content
stringlengths
0
129k
যা অনুধাবন করার বিষয়
একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে, আমরা যে সময়টা ক্রমাগত অতিক্রম করে চলেছি, তার সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা, শোক-তাপ, প্রকৃতির লীলাকীর্তন - সবই বড়দের সাহিত্যে যেমন রোপন করা হয়, তেমনি শিশুদের সাহিত্যেও সে কাজটাই করা হয়
বিষয়-আশয়ে তেমন প্রার্থক্য নেই
কেবল ভাষার সৌকর্যে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়
শিশুসাহিত্যে তাই বড়দেরও শেখার অনেক উপাদান আছে
মানুষ যতই বড় হোক না কেনো, মনটা বড় হতে চায় না
বিবর্তনশীল অগ্রগামী সভ্যতার সঙ্গে জীবন যতই নানা প্রতিকুলতার সম্মুখীন হয়, ততই সে নিজের অস্তিত্বের প্রগাঢ় টান অনুভব করে
নিজেকে খোঁজে
প্রকৃতির ভেতর, মানুষের ভেতর, তারপর নিজের ভেতর অবিরাম নিজেকে খুঁজে চলে
নিজের কাছে ফিরতে চায়
পার্থিব সমূহ ঝুট-ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে চায়
নির্ভেজাল, নির্মল ও প্রশান্তিময় জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে চায়
এ যেন দীর্ঘশ্বাসের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকবার আকুতি
ফলে তাকে ফিরতে হয় সেই ছায়াহ্নে, যেখানে সে অবমুক্ত ছিলো, স্বাধীন ছিলো
হইহই পইপই করে কাটিয়েছে তার জীবনের একটা অংশ
সেটা নিঃসন্দেহে শিশুকাল
স্বভাবতই শিশুকাল হয়ে উঠে তার অস্তিত্বের নিরেট ঠিকানা
এই যে মানুষের প্রত্যাবর্তন
এটা অমোঘ সত্য
স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
ফলে মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই লস্টালজিক
কোন দুঃখের সময় অতিক্রম করার জন্য সে পিছনে ফিরে যায়
আবার সুখকর কোন মুহূর্ত পার করার সময়ও সে পিছনে ফেরে
মনের অজান্তেই আওড়াতে থাকে তার দুঃখবেলার গান
অথবা মায়ের কাছে শোনা কোনো গল্প কিংবা ছড়া-কবিতা
প্রসঙ্গত বলা যায় - শিশুকাল পার হওয়া কারও সামনে কেউ যদি বলে -
আয় আয় চাঁদ মামা,
টিপ দিয়ে যা
চাঁদের কপালে চাঁদ
টিপ দিয়ে যা
আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা
ফুল তুলিতে যাই,
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
মামার দেশে যাই
তখন তার মনের পর্দায় যে ছবি ভেসে ওঠে, তা নির্ঘাত ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয়
ছোটবেলার সেই নির্মল উচ্ছ্বাসে ভরা মধুর জীবনের প্রত্যাশী হয়ে ওঠে
মনের গহিনে স্তূপাকৃত দীর্ঘশ্বাসসমূহ ভুলে যেতে থাকে
এই যে মনকে নির্মলতার আবহে ফিরিয়ে নেওয়া, ক্ষণিক আনন্দে উদ্ধেলিত করা, এখানে শিশুসাহিত্যের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে
সুতরাং সাহিত্যের এ শাখায় যারা কাজ করতে আসেন, নিঃসন্দেহে তারা প্রাজ্ঞবান
প্রাজ্ঞবান বললাম এই কারণে যে, শিশুর মন বোঝা মোটেও সহজ কাজ নয়
শিশুর আচার-আচারণ, চলা-ফেরা, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক প্রতিবেশ ও মানসিক বিকাশসহ নানা উপাদান তাদের রপ্ত করতে হয় এবং কীভাবে তা বেগবান হবে, কিংবা গ্রহণ-বর্জনের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে ইত্যাকার বিষয়াদি আয়ত্ব করে প্রকাশ করতে হয়
পৃথিবীতে কঠিন কিছু কাজের মধ্যে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত অনুধাবন করা কঠিনতর একটা কাজ
দ্বিতীয় কম্পনটা এলো বিপন্ন এক বিষ্ময় থেকে
যা আমাদের রক্তে মিশে আছে
প্রতিনিয়ত যা বোধে অনুরণিত হয়
কেউ টের পায়, কেউ পায় না
কেউ বোঝে, কেউ বোঝতে পারে না
অথচ থেমে নেই
অবিরাম বৃত্তার্পিত হচ্ছে এবং তা চলতেই থাকবে
উদাহরণ টেনে বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাই
ধরুন, বাগানে ফুল ফুটলে আমরা তার সৌন্দর্যে ও সৌরভে মুগ্ধ হই
'অপরূপ', 'সুন্দর' কিংবা 'চমৎকার' জাতীয় শব্দ বসিয়ে প্রসংশা করি
আপাতদৃষ্টিতে আর কিছু ভাবতে চাই না
অথচ এর বাইরেও অনুভরের বিশাল ক্ষেত্র আছে
যা সত্যিকার অর্থেই এক বিস্ময়
কারণ বাগানের ফুল কেবলি বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সৌরভের বিকাশ করে না, উন্মোচিত হয় পৃথিবীর প্রকৃত বোধ
সৃষ্টির যে চেতনা আমাদের রক্তে মিশে আছে - জীবনানন্দ দাশ তাকেই বলেছেন, 'কী এক বিস্ময় রক্তে খেলা করে
অস্বীকারের কোনো উপায় নেই যে, সহজ কথাটা সহজ করে বলা সবচেয়ে কঠিন
সেই কঠিন কাজটাই সহজ করে বলেন একজন শিশুসাহিত্যিক
কালে কালে বহু ঋষি সেই কাজটা করে গেছেন
বাংলাসাহিত্যে সেই আদি ঋষির নাম বিদ্যাসাগর
তারপর রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ থেকে সুকুমার বড়ুয়া প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়
তারই ধারাবাহিকতায় নিজের নামটা যুক্ত করে চলেছেন রেজাউল ইসলাম হাসু
বিভিন্ন পত্র-প্রত্রিকায় অনায়াস বিচরণ রযেছে তার
২০১৬ সালে প্রিয়মুখ প্রকাশনা থেকে বেড়িয়েছে তার প্রথম ছড়ার বই 'ওকা বোকা তেলাপোকা'
বইটাতে ২৬টা ছড়া সন্নিবেশিত হয়েছে
ছড়াগুলো পড়তে শেখা শিশুদের জন্য রচিত হলেও বড়দেরও শিশুতোষ মনের কাছে ফিরে যাওয়ারও তাগিদ দেয়
ছড়াগুলো পড়তে পড়তে মনের বিকারে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার বুদবুদ অনুভব করলাম
প্রথম কম্পনটা শুরু হলো একটা প্রশ্নের ভেতর থেকে
প্রশ্নটা প্রয়োজনবোধের
কেনো ছড়া পড়বো কিংবা পড়বো না
কেনো শিশুতোষ গল্প পড়ছি কিংবা পড়ছি না
সেখান থেকে মনে হলো শিশুসাহিত্য পাঠের অনিবার্যতা রয়েছে
বিশেষ করে বিজ্ঞানের এই যান্ত্রিকায়নের সময়ে মানুষ যখন বিনোদনের উপযুক্ত ক্ষেত্র হারাতে বসেছে, তখন নির্মলতার জন্য শিশুসাহিত্য হয়ে উঠতে পারে আনন্দঘন বিনোদনের অন্যতম একটা উপায়
শুধু বিনোদনই নয়, রয়েছে শিক্ষার নানা বিষয়-আশয়ও
দ্বিতীয় কম্পনটা এলো বিপন্ন এক বিষ্ময় থেকে
যা আমাদের রক্তে মিশে আছে
প্রতিনিয়ত যা বোধে অনুরণিত হয়
কেউ টের পায়, কেউ পায় না
কেউ বোঝে, কেউ বোঝতে পারে না
অথচ থেমে নেই
অবিরাম বৃত্তার্পিত হচ্ছে এবং তা চলতেই থাকবে
উদাহরণ টেনে বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাই
ধরুন, বাগানে ফুল ফুটলে আমরা তার সৌন্দর্যে ও সৌরভে মুগ্ধ হই
'অপরূপ', 'সুন্দর' কিংবা 'চমৎকার' জাতীয় শব্দ বসিয়ে প্রসংশা করি
আপাতদৃষ্টিতে আর কিছু ভাবতে চাই না
অথচ এর বাইরেও অনুভবের বিশাল ক্ষেত্র আছে
যা সত্যিকার অর্থেই এক বিষ্ময়
কারণ বাগানের ফুল কেবলি বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সৌরভের বিকাশ করে না, উন্মোচিত হয় পৃথিবীর প্রকৃত বোধ
সৃষ্টির যে চেতনা আমাদের রক্তে মিশে আছে - জীবনানন্দ দাশ তাকেই বলেছেন, 'কী এক বিষ্ময় রক্তে খেলা করে
এই যে বাহ্যিক ও অন্তর্গত সৌন্দর্যের দুটো বিষয়! তৃতীয় প্রশ্নটা জাগ্রত হলো এই দুইয়ের ভেতর থেকে
পৃথিবীর দুই ধরনের রূপ তৃতীয় প্রশ্নটা জগ্রত করে
অর্থ্যাৎ ফুল ফোটার একটা নীরব আওয়াজ আছে, উচ্ছ্বাস আছে
যার ভেতর দিয়ে প্রকৃতি তার প্রকৃত জীবনকাহিনি প্রকাশ করতে চায়
এটা যেমন কবিতা-গানে পাওয়া যায়, তেমনি শিশুতোষ ছড়াতেও উপলব্ধি করা যায়
সুতরাং জোর দিয়েই বলা যায়, ছড়া পাঠের 'অনিবার্যতা' শব্দটা খামখেয়ালি নয়
বড়দেরও তাই ছড়ার কাছে ফিরতে হয়
না ফিরে উপায় কোথায়! মানুষ শিশু হয়ে জন্মায়, আবার শিশু হয়েই মৃত্যুবরণ করে
সে বিচারে রেজাউল ইসলাম হাসু'র ছড়া পাঠেরও অনিবার্যতা রয়েছে
চলুন তার 'ওকা বোকা তেলাপোকা' থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ নেয়া যাক -