text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
পারিবারিক কলহ নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আয়শা আক্তার (৩০) নামে এক নারী খুন হয়েছেন। খুনের পর স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম রাজ্জাক তালুকদার। সে জেলার শিবচর উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের চরশ্যামাইল গ্রামের খালেক তালুকদারের ছেলে। রাজ্জাক তালুকদার পেশায় অটোরিকশা চালক। আরনিহত আয়শা বরিশালের আ: মান্নানের মেয়ে। আয়শা ও রাজ্জাকের শাওন নামের একটি ছেলে ও সিনথিয়া নামের একটি মেয়ে রয়েছে। পুুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাজ্জাকের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আয়শার পারিবারিক কলহ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় নিজ বাড়িতে রাজ্জাকের সঙ্গে আয়শার মোবাইলে কথা বলা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে ফের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাজ্জাক ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী আয়শার পেটে ও নাকে আঘাত করে। এতে আয়শা ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘরে চেচাঁমেচির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আয়শাকে নিথর অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা আয়শাকে নিজেদের ইজিবাইকে করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আয়শাকে রেখে এ সময় স্বামী রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাসপাতাল থেকে নিহত আয়শার লাশ থানা হেফাজতে নিয়েছে। স্থানীয় গোলেনুর বেগম বলেন, 'ইফতারের সময় ওই বাড়ির চিল্লাচিল্লি শুনে আমরা দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি- ঘরে ওর স্বামী, তার মা, বাবা সবাই। আয়শা কাত হয়ে পড়ে আছে। তাড়াতাড়ি সবাই মিলে ধরে নিয়ে যায়। এরপর আয়শার নিথর দেহ হাসপাতালে রেখে পরিবারের সবাই পালিয়ে যায়।' স্থানীয় রাসেল ফকির বলেন, 'আয়শা রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায়ই ওদের ঝগড়া হতো।' ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিবচর থানার এসআই সিদ্ধার্থ কুমার বলেন, 'নিহতের শরীরে দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক স্বামীকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।' শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, 'হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে ও নাকের ওপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অধিক রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।' শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন জানান, এ ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
6
বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। টেস্টেও চার দিনই দুর্দান্ত লড়াই করেছেন টাইগাররা। কিন্তু ডারবানে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে মুমিনুলদের। শেষ দিনে ৫৫ মিনিটে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৩ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। এই ম্যাচের বিশ্লেষণে সবার আগে উঠে আসে টসের সিদ্ধান্ত। যেখানে কয়েকভাগ্য নিজেদের পক্ষে পাওয়ার পর আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দল। অথচ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড বলেছিলেন আগে ব্যাটিং নেওয়ার কথা। কিন্তু কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের আপত্তির কারণে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেই বলে জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। যা তার কাছে ভালো লাগেনি। তিনি আরও যোগ করেন, 'যেসব ক্রিকেটাররা ডোমিঙ্গোর কথা শোনে তারা ঠিকই উন্নতি করছে। আমি লিখে দিতে পারি, যদি ১৫ জন ক্রিকেটারকে ডাকি, অন্তত ১১ জন বলবে ডোমিঙ্গো দুর্দান্ত কোচ। দুই-তিনজন হয়তো আছে, যারা ভিন্ন কথা বলবে এবং কোচের কথা শোনে না।' সবার সঙ্গে বসে এ বিষয় সুরাহা করার কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, 'যারা কোচের কথা শোনে না, তাদেরকে জিজ্ঞেস করে লাভ কী? আমাকে তাদের কথা শুনতে হবে যারা কোচের সঙ্গে কাজ করছে। যখন তারা ফিরবে তখন কোচের সামনে সবার সঙ্গে বসে সবকিছু সমাধান করবো।' বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
12
গত এক বছরে ফ্রান্স সরকার ৩০টির বেশি মসজিদ বন্ধ করেছে । বৃহস্পতিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের মসজিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে ফ্রান্স সরকার। ফরাসি কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপের কারণে, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৯ মসজিদ পরিদর্শন শেষে ৩০ মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানিয়েছেন। মসজিদ বন্ধ করার বিষয়ে লে ফিগারো পত্রিকাকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী আইনে এসব মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী আইন প্রণয়ন করার আগে, ২৪ হাজার ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করে ফ্রান্সের পুলিশ উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে ৬৫০ ধর্মীয় স্থান বন্ধ করে দেয়। তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালে ৮৯ মসজিদ পরিদর্শন করা হয়। এরমধ্যে এক তৃতীয়াংশ মসজিদকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেয়ার কারণে। এছাড়া সার্তে, মুরথে-এট-মোসেল, কোট-ডি'অর, রোন ও গার্ড অঞ্চলে আরো ছয়টি মসজিদ বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। যে আইনের আওতায় ফ্রান্স এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা শুধু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও এনজিওর সমালোচনার বিষয়বস্তু নয়, জাতিসঙ্ঘও এ আইনের সমালোচনা করেছে। কারণ, এ আইনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে কোনঠাসা করা হচ্ছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
3
পাকিস্তানের কুয়েটায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর তিন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার একব্যক্তি নিজের মোটরবাইকে থাকা বিস্ফোরক দিয়েই এই বিস্ফোরণ ঘটায়। তাতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোয়েটা পুলিশের উপ -মহাপরিদর্শক আজহার আকরাম এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আফগান সীমান্তের কাছাকাছি মাস্তুং শহরের ফ্রন্টিয়ার কন্সটাবুলারি গার্ডসের সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। আহত ২০ জনের মধ্যে ১৮ জন বেসামরিক কর্মী। বাকি দুজন পথচারী। এরই মধ্যে তেহরিক-ই-তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর জিয়াউল্লাহ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি হামলার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা ত্যাগ স্বীকার করছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণ শান্তি অর্জিত হবে ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে বলেও হুশিয়ারি দেন সন্ত্রাসীদের প্রতি। বেলুচিস্তান প্রদেশে জিয়ারত শহরে হামলার দু সপ্তাহ না পেরোতেই আবার এই হামলার ঘটনা ঘটল। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
3
বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কচুরিপানা নয় যে বিএনপির হাঁক-ডাকে ভেসে যাবে। জনগণ তাদের আন্দোলনের অনেক মৌসুমি হাঁক-ডাক শুনেছে, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতাদের শীতনিন্দ্রায় চলে যাওয়াও দেখেছে তাদের কর্মীরা। রবিবার সকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন। দেশের রাজনীতি এখন সংকটময় অবস্থায় নিমজ্জিত, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি নেই বরং বিএনপির রাজনীতি এখন গভীর সংকটে। দেশ ও জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপিই নিজেদের জন্য সংকট তৈরি করেছে। বিএনপি নেতারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কর্মীদের উত্তাল আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এখন আত্মরক্ষার ঢাল মাত্র। তিনি দলের, আদর্শ, স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য প্রদান থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে হবে। ওবায়দুল কাদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিশ্রমি নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ও দেশ একজন দেশপ্রেমিক, সৎ, আদর্শবান নেতা হারিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট নিরসনে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে তা পালন করতে ২৮ ব্যাংকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ বুধবার (২৩ মার্চ) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সই করা এ চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়। ব্যাংকগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটিজেন ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ব্যাংক আল-ফালাহ, সিটি ব্যাংক এন.এ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন, হাবিব ব্যাংক, এইচএসবিসি, ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। যা বিনিয়োগসীমার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হবে না। এছাড়া ব্যাংকিং কোম্পানিজ আইনে প্রতিটি ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এই মূলধনের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, স্ট্যাচুরি রিজার্ভ ও রিটেইন আর্নিংস অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু অনেক ব্যাংক বিনিয়োগ সীমা ও ২০০ কোটির বিশেষ তহবিলের থেকে অনেক কম বিনিয়োগ করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ২০০ কোটির বিশেষ তহবিল গঠনই করেনি। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ সীমা অনুযায়ি ও বিশেষ তহবিল থেকে বিনিয়োগের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা বিশেষ তহবিল এখনো গঠন করেনি, সেসব ব্যাংককে তা গঠন করে বিনিয়োগের জন্য বলা হয়েছে। বিএসইসির চিঠি অনুযায়ী ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে পুঁজিবাজারে মাত্র ২৮টি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এখনও ৩৩টি ব্যাংক এ তহবিলই গঠনই করেনি। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক বিনিয়োগ সীমার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেনি।
0
মিঠাপুকুরে যানবাহন চলাচল শুরু না হতেই নির্মাণাধীন একটি সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাজ করায় সেতুতে ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের মিল বাজার এলাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করছে ফাতেমা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে মিলবাজার এলাকায় চলতি অর্থবছরে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ দশমিক ৮৮ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। লালমনিরহাট জেলার ফাতেমা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করছে। গত বছরের নভেম্বরে সেতুটির কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো চলাচলের জন্য উপযোগী হয়নি সেতুটি। এরই মধ্যে সেতুটির একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। যানবাহন চলাচলের আগেই সেতুটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে কয়েক দিন আগে অভিযোগ করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, 'ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সেতুটির কাজ করায় ফাটল ধরেছে।'মিলবাজার এলাকার লিয়াকত আলী জানান, এলাকাবাসীর বাধা সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয় কয়েকজনকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে ফাটলে সিমেন্ট ও বালুর প্রলেপ দিয়ে ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ইতিমধ্যে সেতুটি পরিদর্শন করেছেন।খোড়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, সেতুটির একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুটি দিয়ে ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ রংপুর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। সেতুটি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ করা প্রয়োজন।উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, 'সেতুটি এখনো নির্মাণাধীন। হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ঠিকাদারের। তবে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
করোনাভাইরাস সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেছেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা সাজিদুল ইসলাম সোহেল। দুস্থ মানুষদের তালিকা করে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এমনকি কার বাসায় ত্রাণ যাচ্ছে তা প্রতিবেশীদের জানতে দেননি সোহেল। জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংকট শুরু হওয়ার আগেই ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাড়ি পটুয়াখালী জেলার রাঙাবালি উপজেলার মৌডুবি এলাকায় চলে যান সাজিদুল ইসলাম সোহেল। সেখানে যাওয়ার পর শুরু হয় করোনা মহামারী।এ সময় তাঁর বাড়ির আশপাশের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। আবার কোন কোন পরিবার খাদ্য সংকটে থাকলেও চক্ষু লজ্জার কারণে ত্রান সহযোগিতা নিতে কোথায় যেতে পারছিলো না। এ সময় কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সোহেল মৌডুবী এলাকার দুস্থ মানুষদের একটি তালিকা তৈরী করেন। সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে ৫০টি প্যাকেট বাড়ি বাড়ি তিনি নিজেই পৌঁছে দিয়েছেন। প্রতিটি প্যাকেটে আলু, পিয়াজ, বুট, মুড়ি, চিনি চিড়াসহ ইফতার সামগ্রী। ছাত্রলীগ নেতার এই কাজ বেশ প্রশংসিত হয়েছে এলাকায়। সাজিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, 'ক্যাম্পাসে থাকলে এই সংকটের মধ্যে সবাইকে নিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু বাড়িতে আসার পর দেখলাম এলাকার লোকজন কষ্টে আছে। তাই তাদের তালিকা তৈরী করে নিজের তহবিল থেকে সামান্য সহায়তা পাঠালাম।
6
করোনা মহামারিতে ভারতের ফুটপাতও এখন 'শ্মশানঘাটে' পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, অক্সিজেন উৎপাদনে বিখ্যাত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারত চরম সংকটে। অক্সিজেনের জন্য সেখানে হাহাকার লেগেই আছে। দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভারত থেকে বিপজ্জনক বার্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আইডিইবি ভবনে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ আয়োজিত 'মুজিব বর্ষ ও কোভিড-১৯ মোকাবিলায় করণীয়' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। করোনা নিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, গতকালও ভারতে করোনার মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। ভারত এখন করোনার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড। বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের ভয়ংকর ভারতীয় ধরন। এ অবস্থায় সামান্যতম উদাসীনতা বিপজ্জনক ভবিষ্যতেরই পূর্বাভাস। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ অতীতে অনেক প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। চলমান করোনা দুর্যোগও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, মহামারি থেকে রক্ষা পেতে ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ উদ্যাপন করে এই প্রাণঘাতী করোনাকে প্রতিরোধ করাই এখন একমাত্র দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অভিন্ন শত্রু করোনাকে বাদ দিয়ে এখনো দেশে রাজনীতির 'ব্লেম গেম' চলমান। যত দোষ কেবল বর্তমান সরকারের। অথচ বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে ভালো আছে শেখ হাসিনার মতো সাহসী, দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়েছেন। এ কথা তাঁর নিন্দুকেরাও স্বীকার করেন।
9
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। এই বিভাগের সংস্থাপন অধিশাখায় জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের সম্পদ বিবরণী জমা দিতে গত ২৭ জুলাই নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে গত ২৪ জুন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।সেখানে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার বিধি ১১,১২ ও ১৩-তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিগুলো কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন।সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল এবং স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তা মানেন না।
6
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের রাউজান উপজেলা সীমান্তবর্তী সর্তার ঘাটে হাটহাজারী রুহুল্লাপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় হোসেন তারেক পাপ্পা নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তারেক হাটহাজারীর কনক কমিনিউটি সেন্টারের মালিক আবুল কালামের মেঝ ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, দ্রুতগতিতে আসা প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটিবাসে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চালক তারেকের মৃত্যু হয়। রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি কামরুল আজাদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হোসেন তারেক পাপ্পাকে উদ্বার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন।পাপ্পার লাশ হাটহাজারী থানা পুলিশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
6
মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাদাভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগে বলা হয়, ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে সাংসদ গোলাপ তাঁর নিজ বাসভবনে বসে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং ইউনিয়নে তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন। তিনি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন ও কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি কালকিনির বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কার্যত ভোট চাইছেন। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দাখিল করা প্রার্থীরা হলেন শিকারমঙ্গল ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ কুদ্দুস ব্যাপারী, কয়ারিয়া ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ, কামরুল হাসান নুর মোহাম্মদ মোল্লা, চরদৌলতখান ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিলন মিয়া, সাহেবরামপুর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহবুবুর রহিম এবং গোপালপুর ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফরহাদ মাতুব্বর।এম এ কুদ্দুস ব্যাপারী তাঁর লিখিত অভিযোগে বলেছেন, '১ নভেম্বর থেকে সাংসদ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনের নামে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর প্রকাশ্য মদদে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউপিতে সহিংসতা বেড়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক গোষ্ঠী দ্বারা স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি প্রতিপক্ষের লোকজন ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের নিয়োগ না দেওয়ায় হুমকিও দিচ্ছেন।'সাংসদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে পরিত্রাণ পেতে আবেদন জানিয়েছেন কয়ারিয়া ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ। তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন জমাদ্দার প্রচারণার দিন থেকেই তাঁকে হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য, ভোটারদের হুমকিসহ নানাভাবে চাপে রেখেছেন। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিচ্ছেন স্থানীয় সাংসদ। সাংসদের এমন আচরণ ইউপি নির্বাচনের বিধিমালা ২০১৬ বিধি ৩০-এর পরিপন্থী। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সাংসদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও জানান তিনি।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ১ নভেম্বর দুপুরে সাংসদ আবদুস সোবহান গোলাপ ঢাকা থেকে মাদারীপুর সদরে আরেক সাংসদ শাজাহান খানের বাসায় আসেন। ওই দিন বিকেল পাঁচটায় সাংসদ গোলাপ মাদারীপুর সদর থেকে চলে যান তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। অবস্থান করেন তাঁর গ্রামের বাড়ি রমজানপুর এলাকায়। এরপর বুধবার সকালে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসেন তিনি। দলীয় কার্যালয়ে জেলহত্যা দিবসে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. আবদুস সোবহান গোলাপের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিপক বিশ্বাস বলেন, 'নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুযায়ী সাংসদ এলাকায় থাকতে পারেন না। শুধু ভোট দিতে আসতে পারবেন। তবে তিনি কী উদ্দেশ্যে নিজ এলাকায় এসেছেন, তা আমরা বলতে পারব না। সাংসদের অবস্থান অবশ্যই আইনের পরিপন্থী। এসব বিষয় দেখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া আছে। তাঁরাই এগুলো দেখবেন।'কালকিনির ১৩টি ইউপিতে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম বলেন, 'সাংসদ এলাকায় এসেছিলেন, সেটা আমি জানি। তবে এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন কি না, সেটা আমার জানা নাই।'
6
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান যে টিকেটিং সিস্টেম আছে, সেটিকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার কমলাপুর রেলস্টেশনে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করে চাইনিজ সাদা কোচ দিয়ে চলাচলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় রেলের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমস্ত রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়েছে। এরইমধ্যে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত সেই কাজ চলমান আছে। বাকি রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
বিএনপির আন্দোলনের হুমকি খাঁচায় আবদ্ধ সিংহের গর্জন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া হাঁটুর ব্যথা নিয়েই দু'বার প্রধানমন্ত্রী ও একবার বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে তামাশা করছে। সকাল-বিকেল একবার ফখরুল, একবার রিজভি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। বিএনপির কাছে অনুরোধ, এই তামাশা থেকে বেরিয়ে আসেন। বিএনপি নেতা ড. মঈন খান আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির আন্দোলনের হুমকি খাঁচায় আবদ্ধ সিংহের গর্জনের মতো, যা দেখে মানুষ মজা পায়। আপনাদের আন্দোলনের হুমকি শুনে সবাই হাসি ঠাট্টা করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, প্যারোলে মুক্তি জোর করে কাউকে দেওয়া যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরকারের কাছে প্যারোলে মুক্তি চাইতে হয়। আমরা প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কিছু ভাবছি না। কেউ প্যারোল চাইলে, তখন দেখা যাবে। জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন, তখন খালেদা জিয়া আরাম আয়েশে ক্যান্টনম্যান্টে ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, পাকিস্থানি বাহিনীর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যোগসাজশ ছিলো। তিনি বলেন, একসময় যে পাকিস্তান বাঙালিকে ভুখা বাঙালি বলতো, এখন সেই বাংলাদেশ সব সূচকে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে আমরা সূচকে ভারত থেকেও এগিয়ে যাবো। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর প্রজন্ম লীগের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন।
6
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এখন সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্থ অবস্থায় আছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপের ২৭টি দেশের ২৫ হাজার মনুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ায় পর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইউরোপ-কে ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল হিসেবে অভিহিত করেছে। মহামারি এ রোগে চীনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে ইউরোপে। পুরো মহাদেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, সীমান্ত সীল করে দিচ্ছে, ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক ও খেলার আসরগুলো স্থগিত করা হচ্ছে। ইতালিতে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরার মধ্যেই স্পেনে ৪২০০ আক্রান্তের পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ফ্রান্সেও প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা ইতালিতে ১৭ হাজার ৬৬০ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৬৬ জনের।
3
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমআরপি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, ২০১৯ সালে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বিএনপি নেত্রীর। তার পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পাবেন। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার পরিবার খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার অনুমতি পেতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেন।পরে আবেদনপত্রটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের বাসায় খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে দ্রুতই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত আজ নয়, তবে দ্রুতই জানানো হবে। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
6
ভারতীয় সেনাবাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি ৫-এর পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৭.৫০ মিনিটে ওড়িশার এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপ করা হয়। ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পরমাণু হামলাও চালানো যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে চলমান উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমেও উৎক্ষেপণ করা যাবে। সাড়ে ১৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ২ মিটার পরিধিবিশিষ্ট অগ্নি ৫-কে অ্যান্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমকেও ধোকা দিতে সক্ষম। এ ছাড়া ১৫ হাজার কেজি পরমাণু অস্ত্র বহনেও সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রে তিন স্তরীয় রকেট বুস্টার আছে। এর গতি শব্দের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি। সেকেন্ডে ৮.১৬ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে এই ক্ষেপণাস্ত্র। এত রকম আধুনিক প্রযুক্তি থাকার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে একটা অন্য মাত্রা দিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারের শক্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলল। দাবি করা হচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে পুরো এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ। অগ্নি ১ থেকে ৫ এই পুরো সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ডিআরডিও। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র। এখন পর্যন্ত অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অগ্নি ৫-এর পাল্লা সবচেয়ে বেশি। অগ্নি ১-এর পাল্লা ৭০০ কিমি, অগ্নি ২-এর ২ হাজার কি.মি., অগ্নি ৩ এবং ৪-এর পাল্লা আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার কি.মি.।সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
3
অভিনেত্রী আনিকা কবির শখের বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল অনেকদিন ধরে। তবে এবার বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। রহমান জন নামের এক ব্যবসায়ী সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন শখ। চার মাস আগে ১২মে তারা গাঁটছড়া বাঁধেন। শখের শ্বশুরবাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে। জানা গেছে, শখ বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরবেন ঢাকায় তাদের উত্তরার বাসায়। তাদের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জনের ভাগ্নে আরাফ রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মামি (শখ) খুব ভালো মানুষ। অনেক বড় মডেল-অভিনেত্রী, অথচ কোনো অহংকার নেই তার। ২ সপ্তাহ ধরে আমাদের গ্রামের সবার ভালো-মন্দের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। তাকে পেয়ে আমাদের পরিবার আনন্দিত। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
রাজশাহীর পুঠিয়া থানার আলোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহমেদকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সেখানে কারা ফটকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, সাবেক ওসি সাকিল বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। শেষে নিজেকে নির্দোষও দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, জেলকোড অনুযায়ী জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তবে বিষয়টি যেহেতু দালিলিক, তাই বেশি জিজ্ঞাসাবাদের খুব একটা প্রয়োজনীয়তা নেই। দ্রুতই মামলার প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো যাবে। এরপর অনুমোদন হলেই প্রতিবেদনটি অভিযোগপত্র আকারে আদালতে দেওয়া হবে বলেও জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। রাজশাহীর পুঠিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহমেদে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গত ১২ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার পরিবর্তনের মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাকিলের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এবং ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। এর আগে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই থেকে ঘোষণা দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধে দেশের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু থেকে চালু রাখা হয়েছে। শনিবার এয়ারলাইন্স দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশগামী বা বিদেশ থেকে আসা ট্রানজিট যাত্রীরা বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে পারবেন। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, কঠোর বিধিনিষেধ মেনে শুধু বিদেশফেরত ও বিদেশগামী যাত্রীদের সেবা দিতে ৭ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর ও কক্সবাজার-এ রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এদিকে বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ১ জুলাই বিকেলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ দেয় বেবিচক।
6
লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে গেছেন টটেনহ্যাম হটস্পারের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। তার হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। এজন্য আগামী এপ্রিল পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হবে ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডকে। এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে টটেনহ্যাম। এপ্রিলে কেইন দলের অনুশীলনে ফিরবেন বলে আশাবাদী ইংলিশ ক্লাবটি। লিগে দলের বাকি ম্যাচগুলোর অধিকাংশই খেলতে পারবেন না কেইন। তবে জুনে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগেই ফিট হয়ে উঠবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক দম্পতিকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় বয়সভিত্তিক জাতীয় তায়কোয়ান্দ দলের দুই খেলোয়াড় এবং ভারত্তোলন দলের এক খেলোয়াড়কে আটক করেছে পুলিশ। মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস। আটকরা হলেন- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মোস্তাক আহমেদের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলীর মোড় এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) এবং বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)। এদের মধ্যে বকুল আহমেদ ভারত্তোলক এবং বাকি দুজন তায়কোয়ান্দ খেলোয়াড়। তারা সকলে জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক অনুর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড়। এ ঘটনার সঙ্গে আরও তিন নারী খেলোয়াড় জড়িত থাকলেও তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার রুহুল কুদ্দস বলেন, তারা সকলেই জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে আটকদের বখাটে বললেও তারা কেউই বখাটে নয়। সেদিন তারা খেলা শেষে ফেরার পথে শিক্ষকের সঙ্গে ঝামেলা হয়, এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ে রাগ একটু বেশি, সেজন্য এমন ঘটনা ঘটেছে।' গত ১০ আগস্ট রাজশাহী নগরীর মনিচত্বরে রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলামকে পাঁচ-ছয়জন মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয় বলে জানা যায়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার শিক্ষকের স্ত্রী তাবসসুম ফারজানা বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন।
6
নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আর বাড়ি যাননি মুস্তাফিজুর রহমান। বিমানবন্দরে অবস্থান করেই ভারতের ফ্লাইট ধরেন। আজ ভারতে নিরাপদে অবতরণ করেছেন তিনি। অবতরণের পর নিজের ভেরিফাইডফেসবুজ পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান মুস্তাফিজ। তিনি লিখেছেন, 'রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে আইপিএল অভিযানে শুরু করতে নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।' আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আইপিএলের ১৪তম আসর। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
12
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা প্যাকেজ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও করেছে। মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এই ঘোষণা দেন।বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) মিলে এই সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করা হচ্ছে। সোমবার ইউক্রেনকে দেওয়ার জন্য ১০০ কোটি ডলার ছাড়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস ওয়ারশ স্কুল অব ইকোনমিকসে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সংস্থাটি ইউক্রেনের স্বাস্থ্যকর্মীদের মজুরি, পেনশন এবং সামাজিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদানে সহায়তা করছে।বিশ্বব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দেড় শ কোটি ডলারের মধ্যে আইডিএ দেবে ১০০ কোটি ডলার এবং বিশ্ব ব্যাংকের অন্যতম প্রধান ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি) দেবে বাকি ৪৭ দশমিক ২ কোটি ডলার।ওই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি এখনো আগামী বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সম্পূর্ণ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।এদিকে, গত রোববার বিশ্বব্যাংক এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি বছর যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক উৎপাদন প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে যাবে। কারণ, দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেকই বন্ধ রয়েছে, রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক উৎপাদনশীল খাতের উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে।
3
নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জের ডালপট্টিতে মা ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনের বেলায় এমন ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাজা এবং এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি করেছেন তাঁরা। নিতাইগঞ্জ বাজার আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, ডাল ও গোখাদ্যের (ভুসি) পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র। এখান থেকে সারা দেশে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, ডালপট্টি এলাকায় ৮ নম্বর বি দাস রোডের ওই ভবনের নিচে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোতায়েন রয়েছে। অন্য দিনের তুলনায় সেখানে বেচাকেনা ও লোকজনের আনাগোনা কম। ব্যবসায়ী-বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে থেকে রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তাঁর মেয়ে ঋতু চক্রবর্তীর (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আল জোবায়ের (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আল জোবায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটিকে জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে টাকা ও সোনাদানা লুট করতে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হত্যা করেছেন। জোবায়েরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। 'মাতৃভবন' নামের ওই ভবনের মালিক স্বপন কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, দিনেদুপুরে ব্যস্ত এলাকায় ফ্ল্যাটবাড়িতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। পরিবারের লোকজনও বাড়িতে থাকতে চাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, তিনি ছোট থেকে বড় হয়েছেন এই বাড়িতেই। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সন্ধ্যা নন্দী (৫০) প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত আল জোবায়ের তাঁদের ফ্ল্যাটে তিন-চারবার কলবেল বাজান। দরজার আই ডোর (দুরবিন) দিয়ে কে আসছেন, তা দেখার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু আঙুল দিয়ে দুরবিন বন্ধ করে রাখায় কে বেল বাজাচ্ছে, দেখতে না পেয়ে তাঁরা দরজা খোলেননি। পরে পাশের ফ্ল্যাটে বেল বাজালে দরজা খুলে দেন রুমা চক্রবর্তী। সন্ধ্যা নন্দী বলেন, তাঁরা দুরবিন দিয়ে দেখতে পান, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে রুমা চক্রবর্তীর গলা চেপে ধরে ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ দেয় ওই ব্যক্তি। এ সময় ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। তিনতলা থেকে বাড়িওয়ালার স্ত্রী ও মেয়ে ওপরে উঠে আসেন। তখন তাঁরাও দরজা খুলে বের হন। এ সময় পাশের ফ্ল্যাটের দরজা নক করলে ওই ব্যক্তি (আল জোবায়ের) দরজা খুলে বলেন, 'তোরা চলে যা।' তখন তাঁর হাতের গ্লাভস ও মেঝেতে রক্ত দেখতে পান। ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। পরে তাঁরা ৯৯৯ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। ওই সময় দরজা খুলে দিলে তাঁদের প্রাণ হারাতে হতো বলে মনে করেন সন্ধ্যা নন্দী। ভবনটির আরেক ভাড়াটে রতন কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে লোকজন ভবনের মূল ফটকে তালা মেরে বন্ধ করে দেন। এরপর পুলিশ এসে ঘাতককে আটক করে। এভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেদের আতঙ্কের কথা জানান তিনি। নিতাইগঞ্জ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি শুধু ছিনতাই বা ডাকাতি বলে তিনি মনে করেন না। এ ঘটনার তদন্ত গভীরভাবে হওয়া প্রয়োজন। কী কারণে ওই ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ব্যবসায়ী-বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, নিতাইগঞ্জে প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার ওপরে বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে ডালপট্টিতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। তাই ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, হতাশাগ্রস্ত হয়ে ঋণের টাকা জোগাড় করার জন্য ছিনতাই করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য সংস্থাও তদন্ত করছে। নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সেখানে নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিনে মঙ্গলবার বিকালে বুড়িগঙ্গায় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কামরাঙ্গীর চরের ঠোঁটা এলাকা থেকে শুরু করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে শেখ জামাল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘাটে গিয়ে এ বাইচ শেষ হয়। পরে সেখানে এক সুধি সমাবেশে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় আতশবাজির আলোকচ্ছ্বটায় আলোকিত হয়ে ওঠে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়। এ সময় আকাশে শত শত ফানুসও ওড়ানো হয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর আয়োজনে অনুষ্ঠিত গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহি এই প্রতিযোগিতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বাইচের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুলতান আব্দুল হামিদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর থাকার কথা থাকলেও সোমবার রাতে শশুরের মৃত্যুর কারণে তিনি যোগ দিতে পারেন নি। ২ ক্যাটাগরিতে মোট ১১টি দল নৌকা বাইচে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬০ মাঝি নৌকা বাইচে শেখবাড়ী দল প্রথম, সোনারতরী দল দ্বিতীয় এবং জয় বাংলা দল তৃতীয় হয়। ১২ মাঝি নৌকা বাইচে মারুফ খান দল প্রথম, হামিদ আলী দল দ্বিতীয় এবং খায়রুল ইসলামের দল তৃতীয় হয়।
6
ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা। ওই এলাকায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব নিরসণে বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) রাত ৯টায় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তবে কোথায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন। ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের দাবি সম্পর্কে জেনে নিয়ে রাত ৯টায় নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আলতাফ হোসেন জানান, দোকান খোলার আগেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ড. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রনেতারা একটি পক্ষ। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে আমরা একটি পক্ষ। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমরা ছাত্রদের দাবিগুলো জেনে নেবো। আমরা কালকেও রাস্তায় নেমেছিলাম শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য। আজও সে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই কেম-বেশি দোকান খোলায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকান খোলা উচিত। ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যেও আমরা রাস্তায় নেমেছি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করি। পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আলতাফ হোসেন জানান, দোকান মালিক সমিতির হেলাল সাহেব অধ্যক্ষকে ফোন করেছিলেন। তারা বসতে চাচ্ছেন। আমাদের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বসতে হবে, তাদের দাবিগুলো কী তা জানার জন্য। ব্যবসায়ীরা নিরপেক্ষ ভেন্যু চাচ্ছেন। ঢাকা কলেজে বৈঠকে বসবেন না তারা। ভেন্যু ঠিক হলে রাত ৯টার দিকে বৈঠকে বসা হবে। ছাত্ররা আজ আবার বের হয়েছিলো। ব্যবসায়ীরা কিছু দোকান খুলেছিল। ছাত্ররা বাধা দিয়েছে। দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ছেলেরা এখন কলেজের ভেতরে, পরিস্থিতি এখন শান্ত।
6
'বাহে এবার জারোত (ঠান্ডা) থাকি মুই বাঁচিম বাবা। যাক মোক এবার কম্বল খান দিছেন, আল্লাহ তাক ম্যালা দিন বাঁচি থুইবে।' এভাবেই কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২-এর বাসিন্দা ছালেহা বেওয়া (৭৫)।ছালেহা বলেন, 'বাবা হ্যামারগুলার এক সময় সউক ছিল, কিন্তু মড়ার তিস্তা নদীর কবলে তেরোবার ভাঙ্গনে বসতভিটা হারিয়ে জায়গা হয়েছে স্পার এলাকায়। কোনও দিন একখান কম্বল মোর কপালে জোটেনি। এইবার ক্যানবা একখান কম্বল মোক পুলিশ বেটারা দিছে। আল্লাহ ওমাক ভালো করুক।'বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি ঢাকার আয়োজনে ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ছয় শতাধিক শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।সকাল থেকে কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে তিস্তার চরাঞ্চল থেকে কম্বল নিতে এসে শীতার্ত মানুষজন হাজির হন মাদরাসা মাঠে। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম।এ সময় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার ও আজীবন সদস্য (বিআরপিওডব্লিউএ) নুর ইসলাম, আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের, ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ, ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আদিতমারী থানার এসআই সুরুজ্জামান।
6
শুটিংয়ের জন্য কলকাতায় যান অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক মিথিলা। দেশে ফেরার পরই খবর রটে তার সঙ্গে নাকি ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে ঘোরার ছবি প্রকাশ হয় ভারতীয় গণমাধ্যমে। সৃজিতের সঙ্গে পার্টিতেও দেখা যায় মিথিলাকে। সে সময় তাদের মধ্যকার সম্পর্কের কথা উড়িয়ে দেন মিথিলা। জানান, সৃজিতের সঙ্গে তার স্রেফ বন্ধুত্ব। তবে এবার সম্পর্ক নিয়ে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে বিয়ে করতে চলেছেন মিথিলা-সৃজিত,সোমবার এমন খবরই প্রকাশ করেছেটাইমস অব ইন্ডিয়া। তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন সৃজিত-মিথিলা। বিয়ের সম্ভাব্য তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি। চলতি সপ্তাহেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো, মিথিলার পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সৃজিত। যদিও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সৃজিত। সৃজিত পরিচালিত 'এক যে ছিল রাজা' ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়। তখন খুশিতে একটি প্রাইভেট পার্টির আয়োজন করেছিলেন সৃজিত। জানা গেছে, সেই পার্টিতে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে মিথিলাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সৃজিত। সৃজিতের রাজারহাটের বাড়িতে এই পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। তারপর থেকে তাদের প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়। গেল ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল সৃজিত মুখার্জির জন্মদিন। সেখানেও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিথিলা। মূলত, অর্ণবের একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুবাদে সৃজিতের সঙ্গে মিথিলার দেখা হয়। এরপর তাদের মধ্যে সখ্যতা তৈরি হয়।
2
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে অপরিশোধিত (আয়োডিনবিহীন) লবণের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাঙা নারায়ণগঞ্জের পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জের লবণের বাজার। সেখানে চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্রতি বস্তা অপরিশোধিত (৭৪ কেজি) লবণের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। অপরিশোধিত লবণের পাশাপাশি বেড়ে গেছে খাওয়ার লবণের (আয়োডিনযুক্ত) দামও। খাওয়ার লবণের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি (২৫ কেজি) ৩০ থেকে ৫০ টাকা। লবণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের চেয়ে বেচাকেনা ভালো। চাহিদা বাড়লেও বাজারে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। তবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা লবণের দাম বাড়াচ্ছেন। লবণের দাম বেশি হওয়ার কারণে চামড়া সংরক্ষণের খরচ বাড়বে। গতকাল সোমবার দেশের আটা, ময়দা, তেল, চিনি, লবণ, ডাল, ভোজ্যতেলের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জ ঘুরে লবণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত মোটা অপরিশোধিত আয়োডিনবিহীন উন্নত মানের সাদা লবণের ৭৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। আর সামান্য ময়লাযুক্ত অপরিশোধিত লবণ ৬৮০ টাকা এবং বেশি ময়লাযুক্ত অপরিশোধিত লবণের বস্তা ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব লবণের প্রতি বস্তা গত জুনে যথাক্রমে ৬৫০ টাকা, ৫৬০ টাকা ও ৫৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া নিতাইগঞ্জ বাজারে আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে কনফিডেন্স ব্র্যান্ডের ২৫ কেজির বস্তা ৬৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এ লবণের দাম ছিল ৫৯০ টাকা। এ ছাড়া ৪৮০ টাকা দামের ফুলকপি ব্র্যান্ডের প্রতি বস্তা লবণ এখন ৫৫০ টাকা, এসিআইয়ের পিওর ব্র্যান্ডের প্রতি বস্তা লবণের দাম ৫৫ টাকা বেড়ে ৬৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোল্লা সুপার ও তীর ব্র্যান্ডের প্রতি বস্তা লবণের দাম ৫০ টাকা করে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৬৩০ ও ৫২০ টাকায়। বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাওয়ার লবণের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে। নরসিংহপুর এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'প্রতিবছর কোরবানির সময় চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করি। দাম যখন বেশি পাওয়া যায়, তখন চামড়া বিক্রি করি। প্রতিবছর কোরবানির সময় দুই থেকে পাঁচ হাজার পিচ পর্যন্ত চামড়া কিনে সংরক্ষণ করি। আর চামড়া সংরক্ষণে গত বছর প্রতি বস্তা লবণ কিনেছিলাম ৫৫০ টাকায়। এ বছর ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণ কিনেছি ৭৫০ টাকায়।' তাতে এ বছর চামড়া সংরক্ষণে খরচ বেড়ে যাবে বলে জানান আবদুর রহমান। মুন্সিগঞ্জের সিপাহিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী সোহরাব মিয়া বলেন, তাঁর দোকানে বিক্রির জন্য ১০০ বস্তা লবণ কিনেছেন নিতাইগঞ্জ থেকে। অপরিশোধিত প্রতি বস্তা লবণের দাম পড়েছে ৭৪০ টাকা। এর সঙ্গে আছে পরিবহন খরচ। তাতে প্রতি বস্তা লবণ খুচরায় তাঁকে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। নিতাইগঞ্জের লবণ ব্যবসায়ীরা জানান, এ এলাকায় উৎপাদিত লবণ রাজধানীর পুরান ঢাকা, উত্তরা, নরসিংদী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। আগে আরও অনেক জেলায় এখান থেকে লবণ যেত। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে মোকাম ও মিল গড়ে ওঠায় এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে লবণ কেনেন। লবণের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কক্সবাজার, টেকনাফ, ইসলামপুর, পটিয়া ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের লবণচাষিরা উৎপাদিত লবণ মজুত করায় দাম বেড়ে গেছে। গরীবে নেওয়াজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের চাষিদের কাছ থেকে ১০০ বস্তা ক্রুড লবণ এনে মিলে ক্রাসিংয়ের পর পাওয়া যায় ৯০ বস্তা লবণ। তাতে পরিবহন খরচসহ প্রতি বস্তা অপরিশোধিত লবণ ক্রাসিংয়ে খরচ পড়ে ১০০ টাকা। তিনি বলেন, আগে ২৬ হাজার টাকা গাড়িভাড়া ছিল। এখন সেই গাড়িভাড়া ৩৬ হাজার টাকা হয়ে গেছে। এসব কারণে লবণের দাম বাড়তি। এম আর ভূঁইয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক দিলীপ রায় প্রথম আলোকে বলেন, পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে লবণের দাম একটু বেশি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে লবণ মিল মালিক সমিতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি লবণ মিল রয়েছে। এর মধ্যে চালু আছে ১০ থেকে ১২টি। বাজারে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। তাই বলা যায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নতুন করে লবণের দাম বাড়বে না।
0
রাতের রানী। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত বিষয়। কোনো কবি, সাহিত্যিক তাঁর রচনায় এ নামে কাউকে সম্বোধন করেছেন কি না ইতিমধ্যে, তা আমার জানা নেই। তবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান প্রায়ই মনে গুনগুনিয়ে ওঠে, 'মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল...'। কবি কিন্তু লেখেননি, মোর প্রিয়া হবে এসো রাতের রানী। লিখলেও সমস্যা ছিল না। কারণ, তিনি ভালোবেসেই লিখতেন। তাঁর রাণী তো তাঁর প্রিয়তমা। যাহোক, সম্প্রতি বেশ কজন নারীর ইস্যুতে রাতের রানী কথাটা কানে এল। সমাজটাকে নাড়া দিল। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কানে বেশ লাগল কথাটা। কবি বা সাহিত্যিক নন, টিভিতে সেই আওয়াজ পেলাম অন্যভাবে। কথায় নিঃসন্দেহে রসবোধ আছে বোঝা যায়। রস তো থাকবেই, কারণ কথাটা পুরুষের মুখ থেকে বলা। চমকে যতটা না উঠেছি, তার চেয়ে বহুগুণে হতভম্ব হয়েছি। হোঁচট খেয়েছি। তারপরও ভেবেছি কথাটা ইতিবাচক, নাকি নেতিবাচক। মনকে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করেছি ভালো কিছু ভেবে। সম্ভব হয়নি। খারাপ অর্থে কথাটা বলা। যাহোক, রানী তো রাজার স্ত্রী। যে রাজার একটা সাম্রাজ্য থাকে। হোক সেটা দিনের কিংবা রাতের রাজা। ভাষার ব্যাকরণে তাই-ই বলে। রানীর পুংলিঙ্গ রাজা। সেই সূত্রে বাংলাদেশে রাতের রানী কেউ থাকলে নিশ্চয়ই রাতের রাজা বলে কেউ আছেন। থাকার কথা। আর যাঁরা রাতের রানীকে চেনেন, তাঁরাও রাতের রাজাকে চিনবেন বা চেনেন, নিশ্চিত। রাজাদের সাম্রাজ্যটাও অজানা থাকার কথা নয়।এমন একটা সময়ে এমন এক বিশেষণ উচ্চারিত হলো, যখন নারীরা উন্নয়নশীল দেশের অংশীদার। তাঁদের অংশীদারত্ব শ্রমে, অবদানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা কাজ করছেন বিভিন্ন সেক্টরে। এগিয়ে যাচ্ছেন নিজেরা, এগিয়ে নিচ্ছেন দেশকে, গোটা জাতিকে। কোথাও কোথাও পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে আছেন। একসময় পুরুষ কৃষিতে কাজ করলেও প্রবাসে কাজ করার মনোবাসনায় সেই জায়গাটিতে নারীর আধিক্য বেড়ে গেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে নেই। সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে নারীরা বেশ এগিয়েছেন। পর্বত জয়, খেলায় জয়-কতই না অর্জন নারীর। সেখানে কিন্তু দিন, রাতের প্রশ্ন নেই। ওঠে না। এ জন্য মাননীয় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। কারণ, তিনি নারীবান্ধব একজন সরকারপ্রধান। যথেষ্ট উৎসাহিত করেন নারীকে এগিয়ে যেতে। নারীরা দিনরাত কাজ করেন। কাজের প্রয়োজনে দিনে যেমন নারীরা কাজ করেন, রাতেও করেন। মিডিয়া, পোশাকশিল্প, কলকারখানা, সংস্কৃতি অঙ্গনে রাতভর কাজ চলে প্রয়োজনে। পুরুষের পাশাপাশি নারীও কাজ করেন। কাজেই সন্ধ্যার পর কেন নারীরা বাসার বাইরে বের হবেন, সর্বজনীনভাবে প্রশ্ন উঠলে সেটা হয় নিতান্তই অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সর্বোপরি প্রতিবন্ধকতামূলক। প্রতিহিংসাপরায়ণ তো বটেই। পরীমণির ইস্যুতে একজন সিনিয়র অভিনয়শিল্পীকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সংবাদ সম্মেলনে বলতে শুনলাম, সন্ধ্যার পর নারীর বাইরে বের হওয়াটা ঠিক নয়। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে নারীর কাজের পরিধি ও অবদান, অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি মোটেও অবগত নন নিশ্চিত। সেই সঙ্গে শ্রদ্ধা রেখে জানতে ইচ্ছে করছে যে তাঁরা কি সব সময়ই দিনের আলোয় চলচ্চিত্রে কাজ করতেন কিংবা তাঁর সময়কালে তিনি কি সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতেন না? আর একজন অভিনয়শিল্পীকে বলতে শুনলাম, পরীমণির টাকার উৎস কী, দেখা দরকার। ওই দুজন অভিনয়শিল্পী একবারও বললেন না যে পরীমণি কোনো ষড়যন্ত্র, প্রতিহিংসার শিকার কি না, তা দেখা দরকার। কিংবা কারা এই অল্পবয়সী অভিনয়শিল্পীর পেছনে ছিলেন এত দিন, তাঁদের খুঁজে বের করা দরকার। যাঁরা নারীদের রাতের রানী বলে আখ্যায়িত করলেন, মনে হলো ওই দুই নারী অভিনয়শিল্পীও সেই কাতারে দাঁড়িয়েই কথা বলছেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁরা আর নারী থাকলেন না। রাতের রানী অপবাদ গায়ে মাখলেন না। মাখবেনই-বা কেন? তাঁরা তো নারী জাতিভুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্র নারী হয়ে থাকতে ভালোবাসেন। তাঁরা ভেবে নিয়েছেন তাঁরা মোটেও অরক্ষিত হবেন না এই সমাজে, যে সমাজে আড়াই বছরের নারী শিশু ধর্ষণের শিকার হয় এবং যে সমাজে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।শহরে অনেক অভিজাত ক্লাব আছে। ক্লাবের সদস্য কিন্তু সাধারণ মানুষ হন না, হতে পারেন না। যাঁরা ধনী ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে, তাঁরাই হন। পেশাগত জীবনে উঁচুতে যাঁরা অবস্থান করেন, তাঁরাও সদস্য হন। ক্লাবে পার্টি হয়, আড্ডা হয়, মনোরঞ্জন চলে। ওই সব জায়গায় মদ্যপান স্বাভাবিক ঘটনা। উঠতি বয়সের ধনীর সন্তানসহ মাঝবয়সী, বৃদ্ধরাও সেখানে মত্ত থাকেন। কোনো কোনো ক্লাবে পার্টিকে প্রাণবন্ত করতে অর্থের বিনিময়ে অল্পবয়সী নারীকে ব্যবহার করা হয়। ধনীদের কেউ কেউ ঘরে স্ত্রী রেখে ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মীর কাছে যান না, তাঁরা ক্লাবে যান। রাতভর চলে সেখানে ফুর্তি। প্রশ্ন, কে দেখেন এসব? ক্লাব কেন, ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন কী উদ্দেশ্যে, তা মনিটর করার জন্য আদতে কোনো সংস্থা আছে কি না? এর আগে কিন্তু স্পোর্টিং ক্লাবগুলো থেকে নিষিদ্ধ ক্যাসিনো সংস্কৃতি উদ্ধার করা হয়েছিল। তারপরও কেন অন্য সব ক্লাবে অভিযান চালানো হয়নি?অসামাজিক কার্যকলাপ শব্দটার সঙ্গে নারীকে যুক্ত করা যত সহজ এই সমাজে, পুরুষকে নয়। ধর্ষণের পর হত্যা করেও মৃত নারীর সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মৃত নারীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। অপবাদ নিতে হয়। সেই সমাজে তো জীবিত নারীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা অব্যাহত থাকবেই। রাতের রানী কথাটা মূলত তারই ধারাবাহিকতা।দেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এ কথা কারোর অজানা নয় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বর্বররা বাংলাদেশের নারীদের সতীত্বের প্রতি নৃশংস আঘাত হেনেছিল। সম্ভ্রমহানি করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সব নির্যাতিত নারীকে বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি দেশের নারীর সর্বোচ্চ সম্মান। এমন এক জাতিসত্তার ইতিহাস থাকতে ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অবস্থান সুদৃঢ় অবস্থায় থাকতে কোনো নারীকে রাতের রানী বিশেষণ দেওয়াটা বড্ড অশোভন লেগেছে। নারী জাতির প্রতি অসম্মানজনক লেগেছে। মোটেও ভালো লাগেনি। মার্জিত লাগেনি। মুখ খিস্তির মতোন শোনাল।সমাজটা আদতে কতটুকু বদলেছে? মোটেও বদলায়নি; বিশেষ করে নারীর প্রতি সমাজের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। সমাজের পোশাকেও অবয়বে নারীবান্ধব বিষয়টি দৃশ্যমান থাকলেও শেকড়ে ফকফকা। নারীর প্রতি নেতিবাচক আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি তার বড় প্রমাণ। অপেক্ষায় আছি, কেউ একজন বলুক, রাতের রাজার সাম্রাজ্য এবার নির্মূল করা হবে। হবে তো?লেখক: কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট
8
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী দি নিউ ইয়র্কার গত ৬ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার ছাপে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আইজ্যাক চোটিনার। তিনি দি নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের লেখক। সমকালের জন্য ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন আহমেদ জাভেদ। এর চম্বুক অংশ প্রকাশ হয়েছে সমকালের মুদ্রিত সংস্করণে আইজ্যাক চোটিনার : তাহলে আপনি দেশভাগের আগ থেকেই ভারতে কী ঘটছিল তা লক্ষ্য করছিলেন? অমর্ত্য সেন :দেশভাগের বেশ আগে থেকেই। আমার স্কুলজীবন কেটেছে ব্রিটিশ-ভারতে। আইজ্যাক চোটিনার : আপনার সে সময়ের স্মৃতিগুলো আমাদের বলবেন? অমর্ত্য সেন :ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির জন্য মানুষের কথাবার্তা বেশ স্পষ্টই মনে আছে আমার। আমার চাচা ও মামা এবং চাচাতো ও মামাতো ভাইবোনদের কথা বেশ ভালোভাবেই মনে আছে, যারা সে সময় কারাগারে আটক ছিলেন। ব্রিটিশ শাসকরা একে বলত 'নিবৃত্তিমূলক আটকাবস্থা'। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের কোনো কৃতকর্মের জন্য নয় বরং এমন আশঙ্কায় যে, তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সাংঘাতিক কিছু করে ফেলতে পারে। সাম্রাজ্যের কর্তাদের এমন আতঙ্ক থেকেই তাদের জেলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাদের মারাত্মক কিছু করার প্রমাণ কর্তাদের কাছে ছিল না। আমার দাদার সঙ্গে কথোপকথনের কথা মনে পড়ে। তিনি বলছেন, 'তোমার কি মনে হয় ভারতে নিবৃত্তিমূলক আটকাবস্থার কোনোদিন অবসান হবে?' এবং এর উত্তরে তিনি নিজেই বলছেন, 'স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত হবে না। এর অবসানের জন্যই আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে।' দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ আমরা স্বাধীন হয়েছি কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রথমে কংগ্রেস স্বল্পমাত্রায় এই নিবৃত্তিমূলক আটকাবস্থার কৌশল প্রয়োগ করে। আর এখন এটি তো বেশ জোরেশোরেই ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি আইন আছে, যাকে বলা হয় বেআইনি কর্মকাণ্ড (নিবৃত্তিমূলক) ধারা, যেটি এ বছরই সংশোধন করা হলো। এর ফলে সরকার যে কাউকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে পারবে; এমনকি এতে তার বিচারিক প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন পড়বে না। এমন ক্ষমতা দিয়েই আইনটি তৈরি করা হয়েছে। সেই নিবর্তনমূলক আইনটিই আবার ফিরে এলো। স্বাধীন ভারতে এটি আবার ফিরে আসবে, আমি তা কখনই ভাবিনি। আইজ্যাক চোটিনার : দেশভাগ কিংবা যুদ্ধের কথা মনে আছে? অমর্ত্য সেন :দেশভাগ ও যুদ্ধের কথা খুব মনে আছে। এবং হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথাও মনে পড়ে। আমি জন্মেছি ঢাকায়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের রাজধানী। যদিও আমি নানাবাড়িতে বড় হয়েছি ও লেখাপড়া করেছি। এখনকার পশ্চিম বাংলার শান্তিনিকেতনে ছিল আমার নানাবড়ি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শান্তিনিকেতন ছিল চিন্তাচেতনায় অগ্রসর একটি বিদ্যাপীঠ। হিন্দু-মুসলমান সহিংসতা বাংলায় হরহামেশা ঘটত না। এমনকি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনেও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোই জয়লাভ করেছে। কিন্তু এরপর ১৯৪০-এর দশকের গোড়াতেই দেশভাগের পক্ষের শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়তে থাকে। সম্ভবত ভারতের স্বাধীনতার মাত্র এক বছর আগে ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে। আইজ্যাক চোটিনার : সাতচল্লিশের দেশভাগের সময় আপনার পরিবার কোথায় ছিল? অমর্ত্য সেন :আমার বাবা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অল্প কিছু মেধাবী শিক্ষকের সঙ্গে তিনিও সেখানে অধ্যাপনা করছিলেন। সম্ভবত ১৯৪৬ সালের দিকে পাঁচ কি ছয়জন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কারণ, এত ঘন ঘন দাঙ্গা বাধছিল যে, ক্লাসই নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না। আমার বাবার সঙ্গে ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোস। পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক সত্যেন বসু সম্পর্কে সবাই জেনে থাকবেন বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান তত্ত্বের জন্য। আমার পিতা যিনি রসায়নের অধ্যাপক ছিলেন, তিনিও সেখান থেকে চলে আসলেন এবং দিল্লিতে নতুন কাজ খুঁজতে লাগলেন। পরে তিনি দিল্লিতে ভূমি-উন্নয়ন কমিশনার হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি পশ্চিমবঙ্গ লোক প্রশাসন কমিশনের সভাপতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আইজ্যাক চোটিনার : ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কখন? অমর্ত্য সেন:সেভাবে বলতে গেলে আমার কথা আপনার কাছে খানিকটা একঘেয়ে লাগতে পারে। লেখাপড়ার জন্য কেমব্রিজসহ দু-একটি জায়গার প্রতি আমার খুব আগ্রহ ছিল। সে সময়ে অর্থনীতিতে কেমব্রিজের বেশ নামডাক ছিল, বিশেষত ট্রিনিটি কলেজের। আমি সেখানে ভর্তির জন্য আবেদন করি এবং কর্তৃপক্ষ আমার আবেদন গ্রহণ করেনি। পরে কোনো একজন ছাত্র ঝরে পড়লে একটি আসন ফাঁকা হয়। তখন কর্তৃপক্ষ আমাকে ভর্তি হওয়ার জন্য সুযোগ দেয় একদম শেষ মুহূর্তে। এর বহু বছর পর, যখন আমি কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগ দিই, তখন তারা সে ঘটনার কথা স্মরণ করেন। [হাসি] অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে সবসময়ই আমার আগ্রহ কাজ করে। গণিত নিয়েও আমার উৎসাহ রয়েছে। কিন্তু সেসময়ে কেমব্রিজের অর্থনীতিবিদ্যায় ততটা গণিতের ব্যবহার ছিল না। অন্যদিকে, ট্রিনিটি কলেজের গণিতের জন্য সুখ্যাতি ছিল- যেটি শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানী নিউটনের মতো বিখ্যাত গণিতজ্ঞের মাধ্যমে। আইজ্যাক চোটিনার : কখনও কি মনে হয়েছে অন্য বিষয়ে সরে আসার পর গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি আপনার আগ্রহ কাজে এসেছে? অমর্ত্য সেন :আমার মনে হয় কাজে লেগেছে। কেমব্রিজে তখনকার সময়ের চিন্তার বিশাল দ্বন্দ্বে ট্রিনিটি কলেজ কিছু বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। একপক্ষে ছিল কেমব্রিজ অর্থশাস্ত্র বা পুরোনো অর্থশাস্ত্র ধারা আর অন্যপক্ষে ছিল নতুন অর্থনীতি, যেটিকে তারা নয়াধ্রুপদী অর্থশাস্ত্র বলে অভিহিত করত। আমি ট্রিনিটি কলেজের প্রতি আগ্রহী হয়েছিলাম কেবল এ জন্য নয় যে, সেখানে বিজ্ঞানী নিউটন ও দার্শনিক বেকন ছিলেন; বরং তখনকার সময়ের শীর্ষ মার্কসীয় অর্থশাস্ত্রী মরিস ডব এই ট্রিনিটিতেই পড়াতেন। একটু ভিন্ন ধারার মার্কসীয় চিন্তক আন্তনিও গ্রামসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিখ্যাত তাত্ত্বিক পিয়েরে স্রাফাও ট্রিনিটির শিক্ষক ছিলেন। বেশ রক্ষণশীল অর্থশাস্ত্রী ডেনিস রবার্টসন ছিলেন সবার জ্যেষ্ঠ। চিন্তার পার্থক্য থাকলেও তারা পরস্পরের সুহৃদ ছিলেন। আমাকে এ বিষয়টিও আকর্ষণ করেছিল। আইজ্যাক চোটিনার : আপনি তখন কোন রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন? অমর্ত্য সেন :বামপন্থায় বিশ্বাস করতাম। নিখুঁতভাবে বললে সেটি হবে মধ্যবামপন্থা। সেখানে আমার অবস্থানটি ছিল 'কারও মতোই নয়'-এর মতো। আমি মার্কসবাদী চিন্ত্মাধারায় প্রভাবিত হয়েছিলাম। কিন্তু কখনও মার্কসবাদী হইনি। কার্ল মার্কসের নির্দিষ্ট কিছু লেখা আমার ভালো লেগেছিল। সেগুলোর মধ্যে তার ১৮৪৪ সালের অর্থনীতি ও দর্শনের খসড়া, জার্মান ভাবাদর্শ এবং ১৮৭৫ সালের গোথা কর্মসূচির সমালোচনা উল্লেখযোগ্য। আর পছন্দের এই তালিকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল গরিব মানুষের জন্য সংবেদনশীলতা। এসব দেখে আমার মনে হয়েছিল সাম্যবাদীদের দেওয়ার মতো সত্যি সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে সেখানে রাজনীতি-তত্ত্বের অভাব আমি তীব্রভাবে অনুভব করতাম। মার্কস নিজে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ছিলেন না। সর্বহারার একনায়কত্বের সমগ্র ধারণাটির আসলে কোনো মানে হয় না। [হাসি]। জন কেনেথ গ্যালব্রেইথের মতে, [গণতন্ত্রে বা যেকোনো ব্যবস্থায়] বিরোধী মত অত্যন্ত প্রয়োজন। যেটিকে তিনি বলেছেন 'ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষাকারী'। মার্কসবাদীদের ভাবনা জগতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার চিন্তাটি অনুপস্থিত। কলকাতায় ছাত্র থাকাকালীন- যেখানে আমার ছাত্রজীবনের আরম্ভ হয়- আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগত অনেকগুলো ছাত্র সংগঠন অস্পৃশ্য, দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে কথা বলত। অন্যদিকে, এটি ভেবে আমি খুবই পীড়িত হতাম যে, বিরোধী মতও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- এটি তাদের চিন্তাচেতনায় একদমই ছিল না। গণতন্ত্র- যাকে প্রায়শই বড়লোকের গণতন্ত্র বলে গালমন্দ করা হয়- আমার মতে এর সীমাবদ্ধতা হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত সমস্যা তার চোখে ধরা পড়ে না। সুতরাং আমি বামপন্থি হলেও আশপাশের অনেক কিছু নিয়ে আমি ছিলাম সংশয়ী। আমি নিকোলাই বুখারিনের অনেক লেখা পড়েছি। হঠাৎ বলাবলি শুরু হলো- তিনি নাকি সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন এবং তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন। মার্কিন পর্যটক জন গুন্থার বলেন, তিনি সেখানে গিয়ে দেখেছেন যে, তাকে (বুখারিন) তার ভিন্ন মতের জন্য হেনস্তা করা হয়নি। তখন আমার সহপাঠীরা বলেছিল, 'এসব কথা বিশ্বাস করলে বিশ্বাসের কোনো মর্যাদাই থাকে না'। [বুখারিন একসময় স্তালিনের খুব ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তাকে নির্যাতন করা হয়। ১৯৩৮ সালে কিছু বলশেভিক বড় নেতার সঙ্গে তারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।] সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসে স্টালিনের সমালোচনা করে ক্রুশ্চেভের বক্তৃতা শুনে আমি কিন্তু একদমই অবাক হইনি। সুতরাং আমার এ উপলব্ধি হয় যে, আমার কোনো ধরাবাঁধা রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া চলবে না। তখন আমি মার্কসীয় বিশ্নেষণ থেকে পাওয়া চিন্তাগুলো অন্যান্য চিন্তার ঘরানার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে চলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি অ্যাডাম স্মিথের অর্থনৈতিক ও দার্শনিক লেখা পড়ে দারুণ প্রভাবান্বিত হই। তারপর জন স্টুয়ার্ট মিলের লেখা পড়েও আমার একইরকম ভালো লাগে। আমার নিজের আগ্রহের সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতার সমন্বয় করতে হয়েছে। গণিতের পাশাপাশি সংস্কৃতও ছিল আমার প্রিয় বিষয়। আমি ধ্রুপদি সংস্কৃত ও লোকায়ত দর্শন জানতাম। ভারতের বস্তুবাদী দর্শনে লোকায়ত দর্শন একটি উল্লেখযোগ্য ঘরানা। আমার ওপর নানা ধরনের চিন্তাভাবনার প্রভাব পড়েছিল। সুতরাং উত্তরাধিকার সূত্রে আমি যেমন প্রাচীন সংস্কৃত ধারা পেয়েছিলাম। তার সঙ্গে ইউরোপীয় বামধারা বা প্রগতিশীল চিন্তাধারার সংমিশ্রণ আমার মধ্যে বেশ ভালোভাবেই হয়েছিল। আইজ্যাক চোটিনার :গত ৫ বছরে ভারতে যে পরিবর্তন ঘটেছে তা কি আপনাকে ভারতরাষ্ট্র ও তার সংবিধান সম্পর্কে ভিন্নভাবে ভাবতে বাধ্য করছে? নাকি এটি পরবর্তীকালের উপলব্ধি? অমর্ত্য সেন :এটি আমার পরবর্তী সময়ের উপলব্ধি। ভারতের সংসদে সংবিধান নিয়ে যত তর্কবিতর্ক হয়েছে সেগুলো সবই খুব সমৃদ্ধ আলোচনা। এবং আমি মনে করি এমনটিই হওয়া উচিত। আমরা জানি, ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংকীর্ণ ভাবধারায় বিশ্বাসী দল বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। আমার প্রশ্ন হলো, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার মতাদর্শিক অঙ্গীকার সত্ত্বেও কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ দল দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেদের বিপরীত মতাদর্শিক স্বার্থ প্রয়োগ করছে কীভাবে? আমি মনে করি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষেত্রে বিভক্ত ও ভীষণ রকমের মন্থর। যদিও সুপ্রিম কোর্ট অনেক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে তা সত্ত্বেও বহুত্ববাদের অভিভাবকত্ব যে শক্ত হাতে তারা করতে পারত তা তারা করেননি। আজকের ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভাবধারারই আধিপত্য। সব ঘটনাতেই তারা এর গন্ধ খুঁজে বেড়ান। আজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নেতৃত্বে যারা আছেন সকলেই হিন্দু। কিন্তু আপনি যদি মাত্র বারো বছর আগে ২০০৭ সালের সঙ্গে তুলনা করেন তবে দেখবেন রাষ্ট্রপতি ছিলেন মুসলমান, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শিখ এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান ছিলেন একজন খ্রিষ্টান। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের মতামতকে সকলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেনি। তখন এটিই ছিল স্বাভাবিক। আর আজকে এমন অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে যেখানে একজন মুসলমান গরুর মাংস খাওয়ার জন্য নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ভারতে এমন ধারার ঘটনা কদাচিৎ ঘটেছে। আপনি যদি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থগুলো দেখেন- উদাহরণস্বরূপ বেদের কথা বলা যায়- সেখানে কিন্তু গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল না। সুতরাং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে কেবল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অবক্ষয়ই ঘটেনি, এমনকি হিন্দুবাদী ভারতের ইতিহাস-ঐতিহ্য বোধেরও ক্ষয় হয়েছে। ফলে আমাদের চোখে প্রাচ্য দুনিয়ায় ভারতের গুরুত্বের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। এদেশে বৌদ্ধবাদী ভাবধারার প্রভাবে খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে আন্তরাজ্য যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ছিল সংস্কৃত। ভারত প্রায় এক হাজার বছর ধরে ছিল একটি বৌদ্ধদেশ। এটিও তো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি নালন্দা, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পঞ্চম শতাব্দীতে। এখানে পড়তে কেবল ভারত থেকেই ছাত্রছাত্রীরা আসত না বরং চীন, জাপান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকেও শিক্ষার্থীরা আসত। আমরা যখন পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় সেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনরায় আরম্ভ করার চেষ্টা করলাম তখন ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার এটিকে আগের ভাবধারার সঙ্গে মিল রেখে বৌদ্ধধারা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দিল না। বরং আস্তে আস্তে এটিকে হিন্দুত্ববাদী প্রতিষ্ঠার আদলে রূপ দেওয়া হলো। আমি নিজেও তো একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। [হাসি]। আমার তো হিন্দুধর্ম নিয়ে তেমন কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে আমার ছেলেবেলার একটি ঘটনা বলি। বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন আমার ঠাকুরদাকে হিন্দুধর্ম নিয়ে একটি বই লিখতে বলে। তাঁর ইংরেজি ভাষার দখল সীমিত ছিল বলে আমাকেই সে বইটি অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করতে হয়েছিল। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সেটিই ছিল আমার সম্পাদিত ও অনূদিত প্রথম বই, যেটি ছিল আবার হিন্দুধর্ম সম্পর্কে। ঠাকুরদা সবসময় আমাদের বলতেন, নেহরু আমলের সমস্যা হলো কেবল হিন্দু-মুসলমান সহিষ্ণুতার কথাই বলা হয়। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করা। এই সম্প্রীতিই বিগত পাঁচশ' বছর ধরে ভারতের ইতিহাসের অংশ হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। আইজ্যাক চোটিনার : আমি লক্ষ্য করেছি আপনার লেখায় ব্যক্তি পরিচয়ের বহুমাত্রিকতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে ঘুরেফিরে এসেছে। অমর্ত্য সেন :অবশ্যই। এটি তো একবারে কেন্দ্রীয় বিষয়। এটা নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে বর্তমান ভারতের তুলনায় বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। জন্মের সময় প্রত্যাশিত আয়ুস্কালের (প্রচলিত অর্থে গড় আয়ু) দিক থেকে একসময় বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে কম ছিল। আর এখন বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে পাঁচ বছর বেশি। আর হিন্দুত্ববাদী ভাবধারায় যে ধরনের সংকীর্ণতা রয়েছে বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে সে রকমটি নেই। আমার মনে হয়, ব্যক্তির বহুমাত্রিক পরিচিতির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অনেক উপকারী হয়েছে। ভারতের অবস্থাও বাংলদেশের মতোই ছিল ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না ভারত আত্মপরিচিতির বহুমাত্রিকতার উদ্দেশ্যমূলক (হিন্দুত্ববাদের ফলে) সংকোচনের দিকে চেষ্টা না করেছে। ভারতে এ রকম চেষ্টা আগেও হয়েছে। উনিশ-বিশের দশকে হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন বেশ জোরালোই ছিল। মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে এই ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক সদস্য। আজকের বিজেপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য এই আরএসএসের। কিন্তু গান্ধীজিকে হত্যার সময় তারা ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সবসময় আমরা কোনো হুমকি অনুভব করিনি, কারণ সে সময় তারা ছিল একদম প্রান্তিক শক্তি। সে সময়ের সে প্রান্তশক্তিই ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে সর্বশেষ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। তাদের বিজয়ের আংশিক ভিত্তি ছিল হিন্দুত্ববাদের রাজনৈতিক ফলপ্রসূতা। সমস্যা হলো, বহু জাতি ও ধর্মভিত্তিক ভারতকে ধারণ করার মতো মোদির দূরদৃষ্টি নেই। তার কারণ, ছোটবেলা থেকেই সে আরএসএস সংগঠনটির সঙ্গে কাজ করেছে। ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গি সে আদলেই গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সে শক্তিশালী এবং ভীষণ সফল। সুতরাং নির্বাচনে জেতার জন্য মোদি একটি বড় প্রভাবক ছিল। আর নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থও ছিল। আমি বেশ অবাক হয়েছি এটি দেখে যে, অর্থদাতা হিসেবে দু-তিনটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীই কেবল নয়; তারা ব্যবসায়ী সমাজের একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়েছে। অন্যান্য দলের তুলনায় নির্বাচনের সময় তারা অনেক বেশি অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। এসব কিছুর ফলে তারা নির্বাচনে জিতল ঠিকই কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থাটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। মোদির সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিন্তু মোট ভোটের চল্লিশ ভাগেরও কম। আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থার ইলেক্টরাল পদ্ধতির ত্রুটি নিয়েও আমি লিখেছি। আইজ্যাক চোটিনার :বেশ। যেখানে ট্রাম্প কিংবা এরদোয়ানের ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, সেখানে মোদি তাদের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগণ তাকে সমর্থন করছে।অমর্ত্য সেন :মুশকিল হলো বিপুল জনগোষ্ঠীর সমর্থন আসলে রয়েছে কি-না, সেটিই পরিস্কার নয়। ভারতের জনসংখ্যা একশ' কোটির বেশি। তার মধ্যে বিশ কোটি মুসলমান। আর দলিত সম্প্রদায় বা যাদের অস্পৃশ্য বলা হয় তাদের সংখ্যাও ২০ কোটি। দশ কোটি হলো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, যাদের বলা হয় শিডিউল ট্রাইবস। ভারতে তাদের অবস্থা দলিতদের চেয়েও খারাপ। তা ছাড়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ রয়েছে, যারা মোদিকে সমর্থন করে না। তাদের অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং অনেককে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মোদিকে সমর্থন করে, এটি বলা কঠিন। এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে বিভিন্ন রকমের বিধিনিষেধের মাধ্যমে এক বিশেষ অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। সকল সংবাদপত্র সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না। সরকারের বিপক্ষে লিখলে, এমনকি বেসরকারি বিজ্ঞাপনও বেশি পাওয়া যায় না। সরকার সৃষ্ট বিভিন্ন বিধিনিষেধের জালের ভেতর টিভি চ্যানেল কিংবা সংবাদপত্রের স্বাধীনভাবে কাজ করা ভীষণ কঠিন। জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা পাই তা হলো, গণতন্ত্র মানে সরকার পরিচালিত হবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে। কিন্তু আপনি যদি আলোচনাকে ভয়ের বিষয় করে তোলেন, তা দিয়ে আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র পাওয়া যায় না। ভোট যেভাবেই আপনি গণনা করেন তাতে গণতন্ত্র হয় না। বর্তমানে তাঁর এ কথাটি ভীষণভাবে সত্য। মানুষ এখন কথা বলতেই ভয় পায়। আমি জীবনে কখনও এমনটি দেখিনি। টেলিফোনে আমার সঙ্গে কথা বলার সময় সরকার সম্পর্কে সমালোচনামূলক কিছু চলে আসলে বলে, 'থাক এ বিষয়ে আমরা সামনাসামনি কথা বলব, কারণ, নিশ্চয়ই আমাদের কথা কেউ আড়ি পেতে শুনছে।' গণতন্ত্র তো এভাবে চলে না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চাওয়া কী- তা বোঝার পন্থাও এটি নয়। আইজ্যাক চোটিনার :মোদি কিংবা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ম্ফূর্ত প্রতিরোধ রয়েছে- এ দুটি কথার মধ্যে কোনো টানাপোড়েন রয়েছে? অমর্ত্য সেন :দুইয়ের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ আরও প্রকাশিত হতো, যদি জনগণের ভেতর ভয় না থাকত। আইজ্যাক চোটিনার :আমার প্রশ্ন জনগণ যদি ভয় পেয়েই থাকে, তাহলে ভারতের গণতন্ত্র আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে, আমরা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত সম্পর্কে আগে যা ভাবতাম, এখনকার পরিস্থিতিতে ভারত বিষয়ে অন্যভাবে ভাবতে হবে। আপনি কি তা মনে করেন না? অমর্ত্য সেন :খুব মনে হয়। কিন্তু ভারতীয় গণতন্ত্রের সবটুকু শেষ হয়ে যায়নি। প্রথমত, কিছু সাহসী সংবাদপত্র রয়েছে, যারা সরকারের বিরুদ্ধ খবর ছাপার ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করে না। সেরকম দু-একটা টিভি চ্যানেল, রেডিও স্টেশন রয়েছে। সাহসী কিছু জনসভাও হয়। ভারত তো একটি ফেডারাল রাষ্ট্রও। কয়েকটি রাজ্য রয়েছে, যেখানে বিজেপি একমাত্র প্রধান শক্তি নয়। আইজ্যাক চোটিনার :পশ্চিমবঙ্গের কথা বলছেন? অমর্ত্য সেন :কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, তামিলনাড়ূ এবং কেরালাতেও বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আরও কয়েকটি রাজ্য রয়েছে, যেখানে বিজেপির একক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন আছে। আর আছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ওপর আমার গভীর আস্থা রয়েছে। কিন্তু তারা ভীষণ মন্থরগতিতে কাজ করেন। সেখানে কিছু বিচারক রয়েছেন, যারা সরকারের অভিপ্রায়ের প্রতি আনুগত্য দেখাতে বেশি আগ্রহী। সুতরাং গণতন্ত্রের বেশ কিছু উপাদান এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে, যদি এমন প্রশ্ন করা হয় যে, বিগত দশ, পনের কিংবা বিশ বছরে কি গণতন্ত্রের অবনমন ঘটেছে? আমার উত্তর হবে হ্যাঁ, ঘটেছে। সত্তরের দশকে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি বিরাট হুমকি সৃষ্টি হয়েছিল, যখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরিীঅবস্থা জারি করলেন। কিন্তু তিনি সাধারণ নির্বাচন দিয়েছিলেন। তখন ভেবেছিলাম বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি ও বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে পারে। কিন্তু সেরকম কিছু ঘটেনি আর তিনি নির্বাচনে হেরেছিলেন এবং তিনি সেই ফল মেনে নিয়েছিলেন। তাই আমার মনে হয় প্রতিরোধের অনেক উপাদান রয়েছে, যেগুলোকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে পারি। সমাজে কিছু মানুষ আছে যাদের নকশালপন্থি বলা হয়। কিন্তু সরকার তাদের মাওবাদী, চরমপন্থি বলে মনে করে। এসব লোকদের তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করে জেলে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ভারতের রাজনৈতিক চিত্রটি মিশ্র। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের যে জ্বল জ্বলে চিত্রটি সহজেই পেতে পারতাম, সেটি এখন অংশত অতীত। আইজ্যাক চোটিনার :নির্বাচনের পর আপনি একটি লেখায় লিখেছিলেন, "অনেকে হয়তো বলতে পারেন, বিজেপির বিজয় আসলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে 'মতাদর্শিক বিজয়'। কিন্তু হিন্দু জাতীয়তাবাদী দর্শনের কোনো সুনির্দিষ্ট বিজয় হয়নি। গান্ধী, নেহেরু ও রবীন্দ্রনাথ মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐক্যের কথা বলতেন, তার কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয় হয় নাই।" এ মন্তব্যের একটু ব্যাখ্যা করবেন? এখনও কি আপনি এ রকমটাই মনে করেন? অমর্ত্য সেন :আমি এখনও সেটিই মনে করি। কাশ্মীর বা এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট কারণে মানুষকে ক্ষেপানো খুবই সহজ। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কাশ্মীর যে বিশেষ অধিকার ভোগ করছিল, সেটি অব্যাহত না থাকার কোনো কারণই নেই। কিন্তু এর বিরুদ্ধে জনসমর্থন বাড়ানো সহজ। নির্বাচনে সেটিই করা হয়েছে। ব্রিটেনের নির্বাচনে মার্গারেট থেচার নির্বাচনে হেরে যাচ্ছিলেন তখনই তিনি (১৯৮২ সালে) আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড যুদ্ধ আরম্ভ করেন। তখন থেচারের পক্ষে যা করা হয়েছে নির্বাচনে জেতার জন্য- ভারতেও নির্বাচনে মোদির সমর্থন বাড়াতে কাশ্মীর ইস্যুকে একইভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, আপনার হয়তো মনে আছে। আইজ্যাক চোটিনার :সে বছরই আমার জন্ম, ফলে আমার সেটা মনে নেই। তবে 'ফকল্যান্ড ফ্যাক্টর' বিষয়টি আমি জানি। অমর্ত্য সেন :ফকল্যান্ড যুদ্ধ ব্রিটিশদের জাতীয়তাবাদীতে পরিণত করেছিল। যদিও এটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি, তবুও সেটি মার্গারেট থেচারকে নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। এ বছরের গোড়ার দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিকে যদি তাকান, দেখবেন যে সেখানে প্রবল প্রচার চালানো হয়েছে, একটি অংশে ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছিল, আর অন্য একটি অংশে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা নির্বাচনী খেলায় ক্রিড়ানক হিসেবে কাজ করেছে। ভারত সরকার দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান ভারতীয় সেনাবহিনীর নিরাপত্তাদানকারী জাহাজের ওপর হমলা করেছে। যুদ্ধের চেয়েও বেশি খারাপ হলো যুদ্ধ নিয়ে উন্মাদনা। তেমন একটা সময়েই হিন্দুত্ববাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফল দেখে বোঝা গেল, হিন্দুত্ববাদ আসলে ততটা জনপ্রিয় হয়নি। ভারতের গ্রামাঞ্চলে যখনই সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা চলছিল, তখন দেখা গেল বাস্তবে সেটি বাস্তবায়ন করার খুব বেশি লোক খুঁজে পাওয়া গেল না। এর অর্থ হলো সংখ্যালঘুদের প্রতি এক ধরনের সহিষুষ্ণতা রয়েছে। আনন্দের কথা হলো এই ঐতিহ্য প্রবলভাবে আজ পর্যন্ত টিকে আছে। আইজ্যাক চোটিনার :ভারত এমন একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করল, যিনি সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক জাতিগত সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। অমর্ত্য সেন :আপনি ঠিকই বলেছেন। ২০০২ সালে গুজরাট হত্যাকাণ্ডে মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধের মামলাটি তারা আদালতকে দিয়ে খারিজ করাতে পেরেছে- এটি নিঃসন্দেহে মোদির বড় সাফল্য। তাই ভারতের আনেক মানুষ এ ঘটনা বিশ্বাস করে না। [২০০২ সালে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অল্পদিন পরই মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। সেই দাঙ্গা রোধে ব্যর্থ হওয়া ও দাঙ্গায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে মোদির বিরুদ্ধে মামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।] আপনি যদি বলতে চান যে, ভারতে হিন্দুত্ববাদের বিজয় হয়েছে- আমার মনে হয়, তাহলে তো প্রত্যেক মানুষের সত্য জানার সুযোগ অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা। তাহলে তো সামাজিক যুক্তিতর্ক, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের স্বাধীনতা বেড়ে যাওয়ার কথা। মত প্রকাশের জন্য কারোরই জেলে যাওয়ার ভয় থাকত না। তাই আমি মনে করি না যে হিন্দুত্ববাদের জয় হয়েছে। যদি গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি, সেন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের জুলুম না থাকত এবং মোদি নির্বাচনে জিততেন, তাহলে আমি বলতে পারতাম হিন্দুত্ববাদের বিজয় হয়েছে। আইজ্যাক চোটিনার :আমার মনে হয় আরএসএস ভারতকে মতাদর্শিকভাবে বদলে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিন ধরে পোষণ করে আসছে। অমর্ত্য সেন :আপনি ঠিকই বলেছেন। তারা এমন একটা দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে পেরেছে, যা বেশ কার্যকর :'ভারত দীর্ঘ সময় মুসলমান দখলদারদের অধীনে ছিল, এখন সময় আমাদের, তাদের চিরতরে ধ্বংস করতে হবে। যেহেতু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু, তাই এরই প্রতিফলন ঘটাতে হবে সবকিছুতে।' এই দৃষ্টিভঙ্গি হিন্দু ইতিহাসকে উপেক্ষা করে। হিন্দু ইতিহাসে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট সহিষুষ্ণতা ছিল। বেশ কিছুদিন আগে আমি একটি বই লিখেছিলাম, যার শিরোনাম 'তর্কপ্রিয় ভারতীয়'। সেখানে আমি দেখিয়েছি যে, কত ব্যাপক পরিসরের তর্কবিতর্ক ভারতীয় সমাজে ছিল। আরএসএস একটি মতাদর্শ তৈরি করে নিয়েছে, তারা সেটার প্রচার করছে এবং এটি ভীষণ কার্যকর হয়ে উঠেছে। এটি খুবই দুঃখজনক। একই সঙ্গে আমি মনে করি, এই দুঃখের বিষয়টা বেশি বড় করে দেখানো ভুল হবে; কারণ, পরিস্থিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। আমি যখন ঔপনিবেশিক ভারতে বেড়ে উঠছিলাম, তখন মাহাত্মা গান্ধীর মতো ভারতীয়র তুলনায় ব্রিটিশরা দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে লড়াইয়ে ভারতীয়দের বিজয় সম্ভব হয়েছে। আইজ্যাক চোটিনার :গত মাসে কাশ্মীর পরিস্থিতির অনেকখানি অবনতি ঘটেছে। কিন্তু কাশ্মীর এমন একটি ভূখণ্ড, যেখানকার পরিস্থিতি দেশভাগের সময় থেকেই নাজুক ছিল, বিশেষ করে বিগত ৩০ বছর ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করছে। আপনার কি মনে হয় গত কয়েক দশক ধরে ভারতের উদারপন্থি নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের কাশ্মীর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও কথাবার্তায় ব্যর্থতা রয়েছে? অমর্ত্য সেন :খুব মনে হয়। নিশ্চিতভাবেই এই ব্যর্থতা সমগ্র গল্পের একটি অংশ। কাশ্মীরকে যতটা না ভারতের অংশ মনে হতো তার চেয়ে বেশি ভারতশাসিত একটি অঞ্চল মনে হতো। সাংবিধানিকভাবে স্বীকার করে নিলেও ভারত প্রায়ই কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যা পাকিস্তানপন্থিদের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রার। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, পাকিস্তানপন্থিদের চেয়ে ভারত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বেশি ক্ষতি করেছে। কারণ, আক্রান্ত হলে পাকিস্তানপন্থিরা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পালিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু এ অংশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যাওয়ার তো জায়গা নেই। ফলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা সহজ। এসবের ফলে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন ভারতবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে বেশি মাত্রায় পাকিস্তানপন্থি হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ভারতের আগের সরকারগুলোও একই রাজনৈতিক ভুল করেছে। আপনি ঠিকই বলেছেন যে, ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক সমাজ, এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগ কাশ্মীর ইস্যুতে নিশ্চুপ থেকেছেন বলে আজ এ গল্পের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি এই ভুলটি অনেক আগেই শোধরানো উচিত ছিল। আইজ্যাক চোটিনার :কাশ্মীর পরিস্থিতির জন্য আপনি নিজে আরও বেশি কী করতেন? অমর্ত্য সেন :সম্ভব হলে আরও বেশি কিছু করতাম আমি। মানুষ তো নানা কজে ব্যস্ত থাকে। তা ছাড়া কাশ্মীর পরিস্থিতি বোঝা বেশ কঠিন। কারণ, তারা একটি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী। আর লোকে বলাবলি করে যে, এ বিচ্ছিন্নতা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি আসলে ভুল চিন্তা। আমিও মনে করি, কাশ্মীর নিয়ে আমার আরও বেশি লেখা উচিত ছিল। নিজেকে যদি প্রশ্ন করি কেন লিখিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গে? এর উত্তর হলো দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য, লিঙ্গ সমতার দাবি, সক্ষমতার পন্থা, সামাজিক চয়ন, লোকনীতি ইত্যাদি নিয়ে আমার মাথা পরিপূর্ণ ছিল। সুতরাং আপনার প্রশ্নের উত্তর হবে একই সঙ্গে হ্যাঁ এবং না। আইজ্যাক চোটিনার :দ্য গেটস ফাউন্ডেশন ঘোষণা দিয়েছে তারা মোদিকে পুরস্কার দিতে যাচ্ছে। মোদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এখনও একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে কি আপনি বিস্মিত? অমর্ত্য সেন :আমার মনে হয় বিশ্বের মানুষ সাফল্য পছন্দ করে আর বিল ও মেলিন্ডা গেটসও এর থেকে ব্যতিক্রম নন। মোদি দৌর্দণ্ড ক্ষমতাধর বলে তার অবস্থানকে একরকমের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অকপটেই স্বীকার করছি যে, মোদিকে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণায় বেশ বিস্মিত ও আহত হয়েছি। আইজ্যাক চোটিনার :দুর্ভিক্ষ নিয়ে আপনি অনেক লিখেছেন। দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে গণতন্ত্রের গুরুত্ব, জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়ে লিখেছেন। আপনি যখন দেখছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে কিংবা সাড়া কম দিচ্ছে, এমনকি দেশের শাসনব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক শক্তির দখলে চলে যাচ্ছে, তখন কি দুর্ভিক্ষ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আপনার কাজগুলো সম্পর্কে অন্যভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে? অমর্ত্য সেন :না। আমি এখনও মনে করি দুর্ভিক্ষ হয় গণতন্ত্রের অভাবে। কিন্তু খালি চোখে দেখা যায় না এমন কতগুলো প্রকট কদর্য ব্যাপার প্রতিরোধে গণতন্ত্র সাফল্য পায়নি। সেগুলো হলো- নিত্যদিনের অপুষ্টি, নারীর প্রতি বৈষম্য ইত্যাদি। এসব সমাধানের লক্ষ্যে অবশ্য গণতন্ত্রকে কাজে লাগানো যেতে পারে কিন্তু সেটি নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর। গণতন্ত্র কোনো সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান দিতে পারে না। গণতন্ত্র ম্যালেরিয়া সারানোর কুইনাইন নয়। গণতন্ত্র সক্ষমতার পন্থা সৃষ্টির জন্য সহায়ক। সক্ষমতা অর্জনের পরিবেশ থাকলে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা খুব সহজ হয়। এ কারণেই ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশের শেষ দিকে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সেটি দূর হতে তেমন সময় লাগেনি, যখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে বাড়ল এবং বহু দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলো। দুর্ভিক্ষের কদর্য ব্যাপার নিয়ে রাজনীতি করা খুবই সহজ কাজ। কিন্তু ধারাবাহিক অপুষ্টি, পুরুষের তুলনায় নারীর নিত্যদিনের বঞ্চনা, শিশুদের স্কুল শিক্ষার গুণগত মানের অবনমন- এগুলো নিয়ে রাজনীতি করা অত সোজা নয়। আমি জানি না আমি গণতন্ত্র শব্দটি বেশি ব্যবহার করছি কি-না। তবে এটি সত্য যে, কোনো কোনো সমস্যা সমাধানে গণতন্ত্র বেশ কার্যকর। অন্য সমস্যাগুলোর সমাধান অবশ্য আরেকটু কঠিন। আইজ্যাক চোটিনার :আমি যেমনটা আপনাকে দেখেছি, সাধারণভাবে আপনি একজন আশাবাদী মানুষ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনাকে যতটা হতাশ দেখব ভেবেছিলাম, আপনাকে অতটা হতাশ লাগছে না। অমর্ত্য সেন :আমি নিজেকে আশাবাদী বলব না। তবে মানুষ আমাকে যতটা নিরাশ বলে ভাবে, আমি তার চেয়ে কম নিরাশ। [হাসি] আইজ্যাক চোটিনার :আপনার কেন মনে হয় মানুষ আপনাকে নিরাশ প্রকৃতির ভাবে? আর আপনি কেন নিজেকে কম নিরাশ বলে ভাবেন? অমর্ত্য সেন :নিজেকে কম নিরাশ বলে ভাবার কারণ হলো শৈশবে আমাকে এমন সব ঘটনার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল, যেগুলো বেশ খারাপই বলতে হবে। আমি বেড়ে ওঠার সময় আমার সব মামা-কাকাদের নিবৃত্তিমূলক কারাবন্দি করা হয়েছিল। তারা কখন মুক্তি পাবেন আমরা তা জানতাম না। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার কোনো আশাই ছিল না। বাংলায় দুর্ভিক্ষ যা মন্বন্তর যখন ঘটে তখন আমার বয়স যখন মাত্র নয় বছর। ত্রিশ লাখ মানুষ মারা যায় সেই মন্বন্তরে। আমি হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা সচক্ষে দেখেছি। সেসময় আমার দেখা নৃশংস একটি ঘটনার কথা বলি। আমরা যে পাড়ায় থাকতাম সেটি প্রধানত হিন্দুঅধ্যুষিত এলাকা। একজন মুসলমান দিনমজুর আমাদের পাড়ায় ঢুকে পড়ায় এক হিন্দু মাস্তান তার পেটে ছুরি মেরেছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় সে আমাদের বাগানে ঢুকেছিল, আমি তখন বাগানে খেলছিলাম। সে সাহায্য চাইছিল ও পানি খেতে চাচ্ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি চিৎকার করে বাবাকে ডাকছিলাম। বাবা দৌড়ে তার জন্য পানি নিয়ে এলেন। সে আমার কোলে মাথা রেখে বাগানে শুয়ে ছিল। বাবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালে লোকটা মারা যায়। লোকটা কিছু কথা এলোমেলোভাবে বলছিল, যা আমি তখন বুঝিনি, পরে বাবা সে কথাগুলো গুছিয়ে বলেছিলেন, যে লোকটার স্ত্রী তাকে কোনো হিন্দু এলাকায় কাজে যেতে মানা করেছিল। প্রত্যুত্তরে লোকটা বলেছিল, ছেলেমেয়েগুলো কিছু খেতে পায়নি তার জন্য রোজগারে যেতে হবে, সেটি যে এলাকাতেই হোক না কেন। আমি এমন নৃশংস ঘটনা জীবনে কখনও দেখিনি। আমার দশ কি এগারো বছর বয়সে একজন মানুষকে রক্তে ভেসে যেতে দেখেছি। মৃত্যুর আগে লোকটা বাবাকে মাস্তানদের সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছিল, সেটি বাবা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখানকার পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই করেনি। আমি এমন নিষ্ঠুর হতাশাজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি আবার ভারতের স্বাধীনতারও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। সুতরাং আমি অনেক বড় সমস্যা দেখেছি আবার সেগুলোর সমাধানও দেখেছি। এ কথার মানে এই নয় যে, আমি সব সময় আশাবাদে উদ্দীপ্ত। কোনো কিছু নিয়ে আমি অতিমাত্রায় আশাবাদী নই। এটির অর্থ আবার এই নয় যে, নিরাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ না থাকলেও নিরাশই হতে হবে। আইজ্যাক চোটিনার : জ্ঞানের এমন কোনো বিষয় কিংবা ক্ষেত্র কি রয়েছে, যেখানে আপনি আরও কাজ করতে চেয়েছিলেন? অমর্ত্য সেন :কিছু দার্শনিক সমস্যা রয়েছে, যেখানে আমি কাজ করতে চাই। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পেরে উঠিনি। আমাকে নানা কাজে এত ব্যস্ত থাকতে হয়েছে যে জ্ঞানতত্ত্বে ফেরা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সুতরাং এখানটায় আমার আরও কাজের ইচ্ছা আছে। আইজ্যাক চোটিনার :সেটি কি এজন্য যে কাজটি নিজে থেকেই গুরুত্ববহন করে নাকি এটি আপনার পছন্দের কাজ? অমর্ত্য সেন :দুটোই। কিন্তু আমি রাজনীতি থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে পারি না। বিশেষ করে ভারতের চলমান রাজনীতি থেকে। আমি একজন গর্বিত ভারতীয়। কিন্তু আমি কেবলমাত্র গর্বিত ভারতীয়ই নই। [হাসি]। একই সঙ্গে আমি একজন গর্বিত এশীয় এবং একজন গর্বিত মানুষ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত প্রগতিশীল বিদ্যালয়ে আমি পড়েছি। এটির সুবিধা ছিল মাত্র আট-নয় বছর বয়সেও একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যায়। সে সুযোগে আমি প্রচুর ইতিহাস পড়েছি। আইজ্যাক চোটিনার :আপনার সম্পর্কে একবার কোথাও পড়েছিলাম যে আপনি নিজেকে 'অনমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী' বলে মনে করেন। আপনি কি এখনও সেরকমই আছেন? অমর্ত্য সেন :ঠিক তাই। এটি কোনো সমস্যা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলা দরকার নয়। আইজ্যাক চোটিনার :কেন নয়? অমর্ত্য সেন :কারণ, জন্মসূত্রে আপনার পরিচয় কোনো ব্যাপারই নয়। এর সমাধান গণতন্ত্রের ভেতরেই রয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রায়ই ব্যর্থ হয় বলে এসব খুচরা ব্যাপার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে কখনও কখনও। সে জন্যই ব্যক্তি পরিচয়ের বহুমাত্রিকতা সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইজ্যাক চোটিনার :আপনার সন্তানরা কি আপনার বই পড়ে? অমর্ত্য সেন :খুব বেশি নয়। [হাসি]। আমার সন্তানদের মধ্যে একজন সাংবাদিক। অন্যজন শিশুতোষ বই লেখে। আরেকজন সংগীতজ্ঞ। একজন একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক। আমি কখনোই ওদের ভালো ফলের জন্য তাগাদা দেইনি। বরং চেয়েছি তারা যা করতে আনন্দ পায় তাই করুক। তারা অসাধারণ কিছু অর্জনের জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে- এমন কোনো পূর্বানুমান বা দিকনির্দেশনা আমার কাছ থেকে পায়নি। আমি বেশ অবাক হয়েছি এটা দেখে যে, একজন অভিনেত্রীকে কারাগারে পর্যন্ত যেতে হয়েছে এজন্য যে, তিনি তার সন্তানকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে যেতে জোর করছিলেন... আইজ্যাক চোটিনার :ওহ! আপনি অভিনেত্রী ফেলিসিটি হফম্যানের কথা বলছেন? অমর্ত্য সেন :তিনি যা করেছেন সেটি আমার কাছে বাড়াবাড়িই মনে হয়েছে। আপনি ভাবতে পারেন আপনার সন্তানের একটি ভালো স্কুলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেটি আপনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার দিক থেকে এমন কিছু নাও হতে পারে। [হাসি]। আইজ্যাক চোটিনার :আপনি কি এখন গল্প-উপন্যাস পড়ার সময় পান? অমর্ত্য সেন :গল্প-উপন্যাস পড়ার সময় একদম কমে গেছে। আমার দু-দু'বার ক্যান্সার হলো। প্রথমবার হলো যখন আমার বয়স ১৮। তখন আমার রেডিয়েশন নিতে হয়েছিল। ডাক্তাররা তখন বলেছিলেন, আমার মাত্র ১৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পাঁচ বছর বাঁচার। সে ঘটনা আজ থেকে ৬৮ বছর আগের কথা। সে তুলনায় আমি এখন দিব্যি বেঁচে আছি, ভালো আছি। দ্বিতীয়বারে হলো প্রস্টেট ক্যান্সার। আমি এখন এর চিকিৎসা নিচ্ছি। এ পর্বেও প্রচুর রেডিয়েশন নিতে হচ্ছে। অবশ্য সর্বশেষ পরীক্ষায় ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার সময় একটি সমান এক্সেলেটরে আমাকে শুয়ে থাকতে হত। এর ফলে আমি পড়ার অনেক সুযোগ পাই। সে সময়ে আমি প্রচুর উপন্যাস পড়েছি। এখনও আমি ছোটগল্প প্রচুর পড়ি। কিন্তু উপন্যাস পড়তে লম্বা সময়ের দরকার। আমার মনে হয় উপন্যাসের জন্য আমার আরও সময় খরচ করা উচিত। পড়ার জন্য আরও সময় দরকার আমার। মনে হচ্ছে না আমার এ আশা পূর্ণ হবে।
8
মাদকাসক্তির জন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই পর্যন্ত ৩৭ জন চাকরি হারিয়েছেন। পুলিশকে মাদকমুক্ত করতে বছর খানেক আগে এই বাহিনীর সদস্যদের 'ডোপ টেস্ট' শুরু হয়। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহর চতুর্থ দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. হায়দার আলী খান বলেন, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ডোপ টেস্টে এখন পর্যন্ত ৩৭ জন সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুলিশই প্রথম 'ডোপ টেস্ট' চালু করে। সরকারের অন্য কোনো বিভাগ আমাদের মতো সেভাবে ডোপ টেস্ট চালু করতে পারেনি। মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করার এই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে ডিআইজি হায়দার বলেন, কোনো মাদকাসক্ত পুলিশে যোগদান করে কি না, সেটি আমরা প্রথমেই চেক করি। পরবর্তীতে প্রতিনিয়ত এই ডোপ টেস্ট করা হয়ে থাকে। কেউ যদি ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তদন্ত করে সেক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান তিনি। অভিযোগ উত্থাপিত হলে অথবা যে কোনো সময় সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। একইসঙ্গে পুলিশের বিভাগীয় ব্যবস্থা চালু থাকে এবং নিয়মিত মামলা হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ হামলা ও হয়রানি করেছে তাদের। পুলিশ সদর দপ্তর তার তদন্ত করছে কি না- জানতে চাইলে ডিআইজি হায়দার বলেন, অবশ্যই পুলিশ দপ্তর দেখছে, বিভাগীয় তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
6
কয়েক বছর আগের কথা। কাপ্তাই গিয়েছি বেড়াতে। আস্তানা গেড়েছি বন বিভাগের রাম পাহাড় বিট অফিসের কোয়ার্টারে। ওখানে একটা সার্চলাইট আছে। রাতে পাহারাদার বনকর্মী এটার আলো ফেলে কর্ণফুলী নদীর জলে, চোরাই কাঠবোঝাই নৌকা খোঁজে। আমিও ঠায় বসে থাকি, যদি এর আলোয় পানি খেতে আসা কোনো বন্য প্রাণীর দেখা মেলে। সার্চলাইটের আলোয় তৃতীয় রাতে আবিষ্কার করলাম নদীর ওপারে, সীতা পাহাড়ের দিকটায় জ্বলজ্বলে এক জোড়া চোখ। আলোটা স্থির করতেই অন্ধকারের রাজ্যে আবছাভাবে দেখা গেল শরীরটা। মেছো বিড়াল।বাংলাদেশে যে আট জাতের বুনো বিড়ালের বাস, তার একটি এই মেছো বিড়াল। ইংরেজি নাম ফিশিং ক্যাট। অনেকে একে মেছো বাঘ বা বাঘুইলা নামেও চেনে।ধূসর শরীরে লম্বালম্বি কয়েক সারি হলুদ ডোরা এদের চেহারাটা ভারি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। লেজসহ লম্বায় সাড়ে তিন ফুট। শরীর বেশ ভারী, পা খাটো।একসময় ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও ডেমরা এলাকাতে এদের দেখা যেত। অবশ্য সেটা, ১৯৮০ সালের আশপাশের সময়ের ঘটনা। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের বনগুলোতে এরা বেশ আছে। সুন্দরবনও এদের বড় ঘাঁটি। তেমনি আছে গ্রামীণ বনে। সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে হাওর এলাকায়।এবার অন্তত বছর কুড়ি আগের একটি ঘটনা। গাজীপুরের কালীগঞ্জের এক শালবনের আশপাশের মানুষের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে জঙ্গল কিংবা গ্রামের আশপাশে অদ্ভুত এক সাদা প্রাণী নজরে পড়ছে তাদের। এক রাতে ওই এলাকার বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় বন্য প্রাণীপ্রেমী সরওয়ার পাঠান হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, দুটো মেছো বাঘের তুমুল লড়াই! একটার চেহারা সাধারণ; আরেকটার গায়ের রং সাদা। বুঝতে বাকি রইল না এটা অ্যালবিনো। একে নিয়েই গ্রামের লোকের এত ভয়। শ্রীমঙ্গলের সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায়ও একসময় একটি অ্যালবিনো সাদা মেছো বাঘ ছিল।মেছো বিড়ালদের পছন্দের খাবার মেনুতে আছে মাছ থেকে শুরু করে খরগোশ, বনমোরগসহ খুদে স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণী। হঠাৎ সুযোগ পেলে গ্রামের মানুষের হাঁস-মুরগি, ছাগল শিকার করে খাওয়ার অভিযোগও আছে। কোথাও এদের দেখা গেছে-এমন খবর পেলে সারা গ্রামের মানুষ এক হয়ে পিটিয়ে এদের দুনিয়ার মায়া কাটাতে বাধ্য করে। এভাবে গ্রামীণ বন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে আশ্চর্য সুন্দর এই জন্তুটি।বাংলাদেশ ছাড়া এদের পাবেন ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে।তবে একটা ভালো খবর দিয়ে শেষটা করতে চাই। পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মারফত জেনে খুশি হয়ে উঠেছে মন। গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের দোড়গোড়ীয়া গ্রামে একটি মেছো বিড়াল আটকা পড়ে ফাঁদে। ওই অবস্থাতেই চারটা বাচ্চা হয়। খবরটা জানানো হয় বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে। তাঁরা গিয়ে দেখলেন খাঁচাবন্দী মা মেছো বিড়াল বাচ্চাগুলোকে বুকের দুধ পান করাচ্ছে। শেষমেশ গ্রামের মানুষকে বুঝিয়ে মেছো বিড়ালটিকে বাচ্চাসহ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে একাকী যায় মা মেছো বিড়াল। তবে কিছুক্ষণ পর, ফিরে আসে মা, নিয়ে যায় বাচ্চাগুলোকে। এভাবেই গোটা দেশে ভালো থাকুক মেছো বিড়ালেরা।
6
ডিজেল তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজশাহীতে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে তারা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে সব বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগন্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিকল্প হিসেবে ট্রেনে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তারা রেলস্টেশনে ভিড় করলেও টিকিট পাননি। বাধ্য হয়ে অনেকে সিএনজিযোগে পাশের জেলায় রওনা দেন। তবে এ সুযোগে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে সিএনজিচালকদের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল না করলেও টার্মিনালে আসতে থাকেন যাত্রীরা। যারা অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দেয় সংশ্লিষ্ট বাস মালিক কর্তৃপক্ষ। অন্যরা কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে পারেননি। যাত্রীরা ট্রেনে গন্তব্যে পৌঁছতে টিকিটের জন্য রেলস্টেশনে গেলে, সেখানেও টিকিট না পেয়ে ঘুরে যান। দূরপাল্লার যাত্রীরা ফিরে যান বাসায়। তবে বিভাগের কয়েক জেলায় সিএনজিতে রওনা দেন অনেক যাত্রী। এদিন নগরীর ভদ্রা ও তালাইমারী থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সিএনজি। আর রেলগেট থেকে জেলার গোদাগাড়ী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার সুযোগ পান যাত্রীরা। এছাড়া একই পয়েন্ট থেকে নওগাঁগামী যাত্রীরা সিএনজিতে পৌঁছান তাদের গন্তব্যে। যাত্রীরা জানান, বাস বন্ধের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। ট্রেনেও ছিল না টিকিট। বাধ্য হয়ে সিএনজিযোগে গন্তব্যে যেতে হয়। তবে তিন-চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন সিএনজিচালকরা। পরিবহন ধর্মঘটে তাদের দুর্ভোগ হলেও জয়জয়কার অবস্থা তৈরি হয়েছে সিএনজি চালকদের। অবশ্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকারও করেছেন সিএনজিচালকরা। তারা জানান, অন্যান্য সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। সবসময় তো দূরপাল্লার যাত্রী বহন করা হয় না, বাস বন্ধের ফলে সাময়িক এ সুযোগ তারা পেয়েছেন। বাস চলাচল শুরু হলে আবার নির্ধারিত ভাড়ায় তারা যাত্রী পরিবহন করবেন। তেলের দাম না কমানো পর্যন্ত ধর্মঘট চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। এ বিষয়ে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, তেলের দাম কমানো উচিত। দাম না কমালে আমরা গাড়ি বের করবো না। আর দাম না কমিয়ে সরকারও দীর্ঘদিন নীরব থাকলে, আমরাও ভাড়া বাড়াবো। তারপর শুরু হবে গাড়ি চলাচল। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লেও বাসের ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা আসেনি। সেজন্য বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করতে হয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি তেলের দাম কমানো। ডিজেলের দাম না কমানো হলেও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। তারপর সড়কে নামবে যানবাহন। অন্যথায় অব্যাহত থাকবে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট। ট্রেনে বাড়তি চাপের বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানান, আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-খুলনা রুটের সব টিকিট শেষ। শুক্রবার অনেকেই স্টেশনে আসেন টিকিটের জন্য, কিন্তু টিকিট আগেই শেষ হয়ে যায়। তবুও কেউ কেউ ট্রেনে উঠেছেন।
6
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার পর এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এবং ছাত্রদল চানখাঁরপুলের অংশে অবস্থান নেয়।এই সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আক্তার হোসেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দু-একজন রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন।সম্প্রতি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল-সমাবেশও করেছেন। তবে টিএসসির পাদদেশে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের দাবি, সেই অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এ সময় শহীদ মিনার এলাকায় কিছু লোক তাঁদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। মুহূর্তেই মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্যে আমরা যে ধরনের শিষ্টাচার দেখি, সেটি খুনি ও দণ্ডপ্রাপ্ত উচ্চমাধ্যমিক পাস না করা একজন নেতা এবং অষ্টম শ্রেণি পাস প্রধানমন্ত্রীর মানদণ্ডেরই উপযুক্ত। ছাত্রদলের এসব কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক বক্তব্য-বিবৃতি এবং অছাত্র-বহিরাগতদের কাছে ছাত্র রাজনীতির ঠিকাদারি দেওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে যদি প্রতিবাদ জানান, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই।'
6
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে পিরোজপুর জেলা বিএনপি। সমাবেশে যোগদানকালে পুলিশের লাঠিচার্জে ২০ নেতাকর্মী আহত হবার অভিযোগ করেছে বিএনপি। বুধবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর শহরের পুরাতন জেলখানার সামনে জেলা বিএনপি'র অফিস চত্বরে সমাবেশে প্রধান অতিথির রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিস জাহান শিরিন। এর আগে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলে শহরের বিভিন্ন স্পটে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের ২০ নেতাকর্মী পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হয় বলে জানান জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
6
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায়করোনায়৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে ৫ বিভাগে এদিন কেউ মারা যাননি ভাইরাসটিতে। বিভাগগুলো হলো- ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর। আজ শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯জনের মধ্যে পুরুষ ৪ ও নারী ৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৬ জন, চট্টগ্রামে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৮০ জনের। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫২৩ জন। ফলে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৯১ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দেশে করোনাভাইরাসে মারা যান ৭ জন। সেদিন করোনা শনাক্ত হয় ৪৬৬ জনের। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
4
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি দেশে উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় আনার আঘাতে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। উদ্ধারকারী বাহিনী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার উষ্ণমন্ডলীয় ঝড় আনা মাদাগাস্কারে আঘাত হানে। পরে এটি মোজাম্বিক ও মালাবিতে আঘাত হানে। ঝড়ের কারণে দেশগুলোতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।তিনটি দেশের উদ্ধারকারী বাহিনী ও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে।এএফপি বলছে, মাদাগাস্কারে ৪১ জন, মোজাম্বিকে ১৮ জন ও মালাবিতে ১১ জন নিহত হয়েছেন।উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় আনা আঘাত হেনেছে জিম্বাবুয়েতেও। তবে সেখানে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় আনার আঘাতে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি দেশেরই হাজার হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীগুলো পানি বেড়ে যাওয়ায় ব্রিজও ধসে পড়েছে।মাদাগাস্কারে এক লাখ ১০ হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। রাজধানী আন্তানানারিভোতে স্কুল ও ব্যায়মাগারগুলোকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে একটি ব্যায়মাগারে আশ্রয় নিয়েছেন বার্থিন রাজাফিয়ারিসোয়া। তিনি বলেন, আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো নিয়ে এসেছি।মোজাম্বিকের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ১০ হাজারের মতো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনার আঘাতে। এতে কয়েক ডজন ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।মোজাম্বিকের আবহাওয়া অধিদপ্তর শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারত মহাসাগরে আরেকটি ঝড় তৈরি হতে পারে। মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে ছয়টি উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় আঘাত হানতে পারে। মালাবিতে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে।চলতি সপ্তাহে মালাবির বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার কিছু কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দেশটির ইলেকট্রিক গ্রিডের অনেক অংশই ধ্বংস দিয়েছে।
3
রাজধানীর মিরপুরে বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১ এর সনি সিনেমা হলের সামনে বিক্ষোভে নামে তারা। কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা 'জিন্স ম্যানুফ্যাকচারিং কো. লিমিটেড' নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রেখে কারখানাটি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে। বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন বলে জানান তারা। এসময় ওই অঞ্চলের রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আশপাশে জানযটের সৃষ্টি হয়।
6
সালিশে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করার অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলারকনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।সোমবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে বরখাস্তের নির্দেশ জারি করে। এতে বলা হয়েছে, সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তা এ চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সালিশ গিয়ে প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পছন্দ করে বিয়ে করে ফেলেন এ ইউপি চেয়ারম্যান (৬০)। পরের দিন শনিবার তাকে আবার তালাকও দিয়ে দেন। এ ঘটনায় সোমবার তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।মামলায় সালিশে পছন্দ হওয়ায় কিশোরী মেয়েকে জোর করে বিয়ে, পরে তালাক দেওয়া এবং কিশোরীর প্রেমিক রমজান হাওলাদারকে মারধর ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। রমজানের বড় ভাই মো. আল ইমরান বাদী হয়ে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি করেন। বিচারক মো. জামাল হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। মামলাটির অন্যআসামিরা হলেন, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পলাশ হাওলাদার, সুজন হাওলাদার, নূরুল আমিন বাবু, আবু সাদেক ও মো. আইয়ুব। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আল-আমিন বলেন, অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মেয়েটি নাবালিকা জেনেও তিনি জোর করে বিয়ে এবং রমজানকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করেন। পরে বিষ খাইয়েও হত্যার চেষ্টা চালান। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে চেয়ারম্যান মেয়েটিকে তালাকও দিয়ে দেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ও তার পাঁচ সহযোগী এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী মো. আইয়ুবকে আসামি করা হয়েছে। এদিকেরোববার এ ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, জেলা নিবন্ধক ও পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে পৃথক প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কথা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু হাইকোর্টের ওই আদেশের কপি এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছেনি।
6
উন্নয়নের যে রাজনৈতিক 'ভাষ্য' দাঁড় করানো হয়েছে, তাতে গণমানুষের বাস বা ভাত-কোনোটারই ঠাঁই হয়নি। তাই আজদাহা উড়ালপুলের নিচে রাত পার করা আজন্ত গৃহহীনদের দিকে নজর নেই কারও; আকাশচুম্বী দরদালানের পাশে ফুটপাতে পড়ে থাকা সম্বলহীনদের অবস্থারও কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তেমনি আলোচনায় নেই প্রশস্ত মসৃণ মহাসড়কের ধারে সংকীর্ণ ঝুপড়িঘরের মলিন বাসিন্দারা; ইতিউতি চলমান মেগা প্রকল্পের আশপাশের 'স্মল' গরিবগুরবাও সমানভাবে উপেক্ষিত। 'উন্নয়নের ফেরিওয়ালাদের' যেন এ কথাই এক দফায় মনে করিয়ে দিল জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির 'এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি প্রতিবেদন-২০২১' অনুযায়ী বাংলাদেশের ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ মাঝারি ও তীব্র খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের তিন বেলার আহার জুটবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। হাঘর, হাভাত এসব মানুষেরও অবশ্য উন্নয়নের ফিরিস্তি অজানা নয়। হররোজ বেজে চলছে উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ! স্বাভাবিকভাবেই এই উচ্চণ্ড শব্দে কারও কানেই পৌঁছাচ্ছে না ম্লান মানুষের কষ্টের উচ্চারণ। তাদের অভাবের কাতরতা, অসহায়ত্বের বেদনা, মানবিক বিপন্নতাই বড়জোর কাব্যের খোরাক হয়, তাদের খোরাকির বন্দোবস্ত হয় না। এফএওর প্রতিবেদন তারই সাক্ষ্য দেয়, দেশে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১২ লাখ। অবশ্য এ প্রতিবেদনে চলতি বছরের চিত্র পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক দেখতে-শুনতে পায়, এমন একজন মানুষও বোধ করি দ্বিমত করবে না যে এ বছরের পরিস্থিতির আরও খারাপের দিকেই গড়িয়েছে। করোনায় বড় ঝাঁকুনি খাওয়া বিভিন্ন খাত ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, অর্থনীতি সচল হচ্ছে, কিন্তু আগের গতি ফিরে পায়নি এখনো। এ কারণে কাজ হারানো বহু মানুষের আয়রোজগারের উপায়ও হয়নি। আর নিত্যপণ্যের বাজারে আক্ষরিক অর্থেই যেন 'আগুন' লেগে আছে। কে না জানে, আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না। তাই নিম্ন আয়ের মানুষেরও পেটের 'আগুন' নিভছে না! অথচ 'দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ' শিরোনামের গল্পের চরিত্রও তারা! এসব বিপন্ন মানুষ কি জানে, গ্লোবাল ফাইন্যান্সের ২০২১ সালের তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৪০তম ধনী দেশ। সাময়িকীটির হিসাবে, ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখন ৫ হাজার ৩০৭ ডলার। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার (সাড়ে ২৯ হাজার টাকা)। এই গল্পের অন্য দিকটি উদ্ভাসিত হয় কিছু জরিপ, পরিসংখ্যান বা গবেষণায় চোখ বুলালে। প্যারিস স্কুল অব ইকোনমিকসের 'বৈশ্বিক অসমতা' প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি যাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর সিন্দুকে। অথচ বিশ্বের অর্ধেক মানুষের আয় মাত্র ৮ শতাংশ। করোনাকালে ২০২০ সালে অতিধনীদের সম্পদ বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ, ৬৪ শতাংশ। এর বিপরীতে এ সময়ে ১০ কোটি মানুষ পড়েছে চরম দারিদ্র্যের কবলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে 'বৈশ্বিক অসমতা' প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালে দেশে শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর আয় মোট জাতীয় আয়ের ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে, পিছিয়ে থাকা ৫০ শতাংশ মানুষের আয় মাত্র ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। ধনী-গরিবের আয়ের ব্যবধান কতটা, তা মাপার মতো ফিতা কি আমজনতার হাতে আছে? বিশ্বব্যাংকও জানিয়ে দিয়েছে, গত দেড় দশকে দারিদ্র্য কমানোর প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১৫ দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ এ সময় ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়-দুটোই বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল-এই ১০ বছরে বাংলাদেশে ধনাঢ্য ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ার হার ছিল ১৪ দশমিক ৩। ওয়েলথ এক্সের 'আ ডিকেড অব ওয়েলথ' শীর্ষক গবেষণা বলছে, এ হার বিশ্বের সর্বোচ্চ। সম্পদশালীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বিশ্বের তাবড় তাবড় অর্থনীতিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ফুটনোট হলো, ৫০ লাখ ডলার বা অন্তত ৪০ কোটি রেস্ত যাদের পকেটে, এ ক্ষেত্রে ধনীর তকমাটা তাদের। ওয়েলথ এক্সের গবেষণার প্রতিফলন দেখা যায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবেও। ওই হিসাব অনুযায়ী দেশের ৩৮ শতাংশ সম্পদের মালিকানা মাত্র ১০ ভাগ মানুষের হাতে। আর সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ মাত্র ১ শতাংশ সম্পদের মালিক। দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়েছে-এ কথা বলছে দেশীয় সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনও (এমএসএফ)। তাদের হিসাবে, দেশে বছরে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তি নতুন করে কোটিপতি হচ্ছেন। দেশের প্রবৃদ্ধি গুটিকয় মানুষ ভোগ করেন-এমন অভিমত দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ ক্রমাগত বৈষম্য বৃদ্ধি ও অসমতা। এমএসএফ 'উন্নয়ন'-এর আগে 'দৃশ্যমান' শব্দটি ব্যবহার করেছে। ক্ষুধা তো 'দৃশ্যমান' নয়। তাই দেশের সোয়া পাঁচ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা কী বস্তু, এই মানুষগুলো ঝুঁকিতে নাকি বিপদে, তা নিয়ে 'ধোঁয়াশা' থেকেই যায়! এ কারণে এতে চলমান 'দৃশ্যমান' উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে মনে হয় না। হাসান ইমাম সাংবাদিক[]
8
ছিনতাইকারীদের ছুরির আঘাতে হাতে পড়ে ১৯টি সেলাই। আহত অবস্থায় নেওয়া হয়েছিল চমেক হাসপাতালে। সঙ্গে টাকা যা ছিল সবই ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এ সবই ছিল সাজানো নাটক। চট্টগ্রামে এক মালিকের ৮০ হাজার টাকা মেরে দেওয়ার জন্য ছিনতাইয়ের এই নাটক সাজিয়েছিলেন আলাউদ্দিন (৫৫) নামে এক কর্মচারী। তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন শেখ ফরিদ পলাশ (২৫) নামে আরেক কর্মচারী। তবে তাঁদের শেষরক্ষা হয়নি।গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালী পুলিশ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এদের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেজাম উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারের কাঁচামালের আড়ত ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিনের কর্মচারী হিসেবে দুই বছর ধরে কাজ করছেন আলাউদ্দিন। আলাউদ্দিন বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঁচামাল বিক্রি বাবদ টাকা সংগ্রহ করে দোকানে এসে মালিকের কাছে জমা দিতেন।গত ৩ অক্টোবর এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য আলাউদ্দিনকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে এলেও আলাউদ্দিন ওই দিন রাতে দোকানে ফেরেননি। পরে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।পরে রাত ১টা নাগাদ দোকানের আরেক কর্মচারী পলাশ দোকানের মালিককে ফোন করে জানান আলাউদ্দিন দোকানে এসেছেন, তাঁর অবস্থা ভালো না। তাঁকে মেডিকেলে নিয়ে যেতে হবে। এ সময় পলাশ জানান, নগরীর আলংকার মোড়ে ছিনতাইকারীরা তাঁকে মেরে টাকাপয়সা সব ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। রাত ৩টা নাগাদ পলাশ আবারও ফোন করে মালিককে জানান, আলাউদ্দিনকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর হাতে ১৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।পরদিন আড়ত ব্যবসায়ী তাঁদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। এ সময় তাঁরা দুজনকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করেন।ওসি নেজাম বলেন, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে ওই দিন এ ধরনের কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত হয়। পরে তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা টাকাগুলো সরিয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে তাঁদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।ওসি বলেন, ছিনতাই নাটক সাজানোর জন্য আলাউদ্দিন ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটেছিলেন। পরে তাঁর ওপর ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেন।
6
দেশের মানুষের উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে প্রতিবেশী দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে পাকিস্তান। এজন্য নিজেদের দেশে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে তারা। একদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে অন্যদিকে আবার আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে নিজেদের সেনা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ইমরান খান প্রশাসনের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার ক্রমশ অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মনে। ফ্রান্সের ওই সংস্থাটি পাকিস্তানের বিভিন্ন গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় গত সেপ্টেম্বর মাসে ওই সমীক্ষা চালিয়েছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী ৫০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পেরেছে যে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ মানুষ বর্তমান সরকারের কাজে সন্তুষ্ট নয়। তারা মনে করেন, ২০১৯ সালের পর থেকেই ভুল পথে হাঁটছে দেশ। প্রতি চারজন পাকিস্তানির মধ্যে তিনজনের ধারণা দেশে যা চলছে তা ঠিক হচ্ছে না। পাঁচজনের মধ্যে চারজন মনে করেন, ক্রমশ বেহাল হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা। আর এর জন্য ইমরান খানের সরকারই দায়ী। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দু'জন পাকিস্তানি মনে করেন, দেশের মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্রতা ও বেকারত্বের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে তা সরকারের ভুল নীতির ফল। এমনকি তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার জন্যও সরকারই দায়ী। ওই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, পাকিস্তান অধিকৃত পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় দুর্নীতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর সিন্ধুপ্রদেশের মানুষের অসন্তোষ লোডশেডিংয়ের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। এর পাশাপাশি সেখানে যেভাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বেকারত্ব ও দারিদ্রতা হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে পাকিস্তানের প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে একজন আগামী ৬ মাসের মধ্যে চাকরি হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন। সূত্র: টাইমস নাউ নিউজ বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
তিন বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি মিজানুর রহমানের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর জামিনের আবেদন শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক বেঞ্চ আজ বুধবার এই আদেশ দেন।গত ৪ এপ্রিল খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। মিজানুর রহমানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।এর আগে ঘুষ গ্রহণের মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ রায় দেন। রায়ে দুদকের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদক ওই মামলা করেছিল। এরপর ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
6
ইউক্রেনেযুদ্ধ বন্ধে ইতালি শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া ইতালির এই প্রস্তাব ভেবে দেখছে বলে জানিয়েছে। সোমবার রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেনকো এ তথ্য জানান। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও বেলারুশে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা একাধিক বৈঠক করলেও তাতে কার্যত কোনো ফল আসেনি। আলোচনা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ইতালির পক্ষ থেকে শান্তিচুক্তির প্রস্তাব এল। এই বিষয়ে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি প্রস্তাবটি পাওয়ার পর আমরা এটি এখন পড়ে দেখছি। তবে ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ইতালির প্রস্তাব নিয়ে পরে তারা আরও প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানিয়েছেন। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থাগুলো রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে, প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ও ইতালির মধ্যে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনায় রুশ পক্ষের প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি গত রোববার বলেন, রাশিয়া আবার আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত হলেও ইউক্রেনের কারণেই এটা আটকে আছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেনকো বলেন, আমাদের কারণে আলোচনা বন্ধ এবং সবকিছু স্থগিত হয়নি। ইউক্রেন গঠনমূলক কোনো অবস্থানে এলেই আলোচনা ফের শুরু হবে বলেও জানান তিনি। সূত্র: এনডিটিভি, ফোরাল বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল
3
সৌদি আরবে রাজধানী রিয়াদে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল চালু হয়েছিল প্রথম সিনেমা হল। সৌদি রাজপরিবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ৩৫ বছর পর দেশটিতে সিনেমা হল চালু হয়। এবার টানা কয়েক মাসের লকডাউনের পর আবার সৌদি আরবে বিনোদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গত রবিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেদ্দায় চালু হয়েছে ভক্স সিনেমা হল। এটি সৌদি আরবের ১১তম সিনেমা হল। হল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র বিনোদন দেবে তারা। করোনাকালেও প্রতিষ্ঠানটি বিস্তৃতি ঘটাতে চাচ্ছে সৌদি আরবে। লকডাউন তুলে নেয়ার পর হতে সিনেমা হলে দর্শনার্থী বাড়ছে বলে জানান তিনি। আল হাশিমি বলেন, প্রতিটা শো এর পর আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেই। সিনেমা প্রেমিকদের নিরাপদ রাখার জন্য আমরা সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখি। খরচ বাড়লেও এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। করোনার কারণে ক্ষতিটা শুধু বিনোদন খাতে হয়নি বলেই ভাবছেন আল হাশিমি। তিনি বলেন, অন্যসব খাতের মতোই করোনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও আমাদের উভয়ের ভূমিকা থাকতে হবে। আমাদের কাজ এখন সিনেমা হলে দর্শকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আমার মতে, এই আত্মবিশ্বাসটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে। আল হাশিমি বলেন, যত সিনেমা হল খুলবে তত বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সেঅবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, মুজিবনগর থানার ওসি মেহেদি রাসেল, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম। পরে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামের বাইরে গাছের নিচে ব্যস্ত জারেড বোর্গেত্তি। কিন্তু মেক্সিকান সমর্থকদের কারণে কথাই বলতে পারছিলেন না। পেছনে থেকে মেক্সিকান সমর্থকদের চিৎকার, চেঁচামেচি , উল্লাস ধ্বনি বারবার তাকে থামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছিল। এরপর দেশের এই ফুটবল পাগলেদের উদ্দেশে অনুরোধ করলেন, 'ভাই তোমাদের চিৎকারের জন্য তো টিভিতে লাইভ দিতে পারছি না।' ওই অনুরোধ কী কানে তোলার সময় আছে 'মেহিকো মেহিকো' স্লোগানে মুখরিত করা উত্তর আমেরিকার দেশটির নাগরিকদের। তারাও যেচায় তাদের উল্লাসের দৃশ্য সরাসরি দেখানো হোক। যে অসাধ্য তারা সাধন করেছে সে আনন্দ উদযাপন করার সময় কী বোর্গত্তির অনুরোধ শোনান সময় আছে। শেষ পর্যন্ত ওই অবস্থার মধ্যেই টিভি প্রোগাম শুরু করলেন এই সাবেক মেক্সিকান স্ট্রাইকরা। একইসাথে ফাঁকে ফাঁকে 'বোর্গত্তি বোর্গেত্তি বলে ডাকতে থাকা সমর্থকদের সাথে ছবি তোলার অনুরোধ রাখতে তাকে ছুটে আসতে হচ্ছিল পাশেই। ওই সময়েই ইএসপিএন মেক্সিকোর উপস্থাপক জন অটক্লিপটের সহায়তায় কয়েকটি প্রশ্ন করার সুযোগ বোর্গেত্তিকে। পরশু তার সাথে কথা বলার আগেই কী অসাধারণ কাজই না করে ফেলেছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম জার্মানির বিপক্ষে জয় মেক্সিকোর। জারেড বোর্গত্তিও এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করলেন। মেক্সিকোর পক্ষে কী এবার বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব? বোর্গেত্তির উত্তর, কেন নয়। 'এফ' গ্রুপের এই জয়ে মেক্সিকোর এখন অনেকটা সহজ হলো নক আউট পর্বে যাওয়ার। অন্য দিকে অনিশ্চিত জার্মানি। দুই দলেরই পরের দুই খেলা বাকি দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইডেনের বিপক্ষে। বর্গেত্তির মতে,'জয়টা এখন বেশ এগিয়ে নিলো মেক্সিকোকে। আশা করি, এই জয় অতীতের সব হতাশা কাটিয়ে এবার মেক্সিকানদের স্বপ্ন পূরণ করবে। এখন মেক্সিকোর ভালো সুযোগ তৈরি হলো দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার।' উল্লেখ্য দুইবারের বিশ্বকাপের আয়োজক মেক্সিকো এখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। অথচ ২০১২ সালের অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণ জয়ী তারা। আরো যোগ করেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় এটা অনেক বড় ঘটনা আমদের জন্য। আমরা অতীতে কখনো হারাতে পারিনি জামার্নদের। ১-০ গোলের এই জয় মেক্সিকোর জন্য ব্রেকিং পয়েন্ট।' গোলের জন্য তিনি পুরো কৃতিত্ব দিলেন হাভিয়ার হার্নান্দেজকে। বোর্গেত্তির মতে, তার উপস্থিতি দলের জন্য ছিল বাড়তি প্রেরনা। প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে খেলা এই ফুটবলারের খেলা বুঝতেই পারেনি জার্মানরা। তার দ্রুত গতির পাসে বোকা বনে যায় প্রতিপক্ষরা। আর এই সুযোগেই গোল। জানান, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে জয় মেক্সিকোর জন্য উড়ন্ত সূচনা। আমি অভিভূত ৩০ হাজার মেক্সিকান এসেছেন এই খেলা দেখতে। অবশ্য তিনি মনে করছেন না হারের ফলে সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে জার্মানির। বললেন জার্মানদের সামনে এখনও রাস্তা তৈরি। এজন্য তাদের পরের দুই খেলায় জিততে হবে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মেক্সিকো জাতীয় দলে খেলেছেন বোর্গেত্তি। জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৪৬ গোল করেছেন তিনি। ২০০৫ সালের ফিফা কনফেডারেশন কাপে তার তিন গোল ব্রাজিল ও জার্মানির বিপক্ষে। তার গোলেই ব্রাজিলকে ১-০তে হারিয়েছিল মেক্সিকো। ২০০২ বিশ্বকাপে তার হেডেই ইতালির বিপক্ষে লিড নিয়েছিল স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশটি। পরে অবশ্য ১-১-এ ড্র হয় খেলা।
12
বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়ে গেল। এ নিয়ে অ্যানাটমি চলছে, চলবে। যাঁরা জয়ী হয়েছেন তাঁরা দাবি করছেন, এত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিকট অতীতে হয়নি। যাঁরা হেরে গেছেন তাঁদের দাবি, তাঁদের জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমকে বেশ 'সংযত' মনে হচ্ছে। ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের তথ্য ও মন্তব্য। ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলায় 'অনিকেত' নামে কলাম লিখতেন নির্মল সেন। তখন বেশ জোরদার একটি হরতাল হয়েছিল। তো তিনি লিখলেন-আজ হরতাল হয়েছে, আজ হরতাল হয়নি। সরকারি পত্রিকায় এর চেয়ে বেশি আর কীই-বা লেখা যায়? যাঁর যা বোঝার তিনি বুঝে নিয়েছিলেন।স্বাধীনতার পরপর দেশের অবস্থা ছিল অন্য রকম। রাজনৈতিক দলগুলো ছিল সবল, রাষ্ট্র ছিল দুর্বল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠতে সময় লাগে। এখন মোটামুটি টের পাওয়া যায়, চালচিত্র পাল্টে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কেমন যেন নেতিয়ে পড়েছে। তুলনামূলকভাবে রাষ্ট্র হয়ে গেছে অনেক শক্তিশালী। আমরা এমনিতেই জানি, রাষ্ট্রের হাত অনেক লম্বা। তো সেই রাষ্ট্র যার কবজায় যাবে বা রাষ্ট্র যাকে সমর্থন দেবে, তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।গত কয়েক দশক দুই পরাশক্তি আমাদের রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে-আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে মনে হতে পারে, বিএনপি বোধ হয় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। দেশের মানুষ কী চেয়েছিল তা জানতে হলে ঘরে ঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো এমনটিই চেয়েছিল। শত্রু কুপোকাত হলে কার না আনন্দ হয়? এখন আওয়ামী লীগ ও তার সুহৃদেরা আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। চারদিকে অভিনন্দনের বান ডেকেছে। অনেকেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তা জানান দিচ্ছেন। হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা বলে শব্দের বোমা ফাটাচ্ছেন। বছরখানেক আগে একজন মন্ত্রী হয়েই হুংকার দিয়েছিলেন, রক্ত দিয়ে হলেও বিমানকে লাভজনক করবেন। জানি না তিনি কথা রাখতে পেরেছেন কি না। তবে তাঁর হাতে বিমানের স্টিয়ারিং হুইল এখন আর নেই। সংসদের দিকে তাকালে মনে হবে, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। কাগজ-কলমে বিরোধী দল হয়েছে জাতীয় পার্টি। এই দলের সাংসদদের মন ভালো নেই। মন্ত্রী না হতে পারলে মান-সম্মান থাকে না। কিন্তু বিরোধী দল না থাকলে সংসদীয় ব্যবস্থা চলবে কী করে? তাঁরা অনেকেই বলেছেন, তাঁরা সরকারে থাকবেন না বিরোধী দলে যাবেন, এটি ঠিক করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তো প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এখন জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল হয়ে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। আওয়ামীবৃত্তে যাঁরা আছেন, তাঁরা দশম সংসদে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের তকমা দিলেও যথেষ্ট মর্যাদা দেননি। তাঁদের কথাবার্তায় সব সময় ছিল বিএনপির সমালোচনা। সংসদে না থেকেও সত্যিকার বিরোধী দল ছিল বিএনপি। এখন প্রশ্ন একটাই-বিএনপি কী করবে? বিএনপির ঘরে দুটো জানালা ছিল। একটি হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, অন্যটি হলো জামায়াত। ঐক্যফ্রন্টের ফেসভ্যালু ছিল বেশি। কিন্তু রাজনৈতিক গুরুত্ব বেশি পেয়েছিল জামায়াত। তাই দেখা গেল, ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের চেয়ে জামায়াতকে বেশি আসনে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল দেখা গেল, জামায়াতের থালা শূন্য। ঐক্যফ্রন্টের ভাগে দুটো লাড্ডু, দুটোই গণফোরামের পাত্রে। গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের মন্তব্য হলো, এটিও কম অর্জন নয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা সংসদে যাবেন না। গেলে কী ক্ষতি আর না গেলে কী লাভ, এটি তাঁরাই ভালো বোঝেন। কেননা দল তাঁদের। নিশ্চয়ই তাঁদের কোনো হিসাব আছে। সংসদে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া হয়, এটি তাঁরা জানেন। সংসদে না গেলে তাঁরা বাইরে থেকে 'অবৈধ সংসদের' নিন্দা-সমালোচনা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করছেন। কিন্তু সেটাও কি পারবেন? তাঁদের তো কোথাও দাঁড়াতেও দেওয়া হচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, তাঁরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। তাঁর কথায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বিএনপি শেষমেশ সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। যদি এমন হয়, বিএনপির কেউ কেউ এবং গণফোরামের দুজন সংসদে গেলেন। সে ক্ষেত্রে এ নিয়ে বিএনপিতে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আমরা ১৯৯৬-এর সংসদে এমনটি দেখেছি। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশ অমান্য করে মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শেখ হাসিনার 'ঐকমত্যের সরকারের' মন্ত্রী থেকে গিয়েছিলেন এবং সংসদীয় দলের ১২ জনকে নিয়ে আলাদা একটি গ্রুপ করেছিলেন। আমরা পরে দেখলাম, জাতীয় পার্টি তিন টুকরো হলো। বিএনপি সংকটে আছে। এখন তারা কী কৌশল নেবে, ভবিষ্যতে কী কথা বলে জনগণের সামনে আসবে, এ নিয়ে দলের ভেতরে নিশ্চয়ই কথা চালাচালি হচ্ছে। তবে এটা অনস্বীকার্য যে দেশে আওয়ামী লীগের বাইরে একটি উদার গণতান্ত্রিক বিরোধী দলের চাহিদা আছে। বাম দলগুলো এ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে, নাকি সমাজে নানা রসায়নের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের মতো দেশগুলোতে নাগরিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। অতীতে নাগরিক ভাবনা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্মিলনের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক কিছুই অর্জিত হতে দেখেছি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁদের হাত ধরাধরি করে চলতে দেখেছি। এ দেশে ভুঁইফোড় রাজনীতিকের সংখ্যা যত বাড়ছে, নাগরিক সমাজের ভূমিকার বিরুদ্ধে তাঁদের বিষোদ্গার ততই বাড়ছে। এ জন্য নাগরিক সমাজের একটি অংশ দায়ী। পদ-পদক-পদবির মোহে তাঁরা যেভাবে ক্ষমতাসীনদের পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, তা রীতিমতো লজ্জাজনক। এ ধরনের কাঙ্ক্ষিত পদ আছে হয়তো কয়েক শ। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বা পরিচালক, বিভিন্ন সাংবিধানিক কমিশনের সদস্য, দূতাবাসের চাকরি বা নানা রঙের উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ আছে যে কজনের, প্রত্যাশীর সংখ্যা তার অনেক গুণ বেশি। সুতরাং নির্লোভ এবং বঞ্চিতদের মধ্যে একটা সংযোগ সহজেই হয়ে যেতে পারে। জাতীয় সংসদে যে একচেটিয়া দলতন্ত্র কায়েম হয়েছে, তা ওই দলকে যত সুবিধাই দিক না কেন, সমাজের গণতন্ত্রায়ণের পথটি তাতে মসৃণ হবে না। কেউ বলতে পারেন, 'পাবলিক ভোট না দিলে কী করার আছে?' পাবলিক কাকে ভোট দিয়েছে, তা পাবলিকই জানে। শুনতে পাচ্ছি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একটি জাতীয় সংলাপ হতে যাচ্ছে। সেখানে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে নিশ্চয়ই একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। তাঁরা যদি প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্তসহযোগে বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন এবং যদি তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে, তাহলে তার ভিত্তিতে একটি জনমত তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমি শুধু একটি কথাই বলব, কোনো রকম খোয়াব না দেখে, মাটির ওপর দাঁড়িয়ে তাঁরা যেন পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেন এবং প্রতিপক্ষের শক্তিকে যেন খাটো করে না দেখেন। মহিউদ্দিন আহমদ লেখক ও গবেষক []
8
করোনায় কঠোরতম লকডাউনে ছোট পর্দার সব শুটিং বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও)। আজ ২৩ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব শুটিং বন্ধ থাকবে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জরুরি বিবেচনায় শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, এমনটাই জানালেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম। লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এফটিপিও শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এফটিপিও সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, 'কঠোর লকডাউনে আমাদের জীবন-জীবিকা সচল রাখার স্বার্থে, বিশেষ করে ঈদ অনুষ্ঠান নির্মাণে যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য এফটিপিও কর্তৃপক্ষ গত লকডাউনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বিশেষ বিবেচনায় শুটিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এখন ঈদ অনুষ্ঠান নির্মাণ শেষ। আপাতত আর কোনো শুটিং করা যাবে না।' করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম। তিনি মনে করেন, সামনে করোনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ি করেছে। এমন অবস্থায় শুটিংয়ের প্রশ্ন ওঠে না। সেলিম বলেন, 'আজ (২৩ জুলাই) থেকে মাত্র লকডাউন শুরু হলো। কয়েক দিন না গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। আমরা দুই থেকে পাঁচ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে কেউ চাইলে আমরা শুটিংয়ের অনুমতি দেব। তবে সেটা পরিস্থিতি বুঝে। সকল সংগঠন মিলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।' নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্মাতা বলেন, 'আমরা সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করতে চাই। ঈদের আগে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে একাধিক শিল্পী শুটিং করেছেন। একটা শুটিংয়ে একাধিক মানুষ থাকে। শিল্পী, লাইটম্যান, ক্যামেরাম্যান, অন্যান্য কলাকুশলী মিলে ২০ থেকে ৩০ জন। এর মধ্যে দু-একটি ঘটনা বাদে আমরা বেশির ভাগই সুরক্ষিত রয়েছি। সচেতন থাকায় এটা সম্ভব হয়েছে। সংগঠনের কাছে চাওয়া, আমরা নিয়ম মেনে শুটিং করতে চাই।'
2
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির জন্য ১২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে যে একাদশ নিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান, সেই একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছে এবার।বিশ্বকাপে খেলা একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন ইমাদ ওয়াসিম ও আসিফ আলী। আর আগেই বাংলাদেশ সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করায় নেই মোহাম্মদ হাফিজ। তাঁদের জায়গায় ১২ সদস্যের দলে রাখা হয়েছে টপ অর্ডার ব্যাটার হায়দার আলী ও খুশদিল শাহ এবং দুই অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে। দল দেখে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সফরে নতুনদেরও ঝালিয়ে নিতে চায় পাকিস্তান।আগামীকাল দুপুর ২টা থেকে মিরপুর শেরেবাংলায় শুরু হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি। পাকিস্তান প্রথম ম্যাচের দল ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ এখনো করেনি।প্রথম টি-টোয়েন্টির পাকিস্তান দলবাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও শোয়েব মালিক।
12
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করায় দেশটির খ্যাতিমান সাংবাদিক হামিদ মীরকে তার আলোচিত টকশো 'ক্যাপিটাল টক' থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা। পাকিস্তানের প্রচারের শীর্ষ থাকা অনুষ্ঠানের একটি জিও নিউজের 'ক্যাপিটাল টক'। গত সপ্তাহে পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যের পর সোমবার (৩১ মে) তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হামিদ মীর জানান, তার স্ত্রী-মেয়েকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, তিনি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মিডিয়ায় সেন্সর আরোপ ও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিকে সমালোচকরা বলছেন, পাকিস্তানে সাংবাদিকদের ওপর হুমকি দিনদিন বাড়ছে, কিন্তু সরকার বিষয়টি আমলেই নিচ্ছে না। 'ক্যাপিটাল টক' অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক হামিদ মীর জানান, চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সোমবার অনুষ্ঠান তাকে বরখাস্তের কথা জানায়। তবে এ বিষয়ে কোনো কারণ জানায়নি জিও নিউজ। তবে এটা বলেছে, কিছু সময়ের জন্য তিনি এ অনুষ্ঠানে থাকছেন না। তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সামরিক চাপেই এ সিদ্ধান্ত নেয় জিও নিউজ। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সমালোচনার পরপরই বাড়িতে আক্রান্ত হন সাংবাদিক আসাদ আলী তুর। তিনি জানান, হামলাকারীদের একজন নিজেকে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দেয়। ওই বিষয় নিয়ে হামিদ মীর বলেছিলেন, হামলার জবাবে সাংবাদিকেরা কারো বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে হামলা করবে না। তবে তাদের ঘরের ভেতরের খবর প্রকাশ করে দেবেন। এর পরদিনই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত শুনলেন তিনি। এ ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি অধিকার গ্রুপ নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন শিগগিরই হামিদ মীরকে পদে ফিরিয়ে নিতে বলেছে। এক টুইটে সাংবাদিক হামিদ মীর জানান, তিনি আগেও দুইবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন, দুইবার চাকরি হারিয়েছেন। হামলা মুখে বেঁচে ফিরেছেন। কিন্তু কেউ তাকে কথা বলা থেকে থামাতে পারেনি। তাই জিও নিউজের ঘটনাও নতুন নয়।
3
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে পহেলা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পহেলা বৈশাখ ১৪২৭ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
6
মামলা গ্রহণে দুই থানার ঠেলাঠেলিতে নিখোঁজের পাঁচ দিনেও সন্ধান মেলেনি বাউল সুভাষ রোজারিওর। পাবনার চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি হলেও সীমানা জটিলতার অজুহাতে পাবনা কিংবা নাটোর জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা না নিয়ে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। লালন সাধক সুভাষকে উদ্ধারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়। নিখোঁজ সুভাষের ভাই লুইস রোজারিও জানান, আমাদের সম্প্রদায়ের প্রাক্তন এই সেমিনারীয়ান সুভাষ রোজারিও জাগতিক ভাবনা ছেড়ে বেছে নিয়েছেন বাউল জীবন। লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে গান করেন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মঞ্চ ও টেলিভিশনে। জনপ্রিয় এই লোক সঙ্গীত শিল্পী ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাটোরের জোনাইল গ্রাম থেকে ঢাকা যাবার পথে পাবনার চাটমোহর রেল স্টেশন থেকে নিখোঁজ হন। পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও সুভাষের খোঁজ না পেয়ে আমরা হতাশ। তার নিখোঁজের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে খ্রিস্টান পল্লীগুলোতেও। নিখোঁজের দিনে রাতে জোনাইল থেকে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বহনকারী চালক সুভাষ জানান, ওই রাতে আমি চাটমোহর স্টেশনের পাশে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যাই। পরে রাতে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে বলেন, ওই বাউলকে তুমি কোথাকে নিয়ে এসেছ। সব বলার পর ফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। তবে ওই লোক সুভাষ বাউল নয় বলেও দাবি সিএনজি চালকের। তারপর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ওই বাউলের। নিখোঁজের সহপাঠী ও জোনাইল ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মহসীন আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সুভাষ আধ্যাতিক জীবন বেছে নিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দিনেও আমাদের সাথে আড্ডা দিয়ে গেছেন। তার কোন শত্রু নেই বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় মিশন স্কুলের শিক্ষক হিউবার্ড রোজারিও, সহপাঠি আলফুজ্জামান, মহসিন আলী, জমির উদ্দিনও একই কথা বলেন। তারা যেকোন মূল্যে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। চাটমোহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. নাসীর উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার থানা এলাকায় নয়, তাই মামলাটি বরাইগ্রাম থানায় করার জন্যে তাদের পরামর্শ দিয়েছি। তবে ভুলে চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি নেয়া হয়েছে। তবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিকে, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস বলেন, মামলা হবে সেই থানায়, যে থানা এলাকা ঘটনাস্থল। সেক্ষেত্রে মামলাটি চাটমোহর থানাতেই হওয়ার কথা। আমি এ বিষয়ে আমার পুলিশ সুপার স্যারকে পাবনার স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাবো। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
6
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মায় জেলের জালে ৩৯ কেজি ওজনের একটি বাগাড় ধরা পড়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঢালার চর এলাকার পদ্মা নদীর মোহনায় স্থানীয় জেলে আবদুল মোতালেব হালদারের জালে বাগাড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি ১ হাজার ৪৮০ টাকা কেজি দরে ৫৭ হাজার ৭২০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।জানা যায়, মোতালেব হালদার মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের মালিক শাহজাহান শেখের কাছে নেন। শাহজাহান মাছটি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর নিকট ১ হাজার ৪৮০ টাকা কেজি দরে ৫৭ হাজার ৭২০ টাকায় বিক্রি করেন।জেলে মোতালেব হালদার বলেন, শনিবার খুব ভোরে কয়েকজন মিলে নদীতে মাছ ধরতে যাই। নদীতে কয়েকবার জাল ফেলে হতাশ হই। পরে সকাল ৬টার দিকে আবার জাল ফেলে ৭টার দিকে জাল তুলতেই দেখি মাছটি জালে আটকা পড়েছে। ৮টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য ৫ নম্বর ফেরিঘাটে শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তে নিই।এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ জানান, মিঠা পানির এমন সুস্বাদু এত বড় মাছ নদীতে এখন মাঝে মধ্যেই দেখা যায়।
6
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা গণহত্যার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির এক সেনা কর্মকর্তা। ওই সেনা কর্মকর্তার নাম নায় মিয়ো থে। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে চালিত গণমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) জানিয়েছে, গত ৬ বছর ধরে রাখাইনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি পালিয়ে যান এবং জান্তা-বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে আশ্রয় নেন। এ অঞ্চলে এসেই গণহত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে এ নিয়ে সাক্ষ্য দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। মিয়ো থে বলেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যা সংঘটিত হয়েছে তা উচিৎ ছিল না। আমি একথা আমার সহকর্মীদের বললেও তারা আমার সঙ্গে একমত হননি। তারা মনে করতো, রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করা উচিৎ। সামরিক বাহিনীই রাখাইনের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য দায়ী। তারাই এ বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে। আমাকে যদি আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে ডাকা হয়, আমি সেখানে যাবো এবং যা যা জানি সব প্রকাশ্যে নিয়ে আসবো। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালে তা আরও প্রকট রূপ ধারণ করে এবং ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে চলে আসে রোহিঙ্গারা।
3
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘট চলছিল। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর সে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাক মালিক শ্রমিক সমিতির নেতারা। এর ফলে পণ্য পরিবহনের অচলাবস্থা কাটল। বন্ধ থাকার চার দিন পর আজ থেকেই সড়কে নেমেছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ পণ্য পরিবহনের অন্যান্য যানবাহন।আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে পণ্য পরিবহনে সকল ধরনের যানবাহন চলার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনে একেবারে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির পরে সোমবার সকাল থেকেই যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাক ধর্মঘট স্থগিতবাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, গতকাল রাতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানেই আমরা বলেছি ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আজ সকাল থেকেই ট্রাক মালিক শ্রমিকেরা পণ্য পরিবহনে তাদের গাড়িগুলো সড়কে নামিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, আমরা গতকাল তিন দফা দাবি নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যার ফলে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। তেলের দাম যেহেতু বেড়েছে। পণ্য পরিবহনে যানবাহনগুলোর কোন নির্দিষ্ট ভাড়ার হার নেই। সেটাকে সামঞ্জস্য করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে ভাড়া কেমন হবে পণ্য পরিবহনে।এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর সঙ্গে বৈঠক করে বাস মালিকেরা বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। লঞ্চ মালিকেরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ'র সঙ্গে বৈঠক করে লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়েছেন। বর্তমানে নতুন ভাড়ায় চলছে বাস ও লঞ্চ।
6
কোনো ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল প্রশাসন। শনিবার (১২ মার্চ) হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শর্মিষ্ঠা রায়ের সই করা এক বিজ্ঞপ্তি এ কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে অবস্থানরত সকল ছাত্রীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কোনো রকম ঘুমের ওষুধ, নেশাজাতীয় দ্রব্য কিংবা আত্মহননের প্রচেষ্টা করলে কোনো কৈফিয়ত ছাড়াই তার আবাসিকতা বাতিল করা হবে।" এ বিষয় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শর্মিষ্ঠা রায় গণমাধ্যমকে জানান, ইদানিং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশেষ কোনো কারণ নেই। তবে, কেউ ঘুমের ওষুধ রাখতে চাইলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখতে হবে।
6
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সাত দিন আগে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য পুনরায় দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। সোমবার দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান।লিখিত বক্তব্যে হাসান সরকার বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সিটি করপোরেশনকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও সন্ত্রাসমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তিনি। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ভোটার এবং নির্বাচন সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।হাসান সরকার বলেন, সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি না করার দাবিও করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমানভাবে নাম ও র্যাঙ্ক ব্যাচসহ ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল আলম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল হক, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার প্রমুখ।
6
দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল না করার বিষয়ে বলেছেন, আমার কখনোই নির্বাচন করার শখ ছিল না। পরিবারের মধ্যে আমার বাবা-ভাই নির্বাচন করেছেন। অতীতে আমি কখনো নির্বাচনে অংশ নেইনি। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা গ্রেফতার-মামলা-হয়রানির মুখে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এ রকম অবস্থায় আমি মনে করেছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে নির্বাচন পরিচালনায় আমার সময় ও অবদান রাখা উচিত। সে জন্য দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি নির্বাচন না করে দলের নির্বাচনকার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ নির্বাচন পরিচালনায় দলে এখন পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ লোকজনের অভাব রয়েছে। সে জন্য আমি মনে করছি, দলের এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন করার চেয়ে নির্বাচনী কাজে সময় ও শ্রম দেয়া জরুরি। গণমাধ্যমকে গতকাল বুধবার তিনি বলেন, দলও মনে করে, নির্বাচন পরিচালনার কাজে আমি সম্পৃক্ত থাকি। আমার মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে যেসব খবর গণমাধ্যমে আসছে তা সঠিক নয়। এ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।
9
আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার মেনে সাধারণত জানুয়ারি মাসের শেষ বুধবার শুরু হয় আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। সে ঐতিহ্য ভাঙল এ বছর। চলতি বছর মঙ্গলবারই শুরু হলো বইমেলা। পাশাপাশি প্রকাশিত হলো ৪৪তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মানচিত্রও। এটিও এই প্রথমবার। এ বইমেলার আয়োজক সংস্থা গিল্ড জানায়, কলকাতা বইমেলার ইতিহাসে আগে এমনটা হয়নি। প্রতিবার মেলা শুরুর দু'দিন পর মানচিত্র হাতে আসে। এবার একটু আগেই মানচিত্র প্রকাশ করলেন বইমেলার কর্মকর্তারা। গত সোমবার মেলার মাঠে সংবাদ সম্মেলনে এ মানচিত্র প্রকাশ হয়। পাশাপাশি গিল্ড জানায়, যেহেতু ২৯ জানুয়ারি হিন্দু সম্প্রদায়ের সরস্বতী পূজা সে কারণেই একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে মেলা। মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করেন ৪৪তম আন্তর্জাতিক বইমেলার। এদিন তিনি বলেন, এ মেলা আমাদের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ। মেলায় আসতে না পারলে মন খারাপ হয়ে যায়। বইয়ের ডাকে বারবার ছুটে আসি। এবারের মেলায় থাকছে ৬০০টির মতো স্টল এবং ২০০টি লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে প্যাভিলিয়ন। প্রতিবছরের মতো এবার ২৯ জানুয়ারি থেকে সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কের ময়দানে সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে মেলা। চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দুপুর ১২ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এ বছর থিম কান্ট্রি রাশিয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভিয়েতনাম, ফ্রান্সসহ বাংলাদেশের বইয়ের স্টল থাকবে মেলায়। শেষ দিন বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত হবে।
4
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রমজান আলীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য ফরহাদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া চেয়ারম্যান রমজান আলীর ভায়রার বাড়িতে হামলার ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে কাঞ্চনা আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আব্বাস উদ্দিন (৩২), কামরুল ইসলাম (৪০) ও আবু তৈয়ব (৫০)। তাঁদের প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সপ্তম ধাপের নির্বাচনে কাঞ্চনা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য নির্বাচিত হন ফরহাদ উদ্দিন। ওই ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য প্রার্থী আবু তৈয়ব কাঞ্চনা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমজান আলীর ভায়রা। গতকাল দুপুরের দিকে নবনির্বাচিত সদস্য ফরহাদ উদ্দিন ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী আবু তৈয়বের বাড়ির পাশে গিয়ে কটূক্তি ও উসকানিমূলক নানা স্লোগান দেন। তৈয়বের স্ত্রী বিষয়টি রমজান আলীকে জানান। রমজান আলী সন্ধ্যার দিকে গাড়ি নিয়ে ভায়রার বাড়িতে যান। তিনি সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফিরে যাওয়ার সময় আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের কাছাকাছি পৌঁছালে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ফরহাদের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুর্বৃত্তরা চেয়ারম্যানের ভায়রার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও গুলি ছুড়লে তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান ও সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কাঞ্চনা ইউপির চেয়ারম্যান রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, 'আমি গাড়ি নিয়ে আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছার পরপরই ফরহাদ ও তাঁর লোকজন আমার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় আমি গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পাশের কবরস্থানে আশ্রয় নিই। পরে তাঁরা আমার ভায়রার বাড়িতে গিয়ে গুলি ছোড়েন এবং ভাঙচুর করেন।' এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ফরহাদের ছোট ভাই মোহাম্মদ রিফাত প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেনি। ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলীর লোকজন গুলি করে উল্টো আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন।' সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এ টি এম মনজুর মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ফরহাদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
9
সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে বন্ধ রয়েছে রাজশাহীর সকল বিপণী বিতান। সড়ক পরিণত হয়েছে জনশূন্যে। তবে নির্ধারিত কয়েকটি পয়েন্টে বিক্রি হয়েছে টিসিবির পণ্য। যদিও সেখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। বুধবার (১৪ এপ্রিল) কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। তবে তাদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিকশা চালকরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, গণকপাড়া, নিউ মার্কেট, হড়গ্রাম বাজার এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। জরুরী পরিবহণ ছাড়া গাড়ি চলাচল করেনি। মানুষের কোনো সমাগম নেই সড়কে। পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ছিলেন কড়া প্রহরায়। মাঠে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। এদিন বাংলা নববর্ষ হলেও কাউকে বর্ষবরণে বের হতে দেখা যায়নি। তবে সকাল থেকে নগরীর লক্ষিপুর এলাকায় রিকশা চলাচল করেছে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা রিকশা চালকদের থামিয়ে রিকশার চাকা থেকে বাতাস বের করে ফেলেন। ফলে যাত্রী বহণ করতে পারেননি তারা। রিকশাচালকরা জানান, পেটের তাগিদে তারা বের হন। কিন্ত পথে পথে পুলিশ তাদেরকে থামায়। বাজে ভাষায় কথা বলে রিকশার চাকার বাতাস বের করে দেয়। ফলে তারা যাত্রী পরিবহণ করা তো দূরের কথা, রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতেই পড়েন বিপাকে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরীর লক্ষিপুর এলাকায় মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক সংলগ্ন এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের পরিবহন করে বিপদে উপকার করার ইচ্ছা নিয়ে রিকশা বের করেছিলেন। এতে কিছু টাকা উপার্জন হলে তাদের সংসার চালানো যেত। আসন্ন ঈদে কিনতে পারতেন নতুন পোশাক। কিন্ত লকডাউনের প্রথম দিনেই পুলিশ সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। রিকশাচালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লকডাউন শিথিল করার দাবি জানান। তবে পুলিশ জানায়, কাউকে কোনো হয়রানি করা হয়নি। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক তাদের দায়িত্ব তারা পালন করেছেন। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো কিছু করতে পারবেন না। জরুরী প্রয়োজনে মুভমেন্ট পাশ নিয়ে বাইরে বের হতে বাধা নেই। তবে কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনসাধারণকে যথেষ্ট উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তবে এখন মাঠে শক্ত অবস্থানে প্রশাসন। লকডাউন শতভাগ কার্যকর করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।' এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক ভোরের কাগজকে বলেন, 'লকডাউন কার্যকরে আরএমপির সকল থানায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুভমেন্ট পাস ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। তবে সাংবাদিক ও জরুরী সংবাদপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হকার-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কঠোরতা শিথিলযোগ্য।'
6
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, 'বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে যদি ঘোষণা দিয়েও থাকে তারপরও আমরা তাদের সাথে বসতে পারি। আমরা আহ্বান জানাবো, আপনারা আসেন, চা খান। আমরা এটুকু তো বলতেই পারি।' আজ সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 'রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নতুন সিইসি।
6
কক্সবাজারের টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত মো. ফয়েজের ছেলে মুফিজুর রহমান (১৪) নামে এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তারিকুল ইসলাম তারিক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার এক কিশোরকে গহীন পাহাড়ের পাদদেশে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের অফিসার ও ফোর্স কয়েকটি টিমে বিভক্ত হয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। নয়াপাড়া ক্যাম্পের এইচ ব্লকের পাশে কাঁটাতারের বাইরে পাহাড়ের গহীন অরণ্য থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের সাথে জড়িত দুই রোহিঙ্গা কিশোরকেগ্রেফতার করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম খুলনার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা গোলাম মওলা এ আবেদন করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য আনিসুর রহমান খান বলেন, খুলনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
বাগেরহাটের ফকিরহাটে বাঘের চামড়াসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত শনিবার রাতে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন র্যাব-৬ এর সদস্যরা।আটক ব্যক্তিরা হলেন, খুলনার ডুমুরিয়া কাঞ্চনপুর এলাকার মো. আজিজুর রহমান (৪৫) ও সোনাডাঙ্গা থানার গ্রামীণ আবাসিক এলাকার মো. সাইদ খান। আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী পাচার আইনে মামলা দায়ের করে ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।গতকাল রোববার বিকেলে র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ঘোষণার পর থেকে সেখানে জীববৈচিত্র্য পুনরায় ফিরে আসছে। সুন্দরবনে হরিণ, বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বহুলাংশে বেড়েছে। এই সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু দুষ্কৃতকারী বন্যপ্রাণী শিকারসহ এদের চামড়া পাচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে র্যাব-৬ সুন্দরবনে আভিযান পরিচালনায় আরও তৎপর ভূমিকা পালন করে আসছে।এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফকিরহাটের কাটাখালী বাজার এলাকায় সুন্দরবনের ঐতিহ্য রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের কথা জানতে পারে র্যাব। খবরের ভিত্তিতে র্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) এর একটি অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।র্যাব জানায়, এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১টি বাঘের চামড়া জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় মামলা দিয়ে থানায় পাঠানো হয়।
6
নিরীহ মানুষ হত্যা এবং দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায় জঙ্গিরা। রিমান্ডে পুলিশকে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য মো. শাহজাহান। শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ও একই সংগঠনের সদস্য জঙ্গি মেহেদি হাসান জয়কে (২১) নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিল থানার পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ঘাষিপুর গ্রাম থেকে মেহেদিকে ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরদিন ঢাকার শ্যামলী থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় চাটখিল থানায় মামলা করা হয়। মেহেদি ঘাষিপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং শাহজাহান একই ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই, একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাটখিল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তিনি আরও জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী মেহেদি কোনো তথ্য দেয়নি। তবে শাহজাহান অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সে জানায়, মেহেদি তার স্থানীয় গুরু। শাহজাহান চাটখিল পাঁচগাঁও মাহাবুব সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন লিঙ্কের সূত্র ধরে এক বছর আগে সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যুক্ত হয়। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার-বিরোধী লেখা পোস্ট দিত নিয়মিত। শাহজাহান আরও জানায়, লুনক নামে একটি বইয়ে লেখা পেয়েছেন, নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে হবে এবং দেশে একটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিষয়ে তাদের এক গুরু একই কথা বলেছেন। সে অনুযায়ী শাহজাহান এক জঙ্গি নেতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণও নিয়েছে। তবে মামলার তদন্ত স্বার্থে ওই জঙ্গির নেতার নাম-ঠিকানা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ। রেজাউল করিম জানান, শিবিরের সাথী মেহেদির সঙ্গে শাহজাহানের পরিচয় হয় চাটখিলের শ্রীনগর বাইতুল মামুর জামে মসজিদে নামাজ পড়তে আসার-যাওয়ার সময়। শাহজাহানকে মূলত জঙ্গি সংগঠনে সম্পৃক্ত হতে সহযোগিতা করেন মেহেদি। প্রতিদিন নামাজ শেষে মেহেদি জঙ্গি ও জিহাদি বইপুস্তক নিয়ে শাহজাহানকে তালিম দিত। শাহজাহান একদিন রাতে ল্যাপটপে অনলাইনে জঙ্গি সংগঠনের লেখা পড়ার সময় তার বাব-মা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে এসব পথ থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মেহেদিকে ফের রিমান্ডে আনবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন দুই জঙ্গি সদস্যের কাছ থেকে রিমান্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
6
আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিকে থানা হাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবি করা তিন লাখ টাকা না দেওয়ায় নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে আমতলী থানাহাজতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের ৩ নভেম্বরে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে ইব্রাহিম নামের এক কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মামলার সহেন্দভাজন আসামি হিসেবে শানু হাওলদারকে থানায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নিহত শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, 'বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছেন তারা। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দিই। কিন্তু এরপর তিনি নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন ও বারবার আমার কাছে ঘুষের টাকা দাবি করেন। ' তিনি আরও বলেন, 'বুধবার সকালে আমি বাবার সঙ্গে দেখা করতে থানায় আসি কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। সারাদিন আমাকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। ওসি বলেন যে, টাকা নিয়ে আস তারপর দেখা করতে দেব। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে খবর পাই বাবা আর নাই।' সকাল সোয়া ছয়টার দিকে থানার একটি কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া শানু হাওলাদারের লাশ পাওয়া যায় বলে জানান ওসি আবুল বাশার। আসল ঘটনা পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে বলে দাবি নিহতের স্বজনদের। তারা জানান, ঘটনার পর তাদের ও সাংবাদিকদের থানার ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উল্টো থানাফটকে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। স্বজনরা থানা ফটকের সামনে আহাজারি করতে থাকলে আধাঘণ্টা পরে পুলিশ ফটক খুলে দেয়। খবর পেয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন পিপিএম আমতলী থানায় আসেন। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন তিনি। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন পুলিশ সুপার। নিহত শানু হাওলাদারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। শানু হাওলাদারের শ্যালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'দুলাভাইকে ধরে আনার পর থেকে আমি থানায় প্রাঙ্গণে ছিলাম। পুলিশ তাকে টাকার জন্য বেধরক মারধর করেছে। তার ডাক-চিৎকার শুনেছি। বহুবার চেষ্টা করেছি তার সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু পুলিশ করতে দেয়নি। উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।' গুলিশালালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, 'শানু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো।' এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, 'সকালে শানু হাওলাদার ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজতখানার ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।' হাজতখানায় কোনো ফ্যান নেই- সাংবাদিকদের এ কথার জবাবে তিনি বলেন, 'ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মত্যা করেন।' টাকা না দেয়ায় তাকে নির্যাতনে হত্যা করার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, 'শানু হাওলাদারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছ। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না।' বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন পিপিএম বলেন, 'এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' পুলিশ টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। বলেন, 'অপরাধী যেই হোক নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সাথে শেখ হাসিনাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান ইমরান খান। অভিন্ন ইতিহাস, ধর্ম-বিশ্বাস এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নতিতে সমান আগ্রহের ভিত্তিতে উভয় দেশের সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ উল্লেখ করে চিঠিতে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। এই সম্পর্ককে আরো জোরদার করে দুই দেশের মানুষের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চিঠিতে শেখ হাসিনাকে সুযোগ মতো পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান ইমরান খান। তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।'
9
হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার এবং চলচ্চিত্র পরিচালক রেমো ডি'সুজা। আজ শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে আন্ধেরির কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে রেমোর পাশে আছেন তাঁর স্ত্রী লিজেল। তাঁদের দুই ছেলে ধ্রুব ও গ্যাব্রিয়েল। রেমোর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানিয়ে তাঁর স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'রেমোর হৃদ্যন্ত্রে একটা ব্লকেজ রয়েছে। এনজিওগ্রাফি করা হয়েছে। এ মুহূর্তে তিনি আইসিইউতে রয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করবেন।' কোরিওগ্রাফার হিসেবে বলিউডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন রেমো। একাধিক ছবিতে দুরন্ত কোরিওগ্রাফি করে তিনি দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছেন। সালমান খানের 'রেস থ্রি' ছবির পরিচালক ছিলেন তিনি। রেমো পরিচালিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে 'স্ট্রিট ডান্সিং থ্রিডি', 'এবিসিডি', 'এবিসিডি টু' ও 'আ ফ্লাইং জাট'। তাঁর পরিচালনায় 'এবিসিডি' সিরিজটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর সিনেমাগুলো জুড়ে থাকে সমসাময়িক ধারার নান্দনিক সব নাচ। রেমো স্টার প্লাস চ্যানেলের জনপ্রিয় রিয়েলেটি শো 'ডান্স প্লাস'-এ বিচারক ছিলেন। এ ছাড়া 'ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স', 'ঝলক দিখলা যা'র মতো নাচের রিয়েলিটি শোতেও বিচারক হিসেবে দেখা গেছে তাঁকে। রেমো ফিটনেস অনুরক্ত ব্যক্তিত্ব। নিয়ম করে শরীরচর্চা করেন তিনি আর অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে শরীরচর্চার ভিডিও পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। রেমোর অসুস্থতার খবর শুনে বলিউডের অনেকেই গিয়ে হাজির হয়েছেন কোকিলাবেন হাসপাতালে। রেমোর বয়স ৪৬ বছর। সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। রেমো জানিয়েছিলেন, খ্যাতিমান কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের জীবনী নিয়ে সিনেমা বানাতে চান তিনি।
2
আইএলও বলছে, ১০ বছরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হারে প্রকৃত নিম্নতম মজুরি কমেছে বাংলাদেশে। দেশে ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোটা চালের দাম ছিল গড়ে কেজিপ্রতি ২৬ টাকার কম। বাড়তে বাড়তে ২০২০-২১ অর্থবছরে একই চালের দাম ৫২ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তার মানে হলো, চালের দাম এই সময়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে ভোজ্যতেল, চিনিসহ নিত্যপণ্য এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই সময়ে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। তবে এই বাড়তি আয় অনেকটা নিঃশেষ হয়ে গেছে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে। অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ভাষায় জনগোষ্ঠীর এই অংশ ছিল 'শরীর নিমজ্জিত রেখে নাক ভাসিয়ে'। করোনাকালে তাঁদের আয় কমেছে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে নিত্যপণ্যের চড়া দামের চাপ। মানুষের জীবনযাত্রার মান তখনই উন্নত হয়, যখন ব্যয় বৃদ্ধির চেয়ে আয় বেশি হারে বাড়ে। তখন নিত্যপণ্য ও সেবা কেনার বাইরে মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনে বাড়তি ব্যয় করতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। ভালো বাসায় থাকতে পারে। আবার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ও করতে পারে। বিবিএস বলছে, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত মজুরি হার সূচক (কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৪৪ পেশা ধরে হিসাব) বেড়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ। বিপরীতে মূল্যসূচক বেড়েছে ৮৪ শতাংশ। ক্যাবের হিসাবে ঢাকায় ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ৯৫ শতাংশ। আর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ। মাথাপিছু আয়ের বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সে ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১০ সালে এই আয় ছিল ২ হাজার ৬৪০ ডলার (পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে), যা ২০২০ সালে ৫ হাজার ৩১০ ডলারে উন্নীত হয়। বৃদ্ধির হার ১০১ শতাংশ। মাথাপিছু আয়ে উন্নতির হিসাব করার ক্ষেত্রে ফাঁকি হলো এই যে, এতে বৈষম্যের চিত্রটি আসে না। দরিদ্রদের আয় কমে যাওয়ার বিপরীতে ধনীদের আয় বৃদ্ধির কারণেও গড় মাথাপিছু আয় বাড়তে পারে। একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। একজন ধনীর আয় মাসে ১২ লাখ টাকা। বিপরীতে শ্রমিকের মজুরি ৯ হাজার টাকা। দুজনের মাথাপিছু আয় কিন্তু দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। আয়কাঠামোর নিচের দিকে থাকা শ্রমজীবী মানুষেরাই মূলত এখন কষ্টে রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আয় শতগুণ বাড়লেও তাতে কোনো লাভ নেই, যদি মূল্যস্ফীতি, অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি সেভাবে না বাড়ার কারণ কাজের খোঁজে থাকা মানুষের সংখ্যা বেশি, সে তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। দেশে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাকে বলা হয় কর্মসংস্থানহীন। বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ে উল্লেখ করে আকবর আলি খান বলেন, চালের দাম বাড়লে সচ্ছল মানুষদের অসুবিধা হয় না, কারণ তার আয়ের খুব সামান্য অংশ চালের পেছনে যায়। কিন্তু নিম্নবিত্তের আয়ের বড় অংশ যায় খাদ্য কিনতে। উল্লেখ্য, বিবিএসের হিসাবে দেখা যায়, ২০১০ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ৩১ শতাংশ। তা করোনার আগে কমে ২১ শতাংশে নামে (সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি)। অবশ্য করোনাকালে দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশে উঠেছিল বলে দাবি করেছিল বেসরকারি সংস্থাগুলো। সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। যদিও নিজেরা কোনো জরিপ করেনি। বিবিএসের ২০০৯-১০ অর্থবছর ও গত জানুয়ারির গড় দাম বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোজ্যতেলের দাম ৫৭, চিনি ৬৯, লবণ ৬৬, মুরগি (বড় একটি) ৯৯ ও গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে। চালের বিকল্প খাদ্য আটা। সেটার দামের হিসাব অবশ্য বিবিএসের পরিসংখ্যানে নেই। আরেক সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে দেখা যায়, ২০১০ সালের ৮ মার্চ এক কেজি প্যাকেটজাত আটা ছিল সর্বনিম্ন ২৩ টাকা। এখন তা সর্বনিম্ন ৪০ টাকা। মানে হলো, দাম বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। আরও পেছন তাকিয়ে দ্রব্যমূল্য কেমন ছিল, তা দেখা যাক। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মোটা চালের দাম ছিল প্রতি কেজি দুই টাকার মতো। মসুর ডালের দাম এর চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল, প্রতি কেজি ২ টাকা ২২ পয়সা। তখন সয়াবিন তেলের চল ছিল না, শর্ষের তেলের লিটার ছিল ১০ টাকার মতো (এখন ২৪০-২৯০ টাকা)। ক্যাবের হিসাবে, ২০০০ সালে ঢাকায় মোটা চালের কেজি ছিল সাড়ে ১৪ টাকা। আটাও মোটামুটি একই দরে পাওয়া যেত। ৩৯ টাকা লিটার দরে বিক্রি হতো সয়াবিন তেল। মসুর ডালের কেজি ছিল ৪০ টাকা। পণ্যভেদে দাম বাড়ার কারণ ভিন্ন। ভোজ্যতেল, চিনি, ডালের মতো পণ্যের দাম বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল। আবার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণেও দাম বাড়ে। চালের উদাহরণ দেওয়া যাক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একদিকে চালের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে সরকার ঘোষণা দিয়েও চাল আমদানি করতে পারেনি। চালের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে রাখা হয়েছে। ফলে সুরক্ষিত বাজারে বেশি দাম আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সংসারে চাল-ডাল কেনা যেমন অপরিহার্য, তেমনি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বাসভাড়াও জরুরি সেবা। ক্যাবের হিসাব বলছে, ২০১০ সালের তুলনায় এখন এসব সেবার মূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। সম্প্রতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওদিকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে বাসাভাড়া। বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার মান কতটুকু বেড়েছে, জানতে চাইলে ঢাকার শেওড়াপাড়ার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক দম্পতি রিয়াজুল ইসলাম ও রেহানা আক্তার বলেন, আগেও সাভারে একটি টিনের ছাউনির বাড়িতে এক কক্ষ ভাড়া নিতে থাকতেন। এখনো তা-ই। সপ্তাহে ছয় দিন এবং ছুটির দিনেও আধবেলা কাজ করেও কোনোরকমে খেয়েপরে বেঁচে আছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২০ সালের ডিসেম্বরে 'বৈশ্বিক মজুরি প্রতিবেদন: ২০২০-২০২১' প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশভেদে নিম্নতম মজুরি ছিল ৪৮ ডলার (পিপিপি) থেকে ২ হাজার ১৬৬ ডলার। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল বাংলাদেশে (৪৮ ডলার)। আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে নিম্নতম মজুরি আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে। আইএলও আরও জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২২ দেশে প্রকৃত নিম্নতম মজুরি বেড়েছে। কমেছে ৮টি দেশে। সবচেয়ে বেশি হারে প্রকৃত নিম্নতম মজুরি বেড়েছে ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ায়। আটটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে প্রকৃত নিম্নতম মজুরি কমেছে বাংলাদেশ (বছরে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ) ও শ্রীলঙ্কায়। উল্লেখ্য, প্রকৃত মজুরি বাড়ার হার হিসাব করা হয় মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে। একজন শ্রমিকের মজুরি যদি ১০ টাকা বাড়ে, বিপরীতে নিত্যপত্রের দাম যদি ৬ টাকা বাড়ে, তাহলে প্রকৃত মজুরি বাড়ে ৪ টাকা। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল আলম মনে করেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষ চাপে পড়ে, এটা চিরায়ত বিষয়। বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে যে আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা তীব্রতর নয়। কারণ, আয় বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখনো মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। প্রকৃত মজুরি বেড়েছে। মানুষ গ্রামে এখন কৃষিকাজে যে মজুরি পান, তা দিয়ে অন্তত ১২ কেজি চাল কেনা যায়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি কাটাতে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। অর্থনীতিতে যাতে গতি থাকে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, সে কারণে করোনাকালে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরত আসা কর্মহীন প্রবাসীদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের আরেকটু বেশি পাওয়া উচিত ছিল কি না-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বোধ থেকে সেটা বলা যায়। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কালে দেশে দেশে বৈষম্য বেড়েছে। কোনো কোনো দেশ সেটাকে ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে, যেমন জাপান। তিনি বলেন, দেশে আয়বৈষম্য কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামে শহরের সুবিধা দেওয়ার কাজ চলছে। দেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে মোটা চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অবশ্য বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান হিসাব করে দেখান যে মূল্যস্ফীতি যেটা হয়েছে, তার কারণে প্রকৃত মজুরি বাড়েনি। তিনি বলেন, মজুরিসূচক হিসাব করা হয় ভিত্তিবছর ২০১০-১১ ধরে। আর মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয় ২০০৪-০৫ ভিত্তি বছর ধরে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও ২০১০-১১ ভিত্তিবছর ধরলে দেখা যাবে, প্রকৃত মজুরি কমেছে। মূল্যস্ফীতি ও মজুরির ভিত্তিবছর একই হওয়া উচিত। সেলিম রায়হান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয়। এ সময় মজুরি দিয়ে কত কেজি চাল কেনা যায়, তা বিবেচনা করা ঠিক নয়। শ্রমজীবী মানুষ কি মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ফলমূল খাবে না? দেশের জিডিপি বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্য কমেছে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা ও নিম্নবিত্ত বিপুলসংখ্যক মানুষই এখন কষ্টে রয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সব সময় গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। উদাহরণ দিয়ে এ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অবস্থা এমন, পানিতে সারা শরীর নিমজ্জিত রেখে নাকটা ভাসিয়ে রাখা। ঢেউ আসলে ডুবে যায়। এটা সুখকর অবস্থা নয়।' দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে বিপুল মানুষের এই 'নাক ভাসিয়ে থাকা' অবস্থার কারণ হলো আয়বৈষম্য বেড়েছে। বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় আয়ে ধনীদের হিস্যা বাড়ছে, দারিদ্র্যের হিস্যা কমছে। দেশের সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ পরিবারের প্রতি মাসের গড় আয় মাত্র ৭৪৬ টাকা। ধনীদের আয় ১১৯ গুণ বেশি। খানা আয়-ব্যয় জরিপ নিয়ে একটি সমালোচনা আছে যে জরিপকারীরা প্রকৃত ধনীদের বাসায় জরিপ করতে ঢুকতে পারেন না। করোনাকালে আয় পরিস্থিতির কী চিত্র দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে ২০২০ সালের আগস্টে বিবিএস সীমিত পরিসরে একটি ধারণা জরিপ করেছিল। এতে দেখা যায়, ওই সময় পরিবারপ্রতি আয় ২০ শতাংশ কমে যায়। ৬৮ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছিল। করোনাকালে আমরা দুটি ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। একটি হলো, বিলাসপণ্যের বিক্রি বাড়ছে। যেমন, ২০২১ সালে প্রাইভেট কার বিক্রি (নিবন্ধনের হিসাব ধরে) বেড়েছে ২৯ শতাংশ। বিলাসবহুল গাড়ি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি বিক্রি বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। ফ্ল্যাট বিক্রির পরিস্থিতিও ভালো। করোনাকালে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব ১৮ হাজারের মতো বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, দেশে গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩৯। এর আগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় লিখেছিলেন, ১৯৭১-৭২-এ বাংলাদেশের কোটিপতির সংখ্যা ছিল দুজন, এখন (১৯৮৩) বলা হয়, তাদের সংখ্যা ২০০। করোনাকালের বিপরীত চিত্রটি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কান্নারত মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির মুখ। যিনি বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি ৯ হাজার টাকা বেতনে আর চলতে পারছেন না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, তিন শ্রেণির মানুষ এখন টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন দিচ্ছেন। এক. দরিদ্র মানুষ, যাঁদের সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতেই সংকটে পড়তে হয়। দুই. নিম্ন আয়ের মানুষ, যাঁরা বাজার থেকে পণ্যসামগ্রী কেনেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিজনিত পরিস্থিতিতে তাঁকে সঞ্চয় ভেঙে খেতে হচ্ছে। এঁরা বিপাকে রয়েছেন। তিন. এই শ্রেণি এখনো সঞ্চয় ভাঙেননি, তবে পরিবারের ব্যয় ঠিক রাখতে তাঁরা খরচ কমানোর চেষ্টায় রয়েছেন। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যালোচনায় দেশে সবারই আয় বেড়েছে। তবে একটি বড় অংশের আয় বেড়েছে তুলনামূলক কম। এতে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।
6
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশেই একটি গ্রাম বরইতলী। পাহাড় ছাপিয়ে দেখা মেলে গ্রামটির সারি সারি গোলাপ বাগান। এই গোলাপ ফুলের আধিপত্যে জনমুখে গ্রামের নাম পরিবর্তিত হয়ে 'বরইতলী গোলাপ গ্রাম' হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। করোনা কাটিয়ে এবার এখানকার ফুলচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের আশানুরূপ দাম পেয়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বড় পরিসরে ফুল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন ফুলচাষিরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ফুল। এখানে গোলাপ ফুলের পাশাপাশি গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, গাঁদা ফুলের চাষও হয়। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে বরইতলীর ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।সরেজমিন দেখা গেছে, বরইতলী ইউনিয়নের নতুন রাস্তার মাথা, নামারপাড়া, উপরপাড়া, খয়রাতিপাড়া, মাইজপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এসব জমিতে গোলাপের চাষ করা হয়। তবে করোনার সময় কিছুসংখ্যক ফুলচাষি লোকসানে পড়ে জমিতে অন্য ফসল চাষ করেছেন। করোনার পর বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠানে ফুলের চাহিদা বাড়ায় আবার অনেকে ফুল চাষে ফিরে এসেছেন। নতুনভাবে আশার আলো দেখছেন।চকরিয়া পৌর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বরইতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের হাজারো গাছে ফুটেছে গোলাপ। কয়েকজন নারী-পুরুষ গাছ থেকে গোলাপ কেটে ঝুড়িতে নিচ্ছেন। পাশে বাগানে কেউ কেউ পরিচর্যা করছেন। কেউ ফুলও তুলছিলেন। তা বান্ডিল করে খামারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। বরইতলীর ছাড়া উপজেলার হারবাং ও সাহারবিলেও গোলাপের চাষ হয়।ফুলচাষি আহসান উল্লাহ বলেন, ২ একর জমিতে গোলাপ এবং ১ একর জমিতে গ্লাডিওলাস চাষ করেছেন এবং বোরহান উদ্দিনও ৩৩ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস এবং ১ একর ৪০ শতক জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন। দুজনের বাগানেই ১৫ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকদের বেশির ভাগই নারী। মজুরি কম হওয়ায় বাগানের কাজে নারী শ্রমিকদের চাহিদা বেশি।আহসান উল্লাহ ও বোরহান উদ্দিন বলেন, প্রতি কানি জমি ২০-২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বর্গা নিয়ে তাঁরা চাষ করেছেন। কলম দেওয়া গোলাপ একবার রোপণ করলে ৪-৫ বছর ফুল পাওয়া যায়। গ্লাডিওলাস চাষ করে তিন মাসের মধ্যেই ফুল বিক্রয় শেষ করতে হয়। তাঁদের মতে, ৪০ শতক জমিতে ফুল চাষ করতে ১ লাখ টাকা খরচা পড়ে। চাহিদা ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে ভালো মুনাফা হয়।বরইতলী গোলাপবাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, 'করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর বন্ধ ছিল ফুল চাষ। তিন ভাগের এক ভাগ কৃষক চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। ওই সময়টাতে আমরা বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। যার কারণে ফুল চাষ কমে গেছে। এখন মোটামুটি পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।'উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এস এম নাসির হোসেন বলেন, চকরিয়ার সরকারি হিসাবে ১৮৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ ও গ্লাডিওলাসের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫ হেক্টর জমিতে শুধু গোলাপ চাষ হয়। সরকারিভাবে ফুলচাষিদের সাহায্য করার কোনো সুযোগ নেই। তাই তাঁদের সে রকম সহযোগিতা দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু ফুল চাষ নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
6
পটুয়াখালীতে গোলাম মাওলা রনিসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দরবার হলে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরারব আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে ১২ জনের মধ্যে ৪ জন, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ৭ জনের মধ্যে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। পটুয়াখালী-৪ আসনের মনোনয়নপত্র এখনও বাছাই করা হয়নি। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় গোলাম মাওলা রনির এবং ঋণ খেলাপী হওয়ায় মো. শাহজাহান খানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে এ আসনে বিএনপির হাসান মামুন এখন একমাত্র প্রার্থী। অন্যদিকে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে বিকেলে।
6
রাজধানীর রামপুরার ইকরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়কে চাপা দেওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবি ও নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। সকালে প্রথমে ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ঢাকা কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বি এফ শাহীন কলেজ (কুর্মিটোলা), সিটি কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থীরা।প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে শিক্ষার্থীরা বিটিভিসংলগ্ন রামপুরা বাজার ও বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকায় প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। রাস্তা বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক, নাঈম ও মাইনুদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় রাস্তায় চলাচলরত সব গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। খিলগাঁও থেকে বাড্ডা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে শত শত বাস বন্ধ করে রাখতে দেখা যায়।পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বের হওয়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়ির কাগজ ও চালকের লাইসেন্স দেখে ছেড়ে দেয়। কোনো গাড়ির কাগজ বা চালকের লাইসেন্স না থাকলে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের মাধ্যমে মামলা অথবা নগদ জরিমানা করা হয়।রামপুরা ট্রাফিক বক্স সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো রামপুরার বিভিন্ন পয়েন্টে ১১ জন সার্জেন্ট কাজ করেছেন। তাঁরা সবাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা অভিযোগগুলো দেখে মামলা দিয়েছেন। ছাত্রদের চেকের মুখে আটকে যান পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা। ছাত্রদের লাইসেন্স যাচাইয়ের সময়ে চালকের আসনে থাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে না পারায় তাঁর গাড়িটি ঘিরে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্ররা। পরে করোলা এক্সিও মডেলের গাড়িটিকে পুলিশ বক্সের পাশে রাখা হয়। অন্যদিকে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রদের হাতে আটকে গেছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের কারও কাছে লাইসেন্স ছিল না, গাড়ির নম্বর প্লেট, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়। ছাত্রদের হাতে আটকে যাওয়া সবাই মামলা কিংবা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে কর্তব্যরত সার্জেন্ট মোহতাসিম বিল্লাহ বলেন, 'অনেকেই পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে গাড়ি চালান। আজ তাঁরা ছাত্রদের হাতে আটকে গেছেন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী মামলা অথবা জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছি।'সকাল থেকে চার ঘণ্টায় কী পরিমাণ মামলা হয়েছে জানতে চাইলে মোহতাসিম বলেন, 'কতগুলো মামলা হয়েছে বলা কঠিন। কারণ, রামপুরা এলাকায় আজ সারা দিনে ১১ জন সার্জেন্ট কাজ করেছেন। আমি ৮টা মামলা দিয়েছি। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিল।'রামপুরা পুলিশ বক্স এলাকায় কাজ করা র্যাকারের বিলের নামে জরিমানা আদায় করছিলেন হেলালুর রহমান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৫টিরও বেশি গাড়িকে র্যাকার বিল বা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দেওয়া চালকদের মধ্যে অনেকেই পুলিশ রয়েছেন।এদিকে সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, 'নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের পাশাপাশি আমাদের আরও কিছু দাবি আছে। আমরা আগামীকাল বেলা ১১টার দিকে আবার রাস্তায় নামব। সেখানে সবাইকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ও ড্রেস পরে আসতে বলা হয়।'শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং নিহত নাঈম ও মাইনুদ্দিন হত্যার বিচারসহ আরও কিছু দাবি তুলে ধরা হবে।
6
সিলেটে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সময় এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর আখালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া সংঘর্ষকালে ছাত্রলীগের দুইজন কর্মী ছুরিকাহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আখালিয়াসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। গুলিবিদ্ধ রাকিব আহমদসহ আহত তিনজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অকিল উদ্দিন সমকালকে জানান, আধিপত্য বা এমন কিছু নিয়ে ছাত্রলীগের দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আখালিয়ার বিজিবি স্কুল এন্ড কলেজের সামনে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুজেল তালুকদার ও প্রতিপক্ষ রাজনের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে সুজেল গ্রুপের জুনেদ ও রাজন গ্রুপের মারুফ ছুরিকাহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুইপক্ষ গুলিবিনিময় শুরু করলে পথচারী রাকিব আহমদের পায়ে গুলি লাগে। রাকিব, জুনেদ ও মারুফ ছাড়াও উভয় পক্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারুফের অবস্থা গুরুতর বলে ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে সমকালকে জানিয়েছেন ওসি অকিল উদ্দিন।
6
প্রথম ধাপে আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলের সংসদীয় এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া বৈঠকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন ও ১১টি পৌরসভা নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীও চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। জানা গেছে, শনিবারের বৈঠকে জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন, ১১টি পৌরসভা ও ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ (৩ মার্চ ২০২১ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিলে উল্লেখিত) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। এর আগে গত ৫ মার্চ থেকে এই নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি। ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনও হবে আগামী ১১ এপ্রিল। আসনটিতে ভোট হবে ইভিএমে। এ আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১৮ মার্চ, বাছাই ১৯ মার্চ এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৪ মার্চ। আর ষষ্ঠ ধাপে একই তফসিলে ১১ পৌরসভায় ভোট হবে। সবখানে ইভিএমে ভোট হবে। ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩০টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হবে। বাকিগুলোতে কাগজের ব্যালটে ভোট হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৯ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৪ মার্চ।
6
ভারতের জয়পুরে প্রাসাদে বিয়ে সেরেছেন ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। এ বছরের সবচেয়ে হাইপড বিয়ে। ভিকি-ক্যাটরিনা সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিতেই শুভেচ্ছার বন্যা। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই আছে সেই তালিকায়। তবে বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মার শুভেচ্ছা জানানোর কায়দা বাকিদের থেকে একদমই আলাদা। ভিকি-ক্যাটরিনার বিয়েতে যেন অনেকটা স্বস্তিই পেয়েছেন আনুশকা। কেন? কারণ একটানা বাড়ি তৈরির ঠুকঠাক আওয়াজ থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন তিনি। আনুশকা লিখেছেন, তোমাদের দুইজনকেই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সারাজীবন একসঙ্গে থেকো। অবশেষে তোমরা বিয়ে করে তোমাদের বাড়িতে চলে আসতে পারবে। আর আমাদেরও আর কনস্ট্রাকশনের আওয়াজ শুনতে হবে না। আনুশকার কথাতেই স্পষ্ট, বিগত কয় মাস প্রতিবেশীর বাড়ি তৈরির আওয়াজ তার কানেও এসেছে। আনুশকার সঙ্গে ক্যাটরিনার সম্পর্ক বেশ ভাল। একসঙ্গে করণ জোহরের চ্যাট শোতেও এসেছেন তারা। আবার 'যাব তাক হ্যায় জান' ছবিতে আনুশকা ও ক্যাটরিনা একসঙ্গে অভিনয়ও করেছেন। সব মিলিয়ে তাদের আগমন যে বিরাট-আনুশকার ভালই লাগবে সে আশা করাই যায়। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর
2
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনি বিপুল সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে সাহায্যনির্ভর থেকে বিনিয়োগবান্ধব দেশে পরিণত হতে হবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, মাথাপিছু জাতীয় আয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে তুলে ধরে না। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নীত হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংলাপে এলডিসি থেকে উত্তরণ নিয়ে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও বিএনপির সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী মঈন খানের মধ্যে কথার বাহাস হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, 'স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয় তিনটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু গণতন্ত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যেটি এ তিন শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, সুশাসন ও গণতন্ত্রকে মূল্যায়ন না করে আমরা উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছি।' তিনি এ পদ্ধতিকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের এ উন্নতি একটুকরো কাগজ হিসেবেই থাকবে। বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাবে না। সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজের মধ্যে ভারসাম্য নেই। মাথাপিছু আয় বাড়লেও লাভ নেই, যদি আয়ের সমবণ্টন না হয়। দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে। দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে ক্লান্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন হচ্ছে না। কাগুজে শান্তি বিরাজ করছে। মঈন খানের বক্তব্যের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আয়বৈষম্য থাকলেও বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে বৈষম্য নেই। কোভিড মহামারির সময়ে প্রধানমন্ত্রী দরিদ্রতম মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষতি কমাতে বিধিনিষেধ দিয়েছিলেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হলেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনো ইতিবাচক। মন্ত্রী আরও বলেন, সুশাসনের গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের বিকল্প হতে পারে না, আমাদের দুটোই প্রয়োজন।' সিজিএসের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আরও বক্তব্য দেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ। সংলাপে একাধিক বক্তা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পথ সুগম হবে।
0
নোয়াখালীর চাটখিলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীকে 'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ওপর রচনা ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতা শেষে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।গতকাল রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অর্থায়নে ছিল অ্যাকটিভ ফাউন্ডেশন।রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪০ জনের লেখা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক স্তরের উপজেলার ৫৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ ১১০ জনকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ এবং অ্যাকটিভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা, চাটখিল পৌরসভার মেয়র মো. নিজাম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জাহাঙ্গীর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচ এম আলী তাহের ইভু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোজী শাহীন, মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।বক্তব্য দেন চাটখিল মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রমুখ।আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম স্থান অধিকারী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম বিজয়ীদের একটি করে ল্যাপটপদেওয়া হয়। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে। তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ৭ হাজার টাকা করে।
6
*মনোনয়ন পেতে চার হাজারের বেশি নেতা ফরম নিয়েছেন*গণভবনে আ. লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের 'সাক্ষাৎকার'*সাক্ষাৎকার কার্যত দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় *প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের শুধু বক্তব্য দেন*অনেকে বাদ পড়তে পারেন, সিদ্ধান্ত অমান্যে আজীবন বহিষ্কার *স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনোনয়ন পাবেন না আগামী নির্বাচন খুব কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং গা ভাসিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের 'সাক্ষাৎকার' অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে চার হাজারের বেশি নেতা ফরম সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় সাক্ষাৎকারের আয়োজন কার্যত দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুধু বক্তব্য দেন। আগ্রহীরা কেউ বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আট মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, দল হারলে পরিণতি কী হবে, অতীতে দলের পরাজয়ে কী হয়েছে-দলীয় প্রধানের বক্তব্যে এসব বিষয় বারবার উঠে এসেছে। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, মনোনয়নবঞ্চিত হলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাও বাদ যেতে পারেন। এতে কিছু করার নেই। এটা মেনে নিতে হবে। একটা আসন হারিয়ে দিই, অন্যগুলোতে জিতবেই এমন করবেন না কেউ। এটা করলে দেখা যাবে ৩০০ আসনে দল হেরে গেছে।' ৯১ সালের মতো গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, দল হেরে গেলে কারও পিঠের চামড়া থাকবে না। এবার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কঠিন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি অনেকগুলো সমীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে কোনো আসনে ব্যক্তি জনপ্রিয়, দল কিছুটা পিছিয়ে আছে। কোথাও দল এগিয়ে, ব্যক্তি পিছিয়ে। এ ক্ষেত্রে সমীক্ষা প্রতিবেদন দেখে সমন্বয় করে প্রার্থী ঠিক করা হবে। যাঁরা দলের বাইরে ভোট টানতে পারেন, তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বেলা ১১টায় ধানমন্ডি কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরে জানা যায়, অনুষ্ঠানটি হবে গণভবনে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গণভবনে দলীয় কর্মসূচি পালন করলে তা আচরণবিধির লঙ্ঘন হয় কি না, এই ভাবনায় ছিলেন নেতারা। অনুষ্ঠান শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডি কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এবার তরুণদের বেশি করে মনোনয়ন দেওয়ার ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ তরুণ। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন থাকবে। কাউকে আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মনোনয়ন না দেওয়ার ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা এক জায়গায় আছেন, তাঁরা তো আছেনই। এক ব্যক্তিকে দুই পদ দেওয়া ঠিক হবে না। বক্তব্যের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, সবাই যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু এর মধ্য থেকে প্রতি আসনে একজনকে বেছে নিতে হবে। এরপরও সবার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ ছিল। কিন্তু এটা করতে গেলে তিন মাস লেগে যাবে। এ জন্যই সবাইকে একসঙ্গে ডেকে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণভবনে সবাইকে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবারও ক্ষমতায় এলে আপনারা এখানে আসবেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত, বঞ্চিত এবং নির্বাচনে জয়ী সবার জন্যই উন্মুক্ত। শেখ হাসিনা বলেন, আগের মতো নির্বাচনে সবার দায়িত্ব নিতে পারব না। এবার নেত্রীকে বেটে খাওয়ালেও কাজ হবে না। গত দুই নির্বাচনে এনেছি, এবারও আমিই ক্ষমতায় আনব, এটা মনে করে কোনো লাভ নেই। প্রার্থীর নিজ নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা, রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা থাকতে হবে। জনসম্পৃক্ত হতে হবে। বিভিন্ন আসনে অস্বাভাবিক হারে মনোনয়ন ফরম বিক্রির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে নেতৃত্ব শূন্যতা রয়েছে, সেখানে যত বড় নেতাই হোক না কেন, তারা দল সংগঠিত করতে পারে নাই। এটা তাদের নেতৃত্বশূন্যতার প্রমাণ। ক্ষমতায় এলে অনেক পদ সৃষ্টি করা হবে। তখন সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিস্থিতিও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন আছে, কর্মী আছে, ভোট আছে। কিন্তু কর্মীদের দৃশ্যমান হতে হবে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। আরও ৭০টি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। তিনি কারও বিরুদ্ধে বলতে চান না। তবে এখনো অনেকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। তিনি বলেন, অশনিসংকেত দেখা যাচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উপস্থিত একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, শুরুতেই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রার্থীদের এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কাউকে বহিষ্কার করা হলে আজীবনের জন্য করা হবে। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁকে মানবেন কি না তা জানতে চান তিনি। এ সময় উপস্থিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হাত তুলে সায় দেন। দলের সিদ্ধান্ত না মানলে বহিষ্কারব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানমন্ডিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। সবাই দলীয় সভাপতির দোয়া নিতে চান। পরে গণভবনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। প্রার্থীরাও কথা দিয়েছেন ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। ঐক্যবদ্ধ না থেকে কেউ যদি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যান, তাহলে তাঁকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে বলে দলীয় প্রধান জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জরিপ, প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন, সমীক্ষা-সব আওয়ামী লীগের পক্ষে এসেছে। তারুণ্যের শক্তি ও নারীরা এবার আওয়ামী লীগের বিজয়ের হাতিয়ার হবে। এ সময় বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির দেখানোর মতো কোনো কাজ নেই। এমন কোনো উন্নয়ন-অর্জন বিএনপির নেই, যা দেখিয়ে বিএনপি নির্বাচনে ফায়দা লুটতে পারে। জনগণ শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অর্জনে খুশি। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ আশাবাদী। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, দলের উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপরও কেউ মনোনয়ন ফরম কিনে থাকতে পারেন, তবে তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
9
ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আগামী ১০ মের মধ্যে পোশাকসহ সব খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক কমিটির ৬৭তম সভা এবং আরএমজি টিসিসি কমিটির অষ্টম সভায় সভাপতির বক্তব্যে মালিকদের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের আগের কোনো মাসের বেতন যদি বকেয়া থাকে, সেসব বেতনও পরিশোধ করতে হবে।
6
বাগেরহাটের মোংলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপকূলের প্রান্তিক জেলেদের মাঝে জীবনরক্ষাকারী উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উপকরণগুলোর মধ্যে ছিল লাইফবয়া, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও, টর্চ লাইট, রেইনকোট ও কম্বল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোস্টগাডের্র মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি ৩০ জন জেলের হাতে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী তুলে দেন। মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এখন পর্যন্ত উপকূলের ২৫০ জন প্রান্তিক জেলেদের মাঝে জীবনরক্ষাকারী উপকরণ লাইফবয়া, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও, টর্চ লাইট, রেইনকোট ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও আরটিভি স্টাফ রিপোর্টার বাবু সুকান্ত সেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আজ শনিবার ভোর ৬ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেছেন। এর আগে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য শুভাকাংখী রেখে গেছেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
4
উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় একাধিক দফতর এখন প্রিয়াংকা গান্ধীর বিরুদ্ধে সক্রিয়। কিন্তু পিছু হটবেন না বলে সাফ জানি দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী। এছাড়াও প্রিয়াংকা গান্ধী উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সেই সঙ্গে নিজের বংশ পরিচয়ও আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন বিরোধীদের। তার ভাষায়, 'আমি ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি। কিছু বিরোধী নেতা-নেত্রীর মতো বিজেপির অঘোষিত মুখপাত্র নই।' ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যের মতোই উত্তরপ্রদেশেও ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে করোনা। কিন্তু মহামারী মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা উঠে আসছে। এর মধ্যে কানপুরে একটি সরকারি হোমে সম্প্রতি বেশ কয়েক জন কিশোরী করোনা আক্রান্ত হয়। তাদের কয়েকজন আবার গর্ভবতী বলেও খবর বেরোয়। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে সমালোচনা করে আসছেন প্রিয়াংকা। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট তুলে তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশে ভাইরাস পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আরও জানান, কানপুর সরকারি হোমে ৫৭ জন কিশোরী আক্রান্ত। এসব সমালোচনা উঠতেই প্রিয়াংকার বিরুদ্ধে সরব যোগী সরকার। অভিযোগ, পুরো সত্য না জেনেই, ওই সরকারি হোম নিয়ে প্রিয়াংকা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। সেই জেরেই শুক্রবার প্রিয়াংকাকে নোটিস দেয় উত্তরপ্রদেশ চাইল্ড রাইটস প্যানেল। তিন দিনের মধ্যে তার কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়। এ নিয়েই এদিন টুইটারে ফুঁসে ওঠেন প্রিয়াংকা। তিনি লেখেন, 'জনগণের সেবক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ আমি। সত্যটা সামনে আনা আমার কর্তব্য, বিজেপি সরকারের তথ্য প্রচার করা নয়।' উত্তরপ্রদেশ সরকার তাকে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রিয়াংকা। তিনি বলেন, 'উত্তরপ্রদেশ সরকার বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিয়ে খামোখা সময় নষ্ট করছে। যা পারে করুক ওরা। সত্যিটা সামনে তুলে আনবই। আমি ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি। বিরোধী পক্ষের কিছু নেতার মতো বিজেপির অঘোষিত মুখপাত্র নই। আরও জানান, কানপুর সরকারি হোমে ৫৭ জন কিশোরী আক্রান্ত। এসব সমালোচনা উঠতেই প্রিয়াংকার বিরুদ্ধে সরব যোগী সরকার। অভিযোগ, পুরো সত্য না জেনেই, ওই সরকারি হোম নিয়ে প্রিয়াংকা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। সেই জেরেই শুক্রবার প্রিয়াংকাকে নোটিস দেয় উত্তরপ্রদেশ চাইল্ড রাইটস প্যানেল। তিন দিনের মধ্যে তার কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়। এ নিয়েই এদিন টুইটারে ফুঁসে ওঠেন প্রিয়াংকা। তিনি লেখেন, 'জনগণের সেবক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ আমি। সত্যটা সামনে আনা আমার কর্তব্য, বিজেপি সরকারের তথ্য প্রচার করা নয়।' সূত্র: এনডিটিভি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
চীনের উইঘুর নীতিকে আবারও সমর্থন জানালো পাকিস্তান। একই সঙ্গে চীনের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রশংসাও করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি নির্বাচনের গণতন্ত্রের তুলনায় দেশের একদলীয় ব্যবস্থাকে সমাজের জন্য আরও উন্নত মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর আল জাজিরার। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চাইনিজ খবর মাধ্যমের একদল প্রতিনিধি ইসলামাবদ সফর করছেন। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ইমরান খান এ মন্তব্য করেন। এদিকে মানবাধিকার গ্রুপগুলো জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুরদের প্রতি চীনের নিষ্ঠুর ও দমনমূলক আচরণকে 'মানবতাবিরোধী' কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। গত মাসে এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতিকে 'নরকতুল্য' হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিছু মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে বলা হয়েছে, জিনজিয়াংয়ে ব্রেইন ওয়াশ ও নির্যাতনের মাধ্যমে উইঘুর জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার ব্যাপক চেষ্টা চলছে। তবে ইমরান খান, যিনি সবসময় পশ্চিমের ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তিনি বলেন, চীন জিনজিয়াংয়ে কোনো অন্যায্য আচরণ করছে না। বৃহস্পতিবার চীনা সংবাদ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝতে পেরেছি, তা পশ্চিমের প্রচারিত জিনজিয়াং পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তান তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ চীনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এক সম্পর্কে আবদ্ধ। চীন পাকিস্তানে সিপিইসি-র ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ইমরান খান চীনে একদলীয় শাসনব্যবস্থারও প্রশংসা করেছেন। দেশটি একচেটিয়াভাবে কমুনিস্ট পার্টির অধীনে শাস্তি হচ্ছে। ইমরান খান বলেছেন, পশ্চিমা মডেলের গণতন্ত্রের চেয়ে চীনা মডেলের একদলীয় শাসনব্যবস্থা তাদের জনগণের জন্য অধিক কল্যাণ বয়ে এনেছে।
3
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের পদ শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন টি জামান নিকেতা। তিনি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় পঞ্চম ও শেষ ধাপের ১৬টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে টি জামান নিকেতাসহ মোট আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বগুড়া-৬ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাসুদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান দিপু, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বগুড়া জেলা সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, জার্মান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আসাদুর রহমান এবং শেরপুর শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তাহমিনা জামান। আগামী ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই আসনের নির্বাচিত এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়েছে।
9
জাপানের সাবেক সহকারী অর্থমন্ত্রী মাসাতসুগু আসাকাওয়া এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ পেয়েছেন। ৬১ বছর বয়সী আসাকাওয়া তাকেহিকো নাকাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন। নাকেহিকো ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে এডিবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিক্কি এশিয়ান রিভিউ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির ১০ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন মাসাতসুগু আসাকাওয়া। জাপানের অর্থমন্ত্রী তারো আসো এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'এডিবি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি মাসাতসুগু আসাকাওয়ার সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, উন্নয়ন সহায়তা, আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা-এসব ক্ষেত্রে আসাকাওয়ার বিপুল অভিজ্ঞতা আছে। তিনি এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন বলে আশা করি'। এই পদের জন্য আসাকাওয়াই একমাত্র প্রার্থী ছিলেন। তবে তাকেহিকো নাকাওয়ের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। ১৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে মাসাতসুগু আসাকাওয়া ২০২১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
0
বিএনপি নির্বাচন কমিশনের আনুকুল্য পেয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপি পার্টনার হিসেবে জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কার্যত খোলস বিএনপির হলেও ভেতরে সবসময় জামায়াত নিয়ন্ত্রিত। অতীতে জামায়াতের সঙ্গে মন্ত্রী সভাও গঠন করেছে বিএনপি। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজী পুকুরপাড় এলাকায় নিজ বাস ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিএনপির অন্তত ১০০ জন প্রার্থী হলফনামায় স্বাক্ষরও করেননি তবুও তারা প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছেন। যদি কোনো লিগ্যাল ডকুমেন্টে স্বাক্ষর না থাকে তাহলে সেটা লিগ্যাল ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও বিএনপির গোলাম মাওলা রনিসহ অনেকেই প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছেন। এটা নজিরবিহীন। আর বিএনপি ইসির আনুকুল্য পেয়েছে বলেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।' লন্ডনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের খবর বেরিয়েছে এবং ওই বৈঠকে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকও উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'তারেক রহমান শুধু আইএসআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তা নয়, তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন তিনি।'
9
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, আগামী ২ আগস্ট লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন। বিদেশে থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে তিনি সার্বক্ষণিক দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পাদন করছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার ফলোআপের জন্য গত ১ জুলাই (বুধবার) বিকেলে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। করোনা মহামারিতে লন্ডন পৌঁছানোর পর মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে সেখানে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে বিধায় পৌছানোর ১৪ দিন পরে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। আর এ কারনেই তিনি চিকিৎসার কাজে একটু বেশী সময় দেশের বাইরে ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আইসিসির সভাপতি থাকাকালীন সময় থেকে আইসিসির তত্বাবধানে লন্ডনে যেসব ডাক্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন, পরবর্তীতেও তিনি সেসব ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়মিত গ্রহণ করতেন। গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। এরও বেশ পূর্বে ফলোআপ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রীর লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। একদিকে করোনা পরিস্থিতির অবনতি, অপরদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট তৈরি, সংসদে উপস্থাপন ও সংসদে পাস করার কাজে ব্যস্ত থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। যার দুরন বাজেট উপস্থাপনের পরে তিনি চিকিৎসার ফলোআপের জন্য লন্ডন যান। চিকিৎসার ফলোআপ পরামর্শ গ্রহণ করেই তিনি আগামী ২ আগস্ট দেশে আসবেন।
0
প্রধানমন্ত্রী নয়, জাতির পিতার কন্যা হিসেবেই গর্ব অনুভব করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এই পদটাকে কীভাবে উপভোগ করবো সেই চিন্তা করি না, মানুষের কল্যাণে নিজেকে কতটুকু নিয়োজিত করতে পারলাম আমার কাছে সেটাই বিবেচ্য।' বৃহস্পতিবার দুপুরে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। বিদায় বেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি সরকারি কর্মচারীদেরকে তাদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। খবর বাসসের শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি থাকি বা না থাকি, আপনাদের কাছে আবেদন এটাই থাকবে-আপনারা আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, কারণ আপনারা সরকারি কর্মচারী। আপনাদের বেতন-ভাতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকাতেই হয়। কাজেই তাদের সেবা করা, কল্যাণ করা, আপনাদের দায়িত্ব।' প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক বেগম নাসরিন আফরোজ, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এসএসএফ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুজিবুর রহমান, প্রটোকল অফিসার খুরশীদ আলম, সহকারী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন, একান্ত সচিব (২) অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,''আমি কিন্তু নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন্তা করি না। আমি হচ্ছি বাবার কন্যা 'ফাদারস ডটার।' সন্তান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করি। আমি জাতির পিতার কন্যা। আমি আপনাদের কাছে এটুকুই চাইবো-আপনারা সবসময় আমাকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা হিসেবেই আপনাদের একান্ত আপনজন হিসেবে দেখবেন। সেটাই আমি চাই। সেটাইতেই আমি গর্বিত বোধ করি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।'' তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রিত্ব, এটা একটা দায়িত্ব পেয়েছি। কাজ করার সুযোগ পাই এর মাধ্যমে। দেশের কল্যাণ করার একটা সুযোগ পাই। সেটাই আমার কাছে বড়।' সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, '১০ বছর একটানা থাকায় অনেক কাজ করে যেতে পেরেছি। এখনও বহুকাজ বাকি। সেটাও নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। আগামী ৩০ তারিখে যদি তারা ভোট দেয় তাহলে আবার আসতে পারবো এবং কাজগুলোকে শেষ করতে পারবো।আর তা না হলে মানুষের ভাগ্য মানুষ বেছে নেবে। এখানে আমার কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। কেননা আমার নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।' বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়াই তার একমাত্র চাওয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি একথা সবসময় চিন্তা করি যে, আমার বাবা এদেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তার মনে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষকে নিয়ে, সেই আকাঙ্ক্ষা যেন আমি পূরণ করে যেতে পারি। যেন তার আত্মা শান্তি পায়।বাংলাদেশের মানুষ আজ আর কষ্টে নেই, তারা দু'বেলা পেট ভরে খেতে পারছে।' প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বলেন,'১০টি বছর আপনাদের সাথে কাজ করেছি, আমরা হচ্ছি টেম্পোরারি, আপনারা পার্মানেন্ট। আমরা তো ৫ বছরের জন্যই নির্বাচিত হয়ে আসি।আমার সৌভাগ্য যে, আমরা দ্বিতীয়বার আসতে পেরেছি। তাই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আজ দৃশ্যমান হয়েছে। আমাদের এই শাসনামলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে।' মঙ্গাপীড়িত দেশের উত্তর জনপদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,'এই উত্তরবঙ্গে আমি বহুবার সফর করেছি। কিন্তু এবার যখন উত্তরবঙ্গে গেলাম তাদের জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি।' মানুষের জীবনমানের আরো উন্নয়ন করাই তার সরকারের আগামী দিনের লক্ষ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,'এজন্য আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতেকটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছি, যাতে সবধরনের নাগরিক সুবিধাগুলো গ্রামের মানুষ পেতে পারে।' তার সরকার উন্নয়নের সমতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে দলিত হরিজন শ্রেণির জন্যও ফ্লাট করে দেওয়ার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন,'এভাবে বস্তিবাসীর জন্য আমরা ফ্লাট করে দেব এবং সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো মানুষ অবহেলায় থাকবে না।' বিভিন্ন পেশার অধস্তন কর্মচারীদের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,'নাম পরিবর্তন আমি এজন্য করলাম কারণ, তাদের ছেলে মেয়ে যখন শিক্ষিত হয় তখন তাদেরকে নাপিত বা সুইপার বলা অসম্মানজনক হয়। তাছাড়া এখন একটু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তারা কাজগুলো করতে পারে। তাই, এইসব পদবী পরিবর্তন করলাম। '৯৬ সালে যখন সরকারে তখন সেনাবাহিনীর অধস্তনদের পদবিটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। এরপর আমাদের প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন তাদের সম্মানজনক একটা পদবি যেন হয় তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিছু ব্রিটিশ আমলের পদবি ছিল যেগুলো থাকার কোন যৌক্তিকতাই ছিল না।' সকল ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থল এই বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ যেন একটি উৎসব একত্রে উদযাপন করতে পারে সেই চিন্তা থেকেই সরকার নববর্ষে ভাতার ব্যবস্থা করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের নববর্ষটা যেন সকলে মিলে উদযাপন করতে পারে সেজন্য আমরা বৈশাখি ভাতার ব্যবস্থা করেছি। যাতে সবাই মিলে নতুন বছরটি ভালোভাবে উদযাপন করতে পারে।' প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৪০০ সালের নববর্ষ পালনের জন্য সে সময়ে বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতি বিএনপি জামায়াতের বাধা দেওয়ার কথাও স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন,'আমরা আগামীতে আসম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো সেভাবে ধনী-দরিদ্রের এই ভেদাভেদটা থাকবে না। আয়-বৈষম্যটা কমিয়ে এনে সকলে যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থাটাই আমরা করতে চাই।' বিদায় বেলায় কবি সুকান্তের ভাষায় শেখ হাসিনা বলেন, 'চলে যাব- তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল? এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/ নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।' প্রধানমন্ত্রী পরে তার কার্যালয়ের মেইন গেটের সামনের দেয়ালে স্মৃতিময় ১৯৫২ থেকে '৭১ এর মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত বাঙালির গৌরবের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি টেরাকেটার ম্যুরাল পরিদর্শন করেন। ছাত্রলীগ নেতা মুহম্মদ আরিফুজ্জামান নুর নবী এই ম্যুরালের ভাস্কর।
6
'টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য' স্লোগানে ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন উপজেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করা হয়।ময়মনসিংহ: 'যে মুখে ডাকি মা, সে মুখে মাদক না' স্লোগানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে সাইকেল শোভাযাত্রা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সাইক্লিষ্টস'র যৌথ উদ্যোগে সার্কিট হাউস বেটবল চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় ১০১ জন নারীসহ প্রায় ২৫০ জন বাইসাইকেল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, 'আমাদের বার্তা হচ্ছে মাদকমুক্ত ময়মনসিংহ জেলা গঠন করা। নারী-পুরুষ কোনো ভেদাভেদ নয়। কর্মদক্ষতায় সবাই এগিয়ে যাবে।'গৌরীপুর: ইউএনও হাসান মারুফের সভাপতিত্বে পাবলিক হল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ প্রমুখ।ধোবাউড়া: উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা করা হয়। সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পূর্ণিমা কবিরাজের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউএনও ফৌজিয়া নাজনীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা জান্নাত প্রমুখ।হালুয়াঘাট: উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করা হয়েছে। ইউএনও মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গোলে জান্নাত সেতু এতে সঞ্চালনা করেন।ভালুকা: উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। ইউএনও সালমা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পৌর মেয়র এ কে এম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রশিদ প্রমুখ।ফুলবাড়িয়া: উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করা হয়েছে। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, ইউএনও মোহাম্মদ নাহিদুল করিম প্রমুখ।বাকৃবি: বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাইকেল শোভাযাত্রা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধূমকেতু মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে হেলিপ্যাডে সাইকেল শোভাযাত্রা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন সাইক্লিং ক্লাবের আয়োজনে এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ. কে. এম জাকির হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহির উদ্দীন প্রমুখ।ঈশ্বরগঞ্জ: নারী দিবসে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউএনও মোসা. হাফিজা জেসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংসদ ফখরুল ইমাম।
6
অভিনেতা, নির্মাতা ও গীতিকার আমজাদ হোসেন। জীবনের শেষের সময়টা চলচ্চিত্রপাড়া এফডিসিতেই কাটিয়েছেন বেশি সময়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতেই সময় কাটাতে দেখা যেতো তাকে। এফডিসির প্রতিটি কোনায় কোনায় স্মৃতি ঝাপ্টে রয়েছে এ কিংবদন্তির। শরীর ভালো থাকলে প্রায় প্রতিদিনই এফডিসিতে আসার চেষ্টা করতেন তিনি। এলেন আজও। তবে সেটা অন্যসব দিনের মতো স্বাভাবিক আসা নয়।নিথর দেহে এলেন চিরবিদায় নিতে! এই প্রাণহীন আমজাদ হোসেনকে দেখতে চিত্রপাড়া আজ লোকারণ্য। সবার চোখে মুখেই প্রিয়জন হারানোর বিষণ্নতা আর বেদনার ছাপ। আজকের পর আর হয়তো প্রিয় স্থানে দেখা যাবে আমজাদ হোসেনকে। পরিচালক সমিতির সামনে আড্ডায় সরব দেখা যাবেনা আর! নিজের বর্ণিল জীবনের অভিজ্ঞতার গল্প শোনা হবে না আর! সকাল সোয়া ১১টা থেকে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলাআমজাদ হোসেনের মরদেহ সোয়া ১টায় নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। মরদেহ এখানে আসবে শুনে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করতে থাকে এফডিসির গেটে। লাশ নিয়ে যাওয়ার পর এফডিসিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির তৈরী হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দীর্ঘদিনের সতীর্থরা। গুণী এই মানুষকে শেষবারের মতো দেখতে জনতার ঢলের মধ্যেও অশ্রুসজল চোখে দেখা গেছে চিত্রনায়ক আলমগীর, ফারুক, ববিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, সুচরিতা, এটিএম শামসুজ্জামানদের মতো গুণী অভিনেতাদের। মান্না ডিজিটাল স্টুডিওর সামনে রাখা হয়েছে আমজাদ হোসেনের মরদেহ। যেখানে আরো উপস্থিত হন এফডিসির এমডি, নির্মাতা গুলজার আহমেদ,সোহানুর রহমান সোহান, বদিউল আলম খোকন, পূর্ণিমা, চিত্রনায়ক রিয়াজ, জায়েদ খান, সাইমন ও আরিফিন শুভ সহ এফডিসি কেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠনের নেতা নেত্রীরা।
2
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলা কঠোর লকডাউন নোয়াখালীতে ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৩৬টি মামলায় ৩৯ জনকে ৫২ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জনগণকে সচেতন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয়েছে ২৫০টি মাস্ক।আজ রোববার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, জেলার প্রতিটি সড়কে বেড়েছে রিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট-খাটো যানবাহনের চলাচল। নোয়াখালী সুপার মার্কেটসহ জেলার সকল মার্কেট, শপিংমল বন্ধ থাকলেও বেশির ভাগ দোকান-পাট খোলা রয়েছে। যার মধ্যে পৌর এলাকার দোকান-পাট অর্ধেক সাটার খোলা রেখে চলছে বেচা-বিক্রি। সড়কে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। বেশির ভাগ মানুষই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের চেক পোস্ট থাকলেও তাতে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকলেও অবাধে চলাচল করছে ব্যক্তিগতসহ অন্যান্য যানবাহন।এদিকে লকডাউন কার্যকর করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন। সড়কে টহলের পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় লোকজনকে স্বাস্থ্য সচেতন করার পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করছেন তাঁরা। কয়েকটি স্থানে সচেতনতা মূলক মাইকিং করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে শনিবার দিনব্যাপী আমাদের ১১টি দল কাজ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারী ৩৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫২ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
6
রাজধানীর বনানী থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক শেখ সোহেল রানাকে ভারত থেকে ফেরত আনতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তৃতীয় দফা চিঠির উত্তর দেয়নি ভারতের দিল্লির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলতে রাজি হয়নি দিল্লি। অবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।এদিকে সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের দরিকান্দি ইসলামাবাদ এলাকার বাসিন্দা একেএম বাহারুল। শিলিগুড়ির সহকারী পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) শুভেন্দু কুমার সাংবাদিকদের কাছে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাহারুলের চলাফেরা পুলিশের সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি ঠিকানা পুলিশ তাঁর পাসপোর্ট থেকে জানতে পারে। জানা গেছে, তামিলনাড়ুর ভেলোরে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় বাহারুল ভারতে আসেন। ৬ জুন তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। সেই মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, মেখলিগঞ্জ জেলে বন্দী সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন বাহারুল। তার কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ইলেকট্রনিকযন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছে পুলিশ।গত আগস্টের মাঝামাঝিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর বনানী থানার এসআই সোহেল রানা আলোচনায় আসেন। ওই মামলায় তার বোন ই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক সোনিয়া মেহেজাবিন ও বোনের জামাই মাসুকুর রহমান আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আছেন। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শেখ সোহেল বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা হয়। এরপর তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান। ৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে তিনি গ্রেপ্তার হন।রোববার ঢাকায় এনসিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভারতে গ্রেপ্তার সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে এ নিয়ে তিন দফায় দিল্লিতে এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে তারা চিঠি দেন। এখনো কোনো উত্তর দেয়নি দিল্লি।
6
গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় বাসচাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম নিরব (৯)। সে জামালপুর জেলার কেন্দুয়া থানার চশী নয়াপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। পুলিশ বাসচালক ও হেলপারকে আটক করেছে।জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ভ্যানগাড়ি নিয়ে মহাসড়ক পারাপারের সময় ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী বলাকা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-০৯৮৭) ভ্যানগাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিরব মারা যায়।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাদিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নাদিরুজ্জামান বলেন, 'শিশু নিরব গাছা ডেগেরচালা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থেকে ভ্যানচালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করত এবং পরিত্যক্ত জিনিসপত্র (ভাঙারি) সংগ্রহ করত।'এসআই নাদিরুজ্জামান জানান, নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা বাসটি আটক করে চালক হৃদয় (২৪) ও সহযোগী শামীমকে (২৫) পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি উদ্বোধন করা হয় ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের ওয়ানস্টপ সার্ভিসও।বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় শেখ হাসিনা ও দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি নিজ নিজ কার্যালয় থেকে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে যুক্ত হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই দুটি ট্রেন চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক টর্মিনাল ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতার যাত্রীদের সাফল্য কামনা করছি। আজ দুই দেশের মধ্যে নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।'এর আগে সকালে সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগে নির্মাণ করা দ্বিতীয় ভৈরব, দ্বিতীয় তিতাস সেতু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বন্ধন এক্সপ্রেস। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে নিয়মিত শিডিউলে ট্রেনটি চলাচল করবে। এতে আসন সংখ্যা ১৫৬টি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বার্থের ভাড়া হবে এক হাজার ৫০০ টাকা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ভাড়া এক হাজার টাকা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করবে। যশোরের বেনাপোল অতিক্রম করবে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে। কলকাতায় পৌঁছবে ভারত সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। কলকাতা থেকে ভারত সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে যাত্রা করে খুলনায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে।বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫২ বছর পর খুলনা ও কলকাতার মধ্যে আবার চালু হলো যাত্রীবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। গত ৮ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এই যাত্রীবাহী ট্রেনটি কলকাতা-খুলনা রেলপথে চালানো হয়।
6
জাপানে ভারী বৃষ্টির পর এক বিরাট ভূমিধসে আতামি শহরে অন্তত ২০ জন মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পাহাড়ের ওপর থেকে প্রচণ্ড বেগে নেমে আসা কালো কাদামাটির ঢল নেমে সমুদ্রের দিকে বয়ে চলেছে। কাদার তোড়ে কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গেছে এবং মাটির নিচে চাপা পড়েছে। জাপানো কিয়োডো বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে, এই ঘটনায় মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে এমন দুজনের লাশ পাওয়া গেছে বন্দর এলাকায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি এক ভয়ংকর শব্দ শুনে দৌড়ে উঁচু এলাকার দিকে পালিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিডে সুগা এই ঘটনার মোকাবিলার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। জাপানের আতামি শহর উষ্ণ জলের ঝর্ণার জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এটির অবস্থান জাপানের শিজুকা অঞ্চলে। এই শহরটিতে জুলাই মাসের প্রথম তিন দিনেই প্রায় এক মাসের সমান বৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জাপানের এনএইচকে টেলিভিশনকে বলেন, 'আমি একটি ভয়ংকর শব্দ শুনতে পেলাম, তারপরই দেখলাম কাদার স্রোত নিচের দিকে নেমে আসছে। উদ্ধার কর্মীরা লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বলছিল। আমি দ্রুত উঁচু জায়গার দিকে চলে যাই।' স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এই ভূমিধস শুরু হয়। জাপানের পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং সামরিক বাহিনী এখন ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছে। জাপানের কর্তৃপক্ষ শিজুকা, কানাগাওয়া এবং চিবা- এই তিনটি অঞ্চলের কিছু অংশের বাসিন্দাদের বন্যার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। বৃষ্টির মৌসুমে জাপানে ভূমিধস এবং বন্যার ঝুঁকি থাকে। গত বছর জুলাই মাসের বন্যায় বেশ কিছু মানুষ মারা যায়। এর আগে ২০১৮ সালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলে বন্যায় মারা যায় প্রায় ২০০ মানুষ। সূত্র : বিবিসি
3
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েন বলেছেন, ইউক্রেনে চালানো 'নৃশংস' যুদ্ধের কারণে রাশিয়া 'বিশ্ব ব্যবস্থার সরাসরি সবচেয়ে বড় হুমকি'। বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে আলাপের পর তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির। এ সময় তিনি মস্কোর সঙ্গে 'বেইজিংয়ের উদ্বেগজনক চুক্তির' কথাও উল্লেখ করেন। ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলও জাপানের রাজধানীতে হওয়া সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুধু ইউরোপের বিষয় নয়, কিন্তু এটি এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার মূলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি কোনোভাবে সহ্য করা ঠিক হবে না। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে। এর পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর ওপর নানা চাপ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ জোটের নানা তৎপরতা রাশিয়াকে ইউক্রেনে হামলা কমাতে বাধ্য করতে তো পারেইনি উল্টো ক্ষিপ্ত করে তুলছে।
3