content stringlengths 0 129k |
|---|
আমার ভাবনার বাহিরে। মিহিন আমার কাছের, জানা কেউ |
যার অবর্তমান আমাকে ভীষণ ভোগায় |
যে আমাকে খুব বোঝে। জানে |
ভালোবাসে। অথচ আমি যেই মিহিনটাকে জানি, তুমি সেই মিহিন নও |
তুমি অন্য রকম মিহিন |
তোমাকে আমার চাই না |
পাঁচ মিনিট ঘনিয়ে এসেছে |
মিহিন, আমি চাই তুমি বাকি সময়টা চোখ বন্ধ করে রাখো। এতোক্ষন আমি যা বলেছি তা একটু ভাবো |
অবশ্য সেটা করা না করা একান্তই তোমার ব্যাপার |
' |
আমি চুপচাপ মিহিনের পাশে বসে থাকি |
পাঁচ মিনিট শেষ হওয়ার অপেক্ষা করি। মিহিন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চেহারা মলিন হয়ে আসে। চেহারার কাঠিন্যতা যেন কুয়াশায় মিলিয়ে যায়। সে চট করেই বলে উঠে, |
'আমারও পাঁচ মিনিট চাই |
আমি চাই আমি যা বলবো তুমি সবটা মন দিয়ে শুনবে |
যা বলবো তুমি তা করবে।' |
আমি কিছু বলি না |
মিহিনের দিকে তাকিয়ে থাকি কেবল |
মিহিন বলে, |
'শোনো, আমার একজন গুপ্তচর আছে |
যে লেখক সাহেবের নানান তথ্য আমাকে দেয়। এটা খুবই অন্যায়। লেখকের জন্যে গুপ্তচর রাখাটা। তবে আগ থেকেই নিরাপদ থাকাটা বিশেষ প্রয়োজন। আমি আমার মানুষটাকে আগলে রাখতে চাই। সে জন্যেই এই গুপ্তচর রাখা |
' |
আমি ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকাই |
কিছু বলি না। সে বলে, |
'গুপ্তচর আমাকে মাঝে মাঝে খবর পাঠায়। লেখক কী করছে না করছে এসব। একদিন খবর আসে, লেখক একটা মেয়ের সাথে বেশ ঝগড়া করেছে। কিছু কঠিন কথা বলেছে। এমন তথ্য পেয়ে আমি হাসি |
আমার লেখক ঝগড়া করতেও জানে!' |
মিহিন মৃদু হাসে |
বলে, |
'যখন জানতে পারি চিত্রা মেয়েটি আমার মানুষটাকে প্রপোজ করেছে, তাকে বেশ জ্বলাচ্ছে, তখন আমি আসলেই রেগে যাই। এখানে যে কোনো মেয়ে-ই রেগে যাবে। সেটা নিতান্তই স্বাভাবিক |
' |
'আমার খুব মন খারাপ হয় |
লেখক আমাকে অন্তত চিত্রার ব্যাপারটা বলতো। আমি তাকে বোঝাতাম মিহিন কি জিনিস। অথচ সে আমাকে বলেনি |
এতো বড় ব্যাপারটা আমার কাছে গোপন রেখেছে |
আমার মন খারাপ হয়। কান্না পায়। আশ্চর্য! মানুষটা কীভাবে না বলে থাকতে পারলো?' |
মিহিন থামে |
তার চেহারা মলিন হয়ে আসে। আমি মনে মনে হাসি |
বলি, |
'পাঁচ মিনিট প্রায় শেষ!' |
মিহিন হঠাৎ রেগে যায়। কঠিন দৃষ্টি আমার দিকে তাকায়। তীক্ষ্ণ স্বরে বলে, |
'এতো তাড়া কিসের তোমার হু? চিত্রার কাছে যাবা তাই না? পাঁ ভেঙ্গে ফেলবো একদম |
পাঁচ মিনিট কেন? যদি তোমাকে আমি এখানে সারাজীবনও বসে থাকতে হয় তুমি এখানে থাকবে। থাকতেই হবে |
' |
আমি মৃদু হাসি |
সে অবাক হয়, |
'হাসছো কেন? হাসির কী বলেছি আমি?' |
আমি কিছু বলি না চুপ থাকি |
সে বলে, |
'চুপচাপ বসে থাকো |
যা বলছি শোনো।' |
আমি তার কথা শুনি, |
'আমার গুপ্তচরের কাজ কর্ম এতো দ্রুত নয় |
সে সব তথ্য দেরিতে হয়। মূলত তথ্য জোগারে তার দেরি হয়ে যায়। সেদিন সে হঠাৎ জানালো আমার লেখক চিত্রাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়েছে। আমার মাথায় বাড়ি পড়ে যেন। আচমকা আমি পাগলের মতো হয়ে যাই। মেয়েটা সেদিনই তো প্রপোজ করলো। এতো দ্রুত তাদের রেস্টুরেন্টে যাওয়ার কী ঘটলো? আর লেখক কীভাবে গেল তার সাথে? ওই মূহুর্তে আমি একদম দিশেহ... |
রাগে গা'টা জ্বলে যায়। রেস্টুরেন্টে তাদের দু'জনকে এক সাথে দেখে আমি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারাই নিজের উপর |
ফল স্বরূপ লেখকের সাথে আমার সাময়িক বিচ্ছেদ হয়। আমার তীব্র রাগ আমাকে পাগল করে দিয়েছিল |
যার দরুণ আমি লেখককে চড়ও মারি |
সেই অপরাধবোধ আজ আমায় ভীষণ ভোগায়। কান্না পায়। দুটো দিন আমার উন্মাদের মতো কাটে |
পাগল পাগল লাগে। তৃতীয় দিন গুপ্তচর খবর পাঠায়, চিত্রার সাথে আসলে লেখকের কোনো সম্পর্ক নেই। লেখক তাকে কেবল বোঝানোর জন্যেই রেস্টুরেন্টে ডেকে নেয়। কথা বলে সব মিটমাট করতে চায়। এই খবরটা পাওয়ার পর আমি সম্পূর্ণরূপে হতাশ হই। আমার লেখকের উপর আমি কীভাবে এমন অন্যায় করতে পারি তা ভেবে কান্না পায় আমার |
নিজের বোকামির জন্যে রাতভর কাঁদি। অদ্ভুত এক কষ্ট আমায় পাগল করে তোলে |
অপরাধবোধ আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। এই যে আমাকে দেখছো না, আজ পুরো রাত ঘুমাইনি আমি |
ঘুম আসে না |
চোখ বুঁজে ঘুম আনতে যেন ভুলে গিয়েছি লেখক |
ভোর হওয়ার আগেই ইচ্ছে হলো সাজবো |
লেখকের কথা অনুযায়ী সাজবো। শিউলি তলায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকবো। তারপর পুরোটা সময় জুড়ে প্ল্যান করবো কীভাবে লেখকের কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। কিন্তু এখানে আসার সময়ই মনে হলো তুমি আশেপাশেই আছো। একটু পর কাছে আসবে |
এমনটা কেন মনে হলো জানি না। তবে মনে হলো |
আমি এখানে এসে বসতেই তুমি এলে |
আমি অবাক হই। কী করবো ভেবে পাই না। হঠাৎ ইচ্ছে করে রাগ দেখাই |
ভাবি তোমাকে এখন কোনো ভাবে তাড়িয়ে দেবো। তারপর আয়োজন করে ক্ষমা চাইবো |
অথচ তা হলো কই? তুমি তো নাছোড়বান্দা |
লেগেই থাকলে |
শেষে এমন ভাবে আমার দিকে তাকালে, এমন ভাবে কথা বলতে থাকলে যে আমার এক মূহুর্তের জন্যে মনে হলো তুমি আজ এখান থেকে চলে গেলে তোমাকে আর পাবো না আমি |
একদম হারিয়ে ফেলবো। আমি ভয় পেয়ে যাই |
বুকের ভেতর ধক করে উঠে |
এক দলা কষ্ট এসে জমাট বাঁধে বুকের কাছে। কী করবো ভেবে পাই না। দ্রুত মন খারাপ হয় আমার |
কিছু না ভেবেই শেষমেশ আমি তার কাছে পাঁচ মিনিট চাই। এবং পাঁচ মিনিটের কথা বলে দশ মিনিট কথা বলি |
' |
এতটুকু কথা বল্ব মিহিন থামে |
নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে একমনে |
আমি অবাক ভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কী অদ্ভুত মেয়ে |
মনের ভেতর তার কতো কথা, কতো টান |
অথচ প্রথমে এমন রাগ দেখালো যে আমি নিজেও বেশ ঘাবড়ে যাই। |
মিহিন চুপচাপ থাকে |
মাথা তুলে তাকায় না। আমি এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কিছু সময় পর সে ধীরে ধীরে মাথা উঠায়। একটু তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নেয়। লজ্জাময় হাসি হাসে। কেমন কোমল স্বরে বলে, |
'এভাবে তাকিয়ে থেকো না |
আমার লজ্জা লাগে।' |
সে হাসে। আমি তাকিয়ে থাকি তার দিকে |
সে আমার একটু কাছে সরে আসে |
আমাদের দূরত্ব কমে যায়। সে বলে, |
'আমাকে তো তাকাতে দাও। তুমি এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমি তাকাতে পারি না |
' |
আমি চুপচাপ থাকি |
তার পাশে আরেকটু সরে বসে |
সে আরেকটু কাছে এসে আমার সাথে মিশে যায়। অনেকক্ষন পর আমার চোখে চোখ রাখে। আমি খুব কাছ থেকে, খুব কাছ থেকে তার কাজল দেখি। কাজল কালো চোখ দেখি |
কী মায়া! কী ভীষন মায়া এই চোখ দুটিতে। আমি মুগ্ধ হই। ভীষণ মুগ্ধ হই |
সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে |
আমার চোখে মায়া করে। ঘোর ধরায়। আমি ঘোর ধরা দৃষ্টিতে তাকে দেখি |
সে কাছে আসে। আমাকে টেনে নেয়। তার নিশ্বাসের উত্তপ্ততা অনুভব করি আমি। সে কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে, |
'কোন গালটায় চড় মেরেছিলাম হু?' |
আমি অবাক হয়ে তাকে দেখি |
কী বলব ভেবে পাই না। কেবল তাকে ডান গালটা দেখিয়ে দেই। সে তার মুখটা আমার গালের কাছে নিয়ে আসে |
ডান হাত দিয়ে আমার গাল স্পর্শ করে প্রথমে |
তার শীতল হাতের স্পর্শে কেঁপে উঠি আমি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.