content
stringlengths
0
129k
আমি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, এই দুজনের মধ্যে একজন নিশ্চয়ই সুপারম্যান
নাইলে এতো তাড়াতাড়ি করলো কিভাবে
কিন্তু ঘিলুওয়ালা নজরুলিয়ানরা ঠিকই বুঝে গেল, অনেক আগেই ফজলুলিয়ানরা এসে সিট রেখে গেছে
এই দুইজন এসেছে শো হিসেবে
বোঝানোর জন্য যে, তারা এখনই সিট রেখেছে
কারণ, এতো আগে সিট রাখা আবার ট্রেডিশন বিরুদ্ধ
কিন্তু ওদের দুর্ভাগ্য, যেটুকু সময় পেলে ওরা বোঝাতে পারতো যে তখনই সিট রেখেছে সেটুকু সময় তাদের ভাগ্য জোটেনি
হতভাগা সোহ্‌রাওয়ার্দি হাউজের অবস্থাটা একবার চিন্তা করুন
ফজলুলিয়ানদের কাছে হেরে যাওয়া নজরুলিয়ান আর সোহরাওয়ার্দিয়ানরা এবার জোট পাকাল
প্রথমেই তদন্ত করতে হবে
কিভাবে এবং কখন তারা গ্যারেজে ঢুকল
কি এমন ঘিলু আছে তাদের মাথায়
ক্যাডেটের মাথায় ঘিলুর অভাব যেহেতু নেই, সেহেতু ২০ মিনিটের মধ্যেই সত্য বেরিয়ে এল
নিশ্চয়ই প্যারেন্ট্‌স ডে'র সময় সিট রেখে গেছে ওরা, আমরা যখন বাপ-মা'র সামনে বসে বিভিন্ন পদ গলঃধকরণ করছিলাম
রহস্যের সমাধান হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো দুই হাউজে
নজরুল আর সোহরাওয়ার্দি হাউজ পাশাপাশি, ফজলুল হক বেশ দূরে
তারা জানতেও পারলো না আমাদের দূরভিসন্ধির কথা
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, ফজলুলিয়ানদের সব সিট উঠিয়ে দেয়া হবে
যুক্তি খুবই নরমাল, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে
যেই কথা সেই কাজ
দুই হাউজীয় ঐক্যজোটের নেতারা গ্যারেজে গেল
ফজলুলিয়ানদের সিট রাখার সব কাগজ ফেলে দেয়া হল
আর সিদ্ধান্ত হল, বাস লোড করার জন্য যখন বের করবে, তখন দৌড়ে গিয়ে সিট ধরতে হবে
বিকেলে যথাসময়ে বাস বেরুল
জোটবদ্ধ দুই হাউজের সবাই দৌড়ে গিয়ে পিছনের সব সিট বুক করে ফেলল
ফজলুলিয়ানদের কোন চিন্তা নেই
গায়ে বাতাস লাগাতে লাগাতে বাসে উঠল তারা
উঠে দেখে, হায় হায়
কোন সিট নাই
কাগজের কোন চিহ্নও নাই
নিজেদের অতি সাধের কাগজগুলোকে বাসের মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে দেখে একজন চেচিয়ে বলে উঠল, "কাগঅঅঅঅঅজ দেখছিস, কাগঅঅঅঅঅঅঅজ
" সেই হাউজের সবার টনক নড়ল এবার
কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই
দুই হাউজের প্রতিরোধর মুখে কিছুই করতে পারল না তারা
কাজের কাজ যেটা হল, এই কাগঅঅঅঅজ উক্তিটা জনপ্রিয় হয়ে গেল
পরদিন ভোরে বাসে উঠলাম সবাই
ফজলুল হকের সবাই সামনে
অন্য দুই হাউজ পিছনে
সবার মুখ গম্ভীর
অতি উৎসাহী কয়েকজন পরিবেশ হাল্কা করার চেষ্টা করছে
তিন হাউজ থেকেই কিছু উচ্ছল ছেলেপেলে এই উদ্যোগ নিল
তারপরও এক পাল বিমর্ষ ক্যাডেট নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হল কলেজ বাসের
কত আশা আর উদ্দীপনার এই এক্সকারশন
আমাদের সেই সাধের ভ্রমণ এভাবেই শুরু হল
বিমর্ষ বদনে কেউ কেউ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, সবুজ রং দেখে মানসিক শান্তি লাভের আশায় বোধহয়
হাউজ, জোট, ব্যক্তি নির্বিশেষে সবার মনে তখন একটাই প্রশ্ন: সামনের দিনগুলো উপভোগ্য হবে তো?
২,৮৮১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত
এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা
২৮ টি মন্তব্য : "সাত দিনের পথ - বিষাদ পর্ব"
জিহাদ (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ১:৩১ পূর্বাহ্ন
এইটার কি পার্ট টু আসবে নাকি? লেখার শেষে এইরকম জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখা হইলো ক্যান?
এক লেখায় অনেক কথা মনে করায়া দিলা
ঐ ঘটনার পর আমি ঠিক করছিলাম কয়েকটা পোলার লগে জীবনে কথা বলবোনা
আমার কোন প্রতিজ্ঞাই তিনদিনের বেশি টিকেনা
এইটা আরো আগেই ভেংগে গেল
দ্বিতীয় দিন থেকেই তো মনে হয় পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হওয়া শুরু করসিলো
তবে ব্যাপারটা মনে রাখার মতই ছিল
অনেকগুলা মানুষের মুখের ছবি তখন তুলে রাখা দরকার ছিল
আফসোস, আমার তখন ক্যামেরা ছিল বাট ফিল্ম ছিলনা...
সাতেও নাই, পাঁচেও নাই
মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৩:০২ পূর্বাহ্ন
শুধু টু না
অনেকগুলা পার্টই লেখার ইচ্ছা আছে
দেখি পারি কি-না
জিহাদ (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৩:০৫ পূর্বাহ্ন
এই পর্ব থামাইয়োনা
লেখাটা সুন্দর হইসে...
সাতেও নাই, পাঁচেও নাই
রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৩:০১ পূর্বাহ্ন
ক্যাটাগরি তে মির্জাপুররে আমাদের সমান বানানোর জন্য তাড়াহুড়া করে লিখলেও এইটা তোর অন্যতম ভাল একটা লেখা
তয় শেষ করিস না
পর্ব পর্ব করে ছেড়ে দে
মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৩:১৭ পূর্বাহ্ন
বরিশাল আর মির্জাপুর সমান হয়ে গেছে
দেখি কে আগে যাইতে পারে
আলম (৯৭--০৩)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৩:৫১ পূর্বাহ্ন
:
কুমিল্লার আগে কেউ যাইতে পারব না
তবে মির্জাপুর-বরিশাল জোট কইরা দেখতে পার
মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ১:০৪ অপরাহ্ন
কি যুগ আইল
একসময় তো আমরাই রাজত্ব করতাম
মির্জাপুরিয়ানগুলা সব ঘুমাইতাছে নাকি
নওরীন (৯৪-০০)
জুন ২৪, ২০০৮ @ ৪:০৪ পূর্বাহ্ন
=) আমাদের সময়ও সীট নিয়ে এরকম হইসিল
বাসের শেষ দিকের সীট নিয়ে ঝামেলা করেই শুধু আমরা ক্ষান্ত হয়নি
যেখানে যেখানে গিয়ে আমাদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা ছিলো
সেই সব জায়গা- যেমন ফকক গেস্ট হাউসে, কক্সবাজার 'লাবণী'তে ফ্লোরিং করা হইছিল
হায়রে ঐ ফ্লোরিং নিয়েও তথাকথিত সীট দখলের সে কি পলিটিক্স! এখনো মনে হলে হাসি পায়! আমরা আবার নেভাল এ্যাকাডেমী তে গিয়েও প্ল্যানিটোরিয়ামেও সীট দখল নিয়ে্ টেনশনে ছিলাম
হায়রে ক্লাস্মেট ফ্ফিইলিংস, হাউস ফিলিংস,ফর্ম ফিলিংস,ক্যাডেট ফিলিংস এগুলো যে তখন ক-ত সিরিয়াস বিষয় ছিল পোলাপানের মত...=">
আলম (৯৭--০৩)