content
stringlengths
0
209k
আর পরিকল্পনা না করলে সফল হওয়া খুবই কঠিন
চিকিৎসক হতে গেলে যেমন সেই লক্ষ্যে পড়াশুনা করতে হয়, বড় খেলোয়াড় হতে গেলে যেমন প্রাকটিস করতে হয়
ধনী হতে হলেও আপনাকে বিশেষ কিছু কাজ করতে হবে
শুধু 'আমি ধনী হব' এই লক্ষ্য থাকলেই হবে না
আপনি কত টাকার মালিক হতে চান, কবে হতে চান 'এসবও ঠিক করে রাখতে হবে
তাহলে নিজেই আপনি সেই পথে চলতে শুরু করবেন
যেদিন যত টাকার মালিক হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করবেন, সেদিনই তত টাকা আপনার হবে - ব্যাপারটা এমন নয়
কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য ঠিক না করেন, তবে কাজ শুরু করাই হবে না
৮. নতুন কিছু শেখার চেষ্টা না করা: সময়ের সঙ্গে যদি নিজেকে আপডেট করতে না পারেন, তবে যেখানে আছেন সেখানেই সারা জীবন থেকে যাবেন
আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা যদি সামনের পাঁচ বছর একই রকম থাকে, তবে সামনের পাঁচ বছর আপনার আর্থিক অবস্থাও এমনই থাকবে
বেশির ভাগ মানুষ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হয়ে গেলে ভাবে তাদের শেখা শেষ হয়ে গেছে
কিন্তু তখন থেকেই আসলে সত্যিকার শেখা শুরু হয়
আপনি যদি অনার্স ও মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর পড়াশুনা করা বন্ধ করে দেন, তাহলে হয়তো একটা ভালো চাকরি বা আয়ের রাস্তা পেয়ে যাবেন
কিন্তু নতুন জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জন না করলে আপনার আয়ও একটা পর্যায়ে এসে থেমে যাবে
৯. চাকরি পছন্দ না করা: অনেকেই তাঁদের কর্মক্ষেত্র পছন্দ করেন না
যদি অফিসের বস অপছন্দের হয় তবে, এর মাত্রা অনেক তীব্র হয়
আর এটা হয় সাধারণত নিম্ন পরিমাণ বেতন কাঠামোর কারণে
এমন পরিস্থিতিতে কর্মীরা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কাজের হিসাব করে
অফিস সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা অফিস থেকে বের হয়ে যায়
এতে তারা ক্যারিয়ারে বেশিদূর এগোতে পারে না
যদি আপনি ক্যারিয়ারে সফল হতে চান তবে সাময়িক সময়ের জন্য আর্থিক অসন্তোষ থাকলেও আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে
তাহলে একদিন আপনি সফল হবেনই
১০. ব্যর্থতাকে অতিরিক্ত ভয় পাওয়া: পৃথিবীতে কেউই ব্যর্থ হতে চায় না
এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষ খুব বড় লক্ষ্য ঠিক করতে ভয় পায়
সব সময়ে নিরাপদ থাকতে চায়
আপনার মাঝে যদি ব্যর্থতার ভয় অতিরিক্ত হয়, তবে আপনিও খুব বড় লক্ষ্যের চিন্তা করার সাহস পাবেন না
বড় লক্ষ্যে ঝুঁকিও বেশি, এটা জেনেই বড় লক্ষ্য অর্জনের কাজ করতে হয়
আপনি যদি ধনী হতে চান, তবে অনেক নিরাপদ ক্যারিয়ারের হাতছানি আপনাকে অগ্রাহ্য করতে হবে
হয়তো উচ্চ বেতনের সরকারি চাকরির সুযোগও ছাড়তে হবে
কিন্তু আপনাকে নিরাপত্তা আর বিরাট ধনসম্পদের সম্ভাবনার একটি বেছে নিতে হবে
আর সত্যি কথা বলতে, আপনি যদি হাল না ছেড়ে চেষ্টা করে যান, তবে এক সময়ে না এক সময়ে আপনি অবশ্যই সফল হবেন
১১. সব কাজের কাজি: অনেক বিষয়ে দক্ষতা থাকা ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার জন্য উপকারী
কিন্তু এটা সব সময় কার্যকর হয় না
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষে অনেক বেশি দক্ষতা বাড়াতে হবে
কারণ একাধিক বিষয়ের ওপর আপনার বিচরণ থাকলে আপনি আপনার লক্ষ্য ঠিক করতে ও সেই লক্ষ পূরণে সফল হতে পারবেন না
সব বিষয়ে জানার সাধারণ দক্ষতা থাকা ভালো কিন্তু এমন যদি হয় আপনি সব বিষয়েই অল্প অল্প জানেন কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো গভীর জ্ঞান নেই তবে আপনি সফল হতে পারবেন না
এই কারণে আপনি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন ও সে মোতাবেক এগিয়ে যান
১২. নিজের ভুল না দেখা: আপনার জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেই যদি আপনি নিজের ভুল কোথায় হয়েছে, তা খোঁজার বদলে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর পথ খোঁজেন তাহলে নিজের চেষ্টায় ধনী হওয়ার কথা ভুলে যান
এই স্বভাব যাদের মাঝে আছে, তারা আসলে দায়িত্ব নিতে পারে না
আপনার যদি একটা ব্যবসা থাকে ও ব্যবসায় লস হলে আপনি নিজের ভুল না খুঁজে অন্যের দোষ খুঁজতে থাকেন 'তাহলে সেই অবস্থা থেকে জীবনেও বের হতে পারবেন না
কোনো সমস্যার সমাধান যদি খুঁজে না পান, তবে নিজের দিকে তাকান
হয়তো সমস্যাটা আপনার নিজের
মার্কেটে আপনার নতুন পণ্য বা সার্ভিস চালাতে পারছেন না, এটা কখনোই মার্কেটের দোষ নয়
আপনি আপনার পণ্য বা সেবা ঠিকমতো প্রচার করতে পারছেন না, অথবা আপনার প্রোডাক্টে কোনো ত্রুটি আছে
বেশিরভাগ মানুষ এটা করতে চায় না, কারণ এতে নিজের চোখে নিজের অনেক ত্রুটি ধরা পড়ে
১৩. সব সময় যিনি দেরি করেন: ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে সময়ানুবর্তী হতে হবে
আপনি যদি কাজের বেলায় চটপটে ও সময়ানুবর্তী হন তবে আপনি আপনার কাজে সফল হবেন
কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা শুধু ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখেই বসে থাকে
সে অনুযায়ী কাজ করে না
আর তারা যেকোনো কাজ ধীর গতিতে করে
এই ধীর গতির কারণে তারা কোনোদিনই সফল হতে পারে না
১৪. আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করা: দামি মোবাইল থাকা, দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বিদেশে ট্যুর দেওয়া - এসব না করলে আজকাল প্রেস্টিজ ধরে রাখাটাই সমস্যা হয়ে গেছে
বিশেষ করে করপোরেট চাকরিজীবীদের মধ্যে এই প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করেছে
এসব আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু সেটা হতে হবে আয়ের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে
আপনার যখন টাকা উপচে পড়ছে, তখন আপনি এগুলো করতে পারেন, কিন্তু শুধু প্রেস্টিজ রাখার জন্য নিজের বেতনের টাকা খরচ করে, বা এমনকি ক্রেডিট কার্ডের ধার করা টাকা দিয়ে এগুলো করলে আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার
এসব অভ্যাস বজায় থাকলে কর্মজীবন শেষে আপনি দারুণ বিপদে পড়তে যাচ্ছেন
এই বড়লোকি দেখাতে গিয়ে সত্যিকার বড়লোক হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
লাখ টাকার ওপরে বেতন পেয়েও অনেকে মাসের শেষে ক্রেডিট কার্ড ভাঙিয়ে চলছে
অথচ তারা ইচ্ছা করলেই ৫০-৬০ হাজার টাকায় চলতে পারে, এবং বাকি টাকাটা বিনিয়োগ করে এক সময়ে নিজেই একটি ভালো ব্যবসার মালিক হতে পারে
১৫. শৃঙ্খলার অভাব: যদি নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চান, তবে আপনাকে কষ্ট করতেই হবে
আর সেই সঙ্গে নিজেকে কঠোর শৃঙ্খলার মাঝে আটকে ফেলতে হবে
রাতারাতি বড়লোক বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই
আপনি কি জানেন, ১০% এরও কম লটারি বিজয়ী তাদের টাকা ধরে রাখতে পারে? হঠা‌ৎ‌ করে সাফল্য এলে তা কোনোদিনই স্থায়ী হয় না
সত্যিকার ধনী হতে চাইলে আপনাকে দিনের পর দিন, গভীর মনোযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে
এর কোনো বিকল্প নেই
আপনার সব কাজ সময়মতো করতে হবে
কাজের সময়ে ঘুমানো, কাজের সময়ে বিনোদন - এসব ভুলে যেতে হবে
আপনি যদি ব্যবসা করে ধনী হতে চান, তবে প্রথমে আপনাকে আপনার পরিশ্রম আর মনোযোগের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে
তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে হবে
জ্যাক মা, ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসের মতো বিশ্বের সেরা ধনীরা এভাবেই কাজ করেছেন
১৬. কাজ শুরু করে শেষ না করা: অনেকে দারুণ সব উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করে
কিন্তু অল্প কিছুদিন করে আবার তা ফেলে রাখে
এমন অভ্যাসের কারণে অনেকেই ক্যারিয়ারে সফল হতে পারে না
এটা বেশি করে নিম্ন আয়ের মানুষ
তারা আজ এক ব্যবসা আবার কাল আরেক ব্যবসা করে
আর এ কারণে কোনো কাজেই মন দিতে পারে না
ফলে তারা বারবার হোচট খায়
এই ধরনের মানুষ অল্পতেই হতাশ হয়ে যায়
আর এ কারণেই তারা নানামুখী ব্যবসা করতে চায় কিন্তু কোনো কাজই শেষ করে না
১৭. সঠিক বিনিয়োগ না করা: আপনার হাতে কিছু টাকা জমলে হিসাব করে বের করতে হবে যে কোন খাতে বিনিয়োগ করলে এই টাকা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ করা যাবে এবং সেই খাতেই টাকাটি বিনিয়োগ করতে হবে
প্রথমে ছোট ছোট বিনিয়োগ করে বিনিয়োগের অভ্যাস করুন
প্রথমেই বড় ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই
সমবায় ব্যবসা, কয়েকজন মিলে জমি কেনা, এই ধরনের ছোট ছোট বিনিয়োগ করতে থাকুন
তারপর ধীরে ধীরে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে থাকুন
বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্যবসায়িক মেধা ও আয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকবে
বিনিয়োগ মূলত দুই প্রকার
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিনিয়োগ
প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে আপনি সরাসরি কাজ করবেন
আপনার টাকার সাথে এর পেছনে সময়ও দিতে হবে
যেমন নিজের দোকান, ওয়েবসাইট ইত্যাদি
পরোক্ষ বিনিয়োগে আপনাকে সাধারণত সময় দিতে হবে না
বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া পরোক্ষ বিনিয়োগের উদাহরণ, অথবা এরচেয়েও কম টাকা বিনিয়োগ করে আপনি লাভবান হতে পারেন
বিশ্বস্ত কারো ব্যবসায়ে টাকা খাটিয়ে লাভ পেতে পারেন
এটা করার বদলে আপনার অভ্যাস যদি হয় শুধুই টাকা জমিয়ে রাখা, তবে সুদূর ভবিষ্যতেও আপনার সত্যিকার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম
১৮. টাকা জমানোর অতিরিক্ত বাসনা: আয় বুঝে আপনাকে ব্যয় করতে হবে
জীবনে ধনী হওয়ার জন্য এই ফর্মুলা অবশ্যই আপনাকে অনুসরণ করতে হবে
কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা শুধু টাকা জমিয়েই জীবনের একটা বড় সময় পার করে দেয়
তারা টাকা জমানোর নেশায় এতটাই বুধ হয়ে থাকে যে, ওই টাকা কোথাও বিনিয়োগ পর্যন্ত করে না
আর এ ধরনের মানুষ শুধু টাকা জমিয়েই যায়, কখনো ধনী হতে পারে না
আপনি হয়তো চাকরি করে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা জমান এবং চাকরি জীবনের শেষে হয়তো তা ৫০ লাখ বা এক কোটিতে গিয়ে ঠেকবে