content stringlengths 0 129k |
|---|
টেক |
পড়াশোনা |
খেলার সময় |
বাহন-কাহন |
অ্যাস্ট্রো |
অসম |
ত্রিপুরা |
উত্তর-পূর্ব ভারত |
বাংলাদেশ |
অপরাধ-তদন্ত |
মার্কিন খবর |
করোনা |
সত্য-তথ্য |
সম্পাদকীয় |
তথ্য-তালাশ |
লাইভ টিভি |
সিটিজেন রিপোর্টার |
ব্লগ |
লেন্সবন্দি |
ভিডিয়ো |
ফটো গ্যালারি |
সম্পাদকীয় |
উত্তর সম্পাদকীয় |
এই সময় দর্শন |
সাক্ষাৎকার |
ঘরে তো থাকল, কতটুকু গৃহকর্ম করল ছেলেরা? |
| . | : 8, 2020, 8:19 |
উন্নত দেশগুলিতে 'কাজ' বলতে বোঝায় অর্থকরী কাজ, আর 'ঘরের কাজ' হল মিনিমাগনার কাজ, পরিবারের বা বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের জন্য |
কৃষ্ণেন্দু চাকী |
সুবর্ণা ঘোষ যখন মে মাসের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে চেঞ্জ.অর্গ-এ পিটিশন দাখিল করলেন যে, জনগণকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে জোরদার সামিল করতে ঘণ্টা বাজানো, আলো জ্বালানো--- এ সবের সঙ্গে বাড়ির পুরুষদের জন্য এ বার বলা হোক ঘরের কাজের সমান অংশ নিতে, এবং সুবর্ণার স্বামী যখন সেই পিটিশন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে... |
তিনি জবাবে লেখেন, 'আমি জানি বিবিভক্তের থেকে মোদীভক্তের সংখ্যা বেশি' |
যাই হোক, সেটা হয়নি |
আর এখন তো লকডাউন শেষ হয়ে আনলকডাউন পর্ব শুরু হয়ে গেছে |
কিন্তু ঘরের কাজ কি সব সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হচ্ছে, নাকি পরিবারের কাজের চিরন্তন সামাজিক বিভাজন, ঘরের কাজ মানেই মেয়েদের কাজ, সে মেয়ে যতই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' করুক না কেন, সেই নিয়মই আছে? |
ঘরে বসে কাজ: পুরনো-নতুন |
প্রথমেই পরিষ্কার করে নেওয়া যাক: উন্নত দেশগুলিতে 'কাজ' বলতে বোঝায় অর্থকরী কাজ, আর 'ঘরের কাজ' হল মিনিমাগনার কাজ, পরিবারের বা বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের জন্য |
তার মধ্যে রান্না করা, ঘর পরিষ্কার, বাসন মাজা, কাপড় কাচা, প্রত্যহের বাজারহাট, শিশু আর বয়স্কদের দেখাশোনা ধরা হবে |
এই কাজগুলোর অর্থমূল্য ধরার কথাটা তুললে বহু লোকে, মেয়েরা নিজেরাও--- শুধু রেগে যেতে পারেন তাই নয়, সেটা একটু অবাস্তবও বটে |
এই কাজগুলো মেয়েদের বলেই ধরে নেওয়া হয়, সেগুলো সামলাতে গিয়ে মেয়েরা কাজের বাজারে মাইনে, কাজ-পাওয়া, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা--- সব কিছুতেই পিছিয়ে পড়ছেন |
এর বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিবারের দেখভালের জন্যে উন্নত দেশের মেয়েদের মতো বরাদ্দ কাজগুলো তো করতেই হয়, সেই সঙ্গে সাশ্রয়কারী অনেক কাজও করতে হয়--- পরিবারের জোতে কাজ করা, পারিবারিক সংস্থায় কাজ, যেমন তাঁতি বাড়ি হলে সুতো রং করা, তাঁতে বসা, জেলে বাড়ি হলে মাছ নিয়ে বাজারে যাওয়া, জাল সারাই, দোকান থাকলে বসা, গরুবাছ... |
কিন্তু তার পাশাপাশি আগেও মেয়েরা অনেক কাজই বাড়ি বসে করতেন--- আজ যাকে বলা হয় 'সাপ্লাই চেন' বা পণ্য সরবরাহের পরম্পরা অব্যাহত থাকে |
যেমন জামার বোতাম লাগানো থেকে ফিনিশিংয়ের কাজ, পাঁপড় বেলা--- মেয়েরাই ঘরে বসে করেছেন |
ঠিকাদারের অধীনে মেয়েরাই পিসরেটে বিড়ি বেঁধেছেন, কাপড় বুনেছেন, এমব্রয়ডারি করেছেন, টিপের পাতায় টিপ লাগিয়েছেন--- এ রকম আরও হাজার কাজে আমাদের দেশে প্রায় ৪ কোটি মেয়ে যুক্ত |
তাঁরা তো আজকের হিসাবে ঘরে-বসে কাজের দলেই |
ঘরের কাজের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় না, বরং রোজগারটা হাতে পাওয়া যায় বলে পরিবারও এ ধরনের কাজে আপত্তি তো করেইনি বরং উৎসাহ দেখিয়েছে |
মুর্শিদাবাদে বিয়ের বাজারে মেয়ের বিড়ি-বাঁধার দ্রুততার আলাদা দাম রয়েছে |
নতুন সময়ে ঘর থেকে কাজ |
লকডাউনের পর ভারতে যখন বাইরের কাজ ঘরে চলে এল, ঘরের কাজগুলোর নারী-পুরুষ বিভাজন বদলাল কি না তার কোনও পরিসংখ্যান এখনও চোখে পড়েনি |
আমেরিকায় এ বছরের ৯ আর ১০ এপ্রিল ২২০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপরে করা এক সমীক্ষা দেখাচ্ছে, আগের তুলনায় মা ও বাবা দু'জনের ঘরের কাজের চাপই বেড়েছে, কিন্তু সেই বোঝা সমানভাবে বাড়েনি |
৭০% মেয়ে বলেছেন তাঁদের উপরেই ঘরের কাজের প্রাথমিক দায়িত্ব, ৬৬% মেয়ে বলেছেন তাঁরাই প্রাথমিক ভাবে বাচ্চার দেখাশোনা করছেন |
সমীক্ষা আরও বলছে ঘরের কাজকে এড়ানোর নানা পদ্ধতি পুরুষরা খুঁজে বার করেছেন |
প্রথমত, পুরুষরা বলেন মেয়েদের তাঁদের কাজ পছন্দ হয় না, মেয়েরা বেশি পিটপিটে |
আসলে তাঁরা সহজেই কাজটা সারতে চান |
মালয়েশিয়ায় সরকার রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, স্ত্রীরা যেন স্বামীদের ঘরের কাজে সাহায্য চাইতে গিয়ে বক্রোক্তি না করেন এবং যখন কাজগুলো করছেন, তখন যেন সেজেগুজে থাকেন, কারণ স্বামীরাও ঘরবন্দি, তাই সাজগোজ-করা বউকে দেখলে তাঁদের মন ভালো হবে |
বিশেষত স্কুল বন্ধ থাকায় এখন বাচ্চার দেখাশোনার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘর থেকে স্কুলের পড়াশোনা তৈরি--- 'হোমস্কুলিং' |
সমীক্ষার ৮০ শতাংশ মেয়ে বিশ্বাস করেন যে সঙ্গীর তুলনায় শিশুর হোমস্কুলিং-এ তাঁরা বেশি সময় দিচ্ছেন |
পুরুষদের মধ্যে ৪৬% বিশ্বাস করেন যে তাঁরা হোমস্কুলিং-এ বেশি সময় দিচ্ছেন, কিন্তু মাত্র ৩% মেয়ে সেটা ঠিক বলে মনে করেন |
সারা পৃথিবীতেই মহামারী বা এখন অতিমারীর সামনের সারির যোদ্ধা মেয়েরাই--- স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে |
আমাদের দেশে আশা কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর নেওয়া, কারওর রোগলক্ষণ দেখা গেল কি না তার খোঁজখবরের দায়িত্বে |
তাঁদের, বা যে অসংখ্য মহিলা ডাক্তার, নার্স আর স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়িতে শিশু রয়েছে যাদের স্কুলও এখন বন্ধ, তাঁরা যদি আজ বলেন তাঁরা ছাড়া বাড়িতে বাচ্চা দেখাশোনার কেউ নেই, তা হলে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কী হাল হবে? |
বাড়ি থেকে কাজ মানে যে মেয়ে ঘর থেকে কাজ করছেন, তাঁর কাজের উপর চাইলে বাড়ির সবাই এখন নজরদারি করতে পারছেন, তাঁর অফিসের নিজস্ব ব্যক্তিগত পরিসর আর নেই |
অফিসের মিটিং করতে করতে হয়তো বাড়ির লোক জিজ্ঞেস করছে লঙ্কার গুঁড়ো কোথায় রাখা আছে |
তাকে কে ফোন করে, সে কেমন করে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বা গপ্পো করে, সব কিছুই এখন পরিবারের নজরদারির আতসকাচের তলায় |
যাঁদের কাজ গেল |
নাকতলার সেই প্রৌঢ়ার কথা মনে পড়ছে, দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ বড় ছেলে একজন আইনজীবীর ক্লার্ক, চার মাস ধরে কোর্ট বন্ধ, বেতন নেই, যাঁর বেতনে সংসার চলত |
অর্থনীতির চাকা বন্ধ, মানে এই ধরনের অসংগঠিত বহু বহু কাজ বন্ধ |
হতে পারে সেটা পুরোপুরি অসংগঠিত ক্ষেত্রে, নয়তো সংগঠিত ক্ষেত্রের অসংগঠিত কাজ |
যেমন বড় কোম্পানি বহু কাজকে আউটসোর্সিং করে দেয়--- চিঠি পাঠানো থেকে গাড়ির ড্রাইভার |
যে সব ক্ষেত্র দীর্ঘদিন বন্ধ বা খুললেও চালাতে পারবে কি না জানা নেই, সে সবের অনেকগুলিতে মেয়েরাই বেশি সংখ্যায় নিযুক্ত ছিলেন |
যেমন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, শপিং মল, থিয়েটার, ভ্রমণ সংস্থা ইত্যাদি এক দিকে, অন্য দিকে গৃহপরিচারিকা, আয়া, শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষদের কাজের জন্য নিযুক্তরা---যার সিংহভাগই মেয়ে |
মোটা দাগে হিসেব বলছে, আইটি সেক্টরে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ কাজ করেন, যার প্রায় ৯০% বাড়ি থেকে হচ্ছে, যার এক বিরাট অংশ কর্মী মেয়েরাই |
মেয়েরা যখন জানেনই যে বাইরের কাজ করলেও ঘরের কাজের দায়িত্ব এখনও প্রধানত তাঁদের উপরেই বর্তাবে, তারা সেটা মেনে নিয়ে দেখছেন, ঘর থেকে কাজ মেয়েদের কিছু সুবিধাও দিচ্ছে |
প্রথমত, যাতায়াতের ঝামেলা বেঁচেছে |
এ ছাড়াও এই কাজে সরাসরি মুখোমুখি হবার প্রয়োজন নেই এবং অনেক বেশি লিখিতভাবে সংযোগ জরুরি বলে যাঁরা মনে করেন অন্য কেউ কেমন দেখতে বা বেশি চেঁচিয়ে কথা বলতে পারেন সেই সুবাদে যে গুরুত্ব পেতেন, এখন সেটা কমে গেছে |
আর আগে মনে করা হত, মায়েরাই যেন শুধু ঘর-থেকে-কাজ চান, ফলে কেউ সেই 'সুযোগ' চাইলে তাঁকে একটু আলাদা চোখে দেখা হত |
এখন সেটাই সর্বজনীন হয়ে ওঠায় ঘর-থেকে-কাজ মানেই 'কর্মীটি মা' সেই তকমাটা চলে গেছে |
তবে মধ্যবিত্ত মেয়েদের মুক্তি এল অনেকটাই যাঁদের পিঠে চেপে, সেই গৃহপরিচারিকারা, যাঁদের আর্থিক বাধ্যতা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মেয়েদের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খেয়ে গিয়েছিল, তাঁরা অনেকেই আজ নিয়মবিধির গেরোয় আসতে পারছেন না |
যে দেশে সমতার দিকে এগোনোর ব্যবস্থা করতে পারে এমন তিনটে সরকারি দপ্তরের--- নারী ও শিশুকল্যাণ, দক্ষতা আর বাণিজ্য মন্ত্রকের সচিব স্তরে কোনও মেয়ে নেই, সেই দেশে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে উৎসাহ দিতে হাততালি দিতে আর বাতি জ্বালাতেই বলা যায়, ঘরের কাজে সব সদস্যের সমান অংশীদারির কথা বলা যায় না |
নীতির স্তরে সমস্যা এটাও যে যদিও প্রচুর গবেষণা রয়েছে মদ খেলে পারিবারিক আর সামাজিক হিংসার ঘটনা বাড়ে, কিন্তু করোনার জন্য মদের দোকান বন্ধ করেও আবার আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ায় 'ওষুধ' বলে লকডাউনের মধ্যেই মদ বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল কেরালা সরকার, যদিও হাইকোর্ট সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে বলে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে... |
পুরুষদের ঘরের কাজে প্রশিক্ষণ |
এ বছরের গোড়ায় একটি পত্রিকা একটি সমীক্ষা চালায় যেখানে বহু মেয়ে বলেছেন যে স্বামীরা তাঁদের জীবনে সন্তানদের তুলনায় অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করেন |
বহু মেয়েই বলেছেন, তাঁদের স্বামীরাও বড় মাপের শিশু, একজন সমান অংশীদার নন যাঁর সঙ্গে তাঁরা কাজের চাপ ভাগ করে নিতে পারেন |
আজ বহু পুরুষ বুঝেছেন যে তাঁরা যখন অফিসে বেরিয়ে যেতেন, ঘরে ঠিক কী কী কাজ থাকে |
আজকে মেয়েদের বাইরের কাজের সঙ্গে ঘরের কাজের বাড়তি বোঝা, হালকা করার জন্যে কোনও সহায়িকা নেই--- কাকে কী কাজ দেওয়া হবে, কী ভাবে রান্না করলে কম বাসন পড়বে, কোন পোশাক পরলে কাচা সহজ হবে--- এ সবও ভাবতে হচ্ছে |
ওডিশায় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরুষরা সারাদিন বাড়ি থেকে কাজ করলে স্ত্রীদের যেন বারবার নানা দাবি করে উত্ত্যক্ত না করা হয় |
কিন্তু ঘরের কাজের অংশীদারির কথা বলা হয়নি |
মে মাসের শেষে সুবর্ণার 'প্রধানমন্ত্রী আপনার পরের বক্তব্যে ভারতীয় পুরুষদের ঘরের কাজের সমান অংশীদারির কথা বলুন' অনুরোধেও সেই আবেদন আসেনি |
একমাত্র কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই অনুরোধ নাগরিকদের কাছে রেখেছেন |
আর পাঞ্জাব পুলিশ মেয়েদের বলেছে 'পুরুষদের ঘরের কাজে লাগানোর' কথা! |
বাস্তবে, স্বাস্থ্যকর্মীরা, যাঁদের বড় অংশই মেয়ে, তাঁদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে বলে তাঁদের পরিবারগুলোতে পুরুষদের ভূমিকা বদল হচ্ছে বইকি |
কাজেই বাকি পরিবারগুলোতে হবে না কেন? |
আড়িপাতা ও নজরদারি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, এই সময়, যুদ্ধাপরাধ, রাজনীতি, রাজনৈতিক ইস্যু |
রাষ্ট্রের জন্মবিচার বনাম ইকোনমিস্ট |
অবিশ্রুত ২২ ডিসেম্বর ২০১২ |
দ্য ট্রায়াল অব দ্য বার্থ অব আ নেশন -- সোজা বাংলায় বলতে গেলে একটি রাষ্ট্রের জন্মবিচার; লন্ডন থেকে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট-এর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল এটি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.