content
stringlengths
0
129k
পরে গত ১০ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালত মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন
এরপর আদালত মামলাটির পরবর্তী বিচার কাজের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন
ওই দিন পরীমনির আইনজীবী তার স্থায়ী জামিনের আবেদন জন্য আবেদন করেন
শুনানি শেষে বিচারক আবারও অস্থায়ীভাবে তার জামিন মঞ্জুর করেন
তার সাথে অপর দুই আসামিরও জামিন মঞ্জুর করেন
গত ১৪ জুন দুপুরে সাভার থানায় নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছয় জনের নামে মামলা দায়ের করেন নায়িকা পরীমনি
মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়
এরপর বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেলে বিতর্কিত হয়ে ওঠেন পরী
ওই মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছেন
ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই গেল ৪ আগস্ট রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগীকে আটক করে র‍্যাব
এ সময় তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানানো হয়
আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র‍্যাব সদর দফতরে
পরে র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে
মামলাটিতে পরীমনিকে তিন দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে; একাধিকবার এই রিমান্ড নিয়েও আছে সমালোচনা
অবশ্য ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন
কয়েক বৎসর পূর্বে এক অত্যাশ্চর্য ভৌতিক কাণ্ড ঘটিয়াছিল
তাহা লইয়া অনেক আন্দোলন হইয়া গিয়াছে এবং এ বিষয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকায় বিবিধ বৈজ্ঞানিক পত্রিকায় অনেক লেখালেখি চলিয়াছে
কিন্তু এ পর্যন্ত কিছু মীমাংসা হয় নাই
২৮শে সেপ্টেম্বর তারিখে কলিকাতার ইংরাজি সংবাদপত্রে সিমলা হইতে এক তারের সংবাদ প্রকাশ হয়-
সিমলা, হাওয়া আপিস ২৭শে সেপ্টেম্বর
"বঙ্গোপসাগরে শীঘ্রই ঝড় হইবার সম্ভাবনা
২৯শে তারিখের কাগজে নিম্নলিখিত সংবাদ প্রকাশিত হইল- হাওয়া আপিস আলিপুর
"দুইদিনের মধ্যেই প্রচণ্ড ঝড় হইবে
ডায়মণ্ড-হারবারে এই মর্মে নিশান উত্থিত করা হইয়াছে
৩০শে তারিখের যে-খবর প্রকাশিত হইল তাহা অতি ভীতিজনক-
"আধঘন্টার মধ্যে চাপমান যন্ত্র দুই ইঞ্চি নামিয়া গিয়াছে
আগামীকল্য ১০ ঘটিকার মধ্যে কলিকাতায় অতি প্রচণ্ড ঝড় হইবে; এরূপ তুফান বহু বৎসরের মধ্যে হয় নাই
কলিকাতার অধিবাসীরা সেই রাত্রি কেহই নিদ্রা যায় নাই
আগামীকল্য কি হইবে তাহার জন্য সকলে ভীতচিত্তে প্রতীক্ষা করিতে লাগিল
১লা অক্টোবর আকাশ ঘোর মেঘাচ্ছন্ন হইল
দুই-চার ফোঁটা বৃষ্টি পড়িতে লাগিল
সমস্ত দিন মেঘাবৃত ছিল, কিন্তু বৈকাল ৪ ঘটিকার সময় হঠাৎ আকাশ পরিষ্কার হইয়া গেল
ঝড়ের চিহ্নমাত্রও রহিল না
তার পরদিন হাওয়া আপিস খবরের কাগজে লিখিয়া পাঠাইলেন-
"কলিকাতায় ঝড় হইবার কথা ছিল, বোধ হয় উপসাগরের কূলে প্রতিহত হইয়া ঝড় অন্য অভিমুখে চলিয়া গিয়াছে
ঝড় কোন্‌ দিকে গিয়াছে তাহার অনুসন্ধানের জন্য দিক্‌দিগন্তরে লোক প্রেরিত হইল; কিন্তু তাহার কোন সন্ধান পাওয়া গেল না
তার পর সর্বপ্রধান ইংরাজী কাগজ লিখিলেন- এত-দিনে বুঝা গেল যে, বিজ্ঞান সর্বৈব মিথ্যা
অন্য কাগজে লেখা হইল, যদি তাহাই হয় তবে গরিব ট্যাক্সদাতাদিগকে পীড়ন করিয়া হাওয়া আপিসের ন্যায় অকর্মণ্য আপিস রাখিয়া লাভ কি?
তখন বিবিধ সংবাদপত্র তারস্বরে বলিয়া উঠিলেন- উঠাইয়া দাও
গবর্নমেন্ট বিভ্রাটে পড়িলেন
অল্পদিন পূর্বে হাওয়া আপিসের জন্য লক্ষাধিক টাকার ব্যারোমিটার, থার্মোমিটার আনানো হইয়াছে
সেগুলি এখন ভাঙা শিশি-বোতলের মূল্যেও বিক্রয় হইবে না
আর হাওয়া আপিসের বড় সাহেবকে অন্য কি কার্যে নিয়োগ করা যাইতে পারে?
গবর্নমেন্ট নিরূপায় হইয়া কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজে লিখিয়া পাঠাইলেন- "আমরা ইচ্ছা করি ভেষজবিদ্যার এক নূতন অধ্যাপক নিযুক্ত হইবেন
তিনি বায়ুর চাপের সহিত মানুষের স্বাস্থ্যসম্বন্ধ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ লিখিয়া পাঠাইলেন- "উত্তম কথা, বায়ুর চাপ কমিলে ধমনী স্ফীত হইয়া উঠে, তাহাতে রক্ত সঞ্চালনবৃদ্ধি হয়
তাহাতে সচরাচর আমাদের যে স্বাস্থ্যভঙ্গ হইতে পারে তাহাতে কোন সন্দেহ নাই
তবে কলিকাতাবাসীরা আপাতত বহুবিধ চাপের নিচে আছে:
২য় ম্যালেরিয়া
৩য় পেটেন্ট ঔষধ
৪র্থ ইউনিভার্সিটি
৫ম ইনকম ট্যাক্স
৬ষ্ঠ মিউনিসিপাল ট্যাক্স প্রতি বর্গইঞ্চি
" ১৫ পাউণ্ড
বায়ুর ২/১ ইঞ্চি চাপের ইতর বৃদ্ধি 'বোঝার উপর শাকের আঁটি' স্বরূপ হইবে
সুতরাং কলিকাতায় এই নূতন অধ্যাপনা আরম্ভ করিলে বিশেষ যে উপকার হইবে এরূপ বোধ হয় না
তবে সিমলা পাহাড়ে বায়ুর চাপ ও অন্যান্য চাপ অপেক্ষাকৃত কম
সেখানে উক্ত অধ্যাপক নিযুক্ত হইলে বিশেষ উপকার দর্শিতে পারে
ইহার পর গবর্নমেন্ট নিরুত্তর হইলেন
হাওয়া আপিস এবারকার মতো অব্যাহতি পাইল
কিন্তু যে সমস্যা লইয়া এত গোল হইল তাহা পূরণ হইল না
একবার কোন বৈজ্ঞানিক বিলাতের 'নেচার' কাগজে লিখিয়াছিলেন বটে; তাঁহার থিয়োরি এই যে, কোন অদৃশ্য ধূমকেতুর আকর্ষণে আবর্তমান বায়ুরাশি ঊর্ধ্বে চলিয়া গিয়াছে
এসব অনুমান মাত্র
এখনও এ বিষয় লইয়া বৈজ্ঞানিক জগতে ঘোরতর আন্দোলন চলিতেছে
অক্সফোর্ডে যে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের অধিবেশন হইয়াছিল তাহাতে এক অতিবিখ্যাত জার্মান অধ্যাপক 'পলাতক তুফান' সম্বন্ধে অতি পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রবন্ধ পাঠ করিয়া সমবেত বৈজ্ঞানিকমণ্ডলীর বিস্ময় উৎপাদন করিয়াছিলেন
প্রবন্ধারম্ভে অধ্যাপক বলিলেন, তুফান বায়ুমণ্ডলের আবর্তমাত্র
সর্বাগ্রে দেখা যাউক, কিরূপে বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি হইয়াছে
পৃথিবী যখন ফুটন্ত ধাতুপিণ্ডরূপে সূর্য হইতে ছুটিয়া আসিল তখন বায়ুর উৎপত্তি হয় নাই
কী করিয়া অম্লজান, দ্বম্লজান ও উদ্‌জানের উৎপত্তি হইল তাহা সৃষ্টির এক গভীর প্রহেলিকা! যবক্ষারজানের উৎপত্তি আরও বিস্ময়কর
ধরিয়া লওয়া যাউক, কোনপ্রকারে বায়ুরাশি উৎপন্ন হইয়াছে
গুরুতর সমস্যা এই যে, কী কারণে বায়ু শূন্যে মিলাইয়া যায় না
ইহার মূল কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
আপেক্ষিক গুরুত্ব অনুসারে পদার্থের উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বেশি কিংবা কম
যাহা গুরু তাহার উপরেই টান বেশি এবং তাহা সেই পরিমাণে আবদ্ধ
হালকা জিনিসের উপর টান কম, তাহা অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত
এই কারণে তৈল ও জল মিশ্রিত করিলে লঘু তৈল উপরে উঠিয়া আসে
উদ্‌জান হালকা গ্যাস বলিয়া অনেক পরিমাণে উন্মুক্ত এবং উপরে উঠিয়া পলাইবার চেষ্টা করে; কিন্তু মাধ্যাকর্ষণের টান একেবারে এড়াইতে পারে না
আপেক্ষিক গুরুত্ব সম্বন্ধে যে বৈজ্ঞানিক সত্য বর্ণিত হইল তাহা- যে পৃথিবীর সর্বস্থানে প্রযোজ্য এ সম্বন্ধে সন্দেহ আছে; কারণ ইন্ডিয়া নামক দেশে যদিও পুরুষজাতি গুরু তথাপি তাহারা উন্মুক্ত, আর লঘু স্ত্রীজাতিই সেদেশে আবদ্ধ!
সে যাহা হউক, পদার্থমাত্রেই মাধ্যাকর্ষণবলে ভূপৃষ্ঠে আবদ্ধ থাকে
পদার্থের মৃত্যুর পর স্বতন্ত্র কথা
মানুষ মরিয়া যখন ভূত হয় তখন তাহার উপর পৃথিবীর আর কোন কর্তৃত্ব থাকে না
কেহ কেহ বলেন, মরিয়াও নিষ্কৃতি নাই; কারণ ভূতদিগকেও থিয়োসফিক্যাল সোসাইটি আজ্ঞানুসারে চলাফেরা করিতে হয়
পদার্থেও পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হইয়া থাকে- পদার্থ সম্বন্ধে পঞ্চত্ব কথা প্রয়োগ করা ভুল; কারণ রেডিয়ামের গুঁতা খাইয়া পদার্থ ত্রিত্ব প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ আলফা, বিটা ও গামা এই তিন ভূ-তে পরিণত হয়
এইরূপে পদার্থের অস্তিত্ব যখন লোপ হয় তখন অপদার্থ শূন্যে মিলিয়া যায়
কিন্তু যতদিন পার্থিব পদার্থ জীবিত থাকে ততদিন পৃথিবী ছাড়িয়া পলায়ন করিতে পারে না
যদিও অধ্যাপক মহাশয়, পদার্থ কেন পলায়ন করে না, এ সম্বন্ধে অকাট্য বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রয়োগ করিলেন, তথাপি তুফান কেন পলায়ন করিল, এ সম্বন্ধে কিছুই বলিলেন না
এই ঘটনার প্রকৃত তত্ত্ব পৃথিবীর মধ্যে একজন মাত্র জানে- সে আমি
পরের অধ্যায়ে ইহা বিস্তৃতরূপে বর্ণিত হইবে
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
গত বৎসর আমার বিষম জ্বর হইয়াছিল
প্রায় মাসেক কাল শয্যাগত ছিলাম
ডাক্তার বলিলেনে- সমুদ্রযাত্রা করিতে হইবে, নতুবা পুনরায় জ্বর হইলে বাঁচিবার সম্ভাবনা নাই
আমি জাহাজে লঙ্কাদ্বীপ যাইবার জন্য উদ্যোগ করিলাম
এতদিন জ্বরের পর আমার মস্তকের ঘন কুন্তলরাশি একান্ত বিরল হইয়াছিল
একদিন আমার অষ্টমবর্ষীয়া কন্যা আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, "বাবা, দ্বীপ কাহাকে বলে?" আমার কন্যা ভূগোল তত্ত্ব পড়িতে আরম্ভ করিয়াছিল
আমার উত্তর পাইবার পূর্বেই বলিয়া উঠিল "এই দ্বীপ" -ইহা বলিয়া প্রশান্ত সমুদ্রের ন্যায় আমার বিরল-কেশ মসৃণ মস্তকে দুই-এক গোছা কেশের মণ্ডলী দেখাইয়া দিল
তারপর বলিল, "তোমার ব্যাগে এক শিশি :কুন্তল-কেশরী" দিয়াছি; জাহাজে প্রত্যহ ব্যবহার করিও, নতুবা নোনা জল লাগিয়া এই দুই-একটি দ্বীপের চিহ্নও থাকিবে না
" 'কুন্তল-কেশরী'র আবিষ্কার এক রোমাঞ্চকর ঘটনা
সার্কাস দেখাইবার জন্য বিলাত হইতে এদেশে এক ইংরাজ আসিয়াছিল
সেই সার্কাসে কৃষ্ণকেশর- ভূষিত সিংহই সর্বাপেক্ষা আশ্চর্য দৃশ্য ছিল