content stringlengths 0 129k |
|---|
বর্তমানে শারমিন ও তার মেয়ে ভালো আছেন |
কিন্তু করোনা-আক্রান্ত হলে তাদের ঘিরে যে উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছিল, তা বর্ণনাতীত বলে জানান শারমিন |
তিনি বলেন, 'করোনার আগেই আমি গর্ভধারণ করি, কিন্তু করোনা মহামারিতে ডেলিভারি হবে বলে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম |
শেষ পর্যন্ত করোনা থেকে রেহাই পাইনি |
ওই সময় সারাক্ষণ মনে হতো, আমি ও আমার সন্তান শেষ পর্যন্ত হয়তো কেউই বাঁচব না! এ সময় গর্ভবতী মা হিসেবে তাকে যেভাবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, তা তার পরিবারের অন্যদেরও দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় |
তাই নিজের অভিজ্ঞতায় বলছি, এ সময় যারা গর্ভধারণ করবেন বলে ভাবছেন, তারা যেন তা থেকে বিরত থাকেন |
' শারমিন নাহার তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জেনেছেন এবং বিশ্বজুড়েও চিকিৎসকরা বলছেন, 'করোনাকালে নতুন করে গর্ভধারণ নয় |
এ সময় কন্ট্রাসেপ্টিভ ব্যবহার করতে হবে এবং অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে |
চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভধারণকালে একজন গর্ভবতী মায়ের এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় |
করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কমে যায় |
এ সময় তাদের সাধারণত আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়াম ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ সেবন করতে দেওয়া হয় না |
যদি এ সময় গর্ভবতী মায়েরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন, তাহলে তাদের যেসব ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে, সেগুলো মা ও গর্ভস্থ ভ্রুণের জন্য কতটা নিরাপদ হবে বা তার ফলাফল কী হবে, তা এখনও জানা যায়নি |
সবকিছু একটা ট্রায়ালের মধ্যে আছে |
ফলে করনাকালে গর্ভধারণ আক্ষরিক অর্থেই ঝুঁকিপূর্ণ |
এই ঝুঁকির বিষয়গুলো জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা গবেষণা করছে |
গত ৭ মে ইউনিসেফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, বাংলাদেশে কভিড-১৯ মহামারি চলাকালে আনুমানিক ২৪ লাখ শিশুর জন্ম হবে এবং বৈশ্বিকভাবেও আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর জন্ম হবে |
গত ১১ মার্চ কভিড-১৯ মহামারি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ৪০ সপ্তাহের মধ্যে এসব শিশুর জন্ম হওয়ার কথা রয়েছে |
এই মহামারির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা চাপের মুখে এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে |
এরই মধ্যে এসব শিশুর জন্ম আলাদা এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করেছে, যা নবজাতকদের জন্য জীবনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে |
ইউনিসেফ বলছে, প্রসূতি মা ও নবজাতকরা করোনাকালে রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন হবে |
বিশ্বজুড়ে লকডাউন ও কারফিউয়ের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ ও মহামারি সামলাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ধাত্রীসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কভিড-১৯-এর সেবাদানে নিয়োজিত হওয়ায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি থাকবে |
এসব কথা বিবেচনা করেই বিশ্বজুড়ে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন বহু চিকিৎসক |
এদেশেও করোনাকালে গর্ভধারণ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিষয়ক চিকিৎসকরা |
তারা এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন |
গর্ভধারণকালে যে কোনো ভাইরাল ইনফেকশনে ঝুঁকি থাকে |
এ সময় ভ্রুণ যখন মায়ের গর্ভে তৈরি হতে থাকে, তখন নানা জটিলতা হতে পারে এবং ভ্রুণ ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে |
এজন্য করোনা সংক্রমণ চলাকালে অন্তত আগামী ছয় মাস গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকা উচিত |
যাদের প্রয়োজন নেই, তাদের অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে |
করোনার এ দুর্যোগে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা অসাবধানতা আমাদের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে |
এ সময় ঝুঁকি নিয়ে হোম ডেলিভারিও ভয়ের বিষয় |
আবার অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ থেকে বাঁচতে যে কোনো ওষুধ খেয়ে বাড়িতে গর্ভপাত করানোও খুবই বিপজ্জনক |
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এ দুর্যোগের সময় গর্ভপাতের হারও বেড়ে গেছে এবং এ ধরনের ঘটনার কারণে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে |
এতে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে |
করোনাকালে গর্ভধারণের ঝুঁকি ও চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের পরামর্শ এবং গাইডলাইন আমাদের সবার মেনে চলা উচিত |
জনসচেতনতা তৈরিতে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও এ বিষয়ে কাজ করছে |
পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে কাজ করছে |
দেশে গত কয়েক বছরে মাতৃমৃত্যু কমেছে |
করোনাকালে তা যেন আবারও বেড়ে না যায়, সেদিকে আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে |
তবে অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিকল্পিত গর্ভধারণ হলে দেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে |
করোনা-আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত আরলি প্রেগনেন্সিজনিত বিভিন্ন জটিলতা ও ত্রুটিতে ভোগেন |
এমনকি এতে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হওয়ারও আশঙ্কা থাকে |
মায়ের যদি শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য নানা সমস্যা থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে করোনাকালে গর্ভধারণের ব্যাপারে বিশেষভাবে সাবধান হওয়া উচিত |
তথাপি এ সময় গর্ভবতী মায়েদের বাড়ি থেকে বের না হওয়াই ভালো |
খুব বেশি সমস্যা না হলে নিয়মিত চেকআপও বন্ধ রাখা যেতে পারে বা ফোনে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে |
তবে গর্ভধারণের ২০, ২৮, ৩২ এবং ৩৬ সপ্তাহের সময় যথাযথ নিয়ম মেনে চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করিয়ে নেওয়া জরুরি |
কভিড-১৯-আক্রান্ত গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জরুরি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যে গাইডলাইন বা নির্দেশনা রয়েছে, তা অবশ্যই গর্ভবতী মায়েদের জানা থাকা প্রয়োজন |
এ সময় গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলা উচিত |
করমর্দন ও কোলাকুলি করা থেকে এ সময় বিরত থাকা উচিত |
সবার কাছ থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করার বিষয় মেনে চলতে হবে তাদের |
পরিবারের সবাইকে বারবার কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবানপানি দিয়ে হাত ধুতে হবে |
হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে |
টিস্যু, রুমাল অথবা কনুইয়ের ভাঁজে হাঁচি-কাশি দেওয়ার অভ্যাস মেনে চলতে হবে |
যেখানে-সেখানে কফ-থুতু কোনোভাবেই ফেলা যাবে না |
সাবান দিয়ে প্রতিদিনের পরিহিত কাপড় ধুয়ে ফেলতে হবে |
ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করা খাবার খেতে হবে |
গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক চেকআপ আপাতত বন্ধ রাখলেও খুব সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সমাধান নিতে হবে |
আয়রন, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম বড়ি ও পুষ্টিকর খাবার নিয়মিতভাবে খেতে হবে |
কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে অথবা করোনার লক্ষণ বা উপসর্গগুলো দেখা দিলে গর্ভবতী মাকে দ্রুত কলসেন্টারে (১৬২৬৩ বা ৩৩৩ নম্বরে) যোগাযোগ করতে হবে |
এসব সরকারি সেবার আওতায় জনসেবার জন্য নিবেদিত নম্বর |
১৪ দিন নিজগৃহ বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে |
সব সময় মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে সাবানপানি দিয়ে হাত ধুতে হবে |
বেশি করে ভিটামিন সি ও তরলজাতীয় হালকা গরম পানীয় গ্রহণ করতে হবে |
প্রতিদিনের পরিহিত কাপড় ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে |
পরিবারের সবার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে |
করোনাকালে গর্ভবতী মায়ের পাশাপাশি নবজাতকেরও বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিতে হবে |
নবজাতককে সবার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে |
চুমু দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে |
করোনায় আক্রান্ত মা বা নবজাতককে মায়ের দুধ খাওয়ানো যাবে, তবে মা অবশ্যই ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে মাস্ক পরে শিশুকে দুধ খাওয়াবেন |
আবার মা বেশি অসুস্থ হলে মায়ের দুধ বের করে বাটি-চামচেও খাওয়াতে পারেন |
এটিও নিরাপদ হবে |
প্রয়োজনে অন্য মায়ের দুধও খাওয়ানো যাবে |
সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে |
আমাদের সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সচেতনতা আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে আমাদের গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের সুরক্ষিত রাখবে এ করোনাকালে |
! |
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | আরও খবর |
বিশ্বে করোনায় আরও ৫ হাজারের বেশি মৃত্যু |
একই পরিবারের ৯ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত |
বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে |
জার্মানি ও ইতালিতে 'ওমিক্রন' শনাক্ত |
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৫২ লাখ ছাড়ালো |
লিভার সিরোসিস কীভাবে হয়, বাংলাদেশে চিকিৎসা কতটা আছে? |
মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমোদন পেলো বঙ্গভ্যাক্স |
শিগগির আরও ২০ হাজার নিয়োগ স্বাস্থ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী |
. * |
, , . |
সর্বশেষ সংবাদ |
সর্বাধিক পঠিত |
র্যাব সদর দফতরে চিত্রনায়ক ইমন |
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নুৎপাতে মৃত্যু বেড়ে ৩৪ |
পুষ্টি উদ্যোগে বাধা করোনা, প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব |
৮৭ রানে অলআউট বাংলাদেশ |
নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল ৪ জনের |
বিনা ভোটের চেয়ারম্যান হচ্ছেন আরো ৪০ জন |
আবরার হত্যা মামলার রায় আগামীকাল |
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবরে মাহি বললেন, 'আলহামদুলিল্লাহ' |
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর |
দুই-চার দিনের মধ্যেই দেশে টিকা উৎপাদনে চুক্তি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী |
নোয়াখালীর ২ পৌরসভা ও ৯১ ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উপহার গণটিকা প্রদান |
আনন্দ র্যালী, বৃক্ষ রোপন, চক্ষু শিবিরসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.