text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
যশোরের মনিরামপুরে মোটরসাইকেল জব্দ করা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে।এ সময় তাঁর স্ত্রীকে পুলিশ লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ। মারধরের শিকার মনিরুল ইসলামকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।তবে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট মেহেদী হাসান মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, 'আমরা তাঁকে মারধর করিনি। সুন্দরভাবে বুঝাইছি।'জানা গেছে, যশোর থেকে আসা সার্জেন্ট মেহেদী হাসান গত সোমবার বিকেলে তাহেরপুর চার রাস্তার মোড়ে অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। এ সময় তিনি ও সঙ্গে থাকা লোকজন মোটরসাইকেল চালক মনিরুলকে বেধড়ক মারধর করেন।আহত মনিরুল ইসলাম মনিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের সামছুল মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক।মারধরের পর মনিরুলের কাছে থাকা ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে।মনিরুলের স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, 'সোমবার বিকেলে আমার স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে আমরা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলাম। তখন তাহেরপুর চার রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায়। তাঁরা কাগজপত্র দেখতে চাইলে আমার স্বামী দেখান। এরপর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান তাঁরা। আমার স্বামীর ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করা আছে। সেই কাগজ দেখালে পুলিশ মূল কপি চায়। মূল কাগজ সঙ্গে না থাকায় মামলা দেন।'শিউলি বেগম আরও বলেন, 'কাগজ দেখা নিয়ে কথাকাটাকাটি হলে সার্জেন্টর সঙ্গে থাকা লোকজন আমার স্বামীকে পেটাতে থাকেন। আমি ঠেকাতে গেলে আমার হাতে আঘাত লাগে। এরপর তাঁরা আমার স্বামীকে মারতে মারতে মাইক্রো বাসে তুলে মনিরামপুর বাজারের দিকে নিয়ে আসেন। গাড়ির ভেতরে আমার স্বামীকে মারধর কররা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আমার স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যান। পরে লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।'মনিরুল ইসলাম বলেন, 'সার্জেন্ট মেহেদী ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা মাইক্রোবাসের ভেতরে আমাকে খুব মেরেছে। তাঁরা আমার কাছেথাকা দুই হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে। আবার ৩ হাজার টাকার মামলা দিয়েছে।'মনিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন বলেন, 'সন্ধ্যার আগে মনিরুল নামে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর স্যালাইন চলছে।'জানতে চাইলে সার্জেন্ট মেহেদী হাসান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'একজন কনস্টেবল ও সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যদের নিয়ে মনিরামপুরে অভিযানে ছিলাম। মনিরুল খারাপ প্রকৃতির লোক। মামলা দেওয়ার পর তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমরা তাঁকে মারধর করিনি। সুন্দরভাবে বুঝাইছি।'মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দীকি বলেন, 'শুনেছি ওই মোটরসাইকেল চালক পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।'
6
সিলেটের সুরমা নদীতে ধরা পড়েছে ১০০ কেজি ওজনের বিশাল একটি বাগাড় মাছ। আজ রোববার মাছটি বিক্রির জন্য নগরের লালাবাজারে নিয়ে আসেন এক বিক্রেতা। মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। তবে এখনো পর্যন্ত মাছটি বিক্রি করা যায়নি।জানা যায়, রোববার সকাল ৭টার দিকে লামাকাজী এলাকায় সুরমা নদীতে এই বিশাল বাগাড় মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। জেলেদের কাছ থেকে কাজীরবাজার মৎস্য আড়তের এক ব্যবসায়ী ওই এলাকার বাসিন্দা মো. বেলাল মিয়া সেটি কিনে নেন। পরে তিনি মাছটি নগরের লালবাজারে নিয়ে আসেন।বেলাল মিয়া জানান, ১ লাখ টাকা দিয়ে তিনি মাছটি কিনেছেন। এখন দেড় লাখ টাকা দাম চাইছেন। অবশ্য ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা পেলে তিনি বিক্রি করে দেবেন।তিনি বলেন, যদি একসঙ্গে কেনার মতো ক্রেতা না পাওয়া যায়, তবে কেজি দরে মাছটি বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হবে।এদিকে লালাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিশালাকারের বাগাড় মাছটি দেখতে লোকজন বাজারে ভিড় করছে। অনেকে মাছটি একবার ছুঁয়েও দেখছে।
6
রাজধানীর মিরপুর আহাম্মদ নগরের বাসা থেকে জুলিয়েট মণ্ডল (২২) নামে এক স্টাফ নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে এটি আত্মহত্যা।জুলিয়েট মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে মিরপুর আহাম্মদ নগরে শ্বশুর বাড়ির সিলিং ফ্যানের সঙ্গে জুলিয়েট ঝুলছিলেন। এ অবস্থায় তাকে নামিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন শহীদ সোহরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিরা গ্রামের সুবল মন্ডলের মেয়ে। হাসপাতালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেন মিরপুর থানার এসআই হোসনে আরা। তিনি সমকালকে বলেন, মৃতদেহের পিঠের ডান পাশে একটু আঁচরের দাগ রয়েছে। এ ছাড়া গলায় অর্ধচন্দ্র কালো দাগ দেখা গেছে। পরিবারে পক্ষ থেকে অভিযোগ করায় রাতে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। রাজধানীর মিরপুর আহাম্মদ নগরের বাসা থেকে জুলিয়েট মণ্ডল (২২) নামে এক স্টাফ নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে এটি আত্মহত্যা। জুলিয়েট মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। জুলিয়েটের বাবা সুবল মন্ডল জানান, দুই বছর আগে গোপালগঞ্জের কোটালি পাড়া উপজেলার রামশীল গ্রামের নিপন তালুকদারের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিরপুরের আহামদ নগরে বসবাস শুরু করেন। নিপন অনলাইনে ব্যবসা করেন। সবুল মন্ডলের অভিযোগ- কারণে-অকারণে নিপন জুলিয়েটের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে। মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়ে জুলিয়েট আত্মহত্যা করেছেন। এরপরও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যু সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
6
শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের দিন আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৫৯ জন মারা গেছেন। তবে এ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। রামেশ রাজু নামের এক ব্যক্তি হামলাকারীকে ঠেকানোর কারণে প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ বেঁচে গেছে বলে দাবি করছে তার পরিবার। জিয়ন গির্জা তখন ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক ওই সময় এক ব্যক্তি ব্যাগপ্যাক (পিঠে ভারী ব্যাগ) নিয়ে গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি ভেতরে ঢুকতে পারলে বহু মানুষের জীবনহানি হতো ওই গির্জার ভেতরে। খবর বিবিসি বাংলার যার বাধার কারণে ওই ব্যক্তি গির্জায় ঢুকতে পারেননি তার নাম রামেশ রাজু। ৪০ বছর বয়সী রামেশ নিজে প্রাণ দিয়েছেন কিন্তু বিনিময়ে বেঁচে আছেন ওই গির্জায় থাকা প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ। তার স্ত্রী ক্রিসান্থিনি এবং দু সন্তান ১৪ বছরের রুখশিখা ও ১২ বছরের নিরুবান। ক্রিসান্থিনি গির্জাতেই সানডে স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করেন এবং ওই রোববারেও তিনি ক্লাসে ছিলেন। তিনি ও রামেশ প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের গির্জায় নেন এবং পরে সন্তানদের প্রার্থনায় নিয়ে যেতেন রামেশই। ক্লাস শেষে ক্রিসান্থিনি ও কয়েকটা শিশু বাইরে যান খাবার কিনতে এবং তখনো ইস্টার সানডের কার্যক্রম শুরু হয়নি। গির্জার বাইরের চত্বরেই তিনি এক ব্যক্তিকে বড় ব্যাগসহ দেখেন। ওই ব্যক্তি বলেন, তার ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা এবং তিনি ভেতরে প্রার্থনার ভিডিও ফুটেজ নেবেন। ক্রিসান্থিনি বলেন, আমার স্বামী কিছু একটা সমস্যা আঁচ করতে পারছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে বললেন তাকে আগে অনুমতি নিতে হবে। এরপর এক প্রকার জোর করেই ওই ব্যক্তিকে চলে যেতে বাধ্য করেন তার স্বামী। ক্রিসান্থিনি ভেতরে চলে যান যেখানে প্রায় ৪৫০ জনের মতো মানুষ প্রার্থনায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায়। এর মধ্যেই বড় বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসে ও লোকজন ভয়ার্ত হয়ে যে যেদিকে পারে দৌঁড়ায়। ক্রিসান্থিনি ও তার পরিবারের সদস্যরাও পালান এবং দ্রুতই তারা রামেশকে খুঁজতে হাসপাতালে যান।কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ পান তারা, তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন যেখানে ক্রিসান্থিনি তাকে সর্বশেষ দেখেছিলেন। সোমবার দাফন করা হয়েছে রামেশকে।ক্রিসান্থিনির মাও খুন হয়েছিলেন এরপর তার পিতাও খুন হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ স্বামীকেও হারালেন তিনি।
3
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ইসরো'-র নতুন চেয়ারম্যান হলেন দেশের প্রথম সারির রকেটবিজ্ঞানী এস সোমনাথ। ইসরো-র 'চন্দ্রযান-২' অভিযানের রকেট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়া সোমনাথকে কেন্দ্রীয় মহাকাশবিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দেশটির মহাকাশ কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছে তিন বছরের জন্য। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরো'র 'বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (ভিএসএসসি)'-এর কর্মকর্তা সোমনাথ ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট জিএসএলভি-মার্ক-৩ এবং তার আগের প্রজন্মের রকেট পোলার লঞ্চ স্যাটেলাইট ভেহিকল্স (পিএসলএলভি) তৈরির অন্যতম কাণ্ডারি সোমনাথের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ইসরো'র বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট ছোট উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর ক্ষেত্রে পিএসএলভি এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা হাতিয়ার। কেরালার কোল্লামে টিকেএম কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর সোমনাথ এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) থেকে। তারপর ১৯৮৫ সালে যোগ দেন ইসরো'র বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমনাথ ছিলেন জিএসএলভি-মার্ক-৩ রকেট প্রকল্পের কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সোমনাথ ছিলেন ভিএসএসসি'র 'স্ট্রাকচার্স' ইউনিট ও 'প্রোপালসন অ্যান্ড স্পেস অর্ডিন্যান্স' ইউনিটের ডেপুটি ডিরেক্টর। বিডি প্রতিদিন/কালাম
11
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য মার্গ্রেট অকেন বলেন, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় ইসরাইলের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট মনিটর। ইউরো-মেড মনিটর ও আরএসএফ আয়োজিত ওয়েবিনারে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য মার্গ্রেট অকেন বলেন, এ বিষয়টা খুবই পরিষ্কার যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় (ইসরাইলের দ্বারা) নিপীড়নের শিকার হন। এটা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ইসরাইলের নির্মম সহিংসতা। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্মম আচরণ ইসরাইলি বর্ণবাদ ও দখলদারিত্বের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়টাও খুব পরিস্কার যে ইসরাইলের এমন আচরণের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করছে না ইউরোপীয় দেশগুলো। এর মাধ্যম তারা তাদের দ্বায়িত্বকে অবহেলা করছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
3
চট্টগ্রাম: করোনার ঢেউ সামলাতে পোশাক শ্রমিকদের জন্য চট্টগ্রামে নতুন করোনা বুথ করছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটির নবনির্বাচিত সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী সল্টগোলাস্থ বিজিএমইএ করোনা ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এ কথা জানান।রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় কোভিড ফিল্ড হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। নাসিরাবাদ, মুরাদপুর, কালুরঘাট এলাকায় কর্মরত পোশাক শ্রমিকদের জন্য মুরাদপুর বিজিএমইএ স্কুলে একটি করোনা স্যাম্পল সংগ্রহ বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী রোববার থেকে এটি চালু হবে।বিজিএমইএ সহসভাপতি আরও বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিজিএমইএ সল্টগোলা এলাকায় ৫০ শয্যার কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীসহ স্থানীয় দরিদ্র জনসাধারণ এ হাসপাতালে সেবা পেয়ে আসছে। এ ছাড়া মা ও প্রসূতিরাও এখানে সেবা পান। হাসপাতালে করোনা সেবা কার্যক্রম শুরু করায় তিনি বিজিএমইএর আগের পরিচালনা পরিষদ ও পরিচালক এম এ সালামকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, হাসান (জ্যাকি), এম এহসানুল হক ও মিরাজ-ই-মোস্তফা (কায়সার)।
6
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশে উত্তরণ করতে হলে কিছু নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলো হলো-মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ভঙ্গুরতা। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) প্রথম দফায় তাদের পর্যালোচনায় জানায়, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। এলডিসি থেকে বের হতে সিডিপির পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেতে হয়। সেই অনুযায়ী চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিডিপি তাদের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা করে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করেছে। নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ডেই বাংলাদেশ যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিক্রমায় নিঃসন্দেহে এটি একটি মাইলফলক। স্বাধীনতার পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়েছে। অর্থনীতির অনেক সূচকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। দারিদ্র্য, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। নারীর ক্ষমতায়নেও এগিয়েছে ব্যাপকভাবে। মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এমন আরও অনেক সূচকেই বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে ভালো করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এলডিসি থেকে উত্তরণের এই জায়গায় আজকের বাংলাদেশ। উত্তরণের ফলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। ২০০৫ সালে মাল্টি ফাইবার অ্যাগ্রিমেন্ট বিলুপ্ত হওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল, আমাদের পোশাকশিল্প হুমকির মুখে পড়বে। তা কিন্তু হয়নি। এমন সংকটকাল কাটিয়ে ওঠার স্বাক্ষর বাংলাদেশ রেখেছে। করোনাকালেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি তুলনামূলক সহজেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারছে। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণজনিত চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন বটে। এই উত্তরণকালে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটা সোপান হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বিদেশি উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ২০১৫ সাল থেকে কনসেশনাল লোনের জন্য বাংলাদেশকে ইতিমধ্যেই আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হারে সুদ দিতে হচ্ছে, যা ক্ষেত্রবিশেষে মাত্র ১-২ শতাংশের মধ্যে। এটি অবশ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কারণে। যদিও বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ঋণ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি হারে সুদ দিতে হয়। উত্তরণকালীন প্রস্তুতির জন্য পাঁচ বছর সময় পাওয়া যাবে-২০২৬ সাল পর্যন্ত। এই সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড এসে পুরো পৃথিবীর হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিয়েছে। মহামারির আগেই বিশ্ব বাণিজ্য ছিল মন্থর। করোনার সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যা প্রশংসার দাবিদার। বৃহৎ শিল্পগুলো এই প্রণোদনা থেকে লাভবান হলেও এর সুফল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কতটুকু কাজে এসেছে, তা এখনো জানা নেই। বাংলাদেশ বিগত দশকগুলোতে দারিদ্র্যের হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনলেও করোনার প্রভাবে তা আবার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য থাকলেও আয়-বৈষম্য ক্রমাগতই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিগত ১০ বছরে আয়-বৈষম্য বেড়েছে ১০ থেকে ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও এর সুফল পেয়েছে কমসংখ্যক মানুষ। উন্নয়ন মানেই শুধু জিডিপির বেড়ে চলা নয়। উন্নয়নের পথচলায় সবাইকে নিয়েই এগোতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে দুর্দশা থেকে বের করে আনতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে আয়-বৈষম্য। প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে করের জাল বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, যদিও বাংলাদেশের জিডিপিতে করের অবদান অত্যন্ত কম (প্রায় ১০ শতাংশ)। নিশ্চিত করতে হবে নাগরিক অধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন। আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও দেশীয় বিভিন্ন নিয়ামক মাথায় রেখেই এখন নিতে হবে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তুতি। উত্তরণকালীন কর্মপন্থাএলডিসির উত্তরণের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য সরকার ২০১৮ সালে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে। প্রস্তুতিকালের এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে সুসংহতভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন কাঠামো আছে। অনুরূপভাবে এই প্রস্তুতিকালের পাঁচ বছরের জন্য সু-সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী যথাযথ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এতে করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের নির্ধারিত অঙ্গগুলো দায়বদ্ধ থাকবে। তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যথাযথ নীতিকাঠামো প্রণয়নে বিবিএসকে কাজে লাগাতে হবে। দ্রুত বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডারকেই এগিয়ে আসতে হবে। উত্তরণকালের কর্মপরিকল্পনাকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, এসডিজি পরিকল্পনাসহ অন্যান্য জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংহত করে অগ্রসর হতে হবে। রপ্তানি ঝুঁকি হ্রাসে কৌশলগত পন্থা অবলম্বনবাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেই শীর্ষ বাজারগুলোয় পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশই বর্তমানে বাণিজ্যসুবিধার আওতায় শীর্ষ ১২টি বাজারে হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, যদি রপ্তানিঝুঁকি সামলানো যায়, তবে এই উত্তরণের প্রভাব হবে সীমিত। তার জন্য উল্লেখযোগ্য সব বাণিজ্য অংশীদার দেশের সঙ্গেই আলোচনায় গিয়ে দর-কষাকষি করে নিজেদের সুবিধা আদায় করে নিতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং আরও প্রায় ১১টি দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে। আমাদের অত্যন্ত সতর্কভাবে বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে অগ্রসর হতে হবে। বাণিজ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপানের মতো অর্থনীতির জন্য পৃথক পৃথক কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে কীভাবে আমরা বিদ্যমান বাণিজ্যসুবিধা এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বর্ধিত করতে পারি। যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ায় উত্তরণ-পরবর্তী সময়েও অন্তত তিন বছরের জন্য যেন বাণিজ্যসুবিধা পাওয়া যায়, তার জন্য চেষ্টা করতে হবে। একবারে শুল্ক বৃদ্ধি না করে পর্যায়ক্রমে শুল্কহার বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা করা যেতে পারে। চীন পলিনেশীয় দ্বীপরাষ্ট্র সামোয়াকে এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরও বাণিজ্যসুবিধা দিয়েছে। সাফটা চুক্তির আর্টিকেল ১২ অনুসরণ করে মালদ্বীপ ভারতের কাছ থেকে বাণিজ্যসুবিধা আদায় করে নিয়েছে। এই দুটি উদাহরণ কাজে লাগিয়ে ভারত ও চীনে উত্তরণ-পরবর্তী সময়েও বাণিজ্যসুবিধা প্রাপ্তির অবকাশ রয়েছে। এটা হাতছাড়া করা উচিত হবে না। লক্ষ রাখতে হবে, প্রতিটি দেশই তাদের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখবে। আমাদের তাই বাণিজ্য আলোচনায় অধিক জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানরত মিশনগুলোকেও দক্ষ করতে তুলতে হবে।রপ্তানি ভর্তুকি হিসেবে বাংলাদেশ এখন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার নগদ সহায়তা দিয়ে থাকে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানি ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হবে না। অতএব ডব্লিউটিওর নিয়মনীতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আমরা এখনো তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে এখনো হাই ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য আমরা তেমন একটা রপ্তানি করি না বললেই চলে। এর পেছনে অন্যতম কারণ দক্ষতার অভাব। এই অভাব প্রায় সব শিল্পেই বিরাজমান। ফলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের চেষ্টা বারবারই হোঁচট খেয়েছে। রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বহুমুখীকরণের জন্য তাই একটা কার্যকর কৌশল হতে পারে সেক্টরভিত্তিক জনশক্তি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং ক্রমপরিবর্তনশীল বাজার চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই বাড়াতে হবে দক্ষতা। এ ছাড়া পোশাকশিল্পের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি শিল্পের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে হাই ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য রপ্তানি করার মাধ্যমে রপ্তানি আয়ের সুযোগ আছে। এ ছাড়া দেশের ওষুধশিল্প এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি খাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেও ডব্লিউটিওর বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাসম্পদ অধিকার (ট্রিপস) চুক্তি পরিপালনের বাধ্যবাধকতা থেকে অন্যান্য এলডিসির মতো যেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহতি পেতে পারে, সে বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মেধাস্বত্বের ব্যাপারেও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিবৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও সেক্টর-ভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের উদাহরণের কথা একটু মনে করিয়ে দিই। আজ থেকে বছর দশেক আগেও ভিয়েতনাম স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে এতটা নামডাক পায়নি। বর্তমানে ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন রপ্তানিকারক। স্যামসাংয়ের বৈশ্বিক মোবাইল ফোনের ৪০ শতাংশ উৎপাদন করে ভিয়েতনাম এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক জনবলের প্রায় ৩৫ ভাগই ভিয়েতনামে। ভিয়েতনামের স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সস্তা জনশক্তির প্রাচুর্য, আমদানি অংশীদার দেশের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য প্রভৃতি কারণকে ভিয়েতনামের এই সাফল্যের চালিকা শক্তি হিসেবে দেখা হয়। স্যামসাংয়ের সর্ববৃহৎ স্মার্টফোন কারখানা এখন ভিয়েতনামে। সঙ্গে আছে গবেষণা, উন্নয়ন কার্যক্রমসহ আরও অনেক আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান। স্যামসাংয়ের উপস্থিতির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে ভিয়েতনামের নিজস্ব জনশক্তি। স্যামসাংয়ের পাশাপাশি এলজি, ক্যানন, প্যানাসনিক এবং কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার ফক্সকন ও জাবিল-ও রয়েছে। এ ছাড়া মাইক্রোসফট এবং ইন্টেলের মতো প্রতিষ্ঠানও এখন ভিয়েতনামে বিদ্যমান। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কর রেয়াত এবং অন্যান্য প্রণোদনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে এসব প্রতিষ্ঠানকে ভিয়েতনামে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য। বিখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করলে আমাদের জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন পণ্যে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কিছু সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে আরও ব্যাপকভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। সহজে ব্যবসা সূচক বা ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে আমাদের অবস্থান উন্নত করতে হবে। বাংলাদেশে করপোরেট ট্যাক্সের হার অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বেশি। অবকাঠামোগত দুর্বলতা তো আছেই। সব মিলিয়ে সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কর-কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে হবে, উন্নত করতে হবে অবকাঠামো। গড়তে তুলতে হবে ব্যবসায়বান্ধব পরিস্থিতি, কমাতে হবে ব্যবসার ব্যয়। উত্তরণকালীন কার্যকর কৌশল প্রণয়নে এটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও জনশক্তির উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা যথাযথ সক্ষমতা অর্জন করতে পারি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ক্রমেই কর্মিবান্ধব কর্মপরিবেশের দিকে জোর দিচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের ঝুঁকি ব্যাপক। সঙ্গে রয়েছে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের চাপ। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে যখন নিম্ন আয়ের কর্মী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সবাই উন্নয়নের সুফল পাবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই উত্তরণকালে আমাদের কৌশল হওয়া উচিত সক্রিয়ভাবে বাণিজ্যসুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, জনশক্তি দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশ ও কর্মিবান্ধব শিল্পায়নে সচেষ্ট হওয়া। প্রস্তুতিকালে আমাদের কার্যক্রমই নির্ধারণ করবে কতটুকু শক্তিমত্তার সঙ্গে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছি। অবশ্য এর জন্য প্রয়োজন উত্তরণকালে উদ্ভাবনী ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তার সফল বাস্তবায়ন। ড. এম আবু ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক।
8
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি বলেছেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ নিয়ে কেউ পদ বাণিজ্য করার দুঃসাহস দেখালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পদবাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের দলে ঢুকালে এসব ব্যক্তি দলের মধ্যে উইপোকার মতো কাজ করে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলকে দুর্বল করে দিয়ে দলের সাংগঠনিক ভিত ধ্বংস করে দেয়। তাই এসব পদ বাণিজ্যকারী এবং সুযোগ সন্ধানীদের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।' বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা আজম বলেন, 'পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি কাউকেই আইএসআইএর কর্মকর্তা বানানো হয়নি। কিন্তু জিউয়ার রহমানকে ঠিকই আইসএসআইএর কর্মকর্তা বানানো হয়। কারণ জিয়াউর রহমানের বাবা পাকিস্তানি। ৭১'এ মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হবে সেটা পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানতো, তাই যুদ্ধের আগেই জিয়াউর রহমানকে গুপ্তচর হিসেবে এদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার লেবাশ ধরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বহু মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে হত্যা করেন এবং বহু দলীয় রাজনীতির নামে স্বাধীনাতাবিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে আঘাত করেন।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুহার আগের চেয়ে কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রীবলেন, রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমেছে। রোগী যদি না কমে তাহলে হাসপাতালে ৬০-৭০ ভাগ সিট খালি থাকতো না। এটাই প্রমাণ করে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা কমেছে। তিনি বলেন, মানুষ এখন বাসায় বসে বেশি চিকিৎসা নিচ্ছে। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। দেশে ৪-৫ হাজার ডাক্তার টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মুমূর্ষু রোগী ছাড়া হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয় না। খবর ইউএনবির দেশে এখন টেস্টের সংখ্যা কমছে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মানুষ বাসায় চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে যাচ্ছে ফলে টেস্ট করার সংখ্যাও কমছে। এছাড়া, বন্যা, মানুষের মধ্যে টেস্ট করার অনীহা এবং বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে যাওয়ার কারণে টেস্টের সংখ্যা কমছে। আগের চেয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষাগার কমলেও করোনা পরীক্ষার কিটের কোনো সংকট নেই বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, এখন করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার হারও বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। এখনও অনেক জেলায় কোনো মৃত্যু নেই এবং সংক্রমণ সংখ্যাও অনেক কম। সব বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে এটা বলাই যায় যে, বাংলাদেশে করোনা রোগী ও মৃত্যু সংখ্যা কমছে। হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে অভিযান হয় না, অভিযান হয় চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়। হাসপাতালে অনিয়ম অনুসন্ধান করা হয়। কোনো অভিযান বন্ধ হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যৌথভাবে এ অনিয়ম দেখা হবে।
6
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শপথগ্রহণ করবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদার সই করা এক চিঠিতে তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। রাজধানীর গণভবন ও ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ বিশ্বস্ত সৈনিক মিমি, নুসরাত ও দেব। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও দলকে জেতাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা। তাই রবিবার তৃণমূল ২০০ আসন পার করা মাত্রই টুইট করলেন যাদবপুরের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। লিখলেন 'অপরাজিত'। তৃণমূলের জয়ে একটা তৃপ্তির বোধ কাজ করেছে এই তিন তারকার মধ্যে। মিমি জানিয়েছেন, 'বাংলা আজ যা করে, ভারত আগামীকাল তা ভাবে'। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার প্ল্যানিংয়ে প্রথমদিনেই বড় দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের ৩ তারকা প্রার্থী দেব, মিমি, নুসরাতকে। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'দেব, মিমি, নুসরাতকে বেশি করে সময় দিতে হবে'। তিন জনেই তড়িঘড়ি শুটিংয়ের কাজ সেরে মন দেন প্রচারে। দেব জানান, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের সময়ে এত জনসমাগম দেখিনি, যা এবারের বিধানসভায় দেখেছি। প্রচার চলাকালীন কোভিডের প্রকোপ বাড়ায় প্রকাশ্য সভায় দাড়িয়ে মানুষকে মাস্ক পড়তে বলেছি। এমনকি এটাও বলেছি যে, বাড়ি থেকে বেরোবেন না। যাকে খুশি ভোট দিন। আমাদের দলের এই অ্যাপ্রোচ মানুষের পছন্দ হয়েছে, তারা বুঝেছেন আমরা তাদের পাশে আছি। নুসরাত সকালের দিকে ট্রেন্ড আসতে শুরু করা মাত্রই টুইটে লেখেন, খেলা হয়েছে, জেতা হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতার সম্ভাবনা স্পষ্ট হওয়া মাত্রই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লেখেন টিএমসি করবে ২০০ পার। নির্বাচনের প্রচারে অশোকনগরে গিয়ে বিতর্কে জড়ান নুসরাত। ওঠে সমালোচনার ঝড়। ফল প্রকাশের পর সেসব আর মনে রাখতে চান না বসিরহাটের তৃণমূল এই সাংসদ। টলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, তিন তারকার সম্পর্ক নাকি ততটা ভালো নয়। কয়েক বছর আগে, দেবের একটি ছবি থেকে শেষমুহূর্তে বেরিয়ে যান মিমি। মিমির সেই হঠাৎ-সিদ্ধান্তের পেছনে নাকি নুসোতের ভূমিকা ছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আর কখনওই তিন তারকাকে একসঙ্গে সুরে বাজতে দেখা যায় নি।
2
ক্রান্তীয় অবহেলিত রোগ (এনটিডি) বিশ্বের চরম দরিদ্র ১৪৯টি দেশের প্রায় ১৭০ কোটি প্রান্তিক মানুষের জন্ম মারাত্মক হুমকি। এই রোগগুলো মানুষকে অন্ধ, বিকলাঙ্গ ও বিকৃত করে। শুধু আক্রান্তদের স্বাস্থ্য কেড়ে নেয় না বরং বেঁচে থাকার সুযোগ এবং বেঁচে থাকার উপার্জন কেড়ে নেয়। এমনকি পরিবার বা সমাজে বসবাস করাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত এনটিডির সংখ্যা ২০টি। এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রধানত সাতটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এগুলো হলো; গোদরোগ বা ফাইলেরিয়া, কালাজ্বর, কুষ্ঠ, কৃমি, জলাতঙ্ক, সাপে কাটা এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া। এই মধ্যে বেশ কয়েকটি এনটিডি নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। তবে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এবং সাপে কাটা নিয়ন্ত্রণে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।আজ শনিবার ( ৩০ জানুয়ারি) বিশ্ব ক্রান্তীয় অবহেলিত রোগ (এনটিডি) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এক্সেলেরেটিং দ্য সাসটেইনেবল কন্ট্রোল এন্ড এলিমেনেশন অব নেগলেক্টটেড ট্রপিক্যাল ডিজিস (এসেন্ড) যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, এসেন্ডের কান্ট্রি লিড অধ্যাপক ডা বে-নজীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও সিডিসি লাইন ডাইরেক্ট অধ্যাপক ডা মো. নাজমুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) ও লাইন ডাইরেক্টও (টিবি-এল এন্ড এএসপি) অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম। পিআর পিআর
4
করোনার মহামারির মাঝেও বেবোর আকাশ এখন রঙিন। সেই আকাশে ভয়ের মেঘ নেই। আছে নতুন করে 'মা' ডাক শোনার উচ্ছ্বাস। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা। আর কয়েক মাস পরেই নতুন অতিথি আসবে সাইফ-কারিনার সংসারে। তার মধ্যেই কাজ করে চলেছেন বেবো। 'লাল সিং চড্ডার শুটিংয়ের জন্য সাইফ এবং পুত্র তৈমুরকে নিয়ে উড়ে গিয়েছেন দিল্লিতে। সেখান থেকেই আজ এক টুকরো অবসরের মুহূর্ত শেয়ার করলেন অনুরাগীদের জন্য। ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন বেবো। চারদিকে সবুজ ঘিরে রয়েছে তাঁকে। নায়িকার চোখে মুখে আসন্ন মাতৃত্বের আভা। 'কভি খুশি কভি গম- এর 'পু' অথবা 'জব উই মেট'-এর 'গীত-এর যে ছবি আজও সবার মনে আঁকা, তার থেকে এই বেবো সম্পূর্ণ আলাদা। মুখে মেকআপ নেই। চুল টেনে পিছন দিকে বাধা। চোখ দুটো বরাবরের মতোই কথা বলছে। আর পরনে তাঁর পছন্দের 'কাফতান'। সাদা-কালো চেক কাফতানে বেবো সহজ সুন্দরী। ছবির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং সুস্থ আছেন, সঙ্গে ব্যবহার করেছেন" কাফতানসিরিজ কন্টিনিউজ"। এর আগেও গোলাপি কাফতানে ছবি দিয়েছেন বেবো। গর্ভাবস্থায় কাফতানে মন মজেছে তাঁর। নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট মেলে ধরতে কি ভুলতে পারেন কারিনা কপূর খান! সেই জন্যই ইনস্টাগ্রামে এই ছবির 'সিরিজ' শুরু করেছেন তিনি। অনুরাগীরাও 'গীত'কে ভরিয়ে দিয়েছে ভালোবাসায়। 'লাল সিং চড্ডা'র কাজ শেষ হলেই তিনি কর্ণ জোহরের 'তখত' ছবিতে কাজ শুরু করবেন। রণবীর সিংহ, ভিকি কৌশল, আলিয়া ভট্ট, অনিল কপূরের মতো তারকাদেরও দেখা যাবে এই ছবিতে। আপাতত নতুন অতিথির অপেক্ষায় দিন গুণছেন নায়িকা।
2
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগদান করে নতুন কর্মজীবন শুরু করেছেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। তিনি জানান, রাজধানীর পোস্তাগোলায় আদ-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিকুল হক হাসপাতালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন রোববার সমকালকে জানান, গত ১ নভেম্বর ওই হাসপাতালে কাজ শুরু করেছেন বাবুল আক্তার। দুর্বৃত্তের গুলিতে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু নিহত হওয়ার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন বাবুল আক্তার। এসপি হিসেবে পদোন্নতির আগে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পাওয়ার পর ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে কাজে যোগ দিতে আসার পরই গত ৫ জুন চট্টগ্রামে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুন হয়। মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের সোর্স জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে এলে বাবুলকে ঘিরেও তৈরি হয় রহস্য। স্ত্রী হত্যায় তিনি জড়িত কি-না এই বিষয়টিও সামনে চলে আসে। তারপর নানা নাটকীয় ঘটনার পর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বাবুল আক্তারকে।
6
সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার মিথ্যা মামলায় ১৯ বছর কারাভোগের পর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ১২৭ ভারতীয় মুসলমান। তাদের অনেকে আবার এ সময়ের মধ্যে মারাও গেছেন। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাতে মোহাম্মদ আব্দুল হাই ভারতের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থানের যোধপুর থেকে একটি ট্রেনে চড়ে গুজরাটের সুরাটে যাচ্ছিলেন 'মুসলিম শিক্ষা' বিষয়ক একটি তিন দিনের সেমিনারে অংশ নেয়ার জন্য। ওই সেমিনারটি আয়োজন করেছিল 'অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি এড়ুকেশন বোর্ড'। তখন মোহাম্মদ আব্দুল হাই যোধপুরের জয় নারায়ণ ভিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। পরের দিন এ সেমিনারটি একটি বন্ধ সিনেমা হলে (রাজেশ্রি সিনেমা হল) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ অনুষ্ঠানটিতে মোহাম্মদ আব্দুল হাই এবং আরো ১২০ ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরের দিন সকাল ১১টায় পুলিশ সুরাটের এ বন্ধ সিনেমা হলে উপস্থিত হয়। পুলিশ অভিযোগ করেছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি) তাদের প্রচার-প্রসারে সেমিনারটির আয়োজন করেছে। এ অভিযোগে সেমিনারে অংশগ্রহণ করা সকল ব্যক্তিকে পুলিশ কড়া সন্ত্রাস বিরোধী আইন- অবৈধ কর্মকাণ্ড (প্রতিরোধ) আইনে (ইউএপিএ) গ্রেফতার করে। তাদেরকে অভিযুক্তও করা হয়। মোট ১২৭ মুসলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল রোববার সুরাট আদালত এ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছে ১৯ বছর পর।কিন্তু, এ মামলার দীর্ঘ শুনানির মধ্যেই পাঁচ অভিযুক্ত ইন্তেকাল করেছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সিমিকে (ভারতীয় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন) বিভিন্ন বোমা হামলার জন্য দায়ী করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রাখে। কিন্তু বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনগুলো বলছে, 'ভারতের মুসলিমরা শুধুমাত্র তাদের 'ইসলামী জীবনব্যবস্থার' তত্ত্ব প্রচার করে। তবুও তাদের শত শত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।' ২০০১ সালে সিমিকে ভারত সরকার নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর হমলার কারণ দেখিয়ে। ৬ মার্চ সুরাট আদালত আদেশ দিয়েছে, প্রসিকিউশনে (মামলার তদন্তে) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যার মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় না যে, তারা সিমির সদস্য বা তারা সেখানে সমবেত হয়েছিল এ সংগঠনটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে। গত কয়েক দশকে অনেক ভারতীয় মুসলিম সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত। এসব মামলায় অভিযুক্তদের বেশির ভাগই খালাস পেয়েছেন। কিন্তু তাদের দীর্ঘদিন ধরে আদালতের শুনানি ও জেলের চক্করের মধ্যে পড়তে হয়েছে। সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
3
ওয়াসা বোর্ডের ভার্চুয়াল সভায় পানির দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। নেতারা বলেছেন, ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা অবস্থায় ভার্চুয়ালি সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান পানির দাম বাড়িয়েছেন, যা স্বেচ্ছাচারিতার চরম প্রকাশ। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ এমডি তাকসিমকে অপসারণ না করে ওয়াসাকে জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠানে ফেরানো যাবে না। তাই পানির দাম বৃদ্ধি নয়, দুর্নীতিবাজ তাকসিমকে অপসারণ করতে হবে। পদ্মা, ভাকুর্তাসহ ওয়াসার মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক নেতা আবদুর রাজ্জাক, নগর নেতা জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়। নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে করোনা মহামারিতে দেশের শ্রমজীবী-মেহনতি, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সংকোচনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের শামিল। বর্তমান সরকার গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বৃদ্ধি করেছে। ওয়াসা অজুহাত দেয়- তাদের আইনে আছে বছরে একবার পাঁচ শতাংশ দাম বাড়াতে পারবে। কিন্তু আইন থাকলেই কী জনগণের এই সংকটের সময় দাম বাড়াতে হবে? সমাবেশ থেকে পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৫ দিন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় সমাবেশ ও গণসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামী ১৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
9
সাই মাঞ্জরেকারের ছেলেবেলা কেটেছে বাবা মহেশ মাঞ্জরেকারের সিনেমার সেটে। অ্যাকশন আর কাট দেখতে দেখতে বড় হওয়া সাই চেয়েছিলেন পরিচালক হতে। ক্যামেরার পেছন থেকে যে মানুষটা সব কলকাঠি নাড়েন, তাঁকেই তাঁর মনে ধরেছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ক্যারিয়ার শুরু করলেন মডেলিং দিয়ে। তাঁর বয়স যখন সবে ২১, তখন ৫৪ বছর বয়সী সালমানের নায়িকা হয়ে খাতা খুললেন বলিউডে। এক দশক আগে দাবাং দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল সোনাক্ষী সিনহার। আর সেই ছবির তৃতীয় কিস্তিতে নায়িকারূপে আত্মপ্রকাশ করলেন সাই। সব আশঙ্কা হাওয়ায় মিলিয়ে দাবাং থ্রি বক্স অফিস থেকে তুলে এনেছিল আড়াই শ কোটি রুপির বেশি। নায়িকা হওয়ার পর থেকেই লেখাপড়ায় মন বসছে না মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী সাইয়ের। পুরো সময় আর শ্রম তিনি ব্যয় করতে চান বড় পর্দায়। পড়াশোনায় মন না বসলে কী হবে, সিনেমায় তিনি দেখা দেবেন কলেজছাত্রীর চরিত্রে। এবার তাঁকে দেখা যাবে বক্সিংয়ের ওপর নির্মিত তেলেগু ড্রামা ঘানিতে। আর বইখাতা নিয়ে বসতে ইচ্ছা না করলেও এই ছবির জন্য সাই শিখে ফেলেছেন তেলেগু ভাষা। ছবির পরিচালক কিরণ কোরাপাথি সাইকে তাঁর ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, 'আমার ছবির জন্য খুব স্বাভাবিক চেহারার, পাশের বাড়ির মেয়ের মতো সরল চেহারার একটা মিষ্টি মেয়ে লাগে। যে ঠিক তথাকথিত গ্ল্যামারাস নয়, কিন্তু আকর্ষণীয়। তাকিয়েই সঙ্গে সঙ্গে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। ও খুব অনায়াসে অভিনয় করে। অভিনয়টা দেখে মনে হয় না যে অভিনয় করছে। মনে হয় সব সত্যি। আভিজাত্যে বড় হওয়া আধুনিক এই মেয়েটা দাবাং থ্রিতে অভিনয় করেছে একেবারে গ্রামের মেয়ে খুশির চরিত্রে। কিন্তু কে বলবে, সে খুশি নয়! আমি অনেক আগে ওকে চিত্রনাট্য দিয়ে রেখেছি। ও এর মধ্যে ভাষা শিখে সংলাপগুলো একেবারে তামিলভাষী নারীর মতোই আওড়াচ্ছে।' এর মধ্যে সাই মেজর নামে মেজর সন্দীপের বায়োপিকে অভিনয় করেছেন। ২ জুলাই মুক্তি পাবে ছবিটি।
2
টাঙ্গাইলের মধুপুরে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়-দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য, চিকিৎসা বাবদ নগদ অর্থ ও জীবিকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে জলছত্র শান্তি নিকেতনে কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চল আয়োজিত সহায়তা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কারিতাসের নির্বাহী পরিচালক সেবাস্টিন রোজারিও ওলুক্সেম বার্গের প্রতিনিধি সুভাষ সাহা। আরও বক্তব্য রাখেন ফাদার শিমন হাচ্চা, কারিতাস ময়মনসিংহের আঞ্চলিক পরিচালক অপূর্ব রাফারেল ম্রং, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাবেক সভাপতি অজয়, অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, কারিতাসের প্রোগ্রাম অফিসার বুলবুল মানখিন, ফোকাল পার্সন ব্রিলিয়ান্ট চিরান ও মাঠ কর্মকর্তা সূচনা রুরাম প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
শরীয়তপুরের মঙ্গলমাঝির লঞ্চঘাটে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে যাত্রীদের থেকে জোর করে টোলের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রীতিমতো বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে খেয়াঘাটের টোলের নামে যাত্রী প্রতি আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা করে। এতে করে প্রতি যাত্রীকে ২ দফা টোলের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। খেয়া ঘাটের টোল আদায়ের ইজারার বিষয়টি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারে কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়ায় কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।জানা যায়, যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে ২০১৫ সালে দেশের সকল লঞ্চঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। লঞ্চ ঘাটের টোল বাবদ লঞ্চের টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ টাকা টোল সংযুক্ত করে লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সরকারের সেই নির্দেশনার পর দীর্ঘ ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও টোল আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত এই ঘাটটিতে। লঞ্চ টিকিটের সঙ্গে টোলের টাকা সংযুক্ত করে টিকিটের টাকা আদায় করা হলেও বন্ধ হয়নি ঘাটের টোল আদায়। মাঝিরঘাট লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে আদায় করছে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী চক্র। ঈদ, পূজাসহ অন্যান্য উৎসবে অর্থ আদায়ের পরিমাণ বেড়ে যায় কয়েক গুন। নির্ধারিত টাকা না দিলে কাউকেই উঠতে দেওয়া হয় না লঞ্চে। প্রতিবাদ করলে অপমান আর মারপিটের অভিযোগও রয়েছে চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে।আজ মঙ্গলবার মাঝিরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট লঞ্চ ঘাটের সামনেই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রী প্রতি ৫ টাকা করে আদায়ের একটি নির্দেশনার সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে পূর্ব নাওডোবা আন্তজেলা খেয়াঘাটের টোল চার্ট। অথচ মাঝিরঘাট লঞ্চ ঘাটের সামনে থেকে লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু সময়ের জন্য ৫ টাকা করেও টোল আদায় করা হয়েছে। এ সময় অনেক যাত্রী চক্রের সদস্যদের সামনেই টাকা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করে।যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, শিমুলিয়া এবং বাংলাবাজার লঞ্চঘাটসহ দেশের কোনো ঘাটেরই টোল আদায় করা হচ্ছে না। অথচ মাঝিরঘাটে টোল পরিশোধ না করা পর্যন্ত লঞ্চে উঠতে দেওয়া হয় না যাত্রীদের। ঘাটে ১০ টাকা এবং লঞ্চ টিকিটের সঙ্গে আরও ৫ টাকা করে দুই দফায় মোট ১৫ টাকা টোল পরিশোধ করতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আলতাফ খা, রাজ্জাক মাঝি, নেছার মাদবর, তুহিন ফরাজী ও শামীম মোড়লের নেতৃত্বে যাত্রীদের থেকে আদায় করা হয় এই টাকা।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পূর্ব নাওডোবা আন্তজেলা খেয়াঘাটের নামে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। বাংলা ১৪২৮ সাল থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ১ বছরের জন্য ৩৫ লাখ টাকায় খেয়াঘাটের ইজারা পান পূর্ব নাওডোবা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মানের হোসেন খা। খেয়াঘাটের যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা হারে ইজারাদারের টোল আদায়ের কথা।এ বিষয়ে ঢাকার পুরান বাজারের ব্যবসায়ী হামিদুল সরদার বলেন, ১০ টাকা না দিলে লঞ্চে উঠতে দেওয়া হয় না। প্রতিবাদ করলে অপমান আর নাজেহাল হতে হয়। শিমুলিয়া থেকে আসার সময় টাকা লাগেনা অথচ এই ঘাট দিয়ে টাকা ছাড়া যেতে দেওয়া হয় না। ঈদ-পূজার সময় যাত্রী প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত টাকা আদয় করে এই চক্রের সদস্যরা।ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে অবৈধ এই টোল আদায় করা হলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। পদ্মা পাড় হতে আমাদের প্রতিবার দুই দফায় ১৫ টাকা করে টোলের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।টোলের টাকা আদায়কারী চক্রের সদস্য ফজলু ভান্ডারি লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে টোলের টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী প্রতি ৫ টাকা করে টোল আদায় করছি। খেয়া ঘাট না থাকায় লঞ্চ যাত্রীদের কাছ থেকে টোলের টাকা আদায় করা হয়।মাঝিরঘাটের ইজারাদার মনির হোসেন খাঁ বলেন, মাঝিরঘাট এলাকায় খেয়াঘাট নেই। যেহেতু আমরা টাকা খরচ করে ঘাট ইজারা নিয়েছি তাই লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট যাত্রীদের কাছ থেকে টোলের টাকা আদায় করা হচ্ছে।বিআইডবিউটিএর মাঝিরঘাটের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ ইনাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিআইডবিউটিএর কোনো লঞ্চঘাটে টোল আদায়ের সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত প্রক্রিয়ায় টোলের টাকা লঞ্চ যাত্রীদের থেকে আদায় করা হচ্ছে। যেহেতু আমাদের টার্মিনালের বাইরে গিয়ে লঞ্চঘাটের সামনে থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কিছু নেই। এটা স্থানীয় প্রশাসনের কাজ।জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, যেহেতু খেয়া ঘাটটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ইজারা দেওয়া এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই। তবে লঞ্চ যাত্রীদের থেকে টোল আদায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।
6
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবার দেশটির রাজধানীতে দুবাইতে ট্রেড সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। এ লক্ষ্যে শুক্রবার বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল অব দুবাই (বিবিসি) ও এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী দুবাইতে এফবিসিসিআই ট্রেড সেন্টার স্থাপনে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বিবিসি-দুবাই। ট্রেড সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ইউএইতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেবে এফবিসিসিআই। দুবাইকে হাব হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে এফবিসিসিআইয়ের ট্রেড সেন্টার। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আমিরাতের ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের সহযোগিতা করবে এই ট্রেড সেন্টার। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও বিবিসি-দুবাইয়ের পক্ষে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মেদ মাহতাবুর রহমান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার, মোহাম্মেদ বজলুর রহমান ও মো. নিজাম উদ্দিন।
0
আপু একটা ফুল নিবেন? জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে ফুল বিক্রি করত জিনিয়া। কিন্তু হঠাৎ একদল শিশু পাচারকারীর ফাঁদে পড়ে সে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক পরিচিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের বিষয়ে বেশ তৎপর হন শিক্ষার্থীরা। তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমরা কি জানি, হাজার হাজার উদ্ধার না হওয়া জিনিয়ার কথা? অ্যাডভেন্টিস্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিলিফ এজেন্সি (এডিআরএ) বাংলাদেশের ২০১৯ সালের সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি বছর বিশ্বে ৬০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ পাচার হয়ে থাকে। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই মানব পাচারের দিক থেকে অন্যতম একটি দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী যৌন নির্যাতন ও শোষণ সম্পর্কিত ফ্যাক্টবুক বাংলাদেশের তথ্য অনুসারে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। তাদের যৌনকর্মী অথবা জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়। এডিআরএর সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মানব পাচার হয়ে থাকে। এই মানব পাচারকারীদের ২০টি ট্রানজিট পয়েন্ট রয়েছে, যা বাংলাদেশের ১৬টি জেলায় অবস্থিত। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়াতে মানব পাচার হচ্ছে। তথ্যে আরো পাওয়া গেছে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি দেশে জলপথ দিয়ে মানব পাচার করা হচ্ছে। মানব পাচারের প্রধান শিকার নারী ও শিশু। বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা, ফাঁদ, প্রলোভন এবং জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মানব পাচার করা হয়। তাদের নিশানায় থাকে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী দ্বারা নির্যাতিত ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নারী, অনাথ, পরিবার থেকে বিতাড়িত ও নির্যাতিত শিশু। পাচারকৃত নারী ও শিশুকে নিয়োজিত করা হয় পতিতাবৃত্তিতে আবার কখনো ভিক্ষাবৃত্তিতে। তাদের শরীরে রক্ত এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়, মাথার খুলি, কঙ্কাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উট দৌড় প্রতিযোগিতায় উটের বাহক হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা হয়। মানব পাচারের অন্যতম কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য, সচেতনতার অভাব, শিক্ষার অভাব এবং দুর্বল প্রশাসন ব্যবস্থা। শিশুরা এই চক্র সম্পর্কে অবগত থাকে না, যা শিশু পাচারের অন্যতম কারণ। শিশুদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। শিশু এবং তাদের মা-বাবাকে এই সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল সংস্থা ইউনিসেফের মতে আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখ। যারা জীবিকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। অশিক্ষিত বাবা-মা কিংবা অনাথ হওয়ায় তারা সচেতন হতে পারে না। এই দুর্বলতার সুযোগ নেয় একদল নেকড়ে। তাদের জীবনের দায়িত্ব কে নেবে? কবে নিশ্চয়তা পাবে জিনিয়ারা? শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। []
8
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সহযোগী জাকির হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে তাকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিকেলে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টায় পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ ব্যাপারে পৃথক দু'টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জনা যায়, সোমবার রাত ৩টায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাসপোর্ট অফিস এলাকায় নানা শ্বশুর আবদুর রহিমের বাড়ি থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ৪ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ১৬০ টাকা ও দুইটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে র্যাবের ডিএডি আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ভোলা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। ভোলা মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, জাকিরকে বৃধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
6
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার টাংনির হাওরের ভেঙে যাওয়া ফসল রক্ষা বাঁধ গত তিন দিনের টানা স্বেচ্ছাশ্রমে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় এসেছে। তপ্ত রোদে ঘাম ঝরানো এই কাজে ছিলেন কয়েক শ লোক। ছিলেন অনেক কৃষক। শুক্রবারও দিনভর কাজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের প্রাণপণ চেষ্টায় রক্ষা পেয়েছে হাওরের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান। শুধু টাংনির হাওর নয়, গত এক সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে পড়া কৃষকের কষ্টের ফসল রক্ষায় জেলার ৩৯টি হাওরের বিভিন্ন বাঁধের শতাধিক স্থানে সংস্কারকাজ করতে হয়েছে; যা চলছে এখনো। এ কাজে পাউবো, স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম দিলেও বেশির ভাগ স্থানেই স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে কৃষকেরা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। সংস্কারে যুক্ত আছেন এলাকার নারী-শিশুরাও। অথচ অনেক স্থানে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা লোকজনকে (পিআইসি) পাওয়া যায়নি। দিরাইয়ের মতো শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের মোহনখল্লী এলাকায় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে রক্ষা করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বাঁধের নিচ দিয়ে ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল। এই হাওরে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল রয়েছে। হাওরটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে আতঙ্কে অনেক নারী-শিশু কাঁদতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বাঁধটি রক্ষা পাওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের মধ্যে। শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন, 'আমরা যেমন হাওরের বাঁধে বাঁধে দৌড়াচ্ছি, তেমন কৃষকেরাও আছেন। ঢল আসার পর অন্তত ১০টি স্থানে কাজ করতে হয়েছে। কৃষকেরা না থাকলে প্রশাসন বা পাউবোর পক্ষ থেকে এভাবে তাৎক্ষণিক কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।' কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত জেলার ৬টি হাওরে ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এবার জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কোনো কোনো হাওরে আতঙ্কে কাঁচা, আধা পাকা ধানই কাটছেন কৃষকেরা। এ পর্যন্ত জেলার ৩৮৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম। দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরার হোসেন জানান, 'টাংনির হাওরের জারলিয়া এলাকার বাঁধটি ভাঙে গত বুধবার বিকেলে। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের পাঁচ থেকে ছয় শ মানুষ জড়ো হয়ে বাঁধ রক্ষার লড়াইয়ে নামেন। টানা তিন দিনের চেষ্টায় এখন এটি ঝুঁকিমুক্ত।' বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানী জানান, খরচার হাওরের একটি বাঁধ স্থানীয় ১০টি গ্রামের মানুষ কাজ করে রক্ষা করেছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাও ছিলেন। কিন্তু যাঁরা লাখ লাখ টাকার ওই বাঁধ দায়সারাভাবে নির্মাণ করেছেন, বিপদের সময় তাঁদের পাওয়া যায়নি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাবমতে, এবার জেলায় বাঁধ নির্মাণে ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২৭টি প্রকল্পের কাজ গত ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ হয়েছে। যদিও এই কাজের শেষ সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। এপ্রিলের শুরুতেই পাহাড়ি ঢল নামায় এসব বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। শনিবার প্রথম বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যায় টাঙ্গুয়ার হাওরে। এরপর আরও পাঁচটি হাওরে ফসলহানি ঘটেছে। সুনামগঞ্জে হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, 'মানুষ চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। প্রশাসন, পাউবো বিপদে পড়লেই তখন মানুষকে ডাকে। বাঁধের নির্মাণকাজ শুরুর সময় যদি মানুষকে ডাকা হতো, পরামর্শ নেওয়া হতো, তাহলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না।' এদিকে 'হাওর বাঁচাও আন্দোলন'-এর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, 'মূল সমস্যা, বাঁধের কাজে কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই। যত দিন কাজে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ না হবে, তত দিন হাওরে সমস্যা থাকবেই।' কৃষকসহ সব মানুষের চেষ্টায় এখনো সুনামগঞ্জের বড় বড় হাওরের ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আমরা সবাইকে নিয়ে দিনরাত মাঠে আছি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো ঝুঁকি কাটেনি।'
6
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক জুন থেকে শ্রমিক ছাটাইয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার এমন আশঙ্কার মন্তব্যে দেশের বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিল্প মালিকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, এমন দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে তারা কিসের শক্তিশালী শিল্পপতি? শুক্রবার (৫ জুন) তিনি তার ফেসবুক পেইজে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন- 'আমি জানতাম তৈরি পোশাক খাত এদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি। আর সে খাতের উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির বড় ভরসার জায়গা। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রভাবজনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা শুরু হতে না হতেই প্রথম সাহায্যের জন্য হাত পেতেছে অর্থনীতির এই শক্তিশালী খেলোয়াড়রাই। অর্ডার নাই এই অসহায়ত্ব দেখিয়ে শ্রমিকের বেতন দেয়ার জন্য সরকারের নিকট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা মাত্র ২% - এ পেয়ে তারপর ফ্যাক্টরি খোলার তোড়জোর শুরু হলো। এর মাঝে শ্রমিকদের নিয়ে নির্মম অনেক নাটক দেখেছে আমার মতো বোকা দর্শক। গত ২৬ এপ্রিল থেকে আবার চলছে ফ্যাক্টরি। পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক কাজ করে ৪ থেকে ৭নং গ্রেডে। ফলে গড়ে একজন শ্রমিকের মূল বেতন দাঁড়ায় মাসে ৮,৯০০ টাকার মতো। সরকারের প্রণোদনা পাওয়ার পরেও অনেক ফ্যাক্টরি ঠিকমতো বেতন দেয়নি, আবার ঘোষণা দিয়ে এপ্রিল মাসের বেতন ৬০% দেয়া হয়েছে। এখন বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হবে, মালিকদের নাকি কিছুই করার নাই (সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকা)। অর্থাৎ, মাত্র ২% সুদে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য যতোটুকু অর্থ পাওয়া গেছে তা দেয়ার পর, এক পয়সাও নিজের পকেট থেকে খরচ করতে চান না তারা। এখন এই দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে কিসের শক্তিশালী শিল্পপতি? অর্ডার যদি অর্ধেকও হয়ে যায় তারপরও এতো বছর ব্যবসা-বাণিজ্য করে শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন চালানোর মতো ক্ষমতা কি তৈরি হয়নি? না হয় নিজের সঞ্চয় থেকে কিছু খরচ হলো। বিভিন্ন সময় যখনই নিম্নতম মজুরি বেড়েছে, বাড়িয়ে দেয়া দেয়া হয়েছে দৈনিক পোশাক তৈরির টার্গেট। শ্রমিকের ওপরে পড়েছে বাড়তি চাপ। শ্রমিক তার শরীরের সঞ্চিত শক্তি দিয়ে বাড়িয়েছে মালিকের লাভ আর সঞ্চয়। এখন না হয় কটা মাস কম অর্ডারের কাজ শ্রমিকরা একটু হেসে খেলে করলেন, একটু স্বস্তিতে কাজ করলেন। শ্রমিকদের কয়েক মাসের জন্য এইটুকু স্বস্তি দেয়ার ক্ষমতাও কি মালিকদের নেই? জাতির এই দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে যদি শিল্পপতিরা না দাঁড়ান তবে আমাদের জনগণের টাকায় কেন দেব ক্যাশ সাবসিডি, প্রণোদনা কিংবা রপ্তানি উন্নয়ন ফান্ডের টাকা? উন্নয়ন কার জন্য, যদি দুর্দিনে আপনারা কোনো কাজে না লাগলেন?'
0
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি নিয়ে সোমবার এই আদেশ দেন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে মাহমুদুর রহমানের কারামুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। মাহমুদুর রহমানের পক্ষে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহায়তা করেন তানভীর আহমেদ আল আমিন। আদেশের পরে তানভীর আহমেদ আল আমিন বলেন, আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে এ মামলায় মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল থাকল। গত ৭ সেপ্টেম্বর রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি জামিন স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সে অনুসারে বিষয়টি আপিল বিভাগের সোমবারের কার্যতালিকায় আসে। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় চলতি বছর ১৮ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
6
বৈশ্বিকভাবে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১০ শতাংশ পর্যটন খাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে পর্যটন খাত ততটা উন্নত না হলেও এর সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। যেমন টোয়াবের প্রায় ৭০০ সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বার, বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবসায়ের বড় অংশ আমাদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব বিবেচনায় পর্যটন খাতের সঙ্গে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি জড়িত বলা যায়। বর্তমানে আমাদের দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে সবার আগে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আর সম্ভবত পর্যটন খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে। লকডাউন উঠে গেলে গাড়ি, বিমান চলাচল শুরু হবে, কিন্তু আমাদের পর্যটন খাত চালু হতে অনেক সময় লাগবে। কারণ করোনোর প্রভাবে আর্থিকভাবে অনেকেই ক্ষতিতে পড়বেন। আর্থিক সচ্ছলতা, সময় ও পরিবেশ তৈরি হলেই মানুষ ঘুরতে বের হবে। অর্থাৎ পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাতকে সহায়তা করতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। সেবা খাত হিসেবে আমরাও প্রণোদনা সুবিধা পাব। তবে যাঁদের স্থায়ী বিনিয়োগ আছে, যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি, শুধু তাঁরাই এ সুবিধা পাবেন। কিন্তু পর্যটন খাতের সঙ্গে ডিঙির মাঝি থেকে শুরু করে পাহাড়ের গাইডও জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন। সে জন্য অনেকেই বিকল্প পেশার চিন্তা করছেন, যদিও এখন বিকল্প কোনো কাজও নেই। পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত সবার অফিস খরচ আছে। এর ওপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাইকে ছাড় দিয়ে সেবা দিতে হবে। হোটেল ও গাড়ি ভাড়া কমিয়ে আনতে হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কিছুদিনের জন্য হলেও কর ছাড় দিতে হবে। কারণ যে ক্ষতি হয়েছে তা ১-২ বছরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। যেহেতু পর্যটন মৌলিক চাহিদার মধ্যে পড়ে না এবং সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার অনেক পরে মানুষ ভ্রমণে বের হবে, সেহেতু পর্যটন খাতকে টিকিয়ে রাখতে আমরা সবার সহায়তা চাই। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, বড় একটা জনগোষ্ঠী এ খাতের সঙ্গে জড়িত। কম সুদ যে ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমাদের ছাড় দিতে হবে। কারণ পর্যটন খাতে সবার জামানত দিয়ে ঋণ নেওয়ার পরিস্থিতি নেই। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা দেখে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কমপক্ষে ছয় মাস চলার জন্য সহজ শর্তে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পেলে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আমাদের নিজেদেরও নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র খুঁজে বের করতে হবে, যাতে সুন্দরবন এবং বান্দরবনের বাইরে মানুষ বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি খরচও কমিয়ে আনতে হবে। এতে পর্যটন খাতকে নতুন করে দাঁড় করানো সম্ভব।
0
'দুই দুবার' শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিলেন আসিফ আকবর ও কলকাতার জেমি ইয়াসমিন। সম্প্রতি গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। সুদীপ কুমার দীপের কথায় গানটির সুর করেছেন কলকাতার প্রীতম ব্যানার্জি। আসিফ আকবর বলেন, এবার জেমির সঙ্গে প্রথম কাজ করলাম। ওর কণ্ঠটাও বেশ সুন্দর। আশা করছি, গানটি সকলের ভালো লাগবে। বিডি প্রতিদিন/১৭ জানুয়ারি, ২০১৮/ফারজানা
2
লক্ষ্মীপুরে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে তার স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন।জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সার্জন জান্নাতুল ফেরদৌস রুনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী প্রসূতি তাছলিমা বেগম এ অভিযোগ করেন। তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের মো. রাজুর স্ত্রী।ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে তাছলিমা বেগমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানানো হয়, বাচ্চা সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। তাই স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হবে। পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক সিজারের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস রুনা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।দুদিন পর গতকাল সকালে তাছলিমার অপারেশন করে জানানো হয় নবজাতক মারা গেছে। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। রোগীর স্বজনেরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।এ বিষয়ে জানতে চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস রুনাকে ফোন করা হলে তিনি অপারেশন থিয়েটারে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবহেলার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন ওল চাষের দিকে। উপজেলার কৃষকদের প্রধান অর্থকারী ফসল পান হলেও কৃষকরা এখন সব রকম ফসল আবাদ করার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ১০০ হেক্টর জমিতে উন্নত মানের ওল চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা ৪০ হেক্টর জমিতে ওল চাষ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলে ওল চাষ ভালো হয়। কিন্তু বাণিজ্যিকহারে কৃষকরা ওল চাষ করতেন না। আমাদের কৃষি বিভাগ বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কলমে ওল চাষ করতে পরামর্শ দিচ্ছে। উপজেলার খর্নিয়া এলার ওল চাষী আবু হানিফ মোড়ল জানান, আমরা ওল চাষ বুঝতাম না, কিভাবে আবাদ করতে হয়, নিয়ম কারণ জনা ছিল না বর্তমানে কৃষি অফিসার মো. মোছাদ্দেক হোসেন স্যারের পরামর্শ ওলের আবাদ করেছি। গত বার ৩০ শতক চাষ করে বেশ লাভ হয়ে ছিল তাই এবার ৫০ শতক আবাদ করেছি। আশা করি এবার গত বছরের চেয়ে বেশি লাভ হবে। এদিকে কৃষি বিভাগের উপসহকারী নিখিল বাবু জানান, ভালো পরিচর্যা হলে ১টি ওল সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের হয়। আর বাজারে এর দামও থাকে ভালো। ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ওল বিক্রি হয়। সরেজমিনে ডুমুরিয়া উপজেলায় ওলের বাম্পার ফলন দেখা গেছে।
6
বহিষ্কৃত নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে র্যাবের উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলমের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এদিন তার জবানবন্দি শেষ হওয়ায় তাকে জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। খবর বাসসের।এর আগে ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত।গত ২৯ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে ।২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের প্রাক্কালে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। অন্যরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তারের পর ওইদিন রাতেই নরসিংদীর বাসায় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালানো হয়।এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে রওশন'স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দু'টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দু'টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড জব্দ করে র্যাব।ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।
6
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য ৯ দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। বৈঠকের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালিক-শ্রমিকদের ৯টি দাবির তিনটি মেনে নিয়েছে সরকার। বাকিগুলোও বিবেচনা করা হবে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক নেতারাও ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান। মেনে নেওয়া দাবিগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চালকরা এখন যে শ্রেণির লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, তা দিয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পারবেন। বর্তমানে হালকা যানের লাইসেন্স দিয়ে যারা বাস চালাচ্ছেন, তারা তা অব্যাহত রাখতে পারবেন। ফিটনেস হালনাগাদ না থাকা গাড়ির প্রযোজ্য জরিমানা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। জরিমানা মওকুফের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। গাড়ির আকার আকৃতি পরিবর্তনের জন্য সড়ক পরিবহন আইনে এক থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানার যে বিধান রয়েছে তাও ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ দিন প্রচার প্রচারণার পর সোমবার থেকে আইনটি প্রয়োগ শুরু করে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিআরটিএ)। আইনটি প্রয়োগ শুরুর পরপরই প্রথমে দেশের কয়েকটি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ হয়। এরপর নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য ৯ দফা দাবিতে বুধবার থেকে সারাদেশে ট্রাক চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এদিন সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাক স্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। সেখান থেকে কোনও ট্রাক ছেড়ে যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে টার্মিনালে কিছু ট্রাক আসতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের নিয়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন উপ-কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামান খান কামাল তার ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (হাইওয়ে) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মীর শহিদুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। রাত ১টার দিকে বৈঠক শেষে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলী সাংবাদিকদের জানান, তাদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সারাদেশে গাড়ি চলাচল করবে।
6
ডিয়েগো ম্যারাডোনার গুরু বিলার্দো। সেভিয়া, বোকা জুনিয়র্স থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল-বিলার্দোর অধীনে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ছিলেন বিলার্দোর প্রিয় শিষ্যদের একজন। বিলার্দো তার সাবেক এই শিষ্যকে নিয়ে গর্বিত ছিলেন। অনেক স্মৃতিময় ছবি, ঘটনা ও আনন্দের উপলক্ষ আছেন দুজনের। অথচ সেই ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর এখনও জানেন না বিলার্দো। মূলত ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর ইচ্ছা করেই ৮৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কোচকে জানানো হয়নি। এর কারণ হলো- এমনিতেই বার্ধক্যের ধকল, এর ওপর অনেক দিন ধরেই রোগে ভুগছেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই কোচ। তাই এ অবস্থায় তার প্রিয় মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়ে বিলার্দোর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চায়নি পরিবার। এ মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে তার যদি কিছু হয়ে যায়! এটা দেখে বিলার্দো কখনও কখনও তার পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন করেন, 'আমি প্রচুর ম্যারাডোনার ব্যানার দেখছি। কী হয়েছে, কোনো সমস্যা?' এ প্রসঙ্গটি ধরেই বিলার্দোর ভাই হোর্হে সম্প্রতি বলেন, কিংবদন্তি ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর জানেন না বিলার্দো। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে মারা যান ম্যারাডোনা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
12
৭ মার্চের পর বাংলাদেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে গোটা জাতি সংগঠিত হয়, শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। একেবারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পৃথিবীর বুকে তা জন্ম দিয়েছে জনযুদ্ধের ইতিহাস। সেই জনযুদ্ধ ধীরে ধীরে এর মৌলিকতা হারিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। এতে জনযোদ্ধাদের প্রকৃত ঘটনা বিস্মৃতির অতলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার নিজের দেখা সেই জনযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় বিরল গৌরবোজ্জ্বল অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।সৈয়দপুরে অবস্থিত পাকিস্তানের সেনাছাউনির ওপর গেরিলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে ২০ জনের একটি দল বাছাই করা হলো। সৈয়দপুর যেতে হলে পার্বতীপুর হয়ে যেতে হবে, তাই পথিমধ্যে সৈয়দপুর পার্বতীপুর রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য দু-তিনটি রেলসেতু ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হলো। দলের মধ্যে পানিকাটা ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে স্পেশাল ট্রেনিং নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করলাম।ওরা হলো মোফাজ্জল, দোহা, ইয়াহিয়া ও হরমুজ। ইতিমধ্যে আমি দলের সব সদস্যকে পুরোপুরি আসন্ন অপারেশন সম্পর্কে বুঝিয়ে দিলাম এবং ক্যাম্প অ্যাডজুট্যান্ট মোহসীন ভাইয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাইন ও বিস্ফোরক নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকার জন্য প্রস্তুত হলাম। পরদিন সন্ধ্যায় খাবার খেয়ে বড়াহার ক্যাম্প থেকে রওনা দিলাম। ডাঙ্গারহাট পার হয়ে এক শরণার্থীশিবিরের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে দু-চারজন শরণার্থী বেরিয়ে এল। আমরা দাঁড়ালাম। এক বয়স্ক লোক এলেন। আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন এবং বললেন, 'ভালোয় ভালোয় ফিরে এসো, বাবা।' তাঁকে সালাম করে এগিয়ে গেলাম বর্ডারের দিকে। রাতের গভীরে বর্ডার পার হয়েও সাত-আট মাইল ভেতরে চলে এলাম এবং সে রাতের মতো একটি পরিত্যক্ত হিন্দুবাড়িতে আশ্রয় নিলাম। সকালে দু-চারজন লোকের সঙ্গে কথা বললাম এলাকা সম্পর্কে। ওরাই দুপুরের খাবারের বন্দোবস্ত করে দিল। রাত দুইটার দিকে আমরা এসে পৌঁছলাম টাস্কেরহাট নামের এক গ্রামে। টাস্কেরহাট হয়ে পার্বতীপুর রেললাইন গেছে। এ ব্রিজে বিস্ফোরক লাগাতে এবং বিস্ফোরণ ঘটাতে অনেক সময়ের দরকার। এ ছাড়া ভোর পাঁচটায় প্রথম ট্রেনটি যাবে। সুতরাং পরিস্থিতি ভেবেচিন্তে আমরা স্থির করলাম, আজ পাশের গ্রামেই থেকে যাব। পরদিন রাতে ব্রিজটা উড়িয়ে দেব। ব্রিজ থেকে হাজার গজ দূরেই গ্রামের এক বাড়িতে আশ্রয় নিলাম আমরা। বাইরে দুজনকে পালাক্রমে পাহারা দিতে বলে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম।সকাল ৯টার দিকে ঘুম ভাঙল। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের অনেকে এরই মধ্যে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে নিয়েছে। এদিক-ওদিক থেকে উঁকি মারছে কৌতূহলপ্রিয় ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। বউ-ঝিয়েরাও দু-একজন লম্বা ঘোমটার ফাঁক দিয়ে আমাদের অবাক দৃষ্টি মেলে দেখছে। দু-একজন গ্রামবাসী এল দেখা করতে। একজন অকারণে দুটো কুকুরকে লাথি মারল। দেখলাম লোকটার মাথায় টুপি। হঠাৎ করে আমার মাথায় চিন্তা এল। জামায়াতে ইসলামীর গ্রামে এলাম না তো? আমাদের দুপুরের খাবারের জন্য একটা খাসি জবাই করল তারা। আমরাও নিজেদের অস্ত্রগুলো পরিষ্কার করলাম। পালা করে অনেক দিন পর গ্রামের পানা পুকুরের শীতল পানিতে গোসল করলাম।দুপুরের খাবার খেতে যখন বসলাম, তখন বেলা প্রায় তিনটা। সবে ভাত-মাংস নিয়ে বসেছি। এমন সময় গ্রামের চারদিক থেকে গুলি শুরু হয়ে গেল। খাবার ফেলে দিয়ে সবাই অস্ত্র তুলে নিয়ে গ্রামের বাড়িগুলোর আনাচকানাচে পজিশন নিলাম। আমার এক সঙ্গী এসে খবর দিল, পাকিস্তানি সেনারা চারদিক দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলেছে এবং সঙ্গে এই গ্রামের জামায়াতের দুজন সদস্য আছেন। গুলির উত্তর এবং প্রত্যুত্তর থেকে পাকিস্তানি সেনাদের পজিশন আমি বুঝে গেলাম। রেলব্রিজ, টাস্কেরহাট বাজারের রাস্তা এবং আমবাগান এলাকায় ওরা পজিশন নিয়েছে।ইয়াহিয়া ও তার দলকে রেলব্রিজের দিকের শত্রুকে ঠেকাতে বললাম। আমার ভাই খালেদকে দায়িত্ব দিলাম টাস্কেরহাট বাজারের পাকিস্তানি সেনাদের ওপর গুলি করতে, যাতে তারা গ্রামের মধ্যে ঢুকতে না পারে। দোহা ও মোফাজ্জলকে দায়িত্ব দিলাম তার দল নিয়ে আমবাগানের দিকটা সামলাতে। পাকিস্তানি সেনারা আমবাগান অতিক্রম করে প্রায় গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছে; কিন্তু দোহা ও মোফাজ্জলের দলের এলএমজি ও এসএলআরের বৃষ্টির মতো গুলিতে পাকিস্তানি সেনারা আমবাগান ছেড়ে পাকা রাস্তায় চলে গেল। যাওয়ার সময় ফেলে গেল দুজন মৃত সৈনিক।বেলা তখন সাড়ে তিনটা। দিনের বেলায় আমাদের পালানোর উপায় নেই। ওরা দেখেশুনে গুলি করবে। তা ছাড়া, পেছনে বিরাট একটা বিল। বিলের বুকপানি দিয়ে আমাদের পালাতে হবে। দিনের বেলা এভাবে যাওয়া আত্মহত্যার শামিল। যেভাবেই হোক, সন্ধ্যা পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাদের ঠেকিয়ে রাখতে হবে। দৌড়ে প্রতিটি দলের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিলাম। আরও বললাম, পাকিস্তানি সেনাদের না দেখা পর্যন্ত মিছামিছি কেউ যেন গুলি শেষ না করে। আমাদের গুলি শেষ হলেই ওরা আক্রমণ করবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের এই গুলি দিয়ে টিকে থাকতে হবে। ছেলেরা সবাই এ কথার মূল্য মর্মে মর্মে বুঝতে পারল।আমাদের দলের একজনকে টু-ইঞ্চি-মর্টারটা বসিয়ে টাস্কেরহাট ও আমবাগানের ওপর ফায়ার করতে বললাম। পরপর দুটো করে চারটা গোলা ওদের পজিশনে পড়ার পর ওদের গুলির বেগ কমে গেল। তবে আমাদের একটু নড়াচড়ার আভাস পেলেই গুলি করছে। বুঝতে পারলাম, গ্রামে এগিয়ে আসার সাহস ওই হানাদারদের আর নেই। গ্রামের লোক ইতিমধ্যে কে যে কোথায় লুকিয়েছে, বুঝতে পারলাম না।হঠাৎ দেখি একজন গ্রাম্য বধূ আমার দিকে দৌড়ে আসছে। আমি তাকে বাধা দিয়ে বললাম, কাছে এসো না, গুলি হচ্ছে, গুলি লাগবে। কিন্তু সে শুনল না। এই বৃষ্টির মতো গোলাগুলির মধ্যেও সে চলে এল। তার দিকে তাকিয়ে দেখি একদম সদ্যবিবাহিত একজন গ্রাম্য বধূ। মনে হয়, দু-চার দিন হলো তার বিয়ে হয়েছে। কারণ, তখনো তার পায়ে লাল আলতা, হাতে মেহেদির রং জ্বলজ্বল করছে। কাছে এসে আমাকে আঙুল দিয়ে ডান দিকের একটা পুকুরের পাড় দেখিয়ে বলল: 'ওদিক দিয়ে খানসেনারা আসছে। আপনারা এদিকে আসুন।' এবার সে এই প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে অসমসাহসে প্রায় ক্রল করে সম্মুখে এগিয়ে যেতে লাগল। এবাড়ি-ওবাড়ি এবং ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে গ্রামের পেছনে নিয়ে এল।পেছনে এসে দেখি, ওখানে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের আশ্রয়দাতা সেই মুনশি। সে নিজের হাত উঁচিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে পাকিস্তানি সেনাদের তার দিকে আসতে বলছে। চিৎকার করে বলছে, 'ইঁধারছে আঁও, পিছে ছে মুক্তিকো ঘের লও।' আমার সঙ্গে ছিল সহযোদ্ধা মনসুর। সে মুক্তিযুদ্ধের আগে এই পার্বতীপুর এলাকার দুর্ধর্ষ এক ডাকাত দলের সর্দার ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সে ডাকাতি ছেড়ে তার দলের সদস্য ও অস্ত্র নিয়ে আমার দলে যোগদান করে। সে এখন অসমসাহসী যোদ্ধা। সব সময় তরবারি কোমরে ঝুলিয়ে রাখে। এটাই তার একটা গর্ব। আমি মনসুরকে ইশারা করতেই মনসুর তার খোলা তরবারি বনবন করে ঘুরিয়ে এক কোপে মুনশির মাথাটা ধড় থেকে আলাদা করে ফেলে। মাথাটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমাদের গাইড করে যে সাহসী নববধূটি নিয়ে এসেছিল, তখনো সে আমার পাশে দাঁড়িয়ে।গোলাগুলির কোনো ভয়ডর নেই ওর। উৎসাহের সঙ্গে আরও আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় হানাদার বাহিনীর অবস্থান। এরপর বধূটি সামনে এগিয়ে গেল মাটিতে পড়ে থাকা মুনশির কাটা মুণ্ডুর কাছে। আমাদের অবাক করে দিয়ে সে এক লাথিতে কাটা মুণ্ডুটা পাশের এক পানিভর্তি খাদে ফেলে দিল। এবার পড়ে থাকা দেহটির ওপর থুতু ছিটিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল: 'বেটা রাজাকার, আর এই রাজাকারটা হচ্ছে আমার শ্বশুর। এ-ই খবর দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের আনছে।'আমরা তখন অবাক হয়ে দেখছি এই অচেনা নববধূকে। দেখছি অকুতোভয় একজন স্বাধীনতাকামী বাঙালি নারীকে। নববধূটি এবার আকাশের দিকে হাত তুলে চিৎকার করে উঠল: 'জয় বাংলা, জয় বাংলা'। আমরা তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিতে লাগলাম। একটু পর অবাক করা এক কাণ্ড ঘটল। আশপাশের প্রতিটি গ্রাম থেকেই জয় বাংলা স্লোগান শোনা যেতে লাগল। সেই স্লোগান ক্রমেই উচ্চ থেকে উচ্চতর হতে লাগল।মেজর (অব.) এ টি এম হামিদুল হোসেন তারেক, বীর বিক্রম,বীর মুক্তিযোদ্ধা
5
বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি রয়েল ডাচ শেলকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের একটি আদালত। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্বন নিঃসরণ ২০১৯ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতের পক্ষ থেকে আইনগত বাধ্যবাধকতা আরোপের এমন নির্দেশকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। আজ বুধবার বিচারক লারিসা আলউইন শেলের বিরুদ্ধে এমন আইনগত বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আদালতের এ নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। তারপরও আদালতের এমন অবস্থান জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এ খাতের প্রতিষ্ঠানের ওপর নানামুখী চাপ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে শেল কর্তৃপক্ষ কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আওতায় ২০২৩ সালের মধ্যে নিঃসরণ ২০১৬ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে শেলের। পরে ২০৩৫ ও ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার ২০১৬ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও শতভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের এ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান।তবে বিচারক লারিসা আলউইন শেলের এ পরিকল্পনাকে 'বাস্তব নয়' ও 'শর্তযুক্ত' বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে শেলের এমন প্রতিশ্রুতি পর্যাপ্ত নয়। নেদারল্যান্ডসের ১৭ হাজারের বেশি নাগরিকের পক্ষে শেলের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের এপ্রিলে আদালতে অভিযোগ এনেছিল গ্রিনপিসসহ সাতটি পরিবেশবাদী সংগঠন। তাদের অভিযোগ, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
3
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী ছানাউল হক এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিলকুশাস্থ ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ব্যাংকের বিজয় দিবসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মো. শওকত আলী খান ও খান ইকবাল হোসেন, জিএম পারসুমা আলম, গোলাম মরতুজা, ইয়াছমিন বেগম, কাজী আবদুর রহমান, হারুনুর রশীদ, কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম ও মো. ফয়েজ আলমসহ ব্যাংকের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও রূপালী ব্যাংক এক্সিকিউটিভ ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ ও রূপালী ব্যাংক কর্মচারী ইউনিয়ন সিবিএ'র সভাপতি মো. রিপন মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই
0
নোয়াখালী পৌর শহর সোনাপুর জিরো পয়েন্টে ট্রাকচাপায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অজয় মজুমদার (২৩) নিহতের ঘটনায় ট্রাকসহ চালক মো. মামুন আলীকে (৫০) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অজয়কে চাপা দিয়ে ট্রাক নিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার সেতুভাঙা এলাকা থেকে মামুন আলীকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম।আটক মামুন আলী চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাতগাড়ি এলাকার রিপলো ড্রাইভার বাড়ির জাবেদ আলীর ছেলে।পুলিশ জানায়, দুপুরে সোনাপুর বাজারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অজয়কে চাপা দিয়ে ট্রাকটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান চালক। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িসহ তাঁকে আটক করতে অভিযানে নামে পুলিশ। রাতে তাঁর গাড়ি (চুয়াডাঙ্গা-ট ১১-০৮৪৪) শনাক্ত করে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রশাসনের ২৪ ঘণ্টার আশ্বাসের মধ্যে তাঁকে আটক করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকাযোগে মন্নান নগরের দিকে যাচ্ছিলেন অজয়। হঠাৎ ট্রাকসামনে পড়লে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়েন অজয়। পরে ট্রাকচাপায় তাঁর মৃত্যু হয়।
6
তামিম ইকবালের মুখে হাসি ছিল। আর থাকবেই বা না কেন? ম্যাচ শেষে ইএসপিএন-ক্রিকইনফো তামিম ইকবালের মন্তব্য নেয়ার সময় এ কথাটি দিয়েই শুরু করেছে। তার ওই হাসির ছবিটি আমাদের হাতে নেই। তবে তার হাসিতে যে বিশ্বজয়ের তৃপ্তি ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো জয়। এবং সেটাও দারুণ জয়। শুক্রবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, 'আমাদের জন্য এটি একটি বিরাট জয়। দল যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুবই গর্বিত। ইয়াসিরের ইনিংসটি ছিল খুবই স্পেশাল। আর মেহেদি ও মাহমুদউল্লাহদের ছোট ছোট ইনিংস খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আসলে সবকিছুই সত্যিই খুবই ভালো হয়েছে। তামিম বলেন, এই জয় আমাদের জন্য বিরাট কিছু। আমাদের ফাস্ট বোলাররা ভালো বল করেছে। আমাদের জন্য জয় নিয়ে এসেছে। তিনি জানান, আসলে গত দুই বছর ধরেই আমাদের ফাস্ট বোলাররা দারুণভাবে বল করছে। প্রতিটি দলেই মেহেদির মতো ছেলে দরকার। চার ওভারে ৪০ দেয়ার পর সে বলল, 'আমাকে বল দিন, আমি অবস্থা বদলে দিচ্ছি।' তামিম বলেন, সবসময় পরিকল্পনামতো কাজ হয় না। আমি তার আত্মবিশ্বাসে খুশি। আমরা সিরিজ জয় করতে পারি। আমাদের প্রতিটি সুযোগ নিতে হবে। তারাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, শুক্রবারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করে টাইগাররা। এর জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে ২৭৬ রান করে। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ।
12
রাজশাহীর কাটাখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে১৭ জন নিহত হয়েছেন।শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে কাটাখালী থানার সামনে এ ঘটনায় ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রাজশাহীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট নূর মোহাম্মদের বোন নাজমা, ভগ্নিপতি ফুল মিয়া, ভাগনে ফয়সাল আহমেদ, ভাগ্নি সামিহা ও সাবিহা। এ ছাড়া নিহত অন্যান্যরা হলেন তাদের আত্মীয়, তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তারা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সার্জেন্ট নূর মোহাম্মদের বাসায় আসছিলেন। রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক সমকালকে ১৭ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরে কাটাখালীতে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে রাজশাহীগামী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে মাইক্রোবাসটির ১১ জন আরোহীই ঘটনাস্থলে মারা যান। এ সময় পাশের একটি লেগুনা ও হানিফ পরিবহনের বাসটির ১৫-২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়।
6
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হুমকি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ছয় হিন্দু পরিবারের বসতঘর। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানী মনুভূঁঞাপাড়ায় মৃত অর্জুন শীলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অর্জুন শীলের স্ত্রী স্বপ্না শীল জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে স্থানীয় ছেরাজুল ইসলাম গংয়ের মামলা চলছে। মামলা তুলে নিতে এবং জমি দখল নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে বহিরাগতরা রাতে তাদের বাড়িতে এসে হুমকি দেয়। সপ্তাহ খানেক আগেও রাতের বেলা একদল লোক এসে তাদের বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। এবার একদম পুড়িয়ে দিয়েই গেল। আগুনে ওই বাড়ির মৃত অর্জুন শীল, সহদেব শীল, জয়দেব শীল, বাসুদেব শীল, শেফালী শীল ও নীলিমা শীলের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সুবল চাকমা, থানার ওসি মজিবুর রহমানসহ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার আগে যখন হুমকি ধামকি চলছিল, তখনই এসব বিষয় জানানো হলে মিরসরাই থানা পুলিশ এসে তদন্ত করে এবং তাদের নির্ভয়ে থাকতে বলে। স্বপ্না জানান, শনিবার রাতে তাদের ঘরের চালে কে বা কারা ইটপাটকেল ছঁড়তে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ির সব ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত বলে তিনি ধারণা করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান তিনি। থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ এখনও থানায় অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত করছে। দোষীদের চিহ্নিত করে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। মিরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকার বলেন, বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে বসতঘর জ্বালিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।
6
একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। শোক প্রস্তাবে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় হতাহত এবং জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড, নিউজল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু'টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, ইথিওপিয়ায় প্লেন বিধ্বস্তে মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করা হয় এবং প্রস্তাব সংসদে গ্রহণ করা হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। আরও শোক প্রস্তাব আনা হয় অভিনেতা টেলি সামাদ, প্রধানমন্ত্রীর ফুফু হামিদা খানম বানু, পিআইবি'র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, কবি আল মাহমুদ, সঙ্গীত শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বাবাসহ প্রয়াত কয়েকজনের নামে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
6
বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে আর দৈনন্দিন লেনদেন বিবরণীর হার্ডকপি পাঠাতে হবে না। অনলাইন রিপোর্টিংই যথেষ্ট বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপণে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সকল অনুমোদিত ডিলার এবং সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে আর দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য তথ্যের হার্ডকপি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে না। আগে থেকেই এ সব প্রতিষ্ঠান অনলাইন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি হার্ডকপিও প্রেরণ করে আসছে। এ পর্যায়ে হার্ডকপি দাখিলের শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
0
আবারও কুমিল্লাকে 'মেঘনা' ও ফরিদপুরকে 'পদ্মা' নামে বিভাগ করার বিষয়ে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সভায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে 'কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন' প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার সময় কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ করার ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভায় কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগের বিষয়ে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মেঘনা নদীর নামে কুমিল্লা ও পদ্মা নদীর নামে ফরিদপুর বিভাগ করার কথা বলেছেন।' বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা সারাহ বেগম কবরীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। ঢাকাই সিনেমার এক সময়কার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর ফুসফুসের অবস্থা ভালো নয়।বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) এসব তথ্য জানিয়েছেন শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ফারুক আহমেদ।বিকেলে এ বিষয়ে এক ভিডিওবার্তায় কবরীর ছেলে শাকের চিশতী বলেন, 'মায়ের অক্সিজেন ওঠানামা করছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়, তিনি প্রাণপণ লড়ছেন। আমরা আশাবাদী, তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেন।'ভিডিওতে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ভক্তদের কাছে মায়ের জন্য দোয়াও চেয়েছেন।প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল কবরীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগিতায় আইসিইউ সাপোর্টের জন্য তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
2
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আনা হয় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে। ইব্রাহিম খালেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন ধরে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনা পরবর্তী কিছু শারীরিক জটিলতায় অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সোনালী ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
করোনা প্রভাব রোধে বিধিনিষেধ চলছে। বিনা কারণে রাস্তায় বের হওয়াসহ বিধিনিষেধ লঙ্ঘণ করায় গ্রেপ্তার হওয়াসহ জনসাধারণকে জরিমানাও গুনতে হচ্ছে। তবে এর পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না চলাফেরা। শুক্রবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিধিনিষেধ না মানায় ২৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও প্রায় ৮লাখ টাকা জরিমানা করে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও একইদিন সারা দেশে তল্লাশী চৌকি ও টহল পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজধানীর অনেক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তায় চলাচলরত প্রত্যেকটি গাড়িকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে তারপর ছাড়া হচ্ছে। ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার প্রভাবরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিএমপি নিরালসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবারও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করায় ২৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৪ জনকে ৯০হাজার ৪১০টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ২৯৫টি গাড়িকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সরকারী বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে ডিএমপির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। র্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বিধি-নিষেধ কার্যকর ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সারাদেশ ব্যাপী মাঠে ছিল র্যাব। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশব্যাপী র্যাবের ১৭৮টি টহল ও ১৭৩টি চেকপোষ্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় বিধি-নিষেধ অমান্য করায় দেশব্যাপী ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪০ জনকে ৩৯ হাজার ৪৩৫ টাকা জরিমানা করে।
6
টাঙ্গাইলের সখীপুরে খোকা মিয়া কৃষি সমাচার ও পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় 'লাল মাটিতে ফলের বাগান, সফলতায় করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার আয়োজন করে তালিম ঘর গ্রিন হ্যাভেন।এতে সভাপতিত্ব করেন তালিম ঘর গ্রিন হ্যাভেনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুস সামাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাংসদ ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জোয়াহেরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আমিন শরীফ সুপন, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদী মাসুদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার, ওসি একে সাইদুল হক ভূঁইয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল গফুর, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত লতিফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মণ, ক্যাম্পাসের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি নাসরিন বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।
6
বারবিকিউর জন্য কয়লা এনেছিলেন। রান্নায় সব কয়লা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। কিছুটা বেচে গেছে। এটা দিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন ফেস প্যাক। কাঠ পোড়ালে কয়লা তৈরি হয়। এই কয়লা মিহি পাউডার করলে তৈরি হয় অ্যাকটিভেটেড চারকোল। এটি অ্যাকটিভেটেড কার্বন। কাঠ পোড়ানো হলে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয়, ফলে এর ক্ষতিকর পদার্থ শোষণের ক্ষমতা অনেক। তাই অনেক টুথপেস্টেই অ্যাকটিভেটেড চারকোল থাকে। আর একসময় এই অ্যাকটিভেটেড চারকোলে গ্রামের মানুষ দাঁত পরিষ্কার রাখতেন। দাঁত পরিষ্কার থাকলে ত্বকও পরিষ্কার থাকতে পারে বলেই এখন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষণে চারকোল ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। তবে সৌন্দর্যচর্চায় সক্রিয় চারকোলের ব্যবহার শুরু হয় ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে। বর্তমানে শ্যাম্পু, সাবান থেকে স্ক্র্যাব সব ধরনের স্কিন কেয়ার পণ্যে চারকোল বা কয়লার গুঁড়ো ব্যবহৃত হয়। ফেস প্যাক ঘরোয়াভাবে বানাতে ফেস প্যাকটি বানাতে কয়লা গুঁড়ো করে পাউডার বানিয়ে ফেলুন। ১ টেবিল চামচ পাউডারের সঙ্গে যোগ করুন ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি। এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। পেস্টের সঙ্গে আধা চামচ মধু ও ১ ফোঁটা অ্যাসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।মুখ থেকে টক্সিন বের করতে চারকোলের বিকল্প পাওয়া মুশকিল। এটি ত্বকের ময়লা বের করে। পোরস ছোট রাখে। ত্বকও উজ্জ্বল করে।ফেস মাস্ক শিটযদি কয়লা জোগাড় করতে সমস্যা হয়, তবে কিনে নিতে পারেন চারকোল ফেস মাস্ক শিট। একটি প্যাকেটে একটি ফেস মাস্ক শিট থাকে। মাস্কটি মুখে লাগানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে চুল বেঁধে নিন। মাস্কটি এমনভাবে মুখে বিছিয়ে নিন, যাতে পুরো মুখ ঢেকে যায়। মাস্ক পরে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর টেনে তুলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক যাতে শুষ্ক না হয় তা নিশ্চিত করতে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।ত্বক যদি শুষ্ক হয় তবে জোজোবা তেল, অলিভ অয়েল ও হায়ালারোনিক অ্যাসিড আছে কি না, তা দেখে মাস্ক কিনবেন।সতর্কতামাসে দুইবারের বেশি ফেস মাস্ক ব্যবহার করবেন না। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও ময়েশ্চারাইজার শুষে নেয়।ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়াতে চাইলে বাসায় তৈরি ফেস প্যাক ব্যবহার করুন। ত্বক পরিষ্কার হবে কিন্তু কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না।খুব সংবেদনশীল ত্বকে মাস্ক ব্যবহার না করাই ভালো। সুগন্ধযুক্ত ফেস মাস্ক শিট এড়িয়ে চলুন। সেটি ব্যবহার করলে ত্বকে র্যাশ উঠতে পারে।আলাদাভাবে মাস্ক মিক্সচারও পাওয়া যায়। এটি বাসায় এনে প্রথমে অল্প করে হাতে লাগিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। যদি হাতের ত্বকে সমস্যা না হয়, তবেই মুখে লাগান।কোনোভাবেই যাতে চোখ ও ঠোঁটে মাস্ক না লাগে তা নিশ্চিতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
4
অভিনেত্রী নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের করা আবেদন শুনানির জন্য আগামী রবিবার (১৩ মার্চ) দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন। এর আগে আজ সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে জায়েদ খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও নিপুণ আক্তার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে চেয়ারে বসছেন এবং কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবেদনটির বিষয়ে শুনানি হতে পারে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
2
অবশেষে মিথিলা ভক্তদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এবার বড় পর্দায় নাম লেখালেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। অনন্য মামুন পরিচালিত 'অমানুষ' সিনেমায় গতকাল শনিবার রাতে চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন এই অভিনেত্রী। মিথিলার বিপরীতে অভিনয় করবেন নিরব হোসেন। পরিচালক অনন্য মামুন বলেন, চার মাস আগে 'অমানুষ' নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। কিছু দিন আগে গল্প লেখা সম্পন্ন হয়েছে, এখন আমরা শুটিং-পূর্ববর্তী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি আগামী ২৫ মার্চ সিনেমাটির শুটিং শুরু করতে পারব। মিথিলা বলেন, গত বছর থেকেই দেশে ও কলকাতায় ভালোই সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। কিছু ছবির চূড়ান্ত কথাবার্তাও হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে লকডাউন শুরু হওয়ায় সব কাজ স্থগিত হয়ে যায়। আমি কিন্তু সব সময় চেয়েছি সিনেমা করতে। তবে সময়ের অভাব ছিল। এখন হাতে একটু সময় পাচ্ছি। তা ছাড়া ওয়েব সিরিজের কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আমি তো শিডিউল মিলিয়ে কাজ করতে পারছি। তাহলে সিনেমাও করতে পারব। ছবিটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে মিথিলা বলেন, এ ধরনের চরিত্রে আগে কাজ করিনি। এখানে আমি বিদেশে বড় হওয়া একজন বাংলাদেশি। দেশে ফিরে একটি কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়ি। সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে কী কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাই দেখানো হবে ছবিতে। এদিকে মিথিলা অভিনীত ওয়েব সিরিজ 'কন্ট্রাক্ট' মুক্তি পেয়েছে একটি ওটিটি প্ল্যাটফরমে। অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরনার সিরিজটি লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন তানিম নূর এবং কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। এতে মিথিলা ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও চঞ্চল চৌধুরী।
2
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে হেরেই অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন টনি ক্রুস। আজ ইনস্টাগ্রামে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন এই জার্মান মিডফিল্ডার।অবসরের ঘোষণা দিয়ে ক্রুস লিখেছেন, 'জার্মানির হয়ে ১০৬ ম্যাচ খেলেছি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর খেলব না। ১০৯ ম্যাচ খেলে দলকে ইউরোর শিরোপা এনে দিতে চেয়েছিলাম। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ খেলছি না। এখন শুধু রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলতে চাই।'ভক্ত-সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্রুস, 'সব ভক্ত-সমর্থককে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। যাঁরা সমালোচনা করেছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ। সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জোয়াকিম লোকে। তিনি আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন এবং সব সময় আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমরা অনেক সফলতার গল্প লিখেছি। এর চেয়ে বড় সম্মানের আর কী হতে পারে! সবাই ভালো থাকবেন। হ্যান্স ফ্লিকের জন্য শুভকামনা।'ক্রুসের অভিষেক হয় ২০১০ সালে। ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৭ গোল করেছেন ক্রুস। ১৯ গোলে সতীর্থদের সহায়তাও করেছেন তিনি। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন এই জার্মান মিডফিল্ডার।
12
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় নিয়মানুযায়ী সপরিবারে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন জাতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ইমরুলের বাবা বানি আমিন। পরে সোমবার মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুরে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এরপর গোটা পরিবার নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইমরুল। কারণ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গোটা দেশ এখন আতঙ্কিত। একে তো ঢাকায় ছিলেন, অন্যদিকে এই ক্রিকেটারের পরিবারকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে বেশ কিছুদিন। তাই মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে আগামী ১৪ দিন তার পরিবারের কেউ আর বাড়ি থেকে বের হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমরুল জানিয়েছেন, সামাজিক সচেতনার কারণে তার পিতার জনাযায় তেমন লোক সমাগম হতে দেননি তারা। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের এলাকার প্রশাসন আমার কাছে সাহায্য চায় যেন জনসমাগম না হয়। আমরা সেটিই করেছি। শুধু মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই জানাযা ও দাফনে অংশ নেয়। এমনকি দাফনের সময়ও কবরস্থানে এক সঙ্গে সবাই য়ায়নি। আলাদা আলদাভাবে পরে গেছে। সত্যি কথা বলতে দেশের যে অবস্থা, এখন সরকারের সব নির্দেশনা মেনেই আমাদের চলতে হবে। নিজের ভুলে কেন অন্যের বিপদ ডেকে আনবো। পিতার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন ইমরুল। দুর্ঘটনার পরও তার পিতা অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে চলে যাবেন তা ভাবতে পারেননি জাতীয় দলের এই ওপেনার। তিনি বলেন, মেহেরপুরে যখন নসিমনের সঙ্গে দুর্ঘটনা পর তাকে আমরা ঢাকায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। গাড়ি বন্ধ থাকায় হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা হয়। মাথায় আঘাতের কারণে তার একটা সার্জারি হয়। এরপর তিনি ধীরে ধীরে ভালোর দিকেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু আইসিইউতে থাকতে থাকতে তার ইনফেশন হয়ে যায়। শরীরের ওষুধ নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে হঠাৎ করেই আমাদের ছেড়ে চলে যান। আমি চাই দেশের সবাই যেন আমার বাবার জন্য দোয়া করেন। ক্রিকেটার হওয়া, দেশের হয়ে খেলা এসব কিছুর পেছনে বড় প্রেরণা ছিলেন তার বাবা বানি আমিন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো পিতা যেন স্মৃতি হয়ে ভেসে উঠছে ইমরুল কায়েসের সামনে। দেশের তারকা এই ক্রিকেটারের ফেইসবুক স্ট্যাটাসই বলে দিচ্ছে, তার কাছে বাবা মানে কী! স্ট্যাটাসে ইমরুল লিখেন- সবাই জানেন, ২৩ মার্চ একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন, এর পর থেকে ২৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন। মহান আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। আমার ক্রিকেটার হয়ে ওঠা ও দেশের হয়ে খেলার বড় কারণ আমার বাবা। আমাকে সব সময় তিনি সমর্থন জুগিয়েছেন, এমনকি দুর্ঘটনার দিনও আমাকে ২-৩ বার ফোন করেছিলেন আমার ও আমার ছেলের খবর জানতে। তার ত্যাগ কখনই শোধ করা সম্ভব নয়। আপনারা আমার বাবার আত্মার জন্য দোয়া করবেন। ছেলে হিসেবে বলব-আব্বা যেখানেই থাকো ভালো থেকো। আল্লাহ তোমাকে মাগফিরাত দান করুন। আমিন। ভালোবাসি আব্বা।
12
গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় অংশগ্রহণকারীদের একজন রোহান ইমতিয়াজ। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের পুত্র বলে জানা গেছে। নামে তার ফেইসবুক একাউন্টে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার মা স্কলাসটিকা স্কুলের একজন শিক্ষিকা। মা-বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান রোহানের রয়েছে দুই বোন। রোহানও স্কলাসটিকার সাবেক ছাত্র বলে জানা গেছে। এর আগে গুলশানে হামলার পর সাইট ইন্টেলিজেন্স হামলাকারী হিসেবে যেসব জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করে সেখানে রোহানকে দেখা যায়। এরপর বাবা মায়ের সাথে রোহানের একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন তার পরিচিতজনরা। সেই থেকেই বেরিয়েও আসে তার পারিবারিক তথ্য। ফেইসবুকে ইমতিয়াজ খান বাবুল তার ছেলে রোহানের সাথে ছবিসহ একটি পোস্ট দিয়েছিলেন গত বছরের ২১ জুন। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, 'আমার বাবার (ছেলে) সাথে আমি।' গত বছরের সেই পোস্ট এ বছরের ২১ জুন আবারও তিনি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, 'বাবা কোথায় তুমি, প্লিজ ফিরে আসো'। কিন্তু সেই রোহান আর ফিরে এলো না, এলো লাশ হয়ে। জঙ্গী হয়ে। বিডি প্রতিদিন/৩ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১৩
6
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে অরিত্রি অধিকারীর পরিবার। আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১০। পল্টন থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা সুজন তালুকদার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলা বাদী অরিত্রি অধিকারীর বাবা দিলীপ অধিকারী। এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওই শিক্ষককে মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী রোববার পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকলসহ ধরা পড়ে। এরপর সোমবার দুপুরে ঢাকার শান্তিনগরের বাসায় নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। স্বজনদের দাবি, ওই ঘটনার পর অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে 'অপমান করেছিলেন' অধ্যক্ষ। সে কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে।
1
ময়মনসিংহে নদীকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান '১৩শত নদী সুধায় আমাকে' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত রোববার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শিল্পকলায় নৃত্য, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান। এ ছাড়া জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা হামিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় সব নদী নাব্য হারিয়ে জীর্ণ শুষ্ক হয়ে গেছে। এটি আমাদের মনকে চরমভাবে নাড়া দেয়। আজ থেকে ৫০ বছর আগে নদী কেমন ছিল, এখনকার প্রজন্ম নদীকে কেমন দেখছে তা আমাদের ভাবিয়ে তোলে।বক্তারা আরও বলেন, নদীকে রক্ষা করতে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নদীগুলোয় প্রাণ ফিরে ফিরতে পারে।
6
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় জব্দকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের নাগলা এলাকা এবং বিলডোরা ইউনিয়নের জামবিল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুর রহমান।জানা গেছে, এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারিরা নিষিদ্ধ এ জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ শিকার করে আসছিল। গতকাল বিকেলে অভিযানে গিয়ে ওই সব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে মৎস্য শিকারিদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জালগুলি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুর রহমান জানান, জাল ব্যবহার করে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়নি, তবে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
6
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলীপুরা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, প্রাইভেটকারের চালক মো. নয়ন মিয়া (৪৫), নেত্রকোনা জেলার মেদীর কান্দা থানার কলমাকান্দা গ্রামের হেকিম মিয়ার ছেলে। গাড়ির যাত্রী জারা আক্তার (১৭), ঢাকা বংশাল নাজিমউদ্দীন রোড এলাকার আবু জাফরের মেয়ে এবং লিজা আক্তার স্বর্না (১৯), ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার মাস্টার পাড়া এলাকার মৃত লিটন মিয়ার মেয়ে। তিনি আরও জানান, গাড়িটি পানির উপর উল্ট পড়ে ছিল যার ফলে গাড়িতে থাকা কেউ গাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। তবে লাশগুলি উদ্ধারকালে মনে হয়েছে, তারা গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেওপানির মধ্যে গাড়ির ডালা খুলে বের হতে পারেননি। নিহতদের লাশ গজারিয়া থানার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির
6
গত বছর বিশ্বের সামনে নতুন আতঙ্ক হয়ে সামনে আসে করোনাভাইরাস। পরবর্তী সময়ে যা মহামারি আকার ধারণ করে এবং এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। করোনার টিকাই এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এসব টিকা কতটা নিরাপদ, এর কর্যকারিতাই-বা কতটুকু, এ ধরনের নানা প্রশ্ন আগেই উঠেছে। তবে সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশ ক্ষেত্রবিশেষে তাদের নাগরিকদের জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, জীবন বাঁচাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে মানবাধিকারের সঙ্গে।করোনার নতুন নতুন ধরন বিশেষ করে ডেলটা ধরন এখনো তাণ্ডব চালালেও বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের মাঝে টিকা নেওয়ার আগ্রহ আবারও কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাই টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করছে অনেক দেশ। তবে সরকারি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে দেশে দেশে বিক্ষোভও করছেন অনেকে।ক্রমাগত সংক্রমণের মধ্যে 'কোভিড-জিরো' অর্থাৎ রোগীর সংখ্যা শূন্যে নামার পর বিধিনিষেধ শিথিল করার কৌশল থেকে সম্প্রতি সরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। এর পরপরই গত সপ্তাহে সেখানকার চিকিৎসক এবং শিক্ষকদের জন্য 'নো ভ্যাকসিন, নো জব' নীতি চালু করেছে দেশটি। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিবেশী ফিজি বলছে, নভেম্বরের মধ্যে করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ না নিলে সেখানকার সরকারি ও বেসরকারি খাতের সব কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে।যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করায় সেই পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন।'শতভাগ মানবাধিকার ইস্যু'সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইনের অধ্যাপক কানস্টানসিন দেতসিয়েরো বলেছেন, 'মানবাধিকার এবং বাধ্যতামূলক টিকা দেওয়ার মধ্যে খুব স্পষ্ট একটি সংযোগ রয়েছে। এটি শতভাগ মানবাধিকার ইস্যু যা গোপনীয়তা এবং শারীরিক অখণ্ডতার অধিকার সম্পর্কিত।'বাধ্যতামূলক টিকার বিষয়টিকে 'নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য কিংবা একজন ব্যক্তির স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর যুক্তিযুক্ত অনুপ্রবেশ' বলে আখ্যা দিয়েছেন আইনজীবীরা। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাস মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী। এ ছাড়া সংক্রমণ রোধে লকডাউনসহ নেওয়া নানা পদক্ষেপ জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করেছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত বেড়েছে এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন লাখ লাখ মানুষ।তবে টিকা নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় সমর্থন জানায়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, বাধ্যতামূলক না করে সরকারগুলোর উচিত এ-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক তথ্য প্রচারণার পাশাপাশি সবার জন্য টিকা আরও সহজলভ্য করে তোলা।জোর বা জবরদস্তি নয়বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা যদি ন্যায়সংগতও হয়, তবু নীতিটি অবশ্যই স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ছাড় দিতে হবে, যেমন অ্যালার্জির ক্ষেত্রে। এ নিয়ে জোর বা জবরদস্তি কোনো সমাধান দেবে না।এ বিষয়ে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির বারুচ কলেজের আইনের অধ্যাপক ডেবি কামিনার বলেন, 'এমন দেশগুলোতে টিকা বাধ্যতামূলক করা উচিত, যেখানে হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং স্কুলের মতো জায়গা থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে।'তবে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করার নীতি কাজে আসছে দাবি করে ডেবি কামিনার বলেন, 'আমি এখানে জোর করে টিকা দেওয়ার কথা বলছি না। কিন্তু আপনি যদি স্বাস্থ্যসেবাকর্মী কিংবা শিক্ষক হন, অন্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হলেও আপনাকে টিকা নিতে হবে। জোরাজুরির বিষয় নয়, এটি সমাজকে নিরাপদ রাখার বিষয়।'
6
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, দেশের নারী সমাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য প্রদর্শন করছে, গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা রাখছে। নারী দিবস উপলক্ষেপুলিশ সদরদপ্তরে 'বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক' আয়োজিত এক র্যালির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পুলিশের নারী সহায়তা কেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক ধারাবাহিক সফলতা বজায় রেখেছে, যা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে মাত্র ১৪ জন নারীর যোগদানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে নারীর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। তারা নারী পুলিশের যে প্রগতির সূচনা করেছিলেন তা আজ সাফল্য ও দক্ষতার মানদণ্ডে সুসংহত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশে নারীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭৬৭ জন, যা পুলিশের মোট জনবলের প্রায় ৬ দশমিক ৬৬ ভাগ। আইজিপি বলেন, 'অন্য পেশার মতো পুলিশেও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মত কঠোর দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য অপারেশনাল কাজে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তারা সকলের প্রশংসা অর্জন করেছে।' পরে 'বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক'-এর আয়োজনে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে র্যালি বের হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। র্যালিতে চার শতাধিক নারী পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
6
জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়েছে মিঠাপুকুর। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এবং পাইয়ে দিতে প্রায় সবাই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বর্তমান ১৬ ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান।ইউপি নির্বাচনের সপ্তম ধাপে মিঠাপুকুরের ১৭ ইউনিয়নে ভোট হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এতে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ জানুয়ারি।নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের টিকিট পাওয়ার জন্য আবেদন সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত মঙ্গলবার। এ জন্য নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী প্রার্থীরা ঢাকায় গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন বর্তমান চেয়ারম্যান রয়েছেন। এ ছাড়া নিজেদের সমর্থক প্রার্থীদের মনোনয়ন পাইয়ে দিতে সাংসদ এইচ এন আশিকুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান নিরঞ্জন চন্দ্র মহন্ত ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আখতার জেসমিন ঢাকায় অবস্থান করছেন।মিঠাপুকুর আওয়ামী লীগে দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাংসদ আশিকুর। অন্য পক্ষে আছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির।উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মেসবাহুর রহমান প্রধান জানিয়েছেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সাংসদ আশিকুর এলাকায় না এসে ঢাকায় অবস্থান করছেন।সেই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান তাঁদের অনুসারী প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য ঢাকায় দৌড়ঝাঁপে আছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নিরঞ্জন চন্দ্র মহন্ত ঢাকায় অবস্থান করার কথা স্বীকার করেছেন।এ ছাড়া ময়েনপুরের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, খোঁড়াগাছের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, মিলনপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম চৌধুরী ও চেংমারীর চেয়ারম্যান রেজাউল কবীর টুটুল দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।বর্তমান চেয়ারম্যানদের মধ্যে কতজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এবং এ ক্ষেত্রে দুই গ্রুপের কারা এবং কতজন সফল হবেন তা উপজেলায় প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
6
করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট মহানগরীতে তিনটি পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য ক্রেতা, বিক্রেতা ও ইজারাদারদের মানতে হবে ১২টি বিধি-নিষেধ।সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, সিসিক নগরীতে আটটি হাট বসানোর অনুমতি চাইলেও সার্বিক বিষয় চিন্তা করে জেলা প্রশাসন তিনটি হাটের অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমতি দেওয়া হাটগুলো হচ্ছে, দক্ষিণ সুরমার ট্রাক টার্মিনাল, নগরীর মাছিমপুর এলাকার কয়েদির মাঠ ও শাহী ঈদগাহ এলাকার কালাপাথর মাঠ।বিধায়ক রায় বলেন, বুধবার বিকেলে অনুমোদন পাওয়ার পর পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সকল প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই তিন দিন সময় লাগবে। এরপরই নির্ধারিত অনুমোদিত স্থানে বসবে কোরবানির পশুর হাট।সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম জানান, হাটের ইজারাদার, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে সরকারি বিধিনিষেধ অবশ্যই মানতে হবে। এ জন্য সবগুলো হাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে। যেহেতু সিলেটে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। তাই হাটে আগতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক।
6
বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠছেন অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে অমিতাভের ডুপ্লেক্স ওই বাড়িতে থাকতে মাসে দিতে হবে ১০ লাখ রুপি। ভারতের শোবিজভিত্তিক গণমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা জানায়, বহুতল ভবনের ২৭ ও ২৮ তলা নিয়ে অমিতাভ বচ্চনের ওই ডুপ্লেক্স বাড়ি। দুই বছরের জন্য এটি ভাড়া নিয়েছেন 'মিমি'খ্যাত অভিনেত্রী কৃতি। এজন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ দিয়েছেন ৬০ লাখ রুপি। এদিকে গত মার্চে কৃতির একটি ছবিতে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন অমিতাভ বচ্চন। খোলা চুল আর অফ শোল্ডারে ম্যাক্সি ড্রেসের ওই ছবিতে বেশ আকর্ষণীয় দেখায় কৃতিকে। বলিউড তারকাদের অনেকেই কৃতির ছবিতে মন্তব্য করেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন অমিতাভ। অবশ্য কৃতির ছবিতে বিশেষ কিছুই লেখেননি তিনি। একটি হার্ট ইমোজির পাশাপাশি লেখেন, 'ওয়াও'। তাতেই শুরু হয় আলোচনা। অভিন্ত্রেী কৃতির হাতে এখন বেশ কয়েকটি ছবি। 'আদিপুরুষ', 'বচ্চন পান্ডে', 'বেধিয়া', 'গণপথ' সিনেমায় দেখা যাবে তাকে। এছাড়া কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে 'শেহজাদা' সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন কৃতি। এর আগে 'লুকাচুপি' সিনেমায় এই জুটিকে দেখা গেছে।
2
আসন্ন ঈদুল-ফিতরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা পরিষদের (জেলা পরিষদ) ইজারাদাররা সদরঘাট নদীবন্দরসহ সারাদেশে নদীবন্দর ও লঞ্চঘাটের ৪০০টিরও বেশি ঘাট পয়েন্ট থেকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। শনিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির (বিজেকেএস) মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ তোলেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাশাপাশি ইজারাদাররা যাত্রীদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেকেএস মহাসচিব। এ ধরনের অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, "সদরঘাটে নৌকায় করে নদী পারাপারে ওঠা-নামা করা যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কেউ নৌকায় নদী পার হলে বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত ইজারাদাররা তাদের কাছ থেকে ২০/৩০/৫০/১০০ টাকা হারে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করছে। যদিও নৌকা পারাপারের জন্য যাত্রী প্রতি ভাড়া আদায়ের চুক্তি রয়েছে।" শুধু সদরঘাট নয়, সারাদেশে বিআইডব্লিউটিএ'র ইজারা দেওয়া চার শতাধিক নদীবন্দর ও ঘাটেও দেখা যায় এই লুটপাট। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ঘাট ও নৌকা ঘাট পয়েন্টে এ ধরনের লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নৌপথে যাত্রী হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্দেশনা দিলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটিএ নৈরাজ্য বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ ধরনের অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ করলে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘাটে টোল আদায়ের জন্য ইজারাদাররা এলাকার অসাধু তরুণদের ব্যবহার করার ফলে অনেক যাত্রীকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টোল ও অবৈধ টোল দিয়ে নদী-ঘাট পার হতে হচ্ছে। অসহায় যাত্রীদের বিভিন্নভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভোক্তা সুরক্ষা অধিদপ্তর ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
6
ভারতের মুম্বাইতে ১৯৯৩ সালে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী মুনাফ হালারিকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার রাতে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুজরাটের সন্ত্রাসবিরোধী স্কয়াড (এটিএস)। সোমবার ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুবাই যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে এসময় পাকিস্তানি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ ১৩টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাই। এই বিস্ফোরণে ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ৭১৩ জন। এই হামলায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে টাইগার মেমনকে দায়ী করে ভারতীয় পুলিশ। ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া হালারি মুম্বাই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার বিরুদ্ধে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) রেড কর্নার নোটিশ জারি রয়েছে। মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী টাইগারের মেমনের সহযোগী হালারি। ভারতীয় পুলিশ বলছে, হালারি নিয়মিত টাইগার মেমনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে আশ্রয় নেন। পাকিস্তানি নাগরিক পরিচয়ে থেকে গ্রেপ্তার ও বিচার এড়িয়েছেন তিনি। এটিএসের তথ্য অনুযায়ী, নাইরোবিতে হালারি ব্যবসা শুরু করেন। তবে এর আড়ালেতিনিভারতে অস্ত্র ও মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, ১৯৯৩ সালে পালিয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দুইবার ভারতে প্রবেশ করেন হালারি। ২০১৪ সালে আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে মুম্বাই আসেন তিনি। তার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্ট দুইবার নবায়ন করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। হালারি এখন পাচারের অভিযোগসহ ১৯৯৩ সালের বিস্ফোরণের মামলার মুখোমুখি হবেন।
3
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার কোস্টগার্ডের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পদক প্রদান অনুষ্ঠানেতিনি এ আহ্বান জানান। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারপ্রধান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি শিপইয়ার্ড নির্মাণের বিষয়টি চিন্তা করছে সরকার। যে পরিকল্পনা ও কাঠামো তৈরি হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশে উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সক্ষম হবে। কোস্টগার্ডের জন্য জাহাজ, হোভারক্রাফট, দ্রুতগামী বোটসহ অত্যাধুনিক নৌযানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়েপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতি ও গভীর সমুদ্রের নিরাপত্তার জন্য এই বাহিনীর জনবল ও জাহাজ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গভীর সমুদ্র নির্ভর অর্থনীতিকে গতিশীল ও নিরাপদ রাখা এবং সুনীল অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও ব্যক্তিদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।উপকূলীয় অঞ্চলে চারা রোপণের জন্য কোস্ট গার্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের দেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং নদীমাতৃক দেশকেও নিরাপদ করার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একান্তভাবে দরকার। সেই দায়িত্ব কোস্টগার্ড যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। কারণ আমাদের এই অঞ্চল (বঙ্গোপসাগর) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের সব নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রয়োজন এবং সেই দিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ুর অভিঘাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে, এই ব-দ্বীপে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন যুগ যুগ ধরে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হতে পারে; সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২০৪১ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। শুধু আজকের জন্য আমরা কাজ করছি সেটা না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে সেটা সামনে রেখেই পরিকল্পনা কাঠামো তৈরি করে যাচ্ছি। যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম, তারা এ দেশের উন্নয়নের কার্যধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল চার কোস্টগার্ড সদস্যকে তাদের সাহসিকতা ও বিশেষ কৃতিত্বের জন্য পদক তুলে দেন। পরে, কোস্ট গার্ডের কর্মকান্ড নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ড সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানানো হয়।
6
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সত্য এবং ন্যায়ের স্বার্থে ষড়যন্ত্রকারীদেরও মুখোশ উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। জিয়াউর রহমানসহ যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল, ষড়যন্ত্রকারী ছিল, তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ক্লিনিক ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় শোক দিবস-২০২০ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে তথ্য অধিদফতর আয়োজিত 'আলোকচিত্র, ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'মুজিব শতবর্ষে আমাদের প্রত্যয় হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর যে সমস্ত পলাতক খুনি এখন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে আছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত এনে বিচারের রায় কার্যকর করা। একইসাথে আমি মনে করি, যারা সম্মুখে থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল, শুধু তারাই অপরাধী তা নয়। মন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, মুজিব শতবর্ষে এই কাজটি করা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্যায়ের প্রতিকার করতে হবে। সেজন্যই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী এ সময় ধারাবাহিকভাবে এ হৃদয়গ্রাহী আয়োজনের জন্য তথ্য অধিদফতরকে ধন্যবাদ জানান এবং অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন। জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক শাহিন ইসলাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাহানারা পারভীন, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার বিধান চন্দ্র কর্মকার, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়া এবং তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
6
শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ'র (টেলিপ্যাব) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন হয়ে গেল। এতে সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন ইরেশ যাকের (৮৭), সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন সাজু মুনতাসির (১০০)। অন্যজোটে সভাপতি পদে মনোয়ার হোসেন পাঠান, সাধারণ সম্পাদক পদে মুজিবুর রহমান মুজিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন।নির্বাচনে অংশ নেয় মোট দুই জোট, প্রার্থী সংখ্যা ছিল ৫৪ জন। ভোটার সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। এক নজরে নির্বাচনে জয়ীদের তালিকা সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন দোদুল (১১১) জহির আহমেদ ( ৯৭) আনসারুল আলম লিংকন (৭৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রেজা (৮৯) সৈয়দ ইরফান উল্লাহ (৮৬) সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান খান (৮৪) অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী) দপ্তর সম্পাদক এ কে এম নাহিদুল ইসলাম নিয়াজী আইন বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দীন মোহাম্মদ মন্টু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বাবলু আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী রিটন মীর ফখরুদ্দীন ছোটন শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আইনুল ইসলাম চৌধুরী চঞ্চল কার্যনির্বাহী সদস্য এফ জামান তাপস (১০৯) বাবুল আহমেদ (১০৩) (যুগ্ম)- তুহিন বড়ুয়া (৯৪) ও এম রেজাউল করিম সজল (৯৪) এ এস এম আখতারুজ্জামান (৯৩) সাদেক সিদ্দিকী (৯৮) রিয়াজুল রিজু (৯২) সাঈদ তারেক (৯১) জাকির খান (৮৩) এস এম হোসেন বাবলা (৭৯) এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম। তার সহযোগী কমিশনার হিসেবে থাকবেন এসএম মহসিন ও খায়রুল আলম সবুজ। শনিবাররাজধানীর গুলশান ১-এ অবস্থিত ইমানুয়েল কনভেনশন হলে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ।
2
দোকানে থাকা ম্যানিকুইন 'মূর্তি' বলে চিহ্নিত করে এগুলোর শিরশ্ছেদ করছে তালেবান। সংগঠনটি বলছে, কাপড়ের দোকানে রাখা এই ম্যানিকুইন ইসলাম অনুমোদন করে না। এরইমধ্যে হেরাত প্রদেশের কাপড় বিক্রেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে তারা দোকানে থাকা ম্যানিকুইনের মাথা আলাদা করে ফেলে। প্রথমে তালেবান সব ধরণের ম্যানিকুইন রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে এতে আপত্তি জানায় দোকান মালিকরা। তাদের দাবি, এমনিতেই দেশে ব্যবসার খারাপ সময় চলছে। এরমধ্যে ম্যানিকুইন সরিয়ে ফেললে তাদের আর চলার উপায় থাকবে না। এরপরই শুধু মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ জারি করে তালেবান। কিন্তু এটিও মেনে নিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। তারা আপাতত এগুলোকে ঢেকে রাখার পক্ষে। ব্যবসায়ীদের একজন মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, একেকটি ম্যানিকুইনের দাম ১০০ ডলার প্রায়। এগুলোর মাথা কেটে ফেলা হবে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি। তালেবান একদমই পরিবর্তন হয়নি।
3
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তেলীগাতি গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী কৃষক অলিয়ার ডাকুয়াকে ৫০) অপহরণের আজ বর্ষপূর্তি। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল তাকে অপহরণ করা হয়। টানা এক বছরেও অলিয়ার ডাকুয়ার কোনো সন্ধ্যান মেলাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯ টায় এইচএসচি পরীক্ষার্থী মেয়ে রনজিদাকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, 'মা তুমি পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসো, আল্লাহ চাহেতো আমি বিকেলে ফিরে আসবো'। কিন্তু আজও ফেরেননি অলিয়ার। তার আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে চোঁখের জল ফেলছেন তার অসহায় ৭ সন্তান ও ৩ স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন একই গ্রামের মুনসুর গাজীর ছেলে জামাল গাজী (৪২) অলিয়ারকে জমি কেনাবেচার বিষয়ে দলিল দেখানোর কথা বলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনায় নিয়ে যায়। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা ছিল তার মোবাইল ফোন। তারপর থেকে নেই কোনো সন্ধ্যান। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা ১ দিন পরে ৩ এপ্রিল থানায় জিডি করে। ৫ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে ২ ঘণ্টার সময় দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন চায় অলিয়ারের অপহরণকারীরা। ৬ এপ্রিল জামাতা সোহাগ জিডির কপিসহ ঘটনা জানান র্যাবকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) তারক বিশ্বাস ভিকটিম ও আসামিদের কল রেকর্ড(সিডিআর) অনুসরণ করে খুলনা থেকে আসামি রুস্তম আলী খানকে গ্রেফতার করেন। এরপরে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার অজান্তে ১ মাস ১২ দিনের মাথায় মামলাটি চলে যায় খুলনা সিআইডিতে। ২য় তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি'র এসআই আবুহেনা ৫/৮/১৫ তারিখ থেকে মামলার তদন্তভার পান। তার হাতে তদন্ত চলছে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে তিনি এ মামলার প্রধান আসামি জামাল গাজীকে গ্রেফতার জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। মামলাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই আবুহেনা বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ১নং আসামি গ্রেফতার আছে। ভিকটিম উদ্ধার নেই। এ সম্পর্কে মামলার বাদি ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন যে, প্রভাবশালী আসামিরা তদ্বীর করে মামলাটি সিআইডিতে নিয়েছে। এ পর্যন্ত অপহৃত আওয়ামী লীগ কর্মী অলিয়ার ডাকুয়ার কোনো সন্ধ্যান দিতে পারেনি সিঅাইডি। আসামিদের ইচ্ছায় মামলাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে বলেও অভিযোগ ফাতেমা বেগমের। অলিয়ার ডাকুয়ার সন্ধ্যান করতে নেমে বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে স্ত্রী সন্তানদের। আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে পালিয়ে বেড়াতে হয় বাদিনী ও তার সন্তানদেরকে। বিডি-প্রতিদিন/১ এপ্রিল ২০১৬/শরীফ
6
অনেক দিন বাদে আবারও এক ঘণ্টার কোনো নাটকে কাজ করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। 'কুহক কাল' নামের এই নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফারিয়া শাহরিন। নাটকটিতে সেলেব্রেটি নয়, আর্টিস্ট হিসেবে চঞ্চলকে পেয়েছেন নির্মাতা আলোক হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শুটিং সেটে বড় সেলেব্রেটি নয়, চঞ্চল চৌধুরীকে একজন পরিপূর্ণ শিল্পী হিসেবে পেয়েছেন। খুব নীরবে কাজটি করেছেন। যেমনটা চেয়েছিলাম আরও বেশী দিয়েছেন। শিগগির একটি বেসরকারি টিভিতে নাটকটি প্রচার হবে। সুযোগ পেলে চঞ্চলের সঙ্গে সিনেমাতে কাজ করতে চান জানিয়ে ফারিয়া শাহরিন আরওবলেন, মনপুরায় তার অভিনয় দেখে কেঁদেছিলাম। তখন থেকে তিনি আমার প্রিয়। এখন তার সঙ্গে অভিনয় করছি। চঞ্চল ভাইয়ার সঙ্গে কোনোদিন সিনেমা করতে পারলে খুশী হবো। উল্লেখ্য, এর আগে এজাজ মুন্নার পরিচালনায় চঞ্চলের সঙ্গে প্রথম 'ডার্ক স্টোরি কফি' নাটকে অভিনয় করেন ফারিয়া শাহরিন। এবার অভিনয় করলেন থ্রিলারধর্মী নাটক 'কুহক কাল' এ। গেল সপ্তাহে উত্তরায় নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে আফগানিস্তানে দূতাবাস চালু করা। এছাড়া এনজিওগুলোকে আফগানিস্তানের উন্নয়নে কাজ করার আহবানও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার দুপুরে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের আয়োজনে 'ইঙ্গ-মার্কিন প্রচারণা এবং আফগানিস্তান প্রশ্নে তালেবান' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানুর সভাপতিত্বে এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
6
ড্যানিয়েল ওয়েবার ও সানি লিওনি দম্পতির সংসার বেশ সুখের। সানি ও ড্যানিয়েলের সুখী জীবন দেখে তা-ই বোঝা যায়। সামনে আসছে বিশেষ দিন। ভালোবাসা দিবস ঘিরে এই জুটির পরিকল্পনা কী? বিটাউনের জনপ্রিয় জুটিরা নানা পরিকল্পনা ফেঁদেছেন। সানির পরিকল্পনা আছে নিশ্চয়ই। সেই সমাচার জানালেন সম্প্রতি এই বলিউড অভিনেত্রী।বলিউডে ভালোবাসা দিবসের আঁচ বইতে শুরু করেছে। সানি বিশেষ পরিকল্পনা করেছেন দিনটি ঘিরে। কাজের ব্যস্ততায় হাজারো সন্ধ্যা কাটলেও এই সন্ধ্যাটি কাটাতে চাই একটু রোমান্টিকতায়-সানির ভাবনাটা এমন। ভালোবাসা দিবস নিয়ে এ অভিনেত্রীর ভাষ্য, 'ভালোবাসা দিবসের প্রথম দিকটা আমার তিন সন্তান নিশা, নওয়া ও অশরের সঙ্গে কাটাব। সন্ধ্যায় রাতের খাবার খাব ড্যানিয়েলের সঙ্গে।' ড্যানিয়েলকে ঘিরে সানির আলাদা উচ্ছ্বাস আছে। তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আনন্দিত সানি। নিজেদের এই পারিবারিক মধুর সম্পর্ক নিয়ে সানি বলেন, 'বিয়ে করে এখন আমি একজন সুখী স্ত্রী। জীবনটা আনন্দে ভরা। ২০০৯ সালে ড্যানিয়েলকে বিয়ে করার পরে জীবনটা অন্য রকম আনন্দে ভরে গেছে।' বন্ধু কিংবা স্ত্রী, সানির চাওয়া ড্যানিয়েলের সঙ্গে সময় কাটানো। ড্যানিয়েলেরও ইচ্ছা, ভালোবাসা দিবস কাটুক প্রিয় মানুষের সঙ্গে। তাই এই দিনটিতে হাতে কোনো কাজ রাখেননি। ড্যানিয়েল জানালেন, ভালোবাসা দিবসের আগের দিন ঢাকা থেকে মুম্বাইয়ে ফিরবেন তিনি। তার আগে দুই দিন থাকবেন ঢাকায়। ঢাকা সফর নিয়ে তিনি প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধিকে বলেন, 'আমি ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাতে থাকব। একটা নতুন প্রকল্প নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারব না। কারণ, একেবারে প্রাথমিক স্তরে আছে বিষয়টি। আমি একা যাব। সানি আমার সঙ্গে যাবে না।'ড্যানিয়েল আরও বলেন, 'ঢাকা যাওয়ার ব্যাপারটি সানি লিওনির সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা পরিকল্পনা করেছি। ওর কথামতো ভালোবাসা দিবসের দিন মুম্বাইতে থাকব।'প্রযোজনার কাজে এখন ভীষণ ব্যস্ত সানি লিওনি। এই বলিউড অভিনেত্রীকে কোকাকোলা ছবিতে দেখা যাবে। এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন মন্দানা করিমি। এ ছাড়া দক্ষিণি কিছু ছবিতেও সানি লিওনিকে দেখা যাবে।
2
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পাল্টাপাল্টি কথার লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ। আজ সোমবার আবার নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছেন। ঠিক সে সময় ফেসবুকে ওই দুই নেতার পুরোনো একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারে নামলাম: শামীম ওসমানছবিতে দেখা যাচ্ছে, আইভির মাথায় হাত রেখেছেন শামীম ওসমান। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, নৌকা মার্কাকে পাস করানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন শামীম ওসমান। লেখা হচ্ছে, 'আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়ায় উচিত, সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।'পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, সমর্থন জানাতেই নারায়ণগঞ্জে নৌকা মার্কার সিটি মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসায় গেছেন এই আলোচিত সংসদ সদস্য। ফ্যাক্টচেকফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ প্রযুক্তিতে অনুসন্ধান করে দেখে গেছে, এটি সাম্প্রতিক ছবি নয়। গত ২৭ জুলাই মায়ের মৃত্যুশোকে কাতর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সমবেদনা জানান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। এ সময় শামীম ওসমানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মুখ খুললেন শামীম ওসমান, বাকিটা সংবাদ সম্মেলনেওই দিন আইভীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। আইভীর বাড়িতে প্রায় আধ ঘণ্টা অবস্থান করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।সম্প্রতি নাসিক নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের এই দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। প্রতিপক্ষ বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে শামীম ওসমান অবস্থান করছেন মর্মেও খবর প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন সময়। এ প্রেক্ষাপটে শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে আইভী উপস্থিত ছিলেন না। আইভীর মাথায় হাত রেখে আশ্বস্ত করার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ফেসবুকে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ছবিটিসহ মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের এই সাক্ষাতের খবর বাংলাদেশের প্রায় সব গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছিল। আলোচিত ছবিসহ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।নাগরিকের আয়নায় আইভীসিদ্ধান্তনারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমর্থন দিতে সম্প্রতি আইভীর বাসায় যাননি শামীম ওসমান। ফেসবুকে ওই দাবিতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে, তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা-[]আরও পড়ুন ফ্যাক্টচেক:কানাডায় যাওয়ার সময় মুরাদ কি ভিক্টরি সাইন দেখিয়েছেন?এই ছবি মুরাদ হাসানের নয়ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ছবি নয় এটিউড়োজাহাজে আগুনের ঘটনাটি একটি মহড়ারবুয়েটে পড়তে ওই তিন নারীকে মামলা করতে হয়নি৮২৩ বছর নয়, প্রায় প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটে
6
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা বলেছেন, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ১০ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের ষষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অতিদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার এবং রাজনৈতিক দল সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করলে জাতির উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়। অতিদরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দল-মত নির্বিশেষে পাশে দাঁড়াতে পারলে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মুজিববর্ষে এটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনের শুভ মুহূর্তে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তন এই উপমহাদেশের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি নাজুক করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের অবদান না থাকলেও আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা অভিযোজনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা বন্ধ করা না গেলে অভিযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে 'মুজিব চিরন্তন' প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। গতকালের আয়োজনের থিম ছিল 'বাংলার মাটি আমার মাটি'। বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর পর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর 'মুজিব চিরন্তন' প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও এবং মুজিব শতবর্ষের আবহ সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে 'বাংলার মাটি আমার মাটি' থিমের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। থিমভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এর পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং নেপালের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর সম্মানিত অতিথির হাতে 'মুজিব চিরন্তন' শ্রদ্ধা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি ঘটে। এর পর আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব শুরু হয়, যা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সহধর্মিণী রাশিদা হামিদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং নেপালের রাষ্ট্রপতির মেয়ে ঊষা কিরণ ভান্ডারী দর্শকসারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির :অনুষ্ঠানে ভাষণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অন্তরালের বঙ্গবন্ধু আরও বেশি শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এ দেশের জনগণ থাকবে; ততদিন বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছি। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের চেহারা অনেক বদলে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল; অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে সেই বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পথে দ্রুত অগ্রসরমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন, ভাবনা ও রাজনৈতিক দর্শনের মর্মার্থ সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে মুজিববর্ষ পালন একটি যথাযথ পদক্ষেপ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর :সভাপতির বক্তব্যে এ অঞ্চলের দারিদ্র্যমুক্তি, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই- দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশালসংখ্যক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও অর্ধাহারে বা না খেয়ে প্রতি রাতে ঘুমাতে যায়। অনেকে জীবন ধারণের নূ্যনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। সে সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করে এ অঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এ অঞ্চলকে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস আমরা অব্যাহত রাখব। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এমন একটি অঞ্চলে বসবাস করি যা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশগুলো যেমন ভূমিকম্প, ক্লাউড ব্রাস্ট, বরফ ধস, ভূমিধস, ফ্লাস ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। আবার বাংলাদেশের মতো সাগর-উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো বারবার বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি বা খরার মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। তিনি বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম বা সিভিএফের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্বকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত বছর ঢাকায় গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন, বাংলাদেশ অফিস চালু করা হয়েছে। ঢাকা অফিস দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগদান করায় নেপালের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন নেপাল সরকার ও সেখানকার জনগণ নানাভাবে স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। যেসব দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে সর্বাগ্রে স্বীকৃতি দিয়েছিল, নেপাল তার অন্যতম। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেপাল বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। আমরা নেপালের জনগণের সে অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা ২০১২ এবং ২০১৩ সালে নেপালের ১১ জন নাগরিককে 'ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ' সম্মাননায় ভূষিত করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিশেষ করে পানি-বিদ্যুৎ খাত, পর্যটন এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সহযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে বিবিআইএন চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এর ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নেপালকে আমরা আমাদের সৈয়দপুর আঞ্চলিক বিমানবন্দর এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময়ই শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। সবার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি থেমে যায়। বিগত ১২ বছরে আমরা জাতির পিতার দেখানো পথ ধরেই হাঁটছি। অন্যদের বক্তব্য :স্বাগত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের নিরন্তন প্রেরণার উৎস। তাই মুজিব চিরন্তন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে থাকা শেখ মুজিব আমাদের জীবনের ধ্রুবতারা। তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ, প্রীতিলতাসহ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত যে মাটিতে মিশে আছে, সে মাটিকে বঙ্গবন্ধু ভালোবেসেছিলেন। সে জন্য খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি হাজার বছরের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালিকে স্বাধীন করেছিলেন। বাংলার মানুষকে ভালোবেসে জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। থিমভিত্তিক আলোচনাকালে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শেখ মুজিব প্রদীপ্ত আলোর শিখা। আগামী প্রজন্ম এই প্রদীপের শিখার আলোয় এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু বাঙালির কাছে অমর। তিনি বলেন, 'বাংলার মাটি আমার মাটি'- এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না। এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের মৌলিক দর্শন। বাঙালিকে নিরন্তর ভালোবেসে তিনি জীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন :'বাংলার মাটি, আমার মাটি' শীর্ষক গতকালের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী। এই পর্বে শত শিল্পীর যন্ত্রসংগীত, বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে নেপালের পরিবেশনা, হাজার বছর ধরে (নৃত্যালেখ্য :কবিতা, গান ও নৃত্য), বাংলার ষড়ঋতু (৬০ জন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা), ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক গানের মেডলি :সেই থেকে শুরু দিনবদলের পালা (কোরিওগ্রাফি), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা 'বাংলার বর্ণিল সংস্কৃতি', যাত্রাপালা 'মা মাটি মানুষ' এবং শত বাউলের গানের মেডলি ও নৃত্যালেখ্য :'সবার উপরে মানুষ সত্য' পরিবেশিত হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান ও বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সপ্তম দিনের থিম 'নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা' :প্যারেড গ্রাউন্ডে সপ্তম দিনে আজ মঙ্গলবারের থিম 'নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা'। অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী প্রথম পর্বে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলোচনা অনুষ্ঠান এবং আধা ঘণ্টার বিরতি শেষে দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও সঞ্চালনা করবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আলোচনায় অংশ নেবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ ছাড়া ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে সুইজারল্যান্ডের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারণকৃত ভিডিও, 'মুজিব চিরন্তন' প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফি, 'নারী ও বাংলাদেশ' নিয়ে কালজয়ী কিছু গান, 'অনন্যা অপরাজিতা' শীর্ষক থিমেটিক কোরিওগ্রাফি, 'গাহি সাম্যের গান' শীর্ষক কয়েকটি গান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের গান ও কোরিওগ্রাফি এবং বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎ :বিডিনিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী তাকে বর্ণনা করেছেন 'অনুপ্রেরণাদায়ী' একজন নেতা হিসেবে; আর শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি নেপালের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধানের একজন অনুরাগী। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। নেপালের রাষ্ট্রপতি নেপালি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ও 'কারাগারের রোজনামচা' বই দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দু'দেশের মধ্যে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পিটিএ চুক্তি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল) সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে এ অঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ সহযোগিতায় নেপালের পানিসম্পদ ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করা যেতে পারে বলেও মত দেন প্রধানমন্ত্রী।
6
যুদ্ধ মানেই নৈতিকতার মৃত্যু আর মানবতার পরাজয়ের গল্প। তবে ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়গুলো থেকেই আবার বেরিয়ে আসে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর মানবতার ঘটনাগুলো। তেমনই এক ঘটনা ১৬ কেজি ওজনের এক কুকুরছানাকে হাঁটিয়ে, কখনো কোলে নিয়ে ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে আরিয়ার সীমান্তে পৌঁছানো। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত আরিয়ার যখন শরীর চলছিল না, তখন ওজন কমাতে নিজের সঙ্গে থাকা খাবার ফেলে দিয়েছেন, কিন্তু কুকুরছানার খাবারটা ফেলেননি। মানুষ যখন নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য উড়োজাহাজে উঠতে হুড়োহুড়ি করছিল, আরিয়া তখন তাঁর কুকুরছানার জন্য খাঁচা খুঁজতে নিজের ফ্লাইট বাতিল করেছেন। অথচ এই কুকুরছানাকে সঙ্গে আনা নিয়ে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কেউ কেউ এটাকে আরিয়ার স্বার্থপরতা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অনেকে প্রশংসাও করেছেন। ২০ বছরের মেডিকেল শিক্ষার্থী আরিয়া অলড্রিন সম্প্রতি তাঁর সাইবেরিয়ান কুকুরটি নিয়ে ইউক্রেন ছাড়েন। এটিকে যে রেখে আসা যেত, তা তাঁর মাথাতেই আসেনি। তাঁর প্রশ্ন, 'যুদ্ধের মুখে যখন আপনি দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন, তখন কি আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে সঙ্গে নিয়ে আসা স্বার্থপরতা?' তিনি মনে করেন, এটি করলে আরও বেশি স্বার্থপরতা হতো। পাঁচ মাস বয়সী কুকুরটির নাম জারিয়া। এটিকে নিয়েই আরিয়া হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালাতে পৌঁছান। আরিয়ার ফেরাটা যে কতখানি কঠিন ছিল, তা এখন গণমাধ্যমের বরাতে জানে মানুষ।ইউক্রেনে থাকা অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীই ফেরার সময় তাঁদের পোষা কুকুর, বিড়াল সঙ্গে এনেছেন। কিন্তু রোমানিয়া সীমান্তের উদ্দেশে যখন তাঁরা বাসে করে যাচ্ছিলেন, সেখানে কুকুরকে কোলে নিয়ে আরিয়ার একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাঁকে নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ নিয়ে অনেকে আরিয়ার প্রশংসা করেছেন আবার অনেকে ট্রল করেছে। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁর মা-বাবা তাঁকে ইউক্রেনে পড়তে পাঠিয়েছেন নাকি পশুপাখির দেখভাল করতে? আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধের মধ্যে যেখানে মানুষের জীবন হুমকির মুখে, সেখানে উদ্ধারকারী ফ্লাইটে ভারতীয় সরকার কীভাবে প্রাণীদের আনার বিষয়টি অনুমোদন করল? আরিয়া বলেন, 'আমি একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। আমাদের বলা হয়, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই জীবন বাঁচাতে। এমন না যে এটিকে রেখে এলে কেউ তাকে সাহায্য করত। ' ২০২০ সালে আরিয়া ইউক্রেনের বিনিৎজাতে ন্যাশনাল পিরোগভ মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যান। কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে কেরালার অনেককে পেয়ে যান এবং সবার মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আরিয়া পশুপাখি পছন্দ করেন জানতে পেরে গত ডিসেম্বরে এক বন্ধু তাঁকে দুই মাসের সাইবেরিয়ান হাস্কি প্রজাতির এক কুকুরছানা উপহার দেন। আরিয়া নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এটির নাম দেন জারিয়া। খুব দ্রুতই তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। এমন অবস্থা যে আরিয়া ক্লাসে গেলে জারিয়া না খেয়ে কখন আরিয়া ফিরবে সেই অপেক্ষায় থাকে। আবার আরিয়াও অনেক সময় বন্ধুদের দাওয়াতে সাড়া দেন না। কারণ, তাঁর অনুপস্থিতিতে জারিয়াকে একা থাকতে হবে। যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত শুরু হলো তখনই আরিয়া ঠিক করে, যা-ই হোক না কেন, জারিয়াকে ফেলে তিনি যাবেন না। বন্ধু ও স্বজন অনেকেই বলেছেন, কিছুদিনের জন্য জারিয়াকে কারও কাছে দিয়ে চলে আসতে। কিন্তু তিনি মানেননি। আরিয়া বলেন, 'আমি জানি, আমার মতো কেউ তার দেখভাল করবে না।' যখন সিদ্ধান্ত হলো ইউক্রেন ত্যাগ করতেই হবে, তখন আরিয়ার মা জারিয়াকে নিয়ে আসার বিষয়ে সম্মতি দিলেন। তাঁর বাবাও প্রথমে অমত করলে পরে রাজি হন। এই সংকটের মধ্যেও আরিয়া এক দিনের মধ্যে পোষা প্রাণীর পাসপোর্টে, টিকা সনদ ও মাইক্রোচিপের ব্যবস্থা করেন। দেশটির পোষা প্রাণিবান্ধব নীতিমালা ও কর্মকর্তাদের সহায়তাতেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে জানান আরিয়া। আরিয়া জারিয়াকে নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিনিৎজা ছাড়েন। পরদিন তাঁদের একটি বাসে করে রোমানিয়া সীমান্তে নেওয়া হয়। হট্টগোল ও অপরিচিত লোকজনের মধ্যে জারিয়া তার নির্ভরতার জায়গা আরিয়ার কাছে বেশ শান্তভাবেই ছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির লোকজন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। আরিয়াদের বহনকারী বাসটি ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বাসের চাকা থেমে যায়। কারণ, সীমান্তকে কেন্দ্র করে তাঁদের গাড়ির সামনে লম্বা লাইন। এরপর তাঁরা বাস থেকে নেমে হাঁটতে থাকেন। আসার সময় আরিয়া ও তাঁর বন্ধু নিজেদের জন্য জুস ও বিস্কুট এবং জারিয়ার জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ পথ চলতে চলতে আরিয়ার মাসিক হয়ে যায়। তার পিঠব্যথা শুরু হয়। ততক্ষণে জারিয়াও খুব ক্লান্ত। এটিও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। আরিয়া তখন বুঝতে পারল জারিয়ার কষ্ট হচ্ছে, তাকে কোলে নিতে হবে। জারিয়ার ওজন ১৬ কেজি হওয়ার পরও আরিয়া তাকে কোলে তুলে নেয়। তিনি বলেন, 'কোলে নিতেই বাচ্চাদের মতো এটি আমার কাঁধে ঘুমিয়ে গেল।' দীর্ঘ কষ্টের এই সফরে গ্রুপের অন্যরা তাঁকে সাহায্য করেছেন। কখনো কখনো আরিয়াকে থামতে হয়েছে। নিজের হাতকে বিশ্রাম দিয়েছেন। একপর্যায়ে ওজন কমানোর জন্য আরিয়া সঙ্গে থাকা খাবার ফেলে কমিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু জারিয়ার খাবারে হাত দেননি। ১০-১২ কিলোমিটার পথ জারিয়াকে কোলে নিতে হয়েছে আরিয়ার। রোমানিয়া সীমান্তে যখন পৌঁছান, তখন আরিয়ার কাছে শুধু ছিল জারিয়ার খাবার ও ভ্রমণের কাগজপত্র। সেখানেও প্রায় সাত ঘণ্টা তাঁকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। যখনই সীমান্তের ফটক খুলছিল, তখনই প্রচণ্ড হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছিল। একবার আরিয়া জারিয়াকে নামাতে গেলে তার গায়ে লাথি লাগে এবং ব্যথায় এটি কুঁকড়ে ওঠে। আরিয়া বলেন, 'আমি কোনো রকমে এক পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি জারিয়াকে জাপটে ধরে দাঁড়িয়েছিলাম আর কাঁদছিলাম। মনে হয়েছে, বিনিৎজাতে ফিরে যেতে পারলে ভালো হতো।' অপেক্ষায় থাকার সময় পরিস্থিতি দেখে আরিয়াকে একপর্যায়ে জারিয়ার খাবারও কমাতে হলো। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় লাগছিল। শেষ পর্যন্ত যখন তাঁদের পালা এল, তখন তাঁর বন্ধু সীমান্তের দরজা পার করতে পারলেও আরিয়া ও জারিয়া একদল শিক্ষার্থীর ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে যায়। তখন তিনি জারিয়াকে ওপরে তুলে ধরলে এক ইউক্রেনীয় সেনার নজরে পড়ে। তিনি পরে তাঁদের সীমান্ত পার করিয়ে দেন। আরিয়া বলেন, 'যখন সীমান্ত পার হচ্ছিলাম, সেই স্বস্তির অনুভূতি বোঝাতে পারব না।' সীমান্ত অতিক্রম করার পর প্রথমে তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের খাবার ও পানি দেওয়া হয়। এমনকি আরিয়ার পায়ে থাকা জুতাগুলোর দুর্দশা দেখতে পেয় স্বেচ্ছাসেবীদের বেশ মায়া হয়। তাঁরা তাঁকে ব্যবহৃত এক জোড়া জুতাও দেন। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তাঁদের বুখারেস্টের কাছে হেনরি কোন্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রোমানিয়া পুলিশ জারিয়াকে দেখে বেশি খাবার ও টিস্যু দেয় এবং বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সি ডেকে দেয়। এইবার পালা বাড়ির উদ্দেশে ফ্লাইট ধরা। মনে মনে আরিয়া হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন যে সব ক্লান্তি ও ভোগান্তির শেষ হলো। কিন্তু তা আর হয়নি। ভারত সরকারের ব্যবস্থাপনায় যে ফ্লাইটটি ছিল, তাতে ওঠার অল্প সময় আগে রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ আরিয়াকে জানায়, জারিয়াকে খাঁচায় করে নিতে হবে। ফলে আবার আরিয়ার দৌড় শুরু। এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করে খাঁচার জোগাড় করতে লেগে যায় আরও কয়েক ঘণ্টা। ছেড়ে দিতে হয় আরও একটি ফ্লাইট। অবশেষে আরিয়া দিল্লিগামী আরেকটি ফ্লাইটে উঠতে সক্ষম হন। সেখানে তাঁকে কিছু খাবার দেওয়া হয়। আরিয়া একটু খেয়ে বাকিটা জারিয়ার জন্য রেখে দেন, যেন ফ্লাইট থেকে নামলেই জারিয়াকে খাওয়াতে পারেন। কিন্তু দিল্লিতে নামার পর আবার আরিয়াকে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। কারণ, এয়ার এশিয়ার ওই ফ্লাইট প্রাণী বহন করে না। তাই আরিয়াকে নতুন করে অন্য ফ্লাইট নিতে হয়। এরই মধ্যে আরিয়ার এই সফর খবরে পরিণত হয়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী আরিয়ার প্রশংসা করে ফেসবুকে নোট লেখেন। পরের দিন আরিয়া যখন কোচি বিমানবন্দরে পৌঁছান, একদল সাংবাদিক তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন। আরিয়া বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে জারিয়াকে একজন পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং টিকা দেওয়ান। এরপর পাহাড়ি এলাকা মুন্নারে বাড়ির পথে রওনা হন। সাইবেরিয়ান হাসকি প্রজাতির এই কুকুরগুলোর গায়ে মোটা পশম থাকে, যা তাদের প্রচণ্ড ঠান্ডার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এখন কেরালার উষ্ণ পরিবেশে এটিকে বেশ বেগ পেতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আরিয়া বলেন, জারিয়া ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। কারণ, কেরালার অন্য অংশের তুলনায় মুন্নার তাপমাত্রা কম। এখন জারিয়া আরিয়ার মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটায় বলে হাসতে হাসতে জানান আরিয়া।
3
চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণের এ সময়ে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম রংপুরের ডা. হৃদয় রঞ্জন রায়। মানবিক কাজের অংশ হিসেবে এই চিকিৎসক প্রতি মাসে একদিন বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করতেও নেন না কোনো অর্থ।রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হৃদয় রঞ্জন সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন বছর ধরে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ফি ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। যত দিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন তত দিন এমন সেবা চালিয়ে যেতে চান মানবিক এই চিকিৎসক।হৃদয় রঞ্জনের সঙ্গে কথা হয় গত শুক্রবার। তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনে প্রবেশের পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। এর সুবাদে বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।হৃদয় রঞ্জন বলেন, 'প্রতিবছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আয়োজনে রংপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করি। ২০১৮ সালে রংপুরে এ রকম একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করি। ওই দিনই সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ (এসওএসবি) থেকে সেই বিকেলে বিনা মূল্যে রোগী দেখার নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি মেসেজ আসে। নির্দেশনা অনুযায়ী রোগী দেখার পর কার্যক্রমের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করি। এতে অনেকেই এমন কাজের প্রশংসা করেন এবং প্রতি মাসে একদিন এ স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।'ডা. হৃদয় জানান, সবার অনুরোধের বিষয়টি মাথায় ঘুরতে থাকে। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবার সমর্থন করায় বিনা মূল্যে রোগী দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রোগী দেখা শুরু করেন।রোগী দেখার দিন হিসেবে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে এই চিকিৎসক জানান, এ দিনটি তাঁর জন্মবার।ডা. হৃদয়ের আশা, তাঁর এমন কাজকে দেশের চিকিৎসক সমাজ একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে নেবেন। তিনি মনে করেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা যদি জেলায় জেলায় ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা চালু করেন তাহলে জাতি উপকৃত হবে।বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পেছনে হৃদয় রঞ্জনের আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হলো চিকিৎসকদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে তা পাল্টানোর চেষ্টা করা।হৃদয় রঞ্জন ১৯৯৩ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি ২০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে জেনারেল সার্জারিতে এফসিপিএস সম্পন্ন করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শেষে বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আমেরিকান কলেজ অব সার্জনের একজন ফেলো।
6
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, আমরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আস্থাশীল। আশা করি, আদালত সব দিক বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে ৮ মে জামিন দেবেন। মঙ্গলবার সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/২৩ এপ্রিল, ২০১৮/মাহবুব
6
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রথম দিন সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ এমন দাবি করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্যদলের জন্য নির্ধারিত প্রথম দিনের সব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইগর কোনাশেনকভ।রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ বাহিনী প্রথম দিনের অভিযানে ইউক্রেনের ৮৩টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছে, দিনের শুরু থেকে রাশিয়া ২০৩টি হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হাজার হাজার সৈন্য কিয়েভ ঘিরে ফেলেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে কৃষ্ণ সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে আজভ সাগর থেকে উপকূলে সৈন্য অবতরণ করেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বে সুমি ও খারকিভ এবং দক্ষিণে খেরসন ও ওডেসা অঞ্চলে ভয়াবহ লড়াই হয়েছে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের মাটিতে যা ঘটেছে তা খুবই ভয়াবহ।ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী রাজধানী থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার উত্তরে চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কিয়েভ অঞ্চলের হোস্টোমেল বিমানবন্দর দখল করেছে।এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনীয়দের তাদের দেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত যে কাউকে অস্ত্র দেওয়া হবে।রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরু করার পর ৩০ লাখ মানুষের শহর কিয়েভ গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। শহর ছেড়ে পালাতে যাওয়া মানুষের ভিড়ে শহরের বাইরের মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। মস্কোর ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে পুতিন বলেছেন, হামলা করা ছাড়া তার কাছে কোনো বিকল্প নেই।
3
মির্জাপুরের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৫০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক ও থানা-পুলিশ এ তথ্য জানান। এর মধ্যে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা পূজা মণ্ডপ ঘিরে উপজেলায় আকর্ষণ বেশি।মির্জাপুর থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, পৌরসভায় ৫০টি, আজগানা ইউনিয়নে দুটি, বাঁশতৈল ইউনিয়নে তিনটি, তরফপুর ইউনিয়নে সাতটি, লতিফপুর ইউনিয়নে ১৮টি, গোড়াই ইউনিয়নে ২০টি, ভাওড়া ইউনিয়নে তিনটি, উয়ার্শি ইউনিয়নে ১৩টি, আনাইতারা ইউনিয়নে আটটি, মহেড়া ইউনিয়নে ১১টি, জামুর্কি ইউনিয়নে ৩২টি, বানাইল ইউনিয়নে ২০টি, ভাদগ্রাম ইউনিয়নে ৩২টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে ১৩টি ও ফতেপুর ইউনিয়নে ১৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর উপজেলার ২০৮টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিল।এদিকে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা পূজা মণ্ডপ দেখতে মন্ত্রী-সাংসদ, বিদেশি কূটনৈতিকসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসবেন। তাঁরা কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার গ্রামের বাড়িও পরিদর্শনে যাবেন। এ জন্য সাহাপাড়া গ্রামেও চলছে সাজসজ্জ্বা।উপজেলা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রমথেস গোষ্মামী শঙ্কর বলেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রিজাউল হক শেখ দীপু বলেন, মণ্ডপে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদ্যাপনের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।ইউএনও মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মণ্ডপে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে পূজা উদ্যাপনের জন্য প্রশাসন থেকে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
6
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সানার বাসিন্দারা বলেছেন, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার একদিন পর এই হামলার ঘটনা ঘটলো। ২০১৫ সালে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশ দুটি যুদ্ধে জড়ায়। ২০১৪ সালের শেষের দিকে রাজধানী এবং উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা হুতি বিদ্রোহীরা দখলে নিলে মনসুর হাদি দেশটিতে থেকে পালিয়ে যান। খবর আল-জাজিরার। সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কোয়ালিশন বাহিনী বলেছে, তারা ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি এবং ক্যাম্পগুলোতে বিমান হামলা শুরু করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ওই হামলায় অন্তত ১৪ নিহতের কথা বলা হয়েছিল। রয়টার্সকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং একটি হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হামলায় একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাড়ি আক্রান্ত হয়। এতে তিনি, তার স্ত্রী, তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নিহত হন।
3
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও সেই তালিকায় নেই এক ইউপির নাম। তবে কী কারণে বাদ পড়েছে, তা জানাতে পারেননি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। তফসিলে ইউপির নাম থাকায় হতাশ প্রার্থী ও ভোটাররা।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন খান মারা যান। পরে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর এ ইউনিয়নের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলায় ইউনিয়ন আছে ১১টি। নিয়ম অনুয়ায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চলমান ইউপি নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ধলামূলগাঁও বাদে অন্য ১০ ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী গণসংযোগ ও নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেন। সেই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা চলছিল। কিন্তু তফসিলে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের নাম না থাকায় হতাশ প্রার্থী থেকে ভোটার।ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের এরোয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা ও অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন বলেন, 'ইউপি নির্বাচন ভোটারদের কাছে একটি উৎসবের মতো। ফলে নির্বাচন ঘিরে ভোটারসহ সব নাগরিকের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছিল। কিন্তু উপজেলার বাকি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও সেই তালিকায় ধলামূলগাঁওয়ের নাম না থাকায় আমরা হতাশ।'ধলামূলগাঁও ইউপিতে গত উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজুওয়ানুর রহমান বলেন, 'নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ করছি। কিন্তু তফসিল থেকে ধলামূলগাঁও বাদ পড়ায় হতাশ হয়েছি।'পূর্বধলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'উপনির্বাচন শুধু অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য হয়। সে অনুযায়ী উপজেলার সব ইউনিয়নের নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার কথা। কিন্তু কী কারণে তফসিলে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের নাম নেই, তা বলতে পারছি না। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবেই জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এখন সেখান থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
6
দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মানবিক করিডর তৈরির ব্যাপারে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় এ ব্যাপারে একমত হয় তারা। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী এক ইউক্রেনীয় প্রতিনিধির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল ছিল ইউক্রেনে চলমান রুশ অভিযানের অষ্টম দিন। অস্ত্রবিরতি প্রশ্নে আলোচনার জন্য এদিন বেলারুশে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসে ইউক্রেনীয় ও রুশ প্রতিনিধিদল। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক রয়টার্সকে বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে সম্ভাব্য সাময়িক একটি অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। তিনি আরও বলেন, সব জায়গায় নয়, শুধু যেসব জায়গায় মানবিক করিডর আছে, সেগুলোতেই এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময়টুকুতে অস্ত্রবিরতি কার্যকর রাখা সম্ভব হবে। তুমুল সংঘাতের এলাকাগুলোতে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ নিয়েও ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এ প্রথম দুই পক্ষ কোনো ইস্যুতে সম্মত হতে পেরেছে। তবে পোদোলিয়াক মনে করেন, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় কিয়েভের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, 'খুব আক্ষেপ নিয়েই বলতে হচ্ছে, আমরা যেমনটা প্রত্যাশা করছিলাম, তেমন ফল পাইনি।' এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ না করে তিনি বলেন, 'আমি শুধু বলতে পারি যে আমরা মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কারণ, অনেকগুলো শহরই ঘিরে ফেলা হয়েছে। সেখানে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ এবং সেখানকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।'
3
অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদনের জন্য সাতক্ষীরার সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন র্যাব-৬-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে জরিমানার ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়।রোববার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় র্যাব-৬-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদিম শাহ এই অভিযান পরিচালনা করেন। স্যাঁতসেঁতে, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক শিবুপদ ঘোষের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন আদালত।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রসিকিউটর রবীন্দ্রনাথ সরকার, বিএসটিআই খুলনা শাখার কর্মকর্তাসহ র্যাব-৬-এর কর্মকর্তারা। র্যাব-৬ জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৫-এর ৩৩ ধারা ও বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
6
অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর সুযোগ চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এ আবেদন করা হয়। নাইকো দুর্নীতি মামলায় আজ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই নিয়ে আটবার তাকে কারা আদালতে হাজির করা হলো। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ মামলাটির অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে শুনানি হয়। খালেদা জিয়া আজ আদালতে কোনো কথা বলেননি। এ সময় তার সিনিয়র আইনজীবীরা তার সাথে দেখা করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়াকে শারীরিক জটিল সমস্যার মাঝেই চিকিৎসা শেষ না করে আবার জেলে ফেরত আনা হয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চেকআপের অনুমতি চাওয়া হয় আদালতে। আদালত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে হাইকোর্টের আদেশের কপি জমা দিতে বলেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান। আজ এ মামলার অপর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার শুনানি শেষ করেন। শুনানিকালে অপর আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত এক বছর ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে সাতবার তাকে কারা আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, ৮ নভেম্বর ও ১৪ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৩, ১৩ ও ২১ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন। মামলার পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ আসামি হলেন ১১ জন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো: শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
6
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে কবির কবরে বিএনপি'র পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, হোসেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাইন উদ্দিন রাজু ও আরিফুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক- সাইদ মাহমুদ জুয়েল, জাসাসের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী, শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, অ্যাড. আমিনুল হক ও আরিফুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, ইঞ্জি. মঞ্জু মিয়া ও শাহ মো: বেলালসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) পক্ষ থেকেও পৃথক পৃথকভাবে কবির কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
9
নরসিংদীর শীলমান্দীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মালামাল জব্দ করেছে তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি কো. লিমিটেড। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিতাস গ্যাস নরসিংদী জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বরুণ কুমার রায় এর নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।নরসিংদীর তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী অজিত চন্দ্র দেব বলেন, সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ৪টি অবৈধভাবে নেওয়া আবাসিক গ্যাস সংযোগ ও অনুমোদনহীন অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের জন্য ২টি আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ মালামাল জব্দ করা হয়।
6
সালটা ২০০২। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'দেবদাস' বড় পর্দায় নিয়ে এলেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা। পারো অর্থাৎ পার্বতীর চরিত্রে ঐশ্বরিয়া, দেবদাস শাহরুখ এবং চন্দ্রমুখীর চরিত্রে মাধুরী। হাই স্টার কাস্ট তাই ছবি নিয়ে হাইপ একেবারে আকাশচুম্বী। 'দেবদাস'-এর শুটিং পুরোটাই কি নির্বিঘ্নে হয়েছিল? মোটেই নয়। সঞ্জয় লীলার ছবি মানেই যে কিলো কিলো ভারি গয়না পরতে হবে তা এদ্দিনে সকলেরই জানা। জানা যায়, ওই ভারি ভারি গয়না পরেই এমন অবস্থা হয়েছে অভিনেত্রীর। সে অবস্থাতেও কিন্তু শুটিং থামাননি তিনি। চালিয়ে গেছেন পুরোদমে। ফলাফল বক্স অফিসে দেবদাস সুপারহিট। ২০১৯-এ এসেও 'ডোলা রে'-র শুরু মেতে ওঠে আট থেকে আশি। ঐশ্বরিয়া যে অভিনয়টাও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন তার প্রমাণও মিলে যায় আরও একবার। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
2
আগেও খেলেছেন, রান পেয়েছেন, উইকেটও নিয়েছেন। তবে এবারের জাতীয় লিগটা তার কাছে ভিন্ন আবহের। কারণ কিছুদিন আগেই বিয়ে করেছেন তিনি। সে বিয়ে নিয়েও ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তাকে। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্সে সবকিছু উতরে যাওয়ার অপেক্ষায় নাসির হোসেন। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে বিয়ের পর প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাসির। রংপুরের হয়ে ব্যাট হাতে খেলেছেন ১১৬ রানের দারুণ ইনিংস। দলের হয়ে অন্যান্য ব্যাটসম্যান যেখানে ব্যর্থ, সেখানে স্রোতের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছেন নাসিরই। বিকেএসপিতে বুধবার রংপুর বিভাগের হয়ে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন নাসির। আগের দিন অপরাজিত ছিলেন ৯৩ রানে। নাজমুলকে ফ্লিক করে শতক পূর্ণ করেন। বল খরচ করেন ২১৮টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাসিরের এটি অষ্টম সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে ঢাকার ৩৬৫ রানের জবাবে নাসিরের সেঞ্চুরিতে রংপুর করে ২৩০ রান। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে শেষ পর্যন্ত টিকেছিলেন নাসির। সঙ্গ পেলে নিজের স্কোরটা আরও বাড়াতে পারতেন। বাঁহাতি পেসার সালাউদ্দিন শাকিলকে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি ১১৬ রানে। দারুণ ইনিংসে নাসির হাঁকান ১১টি চার, ৪ ছক্কা। জাতীয় লিগ শুরুর আগে নাসির বলেছিলেন, এবার ৬ ম্যাচে ৮০০ থেকে ১ হাজার রান করতে চান। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি নাসিরকে উজ্জীবিত করছে পুরোদমে।
12
বর্তমানে দেশে যে হিংসার রাজনীতি চলছে, তা 'মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে' একদিন কফিনে পুরে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। এই শাসনব্যবস্থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানী ভবন মিলনায়তনে নবগঠিত মহানগর দক্ষিণ বিএনপির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে আবদুস সালাম এ কথা বলেন। আবদুস সালাম বলেন, 'সারা পৃথিবীতে যখন কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটছে, তখন শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করার দিবাস্বপ্নে বিভোর। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করা যায় না, অতীত ইতিহাস সেটিরই সাক্ষ্য দেয়।' তিনি বলেন, 'আমি শঙ্কিত, হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি দেশের মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে কফিনে পুরে ফেলবে একদিন। সরকার যেন সেই কাজ করতেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।' এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাঁরা যখন সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো পালনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, দল পুনর্গঠনের মতো সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছেন, তখন সরকার তাঁদের নেতা-কর্মীদের নিত্যনতুন 'মিথ্যা মামলায়' আটক করছে, পুরোনো মামলায় অভিযোগ গঠন করছে, অভিযোগপত্র দিচ্ছে। বিরোধী দলকে কোনোভাবেই কাজ করতে না দেওয়ার লক্ষ্যেই এগুলো করা হচ্ছে। বিএনপির ঢাকা মহানগরীর এই নেতা দাবি করেন, দেশে বর্তমানে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও অনেক রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি না দিয়ে তাঁদের আটকে রাখছে। আবার কেউ জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় জেলে পুরছে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা দেশের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারবিরোধী নেতা-কর্মীদের জেলে পুরে, নিত্যনতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে নিজেদের অগণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করছে। দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি বলে আখ্যায়িত করে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, 'হিংসা-বিদ্বেষের পথ ছেড়ে আসুন একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমরা পূর্বের মতো একসঙ্গে কাজ করি।' সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলমও বক্তব্য দেন। পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের নেতা মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, সাদেক হোসেন খোকা, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় মহানগর দক্ষিণ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
9
কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে তল্লাশি চলাকালে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতরা হলেন-উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের উত্তর লেদা এলাকার শফিক আহম্মদের পারভেজ (১৬), একই এলাকার সুলতান আহমেদের ছেলে জালাল (২৬) ও রহমত আলীর ছেলে রেদওয়ান (১৯)। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন এবং অটোরিকশাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছেন ৬০ গ্রামের মানুষ। ভদ্রা নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ২৯ নম্বর পোল্ডারে এ গ্রামগুলো অবস্থিত। নদীভাঙনে ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি গ্রাম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলেই বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।জানা গেছে, ১৯৬৭-৬৮ সালে ভদ্রা নদীর জোয়ার ঠেকাতে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বেড়িবাঁধই হাজারো মানুষের নিরাপত্তার আশ্রয়। তবে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলে এবং বিভিন্ন দুর্যোগ এলে বেড়িবাঁধটি ক্ষতি ঠেকাতে পারে না। ইতিমধ্যে ভদ্রা নদীর ভাঙনে বিলুপ্ত হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার ৪ নম্বর শরাফপুর ইউনিয়নের জালিয়াখালী ও সেজবুনিয়া গ্রাম দুটি।প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে ছিল জালিয়াখালী গ্রাম। ১ হাজার ২০০ লোকের বসবাস ছিল এখানে। শতাধিক কাঁচাপাকা ঘরবাড়িসহ প্রায় ৫০০ বিঘা সম্পত্তি ভদ্রা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশেই অবস্থিত চাঁদঘর গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাঙন রোধে কাজ করে থাকে। অন্যদিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের বারোআড়িয়া বাজার ও গ্রামটি নদীগর্ভে বিলুপ্ত হতে চলেছে।বারোআড়িয়া গ্রামটির ৭০ ভাগ পরিবার নদীগর্ভে তাদের জায়গাজমি হারিয়েছে। বর্তমান বারোআড়িয়া এলাকায় জাইকার অর্থায়নে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভাঙন প্রতিরোধে ৭০০ মিটারজুড়ে জিও ব্যাগের কাজ চলছে। এখানেও চলছে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি।ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো টেকসই (ব্লক) ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখনো। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় এই বেড়িবাঁধ রক্ষায় বিভিন্ন সময় একাধিক বেসরকারি এনজিও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ২৯ নম্বর পোল্ডারের মোট ১৩টি স্লুইসগেটের একটির আউটলেট রয়েছে। পানি সরবরাহের জন্য একমাত্র মাধ্যম এসব স্লুইসগেট।ভাঙনকবলিত এলাকার ২৯ নম্বর পোল্ডারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে চটচটিয়া পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এসব এলাকায় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের প্রয়োজন। না হলে বাকি গ্রামগুলো দিন দিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।'শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, 'নদীভাঙন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। এই ভদ্রা নদীর কবলে চাঁদঘড়সহ বেশকিছু গ্রাম এখন নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিমধ্যে জালিয়াখালী গ্রামটি ভদ্রা নদীর কবলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই বেড়িবাঁধ রক্ষায় পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, 'এলাকায় নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। বাকি যেসব এলাকা রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
6
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আগামীকাল বারুহাস ও মাধাইনগর-এ দুই ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট। নির্বাচনী সব প্রচার শেষ হয় গতকাল শনিবার মধ্যরাতে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ও ভোটাররা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় আছেন। এদিকে দুই ইউপির ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।উপজেলার বারুহাস ও মাধাইনগরে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৭৪ এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দুই ইউপিতে ২০টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বারুহাস ইউনিয়নে পাঁচটি কেন্দ্র পঁওতা, বস্তুল, মনোহরপুর, কুসুম্বী ও বিনসাড়া এবং মাধাইনগর ইউপিতে চারটি কাস্তা, গুড়মা, পেঙ্গুয়ারী ও ওয়াশীন ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।সরেজমিন দেখা গেছে, এ দুই ইউপিতে সর্বত্রই রাস্তাঘাট, অলিতে-গলিতে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। হাটবাজারের চা-স্টল, দোকানপাট, এমনকি রাস্তার মোড়ে নির্বাচন নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ভোটারদের মুখে এখন শুধুই ভোটের আলোচনা। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাধীনভাবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কী না-এ নিয়ে তাঁরা শঙ্কায় আছেন। তবে তাঁদের দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের।বারুহাস ইউপি চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো. আব্দুর রাজ্জাক বিএসসি বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবগত করেছি। নৌকা প্রার্থীর সমর্থকেরা আমার সমর্থকদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এ কারণে সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা চায় ভোটাররা।'অপর দিকে মাধাইনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল) মো. ছাইদুর রহমান বলেন, 'এ ইউনিয়নে চারটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নৌকার সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি করছেন।'তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে কোনোভাবেই অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না। উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উজ্জল কুমার রায় জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সচলের পাল্টা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশে থেকে এমন দাবি জানায় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। তবে এ দাবির তোয়াক্কা করেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভিপি নুর। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলসহ চার দফা দাবিতে পাঁচ দিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে গত তিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন সমর্থন ও উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। যদিও এর আগে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর একাধিক সদস্য শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে যৌক্তিক দাবি করে তাতে সম্মতি দিয়ে একাত্মতা পোষণ করেন।সমাবেশে আকতার হোসেন ডাকসুর টাকা খরচ করে তালা কিনেছেন এবং নুর তাতে সমর্থন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। আর এজন্য নুর ও আখতারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানায় তারা। সমাবেশের বক্তৃতায় ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা ডাকসুর একজন সম্পাদককে দেখলাম, সে গতকালের ডাকসুর প্রেস রিলিজের পরেও, যেখানে বলা হয়েছে স্পষ্ট সবাইকে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য। ডাকসু সমর্থন দিয়েছে, সমাধান হবে আলোচনার মাধ্যমে। আমরা দেখলাম, আমরা শুনেছি, যে তালা এখানে লাগানো হয়েছে, সেই তালা আগের দিন রাতেই নিয়ে সেই ডাকসু সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছে। সেই তালা নিয়ে সেই শিকল নিয়ে ক্যাম্পাসে তালা দিয়েছে ডাকসুর ওই সম্পাদক। সাত কলেজের অধিভুক্ত বাতিলের আন্দোলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তালা মারাকে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ অভিযোগ করেন রাব্বানী। এজন্য ডাকসু'র সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশে ফিরে এলে ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে আখতার হোসেনের পদ বাতিল করার জন্য আবেদন করবে বলেও জানান তিনি। নুর ও আকতারকে অবাঞ্ছিত করার ছাত্রলীগের এই দাবিকে পাগলের প্রলাপ বলে মন্তব্য করছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, তাদের এই দাবি পাগলের প্রলাপ। আমরা তা কেয়ার করি না।
1
দেশে করোনার টিকা উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে গরিব দেশকে বিনা মূল্যে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪২তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই চিকিৎসক।করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সফলভাবে ভূমিকা রাখছে জানিয়ে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, 'অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় সফলভাবে ভূমিকা রাখছে। যে কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু কম। শুরুর দিকে টিকাদান কর্মসূচিতে একটু সমস্যা হলেও সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে উঠে চমৎকারভাবে টিকা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা গেছে।'স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, 'আজ যাঁরা নিয়োগ পেলেন, তাঁদের জাতির জন্য অনেক কিছু করার আছে। তাঁরা দেশকে অনেক কিছু দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, 'দেশের ইতিহাসে এতসংখ্যক নিয়োগ আর কখনো হয়নি। জনগণের টাকায়, তাঁদের ট্যাক্সের টাকায় আমরা চিকিৎসক হয়েছি। নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসক হয়েছি। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অনেক দরিদ্র মানুষের ঘামে ভেজা উপার্জন আমাদের পেছনে রয়েছে।'তিনি বলেন, 'চিকিৎসক হিসেবে একেকজন একেকটি প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য বিভাগের একেকজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন। এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে হবে, যেন চিকিৎসার পর কোনো রোগীর মৃত্যু হলেও যেন রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসকের প্রশংসা করে।'
6
মুখে তার ভুবন ভুলিয়ে দেওয়া মিষ্টি হাসি। একটু চঞ্চল, একটু দুষ্টুু। যেন মুক্ত বিহঙ্গ। অভিনয়ে সাফল্যের সিঁড়ি ডিঙিয়ে আজ তিনি উজ্জ্বল এক তারকা। তবে মাহির পথচলা এখন তার একার জন্য নয়। সঙ্গে আছেন জীবনসঙ্গী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিয়ের পর নতুন বরকে নিয়ে সংসার, শুটিং সবই সমানতালে করছেন। গুনে গুনে মাহির নতুন সংসারের বয়স ৩২ দিন। প্রথা অনুযায়ী নতুন সঙ্গীকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা। কিন্তু না নতুন বউ, না মধুচন্দ্রিমা। এসব কিছুই হয়নি মাহির বেলায়। বিয়ের পর তার মধুচন্দ্রিমা হয়েছে পূবাইল, এফডিসি, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে। বিয়ের পরই স্বামীকে নিয়ে চলে আসেন এফডিসিতে 'বুবুজান' ছবির সেটে। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ছবির কাজ শেষ করেই শুরু করেন একই পরিচালকের 'নরসুন্দরী'। ছবিটি নিয়ে মাহিকে ঘুরতে হবে ঢাকা, চাঁদপুর, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জে। মাহির সঙ্গে যখন কথা হয় তখন এ ছবির শুটিংয়ে পূবাইলে অবস্থান করছিলেন তিনি। মাহি বলেন, 'করোনার কারণে দীর্ঘদিন শুটিং বন্ধ থাকায় কাজ হয়নি। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর আবার যখন কাজ শুরু হলো, সে সময় বিয়েও করলাম। বিয়ের কারণে আমার কাজ আটকে থাকুক, তা চাইনি। তাই কাজের ক্ষেত্রকেই মধুচন্দ্রিমার অংশ বানিয়েছি। তবে মধুচন্দ্রিমায় যে যাব না, তা কিন্তু নয়। কাজটা আগে গুছিয়ে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি।' মাহি তার অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এবার তাকে দেখা যাবে একজন নরসুন্দরীর চরিত্রে। এই চরিত্রে কোনো গ্ল্যামারের বালাই নেই। মাহি জানালেন, আমি সব সময় চরিত্রে বৈচিত্র্য চেয়েছি। এবারের চরিত্রটি সত্যি অন্যরকম। মেয়ে হয়েও গ্রামের একটা সেলুন চালায়. যেখানে ছেলেরা আসে চুল কাটাতে। তা নিয়ে তৈরি হয় নানা ঝামেলা। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেলুনটি রক্ষা পায়। সিনেমায় ৯ বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয়ের ব্যাপারে মাহির ক্ষেত্রে একটা কথা প্রযোজ্য। সিনেমার ব্যাপারে তিনি হুটহাট সিদ্ধান্ত নেন। ভাবনার ধার ধারেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই অকপটে স্বীকার করে বলেন, 'অনেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে দিনরাত গল্প-চরিত্র নিয়ে ভাবতে বসেন। কীভাবে চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেকে তুলে ধরবেন পর্দায়, তা নিয়ে দিনরাত বৈঠক। এতে হয়তো তাদের কাজের ফল ভালো হয়। আমার বেলায় হয় ঠিক উল্টো। সবসময় দেখেছি, যখনই কোনো কিছু নিয়ে বেশি ভাবি, কাজের সময় তা এলোমেলো হয়ে যায়। এ জন্য অভিনয়ের সময় আমি নির্মাতার নির্দেশনাকেই গুরুত্ব দিই। অবশ্য কাজ শুরুর আগে মানসিক প্রস্তুতি থাকে পরিচালকের প্রত্যাশা পূরণের।' তার এ কথায় অনেকে অবাক হতে পারেন এই ভেবে, মাহি কাজের বিষয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তার ঝুলিতে কীভাবে এত আলোচিত ছবি জমা পড়ল! মাহি বলেন, এই একটা বিষয়ে নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মানি। 'অগ্নি', 'পোড়ামন', 'অনেক সাধের ময়না', 'রোমিও বনাম জুলিয়েট', 'দেশা :দ্য লিডার', 'কৃষ্ণপক্ষ', 'ঢাকা অ্যাটাক', 'জান্নাত' থেকে শুরু করে শেষ চলচ্চিত্র 'নবাব এলএলবি' পর্যন্ত আমার অভিনীত যত ছবি দর্শক-প্রশংসা কুড়িয়েছে, তার পেছনে যতটা না নিজের, তার চেয়ে বেশি অবদান নির্মাতাদের। অন্তত আমি এটাই মনে করি। ভালো লাগা এখানেই যে, এসব ছবির জন্য নির্মাতা আমার কথা ভেবেছেন। আমি চেষ্টা করেছি অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণে। এর পরও এটাই সত্যি, অভিনয়ের আগে গল্প ও চরিত্র নিয়ে খুব একটা বাছ-বিচার করিনি। মাহিয়া মাহি তার অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যে সৌভাগ্যকে যতটা বড় করে দেখছেন, সেভাবে হয়তো অনেকে ভাগ্যে বিশ্বাসী নন। কিন্তু বেশ কিছুদিন বিরতির পর যখন তার ক্যারিয়ারের নতুন প্রহর, তখনও দেখা গেল ভাগ্য সুপ্রসন্নই। এ বছরের শুরুটা হয়েছে তার 'নবাব এলএলবি' ছবির সাফল্য দিয়ে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই হাতে এসেছে ভিন্ন ধাঁচের গল্পের তিনটি ছবি- 'গ্যাংস্টার', 'লাইভ', 'নরসুন্দরী'। তিনটি ছবি নিয়েই আশাবাদের গল্প শোনালেন এ নায়িকা। এখন কথা হলো, নতুন ছবির বাইরে যে কাজ করছিলেন, সেগুলো নিয়ে তার প্রত্যাশা কতটুকু? জবাবে মাহি বলেন, "মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের 'আনন্দ অশ্রু' ছবিতে দর্শক নতুন মাহিকে দেখতে পাবেন- এটুকু বলতে পারি। পাশাপাশি 'আশীর্বাদ' নিয়েও আমি আশাবাদী। করোনার জন্য যদিও এ ছবি দুটির নির্মাণ কিছু বাধার মুখে পড়েছিল; শেষ পর্যন্ত সবই পরিকল্পনামাফিক হয়েছে। তাই ভালো কিছুর আশা করতেই পারি।" কাজ নিয়ে অনেক কথা হলো, এবার নতুন সংসারের গল্প শোনা যাক। প্রসঙ্গ তুলতেই মাহি বললেন, 'রাকিবকে নিয়ে দারুণ চলছে আমার নতুন সংসার। একটু একটু করে সাজিয়ে তুলছি নিজেদের বাড়ি। মোট কথা, আমরা ভালো আছি, ভালো থাকতে চাই- এটাই স্রষ্টার কাছে চাওয়া।' তার এ কথায় বোঝা যাচ্ছে, জীবনের নতুন অধ্যায়ে মাহি বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দিন পার করছেন। মাহি বলেন, একটা মানুষ দুপুর ১২টা, কখনও বেলা ২টায় ঘুম থেকে উঠত। আমি পছন্দ করি বলে সে সকাল ৭টায় ঘুম থেকে ওঠে। আমাকেই প্রায়োরিটি দেয়। প্রতিদিন আমাকে ফুল দেয়। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। খুব মুগ্ধতা নিয়েই সংসার করছি। মাহি যে মুগ্ধতা নিয়ে সংসার শুরু করেছেন, তা টিকে থাক চিরকাল- এমন মন্তব্যের পর মাহিরও একই চাওয়া। নায়িকার বাইরে মাহি বরাবরই একজন রোমান্টিক মানুষ। পছন্দ করেন ঘুরতে, বন্ধুদের সঙ্গে হৈহুল্লোড় করতে, প্রিয়জনের ভালোবাসায় মজে থাকতে। মাহির বয়ানে- 'জীবন আমার কাছে রংধনুর মতো। বহু রঙের সমষ্টি। জীবন আমি নিজের মতো করেই যাপন করতে চাই।'
2
বিএনপি জন্ম থেকেই মিথ্যাচারকে সঙ্গী করে নিয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'বিএনপি মুখোশ পরা গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা। তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল চটকদার বিজ্ঞাপনের মতো।' আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিএনপি খাল কেটে কুমির এনেছিল। উন্নয়ন তাদের শত্রু। ভোট ডাকাতি, হ্যাঁ- না ভোটের মাধ্যমে প্রহসনের নির্বাচন, ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ভুয়া ভোটার সৃষ্টিতে তারা এদেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অথচ এ দলটি নির্লজ্জের মতো সরকারের ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপায়।' 'বিএনপির রাজনীতি অনিয়ম, লুটপাট আর দুর্নীতির সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। তাদের তথাকথিত উন্নয়ন ছিল বিদ্যুৎ সংযোগহীন খাম্বার মতো,' বলেন ওবায়দুল কাদের। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
ভালো অভিনেতা হিসেবে এমনিতেই তার বেশ সুনাম রয়েছে বলিউডে। এ বার ২৮ দিনে ১৮ কিলো ওজন কমিয়ে একেবারে তাক লাগিয়ে দিলেন রণদীপ হুদা। ৩৯ বছর বয়সে নিজের 'সিক্স প্যাক' বিসর্জন দিয়ে বিশেষ ডায়েটে থেকে মাত্র ২৮ দিনে যে চেহারায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা দিয়েছেন তিনি তা চমকে দিয়েছে সবাইকে। জরাজীর্ণ শরীর, এক মুখ দাড়ি গোঁফের জঙ্গল আর মাথাভর্তি অবিন্যস্ত চুল- সব মিলিয়ে একদম অচেনা চেহারায় মিডিয়ার সামনে ধরা দিলেন রণদীপ হুদা। তার পরবর্তী ছবি 'সরবজিৎ'-এ নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন রণদীপ। পরিচালক ওমুঙ্গ কুমারের প্রযোজিত এবং পরিচালিত এই ছবিটি একটি বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। পঞ্জাবের একজন কৃষক সরবজিৎ সিং যাকে পাকিস্তানে ভারতীয় চর এবং জঙ্গি সন্দেহে ১৯৯০ সাল থেকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। ২০১৩ সালে কারাগারেই আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয় তার। সরবজিৎ সিংকে নির্দোষ প্রমাণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ভারতের সব চেষ্টাই এই ঘটনায় হঠাৎ করে থমকে যায়। এই সরবজিৎকে নিয়েই তৈরি ওমুঙ্গ কুমারের ছবিটি। মেরি কমের দুর্দান্ত সাফল্যের পর এমন একটা বিষয়ে ওমুঙ্গের পরবর্তী ছবি নিয়েও দর্শক এবং ফিল্ম সমালোচকদের মধ্যে বেশ উত্সাহ রয়েছে। এর ওপর ছবির জন্য রণদীপের এই ডেডিকেশন, এই পরিশ্রম 'সরবজিৎ'-এর সাফল্যের পথ অনেকটাই প্রসারিত করবে বলে মনে করছেন অনেকেই। রণদীপ ছাড়াও এই ছবিতে রয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, রিচা চাড্ডা, দর্শন কুমারসহ আরও অনেকে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
2
তিন ফসলের জমি পানিতে ডুবিয়ে কৃত্রিম লেক খনন পরিকল্পনায় সংক্ষুব্ধ টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের আদিবাসীরা। মধুপুর শালবনের দোখলা আমতলী এলাকায় পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য এমন একটি লেক খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন দাবি করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে বন বিভাগকে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নয়তো আন্দোলনের মুখে বন ও বনজীবী মানুষের জন্য ক্ষতিকর এই কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লিয়াং রিছিল মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জন যেত্রার সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক-গবেষক অজয় এ মৃ, মেবুল দারু, গৌরাঙ্গ বর্মণ, হেরিদ সিমসাং, প্রবিণ চিসিম, নেরে নবাট দালবৎ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, 'আমরা মধুপুরে বসবাসকারী আদিবাসী জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম যে, মধুপুরের আদিবাসী অধ্যুষিত চুনিয়া, পেগামারী, পীরগাছা, সাইনামারি, ভুটিয়া ও থানারবাইদ গ্রামের পাশে ১১ নং শোলাকুড়ী ইউনিয়নের পীরগাছা মৌজার আমতলী নামক বাইদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য আদিবাসীদের তিন ফসলি জমিতে বন বিভাগ কর্তৃক কৃত্রিম লেক খননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা আমাদের নিরীহ আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির ওপর মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। লেকের পাশে বসবাসকারী আদিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবসহ মধুপুর বনের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বন ও পরিবেশের ওপর স্থায়ী বিরূপ প্রভাব ফেলবে।' সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত এ লেক খননের জন্যে বরাদ্দ করা বাজেট অন্য কোথাও ব্যয় করার অনুরোধ করা হয়েছে, যেমন রসুলপুর এলাকায় বা অন্য এলাকায় যেখানে বন বিভাগের দখলিকৃত জমি আছে, যা আদিবাসীদের জীবন-জীবিকাকে প্রভাবিত করবে না। তিন ফসলি জমিতে লেক খনন করা হলে তাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনারও খেলাপ করা হবে। শুধু তাই নয়, এটা মানবাধিকার এবং দেশের সংবিধানেরও লঙ্ঘন।
6
রাজধানীর মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাইবেন অস্কারজয়ী সুরকার, সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। টানা তিন ঘণ্টা পারফর্ম করবেন তিনি। তার জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি এ সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হিন্দি ও বাংলা গানও পরিবেশন করবেন তিনি। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, 'ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হান্ড্রেড' কনসার্টে বিকেলে গান পরিবেশন করবেন সংগীতশিল্পী মমতাজ ও মাইলস ব্যান্ড। তাদের পরিবেশনা শেষে সন্ধ্যায় মঞ্চে উঠবেন এ আর রহমান। কনসার্টের আয়োজক সংস্থা বিসিবি জানিয়েছে, বিকেল ৩টা থেকে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শকরা। দর্শকদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে আয়োজকরা। কনসার্টে তিন ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০ হাজার, ৫ হাজার ও ১ হাজার টাকা। ২৭ মার্চ (রোববার) ঢাকায় এসেছেন এ আর রহমান। সোমবার বিকালে মিরপুর স্টেডিয়াম ঘুরে গেছেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিসিবি আয়োজিত এক কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন এ আর রহমান। এদিকে, গতকাল সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডিএমপি জানিয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়াতে মিরপুর ১০ নম্বর ক্রসিং থেকে সনি ক্রসিং; টিঅ্যান্ডটি ক্রসিং থেকে প্রশিকা ক্রসিং ও ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আশপাশের সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নাগরিকদের চলাচলে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেছে ডিএমপি।
2
টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেক্সিকোকে পরাজিত করল আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে) আর্জেন্টিনা জয় পায় ২-০ গোলে। মাউরো ইকার্দি আর পাউলো দিবালার গোলে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ৫ বছর আগে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল মাউরো ইকার্দি। ক্লাব পর্যায়ে অনেক সাফল্য পেলেও শুধু আর্জেন্টিনার হয়েই সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটা পাওয়া হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ইকার্দির আফসোস ঘুচল এদিন। আফসোস ঘুচেছে পাউলো দিবালারও। মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের দুজনের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৩ সালে অভিষেক হওয়ার পর প্রায় চার বছর আর্জেন্টিনা দলে ব্রাত্য ছিলেন ইকার্দি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন এই ইন্টার স্ট্রাইকার। আজকের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, দলে তাই ঢুকেছিলেন ইকার্দিও। ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটের মাথায় তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরিক লামেলার পাসে বক্সের অনেকটা বাইরে বল পেয়েছিলেন ইকার্দি। এরপর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণভাবে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় মেক্সিকো, হেনরি মারটিনসের শট অল্পের জন্য পোষ্টের ওপর দিয়ে যায়। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে ১৯ মিনিটে নেওয়া লামেলার শটও। প্রথমার্ধে এরপর খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দুই দলই। বিরতির কিছুক্ষণ আগে ভিক্টর গুজমানের ফ্রি কিক পোষ্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে সমতা আনার দারুণ এক সুযোগ এসেছিল মেক্সিকোর সামনে। হেসুস গেলার্দোর হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনা কিপার পাউলো গ্যাজানিগা। ৮৫ মিনিটে গুজমানকেও হতাশ করেন তিনি। এরপরই ৮৭ মিনিটে এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন পাউলো দিবালা। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ১৭ তম ম্যাচে এসে গোলের দেখা পেলেন তিনি। জিওভানি সিমিওনের পাসে পাওয়া বল দিবালা জালে জড়াতে ভুল করেননি।
12