content
stringlengths
0
129k
:
: বিশ্ব বাংলা সরণি
অ্যাটমোস্ফিয়ার
আরবানা, কলকাতা
কলকাতা গেট
কলকাতা বস্ত্রশিল্প
কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন
কলকাতার পর্যটক আকর্ষণ
কসবা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গন
কেষ্টপুর খাল
খিদিরপুর ডক
গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জি ..
চৌরঙ্গী রোড
ডিসান হস্পিটাল ও হার্ট ইনস্টিটিউট
দক্ষিণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
পূর্ব কলকাতা
বেলেঘাটা খাল
মিলেনিয়াম পার্ক
সেন্ট জন্স চার্চ, কলকাতা
সেন্ট্রাল ক্যালকাটা পলিটেকনিক
হুগলি রিভারফ্রন্ট
:
© ... 2020 | . .
মেলান্দহ বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা
এটি ১১টি ইউনিয়ন এবং দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত
এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন জামালপুর জেলার ৭ টি উপজেলার একটি এবং এটি জেলার মধ্যভাগে অবস্থিত
মেলান্দহ উপজেলার উত্তরে ইসলামপুর উপজেলা, দক্ষিণে জামালপুর সদর ও মাদারগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে জামালপুর সদর ও শেরপুর জেলা, পশ্চিমে মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা অবস্থিত
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২৫ সালে মেলান্দহ থানা গঠিত হয়
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে মেলান্দহ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেলান্দহ উপজেলা জামালপুর-৩ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত
এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৪০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত
মেলান্দহ উপজেলার আয়তন ২৫৮.৩২ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী ৩,১৩,১৮২ জন
পুরষ ও নারীর অনুপাত ১০০ঃ৯৭, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২১২ জন, শিক্ষার হার ৩৫.৭%
পরিচ্ছেদসমূহ
২ ভৌগোলিক অবস্থান
৪ জনসংখ্যার উপাত্ত
৬ স্বাস্থ্য
৭ অর্থনীতি
৯ নদ-নদী ও খাল-বিল
১০ উল্লেখযোগ্য স্থান
১১ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
১২ আরও দেখুন
১৩ তথ্যসূত্র
১৪ বহিঃসংযোগ
পটভূমি[সম্পাদনা]
মেলান্দহ উপজেলার প্রাচীন ইতিহাসে হযরত শাহ কামাল (র.) এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য
১৫০৩ সালে হযরত শাহ কামাল মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেন প্রদেশ থেকে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে আগমন করেন
তিনি দুরমুট ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থান গ্রহণ করেন
বর্তমানে সেখানে হযরত শাহ কামালের (র.) মাজার রয়েছে
প্রতি বছর ১লা বৈশাখ থেকে ৩১শে বৈশাখ পর্যন্ত মাসব্যাপী মেলাও অনুষ্ঠিত হয়
মেলান্দহের নামকরণের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কিংবদন্তি থেকে অনুমান করা হয় যে, এ অঞ্চলে অতীতে 'মেলা' বা অনেক 'দহ' বা জলাশয় ছিল
এই 'মেলা' ও 'দহে'র মিলিত উচ্চারণেই 'মেলান্দহ' নামের উদ্ভব হয়েছে
আবার কেউ কেউ মনে করেন কয়েকটি দহের মিলনস্থলে এ স্থানটি গড়ে উঠেছে বলে এর নাম মিলন্দহ> মিলান্দহ> মেলান্দহ হয়েছে
'মেলান্দহ' নামের ব্যাপারে অন্য একটি ধারণাও প্রচলিত আছে
এ অঞ্চলে একটি মৌজার নাম ছিল মেলান্দহ
এ মৌজার নামেই পরবর্তীকালে এই অঞ্চলের নাম মেলান্দহ হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন
এ অঞ্চলটি শুধু তিনদহের মিলনস্থল ছিল না, অনেক লোকের সাক্ষাৎ, মিলন ও সমাগমের স্থানে পরিণত হয়েছিল সেই প্রাচীন কালেই
তবে বর্তমান মেলান্দহ বাজারটি বসত কামাখ্যা তলায়
আদিপৈত গ্রামের জমিদার-কর্মচারী হরদেব ও রাজচন্দ্র দেব স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মেলান্দহ বাজারের পত্তন করেন
তখনকার দিনে মেলান্দহ বাজারে দুধ, মাছ, তেল, লবনের মতো খুব সামান্য জিনিসের বেচা কেনা হতো
সে সময় টাকা পয়সার মুদ্রার প্রচলন তেমন হয়নি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 'বিনিময় প্রথা'র মাধ্যমে জিনিসপত্রের আদান-প্রদান হতো
কলের কাপড়ের প্রচলন তখনও শুরু হয়নি
ঘরে ঘরে তুলা থেকে তুলা থেকে চরকায় সুতা তৈরি হতো
ব্যবসায়ীরা তুলা আমদানি করে গ্রামে গ্রামে কাটুনিদের দিয়ে যেত
তারা সুতা কেটে পারিশ্রমিক হিসেবে এক চতুর্থাংশ রেখে বাকি সুতা ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিত
আধাসের বা দশ ছটাক সুতায় একটি শাড়ি বুনানো যেত
গায়ের চাদর বুনতে আরো কম সুতা লাগতো
মানুষের জীবন ছিল কষ্টসাধ্য ও অনাড়ম্বরপূর্ণ
মানুষের নীতি-নৈতিকতা ছিল উন্নত এবং সামাজিক বন্ধন ছিল মজবুত
কথিত আছে, ২৫০ বছর পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা নদী 'লৌহজং' বর্তমান মেলান্দহ বাজারের উপর দিয়ে প্রবহমান ছিল
এই নদীর উভয় তীর ঘনবসতিপূর্ণ ছিল
ভূমিকম্প, নদীভাঙ্গন, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে নদীটি ভরাট হয়ে যায়
পরে ম্যালেরিয়া, কলেরা, কালাজ্বর ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে অনেক লোক মারা যায়
অনেকেই স্থানান্তরে চলে যায়
ফলে ক্রমশ স্থানটি লোকবিরল ও জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে ওঠে
অনেকদিন পর একদল লোক এসে মেলান্দহের আশেপাশে বসতি স্থাপন করে
আস্তে আস্তে আবার লোকালয় গড়ে ওঠে
জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ শুরু করে
তখন এ অঞ্চলে কয়েকজন বিশিষ্ট জমিদার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন
এদের মধ্যে মহিরামকুলের মহিরাম লাহিড়ি ও মালঞ্চার চন্দ্রকান্ত রায়ের নাম উল্লেখযোগ্য
পাচুরপাড়ায় বাস করেত একজন প্রতাপশালী জমিদার
খুব কাছাকাছি ছিল এসব জমিদারি এলাকাগুলো
এসব জমিদারদের অনেক কর্মচারীর প্রয়োজন ছিল
বহুলোক চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন শুরু করে
জমিদার মহিরামকুল লাহিড়ির মৃত্যুর পর তাঁর নামে এ অঞ্চলের নাম হয় মহিরামকুল
মহিরামকুলের পূর্বনাম ছিল চন্দ্রকোনা
মেলান্দহ বাজার উন্নয়নে মহিরামকুল জমিদারদের বিশেষ অবদান রয়েছে
তাঁরা মালঞ্চার গোবিন্দপুর বাজার এবং জামালপুর সদরের সকাল বাজারেরও পত্তন করেছিলেন
মহিরামকুলে জমিদারদের কাচারিবাড়ি ও পুকুর এখনও ভগ্নদশায় তাদের স্মৃতিবহন করছে
নবাবি আমলে মেলান্দহ উপজেলা রাণী ভবানীর জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল
কথিত আছে যে, মেলান্দহ অঞ্চলের কোন এক নদীতে জাফর নামের একজন নমদাস দুইজন সঙ্গীকে নিয়ে নদীতে মাছ ধরছিল
এ সময় রাণী ভবানীর দেওয়ান নৌকা করে যাওয়ার সময় তাদের নিকট কর দাবি করলে তারা তিনজনেই এক টাকা করে কর দিতে রাজি হয়
ঐ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী ঝিনাই নদী তীরের এই অঞ্চলটি জাফরশাহি পরগণা নামে পরিচিতি লাভ করেছিল
ব্রিটিশ যুগের শুরুর কালেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ দেখা দেয়
১৭৬০ সাল থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত এই বিদ্রোহ স্থায়ী হয়েছিল
ঐ সময় সন্ন্যাসী দলপতি শাহ মজরত মেলান্দহের মালঞ্চা কাচারি লুঠ করেছিল