content
stringlengths
0
129k
নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বর্ষবরণ মেলার আয়োজন হয়ে থাকে
এছাড়া কেন্দ্রীয় রেলওয়ে ভবন বা সিআরবি তে মুক্ত মঞ্চে আয়োজন হয়ে থাকে সঙ্গীতানুষ্ঠানের
চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের বাদশা মিয়া রোডস্থ ক্যাম্পাসে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে বণাঢ্য সাঙ্গস্কৃতিক অনুষ্ঠান
এবং এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে,বাঙ্গালীর ঐতিহ্য,সংস্কৃতি,কৃষ্টি এবং একি সাথে আঞ্চলিক নানা বিষয় আশয় ও
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে
পার্বত্য জেলায়, আদিবাসীদের বর্ষবরণ[সম্পাদনা]
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধান তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে যাদের প্রত্যেকেরই বছরের নতুন দিনে উৎসব আছে
ত্রিপুরাদের বৈসুক, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব
বর্তমানে তিনটি জাতিসত্তা একত্রে এই উৎসবটি পালন করে
যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি উৎসব
এই উৎসবের নানা দিক রয়েছে, এর মধ্যে একটি হলো মারমাদের পানি উৎসব
পশ্চিমবঙ্গ[সম্পাদনা]
চৈত্রের শেষদিনে গাজনের মেলার দৃশ্য
পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষারম্ভ পয়লা বৈশাখ
বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটিতে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সাথে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায়
বাংলার গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সাধিত হয়ে সকলে একসূত্রে বাঁধা পড়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে
সারা চৈত্র মাস জুড়েই চলতে থাকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি
চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুব সংক্রান্তির দিন পালিত হয় গাজন উৎসব উপলক্ষ্যে চড়ক পূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা
এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে
এদিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা
এই মেলায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসী বা ভক্তগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে আরাধ্য দেবতার সন্তোষ প্রদানের চেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করে থাকেন
এছাড়া, বহু পরিবারে বর্ষশেষের দিন টক এবং তিতা ব্যঞ্জন ভক্ষণ করে সম্পর্কের সকল তিক্ততা ও অম্লতা বর্জন করার প্রতীকী প্রথা একবিংশ শতাব্দীতেও বিদ্যমান
পরের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ প্রতিটি পরিবারে স্নান সেরে বয়ঃজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করার রীতি বহুলপ্রচলিত
বাড়িতে বাড়িতে এবং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে মিষ্টান্ন ভোজন
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকাংশই এদিন থেকে তাদের ব্যবসায়িক হিসেবের নতুন খাতার উদ্বোধন করে, যার পোশাকি নাম হালখাতা
এই উপলক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে মঙ্গলদাত্রী লক্ষ্মী ও সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা করা হয়
নতুন খাতায় মঙ্গলচিহ্ন স্বস্তিক আঁকা হয়ে থাকে
গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন মন্দির ও অন্যান্য প্রাঙ্গনে পয়লা বৈশাখ থেকে আরম্ভ হয় বৈশাখী মেলা
এই মেলা সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়
আগেকার সময় পয়লা বৈশাখের দিনে জমির মালিকরা নিজের অঞ্চলে মিষ্টি বিতরণ করতেন
পরে এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়
আকবরের সময় এই দিনে একটি হালখাতা তৈরি করা হত
গ্রাম বা শহরে পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হত
হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে
এই প্রথাটি এখনও সোনার দোকানে আছে
আধুনিক নববর্ষ উদ্‌যাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পয়লা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়েছিল
কলকাতা[সম্পাদনা]
ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কলকাতা পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে
নববর্ষারম্ভ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পাড়ার অলিতে গলিতে নানা সংগঠনের উদ্যোগে প্রভাতফেরি আয়োজিত হয়
বিগত বছরের চৈত্র মাসে শহরের অধিকাংশ দোকানে ক্রয়ের উপর দেওয়া হয়ে থাকে বিশেষ ছাড়, যার প্রচলিত কথ্য নাম 'চৈত্র সেল'
তাই পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এবং এই ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করতে অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে কলকাতার সমস্ত মানুষ একমাস ধরে নতুন জামাকাপড়, ইত্যাদি ক্রয় করে থাকে
পয়লা বৈশাখের দিন উল্লেখযোগ্য ভিড় চোখে পড়ে কলকাতার বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে
সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভোর থেকে মন্ত্রপাঠপূর্বক গঙ্গাস্নান করে প্রতীক্ষা করে থাকেন দেবীকে পূজা নিবেদন করে হালখাতা আরম্ভ করার জন্য
ব্যবসায়ী ছাড়াও বহু গৃহস্থও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে কালীঘাটে গিয়ে থাকেন
এইদিন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসাবে নতুন ধুতি-পাঞ্জাবি এবং শাড়ি পরার রেওয়াজ প্রচলিত
পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন ব্যঞ্জনে ভুড়িভোজ
অন্যান্য দেশে পহেলা বৈশাখ[সম্পাদনা]
বাংলাদেশ এবং ভারত ছাড়াও পৃথিবীর আরো নানান দেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে থাকে
[২৭] মূলত প্রবাসী বাঙ্গালীরা সেসব দেশে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করে থাকেন
আরও দেখুন[সম্পাদনা]
বাংলার নবজাগরণ
বাংলা নববর্ষ
মঙ্গল শোভাযাত্রা
বৈসাবি উৎসব
গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জী
গ্যালারি[সম্পাদনা]
নববর্ষ উদ্‌যাপনের জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রদের প্রস্তুতি
নববর্ষ উদ্‌যাপন
নববর্ষ উদ্‌যাপন
ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, রমনা বটমূল
নববর্ষ উদ্‌যাপন
নববর্ষ উদ্‌যাপন
বৈশাখী মেলা
সুইডেনের বাংলাদেশ শিক্ষার্থী সংস্থা আয়োজিত ১৪১৭ সালের পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশি নাচের অনুষ্ঠান
তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]
↑ ক খ গ ঘ সিরাজুল ইসলাম, সম্পাদক (জানুয়ারি ২০০৩)
"পহেলা বৈশাখ"
বাংলাপিডিয়া
ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ
আইএসবিএন 984-32-0576-6
সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৪, ২০১৫
↑ হোসেন, মোছাব্বের (১৪ এপ্রিল ২০১৭)
"মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশ্ব স্বীকৃতি এল যেভাবে"
দৈনিক প্রথম আলো
সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৮
↑ মো. সফিকুল ইসলাম
"বাংলা বর্ষপঞ্জির জন্ম"
↑ ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী (অধ্যাপক, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) (১০ মে ২০১১)
"রেবতী নক্ষত্র, অয়নচলন, 'সূর্য-সিদ্ধান্ত' ও বাংলা নববর্ষ | মতামত"
.24.
সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৯
উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা ()
↑ ক খ গ ঘ , ; , (২০১৩)
: , ,
পৃষ্ঠা 17-18
আইএসবিএন 9780822353188
↑ ক খ , , , আইএসবিএন 0203443454 উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে ()
↑ ক খ গ ঘ ঙ চ . (২০১১)
:
পৃষ্ঠা 96-98
আইএসবিএন 978-0-14-341678-4
↑ ক খ গ ঘ ঙ ; (২০১৩)
পৃষ্ঠা 114-115
আইএসবিএন 978-0-8108-8024-5
↑ , ,