content stringlengths 0 129k |
|---|
তেমনি আজকে একজন শিক্ষক এসেছেন বিকিদের ক্লাসে |
সমস্যা বিকিকে নিয়েই |
তার মাথায় মেশিনের সাহায্যে তথ্য প্রবেশ করানো হলেও ল্যাব ক্লাসে এসে সব গোল মাল দেখা সেয় |
ল্যাবরেটরি ক্লাসে সে কিছুই পারেনা |
তার মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা যায় যে তার মস্তিষ্কে ঐ দিনের পাঠ সম্পর্কে কোন কিছুই নেই |
এ রকম সমস্যা শুধু বিকিকে নিয়েই নয় |
তাদের ক্লাসে এ রকম সমস্যা আরো কয়েক জনেরই আছে |
তবে তাদের সমস্যা বিকির মত এত প্রকট নয় |
বিকির মস্তিষ্কে সব কিছুই ঠিক আছে |
সব কিছুই স্বাভাবিক, তারপরও কেন সে ক্লাসের পাঠ মনে ধরে রাখতে পারে না |
সে নিয়ে শিক্ষকেরা অনেক গবেষণা করেছে |
ফলাফল শূন্য |
তার অমনোযোগিতার কারণে অনেক বকা ঝকা খেতে হয় |
মারের প্রচলন থাকলে তা থেকেও রেহাই পেত না |
এ সব সমস্যার কারবে সে এখন বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে প্রায় |
তাই সে ঘরে বসে থাকে সারাদিন |
যখন বসে থেকে বিরক্ত হয়ে যায় তখন সে পুরাতন ইতিহাস জেনে সময় কাটায় |
ইতিহাস জানতে তার খুব ভালো লাগে |
সে খুব আগ্রহ সহকারে এগুলো শোনে |
এ সব তথ্য জানাটায় ও মেশিন নির্বর |
মানুষেরা সব কিছু মেশিনের উপর ছেড়ে দিয়েছে |
এ দিক টা খুব খারাপ |
উপায় না দেখে তার ও এ পথ অনুসরণ করতে হয় |
সে তার রোবটটিকে তথ্যকেন্দের সাথে যুক্ত করে ৩০৫০ সালের বিখ্যাত এক জন ব্যাক্তির নাম বলতে |
রোবটি বলল ৩৫০ সালের বিখ্যাত একজন ব্যাক্তির নাম- এ. রহমান |
ঘুম যাওয়ার জন্য সে বিখ্যাত |
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই সে ঘুম গিয়ে কাটাত |
তার এ সম্পর্কে আর জানতে ইচ্ছে করছে না |
তাই সে সব চেয়ে প্রাচীন টাওয়ারের নাম বলতে বলল |
রোবট বলল সবচেয়ে প্রাচীন টাওয়ারের নাম এ.আর. টাওয়ার |
এটি সবচেয়ে প্রাচীন টাওয়ার যার সঠিক নির্মাণ তারিখ জানা নেই |
বিকির এ সম্পর্কেও আর জানতে ইচ্ছে করছে না |
সে রোবটটি কে বলল ৩০ শতকের সবচেয়ে হতাশা জনক সংবাদ কি? |
রোবট বলল, ৩০ শতকের সবচেয়ে হতাশা জনক ঘটনা হচ্ছে সর্বশেষ লিখিত ভাষা জানা ব্যাক্তির মৃত্যু |
বিকির কৌতূহল হল এ বিষয় সে রোবটটিকে বলল লিখিত ভাষা কি তাকে জানাতে |
রোবট বলল লিখিত ভাষ এমন একটি ভাষা যার সাহায্যে মানুষ হাতে এক প্রক্রিয়া লিখত, পড়া লেখা করত |
বিকি উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল কি, এটি দিয়ে পড়া এ যেত? রোবট বলল হ্যাঁ এ লিখিত ভাষা দিয়ে পড়া যেত |
লেখা যেত এমন কি অন্য জনকে ও শিক্ষা দেওয়া যেত |
আগে ক্লাসে শিক্ষক নিয়মিত যেত এবং এ লিখিত ভাষা দিয়ে লেখা বই ছিল যা দিয়ে ছাত্রদের-ছাত্রীদের পড়ানো হত |
বিকি জিজ্ঞেস করল বই কি? রোবট বলল বই হচ্ছে একটি বস্তু, এখন সব কিছু যেমন মেমরী চিপে ধরে রাখা হয় ঐ সময় তা বইতে লিখিত ভাষায় সংরক্ষিত হত |
রোবট এ সম্পর্কে আরো জানালো যে ঐ সময় হাজার হাজার প্রকার ভাষা ছিল |
এক এক জায়গায় এক এক ভাষার প্রচলন ছিল |
অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এই ভাষার জন্য একটি দেশের মানুষ সংগ্রাম করে নিজেদের জীবন দিয়েছে |
বিকি জিজ্ঞেস করল কারন কি?? |
কারন তাদেরকে তাদের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল |
এখন তো সবাই একটি নির্দিষ্ট কোডিং ভাষায় কথা বলে |
কিন্তুয় ঐ সময় পৃথিবীর এক এক জাগায় এক এক ভাষা ছিল |
যাকে বলে মাতৃ ভাষা |
কারন ঐ ভাষাটি মায়ের মুখ থেক শুনে শুনে আয়ত্ত করা যেত |
মাতৃ ভাষায় কথা বলার মধ্যে যেমন সুখ ছিল তেমনি ভাব প্রকাশেও ছিল মজা |
কিন্তু অন্য দেশের শাসক গোষ্ঠী তাদেরকে তাদের মাতৃ ভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষয় কথা বলার হুকুম দিল |
যা তাদের আত্ন-সন্মানে আঘাত দেয় |
তাই তারা সংগ্রাম করে |
তারা দলবদ্ধ ভাবে রাস্তায় নামে মিছিল করে, স্লোগান দেয় |
তাদের স্লোগান ছিল "রাষ্ঠ ভাষা বাংলা চাই" |
কারন তারা যে ভাষায় কথা বলত তার নাম ছিল বাংলা ভাষা |
কিন্তু শাসক গোষ্ঠী তাদের দাবি মেনে না নিয়ে তাদের উপর গুলি বর্ষণ করে |
এতে ঐ দেশের কিছু ছাত্র শহীদ হয় |
দিনটি ছিল ২১ এ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল |
পরে যদিও তাদের দাবি মেনে নিতে হয়, তার পর ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সন্মান জানাবার জন্য তৈরি করা হয় এক বিশেষ ধরনের মিনার |
যাকে বলা হয় শহীদ মিনার |
২১এ ফেব্রুয়ারিতে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদ মিনারা ফুল দিত |
আর যে দেশে এ ভাষা অন্দলোন হয়েছে তার নাম বাংলাদেশ |
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে তুমি এই বাংলা দেশের মধ্যে অবস্থান করছ |
অর্থাৎ তুমি বাঙ্গালীর বংশধর |
যদি মানচিত্রের প্রচলন না উঠত তাহলে এই অঞ্চলই বাংলাদেশ হত |
বিকি জিজ্ঞেস করল ঐ ভাষাটা কি শেখা যাবে? রোবট বলল, ঐ ভাষা শিখা এত সহজ নয়, তুমি যদি শিখতে আগ্রহী হও তাহলে আম এ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারি |
বিকি বলল তাহলে তাই কর |
আমি এ ভাষাটা শিখতে চাই |
রোবটের সাহায্যে বিকি লিখিত ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা প্রায় শিখে পেলছে |
আবার ২১ এ ফেব্রুয়ারি ও ঘনিয়ে আসছে |
তার মাথায় একটা চিন্তার জন্ম হল |
সে ভাবল আচ্ছা যদি আমি শহীদ মিনার তৈরি করি এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফুল দি তাহলে কেমন হবে? যেই কথা সেই কাজ |
সে রোবটের সাহায্যে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুযায়ী তার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার তৈরি করা শুরু করে দিল |
তার ক্লাস-মিটেরা তাকে এ সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করলে ও সে উত্তর দেয় নি |
পরে ২০ এ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ডেকে বলল, এ সম্পর্কে যদি জানতে চায় তাহলে কাল অর্থাৎ ২১ এ ফেব্রুয়ারি সকাল সূর্য উঠার আগে আসতে হবে |
তারা সবাই খুশি হয়ে আসবে বলে কথা দিল |
এ দিকে উত্তেজনায় বিকির চোখে ঘুম নেই |
কখন ভোর হবে ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ল |
ঘুমের মধ্যে সে দেখল তার তৈরি শহীদ মিনারের সামনে সে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটাচ্ছে |
এ ভাবে ছিটাতে ছিটাতে এক সময় সে দেখল তার তৈরি শহিদ মিনারের পিলার গুলো একে একে মানুষে পরিণত হল |
তার একে একে বলল |
আমি রফিক, আমি সালাম, আমি বরকত, আমি জব্বার |
আমাদের সম্পর্কে তুমি তোমার রোবট থেকে অনেক তথ্য জেনেছ |
তবে নিজের সম্পর্কে কিছুই জাননা |
তোমাকে খুব ভাল একটা ইনফরমেশন দিচ্ছি |
তুমি হলে বর্তমান পৃথিবীর সমচেয়ে বুদ্ধিমান লোক |
মানুষেরা রোবট ব্যবহারের ফলে তাদের বুদ্ধি ক্ষয় হতে লাগল |
তার লিখিত ভাষা দিন দিন ছেড়ে দিল |
লিখিত ভাষা ছেড়ে দেওয়ার কারণে তাদের পড়ালেখা দিনদিন অবনতি হতে লাগল |
এবং তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও আস্তে আস্তে পালটে যেতে লাগল |
তাই শিক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি হিসেবে নিউরন উত্তেজক এই ওয়েব পদ্ধতি গ্রহণ করল |
যা শুধুমাত্র যাদের বুদ্ধি-কম তাদের ক্ষেত্রে কাজ করে সবার ক্ষত্রে না |
তোমার বুদ্ধি স্বাভাবিকের থেকে অনেক ভালো, তাই তোমার ক্ষেত্রে কাজ করে না |
তবে তুমি লিখিত ভাষায় পড়া লেখা শুরু কর |
পৃথিবী এখন পুরোপুরি মেশিনের হাতে চলে গেছে |
তারা কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষ সহ সকল প্রাণীকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে |
তুমিই পার পৃথিবীকে রক্ষা করতে |
তুমি নিজে লিখিত ভাষা শিখে নাও |
তোমার মত আরো অনেক বুদ্ধিমান মানুষ রয়েছে তাদেরকেও শিক্ষা দাও |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.