content stringlengths 0 129k |
|---|
পাশ্চাত্য চিন্তাধারা নাটক-নোবেল-কবিতার আঙ্গিক-ভাবনায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে |
ঐতিহ্যবাহী আবাসগৃহের স্থলে নির্মিত হচ্ছে পাশ্চাত্য ধাঁচের বহুতল ভবন |
কিন্তু এরকম সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মধ্যেও প্রকৃত জাপানকে চেনা যায় |
প্রকৃত জাপানই বাইরের মানুষদের প্রচ-ভাবে টানে |
তেমনি একটা টান বা আকর্ষণবোধ করে প্রাচীন কিয়োটোর উজি নগরীতে অবস্থিত 'দ্য গেঞ্জি মিউজিয়াম' দেখতে যাই |
একাদশ শতকে লেখা মুরাসাকি শিকিবুর গেঞ্জি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে এই মিউজিয়াম গড়ে উঠেছে |
ছাত্রাবস্থায়ই পড়েছিলাম বিশ্বসাহিত্যের প্রথম উপন্যাস গেঞ্জির কাহিনি জাপানে লেখা হয়েছে এবং ঔপন্যাসিক একজন নারী |
তাই কৌতূহল ছিল প্রচ- |
উজি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা মিউজিয়ামটি সারাবিশ্বের মানুষের কাছে অভাবনীয় আকর্ষণের বিষয় |
লক্ষ-কোটি মানুষ স্থানটি পরিভ্রমণ করে |
আকর্ষণের আরেকটি কারণ চা-উৎসব |
উজি নদীর অপর পাড়ে, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয় |
দুই আকর্ষণেই প্রতিবছর দশ থেকে বিশ লাখ মানুষ ওই স্থানগুলো পরিভ্রমণ করে |
সেখানকার এক পর্যটন কর্মকর্তা পাওয়ার পয়েন্টে আমাদের দেখিয়েছেন ওই বৎসর জুনের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দশ লাখের কাছাকাছি পর্যটক মিউজিয়ামটি পরিদর্শন করেছেন |
উজিতে 'গেঞ্জি' মিউজিয়াম স্থাপনের কারণ উপন্যাসটির শেষ দশ অধ্যায়ের পটভূমি হচ্ছে উজি |
এছাড়া ঐতিহ্যবাহী উজি নগরীর মানুষ পুরনো জাপানি আবহে নিজেদের গৌরবময় কৃষ্টি আঁকড়ে থাকতে পছন্দ করে |
সেখানকার সব বাড়িঘরই প্রাচীন জাপানি আদলে নির্মিত |
পরিবেশ-আবহ যেন কবি কালিদাসের সে উজ্জয়িনী, প্রাচীন নগরী |
মুরাসাকি শিকিবুর গেঞ্জির কাহিনিই মূলত জাপানি উপন্যাস সম্পর্কে আমার আগ্রহের সৃষ্টি করে |
বৃহৎ কলেবর, উপন্যাসের রচনাকাল, পটভূমি, বিষয়বস্তু, দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আমাকে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয় |
আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয় লেখিকার চিন্তাশক্তি, লেখার সাহস, হেইয়ান সম্রাটদের অন্তঃপুরের ঘটনা ও কাহিনিকে উপন্যাসে রূপায়ণ এবং ফ্রয়েডীয় মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর অবতারণায় চরিত্রগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, ভোগমানসিকতার নৈতিক পরিণতি (বিপর্যয়) কোনো ধর্মীয় বক্তব্য ছাড়াই N ভাবা যায়? সম্রাটের স্ত্রী অর্থাৎ সম্রাজ্ঞীর সহচর... |
বরং কল্পিত কাহিনি এবং চরিত্রে প্রাসাদের সবাই আছেন ভিন্ন নাম-পরিচয় এবং নিজেদের সকল নৈতিক-অনৈতিক কর্মকা-ের বাস্তব চালচিত্র নিয়ে |
প্রাচীন সাহিত্যের যা প্রধান বিশেষত্ব, সে ধর্মীয় দেবদেবীর কথা নেই, আছে বাস্তবের মানুষ, চারপাশের রক্ত-মাংসের মানুষ, শিকিবু যাদের প্রতিদিন দেখেন এবং গভীর থেকে উপলব্ধি করেন |
আধুনিককালের জাপানি উপন্যাস চিন্তা ও আঙ্গিকভাবনায় বেশ অগ্রসর |
এই আধুনিকতার সূচনা হয় মেইজি পর্বে (১৮৬৮-১৯১২) |
তখন বিদেশি সাহিত্য অনূদিত হয়ে জাপানে আসে |
গেঞ্জি উপন্যাসের সাত-আটশো বছর পরও জাপানের উপন্যাস প্রত্যাশিতভাবে অগ্রসর হয়নি |
আধুনিক জীবনের প্রতিফলন আছে এরকম রুচিকর উন্নত উপন্যাস মধ্য-উনিশ শতকেও লেখা হয়নি, শেষ দুই দশকের কিছু নিদর্শন দেখা গেছে |
পরবর্তী সময় অর্থাৎ বিশ শতকে অভাবনীয় সাফল্য আসে |
বিশ্বমানের উপন্যাস লেখা হয় তখন |
পাশ্চাত্য উপন্যাসের মুখোমুখি দাঁড়াবার শক্তি অর্জন করে এসব উপন্যাস |
মাঝখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানকে আমূল ছিন্নভিন্ন করে দেয় |
সাহিত্য-উপন্যাস কিছুই রক্ষা পায়নি |
নতুনভাবে সংকটের সৃষ্টি করে জাপানের পরাজয় এবং জাপানি সৈন্যদের যুদ্ধকালীন ফিলিপিন এবং কোরিয়ায় পরিচালিত হত্যা-ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ |
জাপানের বুদ্ধিজীবী এবং লেখকেরাই এজন্য বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকে কাওয়াবাতা উপন্যাস লিখতেন |
যুদ্ধোত্তরকালে যে উপন্যাস লিখলেন তার বর্ণনা দিলেন 'বিলুপ্ত জাপানের শোকগাথা' বলে |
যুদ্ধে পরাজয় এবং দিশা হারিয়ে বিভ্রান্ত লেখকদের কেউ কেউ ব্যর্থতা ও হতাশা কাটিয়ে নতুন জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন |
কোনো কোনো লেখক অতীত ঐতিহ্যে অবগাহনের মধ্যে সুখ অনুসন্ধান করেছেন |
যুদ্ধোত্তর জাপানের 'প্রথম প্রজন্মের লেখক'রা যুদ্ধের আগেই সাহিত্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন |
যুদ্ধ শেষ হবার পর পরিবর্তিত পরিবেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, দার্শনিক এবং সামাজিক প্রেক্ষিতগুলো উপন্যাসে বিশ্লেষণের জন্য এঁরা এগিয়ে এলেন |
তাঁদেরই একজন যুদ্ধের ওপর লেখা উপন্যাসে ফিলিপাইনে জাপানি সৈন্যদের অমানবিক আচরণের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন |
যুদ্ধোত্তর জাপানের 'দ্বিতীয় প্রজন্মের লেখক'দের মধ্যে শক্তিশালী দুজন ঔপন্যাসিকের আবির্ভাব ঘটে |
এঁরা দুজনই রাজনৈতিক সচেতন এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন |
একজন ডানপন্থী মিশিমা, অপরজন বামপন্থী আবেকোবো |
একজন সম্রাটের শাসন অর্থাৎ জাপানের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চান |
অপরজন পরাবাস্তববাদী চিন্তায় নান্দনিক জাপানের অস্তিত্ব খোঁজ করেন |
বৈশ্বিক মানদ-ে এঁরা দুজনই শ্রেষ্ঠ লেখক |
জাপানের 'তৃতীয় প্রজন্মের লেখক'রা উঠে আসেন অপেক্ষাকৃত সুবিধেজনক পরিবেশে |
তাঁদের মধ্যে একজন নোবেল পুরস্কারও পান |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতগুলো তাঁর (ক্যানজাবুরো ওয়ে) চিন্তায় নিরপেক্ষ ভাবনার পথ তৈরি করে |
সর্বশেষ যে লেখক জাপানকে বিশ্বে আলোকিত করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন, সেই পরাবাস্তববাদী লেখক হারুকি মুরাকামি নিরন্তর নিরীক্ষাধর্মী উপন্যাস লিখে যাচ্ছেন |
তাঁর উপন্যাসে জীবন-আচরণ ও সামাজিক ইস্যুসমূহে উত্থাপিত বিষয়গুলো ব্যক্তিসত্তা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের গ্রন্থি-উন্মোচনে জটিল পথে পা বাড়িয়েছে |
তারপরও পাঠক তাঁর লেখা পছন্দ করছেন |
তাঁর বই প্রকাশিত হওয়ার আগেই সারাবিশ্বে প্রচুর মাতামাতি হয় |
পত্র-পত্রিকাগুলো নানারকম আগামবার্তা প্রচার করে |
বই প্রকাশের পর লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয় |
উৎসাহী পাঠক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে সারারাত জেগে থেকে বই কেনে N যা দেখা যায় আমাদের দেশে ঈদের আগে রেলস্টেশনগুলোয় |
এখানে অপেক্ষমাণ জনতা বই নয়, ট্রেনের টিকিট চায় |
জাপানি ঔপন্যাসিকদের দুজন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন |
দু-তিনজন পাই পাই করে পাননি |
একজন অপেক্ষায় আছেন |
এসব প্রমাণ করে জাপানি উপন্যাস কতটা এগিয়ে গেছে এবং কোথায় তার অবস্থান |
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান অর্থনৈতিকভাবে বাকি বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করছে - উপন্যাসেও সেরকম চ্যালেঞ্জ জানাবার মতো ক্ষমতা রাখে, এ কথা বললে বোধহয় বেশি ভুল বলা হয় না |
এই গ্রন্থে সাতটি প্রবন্ধ রয়েছে |
পরিশিষ্টে আছে আরো একটি |
ছয়টি প্রবন্ধ জাপানের শ্রেষ্ঠ ও বিশ্ববিখ্যাত বলে বিবেচিত ছয়জন ঔপন্যাসিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে |
পরিশিষ্টের প্রবন্ধটি মূলত দুটি বইয়ের আলোচনা |
একটি বইয়ের লেখক জাপানের বাইরের বলে প্রবন্ধটি পরিশিষ্টে রাখা হয়েছে |
প্রথম প্রবন্ধটিতে জাপানি উপন্যাসের পটভূমির সঙ্গে একটি সার্বিক পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে |
সবকটি প্রবন্ধই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত |
উল্লেখ্য, মিশিমাকে নিয়ে আমার লেখা একটি উপন্যাস ২০১৬ সালে প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ |
উপন্যাসটির নাম মিশিমার সুইসাইড নোট |
প্রবন্ধ-গ্রন্থের পা-ুলিপি তৈরিতে সাহায্য করেছেন মোহাম্মদ আতাউল হক ভূঁইয়া এবং আমার স্থপতি পুত্র ফাহিম হাসিন সহন |
গ্রন্থটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়ে - - - - - আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন |
প্রবন্ধ-গ্রন্থটিকে নির্ভুল করতে চেষ্টার কমতি ছিল না |
তারপরও কিছু অনভিপ্রেত ত্রুটি রয়ে গেছে |
পরবর্তী সংস্করণে ত্রুটিগুলো সংশোধনের ইচ্ছে রইল |
: |
. * |
, , |
ভালো বই হোক ভালো বন্ধু |
বেঙ্গল পাবলিকেশন্স একটি প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা |
রুচিশীল বই প্রকাশের উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকার নিয়ে এ-প্রকাশনালয়টি গঠিত হয়েছে |
প্রকাশ করে চলেছে বৈচিত্র্যে উজ্জ্বল নানাবিষয়ক গ্রন্থ |
এই অব্যাহত ধারার প্রকাশনার ভেতর দিয়ে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স প্রকাশনাজগত ও সাহিত্যভুবনে মর্যাদার আসন অর্জন করেছে |
সৃজনশীল, মননশীল, মুক্তিযুদ্ধ, অনুবাদ-সাহিত্য, নারীবিষয়ক রচনাসহ শিশু-কিশোরদের জন্য বই প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে |
অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বাইরে পুরুষের চেয়ে নারীর স্বতন্ত্র কিছু গোপনাঙ্গ রয়েছে |
প্রথমত এটি হচ্ছে স্তন বা ব্রেস্ট |
নারীর স্তন যুগল একই সাথে নারীরত্বকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি এটি শারীরিক মিলন জীবনে এবং মাতৃত্বকালীন সময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে |
নারীর নারীত্ব পূর্ণ মাত্রায় ফুটে উঠে তার স্তনের বিকাশের সাথে সাথে |
পুরুষের নারীর মতো স্তন নেই তবে স্তনের স্পর্শে পুরুষও আবেদিত বা উত্তেজিত হয় |
শারীরিক মিলন জীবনের প্রধান ভূমিকা রাখে নারীর স্তন |
স্তনের স্পর্শের দ্বারা নারী সবচেয়ে মৌলিক এবং চূড়ান্ত শারীরিক মিলনের উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছে যায় |
নারীর বহিঃ গোপনাঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে আবেদনশীল গোপনাঙ্গ হলো তার কিটোরিস |
এটি নারীর বাইরের গোপনাঙ্গ |
কিটোরিসকে বাংলাতে ভগাংকুর বলা হয় |
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ভগাংকুরের দৈঘ্য এবং প্রস্থ সব নারীর একই সমান নাও হতে পারে তবে সব নারীর ক্ষেত্রেই ভগাংকুরের স্পর্শের আনন্দ অপরিসীম |
কিটোরিস এর মাথা নরম চামড়ার দ্বারা বা ত্বকের আবৃত থাকে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.