content
stringlengths
0
129k
3. কৃষ্ণ মৃত্তিকা সম্পর্কে লেখাে
উত্তর : ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলে ব্যাসল্ট শিলাদ্বারা গঠিত টাইটানিয়াম অক্সাইড ও জৈব যৌগ সমৃদ্ধ মৃত্তিকাকে কৃষ্ণ মৃত্তিকা বলে
এই মাটির রং কালাে
কৃয় মৃত্তিকা বা রেগুর তুলা চাষের পক্ষে বিশেষ উপযােগী
পলি ও কাদার ভাগ (50%-80%) বেশি থাকায় গ্রহণ মাঝারি বলে জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি
বিভিন্ন খজিন সমৃদ্ধ যেমন - অ্যালুমিনা, চুন, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রণ অক্সাইড থাকায় মাটি খুব উর্বর
4. কারেওয়া কী?
উত্তর : বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন কোনাে হ্রদ ভরাট হয়ে কাশ্মীর উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে
এই উপত্যকার মধ্য দিয়ে ঝিলাম নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং প্রায় সমতল উপত্যকার ধাপযুক্ত ভূমিভাগ বা কারেওয়া কৃষিকাজের জন্য বিখ্যাত
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
1. মৃত্তিকা সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলােচনা করাে
উত্তর : ভূমি বা মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করাই হল মৃত্তিকা ক্ষয় বা ভূমিক্ষয় রােধের যথাযথ পন্থা
নিম্নে আলােচনা করা হলাে
() যান্ত্রিক পদ্ধতি : () ঢালু জমিতে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়ােজনীয়
() সমােন্নতি রেখা ভিত্তিক বাঁধ নির্মাণ দরকার
() উঁচু-নীচু, ভূ-ভাগের সমতলীকরণ প্রয়ােজন
() জৈবিক পদ্ধতি : () ঢালু জমিতে তৃণভূমি তৈরী
() মরুভূমি প্রসার রােধে বায়ু প্রবাহের দিকে অরণ্য সৃষ্টি
() শস্যাবর্তন পদ্ধতির ব্যবহার মৃত্তিকা ক্ষয়ের রােধে সাহায্য করে
() পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়ােজন
() সামাজিক বণসৃজন এবং বনমহােৎসব পালনের মাধ্যমে মৃত্তিকা রােধের ব্যবস্থা
() বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : () স্থানান্তর কৃষি বা ঝুম চাষের বিলােপসাধন অত্যাবশকীয়
() পার্বত্য বা উচ্চভূমি অংশে ধাপ বা সােপান কৃষির প্রচলন
() স্বল্পোন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়ােগ
() সরকারি উদ্যোগে গবেষণাকেন্দ্র (দেরাদুন, আগ্রা, যােধপুর) স্থাপন
() প্রচার মাধ্যম দ্বারা জনসচেতনতার বৃদ্ধি
ভূ-বিজ্ঞানী বিনেটের মতে সর্বোচ্চ বা জাতীয় স্তরে ভূমি সংরক্ষণের জন্য কৃষিজমির বৈজ্ঞানিক ব্যবহার ও উপযুক্ত ভূমি ব্যবহার বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. সামাজিক বনসৃজন বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : কৃষি ও সামাজিক পদ্ধতিতে গাছের চারা রােপণ করে নতুন বনভূমি সৃষ্টি করা হয়, তাকে সামাজিক বনসৃজন বলে
এর ফলে স্থানীয় বন সম্পদের জোগান বজায় রাখা যায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে
গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক
2. কৃষি বনসৃজন কাকে বলে ?
উত্তর : বিজ্ঞানী ফোলে ও বানার্ড-এর মতে, কৃষক তার কৃষিজমি বা পতিত জমিতে ফসল উৎপাদনের সঙ্গে কাঠ, ভেষজ ওষুধ, ফলমূল ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য গাছ ও লতা গুল্ম রােপন করে যে বনভূমি গড়ে তােলে, তাকে কৃষি বনসৃজন বলে
3. সিলভিকালচার কী?
উত্তর : পার্বত্য অঞ্চলে বাণিজ্যিক হারে কাঠের সরবরাহ বর্জ্য রাখার জন্য যখন বিশাল অঞ্চল জুড়ে বনভূমি তৈরি করা হয়
তাকেই সিলভিকালচার বলে
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা ( বা ) কী ?
উত্তর : বনসৃজন এবং বনভূমির সংরক্ষণের জন্য রাজ্যের বন দফতর ও স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণকে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বলে
এই প্রকল্প অনুসারে অরণ্যের আদিবাসীরা অরণ্যকে পশুচারণ ও দাবানলের হাত থেকে রক্ষা করেন, তবে বনভূমির জমি স্থানান্তরের অধিকার তাদের নেই
পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার আড়াআড়ি গ্রামে প্রথম যৌথ বন ব্যবস্থাপনা রূপায়িত করা হয়
2. সামাজিক বনসৃজন এবং কৃষি বনসৃজনের পার্থক্যগুলি লেখাে
উত্তর : সামাজিক বনসৃজন এবং কৃষি বনসৃজনের মধ্যে পার্থক্য -
ভারতের কৃষি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. শস্যাবর্তন কাকে বলে?
উত্তর : কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বছরের বিভিন্ন সময় অথবা বিভিন্ন বছরে ভিন্ন প্রকার কৃষি ফসল উৎপন্ন করে জমির সাধারণ উর্বরতা শক্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, তাকে শস্যাবর্তন বলে
2. জায়িদ শস্য কী?
উত্তর : শীতের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে যে ফসল চাষ করা হয় এবং বর্ষার পূর্বে ফসল কাটা হয়, তাকে জায়িদ শষ্য বলে
যেমন - শশা, তরমুজ ইত্যাদি
3. বাগিচা কৃষি কী?
উত্তর : পৃথিবীর ক্রান্তীয় ও উপক্ৰান্তীয় অঞ্চলের বিশেষ কতকগুলি স্থানে উপযুক্ত ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে ছােটো, বড়াে ও মাঝারি বাগান তৈরি করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে কৃষিকার্য করা হয়, তাকে বাগিচা কৃষি বলে
উদাহরণ - চা ও কফি হল বাগিচা ফসল
রপ্তানি বা বাণিজ্যের জন্যই এই প্রকার কৃষিকার্য করা হয়
4. অর্থকরী ফসল কাকে বলে?
উত্তর : নিজ বা পরিবারের ব্যবহারের জন্য নয়, বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে যে ফসল উৎপাদন করা হয় তা হল অর্থকরী ফসল
যেমন - পাট, আখ, কার্পাস ইত্যাদি
5. চা-এর শ্রেণিগুলি লেখাে
উত্তর : চা হল ক্যাফিনযুক্ত মাদক বর্জিত মৃদু উত্তেজক পানীয়
বিভিন্ন ধরনের চাগুলি হল : () কালাে সেঁকা চা - ভারতে এটি জনপ্রিয়
() সবুজ চা-চিনে জনপ্রিয়, () ইস্টক চা-রাশিয়ায় জনপ্রিয়
() ওলং চা - তাইওয়ানে জনপ্রিয়
6, টেন' কী?
উত্তর : প্রথমবার আখ কাটার পর আখের যে চারা জন্মায়, তাকে বলা হয় রেটুন
আখ ভারতে রেটুন হিসাবে প্রধানত উৎপন্ন হয়
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষি তথা গম চাযের উন্নতির কারণগুলি লেখাে
উত্তর : এই অঞ্চলে কৃষি তথা গম চাষের উন্নতির কারণগুলি লেখাে-
() বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা : সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উর্বর পলিমাটি কৃষির উন্নতির অন্যতম কারণ
() ভাকরা-নাঙ্গল প্রকল্প : এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে 14.6 লক্ষ হেক্টর
জমিতে জলসেচ সম্ভবপর হয়েছে
() উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার : উচ্চ ফলনশীল গমবীজ, যেমন- সােনারা-64, কল্যাণ সােনা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়
() আধুনিক কৃষি পদ্ধতি : আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সাথে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার করা হয়
সুলভ শ্রমিকের অভাব হয় না
() চাহিদা : মানুষের খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার হওয়ায় বিপুল চাহিদা এই অঞ্চলে
2. ভারতীয় কৃষির সমস্যাগুলি আলােচনা করাে
উত্তর : ভারতের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় কৃষি পদ্ধতি বর্তমানে প্রাচীন ও অনুন্নত
ভারতীয় কৃষি সমস্যাগুলি হল - () যথাসময়ে জলের অভাব, জমির উর্বরতা শক্তির অভাবে হেক্টর প্রতি উৎপাদন কম
() ভারতের কৃষি জোতগুলি আয়তনে ক্ষুদ্র ও অখণ্ডিত কৃষি-জোত
() প্রাকৃতিক দুর্যোগ
() কৃষিতে প্রাচীন পদ্ধতির প্রচলন
() যথেচ্ছ বনভূমি ধ্বংসের ফলে ভূমিক্ষয় অধিক
() সীমিত জলসেচ
() সর্বোপরি ভারতীয় কৃষকদের শিক্ষার অভাব থাকায় বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করা সম্ভবপর হচ্ছে না
3. দক্ষিণ ভারতে কফি চাষের উন্নতির কারণ কী?
উত্তর : দক্ষিণ ভারতের কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলে কফি চাষ উন্নতিলাভ করেছে
কারণ - () দক্ষিণ ভারতের গড় উয়তা (18°-28°) কফি চাষের আদর্শ
() 140-200 বৃষ্টি হয় যা কফি চাশের ক্ষেত্রে উপযােগী
() দক্ষিণ ভারতের মাটি লােহা, পটাশ, নাইট্রোজেন ও হিউমাস সমৃদ্ধ হওয়ায় কফি চাষ ভালাে হয়
() কফি চাষের অনুকুল ভূ-প্রকৃতি দক্ষিণ ভারতে বিদ্যমান
() তুষারপাত না হওয়ায় দক্ষিণ ভারত কফি চাষের আদর্শ অঞ্চল
4. সবুজ বিপ্লবের সুফলগুলি কী কী?
উত্তর : কৃষি বিজ্ঞানী নরম্যান বােরলােগ ও ভারতীয় কৃষিবিজ্ঞানীদের সহায়তায় কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত
সবুজ বিপ্লবের ফলে () শস্য উৎপাদন বিশেষত গমের উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে
() শস্যাবর্তন পদ্ধতির প্রয়ােগে শুরু হয়
() নতুন করে ভারতীয় কৃষির ভিত্তি স্থাপন হয়
() উন্নতসার, কীটনাশক প্রয়ােগে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
() ভূমি সংস্কার ও পরিকাঠামােগত উন্নতি সাধন হয়