label stringclasses 16
values | text stringlengths 3.73k 6k | is_valid bool 1
class |
|---|---|---|
shunil_gongopaddhay | তার জন্য টাকা চেয়ে চিঠি পাঠাই। টাকা না পেলে দশ দিনের মধ্যে মেরে ফেলা হবে, তা জানিয়ে দিই। সেই ভয়ে তারা টাকা দিয়ে দেয়। তোমাকে যে ধরে আনা হয়েছে, তা এ-লাইনের অনেকেই জেনে যাবে। তোমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দিলে সবাই ভাববে, আমরা নরম হয়ে গেছি। আর আমাদের ভয় পাবে না। সেইজন্যই তোমার মুণ্ডুটা কেটে জঙ্গলের বাইরে ফেলে রাখতে হবে। কাকাবাবু ... | false |
shordindu | আর কখনও ফিরিবি না।” ডা-গামা উচ্চহাস্য করিয়া উঠিল, কহিল, “মূর, তুই অতি নির্বোধ! আমি শপথ করিব না, আমাকে বধ কর। আমার রক্তে কলিকটের মাটি ভিজিলে হিন্দে ইম্যানুয়েলের জয়ধ্বজা সহজে রোপিত হইবে।” মির্জা দাউদ হাস্য করিয়া কহিলেন, ‘এতদিনে নিজ মুখে নিজের অভিপ্ৰায় ব্যক্তি করিলি! কিন্তু তাহা হইতে দিব না। ইম্যানুয়েলের জয়ধ্বজ কালিকটে ... | false |
robindronath | মারিয়া লইবার জন্য মনটার ভিতরে ধড়্ফড়্ করিতেছে–কিন্তু মুখ ফুটিয়া না চাহিলে আমি দিব না, কখনো দিব না, দেখি কত ক্ষণ পণ রাখিতে পার।” এমন সময় উমা একটা সাবানের বাক্সে দড়ি বাঁধিয়া টানিয়া আনিয়া কহিল, “মাসি, গ-গ।” কমলা তাড়াতাড়ি উমিকে কোলে তুলিয়া বারংবার চুমো খাইতে খাইতে শোবার ঘরে লইয়া গেল। উমি তাহার শকটচালনায় অকসমাৎ বাধাপ্রাপ্ত... | false |
humayun_ahmed | করবেন। কেউ তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা করলে আমার ভাল লাগে না। আসিফ বলল, তোমার প্লেন তো সেই রাতে। সারাদিন তোমার মার বাসায় কি করবে? তার চেয়ে চল, ঐ ব্রিটিশ মহিলা কি বলেন শুনি। অনেক শেখার ব্যাপার থাকতে পারে। শেখার ব্যাপার থাকলে তুমি শেখ। আমার আর কিছু শিখতে ইচ্ছা করছে না। আসিফ ইতস্তত করে বলল, তোমার সঙ্গে টাকা-পয়সা বিশেষ কিছু দিতে পা... | false |
toslima_nasrin | বেগমরে বাড়িত তুলে, তাইলে তো আর কারও না হোক, মেয়েদুইটার কষ্ট হবে! নানির বাড়িতে যাওয়ার আসার পথে দেখি আজিজ প্রিন্টাসর্ নামে একটি ছাপাখানা।রিক্সা থামিয়ে সেই ছাপখানায় নেমে ডিমাই সাইজ প্রতি ফর্মা ছাপতে খর্চা কত জেনে আসি। এরপর দাদার কাছে টাকা চেয়ে কাগজ কিনে ছাপাখানায় দিয়ে ওখানে বসেই সেঁজুতির দ্বিতীয় সংখ্যার প্রুফ দেখি। মোহাম্... | false |
shomresh | যে তিনি একানে একজন সাজেন্টকে পাঠিয়েছেন তা ইতিমধ্যে ম্যাডাম জেনে গেছেন। ভার্গিস ধীরে ধীরে বাংলোর সামনে জিপটা রাখতেই ম্যাডামকে দেখতে পেলেন। ওপাশে একটা বেতের চেয়ারে বসে আছেন টেবিলে দুই পা তুলে। চোখে বড় সানগ্লাস। গাড়ির শব্দে চোখ ফেরালেন না। ভার্গিস জানেন ম্যাডাম এখানে একা আসেনি। ওঁর দেহরক্ষী কাম ড্রাইভার নিশ্চয়ই ধারে কাছে ... | false |
humayun_ahmed | দিয়ে আপনার প্রয়োজন কি? ধরে নিন আমি মন্ত্রী মহোদয়ের পি এস। আপনার নাম বলেন। আপনাকে নাম বলতে যাব কেন? বদরুলের কথা শুনে সেই লোক চায়ের কাপ মেঝেতে রেখে শান্ত ভঙ্গিতে উঠে এল। বদরুল কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রচণ্ড শব্দে চড় বসালো। বদরুল ছিটকে পেছনের বেঞ্চে পড়ে গেল। বসে থাকা সবাই শব্দ করে হেসে উঠল। বডি বিল্ডার টাইপ লোকটা বলল, এখন প্... | false |
shunil_gongopaddhay | লঞ্চ সুন্দরবনে এসে ভিড়েছে, সে-কথা তুমি শোনোনি? কই না তো! কলকাতার এক ব্যবসাদার তার টাকাগুলো এখানকার এক ভেড়িতে আমায় পৌঁছে দিতে বলেছিল, তাই টাকাগুলো আমি সাবধানে লুকিয়ে নিয়ে আসছিলুম। আর আপনারা ভাবলেন আমি চোরাই জিনিসের কারবার করি! রণবীর ভট্টাচাৰ্য অট্টহাসি করে উঠলেন। তারপর মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এবারে বলুন তো, কাকাবাবু, ... | false |
shomresh | সঙ্গে প্রকাশ্যে তুই তোকারি করে নিজের মতামত জানিয়ে দেওয়া-ও যেন পঞ্চাশ দশকের বাঙালি মেয়ে নয়। মায়া বলছিল, আমাদের দেশের মেয়ের এককালে স্বাধীনতা সংগ্ৰাম করেছে। মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদার, এমন কত মহিলা। কিন্তু এখন চারপাশে তাকালে কেউ কি সেকথা বিশ্বাস করবে? দীপা জবাব দিয়েছিল, যেসব ছেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা মারে, মেয়েদের... | false |
humayun_ahmed | না। নিমেষের মধ্যে বরফ কেটে গাড়ি বের করে ফেলত। তারপর ছোটাছুটি শুরু করত বরফের উপর। তুষার বল বানিয়ে চেঁচাত—মারব তোমার গায়ে বাবা? দেখবে আমার হাতের টিপ? মেয়েটা একেবারে ছেলেমানুষ রয়ে গেল। না, কথাটা ঠিক হল না। রুনকি এখন আর ছেলেমানুষ নয়। আমিন সাহেব বিশ্রাম নেবার জন্যে গ্যারাজের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। তখনই চোখে পড়ল, রাহেলা দ... | false |
shunil_gongopaddhay | জনতাকে বললেন, এখানে সবাই মিলে দাঁড়িয়ে হল্লা করার দরকার নেই। এখনই দারোগাবাবু আসছেন আরও পুলিশ নিয়ে। তারা পাহারা দেবে। আপনারা ভয় পাবেন না, বাড়ি যান। সামান্য একটা বাঘ, কালকেই আমরা ওকে ধরে ফেলব। কাকাবাবুদের কাছে ফিরে এসে তিনি বললেন, পৃথিবীতে কত আশ্চর্য ব্যাপারইনা ঘটে। মাণ্ডুতে বাঘ?বুঝলেন, কর্নেল, আমি আগে বিশ্বাসই করিনি। আমা... | false |
shomresh | ভয় পাচ্ছ, ওরা তোমার ক্ষতি করবে? যা সত্যি তাই আমাকে মানতে হবেই। বাঃ! খুব ভাল। আজ ভোরে জলপাইগুড়ি রোডে ট্রেন ডাকাতি করে যে জিনিসগুলো তোমরা পেয়েছ সেগুলো কোথায় রেখেছ? আপনি, আপনি কী করে জানলেন? সেটা তোমার না জানলেও চলবে। কত পেয়েছ আজকের কাজের জন্যে? এখনও পাইনি। জিনিসগুলো বিক্রি হয়ে গেলে পাব। তার মানে তুমি স্বীকার করছ–! আপনি য... | false |
manik_bandhopaddhay | আছে। হোসেন মিয়া যার মুরুব্বি, কীসের অভাব তার? বঙ্কু পাঁচকুড়ি টাকা পণ দিবে কুবেরকে, গোপিকে গহনা দিবে তিনকুড়ি টাকার, আর একদিন জেলেপাড়ার সকলকে দিবে ভোজ। এ কথা জানিতে কুবেরের বাকি নাই যে বিবাহের পর নবদম্পতিকে হোসেন ময়নাদ্বীপে লইয়া যাইবে, কিন্তু জানিয়া কী লাভ? হোসেন মিয়ার অবাধ্য কুবের কেমন করিয়া হইবে? তা ছাড়া পাঁচকুড়ি টাকার... | false |
shirshendu | বিপদ এত সহজ নয়। ওখানে আর একটা মেয়ে আছে। জমজমাট অফিস। মনীশ চুপ করে গেল। মুখে একটুও হাসি নেই। আজ বাবার সঙ্গে খুনসুটি করল না ঝুমকি, যা সে রোজই একটু করে। আজ সে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল এবং ভাবতে বসল। চাকরিটা তার ভাল লাগছে না। চারুমাসির ফোনটা এল রাত আটটা নাগাদ। এই ঝুমকি, চাকরিতে জয়েন করলি আজ? হ্যাঁ মাসি। যাক বাবা, বাঁচা গেল। ... | false |
shomresh | এত গম্ভীর এবং যেন মহান কোনো কর্ম সম্পন্ন করার নিষ্ঠায় মগ্ন যে। অনিমেষ চেষ্টা করেও তাদের নিজের ইচ্ছেটা জানাতে পারল না। মাষকলাইবাড়ি ছাড়িয়ে ওরা শ্মশানে এসে গেল। ছোট্ট পুলটা পেরিয়ে শুশানচত্বরে ঢুকতেই অনিমেষের চট করে সমস্ত কিছু মনে পড়ে গেল। মাকে নিয়ে ওরা এখানে এসে ওই গাছটার তলায়। বসেছিল। চিতা সাজানো হয়েছিল এই নদীর ধারটায়। ব... | false |
humayun_ahmed | বুশ এবং বারাক ওবামা বিষয়ে জটিল আলোচনায় চলে গেলেন। এই ফাঁকে আমি খালাকে জিজ্ঞেস করলাম, খালু সাহেবের মানি ব্যাগে যে নাম্বার পাওয়া গেছে তার সর্বশেষ অবস্থা কি? যার নাম্বার তাকে আইডেনটিফাই করা গেছে? খালা বিরস গলায়, বললেন, হ্যাঁ। যার নাম্বার সেই হারামজাদা নিউমার্কেটের কসাই। গরুর মাংস বিক্রি করে। তোর খালু তার কাছ থেকে মাংস ... | false |
shirshendu | মুক্তি দিয়ে গেছে। যতদিন কাছে ছিল ততদিন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা পরিশ্রমে বিলু শুকিয়ে গিয়েছিল। প্রীতম শিলিগুড়িতে থাকলেও তাকে কর্তব্যবশে মাঝে মাঝে যেতে হত সেখানে। এখন সেসব বালাই গেছে। সত্য বটে, প্রীতমের জন্য আজও তার কান্না পায়, কিন্তু সেই সঙ্গে বহুদিনের আকাঙিক্ষত এক মুক্তির আনন্দও ঘিরে ধরে তাকে। সেই আনন্দেই সে গুনগুন করে গান গায়। ... | false |
zahir_rayhan | ইতিমধ্যে শুনেছে সব, কিম্বা শোনে নি। তবু কিছুক্ষণ হতবুদ্ধি হয়ে গেলো সে। জাহানারা আবার প্রশ্ন করলো, ডলি কেমন আছে? মুনিম বললো, জানি না। জাহানারার ঠোঁটে মৃদু হাসি জেগে উঠলো। না জানবার তো কথা নয়। জাহানারার দিকে স্থির চোখে তাকালে সে। মুখখানা বিরক্তি আর অসহিষ্ণুতায় ভরা। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে সে বললো, তার কথা আমাকে জি... | false |
MZI | লি-হানের ছবিটি ছোট স্ক্রিনে ফুটে উঠল। সে একধরনের আতঙ্কিত গলায় বলল, কী হয়েছে তোমার ইবান? আমি জড়িত গলায় বললাম, ঘুমাচ্ছিলাম। নিহিলিন নিয়ে কয়দিন জেগে ছিলাম তো, শরীর আর চলছিল না। আমিও তাই আন্দাজ করেছিলাম। কিন্তু তাই বলে এত দীর্ঘ সময় ঘুমুবে বুঝতে পারি নি। আমিও বুঝতে পারি নি। যা-ই হোক কেন ডেকেছ বল। আমাদের হাতে সময় নেই। তোমাকে... | false |
MZI | করলাম। যখন সত্যিকার টাইট হবে সেদিন বুঝবে মজা। রাত্রে শুনলাম আব্বা আম্মাকে বলছেন, শুনেছি আজরফ আলীর কি হয়েছে আজ? কি হয়েছে তার? একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে ধরেছিল রাস্তায়। বলেছে তোমার দিন শেষ। কলমা পড়– তাই বলেছে? মুক্তিযোদ্ধা? হ্যাঁ। মুক্তিযোদ্ধার কাছে স্টেনগান ছিল, স্টেনগানটা যেই বের করবে। তখন দুইজন রাজাকার এসে হাজির। সৰ্ব্বন... | false |
shirshendu | আমি কিছু বুঝতেই পারছি না। প্রস নয়, চাকরি করে, দেখতে সুন্দর, বড়সড় ছেলে আছে, স্বামী জেল খাটছে, সব মিলিয়ে মহিলা খুবই অদ্ভুত। আমি হলে বিয়ে করার সাহস পেতাম না। হ্যাঁ, একটু অন্যরকম। খুবই অন্যরকম। ওর সঙ্গে আপনি জুটলেন কী করে? জুটে যায়।–উদাস গলায় বলে সুখেন। বীথি এত সহজে অচেনা লোককে শরীর দেয় কী করে? ওর ঘেন্না করে না? ভয় করে না?... | false |
MZI | মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে বাচ্চাটাকে দেখছে। আমাকে দেখে বলল, কী হল, পেপারটা আনতে এতক্ষণ? আমি ফিসফিস করে বললাম, পেপার না। তা হলে কে? দুর্দানা বেগম আর গনি সাহেব। বাচ্চা দেখতে এসেছে। এক্ষুনি বাচ্চাকে পানি থেকে তোল। এক্ষুনি। বাইরের ঘর থেকে দুর্দানা বেগম আবার বাঘিনীর মতো গর্জন করল, কোথায় বাড়ির মালিক? অনিক ফিসফিস করে বলল, আমি ওদেরকে ... | false |
shomresh | করতে লাগল। মুহূর্তে অনিমেষরা বুঝতে পারল বেচারা কথা বলতে পারে না। ওর চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে, হাতের কুকুরছানাটা ঝুলে পড়েছে। ছোটমা বোধহয় সামলাতে পারল না নিজেকে, চট করে একটা হাত বাচ্চাটার মাথায় রাখল। অনিমেষ দেখল সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাটা কেমন শান্ত হয়ে গেল, তারপর ছোটমার গা-ঘেঁষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু ওর চোখ দুটো ভীষণ ... | false |
tarashonkor | হইয়া উঠিল। গৌরীদিদিমণি কেমন আছেন? ভালই আছেন। কত বড় হয়েছেন এখন? শিবনাথ বিরক্ত হইয়া বলিল, সে শুনে আর তুমি কী করবে, বল? তুমি বরং আপন কাজ করগে যাও। মেসের চাকরটি এটা-ওটা লইয়া যাওয়া-আসা করিতেছিল, এবার সে কুঁজায় জল ভরিয়া লইয়া ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিতে করিতে শিবনাথের শেষ কথা কয়টি শুনিয়া রূঢ়স্বরে সেই কথারই প্রতিধ্বনি করিল, যা যা... | false |
shorotchandra | ইহারই পরামর্শ মত মেয়ে যেমন আছে তেমনি দেখাইবার আদেশ হইয়াছিল,—কারণ সাজাইয়া দেখানোর মধ্যে ফাঁকি চলিতে পারে। ছেলেটি ছয়টার ট্রেনে কলিকাতায় যাইবে—সে তাড়াতাড়ি করিতে লাগিল স্বর্ণ অন্তরালে দাঁড়াইয়া গলা চাপিয়া ডাকাডাকি করিতে লাগিলেন, কিন্তু জ্ঞানদা আর আসে না। শুদ্ধমাত্র একখানা কাপড় পরিয়া আসিতে যে সময় লাগে তাহার অনেক বেশি বিলম্ব... | false |
humayun_ahmed | নিজেও এই ঘরের স্বপ্নের অংশ হয়ে গেছি। ইথেন আমাকে লেবুর শরবত বানিয়ে খাওয়াল এবং মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে গল্প করতে লাগল– আমাদের কাজের মেয়েটার নাম শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। নাম বলব চাচা? বলো। ওর নাম সুধারানী। সুধারানী নাম শুনে চমকাব কেন? কারণ নামটা হিন্দু, কিন্তু সে মুসলমান। সপ্তাহে সে একদিন ছুটি পায়। আজ তাঁর ছুটি। সে ঘরেই আছে, কিন... | false |
robindronath | করিয়া করিয়া জানিল নলিনবাবু যুবাপুরুষ, কিছুকাল হইতে এই বাড়িতে যাতায়াত করিতেছেন। যদিও রমেশ হেমনলিনীর আশা ত্যাগ করিয়াই যাইতেছিল, তথাপি নলিনবাবুটির প্রতি তাহার সদ্ভাব আকৃষ্ট হইল না। রমেশ। তোর দিদিঠাকরুনের শরীর কেমন আছে? বেহারা কহিল, “তাঁহার শরীর তো ভালোই আছে।” সুখন-বেহারাটা ভাবিয়াছিল, এই সুসংবাদে রমেশবাবু নিশ্চিন্ত ও সুখী ... | false |
humayun_ahmed | হবে না? ধোঁয়াজাতীয় কিছুতে রোজা নষ্ট হয় না। গাড়ির ধোঁয়া নাকে গেলে রোজা নষ্ট হয় না। ফুলের গন্ধ নাকে গেলেও রোজা নষ্ট হয় না। এমন কোনো মোসালা কি আছে? এটা আমার মোসালা। চিন্তাভাবনা করে বের করেছি। এখন বাবা যাও, এক কাপ চা এনে দাও। চা খেলে রোজা ভাঙবে না? চায়ের গন্ধটা নাকে নিব। চায়ের গন্ধের সঙ্গে সিগারেট খাব। আরেকটা মাসালা ... | false |
toslima_nasrin | দুষ্টু দুষ্টু হাসতেন আর বাড়ির ভেতর ঢুকেই তিনি মা’র তোতলা শিশু, মুখে লোকমা তুলে খাওয়াতেন তাঁকে মা। বাবার শিয়রের কাছে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মা বলেন–একটা হিন্দু মেয়েরে, কী কইরা একটা হিন্দু মেয়েরে বিয়া করল কামাল! মেয়েটা কয়দিন আইছে এই বাড়িতে। ওর আচার ব্যবহার আমার ভালা লাগে নাই। আইসা নোমানরে সিনেমায় লইয়া যাইতে চায়। নোমান না যা... | false |
shordindu | শেষ হয়েছে। এদিকে দেখছি নটা বাজে; কৈলাসবাবুকে আর কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। —ভাল কথা, কৈলাসবাবু্, আপনি বাড়ি থেকে নিয়মিত চিঠিপত্ৰ পান তো?’ কৈলাসবাবু বলিলেন, ‘আমাকে চিঠি দেবে কে? একমাত্র ছেলে-তার গুণের কথা তো শুনেছেন; চিঠি দেবার মত আত্মীয় আমার কেউ নেই।’ প্রফুল্লম্বরে ব্যোমকেশ বলিল, ‘বড়ই দুঃখের বিষয়। আচ্ছা, আজ তাহলে চললুম... | false |
robindronath | করবেন।” “ঠাট্টা নয়, আমার সতীর্থ অমূল্য আড্ডি ছিলেন সেখানকার ডাক্তার। বিশপঁচিশ বছর প্র্যাকটিস করেছেন। কিছু বিষয়সম্পত্তিও জমিয়েছেন। হঠাৎ বিধবা স্ত্রী আর ছেলেমেয়ে রেখে মরেছেন হার্টফেল করে। দেনাপাওনা চুকিয়ে জমিজমা বেচে তাদের উদ্ধার করে আনতে হবে আমাকে। কতদিন লাগবে ঠিক জানি নে।” “এর উপরে আর কথা নেই।” “এ সংসারে কথা কিছুরই উপর... | false |
robindronath | আর ঐ তাপসের মাঝখানে যেন তপস্যার লক্ষ যোজন ক্রোশের দূরত্ব। হাজার হাজার বছরেও এতটা বিচ্ছেদ পার হয়ে একটুখানি কাছে আসবার আশা নেই। তা নাই-বা রইল আশা। তবু ওর কান্না আসে; মনে মনে বলে, দিনে একবার যদি বলেন ‘কেমন আছ’ তা হলে সেই কথাটুকুতে দিন কেটে যায়, এক বেলা যদি একটু ফল আর জল গ্রহণ করেন তা হলে অন্নজল ওর নিজের মুখে রোচে। ৩ এ দিক... | false |
humayun_ahmed | আমি ওকে দেখে আসি। নার্স ছাড়াও একজন ডাক্তার মুহিবের পাশে আছেন। জেবা পায়ের কাছে দাঁড়াল। ক্ষীণ স্বরে বলল, ওর নিঃশ্বাসে এ-রকম শব্দ হচ্ছে কেন? ডাক্তার সাহেব ওর কি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? ডাক্তার সাহেব কিছু বললেন না। জেবা বের হয়ে এল। শফিকুর রহমান সাহেব এসেছেন। বাবার হাত ধরে প্রিয়দর্শিনী দাঁড়িয়ে আছে। দু‘জনই চুপচাপ বারান্দায়... | false |
shomresh | থাকবে না। বাইরে বেরিয়ে এসে মিনিস্টারের আদেশ মনে করলেন ভার্গিস। খবরটা এখনই ম্যাডামের কাছে পৌঁছে দিতে হবে তাকে অথচ বাবু বসন্তলালের স্ত্রীকে আগে খবরটা জানানো দরকার ছিল। ভদ্রমহিলা নাকি খুব গোড়া, বাইরে বের হন না, ভার্গিস তাকে কখনও দ্যাখেননি। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু সংবাদ তো স্ত্রীর আগে পাওয়া উচিত। ওয়ারলেসে হেডকোয়ার্টার্সে খবর... | false |
humayun_ahmed | তোমরা ঝামেলা সেরে ফেল। কী ব্যামেলা? বিয়ের ঝামেলা। আপনি অবলীলায় এইসব কথা কীভাবে বলছেন? দীর্ঘদিনের অভ্যাস। জটিল কথা সহজ করে বলে ফেলি। ফুলফুলিয়া শোন, তুমি কিন্তু আমার কথা রাখ নি। তোমাকে বলেছিলাম আমি না বলা পর্যন্ত তুমি যেন জহিরের চিঠি না পড়। তুমি কিন্তু পড়ে ফেলেছি। এটাও কি অনুমান করে বললেন? হ্যাঁ। আপনার অনুমান শক্তি ভালো।... | false |
shorotchandra | তালুক রেখে যাননি যে, রাজা-রাজড়ার মত পণ্ডিত-বিদায় করতে হবে! যাও, যাও, ওসব আমিরী চাল আমার কাছে খাটবে না। লোকটা যারপরনাই কুণ্ঠিত ও লজ্জিত হইয়া চলিয়া গেল। ভবানী জানিতে পারিয়া ঘরের বাহিরে চৌকাঠের কাছে আসিয়া বসিলেন। সস্নেহে মৃদুকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোর কি কোনরকম অসুখ বোধ হচ্ছে গোকুল? গোকুল যেমন শুইয়া ছিল, তেমনিভাবে জ... | false |
shorotchandra | অশুভ, অসুন্দর, যা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী,—সেই কুৎসিতের জন্যেও যে নারীর অবিজ্ঞাত চিত্ত-তলে এতবড় আসন পাতা ছিল, পুরুষের বিমুখতা যে তাকে এমন নির্মম অপমানে আহত করতে পারে আজকের পূর্বে সে তার কি জানত?” হরেন্দ্র কহিল, অজিত বেশ ত বলেন। গল্পটা খুব মন দিয়ে পড়েছেন। মেয়েরা চুপ করিয়া শুধু চাহিয়া রহিল, কোন মন্তব্যই প্রকাশ করিল না। আশুবাব... | false |
humayun_ahmed | আমার সেই সুবিধা নাই। পাকিস্তানই আমার দেশ। নারায়ণ কাশতে কাশতে বললেন, আমার এক বিঘা জমির উপর যে বাড়িটা আছে সেটা বিক্রি করতে চাই। আমার নগদ টাকা প্রয়োজন। আপনি কি খরিদ করবেন? আজই ইন্ডিয়া চলে যাচ্ছেন? যেদিন বিক্রি করব তার পরদিনই চলে যাব। শিলচর দিয়ে যাব, ব্যবস্থা করা আছে। আপনার বাড়ি আমি কিনতে রাজি আছি। আপনারা তো একই জায়গা তিনচ... | false |
shomresh | ধরাধরি করে হরবিলাসবাবুকে রিকশায় তুলে দিল। অনিমেষ লক্ষ করছিল যে তিনি ওর মুখ থেকে চোখ সরাচ্ছিলেন না। অনিমেষের মনে হল, তিনি ওর বুকের ভেতরটর দেখতে পাচ্ছেন। ও ঝুঁকে পড়ে তাকে প্রণাম করল। হরবিলাসবাবু জড়সড় হয়ে রিকশায় বসেছিলেন, বোধহয় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শরীর নাড়তে পারলেন না। সঙ্গী ছেলেটি নিচে দাঁড়িয়েছিল, বলল, আপনি একা যেতে পারব... | false |
shorotchandra | আমার গৃহেই আসবেন, না হয় কোনদিনই আসবেন না। পারি, সসম্মানে প্রতিষ্ঠা করব, না পারি অন্ততঃ অসম্মানের মধ্যে টেনে আনব না। এ সঙ্কল্প হতে কেউ আমাকে বিচলিত করতে পারবে না। দিবাকর ধীর-পদে অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া সুরবালার ঘরের সুমুখে দাঁড়াইয়া ডাকিল, বৌদি! ভিতর হইতে মৃদুকণ্ঠের আহ্বান আসিল, ঘরে এস। দিবাকর প্রবেশ করিয়া দেখিল, আলমারি উ... | false |
humayun_ahmed | হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে। মানুষটাকে ছুঁয়ে না দিলে সে আর নিঃশ্বাস নিতে পারবে না। একটা অজুহাত তৈরি করে কি মানুষটাকে ছুঁয়ে দেয়া যায় না! সে কি বলতে পারে না- এই যে। শুনুন, আপনার কপালে এটা কী লেগে আছে? খুব স্বাভাবিকভাবে এই কথাটা বলে সে কপালে হাত দিতে পারে। কপালে হাত দিয়ে অদৃশ্য ময়লা সরিয়ে ফেলা। মানুষটার নিশ্চয়ই এত বুদ্ধি নেই যে ক... | false |
shirshendu | তুলতে গিয়ে পেরে ওঠেনি। সেটার ছাদ-ঢালাই করে দিয়েছে কৃষ্ণজীবন। পলেস্তারা পড়ে গেছে, জানালা-দরজাও বসে গেছে। রং হলেই সে বাড়িও হেসে উঠবে। পুরনো ঘরগুলো ভেঙে জায়গা চৌরস করে বাগান হচ্ছে। ময়দানবের কাণ্ড যেন, রামজীবনের আধখ্যাচড়া ঘর আর মুখ ভ্যাংচায় না বিষ্ণুপদকে। বিষ্ণুপদ এখন দোতলার চওড়া বারান্দায় বসে দুনিয়াটা দেখে। কিন্তু নতুন রক... | false |
humayun_ahmed | এই মেয়েটি ভয়াবহ একটা সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। তিনি সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করেছিলেন। তারপরই মেয়েটির মাথায় ঢুকে গেছে মিসির আলি তাঁর জীবনে যত সমস্যার সমাধান করেছেন সেগুলি সে লিখে ফেলবে। প্রতিমা হাসতে হাসতে বলল, স্যার আপনি এমন হতাশ চোখে তাকাচ্ছেন কেন? আমি বাঘ-ভালুক কিছু না। আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে। সাধারণ হলেও ভাল... | false |
humayun_ahmed | আপনার সঙ্গে আমার একটি অত্যন্ত জরুরি কথা আছে। এতক্ষণ যা বললে সেগুলো জরুরি নয়? না নয়। বেশ, বল শুনি। বলছি–কিন্তু আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমার জরুরি কথাটা বলা শেষ হবার পরেও আগে যেভাবে আসতেন এ-বাড়িতে ঠিক এইভাবেই আসবেন। আহসান হাসিমুখে বলল, বেশ নাটকীয় ওপেনিং ব্যাপার কী বলত? আপনার বাবা, আমার বাবাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠ... | false |
shottojit_roy | চোরকে ধরে দিতে পারি। তা হলে আরও বেশি নাম হবে; কিন্তু সেটা সাহসে কুলোল না। যাই হাক।–কাল রাত্রে কৈলাসের কাছে গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম। যখন দেখলাম একে একে বাংলোর সবাই ঘুরতে বেরিয়েছে, তখন বাংলোয় গিয়ে জমাদারের দরজা দিয়ে চট্টোরাজের ঘরে ঢুকে মাথাটা নিয়ে আসি। ফেলুদা বলল, আপনার পেছনেও যে একজন গোয়েন্দা লেগেছে সেটা বুঝতে পেরেছিল... | false |
toslima_nasrin | দিতে গেলে পুলিশ তাকেও বেদম পেটায়। পুলিশ এরপর পুলিন, রবীন্দ্রনাথ আর বিকাশকে বেঁধে থানায় নিয়ে যায়, সেখানে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হাজতে পাঠিয়ে দেয়। তাদের জামিন দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার কিছু আগে শোলাকুড়া গ্রামের আবদুল হাকিম মোল্লা লক্ষ্মণ চন্দ্রের ভাইয়ের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল এবং বাড়ির অন্য সদস্যদের পিটিয়েছিল। এই অপ... | false |
shomresh | যাচ্ছিল। কিছু লোক এই পথ ধরে হাঁটছে। এরা যাবে দিকেভঞ্জন। শীত বাড়ছে। এর আগের বার যাওয়ার সময় দিকেভঞ্জনে কয়েকটা ঘরবাড়ি সে দেখেছিল। ওই অবধি পোঁছাতেই রাত হয়ে যাবে। আর এখানে খোলা আকাশের তলায় রাত মানে নিশ্চিত মৃত্যু। দ্রুত পা চালাচ্ছিল কল্যাণ। সুকিয়াপোকরির খাওয়া আর গাড়িতে বসে পুরোটা পথ ঘুমিয়ে শরীর এখন অনেকটা তাজা। যদিও বুকে সর... | false |
shorotchandra | এ ক্ষেত্রেও তিনিই কথা কহিলেন, বলিলেন, হুজুরের পাছে নিদ্রার ব্যাঘাত হয়, তাই একটু বিলম্ব করেই আমরা সকলে— জীবানন্দ খাতাপত্র এক পাশে ঠেলিয়া রাখিয়া সহাস্যে কহিলেন, বিলম্ব না করে এলেও হুজুরের নিদ্রার ব্যাঘাত হতো না শিরোমণিমশায়, কারণ দিনের বেলা তিনি নিদ্রা দেন না। কিন্তু আমরা যে শুনি হুজুর— শোনেন? তা আপনারা অনেক কথা শোনেন যা ... | false |
humayun_ahmed | বল? ঐ মেয়েটা কী কান্ডকারখানা করে বেড়াচ্ছে তা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। নিশ্চয়ই। আমি এক্ষুণি যোগাযোগ করে দিচ্ছি। মাথুরের চিন্তাশক্তি প্ৰায় লোপ পেয়েছে। লীর নিয়ে আসা বইটির শেষ অংশ নেই, এতেই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। এদিকে ফিহার কোনো খোঁজ নেই। সিরান-পল্লীর বিজ্ঞানীরা তাঁকে বয়কট করেছেন। কাজকর্ম চালাচ্ছে স্রুরা। স্রুরা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে,... | false |
shomresh | মুখে কোন কথা নেই। শেষ পর্যন্ত অলোকই বলল, তুমি এখনও মনে রেখেছ? মনে রাখিনি, এগুলো জন্মটিকার মত, মন থেকে ওঠে না। কিন্তু তার জন্যে নয়, আমি ওসব মন্ত্রে বিশ্বাস করি না। ইউজলেস। বিয়ের পিঁড়িতে বসে যে শব্দগুলো মানুষ বলে তা অন্যের শেখানো। পাখির বুলি আওড়ানোর মত। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জীবন অন্য কথা বলে কিছুদিনের মধ্যেই। হ্যাঁ, খেলা ... | false |
shunil_gongopaddhay | দেখেনি। বাংলায় ধনী ব্যবসায়ী ও জমিদার তো কম নেই, কিন্তু আর কেউ এত বৃহৎ দেবালয়ের প্রতিষ্ঠাও করেননি, এ রকম বিপুল উৎসবের আয়োজনও কেউ করতে পারেননি শুধু অর্থ থাকলেই হয় না, সেই অর্থব্যয় করার মতন অন্তঃকরণও থাকা দরকার। সময়ে, যখন হিন্দুধর্ম নানাদিক থেকে বহু রকম আক্রমণে পর্যুদস্ত। অনেক হিন্দু শাস্ত্র এবং সংস্কৃত গ্ৰন্থ অবলুপ্ত হয়ে... | false |
shirshendu | আপনার কি মনে হয় না যে, ওরা মেড ফর ইচ আদার? হয়। চারুশীলা উজ্জ্বল হয়ে বলে, হয়? তাহলে আমি নিশ্চয়ই ভুল করিনি! আচ্ছা, আপনি কথা চেপে রাখতে পারেন? চয়ন উদ্বেগের সঙ্গে বলে, এসব কি গোপনীয় কথা? না, এসব নয়। আপনি বোধ হয় জানেন না, হেমাঙ্গ বিয়ের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। উইক এন্ডে কোথায় চলে যাচ্ছে। হ্যাঁ, আপনি হেমাঙ্গীবাবুর হাইড আউটের কথা... | false |
shomresh | সকালে দীপাবলী কিছু বলার আগেই জানিয়ে দিয়েছে ওকে তার দরকার নেই। তার বদলে একটি বছর পনেরর ইউ পির ছেলেকে অলোক ধরে নিয়ে এসেছে। চা বানান, রুটি সেঁকা এবং দু-একটা ভাজাভুজি ছাড়া তার কোন কৃতিত্ব নেই। সকালে উঠে সে-ই চা বানায়, ব্রেকফাস্টের যোগাড় করে। দীপাবলী শেষ পর্বে তার সাহায্য নিয়ে টেবিলে সেগুলো পরিবেশন করে। অলোক এবং সে খাওয়া শ... | false |
shirshendu | যে! গায়ের লোক আপনাকে আড়ালে কি বলে জানেন ? বলে পাগলবাবু, অবশ্য আদর করেই বলে, আপনার ওপর কারও কোনও খার নেই। তবে ওসব শুনতে কি আমার ভাল লাগে, বলুন! হেমাঙ্গ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, আমি তো পাগলই। লোকে যখনই জীবনের সবচেয়ে সত্য বস্তুর সন্ধান পায় তখনই কি করে যেন লোকের চোখে পাগল বা ক্ষ্যাপা বলে মনে হয় লোকটিকে। তা সে লোকে যা... | false |
shirshendu | চাইছেন। তিনি কে? রিঙ্কুর মা। শ্যামলী। তিনি কেন দেখা করবেন? বোধহয় ভজনবাবুকে নিজের হাতে খুন করতে চান। আপনি রাজি হয়েছেন নাকি? হয়েছি। কেন? ভজনবাবুকে শক দেওয়ার কোনও চেষ্টাই আমি ছাড়ছি না। ও। আপনি সবসময়ে ডেনজার নিয়ে খেলা করেন। অ্যান্ড হোয়াই নটী? ঘোষাল হাসল, ইটস ওকে ইফ ইট পেজ। কিন্তু এসব তো পণ্ডশ্রম। মনে হচ্ছে তাই। বাই দি বাই,... | false |
humayun_ahmed | চলে গেছে। পাঞ্জাবি ঠিক করতে ইচ্ছা হচ্ছে না। আজমল সাহেব সাবধানী মানুষ ইলেকট্রসিটি থাকা সত্ত্বেও তিন ব্যাটারির একটা টর্চ সাথে নিয়ে এসেছেন। টৰ্চটা এখন কাজে আসছে। আঞ্জামাল সাহেব বললেন, দরজায় তালা না দিয়েই রওনা হচ্ছেন। তালা দিন। এখন তালা খুঁজে পাব না। টাৰ্চটা নিয়ে খুঁজে বের করুন। ঘর খোলা রেখে যাবেন নাকি? অসুবিধা নেই। অবশ্যই... | false |
MZI | ইম্পরট্যান্ট। নুরুল ইসলাম হাসার ভঙ্গি করে বললেন, এনডেভার দেশে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। পৃথিবীর একটা জায়ান্ট কম্পিউটার কোম্পানি। কাজেই যত্ন করে ওদের ইন্টারভিউ নেবে। যত্ন করে? হ্যাঁ। মানে বুঝেছ তো? ঘটাবে না। এরা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী দেশের বিশাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। একটা সময় ছিল, যখন এসব কোম্পানি... | false |
shunil_gongopaddhay | কিন্তু কত স্বপ্ন ছিল ভূমিসূতাকে ঘিরে। একদিন ভূমিসূতা চলে আসবে তার কাছে, সে তখন সরকারি খাতায় নাম লিখিয়ে বিয়ে করবে ভূমিসূতাকে। সেই সময় অবশ্য বন্ধু-বান্ধবদের সাহায্য নিতে হতোই। দ্বারিকা আর যদুপতি তাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করত। তারপর তার ওই হরি ঘোষ ছোট বাড়িতেই বসে পড়াত। লেখাপড়ায় খুব আগ্ৰহ ভূমিসূতার, তাকে সে ইংরেজি পড়তেও শিখিয়... | false |
MZI | “বাবা গো” বলে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে পড়ার চেষ্টা করেন। লোকজনের ভেতর একটা বিস্ময়ের গুঞ্জন শুরু হয়ে হঠাৎ থেমে যায়। সাগরেদরা হতভম্ব। বড়। সাগরেদ সবচেয়ে আগে সম্বিত ফিরে পান, ভয়ের ভঙ্গিতে বললেন, নাউজুবিল্লাহ্ নাউজুবিল্লাহ্ নাউজুবিল্লাহ—আপনারা দরুদ শরিফ পড়েন, সবাই জোরে জোরে দরুদ শরিফ পড়েন, জোরে জোরে। দরুদ শরিফের আওয়াজে আর কিছু শ... | false |
MZI | কেন বুঝেছ?” আমি বললাম, “আপনার নাম জামশেদ” “হ্যাঁ। আমি মেজর জামশেদ। তোমাদের ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা আসলে বাচ্চা কাচ্চার জিনিষ না। এটা হচ্ছে বড়দের জিনিষ। তাই এটা বড়দের হাতে থাকা ভাল। এটার নামও হওয়া উচিত বড়দের নামে। বুঝেছ?” আমরা কেউ কোনো কথা বললাম না। জামশেদ নামের মানুষটা গম্ভীর মুখে বলল, “এখন এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলি। জিনিষ... | false |
shunil_gongopaddhay | যাই। স্পিডবোটের চালক ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, স্যার, এই নদীতে পড়লে সাঁতার জেনেও খুব লাভ হয় না। এই নোনা জলে কামঠ থাকে, কুচু করে পা কেটে নিয়ে যায়। বিমান বলল, কামঠ কী? কাকাবাবু বললেন, একরকম ছোট হাঙর। খুব হিংস্র রণবীর ভট্টাচাৰ্য বললেন, কারুরই জলে পড়ার দরকার নেই। ওহে বাপু, তুমি সাবধানে ঠিকঠাক চালাও! নদীর দুধারে অনেক লোক জলে নেমে কী ... | false |
zahir_rayhan | পুলিশ অফিসারগুলো পরস্পরের মুখের দিকে তাকালো। একজন অফিসার আরেকজনের কানে ফিসফিসিয়ে বললো, আমাদের অত কোমল হলে চলবে কেন স্যার, শুনলে কিউ. খান সাহেব বরখাস্ত করে দেবেন আমাদের। কিন্তু কেউ সাহস করলো না এগুতে। মেডিকেলে মেয়েদের হোস্টেলের বাঁ দিককার রুমটায় তিন-চারজন মেয়েকে নিয়ে বসে আলাপ করছিলো সালমা। বাইরে বারান্দায় বসে তখন কয়েকটি... | false |
shordindu | বরং প্রতিহত করিয়াছে। বিশেষত সে ভট্ট নাগেশ্বরের মুখে চঞ্চরীর জন্মবৃত্তান্ত শুনিয়াছিল, দুবৃত্ত ম্লেচ্ছ রাজার জারজ কন্যা। ইহাতে তাহার মন আরও বিমুখ হইয়াছিল। ময়ূর চাপা তর্জন করিয়া বলিল—তুমি কেন আমার ঘরে এসেছিলে? চঞ্চরী উত্তর দিল না, আঁকিয়া-বাঁকিয়া ময়ূরের হাত ছাড়াইবার চেষ্টা করিল। সে কেন ময়ূরের ঘরে আসিয়াছিল নিজেই বোধ হয় জা... | false |
MZI | চট করে থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ঢাকা শহরের সব মানুষকে যেটি কোনো না কোনোভাবে কষ্ট দিয়েছে সেটি হলো যানজট। (মাত্র কিছুদিন আগে আমি অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ি থেকে নেমে টানা চার ঘণ্টা হেঁটে যানজট থেকে বের হয়ে এসেছি।) আমি সিলেটে ক্যাম্পাসে থাকি আর মাত্র পাঁচ মিনিটে হেঁটে হেঁটে আমি ক্লাস নিতে হাজির হই। চারপাশে সবুজ গাছ, ধানক্ষেত, ব... | false |
toslima_nasrin | করল না। এখনও কি আর বিপদ কেটে গেছে? বাড়ির সবার নির্লিপ্তি দেখে মায়াও অনেকটা নির্লিপ্ত হয়ে গেছে। সেও ভাবতে চাচ্ছে যা হয় হোক আমার কী। সুরঞ্জনই যদি না ভাবে মায়া একা ভেবে কী করবে!! তার তো এমন কোনও বন্ধু নেই। যেখানে সবাই মিলে উঠতে পারে। পারুলের বাড়িতেই তার অস্বত্তি হচ্ছিল। এমনিতে পারুল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন, দিন রাত... | false |
shomresh | জয়িতা গোল হয়ে বসে তাস খেলছে। জয়িতাই বলল, ওই যে, এসে গেছে! উঃ, কি চিন্তা হচ্ছিল। চুপ কর। মা-মা ভাব করিস না। ওই বস্তুটি আবার আমদানি করলি কেন? সময় কাটানোর পক্ষে দারুণ জিনিস। তুই শালা নাইনটিন সেঞ্চুরির বিধবা। সিগারেট খাস না, মদ তো প্রশ্নই ওঠে না, কোন মেয়ের সঙ্গে আজ পর্যন্ত প্রেম করলি না, আবার তাসেও অ্যালার্জি! সুদীপ নাটক ক... | false |
humayun_ahmed | কর্নেল তাহের। এই দুজনই মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারী। বলা হয়ে থাকে, জেনারেল মঞ্জুর তার রূপবতী স্ত্রী দ্বারা পরিচালিত ছিলেন। এই স্ত্রী মঞ্জুরের শেষ দিন পর্যন্ত তার সঙ্গী ছিলেন। সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো এবং জিয়া হত্যার পেছনে প্রলয়ংকরী স্ত্রী বুদ্ধি কাজ করে থাকতে পারে। গ্রন্থপঞ্জি ১. বঙ্গবন্ধু হত... | false |
humayun_ahmed | তখন তিনি খুবই অবাক হলেন। আমি বললাম, ভাই রোগ আপনি কীভাবে সারান? রউফ মিয়া বললেন, রোগ ভক্ষণ করে ফেলি। কী করে ফেলেন? ভাই সাহেব, খেয়ে ফেলি। ভক্ষণ। আমি বললাম, কীভাবে খেয়ে ফেলেন? চেটে খেয়ে ফেলি। আমি বললাম, কীভাবে চেটে খান? ভালোমতো ব্যাখ্যা করুন। রউফ বললেন, রোগীর কপাল চেটে রোগ খেয়ে ফেলতে পারি। হাতের তালু, পায়ের তালু চেটেও খাওয়... | false |
shunil_gongopaddhay | কাকাবাবু বললেন, তোমার ওই কাকদ্বীপ থানার ওপর ভরসা করে কতদিন বসে থাকব? আমার নিজেরই খুব লজ্জা লাগছে। ছেলেটা আমার সঙ্গে গেল, অথচ আমি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারলাম না! আজই একটা কিছু করা দরকার। অসীম, তোমার কার্ডে দেখলাম, তুমি এখন আই জি ক্রাইম, তার মানে সারা পশ্চিমবাংলা জুড়ে তোমার কাজ। তুমি আমার সঙ্গে চলো কাকদ্বীপ। ওই সার্কাসে গিয়ে... | false |
shorotchandra | ঢোঁক গিলিয়া কহিল, আমি নিজের চোখে দেখে গেছি। সতীশ চুপ করিয়া শুনিতে লাগিল। বেহারী বলিল, আমরা যেদিন বাসা বদল করি, তার পরদিন দুপুরবেলায় আমি আসি। তখন বিপিনবাবু সাবিত্রীর বিছানায় ঘুমুচ্ছিলেন। সতীশ ভয়ানক ধমক দিয়া উঠিল, মিথ্যে কথা! বেহারী চমকাইয়া উঠিয়া বলিল, না বাবু, সত্যি কথাই বলচি। সতীশ তাহার মুখের দিকে তীব্র দৃষ্টি করিয়া মু... | false |
humayun_ahmed | এসে উঠলেন। হইচই চিৎকার করার কোনোই মানে হয় না। পুরো ব্যাপারটা স্বপ্ন হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কাজেই তার যা করণীয় তা হল বিছানায় চলে যাওয়া। ঘুমিয়ে পড়া এবং ঘুম ভাঙার জন্যে অপেক্ষা করা। মিসির আলি বিছানায় শুয়ে পড়লেন। শীত শীত লাগছে। পায়ের কাছে রাখা চাঁদ র বুক পর্যন্ত টেনে দিলেন। একটা হাত রাখলেন কোলবালিশের উপর। তিনি চোখ বন্ধ ক... | false |
tarashonkor | ব্যাপারটা বুঝতে কষ্ট হয় নাই লোকের। এলোচুলে লঙ্কা নুন পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খেতে বসেছিল সে আজই ভরা দুপুরবেলায়, সেই সময়। আজ শনিবার অমাবস্যে। ক্ষণের মুখে এই লোভনীয় খাদ্য খেতে বসায় এঁটো হাতের সুযোগ এবং এলোচুলের অপরাধে তাকে পেয়েছে কোনো অশান্ত প্রেতলোকবাসী। এবং সে প্রেতলোকবাসী যে কে, বাবাঠাকুরের কৃপায়, হাঁসুলী বাঁকের উপকথার... | false |
shordindu | ঊষাপতিবাবু দ্বিধাভরে বলিলেন, ‘কী জানি, আগে লক্ষ্য করেছি বলে মনে হচ্ছে না।’ ব্যোমকেশ বলিল, ‘সম্প্রতি কেউ সেঁটেছে। বাড়িতে ছোট ছেলেপিলে থাকলে বোঝা যেত। কিন্তু–আপনি একবার খোঁজ নেবেন?’ ঊষাপতিবাবু সহদেবকে ডাকিলেন, সে যথারীতি বলিল, ‘আমি কিছু জানিনে বাবু।’চুমকিও কিছু বলিতে পারিল না। শীতাংশু বলিল, ‘আমি কাল সন্ধের সময় যখন ... | false |
shunil_gongopaddhay | এভারেস্ট দেখা যায়। সন্তুর দিকে তাকিয়ে মিংমা বলল, সন্তু সাব, গ্লাভস কাঁহা? গ্লাভস পরে আসুন। সনঝে হলেই বহুত শীত লাগবে? সত্যিই তো, সন্তু মনের ভুলে খালি হাতে চলে এসেছিল। শীত তো লাগবেই। তা ছাড়া, মাঝে-মাঝেই আছোড় খেয়ে পড়তে হয়, বরফে হাত লাগে। কাকাবাবু আগেই সাবধান করে দিয়েছেন, বেশি ঠাণ্ডার মধ্যে খালি হাতে বরফ ছুলে ফ্রস্ট বাইট হ... | false |
shomresh | এই তো আমার ছেলে। হ্যাঁ রে, তোকে কেউ মারধোর করেনি তো? বিশ্বনাথ জবাব দিল না। দ্বিতীয় লোকটি বলল, দারোগাবাবু, আমি ওর উকিল। আমার মক্কেলকে কোন চার্জে ধরে নিয়ে এসেছেন জানতে পারি? কোর্টে গিয়ে জানবেন। না। আপনাকেই বলতে হবে। কারণ আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও স্পেসিফিক চার্জ আপনার নেই। কাল রাত্রে দুটো লোক ওদের গ্রামে গিয়ে রটিয়ে দিয়... | false |
shomresh | বড় বিচিত্র অনুভূতি। ধরাবাঁধা ব্যাখ্যায় তাকে ধরা যায় না। মেয়েটির শেষকৃত্য হবে সূর্য ওঠার মুহূর্তে। সেই অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব। তুই সুদীপকে ডাক। কথাটা শেষ করে জয়িতা আবার ভেতরে ঢুকে গেল। আনন্দ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। হঠাৎ তার নিজেকে একজন টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত বলে মনে হল। অতিক্রম করতে চায় সে কিন্তু এক একটা শেকড় এমনভাবে ... | false |
humayun_ahmed | থাকবে। নকল পিস্তল নিয়ে ফলাফলি করলে নেতা হওয়া যায় না। আতর বলল, চুপ! আরেকটা শব্দ করলে গুল্লি। এই দেখা পিস্তল। হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখ আসল। আমি নকলের কারবার করি না। গুলি করবেন? অবশ্যই করব। আমার চোখের দিকে তাকা। তাহলেই বুঝবি আমি যা বলি স্বতা-ই করি; যা বলি না। তাও করি। রুস্তম সমর্থন আদায়ের জন্যে এদিক-ওদিক তাকাল। সবাই খাওয়া ন... | false |
shunil_gongopaddhay | আর বিমানের কথাবার্তা শুনে চোরের সজাগ হয়ে যাওয়ার কথা। সে যদি সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালাতে চায়, কাকাবাবুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাবে। সে ইচ্ছে করেও কাকাবাবুকে ঠেলে দিতে পারে। কাকাবাবু এবার রিভলভারটা বার করে তৈরি রাখলেন। তারপর সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলেন আস্তে-আস্তে। সামান্য একটা চোর ধরার জন্য এতটা ঝুঁকি নেওয়ার কোনও মানে হয় না। কিন্তু এ... | false |
shordindu | করেই চাকর রাখিনি। প্রত্যেক শনিবার দুপুরবেলা সুকুমারী নিজের বাসা থেকে ভাড়াটে বাসায় চলে আসে, ঘরদের পরিষ্কার করে রাখে। আমি বিকেলবেলা যাই। তারপর সোমবারে আমি অফিসে চলে যাবার পর, সে বাড়িতে তালা দিয়ে নিজের বাসায় ফিরে যায়। হাপ্তার বাকি দিন বাড়ি বন্ধ থাকে।’ প্রশ্ন : টেলিফোন রেখেছেন কেন? উত্তর : নিজের জন্য নয়, সুকুমারীর জন্য... | false |
MZI | যা দেখেছ সেটার কোনো মাথা মুণ্ডু আছে? আমার কাছে তো মনে হচ্ছে পরিষ্কার নরক। কেন খামোকা ভয় দেখাচ্ছ লোকজনদের, লু একটু বিরক্ত হয়ে বলল, এটা যদি সেনাবাহিনীর মহাকাশযান হত, তাহলে এতক্ষণে তোমার কোর্ট মার্শাল হয়ে যেত। সুশান, তোমার এত ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, আমাদের এই মহাকাশযান গবেষণার জন্যে হতে পারে, কিন্তু দরকার হলে আমাদের হাজা... | false |
shottojit_roy | মড়ক লেগে সব কিছু মরেটরে ভূত হয়ে গেছে। তবে তারমধ্যেও দেখলুম। আপনার পায়ের ছাপ ঠিকই রয়েছে; আর দেখলে মনে হয়—অন্তত ক্যাবলা তাই বললে—যে আপনি যেন যাকে বলে দৃপ্ত পদক্ষেপেই এগিয়ে চলেছেন। আরও দশ মিনিট চলার পরেই কী সব যেন শব্দ কানে আসতে লাগল—দুমদাম ধুপ ধাপ খচখচ—নানারকম শব্দ। ক্যাবলা দেখি তার বন্দুকটাকে বাগিয়ে ধরেছে। আমার কিছুই ধর... | false |
humayun_ahmed | সামনের মাসের ছাব্বিশ তারিখ। টেনশান লাগছে? যতটা টেনশান লাগা উচিত ছিল— ততটা লাগছে না। প্রিপারেশন কেমন? খুবই খারাপ। মন লাগিয়ে পড়তে পারছি না। পীর সাহেবের দোয়া বা তাবিজ লাগলে আমাকে বলবে। আমি জোগাড় করে দেব। আমাদের পাড়ায় একজন পীরসাহেব থাকেন, তিনি পরীক্ষাপাসের তাবিজ দেন। পঞ্চাশ টাকা করে হাদিয়া নেন। আমি একশো টাকা দিয়ে ডাবল একশা... | false |
humayun_ahmed | থাকবে। আমি আমার বাসায়। আনিকা বলল, তুমি আমার বাসায় উঠে আসবে। আমি একটা আলাদা ঘর নিয়ে থাকি তুমি আমার ঘরে থাকবে। কিছুদিন পর মিতুর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন মিতুর ঘরটায় তুমি তোমার ছবি আঁকার জিনিসপত্র রাখবে। ঘরজামাই হবো? আমরা মেয়েরা যদি ঘরবউ হতে পারি, তোমাদের ঘরজামাই হতে অসুবিধা কী? কোনো অসুবিধা নেই। সিগারেট তো শেষ হয়ে গেছে, হাতে ন... | false |
shunil_gongopaddhay | লাফ দিয়ে যেন পিলে চমকায়! কাকাবাবু হেসে বললেন, খুব সোজা মিল পেয়ে যাচ্ছিস, তাই না? দাঁড়া, এবার একটা শক্ত দিচ্ছি। ভুরু কুঁচকে মিনিটখানেক চিন্তা করার পর কাকাবাবু বললেন, হ্যাঁ, এটার সঙ্গে মিলিয়ে দে তো দেখি। মেঘ ডাকে গুরু-গুরু কাঁপে সারা অম্বর সন্তু এবার কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই পেছন থেকে কে যেন বলল, এই তো স্বয়ং অম্বর এখানে হ... | false |
shordindu | কালিমাবেষ্টিত লোক দুইটিতে মন্থর কুটিলতা। মুখ দেখিয়া চরিত্র অধ্যয়ন যদি সম্ভব হইত বলিতাম লোকটি মাহাপাপিষ্ঠ। মণীশবাবু খুব খাতির করিয়া আগস্তুককে ঘরে আনিলেন, আমাদের সহিত পরিচয় করাইয়া দিলেন, ‘ইনি শ্রীগোবিন্দ হালদার, এখানকার একটি কয়লাখনির মালিক। এঁরা হচ্ছেন শ্ৰীগগন মিত্র এবং সুজিত কন্দ্যোপাধ্যায় ; আমার বন্ধু, কলকাতায় থাক... | false |
humayun_ahmed | অবাক হবে কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলে না। অফিস থেকে এসে ইজিচেয়ারে বসে থাকি। যে যার মতো ঘুরে বেড়ায়। আমার সঙ্গে দুটা কথা বলার সময় কারোর নাই। ইয়াকুবের গলা ধরে এসেছে। তার চোখে সত্যি সত্যি পানি। তিনি শার্টের হাতায় চোখ মুছলেন। মৃন্ময়ী বলল, চাচা আমি কি আপনাকে একটা অনুরোধ করতে পারি? ইয়াকুব বললেন, অবশ্যই পার। তোমাকে আমি মেয়ের মতো বি... | false |
manik_bandhopaddhay | ধার থেকে এগোতে পারবে না? ওসমান বলে, না না, রেলগাড়ি আটকানো ঠিক হবে না। লাল ইটের লম্বা প্রাচীরের পাশে নোংরা ফাঁকা স্থানটিতে একে একে বহু লোক এসে জড়ো হয়। গায়ে মাথায় দুফেঁটা জল ঢেলে তার টিনের পাত্রটি ভরে একটু জল আনতে কলতলায় গিয়ে ধন্না দেবার জন্য গুটি গুটি চলতে চলতে বয়সের ভারে বাকা নানিও খানিক দাঁড়িয়ে যায়। মেয়েরা ক্ষুব্ধ কণ্... | false |
shottojit_roy | ছাড়া কেউ থাকতে পারে না ভেবেই ফেলুদা মুখ খুলল; তবে গলা তুলল না। এটা ছড়িয়ে দিন তো একটু আশেপাশে। ফেলুদা ঝোলা থেকে একটা ছিপি-আঁটা বোতল বার করে লালমোহনবাবুর দিকে এগিয়ে দিয়েছে। ছোছ্-ছড়িয়ে? কার্বলিক অ্যাসিড। সাপ আসবে না। চারদিকে হাত চারেক দূর অবধি ছিটিয়ে দিলেই হবে। লালমোহনবাবু আজ্ঞা পালন করে এক মিনিটের মধ্যেই ফিরে এসে ব... | false |
manik_bandhopaddhay | বোধহয় শ্যামার একখানা হাত তুলিয়া একটি কোমল স্পন্দনের উপর রাখিয়াছিল। জাগিয়া থাকিবার শক্তিটুকু শ্যামার তখন ঝিমাইয়া আসিয়াছে। সে অতিকষ্টে একটু পাশ ফিরিয়াছিল। দেখবি বৌ? এই দ্যাখ– এবার স্বর চিনিতে পারিয়া কম্পিতকণ্ঠে শ্যামা বলিয়াছিল–ঠাকুরঝি? মন্দাকিনী আলোটা উঁচু করিয়া ধরিয়া বলিয়াছিল আর ভাবনা কি বৌ? ভালোয় ভালোয় সব উতরে গিয়েছে। ... | false |
toslima_nasrin | লেহাপড়া কি আমগোর কপালে আছে! জিজ্ঞেস করি–তুমার বাপ নাই!কবে মরছে! কেমনে? ফুলবাহারি চোখ না তুলে বলে–বাতাস লাইগা মরছে। –বাতাস? বাতাস লাগলে মাইনষে মরে নাকি? বকের মত গলা লম্বা হয়ে ওঠে বিস্ময়ে। –জিনের বাতাস খালা। বাপে হাতপাও লুলা অইয়া বিছনাত পড়ল। পড়ল ত পড়লই। আর উঠল না। চৌকাঠ মুছে বড় একটি শ্বাস ছেড়ে বলে ফুলবাহারি। ওর পরনের মোট... | false |
shordindu | হইয়াছিল। তাহার স্ত্রী এক মৃত কন্যা প্রসব করিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাহার পর সে আর বিবাহ করে নাই। “পুলিস-তদন্তে বাহির হইয়াছে যে, হত ব্যক্তি গোয়া হইতে নবাগত একজন পোর্তুগীজ ফিরিঙ্গী, ব্যবসায় উপলক্ষে কয়েকদিন পূর্বে কলিকাতায় আসিয়া এক ক্ষুদ্র হোটেলে বাস করিতেছিল। তাহার নাম গেব্রিয়েল ডিরোজা। “গোলাম কাদের এখন হাজতে আছে। ডিরো... | false |
shirshendu | গেছে। কষ্ট হচ্ছিল দীপনাথের। বলল, চলুন না বাকি পথটা হেঁটে যাই? দরকার কী! প্রায় এসে গেছি। রিকশাওয়ালাটার জন্য মায়া হচ্ছে। মায়া করবেন না। ওরা খুব হার্ডি। আমাদের মতো নয়। এই নিষ্ঠুরতা ভাল লাগল না দীপনাথের। চুপ করে রইল। রিকশাকে অবশেষে থামালেন সুখেন। সামনে একটা এঁদো বাড়ি। সেটা কত উঁচু তা এই সরু গলিতে সন্ধের আবছা আলোয় ঠাহর করা ... | false |
nihar_ronjon_gupta | ব্যাপারটা আমার কাছে আর গোপন নেই। –কি গোপন নেই। —তুমি যে বেশ কিছুকাল ধরেই দীপ্তেন ভৌমিকের সঙ্গে মাতামাতি করছ—আমি সেটা জানি। হঠাৎ সোজা ঋজু হয়ে দাঁড়াল মালঞ্চ। বলল, হ্যাঁ, এসেছিল। -কেন, কেন সে এখানে আসে? –কৈফিয়ৎ চাইছ? —চাওয়াটা নিশ্চয়ই অন্যায় নয়। —কিন্তু ভুলো না সুরজিৎ, আমি তোমার বিয়ে করা স্ত্রী নই। –জানি, তুমি আমার রক্ষিতা... | false |
humayun_ahmed | জোহরের নামাজ আদায় করব। বিশেষ বিশেষ অবস্থায় ইশারায় নামাজ পড়ার বিধান আছে। আপনার এখন সেই অবস্থা। আমি ক্ষুধার্ত। আমার জন্যে দুপুরের খাবারের কী ব্যবস্থা? সাদ মুহম্মদ জবাব দিল না। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রইল। কামরান বললেন, তুমি ব্যাঙাচির কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে আসো, আমাকে দুপুরের খাবার দেওয়া হবে কি না। কাকে ব্যাঙচি বলছেন? বৈরাম খাঁকে... | false |
humayun_ahmed | ইচ্ছা বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করুন।আবার যখন দরকার হবে চলে আসবেন। স্লিপ ছিঁড়ে ফেলে দিন। আমার সামনেই ছিঁড়ুন। আমি স্লিপ ছিঁড়লাম। ভদ্রলোক গম্ভীর গলায় বললেন,গুড। নিন, কথা বলুন।যা ইচ্ছা বলতে পারেন।আমি শুনব না।আমি একটু দূরে যাচ্ছি।ভদ্রলোক সরে গেলেন। রূপাকে দ্বিতীয়বার টেলিফোন করার কোনো অর্থ হয় না। আমার আর কোনোও বান্ধবীও নেই। টেল... | false |
zahir_rayhan | মত ব্যবহার করছে? তবু কিছু বললো না মরিয়ম। ডাগর চোখজোড়া ধীরেধীরে জলে ভরে এলো তার। কান্না চেপে মৃদু গলায় বললো, আগের মত হলে ভালোই ছিলো লিলি। আজকাল সে কি আর মানুষ আছে, অমানুষ হয়ে গেছে। বলতে গিয়ে চোখ উপচে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তার। ওকি, কাঁদছো কেন? হাত ধরে বিছানায় এনে ওকে বসালো লিলি। কেঁদে কি হবে। জানি কেঁদে কিছু হবে না।... | false |
humayun_ahmed | নোংরা? নোংরা সব জিনিসপত্র! ক্রিস বলল, এই নোংরা জিনিসপত্র দিয়ে কি হয় ওখানে, ফাদার? আমি ঠিক জানি না। ফাদার কারাস জানেন কিছু-কিছু। ফাদার কারাস? যাঁর মা মারা গেছেন? হ্যাঁ। উনি জানেন? জানেন। উনি কিছুদিন আগে সাইকোলজিস্টদের এক সেমিনারে এ বিষয়ে একটা পেপার পড়েছিলেন। উনি কি সাইকোলজিস্ট? হ্যাঁ। শয়তানের উপাসনাটা কি রকম, ফাদার? ফাদ... | false |
tarashonkor | তো লিখিয়াছে! যে যাহা সাহায্য করিবেন, বিধাতার আশীর্বাদের মতই তাহা লওয়া হইবে। তিনকড়ি বলিল-আসবে না? নিশ্চয় আসবে। নইলে গেজেটে নিখলে ক্যান?… তিনকড়ির সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ রহিল না। সে ওই কথাটা প্রচার করিবার জন্য তখনই ভল্লা পাড়ায় চলিয়া গেল। রামা, ও রামা! … তেরে! গোবিন্দে! ছিদ্মে! কোথা রে সব? দেবু তখনও ভাবিতেছিল। এ কে... | false |
shorotchandra | পুনশ্চ ডাকিল, এক গেলাস জল দে তো তেওয়ারী। তাহার পাশের টুলের উপরেই খাবার জলের কুঁজা ও গেলাস ছিল, বিছানা পাতিতে পাতিতে তাহা দেখাইয়া দিয়া ভারতী বলিল, ঘুমন্ত মানুষকে আর কেন তুলবেন অপূর্ববাবু, আপনি নিজেই একটু ঢেলে নিন। অপূর্ব হাত বাড়াইয়া কুঁজাটা তুলিতে গিয়া তুলিতে পারিল না; তখন উঠিয়া আসিয়া কোন মতে জল গড়াইয়া লইয়া এক নিঃশ্বাসে... | false |
toslima_nasrin | এবং মূল্য দুটোই আমি ভালো অনুধাবণ করতে পারি। স্বেচ্ছাচারী না হলে, অন্যের ইচ্ছের যূপকাষ্ঠে বলি হলে, আমার বোঝার সাধ্য ছিল না আমি কে, আমি কেন। মানুষ যদি নিজেকেই চিনতে না পারলো, চিনবে তবে কাকে! আজ যদি স্বেচ্ছাচারী না হতাম আমি, হয়তো এই লেখাটি, যে লেখাটি লিখছি, তার একটি বাক্যও আমি লিখতে পারতাম না। অধিকাংশ বাঙালি-হিন্দু, এমনকী... | false |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.