poet
stringclasses
137 values
category
stringclasses
21 values
poem
stringlengths
9
18.7k
শাহ মুহম্মদ সগীর
ভক্তিমূলক
প্রথমে প্রণাম করি এক করতার। যেই প্রভুর জীবদানে স্থাপিলা সংসার।। দ্বিতীয়ে প্রণাম কঁরো মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়।। পিঁপড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিতে। কোল দিয়া বুক দিয়া জগতে বিদিত।। অশক্য আছিলুঁ দুর্বল ছাবাল তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল।। না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ। কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ।। পিতাক...
জামিল আশরাফ
শোকমূলক
দেয়ালে টাঙ্গানো যে ঘুড়িটি, তা আর উড়বে না আকাশে। দেখতে দেখতে সাদা রঙ্গা সে ঘুড়িটি হয়ে যাবে ফ্যাকাশে। আস্তে আস্তে জমবে ধূলো তাতে, এক সময় বার্ধক্যের মত চিড় ধরে তা হয়ে যাবে ধ্বংস-নিবিড়; এইযে দেখছেন এই ঘুড়িটি, তা আর উড়বে না আকাশে। কারণ, এ ঘুড়িটি যে উড়াতো সে-ই উড়ে গেছে আকাশে।
প্রণবকুমার চট্টোপধ্যায়
মানবতাবাদী
তোমরা পেরেছ ভাই ,আমরা পারি নি! লজ্জায় লজ্জারও মাথা কাটা যায় ভয়ের জানালাগুলো খুলে দিতে বড় ভয়, চোখ বড় বড় করা জল্লাদবাহিনী শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে; তবু দ্বিধাহীন যে মানুষগুলো আজ পথের উপর এক হয় মানবতা বোধে ,আমরা কী পারি তাকে দূরে ঠেলে দিতে? কিছুই পারি না তবু, ভেসে যাচ্ছে সব চোখ জলের ধারায়…ভুলে গেছি কাঁটাতার, ভুলে গেছ...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল ভালো লাগে না আমার সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব নাখেতে দিতে না পেরে বাবা চলে গেলেন, মেঘলা আকাশ মায়ের চোখ ফেটে সারাদিন শুধু জল নয় যেন একজন নারী গলে গলে বেরিয়ে আসত । পাঁচ বছর বাদে ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ মা, আমার অসহ্য লাগে চোখের জল । চুপ করো ।চ...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
আমি আমেরিকায় গিয়ে শুনে এলাম লোকে ওখানেও বলছে: দিনকাল যা পড়েছে তুমি তোমার খাবারের কাছে ঠিক সময়ে পৌঁছতে না পারলে অন্য একজন পৌঁছে যাবে। আরে, এ তো আমাদের দেশে গরিব লোকেরা করত। এখন বছরে তিনবার ধান হয় বলে একজন ভিখিরি, একজন পাগলের খাবার কেড়ে নেওয়ার আগে দুবার ভাবে। তবে গতকাল শুনলাম মাল্টিন্যাশনালে চাকরি করতেন অংশুমান রায় কী ভা...
সুবোধ সরকার
প্রেমমূলক
তুমি গঙ্গার একটা অংশ ছেড়ে চলে যাচ্ছ কিন্তু তোমার আঁচলে নদীর আত্মজীবনী লেখা রইল | বিচানার নীচ থেকে কয়েক লক্ষ কর্কট বিছানা-সমেত তোমাকে তুলে নিয়ে চলেছে মহাকাশযানে | ম়ৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে তাও তুমি কাজল পড়েছ, কাজল ও কান্নার মাঝখানে তোমার মুখে এক চামচ জল হ্যাঁ, আমি এক চামচ জল হয়ে এক চামচ অন্তর্জলী হয়ে, এক চামচ অঞ্জল...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
আগে আপনাকে ভালো লাগত, রামবাবু এখন আপনি বদলে গেছেন। কখনও কখনও আপনাকে কংগ্রেস মনে হত কখনও সি.পি.এম কখনও সি.পি.আই মার্কিন সেনেটে আপনার নাম উঠেছিল কিন্তু ভিয়েতনামের পক্ষে আপনি বালিদ্বীপ পর্যন্ত ছুটে গেছেন।বিহারের লছমনপুরে আপনাকে প্রথম দেখি ততদিনে আপনার স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে গেছেন বিহারের গ্রাম আপনি তো ভালোই জানেন, খুব সুবিধের...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
তোমাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি দামিনীসারা দেশ জুড়ে আমরা কেঁদেছি, সারা দেশ জুড়ে আমরা ফুঁসেছি। ভারত রাষ্ট্র বাঁচাতে পারেনি তোমাকে। জন জোয়ারের চাপে মাথা নত করেছে অশোকস্তম্ভ দেশের বাইরে পাঠিয়ে তোমাকে ফেরৎ আনতে পারিনি, ফেরৎ আনতে পারিনি তোমাকে দামিনী। ফেরৎ এসেছে রজনীগন্ধা কফিন, ফেরৎ এসেছে আমার ভারত কন্যা। আমার মেয়েটি তের দিন ধরে...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
রূপমকে একটা চাকরি দিন—এম. এ পাস, বাবা নেই আছে প্রেমিকা সে আর দু’-এক মাস দেখবে, তারপর নদীর এপার থেকে নদীর ওপারে গিয়ে বলবে, রূপম আজ চলি তোমাকে মনে থাকবে চিরদিন রূপমকে একটা চাকরি দিন, যে কোন কাজ পিওনের কাজ হলেও চলবে |তমালবাবু ফোন তুললেন, ফোনের অন্য প্রান্তে যারা কথা বলেন তাদের যেহেতু দেখা যায় না, সুতরাং তারা দুর্জ্ঞেয় ...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।আলমারির প্রথম থাকে সে রাখলো সব নীল শাড়িদের হালকা নীল একটা কে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই আমার আকাশ দ্বিতীয় থাকে রাখল সব গোলাপীদের একটা গোলাপীকে জড়িয়ে সে বলল, ‘ তোর নাম অভিমান’ তৃতীয় থাকে তিনটি ময়ূর, যেন তিন দিক থেকে ছুটে আসা সুখ তে...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
বাবা জার্মান, মা থাকত এন্টালির গলিতে জন্মের সময় ওজন : ২১/২ পাউন্ড, ডাকনাম জিনা বাড়ির মেয়েরা ডাকে ফুচু, ফুচুমণি, ফুচান… গায়ের রঙ কুচকুচে কালো, লেজ নেই।দিনের বেলায় আট টুকরো গরুর মাংস রাতে একবাটি দুধ। এখন বয়স তিন আজ পর্যন্ত কাউকে কামড়ায়নি।শুধু গেল বার ভোটের আগে ধুতিপরা এক ভদ্রলোক এসেছিলেন করজোড়ে ভোট চাইতেজিনা তাকে তেড়ে গি...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
রবীন্দ্ররচনাবলীর নবম খন্ড দিয়ে চাপা দেওয়া সুইসাইড নোট, ছেলেকে লেখা  | লিখে, হাতে ব্লেড নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছিলেন মাস্টারমশাই দুপুরবেলা কাজের লোক দরজার তলা দিয়ে রক্ত আসছে দেখে চিত্কার করে ওঠে | ছেলেকে লেখা এই তার প্রথম এবং শেষ চিঠি : ‘অরণি, আমি বিশ্বাস করি সন্তান পবিত্র জলের মতো যদিও তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো নয় তবু তো...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
হিন্দু ভারত, জৈন ভারত, বৌদ্ধ ভারত, খ্রিস্টান ভারত, এতগুলো ভারতের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি ফিরোজা একটি ভারতীয় মেয়ে । আপনারা বলতে পারেন, আমি কি দোষ করেছি ? পৃথিবীর যে কোন দেশের যে কোন একটি মেয়ের মতো আমি একজনকে ভালবেসেছিলাম । প্রথম যেদিন ওর চোখে চোখ পড়েছিল আমার আমি জানতাম না ও কে বিকেল বেলার কলেজ ক্যাম্পাসে যে আলো এসে পড়েছিল ওর ...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
ভারত মহাসাগরের তীরে আমি ইয়ার্কি মারতে আসি নি আহা মেঘ, ওহো মেঘ কী যে মেঘ | আমি ন্যাকামি করতে আসিনি আমি কয়েকটা ঝাড়া হাত-পা সত্যি বলতে চাই |দাদা, সত্যি সবাই বলে, চেপে যান চেপে যাওয়ার আগে শুনুন আমার কী হয়েছিল মাথার বাঁদিকটা ঘর্ ঘর্ করত, ডানদিকে আশ্বিন মাসএক শিঙওলা ভদ্রলোক ভিড় বাসের ভেতর একটা স্কুলের মেয়েকে ঘষছিল | আমি প্...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
বড়লোক কখনও ভোরের আলো দেখতে পায় না গরিব তেমনি “সুপ্রভাত” বলে না কাউকে | বড়লোকের মেয়েরা গায়ে রোদ লাগাতে মরিশাস যায় গরিবের উঠোন রোদে পুড়ে নৌকো হয়ে থাকে | বড়লোকেরা রাত বারোটার আগে ঘুমোতে পারে না খালি পেটে ছোটলোকেরা ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধে সাতটায় | ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে খালি পেটের ভেতর একটা বস্তি ভরা পেটের ভেতর এ...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
[যে লোক ঋণী ও প্রবাসী না হয়ে দিবসের অষ্টম ভাগে শাক রন্ধন করে সেই সুখী ]ইনি কে? হেলিকপ্টারের পাশে ওকে ঘিরে এত সংবাদিক? ইনি অর্জুন থ্যাকারে, বম্বে চালান, ক্রিকেট বন্ধ করে দেন বক বললেন, ইনিই তা হলে তোমার দ্বিতীয় ভাই?ইনি কে? কী লম্বা, কী পেশী! কালো কুচকুচে গা! আমেরিকায় থাকেন, ব্ল্যাকদের সঙ্গে মারামারি করেন ভারতীয় চামড়...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
পলাশপুর থেকে পড়তে আসা ছেলেটির গলায় তুলসীর মালা প্রথম ক্লাসের পর জিনস্ পরা একটি মেয়ের সে কী হাসি ! রাত্রে ছেলেটি চিঠি লিখল, শ্রীচরণেষু মা, আমি ভালোভাবে হোস্টেলে উঠিলাম, কিন্তু তুলসীর মালা খুলিয়া রাখিয়াছি  |এক সপ্তাহ বাদে জিনস্ পরা মেয়েটি ছেলেটির চারটে বোতাম একটানে ছিঁড়ে দিয়ে বলল, এ যে গত শতাব্দীর জামা | আবার সেই হাসি ...
সুবোধ সরকার
প্রেমমূলক
থানার বড়বাবু আমায় বলতো পাঁঠা ছােটবাবু পেছনে লাথি মেরে বলতাে, যা তাে সিগারেট নিয়ে আয় যেদিন মাইনে পেতাম, আমার দাদা এসে সব টাকা কেড়ে নিয়ে যেত আর তুমি, তােমার সঙ্গে আমার ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হল একদিনও আমাকে ভালােবাসলে না, আদর করলে না।।গােলাপ টোলাপ না, আমার রাইফেল দেখতে খুব ভালাে লাগত কী লম্বা, মুখটা ছুঁচলাে, গুডুম গুডু...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
বত্রিশ বছর আগে একবার আমার ঠোটে একজন আমাকে চুম্বন করেছিল এবং আরো বত্রিশ বছর আগে আমার প্রথম জন্মদিনে ঠিক একই জায়গায় তিলের পাশে আমার বাবা চুম্বন করেছিলেন। আমার এখন ৬৫, ছেলে আমেরিকা মেয়ে মাসে একবার দেখা করে যায় ১৩ নম্বর ঘরে। মাত্র দুটো চুম্বন। দুটোই দারুণ। আমি প্রতিদিন কাগজ পড়ি। খোঁজ রাখি পৃথিবীর। আর অপেক...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
তুমি যেদিন প্রথম এসেছিলে আমার কাছে তোমার হাতে মায়াকভ্ স্কি আর চোখে সকালবেলার আলো |বিহার থেকে ফিরে এসে তুমি আবার এলে গলা নামিয়ে, বাষ্প লুকিয়ে তুমি বলেছিলে বিহারের কথা খুন হয়ে যাওয়া বাবার কথা আমি দেখতে পেলাম তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বিষণ্ণতা |আবার এলে একদিন, আবারও এলে, আবার, আবার একদিন চিন নিয়ে কথা হল একদিন ভিয়েৎনাম একদি...
সুবোধ সরকার
মানবতাবাদী
প্রিয়তমাসু আমি তিনদিন খাইনি। কেউ কোনও খাবার দিয়ে যায়নি। কী করে দেবে? গুহার বাইরে প্রচন্ড বরফ পড়ছে। যে কোনও দিন আমি গুলিতে মারা যাব। যে কোনও দিন তুমি টিভির পর্দায় আমার মুখ দেখতে পাবে।আমি গুহার ভেতর সারারাত কম্পিউটরের সামনে বসে। কতদিন আমি বকুল ফুলের গন্ধ পাইনি। কতদিন আমি গরম রুটি খাইনি। কতদিন আমি তোমার ঘাসে হাত দিইনি। কা...
বিমল গুহ
চিন্তামূলক
বলো, কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী? আমার ভেতরে নিশিদিন অগণিত শিশু পাঠশালা যায় আসে বানায় রঙিন স্বপ্ন কবিতার বই নিপুণ বাঁধাই জরিমোড়া। নিশিদিন আমার ভেতরে শব্দ নিয়ে লুফোলুফি হয় কৌতুক জলসায় মাতে গ্রাম্যবধুরা লোকালয়ে, স্বার্থপর পারিনি তাদের আমি পরাতে এখনো কোনো সুনিপুন পোশাক-আশাক, পারিনি দুলাতে আজো কর্ণমূল...
দেবব্রত সিংহ
মানবতাবাদী
তারা বললেক গপপোটা আজকার লয় হে ইটা বহুত পুরোনো গপপো, তেল চুকচুকা বাঁশে বাঁদর উঠে আর নামে যতবার চায় উঠতে ততবার যায় পড়ে, কী করে উঠবেক বাঁশটাতে যে আচ্ছা করে লগাড়ে মাখাইছে কাঁচা সরষার তেল কারা মাখাইছে কেনে মাখাইছে সে বুঝতে গেলে মাথা লাগবেক হে বহুত মাথা লাগবেক। তিনি বললেন না-না-তা-না ব্যাপারটা কি জানেন ব্যাপারটা হল ধারাবা...
দেবব্রত সিংহ
মানবতাবাদী
কেঁদুলির মেলা পেরাই তখেন আমাদে রাঙামাটির দেশে ফাগুনা হাওয়া বইছে, কচি পলাশের পারা রোদ উঠেছে ঝলমলা, সেই রোদ ধুলা পথে কানা বাউলের আখড়ায় যাতে যাতে থমকে দাঁড়ালেক মাস্টর, কিষ্টনগরের সুধীর মাস্টর, বললেক, ‘তুই হরিদাসীর লাতি কানুবাগাল না?” গরুবাথানের গোরুপাল খুলে গাছতলাতে বাঁশি ফুঁকতে যাইয়ে আমি ফিক করে হাস্যে ফেলেছি। মাস্টর...
দেবব্রত সিংহ
মানবতাবাদী
‘মু জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি বটে।’কাগজওয়ালারা বইললেক, “উঁ অতটুকু বইললে হবেক কেনে? তুমি এবারকার মাধ্যমিকে পত্থম হইছ। তোমাকে বইলতে হবেক আরো কিছু।”পঞ্চায়েতের অনি বৌদি, পধান, উপপধান, এইমেলে, এম.পি- সব একেবারে হামলিয়ে পড়ল আমাদের মাটির কুঁইড়েঘরে।জামবনি ইস্কুলের হেডমাস্টার কোন বিহান বেলায় টিনের আগর খুইলে,...
অনিতা অগ্নিহোত্রী
চিন্তামূলক
গঞ্জের ধ্বনি আর সারি সারি চালা শেষ হলে সমুদ্র রয়েছে। নীলাভ সবুজ। অপার্থিব। আকাশের কাছাকাছি অথচ বিযুক্ত, বেদনায়।। সমুদ্রের দিন রাত মিলেমিশে একটিই জলকণ্ঠস্বর।উল্টানো নৌকার কাছে গিয়ে বসি। সন্ন্যাসী কাঁকড়া। পরিবার দ্রুত হাঁটে গরম বালুর অপসৃয়মানতায়। আমার চিবুকে নুন, গালে নুন, ওষ্ঠাধর লবণে স্থবির রাত্রি নামার আগে আমার ...
কায়কোবাদ
প্রেমমূলক
( ১ ) কে তুমি? — কে তুমি? ওগো প্রাণময়ী, কে তুমি রমণী-মণি! তুমি কি আমার, হৃদি-পুষ্প-হার প্রেমের অমিয় খনি! কে তুমি রমণী-মণি?( ২ ) কে তুমি?— তুমি কি চম্পক-কলি? গোলাপ মতি তুমি কি মল্লিকা যুথী ফুল্ল কুমুদিনী? সৌন্দর্যের সুধাসিন্ধু, শরতের পূর্ণ ইন্দু আঁধার জীবন মাঝে পূর্ণিমা রজনী! কে তুমি রমণী-মণি?( ৩ ) কে তুমি? — তুমি কি ...
কায়কোবাদ
চিন্তামূলক
“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ, সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ ! পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল, জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল ! তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি, মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি ! ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই, সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই ! ‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া ...
কায়কোবাদ
প্রেমমূলক
( ১ ) আবার, আবার সেই বিদায়-চুম্বন, আলেয়ার আলো প্রায়, আঁধারে ডুবায়ে যায়, স্মৃতিটি রাখিয়া হায় করিতে দাহন!( ২ ) বিদায়-চুম্বন, উভয়েরি প্রাণে করে অগ্নি বরিষণ, উভয়ে উভয় তরে, আকুলি ব্যাকুলি করে, উভয়েরি হৃদিস্তরে যাতনা-ভীষণ! এমনি কঠোর হায় বিদায়-চুম্বন!( ৩ ) প্রণয়ের মধুমাখা প্রথম চুম্বনে, শুধু সুখ সমুল্লাস ; এতে ...
কায়কোবাদ
প্রেমমূলক
(১) মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন! যবে তুমি মুক্ত কেশে ফুলরাণী বেশে এসে, করেছিলে মোরে প্রিয় স্নেহ-আলিঙ্গন! মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন?(২) প্রথম চুম্বন! মানব জীবনে আহা শান্তি-প্রস্রবণ! কত প্রেম কত আশা, কত স্নেহ ভালবাসা, বিরাজে তাহায়, সে যে অপার্থিব ধন! মনে কি পড়ে গো সেই প্রথম চুম্বন!(৩) হায় সে চুম্বনে কত সুখ ...
কায়কোবাদ
ভক্তিমূলক
কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি। মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী। কি মধুর আযানের ধ্বনি! আমি তো পাগল হয়ে সে মধুর তানে, কি যে এক আকর্ষণে, ছুটে যাই মুগ্ধমনে কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের পানে। হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের শোণিত-ধারে, কি যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে- কত সুধা আছে সেই মধুর আযানে। নদ...
কায়কোবাদ
চিন্তামূলক
হে পান্থ, কোথায় যাও কোন্ দূরদেশে কার আশে? সে কি তোমা করিছে আহ্বান? সম্মুখে তামসী নিশা রাক্ষসীর বেশে শোন না কি চারিদিকে মরণের তান! সে তোমারে ওহে পান্থ, হাসিমুখে এসে, সে তোমারে ছলে বলে গ্রাসিবে এখনি | যেয়োনা একাকী পান্থ, সে দূর বিদেশে, ফিরে এসো, ওহে পান্থ, ফিরে এসো তুমি | এ ক্ষুদ্র জীবন লয়ে কেন এত আশা? জান না কি এ জগত...
কায়কোবাদ
স্বদেশমূলক
কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী? এ দেশের লোক যারা, সকলইতো গেছে মারা, আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি! সে কথা ভাবিতে হায় এ প্রাণ ফেটে যায়, হৃদয় ছাপিয়ে উঠে – চোখ ভরা পানি। কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী! এ দেশের লোক যত বিলাস ব্যসনে রত এ দেশের দুঃখ কিছু নাহি বুঝে তারা। দেশ গেল ছারেখারে, এ কথা বলিব কারে? ভেবে ভেবে তবু মোর হ...
কায়কোবাদ
স্বদেশমূলক
‘বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা আমার জন্মভূমি। গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে, যাহার চরণ চুমি। ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়, যাহার পূণ্য-গাথা! সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা! আমার মায়ের সবুজ আঁচল মাঠে খেলায় দুল! আমার মায়ের ফুল-বাগানে, ফুটছে কতই ফুল! শত শত কবি যাহার গেয়ে গেছে গাথা! সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা! ...
কায়কোবাদ
চিন্তামূলক
১ আঁধারে এসেছি আমি আধারেই যেতে চাই ! তোরা কেন পিছু পিছু আমারে ডাকিস্‌ ভাই ! আমিতো ভিখারী বেশে ফিরিতেছি দেশে দেশে নাহি বিদ্যা, নাহি বুদ্ধি গুণ তো কিছুই নাই ! ২ আলো তো লাগে না ভাল আধারি যে ভালবাসি ! আমিতো পাগল প্রাণে কভূ কাঁদি, কভূ হাসি ! চাইনে ঐশ্বর্য-ভাতি, চাইনে যশের খ্যাতি আমিযে আমারি ভাবে মুগ্ধ আছি দিবানিশি ! ৩ অনাদা...
নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
নীতিমূলক
মৌমাছি, মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই।ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই।ছোট পাখি, ছোট পাখি কিচিমিচি ডাকি ডাকি কোথা যাও বলে যাও শুনি।এখন না কব কথা আনিয়াছি তৃণলতা আপনার বাসা আগে বুনি।পিপীলিকা, পিপীলিকা দলবল ছাড়ি একা কোথা যাও, যাও ভাই বলি।শীতের সঞ্চয় চাই খাদ্য খুঁজিতেছি তাই ছয় পায়ে ...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
অজস্র জন্ম ধরে আমি তোমার দিকে আসছি কিন্তু পৌঁছুতে পারছি না। তোমার দিকে আসতে আসতে আমার এক একটা দীর্ঘ জীবন ক্ষয় হয়ে যায় পাঁচ পঁয়সার মোম বাতির মত। আমার প্রথম জন্মটা কেটে গিয়েছিলো শুধু তোমার স্বপ্ন দেখে দেখে, এক জন্ম আমি শুধু তোমার স্বপ্ন দেখেছি। আমার দুঃখ, তোমার স্বপ্ন দেখার জন্যে আমি মাত্র একটি জন্ম পেয়েছিলাম। ...
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক মন্দি...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
মূলঃ হেনরিক হাইনে আমার অশ্রু এবং কষ্টরাশি থেকে ফুটে উঠে ফুল থরে থরে অফুরান, এবং আমার দীর্ঘশ্বাসে বিকশিত হয় নাইটিংগেলের গান । বালিকা, আমাকে যদি তুমি ভালোবাসো, তোমার জন্য সে ফুল আনবো আমি— এবং এখানে তোমার দ্বারের কাছে নাইটিংগেলেরা গান গাবে দিবাযামি ।
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
তুমি ভাঙতে পারো বুক শুষে নিতে পারো সব রক্ত ও লবণ বিষাক্ত করতে পারো ঘুম স্বপ্নময় ঘুমের জগত তছনছ ক’রে দিতে পারো তুমি বন উপবন উল্টেপাল্টে দিতে পারো সব সিঁড়ি লিফট্ রাজপথ মিশিয়ে দিতেও পারো সঙ্গীতের সুরেসুরে বিষ আমাকে প্রগাঢ় কোনো আত্নহত্যায় উৎসাহিত ক’রে দিতে পারো ম’রে যাবে ধানক্ষেত ঝ’রে যাবে পাখিদের শিস তোমার ক্ষমতা আ...
হুমায়ুন আজাদ
চিন্তামূলক
আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো ছোট ঘাসফুলের জন্যে একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে। আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো দোয়েলের শিসের জন্যে শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো কারো চোখের মণিতে গেঁথে থাকা একব...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো। তোমার খবরের জন্য যে আমি খুব ব্যাকুল, তা নয়। তবে ঢাকা খুবই ছোট্ট শহর। কারো কষ্টের কথা এখানে চাপা থাকে না। শুনেছি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর তুমি খুবই কষ্টে আছো। প্রত্যেক রাতে সেই ঘটনার পর নাকি আমাকে মনে পড়ে তোমার। পড়বেই তো, পৃথিবীতে সেই ঘটনা তুমি-আমি মিলেই তো প্রথম সৃষ্টি...
হুমায়ুন আজাদ
চিন্তামূলক
একপাশে শূন্যতার খোলা, অন্যপাশে মৃত্যুর ঢাকনা, প’ড়ে আছে কালো জলে নিরর্থক ঝিনুক। অন্ধ ঝিনুকের মধ্যে অনিচ্ছায় ঢুকে গেছি রক্তমাংসময় আপাদমস্তক বন্দী ব্যাধিবীজ। তাৎপর্য নেই কোন দিকে- না জলে না দেয়ালে-তাৎপর্যহীন অভ্যন্তরে ক্রমশ উঠছি বেড়ে শোণিতপ্লাবিত ব্যাধি। কখনো হল্লা ক’রে হাঙ্গরকুমীরসহ ঠেলে আসে হলদে পুঁজ, ছুটে আসে মরা ...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
মুলঃ হেনরিক হাইনে ফুলেরা জানতো যদি আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত কতোখানি, অঝোরে ঝরতো তাদের চোখের জল আমার কষ্ট আপন কষ্ট মানি । নাইটিংগেল আর শ্যামারা জানতো যদি আমার কষ্ট কতোখানি-কতোদুর, তাহলে তাদের গলায় উঠতো বেজে আরো ব হু বেশী আনন্দদায়ক সুর । সোনালী তারারা দেখতো কখনো যদি আমার কষ্টের অশ্রুজলের দাগ, তাহলে তাদের স্থান থেকে ...
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
আগাছা ছাড়াই, আল বাঁধি, জমি চষি, মই দিই, বীজ বুনি, নিড়োই, দিনের পর দিন চোখ ফেলে রাখি শুকনো আকাশের দিকে। ঘাম ঢালি খেত ভ’রে, আসলে রক্ত ঢেলে দিই নোনা পানিরূপে; অবশেষে মেঘ ও মাটির দয়া হলে খেত জুড়ে জাগে প্রফুল্ল সবুজ কম্পন। খরা, বৃষ্টি, ঝড়, ও একশো একটা উপদ্রব কেটে গেলে প্রকৃতির কৃপা হ’লে এক সময় মুখ দেখতে পাই থোকাথোকা স...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
মূলঃ হেনরিক হাইনে প্রিয়তমা, তুমি হাতখানি রাখো আমার গুমোট বুকে। শুনতে পাচ্ছো শব্দ? কে যেনো হাতুড়ি ঠুকে চলছে? সেখানে এক মিস্ত্রি থাকে,যে বানিয়ে চলেছে এক শবাধার । কার জন্যে জানো?—– আমার, আমার । উল্লাসে বিদ্বেষে নিরন্তর সে হাতুড়ি ঠুকছে দুই হাতে, কিছুতে ঘুমোতে পারছিনা আমি, দিনে কিংবা রাতে। মিস্ত্রি, দ্রুত করো, তুম...
হুমায়ুন আজাদ
শোকমূলক
খুব ভালো চমৎকার লাগছে লিলিআন, মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে হবো না চৌচির। তরঙ্গে তরঙ্গে ভ্রষ্ট অন্ধ জলযান এখন চলবে জলে খুব ধীরস্থির। অন্য কেউ ঢেলে নিচ্ছে ঠোঁট থেকে লাল মাংস খুঁড়ে তুলে নিচ্ছে হীরেসোনামণি; এই ভয়ে কাঁপবে না আকাশপাতাল, থামবে অরণ্যে অগ্নি আকাশে অশনি। আজ থেকে খুব ধীরে পুড়ে যাবে চাঁদ, খুব সুস্থ হয়ে উঠবে জীবনযাপন...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
আমাকে ভালবাসার পর আর কিছুই আগের মত থাকবে না তোমার, যেমন হিরোশিমার পর আর কিছুই আগের মতো নেই উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত।যে কলিংবেল বাজে নি তাকেই মুর্হুমুহু শুনবে বজ্রের মত বেজে উঠতে এবং থরথর ক’রে উঠবে দরোজাজানালা আর তোমার হৃৎপিন্ড। পরমুহূর্তেই তোমার ঝনঝন-ক’রে ওঠা এলোমেলো রক্ত ঠান্ডা হ’য়ে যাবে যেমন একাত্তরে দরোজায় বুট...
হুমায়ুন আজাদ
চিন্তামূলক
এই তো ইস্কুল থেকে ফিরলাম এই তো পাখির পালক কুড়িয়ে আনলাম এই তো মাঘের দুপুরে বাসা ভাঙলাম শালিকের সাঁতরিয়ে এলাম পুকুরে এই তো পাড়লাম কুল এই তো ফিরলাম মেলা থেকে এই তো পেলাম ভয় তেঁতুলতলায় এক সাদাবউ দেখে এই তো নবম থেকে উঠলাম দশম শ্রেণীতে এই তো রাখলাম হাত কিশোরীর দীঘল বেণীতে এই তো নিলাম তার ঠোঁট থেকে রজনীগন্ধা । এরই মাঝে ...
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
তেমন যোগ্য সমাধি কই ? মৃত্তিকা বলো, পর্বত বলো অথবা সুনীল-সাগর-জল- সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই ! তাইতো রাখি না এ লাশ আজ মাটিতে পাহাড়ে কিম্বা সাগরে, হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
আপনাকে দেখিনি আমি; তবে আপনি আমার অচেনা নন পুরোপুরি, কারণ বাঙলার মায়েদের আমি মোটামুটি চিনি, জানি। হয়তো গরিব পিতার ঘরে বেড়ে উঠেছেন দুঃক্ষিণী বালিকারূপে ধীরেধীরে; দুঃক্ষের সংসারে কুমড়ো ফুলের মতো ফুটেছেন ঢলঢল, এবং সন্ত্রস্ত ক’রে তুলেছেন মাতা ও পিতাকে। গরিবের ঘরে ফুল ভয়েরই কারণ। তারপর একদিন ভাঙা পালকিতে চেপে দিয়েছেন প...
হুমায়ুন আজাদ
স্বদেশমূলক
যখন আমরা বসি মুখোমুখি, আমাদের দশটি আঙুল হৃৎপিন্ডের মতো কাঁপতে থাকে দশটি আঙুলে, আমাদের ঠোঁটের গোলাপ ভিজে ওঠে আরক্ত শিশিরে, যখন আমরা আশ্চর্য আঙুলে জ্বলি, যখন আমরাই পরষ্পরের স্বাধীন স্বদেশ, তখন ভুলেও কখনো আমাকে তুমি বাঙলাদেশের কথা জিজ্ঞেস করো না; আমি তা মূহূর্তেও সহ্য করতে পারি না, -তার অনেক কারণ রয়েছে। তোমাকে মিনতি করি ...
হুমায়ুন আজাদ
প্রকৃতিমূলক
ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো। ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো। ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা। ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা। ভালো থেকো। ভালো থেকো চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো। ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো। ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির। ভালো থেকো জল, নদীটির তীর। ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেক...
হুমায়ুন আজাদ
স্বদেশমূলক
শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী- একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী। আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার। তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়- হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়। লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের মুখোমুখি...
হুমায়ুন আজাদ
স্বদেশমূলক
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে। আমার খাদ্যে ছিল অন্যদের আঙুলের দাগ, আমার পানীয়তে ছিল অন্যদের জীবাণু, আমার বিশ্বাসে ছিল অন্যদের ব্যাপক দূষণ। আমি জন্মেছিলাম আমি বেড়ে উঠেছিলাম আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে। আমি দাঁড়াতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো, আমি হাঁটতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো, আমি পোশাক পরতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো ক’রে, আম...
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
গরিবেরা সাধারণত সুন্দর হয় না। গরিবদের কথা মনে হ’লে সৌন্দর্যের কথা মনে পড়ে না কখনো। গরিবদের ঘরবাড়ি খুবই নোংরা, অনেকের আবার ঘরবাড়িই নেই। গরিবদের কাপড়চোপড় খুবই নোংরা, অনেকের আবার কাপড়চোপড়ই নেই। গরিবেরা যখন হাঁটে তখন তাদের খুব কিম্ভুত দেখায়। যখন গরিবেরা মাটি কাটে ইট ভাঙে খড় ঘাঁটে গাড়ি ঠেলে পিচ ঢালে তখন তাদের সার...
হুমায়ুন আজাদ
মানবতাবাদী
আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি। আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে, কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতোনা। আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি। আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান। আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর, আমাদে...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির কণা নেই ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই আমার মরুভূর গোপন কোনো কোণে একটু নীল হয়ে বাত...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
সেই কবে থেকে জ্বলছি জ্ব’লে জ্ব’লে নিভে গেছি ব’লে তুমি দেখতে পাও নি ।সেই কবে থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাতিস্তম্ভের মতো ভেঙে পড়েছি ব’লে তুমি লক্ষ্য করো নি ।সেই কবে থেকে ডাকছি ডাকতে ডাকতে স্বরতন্ত্রি ছিঁড়ে বোবা হয়ে গেছি ব’লে তুমি শুনতে পাও নি ‘।সেই কবে থেকে ফুটে আছি ফুটে ফুটে শাখা থেকে ঝ’রে গেছি ব’লে ত...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
রয়েছে ধারালো ছোরা স্লিপিং টেবলেট কালো রিভলবার মধ্যরাতে ছাদ ভোরবেলাকার রেলগাড়ি সারিসারি বৈদ্যুতিক তার। স্লিপিং টেবলেট খেয়ে অনায়াসে ম’রে যেতে পারি বক্ষে ঢোকানো যায় ঝকঝকে উজ্জ্বল তরবারি কপাল লক্ষ্য ক’রে টানা যায় অব্যর্থ ট্রিগার ছুঁয়ে ফেলা যায় প্রাণবাণ বৈদ্যুতিক তার ছাদ থেকে লাফ দেয়া যায় ধরা যায় ভোরবেলাকার রেল...
হুমায়ুন আজাদ
প্রেমমূলক
বঙ্কিম গ্রীবা মেলো ঝরনা ছোটাবো। যুগল পাহাড়ে পাবো অমৃতের স্বাদ, জ্ব’লে যাবে দুই ঠোঁটে একজোড়া চাঁদ। সুন্দরীর নৌকো ঢুকাবো বঙ্গোপসাগরে, অতলে ডুববো উত্তাল আশ্বিনের ঝড়ে। শিউলির বোঁটা থেকে চুষে নেবো রস, এখনো আমার প্রিয় আঠারো বয়স। তোমার পুষ্পের কলি মধুমদগন্ধময়, সেখানে বিন্দু বিন্দু জমে আমার হৃদয়।
হুমায়ুন আজাদ
চিন্তামূলক
মূলঃ ডব্লিউ বি ইএট্স্ বড়ো থেকে বড়ো বৃত্তে পাক খেতে খেতে বাজ শুনতে পায় না বাজের প্রভুকে; সবকিছু ধ’সে পড়ে; কেন্দ্র ধ’রে রাখতে পারে না; নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্ব জুড়ে, ছাড়া পায় রক্তময়লা প্রবাহ, আর চারদিকে আপ্লাবিত হয় নিষ্পাপ উৎসব; শ্রেষ্ঠরা সমস্ত বিশ্বাসরিক্ত, যখন নষ্টরা পরিপূর্ণ সংরক্ত উৎসাহে। নিশ্চয়ই ক...
আবদুন নুর তুষার
স্বদেশমূলক
আমরা এখন কয়েকটি অক্ষর বিদেশী ভাষায় মুঠোফোনের অক্ষরালাপ আমরা এখন ইনবক্সে পত্রশিল্পীআমাদের আলিঙ্গন, চুম্বন, আবেগের আতিশয্য হৃদকম্স্পপন, স্পর্শ , গন্ধ বিবর্জিত এখন ।আমরা এখন স্মার্টফোনে ইমোটিকন আর ডুডল ভাইবার আর হোয়াটসঅ্যাপ এ কিছু লেনদেন।আমরা অমানবিক উইন্ডোজ, আই ও এস আর অ্যান্ড্রয়েড এর দাস। আমরা কথা বলি না আমাদের আঙ্গ...
আ. ন. ম. বজলুর রশীদ
স্বদেশমূলক
আমাদের দেশ তারে কত ভালবাসি সবুজ ঘাসের বুকে শেফালির হাসি, মাঠে মাঠে চরে গরু নদী বয়ে যায় জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়। রাখাল বাজায় বাঁশি কেটে যায় বেলা চাষা ভাই করে চাষ কাজে নেই হেলা। সোনার ফসল ফলে ক্ষেত ভরা ধান সকলের মুখে হাসি, গান আর গান।
বিষ্ণু বিশ্বাস
চিন্তামূলক
সূর্য ধীরে নিভে গেল। আকাশে গোলাপি একটা রঙ আস্তে অন্ধকারে হারাল। এক বৃদ্ধকে ঘিরে আমরা বসে আছি কিছু তরুণ তরুণী। বহুকালের প্রাচীন। ও আমাদের কিছু বলবে ভেবেছে, অথবা, আমরা কিছু শুনব অপেক্ষায় রয়েছি। আমরা কোনো কথাই বলছি না। তারপর একটি দীর্ঘশ্বাসের মতো শব্দ- বৃদ্ধটির। নাভীপদ্মে সঞ্চিত যেন বহুকালের গাঁজাময় গেজানো ধোঁয়া সে অস...
বিষ্ণু বিশ্বাস
চিন্তামূলক
আমাকে পেরিয়ে গেলে তুমি পাবে এক ধূলিপথ ডানে বাঁয়ে সবখানে শিলীভূত পাখিদের শব মৃত্যু যেখানে অমর অমেয় জলের স্বপ্ন ধোয়া বাঁশপাতা খড়খড়ি ঊষর দানোর লোহাগড়। হয়ত থামতে হবে, বহুবার অনাত্মীয় শোকে তোমার সোনালি জামা, হলুদ গন্ধের শাড়িখানা উড়িয়ে নিয়েছে ঝড়। শুধু স্বপ্নের আঁধার-গান তারাদের নীল জলে তোমাকে দিয়েছে কামরতি তোম...
বিষ্ণু বিশ্বাস
প্রেমমূলক
শুধু মৃতদের গল্প কত আর কাঁধে ঝুলে যাবে এবার নিষ্কৃতি পেলে, শান্তি অন্বেষণে মহাকাশে গিয়ে, দু’টুকরো লোহা ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে দেব অসহ অসীম শব পুড়ে হোক ছাই পুড়ে ছাই।তারপর আমাদের নিমগাছটির পাশে নদী কদমগাছটি আছে অন্যদের মুঘলের ঘাটে তুমি আছো কালো মেয়ে সন্ধ্যা স্নানের ঝংকৃত দূরে আমি ভালোবেসে ভুলে তোমাকে জ্বালিয়ে দিই নাই।
বিষ্ণু বিশ্বাস
চিন্তামূলক
জায়গা ছিল না কোনো কথা বলবার, শুনবার। সমুদ্রের ধারে যেতে পথের বাদাম গাছগুলি মিহি কথার কৌতুকে পাথর ফুলের ধাক্কা দিল আমি কী বলেছিলাম, তোমরা যারা শুনেছো বেশি শোনাবে–একটু খানি। আমি ভুলে গেছি জন্ম আছে। কিছু যন্ত্রণার কথা যেভাবে বলেছি মনে নেই একটু আনন্দ কথা, গোলাপি স্তম্ভে স্থির রয়েছে অন্ধ থেকে চোখে জেগে সমুদ্র দেখি বালির স...
বিষ্ণু বিশ্বাস
চিন্তামূলক
(রুকু ও কমলকে)গভীর সমুদ্রের নোনা হাড় নোনা দাঁতে তৃষ্ণা আমার জল দেবে একটু আমাকে শীতল জলের প্রাণ? শ্যাওলা শাড়ির বহু বহু নারী তোমাদের ঝর্ণাধারা শত শত পতাকার মতো হলদে সঙ্গীত হবে যখন ভোর হবে, ভোরের আকাশের নীল চোখে গান বন্ধ হোক, আপাতত থেমে যাক কোলাহল কলস্বরে কাটে দুপুর বিকাল গভীর রাতে আদ্য জলের তৃষ্ণা আমার নোনা হাড় নোনা দ...
বিষ্ণু বিশ্বাস
চিন্তামূলক
ধরাতলে একদিন পৃথিবী এনেছে ধারাজল দেবতা-চোখের আলো ক্রমে নিভে হয়েছে সকাল। বেড়াতে এসেছে এক গল্পের কুমার অসময়ে তার অবসর ছিল। স্রোস্বতী কিনারে দেখেছে নীল বাঁদরের হাট। দীর্ঘক্ষণ পলক পড়েনি দেবতা-চোখের আলো ক্রমে নিভে হয়েছে সকাল। এমন গল্পের কবি অন্ধ হলে সৃষ্টি স্থিতি লয় নিশ্চিহ্ন আলোর সখা, তোমাদের শোনা কোন গান পাথরে স্থির...
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ছড়া
কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়। গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়॥ মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে। মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে॥ পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা। সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা॥ একবার রসনায় যে পেয়েছে তার। আর কিছু মুখে নাহি ভাল লাগে তার॥ দৃশ্য মাত্র সর্বগাত্র প্রফুল্লিত হয়। সৌরভে আমোদ করে ত্রিভুবনময়॥ প্রাণে নাহি দ...
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
স্বদেশমূলক
পূর্বকার দেশাচার          কিছুমাত্র নাহি আর অনাচারে অবিরত রত। কোথা পূর্ব রীতি নীতি,       অধর্মের প্রতি প্রীতি, শ্রুতি হয় শ্রুতিপথহত।। দেশের দারুণ দুখ          দেখিয়া বিদরে বুক, চিন্তায় চঞ্চল হয় মন। লিখিতে লেখনী কাঁদে       ম্লানমুখ মসীছাঁদে শোক-অশ্রু করে বরিষণ।। কি ছিল কি হ'ল, আহা,      আর কি হইবে তাহা, ভারতের ভবভরা য...
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
মানবতাবাদী
মিছা কেন কুল নিয়া কর আঁটাআঁটি। এ যে কুল কুল নয় সার মাত্র আঁটি।। কুলের গৌরব কর কোন্ অভিমানে। মূলের হইলে দোষ কেবা তারে মানে।। ঘটকের মুখে সুধু কুলীনের চোপা। রস নাই যশ কিসে কুল হল টোপা।। আদর হইত তবে ভাঙ্গিলে অরুচি। পোকাধরা সোঁকা ভার দেখে যায় রুচি।। অতএব বৃথা এই কুলের আচার। ইথে নাহি রক্ষা পায় কুলের আচার।। কুলের সম্ভ্রম ...
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
স্বদেশমূলক
মায়ের কোলেতে শুয়ে ঊরুতে মস্তক থুয়ে খল খল সহাস্য বদন। অধরে অমৃত ক্ষরে আধ আধ মৃদু স্বরে আধ আধ বচনরচন।। কহিতে অন্তরে আশা মুখে নাহি কটু ভাষা ব্যাকুল হয়েছে কত তায়। মা-ম্মা-মা-মা-বা-ব্বা-বা-বা আবো আবো আবা আবা সমুদয় দেববাণী প্রায়।। ক্রমেতে ফুটিল মুখ উঠিল মনের সুখ একে একে দেখিলে সকল। মেসো, পিসে, খুড়ো, বাপ জুজু, ভুত, ছু...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
সত্য বই মিথ্যা বলিব না। হুজুর, ধর্মাবতার, প্রয়াতা শান্তিলতার সঙ্গে মদীয়ের কোনো রকম থারাপ সম্পর্ক ছিলো না ইহা সত্য যে, একবার মৌরিগ্রাম হইতে তাহাকে থলকমলের চারা আনিয়া দেই। আমাদের বংশে স্থলপদ্ম, বকফুল ইত্যাদি কিছু কিছু গাছ লাগানোর আস্য নাই। হুজুর, ধর্মাবতার, আস্য কথাটির অর্থ বলা কঠিন, সোজা করিয়া বলা যাইতে পারে ঐ সব গাছ লা...
তারাপদ রায়
রূপক
বোলতা, ভিমরুল এবং মৌমাছিদের সঙ্গে কাঠপিঁপড়ে, ডেয়োপিঁপড়ে এবং লালপিঁপড়েদের সন্ধিচুক্তি যেদিন স্বাক্ষরিত হল, কেউ মাথা ঘামায় নি। শুধু কালোপিঁপড়েরা বলেছিল, “আমাদের কিছুই বলার নেই। আমরা কাউকে কামড়াই না শুধু সুড়সুড়ি দিই।’
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
আমি মমতা থেকে তুলে এনেছিলাম পরিহাস আমি বিষাদ থেকে তুলে এনেছিলাম অশ্রু আমি ঘুম থেকে তুলে এনেছিলাম স্বপ্ন আমি স্মৃতি থেকে তুলে এনেছিলাম অভিমান আমি শব্দ থেকে তুলে এনেছিলাম কবিতা তুমি কোনোদিন কিছুই খেয়াল করোনি আমি বিষাদসিন্ধুর তীরে দাঁড়িয়ে ডুগডুগি বাজিয়েছিলাম তুমি সেই বাঁদরনাচের বাজনা শুনতে পাওনি। উত্তরের অনন্ত বাতাসে ঝরা ...
তারাপদ রায়
মানবতাবাদী
আমি নিতান্ত গরীব ছিলাম, খুবই গরীব। আমার ক্ষুধার অন্ন ছিল না, আমার লজ্জা নিবারণের কাপড় ছিল না, আমার মাথার উপরে আচ্ছাদন ছিল না। অসীম দয়ার শরীর আপনার, আপনি এসে আমাকে বললেন, না, গরীব কথাটা খুব খারাপ, ওতে মানুষের মর্যাদা হানি হয়, তুমি আসলে দরিদ্র। অপরিসীম দারিদ্র্যের মধ্যে আমারকষ্টের দিন, আমার কষ্টের দিন, দিনের পর দিন আর...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি। চুল আঁচড়াই,দাড়ি কামাই, কখনও নিজেকে ভাল করে দেখি, ফিসফিস করে নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, ‘কেমন আছ, তারাপদ?’ কখনও কখনও নিজেকে বলি, ‘ছেষট্টি বছর বয়েস হল, যদি আর অর্ধেক জীবন বাঁচো, শতায়ু হবে।’ নিজের রসিকতায় নিজেই হাসি নিজে অর্থাৎ আমি নিজে এবং আয়নার নিজে।এইরকম ভাবে একদিন, কথা নেই, বার্তা নেই আয়নার ...
তারাপদ রায়
মানবতাবাদী
আমরা যারা দিন আনি, দিন খাই, আমরা যারা হাজার হাজার দিন খেয়ে ফেলেছি, বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন, কুয়াশা ঘেরা দিন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অধীর প্রতীক্ষারত দিন, অপমানে মাথা নিচু করে চোরের মত চলে যাওয়া দিন, খালি পেট, ছেঁড়া চটি, ঘামে ভেজা দিন, নীল পাহাড়ের ওপারে, সবুজ বনের মাথায় দিন, নদীর জলের আয়নায়, বড় সাহেবের ফুলের বাগানে দিন, হ...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
স্মাইল প্লিজ, আপনারা প্রত্যেকেই একটু হাসুন, দয়া করে তাড়াতাড়ি, তা না হলে রোদ পড়ে গেলে আপনারা যে রকম চাইছেন তেমন হবে না, তেমন উঠবে না ছবি। আপনার ঘড়িটা ডানদিকে আর একটু, একটু সোজা করে প্লিজ, আপনি কি বলছেন ঘাড়-টাড় সোজা করে দাঁড়ানো হ্যাবিট নেই, তবে, কি বলছেন অনেকদিন, অনেকদিন হাসারঅভ্যাস, হাসার-ও অভ্যাস নেই? এদিকে যে রোদ পড়ে ...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
স্মাইল প্লিজ, আপনারা প্রত্যেকেই একটু হাসুন, দয়া করে তাড়াতাড়ি, তা না হলে রোদ পড়ে গেলে আপনারা যে রকম চাইছেন তেমন হবে না, তেমন উঠবে না ছবি। আপনার ঘড়িটা ডানদিকে আর একটু, একটু সোজা করে প্লিজ, আপনি কি বলছেন ঘাড়-টাড় সোজা করে দাঁড়ানো হ্যাবিট নেই, তবে, কি বলছেন অনেকদিন, অনেকদিন হাসার অভ্যাস, হাসার-ও অভ্যাস নেই? এদিকে যে...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
আবার ফিরে এলাম, আর একটু খোঁজ নিয়ে এলেই ভাল হত। বাড়ির সামনের দিকে একটা কয়লার দোকান ছিল কাঠ, কয়লা, কেরোসিন – খুচরো কেনা বেচা, কেউ চিনতে পারল না দু’জন রাস্তার লোক বলল, ‘এদিকে কোনো কয়লার দোকান নেই গলির এপারে রাধানাথ দত্তের গ্যাসের দোকান সেখানে খোঁজখবর নিয়ে দেখুন। ‘মনে আছে কয়লার দোকানের পিছনে ছিল বড় উঠোন, কয়েকটা আম কাঁঠাল গ...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কিনে এনেছিলাম আকাশী রঙের বিলিতি হাওয়াই চিঠি সে চিঠির অক্ষরে অক্ষরে লেখা যেত কেন তোমাকে এখনো চিঠি লেখার কথা ভাবি লেখা যেত আমাদের উঠোনে কামিনী ফুলগাছে এবার বর্ষায় ফুলের ছড়াছড়ি তুমি আরেকটু কাছে থাকলেই বৃষ্টিভেজা বাতাসে সে সৌরভ তোমার কাছে পৌঁছতো আর তোমার উপহার দেওয়া সেই স্বচ্ছন্দ বেড়ালছানা এখ...
তারাপদ রায়
মানবতাবাদী
আমরা যারা দিন আনি, দিন খাই, আমরা যারা হাজার হাজার দিন খেয়ে ফেলেছি, বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন, কুয়াশা ঘেরা দিন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অধীর প্রতীক্ষারত দিন, অপমানে মাথা নিচু করে চোরের মত চলে যাওয়া দিন, খালি পেট, ছেঁড়া চটি, ঘামে ভেজা দিন, নীল পাহাড়ের ওপারে, সবুজ বনের মাথায় দিন, নদীর জলের আয়নায়, বড় সাহেবের ফুলের বাগানে দিন, হ...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
মাঝে মধ্যে দেখা হবে। মাঝে মধ্যে চোখের আড়ালে দু-চার বছর কিংবা ধরো সেই জীবনানন্দের জীবন গিয়েছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার ; এইভাবে ঝরা পাতা, হেমন্তের নরম বাতাস কিছু বৃষ্টি, কুয়াশা ও জল, কিংবা জলের মতন চলে যাবে দিন ও সময়, সময় ও ভালোবাসা।ভালোবাসা? হয়তো বা কোনোদিন তবুও যাবে না, দু-চার বছর কিংবা তারো পরে হঠাৎ হঠাৎ দেখা হবে, ঢেউ...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
কোনটা যে চন্দ্রমল্লিকার ফুল আর কোনতা যে সূর্যমুখী – বারবার দেখেও আমার ভুল হয়ে যায়, আমি আলাদা করতে পারি না৷ ওলকপি এবং শালগম, মৃগেলের বাচ্চা এবং বাটামাছ, মানুষ এবং মানুষের মত মানুষ – বারবার দেখেও আমার ভুল হয়ে যায়, আমি আলাদা করতে পারি না৷ বই এবং পড়ার মত বই, স্বপ্ন এবং দেখার মত স্বপ্ন, কবিতা এবং কবিতার মত কবিতা, বারবা...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ লেখেনা কবিতা। আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ পড়েনা কবিতা। আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ বোঝেনা কবিতা। আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ শোনেনা কবিতা। গাব্বুই গাব্বুর জন্য লিখে যায় গাব্বু-গাব্বু অসংখ্য কবিতা। গাব্বুই গাব্বুর সব ভাই-বন্ধু বড় বাবু মাতা কিংবা পিতা। গাব্বুর কিছুই নেই শুধু আছে গাব্বু গাব্বু ...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
কোথাও ছাপার ভুল হয়ে গেছে৷ ভীষণ, বিচ্ছিরি এ পদ্য আমার নয়, এই আলপনা, এই পিঁড়ি; এই ছবি আমি তো আঁকিনি, এই পদ্য আমি তো লিখিনি৷ এই ফুল, এই ঘ্রাণ, এই স্বপ্নময়, স্মৃতি নিয়ে এই ছিনিমিনি এই পদ্য আমি তো লিখিনি৷ আমার পুরোনো খাতা, উড়ছে হাওয়ায় ছেঁড়া মলাটের নিচে পোকা কাটা মলিন পাতায় আমের বোলের গন্ধ, ঝরে আছে অমোঘ পলাশ৷ কবেকা...
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
জয়দেবের কথা মনে রেখে তোমারই জন্য দারোয়ান রাখবো বাড়িতে। তুমি যাই করো, ঈশ্বর, আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে, আমার ছদ্মবেশে আমার কবিতা সম্পূর্ণ করতে এসো না।
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
শেষবার নামার আগে সমস্ত জিনিস পত্রগুলি তালিকা মিলিয়ে নিতে হবে, এবার ভ্রমণকালে প্রচুর সংগ্রহ হ’লো, মিনে-করা আগ্রার ফুলদানি। জরির চপ্পল, দ্রুতগামী মেল ট্রেনে সচকিত ভ্রূ-পল্লব, কী-কী ফেলে গেলে বাড়ি ফিরে দু:খ হবে? যে আমগাছের ছায়া সঙ্গে নিয়ে আসা অসম্ভব তা-ও বুঝি অজানিত হোল্ড-অলে বাঁধা হয়েছিলো, আমগাছের ছায়ার ওজন জানা নেই, তাই...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
অনেকদিন দেখা হবে না তারপর একদিন দেখা হবে। দুজনেই দুজনকে বলবো, ‘অনেকদিন দেখা হয় নি’। এইভাবে যাবে দিনের পর দিন বত্সরের পর বত্সর। তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে বা হয়ত জানা যাবে না, যে তোমার সঙ্গে আমার অথবা আমার সঙ্গে তোমার আর দেখা হবে না।
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কিনে এনেছিলাম আকাশী রঙের বিলিতি হাওয়াই চিঠি সে চিঠির অক্ষরে অক্ষরে লেখা যেত কেন তোমাকে এখনো চিঠি লেখার কথা ভাবি লেখা যেত আমাদের উঠোনে কামিনী ফুলগাছে এবার বর্ষায় ফুলের ছড়াছড়ি তুমি আরেকটু কাছে থাকলেই বৃষ্টিভেজা বাতাসে সে সৌরভ তোমার কাছে পৌঁছতো আর তোমার উপহার দেওয়া সেই স্বচ্ছন্দ বেড়ালছানা এখ...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
অনেকদিন পর কাগজ-কলম নিয়ে বসে প্রথম একটা চাঁদের ছবি আঁকি, সঙ্গে কিছু মেঘ।তারপর যথেষ্ট হয়নি ভেবে গোটা তিনেক পাখি, ক্রমশ একটা দেবদারু ও কয়েকটা কলাগাছ, অবশেষে অনেকগুলি ছানাসহ একটা বেড়াল, এইসব এঁকে এঁকে তবুও কাগজের নীচে চার আঙুল জায়গা বাকি থাকে : সেখানে প্রথমে লিখি, শ্রীচরণেষু তার নীচে সবিনয় নিবেদন।এবং কিছুক্ষণ পরে সবিনয় নি...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
অনেকদিন দেখা হবে না তারপর একদিন দেখা হবে। দুজনেই দুজনকে বলবো, ‘অনেকদিন দেখা হয় নি’। এইভাবে যাবে দিনের পর দিন বত্সরের পর বত্সর। তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে বা হয়ত জানা যাবে না, যে তোমার সঙ্গে আমার অথবা আমার সঙ্গে তোমার আর দেখা হবে না।
তারাপদ রায়
চিন্তামূলক
আবার ফিরে এলাম, আর একটু খোঁজ নিয়ে এলেই ভাল হত। বাড়ির সামনের দিকে একটা কয়লার দোকান ছিল কাঠ, কয়লা, কেরোসিন – খুচরো কেনা বেচা, কেউ চিনতে পারল না দু’জন রাস্তার লোক বলল, ‘এদিকে কোনো কয়লার দোকান নেই গলির এপারে রাধানাথ দত্তের গ্যাসের দোকান সেখানে খোঁজখবর নিয়ে দেখুন। ‘মনে আছে কয়লার দোকানের পিছনে ছিল বড় উঠোন, কয়েকটা আম কাঁঠাল গ...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
আমি মমতা থেকে তুলে এনেছিলাম পরিহাস আমি বিষাদ থেকে তুলে এনেছিলাম অশ্রু আমি ঘুম থেকে তুলে এনেছিলাম স্বপ্ন আমি স্মৃতি থেকে তুলে এনেছিলাম অভিমান আমি শব্দ থেকে তুলে এনেছিলাম কবিতা তুমি কোনোদিন কিছুই খেয়াল করোনি আমি বিষাদসিন্ধুর তীরে দাঁড়িয়ে ডুগডুগি বাজিয়েছিলাম তুমি সেই বাঁদরনাচের বাজনা শুনতে পাওনি। উত্তরের অনন্ত বাতাসে ঝরা ...
তারাপদ রায়
প্রেমমূলক
মনে নেই, আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম, অথবা তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, এখন আর কিছু মনে নেই, তবু দুঃখ হয় এখন, যখন একেকদিন খুব বৃষ্টি নেমে আসে এখন, যখন একেকদিন খুব শীতের বাতাস শুধু পাতা উড়িয়ে উড়িয়ে আমার চারদিকে বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস ঘুরে ঘুরে; এমন কি যখন সেই পুরনো কালের সাদা রোদ হঠাত্‍ ভোরবেলা ঘর ভাসিয়ে ছাপিয়ে, ‘কি ব্যাপার এবার...
লালন শাহ
চিন্তামূলক
সব সৃষ্টি করলো যে জন তারে সৃষ্টি কে করেছে সৃষ্টি ছাড়া কি রূপে সে সৃষ্টিকর্তা নাম ধরেছে সৃষ্টিকর্তা বলছো যারে লা শরিক হয় কেমন করে ভেবে দেখো পুর্বাপরে সৃষ্টি করলেই শরিক আছে।। চন্দ্র সূর্য যে গঠেছে তার খবর কে করেছে নীরেতে নিরঞ্জন আছে নীরের জন্ম কে দিয়েছে।। স্বরূপ শক্তি হয় যে জনা কে জানে তার ঠিক ঠিকানা জাহের বাতেন যে জ...
লালন শাহ
চিন্তামূলক
শুনিলে প্রাণ চমকে উঠে দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা ।। যেখানে সাঁইর বারামখানাযা ছুঁইলে প্রাণে মরি এ জগতে তাইতে তরী বুঝেও তা বুঝতে নারী কীর্তিকর্মার কি কারখানা ।আত্নতত্ত্ব যে জেনেছে দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে আমার মনের ঘোর গেল না ।।যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন সে ধনের হল না যতন অকালের ফল পাকায় লালন দেখে শুনে জ্ঞান হল না...