content
stringlengths
0
129k
যেমন উপরের হাদীসে বর্ণিত হলো
কেউ সপ্তম দিনে আক্বীকা না করতে পারলে ১৪তম দিনে করবে, এ তারিখেও সম্ভব না হলে ২১তম দিনেও করতে পারে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
" تُذبح لسبع أو لأربع عشرةَ أو لإحدى و عشرين " [ صحيح الجامع الصغير [
"সপ্তম দিনে জবাই করা হবে, কিংবা ১৪তম দিনে কিংবা ২১তম দিনে"
[ সহীহুল্ জামি আস্ সাগীর নং ৪০১১]
# এর পরে জীবনের যে কোন সময়ে আক্বীকা করা বৈধ কি না? উলামাগণ মতভেদ করেছেন
অনেকের মতে, সপ্তম দিন পেরিয়ে গেলে করা সুন্নত নয়
কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আক্বীকার সময়কে সপ্তম দিনের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন
অনেকের মতে তার পরে যে কোন সময় করা যায়
কারণ হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, বাচ্চা আক্বীকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে
তাই বাচ্চাকে বন্ধক থেকে মুক্ত করা প্রয়োজন
গ-পুত্র ও কন্যা সন্তান, কার পক্ষ হতে কয়টি পশু আক্বীকা দিতে হবে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: " عن الغلامِ شاتان مكافئتان و عن الجارية شاة" صحيح أبوداود
"পুত্র সন্তানের পক্ষ হতে দুটি বরাবর ধরনের ছাগল এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ হতে একটি ছাগল আক্বীকা দিতে হবে"
[সহীহ আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৫৮]
৮-বাচ্চার চুল মুণ্ডন এবং চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য দান করা:
বাচ্চার বয়সের সপ্তম দিনে যেমন আক্বীকা করা সুন্নত, তেমন সেই দিন বাচ্চার মা চুলগুলো মুণ্ডন করা ও চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য সদকা করাও সুন্নত
আলী (রায়িঃ) বলেন:
" عقّ رسول الله - صلى الله عليه و سلم - عن الحسَن بشاةٍ و قال يا فاطمة احلقي رأسه و تصدقي بزنةِ شعره فضّةً " رواه الترمذي في كتاب الأضاحي، باب العقيقة بشاة.
"আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসানের পক্ষ হতে ছাগল আক্বীকা করেন এবং ফাতেমা (রাযি:) কে বলেন: তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য সদকা করে দাও"
[ তিরমিযী, অধ্যায়, আযাহী, হাদীস নং ১৫১৯]
৯- খতনা করা: খতনা করা প্রকৃতিগত বিষয়, যা ইসলাম সমর্থন করেছে এবং তা গুরুত্বের সাথে পালন করেছে
তাই ফুকাহাদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী, মালিক ও আহমদ (রহঃ) এই আমলকে ওয়াজিব বলেছেন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
" الفطرة خمسٌ الخِتان، والاستحدادُ، و قص الشاربِ و تقليمُ الأظفارِ و نتف الآباطِ. " رواه البخاري في كتاب اللباس و مسلم في كتاب الطهارة.
"পাঁচটি বিষয় স্বভাবগত, খতনা করা, নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করা, মোচ কর্তন করা, নখ কর্তন করা এবং বগলের লোম ছিঁড়ে ফেলা"
[ বুখারী , অধ্যায়, লেবাস নং ৫৮৯১, মুসলিম, অধ্যায়, ত্বাহারাহ ]
# নবী ইবরাহীম (আঃ) আশি বছর বয়সে নিজের খতনা করেছিলেন
[বুখারী, মুসলিম] এ দ্বারা ষিয়টির গুরুত্ব অনুমান করা যেতে পারে
# খতনা করার নির্দিষ্ট কোন সময় সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই সুবিধা মত যে কোন সময় করা যায়
তবে উলামা কেরামের মতে সাবালক হওয়ার পূর্বে তা করা ভাল
নবজাতক সম্বন্ধে ইসলামের বিধানের এই কয়েকটি বিষয় সংক্ষিপ্তাকারে আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরা হল
আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক আমল করার তাওফীক দেন আমীন!
و صلى الله على نبينا محمد و على آله و صحبه أجمعين
লেখক: আব্দুর রাকীব (মাদানী
আল খাফজী দাওয়াহ সেন্টার, সৌদী আরব
সম্পাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদী আরব
নাবী ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পার্থিব পরীক্ষা
আপনি আরও পছন্দ করতে পারেন
শয়তানের কুমন্ত্রণা: কখন-কিভাবে-বাঁচার উপায়
2 সময় আগে
কমেন্ট করুন
লিখেছেন
ঈদের বিধিবিধান
5 সময় আগে
কমেন্ট করুন
লিখেছেন
মতামত দিন
আপনার মতামত
আপনার নাম *
আপনার ইমেইল *
আপনার ওয়েবসাইট (যদি থাকে)
, , .
@*
নিয়মিত পোস্ট পেতে
মাসিক সংখ্যা
মাসিক সংখ্যা 2021 (2) 2021 (1) 2021 (1) 2021 (4) 2021 (1) 2021 (3) 2019 (1) 2019 (7) 2019 (1) 2019 (1) 2019 (1) 2018 (2) 2018 (1) 2018 (4) 2018 (13) 2018 (8) 2018 (21) 2018 (2) 2018 (17) 2018 (23) 2018 (36) 2018 (42) 2018 (24) 2017 (24) 2017 (27) 2017 (30) 2017 (21) 2017 (3) 2017 (9) 2017 (12) 2017 (30) 2017 (41) 2017 (15) 2017 (23) 2016 (42) 2016 (20) 2016 (17) 2016 (30) 2016 (20) 2016 (10) 2016 (48) 2016 (20) 2016 (21) 2016 (49) 2016 (71) 2016 (47) 2015 (24) 2015 (35) 2015 (29) 2015 (30) 2015 (31) 2015 (18) 2015 (47) 2015 (59) 2015 (46) 2015 (43) 2015 (30) 2014 (3) 2014 (33) 2014 (33) 2014 (36) 2014 (43) 2014 (61) 2014 (45) 2014 (38) 2014 (47) 2014 (71) 2014 (34) 2014 (42) 2013 (10) 2013 (14) 2013 (10) 2013 (22) 2013 (9) 2013 (48) 2013 (29) 2013 (28) 2013 (27) 2013 (3) 2013 (1) 2012 (9) 2011 (2) 2010 (3)
হ্যাঁ, জায়গাটা পৃথিবীর বাইরেরই বটে
ছোটবেলায় আমরা একটা ছড়া পড়েছিলাম
শিরোনাম মনে নেই, প্রথম কয়টা লাইন মনে আছে- "এক যে ছিল মজার দেশ সব রকমের ভাল, রাত্তিরেতে বেজায় রোদ দিনে চাঁদের আলো"- এরকম কিছু একটা
মজার ব্যাপার হোল, মজার দেশ কেবল ততক্ষণই মজার থাকে যতক্ষণ সেদেশের অস্বাভাবিকতা চোখে সয়ে আসেনা
অস্বাভাবিকতায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে সেটাকেই একসময় অতিমাত্রায় স্বাভাবিক মনেহয়
আমাদের কথাই ধরা যাক
সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত গণ্ডির মাঝে আমাদের জীবন চলবে- এই স্বাভাবিক ব্যাপারটা এখন আমাদের সমাজে অস্বাভাবিক
আর যা কিছু অস্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল, বেশীমাত্রায় তার মাঝে থাকার ফলে সেটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে
আর সেজন্যই হয়ত আজ যেখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে মনে হয়েছে আমি অন্য কোন ভুবনে এসে দাঁড়িয়েছি
মনে পড়ে সেই ছোটবেলার কথা
বিয়েবাড়িতে বা কারুর বাসায় হিজাব পড়ে যাওয়ার সময় মানুষের কত ধরনের মন্তব্য শুনতে হতো
দেখতে হতো "আকাশ থেকে পড়া" মুখভঙ্গি
অনেক সময় হয়ত একা এক কোনায় বসে থাকতাম, আর সবাই বলত কী আজব, ছোট মেয়ে কোথায় সেজেগুজে বেড়াবে তা না, এভাবে বসে আছে... ইত্যাদি কত কথা
তারপর সেই ছোট মেয়ে একদিন বড় হোল, মানুষকে মুখের ওপর বলতে শিখল যে ছোট মেয়েকে যে তার ধর্ম সাজতে বাঁধা দিয়েছিল এমনটা তো কখনো হয়নি... বাঁধা দিয়েছিল "অস্বাভাবিক" সমাজ যেখানে কিনা ছেলে মেয়েদের আলাদা পড়ালেখা, আলাদা অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক আয়োজনের স্থান ছিল না
তারপরও আল্লাহর নিয়ম যে কতটা সুন্দর তা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে
মনে আছে প্রথমবার মুগ্ধ হয়ে গেলাম সৌদি আরবে মেয়েদের একটি ইউনিভার্সিটি তে ঢুকে
যেখানে অল্প বয়সী মেয়েরা সাজছে, হাসছে, খেলছে- কেউ দেখে ফেলবে এমন ভয়ে গুটিয়ে রাখতে হচ্ছে না নিজেকে, কারণ কেউ দেখবে না
তারা জানে এটা তাদের সাম্রাজ্য, এখানে কোন একজন পুরুষ মানুষও নেই
ওরা নিজেরা জানেও না যে ওরা কত ভাগ্যবতী
হিজাব ওদের অধিকার
অধিকার আদায়ের দায়ে বিভিন্ন দেশের মেয়েদের মত ওদের "অস্বাভাবিক" ভাবে বাঁচতে হয় না
সে যাই হোক, মেয়েদের স্কুল, মেয়েদের কুরআন শেখার স্কুল, মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকবার যাওয়াতে এসব অনেকটা চোখে সয়েই এসেছিল
কিন্তু অনেকক্ষণ কথা খুঁজে পাইনি যখন দেখলাম আমার বান্ধবী আমাকে যে পার্কটিতে নিয়ে গিয়েছে সেটি কেবল মহিলা ও শিশুদের জন্য
পুরুষদের সেখানে প্রবশাধিকার নেই!
এই পৃথিবীর মাঝে, যেই ইসলামের নামে অপবাদ দেয়া হয় মেয়েদের যথোপযুক্ত অধিকার না দেয়ার জন্য- সেই ইসলামের অনুসারিদের দ্বারা তৈরি একটি শিশু পার্ক যেখানে কেবল মেয়েরা আসতে পারবে, আর আসতে পারবে শিশুরা
ইচ্ছা মত বসতে পারবে গল্প করতে পারবে
কেনাকাটা করবে, খাওয়ার দোকান আছে, কফি শপ আছে আর আছে বাচ্চাদের যাবতীয় রাইড
হিজাব করার পর থেকে জীবনে প্রথম আমি আজকে খোলা আকাশের নিচে হিজাব ছাড়া হাঁটলাম, আর সেই পুরো চারটি ঘণ্টা হিজাব ছাড়া, যেকোনো মুহূর্তে হিজাব পরতে হতে পারে সে আশঙ্কা ছাড়া সেখানে সময় কাটালাম
পৃথিবী যে এতো প্রশস্ত তা যেন আগে কখনো বুঝিইনি
কত স্বাভাবিক, আর সুন্দর একটা ব্যবস্থা! উঁচু পাঁচিলে ঘেরা বিশাল এক শিশু পার্ক
এতই বড় পরিধি যে যারা ওর ভেতরে আছে তাদের উঁচু পাঁচিলের দরুন নিজেদের "বন্দী" ভাবার মত কোন কারণই ঘটবে না! অথচ কেবল এই ব্যবস্থা করার মত বোধ নেই বলে আমাদের সমাজে কেউ হিজাব করলে তাকে কারাগারে বন্দী জীবন কাটাতে হয়
যারা এই কারাগার তৈরি করে নিজেদের বোধহীনতার দরুন, তারাই আবার বলে " তোমরা নিজেদের অমন বন্দী রেখেছ কেন?"
তাদের সৃষ্ট কারাগারে নিজেদের বন্দী রাখতে আমরা হাঁপিয়ে উঠিনি মোটেই
হিজাব আমরা আল্লাহকে ভালবেসে করছি
দুনিয়ার কষ্ট এখানে কোনমতেই প্রাধান্য পায় না
কিন্তু যদি আমাদের একথা শুনতে হয় যে আমরা নিজেদের বন্দী করে রেখেছি, অথবা আমাদের মেয়ে সন্তানদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত রেখেছি, তবে আমরা একথার প্রতিবাদ অবশ্যই করবো
আমাদের অধিকার ছিল কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে সেজে উপস্থিত হওয়ার
অধিকার ছিল অল্প বয়সে হাস্যমুখর পরিবেশে আনন্দে ক্লাস করার
সেই অধিকার ইসলাম আমাদের দিয়েছে
আর আমাদের সেই অধিকার আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে এমন এক সমাজ যেখানে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশাটা এত বেশী মাত্রায় গ্রহণযোগ্য যে হিজাব করা একটা মেয়ে নিজের বিয়ের দিনটাতেও আর সাজতে পারেনা