content
stringlengths
0
129k
শেয়ার করুন
চিরভাস্বর সাংবাদিক চিশতী
রাহাত মিনহাজ
১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:৪৯
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
সাংবাদিক চিশতীর পুরো নাম চিশতী শাহ হেলালুর রহমান
তিনি ১৯৭১ সালে দৈনিক আজাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন
থাকতেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২১২ নম্বর কক্ষে
শুধু সাংবাদিকতা নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই তরুণ একজন দক্ষ সংগঠকও ছিলেন
জহুরুল হক হলের ছাত্র সংসদের পাঠাগার সম্পাদকের দায়িত্বটিও ছিল তার
একাত্তরের ২৬ মার্চ সকালে একজন পাকিস্তানি মেজর খুব কাছ থেকে পর পর তিনটি গুলি করে সাংবাদিক চিশতীর বুক বরাবর
প্রথম গুলিটি লাগার সঙ্গে সঙ্গে 'জয় বাংলা' বলে চিৎকার করেন চিশতী
সে শব্দ বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই বাংলার জমিনে ছিটকে পড়ে চিশতীর দেহটি
পাকিস্তানিদের বর্বর নিধনযজ্ঞে শুধু চিশতী নয়, তার মতো আরও হাজারো মানুষের তাজা-উষ্ণ রক্তের বিনিময়ে শুরু হয়েছিল ইতিহাসের এক মহাকাব্যিক যাত্রা
যে কাব্যের শেষ অঙ্কে লালসবুজের পতাকা আর রক্তের দামে কেনা একটি মানচিত্র পায় সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি
সাংবাদিক চিশতীর পুরো নাম চিশতী শাহ হেলালুর রহমান
তিনি ১৯৭১ সালে দৈনিক আজাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন
থাকতেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২১২ নম্বর কক্ষে
শুধু সাংবাদিকতা নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই তরুণ একজন দক্ষ সংগঠকও ছিলেন
জহুরুল হক হলের ছাত্র সংসদের পাঠাগার সম্পাদকের দায়িত্বটিও ছিল তার
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সহসভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন চিশতী শাহ হেলালুর রহমান
হলের হাজারো ছাত্রের মধ্যে চিশতীকে সহজেই চেনা যেত তার আলাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য
তিনি বঙ্গবন্ধুর মতোই সাদা কাপড়ের পাজামা-পাঞ্জাবি পরতেন
তিনিও মোটা ফ্রেম এবং খুব ভারী কাচের লেন্সের চশমা পরতেন চিশতী, ছিলেন গ্লুকোমার রোগী
চুলের মাঝখান দিয়ে সিঁথি কাটতেন বলে সহজেই চিশতীকে আলাদা করে চেনা যেত
সবসময় হাসি লেগেই থাকত তার মুখে
আগাগোড়া রাজনীতি-সচেতন চিশতী ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন
১১ দফা আদায়ের এক মিছিলে 'আইয়ুব-মোনেম ভাই ভাই, এক রশিতে ফাঁসি চাই'- উচ্চকণ্ঠে এই স্লোগান দিতে দিতে বর্বর পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন তিনি
রাইফেলের বাটের আঘাতে থেঁতলে যায় তার এক পা
একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতেও প্রতিবাদ সমাবেশে সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন চিশতী
যার বর্ণনা পাওয়া যায় তার বন্ধু মফিজুল ইসলামের বর্ণনাতে
মফিজুল 'আমার বন্ধু' শিরোনামের এক লেখাতে মার্চের উত্তাল দিন, তথা চিশতীর জীবনের শেষ দিককার বর্ণনা তুলে ধরেছেন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'স্মৃতি: ১৯৭১' সংকলনে
মফিজুল ইসলাম লিখেছেন-
"চিশতী এদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির একটি সংগ্রামী কণ্ঠ
পয়লা মার্চ দুপুরের দিকে ইয়াহিয়ার বেতার ভাষণের পর পরই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান দিতে দিতে এক বিশাল ছাত্র জনতাকে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় চিশতী
মনে হলো, যেন হাজার বছরের জমে থাকা আগুন একসঙ্গে জ্বলে উঠল ওর কণ্ঠ
... স্লোগানের ঐ কণ্ঠে কী যে এক বিদ্রোহী চেতনা বুকের মধ্যে জেগে উঠতো, তা বুঝানো যাবে না
" (পৃষ্ঠা ৪১৭, প্রথম খণ্ড, স্মৃতি: ১৯৭১)
শুধু তাই নয়, ৫ মার্চ সেসময়ের ইকবাল হলে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে সালাম জানান চিশতী
শপথ নেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার
এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টানা অসহযোগ কর্মসূচি আর দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে বাঙালি জাতির জীবনে আসে ২৫ মার্চ কালরাত
যে রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যতম টার্গেট ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশেষ করে জহুরুল হক হল (সেসময়ের ইকবাল হল)
কারণ, এ হল ছিল আন্দোলনের দুর্গ; এছাড়া আন্দোলনের সামনের সারির ছাত্র-নেতারা এই হলেই থাকতেন
এখান থেকেই ঘোষিত হতো বিভিন্ন কর্মসূচি, আসত গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত
ইতিহাসের বর্বর ওই রাতে হলটির উপর প্রবল আক্রোশে গোলাবর্ষণ করে পাকিস্তানি সেনারা
যা থেকে বাঁচতে চিশতী তার হল আর মিলনায়তনের মধ্যকার শেডের উপর লাফিয়ে পড়েন এবং সারারাত ওখানেই অবস্থান করেন
দিনের আলো ফোটার পর সেখান থেকে মাথা উঁচু করতেই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান চিশতী
এরপর তাকে নেয়া হয় পুকুরের পাশে একজন পাকিস্তানি মেজরের সামনে
সেখানেই চিশতীকে হত্যা করা হয়
সাংবাদিক চিশতীকে হত্যার বর্ণনায় তার বন্ধু মফিজুল ইসলাম আরও লিখেছেন-
"দৈনিক আজাদের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করল চিশতী
কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না
হলের পেছন দিক থেকে ডাইনিং হলের দিকে যেতে যে সরু রাস্তাটা- তারই পাশে ড্রেনের কাছে গাছটির নিচে দাঁড় করিয়ে পর পর তিনটি গুলি করা হয় চিশতীকে
" (পৃষ্ঠা ৪১৮, প্রথম খণ্ড, স্মৃতি: ১৯৭১)
২৭ মার্চ জহুরুল হক হলের মাঠে লাশের সারির মধ্যে চিশতীকে খুঁজে পেয়েছিলেন কবি নিমর্লেন্দু গুণ
হাজারো লাশের মিছিলে একজন চিশতীর স্মৃতি রক্ষায় এই কবি লেখেন-
"জহুর হলের মাঠে শুয়ে আছে একদল সারিবদ্ধ যুবা,
যন্ত্রণাবিকৃত মুখ তবু দেশমাতৃকার গর্বে অমলিন
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
অজয় রায়: সাম্য ও সম্প্রীতির সাধক
অগ্রযাত্রার এসব পথের কাঁটা দূর করতে হবে
'অন্তর মম বিকশিত করো'
নির্বাচন কমিশন গঠন: সার্চ কমিটি ও আইনের প্রাসঙ্গিকতা
মন্দিরে কোরআন ও অনুভূতির করাত
শেয়ার করুন
রাজস্ব প্রশাসন ও করজাল সম্প্রসারণে করণীয়
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া
৩০ নভেম্বর, ২০২১ ২০:৫১
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
করের আওতা সম্প্রসারণ করে, করহার সুষম করে, প্রয়োজনীয় অটোমেশন সম্পন্ন করে মোট দেশজ উৎপাদনে করের অনুপাত বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য থাকলেও উদ্দেশ্য অর্জনে বিলম্ব হচ্ছে
এসডিজি বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২১ সালের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার স্বপ্ন এখনও অধরা থেকে গেল
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও ২০৪১ সালের মধ্যে এ অনুপাত ২৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে
এনবিআর পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করলে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণ ও নৈতিক দায়িত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব
সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের দায়িত্ব মূলত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপরই ন্যস্ত
এ সংস্থার অধীন কর, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও কাস্টমস কমিশনারেটগুলো বার্ষিক বাজেটে এদের ওপরে ন্যস্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণে সচেষ্ট থাকে
বাজেট প্রণয়নের সময় এনবিআর প্রয়োজনে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইন পরিবর্তন বা সংশোধন এবং প্রশাসনিক আদেশ ও প্রজ্ঞাপন জারি করে সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণের চেষ্টা করে
এসব সংশোধন ও পরিবর্তনে কর হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াও নীতি সহায়তা থাকে, যার ফলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটে, ফলে স্বাভাবিকভাবে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ে
মূলত রাজস্ব প্রবৃদ্ধিনির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা, আমদানি-রপ্তানি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি রাজস্ব ও প্রকল্প বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যয় এবং সর্বোপরি রাজস্ব সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারীদের পেশাদারত্বের ওপর
কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ডিউটি রাজস্বের এ তিনটি শ্রেণিকে সাধারণত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিগত সরকারগুলো বার্ষিক বাজেট ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়নে চেষ্টা করে
সরকার, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তা জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ক্রমান্বয়ে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে
ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ভোগ চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা বছর শেষে জিডিপির আকার ও শতকরা প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়
তাই দেখা যায়, ১৯৭২-৭৩ সালের ৮ বিলিয়ন ডলার জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে ৪০৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়
সময়ের ব্যাপ্ত পরিসরে দেশের রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদের অবদান বাড়তে থাকে এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ভরতা কমতে থাকে
বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে ৭-২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও দেশের কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি, বরং বিগত দু'বছর কর জিডিপির অনুপাত ৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকে
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে আমাদের করের পরিমাণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিম্নতম
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের হিসাব মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালের কর জিডিপির অনুপাত সবচেয়ে বেশি- প্রায় ১৯ শতাংশ
ভারতের কর জিডিপির অনুপাত ১২ শতাংশ, ভুটানের ১৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১.৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ১১ শতাংশ
মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর গড় অনুপাত প্রায় ১৮ শতাংশ
উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর কর জিডিপির অনুপাত ৩৫-৪০ শতাংশ
বিগত বছরগুলোতে বাজেট প্রণয়নের সময় কর জিডিপির অনুপাত ১০-১১ শতাংশ অনুমান করলেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় আমাদের দেশের এ অনুপাত নিম্নমুখী হয়েছে
আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মানুষের অনীহা আগে যা ছিল, এখনও তেমন আছে
অনভ্যাস, অনিচ্ছা, শঙ্কা, আইন অমান্যের প্রবণতা, দেশপ্রেমের অভাব প্রভৃতি কারণে সামর্থ্য থাকলেও দেশের মানুষ কর প্রদান করতে চায় না