content stringlengths 0 129k |
|---|
সেদিন গাড়িতে যখন জ্যামে আটকে ছিলাম তখন দেখলাম একজন মেয়ে একটা রক্তাক্ত বাচ্চাকে কোলে নিয়ে এই গাড়ি সেই গাড়ির কাছে দৌড়াচ্ছে |
আগ্রহ ধরে রাখতে না পেরে যখনই আমি বের হতে যাব তখনই মেয়েটা ওই বাচ্চাকে নিয়ে আমার গাড়িতে উঠে বসে |
বাচ্চার মাকেও সাথে নেয় |
ড্রাইভারকে বলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে |
আমরা সোজা হাসপাতালে চলে যাই |
মেয়েটা সেদিন হাসপাতালের বিল দিতে না পেরে তার স্বর্ণের নাকফুল খুলে দিয়েছিল |
সেদিন সেই মেয়েটার মনে অন্যের বাচ্চাকে নিয়ে যে ভালোবাসা আমি দেখেছিলাম সেই ভালোবাসাটা আমার হৃদয়ে কড়া নেড়েছিল |
শতরূপার চোখের মণিজোড়া স্থির নিষ্পলক |
হাম্মাদের বলা কাহিনীটা তার খুব পরিচিত |
ক্ষণকাল থেমে সে আবার বলল, "এরপর থেকে আজ অবধি একটা রাতও ঠিকমতো আমি ঘুমাতে পারিনি |
একদিন বুঝলাম আমার প্রশান্তির ঘুমের জন্য সেই মেয়েটাকে চাই |
তাকে খুঁজে পেতে আমার দুইটা বছর কেটে গেল |
আমি এই শহরেই ছোট্ট একটা বিজনেস শুরু করলাম |
ভাগ্য কতটা সহায় হতে পারে সেদিন বিশ্বাস করলাম যেদিন মেয়েটাকে আবারো দেখতে পেলাম |
তখন থেকে শুরু হলো তাকে পর্যালোচনা করা |
তার সম্পর্কে সকল খোঁজ খবর নেওয়া |
প্রতিটা সেকেন্ড, মিনেটের খবর |
আর সেই মেয়েটাকে আমি হারাতে চাইনি |
তাই তো আজ, এখন সে আমার পাশে বসে আছে |
পকেট থেকে নাক ফুলটা বের করে শতরূপার সামনে ধরে |
এই অল্পক্ষণেই নিজেকে কারো গল্পের মূল্যবান একটা চরিত্রে দেখে নিলো সে |
সে জানতেই পারেনি কেউ তার জন্যে এভাবে অপেক্ষা করেছে |
এত আপন করে চেয়ে গেছে তাকে |
চোখের পাতা ভিজে আসে শতরূপার |
কিছুক্ষণ আগেও যাকে তার বিশ্বাস করতে বুক কাঁপছিল এখন মনে হচ্ছে তার কাছে নিজেকে উজাড় করে দিতে |
তাকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলতে |
জলভরা চোখে নাক ফুলের দিকে তাকায় সে |
আজও তার নাকটা খালিই আছে |
স্বর্ণের নাকফুল আর কেনা হয়নি |
সেদিন যখন পথশিশুর এক্সিডেন্ট করে বাইকটা পালিয়ে যায় তখন সেই বাচ্চাকে বাঁচাতে বাবার দেওয়া স্বর্ণের নাক ফুল দিয়ে দিয়েছিল |
আর আজ সেটাই তার সামনে |
হাতে-পা কেমন কাঁপছে |
মূহুর্তের মধ্যে এত সুখ পাওয়ার ছিল বিশ্বাস করতে পারছে না সে |
"অনুমতি পেলে আমি নাক ফুলটা পরিয়ে দিতে চাই তোমায় |
সে অপ্রস্তুত গলায় বলল, "আপনি পারবেন না |
"কে বলল? আমি পারি |
"পারি মানে? এর আগে কাউকে পরিয়েছেন?" |
"না! তা নয়, কিন্তু আমার বিশ্বাস আমি পারব |
শতরূপা চোখের জল মুছে মৃদু হাসে |
খানিকটা লজ্জা এসে ভর করে তার চেহারায় |
নিচের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ গলায় বলল, "তাহলে চেষ্টা করে দেখুন |
হাম্মাদের ফোনে একের পর এক কল আসছে |
কিন্তু সাইলেন্ট থাকার কারণে তার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই |
সে এই মূহুর্তে এইখানেই থাকতে চায় |
নাক ফুল হাতে শতরূপার কাছে যায় |
খালি গলায় ঢোক গিলে সে |
হাম্মাদ আলতো করে তাকে নাক ফুল পরিয়ে দেয়। এতদিন পর নাক ফুল পরছে তাই কিছুটা ব্যথায় চোখ বন্ধ করে নেয় যে |
হাতের বৃদ্ধাঙুলি দিয়ে গালে বারংবার স্পর্শ করে নাকের উপর ফুঁ দেয়। কেঁপে উঠে পেছনে সরে যায় শতরূপা |
হাম্মাদ মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ায় |
গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, "রাত বাড়ছে, চলো যাওয়া যাক |
শতরূপাও তৎক্ষনাৎ উঠে দাঁড়ায় |
বাইকে চড়ে সোজা বাড়ি চলে আসে |
তাকে গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে হাম্মাদ বলল, "তৈরি থেক আমার স্বপ্ন সফলের সঙ্গী হতে |
"আমি রঙিন সুতোয় স্বপ্ন বুনে যাব, আপনি শুধু অপেক্ষা করুন |
হাম্মাদ আজকের মতো বিদায় নেয় |
শতরূপা গেট দিয়ে ঢুকবে তখনই টের পায় কে যেন পাশের বিল্ডিংয়ের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে |
রাতের আলোয় কারো স্পষ্ট ছায়া দেখতে পায় সে |
কিছুক্ষণ তাকাতেই ছায়াটা চোখের আড়াল হয়ে যায় |
শতরূপা তার উদ্ভট চিন্তা ভেবে ভেতরে ঢুকে যায় |
হাম্মাদের মা-বাবা এসেছেন বিয়েতে শামিল হওয়ার জন্য কিন্তু শতরূপার মেজ বোন ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ আসেনি |
মন খারাপ করে বসেছিল সারাদিন থেকেই |
অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে এক সপ্তাহের |
বিয়েতে তার খরচ করার মতো তেমন টাকা তার হাতে ছিল না কিন্তু হাম্মাদের কাণ্ডে সব যেন কোথায় উধাও হয়ে যায় |
সে একাই সব খরচ বহন করছে |
কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা এমনকি বাড়িটাও সে মানুষ পাঠিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে |
যদিও তার ভীষণ খারাপ লাগছে কিন্তু কিছুই করার নেই |
হাম্মাদ কারো কথা শুনে না |
অতিরিক্ত জেদি স্বভাবের সে |
এই ক'দিনে শতরূপা অন্ততপক্ষে তাকে এতটুকু চিনে নিয়েছে |
বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে |
আজ গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান |
এরই মধ্যে হাম্মাদের সাথে শতরূপার কথার মাত্রা বেড়ে গেছে |
যখন তখন ফোনে লেগে থাকে দু'জনে |
মাত্র কথা বলে ফোনটা চার্জে দেয় শতরূপা |
শায়ান সেই কখন থেকেই তার খুঁজে বেশ কয়বার কল করেছে |
ফোনে না পেয়ে অফিস থেকে সোজা তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসে |
মাঝপথে তার বাইকটা বন্ধ হয়ে যায় |
এক সাইডে বাইক রেখে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে লাগে |
আচমকা একটা গাড়ি এসে তার সামনে থামে |
কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই শায়ানকে টেনে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় |
লিখা: বর্ণালি সোহানা |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ৬ |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ৫ |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ৭ |
গল্পের শহর |
://. |
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম.........গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ২১ ও শেষ পর্ব |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ২০ |
দৃষ্টিভ্রম পর্ব ১৯ |
! |
! |
, , . |
. |
: [ ] |
© -. |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.