিনিট পরই। শেখ জামালের গোলের জবাবে এই গোলটাও হলো মনে রাখার মতো। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান আলতন সুজার রক্ষণচেরা এক পাসে শেখ জামাল গোলরক্ষক নাঈমকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ইসমায়েল রুটি তাবারেজ। প্রথমার্ধের এই দুই গোলের পর পরের ৪৫ মিনিটে আর গোল না হওয়ায় ড্র মেনেই মাঠ ছেড়েছে শেখ রাসেল ও শেখ জামাল। | 6 |
দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ বন্ধ থাকায় পরিত্যক্ত রেলপথের কোটি কোটি টাকামূল্যের সম্পদ লুট হয়ে যাচ্ছে। রেললাইন, স্লিপার, কাঠের পাত, পাথর ও রেল স্টেশনের অবকাঠামোর দরজা-জানালাও খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোর। অনেক স্থান হয়ে যাচ্ছেহচ্ছে জবর দখল। রেললাইনের ওপর বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বসতঘর। দীর্ঘদিন ধরে এসব লুটপাট ও দখলেরঘটনা ঘটলেও দেখার যেন কেউ নেই। তবে এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকলে অচিরেই এই রেলপথের সব সম্পদহয়ে যাবে লুট। সরকার একটু সুদৃষ্টি দিলে এই রেলপথ হতে পারে পুনরুজ্জীবিত। এতে সৃষ্টি হতো এই এলাকার কর্মস্থান, অর্থনীতিতে যোগ হতো নতুন চমক। দাবি উঠেছে পুনরায় রেল যোগাযোগ চালু করার। মাহবুবুল হক সেলিম নামে এক স্থানীয় ব্যক্তিজানান, এক সময় রেল গাড়িই ছিল এখানকার জনগণের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সজিব নামে একব্যবসায়ী জানান, কিছু অসাধু রেল কর্মকর্তার অনৈতিকতার কারণে এই রুটটি লোকসান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ বন্ধ করে দেয়। শামিম নামে আরও একজনজানান, অযত্নে-অবহেলায় সবগুলো স্টেশনের বেহাল দশা। স্টেশনগুলোর অবকাঠামো এখন ধ্বংসের পথে। রেললাইনের পাশাপাশি পথের দু'পাশের গাছগুলোও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। রেললাইনের ওপরও অনেক স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। ফেনী চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আইনুল কবির শামিম জানান, রেলপথটি আবার চালু হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনীয়া স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পারাপারে যোগ হবে নতুন মাত্রা। এতে ভাগ্য খুলে যেতোব্যবসায়ীদের। কিন্তু একাধিকবার এটি চালুর উদ্যোগ নিয়েও অদৃশ্য কারণে এটি স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ফেনী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার সফিকুর রহমান বলেন, রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লাইনটি চালুর প্রক্রিয়া রয়েছে। জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান জানান, স্টেশন ঘরগুলো দখলমুক্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রী ফেনী পরিদর্শনে এসে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। ফেনী ২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী জানান, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেলপথের ৮টি স্টেশনের সম্পত্তিগুলো দখলমুক্ত করাসহ এটি দ্রুত চালুর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছেন। এটি হলে অন্তত বন্দর ঘিরে ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখর থাকবে স্থানটি। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন চাকা। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। এফএওর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করছে।আজ মঙ্গলবার সকালে সচিব পর্যায়ের ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকের উদ্বোধন করা হয়। বৈঠকে মালদ্বীপের প্রস্তাবে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ডি সাইদুল ইসলামকে বৈঠক পরিচালনার জন্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ ছাড়া নেপালকে সভাদূত করা হয়েছে।বৈঠকের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ডি সাইদুল ইসলাম সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।সচিব সাইদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমাদের দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের জাতীয় জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষি থেকে আসে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণের মাঝেও বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান দখল করেছ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।আগামী বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই দিন রাষ্ট্রপতির এবং আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এফএওর মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।ভার্চুয়াল ও সশরীরে আয়োজিত এই সম্মেলনে ৪২টি দেশ ও এসব দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ৪২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ১২ জন মন্ত্রী সশরীরে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া সদস্য রাষ্ট্র, এফএওর মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির প্রায় ৮৮৫ জন নিবন্ধন করেছেন, যা এপিআরসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ রেকর্ড।মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কান্ট্রি শোকেসিং থাকছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে ১৭টি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে।প্রসঙ্গত, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) একটি বিশেষায়িত সংস্থা। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিরসনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএওর সদস্যভুক্ত হয়। এফএওর একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম হিসেবে প্রতি দুই বছর পর পর এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে সদস্য দেশসমূহের কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ খাদ্য ও কৃষির চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে থাকেন। | 6 |
এলজিবিটি ও বিকলাঙ্গদের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইম বন্ধ করতে বিল এনেছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। কিন্তু তাতে আপত্তি ভ্যাটিকানের। তাদের মতে, হোমোফোবিয়া বন্ধ করতে যে খসড়া আইন করা হয়েছে, তা চালু হলে ক্যাথলিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে। ভ্যাটিকানের কর্মকর্তারা এই আইনের বিরোধিতা করছেন কারণ, এই আইন মানলে ক্যাথলিকদের সমলিঙ্গের বিয়ে মেনে নিতে হবে। বিরোধিতা করলে শাস্তি পেতে হবে। দ্রাঘি নিজেও একজন ক্যাথলিক। কিন্তু তিনি বলছেন, 'ইটালির পার্লামেন্ট স্বাধীনভাবে আইন করতে পারে। আর ইটালি হলো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়।' তিনি বলেছেন, 'আমাদের আইনগত ব্যবস্থা সবসময় দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে মেনে চলে।' বিল পাস হচ্ছে না কেনবিলে বলা হয়েছে, এলজিবিটি (সমকামী) প্লাস ও বিকলাঙ্গদের প্রতি হেট ক্রাইম করলে বা তাদের প্রতি বিভেদমূলক আচরণ করলে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু এই বিলটি বেশ কয়েক মাস ধরে সেনেটে আটকে রয়েছে। তার মূল কারণ, রক্ষণশীলরা এই বিলের বিরোধিতা করছেন। গত নভেম্বরে বিলটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস হয়ে গেছে। যারা এই পরিবর্তন চাইছেন, তারা ভ্যাটিকানের মনোভাবে বিরক্ত। তাদের মতে, ভ্যাটিকান রাজনৈতিক বিষয়ে মাথা গলাচ্ছে। নিম্নকক্ষের স্পিকার রবার্তো ফিকো বলেছেন, 'পার্লামেন্ট সার্বভৌম, তারা কোনো হস্তক্ষেপ মানে না।' কিন্তু দক্ষিণপন্থী দলগুলো ভ্যাটিকানকে সমর্থন করছে। পোপ অবশ্য প্রকাশ্যে এই বিল নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে ২০১৩ সালে পোপ হওয়ার পর ফ্রান্সিস সমকামীদর বিষয়ে উদার মনোভাব দেখিয়েছেন। গত বছর একটি তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, তিনি সমলিঙ্গের দম্পতিদের সিভিল ইউনিয়ন সমর্থন করছেন। কিন্তু তিনিই আবার গত মার্চে ভ্যাটিকানের একটি বিবৃতিকে সমর্থন করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ঈশ্বর পাপীদের আশীর্বাদ করতে পারেন না। তাই সমলিঙ্গের বিয়েকে আশীর্বাদ করা সম্ভব নয়। সূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
মাছ চাষে স্মার্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে এশিয়া জয় করেছেন ঈশ্বরদীর তরুণ সফটওয়্যার প্রকৌশলী শফিউল আলম তপন। দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়ার বৃহত্তম বার্ষিক উদ্ভাবনী মেলায় একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে তার উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তিটি ছিল একমাত্র কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবন। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কোরিয়ার আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইনভেন্টরস অ্যাসোসিয়েশন এশিয়া মহাদেশভিত্তিক এই উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করে। মেলাটি হয় সে দেশের গ্যাংনাম শহরে। পৃথিবীর ৩৩টি দেশের ৬০৬টি উদ্ভাবনের মধ্য থেকে বাছাইয়ের পর মাত্র ৪০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের জন্য স্থান পায় মেলায়। এর মধ্যে তপনের ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনটি ব্যাপক সাড়া ফেলে সেখানে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলমের একমাত্র ছেলে। শফিউল আলম তপন জানান, কোরিয়া ইনভেনশন প্রমোশন অ্যাসোসিয়েশন-কাইপা ও কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার-কেপিসির আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে তার এই উদ্ভাবনটি বৃত্তি এবং প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে। বাণিজ্যিক বিবেচনায় তার উদ্ভাবিত প্রকল্পটির স্বত্বও রাখবে কোরিয়া। বাংলাদেশের জন্য এটি অনন্য অর্জন বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা। পৃথিবীর ৩৩টি দেশকে পেছনে ফেলে ওই পদক লাভ করেন তপন। কয়েকদিন আগে চ্যানেল আইতে তাকে নিয়ে শাইখ সিরাজের 'হৃদয়ে মাটি ও মানুষ' অনুষ্ঠানে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। পৃথিবীতে মাছ উৎপাদনে বিশাল সাফল্য বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য এটি বড় রকমের সুখবর বলে মনে করেন শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, 'উদ্ভাবক শফিউল এ মেলায় প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের এ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া অগণিত তরুণের। এখনও সে দেশে প্রদর্শিত হচ্ছে শফিউলের উদ্ভাবনী প্রটোটাইপটি। প্রকল্পটির প্রটোটাইপ দেখে বুঝে ওঠার উপায় নেই, এর উপযোগিতা বা বিশেষত্ব কত বড়!' এ সম্পর্কে শফিউল আলম তপন বলেন, 'বাবা কৃষক, দাদাও কৃষক ছিলেন। আমি উঠে এসেছি কৃষক পরিবার থেকেই। তপন ও তার স্ত্রী তানিয়া চৌধুরী দু'জনই সফটওয়্যার প্রকৌশলী। দু'জনের গবেষণার ফল একটি স্মার্ট ডিভাইস। যেটি অ্যারেটর (মাছের পুকুরে পানি কাটার দুটি প্রপেলার সমন্বয়ে একটি যন্ত্র, যা অক্সিজেন তৈরিতে সাহায্য করে) হিসেবে কাজ করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। পাশাপাশি খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ এবং পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ, মাছের গতিবিধি সম্পর্কেও ধারণা দেবে। অটো চার্জিং ব্যবস্থা থাকায় যন্ত্রটি ব্যবহারেও সুবিধাজনক। প্রযুক্তির ধারাবাহিক বিবর্তনের হাত ধরেই এসেছে সফটওয়্যার প্রকৌশলী শফিউল আলম তপনের এ প্রকল্পটি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ঈশ্বরদীর মৎস্যজীবী আশরাফ আলী খান বলেন, 'শফিউল আলম তপনের এ আবিস্কার সময়োপযোগী। ঈশ্বরদীর মৎস্য চাষিরাও গর্বিত তার এ সাফল্যে।' তপন জানান, কোরিয়ার গবেষণা, উন্নয়ন, এমনকি বাণিজ্যিক খাতে এ উদ্ভাবনটি পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিশেষ করে কোরিয়ার ফিশারিজ ইনফরমেশন অ্যান্ড কন্টেন্ট টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক পার্ক ইয়ং জন এ কাজটি দেখছেন বিশাল এক বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে। তিনি জানান, বাংলাদেশি তরুণের এ আবিস্কার দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাছ চাষিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরের মাঝামাঝি যন্ত্রটি পেটেন্ট পেয়ে যাবে। তারপর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। হুন্দাই কার্ড ব্যাক স্টুডিও নামের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তপন। | 6 |
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী। গত রোববার বিকেল ৫টা উপজেলার রাজনগর আন্দার মানিক বাজার এলাকায় মানববন্ধন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি আবু আলেম মাদবর আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর পক্ষে হত্যা মামলার অন্য আসামিরা প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি মামলার অন্যতম আসামি রাজনগর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল) সুলতান মাহমুদ মাদবরের সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আসামিদের জামিনের মেয়াদ পার হলেও তাঁরা এলাকায় অবাধে ঘুরছেন। এতে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। তাই আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আলেম মাদবর বলেন, 'আমার নামে কোনো হত্যা মামলা নেই। তাঁরা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া এই মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আর কাউকেই আমি হুমকি বা ভয়ভীতি দেখাইনি।'এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ মাদবর, সাবেক চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান মীরমালত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মীরমালত, ইকবাল হত্যা মামলার বাদী আমিন ফকির, আলমগীর হত্যা মামলার বাদী জাহাঙ্গীর মীরবহর, সাদেক আলী সরদার, জলিল শরীফ ও রাজনগর যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার মীরমালত প্রমুখ। | 6 |
প্রিমিয়ার লিগ হকির প্রথম রাউন্ডে মোহামেডানের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল আবাহনী। গতকাল সুপার ফাইভের ম্যাচে সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে আকাশি-নীলরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে মোহামেডান। সাদা-কালোদের হারে দ্বিতীয় লিগ শিরোপার খুব কাছে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। গতকাল পরের ম্যাচে বাংলাদেশ স্পোর্টিংকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে ২০১৬ লিগ চ্যাম্পিয়নরা।মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম খেলায় আবাহনীর হয়ে জোড়া গোল করেছেন খোরশেদুর রহমান। বাকি দুই গোল করেছেন আরশাদ হোসেন ও ডাচ হর্ন কেলারম্যান। মোহামেডানের দুই গোলই এসেছে আর্জেন্টাইন গঞ্জালো পেইলাতের স্টিক থেকে। লিগের ১৩ ম্যাচের সবগুলোয় জয় পাওয়া মেরিনার্সের পয়েন্ট ৩৯। | 6 |
সিলেট: সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য 'বিশেষায়িত' শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শুধু করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী ভর্তি নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। শয্যা কম থাকায় প্রমাণিত করোনা রোগী ছাড়া ভর্তি না নেয়ার এ সিদ্ধান্ত তাঁদের। শুক্রবারও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে আসা তিন জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এ হাসপাতালে ৯৬ জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ৮২ জন। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে ডা. সুশান্ত বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ৮২ জনের মধ্যে ৪৫ জন 'করোনা পজিটিভ' ও ৩৭ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। অবশিষ্ট ১৪টি বেড পজিটিভ রোগীদের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। কারণ যেকেনো সময় সিরিয়াস কন্ডিশনের 'পজিটিভ' রোগী আসতে পারে। এসব চিন্তা করে কয়েকটি শয্যা খালি রাখা হয়।ডা. সুশান্ত বলেন, যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে। দ্রুত অন্য হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৬২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ সময়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৫৯। | 6 |
কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক তাকে 'মৃত' ঘোষণা করেছিল। এবার সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে তসলিমা নাসরিনকে। এটি তার এ ধরনের নিষিদ্ধ হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে, বিতর্কিত পোস্টের কারণেই তার বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা। ২১ ফেব্রুয়ারিও মাতৃভাষা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন তসলিমা নাসরিন। মাতৃভূমি বাংলাদেশে রেখে আসা স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন ভারতে অবস্থানকারী লেখিকা। কীভাবে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, সে নিয়ে লিখেছিলেন তিনি। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের পডকাস্টে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন বিতর্কিত এ লেখিকা। এরপরই ফেসবুকে সাময়িক নিষিদ্ধ হলেন তিনি। নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার পোস্ট। সে কথা তসলিমা ব্যঙ্গের সুরে তার পেজে লিখেছেন, 'আমার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির উপহার!' বাংলাদেশে কীভাবে ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি সে কথা ফেসবুকে বলেছিলেন তসলিমা। নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ে ফেসবুকের নিয়ম অনুসারে ২৮ দিন তার পোস্ট সবার নিচে থাকবে। ৪৫ ঘণ্টা তিনি কোনো পোস্ট বা মন্তব্য লিখতে পারবেন না। আগামী পাঁচ দিন তিনি কোনো ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিতে পারবেন না। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় অভিনেত্রী শাঁওলি মিত্রের মৃত্যুর পরেই মৃত্যু সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছিলেন তসলিমা। সেই পোস্টে তার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। প্রথম পংক্তিতেই লিখেছিলেন, 'আমি চাই আমার মৃত্যুর খবর প্রচার হোক চারদিকে। প্রচার হোক যে আমি আমার মরণোত্তর দেহ দান করেছি হাসপাতালে, বিজ্ঞান গবেষণার কাজে।' এতে ফেসবুক বুঝে নিয়েছিল, লেখিকা আর বেঁচে নেই! সাথে সাথে তার আইডিতে 'রিমেমবারিং' শব্দ যোগ করে দেয়। সে সময়ও তসলিমা বিদ্রূপ করে লিখেছিলেন, 'জি-হা-দিদের প্ররোচনায় ফেসবুক আমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল প্রায় একুশ ঘণ্টা আগে। এই একুশ ঘণ্টায় আমি পরকালটা দেখে এসেছি।' গত নভেম্বরেও একইভাবে ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছিল তাকে। সেই সময়ে তসলিমার দাবি ছিল, 'জেহাদ, জেহাদি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু লিখলেই আমার মতো একজন মানবাধিকারকর্মীকে নিষিদ্ধ করছে ফেসবুক।' সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 3 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপ শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। বিকেল চারটায় বঙ্গভবনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে প্রথম বৈঠক হবে। এরপর বুধবার হবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে সংলাপ। ইতিমধ্যে এই দুই দলকে সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে দল দুটির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, সংলাপে রাষ্ট্রপতি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাইতে পারেন-এমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন, কীভাবে সার্চ কমিটি হবে এবং কাদের এই কমিটিতে থাকা উচিত-এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির ডাকা এই সংলাপ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তেমন কোনো তাগিদ বা উচ্ছ্বাস নেই। জাপা আজ বিকেলে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে। কিন্তু সংলাপের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দলটির নেতারা নিজেদের মধ্যে কোনো বৈঠক করেননি। আজ বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বৈঠক হতে পারে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন। জাসদও গতকাল পর্যন্ত সংলাপ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক করেনি। জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ইসি গঠনে জাপার মতামত নেওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু ইসি গঠনে আইন করা হবে কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়। ফলে আগে থেকে কোনো প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার সুযোগ কম। রাষ্ট্রপতি যেসব বিষয়ে জানতে চাইবেন, তাঁরা সেসব বিষয়ে মতামত দেবেন। জাপা ও জাসদ সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জাপার সর্বোচ্চ আটজন এবং জাসদের সাতজন নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের আলোচ্যসূচি ঠিক করতে আজ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব তাঁরা আগেই (২০১৬ সালে) দিয়েছিলেন। এবারও এই প্রস্তাব তোলা হতে পারে। ২০১৬ সালের শেষ দিকে ইসি গঠনের লক্ষ্যে একইভাবে সংলাপ শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক মাসের বেশি সময় ধরে সেই সংলাপ চলে। তখন রাষ্ট্রপতি সব দলের কথা শুনেছেন, সৌজন্য দেখিয়েছেন। কিন্তু ইসি গঠনে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। আগের দুই দফা (২০১২ ও ২০১৭ সালে) সংলাপের পর গঠিত দুই নির্বাচন কমিশনই ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। | 9 |
কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়ায় দুটি গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রায়হান ও সাদ্দাম বাহিনীর লোকজনের মধ্যে এ গোলাগুলি হয়েছে। নিহত দুজন হলেন রায়হান বাহিনীর প্রধান মো. রায়হান (২৪) ও শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা শাহেদুল হক (২২)। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, সন্ধ্যায় রায়হান বাহিনীর ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী সিকদার বাজারে পৌঁছালে সাদ্দাম বাহিনীর ২০-২৫ জন তাঁদের প্রতিরোধ করে এবং এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা এদিক-ওদিক পালাতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা শহর পুলিশ ফাঁড়ি আইসি মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, একজনের মৃতদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আরেক মৃতদেহ ঘটনাস্থলে রয়েছে। কী কারণে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তা তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
| 6 |
ঢাকা: আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথের উত্তাপ হারিয়েছে অনেক আগেই। তবু কালে-ভদ্রে ঝাঁজ পাওয়া যায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে। এবারের লিগে দুই দলের পারফরম্যান্স, লিগের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছিল, অতীতের মতো হয়তো জমবে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচটা। সেই উত্তেজনা ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন মাঠ আর মহামারি করোনা!নির্ধারিত তারিখেই শুরু হবে লিগ, নাকি পেছাবে? আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের ভবিষ্যৎ কী? লিগ শুরু হলে খেলার মাঠই-বা কোথায়? এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ক্লাবগুলোর সঙ্গে অনলাইনে জরুরি সভায় বসেছিল পেশাদার লিগ কমিটি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লিগ পিছিয়েছে এক দিন। পূর্বনির্ধারিত ২৫ জুন থেকে এক দিন পিছিয়ে ২৬ জুন আবারও শুরু হবে লিগ। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সূচিতে। ২৬ জুন বসুন্ধরা কিংস-রহমতগঞ্জের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লিগ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই হবে পরদিন ২৭ জুন।১৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকা আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মোহামেডানের চিন্তা ছিল করোনায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়া। কোচসহ ১২ খেলোয়াড় কোভিড পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় সাদা-কালো শিবিরের পক্ষ থেকে অনুরোধ ছিল, আবাহনীর বিপক্ষে তাদের ম্যাচ আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার। লিগ কমিটির সভা শেষে মোহামেডান নিজেদের প্রস্তুত করতে সময় পাচ্ছে তিন দিন। আবাহনীর সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্টে পাঁচে শন লেনের দল।লিগ সামনে রেখে অবশ্য অনুশীলনও শুরু করেছেন মোহামেডান কোচ শন লেন। তিনিসহ সাত খেলোয়াড় করোনা নেগেটিভ ছাড়পত্র পেয়েছেন কালই। দলের ম্যানেজার আহমেদ ইমতিয়াজ নকীবও করোনায় আক্রান্ত। তিনি বলেছেন, 'যে অবস্থাই হোক খেলতে হবে। বাফুফেতে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ফেডারেশন আমাদের আইন দেখিয়েছে। এখন যা-ই হোক, আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।'মোহামেডান রাজি হলেও বাফুফের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলার মাঠ। ঢাকার বাইরে সাত জেলায় চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন টঙ্গী ও মুন্সিগঞ্জ স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে পারবে না বাফুফে। খেলার উপযোগী আছে শুধু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। বর্ষা মৌসুমে জাতীয় স্টেডিয়ামে বেশি চাপ দিতে চাইছে না ফেডারেশন। শুধু ২৬ ও ২৭ জুনের দুটি ম্যাচ হবে এই মাঠে। | 12 |
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নে ডাকুরিয়া মহাশ্মশানে ধুমধাম করে বটগাছ ও পাকুড়গাছের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে গ্রামের হাজারখানেক মানুষ অতিথি হিসেবে দাওয়াত খেয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে থেকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে। সন্ধ্যাবেলা শুভলগ্নে শুরু হয় বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা। গোধূলিলগ্নে মন্ত্র পড়ে বটকে "বর" ও পাকুড়কে "কনে" ধরে বিয়ে সম্পন্ন করেন পুরোহিত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বটগাছ-পাকুড়গাছ একসঙ্গে থাকলে বিয়ে দিতে হয়। সে জন্যই একসঙ্গে বেড়ে ওঠা বট-পাকুড়গাছের বিয়ের আয়োজন করে শ্মশান কমিটি। এ জন্য শ্মশান প্রাঙ্গণ সাজানো হয় নানা রকম লাইটিংয়ে। বট-পাকুড় গাছের চারপাশ বাঁধানো হয়েছে ইট ও টাইলস দিয়ে। বিয়েকে ঘিরে বর-কনের পাশে ছাদনাতলা সাজানো হয়। বিয়ের হলুদ কোটা, পুকুর থেকে জল আনা, বর ও কনের বাবাকে দিয়ে করা হয় বিদ্ধি অনুষ্ঠান। নারীরা পুকুরে গিয়ে গঙ্গাপূজা সেরে আসেন। জল দিয়ে ভরে আনেন ঘট। ছাদনাতলায় মঙ্গলঘট বসিয়ে শুরু হয় বিয়ের নিবেদন। দুপুর থেকেই বিয়ে দেখতে বিভিন্ন এলাকার উৎসুক জনতার আগমন ঘটে। খাবারের পদে ছিল পোলাও, সবজি, ডাল, ফুলকপির তরকারি, চাটনী ও মিষ্টি। বিকেল ৪টায় বরের বাড়ি থেকে নারী-পুরুষ আসেন বরযাত্রী হয়ে। গেটে মিষ্টিমুখ করিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাদের। বাদ্য-বাজনার তালে নেচে ওঠেন সব বয়সী নারী-পুরুষ। বর-কনের চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকেন অতিথিরা। বটগাছের বাবা হয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন ডাকুরিয়া মহাশ্মশানের সেবাইত বন্ধন মিত্র ও পাকুড় গাছের বাবা ছিলেন উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য অতুল চন্দ্র সরকার। তারা দুজনই বাবার দায়িত্ব পালন করতে পেরে বেশ খুশি। তারা জানান এই বট-পাকুড় গাছের বিয়ের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যেও আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট থাকবে। বিয়ে দেখতে আসা আরতি রানী সাহা বলেন, "এই ধরনের বিয়ের কথা আমি শুনেছি। কিন্তু কখনোই নিজ চোখে দেখিনি। তাই অনেক আগ্রহ নিয়ে এই বিয়ে দেখতে এসেছি। তিনি আরও বলেন, বট ও পাকুড়ের এই বিয়েতে কোনো মঙ্গল হবে কি না জানি না, তবে ধর্মমতে দেওয়া এই বিয়েতে আমি থাকতে পেরে অনেক খুশি।" শ্মশান কমিটির সভাপতি বাবুল চৌধুরী বলেন, "সনাতন ধর্মমতে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হলে গ্রামবাসীর মঙ্গল হয়। শুধু তা-ই নয়, পবিত্র গীতাতেও বট-পাকুড়ের বিয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। পূর্বকাল থেকেই এ ধরনের বিয়ের রীতি প্রচলন হয়ে আসছে। তাই আমাদের শ্মশানের ভেতরে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।" | 6 |
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কাছে পেয়ে গণপরিবহনে চলাচলে দুর্ভোগ নিয়ে অভিযোগ করেছে এক স্কুলছাত্রী।
অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মিটারবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে শনিবার দুপুরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষদের অভিযোগ শুনছিলেন মন্ত্রী। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শামসুন্নাহার শতাব্দী হাত তুলে ইংরেজিতে বলে, 'মিস্টার মিনিস্টার, আই হ্যাভ এ কোশ্চেন।'
জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'হোয়াট ইজ ইয়োর কোশ্চেন। আর ইউ জার্নালিস্ট?' উত্তরে শতাব্দী বলে, 'নো, আই অ্যাম এ স্টুডেন্ট।'
এরপর রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে স্কুলে আসার পথে গণপরিবহনে নিজের দুর্ভোগের কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে শতাব্দী। সে জানায়, শেওড়াপাড়া থেকে ১২৩ নম্বর বাসে মেয়েদের তুলতে চায় না। তাই প্রায় প্রতিদিনই তার স্কুলে আসতে দেরি হয়।
এছাড়া অন্য অনেক বাসেও সিট খালি নেই বলে মেয়েদের তুলতে চায় না বলে অভিযোগ করে শতাব্দী।
অভিযোগ শুনে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্কুলটাইমে বিআরটিসির বাসে অবশ্যই স্কুল শিক্ষার্থীদের তুলতে হবে।
তিনি বলেন, গণপরিবহনে নারী ও শিশুদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখার বিধান মেনে চলতে হবে। অন্যথায় এসব গণপরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৬টি গাড়িকে জরিমানা ও পাঁচটি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়।
| 6 |
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পাচ্ছেন পাঁচজন নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি তাদের পুরষ্কার দেবেন। সোমবার ( ৮ মার্চ) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জয়িতাদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেবেন। তাদের প্রত্যেকে পাবেন এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ। এবার বরিশালের হাছিনা বেগম নীলা, বগুড়ার মিফতাহুল জান্নাত, পটুয়াখালীর মোসাম্মৎ হেলেন্নেছা বেগম, টাঙ্গাইলের রবিজান ও নড়াইলের অঞ্জনা বালা বিশ্বাস শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- 'করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব'। করোনাকালে বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব পর্যায়ের নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বছর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল বিভাগ থেকে বরিশাল জেলার হাছিনা বেগম নীলা। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সেরা সফল নারী হলেন রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার মিফতাহুল জান্নাত। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসএস অধ্যনরত ও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। সফল মা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হয়েছেন বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার মোসাম্মৎ হেলেন্নেছা বেগম। তিনি ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের সবাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার বড় ছেলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, মেজ ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত একজন। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। এ ছাড়া সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হয়েছেন খুলনা বিভাগের নড়াইল জেলার অঞ্জনা বালা বিশ্বাস। তিনি নারীদের দর্জি ও হাতের কাজের মাধ্যমে স্বনির্ভর করার জন্য ১৯৭৫ সালে মাতৃকেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। | 6 |
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বুধবার থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে সাধারণ যাত্রী ও ছোট গাড়ির চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এতে বাড়ছে করোনায় সংক্রমণেরঝুঁকি। সোমবার মধ্য রাত থেকেই শত শত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানে করে মানুষজন পারের জন্য পাটুরিয়া ঘাটে আসতে শুরু করে। লকডাউনের খবরে ফেরিঘাট এলাকায় ব্যক্তিগত যানবাহনের বাড়তি চাপে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা। ঘাট পার হতে আসা এসব যানবাহন পারাপারে ১৬টি ফেরি নৌপথে চলাচল করছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, সরকার সারাদেশ কঠোর লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার যাত্রী এ নৌপথে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। যার কারণে ঘাট এলাকায় ছোট গাড়ির বাড়তি চাপ পড়ায় পণ্যবাহী ট্রাক ঘাট এলাকায় আটকে পড়েছে। ফলে ট্রাকচালকদের ভোগান্তি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঘাট এলাকায় যাত্রী ও ছোট যানবাহনে চালকদের উপস্থিতি অনেক বেশি। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। ঘাট পার হতে আসা এসব যাত্রী ও যানবাহনগুলো পারাপারে নৌপথে ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। সর্বশেষ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ছোট গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক মিলে পাঁচ শতাধিক যানবাহন নৌপথ পারাপারে অপেক্ষমান রয়েছে বলে জানান তিনি। বিআইডব্লিটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহীউদ্দীন রাসেল জানান, বাস বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় কোনো বাস নেই। তবে ট্রাক টার্মিনালে আড়াইশ' সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় আছে। এছাড়া কয়েকশ' ছোট গাড়ি এ নৌরুট পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ছোট গাড়ির পাশাপাশি মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাটে আসা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকজন যাত্রী মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে তারা পাটুরিয়া ঘাটে এসেছেন। কেউ কেউ আবার ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। এসব কারণেই গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও পাটুরিয়া ঘাটে শত শত যানবাহন ফেরি পারের জন্য ঘাটে এসেছে। | 6 |
দেশজুড়ে আলোচিত 'তুফানকাণ্ডের' হোতা তুফান সরকার ও তার ভাই যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত আব্দুল মতিন সরকারের ধর্ষণ মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতে তার বিচার চলছে। তবে প্রায় পাঁচ বছর আগে এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং তাকে ও তার মাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করার ঘটনা- যেটি 'তুফানকাণ্ড' হিসেবে পরিচিত পায়-সেই মামলাটি অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়েছে। কারণ চাঞ্চল্যকর ওই মামলার বিচার চলাকালে বাদী আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তুফান সরকারসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ নেই। ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার তৎকালীন আহ্বায়ক তুফান সরকার। এরপর ২৮ জুলাই তাকে এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ন্যাড়া করে বেধড়ক পেটানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তিন সহযোগীসহ তুফান সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে নির্যাতিত ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় তুফান সরকার ও তার স্ত্রীসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। কিশোরীকে ধর্ষণ এবং তাকে ও তার মাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হলেও তদন্ত শেষে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের পৃথক ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে দু'টি চার্জশিট দাখিল করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাখিল করা চার্জশিটে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তুফান সরকারসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আর কিশোরী ও তার মাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় তুফান সরকার ও তার স্ত্রীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিশোরীকে ধর্ষণের মামলার বিচার চলছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ। আর কিশোরী ও তার মাকে নির্যাতনের মামলাটি বিচারের জন্য অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে। তবে সেই মামলায় এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি। | 6 |
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে ভোট না দেওয়া জেরে মো. তামিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের বিনসাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত তামিম হোসেন (৩৫) বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বারুহাঁস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোক্তার হোসেন মুক্তা বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আহত তামিমকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জানতে চাইলে তামিমের বাবা গোলবার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার আমাদের গ্রামের বিনসাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হয়। এতে একই গ্রামের প্রভাবশালী মো. ভুট্টুর মনোনীত একজন অভিভাবক সদস্য প্রার্থী ছিলেন। আমার ছেলে তাঁকে ভোট দেয়নি। এ খবর জানার পর শুক্রবার সকালে আমার ছেলের ওপর ওই হামলা চালানো হয়। আমার ছেলে বিনসাড়া বাজারে গেলে ভুট্টুর নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন যুবক তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আমার ছেলের হাত ও পা ভেঙে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।'গোলবার হোসেন আরও বলেন, এর পর বাজারের লোকজন এসে তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তামিমকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ভুট্টু মোবাইল ফোন ধরেননি।স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলী বলেন, বিদ্যালয়ের ওই ভোটের আগের রাতেও ভুট্টুর মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দিলে তামিমকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর বাজারে তাঁর ওপর হামলা হলো।এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে জানতে চাইলে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরপর আহত তামিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। তাঁরা যখন আসবেন, তখনই মামলা নেওয়া হবে। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) টিকাকেন্দ্রে তিনি এ টিকা নেন। এর আগে ৩১ মার্চ একই স্থানে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় গণটিকাদান কার্যক্রম। | 9 |
সিলেটে বিজ্ঞানলেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলায় ৪ আসামির ফাঁসি দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৫ সালের ১২ মে সকালে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় সিলেট নগরীর সুবিদবাজার নুরানী আবাসিক এলাকার দস্তিদার দীঘিরপাড়ে দুর্বৃত্তরা ব্লগার অনন্তকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিষিদ্ধ-ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এ হত্যাকাণ্ডে র দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। সে রাতেই সিলেটের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন অনন্ত বিজয় দাশের ভাই রত্নেশ্বর দাশ। | 6 |
বিশ্বের ৯৫টি দরিদ্র দেশকে নিজেদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফাইজার। এ তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্রুপ মেডিসিনস প্যাটেন্ট পুলের (এমপিপি) সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ফাইজারের।ফাইজার জানিয়েছে, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের পাশাপাশি সাব-সাহারান অঞ্চলের কিছু উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয় থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে-এমন ৯৫ দেশ তাদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি পাবে। এর ফলে ওই দেশগুলোর ওষুধ নির্মাতারা ফাইজারের তৈরি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্যাক্সলোভিড উৎপাদনের লাইসেন্স পাচ্ছে।চুক্তিতে বলা হয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোয় করোনার ওষুধ বিক্রি থেকে কোনো অর্থ নেবে না ফাইজার। এমনকি চুক্তির আওতায় থাকা অন্য দেশগুলোয় ওষুধ বিক্রির লভ্যাংশও ছেড়ে দিচ্ছে তারা।ফাইজার-এমপিপির চুক্তি অনুসারে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ। | 6 |
আন্তর্জাতিক জলবায়ু কর্মদিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ভালুকার খীরু নদী, জলাশয় উদ্ধার ও রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ভালুকা আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।উপজেলার খীরু নদীর তীরে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। মানববন্ধন শেষে বাপার ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান কামালের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সুমনের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র ডা. এ. কে. এম. মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ূম।আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান লিটন, হালিমুন্নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা নীনা, সাপ্তাহিক আলোর ছোঁয়া পত্রিকার সম্পাদক খলিলুর রহমার, গাজিপুর জেলা কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম তারেক প্রমুখ। | 6 |
সাবেক সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় স্পিকার ফজিলানুন্নেসা বাপ্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী চারদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন। নবম ও দশম সংসদে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী'র মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি এবং চীফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী এমপি শোক প্রকাশ করেন। | 6 |
স্বার্থান্ধ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে সমঝোতাই এখন বিএনপির রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশ নষ্ট রাজনীতির হোতা এবং নষ্ট রাজনীতির চর্চা করছে বলেই সময়টা তাদের কাছে নষ্ট মনে হচ্ছে।আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।দেশে ফ্যাসিবাদী সরকার কায়েম হয়েছে, আইনের শাসন নেই বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে এখন বিএনপির রাজনীতিই দুঃসময় অতিক্রম করছে। সরকার নয়,ফ্যাসিবাদী চরিত্র এখন বিএনপির রাজনীতিতে সুস্পষ্ট।বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, রাজনৈতিক ও সংখ্যালঘু নির্যাতনে রেকর্ড গড়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবেও আগুন-সন্ত্রাস, হেফাজতি সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের যে নজির স্থাপন করেছে তা ফ্যাসিবাদকেও হার মানায়। তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতাই বহন করে।সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অতীত-বর্তমান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এ দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং সরকার হিসেবে বিএনপিই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।বিএনপি নেতাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে এমনটা মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতা পাওয়ার জন্য উগ্র বাসনা তাদের উন্মত্ত করে তুলেছে।বিএনপি এখন আত্মবিশ্বাস হারানো এক রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন,জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতা এবং জনঘনিষ্ট ইস্যুতে তাদের দূরে অবস্থান করার নীতির কারণে জনগণই বিএনপিকে দুরে সরিয়ে রেখেছে।বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় কিন্তু নির্বাচনে যেতে চায় না,এটা বিএনপির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি সর্বজনবিদিত এমন মনে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ অগণতান্ত্রিক ও চোরাগলি খোঁজে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আসলে বিএনপি সক্ষমতা ও সাহস হারানো একটি রাজনৈতিক দল।তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়ে বলেন মুক্ত চিন্তা ও সৃজনশীলতার পথ কে রুদ্ধ করেছে?, কে আপনাদের কথা বলতে দিচ্ছে না?প্রমাণসহ বলুন।মুক্তচিন্তা মানেতো গুজব-অপপ্রচার চালানো নয়।সরকারের বিরুদ্ধে অন্ধ সমালোচনার ভাঙা রেকর্ড বাজানো কি সৃজনশীলতা? আসলে ক্ষমতা পাগল ও ক্ষমতা বিলাসী বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় এখন বেসামাল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কখন কি বলছেন, কেন বলছেন,- তা তারা নিজেরাই জানেন না। | 9 |
উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে ফুটবলের তীর্থভূমি ব্রাজিলে যাচ্ছে রাজশাহীর তিন কিশোর ফুটবলার। অনূর্ধ্ব-১৭ খেলোয়াড় হিসেবে সারা দেশ থেকে ব্রাজিল যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে ১৫ ফুটবলার। এদের মধ্যে সেরা ১১ জনের তিনজন রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড়।এই তিন খেলোয়াড় হলেন-রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার ফরহাদ, মোহনপুর উপজেলার ধুরইল এলাকার আবির হাসান এবং পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিবাস কুজুর।গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবদুল জলিল তাঁর কার্যালয় থেকে এই তিনজনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-১৭ ক্যাটাগরিতে অধিকতর উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে ব্রাজিলে যাওয়ার উদ্দেশে সারা দেশ থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেখান থেকে ১৫ জন বাছাই করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার তিনজন। আগামী মাসে ব্রাজিলের সোসিয়েদাদ স্পোর্তিভো দ্য গামা ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন করবে তারা। | 6 |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, 'চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতা দখলে রাখতে সরকার বিদেশি শক্তিকে সন্তুষ্ট করছে। বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।' রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব বলেন। এর আগে সকাল ১১টায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাসাসের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পষ্পমাল্য অপর্ণ করেন এবং প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা। গয়েশ্বর বলেন, বাইরের শক্তিকে সরকার সন্তুষ্ট করে, 'জনগণকে বঞ্চিত করে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অনেকটা জবরদখলের মতো আছে। এটাকে দীর্ঘমেয়াদী করার জন্য আরো বিদেশি স্বার্থে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এটা স্বাধীনতা নয়। বিএনপি জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব করে না।' তিনি বলেন, 'বিজয়ের এই মাসে আমি বলব, আমাদের এই বিজয় এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আমরা হয়ত পতাকা পেয়েছি, আমরা জাতীয় সঙ্গীত পেয়েছি, আমরা একটি ভৌগলিক অবস্থান পেয়েছি কিন্তু এখনো আমরা সার্বভৌম না। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারি না, পরদেশের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। যেদিন আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবো, যেদিন আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারবো সেইদিন জিয়াসহ শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর যোগ্যতা আমরা অর্জন করবো।' তিনি আরও বলেন, 'বিএনপিকে জনগণ কখনো ছেড়ে যায়নি, যাবেও না। কারণ জনগণ মনে করে- বিএনপি একটিমাত্র দল যেটা দেশের দল, একটি মাত্র দল যেটা দেশের কথা বলে, একটি মাত্র দল যেটা গণতন্ত্রের কথা বলে, একটি মাত্র দল যারা লুটপাট করে অর্থ সম্পদ বিদেশে পাঁচার করে না।' অনুষ্ঠানে জাসাসের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা বাবুল আহমেদ, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, মীর সানাউল হক, শাহরিন ইসলাম শায়লা, লিয়াকত আলী, আরিফুর রহমান মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, দেশটির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিগগির খুলে দেওয়া হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল বাকি হাক্কানি এসব তথ্য জানান। আবদুল বাকি হাক্কানি বলেন, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা চলছে। ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিগগির খুলে দেওয়া হবে। শিক্ষা কার্যক্রম আবার চালু হবে। গত আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইউনিয়নের সঙ্গে তালেবান সরকারের একটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির পর দেশটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য তালেবান সরকারের সমালোচনা করছে আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীরা। এদিকে মেয়েদের স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার প্রতিবাদে সম্প্রতি কাবুলে বিক্ষোভ করে একদল নারী। এই প্রতিবাদী নারীরা বলেন, মেয়েদের স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার মাধ্যমে আফগান নারীদের মৌলিক অধিকার হরণ হচ্ছে। আফগানিস্তানের নারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষা তাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে তাদের কোনোমতেই বঞ্চিত করা উচিত নয়। কাবুলের শিক্ষকেরা বলছেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা অত্যন্ত উদ্বেগের একটি বিষয়। এটি আফগান নারীদের শিক্ষায় গভীর প্রভাব পড়বে। এ বিষয়েত তালেবানের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। | 3 |
নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার (৭ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাস ও ঢাকাগামী সিয়াম পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- নাটোর সদরের পাইকের দোল গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে কাওসার আহমেদ (২০) ও তার ছোট বোন সাদিয়া খাতুন (১৫)। নিহতের চাচা আলমগীর হোসেন দুর্ঘটনাস্থলে এসে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল পরিবহনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ন্যাশনাল পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাজী অটো রাইস মিলের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকটিও উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন ও পাশের ক্লিনিকে নেওয়ার পর আরও এক যাত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। | 6 |
রমজানে প্রথম দিন থেকেই শুরু হতো নানা খাবারের আয়োজন, আর পনেরো রমজানের পর মার্কেটে ঘোরাফেরা, কেনাকাটা। ঈদের দু'তিন দিন আগে থেকে শুরু হতো ছেলের সঙ্গে নানা গল্প আর আড্ডা। করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে সেই প্রাণোচ্ছল পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদকে। এরপর কেটে গেছে দুই বছর। এই পরিবারে আর ঈদ আসে না!করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া পুলিশ সদস্য মো. আশেক মাহমুদের স্ত্রী মমতাজ আক্তার সুমি। এখন ঈদ এলেই স্বামীর স্মৃতিগুলো আচ্ছন্ন করে রাখে তাঁকে। তিনি আর কিছু ভাবতে পারেন না।আশেক মাহমুদের দুই ছেলে। বড় ছেলে সাইম মাহমুদ, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে ঝাউগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে।বড় ছেলে সাইম মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলে, 'বাবার মৃত্যুর প্রথম খবরটা আমার কাছেই এসেছিল। প্রথমে শুনে বিশ্বাস হয়নি। এমন সময় বাবাকে হারাতে হয়েছে যে তাঁর শরীরটা ছুঁয়েও দেখতে পারিনি। দুই বছর হয়ে গেল বাবা নেই। কিন্তু আমাদের কাছে সময়টা দুই যুগের মতো মনে হয়।' মো. আশেক মাহমুদ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রবাড়ি গ্রামের আয়েজ উদ্দীনের (মৃত) ছেলে। ১৯৯৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের ২৭ এপ্রিল দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। তাঁকে সিদ্ধেশ্বরী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আইসোলেশনে রাখা হয়। দুই দিন পর ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান।বিষাদমাখা কণ্ঠে আশেক মাহমুদের স্ত্রী মমতাজ আক্তার বলেন, 'কখনো কল্পনাও করিনি, এত অল্প সময়ের মধ্যে স্বামীকে হারাতে হবে। এখন দুই ছেলেকে নিয়ে সাগরে ভাসছি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। দুটি সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালাতেন। এখন সন্তানদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। ওরা কেমন জানি চুপচাপ হয়ে গেছে।'প্রতি ঈদের আগে পুলিশ বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে মমতাজ আক্তার বলেন, 'তিনি চলে যাওয়ার পরও পুলিশ বিভাগ সহযোগিতা করেছে। সেই টাকায় বাড়ি করেছি। এখন প্রতি মাসে ৯ হাজার ৯০০ টাকা পাই। সেই টাকায় চলতে হয়। সহযোগিতায় পাওয়া টাকা আস্তে আস্তে খরচ করতে হচ্ছে। একটা সময় সেই টাকা ফুরিয়ে যাবে। তখন দুই সন্তানকে নিয়ে কী করব, সেই চিন্তা হয়।' | 6 |
করোনাভাইরাস যেমন মিউটেশন করে বারবার রূপ পরিবর্তন করে, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতও তেমনি বারবার নিজেদের রূপ পরিবর্তন করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অসহায় দুস্থ, দিনমজুরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, 'এদের সুর নিয়মিত পরিবর্তন হয়। একই মানুষ একই মুখে ছয় থেকে বারো রকমের কথা বলে। কখনো ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচারে ব্যস্ত, কখনো মাস্ক পরিধান নিয়ে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। লকডাউন নিয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলে। আমাদের করোনা থেকে যেমন মুক্তি পেতে হবে, তেমনি এই সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতিবিদদের হাত থেকে সচেতন থাকতে হবে।'তিনি বলেন, 'যারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, মানুষকে ভালোবাসে না, তারা গুজবের ফ্যাক্টরিতে বসে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। তারা মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, ভ্যাকসিন নিয়ে, লকডাউন নিয়ে অপপ্রচার করছে। তারা ভ্যাকসিন নিয়ে প্রথমে অপপ্রচারে ব্যস্ত ছিল, তারপর নিজেরাই ভ্যাকসিন নিয়েছে। বিভ্রান্তি আর গুজব ছড়ানোই তাদের রাজনীতি। যারা দুর্নীতিতে বিশ্ব খেতাবধারী, তারা সত্যের পাশে যেতে পারেনি। তাদের সত্য বলার আহ্বান জানাই। করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত, মাস্ক যথাযথভাবে পরা উচিত।'অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব এম আমিনুল ইসলাম, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব খায়রুল আলম প্রিন্স, দপ্তর সম্পাদক এম মিজানুর রহমান প্রমুখ। | 9 |
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ডেভিড অ্যামেসকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ২৫ বছর বয়সী তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির মনোনয়নে গত চার দশক ধরে পার্লামেন্ট সদস্যের পদে ছিলেন অ্যামেস। তাঁর সংসদীয় এলাকা যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা এসেক্স। লন্ডন থেকে পূর্ব দিকে নিজ সংসদীয় এলাকার লে-অন-সি নামক স্থানে একটি গির্জায় প্রার্থনা করতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এক সন্ত্রাসী তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।হামলার পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণকে।সোমালীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসেক্স মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাস দমন পুলিশিংয়ের সিনিয়র জাতীয় সমন্বয়কারী, উপসহকারী কমিশনার ডিন হেইডন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, 'ইসলামি চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত একটি সম্ভাব্য প্রেরণায়' এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, জানতে শুক্রবার বিকেল থেকেই এসেক্স পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আর কাউকে আটক করা যায়নি। কর্মকর্তারা লন্ডনের এলাকায় দুটি স্থানে তদন্ত চালিয়ে এখন পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন, লোকটি একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।অ্যামেসের মৃত্যুতে দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এক টুইট বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী নাদিম জাহাভি বলেন, 'রেস্ট ইন পিস স্যার ডেভিড। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, মানুষের অধিকার ও এসেক্সের জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারণে আপনাকে সবাই মিস করবে।'যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ক্যারি জনসন টুইট বার্তায় বলেছেন, 'স্যার ডেভিড অ্যামেস অত্যন্ত দয়ালু এবং ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি একজন প্রাণীপ্রেমী ছিলেন। তাঁর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আমার চিন্তা হচ্ছে।'এ ছাড়া দেশের সর্বস্তরের জনগণ অ্যামেসের মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তবে ২০১৬ সালে আরেক এমপি জো কক্স হত্যার পাঁচ বছরের মাথায় আবার এমন হত্যাকাণ্ড ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী ও মেরুকরণ রাজনৈতিক যুগে এমপিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।আরও পড়ুন:যুক্তরাজ্যে ছুরিকাঘাতে এমপি নিহত | 3 |
একটি পেঁপে বাগানের সব গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। বাগানটি মাগুরা জেলা শহরের কছুন্দি ইউনিয়ন পরিষদের বেলনগর গ্রামের চপল মোল্যার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি সবার সামনে আসলে এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।এ বিষয়ে মন্তব্য করেন কলেজশিক্ষক আখাতারুজ্জামান হিরোক। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা যখন জীব কিংবা এ রকম উদ্ভিদের ওপরে খাটানো হয় তখন সেই সব দুষ্কৃতকারীদের মনুষ্যত্ব বোধ থাকে না।ভুক্তভোগী কৃষক চপল মোল্যা জানান, এই পেঁপে গাছ থেকে চলতি বছরসহ আগামী ৩ বছরে ১৫ লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর।এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, গত বছর বাবলু মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে তিনি ১ হাজার ৮০০টি পেঁপের চারা রোপণ করেন। যেখানে এ বছরই প্রথম পেঁপের ফলন এসেছে।জমির ইজারামূল্যসহ ২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে তাঁর এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার পেঁপে তিনি বিক্রি করেছেন। চলতি বছরসহ আগামী ৩ বছরের তিনি ১৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছিলেন। ৩৯০টি পেঁপে গাছ কেটে দেওয়ায় তাঁর গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হলো। পাশাপাশি বাকি গাছ গুলির নিরাপত্তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। কারা তাঁর সঙ্গে এ রকম নির্মম শত্রুতা করল সেটি তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে জমি ইজারার বিষয় নিয়ে স্থানীয় দু-একজনের সঙ্গে তাঁর কিছুটা বিরোধ হয়ে ছিল এর আগে। কিন্তু তা এ ধরনের খারাপ কাজকে প্রভাবিত করার মতো নয় বলে তিনি বলেন।স্থানীয় মানুষেরা এর নিন্দা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে গাছের সঙ্গে এই শত্রুতার পৈশাচিক কাজ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। তাঁরা এর সুষ্ঠু সমাধান চান প্রশাসনের কাছে।চপল মোল্যা জানান, তিনি এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে তিনি আদৌও জানেন না এই ক্ষতিটা করল কে।এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মানুষের মধ্যে বিরোধ থাকলে এমনটা হতে পারে। বিষয়টি দুঃখজনক। স্থানীয় বিট পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত পূর্ব আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কারা দায়ী কিংবা কি কারণ তা খতিয়ে দেখছে বিট পুলিশ। | 6 |
ভ্যানে শুয়ে আছেন ৮০ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম। ভ্যান চালান তাঁর ৮৫ বছর বয়সী স্বামী খলিল শেখ। এভাবে ঘুরে যখন যেখানে রাত হয় সেখানে খোলা আকাশের নিচেই ঘুমিয়ে যান। ৫ বছর ধরে এভাবে ভ্যানে ঘুরে ঘুরেই চলছে তাঁদের জীবন; এটিই তাঁদের সংসার।মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় ছয়ঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে ১ নভেম্বর সোমবার তাঁদের দেখা মেলে। জানা যায়, ভূমিহীন খলিল শেখ রামপাল এলাকায় অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর করে থাকতেন। সেখানে বসেই চার মেয়ে বিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। পরে একদিন স্ত্রীকে নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে আর ফিরে যাননি। সেখান থেকে একটি ভ্যান কিনে চলে আসেন কালিগঞ্জ এলাকায়। সেখানে কোন ঠাঁই না পেয়ে কালিগঞ্জের পথে পথে ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো শুরু। ৫ বছর ধরে চলছে এমন জীবন।সবশেষ, শালিখা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের মো. ইলিয়াসের বাড়ির পাশে মেহগনি বাগানে থাকা শুরু করেন। পরে ইলিয়াসের স্ত্রী রাফেজা খাতুনের সহযোগিতায় মেহগনি বাগান থেকে ঠাঁই হয় গোয়াল ঘরে। সেখানে তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে রাত যাপন করছেন খলিল। সারা দিন স্ত্রীকে ভ্যানে শুইয়ে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ও মানুষের বাড়িতে ঘুরে পুরোনো কাপড় বিক্রি করেন। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে স্বামী-স্ত্রীর জীবিকা। বাকি টাকা শেষ হয়ে যায় নিজের ও অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ বাবদ।প্রবীণ খলিল শেখ ও তাঁর স্ত্রী রাবেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চার মেয়েকে কোন মতে বিয়ে দিয়েছেন। এখন দুজনের জীবন ভ্যানেই চলছে। প্রতিদিন দুজনের প্রায় ২০০ টাকার ওষুধ লাগে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও কারও কাছে হাত না পেতে পুরোনো কাপড় বিক্রি করেই জীবন চালান। তবে কেউ কেউ সাহায্য করেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। এই শেষ বয়সে এসে এভাবে জীবন কাটাতে তাঁদের অনেক কষ্ট হয়। তাঁরা থাকার জায়গা চান, খাবার চান, ওষুধ কেনার টাকা চান।এরই মধ্যে মহম্মদপুর এলাকার বণি আদম নামের একজনের ফেসবুক পোস্ট দেখে মালটা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মশিয়ার রহমান এই অসহায় দম্পতির পরিবারের কাহিনি জানতে পারেন। এর পরেই তিনি শতখালী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের মাধ্যমে ওই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সহযোগিতা করেন।জাকির হোসেন জানান, এই অসহায় প্রবীণ পরিবারের থাকা ও খাওয়া ব্যবস্থা মালটা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মশিয়ার রহমানের মাধ্যমে করা হবে। যে যেখান থেকে পারেন তাঁদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। | 6 |
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার আবেদন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু'দিনের মাথায় গোটা ঘটনা এক সাম্প্রদায়িক মোড় নিল দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সহযোগী রাজনৈতিক দল শিবসেনার সৌজন্যে। 'জনবিস্ফোরণ আটকাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব মুসলিম সম্প্রদায় বোঝেই না', এই ভাষাতেই দলীয় মুখপত্র 'সামনা'র সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করেছে উদ্ধব ঠাকরের দল। নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, 'পরিবার পরিকল্পনা করাই প্রকৃত অর্থে দেশপ্রেম।' সেই সম্পর্কে সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, 'গোড়া মুসলমানরা জনবিস্ফোরণ নিয়ে চিন্তিত নয়। 'হাম দো হামারে পচ্চিশ (আমরা দুই জন, আমাদের সন্তান ২৫ জন)' এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না তারা।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক বেওয়ারিশ কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলার দায়ে অজ্ঞাত ৪ / ৫ ব্যক্তির নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়। এতে সংগঠনের সহসভাপতি সাজেদা হোসাইন বাদী হন।অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার তাঁর ফেসবুকে 'কুত্তাওয়ালা' নামের একটি পেজে দেখেন ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় কয়েকজন মিলে একটি কুকুরকে নির্যাতন করছে। সেখানে তারা কুকুরকে লোহার শিক, কাঠের বেলচা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে মেরে ফেলে। পরে কুকুরের মৃতদেহের গলায় রশি দিয়ে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে বিভিন্ন রাস্তায় প্রদর্শন করে।বিষয়টি দেখে সংগঠনের আরিজকে অবগত করলে তিনি দুপুরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ ময় অজ্ঞাত কয়েকজন তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণের পাশাপাশি মারধর করার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন ভঙ্গের বিষয়টি আনা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, 'কুকুর পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
বাহরাইনের পক্ষ থেকে কাতারের জলসীমা লঙ্ঘনের কঠোর প্রতিবাদ করেছে দোহা। জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাতার বলেছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের তৎপরতা অবসান এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি শেইখা আলিয়া আহমাদ বিন ইউসুফ আলে সানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জেরি ম্যাথুস মাতজিলা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে দুটি আলা চিঠি দিয়েছেন। এতে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৫ নভেম্বর বাহারাইনের সামরিক নৌযান কাতারের জলসীমা লঙ্ঘন করেছে। ঘটনাকে তিনি বিপজ্জনক ও বেআইনি বলে নিন্দা জানান। কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর বাহরাইন কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে যার মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মানার ব্যাপারে বাহরাইনের অনীহার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভরাডুবি হয়েছে নৌকা প্রতীকের। ৯ ইউপির মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে মাত্র ২টিতে। বাকি সাতটির মধ্যে তিনটিতে জামানত হারাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ সাতটিতে জয়ের মুখ দেখেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, বিএনপি (স্বতন্ত্র) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রথম থেকে চতুর্থ দফা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৬ উপজেলার ৬৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা হেরেছে ৪১টি ইউনিয়নে। শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি তিনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জানুয়ারি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক বলেন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে অসিম কুমার মৃধা ও নূরনগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বখতিয়ার আহমেদ জয়লাভ করেন। অন্য সাতটিতে নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। প্রার্থী নির্বাচনে ভুল, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অনেকাংশে নৌকার বিপক্ষে অবস্থায় নেওয়ায় নৌকার পরাজয় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক গাজী আনিছুজ্জামান ও রমজাননগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আল মামুন জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া গাবুরা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী মাসুদুল আলম ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক স্বতন্ত্র (বিএনপি) মো. আমজাদুল ইসলাম জয়লাভ করেন। কৈখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহিম, বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী নজরুল ইসলাম ও আটুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সালেহ জয়লাভ করেন। উপজেলার তিন ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তাঁরা হলেন, আটুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী নজরুল ইসলাম, রমজাননগর ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য শাহানুর আলম ও কাশিমাড়ী ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সমশের ঢালী। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল করিম জানান, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকে। আটুলিয়া ইউনিয়নে ২০ হাজার ৫২৮ ভোট পড়লেও নৌকা প্রতীকের গাজী কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৯৩ ভোট। রমজাননগরে প্রদত্ত ১৫ হাজার ১০ ভোটের মধ্যে নৌকা প্রতীকের শাহনুর আলম পেয়েছেন ৬৯৫ ভোট এবং কাশিমাড়ী ইউপিতে ১৭ হাজার ২১৭ ভোট পড়লেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমশের ঢালী পেয়েছেন ১ হাজার ৫২৬ ভোট। | 9 |
স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলিপূর্বক প্রেষণে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগমকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব শরিফা খানকেও সচিব পদে পদোন্নতির পর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। | 6 |
শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খ্রিস্ট্রান ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস। রবিবার রোমের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। তিনি ডাইভারটিকুলার স্টেনোসিস রোগে ভুগছেন। এরই মধ্যে তার কোলন ডাইভারটিকুলাইটিস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। পেট ও মাথা ব্যাথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে রবিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও সাপ্তাহিক প্রার্থনা সমাবেশে বক্তব্য দেন পোপ। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
নবদম্পতিদের জীবন সুখের হওয়াই কাম্য। একসঙ্গে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সহনশীলতা, সহানুভূতি ও দুজন দুজনকে গ্রহণ করে নেওয়ার মানসিকতা।পুরুষ হোক বা নারী, বিয়ের দিন থেকে দুজনের জীবনের গতিই পাল্টে যায়। পাল্টে যায় ধারাবাহিকতা, নিয়মনীতি ও চিরাচরিত অভ্যাসগুলো। কিন্তু পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সাহায্য করার মানসিকতা বদলে দিতে পারে গোটা জীবনটাই। শুধু নববিবাহিত দম্পতি কেন, পুরোনো সম্পর্কগুলোও সজীব হয়ে উঠবে-এর জন্য প্রয়োজন নিজের ভাবনার জায়গাগুলোকে একটু বদলে নেওয়া।পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধএকটি সম্পর্কের জন্য শ্রদ্ধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে যে আমরা কেউই কারও মতো নই, সবাই ভিন্ন। নিজেদের ভেতরের মিলগুলো নিয়ে আনন্দে থাকুন আর ভিন্ন দিকগুলোকে সম্মানের চোখে দেখুন। পারস্পরিক অভ্যাস, চলাফেরা, ধ্যানধারণাকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখুন ও প্রয়োজন বোধে উৎসাহ দিন। ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার সানজিদা শাহ্রিয়া বলেন, দুজন দুজনের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। যখন কোনো ব্যক্তি ভাবে, আমি যা মনে করি সেটাই সঠিক, ওপাশের মানুষটি ভুল; তখন থেকেই কিন্তু তাঁরা বিন্দু বিন্দু করে একে অপরের কাছ থেকে সরেযেতে শুরু করে।স্বচ্ছতা জরুরিসম্পর্ক নির্ভুল হওয়ার চেয়ে স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। কারও ভুল হতেই পারে। তা নিয়ে হতাশায় ভুগবেন না বা প্রিয় মানুষটিকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। বরং দুজনেই সৎ থাকার চেষ্টা করুন, সত্য বলুন। কোনো কাজে আটকে গেলে বা ফিরতে দেরি হলে সত্য কথাটিই তাঁকে জানান। মিথ্যে অজুহাত দেখাবেন না। সত্য যতই নির্মম হোক না কেন, মানুষের মনে তা স্বচ্ছতার জন্ম দেয়।বিশ্বাসএকে অপরের বিশ্বাসভাজন থাকার ও বিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করুন। যিনি আপনাকে এত বিশ্বাস করেন, তাঁর বিশ্বাস ভেঙে দেবেন না। বিশ্বাসই শ্রদ্ধার জন্ম দেয়। কোনো কাজ করার পর অপরাধ বোধ হলে তাঁর কাছে ব্যাপারটি খুলে বলুন, এতে সংকোচ হতে পারে। কিন্তু এতে আপনার সঙ্গীটি ভেতরের সচেতনতাকে অনুভব করতে পারবেন। ফলে সম্পর্কের প্রাচীর হবে আরও মজবুত। একবার হলেও বলুন ভালোবাসিমুখে বললেই ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা ব্যাপারটা আচরণেই প্রকাশ পায়। আপনার সঙ্গীকে আপনি যত ভালোই বাসুন না কেন, তাঁকে দিনে একবার হলেও মুখে জানান যে আপনি তাঁকে অনেক ভালোবাসেন। কারণ, আপনার অগাধ ভালোবাসায় তাঁর মনের চাহিদা পূরণ হলেও কান যে কিছু শুনতে চায়। এ ব্যাপারটিখুব জরুরি। সমস্যা নিজেরা সমাধান করুনসানজিদা শাহ্রিয়া বলেন, অনেক সময়ই যে ভুলটা হয়ে যায় তা হলো, স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে বাউন্ডারি রাখতে পারেন না। কোনো সমস্যা হলে দুই পরিবারেই জানাজানি হয়ে যায়। এতে সমস্যা সমাধানের থেকে বেড়ে যায় অনেক সময়। নিজেদের বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে একে অপরকে। এ জন্য কোয়ালিটি টাইমের কোনো বিকল্প নেই।হাসুন প্রাণখুলেসারা দিন পর বাড়ি ফিরে দুজনেই যখন ক্লান্ত তখন দুজনেই হয়ে উঠুন একে অপরের আনন্দের মাধ্যম। একসঙ্গে গল্প করুন, চা-কফি খান আর প্রাণ খুলে হাসুন। যখনই সময় পান একে অপরকে খুশি রাখতে আর হাসাতে চেষ্টা করুন। এতে দুজনের কাছে দুজনের গুরুত্ব অনেক গুণ বেড়ে যাবে। দুজনেই খুঁজে পাবেন বেঁচে থাকার মানে।তুমি আমি দুজনেএখনকার দিনে নারী-পুরুষ সবাই ঘরের বাইরে কাজ করছেন। তাই অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুজনে মিলেই বানিয়ে ফেলুন চা, কফি বা কোনো মজাদার স্ন্যাকস। ছুটির দিনে ভাগাভাগি করে রান্না করুন। বিচার করুন একে অপরের পারদর্শিতা। হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠুন একে অপরকে নিয়ে। | 4 |
'সততাই শক্তি, সুসাংবাদিকতায় মুক্তি' শ্লোগানকে ধারণ করে শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া অনলাইন পত্রিকা 'ঢাকাপ্রকাশ'। সোমবার বিকেলে হোটেল লা ভিঞ্চির মোনালিসা হলে পত্রিকাটির লোগো উন্মোচন করেন পাঁচ সম্পাদক। অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে লোগো উন্মোচন করা হয়। পরে কেক কাটা হয়। যৌথভাবে লোগো উন্মোচন ও কেক কাটেন- দ্য ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও পাক্ষিক অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকাপ্রকাশ-এর প্রধান সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, 'প্রায় ত্রিশ বছর প্রিন্ট মিডিয়ায় রিপোর্টার থেকে চিফ রিপোর্টার, উপ-সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকসহ নানা দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর আলোকে দ্বিভাষিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকাপ্রকাশ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।' মোস্তফা কামাল আরওবলেন, 'কয়েকজন সুহৃদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি ঢাকাপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমরা সততা ও সুসাংবাদিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই।' দ্য ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ''এই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ, অসততা, দুর্নীতি, অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা। ঢাকাপ্রকাশের শ্লোগানই 'সততাই শক্তি, সুসাংবাদিকতায় মুক্তি'। আমার বিশ্বাস তারা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপন করবে।'' বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার বলেন, 'ঢাকাপ্রকাশের সম্পাদক বিনয়ী ও সৎ মানুষ। আমার বিশ্বাস তিনি সেই সততা ও সুসাংবাদিকতার মাধ্যমে পত্রিকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।' জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, 'কঠিন সময় পার করছে গণমাধ্যম। কিন্তু এই কঠিন সময়েও আসছে নতুন নতুন পত্রিকা। এটা প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, সততা ও সুসাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় প্লাটফর্ম হবে ঢাকাপ্রকাশ।' পাক্ষিক অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'মোস্তফা কামাল লড়াকু মানুষ। লড়াই করেই তিনি এতদূর এসেছেন। সাংবাদিকতার নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকাপ্রকাশ তার স্বপ্নের গণমাধ্যম। তার স্বপ্ন ও অধ্যবসায় সফল হবে এটাই প্রত্যাশা করি।' বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ১ তারিখে প্রকাশিত হবে ঢাকাপ্রকাশ টোয়েন্টিফোর ডটকম। | 6 |
পরোক্ষভাবে আফগান যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে বলেছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের মূল সময়সীমা ছিল ১১ সেপ্টেম্বর। তিনি বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে রাখার অর্থ হবে আরও বেশি প্রাণহানি। বাইডেন 'ভিন্ন কোনও ফলাফল' পরিভাষা ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে একথার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, আফগানিস্তানে গত ২০ বছরের মার্কিন সেনা উপস্থিতির ফলাফল শূন্য। মার্কিন বাহিনী ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো আফগান যুদ্ধেও পরাজিত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, এরইমধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে ৯০% সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগান কর্তৃপক্ষকে কোনও রকম তথ্য না দিয়ে মধ্যরাতে আফগানিস্তানের প্রধান সামরিক ঘাঁটি বাগরাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, "একটি একক আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে গোটা দেশ পরিচালিত হবে এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।" একইসঙ্গে তিনি একথাও বলেন, "গোটা দেশ তালেবান দখল করে নিয়ে আগের মতো এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে- সে আশঙ্কাও নেই বললেই চলে।" বাইডেন বলেন, এখন আফগান জনগণই ঠিক করবে কোন সরকারের মাধ্যমে তাদের দেশ পরিচালিত হবে। বাইরে থেকে বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। চলতি মাসের গোড়ার দিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জেলায় তালেবান ব্যাপকভাবে হামলা শুরু করেছে। তারা দেশটির শতাধিক জেলা দখল করে নেওয়ার দাবি করেছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
আজ ১৭ মার্চ। আজ থেকে ১০২ বছর আগে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক লেখা, অনেক স্মৃতিচারণা দীর্ঘ সময় ধরেই প্রকাশিত হয়েছে। সে সবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে বিষয়গুলো অনুচ্চারিত থেকে গেছে, তার একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে একটি লেখা তৈরির ইচ্ছে ছিল আমার অনেক দিনের।একটা মানুষ কত মনে রাখতে পারে? কত মানুষের ঠিকানা, কত মানুষের নাম, কত মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের জটিলতা-এসব মনে রাখা কতটা সম্ভব? একটা পর্যায়ে সফোক্লিসের ইডিপাস বলে উঠেছিল, 'মানুষ কত মনে রাখবে!' সেটি ছিল তার ব্যক্তিগত সংকটের একটি মুহূর্তের কথা। কিন্তু এমন কী সম্ভব একজন মানুষ শত শত মানুষের নাম, বাবার নাম, গ্রামের নাম অথবা বাড়ির একজন জটিল রোগীর কথা মনে রাখতে পারে? এ অসম্ভব কাজটি দেখার সুযোগ হয়েছিল আমাদের বঙ্গবন্ধুর মধ্যে। অবলীলায় তিনি প্রশ্ন করতেন, 'কী রে, তোর বাবার পেটের ব্যথাটা কমল? ওই যে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, তারপর কেমন আছে?' অবাক বিস্ময়ে লোকটি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। উত্তর দেয়, 'বাবা ভালো ছিল। এই তিন মাস আগে ইন্তেকাল করছে।' বঙ্গবন্ধু চোখের চশমাটা খুলে একটা হাহাকার দিয়ে আবার চোখে চশমা লাগিয়ে নেন।কত মানুষের কত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। সেগুলো কোনো খাতায় লিখে রাখেননি। শুধু স্মৃতি থেকে অবলীলায় বলে ফেলতেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল গ্রাম থেকে। সেখান থেকে কলকাতা। কলকাতায় এসেই মূলত তাঁর রাজনীতিচর্চার সূচনা। যখন তিনি রাজনীতি শুরু করেন, তখন রাজনীতিতে অধিকার কেবল উচ্চবিত্তদের। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিত্তবানদের সন্তানেরা লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে রাজনীতিতে ভিড়তেন, সেখানে মধ্যবিত্তদের এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের একেবারেই প্রবেশাধিকার ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেই জায়গাটা করে নিয়েছিলেন গণচরিত্র দিয়ে। সেখানেও স্মৃতি। সারা বাংলা এবং আসাম থেকে প্রচুর ছাত্র কলকাতায় এসে ভিড় জমাতেন। কারণ ভাগ্যান্বেষণ এবং উচ্চশিক্ষা। তাঁদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, কখনো কখনো অনাহারক্লিষ্ট কোনো ছেলের আহারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ওই নামটিও তাঁর মুখস্থ হয়ে যেত। তিনি যখন গ্রামে ফিরতেন জাহাজের খালাসি থেকে শুরু করে নৌকার মাঝি সবার নামই তাঁর মুখস্থ হয়ে যেত। যতবার তিনি জেলে গিয়েছেন জেলের কয়েদি, জমাদার, জেলার এমনকি জেল হাসপাতালের ডাক্তার-তাঁদের নামও তাঁর মুখস্থ। মানুষ সাধারণত প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নাম মুখস্থ করে স্মৃতিকে ভারাক্রান্ত করতে চায় না। কিন্তু তখনকার মুজিব ভাই এটা বুঝেছিলেন, মানুষের পরিচয় মনে রাখার একটা বড় প্রয়োজন আছে। তিনি যেমন প্রথম থেকেই স্বপ্ন দেখেছেন রাজনীতি করবেন বিত্তহীন মানুষদের নিয়ে, তাই তাদের নাম-পরিচয় তাঁর জীবনখাতার এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আমরা দেখেছি জমিদার, সামন্তরা প্রজাদের নাম মনে রাখতে পারে না বা তাদের ইচ্ছেও হয় না। তাই জমিদার কাউকে দেখলে বলে ওঠে, 'এই, তুই যেন কার ছেলে রে?' মানুষের অস্তিত্বের তাদের কাছে মূল্য নেই। মুজিব ভাই ওই সময় বুঝেছিলেন মানুষের পরিচয় জানার অর্থই হচ্ছে তাকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেওয়া। তিনি যখন ট্রেনে ভ্রমণ করতেন, অসংখ্য মানুষ তাঁকে তখন দেখতে আসত। তার মধ্যে অনেকেই ছিল, যারা তাঁর পূর্বপরিচিত। দু-একজনের বাড়িতে হয়তো তিনি কখনো এক বেলা খেয়েছেনও। ওই ভিড়ের মধ্যেই তিনি চিহ্নিত করতেন এবং ডাকতেন, 'ওরে আয়। লাউয়ের তরকারি কি আজকেও নিয়ে এসেছিস?' সহাস্যে এবং লজ্জার সঙ্গে পরিচিত লোকটি বলে উঠত, 'ট্রেন ফেরার সময় নিয়ে আসি?' মুজিব ভাই বলতেন, 'ফেরার পথে তো এ রাস্তা দিয়ে যাব না রে। তর মায় কী রান্নাবান্না করতে পারে?' উত্তরে সেই লোকটি বলত, 'আর কারও জন্য না পারুক, আপনার জন্য পারবে।'তিনি যখন রাজনৈতিক সফরে যেতেন কখনো কখনো রান্নাবান্নার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকত। কিন্তু অধিকাংশ সময় সে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে খাওয়া হতো না। দেখা গেল দুপুরের ট্রেন রাত ১১টায় পৌঁছাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যখন সাতই মার্চের ভাষণ দিচ্ছিলেন, প্রবল জনস্রোতের মধ্য দিয়ে মঞ্চে উঠছিলেন, তখন ভয় পাচ্ছিলাম এত লোকের মধ্যে তিনি উঠবেন অথবা ১০ জানুয়ারিতে যখন দেশে ফিরে এলেন লাখ লাখ মানুষের মধ্যে তিনি আবারও ওপরের বেদিতে উঠছিলেন, আমরা আবারও ভয় পাচ্ছিলাম। তিনি সামাল দিতে পারবেন তো? কিন্তু জনতাই শৃঙ্খলা এনে দিল। প্রিয় বঙ্গবন্ধুকে তারা মুহূর্তেই তাদের আপন করে নিল।সামন্তবাদী নেতারা প্রায়ই জনবিচ্ছিন্ন থাকে, তারা ভয় পায়। জনতাকে ভয় পাওয়াটা তাদের চরিত্রের একটা অংশ। তাই তারা কোনো কিছু মনে রাখতে চায় না। না মানুষ, না জায়গাটা, না কোনো ঠিকানা। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ বাংলা তো দূরে থাকুক সিন্ধু, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান-এসব জায়গারও কোনো মানুষকে চিনেছেন বলে মনে হয় না। তাঁর কাছে কোনো সংবাদও পৌঁছাত না। এত বড় একটা দাঙ্গা হয়ে গেল বাংলায় ও পাঞ্জাবে অথচ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে অবলীলায় বলে ফেললেন, 'গত সাত দিন কী হয়েছে, আমি কিছুই জানি না।' এই সাত দিন তাহলে কোথায় ছিলেন তিনি? একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কি তাঁর যোগযোগ ছিল না যে তাঁকে এ ভয়ংকর সংবাদটি জানিয়ে দিতে পারে?ষাটের দশকে আমাদের দেশে পুলিশ, সেনাবাহিনী বিভিন্ন জায়গায় অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধুসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃত্ব তখন জেল খাটেন। জেলখানায় বসে তিনি সব সংবাদ জানতেন এবং তাঁর যাঁরা কর্মী তাঁদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতেন। যাঁর টাকা প্রয়োজন, তাঁকে টাকা পাঠানো; যাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা-এসব দ্রুত ব্যবস্থা নিতেন। জেলখানার ভেতরেও এক বেলার পরিচয়েই সারা জীবনের জন্য পরিচয় হয়ে যেত। যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নানা ব্যস্ততার মধ্যেও পাশের কয়েদিকে তিনি ভুলতেন না। একটা বিষয় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর কাজ মানুষকেন্দ্রিক। মানুষকে নিয়েই আন্দোলন, মানুষকে নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতা দখল। একদিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাঁরা আছেন তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই, আবার অন্যদিকে ঘরে ঘরে কর্মী বাহিনীকে দিয়ে দুর্গ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা।এই সময়ে বিশাল বিশাল সমাবেশ হয়েছে। কখনো শ্রমিক, কখনো কৃষক, কখনো পেশাজীবী-এসব সমাবেশেও তিনি গণচরিত্রটাকে রক্ষা করতেন। সেই সময়ে বর্ষীয়ষী নেতাদের তিনি পিতৃতুল্য শ্রদ্ধা করতেন। যেমন মওলানা ভাসানী। যাঁর সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কোনো দিন কোনো বয়স্ক নেতার সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণ করেননি। সবটা মিলিয়ে যা দাঁড়ায় তা হলো, গোটা দেশটাকে তিনি একটি অভিন্ন পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তাসম্পন্ন মানুষ যাঁরা কমিউনিস্ট পার্টি করতেন, সেই সব ত্যাগী নেতাকে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন এবং পরিবারের অংশ হিসেবেও ভাবতেন। এমন করেই তিনি সারা দেশে একটা অদৃশ্য সংযোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলাফলে অনেক মানুষকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিতে পেরেছিলেন।যা তিনি ভাবতে পারেননি: বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সুদীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষাও অবর্ণনীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতায়ও আরেক নতুন লড়াই। সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়; বরং তার মধ্যে একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এর মধ্যে আছে বিশ্বাসঘাতক ১৬ ডিসেম্বরের একদল বাহিনী। দেশে প্রচুর অস্ত্রের ছড়াছড়ি। দেশ তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। আমেরিকা বাংলাদেশের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। তার সঙ্গে পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরবও রয়েছে। এই সময়ে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে আগের মতোই ভাবতেন। আমি নিজ চোখে দেখেছি, একদিন দুপুরবেলায় সায়েন্স ল্যাবরেটরির সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে কোনো দেহরক্ষী ছাড়া একাই অফিসে যাচ্ছেন। বাঙালির প্রতি ছিল তাঁর অবিচল আস্থা। কোনো দুর্বৃত্তের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হতে পারে, এটা ছিল তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য। এত মানুষের স্মৃতি যাঁর কাছে, সেই মানুষকে অকস্মাৎ রাতের অন্ধকারে বিশ্বাসঘাতকের অস্ত্রে রক্তাক্ত হতে হলো। তাঁর কাছ থেকে তাঁর যাপিত জীবনের স্মৃতিটুকুও মানুষ জানতে পারল না। এটা ছিল তাঁর ভাবনার অতীত, যা তিনি কখনোই ভাবতে পারেননি। | 6 |
কংগ্রেস থাকার পর মুসলমানদের আলাদা সংগঠন দরকার আছে কি না, এ প্রশ্নে অনেক কাজিয়া হতো সাতচল্লিশের আগে। সে কাজিয়া থেকে ভারতীয় মুসলমানরা আজও রেহাই পায়নি। পশ্চিমবঙ্গে এখন একই কাজিয়া চলছে 'মিম'কে নিয়ে। বিজেপি ঠেকানোর দায় যেন শুধু মুসলমানদের চার-পাঁচ মাস পরই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। বলা যায় অনানুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়ে গেছে। ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় এখানে ভোটের গণিত ভিন্ন। প্রায় পুরো ভারত জিতেও বিজেপি অতৃপ্ত। কারণ গুরু শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির রাজ্যে তারা আজও ক্ষমতায় যেতে পারল না। ফলে এই নির্বাচন তাদের জন্য বড় এক মর্যাদার লড়াই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখানে ত্রিমুখী-চতুর্মুখী। অন্য রাজ্যগুলোর মতো দ্বিমুখী নয়। বিজেপি ছাড়াও আছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা। আছে গান্ধী পরিবারের জাতীয় কংগ্রেসও। কংগ্রেস ও বামরা জোট করলেও নির্বাচন ত্রিমুখী হচ্ছে। যেকোনো বহুমুখী নির্বাচনে হার-জিত হয় অল্প ভোটে। তাই 'সংখ্যালঘু'দের ভোট বিশেষ কদর পায়। সেই বিবেচনাতেই পশ্চিমবঙ্গে প্রাক্-নির্বাচনী আলোচনায় সবার কৌতূহল মুসলমানদের ভোট নিয়ে। মুসলমান নেতাদের রাজনৈতিক নড়াচড়াও প্রচারমাধ্যমের বিশেষ নজরে রয়েছে। এই সম্প্রদায় নিয়ে বিশেষ দুশ্চিন্তায় আছে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শিবির। তাদের মনোভাব দেখে মনে হতে পারে বিজেপিকে ঠেকানোর দায় যেন কেবল মুসলমানদের। মীমকে নিয়ে তৃণমূল শিবিরে ভয়প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের দেশ ভারত। তবে দেশটিতে মুসলমানপ্রধান জাতীয় চরিত্রের দল নেই এখন। ২৯ রাজ্যে কেবল কেরালা, আসাম, কাশ্মীর ও তেলেঙ্গানায় চারটি বড় আঞ্চলিক দল আছে তাদের। পশ্চিমবঙ্গে তা-ও নেই। যদিও তিন কোটি মুসলমান এ রাজ্যে। গত ১০ বছর এদের ভোটের বড় অংশ পাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'তৃণমূল'। ছয় মাস আগেও মনে হতো আসন্ন ভোটের গণিত গত নির্বাচনের মতোই হবে। কিন্তু বিহারে মিমের চমকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল শিবিরে ভয়ের হাওয়া বইছে।'মিম' মানে অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (এআইএমইএম)। হায়দরাবাদের আসাদুদ্দীন ওয়াইসির দল এটা। সবাই ইংরেজি বর্ণমালার হিসেবে 'মিম' বলে ডাকে। তেলেঙ্গানার আঞ্চলিক দল হলেও মীমের আবেদন ও পরিচিতি এখন ভারতজুড়ে। আগে তাদের 'এক-দুই এমপির দল' বলে ঠাট্টা উপহাস করা হতো। কিন্তু বিহারে সদ্য হওয়া ভোটে পাঁচটি আসন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। বিজেপি বনাম কংগ্রেস-মিত্রদের মহারণে তৃতীয় কারও আসন জেতামাত্রই বড় ঘটনা। মীম সেখানে মাত্র ২০টি আসনে লড়ে পাঁচ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে। এসবই যে মুসলমানদের ভোট, সেটা বলা বাহুল্য। মীম মাঠে না এলে এই ভোট বিজেপিবিরোধী শিবির পেত। মীমের আগমনে তাই তারা নাখোশ এবং বিজেপি খুশি।কিষানগঞ্জসহ বিহারের যেসব এলাকায় মিম জনপ্রিয়, তার লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের মতো এলাকা যেখানে মুসলমান ভোট ৪৫ ভাগ মতো। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তের ওপারের এই এলাকাতে এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের বিশেষ মনোযোগ। মিমের সম্ভাবনা কম; কিন্তু বিপদ ঘটাতে পারেপশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের একটা বড় রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যই প্রভাবশালী কোনো ধর্মীয় দল গড়তে মনোযোগ দিইনি তারা। ক্রমাগত বিভিন্ন সেক্যুলার দলকেই সমর্থন দিয়ে গেছে। কয়েক দশক তাদের ভোট গিয়েছে কাস্তে-হাতুড়ি মার্কায়; তারও আগে 'হাতের তালু' প্রতীকে। বামফ্রন্ট ও জাতীয় কংগ্রেসের প্রতি অতীত সেই সমর্থন শূন্য হয়ে যায়নি এখনো। তবে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ গত দুই নির্বাচনে তৃণমূলের বাক্সে গেছে। এসব প্রবণতা থেকে স্পষ্ট, মুসলমান ভোটারদের পছন্দ প্রতিনিয়ত পাল্টায়। কিন্তু কেবল মুসলমান ভোটের ওপর ভরসাকারী ধর্মবাদী কোনো দলকে তারা বড় সংখ্যায় সমর্থন দিয়েছে এমন নজির নেই। এই 'ঐতিহ্য' মিমের সম্ভাবনা খাটো করে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় অন্তত ৮০-৯০ আসনে মুসলমানদের ভোট গুরুত্ববহ। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব আসনে অমুসলমান ভোট ৯০ ভাগের বেশি, সেখানে বিজেপিকে ঠেকানো দুরূহ হয়ে উঠেছে। একই অভিজ্ঞতা জানাচ্ছে, তৃণমূল যদি গত নির্বাচনের মতো সংখ্যালঘুদের পুরো ভোট ধরে রাখতে না পারে, তাহলে তাদের বহু আসন বিজেপি দখল করে নেবে। কিন্তু মিম যদি পুরো রাজ্যজুড়ে প্রার্থী দেয় এবং ১০-২০ ভাগ মুসলমান ভোট কেটে নিতে শুরু করে, তাহলে তৃণমূল এবং বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের জন্য সর্বনাশ হতে পারে।মহাসংকটে বিজেপিবিরোধী শিবিরমিমকে নিয়ে চলতি উত্তেজনা বিজেপির জন্য আনন্দদায়ক ও স্বস্তিকর। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪০ আসনের ১৮টি পেয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস এখন চাঙা। পূর্বের ২ থেকে আসনসংখ্যা ১৮ তে বাড়িয়েছিল তারা। এই ফল ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভূমিকম্পতুল্য। এবার পরিস্থিতি তাদের আরও অনুকূলে। কয়েক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া বিহারের নির্বাচনে অত্যন্ত ভালো করেছে বিজেপি। আপাতত পশ্চিমবঙ্গে তাদের প্রথম লক্ষ্য যথারীতি ভোটারদের ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে ফেলা এবং দ্বিতীয় চাওয়া মিম নির্বাচন করুক। বিজেপি জানে পশ্চিমবঙ্গে তারা মুসলমানদের ভোট পাবে না। সুতরাং এই ভোট ভাগ হওয়া দরকার। মীমের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব সেই হিসাব থেকে। এই দেখে কংগ্রেস প্রকাশ্যেই মিমকে 'বিজেপির এজেন্ট' বলছে। কিন্তু মিমের স্বাধীনভাবে যেকোনো রাজ্যে নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে। বিহারের ফল বলছে তাদের প্রতি মুসলমান সম্প্রদায়ের সমর্থনও বাড়ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাদের এই অগ্রযাত্রায় যদি পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি জেতে, সেই দায় আসাদুদ্দীন ওয়াইসি নেবেন কি না?বিজেপির আবির্ভাবের জন্য মধ্যপন্থী হিন্দুরাও মিম ও তার সমর্থক ভোটারদেরই দায়ী করবে তখন। যার মধ্য দিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে মুসলমানদের নতুন করে বন্ধুহীন অবস্থা তৈরি হতে পারে। কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর মুসলমান নীতিও পাল্টে যেতে পারে। কিন্তু নগর কলকাতা থেকে দূরদূরান্তর প্রান্তিক মুসলমানদের কাছে মিমের জন্য পক্ষপাত তৈরি হচ্ছে ভেতরে-ভেতরে। ওয়াইসির জ্বালাময়ী ভাষণে তারা ভারতীয় মুসলমানদের বিক্ষত হৃদয়ের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়। লোকসভা কিংবা জনসভা সর্বত্র বিভিন্ন দল মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে হিসাব-নিকাশ কষে। ওয়াইসি এ ক্ষেত্রে সাহসী, ঝাঁজালো এবং উত্তেজক। আরএসএস পরিবারের হাতে ক্রমাগত সব উপায়ে কোণঠাসা মুসলমানরা ওয়াইসির কণ্ঠে শোনে তাদের সব হাহাকারের উল্লেখ। কেউ কেউ তাঁকে বলছে, 'নকিব-এ-মিল্লাত' (সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ বাহক)।কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বামফ্রন্টের মুসলমানদের পক্ষে এ রকম অবস্থান নেওয়া কঠিন। তাতে হিন্দু ভোট হারানোর প্রবল ভয় আছে। তাহলে এদের সামনে বিকল্প কী আছে? একটা বিকল্প মিমকে জোটে নেওয়া। তাতেও চরম ঝুঁকি। 'সাম্প্রদায়িক' মিমকে সঙ্গী করা মানেই বিজেপিকে হিন্দু ভোট কাছে টানতে বড় প্রচার অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া। এই মুহূর্তে তাই মহাসংকটে আছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপিবিরোধী শিবির। আলতাফ পারভেজ দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক | 8 |
দুই মৌসুম আগেও একরকম ধুঁকছিল এসি মিলান। তাদের মধ্যে ভর করেছিল ভীষণ হতাশা। তারপর তারা শরণাপন্ন হলো ইব্রাহিমোভিচের কাছে। ২০১৯ সালে পুরনো ক্লাবে ফিরলেন ইব্রা। তবে খেলতে পারেননি বেশিদিন। এরপরেই শুরু করোনা মহামারি। প্রায় দুইবছর মাঠের বাইরে। এরপর যখন ফুটবল ফের মাঠে গড়ালো। ইব্রা বললেন, 'ক্লাবকে শিরোপা না জিতিয়ে অবসরে যাবেন না তিনি।' কথাগুলো সুইডিশ কিংবদন্তির মুখ দিয়ে নিসৃত হয়েছিল মাত্র মাস পাঁচেক আগে। এবার তিনি দেখিয়েও দিলেন। সাসসুয়োলোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ১১ বছর পর শিরোপা জিতলো ইতালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসি মিলান। দুটি গোল এসেছে ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুর পা থেকে। আরেকটি করেছেন আইভরিয়ান মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্ক কেসি। ইব্রা গোল পাননি। তবে এই জয়ের অবদান স্বঘোষিত ইশ্বর নিতেই পারেন। তার দলে যোগ দেওয়ার পরেই যে এসি মিলানের খেলোয়াড়ি শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের পুনর্জাগরণ! ২০১৮-১৯ মৌসুমে একের পর এক ম্যাচ হারছিলো এসি মিলান। হারাচ্ছিল পয়েন্ট। তালিকায় অবনতি ঠেকেছিল নিম্ন পর্যায়ে। তবে ইব্রা যোগ দেওয়ার পর বদলে যায় সমীকরণ। এই দলকে জিতিয়ে জিতিয়ে ইব্রা তুলে আনেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। যেকারণে সেই মৌসুমে মজা করে তিনি বললেন, 'সান্তা ক্লজ হয়ে তিনি দলের জন্য উপহার নিয়ে এসেছেন।' বয়স ৪০ ছুঁয়েছে। তবুও তার ছন্দ যেনো সদ্য ফুটবল শুরু করা তরুণের মতো। যার প্রমাণ এসি মিলানে প্রথম মৌসুমে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইব্রার গোল সংখ্যা ১০। ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, পিএসজি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ইন্টার মিলানে সফর শেষে আবারো ফেরার পর তিনি বলেছিলেন, 'এখানেই ভালো আছেন তিনি। আর এটাকেই নিজের করে গড়ার ইচ্ছা তার।' সুইডিশ কিংবদন্তি বললেন, 'প্রতিদিন সকালে আমি মিলানেল্লোয় (মিলানের অনুশীলন মাঠ) যাই এবং কখনোই বাড়ি ফেরার তাড়না অনুভব করি না। মনে হয় যেন, বাড়িতেই তো আছি। ২০১০ সালে প্রথম যখন মিলানে এসেছিলাম তখনই এমন অনুভূতি হয়েছিল।' ইতালির রিগো এমিলোর মাপেই স্টেডিয়ামে ১১ বছর ধরে আধারে থাকা নিজের বাড়িতে আশপাশের সব আলো এনে উপহার দিলেন ইব্রা ও তার সঙ্গীরা। শেষ ম্যাচের আগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলানের চাইতে ২ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল এসি মিলান। ফলে সাসসুয়োলোকে হারালে শিরোপা হাতে পাওয়ার হিসাব ছিল সহজ। ড্র করলে হয়তো অপেক্ষা বাড়তো ইন্টারের পরাজয় গণনার জন্য। তবে জেদ থেকেই হয়তো সেইদিকে যায়নি এসি মিলানের ফুটবলাররা। আরেকটু খুলে বললে ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুর জেদে আজই ফলাফল এসি মিলানের পক্ষে আসতে বাধ্য হয়েছে। এ কারণে খেলা শুরুর ৩২ মিনিটেই পর্তুগিজ উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াওয়ের সহায়তা নিয়ে ২-০ তে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর আরেক গোল করেন মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্ক কেসিরও। কিন্তু পুরো সময়ে এসি মিলানের গোলপোস্টে একবারও বল ঢোকাতে পারেনি সাসসুয়োলো। ফলে ৩-০ তেই ম্যাচের শেষ নির্ধারণ হয়। দুই দশকের ক্যারিয়ারে চারটি ভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে মোট ১১টি লিগ শিরোপা জিতেছেন ইব্রাহিমোভিচ। মোট ১২ বার হয়েছেন সুইডেনের বর্ষসেরা ফুটবলার। ব্যালন ডি'অরের লড়াইয়ে ২০১৩ সালে হয়েছিলেন চতুর্থ। এবার সেই ঝুলিতে আরেকটি অর্জন যোগ হলো। বান্ধবীর সাথে বাগদানের পর পর তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তার প্রেয়সীকে তিনি কী উপহার দিয়েছেন? ইব্রা জবাব দেন, কী? উপহার? সে ইব্রাকে পেয়েছে, এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে? এবার কেউ যদি এসি মিলানকে প্রশ্ন করে এই বয়সে ইব্রা ক্লাবকে কি দিয়েছেন? ক্লাবের পক্ষে উত্তরটা, 'শিরোপা' নয় বরং ইব্রা নিজেকে দিয়েছেন এটাই হওয়া উচিত। | 12 |
আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরে মা হতে পারেন পশ্চিমবঙ্গেরঅভিনেত্রী ও তৃণমূল সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান। সেই অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হবেন তিনি। এদিকে, আজ বুধবার সকাল থেকে জোর গুঞ্জন প্রেমিক-বন্ধু যশকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্তান জন্ম নেবে তার। এদিকে, মঙ্গলবার রাতেও যশের সঙ্গে কলকাতার এক নামী রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন নুসরাত। এবারও তারা একসঙ্গে কোনো ছবি শেয়ার করেননি। বরং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একই লোকেশন থেকে একই সময়ে আলাদা আলাদা ছবি শেয়ার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন একসঙ্গে থাকার কথা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে নুসরাতের আবদার মেটাতেই কি যশের এই ট্রিট ছিল? নুসরাতের আগত সন্তানের বাবা কে তা নিয়ে রহস্য শেষ হচ্ছে না। নুসরাতের সাবেক স্বামী নিখিল জৈন জানিয়েছেন, তিনি এ সন্তানের বাবা নন। গুঞ্জন রয়েছে এ সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন যশ দাশগুপ্ত! সূত্র: আনন্দবাজার। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 2 |
পাবনায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ছাত্রলীগ নেতা বিয়ে না করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছে মেয়েটির পরিবার। এদিকে, মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে। এ ঘটনা নিয়ে সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 'ছেলেটি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চরম আলোচনা সমালোচনা চলছে। তবে আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে। অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি যেন তার গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি পায় এটাই আমরা চাই'। ছাত্রলীগ নেতা নিরবের চাচা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের বিয়ের চেষ্টা করছি। আমাদের এক নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি এলাকায় আসলেই বসে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। ভুক্তভোগী ওই পরিবারের লোকজন জানান, নিরব দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। পরে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং ছেলেটি পালিয়ে যায়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি। কারো ব্যক্তিগত দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না। শোকের মাস বলেই তাকে দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়নি। তবে তাকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করা হলেও লিখিত ভাবেও অচিরেই বহিষ্কার করা হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ঢাকা ৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহনে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার কোন খবর নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ঢাকা ৫ ও নওগাঁ-৬ দুই আসনে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নির্বাচনে কোথাও কোনও অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি, কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি। আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ নেই। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ দুটি আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কেন কম ? এমন প্রশ্নের জবাব কেএম হুদা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে ভোট হয়। এই খ- নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কমই থাকে। এ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ২ বছর-আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন সেই জন্য হয়তো প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্য তেমন আগ্রহ তৈরি হয়নি। পাশাপাশি করোনার একটি বিষয় তো রয়েছে। এজন্য মানুষ আতঙ্কিত। মানুষ যেতে যায় না এ রকম একটা অবস্থা তো আছেই। এর মধ্যেও নির্বাচনের ট্রেন্ড ভালো। করোনাকালে ভোটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনার জন্য আমরা সার্বিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছি। মাস্ক পরে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নির্দেশনা আছে। এজন্য অতিরিক্ত মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা রয়েছে। স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইভিএমের ফিঙ্গার প্রিন্টের জায়গাটি বার বার জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাতের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি তারপরও ব্যালটের পরিবর্তে কেন ইভিএম এ ভোটের সিদ্ধান্ত ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগেই আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে ইভিএম ব্যবহারের। আমরা ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএমে ভোট গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাছাড়া ভোটারদের মধ্যেও ইভিএম নিয়ে অনাগ্রহ এখন আর নেই। ইভিএমে তাদের অনীহা নেই। আগ্রহ আছে। ঢাকা-৫ আসনে কোথাও কোথাও ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে, আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগের জবাবে সিইসি বলেন, আইডি কার্ড নেয়ার কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। বাইরে কোন সহিংস ঘটনা ঘটেছে এমন তথ্যও নেই। একটি জায়গায় কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়েছিলাম। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। | 6 |
যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে হাসপাতালের সামনে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তরুণের নাম ইমাদ আল সুইলমিন। তাঁর বয়স ৩২ বছর। ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার চার ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। খবর বিবিসির। গত রোববার যুক্তরাজ্যে রিমেমবারেন্স সানডেতে স্মরণ অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে লিভারপুল উইমেনস হসপিটালের সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় গাড়ির যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চালককে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে প্রতিবছর নভেম্বরের দ্বিতীয় রোববার যুক্তরাজ্যে রিমেমবারেন্স সানডে পালন করা হয়ে থাকে। গতকাল সোমবার পুলিশ জানায়, নিহত যাত্রীই এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজন। তাঁর নাম ইমাদ আল সুইলমিন। গাড়িতে ওঠার পর পেছন দিকে হাতে তৈরি একটি বিস্ফোরক যন্ত্র স্থাপন করেছিলেন তিনি। স্থানীয় সময় রোববার বেলা ১১টার কিছু সময় আগে এটি বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৩২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তি অভিবাসনপ্রত্যাশী। ২০১৭ সালে তিনি খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন। গতকাল সন্ধ্যায় সহকারী প্রধান কনস্টেবল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাস দমন পুলিশের প্রধান রাস জ্যাকসন জানান, ইমাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। সেফটন পার্ক এলাকার কাছে রুটল্যান্ড অ্যাভিনিউতে থাকতেন ইমাদ। এ ঠিকানা থেকেই তিনি গাড়িটিতে উঠেছিলেন এবং হাসপাতালের দিকে রওনা করেছিলেন। এ এলাকাকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে বলে জানান রাস। বিস্ফোরণের পরপরই রোববার লিভারপুলের কেনসিংটন এলাকা থেকে ২১, ২৬ ও ২৯ বছর বয়সী ৩ তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গতকাল ২০ বছর বয়সী আরেক তরুণকে আটক করা হয়। তাঁদের সবাইকেই সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই চার ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এলিজাবেথ ও ম্যালকম হিচকট নামের স্থানীয় এক দম্পতি এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আল সুইলমিন খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন। হিচকট জানান, সুইলমিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এক অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিভারপুলের ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইসলাম থেকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন তিনি। রোববার যেখানে বিস্ফোরণ হয়, তার থেকে অল্প দূরেই ওই ক্যাথেড্রালের অবস্থান। হিচকট আরও জানান, রোববারের ঘটনার কয়েক বছর আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত আইনের আওতায় আল সুইলমিনকে ছয় মাস হাসপাতালে আটক রাখা হয়েছিল। ছুরি নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল তখন। | 3 |
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও নিজেদের প্রার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বিএনপি। এ ছাড়া ইভিএমের ভোট কারচুপির আশঙ্কাও কূটনীতিকদের জানানো হয়। আজ রোববার রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-দলীয় প্রার্থীদের ওপর সরকারি দলের হামলা, হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তারসহ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানান ঘটনা কূটনীতিকদের জানানো হয়। বৈঠকের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মানুষ অধিকারহীন অবস্থায় আছে। ভোটের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে কি না, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমীর খসরু আরও বলেন, 'সরকারি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ফুটপাতেও নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, বড় বড় পোস্টার ছাপানো, মাইক ব্যবহার সময়-অসময়ে ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচরও হচ্ছে না। ২৮ জানুয়ারি যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তার আলোচ্যসূচিতেও নেই। এ রকম অবস্থায় নির্বাচনে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। যেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না, সেখানে নির্বাচনের ওপর মানুষের ভরসা কোত্থেকে আসবে?' এক পক্ষকে আটকিয়ে আরেক পক্ষ সব আইন ভঙ্গ করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি এই নেতা বলেন, ঢাকার উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দেওয়ার বিষয়টিও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে। ইভিএমের ভোট গ্রহণের বিষয়টিও কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, 'কুটনীতিকেরা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশের। তারা কেউ কিন্তু ইভিএম ব্যবহার করছে না। কারণ, ইভিএম ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে, প্রোগ্রামিংটা যারা করবে, তাদের পক্ষে যাবে। প্রোগ্রামে যা থাকবে, তা-ই রেজাল্ট হবে-এটা পরিষ্কার।' তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সারা জীবন ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে আসছেন। ইভিএম এনে ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, ফ্রান্স, তুরস্ক, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২০ দেশের কুটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ। | 9 |
টাকা পাচার নিয়ে ইদানীং আলোচনা বেড়েছে। কেউ কেউ একে মৌসুমি আলোচনা বলতে পারেন। টাকা পাচার নিয়ে আলোচনার মৌসুম মূলত দুটি। প্রতিবছরের মার্চে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) অর্থ পাচার নিয়ে একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তখন একবার টাকা পাচার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু গৎবাঁধা এবং মুখস্থ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপরের আলোচনাটি হয় জুন মাসে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) এ সময় 'ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড' নামের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে কোন দেশের নাগরিকদের কত অর্থ সুইস ব্যাংকগুলোতে আছে, তার তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে অবশ্য অর্থের পরিমাণ থাকে, নাগরিকদের নাম থাকে না। এখন অবশ্য টাকা পাচারের আলোচনার মৌসুম একটা হয়ে গেছে। কারণ, করোনাভাইরাসের কারণে জিএফআই পরপর দুবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে মার্চের মৌসুমটি বৃথাই গেছে। জুন মৌসুমের আলোচনা অবশ্য সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই শুরু হয়ে গেছে। এর কৃতিত্ব কয়েকজন সাংসদের। তাঁরা অর্থ পাচার নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। বাজেট অধিবেশনে কয়েকজন সাংসদের এসব আলোচনার জবাবও দিতে হয় অর্থমন্ত্রীকে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী নিজেই যখন টাকা পাচারকারীদের নাম জানতে চান, তখন পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অঙ্গীকার নিয়েই আসলে প্রশ্ন উঠে যায়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গত বৃহস্পতিবার 'ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০২০' নামের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল শেষে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ২০৩কোটি টাকা (১ সুইস ফ্রাঁ = ৯২.২৮ টাকা)। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ। অর্থাৎ এক বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এই নিয়ে পরপর তিন বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ কমল। সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থই যে অবৈধ, তা বলা যাবে না। দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। সুতরাং এখানে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে। তবে গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সুইস ব্যাংক ব্যবস্থার সুনাম আছে। এ জন্য দেশটি রীতিমতো আইন করেছে। সুতরাং এখানে গোপন অর্থ রাখার সংখ্যাই বেশি। পরপর তিন বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ রাখার পরিমাণ কমার তথ্য থেকে কেউ যদি মনে করেন যে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার কমেছে, তা ঠিক হবে না। এখন সুইস ব্যাংকগুলোর আর সেই রমরমা ব্যবসা নেই। ১৯৩৪ সালে সুইজারল্যান্ড সরকারের করা 'সুইস ব্যাংকিং অ্যাক্ট' অনুযায়ী কোনো গ্রাহকের তথ্য সুইস ব্যাংকগুলো প্রকাশ করতে পারত না ঠিকই, তবে ২০১০ সালে ওবামা সরকারের করা 'ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট' নামের আইনটি করার পর অনেক কিছু পাল্টে গেছে। এই আইন অনুযায়ী, এখন সুইস ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের বেশ কিছু তথ্য দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি ইউরোপের বেশ কিছু দেশও এখন তথ্য পেতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতও স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময়কাঠামো নামের একটি চুক্তি করেছে। ফলে আগের মতো সুইস ব্যাংকগুলো কঠোর গোপনীয় নীতি মেনে চলতে পারছে না। গোপনীয়তার নীতি থেকে সরে আসার জন্য সুইস ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী এখন পাচার করা অর্থ রাখারও নতুন নতুন জায়গা বা উৎস তৈরি হয়েছে। কেইম্যান আইল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর বা হংকংকের মতো দেশে কোম্পানি খুলে অর্থ রাখার নানা পথ রয়েছে। ফলে এখন আর অর্থ লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকের একক আধিপত্য নেই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজি আগে পানামা পেপারস বা প্যারাডাইস পেপারস নামে যেসব নথি প্রকাশ করেছে, সেখানে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের নাম আছে। এরা সবাই বেনামে কোম্পানি খুলে অর্থ পাচার করেছে। আবার সিঙ্গাপুর, দুবাই, হংকং, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেক বড় বড় ব্যবসাও রয়েছে। মালয়েশিয়া বা কানাডায় বাড়ি কেনার অসংখ্য তথ্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্য সবারই জানা। সুতরাং সুইস ব্যাংক এখন অর্থ পাচারের একমাত্র গন্তব্য নয়। যেমন সুইস ব্যাংকে ৫ হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত রাখা আছে বলে তথ্য বেরিয়েছে। অথচ জিএফআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। বর্তমান বাজারদরে তা ৬৪ হাজার কোটি টাকা। জিএফআই মূলত অর্থ পাচারের তথ্য বের করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান থেকে। হুন্ডি বা সরাসরি অর্থ পাচারের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয় আসলে ৬৪ হাজার কোটি টাকার অনেক বেশি। এই ৬৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বছরে দুটি করে পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব। এ বছর যেমন জাতীয় সংসদে অর্থ পাচার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৪ সালের এই জুন মাসেই একইভাবে সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, 'সুইস ব্যাংকে কে কত টাকা পাচার করেছেন, তার তালিকা হচ্ছে। দেশের টাকা আমরা দেশে ফিরিয়ে আনবই।' প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে কিছু নড়াচড়াও শুরু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সুইজারল্যান্ডের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) কাছে সে দেশের ব্যাংকগুলোতে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এত বছরেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। কোনো কার্যকর উদ্যোগই আসলে সরকারের নেই। সবশেষে বলা যায়, প্রশ্নটা আসলে আন্তরিকতা, অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার। সরকার আসলেই টাকা পাচারকারীদের ধরতে চায় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই বলেই চলতি জুন মাস চলে গেলেই টাকা পাচারের আলোচনাও এবারের মতো শেষ হয়ে যাবে। আলোচনার একপর্যায়ে সরকার বরাবরের মতো কিছু প্রতিশ্রুতিও দেবে, যা আগের বছরগুলোতেও দেওয়া হয়েছিল। অর্থ পাচারকারীও জানেন, এসব কথা কেবল মুখের কথাই। ফলে কর ফাঁকি আগের মতোই চলতে থাকবে। বাড়বে কালোটাকা। ব্যাংকের দেওয়া ঋণ ফেরত আসবে না। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা থেকে আয় বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতি চালিয়েই যাবেন। আর এসব অর্থ পাচার হয়ে যাবে অন্য দেশে, এর কিছু অংশ যাবে সুইস ব্যাংকে। সুতরাং সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ কমেছে-এ তথ্যে স্বস্তি পাওয়া কিংবা খুশি হওয়ার মতো কিছু নেই। | 0 |
বিমানবন্দরে কেউ হয়রানি করলে তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের বিমানবন্দরে আপনাদের নানা রকম হয়রানির কথা শুনি। আমি আপনাদের বলে যাচ্ছি, বিমানবন্দরে কোন কর্মকর্তা যদি আপনাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, হয়রানি করে, ঐ কর্মকর্তার পরিচয় টুকু জেনে নিবেন এবং আপনার হাতে থাকা হ্যান্ডফোনে তার ছবি খানা তুলে আমার কাছে লিখিত ভাবে পাঠিয়ে দিবেন।' এসময় তিনি আরও বলেন, '২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস স্বাধীনতার দিন । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমাদের একটি দেশ দিয়ে গেছেন, যিনি এ দেশকে খুব ভালোবাসতেন । তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আঁচল দিয়ে পুরো দেশকে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন । দেশের উন্নয়নে দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ মহল দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।' বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, 'মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকার জন্য আমরা দায়ী না। আমার দায়িত্ব থেকে আমি কিন্তু ব্যবসায়ীর পক্ষে না, আমি কর্মীর পক্ষে । আমি যা করছি তা কর্মীদের ভালোর জন্য করছি। দ্রুত কর্মী প্রেরণ, কম খরচ এবং কাজের নিরপত্তার মতো বিষয়গুলির নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য।' অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মালয়েশিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসরইমদাদুল হক, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জামিল হোসেন নাসির, আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামাল, সহ-সভাপতি শওকত হোসেন পান্না, কাইয়ুম সরকার, মনিরুজ্জামান মনির,কামাল হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ ভুঁইয়া।শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রাসেদ বাদল । বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 9 |
পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নেত্রকোনায় শাহিনুর নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোর রাতে সেহরির সময় নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই রেল কলোনি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়চার নারীসহ মোট আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেনসফুরা (৩২), নূরজাহান (৪৫), কাজলী (৪৫), মিতু (৩২), মুসলিম উদ্দিন (৩৫), সাগর (২২), ইদ্রিস মিয়া (৫০) ও হান্নান (৫০) ।নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মোঃ তাজুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার মূলহোতা সোহেলকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
উন্নয়নের নামে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। আপনাদের ধরে নিতে হবে প্রধানমন্ত্রী এসব বলার পরই দ্রব্যমূল্যর দাম বেড়ে যাবে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ, এই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী। জনগণ খেতে না পেয়ে বাঁচলো কি মরলো এর কোনো তোয়াক্কা করে না।'তিনি আরও বলেন, 'এরা সেই আওয়ামী লীগ যখন মানুষ খেতে না পেয়ে ফুটপাথে কাতরাচ্ছে, তখন তারা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াচ্ছে। এটাই তাদের ঐতিহ্য।'বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামকে বাঁচা-মরার সংগ্রাম আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, 'এই সরকার অনেক কিছুই হত্যা করেছে। এরা গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার এবং মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে হত্যা করেছে। এরা হত্যা ও রক্তক্ষরণ ছাড়া কিছুই পারেনি।'প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফর নিয়ে রিজভী বলেন, 'মানুষ অনেক কথা বলাবলি করছে, হঠাৎ করে কেন তিনি সেখানে গেলেন? মানুষ কিন্তু সব বোঝে। এই উন্নয়নের নামে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।' | 9 |
কোম্পানীগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে জনবলের সংকটে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। এ কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ে তো দূরের কথা, অফিসের কার্যক্রম চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। আটটি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মোরগ, কোয়েল, কবুতরসহ অন্য গৃহপালিত প্রাণীর মালিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা। জানা গেছে, জনবলের সংকটে উপজেলার খামারগুলো পরিদর্শন করতে পারছেন না কর্মকর্তারা। অন্যদিকে চিকিৎসকসংকটের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসা অসুস্থ পশু-পাখিকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি গ্রামের খামারি দুলাল মিয়া জানান, প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো লোক খামার পরিদর্শনে যান না। কোনো পরামর্শও তাঁরা দেন না। তা ছাড়া ডাক্তার না থাকায় গবাদিপশুর চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না।খামারি কামরুল ইসলাম, সাচ্চা মিয়া, সৈয়দ ও সিরাজ মিয়া জানান, তাঁদের খামারে বিভিন্ন জাতের গবাদিপশু রয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে ট্রলি ভাড়া করে এগুলো প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিতে হয়। এতে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। যা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই দিন দিন গবাদিপশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারিরা। জরুরি ভিত্তিতে জনবলের সংকট দূর করলে এ উপজেলার খামারিরা উপকৃত হবেন।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে ১১টি পদের মধ্যে আটটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভিএফএ-এ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে এই হাসপাতালের কার্যক্রম। এ হাসপাতালে ভিএস ১, ভিএফএ ২, অফিস সহকারী ১, এফএআই ১, কম্পাউন্ডার ১, ড্রেসার ১ ও অফিস সহায়ক ১টি পদ শূন্য রয়েছে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক মো. শরিফুল আলম বলেন, 'আটটি পদ শূন্য থাকায় তিনজন নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় খামারিরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অন্যান্য পদের লোক দিয়ে শূন্য পদগুলোর কার্যক্রম কোনো রকমে চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শূন্য পদ পূরণের জন্য বলেছি। আশা করছি, শিগগির পদগুলো পূরণ হবে।' | 6 |
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা সেখানে দেওয়া হয় না। আবার ভর্তি রোগীদের চিকিৎসকের দেখা পাওয়াও কঠিন। এ জন্য লোকবল ও সরঞ্জামের অভাবের কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের একজন পুলিশ সদস্য গতকাল শনিবার জানান, গত মাসের মাঝামাঝিতে শরীরে জ্বর নিয়ে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। সেখানে তাঁকে কয়েকটা প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়। তা খেয়ে তিনি একটি বিছানায় পড়ে থাকেন। ওই সময় তাঁকে দেখার মতো কোনো নার্স কিংবা চিকিৎসক আসেননি বলে অভিযোগ তাঁর। পরে স্ত্রীকে ফোনে হাসপাতালে ডেকে এনে সেখানে এক রাত কাটিয়ে রিলিজ নিয়ে চলে যান একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা করে তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়ে। কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে তিনি এখন সুস্থ।ওই পুলিশ সদস্য বলেন, পুলিশ হাসপাতালে এই-সেই টেস্টের জন্য তখন ৩ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু ওই রিপোর্টে কী ছিল, তা জানা যায়নি। তাঁকে কিছু বলাও হয়নি। চিকিৎসক থাকেন এক বিল্ডিংয়ে, নার্স থাকেন আরেক জায়গায়। ভর্তি হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকের চেহারা পর্যন্ত তিনি দেখেননি।চট্টগ্রামে ১০০ শয্যার বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে পুলিশের ১২টি ইউনিটের হাজারো সদস্য তাঁদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। হাসপাতালের তথ্যে, এখানে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২৫ টি। সম্প্রতি আরও দুজন নার্স হাসপাতালে নিয়োগ পেয়েছেন। এই জনবল পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রামে দামপাড়া পুলিশ লাইনসের ভেতর বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে পৃথক দুটি ভবনে চলছে। এর মধ্যে শতবর্ষী দোতলা একটি পুরোনো ভবনে অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে দোতলায় একটি কক্ষের ভেতর তখন বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি ছিলেন। নিচতলায় একজন নার্স নিজ কক্ষের আসনে বসে ছিলেন। ভবনটি আগে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। পাশেই নতুন একটি ভবনে কিছু নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির নিচতলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ডেস্কে কর্তব্যরত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁরাই নার্সের দায়িত্ব পালন করছেন। তার পাশেই রাখা একটি শয্যায় পুলিশের একজন নারী সদস্য অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। দোতলায় হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টসহ চিকিৎসকদের চেম্বার। এর মধ্যে একটি প্যাথলজি বিভাগ। সেখানে অলস সময় পার করছেন দায়িত্বরত টেকনিশিয়ান। পাশে নিজের কক্ষে সময় কাটাচ্ছেন নাজিম উদ্দিন নামের একজন চিকিৎসক। পাশেই হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয়ে বসে ছিলেন ডা. আহমেদ রাসুল। কথা বলতে চাইলে তাঁরা এ ব্যাপারে দাপ্তরিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর) আমির জাফর বলেন, 'লোকবল ও সরঞ্জামের কিছু সমস্যা অনেক দিন ধরেই ছিল। বর্তমানে এসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। পুলিশ কমিশনার এ ব্যাপারে আন্তরিক। হাসপাতালের নতুন ভবনটি সম্প্রসারণের পাশাপাশি অবকাঠামোগত বেশ কিছু উন্নয়নকাজ চলছে। এসব কাজ করতে গিয়ে হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে কাজ শেষে হাসপাতালটি নতুনরূপে দেখতে পাবেন। আশা করছি, তখন এখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন রোগীরা।'হাসপাতালটির উন্নয়ন বিষয়ে তদারককারী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ওয়েলফেয়ার) মল্লিক আহসান উল্লাহ সামি বলেন, 'নতুন করে অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে মেশিন, প্যাথলজি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগসহ আরও বিভাগ সংযোজন করা হচ্ছে। কেবিন, বুথ ও ডিসপেনসারি আধুনিক করা হচ্ছে। আরও বেশ কিছু কাজ এখন চলমান।' | 6 |
ঢাকা: সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের ক্যারিয়ার যেকোনো ক্যারিয়ারিস্টের জন্য ঈর্ষণীয়। পরিবারকে একটা নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার আট-দশ বছর পরে মৌ আবারো কাজে নিয়মিত হচ্ছেন। নাচ অভিনয় মডেলিং- তিন মাধ্যমেই ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। দুই যুগ পর একসঙ্গে কাজ করছেন অভিনেতা-নির্মাতা আফজাল হোসেন, অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ ও চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু। তাঁদের নিয়ে 'প্রেমের আড়ালে প্রেম' শিরোনামে একটি নাটক নির্মাণ করছেন নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী; পরিচালনার পাশাপাশি রচনা ও চিত্রনাট্যও করেছেন 'ঘুড্ডি' চলচ্চিত্রের এ নির্মাতা। এতে অভিনয় করবেন আফজাল-মৌ জুটি, ক্যামেরার পেছনে থাকছেন বুলু। নব্বইয়ের দশক থেকে আফজাল-মৌ জুটির বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটকে কাজ করেছেন বুলু। পরে দুই যুগের বিরতি ভেঙে ফের একসঙ্গে তারা কাজ করছেন বলে জানান মৌ। নাটকটিতে প্রফেসরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন। তাঁর শিক্ষার্থীর ভূমিকায় দেখা যাবে মৌকে। তিনি বলেন,'এটি প্রেমের গল্প নয়। আড়ালে-আবডালের গল্প।'করোনাকালীন সময়ে গেল মার্চে বিরতী নিয়ে অভিনয় শুরু করেছেন। অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলনের পরিচালনায় 'ঘোর' নামে একটি একক নাটকে অভিনয় করছেন মৌ। নাটকের গল্পে মৌকে দেখা যায় একটি ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার হিসেবে। নাটকে তিনি তাঁর থেকে কম বয়সী একটি ছেলের প্রেমে পড়েন। নাটকটি ঈদে প্রচারিত হয়। ২০১৭ সালে বোন শেগুফতা ইসলাম মিথিকে হারিয়েছেন মৌ। বোনকে জীবনের সেরা বন্ধু মানতেন তিনি। তিন বছরের মাথায় মা নাউজিয়া ইসলাম রাসা মারা যান। এই দুইজনের মৃত্যু ক্যারিয়ারে বেশ প্রভাব ফেলেছে। মৌ বলেন,' মাঝখানে আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আম্মা মারা যাওয়ার আগে কিছুদিন অসুস্থও ছিলেন। তাকে নিয়ে হসপিটালে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। দু:সহ একটা সময় কাটিয়েছি। কাজ তো আনন্দ নিয়ে করতে হয়। সেই আনন্দটা নিজের মনে আসছিলো না।' প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন। 'সিক্স' নামের এই সিরিজটি পরিচালনা করেছেন তানিম পারভেজ। চরিত্রটা নিয়ে মুখ খুলতে চাইলেন না। তবে জানালেন ছয় পর্বের ওয়েব সিরিজটি খুব শীঘ্রই ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাবে। সবাই তাকে মডেল বা অভিনেত্রী হিসেবে চেনেন, কেউ কেউ বলেনও মডেল মৌ। সেসবের খবরেই জানতে পারেন। তবে তিনি নাচের মৌ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি বলেন,'মডেলিং কিংবা অভিনয় তো অনেক পরে থেকে করছি। আমি নাচের সঙ্গে জড়িত সেই সাড়ে তিনবছর বয়স থেকে। এটি আমার মায়ের জন্য। নাচ আমার প্রথম ভালোবাসা। প্রথম ভালোবাসা তো ভোলা যায় না, তেমনি নাচও ভুলতে পারবো না। নাচ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।'গেল কয়েকমাসে বেশ বড় কয়েকটি নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ডে অ্যারাবিক মিউজিক পিসের সঙ্গে মৌয়ের নাচে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য দর্শক। এরপর নেচেছেন লন্ডন হাইকমিশনের একটি অনুষ্ঠানে। বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আয়োজনে তিনি প্রদীপ নাচ, ভরতনাট্যম ও কত্থক নাচ করেছেন ভার্চ্যুয়াল শোতে। একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অংশ নিয়েছেন 'অপরাজিতা'র গ্রান্ড ফিনালেতে। সেখানে নেচেছেন তিনি। এভাবেই সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সফলতার হাত ধরে পথ চলছেন মৌ। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে এখনো তিনি সমান জনপ্রিয়। আর নতুন প্রজন্মের মডেলদের কাছে তিনি আইকন। এত কিছু একজীবনে একসঙ্গে কীভাবে? মৌ জানান, যেকোনো পরিবর্তনে, যেকোনো কাজে সময় দেওয়াটা জরুরি। যখন যেটা সময় দাবি করে, তখন সেটাকে প্রায়োরিটি লিস্টের ওপরে ওঠান তিনি। তবে এ পর্যন্ত আসার পেছনে মৌয়ের সময়নুবর্তিতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতাকেই বড় করে দেখছেন। মৌ বলেন, 'অভ্যাসটি আমার পরিবার থেকে পাওয়া। ছোটবেলায় বাবা মহড়ার সময় জিজ্ঞাসা করলে আমি হয়তো বলতাম, ১০ টা-সাড়ে ১০টায় যাব। বাবা সংশোধন করিয়ে বলতেন, "যেকোনো একটা সময় বলো। যদি ১০টায় কোথাও যাওয়ার সময় থাকে, ১০টার মধ্যেই চলে যাও। কাজের জায়গায় সব সময় সৎ থাকো।''মৌ দেশের সেরা মডেল, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা জাহিদ হাসানের স্ত্রী, পুষ্পিতা, পূর্ণের মা। যুগের পর যুগ ধরে সফল অলরাউন্ডারের মতো এই সব ভূমিকা পালন করে আসছেন শক্ত হাতে। মৌ বলেন, 'আমি হুট করে কাজে চলে যেতে পারি না। ছেলের পরীক্ষা থাকলে তখন শুটিংয়ের ডেট দিই না। এখন ওরা বড় হয়েছে। তাই এখন আমি কাজে আগের চেয়ে বেশি সময় আর মনোযোগ দিতে পারি। শুক্রবারটা আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখতে চায়। এটা আমি এখনো মেইনটেইন করি।'দীর্ঘ সময় ধরে একটা সম্পর্ক সতেজ রাখার মন্ত্র শিখতে চাইলে বললেন, 'এটা আসলে কারও একার হাতে নেই। দুজন দুজনকে বোঝা খুবই জরুরি।' | 2 |
আইসিসি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনের ওভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করতে পাঠায়। টসে হেরে গেলেও ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৩০ রান করে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ৭৮ ও সাকিব আল হাসান খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। জবাবে অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি ৬২ রান করলেও অন্যরা সেভাবে দাঁড়াতে না পারায় ৩০৯ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন সাকিব আল হাসান। মাত্র ২১ রানে হারলেও এ ম্যাচে শুরু থেকেই বেশকিছু জায়গায় বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও, সৌম্য আর তামিম একটি ভালো সূচনা করেন। মাত্র ৭ ওভারে ৫০ আর উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ রান হয় ৫০ বলে। এরপর অবশ্য দ্রুতই ফেরত যান এ দুজন। তামিম ইকবাল করেন ২৯ বলে ১৬। তবে অন্য প্রান্তে দৃষ্টিনন্দন সব শটে ৩০ বলে ৯ চারে ৪২ রান করেন সৌম্য সরকার। মূলত তাঁর ব্যাটিংটাই দলকে আত্মবিশ্বাস এনে দেয় বড় স্কোরের। সাকিব-মুশফিকের জুটি ৭৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবং সাকিব আল হাসান। এ দুজন গড়ে তোলেন১৪২ রানের বড় জুটি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম ফিফটি করেন মুশফিক। আর ক্যারিয়ারের ৪৩তম অর্ধশত করেন সাকিব। এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসেনি। কিছু সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগেনি ফিল্ডিং ব্যর্থতায়। লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তাসাকিব-মুশফিক দুজনেরই সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু অল্প ব্যবধানে এ দুজন আউট হলে খানিকটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সে চাপ সামাল দেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মো: মিঠুন এবং মোসাদ্দেক সৈকত - দুজনেই যথাক্রমে ২১ ও রান ২৬ রান করে মাহমুদুল্লাহকে সমর্থন করেন। সে কারণেই শেষ ১০ ওভারে ৮৬ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। এতে করে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের ও এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর করতে সমর্থ হয় মাশরাফির দল। ভালো ফর্মে থাকা কোয়েন্টিন ডি কক তাঁর সতীর্থ ব্যাটসম্যানের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান। মার্করামের সাথে ডু প্লেসির জুটিটাও জমে উঠেছিল। মার্করাম যখন পঞ্চাশ এর পথে, সে সময় ৫ রান দূরে থাকতে তাকে বোল্ড করেন সাকিব। ভাঙেন ৫৩ রানের জুটি। ডু প্লেসিকেও যখন ভয়ংকর মনে হচ্ছিল, সেসময় ৬২ রানে তাকে ফেরত পাঠান মিরাজ। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের বোলাররা। মুস্তাফিজ ৩টি, সাইফুদ্দিন ২টি ও সাকিব-মিরাজ নেন একটি করে উইকেট। দলীয় পারফরম্যান্সে পার্থক্যবাংলাদেশ এ ম্যাচে পুরো দল হিসেবে খেলেছে। কারো একক পারফরম্যান্সে উপর তারা নির্ভর করেনি। মুশফিক-সাকিবের ফিফটির সাথে, রিয়াদ ও সৌম্যর অবদান। বোলিংয়ে উইকেট ভাগাভাগি করেছেন ৪ জন মিলে। এ দিকটাতেই পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলে দুটি পরিবর্তন এনেও পুরো দল হিসেবে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ডু প্লেসি ফিফটি করলেও অন্যরা সেট হয়েও আউট হয়েছেন। বোলিংয়ে পেহলাকায়ো, তাহির ও মরিস দুটো করে উইকেট পেলেও রান আটকাতে পারেননি।সূত্র : বিবিসি | 12 |
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।ঢাকা-১৭ আসনেপ্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সাবেক এই বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেদিন তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে রিটানিং কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, নাজমুল হুদার কোনো দলের হয়ে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সে বিষয়টি মনোনয়ন ফরমে উল্লেখ না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা-১৭ আসনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। আপিলে ব্যারিস্টার হুদা নির্বাচন কমিশনকে জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান। পরে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ঢাকা-১৭ আসন (ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, ভাসানটেক) থেকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গত ৯ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তবে এই আসনে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০১০ সালে বিএনপির সঙ্গে নাজমুল হুদার টানাপড়েন শুরু হলে এক পর্যায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই বহিষ্কারাদেশের পরও তিনি বিএনপির পরিচয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। পরে ২০১২ সালের জুনে নাজমুল হুদা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন একটি দল নিয়ে সামনে আসেন নাজমুল হুদা। তবে নতুন ওই দলটি বেশিদিন টেকেনি। কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্রন্টের আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ দল থেকে নাজমুল হুদাকে বহিষ্কার করেন। এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি)। এটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নাজমুল হুদা আসেন নতুন দল নিয়ে। নাম দেন 'তৃণমূল বিএনপি'। এখন তিনি এই দলের সভাপতি। দলটিকে নিবন্ধন দিতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামের নতুন একটি জোটও রয়েছে তার নেতৃত্বে রয়েছে, যে জোটের সভাপতি তিনি। | 6 |
গুরুতর অসুস্থ সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, লিভারজনিত সমস্যার কারণে ১৮ জানুয়ারি তার বাবাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি সাবেক আইনমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সাবেক আইনমন্ত্রীর অবস্থা গুরুতর জানিয়ে তিনি তার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। ৮৬ বছর বয়সী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
চট্টগ্রামে এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর বাজারে কেজিপ্রতি ১৮৫ টাকায় সাদা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হতে দেখা যায়। এ দিন দেশি মুরগি ৪৫০ টাকা ও সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিছুদিন আগেও সোনালি ২২০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে। নগরীর বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ড. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, 'করোনার কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় উৎপাদন কমে গেছে। লকডাউন প্রত্যাহারের পর বর্তমানে জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়ে গেছে। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।'কথা হয় নগরীর কাজির দেউরি কাঁচা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকতার সওদাগরের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ১২০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৮৫ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।কাজির দেউড়িতে বাজার করতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'সাদা ব্রয়লার আগে কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কিনতাম, এখন বাজারে কেজি ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।'কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, লকডাউনে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের খামার বন্ধ হয়ে যাওয়া, বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে। প্রান্তিক খামারিদের প্রণোদনা দিলে পোলট্রি শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তখন দামও মানুষের সহনীয় পর্যায়ে আসবে। | 6 |
মধুপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় গারোদের নবান্ন উৎসব ওয়ানগালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার মধুপুরের পীরগাছা ও গায়রাতে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ষার বিদায় আর শীতের আগমন বার্তার প্রাক্কালে জমি থেকে ধান ঘরে তোলার আগে গারোরা দেবতাদের নামে ফসল উৎসর্গ করে এ অনুষ্ঠান করে থাকে।পীরগাছা সেন্ট পলস বিদ্যালয় মাঠে ও গায়রা গ্রামের উপাসনালয়ে সকালে এই দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিশপ শুব্রত হাওলাদার, সেন্ট পলস মিশনের পুরোহিত লরেন্স রিবেরু। গারো তরুণিরা তাঁকে নেচে-গেয়ে বরণ করেন নেন। এ সময় তাঁরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বক্তব্য দেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অজয় এ মৃসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।অপরদিকে গায়রা গ্রামের গীর্জায় অতিথি ছিলেন জলছত্র মিশনের পুরোহিত মাইকেল সরকার। এ ছাড়া জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সুচনারুরামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।'ওয়ানা' মানে দানসামগ্রী, আর 'গালা' অর্থ উৎসর্গ করা। তাঁদের বিশ্বাস, দেবতা মিসি সালজংয়ের নির্দেশে সূর্য বীজ থেকে চারার অঙ্কুরোদ্গম ও তার পরিপক্বতা ঘটায়। তাই ফসল তোলার আগে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় ওয়ানগালা উৎসবের মাধ্যমে। গারো সম্প্রদায়ের কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। | 6 |
নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে টাইগার ক্রিকেটারদের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে। এই খবরটি ক্রিকেটপ্রেমীরা আগেই জেনেছেন। নতুন খবর হলো, আজ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের করোনা ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবার প্রথমে টিকা নিয়েছেন টাইগার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। তার পরে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টিকা নিয়েছেন ওয়ানডে দলপতি তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এখন টিকা নেয়ার অপেক্ষায় আছেন তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসিম আহমেদ ও নাঈম শেখ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ও শনিবার শুধুই নিউজিল্যান্ডে সিরিজ খেলতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। দুই দিনে ৩৬ ক্রিকেটারকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হবে। আজকে টিকা গ্রহণ করছেন মোট ২৮ ক্রিকেটার। বাকিরা আগামী পরশু নেবেন। তবে কোনো ক্রিকেটার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী নন এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন, ব্যাটিং কোচ জন লুইস, ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতে, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও ট্রেনার নিকোলাস ট্রেভর লিকে টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে হাসপাতালে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের(বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন, অপারেশন ম্যানেজার সাব্বির খান ও প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। তাদের সঙ্গে সৌম্য সরকারকেও টিকা নেবার জন্য হাসপাতালে আসতে দেখা যায়। এরপর আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও তামিম ইকবাল। বাকি ২২ ক্রিকেটার পর্যাক্রমে আসবেন এবং প্রাণঘাতী করোনার প্রতিরোধক টিকা নেবেন। | 12 |
দেখতে দেখতে পার করতে যাচ্ছি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরবিহীন একটি বছর। আগামী ৬ জুলাই তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। যার সঙ্গে গানে গানে এতটা বছর পথ পাড়ি দিয়েছি, সে মানুষটি আমাদের মাঝে নেই, এখনও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। একসময় প্লেব্যাকের জুটি মানেই ছিলাম আমি আর এন্ড্রু কিশোর। 'আমি একদিন তোমায়', 'তুমি আজ কথা দিয়েছ', 'আকাশকে প্রশ্ন করো', 'তুমি আমার জীবন', 'বুকে আছে মন', 'তুমি ছিলে মেঘে ঢাকা চাঁদ', 'এখানে দুজনে নিরজনে'সহ একসঙ্গে সিনেমার অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আমাদের বেশিরভাগ গানই শ্রোতারা গ্রহণ করেছেন। বহু ছবিতে গান করেছি আমরা। একসঙ্গে কাজ করা আর কাছাকাছি থাকার সুবাদে তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। দেখেছি তিনি কতটা গোছানো, বন্ধুবৎসল, সদালাপী মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত বড়মাপের শিল্পী হওয়ার পরও তার মধ্যে কখনও অহম ভর করেনি। ছিলেন নিভৃতচারী এবং যাবতীয় আত্মপ্রচার থেকে নিজেকে সবসময় সরিয়ে রেখেছিলেন। এমন নিরহংকার শিল্পী খুঁজে পাওয়া ছিল সত্যি কঠিন।শুধু আমার সঙ্গেই নয়, আমি ছাড়াও এন্ড্রু কিশোর অনেকের সঙ্গেই গান করেছেন। তার গাওয়া প্রায় সব গানই শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। যেজন্য তিনি পেয়েছেন প্লেব্যাকে সম্র্রাট উপাধি। সিনেমার গানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন তিনি। টানা চার দশকে কত হাজার গান গেয়েছেন, সেই হিসাব বের করাও কঠিন। পেল্গব্যাকের বাইরেও একক, দ্বৈত, মিশ্রসহ কয়েকশ অ্যালবামে গান করেছেন। কণ্ঠ দিয়েছেন টিভি নাটকের গানে এবং জিঙ্গেলে। কয়েক দশক ধরে একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। অনবদ্য গায়কি আর সংগীত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে সর্বাধিক আটবার [পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে] পেয়েছেন সেরা শিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর বাইরেও অগণিত পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। আজ আমাদের মাঝে তিনি নেই। কিন্তু তার গান আছে। তার প্রিয় হাসিমুখ চোখের সামনে ভেসে আসছে। কত শত স্মৃতি যে মনে পড়ে। শুধু রেকর্ডিংয়ে যে অজস্র স্মৃতি আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। কাজের প্রতি তার বেশ একাগ্রতা ছিল। যখন স্টুডিওতে যেতেন তখন সব ভুলে গান নিয়ে পড়ে থাকতেন। তার এই একাগ্রতা তাকে নিয়েছে উচ্চ শিখরে। এন্ড্রু কিশোর যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন তার সঙ্গে টেলিফোনে অনেক কথা হয়েছিল। তিনি সব বলে গেছেন, শুধু শুনেছি। এমনও অনেক স্মৃতি তুলে এনেছেন, যেটা নিজেও ভুলে গেছি। তিনি ছিলেন রসিক, পরিমিত জীবনযাপন করতেন। পরিচ্ছন্ন মানসিকতার, নিজের পরিবার, স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি তার সজাগ দায়িত্ববোধ তাকে অনন্য করে তুলেছিল। একসঙ্গে অনেক সিনেমার গান করলেও খুব বেশি স্টেজ শো করিনি আমরা। আমাদের মধ্যে যোগাযোগটা ভালো ছিল। প্রতি বড়দিনে আমার বাসায় এন্ড্রু কিশোর কেক পাঠাতেন। এটা সত্যিই অন্যরকম সারপ্রাইজ ছিল। পরিবারের সবাই মিলে কেক কাটতাম। বেশ মজা হতো। গত ক্রিসমাসে তার কেক মিস করেছি। ক্রিসমাস এলেই হয়তো মনের অজান্তে তার কেকের জন্য অপেক্ষা করব।শুধু শিল্পী হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবে এন্ড্রু কিশোর ছিলেন বন্ধুদের কাছে অতিপ্রিয়। যে কোনো আড্ডায় তিনি ছিলেন মধ্যমণি। তার মৃত্যুতে বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল সংগীত অঙ্গনের। তার মতো শিল্পী ছিল বলেই দেশের সংগীতাঙ্গনের ভিত অনেক মজবুত হয়েছে। তিনি এত প্রাণবন্তভাবে গান গাইতেন যে, তার গাওয়া কোনো একটি গানেও আলাদাভাবে চিনতে আমাদের কারও কষ্ট হয় না। এমন শিল্পীর আসলে মৃত্যু হয় না। তার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। | 2 |
পর্নোগ্রাফি মামলায় চারদিনের রিমান্ড শেষে আলোচিত প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (১৮ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। হাজির করার পর মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার এ তদন্ত সংস্থা। আজ বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়ার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার নিবন্ধন শাখ সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীকে মাদক মামলায় দুই দিন করে এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ নায়িকার বনানীর বাসা চারদিক ঘিরে ফেলে প্রায় চার ঘণ্টা ভেতরে তল্লাশি শেষে পরীমনিসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ, এলএসডি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে একই রাতে বনানীর ৭ নম্বর রোডে পরীমনির বন্ধু রাজের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় তার বাসা থেকেও বিদেশি মদ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় বনানী থানায় রাজ ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পর্ণোগ্রাফি আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.