label stringclasses 16
values | text stringlengths 3.73k 6k | is_valid bool 1
class |
|---|---|---|
shorotchandra | আমার এখানে আপনি সুখে ছিলেন না, সে আমি জানি সুরেশবাবু। নিজের গৃহে এবার এইটেই যেন দূর হয়, আমি কায়মনে আশীর্বাদ করি। সুরেশ কোন কথাই কহিল না, কেবল আর-একবার হেঁট করিয়া প্রণাম করিয়া গাড়িতে গিয়া বসিল। রামবাবু আর একদফা আশীর্বাদ করিয়া উচ্চৈঃস্বরে জানাইয়া দিলেন যে, তিনিও একখানা এক্কা আনিতে বলিয়া দিয়াছেন। হয়ত বা বেলা পড়িতে না পড়িত... | false |
humayun_ahmed | রাতে নিশ্চয়ই এমন কিছু হয়েছে, যার জন্যে আজ ফিহার গলায় এরকম নরম সুর। নিকি চেয়ারে বসতে বসতে বলল, কী হয়েছিল ফিহা! ভূতটা কি আপনাকে ভয় দেখিয়েছিল? না, ভয় দেখায় নি। বরং খুব সম্মান করে কথা বলেছে। বলেছে, এই যে চারিদিকে রব উঠেছে মহাসংকট, মহাসংকট–এসব কিছু নয়। শুধুমাত্র পৃথিবীর ডাইমেনশন বদলে যাবে, আর নতুন ডাইমেনশনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ... | false |
toslima_nasrin | খুন করবে ঠাত্তা মাথায়। মৌলবাদী যৌগবাদী দু জাতের পুরুষই করবে, করবে এবং করবেই। তারা করেছে অতীতে, এখনও করছে, এবং ভবিষ্যতেও করবে। ততদিন অবধি করবে যতদিন না পুরুষদের পায়ের তলায় পিষে মারা না হয়। যতদিন না তাদের দম্ভকে গুঁড়া করা না হয়। তাদের পৌরুষকে ছিঁড়ে টুকরো করে ঘৃণায় এবং অবত্তায় ছুড়ে ফেলা না হয় দুর্গন্ধ ডোবায়। হাসিনা নারী। ... | false |
humayun_ahmed | চলুন যাই। চলুন যাই বলেও কালাম সাহেব বসে রইলেন। আমি বললাম, আপনার সমস্যাটা কি বলুন তো? কোন সমস্যা নাই। আমার ধারণা। আপনি দুই লাখ টাকাটা ফিরত দিতে চান। এবং আপনি টাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ধারণাটা কি ঠিক? জি ধারণা ঠিক। টাকা সঙ্গে আছে? আছে। তিন শ টাকা শুধু খরচ করেছি। আমি হাই তুলতে তুলতে বললাম, চলুন চা খাবার পর আপনাকে থানায় দিয়... | false |
humayun_ahmed | কি চলে যাব? চলে যাওয়াটাই তো উচিত। নাকি আরো কিছু বলতে চান? জ্বি না। প্রেসক্রিপশানে লেখা আপনার শ্বাসকষ্টটা রাতে হয়, যে রাতে কষ্টটা হয় সেই রাতে কি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে আপনার ঝগড়া হয়? কিংবা সেই দিন অফিসে বসের সঙ্গে ঝগড়া? মনে করে দেখুন তো? তৌহিদ বলল, আমার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। আরে ভাই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া তো আমার রোজই হয়, তাই... | false |
robindronath | মধ্যে এত বয়সের তারতম্য কোনো হৃদয়সম্পন্ন মনুষ্য সহ্য করিতে পারে না—বিশেষতঃ সমাজসংস্কারই যাহাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য, হৃদয়ের প্রধান আশা, অবকাশের প্রধান ভাবনা, কার্যক্ষেত্রের প্রধান কার্য, তাহারা সমাজের এ-সকল অন্যায় অবিচার কোনো মতেই সহ্য করিতে পারে না। ইহা সংশোধনের জন্য, এ প্রকার অন্যায়রূপে বিবাহিত স্ত্রীলোকদিগের কষ্ট ... | false |
humayun_ahmed | আমি তাকে ফুটপাতে শুইয়ে দিলাম। মাথার নিচে ইটজাতীয় কিছু দিতে পারলে ভালো হতো । ইট দেখছি না । ‘হিমু ভাই।’ ‘জি?’ ‘রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষদের কষ্ট দিতে এতো ভালোবাসে কী জন্যে? তারা রজনীতি করেন— আমরা কষ্ট পাই । এর কারণ কী?’ ‘রাজনীতি হলো রাজাদের ব্যাপার—বোধহয় এজন্যেই । রাজনীতি বাদ দিয়ে তাঁরা যখন জননীতি করবেন তখন আর আমাদের... | false |
shordindu | নিম্নে বক্তার বেদী সহজেই দেখা যায়। বৈতালিকের গান শেষ হইল। সঙ্গে সঙ্গে ঘোর রবে দুন্দুভি বাজিয়া উঠিয়া সভাগৃহ-মধ্যে তুমুল ধ্বনি-তরঙ্গের সৃষ্টি করিল। তারপর— সভা একেবারে শান্ত হইয়া গিয়াছে, পাতা নড়িলে শব্দ শোনা যায়। কালিদাস বেদীর উপর বসিয়াছেন, সম্মুখে উন্মুক্ত পুঁথি। তিনি একবার প্রশান্ত চক্ষে সভার চারিদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি... | false |
humayun_ahmed | ক্ষুধার কারণে অনেক সময় মাথা ধরে। পরী বলল, আমি আপনার ভাইয়ের সঙ্গে দুটা কথা বলব। মাসুদের সঙ্গে কথা বলতে চাও? জি। ওর সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। তুমি তো জানোই বাবা কেমন রাগী মানুষ, উনি মাসুদকে তালাবন্ধ করে রেখেছেন। বাবার রাগ কমার সময় দিতে হবে। উনার রাগ কমবে? নিজ থেকে কমবে না। কমাবার চেষ্টা করতে হবে। আমি চেষ্টা করব। তুমিও চেষ... | false |
humayun_ahmed | পেন্সিল কামড়াতেই থাকবে। একটা অংকও করতে পারবে না! অংক মিস একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন– কত? মোটা-মিঠু বলেছিল–. লুতপাইন থাকলে কী করত? সেও পেন্সিল কামড়াতে, তবে সব অংক শেষ করে তারপর। মেয়েটার অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সব অংক শেষ হলেও সে কখনো হাত তুলে বলবে না মিস আমি অংক সবগুলি করে ফেলেছি। তার নাকি ম্যাডামদের সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কথা বল... | false |
shomresh | এখানে ঢুকতে পারবে না, শুধু বাথরুমের ওই জানলাটা ছাড়া। বড্ড পলকা, জোরে ধাক্কা দিলেই ভেঙে যাবে। অর্জুন সেদিকে উঁকি মেরে দেখল অনেক নীচে রাস্তা। অর্থাৎ এদিক দিয়ে ওপরে উঠে আসার কোনও পথ নেই। মিস্টার আলাম্বাকে আশ্বস্ত করল সে। বাইরের ঘরের সোফায় শুয়ে পড়া পছন্দ করল অর্জুন। মিস্টার আলাম্বার এতে আপত্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত তর্ক না করে ... | false |
MZI | এগারোটা মাকড়শা, সাত শ’ তেরোটা চিনে জোক, নয় শ” উনিশটা গুবরে পোকা— খুলে দেয়ার পর আমি জায়গাটা চিনতে পারলাম। স্কুলের পিছনে গাছপালা ঢাকা জঙ্গলের মতো জায়গাটা। সাপখোপের ভয়ে কেউ কখনো এখানে আসে না, টুকুনজিল যে কী ভাবে এখানে আমাকে রেখেছে কে জানে। তারিক বলল, তোকে কে এখানে এনে ফেলে রেখে গেছে? আমি বললাম, সব বলব তোদের, চল। তোরা আজকে... | false |
shirshendu | শচীন জানে, হেমকান্ত আপনভোলা লোক। বিষয়-আশয়ে মন নেই। তার ছেলেরা জমিদারিতে আগ্রহী নয়। জমিদারি হল ভাগের মা। হেমকান্তর সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যে হিস্যা তারা পাবে তা লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই তারা অন্যান্য কাজ কারবারে নেমে পড়েছে। শচীন আর-একটা ব্যাপারও বুঝতে পারছে। হেমকান্ত তাকে জামাই করতে চান সম্ভবত এই জমিদারি দেখাশোন... | false |
humayun_ahmed | দিবি? আয়, পাল্লা দিলে আয়। প্রথম থাইকা শুরু করি. হি-হিঁ-হি ভয় পাইছস? ভয় পাওনেরই কথা। বেশি ভয় পাওনের দরকার নাই। তোরে আমি কিছু বলব না! তোর বাচ্চাটারে শেষ করব। তুই মৌলানা মানুষ, তুই বাচ্চা দিয়া কী করবি? তুই থাকিবি মসজিদে। মসজিদে বইস্যা তুই তোর আল্লাহরে ডাকবি। পুলাপান না-থাকাই তোর জন্য ভােলা। হি-হি-হি। একটা ভয়ংকর রাত পার ক... | false |
shunil_gongopaddhay | কাছে অবশ্য এখনও অনেক লোক আছে। কিছু কিছু দোকান খোলা রেখেছে হ্যাজাক জ্বালিয়ে। বাজারের বাইরের রাস্তায় বসা তরকারিওয়ালারা চেঁচাচ্ছে, নিয়ে যান, শস্তায় পটল! শস্তায় ঝিঙে! দেড় টাকায় একটা লাউ, নিয়ে যান, নিয়ে যান! বাজার পেরিয়ে আরও খানিকটা যাওয়ার পর গগন সাহার বাড়ি। নতুন বাড়ি, দোতলা। পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, সামনে লোহার গেট। একতলা অন্ধকার... | false |
shottojit_roy | পাই। কোথায়? আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম, তার ঠিক বাইরেই প্রাইভেট গাড়ি দাঁড়বার জায়গা। মনে পড়ছে। হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি বলে উঠলাম। লালমোহনবাবু চুপ। লোকটা একটা নীল অ্যাম্বাসাডারে ওঠে। ড্রাইভার ছিল। পাঁচ-সাত মিনিট চেষ্টা করেও গাড়ি স্টার্ট নেয় না। লোকটা গাড়ি থেকে নেমে এসে ড্রাইভারের উপর তম্বি করে। কথা না শুনলেও, ভাবভঙ্গিতে সেটা পরি... | false |
shorotchandra | এতবড় সম্মানিত গরীয়সী নারী এ প্রদেশে আর কেহ নাই। সে সামান্য একজন রমণীর অত্যন্ত সাধারণ গৃহস্থালীর অতি তুচ্ছ আলোচনায় মুহূর্তের জন্যও আপনাকে বিহ্বল করিয়াছে মনে করিয়া লজ্জায় মরিয়া গেল। ঘরে আর কেহ নাই, ক্ষণকালের এতটুকু দুর্বলতা জগতে কেহ কখনো জানিবেও না, শুধু কেবল যে দেবীর সেবিকা সে, সেই চণ্ডীর উদ্দেশ্যে আর একবার যুক্তকরে নতশ... | false |
toslima_nasrin | হয়ে পায়ের ওপর, যেন সেজদা করছেন, ডুকরে কেঁদে ওঠেন। ছেলে হওয়ার শর্তে তিনি মাঝরাত কেন, সারারাতই জিকির করবেন। আমিরুল্লাহ দাড়ি থেকে হাত সরিয়ে আলেয়ার পিঠে রাখেন, কড়িকাঠ থেকে নামিয়ে আলেয়ার ঘোমটা খসে বেরিয়ে আসা চুলে চোখ রেখে বলেন আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, নিরাকার, সর্বশক্তিমান। তার আদি নেই, অন্ত নেই। তার পিতামাতা পুত্রকন্যা নেই। তি... | false |
shunil_gongopaddhay | একে তোলো, স্পিডবোটে নিয়ে চলো! রণবীর ভট্টাচাৰ্য বললেন, এই, তুই হারু দফাদারের দলে ছিল না? তাকে কে মেরেছে? লোকটি এবারে খানিকটা দম নিয়ে পরিষ্কার গলায় বলল, তারে মেরেছি আমি। সেই কুত্তার বাচ্চা নিমকহারাম, সে ছিল আমার প্রাণের বন্ধু, এক সাথে কত কাজ করেছি, আর সেই হারু দফাদার কিনা আচমকা আমার পেটে গুলি চালালে! আমিও তারে ছাড়ি নাই, ... | false |
shomresh | ও হাত বাড়িয়ে দিল, অনি! নিজের নামটা রেতিমার গলায় শুনে অদ্ভুত সুখে অনিমেষের সমস্ত শরীরে একটা কাঁপুনি এসে গেল। ও চট করে রেতিয়ার বাড়ানো হাত দুটো ধরতেই বুকের গভীরে দ্রুত-হয়ে-ওঠা মোড়টা ঝরঝর করে দুচোখ থেকে কান্না হয়ে ঝরে পড়ল। ও কোনো কথা বলতে পারছিল না। নেতিয়া যেন এরকমটা আশা করেনি, ও অনিমেষের হাত ধরেই জিজ্ঞাসা করল, অনি। এবার হ... | false |
shomresh | পাবলিককে বুঝিয়ে বোকা বানাতে চাইছে। আমার তা মনে হয় না। মনে হয় না? না। পুলিশ সত্যি মনে করছে আকাশলালের মৃতদেহ চুরি হয়ে গেছে। পুলিশের পক্ষে সবার নজর এড়িয়ে রাস্তার নীচে দিনের পর দিন ধরে সুড়ঙ্গ খোড়া সম্ভব নয়। তাহলে তুমি কাকে দেখে এলে? আমার কি দেখতে ভুল হয়েছে? বিড়বিড় করল স্বজন, শুয়ে থাকলে মানুষের চেহারা অবশ্য একটু অন্যরকম দেখ... | false |
nihar_ronjon_gupta | ঘুরতেই ও দেখতে পেল, উপরে উঠবার সিঁড়ি। আর কালবিলম্ব না করে টর্চটা নিভিয়ে অন্ধকারেই টিপে টিপে নিঃশব্দে ও উপরে উঠতে লাগল। উপরের তলাতেও ঠিক এমনি একটা বারান্দা। কোণের একটা ঘরের আধ-ভেজানো দরজার ফাঁক দিয়ে খানিকটা আলো এসে বারান্দায় পড়েছে। সুব্রত পা টিপে টিপে দরজাটা দিকে এগিয়ে গেল। কাদের কথাবার্তার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে যেন। সুব্র... | false |
shomresh | গাড়ি আর দাঁড়ায়নি। এখনও রাস্তা সুনসান। জলপাইগুড়ির ঘুম ভাঙতে একটু দেরি। রিকশাগুলো পথে নামেনি। চায়ের দোকানদার থানার বড়বাবুকে দেখে তৎপর হল। চায়ে চুমুক দিয়ে অর্জুন বলল, আঃ। প্রথম চা বেশ ভাল করে। অবনীবাবু চুমুক দিয়ে বললেন, কাল মাঝরাত পর্যন্ত সন্দীপ এবং ওর বন্ধুদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছি। কিন্তু কোনও প্রমাণ পাইনি। এস. পি. সা... | false |
humayun_ahmed | ভালো। হঠাৎ করে চলে গেলে! আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। রাগ করেন নি তো স্যার? আপনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসা উচিত ছিল। উচিত অনুচিত বিচার করে তো মানুষ সব সময় কাজ করতে পারে না। তোমার সেই মুহূর্তে চলে যেতে ইচ্ছা করেছে। তুমি চলে গিয়েছ। ভালো করেছ। আপনার কাছে তো টাকা ছিল না। ফুচকাওয়ালাকে কী বলেছেন? ঐটা কোনো সমস্যা হয় নি। যে ছ... | false |
shunil_gongopaddhay | যাবে সবচেয়ে আগে, মাঝখানে কাকাবাবু, সবশেষে সন্তু। ডাগো একটা মোটা দড়ি আলগা করে জড়িয়ে দিল তিনজনের কোমরে। এখানে ক্রাচ নিয়ে গিয়ে কোনও লাভ নেই বলে কাকাবাবু সে-দুটো রেখে গেলেন বাইরে। সুড়ঙ্গটা ঢালু হয়ে নেমে গেছে নীচের দিকে। দুদিকের দেওয়ালে দুহাতের ভর দিয়ে বসে-বসে নামতে হয়। হাতের বেশ জোর লাগে। সন্তু ভাবল, নীচে নামবার কী অদ্ভুত ... | false |
toslima_nasrin | মধ্যে বাক্যের পর বাক্য টুকে নিয়েছি। বইটি আমাকে এমনই প্রভাবিত করেছে যে আমি পারিনি নিজেকে সুকুমারী থেকে মুক্ত করে নিজের আলাদা কোনও মত প্রকাশ করতে। সুকুমারী থেকে বেদের অনুবাদটুকুই নিতে পারতাম, কিন্তু তাঁর মন্তব্যও চুরি করতে গেলাম কেন! চুরি করতে গেলাম এই জন্য যে তাঁর মতের সঙ্গে আমার মত হুবুহু মিলে যায়। এমন সুন্দর ব্যাখ্যা ... | false |
tarashonkor | ন্যায়রত্ন বলিলেন—গৃহস্থকে আতিথ্য-ধর্ম পালনে ব্যাঘাত দিতে নাই। তারপর বিশ্বনাথকে বলিলেন—যাও ভাই, পণ্ডিতের বড় তৃষ্ণা পেয়েছে। বড় শ্ৰান্ত-ক্লান্ত ও… কিছুক্ষণ পরে ন্যায়রত্ন বলিলেন আমি সব শুনেছি পণ্ডিত। দেবু তাহার পায়ে হাত দিয়াই বসিয়াছিল; সে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া বলিল-আমি কি করব বলুন। ন্যায়রত্ন স্তব্ধ হইয়া রহিলেন। বিশ্বনাথ ... | false |
shordindu | ভ্রাতা কুমার কম্পনদেবকে প্রতিভূস্বরূপ পাঠাইয়াছেন। কুমার কম্পন রাজা অপেক্ষা বয়সে অনেক ছোট, সবেমাত্র যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াছেন, অতি সুন্দরকান্তি নবযুবক। রাজা এই ভ্রাতাটিকে অত্যধিক স্নেহ করেন, তাই তিনি বধূ-সম্ভাষণের জন্য নিজে না আসিয়া ভ্রাতাকে পাঠাইয়াছেন। কিল্লাঘাটের উচ্চতম সোপানে কুমার কম্পন অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়া নৌকার দিকে চাহিয়া ... | false |
shomresh | কিন্তু একই সঙ্গে আমি যে আপনার মনের কথাও জেনে যাব। সেটা কি আপনার ভাল লাগবে? না। লাগবে না। মাথা নাড়তে লাগলেন রামগোপালবাবু। তা হলে? আচ্ছা বাবা, এই বিদ্যে তুমি কোথায় আয়ত্ত করলে? স্বপ্নে। মাটি থেকে এক হাত ওপরে শরীরটাকে তুলে নিয়ে যেতে পারলেই দেখবেন মানুষের মনের কথা শুনতে পাচ্ছেন। সে তো শুনেছি যোগী-ঋষিরা পারেন। হ্যাঁ। আপনার শ... | false |
humayun_ahmed | অবশ্যই আপনি শুনতেন। মিসির আলি বললেন, তুমি তো যথেষ্ট আবেগ দিয়েই কথাটা বলেছ। এরচেয়ে বেশি আবেগ দিয়ে কীভাবে বলতে? সায়রা বলল, শৈশবের ঈদের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে যদি টপটপ করে চোখের পানি পড়ত তা হলে আপনি আমার কথায় রাজি হয়ে যেতেন। আপনি কাজ করেন। লজিক নিয়ে কিন্তু আপনার মধ্যে আবেগ অনেক বেশি। কথা বলতে—বলতে সায়রার হঠাৎ গলা ধরে গেল। ... | false |
shordindu | হতে লাগিল। সন্তোষবাবু তখন মীনার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তিনি নিজের দলের অতিবড় গুপ্তকথাগুলিও মীনার কাছে প্রকাশ করে ফেলতে লাগলেন। মীনা রঙ্গিণী মেয়ে হলেও নিজের দলের স্বার্থচিস্তা তার মনে ছিল, সে গুপ্ত সংবাদগুলি যথাস্থানে পৌঁছে দিতে লাগল। অবস্থাটা ভেবে দেখ, রাজনৈতিক কূটযুদ্ধ চলছে, ওদের গুপ্ত অভিপ্ৰায় আমরা কিছুই জানি ... | false |
shirshendu | খেলিতেছে। একটি প্রাচীন বাটির অভ্যন্তরে বহু বৎসরের পুরাতন কালদুষ্ট আবহাওয়ায় আমার আত্মা প্রতিপালিত হইয়াছে। ইহাই আমার পৃথিবী। কাছারিঘরের পিছনে অযত্নলালিত উদ্যানটির মধ্যে আমি প্রকৃতির লীলা প্রত্যক্ষ করিতাম। চাহিদা আমার বিশেষ নাই। পুত্রকন্যারা কেহ প্রতিষ্ঠিত, কেহ বিবাহিত। তাহাদের প্রতি দায়দায়িত্ব তেমন কিছু ছিল না, সম্পর্কও ... | false |
humayun_ahmed | দেখা যাচ্ছে। পিপি পিপ শব্দ হচ্ছে। আমি জয়নাল সাহেবের কপালে হাত রাখতেই তিনি জেগে উঠলেন। চোখ মেলে ক্লান্ত গলায় বললেন, হিমু ভাই আপনাকে বিরাট তকলিফ দিলাম। আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী। দয়া করে ক্ষমা করুন। ক্ষমা করলাম। আপনার মনে হয় কথা বলা নিষেধ। কথা না বলে চুপচাপ শুয়ে থাকুন। আমি বরং কিছুক্ষণ আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই... | false |
shirshendu | বসে থাকতে পারি না। তাই বুঝি? আজ আমি কেবল ঝগড়া করলাম। না। তা নয়। আপনার দুঃখ আমি বুঝি। ধন্যবাদ। কিন্তু বেশি বুঝতে যাবেন না। তাতে বিপদ বাড়বে। তার মানে? বোস সাহেবকে ঘাটানোর দরকার নেই। ও আমাকে চায় না। আমি বরং চলেই যাব। আপনি শুধু কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দিন ওকে বলে। আমার তো একটু ফুটিং চাই। সেই দোকানের কথা এখনও মাথা থেকে যায়ন... | false |
shirshendu | তুমি আমাকে আপনজন ভাবোনি। এ কথার জবাব দিলে বোধহয় ঝগড়া হবে। কিন্তু প্রীতম কোনওদিন ঝগড়া করেনি। তার সারাজীবনেই ঝগড়া বলে কিছু নেই। যদিও বা দু-চারবার সে কারও সঙ্গে ঝগড়া করেছে, প্রতিবারই গো-হারা হেরেছে। উত্তেজিত হলে তার মুখে কথা ফোটে না, মাথা গুলিয়ে যায়, শরীর ম্যালেরিয়া রোগীর মতো কাঁপতে থাকে। সে ভারী করুণ অবস্থা! প্রীতম তাই চ... | false |
zahir_rayhan | আমেনাকে ওর নিজের চেয়ে বড় মনে হলো আজ। শাহাদাত মৃদু গলায় বললো, দেখলে তো, কী যে স্বভাব পেয়েছে ও বুঝি না। দূরের কেউ তো নয়, আপন মায়ের পেটের ভাই, দরকার পড়েছে তাই হাত পাতবে। ভিক্ষে তো চাইছি না, ধার চাইছি। এতে অসম্মানের কি হলো? মাহমুদ চুপ করে রইলো। ওকে নীরব থাকতে দেখে শাহাদত আবার বললো, আরে ভাই, ওদের হচ্ছে হারামীর টাকা। ... | false |
tarashonkor | নজরবন্দি ছেলেটি বড় ভাল, বাপু। কামার-বউকে মা বলে। গায়ের ছেলেরাও ওর কাছে ভিড় জমিয়ে বসে থাকে। —বস তুমি। আমি আসি একবার যতীনবাবুর সঙ্গেই দেখা করে। পথে চণ্ডীমণ্ডপ হইতে ডাকিল শ্ৰীহরি। সেখানেও চারপাশে একটি ছোটখাটো ভিড় জমিয়া রহিয়াছে। দেবু অনুমানে বুঝিল, খাজনা আদায়ের পর্ব চলিতেছে। চৈত্র মাসের বারই-তেরই, ইংরাজি আটাশে মার্চ সরকার-... | false |
bongkim | জিজ্ঞাসা করিল, “বড় কাকা, কবে এলেন?” হরলাল বলিল, “কাল এসেছি। তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে |” রোহিণী শিহরিল; বলিল, “আজি এখানে খাবেন? সরু চালের ভাত চড়াব কি?” হ। চড়াও চড়াও। কিন্তু সে কথা নয়। তোমার এক দিনের কথা মনে পড়ে কি? রোহিণী চুপ করিয়া মাটি পানে চাহিয়া রহিল। হরলাল বলিল, “সেই দিন যে দিন তুমি গঙ্গাস্নান করিয়া আসিতে, যাত্রীদিগ... | false |
shorotchandra | কিন্তু এ-ও কি কপালের লেখা? তার মানে আপনি কখনো চেষ্টা করেন নি। তারকবাবু বলছিলেন, চেষ্টায় সমস্ত হয়, সব-কিছু সংসারে মেলে। এ কথায় রাখাল হাসিয়া বলিল, কিন্তু সেই চেষ্টাটাই যে কোন্ চেষ্টায় মেলে তাকে জিজ্ঞেসা করলে না কেন? তার জবাবটা হয়তো আমার কাজে লাগতো। শুনিয়া সারদাও হাসিল, বলিল, বেশ জিজ্ঞেসা করবো; কিন্তু এ কেবল আপনার কথার ঘ... | false |
humayun_ahmed | লাগল। তিথি বলল, কেন বিরক্ত করছিস? তুই আমাকে থ্রি থাউজেন্ড টাকা জোগাড় করে দিতে পারবি? না। এর জন্যে তুই আমাকে তোর পা ধরতে বলিস। আমি তোর পা ধরে বসে থাকব। টাকাটা আমার খুবই দরকার। দরকার হলে চুরি কর। ছিনতাই কর। কানে দুল পরে মেয়েরা যায়। ঐ দুল টান দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যা। তুই পাগল হয়ে গেলি তিথি? আমি ভদ্রলোকের ছেলে না? হ্যাঁ,... | false |
humayun_ahmed | কি হইয়া যায়, সে বুঝিতে পারে না; তবে হইয়া যায়। প্রথম দিনের কথা তাহার মনে পড়িয়া যায়। বুড়া শিবতলার সম্মুখেই দুর্গাসায়রের বাঁধাঘাটের ভাঙা রাণার উপর সে দাঁড়াইয়া ছিল—জলের তলে তাহার ছবি উল্টা দিকে মাথা করিয়া দাঁড়াইয়া জলের ঢেউয়ে আঁকিয়া-বাঁকিয়া লম্বা হইয়া যাইতেছিল—জল স্থির হইলে লম্বা ছবিটি অবিকল তাহার মত দশ-এগারো বৎসরের মেয়েটি ... | false |
MZI | ধ্বংস” ট্যাবলেটটা না থাকলে খেতে পারতাম কি না সন্দেহ। একটা ছোট ট্যাবলেট মাছের ঝোলে ছেড়ে দিতেই সে সব ঝাল শুষে নিল, সত্যি বলতে কি, স্বাদও খানিকটা শুষে নিয়ে স্বাদটা কেমন জানি পানসে করে দিল। পেটে খিদে ছিল, তাই খেতে বিশেষ অসুবিধে হয় নি। খেয়ে বের হয়েছি, একটু হাঁটতেই মনে হল যেন একটা মাছের বাজার। মাছের আশটে গন্ধে কাছে যাওয়া যায়... | false |
humayun_ahmed | শহরের কাউকে খুঁজতে পারে, আইনের বাধা আছে না? তাছাড়া সে নিজেই হচ্ছে আইনের লোক। আইনের লোক বলেই তো আইন ভাঙা সহজ। তা ঠিক। সে আইন ভেঙেছে। আমার কার্ডে তেতাল্লিশটি দাগ পড়ার পরও কিন্তু আমি বেঁচে আছি। চল্লিশটি দাগ পড়ার পর সরকারি নিয়মে দোষী লোকটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। অবাঞ্ছিত কেউ বেঁচে থাকে না, অথচ আমি আছি। হা হা হা। মীর এত শ... | false |
bongkim | উহারা আমার কাছে রজনীর বৃত্তান্ত সবিশেষ শুনিয়া বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিল। পরে রাজচন্দ্রকে আমি নিভৃতে লইয়া গিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “তোমার কন্যা গৃহত্যাগ করিয়া গিয়াছিল কেন জান?” রাজচন্দ্র বলিল, “না। আমি তাহা সর্বদাই ভাবি, কিন্তু কিছুই ঠিকানা করিতে পারি নাই |” আমি বলিলাম, “রজনী জলে ডুবিয়া মরিতে গিয়াছিল কি দু:খে জান?” রাজচন্... | false |
shordindu | সহজ? আপনি পারেন?’ ‘সব খবর পেলে হয়তো পারি।’ ‘বাইরের লোককে সব খবর জানানো যদিও আমাদের রীতি বিরুদ্ধ, তবু যতটুকু জানি আপনাকে বলতে পারি।’ ‘বেশ, বলুন! নটবর নস্করের আত্মীয়-স্বজনের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে?’ ‘না। কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।’ ‘ময়না তদন্তের ফলাফল কি রকম?’ ‘বুকের হাড় ফুটো করে গুলি হৃদযন্ত... | false |
humayun_ahmed | দেখভালও করছি। স্যার, আমি জানি। কিন্তু বলব না। মিলিটারি কী ভয়ঙ্কর জিনিস তুমি জানো। এই খবর না দিলে কিন্তু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে। স্যার, আমি কিছুই বলব না! আরে ব্যাটা নিজের জীবন বাঁচা। এখন ইয়া নফসি সময়। বলে দে তারা কোথায় আছে? আমি কোনোদিন ও বলব না। রশিদকে সেই দিনই সন্ধ্যায় হুলারহাট লঞ্চঘাটে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হলো। ————- *মূ... | false |
shunil_gongopaddhay | সময় অঙ্কের মাস্টারমশাই একদিন আমার কান মলে দিয়েছিলেন। তারপর এত বছরে আর কেউ আমার কানে হাত দেয়নি। লোকটি বলল, একবার কান মলে দিলেই তক্ষুনি একেবারে ঘুম ভেঙে যায়। সামনে থেকে ড্রাইভারটি বলল, আমাদের মতন ড্রাইভারদের যখন গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ ঘুম আসে, তখন আমরা নিজেরাই নিজেদের কান মলে দিই ভাল করে। টবি হঠাৎ ঘেউ ঘেউ করে উঠল। নিশ্চ... | false |
bongkim | নাই। এক্ষণে মার্জ্জারসুন্দরী, নির্জ্জাল দুগ্ধপানে পরিতৃপ্ত হইয়া আপন মনের সুখ এ জগতে প্রকটিত করিবার অভিপ্রায়ে, অতি মধুর স্বরে বলিতেছেন, “মেও!” বলিতে পারি না, বুঝি, তাহার ভিতর একটু ব্যঙ্গ ছিল; বুঝি, মার্জ্জার মনে মনে হাসিয়া আমার পানে চাহিয়া ভাবিতেছিল, “কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই।” বুঝি সে “মেও!” শব্দে একটু মন বুঝিবার ... | false |
humayun_ahmed | যাই। জোবেদ আলি ক্লান্ত গলায় বললেন, এখানে আমি ভালই আছি। আমার কোন অসুবিধা হচ্ছে না। কাজে কর্মে ব্যস্ত আছি। তবে মাঝে মধ্যে পুরানো দিনের কথা মনে হয়। তখন মনটা খুব খারাপ হয়। পুরানো কোন কথা? তুই যখন চাকরি করতি। ঢাকার বাইরে থেকে গভীর রাতে বাসায় ফিরতি। বাপ ব্যাটা এক সঙ্গে ভাত খেতাম। মনে নেই ঔ যে কাতল মাছের বিরাট এক মাথা তুই আমা... | false |
toslima_nasrin | সাকের নাম-টাম রাখতে হত। রত্না হেসেছিল শুনে। বলেছিল–বিয়ে না করাই ভাল, ক’দিনের মাত্র জীবন। বন্ধনহীন কাটিয়ে দেওয়াই তো ভাল। —তাই বুঝি আপনিও ওপথ মাড়াচ্ছেন না। —ঠিক তাই। —ঐ অবশ্য একদিক থেকে ভালই। —ঐকই সিদ্ধান্ত হলে আপনার আমার বন্ধুত্ব জামবে ভাল। —বন্ধুত্বের খুব বড় অর্থকরি আমি। দু-একটা সিদ্ধান্ত মিললেই বন্ধু হওয়া যায় ন... | false |
shomresh | নয়। আপনি আজকের রাতটা এখানকার হোটেলে থাকুন। থানার কাছে রুবি বোর্ডিং নামে একটা সাধারণ হোটেল পাবেন। কাল সকালে আসুন। আমি ভেবে দেখি। হরিপদ সেনের মুখে হাসি ফুটল, আমার সঙ্গে গাড়ি আছে। শিলিগুড়ির দিল্লি হোটেল আমার পরিচিত। ওখান থেকে আসতে ঘণ্টাখানেকও লাগবে না। জিনিসপত্র সেখানেই রেখে এসেছি। কাল তা হলে আসব? বেশ। আপনার গাড়িতে কাগজপত... | false |
toslima_nasrin | যাইতে হইব। আর যদি ঢাকায় না পাও তাইলে লন্ডন গিয়া হইলেও কিন্যা নিয়া আসতে হইব। সুহৃদ সাইকেল পাওয়ার পর শুভকে ঠিক এরকম সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য হাসিনা দাদাকে আবার ধরল। দাদা সারা শহর খুঁজে একটি তিন চাকার সাইকেল কিনে নিয়ে বাড়ি এলে হাসিনা সাইকেলটি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল, রাস্তা থেইকা টুকাইয়া আনছ নাকি? এর চেয়ে ভাল সাইকেল আর নাই বাজ... | false |
shorotchandra | করিতে লাগিল।নারীর এমন রূপ অরুণ আর কখনো দেখে নাই, সে যেন একেবারে মুগ্ধ হইয়া গেল। সন্ধ্যা কহিল, অরুণদা, আমি পিঁড়ি থেকে পালিয়ে এসেচি তোমাকে নিয়ে যেতে। আর আমার লজ্জা নেই, ভয় নেই, মান-অপমানের জ্ঞান নেই—তুমি ছাড়া আজ আর আমার পৃথিবীতে কেউ নেই—তুমি চল। কোথায় যাব? যেখান থেকে এইমাত্র একজন উঠে চলে গেল—সেই আসনের উপরে। অরুণ মনে মনে ... | false |
shunil_gongopaddhay | পড়ে! হ্যাঁ, হ্যাঁ, সেটা আজ দেখে আসি। কাকাবাবু বললেন, এখন আর পাখি দেখা যাবে না। আগুন জ্বালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জায়গাটা সুন্দর, নদীর ধার দিয়ে দিয়ে রাস্তা, বেড়াতে ভাল লাগবে। তোমরা দুজনে ঘুরে আসতে পারো। জোজো বলল, কী করে যাব? আপনি পুলিশকে বলে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিন। কাকাবাবু সন্তুর দিকে তাকিয়ে বললেন, আমরা যখন ওখ... | false |
shordindu | সুবিধা, পাড়াপাড়শী কেউ কারুর খবর রাখে না। কিন্তু সে লক্ষ্য করল। আপনি সারাক্ষণ জানালার কাছে বসে থাকেন, আপনার বাইনোকুলার আছে। তাকে সাবধান থাকতে হবে। ‘সে-রত্রে আপনি শুয়ে পড়বার পর সে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি দখল করতে এল। কেউ জানতে পারল না যে মাত্র একজন লোক এসেছে, দু’জন নয়। তার সঙ্গে একটা ছোট্ট লোহার সিন্দুক ছিল, সেটা... | false |
humayun_ahmed | ক্লিনিকে দুই ধরনের কেবিন আছে। নরমাল কেবিন এবং ডিলাক্স কেবিন। নরমাল কেবিনের ভাড়া প্রতিদিন পাঁচশ টাকা। ডিলাক্স কেবিন এক হাজার টাকা। ডিলাক্স কেবিনে এসি আছে, রঙিন টিভি আছে। তৌহিদাকে কেবিনে ভর্তি করাবেন কি-না এটা নিয়েও মতিনের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার। সে গেছে কোথায়? মতিন কোথাও যায় নি। ঢাকাতেই আছে। দিন দশেক হলো সে বাস করছে। ন... | false |
humayun_ahmed | যাচ্ছে না বলে বিয়ের তারিখ করা যাচ্ছে না। যুথী বলল, সফিক ভাই কি চলে এসেছেন? হুঁ। ছাদে বসে আছে। আজ ছাদে তার ছবির প্রদর্শনী হবে। পাঁচটা ছবি নিয়ে এসেছে। পর্দা দিয়ে ঢাকা আছে। কক্লিম অ্যাঙ্কেল ফিতা কেটে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন। চল ছাদে যাই। ছাদে উঠে যুথী হতভম্ব। এককোনায় চেয়ারে শুকনা মুখে শুভ্র বসে আছে। যুথী রাগী ভঙ্গিতে এগিয়... | false |
bongkim | কি–আমরা স্ত্রীলোক সহজেই বুঝিতে পারি। আর একটা হাসির কথা। ঈশ্বর বিদ্যাসাগর নামে কলিকাতায় কে না কি বড় পণ্ডিত আছেন, তিনি আবার একখানি বিধবাবিবাহের যহি বাহির করিয়াছেন। যে বিধবা বিবাহের ব্যবস্থা দেয়, সে যদি পণ্ডিত, তবে মূর্খ কে? এখন বৈঠকখানায় ভট্টাচার্য ব্রাহ্মণ আসিলে সেই গ্রন্থ লইয়া বড় তর্ক বিতর্ক হয়। সে দিন ন্যায়-কচকচি ঠাকু... | false |
humayun_ahmed | দিন পর আবার তিনি লিখতে বসলেন। আগের মত কলম আটকে গেল না। কিন্তু যে গল্প লেখা হচ্ছে তা অরণ্যের গল্প নয়। শহরের গল্প। শহব গ্ৰাস করছে অরণ্যকে। তিনি দ্রুত গতিতে লিখছে সন্ধ্যার পর থেকে নীলুর কেমন যেন লাগতে লাগল। এক ধবনের অস্বস্তি, হঠাৎ ঘুম ভাঙলে যে বকম লাগে। সে রকম। সমস্ত শশীবাব বিষম ধবে আছে। মাথার ভেতবটা ফাকা ফাকা। নীলু। বারা... | false |
shunil_gongopaddhay | লিতে পেরেছেন নিশ্চয়ই। নবাবের অঙ্গে সাদা রেশমের আঙরাখা, তার তলায় হালকা নীল রঙের শালুকা (ছোট জামা)। প্রখর গ্ৰীষ্মে তাঁর ললাট ঘর্মসিক্ত। আগা আলীর কথা শোনার পর তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন মুসী আমীর আলীর দিকে। এত রকম উত্তেজনার মধ্যে মুন্সী আমীর আলী গলায় রুমাল এবং মাথায় টুপী খুলতে ভুলে গিয়েছিলেন, তাড়াতাড়ি স... | false |
shorotchandra | দিলেন না—কেবল তাহার একটা হাত ধরিয়া আরো কাছে টানিয়া আনিয়া গভীর স্নেহে তাহার পিঠে হাত বুলাইয়া দিলেন। সারদা আড়াল হইতে বোধ হয় শুনিতেছিল, সুমুখে আসিয়া বলিল, দেব্তাকে খেয়ে যেতে বলুন না মা, সেই ত বাসায় গিয়ে ওঁকে নিজেই রাঁধতে হবে। নতুন-মা বলিলেন, আমি কেন সারদা, তুমি নিজেই ত বলতে পারো মা। তার পরে স্মিতহাস্যে কহিলেন, এই কথাটি ও... | false |
nihar_ronjon_gupta | আমি খাইয়ে দেবখন, তুই যা, ওপরে চলে যা, শিখেন্দু বলল। তারপর? সঞ্জীব শুধাল। নির্বাণী ওপরে চলে যায়। তারপর? আর পৌনে বারোটা নাগাদ দীপা ওপরে গিয়েছিল, তারপরেই ব্যাপারটা জানা গেল! শিখেন্দু বলল। ওঃ! নির্মল বলল। তাহলে মনে হচ্ছে পৌনে এগারটা থেকে রাত পৌনে বারোটা, ঐ একঘন্টা সময়ের মধ্যেই কোন এক সময় নির্বাণীকে কেউ খুন করে গিয়েছে। সঞ্জ... | false |
robindronath | পেতেছি।” “দোষ কী, হলে তো ভালোই হত। কিন্তু তুমি যে বলেছিলে, বেজাতে মেয়ের বিয়ে দেবে না।” “তখনো আপনার মন জানতুম না, তাই মিথ্যে কথা বলেছিলুম। খুবই চেয়েছিলুম। কিন্তু ছেড়েছি সেই মতলব।” “কেন।” “বুঝতে পেরেছি, ও ভাঙন ধরানো মেয়ে। ওর হাতে যা পড়বে তা আস্ত থাকবে না।” “কিন্তু ও তো তোমারই মেয়ে।” “আমারই মেয়ে তো বটে, তাই তো ওকে আঁতের ভ... | false |
toslima_nasrin | নেওয়া ছাড়া। আমি জেলের মৃত্যুকে বেছে নিলাম। ক আর ঙ চুপ হয়ে থাকেন। চ শব্দহীন পায়ে ভেজানো দরজা ঠেলে ঘরে ঢোকেন। ক আর ঙর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন দেয়ালে হেলান দিয়ে। সবকটি প্রাণী চুপ। নৈঃশব্দ্য ভেঙে চ বলেন, কিছু খাবেন আপনি? মাথা নেড়ে না বলি। দুপুরে খাইনি, রাতেও না। ক্ষিধে বলতে কোনও কিছু আমি বোধ করছি না। ক এবং ঙ দুজনে আমাকে দুটো চ... | false |
shomresh | দিয়েছি। কি ব্যাপার মশাই? নানারকম ঝামেলায় আটকে পড়েছিলাম। শুনুন, এ যা সম্পত্তি তার তুলনায় কোন ঝামেলাই ইমপটেন্ট হতে পারে না! আচ্ছা, এই আনা মহিলাটিকে অংশ দিতেই হবে? অমরনাথ অসহায় ভাবে মাথা নাড়লেন। বুঝুন, বাড়ির ঝি সেবা করে মাথায় উঠছে। কাটানো যায় না? কি ভাবে? কাটাতে চান? তাহলে আমার ওপর ছেড়ে দিন। অমরনাথ দ্বিধায় পড়লেন। আনাকে প... | false |
humayun_ahmed | বসে থাকব। কেন? মন ভাল করার জন্যে বারান্দায় কিছু আছে নাকি? ঘুম আসছে না। তাই বসে আছি। ঘুম আসছে না কেন? কী মুশকিল, ঘুম আসছে না কেন সেটা আমি কী করে বলব? আমি কী ডাক্তার? দুপুর বারোটার দিকে বারু মগবাজার চৌরাস্তায় উপস্থিত হল। আর হাঁটতে ভাল লাগছে না। এখন আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে রওনা হওয়া যেতে পারে। যে পথে এসেছে সেই পথেই যাবে ন... | false |
humayun_ahmed | বলেই মুনা তার সঙ্গে কথা বলছে না। মেয়েরা আড়াল পছন্দ করে। কিন্তু সঞ্জু তো কাল রাতেই চলে গেছে। এর পরেও মুনা কথা বলবে না কেন? বল্টু নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে আজ ভোরবেলা কথা বলার চেষ্টা করেছে। মুনাকে গিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে বলেছে–মুনা, চা খেতে যাবি? একটা দোকানে দেখলাম গুড়ের চা বানাচ্ছে। মুনা বলল, গুড়ের চা খাবার জন্যে আমি খুব ব্যস... | false |
MZI | যে তোমার সাথে এত দুর্ব্যবহার করেছি। এস জীবনের শেষ কয়েকটা মুহূর্ত আমরা ভুলে যাই তুমি নীলমানব এবং আমি মানুষ। দুজনে একসাথে বসে বসে খেতে খেতে কথা বলি। কিন্তু রিরা নীলমানবের কাছে গেল না, ক্যাপ্টেনের সুদৃশ্য ঘরে একা একা খাবারের ট্রে সামনে নিয়ে বসে রইল। রিরা মনিটরের সামনে নিঃশব্দে বসে আছে। মহাকাশযানটি একটা নিউট্রন স্টারের গা ... | false |
shomresh | বিকেলে আপনারা আমার দোকানে দয়া করে পায়ের ধুলো দিয়েছেন। আপনার দোকানে? আজ্ঞে। শেঠ বাবুলাল অ্যান্ড সন্স আমারই দোকান। শেঠ বাবুলাল আমার বাবা। তিনি গত হয়েছেন বছরপাঁচেক হল। কিন্তু এখানকার মানুষের মুখে তিনি এখনও বেঁচে আছেন। আমি যা কিছু করছি সবই তাঁর আশীর্বাদে। ভদ্রলোক দুটো হাত কপালে ঠেকিয়ে পিতৃদেবকে শ্রদ্ধা জানালেন। অর্জুন কল্প... | false |
humayun_ahmed | পাওয়া গেল। শুভ্ৰ খাতা নিয়ে উবু হয়ে বসেছে। লেখা শুরু করেছে। মোবারক যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে শুভ্রর কাণ্ডকারখানা দেখছে। কী লেখা হচ্ছে তা সে শুভ্রর ঘাড়ের ওপর উঁকি দিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। শুভ্ৰ লিখছে— যুথী, রাশিয়ান পাগলা সাধু রাসপুটিন কীভাবে মারা গেছেন জানো? তিনি মারা যান পেট্রোগ্রাডে, যার বর্তমান নাম সেন্ট পিটার্সবার্গ। ১৯১৬ সনে।... | false |
humayun_ahmed | এ-দোকান ও-দোকান করছে। ছোট চাচা বললেন, টুকু, একটা সমস্যা হয়েছে। তোকে বলা দরকার। আমি বললাম, কী সমস্যা? তিনি বেশ সহজ গলায় বললেন, এই সমিতা মেয়েটাকে আমি বিয়ে করব বলে ভাবছি। আমি বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললাম, কবে? সেটা এখনো ফাইনাল করি নি। কবে বিয়ে করব সেটা ইম্পৰ্টেন্ট নয়। বিয়ে করব সেটাই ইম্পৰ্টেন্ট। বলেই ছোট চাচা গাড়... | false |
shunil_gongopaddhay | না, নদীর জল চঞ্চল, তাই মাটির পাত্রে জল ধরে রাখা হয়, দু-তিন দিন থিতিয়ে ওপরের জল পরিষ্কার হলে দুপুরের রোদে মেয়েরা সেই জলের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। নারী জাতি রূপ-সচেতন। পুরুষদের মধ্যে এরকম রীতি নেই। কিছু কিছু ব্যবহার মেয়েদের মানায়, পুরুষদের পক্ষে তা অনুকরণ করতে যাওয়া মানহানিকর। কোনও কৌতূহলী কিশোর কখনও বাড়িতে এরকম ম... | false |
humayun_ahmed | ঠিক হয়েছে ‘শের খাতেমুন’, যার অর্থ-শেরের শেষ। শের খাঁকে বন্দি করতে কতদিন লাগবে এটা বোঝা যাচ্ছে না। সে সরাসরি সম্মুখ সমরে আসে না। চোরাগোপ্তা হামলা করে। তার যুদ্ধ কাপুরুষের যুদ্ধ। মোঘল বাহিনী কাপুরুষ যুদ্ধে অভ্যস্ত না বলেই সমস্যা। সম্রাট বাংলা মুলুক কখনো দেখেন নি। শের খাঁকে পরাস্ত করে তিনি বাংলা মুলুকে কিছুদিন বাস করার সি... | false |
humayun_ahmed | যেভাবে পারি জোগাড় করব। আপনার ভাবি সাবের রূপ বেহেশতের হুর বরাবর। তাকে দেখলে বেহেশতের হুর কেমন হবে এই বিষয়ে আন্দাজ পাবেন। আমি তাকে বলব, সে যেন আপনার সামনে পর্দা না করে। নবিজির স্ত্রীদের জন্যে পর্দা বাধ্যতামূলক। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের স্ত্রীদের জন্যে পর্দা বাধ্যতামূলক না। ইদরিসের বাড়িতে পা দিয়ে উকিল মুনসি মুগ্ধ গলায় গা... | false |
nazrul | তো আমাদের জিশু প্রেরণ করেছেন। আপনায় ঢন্যবাড, আমরা খ্রিস্টান হওয়ার আগে ঠেকেই হেলেনকে বালো বালো কাজ শেকাচ্ছে।” মেজোবউ হঠাৎ অশ্রু-সিক্ত কণ্ঠে বলে উঠল “আমি কি আপনার সাথে দেখা করতে পারি – যদি কোনোদিন ইচ্ছে হয়?” –– বলেই সে তার অশ্রুসিক্ত আঁখি দুটি পূজারিনির ফুলের মতো আনসারের পানে তুলে ধরল। আনসারের বুক কেন যেন দোল খেয়ে উঠল! এ... | false |
shorotchandra | নিয়েচে চিরদিনই তার শত্রু-সংখ্যা বেড়ে উঠেছে। সেই ভয়ে যারা পেছিয়ে দাঁড়ায় তুইও তাদের দলে গিয়ে যদি মিশিস্, তা হলে ত চলবে না বাবা! এ গুরুভার ভগবান তোকেই বইতে দিয়েছেন, তোকেই বয়ে বেড়াতে হবে। কিন্তু হাঁ রে রমেশ, তুই নাকি ওদের হাতে জল খাস? রমেশ হাসিয়া কহিল, ঐ দ্যাখ জ্যাঠাইমা, এর মধ্যেই তোমার কানে উঠেচে। এখনো খাইনি বটে, কিন্তু... | false |
toslima_nasrin | যে হাওয়া লেগেছিল, ফতোয়া জারির পর সরকারের নিষিক্রয়তা যেমন উসকে দিয়েছিল আগুন, সে হাওয়ার জোর, সে আগুনের তাপ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কমেওছিল কিছু। পুলিশ পাহারাও অনেকটা আছে আছে নেই নেই রকম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে হাওয়া ক্ষিপ্ত, তপ্ত, নতুন করে দ্বিগুণ তেজে ত্রিগুণ বেগে ধাবিত হচ্ছে! আমার কত বড় স্পর্ধা যে আমি পবিত্র কোরান শরীফে কাঁ... | false |
toslima_nasrin | খায়। তেমন সম্পত্তিও পুরুষ অংশীদাররা নিয়ে টিয়ে তলাঝাড়া যা থাকে, নারী পায়। স্ত্রী, কন্যা, মা, বোন, বৈপিত্রেয় বোন, সকলেই সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ পায়। কেউই অংশীদার নয়। কেউই প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী নয়। এই অবশিষ্টাংশ ভোগ করবার বেলায়ও সমাজের সাত রকম বাধা, বলা হয়, মেয়েরা সম্পত্তি নিলে সম্পত্তি সয় না। সম্পত্তি সওয়াবার ব্যবস্থা ... | false |
shordindu | ইহার পর আর চুপ করিয়া থাকা যায় না। মোবারক আরক্ত মুখে উঠিয়া দাঁড়াইল, ছিপটা হাতে তুলিয়া পাড় বাহিয়া উপরে উঠিয়া আসিল। ঘোড়ার সম্মুখে দাঁড়াইয়া সে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে সুজার পানে চাহিয়া রহিল, তারপর অধাবরুদ্ধ ক্রোধের স্বরে বলিল, বাঁদীর বাচ্চা তুমি। তোমার শরীরে ভদ্র রক্ত থাকলে ভদ্রভাবে কথা বলতে। আলিবর্দি একেবারে হাঁ-হাঁ করিয়া... | false |
robindronath | সূর্য আপনার শেষ স্পর্শ ঠেকিয়ে নেমে গেল। অতি সুকুমার সবুজের আভা আস্তে আস্তে সুকোমল নীলে গেল মিলিয়ে। দুজনে থেমে সেই দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রইল। লাবণ্য আস্তে আস্তে বললে, “একদিন একজনকে যে আংটি পরিয়েছিলে, আমাকে দিয়ে আজ সে আংটি খোলালে কেন।” অমিত ব্যথিত হয়ে বললে, “তোমাকে সব কথা বোঝাব কেমন করে বন্যা। সেদিন যাকে আংটি পরিয়েছিলুম, ... | false |
shunil_gongopaddhay | আপনার নয়। আপনার তো পাহাড়-জঙ্গলে গিয়ে ভূত তাড়া করার কথা। কাকাবাবু বললেন, আমি পুলিশের লোক নই, কিন্তু আমি মানুষ। তোমাদের মতন অমানুষ নই। বাচ্চা ছেলেমেয়েরা কষ্ট পাচ্ছে শুনলে আমার কষ্ট হয়। শুধু কষ্ট নয়, মাথা গরম হয়ে ওঠে। আংটি-পরা লোকটি বলল, উঁহু, মাথা গরম করা মোটেই ভাল নয়। মাথা গরম করেই তুমি হুট করে এখানে চলে এসেছ! কাজটা মোট... | false |
MZI | খবর ছড়িয়ে গেল দ্রুত। আজিজ খায়ের মতো লোকেরও নিজের পীর আছে। শুধু তাই নয়, সেই পীর নাকি হযরত শাহ্ খবিবুল্লাহ্ কুতুবপুরীর দাড়ি দিয়ে পা পর্যন্ত মোছেন না। লোকজন খবর নিতে আসে। স্বল্পভাষী আজিজ খাঁ বলবেন না বলবেন না করেও একটা দুটো কথা বলে ফেলেন। শুনে সবার ভিরমি লেগে যায়। একটি গল্প এরকম : আঠার বছরের মেয়েকে নিয়ে মা এসেছেন পীরের কা... | false |
shorotchandra | করেছিলুম, এই একটা মাসের মধ্যেই আর কোথাও পাত্রী স্থির করে মহিমের বিয়ে দেব। যেমন করেই হোক তাকে আটকাতে হবে। আমার বন্ধু হয়ে সে যে একটা নারীর মোহে নিজেদের সমাজ ছেড়ে চলে যাবে, এ যেন কিছুতেই না ঘটতে পায়। অচলা রুদ্ধ-নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া কহিল, তার পরে? তাহার পাংশু মুখের পানে চাহিয়া সুরেশ একটুখানি হাসিল; কহিল, তার পরে আর ভয় নেই। ... | false |
humayun_ahmed | না। চুলায় পানি দিয়ে কেতলি বসাও। কেন? আজহার বললেন, কেতলির মুখ দিয়ে ষ্টিম বের হবে। খামটা স্টিমে ধরলে পাম নরম হবে। তখন ব্লেড় দিয়ে খুলব। চিঠি পড়া শেষ হলে আগের মতো লাগিয়ে রাখা হবে। ক্লিয়ার? আজহার চিঠি খুলে পড়লেন। চিঠিতে লেখা—— যুথী, আমার ছেলে শুভ্ৰ বিপদে পড়েছিল। তাকে তুমি সাহায্য করেছি। তার জন্যে তোমাকে ধন্যবাদ। সামান্য কিছ... | false |
shomresh | গাড়িতে উঠতে পার। পাঁচ জন আছে, ছয় জন হলেই ছাড়ব। দীপা হাতের মুঠো খুলে এক টাকা দশ আনা দেখাল। লোকটা এবার জিজ্ঞাসা করল, কোথায় যাবে বলা তো? দীপা চা বাগানের নাম বলল। তার হাত তখনও বাড়ানো। লোকটা সেখান থেকে একটা আধুলি নিয়ে স্যুটকেস তুলে নিল, এসো। গাড়িতে আড়ষ্ট হয়ে বসল দীপা। কোন গদি নেই। স্প্রীংগুলোর ওপর দুটো বস্তা পেতে দেওয়া হয়ে... | false |
humayun_ahmed | আমার চিঠি পড়বি? বেশ আর পড়ব না। পড়বি না। শুধু না, তুই আমার ঘরেও কোনোদিন ঢুকবি না। বেশ ঢুকব না। আর আমার সঙ্গে কথাও বলবি না। ঠিক আছে বলব না। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হল না। সন্ধ্যাবেল বাবা প্রেস থেকে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সে নালিশ করল, বাবা বিলু আমার সব চিঠিপত্র পড়ে ফেলে। তাই নাকি? হ্যাঁ। তুমি ওকে ডেকে নিষেধ করে দাও। ঠিক আছে করব।... | false |
toslima_nasrin | বন্দর মানুষের সামনে আমি হু হু করে কেঁদে উঠি। ওঁদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আমার যে এমন ঝড় বইবে বুকে, এমন যে উথলে উঠবে কষ্ট, তা আমি তখন বুঝিনি। কাচের ঘরের মত ভেঙে গেল আমার স্বপ্নের দালানকোঠা। পুরো বন্দর শুনল সেই ভাঙনের শব্দ, পুরো বন্দর শুনল আমার বুক ছেঁড়া আর্তনাদ। আমাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হল না। হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়... | false |
nihar_ronjon_gupta | তো বন্ধ ছিল, আর সিঁড়ি দিয়ে পালালে সবার চোখে পড়ে যেত তখন। পাশের ঘরের সংলগ্ন বাথরুম নেই? কিরীটী যেন কৃষ্ণার কথায় চমকে উঠে বললে, ঠিক বলেছ! সে ঘরটা তো দেখিনি! বলেই সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়ে কিরীটী শিবতোষের বাড়িতে ফোন করল। শিবতোষ বাড়িতে ছিলেন না। ফোন ধরল তাঁর ছোট মেয়ে স্বাতী, কে? আমি কিরীটী রায়, আপনি কে? স্বাতী। স্বাতী দেবী, আমাক... | false |
humayun_ahmed | ক্যামনে সৃষ্টি হইল? বাপজান সঙ্গে সঙ্গে বলল, (জুলেখা এই অংশে গান শুরু করল) ওরে গুন ধান! প্রশ্নের কী বিবরণ! সভার মাঝে করিব বর্ণন। ধৈর্য ধরে শুনো ওরে শ্রোতাবন্ধুগণ। দুই দিনে হয় মাটির জনম চারদিনে আল্লাহ সব করিলেন সৃজন। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, হঠাৎ হঠাৎ অম্বিকাচরণ উপস্থিত হন। তিনি প্রতিবারই সমাজ থেকে পতিত হবার পর উদ্ধারের একেক... | false |
nazrul | তো এ প্রাণপোড়ানো অতীতটা জগদ্দল শিলার মতো এসে বুকটা চেপে ধরে না! সেই সে কোন্-ভুলে-যাওয়া দিনের কুলিশ-কঠোর স্মৃতিটা তপ্ত শলাকার মতো এসে এই ক্ষত বক্ষটায় ছ্যাঁকা দেয় না! ‘জোবেহ্’ করা জানোয়ারের মতো আর কতদিন নিদারুণ জ্বালায় ছটফট করে মরব? কেন মৃত্যুর মাধুরী মায়ের আশিসধারার মতো আমার উপর নেমে আসে না? এ হতভাগিনিকে জ্বালিয়ে কার মঙ... | false |
humayun_ahmed | হয়েছে, এটা সে জানল কীভাবে? জানল, কারণ সে নিজেই ফেলেছে। এই যুক্তি কি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে? হ্যাঁ, হচ্ছে? আপনাকে কি আরো যুক্তি দিতে হবে? আমার কাছে আরো ছোটখাটো যুক্তি আছে। আর লাগবে না। শুধু বলুন-কুয়ার ওপরের টিনে ঝন ঝন শব্দ হত কেন? যে-শব্দ ইমাম সাহব নিজেও শুনেছেন? কুয়ার টিনটা না-দেখে বলতে পারব না। আমার ধারণা বাত... | false |
bongkim | বয়স পনের বৎসর। সতের বৎসর বয়সে, বলিতে লজ্জা করে, সধবাবস্থাতেই-আর একটা বিবাহ ঘটিয়া গেল। আমাদের বাড়ীর কাছে, কালীচরণ বসু নামে একজন কায়স্থ ছিল। চীনাবাজারে তাহার একখানি খেলানার দোকান ছিল। সে কায়স্থ-আমরাও কায়স্থ-এজন্য একটু আত্মীয়তা হইয়াছিল। কালী বসুর একটি চারি বৎসরের শিশুপুত্র ছিল। তাহার নাম বামাচরণ। বামাচরণ সর্বদা আমাদের বাড়... | false |
shottojit_roy | চশমা পরা?… ছেলেদের বর্ণনা থেকে বোঝা গেল। মাঝারি হাইটের ভদ্রলোক, প্যান্ট শার্ট পরা, রোগাও না মোটাও না ফরাসাও না কলোও না, বয়স ত্রিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে; আমরা এসে পৌঁছানোর আধা ঘণ্টা আগে এসে একে তাকে জিজ্ঞেস করে অবশেষে পানুর কাছ থেকে সামান্য কিছু বকশিশ দিয়ে একটা লাল পাথরের তৈরি মানুষের মাথা উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। তার নী... | false |
bongkim | শ্রবণ-পথে মধুর বাজে, রাধে রাধে রাধে রাধে বিপিন মাঝে; যব শুনন লাগি সই, সো মধু বোলি, জীবন না গেলো? ধায়নু পিয় সই, সোহি উপকূলে, লুটায়নু কাঁদি সই শ্যামপদমূলে, সোহি পদমূলে রই, কাহে লো হামারি, মরণ না ভেল?” গিরিজায়া গায়িতে গায়িতে দেখিলেন, তাঁহার সম্মুখে চন্দ্রের কিরণোপরি, মনুষ্যের ছায়া পড়িয়াছে। ফিরিয়া দেখিলেন, মৃণালিনী দাঁড়াইয়... | false |
MZI | আপনি বাইরে যেতে পারবেন না। আপনি চাইলেও পারবেন না। কেন? আমি এখানে এসেছি প্রায় সাত মিনিটের মতো হয়ে গেছে। তার মানে জানেন? কি? পৃথিবীতে আরো পঞ্চাশ বছর সময় পার হয়ে গেছে। প্রফেসর ত্রিনি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন, তাতে কী হয়েছে? আমি এখানে এসেছি গোপনে, কেউ জানে না। কিন্তু আমার ডাইরিটা আমি রেখে এসেছি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের... | false |
tarashonkor | না। ইতি– শ্ৰীসেতাবচন্দ্র মণ্ডল পড়িয়া দেখিয়া চিঠিখানি মুড়িয়া নোটনের হাতে দিয়া বলিল, চলে যা। কাল মণিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবি। খবরদার, কোনো কথা ভাবি না। নোটন চিঠিখানা লইতে হাত বাড়াইল। রাখাল বলিল, সেতাব! —ফ্যাচফাচ করিস না রাখাল। পিছু ডাকিস না। বাড়ি যা। –ওহে, চাঁপাডাঙার বউমাকে– –রাখাল, তু বাড়ি যা। রাখাল থামিয়া গেল। ভয় পাইল। স... | false |
shordindu | হতে পারে না, এ ধারণা তার মনে ততই দৃঢ় হচ্ছে। তাছাড়া অন্যের বাগদত্তা মেয়ে কেউ জেনেশুনে বিয়ে করতে চায় না, দু-চারটে ঘরানা ঘরে সম্বন্ধ করতে গিয়ে লজ্জা পেয়ে লিখুজীকে ফিরে আসতে হল। শেষ পর্যন্ত তিনি দেখলেন শাহু ছাড়া জিজার গতি নেই। এইভাবে ন-দশ বছর কেটে গেছে। মালোজী কপালের জোরে এবং বুদ্ধিবলে খুব উন্নতি করেছেন, বিষয়-সম্পত্তিও হয়ে... | false |
shunil_gongopaddhay | মাতা হেঁট হয়ে যায়। হাতি দিয়ে পড়লেও হাতি। নবাব দিয়ে পড়েচোন বটে। কিন্তু নবাবী মেজাজ একটুও নষ্ট হয়নিকো! রাহিসী কায়দা পুরোপুরি বজায় রেকেচেন। —তবু বাপু তুমি একটু খপর নেও না! শুনলে কেমন ভয় ভয় করে। নবাব ডেকেচোন, সে ডাক উপিক্ষেও কত্তে পারি না, আবার চাল-চলন-সহবতে যদি কিচু ভুল হয়, নবাব যদি হাতে মাতা কাটার হুকুম দেন— — যেতে হবে ত... | false |
shirshendu | হয়ে পড়বেন যে! বাবার একটু ভাল খবর না পেলে খাবো কি করে? গলা দিয়ে নামবেই না। তাই কি হয়? এরকম করতে নেই। আমি ওদের বুঝিয়ে বলছি। গমনোদ্যত হেমাঙ্গর পথ আটকাল ঝুমকি, প্লিজ! কেউ কিছু খেতে পারবে না এখন। ডাক্তার এখনই আসবে খবর দিতে। আমাদের অপেক্ষা করতে বলে গেছে। খবর! বলে হেমাঙ্গ ঝুমকির দিকে চেয়ে চোখ নামিয়ে নিল। আবার লবিতে এসে বসল। ত... | false |
shunil_gongopaddhay | থেমে যায়। তাতে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলুম, এর পর কী করব! চতুর্থ বাসটার দরজার কাছে আসতেই টিক টিক শব্দটা খুব জোর হয়ে গেল। তারপর যা হল। তুই হয়তো শুনলে বিশ্বাস করবি না, কিন্তু একেবারে খাঁটি সত্যি কথা। বাসে তিন-চারজন লোক মোটে বসে ছিল। আমি উঠতেই কোণ থেকে একজন লোক হাউমাউ করে বলে উঠল, আমি ঘড়ি দিয়ে দিচ্ছি, সব দিয়ে দিচ্ছি, আমাকে দয়া ক... | false |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.