content stringlengths 0 129k |
|---|
কলকাতার রাজেন্দ্র রোডেই আমরা অবস্থান করতাম |
আর ৮নং থিয়েটার রোডে অবস্থান করতেন আমাদের জাতীয় চার নেতা |
নেতাদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হতো |
'৭১-এর ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সমন্বয়ে 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' গঠন ও সেই পরিষদে বঙ্গবন্ধুর 'স্বাধীনতার ঘোষণা' ও 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' অনুমোদন করে তারই ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ গঠন করা হয় |
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং উপ-রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম |
সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র ও পুনর্বাসনবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে '৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করেন |
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাজউদ্দীন আহমদ দূরদর্শিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন |
তিনি আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন |
আমাদের চারজনকে মুজিব বাহিনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল |
আমাদের চারজনের কাজ ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে পরিকল্পনা গ্রহণ করা |
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে বর্ডারে বর্ডারে ঘুরেছি, রণাঙ্গনে ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়েছি, একসঙ্গে কাজ করেছি |
দেশ স্বাধীনের পর '৭২-এর ১১ জানুয়ারি তাজউদ্দীন আহমদের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা বিষয়ে সব পরিকল্পনা গ্রহণ করেন |
বঙ্গবন্ধু সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাবেন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বঙ্গবন্ধু স্বয়ং; সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী; তাজউদ্দীন আহমদ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী; ক্যাপ্টেন মনসুর আলী যোগাযোগমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান সাহেব ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী |
আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হওয়ার |
সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর কাছে থেকেছি শেষদিন পর্যন্ত |
'৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে |
খুনিদের নির্মমতা এমন ভয়ংকর ছিল যে, তারা নিষ্পাপ শিশু রাসেলকেও হত্যা করেছে |
বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার যাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে না পারে, সে জন্যই খুনিচক্র শিশু রাসেলকে হত্যা করে |
শুধু তাই নয়, জাতীয় চার নেতা হত্যারও মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা |
কিন্তু তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি |
বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে ছিলেন |
বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে '৮১ সালে আমরা রক্তেভেজা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী পতাকা তুলে দিয়েছিলাম |
সেই পতাকা হাতে নিয়ে তিনি নিষ্ঠা-সততা-দক্ষতার সঙ্গে সংগ্রাম করে দীর্ঘ ২১ বছর পর '৯৬তে আওয়ামী লীগকে গণরায়ে অভিষিক্ত করে সরকার গঠন করেন এবং অনেকগুলো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন |
তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সংবিধান থেকে কুখ্যাত 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' অপসারণ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা |
এরপর ২০০৯-এ সরকার গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ও দণ্ড কার্যকর করা |
সফলভাবে এ দুটি ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্নের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক উন্নতির শিখরে নিয়ে গেছেন |
আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়ে ২০৪১-এ 'উন্নত বাংলাদেশ' গঠনে বদ্ধপরিকর |
করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও দেশের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতি ঘটছে |
জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার আরাধ্য স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করে প্রিয় বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা |
মহান নেতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলেই নেতাদের আত্মা শান্তি লাভ করবে এবং আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই লক্ষ্যেই নিয়োজিত |
নারায়ণগঞ্জের ৩ উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) |
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটের আগে-পরে মোট পাঁচ দিন অর্থাৎ ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন |
সোমবার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারি সচিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা যায় |
প্রতি উপজেলায় ২ জন করে মোট ৬ জন বিচারক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন |
তারা কোথাও তিন আবার কোথাও দুই ইউপির বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন |
নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম ও দেবদাস চন্দ্র অধিকারী |
মোহাম্মদ জসিম আলিরটেক, বক্তাবলি, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন |
অপরদিকে দেবদাস চন্দ্র অধিকারী গোগনগর, কাশীপুর, কুতুবপুরের দায়িত্ব পালন করবেন |
বন্দর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম ও সত্যব্রত শিকদার |
ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম মুছাপুর, ধামঘড়, মদনপুরে এবং সত্যব্রত শিকদার বন্দর ও কলাগাছিয়ায় দায়িত্ব পালন করবেন |
রূপগঞ্জে আছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশিদ ও নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীন |
কায়েতপাড়া ও ভোলাব ইউনিয়ন কাজ করবেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীন এবং গোলকান্দাইল, মুড়াপাড়া ও ভুলতায় মামুনুর রশিদ দায়িত্ব পালন করবেন |
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী : হাসান আজিজুল হক প্রয়াত |
১৫ নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৯টায় রাজশাহীতে নিজ গৃহে তাঁর মৃত্যু হলো |
জন্ম তাঁর ১৯৩৯ সালে; চলে যাওয়ার সময় বয়স হয়েছিল ৮২ |
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন তিনি পরিণত বয়সে |
কিন্তু তাঁর মৃত্যুতে বাংলা ভাষার এমন একজন কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু হলো যিনি বাংলা ছোটগল্পের নতুন মানদণ্ড নিরূপণ করে গেছেন |
হাসান ভাই ষাটের গোড়া থেকে ব্যতিক্রমী গদ্যভঙ্গীর জন্য পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন |
যত বৎসর গড়িয়েছে, তার বিশিষ্টতা সম্পর্কে বাঙ্গালী পাঠক-সমালোচক ক্রমান্বয়ে নিশ্চিত হয়েছেন |
তৃতীয় সহস্রাব্দ শুরুর অনেক আগেই তিনি দুই বাংলা মিলিয়ে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পীর পরিচয়ে চিহ্নিত হয়েছেন |
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ এসেছে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় বাংলার অসংখ্য অনুরাগী পাঠককে শোকস্তব্ধ করে |
এই শোক দীর্ঘস্থায়ী হবে, কারণ তাঁর ঐতিহ্য বহন করবে এরকম উত্তরপ্রজন্ম ইতোমধ্যে আর্বিভুত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না |
তাঁর প্রথম দুটি গল্পগ্রন্থ 'সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য' এবং 'আত্মজা ও একটি কবরী গাছ' প্রকাশিত হয়েছিল যথাক্রমে ১৯৬৪ ও ১৯৬৭ সালে |
অনতিবিলম্বে, ১৯৭০-এই, তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন |
ভারতের আনন্দ পুরস্কার পেয়েছিলেন কিছু দিন আগে, ২০০৮-এ, যখন জীবনের শেষ গল্পটি লিখে ফেলেছেন |
তিনি প্রমাণ করে গেছেন কথাসাহিত্যও কবিতার মতো নিরেট ও নিটোল হয়ে উঠতে পারে |
তাঁর রচনা এক ধ্যানীর চিন্তা ও চেতনার ফসল যাতে তার আখ্যানে অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িয়ে যায় নিসর্গ ও মানুষের মনস্তত্ব |
অন্যদিকে অনপনেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তাঁর অনেক গল্পের অভিমুখ নির্বাচন করে দিয়েছে |
তিনি বলেছিলেন, "আমি যাদের কথা বলতে চাই তারা হচ্ছে আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ |
আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসটা তাহলে কী? এই ৯৫ ভাগ মানুষকে মুক্ত করতে হবে |
আমার রাগের কারণ কী? আমার ক্রোধের কারণ কী? এই ৯৫ ভাগ মানুষের প্রতিভা ও কর্মশক্তির কোন বিকাশ নেই এই সমাজে |
৯৫ ভাগ মানুষ এদেশে চাপা পড়ে আছে |
এত বড় অন্যায় ও অমানবিকতা একজন লেখক যদি অনুধাবন করতে না পারেন তবে তিনি কিসের লেখক?" |
আমরা দেখেছি, তাঁর অচঞ্চল অধিক্ষেত্র ছিল সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল অবস্থান |
জীবনের সবচেয়ে রূঢ়তম বাস্তবতা ও সমাজজীবনের কুৎসিততম দিকটিও তাঁর লেখায় অবিকল প্রতিফলিত হয়েছে |
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব নিষ্ঠুরতা ও হাহাকার তীব্র তীক্ষ্ণ শিল্পরূপ লাভ করেছে তাঁর নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৪) গ্রন্থটিতে |
এক-একটি গল্পের জন্য হাসান ভাইয়ের দীর্ঘ সময় লেগে যায় |
১৯৬০ সালের 'শকুন' থেকে ২০০৮ এ লেখা শেষ গল্পটি লিখতে তার প্রায় ৫০ বছর লেগে যায় |
গড়ে বছরে গল্পের সংখ্যা দুটির বেশি হয়ে ওঠে না |
দ্রুত পরিবর্তমান সমাজের নতুন নতুন পাপ ও স্খলন বাদ থেকে যায় |
কিন্তু সমাজের মূল চিত্রটি তিনি চিহ্নিত করেছেন নির্ভুল গণিতে |
তাঁর পক্ষে ইচ্ছাপূরণের গল্প লেখা সম্ভবপর ছিল না |
তাঁর কথাসাহিত্য এক পর্যবেক্ষণশীল সমাজতাত্ত্বিকের শিল্পিত অভিব্যক্তি |
তাঁর গল্প একই সঙ্গে গল্প ও বিশ্লেষণ |
কিন্তু জীবনানন্দের যেমন, হাসান আজিজুল হকের মানসভূমি কোনো জটিল ঘূর্ণাবর্ত ছিল না |
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশেষ করে ১৯৪৬-৪৭-এর দাঙ্গা ও দেশভাগ, পাকিস্তানী আমলের সামরিক শাসন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং নবসৃষ্ট বাংলাদেশের পটভূমিতে তাঁর দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণ প্রসারিত ও অনেকাংশে সীমাবদ্ধ |
তিনি তাঁদের নিয়ে লিখতে পছন্দ করেছেন সমাজে যারা নামহীন-গোত্রহীন, নিরাশ্রয় ও উদ্বাস্তু |
তিনি সৌভাগ্যবান কেননা বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এমন এক পাঠক শ্রেণীর আবির্ভাব হয়েছিল যারা সেই ক্ষুধাপ্রপীড়িত, সৌভাগ্যবঞ্চিত, সমাজলাঞ্চিত মানুষের হৃদস্পন্দন শুনবার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছিল |
ফলে সমসাময়িক সাহিত্য মহলে তিনি সমাদর লাভ করেছেন এবং পাঠকের আনুকূল্য লাভ করে কৃতার্থ হয়েছেন |
মৃত্যুর বীভৎস্য তাণ্ডবলীলার বর্ণনা দিয়ে হাসান ভাই লেখেন: "বাড়িটা ততক্ষণে পুড়ে শেষ |
ওরা চলে গেছে |
বল্লম দিয়ে মাটির সাথে গাঁথা বশিরের সাত বছরের ছেলেটা |
ছাব্বিশ বছরের একটি নারীদেহ কালো একখণ্ড পোড়া কাঠের মতো পড়ে আছে ভাঙ্গা দগ্ধ ঘরে |
কাঁচা মাংস-পোড়ার উৎকট গন্ধে বাতাস বিষে ভারী |
যদিও জীবনের একেবারে শুরুতে উপন্যাস লেখার চেষ্টা করেছিলেন এবং জীবনের উপান্তে পুনর্বার ঔপন্যাসিক হওয়ার বাসনাটি তাঁর কাছে যথেষ্ট প্রশ্রয় লাভ করেছে, আনুপূর্ব তিনি ছোটগল্পের চৌহদ্দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেছেন, ছোটগল্প লিখেই তৃপ্ত বোধ করেছেন |
১৯৬৪তে প্রকাশিত 'সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য' লিখবার সময় যে ভাষা তিনি ব্যবহার করেছিলেন তার গাঁথুনি ক্রমে আরো সংবদ্ধ, আরো দৃঢ়তা লাভ করেছে, কিন্তু গল্পের মৌল বিষয়আশয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি |
প্রেমিককে বলা বাণীর কথা, 'আমরা সবাই অসুস্থ, আমাদের লোভ করতে নেই, আমাদের কোনো অধিকার নেই জীবনে' |
এরকম শূন্যতাবোধে আক্রান্ত মানুষদের জীবনে হাসান আজিজুল হকের আকর্ষণ |
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত এই গদ্যশিল্পী বাংলাদেশের ছোটগল্পের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তুলনারহিত দাড্যে ও অন্তর্দৃষ্টিতে |
বাংলা সাহিত্যিককে তিনি দান করেছেন ছোটগল্পের নতুন রূপবন্ধ ও অনন্যসাধারণ ভাষা |
তার শিল্পাভ্যাসে প্রত্যক্ষ হয়েছে বর্ণনার তুমুল সমাচার |
বারোটি গ্রন্থে অন্তর্ভুত ৮৬টি গল্পে তিনি ধারণ করেছেন তাঁর বিশ্ববীক্ষা, যাতে ব্যক্তিমানুষকে চিত্রায়িত করেছেন গভীর সহমর্মিতায় ও আশ্চর্য নৈপুণ্যে |
অনেক ক্ষেত্রে চরিত্রচিত্রণের মধ্য দিয়ে তার বর্ণনাপট গল্প হয়ে উঠেছে |
সমাজের ব্রাত্য জন, দলিত-মথিত অসহায় মানুষ এবং সম্বলহীনা নারী তাঁর গল্পের আখ্যানে প্রাধান্য লাভ করেছে ধারাবাহিক একসূত্রীতায় |
নিঃসহায় মানুষের সঙ্গে সামাজিক ক্ষমতার মিথষ্ক্রিয়া তাঁর গল্পে নানাভাবে চিত্রিত হয়েছে |
দেবেশ রায় তাকে উল্লেখ করেছিলেন 'পরম সখা হাসান ভাই' বলে |
পরস্পর তাঁরা পরম সখাই ছিলেন |
দুজনের বিশ্ববীক্ষণ ছিল সমানুপাতিক |
যারা কথাসাহিত্যের কাছে গল্পের অধিক কিছু প্রত্যাশা করে, পেতে চায় অস্তিত্ব ও জীবনের অভিনব মানে, পৌঁছাতে চায় হৃদয়োপলব্ধির গভীর কোনো স্তরে বিশেষ করে তারা অনুভব করবেন হাসান আজিজুল হকের অনুপস্থিতি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.