text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
করোনাভাইরাস নামক এক মহামারির সঙ্গে লড়ছে মানুষ। এদিকে, সমুদ্রের স্তন্যপায়ীদের মধ্যেও আরেক মহামারির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 'মরবিলিভাইরাস' নামক এ সংক্রামক রোগের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়ার একদল গবেষক। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, একটি মৃত ফ্রেশার ডলফিনে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।২০১৮ সালে মাউইর সৈকতে মারা যায় একটি ফ্রেশার ডলফিন। মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে ধোঁয়াশায় পড়ে যান গবেষকেরা। এত দিন পর তাঁরা কারণ খুঁজে পেলেন। ডলফিনটি মরবিলিভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এ জাতের কোনো ডলফিনের দেহে এই প্রথম এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মানুষের দেহে হাম এবং গুটিবসন্ত দেখা দিলে যে লক্ষণ দেখা যায়, এটিও প্রায় তেমনই।মরবিলিভাইরাস নতুন কোনো ভাইরাস নয়। আগেও মহামারি আকারে দেখা দিয়েছিল এটি। আগে পাওয়া গিয়েছিল দুটি ভিন্ন ধরন। ২০১৩-১৪ সালেও এ ভাইরাসের আক্রমণে মারা যায় হাজার হাজার তিমি এবং ডলফিন। শুধু বোতলনোস জাতের ডলফিনই মারা যায় প্রায় দেড় হাজার। এর আগে ব্রাজিলে দুই শতাধিক এবং অস্ট্রেলিয়ায় মারা যায় অন্তত ৫০টি ডলফিন।গবেষকদলের প্রধান কৃষ্টি ওয়েস্ট জানান, 'হাওয়াইতে যে ২০ প্রজাতির ডলফিনকে স্থানীয় হিসেবে ধরা হয়, সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় এখন সেগুলো। ভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে যাওয়া মানে বিপন্ন ও অতি বিপন্ন প্রজাতির বিদায়। এ তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে ইনসুলার ফলস কিলার নামের এক জাতের তিমি। এখন এদের সংখ্যা ১৬৭।এ ভাইরাসে মৃত্যুর তথ্য পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে গবেষকদের। স্থানীয় সাগরে যেসব ডলফিন মারা যায়, এদের মাত্র ৫ শতাংশের খোঁজ পান তাঁরা। অর্থাৎ এমনও হতে পারে, ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মহামারি। | 11 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে হালিমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর হত্যা চেষ্টা করায় স্বামী মুরাদ শেখ (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার কাজিরবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ একই এলাকার হেলাল শেখের ছেলে।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ হালিমাকে মারধর করে আসছেন তাঁর স্বামী মুরাদ। বেশ কয়েকবার পানিতে চুবিয়ে মারারও চেষ্টাও করেছেন। গতকাল শনিবার স্থানীয় মেম্বার এ বিষয়ে বিচারও করেন। কিন্তু নেশাগ্রস্ত মুরাদ আজ আবার তাঁকে মারধর করেন। এ সময় স্থানীয় নারীরা বাধা দিলে তাঁদেরও মারতে চাপাতি নিয়ে এগিয়ে আসেন তিনি। এ ঘটনাটি প্রতিবেশী খাদিজা তাঁর মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে বিষয়টি জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্থানীয় মেম্বার ও লোকজন গিয়ে হালিমাকে উদ্ধার করে এবং ৯৯৯ এ ফোন দেয়।ভিডিও ধারণকারী খাদিজা জানান, মুরাদের হাতে চাপাতি ছিল। কেউ হালিমাকে বাঁচাতে এলেই সে চাপাতি নিয়ে তাড়া করছেন। এ জন্য কেউ হালিমাকে বাঁচাতে পারছিলাম না। হালিমা বেগমের ৪ বছরের শিশু কন্যা বলে, আমার মাকে বাবা মেরেছে। আমার মাকে বাঁচান।মালখানগর ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ বলেন, আমি ব্যাপারটি জানা মাত্র ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুরাদ হালিমার পেটে, পিঠে, মুখে কিল ঘুষি মারছে। আমি তাঁকে উদ্ধার করি এবং মুরাদকে আটকে রেখে থানায় খবর দেই।মো. আবু সাঈদ আরও বলেন, হালিমার কপাল ও গাল কেটে গেছে। তাঁর শরীরে অসংখ্য জখম রয়েছে। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।সিরাজদিখান থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে নারী নির্যাতন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার ২৭টি বিলের কৃষকদের দুর্বিষহ দিন শেষ হচ্ছে না। জলাবদ্ধতায় দিন দিন সম্বলহীন হয়ে পড়ছেন তাঁরা। বিল ভবদহের কারণে জমি থাকলেও ফসল ফলাতে না পেরে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। কেউ কেউ বদলে ফেলছেন পেশা।এসব বিলের কোনো কোনো বিল টানা ৯ বছর জলাবদ্ধতার কারণে ফসল হয় না। শ্যাওলা জমে ভরাট হয়ে আছে বিল। নিরূপায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা এখন শেওলা কুড়াচ্ছেন।কোনো কোনো বিলের কৃষকেরা নামমাত্র মূল্যে মৎস্যঘের মালিকদের কাছে জমি হারি দিয়ে রেখেছেন। অথচ এক বিঘা জমির জন্য বছরে পান ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। গবাদিপশু পালন ছিল এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের আরও একটি বড় মাধ্যম। কিন্তু বাড়িতে পানি থাকায় সেটাও দুরূহ হয়ে উঠেছে।সরেজমিনে অভয়নগরের বিল ঝিকরায় দেখা যায়, কিছু কৃষক দিনভর ছোট্ট ডিঙি নৌকায় শ্যাওলা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে চালাচ্ছেন সংসার। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই ছোট্ট ছোট্ট ডিঙি নিয়ে তারা নেমে পড়েন বিলে। শুরু করেন শ্যাওলা কুড়ানোর কাজ। এক ডিঙি শ্যাওলা কুড়াতে লেগে যায় প্রায় তিন ঘণ্টা। শ্যাওলা কুড়িয়ে বিলসংলগ্ন সড়কে স্তূপ করে রাখেন তাঁরা।সকাল ১০টার দিকে আসে ঘেরমালিক মহাজনদের নসিমন-করিমন। সেই নসিমন-করিমনে তাঁরা এসব শ্যাওলা তুলে দেন। বিনিময়ে এক নৌকা শ্যাওলার দাম হিসেবে পান ১৫০ টাকা। আর তা দিয়েই চলে পরিবারের ভরণপোষণ। বর্তমানে ভিন্নধর্মী এ পেশায় জড়িত হয়েছেন এ এলাকার ২৫-৩০ জন কৃষক।উপজেলার রাজাপুর গ্রামের এমনই একজন কৃষক সুকুমার ঘোষ। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, যাঁরা শ্যাওলা কুড়ানোর কাজ করছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই বিলে ফসলি জমি রয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতায় ৯ বছর বিল ডুবে থাকায় ফসল ফলাতে পারে না। উপায়ন্তর না পেয়ে তারা এ পেশা বেছে নিয়েছেন।অনেকেই সন্তানদের লেখাপড়া চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ মাঝপথে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে পরিবারের হাল ধরেছে। ফসল না হওয়ায় শত শত কৃষক নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ঘাটশ্রমিকের কাজ করছেন। ভাগ্য বিড়ম্বনায় তাঁদের সুখের দিন হারিয়ে গেছে। | 6 |
ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের উদ্যোগে মহাগৌরবের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ছিল দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। এদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে 'মুজিববর্ষের কূটনীতি, প্রগতি ও সম্প্রীতি' শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। শুক্রবারও নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল, আবার অনেকে বাংলাদেশে গিয়েছিল। সৌহার্দ্যপূর্ণ সেই সম্পর্কের পথে দুই দেশের মৈত্রী নিয়ে কেউ কেউ বাধা সৃষ্টি করতে চায়। এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশে গিয়ে দেখেছি, বহু জাতিধর্মের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৌফিক হাসান বলেন, 'কলকাতা থেকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সল্টলেকে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারের উদ্বোধন করেছেন। বড় বড় শহরে এ ধরনের সেন্টার করার প্রচেষ্টা রয়েছে।' অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। | 4 |
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর দিকে বিএনপি ৮৭ হাজার কোটি টাকার যে আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটিকেই আগামী বাজেট প্রণয়নের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই বাজেটে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমকল্যাণ, কৃষি, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর উত্তরায় নিজের বাসা থেকে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটের বিষয়ে বিএনপির 'বাজেট ভাবনা' সম্পর্কে এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে মির্জা ফখরুল ইসলাম এই প্রস্তাবগুলো করেন। এ সময় তিনি করোনা কালের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বাজেটে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার উল্লেখ করে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে বেশকিছু পরামর্শও তুলে ধরেন। তিনি তাঁরা জনগরের স্বার্থে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সরকার ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। আজই হয়তো তারা বিএনপির এই প্রস্তাবকে অবাস্তব-অগ্রহণযোগ্য বলবে। করোনার পটভূমিকায় অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এবারেরর বাজেট গতানুগতিক বাজেট হবে না। এর মুখ্য উদ্দেশ্য হবে করোনার প্রভাব মোকাবিলার মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতি পুণরুদ্ধার করে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা। তাই অনেক মনে করছেন, করোনার ভয়াবহতা না কমলে নতুন বাজেট করে কোনো লাভ হবে না। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামী ৬ মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট করা। কারণ করোনা কালে পুর্ণাঙ্গ বাজেটের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হবে না। এ অবস্থায় অর্থনীতির স্বাভাবিক সংকোচনের প্রচলতি বাজেট ব্যবস্থা থেকে সরে এসে তিন বছরের জন্য মধ্য মেয়াদি পুণরুদ্ধার পরিকল্পনার আলোকে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ে নতুন ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী কখনো ভিন্নমতকে সহ্য করে না। তারা বিজ্ঞজন, বিশেষজ্ঞ, অন্য রাজনৈতিক দল্- কারো কথাই গুরুত্ব দেন না। এক অদ্ভুত অহংকারে ভোগেন। কারণ তাদের তো কারো কাছে জবাবদিহি নেই। জনগণের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য দল হিসেবে বিএনপি প্রতি বছরই দলীয় 'বাজেট ভাবনা' দিয়ে আসছে। কিন্তু আজই হয়তো বলা হবে, একেবারে অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।' এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অসহায়ত্ব চরম সীমায় গিয়ে ঠেকেছে। পরিস্থিতি এমন যে, ১৬ কোটি মাানুষের জন্য একটি আইসিইউ সজ্জিত অ্যাম্বুলেন্স নেই আমাদের। ১৬ থেক ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বছরে মাত্র ২৫ হাজার কোটি টাকা মতো খরচ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যা জিডিপির এক শতাংশেরও কম। বাজেট সম্পর্কিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন বাজেটেও সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোই সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার সেই স্বাস্থ্য খাতকেই অবমূূল্য্যায়ন করছে। চলতি অর্থ বছরের স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ছিল মোট্ বাজেটের ৫ শতাংশ। সরকার এবারও গতানুগতিক বাজেট দিতে যাচ্ছে। দু'-চারটি নতুন প্রকল্প নেওয়া আর গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, এর সঙ্গে আছে স্বাস্থ্য খাতের সীমাহীন দুর্নীতি ও অপশাসন। করোনার এই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায়ও চরম দুর্নীতি হচ্ছে। বাজার দরের চেয়ে দুই-তিনগুণ বেশি দামে এ সব সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে। ৫০০ টাকা দামের প্লাস্টিকের চশমা কেনা হচ্ছে দু' হাজার টাকায়অ আর দুই হাজার টাকা দামের পিপিই কেনা হচ্ছে ৪৭০০ টাকায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, করোনা সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। আসন্ন বাজেট থেকে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের রূপরেখা দিতে হবে। মির্জা ফখরুল শিক্ষা খাতে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতে জিডিপির এক দশিমক ৫ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাড়াতে হবে। যা চলতি অর্থ বছরে ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া শিল্প অর্থনৈতিক সেবা খাতে বরাদ্দ জিডিপির শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং বাজেটের ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষি উন্নয়ন এবং টেকসই বাণিজ্যিক কৃষির রূপান্তরের লক্ষ্য 'কৃষি কমিশন' গঠন করতে হবে। করোনা কারও জন্য আশীর্বাদ: বিএনপির মহাসচিব বলেন, করোনা কারও কারও জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এটাকে অনেকে কাঁচা টাকা বানানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ওএমএস কার্ডের তালিকায় আওয়ামী লীগের ধনীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি গত ঈদে ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচিতে দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঈদ উপহার দেওয়ার কথা বলে যে সামান্য টাকা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নিতে ৪টি মোবাইল নম্বরে ৩০৬ ব্যক্তির নাম গণমাধ্যমে এসেছে। ভর্তুকি ও দুর্নীতি মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ৪৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য এই ভর্তুকি রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, চলতি অর্থ বছরের মতো আগামী অর্থবছরেও এলএনজি খাতে ভর্তুকি দেওয়া হবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিদু্ৎ খাতে দিতে হবে ৯ হাজার কোটি টাকা। এমনকি চুক্তির শর্ত পালনের জন্য কোনোরূপ বিদু্ৎ না কিনেও বেসরকারি খাতের রেন্টাল পাওয়ার কোম্পানিগুলোকে প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। চুক্তির সময়েই আইন করে এ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদুৎ উৎপাদন না করেও সহজে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা মারা যায়। ফখরুল বলেন, প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি টাকা করে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা কেবল এই খাতেই দুর্নীতি করা হয়েছে। এবারের ভর্তুকির বরাদ্দে সে টাকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এই টকা দিয়েই প্রায় তিন কোটি দিনমজুর, হতদ্ররিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা যেত। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী ১১ জুন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। এর আকার হতে পারে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এই বাজেট ঘাটতির প্রস্তাব করা হয়েছে জিডিপির ৬ শতাংশ। যা অংকে ১ লাখ ৭২ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এরবিআরের পক্ষে এত বিরাট অংকের রাজস্ব আহরণ একেবারেই অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রস্তাব: আজ একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বিদেশি ঋণের ওপর জোর দিতে হবে। বিদেশি অনুদান বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। বিদুৎখাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ভর্তুকি বাদ দিতে হবে। সরকারের অতিরিক্ত জনবল ইত্যাদির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সহজে কর আদায়ের খাতগুলো সম্প্রসারণ করতে হবে। যেমন: দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ও আয়কর বাবদ দেড় মিলিয়ন ডলার আয়কর আদায় করা যায়। তবে, এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে আর ঋণ নেওয়া যাবে না। কারণ এমনিতেই ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে। অর্থনীতির ক্রমহ্রাসমান সংকোচন রোধে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম মনে করেন, করোনা-সংকটে মানুষের সামাজিক মৌলিক প্রয়োজনীয়তা খাদ্য, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদানে সরকারের বর্থ্যতা স্পষ্ট হয়েছে। তবে পুণরুদ্ধার প্যাকেজ ও মুদ্রানীতি সহজ করাসহ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। 'সামাজিক নিরাপত্তা জাল' নামে কিছু কর্মসূচি থাকলেও তা অপ্রতুল। উপরন্তু এই কর্মসূচিটি নোংরাভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। মির্জা ফখরুল বলেন, কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি্- সবকিছুর মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। সরকার এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আমূল পরিবর্তন না করলে অর্থনীতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির হয়ে যাবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের আঘাত আসবে। এর দায় সরকারেকই বহন করতে হবে। | 9 |
গোপালগঞ্জে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই নারী ও ট্রেনে কাটাপড়ে অজ্ঞাত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নবাড়ি ও শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ-রাজশাহী ট্রেনলাইনের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া নামকস্থনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- মুকসুদপুর উপজেলার চামটা গ্রামের নুর মোল্লার স্ত্রী রুবিচা বেগম (৪৫) ও একই উপজেলার মহিষতলী গ্রামের সুবল বালার স্ত্রীর শেফালী বালা (৫০)। ট্রেনে কাটাপড়ে নিহত অজ্ঞাত নারীর (৫২) পরিচয় পুলিশ জানাতে পারেনি। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. লিয়াকত হোসেন জানান, টেকেরহাট থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস ভেন্নাবাড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ নারী নিহত হয়। এ সময় আরও ১০ বাসযাত্রী আহত হয়। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই তানভীর আহম্মেদ জানান, রাতে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে সদর উপজেলার ডুমদিয়াতে অজ্ঞাত এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, 'বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালীন এ দুর্যোগের সময় সারা বিশ্ব যেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। আর তিনি দেশের মানুষের জন্য নিশ্চিত করেছেন করোনার টিকা।' বুধবার বিকালে পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি। বিকালে শুরু হওয়া এ জনসভা চলে রাত পর্যন্ত। জনসমাবেশ শেষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম গান পরিবেশন করেন। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জানান, এমপি ও মন্ত্রী হওয়ার দুই বছরেই পিরোজপুর- ১ সংসদীয় আসনের তিনটি উপজেলার জন্য অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন তিনি। তিনি পিরোজপুরের জন্য বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাউজিং প্রকল্প চালু, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ করেছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
ক্রমেই উজাড় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বন। বাণিজ্যিক বন সম্প্রসারণ ও বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে ধ্বংসের পথে এই প্রাকৃতিক সম্পদ। এর প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর। এভাবে চলতে থাকলে ১০-১৫ বছরে হারিয়ে যাবে প্রাকৃতিক বন।খাগড়াছড়িতে সংরক্ষিত বনের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ একর। অ-শ্রেণিভুক্ত বনের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৩২ একর। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বন রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি বনের আয়তন ৩ লাখ ২২ হাজার ৩৩১ হেক্টর। নির্বিচারে বন ধ্বংস, বিদেশি প্রজাতির গাছের আগ্রাসন, প্রাকৃতিক বন উজাড় করে রাবার ও ফলদ বাগান তৈরি, বনের গাছ চুরির কারণে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক বন। এ ছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বন ধ্বংসের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে শত প্রজাতির বৃক্ষ, লতাগুল্ম। বিচরণক্ষেত্র কমে যাওয়ায় বনের ওপর নির্ভরশীল বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।এসব নিয়ে বন বিভাগের কোনো নজরদারি নেই। প্রাকৃতিক বন বিপন্ন হওয়ায় বিপন্ন হয়ে উঠছে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষজন। বন ধ্বংস হওয়ায় পানির উৎস কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুমে ঝির-ঝরনায় পানির উৎস কমে আসে।বন উজাড়ের চিত্র পাওয়া যায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও পানছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সীমানাপাড়া এলাকায়। পাড়া থেকে প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটার পর বনখেকোদের দেখা মেলে। যেতে যেতে চোখে পড়ে বনের গাছ পরিবহন করার জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা করা হয়েছে।গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত চিত্তরঞ্জন চাকমা, জ্ঞান চাকমা, আলো জীবন চাকমাসহ একাধিক শ্রমিক জানান, মূলত পাহাড় খাস হলেও বনের মালিকানা রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মালিকদের কাছ থেকে পাহাড়ের গাছ কিনে নেওয়া হয়। ইটভাটায় গাছ সরবরাহকারী দালালেরা (মাঝি) স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাহাড়ের গাছ কিনে নেন। নির্বিচারে কাটা হয় গাছ। এ কাজে নিয়োজিত প্রতিটি শ্রমিকের মজুরি ৩০০ টাকা। তাঁরা বলেন, সারা দিনে অন্তত ৫০০ মণ গাছ কর্তন করছেন তাঁরা।সংরক্ষিত বন রক্ষার পাশাপাশি বিদ্যমান বন আইনের সংস্কার চান পরিবেশকর্মীরা। খাগড়াছড়ি পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের কারণে বর্ষাকালে মাটির ক্ষয় বেড়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়েছে। বিলুপ্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ বন্য প্রাণী।খাগড়াছড়ির বন্য প্রাণীবিষয়ক আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা বলেন, একসময় পাহাড়ে ভালুক, বাঘ, সাম্বার হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি দেখা গেলেও আজ তা বিপন্ন। একসময় অন্তত ৩৭৫ প্রজাতির পাখি দেখা যেত, যা আজ হারিয়ে গেছে।নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বনের গাছ বিক্রির কারণে প্রকৃতির ওপর প্রভাব পড়ছে। সনাতন পদ্ধতিতে জুমচাষের কারণে কমছে বনের আয়তন। খাগড়াছড়ির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং-এর নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, 'শত শত বছরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বনের মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে যাচ্ছে। বন কমে যাওয়ায় পাহাড়ে পানির উৎসও কমে গেছে।'প্রাকৃতিক বনের গাছ পাচার রোধে কাজ করার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, 'ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে বনের কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ। কেউ যদি বনের কাঠ ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।' | 6 |
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে যোগ দিচ্ছে আরও চারটি দল।বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর যুক্তফ্রন্টে যোগ দেওয়া কথা রয়েছে। দলগুলো হলো- জেবেল রহমান গাণির বাংলাদেশ ন্যাপ, খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজার এনডিপি, সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদের বিএলডিপি। এছাড়া লেবার পার্টির একাংশ এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) অংশের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদ গোলাম রেজা বিকেলে বিকল্পধারায় যোগ দেবেন। দলগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে বুধবার রাতে বারিধারায় জরুরি বৈঠক করেন বি. চৌধুরী। বৈঠকে জেবেল রহমান গাণিসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় বিকল্পধারার প্রেসিডিয়ামের একটি বৈঠক হয়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বি চৌধুরীর নেতৃত্বে আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট ঘোষণা করা হয়। জোট গঠনের পর থেকে কাদের সিদ্দিকীকে এই ব্যানারে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায়নি।এরপর গত ১৩ অক্টোবর প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য যুক্তফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। | 9 |
হেফাজতে ইসলামকে স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শনিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, 'তারা (হেফাজতে ইসলাম) ইসলামবিরোধী, জঙ্গিবাদী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, তারা রাষ্ট্র ও দেশের শত্রু, তাদের ছাড় দেয়া উচিত নয়, তাদের ওপর কঠোর হওয়া উচিত, প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার করা উচিত।' জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান। শেখ সেলিম ২০১৩ সালে হেফাজতের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল সেই মামলা তদন্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সাথে আছেন। তাকে হেফাজতের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন সেলিম। 'এই অপশক্তিকে ছাড় দেয়া উচিত নয়,' বলেন তিনি। শেখ সেলিম বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের ১০ দিনের কর্মসূচির সময় চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও হেফাজত কর্মীদের সাথে তাণ্ডবে অংশ নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।। এসব 'সন্ত্রাসীদের' বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'সরকারকে অবশ্যই তাদের ওপর কঠোর হতে হবে কারণ কোনো স্বাধীন দেশে এগুলো চলতে পারে না।' সূত্র : ইউএনবি | 9 |
সদ্য অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন নিপুণকে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা পীরজাদা শহীদুল হারুন। এমন দাবি করে চিত্রনায়িকা নিপুণ বলেন, ভোটের দিন আমার কাছে দুটি চুমু চেয়েছিলেন পীরজাদা হারুন। রবিবার (৩১ জানুয়ারি) শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বিকেলে প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিপুণ অনেক অভিযোগ করেন। এরমধ্যে একটি অভিযোগে তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুন ভোটের দিন সকালে আমার কাছে ২টা চুমু চেয়েছিলেন। সেখানে আমাদের প্যানেলের জেসমিন ছিল। তাকে থাপড়ানো উচিত। তাকে সিনেমা নাটকে কোনোদিন না নেওয়া উচিত।' নিপুণ আরও বলেন, এখানে জায়েদ খান, এফডিসির এমডি, আর নির্বাচন কমিশনার পীরজদা হারুন একটা চক্র। তারা সবাই মিলে জায়েদ খানকে জিতিয়ে দিয়েছে। তারা টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে ভিডিওতে সেটা দেখা গেছে।' সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, রিয়াজ, আফজাল শরীফ সাইমন, জেসমিনসহ অনেকেই। | 2 |
পদ্মা নদীর ভাঙনের কবল থেকে নড়িয়া উপজেলা সদরসহ ১০ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় নির্মাণ করা হয়েছে তীর রক্ষা বাঁধ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ওই বাঁধের নামকরণ করা হয়েছে জয় বাংলা অ্যাভিনিউ। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে নড়িয়ায় লেজার শো উপস্থাপন, আতসবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানো, নৌ-শোভাযাত্রা ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীতে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। ওই বাঁধের উদ্বোধনের পর পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের নেতৃত্বে অতিথিরা নদীতে নির্মিত মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ঢাকার শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন। রাত ১০টার দিকে মঞ্চে লেজার শোর পর্দা লাগানো হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিত ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন অবদানের চিত্র লেজার শোর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে চলমান পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ২৩টি বড় প্রকল্পের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধ, সাবমেরিন কেব্লে পদ্মার তলদেশ দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা উড়ালসেতুসহ বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের চিত্রও উপস্থাপন করা হয়। নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। নড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর বলে, 'বই পড়ে, স্বজনদের কাছে গল্প শুনে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে জেনেছি। আজ লেজার শোর মাধ্যমে বায়ান্নার ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত ঘটনাবলির তথ্যচিত্র দেখলাম তন্ময় হয়ে। দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেখে গর্ববোধ করছি।' বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, '৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। সেই সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি যখন আজ চোখের সামেন একে পর এক ভেসে উঠছিল, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলাম।' শরীয়তপুর-২ আসনের সাংসদ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কারণে নড়িয়াবাসীর ৩০ বছরের কান্না থেমেছে। গত দুই বছরে নড়িয়ার একটি বাড়িও পদ্মায় বিলীন হয়নি। এটা বিরাট অর্জন। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ অঞ্চলের মানুষ উৎসব পালন করেছে। বাঁধের নাম দিয়েছে জয় বাংলা অ্যাভিনিউ। | 6 |
ঢাকা: স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আড়ং শপিংমলকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আসাদগেটের আড়ংয়ের আউটলেটে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, অভিযানকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।তাজুল ইসলাম বলেন, 'শপিং মলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি-না আজ বিকেলে তা পরিদর্শনে যান মেয়র আতিকুল ইসলাম। সে সময় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আসাদগেট আড়ংয়ের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ সেখানে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত মানুষ থাকার কথা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।'তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি দেখে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ আড়ংকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। আর সেখানে থাকা এক ক্রেতাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।'ঘটনাস্থলে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'শর্ত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল খোলা রাখবে। আড়ংয়ের এখানে ধারণক্ষমতার চাইতে বেশি লোক ঢুকেছে, অনেকে বাচ্চা নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছে। আজ আড়ংকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর যদি না মানে তাহলে আড়ং বন্ধ করে দেওয়া হবে।' | 6 |
সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান জানিয়েছেন, দেশটিতে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর সামরিক বাহিনী রাজনীতি থেকে সরে আসবে। শনিবার বিবিধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে এই কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, 'সরকার যখন নির্বাচিত হবে, আমি মনে করি না সেনাবাহিনী, সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবে। এতে আমরা একমত হয়েছি এবং এটিই স্বাভাবিক পরিস্থিতি।' এর আগে গত অক্টোবিরে সুদানের সামরিক-বেসামরিক যৌথ নেতৃত্বের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুককে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাহী ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিজের হাতে নেন সুদানের সামরিক প্রধান। তবে দেশটির জনতার বিক্ষোভের জেরে ২১ নভেম্বর পুনরায় আবদুল্লাহ হামদুকের নেতৃত্বে বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠনে চুক্তি করেন জেনারেল আল-বুরহান। অন্তর্বর্তীকালীন এই মন্ত্রিসভা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন পর্যন্ত সুদানের নির্বাহী ক্ষমতার দায়িত্বে থাকবে। এদিকে পূর্ণ বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সুদানে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে এই পর্যন্ত অন্তত ৪৪ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভে হতাহতদের বিষয়ে জেনারেল আল-বুরহান বলেন, 'বিক্ষোভে ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে যে কারা এর সাথে জড়িত। ওই অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে।' সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জানান, তিনি প্রত্যাশা করেন বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ভুর্তুকি পুনঃস্থাপনসহ গত দুই বছরে নেয়া সংস্কারসমূহকে অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, 'সামনের দিনগুলোতে আফ্রিকান ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা লক্ষ্য রাখছে।' জেনারেল আল-বুরহান বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি এতে ইতিবাচক সূচক রয়েছে যা শিগগিরই ফল দেবে। বেসামরিক সরকার গঠন এই বস্তুকে যথাযথ স্থানে রাখবে।' সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের অংশীদারমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সভরেইন কাউন্সিলের উভয়পক্ষের মতবিরোধের জেরে প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুকসহ বিপুল বেসামরিক নেতৃত্বকে ২৫ অক্টোবর সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান পূর্ণ ক্ষমতা দখল করেন। সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে 'অভ্যুত্থান' হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুদানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে জেনারেল বুরহান তার এই পদক্ষেপকে অভ্যুত্থানের বদলে 'গণতান্ত্রিক উত্তরণকে শোধরানোর' পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে বিশ্বজুড়ে সুদানে সামরিক বাহিনীর নিন্দা জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক দেশটিতে প্রদত্ত সহায়তা স্থগিত করে। এছাড়া আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সংস্থাটিতে সদস্য পদ স্থগিত করে। পরে ২১ নভেম্বর আবদুল্লাহ হামদুকের সাথে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাহী ক্ষমতা পরিচালনার জন্য মন্ত্রিসভা গঠনে জেনারেল আল-বুরহান চুক্তি করেন। তবে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিভিন্ন দল এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সম্পূর্ণ বেসামরিক সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
দুই বছরের শিশুসন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন বাবা। গতকাল শনিবার বিকেলে নিজের কর্মস্থল লক্ষ্মীপুর থেকে বাড়িতে আসার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাবা ও ছেলের অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত বাবার নাম মাওলানা আজগর আলী (৩৫)। তিনি নোয়াখালীর সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জগৎপুর গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদির এলাকার আজহারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আজগর আলীর শিশু ছেলে জাকারিয়া (২) তার নানার বাড়ি কালাদরাপ ইউনিয়নের মাদারবাড়ী এলাকায় মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যায়। গতকাল শনিবার দুপুরে জাকারিয়াকে কোথাও দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে নানার বাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে দুপুর আড়াইটার দিকে জাকারিয়াকে বাড়ির পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।এদিকে বিকেলে সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে কর্মস্থল কমলনগর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নোয়াখালীর দিকে রওনা দেন তার বাবা আজগর আলী। বাড়িতে আসার পথে আমিনবাজার এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, নিহত মাদ্রাসাশিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
মহামারির কারণে ভারতে বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। বহু কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে দেশটি আবার যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালে কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ে জুন মাসে নিয়োগের হার যা ছিল, ২০২১-এর জুনে মহামারির পরিস্থিতিতে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। দেখা গেছে, এই একই সময়ে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের হার ৪২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে মে মাসে নিয়োগের হার ছিল ৩৫ শতাংশ বেশি। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মাঝামাঝি যখন সারা বিশ্বে লকডাউন চলছে, ঠিক সেই সময়ে একেকটি পদের জন্য দ্বিগুণ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। কিন্তু এখন তার ঠিক উল্টো পরিস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। চাকরির আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। নতুন পদে নিয়োগও হচ্ছে। রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে, কিছু কিছু কোম্পানিতে নিয়োগ কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ের মতোই হচ্ছে। আরও বলা হয়েছে, কম বয়সী কর্মী যাঁরা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে দক্ষ, তাঁদের চাহিদা আরও বাড়ছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। | 0 |
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইসিইউ ইউনিটের ন্যাজাল ক্যানুলার প্লাগ থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে আগুনের সূত্রপাত হলে আইসিইউ ইউনিটের চিকিৎসাধীন ১০ রোগীসহ পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনা রোগীরা মুহূর্তেই বেড ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালে ছুটে যান। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 6 |
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার জগন্নাথ ধামসংলগ্ন কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৩ ভরি স্বর্ণ ও ২৪ ভরি রুপা চুরি হয়।মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দীপক চক্রবর্তী বলেন, 'বুধবার রাতে আমি মন্দিরে ছিলাম না। মন্দিরের পাশের ঘরে আমার বাবা শান্তি চক্রবর্তী, ভাই ধনঞ্জয় চক্রবর্তী ও ছেলে রূপক চক্রবর্তী ছিল। সকালে দরজা খুলতে গিয়ে বাইর থেকে লক থাকায় অন্য লোকের মাধ্যমে দরজা খুলে দেখি মন্দিরের স্বর্ণ ও রুপা নেই।'ধনঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, 'ঘুম থেকে উঠে বাইর দিয়ে দরজা বন্ধ থাকায় পশ্চিম দিকে অনিল সেনকে দেখতে পেয়ে তাঁকে ডাক দিয়ে চাবি দিই। এ সময় তিনি আমাদের দরজা খুলে দেন এবং চুরির দৃশ্য দেখতে পেয়ে সবাইকে অবগত করি।'জগন্নাথ ধাম মন্দির কমিটির সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু বলেন, 'সকালে চুরির ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কচুয়া থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। চুরির বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।'এ ঘটনায় খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন, পিবিআই, সিআইডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ আজকের দৈনিক পত্রিকাকে বলেন, এই চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক। অচিরেই এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে। চোরদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে কচুয়ার এই মন্দিরের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বিকল থাকায় উদ্বেগজনক। | 6 |
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বোয়ালকান্দি বেইলি ব্রিজ ভেঙে শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক ব্রিজে ওঠার পর সেটি দেবে যায়। এসময় ব্রিজের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সোমবার সকাল থেকেই জোড়াতালি দিয়ে অস্থায়ী ওই ব্রিজটি মেরামতের কাজ শুরু হলেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী থেকে অতিরিক্ত বালুবোঝাই করে একটি ট্রাক শেরপুরউপজেলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি বেইলি ব্রিজে ওঠা মাত্র সেটি দেবে যায়। এতে শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ট্রাকটি উদ্ধার করা গেলেও ব্রিজটি যান চলাচল শুরু করা যায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মজনু মন্ডল জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দারা, ধুনটের মথুরাপুর, সোনাহাটা, গোসাইবাড়ী ও ভান্ডারবাড়ীসহ আশপাশের চারটি উপজেলার লাখো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। তাই যান চলাচল ব্যহত হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, শেরপর-ধুনট সড়কের ওই স্থানে একটিব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এজন্য অস্থায়ী স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া আছে যেন অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে গাড়ি চলাচল না করে। তারপরও তারা অতিরিক্ত মালামাল বহন করায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। | 6 |
অপহরণের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি চট্টগ্রামের পটিয়ায় খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে। অপহরণকারী গাড়িচালক করিম (৩০) ফিল্মি স্টাইলে মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন। অপহরণকারীর মা হাজেরা খাতুনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, পৌর সদরের খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতো গত ১৭ জুলাই স্কুলে যাচ্ছিল। পথে হঠাৎ করিম ড্রাইভার নামের এক যুবক জোরপূর্বক মক্কা ভিলা এলাকা থেকে মেয়েটিকে একটি প্রাইভেট গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানান। পরবর্তী সময় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মেয়ের বাবার অভিযোগ, থানার সংশ্নিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উদ্ধার কাজে গাফিলতি করছে। এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, স্কুলছাত্রী অপহরণের দায়ে থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গাড়িচালকের মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। | 6 |
খেলাধুলা নিয়ে প্রতিযোগিতা তো হবেই। প্রতিযোগিতা হবে পড়াশোনা নিয়েও। প্রতিযোগিতা কিন্তু খারাপ কিছু নয়। অন্যদের চেয়ে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আজ তোমাকে যে অ্যাপটির কথা জানাব, তার নাম হলো 'ভ্লাড অ্যান্ড নিকি: কিডস বাইক রেসিং'। এখানে তুমি বাইসাইকেল নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে। এখানে ভ্লাড, নিকিসহ অনেক চরিত্র থাকবে। কেউ কেউ মেয়ে এবং কেউ কেউ ছেলে। তারা তোমার মতোই ছোট। ওরা সবাই ভীষণ মেধাবী। প্রত্যেকে জানে কীভাবে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে হবে।তোমার কাজ হলো, সেসব চরিত্রকে পরিচালনা করা। পথটা সমতল নয়। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, কোথাও আছে বাঁশের সাঁকো ইত্যাদি। এসব পথ পেরিয়ে, অনেক বাধা পেরিয়ে সামনে এগোতে পারলেই তুমি বিজয়ী হবে। পাবে পয়েন্ট। তবে সাইকেলে যাত্রা শুরুর আগে তোমাকে বাছাই করে নিতে হবে পোশাক, টুপি, হাতমোজা, কেডস, সানগ্লাস ইত্যাদি। অবসর সময়ে এ মজার গেমটি খেলতে পারো। এ অ্যাপটি পেয়ে যাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে স্টোর থেকে। | 6 |
বিকল্পধারা অর্থাৎ বি চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। বি. চৌধুরীর দল বাদ দেয়ার ফলে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকছে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য। সন্ধ্যার বৈঠকে এই জোটের দফা ও লক্ষ্যগুলো তুলে ধরা হবে। এর আগেড. কামাল হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে ফিরে যান অধ্যাপক বি. চৌধুরী। শনিবার বিকেল ৩টায় ড. কামালের বাসভবনে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী বি, চৌধুরী এসেছিলেন। কিন্তু এসে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে চলে যান। এদিকে আজ সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে গণফোরাম, ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপি। এতে মাহমুদুর রহমান মান্নাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা এবং দাবি-দাওয়া চুড়ান্ত করতে শনিবার ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৩ টায় ড.কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর মধ্যে বৈঠকের পরে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রত্রিয়ার মধ্যে আলোচনা হওয়া কথা- এমনটা জানানো হয়েছিল গতকাল।।। রূপরেখায় বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল।। এতে দফা এবং লক্ষ্যও চুড়ান্ত করা হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে শনিবার বৈঠকে বসে চুড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়। গতকাল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন নয়া দিগন্ত প্রতিবেদককে জানান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা প্রস্তুত হয়েছে। তবে আন্দোলনের অভিন্ন লক্ষ্য ও দাবির খসড়াও চূড়ান্ত করতে আজ আবার বসবেন তারা। তিনি জানান দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্টা এবং ভোটের অধিকার রক্ষায় এক সঙ্গে আমরা আন্দোলন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য অভিন্ন দাবিদাওয়া, লক্ষ্য এবং রূপরেখার খসড়া চুড়ান্ত করেছি। দুই একদিনের মধ্যে আরও একদফা বৈঠকের পর এটি ঘোষণা করা হবে। গতকাল বিকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করে তারা ৬টা ২৭ মিনিটে বের হন। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার, ডা. জাহিদুর রহমান, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক প্রমূখ এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে নেতারা একসঙ্গে বারিধারায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসভবন মায়াবীতে যন। তারা বি. চৌধুরীর ৮৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এক সঙ্গে কেক কাটেন। | 9 |
শীতের দাপট সহসাই কমছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস হচ্ছে, বছরের শেষ ক'দিন কাটাতে হবে শৈত্যপ্রবাহের আবহে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আকাশে মেঘ জমেছে। শনিবার মেঘ কেটে যেতে পারে। ফলে নতুন সপ্তাহে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে উত্তরে বেড়েছে শীতের দাপট। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়, ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগের দিন তেঁতুলিয়াতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমেছে ঢাকায়ও। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগ এবং রাজশাহী, নওগাঁ, ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এটি আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্তৃত হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। শনিবার থেকে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার যশোরে পাঁচ মিলিমিটার এবং গোপালগঞ্জে এক মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, মোংলা এবং চুয়াডাঙ্গায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বৃহস্পতিবার রাতে সমকালকে বলেন, ঢাকার আকাশে শুক্রবারও মেঘ থাকতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। দেশের অন্যান্য এলাকায়ও আকাশে মেঘ রয়েছে। মেঘ কেটে গেলে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তখন বাড়বে শীতের তীব্রতা। আগামী ২৯ ডিসেম্বর বা তার পরও চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। | 6 |
এক খণ্ড কাঠের টুকরা। শুধু টুকরা বললে ভুল হয়, এক 'টুকরা' ইতিহাস বলাই ভালো। সেই ইতিহাস একটি ব্যাট। এই ব্যাট আবার স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ইতিহাসেরও অংশ। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ১৯৩৪ সালের অ্যাশেজে এই ব্যাট দিয়ে খেলেছিলেন। একটি ত্রিশতক ও দ্বিশতকও পেয়েছিলেন সেই সিরিজে। ৮৭ বছর আগের সেই ব্যাট তোলা হয়েছিল নিলামে। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ১৩ হাজার টাকা) বিক্রি হয়েছে ব্র্যাডম্যানের ব্যাটটি। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, নিলামের বিক্রির পর এটি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ক্রিকেট ব্যাট। অস্ট্রেলিয়ার 'পিকলস অকশন'-এর নির্বাহী গ্যাভিন ডেম্পসি জানান, অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসের বিরল স্মারকগুলোর মধ্যে ব্র্যাডম্যানের এই ব্যাট একটি। ইংল্যান্ডে ৫ টেস্টের সে সফরে সব ম্যাচেই এই ব্যাট দিয়ে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি।৯৪.৭৫ গড়ে তুলেছিলেন ৭৫৮ রান। এর মধ্যে হেডিংলিতে ৩০৪ এবং ওভালে ২৪৪ রানের ইনিংস দুটো তো ক্রিকেট-রূপকথারই অংশ। ওভাল টেস্টে বিল পন্সফোর্ডের শেষ ম্যাচে তাঁর সঙ্গে ৪৫১ রানের জুটিও গড়েন ব্র্যাডম্যান। ' - . ' , ://./ | | | | ../ ইংরেজ ব্যবসায়ী উইলিয়াম সাইকস অ্যান্ড সনস সে সময় ব্র্যাডম্যানের ব্যাট প্রস্তুত করত। ১৯৩৪ অ্যাশেজ সিরিজে ব্র্যাডম্যানের ব্যবহার করা ব্যাটটিও এ প্রতিষ্ঠানের বানানো। ১৯২৯ সালে ব্র্যাডম্যানের সই ব্যাটে জুড়ে দিয়ে পরিচিতি পায় সাইকস অ্যান্ড সনস। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্লেজেনজারের সঙ্গে একীভূত হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ব্যাটটি কিনেছেন কে? না, তার নাম জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্ট্রেলিয়ান সংগ্রাহক কিনেছেন ব্যাটটি। বাউরালে ব্র্যাডম্যান জাদুঘরে ১৯৯৯ সাল থেকে ব্যাটটি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। ব্যক্তিগত মালিকানার এই ব্যাট যে ব্যক্তি জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য দিয়েছিলেন, তাঁর নামও প্রকাশ করা হয়নি। নিলামে তা কিনে নেওয়া ব্যক্তি ব্যাটটি প্রদর্শনের জন্য ব্র্যাডম্যান জাদুঘরেই রাখার অনুমতি দিয়েছেন। ডেম্পসি বলেন, 'জনসাধারণের চোখের সামনেই ব্যাটটি রাখার ইচ্ছা থেকে তা জাদুঘরে রাখা হয়েছে।' ব্র্যাডম্যানের ব্যাট নিয়ে উচ্ছ্বসিত ডেম্পসির ব্যাখ্যা, 'এটি ব্র্যাডম্যানের সেরা দু-তিনটি ব্যাটের একটি। যে দুটি ব্যাট দিয়ে তিনি ত্রিশতক পেয়েছেন, এটি তার মধ্যে একটি।' ৫২ টেস্টে অবিশ্বাস্য ৯৯.৯৪ গড়ে ৬৯৯৬ রান করা ব্র্যাডম্যানের এই ব্যাট সত্যিই তাঁর কি না, তা নিয়ে কথা বলেছেন ব্র্যাডম্যান জাদুঘরের পরিচালক রেইনা হোয়ারে, 'এটা যে আসলেই ব্র্যাডম্যানের ব্যাট, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। স্যার ডোনাল্ড নিজেই এ ব্যাটে খোদাই করে লিখেছেন। এটা সত্যিকার গুপ্তধন।' ব্যাটের পিঠে ব্র্যাডম্যান লিখেছেন, 'এই ব্যাট দিয়ে ১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে (হেডিংলি) আমি ৩০৪ রান করি এবং ২৪৪ রান করি ওভালে।' ডান পাশে খোদাই করে লেখা 'ডন ব্র্যাডম্যান প্রাইভেট'-ব্যক্তিগত জিনিস বোঝাতে 'প্রাইভেট' শব্দটা ব্যবহার করতেন ২০০১ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো ব্র্যাডম্যান। | 12 |
তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানি প্রক্রিয়ায় নানা হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বিজিএমইএ। সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ, শুল্ক কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি, বন্দরে ধর্মঘটসহ নানামুখী হয়রানিতে সংকটে আছেন তারা। এসব বন্ধ না হলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে শনিবার এসব কথা বলেন সিদ্দিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিজিএমইএর সভাপতির উল্লেখ করা সমস্যার সঙ্গে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা এবং বিএনপি-জামায়াতের হরতাল অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির ৯০ দিন আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। সে পর্যন্ত বিএনপিকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজির (বিইউএফটি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর উদ্দীন সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, শ্যামল দত্ত ও সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। বিজিএমইএ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই হঠাৎ করে কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রাইম মুভার ধর্মঘট করে বন্দর থেকে ৭ দিন পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১০ শতাংশ থেকে এ খাতের করপোরেট কর বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স নিতে গেলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এ ধরনের অনেক অহেতুক বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে পদে পদে। প্রতিটি কাজের জন্য কাস্টমসে টাকা দিতে হয়। কোথায় কত টাকা দিতে হয় সব বন্ড কমিশনারকে জানিয়েছেন তারা। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এসব সমস্যার সমাধান করুন। নতুবা কারখানা বন্ধ করে দেব।'
ফেলোশিপ পেলেন ৬ সাংবাদিক: এ বছর বিজিএমইএ-বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলোশিপ পেয়েছেন ৬ সাংবাদিক। তারা হলেন- দৈনিক ইত্তেফাকের রিয়াদ হোসেন, যুগান্তরের মিজান চৌধুরী, ঢাকা ট্রিবিউনের ইব্রাহিম হোসেন অভি, এটিএন বাংলার শরিফুল ইসলাম, ইটিভির মেহেদী হাসান আলবকর ও ভয়েস অব আমেরিকার নাসরিন হুদা বীথি। | 0 |
খুলনা-৪ আসনের (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) উপনির্বাচনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাম মুর্শেদী। রবিবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে অন্য কোন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়নি। ফলে খুলনা-৪ আসনে সালাম মুর্শেদীর সংসদ সদস্য হওয়া এক প্রকার নিশ্চিত। নির্বাচন কমিশন জানায়, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ আগস্ট মনোনয়ন বাছাই ও ৪ সেপ্টেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপরই এই আসনের ফলাফল ঘোষনা করা হবে। এদিকে রবিবার দুপুরে সালাম মুর্শেদী দলীয় নেতাদের সাথে নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে মনোনয়ন জমা দেন। এসময় তার সাথে ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল, সাবেক এমপি মোল্লা জালাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আমিনুল হকসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। মনোনয়ন জমা শেষে সালাম মুর্শেদী বলেন, আমি খুলনার সিনিয়র ও তৃণমূল নেতাদের নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবো। আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আবারো মনোনয়ন দিলে আমি কাজের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনবো। এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, তফসিল অনুযায়ী ২৮ আগস্ট মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও ৪ সেপ্টেম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর এই আসনের ফলাফল ঘোষনা করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 6 |
ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসির বিরুদ্ধে জোট বাধার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার খড়্গপুরে এক সভায় তিনি বলেন, 'আসুন জোট বাধি। একজনকেও দেশ থেকে তাড়ানো চলবে না। নো এনআরসি, নো ডিভাইড অ্যান্ড রুল। মনে রাখবেন, দেশের থেকে বড় কিছুই নয়।' এনআরসি ও নাগরিকত্ববিলের(সিএবি) বিরোধিতা করে মমতা বলেন, 'সিএবি আর এনআরসি কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। আমরা সবাই নাগরিক, ভোট দিই, সবার রেশন কার্ড রয়েছে। কারও স্কুল শংসাপত্র, কাজ করার শংসাপত্র, জমির পাট্টা কিছু না কিছু রয়েছে। এর পরে নাগরিকত্ব নিয়ে কী প্রশ্ন রয়েছে।' মুখ্যমন্ত্রী অভয় দিয়ে বলেন, 'ভয় পাবেন না। আমরা থাকাকালীন কারও ক্ষমতা নেই, আপনাদের উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে।' কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা ৭০ বছর, ১০০ বছর ধরে এখানে রয়েছি। দেশের স্বাধীনতার সময় থেকে রয়েছি। আজ আপনারা ঠিক করবেন কে নাগরিকত্ব পাবে, কে পাবে না।' | 3 |
বিশ্ব পরিস্থিতি এবং অভিজ্ঞতা বিচারে বিশ্বে এবং বাংলাদেশে আরো দুই তিন বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ চলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে যা অনুমান করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তা হলো কিছুদিন পর করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ আজ উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি এসব কথা বলেন নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে। তিনি জানান, তিনি নিজেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে তিনি ফিরে আসেন দপ্তরে এবং কাজ শুরু করেন বলে জানান। আবুল কালাম আজাদ বলেন, টেস্ট বাড়ালে মৃদু ও সুপ্ত করোনাভাইরাস বের হয়ে আসবে, সেক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা যে কমেছে সেটা বোঝা যাবে না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হবে না বলছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এটি দুই থেকে তিন বছর ধরে চলতে পারে, যদিও সংক্রমণের মাত্রা একই হারে নাও থাকতে পারে। | 4 |
ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা টিকা৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ট্রায়ালে৯০ দশমিক ৭ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।মার্কিন ওষুধ প্রস্ততকারক সংস্থাটির বরাত দিয়ে শুক্রবার রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে জমা দেওয়া ডকুমেন্টে সংস্থাটি জানায়, ট্রায়ালে থাকা শিশুদের মধ্যে যাদের প্লাসিবো দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। প্রায় ২ হাজার শিশুর ওপর ট্রায়াল চালিয়ে এ কার্যকারিতার কথা জানিয়েছে ফাইজার। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্লাসিবো গ্রহণকারীর দ্বিগুণ সংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি শিশুর ক্ষেত্রে এ টিকা কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে জানায় ফাইজার। সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিকভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা দেখার জন্য এ ট্রায়াল করা হয়নি। টিকা দেওয়ার পর বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরির অবস্থা জানতে এ ট্রায়াল চালানো হয়। এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ফাইজার-বায়োএনটেক গত মাসে জানিয়েছিল, তাদের করোনা টিকা শিশুদের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারছে। ট্রায়ালে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ভ্যাকসিনের ১০ মাইক্রোগ্রাম ডোজের ২টি শট দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মানুষ সম্পূর্ণরূপে টিকা পেয়েছে। যার মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১১ মিলিয়নেরও বেশি শিশু ফাইজারের টিকা পেয়েছেন। | 3 |
লংগদু (রাঙামাটি): রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাঁচটি গ্রাম হলো-নতুনপাড়া, উত্তর ইয়ারিংছড়ি, আলুটিলা, রেংকাইজ্জা ও আটরকছড়া। এ গ্রামগুলোয় অন্তত ছয় শতাধিক পরিবারের বসবাস। তবে তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি একটি সেতু নির্মাণ করা। সেতু নির্মাণ হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে।গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যর একটি সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলার জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন করেছেন তাঁরা। জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যেকেই আশ্বস্ত করেছেন সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেননি।স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংবাদকর্মী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের এই পাঁচ গ্রামে বসবাসরত জনসাধারণকে করল্যাছড়ি বাজারে, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলার সঙ্গে যাতায়াতের জন্য (কাপ্তাই হ্রদের অংশ) মাইনী খালের এই অংশটি নৌকা অথবা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। সাঁকো পার হতে গিয়ে চার বছরের এক শিশু পানিতে পড়ে মারাও গেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছে স্থানীয় ইউপির সদস্য আব্দুর রহমানের। আব্দুর রহমান বলেন, 'সাড়ে তিন বছর আগে সাঁকো পার হতে গিয়ে বাঁশ ভেঙে নিচে পড়ে যাই। এ সময় আমার একটি হাত ভেঙে যায়।'করল্যাছড়ি আরএস উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মাসুম জানায়, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি, এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কারও সহযোগিতা এখনো পাওয়া যায়নি। চৈত্র-বৈশাখ মাসে খালের পানি কমে গেলে সাঁকোটি ছোট করে দিতে হয় আবার বর্ষা এলে বড় করতে হয়। এভাবে বছরে দুবার সাঁকো নির্মাণে স্থানীয়দের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বুধবার করল্যাছড়ি বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন। বাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পারাপার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় সবাইকে।করল্যাছড়ি বাজার কমিটির সভাপতি নুরু মিয়া বলেন, নদীর ওই পাড়ে আমার বাড়ি। প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে আমাকে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ ছাড়া আলুটিলা আনসার ক্যাম্পের সদস্যরাও এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। এখানে একটি সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি। অনেক মন্ত্রী, এমপি এই বাজারে এসেছিলেন, সবাই কথা দিয়েছিলেন সেতু নির্মাণের। কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাঁশের সাঁকোটি। তিনিও আশ্বাস দিয়েছিলেন এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তাও চার বছর গত হয়েছে।এ প্রসঙ্গে আটরকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গলকান্তি চাকমা বলেন, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সেতুটি নির্মাণের জন্য কথা বলেছি। এমপি, মন্ত্রী সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকার মানুষ খুবই দুর্ভোগে আছেন। সেতুটি হওয়া একান্ত জরুরি।লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'করল্যাছড়ি বাজার এলাকার খালের ওপর এক শ মিটার দৈর্ঘ্যর সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি অনুমোদন হয়ে যাবে।' | 6 |
আটক করা দক্ষিণ কোরিয়ারএকটি ট্যাংকার ছেড়ে দিয়েছে ইরান। গত জানুয়ারি মাসে ওই ট্যাংকারটি ক্রুসহ আটক করা হয়। আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করা হানকুক চেমি নামে ওই ট্যাংকারটি সম্ভবত হরমুজ প্রণালি থেকে আটক করে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড। ওই ট্যাংকারের রাসায়নিক পদার্থের কারণে পারস্য উপসাগর সাগরের পানি দূষিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ আনে ইরানি কর্তৃপক্ষ। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে ইরানের ৭০০ কোটি ডলার তহবিল জব্দ রয়েছে। এ নিয়ে তেহরান ও সিউলের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইরানের অর্থ ছাড়ের জন্য চেষ্টা করবে বলে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ট্যাংকারটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ট্যাংকারটির সঙ্গে ক্রুদেরও আটক করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেন। এরপর ক্যাপ্টেন ছাড়া ট্যাংকারটির ২০ জন ক্রুকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় ইরান। | 3 |
৬০ বছরের বেশি বয়সী, যারা চীনের সিনোভ্যাক এবং সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন, তাদের তৃতীয় ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সোমবার ডব্লিউএইচওর টিকাবিষয়ক উপদেষ্টারা এ সুপারিশ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাদান বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতিনির্ধারণী দল স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজারি গ্রুপ অব এক্সপার্টস অন ইমিউনাইজেশন (এসএজিই) বলেছে, সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা নেওয়া ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের তৃতীয় ডোজও নেওয়া উচিত। খবর এএফপির তবে বড় পরিসরে জনগণের সবাইকে বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেননি উপদেষ্টারা। ৬০ বছরের বেশি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই এই তৃতীয় ডোজের কথা বলছে ডাব্লিউএইচও। এসএজিই বলছে, যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এবং যারা বয়স্ক, তারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এই তৃতীয় ডোজের কথা বলা হচ্ছে। এসএজিই এও বলছে, এক্ষেত্রে সিনোভ্যাক বা সিনোফার্মের টিকার সরবরাহ কম থাকলে আলাদা টিকা তৃতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে প্রথম দুই ডোজ টিকা দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এটা আগে। এরপরই বয়স্কদের তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। | 3 |
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অপহৃত রামুর খুনিয়া পালংয়ের চার স্কুলছাত্রের মধ্যে তিন জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) নয়াপাড়া ও শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে এপিবিএন-১৬ ও র্যাব-১৫ এর সদস্যরা। এ ঘটনায় সাত জন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্কুলছাত্ররা হলো- রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপের মংলাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কায়সার, মিজানুর রহমান নয়ন এবং জাহিদুল ইসলাম। তবে মিজানুর রহমান নামের আরেকজনকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিত্যানন্দ দাস জানান, ক্যাম্প থেকে মোহাম্মদ কায়সার নামের অপহৃত এক ছাত্রকে উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। একই দিন পৃথক সময়ে একই এলাকা থেকে এপিবিএন উদ্ধার করে মিজানুর রহমান নয়ন ও জাহেদুল ইসলাম নামের আরও দুই ছাত্রকে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, চার জনকে অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জন উদ্ধারের খবর রয়েছে। এ ঘটনায় মোট সাত জন আটক রয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের জন্য আশপাশের পাহাড়গুলোতে র্যাব, আর্মড পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুস সালাম চৌধুরী বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত অন্যজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। | 6 |
দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বগুড়ায় সময় সংবাদের প্রতিবেদক মাজেদুর রহমান ও চিত্রসাংবাদিক রবির ওপর হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাইবান্ধায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা শনিবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের ডিবি রোডে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে এ সমাবেশ করেন। তারা অবিলম্বে হামলার নির্দেশদাতা ও হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আপরাধীদের বিচারের দাবি জানান। সংহতি সমাবেশে গণমাধ্যমকর্মীরা ছাড়াও খেলোয়াড়, রাজনীতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নের দশটিকা গ্রামে স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান, শ্রমিক লীগ নেতা জনির নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা সময় সংবাদের প্রতিবেদক মাজেদুর রহমান ও চিত্রসাংবাদিক রবিউল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও নগদ অর্থ লুটে নেয়। হামলার সময় সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তার নির্বিকার ভূমিকার নিন্দা জানান বক্তারা। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা এই হামলার নির্দেশদাতা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সংহতি সমাবেশ শেষে শহরের ডিবি রোডে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, গোবিন্দলাল দাশ, সাংবাদিক অমিতাভ দাশ হিমুন, সিদ্দিক আলম দয়াল, দীপক কুমার পাল, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, আরিফুল ইসলাম বাবু, ফেরদৌস জুয়েল, কুদ্দুস আলম, রজত কান্তি বর্মন, মাহমুদুল গনি রিজন, সাংবাদিক রিক্তু প্রসাদ, আফরোজা লুনা, আফতাব হোসেন, তাজুল ইসলাম রেজা, সরদার শাহিদ হাসান লোটন, খালেদ হোসেন, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম যাদু, ভবতোষ রায় মনা, কায়ছার প্লাবন, এস এম বিপ্লব, ফারহান শেখ, শাহজাহান সিরাজ, সাইফুল মিলন, ওবাইদুল ইসলাম ও হেদায়েতুল ইসলাম বাবু। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মতিন মোল্লা, উন্নয়নকর্মী আশরাফুল আলম, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন, সেদর উপজেলা পূজা উদডাপন পরিষদের সভাপতি সুজন প্রসাদ, ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক, আসাদুল হাবীব সুজন ও ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজিন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের রবিউল ইসলাম। অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন গণমাধ্যমকর্মীরা। | 6 |
মুন্সীগঞ্জে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে নৌ র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে কার্যক্রম আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। মুন্সীগঞ্জের সরকারি লৌহজং কলেজ প্রাঙ্গণে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল ভাবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, এমপি। পরে লৌহজং ভূমি অফিস ঘাট থেকে পদ্মা নদীতে এক বর্ণাঢ্য নৌ র্যালি বের হয়। র্যালিটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় একইস্থানে এসে শেষ হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
খুব শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইসরাইলি পতাকা উড়বে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিরি রেগেব। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক জুডু প্রতিযোগিতায় ইসরাইলি জুডু দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। ইসরাইলি এ মন্ত্রী বলেন, আবুধাবিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইসরাইল টিম বিজয়ী হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবেই ইসরাইলি পতাকা উড়বে ও জাতীয় সঙ্গীত বাজবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বহু দিন ধরেই দখলদার ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সব ধরণের তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর আগেও তেল আবিবে সাইকেল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে আরব আমিরাত। আবুধাবির মসজিদে নরেন্দ্র মোদি ১৭ আগস্ট ২০১৫ দু'দিনের সফরে আবুধাবি পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে পৌঁছেই বিখ্যাত শেখ জায়েদ মসজিদ ঘুরে দেখলেন তিনি। রোববার আবুধাবি পৌঁছন মোদি। প্রথাভেঙে বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ অল নাইয়ান ও তার পাঁচ ভাই। ৩৪ বছর বাদে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেলেন। আবুধাবি পৌঁছেই বিখ্যাত শেখ জায়েদ মসজিদে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই মসজিদ ঘুরে দেখেন মোদি। আর এর মাধ্যমেই প্রথমবার কোনো মসজিদে পা রেখে এর গঠনশৈলী সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন নমো। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ভাঙার সঙ্গে মোদির সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার আগে ১৯৯০ সালে সোমনাথ মন্দির থেকে রথযাত্রা আয়োজনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই রথযাত্রায় যে প্রচারণা চালানো হয়, সেটাই পরবর্তীকালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে প্ররোচনা দেয়। | 3 |
বিরোধটা মোটেই সামান্য নয়; অতি পুরোনো, চলমান ও ক্রমবর্ধমান একটি দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে বঞ্চিত মানুষের জেতার সম্ভাবনা না দেখা দিলে অচিরেই ঘোর অরাজকতা দেখা দেবে। সেটা সামলাবে এমন সাধ্য কারোরই থাকবে না।পৃথিবী যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দুর্ঘটনাও নয়। অনিবার্যভাবেই তা ঘটে চলেছে। সুবিধাভোগী ও সুবিধাবঞ্চিতদের ভেতর বিভাজনটা অতি পুরোনো। একালে বিভাজনটা সর্বগ্রাসী ও সর্বত্রবিস্তারী হয়েছে, এই যা। ভাগটা ওপরের ও নিচের। ওপরে রয়েছে সুবিধাভোগী অল্পকিছু মানুষ, নিচে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, যারা শ্রম করে এবং যাদের শ্রমের ফল অপহরণ করেই ওপরের মানুষগুলো তরতাজা হয়। লেখক জনাথন সুইফট তাঁর গালিভার্স ট্রাভেলস বইয়ে আজব কয়েকটি দেশের কল্পকাহিনি লিখেছিলেন। দেশগুলোর একটিতে শাসকেরা থাকে উড়ন্ত এক দ্বীপে, নিচে বিস্তীর্ণ এক মহাদেশ, সেখানে বসবাস প্রজাদের। প্রজারা মেহনত করে, তাদের উৎপাদিত খাদ্য যন্ত্রের সাহায্যে তুলে নেওয়া হয় উড়ন্ত দ্বীপে; সুযোগ-সুবিধাভোগী রাজা, তাঁর মন্ত্রী ও পারিষদদের ভোগের জন্য। প্রজাদের বিস্তর অভিযোগ আছে। সেগুলো শোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। উড়ন্ত দ্বীপটি যখন যেখানে যায়, সেখানকার মানুষদের সুবিধার জন্য ওপর থেকে সুতো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রজারা তাতে ইচ্ছা করলে মনের সুখে নিজেদের অভিযোগগুলো কাগজে লিখে সুতোয় বেঁধে দিতে পারে। কিন্তু সেই কাগজ কেউ কখনো পড়ে বলে জানা যায়নি। তবে প্রজারা যদি ভুল করে কোথাও বিদ্রোহ করে বসে, তবে তার জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা সে রাজত্বে রয়েছে। উড়ন্ত দ্বীপটি বিদ্রোহীদের এলাকার ওপরে এসে উপস্থিত হয়; ফলে সূর্যের কিরণ ও বৃষ্টিপাত, দুটো থেকেই নিচের বিদ্রোহীরা বঞ্চিত হয়ে অচিরেই নাকে খত দেয়। বিদ্রোহ দমনের আরেকটি পদ্ধতি উড়ন্ত দ্বীপ থেকে বড় বড় পাথর নিচের মানুষদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা।নিচের মানুষদের ওপর ওপরঅলাদের এই শাসন-শোষণের ছবিটি আঁকা হয়েছিল বেশ আগে, ১৭২৬ সালে। এর প্রায় ২০০ বছর পরে ১৯২২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি নাটক লিখেছিলেন 'মুক্তধারা' নামে। সেটাও ওই ওপর-নিচ সম্পর্ক নিয়েই। ওপরে থাকেন উত্তরকূটের রাজা-মহারাজারা, নিচে বসবাস শিবতরাইয়ের প্রজাদের। প্রজারা নিয়মিত খাজনা দেয়। তবে পরপর দুই বছর দুর্ভিক্ষ হওয়ায় খাজনা ঠিকমতো শোধ করতে পারেনি। শাস্তি হিসেবে ওপর থেকে নিচে বহমান, উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত নদীর পানি আটকে দেওয়া হয়েছে। নদীর ওপরে মস্ত এক বাঁধ কিছুকাল আগেই তৈরি করা হচ্ছিল, এখন তাকে কাজে লাগানো হলো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ছিলেন, নদীর পানি যে মনুষ্যই নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেটা আগেভাগেই দেখতে পেয়েছিলেন। তবে এটা ভাবা নিশ্চয় তাঁর পক্ষেও সম্ভব হয়নি যে ওপরঅলাদের হস্তক্ষেপে তাঁর প্রাণপ্রিয় পদ্মা নদীটি তাঁর-দেখা 'ছোট নদী'টিতে নিয়মিত পরিণত হতে থাকবে। কিন্তু উপায় কী? যেমন চলছে তেমনভাবে তো চলতে পারে না। ওপরের সুবিধাপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিচের বঞ্চিতদের অপরিহার্য ও অনিবার্য দ্বন্দ্বের মীমাংসাটা কীভাবে ঘটবে? আপসে? আপসের সম্ভাবনা তো কল্পনা করাও অসম্ভব। হ্যাঁ, মীমাংসা হবে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়েই। ওপরঅলারা যদি জিতে যায় অবস্থাটা তাহলে অকল্পনীয়রূপেই ভয়াবহ দাঁড়াবে। হাজার হাজার বছরের সাধনায় মানুষ যে অত্যাশ্চর্য সভ্যতা গড়ে তুলেছে, তার বিলুপ্তি তো ঘটবেই, মানুষের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে কি না, সেটাই হয়ে পড়বে প্রাথমিক প্রশ্ন। ভাঙতে হবে তাই ওপর-নিচের ব্যবধান। ওপর শুধু সুখ ভোগ করবে, আর নিচ পোহাবে দুর্ভোগ, সেটা চলবে না। ভাঙার এই অত্যাবশ্যকীয় কাজটা ওপরের সুবিধাভোগীরা করবে না, এটা করতে হবে নিচের মানুষদেরই। বিরোধটা মোটেই সামান্য নয়; অতিপুরোনো, চলমান ও ক্রমবর্ধমান একটি দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে বঞ্চিত মানুষের জেতার সম্ভাবনা না দেখা দিলে অচিরেই ঘোর অরাজকতা দেখা দেবে। সেটা সামলাবে এমন সাধ্য কারোরই থাকবে না।জেতার জন্য আন্দোলন চাই। আন্দোলনের জন্য সংগঠন দরকার। প্রস্তুতিও চাই। লড়াইটা পুরো মাত্রায় রাজনৈতিক, কিন্তু তাতে জেতার জন্য সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি অপরিহার্য। মিয়ানমারের মানুষ যে এতকাল ধরে সেনাশাসনকে মেনে নিয়ে চুপ করে ছিল, রোহিঙ্গাদের উৎখাতে তারা যে ধরে নিয়েছিল তাদের উপকার হচ্ছে, তাদের সেই সংকীর্ণ বর্ণবাদী মনোভাবের পেছনে অবশ্যই কার্যকর ছিল সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা। তাদের সাংস্কৃতিক চেতনাটাকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ৯ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যে আরব বসন্তের প্রবল হাওয়া দোলা দিয়েছিল, সেটা তো ছিল একটা জন-অভ্যুত্থান, তাতে তো মনে হচ্ছিল একটা সামাজিক বিপ্লব না ঘটিয়ে ওই অভ্যুত্থানের সমাপ্তি ঘটবে না। সামাজিক বিপ্লব কিন্তু ঘটেনি। মিসরের কথাটাই ধরা যাক। সেখানে উত্তাল আন্দোলনটা ছিল খুবই দুরন্ত। স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক নিশ্চিন্তই ছিলেন যে তাঁর শাসনই চলবে। আন্দোলনের তোড়ে তিনি ভেসে গেলেন। কিন্তু তারপরে কারা এল? এল মুসলিম ব্রাদারহুড; যারা ধর্মরাজ্য কায়েমে বিশ্বাসী। পরিবর্তন ঘটেছে ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের অসন্তোষটা কমেছিল; কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডের সাধ্য কী মানুষের মুক্তি দেয়? ব্রাদারহুড ব্যর্থ হলো। আর ব্যর্থতার সেই সুযোগে ক্ষমতা দখল করে নিল সেনাবাহিনী, যাদের সাহায্যে হোসনি মোবারক একসময়ে মানুষকে পীড়ন করতেন। 'আরব বসন্ত' ব্যর্থ হওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির অভাব। আন্দোলন ছিল মূলত তরুণদের। তারা বিদ্রোহ করেছে; কিন্তু তাদের কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক দল ছিল না। লক্ষ্য ছিল না সামাজিক বিপ্লব পর্যন্ত এগোবার। আমেরিকায় কট্টরপন্থী রিপাবলিকানরাও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত পশ্চাৎপদ। সে দেশে এখন শতভাগ সাক্ষরতা বিদ্যমান; কিন্তু গড়পড়তা আমেরিকান তাদের দেশের বাইরে কোথায় কোন দেশ আছে, সে বিষয়ে অতি অকিঞ্চিৎকর পরিমাণ জ্ঞান রাখে। এক জরিপ বলছে, ২০২০ সালে ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান একটিও বই পড়েনি। রাষ্ট্রব্যবস্থাই আমেরিকানদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে দমিয়ে রেখেছে। অত্যন্ত বিজ্ঞ ব্যক্তি জগদ্বিখ্যাত বিল গেটস। কথা বলেন, চিন্তা করেন। যা-ই বলেন, সেটা প্রচার পায় ও প্রভাব ফেলে। কদিন আগে তিনি জানিয়েছেন যে করোনা মোকাবিলার তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা অনেক কঠিন কাজ। তবে বলেননি যে দুটোই একটি অভিন্ন রোগের দুটি ভিন্ন প্রকাশমাত্র। আর বলেননি যে রোগটির নাম হলো পুঁজিবাদ। সেটা বললে বিশ্ববাসীর সাংস্কৃতিক উন্নতিতে সাহায্য করা হতো। সাংস্কৃতিক উন্নতিটা আজ বিশ্বব্যাপী জরুরি। ওই উন্নতি দাতব্যে ঘটে না, জ্ঞানের প্রয়োজন পড়ে।বোঝাই যাচ্ছে সংশোধনে কুলাবে না। প্রয়োজন হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে বদলে ফেলার জন্য সামাজিক বিপ্লবের। গত শতাব্দীতে কয়েকটি দেশে সামাজিক বিপ্লব ঘটেছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত নতুন সমাজ টিকে থাকতে পারেনি, বড় কারণ পেছনকার সাংস্কৃতিক প্রস্তুতিটা পরিপূর্ণ ছিল না। পরিবর্তিত বিশ্বে সামাজিক বিপ্লব কোনো এক দেশে ঘটবে না, ঘটবে সারা বিশ্বে। প্রতিটি দেশেই মীমাংসা ঘটা চাই ওপর ও নিচের ভেতরকার শ্রেণি-সম্পর্কের। সেটা ঘটাতে হবে প্রতিটি দেশকে তার নিজের মতো করেই, তবে আবার বিশ্বজনীনভাবে ও পদ্ধতিতে। বিশ্বজনীন না হলে পরিবর্তন স্থায়ী হবে না।আমরা পরিপূর্ণ গণতন্ত্র চাইব। কিন্তু সেই গণতন্ত্র পুরোপুরি মানবিক হওয়া চাই। সুইডেনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা প্রায় আদর্শস্থানীয় বলে বিখ্যাত। বসবাসের জন্য ওই রাষ্ট্রটি নাকি অতুলনীয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের আক্রমণে দেখা গেল আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় সুইডেনে মানুষ মারা গেছে অনেক বেশি। প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডে ৬০০; নরওয়েতেও তাই; ডেনমার্কে ১ হাজার; কিন্তু সুইডেনে মৃত্যু ঘটেছে ১২ হাজার মানুষের। সুইডেনে বসবাসকারী এক বন্ধু লিখেছেন, রাষ্ট্র সেখানে গণতান্ত্রিক বটে, কিন্তু বড়ই নিস্পৃহ। তাঁর উপলব্ধি হচ্ছে এমন নিস্পৃহতায় কুলাবে না। তিনি যা লিখেছেন, আমরাও সেটাই বলি। কেবল গণতান্ত্রিকতা নয়, মানবিকতাও অত্যাবশ্যক। আর মানবিকতা বস্তুগত অবস্থার ওপর নির্ভরশীল বটে।বস্তুগত অবস্থাটা মানবিকতার পরিপোষক হবে তখনই, যখন সম্পত্তিতে ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় সামাজিক মালিকানার প্রতিষ্ঠা ঘটবে। আর সে জন্যই কেবল অভ্যুত্থান নয়, সামাজিক বিপ্লবই চাই। মুক্তি আসলে ততটাই দূরে, সমাজবিপ্লব যতটা দূরবর্তী।সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 6 |
ঢাকা: তুরাগ নদের পাড় দখল করে গড়ে ওঠা ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। আজ বুধবার সংসদে 'শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১' পাসের প্রক্রিয়ার সময় এ দাবি তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।খসড়া আইনের সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সময় হারুন বলেন, 'দু'দিন আগে একটা ঘটনা ঘটল। বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তুরাগ পাড় দখল করে এই ক্লাব করা হয়েছে। পুলিশের আইজি এই ক্লাবের সভাপতি।'সংসদে হারুন বলেন, 'নারীদের কর্মসংস্থান বেড়েছে। কিন্তু কাজে যাওয়ার পথ কতটা নিরাপদ। পথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিতে হবে। বলা হচ্ছে নারীদের ক্লাবে যাওয়া খারাপ। পুরুষদের খারাপ না? নারীরা মদ্য পান করলে খারাপ বলা হচ্ছে। পুরুষ করলে খারাপ না? দুটোই হারাম।'তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে মুনিয়ার মরদেহ পাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, মুনিয়া ব্যভিচারের শিকার হল। কারা করলো? প্রধানমন্ত্রী কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? সমাজের ওপরের তলার লোকজন এর সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে।বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর বিষয়ে হারুন বলেন, বিদেশে আমরা নারীদের পাঠাচ্ছি। বীভৎস ঘটনা ঘটে। ইসলামে আছে মাহরুম ছাড়া নারী বাইরে যাবে না। আমরা তাদের একা পাঠিয়ে দিচ্ছি। এটা কি বন্ধ করা যায় না। সেখানে তাঁরা সমস্যায় পড়ছে। দূতাবাস কোন সাহায্য করছে না। | 6 |
সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাবের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ জায়ান্টরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সবচেয়ে দামি ক্লাবের খেতাব অর্জন করেছে। ক্লাবটির মূল্য ৩৪৭ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। গতবারের চেয়ে রিয়ালের মূল্য বেড়েছে ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মূল্য ৩৩৪ কোটি ২০ লাখ ইউরো। ৩১৯ কোটি ৩০ লাখ ইউরো মূল্য নিয়ে তৃতীয় স্থানে বার্সেলোনা। জার্মান চ্যাম্পিয়ন দল এফসি বায়ার্ন মিউনিখ ২৮৭ কোটি ৮০ লাখ ইউরো নিয়ে চতুর্থ স্থানে আর বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিভারপুল পঞ্চম স্থানে রয়েছে ২৬৫ কোটি ৮০ লাখ ইউরো নিয়ে। | 12 |
তুরস্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিক 'দিরিলিস: আর্তুগুলের' অভিনেতা এঙ্গিন আলতান দুজিয়াতানের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে পাকিস্তানের টিকটক তারকা কাসিফ জামিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাহোর অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষ (সিআইএ) তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে রেসকোর্স পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তিনি কাসিফ জামির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে অনলাইনে আবেদন করেন। ওই টিকটকার নিজেকে চৌধুরী গ্রুপ অব কোম্পানিজের স্বত্বাধিকারী বলে দাবি করেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 2 |
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্যদিকে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরুর আগে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইগার গেইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই প্রতিবেশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে কমপক্ষে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে দু'দিনের সফরে শুক্রবার ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্র : ইউএনবি | 9 |
চলে গেছেন পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশীদ। তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো তিনি তার লেখনীতে সহজবোধ্য করে তুলে ধরেছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক হারুনের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক একুশে ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদের। বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদের জানাজা হয়। এরপর মিরপুরের একটি কবরস্থানে দাফনের জন্য কফিন নিয়ে যাওয়া হয়। অধ্যাপক হারুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, "অধ্যাপক ড. এ এম হারুন-অর-রশীদ ছিলেন আদর্শবান, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গবেষক।" অধ্যাপক হারুনের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বোস সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক এবং ইউজিসি অধ্যাপকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। হারুন-অর-রশিদের জন্ম ১৯৩৩ সালের ১ মে বরিশালের নলছিটির বাহাদুরপুর গ্রামে। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি এবং সমন্বিতভাবে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের উপর সর্বোচ্চ নম্বরসহ ১৯৫৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা কালীনারায়ণ বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হারুন-অর-রশীদ। এরপর পিএইচডি ডিগ্রি নেন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোস সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডি-ইভূ | 11 |
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ডিমিলিটারাইড জোন (ডিএমজেড) বা অসামরিকীকৃত অঞ্চলে এবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, রোববারই ডিএমজেড-এ কিম জং-উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনার বিষয়ে কথা বলতে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরের মাঝেই এক টুইটে নজিরবিহীনভাবে তার সফরসঙ্গী হতে কিম জং-উনকে আমন্ত্রণ জানানমার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপরই দুই কোরিয়ার অসামরিকৃত অঞ্চলে দুই নেতার দেখা করতে যাওয়ার ঘোষণা এলো। সিউলে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন নিশ্চিত করেন, সীমান্তে কিম জং-উনের সঙ্গে তিনি 'শান্তির জন্য করমোর্দন' করতে পারেন। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অবশ্য কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ডিএমজেড-এ কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকটি হলে তা হবে এই দুই নেতার তৃতীয় বৈঠক। গত বছরের জুনে প্রথমবারের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উনের মধ্যে বৈঠক হয়। ঐতিহাসিক ওই বৈঠকে যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন তারা। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু'দেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও কিম। তবে বহুল আলোচিত ওই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। | 3 |
একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামের অর্থপাচারের মামলা বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আবদুস সালামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম খান জানান, দুদক এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। এ মামলায় শুধু আবদুস সালামের অংশ বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- আবদুস সালামের ভাই আফতাবুল আলম ও ইটিভির সাবেক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ফজলুর রহমান শিকদার। ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়, সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। | 6 |
ঈদ, ঈদ, ঈদ। চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ। ব্যস্ত ঢাকাকে 'টা টা বাই বাই' বলার তোড়জোড় যেন সর্বত্র। তবে দরকার একটুখানি সতর্কতা। ছুটির দিনগুলোতে বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখবেন-এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।রাজধানীর সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরস বিভাগের প্রভাষক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, 'কোথাও বেড়াতে গেলে আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে পড়েন আর ভাবেন এখনই বা কী করার আছে? ফিরে এসেই বরং সবকিছু গোছানো যাবে। কিন্তু না, আগে বাসার সবকিছু গুছিয়ে রেখে তবেই বাসার বাইরে পা রাখা উচিত।' বাড়ি যাওয়ার আগেপ্রথম কথা হলো, সতর্কতার সঙ্গে ঘরের ভেতর ও বাইরে, বারান্দায় রাখা সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা। বাইরে (বারান্দায় কিংবা ছাদে) যেন ঝুলন্ত অবস্থায় জামাকাপড় পড়ে না থাকে। ধোয়া কাপড় ইস্তিরি করে ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখুন। আলমারির তাকে ন্যাপথলিন বা পাতলা কাপড়ে মোড়ানো শুকনো ঝুরঝুরে নিমপাতা রাখুন। এতে পোশাক ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচবে। সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া বলেন, সব ধরনের বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে যেতে হবে। সব সুইচ বন্ধ আছে কি না, আবার পরখ করে বের হবেন। কয়েক দিনের জন্য যেহেতু বাসা খালি পড়ে থাকছে, তাই এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামায় ফ্রিজের ক্ষতি হতে পারে। তাই এ সময় ফ্রিজ খালি করে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত। ঈদের পর বাসায় ফিরলে না হয় আবার নতুন করে চালু করলেন।চুলা বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে শুধু সামনের নবই নয়, চুলার পেছনের নবও ভালোভাবে বন্ধ করে নিন। দরজা-জানালা সব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, দরজা বা জানালার সব কপাট বন্ধ থাকলেও কী করে যেন ধুলাবালি ঠিকই ঘরে ঢুকে পড়ে। শুধু দরজা-জানালা বন্ধ করলেই চলবে না, ভেতরের দিকে ব্যবহার করতে পারেন ভারী বা মোটা কাপড়ের পর্দা। আর সবশেষে জোরালো নিরাপত্তার খাতিরে দরজায় ব্যবহার করতে পারেন অতিরিক্ত তালাও। বাসায় ফেরার পরবাসায় ফিরেই সব বন্ধ দরজা-জানালা খুলে বায়ুপ্রবাহের সুযোগ করে দিন।তাতে কয়েক দিনের বন্ধ থাকা গুমোট পরিবেশটা কেটে যাবে। প্রথম যে সমস্যা হয়, তা হলো বাসায় ফিরে কী খাব? দরজা খুলেই কাটাকুটি করে রান্নাবান্না বেশ কষ্টের ব্যাপার। জরুরি ভিত্তিতে একবেলা বাইরে থেকে আনা খাবার খাওয়া যেতেই পারে। পরিবারের সবাই মিলে ধুলাবালি পরিষ্কার করে সবকিছু আবার আগের মতো গুছিয়ে নিন। খাবার আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় থালাবাসন ভালো করে ধুয়ে নিন। বন্ধ থাকা বাড়িতে ঢুকেই দেশলাই জ্বালবেন না। প্রথমে রান্নাঘর ও অন্যান্য ঘরের জানালা খুলে রাখুন। যদি কোনো কারণে গ্যাস পাইপে ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হয়েও থাকে, বাইরের বায়ুপ্রবাহের ফলে আবদ্ধ ঘরের গ্যাস বেরিয়ে যাবে। এতে আর দুর্ঘটনার ভয় থাকবে না। তাই প্রথমে দরজা-জানালা খুলে রাখুন কিছুক্ষণ, তারপর দেশলাই বা চুলা জ্বালুন। অন্দরের গাছপালাআপনার যত্নে বেঁচে থাকছে অন্দরের গাছপালা, ঈদে গ্রামের বাড়ি গেলে এদের কী উপায় হবে? না পারবেন সঙ্গে নিতে, না পারবেন এদের দেখাশোনায় কেউ একজনকে রেখে যেতে! তাহলে উপায়? এ ব্যাপারে কথা বলেন ঢাকার আগারগাঁওয়ের গ্রিন সেভারস নার্সারির প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি। তিনি জানান, এ সময় গাছের গোড়ায় পুরো স্তর করে নারকেলের ছোবড়া বিছিয়ে বেশি করে পানি দিন। এটি বেশি পরিমাণে পানি ধরে রাখতে পারে, ফলে গাছ তার প্রয়োজনমতো পানি শোষণ করে নিতে পারে।আবার পানি বা কোমল পানীয়ের প্লাস্টিকের বোতলে পানি ভর্তি করে ওপর থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। পানিভর্তি সেই বোতলের নিচের অংশে সরু সুই দিয়ে সূক্ষ্ম ছিদ্র করে দিন। এতে রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার মতো করে, প্রতি দুই-তিন সেকেন্ড সময়ে এক ফোঁটা করে পানি পড়বে গাছের গোড়ায়। এমনি করে একটি বোতলের পানি শেষ হতে প্রায় তিন-চার দিন সময় লাগবে, ফলে গাছ সহজে খাদ্যের অভাব বোধ করবে না। আর ফিরে এসে তো পানি দিচ্ছেনই।কোকমাস বা নারকেলের ছোবড়া ছাড়াও গাছের গোড়ায় পানি ধরে রাখতে এখন পাওয়া যায় পোড়া মাটির তৈরি মার্বেল আকৃতির ছোট গোলাকার বল। নাম হাইড্রোজেন, কেউ আবার হাইড্রোপলিক বিড হিসেবেও চেনেন। শুধু তা-ই নয়, আপনি মাটি ছাড়াই ছোট প্রজাতির ফুল-ফল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ, যেমন স্ট্রবেরি, মানি প্ল্যান্ট, লাকি বেম্বু ইত্যাদি লাগাতে পারেন এই হাইড্রোটোন-ভর্তি কোনো টবে। দামও খুব কম, ছোট প্যাক মাত্র ২০ টাকাতেই পাওয়া।আহসান আরও জানান, এরপরও যদি কেউ গাছের যত্নের ব্যাপারে নিশ্চিত না হতে পারেন, তবে গাছগুলো সব পৌঁছে দিতে পারেন আগারগাঁওয়ের গ্রিন সেভারস নার্সারিতে। আপনি না থাকার দিনগুলোতে বিনা মূল্যে গাছগুলো দেখভাল করবে গ্রিন সেভারস।তবে আর ভাবনা কী? সবদিক সুন্দরভাবে সামলে নিয়ে নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়ুন ঈদের আনন্দে মেতে! | 4 |
গ্রুপ পর্বের খেলায় ফল নিষ্পত্তি হচ্ছে পেনাল্টি শুটআউট দিয়ে, ফেডারেশন কাপের কল্যাণে এমন দৃশ্যটাও এখন চোখ সওয়া হয়ে গেছে। তাও একবার নয়, তিন তিনবার টাইব্রেক দিয়ে নির্ধারিত হলো তিন গ্রুপের সেরা আর রানার্সআপ দলের নাম। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের টার্ফ নিয়ে একচোট নাটকের কাছে ফেডারেশন কাপের টাইব্রেক রোমাঞ্চ যেন মহল্লার যাত্রাপালা!বসুন্ধরা কিংস, উত্তর বারিধারা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় 'এ', 'বি' ও 'ডি' গ্রুপে কমে গেছে তিন দল। এই দুই তিন গ্রুপের বাকি ছয় দল প্রথম ম্যাচ না খেলেই উঠে গেছে পরের রাউন্ড অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু নক আউটে গেলেই তো হচ্ছে না, সেখানে কে কার প্রতিপক্ষ হবে সেই ফয়সালা হচ্ছে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে। এক দল কম থাকায় দুই দলে খেলা ড্র হলেও হয়েছে টাইব্রেক। কোয়ার্টার ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ছয় দলের টাইব্রেক শটেও ছিল ঢিলেমির ভাব। নির্ধারিত সময়ে খেলে ফল বের করার চেয়ে টাইব্রেকেই যেন মনোযোগ বেশি ছিল দলগুলোর।ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম টাইব্রেকটা হয়েছে গত সোমবার মোহামেডান-স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের ম্যাচে। এই গ্রুপ থেকে নাম প্রত্যাহার করা দলটি বসুন্ধরা। অবশ্য অনেকটা অনিচ্ছা নিয়েই শুটআউট করেছে দুই দল। নির্ধারিত সময়ের খেলায় ১-১ গোলে ড্র মেনে মাঠ ছেড়েছিল দুই দল। গাড়িতে উঠে যখন ক্লাবে ফেরার অপেক্ষায় মোহামেডান-স্বাধীনতা তখনই তাদের ডেকে নিয়ে টাইব্রেক করিয়েছে বাফুফে। অনেকটা বিরক্তি নিয়ে সেই টাইব্রেকে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে 'এ' গ্রুপের সেরা মোহামেডান।টাইব্রেক মানেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা-এর যথার্থতা প্রমাণ হয়েছে গতকাল 'বি' আবাহনী-শেখ রাসেল ম্যাচে। দারুণ এক ম্যাচে ২-২ গোলে সমতার পর এই গ্রুপেও হয়েছে টাইব্রেকার। বাংলাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ের রেকর্ড ৩০ শটের টাইব্রেকারে ১৩-১২ ব্যবধানে জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে শেখ রাসেল।দারুণ এক উত্তেজনা উপহার দিয়ে টাইব্রেককে নিয়ে আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল আবাহনী-শেখ রাসেল। কিন্তু আজ যখন রহমতগঞ্জ-শেখ জামাল ম্যাচের পর সেই আগ্রহ যেন রীতিমতো উবে গেছে। ৭ মিনিটে নুরুল আবসারের গোলে এগিয়ে ছিল শেখ জামাল। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে ঘানা ফরোয়ার্ড ফিলিপ আজার দারুণ এক ব্যাকহিল থেকে সেই গোল শোধ দেন আবাহনীর সাবেক নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা।আবাহনী-শেখ রাসেল ম্যাচের মতো উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও ছিল না এই ম্যাচের টাইব্রেকে। প্রথমে শট নিতে এসে সুযোগ হাতছাড়া করলেন রহমতগঞ্জ ফরোয়ার্ড সানডে। এই শটেই হেরে বসেছে রহমতগঞ্জ। টাইব্রেকে ৫-৪ ব্যবধানে 'ডি' গ্রুপের সেরা হয়েছে শেখ জামাল। ৩ জানুয়ারি ধানমন্ডি ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালে 'বি' গ্রুপের রানার্সআপ আবাহনীর বিপক্ষে খেলবে শেখ জামাল। একইদিনে 'ডি' গ্রুপের রানার্সআপ রহমতগঞ্জ খেলবে 'বি' গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেলের বিপক্ষে। | 12 |
থানার মামলার এজাহার ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দিচ্ছে না পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী থানার প্রতিদিনের মামলা ও জিডির তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব জুবাইদা মান্নান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল-১৯৪৩ এর ১৯২ প্রবিধান অনুসারে সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) তাঁর পুলিশ সুপারের মাধ্যমে এফআইআর ও জিডি থেকে তথ্যের ভিত্তিতে বিপি ফরম-১৬ পূরণ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিদিন দিতে হবে। তবে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নিয়মিত তথ্য না দেওয়ায় জেলা পর্যায়ে স্থানীয় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফলপ্রসূভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন করা অনুশাসন রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সুপার (এসপি) আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাধারণত প্রতিদিন মামলার তথ্য জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয় না। প্রতি মাসে যখন জেলায় আইনশৃঙ্খলার মিটিং হয়। মিটিংয়ের ১-২ দিন আগে জেলার মামলার সংখ্যা এবং কোন থানায় কি ধরনের কত মামলা হয়েছে তার সারাংশ পাঠানো হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক থানা পরিদর্শনে আসলে এসবের খোঁজ খবর নেন। মোবাইল কোর্ট চালালে পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এ ছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পুলিশের তেমন কোনো কাজ নেই। তিনি বলেন, এটা ব্রিটিশ আমলের একটি বিধান। তখন জেলার সবকিছু জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করে চলতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে, কাজের ধরনও বদলেছে। এই তথ্যের সঙ্গের জেলার আইনশৃঙ্খলার খুব বেশি সম্পর্ক নেই। আর মামলা ও জিডির তথ্য না পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে ফলপ্রসূভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে সেটাও বোধগম্য নয়।খুলনা জেলার প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান তালুকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আইন অনুযায়ী প্রতিদিন এফআইআর ও জিডি তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর কথা। কিন্তু নিয়মিত এটা আমাদের কাছে পাঠানো হয় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি চিঠি পুলিশকে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে আইন অনুযায়ী এ সব তথ্য আমরা পাব।'সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা ও জিডির তথ্য মাসিক দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিদিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর বিষয়টি আমার চাকরি জীবনের ৩২ বছরে দেখিনি।' | 6 |
যত দিন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সব খাতের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ দোকান বা প্রতিষ্ঠান ইএফডির (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) আওতায় আনতে না পারবে, তত দিন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে উৎসে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও টাইলস ডিলারস অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে এনবিআর উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ উৎসে ভ্যাট আদায় করে। অগ্রিম কর আদায় করে ৫ শতাংশ হারে। ৩৭ শতাংশ লাভ ধরে তার ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ। ডিলার ও পাইকারি পর্যায়ে ভ্যাট নেওয়া হয় ৫ শতাংশ। এ চার স্তরে এনবিআর মোট ৩০ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে। এর বাইরে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করে ৫ শতাংশ ভ্যাট। এতগুলো স্তরে ভ্যাট আদায় না করে এনবিআর যদি উৎসে ভ্যাট আদায় করে, তাহলে বছরে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে বলে মন্তব্য করেন হেলাল উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে হেলাল উদ্দিন বলেন, এনবিআর সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারেনি। গত ২ বছরে এনবিআরের উচিত ছিল ৮০ থেকে ৯০ ভাগ দোকান বা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি বসানো। তাহলে কর আদায় অনেক বাড়ত। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় আয়করের একটি করে অফিস স্থাপনের দাবি জানান তিনি। ২০১২ সালের ভ্যাট আইনটি ২০১৯ সালে কার্যকর করা হয়। আইনটি কার্যকরের আগে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। বর্তমানে করোনা মহামারির মধ্যে এনবিআর দোকানমালিককে না জানিয়ে জোর করে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনছে। এনবিআর ইতিমধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার দোকানকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এনেছে। এর মধ্যে তিন লাখ প্রতিষ্ঠান তাদের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে জানে না। অথচ প্রতি মাসে এনবিআরের কাছে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা বকেয়া হচ্ছে। | 0 |
নরসিংদীতে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাসার ছাদে মাশরুম চাষ করে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছে মো. আবদুল্লাহ নামের এক স্কুলছাত্র। অনলাইনে মাশরুম চাষের ট্রেনিং নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজিতে বাসার ছাদে মাশরুম চাষ শুরু করে আবদুল্লাহ। ছয় মাসের মাথায় এখন প্রতি মাসে তার গড় আয় ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার বিনিয়োগ প্রায় দুই লাখ টাকা।আবদুল্লাহ নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লার মকবুল হোসেনের ছেলে। সে নরসিংদী আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার এই মাশরুম বাগানের নাম 'ফিউচার মাশরুম সেন্টার'।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা বাড়ির ছাদের একপাশে টিনের শেড। শেডের নিচে ঝুলছে পাটের রশির শিকা, আর শিকায় ঝোলানো পলিথিনের ব্যাগে মাশরুম। খড় দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বানানো ব্যাগের চারপাশ দিয়ে ছোট বড় মাশরুম উঁকি দিচ্ছে।মাশরুম চাষি মো. আব্দুল্লাহ বলে, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় বেকার না বসে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নতুন কিছু শেখার এবং নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে অনলাইনে মাশরুম চাষ সম্পর্কে টিউটোরিয়াল দেখি। একপর্যায়ে ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে সাভার মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে মাশরুম চাষের ওপর একটি অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করি। সেখান থেকে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে জুন মাসে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাড়ির ছাদে মাশরুম চাষ শুরু করি। প্রথম ধাপে কোনোরকমে পুঁজি উঠে আসলেও গত দুই মাস ধরে মাশরুম চাষে সফলতা আসায় গড়ে ত্রিশ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তার। আবদুল্লাহ বলে, 'আমি বাবার কাছ থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেছিলাম। গত ছয় মাস কাজ করেছি, তিন মাস লাগে একটা বীজপত্র বা মাইসিলিয়াম শেষ হতে, প্রতিটি মাইসিলিয়াম থেকে দেড় কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়। এখন আমার পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। আপাতত শুধুমাত্র 'ওয়েস্ট্রা পিও-২' জাতের মাশরুম চাষ করছি। এতে আয় হচ্ছে মাস প্রতি ৫০ হাজার টাকার বেশি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।'মাশরুম কীভাবে বিক্রি করেন এবং বাজারজাতকরণে কী কী ধরনের সমস্যা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আরও বলেন, 'এখনও পর্যন্ত মাশরুমটা সমাজের সব স্তরে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কেউ কেউ ব্যাঙের ছাতা বলে থাকেন। আমরা এটিকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে বিক্রি করি। অনলাইনে অর্ডার নিই, কুরিয়ার করি। আবার অনেকে এসে বাড়ি থেকেই নিয়ে যায়। বেশির ভাগ মাশরুম যায় রেস্টুরেন্টগুলোতে। এদিকে, নরসিংদীতে মাশরুম বাজারজাতকরণ ও মাশরুম চাষিদের প্রশিক্ষণের কোনো সেন্টার নেই।'আবদুল্লাহর বাবা মকবুল হোসেন বলেন, 'আমার ছেলের এই রকম সফল কাজে আমি খুব খুশি। অবসর বসে না থেকে উৎপাদনমুখী কাজ করছে এটাই অনেক বড় ব্যাপার।'নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ বলেন, 'মাশরুম চাষে এখন পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। সাভার মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে যে কেউ প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। নরসিংদীতে যারা মাশরুম চাষ করে সহজভাবে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে থাকি।' | 6 |
ঈদুল আজহার পর টানা ১৯ দিনের বিধিনিষেধ তথা 'কঠোর লকডাউন' শেষে বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট ও শপিংমল এবং গণপরিবহনসহ উন্মুক্ত হয়েছে প্রায় সবই। তবে সবকিছু উন্মুক্ত হলেও সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধান ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি নিশ্চিত করতে কঠোরতা দেখাবে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মোট পরিবহনের অর্ধেক চলাচল করবে। প্রতিটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসন অর্ধেক বাস চলাচলের সংখ্যা ঠিক করবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। দুই আসনে এক যাত্রী এবং ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিধানও থাকছে না। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ায় ফিরে যাচ্ছে গণপরিবহন। করোনা রোধে গত ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু হয়। ঈদের সময় আটদিন বিরতি দিয়ে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। এই সময়ে গণপরিবহন, অফিস এবং দোকান-পাট বন্ধ রাখা হয়। তবে এরই মধ্যে গত ০১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিধি-নিষেধ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে অফিস-আদালাত ও দোকান-পাট চালুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুটে অর্ধেক গণপরিবহন চলবে। তবে আসনের সমপরিমাণ যাত্রী বহন করতে পারবে সড়ক পথের গণপরিবহন তথা বাস। কিন্তু অর্ধেক বাস চলা নিয়ে নানা সমালোচনারও তৈরি হয়েছে। বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও সবক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ার কথা জানানো হয়। | 6 |
ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক রশিতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিক-প্রেমিকা। শনিবার সকালে মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের একটি রান্না ঘর থেকে আবু সাইদ (১৮) ও সোহানা খাতুন (১৬) নামে দুই প্রেমিক-প্রেমিকার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবু সাইদ উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের দিনমজুর আবু সুলতানের ছেলে এবং সোহানা খাতুন একই উপজেলা নেপা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের শাহ জামালের মেয়ে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাপাতলা গ্রামের কৃষক আলামিনের রান্না ঘরে তার শ্যালিকা সোহানা খাতুন ও চাচাতো ভাই সাঈদের মৃতদেহ ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা দুইজন গলায়ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
সাইফ আলী কন্যা সারা আলী খান। ২৫ বছর বয়সী এই নতুন মুখ বলিউডে ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তার হাতে থাকা দু'টো ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে তৃতীয় ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সারা। শুধু তাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আবারও সারা তার স্বপ্নের পুরুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে কথা উঠেছে। জি-নিউজ জানায়, তৃতীয় ছবিতে সারার বিপরীতে যিনি থাকছেন, তিনি হলেন কার্তিক আরিয়ান। তাকে সারার ভীষণ পছন্দ। কার্তিকের সঙ্গে ডেটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বলে জানিয়েছেন সারা। সারার স্বপ্নের পুরুষ যখন কার্তিক আরিয়ান- ফাইল ছবি ভক্তরা বলছেন, নতুন ছবির মধ্য দিয়ে সারা তার স্বপ্নের পুরুষের কাছাকাছি আসতে চলেছেন। সম্প্রতি বলিউডে নবাগত অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানকে পছন্দের কথা ক'দিন আগেই জানিয়েছেন সাইফকন্যা। ইমতিয়াজ আলির ওই ছবিতে সারা-কার্তিকের রসায়ন জমে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। | 2 |
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেছেন, মেয়র সাদিকের ওপর গুলিবর্ষণের কারণে রোববার (আজ) তারা দুটি মামলা করবে। একটি মহানগর আওয়ামী লীগ, অপরটি সিটি করপোরেশন।মামলার প্রধান আসামি করা হবে ইউএনও মুনিবুর রহমানকে। আগস্টের পর বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন তারা। যদিও ইতিমধ্যে পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানরা সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি ইউএনও মুনিবুরের অপসরণ দাবি করে বলেন, প্রশাসন নমনীয় না হলে তারা রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ে এগোবেন। তিনি বলেন, নগর পিতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা চুপ থেকে কাজে নামতে পারে না।জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলাসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে মেয়র সাদিক অনুসারীরা। এ ইস্যুতে গতকাল শনিবার দিনভর নগরীতে মানববন্ধন ও একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগ।মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সদর উপজেলা ইউএনও ও পুলিশের দায়ের করা পৃথক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর সদর রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বরিশাল সিটি মেয়রের ওপর হামলা করে ইউএনও উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর তারা সবাই গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছে।এদিকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগের পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা। গতকাল শনিবার বিকেলে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান। তারা বলেন, অন্যথায় শোকের মাস আগস্ট শেষে তারা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। তবে কি কর্মসূচি দেবেন এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মেয়রদের পক্ষে গৌরনদী পৌর মেয়র হারিছুর রহমান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের পক্ষে বরিশাল সদর উপজেলার সাইদুর রহমান রিন্টু বক্তব্য রাখেন।সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাদিকের বিরুদ্ধে মামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে গৌরনদী পৌর মেয়র হারিছুর রহমান বলেন, ১২ সেকেন্ডের ভিডিও না দেখে কয়েক ঘণ্টায় যা হয়েছে তা দেখান। অপরদিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, মেয়র সাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর হবেন তারা।বরিশাল সদর ইউএনও মুনিবুর রহমান সোভন বলেছেন, বুধবার রাতে তার উপজেলা চত্বরে এসে একদল দুর্বৃত্ত ব্যানার সাটাতে চেয়েছেন। তার বাসভবনে হামলা করা হয়েছে। এদিকে ওই রাতের ঘটনায় ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাও উল্লেখ করেছেন, শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর স্থাপন করা ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করতে গিয়েছিলেন মামলার আসামি যুবলীগ-ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা। বাধা দেওয়ায় তারা হামলা করেছেন ইউএনও বাসায়। | 6 |
প্রেসিডেন্ট পুতিন হুঁশিয়ার করে বলেছেন, যারা ইউক্রেনে রুশ অভিযানের বিরোধিতা করছে, তারা যেন তার দেশের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটায়। এক সরকারি সভায় ভাষণ দেয়ার সময় একথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা রসিয়া টিভি ২৪ চ্যানেলে এই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রতি আমাদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই। সম্পর্ক কীভাবে স্বাভাবিক করা যায়, কীভাবে সহযোগিতা বাড়ানো যায়, সেটাই সবার চিন্তা করা উচিত। সম্পর্কের অবনতি ঘটে এমন কোন পদক্ষেপ প্রতিবেশী দেশগুলো নেবে না বলেও তার সরকার মনে করে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্য এমন সময় এলো- যখন রাশিয়ার ওপর কীভাবে চাপ বাড়ানো যায় তার পথ খুঁজে বের করার জন্য পশ্চিমা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে এক বৈঠক শুরু করেছেন। | 3 |
ঘটনাটি ইংল্যান্ডের। ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডে তখন চলছিল ক্রিকেট ম্যাচ। গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে মুখোমুখি ডারহাম। কিন্তু একটি হেলিকপ্টার (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) উড়ে এসে নামতে লাগল পিচের ওপর। তা দেখে তাড়াতাড়ি মাঠ ছেড়ে ডাগআউটে আশ্রয় নেন দুইদলের খেলোয়াড়েরা। ফলে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ যায় ম্যাচটি। জানা গেছে, মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির এক রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য পাইলট সেখানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণে বাধ্য হন। অবশ্য, ১৫ মিনিট পরই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সেখান থেকে পুনরায় উড্ডয়ন করে। আবার শুরু হয় খেলা। ক্রিকেট মাঠে আজব ঘটনা ঘটা নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেই অল-আয়ারল্যান্ড টি-টোয়েন্টি কাপের সেমিফাইনালের একটি ম্যাচ চলাকালীন মাঠে ঢুকে পড়ে গলায় বেল্ট বাঁধা একটি কুকুর। শুধু মাঠে ঢুকেই ক্ষান্ত হয়নি এটি। বল মুখে তুলে নিয়ে দৌড়াতে থাকে কুকুরটি। এরআগে সিপিএলের চলতি আসরেও একটি ম্যাচ চলাকালীন মাঠের মধ্যে মোরগ ঢুকে পড়ে। তবে ম্যাচ চলাকালীন হেলিকপ্টার নামার ঘটনা এটাই প্রথম। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
নির্মাতা ও পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। আজ সোমবার একটি ফেসবুক গ্রুপে ছবিগুলো পোস্ট করা হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর সোমবার রাত ১১টা ৪৩ মিনিটের পর থেকে ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে না মিথিলাকে। মিথিলার ফেসবুক আইডি'টি ডিঅ্যাক্টিভেট দেখাচ্ছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের ফেসবুকে মিথিলা না থাকলেও, তার ইন্সটাগ্রাম আইডি'টি অ্যাকটিভ দেখা গেছে। যেখানে তার প্রায় ১.৪ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকাতেই ১৫০ জন। আজ বুধবার বিকালে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ায় নিজ দোকানের আফ্রিকান কর্মচারীর হাতে ছুরিকাঘাতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হত্যাকারী তাঁর বাসা ও দোকানে থাকা নগদ টাকা এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত মোহাম্মদ হাসান (৩৩) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের গুনহাজী ব্যাপারী বাড়ির মৃত আমিন উল্যা দরবেশের ছেলে। ৮ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে হাসান ছিলেন ভাইদের মধ্যে চতুর্থ। ছয় বছর আগে আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন হাসানের বড় ভাই মো. টিপু। নিহত হাসানের চাচা কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, জীবিকার তাগিদে বড় ভাই টিপুর মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর আগে আফ্রিকায় পাড়ি জমান মোহাম্মদ হাসান। আফ্রিকায় তাঁরা তিন ভাই থাকতেন। ছয় বছর আগে টিপুকে সে দেশের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এরপর হাসান ও তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন একই শহরে থাকতেন। হাসান প্রিটোরিয়ায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। আগামী জুনে বাড়িতে আসার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিয়েরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। শনিবার সকালে হাসানের ছোট ভাই হেলাল বাড়িতে ফোন করে বড় ভাই হাসানের খুন হওয়ার ঘটনাটি তাঁদের জানান। হেলাল তাঁদের জানিয়েছেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য স্থানীয় (আফ্রিকান) এক যুবককে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন হাসান। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে আসবেন, তাই টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিজের বাসায় রাখেন তিনি। শুক্রবার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তাঁর পেছনের বাসায় গিয়ে খাওয়ার পর আফ্রিকান কর্মচারীসহ ঘুমিয়ে পড়েন হাসান। রাতে কোনো এক সময় ওই কর্মচারী ঘুমের মধ্যে হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর বাসায় থাকা নগদ সে দেশীয় মুদ্রা ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় হাসানের চিৎকারে পাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসানের চাচা কামাল উদ্দিন বলেন, হাসানের মৃত্যুতে বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের আহাজারি চলছে। আফ্রিকায় অবস্থানকারী ছোট ভাই হেলাল স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে লাশটি দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা চান তাঁরা। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহেদুল হক বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় জিরতলীর কেউ খুন হওয়ার বিষয়ে থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কিছু জানায়নি।এর আগে বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার রাত একটার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. গোলাম মোস্তফা (৩৮) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত মো. গোলাম মোস্তফা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। | 6 |
জামাকাপড় পুরোনো হয়ে গেলে তা আর ব্যবহার করতে ইচ্ছে করে না। তাই ওগুলো আমরা সবাই ফেলে দিই। তবে জানেন কি-পুরোনো ও ফেলনা টি-শার্ট দিয়ে তৈরি করা যায় দারুণ কিছু। পুরোনো টি-শার্ট দিয়ে বানানো যায় টোট ব্যাগ। আর এই ব্যাগ নিয়ে বাজারে যাওয়া যায়। পলিথিনের পরিবর্তে কাপড়ের এই ব্যাগের ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এ ছাড়া টোট ব্যাগ তৈরি করে তাতে ঘরের টুকিটাকি জিনিস রাখতে পারবেন। শিশুদের খেলনা, পুতুলও এই ব্যাগে ভরে রাখতে পারবেন। টোট ব্যাগ তৈরিতে লাগবে দুটি টি-শার্ট। আপনি চাইলে নতুন টি-শার্টও নিতে পারেন। লাগবে কাঁচি, সুই ও সুতা।একটি ব্যাগ বানাতে দুটি টি-শার্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্যাগ মজবুত হবে। প্রথমে টি-শার্টের বুকের অংশ থেকে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কেটে নেবেন। আপনি কত বড় বা কত ছোট ব্যাগ চান, সে অনুযায়ী কেটে নেবেন। পুরোনো টি-শার্টের গলা ও হাতা বাদ দেবেন। ওগুলো এই ব্যাগ তৈরিতে কাজে লাগবে না। কাটা অংশগুলোর তিন পাশ সেলাই করে নিন। এক পাশ খোলা রাখুন যেন ওই দিকে ব্যাগের হাতল বা হ্যান্ডেল দেওয়া যায়। উল্টো করে সেলাই করবেন। সেলাই করার পর সোজা করে নিন। এরপর টি-শার্টের বাকি অংশ থেকে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী মাপ নিয়ে হাতলের জন্য কাপড় কেটে নিন। দুটি হাতল দেবেন। দুটি হাতলের চার ধার ভালো করে সেলাই করতে হবে। এবার হাতল দুটি সেলাই করে ব্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে দিন। ব্যস, হয়ে গেল টোট ব্যাগ। | 6 |
মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া থেকে রায়েন্দার বলেশ্বর নদীতে সদ্য চালু হওয়া ফেরিতে খেয়াঘাটের ইজারাদার কর্তৃক টোল আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গত শনিবার দুপুরে বড়মাছুয়ার বলেশ্বর নদীর ফেরিঘাটে এ কর্মসূচি পালিত হয়।টোল আদায়কে কেন্দ্র করে নদীর দুইপাড়ে চলাচলকারী জনসাধারণের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার সকালে রায়েন্দা এলাকার টোলঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।এদিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেরিতে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বড়মাছুয়ার ইউপি সদস্য কাইয়ুম হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর হাওলাদার ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন প্রমুখ।বক্তারা সওজের ফেরিতে অবৈধভাবে টোল আদায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। | 6 |
বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দেশে ফিরেই গ্রেফতার হওয়া সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার জামিন পেয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আশিক ইমামের আদালত তাকে জামিন দেন। বাবার জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়ে মানবিক কারণ বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেয়া হয়। আগামী ১০ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রন হককে গ্রেফতার করে ডিবির একটি দল। এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে মামলার অপর আসামি তার ভাই দিপু হক সিকদার পলাতক থাকায় গ্রেফতার দেখানো যায়নি বলে জানান গুলশান জোনের ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলায়েন। গত ১৯ মে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত ৭ মে রন ও দিপু এক্সিম ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসনেকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দি করে রাখা হয়। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। পরে সাদা কাগজে সই নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির কাছে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব দিলে এর বিপরীতে গ্রুপের বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শনে যান ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। সে সময় এ ঘটনা ঘটে। | 6 |
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগে দুই ভুয়া ডিবিকে আটক করেছে পুলিশ। এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘবদ্ধ চক্রের দুজনকে আটক করা হয়।আজ রোববার দুপুরে বন্দরের কেওঢালা এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা। এ সময় ভুয়া ডিবি সদস্যদের কাছ থেকে একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।আটককৃতরা হলেন রূপগঞ্জের গাউসিয়ার গোলাকান্দাইল এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আকাশ আজমেদ ও বন্দরের দেওয়ানবাগ কলাবাড়ি এলাকার কামরুজ্জামান ভূইয়ার ছেলে নাফিস আলী ভূইয়া। এদের মধ্যে আকাশের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপরাধ ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে।ওসি বলেন, রোববার কেওঢালা এলাকায় একটি ইটখোলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এক ব্যক্তির কাছে। তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে গাড়িতে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাঁদের যাচাই করে নিশ্চিত হয় তারা ভুয়া ডিবি পুলিশ।ওসি আরও বলেন, আটককৃতদের মধ্যে একজন আগেও একই অপরাধে জড়িত ছিলেন। আরেকজন এই মাইক্রোবাসের চালক বলে জানতে পেরেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
ঋণখেলাপির আইনি অধিকার থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়া মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর রিট শুনানিকালে আদালত এ মন্তব্য করেন।আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানিতে মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর আইনজীবী রেজাউল হোসাইন মোরশেদ বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তাঁর অধিকার খর্ব হচ্ছে। এ সময় আদালত বলেন, ঋণখেলাপির কোনো আইনি অধিকার থাকতে পারে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ করা উচিত ছিল।এ সময় মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর আইনজীবী বলেন, তিনি মেম্বার পদপ্রার্থী। এটি খুবই ছোট পদ। তখন আদালত বলেন, ছোট হোক, বড় হোক, আইন সবার জন্য সমান। একজনের জন্য আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিতে পারি না।' পরে আদালত মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।আগামী ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এই নির্বাচনে অত্র ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মহিউদ্দিন সিদ্দিকী। কিন্তু ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে গত ২৫ অক্টোবর তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে জেলা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা। আপিল করেও মনোনয়ন বৈধ না হওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মহিউদ্দিন সিদ্দিকী। | 6 |
বাংলাদেশের জলবায়ু কাজুবাদাম চাষের বেশ সহায়ক হওয়া সত্ত্বেও বিক্রি, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাত করার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকের মধ্যে এ বাদাম চাষে খুব একটা আগ্রহ নেই। তবে চলনবিলের উর্বর পলিমাটিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে কাজুবাদাম।কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে চলনবিলের পাবনার চাটমোহরের হরিপুর ও মুলগ্রাম ইউনিয়নে দুটি প্রদর্শনী স্থাপিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাটমোহর প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে।জানা গেছে, বাদামজাতীয় ফল কাজুবাদাম। এ বাদামের ওপরের অংশের ফল থেকে জুস, ভিনেগার ও অ্যালকোহল তৈরি করা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে কাজুবাদামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাদামের খোলসের তেল শিল্পকাজে ব্যবহার হয়। দেশে কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণে ভালো ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত কাজুবাদাম খোসাসহ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে দেশের চাষিরা দাম কম পান।চাটমোহরের বাদামচাষি হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, 'আমি বড় আকারের একটি পুকুরের পাড়ে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৫০ শতক জমিতে ভাস্কারা জাতের ৮০টি কাজুবাদামের চারা রোপণ করেছি। কাজুবাদামের জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আওতায় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় চারাগুলো রোপণ করেছি। চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চাটমোহরের অনেক মানুষ প্রদর্শনীটি দেখতে আসেন।'শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার রুহুল কুদ্দুস ডলার বলেন, কাজুবাদাম পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। এ বাদামে আমিষ, স্নেহ, শর্করা, খনিজ পদার্থ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন থাকে। ফলে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হাড় ও দাঁতের গঠনে, ক্যানসার প্রতিরোধে, স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, রক্তচাপ কমাতে, রক্তশূন্যতা ও অবসাদ দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে এ বাদাম।চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২৫-২৭ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা কাজুবাদাম চাষের উপযোগী আবহাওয়া। উঁচু অম্লীয় বালু বা বালু-দোআঁশ মাটিতে কাজু বাদাম ভালো হয়। উন্নত জাতের চারা রোপণ করতে হয়। ঠিকমতো জমি পরিষ্কার রেখে, প্রয়োজনমতো জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনে সেচ দিতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সঠিক সময়ে কাজুবাদাম সংগ্রহ করতে পারলে হেক্টরপ্রতি ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৮ টন বাদাম পাওয়া সম্ভব। ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে কাজুবাদামের খোসা থেকে উৎপাদিত তেল দিয়ে জৈব কীটনাশক উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া কাজুবাদামের খোসা থেকে ভালো মানের জৈব সার তৈরি করা যায়। | 6 |
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়কে কোথাও যেন যানজট না হয় সেদিকে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। ঈদ ও বর্ষাকে সামনে রেখে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কগুলো দ্রুত মেরামত করে যান চলাচলের জন্য সচল রাখতে হবে। আজ সোমবার সচিবালয়ে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 9 |
বড় পর্দার নায়কদের দেখে মনে হয়, তাঁদের জীবন না জানি কত সহজ। স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। কিন্তু সেই জীবনে যে কত জটিলতা, তা যাঁরা সেই জীবন যাপন করেন, তাঁরাই জানেন। ২০১৯ সালে এসে অক্ষয় কুমার নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল বছরের দেখা পেয়েছেন। উপহার দিয়েছেন চারটি ব্লকবাস্টার হিট ছবি। একটি মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়ে করেছেন বাজিমাত। কিন্তু এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর নতুন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মানহানির অভিযোগ এনে একটি মারাঠা প্রতিষ্ঠান তাঁর বিরুদ্ধে মামলার জন্য আজ শনিবার চিঠি দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের নানদেদ জেলার প্রধান ও ভাজিরাবাদ পুলিশ বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, একটি কাপড় কাচার বিজ্ঞাপনে অক্ষয় কুমার নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা আঘাত করেছে মারাঠা সংস্কৃতিকে। তারই প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে ওই সংস্থা। ইউটিউবে ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, মহারাষ্ট্রের রাজা যুদ্ধ জয় করে ময়লা কাপড়ে ফিরেছেন। রাজদরবারে জয়জয়কার। যুদ্ধজয় উপলক্ষে 'পার্টি' দিতে চান তিনি। তখন একজন রানি বলেন, 'ময়লা কাপড় তো আমাদেরই ধুতে হবে।' তখন মারাঠা রাজারূপী অক্ষয় কুমার বলেন, 'আমরা যেমন শত্রুকে ধোলাই দিতে জানি, তেমনি কাপড়ও ধোলাই দিতে পারি।' জানান, শত্রুবিনাশের মতোই জামাকাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করতেও দক্ষ তাঁর বাহিনী। এ জায়গাকেই আপত্তিজনক বলে মামলার জন্য চিঠি দিয়েছে সম্ভাজি ব্রিগেড নামের ওই সংস্থা। তারা লিখিত জানিয়েছে, একজন মারাঠা যোদ্ধাকে নাচতে নাচতে ওয়াশিং পাউডার দিয়ে কাপড় কাচানোর দৃশ্যে দেখিয়ে 'অত্যন্ত অপমান' করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এস এস শিভালে টুইটারে লেখেন, 'আমরা একটা চিঠি পেয়েছি, যেখানে বলা হয়েছে অক্ষয় কুমার মারাঠাদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। আমরা চিঠিটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে "ফরওয়ার্ড" করে দিয়েছি।' এখানেই শেষ নয়, টুইটারে চলছে 'হ্যাশট্যাগ বয়কট নিরমা' ট্রেন্ড।ক্যালেন্ডার বলছে, হাফসেঞ্চুরি পার করে আরও দুই বছর পেরিয়েছে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের বয়স। কিন্তু বলিউডে তাঁর ছবির বক্স অফিস আয় বলছে ভিন্নকথা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর বক্স অফিস আয় ১ হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি। গত বছর অক্ষয় কুমারের চারটি ছবি মুক্তি পেয়েছে 'কেসরি', 'মিশন মঙ্গল', 'হাউসফুল ফোর' ও 'গুড নিউজ'। ২৭ ডিসেম্বর মুক্তির পর 'গুড নিউজ' বক্স অফিস থেকে এনেছে সুখবর। ইতিমধ্যে আয় করেছে ২৮৩ কোটি টাকা। | 2 |
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ঘন কুয়াশার কারণে নির্ধারিত সময়ের ৭ ঘণ্টা পর ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শুক্রবার ১২টা ৪৫ মিনিটে চীনের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে আফ্রিকা যাওয়ার পথে ফুয়েল নেওয়ার জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। ফুয়েল সংগ্রহ শেষে রাত ২টার দিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর ঢাকা ছাড়ার কথা থাকে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় তাদের মধ্যে সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, "চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে চীনের স্পেশাল ফ্লাইট বিডিজে-৮০১- এর ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তার সফর সঙ্গী ছিলেন ৮ জন।" বিডি-প্রতিদিন/ ৭ জানুয়ারি, ২০১৬/ আব্দুল্লাহ সিফাত-৯ | 6 |
চলতি বছর একজন ঋণ গ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধের কথা, তার মধ্যে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলে কেউ আর খেলাপি বলে পরিগণিত হবে না। ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও পাবেন এ সুবিধা। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছর একজন ঋণ গ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে কেউ ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে আর খেলাপি হবেন না বলে জানানো হয়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এ সুবিধা আরও বাড়ানোর দাবিতে চিঠি দেয়। তবে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভা থেকে জানানো হয়- সবার জন্য সুবিধা আর বাড়বে না। শুধু সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলে আর খেলাপি হবে না। তবে আজকের বৈঠকের পর আগের সেই অবস্থান থেকে পিছু হঠলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ইডিএফের ঋণ সীমা বাড়ানো, স্বল্প মেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের দাবি জানান। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। | 0 |
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে তিন ধাপে ৬০ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে সার্চ কমিটির মিটিং শুরু হয়েছে। শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনের জাজেস লাউঞ্জে প্রথম মিটিং শুরু হয়। বৈঠকে আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আইনজীবী এম কে রহমান, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি (শিক্ষা) ড. মাকসুদ কামাল, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান। এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে ৬০ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানান অনুসন্ধান কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারী মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গত ৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২' অনুসারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। | 9 |
রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শাখার উৎসব ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পরিষদের উদ্যোগে গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে সংগঠনের জেলা শাখার সহসভাপতি অনুপম মনির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও লেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ জুননুন, বিশেষ অতিথি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা, কবি অধ্যাপক আতাউর রহমান, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কবি মুহম্মদ জালাল উদ দীন, কবি ও সংগঠক আশরাফ উল আলম, বিভাগীয় লেখক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ প্রমুখ। | 6 |
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদীচী চট্টগ্রাম আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় এমন আহ্বান জানান তিনি। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনের এই অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার এবং চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের সভাপতি শৈবাল চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন উদীচী চট্টগ্রামের সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ।আবুল মোমেন বলেন, '১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের উল্লাস করে যখন ফিরে আসছিলাম, তখনই পত্রিকায় রায়েরবাজারে হত্যাযজ্ঞের ছবি দেখেছিলাম। জাতির সামনের সারির চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার খবর দেখলাম। মুহূর্তেই স্বাধীনতাটা যেন মিথ্যা হয়ে গিয়েছিল।' | 6 |
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চি।
তবে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটির রাখাইন রাজ্যে চলমান সমস্যার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেছেন, রাখাইন প্রদেশে যথেষ্ট বৈরিতা রয়েছে। তবে একটি জাতিকে 'নিধন' করা হচ্ছে শব্দটি সেখানকার পরিস্থিতির জন্য বেশি কঠিন।
এ বছর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের নেতা সু চি।
মানবাধিকার রক্ষার দূত ও শান্তিতে নোবেলজয়ী হয়েও সু চি নিজের দেশে রোহিঙ্গাদের নির্মূলে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন-তাকে এ প্রশ্ন করা হলেও তিনি এই অভিযোগ এড়িয়ে যান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'রাখাইন প্রদেশে যথেষ্ট বৈরিতা রয়েছে, মুসলমানরাই মুসলমানদের হত্যা করেছে। সেখানে নানা বিভক্তি রয়েছে মানুষের মাঝে এবং আমরা সেটাই কমানোর চেষ্টা করছি।'
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সু চি এই বিষয় নিয়ে তার মতামত তুলে ধরে বলেন, 'সেখানে অক্টোবরে পুলিশের ওপর হামলা থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। এরপর সামরিক বাহিনী বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করে।'
এক প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেছেন, 'পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে চলে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ ফিরে আসতে চাইলে তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।'
এর আগে রাখাইন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ না খোলায় বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হন সু চি। সে প্রসঙ্গে তার জবাব, তিনি মার্গারেট থ্যাচার কিংবা মাদার তেরেসা নন।
| 3 |
শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ রশিদ খানকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। চাঁদা না দিলে শিল্পীকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর বাড়ির সামনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে আছে সন্ত্রাসীরা, বাড়ি থেকে বের হলেই তাঁকে গুলি করা হবে, বাঁচতে চাইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে-এভাবেই কদিন আগে মোবাইল ফোনে রশিদ খানের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ফোন ধরেছিলেন তাঁর মেয়ে। ঘটনার পর ৯ অক্টোবর থানায় অভিযোগ করে শিল্পীর পরিবার। অভিযোগ পাওয়ার পর তৎপর হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিল্পীর সাবেক গাড়িচালক ও সাবেক অফিস সহকারীকে। তদন্তে জানা গেছে, অল্প কদিন রশিদ খানের গাড়ি চালিয়েছেন দীপক আউলাকা, মাত্র কয়েক মাস কাজ করেছেন ওই অফিস সহকারী। দুজনকেই পরে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তাঁরা ফোনে শিল্পীকে হুমকি দিয়েছেন। পরিচয় গোপন করতে মোবাইল নম্বর মাস্কিং করে ফোন করেন তাঁরা। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁদের সন্ধান পায় কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রশিদ খান ১৯৬৮ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী হিসেবে পদ্মশ্রীসহ সংগীত নাটক আকাদেমি আওয়ার্ড লাভ করেছেন। বাংলাদেশেও একাধিকবার সংগীত পরিবেশন করেছেন এই শিল্পী। বেঙ্গলের শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসবে খেয়াল পরিবেশন করে তিনি দর্শক-শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন। | 2 |
পরমাণু সমঝোতা বাদ দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল-মুয়াল্লেমি রবিবার এই আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে তার দেশের কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগেরও পুনরাবৃত্তি করেছেন। 'পরমাণু সমঝোতা মরে গেছে' বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাইডেনকে ইরানের সঙ্গে নয়া চুক্তি সই করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করে যা এখনো চলছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি সই করতে চায় যাতে আমেরিকার কাঙ্ক্ষিত সবগুলো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসন এমন সময় এ দাবি করছে যখন তারা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এর আগের চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। কাজেই আবার চুক্তি সই করলে তা থেকেও যে ওয়াশিংটন আবার বেরিয়ে যাবে না তার কোনও গ্যারান্টি নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই পদক্ষেপের প্রতি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ সমর্থন জানায়নি; বরং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
নগরে গতকাল সরোয়ারসহ বিএনপি নেতাদের বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা বরিশালে হঠাৎই বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১টার দিকে কয়েক শ নেতা-কর্মী সরোয়ারকে নিয়ে আদালতপাড়ায় এ বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁকে ঘিরে ছিলেন নগর বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা। একই সময় নগর কমিটির নতুন নেতৃত্বের নেতারাও পৃথক বিক্ষোভ করেন। উভয় পক্ষ দাবি করেছে, খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।মজিবর রহমান সরোয়ার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে তাঁর নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতপাড়ায় যান সরোয়ার। এর আগেই সেখানে উপস্থিত হন সরোয়ারের সমর্থক কয়েক শ নেতা-কর্মী। বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার ভোট দিয়ে বের হয়ে অনুসারীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে সংলগ্ন ফজলুল হক অ্যাভিনিউতে কিছুটা অগ্রসর হন। একই সময় অদূরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রচার ক্যাম্পের সামনে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবীরের নেতৃত্বে স্লোগান দিতে দেখা যায়।নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর জানান, তাঁরা আদালতপাড়ায় গিয়ে দেখেন সরোয়ার ভাইকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। ভোটের পরে তাঁকে নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেন।নগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন জানান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তাঁরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিক্ষোভ করেছেন। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সরোয়ার উপস্থিত থাকায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে তাঁকে সামনে রেখে মিছিল করেন।অন্যদিকে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা প্রচার ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়াকে হুমকির প্রতিবাদে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ করেছেন। সরোয়ারের নেতৃত্বে মিছিল হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। | 6 |
আমাদের সমাজের সত্যিকার নৈতিকতার প্রতীক এবং বুদ্ধিজীবিতার উদাহরণ গত পঞ্চাশ বছরে কে? কাকে আমরা আমাদের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র বিষয়ে ভাবতে গিয়ে সত্যিকার অর্থে কোনো বিতর্কহীনভাবে শ্রদ্ধা করতে পারি? কেউ কি আমাদের চোখের সামনে এমন আছেন?আসলে পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিজীবী যে অর্থে পশ্চিমা সমাজ আমাদের শেখায়, অর্থাৎ রাষ্ট্রের দুরাচারের বিরুদ্ধে সর্বক্ষণ মেরুদণ্ড সোজা রেখে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, সেই মানুষটি কেমন এবং কে? আমরা গত পঞ্চাশ বছরে তেমন মানুষ কম পেয়েছি। এর রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে আমরা এমন একটি সমাজে বাস করতাম, যেখানে লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা ভীষণ মানসিক পীড়ায় ভুগতেন মাতৃভূমির দুর্দশার কথা ভেবে। তাঁরা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের দুরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। আর নিজেদের অজান্তেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ছায়ায় নিজেরা আশ্রয় নিয়েছেন, জাতীয়তাবাদ একধরনের বিষ-এ কথা তেমন আমলে না নিয়েই। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। কিন্তু শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা সেটা সমর্থন করেছেন কিছুটা সুদূরপ্রসারী চিন্তা না করে। সেটা সে সময়ের জন্য সঠিক থাকলেও বাহাত্তর-পরবর্তী রাজনীতিতে লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের কোনো দলীয় রাজনীতি সমর্থন করা ঠিক হয়েছিল কি না, তা আজ বিশ্লেষণের সময় এসেছে।স্বাধীনতার পর আমাদের যেসব বুদ্ধিজীবী পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে তীব্র সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুরাচারের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রায় কেউই বুঝতে পারেননি যে তাঁদের কারোর দলীয় রাজনীতির ছায়ায়, এমনকি তা আওয়ামী লীগ হলেও, আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। কারণ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আওয়ামী লীগকেও দুরাচারী করে ফেলতে পারে, এমনকি তা বঙ্গবন্ধুর মতো, পাহাড়ের মতো দেশপ্রেমিক নেতৃত্বে থাকলেও। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়নির্ভর, তাই বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির জন্য বা শিক্ষকদের জাগতিক সুবিধার জন্য বঙ্গবন্ধুর উদারতার সুযোগ নিয়ে আমাদের অধ্যাপকেরা যেমন নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন আদায়ের মধ্য দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করেছেন। অন্যদিকে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেওয়া বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন, কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়ে নিজেদের কলুষিত করেছেন। আর সে সময় আওয়ামীবিরোধী চৈনিক রাজনীতির অনেক বুদ্ধিজীবী সরকার-বিরোধিতায় মেতে উঠেছেন। তাঁদের মধ্যে একমাত্র অধ্যাপক বদরুদ্দীন উমর বা আহমদ শরীফ ছাড়া কাউকেই খুব বেশি একটা শ্রদ্ধা করা যায় না তাঁদের ব্যক্তিগত ও নৈতিক স্খলনের জন্য।আমার কাছে মনে হয় একমাত্র বদরুদ্দীন উমরই পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল, যাঁকে রাষ্ট্র কিনতে পারেনি, যাঁর নৈতিক স্খলন ঘটেনি কোনো জাগতিক সুবিধার জন্য। তাঁর রাজনীতি আমি কোনো দিন সমর্থন করি না, কিন্তু মানুষটির জাগতিক অর্থে সততা তুলনাহীন। তিনি নমস্য। কিন্তু তাঁর লেখা বা বক্তৃতায় তিনি আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে ভাষায় কথা বলেন, তা দুঃখজনক এবং কিছুটা ব্যথিত হওয়ার মতো। এ ছাড়া মানুষটির বুদ্ধিজীবী হিসেবে অবস্থান সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর লেখা নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেন, আমার বন্ধু অধ্যাপক শিবলী আজাদ তাঁদের মধ্যে একজন। শিবলী অধ্যাপক উমরের 'সাম্প্রদায়িকতা' বইটি নিয়ে সম্প্রতি একটি মন্তব্যে তাঁর জাতীয়তাবাদ বিষয়ে তাত্ত্বিক পড়াশোনার ন্যূনতা বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। আমি বলি, আমাদের পণ্ডিতদের খুব কম মানুষের আধুনিক সমাজবিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক লিটারেচার নিয়ে জানাশোনা ভালো আছে, এটুকু বাদ দিলে অধ্যাপক উমর প্রায় ষাট বছর যাবৎ একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে নৈতিকতার প্রতীক হয়ে আছেন আমাদের সমাজে।চৈনিক রাজনীতি বা বুদ্ধিজীবিতার মঞ্চ যে পত্রিকা সাপ্তাহিক 'বিচিত্রা' তার জনা তিনেক মোড়ল শাহাদত চৌধুরী, শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুন আমাদের বুদ্ধিজীবী সমাজের যে ক্ষতি করেছেন এ পত্রিকাটির মাধ্যমে, বিশেষ করে এরশাদ ও সেনাবাহিনীর পদলেহন করে, তার ইতিহাস রচনা হওয়া প্রয়োজন। বছর শেষে বিচিত্রার উদ্যোগে যে পার্টির আয়োজন হতো, মদের ফোয়ারা বসত, সেখানে যেসব বুদ্ধিজীবী এবং সেনা কর্মকর্তারা পার্টিতে যোগ দিতেন, তার ইতিহাস রচনা হলে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটা চিত্র পাওয়া যাবে। আর সেই শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুন আজ আওয়ামী সরকারের বড় সাংস্কৃতিক মোড়ল, বলা যায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী সাংস্কৃতিক মোড়ল। মুনতাসীর মামুন ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ফারমার্স ব্যাংক এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মাত্র কদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহার মতো একজন অধ্যাপক-সন্তকে বাদ দিয়ে নিজের চামচাকে সেই পদে নিয়োগ দেওয়ারও তিনি চেষ্টা করেছেন, পারেননি শুধু অধ্যাপক কাসেমসহ কয়েকজন লড়াকু বুদ্ধিজীবীর চেষ্টায়।আসলে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা একটি বিষয় আমলে নেন না, তা হলো পাবলিক বুদ্ধিজীবীর রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু দলীয় রাজনীতিকে আশ্রয় করে কিছু করা ঠিক নয়। কারণ, যেকোনো দল ক্ষমতায় গেলেই দানবে পরিণত হয়। এ বিষয়ে একমাত্র অধ্যাপক উমরকে ছাড়া খুব বেশি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যেসব অধ্যাপক বা বুদ্ধিজীবী ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট থেকে নিজেদের বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। সে জন্যই মানুষটি অনন্য! কদিন আগে তিনি নব্বইয়ে পা দিলেন, তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। কিন্তু আমাদের সমাজের বুদ্ধিজীবীদের আরেকটি দীনতা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা সত্যিকার নৈতিক বুদ্ধিজীবীকে শ্রদ্ধা করতে পারেন না। এটা দুঃখের। তবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির কয়েকজন বুদ্ধিজীবী লেখকও তাঁদের নৈতিক অবস্থানের জন্য বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় আমার কাছে। জানি না আমার সমকালীন বুদ্ধিজীবী বন্ধুরা সেটা মানবেন কি না। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হকসহ আরও কয়েকজনের নাম করা যেতে পারে।আরেকজন সদ্য প্রয়াত কবি, যিনি ছিলেন ভীষণ নীরব, কিন্তু সত্যিকার অর্থে সাংস্কৃতিক যোদ্ধা এবং আমাদের সাহিত্যিক ও শিল্পীদের রুচি নির্মাণের প্রায় ধাত্রীর ভূমিকায়, তাঁর নৈতিক অবস্থানও বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়। তিনি কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত। আরও কয়েকজনের নাম করা যায়, কিন্তু তাঁরা বেশ তরুণ। আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু ড. সলিমুল্লাহ খানও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল এবং লেখক হিসেবে আহমদ ছফাকে শীর্ষস্থানীয় মনে করেন, কিন্তু আমার নিজের বিচারে আহমদ ছফার 'গণকণ্ঠ'-এ লেখা অনেক রাজনৈতিক নিবন্ধে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মন্তব্য আমার কাছে রুচির ন্যূনতা দ্বারা আক্রান্ত। তা ছাড়া, তাঁর নৈতিক অবস্থান লিবিয়া এবং জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্ক দ্বারা কলুষিত। বুদ্ধিজীবী হিসেবে মানুষটির শক্তিশালী অবস্থান থাকার পরও নিজেকে তিনি জাগতিক মোহ থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি, তাঁর এই বিদেশি আর্থিক সম্পর্কের কারণে!আমাদের লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে সত্যিই যাঁরা বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় আছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলা যায়, আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আমরা একটি বড় সাংস্কৃতিক দুর্বিপাকের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি, আমাদের সৃজনশীলতার উৎকৃষ্টতার চেয়ে জরুরি আমাদের নৈতিক অবস্থানের শ্রেষ্ঠতা। তাই লেখক বা বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা পালনের সময় আমাদের বুদ্ধিজীবীদের এ বিষয়টি মনে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি।আবেদীন কাদের, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক, এসেক্স কলেজ, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র | 6 |
৪ বছর বয়সী ছোট্ট মেয়েটি আপনমনে হাঁটছিল সমুদ্রসৈকতে। হাঁটতে হাঁটতে হুট করেই তার চোখে পড়ে এক বিশাল পায়ের ছাপ। এরপর তা নিয়ে শুরু হয় হইচই। এক পর্যায়ে গবেষকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, এই পায়ের ছাপ প্রায় ২২ কোটি বছরের পুরনো হতে পারে। আর তা হলো এক ডাইনোসরের। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সাউথ ওয়েলসের এক সমুদ্রসৈকতে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। চার বছর বয়সী শিশুটির নাম হলো লিলি ওয়াইল্ডার। ওয়েলশ বিচে হাঁটতে গিয়ে সে ডাইনোসরের এই পায়ের ছাপ খুঁজে পায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পায়ের ছাপ থেকে ডাইনোসরের কীভাবে হাঁটত-সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে। লিলির মা স্যালি ওয়াইল্ডার এনবিসি নিউজকে গত শনিবার জানিয়েছেন, 'এটি একটি নিচু পাথুরে এলাকা ছিল। লিলির কাঁধের সমান উচ্চতা ছিল পাথরটির। সে পাথরটি খুঁজে পেয়েই তার বাবাকে ডেকে দেখায়। রিচার্ড (লিলির বাবা) এর একটি ছবি তুলে এনে আমাকে দেখিয়েছিল।' () লিলি স্থানীয় বেনড্রিকস বে নামক সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে গিয়ে ডাইনোসরের এই পায়ের ছাপ খুঁজে পায়। ডাইনোসরের পায়ের ছাপ খুঁজে পাওয়ার জন্য এই সৈকত বিখ্যাত। তবে সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা বলছেন, তা সত্ত্বেও লিলির আবিষ্কার আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। ওয়েলসের জীবাশ্মবিজ্ঞান সংক্রান্ত জাতীয় যাদুঘরের কিউরেটর সিনডি হাওয়েলস বলেছেন, এই সমুদ্রসৈকতে পাওয়া জীবাশ্মগুলোর মধ্যে এটির মানই সবচেয়ে ভালো।ডাইনোসরের যে পায়ের ছাপটি পাওয়া গেছে, তা দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডাইনোসরটি আকারে প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। তবে ডাইনোসরটি কোন প্রজাতির ছিল, সেটি জানা সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহেই পায়ের ছাপের জীবাশ্মটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেছে এবং কার্ডিফের জাতীয় যাদুঘরে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই জীবাশ্মটি সংরক্ষণ করা হবে। ওয়েলসের জাতীয় যাদুঘর এক বিবৃতিতে বলেছে, এই জীবাশ্মটি সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির প্রকৃত কাঠামো সম্পর্কে গবেষণা করতে পারবে এবং আরও অনেক তথ্য উদঘাটন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। | 3 |
২০১৩ সালে আফগানিস্তানে এক বিস্ফোরণে মারা যান মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন নারী আলোকচিত্রী হিলডা ক্লেটন ও চারজন আফগান। কিন্তু মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তের দৃশ্যও ক্যামেরায় ধারণ করে গেছেন তিনি। দীর্ঘ চার বছর পর হিলডা ক্লেটনের পরিবারের অনুমতি নিয়ে সেই ঘটনার ছবি প্রকাশ করেছে আমেরিকান মিলিটারি রিভিউ ম্যাগাজিন। ক্লেটনের পরিবারের অনুমতি নিয়েই ওই ছবি প্রকাশ করা হয়। ওই সংস্করণে লেখা হয়, যুদ্ধের ময়দানে কিংবা প্রশিক্ষণে নারী সৈন্যদের পুরুষদের পাশাপাশি কতটা ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় ক্লেটনের মৃত্যু সেটারই প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেছে। বিডি-প্রতিদিন/০৩ মে, ২০১৭/মাহবুব | 3 |
সারা দেশের মত বরিশালেও অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূঁজা। আজ রবিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা শুরু হয়। বেলা ১১টা ১ মিনিটে সন্ধিপূঁজা শুরু হয়ে ১১টা ৪৯ মিনিটে শেষ হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তরা মন্দিরগুলোতে চন্ডিপাঠ এবং আরাধনায় মত্ত থাকেন। জাতি-সংসার আর জাগতিক পৃথিবীর সকল প্রাণির মঙ্গল কামনা করেন তারা। মহামায়ার এই আগমনের মধ্য দিয়ে সকল অশুভ শক্তি বিদায় হবে বলে আশা তাদের। অশান্ত পৃথিবীতে যেন শান্তি ফিরে আসে সেই কামনাই ছিল মহাষ্টমীতে দেবীর কাছে। এ বছর বরিশাল নগরীতে পূজামন্ডপের সংখ্যা ৪১টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৭৩টি। বরিশাল জেলায় পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৬১৩টি এবং বিভাগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১ হাজার ৬১৩টি মন্ডপে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি বন্য বাচ্চা হাতি মারা গেছে। আগের বাচ্চা হাতি মারা যাওয়ার কারণ খুঁজে না পেলেও এটির কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আজ শনিবার হ্নীলা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন পানির ছড়ায় মৃত হাতিটি দেখতে পায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা।১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (এপিবিএন) এসপি তারিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ২৬ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের তারকাঁটার বেষ্টনীর বাইরে পশ্চিমে পাহাড়ের পাদদেশে পানির ছড়ার মধ্যে একটি বন্য হাতি মৃত অবস্থায় দেখা যায়। বন্য হাতি মৃত্যুর খবর শিবির এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক সাধারণ রোহিঙ্গারা ভিড় জমায়।পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে এসপি তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ধারণা করা যাচ্ছে, বন্য হাতিটি আনুমানিক তিন-চার দিন আগে পাহাড়চূড়া থেকে পানির ছড়ায় পড়ে যায়। এরই মধ্যে শালবাগান এপিবিএন কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।তারিকুল ইসলাম জানান, সপ্তাহখানেক আগে ওই ছড়ায় আরও একটি মৃত হাতি পাওয়া গিয়েছিল। পরে এটিকে পুঁতে ফেলা হয়।২৬ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা (মাঝি) বজলুর ইসলাম জানান, বাচ্চা হাতিটি পাহাড়ের ছড়ায় মরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উৎসুক জনতা ভিড় করে। এর কয়েক দিন আগে একই স্থানে অপর একটি বাচ্চা হাতি মারা পড়েছিল। সাপের কামড়ে ও গড়িয়ে পড়ে মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।টেকনাফ বিটের বিট কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ জানান, মরা বাচ্চা হাতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের মাধ্যমে কী কারণে মারা গেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট টেকনাফ মাঠপাড়া থেকে দুটি বাচ্চা হাতিসহ চারটি হাতির পালকে বনে ফিরিয়েছিল বন বিভাগ। এর এক সপ্তাহ আগে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে কুদুংগুহা এলাকায় বাচ্চা হাতিসহ মোট ছয়টি হাতির অপর একটি পাল দেখতে পায় সংশ্লিষ্টরা। | 6 |
কক্সবাজারের রামুতে আজ মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ১১ দিনব্যাপী ভিক্ষু মহাসভার সাধারণ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন একুশে পদকে ভূষিত সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথেরো, উপসংঘরাজ শীলানন্দ মহাথেরো ও জ্ঞানরত্ন মহাথেরোসহ অন্যান্য ভিক্ষু।ফারিকুল প্রজ্ঞামিত্র বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে আজ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত হবে এ অনুষ্ঠান। এর আগে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকেরা।ফারিকুল বিবেকারাম বৌদ্ধবিহার মাঠে ভিক্ষুদের ধ্যান-সাধনার জন্য তৈরি করা হয়েছে ১০০টি কুঠির। পাশাপাশি ব্যূহচক্র বা স্বর্গপুরীর জন্যও প্রস্তুত হয়েছে ঘর ও প্রতীকী স্বর্গ।নির্মাতাদের মধ্যে দীপ্ত বড়ুয়া জানান, পাহাড়ি ছন, বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কুঠির। পাশাপাশি স্বর্গপুরীর প্রস্তুতি সম্পন্ন। এক মাস ধরে আমরা প্রায় ২০ জনের বেশি শিল্পী এখানে কাজ করেছি। আশা করি অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক হবে।প্রজ্ঞামিত্র ভিক্ষু-শ্রামণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শীলমিত্র থেরো বলেন, 'আমাদের অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক হবে আশা রাখি। দীর্ঘ ১১ দিনে বৌদ্ধিক নিয়মে ভিক্ষুরা পরিবাসব্রত পালন করবেন এখানে। দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন গুণী ভিক্ষুসংঘ আসবে।'এসব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রয়াত পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরোসহ বিভিন্ন ভিক্ষুর স্মরণে স্মরণসভাও হবে। সম্প্রতির রামুতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ ধর্মীয় সভা হতে যাচ্ছে এটি। ১০ মার্চ বাংলাদেশ ভিক্ষু মহাসভার ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এ অনুষ্ঠান। | 6 |
বরিশাল বাবুগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের আভায় ছেয়ে গেছে গোটা ফসলের মাঠ। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ জাওয়াদের প্রভাবে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন সরিষা চাষিরা। তবে যথাসময়ে সরিষা ঘরে তুলতে পারলে ও ভালো দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া (বোয়ালিয়া) গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষাখেত। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল এক হলুদের চাদরে ঢেকে আছে ফসলের মাঠ।সরিষাচাষি সুমন হাওলাদার বলেন, সরিষা চাষে শ্রম ও খরচ দুই-ই কম। তাই সরিষা চাষ করেছি। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, সরিষা এবার ভালোই হইছিল। মাঝে টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি মজে অনেক গাছ মরে গেছে। তাই এবার সরিষা কম উৎপাদন হবে।তবে অনেক চাষিই আশা করছেন শেষ পর্যন্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কম হয়েছে।গত বছর চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল ২৯০ হেক্টর। সরিষা উৎপাদন হয়েছিল ৩৮১ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি ১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন করে সরিষা উৎপাদন হয়েছিল।বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন জানান, জাওয়াদের প্রভাবে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই লক্ষ মাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে। তবে আশা করছেন এ বছর সরিষা উৎপাদন ভালো হবে। | 6 |
ক্ষুদ্র পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের পুনঃ অর্থায়নের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের (সিজিএস) আওতায় ৫০০ কোটি টাকার তববিল পুনর্গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক ও নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা কেবল সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ঋণের ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা জামানত লাগবে না। গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এতে বলা হয়, স্কিমের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগের জন বাংলাদেশ ব্যাংক মোট গ্যারান্টির সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রদান করবে। | 6 |
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ব্রিটেনে এবার বোভাইন স্পঞ্জিফর্ম এনসেফালোপ্যাথি (বিএসই) রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগটি 'ম্যাড কাউ' রোগ নামে পরিচিত। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এএফপি ও বিবিসি। এ মুহূর্তে খামারটিতে খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনও ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে এপিএইচএ। ওই খামারে রোগটির সংক্রমণ কীভাবে হলো, তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ক্রিস্টিন মিডলমিস বলেন, 'যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তার সামগ্রিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যে কোনো ঝুঁকি নেই।' যুক্তরাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি পশুর শরীরে 'ম্যাড কাউ' রোগ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এপিএইচএ। এর আগে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রোগটি দেশটিতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময়ে 'ম্যাড কাউ' রোগ নিয়ন্ত্রণে লাখ লাখ গরু হত্যা করা হয়েছিল। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
বাবা দেশের কিংবদন্তী অভিনেতা। ছেলে বাবার পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছেন। মজার বিষয় হচ্ছে এই বাবা-ছেলের জন্মদিন একই দিনে। তারা হচ্ছেন আলী যাকের ও ইরেশ যাকের। দুজনেরই জন্মেছেন ৬ নভেম্বর। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই বাবা-ছেলেকে শুভেচ্ছা ভাসাচ্ছেন শোবিজ অঙ্গনের মানুষ ও ভক্তরা। মঞ্চ কাপানো অভিনেতা আলী যাকের। টিভি নাটকেও সমান আধিপত্য করে নেয়া এ অভিনেতা ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মঞ্চে নূরুলদীনের সারাজীবন, দেওয়ান গাজীর কিসসা, কপোনিকের ক্যাপ্টেনসহ অনেকগুলো নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া টিভির পর্দায় আজ রবিবার, বহুব্রীহিসহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশের বৃহৎ বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের স্বত্বাধিকারী। নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের তার সহধর্মিণী। আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতির ছেলে ইরেশ যাকের ও মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে ইরেশ যাকের জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ৬ নভেম্বর। বিভিন্ন উপলক্ষে টিভি নাটকে তার দেখা মেলে। এখন চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। বাবা-ছেলের একইদিনে জন্মদিন হওয়ার কারণে মজার অনুভূতি তুলে ধরে আলী যাকের বলেন, 'চিকিৎসকদের কথা অনুযায়ী ইরেশের জন্ম হওয়ার কথা ছিল ২২ অক্টোবর আর ওর মায়েরও (সারা যাকের) জন্মদিন ২২ অক্টোবর তাই সবাই চেয়েছিল ও একদিন আগে জন্মগ্রহণ করুক। কিন্তু কাটায় কাটায় ১৫ দিন সবাইকে অপেক্ষায় রেখে ৬ নভেম্বর রাত ৮টায় জন্ম হয় ইরেশের। আর আমার জন্ম একইদিন রাত ১০টায়। সে হিসাবে বাবার চেয়ে ছেলেকে বড় বলাই যেতে পারে।' ছেলে ইরেশ বলেন, ' আমার আর বাবার জন্মদিন একই দিনে এটা ভাবতেই অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করে। বড়বেলার জন্মদিনের চেয়ে ছোটবেলার জন্মদিন বেশি মজার ছিল। তবে জন্মদিনটায় আমি বাবার জন্মদিনটাকেই বেশি গুরুত্ব দেই।' এদিকে জন্মদিনের এই দিনে গ্যালিলিও সেজে শিল্পকলায় মঞ্চে হাজির হবেন আলী যাকের। এই চরিত্রে অভিনয় করে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেন দিয়েছেন আলী যাকের। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রযোজনায় গত ৫ অক্টোবর মহিলা সমিতিতে প্রদর্শীত হয় নাটকটি। গ্যালিলিওর চরিত্রে আলী যাকের ছাড়াও অভিনয় করছেন আসাদুজ্জামান নূর, কাওসার চৌধুরী, ফারুক আহমেদ পান্থ শাহরিয়ারসহ অনেকে। | 2 |
কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদের (বীরবিক্রম) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্যা। এরা হলেন, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল করিম আব্বাসী, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল গনি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর নিশ্চিত করা হয়। এতে পদত্যাগকারী তিনজনেরই স্বাক্ষর ছিল। | 6 |
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চারবার। কিন্তু তার পরও কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে। অথচ ঠিকমতো কাজই শুরু হয় ওই সময়। এখন অবকাঠামো নির্মাণের পর আবার থেমে গেছে কাজ। কাজ শেষ করতে আরও ২০ কোটি টাকা চেয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। প্রস্তাবটি অনুমোদন না হওয়ায় এখন কাজ পুরোপুরিই বন্ধ।রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে দেশের একমাত্র এই কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০১৫ সালে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৭৩ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। চতুর্থবারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।এরই মধ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা। বর্তমানে পিডি হিসেবে আছেন ড. সঞ্জয় চক্রবর্তী। তিনি বলছেন, প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ। কাজের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ। এরই মধ্যে খরচ হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা। হাতে থাকা ৩০ কোটি টাকায় আসবাবপত্র ও এসি কেনা এবং সাজসজ্জার কাজ হবে না। দরকার অন্তত ৫০ কোটি টাকা। তাই আরও অন্তত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেটি দুই-এক দিনের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। অর্থ বরাদ্দ পেলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হবে।রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। এরপর থেকেই কারা প্রশিক্ষণ একাডেমিতে জেল সুপারদের ছয় মাস, ডেপুটি জেলাদের তিন মাস মেয়াদি এবং কারারক্ষী ও নারী কারারক্ষীদের তিন মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কারা অধিদপ্তরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রশিক্ষণার্থীকে কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তাবিধান, সুশৃঙ্খল আচরণ, বন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ, সৌজন্যবোধ ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধান সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।এই একাডেমি ২০১৪ সালে সরকারি অনুমোদন লাভ করে। তারপর একনেক অর্থ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো একাডেমির কার্যক্রম চলছে কারাগারের ভেতরের পুরোনো একতলা একটি ভবনে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের মোট জমির পরিমাণ ৬৫ একর। এর মধ্যে ১৮ একরের ওপর রয়েছে কারাগার। বাকি ৪৭ একর জমির মধ্যে ৩৭ একরের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি।কাজ শুরুর পর কারাগারের পাশেই জেগে ওঠা পদ্মার চরে অস্থায়ী স্থাপনা হিসেবে ফুটবল ও ভলিবল মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাটা হয় অনেকগুলো গাছও। এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন। তখন নির্মাণকাজ থমকে যায়। ওই সময় দেশের অন্য কোনো জায়গায় কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণেরও আলোচনা শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় এই প্রকল্পকে 'কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' হিসেবে নামকরণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। একাডেমি হচ্ছে রাজশাহীতেই।রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, একাধিকবার স্থান পরিবর্তন, কারাগারের পুরোনো স্থাপনা ও গাছ কাটায় জটিলতা, নকশা প্রণয়নে বিলম্ব হওয়াসহ নানা কারণে কাজই শুরু হয়েছে দেরিতে। তারপর এখন একটু ব্যয়ও বেড়েছে। নতুন করে প্রাক্কলন করে প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া হয়েছে। তিনি অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাবও দিয়েছেন। অর্থ পেলেই দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে। | 6 |
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল সবার জানা। এখানে সরকারের প্রকৃত বিরোধী পক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র আটটি আসন লাভ করেছে। এর মধ্যে মূল শরিক বিএনপির ছয়টি। অবশিষ্ট আসনের সিংহভাগ গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাতে। ২১টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাতীয় পার্টি। আর ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও পেয়েছে কয়েকটি আসন। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে একজোট হয়ে নির্বাচন করেছে। অনেকটা মহাজোটের মতো। কিন্তু এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন শুধু আওয়ামী লীগের সদস্যরাই। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের অন্য সহযোগী আইনপ্রণেতাদের প্রত্যাশা ছিল মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে গেছে। আর ১৪ দলের ছোট শরিকদেরও বাধ্য হয়ে অনুসরণ করতে হচ্ছে সে পথ। তবে নির্বাচনের মাঠে তারা সবাই ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে ছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন তরফে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে সরকার গঠন হয়ে গেছে। আজ ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ঐক্যফ্রন্টের আটজন ছাড়া অন্য সাংসদেরা শপথ নিয়েছেন। তাদের সাংসদেরা শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ঘোষণার কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসনগুলো শূন্য হয়ে যাবে। সেখানে হবে উপনির্বাচন। এখানে প্রশ্ন থাকে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের প্রকৃতি সম্পর্কে যত অভিযোগই করুক, তারা এর প্রতিকারের দ্রুত কোনো আশা করতে পারে না। বিএনপির ২০১৪-এর নির্বাচনে না যাওয়া এবং তখনকার একটি হিংসাশ্রয়ী আন্দোলনের পর থেকে অনেকটা বিধ্বস্ত। তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহুসংখ্যক মামলা ঝুলছে। নিয়মতান্ত্রিক সভা-সমাবেশও বাধার মুখে পড়ে। নির্বাচন উপলক্ষে সংগঠনটি কিছুটা চাঙা হতে পারবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু একদিকে সরকারের বাধা, অন্যদিকে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তৎপরতায় ভাটার টান সুস্পষ্টভাবে লক্ষণীয় হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের অভিযোগের পক্ষেও মাঠে কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। সহসাই তেমন কিছু ঘটবে, এর কোনো লক্ষণ নেই। সে ক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করছেন, তারা সংসদে যাবে না কেন? সেখানে গেলে ভবিষ্যতে তারা সক্ষমতা অর্জন করলে মাঠের আন্দোলনও করতে পারবে। অন্যদিকে নির্বাচন নিয়ে যে কথাগুলো এখন ছোটখাটো সমাবেশ বা গণমাধ্যমে বলছে, সেসব কথা সংসদ অধিবেশনেও বলতে পারবে। আমাদের সমস্যা সংসদে বিএনপি না গেলে সেখানে প্রকৃত কোনো বিরোধী দল থাকবে না। অনেকটা দশম সংসদেরই রূপ নেবে এর কার্যক্রম। অথচ একটি কার্যকর সংসদ পেতে হলে কার্যকর বিরোধী দলও জরুরি। তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলে ভালো হতো। তবে আটজনেও অনেক কিছু করা যায়। ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা-এ দুজন সদস্য ছিলেন বিরোধী দলে। তাঁরা প্রকৃতপক্ষেই গণপরিষদের কার্যক্রমে নিবিড়ভাবে অংশ নিয়ে অনেকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিলেন। সংসদে গেলে নিরাপদ স্থানে সরকারের ব্যয়ে বিরোধীরা তাঁদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংসদ টিভিতেও অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার হয়। ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ভাবনা তাদের থাকতে পারে। কিন্তু সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে না। অবশ্য এর মধ্যে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। সামনেই রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশের উপজেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন। এসব নির্বাচনে অংশ না নিয়ে কি তারা তাদের সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে পারবে? হতে পারে গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের বহুসংখ্যক নেতা-কর্মী কারাগারে। অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নির্বাচনগুলো বর্জন করলেই কোনো লাভ হবে-এমন তো মনে হয় না। এসব নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হয় না। ফলে সরকার গত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় সহনীয় আচরণ করতে পারে। আর একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বলেই তো বলতে পারছে, 'নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে।' এ সুযোগটা হাতছাড়া করা কতটা সুবিবেচনাপ্রসূত হবে-এটা বিএনপির নেতৃত্ব ভেবে দেখতে পারেন। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন তো কোনো না-কোনো দলীয় সরকারের অধীনে হবে। তাহলে এ ক্ষেত্রে পিছপা কেন? সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে এবং বিশেষ করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জোরদার করতে এ বিষয়ে তাদের নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন। আমাদের দেশটির গণতন্ত্রচর্চা বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে মোটামুটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে পঞ্চম ও সপ্তম সংসদে ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী বিরোধী দল। তা সত্ত্বেও এ চারটি সংসদে যখন যাঁরা বিরোধী দলে ছিলেন, তাঁরা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। প্রায়ই করেছেন সংসদ বর্জন। অথচ সবাই নিয়েছেন বেতন-ভাতাসহ সুবিধাদি। কিন্তু জাতিকে দেননি একটি কার্যকর সংসদ। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র অপূর্ণাঙ্গ। সংসদ প্রাণহীন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি তেমন একটা আলোচনায় আসার সুযোগই থাকে না। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দেখলাম একই দল থেকে বিরোধী দলের নেতা ও সরকারের মন্ত্রী হতে। মাঠের বিরোধী দল মাঠেই রইল। এবার অবশ্য ঐক্যফ্রন্ট সংসদে গেলেও মূল বিরোধী দল বলে পরিচিত হবে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাংসদেরাই তো সত্যিকারের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। তাঁরা তাঁদের মেধা, মনন ও বিচক্ষণতা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সংসদে তুলে ধরতে পারেন। এটা তাঁদের জন্য খুব দুরূহ হবে-এমনটা মনে হয় না। বরং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাখবে ইতিবাচক অবদান। নির্বাচন হয়েছে। হতে পারে এর গুণগত দিক প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সরকার গঠিত হয়েছে। আর এ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল এখন পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে যেতে পারেনি। সুতরাং যা আছে তাকে নিয়ে এগোনো ছাড়া পথ কী? পরে নতুনভাবে নীতিনির্ধারণে তো কোনো বাধা থাকবে না। আর এ দেশে যেভাবেই আখ্যায়িত করা হোক কিংবা পরিণতি যেদিকেই যাক, সব সংসদই কিন্তু একরূপ আইনগত বৈধতা পেয়েছে। বিএনপি সরকারের সময়ে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে গঠিত সংসদ ও সরকারকে মাসখানেকের মধ্যেই ক্ষমতা ছাড়তে হয়। আর সে সংসদই প্রণীত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চালু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। আর সে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কালেই অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। আগের সংসদটি অবৈধ ঘোষণা করার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না। এমনকি ১৯৮৮ সালে এরশাদ যে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেন, সে সংসদেই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ বিচারকদের চাকরির বয়সসীমা ৬২ থেকে ৬৫-তে উন্নীত হয়। ব্যবস্থা হয় হাইকোর্ট বিভাগের কিছু স্থায়ী বেঞ্চ ঢাকার বাইরে স্থাপন করা। শুধু শেষটুকু আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ বিচারকদের বয়সসীমা পরবর্তীকালে আরও বেড়েছে। আর রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে অনেক বলা হলেও কেউ হাত দেয়নি। সুতরাং যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তারা আইন প্রণয়ন করবে, বাজেট মঞ্জুরি দেবে। এখানে বক্তব্য দিয়ে যতটা জনকল্যাণকর করা যায়, সেদিকেই ঐক্যফ্রন্টের সদস্যরা জোর দিতে পারেন। আর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পাল্টানো যাবে না-এমনটা নয়। রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। একই বিষয় প্রযোজ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। এগুলো বর্জনে কোনো অর্জন হবে না। বরং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অংশগ্রহণই শ্রেয়। আর সত্যিকার অর্থে জাতির প্রয়োজন একটি সক্রিয় বিরোধী দল। আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব[] | 8 |
১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসি স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় এসেছিলেন। ফুটবলের দলবদলের বাজারে টানা ২১ বছর একই ক্লাবে কাটিয়ে দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন ৩৪ বছরের মেসি। সেই তারকা খেলোয়াড় মেসি ছাড়তে না চাইলে ক্লাব তার সঙ্গে নতুন করে আর চুক্তি করেনি। গতকাল রবিবার বিকেলে বার্সেলোনায় বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে মেসি অঝোরে কেঁদেছেন। সেই কান্না কষ্ট দিয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বহু মেসি ভক্তকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহমান তাদের একজন। গতকাল তিনি মুশফিক ফেসবুকে লিখেছেন, 'মেসিকে বার্সেলোনা ছাড়তে দেখাটা খুব কষ্টদায়ক। মেসি আমার প্রিয় খেলোয়াড়, আর আমাকে বিশাল বড় বার্সেলোনা ভক্ত বানিয়ে দেওয়ার বড় কারণ। আমি জানি না কার জন্য এখন বার্সেলোনার খেলা দেখব। জাদুকরের জন্য শুভকামনা।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 12 |
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখার আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুলসহ তিন জনের বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। মামলার আসামিরা হলেন- আব্দুল আজিজ, আব্দুল মান্নান ও আব্দুল মতিন। আব্দুল আজিজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, আব্দুল মান্নানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম. সারোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি। আব্দুল মতিন পলাতক রয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর এ তিন জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু হয়, শেষ হয় ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর। তিন আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড়লেখার এই তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ১ মার্চ মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানা পুলিশ দু'জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ২ মার্চ আব্দুল আজিজ ও আব্দুল মান্নানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একাত্তরে দুই সহোদর আব্দুল আজিজ ও আব্দুল মতিন ছাত্রলীগ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তারা প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের বারপুঞ্জিতে যান। কিন্তু প্রশিক্ষণরত অবস্থায় পালিয়ে এসে তারা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। অপর আসামি আব্দুল মান্নান একাত্তরে স্থানীয় মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। | 6 |
শুক্রবার দিবাগত রাতে উৎক্ষেপণ হওয়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওটা আগে ঘুরুক, পৃথিবী পরিক্রম করুক। তারপর দেখা যাবে। আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা-নিঃশর্ত মুক্তি এবং চিকিৎসক শামীউল আলমের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, 'যা-ই হোক এটারও (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট) মালিকানা চলে গেছে জানেন তো? স্যাটেলাইটের মালিকানাও চলে গেছে দুজন লোকের হাতে এবং সেখান থেকে আপনাকেও কিনে নিতে হবে। চুক্তি হচ্ছে অনেক। এই চুক্তি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? যে চুক্তিই করেন না কেন আপনি, সেই চুক্তি তো জনগণের চুক্তি নয়। আমি এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলব না। কারণ এ বিষয়টি ভালো করে দেখিনি। আগে দেখি চুক্তিগুলো কী হয়েছে?' সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আলোচনা করুন, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন, তাঁর সঙ্গে কথা বলুন এবং নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'জনগণ এই দেশের মালিক। সেই মালিকদের যে চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, তা পূরণ করার ব্যবস্থা করুন। না হলে এই দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।' তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গুন্ডাদের ঠেকানোর জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন, যেন মানুষ নির্ভয়ে-নিরাপদে ভোট দিতে যেতে পারে এবং সঠিক রায়টা পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাগুলো করলে অবশ্যই এই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে, মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো উপায় নেই। গোটা দেশের মানুষকে এক করতে হবে। এক করে এই ভয়াবহ দানবকে সরাতে কাজ করতে হবে। অবশ্যই অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই দানবকে সরাতে হবে। মালয়েশিয়াতেও দেখা গেল এই ধরনের ঐক্য না হলে এটা খুব কঠিন। সে জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে এদের (সরকার) পরাজিত করতে হবে। মালয়েশিয়ার প্রসঙ্গ এনে ফখরুল ইসলাম বলেন, মাহাথির মোহাম্মদ নির্বাচিত হয়ে দুটি কথা বলেছেন, এক তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না। দুই তিনি আনোয়ার ইব্রাহীমকে অতি দ্রুত মুক্তি দিয়ে তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন। তিনি আরও বলেন, 'তাঁকে (আনোয়ার ইব্রাহীম) যে সাজা দিয়েছিলাম, আমি ভুল করেছি। ১১ বছর সাজা দিয়েছিলেন, এখনো জেলে আছেন। আজকে সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।' বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং বিএসএমএমইউর সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ। | 9 |
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের জেলের মাঝে ৬ হাজার ২০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। ৩১০ জেলের মাঝে মাথা পিছু ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় আমতলী ইউনিয়নের অস্থায়ী খাদ্য গোডাউনের সামনে এ সব চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রাশেল চৌধুরী। এ সময় ইউপি সচিব সগির আহম্মেদসহ ওয়ার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।রাশেল চৌধুরী জানান, কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তার হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের এ চাল বিতরণ করা হয়েছে।এদিকে আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে জেলেদের চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে গত বুধবার বাঘাইছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে সচেতন নাগরিক দাবি করে মাহিলা গ্রামের ওই ব্যক্তি অভিযোগে লিখেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান রাশেল চৌধুরী জেলেদের চাল উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ ভিত্তি অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার সরকার গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করেন। কিন্তু একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ায় চাল বিতরণে দেরি হয়ে যায়। এতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধ ওই অভিযোগ ওঠে।উপকার ভোগী জেলে মনির আহমদ জানান, চাল নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা যথাসময়ে চাল বুজে পেয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাশেল চৌধুরী বলেন, সামনে নির্বাচন, তাই উদ্দেশ্য প্রণোধিতভাবে কেউ কেউ মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে আমার বদনাম তৈরির চেষ্টা করছেন।বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বলেন, যথাসময়ে জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হয়েছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারেন, তার সত্যতা কতখানি সেটাই দেখার বিষয়। | 6 |
এগারোটি লক্ষ্য অর্জনে সাত দফা দাবি নিয়ে গঠিত 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট'কে আন্দোলনের মাঠে, রাজপথে দেখতে চায় দেশের বাম প্রগতিশীল নেতারা। তাদের মতে, ঘোষিত দাবি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি আন্দোলনের মাঠে আসতে পারে তবে জনসমর্থন পাবে। নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে'র দাবিগুলোর সাথে বাম-প্রগতিশীল দলগুলোর নির্বাচন প্রশ্নে করা দাবির মিল আছে। কিন্তু তাদের সাথে কোনো ঐক্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোনো কোনো বাম নেতা। তবে আন্দোলনে মাঠে থাকলে 'প্রত্যক্ষ ঐক্য' তৈরি না হলেও 'পরোক্ষ ঐক্য' থাকে বলেও কেউ কেউ মনে করেন। তাদের ভাষ্য মতে, 'বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো দুঃশাসনের শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবো না, বিকল্প শক্তি গড়ে তুলবো।' তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজপথের কর্মসূচির ওপর ঐক্যের বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও মত দেন কেউ কেউ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলার সময় আসেনি বলে মনে করেন বাম নেতারা। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে রাজপথে আন্দোলনে আছেন জানিয়ে তারা বলেন, 'দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।' জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় যা আছে : ১.অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে। ২.গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৩.বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ৪.কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। ৫.নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। ৬.নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশে কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনের সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। ৭.নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। জোটের বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবো না, আওয়ামী লীগের সঙ্গেও জোটে যাবো না। কারণ, ওই দুই শক্তিই দুঃশাসনের শক্তি। আমরা দুঃশাসনের দুই শক্তির বাইরে বামপন্থী-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নিয়ে একটা বিকল্প শক্তি গড়ে তুলবো।' 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক হওয়ার সুযোগ নেই' বলে মন্তব্য করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। | 9 |
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ অন্যান্য ক্ষতিকর অনলাইন গেম বন্ধের জন্য বিটিআরসির লাইসেন্সধারী অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।আজ বুধবার বিআরটিসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক মো. গোলাম রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এসব অনলাইন গেম বন্ধের জন্য সকল মোবাইল অপারেটর, আইআইজি অপারেটর, আইএসপি এবং নিক্স অপারেটরের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিটিআরসির লাইসেন্সধারী সকল অপারেটরের সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায়, বিটিআরসির লাইসেন্সধারী অপারেটর এবং অপারেটরদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রধানদের এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ পালনের জন্য বলা হয়।এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ক্ষতিকর গেমস বন্ধের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব। তারা যে সব অ্যাপস বা গেমসের কথা বলেছেন সেগুলো খুব দ্রুতই বন্ধ করা হবে। অ্যাপস গুলো বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমস সবার আগে বন্ধ করা হবে। পর্যায়ক্রমে নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য অ্যাপসের লিংক বন্ধ করা হবে।গত ১৬ আগস্ট দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তিন মাসের জন্য পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ বিপজ্জনক সব গেম বন্ধের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। এই অনলাইন গেম এবং টিকটক, লাইকির মতো ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে এই রুলে বিবাদী করা হয়েছে। | 6 |
গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে রাশিয়ার অন্তত ৪৫০ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষাসচিব রেডিও-৪-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন।বেন ওয়ালেস বলেন, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী রাশিয়ার অভিযান প্রথম দিনেই ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে কারণ তারা ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। পুতিন ভেবেছিলেন ইউক্রেনীয়রা তাঁকে মুক্তিদাতা মনে করবে, কিন্তু তাঁর সে অহংকারী ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।ইউক্রেনীয়দের প্রশংসা করে বেন ওয়ালেস বলেন, রুশ ট্যাংক আর বিমানের সঙ্গে ইউক্রেনীয়রা যেভাবে লড়াই করছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে রুশদের সব আয়োজন ব্যর্থ হয়েছে। এক দিনেই তারা ৪৫০ সেনা হারিয়েছে। তার পরও তারা কিয়েভের উত্তরের বিমানবন্দর দখলে নিতে পারেনি।দ্বিতীয় দিনের মতো যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে। ইতিমধ্যে রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, ইউক্রেন সরকার স্থানীয়দের মোলোটভ ককটেল বানিয়ে সবাইকে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছে।রাশিয়ার আক্রমণের প্রথম দিন ইউক্রেনে নিহত হয়েছে ১৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক মানুষও রয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩১৬ জন। | 3 |
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সংরক্ষিত আসনের একজন মহিলা ইউপি সদস্য নিজের নামে দুস্থ নারীদের ভিজিডি কার্ড করেছেন। আর খোদ ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যের নামে সেই কার্ড ইস্যু করেছেন। এছাড়াও তিনি এক ভিজিডি কার্ডধারীর কার্ড চার বছর ধরে নিজের কাছে রেখে ওই কার্ডের চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য শারমিন সুলতানা ২০১৯ সালের ১১ মার্চ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া মাসিক ৩০ কেজি খাদ্যশস্যের (চাল) ভিজিডি কার্ড নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজ নামে করে নিয়েছেন। তার কার্ড নম্বর ৬। কোন জনপ্রতিনিধির নামে ভিজিডি কার্ড দেয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে এভাবে কার্ড দিয়ে চাল উত্তোলন করে আসছেন। এছাড় একই ওয়ার্ডে তার প্রতিবেশি বৈরাগীর চর এলাকার পঞ্চাশোর্ধ বয়সী জামাল সরদার। ২০১৬ সালে তার নামে খাদ্য অধিদপ্তরের সুলভ মূল্যের (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড ইস্যু করা হয়। তবে সেই কার্ড চার বছর ধরেও হাতে পাননি জামাল সরদার এবং এ সম্পর্কে তিনি এতদিন কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন। চার বছর ধরে শারমিন সুলতানা নিজের কাছে রেখে ওই কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করে আসছেন। ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে অপর এক ভাতাভোগী নারীর চাল আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ওএমএস, ভিজিডি ও ত্রাণের বিষয়ে অনিয়ম ঠেকাতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা শুরু হচ্ছে এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল জামাল সরদারের বাড়িতে গিয়ে কার্ড বুঝিয়ে দিয়ে আসেন ওই ইউপি সদস্য। জামাল সরদার বলেন, চার বছর আগে ওএমএস'র কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ওই ইউপি সদস্য ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছিলেন। বলেছিলেন আমার কার্ড হয়নি। পরবর্তিতে তাকে জানানোও হয়নি ওই কার্ডের বিষয়ে। কয়েকদিন আগে এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসেছিলো খাদ্য সহায়তা দিতে। তাই দেখে ভয়ে মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানা আমার বাড়িতে এসে কার্ডটি পৌঁছে দেয়। চার বছর ধরে ভুয়া টিপসই দিয়ে তিনি আমার কার্ড দিয়ে চাল তুলে নিয়েছেন। আমি ওই কার্ড নিতে চাইনি, তবুও শারমিন জোর করে বাড়িতে কার্ড রেখে যায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন আগে জামাল সরদারকে এক বস্তা চাল আর কার্ড দিতে যান এই মহিলা ইউপি সদস্য। এসময় জামাল সরদার কার্ডটিতে একাধিক টিপ স্বাক্ষর দেখে কার্ডটি নিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মানছুরা খাতুনের অভিযোগও একই রকমের। তার নামে ২০১৯ সালে ভিজিডি কার্ড হলেও তিনি তা হাতে পাননি। তার অভিযোগ, এক বছর ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল উঠানো হয়েছে তার নামের কার্ড ব্যবহার করে। তার ভিজিডি কার্ডের নম্বর ৪। মানছুরা খাতুন বলেন, ২০১৯ সালে মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানা আমাকে ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার কথা বলেন। তার কথা অনুসারে আমার ছবি এবং ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দেই। এরপর কার্ডের জন্য বহুবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও কার্ড হয়নি বলে জানিয়ে দেন চেয়ারম্যান শাহ আলমগীরসহ পরিষদের অন্য সবাই। তবে তার ওই কার্ডে গত ১২ মাস ধরে টিপসই দিয়ে ভিজিডির চাল তোলা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এক বছর পর মানছুরা খাতুনের নামে ইস্যুকৃত কার্ডটি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও এভাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব সদস্যই ভাগবাটোয়ারা করে নিজেদের নিকটাত্মীয় ও একই পরিবারের লোকজনদের কার্ড দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শারমিন সুলতানা বলেন, আমার নামে মহিলা অধিদপ্তরের ভিজিডি কার্ড রয়েছে। আমি নিয়মিত চাল পাই। আমি অসহায় এবং বিধবা নারী, আমার উপরে চেয়ারম্যানের নেক নজর আছে। তাই সেই কার্ড করে দিয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, তিনি নিজের স্ত্রী, মা, বোনসহ নিকটাত্মীয়দের নামে ভিজিডি ও ওএমএস এর কার্ড করেছেন। অভিযোগ স্বীকার করে নাসির উদ্দীন বলেন, আমার ভাই, ভাইয়ের বউয়ের নামে ভিজিডি কার্ড আছে। তবে আমার নামে নেই। আমার পরিবারে তিনজনের নামে কার্ড রয়েছে আমার স্ত্রী, আমার মা এবং আমার বিধবা বোন। চেয়ারম্যান ভাগ করে দিয়েছিল, আমরা সেগুলো করে নিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, এখানে নিয়ম অনিয়ম যা কিছুই হয়েছে সবই মরিচা ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজসেই হয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সকল সদস্যই নিজ নামে বা পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ওএমএস ও ভিজিডি কার্ড ইস্যু করে সরকারি চাল নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর বলেন, ইউপি সদস্যের নামে ভিজিডি কার্ড করা যাবে কিনা সেটা আমার জানা ছিল না। অনেক মেম্বারই ওই সময় না বুঝে এমনটি করেছেন। তাছাড়া নিয়ম না থাকলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব কার্ড অনুমোদন দিলেন কিভাবে? ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের নামে কার্ডের কথা স্বীকার করে শাহ আলমগীর বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মেম্বারই গরিব। ফলে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ দিকে, উপজেলার খলিষাকুন্ডি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম একই ওয়ার্ডের মদিনা খাতুন নামে এক দুস্থ মহিলার ভিজিডির কার্ডের (কার্ড নং ৭১) চাল এক বছর ধরে গোপনে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকদিন আগে ওই কার্ড মদিনা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম। দৌলতপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, কোনো জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কর্মচারী নিজ নামে ভিজিডিসহ এ ধরনের কার্ড ইস্যু করার কোনো নিয়ম নেই। যতই অসচ্ছল হোক এটি আইনসম্মত নয়। আমাদের নির্দেশনা দেয়া ছিল, যেন এ ধরনের অনিয়ম না করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, অনিয়মগুলো তার জানা ছিল না। বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বহুল আলোচিত দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা কাঠের বাড়ি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক। বাড়ির মালিক আব্দুর রশীদ জোয়ারদার কর্মময় জীবন থেকে অবসরের কারণে এই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জমি, আসবাবপত্রসহ এই বাড়ি প্রায় এক কোটি টাকায় বিক্রি করতে চান।কর্মময় জীবন থেকে অবসরের কারণে এবং জীবনের শেষ সময়টুকু ধর্মীয় কাজে আত্মনিয়োগ করতে আব্দুর রশীদ জোয়ারদার বাড়িটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নিলামের ডাক। কাঠের এ বাড়ি ক্রয় করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিলামে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।জানা যায়, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বদিকে এবং শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মাঠের সঙ্গেই ১২ শতক জায়গার ওপর দৃষ্টিনন্দন এই কাঠের বাড়ি। প্রায় পাঁচ বছরের চেষ্টায় সত্তর লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশীদ জোয়ারদার। এ বাড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে মেহগনি, শাল, কেরোসিন ও তালগাছের কাঠ। বাড়ির নিচতলায় রেস্টুরেন্ট আর অন্যান্য তলায় শোভা পাচ্ছে বাঙালি ইতিহাসের নানান নিদর্শন। আজ রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠের সামনেই পাঁচতলা কাঠের বাড়ি। প্রবেশপথেই রয়েছে টিকিট কাউন্টার। বাড়ির ভেতরে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালি ইতিহাস।২০১৯ সালে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল ৩৫ ফুট উচ্চতার পাঁচতলা কাঠের এই বাড়ি। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক দর্শনার্থী বাড়িটি দেখতে আসেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এই বাড়ি। এ বিষয়ে বাড়িটির মালিক আব্দুর রশীদ জোয়ারদার বলেন, 'আগে কসমেটিকসের ব্যবসা করতাম। শখের বসে প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে কাঠের এই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম। বাড়িটির ভেতরে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কর্মময় জীবনের অবসর ও ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকার ইচ্ছা থেকে এই বাড়ি জমিসহ বিক্রি করতে চাই। বাড়ি নিলামের ডাক দিয়েছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সব মিলে প্রায় এক কোটি টাকায় বিক্রি করতে চাই বাড়িটি।' | 6 |
অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ও প্রকৃতিবিনাশী কাজের ফলেই পৃথিবীতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। আর এর দায় বহন করছে সাধারণ মানুষ। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ আয়োজিত 'বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, দূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়- আঞ্চলিক ও জাতীয় ক্ষেত্রে প্রভাব ও করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আলোচনা সভায় তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা বলে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নিচ্ছে অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে সুন্দরবনবিনাশী তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী যে দেশগুলো পরিবেশ বিপর্যয় ঘটায় তারাই আবার সহযোগিতার নামে ত্রাণ তৎপরতা চালায়। এদের অতি মুনাফালোভী তৎপরতার কারণেই মানুষের ভবিষ্যৎ আজ হুমকির মুখে। ভারতের সায়েন্স কমিউনিকেটরস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, একদিকে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির বিপদের কথা বলা হচ্ছে, আবার এটিকে ব্যবহার করে পরিবেশ বিনষ্টকারীরা ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। এই অপতৎপরতার রুখে দিতে হবে। বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মুনাফা শিকারিদের কাছে এখন সব কিছুই পণ্য হয়ে গেছে। নদী, পানি, কৃষি, বন, সমুদ্র সবকিছুই তাদের লুটপাটের ক্ষেত্র। বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ভারতের সমাজকর্মী ডা. ভাসুদেব কুরুপ প্রসাদ, নেপালের তিলকরাজ ভাণ্ডারী, শ্রীলংকার শানিকা হাসিনি সিলভা, প্রকৌশলী সুব্রত সরকার প্রমুখ। | 6 |
এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার নাজমুল আলম রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ শুক্রবার বিকেলের দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আইনজীবীরা তাঁর জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।এর আগে গত ২৯ আগস্ট নাজমুল আলম রাসেলকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগের দিন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।উল্লেখ্য, মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মো. তাহেরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ১৬ আগস্ট রাতে প্রতারণার মামলা করেন। আসামিরা হলেন সোনিয়া মেহজাবিন, মাসুকুর রহমান, আমানুল্লাহ, বিথী আক্তার, কাওসার ও ই-অরেঞ্জের সব মালিক। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে কতজন মালিক রয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়নি মামলায়।দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে আবু তাহের ই-অরেঞ্জে বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো পণ্য পাননি। প্রায় এক লাখ ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁদের পণ্য দেয়নি এই প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে ই-অরেঞ্জ ১১ শ' কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। মামলা দায়েরের সময় আরও যাদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন উপস্থিত ছিলেন।এই মামলার আসামি সোনিয়া মেহজাবিন, মাসুকুর রহমান ও আমানুল্লাহকে গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
রাস্তা পাকাকরণের জন্য খোয়া বিছিয়ে সাত মাস ধরে লাপাত্তা ঠিকাদার। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ছয় গ্রামের শত শত মানুষ।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ফরিঙ্গাদীঘি বাজার থেকে ৫০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তাটির পাকাকরণের কাজ পায় ঠাকুরগাঁওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল ইকোয়ান ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। গত বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ২০ মার্চের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু এখনো রাস্তায় খোয়া বিছানোই আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের খোয়া বিছানো হয়েছে।গতকাল রোববার দেখা গেছে, ফরিঙ্গাদীঘি বাজার থেকে রাস্তা পাকাকরণের জন্য ৫০ থেকে ১৫০ মিলি খোয়া বিছিয়ে রাখা হয়েছে। খোয়াগুলোতে রোলার না করায় এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পথচারীদের সাইকেল-মোটরসাইকেলে করে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর সবুর বলেন, 'রাস্তাটি খোয়া বিছিয়ে রোলার না করায় আমাকে মোটরসাইকেলের দুটি টায়ার পরিবর্তন করতে হয়েছে। সাত মাস ধরে বিনা রোলারে খোয়া বিছিয়ে রেখেছে। খননকাজ মিলিয়ে প্রায় দুই বছর হয়ে গেল। তবু পাকাকরণ শেষ হচ্ছে না।'পথচারী মিজান, কাদের ও আনোয়ার বলেন, 'আমরা হেঁটে যেতে পারি না। ইটের খোয়ার ওপর পা পড়লেই পিছলে যায়। একটু অসাবধান হলে পা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করি। আমাদের এই কষ্ট দূর করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কাজটি শেষ করা হয়।'ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাস্তা নির্মাণের কাজটি দেখভাল করছেন রানীশংকৈল পৌরসভার কাউন্সিলর ঠিকাদার মিঠু ইসলাম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'রাস্তায় খোয়ার কাজ শেষ করে খুব শিগগির কার্পেটিং করা হবে।' তবে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।ওই সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল গণি বলেন, কাজটি শেষ করার কথা ছিল গত ২০ মার্চের মধ্যে, কিন্তু ঠিকাদার এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী কে এম সাব্বিরুল ইনামের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কলটি কেটে দেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.