content
stringlengths
0
129k
নামাজের গুরুত্ব
বহু মুসলিম আছেন, যারা অবলীলায় নামাজ ছেড়ে দেন । পড়েন না । এটাকে পান্তাভাত মনে করেন । পড়া না পড়াকে তারা ঐচ্ছিক মনে করেন । বা বুড়ো হলে নামাজ ধরবেন বলে ভাবেন । তাদের জন্য বিশ্বনবীর হাদীসে কঠোর হুঁশিয়ারি আছে । নামাজ না পড়াকে নবীজী সাঃ কুফুরী কাজ এবং কাফেরের স্বভাব বলে উল্লেখ করেছেন
পড়ুন - সব নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
এক হাদীসে এসেছে,
لَا سَهْمَ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ. قال الهيثمي: وَفِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، وَقَدْ أَجْمَعُوا عَلَى ضَعْفِهِ.
"যার ভিতরে নামায নেই, তার ভিতর দ্বীনের কোনো হিস্যা নেই
" [মুসনাদে বায্যার, হাদীস নং ৮৫৩৯]
অপর এক হাদীসে নবীজী ইরশাদ করেন,
إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ
"কোনো বান্দা আর কুফর-শিরকের মাঝে পার্থক্য বোঝা যাবে তার নামায তরকের দ্বারা
" [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪]
নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আরো কিছু হাদিস
হাদীসের উদ্যেশ্য হলো, যখন কেউ নামাজ ছেড়ে দিলো, তখন সে যেন কুফরের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হলো
তার নামাজ না পড়াটা কুফরি কাজের সমতূল্য হলো
একজন কাফের নামাজ পড়ে না । অপরদিকে নামধারি একজন মুসলিমও নামাজ ছেড়ে দিলো । দুজন নামাজ না পড়ার বিষয়ে একি কাজ করলো । সুতরাং নামাজ ছেড়ে দেয়াটা কুফরির মতো হলো ।
নামাজ আদায় কত বড় সৌভাগ্যের বিষয় আর তরক করাটা কত বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় সামনের হাদীস থেকে তা কিছুটা অনুমান করা যাবে
নবীজী ইরশাদ করেন,
مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا، وَبُرْهَانًا، وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ، وَلَا بُرْهَانٌ، وَلَا نَجَاةٌ.
"যে ব্যক্তি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত যত্নের সাথে আদায় করবে, কেয়ামতের সময় এ নামায তার জন্য আলো হবে, তার ঈমান ও ইসলামের দলিল হবে এবং তার নাজাতের ওসিলা হবে
আর যে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত নামায আদায় করবে না, কেয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে নামায তার জন্য আলো হবে না, দলিল হবে না এবং সে আযাব ও শাস্তি থেকে রেহাইও পাবে না
" [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬৫৭৬]
এই হাদীস আমাদের কী ম্যাসেজ দিলো? আমরা যদি নামাজে যত্নবান না হই, তবে হাশরে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে! এটা আমাদের চিন্তা করা উচিত । ভাবা দরকার ।
বেনামাজীর হাশর কেমন হবে?
দুনিয়ার জীবনে বেনামাজী প্রকৃতপক্ষে সফল তো হতে পারবে না । আর কিয়ামতের দিন বেনামাজী কঠিন অপদস্থতা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে । কুরআনুল কারীমের একটি আয়াতে তার বিবরণ এসেছে । যার সারমর্ম নিম্নরূপ-
يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ .خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ
কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে যখন আল্লাহ তাআলার বিশেষ নূর প্রকাশ পাবে এবং সকল মানুষকে সিজদায় পড়ে যেতে বলা হবে, তখন (যে খোশনসীব দুনিয়াতে নামাজ পড়তো, সে তো সিজদায় পড়ে যাবে
কিন্তু) যারা নামাজ পড়তো না, তারা সিজদার জন্য ঝুঁকতেই পারবে না
(কারণ তাদের কোমরকে কাঠের মতো শক্ত করে দেওয়া হবে
) ভয় ও লজ্জার কারণে তাদের চক্ষু অবনমিত থাকবে
লাঞ্ছনা ও গঞ্জনার আযাব তাদেরকে ঘিরে ফেলবে
এ শাস্তি এই জন্য যে, দুনিয়াতে তাদেরকে সিজদার প্রতি আহ্বান করা হতো, যখন তারা সুস্থ সবল ছিলো
তা সত্ত্বেও তারা সিজদায় ঝুঁকে পড়তো না
[সূরা কলাম, আয়াত ৪২-৪৩]
হাদীসে বিষয়টির ব্যাখ্যা এসেছে এভাবে-
آدَمُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ هِلَالٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ يَقُوْلُ يَكْشِفُ رَبُّنَا عَنْ سَاقِهِ فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ فَيَبْقَى كُلُّ مَنْ كَانَ يَ...
আবূ সা'ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
কসর নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত
মাওলানা দীদার মাহদী
9, 2021
ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত এবং নামাজ পড়ার উত্তম সময়
5, 2021
ঈদুল আজহা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত মাওলানা দীদার মাহদী
10, 2021
- -
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাকে সাজ্দাহ করবে
কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সাজ্দাহ করত, তারা কেবল বাকী থাকবে
তারা সাজদাহ করতে ইচ্ছে করলে তাদের পিঠ একখণ্ড কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে
[সহিহ বুখারী,
এ হাদীসে একজন মুমিনের জন্য রয়েছে চমৎকার সতর্ক বার্তা । একজন বেনামাজীর জন্য রয়েছে অপূর্ব শিক্ষা । বেনামাজী ব্যক্তি এক হিসাবে খোদাদ্রোহী, তাকে যত লাঞ্ছিত করা হোক আর যত শাস্তিই দেয়া হোক, সে এর উযুক্তই বটে
উম্মতের কতক মুজতাহিদ ঈমাম তো বেনামাযীকে ইসলাম থেকে খারিজ এবং কতলের উপযুক্ত বলেও মত প্রকাশ করেছেন!
সালতই আমাদের মুসলিম পরিচায়ক । আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের ভিত রচনা করে সালাত । মানুষকে আল্লাহ তাআলার রহমতের হকদার বানায়
সুতরাং নামাজ ছাড়া মুসলমান হওয়ার দাবী দলিলহীন ও ভিত্তিহীন
নামাজ পড়ার উপকারিতা
সালাত আমাদের ওপর ফরজ । অবশ্য কর্তব্য বিধান । তবুও এর উপকারিতা বিদ্যমান । আল্লাহ তাআলার যে বান্দা দৈনিক পাঁচবার আল্লাহ তাআলার সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ায় । তাঁর প্রশংসা ও স্তুতি গায় । তাঁর সামনে ঝোঁকে ও সিজদাবনত হয় এবং দুআয় নিমগ্ন হয় । সে বান্দা আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও মুহাব্বতের অধিকারী হয়ে যায়
তাঁর গোনাহখাতা ঝরে যেতে থাকে, পাপের পঙ্কিলতা থেকে জীবন শুদ্ধ হতে থাকে, অন্তর আল্লাহ তাআলার নূরে নূরান্বিত হয়ে ওঠে
সে আল্লাহর ঘনিষ্ঠ হতে থাকে । প্রিয় নবীজী সাঃ হাদীস শরীফে অত্যন্ত সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন । পড়ুন তার ভাষায়-
أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ؟ قَالُوا: لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ، قَالَ: فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، يَمْحُو اللهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا
"বলো তো, তোমাদের কারো ঘরের পাশেই যদি নহরনালা বহমান থাকে, আর সে তাতে দিনে পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ! কোনো ময়লা থাকতে পারে না
নবীজী বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেরও উদাহরণ তেমন
এর বরকতে বান্দার গোনাহখাতা মাফ হয়ে যায়
" [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৬৭]
জামায়াতে নামায পড়ার গুরুত্ব ও ফজীলত
জামায়াতে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা
মুসলিম একটি উম্মাহ । পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে তারা জামায়াতবদ্ধ হয় । এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঐক্যবদ্ধতার সবক নেয় । এজন্য জামায়াতে নামাজের গুরুত্ব অত্যাধিক । নামাজের প্রকৃত ফজীলত ও বরকত জামাতে নামাজ পড়ার দ্বারাই হাসিল হয়
নবীজী সাঃ জামাতে নামাজ পড়ার উপর কঠিনভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন
যারা অসতর্কতা ও অলসতার কারণে জামাতে শরিক হয় না, নবীজী একবার তাদের সম্পর্কে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন । পড়ুন তার ভাষায়-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ أَثْقَلَ صَلاَةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلاَةُ الْعِشَاءِ وَصَلاَةُ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ ...
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "ইশা ও ফাজরের সলাত আদায় করা মুনাফিক্বদের সর্বাপেক্ষা কঠিন
তারা যদি জানত যে, এ দু'টি সলাতের পুরষ্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দু'ওয়াক্ত জামাআতে উপস্থিত হত | আমি ইচ্ছা করেছি সলাত আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ইমামতি করতে বলি
আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা সলাতের জামা'আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৬৮]
সতর্ক হবার জন্য আর কোনো কথার প্রয়োজন পড়ে না । বোঝার জন্য এই একটি হাদীসই যথেষ্ট যে, জামাত তরক করাটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিকট কতটা অপছন্দীয় ছিলো
অপর এক হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ‏"‏ ‏.‏
'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "জামা'আতের সাথে সলাত আদায় করা সলাত একাকী আদায় করা সলাত থেকে সাতাশ গুণ অধিক মর্যাদা সম্পন্ন
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৬৩]
একাকী নামাজের তুলনায় জামায়াতে সালাত আদায়ে বহুবিধ ফায়দা রয়েছে । আখিরাতের কল্যাণ তো আছেই । দুনিয়াতেও এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য ।
এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে সময়ানুবর্তিতা সৃষ্টি হয়
যথা সময়ে যে কোনো কাজ করার প্রেরণা জাগে । দৈনিক পাঁচবার এলাকার দ্বীনদার ভাইদের সঙ্গে একত্র হওয়ার দ্বারা বড় বড় কাজের সুযোগ লাভ হয়
দূর থেকে বাড়ি এলে সবার সাথে দেখা করা হয়ে ওঠে না । কিন্তু জামায়াতে এলে এলাকার সবথেকে ভালো মানুষগুলোর সাথে সাক্ষাত হয়ে যায় । জামাতের পাবন্দীর দ্বারা খোদ নামাজের উপর পাবন্দী নসীব হয়
অভিজ্ঞতায় বলে, যারা জামাতের পাবন্দী করে না, প্রায়ই তাদের নামাজ কাজা হয়ে যায়
এমনিভাবে বড় ফায়দা হলো, যারা জামাতে শরিক হয়, তাদের প্রত্যেকের নামায পুরো মসজিদের জামাতের একটি অংশ হয়ে যায়
মসজিদের সেই জামাতে আল্লাহ তাআলার কতক নেককার বান্দাও থাকেন, যাদের নামায খুশুখুজু পূর্ণ হয়
তাদের নামায যখন আল্লাহ তাআলা কবুল করেন, তখন আল্লাহ পাকের দয়া ও করুণার সামনে এ আশাই হয় যে, এই নামাজীদের ওসিলায় আমার নামাযও আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন, যদিও আমার নামায সেই মানের নামায নয়
আমার নামাজ কবুল হওয়ার মত নয়
সুতরাং, একান্ত অপারগতা ব্যতীত জামাত ছেড়ে দিলে কী পরিমাণ ছওয়াব ও বরকত থেকে আমরা বঞ্চিত হবো তা ভেবে দেখা উচিৎ
উল্লেখ্য যে, জামাআতে নামাজ পড়ার এই ফযীলত শুধু পুরুষের জন্য
হাদীস শরীফে স্পষ্ট এসেছে, মহিলার জন্য মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া অধিক উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ
আরো পড়ুন -যে গোনাহ আমল নামায় লেখা হয় না
নামাজে একাগ্রতার গুরুত্ব
একজন নামাজী নামাজে দাঁড়ালে দুনিয়ার সব চিন্তা তার মাথায় এসে ভর করে । শয়তান নামাজে অমনযোগী করার যারপরনাই চেষ্টা করা । যারা শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে গড্ডাপ্রবাহিকায় মনকে ছেড়ে দেয়, তার মন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকে ।
কেরাত কী পড়ছে, তাও মনে থাকে না । দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাশাহহুদও পড়ে ফেলে কেউ কেউ । রাকাত ঠিক থাকে না । এই মনকে নিয়ন্ত্রণ করা ও ধীরস্থীরের সাথে সালাত আদায়কে খুশুখুজু বলে । যার গুরুত্ব অপরিসীম ।
খুশুখুজুর সঙ্গে নামাজ পড়ার মতলব হলো, যখন নামাযে দাঁড়াবে তখন আল্লাহ তাআলাকে বিশেষভাবে হাজির নাযির জ্ঞান করবে
আল্লাহ তাআলার মুহাব্বতে দেহমন আপ্লুত করে তুলবে এবং অন্তরাত্মায় তাঁর বড়ত্ব ও মহত্বের সম্মুখে নিজেকে মিটিয়ে দেয়ার অনুভূতি জাগ্রত রাখবে
যেন আমি এক মহা অপরাধে অপরাধী, ধৃত হয়ে কোনো মহা প্রতাপের অধিকারী বাদশার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছি! নামাজে দাঁড়িয়ে কল্পনা করবে, আমি মহামহীয়ান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে তাঁরই সম্মানে দাঁড়িয়ে আছি
রুকু করার সময় ভাববে, আমি অবনতশির হচ্ছি আল্লাহ পাকের জালাল ও মহিমার সামনে
নিজেকে সিজদায় নিক্ষেপ করার সময় অনুভবের চেষ্টা করবে, আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর অশেষ অসীম কুদরত ও ইজ্জতের সামনে আমি আমার অস্তিত্বের সমস্ত অপারগতা ও অপদস্ততার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছি