content stringlengths 0 129k |
|---|
বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কতটা চাপে আছেন, অনুভব করতে পারছেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন |
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেড় দশকের ক্যারিয়ারে নিজেও তো সামাল দিয়েছেন কত ঝড়-ঝঞ্ঝা! ঠিকই সব মাড়িয়ে ফিরেছেন স্বরূপে |
কব্জির মোচড়ে মোহিত করেছেন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তকে |
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভারতের সাবেক এই অধিনায়কের পরামর্শ, দমে যাওয়া যাবে না |
আবু ধাবি টি-টেনের দল বাংলা টাইগার্স ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছে ভারতের হয়ে ৯৯ টেস্ট ও ৩৩৪ ওয়ানডে খেলা আজহারকে |
আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া নতুন আসরের আগে দল নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজারের বেশি রান করা ভারতের সাবেক এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান |
নানা অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার মাঝে কথা বললেন, ১০ ওভারের ক্রিকেট, টেস্ট, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও তার বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা নিয়ে |
টি-টেনের সঙ্গে কেন সম্পৃক্ত হলেন? ১০ ওভারের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন? |
আজহারউদ্দিন: আমি ভাবিনি কখনও এই ধরনের কোনো উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হব |
বাংলা টাইগার্সের মালিক ইয়াসিন চৌধুরি অনেকটা হুট করে প্রস্তাব দেন |
নতুন একটি উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব ভালো লেগে গেল |
এরপরই এই প্রকল্পে যোগ দিলাম |
এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি, ১০ ওভারের ক্রিকেট টি-টেনের ভবিষ্যৎ ভালোই মনে হচ্ছে |
আপাতত শুধু আবু ধাবিতেই এই সংস্করণে খেলা হচ্ছে, অন্য কোথাও নয় |
যদি বড় প্রভাব ফেলতে হয়, তাহলে অন্য দেশেরও এই ১০ ওভারের ক্রিকেটকে গ্রহণ করতে হবে |
আবু ধাবিতে পঞ্চম বছরের মতো খেলা হতে যাচ্ছে এবার |
একটি টুর্নামেন্ট কোথাও পাঁচ বছর চলার অর্থ, এটা ভালো হচ্ছে |
এমন টুর্নামেন্ট চালানো সহজ কাজ নয় |
টেস্টের পর ওয়ানডে এসেছে, এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছে |
সম্ভবত এটাই ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ |
সেই জায়গা কি নিয়ে নেবে টি-টেন ক্রিকেট? |
আজহারউদ্দিন: টি-টেনের সঙ্গে আমি মাত্রই সম্পৃক্ত হয়েছি |
এই ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভালো, কিন্তু আমি সব সময়ই চাই, টেস্ট ক্রিকেট থাকুক |
একজন ক্রিকেটারের সামর্থ্যের সত্যিকারের পরীক্ষা সেখানেই হয় |
আমি দাবি করছি না, ক্রিকেটের অন্য কোনো সংস্করণের আবেদন কম, বা সেগুলোতে কম স্কিলের প্রয়োজন হয় |
তবে ক্রিকেটে সব কিছুর চূড়ান্ত হলো টেস্ট |
এখানেই একজন খেলোয়াড়ের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পরীক্ষাটা দিতে হয় |
টেস্ট যেহেতু পাঁচ দিনে খেলা হয়, উইকেট-কন্ডিশন প্রতি নিয়ত পাল্টাতে থাকে |
সব যখন দ্রুত পাল্টাতে থাকে, তখন ক্রিকেটারদের এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষাও দিতে হয় |
সেদিক থেকে টেস্টই হলো ক্রিকেটের চূড়ান্ত |
এখন তো টি-টোয়েন্টি, টি-টেনের মতো খেলাগুলো হচ্ছে |
আমাদের এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে |
ঘটনাচক্রে আপনার সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাংলাদেশে |
বেশ কয়েকবার খেলেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে |
ঢাকা ও চট্টগ্রামেও খেলেছেন কয়েকবার |
যদিও অনেক আগের কথা, তবে কোনো বিশেষ স্মৃতি এখনও মনে পড়ে? |
আজহারউদ্দিন: সবার আগে মনে পড়ছে ১৯৯৮ সালের কথা |
সেবার সম্ভবত বাংলাদেশে ইন্ডিপেন্ডেন্টস কাপে খেলেছিলাম |
আমার যতদূর মনে পড়ে, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম খেলি সেই ১৯৮৮ সালে (বাংলাদেশের মাটিতেই) |
এশিয়া কাপে, সঙ্গে শ্রীলঙ্কা (ও পাকিস্তান) ছিল |
আমার যেটা সবচেয়ে ভালো মনে আছে, বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট-পাগল |
তারা দলকে পাগলের মতো সমর্থন করে |
যেখানেই বাংলাদেশ খেলে, দেখেছি গ্যালারি দর্শকে পূর্ণ থাকে |
দেশের বাইরেও এখন ওদের প্রচুর সমর্থক রয়েছে |
ইংল্যান্ডে গত বিশ্বকাপে দেখেছি, প্রতিটি ম্যাচে বাংলাদেশের অনেক দর্শক ছিল গ্যালারিতে |
দেশের বাইরে ১০-১৫ হাজার সমর্থক পাওয়া কিন্তু সহজ কথা নয় |
ওদের কিন্তু একটাই চাওয়া, বাংলাদেশ ভালো খেলুক |
এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিন ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রচুর সমর্থক ছিল মাঠে |
দর্শকদের এই চাওয়া তো প্রায়ই পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ |
বিশেষ করে দেশের বাইরে |
একটা সময় তো ভারতও এই অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে |
কোনো পরামর্শ? |
আজহারউদ্দিন: সবার আগে আমি যে কথাটা বলতে চাই, বাংলাদেশের খেলতে হবে ভালো উইকেটে |
ভালো উইকেট বলতে আমি বোঝাচ্ছি, যেখানে ব্যাটসম্যান-বোলার সবার জন্য সুবিধা থাকবে |
আমি যতদূর দেখেছি, ওরা দেশের মাটিতে 'টেইলর মেইড' উইকেটে খেলে |
ওরা যখন মন্থর, টার্নিং উইকেটে খেলে সেখানে বোলাররা খুব ভালো করে |
কিন্তু যখন ওরা দেশের বাইরে খেলে তখনই ঝামেলা হয় |
বল সেখানে টার্ন করে না, ওরা উইকেট থেকে সহায়তা পায় না, সমস্যা হয়ে যায় |
আমার মনে হয়েছে, এটা এমন একটা ব্যাপার যেখানে বাংলাদেশের মনোযোগ দেওয়া দরকার |
দেশের বাইরে উন্নতি করতে হলে, দেশের মাটিতে উইকেট ও কন্ডিশনে পরিবর্তন আনা দরকার |
ভালো উইকেটে খেলার সামর্থ্য কিন্তু বাংলাদেশের আছে |
তাদের খুব ভালো মানের কয়েকজন পেসার রয়েছে |
তারা সীমিত সুযোগের মধ্যে তাদের সামর্থ্যও দেখিয়েছে |
ওদের এমন কিছু উইকেট বানানো প্রয়োজন যেখানে পেসারদের জন্য সহায়তা থাকবে, সুইং, সিম মুভমেন্ট থাকবে |
এমন উইকেটে খেললে শুধু বোলাররা না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্যও ভালো হবে |
দেশের বাইরে খেলার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে |
সব ধরনের ক্রিকেটে উন্নতির জন্য কি একটাই পথ? |
আজহারউদ্দিন: হ্যাঁ, সব ধরনের ক্রিকেটে উন্নতির জন্য মূল ব্যাপার এটাই |
বাংলাদেশের উইকেটে উন্নতি করতে হবে, কন্ডিশনে উন্নতি করতে হবে |
ওদের ভালো উইকেটে খেলতে হবে |
যতক্ষণ পর্যন্ত পেসারদের কিছু করার সুযোগ না দেওয়া হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উন্নতি তো হবে না |
উইকেট যদি টার্নিং হয়, স্পিনাররা তো ভালো বল করবেই |
উইকেট তো তৈরিই সে জন্য |
কিন্তু যে মুহূর্তে ওরা বাইরে যাবে এবং খেলবে, সব কিছু ওদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাবে |
স্পিনিং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা সহজ |
কিন্তু ভালো উইকেটে ভালো ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা মোটেও সহজ কাজ নয় |
কিন্তু দেশের মাটিতে অমন উইকেটে খেললে তো প্রতিপক্ষ সুবিধা পেয়ে যাবে... |
আজহারউদ্দিন: এটা আমি বুঝতে পারছি |
কিন্তু শিখতে তো হবে এভাবেই, নাকি? হতে পারে পুরো সিরিজ একই ধরনের উইকেটে খেলল না |
একটি দুটি-ম্যাচ নিজেদের জন্য খুব সহায়ক নয় এমন উইকেটে খেলল |
যদি দেশের মাটিতে এমন উইকেট বানিয়ে খেলে তাহলে সবচেয়ে ভালোভাবে শেখা যাবে |
যেখানে অনেক সহায়তা নেই, তেমন উইকেটে খেললেও স্কিল বেশি বাড়বে |
এটা শুধু বোলারদের জন্য নয়, ব্যাটসম্যানদের ব্যাপারেও খাটে |
স্পিন মঞ্চ না বানিয়ে, একটু স্পিন আছে, কিছুটা সুইং আছে এমন উইকেটে খেললে বেশি শিখবে |
যদি টার্ন অনেক বেশি করে, তাহলে যে কেউই ভালো করতে পারে |
সত্যিকারের সামর্থ্যটা সেখানে বোঝা যাওয়ার সম্ভাবনা কম |
শুধু উইকেটই তো যথেষ্ট নয় |
প্রতিপক্ষও তো একটা ব্যাপার |
বাংলাদেশ তো ভারতের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব বেশি পায় না... |
আজহারউদ্দিন: ম্যাচ আসলে সবার সঙ্গেই খেলতে হবে |
আর আমার যেটা মনে হয়, সব সময় বেশি ম্যাচ খেলাও জরুরি নয় |
উন্নতি করতে চাইলে সেটা অনেকভাবেই করা যায় |
যখন ঘরোয়া ক্রিকেট হয়, সেটা হতে পারে ভালো উইকেটে |
কেবল স্পিনারদের জন্য সহায়ক উইকেটে না খেলে সেখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক উইকেট, পেস বোলারদের জন্য সহায়ক উইকেট রাখা যেতে পারে |
আমি জানি, বাংলাদেশের ভালো স্পিনার আছে |
তারা শক্তির জায়গা অনুযায়ীই খেলতে চায় |
কিন্তু এখনকার ধারায় থাকলে ওরা কেবল দেশের মাটিতেই ভালো ক্রিকেট খেলবে |
বাইরে গেলেই ভুগতে থাকবে |
এটা মোটেও ভালো কোনো লক্ষণ নয়, বাংলাদেশের জন্য |
একটা সময় তো ভারতও স্পিন মঞ্চেই খেলত |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.