content
stringlengths
0
129k
আমাদের ল্যাঙ্গুয়েজ কী!
যদু-মধু ও নাঈম
1 53
সর্বাধিক পঠিত
জীবনটা তাঁর ব্লকবাস্টার সিনেমা 3.1
দানবীয় স্লেজিং শিল্পী 2.1
রিভার্স স্যুইং 1.6
এক অনন্ত জীবন ও ১৯টি বল 1.5
গতির রেকর্ড ভাঙবে কারা 1.3
'বুড়ো'দের সেরা একাদশ 1.3
সে গিয়েছে সবার আগে সরে 1.3
মিরাজ দ্য অলরাউন্ডার 1.2
শিশিরের মিছিলে নি:শব্দ পতন 0.9
ঋদ্ধিমান ও একটি ছক্কা 0.9
ফেসবুকে অনুসরণ করুন
71
সম্পাদকের কথা
এই প্রজন্মের যারা ক্রীড়াদর্শক, তারা প্রচলিত ধারার সাংবাদিকদের চেয়ে খেলাধুলার খবর কম রাখেন না; কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশিই রাখেন
এই দর্শকশ্রেনী আমাদের প্রচলিত সাংবাদিকতায় সন্তুষ্ট নন
তারা রাত জেগে যে খেলা টিভিতে দেখেন বা মাঠে গিয়ে যা দেখে আসেন; লেখায় তার প্রতিফলন খুজে পান না
আমরা এই দর্শকদের উপযোগী ক্রীড়া সাংবাদিকতা করতে চাই
আসলে আমরা করতে চাই না; এই প্রজন্মের দর্শককেই আমরা খেলাধুলা নিয়ে লেখালিখির একটি সমন্বিত জায়গা করে দিতে চাই
যে জায়গাটা তাদেরই লেখা, ভাবনা দিয়ে হয়ে উঠবে একেবারেই তাদের মনের মতো
'সেমিফাইনালিস্ট' তকমা ঝেড়ে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড
ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে কিউইরা
পরাজিত দলে ছিলেন কেন উইলিয়ামসন
চার বছর পর উইলিয়ামসনের নেতৃত্ব নিউজিল্যান্ড উঠলো আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে
সেখানেও হৃদয়ভাঙার গল্প
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের পথচলা ছিল চ্যাম্পিয়নের মতো
সেমিফাইনালে ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে 'ব্ল্যাক ক্যাপস'
আশায় বুক বাঁধলেন কিউই সমর্থকরা
এবার বুঝি শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরবেন উইলিয়ামসন-গাপটিলরা
আগের দুই ফাইনালে ব্যাট হাতে তেমন কিছুই করতে না পারা উইলিয়ামসন খেললেন দুর্দান্ত এক ইনিংস
ডেভিড ওয়ার্নার-মিচেল মার্শদের নৈপুণ্যে ম্লান নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের ৪৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংস
ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে টানা তিন হারের বেদনা সঙ্গী হলো উইলিয়ামসনের
পুরো আসরে দারুণ পথচলায় সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক
আবার তৃতীয়বারের চেষ্টাতেও ব্যর্থ হওয়ায় লজ্জিত তিনি
দাপুটে জয়ে শিরোপা জিতে নেয়া অস্ট্রেলিয়াকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি উইলিয়ামসন
তিনি বলেন, 'আজ হয়নি, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলেছি টুর্নামেন্টে, তার জন্য গর্বিত
ছেলেরা দায়বদ্ধ ছিল আমরা যা কিছু করতে চেয়েছি তার প্রতি
এখানে অনেকের হৃদয় ভেঙেছে, জয়ী দলে থাকা সবসময় সুন্দর
কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে কৃতিত্ব দিতে চাই
ভালো ক্রিকেট হয়েছে
আমরা ভেবেছি খেলায় দুটি ফলই সম্ভব
নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারিনি আমরা, এটা লজ্জার
১৭২ রানকে লড়াই করার মতো স্কোর মনে করেছিলেন উইলিয়ামসন
তিনি বলেন, 'আমরা ভালো একটা জায়গায় যেতে চেয়েছি
কিছু ভালো জুটি হয়েছে
যে লক্ষ্য দিয়েছিলাম, আমাদের মনে হয়েছে লড়াই করার মতো
এটা দারুণভাবে তাড়া করতে হতো
অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত দল, তারা এটা করে ফেলেছে
ভালো সংগ্রহ গড়েছেন কি না, এটা কখনোই বুঝতে পারবেন না
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বড় স্কোর দাঁড় করাতে
অনেক দূর যেতে পারিনি
অস্ট্রেলিয়ার কৃতিত্ব তারা যেভাবে রানটা তাড়া করেছে, আমাদের কোনো সুযোগ দেয়নি
সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা ভাই বোনেরা, আপনারা আমার সালাম নেবেন
বেশ কিছু দিন হলো আপনাদের খেদমতে হাজির হতে পারিনি
আসলে আমার করোনা হয়েছিল
সংক্রমণটা মোটামুটি গুরুতরই ছিল
আমার পজিটিভ ধরা পড়ে ২২ সেপ্টেম্বর
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, ১৪ দিন পর করোনা নেগেটিভ আসে
আরো ধারণা করা হয় যে, সাধারণত ১২ দিন পর ভাইরাসগুলো নিষ্ক্রিয় হয় অথবা মরে যায়
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এসব কিছুই হয়নি
এমনকি গত ৮ অক্টোবর ১৮ দিন পর আমি যখন টেস্ট করি তখনও আমার পজিটিভ আসে
কেউ যদি মনে করেন যে ১৮ দিন পর যে, পজিটিভ আসে সেগুলো ছিল ডেড সেল বা মৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃত ভাইরাস, কিন্তু বাস্তবে সেটি ছিল না
আমি আমার ব্যক্তিগত ঘটনা উল্লেখ করছি একারণেই যে, আমি ৮ অক্টোবর গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হই
১০ দিন হাসপাতালে ছিলাম
এই কয়দিন হাসপাতালে ডাক্তার নার্স এবং অন্যান্য করোনা রোগীর সাথে অনেক আলোচনা হয় এবং করোনা সম্পর্কে এমন অনেক কথা জানতে পারি যেগুলো করোনা সম্পর্কে নতুন এবং আমার বাস্তব অভিজ্ঞতাসঞ্জাত
সেসব নতুন কথাই আপনাদেরকে জানাবো
আগেই বলেছি, ৮ অক্টোবর আমার করোনার নেগেটিভ আসার কথা
ঐ দিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আমি টেস্ট করাই এবং সেদিনও পজিটিভ আসে
অথচ, প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী আমার নেগেটিভ আসার কথা
৮ তারিখ বিকাল ৪টার দিকে আমার যুগপৎ প্রচন্ড বমি, পাতলা পায়খানা অর্থাৎ ডায়রিয়া এবং গলগল করে কফ পড়তে থাকে
অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে পড়লে আমাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
প্রথমে আমাকে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির প্রফেসর মাহবুবুল আলমের অধীনে ভর্তি করা হয়
ইমার্জেন্সিতে তিনটি ইনজেকশন দিয়ে আমার বমি এবং লুজ মোশন বন্ধ করা হয়
তারপর সপ্তম তলায় অবস্থিত কোভিড ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়
আমাকে রাখা হয় ৭২১ নং কেবিনে
পরদিন আমাকে মেডিসিনের প্রফেসর তৈমুর নওয়াজের অধীনে নেওয়া হয়
এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, বিগত ৪৫ বছর ধরে আমি আইবিএসের রোগী
আমি ভেবেছিলাম যে, আমার আইবিএস প্রকট আকার ধারণ করেছে
কিন্তু পরদিন থেকে সম্পূর্ণভাবে কোভিডের চিকিৎসা করা হয়
আমার ইকো, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম সহ নানান পরীক্ষা করা হয়
সব রিপোর্টই ভালো ছিল
জানতে পারি যে, করোনা ভাইরাস আমার আইবিএসে আঘাত হেনেছে
এজন্য প্রফেসর নওয়াজ আমার অন্যান্য সব ঔষধ বাতিল করে শুধুমাত্র করোনার ট্রিটমেন্ট করেন
হসপিটালে থাকাকালীন জানতে পারি, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে তখন, যখন তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল নেমে যায়
একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ বলেন যে, অক্সিজেন লেভেল ৯৩ পর্যন্ত নরমাল
৯৩ এর নিচে গেলেই চিন্তার বিষয়
আমাকে দ্বিতীয় দিন থেকেই বিরতিহীনভাবে অক্সিজেন দেওয়া হয়
তারপরেও তৃতীয় বা চতুর্থ দিনের রাতে আমার অক্সিজেন লেভেল নেমে ৮৮ তে আসে
ডাক্তাররা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন
রাত ৪টার দিকে আমার অক্সিজেন লেভেল ৯৪ এ উন্নীত হয়
আমার আগেও বিশ^াস ছিল, তখনও বিশ^াস ছিল এবং এখনও বিশ^াস করি যে, রাখে আল্লাহ মারে কে! আসলে হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে
এই যে ডাক্তার সাহেবরা চিকিৎসা করে রোগীকে সুস্থ করেন সেটি আসলে ডাক্তার সাহেবরা করেন না
আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষ সুস্থ হয়
ডাক্তার সাহেবরা উসিলা মাত্র
যাই হোক, ১৫ অক্টোবর আবার টেস্ট করা হয়
এবার নেগেটিভ আসে
অর্থাৎ ২৫ দিন পর আমার করোনা নেগেটিভ হয়