content stringlengths 0 129k |
|---|
অন্যান্য গুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন |
আমাদের সম্পর্কে |
বা পরিবর্তনে নারী |
লেখালেখি হতে পারে আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার - এই নীতিকে সামনে রেখেই বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নারী বিষয়ক প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল |
: |
-: |
লেখা পাঠানোর ঠিকানা: |
আপনার লেখা পোর্টালেপ্রকাশ করতে চাইলে বিনা সংকোচে পাঠিয়ে দিন [ ] ইমেইলে| লেখার সাথে একটি প্রকাশযোগ্য ছবি থাকলে ভাল হয়| লেখা পাঠানোর পরে দয়া করে অপেক্ষা করবেন, প্রকাশযোগ্য সকল লেখা পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে| ধন্যবাদ| |
ঢাকা: শহরের বাতাসে শীত শীত ভাব! সকালে ফোঁটা ফুলের পাতায় লেগে থাকে ছোপ ছোপ কুয়াশা |
সেই সকালে তাঁত বোনা চাঁদর গায়ে জড়িয়ে একঝাক শিশু কিশোর! এলো চুলের চেহারা দেখলেই বোঝা যায়, চোখ থেকে এখনও ঘুম সরেনি |
তবে এই শীত সকালে লেপের ওমটুকু ছেড়ে তারাও বের হয় কুয়াশা মোড়া রাস্তায় |
জানতে চাইলে আলতো হাসিতে উত্তর আসে, খেজুরের রস খুঁজছি খাবার জন্য! |
শীত আসতেই খেজুরের রসের ঘ্রাণে ভরে ওঠে বাংলার প্রকৃতি |
গ্রামে-গঞ্জে শুরু হয়েছে সেই খেজুর রস আর খেজুর গুড়সহ নানা উপাদানে তৈরি পিঠা খাওয়ার ধুম |
গ্রাম থেকে আসা রাজধানী ঢাকার নাগরিক জীবনও যে আবহমান বাংলার চিরন্তন এই সংস্কৃতির ছোঁয়া নিতে উতলা |
তাই তো তারাও খুঁজে ফেরে সেই খেজুর রসের ঘ্রাণ |
ক্ষেতের আইলপথে চলতে চলতে শিশিরে ভিজে যাওয়া পায়ের পাতা |
সন্ধ্যে হলেই গাছে গাছে বাঁধা হচ্ছে হাঁড়ি |
সকাল হতে না হতেই খেজুর রসের চেনা স্বাদে মাতোয়ারা |
বাড়ির উঠোন বা ধান কেটে নেওয়া শূন্য মাঠে গোল হয়ে বসে সেই রস আস্বাদন, মাটির ছোট হাড়িতে ঠোঁট ছুইয়ে খেজুর রসের স্বাদ নেওয়া অতুলনীয় |
আর সাথে যদি শুকনো পাতার তৈরি বাটিতে খই, মুড়ি আর খেজুর গুড় পাওয়া যায়, তবে তো পরিচয় মেলে বাঙালির একে অপরে মেতে ওঠার রসবোধের সাথেও |
তবে এই দৃশ্যগুলো অনেকেরই চেনা হলেও ইট-পাথরের এই নগরে সে দৃশ্যের দেখা মেলা কঠিন |
আর আছে মধুর এ রস থেকে বঞ্চিত হওয়ার তিক্ততাও! |
বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের পরিচালক শাহিদা বেগম বলেন, শৈশব-কৈশোরটা যাদের গ্রামে কেটেছে, খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়ি চুরি করে রস খাওয়া তাদের অনেকেরই একটি মূল্যবান স্মৃতি |
এখন তো অনেকেই বয়সের ভারে নতজানু |
অনেকেই আবার শহরে কাজের ব্যস্ততায় সঠিক সময়ে গ্রামে যেতে পারেন না |
ফলে অনেকেই এ জায়গাটা থেকে বেশ ভালোভাবে বঞ্চিত হন |
'আমাদের ছেলে-মেয়েরা আজ বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়ের স্বাদ জানে, কিন্তু তারা খেজুর রসের স্বাদ জানে না |
খেজুর রস আমাদের আর পাঁচটা সংস্কৃতির মতোই |
আমাদের উচিত এটার প্রতি আরো যত্নবান হওয়া |
আমরা অতীতমুখী নই, তবে সেখান থেকে আমাদের শিখতে হবে |
আমরা কখনই ঐহিত্য বিমুখ হতে চাই না,' বলেন তিনি |
এক দশক আগেও শীতের সকালে চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য |
সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাঁক ডাক দিতেন |
শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন |
সে আয়োজন শিখিয়ে দিতো একান্নবর্তী পরিবার বা সমাজে সকলে একসঙ্গে থাকার স্বাদ ও মানবিকতাও |
তবে গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন নেই |
বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও |
এ বিয়ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ বলেন, নাগরিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি খেজুরের রসের ঐতিহ্য এখন গ্রামেও হারাতে বসেছে |
গাছিও কমে গেছে |
অথচ এই রস পানকে কেন্দ্র করে শীত সকালে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি হয় |
জেগে ওঠে মানবিকতা |
অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ বলেন, এখন আমরা শেকড় ভুলে যাচ্ছি |
কিন্তু নিজেদের শেকড়ের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে |
মা, মাতৃভূমি ও সংস্কৃতি একই সঙ্গে জড়ানো |
এগুলোর ভেতর দিয়েই আমরা মানুষ হয়েছি |
আসুন সকলে মিলে গ্রামের জন্য মঙ্গল কামনা করি, গ্রামগুলো যেন ভালো থাকে |
এখনও গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে |
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে |
যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না |
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র বলছে, খেজুর গাছ কমতে থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি |
সুস্বাদ ও পিঠাপুলির জন্য অতি আবশ্যক উপকরণ হওয়ায় এখনও খেজুর রসের চাহিদা রয়েছে |
তবে আগের মতো রস ও গুড় পাওয়া যায় না |
পেলেও আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় |
খেজুরের রস কোথায় পাওয়া যায়? নগরে জেঁকে বসা শীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকদের যেন স্লোগান হয়ে গেছে এই প্রশ্ন |
ফেলে আসা গ্রামের স্মৃতি জাগানিয়া খেজুরের রসের স্বাদ নিতে তারা যেন ব্যাকুল থাকেন সবসময়ই |
খেজুরের রস বর্তমানে ঢাকায় খুব একটা পাওয়া না গেলেও রাজধানীর পার্শবর্তী এলাকাগুলোতে পাওয়া যায় কমবেশি |
এরমধ্যে গাজীপুর, সাভার বা মুন্সিগঞ্জের দিকে কিছু পাওয়া যায় |
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে রস বিক্রি করতে দেখা যায় অনেককেই |
যেমন তেজগাঁও খ্রিস্টান মিশনের সামনে, গুলশান ১ এর গুদারাঘাটে, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে, মতিঝিল এজিবি কলোনির বাজারে, রমনা পার্ক ও শাহবাগ চত্বর |
তবে এ জায়গাগুলোতে দাম পড়বে একটু বেশি |
এছাড়া ঢাকাবাসীর জন্য খেজুরের রস পাওয়ার একমাত্র নিশ্চিত স্থান হলো তিনশ ফিট রোড খ্যাত পূর্বাচল এলাকা |
তিনশ ফিট রোড ধরে এগোলে পাবেন নীলা বাজার |
এই বাজারেই হাতে গোনা কয়েকজন খেজুরের রস নিয়ে বসেন |
খেজুরের রস পান করার লোভটা যদি খুবই বেশি হয় তবে ভোর বেলা গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন |
গাজীপুর সাফারি পার্কের পাশে বাঘের বাজার এলাকায় খেজুরের রস পাওয়া যাবে |
দামটা এখানে কম, প্রতি লিটার ৫০ থেকে ৬০ টাকা |
এ নিয়ে গাছি হারুন মোল্লা জানান, খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে |
আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালতো |
এমনকি আগে যে আয় রোজগার হতো তাতে সঞ্চয়ও থাকতো, যা দিয়ে বছরের আরো কয়েক মাস সংসারের খরচ চলতো |
গ্রামে যে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে তা বুড়ো হয়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন রস পাওয়া যায় না |
রস বাজারে বিক্রির মতো আগের সেই অবস্থাও নেই |
তিনি বলেন, এইতো কয়েক বছর আগে এক হাড়ি খেজুর রস বিক্রি করতাম ২০ টাকায় |
দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে |
প্রকৃতিগত সুস্বাদু সে রসও এখন আর তেমন আগের মতো নেই |
তবুও কয়েকটা গাছের পরিচর্যা করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি |
এখন খেজুর গাছ না থাকায় ২০ টাকার রসের দাম বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা |
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ |
এইচএমএস/এমএ |
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন |
24. |
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না |
বাংলার প্রাণের কাছে বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত |
বাংলার প্রাণের কাছে এর সর্বশেষ |
আইন মানাতে ফুটপাতেই প্রতিবন্ধক |
এই বিভাগের সব খবর |
মোবাইল সার্ভিস |
সম্পাদক : জুয়েল মাজহার |
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২১৮১, +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০ ৯৬১ ২১২ ৩১৩১ নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০ ১৭২ ৯০৭ ৬৯৯৬, +৮৮০ ১৭২ ৯০৭ ৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২৩৪৬ |
রাজনীতি থেকে বিনোদন, বলি থেকে টলি, রান্নার রেসিপি থেকে রূপ চর্চ্চা, স্বাস্থ থেকে খেলার মাঠ, সরকারি ও বেসরকারীর সমস্ত চাকরির খবর সবার প্রথম পেতে বংনিউজ২৪৭ -এর সাথে যুক্ত থাকুন |
১৯৭১ সালের এই দিনে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্তে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তিনি |
আজও অবহেলিত তার গ্রাম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রাম |
ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত হামিদুর রহমানের গ্রাম মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দখালিশপুর |
মহান মুক্তি যুদ্ধ শুরু হলে হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন |
মৌলভীবাজার জেলার ধলাইতে ছিল পাক বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি |
কৌশলগত দিকে দিয়ে এ ঘাঁটি দখল জরুরি হয়ে পড়ে মুক্তি বাহিনীর জন্য |
মুক্তি বাহিনী পাক সেনা ঘাটি আক্রমান করে দখল করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় |
২৮ অক্টোবর ধলাই পাক সেনা ঘাঁটি আক্রমন করে মুক্তি বাহিনী |
তুমুল যুদ্ধ শুরু হয় |
দুটি মেশিন গান পোষ্ট থেকে তুমুল গুলি বর্ষণ করতে থাকে পাকসেনারা |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.