content stringlengths 0 129k |
|---|
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র |
© সমকাল ২০০৫ - ২০২১ |
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি |
প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ |
বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা | | |
আন্তর্জাতিক |
সাহিত্য ও সংস্কৃতি |
সাক্ষাৎকার |
© সমকাল ২০০৫ - ২০২১ |
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি |
প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ |
টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ |
ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ |
বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: @. |
ইউনিকোড কনভার্টার | বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা | | | |
'); // 3 = $(".3").(); // $(". .3").(3); // $(".3").(); // } |
'); // 3 = $(".3").(); // $(". .3").(3); // $(".3").(); // } |
"আমি ওসব জানি না |
এ সংসারে হয় ও থাকবে নয় আমি! তখনই পই পই করে বারণ করেছিলুম |
বিয়ে করিস না, করিস না |
ডিভোর্সি মেয়েছেলে কি আর সংসার করতে পারে রে.." |
"মা,তুমি চুপ করো |
কি যা তা বলছো!" |
"ঠিকই বলছি |
ওসব ঘর জ্বালানি, পর ভালানি মেয়েছেলে যদি অতই ভালো হতো তো ওই বর কি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদেয় করে দিতো?" |
"মা,ও নিজে চলে এসেছে ওখান থেকে |
তুমি সবটাই জানো |
জেনে এসব বলছো কেন?" |
"জানলে কি বলতুম রে.. |
ওর মুখে বিষ! আমি ওর সঙ্গে ঘর করবো না,এই বলে দিলুম!" |
বেশ অনেকক্ষণ ধরে ঋতজার বর আর শ্বাশুড়ির মধ্যে কথাকাটাকাটি চলছে |
কারণটা ঋতজা নিজে |
যদিও তাতে ঋতজার মোটেই কোনো লজ্জা বা আক্ষেপ নেই |
আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে দুটো অল্পবয়স্ক মেয়ে ,নেহাতই কলেজ ছাত্রী তারা ঋতজার সঙ্গে একসাথেই বাস থেকে নামে |
নামার সময় বাস কন্ডাক্টর ইচ্ছে করে একটি মেয়ের বুকে হাত দেয় |
মেয়েটি প্রতিবাদ করায় কন্ডাক্টর দোষ তো স্বীকার করেই না উল্টে মেয়ে দুটো অসভ্যের মত গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল বলে উল্টো দোষারোপ করে |
ব্যস ! ঋতজা কয়েক পা এগিয়ে এসেছিল,ফিরে গিয়ে দু চড় সপাটে কন্ডাক্টর এর গালে |
যদিও সে লোকটি,আমি গরীব,টরীব বলে সহানুভূতি কুরানোর চেষ্টা করে |
কিন্তু ঋতজা চিৎকার করে,"প্রায় দিনই বাসে আপনি এরকম করেন বাচ্চা মেয়েদের সঙ্গে |
কেউ প্রতিবাদ করেনি, তাই আমিও কিছু বলিনি |
কিন্তু আজ হাতেনাতে ধরা পড়েছেন |
এই চড় দুটো ওই বাচ্চা মেয়েগুলোর হয়ে আমার প্রতিবাদ!" |
গণ ধোলাই হয়তো হতো,কিন্তু ঋতজা পুলিশে ফোন করে ,সেই লোককে পুলিশের হাতে তুলে দেবার ব্যবস্থা করে |
এই খবর লতায় পাতায় এ কান সে কান হয়ে যখন শ্যামলী দেবীর কানে পৌঁছায় ততক্ষণে সেটা তিল থেকে তাল হয়ে গেছে |
লোকে ফোন করে করে জানছে! ছি,ছি লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে শ্যামলী দেবীর |
সেই নিয়ে দু কথা শোনাতে গেছিলেন বৌমাকে,"ঘরের বৌ,ও সব কি? একবার ঘর ভেঙেছে, এবার তো একটু সমঝে চলা উচিৎ!" |
ও বাবা,কার কি? কথায় বলে না, চোরায় না শোনে ধর্মের কথা! উল্টে ঋতজা সাফ জানিয়ে দিয়েছ,"এরকম আবার দেখলে,আবার চড় কষাবো!" |
শ্যামলী দেবী মোটেই এই বৌ নিয়ে সংসার করতে পারবেন না |
একে তো ডিভোর্সি |
বাবু যে কি দেখলো ওই বুড়িটার মধ্যে কে জানে? ভেবে পান না শ্যামলী দেবী |
ও কি বৌ না আগুনের খাপড়া! একে ডিভোর্সি, আমার বাবু দয়া করে বিয়ে করেছে, কোথায় মাথা নিচু করে থাকবি!ওর দয়াতেই তো আবার মাথায় সিঁদুর পরতে পারছিস! তা নয়! বাবা গো বাবা! কি মুখ! |
ভয়ংকর বিদ্রোহী শ্যামলী দেবী |
হয় এসপার নয় ওসপার! |
সেই দিনের ঘটনার পর থেকে আর শাশুড়ি বৌমাতে কথা নেই |
শ্যামলী দেবী যদিও ঠারেঠোরে অনেক কথাই শোনান তা বৌমার কান পর্যন্ত পৌঁছায় কিনা শাশুড়ির সন্দেহ কারণ ঋতজার কোনো হেলদোল নেই |
সে যেন এক অন্য রকম মানুষ |
প্রথম বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় ডিভোর্স |
প্রথম স্বামী চায়নি ঋতজা তার বাবা মাকে তার মাইনের অর্ধেকটা দিক |
কিন্তু ঋতজার এক কথা,"বাবা মা আমাকে অনেক কষ্টে মানুষ করেছেন |
এটা আমার কর্তব্য"! |
এই নিয়ে রোজকার অশান্তি শেষে ডিভোর্স |
অরিন্দম কে বিয়ে করতে ঋতজা মোটেই রাজী ছিল না |
কিন্তু অরিন্দম ঋতজার মধ্যে দেখতো এমন একজন কে, যে শুধু একজন মেয়ে নন,একজন সম্পূর্ণ মানুষ |
ঋতজার এই অনমনীয় মনোভাবই অরিন্দমকে আকর্ষণ করে ওর প্রতি |
ঋতজাকে বোঝাতে না পেরে শেষে ওদের বাড়িতে হানা দেয় অরিন্দম |
ওর বাবা মা মেয়ের জন্য যথেষ্ট চিন্তিত তাছাড়া মেয়ের ডিভোর্সের জন্য ওনারা মনে মনে নিজেদেরই দায়ী করতেন |
তাই অরিন্দমকে পেয়ে ওনারা যেন হাতে স্বর্গ পেলেন |
ব্যস ওদের বিয়েটা হয়ে গেল |
অরিন্দম কখনো ঋতজার রোজগার, মাইনে নিয়ে কিছু বলতো না |
কিন্তু ঋতজা নিজে থেকেই সংসার চালানোর জন্য দশ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে অরিন্দমের হাতে দিত |
অরিন্দম বার দুয়েক না করেছিল,কিন্তু ও শোনেনি |
ওর সাফ কথা,"আমি চাকরি করি,আমার খরচ তুমি কেন চালাবে?" |
ওরা দুজনেই সংসারে সমান খরচ দিত |
উপহার বাদে আর কখনো ঋতজা অরিন্দমের থেকে কিছু চাইতো না |
আবার নানা উৎসব উপলক্ষে শ্যামলীদেবী বা অরিন্দমের জন্য নিজে থেকেই কেনাকাটা করে আনতো |
কিন্তু যতই করুক,শ্যামলীদেবী কিছুতেই ঋতজাকে মেনে নিতে পারেননি |
ডিভোর্সি ভাবলেই মনটা জ্বলে পুড়ে যেত শ্যামলীদেবীর |
আইবুড়ো ছেলে কেন এক এঁটো মেয়েমানুষ বিয়ে করবে? এই মত থেকে শ্যামলীদেবী কোনোদিন সরে আসেননি |
সেই ঘটনার দিন পনেরো পরে,অরিন্দম অফিসের কাজে ব্যাঙ্গালোরে |
ঋতজা নিজের কাজে ব্যস্ত |
শাশুড়ির সঙ্গে তার কথাবার্তা বন্ধ থাকলেও দায়িত্বে কোনো ত্রুটি নেই আবার মন পাবার বাড়তি আদিখ্যেতাও না |
হঠাৎই মাঝরাতে টয়লেট যেতে গিয়ে শাশুড়ির ঘর থেকে একটা শব্দ পেয়ে ভেজানো দরজা খুলে ভেতরে উঁকি মারে ঋতজা |
একি শ্যামলীদেবী ওরকম করছেন কেন? |
ঋতজা ছুটে যায় ঘরে,"মা আপনার কি হয়েছে, শরীর খারাপ করছে?" শ্যামলীদেবীর ততক্ষণে কথা আটকে এসেছে, উনি কিছু একটা বলতে চান কিন্তু পারেন না, তার আগেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন বিছানায় |
ঋতজা তাড়াতাড়ি একটা উবের বুক করে,কোনোরকমে পোশাক পাল্টে, ড্রাইভারকে সঙ্গে করে শ্যামলীদেবীকে গাড়িতে তুলে কাছাকাছি একটা হাসপাতালে নিয়ে যায় |
আ্যাম্বুলেন্সেও ফোন করেছিল ,কিন্তু পায়নি |
গাড়িতে যেতে যেতে অরিন্দম, পরিচিত বন্ধু যাদের দরকার লাগতে পারে সবাইকে ফোন করে |
হাসপাতালে ইমার্জেন্সিতে পৌঁছলে, সঙ্গে সঙ্গেই চেকাপ করে ভর্তি করা হয় |
যদিও ওরা যখন হাসপাতালে পৌঁছায় তখন ইমার্জেন্সিতে ডাক্তার কেউ ছিল না |
ঋতজা রীতিমতো চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেয় |
সেই হই হট্টগোলের মধ্যেই দুয়েকজন বন্ধু চলে আসেন |
ফলে শ্যামলীদেবীর চিকিৎসা প্রায় সময় মতোই শুরু হয় |
পরদিন সকালের ফ্লাইটেই অরিন্দম ফিরে আসে |
দুদিন সেন্সলেস থাকার পর জ্ঞান ফেরে শ্যামলীদেবীর |
ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট |
অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন |
সময় মতো চিকিৎসা শুরু না হলে কি হতো বলা মুশকিল! |
জ্ঞান ফিরেই শ্যামলীদেবী ছেলেকে দেখতে পান কিন্তু ঋতজা, সে কোথায়? |
ঋতজা কে খোঁজ করতে দেখেন বৌমা এসে আয়াকে বকা ঝকা করছে, কেন ওনার টেবিলটা এতো নোংরা ,পরিস্কার করা হয়নি?পেশেন্টের এটুকু যত্ন না রাখলে ওদের কাজ কি? |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.