content stringlengths 0 129k |
|---|
আমরাই সব করে দেব |
টিকিট থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া সবই |
এরপর এসে গেল সেই দিন |
রাতে বাস ছাড়ল ঢাকার ফকিরাপুল থেকে |
ভোরে খাগড়াছড়ি পৌঁছালাম যখন, চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি |
ঘুম ভেঙে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে হকচকিয়ে গেলাম |
আমরা কয়েক শ ফুট ওপরে |
কুয়াশার ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ি |
মিনিট কয়েক পরপর প্রায় ৯০ ডিগ্রি বাঁক |
গা কাঁটা দিয়ে উঠছিল |
উত্তেজনাও বোধ হচ্ছিল |
যখন খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছালাম, তখন সকাল নয়টা |
দলনেতা বললেন, আমরা রওনা দেব ঠিক ১০টায় |
চাঁদের গাড়িতে |
বলে রাখা ভালো প্রশাসনিক মানচিত্রে সাজেকের অবস্থান রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় হলেও খাগড়াছড়ি শহর থেকে যেতে হয় |
তখন মাথায় শুধুই ঘুরছিল পাহাড় আর মেঘ |
আমার স্ত্রী আর আমার জায়গা হলো চাঁদের গাড়ির সামনের আসনে |
শহরের ইট-দালানের ঘোর কাটিয়ে শুরু হলো পাহাড়ি বনাঞ্চল |
৩০ মিনিট পর আমরা প্রবেশ করলাম এক অন্য পৃথিবীতে |
ধুলো নেই, নেই শহুরে কোলাহল |
সবুজের দেশ, কুয়াশার দেশ; যেন এক টুকরো স্বর্গোদ্যান |
সর্পিল গতিতে কখনো ডানে তো কখনো বাঁয়ে চলছে গাড়ি |
কখনো ১০০ ফুট উঁচুতে তো কখনো ১০০ ফুট নিচে নামছে |
যেন গাড়ি না, কোনো রোলারকোস্টারে যেন চড়ে বসেছি আমরা |
আগে কখনো পাহাড়ে যাইনি বলে পুরো যাত্রাপথটাই আমার কাছে ছিল রোমাঞ্চের |
সেই ঘোর নিয়েই দুপুরে পৌঁছালাম মেঘের দেশ সাজেক ভ্যালিতে |
দুপুরে খেলাম মুরগি-ভাত |
লুসাইদের প্রচলিত পাহাড়ি বাঁশের তরকারি |
সঙ্গে ঘন ডাল |
তবে যাঁরা মরিচ কম খান তাঁরা একটু সাবধান |
পাহাড়ি মরিচে ঝাল বেশি! |
একটু জিরিয়ে নিয়ে বেলা তিনটার দিকে রওনা হলাম কংলাকপাড়া দেখতে |
দুই হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতার কংলাক পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখাটাই উদ্দেশ্য |
এবার আর গাড়ি নয়; নিজের পাজোড়াই ভরসা |
১৫ মিনিট ট্র্যাকিং করে পৌঁছালাম পাহাড়চূড়ায় |
পাহাড়ি মিষ্টি পেঁপের অভ্যর্থনা পেলাম |
বিক্রি করছেন স্থানীয় লোকজন |
দামও বেশি নয় |
পেঁপে খেয়ে কিছুক্ষণ ছবি তুললাম |
সবাই মিলে সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম |
সে রাত ছিল পূর্ণিমার |
এবার গন্তব্য সাজেক ভ্যালির হেলিপ্যাড |
হেলিপ্যাডে বসেই পূর্ণিমার চাঁদ উপভোগ করা |
ফিরতে ফিরতেই চাঁদ আলো দিতে শুরু করেছিল |
সেখানে সবাই মিলে গোল হয়ে বসলাম |
এতক্ষণে এসে সবার সঙ্গে সবার পরিচয় হওয়ার সুযোগ মিলল |
এর আগে সবাই একসঙ্গে গান গেয়েছি |
কবিতা আবৃত্তি করেছি |
কিন্তু ঘটা করে পরিচিত হওয়াটাই হয়নি |
পরিচিতি পর্বে জানা গেল কেউ প্রকৌশলী, কেউ বেসরকারি চাকরিজীবী, কেউ চালাচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠান |
কেউবা ব্যাংকার |
সবাই শুধু ভিন্ন ভিন্ন পেশারই না, ভিন্ন ভিন্ন জেলারও অধিবাসী |
পেয়ে গেলাম একজন বিদেশিও |
শুভায়্যু বিশ্বাস এসেছিলেন কলকাতা থেকে! |
আমাদের দলে ছিল আরও চার দম্পতি |
সবাই উপভোগই করলাম পূর্ণিমাস্নাত রাতে ফানুস ওড়ানো |
রাতে খেলাম বাঁশে রান্না করা মুরগি |
বিশেষভাবে রান্না করা ডাল ও আলুভাজা |
খেয়ে সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলেন |
অনেকেই ঘুমোতে চললেন |
আয়েশাকে বললাম, ঘুমোলেই রাত কেটে যাবে |
এই চাঁদমাখা সাজেক মিস করব? সঙ্গে পেলাম শাহিন ভাই ও তাঁর স্ত্রী মৌরীকে |
কটেজ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা হলাম |
সেখানে প্রায় আরও দুই ঘণ্টা আড্ডা দিয়ে কটেজে ফিরে ঘুম |
অ্যালার্ম আর মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙতেই দেখি আমাদের ঘর ধোঁয়াচ্ছন্ন |
বারান্দায় গিয়ে দেখি ঠিক সামনেই মেঘের ভেলা |
সত্যিকারের মেঘ! পাতলা মেঘের চাদরেই আমরা ঘুমিয়েছি |
মনে হচ্ছিল স্বপ্নের দেশে আমরা |
ভোর পাঁচটা বাজতেই বেরিয়ে পড়লাম |
অপেক্ষায় রইলাম সকালের সূর্য দেখার |
মিজোরাম পাহাড়ের মাথার ওপর দিয়ে উঠল লাল সূর্য |
কী আশ্চর্য, কয়েক সেকেন্ডেই বেরিয়ে এল ডগমগে সূর্য |
যত বেলা বাড়তে থাকল, কুয়াশার মতো মেঘদল ঘন হতে লাগল |
মিজোরামের পাহাড়ের রেঞ্জ আর সাজেকের মাঝে যেন এক সাগর মেঘ! পায়ের নিচে ভেসে যাওয়া এই মেঘের ভেলা দেখে সবাই খুব উল্লসিত |
সাজেককে বিদায় জানানোর পালা এল |
নাশতা সেরে ১০টায় রওনা হলাম খাগড়াছড়ির উদ্দেশে |
এই ভ্রমণে আরও ছিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা আলুটিলা গুহা, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার ফুট ওপরে |
আছে তেরাং চূড়া |
যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় পুরো খাগড়াছড়ি শহর |
দেখা যায় শহরের বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলা চেঙ্গী নদী |
যা যা জানা প্রয়োজন |
* খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যাওয়ার পথ বেশ দুর্গম ও পাহাড়ি |
সবচেয়ে ভালো চাঁদের গাড়ি |
সাধারণত পার্বত্য জেলার অধিবাসীরাই গাড়ির চালক হয়ে থাকেন |
পাহাড়ি পথঘাট তাঁদের নখদর্পণে |
তাঁরা বেশ দক্ষও |
তাই ভয়ের তেমন কোনো কারণ নেই |
* পাহাড়ে প্রচুর মশা ও পোকামাকড় রয়েছে |
তাই মশানিরোধক মলম সঙ্গে নেওয়া ভালো |
* হাঁটাহাঁটি করা বা পাহাডে ভ্রমণ উপযুক্ত জুতা নিয়ে যান |
* সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন |
সৌরবিদ্যুৎ আর জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও সে সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য |
* সংকট রয়েছে পানির |
সঙ্গে পানি নেওয়া উচিত |
: |
2018-01-02 |
. * |
, , . |
- . |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.