content
stringlengths
0
129k
আর হাতে সময় থাকলে কাটাতে পারেন রাতও
রাত যাপনের জন্য রয়েছে নন্দন ভিলেজ সহ ইকো রিসোর্ট
নন্দন পার্ক এর মূল প্রবেশ দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো সবুজের মাঝে চমৎকার একটি ফোয়ারা
ফোয়ারার সামনে অপেক্ষারত নন্দনের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রহমান আমাদেরকে স্বাগত জানান
এরপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পার্কে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরন করলেন
এগিয়ে গেলাম একটু সামনে
দেখি অসংখ্য মানুষের ভীড়
পারিবারিক ভাবে এসেছেন অনেক
ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন রাইডে ওঠার ব্যস্ততা আর আনন্দময় ছোটাছুটি দেখে সেটাই মনে হলো
কেইভ ট্রেন, কিড্ডি রকার, মিনি ক্যারোসাল, ফ্লাইং গো রাউন্ড, প্ল্যানেটরিয়াম, প্যাডেল বোট, ক্যাবল কার, বাম্পার কার সহ বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ ফুর্তিতে ব্যস্ত সবাই
একটু এগুতেই অপরূপ প্রকৃতি স্বাগত জানাতে শুরু করলো
দুই পাশে গাছ আর গাছ
পার্কের এক পাশ দিয়ে একে বেঁকে এগিয়ে গেছে সৃদৃশ্য লেক
দুই পাশের বড় গাছ গাছালি থেকে নাম জানা-অজানা পাখিদের ওড়াওড়ি দেখে মন আনন্দে ভরে গেল
লেকের পাশ দিয়ে যেতে যেতেই নজরে এলো ক্যাবল কার এর দিকে
সিঁড়ি বেয়ে উপরে ক্যাবল কারে উঠে পড়লাম
ছুটছে আকাশ পানে
চোখে পড়লো সবুজে ঘেরা পুরো নন্দন পার্ক
যাকে কেন্দ্র করে নন্দন পার্ক নামের এই বিশাল আনন্দ রাজ্য গড়ে উঠেছে
লেকের ঘাটে বাধা অনেক গুলো প্যাডেল বোট
দর্শনাথীরা টিকেট কিনে বোটে চড়ছেন
সাথে সাথে একটার পর একটা প্যাডেল বোট রওয়না দিচ্ছে সামনের দিকে
সাইকেলের মতো পা দিয়ে নৌকা চালিয়ে দারুন মজা উপভোগ করছেন সবাই
ক্যাবল কার থেকে নেমে একটু সামনে এগুতেই চোখে পড়লো এয়ার সাইকেলের রোমাঞ্চকর দৃশ্যটি
২৫ ফুট উঁচুতে একজন মহিলা দর্শনার্থী এক তারের ওপর দিয়ে এয়ার সাইকেল চালিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে, আবার পিছনের দিকে আসছে সাইকেল চালিয়ে
কেউ কেউ মোবাইলে দৃশ্যটি ধারণ করছে
রোমাঞ্চকর এই দৃশ্যটি দেখার পর ৫ডি সিনেমা থিয়েটারে ঢুকে পড়লাম সিনেমা দেখার জন্য
সিনেমা দেখে আমরা শিহরিত হলাম
৩ডি সিনেমার চেয়ে আধুনিকতার উন্নত প্রযুক্তি ৫ডি মোশন চেয়ার থিয়েটার
প্রযুক্তির এক অবাক বিস্ময়
সিনেমা দেখার সময় আপনিও হয়ে যেতে পারেন সিনেমারই অংশ
সিনেমার ঘটনার সাথে একাত্ম হয়ে যাবেন সহজেই
সহজেই অনুভব করতে পারবেন সিনেমার প্রতিটি ঘটনা
অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন
৫ডি সিনেমা থিয়েটার থেকে বের হয়ে এগিয়ে গেলাম সামনে
গোলাপ পিকনিক স্পটে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কারাতে করছে
নন্দন পার্কে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় কারাতের এ শোটি
'নারীর সুরক্ষায় নন্দন' এই শ্লোগানকে ধারন করে মেয়েদের আত্মরক্ষায় কারাতে প্রশিক্ষণ ও সচেতন বৃদ্ধির জন্য এই শো'র আয়োজন করেছিল
এটি নন্দনের ভালো একটি উদ্যোগ
বাঁচ্চাদের কারাতে শো দেখে সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে লাগলাম
দুই পাশের বিশাল গাছ গাছালি থেকে পাখিদের ওড়াওড়ি দেখে আর নির্মল বাতাসের ছোয়া পেয়ে মন আনন্দে ভরে গেল
সামনে এগুতেই নজরে এলো মনোরম কয়েকটি রিসোর্ট
নন্দন ভিলেজ এ ঢুকে পড়লাম
এখানে থাকা কুটির গুলো অত্যন্ত চমৎকার
রাত যাপনের জন্য নন্দন ভিলেজে রয়েছে ১২টি রুম
প্রতিটি রুমই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত
সাজানো হয়েছে রুচিশীল আসবাবপত্র দিয়ে
রুম গুলো দেখে মন আনন্দে ভরে গেল
রুমের মধ্যে রয়েছে টিভি, স্যাটেলাইট কানেকশন, সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, কমোড, সোফা, বাথটাব, গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা
নন্দন ভিলেজে একটি আধুনিক মানের গুহা রেস্টুরেন্টও রয়েছে
৩০ জন বসার ক্ষমতা আছে সেখানে
এই রেস্টুরেন্টে পাবেন বাংলাদেশী মজাদার খাবার সহ চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল ফুডের চমৎকার সব আয়োজন
আপনার চাহিদা অনুযায়ী খাবারের সব রকম আয়োজন আছে রেস্টুরেন্টটিতে
নন্দন পার্কে রিসোর্ট আছে ১৯টি
এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ইকোরিসোর্ট
নন্দন ভিলেজ এ রাত্রি যাপন করে রাতের নীরবতায় আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক ভুবনে
আকাশে রুপালি চাঁদ, চোখের সামনে সবুজের সমারোহ আর নন্দন পার্ক জুড়ে জোনাকির উড়াউড়ি উপভোগ করার এক অপূর্ব সুযোগ
রিসোর্ট এ কিছুক্ষণ থেকে হাজির হলাম ওয়াটার ওয়ার্ল্ড এ
সেখানে রয়েছে পানির রোমাঞ্চকর সব খেলা, যা আনন্দের এবং গরমে প্রাণ জুড়ানো আয়োজন
ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে রাইডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েভ পুল, ফ্যামিলি ̄oাইড, ডুম ̄oাইড, ওয়েভ রানার, মাল্টি প্লে জোন, রেইন ড্যান্স ইত্যাদি
ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি রাইড বেশ আনন্দের
তার মধ্যে ওয়েভপুল এর প্রতি দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখলাম
হঠাৎ বাজনা শুরু হলো
সাথে সাথে রাইডে জমে থাকা পানিতে সমুদ্রের ঢেউ খেলতে শুরু করলো
দেখে মনে হচ্ছিল কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে আছি
বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এখন নন্দন পার্কে
সমুদ্রের বিশাল ঢেউ উড়ে এসে ডুবিয়ে দিয়ে যাচ্ছে এলাকা
শব্দ যন্ত্রে সমুদ্রের সেই শো শো শব্দও প্রচার করা হচ্ছিলো
সত্যি এ এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা
একথা মানতেই হবে, নন্দন পার্ক মানেই পুর্নাঙ্গ একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র
আনন্দ এবং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে যাবতীয় অনুষঙ্গ রয়েছে এই বিনোদন কেন্দ্রে
যারা বেড়াতে এসে বিভিন্ন রাইড ব্যবহার করে ক্যাবল কার এ চড়ে পার্কের সৌন্দর্য দেখতে চান তাদের জন্য তো সকল সুযোগ সুবিধা অবারিত
আর যারা বেড়াতে এসে দুই একদিন থাকতেও চান এখানে তাদের জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় আধুনিক ব্যবস্থা
অর্থাৎ বেড়াতে এসে কর্তৃপক্ষকে শুধু বলুন আপনার চাহিদার কথা
নিমিষেই সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে
জানা গেল ছুটির দিন গুলোতে নন্দন পার্ক দর্শনার্থীদের ভীড়ে মুখর থাকে
তবে শীত কালটা হয়ে ওঠে আরও বেশি ব্যস্ত
১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ৩১ ডিসেম্বর, দুই ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিনগুলোতে নন্দন পার্কে জায়গা দেওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে
আজিমপুর থেকে একটি পরিবার সেদিন নন্দন পার্কে বেড়াতে এসেছিল
এক প্রশ্নের জবাবে পরিবারের কর্তা ইমাম আহমেদ বলেন, আমি আজিমপুরে থাকি
কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারকে নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয় না
নন্দন পার্ক ঢাকার কাছাকাছি হওয়াতে সময় পেলেই ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে বেড়াতে আসি
নন্দন পার্কের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো
ওয়াটার পার্কে ঘুরতে বেশ ভালো লাগে
ঢাকায় ব্যবসায়িক কাজে এসেছিলেন সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী মতিন রহমান
প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ঢাকা এলেই আমি নন্দন পার্কে আসি
এখনকার পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে
উত্তরা থেকে নন্দন পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন ৪ সদস্যের একটি পরিবার
স্বামী-স্ত্রী সাথে দুই সন্তান
ক্যাবল কার এ করে সবুজে ঘেরা পুরো পার্কটি দেখছিলো তারা
ছেলে-মেয়েরা ভীষণ খুশি
১২ বছরের মাহিম বলল, আমি আগেও এখানে এসেছি
এখানকার রাইড গুলো অনেক আনন্দের
সব চেয়ে আনন্দের হলো ওয়াটার পার্কে
ঢেউয়ের মাথা চেপে অনেক নীচে নামার মজাই আলাদা
এ কথা সত্য নন্দন পার্ক এর আনন্দ রাজ্যে একবার যিনি ঢুকবেন তিনি বার-বার আসতে চাইবেন
ঈদ তো এসেই গেল
সময় থাকতেই ঈদের ছুটিটা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন
দিনে বেড়াতে এসে দিনেই চলে না গিয়ে এখানে এক রাত থাকার আনন্দও উপভোগ করতে পারেন অনায়াসে
ভাবুনতো একবার প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক অপূর্ব সমন্বয় নন্দন পার্কের ভিতরে আধুনিক মানের কটেজের রুমে রাত কাটানোর মজাটা কেমন হবে? রুমের বারান্দায় দাঁড়ালেই দেখতে পাবেন পার্কের মনোরম দৃশ্য