content stringlengths 0 129k |
|---|
এ পৃষ্ঠায় শেষ পরিবর্তন হয়েছিল ১৫:১৬টার সময়, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে |
লেখাগুলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন/শেয়ার-আলাইক লাইসেন্সের আওতাভুক্ত; এর সাথে বাড়তি শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে |
এই সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে, আপনি এটি ব্যবহারের শর্তাবলী ও এর গোপনীয়তা নীতির সাথে সম্মত হচ্ছেন |
উইকিপিডিয়া®, অলাভজনক সংস্থা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক |
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত চর্য (√চর্+য) অর্থ - (বিশেষণে) পালনীয়, অনুষ্ঠেয়, আচরণ, কর্তব্যাদি প্রভৃতি |
চর্য থেকে চর্যা |
অর্থাৎ, ব্যক্তি হতে ক্রমান্বয়ে সমষ্টিতে এবং তদ্পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট, গৃহীত ও প্রতিষ্ঠিত সমকালীন সামাজিক আচার-আচরণ, কর্তব্য প্রভৃতি হচ্ছে চর্য বা চর্যা |
চর্যা থেকে চর্যাপদ |
চর্যাপদ শব্দের অর্থ - বৌদ্ধ সহজিয়াদের বাংলা ভাষায় রচিত গীতিকবিতা |
খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকে রচিত এই গীতিকবিতাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন মনে করা হয় |
১৭. বেয়ারা ও বেয়াড়া |
বেয়ার শব্দের বহুল প্রচলিত অর্থ - অফিসের 'বেয়ারা' |
বেয়ারা ইংরেজি ( বেয়ারার) শব্দের বিকৃত রূপ |
এর বাংলা অর্থ - বাহক |
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ইংরেজি বেয়ারা অর্থ - (বিশেষ্যে) আজ্ঞাবাহী, পরিচারক |
এরূপ আর একটি শব্দ আছে - বেয়াড়া |
বাংলা বেয়াড়া শব্দের অর্থ - (বিশেষণে) সহজে বশে আনা যায় না এমন, একরোখা |
অনেক বেয়ারা খুব বেয়াড়া হয় |
বেয়াড়া বেয়ারাকে মনিব পছন্দ করেন না |
১৮. বিসর্গ ও কোলন |
আমরা অনেকে বিসর্গ আর কোলন এক করে ফেলি |
এটা দৃষ্টিকটু |
মনে রাখতে হবে - বিসর্গ একটা বর্ণ আর কোলন একটা চিহ্ন |
তাই কাউকে 'দু:খ' না-দিয়ে 'দুঃখ' দিন আর 'নি:শ্বাস' না-নিয়ে 'নিঃশ্বাস' নিন |
অনেকে কবিতা লেখেন |
শিরোনাম দেন এভাবে - |
মনে রাখবেন, এটা ভুল |
এই ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহার করুন |
আরেকটা বিষয়, শব্দ-সংক্ষেপণের জন্য বিসর্গ নয়, বিন্দু ব্যবহার করুন |
মোঃ নয়, মো. |
খ্রিঃ নয়, খ্রি. |
বিঃদ্রঃ নয়, বি.দ্র. |
বিসর্গ ব্যবহার করলে উচ্চারণ হয়ে যাবে মোহ্, খ্রিহ্, বিহ্দ্রোহ্ ইত্যাদি |
আর হ্যাঁ, আমার কথায় কেউ দু:খ পাবেন না; তবে দুঃখ পান, সমস্যা নেই |
দুঃখে বিসর্গ থাকলে তা-ও স্বর্গসুখ হয়ে উঠবে |
সূত্র: আরফাত ইমরান, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) |
১৯. আর্য শব্দটির অর্থ কি? |
ভারতীয় পুরাণ এবং শাস্ত্রগ্রন্থসমূহে কিছু উত্তম গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে আর্য বলা হয়েছে |
কোনো কোনো গ্রন্থে: হিন্দুধর্মাবলম্বী অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের আর্য বলা হয়েছে |
অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মাত্রই আর্য |
আবার, কিছু গ্রন্থমতে, কেবল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরাই হচ্ছে আর্য |
চতুর্থ বর্ণকে শূদ্র বলা হয়েছে |
তাই অনেকে মনে করেন, শূদ্র আর্য নয় |
আর্যরা ভারতবর্ষ দখল করে শূদ্রদের নিজেদের সমাজভূক্ত করে নেন |
কিন্তু সেই অনার্য শূদ্র কারা, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি |
২০. বৃটিশ না ব্রিটিশ? ব্যাখ্যাসহ জানতে চাই |
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৬] লিখেছে 'ব্রিটিশ' ও 'ব্রিটেন' |
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২ (মুদ্রণ-২০১৫)] অতৎসম শব্দে ঋ-কার ব্যবহার করা-না-করা সম্পর্কে কোনো বাধ্যবাধকতা বা পরামর্শ বা মতামত দেয়নি |
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি গৃহীত বানানবিধি '[প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ১৯৯৭ |
পরে পরিমার্জিত] মত প্রকাশ করে বলেছে: "বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ঋ-কার ব্যবহার না-করে র-ফলা ই-কার ব্যবহার করাই উচিত হবে |
যেমন, ... বৃটিশ নয়, ব্রিটিশ |
পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ ও সাহিত্য সংসদ প্রকাশন সংস্থার বাংলা বানানবিধি ৩. (ক) স্পষ্ট বলেছে: "বাংলায় গৃহীত সংস্কৃত শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে ... ঋ-কার হবে না |
... ব্রিটেন, খ্রিস্টাব্দ |
বাংলার দিকপাল কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি─'যায় যায় দিন' ছাড়া─'বৃটিশ' বা 'বৃটেন' লেখা সমর্থন করে না |
২০. ঋ কি স্বরধ্বনি? |
বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৯৯)-এর নবম পুনর্মুদ্রণ (২০১৬)] লিখেছে: |
"ঋ বাঙলা ভাষায় এ-বর্ণটির উচ্চারণ 'রি' (র্-এর সঙ্গে ই-স্বরধ্বনির সংযুক্তি) |
সংস্কৃত ভাষায় 'ঋ' শুদ্ধ স্বরধ্বনির মর্যাদা পেলেও বাঙলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণে এটাকে আর স্বরধ্বনিরূপে চিহ্নিত করা সমীচীন নয় |
" এবং "ঋ/ঋ-কারকে বাঙলা ভাষায় স্বরধ্বনির মর্যাদা দেওয়া ঠিক নয়; কারণ সংস্কৃত ভাষার শুদ্ধ স্বরধ্বনির মতো এর উচ্চারণ আর অবশিষ্ট নেই |
বাঙলায় এর উচ্চারণ পরিষ্কার 'রি' ('র'-এর সঙ্গে সংযুক্ত 'ই') |
সংস্কৃত ভাষার অন্ধ অনুকরণে এটিকে এখনও বর্ণমালায় স্বরবর্ণের মধ্যে স্থান দেওয়া হয় এবং কতিপয় সংস্কৃত শব্দের বানানে এর লিখিত রূপ দেখা যায় |
২১. '২১ এ ফেব্রুয়ারি' না কি '২১ শে ফেব্রুয়ারি'(একুশ শে)? '২১ ফেব্রুয়ারি' লিখলে বা বললে কি ভুল হবে? |
প্রথমে বলে রাখি: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (পরিশিষ্ট গ) অনুযায়ী (বাংলা তারিখ ও সময়) একমাত্র প্রমিত শব্দ ২১শে |
ওখানে ২১এ বানানের কোনো শব্দ নেই |
ওই অভিধানমতে ২১শে কথার উচ্চারণ একুশে |
অতএব, শুদ্ধ ও প্রমিত হচ্ছে ২১শে |
২১এ কথার উচ্চারণ হয় একুশ-এ; এমন লিখবেন না |
২১শে লিখুন, ২১এ লিখবেন না |
বাংলায় তারিখ লেখার নিয়ম |
বাংলা একাডেমি এ বিষয়ে কী বলে? 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সর্বশেষ অভিধান |
যা ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় |
ওই অভিধানের পরিশিষ্টে (পরিশিষ্ট গ) বাংলা তারিখ ও সময় কীভাবে লেখা হবে তা বর্ণিত হয়েছে |
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে - |
১ তারিখ লেখা হয়েছে: ১লা, উচ্চারণ /পয়্লা/ [যেমন: ১লা জানুয়ারি |
২ তারিখ লেখা হয়েছে: ২রা, উচ্চারণ /দোশ্রা/ [ যেমন: ২রা ফেব্রুয়ারি |
৩ তারিখ লেখা হয়েছে: ৩রা, উচ্চারণ /তেশ্রা/;[ যেমন: ৩রা মার্চ |
৪ তারিখ লেখা হয়েছে: ৪ঠা, উচ্চারণ /চোউ্ঠা/; [ যেমন: ৪ঠা এপ্রিল] |
৫ তারিখ লেখা হয়েছে: ৫ই, উচ্চারণ /পাঁচোই/; [ যেমন: ৫ই মে] |
৬ তারিখ লেখা হয়েছে: ৬ই, উচ্চারণ ছওই; [ যেমন: ৬ই জুন] |
১৯ তারিখ লেখা হয়েছে: ১৯শে, উচ্চারণ /উনিশে/; [ যেমন : ১৯শে জুলাই] |
২১ তারিখ লেখা হয়েছে: ২১শে, উচ্চারণ /একুশে/;[ যেমন: ২১শে ফেব্রুয়ারি] |
২২. 'শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ', এই বাগধারাটির উৎস, অর্থ, প্রয়োগ, ব্যবহার, ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন কেউ? |
আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান প্রবচন-সংগ্রহ (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯) থেকে পাই: "শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ ... শঠের সহিত শঠতাই বিধেয়! যেমন কুকুর, তেমন মুগুর |
ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় |
. |
"স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং |
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ" |
অর্থ: স্বর্ণখণ্ড হয়েছে তাম্র, বণিকপুত্র মর্কট(বানর) কাজেই সরলের সাথে সারল্য করবে, শঠের সাথে শঠের সমান আচরণ করবে" |
এটা একটা উপদেশমূলক প্রাচীন গল্পের সারকথা |
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের হিতোপদেশমূলক একটি গল্পের কাহিনি থেকে শ্লোকটি গৃহীত ও প্রচলিত |
এক পণ্ডিত তীর্থযাত্রাকালে প্রতিবেশি বণিকের কাছে কিছু স্বর্ণমূদ্রা গচ্ছিত রাখতে গেলে বণিক তাঁকে নিজহাতে বণিকের সিন্দুকে রেখে যেতে বলল |
পণ্ডিত ফিরে আসার পর বণিক সিন্দুক খুলে দিয়ে তাঁকে বলে, কর্তা আপনি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন সেভাবেই আপনার থলেটে আছে, নিজহাতে নিয়ে যান |
থলে বাড়িতে নিয়ে পণ্ডিত দেখলেন ভেতরে সব তাম্রমূদ্রা |
পরে বণিক বাণিজ্যযাত্রাকালে তার পুত্রকে পণ্ডিতের বাড়িতে রেখে গেল |
ফিরে এলে পণ্ডিত বললেন, যে ঘরে রেখে গিয়েছিলে ওখানেই তোমার পুত্র আছে নিয়ে যাও |
বণিক দেখল: ওই ঘরে একটি বানর(মর্কট) বাঁধা আছে |
"স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং |
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ |
২৩. ধরণি দ্বিধা হও - এর অর্থ কী? |
"ধরণি দ্বিধা হও" কথাটির শাব্দিক অর্থ - পৃথিবী দ্বিখণ্ডিত হও, পৃথিবী দুই খণ্ড হয়ে যাও |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.