text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আমির হোসেন আমুর সঙ্গেবৃহস্পতিবার বিকেলেএক বৈঠকের পরমিলনের নির্বাচনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাপা মহাসচিবমসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের মহাজোট জাতীয় নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবেইআমরাপ্রার্থী দেব।' বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাপা প্রার্থী মিলন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। তবে বিকেলে জাপা মহাসচিব সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মিলনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে আসছিল জাতীয় পার্টি। এরই ধারাবাহিকতায় দলটি ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনেসাবেক সেনা কর্মকর্তা জি এম কামরুল ইসলাম এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচনেসাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনকে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষেসিটি করপোরেশনের ভোটার না হওয়ায় ঢাকা উত্তরেজাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম কামরুল ইসলামেরমনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।পরে আপিল করলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি কামরুল। | 9 |
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের নিজামপুর কলেজের পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধ ঘেঁষা সাহেরখালী ইউনিয়ন। এখানকার একজন কৃষক মো. ছাবের আহমেদ। পাঁচ-ছয় বছর আগেও এক কানি জমিতে চাষ করেছেন। কিন্তু এখন জোয়ারের পানি ঢুকে লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ায় ফসল ফলাতে পারছেন না। তাঁর জমি বেশির ভাগ সময়ই অনাবাদি পড়ে আছে।শুধু সাহেরখালী নয়, মিরসরাইয়ের ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়ন, ৬ নম্বর ইছাখালী, ৮ নম্বর দুর্গাপুর ও ১০ নম্বর মিঠানালাসহ উপকূলীয় ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, অনেক কৃষক চাষাবাদ বাদ দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন জমিতে লবণাক্ততা নিয়ে গবেষণা করা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, উপকূলবর্তী মিরসরাই, ফেনীর সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ডে ৩০ হাজার একর জমিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লবণাক্ততা পেয়েছেন তাঁরা।যেখানে বর্তমানে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। লবণাক্ততার কারণে পুরো জায়গাজুড়ে কোনো ফসল হতো না।একইভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়াও উপকূলবর্তী এলাকায় লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ছে। ফলে অনেক জমিতে আগে চাষ হলেও বর্তমানে ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকেরা। বিশেষ করে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ফসল ফলালেও সেগুলো মরে যাচ্ছে। ফসল ফলাতে না পারলেও পরিত্যক্ত জমিতে লবণের চাষ করা হচ্ছে।গবেষকেরা বলছেন, শুধু আবাদি জমি নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের পর সমুদ্রের পানি ওপরে উঠে আশপাশের এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। এতে ভয়াবহ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য। একই কারণে বৃষ্টিও অনিয়মিত হয়ে যাওয়ায় পরিবর্তন হয়ে গেছে ফসল উৎপাদনের মৌসুমও।মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগর কোলঘেঁষা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের ১৯টি জেলায় জমির পাশাপাশি, নদ-নদী, খাল-বিল, এমনকি পুকুরেও লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লবণাক্ততার কারণে শুকনো মৌসুমে ফসল চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসিবি) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অধিপরামর্শ এবং গবেষণাকাজে সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা এবং অধিপরামর্শ ব্যবস্থাপক ড. মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সমগ্র অঞ্চলেই লবণাক্ততার প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অরক্ষিত বাঁধের কারণে লোনাপানির প্রভাবে উপকূলীয় কৃষিতে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রচলিত আবাদি ফসলের ফলন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষিজীবী অনেক সময় কাজ হারিয়ে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি দিচ্ছেন। সচেতনতা বৃদ্ধিসহ লবণাক্ত-সহিঞ্চু কৃষি প্রজাতির মাধ্যমে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। লবণাক্ততার এ হুমকি মোকাবিলায় স্থানীয় এবং বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা উদ্যোগী না হলে এ সমস্যা কোনোভাবেই সমাধান সম্ভব নয়।হালদা-কর্ণফুলীও হুমকির মুখেহালদা নদীর পাশে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট। এই এলাকার মৎস্যজীবী আনোয়ারুল ইসলাম। বিনাজুরী ইউনিয়নের কাগতিয়া কাশেমনগর এলাকার মৎস্যজীবী রতন কান্তি। গহিলা ইউনিয়নের কোতোয়ালি এলাকার শুক্কুর মাঝি। এঁদের সবার বয়স ৫০-৬০ বছরের কাছাকাছি। হালদা নদীপারে তাঁদের গড়ে ওঠা, হালদা ঘিরে তাঁদের জীবন।মৎস্যজীবী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ১৯৯০ সালের আগে থেকে হালদাতে মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করছেন। ওই সময়ে প্রচুর মাছ ছিল নদীতে। শুধু মাছের পোনা ধরার মৌসুম থেকেও অনেক আয় হতো তাঁদের। ২০১০ সালের আগপর্যন্তও তাঁদের পোনা ও মাছ পেতে সমস্যা হতো না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাছ ও পোনা পাচ্ছেন না।হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, ২০০১ সালে হালদা নদী থেকে ৪৭ হাজার কিলোগ্রামের বেশি মাছের ডিম আহরণ করেছিল জেলেরা। চলতি বছর আহরিত হয় মাত্র ৮ হাজার কেজি ডিম।হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ আর লবণাক্ততার কারণে মাছ ও মাছের ডিম বলতে গেলে হারিয়েই যাচ্ছে। এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, ঘূর্ণিঝড়, নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে হালদা নদী নিজের সক্রিয়তা হারাচ্ছে।কর্ণফুলী নদীতেও লবণাক্ততার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, দিন দিন লবণাক্ততা বাড়ায় এই অঞ্চলের মানুষ অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। | 6 |
করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাকে বহনকারী গাড়ি মঙ্গলবার রাত ১০টা ১ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করে। এর আগে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তার গুলশানের বাসভবন থেকে গাড়িটি বের হয়। চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা যায়, পরীক্ষা করানোর পর রাতেই গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন খালেদা জিয়া। এর আগে গত শনিবার খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গত ১০ এপ্রিল তিনি নমুনা দেন। ওই রাতেই ফল করোনা পজিটিভ আসে। পরদিন বিকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
নতুন একটি অ্যান্টিবডি দিয়ে করোনা চিকিৎসায় দারুণ সফলতা পেয়েছেন ভারতের চিকিৎসকেরা। উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগের পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এই দুই রোগীর মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁর বয়স ৩৬ বছর। অন্যজনের নাম আর কে রাজদান। তাঁর বয়স ৮০ বছর। প্রচণ্ড জ্বর, কাশি, দুর্বলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী। উপসর্গ দেখা দেওয়ার ষষ্ঠ দিনে তাঁর শরীরে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয়। এর পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয় এবং হাসপাতাল ছাড়ার ছাত্রপত্র দেওয়া হয়। আর কে রাজদানের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রচণ্ড জ্বর ও কাশি ছিল। তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৯৫ শতাংশের কম। তাঁর অবস্থা ছিল মাঝারি পর্যায়ে। উপসর্গের পঞ্চম দিনে তাঁকেও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দেওয়া হয়। পরে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। হাসপাতাল ছাড়ার অনুমোদন পান। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট পূজা খোসলা বলেন, উপযুক্ত সময়ের মধ্যে রোগীর দেহে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হলে তাৎপর্যপূর্ণ ফল পাওয়া পেতে পারে। অন্য রোগে উচ্চঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো খারাপ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে এই অ্যান্টিবডি। রোগের অবনতিও রোধ করা সম্ভব। এটা করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েড ও ইমিউনোমডিউলেশন ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে। করোনা রোগীদের শরীরে স্টেরয়েড ব্যবহারে ভারতে ছত্রাকের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। | 4 |
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ৭শ কোটি টাকা পাওনার দাবিকে 'টোটালি রাবিশ' বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেছেন, 'পাকিস্তান আমাদের কাছে কোনও টাকা পায় না। উল্টো আমরাই তাদের কাছে টাকা পাব। তাদের এই দাবি ননসেন্স।'
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'পাকিস্তান একটি বর্বর জাতি। টাকা পাওয়ার দাবি করে তারা নির্বোধের মতো কাজ করেছে। উল্টো বাংলাদেশ তাদের কাছে টাকা পাবে। এ বিষয়ে অনেক ডকুমেন্ট আছে। তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ডকুমেন্ট নেই।'
পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনার পরিমাণ কত হতে পারে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'অংকটা নিশ্চিতভাবে তিনি বলতে পারছেন না। তবে তা সর্বনিম্ন দেড় বিলিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার ( ৪০ হাজার কোটি টাকা) হতে পারে। পাকিস্তানকে বহুবার টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এড়িয়ে গেছে।'
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,'পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করার মতো এখন আর কিছুই নেই। আমরা এখন ওদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছি।'
আইএমএফের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রধান ব্রেন জে এতকেইনেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আইএমএফের লোকজন বলেছে, অর্থনীতি ভাল চলছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। বিশেষত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা পায় তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের কথা তারা উল্লেখ করেছেন।'
| 6 |
ভারতের একটি রিয়েলিটি মিউজিক শো থেকে উঠে আসেন সঙ্গীত শিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য এই শিল্পীকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থামছেই না। তবে গান দিয়ে যে শিল্পীর জন্ম এবার সেই 'গান বাজনা' ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।রোববার তার গান ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণারকিছুক্ষণের মধ্যে আরেক পোস্টে নিজের মৃত্যুর তারিখ জানালেন নোবেল। রোববার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নোবেল তার মৃত্যুর তারিখজানান। পোস্টে তিনি লেখেন, 'নাম: মাইনুল আহসান নোবলে। জন্ম: ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭। মৃত্যু: ১৮ মে, ২০২১। বয়স: ২৩ বছর'। এরই কিছুক্ষণ আগে আরেক পোস্টে নোবেল লিখেছেন, 'গান বাজনাকে ইতি। মেহেরবান রিলিজ হইলে হইলো, না হইলে নাই। কিন্তু যারা আমার পেছনে লাগতেসে, এগুলারে দেখবো আজকের থেকে। বেয়াদব না? ঠিকাছে। সিনিয়র জুনিয়র, সব। আসো খেলি! গোপালীর খেল শুরু। শালা বি এন পি তাই না? দেখি কেমনে টিকিস।' গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল পরিচিতি পেয়েছেন জি বাংলার সংগীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো সারেগামাপা থেকে। কভার করেছেন দেশের লিজেন্ডদের গান। রাতারাতি খ্যাতি পেয়ে যান নোবেল।খ্যাতি পাওয়ার পর একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে পোস্ট, দেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, লিজেন্ড শিল্পীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন নোবেল। সবশেষ সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধকে বাঁচানোর মিথ্যা গল্প শুনিয়েছিলেন। এরপর নগর বাউল জেমসকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুকে 'চোর' বলেও উল্লেখ করেছেন নোবেল। যদিও নোবেল দাবি করছেন, তার ফেসবুক হ্যাক হয়েছে। তবে পুরোপুরি নয়, আংশিক। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ান নোবেল। গানের সুর ও সংগীতায়োজনের মালিকানা নিয়ে সংগীত পরিচালক আহমেদ হুমায়ূনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি। | 2 |
করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিক আহাম্মদ মারা গেছেন। আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৪টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর। ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ ১০ম বিসিএস ফোরামের সদস্য এবং প্রশাসন ক্যাডারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 4 |
পরিশ্রম করলে সাফল্য এক সময় না একসময় ধরা দেবেই। কঠোর পরিশ্রম যে সাফল্য এনে দেয় তার ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে বিশ্বজুড়ে। তেমনই ভারতের গুরুগ্রামের নারীর কাহিনিও চমকে দেওয়ার মতো। একটা ঠেলাগাড়ির মালিক থেকে কীভাবে একটি রেস্তরাঁ এবং কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠলেন ওই নারী, আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই গল্প। 'ঊর্বশী'জ ছোলা-কুলচা'। গুরুগ্রামের বেশ পরিচিত একটি নাম। এই দোকানেরই মালিকের ঊর্বশী যাদব। রাস্তার পাশে ছোট একটা ঠেলাগাড়িতে ছোলে-কুলচা বিক্রি করতেন ঊর্বশী। এখন এক রেস্তরাঁর মালিক তিনি সম্পত্তি বলতে রয়েছে ৩ কোটির বাড়ি। এসইউভি-ও রয়েছে তার। একটু অবাক লাগছে, তাই না? তবে ঊর্বশী কিন্তু স্বেচ্ছায় এই পেশায় আসেননি। পরিস্থিতিই তাকে টেনে এনেছিল এই ব্যবসায়। সম্ভ্রান্ত পাঞ্জাবি পরিবারের মেয়ে ঊর্বশী। স্নাতক স্তর শেষ দিল্লিতে একটি নামী রেস্তরাঁয় অফিস এগজিকিউটিভ-এর কাজ নেন। পরে সেই কাজ ছেড়ে দেন। ২০১০ সালে অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর সদস্যের ছেলে অমিত যাদবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। অমিত একটি নামী রিয়েল এস্টেট সংস্থায় ম্যানেজারের কাজ করতেন। ২০১০ সালেই ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অমিতের একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ঊর্বশী ফের সিদ্ধান্ত নেন কাজ শুরু করার। স্কুলশিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৩ সালে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। সব কিছুই এ পর্যন্ত ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তার জীবনে ভয়ঙ্কর অন্ধকার নেমে আসে। সেই বছর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন অমিত। বাধ্য হয়ে তাকে কাজ ছাড়তে হয়। এদিকে সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার চালানো- সব কিছুই ঊর্বশীর ঘাড়ে এসে পড়ে। এখান থেকেই তার জীবনটা অন্য খাতে বইতে শুরু করে। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার ভালভাবে চালানোর জন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে ব্যবসায় নামার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। কিন্তু কিসের ব্যবসা করবেন স্থির করতে পারছিলেন না। কোনও রেস্তরাঁ বা বিউটি পার্লার খোলার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। কিন্তু এত টাকা পাবেন কোথায়? ফলে তা ভেস্তে যায়। একদিন ঊর্বশী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই তার চোখে পড়ে রাস্তার ধারে ঠেলাগাড়িতে এক ব্যক্তি ছোলা-কুলচা বিক্রি করছেন। তার সঙ্গে কথা বলে এই ব্যবসা সম্পর্কে সব কিছু জেনে নেন। বিষয়টা অমিতকে গিয়ে বলার পর তিনি একটু আশ্চর্যই হন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউ রাস্তায় ছোলে-কুলচা বিক্রি করবে, তা হয় না কি! পরিবারের অনেকেই রাজি ছিলেন না এই কাজে। এক প্রকার সকলের অমতেই ব্যবসাটা শুরু করেন ঊর্বশী। ঠেলাগাড়ির নাম দিলেন 'ঊর্বশী'জ ছোলা-কুলচা'। ঊর্বশী বলেন, "প্রথমে আমার পরিচিত আত্মীয়রা ভেবেছিলেন, তিন মাসের বেশি চালাতে পারব না এই ব্যবসা। কিন্তু মাস দেড়েকের মধ্যেই প্রচুর গ্রাহক আসতে শুরু করে। এর পর ঊর্বশীর এই ঠেলাগাড়ির খাবার সম্পর্কে কোনও গ্রাহক ফেসবুকে শেয়ার করেন। ব্যস! তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দিনে আড়াই-তিন হাজার টাকা উপার্জন করতেন, জানান ঊর্বশী। সকাল সাড়ে ৮টায় দোকান শুরু করতেন। বন্ধ করতেন বিকাল সাড়ে ৪টায়। এভাবেই কোটিপতি হয়ে যান ঊর্বশী। সূত্র: আনন্দবাজার | 3 |
আফগান সাংবাদিক হামিদ সেঘানিকে হত্যার দায় নিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গতকাল রোববার আইএস এ হত্যার দায় স্বীকার করে। গত শনিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বোমা হামলায় নিহত হন হামিদ। হামলার বিষয়ে আইএসের আফগান শাখা টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতিতে আইএস দাবি করে, শনিবার কাবুলের দাশত-ই-বারচি উপশহরে একটি মিনিবাসে বোমা হামলা হয়। হামলায় সাংবাদিক হামিদ নিহত হন। আইএসের দাবি, তাদের চালানো হামলায় ২০ জন শিয়া হতাহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক রয়েছেন। দাশত-ই-বারচি এলাকাটি শিয়া হাজারা সম্প্রদায় অধ্যুষিত। আফগানিস্তানে শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের লোকজন কয়েক বছর ধরে আইএসের হামলা শিকার হয়ে আসছে। হামিদ আফগানিস্তানের একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক ছিলেন। তিনি আরিয়ানা নিউজ টেলিভিশন নেটওয়ার্কে কাজ করছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে একাধিক রক্তক্ষয়ী হামলা চালায় আইএস। এই হামলার অধিকাংশই হয়েছে দেশটির নানগারহার প্রদেশে। প্রদেশটি আইএসের ঘাঁটি বলে পরিচিত। | 3 |
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৫০ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন সকাল ৮টায় শহরের গোয়ালচামটস্থ স্মৃতিস্তম্ভে ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শুরু হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
অপহৃত দিনমজুর হাবিবুর গাজী ওরফে হাবিবকে (২০) উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি, আদালতে মামলা করা হয়। এর পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার সন্ধান পেতে মাঠে নামে পুলিশ। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় প্রায় এক বছর পর গত ৭ মার্চ অপহৃত হাবিবুরকে সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল গোলাবাড়ি রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে হাবিবুরকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, অপহৃত হাবিবুর পাইকগাছা উপজেলার রেজ্জাকপুর গ্রামের অপুর গাজীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল ইটভাটায় কাজ দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করা হয় তাকে। সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার দেওয়ানা পাড়া গ্রামের মফিদুল বিশ্বাস (৩০) ও জাফর বিশ্বাসের ছেলে শাওয়ান বিশ্বাস (২৫) হাবিবুরকে কাজ দেওয়া কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে হাবিবুরের খোঁজ মিলছিল না। এ ঘটনায় তার বাবা অপুর গাজী প্রথমে পাইকগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। পরে ১ ডিসেম্বর পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেটেটের আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করলেও অপহৃতকে উদ্ধার করতে পারেননি। তবে অপহরণ মামলার আসামি শাওয়ানের কাছ থেকে অপহৃতের একটি মোবাইল নম্বর পান। ওই মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছেন। ইতোমধ্যে অপহৃত হাবিবকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনও মানষিকভাবে অসুস্থ। তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাবিবুরের বাবা অপুর গাজী জানান, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের ঐকান্তিক সহায়তায় তার ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন। এজন্য তিনি খুব খুশি। | 6 |
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, তেহরানকে অভিযুক্ত করার বদলে ব্রিটেনের উচিত সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা। সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ইরান জড়িত বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অভিযোগ করার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি একথা বলেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকারের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। রিয়াদ সরকারের কাছে লন্ডন প্রাণঘাতী নানা ধরনের অস্ত্র বিক্রি করছে যা দারিদ্র্যপীড়িত ইয়েমেনের নিরপরাধ জনগণকে হত্যার কাজে ব্যবহার করছে সৌদি আরব। সোমবার দিনের প্রথমভাগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনায় যে হামলা হয়েছে তার পেছনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান জড়িত। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
সদ্য অব্যাহতি পাওয়া দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজবকে আরও পাঁচ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদল নেতাকে হত্যার মামলায় তাকে সাতদিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (কাহারোল-বোচাগঞ্জ) মোছাম্মত শারমীন আক্তার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত সোমবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইছাত্রকে হত্যা মামলায় আবু ইবনে রজবকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। গত ১১ জুন দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় নিজ মালিকানাধীন হোটেল আফিয়া ইন্টারন্যাশনাল থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রজবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রকে হত্যা ও বোচাগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। গত ১৫ জুন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় সংসদ। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বোচাগঞ্জ উপজেলার সুকদেবপুর চৌরাস্তামোড় নামক এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর রহমান মনজু। পরে তাকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ওবায়দুর রহমান ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এছাড়া ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া শহীদ নুর হোসেন হলে ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হত্যার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ঘেরাও করেন। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। | 6 |
আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং টিপুকে অনুসরণকারীসহ ৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং অনুসরণকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান র্যাব মুখপাত্র। | 6 |
বলিউডে অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ছবি উপহার দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন আব্বাস-মাস্তান জুটি। এ জুটির সর্বশেষ ছবি ছিল 'মেশিন'। ওই ছবির মাধ্যমেই অভিষেক হয়েছিল আব্বাসের ছেলে মুস্তফার। এবার মানি হাইস্টের রিমেক দিয়ে ৫ বছর পর পরিচালনার ফিরছেন তারা। পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মানি হাইস্টের বলিউড রিমেকে জনপ্রিয় চরিত্র প্রফেসর আলভারো মর্তের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে আলোচিত অভিনেতা অর্জুন রামপালকে। রিমেক হলেও আব্বাস-মাস্তানের নিজস্ব স্টাইলের ছাপও থাকবে তাতে।
সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী অধিকারকর্মী আগনেস চৌ সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি পেয়েছেন। প্রায় সাত মাস কারাগারে কাটানোর পর স্থানীয় সময় আজ শনিবার মুক্তি পান তিনি। ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়েছিল তাঁকে। ২৪ বছর বয়সী এই বিক্ষোভকারী আরেক গণতন্ত্রপন্থী অধিকারকর্মী জোশুয়া ওংয়ের সঙ্গে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালের বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের পাশে মিছিল-সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগে ১০ মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল তাঁদের। জোশুয়া এখনো কারাগারে আছেন। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে চৌকে। তবে তাঁকে কেন আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। হংকংয়ের কারেকশনাল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট কোনো একজন ব্যক্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শনিবার সকালে হংকংয়ের নিউ টেরিটরি ডিস্ট্রিক্ট তুয়েন মানের তাই লাম কারেকশনাল ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়া পান চৌ। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংযোগ থাকার অভিযোগ এনে নিরাপত্তা আইনের আওতায় গত বছর চৌকে এক দফা আটক করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। আটকের আগে চৌ কয়েকবার জাপান সফর করেছিলেন। তিনি জাপানি ভাষায় পারদর্শী। জাপানের গণমাধ্যম তাঁকে 'গণতন্ত্রের দেবী' আখ্যায়িত করেছে। | 3 |
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-জর্জিনা রদ্রিগেজের সংসারে আছে চার সন্তান। তবু যেন অতৃপ্তি আছে দুজনেরই। সেই অতৃপ্তি থেকেই এই জুটির সংসার বড় হচ্ছে আরও। নিজেদের সংসারে যমজ সন্তান আগমনের ঘোষণা দিয়ে রোনালদো-জর্জিনা জুটি জানিয়ে দিয়েছেন ছয় থেকে তাদের পরিবারের সংখ্যাটা আট হচ্ছে দ্রুতই।ইনস্টাগ্রামে একসঙ্গে যমজ সন্তানের আলট্রাসনোগ্রাফির একটি ছবি পোস্ট করেছেন রোনালদো ও জর্জিনা। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, 'আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি আমাদের সংসারে আসছে যমজ সন্তান। আমাদের হৃদয় এখন ভালোবাসায় পরিপূর্ণ-তোমাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য তর সইছে না।'আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার সঙ্গে ২০১৬ সালে মাদ্রিদে পরিচয় রোনালদোর। দুজনের পরিণয়ের আগে ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের বাবা হয়েছেন ম্যানইউ তারকা। এক ছাদে বসবাসের পর সারোগেট পদ্ধতিতে অন্য নারীর গর্ভে যমজ সন্তান ইভা ও মাতেওর বাবা হন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। জর্জিনার গর্ভে বাবা হয়েছেন আলানা মার্টিনা নামের ফুটফুটে এক কন্যার।২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানিয়েছিলেন, অন্তত সাত সন্তানের বাবা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে তার। আর জর্জিনা বলেছিলেন, 'অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমার মাতৃত্ববোধ অত্যন্ত প্রবল। আমি আরও সন্তান চাই।' সেই ইচ্ছা পূরণের পথে দ্রুতই যেন এগোচ্ছেন রোনালদো-জর্জিনা জুটি। | 12 |
গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মালিক সাহেদ। করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির ঘটনার জেরে থলের বিড়াল যেন বের হয়ে আসছে এক এক করে। অবৈধ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সাহেদের চরিত্রের খোলস, সাহেদ তৈরি হয়েছে কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব নিয়ে প্রশ্ন সব দিকে। সাহেদের আলোচনাকে বেশি জমিয়েছে তার তোলা সেলফি। ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা, মন্ত্রী, এমপি, দেশের বড় বড় কর্তাব্যক্তি, সাংবাদিক, প্রশাসন সবার সাথেই ছবি ও সেলফি। ছবি রয়েছে দেশের বড় বড় সাংবাদিকদের সাথে। প্রধানন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এমন ছবিও ভাইরাল হয়েছে সাহেদের। উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছবিগুলো তোলা হলেও তাদের সাথে সাহেদের সম্পর্ক কী, সবার সাথেই তার যোগাযোগ রয়েছে এসব বিষয় নিয়েই যেন সমালোচনা বেশি। রিজেন্ট হাসপাতাল ইসুতে সব কুকর্ম ফাঁস হওয়ার আগে সাহেদ ছিল একজন নিয়মিত টকশো আলোচক। দেশের জনপ্রিয় সব মেইন স্ট্রিমের টেলিভিশনগুলোর জনপ্রিয় টকশোগুলোতে সাহেদ অংশ নিয়ে জাতির উদ্দেশে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। শুনিয়েছেন নানা নীতিকথা। তখন হয়তো বুঝার উপায়ই ছিল না যে, যে ব্যক্তি কথা বলছে তিনি নিছক একজন প্রতারক ছাড়া কিছু নয়। ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সাহেদের টকশোতে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ। এসব বক্তব্যে সাহেদের মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে বিভন্ন নীতিকথা, যেসব কথার সাথে তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বিপরীত। একটি টেলিভিশনের টকশোতে দেয়া সাহেদের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, তিনি ক্যাসিনো ইসুতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি ওই বক্তব্যে বলেন, 'আপনি যতোই প্রধানন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হন না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না'। ক্যাসিনো ইসুতে যুবলীগের নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার ও সেসময়ে তালিকাভুক্ত করে অনেক নেতাকেই বিচারের আওতায় আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়ের বক্তব্য ছিল এটি। সাহেদের এমন বক্তব্য তখন একজন ভালো মানুষ হিসেবে হলেও, বর্তমানে সাহেদ দেশের সবার কাছে পরিচিত একজন বড় প্রতারক হিসেবে। সাহেদের সে বক্তব্য যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে বড় বিপদেই পড়তে যাচ্ছে সাহেদ। নিজের ব্যক্তব্যের সাথেই মিল রেখেই বিচারের আাওতায় আসতে হবে তাকে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থ বিভাগের কৌশলপত্র দেখে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং শিগগির আইন প্রণয়ন করতে বলেছেন। ছয় বছর ধরে আলোচনা চলছে, আর ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে অর্থমন্ত্রীরা প্রতিবারই বাজেটে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হয় হয় করেও কাজের কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে 'সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা' চালু হওয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট আভাস মিলেছে। পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কর্তৃপক্ষও গঠন করা হবে, এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি শিগগির আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থাটি চালু হবে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে। অবশ্য তার আগেই প্রণয়ন করা হবে আইন। তবে সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে এ পেনশনব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে। এ সম্পর্কে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি-বেসরকারিসহ সব ধরনের অনানুষ্ঠানিক খাতের ষাটোর্ধ্ব জনগণের জন্য একটি সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রণয়ন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার কৌশলপত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেন। এটি চালু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একমত হয়েছেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নতুন কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী দেশের আপামর জনগণের জন্য একটি সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা প্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছিলেন। সে আলোকে কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি প্রণয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ ব্যাপারে পরে বিস্তৃত আকারে গণমাধ্যমের কাছে জানাতে পারে। সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু হলে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরাও পেনশনের আওতায় আসবেন। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত থাকা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান রাতে মুঠোফোনে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটি জাতির জন্য উপহার হিসেবে আসবে। সিদ্ধান্ত যেহেতু হয়ে গেছে, সেহেতু এখন আর সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার বাস্তব রূপ দেখতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আশা করি, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে এ ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। শুরুর দিকে ঐচ্ছিক হলেও পরে তা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।' অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারা আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ ব্যাপারে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছিল। তখন এটি আর বেশি দূর এগোয়নি। পরে অর্থ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এ আর এম নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি দল একটি কৌশলপত্র তৈরি করে। এ কৌশলপত্রের মূল বিষয়গুলোই প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন অর্থসচিব। সূত্রগুলো জানায়, বেসরকারি খাতের চাকরিতে নিয়োজিত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী নাগরিকদের কথা মাথায় রেখেই আপাতত সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু করা হবে। এমন চিন্তা করা হচ্ছে যে একটি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য একটি অংশ ব্যয় করবে, কর্মীরা নিজেরা দেবেন একটি অংশ। এই টাকা সরকার কোথাও খাটিয়ে যে আয় হবে, তা থেকে একটা অংশ দুই পক্ষের জমা করা অর্থের সঙ্গে যোগ করে পেনশন দেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়নের শুরুর দিকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে বিশ্বব্যাংক থেকে। আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর বাজেট বক্তব্যে বলেছিলেন, দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে এবং তাঁদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ অর্থের দরকার, তা বেশির ভাগ প্রবীণেরই থাকে না। ফলে শেষ বয়সে তীব্র অর্থকষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করেন তাঁরা। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ছয় কোটির বেশি কর্মজীবীর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কাজ করেন বেসরকারি খাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ দেশের সব জনগণের জন্য একটি সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করতে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। পেনশনভোগীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে এবং ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সাড়ে ১১ লাখ সরকারি চাকরিজীবী পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। এতে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেশনের কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করে গণকর্মচারী (অবসর) আইন প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৪ সালে। এর মাধ্যমে গণকর্মচারীদের চাকরিজীবনের সর্বশেষ উত্তোলনকৃত বেতনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ (সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ) পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়। সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু হলে এখানেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গেছে। | 0 |
অনেকে দেখে একেবারে দেখে থ! ক্য়াটরিনা কাইফের সঙ্গে এত মুখের মিল কীভাবে? কোথা থেকে এলেন এই মেয়ে? ক্যাটরিনার দূর সম্পর্কের বোন নাকি! আপাতত, এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে চলেছে ক্যাটরিনার ভক্তরা। অন্যদিকে, অবিকল ক্য়াটরিনার মতো দেখতে এই মুম্বাই কন্য়ার ইনস্টাগ্রামে সেকেন্ডে সেকেন্ডে বেড়ে চলেছে ফলোয়ার।নাম আলিনা রাই। থাকেন মুম্বাইয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ অ্যাক্টিভ আলিনা রাই। নিয়মিত ছবি-ভিডিও পোস্টও করেন। নিজেকে মডেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া তারকা নামেই পরিচয় দেন। আর এবার তিনি ক্য়াটরিনার কপি পেস্ট পরিচিতি পেয়ে গেলেন। আলিনা কিন্তু বেশ পরিচিত মুখ। ইনস্টাগ্রাম বলছে, আলিনার ফলোয়ারের সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে। আর ভাইরাল হওয়ার পর তো আলিনার ফলোয়ার বাড়ছে হু হু করে।২০২০ সালে বাদশার একটি গানে দেখা গিয়েছিল আলিনাকে। শুধু তাই নয়, কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি আলিনা। মডেলিং জগতে অবশ্য নামডাক রয়েছে তাঁর। সিনেমায় আসবেন? আলিনা কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একেবারে নারাজ।অন্যদিকে আলিনার এই ছবি দেখে অনেকে আবার বলছেন, নিশ্চয়ই আলিনা সার্জারি করিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, ক্যাটরিনার থেকেও বেশি সুন্দরী আলিনা। | 2 |
নিজের প্রতি অনাস্থা ভোট আনাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র দাবি করে একটি হুমকির চিঠি পকেটে করে ঘুরে বেরিয়েছেন ইমরান খান। জনসভা,সংবাদ সম্মেলন ও জাতির উদ্দেশে টিভি ভাষণেওচিঠিটি হাত ঊঁচু করে দেখিয়েছেন ইমরান। যদিও সেই চিঠিতে কী হুমকি আছে, তা কখনও প্রকাশ্যে আনেননি ইমরান। শেষ পর্যন্ত হুমকিদাতা হিসেবে ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান ডোনাল্ড লু'র নাম উল্লেখ করেছিলেন। ইমরান দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ডোনাল্ড লু বলেছেন, অনাস্থা ভোটে ইমরান টিকে গেলে বিপদে পড়বে পাকিস্তান। পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা করবে না। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'কথিত 'হুমকির চিঠি'র খসড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা। ইমরান জনসভায় চিঠির বিষয়টি তোলার একদিন আগেই কেন তাড়াহুড়ো করে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদকেব্রাসেলসে পাঠানো হল। কেন চিঠিটি সুপ্রিম কোর্ট ও জাতির সামনে পেশ করা হয়নি? আসলে এমন কোন চিঠিই নেই।' মরিয়ম আরও বলেছেন, 'এই চিঠি ছিল একটা নাটক, কেনো রাষ্ট্রদূতকে ওয়াশিংটন থেকে রাতারাতি ব্রাসেলসে পাঠানো হয়েছে। এটা যে নাটক ছিল তা পুরোপুরি পরিষ্কার।'
সূত্র: ডন
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চিকিৎসা সেবা শেষে অবমুক্ত করা হয়েছে ১৯টি শকুন। উপজেলার সিংড়া শালবন জাতীয় উদ্যানে দেশের একমাত্র শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গতকাল শনিবার শকুনগুলো অবমুক্ত করা হয়।বগুড়া অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে শকুন অবমুক্ত উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন।শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রের মুখ্য গবেষক সারওয়ার আলম দিপুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান বন সংরক্ষক গোবিন্দ রায়, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিদ মজুমদার বাবু, দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাদের প্রমুখ।বক্তারা বলেন, 'গত ২০২১ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটক হওয়া বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির শকুন উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় এই পরিচর্যা কেন্দ্রে। এখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার পর শকুন ছেড়ে দেওয়া হয় প্রকৃতির মুক্ত হাওয়ায়। ২৬টি শকুন উদ্ধার করা হলেও সাতটি ২/৪ দিন পরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। পাঁচ মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া ১৯টি শকুন গতকাল অবমুক্ত করা হলো।'বন্যপ্রাণী সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম জানান, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) প্রকল্পের আওতায় বীরগঞ্জের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রটি উত্তর বঙ্গে প্রথম। ২০১৬ সালে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রচণ্ড শীতের কারণে হিমালয় থেকে আসা দেশের আটটি জেলায় আটক হওয়া শকুন উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। শকুনের বংশ বিস্তার ও অস্তিত্ব রক্ষায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। | 6 |
সব প্রস্তুতি নিয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির পারস্পরিক লেনদেনের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানোর সেবা চালু করতে পারেনি। যদিও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে বিকাশ টু রকেট, বিকাশ/রকেট টু ব্যাংক-এভাবে টাকা স্থানান্তরের এই সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালুর কথা ছিল। এখন কবে নাগাদ সেবাটি চালু হবে, তা বলতে পারছে না আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ, উপায়ের গ্রাহকেরা একে অপরের মধ্যে লেনদেন করতে পারছেন না। আবার সব ব্যাংকের সঙ্গেও লেনদেন করা যাচ্ছে না। এদিকে একই ধরনের সেবা চালুর জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তারা সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। এরপর ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) সেবা নিতে ৫৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯ টাকা অনুমোদন করা হয়। প্রতিষ্ঠান চারটি হলো অরিয়ন ইনফরম্যাটিকস লিমিটেড, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনটেক সলিউশন লিমিটেড ও সেইন ভেঞ্চারস লিমিটেড (জেভি)। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিবর্তে আইডিটিপির মাধ্যমে এই সেবা চালু হবে। তবে সেবাটি থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে। বিনিময় অ্যাপের মাধ্যমে মিলবে সেবাটি। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইতিমধ্যে আইডিটিপি সেল গঠন করা হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ এগিয়েও নিচ্ছে। কিন্তু সেবাটি চালু নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা চূড়ান্ত করলেও সেবাটি চালু করতে পারিনি। একই ধরনের সেবা চালুর জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ বেশ কিছু চাহিদা দিয়েছে। নতুন প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে, যাতে আরও অনেক সেবা যুক্ত হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে সেবাটি।' সেবাটির পরিধি নিয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আইডিটিপি ডিজিটাল অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আন্তবিনিময় যোগ্যতা, কম খরচ, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন লেনদেনে অংশগ্রহণকারী গ্রাহক, মার্চেন্ট, অর্থ প্রদানকারী ও গ্রহণকারী, পেমেন্ট প্রসেসর, ই-ওয়ালেট, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনের সেতুবন্ধন তৈরি করবে। এটি হবে একটি প্ল্যাটফর্ম সেবা, যার অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস বা এপিআই ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন, স্থানান্তর, ই-কমার্স, এম কমার্স, বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট, রেমিট্যান্স আদান-প্রদান, মেশিন টু মেশিন পেমেন্ট করা যাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে, যা ক্যাশ লেস সোসাইটি তথা নগদ লেনদেনবিহীন সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। বর্তমানে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানো যায় না। তবে ব্যাংক থেকে এমএফএসে ও এমএফএস থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠানো সীমিত আকারে চালু হয়েছে। | 0 |
আশুগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয় বছরের ছেলে জুবায়ের, তার বাবা মকবুল, বড় ছেলে জয় ও রেখার গর্ভে থাকা সন্তানের পর এবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন অগ্নিদগ্ধ রেখা। এই ঘটনায় রেখাসহ মকবুলের পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে একের পর এক চলে মারা গেলেন পরিবারের সবাই। এ নিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।গতকাল সোমবার রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখার মৃত্যু হয়। নিহত মকবুলের চাচা মমিনুল ইসলাম রেখার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আগুনে পুড়ে শিশুর মৃত্যু, অগ্নিদগ্ধ পরিবারের আরও ৩ জননিহত মকবুলের চাচা মো. মমিনুল ইসলাম জানান, সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের শেষ সদস্য মকবুলের স্ত্রী রেখাও মৃত্যুবরণ করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলা সদরের শরীয়তনগর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহত মকবুল হোসেনের ছেলে জুবায়ের (৬) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় মকবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩২) এবং তাদের আরেক ছেলে জয় (১২) ও ভবনের বাসিন্দা জামিয়া রহমানসহ ১০ জন দগ্ধ হন।২ ছেলে ও স্বামী হারিয়ে একা হয়ে গেলেন রেখা বেগমতাঁরা মুমূর্ষু অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরের দিন বুধবার বিকেলে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মকবুল হোসেন। এ ছাড়াও মকবুলেল স্ত্রী রেখার গর্ভে থাকা একটি সন্তানও মৃত্যুবরণ করে। গত রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের বড় ছেলে জয় মারা যান। পরিবারের শেষ ব্যক্তি রেখা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। অবশেষে গতকাল রাতে তিনিও মারা যান। | 6 |
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে চাচি-ভাতিজি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ওই নারী প্রার্থীরা হলেন বর্তমান নারী সদস্য চাচি রোকসানা বেগম ও ভাতিজি রেহানা আক্তার ডেইজি।এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান নারী সদস্য রোকসানা বেগম কামড়াখাই গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী। আর রেহানা আক্তার ডেইজি চাঁন মিয়ার সৎ-ভাইয়ের মেয়ে, অর্থাৎ ভাতিজি এবং একই গ্রামের অপু মিয়ার স্ত্রী।চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ওই দুই নারী ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা পান। বর্তমান নারী সদস্যসহ উভয় পক্ষ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে।গত ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে চাচি রোকসানা আক্তার (হেলিকপ্টার) ও ভাতিজি রেহানা আক্তার ডেইজি (তালগাছ) প্রতীকে ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এ ছাড়া ওই ওয়ার্ডের একই গ্রামের মতিউর রহমানের স্ত্রী সুহেনা বেগম (মাইক) প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে চাচি-ভাতিজির ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।চাচি রোকসানা আক্তার বলেন, 'গত পাঁচ বছর জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। সে জন্য এবারও জনগণের ভালোবাসায় এবং এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচনে নেমেছি।' কাউকেই প্রতিপক্ষ ভাবেন না তিনি।ভাতিজি রেহানা আক্তার ডেইজি বলেন, 'বিরোধ কিংবা প্রতিযোগিতা নয়, জনগণের সেবা করতে নির্বাচনে এসেছি।' | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২০ মাস ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনি কারও আনুকূল্য চান না, তিনি প্রাপ্য অধিকারে জামিন চান।' আজ বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে 'বহিরাগত' তত্ত্ব তুলে রাজনৈতিক ঝড় তুলেছিলেন। রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের আশায় সোচ্চার ছিল বিজেপি। সে লক্ষ্যে বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচারে এনেছিল বিজেপির নেতা-নেত্রীদের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত এসেছিলেন। এটা মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল। তৃণমূল আঞ্চলিক দল হলেও সেভাবে দেশব্যাপী রাজনৈতিক খুঁটি বসাতে পারেনি। তাই তৃণমূল নির্বাচনের প্রচারে 'বহিরাগত' তত্ত্ব সামনে আনে। স্লোগান তোলে, বহিরাগত নয়, ভূমিপুত্ররাই হটিয়ে দেবেন বহিরাগতদের। এ কারণে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রচারে কড়া অবস্থান নেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গে একটি লোকসভা ও একটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন হচ্ছে-বর্ধমানের আসানসোল লোকসভার আসন এবং দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা আসন। আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় আসন শূন্য হয়। বালিগঞ্জের বিধায়ক ও মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির মৃত্যুতে সেই আসনও শূন্য হয়। দুটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সেই উপনির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য গতকাল রোববার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। আসানসোলে লোকসভা আসানের প্রার্থী করা হয় বলিউড তারকা শত্রুঘ্ন সিনহাকে। আর বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হয় সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়কে। বাবুল সুপ্রিয় এর আগে বিজেপির সাংসদ ছিলেন; ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। কিন্তু মোদি সরকার গত বছর মন্ত্রিসভায় চার নতুন মুখ আনায় বাদ পড়ে যান বাবুল সুপ্রিয়। আর এ দুঃখে বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি থেকে পদত্যাগ করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যোগ দেন তৃণমূলে। এবার সেই বাবুল সুপ্রিয়কে সাংসদ পদে মনোনয়ন না দিয়ে দেওয়া হয় বিধায়ক পদে। তাঁর ছেড়ে আসা আসানসোলের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয় বলিউড তারকা শত্রুঘ্ন সিনহাকে। শত্রুঘ্ন সিনহা 'বিহারি বাবু' হিসেবে ভারতে পরিচিত। তাঁর জন্ম বিহারের পাটনায়, ১৯৪৬ সালের ১৫ জুলাই। শত্রুঘ্ন সিনহা ছিলেন বিজেপির আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ; রাজ্যসভার সদস্যও। সামলেছেন একাধিক মন্ত্রণালয়। শেষ পর্যায়ে বিজেপির সঙ্গে বনিবনা না হলে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটেই তিনি লড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে। যদিও রাজ্যে প্রচার ছিল আসানসোল আসনে তৃণমূল মনোনয়ন দিতে পারে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। সায়নী ঘোষ আবার ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের মানুষ। অথচ তৃণমূল নিজের রাজ্যের কাউকে প্রার্থী না করে প্রার্থী করেছে, তাদের ভাষায়, এক 'বহিরাগত'কে। তিনি শত্রুঘ্ন সিনহা। আর এ নিয়ে বহিরাগত ইস্যু নতুন করে চাঙা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। | 3 |
ক্যাবল টিভি অপারেটরদের সেট টপ বক্স স্থাপনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ মে) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন। ব্যারিস্টার খন্দকার মোহাম্মদ মুশফিকুল হুদা ভোরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ সময় রাষ্ট্র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল বিপুল বাগমার। | 6 |
গাজীপুরে লেগুনা ও তিনচাকার যানসহ সকল অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে পুলিশ। মহাসড়ক হতে এসব অবৈধ যান উচ্ছেদ করতে শনিবার সকাল হতে জেলায় একযোগে এ অভিযান শুরু করা হয়। গাজীপুরের সিনিয়র এএসপি (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে লেগুনা, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি, সহ সকল অবৈধ তিনচাকার যান বন্ধ করার জন্য গত কয়েকদিন ধরে জেলা পুলিশ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার রাত পর্যন্ত চুড়ান্ত সময় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। শনিবার সকাল হতে পুলিশ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী হতে সালনা এলাকা পর্যন্ত পুলিশের ১০টি টিম এ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানকালে সকল অবৈধ গাড়ি আটক ও জব্দ করে স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া করা হবে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি আরো জানান, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি গত বৃহষ্পতিবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি লেগুনা ও থ্রি-হুইলারসহ সকল অবৈধ যান তিনদিনের মধ্যে বন্ধের জন্য গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম কে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ অভিযান শুরু হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ জেলার প্রায় সবক'টি সড়কে এসব লেগুনা, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ও তিনচাকার যানসহ নানা অবৈধ যানবাহন চালিয়ে আসছে। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে প্রায়শঃ নানা দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও সড়ক মহসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাজীপুরে সদ্য যোগদানকারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। | 6 |
গত ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারী-পুরুষ ও শিশুসহ সর্বমোট ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬ জন বিচারপ্রার্থীকে সরকারিভাবে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর)) সংসদে মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব আনার পর তাকে নিয়ে আলোচনার পর সংসদ মুলতিব করা হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা, সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রার্থীকে অসমর্থ জনগোষ্ঠীর আইনি অধিকার নিশ্চিত কল্পে তাদেরকে আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকার ২০০০ সালে 'আইনগত সহায়তা প্রদান আইন- ২০০০' প্রণয়ন করে। মন্ত্রী বলেন, এই আইনের আওতায় সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং দরিদ্র অসহায় মানুষের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইনি কাঠামোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ সংস্থার অধীনে প্রত্যেক জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়েও এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। চৌকি আদালত গঠিত হয়েছে বিশেষ কমিটি। সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার তত্ত্বাবধানে এসব কমিটির অফিসের মাধ্যমে দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ও বিচারপতি অসমর্থ প্রান্তিক পর্যায়ের বিচারপ্রার্থী ও শ্রমজীবী জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করছে। | 6 |
নড়াইলের কালিয়ায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাস্তার পাশে টাঙ্গিয়ে রাখা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাপড়ের তৈরি নৌকা প্রতীক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়ায় ওই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার রবিউল হাসান ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহামুদুল হাসানের সমর্থকদের দায়ী করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কালিয়া-চাপাইল সড়কের পাশে নির্বাচনী প্রচার উপলক্ষে কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কলাবাড়িয়া গ্রামের মোল্লা নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে কাপড় দিয়ে তৈরি একটি নৌকা টাঙানো ছিল। গত মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় নৌকা প্রতীকটি অজ্ঞাত নামা দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মো. মাহামুদল হাসান কায়েস বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তাঁর সমর্থকদের দিয়ে নৌকার প্রতীকটি পুড়িয়ে দিয়েছে।কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহামুদুল হাসান কায়েস অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তিনি বা তাঁর কোনো সমর্থক ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।উপজেলার নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আর কেউ থামাতে পারবে না। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আজ রোববার সকালে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। আসন্ন নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, 'যদিও সময় এখন সীমিত। আগামীতে ইলেকশন, কী হবে বলতে পারি না! যতক্ষণ আছি ততক্ষণে যা যা প্রয়োজন সেটা করে দিতে পারব, সেইটুকু কথা দিতে পারি।' শেখ হাসিনা বলেন, 'আগামী ইলেকশনে কী হবে তা বলতে পারি না, তবে আমরা যে একটা সিস্টেম করে রেখেছি, এরপর যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আর কেউ থামাতে পারবে না।' ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রপ্তানি বাণিজ্য জোরদার করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি, তাতে আমাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে বিশাল সুযোগ আমাদের সৃষ্টি হবে রপ্তানি বাণিজ্য করার, সেই সুযোগটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।' শেখ হাসিনা বলেন, 'এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে অন্য যে সুযোগগুলো আমরা পাই সেগুলো হয়তো পাব না, তাতে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ, সেভাবেই আমরা আমাদের নীতিমালাসহ সবকিছু প্রণয়ন করেছি।' দল-মতনির্বিশেষে তাঁর দরজা ব্যবসায়ীদের জন্য সব সময় খোলা, এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা দেশ-বিদেশে ঘোরেন, আপনারাও খুঁজে বের করুন কোন দেশে আমাদের দেশের কোন কোন পণ্য রপ্তানি করা যায়।' তিনি বলেন, 'বাজারকে খুঁজে নেওয়া এবং পণ্যটাকে তৈরি করা, সেটাও কিন্তু আপনাদের একটা দায়িত্ব। সেই ক্ষেত্রে যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে, অবশ্যই সরকার হিসেবে আমরা তা করব।' রপ্তানি বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অব্যাহতভাবে রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, '২০০৫-০৬ সালে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 'রপ্তানি খাতে গতিশীলতা আনয়ন ও রপ্তানি বাণিজ্যে আমাদের শিল্পকে প্রতিযোগিতা-সক্ষম করার লক্ষ্যে আমরা রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ প্রণয়ন করেছি, ' বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্পায়ন ছাড়া কোনো জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি হয় না, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইপিজেড তৈরি করা হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। ইপিজেড ও বিসিক স্টেটগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে ও মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গোটা বাংলাদেশ যাতে উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক।' তাঁর সরকার ব্যবসাবান্ধব, তবে, নিজেরা ব্যবসায়ী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি সব সময়ই বলে এসেছি, আমার সরকার ব্যবসা করবে না। ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীগণ। আমরা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব। আমরা আপনাদের সৃজনশীল প্রয়াসে সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি।' প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫টি পণ্যে ২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা প্রদান এবং রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের 'এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ)' সংস্থান করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ইতিমধ্যে অনেকে আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। অন্তত আমি এইটুকু দাবি করতে পারি, যেখানেই আলাপ করেছি সাথে সাথে এই সুযোগগুলো পেয়ে গেছি।' বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি সব সময়ই দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভের বিষয়টি তুলে ধরেন, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এর ফলে আমরা চিলি, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার লাভ করেছি। জাপান ও রাশিয়ায় জিএসপি সুবিধার পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। বাজার বহুমুখী করার জন্য লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশসমূহে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি।' দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'মেয়েরা তো এখন বেশি এগিয়ে এসেছে। তাই আরও ভালোভাবে শিক্ষিত করে, ট্রেনিং দিয়ে একটা শক্তিশালী জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করে তাদের শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও উন্নত করতে পারব। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা ছিল। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন এলএনজি আমদানি শুরু করে দিয়েছি। ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনাল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি ল্যান্ড বেইজ এলএনজি টার্মিনাল করব। যাতে গ্যাসের আর কোনো সমস্যা কোথাও না থাকে। যাতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও সুবিধা হয়।' শেখ হাসিনা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, 'আমি শুধু এইটুকুই বলব, আজকে আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট মজবুত। আমাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প তার ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ২০২১, ২০৪১ এবং ২১০০ ডেলটা প্ল্যান হাতে নিয়েছি। এই ডেলটা প্ল্যান নেদারল্যান্ডস সরকারের সাথে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করব, যার ফলে বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।' বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে 'জাতীয় রপ্তানি ট্রফি' প্রদান করা হয়। | 9 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অধিকতর উন্নয়ন এবং বিশ্বে জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা, ব্যবহার এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। এটি আমাদের জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়। তাই এ ভাষার চর্চা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালি হিসেবে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অন্যান্য গৌরব সমুন্নত রাখবো এবং এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করবো। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আজ বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএলআই) ৪দিনের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর বাসসের শিক্ষামন্ত্রী নুুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং ঢাকায় ইউনেস্কোর প্রধান প্রতিনিধি বি কালদুনও বক্তৃতা করেন। এতে 'লিঙ্গুইস্টিক ডাইভারসিটি এন্ড মাল্টিলিঙ্গুয়ালিজম কাউন্ট ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্রীলংকার ন্যাশনাল কো-এক্সিজটেন্স ডায়ালগ এন্ড অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজের সচিব ডব্লিউএমপিজি বিক্রমসিংগে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ধন্যবাদ জানান আইএমএলআই'র মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, সাংবাদিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। | 6 |
চিত্রনায়িকা পরীমনি ও সাংবাদিক তামিম হাসানের বিচ্ছেদের খবর কারো অজানা নয়। টানা দুই বছর প্রেম করে গত ১৪ এপ্রিল তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিলো কেবল। সামনে যে কোনো ১৪ এপ্রিল তাদের বিয়ে হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেটা আর বাস্তব হলো না। বিচ্ছেদ হলো তাদের। এবার পরীর প্রেম নিয়ে নতুন কানাঘুষা উঠছে মিডিয়া পাড়ায়। আবারও প্রেমে পড়েছেন এই সুন্দরী নায়িকা। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘড়ি পরিহিত দুটি হাতের ছবি পোস্ট করেছেন পরী। ছবির ক্যাপশনে পরী লিখেছেন, 'যে হাত বলে দেয়, ভয় নেই আমি আছি'। ছবিটি পোস্ট করার পরই শুরু হয় পরীর নতুন প্রেম নিয়ে কানাঘুষা। আসলেই কী পরী আবার প্রেমে পড়েছেন? এমন প্রশ্ন নিয়ে যোগাযোগ করা হয় স্বপ্নজালখ্যাত এ নায়িকার সঙ্গে। উল্টু প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন এ নায়িকা। বল্লেন, এই ছবিতে প্রেমের কী দেখলেন? তাবে ছবির হেতু কী সে সম্পর্কে তেমন কিছুই জানাননি তিনি। তবে প্রেম বিষয়ক কিছু না হলেও পরী যে ভরসার কাওকে পেয়েছেন এটা সত্যি। এদিকে এই মুহুর্তে পরীমনি চয়নিকা চৌধুরী নির্মিত প্রথম ছবি বিশ্বসন্দরীতে অভিনয় করছেন। এ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি হয়েছেন সিয়াম-পরী। ছবিটির গল্প লিখেছেন রুম্মান রশিদ খান। | 2 |
নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন। এর ভেতর ৪ নম্বর ওয়ার্ডটি লালপুর এলাকা হিসেবে পরিচিত। জেলার অন্যান্য উপজেলার মানুষ বিশেষ একটি কারণে এ এলাকাটি চিনে থাকেন। আর তা হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার বাসিন্দাদের নৌকার মাধ্যমে চলাচল করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে যেখানে আরসিসি পাকা সড়ক, বর্ষায় সেই সড়ক পরিণত হয় খালে।গত ছয়-সাত বছর ধরে এভাবেই পরিচিতি লাভ করেছে লালপুর। ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রকট। তবে লালপুর সেই সমস্যাকেও ছাপিয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নিচু এলাকা ও বাড়িঘর নির্মাণে অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে থাকেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রতি বর্ষায় পানিতে সড়কের পাশাপাশি বাড়িঘর তলিয়ে যায়। গত বছর এমন ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। পরে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পানি সরানোর জন্য ড্রেজার বসাতে বাধ্য হন নেতারা।সম্প্রতি লালপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা নেই। ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে সাময়িকভাবে নিস্তার পেয়েছেন তাঁরা। তবে সামনের বর্ষায় আবারও জলাবদ্ধতায় ডুববেন কি না, সেই শঙ্কা এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁদের। গত বছরের মতো এবারও ড্রেজার চালু হবে কি না তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। বাসিন্দারা বলছেন, গতবারের ভোগান্তি আর পোহাতে চান না তাঁরা। আগে থেকেই ড্রেজার প্রস্তুত করে পানি নিষ্কাশন করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ফতুল্লায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলেও এবার তাঁরা পেয়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আর তাই, জলাবদ্ধতা নিরসনের গুরুদায়িত্ব জনপ্রতিনিধিরা পালন করবেন এমন প্রত্যাশা তাঁদের।স্থানীয় বাসিন্দা আবিদ হোসেন বলেন, 'লালপুরের জলাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের জন্য ২০২১ সালে কেনা হয় ড্রেজার। প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে ড্রেজার কেনা হয়েছিল। ড্রেজার চালুর তিন দিনের মাথায় কোমর সমান পানি নেমে এসেছিল পায়ের পাতায়। এ ছাড়া আগে থেকেই চলমান ছিল তিনটি শক্তিশালী পাম্প। তবে সেই পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন ছিল অপ্রতুল।'লালপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লালপুরের সড়কগুলো পুরোপুরি শুকনো। বর্ষাকালে এই সড়কে কোমর সমান পানি জমে কিংবা নৌকা চলাচল করে তা অনেকে বিশ্বাস করতে চাইবেন না।লালপুর এলাকার বাসিন্দা মনসুর বলেন, 'যদি এবার ড্রেজার চালানো হয় তাহলে জলাবদ্ধতার সমস্যা হবে না। কিন্তু ড্রেজার যদি বন্ধ রাখা হয় তাহলে পানি উঠবেই। মোটর দিয়ে কাজ হয় না এটা সবাই জানেন। ড্রেজার সরিয়ে নিয়েছে শুনলাম। বর্ষার আগে যদি ড্রেজার না বসায় তাহলে এবারও দুর্গতি আছে।এ বিষয়ে ড্রেজার কেনা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল বলেন, 'ড্রেজার এখন কই আছে সেটা আমি জানি না। নতুন নির্বাচন হয়ে ইউনিয়নে নতুন পরিষদ এসেছে। আমি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের কাছে ড্রেজার বুঝিয়ে দিয়েছি। তাঁরা সম্ভবত বাংলাদেশ খাদ এলাকায় ড্রেজার রেখেছেন।'এ বিষয়ে ফতুল্লার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী মঈন উদ্দিন বলেন, 'ড্রেজারটি বাংলাদেশ খাদ এলাকার পাম্প হাউসের পাশে রাখা হয়েছে। এর বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। যেমন ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হবে। নতুন ভাবে পাইপ সংযোজন করতে হবে। এসবের জন্য অর্থ প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি চেয়ারম্যান ও সাংসদের সহায়তায় অর্থ বরাদ্দ পেতে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবার ড্রেজার চালু করার চেষ্টা করব।' | 6 |
বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে খেলতে এসেছিল ভারত। বাজির ধর ও বিশ্লেষকদের হিসাব-নিকাশেও বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল বিরাট কোহলির দল। তবে বিশ্বকাপ শুরু হতেই এখন সব সমীকরণ ভোজবাজির মতো বদলে গেছে। টানা দুই ম্যাচে হেরেছে এখন বিদায়ের শঙ্কায় কাঁপছে ২০০৭ সালের চ্যাম্পিয়নরা।আজ আবুধাবিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। শক্তি ও পরিসংখ্যানে ভারত এগিয়ে থাকলেও এই ম্যাচে কোহলিদের ছেড়ে কথা বলবে না আফগানরা। এই ম্যাচ জিততে পারলে সেমির সম্ভাবনা বেশ ভালোভাবেই বেঁচে থাকবে রাখবে মোহাম্মদ নবীর দলের। আবুধাবিতে তাদের রেকর্ডও দারুণ। এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতার দিক থেকেও বেশ এগিয়ে তারা। ভারতের বর্তমান দুরবস্থাও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে আফগানদের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাস আফগান পেসার হামিদ হাসান বলেন, 'আমরা বেশ ভালো দল। আমাদের ব্যাটিং-বোলিং খুব ভালো। ফিল্ডিংয়েও আমরা বেশ উন্নতি করেছি। আমাদের স্পিনাররা বিশ্বের অন্যতম সেরা। রশিদ-মুজিবদের নিয়ে আমাদের স্কোয়াড দারুণ। মিডল অর্ডার ভালো ছন্দে আছে। আমাদের ব্যাটিং সাইড বেশ লম্বা।'বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ভারতকে হারাতে চান জানিয়ে হামিদ আরও বলেন, 'সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে আমাদের ভালো সুযোগ আছে। স্কোর বোর্ডে ভালো রান থাকলে আমরা বোলিং-ফিল্ডিংয়ে তাদের হারাতে পারব।'পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে ভারত। আরেকটি হারে শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের স্বপ্নও। আগের দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সুবিধা করতে পারেনি তারা। দলের ব্যাটিং বিক্রম রাথোর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা স্ট্রাইক রোটেট করতে পারিনি। এই উইকেটে কাজটা কঠিন। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আপনাকে কাজটা করে দেখাতে হবে।' এখন আফগানিস্তান ম্যাচে আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। | 12 |
পূর্ব বিরোধের জেরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ও কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে।ইউএনও কার্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ব্যক্তিগত কাজে উপজেলা পরিষদে যান। এ সময় দাসপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এনএম জাহাঙ্গীর হোসেনও সেখানে যান। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুজনে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন। তাঁদের চিৎকার শুনে ইউএনও তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে দুজনকে নির্বৃত্ত করেন। তবে উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুই চেয়ারম্যানের অনুসারীরা অবস্থান নেন। এতে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সেখানে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও কনকদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনতা ভবনে বেলা ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। তা ছাড়া পিস্তল উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহিন হাওলাদার বলেন, 'উপজেলা পরিষদের একটি কক্ষে আমাকে দেখে জাহাঙ্গীর হোসেন ও রাসেল নামে তাঁর এক অনুসারী আমাকে গুন্ডা বলে মন্তব্য করেন। আমিও তখন তাঁকে মন্দ কথা বলি। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের অনুসারী রাসেল প্যাদা চাকু বের করে আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। আমি কিছুটা সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করি। এ সময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর পিস্তল বের করেন। তখন আমি চিৎকার দিলে ইউএনও স্যার এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সব ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে।'জনতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বলেন, 'শাহিন চেয়ারম্যান আমার ওপর হামলা করেছেন। যা পরিষদের কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। ঘটনাটি আমি তাৎক্ষণিক মৌখিকভাবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছি। পরে লিখিত অভিযোগ দিব। এ ছাড়া ইউএনও স্যারের মাধ্যমে লিখিতভাবে বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানাব।'জানতে চাইলে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, 'দুই চেয়ারম্যানই মৌখিকভাবে ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ইউএনর কার্যালয় থেকে আমাকে ঘটনাটি জানানোর পর আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।'ইউএনও আল আমিন বলেন, 'চিৎকার শুনে প্রথমে আমি মনে করেছি কার্যালয়ের বাইরে হয়তো কোনো ঘটনা ঘটছে। পরে যখন বুঝলাম আমার কক্ষের কাছে ডাকাডাকি হচ্ছে, তখন আমি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং দুই চেয়ারম্যানকে দুই দিকে সরিয়ে দিই। ঘটনাটি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি।'সিসিটিভির ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইউএনও বলেন, 'দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তবে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মতো কিছু পাইনি। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।' | 6 |
শেরপুর জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনই স্বাস্থ্য বিভাগের। আক্রান্ত হয়েছে জেলার সিভিল সার্জন অফিসের কর্মচারী। এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শেরপুরের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন অফিস লকডাউন করা হয়েছে। এদিকে, উপজেলা শ্রীবরর্দী ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী হাসপাতালের তিন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো লকডাউন অবস্থায় আছে। করোনার কারণে সকল বেসরকারি ক্লিনিকগুলোও বন্ধ। জানা গেছে, চলতি মাসের ৫ তারিখে শ্রীবরর্দী হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি করোনায় আক্রান্ত হয়। কদিন পর ঝিনাইগাতি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার এরপর নালিতাবাড়ী হাসাপতালের কর্মরত এক ব্র্যাক কর্মীর শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলে। এ নিয়ে এই তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লকডাউন করা হয়। যদিও দাবি করা হচ্ছে সীমিত সেবা দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে পরীক্ষায় নকলা হাসপাতালের দুই তরুণ ডাক্তার, সিভিল সার্জন অফিসের কর্মচারি ও শেরপুর সদর হাসপতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এখন লকডাউন হলো শেরপুর ও নকলা হাসপাতাল। চার দিকে করোনা আতঙ্কের কারণে মানুষজন সাধারণ অসুখে হাসপাতালে আসতে চায় না। হাসপাতালের ডাক্তার নার্স কর্মচারিরা আতংক গ্রস্থ।বিশেষ জরুরী প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে যাদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতেই হয় তাদের জন্যও জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি লক ডাউনের কারনে সেবার দরজা বন্ধ হয়ে গেল।শুক্রবার রাত( ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত)সদর হাসপাতালের সরজমিনে দেখা গেছে উপায় অন্তর না পেয়ে বিশেষ প্রয়োজনে দূর দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা(হাতপা ভাঙ্গা,প্রসব জনিত,বিষ খাওয়া,গলায় কাঁটা ফোটা) মানুষের আজাহারি। লকডাউনের কারণে হাসপাতালের সব গেট বন্ধ, তাল লাগিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে জরুরি বিভাগের সামনে। নোটিশে লেখা হয়, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত তাই হাসপাতাল লকডাউন করা হলো। তারপর থেকেই জরুরি বিভাগের সকল সেবা বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি বিভাগের বাইরে রোগীর চিৎকার। তালা বন্ধ ডাক্তার ও সহকারীদের অসহায়ত্ব, রোগীর স্বজনদের আজাহরি, সাধারণ মানুষের আফসোস সব মিলিয়ে জরুরি বিভাগ প্রাঙ্গন হয়ে উঠে বিভীষিকাময়। জেলা লকডাউন, হাসাপাতাল লকডাউন, মানুষ কাতরাচ্ছে- কারো যেন কিছু করার নেই। জেলার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বলেন, হাসপাতালের কর্মরত কর্মচারির শরীরে করোনা মিলেছে। উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে আছে হাসাপাতাল। চিকিৎসা দিতে গেলে রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। লকডাউন চলছে কিছুই করার নেই। রোগীদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন। জেলার স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, অনতিবিলম্বে কোন না কোন ব্যবস্থা করে মানুষের জরুরি সেবা দিতে হবে। এই ব্যাপারে সিভিল সার্জনকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ঢাকা: নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর 'বিশ্বসুন্দরী' সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমনি। গত ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পায় 'বিশ্বসুন্দরী'। নায়িকানির্ভর সিনেমাটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন পরী। এ নির্মাতার সঙ্গে আরো একটি কাজের খবর জানালেন বাংলা সিনেমার আলোচিত এই নায়িকা।নতুন কাজটি কেমন হবে তা নিয়ে কিছু বলেননি পরী কিংবা চয়নিকা। তবে জানিয়েছেন, নতুন কাজেও নির্মাতা ও অভিনেত্রী হিসেবেই জুটি বাঁধছেন তাঁরা। তবে চয়নিকার সঙ্গে নতুন কাজে অভিনেত্রী ছাড়াও পরীমণি হাজির হবেন আরেকটি পরিচয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, চয়নিকার নতুন এ সিনেমায় প্রযোজক হিসেবে থাকতে পারেন অভিনেত্রী।চয়নিকা জানান, আগামী সপ্তাহেই নতুন সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তাঁরা। বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চয়নিকা চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, 'আমরা এক হয়েছিলাম। আমাদের কেমিস্ট্রি খুব ভালো। আবারো নতুন ভালো কিছু, চমৎকার কিছু নিয়েই আমরা একত্র হচ্ছি। অপেক্ষায় থাকুন। খুব তাড়াতাড়ি বিস্তারিত জানাব।'চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত প্রথম সিনেমা বিশ্বসুন্দরী। ওই সিনেমায় কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন পরীমণি। এরপর থেকেই চয়নিকার সঙ্গে পরীমণির ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। | 2 |
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সে এর আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১ উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।গজারিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি দল স্টেশন অফিসার রিফাত মল্লিক ও স্টেশন লিডার সাইদুল রহমানের নেতৃত্বে মহড়ায় অংশ নেন। | 6 |
বাংলাদেশের গণমাধ্যম কি স্বাধীন? রিপোর্টাররা কতটুকু পারেন অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে? আচ্ছা, অনুসন্ধানী রিপোর্ট নাহয় বাদই দিই, একটা সাধারণ রিপোর্ট, যেটি সরকারে থাকা রাঘববোয়াল, বড় ব্যবসায়ী/শিল্পপতি, বড় আমলা কিংবা অতি প্রভাবশালী কারও বিপক্ষে যায়, এমন কোনো খবর কি সহজেই দেওয়া যায়? মালিকপক্ষের চাপে সাংবাদিকতার নীতির বাইরে গিয়ে সংবাদ 'তৈরি' না করে থাকা আদৌ কি সম্ভব অধিকাংশ গণমাধ্যমের পক্ষে? সরকার, মালিকপক্ষ, বিজ্ঞাপনদাতা ছাড়া আর কার কার চাপ সামলে চলতে হয় গণমাধ্যমকে? ঢাকার নামীদামি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত একজন রিপোর্টার আর অজপাড়াগাঁয়ে কাজ করা একজন স্থানীয় প্রতিনিধিকে কি একই ধরনের চাপ/বাধা ডিঙিয়ে চলতে হয়? রাষ্ট্র, সরকার, মালিকপক্ষ, বিজ্ঞাপনদাতা-সবার চাপ পেরিয়ে যেটুকু খবর পাঠকের হাতে দিন শেষে পৌঁছায়, সেটা খবরের মোট পরিমাণ আর গুরুত্বের ঠিক কত শতাংশ কভার করে? এত সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিশ্বের সবচেয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান দেখলে। ২০২০ সালে এটা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে ১৫২তম অবস্থানে আছে। গত কয়েক বছরে এই অবনতি একেবারে ধারাবাহিকভাবে হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানান সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একেবারে তলানিতে থাকলেও আফগানিস্তান অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের চেয়ে নিচে থাকে। কিন্তু মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান (১২২তম), মিয়ানমারসহ (১৪০তম) সব দেশ তো বটেই, হালে বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রল করতে গিয়ে যে দেশটির নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব ব্যবহৃত হয়, সেই উগান্ডাও (১২৫তম) আছে আমাদের চেয়ে অনেকটা ভালো অবস্থানে। অথচ বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তা ও লেখার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা-এ সবকিছুই সুরক্ষিত আছে আমাদের সংবিধানে। এ ছাড়া আছে 'তথ্য অধিকার আইন' এবং 'জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১'। তারপরও বাংলাদেশের অবস্থান মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে কেন ক্রমাগত পেছায়, সেটা বুঝতে হলে আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সরকার, সরকারের তিন অঙ্গের বিভাজন ও ক্ষমতার ভারসাম্য, চেক অ্যান্ড ব্যালান্স, বিশেষ করে বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা কতটুকু, সেটার একটা নির্মোহ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত পত্রপত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২১০টি (অনলাইন গণমাধ্যম ব্যতীত)। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৩০৯টি, অর্ধসাপ্তাহিক ৩টি, সাপ্তাহিক ১ হাজার ২১৪টি, পাক্ষিক ২১৬টি, মাসিক ৪২৫টি, দ্বিমাসিক ৮টি, ত্রৈমাসিক ৩০টি, চতুর্মাসিক ১টি, ষাণ্মাসিক ২টি এবং বার্ষিক পত্রিকা রয়েছে ২টি। আর অনলাইন গণমাধ্যমকে ধরলে সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি। এ ছাড়া আছে এফএম রেডিও, আছে হাতে হাতে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর সে কারণেই যখনই মুক্ত গণমাধ্যমের প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা এসেছে, তখনই সরকার মিডিয়ার সংখ্যাগত আধিক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। অথচ মজার বিষয় হলো, এত এত গণমাধ্যমের যুগে অধিকাংশ চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের দেখতে হয় বিদেশি গণমাধ্যমে।২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই ব্যালটভর্তি বাক্স পাওয়ার ভিডিও আমাদের দেখতে হয়েছে বিবিসি বাংলায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ লুটের খবর প্রথম আমরা দেখি ফিলিপাইনের এক পত্রিকায়। বর্তমান সরকারের এক অতি প্রভাবশালী উপদেষ্টার দুটি অতি প্রচারিত সাক্ষাৎকারের একটি নিয়েছিল আল জাজিরা আর অন্যটি ডয়চে ভেলে। মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের তথ্যসংবলিত র্যাবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেছিল সুইডিশ একটি রেডিও। এমনকি তনু হত্যার খবরও মূলধারার গণমাধ্যম তখনই প্রকাশ করেছে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্রমেই এতই শক্তিশালী হয়ে উঠছে যে সমাজে এমন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে মূলধারার মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মানুষ সামাজিক মাধ্যমে গিয়ে যাচাই করবে কি না।একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের আইনের ধরন, তার প্রয়োগ, ব্যাখ্যা-সবকিছুই নির্ভর করে সরকারের চরিত্রের ওপর, সে কী পরিচয়ে পরিচিত হতে চায়, তার ওপর। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, ২০০৬ সালে করা মূল আইসিটি অ্যাক্টে ৫৭ ধারা বলে কিছু ছিল না। ২০১৩ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে ৫৭ ধারা যুক্ত করা হয়। একইভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও আসে ২০১৮ সালের আরেকটি নির্বাচন সামনে রেখে। ২০১৮ সালের আইন করার আগে ৫৭ ধারার সমালোচনার বিষয়টি নানা মহল থেকে বারবার উঠে আসছিল। অথচ আইন করার পরে দেখা গেল ৫৭ ধারাটি চার ধারায় ভাগ করে আরও অস্পষ্ট, আরও কঠিন সাজা এবং জামিন অযোগ্যতা দিয়ে নতুন আইনে রাখা হয়েছে। এই আইনে গুপ্তচরবৃত্তি বন্ধ করার নামে ৩২ ধারা যুক্ত করা হয়, যা আদতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করার এক নোংরা পদক্ষেপ। এমন কোনো ধারা আইসিটি অ্যাক্টে ছিল না।অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ভারতের মতো অসাধারণ গণতান্ত্রিক এক দেশেও তো ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট ২০০০ আছে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এই আইনের অপপ্রয়োগ ঠেকানোর জন্য ভারতের আছে অসাধারণ জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং শক্ত বিচার বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন দেশটি একেবারে যাচ্ছেতাই পরিস্থিতিতে পড়ে, তখন দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানাসহ নানা রাজ্যে মানুষ হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন, চিকিৎসা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ার 'অপরাধে' পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কঠোরভাবে জানান, কোনোভাবেই অনলাইনে মতপ্রকাশের জন্য নাগরিকদের হয়রানি করা যাবে না। হাইকোর্ট এটাও জানান, এরপরও কাউকে হয়রানি করা হলে সেটা আদালত অবমাননা বলে গণ্য হবে। এমন রক্ষাকবচ কি আমাদের দেশে কল্পনাবিলাস নয়? তাহলে মিডিয়া কীভাবে হবে স্বাধীন?আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে 'আজকের পত্রিকা'। শত হতাশার মাঝেও আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে। বিশ্বাস করি, হাজার পত্রিকার ভিড়ে কেবল আরেকটি পত্রিকা হওয়ার জন্য তৈরি হয়নি 'আজকের পত্রিকা'। স্বপ্ন দেখি এই পত্রিকা ধীরে ধীরে কালের পরিক্রমায় দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকা হয়ে উঠবে; হয়ে উঠবে খবর এবং বিশ্লেষণ জানার জন্য মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা। যদিও জানি, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভের ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে চতুর্থ স্তম্ভ। যে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ মজবুত, শক্তিশালী কিন্তু আলাদা, সে রাষ্ট্রের গণমাধ্যম নির্ভীক ও স্বাধীন হতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের দেশে বিরাজ করছে তার উল্টো পরিস্থিতি।বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাই ভয় হয়। রাষ্ট্র, সরকার, মালিকপক্ষ, বিজ্ঞাপন, কালাকানুন এত কিছুর চাপ সামলে সত্যিকার গণমানুষের হয়ে উঠতে পারবে তো 'আজকের পত্রিকা'? বিশ্বাস বড় কঠিন জিনিস, তৈরি হতে সময় নেয়, কিন্তু ভাঙতে লাগে মুহূর্ত। আশা করব নির্ভীকতা, সততা আর বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে 'আজকের পত্রিকা' প্রমাণ করবে এটি শুধুই আরেকটি দৈনিক পত্রিকা নয়।রুমিন ফারহানাসংসদীয় দলের হুইপ, বিএনপি | 5 |
এখন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক সমাবেশ ও কর্মসূচি করা যাবে না। বুধবার (১৩ অক্টোবর) ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্ব আজ (বুধবার) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ১০ অক্টোবর ক্লাব প্রাঙ্গণে সংগঠিত বিশৃঙ্খল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি ক্লাব ও সদস্যদের স্বার্থে ক্লাবে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। যেকোনো মূল্যে ক্লাবের স্বার্থ, মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্লাবের বিভিন্ন হল ও মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মাবলি ও শর্ত আবশ্যিকভাবে পালন করা হবে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, আলোচনা সভা, সেমিনারের নামে কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। জিহাদ স্মৃতি পরিষদ, জিয়া পরিষদ-যেকোনো দলের রাজনৈতিক সমাবেশ ও কর্মসূচি ভবিষ্যতে বন্ধ থাকবে বলে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে এসব সংগঠনের কর্মসূচির ফলে ক্লাবে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। কমিটি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করে সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছে। | 6 |
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যাসংখ্যার প্রায় তিন গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। এ কারণে সেবা নিতে আসা রোগীদের ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বারান্দা ও মেঝেতে। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।জানা গেছে, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি ভবন রয়েছে। একটি ৩১ শয্যা ও অন্যটি ১৯ শয্যাবিশিষ্ট। গত বছরের জুলাই মাসে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার স্থলে নতুন ভবন তৈরি না হওয়ায় ১৯ শয্যাবিশিষ্ট ভবনে চলছে ৫০ শয্যার সেবা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দ্বিতল ভবন দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পরবর্তীকালে ১৯ শয্যার জন্য ২০১১ সালে তিনতলা বিশিষ্ট আরও একটি ভবন নির্মিত হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে চিকিৎসক আছেন মাত্র ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন প্রেষণে খুলনা জেলা সদরে রয়েছেন।গত সোমবার দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যার ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গাটি পড়ে রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বারান্দায়, মেঝে, চিলিকোঠায়, ওটি রুমের সামনে ও ডেলিভারি রুমের পাশে রাখা হয়েছে রোগীদের। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীর আত্মীয়স্বজনকে। দ্বিতীয় তলায় বাথরুম না থাকায় নিচতলায় গিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মাদারবাড়ীয়া গ্রামের আহাম্মদ আলী সানা (৭০) বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রুমে কোনো জায়গা না পেয়ে বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে লোকজন যাওয়া-আসা করায় সমস্যা হচ্ছে। বারান্দায় ফ্যান না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে এবং মানুষের ঝামেলায় ঘুমও আসছে না।' পেটের সমস্যা নিয়ে ভর্তি বারোপোতা গ্রামের ফতেমা খাতুন (৪০) বলেন, 'নারী-পুরুষ সব এক জায়গায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। কী আর করার। দ্বিতীয় তলায় বাথরুম না থাকায় সব চেয়ে কষ্ট হচ্ছে নিচতলায় গিয়ে বাথরুম ব্যবহার করতে।'সিনিয়র নার্স শ্যামলী বলেন, 'ভবনের সংকটে বারান্দা, মেঝে ও যেখানে একটু জায়গা খালি আছে, সেখানেই রোগীকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসা দিতে আমাদের বিব্রত অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। কী আর করার, এভাবেই চলতে হচ্ছে।' উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেন, '১৯৬৪ সালে নির্মিত ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নতুন ভবন অনুমোদন হলেও নির্মাণ করতে কত দিন লাগবে, জানি না। সে কারণে উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে বিকল্প একটা ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।' খুলনা সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ জানান, নতুন ভবন অনুমোদন হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। | 6 |
বুস্টার ডোজ নিয়েও করোনা থেকে সুরক্ষা হলো না মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের। রবিবার (২ জানুয়ারি) তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দেহে করোনার হালকা উপসর্গ রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। এদিকে, করোনায় শনাক্তের পর কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন অস্টিন। আগামী পাঁচদিন নিজের বাসভবনে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তিনি। তবে এই সময়েও নির্ধারিত সব বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনার অতিসংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই কারণে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। এমনকী মার্কিন সেনাদের সামরিক প্রস্তুতি জারি রাখতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে সামরিক বাহিনী। অবশ্য করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে দু'টি কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার পাশাপাশি গত বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতে টিকার বুস্টার ডোজও নিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, গত ২১ ডিসেম্বর তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা করেছিলেন। মূলত শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে বাইডেনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। বিবৃতিতে অস্টিন আরও জানান, চিকিৎসকরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আমি করোনায় আক্রান্ত হলেও করোনা প্রতিরোধী উভয় ডোজ টিকা নেওয়া এবং অক্টোবরের শুরুতে টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার কারণে আমার শরীরে ভাইরাসের উপসর্গ অনেক হালকাভাবে দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, বাড়িতে ছুটি কাটানোর সময় শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় রোববার তিনি পরীক্ষা করান এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার তিনি সর্বশেষ পেন্টাগনে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। ২০২১ সালের শুরুতে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর অস্টিনকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বেসামরিক বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ব্যক্তিত্ব থেকে যে কাউকে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অন্তত সাত বছরের অবসর জীবন অতিবাহিত করার পর এই পদের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়ে থাকেন। অবশ্য ২০১৬ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া লয়েড অস্টিন তার অবসর জীবন পুরোপুরি পাঁচ বছর পূরণের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। | 4 |
প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে প্যারিসের একটি ব্যস্ততম রাস্তার ফুটপাতে পড়ে ছিলেন সুইডিশ ফটোগ্রাফার রেন রবার্ট (৮৫)। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে দীর্ঘ সময় ফুটপাতে বৃদ্ধ একটি লোক কেন পড়ে আছেন, সেদিকে কেউ ফিরেও তাকাননি। শেষমেশ সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রেন রবার্টের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। তাঁর পরিচিতজনেরা এটিকে অবহেলাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্স ও বিশ্বজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকে। সুইডিশ ফটোগ্রাফার রেন রবার্ট স্পেনের বিখ্যাত ফ্লামেঙ্কো নৃত্যশিল্পীদের ছবি তুলে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্যারিসে বসবাস করতেন। বাড়ির কাছের একটি ব্যস্ততম সড়কে গত সপ্তাহে রাতে হাঁটতে বের হন তিনি। এ সময় সেখানেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যান রবার্ট। রবার্টের বন্ধু ও সাংবাদিক মাইকেল মমপনটেট বলেন, প্যারিসের প্যালেস দে লা আর পাবলিক এবং লা হলের মাঝামাঝি রিউ দে তারবিগোর একটি স্থানে পড়ে যান রেন রবার্ট। মাইকেল মমপনেট এক টুইটে বলেছেন, রবার্ট হাইপোথারমিয়ায় ভুগছিলেন। এ কারণে তাঁর মাথা ঝিমঝিম করছিল। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। নিজে নিজে উঠতে সক্ষম না হওয়ায়, সেখানেই পড়ে ছিলেন প্রায় ৯ ঘণ্টা। শেষমেশ এক গৃহহীন ব্যক্তি জরুরি সেবায় ফোন করে বিষয়টি জানান। কিন্তু ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। মাইকেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ এই সময়ে কোনো পথচারীর মনে হয়নি লোকটি কেন এখানে পড়ে আছেন। ফ্রান্স টিভি ইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমপনটেট এই ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, অবহেলার কারণে রবার্টের মৃত্যু হয়েছে।ফ্রান্সের মাদ্রিদ শহরের গৃহহীন মানুষদের নিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছে অলিভার অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি রবার্টের এই ঘটনাকে দুঃখজনক বললেও, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করে তারা। এক টুইট বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, অসংখ্য মানুষ রেন রবার্টের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও কঠিন। এই সংস্থাটির মতে, ফ্রান্সে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ মানুষ রাস্তায় প্রাণ হারায়। | 3 |
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মণ্ডতোষ ইউনিয়নের দওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ, 'ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তাকে পেটানো হয়েছে।' পাল্টা অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, 'এখানে ঘুষ চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নানা কারণে টাইমস্কেল জন্য রেজুলেশন করতে সময় লেগে গেছে। রবিবার এ নিয়ে সহকারী শিক্ষকের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক আমার টেবিলের ওপর জুতা রেখে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন আমি মোবাইল দিয়ে ছবি তুলতে গেলে সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আমার মোবাইল ফোন কেরে নিয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তখন নিজেকে বাঁচাতে আমি তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেছি।' উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছেন। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্কুল পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দুইজনই আমার কাছে এসেছিলেন। আগামী বুধবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হত্যার বিচার এবং আসামিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও শিক্ষার্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, 'ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়তই আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ড থামছে না। একের পর এক হত্যা হচ্ছে, আমরা রাজপথে নামছি। আমরা আর আন্দোলন করতে চাই না। আমরা বিচার চাই; অপরাধীদের শাস্তি দেখতে চাই।'
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক অধ্যাপক ইউনুস থেকে শুরু করে অধ্যাপক আকতার জাহান এবং শিক্ষার্থী নিহার বানু থেকে শুরু করে সর্বশেষ মোতালেব হোসেন লিপু হত্যাকাণ্ডে বিচার দাবি করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন,'একজন বিদেশি প্রশিক্ষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসতে চান না। আমি জানতাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাকি মৃত্যুপুরী। এখন দেখছি যে, ওখানে বিদেশি প্রশিক্ষক গেলে কোনও পুলিশ প্রটোকল লাগে না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেই লাগে। আমাদের জন্য এটা ভীষণ লজ্জার। আমি জানি না প্রশাসন কীভাবে নেয় বিষয়টাকে। বারবার শুনতে হয়, রাজশাহীতে চাকরি করেন কীভাবে?'
দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এএফএম মাসউদ আখতার বলেন, 'আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় বাস করি। এ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ অন্যায়-অবিচারের শিকার হলে বা হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য বর্বরতার শিকার হলে আমাদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয় এবং দিনের পর দিন সেটা চলতে থাকে। কখন বিচার হয়, আবার কখনও হয় না।'
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, 'আমরা আজকে একটি বিশেষ ইস্যুকে সামনে রেখে এখানে দাঁড়িয়েছি বটে। কিন্তু আমাদের আলোচনায় সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় পরিচালিত একটি দেশ, যেখানে আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, তবুও আমাদর ক্ষুব্ধ হতে হয়, রাস্তায় নামতে হয়। আমরা দু'দিন চিৎকার করবো তারপর থেমে যাবো, এটি আর চাই না।'
একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, 'আপনার দেখেছেন, লিপুর লাশ ড্রেনের ময়লা, পঁচা পানিতে পড়ে ছিল। এরপর আপনি আমি যে কেউ পড়ে থাকতে পারি। কিছুদিন আগে আমার শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল স্যারের লাশ উপুর হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। কেউ উপুর হয়ে কেউ চিৎ হয়ে পড়ে থাকে।'
সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিরাপদে বাস করবে, এটাই চাই। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের মা, বোন, সহপাঠী, স্বজনদের করুণ অবস্থা আর দেখতে চাই না। আমরা অপরাধ দেখতে চাই না; অপরাধের বিচার দেখতে চাই।'
সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিরাপদ জায়গা। এই নিরাপদ জায়গায় একজন শিক্ষক, একজন শিক্ষার্থীর লাশ পড়ে থাকবে, এটা আমরা আশা করি না।'
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অধরা মাধুরী পরমা বলেন, 'একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু বিচার হচ্ছে না। বিচার দাবিতে কেন আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে? আমরা কি এতটাই মূল্যহীন? যে শোক প্রকাশ করার সময়টুকুও পাবো না। বিচারেরর দাবিতে আন্দোলন করতে রাস্তায় নামতে হবে।'
গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক আহমেদ ধ্রুব, নাট্যকলা বিভাগের নুরুল আমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আতিক সাদ্দাম, আলী হোসাইন মিঠু প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে লিপু চত্বর থেকে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে পুনরায় লিপু চত্বরে এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় আকতার জাহান জলির লাশ। পরদিন তার ভাই কামরুল হাসান রতন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে গত ২০ অক্টোবর নবাব আব্দুল লতিফ হলের পেছনের নর্দমা থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
| 6 |
কখনো ১০ বছরেও কিছু বদলায় না, কখনো এক মাসে ইতিহাস এগোয় ১০টা বছর! বাংলাদেশে গত এক মাসে আমরা যা দেখেছি তা আগে দেখিনি। আগে দেখিনি মানুষ লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছে, আগে দেখিনি জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল বানানোর কাজ ভুঁইফোড় নেতারা বন্ধ করে দিচ্ছেন। মানুষ বাঁচানোর চেয়ে ক্ষমতা বাঁচানো, টাকা বানানো আগেও বড় ছিল, কিন্তু বাঁচার পথে এমন সর্বাত্মক বাধা যুদ্ধের সময় ছাড়া আর দেখা যায়নি। কোথায় জীবন-মৃত্যুর ম্যানেজারমানুষই এখন মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়, আবার মানুষই জান বাজি রেখে পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষের। তারপরও রোগীকে রাস্তায় ফেলে রাখছে, হাসপাতাল ফিরিয়ে দিচ্ছে, রক্তের সম্পর্কের দায় নিচ্ছে না মানুষ-আগে কখনো দেখেছি কি? আগে দেখিনি লকডাউন, দেখিনি বাড়িতে বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে কিছু পরিবারকে বিপজ্জনক বলে দাগিয়ে দেওয়া। আগে দেখিনি ঘরের ভেতর পিতা-মাতা-কন্যার মরে পড়ে থাকা, ডেকে ডেকেও কারোরই সাহায্য না পাওয়া। বিপদের দিনে চীন ও ইতালি তাদের সবচেয়ে ভালোটা বের করে এনেছে, আমরা বের করে আনছি সবচেয়ে খারাপটা। করোনা ভাইরাস কিছু মানুষ মারছে সত্য। যাদের হয়তো বাঁচানো যেত, বিনা চিকিৎসায় ও খাদ্যাভাবে তারাও যায় যায়।' জ্বর ও শ্বাসকষ্টে' মৃতদের নাম করোনায় মৃত্যুর টালিখাতায় উঠছে না। জীবন-মৃত্যুর ম্যানেজার হাত গুটিয়ে কিসের যেন ধ্যানে বসেছেন। পৃথিবীর বুকে এক আত্মঘাতী বোমারুচীনের দেয়াল কোনো কাজে আসছে না। ইউরো-আমেরিকাকে দুর্গের মতো সুরক্ষিত বলে ভাবারও দিন শেষ। প্রতাপশালী নেতারা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ আর শক্তিমান দেশগুলোতে মৃত্যু হয়েছে তৃতীয় দুনিয়ার মতো সুলভ ও করুণ। ভেনিস, ফ্লোরেন্স, ভ্যাটিকান আর সুন্দর কিছু মনে করায় না, মনে করায় ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া মৃত্যু। প্যারিসের শৈল্পিক আবেদন চাপা পড়েছে মৃত্যুর বিভীষিকায়। সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের রেকর্ড মার্কিন গর্ব বেলুনের মতো ফাটিয়ে দিয়েছে। মঙ্গল গ্রহে অভিযানের বৈজ্ঞানিক মহিমা তুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে সামান্য এক ভাইরাসের কাছে। এই ব্যবস্থা নিজেই এক টাইম বোমা। সময়ে-সময়ে বিস্ফোরণ ঘটছে যুদ্ধের, মহামারির, মন্দার। কিন্তু একেই বুকে নিয়ে চলতে হচ্ছে মানুষের পৃথিবীকে। বুকে বোমা পুরে যে ঘোরে, তাকে আত্মঘাতী বোমারু বলে। পুঁজিবাদ পৃথিবীর বুকে এক আত্মঘাতী বোমারুর নাম। কর্তৃপক্ষ কখনোই দায়ী নয় একটি জিনিস কিন্তু বদলায়নি। কর্তৃপক্ষ আগের মতোই দায়ী নয়। করোনার যে ভ্যাক্সিন বাংলাদেশ আবিষ্কার করেছে তা হলো করোনা রোগী শনাক্তের উদ্যোগ থেকে দুরে থাকা। যদি রোগী চিহ্নিত না হয়, তাঁর মাধ্যমে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিন করা না হয়, তাহলে চিকিৎসা দেওয়ার দায়ও থাকে না। রোগী না থাকলে ব্যর্থতাও নেই। লকডাউনের ক্ষেত্রেও তাই। আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন ঘোষণা করতে হলে জীবনধারণের উপায় হারানো মানুষদের সহায়তা করতে হয়। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসার দায়িত্ব লকডাউন কার্যকরকারী রাষ্ট্রের ওপর আপনাতেই বর্তায়। লকডাউন প্যাকেজের জরুরি অংশ এই ত্রাণ। যেহেতু লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি, সেহেতু সেই দায় রাষ্ট্রের নেই। নিজ দায়িত্বে বাড়িতে বসে থাকুন। আমাদের দরকার ছিল কঠোর শৃঙ্খলা, জরুরি সেবা এবং প্রয়োজন ছাড়া কারোরই বাড়ির বাইরে না থাকা। কিন্তু শৃঙ্খলা আসেনি। স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশৃঙ্খল, মানুষের জীবনযাপন বিশৃঙ্খল। করোনার মৃত্যুর খবর এখন গুজব। মোবাইল ফোন হতে পারতো সহায়দেশের প্রতিটি পরিবারের মোবাইল আছে, সেখানে করোনা সম্পর্কে প্রতিটি তথ্য, নির্দেশনা, প্রচারের আশি ভাগই তো সফট উপায়ে ডিজিটাল পথে করার কথা। কে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তা বের করা, রোগী শনাক্ত করে তার সংস্পর্শে আসাদের মোবাইল ট্র্যাক করে বের করে তাদের মাধ্যমে আর ছড়ানো বন্ধ করা। জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও চিকিৎসকদের কাছে রোগ বিস্তারের ধরন ও করণীয় নিয়ে নিয়মিতভাবে ওয়াকিবহাল রাখা-সব ডিজিটাল উপায়েই করা সম্ভব ছিল। চীনের উহানে করোনা যখন গণহারে প্রাণ নিচ্ছিল, তখনই গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও মোবাইল ফোন মারফত মানুষকে সজাগ ও নতুন বিপদ সম্পর্কে শিক্ষিত করা দরকার ছিল। ধাপে ধাপে প্রস্তুতি ও তার প্রয়োগ দরকার ছিল, মোকাবিলার অর্থনৈতিক, মেডিকেল ও প্রশাসনিক আয়োজন চালানো সম্ভব ছিল। তাহলে মানুষই অনেকটা শারীরিক দূরত্ব ও আছোঁয়া থাকার জন্য তৈরি হয়ে যেত। ডিজিটাল বিপ্লব কী কাজে লাগল? সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মসূচির আওতায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে এনজিওদের তালিকা, জেলা প্রশাসনের তালিকা ধরে খুব অল্প সময়েই করোনায় আর্থিকভাবে সবচেয়ে বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা সম্ভব। এভাবে তালিকা করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁদের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া এবং তাঁদের ঘরে খাবার পোঁছে দিলে বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত। সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের তথ্য নিয়ে জাতীয় পরিস্থিতির হিসাবটা হাতে আনা গেলে সে অনুযায়ী করণীয় ঠিক করা যেত। কিন্তু সবই গরল ভেল। করোনা দমনে শৃঙ্খলা দরকার সমাজের মানুষের আর রাষ্ট্রের কর্মীদের। সেখানে শৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে না। ফলে করোনা দমন তো হচ্ছেই না, দমন হচ্ছে মানুষের আত্মরক্ষার চেষ্টা। কাজের কাজ এটুকুই হয়েছে; করোনা দমনকারী শক্তিকে আরও শক্তি দিয়েছে, আর মানুষকে করেছে খরচযোগ্য। করোনা ভাইরাসের এই রাজনৈতিক ব্যবহার বায়োপলিটিকস নামে পরিচিত। সমাজদার্শনিক মিশেল ফুকোর ভাষায়, মানুষের বেঁচে থাকার যে সামর্থ্য তা তার বায়োপলিটিকস। এই সামর্থ্য করোনা, দারিদ্র্য ও দমনের রাজনীতির ত্রিশূলে যখন বিদ্ধ হয়, তখন তাকেও বায়োপলিটিকস বলে। এরই জবাবে ফুকো বলেছিলেন, সোসাইটি মাস্ট বি ডিফেন্ডেড-সমাজকে বাঁচাতে হবে। সমাজ না বাঁচলে ব্যক্তিমানুষ একা হয়ে পড়ে, অসহায় হয়ে পড়ে। করোনার সহজ শিকার হয় এসব মানুষ। এই সিস্টেমে ভাইরাস আছেকারও জন্য সুরক্ষা আর কারও জন্য উদোম জীবন ( ) কোনো বিশৃঙ্খলার ফল না, তা রাষ্ট্রের বায়োপলিটিকসেরই ফল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সবখানেই এই রাজনীতি চলছে। এটা একধরনের জরুরি অবস্থাই বটে, যখন জীবন-মৃত্যুর ম্যানেজাররা সিদ্ধান্ত নেন কাকে বাঁচানোর ব্যবস্থা থাকবে, আর কাকে বাঁচাতে কিছু করা হবে না। কিন্তু জনগণকে বাঁচানোর কথা বলেই জনগণের অনেক অধিকার 'জরুরি পরিস্থিতি'র দোহাই দিয়ে রদ করা হতে পারে। করোনা রাষ্ট্রগুলোকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। অন্যদিকে মানুষকেও সুযোগ দিয়েছে আগামী দিনের উপযুক্ত সিস্টেম তৈরি করার। সেই সিস্টেম যেন প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র রেখেই হয়। প্রবৃদ্ধির মায়াহরিণের পেছনে অনেক তো ছোটা হলো, তাই না? করোনা কানে কানে বলে গেছে, প্রবৃদ্ধি তো খাওয়াও যায় না, মানুষও বাঁচায় না। এই সিস্টেমে ভাইরাস আছে, করোনা ঠেকানোর পাশাপাশি এই সিস্টেম রিস্টার্ট নেওয়ার চিন্তাভাবনা এখনই দরকার। ফারুক ওয়াসিফ: প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক। | 8 |
ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমারা হস্তক্ষেপ করলে বজ্রের গতিতে রুশ সেনারা জবাব দেবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সময় বুধবার তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, 'কেউ যদি বাইরে থেকে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে এবং রাশিয়ার জন্য কৌশলগত হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা বিদ্যুতের গতিতে জবাব দেব।'রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমাদের সব ধরনের উপকরণ আছে...দরকার হলে আমরা তা ব্যবহার করব।'এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভ্লাদিমির পুতিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের কথাই বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।এর আগে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার মুদ্রা রুবলে মূল্য পরিশোধ না করলে ইউরোপের অন্য দেশেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় ক্রেমলিন। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পোল্যান্ড। এদিকে মস্কো পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর ইউরোপিয়ান কমিশন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ তুলেছে। কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে সরবরাহকারী দেশ হিসেবে তারা নির্ভরযোগ্য নয়। | 3 |
মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় গত কয়দিন ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের তীব্র চাপ থাকলেও এখন অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী পারাপার হচ্ছে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ রুটটিতে ছোট বড় মিলে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে; এ কারণেই যাত্রীর চাপ কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিমুলিয়া ঘাট সূত্র ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন এই ঘাট দিয়ে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল করেছে। ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীরা শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় জমান। যখনই একটি ফেরি ঘাটে ভিড়তে দেখেছেন, তাতে হুমড়ি খেয়ে যাত্রীরা উঠে পড়তেন। সবকিছু বিবেচনায় এনে সোমবার সন্ধ্যা থেকে এই নৌপথে থাকা ফেরিগুলো চালানো শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোর থেকে যাত্রীরা ঘাটে আসতে শুরু করেছেন। ঘাটের সবকটি ফেরি চলাচল করায় কোনো অপেক্ষা ছাড়াই পার হতে পারছেন যাত্রীরা। তবে প্রতিটি ফেরিতে এখনও যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যাই বেশি। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক থাকলেও ছিল না সামাজিক দূরত্ব। শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখ শিমুলিয়া-ভাঙ্গা সড়কে মোতায়েন আছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা (বিজিবি)। সেখানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হলেও বিজিবির টহলের মধ্য দিয়ে যাত্রী ঘাটে আসছেন। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘাটের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারও চায় না মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌযান ও চোরাই পথে পদ্মা পাড়ি দিক; আবার ঈদে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাক। তাই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ দিয়ে সব কটি ফেরি চালানো হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। | 6 |
চট্টগ্রামে করোনা পরবর্তী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ডা. ফরিদুল আলমের (৬৭) নামের এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ডা. ফরিদুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। চট্টগ্রাম মাও শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ছিলেন তিনি। ডা. ফরিদুল আলম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মজিদার পাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল হক জানান, দুই মাস আগে ডা. ফরিদুল আলমের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। মাসখানেক চিকিৎসাধীন থাকার পর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে তার। কিন্তু এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। তার ফুসফুসের সংক্রমণ বেশি ছিল। সেই সঙ্গে তার হার্টের সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ছিল। হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডা. ফরিদুল আলমেরমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল পরিবার, লোহাগাড়া হাসপাতালমালিক সমিতি, বটতলী শহর পরিচালনা কমিটি, লোহাগাড়া বণিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। | 6 |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়িপেটা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় হাসপাতাল সড়কের টেম্পোস্ট্যান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।আহত শিক্ষার্থীর নাম সোহানুর রহমান সিজান (২০)। তিনি ভেড়ামারার পূর্ব নওদাপাড়া গ্রামের বাবু মণ্ডলের ছেলে ও মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দেখে সোহানুর রহমান সিজান বাড়িতে ফিরছিলেন। হাসপাতাল সড়কের ওভার ব্রিজ টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে সাত-আটজনের একটি দুর্বৃত্তের দল হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে সিজানের ওপর হামলা করে। এ সময় মাথাসহ তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পিটিয়ে রক্তাক্ত করে তারা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।এ বিষয়ে সিজানের চাচা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন গামা বলেন, 'সোহানুর রহমান সিজানকে সাত-আটজনের একটি দল হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। মাথার আঘাতটা খুবই গুরুতর। সে মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার ইনস্টিটিউট থেকে ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। কেন কী কারণে হামলা করেছে, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। সিজান একটু সুস্থ হলেই হামলাকারীদের চিহ্নিত করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।'ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ পল্লিচিকিৎসক অসীম আচার্যের (৩২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোসাইপুর এলাকায় তিতাস নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি অসীম বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের গোপী মোহন আচার্যের ছেলে।গত শনিবার রাতে অসীম ও তাঁর সঙ্গে নেপাল সরকার নামে আরও একজন মনিপুর গ্রাম থেকে গোসাইপুর বাজারে ছোট খেয়া চালিয়ে তিতাস নদী পার হচ্ছিলেন। মাঝ নদীতে আসলে একটি বাল্কহেডের সঙ্গে তাঁদের নৌকার ধাক্কা লাগে। এতে নেপাল সরকার সাঁতার কেটে তীরে উঠলেও অসীমের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে গতকাল দমকল বাহিনীর সদস্যরা তাঁর লাশ উদ্ধার করেন।গত শনিবার রাতে তাঁর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই তাঁর ফার্মেসির মালামাল লুট করে নিয়ে যায় একটি মহল। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে।নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশিদ বলেন, দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে | 6 |
প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ। জিম্বাবুয়ে থেকে জটিল ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে হোটেলে কোয়ারেন্টিন। কোয়ারেন্টিন শেষ হতেই আবার করোনার হানা-অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতাই হচ্ছে বাংলাদেশ নারী দলের। গত পরশু রোববার আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বললেন সাম্প্রতিক সাফল্যসহ মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে অনেক কিছুই।প্রশ্ন: অনেক ধকল পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন। বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ, জটিল ভ্রমণ, এখন কোয়ারেন্টিন-জীবন-সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা কেমন?নিগার সুলতানা: আমরা জানতাম হয়তো দুই দিন লাগবে বাংলাদেশে আসতে। ওমানে এসে শুনলাম, আমাদের নাকি পাঁচ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আসলে মিশ্র এক অনুভূতি। দেশে ফেরার উত্তেজনা কিংবা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার আনন্দ-ওমানে সবার মন খারাপ হয়ে গেছে। এখন যদি বাসায় যেতে পারতাম বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতাম, অনেক ভালো লাগত।প্রশ্ন: প্রথমবারের মতো আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এত বড় একটা অর্জনের অনুভূতি নিশ্চয়ই অন্য রকম?নিগার: সত্যি বলতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। জানতাম, আফ্রিকার অবস্থা ভালো নয় (করোনায়)। ভেবেছিলাম টুর্নামেন্ট বাতিল হবে কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে আমাদের অফিশিয়ালরা জানিয়েছিলেন, অবস্থা যেমনই হোক, খেলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। সেদিন আমরা লাঞ্চ করছিলাম। যখন আমরা শুনলাম, তখন বুঝতে পারছিলাম না এটা সত্যি নাকি মজা হচ্ছে! হোটেলের লবিতে সবাই উত্তেজনায় চেঁচামেচি করছিল। এটার জন্য আমরা লম্বা অপেক্ষা করছিলাম। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে জেদ ছিল যে পরেরবার যখন বাছাই খেলতে যাব, যেন বাধা উতরে যেতে পারি। আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।প্রশ্ন: এবার আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?নিগার: আমরা যখন ওখানে (জিম্বাবুয়ে) যাই, সবার মুখে একটাই কথা ছিল-সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দলটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। ভালো খেলার তাড়না ছিল সবার মধ্যে।প্রশ্ন: এই সাফল্য পেতে নতুন এমন কিছু ছিল, যেটা আপনাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক হয়েছে?নিগার: এবার সবাই অবদান রেখেছে। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পর একটা লম্বা বিরতি ছিল (করোনার কারণে)। ওই সময়টায় সবাই নিজের ঘাটতি নিয়ে কাজ করেছে। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, অনুশীলন করেছি। এ কারণে ওখানে গিয়ে আমাদের সুবিধা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতিটা ভালো ছিল।প্রশ্ন: বড় দল পাকিস্তানকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমের চিত্রটা কেমন হয়েছিল, আরেকবার শুনতে চাই।নিগার: আমাদের লক্ষ্য ছিল বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাব। কেন যেন পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা একটু বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী মেজাজে থাকি। সব ম্যাচেই থাকি। কিন্তু ওদের বিপক্ষে একটু বেশিই। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারটা আমরা মানতে পারি না। আমরা জেতার পর কাঁদি, হারার পরও কাঁদি। গ্রুপের প্রথম ম্যাচ যখন জিতবেন, তখন ওই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আরও ভালো করতে পারবেন।প্রশ্ন: মেয়েদের ক্রিকেটে আগেও বড় সাফল্য এসেছে। এবারও এল। এটা দিয়ে কি আপনাদের নতুন একটা শুরু হলো?নিগার: অবশ্যই। আমাদের বিশ্বকাপে যাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আইসিসি আমাদের চার বছরের একটা ক্যালেন্ডার দেবে। আমরা অনেক ম্যাচ খেলতে পারব। যখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তখন ক্রিকেট বোর্ডও চাইবে যে ঘরোয়া ক্রিকেটে উন্নতি হোক। দলের পাইপলাইনে আরও খেলোয়াড় আসবে। আমাদের ক্ষোভ ছিল, আমরা বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পাই না। যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলব, তত শিখব।প্রশ্ন: সুযোগ-সুবিধায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী দলের ব্যবধান নিয়ে আলোচনাটা পুরোনো। এই ব্যবধান এখন কতটা কমেছে?নিগার: ২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে মেয়েদের ক্রিকেট শুরু হয়, ওই সময়ের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক বিষয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৮ এশিয়া কাপের (চ্যাম্পিয়ন) পর থেকে আমাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। সব সময়ই বিসিবির প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। এখানে তুলনার কিছু নেই যে ছেলেদের ক্রিকেট কী করছে, কোথায় যাচ্ছে...। প্রশ্ন: তুলনার কারণ, আপনারা সীমিত সুযোগের মধ্যেই বড় দুটি সাফল্য পেয়েছেন। সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে আরও ভালো করার সুযোগ বাড়ত কি না?নিগার: তা তো অবশ্যই। দেখেন, এ পর্যন্ত আমাদের যতটুকু সাফল্য এসেছে, ততটুকুর জন্য বিসিবি সুযোগ-সুবিধা দিয়েই আসছে। হয়তো-বা কম আছে। কিন্তু তারা চেষ্টা করে। আমাদের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হয় না এবং আমরা যে প্রিমিয়ার লিগ খেলি, তা থেকে অত টাকা পাই না। ক্রিকেট বোর্ডকে দায়ী করলে হবে না। কারণ, আমাদের পৃষ্ঠপোষক নেই। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের পৃষ্ঠপোষক পেতে অনেক চেষ্টা করে। আমাদের কোনো লিগে বা খেলায় পৃষ্ঠপোষকেরা আগ্রহ দেখায় না। এমনকি সংবাদমাধ্যমও আমাদের খেলা নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিতও নই। আমরা দিনে দিনে ভালো করায় এটা (বৈষম্য) কমে এসেছে এবং আরও কমবে। আপনারা ভালোই জানেন, আমাদের 'এ' প্লাস ক্যাটাগরির বেতন কত আর ছেলেদের কত। সত্যি বলতে, তুলনায় বিশ্বাসী নই। আমার কাছে মনে হয়, কর্মই ফল।প্রশ্ন: মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেট তো এখনো বলার মতো এগোল না।নিগার: দুই বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে না। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। আমরা জাতীয় দলে খেলছি, আর যারা বাইরে (লিগে) খেলছে, তারা হয়তো আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে পারছে। সবাই কিন্তু সচ্ছল পরিবার থেকে আসে না। তাদের জন্য প্রিমিয়ার লিগটা খুব জরুরি। আগে আমাদের তিনটা টুর্নামেন্ট হতো। জেলা ক্রিকেট, বিভাগীয় ক্রিকেট এবং প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট। অনেক বছর ধরে জেলা ক্রিকেট হচ্ছে না। আমি নিজে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট খেলে বিভাগে এসে প্রিমিয়ার লিগ খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি। হয়তো আমার মতো এমন আরও অনেকে আসতে পারে। এই টুর্নামেন্টগুলো যত হবে, ততই জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে।প্রশ্ন: সামনে কমনওয়েলথ গেমস বাছাই, এরপর বিশ্বকাপ। দুই প্রতিযোগিতা নিয়ে আপনাদের লক্ষ্য কী থাকবে?নিগার: প্রত্যেকের প্রথম লক্ষ্য, ফিট থাকা। আপনি খেলতে পারবেন কি না, এটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, আমরা ইভেন্ট ধরে ধরে চিন্তা করছি। সামনে কমনওয়েলথ গেমসে কীভাবে পরিকল্পনা করলে আমরা ইতিবাচক ফল পাব, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব। ওটা ঠিকঠাকভাবে হলে এরপর আমাদের প্রধান লক্ষ্য, বিশ্বকাপে ভালো কিছু করা। কমনওয়েলথে আমরা অবশ্যই কোয়ালিফাই করতে চাই। আর আমরা ইতিমধ্যে একটা ধাপ পেরিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপেও ভালো করা। ওটা এমন একটা মঞ্চ, আমরা ভালো করলে অন্যরা আমাদের সঙ্গে খেলতে চাইবে। আমরা বেশি বেশি ম্যাচ পাব।প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী দলও টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে। আপনাদের মধ্যে টেস্ট খেলার মানসিকতা কতটা গড়ে উঠেছে?নিগার: যখন আমরা টেস্ট মর্যাদা পাই, ওই মুহূর্তে আমরা অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম। সাদা পোশাকের চেয়ে সুন্দর ফরম্যাট আর নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেস্ট খুব পছন্দ করি। ইচ্ছে আছে খেলার। যখন সুযোগ হবে, তখন টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নেব এবং চিন্তা করব।প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সাফল্যে আপনাদের ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?নিগার: আমরা ক্রিকেটের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন আপনি মন অন্য দিকে দেবেন তখন মূল জায়গা থেকে সরে আসবেন। আমরা এ বিষয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। এতে পারফর্ম করতে সুবিধা হয় এবং বাড়তি চাপ আসে না। বিষয়গুলো মাথায় আনলেই চাপ বাড়তে থাকে। তখন আপনার মন এবং লক্ষ্য স্থরি থাকে না। পরে দুটোর কিছুই হয় না। এগুলো মাথায় নেওয়া উচিত না।প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলকে অনেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের কয়েকজন এখন আপনার অধীনে খেলছে। এই অধিনায়কত্ব কতটা উপভোগ করছেন আর এটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?নিগার: আমার মনে হয়, আমার কাজটা অনেক সহজ। দলে যখন সিনিয়ররা থাকবেন, যাঁরা সাবেক অধিনায়ক এবং অনেক অভিজ্ঞ, তাঁরা জানেন, তাঁদের কাজটা কী। যখন দলের খেলোয়াড়েরা আলাদাভাবেই জানে, কার কোন ভূমিকা রাখা দরকার, তখন আপনার কাজটা সহজ হয়ে যায়। যদি তাদের বল দিই, তাদের বলতে হবে না এই পরিস্থিতিতে তাদের করণীয় কী। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়াটা সহজ হয়ে যায়। আসলে নেতৃত্ব বিষয় না, একজন খেলোয়াড় আরেকজন খেলোয়াড়ের কাজটা সহজ করে দিচ্ছে।প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী দল নিয়ে আপনার স্বপ্নটা কী?নিগার: বাংলাদেশকে সেরা তিন-চারে দেখতে চাই। যেন বাংলাদেশকে কখনো বাছাইপর্ব খেলতে না হয়। | 12 |
ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাত আসামি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। এসময় তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। রোববার (২৯ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে এ দাবি করা হয়। এছাড়া আসামিরা লিখিত বক্তব্য দেবেন বলেও এসময় আদালতকে জানান। পরে আদালত তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনকারী আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। এর আগে গত ২৪ আগস্ট আদালত আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২৯ আগস্ট দিন ধার্য করেন। এ মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। উল্লেখ্য, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ভুয়া ঋণ তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। এরপর ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। তবে আসামিদের মধ্যে এসকে সিনহাসহ চারজন পতালক, একজন কারাগারে আটক এবং বাকি ছয়জন জামিনে রয়েছেন। | 6 |
নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়্যারম্যান পদে পরাজিত প্রার্থী মো. উজ্জল শেখের বিরুদ্ধে নৌকার সমর্থক এক ব্যবসায়ীকে পেটানো ও ভোট না দেওয়ার অভিযোগ এনে বিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।একই ইউপির নব-নির্বাচিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম হিটু বলেন, 'উজ্জল শেখ গত শুক্রবার বিকেলে ২৫-৩০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সিঙ্গা বাজারে এসে নৌকার সমর্থক মুদি ব্যাসায়ী সানোয়ারের (৪০) দোকানে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক পেটায়। পরে সন্ধ্যায় হিন্দু অধ্যুষিত বড়গাতি গ্রামে প্রবেশ করলে গ্রামের অনেক মানুষ উজ্জ্বল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।'সাইফুল ইসলাম হিটু আরও বলেন, 'নির্বাচনের আগে উজ্জল এসব হিন্দু এলাকায় গিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, যদি তাঁকে ভোট দেওয়া না হয় তাহলে হাত-পা কেটে ফেলা হবে। গত শনিবার দুপুরে গোবরা বাজারের নৌকার কর্মী ভ্যান চালক লতিফ মোল্যাকে হুমকি দিয়েছে উজ্জ্বল।'তিনি আরও বলেন, 'নলদীর চর এলাকার আশিক নামে নৌকার সমর্থক উজ্জ্বল চেয়ারম্যানের ভয়ে স্থানীয় গোবরা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে ভয় পাচ্ছে। এসব বিষয় আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।'এস.এস.সি পরীক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, 'সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের ভয়ে দীর্ঘ এক বছরের বেশি বাড়িতে থাকতে পারিনা। তাঁর জন্যই স্থানীয় গোবরা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে ভয় পাচ্ছি।'এসব অভিযোগের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল শেখকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি শওকত কবীর বলেন, 'হুমকি-ধমকির বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে সব পক্ষ কে নিয়ে দ্রুত আমরা বসব।' | 6 |
সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। ছয় ফিলিস্তিনি কারাবন্দী ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত গিলবোয়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এ তাদের পুনরায় আটক করতে এ অভিযান শুরু হয়েছিল। ওই গ্রেফতার অভিযানে ইসরাইলের ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। শক্রবার রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুটনিক এ প্রতিবেদন করেছে। টানা ১৪ দিন ধরে ইসরাইলের সেনাবাহিনী ও দেশটির শিনবেথ গোয়েন্দা সংস্থার যৌথবাহিনী আর পুলিশ ওই ছয় ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে খুঁজেছে ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে। তারা সমগ্র দেশে শতাধিক চেকপয়েন্ট তৈরি করেছিল। পরে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী ছয় ফিলিস্তিনি কারাবন্দীর মধ্যে চারজনকে খুঁজে পায় এবং পুনরায় গ্রেফতার করে। কিন্তু, এখনো পলাতক দু'কারাবন্দীর খোঁজ চলছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী ওই দু'ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে এখনো খুঁজে পায়নি। গণমাধ্যমের কাছে কোনো ধরনের তথ্য প্রকাশ না করলেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী মনে করছে, ওই দু'ফিলিস্তিনি কারাবন্দীর একজন এখন জেনিন শহরে আছেন। ইসরাইলি গণমাধ্যম কান বলেছে, ওই পলাতক ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের ধরতে ইসরাইলের প্রতিদিন তিন থেকে ছয় মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ইসরাইলের এ সরকারি গণমাধ্যমটি দেশটির পুলিশ বাহিনীর বরাত দিয়ে বলেছে, ইসরাইলের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে বড় গ্রেফতার অভিযান। সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর | 3 |
অজ্ঞাত পরিচয়ের অসহায় নারীদের বয়স্কজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর যেতে হলো না বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে। শরীরে গ্যাংরিন ও ক্ষতস্থানের কষ্ট নিয়েই অবশেষে তিনি মারা গেলেন। সিরাজগঞ্জ আড়াইশ' শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের মেঝেতেই সোমবার রাতে তিনি মারা যান। গ্যাংরিন স্থানে পোকা ধরার কারণে গত ক'দিন ধরেই ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগে স্বাভাবিক খাবারেও অনীহা ছিল তার। উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে হয়তো বেঁচে যেতেন তিনি। হাসপাতালের মর্গেই তার লাশ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জেনেছে। 'মরেও যেন বেঁচে' গেলেন অজ্ঞাতপরিচয়ের বয়স্ক এ অসহায় নারী। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সদরের সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গেলে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ভর্তি হওয়া অন্য রোগীর স্বজনরা কেউ কেউ এ প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ করে এমন মন্তব্য করেন। এ অসহায় নারীকে তার স্বজনরা বোঝা মনে করে সিরাজগঞ্জ-কড্ডা আঞ্চলিক সড়কের কাঁদাই গ্রামের একটি ডাস্টবিনের পাশে ফেলে রেখে যান। গত ১৮ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় তাকে কুড়িয়ে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন সদর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। শরীরের গ্যাংরিনের ক্ষতস্থানে পোকা ধরার পাশাপাশি হাসপাতালের মেঝেতে প্রস্রাব-পায়খানা করায় তাকে গত ২৫ অক্টোবর যমুনার পাড়ে ফেলা দেওয়া হয়। ওইদিন অজ্ঞাতপরিচয়ের মানসিক আরেক প্রতিবন্ধী নারীকেও হাসপাতালের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত চাদর, বিছানাসহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের খবরে পুলিশ আবারও তাদের দু'জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। | 6 |
কাজু বাদাম, কফি, ড্রাগন ফলসহ অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন থেকে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসারদের অনুকূলে গাড়ি বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রচলিত ফসলের সাথে কাজু বাদাম,কফি, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলাতে কাজু বাদাম, কফি প্রভৃতি চাষ সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি, দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাষাবাদের জমি বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই, বরং জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেজন্য একই জমিতে বার বার ফসল উৎপাদন করতে হবে, ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে হবে এবং ফসলে বৈচিত্র্য আনতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। কৃষিতে এ সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো খোরপোশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করা। মন্ত্রী এসময় কৃষিকাজ করে কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারে, নিজেদের জীবনে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে পারে সে লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, 'উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে কৃষক প্রশিক্ষণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের' মাধ্যমে বর্তমান অর্থ বছরে প্রকল্পভূক্ত ৫১টি উপজেলায় ৫১টি ডাবল কেবিন পিক-আপ সরবরাহ করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিস্তার ও কৃষক প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব বিবেচনা করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ প্রকল্পটি জানুয়ারি, ২০১৮ হতে ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রি: মেয়াদে দেশের ৪৭টি জেলার ১০৬টি উপজেলায় ৩১৪.২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো.আবদুল মুঈদের সভাপতিত্ব আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম, প্রকল্প পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি প্রমুখ। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধানসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের পরও বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ছিল ১০ নম্বরে। র্যাঙ্কিং পয়েন্ট ছিল ২৩৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিততেই আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ! আইসিসির ওয়েবসাইটে সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখন ২৩৮ রেটিং নিয়ে তালিকার ৭ নম্বরে আছে। নিউজিল্যান্ড ২৬০ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার ৪ নম্বরে। এক ধাপ পিছিয়েছে কিউইরা। ২৭৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে ইংল্যান্ড। নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে দারুণ সাফল্যের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জেতাই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের এমন ওপরে ওঠার কারণ। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজের প্রথমটিতে গতকাল দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের ধীরগতির উইকেটের পুরো সুবিধা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলকে ৬০ রানে অলআউট করে দিয়েছেন মোস্তাফিজ-সাকিবরা। এরপর ৩০ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যটা পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তারপরই আজ আইসিসির ওয়েবসাইট থেকে মিলল র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুখবর। তবে টি-টোয়েন্টির র্যাঙ্কিংয়ে ওঠানামা এত দ্রুত হয় যে এই উন্নতি নিয়ে এখনই খুব বেশি উল্লাসের কিছু নেই। এমনই সমীকরণ র্যাঙ্কিংয়ের যে এক ম্যাচে হার-জিতই র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ ওপরে বা নিচে নিয়ে যেতে পারে! সিরিজের পরের দুই টি-টোয়েন্টিতে হেরে গেলেই যেমন বাংলাদেশ আবার নেমে যেতে পারে র্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বরে। আবার পরের দুই ম্যাচে জিতলে র্যাঙ্কিংয়ে আরেক ধাপ উন্নতি হতে পারে বাংলাদেশ দলের। সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করামাত্রই বাংলাদেশ উঠে যাবে র্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে, র্যাঙ্কিং পয়েন্ট হবে ২৪৪। | 12 |
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলেও, গতিপথ পরিবর্তন করে সেটি বাংলাদেশের দিকে আসে কি না, সেজন্য পর্যবেক্ষণ করছেন বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা। খবর বিবিসি বাংলার। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী, এ ঝড়ের নামকরণ করেছে সৌদি আরব। আরবি শব্দ জাওয়াদ অর্থ উদার, দয়ালও কিংবা দানশীল। শুক্রবার বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের অবস্থান? ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ বর্তমানে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দূরে আছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। বর্তমানে ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১০৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ঝড়টি এখন ওড়িশা উপকূল ধরে পুরীর দিকে এগোচ্ছে। তবে সেটি আস্তে আস্তে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন। তারা ধারণা করছেন, ওড়িশা উপকূল ধরে এই ঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগিয়ে যাবে। তখন সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন। কেন্দ্রে ঝড়টি ঘণ্টায় নয় কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রের বাইরে বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ৭০-৮০ কিলোমিটার। স্যাটেলাইট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যে গতিতে ঝড়টি এগোচ্ছে, তাতে রবিবার পাঁচই মে দুপুরের পর নাগাদ ওড়িশা বা পশ্চিমবঙ্গে উঠে আসতে পারে। যেভাবে দেখা যাচ্ছে, এটা খুব প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তারা বলছেন। তবে ঝড়টি এখনো খানিকটা পূর্ব দিকে ঘুরছে। সেটা যদি আবার গভীর সাগরে চলে আসে, তাহলে সেটা আরও শক্তি সঞ্চার করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবার ভূমিতে উঠে এলে তখন ঝড়টি ঘূর্ণিঝড় থেকে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ভূমিতে আঘাত করার পর তার প্রভাবে অন্তত দুইদিন ধরে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হতে পারে। বাংলাদেশের দিকে আসার ঝুঁকি কতটা? বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ঝড়টি এখনো সাগরে থাকলেও আজ বিকালের দিকে একটি মোড় নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলছেন, সেটি হলে টার্ন নিয়ে হয়তো কিছুটা বাংলাদেশের দিকেও এগোতে পারে। ফলে ভারতের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হলেও কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। এই কারণে আমরা এখনো গভীরভাবে ঝড়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আজ রাতের দিকে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, শনিবার বিকালের মধ্যে ঝড়টির গতিপথ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটি ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের দিকেও এগোতে পারে, আবার গতিপথ পরিবর্তনও করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখন দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। বৃষ্টিপাত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এর মধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আগামী দুদিন এ বৃষ্টিপাত চলবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ। | 6 |
প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ- ইউরোপিয়ান ফুটবলে এর আগেও এমন দলবদল চমক দিয়েছে এই ক্লাবটিই। সেবারও বার্সেলোনা থেকেই গন্তব্য প্যারিসে। সেবার নেইমার প্যারিসে এসেছিলেন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড লেগেছিল নেইমারকে স্পেন থেকে ফ্রান্স নিয়ে আসতে। অবশ্য লিওনেল মেসিকে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ পেয়েছে বিনামূল্যে। অবশ্যই বেতন দিতে হবে, কিন্তু মেসির বার্সেলোনার সাথে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় আর বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হয়নি পিএসজি'র প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফির। এর আগে সাড়া ফেলেছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা সার্জিও রামোসও। তিনিও এসেছেন কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়া। এছাড়া মরোক্কোর রাইট ব্যাক আচরাফ হাকিমি এবং ইউরো ২০২০ এর সেরা গোলকিপার ইতালির ডোনারামা এসেছেন কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়া। সব পজিশনে এমন ভালো ভালো ফুটবলার কোনো বিনিময় মূল্য ছাড়া দলে নিয়ে আসা অনেক ফুটবল ক্লাবের জন্য স্বপ্নের মতো। গোলকিপারযদিও এখনো গোলকিপার হিসেবে ১ নম্বর জার্সি কেইলর নাভাসের কাছে তবে এই মৌসুমেই বিনামূল্যে এসেছেন জিয়ানলুইজি ডোনারামা। অর্থাৎ এই দুজন ভাগাভাগি করে গোলবার সামাল দেবেন। নাভাস রিয়াল মাদ্রিদের টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের নায়ক। ডোনারামা ইতালির ইউরো জয়ের নায়ক, একই সাথে তিনি ভবিষ্যৎও বটে, মাত্র ২২ বছর বয়স তার। রক্ষণভাগপ্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁয়ের রক্ষণভাগেও এখন তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেল, আচরাফ হাকিমি এসেছেন ২২ বছর বয়সে ইতোমধ্যে ডর্টমুন্ড ও ইন্টার মিলানে দুটি সফল মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। তার সাথে যোগ দিয়েছেন সার্জিও রামোস, ইউরো, বিশ্বকাপ, লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী স্প্যানিশ তারকা ডিফেন্ডার। আগে থেকেই ছিলেন ব্রাজিলের মারকুইনোস এবং ফ্রান্সের কিমবেপে। মধ্যমাঠতবে পিএসজি'র মধ্যমাঠ ঠিক ততটা দামি নয় যতটা তাদের অন্য জায়গাগুলো। আনহেল দি মারিয়ার সাথে আছেন আর্জেন্টাইন সতীর্থ লেয়ান্দ্রো পারেদেস। মার্কো ভেরাটি, ব্রাজিলের রাফিনিয়া আছেন এখানে। দলবদলে নাটকীয়তা করে প্যারিসে এসেছেন ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিও উইনালডাম। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা অ্যান্ডার এরেরা আছেন। এছাড়া আছেন স্প্যানিশ পাবলো সারাবিয়া ও জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার। ফরোয়ার্ডমেসি-নেইমার-এমবাপে- এই ত্রয়ী নামই যথেষ্ট পিএসজির নতুন ফরোয়ার্ড লাইনআপের বর্ণনায়। কিলিয়ান এমবাপে ২০১৮ সাল থেকেই সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়েও তার বড় ভূমিকা ছিল, এছাড়া গত মৌসুমেই বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে গিয়ে ধরাশায়ী করে হ্যাটট্রিক করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। লিওনেল মেসির জাতীয় দল আর্জেন্টিনাকেও বিশ্বকাপে গতির ঝলক দেখিয়েছেন এমবাপে। আছেন নেইমার, তিনি অবশ্য প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার তুলনায় ব্রাজিল বা ক্লাব ফুটবলে অবদান রাখতে পারেননি। যুগের সেরাদের তালিকায় নেইমারের নাম আসে, বর্তমান ব্রাজিল ফুটবল দলেরও পোস্টার বয় তিনিই, ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলবেন তিনি। আর লিওনেল মেসি এই লাইন আপের রোশনাই বহুগুণে বাড়িয়েছেন, ছয়টি ব্যালন ডি অর জেতা এই ফুটবলারের জন্য এটা একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা। দেখা যাক এবারে নতুন মৌসুমে পরিকল্পনা কীভাবে সাজান দলটির আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।সূত্র : বিবিসি | 12 |
জাপানের পক্ষে কি কখনও পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ হওয়ার পরিকল্পনা করা সম্ভব? বিশ্বের অনেকের কাছেই ব্যাপারটি হাস্যকর মনে হতে পারে। কারণ, জাপানই পৃথিবীতে একমাত্র দেশ, যেটি পারমাণবিক হামলার শিকার হয়েছে। তাও দুই দু'বার। সেই জাপানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা সম্ভবত তাদের দেশের জনগণই মেনে নেবে না। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের এই পরামর্শই দিয়ে যাচ্ছেন। শিনজো আবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। তার মতো একজন বিদগ্ধ রাজনীতিবিদ যখন পরমাণু অস্ত্র অর্জনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে সুর চড়িয়েছেন, তখন আন্তর্জাতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, টোকিওর অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবা উচিত। বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, শিনজো আবে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, যেটি জাপানের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে দেশটির সংবিধানে খোলাসা করেই বলা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আবের এই দাবির সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের ভীতিকর পরিস্থিতির কোনো যোগসূত্র নেই। বরং আরও আগে থেকেই আবে সশস্ত্র জাপানের স্বপ্ন মনে মনে লালন করছেন। তবে এটা অস্বীকার করার জো নেই, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ আবের দাবির পক্ষে দারুণ এক উদাহরণ হয়ে হাজির হয়েছে। আবে এখন সহজেই প্রমাণ করতে পারবেন, যে দেশগুলো তাদের পরমাণু অস্ত্রধারী আক্রমণাত্মক প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারে না, তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা সাংবাদিক, এশিয়াজ রেকনিংয়ের লেখক, সিডনির লোইয়ি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ম্যাকগ্রেগর মনে করেন, আবে সঠিক সময়ে একদম সঠিক তর্কটিই সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। সত্যিকার অর্থেই জাপানি জনগণের পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে ভাবার সময় চলে এসেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, আমার ধারণা, শিনজো আবে পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে জনমত গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি সহজ কিছু হবে না। একটি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে ব্যাপারটি স্পষ্ট হতে পারে। গত বছর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ জাপানি চায় তাদের দেশ পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করুক। পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে আবের এই আহ্বান ইতোমধ্যেই হিরোশিমা এবং নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া নাগরিকদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা হিরোশিমার বাসিন্দা। তিনি কোনো রকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই তার পূর্বসূরি শিনজো আবের পরামর্শকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের মতে, শিনজো আবে কোনো ভুল দাবি করছেন না। তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। তিনি জানেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ একটি বিশাল ধাক্কা হিসেবে এসেছে, যে ধাক্কা ইউক্রেনকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সম্ভবত এও জানেন, পরমাণু-সজ্জিত উত্তর কোরিয়া এবং ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী চীনকে নিয়ে জাপানি জনগণকে এখন থেকেই চিন্তা করা উচিত। | 3 |
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় আহত সফিকুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা যান।সফিকুলের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন পরিবারের লোকজন।এর আগে দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ অবস্থায় দুর্ঘটনায় গুরুত্ব আহত হন সফিকুল। তাঁকে হেলিকপ্টার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। ঢাকার সিএমএইচে দীর্ঘ ১৩ দিন আইসিইউতে থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পরিবারের লোকজন জানান, ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির স্বপ্ন দেখতেন সফিকুল। কয়েকবার চেষ্টার পর ২০১৯ সালের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর। সৈনিক পদে চাকরি পায় সফিকুল। কিন্তু স্বপ্নই কাল হয়ে দাঁড়াল, কেড়ে নিল সফিকুলের জীবন।সফিকুলের প্রতিবেশী ফজলে আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টার যোগে সফিকুলের মরদেহ গতকাল বিকেলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী। এরপর রাতে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। | 6 |
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন না মানায় ২৭৭ জনকে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাব। আজ শনিবার (৩ জুলাই) কঠোর লকডাউনের ৩য় দিন সারাদেশব্যাপী ৩১টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়। র্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে সারাদেশে র্যাবের ১৭২টি টহল ও ১৮১টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২৭৭ জনকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৫ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধকরণে বিনামূল্যে প্রায় ২ হাজার মাস্ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবারহ করা হয়। | 6 |
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মো. সাইদুর রহমান (৪৪) নামে এক পুলিশের এসআই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত সাইদুর রহমান বরিশাল সদর থানার নবগ্রাম রোড এলাকার মৃত মোখছেদুর রহমানের ছেলে। তিনি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। কালাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জুনায়েদ খান লেনিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাইদুর রহমান স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মহিপুর থানায় তার নামাজ শেষে তাকে পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়। সেখানে গার্ড অফ অনার প্রদান করে লাশ তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক ফিলিস্তিনি। গতকাল শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ১৭ বছর বয়সী নিহত তরুণের নাম মুনির আল-তামিমি। ফিলিস্তিনের বেইতা গ্রামে বিক্ষোভের সময় তিনি গুলিতে আহত হলে পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান তিনি। ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের বেইতা গ্রামে হাজারো ফিলিস্তিনি জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিবাদে ওই এলাকায় নিয়মিত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৩২০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন গুলিবিদ্ধ হন। রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেলে আহত হয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দুই সেনা সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, শত শত ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। গত মে মাসের পর থেকে বেইতা গ্রামে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই নাবলুসের কাছে বসতি স্থাপন শুরু করেছেন ইসরায়েলি নাগরিকেরা। সেখানে ফিলিস্তিনিরা তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে চলা সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। চুক্তির আওতায় তাঁরা অ্যাভিয়েটার বসতি ছেড়ে চলে গেছেন। এখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই এলাকাকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, তা নির্ধারণের কাজ করছে। ওই সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছেন। বেইতার মেয়র বৃহস্পতিবার বলেন, ইসরায়েলিরা দখল করা জায়গা না ছাড়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের হিসাব অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাড়ে ছয় লাখের বেশি বসতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চলের সব ইসরায়েলি বসতি অবৈধ। ফিলিস্তিনিরা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করায় গত মাসে অ্যাভিয়েটার বসতি নিয়ে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মে মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের বেশ কিছু ঘটনা ঘটে। | 3 |
অবশেষে পুলিশের নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের মামলাটি নিয়েছে পুলিশ। তবে এজাহারে কোনো আসামির নাম ছাড়াই। গাড়িচাপায় মহুয়ার বাবার পা হারানোর ঘটনার দুই সপ্তাহ পর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে রাজধানীর বনানী থানায়।বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।যোগাযোগ করা হলে মামলার বাদী পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং গত রাতে আজকের পত্রিকাকে জানান, মামলার তিনি তখনো কিছু জানেন না। থানা থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।তবে এর আগে মামলার বাদী মহুয়া আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, অভিযোগে আসামির নাম দেওয়ায় মামলাটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আবেদন করতে বলা হয়। তাই নতুন করে ৯ ডিসেম্বর এভাবে আবেদন করেন তিনি।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান রাতে আজকের পত্রিকাকে জানান, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন ছিল, তদন্ত করে মামলা নেওয়া হয়েছে। বাদীর অভিযোগে কোনো অভিযুক্তের নাম ছিল না বলেও জানান তিনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সার্জেন্ট মহুয়ার আত্মীয় বলেন, 'এত তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হলো। এতেই বোঝা যাচ্ছে এ বিচার আমরা কখনো পাব না। শুধু গণমাধ্যমের চাপের কারণে মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত বা বিচার করার জন্য নয়।'গত মঙ্গলবার থেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে নিষেধ করা হয় সার্জেন্ট মহুয়াকে। হাসপাতালের মধ্যেই বসানো হয় পুলিশি পাহারা। এসবের সঙ্গে আছে বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নানামুখী চাপ। এতে ন্যায়বিচারের আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়ে বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের চিকিৎসায় মনোযোগ দিয়েছেন মহুয়া। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আপাতত বাবার চিকিৎসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো না। এখনো আইসিইউতেই রাখা হয়েছে।' মনোরঞ্জন হাজংয়ের স্ত্রী বলেন, 'ডান পা কেটে ফেলার পর বাম পা-টাও কেটে ফেলার প্রস্তুতি চলছে।'২ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি সড়কে দ্রুতগতির একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাপায় আহত হন বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং। এক বিচারপতির ছেলে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। আহত মনোরঞ্জনকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর এক পা কেটে ফেলেন। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসার পর অবস্থা আরও খারাপ হলে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।দুই সপ্তাহ ধরে মামলা না নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর জোট হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে তারা। গতকাল এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের বিচার লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত মামলা গ্রহণসহ নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, নারী সার্জেন্ট ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, পেশাগত জীবনে যেন কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা এবং আহত মনোরঞ্জন হাজংয়ের সুচিকিৎসার ব্যয়ভার বহনসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। | 6 |
স্ত্রীকে জুম মিটিংয়ে ডিভোর্স দিয়েছেন আফগানিস্তানের শেষ ইহুদি ৬২ বছর বয়সী জাবুলন সিমান্তভ। আর এটাই হচ্ছে ইহুদিদের ইতিহাসে প্রথম জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে কোনো বিচ্ছেদ। প্রায় ২০ বছর ধরে বিচ্ছেদ চাচ্ছিলেন সিমান্তভের ইসরায়েলি স্ত্রী। ১৯৯৮ সাল থেকে ইসরায়েলে বাস করছেন সিমান্তভের ইসরাইলি স্ত্রী ও তাদের দুই মেয়ে। কিন্তু ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুল দখলের আগ পর্যন্ত সিমান্তভ আফগানিস্তানেই ছিলেন। ডিভোর্স দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি না দিলেও শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর আফগানিস্তান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বিচ্ছেদ কার্যকরের জন্য তিনি আফগানিস্তানে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু সিমান্তভ তা প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে জুম মিটিংয়ে ডিভোর্স দেন জাবুলন সিমান্তভ। টুইটারে ইসরায়েলি সাংবাদিক ভিকা ক্লেইন জানান, জুম মিটিংয়ে ইহুদিদের ধর্মগুরু রাব্বি উলমান ওই বিচ্ছেদের শুনানিতে অংশ নেন। জুম মিটিংয়ে ইস্তানবুলের রাব্বি মান্দি হৃতিক এবং ব্যবসায়ী মতি কাহানাও উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী ২২ অক্টোবর যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি ওয়ান ব্যাংকের অতিরিক্ত উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফজলুর রহমান চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রহমান রহমান হকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে নিবন্ধিত হন। ২৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করপোরেট ব্যাংকিং, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট এবং ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং পরিচালনা করে আসছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ইস্টার্ণ ব্যাংকে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাংকিং কর্মজীবন শুরু করেন। আর ২০০০ সালে ওয়ান ব্যাংকে যোগ দেন এভিপি পদে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফজলুর রহমান। তিনি 'বেস্ট ম্যানেজার অ্যাওয়ার্ড' পান। তাঁর ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ওপর দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংকিং অপারেশনস ও পরিচালন বিষয়ে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি | 0 |
বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর তীর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আরিফুল ইসলাম নামে এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।শনিবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জজ বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত একটি নৌকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। আরিফ বরগুনা সদর উপজেলার জাকিরতবক গ্রামের আব্দুল হালিম মিয়ার ছেলে ও উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। পুলিশ জানায়, আরিফুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহৃ রয়েছে। পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। আরিফুল ইসলাম জানায়, শনিবার স্কুল ছুটির পর দুপুর ২টার দিকে বরগুনা শহরে নুর লাইব্রেরিতে স্কুলের গাইড বই কিনতে যায় সে। এসময় দোকান বন্ধ পেয়ে বাড়িতে ফিরছিল। পরে রংধনু ক্লিনিকের সামনে আসলে পথের মধ্যে দু'জন যুবক তাকে মুখে রুমাল চেপে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। আরিফুল ইসলামের মা রিনা বেগম জানান, তার ছেলে বরগুনার উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। শনিবার বাড়ি থেকে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করে প্রধান শিক্ষকের বাসায় না যাওয়ায় তিনি (শিক্ষক) বিষয়টি পরিপারকে জানান। তিনি বলেন, এরপর থেকে ছেলেকে খুঁজতে থাকি। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাথরঘাটা থানা থেকে আরিফকে উদ্ধার করার কথা জানতে পারি। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, রাত ৮টার দিকে বেরিবাঁধ এলাকা থেকে স্থানীয়রা সংবাদ দিলে আরিফকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ছাত্রের বুকে ব্লেড দিয়ে আঁচড়ানোর দাগ রয়েছে। ভিকটিম অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে দইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে নামিদামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দিয়ে তাড়াশের প্রায় ২০০ শ' ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলার বেচা কেনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দই মেলা চলবে। মূল মেলায় দইসহ রসনা বিলাসী খাবার রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়ে থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী চলনবিলের তাড়াশে দইমেলা নিয়ে রযেছে নানা গল্প কাহিনী। তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী জানান, তাড়াশের জমিদারী আমলে তৎকালীন জমিদার বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম দই মেলার প্রচলন করেছিলেন। জনশ্রুতি আছে, জমিদার রাজা রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টি পছন্দ করতেন। এ ছাড়া জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। তখন থেকেই জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক লাল রায় মন্দিরের পাশের মাঠে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী দইমেলা বসত। প্রতি বছর শীত মৌসুমে মাঘ মাসের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে মেলায় পসরা বসিয়ে বিকিকিনি করতেন। সবচেয়ে ভাল সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তবে জমিদার আমল থেকে শুরু হওয়া তাড়াশের দইমেলা এখনও মাঘ মাসের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে উৎসব আমেজ আছে। তবে এটি তিন দিনের পরিবর্তে একদিন হয়ে থাকে। দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- ক্ষীরসা দই, শাহী দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী, ডায়বেটিস দইসহ এ রকম হরেক নামের দই বিক্রি হয়। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, চান্দাইকোনা, শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দই প্রচুর বেচাকেনা হয়। স্থানীয় একাধিক দই প্রস্তুতিকারী জানান, দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিকের মুজুরি, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়ে যাচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়লেও মেলায় আনা সব দই বিক্রি হয়ে যায়। | 6 |
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।আজ শুক্রবার দ্রব্যমূল্য কমানোসহ তিন দফা দাবিতে শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিল গণ অধিকার পরিষদের। কিন্তু সমাবেশ শুরুর সময় পুলিশ বাধা দেয়।শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর বলেন, 'বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যর দাম বাড়িয়েছে সরকার। আর কোনো কিছুর দাম বাড়াতে দেওয়া হবে না। দাবি মানা না হলে পরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।'শহীদ মিনারে পুলিশের বাধা পেয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার পর একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গেলে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। সেখানে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিতে শুরু করে। সেখানে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।তবে শাহবাগ থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপরেশন) কামরুজ্জামান বলেন, 'হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। আমরা তাদের ঘুরিয়ে দিয়েছি। এরপর তারা ফের মৎস্য ভবন হয়ে প্রেসক্লাব চলে যায়। আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।' | 9 |
নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ইসলামিক প্রচারক ডক্টর জাকির নায়েক। তিনি জানান, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে তিনি সমর্থন করলে তার বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এই মর্মে একটি প্রস্তাব মোদি সরকারের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ভিডিও বার্তায় ডক্টর নায়েক জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হয়ে তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছিলেন। তারা তাকে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিতে কেন্দ্র তাকে কাজে লাগাতে চায়। জাকির নায়েকের কথায়, 'প্রথম আমি বলেছিলাম, কোরান ও সুন্নাহর বিরোধী নয়, এমন যা-কিছু আছে আমি তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু, যখন শুনলাম কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমায় সমর্থন জানাতে হবে, তখন সরকারের ওই প্রস্তাব আমি খারিজ করে দিই।' জাকিরের কথায়, কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তই তো অসাংবিধানিক। ইসলামিক এই প্রচারক মনে করেন, ভারতের কোনও মুসলিম নেতা স্বেচ্ছায় সিএএ বা এনআরসিকে সমর্থন করবেন না। ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে তাদের থেকে সমর্থন আদায় করা হয়েছে। জাকির পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামি। সূত্র: এই সময় বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। শনিবার নমুনা পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডাবলু সরকার নিজেও তার আক্রান্ত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। করোনার প্রথম ঢেউ শুরুর পর ডাবলু সরকার মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ শুরু করেন। করোনায় জনসচেতনতা বাড়াতে মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
ঢাকার ধামরাইয়ে ১৭ বছর আগে তৈয়বুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে সৌদিআরব পাড়ি দিয়েছিলেন ফিরোজ আলম নামের এক আসামি। মামলা শেষ হয়ে গেছে ভেবে দেশে আসেন তিনি। বিষয়টি জানতে পারেন পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ধামরাইয়ের কালামপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের পাশ থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। গ্রেপ্তার ফিরোজ আলম ধামরাই উপজেলার শরীফবাগ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। জানা গেছে, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধামরাইয়ের শরীফবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে তৈবুর রহমানকে পৌরসভার সীমা সিনেমা হলের সামনে ছুরিকাঘাত করে ফিরোজ আলম। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তৈয়বুর রহমান। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা। এ মামলায় কিছুদিন পালিয়ে থেকে ফিরোজ আলম সৌদি আরবে চলে যান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। সৌদি আরবে ১৭ বছর অবস্থান করার পর দেশে আসেন ফিরোজ। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
কুমিল্লার চান্দিনায় আগুনে পুড়ে গেছে এক নারীর কষ্টে গড়া গোয়ালঘরসহ একমাত্র বসতঘরটি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় চান্দিনা উপজেলার পালকি সিনেমা হল সংলগ্ন ইন্দ্রারচর এলাকায় ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ হলেও ততক্ষণে দুটি ঘর পুড়ে যায়। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ একটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। জানা যায়, স্বামীহারা ইন্দ্রারচর গ্রামের মনোয়ারা বেগম জীবনযুদ্ধে কঠোর পরিশ্রম করে ঘর দুটি তৈরি করেন। ধীরে ধীরে যাবতীয় আসবাবপত্র, ফ্রিজ ও টিভিতে সাজিয়েছেন সংসার। বুধবার সকালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে চোখের সামনেই পুড়ে যায় সব স্বপ্ন। মনোয়ারা বেগমের ছেলে মো: ডালিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও ততক্ষণে পুরে যায় ঘরের সবকিছু। জমির দলিল, ইন্স্যুরেন্স কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গোয়াল ঘরে থাকা একটি বড় গরু ও একটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অনয় কুমার ঘোষ জানান, তাৎক্ষণিক ভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। | 6 |
মোবাইল ফোন মেরামতসেবাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন বাংলাদেশ সেলফোন রিপেয়ার টেকনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। একই সঙ্গে ব্ল্যাকলিস্ট চেক সিস্টেম আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন ডেটাবেইস সার্ভার ওয়েবসাইট চালু, এই পেশাসংক্রান্ত আইন প্রণয়নসহ বেশ কিছু দাবি তোলে সংগঠনটি।আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের মহাসচিব হাজবুল আলম জুলিয়েট।হাজবুল আলম জুলিয়েট বলেন, দেশের বহু যুবক কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হচ্ছেন। বর্তমানে কিছু আইনি জটিলতা ও কিছু বিপথগামী টেকনিশিয়ান কারিগরি শিল্পকে অপব্যবহার করে এ পেশাকে কলুষিত করছে। বিপথগামী টেকনিশিয়ানদের কারণে এ সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত অন্য টেকনিশিয়ানরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।সংগঠনের মহাসচিব বলেন, দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মোবাইল ফোন টেকনিশিয়ানরা যুক্ত হয়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ বন্ধে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা প্রদান করতে চাই।'সংবাদ সম্মেলনে গত বছর প্রতিষ্ঠিত সেলফোন রিপেয়ার টেকনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্ট্রেশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদান করা, ৬৪ জেলা শহর থেকে পেশার পূর্ব অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট প্রদান, নতুন প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানকে ব্যবসা চালু এবং স্বল্প ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় আনার দাবিও জানান সংগঠনের মহাসচিব।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান খান, সাংগঠনিক সচিব জনী চন্দ্র দাস, হাফিজুর রহমান মিলন, ওমর ফারুক, মামুন জয়সহ আরও অনেকে। | 6 |
অঞ্জু ঘোষ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের দাপুটে নায়িকা। ঢালিউডে প্রায় ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ঢালিউডের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ও আলোচিত ছবি 'বেদের মেয়ে জোৎস্না'খ্যাত এ অভিনেত্রী এখনো দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে আছেন। নানা কারণে জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন অঞ্জু ঘোষ। অবশেষে প্রায় ২২ বছর পর ঢাকায় এলেন তিনি। শিল্পী সমিতির আমন্ত্রণে অঞ্জু ঘোষের এই ঢাকা সফর বলে জানালেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আমন্ত্রণে অঞ্জু ঘোষ ঢাকা এসেছেন। অঞ্জু ঘোষ একজন গুণী এবং কিংবদন্তী অভিনেত্রী। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখনো তার মতো গুণী অভিনেত্রীর প্রয়োজন আছে। রবিবার তিনি এফডিসিতে আসবেন। সেখানে আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব। | 2 |
রাশিয়ার হামলার মুহূর্ত থেকে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ইউক্রেনে। দেশটিতে এখন বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। স্থানীয়রা শহর ছেড়ে পালাচ্ছে গ্রামের দিকে। অনেকেই শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে।বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় বিপদে পড়েছেন ইউক্রেনে অবস্থানকারী বিদেশিরা। এই বিদেশিরা না পারছেন গ্রামের দিকে যেতে, না পারছেন অন্য দেশে আশ্রয় নিতে। ইউক্রেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলা ব্রাজিলিয়ানরা মরিয়া হয়ে অনুনয় জানাচ্ছেন তাঁদের সেই দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।শাখতার দোনেৎস্ক ও ডায়নামো কিয়েভের ১৩ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার তাদের পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাজধানী কিয়েভের একটি হোটেলে। সব মিলিয়ে ইউক্রেনে খেলছেন ৩৫ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। কোথায় যাবেন, কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তা ঢুকে বসে আছে মনে। ক্ষণে ক্ষণে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্ক নিয়ে চেয়েছেন সাহায্য।শাখতার ডিফেন্ডার মারলন সান্তোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফুটবলাররা তাদের পরিবারসহ একত্র হয়েছেন মুখে আতঙ্ক জমিয়ে। ব্রাজিল সরকার থেকে কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন মারলন। বলেছেন, 'সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেছে। বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বের হওয়ার কোনো রাস্তা পাচ্ছি না। আমরা ব্রাজিল সরকারের সাহায্য চেয়েছি, এখন এটাই আমাদের বাঁচাতে পারে।'একজন ফুটবলারের স্ত্রীকে বলতে দেখা গেছে, 'নারী-শিশু সবাই নিজেকে বন্ধী ভাবা শুরু করেছে। কী হচ্ছে কিছুই জানি না, কোনো তথ্য আমরা জানি না। আমাদের সন্তানদের দিকে চেয়ে হলেও দয়া করে আমাদের হোটেল থেকে বের করে নিয়ে যান।'ব্রাজিলিয়ানদের কোনো গতি না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেন ছাড়বেন না বলে সোজা জানিয়েছেন শাখতারের ইতালিয়ান কোচ রবের্তো ডে জারভি, 'আমি কোথাও যাচ্ছি না। সমর্থকদের আমি হতাশ করতে চাই না। লিগ স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চাই না। হোটেলে আমার ১৩ ফুটবলার, কর্মীরা আছে। হয়তো আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই, কিন্তু কী হবে শেষ পর্যন্ত সেটাও দেখতে চাই।'শাখতারের সাবেক কোচ পাওলো ফনসেকাও কিয়েভে আটকা পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ। আতঙ্ক নিয়ে বললেন, 'আমাদের দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু এখন এই দেশ ছাড়া এক কথায় অসম্ভব। বিমানবন্দর সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমার জীবনে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। একটাই প্রার্থনা, বোম যেন আমাদের মাথার ওপর না পড়ে।' | 12 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সকাল আটটায় শুরু হয়ে আজ রোববার বিকেল চারটায় শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও বন্দরের ১৯ ও ২৪ নম্বরের অন্তত ৪টি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিকেলে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে বের হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। আজ বিকেল ৪টায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কদম শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এভিএম পদ্ধতি যেহেতু নতুন তাই অনেকের পক্ষে ভোট দিতে দেরি হয়েছে। এ কারণে ভোটকেন্দ্রে অনেকে রয়ে গেছেন। নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, একটি ভোটারও যদি থাকে, তবে তারা ভোট নেবে।' বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৬২ নম্বর কবি নজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদম শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯ নম্বরের শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৩ নম্বর মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। | 9 |
ঢাকা থেকে জয়দেবপুর (গাজীপুর) পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক যানজটে যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে বিশেষ ৪ জোড়া ট্রেন চালাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রবিবার (১৯ জুন) ভোর ৫টা থেকে এ বিশেষ ট্রেনগুলো চলবে। ঢাকা থেকে জয়দেবপুরে যাওয়া আসার জন্য সড়ক পথে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ কাজ চলায় এবং ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় এ রাস্তাটি খুড়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। সেকারণে সড়কের যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়তে হয়। এবিষয়ে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল রেলমন্ত্রীকে গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে যাতয়াতকারী অফিসসহ সব যাত্রীদের সুবিধার্থে কয়েকটি ট্রেন চালানোর অনুরোধ জানান। তার প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যা রবিবার থেকে চলবে। এবিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এন সি সাহা ভোরের কাগজকে জানান, সড়কে যানজটের প্রেক্ষিতে রবিবার থেকে কমলাপুর-জয়দেবপুর, কমলাপুর-টাঙ্গাইল এবং কমলাপুর -কালিয়াকৈর পর্যন্ত চারটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। ট্রেনগুলোর মধ্যে তুরাগ এক্সপ্রেস সকাল ৫ টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে ৬ টায় জয়দেরপুরে পৌছাবে। এরপরে সেটি আবার ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। আবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তুরাগ কমলাপুর থেকে জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। রাতে সেটি আবারো জয়দেরপুর থেকে ছেড়ে কমলাপুরে আসবে। আবার টাঙ্গাইল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকাল ৬টায় কমলাপুর থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং টাঙ্গাইল থেকে সকালে কমলাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। অন্য ট্রেন কালিয়াকৈউর এক্সপ্রেসটি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে হাইটেক পার্ক পর্যন্ত যাবে। সেটি পরের দিন সকালে কমলাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। | 6 |
অ্যানফিল্ডের সেই ম্যাচ! লিভারপুল সমর্থকেরা হয়তো এখন এই শব্দগুলোই জপছেন। মনেপ্রাণে প্রার্থনা করে যাচ্ছেন, ২০১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে অ্যানফিল্ডে যেভাবে কাঁদিয়েছিল লিভারপুল, ইয়ুর্গেন ক্লপের দলটা এবার রিয়াল মাদ্রিদকেও তেমন কিছুই উপহার দেবে। গোলের ব্যবধান হিসাব করলে তো এবার লিভারপুল ভালো জায়গাতেই আছে। ২০১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে বার্সেলোনার মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছিল লিভারপুল। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে সালাহ-ফিরমিনোকে ছাড়াই ফিরে আসার চোখধাঁধানো গল্প লিখেছে ক্লপের দল। ৪-০ গোলে দ্বিতীয় লেগ জিতে উঠে যায় ফাইনালে, পরে তো মাদ্রিদের সেই ফাইনালে শিরোপার উৎসবও করেছিল। সে তুলনায় এবার তো রিয়ালের বিপক্ষে প্রথম লেগের ব্যবধান বার্সার চেয়ে কমই। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে কাল রিয়ালের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে এসেছে লিভারপুল। তাদের ভাগ্য ভালো যে আরও গোল খায়নি। তবে সে যা-ই হোক, এবার হারের ব্যবধান দুই গোলের, সোনার দামে বিকোনো প্রতিপক্ষের মাঠের একটা গোলও (অ্যাওয়ে গোল) পেয়ে গেছে লিভারপুল। এবার তো আর বার্সার মতো চার গোলের দরকার পড়বে না, শুধু রিয়ালকে গোল করতে না দিয়ে দুই গোল করলেই তো সেমিফাইনালে উঠে যাবেন সালাহ-জোতারা। সে হিসাবে কাজটা সহজ মনে হতে পারে। তবে লিভারপুল কোচ ক্লপ তা ভাবছেন না। আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগে বার্সার বিপক্ষে সেই ম্যাচের মতো আরেকটি 'অ্যানফিল্ড মহাকাব্য' দেখবে ফুটবল? দুই বছর আগের সেই ম্যাচের চেয়ে এবারের চ্যালেঞ্জটা কি বেশি আলাদা? এমন প্রশ্নে কাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্লপ বললেন, 'অবশ্যই। পুরোপুরি আলাদা।' কেন আলাদা? সেবার অ্যানফিল্ড ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকে গমগমে, কিন্তু করোনার কারণে এবার অ্যানফিল্ড থাকবে দর্শকহীন, থমথমে। সব সময়ই নিজেদের সমর্থকদের শক্তিকে অন্য রকম মর্যাদায় দেখা ক্লপ তাই বলছেন, 'আবেগে মাখা কোনো স্মৃতি তৈরি করতে হলে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচের দিকে ফিরে দেখতেই হবে। কিন্তু সেই ম্যাচে লিভারপুল যা করেছে, তার ৮০ শতাংশই সম্ভব হয়েছে স্টেডিয়ামের আবহের কারণে। সেদিক থেকে ভাবলে হ্যাঁ, এবার সেটি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে হবে আমাদের।' দর্শক থাকলেই যে লিভারপুল প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফেলত, ব্যাপারটা তো আর এমন নয়! লিভারপুল এর আগে অনেকবার ফিরে আসার গল্প লিখেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে, ইউরোপা লিগে কিংবা ইংল্যান্ডের লিগ-এফএ কাপ-লিগ কাপে। ২০০৫ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাকাব্যিক সেই ফাইনাল, দুবছর আগের বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচ, তার আগে ২০১৬ সালে লিভারপুলে ক্লপের প্রথম বছরে ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে। কিন্তু তাতেই যে 'কামব্যাক কিংস' হয়ে গেছে লিভারপুল, আর সেটিই যে এবারও ফিরে আসার নিশ্চয়তা দেয়, তা তো নয়! ক্লপ তা জানেন। তবে দর্শক নেই বলে এবার কাজটা আরও কঠিন হবে, সেটিই মনে করিয়ে দিলেন ক্লপ, 'এমন নয় যে আমি এখানে বসে ভাবছি আমরা কামব্যাক কিংস, সব সময়ই এভাবে ফিরে আসব আমরা। অনেকবারই এভাবে ফিরে এসেছি, কিন্তু প্রতিবারই স্টেডিয়ামে আমাদের সমর্থক ছিলেন। এবার আমাদের সে সুবিধা নেই, তাই এবার আমরা সেভাবে ফিরে আসতে পারব কি না, আমি জানি না। তবে এতটুকু প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, (ফিরে আসতে) যতটুকু চেষ্টা করা দরকার আমরা তার সবটুকু করব।' জার্মান কোচের পরের কথাটা লিভারপুলের জন্য হুংকার বলে মনে হতে পারে, 'আমাদের মাঠে আমাদের সমর্থক থাকুক বা না থাকুক, রিয়াল মাদ্রিদের জন্য (দ্বিতীয় লেগে) ম্যাচটা খুব কঠিন হবে।' লিভারপুলের উত্থানের চেয়ে পতন বেশি দেখা এই মৌসুমে এত দিন ভাবা হচ্ছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাই হয়তো লিভারপুলের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার একমাত্র পথ। গত মৌসুমে ইংলিশ লিগ জেতা লিভারপুল যে এই মুহূর্তে ৩০ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সামনে কঠিন পরীক্ষা। চারে থাকা ওয়েস্ট হামের পয়েন্ট ৩০ ম্যাচে ৫২, সমান ম্যাচে পাঁচে থাকা চেলসির পয়েন্ট ৫১, ছয়ে থাকা টটেনহামের ৪৯। আটে থাকা এভারটন ২৯ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লিগের সেরা চারে থাকার জটিলতার কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা জেতাটাই লিভারপুলের জন্য একমাত্র পথ বলে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু এখন রিয়ালের কাছে এভাবে হারার পর লিভারপুল কি পথ বদলাবে? চ্যাম্পিয়নস লিগের চেয়ে এখন লিগের বাকি ৮ ম্যাচে বেশি মনোযোগ দেবে? ক্লপ তা মানেন না, 'আমরা এভাবে একটা টুর্নামেন্টের চেয়ে আরেকটা টুর্নামেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারি না। সবকিছুর জন্যই ঝাঁপাব আমরা। এমন নয় যে এই একটা ম্যাচের পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমাদের এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে আর কোনো সুযোগ নেই।' বাস্তবতা ক্লপ মেনে নিচ্ছেন এভাবে, 'রিয়াল মাদ্রিদের জন্য (কালকের প্রথম লেগের) ফলটা খুব ভালো ছিল, এখানে আমাদের কোনো সুবিধা নেই। তবে পরের (বুধবারের) ম্যাচের আগপর্যন্ত প্রতিটি দিন, প্রতিটি মিনিট পর্যন্ত এই ৩-১ রিয়ালের জন্য এখন যতটুকু ভালো, তার চেয়ে বেশি ভালো হয়ে যাবে না কিংবা লিভারপুলের জন্য এখন যতটা খারাপ, তার চেয়ে বেশি খারাপ হয়ে যাবে না। কারণ, এখানে যেকোনো কিছু হওয়ারই সম্ভাবনা আছে।' সম্ভাবনার নিক্তিতে বার্সেলোনার মতো করে রিয়াল মাদ্রিদকেও লিভারপুলের দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়ার জোর কতটুকু? সে তো বুধবারই জানা যাবে। ক্লপও আশা ছাড়েন না। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেবারের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে লিভারপুলের পারফরম্যান্স আর কাল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-১ গোলের হারে লিভারপুলের পারফরম্যান্সের তুলনা টেনে করণীয়ও ঠিক করে রেখেছেন লিভারপুল কোচ। 'আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে। আজ (গতকাল) রাতে যেভাবে খেলেছি এভাবে খেলতে পারি না। উদাহরণ হিসেবে বলি বার্সেলোনার বিপক্ষে হারের (প্রথম লেগে ৩-০) সেই ম্যাচেও আমরা দারুণ খেলেছিলাম। সে তুলনায় এবার বিশাল পার্থক্য আছে। আমরা (রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের চেয়ে) আরও অনেক ভালো খেলার যোগ্যতা রাখি, আজকের (কালকের) চেয়ে প্রতিপক্ষের জন্য ম্যাচটাকে আরও অনেক বেশি অস্বস্তিকর বানিয়ে রাখার ক্ষমতাও আছে। আগামী সপ্তাহে সেটাই নিশ্চিত করতে হবে আমাদের' - বলেছেন ক্লপ। | 12 |
নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের টাউন হল থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের অনুসারী ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সদর-সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থকরা নোয়াখালী টাউনহলের মোড়ে মুখোমুখি হলে প্রথমে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও পরে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে অনেক লোকজন আহত হন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম সমকালকে জানান, হাসপাতালে দুই গ্রুপের ১০২ জন চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, 'দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কতজন আহত হয়েছেন এখনই বলতে পারছি না।' সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ সম্মেলনকে বানচাল করার উদ্দেশেসোহেলের অনুসারীরাবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। পাল্টা অভিযোগ করে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, বিনা উস্কানিতে একরামুল করিম চৌধুরী ও তার লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় রয়েছে। | 6 |
শেষ হলো জাতীয় সংসদের ষষ্ট ও শীতকালীন অধিবেশন। একটানা দীর্ঘ ২৮ কার্যদিবস চলার পর মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে চলমান একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন। গত ৯ জানুয়ারি এই অধিবেশ শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথমদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলীয় ২২৭ জন এমপি মোট ৫৪ ঘন্টা ২৪ মিনিট আলোচনা করেন। তবে ভাষণের ওপর কেউ কোন সংশোধনী প্রস্তাব আনেননি। ফলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সর্বস্মতিকমে গৃহীত হয়। এরআগে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পরে সংসদের সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির ঘোষণাটি পাঠ করে শোনান। এর আগে সমাপনী বক্তব্য দেন তিনি। এসময় স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলীয় ২২৭ জন এমপি অংশ নিয়েছেন। তারা মোট ৫৪ ঘন্টা ২৪ মিনিট আলোচনা করেন। এই অধিবেশনে মোট ৭টি বিল পাস হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১২৪টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৫৫ টি প্রশ্নের জবাব দেন। | 6 |
গত বছরের জুন মাসে এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে খুঁড়ে রাখা হয়েছে যশোরের মনিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের দুটি রাস্তায়। খুঁড়ে রাখা পর্যন্তই শেষ। এর পর প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা বরাদ্দের রাস্তায় দুটি ইটের সোলিং করার কাজ আর এগোয়নি। কাজ না করে গত ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ করে ফেলেন ঠিকাদার। ফলে খুঁড়ে রাখা রাস্তায় এক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানি মাড়িয়ে পথ চলতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এ দুর্ভোগের শেষ হবে, আদৌ রাস্তা দুটি সংস্কার হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মনে।তবে ঠিকাদারের দাবি, টাকা না পাওয়ায় রাস্তা পাকা করার কাজ এগোয়নি। বিলের টাকা চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। টাকা পেলে কাজ শুরু করবেন।গত বছরের এপ্রিল মাসে ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার আমতলা সড়কের ৩৬৪ মিটার ও একই গ্রামের আফতাব গাজীর মোড় থেকে হানুয়ার মণ্ডলপাড়া হয়ে পুলেরহাট রাজগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত ২ হাজার ৪৮০ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার দরপত্র হয়। মাগুরার স্বাধীন এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ টাকা ও ২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকায় কাজ দুটোর অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাধীন এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজের দায়িত্ব নেন মনিরামপুরের আবু সাইদ নামের এক ঠিকাদার।গত জুন মাসের দিকে ঠিকাদার রাস্তা খুঁড়ে রাখেন। এর পর আর কাজ করেননি। একটু বৃষ্টি হলে এখন রাস্তা দুটিতে কাদা জমে। শুরু হয় কাদার সঙ্গে পথচারীদের সংগ্রাম। জনগণের ভোগান্তি নিয়ে এর আগেও রাস্তা দুটি আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।এদিকে গত ১২ ডিসেম্বর রাস্তা দুটির সংস্কারকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার কাজ না করায় অনুমোদন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন উপজেলা প্রকৌশলী। এরপর আড়াই কিলোমিটার খুঁড়ে রাখা রাস্তাটিতে কিছু অংশে নামমাত্র বালু ও ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। বাকি রাস্তা পড়ে আছে খুঁড়ে রাখা অবস্থায়।রাজগঞ্জ কলেজে চাকরি করেন হানুয়ার গ্রামের বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, 'আমার বাড়ির সামনে থেকে খালিয়া মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এক বছর ধরে রাস্তায় কাজ করেনি ঠিকাদার। বাড়ি থেকে কলেজে যেতে আগে এক কিলোমিটার পথ ছিল। রাস্তা খুঁড়ে রাখায় এখন চার কিলোমিটার পথ ঘুরে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।'বিল্লাল হোসেন বলেন, 'এ রাস্তার মাথায় খালিয়া দাখিল মাদ্রাসা। বৃষ্টি হলে মাদ্রাসায় যেতে কিংবা বাজার করতে গেলে চার কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।'হানুয়ার গাজীর মোড় এলাকার ইসলাম আলী বলেন, 'আমাদের মাঠের ফসল ঘরে তুলতে যে কি ভোগান্তি পেতে হচ্ছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। রাস্তায় খোঁড়া গর্তে কাদা-পানি জমে থাকছে। মাঠের ফসল গাড়িতে করে তোলা যাচ্ছে না। বাড়তি খরচ দিয়ে মাথায় করে আনতে হচ্ছে। আমাদের কষ্টের শেষ নেই।'ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'রাস্তা দুটিতে চলাচলে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বহুবার জানিয়েছি। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে চারবার ফোনে জানিয়েছি। তারপরও রাস্তার কাজ করেননি ঠিকাদার।'মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, 'হানুয়ার গ্রামের রাস্তা দুটির কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগে। খোঁড়াখুঁড়িরও এক বছর পার হতে যাচ্ছে। ঠিকাদারকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি কাজ শেষ করার জন্য। অবশেষে কাজ বাতিল চেয়ে আবেদন করেছি। তারপর ঠিকাদার এক কিলোমিটার রাস্তায় বালু ও খোয়া ফেলেছেন।'বিদ্যুৎ কুমার বলেন, 'জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে বুঝতে পারছি। কাজ শেষ করার জন্য আবারও ঠিকাদারকে বলা হবে।'রাস্তা দুটির সংস্কার কাজের ঠিকাদার আবু সাইদ বলেন, 'টাকা না থাকায় কাজ করতে পারিনি। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর কাছে ১ কোটি টাকা বিলের আবেদন করেছি। টাকা পেলে আগামী সপ্তাহে কাজ শুরু করব।' | 6 |
পাকিস্তানের একটি গভীর সমুদ্র বন্দরে তেল শোধনাগার নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের গ্বাদর সমুদ্র বন্দরে এই বিনিয়োগের পরিমান দশ বিলিয়ন ডলার বলে রয়টার্সে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রোববার গ্বাদর বন্দরে দাঁড়িয়ে এ আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল ফালি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের আর্থিক উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় সৌদি আরব। সেই জন্যই বানানো হচ্ছে তেল শোধনাগার। পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অংশীদারও হতে চাই আমরা। মন্ত্রী ফালি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন সৌদির যুবরাজ ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমান। সেখানে এ বিষয়ে চুক্তি সই করা হবে। ওই সময় গ্বাদর সমুদ্র বন্দরে তেল শোধনাগার ছাড়া অন্যান্য বেশ কিছু প্রকল্পেও পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গ্বাদর বিমানবন্দরেই একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে চীন ও পাকিস্তানের। এই এলাকায় পন্য মজুত, পরিবহন এবং উৎপাদনের জন্য জায়গা দেওয়া হবে বিভিন্ন চীনা কোম্পানিকে। এই গ্বাদরেই বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে সৌদি আরবের তৈল শোধনাগার বানানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছে চীন, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। গত আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঋণের দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কখনও চীন, কখনও সৌদি, কখনও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ঋণ মওকুফ করতে ইমরান আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের সঙ্গেও। এই পরিস্থিতিতে সৌদির এই আর্থিক সাহায্যে আপাতত কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেলেন পাকপ্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। | 3 |
দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছাত্রলীগ নেতার মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার থাকেন। সে জন্যই সরকার তাঁকে টার্গেট করে ছাত্রলীগ নেতাকে দিয়ে শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। অথচ মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে বিদেশে একটি হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত তীব্র সমালোচনা করার জন্যই মোয়াজ্জেমকে হয়রানি করতে এই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে হত্যা, ফেনীতে সাংগঠনিক সফরে যাওয়া জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও তাঁর সঙ্গীদের কোনো হোটেলে থাকতে না দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, 'চারদিকে পতন ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে বলেই জনবিচ্ছিন্ন সরকার জ্ঞানশূন্য হয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা তারই বহিঃপ্রকাশ। আমি অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি।' বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হত্যা, খুন, জখমসহ রক্তাক্ত সহিংসতার কারণে দেশে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল দমনের জন্যই সরকার এক মরণখেলায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জয়পুরহাটে ছাত্রদল নেতা ফারুক হোসেনকে হত্যা করেছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ফারুক হোসেনকে কৌশলে থানায় ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যার সুযোগ করে দিয়েছে। ছাত্রদল নেতা ফারুক হোসেন হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। | 9 |
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তাতে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে চরম দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১০ কোটিতে। শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনইউ) ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলোপমেন্ট ইকোনমিক্স রিসার্চ (ডব্লিউআইডিইআর) ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, চরম দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী তাদেরই বলা হয়, যারা দৈনিক ১ দশমিক ৯০ ডলার বা ১৬৩ টাকায় জীবন নির্বাহ করেন। দারিদ্র সীমার ওপরের দিকে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে এ হিসাব করা হয় দৈনিক ৫ দশমিক ৫০ ডলার বা ৪৮০ টাকা ধরে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সামগ্রিক মাথাপিছু আয় বা ভোগে ২০ শতাংশ সংকোচন হলে সে পরিস্থিতিকে সবচেয়ে খারাপ বিবেচনা করা হয়েছে। এই চরম খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্বে চরম দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১১০ কোটিতে। একই ধরনের সংকোচন হিসাব যদি দারিদ্রসীমার ওপরের দিকে বসবাসকরীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয় তাহলে পুরো চিত্র অন্যরকম হয়ে যায়। সে হিসেবে পৃথিবীর ৩৭০ কোটি মানুষের বসবাস হবে দারিদ্রসীমার নীচে। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক অ্যান্ডি সামনার বলেন, 'প্রতিদিনের আয়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দরিদ্রতম মানুষদের অবস্থা সামনের দিনগুলোতে আরও খারাপ হবে। ফলে দারিদ্রের হার কমানোর যে পদক্ষেপ এতদিন নেওয়া হয়েছে তার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। বিশ্ব ২০ থেকে ৩০ বছর আগের সময়ে ফিরে যাবে। জাতিসংঘের নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা তখন ফাঁপা স্বপ্নে পরিণত হবে।' দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসকারীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় চরম দারিদ্রসীমার মধ্যে প্রবেশ করবে। একক দেশ হিসেবে এ তালিকায় প্রথমে থাকবে ভারত। এরপরই রয়েছে সাব সাহার আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলো। গত সোমবার বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল, করোনাভাইরাস মহামারি ৭ থেকে ১০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্রতার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। | 0 |
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ করোনার টিকা পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেয়া দুই লাখ ডোজ করোনার টিকা নেয়ার সময় তিনি এ কথা জানান। লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, 'দেশের মানুষকে এখন পর্যন্ত চার কোটি ৬৭ লাখ প্রথম ডোজ ও তিন কোটি ১৬ লাখ দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ টিকা পাবে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে। এজন্য ২৮ কোটি ডোজ টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে।' শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি আছে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, 'আমরা কিন্তু জিরো থেকে শুরু করেছিলাম। এরপর প্রথম ওয়েভ ও সেকেন্ড ওয়েব মোকাবিলা করছি। সামনেও যদি এমন পরিস্থিতি আসে আমরা মোকাবিলা করবো। তিনি বলেন, 'অধিকাংশ হাসপাতালে অক্সিজেন সিস্টেম চালু করে দিয়েছি। সব জায়গায় কাজ চলছে।' সূত্র : ইউএনবি | 6 |
চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে গতকাল সোমবার বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়। এতে করে আগাম বন্যা থেকে হাওরের ফসল রক্ষা পাবে। এ কারণে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা।জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে চলতি বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ কিলোমিটার বাঁধের কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ ও ৫১ কিলোমিটার পুরোনো বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। এসব বাঁধ নির্মাণে ৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছিল।এর আগে হাওরের বোরোচাষিরা সঠিক সময়ে জমির ফসল ঘরে তোলা নিয়ে প্রতিবছরই আগাম বন্যার শঙ্কায় থাকতেন। এর কারণ, ২০১৭ সালে কিশোরগঞ্জের হাওরে পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যায় কৃষকের হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতিতে পড়েন তাঁরা। এ কারণে ২০১৮ সাল থেকে হাওরের কৃষকদের সেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ধারাবাহিকতায় আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করতে এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে বাঁধের কাজ শেষ হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি (গতকাল সোমবার) বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। বাঁধের কাজ শেষ হওয়ায় আশঙ্কামুক্ত হাওরের কৃষকেরা।ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের বড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, '২০১৭ সালের আগাম বন্যায় আমাদের একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায় এবং জমি থেকে এক মণ ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। পরের বছর থেকে বাঁধ নির্মাণ শুরু হওয়ায় আমাদের একমাত্র ফসল আর পানির নিচে তলিয়ে যায় না।'মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের কৃষক ছেনু মিয়া বলেন, 'এ বছর সঠিক সময়ে বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। আগাম বন্যা হলেও আশা করি আমাদের বোরো ধানের জমি আর তলিয়ে যাবে না।'হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। কিছুদিন পরই ধানগাছ তার সবুজ রং বদল করে ধানসহ সোনালি রং ধারণ করবে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে।বাঁধের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নির্ধারিত সময়ে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে আমরা প্রতিনিয়ত তদারক করেছি। ভালোভাবে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ায় আগাম বন্যা থেকে হাওরের ফসল রক্ষা পাবে এবং হাওরের কৃষকেরা তাদের একমাত্র বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন। | 6 |
পল্লীবন্ধুপুত্র এরিক এরশাদ ঘোষিত পূর্ণগঠনে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ বলেছেন, ব্র্যাকেটবন্ধি জাতীয় পার্টি করতে আসিনি। নতুন কোনো দল করতে মাঠে নামিনি। যারা আমার ভাইবোন, সন্তান, পার্টির নেতাকর্মী, অনুসারি, সমর্থক আছেন, তাদের নিয়েই জাতীয় পার্টি পূর্ণগঠন করে পল্লীবন্ধুর অসমাপ্ত নতুনবাংলা বিনির্মাণে কাজ করে যাবো, ইনশাল্লাহ। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিদিশা আরো বলেন, এরশাদের সন্তান এরিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা একটি মামলা হলো, কিন্তু পরিবারের সদস্য হিসেবে তার চাচা দলের চেয়ারম্যান হয়েও একটা বিবৃতি দিলেন না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি রংপুরে গিয়ে সাদ এরশাদের আসনে ভবিষ্যতে তিনি নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থাৎ চাচার কাছে তার সন্তানতুল্য ভাতিজারা নিরাপদ নয়। বিদিশা এরশাদ বলেন, বাবার অবর্তমানে, চাচাই তো ভাতিজাদের আগলে রাখবেন, কিন্তু তা তিনি করতে পারছেন না। তাহলে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কি করে আগলে রাখবেন? তিনি বলেন, বেগম রওশন এরশাদ অসুস্থ, তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি চান আমি তাঁর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পার্টিকে যেনো আগলে রাখি। তাই আমি রওশন এরশাদের স্নেহ মমতা ও সম্মান রাখতে কাজ করে যাবো। ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির আহবায়ক মো. জহিরউদ্দিন জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব কাজী মামুনুর রশীদ, সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা দল ভাঙতে আসিনি। পল্লীবন্ধুর আদর্শের সৈনিক সব ত্যাগি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই জাতীয় পার্টি পূর্ণগঠনের কাজ এগিয়ে নিতে মাঠে নেমেছি। আমরা কারো বিরোধী হতে আসিনি। কাজী মামুন বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব থাকবে এরশাদ পরিবারের হাতে। পল্লীমাতা রওশন এরশাদের সম্মতি নিয়েই জাপা পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। রূপনগর থানা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি মো. রিয়াজ খানের সঞ্চলনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আক্তার হোসেন, মেজর অবসরপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান শিকদার, মো. ইদ্রিস আলী, কাজী শামসুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, নাফিজ মাহবুব, হাতিরঝিল থানা জাপা নেতা মো. দুদু মিয়া কুটু। | 6 |
নতুন নাগরিকত্ব আইনের পেছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই, বিক্ষোভকারীদের তা বোঝাতে সদ্গুরুর শরণাপন্ন হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর আনন্দবাজারের মঙ্গলবার 'আধ্যাত্মিক গুরু' সদ্গুরু জগ্গী বাসুদেবের একটি ভিডিও টুইট করেছেন মোদি। লিখেছেন, 'সদ্গুরু সিএএ পানির মতো ব্যাখ্যা করেছেন, তা শুনে দেখুন।' কিন্তু এই ভিডিও পোস্টের পর বিরোধীদের কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কতটা মরিয়া, তা বোঝা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সমালোচনা করছিলেন বলে নোট বাতিলের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করতে তিনি বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নামিয়েছিলেন। এ বার তারাও নারাজ। আবার তিনি নিজেও আইন বোঝাতে পারছেন না। তাই আধ্যাত্মিক গুরুকে দিয়ে নতুন নাগরিকত্ব আইন বোঝাচ্ছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর প্রচারিত ভিডিওতে সদ্গুরু ২০ মিনিটের বেশি সিএএ-র গুণাগুণ ব্যাখ্যা করলেও প্রথমেই বলছেন, 'আমি পুরো আইন পড়িনি। সংবাদপত্র পড়েছি, যা লেখালেখি হচ্ছে, সেগুলো পড়েছি।' তবে সিএএ না পড়েই তিনি বলেছেন, 'এই আইন সব দেশেই রয়েছে। এই আইনের প্রয়োজনে আছে।' নিজে না পড়লেও ছাত্রছাত্রীদের আইন না পড়েই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য তিরস্কার করতেও ছাড়েননি সদ্গুরু জগ্গী বাসুদেব। শিক্ষার্থীদের পাথরের খনির শ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করে তার মন্তব্য, 'সবাই বলছে, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো পাথরের খনির শ্রমিকের মতো আচরণ করছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছে।' তার দাবি, এতটা প্রতিক্রিয়া হবে বলে সরকারের ধারণা ছিল না, তাই বেশি পুলিশ নামায়নি। ফলে পুলিশই মার খেয়েছে। অন্যদিকে শুধু জগ্গী বাসুদেবের ভি়ডিও টুইট করাই নয়, নিজের একটি টুইটার হ্যান্ডল থেকে 'ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ' দিয়ে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে মোদী লিখেছেন, 'এই আইন সমর্থন করুন, কারণ এটা অত্যাচারিত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।' এছাড়াও নমো অ্যাপ থেকে 'ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ' টুইটারে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে। সিএএর পক্ষে প্রচারের জন্য সরকার নানারকম ভিডিও, গ্রাফিক তৈরি করেছে। | 3 |
গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রস্তুতি সভায় অংশ নেবেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সভা শেষে তিনি বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত ৮ জন সদস্য শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই গণফোরামের দুই সদস্য বলছেন তাঁরা শপথ নিতে চান। তাহলে গণফোরাম সংসদে যাচ্ছে কি না, এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলেই আছে।আগামীকাল বুধবার ড. কামাল এ ব্যাপারে কথা বলতে পারেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক প্রথম আলোকে বলেন, 'গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে একটা প্রস্তুতি সভা হবে বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত। আরামবাগে গণফোরামের অফিসে এ সভা হবে। সভা শেষে কামাল হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।' তিনি জানান, এ বছরের মার্চের শেষদিকে দলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দলের পঞ্চম কাউন্সিল। গণফোরামের সদস্য লতিফুল বারী হামিম বলেন, প্রস্তুতি সভায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি, প্রস্তুতি কমিটি ও যাঁরা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাঁরাও উপস্থিত থাকবেন। সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ড. কামাল হোসেন দেশে ফেরেন। স্ত্রী হামিদা হোসেনকে নিয়ে তিনি গত ১৯ জানুয়ারি রাতে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। | 9 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হতে পারে। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বেলা ১টা ৪৩ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান খালেদা জিয়া। আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। কারাগার ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের চারদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল ও অবস্থান জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল থেকেই ওই এলাকায় জনসাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আজ এই পথে জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ছয়জন আসামি। গত ২৫ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক আকতারুজ্জামান রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন। | 9 |
মালির ঘটনাবলি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি সেখানে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। মালির প্রেসিডেন্টসহ কয়েকজন মন্ত্রীকে বিদ্রোহীরা গত মঙ্গলবার গ্রেফতারের পর সেখানকার পরিস্থিতি চরমে উঠেছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বুধবার বলেছেন, জাতিসংঘ সবধরনের অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার বিরোধী। মালির সংবিধান বিপন্ন হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দেখতে চায় না জাতিসংঘ। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহবানও জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদেরর রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও মালির ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে মালিতে সাংবিধানিক প্রশাসন কাজ শুরু করবে বলে আশা করছে সিকিউরিটি কাউন্সিল। অর্থাৎ জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের অভিন্ন ভাষায় মালির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। বিদ্রোহী সেনারা মঙ্গলবার বিকালে মালির প্রেসিডেন্ট ভবনে হানা দেয় এবং অস্ত্রের মুখে কেইতা ও প্রধানমন্ত্রী বুবু সিসাসহ আরো কয়েকজনকে রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী একটি সামরিক শিবিরে ধরে নিয়ে যায়। তার কয়েক ঘণ্টা পর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কেইতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং সরকার ও সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বারহাট্টা-মোহনগঞ্জ সড়কের বড়ি ও অতিথপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, উপজেলার মোহনপুর গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে মর্তূজ আলী (৬৫) ও তারা মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫)।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত রুবেল মিয়া ও মর্তুজ আলী মোহনগঞ্জ থেকে বারহাট্টার দিকে আসছিলেন। এ সময় মোহনগঞ্জগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। আঘাতের কারণে রুবেল মিয়ার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়।নিহত তানভীর রুবেলের বন্ধু ও যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রুবেল ফ্রিজের মেকানিক ছিলেন। আজ সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত দরকারে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে মোহনগঞ্জ যেতে চায়। একা যেতে ভালো লাগবে না তাই মর্তুজ আলীকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুটি পরিবারই এখন বিপদে পড়েছে।বারহাট্টা থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। এখন ড্রাইভারকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। | 6 |
করোনা পরিস্থিতি কমেছে, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য শিগগির ভারতের ইমিগ্রেশন খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। এ ছাড়া সোনামসজিদ জিরো পয়েন্ট এলাকায় পণ্যভর্তি ট্রাক প্রবেশ ও ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই লেনে উন্নীতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রাজুর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি এবং সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম সেন্টু।পরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। শেষে ছোট সোনামসজিদের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। | 6 |
প্রকাশ্যে এসে আবারও বিতর্কিত উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। দেশটির সাবেক সরকারি শেফ (রাঁধুনী) কেঞ্জি ফুজিমোতো'কে উদ্ধৃত করে কিমের ডায়েট সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, দামি ওয়াইন পানের সখ রয়েছে কিমের। এছাড়াও চিজ খেতে খুবই ভালোবাসেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। ফুজিমোতোর এক পুরনো সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, বাচ্চা হাঙরের স্যুপ নাকি খুবই পছন্দ কিম জং উনের। প্রায়ই নিজের শেফ-টিমের কাছে 'স্যুপের আবদার'ও করে থাকেন ৩৬ বছরের এ রাষ্ট্রনেতা। অন্যদিকে খাদ্য সংকট রয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। অপুষ্টির শিকার সে দেশের শিশুরা। এমতাবস্থায় খাদ্যরসিক শাসকের ভোজন-বাজেট পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কোনও 'বোঝার' থেকে কম নয় বলে সংবাদমাধ্য়মে প্রকাশিত। এটা অজানা নয় যে অত্যধিক ধূমপান, স্থূলতা-সহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন কিম জং উন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি, এর জেরেই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার এবং তারপর থেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন কিম জং উন। যদিও কিমের অস্ত্রোপচার সম্পর্কিত দাবি সত্যি না মিথ্যা, তা নিয়ে কোনও বিবৃতি আসেনি পিয়ংইয়ং থেকে। তবে মার্কিন ওষুধ সংস্থা 'জন হপকিন্স'-এর তরফে দাবি, কিমের যে ধরনের স্থূলতা রয়েছে, তাতে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার স্বাভাবিক। দীর্ঘ অজ্ঞাতবাসের পর গত ১ মে সব কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে সর্বসমক্ষে আসেন কিম জং উন। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানচনে একটি সার কারখানার ফিতে কাটতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। | 3 |
কুষ্টিয়ায় কলেজ শিক্ষকের হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করার বহুল আলোচিত ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (৪ জুন) সকালে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৩১ মে দুপুরে সদর উপজেলার বংশীতলা এলাকায় আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বিশ্বাসের (৫২) ডান হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের ছেলে নাজমুছ সাকিব কুষ্টিয়া সদর থানায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মশারফ হোসেন মশা, নাজিম উদ্দিন, সামাদ, মুহাইমেন হোসেন, হালিম, পলাশ ও মুকুল। তাদের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া এলাকায়। র্যাব-১২ সিপিসি-১ কুষ্টিয়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে র্যাব। আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.