text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার যেকোনও পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। শুক্রবার রাতে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এ কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জেনারেল সোলাইমানির উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কাজেই তার হত্যাকাণ্ডের এমন পরিণতি হতে পারে, যা কারও পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়। তবে যে পরিণতিই হোক তার পুরো দায় সন্ত্রাসী আমেরিকাকে বহন করতে হবে বলে জারিফ মন্তব্য করেন। টেলিফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নয়া উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। শুক্রবার ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। ওই হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবি'র উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহানদিস'সহ মোট ১০ জন নিহত হন। পার্সটুডে বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
লকডাউন কার্যকর ও করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, মহা নগরে ফিল্ড হসপিটাল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু নিজেই নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উপযুক্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি করোনার ভয়াল মহামারির হাত থেকে দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশে লকডাউন চলছে। কিন্তু পত্র পত্রিকায় দেখা যায়, শহর গুলোতে যথাযথভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে না এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন না করার প্রবণতা মানুষের চলাফেরায় পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে দেশে কার্যত লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না এবং করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারও কমছে না। | 6 |
রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ দুজন নিহতের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।তিনি বলেন, বেলা দেড়টায় এক সংবাদ সম্মেলন টিপু হত্যা মামলার সর্বশেষ তথ্য জানানো হবে।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল মাইক্রোবাসে করে বাসায় ফিরছিলেন। শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে জাহিদুল ও তাঁর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশ দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়া শিক্ষার্থী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। | 6 |
করোনায় আক্রান্ত হয়ে নাট্য নির্মাতা ও অভিনেতা স্বপন সিদ্দিকী মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথমবারের মতো মৃত্যু হলো দেশের কোনো অভিনেতার। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে স্বপন ভাইয়ের করোনা শনাক্ত হয়। বাসাতেই হোম আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। আজ বেশি অসুস্থবোধ করলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যান তিনি। স্বপন সিদ্দিকী নিয়মিত নাটক নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয় করতেন। তিনি টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য। এছাড়া স্বধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। স্বপন সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদি।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় তুরস্কের সহায়তা চেয়েছে তালেবান। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আফগানিস্তান থেকে দেশটির সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে তালেবানের পক্ষ থেকে। গতকাল বুধবার তুরস্কের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সেনাদের প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। ন্যাটো জোটের অন্যতম অংশীদার হিসেবে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন তুরস্কের সেনারাও। তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় তুরস্কের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে তালেবান। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশটি থেকে তুরস্কের সব সেনা সরিয়ে নিলে সেখানে সম্ভাব্য যে কোনো মিশন জটিল হয়ে উঠবে। বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব নিলে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনী ছাড়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি। পরিচয় প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে বিমানবন্দর প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। এসব বিষয়ে ৩১ আগস্টের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আরেক কর্মকর্তা। এদিকে কাবুল বিমানবন্দরের পরিচালনার কাজকে বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন ওই কর্মকর্তাদের একজন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এ নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলে আসছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার। তারা জানিয়েছে, অনুরোধ করা হলে তারা বিমানবন্দরে অবস্থান করবে। এমনকি কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহায়তা করার প্রস্তাবও তালেবানের কাছে রেখেছিল দেশটি। আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ পাবে তালেবান। তখন বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযাগ রাখার জন্য বিমানবন্দরটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা তালেবানের জন্য জরুরি হয়ে পড়বে। শুধু তা-ই নয়, দেশটিতে ত্রাণ সরবরাহ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি। | 3 |
বরিশালের বাকেরগঞ্জের গোমা বাজারে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) হাট সভায় হামলার প্রতিবাদে প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সংগঠনের জেলা কমিটির উদ্যোগে সোমবার বিকেলে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর কমিটির সভাপতি বিমল মুখার্জি, মোতালেব মোল্লা, জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী ও বিশ্বনাথ দাস মুন্সীসহ অন্যান্যরা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেই কাইকারটেক সেতু। সেতু থেকে চারদিকে তাকালেই চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ। প্রতি রোববার সকালে এখানে এলেই নদের তীরে দেখা মিলবে মানুষের কর্মচঞ্চলতা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নিয়ে দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কেনাকাটা করতে দলে দলে আসছেন লোকজন।নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাইকারটেক হাট। সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাইকারটেক সেতুর পাশে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসে এই হাট। সপ্তাহে শুধু রোববার এই হাট বসে বলে অনেকেই 'রোববারের হাট' বলে থাকেন। ২০০ বছরের পুরোনো এই হাট আজও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে বুকে লালন করে আছে। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার মানুষেরা ছুটে আসেন এখানে।সরেজমিনে দেখা যায়, খাবার থেকে শুরু করে ঘর বানানোর আসবাব-সবই রয়েছে এই হাটে। কবুতর, জাল, দা, কুড়াল, জামাকাপড়, গরু-ছাগল, মিষ্টি, মাছ, হাঁস-মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে। পাওয়া যায় ডিঙি নৌকা, সবুজ বনায়নের জন্য গাছগাছালি। এমন অনেক জিনিসপত্র রয়েছে, যা স্মরণ করিয়ে দেবে পুরোনো দিনের কথা।ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাটের নৌকার কেনাবেচার ইতিহাস বহু পুরোনো। এ হাটের নৌকার খ্যাতি এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গেছে। তাই বছরব্যাপী হাট বসলেও আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন-চার মাস অল্প দামে ভালো মানের নৌকা কেনার জন্য হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর ক্রেতা আসেন। এই চার মাস কাইকারটেক হাটে মানুষের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে।হাটে বিক্রি হওয়া মজার মজার খাবারের স্বাদ ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। ঐতিহ্যবাহী এই হাটের প্রধান আকর্ষণই হলো বিশেষ একধরনের মিষ্টি। ওজন আর পরিমাপে অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় এই মিষ্টি কয়েক গুণ বড়। একেকটা মিষ্টির ওজন আধা কেজি থেকে দুই কেজি। অর্ডার করলে আরও বড় মিষ্টি পাওয়া যায়। মিষ্টিগুলো দেখতে অনেকটা শিলপুতার মতো। তাই সবার কাছে 'পুতা মিষ্টি' নামেই পরিচিত। শুধু এ মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মিষ্টিপ্রেমীরা।হাটের দোকানদার আলী হোসেন বলেন, এ হাটে বাঁশ, কাঠ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে তরমুজ, চাল, ডালসহ কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। হাটে আসা ক্রেতা শামসুল ইসলাম জানান, ২০০ বছরের পুরোনো এই হাটে বর্তমানে অন্যান্য হাটের মতোই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস পাওয়া যায়। নদী, প্রাকৃতিক পরিবেশ, কর্মচঞ্চল হাটের ব্যস্ততা উপভোগ করার পাশাপাশি মুখরোচক খাবারের স্বাদ নিতেই এখানে আসা। কাফুরদী গ্রামের আবদুল হক জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই হাটে এসে বাবা-দাদার সঙ্গে মিষ্টি খেয়েছেন। রোববার এলেই হাটে যাওয়ার জন্য কান্না শুরু করে দিতেন।মিষ্টির পাশাপাশি বিক্রি হয় টক দই ও আখের গুড় দিয়ে বানানো লাচ্ছি, বিশেষ ঝালমুড়ি, মুড়ালি, বুট, পেঁয়াজি, নিমকি, চানাচুর, মোয়াসহ নানা ধরনের লোকজ খাবার। | 6 |
সকালে সীমিত আকারে কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, আবার বিকেলে 'সারাদেশ ঝঁকিপূর্ণ' ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর-এহেন দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণা করে পোষাক শ্রমিকদের নিয়ে দায়িত্বহীন আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সেই সাথে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জোটের নেতারা। শুক্রবার বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি'র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)'র সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক আজ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় যেখানে দরকার দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, বিশেষজ্ঞ, ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সেখানে সরকার একদিকে দলীয় সংকীর্ণতা ও একগুয়েমী মনোভাবের দ্বারা পরিচালিত হয়ে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়হীনতা ও অস্থিরতার চিত্রও প্রকাশিত হচ্ছে। গত বৃহষ্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ঢাকা বিভাগীয় বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন সীমিত আকারে কারখানা চালু রাখা যাবে। আর বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী ঘোষণা করলেন 'সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী 'সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ' হয় তাহলে কারখানা কিভাবে চালু রাখবে? আর সরকারের এহেন সমন্বয়হীনতা ও অস্থিরতার সুযোগে স্বার্থান্বেষী মুনাফালোভী 'পোশাক কারখানার মালিকদের' সংগঠন বিজিএমইএ এর সভাপতি রুবানা হক ২৬ এপ্রিল তারিখ থেকে পোশাক কারখানা চালু রাখতে শ্রমিকদের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলে পরিবহনের জন্য বিআরটিসি'র চেয়ারম্যান বরাবর বাস চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং তার অনুলিপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে সরকার ও মালিকদের দায়িত্বহীন আচরণের জন্য গত ২৬ মার্চ তারিখ তারা একবার নানা সমস্যা-সংকট মোকাবেলা করে বাড়ি গিয়েছিল আবার ৫ এপ্রিল কারখানা খুলবে বলে তাদেরকে পরিবহন বন্ধের মধ্যেও ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলে ফিরতে বাধ্য করে। যাতে করে ঐ পোষাক শ্রমিকদের মাঝে ও সারাদেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। উপরন্তু পোশাক মালিকেরা এখনও পর্যন্ত সকল শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পোষাক শ্রমিকদের মার্চ মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং আগামী ৩ মাসের বেতন প্রতি মাসে শ্রমিকের ব্যাংক একাউন্টে প্রদানের দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি যখন বাড়ছে এবং সংক্রমণের ৪র্থ ধাপে দেশ পৌঁছেছে তখন ২৬ এপ্রিল তারিখ থেকে পোশাক কারখানা চালুর সরকার ও মালিকদের ঘোষণা গোটা দেশকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। ফলে সরকারকে এহেন বিপদজনক সিদ্ধান্ত বাতিল করে কারখানা এখনই চালু না করার দাবি জানান। | 6 |
দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়ার আসন্ন পহেলা বৈশাখে রমনার অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ বরণ উপলক্ষে রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার। বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি প্রধান বলেন, গত ২০০১ সালকে মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু বন্ধু রাষ্ট্র জঙ্গিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে বলে ধারণা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু রেডিক্যালাইজড সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। সে কারণেই আমাদের বাড়তি নিরাপত্তা। যদিও জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই তবে কোনো তথ্য উড়িয়ে দিচ্ছে না ডিএমপি। তিনি আরও বলেন, কোনো হামলার আশঙ্কা আমরা করছি না। যেহেতু নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না। লোন উলফ যারা তারা একটা ছুরি বা ব্লেড নিয়েও হামলা করে, তাই এটাতো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমনার বটমূলে প্রবেশে তল্লাশি চৌকি থাকবে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। কোনো যানবাহন এই এলাকায় চলবে না। রমনা এলাকায় ডগ স্কোয়াড সুইপিং করেছে, সন্ধ্যায় করা হবে ও আগামীকালও করা হবে। পুরো চত্বর সিসিটিভির আওতায় থাকবে। নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও থাকবে রমনার লেকে। এছাড়াও ইভটিজিং রোধে সাদা পোশাকে পুলিশের উল্লেখযোগ্য সদস্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। | 6 |
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান বিপ্লব (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতার হাতের কবজির অনেকাংশ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত বুধবার রাতে উপজেলার ২ নম্বর ধানীসাফা ইউনিয়নের আলগী বাজারের মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম বিপ্লবকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই ফরিদ নামের একজনকে আটক করেছে।বিপ্লব ব্যাপারী ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদারের সমর্থক। অভিযোগ উঠেছে, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থকেরা বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করে বাঁ হাতের কবজির অনেকাংশ কেটে দিয়েছেন এবং ডান হাতের একটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন। বিপ্লব ব্যাপারী উপজেলার সাফা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ধানীসাফা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।২ নম্বর ধানীসাফা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু ব্যাপারী বলেন, 'বুধবার রাতে বিপ্লব ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদারের নৌকা মার্কার স্টিকার নিয়ে আলগী বাজারে দলীয় কার্যালয়ে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থক আলগী গ্রামের ফরিদ আকনের নেতৃত্বে একদল লোক বিপ্লব ব্যাপারীর ওপর হামলা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।'ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদার বলেন, 'স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করেছেন।'স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রচারণা চালানোর সময় আমার লোকজনকে নৌকা প্রার্থীর লোকজন মারধর করে এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।'মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, 'এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।' | 6 |
ভালোবাসা দিবসে নতুন মৌলিক গান 'আমি তো পাইনি মেঘের দেখা' নিয়ে আসছে কণ্ঠশিল্পী অবনী মাহবুব। আগামী ১৪ ই ফেব্রুয়ারী অবনীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ পাবে। ইতোমধ্যে গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভিডিওর একটি প্রোমো তার চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর অবনীর কণ্ঠে কয়েকটি রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশ পেয়েছে তবে 'আমি তো পাইনি মেঘের দেখা' গানটি তার প্রথম মৌলিক গান। রোমান্টিক এই গানটি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বাংলা গানের শ্রোতাদেরকে ভিন্ন কিছুর স্বাদ দিবে বলে অবনীর বিশ্বাস। গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অটমনাল মুন আর কথা, সুর ও মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন পলিন কাওসার। মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন অবনী নিজেই সাথে আছেন রুদ্র হক। | 2 |
গুটি আম নামানো দিয়ে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে রাজশাহীর আম নামানোর মৌসুম। আগামী ২০ মে জনপ্রিয় আম গোপালভোগ, ২৮ মে রাজশাহীর বিখ্যাত হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ৬ জুন আমের রাজা ল্যাংড়া আসছে। এবার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করা হচ্ছে। চাষিরা জানিয়েছেন, এখনও অধিকাংশ এলাকার গুটি আম পরিপকস্ফ হয়নি। গুটি আম পাকতে অন্তত আরও এক সপ্তাহ লাগবে। অন্যান্য আম পাকতেও নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক সপ্তাহ বেশি সময় লাগবে। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের এক সভায় আম নামানোর সম্ভাব্য এই সময় প্রকাশ করা হয়। সভায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল হক জানান, ১৩ মে শুক্রবার গুটি আম, গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, রানীপছন্দ ২৫ মে, হিমসাগর ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন, আশ্বিনা ও বারি-৪ ১০ জুলাই, গৌড়মতি ১৫ জুলাই ও ইলামতি আম ২০ আগস্টে নামানো যাবে। রাজশাহীর চারঘাটের ঝিকরা গ্রামের আমচাষি বিপদ বিশ্বাস বলেন, তার বাগানের বেশকিছু গুটি আম পাকা শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়েই তিনি আম নামানো শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগ তার বাগান থেকে বেশকিছু পাকা আম নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেছে। বাঘার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বছর ধরে একই সময় আম নামানোর জন্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই সময়টা ঠিক আছে। তবে এবার আমের উৎপাদন খুবই কম। রাজশাহীর চাষিরা এবার অপরিপকস্ফ আম নামাবেন না। কারণ এবার বাজারদর ভালো থাকবে আশা করছি। রাজশাহীর বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের বাগানের মৌসুমি ক্রেতা প্রদীপ কুমার বলেন, এবার আমের উৎপাদন কম। তবে যেসব আম আছে, তা দেশবাসী খেতে পারবেন। দামটা এবার ভালো পাওয়া যাবে। ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে: রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, এবার ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। তবে এবার সব জিনিসের দামই বেড়েছে। আমের দামও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে এবার উৎপাদন কিছু কম হলেও ভালো দাম পাবেন চাষিরা। রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় সব চাষিরই কিছু আমগাছ রয়েছে। এই আম বিক্রি করে প্রায় সব চাষির ঘরেই কিছু অর্থ আসে। এতে তাঁরা পরিবার নিয়ে কিছুদিন সচ্ছলভাবে সংসার চালাতে পারেন। তিনি বলেন, এবার ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়েছে। এতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার টন। তবে এবার কম মুকুল আসায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কাছাকাছি থাকবে। কারণ এবার কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়, শিলাবৃষ্টি হয়নি। গাছে কম আম থাকায় আকার বড় হয়েছে। বড় গাছে আম কম এলেও ছোট গাছে প্রচুর আম রয়েছে। দেশের মানুষ এবার ভালোভাবেই রাজশাহীর আম খেতে পারবেন। রাজশাহীর সর্ববৃহৎ হাট বসবে কলেজ মাঠে: এবারও রাজশাহীর সর্ববৃহৎ আমের হাট বসবে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলেজ মাঠে। হাটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কয়েক বছর ধরে হাটটি বসত রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের ওপরে। তবে দুই বছর ধরে রাস্তার যানজট নিরসনে হাটটি বসছে কলেজ মাঠে। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই আনাছ বলেন, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা যেন সুষ্ঠুভাবে আম বেচাকেনা করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। বানেশ্বর কলেজ মাঠে এবারও হাটটি বসানো হবে। এজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হচ্ছে না ঢলনপ্রথা: ৪০ কেজিতে মণ হলেও রাজশাহীর অঞ্চলের আমের মণ ধরা হয় ৪৮ থেকে ৫২ কেজিতে। এতে লোকসানের শিকার হন চাষিরা। গত বছর পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন এই ঢলনপ্রথা বন্ধের জন্য তৎপর হলেও ব্যর্থ হয়। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই আনাছ বলেন, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে চাষিরা জিম্মি। ৪০ কেজিতে মণ হলেও চাষিদের ৮ থেকে ১০ কেজি বেশি আম নিয়ে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। গত বছর বানেশ্বর হাটে ঢলনপ্রথা বন্ধের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এটি বন্ধ করতে হলে সম্মিলিতভাবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। নইলে চাষিদের শোষণ বন্ধ হবে না। কেমিক্যাল ব্যবহাররোধে কঠোর থাকবে প্রশাসন: রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক বলেন, বরাবরই প্রশাসন কেমিক্যাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তৎপর থাকবেন। আমে কেমিক্যাল ব্যবহার হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেমিক্যাল বন্ধের জন্যই মূলত আম নামানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেন অপরিপকস্ফ আম নামানো থেকে চাষিরা বিরত থাকেন। তবে চাষিরা বলছেন, তাঁরা কেউই আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। তাঁরা বাগান থেকে আম নামিয়ে হাটে এনে বিক্রি করেন। কেমিক্যাল ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন চাষির হয় না।
| 6 |
সম্প্রতিইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে হতাহতের বিষয়ে নির্বাচনে কমিশনের (ইসি) উৎকণ্ঠার বিষয় আওয়ামী লীগ জানে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, "আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করিনি। তবে তাদের বার্তা দিয়েছি। আমাদের উৎকণ্ঠার কথা তারা জানেন। বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তাদের বলা হয়েছে।" সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সাংবাদিকরা এ সময় "নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারামারির দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগকে জানানো হয়েছে কি-না" প্রশ্ন করলে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টির তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। নির্বাচন ছাড়াও সহিংস ঘটনা কিন্তু ঘটে। পুলিশ অন্য সব ঘটনার মতো নির্বাচনের ঘটনাতেও ব্যবস্থা নিচ্ছে।" এর আগে এক লিখিত বক্তব্যে নূরুল হুদা বলেন, "নির্বাচনকে ঘিরে যেসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটাই প্রত্যাশিত নয়।" কে এম নূরুল হুদা আরও বলেন, "ইউপি নির্বাচন নিয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের মন্তব্য শালীনতা বহির্ভূত। কমিশনের সবার উচিত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য সহযোগিতা করা। তার বদলে এমন সব মন্তব্য করা কাম্য নয়।" এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসি সচিব মো হুমায়ুন কবির খোন্দকার, ইসির যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক এম এম আসাদুজ্জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় গত এক সপ্তাহে শিশুসহ ২৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শিশুসহ ১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া শিশু ইয়ামিনের অভিভাবক মন্তাজ মিয়া বলেন, রবিবার থেকে ইয়ামিনের পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চারদিন চিকিৎসা নেই। এতে সুস্থ না হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরামর্শ নিতে আসি। অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সোহরাব হোসাইন লিংকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। | 6 |
মার্জিনের সুদ মওকুফ, প্রণোদনার সুদের হার কমানোসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের বৈঠক করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। মিটিং এখনো চলছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর তিনটায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠকে বসেন তারা। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারমান ইউনুসুর রহমান ও ব্যবস্থা পরিচালক কাজী সানাউল হকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত হন। বৈঠকে কি কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বৈঠক শেষে জানাবে। | 0 |
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান (৬৬) আর নেই। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তিন হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বুধবার বাদ মাগরিব উপজেলার টেকেরহাট বন্দর আলিয়া মাদ্রাসা ও নিজ বাড়িতে দুই দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।সদা হাস্যোজ্জ্বল এই রাজনীতিকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শাহজাহান খান ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে উপজেলা যুবলীগসহ দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নুর-ই আলম চৌধুরী লিটন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ। এক শোক বার্তায় সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, 'তাকে হারিয়ে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতাকে হারালাম।' | 6 |
এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও উত্ত্যক্তকারীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ডাকায় ইট দিয়ে এক যুবকের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তালতলী বাজারে আজ বুধবার এ ঘটনা ঘটে। মো. হারুন সিকদার (৩৫) নামে ওই যুবককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।হারুন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাকলা তাতেরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল সিকদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চালক।হারুনের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাকলা তাতেরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফ সিকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তি একই এলাকার এক নারীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করেন হারুন। এ নিয়ে হানিফের সঙ্গে হারুনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে হানিফ ওই নারীর বাড়িতে গেলে হারুনের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন হানিফকে আটক করে এবং হারুন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।আজ সকাল নয়টার দিকে হারুন তালতলী বাজরে গেলে হানিফ ও তাঁর লোকজন মিলে হারুনের ওপর হামলা চালান। ইট দিয়ে তাঁরা হারুনের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতাবস্থায় হারুনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।অভিযুক্ত হানিফ সিকদার মারধর করার কথা স্বীকার করে বলেন, 'একটি মিথ্যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে আমাকে হারুন থাপ্পড় মেরেছে। মীমাংসা করলেও থাপ্পড়ের বিচার হয়নি। এ কারণে আজকে (বুধবার) হারুনকে মেরেছি।'নাজিরপুর ইউপির সদস্য মো. ফকরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফের মারধর করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রাশিয়ায় কয়লাখনিতে আগুন লেগে অন্ততপক্ষে ৫২ জন মারা গেছেন। উদ্ধারকারী দলের বেশ কিছু সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুাযায়ী, সাইবেরিয়ার একটি খনিতে কয়লার গুড়োয় আগুন ধরে যায়। ফলে সর্বত্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ধোঁয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। রাশিয়ার ডেপুটি প্রসিকিউটার জেনারেল জানিয়েছেন, মিথেন বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। খবর ডয়েচে ভেলের। অন্ততপক্ষে ৪৯ জন আহত হয়েছেন। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ সাইবেরিয়ার এই খনি থেকে ২৩৯জন শ্রমিককে উপরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। সংবাদসংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুটিন শোকপ্রকাশ করেছেন। তার আশা, যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার খনিতে নেমে উদ্ধারকাজ চালাবার সময় অক্সিজেনের অভাবে ছয়জন উদ্ধারকারীর মৃত্যু হয়েছে। পরে উদ্ধারকারীদের খনির ভিতর থেকে উপরে নিয়ে আসা হয়। কারণ, কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা খনিতে আরো বিস্ফোরণ হতে পারে। একটি উদ্ধারকারী দল আর উপরে উঠে আসতে পারেনি। ইন্টারফ্যাক্সকে সূত্র জানিয়েছে, পরে তাদের মৃতদেহ উপরে আনা হয়। তখন দেখা যায়, তাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার পুরো খালি ছিল। খনিতে আরো মিথেন গ্যাস জমা হচ্ছে। তাই শুক্রবার পর্যন্ত উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে খনির ডিরেক্টর, তার ডেপুটি এবং সাইট ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। রাশিয়ায় প্রায়ই খনিতে দুর্ঘটনা হয়। কারণ, খনিগুলিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা ভালো নয়। ২০১০ সালে সাইবেরিয়াতেই একটি কয়লাখনিতে দুর্ঘটনায় মারা গেছিলেন ৯১ জন। আহত হন একশর বেশি মানুষ। সেটাই রাশিয়ার সব চেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা। | 3 |
আইপিএলে টানা তৃতীয় ম্যাচে হেরেছে চেন্নাই সুপার কিংস। এবার চেন্নাইকে ৫৪ রানে হারের স্বাদ দিল পাঞ্জাব কিংস। লিয়াম লিভিংস্টোনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছেই মূলত হেরেছে ধোনি-জাদেজারা। অন্য দিকে এটি পাঞ্জাবের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়।মুম্বাইয়ে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮০ রান সংগ্রহ করে পাঞ্জাব। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় চেন্নাই।এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাঞ্জাব। ৪ রান করে ফিরে যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। দ্রুত ফিরে যান ভানুকা রাজাপক্ষেও (৯)। তবে এরপর দারুণ এক জুটিতে দলের হাল ধরেন শিখর ধাওয়ান ও লিয়াম লিভিংস্টোন। ৩৩ রান করা ধাওয়ানের বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। তখন দলের রান ১০৯। দলীয় ১১৫ রানে ফেরেন লিভিংস্টোনও। ৩২ বলে ৬০ রান করেন তিনি। পরে জিতেশ শর্মার ১৭ বলে ২৬ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ১৮০ রান করে পাঞ্জাব।লক্ষ্য তাড়ায় বিপর্যয়ে পড়ে চেন্নাইও। ২৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় তারা। আম্বতি রাইডুও ফেরেন দলীয় ৩৬ রানে। এরপর মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে চেন্নাইয়ের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন শিবম দুবে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চেন্নাইকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে দলীয় ৯৮ রানে লিভিংস্টোনের বলে শিবম ফিরলে ম্লান হয়ে যায় চেন্নাইয়ের জয়ের আশা। ৩০ বলে ৫৭ রান করেন শিবম। পরের বলেই লিভিংস্টোন ফেরান ডোয়াইন ব্রাভোকে। শেষ দিকে ২৩ রান করে ধোনি চেষ্টা করলেও তা হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১২৬ রানেই গুটিয়ে যায় চেন্নাই। | 12 |
অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের এক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার জেনিন এলাকায় খালেদ আল-হজ নিজ বাসা থেকে আটক হন। তার স্ত্রীর বরাতে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, 'ইসরাইলি বাহিনী হঠাৎ করেই বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে। এরপর চোখ বেঁধে আমার স্বামীকে নিয়ে গেছে।' আটকের পরপরই হামাসের এই নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে কেন আটক করা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ৫৫ বছর বয়সী হামাসের নেতা আল-হজ এর আগেও আটক হন। জীবনের ১৫টি বছর ইসরাইলি কারাগারেই কাটাতে হয় তাকে। মুক্তির এক বছরের মাথায় আবারো আটক হলেন। ইসরাইলি বাহিনীর দখলদারিত্বের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে হামাসসহ ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ। দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনের ভূমিতে দখলদারিত্ব চালিয়ে অবৈধ বসতি স্থাপন করছে ইহুদি সম্প্রদায়। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয় তাদের। ইসরাইলি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। সূত্র : আনাদোলু | 3 |
মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল, যমুনা রেল সেতু, মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্বাস্থ্য সেবা খাত শক্তিশালীকরণসহ ছয় প্রকল্পের জন্য ১৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। ৩৯তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় এ সহায়তা দেবে সংস্থাটি। এই ঋণ সহায়তার জন্য তারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিনিময় নোট ও ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়েচু ইজুমি ও জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাতোসি নিশিকতা চুক্তিতে সই করেন। ছ' প্রকল্পগুলোতে যে অর্থ দেবে তা হলো, মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ২০৩ কোটি টাকা, যমুনা রেলওয়ে ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পে ২ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পে (লাইন-৫) ৫৬২ কোটি টাকা, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন (প্রকল্প-৩) ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, মাতারবাড়ি আলট্রাসুপার ক্রিটিকাল কোল ফায়ার পাওয়ার প্রকল্পে (প্র-৪) ৫ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ৫০১ কোটি টাকা। মোট ২০ হাজার ৩৭ কোটি ১০ লাখ জাপানি ইয়েন বা ১৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। চুক্তি শেষে কাজী শফিকুল আযম বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী জাপান। চুক্তি হওয়ায় এসব প্রকল্পের মধ্যে যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একেবারেই নতুন। আর ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প রয়েছে দু'টি। বাকি প্রকল্পগুলোও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রকল্প দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে হিরোইয়েচু ইজুমি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান ধরাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেগুলো মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার নির্মাণ কাজের জন্য ১ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের জন্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরামর্শক সেবার জন্য শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ। এছাড়া ফ্রন্ট এন্ড ফি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। ১০ বছরের রেয়াত কালসহ ৩০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। | 0 |
বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদনের হার ক্রমাগতভাবে কমে যাওয়া এবং দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার কারণে যে গ্যাস-সংকট দেখা দেয়, তা মেটানোর জন্য এলএনজিরূপে গ্যাস আমদানি শুরু করা হয়। বাংলাদেশ আগে থেকেই পুরোপুরিভাবে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সম্প্রতি বৃহদাকারে কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাস আমদানি বৃদ্ধি পেলে সমগ্র জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ার শঙ্কা দেশে নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলবে, তা-ই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মতো গ্যাস সম্ভাবনাময় দেশে জ্বালানি জোগানের জন্য গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে পর্যবেক্ষক মহল মোটেই যুক্তিপূর্ণ মনে করছে না। কিন্তু বাস্তব অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বাংলাদেশ সে পথেই হেঁটে চলেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এ পথ থেকে সরে আসার উপায় কী? দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের নিম্নমুখী ধারা আগামী বছরগুলোতে অব্যাহত থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালের শেষ দিকে দেশে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এলএনজি একটি উচ্চমূল্যের জ্বালানি পণ্য এবং এটি ব্যবহারের জন্য অতি ব্যয়বহুল অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক এলএনজি বিতর্কের প্রধান বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে এর আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং এর মূল্যের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্য শিগগির সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বা সাময়িকভাবে নামলেও তা স্থির থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে কেন? এর প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশের প্রায় সব বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র যথেষ্ট পুরোনো হয়ে পড়ায় সেগুলোর উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সাধারণভাবে একটি গ্যাসক্ষেত্রের স্বাভাবিক জীবনে প্রাথমিক অবস্থায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে একপর্যায়ে উৎপাদন চূড়ায় পৌঁছে এবং তার পর থেকে উৎপাদন কমে একসময় জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে 'ওয়াটার আউট', অর্থাৎ গ্যাসের পরিবর্তে পানি উৎপাদন করে নিঃশেষিত হয়। দেশের সর্ববৃহৎ তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি ২০১৬ সালে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে চূড়ায় পৌঁছে এবং তার পর থেকে উৎপাদন কমে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। একই ধরনের বা আরও বেশি উৎপাদন কমেছে অন্যান্য পুরোনো বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রেও, যেমন হবিগঞ্জ, কৈলাসটিলা, বাখরাবাদ ও রশিদপুরে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসস্তরের চাপ ও উৎপাদন কমে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেমন সাগরবক্ষে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র অপেক্ষাকৃত দ্রুত নিঃশেষিত হতে দেখা যায়। অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে দ্রুত গ্যাসস্তরের চাপ কমে যাওয়াকে এ জন্য অনেকে দায়ী করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে শেভরন অয়েল কোম্পানি কর্তৃক পরিচালিত অপেক্ষাকৃত নতুন বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রটিকে মুকুটের মণি হিসেবে গণ্য করা যায়। এর কারণ হলো, এই একটিমাত্র গ্যাসক্ষেত্র দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে থাকে, যা দেশের সব গ্যাসক্ষেত্রের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদনের প্রায় ৫১ শতাংশ। বিবিয়ানা কত দিন তার বর্তমান উৎপাদন মাত্রা বজায় রাখতে পারবে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেট্রোবাংলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রটি আগে দীর্ঘদিন তার উৎপাদনক্ষমতার অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন করেছে। গ্যাসস্তরটির সুস্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তা কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, শেভরন কোম্পানির কর্মকর্তারাই সেটা ভালো বলতে পারবেন। তবে অনেকেই মনে করে থাকেন, ক্ষমতার অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন গ্যাসস্তরের সুব্যবস্থাপনার পরিপন্থী এবং তা ভবিষ্যতে গ্যাস উৎপাদন হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে যা-ই হোক না কেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে বড় আকারে উৎপাদন হ্রাস বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমে যেতে থাকায় চাহিদা মেটাতে বর্তমানে মোট সরবরাহকৃত গ্যাসের ১৮ শতাংশ আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন হারের নিম্নমুখী ধারা চলতে থাকলে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়বে বলা যেতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এলএনজির আমদানি দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের পরিমাণের তুলনায় বেশি হতে পারে। কিন্তু উচ্চমূল্যের এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হলে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ও তা একটি টেকসই ব্যবস্থা হবে না। প্রশ্ন হলো, এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার পরিকল্পনা কি যৌক্তিক? এলএনজি একটি সহজে পরিবহনযোগ্য উচ্চমূল্যের জ্বালানি, যা শিল্পোন্নত অথচ নিজস্ব জ্বালানি নেই, এমন দেশগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। এলএনজি মূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী উল্লম্ফন বিশ্ববাজারে এটিকে সর্বাপেক্ষা অস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যের জ্বালানিতে পরিণত করেছে। এ বছরের প্রথম দিকে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি ইউনিট এলএনজি সাত ডলারে কিনলেও বছর শেষে বাংলাদেশকে সেটি ইউনিটপ্রতি ৩৫ ডলারে কিনতে হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজি মূল্যের পাঁচ গুণ বৃদ্ধি স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি কার্যক্রমকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম ও স্থায়ী মূল্যে (ইউনিটপ্রতি প্রায় ১০ ডলার) দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, এমন দুটি দেশ কাতার ও ওমান এ সময় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহে কৃচ্ছ্র প্রদর্শন করে ও ২০২২ সালে চুক্তির আওতায় সম্ভাব্য সর্বনিম্ন পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয় বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে। আপাতদৃষ্টে তারা দীর্ঘ মেয়াদে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে এলএনজি সরবরাহের চেয়ে বেশি মূল্যে স্পট মার্কেটে তা সরবরাহে অধিক উৎসাহী বলে মনে হয়। এলএনজি মূল্যের এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান নিকট ও দূরবর্তী ভবিষ্যতে বজায় থাকা মানে বাংলাদেশের জ্বালানি দৃশ্যপটে অশনিসংকেত উঁকি দেওয়া। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে প্রতি ইউনিট এলএনজি ১০ ডলারে আমদানি করা মানে দেশীয় নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহের তুলনায় তিন গুণ বেশি মূল্যে তা সরবরাহ করা। কিন্তু আমদানি মূল্য ইউনিটপ্রতি ৩৫ ডলার হতে পারে, এটি নীতিনির্ধারণী মহলের কেউ ভাবতে পেরেছিলেন বলে মনে হয় না। সে যা-ই হোক না কেন, বর্তমান প্রাক্কলন অনুযায়ী দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়বে ও ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এলএনজি দেশীয় গ্যাসের সরবরাহের তুলনায় অধিক হয়ে পড়তে পারে। দেশের অর্থনীতি এমন আর্থিক বোঝা কত দিন সামাল দিতে পারবে, সে প্রশ্ন কেবল উদ্বেগই বাড়িয়ে তোলে। তবে এটি নিশ্চিত যে আর্থিক চাপের কারণে যদি সাময়িকভাবেও এলএনজি গ্যাসের আমদানি বন্ধ করতে হয়, তা অনেক গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ ও শিল্পকেন্দ্রকে অন্ধকারে ফেলে দেবে। উপরিউক্ত সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ একটাই এবং তা সহজতর। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং এ কারণে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য কেবল বেড়েই চলেছে। অথচ ভূতাত্ত্বিক বিবেচনায় বদ্বীপ গঠিত এ দেশটির গ্যাস সম্ভাবনাকে অতি উজ্জ্বল বলে বিজ্ঞানীরা মত দিয়ে এসেছেন। এর একটি প্রমাণ মেলে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার তার সমুদ্র এলাকায় জোরালো অনুসন্ধানের মাধ্যমে বড় আকারের গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমানায় সে তুলনায় অনুসন্ধান কাজ করেনি বললেই চলে। আর সে কারণেই দেশে এই গ্যাসসংকট। বিশ্বব্যাপী গ্যাস, তেল অনুসন্ধান কার্যকলাপের বিবেচনায় বাংলাদেশ ন্যূনতম অনুসন্ধানকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশকে অনতিবিলম্বে গ্যাস অনুসন্ধানে দেশব্যাপী জোরালো কার্যক্রম শুরু করে নিজস্ব গ্যাস তুলে আনতে হবে। এলএনজি আমদানি সাময়িকভাবে বর্তমান গ্যাস সরবরাহের সমস্যাকে ঠেকাতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি মূল্যের অনিশ্চিত গতিবিধি দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে যাবে। গ্যাস সরবরাহের সমস্যাকে একটি টেকসই সমাধান দিতে হলে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করাই সঠিক উপায়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞানীদের মূল্যায়নে গ্যাসপ্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলা পুরোপুরিভাবে যৌক্তিক। বদরূল ইমাম অধ্যাপক (অব.), ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ | 8 |
গ্রীষ্মের তাপদাহ আজ আরও তপ্ত। অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। পর্যাপ্ত গাছগাছালি ও জলাশয় না থাকায় রাজধানী ঢাকা হয়ে উঠছে উত্তপ্ত ভূখণ্ড। আজ সোমবার ঢাকায় তাপমাত্রা ৪০ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পরিভাষায় যা তীব্র তাপদাহ। ঢাকায় কয়েক দিন ধরেই সূর্য ডোবার পরও তাপমাত্রা কমছে না, শীতল হচ্ছে না চারপাশ। ফলে অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। ২০০৫ সালের ১২ জুন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ২০১৪ সালের ২১ মে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। | 6 |
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আরেক দফা বাড়তে পারে সাধারণ ছুটি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এমনটি জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র। এখন ছুটি চারদিন বাড়িয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হতে পারে অথবা ১১ দিন বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হতে পারে। তবে কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার দুপুরে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ছুটি বাড়িয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন এখনো জারি করা হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিতে যাচ্ছে। মানুষকে ঘরের মধ্যে রাখতে ছুটি অবশ্যই বাড়াতে হবে। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। | 6 |
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। শুক্রবার টুইটারে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বিবিসির। ইউক্রেনের জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার হামলার পর আগুন লেগে যায়। এ ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। টুইটারে ট্রুডো লেখেন, জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার বিষয়ে আমি মাত্র ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য হামলা রাশিয়াকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এর আগে রুশ বাহিনীর গোলায় ইউক্রেনের জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগেছে বলে জানা গেছে। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপিয়ানরা দয়া করে জেগে উঠুন। আপনাদের রাজনীতিবিদদের বলুন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুলি ছুড়ছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে 'সামরিক অভিযানের' ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। | 3 |
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৮২ বছর বয়সে মারা গেছেন ছুটির ঘণ্টাখ্যাত নির্মাতা আজিজুর রহমান। কানাডার টরন্টোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার স্থানীয় সময় সকালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০ মার্চ রবিবার দুপুরে বরেণ্য এই পরিচালকের মরদেহ ঢাকায় আসবে। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন তাঁর পরিচালিত ছুটির ঘণ্টাসহ ১৬টি ছবির অভিনেত্রী শাবানা। প্রথম অভিনয় করি এহতেশাম সাহেবের 'নতুন সুর' চলচ্চিত্রে। তিনি সম্পর্কে ছিলেন আমার বাবার ফুফাতো ভাই। প্রথম ছবিতে অভিনয়ের সময় ক্লাস ফাইভে পড়ি। তিনি আমার বাবাকে বলেছিলেন, 'তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই।' বাবা তখন এভাবে বলেছিলেন, 'আমার মেয়ে কীভাবে অভিনয় করবে? সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না।' এহতেশাম সাহেব নাছোড়বান্দা। তিনি বলেন, 'তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েকে আমি খুঁজছি।' এরপর বাবা রাজি হন। ওই ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান-রওশানারা। এই চলচ্চিত্রে সহযোগী ছিলেন আজিজুর রহমান। ৯ বছর বয়সে তাঁর সঙ্গে পরিচয়। আমার পরিবারের সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁকে আমি চাচা বলে ডাকতাম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাঁর পরিচালিত ১৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। চাচা পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র ঘরে ঘরে যুদ্ধতেও আমি অভিনয় করি। আমাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। সিনেমার লাইনে যখন থেকে এসেছি, তখন থেকে তিনি আমার অভিভাবক। আমার মা-বাবা, ভাইবোন সবার সঙ্গে তাঁর সুন্দর সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তাঁর মারা যাওয়ার খবর শুনে খুব খারাপ লাগল। তিনি আমার আপনজন, প্রিয়জন, অভিভাবকের চেয়ে বেশি।চাচার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল মারা যাওয়ার সাত-আট দিন আগে। আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, 'তুই কেমন আছিস, শাবানা?' বললাম, 'চাচা, ভালো আছি।' 'তুমি কেমন আছ,' জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, 'আমি খেতে পারি না। অক্সিজেন কমে যাচ্ছে।' তখন বললাম, 'চাচা, তুমি হাসপাতালে চলে যাও।' বললেন, 'তা-ই চিন্তা করছি। কিন্তু হাসপাতালে তো কাউকে ঢুকতে দেয় না। একা একা ভালো লাগে না।' এরপর গত কয়েক দিন আর খবর নিতে পারিনি। এর মধ্যে আজ (নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল) সাদিক (ওয়াহিদ সাদিক, শাবানার স্বামী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক) জানাল, 'নিউজ শুনেছ?' বললাম, 'কী?' বলল, 'আজিজ চাচা কিন্তু আর নেই?' 'কী বলো!' কী যে খারাপ লাগল। তিনি তো অভিভাবকের চেয়ে বেশি ছিলেন। আজিজ চাচাকে আমার বাবা বলতেন, 'তুই একটু দেখিস আমার মেয়েটাকে।' আমাদের সম্পর্কটা এতটাই ভালো ছিল যে আমরা একসঙ্গে হজও করেছি। ৯০ সালে চাচা, আমি, সাদিক, চাচি-একসঙ্গে হজও করেছি। একসঙ্গে দুবার ওমরাহও করেছি। তাঁকে হারিয়ে আমি একজন অভিভাবক, প্রিয়জন, আপনজন হারালাম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কী যে হারাল, তা বলে শেষ করা যাবে না। | 2 |
চৌগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত সাত প্রার্থী ইউপি সদস্য পদেও জয় পাননি।গত বৃহস্পতিবার চৌগাছার ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাঁরা।তাঁরা হলেন ফুলসারার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও পরপর তিনবারের সদস্য সার্জেন্ট (অব.) আবুল কাশেম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান পান্নু। পাশাপোল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হোসেন, সিংহঝুলীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের সদস্য আব্দুস সামাদ, ধুলিয়ানী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা তৌফিকুজ্জামান মিঠু ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান পরিষদের সদস্য ও দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ইউনিয়নের শাহিনুর রহমান খাঁ, নারায়ণপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চলমান পরিষদসহ কয়েকবারের সদস্য কামাল হোসেন মল্লিক। | 6 |
দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চলে যাওয়ার ব্যাথা এখনও নাড়া দিয়ে ওঠে বাঙালির মনে। আর তাই তো ১৫ নভেম্বর সৌমিত্রের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণা করেছেন তারকারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকারা শেয়ার করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নানা কথা, নানা গল্প। গত বছরে ঠিক এ দিনই তো বাংলার সাংস্কৃতিক জগৎ হারিয়েছে কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়কে। এই এক বছরে বাবাকে হারিয়ে কেমন কাটছে সৌমিত্রকন্যা ও নাট্য ব্যক্তিত্ব পৌলমী বসুর জীবন?'কাজ করে যাও' সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায় তাঁর মেয়েকে একথাই বার বার বলতেন। তাই কাজের মধ্যেই বাবার স্মৃতিচারণায় ভেসে গেলেন পৌলমী। তাঁর নাটকের দল 'মুখোমুখি'র পক্ষ থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানালেন নাটক 'টাইপিস্ট'-এর মধ্য়ে দিয়েই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সৌমিত্র কন্যা বলেন, 'গত এক বছরের মধ্যে শুধু বাবাকে হারাইনি, মাও তো চলে গেলেন কয়েকমাস বাদেই! গভীর শূন্যতা এসেছিল আমার জীবনে, বলতে গেলে আমার এবং ভাই (সৌগত) দুজনের জীবনেই। তারপর একে একে দুর্ঘটনার শেষ নেই। মা, বাবাকে নিয়ে একটু যে বসে ভাবব তার সময়ই পাইনি। ছেলে রণদীপ, মেয়ে মেঘলা করোনা আক্রান্ত হল, রণদীপ করোনা আক্রান্ত হলো দুইবার, হাসপাতালেও ভর্তি করতে হল। কতটা খারাপ সময়ের মধ্য়ে দিয়ে গিয়েছি, সেটা আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। কিন্তু বাবার শিক্ষা ছিল লড়াই করেই বাঁচতে হবে।'তিনি যোগ করেন,'না, এটা কোনও রাজনীতির বুলি নয়, এটা বাবাও মেনে চলেছেন, আমিও মেনে চলি। আমার এখন শান্তির জায়গা একটাই, শুধু কাজ করে যাওয়া। এতো ঝড় ঝাপটা সামলেও নাটক করে গিয়েছি।'বাবার লেখার নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি মনে করেন, এটাই তো তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো। তিনি বলেন,'বাবা দীর্ঘ জীবন বেঁচে ছিলেন, কিন্তু প্রায় আমৃত্যু কাজ করে গিয়েছেন। বলতেন, কোনও বাধার কাছে মাথা নীচু করবে না। লড়াই করে এগিয়ে যাবে। জীবনে হারজিৎ থাকবে, তাতে পিছিয়ে আসা নয় কখনও, হারলেও এগিয়ে যাবার চেষ্টায় যেন কোনও খামতি না থেকে। বাবার সেই কথা মনে রেখেই সংসারের সব ঝক্কি সামলে ও তাঁর আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য আমার।' বাবার নাটকে নিয়মিত অভিনয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি জানান, বাবার নামে একটা ট্রাস্ট তৈরিরও চেষ্টা চলছে। বাবার সব কাজ - লেখা, আঁকা ছবি, নাটক, ভাল সিনেমাগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। তিনি মনে করেন, অনেক বাধা আসবে, তবুও থামার পাত্রী তিনি নন। তার বলেন,'লড়াই আমার থামবে না। বাবাও আমৃত্যু লড়াই করে গিয়েছেন, আমিও লড়ব।' | 2 |
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পঞ্চম ও শেষ দিনের মতো শুরু হয়েছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদানের কাজ। শেষদিনে বেশিরভাগই মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা তাদের মনোনয়ন ফরম জমা দিচ্ছেন। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল করে এসে মনোনয়ন ফরম জমা দিচ্ছেন। শেষ দিনেও বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় প্রতীক ধানের শীষ হাতে নিয়ে কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা। বুধবারের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিলো তবে আজ শুক্রবারসাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা এবং নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর জনসমাগমে নয়াপল্টন বা আশে পাশে কোথাও কোনো যানজটও দেখা দেয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে চলছে মনোনয়ন ফরম কেনা ও জমাদান। সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯টা থেকেই জমা নেওয়া শুরু হয় এবং ১০টা নাগাদ অর্ধশতাধিক মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সূত্রে জানা গেছে, সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। আজ শুক্রবার রাত নাগাদ এটি চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত চার দিনে চার হাজার ১১২ জন নেতা দলের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। প্রথম দিন এক হাজার ৩২৬, দ্বিতীয় দিন এক হাজার ৮৯৬ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবারসহ মোট বিক্রি হয়েছে চার হাজার ১১২টি আর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জমা হয়েছে এক হাজার ২৫৫টি মনোনয়ন ফরম। | 9 |
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সত্যজিৎ রায়ের 'হীরক রাজার দেশে' সিনেমার রাজা হীরকের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর অভিযোগ এই সরকার দেশকে নির্যাতনের কারখানা বানিয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় হীরক রাজার মত বর্তমান সরকারকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এই আহ্বান জানান। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে।দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা বিষয় সামনে এনে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে গোটা দেশটাকে এরা (সরকার) একটা নির্যাতনের কারখানা বানিয়েছে। হীরক রাজার দেশে এই ঘটনাগুলিই ঘটিয়েছিল হীরক রাজা। নির্যাতিতরা রাজার বিশাল মূর্তির গলায় দড়ি বেঁধে টান দিয়েছিল। এখন ওই দড়ি ধরে টান মারতে হবে, খান খান করতে হবে। তাদের তখতে তাউসকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এখন কথা বললেই মামলা। আকারে-ইঙ্গিতেও যদি আপনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলেও মামলা হবে। মামলা হলে সুবিধা। পুলিশের সুবিধা, বাণিজ্য হতে পারে। আবার কোর্টের সুবিধা, সেখানেও বাণিজ্য হয়।'দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'মানুষের জীবনকে এরা (সরকার) দু:সহ করে তুলেছে। দেশের সম্পদকে লুট করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার চতুর্দিকে ফাঁদ পেতেছে। বিদেশে তারা টাকা পাঠাচ্ছে। আজকে ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। আমাদের এই ক্ষুধা অতিক্রম করতে হবে। আমাদের ভাই-বোনদের, মা-বোনদের টিসিবির ট্রাকের পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করতে হবে।'মির্জা ফখরুল বলেন, 'শুধু চাল-ডাল আর তেলের দাম কমালেই চলবে না, আমাদের জীবনকে জীবনের মত চলতে দিতে হবে। আমাদের কথা বলতে দিতে হবে। আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে ন্যায় বিচার ব্যবস্থা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, প্রশাসনকে জনগণের সেবক হতে হবে।' | 9 |
গোটা জাতি কঠোর লকডাউনের অধীনে রয়েছে। যা প্রাথমিকভাবে ২১ দিনের জন্য কার্যকর করা হয়েছিল, এখন তা ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর এই সময়ে বন্ধ রয়েছে সেলুন এবং বিউটি পার্লার। এই সময়গুলি অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের প্রশংসা ও ভালবাসার এবং প্রাকৃতিক ত্বককে কোনো মেকআপ বা রাসায়নিক ছাড়াই আলিঙ্গন করার সময় দিয়েছে। আপনার প্রিয় বলিউড সেলিব্রিটিরাও একই রকম পরিণতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। | 2 |
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, করোনার কারণে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। আগে আমাদের দেখতে হবে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হলেই যে শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে তা কিন্তু নয়। এসব শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিন দেশের কোন স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে সেটার তথ্য নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ১৯ হাজার স্কুলের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার তথ্য নেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার স্কুলের। মাসখানেকের মধ্যে সব স্কুলের তথ্য পাওয়ার পরই বোঝা যাবে আসলে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তবে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার হার থেকেই বোঝা যায়, ঝরে পড়ার হারটা খুব বেশি হবে না। ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তিসহ সরকারের পদক্ষেপ আগে থেকেই আছে।আজ বুধবার দিনব্যাপী নরসিংদী জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় এনকেএম হাইস্কুলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মাউশি মহাপরিচালক।এ সময় তিনি আরও জানান, দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেবলমাত্র করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা নয়, ডেঙ্গু মোকাবিলাসহ স্থায়ীভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করছেন সকল শিক্ষা কর্মকর্তারা। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের যে ঘাটতি হয়েছে তা নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব হবে।ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানান, কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক অনুমোদন করেছেন, সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। চলতি বছর টেক্সট বই প্রস্তুত করা হবে, সামনের বছর ২০২২ সালে ১০০টি স্কুলে পাইলটিং করা হবে এবং সেই ভিত্তিতে সামনের বছরের শেষের দিকে টেক্সট বই তৈরি করে ২০২৩ সালে কারিকুলাম শুরু হবে।জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন উইং এর পরিচালক প্রফেসর আমির হোসেন, পরিচালক অর্থ ও ক্রয় প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম খান, ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মনোয়ার হোসেন, নরসিংদীর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গৌতম চন্দ্র মিত্রসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। | 1 |
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাতে কোনো সাড়াই দিচ্ছে না, এ খবর বেশ কিছুদিন ধরে। সেই ধারবাহিকতায় এবার হুঙ্কার দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মূলত উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবরে তিনি উত্তেজিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার স্বল্প পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কখনই মেনে নেবেন না তিনি। অবশ্য এটা 'নতুন কিছু না', 'উস্কানিমূলকও নয়', প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এটাকে 'যথারীতি ব্যবসা' বলছেন বলেও জানিয়েছেন বাইডেন। এদিকে দায়িত্বগ্রহণের পর এই প্রথম জো বাইডেন উত্তেজিত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিবিসির কথিত আছে উত্তর কোরিয়া সপ্তাহখানেক পরপর নন-ব্যালিস্টিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে। যা আবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে না বলেও মনে করে পিয়ংইয়ং। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো বাইডেন এ কথা তখনই বলছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিজেদের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। একইসঙ্গে এ কথা এসেছে, পিয়ংইংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অব্যাহত চেষ্টার একটা অংশ থেকেও। তবে উত্তর কোরিয়া যে নন-ব্যালিস্টিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, সেই খবর মূলত মার্কিন মিডিয়াতেই প্রকাশ পাচ্ছে এবং খবরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষার মন্ত্রণালয়ের বরাতই দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতিও দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, গত রোববার ভোরেও উত্তর কোরিয়ার ওনচোন থেকে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। মূলত এ দুই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই এ প্রসঙ্গে কথা বলেন জো বাইডেন। মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, আমরা জেনেছি, উত্তর কোরিয়ার কোনো পরিবর্তনই হয়নি। উত্তর কোরিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বাইডেন উস্কানিমূলক হিসেবে মনে করছেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন,' না, এটা প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে 'যথারীতি একটি ব্যবসা'। তবে আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না'। এছাড়া উত্তর কোরিয়া যা করছে, তাতে নতুন কোনো আভাস নেই বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন। এর সপ্তাহখানেক আগে বাইডেন প্রশাসন জানায়, তারা গত ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পিয়ংইয়ংয়ের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দু'পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন নানা উপায়ে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়েছে বলেও জানান মার্কিন কর্মকর্তারা। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দেশ দুটি আগের অবস্থানেই অনড় আছে। বাইডেনের পূর্বসূরি ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে তিন দফা বৈঠক হলেও এ ইস্যুতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার ওই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোও পিয়ংইয়ংকে তার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দমাতে পারেনি। | 3 |
ধান হতে হবে শুকনো, চিটামুক্ত, উজ্জ্বল ও সোনালি বর্ণের। যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে এসব গুণাগুণ পাওয়া গেলে তবেই সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কৃষকের থাকতে হবে সোনালি ব্যাংকে নিজস্ব হিসাব। বিক্রির ১৫ থেকে ২০ দিন পর সেই হিসাবে জমা হবে বিক্রীত ধানের মূল্য।এসব শর্ত আরোপ করে সরকারি গুদামের জন্য ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০ টাকা মণ। অথচ স্থানীয় বাজারে ৯৩০ টাকা দরে ধান বিক্রি করা যাচ্ছে। এতে সরকারি গুদামের বদলে কৃষকেরা স্থানীয় বাজারের দিকে ঝুঁকছে। সরকারিভাবে ধান কেনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেওকৃষকের সাড়া মিলছে না। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ধানের ব্যবসায়ী, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।উপজেলা খাদ্য অফিস জানায়, এ বছর হাতিয়ায় ৩ হাজার ৬১২ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর উপজেলার চৌমুহনী খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কেনা উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহেও কোনো ধান কিনতে পারেনি খাদ্য অফিস।হাতিয়ার সবচেয়ে বড় ধানের আড়ত তমরদ্দি বাজারে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কৃষকেরা ভ্যান গাড়িতে বস্তায় বস্তায় ধান এনে বিক্রি করছেন বিভিন্ন আড়তে। শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা ধান বেচা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তমরদ্দি বাজারের ধান ব্যবসায়ী মেসার্স মোবাশ্বের অ্যান্ড সন্সের মালিক মো. জুয়েল (৪০) জানান, বর্তমানে তারা ৯৩০ টাকা মূল্যে ধান কিনছেন। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হয় তাঁর দোকানে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তাঁদের কাছ থেকে ধান কিনে নিয়ে যায়।তমরদ্দি বাজারের বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল গ্রামের কৃষক নুর উদ্দিন (৫৫) জানান, সরকারিভাবে ধান বিক্রির জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকায় তাঁর নামও রয়েছে। তিনি সেখানে বিক্রি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এবার সরকারি ভাবে প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০ টাকা। তবে ধান হতে হবে একেবারে শুকনো, ঝরঝরে। সরকারিভাবে বিক্রির জন্য উপযোগী করতে প্রতি মণ ধানের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়, তাতে স্থানীয় বাজারে ৯৩০ টাকায় বিক্রি করলেও লাভবান হওয়া যায়। আবার গুদামে ধান বিক্রি করে মূল্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওয়া যায় না। ব্যাংকে হিসাব করতে হয়। তিনি জানান, ধানের মূল্য দ্রুত পেতে ও প্রক্রিয়ার জট থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাজার তাঁদের জন্য অনেক ভালো।হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, এবার হাতিয়ায় ৬৮ হাজার ৫১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ হাজার ৮১৬ মেট্রিক টন। এ বছর সরকারি গুদামে প্রতিজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন।এ ব্যাপারে হাতিয়ার চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আবদুর রহিম মিজি বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের দেওয়া প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ পর্যালোচনা করে ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য ১ হাজার ৮০ টাকা নির্ধারণ করায় স্থানীয় বাজারে কৃষকেরা ৯৩০ টাকা মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। যেকোনোভাবেই হোক, কৃষককে লাভবান করাই আমাদের উদ্দেশ্য।' | 6 |
অবশেষে সাময়িক বেকারত্বের ইতি টানলেন দানি আলভেস। ফ্রি টান্সফার ফি'তে স্বদেশের ক্লাব সাও পাওলোতে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের অধিনায়ক। সাও পাওলোর সঙ্গে সাবেক এই বার্সেলোনা ডিফেন্ডারের চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত। গত মৌসুমের পর প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যায় আলভেসের। এরপর সাময়িক বেকার হয়ে যান ৩৬ বছর বয়সী রাইট ব্যাক। এই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজের বিভিন্ন পেশার ছবি পোস্ট করেন তিনি। মূলত ফটোশপে এডিট করা ছবিগুলো তিনি দিয়েছিলেন মজা করার জন্য। ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৪০টি শিরোপা জিতেছেন আলভেস। সেটাই সাও পাওলো তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে এভাবে, 'ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ী ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।' ২০০২ সালের পর আর কখনও ব্রাজিলের কোনো ক্লাবের হয়ে খেলেননি আলভেস। ২০০২ সালে স্বদেশী ক্লাব বাহিয়া ছেড়ে তিনি যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া'য়। সেখান থেকে বার্সেলোনা, জুভেন্টাস হয়ে ঠিকানা গাড়েন ফরাসি ক্লাব পিএসজি'তে। এবার ইউরোপ অধ্যায়ের ১৭ বছর পর পুনরায় ব্রাজিলে ফিরলেন তিনি। | 12 |
আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর সব ধরনের টেনিস থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সাবেক রানার্স-আপ ও বিশ্বের সাবেক পাঁচ নম্বর খেলোয়াড় জো-উইলফ্রিড টিসোঙ্গা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ৩৬ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকা বলেছেন, "কয়েক সপ্তাহ আগে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ বছরের রোলা গ্যাঁরোর মাধ্যমে আমি টেনিস ক্যারিয়ারের ইতি টানব। এই সিদ্ধান্ত নিতে আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি। মূলত শরীর এখন আর আমাকে সেভাবে সহযোগিতা করছে না।" যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইনজুরির ঘটনায় টিসোঙ্গার র্যাঙ্কিং ২২০-এ নেমে যায়। গত মৌসুমে ট্যুর পর্যায়ে তিনি মাত্র একটি ম্যাচ জয় করেছেন। উইম্বলডনে প্রথম রাউন্ড থেকেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে মন্টিপিলিয়ার ওপেনের মাধ্যমে টিসোঙ্গা আবারও কোর্টে ফিরে আসেন। ওই সময়ই ক্যারিয়ারের শেষ টানার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় আহত সব শিক্ষার্থী এবং অন্যান্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। | 6 |
কাউনিয়ায় করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বুস্টার ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সেভাবে সাড়া মিলছে না। গতকাল সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়নের বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ রায়হান প্রামাণিক জানান, এক লাখ ৯২ হাজার ৯৪ জন প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় ডোজ নেন এক লাখ ৭৭ হাজার ৯১৯ জন। এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ১৭৫ জন মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নেননি। ইতিমধ্যে অনেককে মুঠোফোনে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বুস্টার ডোজ নিতে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।রায়হান প্রামাণিক আরও জানান, গত শনিবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বুস্টার ডোজ কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৫ হাজার ৫৭২ জন। আগের দিন রোববার ৩ হাজার ৩০৮ জন এবং শনিবার ৭ হাজার ১৬৬ জন বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।এ ছাড়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৭ হাজার ১৭১ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী প্রথম ডোজ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ২৪ হাজার ৮৮৪ জন। ২ হাজার ২৮৭ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী দ্বিতীয় ডোজ এখনো গ্রহণ করেনি। মুঠোফোনে বার্তা দেওয়ার পরও তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। এক শ্রেণির মানুষের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে বুস্টার ডোজ নিতে আগ্রহ কম। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিতে মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ ছিল, বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রে তা নেই।'ডা. মীর হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে দেশে করোনায় মৃত্যু না থাকা এবং মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় অনেকেই মনে করছেন, টিকা নেওয়ার দরকার নেই। বুস্টার ডোজের বিষয়ে প্রচার না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বতিলের ঘটনা 'সরকারের নীলনকশা' বলেছে বিএনপি। সকালে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র বাতিলের পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে বিপুল জনপ্রিয়তা, সেই জনপ্রিয়তা থেকে তাকে দূরে সরানোর যে মাস্টার প্ল্যান সরকার করেছেন, যে নীলনকশার অংশ বলে আমরা মনে করি। খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসনে বিকল্প হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শুধু দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলই নয়, ঢাকা-৬ আসনে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও ঢাকা-২ আসনে নবাবগঞ্জের উপজেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান আবু আশফাক খন্দকার ও দিনাজপুর-৩ আসনে সদ্য পদত্যাগকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এভাবে বেছে বেছে জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ধারাবাহিক ঘটনা। সরকার পরিকল্পনা করেছে যে, একতরফা নির্বাচন করবে, গায়ের জোরে নির্বাচন করবে এবং জোর করে ক্ষমতায় থাকবে। আবু আশফাক খন্দকার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্র গ্রহণের দাবি জানান রিজভী। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতার মায়ায় যেভাবে বুঁদ হয়ে আছে, ক্ষমতার নেশায় যেভাবে বুঁদ হয়ে আছে সেখানে শেখ হাসিনা কখনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইবে না। তারপরও আমি বলব, সকল বাঁধ ভেঙে জনগণ এগিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এখনো সরকারকে হুঁশিয়ার করছি যে, স্থানীয় সরকারের যে প্রধান তিনি যখনই পদত্যাগ করবেন তখন তা গৃহীত হবে- এটা আইন। এই আইন ভঙ্গ করে আপনারা যে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন তার পরিণতি ভালো হবে না। | 9 |
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, 'ভারত থেকে ভ্যাকসিন রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। দোরাইস্বামী আরও বলেন, 'ভারত সরকার যাদের টিকা দিতে অঙ্গীকার করেছে তারা সবাই পাবে। প্রথম পর্যায়ে ভারতে কারা টিকা পাবে তা আমরা আর বাংলাদেশে কারা পাবে তা আপনারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঠিক করবেন। প্রত্যেকে যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন চায়। কখন আসবে বা আমরা আমাদের দেশে পাব তা আমি বলতে পারি না। অগ্রাধিকার নির্দেশিত হয়েছে যখন বাংলাদেশ সরবরাহ পেতে পারে।' এসময় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, 'ভারত আমাদের অনেক ভালো প্রতিবেশী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক একটা ডিফারেন্ট হাইটে চলে গেছে। সবসময় আমরা একে অপরের সহযোগিতা করতে পারি, সেটা করছি।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
করোনা মহামারীর কারণে বিধিনিষেধের মধ্যেই ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোয় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে, কেউ আবার একাধিক বাস বদলে রাজধানী ছাড়ছেন। পরিবার নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে চড়েও ফিরতে দেখা গেছে অনেককে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার ফেরিঘাটগুলোতে গতকাল ছিল উপচে পড়া ভিড়। বাড়ি ফেরার এ চিত্রে ছিল না কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, ঈদের এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও গতকাল সকাল থেকেই শিমুলিয়া ফেরিঘাটে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। যাত্রীদের ভিড় সামলাতে না পেরে অনেক ফেরি কোনো বাহন না নিয়েই গন্তব্যে রওনা হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিমুলিয়া থেকে রো-রো ফেরি এনায়েতপুরী শুধু যাত্রী নিয়েই শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে ভিড়ে। ফেরিঘাট সূত্রে জানা যায়, যাত্রীদের চাপের কারণে শিমুলিয়া থেকে ফেরিটিতে কোনো গাড়ি উঠতে পারেনি। প্রায় ১২০০ যাত্রী নিয়ে ফেরিটি যাত্রা করে। হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েই পদ্মা পার হন। এ সময় অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। আবার কারও মাস্ক থাকলেও নামানো ছিল থুতনিতে। ফেরিতে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে পার হয়েছেন নদী। এদিকে যাত্রীদের চাপে গাড়ি তুলতে না পারায় শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়ে সাত শতাধিক পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি। ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মায় লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে চাপ বেড়েছে যাত্রীদের। অত্যধিক চাপে ফেরিগুলোতে পার করা যাচ্ছে না গাড়ি। নৌরুটে বর্তমানে ১৩টি ফেরি সচল রয়েছে। বিআইডবিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ জানান, আসন্ন ঈদ ও শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে অনেক। যানবাহন ও যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। বরিশালের যাত্রী লাকী আক্তার বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে যাত্রীদের আরও ভিড় বেড়ে যায়। বাস চলে না। ভেঙে ভেঙে বাড়ি যেতে হবে। তাই কয়েক দিন আগেই বাড়ি যাচ্ছি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরে বিকেল ৪টায় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়।প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন 'এ প্রতিযোগিতায় যে ছবিটি প্রথম পুরস্কার অর্জন করবে সে ছবিটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।' তিনি এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের ধন্যবাদ জানান।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। সঞ্চালনায় ছিলেন ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাপলা সিংহ।প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের মো. সাইফুল্লাহ আবির, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন একই ডিসিপ্লিনের সুভাশিষ বৈরাগী, তৃতীয় স্থান অধিকার করেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সিমরান সাইফ রোজা।প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কার পান ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শেখ মো. সুমন, প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের চিত্রম সেন অনিক ও ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের অহিদ বাধন। | 6 |
মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রোববার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠ। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডিজ, উর্দুসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বিভাগ পরীক্ষাও নিয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাস শেষে কিংবা ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাসে দেখা গেছে সেই চিরচেনা কোলাহল। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের ফিরে পেয়ে আড্ডায় মেতেছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকলাইন বলেন, কয়েকদিন আগে হলে ওঠার সময় অনেক খুশি ছিলাম। তবে আজকের আনন্দ একেবারে অন্যরকম। অনেকদিন পর আজ নিজেকে আবার ছাত্র মনে হচ্ছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম বলেন, হল খুললেও মনের মধ্যে একটা শূন্যতা কাজ করত। কবে নাগাদ ক্লাসে ফিরতে পারব- এই নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। সেই সংশয় দূর হলো। উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এদিন কলাভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী কভিড-১৯ এর অন্তত ১ ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো। যেভাবে কমানো হবে সেশনজট: প্রায় দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে 'লস রিকভারি প্ল্যান' ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোকে বিভিন্ন বর্ষ এবং সেমিস্টারের রুটিন ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একাডেমিক কাউন্সিল প্রণীত 'লস রিকভারি প্ল্যান' অনুসৃত হবে। এই পরিকল্পনায় সেমিস্টার সিস্টেমে ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসে শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, যেসব বিভাগে এখনও বার্ষিক সিস্টেম চালু আছে, সেসব বিভাগে এক বছরের পরিবর্তে আট মাসের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। তবে একাডেমিক কার্যক্রমের মেয়াদ কমানো হলেও সিলেবাস আগের মতোই থাকবে। গতকাল থেকে সশরীরে ক্লাস শুরু হলেও অনলাইনেও ক্লাস চালাতে পারবে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে। বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে সশরীরে। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো চাইলে শতভাগ ক্লাস সশরীরে নিতে পারবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো চাইলে একসঙ্গে অনলাইনে এবং সশরীরে ক্লাস নিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের মতো প্রথম বর্ষ এবং নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদেরও এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। তবে এই বছর যে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে, তাদের যেন একদিনও সেশনজট না হয়, সেজন্য একাডেমিক কাউন্সিল থেকে ইতোমধ্যে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোকে বলা হয়েছে। | 6 |
টানা বৃষ্টিতে মধুমতি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। দিশেহারা দুই শতাধিক পরিবার। তাদের ঈদ কেটেছে আতঙ্কের মধ্যে। মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদী প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এভাবে ভাঙে বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা।এদিকে, ক্রমাগত নদীভাঙনে উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে চরপাচুড়িয়া, মহেশপুর, হরেকৃষ্ণপুর, আড়মাঝি, রায়পুর, রুইজানি ও ভোলানাথপুর গ্রাম। চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলার এই ছয় গ্রামের ২-৩ কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।নদীর তীব্র ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আব্দুল্লাহেল কাফী, ইউএনও রামানন্দ পাল সম্প্রতি ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।উপজেলা সদরের কাশিপুর গ্রামে মধুমতি নদীপাড়ের বিধবা সামেলা বেগম (৫০)। স্বামী মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। পাঁচ মেয়ের মধ্যে দুজন প্রতিবন্ধী। বসতঘরের দুই হাত দূরে মধুমতি নদী ফুঁসছে। যে কোনো সময় শেষ সম্বল বসতঘরটি মধুমতির পেটে চলে যেতে পারে। ঘরের মালপত্র প্রতিবেশীর ঘরে রেখে তাদের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। ঈদের দিন চুলা জ্বলেনি। পাশের বাড়ির পাঠানো খাবার খেয়েছেন তারা।সামেলা বেগম বলেন, 'বাইচা যে আছি এটাই তো অনেক, ঈদ কী করব? নদী আমাগের সব কাড়ে নেছে। একটু ঘর ছিল তাও যাওয়ার পথে। শরিকেরা সব চলে গেছে। আমার যাওয়ার কোনো জাগা নাই। এতোডিক মায়ে (এতগুলো মেয়ে) নিয়ে কহানে যাব কী করব কিছুই বুঝতেছি নে।'শুধু সামেলা বেগম নন, উপজেলা সদর ইউনিয়নের মধুমতি পাড়ের ভাঙন কবলিত কাশিপুর, রুইজানি ও ভোলানাথপুর গ্রামের হাজারো মানুষের মনে কোনো ঈদের আনন্দ নেই। গত ১০ দিনে দুই শতাধিক বসত ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গিলে খেয়েছে কয়েক শ বিঘা ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে বহু বসতবাড়ি ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, হাট-বাজার, গোরস্থান ও মন্দিরসহ শহররক্ষা বাঁধ।পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বুধবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা সদরের মধুমতি পাড়ের কাশিপুর, ভোলানাথপুর ও রুইজানি গ্রাম ঘুরে ভাঙন কবলিত মানুষের করুণ চিত্র দেখা গেছে। এক মাসেরও বেশি সময় আগে তিন গ্রামে নদীভাঙন দেখা দেয়। গত ১০ দিন ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এই সময়ের মধ্যে গ্রামগুলোর প্রায় দুই শ পরিবারের হাজারো মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অথবা খোলা জায়গায় ছাউনি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।জয়েন উদ্দিন আশ্রয় নেন গ্রামের একজনের বাড়িতে। তিনি বলেন, 'আইজ ঈদ। কিন্তু তা নিয়ে কোনো ভাবনাই নেই। বাড়িখান গাংঙে নিয়ে গেল। ভাঙনের চিন্তায় কয়েক দিন কাজ-কামে না যাওয়ায় ঘরে চাইল-ডাইল নাই। প্যাটে ভাত নাই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই তাগরে আবার কিসের ঈদ?'জয়েন উদ্দিনের মতো অবস্থা গত ১০ দিনে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া তিন গ্রামের হাজারখানেক মানুষের। খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছে তাদের।মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, 'ভাঙন-দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।'মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার জাহান সুজন জানালেন, ভাঙন এলাকা ঘুরে এসেছেন তিনি। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলার কাজ শুরু হবে।এ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, 'ভোলানাথপুর এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।'স্থানীয় এমপি ড. বীরেন শিকদার বলেন, 'নদী ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।' | 6 |
পাকিস্তানে যৌন সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আবারো স্বল্পবসনা নারীদের সমালোচনা করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'যদি কোনো নারী খুব কম কাপড় পরে বা অর্ধউলঙ্গ থাকে তাহলে পুরুষরা বিমোহিত হবেই। তবে পুরুষরা যদি রোবট হয় একমাত্র তখনই নিস্পৃহ থাকতে পারে। এটা খুব সাধারণ বিষয় যে স্বল্পবসনা নারীদের মাধ্যমে পুরুষরা বিমোহিত হন।' 'এক্সিওস অন এইচবিও' নামের একটি ডকুমেন্টরি নিউজ সিরিজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, 'এ ধরনের আচরণ হলো সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের একটি দেশীয় সংস্করণ। আমাদের সংস্কৃতিতে যে বিষয়টি গ্রহণীয় তা অন্য সংস্কৃতিতেও আবশ্যকভাবে গ্রহণীয় হবে, এটা সম্ভব নয়।' এর আগে গত এপ্রিলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইমরান খান মন্তব্য করেছিলেন, যৌন সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য অশ্লীলতা ও তার চর্চাই দায়ী। অশ্লীলতা ও অপকর্মের প্রসার রোধে তিনি নারীদের পর্দা করে চলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'পর্দা প্রথার মাধ্যমে অশ্লীলতা ও অপকর্মের প্রসার রোধ করা যায়।' সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস | 3 |
"আমি কি পচে গলে মারা যাব। কেউ কি নেই আমাকে একটু বাঁচাবেন। শরীর থেকে গোশত খসে পড়ছে। পচে যাচ্ছি আমি। করোনায় পকেটে টাকা নেই। চিকিৎসা করব কোথা থেকে। মরার আগে যদি একটু চিকিৎসা পেয়ে মরতে পারতাম। তাহলে মৃত্যুটা হয়ত একটু শান্তির হতে পারত"। আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় নজরুল ইসলাম নাহিদ নামে এক অসহায় ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় এভাবেই একটি আকুতি জানিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর সেই অসহায় মানুষের আকুতি নারায়ণগঞ্জ মানবতার সংগঠন "এহসান পরিবার" তাদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ছবিসহ পোস্ট করেন। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকালে এহসান পরিবারের সমন্বয়ক সাংবাদিক রোমান চৌধুরী জানান, ফতুল্লার চাঁনমারী মাউড়াপট্রি এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নাহিদ এক সময় ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রী-কন্যাসহ ঘরের গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি। স্ত্রী ও কন্যা সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু মার্চ মাসে করোনার কারণে টাকার অভাবে কোনও হাসাপাতালে আর যেতে পারেননি দগ্ধ নাহিদ। পরবর্তীতে ঘরে পড়ে থাকতে থাকতে অগ্নিদগ্ধ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে নাহিদের। এক পর্যায়ে তার শরীরের মাংস খসতে থাকে। একদিকে টাকার অভাব অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে কোথায় কিভাবে চিকিৎসা নেবে কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবারটি। এর মধ্যেই ওই রোগীর পরিবার বাঁচার আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। পরবর্তীতে আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে বাড়িতে গিয়ে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখতে পেয়ে সহযোগিতার জন্য আমাদের "এহসান পরিবারের" হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ছবিসহ পোস্ট দিই। এতে খবর পেয়ে রোগীকে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির জন্য ব্যবস্থা করেন এমপি শামীম ওসমান পত্নী লিপি ওসমান। এ বিষয়ে রোগীর ভাই জাহিদ ইসলাম জানান, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমরা ভাবতে পারিনি এভাবে আল্লাহ আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। লিপি ওসমানের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। আমরা শুধু তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারব। এটাই আমাদের সামর্থ্যে আছে। আমার ভাই এখন হাসপাতালে আছে। এ বিষয়ে লিপি ওসমান মুঠোফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, একজন মানুষ পচে গলে মরবে এটা হতে পারে না। মানুষ মানুষের জন্য। ওর জন্য আমি যা করতে পেরেছি তা কিছুই না। একজন মানুষ আরেকজনের বিপদে পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। ওর চিকিৎসা আরও আগে থেকেই দরকার ছিল। দোয়া করি যেন মানুষটা সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে পারে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি প্রতি আহ্বান জানান, এই্ করোনায় মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন। আমার আহবান বা অনুরোধ থাকবে সামাজের বিত্তবান মানুষগুলোর প্রতি, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে আমরা বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। দেখবেন মানুষ খুশি হয়ে দোয়া করবে। আর আাল্লাহর মাখলুক খুশি তো আল্লাহ আমাদের ওপর খুশি থাকবেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ২২ টেস্টের ৪০ ইনিংসে বল হাতে ৯৪ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাই আর মাত্র ৬ উইকেট শিকার করলেই তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেটের বড় ফরম্যাটে একশ শিকারের মালিক হবেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ইতোমধ্যে একশ' উইকেট শিকারের স্বাদ নিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ঢাকা টেস্টে একশ উইকেট শিকার পূর্ণ করতে পারেন তাইজুল। কারন চলতি বছর দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে চলেছেন তিনি। বল হাতে ৬ ম্যাচের ১১ ইনিংসে ৪০ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। ফলে উইকেট শিকারে বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। চট্টগ্রাম টেস্টে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১ ও ৬ উইকেট নেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করে সবার উপরে আছেন সাকিব। ৫৪ ম্যাচের ৯১ ইনিংসে ২০১ উইকেট সাকিবের। দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন রফিক। ৩৩ ম্যাচের ৪৮ ইনিংসে ১০০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী শীর্ষ পাঁচ বোলার :খেলোয়াড় ম্যাচ ইনিংস উইকেটসাকিব আল হাসান ৫৪ ৯১ ২০১মোহাম্মদ রফিক ৩৩ ৪৮ ১০০তাইজুল ইসলাম ২২ ৪০ ৯৪মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩৬ ৫১ ৭৮মেহেদি হাসান মিরাজ ১৭ ৩১ ৭২। | 12 |
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারেন অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তার সরকার। এর আগে ২০০৩ সালে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেডকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এবার পুরো দলকেই সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, হামাস সম্পর্কে নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের গণপ্রতিরোধ কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার সরকার ফিলিস্তিনিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের উচিৎ ছিল ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অন্যায় তৎপরতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তারা উল্টো কাজটি করেছে। আর দ্যা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন বা ডিএফএলপি বলেছে, হামাসকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার অর্থ হচ্ছে দখলদারদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অপরাধযজ্ঞ চালানোকে ন্যায্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়ে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, হামাসকে নয় বরং ইসরায়েলকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল অস্ট্রেলিয়ার। যারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। সূত্র : রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 3 |
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে মনির (২৮) নামে এক যুবকের কাছ থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। শনিবার সকালে মনিরকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী মনির খাগড়াছড়ি মানিকছড়ি তিনট্যহরী বাজার পাড়ার মৃত সেলিমের ছেলে।লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে থানার এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম অভিমুখী মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মনিরকে আটক করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। | 6 |
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে তিনি এই আইনে ৬ স্তরে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করেছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন,'গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইনটি কার্যকর করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা ব্যবসায়ীগণের অনুরোধে দু'বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। এ আইনটি এ বছর বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঐক্যমত হয়েছে।' অর্থমন্ত্রী নতুন আইনটি সহজ,প্রাঞ্জল ও অধিকতর ব্যবসাবান্ধব করার জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন,২০১২ এর কতিপয় সংশোধন,পরিমার্জন, পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ এর বাজেটটিতে দেশের জনগনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে তেমন কোন উপকরণ অন্তর্ভূক্ত করি নাই।প্রস্তাবনায় তিনি একক ভ্যাট হারের পরিবর্তে পণ্য বা সেবা আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, উৎপাদনে ১০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ এবং খুচরায় ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন। পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ঔষধ ও প্রেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানের ন্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট হার যথাক্রমে ২.৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়।স্থানীয় পর্যায়ে করভার কমানোর জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উল্লেখ করেন।তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় টার্নওভার তালিকাভূক্তিরসীমা ৩০ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকে উৎসাহ প্রদানে টার্নওভার করের সীমা ৫০ লাখ হতে বৃদ্ধি করে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৫০ লাখের ওপর হতে ৩ কোটি টাকা বিক্রিসম্পন্ন ব্যবসায়ীকে মাত্র ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে।ভ্যাট নিবন্ধন সীমা ৫০ লাখ টাকা হতে ৩ কোটি টাকায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আইনে। ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য যেসব ক্ষেত্রে সেখানে দাখিলপত্রের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া নতুন আইনে পণ্য সরবরাহের পূর্বে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতি রহিত করে বিনিময় বা ন্যাষ্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধ ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে পণ্য সরবরাহের পূর্বে প্রযোজ্য কর 'হিসাব চলতি' নামক হিসাবে জমা রাখার বিধান রয়েছে; নতুন আইনে 'হিসাব চলতি' সংরক্ষণ করতে হবে না। ব্যবসায়ী মাসশেষে দাখিলপত্রের মাধ্যমে কর পরিশোধ করবেন।সূত্র : বাসস | 0 |
চলমান ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে থিঙ্ক-ফিল্ম ইম্প্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের তাহরিমা খান পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র 'মুন্নি'। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পালে দে ফেস্টিভাল ভবনের রিভিয়েরা টু'তে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। মূলত কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্মের অন্যতম একটি প্রোগ্রামের নাম 'দকান ডকস'। এতে ডকস-ইন-প্রোগ্রেস বিভাগে নির্বাচিত ৩২টি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্পের মধ্য থেকে 'মুন্নি' এই পুরস্কার জিতে নেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ফেসটাইমের মাধ্যমে যুক্ত হন তাহরিমা খান। তিনি বলেন, আমি খুব খুশি ও আনন্দিত। শিগগিরই প্রামাণ্যচিত্রটির পুরো কাজ শেষ করে ফেলবো। আশা করি, এই নির্মাণ সমাজে সত্যিকারের প্রভাব ফেলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ জানাই বিচারকদের।'এই তথ্যচিত্রের গল্পটি টাঙ্গাইলে একদল কিশোরী ফুটবল খেলোযাড় ও তাদের প্রশিক্ষক কামরুন্নাহার মুন্নিকে নিয়ে ''আমরা যেভাবে একটি নারী ফুটবল দলকে দেখি, তার বাইরে গিয়ে ছবিটিতে আরো গভীর কিছু দেখানোর চেষ্টা করেছি চেষ্টা করেছি, তাদের ভেতরের কথাগুলো, সংগ্রামের কথাগুলো তুলে ধরার জন্য তাদের স্বপ্নগুলোকে ছুঁয়ে দেখার জন্য,'' বলেন তাহরিমা প্রশিক্ষক মুন্নি এই কিশোরীদের বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ তৈরিতে সহযোগিতা করছেন সেই গল্পই উঠে আসবে তথ্যচিত্রটিতে ইন্টারন্যাশন্যাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশের সভাপতি সামিয়া জামান 'মুন্নি' পুরস্কৃত হওয়ার পর বলেন, আমরা আইএফআইবি থেকে এবারই প্রথম শোকেস সাউথ এশিয়া আয়োজন করেছি। এর মধ্যে মুন্নি গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরস্কার পেলো। ছবিটি শেষ হওয়ার পর থিঙ্ক-ফিল্ম ইম্প্যাক্টি প্রচারণার দিকটি ডিজাইন করবে। এমন বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় 'মুন্নি'র পরিচালক, প্রযোজকসহ পুরো টিমের জন্য আমি খুশি।' উৎসবের ৭৪তম আসরের অষ্টম দিন ছিল 'ডক ডে'। এ উপলক্ষে কান ডকস ও মার্শে দ্যু ফিল্মের সাথে যৌথভাবে ছয়টি পুরস্কার দিয়েছে মোনাকো ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জিং ফিল্ম ট্যালেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইইএফটিএ)। এবার আইইএফটিএ অ্যাওয়ার্ড হিসেবে ১০ হাজার ইউরো পেয়েছে স্লেভেনিয়ার প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প 'শেনতানি'। 'ডকস-ইন-প্রোগ্রেস' বিভাগে ইন্টারন্যাশন্যাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় শোকেস সাউথ এশিয়ায় নির্বাচিত হয় চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প। এর মধ্যে ছিল আবু শাহেদ ইমন প্রযোজিত 'মুন্নি'। অন্য তিনটির মধ্যে নেপালের সাবিনা শ্রেষ্ঠ পরিচালিত 'দেবী' পেয়েছে সম্মানসূচক মেনশন। পুরস্কৃত বাকি চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প হলো ফ্রান্সের 'গেট্টো', ফিলিস্তিনের 'থ্রি প্রমিজেস', ফ্রান্সের 'অব ডগস অ্যান্ড গডস', চিলির 'মিটিং পয়েন্ট' এবং ইতালির 'সাভয়া'। রিভিয়েরা টু'র প্রেক্ষাগৃহে গত ১০ জুলাই শোকেস সাউথ এশিয়ায় নির্বাচিত প্রকল্প চারটি কিছু অংশের উপস্থাপনা ছিল। | 2 |
ভারতের বিহারে করোনা প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে নতুন পদক্ষেপ। ট্রেন স্টেশন, বাসস্টপসহ অন্যন্য জনসমাগম এলাকায় বসানো হয়েছে করোনা পরীক্ষার বুথ। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যের বাইরে থেকে বিহারে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করানোর কথা কয়েক দিন আগেই ঘোষণা করেন।এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা রাজ্যে ফিরছেন, তাদের এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে যাতে বিহারে করোনা সংক্রমণ না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয় বিহার প্রশাসন। তারা করোনা পরীক্ষা করাতে চান না। কারণ, করোনা ধরা পড়লে তাদের সোজা যেতে হবে আইসোলেশনে। গত কয়েক দিনে রাজ্যের চেষ্টায় তেমন সুফল মেলেনি। যাত্রীরা করোনা পরীক্ষা করার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
মাগুরায় সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নকল করতে না দেওয়ায় শ্রীপতি বিশ্বাস নামে এক শিক্ষককের মুখে কামড় দিয়ে জখম করলেন অপর শিক্ষক। সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরার শালিখা উপজেলার মান্দিয়াপাড়া বটতলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম ওই শিক্ষক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শালিখা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা অভিযোগে জানা গেছে, শালিখা উপজেলার থৈ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গত ১৭ নভেম্বর সমাপনীর ইংরেজি পরীক্ষার দিনে একই উপজেলার মশাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নকল করার সময় হল পরির্দশক নাঘোসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাস বাধা দেন। এতে ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের শিক্ষকদের কাছে নালিশ করে। এরই জের ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল মজুমদার সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে পরির্দশক শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাসকে মান্দিয়াপাড়া বাজারে ডেকে এনে মারধোর শুরু করেন। এক পর্যায়ে উজ্জ্বল মজুমদার কামড় দিয়ে শ্রীপতি বিশ্বাসের ঠোঁট ছিঁড়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জল মজুমদার বলেন,' শ্রীপতি শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, স্কুলের শিক্ষকদেরও বেয়াদব বলে গালমন্দ করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় শ্রীপতি আমার ওপর হামলা করেন।' শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরীকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আহত শিক্ষক শ্রীপতি বিশ্বাসের বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। | 6 |
ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। তাঁদের দাবি, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া জয়লাভ করলেও চলমান এই সংঘাত এখানেই শেষ নয়।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মার্কিন গোয়েন্দারা এমন এক সময়ে সতর্কবার্তা দিলেন, যখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির সেনাদের সঙ্গে রুশ সেনাদের তীব্র লড়াই চলছে।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক এভ্রিল হেইনস মার্কিন সিনেট কমিটির শুনানিতে বলেন, এখনো 'দনবাস অঞ্চলের বাইরে অন্য আরও লক্ষ্য অর্জনের' উদ্দেশ্য রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। কিন্তু নিজের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং রাশিয়ার বর্তমান সামরিক সক্ষমতার মধ্যে অমিলের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। মার্কিন এই গোয়েন্দা পরিচালক আরও বলেন, রাশিয়ায় মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যঘাটতি এবং জ্বালানির দাম আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর তাই ইউক্রেনকে দুর্বল করতে পুতিন 'সম্ভবত' যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছেন।তবে ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে থাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট 'আরও কঠোর কোনো পদক্ষেপ' গ্রহণ করতে পারেন। যদিও রাশিয়ার জন্য 'অস্তিত্বের হুমকি' অনুভব করলেই কেবল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে মস্কো।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক স্কট বেরিয়ার সিনেটের একই শুনানিতে বলেন, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা 'কিছুটা অচলাবস্থার' মধ্যে রয়েছে। চলমান এই লড়াইয়ে সম্প্রতি ইউক্রেন তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের চারটি এলাকা পুনর্দখল করার দাবি করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, চেরকাসি টাইশকি, রুস্কি টাইশকি, রুবিঝনে এবং বায়রাক এলাকা রাশিয়ার সেনাদের কাছ থেকে দখলে নেওয়া হয়েছে।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারকিভ থেকে রুশ সেনাদের ক্রমান্বয়ে সরিয়ে দিচ্ছে দেশটির যোদ্ধারা। আর এটিই ইউক্রেনের সাফল্য। তবে তিনি মনে করেন, প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতিদিনই রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে বিজয় আশা করে ইউক্রেনীয়দের অতিরিক্ত নৈতিক চাপের পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয়।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ার সৈন্যরা। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথ একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। যদিও মস্কো ইউক্রেনে তাদের এই আগ্রাসনকে 'বিশেষ সামরিক অভিযান' বলে আখ্যায়িত করছে। | 3 |
তাকে যে ধরে রাখবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, এটা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু আরও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরাট কোহলি। নিজের বেতন থেকে ২ কোটি রুপি কমিয়ে দিয়েছেন, যাতে নিলামে আরও বেশি টাকা নিয়ে নামতে পারে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ভালো ক্রিকেটারকে ঘরে তুলতে পারে। শেষবার বড় নিলামের আগে কোহলিকে ১৭ কোটি রুপি দিয়ে ধরে রেখেছিল আরসিবি। সেটাই এতদিন ছিল কোহলির বেতন। এবার তার থেকেও ২ কোটি নুপি কমিয়ে দিয়েছেন কোহলি। উদ্বৃত্ত এই ২ কোটি রুপি দিয়ে দলকে ভালো কোনো ক্রিকেটার কেনার বার্তা দিয়েছেন তিনি। কোহলির পাশাপাশি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ১১ কোটি এবং মুহম্মদ সিরাজকে ৭ কোটি দিয়ে ধরে রেখেছে আরসিবি। আরসিবি তাকে ধরে রাখায় খুশি কোহলি বলেছেন, "আরসিবি-তে থাকার ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। এখনো আমাদের সেরাটা সমর্থকরা দেখতে পাননি। সামনের মৌসুমের দিকে তাই মুখিয়ে রয়েছি।" বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 12 |
তখন দেশে এরশাদের শাসনকাল চলছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম নেতা হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে একদিন পল্টি খেয়ে এরশাদের দলে ভিড়ে মন্ত্রীও হয়ে গেলেন। চারদিকে সবাই ছি ছি করতে লাগল। নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়ে বাসায় ফেরার পর তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁকে সহাস্যে বরণ করে নিয়ে সমস্বর বলে উঠল, 'আমাদের বাবা এত দিন ছিল বোকা, আজ হয়েছে বুদ্ধিমান।' বড় ছেলে এককাঠি বাড়িয়ে বলল, 'জানো বাবা, আমার বন্ধুরা সবাই তোমার প্রশংসা করেছে!'মন্ত্রী পিতার মুখে কিন্তু হাসি নেই। কারণ শপথ নিয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি নিজে দেখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল হচ্ছে, তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হচ্ছে। তাঁর নাম ধরে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, '...দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে'। পুত্র বানিয়ে মিথ্যা বলছে বুঝতে পেরেই তিনি গম্ভীর মুখে ঘরে ঢুকলেন।রাতে খাবার টেবিলে বসে তিনি বড় ছেলেকে উদ্দেশ করে বললেন, অতি চালাক হওয়া এবং মিথ্যা বলার পরিণতি কি জানো?ছেলে চটপট উত্তর দিল, 'জানি বাবা, আমার কপালেও শেষকালে তোমার মতো মন্ত্রিত্ব জুটবে।'খ. আগের দিনে রাজা-বাদশাহদের ছিল নানা বিচিত্র শখ, বিচিত্র খেয়াল। তখন গণতন্ত্রের বালাই ছিল না। রাজা-বাদশাহদের ভোটভিক্ষা করতে হতো না। কারও কাছে তাঁদের জবাবদিহিও করতে হতো না। যা ইচ্ছে তাই করতে পারতেন। দাস-দাসী, চাকর-বাকর, পাইক-পেয়াদার অভাব ছিল না। এখনো এমন শাসক পৃথিবীতে নেই তা জোর দিয়ে বলা যাবে না। শাসকদের কারও কারও বিপুল সম্পদের কথা এখনো শোনা যায়। ক্ষমতার স্বাদ পেলে ভাঙা স্যুটকেস থেকেও জাহাজ বেরোতে পারে। ইমেলদা মার্কোসের জুতাকাহিনি তো একসময় বেশ রগড়ের জন্ম দিয়েছিল।না, আমরা মূল বিষয়েই থাকি। সেকালে এক রাজার ছিল কুকুর পোষার শখ। কিন্তু তাঁর পোষা ১০টি কুকুর ছিল ভয়ানক হিংস্র। রাজার কোনো মন্ত্রী ঠিকঠাকমতো কাজ করতে না পারলে রাজা সেই মন্ত্রীকে কুকুরের সামনে ছেড়ে দিতেন। কুকুরদের আঁচড়ে-কামড়ে মন্ত্রীর মৃত্যু হতো। একদিন এক প্রবীণ মন্ত্রীর উপদেশ রাজার মনঃপূত না হওয়ায়, তিনি ওই মন্ত্রীকে কুকুরদের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন। মন্ত্রী অনেক কাকুতিমিনতি করলেন, কিন্তু রাজার মন নরম হলো না। মন্ত্রী বললেন, 'মহারাজ, আমি কত বছর ধরে আপনার সেবা করছি, আপনার নির্দেশ পালন করছি, আপনার সুখের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কত প্রজার ভিটায় ঘুঘু চরিয়েছি। আজ আমার একটা সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ হলো না বলে, আমায় এই কঠোর শাস্তি দিলেন? দয়া করে আমায় এই শাস্তি দেবেন না।'কিন্তু রাজা তাঁর সিদ্ধান্তে অটল। হাকিম নড়বে, তবু হুকুম নড়বে না অবস্থা! নিরুপায় মন্ত্রী শেষ মিনতি হিসেবে বললেন, 'মহারাজ, আপনি আমায় মাত্র ১০টা দিন সময় দিন। তারপর আপনি আমাকে কুকুরের মধ্যে ছেড়ে দিলেও আমি প্রতিবাদ করব না।'রাজা নরম হলেন এবং ওই প্রবীণ মন্ত্রীকে ১০ দিন সময় দিলেন।মন্ত্রী তখন কুকুর পালকের কাছে গিয়ে তাঁকে ১০ দিনের ছুটি দিলেন এবং এই ১০ দিন নিজের হাতে কুকুরদের যত্নআত্তি করলেন। তাদের গোসল করালেন, খাওয়ালেন, তাদের সঙ্গেই খেলাধুলা করলেন। ১০ দিন পর মন্ত্রী রাজসভায় প্রবেশ করা মাত্র, রাজার আদেশে তাঁকে কুকুরদের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো। কিন্তু রাজা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, কুকুরগুলো মন্ত্রীকে আক্রমণ করার বদলে তাঁর পা চেটে দিচ্ছে, লেজ নেড়ে আদর খাচ্ছে, পায়ের কাছে গড়াগড়ি খাচ্ছে।রাজা তো অবাক! এমন 'মিরাকেল' কীভাবে ঘটছে? মন্ত্রীকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করেন এর গোপন রহস্য। না হলে শূলে চড়িয়ে তাঁকে হত্যা করা হবে। মন্ত্রী হাত কচলে সবিনয়ে বললেন, 'মহারাজ, আমি মাত্র ১০ দিন এই কুকুরদের সেবা করেছি। তারা আমাকে মনে রেখেছে। আর আমি আপনাকে বছরের পর বছর সেবা করেছি, হুকুম তামিল করেছি, কিন্তু আমার একটা পরামর্শ পছন্দ না হওয়ায় আপনি সেসবই ভুলে গেলেন!'রাজার মুখে কোনো রা নেই। তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারলেন, কিন্তু মন্ত্রীর বুদ্ধির কাছে ক্ষমতার মত্ততা হার মানতে পারে না। নিজের ক্ষমতার দাপট দেখাতে তিনি মন্ত্রীকে তখনই পদচ্যুত করলেন। | 8 |
না ফেরার দেশে চলে গেলেন সম্ভাবনাময় তরুণ টেলিভিশন নাটক নির্মাতা, সাবেক ছাত্রনেতা, ডিরেক্টরস গিল্ডের দুই দুইবারের সফল অর্থ সম্পাদক সাজ্জাদ সনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর। শনিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাজ্জাদ সনি মা, এক ভাই, এক বোন এবং অসংখ্যগুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, আজ রবিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সনির মরদেহ শিল্পকলা একাডেমিতে রাখা হবে। তারপর বেলা ১২ টায় মরহুমের প্রথমজানাজা এবং তার নিজ এলাকায় নিকুঞ্জ ২ -এ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ যোহর দ্বিতীয়জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবর স্থানে দাফন করা হবে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 2 |
উত্তর ভারতের রাজ্য উত্তর প্রদেশ। ১০ ফেব্রুয়ারি রাজ্যটিতে সাত ধাপের বিধানসভা নির্বাচন শুরু। দেশটির সবার নজর এখন এই নির্বাচনের দিকে। উত্তর প্রদেশের এই নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করেছেন বিবিসির গীতা পাণ্ডে। উত্তর প্রদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে উত্তর প্রদেশ অন্যতম; বরং বলা যায়, সবার চোখ এখন উত্তর প্রদেশের ভোটযুদ্ধের দিকে। উত্তর প্রদেশ সাধারণত নামের আদ্যক্ষর 'ইউপি' দিয়ে পরিচিত। এটি ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। রাজ্যের জনসংখ্যা প্রায় ২৪০ মিলিয়ন। উত্তর প্রদেশ যদি একটি দেশ হতো, তাহলে জনসংখ্যার দিক দিয়ে তা হতো বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। রাজ্যটির জনসংখ্যা ব্রাজিলের চেয়েও বেশি। ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা। লোকসভায় সর্বাধিকসংখ্যক এমপি আসেন উত্তর প্রদেশ থেকে, এই সংখ্যা ৮০। এ কারণে প্রায়ই বলা হয়, যে দল উত্তর প্রদেশে জয়ী হয়, তারাই দেশ শাসন করে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুসহ দেশটির বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী উত্তর প্রদেশ রাজ্য থেকেই এসেছেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের মানুষ। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি যখন প্রথম প্রার্থী হন, তখন উত্তর প্রদেশের বারাণসী আসনকেই বেছে নেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। দেশটির গত দুটি সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিপুল জয়লাভের কৃতিত্ব উত্তর প্রদেশের ভোটাররা দাবি করতেই পারেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটি এই রাজ্যে ৭১টি আসন পায়। আর ২০১৯ সালের নির্বাচনে পায় ৬২টি আসন। ভোটের মাঠের প্রধান খেলোয়াড়গত শতকের শেষ দিক থেকে রাজ্যের রাজনীতিতে আঞ্চলিক সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) আধিপত্য লক্ষ করা যায়। দল দুটি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসীন হয়। এই দুই দলের দাপটে রাজ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির জনপ্রিয়তা ও ক্যারিশমার ওপর ভর করে ২০১৭ সালে রাজ্যের ৪০৩ আসনের বিধানসভায় ৩১২টি আসন পায় দলটি। পপুলার ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ জিতে বিজেপি রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি বেছে নেয় যোগী আদিত্যনাথকে। হিন্দু সন্ন্যাসী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আদিত্যনাথ তাঁর বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বহুল পরিচিত। বিজেপির বিতর্কিত এই রাজনীতিবিদ আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশা করছেন। আদিত্যনাথকে সাহায্য করতে খোদ নরেন্দ্র মোদিকে উত্তর প্রদেশে বারবার ছুটে যেতে দেখা গেছে। তিনি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকবার রাজ্যটি সফর করেছেন। রাজ্যে আয়োজিত সভা-সমাবেশে ভাষণ দেন মোদি। রাজ্যে বিজেপিকে আবার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান। বিতর্কিত কৃষি আইন করার জেরে রাজ্যে বিজেপি তার আগের অবস্থান হারিয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের শেষ দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়। গত বছর করোনা মহামারি মোকাবিলায় উত্তর প্রদেশ সরকারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়া শত শত মানুষের লাশ রাজ্যের গঙ্গা নদীতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। যদিও মহামারি চলাকালে বিনা মূল্যে রেশন দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার প্রশংসিত হয়। তবে তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব ও বেড়ে চলা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে রাজ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনী সমাবেশে আদিত্যনাথ (৪৯) দাবি করেন, তিনি রাজ্যে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। রাজ্যের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করেছেন। হিন্দু ভোট জিততে মুসলিমবিরোধী বক্তব্যও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে দিয়েছেন আদিত্যনাথ। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে আদিত্যনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৮ বছর বয়সী অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৭ সালে বিজেপির কাছে হেরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন তিনি। তবে বিজেপির কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে অখিলেশ কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে রাজ্যের সব ঘরে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ দেবেন। দরিদ্র নারীদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করবেন। কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেবেন। কয়েকটি ছোট আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট বাঁধার পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অখিলেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। দলিত নেত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বে বিএসপিও রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে, কিন্তু অনেকেই তাঁর পক্ষে বাজি ধরতে রাজি নন। মায়াবতী রাজ্যের চারবারের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ২০১২ সালে ক্ষমতা হারান। মায়াবতী তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে জনপ্রিয়, কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের ও অন্যান্য দলিত আইকনের আবক্ষমূর্তি নির্মাণের জন্য লাখ লাখ রুপি ব্যয় করে সমালোচিত হন তিনি। মায়াবতী প্রায় এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তিনি 'সাইডলাইনে'। আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণাও খুব একটা জমাতে পারেননি তিনি। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ছোট দল উত্তর প্রদেশে ভোটের মাঠে রয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে তাঁর উদ্যমী প্রচারে কংগ্রেস রাজ্যে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। উত্তর প্রদেশে ধর্ষণের শিকার নারীর পরিবারের কাছে ছুটে গেছেন প্রিয়াঙ্কা। পুলিশি নির্যাতনের শিকার পরিবারের কাছে গেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এই নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত তৎপরতা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কংগ্রেসের প্রতি সমর্থনের অভাব দেখা গেছে। হিসাব-নিকাশ নিছক আকার ও সংখ্যার কারণে উত্তর প্রদেশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র। আর মাঠে থাকা দলগুলোর জন্য এই নির্বাচনকে একটি 'জীবন-মরণের' লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮৯ সাল থেকে রাজ্যে কোনো দলই পরপর দুই মেয়াদে জয়লাভ করেনি। তাই বিজেপি ও আদিত্যনাথ এই ধারা ভাঙতে সচেষ্ট। তা এই নির্বাচনের ফলাফলকে আদিত্যনাথের হিন্দু জাতীয়তাবাদের রাজনীতির 'গণভোট' হিসেবেও দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্যও এই নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে একটি পরীক্ষামূলক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি যদি উত্তর প্রদেশে হেরে যায়, তবে তাঁকে কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা দল ও প্রধানমন্ত্রী মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের একটি চিহ্ন হিসেবে দেখা হবে। নির্বাচনে অখিলেশের জন্য জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ক্ষমতার বাইরে আরেক মেয়াদ থাকলে নেতা হিসেবে দলে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে যেতে পারে। নির্বাচনে হারলে সম্ভবত ছোট আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তিনি যে জোট তৈরি করেছেন, তারও অবসান ঘটবে। মায়াবতীর জন্যও একটি জয় অপরিহার্য। তিনি গত ১০ বছর রাজনীতির ঊষর প্রান্তরে কাটিয়েছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি তিনি এবারও হেরে যান, তাহলে হয়তো কখনোই আর ফিরে আসতে পারবেন না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কংগ্রেস এবার আসলে জয়ের জন্য লড়ছে না। কংগ্রেস আশা করছে, প্রিয়াঙ্কার কঠোর পরিশ্রম দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে দলকে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার মতো করে গড়ে তুলবে। ভোট ও ভোটার রাজ্য বিধানসভার ৪০৩টি আসন দখলের জন্য হাজারো প্রতিযোগী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। সাত ধাপে এক মাসের বেশি সময় ধরে ভোট হবে। নির্বাচনে ১৫০ মিলিয়নের বেশি ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫১টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর হাজারো সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। বাড়িতে টয়লেট নেই রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ ভারতের স্বল্পোন্নত রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি হিসেবেই রয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দরিদ্র মানুষের বাস এই রাজ্যে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সূচক অনুসারে, রাজ্যের জনসংখ্যার ৩৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ দরিদ্র্য। ৪৪ শতাংশের বেশি মানুষ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত। রাজ্যের লাখো মানুষের বাড়িতে টয়লেট নেই। সরকার নির্বাচনে নিজেদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর একমাত্র উপায় হলো ভোট। নির্বাচনের সময় ভোটাররা ব্যাপকভাবে তাঁদের এই অধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, ক্ষমতায় যারা থাকে, জনরায় তাদের বিরুদ্ধে যায়। ভোটের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি: ৫৮টি আসনে নির্বাচন ১৪ ফেব্রুয়ারি: ৫৫টি আসনে নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি: ৫৯টি আসনে নির্বাচন ২৩ ফেব্রুয়ারি: ৫৯টি আসনে নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি: ৬১টি আসনে নির্বাচন ৩ মার্চ: ৫৭টি আসনে নির্বাচন ৭ মার্চ: ৫৪টি আসনে নির্বাচন উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ভোট গণনা করা হবে আগামী ১০ মার্চ। | 3 |
ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে এমন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উপকণ্ঠে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গতকাল শনিবার বিমানবালাদের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন এই হুঁশিয়ারি দেন।এ সময় পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে পুতিন বলেন, 'চলমান অভিযানের মধ্যে ইউক্রেনে যদি পশ্চিমারা নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করে, তাহলে সেই উদ্যোগকে সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেওয়া হিসেবে বিবেচনা করবে রাশিয়া।' গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরুর নির্দেশ দেন পুতিন। এরপর থেকে রুশ সেনারা ইউক্রেনের কয়েকটি শহর, বন্দর, পারমাণবিক স্থাপনা দখলে নিয়েছে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে রাশিয়ার বিশাল সেনাবহর। এর প্রতিবাদে রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন, ক্রীড়া, প্রযুক্তি, বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে পশ্চিমাদের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় চাপে পড়েছে রাশিয়া ও দেশটির অর্থনীতি।এ পরিস্থিতিতে শনিবার দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে রুশভাষীদের রক্ষার জন্য তিনি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়ার লক্ষ্য ইউক্রেনকে নিরস্ত্র করা। দেশটি থেকে নাৎসিপন্থীদের বিতাড়িত করা। ইউক্রেনে সামরিক হামলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুতিন এর আগেও একই কথা বলেছিলেন। অভিযান শুরুর পর ধারণা করা হচ্ছিল, কয়েক দিনের মধ্য রুশ সেনাদের হাতে কিয়েভের পতন ঘটতে পারে। তবে এমনটা হয়নি। এর ফলে পশ্চিমা সমর বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ইউক্রেনে প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হতে পারেনি রুশ বাহিনী। এমন মতের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, 'আমার কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের সেনারা সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। প্রশিক্ষিত সেনারা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।' গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ইউক্রেন পরিস্থিতিকে ঘিরে রাশিয়ায় জরুরি অবস্থা কিংবা সামরিক আইন জারি করতে চলেছেন পুতিন। এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, 'বাইরে থেকে বড় ধরনের আক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রাশিয়া এখন তেমন আশঙ্কার মুখে নেই। তাই রাশিয়ায় জরুরি অবস্থা কিংবা সামরিক আইন জারির পরিকল্পনা রুশ সরকারের নেই।' | 3 |
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিমুল কুম্ভকারকে সভাপতি ও আদনান আজিজ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে রুদ্র রায়কে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এই সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের মূল কমিটি ও 'বিদ্রোহী' অংশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 'ভেঙে ফেলো শোষকের ব্যারিকেড-অনাচার, নতুনের মিছিলে বিলীন হোক স্বৈরাচার' এই স্লোগানে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের ৩৪তম সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার কাউন্সিল অধিবেশনের পর গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় ঘোষণা করা হয় নতুন কমিটি আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন এই তথ্য জানায়। নতুন কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন জাহিদ জামিল, মেঘমল্লার বসু, শ্যামজিৎ পাল শুভ্র, আবদুল করিম, মাঈন আহমেদ ও সাদনান সাকিব সহসাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ফাহিম শিহাব রেওয়াজ, লেনিক চাকমা, রিপিয়ন চাকমা, মাসুম রানা জয়, সাদ আহমেদ ও কাশফিয়া হাসান মৌরী। বিষ্ণু পণ্ডিত কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন।এ ছাড়া অর্ণি আনজুম দপ্তর সম্পাদক, রেহমান খালেদকে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, চমক চক্রবর্তীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, আকিফ আহমেদকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, নিজাম উদ্দিন হৃদয়কে সাংস্কৃতিক সম্পাদক, তানহা তানজিনকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং এন্টন চাকমাকে ক্রীড়া সম্পাদক করা হয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের এই কমিটিতে। কমিটিতে সদস্য হয়েছেন প্রদ্যুৎ সরকার, দিগন্ত দাস, সানজিদা সুলতানা ও সাখাওয়াত ফাহাদ। কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ। কাউন্সিল পরিচালনা করেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম। কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশের দুই কেন্দ্রীয় সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী ও ফয়েজ উল্লাহ। সন্ত্রাসবিরোধী রাজু দিবস পালিতসন্ত্রাসবিরোধী রাজু দিবস উপলক্ষে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে শহীদ মঈন হোসেন রাজু স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এ সময় আয়োজিত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মোতালেব হোসেন, বর্তমান সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি শিমুল কুম্ভকার বক্তব্য দেন। এর আগে রাজু সংসদ, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন শহীদ রাজুর বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। ১৯৯২ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল 'বন্দুকযুদ্ধে' লিপ্ত হয়। সন্ত্রাসবিরোধী গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য মঈন হোসেন রাজু। | 9 |
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। রবিবার দুপুরে খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নদী উপকেন্দ্রের চলমান গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের (প্রেড-১) মহাপরিচালক ডা. মো. আব্দুল জব্বার শিকদার, মৎস্য অধিদপ্তরের (গ্রেড-১) কাজী শামস আফরোজ,বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেনপটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদউল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নদী উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
হঠাৎ কারখানা খুলে দেওয়ার খবরে চার বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফিরছিলেন সোহাগ মিয়া (৩০)। শিশুসন্তানটি তাঁর কোলেই ছিল। পথে অকস্মাৎ ব্রেক করলে ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। পেছন থেকে আরেক ট্রাক চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি রক্ষা পায়।দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভাইটকান্দিতে। বাবার নাম আতশ আলী।পরিবারের সূত্রে জানায়, সোহাগ মিয়া অনেক দিন ধরে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। ঈদের আগে বাড়িতে যান। এরপর লকডাউনে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে আর ঢাকায় ফেরেননি। ৩০ জুলাই রাতে খবর পান ১ আগস্ট কারখানা খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং অবশ্যই সময়মতো চাকরিতে যোগ দিতে হবে। শিশু সন্তানসহ এলাকার আরও কয়েকজন মিলে গতকাল ভোরে একটি মিনি ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ৮টার দিকে পথিমধ্যে ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভাইটকান্দি নামক স্থানে চালক হঠাৎ জোরে ব্রেক করলে সোহাগ মিয়া শিশুসহ ট্রাক থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে যান। ওই সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক সোহাগ মিয়াকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বেপরোয়া ট্রাকটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কোনো বাদী না থাকায় মুচলেকা নিয়ে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।বানেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজাহারুল আনোয়ার মহব্বত জানান, শনিবার রাতে জানাজা শেষে সোহাগ মিয়ার লাশ বানেশ্বর্দী (মোজারকান্দা) সর্বজনীন গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। | 6 |
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার কোকডহড়া ইউনিয়নের বানিয়ারা কাগুজিপাড়া বাজারসংলগ্ন জনৈক তালেবের বাড়ির পুকুর থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন তিন কিশোরকে আটক করেছে।নিহত স্কুলশিক্ষার্থীরাহাত হোসেন (১৩)আগবানিযারা গ্রামের মুদিদোকানি শাহাদত হোসেনের বড় ছেলে এবং বল্লা করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রাহাত বাড়িতে না আসায় পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়। দিবাগত রাত ৪টায় বাড়ির অদূরে জনৈক তালেবের বাড়ির পুকুরের পানিতে রাহাতের মরদেহ ভাসতে দেখে পাড়ে ওঠানো হয়। এরপর কালিহাতী থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা রাহাতের খুনিদের ফাঁসি চায়।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, 'আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন কিশোরকে সন্দেহজনক আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে চলছে মাতম। নিহতের মা আমিনা, বাবা শাহাদত, দাদি ছালেহা ও স্বজনেরা কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিচারের দাবিতে ক্ষোভ বিরাজ করছে। | 6 |
এক দশক আগে আরব বিশ্বে যে বসন্তের ঢেউ লেগেছিল, তা ক্রমেই স্তিমিত হয়ে এসেছিল। কিন্তু এখন আবার যেন সেই স্লোগান শোনা যাচ্ছে। আরব বসন্তের সেই পরিচিত স্লোগান 'শাসকের বদল চাই' শোনা যাচ্ছে কান পাতলেই। আরব বসন্তের দ্বিতীয় ঢেউ যে লেগেছে, আলজেরিয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার মানুষ আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকার শাসনের অবসান চেয়েছে। তাঁদের চাওয়া পূরণ হয়েছে। আর তাদের এই 'পরিবর্তন স্পৃহা' ছড়িয়ে পড়েছে সুদানেও, যেখানে তিন মাস ধরে চলা আন্দোলন কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে দেশটির তিন দশকের শাসক ওমর আল-বশিরের বুকে। সুশাসনের দাবি ক্রমেই কণ্ঠ খুঁজে পাচ্ছে ইরাক, জর্ডান, লেবানন, মরক্কো, তিউনিসিয়া ও ফিলিস্তিনেও। আরব অঞ্চলের কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধের পাঁচ বছরের মাথায় সেখানকার রাস্তা আবারও পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠছে, যাকে দেখা হচ্ছে আরব বসন্তের দ্বিতীয় ঢেউ হিসেবে। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, আলজেরিয়া ও সুদানের আন্দোলনকে এখনই হয়তো আরব বসন্ত বলা যায় না। কিন্তু এটি আরেকটি আরব বসন্তের সূচনাবিন্দু হতে পারে। কারণ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো তো হয়ইনি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনমন হয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থা ২০১১ সালের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এই দেশগুলোর কাঠামো এখনো বিদ্রোহ দানা বাধার জন্য অনুকূল। দুই বছর ধরেই জর্ডান, ইরাক, তিউনিসিয়া ও ইরানে দুর্নীতিবিরোধী ও সরকারবিরোধী একটি জনমত দৃষ্টিগ্রাহ্য হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে ২০১১ সালে আরবের সড়ক উত্তাল হয়ে উঠেছিল পরিবর্তনের দাবিতে। সে সময় গণমানুষের এই আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। সুনির্দিষ্ট কোনো নেতৃত্বহীন ওই আন্দোলনে ছিল সমাজের প্রায় সব শ্রেণির অংশগ্রহণ। আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিল শাসকগোষ্ঠীর ওপর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। সেই একই ক্ষোভ এবারও আরব অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্তের পরবর্তী ঘটনাক্রম পরিবর্তনকামী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীকে অনেকটা নির্জীব করে তুলেছিল। যুদ্ধ, লাগাতার অস্থিরতা ও কাঙ্ক্ষিত ফললাভ করতে না পারা তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। আর এই সুযোগে একনায়কেরা তাদের দমন ও নির্যাতনের উপায়গুলোকে আরও ধারালো ও কার্যকর করেছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক লিঞ্চের মতে, এ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের শাসকেরা পরস্পরের প্রতি বেশ সহযোগিতাপূর্ণ বলা যায়। তাঁরা শুধু নিজ দেশে আন্দোলন থামানোতেই নন, অন্য কোনো দেশে এর ঢেউ যেন না লাগে, সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন। পুরো অঞ্চলই আরেকটি আরব বসন্ত থেকে রক্ষা পেতে উদ্গ্রীব। গত কয়েক সপ্তাহে আরব অঞ্চলে আবারও গণ-আন্দোলনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে, যা সময়ের সঙ্গে তীব্র হচ্ছে। সুদানে ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে তিন মাস ধরে চলা আন্দোলনের কারণে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এতে আন্দোলন দমেনি। আর আলজেরিয়ায় আন্দোলনের বয়স তিন সপ্তাহ। আন্দোলনের লক্ষ্য-আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকার শাসনের অবসান। আন্দোলনের মুখে মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানে ওমর আল-বশির জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই তাঁর আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকেই এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর তিন দশকের শাসনের অবসান দেখতে পাচ্ছেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমনের যে পথ তিনি নিয়েছেন, তাকেই তাঁর শাসনাবসানের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, আরব বসন্তের প্রথম ঢেউয়ে শক্তি প্রয়োগে যারাই আন্দোলন দমনের পথ নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সবারই পতন হয়েছিল। আর আলজেরিয়ার শাসক বুতেফ্লিকা পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই বাজে যে, তা আন্দোলনকারীদের মনোবল জোগায়। ২০১৩ সাল থেকেই তিনি হুইলচেয়ারের চলাফেরা করেন। গত সাত বছরে তিনি জনতার মুখোমুখি হননি। তাঁর শাসন গত কয়েক বছরে পুরোপুরি সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রথমবারের চেয়ে আরব বসন্তের এই দ্বিতীয় ঢেউ এর প্রচারের দিক থেকে আলাদা। আগের মতো গণমাধ্যমের প্রচার পাচ্ছে না এবারের আন্দোলনগুলো। এর কারণও রয়েছে ওই প্রথম আরব বসন্তের ফলের মধ্যে। প্রথম আরব বসন্তে তুলনামূলক নিরাপদ ছিল ইরান, তুরস্ক ও কাতারের শাসকেরা। মনে করা হয়, প্রথম আরব বসন্তের সুফলভোগীদের দলে ছিল তারা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এরই মধ্যে একটি অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা সামলেছেন। কাতার রয়েছে অবরোধের মধ্যে। দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তাঝুঁকিও রয়েছে। ফলে, সুদান ও আলজেরিয়ায় চলমান ঘটনাক্রম নিয়ে কাতার এখনো নিশ্চুপ। ইরান আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে। ফলে, জনরোষ তৈরি হচ্ছে ভেতরে-ভেতরে। বিশেষত, আরব বসন্ত যখন মিত্রদেশ সিরিয়ায় গিয়ে পৌঁছাল, তখন থেকেই ইরান সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। কিন্তু আট বছর আগে অবস্থা এমন ছিল না। আট বছর আগে কাতারভিত্তিক সম্প্রচার চ্যানেল আল-জাজিরা হয়ে উঠেছিল আরব বসন্তের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রচারকেন্দ্র। কিন্তু এবার আরব বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দুই দেশে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে তারা নিশ্চুপ। তারা চলমান এই আন্দোলনকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করছে। এর কারণ আছে। আরব বসন্তের পর প্রতিটি দেশ সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। কাতারের ওপর অবরোধ আরোপের ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশ যে ১৩টি শর্ত দিয়েছে, তার অন্যতম হচ্ছে আল-জাজিরা বন্ধ করা। আরব অঞ্চলের প্রতিটি দেশে সংবাদপত্র ভীষণভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। দেশগুলোর তথ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিচ্ছে সংবাদ শিরোনাম। নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বিদেশি সাংবাদিকদের। আর স্থানীয়দের এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টানা যায়। কতটা মরিয়া হলে এই সাংবাদিককে অন্য একটি দেশের (তুরস্কের) সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে হত্যা করা হয়। আর হত্যার প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমের সুবাদে এখন কমবেশি সবাই জানেন। তারপরও থেমে থাকেনি আন্দোলন। ইকোনমিস্ট বলছে, আগেরবারের মতো এবারও অন্যতম চালিকা শক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আরব বিশ্বের মধ্যে আলজেরিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটির শাসকগোষ্ঠী আবার প্রযুক্তিবান্ধবও কিছুটা। এই দুইয়ের মিলনে সেখানে আন্দোলন দানা বাঁধতে ও তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে এবারে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন জনপ্রিয় করতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে বলা যায়। কারণ, এখনো তারা কোনো জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ চালু করতে পারেনি, যা ভাইরাল হবে। বিপরীতে সৌদি আরবের মতো দেশগুলোয় শাসকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তাদের অস্ত্র বানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে প্রচুর ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সরকারি বয়ানকেই ভাইরাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে প্রযুক্তির প্রয়োগে গোয়েন্দাগিরি, হ্যাকিং থেকে শুরু করে নানা কার্যক্রম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শুধু নয়, কমেন্ট বা লাইকের সূত্র ধরেও চলছে গ্রেপ্তার, যা আন্দোলনকারীদের আতঙ্কিত করছে। ফলে, আন্দোলনের গতি ধীর হচ্ছে, যা মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে সময় দিচ্ছে শাসকদের। শাসকেরা আন্দোলন দমনে প্রযুক্তিকেই কাজে লাগাচ্ছে এমন নয়; পুরোনো দমনমূলক পন্থাও তারা কাজে লাগাচ্ছে। মিডলইস্ট মনিটরের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরেই মিসরে হলুদ জ্যাকেট বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের অনুকরণে যেন মিসরে কোনো আন্দোলন তৈরি না হয়, সে জন্য স্বয়ং দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বিরোধী রাজনীতিকদের কারাগারে পাঠানো থেকে শুরু করে হত্যা পর্যন্ত-নিপীড়নের সব পুরোনো পন্থাই আরব দেশগুলোর শাসকেরা অনুসরণ করছেন। অনেক দেশই বড় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। প্রথম আরব বসন্তের পর আরব অঞ্চলের প্রতিটি দেশ নতুন নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে, যা অস্পষ্টতায় পরিপূর্ণ। এই আইন প্রয়োগ করে যেকোনো আন্দোলন বা ক্ষোভকে দমনের নীতি নিয়েছে অঞ্চলটির একনায়কেরা। শুধু আরব বিশ্ব কেন, প্রায় এক দশক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তির প্রদর্শনের পর বিশ্বের বহু দেশেই ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে এমন কিছু অস্পষ্ট আইন করা হয়েছে, যা দিয়ে যেকোনো প্রতিবাদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসকগোষ্ঠী এই আইনগুলোকে তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে ছোট ছোট প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া সরকারবিরোধী যেকোনো মতই গিলে ফেলতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে এক স্বনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। কিন্তু তারপরও আন্দোলন থেমে নেই। আলজেরিয়া ও সুদানের বিক্ষোভকারীরা পারস্পরিক যোগাযোগে পিছিয়ে থাকলেও তারা অনেকটা সুশৃঙ্খল। তারা সচেতনভাবেই সহিংসতার পথ এড়িয়ে চলেছে। তাদের স্পষ্ট কথা, 'আমরা সিরিয়া বা লিবিয়া নই।' অর্থাৎ সহিংসতা তাদের পথ নয়। যদিও আলজেরিয়ায় এরই মধ্যে ৫০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং সুদানে কয়েক হাজার বিরোধীকে অন্তরীণ করা হয়েছে বলে খবর এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলন কতটা অহিংস থাকে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। মনে থাকার কথা যে প্রথম আরব বসন্তেও আন্দোলন শুরু হয়েছিল অহিংসভাবেই। ফজলুল কবির: সাংবাদিক | 8 |
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রথম কারণ সরকারের মিস ম্যানেজমেন্ট, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা। দ্বিতীয় গ্যাস আমদানিতে সরকারের লোকেরাই জড়িত। তারা গ্যাস আমদানি করছে, বিক্রি করছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে তারা জনগণের পকেট কাটছে। সোমবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প-কলকারখানায় উৎপাদিত প্রতিটি পণ্যের মূল্য আবার বাড়বে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, এটি মেজর ক্রাইসিস। এটি যদি হ্যান্ডেল না করা যায়, তাহলে সামনে বিপদ। সিপিডিও একই কথা বলেছে। তারপরও সরকার চিন্তা করল না, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ বছর ধরে তারা ক্ষমতায়, সুখময় জীবন-যাপন করছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট তারা বুঝতে চায় না। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে টাইগার পালং নামের একটি বাহারি নকশার খাট।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শালিখা উপজেলার হরিশপুর বাজারের মারিয়া ফার্নিচার টাইগার পালং নামে খাটটি তৈরি করেছেন। পালংটির নকশা সাধারণ পালংয়ের মতো নয়।পালংটি দেখতে আসা হাবীব বলেন, 'আমি পাচঁকাউনিয়া গ্রাম থেকে এসেছি টাইগার পালং দেখতে। ফেসবুকে দেখে ভালো লেগেছে তাই সরাসরি দেখতে এসেছি। পালংটির ডিজাইন অসম্ভব সুন্দর হয়েছে। টাইগার পালংটির নকশা আমি আর কোথাও দেখিনি।'দর্শক ইমামুল হাসান বলেন, 'আমার জীবনে এ রকম ডিজাইন দেখিনি, টাইগার পালংটি খুব পছন্দ হয়েছে।'স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, পালংটি দেখতে প্রতিদিন মানুষ আসছে দুর-দুরন্ত থেকে। বিলাস বহুল টাইগার পালংটির বাহারি নকশা কুদ্দুস মিস্ত্রি নিখুঁত ভাবে করেছে। পালংটি দেখে সবারই খুব পছন্দ হচ্ছে।'মারিয়া ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী কুদ্দুস আলী বলেন, 'আমিসহ ৫ জন দক্ষমিস্ত্রী দিয়ে তিন মাস রাত-দিন পরিশ্রম করে পালংটি তৈরি করেছি। পালংটি সম্পূর্ণ মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, মেহগনি গাছটি ৫০-৬০ বছরের পুরোন গাছ। আরও বলেন পালংটির নামকরণ ও সম্পূর্ণ ডিজাইন সে নিজেই করেছে। টাইগার পালংয়ের পায়া বাঘের পায়ের আকৃতি করা হয়েছে। পালংটিতে উঠতে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।'কুদ্দুস আরও বলেন, 'আমার ধারণা এই ধরনের পালং রাজা-জমিদাররা ব্যবহার করতেন। পালংটি ইতিমধ্যে মাগুরার ক্রেতার কাছে বিক্রয় করেছি প্রায় তিন লাখ টাকায়।'টাইগার পালংটির ক্রেতা হাসানুর রহমান বলেন, 'পালংটি আমি এখনো সরাসরি দেখিনি। ছবি ও ভিডিও দেখেছি আমার পছন্দ হয়েছে। শুনেছি এলাকার লোকজন প্রতিদিন পালংটি দেখতে আসছে। পালংটি আমি নিজের ব্যবহার করার জন্য কিনেছি। | 6 |
আর্থিক কেলঙ্কারিতে জর্জরিত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হচ্ছে। ৪০ কোটি ডলারের বেশি ট্যাক্স দিতে না পারায় ব্যাংক তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ব্যাংক যদি তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে, তাহলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। খবর এনডিটিভির নাজিব রাজাক ২০১৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন। প্রায় ৬০ বছর ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিকে শাসন করা তার দল নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। দলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে তার আর্থিক দুর্নীতিকে দায়ী করা হয়। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল আইএমডিবি থেকে কোটি কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়। কয়েকটি মামলার মধ্যে প্রথম মামলায় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নাজিব রাজাক অবশ্য এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর একটি আদালত নাজিবকে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের কর হিসেবে ৪০ কোটি ডলার পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়। তবে রাজাক কর পরিশোধে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। মঙ্গলবার নাজিব বলেন, এই অর্থ পরিশোধে সক্ষম না হলে ব্যাংক কর্মকর্তারার তাকে দেউলিয়া হিসেবে ঘোষণা করার কাগজপত্র তৈরি করতে শুরু করবেন। নাজিবকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হলে তিনি বর্তমানের নিজের পদটি হারাবেন এবং আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগও পাবেন না। ৬৭ বছর বয়সী নাজিব তার বিরদ্ধে আনীত মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় কর পরিশোধ করে এসেছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আমাকে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তবে আমি এসব পরোয়া করি না। আমি তাদের অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। আইএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকা সত্ত্বেও নাজিব এখনও ৪০ লাখেরও বেশি ফেসবুক ফলোয়ারসহ একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। | 3 |
নেতাজির জন্মদিনকে 'পরাক্রম দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। এই দিনে কলকাতা সফরে আসছেন মোদি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন ২৩ জানুয়ারি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিনটিকে 'পরাক্রম দিবস' হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিবসের উদ্বোধন করতে শনিবার বিকেলে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে পরাক্রম দিবসের উদ্বোধন করার আগে মোদির কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভিক্টোরিয়ায় মোদিকে বাংলা ও রাজস্থানের ড্রামবাদকেরা গানের মাধ্যমে স্বাগত জানাবেন। এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের উপস্থিত থাকার কথা। এদিন এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী উষা উথুপ, পাপন, সৌম্যজিৎ, সৌমেন্দ্র প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি 'লেটার অব নেতাজি (১৯২৬-৩৬)' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করবেন। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে উদ্বোধন করবেন নেতাজির ১২৫টি ছবি নিয়ে গড়া একটি চিত্র গ্যালারির। এখানে পাশাপাশি আরও উদ্বোধন করবেন স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের নিয়ে গড়া আরও একটি ফটো গ্যালারির। সন্ধ্যা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী পরাক্রম দিবস উপলক্ষে ভাষণ দেবেন। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে অনুষ্ঠান শেষে নরেন্দ্র মোদি ফিরে যাবেন রাজধানী দিল্লিতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে। মোদি কাল সেই দাবি নিয়ে কোনো ঘোষণা দেবেন কি না, সেদিকে তাকিয়ে আছেন নেতাজির ভক্তরা। যদিও বছরব্যাপী নেতাজির জন্মদিন পালন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গঠন করেছে একটি জাতীয় কমিটি। এই কমিটিতে নেতাজির পরিবারসহ কন্যা অনিতা বসু পাফও রয়েছেন। এদিকে এ জন্মদিনকে স্মরণে রেখে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মন্দিরের কাছে বালু দিয়ে নেতাজির একটি ভাস্কর্য তৈরি করেছেন কলকাতার বিশিষ্ট বালুশিল্পী স্বপন দাস। সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ওডিশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর অন্তর্ধান হয় ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট। | 3 |
দীর্ঘদিন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ও ভান্ডারিয়ার মধ্যবর্তী কচা নদীতে ডুবোচরে আটকে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। চরখালী-টগড়া ফেরি চলাচলে ভোগান্তির যেন কোনো শেষ ছিল না। এখানে নাব্যতা-সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ অনেক সময় পড়েছে হুমকির মুখে। কচা নদী পারাপারে ডুবোচরে আটকে চরখালী-টগড়া ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়ে জনদুর্ভোগের যেন শেষ ছিল না এ পথের যাত্রী সাধারণের।এই রুটে বাংলাদেশ-ভারত (অভ্যন্তরীণ) এবং খুলনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অন্যতম নৌ যোগাযোগমাধ্যম। গত বেশ কয়েক বছর ডুবোচরের কারণে এ পথে চলাচলকারী ঢাকাগামী লঞ্চ, বিআইডব্লিউটিসির রকেট-স্টিমার, সরকারি ও বেসরকারি ওয়েল ট্যাংকার, কোস্টার, কার্গো, নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচলে প্রায়ই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে বলেশ্বর নদের বড় একটি অংশ নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে কচা ও বলেশ্বরের মোহনায় এই ডুবোচর জেগে উঠছে, যা নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ সমস্যা সমাধানে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর একক প্রচেষ্টায় কচা নদীর ডুবোচর খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগেও ২০১৯ সালে তিনি নদী খননের ব্যবস্থা করে ছিলেন।বর্তমানে বরিশাল-ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৩ কিলোমিটারে কচা নদীর চরখালী-টগড়া ফেরিঘাটের টগড়া প্রান্তে অবস্থিত ডুবোচর খননের (ড্রেজিং) কাজ বিআইডব্লিউটিএ'র ড্রেজিং ডিপার্টমেন্ট থেকে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বর্তমানে সে চিত্র আর নেই। দুরন্ত গতিতে নিয়মিতভাবে ফেরি চলাচল করছে। নির্বিঘ্নে যাত্রী সাধারণ পৌঁছে যাচ্ছে তাঁদের গন্তব্যে। সবার মধ্যে এখন স্বস্তির নিশ্বাস।চরখালী-টগড়া ফেরির চালক শাহিন মুন্সী বলেন, 'কিছুদিন আগেও ভাটির সময় ফেরি বন্ধ করে রাখতে হয়েছে। প্রায়ই ফেরি আটকে যেত মাঝ নদীতে। ডুবোচরের কারণে ফেরি চালাতেই পারতাম না। নদী খননের ফলে এখন আর সমস্যা হচ্ছে না।'এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক খোকন বলেন, 'চরখালী-টগড়া ফেরিটি দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু কচা নদীতে ডুবোচরের কারণে দীর্ঘদিন বেশ কয়েকটি রুটের যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে এমনভাবে খননকাজ শুরু করা হয়েছে তাতে চরখালী-টগড়া ফেরিঘাট ব্যবহারকারী দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়া, পিরোজপুর রুটের যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকবে না।'বিআইডব্লিউটিএর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিভিল) মিরাজুর রহমান সোহেল বলেন, 'কচা নদীর ১৭০০ ফুট দীর্ঘ ও ২৪০ ফুট চওড়া এলাকায় এই খননকাজ চলমান রয়েছে। এখানে প্রায় এক লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। যার ফলে টগড়া-চরখালী ফেরিসহ যাবতীয় নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।' | 6 |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন অধিদপ্তর জনবল নিয়োগের আবেদন চলছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের রাজস্ব খাতের ২টি পদে মোট ৩৯ জনকে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমা আলাদা আলাদা। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদগুলোয় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ দিতে পারেন যে কেউও। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে পদগুলোর জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে বন অধিদপ্তরে চাকরির জন্য। পদের নাম: জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউটপদসংখ্যা: ০৬বেতন স্কেল: ৯,০০০-২১,৮০০ টাকা (গ্রেড- ১৭)যোগ্যতা: উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পাস। উচ্চতা ১৬৩ সেমি ও বুকের মাপ ৭৬ সেমি।পদের নাম: অফিস সহায়কপদসংখ্যা: ৩৩বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড- ২০)যোগ্যতা: মাধ্যমিক/সমমান পাস। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। আবেদনের বয়সগত বছরের মার্চে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। করোনা ছড়িয়ে পড়ার কারণে বন্ধ ছিল অনেক চাকরির নিয়োগ ও পরীক্ষা। তাই সরকার চাকরির আবেদনের জন্য বয়সসীমা কমিয়ে দেয়। গত বছরের ২৫ মার্চ যাঁদের ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে, সরকারি চাকরিতে তাঁদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে বন অধিদপ্তর নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৫ মার্চে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা একই দিনে ৩২ বছর। আবেদনপ্রক্রিয়াআগ্রহী প্রার্থীরা ://.../ এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। | 1 |
ঢাকা: প্রথমবারের মতো উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোর ভেতরে ট্র্যাকে পরীক্ষামূলক চালানো হলো মেট্রোরেল। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে বিদ্যুচ্চালিত ট্রেনটি ওয়ার্কশপ থেকে রেললাইন ট্র্যাকে চালিয়ে দেখানো হয়।ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন। এরপর মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত কোচের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরে দেখেন।এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ মেট্রোরেলের পারফর্ম টেস্ট হলো এরপর স্পিড টেস্ট হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মূল ভায়াডাক্টের উপর ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট করা হবে। চলতি বছরের আগস্ট মাস নাগাদ ভায়াডাক্টের উপর ট্রেনের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট করা হবে।এদিকে, মেট্রোরেলের প্রথম সেট ট্রেনের চালান গত ২৩ এপ্রিল মোংলা বন্দর থেকে ঢাকায় আনা হয়। আর দ্বিতীয় সেটের চালান দেশে পোঁছেছে ৯ মে।মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য ২৪ সেট ট্রেন কেনা হয়েছে । প্রতি সেট ট্রেনের দুপাশে দুটি ইঞ্জিন থাকবে। এর মধ্যে থাকবে চারটি করে কোচ। ট্রেনগুলোতে ১ হাজার ৫০০ ভোল্ট (ডিসি) বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। ট্রেনগুলোর বডি তৈরি করা হয়েছে মরিচারোধী ইস্পাত দিয়ে। আসন থাকবে লম্বালম্বি। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুপাশে থাকবে চারটি করে দরজা।রাজধানীর যানজট কমাতে ও নগরবাসীর যাতায়াত দ্রুত আরামদায়ক এবং নির্বিঘ্ন করতে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুনে। বর্তমানে এই প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী। | 6 |
জাপান থেকে আসা দুই শিশুর মা জাপানের নাগরিক এরিকো নাকানোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় শিশুদের বাবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান শরীফ ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন। ওই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শিশুদের বাবা ইমরানের বিরুদ্ধে শিশুদের মা এরিকো বনানী থানায় মামলাটি করেন। এ মামলায় আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন জানান ইমরান। আদালতে ইমরানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।পরে আইনজীবী অনীক আর হক প্রথম আলোকে বলেন, ২৩ ডিসেম্বর এরিকোর করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় হাইকোর্ট ইমরানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই এরিকো ও ইমরানের বিয়ে হয়। তাঁদের তিন মেয়েসন্তান রয়েছে। গত বছরের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। ছোট মেয়ে জাপানে রয়েছে। তবে ইমরানের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েশিশুকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে ১৯ আগস্ট রিট করেন এরিকো। পরে ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে আরেকটি রিট করেন ইমরান। এরিকো ও ইমরানের পৃথক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে দুই শিশু তাদের বাবা ইমরানের হেফাজতে থাকবে বলে গত ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে এরিকো আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আদেশ অনুসারে আপাতত দুই শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে থাকছে এবং শিশুদের বাবা নির্ধারিত সময়ে শিশুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন। এ মামলায় ২৩ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। | 6 |
ঢাকা: দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি ভিন্ন জিনিস। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি এই বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সচিবালয়ে আজ বুধবার এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, রোজিনার (প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) ঘটনাটি অনভিপ্রেত। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের একটা নিয়ম আছে। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি এক জিনিস নয়। আমি টিআইবির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। টিআইবি তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছে।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তথ্য প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা সরকার কোভিড শুরু হওয়া থেকেই শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। তার কিছু দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি, ব্যাপকভাবে আলোচিত ঘটনা যেটি রোজিনা ইসলামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি।স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের পিএস-এর কক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি নেওয়ার অভিযোগে গত ১৭ মে রোজিনা ইসলামকে একটি কক্ষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।জানা গেছে, বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত ফরমে যে কোনো অফিসের তথ্য চেয়ে যেকেউ আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট অফিস সেই তথ্য না দিলে তথ্য কমিশনের অভিযোগ জানানো যায়। এই প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে গাফিলতি করলে অনেক সময় তথ্য কমিশন জরিমানা ছাড়াও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তথ্য কমিশন এমন এক লাখ ২০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।'আমি মন্ত্রীর পদে থেকেও কোনো অফিসে গিয়ে বিনা অনুমতিতে কোনো গোপনীয় তথ্য নিয়ে নিলে আমি অপরাধী। সে ক্ষেত্রে সেই অফিসের কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সে তথ্য কোনো রাষ্ট্রীয় গোপন নথি হলে সেই অপরাধটা আরও বড়। প্রত্যেক মন্ত্রীকে শপথের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার শপথও নিতে হয়।'টিআইবির মতো সংগঠন থাকার দরকার আছে মত দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে এটিই স্বাভাবিক, আমরাও চাই সেটি। টিআইবি বিভিন্ন সময় যে গবেষণার কথা বলে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গবেষণা না করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে সেটিকে গবেষণা বলে চালিয়ে দেয়, এটি সমীচীন নয়। যেসব দেশ থেকে টিআইবি ফান্ড পায় সেসব নিয়ে তাদের কখনো কিছু বলতে দেখিনি।আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, করোনার টিকা পেতে বাংলাদেশ একটি সূত্রের ওপর নির্ভর করেনি। যেখান থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণেই চীন থেকে টিকা এসেছে, অন্য দেশ থেকেও টিকা আসছে।এর আগে জাতির পিতার ১৩০০ ছবি নিয়ে 'ছবির ভাষায় মহানায়ক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ' অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী। বর্ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসরীন হোসেন লুইজার সম্পাদনায় এই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে।অ্যালবামটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে তথ্যমন্ত্রীর সহায়তা চান লুইজা। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল উপস্থিত ছিলেন।অ্যালবামে বঙ্গবন্ধুর অনেক দুর্লভ ছবি রয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রত্যেকটা ছবির ক্যাপশন বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে দেওয়ায় সবার বুঝতে সুবিধা হবে। অ্যালবাম দেখে ইতিহাস জানা সহজ। কারণ বই পড়তে সময় দিতে হয়। এ ধরনের অ্যালবামের সাহায্যে বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মে সঙ্গে সহজেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়। | 6 |
পূজার পোষা বেড়াল অরিও ৯ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মারা গেছে। ফেসবুক লাইভে এসে ভক্তদের সঙ্গে দুঃসংবাদটি ভাগাভাগি করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পূজা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে পূজার বাড়িতে। প্রায় চার বছর পূজার পরিবারের সদস্য হিসেবে ছিল অরিও। লাইভে কাঁদতে কাঁদতে পূজা বলেন, 'আপনারা জানেন যে অরিও আমার খুব প্রিয় ছিল। প্রায় চার বছর ধরে ওকে আমি পালছি। অরিও ইজ নো মোর। আমি ভাবতেও পারিনি যে সে এত তাড়াতাড়ি মারা যাবে।' পূজার ধারণা, বারান্দা থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়েছিল অরিও। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পূজা। সে সময় পাশে তাঁর ভাবি ও মা দুজনকেই কাঁদতে দেখা যাচ্ছিল। যোগাযোগ করা হলে পূজা বলেন, 'সকালে আমি আর ভাবি অরিওকে গোসল করিয়েছি। দুপুরে আমার কোলের মধ্যে শুয়ে ছিল সে। এরপর ভাবির সঙ্গে খেলছিল। বিকেলের দিকে ভাবি ওকে আমার কাছে রেখে যান। আমার একটা শুটিংয়ের ফোন আসে। আমি কোল থেকে ওকে নামিয়ে দিলে ও বারান্দায় যায়। তারপরই এই ঘটনা। আমার মনে হয়, পা পিছলে পড়ে গেছে সে।' ঘটনার পর প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বিড়ালটিকে। একটা সময় বাড়ির একতলার ছাদে মৃত অবস্থায় সেটিকে পাওয়া যায়। পূজা বলেন, 'বাসার সবাই মিলে বাড়ির নিচে, ছাদে কোনো জায়গায় ওকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বাড়ির একতলায় বাড়তি ছোট্ট একটু ছাদের অংশ আছে। কী মনে হলো, সেখানে গিয়ে দেখি মরে পড়ে আছে। দৃশ্যটা সহ্য করার মতো না। খুব খারাপ লাগছে আমার।' পূজা জানালেন, বিড়ালটি তাঁদের পরিবারের সবার খুব প্রিয় ছিল। সে সবার সঙ্গে খেলত, ডাকলে কাছে এগিয়ে আসত। এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর আইন বিষয়ে ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজা। পাশাপাশি সিনেমার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। পূজাকে দেখা যাবে শাকিব খানের বিপরীতে 'গলুই' ছবিতে। | 2 |
ঈদের দিন (৩ মে) কাতার সময় সকাল ১০টায় হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাখরশাল গ্রামের কাওছার আহমদ সুমন। আজ শনিবার সকাল ৯টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুমনের ছোট ভাই শাকিল। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগের দিন তাঁকে কাতার বিমানবন্দরে বিদায় দিয়েছিলেন কাওছার। পরদিনই মারা গেলেন।তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে সুমন ছিলেন সবার বড়। | 6 |
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে ৫১ দিন অতিবাহিত হয়েছে এই যুদ্ধের। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশ' থেকে তিন হাজারের মতো ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়া আরও প্রায় ১০ হাজার আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কতজন বাঁচবে তা বলা কঠিন বলেও জানালেন তিনি। বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, নিহত সৈন্যের এই সংখ্যা নিরপক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেটস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত এই দুটি অঞ্চল একত্রে 'ডোনবাস' নামে পরিচিত। স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পর অঞ্চল দুটিকে বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে শনিবার ৫২তম দিনে গড়িয়েছে এই সামরিক অভিযান। এই সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে নিজেদের সাধ্যমতো প্রতিরোধীও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ফলে রাজধানী কিয়েভ ও এর আশেপাশের এলাকা এবং চেরনিহিভ থেকে পিছু হঁটতে বাধ্য হয় রুশ বাহিনী। এদিকে, আমেরিকা ও ইউরোপী ইউনিয়নের দেশগুলো এই অভিযানকে 'পুতিনের ভূমি জবরদখল' বলে আখ্যা দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার পেটে ব্যাথা শুরু হলে তাকে অধ্যাপক এম. এস আরাফাতের তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হলে আলট্রাসনোগ্রাম করার পর গল-ব্লাডারে পাথর ধরা পরে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিষ মিশ্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উত্তর প্রদেশে গাড়িচাপা দিয়ে ৪ কৃষকসহ ৮ জনকে হত্যার অভিযোগ ওঠার ৫ দিন পর গতকাল শনিবার রাত ১১টায় টায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। লখিমপুর খেরিতে ১২ ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।গত রোববার কৃষক অবরোধ চলাকালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র ও তাঁর ছেলে আশিস মিশ্রের গাড়িবহর চার কৃষককে পিষে মারে। পরে সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ মোট আটজনের মৃত্যু হয়। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আশিস নিজে গাড়ি চালিয়ে হত্যা করেন আন্দোলনকারীদের। সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে তাঁকে দেখাও যায়।এক প্রবীণ ইউপি পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার আশিস মিশ্রের উপস্থিতির জন্য তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে তাঁকে পেছনের দরজা দিয়ে আনার পর গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।ভারতের উত্তর প্রদেশের লখিমপুরে গাড়িচাপা কাণ্ডে আটজন মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপি সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনার পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, সরকারের ভূমিকা মোটেই যথেষ্ট নয়। ৮ অক্টোবর সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে ঘটনার পর গৃহীত ব্যবস্থাদি জানিয়েছে।ঘটনার ভয়াবহতা লক্ষ্য করে আইনজীবীর চিঠি পেয়ে গতকাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার ডিভিশন বেঞ্চ মামলা গ্রহণ করেন। আদালত জানান, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা তাঁর ছেলেকে আড়াল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।প্রধান বিচারপতির বলেন, সরকারে দায়িত্বশীল আচরণ আদালত প্রত্যাশা করেন। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার সম্মতি দেননি সর্বোচ্চ আদালত। কারণ এ ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো প্রভাবশালীর বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আসে বলে আইনজীবীরা অনেকে মনে করেন। লখিমপুরের ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত যে কড়া অবস্থান নেবেন, এদিন সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। তাই উত্তর প্রদেশে বিধানসভা ভোটের আগে বেশ সংকটে ভারতের শাসক দল বিজেপি। | 3 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ভাই নিহত হয়েছে। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত একজনের নাম তুষার (৪০) আরেকজনের নাম বিপ্লব (৪২) । নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন জানান, আহত সাজ্জাদ ও প্রণবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। | 6 |
৭ মার্চ ছিলো বাঙালি জাতীর জীবনে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাঙালি জাতি সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিকামী মানুষ তাদের নেতার মুখে মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা শোনার জন্য এসেছিলেন। দেশের সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা জানতে অধীর আগ্রহে ছিলেন মুক্তিকামী জনতা। তাদের মুখে ছিলো নানা ধরনের স্বাধীনতার পক্ষের স্লোগান। ঐতিহাসিক এ ভাষণটি সবদিক থেকেই ছিলো পরিপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে এ ভাষণ প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এ ভাষণ মানুষের মনের মণিকোঠায় থাকবে। সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৌর ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু জাফর আহম্মদ শীশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পাঠান, পৌর মেয়র মনির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য আবুল হোসেন, তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, পিংনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আল মামুনসহ পৌরসভার নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর বৃন্দ। | 6 |
বাংলাদেশকে পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় তিনি পরামর্শ দেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, বাংলাদেশ সম্পর্কে নয়। বুধবার (১ জুন) সকালে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিদেশি দূতদের মতামত জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় রাষ্ট্রদূতদের দেশের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত অনুষ্ঠান 'ডিক্যাব টক'-এ উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন। প্রশ্নোত্তর পর্বেও এসব বিষয় ঘুরেফিরে এসেছে। বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশি দূতদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। বুধবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আপনারা অনুগ্রহ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করবেন, কেন তারা তাদের নিজ দেশে এ ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পারে না এবং প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়। এমনকি শিশুরা তাদের মা-বাবাকে আর কাছে পায় না। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, বাংলাদেশ সম্পর্কে নয়। তিনি আরও বলেন, আপনারা কেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে প্রশ্ন করেন না, তাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলে কেন তরুণ মার্কিনরা তাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না এবং কেন তরুণ মার্কিনদের মধ্যে ভোট দেয়ার হার কম? প্রতিটি নির্বাচনে কেন তাদের ভোটারদের প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট দেয়? এটা কি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনপ্রক্রিয়া? | 6 |
বিনোদনধর্মী ছবিতে একজন কমেডিয়ান যেন থাকতেই হয়। গল্পের উত্তেজনায় দর্শকের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এলে কমেডিয়ানের কাজ হচ্ছে একটু স্বস্তি ছড়িয়ে দেওয়া। পর্দায় কমেডিয়ানের এমন ভূমিকা দেখেই দর্শক অভ্যস্ত। ষাটের দশক থেকেই এ দেশের সিনেমায় কমেডিয়ানের দাপট। কখনো কখনো নায়ক-নায়িকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে গেছেন কমেডিয়ানরা। এ রকম কজন কমেডিয়ানের অন্য পরিচয় সম্পর্কে জানাব আজ। যাঁরা কেবল হাসি-তামাশা করেই সিনেমাজীবন কাটিয়ে দেননি, মাঝেমধ্যে কাজের পরিধিতে যোগ করেছেন বৈচিত্র্য। ষাটের দশকের কমেডিয়ানদের কথা বললে যাঁর নাম সবার আগে আসে, তিনি খান জয়নুল। ক্ষণজন্মা এই পুরুষ তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ করেছেন পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশের দর্শকদের। 'দর্পচূর্ণ', 'মধুমালা', 'ময়নামতি', 'অন্তরঙ্গ'সহ অনেকগুলো ছবিতে হাসির খোরাক জোগান দিয়েছেন তিনি। কমেডিয়ানের বাইরেও তাঁর পরিচয়, তিনি ছিলেন একজন কাহিনিকারও। '১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন'-এর মতো বিখ্যাত হাসির ছবির কাহিনিকার খান জয়নুল। এমনকি 'পূর্বাণী' পত্রিকায় কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি। আনিসের নাম বাদ দিয়ে ষাটের দশকের অভিনেতাদের তালিকা করা যাবে না। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করে তিনি পুরো দেশের মানুষের মন জয় করেছিলেন। 'জরিনা সুন্দরী', 'জংলি মেয়ে', 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল', 'অবাঞ্ছিত', 'অঙ্গার', 'বারুদ', 'উজানভাটি', 'লাল কাজল'সহ বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন আনিস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, চলচ্চিত্র সম্পাদক হিসেবে প্রাথমিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। টেলি সামাদ কমেডিয়ান হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। 'সোহাগ', 'নয়নমণি', 'গোলাপী এখন ট্রেনে', 'অশিক্ষিত', 'চন্দ্রলেখা', 'কথা দিলাম', 'ভাত দে' ছবিগুলোতে অভিনেতা হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর হাসির অভিনয়ের পেছনে আড়াল হয়েছে তাঁর গায়ক পরিচয়। অনেকগুলো ছবিতে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত 'মনাপাগলা' ছবিতে গান গেয়েছেন টেলি সামাদ। তা-ও আবার যে সে গায়িকার বিপরীতে নয়, সাবিনা ইয়াসমীনের মতো শিল্পীর সঙ্গে। 'মনাপাগলা' ছবিটি প্রযোজনাও করেছিলেন টেলি সামাদ। এ ছবিতে তিনি নায়কও হয়েছিলেন। কাজী হায়াতের আরেক ছবি 'দিলদার আলী'তেও নায়ক তথা নাম ভূমিকায় টেলি সামাদই অভিনয় করেছেন। এখানেও তিনি গান গেয়েছেন। সেই গানের সুরও তিনি নিজে করেছিলেন। হাসমতের বোকা বোকা অভিনয় ছাড়া এ দেশের সিনেমার ইতিহাস পূর্ণাঙ্গ হয় না। 'হাবা হাসমত' নামে কেবল পরিচিতিই পাননি, এই নামে একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। তাঁর আরও কিছু বিখ্যাত ছবির মধ্যে অন্যতম 'এতটুকু আশা', 'নীল আকাশের নিচে', 'বিনিময়', 'আলোর মিছিল'। অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালনাও করতেন হাসমত। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে 'স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা', 'এখানে আকাশ নীল', 'হাসিকান্না', 'নকল মানুষ', 'মধুমিতা' ইত্যাদি। তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি 'বউ হবো'। এবার বলা যাক দিলদারের কথা। ছবির সংখ্যার দিক থেকেও রেকর্ডটি তাঁর দখলে। 'লড়াকু', 'যন্ত্রণা', 'ত্রাস', 'তেজী', 'খায়রুন সুন্দরী', 'স্বপ্নের পৃথিবী'সহ কয়েক শ ছবিতে কমেডিয়ান হিসেবে দর্শকেরা পেয়েছেন দিলদারকে। নারী কমেডিয়ান নাসরিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে শতাধিক গানেও পারফর্ম করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়ে নূতনের বিপরীতে তাঁকে নায়ক বানান 'বেদের মেয়ে জোছনা' ছবির পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল। 'আবদুল্লাহ' নামের সেই ছবি হিট হয়ে গেলে বেশ সাড়া পড়ে যায়। এ তো গেল কমেডিয়ানদের কথা। আরেক ধারার অভিনেতা আছেন, যাঁরা হাসির অভিনয়ও করতেন আবার গুরুগম্ভীর অভিনয়ও করতেন। এ সুযোগে তাঁদের কথাও কিছুটা বলা যেতে পারে। পরিচালক সুভাষ দত্ত তাঁদের অন্যতম। 'সুতরাং'-এর মতো ছবিতে তিনি যেমন নায়ক, বহু ছবিতে আবার তিনি স্রেফ দর্শক হাসানোর কাজটি করেছেন। তবে তাঁর পরিচালক পরিচয়টি এসবের ভিড়ে হারিয়ে যায়নি। বরং এ দেশের শ্রেষ্ঠ পরিচালকদের নাম নিতে গেলে তাঁর নাম আসবেই। একই কথা খাটে আমজাদ হোসেনের বেলাতেও। বহু ছবিতে গুরুগম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আবার শুরুর দিকে অনেক ছবিতে লোক হাসানোর কাজও করেছেন সার্থকভাবে। 'জীবন থেকে নেয়া'য় তাঁর অভিনয় দর্শক ভুলে যাননি। অথচ অভিনেতা নয়, তাঁর পরিচয় তিনি এ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে। এ বেলায় আশীষ কুমার লৌহর নামটিও নেওয়া যায়। তিনিও হাসির অভিনয় করতেন। যদিও তাঁকে শুধু কমেডিয়ান বলা যায় না। তিনিও অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প, সংলাপ, চিত্রনাট্য লিখতেন। এ টি এম শামসুজ্জামানকে লোকে কৌতুক অভিনেতা, খলনায়কসহ নানা বিচিত্র চরিত্রে দেখতে পেয়েছেন। এসবের বাইরে তাঁর আরেকটি প্রতিভা ছিল। তিনি একজন চিত্রনাট্যকার। 'সীমার'-এর মতো প্রশংসিত ছবির চিত্রনাট্য তাঁর লেখা। এতক্ষণ যাঁদের কথা বলা হলো, একমাত্র এ টি এম শামসুজ্জামান ছাড়া তাঁদের সবাই প্রয়াত। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁদের অবদান কম নয়, বিশেষ করে চলচ্চিত্রে। | 2 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় হাঁসের বাচ্চা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মঈন গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, মজলিশপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার হারিজ মিয়ার ছেলে রুবেল একই এলাকার মৃত আহমদের ছেলে জাহাঙ্গীরের ঘর থেকে হাঁসের বাচ্চা নিয়ে যায়। হাঁসের বাচ্চা নেওয়ার সময় রুবেলকে বাধা দিলে হারিজ মেম্বারের ছেলে ও মেয়েরা জাহাঙ্গীরের উপর হামলা করে। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে গিয়ে আরও ১৪ জন আহত হন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জানান, মজলিশপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় ১০-১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন
| 6 |
জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর অর্থমন্ত্রী প্রথমেই চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করেন।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মূল বাজেট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (জিডিপির ১০ দশমিক ৩ শতাংশ) প্রাক্কলন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এনবিআর রাজস্বের ক্ষেত্রে আয় ও মুনাফার ওপর কর এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আদায় আশানুরূপ হয়নি। অন্যদিকে, কর-বহির্ভূত রাজস্বের আওতায় বিটিআরসির উদ্বৃত্ত ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ কাঙ্খিত মাত্রায় পাওয়া যাবে না বলে ধারণা করছি।'
চলতি অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয়ের পরিমাণও কমানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা কমিয়ে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকায় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
তিনি বলেন, 'অনুন্নয়নসহ অন্যান্য রাজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ ২৩ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। অন্যদিকে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার কিছুটা হ্রাস করে ৯১ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।'
অর্থমন্ত্রী জানান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত প্রকল্পের বরাদ্দসহ সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার দাঁড়াচ্ছে ৯৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা (জিডিপির ৫ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা (জিডিপির ৫ শতাংশ)।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল প্রাক্কলনে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের পরিমাণ ৩০ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক ৮ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বাজেটে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন কিছুটা কমিয়ে ২৪ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থায়ন ৬২ হাজার ১৭৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস, বিশেষ করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ব্যাংক ব্যবস্থা হতে ঋণ গ্রহণ কিছুটা হ্রাস পাবে। প্রকৃতপক্ষে চলতি অর্থবছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা টাকার কিছুটা বেশি।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে আমরা প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম ৭ শতাংশ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে, যাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের কিছু বেশি। এক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬, ১০ দশমিক ১ ও ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
| 0 |
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হংকংয়ে তাদের কার্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের রোষানলে পড়ার শঙ্কায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি আজ সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছে। চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে আজই সংগঠনটির সাবেক এক খাদ্য সরবরাহ কর্মীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত করার পর অ্যামনেস্টি এ ঘোষণা দিল। এ নিয়ে ওই নিপীড়নমূলক আইনে দুজন দোষী সাব্যস্ত হলেন। গণতন্ত্রের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের জেরে গত বছর চীনের কমিউনিস্ট সরকার হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে। তখন থেকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈচিত্র্যের শহর হংকং পরিণত হয়েছে ভয় আর শঙ্কার শহরে। অ্যামনেস্টির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আনঝুলা মিয়া সিং বায়স বলেছেন, কার্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত খুবই ভেবেচিন্তে নেওয়া হয়েছে। হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁদের। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হংকংয়ে মুক্তভাবে কাজ করা এবং সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ হুমকি ছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজ করা প্রায় অসম্ভব। চার দশকের বেশি সময় ধরে হংকংয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল অ্যামনেস্টি। শহরটিতে অ্যামনেস্টির দুটি কার্যালয় রয়েছে। এই দুটি কার্যালয়ের মধ্যে একটি বন্ধ হবে ৩১ অক্টোবর। অপরটি বন্ধ করা হবে চলতি বছরের শেষের দিকে। চীন সরকার জাতীয় হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনকে নিরাপত্তার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী, পশ্চিমা বিশ্ব এই আইনকে হংকংয়ে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা রোধের ভয়াবহ 'অস্ত্র' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। | 3 |
মূলা শীতকালীন সবজি হলেও এখন প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায়। অনেকে মূলা খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলার চেয়ে এর শাক বেশি উপকারী। এই শাকও এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে এই শাকের আসল মজাটা শীতেই পাওয়া যায়। মূলায় যে পরিমাণ পুষ্টি উপাদান আছে তার তুলনায় এর শাকে পুষ্টি বেশি থাকে। এতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ যেমন- আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড, ফসফরাস এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকে। মূলা শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা কোষ্টকাঠিন্য কমায়, ভালো রাখে পাকস্থলী। এই শাক আয়রনের জন্য আদর্শ। এটি রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মূলা শাকে থাকা আয়রন এবং ফসফরাস ফ্যাটিগো কমায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মূলা শাকের জুস প্রাকৃতিকভাবে ইউরিনারি ব্লাডার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। মূলা শাকে অবিশ্বাস্য পরিমাণে ভিটামিন 'সি' রয়েছে। এটি স্কার্ভি নামক চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। মূলা শাকে মূলার চেয়ে বেশি এন্টিসারব্যাটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মূলা শাক পাইলসের ব্যথা সারাতে বেশ কার্যকরী। এছাড়া পাইলসের প্রদাহ সারাতেও এই শাক ভূমিকা রাখে। মূলা শাক জন্ডিসের চিকিৎসাতেও ভাল কাজ করে। জন্ডিস হলে এই শাকের জুস যদি প্রতিদিন খাওয়া হয় তাহলে উপকার পাওয়া যায়। হাঁটুর ব্যথা কমাতে মূলা শাক বিশেষ ভূমিকা রাখে। এজন্য শাক ভালোভাবে পিষে তাতে সম পরিমাণে চিনি আর সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর আক্রান্ত স্থানে তা লাগান। তাহলে হাঁটুর ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে। ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও মূলা শাক বেশ কার্যকরী । এছাড়া শরীর থেকে টক্সিন বের করতেও মূলা শাক বিশেষ ভূমিকা রাখে। | 4 |
পরিচালকের হাতে অভিনেত্রী ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানি এটা বলিউড পাড়ায় নতুন কোনো খবর নয়। প্রায়ই দেখা যায় পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর ধর্ষণ মামলা করতে। সম্প্রতি বলিউডের নামী পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেছেন অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন বলে তার আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। নিজের অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে পায়েল বলেন, তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোর করেছিলেন অনুরাগ। মিটিং শেষে আমাকে একটি ঘরে নিয়ে যান অনুরাগ। তারপর ধীরে ধীরে নিজের পোশাক খুলতে শুরু করেন তিনি। আমাকে জোর করার চেষ্টা করেন। আমি জানাই যে আমি খুব একটা স্বস্তি বোধ করছি না। তখন উনি বলেন, 'সবাই এসব বলে থাকে।' ধীরে ধীরে তিনি আমার কাছে আসেন। এরপর আমি আবার নিজের অস্বস্তির কথা বললাম। তারপরই অনুরাগ বলেন, 'ঠিক আছে, পরে যখন তুমি আসবে তখন তৈরি হয়ে এসো'। সেটা শুনেই আমি ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই'- যোগ করেন পায়েল। এই বাঙালি অভিনেত্রীর দাবি, এরপর অনুরাগ তাকে বহুবার মেসেজ করলেও তিনি প্রত্যুত্তর দেননি। সেই সাক্ষাৎকারে পায়েলের কাছে তার অভিযোগের ব্যাপারে কোনো প্রমাণ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, '২০১৪ সালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কোনো প্রমাণ আমার কাছে এখন নেই।' পায়েল তার টুইটে যে তিন বলিউড অভিনেত্রী অনুরাগের 'লালসার শিকার' হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন সেই তিন অভিনেত্রী অর্থাৎ হুমা কুরেশি, রিচা চাড্ডা এবং মাহি গিল অনুরাগেরই পক্ষ নিয়েছেন। তারা বলেছেন, অনুরাগের কাছ থেকে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার তারা পাননি। | 2 |
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় হাফেজ মুইজুদ্দীন ভূঁইয়া (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি ইমামের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার ভোর বেলায় দোহার মাতার কাদিম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ফজর নামাজের সময় মসজিদে যাওয়ার পথে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ২০১৪ সালে হাফেজ মুইজুদ্দীন ভূঁইয়া কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয় ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মৃত্যুতে কাতারে আলেম সমাজের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
বাসাবাড়ির বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, আবর্জনায় বদ্ধ ছিল রামচন্দ্রপুর, ইব্রাহিমপুর, মান্ডা, জিরানীসহ রাজধানীর অন্যান্য খাল। দখলদারদের থাবা ও ময়লার স্তূপে ক্ষীণ হয়ে এসেছিল খালের পানি প্রবাহ। ওয়াসার কাছ থেকে খালের দায়িত্ব ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাতে আসতেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান। তিন স্তরের পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিয়ে খাল বাঁচাতে মাঠে নেমেছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খাল উদ্ধার করতে গেলেই সীমানা নিয়ে বিভিন্ন রকমের সমস্যায় পড়ি। এ জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তারা খালের সীমানা নির্ধারণে সহযোগিতা করবে। নভেম্বরের মধ্যে তারা সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করবে। তারা সিএস, আরএস, মহানগর জরিপ নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করবে। খাল ডাস্টবিন হিসেবে নয়, পানি প্রবাহ ও যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হবে। খাল রক্ষায় বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। খালে ময়লা ফেললে তাদের ছবি দেখে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র আবু নাসের জানান, 'জিরানী খাল, মান্ডা খাল, শ্যামপুর খাল, বাসাবো খাল, তিতাস খাল, কাজলা খাল, কামরাঙ্গীর চর খাল, পান্থপথ বক্সকালভার্ট ও সেগুনবাগিচা বক্সকালভার্ট থেকে এ পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৪০ টন এবং খাল থেকে পলি অপসারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টন। দুই বক্স কালভার্ট পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে। খালের বর্জ্য অপসারণ করায় জলজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি নগরবাসীকে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে খালগুলো।' তবে জিরানী খালের এক পাশে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। ভাগাড়ের ময়লা ধীরে জলে যাচ্ছে খালের ভিতরে। এভাবে ময়লা ফেলে খাল ভরাটের চেষ্টা চলছে বলে জানান এলাকাবাসী। | 6 |
ইউক্রেনে নিহত বাংলাদেশি নাবিক হাদিসুর রহমানের মরদেহবাহী ফ্রিজারভ্যান মলদোভার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় এইযাত্রা শুরু করে ফ্রিজারভ্যানটি। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মলদোভার প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে পৌঁছাবে তার মরদেহ। এরপর সেখান থেকে বাংলাদেশে আনা হবে। তিনি বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অফিসিয়াল লোকজন না থাকার কারণে হাদিসুরের মরদেহ ইউক্রেন থেকে রোমানিয়ায় নিতে বিলম্বিত হয়। মরদেহটি বৃহস্পতিবার ভোরে রোমানিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোমানিয়ান অথরিটি শেষ মুহূর্তে হাদিসুরের পরিবারের সম্মতিপত্র চাওয়ায় যাত্রা বিলম্বিত হয়। বাংলাদেশ থেকে ইমেইলে সম্মতিপত্র পাঠানো হয়। যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মলদোভার উদ্দেশে রওনা হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে ২৯ জন ক্রু নিয়ে অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়ে জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি। পরে গত ২ মার্চ রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা যান। তবে অন্য ২৮ জনকে বৃহস্পতিবার জাহাজটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হাদিসুরের মরদেহ ও বেঁচে যাওয়া ২৮ নাবিককে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। ৫ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুরে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর সংলগ্ন বাংকার (শেল্টার হাউজ) থেকে বেরিয়ে মালদোভার পথে যাত্রা শুরু করেন ২৮ নাবিক। ৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে তারা ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে মালদোভা হয়ে দুপুরের পর রোমানিয়া পৌঁছান। গত বুধবার ২৮ নাবিক রোমানিয়ার বুখারেস্ট বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
ভারতসহ সারা বিশ্বের বিনোদন অঙ্গন মেতেছে তার গানে। বাদাম বিক্রেতার চেয়ে এখন শিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। দিনে দিনে নিত্যনতুন ভিডিও দেখা যাচ্ছে তার সেই গানের। তবে এবার আর বাদাম বিক্রি করবেন না বলে জানালেন 'কাঁচা বাদাম' গানের স্রষ্টা ভুবন বাদ্যকর। ভুবন জানিয়েছেন, এখন আর বাদাম বিক্রি করব না। আমি এখন তারকা হয়ে গিয়েছি। এখন বাদাম বিক্রি করলে সবাই ঘিরে ধরবে আর বাদামই বিক্রি হবে না। আর আপনাদের কাছে যখন পৌঁছে গিয়েছি, তখন আর আশা করি আমাকে আর বাদাম বিক্রি করতে হবে না।' তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সেই চুক্তি হলো। বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সেই জন্যই বীরভূমের ইলামবাজারে গিয়েছিলেন ভুবন। এদিন তার কাছে দেড় লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় তাকে। বাকি টাকা পরে দেওয়া হবে। গোধূলিবেলা মিউজিক কোম্পানির কর্মকর্তাগোপাল ঘোষ বলেন, ভুবনের গান প্রকাশ করলেও, কপিরাইটের বিষয়টি সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল ছিলাম না। তাই গানটির যথেচ্ছ ব্যবহার হয়েছে। তবে এখন বিষয়টি বুঝেছি। গান চুরি রুখতে আগামী দিনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 2 |
বাবা তাঁকে লক্ষ্মী বলে ডাকতেন। পারিবারিক নাম ছিল হেমা। বাবার 'ভাব বন্ধন' নাটকের 'লতিকা' চরিত্রে প্রভাবিত হয়ে নাম বদলে রাখা হয় লতা।প্রথম দিন স্কুলে গিয়েই অন্য বাচ্চাদের গান শিখিয়েছিলেন লতা। সে কারণে শিক্ষকের কাছে বকা খাওয়ায় পরের দিন থেকে স্কুল যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।যখন বাবা মারা যান লতার বয়স তখন মাত্র ১৩। পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লতা।মঞ্চে গান গেয়ে জীবনের প্রথম উপার্জন ছিল ২৫ টাকা।১৯৪২ সালে মারাঠি সিনেমা 'কিতি হসাল'-এ প্রথম প্লেব্যাক করেন লতা।১৯৪৯ সালে প্রথম হিট হয় লতার গাওয়া গান 'আয়েগা আনেওয়ালা'।এমনও দিন গেছে, শুধু পানি খেয়ে সারা দিন রেকর্ডিং করেছেন। সারাক্ষণ মাথায় ঘুরত-যেভাবেই হোক নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।লতাকে বিষ দিয়ে মারার চেষ্টাও হয়েছিল। পরিবারের কেউ এ কাজ করেছিলেন। কিন্তু প্রমাণ না থাকায় এ নিয়ে কথা বাড়াননি তিনি।জানা যায়, ভরপেট খাওয়া বা আইসক্রিম কোনোটাই গলার জন্য খেতেন না লতা।'আনন্দঘন' ছদ্মনামে মারাঠি গানের সংগীত পরিচালনাও করেছেন তিনি।১৯৯৯-২০০৫ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় সংসদ সদস্য ছিলেন।সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করায় ১৯৭৪ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছিল লতার।লতা মঙ্গেশকর সর্বশেষ ২০১৫ সালে গান রেকর্ড করেছিলেন।লতা মঙ্গেশকরসম্পর্কিত আরও পড়ুন:'লতাজি ডেকেছেন, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাই'লতা মঙ্গেশকরের অন্তিম যাত্রায় ভক্তের ঢলআমার নয়ন দুটি শুধুই তোমারে চাহেহেমা থেকে লতা হওয়ার গল্পলতা মঙ্গেশকরের শেষ গান ছিল যেটিকিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরচলে গেলেনলতা মঙ্গেশকরের বিদায়ে কোহলিদের শোকলতা মঙ্গেশকরের অবস্থা আশঙ্কাজনককরোনার পাশাপাশি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত লতা মঙ্গেশকরকরোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে লতা মঙ্গেশকর | 6 |
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করা হয়েছে। এর আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করার কথা জানায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পিআরও হায়দার আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করা হয়েছে। মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বরখাস্তের বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আছে। এরমধ্যে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করা, জায়গা দখণ, অর্থ আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ আছে। সেগুলো তদন্তের স্বার্থে এখন বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, 'যেহেতু আইন অনুযায়ী কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি/মেয়রের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ উঠে এবং তদন্তের নিষ্পত্তির জন্য আমলে নেওয়া হয় তাহলে আইনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম আছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন কবে দেওয়া হবে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমার তার (জাহাঙ্গীর) বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের নথি আমলে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই তদন্ত আরম্ভ হয়েছে। কত দিন লাগতে পারে সেটি এখন বলা মুশকিল। তদন্তে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তাজুল ইসলাম। গত ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে দেওয়া গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও গত অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। মেয়রের পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতি উৎসাহী হয়ে তার বক্তব্যের ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। পরে গত ৩ অক্টোবর দলের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শোকজের জবাব দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান গাজীপুরের মেয়র। | 6 |
পুরো উদ্যোমে এগিয়ে চলছে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। ২০২৩ সালে প্রকল্পটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে রাশিয়া ও বাংলাদেশীসহ মোট ২৫ হাজার মানুষ নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, 'রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প দেশের অগ্রাধিকারভুক্ত একটি প্রকল্প। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এ প্রকল্পের কাজ আগের মতো পুর্ণোদ্যমে চলছে। করোনা ভাইরাস যাতে এই প্রকল্পের কাজে কোনো বাধা হতে না পারে সে জন্য সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রকল্পের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।' তিনি বলেন, জুলাই মাসে প্রকল্পে কর্মরত প্রায় আট হাজার বাংলাদেশী ও বিদেশী নাগরিকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। আক্রান্ত রুশ কর্মীদের রূপপুর আবাসন প্রকল্পের গ্রিন সিটির হসপিটালে আইসোলেশন করে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও তাঁদের জন্য ১০টি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মীরা যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন। ড. শৌকত আকবর জানান, ইতিমধ্যে আমরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগামী ১০-১১ জুলাইয়ের মধ্যে রুশ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রোসাটমের পরিচালক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কিভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত সকলকে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প সাইটের সকল প্রবেশ পয়েন্টসহ অফিস বিল্ডিং এবং ক্যান্টিনে প্রবেশকালে কর্মীদের তাপমাত্রায় স্ক্যান করা হচ্ছে। সাইটের সকল স্থানে প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। দেশী-বিদেশি সকল কর্মীকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সকল ধরণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রকল্পের প্রবেশ পথে একটি মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের নিজস্ব চিকিৎসক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন প্রকল্পে কর্মরত সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে আমরা বিদেশিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা পূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশে প্রথম এই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। ফলে করোনা সতর্কতা অবলম্বন করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে জরুরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এতে বলা হয়, রাশিয়ার পারমাণু বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক লোককে দূর থেকে কাজ করার সুযোগ প্রদান, প্রচুর পরিমাণে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ও হাইজিন পণ্য সংগ্রহ, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বাতিল। এ ছাড়াও সকল স্থাপনা ও যানবাহনগুলোতে অব্যাহতভাবে জীবাণুমুক্ত কার্যক্রম পরিচালিত করা। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, করোনা সংকটকালেও বিদেশে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের নির্দেশনা বিশেষভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। | 6 |
বলা হয়, সে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে ৫৩ মিনিট খেলার রেকর্ড আছে তাঁর। কিন্তু সেই অল্প সময়ের মধ্যে ফাঁস হয়ে যায় তাঁর সব জোচ্চুরি। এই ফুটবলার হচ্ছেন সেনেগালের আলি দিয়া।সেনেগালের প্রথম আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতার আগে কেউ কেউ মনে করেছেন দিয়ার কথাও। ফুটবল মঞ্চে সেনেগাল পরিচিত হওয়ার আগেই এই দেশকে আলোচনায় নিয়ে এসেছিলেন দিয়া। তবে তাঁর গল্প যতটা প্রতারণার, ততটাই মজার আর স্বপ্ন পূরণের।ফ্রান্স ও জার্মানিতে নিচের সারির ক্লাবে খেলে ক্যারিয়ার শুরু করেন দিয়া। তবে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন প্রিমিয়ার লিগে খেলার। গিলিংহাম ও এএফসি ব্রুনমাউথের হয়ে ট্রায়ালও দিয়েছিলেন। তবে তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলগুলো। যোগ দেন নন-লিগ ক্লাব ব্লাইথ স্পোর্টসে। যেখানে বদলি হিসেবে শুধু একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান দিয়া।কদিন পরই আকস্মিক এক পরিবর্তন ঘটে দিয়ার ক্যারিয়ারে। ১৯৯৬ সালে তাঁকে দলে টেনে নেয় সাউদাম্পটন। তেমন কোনো পরিচিত কিংবা খেলোয়াড়ি দক্ষতার নিদর্শন না থাকলেও দিয়াকে দলে টানার পেছনে ছিল অদ্ভুত এক ফোন কল। দিয়াকে দলে নিতে সাউদাম্পটন ম্যানেজার গ্রায়েম সাউনেসকে ফোন করেন লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার ও ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার জেতা জর্জ উইয়াহ। উইয়াহ সাউনেসকে ফোন দিয়ে জানান, দিয়া তাঁর জ্ঞাতি ভাই।এমনভাবে দিয়াকে উপস্থাপন করা হয় যেন তিনি আফ্রিকার একজন তারকা। উইয়াহর সেই ফোন পেয়েই দিয়াকে এক মাসের চুক্তিতে দলে নেন সাউদাম্পটন কোচ। কিন্তু অনুশীলনে দিয়ার খেলা এতটাই বাজে ছিল, বাকি খেলোয়াড়েরা যারপরনাই বিস্মিত!৩৩ নম্বর জার্সি পরে সাউদাম্পটনের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান দিয়া। সেই ম্যাচে সাউদাম্পটনের প্রতিপক্ষ ছিল লিডস ইউনাইটেড।সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে ম্যাথিউ লে টিসিয়ের চোটে পড়লে ৩২ মিনিটে মাঠে নামেন দিয়া। কিন্তু মাঠে তাঁর খেলা এতটাই বাজে ছিল যে, ৮৫ মিনিটেই দিয়াকে তুলে নেন সাউনেস। ম্যাচে তাঁর খেলা দেখে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন সাউনেস ও খেলোয়াড়েরা। যাঁর জায়গায় দিয়া মাঠে নামেন সেই টিসিয়ের বলেছিলেন, 'তাঁর খেলা দেখা ছিল খুবই বিব্রতকর একটা ব্যাপার।'এই ম্যাচের পর উধাও হয়ে যান দিয়া। ব্যাখ্যা চাইতে যোগাযোগ করা হয় উইয়াহর সঙ্গে। কিন্তু হতভম্ব উইয়াহ বলেন, এই নামে তাঁর কোনো ভাই-ই নেই! এমনকি তিনি কোনো ফোনো করেননি।মূলত প্রতারণার আশ্রয় নিয়েই সাউদাম্পটনে আসেন দিয়া। শুধু এটুকুই নয়, দিয়া তাঁর বয়সও লুকান। সে একজন অর্থনীতির ছাত্র, যাঁর স্বপ্ন ছিল প্রিমিয়ার লিগে খেলার। তাঁর এক বন্ধু উইয়াহ সেজে সাউনেসকে ফোন করেছিলেন।মাত্র ৫৩ মিনিট ফুটবল খেলে দ্য টাইমসের প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বাজে ৫০ খেলোয়াড়ের তালিকায় শীর্ষ স্থানে আছেন দিয়া। ইএসপিএনের করা প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বাজে ৫০ দলবদলের তালিকাতেও শীর্ষেও তিনি। | 6 |
ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য দর্শনীয় স্থান হতে পারে খুলনার ডুমুরিয়ার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়নায় অবস্থিত ভরতের দেউল। ডুমুরিয়ার চুকনগর এলাকা হতে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভদ্রা নদীর তীরে এর অবস্থান। এটি একটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন, যা দেখতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মতো। রাজা দশরথের দ্বিতীয় স্ত্রী রানি কৈকেয়ীর ছেলে ভরত রাজার নামানুসারে ভরতের দেউল নামকরণ হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।খুলনা ও যশোর জেলা সীমান্তের ভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন যুগের অনেক নিদর্শন নিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে ভরত রাজার দেউল। অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মতো দেখতে এই প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছরের পুরনো।উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিন ভ্যান অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে অনায়াসে পৌঁছানো যায় এই দেউলে। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে নির্মিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারি এটাকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেউল খননের কাজ চালায়। খননের সময় পোড়ামাটির তৈরি নারীর মুখমণ্ডল, দেবদেবীর নৃত্যের দৃশ্যসংবলিত টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত টেরাকোটার মধ্যে এটি বৃহৎ আকৃতির। তা ছাড়া নকশা করা ইট, মাটির ডাবর, পোড়ামাটির গয়নার মূর্তি পাওয়া যায়। এই অঞ্চলে অন্য কোনো পুরাকীর্তিতে এত বড় আকারের ইট ব্যবহৃত হয়নি। সরকারি উদ্যোগে ভরত রাজার দেউল হতে পারে ভিন্নমাত্রার পর্যটনকেন্দ্র।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) আফরোজা খান মিতা বলেন, 'পুরাকীর্তি হিসেবে ওই দেউলকে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ দেউলকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার চিন্তা আমাদের রয়েছে।' | 6 |
অষ্টমবারের মতো ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবে সাতক্ষীরার আম। এ তালিকায় রয়েছে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম। এ জন্য বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম চাষে জেলার ৫০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৪টি কোম্পানি এসব আম রপ্তানি করবে। আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কারণে দেশের অন্য সব জেলার আগেই সাতক্ষীরার আম পাকতে শুরু করে। এজন্য দেশের বাজারে সবার আগে এখানকার আম বিক্রি শুরু হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাতক্ষীরার আম চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের আমের ফলন কম হয়েছে। দাবদাহ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের আকারও কিছুটা ছোট হয়েছে। তবে এ বছর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় গাছের আম গাছে রয়েছে। এতে চাষিরা বেশ খুশি। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষী রয়েছেন। চলমান মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় তা পূরণ হচ্ছে না। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড় এলাকার আম ব্যবসায়ী বিপ্লব ভট্টাচার্য ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "এ মৌসুমে ১২টি বাগান কিনেছিলাম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান, ফণী, ইয়াসে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাগানের অধিকাংশ গাছে আম আসেনি। যে সময় বৃষ্টির প্রয়োজন ছিলো সে সময় বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক আম ঝরে গেছে এবং আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে। আমের দামও খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। গোপালভোগ মনপ্রতি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছি। এবারও লাভের মুখ দেখব বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবছর লাভের আশায় গাছ কিনে ঋণগ্রস্ত হয়ে গিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "মৌসুমের শুরুতে স্কয়ার কোম্পানি বাগানের ৫ টন আম বিদেশে রপ্তানি করার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমার বাগান আমি নিরাপদ ও বিষমুক্ত রেখে সেইভাবে পরিচর্যা করেছি। কিন্তু তাদের দিক দিয়ে কোনো প্রকার সাড়া পাচ্ছি না। শুনছি এবার সাতক্ষীরা থেকে ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হবে। তবে আমার কাছ থেকে আম না নিলে আমি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।" পৌরসভার রাজার বাগান এলাকার আমচাষী আবুল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমরা সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ খুবই বিপদে আছি। প্রতি বছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের ওপর হানা দিচ্ছে। বিগত দুই তিন বছর আম পাড়ার আগমুহূর্তে ঝড়ের কারণে সিংহভাগ আম নষ্ট হয়ে গেছে।" সাতক্ষীরা জেলার আমচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন বলেন, "গত কয়েক বছর করোনাভাইরাসে মহামারি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলার আম চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় এ মৌসুমে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তারপরও চাষির ভালো দাম পাবেন বলে আশায় বুক বাধছেন।" তিনি আরও বলেন, "আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে অন্যান্য জেলার আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম আগেভাগে পাকে। ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম বিদেশে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে বিদেশে আম পাঠানো যায়নি।" লিয়াকত হোসেন বলেন, "এ বছর আবারও কয়েকটি কোম্পানি বিদেশে আম রপ্তানির জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের মান অনুযায়ী আম সরবারহ করতে পারব। বেশ কয়েকটি বাগানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী আমের পরিচর্যা করা হয়েছে। আশা করছি সাতক্ষীরার আম ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাবে।" সুলতানপুর বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "সরকারি নির্দেশনায় ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ সাতক্ষীরার স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা বড় বাজারের প্রতিটি আমের আড়তে শুধুমাত্র গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি মণ আম দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ তারিখের পর থেকে হিমসাগর আম বাজারে উঠবে।" সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, "চলমান মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজে আবহাওয়ার কারণে এবার জেলার অধিকাংশ গাছে মুকুল আসেনি। সে কারণে এবার ফলন অনেক খারাপ হয়েছে। সে কারণে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।" তিনি আরও বলেন, "করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে বিদেশে আম রপ্তানি হয়নি। এবারের মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির জন্য ৫০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিছু বাগান বিষমুক্ত ও নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধবভাবে আম উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার ১৪টি কোম্পানি বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের চেইন শপগুলোতে সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া এবং আম্রপালি আম পৌঁছে যাবে বলে কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলা কৃষি বিভাগের বৈঠক হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে।" | 6 |
মাগুরাকে সারা দেশের করোনার ঝুঁকিতে থাকা ১২ জেলার মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা মাগুরা জেলার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন পর আবারও খারাপের দিকে যেতে পারে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে টিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মাগুরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে।জেলা সিভিল সাজন কার্যালয় থেকে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে মাগুরায় করোনায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে ৫৯ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালের নতুনর ভবনে করোনা রোগীদের জন্য ৫ তলায় যে ওয়ার্ড ছিল তা আবার রোগী ও স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।সরেজমিনে গতকাল রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, একই তলায় এক পাশে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ ওয়ার্ড। আর বাইরে মেঝেতে শুয়ে আছেন শরীরের অণ্যসব সমস্যা নিয়ে বেশ কিছু রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনেরা।মেঝেতে থাকা ফাতেমা খাতুন জানান, তাঁর রক্ত নেওয়া লাগছে। তাই পুত্রবধূর সঙ্গে হাসপাতালে চার দিন আগে ভর্তি হয়ে আছেন। করোনা ওয়ার্ড পাশেই কিন্তু কিছু করার নেই, হাসপাতালেল ভেতরের কেবিনে কোনো জায়গা নেই।গতকাল রোববার করোনা ওয়ার্ডে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অবস্থায় একজন ৬৭ বছরের ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি করোনা পজিটিভ থাকলেও তাঁর শরীরে আগে থেকে ফুসফুসের ক্যানসার ছিল বলে সিভিল সাজন চিকিৎসক শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানিয়েছেন। জানা গেছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিটির দীর্ঘ দিন ধরে ফুসফুসে ক্যানসারসহ শারীরিক অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি করোনার কোনো টিকাই এর আগে গ্রহণ করেননি। গত শনিবার মাগুরা সদর হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় তিনি ভর্তি হন।মাগুরা জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪২২৭ জন। এর মধ্যে নমুনার সংখ্যা ছিল ২০৮৩৯ জনের যার মধ্যে ২৭০০০ বেশি রিপোর্ট পাওয়া গেছে। করোনায় পজিটিভ নিয়ে মারা গেছেন মোট ৯২ জন। করোনার পরীক্ষার জন্য মাগুরা সিভিল সাজন কার্যালয় ছাড়াও বাকি তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হচ্ছে। | 6 |
দেশের সংস্কৃতিতে বড় একটি মাইলফলক অমর একুশে বইমেলা। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে এবার ৮০০ স্টলে বই তুলেছে দেশের ৫০০টি প্রকাশনা সংস্থা। বেশির ভাগ সংস্থাই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে শুধু শহুরে লেখক, পাঠক আর প্রকাশক নন, একুশে বইমেলা টেনে এনেছে সৃজনশীল সবাইকে। ঢাকার বাইরে থেকে তরুণ শিক্ষার্থী, লেখক, কবির পাশাপাশি হাজির হয়েছেন প্রকাশকেরাও।সরেজমিন দেখা যায়, এবারের মেলায় নতুন বই নিয়ে ঢাকার বাইরের মোট পাঁচটি প্রকাশনা সংস্থার স্টল রয়েছে। গত দুবারের তুলনায় এবারের বিক্রি নিয়েও আশাবাদী দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা এসব প্রকাশক।মেলায় লালমনিরহাটকেন্দ্রিক সংস্থা পূর্বা প্রকাশনী এবার ১৩টি নতুন বই নিয়ে হাজির হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন চত্বরে রয়েছে তাঁদের স্টল। বিক্রয় প্রতিনিধি মাহমুদা রহমান বলেন, 'বিক্রি খুব খারাপ, এটা বলা যাবে না। আশা করছি, বাকি দিনগুলোতে বিক্রি কিছুটা বাড়বে।'পূর্বার প্রকাশক বাদল সাহা শোভন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা ঢাকার বাইরের হলেও বইমেলা কর্তৃপক্ষ সব সময় আমাদের উৎসাহ দেয়। আগামী বছর আরও ভালো ভালো বই নিয়ে আসার ইচ্ছা রয়েছে।'পূর্বার পাশেই রয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা কিশোর কলম প্রকাশনী। এবারের মেলায় তারা ১৫টি নতুন বই নিয়ে এসেছে। প্রকাশনার ব্যবস্থাপক বশির আহমেদ বলেন, 'আমরা নতুন ১৫টি বই নিয়ে এসেছি। পাঠকের ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।'নতুন বইয়ের সংখ্যা কম হলেও এবারই প্রথম মেলায় অংশ নিচ্ছে কুষ্টিয়া প্রকাশন। বিক্রয় প্রতিনিধি হান্নান জানান, প্রথমবার স্টলে পেয়ে তাঁরা দারুণ খুশি। এবারের মেলায় নতুন বই এসেছে তিনটি।লিটলম্যাগ চত্বরে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রকাশনা ধকবিরিম, বাংলায় যার মানে দাঁড়ায় বর্ণমালা। স্টলটিতে দুটি নতুন বই এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা। রংপুরকেন্দ্রিক প্রকাশনা সংস্থা আইডিয়া প্রকাশনের স্টলও মেলার এ পাশটাতে। এ বছর ১০টি নতুন বই নিয়ে এনেছে প্রকাশনীটি। পাশাপাশি পুরোনো ও প্রবীণ লেখকদের বই বিক্রি করছে তারা।এদিকে গতকাল বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৫২টি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেলার শেষ দিকে এসে পাঠকের ভিড়ও বাড়ছে। স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মেলায় বেশ কিছু বই পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত মাসরুর আরেফিনের 'আড়িয়াল খাঁ', ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত পিয়াস মজিদের 'এইসব মকারি' ও রাফিক হারিরির 'কবিরাজনামা' প্রভৃতি বই। এ ছাড়া অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে বিক্রির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মাহতাব হোসেনের লেখা পঞ্চম উপন্যাস 'দিলরুবা'।আজকের পত্রিকাকে লেখক মাহতাব হোসেন বলেন, 'একজন উদীয়মান ও তুখোড় মেধাবী শিল্পী দিলরুবার গল্প। গানের শিক্ষককে বিয়ে করে জীবনের শুরুতেই ধাক্কা খায়। এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কোনোরকম একটা চাকরি জুটিয়ে সামলে নিলেও তার সামনে ছিল আরও অনেক ধাক্কা। ট্রলারে সেন্ট মার্টিন বেড়াতে গিয়ে এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। সেই ঘনিষ্ঠতা তাকে নিয়ে যায় আরেক সর্বনাশে। শেষ পর্যন্ত দিলরুবার জীবনে এক অভাবনীয় মোড় নেয়, সুপ্ত মেধা তাকে পৌঁছে দেয় এক অনন্য স্থানে। রোমান্স-জীবনঘনিষ্ঠ এই উপন্যাসকে আমি বলছি রোমান্টিক থ্রিলার, ভালো লাগবে।' গতকাল মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি' শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। | 6 |
ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে র্যাব সদর দপ্তর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, হেলেনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া মাদক, বিদেশি মুদ্রা ও বন্যপ্রাণীর চামড়া জব্দের ঘটনায়ও পৃথক মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান এএসপি ইমরান। আজ শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪টায় র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় র্যাব-২-এর একটি দল। অভিযানে তাঁর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ আরো অবৈধ মালপত্র জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বাসা থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় রাতেই মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ওই আইপি টিভি জয়যাত্রা'র অফিসেও অভিযান চালান র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের পর র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ বলেন, হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভি অফিসে অভিযানে টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া না গেলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.