text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে পঁচিশ বছর পর করোনাভাইরাসের চেয়েও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। সোমবার বেলা ১১টায় জাপানি তোমাকিই বায়ো লিমিটেড, তোমাকিই ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড ও ওকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শারফুদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেছেন।ডা. মোহাম্মদ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, 'অ্যান্টিবায়োটিকের এই অতিরিক্ত ব্যবহার সকলের স্বার্থে রোধ করতে হবে। এ জন্য যত তত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যাতে কোনো ফার্মেসি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসতে হবে।' এ সময় তিনি, মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে আগামী ২০৫০ সালে দেশে করোনায় চেয়ে মৃত্যু দ্বিগুণ হতে পারে বলেও জানান।ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গী। জাপান সরকারের সহায়তায় বর্তমানে স্বপ্নের মেট্রোরেল চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। গাজীপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় মেট্রোরেলও জাপানের সহায়তায় নির্মাণ হবে।' এ সময় জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ নানাবিধ বিষয়ে গবেষণা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিয়ে জাপানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান।এ সময় বিএসএমএমইউয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফ হক খান, জাপানি প্রতিনিধি দলের পক্ষে ওকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মেহরুবা, তোমাকিই ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী ব্যবস্থাপক নাকাহার সন্তোষী, তোমাকিই বায়ো লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ইমাই জুনইয়া উপস্থিত ছিলেন।সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের ঐতিহ্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের অতীত ইতিহাস উঠে আসে। উভয় দেশের চিকিৎসা উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপাচার্য।
6
বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) যশোর বাফার গুদামে পৌঁছে না দিয়ে ৭৩ মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আত্মসাৎ এবং ৭০ মেট্রিক টন সারে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগে সার পরিবহন ঠিকাদার এবং তাঁর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সোলায়মান গত রোববার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।মামলায় চট্টগ্রামের পরিবহন ঠিকাদার মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আহসান হাবীব এবং তাঁর প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইব্রাহীম হায়দারকে আসামি করা হয়েছে। আহসান হাবীবের বাড়ি চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকায় এবং মোহাম্মদ ইব্রাহীম হায়দারের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া গ্রামে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজ চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় অবস্থিত টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে যশোর বাফার গুদামে পরিবহনের জন্য ১৪ মার্চ ১৫৪ মেট্রিক টন এবং ১৫ মার্চ ৮৭ মেট্রিক টন টিএসপি সার উত্তোলন করে। এর মধ্যে ঠিকাদার কোনো ভেজাল ছাড়া ৯৮ মেট্রিক টন সার বাফার গুদামে পৌঁছে দেন। পরে ১৭ মার্চ বিকেলে পাঁচটি ট্রাকে করে ৭০ মেট্রিক টন টিএসপি সার যশোর বাফার গুদামে আনা হয়।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সার খালাসের সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আগে নিয়ে আসা বস্তার সঙ্গে সেগুলোর অমিল রয়েছে। দুই-একটি বস্তায় দুইবার সেলাইয়ের চিহ্ন দেখা যায়। ঠিকাদার ও তাঁর প্রতিনিধি এ ৭০ মেট্রিক টন সারে ভেজাল মিশিয়েছেন। অবশিষ্ট ৭৩ মেট্রিক টন টিএসপি সার ঠিকাদার বাফার গুদামে পরিবহন না করে আত্মসাৎ করেছেন।থানায় মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সার আত্মসাৎ ও ভেজাল করায় টিএসপি কমপ্লেক্সের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, কৃষক প্রতারিত হওয়া ও কৃষির উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া টিএসপি সাঁর তথা সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডকে আর্থিক ভাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।এ ঘটনায় টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের উপপ্রধান রসায়নবিদ রেজাউল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বিসিআইসির উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল কবীর ও বিসিআইসির উপপ্রধান হিসাব রক্ষক নির্মল কুমার দত্ত।কমিটির তদন্তে সার ভেজাল ও আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় রোববার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, 'সার আত্মসাৎ ও ভেজাল মিশানোর অপরাধে পরিবহনকারী ঠিকাদার আহসান হাবীব এবং তাঁর প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইব্রাহীম হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'
6
ভোলার ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু কিছু সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানীয়রা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকরাও ঠিকমতো উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। তবে জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক আজাদের দাবি, সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।ভোলা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে, কিন্তু কর্মকর্তা নেই। পদ আছে চিকিৎসক নেই। এ কারণে রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজা জানালা খোলা থাকলেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা ওই এলাকার তাহেরা বেগম ও জহুর আহম্মেদ সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লাকে জানানো হয়। তিনি ফোন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে উপস্থিত না থাকা ও রোগীর সেবা না পাওয়ার কারণ জানতে চান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।তবে ভিন্ন চিত্র শিবপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। এখানে মোটামুটি সেবা পাওয়া যায়। সেবা নিতে আসা কাঞ্চন মিয়া (৭০) জানান, এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিভিন্ন রোগ নিয়ে প্রায়ই আসেন। এখান থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ নিয়ে খেয়ে ভালো হয়েছেন। তিনি বলেন, 'এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সব সময় এসে ওষুধ পাই। এখানকার চিকিৎসা সেবায় খুশি এই দরিদ্র কৃষক।' একই এলাকার পালওয়ান বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম আল-আমীন জানান, তাঁর ২ বছরের শিশুপুত্র সোলায়মানের সর্দি-জ্বরের জন্য ওষুধ নিতে এসেছেন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। একই এলাকার দিন মজুর মন্নানের স্ত্রী সাহিদাও আসেন সর্দি-জ্বর নিয়ে। শিবপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মাহতাব উদ্দিন তালুকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আমরা ২৪ ঘণ্টাই রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। এখান থেকে বিনা মূল্যে ২১ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করছি।' তিনি জানান, শিবপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, একজন অফিস সহায়ক ও একজন আয়া সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র একজন ফার্মাসিস্টের একটি পদ শূন্য রয়েছ দীর্ঘদিন ধরে। তবে, এই এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা।ভোলা জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহমুদুল হক আজাদের কাছে বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক ও কর্মচারী না থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, 'বাপ্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক কয়েক দিন ছুটিতে ছিলেন। এ কারণে কয়েক দিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। এখন তিনি নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।' তাঁর দাবি, সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। শিবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
6
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভোট কেন্দ্রের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ডাকরাপাড়াবাসীর আয়োজনে ডাকরাপাড়ায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়।মানববন্ধনে ডাকরাপাড়া গ্রামের হজরত আলীর স্ত্রী গোলেছা বেগম বলেন, বিগত নির্বাচনে আমার স্বামী, আমার ছেলে ও আমার চাচা, ভাতিজাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তারা ২৫ দিন শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। আমরা ডাকরাপাড়া গ্রামে কেন্দ্র না হলে ভোট দিতে যাব না। আমাদেরকে বাঁচতে হবে। ডাকরাপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শিপা বেগম বলেন, ডাকরাপাড়া গ্রাম থেকে চরহাবর কেন্দ্র প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। আমরা ভোট দিতে গেলে অস্ত্র বের করে দৌড়ানি দেয় সেখানকার মানুষ। ইতিপূর্বে অনেকেই মার খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছেন। সরকারের কাছে অনুরোধ ডাকরাপাড়া গ্রামে কেন্দ্র দিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেন।ডাকরাপাড়া গ্রামের মনু মন্ডলের ছেলে আ. রউফ বলেন, আমরা প্রায় ২৫ বছর যাবত চরহাবর কেন্দ্রে যাইয়া ভোট দিতে পারি না। আমরা চরহাব কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাহারা লাঠি, ফালা, রাম দা, ছুড়ি নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। ডাকরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন করে সুষ্ঠুভাবে আমাদেরকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। মানববন্ধনে প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
6
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে কোলোনোস্কপি করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। এ সময় তিনি প্রেসিডেনশিয়াল ক্ষমতা ছেড়ে দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে। ৫৭ বছর বয়সী কমলা ৮৫ মিনিটের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।গতকাল শুক্রবারের এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইতিহাস গড়লেন তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। তবে কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্যবহার করেননি।বাইডেনের চিকিৎসক কেভিন ও'কনর জানিয়েছেন, তাঁকে চেতনানাশক দেওয়া হয়েছিল। এখন তিনি সুস্থ আছেন। প্রেসিডেন্টের ৭৯তম জন্মদিনের আগে তাঁকে এমন পরীক্ষা করা হলো।
3
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রেনের ছাদে ডাকাত দলের হামলায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে একজন। এদিকে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। শুক্রবার দুপুরে ট্রেনে ডাকাতির ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ ঢাকার এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে কমিউটার ট্রেনে ডাকাত দলের হামলায় নিহত ট্রেন যাত্রী সাগরের মা হনুফা বেগম উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি করছেন। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণের পরিবেশ। আর স্ত্রী মুছি বেগম স্বামী হারানোর শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তাদের দুই অবুঝ শিশু বুঝতেই পারছেনা তাদের বাবা নেই। একই অবস্থা নিহত ট্রেনযাত্রী নাহিদের স্বজনদেরও। রেলওয়ে পুলিশ ঢাকার এসপি সাইফুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে ডাকাত দলের হামলায় দুই ট্রেনযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ ও জামালপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। লাশের ময়না তদন্তের পরই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তবে এখন পর্যন্ত মামলা এবং কোন তদন্ত কমিটি করা হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা হবে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
তৃতীয় দফা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরোধের জেরে প্রতিদিনই গ্রামে গ্রামে চলছে ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো ঘটনা। এতে হামলার আতঙ্ক আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে গ্রামবাসীর। হামলার ভয়ে গ্রামের অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।গত বুধবার উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো ইউনিয়নজুড়ে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলছে মহড়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও প্রতিদিনই ঘটছে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা।স্থানীয়রা বলছেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নটির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, দুই পক্ষের সংঘর্ষে, দফায় দফায় কয়েক শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ গ্রামে গ্রামে চালানো হয় লুটপাটের ঘটনা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে কথা-কাটাকাটির জেরে বেধে যায় সংঘর্ষ। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপের সমর্থকেরা। এরপর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হামলার আতঙ্কে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে।ইউনিয়নের মহেশপুর এলাকার স্থানীয় নারী বাসিন্দা আকলিমা সুলতানা বলেন, 'আমার স্বামী প্রবাসী। আমি আমার কোলে ৬ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে এই গ্রামে বসবাস করি। এ কেমন নির্বাচন, আমাদের মতো নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালাচ্ছে।' হামলার ভয়ে বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়ানো ঢালীকান্দি গ্রামের আরেক বাসিন্দা সফিক দেওয়ান বলেন, 'আমরা সাধারণ মানুষ। কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না, তবু কেন বারবার আমরা পরিবারসহ হামলা ও লুটপাটের শিকার হচ্ছি। আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে গ্রামছাড়া করে দেওয়া হচ্ছে, এতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।'হামলার শিকার ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী রিপন পাটোয়ারী ও আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মহাসিনা হক কল্পনার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন। এতে নির্বাচনের আগেই এলাকাজুড়ে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন ভোটাররা। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।নোয়াদ্দা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ইউনিয়নে টানা তিন দিন যে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে, এতে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। তাই ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারব কি না, এটাই এখন প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে।'স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিনা হক কল্পনা বলছেন, 'আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা আমাকে শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছেঁড়াসহ কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমার সমর্থকেরাও তার পাল্টা জবাব দিচ্ছে।'অপর আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিপন হোসেন পাটোয়ারী বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে শুরু থেকে মহসিনা হক কল্পনা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা নিজেরাই একের পর এক হামলা করে আমার কর্মী-সমর্থকের ওপর চাপাচ্ছে। আমি এসব সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।'সদর থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক, চরাঞ্চলের সহিংসতায় এ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা সম্ভব হলেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এমন সহিংসতা।'
6
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দ্রুত স্কুল খুলে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সচিব সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ ভোরের কাগজকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সভায় যেসব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেসব মন্ত্রণালয়ের সচিবরাই কথা বলেছেন। খাদ্যের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্যগুদামগুলোতে যেন খাদ্যে ভরপুর থাকে। সে বিষয়ে নজরদারি থাকতে হবে। যেসব মানুষ প্রণোদনা পান তারা যেন ঠিকঠাকভাবে তা পেয়ে থাকেন সেজন্য কর্মকর্তাদের আলাদা নজরদারি থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিদ্যমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান, সে গুলো মাথায় রেখে গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যেন যথাযথভাবে হয়। কেননা, আমাদের একটাই লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলো যেন উন্নত জীবন পায়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় দ্রুত সময়ে স্কুলগুলোও খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। কারণ, শিশুরা ঘরে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তারা মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। সভায় সচিবদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে, গাড়ি দেওয়া হয়েছে। আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। এখন দেশের জন্য আপনাদের দেওয়ার পালা। দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স আনতে হবে। কোনোভাবেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সচিব সভায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) চ্যালেঞ্জ, ডেল্টা প্ল্যান, সবার জন্য টিকা নিশ্চিতকরণ, খাদ্য নিশ্চিতে গবেষণা, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সভায় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) বাস্তবায়নে সচিবদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোভিড-১৯ ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও সচিব সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শেখ হাসিনা বুধবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সচিব সভায় এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যেতে হবে এবং সে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান মাথায় রেখে গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সে গুলোর বাস্তবায়ন যেন যথাযথভাবে হয়।
6
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। গত রবিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস। বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছেন মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। গত শনিবার সকালে তার জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় রবিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তবে তার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালোর দিকে বলে জানান মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস। গত ১৯ আগস্ট হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে সংগঠনটির আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
6
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। মঙ্গলবার রাঙামাটি পুলিশ লাইন্স সুখী নীলগঞ্জে নবনির্মিত জেলা পুলিশের অস্ত্রাগার, তিনটি উপজেলা থানা ভবন ও একটি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এ মন্তব্য করেন। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পার্বত্য এলাকায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সব রকম সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ট্যুরিস্ট ও নৌপুলিশের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
বাড়তি চাহিদার যোগান নিশ্চিত করতে ৩০টি অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বুধবার এসব প্লান্ট স্থাপন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনকার প্রয়োজন বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হবে। 'কোভিড-১৯ এমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস' প্রকল্পের আওতায় এসব প্লান্ট স্থাপনে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পরে অনেক হাসপাতালেই অক্সিজেনের সংকট দেখা দেয়। কোনো কোনো হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অক্সিজেন আমদানি করছে। এছাড়া একই সময়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদনসহ মোট ১০ প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কেনাকাটায় মোট এক হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৯১১ কোটি টাকা এবং বিশ্ব ব্যাংক ও দেশিয় ব্যাংক থেকে ৪৩২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করতে চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রেমিট্যান্সে প্রণোদনার হার বাড়ানোর পরিকল্পনা আপাতত নেই। যে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট। তবে করোনার কারণে ক্ষতি হয়েছে এমন অন্যান্য খাতে প্রণোদনা দেওয়ার কথা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে খাতে যেমন প্রভাব সে অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়া যায় কি-না ভাবা হচ্ছে। তবে কোন কোন খাত এ প্রণোদনা পেতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
6
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও খুনিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ১০ বছর আগে রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুলের ওপর এখন হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। রিটটি আজ সোমবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রুল শুনানি হবে। এখন যেকোনো দিন রুলের ওপর শুনানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া ঘটনার পরপরই হ্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিটটি করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়। হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র্যাব। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ দিন ধার্য ছিল। তবে র্যাবের পক্ষ থেকে সেদিনও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৬ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিপত্রের তথ্য বলছে, এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৮৭ বার সময় নিয়েছে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত ১০ বছরে বিচারিক আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এখনো মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে রুলের জবাব ১০ বছর পরও পাওয়া যায়নি। আশার কথা হচ্ছে, এখন আদালতে যেকোনো দিন রুলের ওপর শুনানি শুরু হবে।
6
অশালীন ও নারীর প্রতি অবমাননাকর কথা বলে মন্ত্রিত্ব হারানোর পর দলীয় পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করছে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ। এই প্রেক্ষাপটে দলের প্রাথমিক সদস্যপদও হারালে মুরাদ হাসান সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না, সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে জামালপুর-৪ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন মুরাদ হাসান। সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে দুভাবে প্রার্থী হতে পারেন। কোনো দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী। কোনো ব্যক্তি একটি দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে। কিন্তু দল যদি কাউকে বহিষ্কার করে সে ক্ষেত্রে কী হবে, সংবিধানে তার উল্লেখ নেই। তবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।' অবশ্য মুরাদ হাসান এখনো দল থেকে পদত্যাগ করেননি। দলের প্রাথমিক সদস্যপদও এখনো হারাননি। তিনি ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক। জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় আজ তাঁকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মুরাদ হাসানকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্যই বরণ করতে হতে পারে। এর আগে দশম সংসদে ২০১৪-২০১৫ সালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিতর্কিত মন্তব্য করে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সাবেক সাংসদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, কারণ তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। দল থেকে বহিষ্কারের পর লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুপারিশ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তখন লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দেন স্পিকার। পরে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। ইসিকে দেওয়া ব্যাখ্যায় লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিল আওয়ামী লীগ। দলটির তখনকার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সই করা সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, 'লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থী মানে দল কর্তৃক মনোনীত বা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ব্যক্তি। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নির্বাচনের আগে ও পরে নেই। দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন।'অন্যদিকে লতিফ সিদ্দিকী ইসিকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ও দেউলিয়া ঘোষিত হলে, বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হলে, প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে থাকলে এবং ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ শূন্য হতে পারে। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে আনীত অভিযোগ এসবের কোনোটিতেই পড়ে না। যে কারণে নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে শুনানির এখতিয়ার নেই। লতিফ সিদ্দিকী তাঁর অবস্থানের পক্ষে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, কোনো সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হলে তাঁর সদস্যপদ বহাল থাকবে এবং সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি ওই দলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গিয়ে নিজেই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকীর আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার।সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ বা জেলা কমিটির দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সঙ্গে সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার সম্পর্ক নেই। তবে দল থেকে যদি তাঁকে খারিজ করে দেওয়া হয়, তখন সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ আসবে। তিনি যে দলের পরিচয়ে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন, সে দল যদি তাঁকে দল থেকে বের করে দেয়, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে তাঁর সদস্য পদ থাকার কথা নয়। এ রকম পরিস্থিতি হলে সেটা নির্বাচন কমিশনে যাবে। নির্বাচন কমিশন ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় সিদ্ধান্ত নেবে। অবশ্য দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার নজির আছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। তখন আবু হেনার সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার।
9
রাজারবাগ দরবার শরিফের জঙ্গি সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তাঁর মুরিদদের মধ্যে যারা মিথ্যা মামলার সঙ্গে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে সিআইডিকে তদন্ত করে একই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দরবার শরিফের সকল সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।রাজারবাগ দরবার শরিফের পির ও তাঁর মুরিদদের মধ্যে যারা মিথ্যা মামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।আদালতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির।
6
খাবারে রুচি নেই? একটু আচার নিয়ে নেওয়া যাক। কিংবা ডালের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যাক একটু চাটনি। খাবারকে আরও মুখরোচক করে দেয় আচার। ছাত্রজীবনে পুরান ঢাকার একটি দোকানে খাবারের সঙ্গে পরিবেশিত আচার দারুণ পছন্দ করতাম। কথাটা হঠাৎ মনে পড়ল লেখাটা লিখতে বসে। দিনদুপুরে কিংবা রাতদুপুরে সেই দোকানে হাজির হওয়ার গল্পটা থাক, ছুটন্ত জীবনের এমন কত গল্পই তো থাকে! পরিবারের এক ছোট্ট শিশু বলেছিল, 'আচার পাইবেন আঙুলে।' শিশুটি আর 'শিশু' হয়ে নেই। তবে আজও বাড়িতে আচার খাওয়ার সময় আপনজনেরা আনন্দ পান ছোট্ট শিশুর মজার বুলি স্মরণ করে। আচার-চাটনি মূলত তৈরি হয় বাড়িতেই। অনেকে কেচাপও বাড়িতে বানান। ঘরে তৈরি যেকোনো জিনিসে থাকে আলাদা যত্নের ছোঁয়া। অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে যেন 'কয়েক সের ভালোবাসা'ও যোগ হয়ে যায় তাতে। এমন যত্নে তৈরি জিনিসটা সংরক্ষণের সময়ও হতে হবে যত্নশীল। তাহলে তা ভালো থাকবে বেশ খানিকটা সময় পর্যন্ত। রান্নাবিদ সিতারা ফেরদৌস জানালেন ঘরে তৈরি আচার, চাটনি ও কেচাপ সংরক্ষণের উপায়। আচার সংরক্ষণ আচার পরিবেশনের সময় বয়াম থেকে কিছুটা আচার আলাদা পাত্রে তুলে নিন আগে। সরাসরি বয়াম থেকে পরিবেশন করবেন না, খাবার টেবিলে হঠাৎ করে হাত বা চামচ থেকে পানি পড়ে যেতে পারে আচারের বয়ামে। পানির সংস্পর্শ কমানোর প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে আচার তৈরির শুরুর সময় থেকেই। হয়তো আমের আচার করছেন। আম ছিলে বা কেটে বাকি প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই তা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন, প্রয়োজনে মুছে নিন। এরপর কাটা বা ছিলার কাজ করুন। কাটা-ছিলা হয়ে যাওয়ার পর আর পানিতে ভেজানো যাবে না। এরপর আচার চুলায়ই দিন বা রোদেই রাখুন, পানি ব্যবহার করবেন না। তেলের আচার করলে প্রথমে তেল একটু গরম করে নিতে হবে। কাঁচা তেল ব্যবহার করবেন না। চিনির সিরকা ব্যবহার করলে তা আগেই ঘন করে নিন, এরপর আম দিতে হবে। যে বয়ামে আচার রাখবেন, তা একেবারে শুকনো হতে হবে। বয়ামের ভেতর বা ঢাকনার ভেতরের অংশ, কোনোখানেই যেন সামান্য পরিমাণেও পানি বা জলীয় বাষ্প না থাকে। যে চামচ দিয়ে বয়াম থেকে আচার তোলা হবে, তা পরিষ্কারভাবে ধোয়ার পর মুছে শুকনো করে নিন। এরপর তা আচার তোলার কাজে ব্যবহার করুন। আচার তৈরির পর প্রথম মাস তিনেক রোজ সারা দিনের জন্য রোদে দিন আচার। এই সময় খেয়াল রাখুন, বয়ামের মুখে বাষ্প বা পানি জমছে কি না। বাষ্প বা পানি জমতে থাকলে সাবধানে মুখটা খুলে তা মুছে ফেলতে হবে, যেন আচারের মধ্যে এই পানি না পড়ে। তিনটি মাস এই ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। তিন মাস পর সময়-সুযোগ বুঝে রোদে দেওয়া ভালো। রোদে দেওয়ার সময় বয়ামের মুখ খুলে দিতে পারেন, তবে মুখের ওপর পাতলা কাপড় বা নেট-জাতীয় কিছু বিছিয়ে দিতে হবে। আর যদি মুখ বন্ধ অবস্থাতেই রোদে দেওয়া হয়, তাহলে রোদ থেকে আনার পর ২০-৩০ মিনিটের জন্য বয়ামের মুখ খুলে রাখুন, যাতে জলীয় বাষ্প উড়ে যেতে পারে। বয়ামের মুখে পানি জমে থাকলে তা মুছে দিন। চাটনি সংরক্ষণ চাটনি তৈরি করার পর ১-২ দিন বাইরে রাখা যায়। এরপর ফ্রিজে উঠিয়ে রাখতেই হবে। নইলে নষ্ট হয়ে যাবে। ১৫-১৬ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে চাটনি ভালো থাকে। যে জিনিসের চাটনি (যেমন কাঁচা আম, জলপাই বা আনারস) তৈরি করছেন, সেটির মৌসুম চলে গেলেও যদি চাটনি তৈরি করার ইচ্ছা থাকে, সে ক্ষেত্রে মৌসুম থাকতে থাকতেই সেটি টুকরা করে নিয়ে ছোট পলিপ্যাক, জিপার ব্যাগ বা কনটেইনারে করে ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজে রাখার আগে ভাপিয়েও নিতে পারেন চাইলে। এক দিনে আপনি যতটা পরিমাণ নিয়ে চাটনি তৈরি করবেন, ঠিক ততটা পরিমাণই রাখুন প্রতিটি প্যাকেট বা কনটেইনারে। একটি প্যাকেট বা কনটেইনার থেকে একবার কিছু পরিমাণ বের করার পর কিছুটা রেখে দিলে রেখে দেওয়া অংশটুকুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এভাবে প্রায় ৭-৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে, যা থেকে প্রয়োজনমতো চাটনি বানিয়ে নেওয়া যায়। কেচাপ নিয়ে জানা হোক কেচাপ তৈরি করার পর যে বোতলে রাখবেন, তা যেন পুরোপুরি শুকনো হয়। বোতলের মুখ খোলার এক-দেড় মাসের ভেতরই যেন তা শেষ করা যায়, এমন পরিমাণেই একটি বোতলে কেচাপ রাখা উচিত (রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকলেও)। রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ না দেওয়া হলেও বোতলটি ২-৩ দিন বাইরে রাখা যায়। তবে এরপর ফ্রিজে রাখতেই হবে। রাসায়নিক উপাদানের চাইতে প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য বেশি ভালো। তাই রাসায়নিক উপকরণের বদলে রসুন, চিনি এগুলো একটু বেশি পরিমাণে দেওয়া যায়, যা প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভের কাজ করে। তবে প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ দেওয়া কেচাপের বোতল ৩-৪ দিনের বেশি বাইরে রাখা যায় না। রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ছাড়া তৈরি করা কেচাপ মাসখানেক ভালো রাখতে হলে ফ্রিজে রাখতেই হবে। রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করলে অবশ্য বোতলটি বাইরে রাখা যায় ৬-৭ মাস। তবে মনে রাখবেন, প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকলেও কেচাপের বোতলের মুখ খোলা হয়ে গেলেই ফ্রিজে ঢোকাতে হবে। রাসায়নিকের ব্যবহার এড়িয়ে বরং পিউরি করে সংরক্ষণ করতে পারেন। পিউরি জিপার ব্যাগ বা কনটেইনারে করে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। ৬-৭ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এক বোতল কেচাপ শেষ হলে আবার নাহয় পিউরি থেকে আরেক বোতল কেচাপ তৈরি করে নিলেন।
4
বৃষ্টিস্নাত দিনে জানালায় বসে ফুলের পাপড়ি বৃষ্টি জলে ভাসানোয় মন ভালো হয়।পাশাপাশি নানা রকম ফুলের পাপড়ি কিংবা নির্যাসে হতে পারে রূপের খোলতাইও। প্রাকৃতিক উপায়ে নরম কোমল ত্বক পেতে ফুলের পাপড়ি বা নির্যাসের জুড়ি নেই। ফুলে রয়েছে ভিটামিন, প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান-যেগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় আর ত্বককে রাখে সুস্থ।এই রোদ এই বৃষ্টির পাল্টাপাল্টি অভিমানে এ সময় ত্বকে নানা রকম প্রভাব পড়ে। এই আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেড়ে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। তৈলাক্ত ত্বক থেকে আরও বেশি পরিমাণে তেল নিঃসৃত হয়। বাইরের ধুলাবালু ত্বকে বসে যায়। এতে ব্রণ হয়, কালচে ছোপ পড়ে, র্যাশ বেরোয়, ছত্রাক পড়ে ত্বকে নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় প্রয়োজন নিয়মিত ত্বকের যত্ন। এমনই বলছিলেন হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের ত্বক বিশেষজ্ঞ শাহীনা আফরিন। তিনি জানান, গাঁদা, গোলাপ, পদ্ম, বেলি, জবা, কদম-নানান ফুল দিয়েই করা যেতে পারে ত্বকের যত্ন। এতে করে দূর হবে বর্ষাকালীন ত্বকের নানা রকম সমস্যা এবং ত্বকও থাকবে মসৃণ সুন্দর।ফুলদিয়েত্বকেরযত্ন আত্তিরঘরোয়াকিছুউপায়গাঁদাফুল: ত্বক উজ্জ্বল রাখতে কয়েকটি টাটকা গাঁদা ফুল নিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।স্বাভাবিক ত্বকের জন্য দুই চা-চামচ দই, দুই চা- চামচ গাঁদা ফুলের পেস্ট এবং ৫ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার ৩০ মিনিটের মতো মিশ্রণটি ঢেকে রেখে তারপর মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।১ লিটার পানিতে ৭/৮টি গাঁদা ফুলের পাপড়ি ফেলে পানিটা ফুটিয়ে নিন। এবার পানিটা ছেঁকে নিয়ে এর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। শুষ্ক ত্বকের টোনার হিসেবে এটি ব্যবহার করুন। গাঁদা ফুলের পাপড়ি বেটে নিয়মিত মুখে লাগালে মুখের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। এক কাপ শুকনো গাঁদা ফুল এবং দুই চা-চামচ জলপাই তেল একসঙ্গে মিশিয়ে গোসলের পানিতে ফেলে গোসল সেরে নিন। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল মসৃণ। ব্রণ দূর করতে গাঁদা ফুলের পাতার রস মুখে লাগান, কমে যাবে। বেলিফুল: বেলি ফুল দিয়ে সাধারণত স্বাভাবিক ত্বকের যত্ন করা হয়। বেলি ফুল এবং কাঠবাদাম পেস্ট করে তাতে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। গোলাপফুল: গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি করে নিন ময়েশ্চারাইজার। এক কাপ গোলাপজল, আধা কাপ গোলাপের পাপড়ি একটু গরম করে নিন। তারপর পাপড়ি ছেঁকে নিন, ঠান্ডা হলে এর সঙ্গে গ্লিসারিন ও ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) রস মিশিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করুন নিয়মিত। পদ্মফুল: শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন পদ্ম ফুলের প্যাক। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বককে করে তুলবে লাবণ্যময়। পদ্ম ফুলের কয়েকটি পাপড়ি বেটে নিয়ে এতে এক চা-চামচ বেসন ও দুই চা চামচ দুধ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এ তো গেল মুখের যত্নের কথা। হাত-পায়ের ত্বকেরও চাই সঠিক যত্ন। শাহীনা আফরিন সেই উপায়ও বাতলে দিলেন। হাতেরযত্নে: গোলাপ ফুলের পাপড়ি এক টেবিল চামচ, দুই টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার, একটা ডিমের কুসুম ভালো করে পেস্ট করে পুরো হাতে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চারাইজার। বর্ষার জলে ভিজে কিংবা কড়া রোদে পুড়ে কালো দাগ পড়ে গেলে এই প্যাকটি ব্যবহারে মরা কোষ উঠে গিয়ে ত্বককে দেয় মসৃণ উজ্জ্বলতা। গম ভেজে গুঁড়া করে তিন থেকে চার চামচ গাঁদা ফুলের রসের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে হাতে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটিও ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে। পায়েরযত্নে: প্রথমে হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে তারপর মিউমিস স্টোন দিয়ে পা ভালো করে ঘষে মরা কোষ তুলে ফেলুন। তোয়ালে দিয়ে ভেজা পা মুছে লাগিয়ে নিন চার টেবিল চামচ কেউলিন পাউডার, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, দুটি ডিমের সাদা অংশ এবং এক চিমটি কর্পূর দিয়ে আগেই বানিয়ে রাখা প্যাকটি। ১ কাপ ঘৃতকুমারীর রস বা পদ্ম ফুল ১ কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে গরম অবস্থাতেই সেটাতে ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন এবং ৩ চা-চামচ পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। এটি রাতের বেলায় ঘুমানোর আগে পায়ে লাগিয়ে নিন। এটি পা ফাটা রোধ করে পা'কে মসৃণ এবং আর্দ্র রাখবে।
4
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, আমাদের দেশ মসজিদের দেশ। মানুষ মসজিদে যদি আজকে নিরাপদ না থাকে সেটা দুঃখজনক। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি না এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়ার জন্য আমি সংসদ নেত্রীকে অনুরোধ করবো। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এ কথা বলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, কয়েক দিন আগে উত্তরাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য ইস্রাফিল ইন্তেকাল করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার চেনাজানা ও যোগাযোগ ছিল। আল্লাহ কখন কাকে কোথায় মৃত্যুবরণ করাবেন সেটা আমরা কেউ জানি না, মাননীয় স্পিকার। যে কারণে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। আর যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং যেসব ব্যক্তিত্ব আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে গেছেন তাদের সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।' গত শুক্রবার রাতে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় ১৩ জন ঢাকার শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন। আহতদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
বিশ্বের বৃহত্তম দুই প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানের জন্য কোভিড টিকার এক কোটি ডোজ কিনছে। তাইওয়ানের সংস্থা ফক্সকন, যারা অ্যাপলের জন্য ডিভাইস তৈরি করে এবং চিপ জায়ান্ট টিএসএমসি জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক টিকার জন্য ৩৫ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। কয়েক মাস ধরে জার্মানির বায়োএনটেকের থেকে এই টিকা কেনার চেষ্টা করছে তাইওয়ান। তবে চীন তাদের চুক্তি আটকে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের। চীন তাইওয়ানকে নিজস্ব অঞ্চল হিসেবে মনে করে। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা। চুক্তি অনুযায়ী, ফক্সকন এবং তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কো (টিএসএমসি) ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা কিনবে এবং বিতরণের জন্য সরকারকে অনুদান দেবে। বায়োএনটেকের চীনা বিক্রয় এজেন্ট সাংহাই ফোসান ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ এক বিবৃতিতে এই চুক্তি বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে। ফোসান ফার্মার চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ইউ ইয়াইফাং বলেছেন, তারা তাইওয়ানকে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা সরবরাহ করতে অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ফক্সকনের বিলিয়নিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান টেরি গো তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন যে আলোচনায় বেইজিং হস্তক্ষেপ করেনি। মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্ট ফাইজারের সঙ্গে টিকা তৈরি করেছে বায়োএনটেক। করোনভাইরাসের টিকা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য জনগণের তীব্র চাপের মুখে ছিল তাইওয়ানের সরকার। গত মাসে টেরি গো এবং টিএসএমসিকে টিকা আনার ক্ষেত্রে চুক্তি করার বিষয়ে অনুমতি দেয় সরকার।
0
'অঘটন' শিরোনামের একটি নাটক নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন। সিএমভি'র ব্যানারে সদ্য নির্মিত এই নাটকে জিয়াউল ফারুক অপূর্বর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর। অপূর্ব জানান, নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক তুষারের চরিত্রে। সমস্যা একটাই পথে-ঘাটে তো বটেই চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়েও ঘটান নানা অঘটন। প্রযোজক এসকে সাহেদ আলী জানান, এবারের ঈদ আয়োজনে 'অঘটন' নাটকটি উন্মুক্ত হচ্ছে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
আহমেদাবাদে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দিবা-রাত্রির টেস্ট। প্রথম দিনে ব্যাট হাতে খেলতে নেমে খাবি খেয়েছে ইংল্যান্ড। অক্ষর প্যাটেল ও অশ্বিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১১২ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশদের প্রথম ইনিংস। অথচ উইকেটের আচরণ দেখেই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয় ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। দুই স্পিনার অক্ষর প্যাটেল ও রবি চন্দ্রন অশ্বিনের তোপে দ্রুত গুটিয়ে যায় দলটি। ইংল্যান্ডের চার ব্যাটসম্যান ছুতে পেরেছেন দুই অঙ্কের রান। সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ওপেনার জ্যাক ক্রলি। ডম সিবলি ও জনি বেয়ারস্টো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। যার উপর বড় ভরসা ছিল সেই অধিনায়ক রুট করেন মাত্র ১৭ রান। বেন স্টোকস ও ওলি পোপ ফেরেন দ্রুতই। বেন ফোকস ৫৮ বলে করেন ১২ রান। আরচার করেন ১১ রান। লেজের সারির ব্যাটসম্যান লিচ ও ব্রড চমক দেখাতে পারেননি। বল হাতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল। অশ্বিন নেন তিন উইকেট। বাকি এক উইকেট পান পেসার ইশান্ত শর্মা। চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজে এখন সমতা ১-১ ব্যবধানে। আহমেদাবাদে চলছে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। চতুর্থ টেস্টও হবে এখানেই।
12
বন্দরের বহির্নোঙরে বালুবাহী একটি বার্জের ধাক্কায় টিটু-১৪ নামের লাইটার জাহাজ ডুবে চারজন নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বহির্নোঙরের পার্কিচর এলাকায় এই জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টাও চার নাবিকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ডের পূর্ব জোনের অপারেশন স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশফাক বিন ইদ্রিস আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় টিটু-১৪ জাহাজ ডুবে যায়। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই জাহাজের ৮ নাবিক ক্রুকে উদ্ধার করে। জাহাজে ১২ জন নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।'আশফাক বিন ইদ্রিস আরও বলেন, 'আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙর থেকে মালামাল লোড করে সি বিচ এলাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বালুবাহী একটি বার্জ ধাক্কা দিলে জাহাজটি ডুবে যায়। খবর পাওয়ার পর থেকে কোস্টগার্ডের দুটি জাহাজ নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। দুটি জাহাজ এখনো অভিযান পরিচালনা করছে।'
6
যুক্তরাষ্ট্রের একটি শপিং মলে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ২৪ জন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। তিনি একে রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার টেক্সাসের এল প্যাসোর ওয়ালমারটের একটি স্টোরে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় সময় ১০টার দিকে এই হামলা হয়।এই ঘটনায় স্পেশাল উইপনস এন্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াত) টিম সন্দেহভাজন হিসেবে ২১ বছরের এক যুবককে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে, সে একাই এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার মতে তার নাম প্যাট্রিক ক্রসিয়াস। তিনি ডালাস এলাকার অধিবাসী। এল প্যাসোর মেয়র দি মারগো নিশ্চিত করেছেন, এই ঘটনায় একাধিক মানুষের ক্ষতি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত বন্দুকধারীর লেখা একটি ম্যানিফেষ্টো বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ঘুরছে।এল প্যাসোর ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেণ্টার সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, তারা অন্ততপক্ষে দশজনকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়েছেন। তাদের আঘাত 'লেভেল ১' অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ের আঘাত নিয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
3
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পূর্ব জেরুসালেমের সিলওয়ান মহল্লায় দুই ফিলিস্তিনি পরিবারের উচ্ছেদের বিষয়ে ইসরাইলি আদালতে চলমান মামলার শুনানি স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেরুসালেমে ইসরাইলি কেন্দ্রীয় আদালতে এই স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। সিলওয়ান মহল্লার বাতিন আল-হাওয়া এলাকার বাসিন্দা গেইছ ও আবু নাব পরিবার তাদেরকে উচ্ছেদে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলা করেন। আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত এই মামলার স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে আদালতের বাইরে জেরুসালেম থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা। পরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলা করে। এই সময় তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এর আগে গত মাসে সিলওয়ান থেকে সাত ফিলিস্তিনি পরিবারের উচ্ছেদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। জেরুসালেমের পুরনো শহরের দক্ষিণে অবস্থিত সিলওয়ান মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদে শেখ জাররাহ মহল্লার মতোই পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। বছরের পর বছর মহল্লার ৩৩ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ইসরইলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে হুমকির মুখোমুখি হয়ে আসছেন। এই সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত জেরুসালেম মিউনিসিপ্যালিটি সিলওয়ান থেকে কয়েকটি পরিবারের উচ্ছেদের আদেশ দেয়। এর ফলে প্রায় এক হাজার পাঁচ শ' বাসিন্দা এই মহল্লা থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সূত্র : আলজাজিরা
3
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারিতে ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যার দেশে পরিণত হয়েছে যুক্তরাজ্য। করোনা মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী জনসনের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে চলা সাধারণ ছুটিতে কর্মীদের মজুরি পরিশোধ সংক্রান্ত যুক্তরাজ্য সরকারের প্রকল্পের মেয়াদ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাক প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন। তবে তিনি বলেছেন, আগামী আগস্ট থেকে এই প্রকল্পের ব্যয় ভাগাভাগি করার কাজ শুরু করতে কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবে সরকার। বেতনসহ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলে এতে অনেক কর্মী আসক্ত হতে পারে; এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ এই অর্থমন্ত্রী। সুনাক বলেন, বর্তমানে সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় আছেন ৭৫ লাখ কর্মী। গত সপ্তাহেও এই সংখ্যা ছিল ৬৩ লাখ। আগামী আগস্ট থেকে দেশের সব খাত এবং অঞ্চলের কর্মীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন জারি করা হলেও এই ভাইরাসে মৃত্যুতে (৩২ হাজারের বেশি) ইউরোপের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রিটেন। দীর্ঘদিনের এই লকডাউন ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে বলে সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
3
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রকিবুল হাসানকে মারতে যাওয়ায় বিসিবি পরিচালক ও সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজনকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মামলা করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, 'গত ২০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দেশের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজিত হয়। সেখানে অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানকে মারতে যান খালেদ মাহমুদ সুজন।' বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- অটোরিকশা চালক রামপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৪০) ও বাউপুর গ্রামের কলিমউদ্দিন (৭০), মিনা বেগম (৪৫), সোহরাব উদ্দিন (৫০), ও সালাম নূর (৩৫)। বুধবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের রামপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন বলেন, "ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে বালিপাড়া যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।" তিনি আরও বলেন, "ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
6
ফের কি পেঁয়াজ নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটতে যাচ্ছে? এমন আশঙ্কা ভোক্তাদের। আচমকা দুদিনেই রাজধানীতে কেজিতে পিয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা পুরাতন পেঁয়াজের মজুদ শেষ হওয়াকে দায়ী করছেন। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে পুরাতন দেশি পিয়াজের মজুত ফুরিয়ে আসায় দাম বাড়ছে। এছাড়া সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে তিনদিন প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে মুড়ি কাটা পিয়াজক্ষেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এতে পাইকারি বাজারে পিয়াজের সরবরাহ কমেছে। আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানির গতি কিছুটা কম। কমলেও বন্ধ হয়নি। হুট করে বাজার পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। টিসিবির হিসেবেও গত একদিনে ৪টি পণ্যে দাম বেড়েছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ (দেশি) দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা। আর একদিন আগে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পাশাপাশি পেঁয়াজ (আমদানি) দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর একদিন আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। রসুন (দেশি) দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩৩.৩৩ শতাংশ। রসুন বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর একদিন আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া আলুর (মানভেদে) দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২২ শতাংশ। আলু বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এর একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা মান অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। যা দুদিন আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের। দু'দিন আগে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। গোডাউনে খুব বেশি পেঁয়াজ নেই। এ কারণেই দাম বেড়েছে। তবে এখন বাজারে সরবরাহ কম তাই দাম বেড়েছে। বাজারে পেঁয়াজের আমদানি হলে (সরবরাহ বাড়লে) আবার দাম কমে যাবে। ব্যবসায়ীদের ধারণা ,পেঁয়াজের দাম খুব বেশিদিন বাড়তি থাকবে না। কারণ অল্পদিনের মধ্যেই বাজারে নতুন পেঁয়াজ চলে আসবে। এদিকে ৪টি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। এর মধ্যে পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ চার কেজি বিক্রি করা হয়। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২৮শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। বরাবরের মতোই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে মানুষ।
0
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, প্রার্থীদের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে একের পর এক নির্দেশনা আসায় কমিশন কিছুটা উদ্বিগ্ন ও ব্যতিব্যস্ত। ফলে আসনভিত্তিক ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে ইসিকে। এ সময় বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, হিরো আলম পর্যন্ত আমাদের হাইকোর্ট দেখায়। সেও বলে যে, নির্বাচন কমিশনকে আমরা হাইকোর্ট দেখিয়ে ছাড়ছি। বোঝেন অবস্থা! বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে নির্বাচনের দিন সফটওয়্যার সংক্রান্ত ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস), ক্যান্ডিডেট ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) ও রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এখনও অনেক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয় নাই। আরও কিছু হয়তো পরিবর্তন হবে। যেখানে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়ে গেছে সেখানে আমরা ব্যালট ছাপিয়ে ফেলবো। তিনি বলেন, হিরো আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী। সে বগুড়া থেকে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেছে। তারপর আমাদের কাছে আপিল করে। মাননীয় কমিশন তার আপিল বাতিল করে। তারপর সে হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পায়। তাকেও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এ রকম ৫০ জনেরও বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। হাইকোর্ট এখন বলছে, একে এটা না ওই প্রতীক দেন। এসব নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও ব্যতিব্যস্ত। অনুষ্ঠানে ইটিআই পরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
6
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় শুরু হয়েছে হেমন্তের ধান কাটা। কিন্তু হেমন্তের অন্যতম নবান্ন উৎসব এখন আর চোখে পড়ে না। কালক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবটি।বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। প্রচলিত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব ছিল অন্যতম। হেমন্তকালের এ উৎসব ছিল সর্বজনীন।নবান্নকে ঘিরে (নতুন ধান ঘরে তোলা উৎসব) গ্রামে গ্রামে চলত পিঠা-পুলি ও ক্ষীর-পায়েসের উৎসব। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে যোগ হতো সারি সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। মাঠে মাঠে কৃষকেরা দল বেঁধে ধান কাটা উৎসবে যোগ দিতেন। আর গেয়ে উঠতেন জারি-সারি ভাটিয়ালিসহ নানা ধরনের গান। এক কোথায় গ্রামীণ জীবনে হেমন্তের আবহ ছিল অন্ত প্রাণে গাঁথা।এখন হেমন্তের উৎসব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামের পিঠা এসে যোগ হয়েছে শহরের হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে। পিঠা উৎসবও এসে যোগ হয়েছে শহরের মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্য থেকে। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে আর দেখা মেলে না সারি সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। কিন্তু এখন আর সেই ঐতিহ্য নাই।আর শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুডের দোকানে সারা বছর মিলছে পাটিসাপটা-পুলি পিঠা। শীতে শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয় এখন ভাপা পিঠা।নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হতো আত্মীয়-স্বজনকে। মেয়ে-মেয়েজামাই, নাতি-নাতিকে ভরে উঠত কৃষকের ঘর। কিন্তু কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবটি।
6
আজকের পত্রিকা: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?হেলাল উদ্দিন: করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালো। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আমদানি ও রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। তবে করোনাকালে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয় কমেছে অনেক মানুষের। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।আজকের পত্রিকা: হঠাৎ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। নিম্ন আয়ের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ভারসাম্যের উপায় কী?হেলাল উদ্দিন: করোনায় সাধারণ মানুষের জীবনমান কমেছে। তার ওপর মূল্যস্ফীতি ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ভোক্তা ও নিম্ন আয়ের মানুষ চাহিদার তুলনায় ভোগ ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের ভোগ্যপণ্যের দামের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনা করে আরও বাছাই করতে হবে। যদিও বাজারে পণ্যমূল্য এতটাই বেশি যে তাঁদের এ নীতি খুব একটা কার্যকর হওয়ার সুযোগ কম। আবার তাঁদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, চলতি বছরটা পার করার জন্য ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২২ সাল হবে করোনার বিদায় বছর। এরপর অর্থনীতি চাঙা হবে। তখন মানুষের আয় বাড়বে। আয় বৃদ্ধি পেলে নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটানোর অবারিত সুযোগ হয়তো তাঁরা পাবেন।আজকের পত্রিকা: পণ্যমূল্য যেভাবে বাড়ছে, এটাকে কি স্বাভাবিক বলা যায়?হেলাল উদ্দিন: বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায় মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও ডলারের দাম এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে। এ ছাড়া বাড়তি প্রচার ও অপ্রয়োজনীয় আগাম ঘোষণাও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী। যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি পণ্য বা কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাবে স্বাভাবিকভাবে পড়ে। আবার ডলারের দাম বাড়লে তা বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। বাজারে তার প্রভাব পড়ে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও দ্রব্যমূল্য বাড়ে। আবার কখনো কখনো পত্রিকায় মূল্যবৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হলে অনেকে পণ্যের দাম বাড়াতে চেষ্টা করেন। সরকার আমদানি করবে না-এমন ঘোষণা দিলেও কখনো কখনো দাম বাড়তে পারে। এসবের পরেও বাজারে সিন্ডিকেট তো একটা ইস্যু হিসেবে রয়েছে। তাদের কারণেও সময়ে সময়ে মূল্যবৃদ্ধি পেতে পারে। তবে খুচরা পর্যায়ে সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়। কারণ, লাখ লাখ ব্যবসায়ীর মধ্যে সিন্ডিকেট গড়ার সুযোগ নেই। এত মানুষ একজোট হয়ে কাজ করা অসম্ভব। সে জন্য খুচরা পর্যায়ে সিন্ডিকেটের প্রভাব খুব একটা পড়ে না। কিন্তু বড় কয়েকটি সিন্ডিকেট বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে তাদের বিরুদ্ধে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের শাস্তি জরিমানায় সীমাবদ্ধ না রেখে জেলের ব্যবস্থা করা দরকার। তা না হলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান খুব একটা কাজে আসবে না।আজকের পত্রিকা: উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য কেমন?হেলাল উদ্দিন: উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ে দামের খুব একটা পার্থক্য লক্ষ করা যায় না। কিন্তু পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য থাকে। এর কারণ হলো কোম্পানি বা সরকার থেকে দাম নির্ধারণ ও ভ্যাট আরোপ করা হয়।আজকের পত্রিকা: প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও কি সব সময় ক্রেতার দর-কষাকষির সুযোগ থাকে?হেলাল উদ্দিন: অর্থনীতির নীতি হলো পণ্যের দাম ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে দর-কষাকষির ফলে নির্ধারিত হবে। কখনো কখনো ক্রেতাই দাম নির্ধারণ করে। অর্থাৎ ক্রেতা যে দামে পণ্য কিনবে, সেটাই ওই পণ্যের দাম। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অনেক দেশে এসব নীতি কাজ করে না। যেমন অনেক পণ্যের গায়ে কোম্পানির দেওয়া একচেটিয়াভাবে দাম লেখা থাকে। আবার কখনো কখনো সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পণ্যের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। এসব ক্ষেত্রে ক্রেতার দরদাম করার সুযোগ থাকে না। এটা প্রতিযোগিতামূলক বা উন্মুক্ত বাজার নীতির পরিপন্থী।
6
করোনা মহামারীর মধ্যে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে এমপিসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়েই তবে সংসদে প্রবেশ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। একাদশ সংসদের নবম অধিবেশন বসছে কাল রবিবার সকাল ১১ টায়। এর আগের দুটি অধিবেশনেও একই বাঁধানিষেধ ছিল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবার ক্ষেত্রে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্পিকার জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাজেট অধিবেশনসহ মহামারীর মধ্যে আগের দুটি অধিবেশনের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৈঠক চলবে। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির জন্য ইতোমধ্যে রোস্টার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে যাতে বসতে পারে সেজন্য ৮০ জনের মতো সংসদ সদস্য নিয়ে প্রতিদিন সংসদ চালানো হবে। অধিবেশন চলাকালে যেসব এমপি, কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সবার কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। তিনি বলেন, অধিবেশনে যাদের প্রয়োজন সেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা করা হয়েছে, এর বাইরে অন্যদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপশি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য। তাদের জন্য সংসদের মেডিকেল সেন্টার উন্মুক্ত রয়েছে। তবে তারা চাইলে বাইরে থেকেও নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবেন। অধিবেশন কত দিন চলবে এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, অধিবেশন কত দিন চলবে সেটা এখন বলা যাবে না। আমাদের কাছে যে আইনগুলো পাসের জন্য এসেছে আমরা তা পেন্ডিং রাখতে চাই না। ফলে এই আইনগুলো পাসের জন্য যত কার্যদিবস দরকার হবে ততটা অধিবেশন চলবে।
6
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৌলাই নদীর পাড়ের আহসানপুর গ্রামের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে দুই হাজার হেক্টর ফসল তলিয়ে যেতে বসেছে। যত সময় যাচ্ছে ততই হাওরের পানি প্রবল বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা।যদিও প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, ৯৫ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে কিন্তু কৃষকেরা তা মানতে নারাজ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহসানপুর গ্রামের মাঠে প্রায় ৩০ হাজার মণ ধান শুকানো আর মাড়াইয়ের জন্য রাখা হয়েছিল। গত রোববার রাতে হঠাৎ করেই ধসে পড়ল বাঁধটি। বাঁধটি ধসে যাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ডুবিয়ে গেল জমানো ধান।এ বিষয়ে আহসানপুর গ্রামের সবচেয়ে বড় কৃষক আব্দুস শহিদ জানান, ধান কাটার পর মাড়াই করে ধান শুকানোর জন্য স্তূপ করে রেখেছিল ৩৩০ মণ ধান। গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় শুকয়েই গিয়েছিল। দুদিন পরে ঘরে তুলার কথা ছিলো। কিন্তু বাঁধ ভেঙে নিমেষেই সব শুকনো ধান ভেসে গেল।কৃষক আব্দুস শহিদ চিৎকার করতে করতে বলেন, 'দিন ভালা আছিলো। সবধান এক লগে কাটাইয়া খলাত আনছিলাম। ধান মাড়াই কইরা শুকানিও শেষ ওইয়া গেছিলো। এরিমধ্যে ঘরো তুলার কথা আছিলো। ঢলের ফানি আমার সর্বনাশ কইরা গেছে। এখন আমার পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।'উপজেলার হালির হাওর পাড়ের আহসানপুর গ্রামের ৫৯ বছর বয়সী সায়েরা খাতুন বলেন, 'হাসিনা টেখা ছাড়লো আর বড়লোকের পেট ভরলো! নৌকাত ভোট দিছি হারাজীবন আর ফসল ভাসি যায় আমরা কিচ্ছু ফাই না।'একই গ্রামের হাসিয়া আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, 'জমিত থাইকা ভাইসা গেলেও কষ্ট আছিলো না। ধান শুকানোর পরে যে নিলো এই কষ্ট কেমনে ভুলতাম। যখন শুনছি পানি ডুকতাছে তখন আমার একটা মাত্র মেয়েরে নিয়া ৭০ মন ধানের মধ্যে যতটা পারি তুলার চেষ্টা করিছি।'হালির হাওর পাড়ের মদনাখান্দি গ্রামের কৃষক সুধির তালুকদার বলেন, 'আহসানপুর গ্রামের বাঁধ ভাঙছে। আমার গ্রামের একটা মানুষরেও খবর কইলো না। যদি খবরটা আমরা পাইতাম লগে লগে ধান কাটার ব্যবস্থা করতা পারতাম। যখন খবর পাইছি তখন আর কিচ্ছু বাকি নাই। বাইর ওইয়া দেখি পানি আর পানি। আমরা বুড়া বুড়ি যাই পারি রাত্রেই কাইটা আনছি।'পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পানির চাপ বেশি থাকায় বাঁধটি ধসে পড়েছে। বাঁধটি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই বাঁধটি সময়মতো সংস্কার করতে পারলে অন্য হাওরে ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দে জানান, হাওরের ৫ হাজার ২২০ হেক্টর জমির মধ্যে ৪ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সহায়তা করা হবে।
6
সর্বাত্মক লকডাউন উপেক্ষা করে মার্কেট খুলেছেন রাজশাহীর সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দোকানপাট খুলতে থাকেন তারা। তবে প্রশাসন বাধা দিলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারিও দেন। যদিও পরে ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক তাদের অনুরোধ জানান, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসেছেন। তাদের মুখে মাস্ক ও বেশকিছু দোকানের সামনে রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তাৎক্ষণিকভাবে দোকানে ক্রেতারাও আসতে শুরু করেন। কেউ কেউ অন্য কাজে এসে দোকান খোলা দেখে মার্কেটে ঢুকে পড়েছেন কেনাকাটার জন্য। যদিও লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই আসতে পারেন নি। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তারা চরম আর্থিক শঙ্কটে রয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়েই দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৩ মাস ধরে তারা লোকসান গুনছেন। বর্তমানে পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এদিকে ক্রেতারা জানান, খবর পেয়েই কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছেন তারা। মূলত সন্তানের জন্য কিনেছেন জিনিসপত্র। লকডাউন শিথিল করে ঈদের কেনাকাটর সুযোগ পেলে তাদের জন্য ভাল হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে তারা বাড়ি ফিরতে চান। তবে এখনো পর্যন্ত সেই সুযোগ না থাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতরে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো নিয়ে বেশ চিন্তিত তারা। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি আদেশ অমান্য করে মার্কেট খোলার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীরা বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা আপাতত বন্ধই রাখবেন মার্কেট। ২৮ এপ্রিলের পর সরকার লকডাউন শিথিল করলে তারা ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন।
6
করোনা মহামারি আর ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধাক্কায় উপকূলীয় এলাকার বিপর্যস্ত চিংড়ি খাতকে সচল করতে সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকরা। এ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি আর রপ্তানি পুনরায় সচল করতে ছয় দফা সুপারিশ প্রস্তাবনা আকারে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিশ ফাউন্ডেশনের (বিএসএফএফ) কার্যনির্বাহী বোর্ডের জরুরি সভায় আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( সেব) ও বাংলাদেশ অ্যাকুয়া প্রোডাক্টস কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বাপকা) থেকে চিংড়িখাতের সমস্যা সমাধানে সুপারিশের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। গত ২ জুন ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকরা বলেন, বাংলদেশে চিংড়ি খাত বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮১ হেক্টর পুকুর ও ঘেরে চিংড়ি চাষ দেশজ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয়যোগ্য পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চিংড়ি উৎপাদনে বাংলাদেশে হ্যাচারিগুলি এবং মাঠ পর্যায়ে চিংড়ি চাষীরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে চলমান করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে চিংড়িখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সভায় উল্লেখ করা হয়, করোনার কারণে ঢাকার বাইরে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিংড়িখাতে ঋণ প্রবাহ কমে যায়। দীর্ঘদিনের সাধারণ ছুটির প্রেক্ষাপটে চিংড়িখাতে- হ্যাচারি ও মাঠ পর্যায়ের চিংড়ি খামারে প্রকট শ্রমিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় হ্যাচারি ও খামারিরা শ্রমিকদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও বিপনন মারাত্মকভাব ব্যাহত হয়েছে। হ্যাচারি মালিক ও মাঠ পর্যায়ের চিংড়ি চাষিরা বিশেষ করে ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিরা অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিংড়ি উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ কিনতে পারছেন না। আমদানি কম হওয়ার কারণেই উপকরণের দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি ঘেরগুলি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হওয়া ছাড়াও ঘেরগুলির এক বিরাট অংশের পানি সরবরাহের পয়ঃপ্রণালী এবং সুরক্ষা বাঁধ ও খামারের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খামারিদের নিজেদের পক্ষে এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভরপর নয়। ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিদের পক্ষে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রচলিত ঋণ প্রাপ্তি সম্ভবপর নয় বিধায় তারা চিংড়ি চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার সামর্থ হারিয়েছেন। চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি পুনরায় সচল করার সভায় ছয়টি সুপারিশ প্রস্তাবনা আকারে তুলে ধরা হয়। ১. ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান্য। ২. বিনা শুল্কে মাছ ও চিড়ি চাষের খাদ্য এবং উপকরণ আমদানির সুযোগ। ৩. বিনা শুল্কে আমদানি করা হ্যাচারি ও চিংড়ি চাষের উপকরণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ। ৪. সুলভ মূল্যে মাছ ও চিংড়িচাষ উপকরণ বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরীবিক্ষণ। ৫. হ্যাচারি ও চিংড়ি চাষের উপকরণসমূহআমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের দেয়া অনাপত্তি পত্রে উল্লেখিত শর্তাদির অতিরিক্ত শর্তাদি আরোপ ও তা ছাড়করণে বন্দরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন। ৬. সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে চিংড়ি খামারগুলি প্লাবিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সুরক্ষা বেড়িবাঁধ, পয়ঃপ্রণালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর/ ঘেরেগুলির পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ। সভাশেষে বাপকা-এর সভাপতি মোহাম্মদ তারেক সরকার, সেব-এর সভাপতি আশেক উল্লাহ রফিক এমপি ও ওবিএসএফএফ-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হকের স্বাক্ষর করা সুপরিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অর্থ, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়।
6
সস্ত্রীক করোনা মুক্ত হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, রাহমানুর রাহীমের অসীম কৃপায় আমার এবং আমার স্ত্রীর করোনা নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ। করোনা আক্রান্তের খবর শুণে অসংখ্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, আত্মীয় স্বজন আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, কোরান খতম, মিলাদ মাহফিল,দোয়া মাহফিল আয়োজন করে ও নফল রোজা রেখে রাব্বুল আ'লামীনের নিকট আমাদের রোগ মুক্তির জন্য ফরিয়াদ করেছেন। রাব্বুল আ'লামীন আপনাদের ফরিয়াদ কবুল করেছেন। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই ঋণ কখোনো শোধ করতে পারব না। দোয়া করবেন যেন, বাঁকী জীবন অধিকতর মানব সেবা করে, দেশ ও সমাজের জন্য মঙ্গলজনক ভাল ভাল কাজ করে আপনাদের ভালবাসা ও ঋণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারি।
6
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে উর্দুভাষীদের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় কোটা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তাদের সংগঠনের নেতারা।শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে উর্দুভাষী যুব-ছাত্র আন্দোলনের জাতীয় কাউন্সিলে এই দাবি জানানো হয়। এ সময় বক্তারা উর্দুভাষীদের উচ্ছেদের আগে স্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্ম প্রশিক্ষণসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। সংগঠনের সভাপতি ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কু, সাধারণ সম্পাদক শাহিদ আলি বাবলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, 'বিকল্প ব্যবস্থা না করে উর্দুভাষীদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা অমানবিক। তাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।' পুনর্বাসনসহ সকল সমস্যা সমাধানে উর্দুভাষী নেতাদের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি। উর্দুভাষীদের নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন এই জনগোষ্ঠী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে ছিল। ২০০৮ সালে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এখন কোটা বরাদ্দসহ বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিলে তারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারেন। দেশে বেশ কয়েকটি জাতিসত্তাকে কোটা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।' কাউন্সিলে আসিফ ইকবালকে সভাপতি, মাকসুদ আলমকে সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ হাসান সোহেলকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মো. মুন্নাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে উর্দুভাষী যুব-ছাত্র আন্দোলনের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
6
দেশজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। বেশি লোকসমাগম নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। বিরত থাকতে বলা হচ্ছে হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি থেকেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনের প্রচারণা। প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকেরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অনেকেই জড়িয়ে ধরছেন, করছেন করমর্দন এবং কোলাকুলি। এতে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। ভোটাররা এড়িয়ে চলছেন প্র্রার্থীসহ তাদের কর্মীদের। কোথাও প্রচার প্রচারণা শুরু হলেও সেখান থেকে ভোটাররা সটকে পড়ছেন। স্থানীয়রা জানান, করোনা ঠেকাতেই সরকার ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। এমনকি স্বাধীনতা দিবসসহ জাতীয় সব অনুষ্ঠান সীমিতভাবে করার নির্দেশনা দিয়েছে। সেখানে এতঝুঁকির মধ্যেও কালীগঞ্জে উপ-নির্বাচন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার ও সাধারণ মানুষের কাছে। করোনার ভয়ে ভোটাররা যেমন প্রার্থীদের এড়িয়েই চলছেন একইভাবে প্রার্থী আর তার প্রচারণায় যুক্ত কর্মীরাও বিব্রতবোধ করছেন। করোনার ঝুঁকি এড়াতে তাই আগামী ২৯ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকেও দেশের সব নির্বাচন স্থগিতের আভাসও দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গেল বছরে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এতে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। তবে সেই সময়ে ওই ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন দেয়া হয়নি। বর্তমানে পৌরসভাটির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর। গত ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ডের উপনির্বাচননের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তখন করোনার প্রাদুর্ভাব ছিল না। তবে বর্তমানে কালীগঞ্জ শহরে করোনা প্রতিরোধে ১২ জনকে হোম কেয়াররেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পৌরসভা জুড়েই করোনা আতঙ্ক বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের পাশাপাশি প্রার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে।
6
পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনেই সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাস বন্ধের ঘোষণার পরই ট্রেনের টিকিটও শেষ হয়ে গেছে। রাজশাহী থেকে আশপাশের জেলাগুলোতে যাওয়ার জন্যও দ্বিগুণ হয়ে গেছে সিএনজি-অটোরিকশার ভাড়া। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, রেলগেট সিএনজি স্টেশন এবং ভদ্রা বাস কাউন্টারে গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের এ চিত্র দেখা গেছে। বাসের কাউন্টারগুলো খোলা থাকলেও কোনো টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল না। বরং বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট ফেরত নেওয়া হচ্ছিল।ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার মাসুদ রানা জানান, রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তাঁদের ১৬টি বাস চলে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই সব টিকিট ফেরত দেওয়া হয়েছে। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. পাভেলও টিকিট ফেরত দেওয়ার কথা জানান।এদিকে বাসের টিকিট ফেরত দিয়ে ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীরা ছুটছে রেলওয়ে স্টেশনে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ সময়ের চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি মানুষ টিকিটের আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে কাউন্টারে গিয়ে তারা হতাশ হচ্ছে। কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে টিকিট না থাকার কথা। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিনা টিকিটেই উঠে পড়ছে ট্রেনে।রেল স্টেশনে কথা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোস্তফা সারোয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। শনিবার যোগ দেওয়ার কথা। তাই এক দিন আগেই বাসে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রেনের টিকিট নিতে এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারপর শুনেছেন টিকিট নেই। এখন কীভাবে ঢাকায় ফিরবেন তা বুঝতে পারছেন না।রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানালেন, আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-খুলনা রুটের কোনো টিকিট নেই। তাঁরা এখন ৭ তারিখের পরের টিকিট বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, টিকিট না পেয়েও কেউ কেউ ট্রেনে উঠছেন। বিধি অনুযায়ী ট্রেনের টিকিট চেকাররা তাঁদের কাছ থেকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করছেন। এ জন্য আমরা যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।বাস বন্ধ থাকায় শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের, ভদ্রা বাস কাউন্টার এলাকায় নাটোরের এবং রেলগেট সিএনজি স্টেশন এলাকায় নওগাঁর যাত্রী তুলছে অটোরিকশা ও সিএনজি। প্রতিটি রুটেই যাত্রী তোলার আগেই তাঁদের সঙ্গে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ার চুক্তি করে নিচ্ছেন চালকেরা। অটোরিকশায় অন্য সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার ভাড়া ৫০ টাকা। শুক্রবার ১০০ টাকা করে চাইছিলেন চালকেরা।দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম নামে এক চালক বললেন, 'হরতালের কারণে সবাই নিচ্ছে, আমিও নিচ্ছি।' তাঁর অটোরিকশায় উঠে আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বললেন, 'সবাই সুযোগসন্ধানী। আমরা জনগণই হলাম সবচেয়ে বোকা। আমাদের জিম্মি হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।'জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অঘোষিত বাস ধর্মঘটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরি-প্রাইমুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ডাকে এসব পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার রাজশাহীতে এসব যানবাহনও চলতে দেখা যায়নি।রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, 'তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে বাস-ট্রাক সবই বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে। কিন্তু আমরা সবার স্বার্থেই অনির্দিষ্টকালের জন্য এ আন্দোলন করছি। হয় তেলের দাম কমাতে হবে, না হয় নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে হবে। তাহলেই ধর্মঘট উঠে যাবে।'
6
দীর্ঘদিন মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে বিদায় নিলেন সত্তরের উজ্জ্বলতম কথাশিল্পী বুলবুল চৌধুরী। আজন্ম বোহিমিয়ান, বৈষয়িক উদাসীন, আড্ডাবাজ, আসক্তিপ্রবণ বুলবুল চৌধুরী খুব সাদামাঠা জীবনযাপন করতেন। প্রথম জীবনে সিনেমার পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এফডিসিতে ঘুরেছেন। সিনে পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন; পরে কবি আবুল হাসান, মাসুদ রানাখ্যাত আবদুল হাকিম, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কায়েস আহমেদ প্রমুখের সঙ্গে বিউটি বোর্ডিংয়ে আড্ডায় মিশে লেখক হতে গিয়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। তিরিশের অধিক চাকরি বদল করেছেন, ব্যবসা করেছেন কিছুদিন। না, কিছুতেই তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। লেখালেখির জমিনই তার অস্থির জীবনের স্থায়ী হলো। কপট ভাষা কিংবা বানিয়ে তোলা গল্প নয়, গ্রামীণ, লোকায়ত অভিজ্ঞতা, সহজাত খোলা চোখে প্রবহমান জীবনকে দেখা চালচিত্র নিয়েই বুলবুল চৌধুরী গল্প লেখেন। তার 'টুকা কাহিনী' (১৯৭৭) প্রকাশের পর সবার দৃষ্টি পড়েছিল এই নতুন লেখকের ওপর। বিশেষত, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকার নগরকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনের গল্প প্রধান হয়ে ওঠার পটভূমিতে বুলবুল চৌধুরীর গ্রামজীবননির্ভর গল্প পাঠক রুচিতে ভিন্ন এক আবহের সৃষ্টি করে। 'টুকা কাহিনী' বাংলাদেশের গল্প-সাহিত্যের চমক সৃষ্টিকারী একটি গ্রন্থ। সবগুলো গল্পের পটভূমি গ্রামীণ, লোকজ শব্দ-অনুষঙ্গ নিয়ে তার ভাষাভঙ্গি বিস্ময়কর। তার পর্যবেক্ষণে গ্রামীণ সমাজের যে সারল্য ধরা পড়ে, তা অকৃত্রিম। তার গল্পে বাংলাদেশের লোকায়ত জীবনের সৌরভ পাওয়া যায়। কবি জসীমউদ্দীন যেমন কবিতায় নতুন করে গ্রাম-জীবন ও লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন, তেমনি বুলবুল চৌধুরী স্বাধীনতা-পরবর্তী গল্পে গ্রাম-জীবনকে নতুন করে উপস্থাপন করে ভিন্ন ঘরানার লেখক হয়ে ওঠেন। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন 'তিয়াসের লেখন' প্রকাশনা উৎসবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন- 'আমি একসময় লেখালেখি করে বুলবুল চৌধুরী হতে চেয়েছিলাম। গ্রাম্যজীবন বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের লেখকদের মধ্যে তার ধারেকাছে কেউ নেই। আমি তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি।' একেবারে নতুন আদলে, লোকজ শব্দনির্ভর আধুনিক ভাষায় গাঁথুনিতে তার গল্প-উপন্যাস হয়ে ওঠে অসাধারণ। আবহমান বাংলার নিসর্গ, ব্রাত্য জীবনকে বুলবুল চৌধুরী তার গল্প-উপন্যাসে খুলে-মেলে ধরেন। পাঠকের কাছে, তার লেখা পাঠ মানে ভিন্ন এক ভূগোলে পরিভ্রমণ। প্রান্তবাসী, মাটিবর্তী নর-নারীর প্রেম, অনুরাগের ছবি তিনি আঁকেন আন্তরিক দরদ দিয়ে। তার সৃষ্ট চরিত্ররা ক্ষেতেখোলায় গতর খাটে, মাছ ধরে, কামলা দেয়। বিচিত্র পেশার এবং নেশায় পতিত, স্খলিত, উন্মূল মানুষ বুলবুল চৌধুরীর লেখায় এসে ভিড় জমিয়েছে। কথাশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর জন্ম গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে। কে.এম. জুবলী হাইস্কুল, ঢাকা থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক পাস করেন জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে। লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে। তার অসামান্য গল্পগ্রন্থ 'টুকা কাহিনী' দিয়ে পাঠকদের মনে জায়গা দখল করে নিলেও সত্তরের পর দীর্ঘ সময় তাকে সাহিত্যের মাঠে দেখা যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন- ''পেশাগত কারণে আমি কোথাও স্থির হতে পারিনি। আমার জীবনে ৩০টিরও বেশি চাকরি বদল করেছি। 'জোনাকী', 'ঝিনুক', 'নিপুণ', 'রোমাঞ্চ', 'চিত্রকল্প'- এসব বিনোদন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছি। সিনেমার পরিচালক হওয়ার স্বপ্নে ১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।'' বুলবুল চৌধুরীর মতো কোনো লেখক ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত নিরীক্ষা করেছেন বলে আমার জানা নেই। ষাটের দশকে ঢাকার বাংলাবাজারের বিউটি বোর্ডিং কেন্দ্রিক সাহিত্য আড্ডায় তার বন্ধু ছিলেন কায়েস আহমেদ, আবুল হাসান, নির্মলেন্দু গুণ, শেখ আবদুল হাকিম প্রমুখ। তার বিচিত্র ও বোহিমিয়ান জীবনে কিছু হদিস পাওয়া যায় তার 'অতলের কথকতা', (২০১৪) গ্রন্থের 'আমার প্রথম বন্ধু', 'প্রথম পলায়ন', 'সাধু হে আনন্দ পেতে দাও', 'ডেকে ফিরি', 'আমার সংসার', 'এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে' ইত্যাদি লেখায়। দীর্ঘ বিরতির পর নব্বই দশকের শেষ দিকে তিনি আবার লেখালেখিতে স্বকীয় এবং নিয়মিত হয়ে ওঠেন। শক্তিমান কথাশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর ব্যক্তিজীবন কিছুটা 'আউপাতালি' শব্দের অর্থ এলোমেলো, আউলা ধরনের। শব্দটা প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষের দেওয়া। বাউলস্বভাবী বুলবুল চৌধুরী ব্যক্তি হিসেবে নির্লিপ্ত, প্রচারবিমুখ, নিজেকে লুকিয়ে রাখতে, আড়াল করতে বেশি পছন্দ করেন। এ জন্য তাকে কখনও মিডিয়াতে দেখা যায়নি। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : টুকা কাহিনী (১৯৭৭), পর মানুষ (১৯৯৭), নির্বাচিত গল্প (১৯৯৭), গল্পসমগ্র (২০১৬)। বুলবুল চৌধুরীর গল্পের ভুবনে প্রবেশ করলে দেখা যায়, তার বর্ণনাভূমি গ্রাম হলেও গ্রাম শেষ পর্যন্ত কেবল পটভূমি হিসেবে থাকে না। জল, মাটি, ঘাস, বৃক্ষলতার সঙ্গে নর-নারীর প্রেম-বিচ্ছেদ, দুঃখ-দারিদ্র্য, দহন-যন্ত্রণায় একাকার হয়ে যায়। সেখানে তার গ্রামীণ অভিজ্ঞতাই প্রধান হয়ে ওঠে। ফলে তার গল্পের বিষয়বস্তুই কেবল ভিন্ন হয়ে ওঠে না, স্বকীয় ভাষাভঙ্গি ও লোকজ শব্দের যুতসই প্রয়োগে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। 'টুকা কাহিনী'র আটটি গল্পে সেই স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় স্পষ্ট হয়। 'নিড়ান দেও কেরে', 'বাদাইল্লা', 'হেজা', 'কড়ূল', 'চেডে জানে', 'কান্দা জামিন', 'ঠেহা' এসব লোক-উচ্চারিত শব্দের সঙ্গে বর্ণিত পরিবেশ অবিচ্ছেদ্য। আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগে, বাক্যবন্ধনের মধ্যে বুলবুল চৌধুরীর নিজস্বতা প্রণিধানযোগ্য। ব্যাঙের প্রতীকে টুকার জীবন বর্ণনায় বুলবুল চৌধুরীর শিল্পচৈতন্যের পরিচয় পাওয়া যায়। নায়েবের লাথি খেয়ে কনুইয়ে শরীরে ভর দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা টুকা যেন সেই কুনো ব্যাঙসদৃশ। এই প্রতীকায়নই গল্পটিকে শিল্পোত্তীর্ণ করেছে। 'পরমানুষ' গল্পে ধনীখোলা হাটের নটীবাড়ির নটী কইতরীর প্রতি আরমানের দুর্নিবার আকর্ষণ। কিন্তু আরমান অন্য কাস্টমারের মতো 'বসে' না। পকেট থেকে সযতনে রাখা ঘড়িটা হাতে দিতেই কইতরী বলে 'না'। আরমান বলে, আমারে তুমি পর ভাবতে পার কিন্তু আমি তোমারে আপন করেই নিছি। চিৎকার করে উঠে কইতরী- 'আমারে ঘড়ি পিন্দানের কেডা তুমি?' ঘড়িটা ছুড়ে ফেলে দরজার খিল খুলে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে কইতরী এগিয়ে এসে দু'হাত জড়িয়ে ধরে বলে- 'তুমি ক্যান বোজ না আমি পরমানুষ?' গল্পের শেষটি বড়ই করুণ। কইতরী গোসলের সময় সাঁতরে নদী পার হয়ে নটীপাড়া থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। পাইন্না হারামি তাকে বুকে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করে। 'চৈতার বউ গো' গল্পেও দেখা যায়, জিয়া-কাজল নতুন বিয়ে করে ট্রেনে কমলাপুর স্টেশন থেকে ঘোড়াশাল নেমে নদী পেরিয়ে খলাপাড়া গ্রামে যায়। বাড়িতে চাচা সবুর আলী, চাচি তাদের খুব আদর-যত্ন করে। গ্রামে এক পাখির 'ফল পাকো' ডাক শুনে কাজল জিজ্ঞাসা করে, কী নাম পাখিটার? জিয়া তখন বলে, পাখিটার নাম 'চৈতার বউ' পাখি। পাখির এই নামকরণের পেছনে একটা মিথ আছে। অনেক আগে বোবা ছেলের জন্য গরিব ঘরের সুন্দরী মেয়েকে বউ করে আনা হয়েছিল। গ্রামে এলো একতারা হাতে এক গায়েন। ভারি মিষ্টি তার গলা। গান শুনে চৈতার বউ বশ মানে। গায়েনের সঙ্গে চৈতার বউ পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। চৈতার মা তা টের পায়। সে তন্ত্রমন্ত্র জানত। বউ পালিয়ে গেলে বংশের কলঙ্ক হবে জেনে বুড়ি মন্ত্র পাঠ করে গায়েন আর ছেলে বউকে পক্ষী বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেয়। চৈতার বউ পাখির বৃত্তান্ত শুনে কাজল আর জিয়া দু'জনের প্রেমের কথা স্মরণ হয়। দু'জনের অন্তরে অন্য মানুষ। কামে মত্ত হওয়ার পরও সেই স্মৃতি অন্তরে থেকে যায়। আঞ্চলিক জীবন, গ্রামীণ লোকায়ত সংস্কৃতি বুলবুল চৌধুরীর গল্পে এভাবে নতুন মাত্রা লাভ করে। 'মাছের রাত', 'মাছ', 'খরা', 'ঘর ছিল', 'সংসার', 'নিরবধিকাল', 'অচেনা নদীর ঢেউ', 'দ্বিতীয় বাসর' প্রভৃতি গল্পে বুলবুল চৌধুরীর বিষয়-ভাবনা, চরিত্র-চিত্রণ, লোকজ শব্দের যুতসই প্রয়োগ বেশ প্রশংসনীয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গল্প-সাহিত্য বুলবুল চৌধুরী নতুনভাবে গ্রামীণ সমাজ ও লোকায়ত জীবনকে আন্তরিক দরদ দিয়ে এঁকেছেন। জীবনবোধ ও পর্যবেক্ষণের অন্তর্দৃষ্টির ভিন্নতা নিয়ে বুলবুল চৌধুরীর গল্পের শৈল্পিক রূপটি উজ্জ্বল হয়ে আছে। অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
8
সদ্যবিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের। তাঁকে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।ডয়চে ভেলে 'খালেদ মুহিউদ্দিন জানতে চায়' শীর্ষক ইউটিউব টকশোতে গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি এ কথা বলেন। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর এই আলাপচারিতায় উঠে আসে আলোচিত এই জেনারেল সম্পর্কিত নানা দিক।খালেদ মুহিউদ্দীন: যুক্তরাষ্ট্র কি আপনার ভিসা বাতিল করেছে?সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ: আমেরিকার কতগুলো আইনে বলা হয়েছে-কারও ভিসা যদি যুক্তরাষ্ট্র অথোরিটি বাতিল করে সেটি তাঁকে নোটিশ করতে হবে। আমাকে কি তারা জানিয়েছে? আমি যখন ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম তখন আমার স্থায়ী ঠিকানা, যোগাযোগ করার নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতো আমি নই যে, আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কি আমার ভিসা বাতিল করা হয়েছে? তা কিন্তু করা হয়নি। আমি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছি, আমার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।খালেদ মুহিউদ্দীন: আপনি এখন অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। কেউ কেউ বলেন আপনার কয়েক শ কোটি টাকা।জেনারেল আজিজ: শত শত কোটি টাকা তো দূরে থাক, সামান্য কিছু টাকার সূত্র দিয়ে দেন যা দিয়ে বাকি জীবনটা একটু স্বচ্ছন্দে কাটাতে পারি! মানুষ প্রমাণ ছাড়া অনেক কথা বলে, নিশ্চয়ই তার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। এ ধরনের কথায় আমি খুব ব্যথিত হই। ৩৯ বছর সামরিক বাহিনীতে চাকরি করেছি। যখনই সময় পাই আমার কোর্স মেটদের সঙ্গে গলফ খেলতে যাই। অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে, তারা আসে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাই। আমি পোস্ট ডক্টর করছি, সেটা নিয়ে সময় কাটাই।খালেদ মুহিউদ্দীন: আপনার যে ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন, যিনি একজন ওয়ারেন্ট অফিসার, তাঁকে কি দুর্নীতির দায়ে পদচ্যুত করা হয়েছে?জেনারেল আজিজ: আমি যখন অবসরে আসি, তারপরে শুনেছি। সিরিয়াস কিছু হলে তাঁকে সার্ভিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো। সে ক্ষেত্রে অনেকেই জেল বা বরখাস্ত করে থাকে। কিন্তু তাঁকে নরমাল অবসরে পাঠানো হয়েছে।খালেদ মুহিউদ্দীন: রাজনৈতিক বিবেচনায় সেনাপ্রধান হয়েছেন-এ ধরনের কথা বলা হয়ে থাকে। বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ এবং যোগ্য কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে আপনাকে সেনাপ্রধান করা হয়েছে।জেনারেল আজিজ: সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া সরকারের এখতিয়ার। আমাকে যখন নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন। এই তিনজন থেকে যে কোনো একজনকে সেনাপ্রধান করতে পারতেন। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বেশি ছিল। আমি বিজিবির মতো বাহিনী কমান্ড করেছি। সুতরাং অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে আমাকে সেনাপ্রধান করা হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। খালেদ মুহিউদ্দীন: আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার ম্যান' প্রচার হওয়ার পরে আপনার চাকরি জীবনে কী প্রভাব পড়েছিল। আপনার ভাইয়েরা পিতা-মাতার নাম বদলে পাসপোর্ট করেছেন। সে ক্ষেত্রে সরাসরি আপনার সংশ্লিষ্টতা ছিল বা আপনার পদ-পদবির প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছিল।জেনারেল আজিজ: সত্য মিথ্যা যাই থাক এ রকম প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর বিরত হওয়াই স্বাভাবিক। প্রচার হওয়ার পরে আমি বিব্রত বোধ করছি। সে সময় আমি সরকারি নিমন্ত্রণে আমেরিকাতে ছিলাম। তবে আল-জাজিরার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি সেনাপ্রধান থাকাকালীন আমার ভাই বা আত্মীয়কে বিজিবি বা সেনাবাহিনীর কোনো সরঞ্জাম কেনার কন্ট্রাক্ট দিয়েছি কি-না আমি সে ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করছি, কেউ এ ধরনের প্রমাণ দিক। যারা এসব কথা বলছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলাদেশের কত লক্ষ লক্ষ লোক দেশের বাইরে থাকে, তাঁরা কি তাদের সঠিক পরিচয় ব্যবহার করছেন?খালেদ মুহিউদ্দীন: ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ফল নিয়ে আসার জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। সেনাপ্রধান হিসেবে আপনি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।জেনারেল আজিজ: সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এখানে চেইন অব কমান্ড চলে। যখন কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়, তখন সবাই ইলেকশন কমিশনের আন্ডারে চলে যায়। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য সবকিছু করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেখানে কার কী দায়িত্ব একেবারে স্পেসিফিক বলা আছে। আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে, সবগুলো জেলাতে যাব। প্রয়োজন হলে উপজেলাতে যাব। নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেট বা যারা আছে, আমাদের নির্দেশ দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য আমরা দ্রুতই সেখানে চলে যেতে পারি। সে সমস্ত জায়গায় আমরা অবস্থান নিয়ে থাকি। সেখানে চাইলেই সেনাবাহিনীর যা কিছু করার এখতিয়ার নেই।খালেদ মুহিউদ্দীন: ২০১৮ সালে নির্বাচন যখন শেষ হয়েছিল তখন আপনি বলেছিলেন, একটি অসাধারণ নির্বাচন দেখেছেন। বাংলাদেশ এত ভালো নির্বাচন আগে দেখেননি। এই বক্তব্যে এখনো কি স্ট্যান্ড করেন?জেনারেল আজিজ: ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেন এবং অন্যান্য সময়ের নির্বাচন দেখেন, কোন সময় বেশি ক্যাজুয়ালটি হয়েছে? ভোট কেমন হয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার না। আমাদের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলার সিচুয়েশন ঠিক রাখা। আমার যে বক্তব্যটা ছিল, সেটা নির্বাচন কমিশনের কথা ছিল।খালেদ মুহিউদ্দীন: একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ, যিনি আপনার কোর্সমেট, পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গে আপনার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল।জেনারেল আজিজ: আগামী জুনের ২৫ তারিখের পর থেকে আমার সম্পূর্ণ রিটায়ারমেন্ট শুরু হবে। তখন এসব প্রোপাগান্ডার বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেব। যে কোনো ব্যক্তির ৩০ মিনিটের একটি অডিও সফটওয়্যার দিয়ে যে কোনো কথা যদি ক্লোন করতে চান, সেটি করতে পারেন।
6
ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুমে এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ম্যাচের একটি ছিল ক্লাবে লিওনেল মেসির নাম লেখানোর আগে, আরেকটি পরে। ম্যাচ দুটি থেকে অবশ্য পূর্ণ ৬ পয়েন্টই আদায় করে নিয়েছে পিএসজি।স্ট্রাসবুর্গের বিপক্ষে রোববার রাতের ম্যাচটা সস্ত্রীক গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন মেসি। কিন্তু তাতে কি আর পিএসজির সমর্থকগোষ্ঠী 'আলট্রাস' আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মেসিভক্তের মন ভরে? তাঁরা যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুদে জাদুকরের ফুটবলশৈলী দেখতে!গত সপ্তাহে বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের মধুর সম্পর্কের ইতি টেনে প্যারিসে পা রাখার পর অনুশীলনেও নেমে পড়ছেন মেসি। পিএসজিতে তাঁর নতুন ৩০ নম্বর জার্সিও অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে মাত্র ৩০ মিনিটে! কিন্তু রেকর্ড ছয়বারের ব্যালন ডি অর জয়ী মহাতারকার যে মুহূর্তটির জন্য এত অপেক্ষা, সেই অভিষেকটাই এখনো হলো না। নতুন ক্লাবের জার্সিতে মেসির মাঠে নামার দিনক্ষণ গুনছেন ফুটবল অনুরাগীরা, সেটি নিয়ে কথা বললেন পিএসজির কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।গত জুলাইয়ে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম শিরোপা জেতা মেসি এরপর আর খেলেননি কোনো ম্যাচ। আর্জেন্টাইন জাদুকরকে শতভাগ ফিট করে তবেই মাঠে নামাতে চান পচেত্তিনো, 'কোপার ফাইনাল খেলার পর থেকে ছুটিতে ছিল সে (মেসি)। এখানে আসার পর মাত্র দুদিন (আসলে ৩ দিন) অনুশীলন করেছে। আমরা ওকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করব না। ধীরে ধীরে একে-অপরকে জানার চেষ্টা করব। ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাক, দলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাক। তারপরই অভিষেক হবে।'পচেত্তিনোর তাড়া না দেখানোর অর্থ, ব্রেস্তের বিপেক্ষে আগামী শুক্রবারের ম্যাচেও বন্ধু নেইমার জুনিয়র-আনহেল দি মারিয়া-মাউরো ইকার্দিদের সঙ্গে নতুন করে জুটি বাঁধা হচ্ছে না মেসির। তাঁকে পিএসজির জার্সিতে দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও সপ্তাহ খানেক। স্কাই স্পোর্টস জানাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে ২৯ আগস্ট রাতে রেঁসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে 'পেট্রো ডলার' সমৃদ্ধ ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হতে পারে মেসির।
12
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি, চলচ্চিত্রের আবেদন অনেক গভীর। 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা' চলচ্চিত্রটি তরুণ প্রজন্মের মাঝে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি তাদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে উঠবে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা' শীর্ষক চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ খুবই প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মজিবুল হক এমপি, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান এবং 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা' শীর্ষক চলচ্চিত্রটির পরিচালক অনন্যা রুমা বক্তব্য দেন। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জীবনদর্শন, আদর্শ ও কর্মধারা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় ও আগামীর দিকনির্দেশক। চলচ্চিত্রটিতে উঠে এসেছে ১৯৭৫ এর ১০ই আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এর নির্মম হত্যাযজ্ঞের আলেখ্যচিত্র যা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত দিয়েছেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার নির্মম হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে এসে এদেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মাধ্যমে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করেছেন। এ সময় স্পিকার করোনা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আজ তিনি নারী নেতৃত্বের শীর্ষে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষে স্পিকার 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা' শীর্ষক চলচ্চিত্রটির শুভ মহরতের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে এটিএন বাংলায় প্রচারিতব্য ধারাবাহিক অনুষ্ঠান 'উন্নয়নে বাংলাদেশ' এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী-কলাকুশলী ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
6
ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে আলোচিত হিরো আলমকে কটাক্ষ করে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। দেশের মিডিয়াগুলো হিরো আলমকে নিয়ে মেতে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন এই বিতর্কিত লেখিকা। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিকেও একহাত নিয়েছেন তিনি। এদেশের রাজনীতিকে ক্লাউন বা ভাঁড়ের সাথেও তুলনা করেছেন। ইউটিউবে হিরো আলমের ভিডিওগুলোকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, হাস্যকর এবং বিরক্তিকর জিনিস বলে উল্লেখ করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে সোমবার এক স্টাটাসে এসব কথা বলেন তিনি। পাঠকদের জন্য তাসলিমা নাসরিনের স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো... 'বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো হিরো আলম নিয়ে পড়েছে। পাগলের মতো তার সাক্ষাতকার নিচ্ছে সবাই। বাজারের জনপ্রিয় গানের সংগে লিপ মিলিয়ে ভাড়া করা 'অভিনেত্রী'র সঙ্গে তার যে নাচানাচির ভিডিও ইউটিউবে আছে, সেগুলো অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, হাস্যকর এবং বিরক্তিকর জিনিস। সেগুলোর দর্শক বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক। মানুষের ''ভালোবাসা'' পেয়ে হিরো আলম এখন ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। একসময় মন্ত্রী হবেন। হয়তো প্রধানমন্ত্রীও হবেন। আসলে হিরো আলম বাংলাদেশের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য উপযুক্ত লোক। দেশটাও হিরো আলমের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে এতদিনে। গরিব থেকে ধনী হলে, বা স্ট্রাগল করে বড় হলে বা সোজা সরল হলেই কি ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্য হয় কেউ? লোকে বলে হয়। দূর্নীতিগ্রস্ত আর কুটিল জটিল রাজনীতিক দেখতে দেখতে মানুষ এখন সাদাসিধে কাউকে দেখলেই তাকে দেশ শাসনের ভার দিতে চায়। সাদাসিধে আর সৎ হলেই যে ভালো রাজনীতিক হওয়া সম্ভব তা তো নয়। রাজনীতির জগতটাকে একটা সার্কাস বানিয়ে ফেলেছে দেশটা। বাংলাদেশের সংসদে তো কম ক্লাউন নেই। হিরো আলম নামে নতুন এক ক্লাউনের নিশ্চয়ই ওখানে জায়গা হবে।'
9
যুক্তরাজ্যে পরকীয়ার জেরে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক বোনের হাতে খুন হয়েছে আরেক বোন। ওই ঘটনায় বড় বোনকে ৬৮ বার ছুরি মেরে হত্যা করে তারই ছোটবোন। আর খুনের পর সেটিকে ডাকাতির ঘটনার সময় খুন হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে সেই ছোট বোন। জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বড়বোন সাইমা খানের নিহতের বিষয়টি ছোট বোন সাবাহ খান পুলিশকে জানান, তখন বিষয়টিকে তিনি ডাকাতির মতো করেই সাজিয়েছিলেন। পুলিশকে ডাকাতদের বর্ণনাও দিয়েছিলেন তিনি। আর একবার দুবার নয় রীতিমতো ৬৮বার ছুরির আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। একেবারে নিখুঁত বর্ণনায় বলছিলেন কয়জন ডাকাত কিভাবে তার বোনকে ছুরি মেরেছে। এরপর তিনি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও তাকে রক্ষা করতে পারেননি, ইত্যাদি কথা। পুলিশের ভিডিওতে সে কথাগুলো রেকর্ড করা ছিল। বড়বোনের স্বামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সাবাহর। আর পরিবারের সঙ্গেই তারা একই বাড়িতে থাকতেন। তবে এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা পরিবারের সদস্যরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারের এ খুনের ঘটনাটি ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন আদালতে ওঠে। সেখানে বিচারে ছোটবোনের ২২ বছরের জেল হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ ২৭ অক্টোবর, ২০১৭/ ই জাহান
5
প্যারাগুয়েকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পেরু। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয়েছে জয় পরাজয়। পেনাল্টি থেকে পেরুর হয়ে জয়-পরাজয় নির্ধারনি গোলটি করেছেন মিগুয়েল ট্রাউকো। এর আগে দুটি শট ক্রস বারের উপর দিকে এবং তিনটি শট প্রতিহত হওয়ায় নাটকিয়তার জন্ম দেয় টাইব্রেকারেও। পেরুর গোল রক্ষক ডাইভ দিয়ে আলবার্তো এস্পিনোলাসের শট ঠেকিয়ে দিয়ে মুলত টাউকোর জন্য জয়ের মঞ্চটি প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই গোল করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজ। তবে ২১তম মিনিটে গোলটি পরিশোধ করে পেরুকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন জিয়ানলুকা ল্যাপাডুলা। ৪০ মিনিটে ফের গোল করে পেরুকে এগিয়ে দেন তিনি।বিরতিতে যাবার আগমুহুর্তে গোমেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে হাতাশা নেমে আসে প্যারাগুয়ের শিবিরে। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই ৫৪ মিনিটে গোল করে ফের দলটিকে ২-২ গোলের সমতায় ফিরিয়ে আনেন জুনিয়র আলনসো। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ইয়সিমার ইয়তুন গোল করে আরো একবার এগিয়ে দেন পেরুকে। কিন্তু ৮৪তম মিনিটে আন্দ্রে ক্যারিলো লাল কার্ড দেখলে পেরুভিয়ানরাও পরিণত হয় ১০ জনের দলে। এই সুযোগে ম্যাচের শেষ মিনিটে গোল করে প্যারাগুয়েকে আরেকবার সমতায় ফিরিয়ে আনেন গাব্রিয়েল আভালোস। যার ফলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায়।সেমি-ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের মোকাবেলা করবে পেরু। কারণ শুক্রবার অনুষ্ঠিত আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ১-০ গোলে হারিয়েছে চিলিকে। তারা যেকোনো দলের মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে ম্যাচ শেষে ল্যাপাড়লা বলেন, প্রতিপক্ষ যারাই হোক আমাদের কাছে একই। আমাদেরকে সেমি-ফাইনাল খেলতে হবে এবং সেটি নিয়েই ভাবতে হবে। আগামীকাল আর্জেন্টিনা বনাম ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। এর আগে ওই দিন উরুগুয়ে লড়বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
12
করোনাভাইরাস শনাক্তের ভুয়া রিপোর্ট তৈরিসহ বিভিন্ন জাল সনদ তৈরি ও বিক্রির ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার দুপুরে চান্দিনা বাজার এলাকার বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোর্শেদ আলম (৩৫) দেবীদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। কুমিল্লা র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর কমান্ডিং অফিসার তালুকদার নাজমুস সাকিব জানান, গোপন সংবাদে র্যাব জানতে পারে- চান্দিনা উপজেলা বাজারে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে বিভিন্ন ধরনের জাল রিপোর্ট ও সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রি হয়। এর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের রিপোর্টও সে তৈরি করে দেয়। তিনি জানান, এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা পরিচয় গোপন রেখে প্রতারক মোর্শেদের কাছে করোনাভাইরাস শনাক্তের রিপোর্ট চায়। র্যাবের পাতা ফাঁদে পা দেয় মোর্শেদ। ল্যাবএইড হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে জাল করোনা পজিটিভ রিপোর্ট তৈরি করে দেয় সে। পরে রোববার সকালে র্যাব বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে মোর্শেদকে গ্রেপ্তার করে। নাজমুস সাকিব আরো জানান, মোর্শেদ আলম ফটোশপ ব্যবহার করে করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট, জাল একাডেমিক সার্টিফিকেট, মার্কশিট, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের নামে বিভিন্ন লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছিলো। এসব রিপোর্টের জন্য সে লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সার্টিফিকেটও মোর্শেদ জাল তৈরি ও বিক্রি করে প্রতারণা করে আসছিলো। র্যাব জানিয়েছে, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া সনদ, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানার জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
6
ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার দাপুটে জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত। ৭ উইকেটে ভারতের দেয়া ১৬২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে অস্ট্রেলিয়াও ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১৫০ রান। ফলে ১১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সফরকারীরা। ভারতের হয়ে লোকেশ রাহুলের হাফ সেঞ্চুরি করার পর বল হাতে চমক দেখিয়েছেন থাঙ্গারাসু নটরাজানে ও যুজবেন্দ্র চাহাল। দুজনেই নিয়েছেন সমান তিনটি করে উইকেট। আর এতেই কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি অজিরা। ম্যাচসেরা হয়েছেন চাহাল। ক্যানবেরার মানুকা ওভালে টস হারা ভারত ৭ উইকেট খুইয়ে ১৬১ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে। ভারতের হয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন লোকেশ রাহুল। ৪০ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলার পথে ৫ চার ও এক ছয়ের মার খেলেছেন তিনি। শেষ দিকে ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৩ বলে তিনি খেলেছেন ৪৪ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন উইকেট নেন মইজেস হেনরিকস। দুটি উইকেট পান মিচেল স্টার্ক। জবাব দিতে নেমে ১৫০ রানে থেমেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। বাকিদের মধ্য ডি আর্কি শট ৩৪ ও হেনরিকস ৩০ রান করেছেন। শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু'দল।
12
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতাভুক্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বদলে বর্তমানে চার লেনের মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। রবিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সামসুল আরেফিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির এ প্রকল্প আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর পরিবর্তে বর্তমানের ফোরলেন মহাসড়ককে আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যা সরকার নিজে করবে। তিনি বলেন, ''যেহেতু জাতীয় মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা হবে এবং পাশে সার্ভিস লাইন নির্মাণ করা হবে, সারাদেশেই এটা হচ্ছে। সরকার এটি করবে, এটিই হচ্ছে মূল সিদ্ধান্ত। এটি পিপিপিতে হওয়ার কথা ছিল। এখন পিপিপিতে হচ্ছে না, তবে সেখানে চার লেনের মহাসড়ক হবে এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।'' ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রকল্প বাতিল হওয়ার কারণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ''ওটা একটা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি ছিল। সেজন্য টাকাটা গচ্ছা যায়নি। যেকোনো কাজের তো ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করতে হবে। এই টাকা জিওবি'র হয়। এটি নিয়ে আজ সভায়ও আলোচনা হয়েছে, সেখানে বলা হয় ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি হয়েছে।'' প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ সিসিইএ সভায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর সমীক্ষা পরিচালনা এবং বিশদ নকশা প্রণয়ন করা হয়। সামসুল আরেফিন আরও জানান, আজকের বৈঠকে হাতিরঝিল রামপুরা সেতু থেকে বনশ্রী-শেখের জায়গা হয়ে ডেমরা পর্যন্ত মহাসড়ক (চিটাগাং রোড মোড় এবং তারাবো লিংক মহাসড়কসহ) পিপিপি ভিত্তিতে ফোরলেনে উন্নীতকরণের প্রস্তাবটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। পিপিপি ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী চায়না কমিউনিকেশনস কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর সিসিইএ সভায় উপস্থাপন করা হলে আরও কিছু তথ্য-উপাত্তসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী এ বছরের ২৭ জানুয়ারি সিসিইএ সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে পিপিপি চুক্তিটি কর্তৃপক্ষকে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পিপিপি কর্তৃপক্ষের মতামত এবং সার্বিক দিক বিবেচনায় বর্ণিত পিপিপি প্রকল্পে বিনিয়োগকারী হিসেবে সিসিসিসিএল এবং সিআরবিসিকে নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
6
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ পাওয়া যায়। মাস-বছর পেরিয়ে কেটে গেছে এক দশক। কী কারণে, কারা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করেছে, তা আজও জানা যায়নি। প্রতি মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের কাছে র্যাবের সময় চাওয়া ছাড়া আরেকটি তথ্যের কথা বলছে র্যাব। তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবে ডিএনএ থেকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির ছবি প্রস্তুতের কাজ চলছে। এর বাইরে আলোচিত এই হত্যা মামলার কোনো তদন্তই হচ্ছে না। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। ১৫ মাস আগে আদালতে মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে র্যাব। ওই প্রতিবেদনে র্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ আলামত যুক্তরাষ্ট্রে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় দুজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। সেই ডিএনএ থেকে খুনে জড়িত ব্যক্তির ছবি প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে। র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, সব তদন্ত দ্রুত শেষ হয় না। অনেক জটিল ঘটনা থাকে যেগুলো তদন্ত সময়সাপেক্ষ। অনেক ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, র্যাব সাংবাদিক দম্পতির খুনের মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এই মামলায় ১৬০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা বাসার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় করা বিভিন্ন মামলার আসামি ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি আসামিদের মধ্যে ছিলেন সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী এনামুল ও পলাশ রুদ্র পাল এবং রুনির বন্ধু তানভীর রহমান। বর্তমানে জামিনে আছেন তানভীর ও এনামুল। বাকিরা কারাগারে। সাগর-রুনি হত্যার আগের রাতে রুনির সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েক সেকেন্ড কথা হয়েছিল তানভীরের। ওই কথার সূত্র ধরে তানভীরকে দফায় দফায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ডিবি ও র্যাবের কর্মকর্তারা। গত বুধবার তানভীর প্রথম আলোকে বলেন, 'ঘটনার পর আমিসহ তানভীর নামের আরেকজনকে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর ওই তানভীর বিদেশে চলে যায়।' তানভীর রহমান বলেন, 'আমার ব্যবহৃত সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ডিবি ও র্যাব ফরেনসিক করেছে। কিন্তু তারা আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।' সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মহীউদ্দীন খান আলমগীর। সেই সময় তিনি হত্যার রহস্য উন্মোচনের সুনির্দিষ্ট তারিখও ঘোষণা করেছিলেন। সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে এই হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে।' মহীউদ্দীন খান আলমগীরের এই ঘোষণার পর ১০ অক্টোবর রুনির বন্ধু তানভীর রহমান ও বাসার দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেপ্তার দেখায় র্যাব। এভাবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের নানা আশ্বাসে ১০ বছর কেটে গেছে। তারপরও এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৮৫ বার আদালত থেকে সময় নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতির নিহতের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা-পুলিশের বাইরে মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব। চার দিনের মাথায় এই হত্যা মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এর দুই মাস পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার বাদী নওশের আলম বলেন, 'তদন্ত সংস্থার সদিচ্ছা নেই, বিচার চেয়ে চেয়ে আমরাই এখন লজ্জিত। তাই আর বিচার চাই না।'
6
পুরান ঢাকার চাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম সরকার প্রতিদিনই রমনা পার্কে হাঁটতে যান। হাঁটাহাঁটি শেষে পার্কের পাশের একটি ভাসমান দোকান থেকে স্বল্প খরচে রক্তের চাপ ও রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ পরীক্ষা করান। তবে মাঝেমধ্যেই মেশিনে সঠিক ফল আসে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।তবে ইব্রাহিম সরকারের মতো সবাই এখন আর বাইরে এসব পরীক্ষা করান না। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ নানা রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। অনেকে এখন প্রেশার বা রক্তের চাপ মাপার মেশিন, ডিজিটাল থার্মোমিটার, ওজন মাপার যন্ত্র, ডায়াবেটিস পরিমাপের যন্ত্র ঘরেই রাখেন। কিন্তু আমদানি করা এসব মেডিকেল যন্ত্রপাতির মান যাচাই করা হচ্ছে না। এগুলোর পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অথচ এসব যন্ত্রের রোগের পরিমাপ সঠিক কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানির পর জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর ন্যাশনাল মেটেরোলজি ল্যাব (এনএমএল) বিভাগ এসব যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন (পরিমাপের সূক্ষ্মতা নির্ণয়) ও ভেরিফিকেশন করে। কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক নয়। তাই ক্যালিব্রেশনে খরচ আছে বিধায় বেশির ভাগ আমদানিকারক বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। উৎপাদনকারী কোম্পানির দেওয়া ভেরিফিকেশন ও ক্যালিব্রেশনেই এসব যন্ত্রপাতি বাজারজাত হচ্ছে।জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, মেডিকেল যন্ত্রপাতির ক্যালিব্রেশন ও ভেরিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যন্ত্রপাতি সঠিক না হলে ফলাফল নিয়েপ্রশ্ন থেকে যায়। একই সঙ্গে এসব যন্ত্রপাতি কিনে ভোক্তা রীতিমতো প্রতারণার শিকার হওয়ার শঙ্কা থাকে।উত্তরার বাসিন্দা রাফি হোসেনের কথায় প্রমাণ মেলে প্রতারণার। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর তিনি একটি ওষুধের দোকান থেকে ডায়াবেটিস পরিমাপক (গ্লুকোমিটার) যন্ত্র কেনেন। কিন্তু তাঁর সেই যন্ত্রে ডায়াবেটিস অবিশ্বাস্য রকম কম রিডিং দেখাচ্ছিল। সন্দেহ হলে তিনি পরে হাসপাতালে গিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, তাঁর কেনা যন্ত্রের চেয়ে হাসপাতালের পরীক্ষায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেশি দেখাচ্ছে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান প্যাথলজিস্ট আলমাস উদ্দিন বলেন, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ক্যালিব্রেশন, ভেরিফিকেশন ছাড়াও নিয়মিত কিউসি (মান নিয়ন্ত্রণ) করতে হয়। এটি করা না হলে একই পরীক্ষা ভিন্ন ল্যাবে ভিন্ন ফল দেবে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বিশ্বের রোগ নির্ণয়ের জন্য আমদানি করা মেডিকেল যন্ত্রপাতি বাজারজাত করার আগে বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), ইউরোপের ইইউ এবং সিইর মতো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন লাগে। এসব যন্ত্রপাতি আমদানির পর মান যাচাই বাধ্যতামূলক করা হলে আমদানিকারকেরা তা মানতে বাধ্য হবেন।মেডিকেল যন্ত্রপাতি শতভাগই আমদানিনির্ভর। চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, মালয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব যন্ত্রপাতি আমদানি হয়। তবে টাকা খরচের ভয়ে বিএসটিআইয়ের এনএমএল বিভাগ থেকে আমদানিকারকেরা যন্ত্রপাতি ক্যালিব্রেশন করেন না। এই সুযোগে তাঁরা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আমদানি করে বাজারজাত করেন। এতে ঠকছেন ক্রেতা। শুধু তাই নয়, ভুল রিডিংয়ের কারণে এসব যন্ত্রপাতির ব্যবহারকারীকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।বিএসটিআই সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ন্যাশনাল মেটেরোলজি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে বিগত সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখান থেকে প্রায় ২৮ হাজার যন্ত্রের ভেরিফিকেশন ও ক্যালিব্রেশন করেছে।বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) তাহের জামিল বলেন, প্রেশার মেশিন, থার্মোমিটার ও ওয়েট মিটার-এই তিনটি যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন করা উচিত। তবে বাধ্যবাধকতা না থাকায় আমদানিকারকেরা সুযোগ নিচ্ছেন। অর্থ বাঁচাতে তাঁরা ক্যালিব্রেশন করান না।সূত্র জানায়, দেশে মেডিকেল যন্ত্রপাতির গুণাগুণ পরীক্ষার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। ২০১৫ সালে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর মেডিকেল ডিভাইস গাইডলাইন তৈরি করে। কিন্তু আমদানি করা যন্ত্রপাতির মান যাচাইয়ের সক্ষমতা ঔষধ প্রশাসনের নেই। যন্ত্রপাতির সঠিক পরিমাপ জানতে হলে বিএসটিআই থেকে ভেরিফিকেশন ও ক্যালিব্রেশন দরকার।জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আইয়ূব হোসেন বলেন, আমদানিকারকেরা নিজেরাই যন্ত্রপাতি ক্যালিব্রেশন করে। অনেক সময় তৃতীয় কোনো মাধ্যমেও এটি করা হচ্ছে। তবে বিএসটিআইয়ের মেটেরোলজি ল্যাব থেকে করা হচ্ছে কি না, সেটি তাঁর জানা নেই।মেডিকেল যন্ত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেলথওয়ের মালিক নূর হোসেন বলেন, ওজন মাপার যন্ত্র ক্যালিব্রেশন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রেশার, থার্মোমিটার, ডায়াবেটিস মেশিন ক্যালিব্রেশন করা হচ্ছে না। সরকার বাধ্যতামূলক করলে সবাই সেটি করবে। তবে এটি বাধ্যতামূলক করা হলে আমদানিকারকদের ভোগান্তি বাড়বে।
4
বিদেশ যেতে হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবার আদালতের কাছে যেতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, আদালত ছাড়া আমাদের এই রাস্তা খোলা নেই। এখন কোর্ট স্বাধীন। আদালত তার নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। আরও নতুন কোনো মতামত দিলে তাকে আবার আদালতে যেতে হবে। শনিবার (১১ জুন) দুপুরে রাজধানীতে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। আত্মীয়স্বজনের আবেদনে দেশে থেকে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিতে যেন কোনো অসুবিধা না হয় সে ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত সে ব্যবস্থা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। বিদেশ যেতে হলে তাকে আবার আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। আরও পড়ুন : খালেদা জিয়ার হার্টে ৯৫ শতাংশ ব্লক, পরানো হয়েছে রিং শুক্রবার মধ্যরাতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থের অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার হৃদযন্ত্রে ৯৫ শতাংশ ব্লক ধরা পড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুপুরে তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে।
6
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, 'মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের নাম ইতিহাসে আসা উচিত। আমাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো- যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে স্মরণ করি না। আমরা এক ব্যক্তির সম্পূর্ণ দেশে পরিণত করেছি। আমাদের সৈনিকরা জীবন দেন দেশরক্ষার জন্য, নাম হয় সেনা প্রধানের। ইতিহাস সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষ আর নাম হয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের। সেই কারণেই আজকে দেশে এই অবস্থা।' মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও আমাদের জাতীয় স্বার্থ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, 'আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তিন জায়গায়। একটা ভারতের মাটি থেকে। যেখানে আমরা অনেকেই ছিলাম। সেটা অনেকক্ষেত্রে নিরাপদ ছিলো। দ্বিতীয়ত ভারতের মাটি থেকে এসে যুদ্ধ করে আবার ফিরে গেছে। তৃতীয় যুদ্ধটা হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে। যেটা সিরাজ শিকদার, আবদুল মান্নান ভুঁইয়ারা, জুনুরা, কাদের সিদ্দিকীরা করেছেন।' দেশের ভিতরের মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, 'কাদের সিদ্দিকীরা দেশের অভ্যন্তরে থেকে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আজকে সেই সিরাজ শিকাদার যার অবদান অনিস্বীকার্য যিনি দেশকে স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করেছেন তাকে এই দেশের মাটিতে সরকারের হাতেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।' মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ''মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মাটিতে মারা গেছেন ২ লাখ ৬৯ হাজার। এটা কিন্তু বিএনপির হিসাব না। এই হিসাবটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমলের। বঙ্গবন্ধুর পিএস ছিলেন ড. এম এ সাত্তার। একবার তিনি প্রশ্ন করলেন- বঙ্গবন্ধু আপনি যে ৩০ লাখের কথা বলছেন সেটার হিসাব কিভাবে। তখন বঙ্গবন্ধু বলেছেন- 'কেনো? এটা তো তোরাই কইসোস, আমি তো দেশেই ছিলাম না। আমি তো তোদের কথায় বলেছি।' তখন এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি একটা সুরাহায় আসার ব্যবস্থা করলেন। প্রথমবার যে হিসাবটা করলেন, সেটা ছিলো মাত্র ৬৭ হাজার। কোনো সন্দেহ নেই এতে ভুল আছে। এর পরে যে হিসাবটা হলো- ইউনিয়ন ভিত্তিক ২ লাখ ৬৯ হাজার। বঙ্গবন্ধু যেটা দেখলেন কোথায় ৩০ লাখ আর কোথায় ২ লাখ ৬৯ হাজার। এই হিসাবটার বিষয়ে জানার জন্য এখনো বেঁচে আছেন মোহাম্মদ আলী সিএসপি। তিনি ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একটা জাতির ৩০ লাখ হোক আর তিন লাখই হোক প্রত্যেকের নাম ইতিহাসে আসা উচিত।'' মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লন্ডনে থেকে বিচারপতি আবু সাইয়িদ চৌধুরী, ফজলে হোসেন আবেদের অবদানের কথাও বলেন ডা. জাফরুল্লাহ। দেশের অধিকাংশ লোক করোনাভাইরাসের টিকা পাবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'দেশে পর্যাপ্ত করোনা টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মূল বাধা ভারত। এই টিকা খুব কঠিন কিছু না। কিন্তু এটার মূল বাধা ভারত। অক্সফোর্ডের সঙ্গে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের একটা চুক্তি রয়েছে যে- অক্সফোর্ড এই ফর্মূলা এশিয়া অঞ্চলের কাউকে দিতে পারবে না। ভারত বন্ধুর আদলে মহাজনি প্রথা চালু রাখছে এখনও।' তিনি বলেন, 'ভারতের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য সহোযোগিতা করেছে। কিন্তু তারা দয়া করে নাই, তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করেছে। আমাদের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।' সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
9
সাত বছর টানা মুনাফা করেছে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তাদের তহবিলে বিপুল অর্থও জমা হয়েছিল। তবে সে অর্থ সরকার নিয়ে নিয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, টাকা সরকার না নিলে অন্তত ছয় মাস ডিজেল ও কেরোসিনের দাম না বাড়িয়েও চলা যেত। সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিপিসি মুনাফা করেছে ৪৩ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার বেশি। মুনাফা থেকে ভাগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিপিসির তহবিল থেকে দুই দফায় ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিপরীতে বিপিসিকে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে। ফলে পাঁচ মাসে ডিজেল বিক্রিতে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা লোকসান হতেই গত বুধবার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো লিটারে ১৫ টাকা। এ কারণ দেখিয়ে রোববার দেশে বাসভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, করোনাকালে যে ক্ষতি হয়েছে, তা থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অর্থনীতি। এ সময় ছয় মাস থেকে এক বছর ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা দরকার ছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ম তামিম এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে দেওয়া অভিমতে বলেছেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে থাকার সময় জ্বালানির দাম বাড়ানো অনাকাঙ্ক্ষিত। দাম বাড়ানো নিয়ে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছেন, দাম না বাড়ালেও বছর শেষে বিপিসির লোকসান কিছুতেই আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হতো না। এ পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিয়ে বা কর ছাড় দিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এড়ানোর সুযোগ ছিল। বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিতে হলে মূল্য না বাড়িয়েও হয়তো আরও ছয় মাস বিপিসি চালিয়ে নিতে পারত। তিনি বলেন, মুনাফা করা বিপিসির লক্ষ্য নয়। কিন্তু ঘাটতি বাড়তে থাকলে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারকে পরিস্থিতি জানানোর পর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে, বিপিসি তা বাস্তবায়ন করছে। অর্থনীতিবিদেরা জ্বালানিকে 'কৌশলগত পণ্য' হিসেবে গণ্য করেন। এর কারণ, সব পণ্য ও সেবার দামের ওপর প্রভাব পড়ে জ্বালানির দাম বাড়লে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে জ্বালানি তেলের ব্যবসা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকার প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে, যাতে দেশের মানুষের ওপর চাপ না পড়ে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, জুনে প্রতি লিটার ডিজেলে ৩ টাকা লোকসান হয়েছে। অক্টোবরে লিটারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ১৩ টাকার মতো। এতেই লিটারপ্রতি দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, সরকার আর ভর্তুকি দিতে রাজি নয়, বরং বিপিসিকে কীভাবে লাভে রাখা যায়, সেদিকেই নজর বেশি। জ্বালানি তেলের দাম না বাড়াতে চাইলে সরকারের কাছে আরও একটি উপায় ছিল। সেটি হলো, কর কমিয়ে দেওয়া। বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, এখন ডিজেল আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৩৪ শতাংশ। বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এক লিটার ডিজেলে এখন কর ও ভ্যাট দাঁড়ায় ১৯ টাকার মতো। বিপিসির কাছ থেকে কর বাবদ সরকার কত টাকা পায়, তা দেখা যায় সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে। হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিপিসি সরকারের কোষাগারে ৬ হাজার ৭৪ কোটি টাকা ভ্যাট, ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আমদানি শুল্ক, ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা আয়কর এবং ৩০০ কোটি টাকা লভ্যাংশ জমা দিয়েছে। এ ছাড়া ওই অর্থবছর সরকার বিপিসির ৫ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত অর্থ নিয়ে নিয়েছে। সরকারি কোষাগারে গেছে মোট প্রায় ১৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে এ বছর সংকটকালে কি ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়া যেত-এ প্রশ্নের জবাবে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সেটাই হওয়া উচিত ছিল।ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেল খাতে অসাধু ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। এটি ভয়াবহ। দাম বাড়ানো নিয়ে জ্বালানি বিভাগের ব্যাখ্যায় বারবার বলা হচ্ছে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা। তুলনা হিসেবে প্রতিবেশী ভারতে জ্বালানি তেলের উচ্চ দামের কথাও বলা হচ্ছে। যদিও ভারতে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। তাই যখন বিশ্ববাজারে দাম কমে, সঙ্গে সঙ্গে ভারতেও কমে যায়। বাংলাদেশে দাম নির্ধারণ করা হয় নির্বাহী আদেশে। গত বুধবার হঠাৎ করেই ডিজেলের দাম লিটারে একলাফে যে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে একসঙ্গে কখনো ১৫ টাকা বাড়ানো হয়নি। এ সিদ্ধান্ত এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলো জরিপ করে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশে নতুন দরিদ্র কতটা বেড়েছে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলছে, করোনাকালে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ নতুন দরিদ্র হয়েছে। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ব্যাপক চড়া। অধ্যাপক ম তামিম প্রথম আলোকে শনিবার বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে ভর্তুকি না দিয়ে মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার যুক্তি দেখি না।'
0
আনারস স্বাদে অতুলনীয় এবং স্বাস্থ্যকর। আনারস খাওয়া শরীরে জন্য অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক আনারসের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে। ১। পুষ্টির অভাব দূর করে: আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এই সকল উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আনারস খেলে দেহে এইসকল পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকবে না। ৩। হাড়ের সুস্থতায়: আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমান আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৪। ওজন কমায়: শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। সকালের যে সময়ে ফলমূল খাওয়া হয় সে সময় আনারস এবং সালাদে আনারস ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান। ৫। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ। ৬। দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়: আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাদের সাথে পরিচিত হয়ে তাকে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যেত। এরপর সেখানে অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতো। এছাড়াও হত্যার ভয় দেখিয়ে বলপূর্বক অর্থ আদায়, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত একটি চক্রটি। এ ধরনের একটি চক্রের সদস্য এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে রংপুরের র্যাব সদস্যরা। এরা হলেন মো. শাহারুখ করিম অনিক (৩৪) ও তার স্ত্রী মোছা. আসমানী আক্তার (২৪)। অভিযান চলাকালীন সময়ে র্যাব তাদের বাসার ৬ষ্ঠ তলায় একটি টর্চার সেলের সন্ধান পায়। ওই সেলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের জিম্মি করে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো তারা। এছাড়াও সেল থেকে দুটি চাপাতি, ইলেকট্রিক শর্কের তার, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, হাতুড়ি, ছুরি, স্ট্যাম্প, ভিডিও ধারনের দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ধৃত আসামিরা বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিম্মি করে টাকা আদায় এবং নির্যাতনের কথা স্বীকার করে। তাদের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আরপিএমপি কোতয়ালী থানার মামলা মূলে হস্থান্তর করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
বগুড়া শহরের সাতমাথায় মুজিব মঞ্চে বৃহস্পতিবার রাতে ৫১টি ফানুস উড়িয়ে জয় বাংলার জয়োৎসবের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। বাংলার মুখ বগুড়া জেলা শাখা আয়োজিত বাংলার জয়োৎসবে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে জয় বাংলার জয়োৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ বগুড়া জেলা শাখার শিল্পীরা নাচ ও গান পরিবেশন করেন। জয় বাংলার জয়োৎসবে১১ জন গুণিজনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা গুণিজনদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন। জয় বাংলার জয়োৎসবের আহ্বায়ক ও বাংলার মুখ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
মা-ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন নিশ্চিত করতে চলছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে ইলিশ ধরা ও বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এর মধ্যেও পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে ইলিশ শিকার। হাটবাজারে বিক্রি করতে না পারায় পদ্মার তীরে নৌকায় বা চরের কাশবনের মধ্যে বসছে বাজার। মানুষও কম দামে কিনছে সেই ইলিশ।পদ্মার বিভিন্ন চরে ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে বাকি আছে এখনো চার দিন। কিন্তু নদীতে বেশ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করলেও আটকে রাখা যাচ্ছে না জেলেদের। তাঁরা নৌকা আর জাল নিয়ে নেমে পড়ছেন ইলিশ ধরতে।নদী ও চরগুলোয় স্থায়ীভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প না থাকায় মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের জাজিরা, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, ঢাকার দোহার, ফরিদপুরের সদরপুর অংশের পদ্মা নদী ও চরগুলোয় প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মা-ইলিশসহ ছোট-বড় ইলিশ। কাশবনের ফাঁকে অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে চলছে ইলিশ কেনাবেচা। অনেক সময় মাছ নদীর চরে রেখেই মুঠোফোনের মাধ্যমে নদীপারের প্রত্যন্ত বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা নানা উপায়ে পৌঁছাচ্ছেন প্রত্যন্ত এসব এলাকায়।মাঝি সাইফুল ইসলাম বলেন, 'নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের শিবচরের প্রশাসন অনেক কড়াকড়ি থাকলেও মুন্সিগঞ্জসহ অন্য অঞ্চলে প্রশাসন ততটা কড়াকড়ি করে না। ওই সব অঞ্চলে গিয়ে মাছ ধরে চরেই বিক্রি করি। শহরের কোনো হাটবাজারে যাই না। চরের মধ্যেই অনেক ক্রেতা আসেন, আমরাও তাঁদের একটু কম দামে মাছ দিয়ে দিই।'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, 'শুনছিলাম পদ্মার মারধরের তারাকান্দি এলাকায় কম দামে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তাই ট্রলারে ভেঙে ভেঙে এই চরে এসে কিছু মাছ কিনলাম। প্রশাসনের ভয় আছে, তবুও কিনলাম।'মা-ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের লোকজন নদীতে দিনে দুবার টহল দেয় জানিয়ে চরজানাজাতের বাসিন্দা আল-আমিন শেখ বলেন, নদীতে টহল দিলেও পাড়ে কেউ আসে না। চরগুলোয় অস্থায়ী বাজার বসিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইলিশের হাট বসে।জানতে চাইলে শিবচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা দফায় দফায় পদ্মায় অভিযান চালাচ্ছি। জেলেদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। নদী ও চরগুলোয় স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। তা না হলে সুযোগ বুঝে অসাধু মাছশিকারিরা ইলিশ নিধন করবেই।'হোমনায় পানির দরে ইলিশকুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমতী ও পটিয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় জেলেরা অবাধে ধরছেন মা-ইলিশ। আর এসব ইলিশ নদী থেকেই পাইকারেরা পানির দরে কিনে নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন সস্তায়। এ ছাড়াও মেঘনা নদীতে সস্তায় ডিমওয়ালা ইলিশ বিক্রির খবর শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নদীর ঘাটে গিয়ে পাইকারদের কাছ থেকে ইলিশ কিনছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমঙ্গল গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ৬৪টি ইলিশ কিনেছেন দুই হাজার টাকায়। কেনার পরপরই জায়গায় বসে মাছগুলো কাটিয়ে নিয়েছেন যাতে প্রশাসনের লোকজন ধরতে না পারে।
6
শেরপুর জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি সীমান্তবর্তী জনপদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোল ঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে এটি পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলে মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। রয়েছে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস: গারো, হাজং, কোচ, ডালু, হদি, বর্মণ, বানাই প্রভৃতি সম্প্রদায় মিলে এই নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ২০ হাজার জনমানুষ বাস করেন এই জেলায়। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য শেরপুর জেলা একটি অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। মূলত পাকিস্তান আমল থেকে শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। শেরপুর একসময় অর্থনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, জীবনাচার, প্রশাসন, আন্দোলন-বিদ্রোহে ময়মনসিংহের সঙ্গে সমান তালের জনপদ ছিল এবং ক্ষেত্রবিশেষে অগ্রসর ছিল। মাত্র একশ বছরের কম সময়ের ব্যবধানে ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরের সার্বিক পার্থক্য আকাশ-পাতাল হয়েছে এবং শেরপুর যেন গভীরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে বসেছে। অথচ শিক্ষাদীক্ষা, শিল্পসাহিত্য, রাজনীতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে শেরপুরের রয়েছে সোনালী অতীত। ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন বলতে সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহকে ধরা হয়। ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধের পর মির জাফর ক্ষমতাগ্রহণ করে খাজনা তোলার ভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে অর্পণ করলে প্রথমে ১৭৬০ সালের সন্ন্যাসীরা বিদ্রোহ করেন এবং ১৭৭১ সালে বিদ্রোহ করেন ফকিররা। এই বিদ্রোহ দুটো হয়েছিল শেরপুর অঞ্চলেই। শেরপুরের সংস্কৃতিবান্ধব জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮৬৫ সালে গঠিত হয় 'বিদ্যোন্নতি সভা' নামের একটি সংগঠন। যে সংগঠন শুধু সাহিত্যই নয়, পাঠাগার বিস্তৃতি, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদিতেও ভূমিকা রাখে। বিশিষ্ট পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কারের সম্পাদনায় ১৮৬৫ সালে 'বিদ্যোন্নতি সাধিনী' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। এটি ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রথম পত্রিকা। ১৮৮০ সালে হরচন্দ্র রায়চৌধুরী শেরপুরে 'চারুযন্ত্র' নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন রংপুর, ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া ছাড়া পূর্ববঙ্গে কোনো ছাপাখানা ছিল না। যশোরের 'অমৃত প্রবাহিণী' নামের প্রেসযন্ত্রটি আবার ছিল কাঠের তৈরি। এ সময় বিলেত থেকে আনা অপেক্ষাকৃত আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র শেরপুরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে ময়মনসিংহের প্রথম বিদ্যালয় স্থাপনের (১৮৫৩) সঙ্গে শেরপুরের জমিদার হরচন্দ্র মহোদয়ও একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেটিকে ১৮৮৭ সালে 'ভিক্টোরিয়া একাডেমি' নামকরণ করে সাধারণ হাইস্কুলে উন্নীত করা হয়-এটি এখন 'শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি' নামে বালক-উচ্চবিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি। উনিশ শতকের মধ্যভাগে শেরপুরে প্রতিষ্ঠিত 'হেমাঙ্গ লাইব্রেরি' বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় ছিল উল্লেখযোগ্য। পাঁচশ বছরের পুরোনো পুথি থেকে সাম্প্রতিক গ্রন্থ সবই ছিল সেখানে। তাছাড়া পাকিস্তান শাসনামল আরম্ভ হলে ১৯৪৯ সালের 'নানকার বিদ্রোহে' শরিক হয় শেরপুরের মানুষ এবং ১৯৫০ সালের 'টঙ্ক প্রথাবিরোধী আন্দোলন'এ শেরপুরের গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে শহিদ হয়েছেন শেরপুরের বহু অকুতোভয় বীরসেনানীরা। নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে পাকহায়েনাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংস অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত প্রাণের আর্তনাদ সারাবিশ্ব এখন জানে। পরে এই গ্রামের নাম হয় 'বিধবা পল্লী'। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদেও শেরপুরের মাটি রঞ্জিত হয়েছে। শেরপুরের পূর্বদিকের ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলা, পশ্চিমদিকের জামালপুর জেলার বকসিগঞ্জ উপজেলা এবং তার পাশের গাইবান্ধা জেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার অনেক মানুষ আজ শেরপুরের যে-কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কারণে শেরপুর আজ পাঁচ জেলার প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের মিলনস্থল। উল্লিখিত অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতিসাধনের কারণে শেরপুরে যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় তাহলে এ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা আলোকিত মানুষ হয়ে দেশসেবায় নিজেকে ব্রত রাখার সুযোগ পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই ঘোষণা করেছেন, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি স্কুল এবং প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার আলোকে ধারাবাহিকভাবে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ এসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে বা স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে সংসদে বিল পাস হয়েছে। আমাদের প্রাণের দাবি উচ্চশিক্ষায় অনগ্রসর এই অঞ্চলে শহিদ শেখ রাসেলের নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। শেরপুরে শেখ রাসেলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি কেন? এমন একটি জিজ্ঞাসা আসতে পারে। এ-প্রসঙ্গে বলা যায়: শেখ রাসেল ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট কালরাতে নিভে যাওয়া একটি প্রাণের নাম। নিজের কোনো অংশগ্রহণ না-থাকার পরও রাজনীতির যূপকাষ্ঠে তাঁকে জীবন দিতে হয়। তিনি নিষ্পাপ। অর্থাৎ পবিত্রতার প্রতীক। আর উচ্চশিক্ষাতো তাই, যা মানুষকে বিশুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে পবিত্র করে তোলে। শহিদ শেখ রাসেলকে নিয়ে সমাজ বা রাজনীতির কোথাও কোনো বিতর্ক নেই। সবাই তাঁকে নিষ্পাপ ফুলের সঙ্গেই তুলনা করেন। এই বিকর্তহীন শুভ্র চরিত্রের মানুষটির নামেইতো বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া যথাযথ। স্মর্তব্য, শেখ রাসেলের নামে দেশের কোথাও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেরপুরে একাধিকবার গেলেও মুক্তিযুদ্ধের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বা তাঁর পরিবারের কারো নামেই শেরপুরে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। নীতিনির্ধারণী মহলের সুদৃষ্টি পেলে শেখ রাসেলের নামে শেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সে শুভ সূচনা হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়' এই ঘোষণা অনুসারে বিভিন্ন আন্দোলন-বিদ্রোহের পীঠস্থান, ঐতিহাসিক ও সমৃদ্ধ শেরপুর জেলাতে অনতিবিলম্বে 'শেখ রাসেল বিশ্ববিদ্যালয়' স্থাপন করা প্রয়োজন। আশাকরি, সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। * কবি নির্মলেন্দু গুণ, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, ড. আমিনুর রহমান সুলতান, ড. ইসলাম শফিক শেখ রাসেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন গণকমিটি, ঢাকার পক্ষে
8
মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এবার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিলেন ৫৪ জন সাঁতারু। এতে অংশ নিয়েছিলেন চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭৯ জন সাঁতারু। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহ্পরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সমুদ্রসৈকত থেকে সাঁতার শুরু হয়।চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী লারিসাসহ ৭৯ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছিলেন।১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সাঁতার শেষ হয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে এই স্রোতধারার নাম 'বাংলা চ্যানেল'। চ্যানেলটি পাড়ি দিয়ে বেলা ৩টার দিকে ৫৪ জন সাঁতারু সেন্টমার্টিনে পৌঁছান।সর্বপ্রথম সেন্টমার্টিন ছুঁয়ে ওঠেন সাহসী ও দুর্দান্ত সাঁতারু সাইফুল ইসলাম রাসেল। এরপর সুজা মোল্লা, মো. আবু নাইম ও আরিফুর রহমান দ্বীপের বালু স্পর্শ করেন। পর্যায়ক্রমে সবাই সেন্টমার্টিনে পৌঁছান। তবে ২৫ জন সাঁতারু সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে পারেননি বলেও জানা গেছে।বাংলা চ্যানেলের এই সাঁতারে অংশ নিয়েছিল রাজধানীর একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈয়দা লারিসা রোজেন। তার বয়স ১০ বছর ৪ মাস। লারিসার সঙ্গে সাঁতারে অংশ নিয়েছিলেন তার বাবা সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ও বড় ভাই সৈয়দ আরবিন আয়ান। রেসকিউ দলের সঙ্গে নৌকায় ছিলেন এই শিক্ষার্থীর মা। ছোট্ট লারিসা সফল হলে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া কনিষ্ঠ সাঁতারু হতো সে। কিন্তু সেসহ ২৫ জন সাতারু সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাতে পারেননি। '১৬তম ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার-২০২১'-এর এই সাঁতারের আয়োজন করেছে 'ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার' ও 'এক্সট্রিম বাংলা'।ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিপটন সরকার জানান, মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এবারের সাঁতার হয়েছে। ৭৯ জনের মধ্যে ৫৪ জন সাতারু বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। এখন পর্যন্ত ১৭ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এবারসহ টানা ১৮ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এককভাবে রেকর্ড গড়েন তিনি। এটি পাড়ি দিতে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এবার সর্বোচ্চ ৭৯ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। বিশেষ কারণে মিশু বিশ্বাস নামের একজন সাঁতারু উপস্থিত হতে পারেননি। গত বছর ৪৩ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন সফল হয়েছিলেন।লিপটন সরকার বলেন, 'এই সাঁতার আন্তর্জাতিক রীতি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এবারও একজন বিদেশি সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। আমরা বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আন্তর্জাতিক করতে পেরেছি। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক সাঁতারুর অংশগ্রহণ বলে দিচ্ছে বাংলাদেশে দূরপাল্লার সাঁতার জনপ্রিয় হচ্ছে।'উল্লেখ্য, ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল আবিষ্কার করেন প্রয়াত কাজী হামিদুল হক। ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার সাঁতারে অংশ নিয়েছিলেন লিপটন সরকার, ফজলুল হক সিনা ও সালমান সাইদ। সাঁতারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল লিমিটেডের ব্র্যান্ড ফরচুন। রেসকিউ পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অংশীদার হিসেবে আরও আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড, ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ষড়জ, ভিসা থিং ও স্টুডিও ঢাকা।
6
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ৪২ হাজার ১১৩ জনে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৫৫ জনের। আর এ পর্যন্ত সেরে উঠেছেন ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৮ জন। বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৫৯ লাখ ২৩ হাজার ৬১ জন। আর এই মহামারিতে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৪ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৫১৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৬৬৬ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে চতুর্থ স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৪৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০ জনের। মৃত্যু বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো তৃতীয় স্থানে। তবে আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান ১৩ নম্বরে। মেক্সিকোতে শনিবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৯ জনের। মৃত্যুতে পঞ্চম ও আক্রান্ত বিবেচনায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৭২ জনের। আক্রান্ত বিবেচনায় পঞ্চম এবং মৃতের সংখ্যায় অষ্টম স্থানে রয়েছে রাশিয়া। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৫১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭১ হাজার ৫৪ জনের। মৃত্যুর দিক দিয়ে ষষ্ঠ এবং আক্রান্তের সংখ্যায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ইতালি। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮৭ হাজার ৮৫৮ জনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৯১টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
3
জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্যদের জন্য মাস্ক হস্তান্তর করেছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে এসব মাস্ক হস্তান্তর করেন সংগঠনটির জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশের গভর্নর। এ সময় রোটারির সাবেক গভর্নর এসএএম শওকত হোসেন, এম খায়রুল আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় রোটারি ৩৫ লাখ ফেস মাস্ক বিতরণ করছে। প্রেসক্লাব সদস্যদের মাস্ক বিতরণ এই কর্মসূচির একটি অংশ ছিল।
6
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৭ জনে। এ সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ১৪০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে করে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৭ জনে। বেড়েছে শনাক্তের হারও। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয় ২৩ হাজার ৪৩৫ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯৬ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৪ জন।
4
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে দেশটির জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে আর থাকতে পারবেন না। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী হারিন ফার্নান্দোর নির্দেশে নির্বাচক প্যানেলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হাতুরুসিংহেকে। এখন থেকে দল নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করবে নির্বাচক কমিটির প্রধান অশন্থা ডি মেল, অধিনায়ক, ম্যানেজার ও নির্বাচক প্যানেল। এমনটাই জানাচ্ছে লঙ্কান গণমাধ্যম ডেইলি মেইল। শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যম বলছে, নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পর তার একটি তালিকা এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টের চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করবে ওই নতুন নির্বাচক কমিটি। ১ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায় অনুষ্ঠিতব্য ওই টেস্টের একাদশ নির্বাচনে কোচের কোনো হাত থাকবে না। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি হাতুরুসিংহে। নির্বাচক কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জেরে কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দলকে দারুণ সাফল্য এনে দেওয়া হাতুরুসিংহের হাতে তুলে দেওয়া হয় লঙ্কান দলকে। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আহামরি কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। চলমান অস্ট্রেলিয়া সফরেও ব্যাকফুটে লঙ্কান দল। আর এর জেরেই হাতুরুসিংহেকে সরিয়ে দেওয়া হলো নির্বাচক কমিটি থেকে। বিষয়টি কীভাবে নেবেন হাতুরুসিংহে তাই দেখার বিষয়।
12
দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক খন্দকার মুনীরুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। করোনা পজেটিভ হয়ে গত ৩১ অক্টোবর রাতে তিনি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ ধরে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৪/৫ দিন আগে আইসিইউ থেকে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। মুনীরুজ্জমান ১৯৭০ সালে সিপিবির মুখপত্র সাপ্তাহিক একতায় সাংবাদিকতা শুরু করেন।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক ছাত্রী যৌতুকের জন্য স্বামীর কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ওই নারীর নাম কানিজ ফাতেমা। ২০১৯ সালে একজন সহকারী জজের সঙ্গে বিয়ে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০১৩-১৪ বর্ষের ওই শিক্ষার্থীর। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে কানিজ ফাতেমা জানান, তিনি বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পারিবারিকভাবে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তার স্বামী তাকে নির্যাতন করে আসছিল। এর জেরে বিয়ের দুই মাসের মাথায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর নির্যাতন কিছুটা কমে। পরে ২০২১ সালের আগস্টে বিচারকদের জন্য একটি আবাসন প্রকল্পে জমি কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা চান তার স্বামী। টাকা দিতে না পারায় আবারও শুরু হয় নির্যাতন। বাবা-মায়ের সামনেই তার গলা চেপে ধরে তার স্বামী। বাবা-মায়ের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে। এর আগেও তিনি ফাতেমার পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেয়ের ওপর স্বামীর নির্যাতনে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাতেমার বাবা। পরে একখণ্ড জমি মেয়ের নামে লিখে দেন তারা। পরবর্তীতে গত ২৯ আগস্ট তার স্বামী ওই জমির দলিল ও ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে দিতে চাপ দেয়। দাবিপূরণ না হলে ফাতেমাকে তালাক এবং হত্যারও হুমকি দেন তার স্বামী। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে অংশ নেন ওই ছাত্রীর সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহযোগী অধ্যাপক চন্দনা রানী বিশ্বাস বলেন, "একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রী যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হবেন, এটি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। কানিজ ফাতেমার গলায় এখনো নির্যাতনে সৃষ্ট ক্ষত রয়েছে। তাঁকে মধ্যযুগীয় কায়দায় যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে সে মরেও যেতে পারতো।"
6
রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় কয়েকটি বাসে বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানোয় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ নভেম্বর) রাতে রামপুরা থানা-পুলিশের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- স্বপন রেজা (২৫) ও শহিদ ব্যাপারী (২২)। রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার স্বপন রেজাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এদিকে একই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে। এ মামলায় এক কিশোরকে ঘটনার পরের দিন হাতিরঝিলের মীরেরবাগ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। তাকে থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে ওসি বলেন, স্বপন ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেটকার) চালক। আর শহিদ তার বাবার সবজি ব্যবসায় সহায়তা করেন। হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, আটক কিশোরকে থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসের ভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এরপর থেকে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা, অর্ধেক ভাড়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে বাসের চাপায় মারা যান রামপুরার স্কুলশিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম।
6
বিপিএল ট্রফি হাতে বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই অধিনায়কের অফিসিয়াল ফটোসেশন হয়েছে। সেখানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েস উপস্থিত থাকলেও আসেননি ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শেরে বাংলায় বরিশালে অধিনায়ক সাকিবের পরিবর্তে অফিসিয়াল ফটোসেশনে হাজির হন দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু বরিশাল অধিনায়ক কেন আসেননি? এটা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াটে পরিস্থিতি। এমনকি এটা নিয়ে দুই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ফরচুন বরিশালের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে সাকিবের পেটের সমস্যা, তাই তিনি এই দুটি সেশনে আসতে পারেননি। সোহান প্রথমে বলেন, 'সাকিব ভাই হয়তো...'- এটুকু বলেই থেমে যান। এরপর যোগ করেন, 'গতকাল আমাদের ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল। সেটা করেছি। আমার কাছে যেটা মনে হয় উনি জিম বা অন্য কিছু করছেন। যে কারণে হয়তো আসতে পারেননি। যার কারণে আমার এখানে আসা।' এর বাইরে তার কাছে তথ্য নেই, এটা জানিয়ে সোহান বলেন, 'আমার কাছে মনে হয় ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।' পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি তো বললাম এটা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। সকালে দেখেছি উনি জিমে ছিলেন। তার পরেরটা আসলে আমি খুব বেশি জানি না।' বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
12
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে গেলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। রাজশাহী বিভাগে একটি পদের জন্য লড়াই করে ৯ ভোটের মধ্যে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক পেয়েছেন মাত্র দুই ভোট। খালেদ মাসুদ পাইলটের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজশাহীর পাবনা জেলার সাইফুল আলম চৌধুরী স্বপন এই পদে বিজয়ী হয়েছেন। পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে তৃতীয়বারের মতো তিনি বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে হেরে গেলেও হাসিমুখে পাইলট বলেছেন, আগেই বুঝতে পারছিলাম এমন কিছু হবে। আমি আমার কাউন্সিলরদের ধন্যবাদ জানাই। হয়তো আমার যে সতীর্থ ছিলেন, তাকে বেশি যোগ্য মনে করেছেন তারা। তাই তাকে ভোট দিয়েছেন। আশা করি তার মাধ্যমে রাজশাহী ও বাংলাদেশের ক্রিকেট খুব ভালোমতো সার্ভ হবে। বুধবার (৬ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরিতে শুধু রাজশাহী ও ঢাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ নির্বাচনের আগেই এই ক্যাটাগরিতে সাত পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিতরা হচ্ছেন- আ জ ম নাছির উদ্দীন ও আকরাম খান (চট্টগ্রাম বিভাগ), কাজী ইনাম আহমেদ ও শেখ সোহেল (খুলনা বিভাগ), শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (সিলেট বিভাগ), অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর বিভাগ), আলমগীর খান আলো (বরিশাল বিভাগ), তানভীর আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ) ও নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ)। কাউন্সিলররা ২৩ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন, দুজন পরিচালক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) দ্বারা মনোনীত হবেন। এই ২৫ জন নির্বাচিত পরিচালক পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি নির্বাচন করবেন, যার নির্দেশনায় আগামী চার বছর দেশের ক্রিকেট পরিচালনা করবেন।
12
হবিগঞ্জে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেব। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে পাঁচজন এবং সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী এবং চারজন পুরুষ রয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. কবীর হোসেন জানান, নিহত ছয়জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
6
ভোলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।ভোলা ডিবির ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘার হাওলা গ্রামের মো. সিরাজ ব্যাপারীর বাড়ির সামনে থেকে মো. জাকির হোসেন মীরকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। সে ওই এলাকার মো. শাহ আলম মীরের ছেলে। পুলিশ তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করেছে। মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।এ ছাড়া গত মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সম্ভুপুর ইউনিয়ন থেকে মাদকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- হারুন মাঝির ছেলে মো. রাকিব মিঝি (২৫) ও নুরুজ্জামান ফরাজীর ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন (২৮)। তাদের কাছ থেকে ১৮০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তজুমদ্দিন থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
অস্ত্রোপচারের আগে হাঙ্গেরি নেয়া হবেপাবনায় জোড়া মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া রাবেয়া-রোকাইয়াকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অধীনে চিকিৎসাধীন এই যমজ শিশুদের দেশেই অস্ত্রোপচার করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাবেয়া-রোকাইয়াকে হাঙ্গেরি নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। হাঙ্গেরিতে চিকিৎসার জন্য তাঁর দেওয়া অনুদান শিশুদের মা-বাবার হাতে তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাস্তব অর্থেই মানবতার নেত্রী। তিনি চিকৎসক ও রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা-মাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে ওদের চিকিৎসার সাফল্য কামনা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির যৌথ উদ্যোগে রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসা হবে। সেখানে হাঙ্গেরি, জার্মানি ও বাংলাদেশের পাঁচটি দলের ২০ সদস্য কাজ করবেন। তিনি জানান, রাবেয়া-রোকাইয়া যখন ভর্তি হয় বাংলাদেশে জার্মানি ও হাঙ্গেরির প্রতিনিধিদল ছিল। তখন থেকেই ওদের চিকিৎসার কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে শিশু দুটির অবস্থা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। তিনি শিশু দুটির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ওদের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দুই বছর সাত মাস বয়সী এ শিশু দুটির বাংলাদেশে এর আগে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়। হাঙ্গেরি থেকে ফেরার পর দেশে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ওদের মূল অস্ত্রোপচার হবে। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাবেয়া-রোকাইয়ার মস্তিষ্ক আলাদা। কিন্তু ওদের পুরোপুরি আলাদা করার জন্য টিস্যু বাড়াতে হবে। এ ছাড়া আরও কিছু চিকিৎসার জন্য ওদের হাঙ্গেরি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে এ ধরনের চিকিৎসায় সফলতার হার ২০ শতাংশের কম। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানান তিনি। হাঙ্গেরিতে রাবেয়া-রোকাইয়াকে তিন থেকে চার মাস থাকতে হতে পারে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে 'ফর বাংলাদেশ' নামে হাঙ্গেরিভিত্তিক একটি বাংলাদেশি সংগঠন শিশু দুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকবে। রাবেয়া-রোকাইয়াসহ ছয়জন শুক্রবার রাতে হাঙ্গেরির উদ্দেশে রওনা হবেন। সঙ্গে যাবেন বার্ন ইউনিটের ওদের চিকিৎসক হোসাইন ইমাম। শিশু দুটির বাবা রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাচ্চা দুটির জন্য সবার কাছে দোয়া চান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, সাংসদ হাবিবে মিল্লাত, ফর বাংলাদেশের হাসনাত মিয়াসহ বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা।
9
সাম্প্রতিক সময়ে বলিউড তারকারা ইউটিউব চ্যানেলের দিকে ঝুঁকছেন। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আলিয়া ভাট, শিল্পা শেঠীরা আগেই ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ করেছেন। এবার সে রাস্তায় হাঁটলেন মাধুরী দীক্ষিতও। তিনিও খুলেছেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই খবরটি জানিয়ে একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। প্রথম ভিডিওতে এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের পারফরম্যান্সের রিহার্সেলের অংশ পোস্ট করেছেন মাধুরী, যা সরোজ খানের কোরিওগ্রাফ করা। নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এ অভিনেত্রী বলেন, 'সময়ের সঙ্গে সবাইকে চলতে হয়। সে জন্যই ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি। এর মাধ্যমে ভক্তরা আমার জীবন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন কনটেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।' এদিকে সম্প্রতি স্বামী শ্রীরাম নেনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তার দ্বিতীয় মারাঠি ছবি প্রযোজনা করছেন মাধুরী। এ অভিনেত্রীকে শেষ দেখা গিয়েছিল 'কলঙ্ক' সিনেমায়।
2
শুনতে অবাক লাগলেও কেবল একটি মুখ পাল্টে দিতে পারে গোটা গ্রামের ভাগ্য! ঠিক যেমনভাবে ভাইরাল হয়েছিল পাকিস্তানের আরশাদ কিংবা নেপালের তরকারিওয়ালি রূপচন্দ্র মহাজনের ছবি। ফের এমনটাই ঘটেছে ঘানার আসেমপানায়ে গ্রামে। এই গ্রামের মাত্র পাঁচ বছরের শিশু জেকের ছবি এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল। আর সেটির সাহায্যেই নিজের এবং গোটা গ্রামের শিশুদের পড়াশুনার খরচ তুলে ফেলেছে সে। কার্লোস কর্টেস নামে এক ক্যামেরাম্যান ২০১৫ সালে শিল্পী সলোমান আদুফার ওপর একটি তথ্যচিত্র তৈরির জন্য জেকের গ্রামে যান। সেসময় জেক সহ বেশ কিছু শিশু সলোমানের কাছে ছবি আঁকা শিখছিল। তখন তাদের ছবি তোলেন কার্লোস। এর মধ্যে থেকে জেকের অসাধারণ একটি ছবি ধরা পড়ে তার ক্যামেরায়। সলোমান নিজের ইনস্টাগ্রামে জেকের ছবিটি শেয়ার করার পরে ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে জেকের মুখটি নিয়ে বেশ কয়েকটি জোকসও তৈরি হয়। সলোমান প্রথমে ভেবেছিলেন সবাই হয়ত মজা করছে। কিন্তু পরে তিনি এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবেন। তার সেই চিন্তাকে কাজে লাগাতে তৈরি করেন 'গো ফান্ড মি' নামের একটি পেজ। পেজটির মাধ্যমে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় দশ হাজার মার্কিন ডলার তুলে ফেলেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/৪ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-৪
3
উন্নত চিকিৎসার জন্য যে পরীক্ষা ( টেস্ট) করা দরকার সেটাই করতে দেননি কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জামিন শুনানির বিরোধিতা করে এমন যুক্তি দেখান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য যাবেন- এমন দাবিতে আবারো জামিন চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদনের ওপর হাইকোর্টের শুনানিতে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এর আগে সকালে রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষের শুনানি করে আদেশের জন্যে বেলা দুটার সময় নির্ধারণ করেন আদালত। এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বেলা দুটা ২০ মিনিটের দিকে আবার শুনানি শুরু হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে পাঠানো তার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মতি দেননি বেগম খালেদা জিয়া। এ কারণে তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্যে উপস্থাপন করা হয়। হাইকোর্টে বিএসএমএমইউ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আদালতে প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশের জন্য দুপুর ২টায় সময় ধার্য করেন আদালত। আদালতে আজ খালেদার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
6
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হওয়ার পর নতুন জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোহাম্মদ এনামুল হক যোগদান করেছেন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা থেকে জামালপুরে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। তিনি গাড়ি থেকে নেমেই তার অফিস কক্ষে বসেন। এ সময় তার অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এই জেলার উন্নয়নে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। নতুন জেলা প্রশাসক তার অফিসে পৌঁছালে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়। একই দিন আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ এনামুল হককে।
6
এই তো আশি বা নব্বইয়ের দশকেও সুন্দর চুলের মানেই ছিল একগাছি ঝলমলে কালো সিল্কি চুল। কিন্তু এই হেয়ার রিবন্ডিংয়ের যুগে অনেকেই নিজের প্রাকৃতিক ঢেউখেলানো বা কোঁকড়া চুলকেই বাহবা দিচ্ছেন। কাঁধ অবধি বা কাঁধ ছুঁয়ে নেমে যাওয়া কোঁকড়া চুল ব্যক্তিত্বের জানান দিলেও কথা সত্য যে এ ধরনের চুল সুস্থ রাখা একটু জটিল। কারণ চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি চুলের আগা পর্যন্ত পৌঁছাতে দম লাগে বৈকি! ফলে কোঁকড়া চুল আর্দ্রতা হারিয়ে খুব সহজেই রুক্ষ হয়ে পড়ে।কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখলে চুল সুস্থ রাখা যায় খুব সহজে।প্রসাধনী বেছে নেওয়ার আগেকোঁকড়া চুলের অধিকারীরা চুলের জন্য প্রসাধনী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বরাবরই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। সে ক্ষেত্রে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কেনার সময় বিবেচনায় রাখতে হবে সে রকম প্রসাধনীর কথা, যেগুলো চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনবে ও চুল শুষ্ক করবে না। কেমন হবে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার, তা জানা থাকতে হবে। যেসব শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক তেল; যেমন নারকেল, জোজোবা, সূর্যমুখী, অ্যালোভেরা, কেরাটিন, শিয়া বাটার, প্রোটিন, উদ্ভিদের নির্যাস রয়েছে, সেগুলো কিনুন। কোঁকড়া চুল প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত নয়। তেল ও ময়লা দূর করতে সপ্তাহে তিন দিন শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। এতে চুলের স্বাভাবিক নমনীয়তা বজায় থাকবে।শ্যাম্পুর আগেকোঁকড়া চুল খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। এ ছাড়া এ ধরনের চুলে পুষ্টিও তুলনামূলক কম পৌঁছায়। তাই কোঁকড়া চুল শ্যাম্পু করার আগে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। শ্যাম্পু করার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে চুলে নারকেল তেল গরম করে ম্যাসাজ করতে হবে। চুলে আলতো হাতে তেল ম্যাসাজ করতে হবে। তেল বসে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে হবে। এতে চুল শুষ্ক হবে না।চুল ধুতে ঠান্ডা না গরম পানিচুল ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য অনেকে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করেন। এতে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। শ্যাম্পু করার সময় চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোয়া উচিত। এতে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকে ।অতিরিক্ত শ্যাম্পু নয়কোঁকড়া চুল শ্যাম্পু করার আগে একবার কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত; মানে চুল ভিজিয়ে আগে কন্ডিশনার মেখে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে, তারপর শ্যাম্পু করে ফের কন্ডিশনার মেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলা উচিত। প্রতিদিন শ্যাম্পু করা বা একবারে দুইবার শ্যাম্পু করলে এ ধরনের চুল রুক্ষ হয়ে যায়। কারণ কোঁকড়া চুলে সিল্কি চুলের তুলনায় বেশি তেল প্রয়োজন। আর বারবার শ্যাম্পু করলে চুলে যে প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়, তা ধুয়ে যায়।চিরুনিটাও আলাদা করুনআঁচড়ানোর সময়ও এ ধরনের চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় ভেঙে যায়। এ জন্য মোটা দাঁতের চিরুনি বেছে নিন। এতে করে জট ছাড়ানো সহজ হবে এবং তেল দেওয়ার পর পুষ্টি মাথার ত্বক থেকে চুলের আগা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।হিট স্টাইলিংয়ে সতর্কতাএখন প্রায় সবার ঘরেই কার্লার, হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার রয়েছে। ফলে এগুলোর ব্যবহারও বেড়েছে আগের তুলনায়। কিন্তু এগুলো ব্যবহারের ফলে, অর্থাৎ হিটিংয়ের কারণে চুলের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়; বিশেষ করে কোঁকড়া চুল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হিটিংয়ের কারণে চুলের ক্ষতি এড়াতে কেরাটিনবেসড হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করেন হেয়ার স্টাইলিস্টরা।
4
শ্রীলঙ্কায় সরকারি কর্মীদের মাত্র চার দিন অফিস করতে হবে। আগের শনি ও রোববারের পাশাপাশি এখন থেকে শুক্রবারও তাদের ছুটি থাকবে। সোমবার দেশটির মন্ত্রিসভা এ ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। অবশ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো অত্যাবশ্যক খাতের কর্মীরা বাড়তি সরকারি ছুটি পাবে না। তবে বলা হয়েছে, তিন দিন ছুটি পেলেও সরকারি কর্মীরা শুয়ে বসে কাটাতে পারবে না। তাদেরকে এই তিন দিন দেশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষিকাজে শ্রম দিতে উৎসাহিত হতে হবে। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। দেশটিতে জ্বালানি সঙ্কটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তারা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ছুটির দিন বাড়ানো এরই একটি অংশ। সূত্র : ডেইলি মিরর শ্রীলঙ্কা
3
এনটিভিতে আজ থেকে প্রচার হবে বাংলায় ডাবিং করা তুরস্কের জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজ 'কুরুলুস ওসমান'। প্রতি সপ্তাহের বুধ থেকে রোববার রাত ৯টায় দেখা যাবে সিরিজটি। এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সিরিজটির সংকলিত মেগা পর্ব প্রচার হবে।'কুরুলুস ওসমান' সিরিজের গল্পে দেখা যাবে, আনাতোলিয়া নামের ছোট্ট একটি গ্রামের একদল লোক, যারা কায়ী গোত্র নামে পরিচিত। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ও মোঙ্গল দস্যুদের হাতে নিষ্পেষিত হতে হতে দিশেহারা মানুষগুলোর গোত্রপ্রধান সুলেমান শাহর পুত্র আরতুগ্রুল নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে লড়াই শুরু করেন। ভিত্তি স্থাপন করেন ওসমানি সাম্রাজ্যের।তাঁরই পুত্র উসমান বাবার অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণাঙ্গরূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিল তিল করে তিনি কীভাবে ন্যায়বিচারের ওসমানি সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, সেটা নিয়েই এগিয়েছে ধারাবাহিকের গল্প। বন্ধুত্ব, অকৃতজ্ঞতা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের এক অসাধারণ গল্প 'কুরুলুস ওসমান'।বিশ্বের ৭৩টি দেশে বিভিন্ন ভাষায় প্রচারিত হয়ে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে সিরিজটি। আন্তর্জাতিক ভেনিস টিভি অ্যাওয়ার্ড ২০২০-এ সেরা সিরিজ হিসেবে পেয়েছে পুরস্কার।এনটিভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে 'কুরুলুস ওসমান' সিরিজের বাংলা ডাবিং শেষ হয়েছে। এতে কাজ করেছেন ৪৩ জনেরও বেশি বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী।
6
প্যারিস ফ্যাশন উইকে উপস্থিত হয়ে আলো ছড়িয়েছেন ক্রীড়া দুনিয়ার তারকারা। দুই ফুটবল তারকা পল পগবা ও রবার্ট লেভানডফস্কির সঙ্গে এই আয়োজনে দেখা গেছে টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসকেও। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ফ্যাশন দুনিয়ার ঝলমলে এই আয়োজন, চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত।পগবার সঙ্গে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী যুলাই পগবা। এ সময় মার্কিন সংগীত তারকা ফারেল উইলিয়ামসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায় তাঁকে। পগবা ছাড়াও এই আয়োজনে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন পোলিশ তারকা রবার্ট লেভানডফস্কি। ফিফা বর্ষসেরা তারকা লেভার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী আনা। এ সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিবাদে বুকের কাছে নীল ও হলুদ ফিতা লাগিয়ে রাখতে দেখা যায় লেভা ও আনাকে। পগবা ও লেভা ছাড়া এই অনুষ্ঠানে দেখা গেছে পিএসজি তারকা মার্কো ভেরাত্তিকেও। পগবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছেন ভেরাত্তি। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসও।
12
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং আর্চারি টুর্নামেন্ট (স্টেজ-৩) রিকার্ড পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মো. রোমান সানাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আর্চারির উন্নয়নে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে রোমান সানা স্বাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ অভিনন্দন ও আশ্বাসের কথা জানান। খবর বাসসের শুক্রবার ফিলিপাইনের ক্লার্ক সিটিতে এশিয়া কাপ ওয়াল্ডে র্যাঙ্কিং আর্চারি টুর্নামেন্টের ৩য় পর্যায়ে পুরুষদের রিকার্ড সিঙ্গেলে স্বর্ণপদক জিতে রোমান সানা দেশের জন্য সম্মান অর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোমান সানাকে মিষ্টিমুখ করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি এভাবে অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ যোগান, তাহলে আগামী অলেম্পিক গেমসে বাংলাদেশের ভালো একটা কিছু করা সম্ভব। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন, আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) মঈনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল।
6
দেশবাসীর জন্য সুপেয়, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। কারণ নদ-নদী-খাল-বিলের এই বাংলাদেশে সুপেয় পানির বড়ই অভাব। ভবিষ্যতে এই সংকট আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।বুধবার তেজগাঁওয়ে দৈনিক সমকালের সম্মেলন কক্ষে 'সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা: জনঅংশগ্রহণ ও করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত তুলে ধরেন। দৈনিক সমকাল ও উন্নয়ন সংগঠন ওয়াটার এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে উন্নয়ন সংগঠন সিমাভি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়াটার এইডের হেড অব পলিসি জামিল আহমেদ।স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, 'এক সময় মানুষের ধারণা ছিল, নদীতে চর পড়লেই লাভ। এ ধারণা ভুল। এখন একের পর এক নদী-নালা-জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করছে কোথায় কী হবে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।'তিনি প্রশ্ন করেন, 'নদীর মালিক জনগণ হলে সেই নদীতে অবস্থিত সদরঘাট নদীবন্দরে ঢুকতে কেন টিকিট লাগবে?'ওয়াটার এইডের কর্মকর্তা ও ঢাকা ওয়াসার সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. লিয়াকত আলী বলেন, 'বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে অনেক পানি আসে। পানি তখন আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। আবার শুস্ক মৌসুমে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। সেচকাজ ব্যাহত হয়। এই সমস্যা সমাধানে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এটা না করা গেলে কোনো সুফল মিলবে না। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা প্রয়োজন।'ঢাকা ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম রায় বলেন, 'ঢাকা ওয়াসা জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ জন্য ওয়াসার ১৩ সদস্যের বোর্ড রয়েছে। বোর্ডের দু'জন সরকারি কর্মকর্তা, অন্যরা জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য।'ওয়াসার বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ওয়াসা নির্ধারিত পানির দাম অনেক কম। কিছু পয়েন্টে এটিএম কার্ডের মতো কার্ড দিয়েও পানি কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক সময় ধানমণ্ডিকে আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে চলে যেত। সেখানে এখন অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ড্রেন পরিস্কার করার কয়েক দিন পর তা আবার ভরে যায়। পানির আর জলাশয়ে যাওয়ার উপায় নেই।'সমকাল-ওয়াটার এইড আয়োজিত গোলটেবিলে স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত-সমকাল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজিদ বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে পানির সমন্বিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।'জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, '৯ শতাংশ পানি পানের জন্য ব্যবহার হয়। এই পানযোগ্য পানির বিষয়টিকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপকূলীয় এলাকার পানি লবণাক্ত। অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের। নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জ এলাকায় ৮০০ ফুট গভীরেও আর্সেনিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীতে পানিতে ক্লোরিন পাওয়া যাচ্ছে। গভীর নলকূপ স্থাপনের কয়েক বছর পর লবণাক্ত পানি উঠছে।' বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, 'কৃষিতে কীভাবে পানির ব্যবহার কমানো যায় সেটাও ভাবতে হবে।'ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অ্যান্ড প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটিং ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম বলেন, 'খুলনার কয়েকটি এলাকায় বছরে একটি ফসলও হতো না। সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার কারণে সেখানে এখন বছরে তিনটি ফসল হয়। বাবা-মা এখন আর কিশোরী মেয়ের বিয়ের চিন্তা করেন না। পাইকগাছায় সেচ দিতে গভীর নলকূপ লাগে না। বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তারা সেচকাজ চালায়। তবে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সারাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরেও সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার সুফল মিলেছে।' ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে আরও সুফল পাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।বি স্ক্যান ও প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, 'প্রতিবন্ধীরা এ দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক জনদল। তারা বিচ্ছিন্নই থেকে যাচ্ছে।' তিনি বিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে সোলার প্যানেল বসানো হয়, ঠিক একইভাবে সরকারকে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন।নগর দরিদ্র বস্তিবাসী উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার বলেন, 'বস্তিবাসী জলাশয়ের পানি ব্যবহার করে। কিন্তু বিত্তশালীদের জন্য লেকে স্যুয়ারেজের লাইন দেওয়া হয়। কড়াইল বস্তি ও গুলশানের মধ্যবর্তী লেকের ক্ষেত্রে এ রকম হচ্ছে। গরিবরা মুখ ধুতে গেলে এক মগ পানি নেয়। বিত্তশালীরা বেসিনের ট্যাপের পানি ছেড়ে দাঁত ব্রাশ করে। পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় থাকলে দেশের আরও উন্নয়ন হতো।'স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল-এর সিএসও স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান বলেন, 'পানি ব্যবস্থাপনায় জনঅংশগ্রহণের সঙ্গে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো যেসব সংস্থা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আবার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কম। এই দায় কি সেবাদাতা না সেবা গ্রহীতার? যারা সেবা দেন, তাদের কার্যক্রম যাতে জনগণ জানতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।'প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, 'দূষিত পানি শোধন করে ব্যবহারের পথ খুঁজতে হবে। অপচয় রোধ কীভাবে করা যায় ও গভীর নলকূপের পানির পুনঃব্যবহার কীভাবে করা যায়, সেটা খুঁজতে হবে। শিল্পের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করলে অনেক পানি সাশ্রয় হয়। শিল্প-কারখানায় অনেক জায়গা থাকে। সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।'ওয়াশ অ্যালায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল, সিমাভির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলক মজুমদার বলেন, 'সাভারে কালিগঙ্গা নদীর মাছ মরে যায় বলে পত্রিকায় খবর আসে। কারণ নদীর পাশে অনেক শিল্প-কারখানা আছে। সেগুলোতে ইটিপি আছে কি-না দেখা প্রয়োজন। পানি ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রণালয়গুলোরও সমন্বয় থাকা দরকার।'ভার্কের ওয়াটসান অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক মো. মাসুদ হাসান বলেন, 'পানির তিনটি উৎসের কোনোটিই রক্ষা করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির পানি সাগরে চলে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা কমছে। ভূ-উপরিস্থ পানির দূষণ বাড়ছে। নদীর নাব্য কমে যাচ্ছে। ফলে পানির প্রাপ্যতাও কমছে।'ম্যাপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইমাম মাহমুদ রিয়াদ বলেন, 'পানির সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগও ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। কারণ একা ওয়াসার পক্ষে মানসম্মত পানি সরবরাহ করা খুব কঠিন। পানি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাগুলোও জনগণের জানা জরুরি।'জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'আগে নদীর পানির ছয় ফুট গভীরেও কী আছে দেখা যেত। এখন এক ফুট গভীরেও দৃষ্টি যায় না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালীরাই এটা ধ্বংস করেছেন। গত বিশ বছরে এ খাতে বাজেট বরাদ্দও দ্রুতলয়ে কমেছে। ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আনা গেলে অনেক আগেই পানি নিয়ে রামরাজত্বের অবসান হতো; কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। কেউ কারও ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।'ইউএসটির নির্বাহী পরিচালক শাহ মো. আনোয়ার কামাল বলেন, 'পাঁচটি ধানি জমির মধ্যে একটি খাল রাখা প্রয়োজন। ওই খালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সেচ মৌসুমে ওই পানি ব্যবহার করলে সুফল মিলবে।' তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোক্তাদির বলেন, 'সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কারিগরি। ১৩টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভিন্ন কমিটি হয়। কমিটিগুলোকে জনমুখী করা গেলে ভালো ফল মিলতে পারে।'ওয়াটার এইডের প্রোগ্রাম অফিসার অ্যাডভোকেসি রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, 'সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তারা চিন্তা করে, কোথায় বাঁধ দেওয়া যায়, ব্রিজ করা যায়। নিরাপদ পানির কথা কেউ ভাবে না।'অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াটার এইডের প্রোগ্রাম অ্যাডভোকেসি মন্দিরা গুহ নিয়োগী।
6
আগামী এক বছর জ্বালানি তেলের মূল্য না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি থেকে উত্তরণের জন্য আগামী এক বছর জ্বালানিখাতে ভর্তুকি দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি। বুধবার সকালে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে 'জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য এবং জনদূর্ভোগের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডিজেলের এক পয়সার দাম বাড়াতে পারবেন না। দাম বাড়ানোর প্রয়োজনও নাই। বাংলাদেশের তহবিলে ৪৮ হাজার বিলিয়ন ডলার জমা আছে। এগুলো কি কবরে নিয়ে যাওয়ার জন্য? একটা বছর দাম বাড়ানো দরকার নেই। এই বছরটা ভর্তুকি দিবেন। অনেক কিছুতেই আপনারা ভর্তুকি দিচ্ছেন। গণপরিবহনে ভ্যাট এবং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাস-ট্রাক-কৃষকদের ব্যবহৃত তেলের জন্য ভ্যাট-শুল্ক প্রত্যাহার করেন। সাহেবদের গাড়ির জন্য ট্যাক্স বাড়িয়ে দেন। পাবলিকের জন্য ট্যাক্স প্রত্যাহার করলে আপনাদের জন্য ভালো হবে। দেশ উন্নত হবে। দেশের ২ কোটি পরিবারকে খুব কম টাকায় রেশনিং দেয়া দরকার। ২৫ টাকা কেজি চাল, ১৫ টাকা কেজি আটা, ৫০ টাকা কেজি ডাল দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করি। বিশেষ করে করোনা পরবর্তী এই সময় দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলে এই বাজেট এবং পরবর্তী বাজেট পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে বলব। গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর বলেন, গত সাত বছরে জ্বালানি তেল থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে সরকার। তারা বলেছে আগের দামে বিক্রি করলে প্রত্যেক দিন ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। তাহলে এক বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হবে। ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগামী ৭ বছর ভর্তুকি দিতে পারেন। শুধু কি ভর্তুকি দিচ্ছেন? এখানে লাভ করছেন না? প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার ১১ টাকা ভ্যাট নিচ্ছে। অন্য শুল্কসহ ১৭ টাকা নিচ্ছে। এই ১৭ টাকা মাফ করে দিলে তো তেলের দাম বাড়ানো লাগে না। ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য রাখাল রাহা, ৬৯' গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা: নূরুজ্জামান নূর প্রমুখ।
9
ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের কাসেমগঞ্জ বাজার লঞ্চঘাটে পন্টুনের অভাবে চার বছরের বেশি সময় ধরে ভিড়ছে না লঞ্চ। ফলে যাত্রীদের উপজেলা সদর বা চরফ্যাশন উপজেলার দীর্ঘ পথ ঘুরে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লঞ্চে চলাচল করা এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।বারবার পন্টুন স্থাপনের জন্য এলাকাবাসী দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি।জানা গেছে, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার সীমান্তবর্তী লর্ড হাডিঞ্জ ইউনিয়নের কাসেমগঞ্জ লঞ্চঘাট। ওই এলাকার ৫টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকা, নোয়াখালী, হাতিয়া, মনপুরা ও আলেকজেন্ডারসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত লঞ্চে যাতায়াত করেন বেশি। কিন্তু উপজেলার কাসেমগঞ্জ লঞ্চঘাটে চার বছর ধরে পন্টুন না থাকায় লঞ্চ ভিড়ছে না। এতে এই ঘাট থেকে লঞ্চে উঠতে না পারায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এদিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লঞ্চে ওঠায় একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।যাত্রীদের অভিযোগ, পন্টুন না থাকায় কর্তৃপক্ষ ঘাটে লঞ্চ ভেড়াচ্ছে না, যাত্রীও তুলছে না।স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, 'আগে লঞ্চ ভিড়ত এই ঘাটে। পন্টুনের অভাবে কয়েক বছর ধরে আর লঞ্চ ভেড়ে না। এতে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।'যাত্রী মোশারেফ হোসেন বলেন, 'পন্টুন না থাকার কারণে লঞ্চ নোঙর করে না। এতে আমাদের বহু পথ ঘুরে লঞ্চে উঠতে হয়। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় নষ্ট হচ্ছে।'যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য বারবার কাসেমগঞ্জ বাজার লঞ্চঘাটে পন্টুন স্থাপনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।লর্ড হাডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, 'দীর্ঘদিনেও ঘাটে পন্টুন না থাকায় এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে পন্টুন স্থাপন জরুরি। আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু আজও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ। দীর্ঘদিন থেকে এ অঞ্চলের খাদ্যশস্যও বহন করা হচ্ছে না।'জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, 'এ ঘাটের ব্যাপারে আমাদের বিবেচনায় আছে। শিগগির লঞ্চঘাটটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব কুমার হাজরা বলেন, 'পন্টুন না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সেখানে পন্টুন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
6
আজ ২৩ মার্চ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস সামনে রেখে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) মহাসাগরের সংকটাপন্ন হওয়ার বিষয়টিই সামনে এনেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিরূপ প্রভাব ফেলছে মহাসাগরের ওপর। দ্রুত বদলাচ্ছে মহাসাগরের আবহাওয়া। সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতার সঙ্গে বাড়ছে স্রোতের উষ্ণতা। মহাসাগরের উপরিভাগের বাতাস হয়ে উঠছে ভয়ংকর। ফলে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হচ্ছে। বাড়ছে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি। কোভিড-১৯ মহামারি এই বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মহাসাগরের আবহাওয়াগত পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা অনেকটাই থমকে গেছে। ফলে তথ্যপ্রাপ্তির উৎস হয়ে এসেছে সংকুচিত। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার মতো হুমকির মুখে আগে কখনোই পড়তে হয়নি মহাসাগরকে। সংস্থাটির মতে, সময়মতো তৎপর না হলে গভীর সংকটে পড়বে মহাসাগর। তাতে বাধাগ্রস্ত হবে বাণিজ্য। সংকটে পড়বে মানবজাতি। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনায় মহাসাগর অনেকটা উপেক্ষিত থাকলেও মঙ্গলবার বিশ্ব আবহাওয়া দিবস সামনে রেখে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) এবার মহাসাগরের সংকটাপন্ন হওয়ার বিষয়টিই সামনে এনেছে। এবার দিবসের প্রতিপাদ্যও ছিল 'মহাসাগর, আমাদের জলবায়ু ও আবহাওয়া'। ইউএন নিউজ জানিয়েছে, গত বছর আটলান্টিক মহাসাগরে রেকর্ডসংখ্যক হারিকেনের দেখা মিলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশ ও ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন বেশি হয়েছে। এর প্রধান কারণ মহাসাগরের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত হুমকি অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে যায়। ডব্লিউএমওর মহাসচিব অধ্যাপক পেটেরি টালাস বলেন, 'বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ উপকূলের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, ভয়ংকর স্রোত কিংবা সাইক্লোনের কবল থেকে এসব মানুষ ও তাদের বসতি রক্ষা করা জরুরি।' উষ্ণতার পরিবর্তন মহাসাগরের বাস্তুসংস্থানের ওপর যে প্রভাব ফেলবে, তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন পেটেরি টালাস। তাঁর ভাষ্য, এর জের শত শত বছর ধরে পৃথিবীকে টানতে হবে। হুমকিতে 'ব্লু ইকোনমি'সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি বিশ্বের ৬০০ কোটির বেশি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত। বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিবছর ৩ থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা জোগান দেয় ব্লু ইকোনমি। তাই মহাসাগরের আচরণ পরিবর্তন বিপুল পরিমাণ মানুষের মহাসাগরকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকায় আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএমও। প্রতিবছরই মিলিয়ন ডলারের পণ্য ও জীবন কেড়ে নেয় সাগর-মহাসাগর। এর পেছনে তীব্র বাতাস, উচ্চ স্রোত, কুয়াশা, বজ্রপাত, বরফখণ্ডসহ চরম আবহাওয়াকে দায়ী করেছে ডব্লিউএমও। মহাসাগর বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করে নেয়। এতে মহাসাগরের উষ্ণতা দ্রুত বেড়ে যায়। মহাসাগরের উষ্ণ স্রোত হাজার কিলোমিটার দূরের মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বসে থাকার অবকাশ নেইজলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে। ডব্লিউএমও বলছে, মেরু অঞ্চলে বরফ কম থাকা মোটেও খুশির খবর নয়। ডব্লিউএমও প্রধান সতর্ক করে বলেন, মহাসাগরের এমন আবহাওয়াগত পরিবর্তন শত বছর ধরে ক্ষতির কারণ হতে পারে। মেরু অঞ্চলসহ বিশ্বজুড়ে মহাসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বসে থাকার সুযোগ নেই বলে মনে করছে ডব্লিউএমও। সংস্থাটির মতে, প্রতিটি দেশের আবহাওয়া কেন্দ্রগুলোকে শুধু ভূমিতে নয়, বরং মহাসাগরেও জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সার্বক্ষণিক মনোযোগ দিতে হবে। এটা হবে ২৪ ঘণ্টার কাজ। সংকট বাড়িয়েছে করোনামহাসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক তদারকি জরুরি। তবে এ ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ তথ্যপ্রাপ্তিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত বছরের মার্চ নাগাদ বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি চরম আকারে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন দেশের সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মহাসাগর ও মেরু অঞ্চলে অবস্থান করা গবেষণা জাহাজগুলোকে ফেরত আসার নির্দেশনা দেয়। এর ফলে এ ক্ষেত্রে হালনাগাদ তথ্যপ্রাপ্তিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তথ্যপ্রাপ্তির উৎস সংকুচিত হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আগাম পূর্বাভাস প্রদানের ক্ষেত্রে। ডব্লিউএমওর মতে, এই ঘাটতি দূর করা জরুরি। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে ডব্লিউএমও। সংস্থাটি বলছে, যদি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমে আসে ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা সম্ভব হয়, এরপরও ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০-৬০ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে। আর যদি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনে লাগাম টানা সম্ভব না হয়, তবে এর পরিমাণ ৬০-১১০ সেন্টিমিটার হতে পারে।
3
ঢাকা: বয়স তাঁর কতই-বা হয়েছিল? ৩৬! এটা কি চলে যাওয়ার সময়? বিবেক যাদব এই অসময়ে চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে। ভারতীয় লেগ স্পিনার দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন। কদিন আগে কেমোথেরাপি নিতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন করোনায়। কাল বিবেকের জীবন প্রদীপ নিভে গেল ৩৬ বছর বয়সে।দুই বছর যকৃত ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন বিবেক। কেমোথেরাপি নিয়ে কন্যা-স্ত্রী নিয়ে ভালোই ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে লড়াইটা আর চালাতে পারলেন না। তাঁর সতীর্থ রাজস্থানের সাবেক ক্রিকেটার রোহিত ঝালানি বলেছেন, 'দুই বছর আগে ওর লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে সেরে উঠছিল। কিছুদিন আগেও কেমোথেরাপি নিতে হাসপাতালে গিয়েছিল, তখনই কোভিড ধরা পড়ে। এর পরই শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।'২০০৮ সালে রাজস্থানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় বিবেকের। খেলেছেন ২০১২ পর্যন্ত। পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে ১৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ৩.১৯ গড়ে নিয়েছেন ৫৭ উইকেট। ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ মৌসুমে রাজস্থানের রঞ্জিজয়ী দলেরও সসদ্য ছিলেন। ৮ টি 'লিস্ট এ' ও ৪ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১২ সালের আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস দলের সদস্য ছিলেন বিবেক।করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের ভারতের এক ক্রীড়া সাংবাদিকও। রুচিরা মিশ্র নামের এই সাংবাদিক 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'তে কাজ করতেন। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাভার করলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রতিও বেশ টান ছিল তাঁর।
12
ভারতীয় দাবাড়ু আর প্রজ্ঞানন্ধার বয়স মাত্র ১৬। তবে, এই ১৬ বছরের কিশোরই সম্প্রতি বিশ্বের ১ নম্বর দাবা চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে (৩১) হারিয়ে পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এয়ারথিংস মাস্টার্স টুর্নামেন্টের অষ্টম রাউন্ডে ৩৯টি চালে কার্লসেনকে পরাজিত করেন প্রজ্ঞানন্ধা। যদিও এর আগে টানা তিনটি রাউন্ডে হেরে যান এই কিশোর। ২০১৩ সালে বিশ্ব যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ ইউ-৮ শিরোপা বিজয়ী প্রজ্ঞানন্ধা মাত্র ৭ বছর বয়সে এফআইডিই মাস্টারের খেতাব জিতেছিলেন। কার্লসেনকে হারানোর পর প্রজ্ঞানন্ধা এখন পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং চারটি রাউন্ডে পরাজিত হয়েছেন। এর আগে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামের লে কোয়াং লিমের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডে ড্র এবং পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে কানাডার এরিক হেনসেন, চীনের ডিং লিরেন এবং পোল্যান্ডের জান-ক্রজিসটফ দুদার কাছে হেরে যান প্রজ্ঞানন্ধা। অন্যদিকে, ২১ ফেবুয়ারি প্রজ্ঞানন্ধা ডাচ খেলোয়াড় অনিশ গিরির বিপক্ষে ড্র করেন এবং আজারবাইজানের শাখরিয়ার মামেদিয়ারভের কাছে হেরে যান। টুর্নামেন্টে বর্তমানে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে রাশিয়ার ইয়ান নেপোমনিয়াচ্চি শীর্ষে রয়েছেন।
12
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি খারাপ কার্যক্রম বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত। তিনি বলেছেন, এটি খুব ভালো 'প্রোগ্রাম'নয় তার পরেও এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার অঙ্গীকার বেসরকারি ব্যাংকগুলো শিগগিরই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশা করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ দলের শরিক তরীকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য এ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এমপিওভুক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম, সরকার তা গ্রহণ করেছিল এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য এটা কোনো ভালো কার্যক্রম নয়। উপবৃত্তিতে অর্থ দেওয়া গেলে সেটা অনেক ভালো কাজ করে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য যদি স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তা অনেক ভালো হবে। মুহিত আরও বলেন, এমপিওভুক্তি কার্যক্রমে যথেষ্ট জালিয়াতি ছিল। শিক্ষামন্ত্রী তা অনেক কমাচ্ছেন। কিন্তু এমপিওভুক্তি খুব ভালো 'প্রোগ্রাম' নয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি তার এই মতামত তুলে ধরেছেন, সাংসদেরা এখন সেটা চিন্তা করে দেখবেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত ও ঋণের সুদের হার সরকার নির্ধারণ করে না। তবে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ঋণের সুদের হার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদেরকে সহজ সুদে ঋণ দিতে বলা হয়েছে। তারা নিজেরাই প্রস্তাব করেছে ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নিয়ে আসবেন। সে জন্য তারা তারিখও দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেটা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে কিছুটা কার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা ডিপোজিট রেটসহ কিছু দাবিদাওয়া করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'এই ডিপোজিটের রেটও আমরা ঠিক করি না। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছে। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান এখন যথেষ্ট টাকাপয়সা বেসরকারি ব্যাংকে জমা দিতে পারে। আমরা সরকারি ব্যাংকগুলোকে বলেছি, তারাও যতটুকু পারে ঋণের সুদের যেন কমায়। যতটুকু পারছি আমরা করছি। আমরা আশা করি, ব্যাংকারটা যেটা অঙ্গীকার করেছেন, সেটা সত্বরই কার্যকর হবে।' সরকারি দলের সাংসদ নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গত নয় বছরে বাংলাদেশে মোট ৬৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে ও ৪৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। সরকারি দলের মামুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোবাইল ব্যাংকিং থেকে সরকার প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে; যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৩৩ কোটি টাকা বেশি। টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কেন্দ্রীয়ভাবে একটি টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অধীনে একটি ডিজিটাল-ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেটি তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করবে। লাইসেন্সধারীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
9
মহামারিরকালে এই পৃথিবী যেন এক কাল্পনিক জগৎ -এ রুপ নিচ্ছে। অভূতপূর্ব, অনভিপ্রেত অনেক কিছুই আমাদের দৃষ্টি গোচরে আসছে। ভারতের তেলঙ্গনায় এক পশুপালক সরকারি অফিসে এলেন মুখে বাবুই পাখির বাসা লাগিয়ে, তার মাস্ক কেনার টাকা ছিল না বলে। সমগ্র ভারতজুড়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে বিধি নিষেধ কঠোর হয়েছে প্রায় সব রাজ্যেই। এই তেলঙ্গনাতেই মাস্ক না পরে রাস্তায় বাহির হলে ১০০০ টাকা জরিমানা। মেহবুবনগর জেলার চিন্নামুনুগাল এলাকার বাসিন্দা মেকালা কুরমাইয়া অতি দরিদ্র এক পশুপালক। মাস্ক কেনার টাকা নেই তার। কিন্তু মাস্ক ছাড়া সরকারি অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না তা ঠিকই জানেন মেকালা। তাই নিজেই বানালেন মুখাবরণী। ঠিক বানানো নয়, বাবুই পাখির বাসা মুখে লাগিয়ে এলেন তিনি। খবর আজকালের। মেকালার বাবুই পাখির বাসা পরিহিত ছবিটি এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। সেই সঙ্গে দাবি উঠেছে, যারা মাস্ক কিনতে অসমর্থ, তাদের জন্য সরকারি অফিসে মাস্কের ব্যবস্থা রাখা হোক।
5
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কুমিল্লার নগরপিতা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ১০৫ কেন্দ্রে তিনি ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের সদ্য মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে ফলাফল নির্ধারিত হয়। নির্বাচনে আলোচিত আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট। বুধবার রাতে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে মেয়র হিসাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ করা হয়েছে ইভিএমে। নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ১০৫টি। এবার তৃতীয়বারের মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিটির দ্বিতীয় নির্বাচন হয় ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। দুবারেই মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছিলেন মনিরুল হক সাক্কু।
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, নতুন গতি এসেছে প্রবাসী আয়ে। আর এসব ইতিবাচক দিক বিএনপি দেখতে পায় না। দেশে এখন পর্যন্ত ১৮ টি ফ্লাইওভার, ৪১৩ কিলোমিটার চার লেনের সড়ক নির্মাণ হয়েছে, তাও বিশ্বাস না হলে বিএনপি নেতাদের সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ'র সাথে সেবার মান বৃদ্ধি বিষয়ক আলোচনা সভায় একথা বলেন। আলোচনা সভায় বিআরটিএ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগরী, পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট জেলার কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন। বিএনপি নেতারা বলেছেন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকার নাকি মিথ্যাচার করছে- এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের কোনো সুখবর, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি তাদের গায়ে জ্বালা ধরায়, এজন্যই সবকিছু নিয়ে অবিশ্বাস আর মিথ্যাচার বিএনপির মজ্জাগত। গত অর্থবছরের শেষ দিকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি থমকে গিয়েছিলো তা সত্বেও গত এক দশক ধরে দেশে জিডিপি'র উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় করোনার প্রভাব সত্বেও প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের উপরে অর্জিত হয়েছে। এডিবি ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে এশিয়ার ৪র্থ শীর্ষ দেশ হবে বাংলাদেশ। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক ব্যর্থতা জনিত হতাশা সবকিছুকে গ্রাস করেছে বিএনপি, তাই দেশ ও সরকারের অর্থনৈতিক কোন ইতিবাচক অর্জন তারা দেখতে পায় না। বিএনপি'র গণঅভ্যুত্থান করার ঘোষণা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের রাজপথে একটি বড় মিছিলের সক্ষমতা নেই, তারা অভ্যুত্থানের দিবাস্বপ্ন দেখছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আত্মীয় ও দলীয় পরিচয় দিয়ে বিআরটিএতে যারা প্রভাব খাটাতে চায় তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিআরটিএতে নিয়ম কানুন অনুযায়ী সবাইকে চলতে হবে, এর ব্যত্যয় ঘটলেই ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। দালালের দৌরাত্ম থেকে সবাইকে সাবধানে থাকার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গ্রাহক সেবার নামে যাতে কেউ হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। যে সব ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে বদলি ও প্রমোশন করাতে চান সেসকল ব্যক্তিদের দিয়ে বিআরটিএতে কোনো লাভ হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন মন্ত্রী।
6
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ম লালনপালন করেছেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশে মদ আর জুয়া বন্ধ করেছিলেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে দেশে আবারও মদ-জুয়ার লাইসেন্স দিয়েছিলেন। বিএনপি এদেশে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো চালু করেছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ইছামতি গ্রামে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভিত্তিফলক স্থাপন শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ গোলাম রব্বানী। স্বাগত বক্তব্য দেন সালাউদ্দিন খান। অন্যান্যের মধ্যে কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, বাগবাটি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য দেন। এর আগে মোহাম্মদ নাসিম ইছামতি গ্রামে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভিত্তিফলক স্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ইমডেমনিটি আইন জারি করে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন খুনীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ২৪ বার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের শাসনামলে কোন বিচারই করেনি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন। নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক আর জুয়া কঠোর হাতে দমনে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ দেশে মাদক-জুয়া থাকতে পারে না। ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে নাসিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় এসে দেশ জাতি এবং জনগণের উন্নয়ন করেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে আলোকিত করেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।
6
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবাস করেছেন। তাঁর মুক্তির ব্যাপারে সরকারের কিছুই করার নেই। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সবকিছু করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর শহরে নিজ বাসভবনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি যা চেয়েছেন, প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই প্রদান করা হয়েছে। এ সময় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চাঁদপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রাথী নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলী ব্যাপারীসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী সদর উপজেলা মিলনায়তনে তরপুরচণ্ডি ইউনিয়নের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করেন।
9
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ৩৬টি পদে মোট ১ হাজার ৫৬২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদগুলোয় অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে ৯ নভেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। পদের নাম ও পদসংখ্যা ফার্মাসিস্ট-২৭৫ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব-১৪৮ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিও-০২ হেলথ এডুকেটর-০১ সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর-০৩ কম্পিউটার অপারেটর-০১ ফিল্ড ট্রেইনার-০১ প্রধান সহকারী-০১ হিসাবরক্ষক-০৩ উচ্চমান সহকারী-০১ গবেষণা সহকারী-০২ সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর-৪০ পরিসংখ্যান সহকারী-০৫ গুদামরক্ষক-০৫ কোষাধ্যক্ষ-০৬ সহকারী লাইব্রেরিয়ান-০২ ইপিআই টেকনিশিয়ান-০১ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক-১৫৯ টেলিফোন অপারেটর-০২ ডাটা এন্ট্রি/ কন্ট্রোল অপারেটর -০১ ওয়ার্ড মাস্টার-০২ লিনেন কিপার-০২ ইন্সট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার-০২ টিকেট ক্লার্ক-০৪ স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক-০২ কিচেন সুপারভাইজার-০১ রেকর্ড কিপার-০১ কার্ডিওগ্রাফার-০১ গাড়িচালক-৩৪ ইলেকট্রিশিয়ান-০১ অফিস সহায়ক-৪০৪ এমএলএসএস/ নিরাপত্তা প্রহরী-৩৭৪ নিরাপত্তা প্রহরী-০৯ ওয়াচম্যান-০১ কুক হেলপার-০১ পরিচ্ছন্নতাকর্মী-৬৪ আবেদনের যোগ্যতাপ্রতিটি পদে আবেদনের জন্য আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বয়সসীমা আলাদা আলাদা। পদভেদে আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বয়সসীমার শর্তাবলি জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। চাকরিতে আবেদনের বয়সপ্রার্থীর বয়স ২৫-০৩-২০২০ তারিখে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা/ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর। আবেদনের নিয়মআগ্রহী প্রার্থীরা (://.../) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করে আগামী ৩০-১১-২০২০ তারিখ পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।
1
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে লড়ছেন হাবিবুর রহমান হাবিব (৩৫) নামের এক পত্রিকা হকার। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (বাদে অরুয়াইল-বারপাইকা) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। হাবিব উপজেলার অরুয়াইল ইউপির বাদে অরুয়াইল গ্রামের মো. শুক্কর মিয়ার ছেলে। সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তালা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন তিনি।পত্রিকা পড়া এবং বিক্রি করা তাঁর নেশা। পত্রিকা বিক্রি শুধু তাঁর জীবিকা নয়; জনগণের সেবা করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও দেখেন তিনি। সাত বছর ধরে তিনি অরুয়াইলের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরেছেন; দেখেছেন সমাজের নানা বৈষম্য আর অনিয়ম। এরপর থেকে তাঁরও ইচ্ছা জাগে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে। এলাকায় তিনি 'গরিবের বন্ধু' উপাধিও পেয়েছেন অনেক আগে। এবার তাই জনগণের পাশে দাঁড়াতে সরাসরি নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। তবে জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করলেও পত্রিকা বিক্রি ছাড়বেন না হাবিব।দৈনিক আজকের পত্রিকাকে হাবিব বলেন, 'আমি টাকাপয়সা জমাতে চাই না। মানুষের সেবা করতে চাই। উপকারী মন আমার। আমাদের হাওর এলাকায় পত্রিকা বিক্রির কোনো মানুষ নেই। এ জন্য মানুষের সেবা মনে করে পত্রিকা বিক্রি শুরু করি। ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ি। পত্রিকাসংক্রান্ত কাজ আমার খুব ভালো লাগে। গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করার ইচ্ছায় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব ইনশা আল্লাহ।'উপজেলা শহরে অবস্থিত পত্রিকার এজেন্ট 'জাকির পত্রিকা বিতান'-এর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হাবিব সদস্য পদে নির্বাচন করছেন শুনে খুশি হয়েছি। তাঁর মঙ্গল কামনা করি।'
6
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক শপথের মাধ্যমে হোয়াইট হাউজে উঠবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু তার আগেই মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার জেরে আবারও অভিশংসিত হলেন ট্রাম্প। বুধবার (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোররাত) যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হলেন। এখন কী হবে ট্রাম্পের? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত করার পর তার ভাগ্যে এখন কী ঘটবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এ প্রশ্ন এসেছে এজন্য যে, ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ আছে আর মাত্র ছয়দিন। আগামী ২০ জানুয়ারি নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। এই সময়ের মধ্যে কী তাকে সিনেটে অভিশংসন করার মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় করা যাবে? সবচেয়ে বড় যে প্রশ্ন তা হচ্ছে- সিনেটে ভোটাভুটি কবে হবে? ট্রাম্পের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের হাতে। প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের ভোটাভুটি সম্পন্ন হওয়ার পর তা অনুমোদন দিয়ে সিনেটে পাঠাতে হয়। অভিশংসনের বিষয়টি সিনেটে পৌঁছানোর পরপরই সেখানে তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। এই ধারা অনুসরণ করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ শিগগিরই সিনেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবে। সিনেট অধিবেশন ডাকা হলে ট্রাম্পের বিচার হতে বাধ্য, কোনও বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে সিনেটের অধিবেশন আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মূলতবি রয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ মাককোনেলের দফতর থেকে বুধবার জানানো হয়েছে যে, জরুরি অধিবেশন ডাকার ব্যাপারে সিনেটের সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমারের একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। চাক শুমার অনুরোধ করেছিলেন যে, অভিশংসনের বিষয়টি 'জরুরি' বিবেচনা করে যেন সিনেট নেতা মিচ ম্যাককোনেল অধিবেশন আহ্বান করেন। প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে মিচ ম্যাককোনেল জানিয়েছেন, বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেট কোনও ব্যবস্থা নেবে না। ফলে ট্রাম্প হয়ত তার ক্ষমতার শেষ দিনগুলো হোয়াইট হাউজেই কাটাতে পারবেন। তবে তার জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে- সিনেটে একবার অভিশংসনের প্রস্তাব পৌঁছালে তা নিয়ে ভোটাভুটি করতে বাধ্য। ফলে ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরও তিনি সিনেটে অভিশংসনের মুখে পড়বেন। যদি সিনেটে তিনি অভিশংসিত হন তাহলে তিনি আর কখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন না। ট্রাম্প বেশ কয়েকবার বলেছেন, ২০২৪ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এবারের বিধিনিষেধে বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ শিল্পকারখানা। ১ জুলাই শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। করোনায় আক্রান্ত প্রায় দেড় বছরে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিই-বা কী? এসব নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন খাতের দেশের ছয়জন শিল্পোদ্যোক্তা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ মিলাদ, শুভংকর কর্মকার, আরিফুর রহমান ও মাকসুদা আজীজ। গত বছর করোনার সংক্রমণের শুরুতে আমার এলইডি বাল্ব বানানো ও বিক্রির ব্যবসাটা মাত্র ভালোর দিকে যাচ্ছিল। বিক্রি বাড়ছিল। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংক থেকে ঋণও পাচ্ছিলাম। সেই ঋণের টাকায় ব্যবসা একটু একটু করে বড় করছিলাম। এর মধ্যে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়ে যায়। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তাতে দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের পণ্যের ক্রেতাদের বড় অংশ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের হকার। কিন্তু যখন দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেল, তখন পণ্যের চাহিদা বলতে গেলে একদমই শূন্যের কোটায় নেমে এল। হিসাব করে দেখেছি, গত দেড় বছরের মধ্যে বিভিন্ন বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ ছিল অন্তত পাঁচ মাস। আর তাতে গত দেড় বছরে ব্যবসা হারিয়েছি কমপক্ষে ৪০ শতাংশ। করোনার শুরুতে ভেবেছিলাম, এ ধাক্কা হয়তো সাময়িক। কয়েক মাস গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই হাতে কমবেশি পুঁজি যা ছিল, তা দিয়ে পণ্য বানিয়ে গেছি। গত বছরের মে মাসে প্রথম যখন চলাচলে বিধিনিষেধ একটু একটু করে শিথিল করা হয়, তখন ব্যবসাও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন আবার দোকানপাট খোলার সময় সীমিত করে আনা হলো, তখন বুঝলাম, ব্যবসায় পুরোদমে ফেরা যাবে না। তা-ও টুকটাক করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে গত এপ্রিল থেকে নতুন করে যখন আবার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তখন কয়েক দফা পণ্য বিক্রি বলতে গেলে শূন্যের কোটায় নেমে আসে। মধ্যে কিছুদিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। তাতে কয়েক দিনের বিক্রি দিয়ে কয়েক মাসের ক্ষতি পোষানো যায় না। করোনার মধ্যে যখন দেখলাম ব্যবসা কমছে, তখন চেষ্টা করলাম ব্যবসার পরিচালন খরচ কমিয়ে আনার। তাই কিছু কর্মচারী কমিয়ে ফেললাম। কিন্তু পণ্য বিক্রি না হলেও দোকান-গুদামের ভাড়া দিতে হয়েছে। সেই খরচ কমানো গেল না। এর মধ্যে ব্যাংকঋণের কিস্তি দেওয়াটা ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। যেহেতু বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসা থেকে তেমন আয় আসছিল না, তাই কিস্তি পরিশোধে হাত দিতে হয় সঞ্চয়ে। সঞ্চয় ভাঙিয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করে গেছি, যাতে খেলাপি না হয়ে পড়ি। ঋণ নিয়মিত রাখার চেষ্টা করেছি, যাতে পরে আবার ঋণ চাইলে ঋণ পাওয়া যায়। সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি পোষাতে স্বল্প সুদে প্রণোদনা ঘোষণা করে। শুনেছি ব্যাংকের সঙ্গে যাঁদের ঋণ চলমান আছে এবং কিস্তি বকেয়া নেই, সেসব ব্যবসায়ীকে প্রণোদনার ঋণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ কথা শুনে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, কিন্তু প্রণোদনার ঋণ পেলাম না। এখন শুনছি নতুন করে আবার প্রণোদনার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির বিতরণ শুরু হচ্ছে। এবারও ঋণ পাব, এমন সম্ভাবনা দেখছি না। বরং ব্যবসা খারাপ বলে এখন ব্যাংক থেকে স্বাভাবিক ঋণ পেতেও সমস্যা হচ্ছে। করোনায় ব্যবসার অনেক নতুন খরচের খাত তৈরি হয়েছে। তার একটি হচ্ছে পরিবহন খরচ। নারয়ণগঞ্জের বন্দরের মুসাপুর গ্রাম থেকে ঢাকার নবাবপুর পর্যন্ত পণ্য আনতে আগে যা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় লাভের পরিমাণ বাড়েনি। তাই দেখা যায়, বিধিনিষেধের পর যখন পণ্য বিক্রি কিছুটা বাড়ে, তখন আসলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম লাভে পণ্য বিক্রি করতে হয় আমাদের। একে তো বন্ধের কারণে ব্যবসা হচ্ছে না, আবার বিধিনিষেধ শিথিলের পর যেটুকু ব্যবসা হচ্ছে, তাতে লাভ নেই। তারপরও টিকে থাকতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সামান্য যেটুকু সঞ্চয় ছিল, গত দেড় বছরে তা-ও শেষ হয়ে গেছে। আর কিছুদিন হয়তো চলতে পারব নিজের সামর্থ্যে। এরপর ধারদেনা করতে হবে। তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হলেও আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। কারণ, নতুন করে পুঁজি জোগান দেওয়ার মতো সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছি আমরা। মরিয়ম আক্তার, এলইডি বাল্ব প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা
0
মাটিরাঙ্গায় অস্ত্রসহ লালন চাকমা (৩৮) নামে প্রসীত বিকাশ খীসা সমর্থিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) চিফ টোল কালেক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে মাটিরাঙ্গার দুর্গম সাপমারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।সেনাবাহিনী জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা বাজার থেকে চাইল্যা প্রু মারমা (২৩) ও চা থই মারমা (২৯) নামে ইউপিডিএফের দুই টোল কালেক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে চিফ টোল কালেক্টর লালন চাকমার নামসহ আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। চিফ টোল কালেক্টর লালন চাকমা সাপমারা থেকে পানছড়ি যাবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোনের অভিযানকারী দল সাপমারা এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে লালন চাকমাকে সাপমারা থেকে গ্রেপ্তার করে।এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে মরক্কোর তৈরি একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড অ্যামোনেশন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চাঁদা আদায়ের রসিদ বই ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।আটককৃত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী লালন চাকমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মুহাম্মদ আলী জানান, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী লালন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল ওয়ালিদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
6
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) প্রতিবাদে তোলপাড় গোটা ভারত। কেউ বিক্ষোভকে আন্দোলনের পথ হিসাবে বেছে নিয়েছেন। আবার কারও প্রতিবাদের ভাষা ছবি। প্রি ওয়েডিং ফটোশুটের মাধ্যমে সিএএ'র বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানায় ভারতের এক দম্পতি। এবার মেকআপ টিউটোরিয়ালের ভিডিওকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিলেন এক মার্কিন তরুণী। জানা গেছে, ফিরোজা আজিজ নামে ওই মার্কিন তরুণী মূলত মেকআপ টিউটোরিয়ালের টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তার ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যাতে মূলত কীভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়, সেই সংক্রান্ত আলোচনাই চলছিল। কিন্তু আচমকাই সেই আলোচনার মাঝে চলে আসে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের(সিএএ) প্রসঙ্গ। এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে ফিরোজা। এমনকী এই আইন ভারতীয় সংবিধান বিরোধী বলেও দাবি করেন তিনি। শেষে যদিও আবার মেকআপ টিউটোরিয়াল প্রসঙ্গে ফিরে যায় ফিরোজা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বুধবার তাসকিন আহমেদের ৫ উইকেটের সুবাদে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে গুটিওেয় যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস। ম্যাচ জিততে টাইগারদের করতে হবে ১৫৫ রান। টাইগারদের এই পেসার প্রথম থেকেই প্রোটিয়া ব্যাটারদের বেশ চাপের মুখে রেখেছে। মেহেদী হাসান মিরাজের প্রথম উইকেট শিকারের পর পরবর্তী দুই উইকেটে ওপেনার জানেমন মালান ও কাইল ভেরেনিকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর ইনিংসের ২৫তম ওভারে প্রিটোরিয়াসকে সাজঘরে ফেরান মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে। প্রোটিয়া শিবিরে তাসকিন পরবর্তী আঘাত হানে ইনিংসের ২৯তম ওভারে। তৃতীয় বলে ডেভিড মিলার ও শেষ বলে কাগিসো রাবাদাকে উইকেটের পিছনে দাড়িয়ে থাকা মিস্টার ডিপেন্ডবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এই দুই উইকেটের বিনিময়ে ১০ ওভারে ৩৫ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট পেয়েছেন ৫টি। এই তাসকিন আহমেদ তার অভিষেক ম্যাচে ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ৮ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তারপর মোস্তাফিজুর রহমানও ২০১৫ সালে সেই ভারতেই বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার অপর ৪টি উইকেট তুলে নেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে এবং সাকিব আল হাসান নেন ২ টি উইকেট। শেষ ব্যাটার রান আউট হন। এ ম্যাচে টাইগারদের জিততে হলে করতে হবে ১৫৫ রান। তাসকিন আহমেদ এই ম্যাচ খেলার আগে ৪৭টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২০১৫ রান খরচ করে ৬২টি উইকেট পেয়েছেন। ক্যারিয়ারে তার বেস্ট বোলিং ফিগার লাভ করেছেন ভারতের বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচে মিরপুরে ২৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ২০১৪ সালেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং টেস্ট ফরম্যাটে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের এই পেসারের অভিষেক হয়েছে। বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের আজ শেষ ম্যাচ। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৮ রানে জয়ী হয়। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা আনে। আজ সেঞ্চুরিয়ানের সুপারস্পোর্ট পার্কে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অঘোষিত ফাইনাল এ পরিণত হয়েছে। আজ যারা ম্যাচ জিতবে তারাই সিরিজ নিশ্চিত করবে। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভূমা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সেঞ্চুরিয়ানে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা প্রথমে ব্যাট করে ৩১৪ রান সংগ্রহ করেছিল। জোহানেসবার্গের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে টাইগাররা আগে ব্যাট করে সুবিধা করতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসানের সামনে তিনটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা রয়েছে। টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ৩৭৫ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৯৯ ক্যাচ ধরেছেন। অন্যদিকে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ৩৬২ ম্যাচে ক্যাচ নিয়েছেন ৯৯ টি । তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে এই দুই টাইগার ফিল্ডার ক্যাচ লুফে নেন সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। টাইগার ফিল্ডারদের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩৭০ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১৫২টি ক্যাচ লুফে নিয়েছেন। টাইগার মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবাল আজ একটি ছক্কা হাঁকাতে পারলে সেঞ্চুরি ছক্কা পূর্ণ করতে সক্ষম হবেন। তামিম এ পর্যন্ত ২২৪ ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৯৯ টি ছক্কা। সেঞ্চুরিয়ান তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে করে দেশে ফিরবেন সাকিব আল হাসান। তার শাশুড়ি, মা এবং তিন সন্তান অসুস্থ। এই কারণে ওয়ানডে সিরিজ শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি।
12
চট্টগ্রামের রাউজানে উদ্ধার করা অজ্ঞাত সেই তরুণীর লাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। গত ২০ নভেম্বর রাউজানের পূর্ব গুজরার মানিক সিকদারপাড়া থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ ৫১ দিন পর মঙ্গলবার সেটি শনাক্ত করার পাশাপাশি খুনের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাউজানে উদ্ধার করা লাশটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ার নূর হোসেনের মেয়ে আমেনা বেগম রাহি ওরফে শারমিনের (২২)। পরিবারের সদস্যরাও ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন লাশটি শারমিনের। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে শারমিনের কথিত স্বামী নুরুল ইসলাম ওরফে বাদশাও রয়েছে। সোমবার তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রাতে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। গ্রেপ্তারের পর শারমিনের কথিত স্বামী নুরুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। রাউজান থানা পুলিশ জানায়, শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলে নুরুল ইসলাম। এতে শারমিন গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। নুরুল ইসলাম তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। কিন্তু এর পরও বিয়ে না করায় শারমিন তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা চাপ দেয়। এ মামলায় নুরুল ইসলাম জেলে গেলেও শারমিনকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। পরে বিয়ে না করে নিকটাত্মীয় আকতার হোসেনকে নিয়ে শারমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড়ের হোটেল গোল্ডেন সিটিতে এনে এক দিন রাখার পর ইপিজেড থানার ফ্রিপোর্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তোলা হয়। পরে গত ১৯ নভেম্বর শারমিন ও আকতার হোসেনকে নিয়ে রাউজানেরই চালক মো. মেহেরাজ ওরফে মিরাজের সিএনজি অটোরিকশায় করে কাপ্তাই সড়ক হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে রওনা হয় নুরুল ইসলাম। পথে অটোরিকশার মধ্যেই শারমিনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। এর পর তারা শারমিনের লাশ পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আদার মানিক সিকদার ঘাটার দক্ষিণে রাউজান নোয়াপাড়া সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়। অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম শারমিনের বাড়ি কুতুবদিয়াপাড়ারই আবদুল শুক্করের ছেলে। গ্রেপ্তার মো. আকতার হোসেনের বাড়ি (৩৫) ভোলা জেলার মনপুরা থানার দক্ষিণ সাকোচরিয়ায়। অটোরিকশাচালক মো. মেহেরাজ ওরফে মিরাজের (৩০) বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার হাতিদিয়া বাজার এলাকার দক্ষিণ আদর্শ গ্রামে। রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) কায়সার হামিদ সমকালকে বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঢাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
6