content stringlengths 0 129k |
|---|
আমাকে বাগানে কাজ দেওয়ার কথা বললেও সেটা দেওয়া হয়নি |
পাঠানো হয়েছিল বাসাবাড়িতে |
ওই বাড়িতে এক নারী, তার তিন মেয়ে ও স্বামী থাকতো |
ভেবেছিলাম কোনও সমস্যা হবে না |
কয়েকদিন কাজ করার পর দেখলাম ওই নারীই আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে |
একদিক খিদের কষ্ট, অন্যদিকে মারধর |
অত্যাচারটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় |
ওরা লাঠি দিয়ে মারতো না |
এমনভাবে অত্যাচার করতো যেন শরীরে কোনও দাগ না পড়ে |
কীভাবে বিদেশ গেলেন জানতে চাইলে আসমা বলেন, 'বান্ধবী নাজমার স্বামী জাহিদের মাধ্যমে পরিচয় হয় ইমরান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে |
জাহিদের কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করি |
তার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা আসি |
সে আমাকে সৌদি আরবে ভালো বেতনে কাজের প্রলোভন দেখায় |
কথাবার্তার একপর্যায়ে আমাকে আগারগাঁও নিয়ে পাসপোর্ট করিয়ে দেয় সে নিজেই |
এজন্য তাকে ১৫ হাজার টাকাও দেই |
যেদিন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার তারিখ সেদিন আমি আসি |
আমাকে সামনে রেখে সে পাসপোর্টটি নেয় |
এরপর সেটা তার কাছে রেখে দেয় |
বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে ইমরান আমাকে কিছু বলে না |
শুধু বলে, সময় লাগবে |
করোনার কারণে দেরি হচ্ছে |
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে আমাকে হঠাৎ একদিন ফোন দিয়ে বলে ভিসা হয়েছে |
দুদিন পর ফ্লাইট |
এজন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে |
পরিবার থেকে বাধা দেওয়ার কারণে আমি যেতে না চাওয়ায় আমাকে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ার জন্য তার দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে |
সেই টাকা দিতে হবে |
না দিলে আমাকে বিদেশে যেতেই হবে |
পরে ভেবেচিন্তে যেতে রাজি হই |
এ বিষয়ে র্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, যারা মানবপাচারে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি রয়েছে |
বেশ কয়েকটি চক্রকে গ্রেফতার করেছি |
তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি চক্র নজরদারিতে আছে |
যারা পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে রয়েছেন তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে |
তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে আমাদের |
উল্লেখ্য, আসমাকে ফাঁদে ফেলে সৌদি আরবে যেতে বাধ্য করা সেই ইমরানকেও গ্রেফতার করেছে র্যাব |
মানবপাচারের মামলায় সে এখন কারাগারে আটক আছে |
ডিআইজি মোজাম্মেল হক আরও বলেন, মূলত সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নবিত্ত নারীদের টার্গেট করে পাচারকারীরা এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে |
বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকারি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিলে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারবে তারা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছে কিনা |
'তোকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কিনে এনেছি, আমার পাঁচ লাখ টাকা যতদিন না উঠবে, ততদিন তোর রক্ষা নাই |
' কাজের সন্ধানে যাওয়া বাংলাদেশি এক নারীকে এভাবেই হুমকি দিয়ে কাজ করিয়েছেন সৌদি আরবে নারী পাচার চক্রের এজেন্ট বোরহানউদ্দিন |
অভিযোগ ভুক্তভোগী এক নারীর |
বোরহানের কথামতো না চললে দেওয়া হতো ইলেকট্রিক শক |
এ ছাড়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তো আছেই |
সৌদি আরবে কাজের সন্ধানে গিয়ে পাচার চক্রের খপ্পরে পড়েও সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন আসমা (ছদ্মনাম) |
তার ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের বিস্তারিত তিনি তুলে ধরেছেন কাছে |
আসমা বলেন, 'গিয়েছিলাম একটু ভালো থাকার জন্য |
একটু ভালো খেতে আর টাকা উপার্জন করতে |
কিন্তু সেই বিদেশ আমার কাল হয়ে দাঁড়ালো |
সৌদি আরবে যে বাসায় কাজ করেছি সেই বাসার মালিক আমাকে খাবার দিতো একবেলা |
মাঝে মধ্যে সেটাও দিতো না |
খাবার চাইলেই চলতো নির্যাতন |
ফ্লোরে ফেলে আমাকে পা দিয়ে পিষতো, লাথি দিতো |
এসব বিষয়ে এজেন্টের সদস্যদের কাছে জানানো হলে উল্টো তারাও চালাতো নির্যাতন |
বেশ কয়েকবার আমাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে |
এ বছরের সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ বাসাবাড়িতে কাজের কথা বলে আসমাকে সৌদি আরবে পাঠায় পাচার চক্রের এজেন্ট |
র্যাবের সহায়তায় গত ২৭ অক্টোবর ওই ভুক্তভোগী নারী সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরেছেন |
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের মানবপাচারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গত গ্রেফতার করে র্যাব |
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, 'ওই সৌদি মালিক নিজে নারী হলেও আমার ওপর এমন নির্যাতন চালাতো |
পরে সেখান থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় অন্য এক বাসায় |
সেখানেও দেওয়া হতো ইলেকট্রিক শক |
ওখানে আরও পাঁচ জন মেয়ে ছিল |
তাদের ইনজেকশন দিতেও দেখেছি |
এজেন্টের কথামতো কাজ না করলে শারীরিক নির্যাতন লেগেই থাকতো |
আমাকে বাগানে কাজ দেওয়ার কথা বললেও সেটা দেওয়া হয়নি |
পাঠানো হয়েছিল বাসাবাড়িতে |
ওই বাড়িতে এক নারী, তার তিন মেয়ে ও স্বামী থাকতো |
ভেবেছিলাম কোনও সমস্যা হবে না |
কয়েকদিন কাজ করার পর দেখলাম ওই নারীই আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে |
একদিক খিদের কষ্ট, অন্যদিকে মারধর |
অত্যাচারটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় |
ওরা লাঠি দিয়ে মারতো না |
এমনভাবে অত্যাচার করতো যেন শরীরে কোনও দাগ না পড়ে |
কীভাবে বিদেশ গেলেন জানতে চাইলে আসমা বলেন, 'বান্ধবী নাজমার স্বামী জাহিদের মাধ্যমে পরিচয় হয় ইমরান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে |
জাহিদের কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করি |
তার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা আসি |
সে আমাকে সৌদি আরবে ভালো বেতনে কাজের প্রলোভন দেখায় |
কথাবার্তার একপর্যায়ে আমাকে আগারগাঁও নিয়ে পাসপোর্ট করিয়ে দেয় সে নিজেই |
এজন্য তাকে ১৫ হাজার টাকাও দেই |
যেদিন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার তারিখ সেদিন আমি আসি |
আমাকে সামনে রেখে সে পাসপোর্টটি নেয় |
এরপর সেটা তার কাছে রেখে দেয় |
বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে ইমরান আমাকে কিছু বলে না |
শুধু বলে, সময় লাগবে |
করোনার কারণে দেরি হচ্ছে |
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে আমাকে হঠাৎ একদিন ফোন দিয়ে বলে ভিসা হয়েছে |
দুদিন পর ফ্লাইট |
এজন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে |
পরিবার থেকে বাধা দেওয়ার কারণে আমি যেতে না চাওয়ায় আমাকে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ার জন্য তার দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে |
সেই টাকা দিতে হবে |
না দিলে আমাকে বিদেশে যেতেই হবে |
পরে ভেবেচিন্তে যেতে রাজি হই |
এ বিষয়ে র্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, যারা মানবপাচারে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি রয়েছে |
বেশ কয়েকটি চক্রকে গ্রেফতার করেছি |
তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি চক্র নজরদারিতে আছে |
যারা পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে রয়েছেন তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে |
তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে আমাদের |
উল্লেখ্য, আসমাকে ফাঁদে ফেলে সৌদি আরবে যেতে বাধ্য করা সেই ইমরানকেও গ্রেফতার করেছে র্যাব |
মানবপাচারের মামলায় সে এখন কারাগারে আটক আছে |
ডিআইজি মোজাম্মেল হক আরও বলেন, মূলত সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নবিত্ত নারীদের টার্গেট করে পাচারকারীরা এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে |
বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকারি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিলে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারবে তারা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছে কিনা |
অপরাধ-পরিক্রমা |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.