content stringlengths 0 129k |
|---|
' |
'হাল ছাড়ছিলাম না |
পরের বছর ১১টা গাছের মধ্যে একটা গাছে মেয়ে মুকুল এলো |
তুলে আলাদা করে লাগালাম |
এই গাছটাই শাইখ সিরাজের নামে রাখলাম |
আজোয়া গাছ |
এটাই বাংলাদেশে প্রথম সৌদি খেজুর গাছ |
প্রতি বছর উনি আসেন একবার |
ওনার কাছে অনেক ঋণ আছে বলেই এটা ওনার নামে রেখেছি |
' |
'এখন আমি কাটিং জানি |
নারী গাছগুলো থেকে গজানো চারা নারীই হয় |
সেগুলো পুরুষ গাছে কাটিং করে বসানো যায় |
এটা সারা বাংলাদেশে আমার মতো কেউ পারে না |
আমার সব গাছ কাটিং করে মেয়ে বানাইছি |
' |
নিজেকে খেজুর মোতালেব নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসা এই ব্যক্তি জানান, সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মুকুল আসে |
ফল আসে জুন, জুলাই, আগস্টে |
কাঁচা খেজুর বেশি বিক্রি করেন |
পাকাটা শুকাতে গেলে খরচ, আবহাওয়াও বাধ সাধে |
কাঁচাটা মিষ্টি হয়ে গেলে বিক্রি শুরু হয় |
তার বাগানের খেজুরের সর্বনিম্ন দাম এক হাজার টাকা কেজি |
সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা |
তার বাগানে আছে আজোয়া, সুক্কারি, মরিয়ম, আম্বার, বকরি ও বাঁশি জাতের খেজুর |
আজোয়া সবচেয়ে বেশি চলে |
আম্বারের দাম সবচেয়ে বেশি |
আজোয়া বিক্রি হয় কেজিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা |
নিজের বাগান অনেকটা গুছিয়ে আনা মোতালেবের অন্যতম গুণ গাছের কাটিং জানা |
তিনি বলেন, 'আমি কাটিং করলে ১০০টার মধ্যে ৯৫টাই বাঁচে |
আমি সাতটা গাছ দিয়ে পাঁচ বিঘার বাগানের সব গাছই মেয়ে বানিয়েছি |
বিক্রি তো করতেই আছি |
প্রতি চার-পাঁচটা গাছের সঙ্গে একটা পুরুষ গাছ লাগে |
আমার বাগানে বর্তমানে ছয়শর বেশি গাছ আছে |
আরেকটি পাঁচ বিঘার বাগান আছে শুধু পুরুষ ও বীজ গাছ |
' |
তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের যে কোনো জায়গার যে কোনো মাটিতে সৌদি খেজুর লাগালেই হবে |
তবে মেয়ে গাছ হতে হবে |
তার এই বাগানের ছয়শ গাছের প্রায় সবগুলো ফলন দিচ্ছে |
একটা গাছ দেড়-দুইশ বছর বাঁচে |
বজ্রপাত ছাড়া সহজে গাছ মরে না |
সৌদিতে গাছ নাকি এত সুন্দরও থাকে না |
বড় গাছ অর্থাৎ ১৫-২০ বছর বয়সী সব গাছের জন্য চারপাশ দিয়ে মই আকারে বানিয়েছেন লোহার খাঁচা |
খেজুর পাড়া, গাছের পরিচর্যা করতে এতে সুবিধা হয় |
বানাতে খরচও হয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা করে |
আর পরিচর্যাও করা লাগে নিয়মিত |
ইউরিয়া, ফসফেট, গোবর সার দিতে হয় |
মাঝে মধ্যে পানি দেওয়া লাগে |
পরিষ্কার করা লাগে নিয়মিত |
এছাড়া এখন তার কোনো খরচ নেই |
প্রতি বছর একটি গাছ থেকে কী পরিমাণ খেজুর পাওয়া যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গড়ে একেকটা গাছে ৫০-৬০ কেজি খেজুর পাওয়া যায় বছরে |
কোনো কোনো গাছ একশ কেজি খেজুর দেয় |
চারা বিক্রি থেকেও লাভ পাওয়া যায় |
আমার এখানে কলমের নারী চারা নিলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে |
ফল ধরবে এটা স্ট্যাম্পে লিখে গ্যারান্টি দেই |
এছাড়া বীজের চারা আছে ২০০ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার টাকা |
তবে গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না |
কেউ কেউ বাটপারি করে বিক্রি করে |
' |
বাগানের অনেক গাছের গোড়া বা একটু উপর থেকে ডাল বা ফড়কি বের হতে দেখা গেলো |
এগুলো কলম করে নামিয়ে লাগালে মেয়ে গাছ হলে ফড়কি আকারে বের হওয়া চারাটিও মেয়ে হবে |
এই কাটিং সবাই পারে না |
এটা শেখানোর জন্য সরকারি প্রশিক্ষণের দরকার আছে বলে মনে করেন মোতালেব |
প্রথম তিন বছর অনেক কষ্ট করেছেন বলে জানান |
তবে বাগান থেকে আজীবন আয় আসবে, এটাই বড় লাভ বলে মনে করেন তিনি |
তার বাগানে কর্মচারী আছে ১৫ জন |
সারা বছর কাজ করে |
একেকজনের মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া লাগে |
বাগান করতে গিয়ে ছয় বিঘা জমি বিক্রি করছিলেন |
আবার কিনেছেন |
এখন বছরে ৫০ লাখের মতো আয় হয় তার |
আবার খরচও আছে |
বাড়তি হিসেবে খেজুরের পাশাপাশি আদা ও কচু লাগান |
এ থেকে বছরে আসে ১০-১২ লাখ টাকা |
মোতালেবের অভিজ্ঞতায় এমনও হয়েছে, সৌদির চেয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত খেজুরের নাকি স্বাদ বেশি |
আর সুক্কারি খেজুর সাইজে ছোট কিন্তু ফলন বেশি |
লম্বা হয় আম্বার খেজুর |
আসল সৌদির যে পাঁচটি জাত আছে তার সবগুলো আছে তার |
তবে সুক্কারি আর আজোয়া গাছই বেশি |
তবে মোতালেব স্বীকার করলেন কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ পাশে না দাঁড়ালে টিকতে পারতেন না |
বনবিভাগ অনেক 'ঝামেলা' করেছে |
শাইখ সিরাজ অনেক সহযোগিতা করেছেন |
বর্তমান জেলা প্রশাসকও সহযোগিতার কথা বলেছেন |
বলেন, 'আমার এখানে আসা অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করবো |
এজন্য ঘর করছি |
ছয়টা চারা বিক্রি করছি এজন্য |
' |
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'নতুন করে শুরু করতে হলে মেয়ে চারা দিয়ে শুরু করতে হবে |
বীজের চারা দিয়ে শুরু করে লাভ নেই |
সুযোগ হলে আমি প্রশাসনের সামনে খেজুর উপস্থাপন করে দেখিয়ে দিতে চাই যে, কত ভালো খেজুর এখানে হয় |
সরকারের সহযোগিতা পেলে সারাদেশে এটা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব |
' |
'সরকারি সহযোগিতা পেলে গাছ বিক্রি না করে হাজার হাজার চারা বানাতাম |
আরও কম দামে চারা বিক্রি করতাম |
আগে দেড় লাখ টাকা বেচতাম |
এখন ৫০ হাজারে বিক্রি করি শাইখ সিরাজের কথায় |
আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য |
কয়েকশ লোক আমার কাছ থেকে চারা নিয়ে বাগান করছে |
আমাদের দেশে খেজুর শুকানো কঠিন |
মেঘ-বৃষ্টি বেশি |
তাই কাঁচাই বিক্রি করি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.