content
stringlengths
0
129k
উত্তর : পৃথিবীর আবর্তনজনিত বলের প্রভাবে বায়ু সরাসরি উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হতে পারে না
ফলে বায়ু উত্তর গােলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গােলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়
বায়ু প্রবাহের দিক সংক্রান্ত এই নিয়মটি বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেল আবিষ্কার করেন
তার নামানুসারে এটি 'ফেরেল সূত্র নামে পরিচিত
7. বাইস ব্যালস সূত্র কী?
উত্তর : বায়ুচাপের অবস্থানের সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের সম্পর্কে সম্বন্ধে 1857 খ্রিস্টাব্দে ডাচ আবহবিদ বাইস ব্যালট একটি সূত্র উদ্ভাবন করেন
সূত্রটি হল উত্তর গােলার্ধে বায়ুর গতির দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকের তুলনায় বামদিকের বায়ু চাপ কম অনুভূত হয় এবং দক্ষিণ গােলার্ধে বামদিকের তুলনায় ডানদিকে বায়ু চাপ কম অনুভূত হয়
এই সূত্রটি বাইসব্যালট সূত্র নামে পরিচিত
৪. কোরিওলিস শক্তি বা বল কী?
উত্তর : পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে বায়ুপ্রবাহের ওপর যে শক্তি প্রযুক্ত হয় তাকে কোরিওলিস বল বলে
1835 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী ড. . এই শক্তি প্রথম আবিষ্কার করেন
9. 'গর্জনশীল চল্লিশা' কী?
উত্তর : দক্ষিণ গােলার্ধে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগ বেশি থাকায় পশ্চিমাবায়ু বাধাহীনভাবে প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়
40° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর পশ্চিম থেকে পূর্বে এই প্রবল পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহকে 'গর্জনশীল চল্লিশা' বলে
10. প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে?
উত্তর : হিমমণ্ডল বা নাতিশীতােষ মণ্ডলের কোনাে স্থানে অধিক শীতলতার জন্য প্রবল উচ্চচাপের সৃষ্টি হলে তখন ওই উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু কুণ্ডলী আকারে ছড়িয়ে পড়ে
একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে
11. রসবি তরঙ্গ কী?
উত্তর : ঊর্ধ্ব ট্রপােস্ফিয়ারে বায়ুচাপের অবক্ৰমজনিত শক্তি ও কোরিওলিস শক্তির পরিমাণ সমান এবং তারা পরস্পরের বিপরীতে ক্রিয়া করে
ফলে উর্ধ বায়ুতে সমচাপ রেখার সঙ্গে সমান্তরালভাবে জিওট্রোফিক বায়ু প্রবাহিত হয়
. . - 1930 এর দশকে গাণিতিক পদ্ধতিতে এই ধরনের তরঙ্গায়িত বায়ুপ্রবাহের উপস্থিতি প্রমাণ করেছিলেন
তাই এই তরঙ্গায়িত প্রবাহকে 'রসবি তরঙ্গা' বলা
12. হ্যাডলী সেল কী?
উত্তর : নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপের দরুণ উর্ধ্বগামী বায়ু পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে ওই বায় ওপরে উঠে শীতল হয়ে উত্তর ও দক্ষিণে ছিটকে যায় এবং তা ক্রমশ সংকুচিত ও ভারী হয়ে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি অঞ্চলে নেমে আসে, বায়ুর এই চক্রাকার আবর্তনকে হ্যাডলী কক্ষ বলা হয়
13. সৌর ধ্রুবক ( ) কাকে বলে?
উত্তর : সূর্য থেকে পৃথিবী ক্রমাগত ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে সূর্যের তাপীয় ফল লাভ করে চলেছে
তবে সূর্য থেকে পৃথিবী প্রতিদিনি ও প্রতিবছর প্রায় কেই পরিমাণ সৌরতাপীয় ফল লাভ করে
একেই সৌর ধ্রুবক বলা হয়
14. কী?
উত্তর : নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5 থেকে 10° অক্ষরেখার মধ্যে যে নিম্নচাপদ্রোণী আছে সেখানে উত্তর পূর্ব আয়নবায়ু এবং দক্ষিণপূর্ব আয়নবায়ু পরস্পর এসে মিলিত হয়
তাই এই মিলন অঞ্চলকে অন্তক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল বা () বলে
এই অঞ্চলে বায়ুচাপীয় ঢাল প্রায় না থাকায়
অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ নেই
তাই এই অঙুলকে শান্তবলয় বলা হয়
15. লীনাপ কী?
উত্তর : যে তাপ পদার্থের উন্নতার পরিবর্তন না ঘটিয়ে পদার্থের অবস্থার (যেমন - কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে গ্যাসীয় অথবা গ্যাসীয় থেকে তরল এবং তরল থেকে কঠিন ইত্যাদি) পরিবর্তন ঘটায় তাকে লীনতাপ বলে
16. চরম আদ্রর্তা কাকে বলে?
উত্তর : কোনাে নির্দিষ্ট উয়তায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প বর্তমান
থাকে তাকে ওই বায়ুর নিরপেক্ষ বা চরম আদ্রর্তা বলা হয়
নিরপেক্ষ বা চরম আদ্রর্তার পরিমাণ সাধারণত গ্রামে প্রকাশ করা হয়
যেমন - 10 গ্রাম/ঘনসেমি
17. শিলাবৃষ্টি কী?
উত্তর : নাতিশীতােয় মণ্ডলে গ্রীষ্মকালে জলকণা ও বরকণা একত্রে অধঃক্ষেপন রূপে পতিত হলে তাকে শিলাবৃষ্টি বলে
ঊর্ধ্বমুখী প্রবলবায়ুর প্রভাবে জলকণাগুলি অনেক উঁচুতে উঠে গিয়ে শীতল হয়ে বরফকণায় পরিণত হয়
অবশেষে ধীরে ধীরে আয়তনে বেড়ে গিয়ে এই কণাগুলি বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে
18. 'ঘূর্ণবাতের চক্ষু-কাকে বলে?
উত্তর : কুণ্ডলাকারে ঘূর্ণমান ক্রান্তীয় ঘূর্ণর্বাতের কেন্দ্ৰাঞ্চলটিতে বায়ু শান্ত থাকে এবং ঘূর্ণবাতের উপরিভাগ পর্যন্ত শান্ত বায়ুর একটি স্তম্ভ রচিত হয়
একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলা হয়
এই অলটি প্রায়বৃত্তাকার এবং এর ব্যাস 20-40 কিমি
এখানে বায়ু অত্যন্ত হালকা ও পরিবর্তনশীল
19. টর্নেডাে কী?
উত্তর : টর্নেডাে হল অতি ক্ষুদ্র কিন্তু অতি মারাত্মক শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণর্বাত
এদের আকৃতি অনেকটা চোঙের মতাে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ওপর এদের ব্যাস 100-500 মিটার
এই ঝড়ের কেন্দ্রে বায়ুচাপ 900 এর নীচে নেমে যায়
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রকি পর্বতের পূর্বদিকে এই ঝড় বেশি হয়
20. আশ্বিনের ঝড় কী?
উত্তর : শরৎকালে ভারতের উপকূল অঞ্চলে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়সহ বৃষ্টিপাত হয়
ঝড়ের তাণ্ডবে জীবনহানি ও ধনসম্পত্তির বিপুল ক্ষতি হয়
পশ্চিমবঙ্গে প্রধানত 'আশ্বিন মাসে এই ধরনের ঘূর্ণিঝড় হয় বলে একে 'আশ্বিনের ঝড়' বলা হয়
21. মৌসুমি বিস্ফোরণ কী?
উত্তর : ক্রান্তীয় পুবালি জেটের প্রভাবে মধ্যভারত ও বঙ্গোপসাগরে গ্রীষ্মকালে সৃষ্ট একাধিক নিম্নচাপজনিত গােলযােগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমিবায়ু ত্বরান্বিত হয়
এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ আকস্মিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়
একেই 'মৌসুমি বিস্ফোরণ' বা বলে
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. 'অশ্ব অক্ষাংশ কাকে বলে?
উত্তর : নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় ও মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে বিক্ষিপ্ত ও উর্ধ্বগামী উয় বায়ু শীতল হয়ে ভারি হয়ে উভয় গােলার্ধের 25-35° অক্ষাংশে সৃষ্ট কৰ্কটীয় উচ্চচাপ বলয়ে নেমে আসে ফলে এই অঞ্চলে বায়ুর কোনাে পার্শ্ব প্রবাহ থাকে না, শান্ত অবস্থা বিরাজ করে
উত্তর গােলার্ধে এই অঞ্চলকে কর্কটীয় শান্তবলয় বা অশ্ব অক্ষাংশ বলে
প্রাচীনকালে ইউরােপীয় ঔপনিবেশিকগণ পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে পালতােলা জাহাজে অশ্ব বােঝাই করে আনার সময় এই অণ্ডলে বাতাসের অভাবে আটকে যেত
পানীয় জল অপচয় রােধ করার জন্য নাবিকরা জাহাজের রুগ্ন অশ্বগুলিকে জলে ফেলে দিত
তাই এই কর্কটীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়
2. ওজোন স্তরের গুরুত্ব আলােচনা করাে
উত্তর : স্ট্রাট্রোস্ফিয়ারের 20-35 কিমি উচ্চতায় অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে দুটি অনুক্রমিক আলােক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ঘনত্বযুক্ত যে গ্যাসের আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে তা ওজোনস্তর নামে পরিচিত
গুরুত্ব : () এই স্তর সূর্য থেকে আসা তিনটি (-, , ) ক্ষতিকারক রশ্মিকে শােষণ করে জীবজগৎকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে
() এই স্তর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গের অবলােহিত রশ্মির বিকিরণে বাধা দিয়ে বায়ুমণ্ডলের উষ্মতার ভারসাম্য বজায় রাখে
3. ওজোনস্তর বিনাশের কারণগুলি লেখাে
উত্তর : ওজোনস্তর বিনাশের কারণগুলি হলাে - () বা ক্লোরােফ্লুরােকার্বন হল ওজোন স্তর বিনাশের অন্যতম কারণ
() নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রসারের সঙ্গে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি বিষাক্ত গ্যাস ওজোনস্তর বিনাশ ত্বরান্বিত করছে
() হলােন যৌগের বিশেষত হ্যালােন
1211 ও হ্যালােন 1301 যৌগদুটি ওজোনস্তর বিনাশে বিশেষ ভূমিকা নেয়
() ট্রাইরাে ব্রোমাে কার্বন, মিথাইল ব্রোমাইড প্রভৃতি ওজোনস্তর বিনাশ করে
() কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া () সুপারসনিক জেট বিমান কর্তৃক পরিত্যক্ত জলীয় বাষ্প ওজোন বিনাশ ঘটায়
4. গ্রিন হাউস এফেক্ট বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : বর্তমানে যথেচ্ছভাবে বৃক্ষচ্ছেদন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে , প্রভৃতি গ্যাসের পরিমাণ দ্রুত হারে বাড়ছে
এই সমস্ত গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের উধ্বস্তরে একটি স্বচ্ছ আবরণ সৃষ্টি করেছে যার ফলে সূর্যরশ্মি সহজে ভূ-পৃষ্ঠে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু বিকিরিত সূর্যরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ফিরে যেতে পারে না
ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠের উয়তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গ্রিনহাউস এফেক্ট নামে পরিচিত
5. বৈপরীত্য উয়তা ( ) কাকে বলে?
উত্তর : সাধারণ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের ট্রপােস্ফিয়ার স্তরে প্রতি 1000 মি. উচ্চতা বৃদ্ধিতে 45° হারে উয়তা হ্রাস পায়
কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উয়তা হ্রাস না পেয়ে বরং বাড়তে থাকে
এরূপ অবস্থাকে বৈপরীত্য উয়তা বা উয়তার উক্ৰম বলে
উয়তার উক্ৰম ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তরে কিংবা ট্রপােস্ফিয়ারে উর্ধ্ববায়ুস্তরে পরিলক্ষিত হয়
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈপরীত্য উয়তা হলাে বায়ু তাপের অস্থায়ী অবস্থা
6. মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘমুক্ত রাত্রি শীতল কেন?
উত্তর : দিনের বেলায় মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে আগত সৌরকিরণ বাধাহীনভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পৌছায় ফলে ভূ-পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের উম্লতা বৃদ্ধি পায়
তেমনি রাত্রে পার্থিব বিকিরণ বাধাহীনভাবে হয় ও রাত্রে উয়তা কমে যায়
কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে দিনের বেলায় আগত সৌরকিরণ মেঘে বাধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না তাই দিনে উয়তা কম হয়
এবং রাতে পার্থিব বিকিরণ মেঘে বাধা পেয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠেই ফিরে আসে, তাই রাতে উয়তা বৃদ্ধি পায়
এই জন্যই মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি মেঘমুক্ত রাত্রি অপেক্ষা বেশি উয় হয়
7. ক্রান্তীয় মণ্ডলে মহাদেশগুলির পশ্চিমে মরুভূমির সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর : ক্রান্তীয় মণ্ডলে মহাদেশগুলির পশ্চিমে মরুভূমি সৃষ্টির কারণগুলি হল - () আয়নবায়ু মহাদেশের পশ্চিমদিক থেকে এসে সমুদ্রের শীতল বায়ুর সাথে মেশে
() নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যত যায় জলীয় বাষ্পধারণ ক্ষমতা তত বাড়ে বলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে