content
stringlengths
0
129k
মুসলীম হলেই নির্বিচারে ঘৃণা করার কোন কারণই নেই, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে
কারণ ইসলামের যে সব ক্ষতিকারক দিক নিয়ে ইসলাম ব্যাশাররা লেখালেখি করেন বেশির ভাগ মুসলীমদের জীবনে তার প্রভাব বা প্রয়োগ নেই
এটা বুঝতে হবে যে ইসলামে অনেক কিছু আছে যা ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত, যা অন্যের অধিকার বা ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে না, যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা, হিজাব পরা ইত্যাদি
এগুলি যুক্তিহীন হলেও অন্যের জন্য ক্ষতিকারক না হওয়াতে ইসলামের সমালোচকেরা এগুলি শুধু অনুসরণ করার জন্যই কারোর প্রতি ঘৃনা পোষণ করেন না, এমনকি এগুলি অনুসরণ করার পরেও ব্যক্তি জীবনে এদের অনেককেই ইসলাম ব্যাশাররা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে
কিন্তু কাউকে ইসলামের এই আচার মেনে চলতে বাধ্য করা হলে সেটা আর নিরপরাধ বা শান্তিপ্রিয় থাকে না, সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপার হয়ে যায়
ইসলামের সমালোচকেরা এই সব ইসলামিক আচারাদির যুক্তিহীনতা নিয়েও যদি লেখালেখি করেন তাতেও এটা কখনই প্রমাণ হয় না যে তারা এই যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির অনুসরণকারীদের ঘৃণা বা সমালোচনা করেন
যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির সমালোচনা করা মানে এই যুক্তিহীন ইসলামী আচারাদির প্রবর্তক, প্রচারক বা বলপূর্বক বলবৎকারীদের সমালোচনা, অনুসরনকারীদের নয়
এটা বোঝা খুবই দরকারী
বাংলাদেশের এক বিরাট জনগোষ্ঠী যারা দিন আনে দিন খায়, দিন মজুর, কৃষক, রিক্সাচালক, এড়া সবাই ইসলামে বিশ্বাস ও ইসলামী আচারাদি ব্যক্তিজোবনে অনুসরণ করলেও এদের প্রতি ইসলাম সমালোচকেরা ঘৃণা পোষণ করেন না, বা করার প্রমাণ নেই, কারণ এরা তাদের বিশাসকে ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত রাখে
এদেরকে শান্তিপ্রিয় মুসলীম বলা যায়
এরা উত্তরাধিরসূত্রে এই বিশ্বাস পায়, এবং তাদের বিশ্বাসকে জায়েজ করার জন্য সরবে কোন যুক্তি তর্কের অবতারণা করে না, নীরবেই বিশ্বাসটাকে অন্তরে লালন করে
ইসলামে বিশ্বাস রেখেও একজন ভাল মনের মানুষ (নিরপেক্ষ বিচারে) হতে পারে, তাদের ঘৃণা করার কোন যৌক্তিকতা নেই
কাজেই যে যতই ইসলামের কড়া সমালোচক হন না কেন তাকে মুসলীম বিদ্বেষী বলার আগে সাক্ষ্য প্রমাণ লাগবে তার ব্যক্তিগত জীবনের কর্মকান্ডের ভিত্তিতে, কারণ ইসলাম ব্যাশার হয়েও ব্যক্তিজীবনে মুসলীম বিদ্বেষী না হওয়াও সম্ভব
মুসলীম বিদ্বেষী কাউকে খেলো ভাবে প্রয়োগ করার মত শব্দ নয়
এটা গুরুতর একটা শব্দ
সেহেতু প্রমাণ ছাড়া এটা প্রয়োগ করলে এটা বরং উলটো ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের বিদ্বেষ বা ঘৃণা কেই প্রমাণ করবে
এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা আবশ্যিকভাবে ইসলাম ব্যাশারদের(ব্যক্তি) ঘৃণা করে, কিন্তু ইসলাম-ব্যাশাররা ইসলামকে ব্যাশ করে,কোন মুসলীমকে নয় (নির্বিচারভাবে তো নয়ই)
এই তফাতটা মনে রাখার দরকার
আমি গুরুত্বের সাথে একটা কথা বোঝাতে চেয়েছি যে ইসলাম ব্যাশাররা নির্বিচারে মুসলীম বিদ্বেষ পোষন করেন না, মুসলীমদের এক বিরাট জনগোষ্টীর প্রতি তাদের কোন ঘৃণা নেই
এই গোষ্ঠী ইন্টার্নেট পড়ে না বা জানেও না ইসলামের সমালোচনার কথা বা ইসলামের সমর্থনে তর্কে লিপ্ত হয় না
কিন্তু মুসলীম জনগোষ্ঠীর অপর এক অংশ আছে যারা শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যক্তিজীবনে ইসলামকে সীমিত রেখে সন্তুষ্ট নয়
তারা আগ্রাসীভাবে ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচারে ব্যাস্ত, ইসলাম যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কত বৈজ্ঞানিক, শান্তিপ্রিয়, যুক্তিপূর্ণ এটা প্রমাণ করতে একের পর এক পোস্ট দিয়ে যায়
তাদের বক্তব্যের যুক্তিপূর্ণ জবাব দিলে তারা সমালোচকদের প্রতি বিষোদ্গার করতে শুরু করে আর ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হয়
এদেরকে ইসলামিস্ট বলা হয়
তারা ইসলামের সমালোচককে শুধু ইসলাম ব্যাশারই বলে না শুধু, তাদের অনেকে ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংস আচরনকে সমর্থন করে, প্রাণ নাশের হুমকিও দেয়, ইসলামের শত্রু, ইহুদী খ্রীষ্টানদের বেতনভুগী দালাল বলে
স্বভাবতই ইসলাম ব্যাশাররও এদের পালটা সমালোচনা করেন
কিন্তু তারা ইসলামিস্টদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার মত লেভেলে নামে না
এই তফাতটা লক্ষ্যণীয়
প্রায়ই দেখা যায় এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা ইসলাম ব্যাশারদেরকে ইসলামী চরমপন্থীদের সাথে তুলনা করে
এটা দুঃখজনক, কারণ তুলনাটা খুবই অসমান
ইসলাম-ব্যাশাররা কলমেই তাদের কর্ম সীমিত রাখে
অথচ ইসলামী সন্ত্রাসীরা সহজেই সহিংসতায় লিপ্ত হতে পারে ইসলাম-ব্যাশাররদের প্রতি, যদিও ইসলাম-ব্যাশাররা তাদের বা অন্য কারও প্রতি সহিংসতায় লিপ্ত হয় নি
কখনো কখনো একটা উদ্বেগজনক ব্যাপার লক্ষণীয় সেটা হল এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ও ইসলামিস্টদের একটা কমন স্ট্যান্ড হল যে ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংসতাটা সমর্থনযোগ্য কারণ তারা মুসলীমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করছে, মুসলীমদের মানসিক যন্ত্রণা ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি সহিংসতাকে জাস্টিফাই করে
এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার বুলিটা এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ও ইসলামিস্টদের একটা সাধারণ সুর
কিন্তু কতটা যুক্তিযুক্ত এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার দাবীটা
আগেই বলেছি ইসলাম ব্যাশারদের ইসলামের সমালোচনা এক বিরাট মুসিলীম জনগোষ্ঠীর প্রতি লক্ষ্য করে নয়
তারা এই ইন্টার্নেট ভিত্তিক ইসলামের সমালোচনার কথা জানেও না
তাদের আঘাত পাওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে না
বাকী থাকল ইন্টার্নেট ব্যবহারকারী ইসলামিস্টরা
তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার বা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের বিচলিত হওয়াটা খুবই আশ্চর্য্যের ব্যাপারই বটে
এই ইসলামিস্টরা মানসিক ভাবে খুব দুর্বল, ইনোসেন্ট বা সুকোমল চিত্তের মানুষ নয় যে তাদের প্রতি এতটা সহানুভূতিতে গলে যেতে হবে
তারা নিজেরাই অন্য বিশ্বাসীদের প্রতি নির্দয় আঘাতের জন্য সদা প্রস্তুত
সহিংসতাতেও পিছপা হয় না
তা ছাড়া ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার কথাটার মধ্যে একটা অসঙ্গতি আছে, কথাটা ধোঁয়াটেও বটে
বিশ্বাস কি এমনই একটা ঠুনকো জিনিষ যে বিশ্বাসের সমালোচনায় এতটা বিচলিত বা আঘাতপ্রাপ্ত হতে হবে
বিশ্বাসে পূর্ণ আস্থা থাকলে তো আঘাতকে আঘাত হিসেবে নয় বরং বিশ্বাসকে জোরদার করার পরীক্ষা হিসেবে দেখার কথা
বা ইসলাম ব্যাশারদের সমালোচনা ভুল মনে করলে যুক্তির সাথে সেই ভুল খন্ডন করেও তাদের বিশ্বাসকে জোরদার করতে পারে, বা যুক্তি ঠিক হলে অন্যকেও ইম্প্রেস করে বিশ্বাসের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে
আসলে ধর্মানুভূতিতে আঘাত নয়, তাদের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করার প্রতিই তারা অসহনশীল
এই অসহনশীলতাটাই ইসলামী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ
আর এই অসহনশীলতাটা সহজেই সহিংসতার রূপ নেয়
সর্বোপরী একটা সঙ্গত অভিযোগ তোলা যায় যে, জীবনে অনেক কিছুরই তো সমালোচনা করা হয়, বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বকে বা বিশেষ কোন সাহিত্যিককে বা সাহিত্যকর্মকে বা কোন বরেণ্য নেতাকে
কিন্তু বিজ্ঞানের সেই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের বা সেই সাহিত্যিক/বরেন্য নেতাদের ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথা তো তোলা হয় না
ইসলামে বিশ্বাসীদের কি একটা বিশেষ প্রিভিলেজ আছে, বা থাকলে তার কারণ কি
ইসলামিস্টরা এই প্রাধান্যপূর্ণ মর্যাদা দাবী করলে অবাক হবার কিছু নেই, কিন্তু এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের মুখে এই ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথা শুনলে অবাকই হতে হয়
অথচ এই এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের কড়া সমালোচনা (ব্যক্তি সমালোচনা, সাহিত্যিক সমালোচনা নয়) করে লিখেছেনও
রবীন্দ্রভক্তরা যে এতে মনোকষ্ট পান না এটা ভাবার কোন কারণ নেই
ডবল স্ট্যান্ডার্ড অন্তত মুক্তমনাদের কাছ থেকে আশা করা যায় না
কোন কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার অবশ্য এটাও বলেন যে তারা ইসলামের সমালোচনা বিরোধী নন . তাদের আপত্তি হল যেহেতু সব ধর্মই সমান খারাপ তাই কেন শুধু ইসলামকেই টার্গেট করা হবে? অন্য ধর্মকেও একই সুরে সমালোচনা করতে হবে, তা না হলে এটা একপেশে হয়ে যাবে
এই যুক্তির অসারতা স্পষ্ট
যদি তারা মেনেই নেন যে ইসলাম খারাপ (অন্য ধর্মও খারাপ সেটা মেনেই) , তাহলে খারাপের সমালোচনা তো শর্তহীনভাবেই যৌক্তিক হবার কথা
অন্য ধর্মকে খারাপ না বললে ইসলাম খারাপ বলাটাও অযৌক্তিক বা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায় কি করে
কেই যদি রবীন্দ্রনাথের খারাপ দিক নিয়ে তথ্যযুক্তি দিয়ে সমালোচনামূলক লেখা লেখে তখন কি কেউ বলে (বা বলা উচিত কি?) অমুখ সাহিত্যিকেরও অনেক খারাপ দিক আছে, তাদেরও সমালোচনা না করে শুধু রবীন্দ্রনাথকে টার্গেট করাটা অযৌক্তিক বা অগ্রহণযোগ্য, ওটা টেগোর ব্যাশিং ইত্যদি
দেখা যাচ্ছে যে ইসলাম একটা বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে এই এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের দৃষ্টিভঙ্গীতে
লক্ষণীয় ব্যাপার হল যে খ্রীষ্ট বা হিন্দু সমাজেও তাদের নিজ নিজ ধর্মের কড়া সমালোচক আছেন
ইন্টার্নেট ফোরামেও হিন্দু বা খ্রীষ্টান ধর্মের কড়া সমালোচনা হয়েছে, মুক্তমনার কিছু সদস্যও এই কড়া সমালোচনায় অংশ নিয়েছিলেন
কিন্ত এই ধর্মগুলির দেশে (ভারত, আমেরিকা...) বা ইন্টার্নেট ফোরামে অনুরূপ এন্টি হিন্দু/খ্রীষ্টান-ব্যশারের অস্তিত্বের কথা শুনা যায় না, যারা কেন শুধু হিন্দু বা খ্রীষ্ট ধর্মকেই তাক করা হচ্ছে, অন্য ধর্মকে নয় এরকম ধুয়া তুলেছেন
এটা ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে
এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররাও কিন্তু কখনও খ্রীষ্টান বা হিন্দু ব্যাশারদের প্রতি একই রকম তিক্ত মনোভাব পোষন করে অভিযোগ করেন না যে তারা শুধু খ্রীষ্টান বা হিন্দু ধর্মকেই ব্যাশ করছেন
ইসলাম বা অন্য ধর্মকে নয়
কারণ তাদের কাছে ইসলামের ব্যাশিং টাই এক বিশেষ গুরুত্ব পায়
নিজেকে সব ধর্মের উপরে উঠাতে পারলে পৃথিবীর সব সমাজের সব ধর্ম ব্যাশারদের প্রতি সমান ঘৃণা পোষন করার কথা
কিন্তু ইসলাম ব্যাশারদের প্রতি তাদের এক আলাদা মনোভাব দেখা যায়
হিন্দু ব্যাশার বা খ্রীষ্টান ব্যশাররা ইসলাম ব্যাশ না করলেও এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের তাতে কোন সমস্যা নেই, সমস্য্যা শুধু ইসলাম ব্যাশাররা খ্রীষ্ঠান বা হিন্দু ব্যাশিং না করলে
এই পক্ষপাতিত্বের একমাত্র ব্যাখ্যা হল মুসলীম জাতীয়তাবোধের শিকড় ছিঁড়তে না পারা, যেটা আগেই উল্লেখ করেছি
হিন্দু/খ্রীষ্টান ধর্মের নাস্তিক/মুক্তমনারা তাদের স্ব স্ব ধর্মের জাতীয়তাবোধ কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলেই হয়ত তাদের মধ্যে এন্টি হিন্দু/খ্রীষ্টান ব্যাশার বেশী দেখা যায় না
আরেকটা কথা হল যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশার সব ধর্মই সমান খারাপ প্রচার করে শুধু ইসলামের সমালোচনার বিপক্ষে , তাদেরকে বলি, তাঁরা নিজেরাই তো অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লিখতে পারেন, অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লেখাকে তারা যদি এতই আর্জেন্ট মনে করেন
তারা যদি এতটাই নিশ্চিত যে অন্য ধর্মের খারাপ ইসলামের খারাপের সম পরিমান, তাহলে তো তাদের অন্য ধর্মের খারাপ দিক নিয়ে লেখার মত বিশদ জ্ঞান আছে নিশ্চয়
ইসলাম ব্যাশাররা অন্য ধর্মের খারাপ নিয়ে লেখেন না কেন এই অভিযোগ করার কোন কারণ দেখি না
নিজেরা যা করতে পারেন, সেটা অন্যেরা কেন করছে না তাদের মুখে এই ধরনের অভিযোগের সুর খুব ভাল শোনায় না
সব ধর্মের ব্যাশাররা মুক্তভাবে লিখুন না কেন সব ধর্মে খারাপ দিক নিয়ে
পাঠকেরাই বিচার করবে খারাপটা সমান কিনা, যুক্তি বিচার বুদ্ধি ব্যবহার করে
একটা বিশেষ ধর্ম, আইডিওলজি, মতবাদ, কে ব্যাশ করা (কড়া সমালোচনা করা) মুক্তচিন্তা/মুক্তমনের পরিপন্থী হয় কি করে কিছুতেই বুঝা যাচ্ছে না
রাজনৈতিক শুদ্ধির পরিপন্থী হতে পারে
কিন্তু মুক্তমন/মুক্তচিন্তার আবশ্যিক পূর্বশর্ত তো রাজনৈতিক শুদ্ধি নয়
আবার কোন কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ইসলামের সমালোচনা করার সময়ে কোন বিষয়ে অন্যধর্ম ইসলামের মত অত খারাপ নয় এরকম ইঙ্গিত করাতে ঘোর আপত্তি তোলেন
তাঁদের মতে সব ধর্মই সমান খারাপ
কোন বিষয়ে অন্যধর্ম ইসলামের চেয়ে কম খারাপ বলাটাকে তারা ইসলামকে হেয় করে অন্য ধর্মের জয়গান গাওয়া হিসেবে দেখেন
কিন্তু কম খারাপ বলাটা তো ভাল বলা নয় এই সহজ যুক্তি তারা কি বোঝেন না
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অন্যধর্ম ইসলামের মত অত খারাপ নয় কথাটা ইসলাম ব্যাশাররা তোলেন এন্টি ইসলাম-ব্যাশারদের সব ধর্মই সমান খারাপ এই দাবীর জবাবে, দাবীটা যে অযৌক্তিক সেটা বোঝাবার জন্যেই তোলেন, আগ বাড়িয়ে অন্য ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য নয়
সব ধর্মই সমান খারাপ এটা একটা রাজনৈতিক শুদ্ধি জনিত অবস্থান, যুক্তি বিশ্লেষন জনিত মত নয়
আগে উল্লেখ করেছি মুসলীম জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসী নাস্তিকরা (বা ইসলামে অবিশ্বাসীরা) হীনমন্যতা এড়াতে এরকম দাবী করেন
যেটাই হোক যদি তথ্য যুক্তির দ্বারা বস্তুনিষ্ঠভাবে ধর্মের তুলনামূলক সমালোচনা বা গুণাগুণ বিচার করা হয় হয় তাতে আপত্তির কি থাকতে পারে, সেটা তো মুক্তচিন্তার পরিপন্থী নয়
কিন্তু এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা সব ধর্মই সমান খারাপ এই মন্ত্রটা এতই জোরেসোরে আকড়ে থাকেন যে তথ্য যুক্তির দ্বারা বস্তুনিষ্ঠভাবেও কোন ধর্মকে কম খারাপ বা বেশী খারাপ বলার যথার্থতাকে স্বীকারই করেন না
সব ধর্মই সমান খারাপ এটা তাদের একটা অলঙ্ঘনীয় ডগমা
আরেক দল এন্টি ইসলাম-ব্যাশার বলেন যে ইসলামের সমালোচনা করা নয়, যে ভাষায় ইসলামের সমালোচনা করা হয় তাতে তাদের আপত্তি
এটা ব্যাখ্যার দাবী রাখে
রবীন্দ্রনাথকে তস্কর বলা, বা বিবেকানন্দকে ভন্ড বলা, বা গান্ধীকে শিশুকামী বলার ভাষায়ও তো তাদের ভক্তদের কাছে আপত্তিকর হতে পারে, তাদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে
কিন্ত কোন এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা ঐসব ক্ষেত্রে এরকম ভাষার ব্যবহারে আপত্তি তোলেন না
না তোলায় সমস্যা নেই
কিন্তু ইসলামের (মুহম্মদ অন্তর্ভুক্ত) সমালোচনার বেলায় তাদের মানদণ্ড অনেক উচু হয়ে যায় কেন সেটার ব্যাখ্যা দরকার