text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মিয়া নুরউদ্দিন আহমেদ অপুসহ সাতজনের মামলায় শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান শুনানির এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ার খান জাকির এই তথ্য জানান। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় র্যাব-৩ এর ডিএডি (নায়েব সুবেদার) বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ২০১৩ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে মতিঝিল সিটি সেন্টারে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এবং ইউনাইটেড কর্পোরেশন অফিসে বিপুল পরিমাণ অর্থ মজুদের অভিযোগ পায় র্যাব-৩। সেই সংবাদ পেয়ে ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদুল হাসানের ভাগ্নে এ এম হায়দার আলীকে (২৪) আটক করে র্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জব্দ করে র্যাব। একই কাজে ব্যবহারের জন্য আরো ৫ কোটি টাকা মানিটারি এক্সপ্রেস অফিসে রেখে আসার কথা সে স্বীকার করে। এ ঘটনায় ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিরা হলেন- এ এম আলী হায়দার নাফিজ, জয়নাল আবেদীন, আলমগীর হোসেন, মিয়া নুরউদ্দিন আহমেদ অপু, আতিকুর রহমান আতিক ও মো. মাহমুদুল হাসান। পরে চার্জশিটে এই ছয়জনের সঙ্গে ফয়েজুর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়। আসামি নুরউদ্দিন আহমেদ অপু তারেক রহমানের পিএস ও শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। আসামিদের মধ্যে আতিকুর রহমান আতিক ও মাহমুদুল হাসান শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। আর ফয়েজুর রহমান উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। আর নাফিজ ঘটনার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শুনানিকালে অপুসহ কারাগারে থাকা বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় ২০২১ সালের ১৩ জুন সাতজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে র্যাব। একই বছর ১২ আগস্ট মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে আসে। ট্রাইব্যুনাল ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
আগামী সংসদ নির্বাচনের ভার নিয়ে দায়িত্ব শুরু করা সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দুরূহ হয়ে পড়বে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় রোববার শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপে একথা বলেন তিনি। এসময় তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য তাদের লেখালেখির পরামর্শ দেন। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির কোনো ইতিবাচক বক্তব্য না আসার প্রেক্ষাপটে হাবিবুল আউয়াল বলেন, 'কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে দেখছি, তারা কোনোভাবেই নির্বাচন কমিশনকে আস্থায় নিচ্ছে না।' সব দল না এলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতায় কিছুটা 'ভাটা পড়ে যাবে' মন্তব্য করে তিনি সবার আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার কথা বলেন। শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা সহযোগিতা করবেন। দলগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন করতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে লেখালেখি চালিয়ে যেতে পারেন।' নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সিইসি বলেন, 'ভালো নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার অভাব হবে না।' নির্বাচন ভবনে বিকাল ৩টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংলাপে অংশ নেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম মফিজুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচারর্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবুল কাশেম মজুমদার, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ড. আখতার হোসেন, অধ্যাপক লায়লুফার ইয়াসমীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার। চার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, আনিছুর রহমান, রাশেদা সুলতানা এমিলি ও আহসান হাবীব খানও সংলাপে ছিলেন।
9
অনলাইনে কেনাবেচায় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কমানোর দাবি করেছেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেছেন, বেশি ভ্যাটের কারণে অনলাইনে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা অনলাইন বাজার সম্প্রসারণে বাধা। সরকার এ ভ্যাট কমালে এ খাত যেমন সম্প্রসারণ হবে, তেমনি আসবে নতুন বিনিয়োগ। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। ফাহিম মাশরুর বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সিইও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি। সম্প্রতি সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামো অনুযায়ী অনলাইনে যে পণ্য এক হাজার টাকায় বিক্রি হয় তাতে সরকারকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হয়। এর মধ্যে পণ্যের দামে ভ্যাট ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ টাকা। সরবরাহ চার্জে ভ্যাট ১৫ শতাংশ। ঢাকার মধ্যে সাধারণত ১০০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ১৫০ টাকা। যদি ঢাকার বাইরে সরবরাহ হয় তাহলে ২২ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। উৎসে কর দিতে হয় ৩ শতাংশ করে, অর্থাৎ ৩০ টাকা। আর কোম্পানিগুলোর বিক্রির ওপর নূ্যনতম আয়কর আছে দশমিক ৬ শতাংশ। এতে কর হয় ৬ টাকা। সব মিলিয়ে ১০৮ টাকা কর দিতে হচ্ছে। একই পণ্য দোকানদাররা বিক্রি করলে কোনো বাড়তি খরচ তাদের লাগছে না। বেশি করের কারণে অনলাইনে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতাকে ডেলিভারি বাবদ খরচ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন অনলাইনে কম দামে পণ্য বিক্রি করা যায়। এ ধারণা ভুল। যারা সৎ এবং আইন মেনে ব্যবসা করছে তাদের খরচ বেশি। অনলাইনে কেনাবেচা না বাড়ার মধ্যে পণ্যের বাড়তি দাম অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বাজার বাড়ছে না। এজন্য অনলাইন বিক্রিতে ভ্যাট প্রত্যাহার কিংবা কমানো উচিত। এতে নতুন করে প্রতি বছর বাজার বড় হবে ৫০ শতাংশ হারে। নতুন উদ্যোক্তারা আসবেন, কর্মসংস্থান হবে। ফেসবুক পেজে যারা ব্যবসা করছেন তারাও আসবেন। তিনি বলেন, ই-কমার্স থেকে সরকার বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অনলাইনে বেচাকেনায় ভ্যাট ছাড় দিলে মোট রাজস্ব কমবে না। পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়বে। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব সংগ্রহ ঠিক থাকবে। ফাহিম মাসরুর আরও বলেন, বর্তমানে পণ্যের সরবরাহ খরচ অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে ২০০, ৫০০ বা এক হাজার টাকার পণ্যে ১০০ বা ১৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জ দিতে হয়। ক্রেতার কাছে এটি বাড়তি খরচ মনে হয়। ফলে ই-কমার্সের বাজার বাড়ানোর জন্য ডেলিভারি চার্জ কমানো দরকার। সেজন্য সরকারের ডাক বিভাগকে কার্যকর করা যেতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি কম। দ্রুত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা দরকার। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় সহজ ইন্টারনেট প্রাপ্তির জন্য ব্রডব্যান্ড বিস্তৃত করা দরকার। তিনি বলেন, এখনও ই-কমার্স শহরভিত্তিক। মোট অর্ডারের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ আসে ঢাকা শহরের ক্রেতার কাছ থেকে। অন্যান্য শহর ও গ্রামাঞ্চলে ই-কমার্স ছড়িয়ে দিতে সহজ ইন্টারনেট প্রাপ্তি ও পরিবহন খরচ কমানো জরুরি। এ ছাড়া ই-কমার্স থেকে মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা দরকার। বিশেষ করে মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়া, সময়মতো পণ্য পাওয়া নিশ্চিত করা জরুরি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ
5
গত অর্থবছর আবুল খায়ের গ্রুপ ৭৮ লাখ টনেরও বেশি পণ্য আমদানি করেছে। তাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু হয় আবুল খায়ের গ্রুপের। টোব্যাকো খাতের ব্যবসা দিয়ে গ্রুপের গোড়াপত্তন করেন উদ্যোক্তা আবুল খায়ের। ১৯৬৪ সালে আমদানি বাণিজ্যে যুক্ত হন তিনি। এরপর তাঁর উত্তরসূরিরা নতুন নতুন কারখানা গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে টোব্যাকো ছাড়াও সিমেন্ট, ঢেউটিন, রড, সিরামিক ও খাদ্যপণ্য খাতে ব্যবসা রয়েছে গ্রুপটির। সিমেন্ট, ঢেউটিন, রড ও গুঁড়ো দুধের বাজারে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি আবুল খায়ের। চা খাতেও দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান রয়েছে গ্রুপটির। শাহ্ সিমেন্ট, গরু মার্কা ঢেউটিন, একেএস স্টিল, মার্কস গুঁড়ো দুধ ও সিলন ব্র্যান্ডের নামে গ্রুপটির পণ্য বাজারজাত হচ্ছে। বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে আবুল খায়ের গ্রুপ বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো সম্প্রসারণ করছে। পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে গ্রুপটি। রড তৈরিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস নিয়ে এসেছে গ্রুপটি। সিমেন্ট উৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) স্থাপন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির। সাক্ষাৎকার এককভাবে বেশি রাজস্ব দিচ্ছে আবুল খায়ের গ্রুপ জামাল উদ্দিন মজুমদার, মুখপাত্র, আবুল খায়ের গ্রুপ আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগ বেশি ভারী শিল্প খাতে। এসব শিল্প খাতের কাঁচামাল প্রায় আমদানিনির্ভর। মূলত, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই এসব কাঁচামাল আমদানি হয়। সমুদ্রবন্দর ছাড়াও স্থলবন্দর দিয়েও কিছু পণ্য আমদানি করা হয়। ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রুপের কাঁচামাল ও পণ্য আমদানি হয়। প্রতিবছর কাস্টম হাউসে পণ্য আমদানিতে এককভাবে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব প্রদান করছে আবুল খায়ের গ্রুপ। গত অর্থবছরে শত কোটি ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। তাতে কাস্টম হাউসে রাজস্ব প্রদান করা হয়েছে ২ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। আর মূল্য সংযোজন করসহ সব খাতে সরকারকে দেওয়া রাজস্ব সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবার। আবুল খায়ের গ্রুপের বিভিন্ন পণ্য দেশীয় বাজারে শীর্ষে রয়েছে। দেশীয় বাজারে জোগান দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে গ্রুপটির পণ্য। বিশেষ করে ঢেউটিন রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ৩৪টি দেশে। বর্তমানে গ্রুপে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। দেশের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপটি কারখানা সম্প্রসারণ করছে। তাতে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
0
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আইভী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রার্থী উল্লেখ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেছেন, আমি যখন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে, তখন নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, 'আমার আইভীর কী খবর'। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, নির্বাচন নিয়ে কারো মনে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক এইসব কথা বলেন। এই সভায় বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ আর সাতজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানক বলেছেন, আমরা এখানে এসেছি নেত্রীর মেসেজ পৌঁছে দিতে। এই নির্বাচনটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে যদি কোনো অঘটন ঘটে তাহলে একজনও ছাড় পাবেন না। কী হচ্ছে, তার সব খবরই কিন্তু নেত্রীর কাছে রয়েছে। সুতরাং এখনো সময় আছে, সব বাজে চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করুন। তিনি আরো বলেন, আমি জাহাঙ্গীর কবীর নানকও কিন্তু অপরিহার্য নই। সুতরাং এত অহঙ্কার দেখাবেন না। মনে রাখবেন, অহঙ্কার পতনের মূল। সব খবরই নেত্রী রাখেন। তিনি স্নেহ করেন বলেই আমরা এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু তিনি যখন কঠোর হোন, তখন তিনি কাউকেই ছাড় দেননা। সুতরাং এই নির্বাচনে যদি আপনারা কেউ কোনো কারসাজি করার চিন্তাও করে থাকেন, সেখান থেকে সরে আসুন, এখনো সময় আছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি অংশকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, আইভী একজন পরিচ্ছন্ন নেত্রী। সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছেই তার অসম্ভব রকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সবাই তাকে ভালো জানেন। একমাত্র আপনারাই বলেন, 'আইভী ভালো না'। এর পেছনে কী কারণ, তা কিন্তু নেত্রী জানেন। সুতরাং নিজেকে অপরিহার্য মনে করে এত অহংকার দেখাবেন না। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রায় ৬০ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকার সাভারে তুরাগ নদে আরও একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। মৃত ডলফিনটির ওজন প্রায় ৫ মণ। এর আগে রবিবার বিকেলে তুরাগ নদে ভেসে ওঠে প্রায় ৫ ফুট লম্বা ও ৩ মণ ওজনের একটি মৃত ডলফিন। সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে তুরাগ নদের আশুলিয়া ফেলাঘাট এলাকায় মৃত শুশুকটি দেখতে পেয়ে তীরে উঠিয়ে আনেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, "গতকাল বিকেলে তুরাগ নদের আশুলিয়া বাজার ঘাটে মাছ ধরছিলেন কিছু জেলে। এ সময় বিশাল আকারের ডলফিনটিকে মৃত ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে জালের মাধ্যমে ডলফিনটি তীরে তুলে আনা হয়।" তিনি আরও বলেন, "ডলফিনটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। মূলত নদীর পানিতে শিল্প কারখানার নির্গত মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত থাকায় ডলফিনটি মারা গেছে। তবে এর আগে কখনও এই নদীতে ডলফিন দেখা যায়নি। তাই মৃত ডলফিনটিকে দেখতে তীরে অনেক মানুষ ভিড় করে। পরে রাত ১২টার দিকে কে বা কারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি মাইক্রোবাসে ডলফিনটি নিয়ে চলে যায়।" তিনি আরও বলেন, "এরপর আজ দুপুরে তুরাগ নদে আশুলিয়ার ফেলাঘাট এলাকায় মৃত আরেকটি শুশুক ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে আমি জেলেদের সহায়তায় শুশুকটি তীরে উঠিয়ে আনি।" আরও পড়ুন-তুরাগ নদে ভেসে উঠল ৫ ফুট লম্বা 'ডলফিন' সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, "গতকাল পাওয়া মৃত শুশুকটির ছবি দেখে বুঝেছি, এটা গ্যাংগিজ ডলফিন বা বাংলায় হলো গাঙ্গের শুশুক। এটা পদ্মা ও যমুনা নদীতে এর অভয়াশ্রম ছিলো এক সময়। মূলত এরা স্তন্যপায়ী জাতীয় প্রাণী। তবে এই অঞ্চলে গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এরকমের শুশুক দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি। তবে বুড়িগঙ্গাতে ওই সময় দেখা যেত। হয়ত কোনো ভাবে বুড়িগঙ্গাতে এসেছিলো। তিনি আরও বলেন, "গতকাল রাতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কে বা কারা মাইক্রোবাসে শুশুকটি নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। যেটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন গবেষকের মাধ্যমে গবেষণার জন্য পাঠানোর কথা ছিলো। তবে আজকের পাওয়া শুশুকটি আমাদের নজরদারিতে আছে। আমরা ওই গবেষকের কাছে শুশুকটি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আমরা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় ওখানে যেতে পারছি না। তবে জাবির ওই গবেষক ওখানে যাবেন। তার মাধ্যমেই জানার চেষ্টা করছি কেনো মৃত শুশুকটি তুরাগে ভেসে উঠছে। বিষয়টা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আমরা।"
6
সুদানের ক্ষমতায় আবদুল্লাহ হামদুককে ফেরানোর দিনেই দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। রোববার সুদানের উম্ম দুরমান শহরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদানিজ ডক্টরস। এর মধ্য দিয়ে সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জন। রোববার সামরিক প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান গত ২৫ অক্টোবর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুককে পুনরায় দায়িত্বে ফেরাতে এক চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, আবদুল্লাহ হামদুক আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য টেকনোক্রেট মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকার পরিচালনা করবেন। চুক্তিতে একইসাথে সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়। এদিকে সামরিক প্রধানের সাথে আবদুল্লাহ হামদুকের এই চুক্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিশাল একটি দল। তারা সামরিক শাসনের পরিবর্তে পূর্ণমাত্রায় বেসামরিক প্রশাসন গঠনের দাবি জানান। সুদানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অন্যতম বৃহত্তম সংগঠক সুদানিজ প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) এই চুক্তিকে 'বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছে। অপরদিকে অভ্যুত্থানের আগে সামরিক-বেসামরিক যৌথ নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ থাকা বেসামরিক জোট ফোর্সেস অব ফ্রিডম অ্যান্ড চেইঞ্জ (এফএফসি) জানিয়েছে, তারা সামরিক বাহিনীর সাথে কোনো চুক্তির স্বীকৃতি দেবে না। এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, 'আমরা আমাদের স্পষ্ট ও পূর্বে ঘোষিত অবস্থান নিশ্চিত করছি : ক্ষমতা দখলকারীদের সাথে কোনো আপস, অংশীদারি ও বৈধতা নয়।' এদিকে রোববার পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারেই রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন শহরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা 'হামদুক বিপ্লবকে বিক্রি করেছে' বলে স্লোগান দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে আবদুল্লাহ হামদুক জানিয়েছেন, রক্তপাত বন্ধ করার জন্যই তিনি এই চুক্তি করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, 'সুদানিদের রক্ত মূল্যবান। আসুন আমরা রক্তপাত বন্ধ করি এবং তারুণ্যের শক্তিকে গঠন ও উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করি।' সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের অংশীদারমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সভরেইন কাউন্সিলের উভয়পক্ষের মতবিরোধের জেরে প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুকসহ বিপুল বেসামরিক নেতৃত্বকে ২৫ অক্টোবর সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান পূর্ণ ক্ষমতা দখল করেন। সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে 'অভ্যুত্থান' হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুদানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে জেনারেল বুরহান তার এই পদক্ষেপকে অভ্যুত্থানের বদলে 'গণতান্ত্রিক উত্তরণকে শোধরানোর' পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে বিশ্বজুড়ে সুদানে সামরিক বাহিনীর নিন্দা জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক দেশটিতে প্রদত্ত সহায়তা স্থগিত করে। এছাড়া আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সংস্থাটিতে সদস্য পদ স্থগিত করে। পরে ১১ নভেম্বর সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন পরিচালনায় নিজের নেতৃত্বে নতুন সভরেইন কাউন্সিল গঠনের ঘোষণা দেন জেনারেল বুরহান। এর আগে সেপ্টেম্বরে সুদানে এক সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়। ২০১৯ সালে সুদানের সাধারণ জনতার বিক্ষোভের জের ধরে সামরিক বাহিনী দেশটির দীর্ঘকালীন শাসক ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তখন থেকে সামরিক ও বেসামরিক যৌথ নেতৃত্বের অন্তর্বর্তীকালীন সভরেইন কাউন্সিল সুদানের শাসন পরিচালনা করে আসছিলো। ২০২৩ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা
3
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব ধনীরাম গ্রামের হাজারো গ্রামবাসী অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্ন জাগানো একটি সেতু পেয়েছিল। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই তা উল্টে গিয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে বিরতিহীনভাবে ভোগান্তি সহ্য করে ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় খাল পারাপার হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধনিরাম আবাসনগামী রাস্তার খালের ওপর ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এ কাজটির তদারকি করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটিএম দেলোয়ার হোসেন টিটু সেতুটি নির্মাণ করেন। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই তিন মাসের মধ্যে সেতুটি দেবে গিয়ে উল্টে যায়। পরে বন্যার পানির চাপে সেতুর সংযোগ সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মূলত নিম্নমানের সামগ্রী আর নির্মাণ ত্রুটির কারণে সেতুটি ভেঙে যায়।এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, সেতুটি উল্টে যাওয়ার প্রায় পাঁচ বছর হলেও বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে জনভোগান্তির অবসান হয়নি।পূর্ব ধনীরাম গ্রামের বাসিন্দা মঈনুল বলেন, 'মেলা দাবি দাওয়ার পর হামরা একটা ব্রিজ পাইছলং, মনে করছি কপাল বোধ হয় ঘুরিল (ভাগ্য প্রসন্ন হলো) ! কিন্তু ব্রিজ বানার (নির্মাণের) তিন মাস না যাইতে উল্টি পড়ছে। ব্রিজ নোয়ায়, হামার কপালে উল্টি গেইছে (ভাগ্য আবার আগের মতো খারাপ হয়েছে)। যে ভোগান্তি সেই ভোগান্তিতে আছে।' পূর্ব ধনীরাম গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, 'চরাঞ্চলের মানুষ এমনিতেই অবহেলিত। পূর্ব ধনীরাম আবাসনের ৯০ পরিবারসহ বাঘ খাওয়ার চরের কয়েক শত পরিবারকে বাজার করতে ওই খালের ওপর দিয়ে যেতে হয়। বছরের আট মাস খালটিতে পানি থাকায় ড্রামের ওপর চাটাই দিয়ে ভেলা বানিয়ে অসুস্থ রোগীসহ গ্রামবাসীরা চলাফেরা করেন। অনেক দাবি দাওয়ার পর একটি সেতু পেলেও কোনো সুবিধা গ্রামবাসী নিতে পারেনি।এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, সেতু না থাকার কারণে এলাকার লোকজন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ সব জানার পরও কোনো সমাধান হয়নি। ব্রিজটি নির্মাণের পর ভেঙে গেলে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক দফা তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষেরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ড্রামের ভেলায় খাল পারাপার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ওই স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই।এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, 'ওই সেতু নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল না। সেতুর বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ওই খালের ওপর যে দৈর্ঘ্যের সেতুর নির্মাণ করতে হবে তা আমাদের আওতায় পড়ে না। অন্য কোনো সংস্থাকে এটা করতে হবে। দুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।'
6
ডেইলি মেইল শিরোনাম করেছে 'দি লাকি ওয়ানস।' মার্কিন নাগরিকদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিতে দেশটির বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান নেমেছিল কাবুল বিমানবন্দরে। কিন্তু তাতে ৬৪০ আফগান চড়ে বসে। সোমবার দিনভর কাবুল বিমানবন্দরে আফগানদের হাহাকারের মধ্যে ওই শিরোনামকেই যুৎসই মনে করেছে ডেইলি মেইল। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মার্কিন পরিবহন বিমানে বোঝাই হওয়া শত শত আতঙ্কগ্রস্ত আফগান উদ্বাস্তুর প্রথম ছবিগুলো আসতে শুরু করেছে। রাজধানী কাবুলসহ প্রায় পুরো আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার প্রেক্ষাপটে এসব আফগান পালাতে চাচ্ছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কাবুল থেকে অন্তত দুটি সি-১৭ পরিবহন বিমান উড়াতে পেরেছে। সোমবার রাত ও চলতি সপ্তাহের বাকি সময়ে আরো বিমান লোকজনকে পরিবহন করবে। রোববার প্রথম মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি সি-১৭ কাবুল থেকে যাত্রী নিয়ে কাতার যায়। বিমানটির নম্বর ছিল আরসিএইচ ৮৭১।বিমানটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেয়ার সময় আতঙ্কগ্রস্ত শত শত আফগান নাগরিক দৌড়ে যায় বিমানের দিকে। তারপর তারা র্যাম্পে ওঠে বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে। ডিফেন্স ওয়ানের হাতে আসা একটি ছবিতে বিমানে কী ঘটেছিল, তা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। ওই বিমানে ১৫০ জন সৈন্য ও এক লাখ ৭১ হাজার পাউন্ড মালামাল আনায়াসে পরিবহন করা যায়।কিন্তু তাকে চড়ে বসে কয়েকগুণ বেশি লোক। শুরুতে একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অডিওতে জানান, বিমানে ৮০০ আরোহী আছেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাদের সংখ্যা ৬৪০। উদ্বাস্তুরা, তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, দৌড়ে অর্ধেক খোলা র্যাম্পে ঢুকে পড়ে। তারপর তারা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের নামানো অসম্ভব দেখে বিমানের ক্রু রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানটি যখন তার গন্তব্যে অবতরণ করে, তখন আরোহী ছিল ৬৪০ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক। কাবুল বিমানবন্দরে গুলিবর্ষণ, পদদলিত ও অন্যান্য বিশৃঙ্খলায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। বিমানবন্দরটি এখনো মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
3
জুম ভিডিও কমিউনিকেশনস ইনকরপোরেশনের প্রবৃদ্ধি কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।মহামারি পরিস্থিতির কারণে গত বছর এই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বেড়ে যায়। বাড়তি চাহিদার কারণে এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো ছিল। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় এর ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের চাহিদা কমছে, যার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারেও। সর্বশেষ গতকাল সোমবার এর শেয়ারদর প্রায় ৬ শতাংশ কমে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকে জুমের রাজস্ব আয় ছিল ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার। আগের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৪ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি হার ছিল ৩৬০ শতাংশ।মহামারিতে যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখেছে, তার অন্যতম জুম। কিন্তু এবার তারা একটু ভিন্ন চিত্রই দেখছে। সোমবার তাদের শেয়ার দর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমে ২২৭ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান সিসকোর কনফারেন্সিং টুল ওয়েবেক্স এবং মাইক্রোসফটের টিমস বাজারে আসার পর জুম কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই দুই প্ল্যাটফর্ম এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ অবস্থায় জুম এখন এর ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে বড় পরিসরের কনফারেন্স আয়োজনের সুবিধা সম্পন্ন ইভেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ক্লাউড কলিং সেবা জুম ফোন, প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সভার জন্য জুম রুমসের মতো বিভিন্ন ধরনের নতুন অফার চালু করেছে।এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংকার ও বিশ্লেষকেরা এই বলে সতর্ক করছেন যে, কল সেন্টার সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ফাইভ-নাইন ইনকরপোরেশন কিনতে ১ হাজার ৪০৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এর পর থেকে তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।তারপরও জুম শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ১১ সেন্ট মুনাফা থাকছে বলে জানিয়েছে, যা ওয়ালস্ট্রিটের প্রাক্কলন থেকে বেশি। ওয়ালস্ট্রিটের প্রাক্কলনে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১ ডলার ৯ সেন্ট হবে বলে জানানো হয়েছিল। জুমের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় ৪০৮ কোটি ডলার হবে। আগের বছর ৪০১ কোটি ডলার হয়েছিল।
11
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ তিন নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে আত্মসমর্পণমূলক জামিনের আবেদন করেন তারা। এরপর বিচারক ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তা মঞ্জুর করেন। অপর দুই নেতা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার আদালতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ ও হান্নান ভূঁইয়া প্রমুখ। বাদীপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের এ আদেশ দেন। শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, এ মামলায় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। হাইকোর্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোন অভিযোগ নেই। তাছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ, তারপরও আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। আমরা আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করছি। এর আগে হাইকোর্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। সে অনুযায়ী তারা আত্মসর্মর্পণ করেন। প্রসঙ্গত, গত ৫ আগষ্ট বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই তিনজন ছাড়া বিএনপির আরও নেতা এ মামলার আসামি। গত ২৩ জুলাই বুয়েটের শিক্ষক হাফিজুর রহমান রানা রেজিস্ট্রিযোগে বাদীকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে আগামী ১৫ আগষ্ট আইএস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
9
ফেনীতে শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক কর্মশালা শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে ফেনী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. গোলাম জাকারিয়া। যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মারুফ নেওয়াজ। জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল রাব্বী মনিরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক সাহিদা সুলতানা ও নাফিস আহম্মেদ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
মুন্সিগঞ্জ থেকে গরু কিনতে চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন একই পরিবারের চারজন। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে মাওয়া থেকে আলসানি পরিবহনে ওঠেন তাঁরা। বাসের মধ্যে তাঁরা হকারের শসা খেয়ে অজ্ঞান হন। পরে তাঁদের সঙ্গে থাকা গরু কেনার ৮ লাখ টাকা খোয়া যায়।ভুক্তভোগীরা হলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানাধীন বারুইখালী গ্রামের মৃত শেখ হায়াত আলীর ছেলে শেখ সাহাবদ্দীন সেন্টু (৪৫), তাঁর ছেলে শেখ নিবিড় (২২), ভাই শেখ হারেজ আলী (৫০) এবং চাচাতো ভাই দিদার হোসেন (৫০)।শেখ নিবিড় বলেন, 'খামারের জন্য প্রায়ই কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি হাটে গরু কিনতে আসি। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাওয়া থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে চারজন আলসানি পরিবহনে উঠি। পথের মধ্যে বাসে কাটা পেয়ারা ও শসা বিক্রেতা উঠলে সবাই তা খাই। এরপরই আমরা অচেতন হয়ে পড়ি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আমারসহ দুজনের চেতনা ফিরে। আমাদের সবগুলো ব্যাগ ও মোবাইল আছে, শুধু গরু কেনার ৮ লাখ টাকা নেই।'চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, 'কয়েকজন ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় চারজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তাঁরা বাসের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছে বলে জানতে পারি। দুজনের চেতনা ফিরেছে। অন্য দুজনকে জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে। তাঁরা শঙ্কামুক্ত।'এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, 'বাসের মধ্যে পেয়ারা ও শসা খেয়েছিলেন ভুক্তভোগী চারজন। এরপর তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। আলসানি পরিবহনের সুপারভাইজার তাঁদের বড় বাজার নামিয়ে দিলে পুলিশ চারজনকে সদর হাসপাতালে নেয়। তাঁরা নিজেদের খামারের জন্য গরু কিনতে চুয়াডাঙ্গা আসছিলেন। চারজনের মধ্যে দুজন কথা বলতে পারলেও তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ নন। সুস্থ হলে তাঁদের কাছ থেকে কত টাকা খোয়া গেছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে।'
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাশেদ উল্লাহ খানকে (৪৫) আটক করেছে র্যাব। সোমবার (১০ জানুয়ারি) রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করে। আটক রাশেদ পৌরশহরের দেবগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত হাবিব উল্লাহ খানের ছেলে। র্যাব জানায়, ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রমাণিত হওয়ায় রাশেদকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
6
তিনদিনের সফরে সোমবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানাবেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জয়শঙ্করের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তার সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া আগামী অক্টোবরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়েও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এটা প্রথম সফর হলেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের গত জুনে তাজিকিস্তানে সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে অমিমাংসিত তিস্তাসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন ড. মোমেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন জয়শঙ্কর। সূত্র আরও জানায়, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্যই বাংলাদেশ সফর করবেন জয়শঙ্কর। তার সফরে অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ, কানেক্টিভিটি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। সফর শেষে আগামী ২১ আগস্ট নয়াদিল্লি ফিরে যাবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ২০১৪ সালে সুষমা স্বরাজ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর একই বছরের ২৫ জুন প্রথম বিদেশ সফরে ঢাকায় আসেন। ড. এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে গত জানুয়ারিতে প্রথম বিদেশ সফর করেছেন।
6
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খাঁন শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পিএস কয়েছ মিয়া। কয়েছ মিয়া বলেন, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সোমবার মোকাব্বির খানের বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তিনি দুপুরে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর করোনাভাইরাস আছে কিনা তা জানার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে। তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মোকাব্বির খান। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে উল্লেখ করে প্রথমদিকে ঐক্যফ্রন্ট সংসদে অংশ না নিলেও তিনিই ঐক্যফ্রন্টের প্রথম এমপি যে সংসদে শপথ নিয়েছিলেন।
6
এত দিন আমরা যা জানতাম, তার চেয়েও ১৪ শতাংশ বেশি প্রজাতির গাছ আছে পৃথিবীতে। সম্প্রতি এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালেয়র একদল গবেষক দাবি করেছেন, আনুমানিক ৭৩ হাজার ৩০০ প্রজাতির মধ্যে এখনো ৯ হাজার ২০০ প্রজাতির গাছ আবিষ্কৃতই হয়নি। তাঁদের দাবি, বেশির ভাগ বিরল প্রজাতির গাছ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনে রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বন উজাড়ের কারণে এসব প্রজাতির গাছ দ্রুতই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সারা পৃথিবীর ১০ হাজারেরও বেশি বনভূমির ১ কোটি গাছের ওপর গবেষণা করে এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁরা।গবেষকেরা বৃক্ষের প্রজাতির সম্ভাব্য সংখ্যার ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য পরিসংখ্যানগত কৌশল ব্যবহার করেছেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, খাদ্য, কাঠ ও জীবন বাঁচানো ওষুধের জন্য আমাদের গাছ দরকার। পৃথিবীর বাতাস ভরে যাচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডে। বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেওয়ার জন্য গাছ দরকার। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গাছ প্রয়োজন। গবেষক দলের প্রধান ড. পিটার রিচ বিবিসিকে বলেন, 'এই গবেষণার ফলাফল বিশ্বব্যাপী বন জীববৈচিত্র্যের দুর্বলতাকেই তুলে ধরেছে। বিশ্বের জীববৈচিত্র্য কোথায় সবচেয়ে বেশি হুমকির মধ্যে রয়েছে তা বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে এই গবেষণা। আমরা দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে উষ্ণ বনভূমি পেয়েছি এবং এসব বনভূমিতে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির অনেক গাছ। আশা করি, আমাদের এই গবেষণার ফলাফল ভিবষ্যৎ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে।'নাম না জানা বিরল প্রজাতির সবচেয়ে বেশি গাছ পাওয়া গেছে দক্ষিণ আমেরিকার ম্যানেগ্রোভ বনাঞ্চলে। ইউরেশিয়া অঞ্চলে পাওয়া গেছে ২২ শতাংশ, আফ্রিকায় ১৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ১৫ শতাংশ এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে ১১ শতাংশ। এর মধ্যে অন্তত ৪৩ শতাংশ বৃক্ষ ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে।গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে বন উজাড়ীকরণ ঘটছে মূলত তিনটি কারণে। প্রথম কারণটি হলো পশ্চিমা দেশগুলোতে গরুর মাংস, পাম তেল ও সয়ার ব্যবহার বেড়ে গেছে। দ্বিতীয় কারণটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং তৃতীয় কারণ দাবানল।ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ১৪০জন গবেষক এই গবেষণাকার্য পরিচালনা করেন।
7
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে মস্কো। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সোমবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বিবিসির। এক অনুষ্ঠানে ল্যাভরভ বলেন, এখন মস্কোর লক্ষ্য হচ্ছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে 'বিশেষ সামরিক অভিযান' শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো 'রুশফোবিয়া' ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি পশ্চিমারা সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পরিবর্তে কিছু দিতে চায় আমাদের জন্য তা জরুরি কিনা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যদি পশ্চিমা দেশগুলো তাদের মন পরিবর্তন করে এবং সহযোগিতার কিছু ধরন প্রস্তাব করে, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব। তিনি আরও বলেন, রাশিয়াকে পশ্চিম থেকে আসা 'সরবরাহের ওপর যে কোনো উপায়ে নির্ভরশীল হওয়া বন্ধ করতে হবে'। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে। এর পর থেকেই দেশটিকে থামাতে পশ্চিমা দেশগুলো নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
3
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঘটনায় দেশটিতে আবারও ব্যাপক মানবাধিকার বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। গত ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুস।তিনি বলেছেন, 'মিয়ানমারের এই অংশের (উত্তরাঞ্চল) লোকজন আরও ব্যাপক নৃশংস অপরাধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাদেরও প্রস্তুত থাকা উচিত।'স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষকে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করে অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, দেশটির উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছেন তিনি।অনুসন্ধানে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে অ্যান্ড্রুস বলেছেন, 'দেশটির জান্তার এই কৌশল ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর গণহত্যা চালানোর আগের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করিয়ে দেয়।'২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা এবং বৈধতা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন টম অ্যান্ড্রুস। গত সপ্তাহে দেশটির বন্দীদের মুক্তির বিষয়টি 'বৈশ্বিক চাপের কারণে হয়েছে' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
6
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন শুনানি আজ বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আশায় আছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকাল থেকেই সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ এজলাসে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। উচ্চ আদালত ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
নান্দাইলে পানিতে ডুবে মো: শামীম (২৫) নামের এক যুবকেরর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোর ৬টায় মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শামীম উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের মো: এরশাদ মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো: শামীম ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে প্রস্রাব করতে যায়। পরে পাশের নালায় পড়ে ডুবে যায়। মৃত শামীমের মা ছফুরা খাতুন নালার পাশে গেলে শামীমকে পানিতে ডুবে থাকা দেখতে পায়। পরে নালা থেকে শামীমের লাশ উদ্ধার করে। পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ছেলেটি অত্যন্ত ভালো ছিলেন। মৃগী রোগ থাকায় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
6
আসলে স্লিভলেস বা হাতা কাটা শার্ট বলা যেতে পারে। সেটিই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে স্যান্ডো গেঞ্জি নামে পরিচিত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। গরমকালে শরীরের প্রধান পোশাককে ঘামে ভেজা থেকে রক্ষা করতে এই অন্তর্বাস পরার চল কিন্তু খুব বেশি দিন আগে শুরু হয়নি। অনেকে মনে করেন, ব্রিটিশ আমলেই ভারতবর্ষে এই হাতাকাটা বিশেষ পোশাক পরার চল শুরু হয়। তবে এমন নামের পেছনে এক বিখ্যাত লোকের নাম জড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি বিদেশি হলেও এক বিশেষ কারণেই ওই সময় ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।এর আগে স্লিভলেস শার্ট নিয়ে দুটি কথা বলে নেওয়া যাক। এটি মূলত পশ্চিম থেকেই পরবর্তীতে প্রাচ্যে এসেছে। এ ধরনের পোশাকগুলোর শৈলী সাধারণত লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের পোশাক আন্ডারশার্ট বা অন্তর্বাস হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আবার ক্রীড়াবিদেরা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড এবং ট্রায়থলনের মতো খেলায় পরে থাকেন।যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পোশাক সাধারণত ট্যাংক টপ এবং ওয়াইফ বিটার (বউ পেটানো লোক), গিনি টি বা ডাগো টি নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে ইতালীয় বংশোদ্ভূত জাতিগোষ্ঠীকে 'গিনি' ও 'ডাগো' বলে তাচ্ছিল্য করা হতো। বিশেষ করে বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী শ্রমিকেরা সাধারণত এ ধরনের পোশাক পরতেন বলেই এমন নাম। আর এখান থেকেই মার্কিনদের ধারণা জন্মেছিল যে, এই পোশাক শুধু অভিবাসী এবং বিশেষ করে ইতালিয়ান-আমেরিকানরাই শুধু পরে। আর চিরাচরিত ধারণা হলো, শ্রমিক শ্রেণি বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট একটা জাতিগোষ্ঠী থেকে এসেছে, তারা সাধারণত সহিংস হয়। সারা দিন খেটেখুটে ঘরে এসে বউ পেটায়। এখান থেকেই আমেরিকানরা তাদের পোশাকের নাম দিয়েছে ওয়াইফ বিটার।ঝটপট রোগা হবেন যেভাবেআরেক নাম সিঙ্গলেট। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও হাওয়াইয়ের কিছু অংশে এটি ব্যবহৃত হয়।অনেক বলেন, গেঞ্জির উৎস ইংরেজি বা । ইংল্যান্ডের গুয়েরেন্সি দ্বীপপুঞ্জে জেলেরা নরম ও আরামদায়ক এক ধরনের পোশাক পরতেন। বৃষ্টি ও নোনা জলের ছাঁট থেকে বাঁচতে সহায়ক এই পোশাকের নাম ওই দ্বীপপুঞ্জের নামানুসারে প্রচলিত হয়। ব্রিটিশ নৌসেনারাও এই পোশাক ব্যবহার করতেন।ব্রিটিশদের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে এই ঔপনিবেশিক অন্তর্বাসের আগমন ঘটেছে বলে ধারণা করা যায়। সেই সূত্রে ঢুকে গেছে বাংলা ভাষার শব্দসম্ভারে। কিন্তু গেঞ্জির সঙ্গে আমরা আবার স্যান্ডো বসাই।ফিলিপাইনে যখন এটি শার্টের নিচে পরা হয়, তখন নাম হয় 'স্যান্ডো'। ফিলিপিনো ভাষায় স্যান্ডো মানেই ঊর্ধ্বভাগের অন্তর্বাস। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একে বলে স্যান্ডো-গেঞ্জি। ভারতের অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যেও এটিকে বলে স্যান্ডো-গেঞ্জি। ভারতবর্ষে এটি একটি ফতুয়ার মতো পোশাক হিসেবে পরিচিত। এই স্যান্ডো গেঞ্জি ঘাম শোষণকারী এবং ওপরের পোশাকের বাইরের স্তর যেন শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আন্ডারশার্ট হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।ফ্রান্সে এই পোশাক মার্সেল আইজেনবার্গের নামে মার্সেল বলে ডাকা হয়। এই ব্যক্তি উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম প্যারিসের কুলিদের জন্য ব্যাপকভাবে এই পোশাকের উৎপাদন শুরু করেছিলেন। এটি আবার 'দিবাদো' নামেও পরিচিত। এর অর্থ ডক শ্রমিক, কুলি বা জাহাজ ঘাটের কুলি। কিন্তু ফরাসি ভাষাভাষী বেলজিয়ামে এটিকে শুধু সিঙ্গলেট বলা হয়। কিন্তু বাংলাতে এটি 'স্যান্ডো গেঞ্জি' নাম পেল কীভাবে?এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত জার্মান বডিবিল্ডার ইউজেন স্যান্ডোর নাম। ১৮৬৭ সালে তাঁর জন্ম। মারা গেছেন ১৯২৫ সালে। জার্মানির কনিগসবার্গে জন্মগ্রহণকারী স্যান্ডো ১০ বছর বয়সে ইতালি সফরের সময় শরীরচর্চায় আগ্রহী হন। সেই সময়ের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে বিভিন্ন শোয়ে অংশ নিয়েছেন। বলা হয়, ১৯০১ সালে তিনিই প্রথম বিশ্বের বৃহত্তম বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। লন্ডনের রয়্যাল আলবার্ট হলে সেই আয়োজনে লেখক আর্থার কোনান ডয়েল এবং ক্রীড়াবিদ ও ভাস্কর চার্লস লয়েস-উইটেওরঞ্জের সঙ্গে বিচারকের আসনে ছিলেন স্যান্ডো।ইন্টারনেটের 'লোডশেডিং' মোকাবিলার সেরা ১০ প্রস্তুতিস্যান্ডোর বাইসেপস ছিল সাড়ে ১৯ ইঞ্চি! ঊরু ছিল বিখ্যাত ব্রিটিশ রেসিং ড্রাইভার ও সাইক্লিস্ট ক্রিস হোয়ের সমান। তাঁর শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য বিষয় ছিল সিক্স প্যাক বডি। প্রশস্ত ছাতি, ৪৮ ইঞ্চি। ফুলালে হতো ৬২ ইঞ্চি। সেই সময়কার আদর্শ পুরুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মেয়েদের কাছে ছিলেন সেক্স সিম্বল।১৯০৫ সালে ভারত সফর করেন স্যান্ডো। বড় আয়োজন করে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানায় ভারতবাসী। অবশ্য এর আগে থেকেই ভারতে 'সাংস্কৃতিক নায়ক'-এ পরিণত হয়েছিলেন স্যান্ডো। কারণটা খুব সহজ, ওই সময় ভারতে জাতীয়তাবাদী আবেগ তুঙ্গে। স্যান্ডো হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় যোগের একজন আন্তর্জাতিক আইকন। আমেরিকান নৃতাত্ত্বিক জোসেফ এস অলটারের মতে, শরীরচর্চা হিসেবে আধুনিক যোগের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিটি হলেন স্যান্ডো।বিভিন্ন শোয়ে ইউজেন স্যান্ডো স্লিভলেস শার্ট বা গেঞ্জি পরতেন। সেটি এখনকার স্যান্ডো গেঞ্জিরই কাছাকাছি। ধারণা করা হয়, বাংলার মানুষ আদর করে তাঁর নামেই রেখেছে তাদের নিত্য পরিধেয় পোশাকের নাম 'স্যান্ডো গেঞ্জি'!তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, কটোন্যাবল, বিবিসিআরও পড়ুনচুল সাকল্যে ১০ গাছি, কী করবেন নরসুন্দর?ডিমের অপচয় আর কতআইকিইউতে আইনস্টাইনের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন মনরোরাশিয়ার নির্বাচনও 'সুষ্ঠু' হয়েছে
5
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষণ ২০-২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। গভীর সমুদ্র থেকে বেশিরভাগ মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর ও আলীপুর আড়ৎ ঘাটে এসেছে। এসব ট্রলারের জেলেরা দীর্ঘ দিন পর বাড়ি ফিরেছেন। অনেকে ট্রলার মেরামতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বছর জুড়ে ইলিশের আকাল থাকায় এর উপর নিষেধাজ্ঞা অনেকটা হতাশা প্রকাশ করেছে কয়েকজন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী। তবে অবরোধকালীন সময় নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যককে ৮৬ কজি করে চাল প্রণোদনা দিবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য বিভাগ। গভীর সমুদ্র থেকে ফেরা এফবি আব্দুল্লাহ-২ ট্রলারের মাঝি রহিম মিয়া জানান, সাগর তেমন মাছ নাই। তাই আগে ভাগেই ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরেছি। এফবি সোনালী-২ ট্রলারের মাঝি মোস্তফা মিয়া জানান, ৬৫ দিনর অবরোধকালীন সময় আমরা সাগর মাছ ধরা বন্ধ রাখলও পাশ্ববর্তী ভারতের জেলেেরা আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। তাই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় ভারতীয় জেলেদের আগ্রাসন রোধও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান এসব জেলেরা। কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি মো.আনসার উদ্দিন মাল্লা জানান, জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোসহ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় গভীর সাগর প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। যাতে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা এদেশের জল সীমানায় প্রবেশ করতে না পারে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, অবরোধের পর সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ার আশা প্রকাশ করছি। উপজেলায় ১৮ হাজার ৩০০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞাকালে এসব কর্মহীন জেলের কাছে দুই ধাপে ৮৬ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হবে।
6
রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় ছাত্রদলের ১৩ নেতাকর্মীর পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তখন সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর (এসিএমএম) আসাদুজ্জামান নূর। রিমান্ডে নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মী হলেন মাসুদ রানা, শফিকুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আলম, আতাউর রহমান, কবির হোসেন, মনোয়ার ইসলাম, আরিফুল হক, আনিচুর রহমান, খন্দকার অনিক, আবু হায়াত মো. জুলফিকার, আতিফ মোর্শেদ, রমজান, শাহিরাজ ও আহসান হাবিব ভূঁইয়া রাজু। এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতে বিএনপির ৪৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক পলাশ সাহ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয় মামলায়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে (পুলিশ অ্যাসল্ট) হত্যাচেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুর চালানো। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
শুক্রবার বিকেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলসদ্বীপের পাশে ঠাকুরান ও বিদ্যাধরীর সংযোগস্থলে ডিঙি নৌকায় বসেছিলেন তরুণ বদ্রু মল্লিক। ভাটার টানে পানি ধীরে ধীরে কমে আসছিল। বদ্রুর বাকি সঙ্গীরা চরে নেমে কাঁকড়া ধরছিলেন। হঠাৎ করে জঙ্গল থেকে বদ্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাণ্ড বাঘ পেছন থেকে বদ্রুর কাঁধে ক্রমাগত থাবা বসাতে থাকে। বাঘের নখের আঘাতে তখন বদ্রু মল্লিকের রক্তাত্ত অবস্থা। শিকারকে ঘাড়ে চাপিয়ে বাঘ তখন গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আর বদ্রু চেষ্টা চালাচ্ছে বাঘের থাবা থেকে নিজেকে বাঁচতে। হঠাৎ বাঘের গর্জনে হকচকিয়ে যান বদ্রুর সঙ্গীরা। ক্রমাগত বাঘের থাবায় ক্ষতবিক্ষত বদ্রু লড়তে লড়তে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। কাঁকড়া ধরার দলে ছিলেন বদ্রুর বাবা সুবলও। ছেলেকে বাঘে ধরেছে দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি তিনি। বদ্রুর বাবা-সহ ৬ জন নৌকায় থাকা লাঠি নিয়ে পাল্টা বাঘের দিকে ছুটে যায়। গভীর অরণ্যের দিকে তখন শিকার মুখে নিয়ে দৌড়চ্ছে বাঘ। বাঘের পিছু পিছু হাতে লাঠি নিয়ে ছুটছে ৬ জন। বিডি-প্রতিদিন/ ২২ জানুয়ারি, ২০১৬/ আব্দুল্লাহ সিফাত-৩
5
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। সোমবার মামলা দুটির চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হক আগামী ৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক এক নেতা ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন। আর স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানির অভিযোগে একই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে অপর মামলাটি করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।
6
৭ নভেম্বর বিএনপি 'বিপ্লব ও সংহতি' দিবস হিসেবে পালন করে। এবারে এই দিবস হিসেবে দলটি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছ। ৭ ও ৮ তারিখ এই দুটি দিন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে দলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান। আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ তারিখ সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১০টায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। ৮ নভেম্বর বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৬ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ সফল করতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সম্পাদকমণ্ডলী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এখনো বিএনপির নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এটা কি অংশগ্রহণমূলক, নাকি একতরফা নির্বাচনের নমুনা? ১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে বলা হয়েছিল, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হবে না। এরপর বিএনপি বলছে প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য কী, জানতে চাইলে রিজভী বলেন, 'আমাদের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে জানাবে, পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' ৬ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, 'এখনো সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত, সমাবেশের অনুমতি পাব।'
9
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা। গতকাল সোমবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এর উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। বক্তব্য দেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. রবিউল ইসলাম, জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, আজিজুল হক অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিজুল হক, ঠিকাদার মিজানুর রহমান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল কবির।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'এখন থেকে গর্ভবতী মায়েদের বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হবে। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন।'অনুষ্ঠানে তিনি হাসপাতালের পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য ৪ লাখ টাকা অনুদান দেন।হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল কবির জানান, 'বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ৭৯টি লাইভ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে। যাতে রয়েছে জীবন রক্ষাকারী আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রোগীদের মানসম্মত জরুরি সেবা ও লাইফ সাপোর্ট সুবিধা। তারই একটি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেওয়া হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালটি নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সঙ্গে সংযুক্তি থাকায় ওই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের জটিল রোগী বহনে ব্যবহার করা হবে।'
6
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামেও মানববন্ধন করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের দুদক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন করেন তাঁরা। এতে অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁরা মানববন্ধনের পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য কর্মবিরতিও পালন করেন।যদিও দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মাহমুদ হাসান কর্মবিরতির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি নিজে অফিসে কাজ করছি। অন্যরাও করেছেন।'রাঘববোয়ালের পেটে শরীফের চাকরিটাও!মানববন্ধনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন সহকর্মী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'শরীফের চাকরিচ্যুতি যেন আমাদেরকে আঙুল দিয়ে দেখায় দিল, বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে অবস্থা এমনই হবে। তাঁর চাকরিচ্যুতি আমাদের কাজে প্রভাব ফেলবে।'তাঁরা জানান, শরীফ চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে কারও সঙ্গে আপস করেননি। চট্টগ্রাম অফিসে কর্মরত থাকাকালীন ৫২টি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া তিনি আদালতে ১৫টি চার্জশিট দাখিল করেন। এ রকম একজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা দুঃখজনক।বুধবার দুদক পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এটি দুদকের জন্য কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে শরীফকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা উচিত।'
6
করোনা সংকট কাটিয়ে ময়মনসিংহের নারী উদ্যোক্তাদের একদিনের পণ্য প্রদর্শনী সাড়া ফেলেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ময়মনসিংহ ই-কমার্স কার্টের উদ্যোগে নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পণ্য প্রদর্শনী শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামূল হক টিটু। মেলায় ৬২ জন নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।ময়মনসিংহ ই-কমার্স কার্টের প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া আফরিন লুনা বলেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এই পণ্য প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে আমি গর্বিত। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ও সন্তুষ্টি আর উদ্যোক্তাদের হাসিমাখা মুখগুলো আমার এই আয়োজনের সার্থকতা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, নারীদের এমন উদ্যোগ তাঁদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তাঁদের যে কোনো ধরনের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশন পাশে থাকবে।
6
এইবারের বিপক্ষে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে রোমার বিপক্ষে জয় পাবে কিনা সন্দেহ ছিল। সেই শঙ্কা ম্যাচের শুরুতেই আরও জোরালো হয়ে ওঠে। রোমার মাঠে শুরুতে স্বাগতিকদের বেশ কিছু সুযোগ দিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি রোমা। শেষ পর্যন্ত বেল-ভাসকেসের গোলে রিয়ালের কাছে ২-০ গোলে হারতে হয়েছে তাদের। তবে রোমা ধন্যবাদ দিতে পারে ভিক্টোরিয়া প্লাজেন এবং সিএসকে মস্কোকে। তাদের মুখোমুখি লড়াই সমতায় শেষ হলে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে রোমাও শেষ ষোলোয় চলে যায়। তবে রিয়াল মাদ্রিদ গ্রুপে এখন পর্যন্ত শীর্ষে থেকে নক আউট পর্বে গেছে। লিগে স্প্যানিশ এবং ইতালিয়ান দুই জায়ান্ট তাদের সর্বশেষ ম্যাচেই পা কেটেছে। লা লিগায় এইবার প্রথমবারের মতো রিয়ালকে হারের স্বাদ দিয়েছে। সোলারির দলকে উড়িয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। ওদিকে রোমাও লিগে পা হড়কায় উদিনেসার বিপক্ষে। হারে ১-০ গোলে। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচের ৪৭ মিনিটে রোমার ডিফেন্ডার ফাজিওর করা হাস্যকর ভুলে এগিয়ে যায় রিয়াল। গোল করে দলকে এগিয়ে নেন বেল। পিছিয়ে পড়া রোমা পরে আর খেলায় ফিরতে পারেনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোল করে ম্যাচ বের করে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। পরের গোলটি ৫৯ মিনিটে আসে লুকাস ভাসকেসের পা থেকে। চলতি মৌসুমে এটি গ্যারেথ বেলের তৃতীয় গোল। এছাড়া রিয়াল স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালের হয়ে গোলে সহায়তা দেওয়ার সেঞ্চুরি করেছেন।
12
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে উদ্ধার করা সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় মিলেছে। গতকাল রোববার সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে থেকে তাঁর পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করে।মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর নাম কোরমান মোল্লা (৫৫)। পেশায় ছিলেন একজন অটোরিকশা চালক। তিনি জেলার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কচুয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।ভেড়ামারা থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৫টায় মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছি এলাকা থেকে কোরমান মোল্লা ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী নিয়ে রওনা দেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে খুঁজে না পেয়ে গত শুক্রবার সকালে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত শনিবার ভেড়ামারা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত কোরমান মোল্লার ছেলে মমিন মোল্লা জানান, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁর বাবার অটোরিকশা ভাড়া করেন মিজান ও আনারুল নামের দুই ব্যক্তি। ওই সময় আরও ৪ থেকে ৫ অটোরিকশায় ওঠেন। দুই ভ্যানচালক এ ঘটনা দেখেছেন বলে দাবি তাঁর।মমিন মোল্লা আরও বলেন, ' ভেড়ামারা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে শুনে মরদেহটি দেখতে আসি। এসে দেখি এটি আমার আব্বার মরদেহ। আব্বাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছিল।'ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, 'তাঁর পরিবার মরদেহ শনাক্ত করেছে। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।'
6
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা পুর নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে জয় পেয়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। ৭২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে মমতা ব্যানার্জীর দলটির ঝুড়িতে। অপরদিকে ভোটের হিসাবে আরেকটি চমক সৃষ্টি করেছে বাম দলগুলো। কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে রাজ্যের সাবেক এ শাসকগোষ্ঠী। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকেই বাম-কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন দখল করতে পারেনি বাম-কংগ্রেস। কিন্তু কলকাতা পুরসভা ভোটে দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে বিজেপিকে পিছনে ফেলেছে বামেরা। ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৬৫টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় হয়েছে বামেরা। বিজেপি ৫৪টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় হয়েছে। কংগ্রেস দ্বিতীয় হয়েছে ১৫টি ওয়ার্ডে। সব শেষ পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টিই দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া বিজেপি ৩টি, বামেরা ২টি, কংগ্রেস ২টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৩টি ওয়ার্ডে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
3
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলেই পাওয়া যাবে হাজার ডলার। অবাক করার মতো হলেও কথাটা সত্যি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী সংস্থা হাজার ডলারের পরিবর্তে এক নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। এই ১০০০ ডলার পেতে হলে শর্ত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, সময় কাটাতে হবে একটি জাতীয় উদ্যানে এবং এই সময়েই ইন্টারনেট থেকে নিতে হবে বিরতি। করোনার এই সময়ে কোনো ব্যস্ততা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। যার কারণে নানা রকমের শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে। এব থেকে একটু মানষিক চাপ কমিয়ে মানুষকে ঘরের বাইরে বের করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাতিষ্ঠানটি বলছে, এই 'ডিজিটাল ডিটক্স' এর সময়কাল হবে ৪৮ ঘন্টা। অংশগ্রহণকারীরা নিজের পছন্দ মতো জাতীয় উদ্যান এবং তারিখ বেছে নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীকে ২৫ অনুর্ধ্ব হতে হবে। আমেরিকাতে কাজ করার যোগ্য এবং অন্যান্য রাজ্যে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবেন এরকম মানুষই অংশ নিতে পারবেন। এই চ্যালেঞ্জের বিজয়ীর নাম ঘোষিত হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
3
টি-টোয়েন্টিতে নতুন শুরুর প্রথম সিরিজেই মুখ থুবড়ে পড়লো টাইগাররা। টানা তিন ম্যাচ হেরে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেল স্বাগতিক বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচ জিততে শেষ বল পর্যন্ত পাকিস্তানকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু নাটকীয় শেষ ওভারের শেষ বলে ৫ উইকেটে হেরে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। শেষ ওভার ছিল নাটকীয়তায় ভরা। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ৬ বলে ৮ রান। পাকিস্তানের জন্যে তেমন কঠিন কিছু না। আবার এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এর আগে অনেকবারই বল করেছেন মাহমুদউল্লাহ। দলকে জিতিয়েছেনও। ২০১৬ বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের জার্সিতে রাজশাহীর বিপক্ষে এক ম্যাচে শেষ ওভারে ৭ রান আটকে দেন তিনি। এর আগে চিটাগং ভাইকিংসকে ৬ রানে জিততে দেননি তিনি। এবারও প্রায় একই রকম মঞ্চ তৈরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বোলিংয়ে এসে শুরুর দুই বলেই টাইগার অধিনায়ক তুলে নেন দুই অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার সরফরাজ ও হায়দার আলীকে। এরপর হ্যাটট্রিক বলে খেয়ে বসলেন ছক্কা। পরের বলেই তুলে নেন আরেকটি উইকেট। তখন বাংলাদেশও জয়ের আশা দেখা শুরু করলো। শেষ বলে দরকার দুই রান। নাটকীয়তার শুরু এখানেই। মোহাম্মদ নওয়াজ ক্রিজে এসে আরেকটি নাটকের জন্ম দিলেন। মাহমুদউল্লাহর শেষ বল থেকে তখন পাকিস্তানের প্রয়োজন ২ রান। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বল ছোড়ার পর দুই হাত তুলে বল ছেড়ে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। কিন্তু বলটা নিয়ে তর্কে জড়ালেন না বাংলাদেশের দলপতি। মাহমুদউল্লাহ চাইলে রিভিও নিতে পারতেন। কারণ নওয়াজ মাহমুদউল্লাহর বলে শট খেলার জন্য প্রস্তুত হলেও হুট করে সরে যান। কোনো শট অফার করেননি। কিন্তু বলটা দেখার পরই তিনি সরে যান উইকেট থেকে। সোহান আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বললেও মাহমুদউল্লাহ অনেকটাই নিশ্চুপ ছিলেন। মাহমুদউল্লাহর ছোড়া বলটি যদিও নেওয়াজের স্টাম্প ভেঙেছিল। কিন্তু আম্পায়ার তা ডেড বল দিলেন। এরপর আবার সেই বলটা করলেন মাহমুদউল্লাহ। এবার নওয়াজ চার মেরে জিতিয়ে দিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বলটা কি আসলেই ডেড ছিল? মাহমুদউল্লাহর কি উচিত ছিল না রিভিউ নেওয়া? ক্রিকেটের আইনে বলা আছে, যদি ব্যাটসম্যান বল মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকেন এবং খেলার কোনো চেষ্টা না করেন এবং আম্পায়ার যদি সন্তুষ্ট থাকেন বলটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ব্যাটসম্যানের যথেষ্ট কারণ ছিল তাহলে বল ডেড হবে। এখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আম্পায়ারকে যে ব্যাটসম্যান তৈরি ছিলেন কি না। সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি আম্পায়ারের। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল শেষ বলের নাটকীয়তা নিয়ে। মাহমুদউল্লাহ বলেন, তিনি আম্পায়ারকে বলছিলেন যে নওয়াজ একটু দেরিতে বলটা লিভ করেছেন কি না। বলটা ফেয়ার কি না। আম্পায়ার কী বলেছেন সেটা মাহমুদউল্লাহ বলেননি। ডেলিভারির ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ যেখান থেকে বল করেন না কেন সেটা আম্পায়ারের দেখতে হবে। তবে ওই বলটা পেছন থেকে করেছিলেন অনেক, সেটা নিয়ে নওয়াজ আপত্তি জানাতে পারেন। তবে এসবের কিছুই আনুষ্ঠানিকভাবে বলেননি। শুধু বলেছেন, সিদ্ধান্ত আম্পায়ারের ছিল এবং তারা সেটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ব্যাখ্যা করেননি আম্পায়ার কেন ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
12
প্রতিবেশী দেশের নেতাদের মধ্যে প্রতিবেশীর বন্ধুর মতোই সম্পর্ক থাকাই উচিত বলে মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে কলকাতা-খুলনা 'বন্ধন' এক্সপ্রেস ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক সূচনার সময় এই মন্তব্য করেছেন মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে প্রতিবেশী বন্ধুর মতো সম্পর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে যখনই ইচ্ছা হবে তখনই কথা বলবো বা দেখা করবো, সাক্ষাৎ করবো।'' সাক্ষাৎ বা দেখা করার বিষয়টি প্রোটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। এদিন দিল্লি থেকে মোদি যখন এই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন ঠিক তখনই অন্যপ্রান্তে ঢাকা থেকে এই কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সচিবালয় নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মোদি জানান, 'আমরা যখন কানেকটিভিটির কথা বলি তখন আমার ১৯৬৫ সালের পূর্বের রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার কথা মনে পড়ে যায়। আমার খুব আনন্দ লাগছে যে আমরা এই পথে এক পা করে সামনের দিক এগিয়ে যাচ্ছি। আজ আমরা দুইটি রেলসেতুরও উদ্বোধন করেছি। ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে নির্মীয়মাণ এই রেল সেতু তৈরির ফলে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিমত বাংলাদেশের উন্নতিতে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসাবে তাদের পাশে থাকতে পারাটা ভারতের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতেও জোর দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, 'ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে যে ঐতিহাসিক যোগাযোগ আছে তা আরও মজবুত করতে আজ আমরা কয়েক পা এগোলাম। আমার বিশ্বাস যে যেভাবে আমরা দুই দেশ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবো এবং মানুষের মধ্যে আত্মীয়তা মজবুত করবো ঠিক সেভাবেই উন্নতি ও অগ্রগতির নতুন আকাশ ছুঁতে সফলতা লাভ করবো। এই কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জিকেও অন্তর থেকে আহ্বান জানান মোদি। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদির আশা দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী ও বন্ধনের গতি আরও বাড়বে। অন্যদিকে নবান্ন থেকে মমতা ব্যানার্জি এই ট্রেনের উদ্বোধনকে ভারত-বাংলাদেশের কাছে স্মরণীয় দিন হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, এতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। এ উপলক্ষ্যে কলকাতার চিৎপুর আন্তর্জাতিক রেল টার্মিনালে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তৃণমূল সাংসদ ও রেলওয়ে বোর্ডের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, বিধায়ক মালা সাহা, কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, ভারত ও বাংলাদেশের রেলের কর্মকর্তারা। তবে প্রথমদিন শুভেচ্ছা যাত্রা হিসেবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত চলবে 'বন্ধন' ট্রেনটি। ট্রেনের যাত্রী হয়ে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও রেলের কর্মকর্তারা। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) ওই ট্রেনটি চলাচল করবে। 'বন্ধন'এর যাত্রা শুরুর পাশাপাশি এদিন কলকাতা স্টেশনে 'মৈত্রী' ও 'বন্ধন' এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সুবিধার জন্য অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার বিষয়টিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এর পাশাপাশি এদিনই বাংলাদেশে ভারতীয় অর্থায়নে দ্বিতীয় তিতাস ও ভৈরব দুইটি রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোদি-শেখ হাসিনা। বিডি-প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর, ২০১৭/মাহবুব
6
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দল, যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের পর রাজনৈতিক সুবিধা নেয়, তারাই উগ্রবাদে জড়িত।আজ মঙ্গলবার ঢাকার বারিধারা এলাকায় একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ এ মন্তব্য করেন। 'এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ফেইক কনটেন্ট ইন সোশ্যাল মিডিয়া: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড' শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে 'এমওভিই ফাউন্ডেশন' নামের একটি সংগঠন।মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রতা, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি বা সন্ত্রাসবাদে ইসলাম, মুসলমান, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কওমি মাদ্রাসা কোনোভাবেই জড়িত নয়। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা জড়িত। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংগঠিত ঘটনার পেছনে উপকারভোগী কারা, সেটি বের করতে হবে। তাহলেই কারা উগ্রবাদে জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগের নেতা হানিফ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। এসব জামায়াত করেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, যে কেউ তাঁর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে মতপ্রকাশ করতে পারেন। তবে নাম-পরিচয় গোপন করে ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছাড়াতে পারেন না। যদি কেউ এটা করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, 'এমন বাকস্বাধীনতা আমরা চাই না, যেটা সমাজে হানাহানি সৃষ্টি করে। এমন গণতন্ত্র আমরা চাই না, যে গণতন্ত্রের নামে মানুষ পোড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হানিফ আরও বলেন, সবার সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। এর নেতিবাচক প্রভাব জানা দরকার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন যোগাযোগ সহজ করেছে, তেমনি পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধও কমিয়ে দিয়েছে। এসবের ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পড়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রিফনটেইন, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইবরাহিম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, হুমায়ূন কবির, অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ।
9
আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও চিকিৎসার কথা বলে সমাজে অনেকেই লোক ঠকান। তেমনই একজন কুমিল্লা শহরের দৌলতপুর এলাকার দেলোয়ার ফকির। যিনি স্থানীয়দের কাচে খড়ম পাগলা নামেও পরিচিত। স্বাক্ষর-জ্ঞান না থাকলেও পাগলের চিকিৎসা করেন তিনি। বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানী প্রোগ্রাম 'টিম আন্ডারকভার'র ক্যামেরায় উঠে এসেছে খড়ম পাগলার নানা কাণ্ডকারখানা। খড়ম/জুতা দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের চিকিৎসা করান। চিকিৎসা পদ্ধতিও অভিনব। পুরোনো একটি খড়ম দিয়ে তিনি রোগীদের পেটান আর খড়ম ধোয়া পানি খাওয়ান। বিডি প্রতিদিন/১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭/ফারজানা
2
নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ জামিন দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এম কে আনোয়ারের আইনজীবী সগীর হোসেন লিয়ন। গত বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা ও মুগদা থানায় এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে নাশকতার এই দুই মামলা দায়ের করা হয়। নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তিনি ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। মঙ্গলবার ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে আছেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তাকে সহায়তা করেন সগীর হোসেন লিয়ন।
6
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত বছর উপজেলায় আরও চারটি সরকারি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটায় বাড়ছে আতঙ্ক।চোরেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমারির তালা ভেঙে ল্যাপটপ, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ও কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে। তবে একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনার পরও প্রশাসন তেমন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।বিভিন্ন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী আছে। বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। আর এ কারণে চুরিসহ ঘটছে বিভিন্ন ঘটনা। সম্প্রতি পাঁচ দিনে উপজেলা চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর চুরি হয়েছিল চারটি বিদ্যালয়ে।সর্বশেষ গত সোমবার রাতে উপজেলার তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে তাঁরা আলমারির তালা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান।এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাতে উপজেলার সিনাবহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল প্রথমে ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভাঙে। তাঁরা অফিস কক্ষের আলমারির তালা ভেঙে ভেতরে থাকা ল্যাপটপ, সাউন্ড সিস্টেম, মাইকসহ বিভিন্ন মালামালসহ আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।২৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার ঢোলসমুদ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাঁশতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে।এসব চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর উপজেলার মাটিকাটা, চান্দরা, গোসাইবাড়ী, কালিয়াকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে।ঢোলসমুদ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা খানম বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়ে গত ২৩ তারিখ রাতে চোরেরা অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চোরদের চুরি করতে সহজ হয়েছে।'কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম বলেন, 'প্রায় প্রতি রাতেই উপজেলার কোনো না কোনো বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা উচিত।'কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এরকম ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, দ্রুত সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
তিউনিসিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তত্ত্বাবধানকারী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ভবন বন্ধ করে দিয়েছে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। একইসাথে সংস্থাটিতে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবনটিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার একদিন পরেই সোমবার তিউনিসিয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর আগে রোববার 'দুর্নীতি' ও 'পক্ষপাতিত্বের' অভিযোগে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সংস্থাটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা আসে। সংস্থাটি তিউনিসিয়ায় স্বাধীনভাবে ভূমিকা পালন করা অল্প কিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি ছিলো। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার মাধ্যমে দেশটিতে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচারকাজ চালানোর সক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ইউসুফ বুজাখির বলেন, 'প্রেসিডেন্ট সংস্থাগুলোকে অকার্যকর করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। যা হচ্ছে তা প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ।' আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ইউসুফ বুজাখির বলেন, এই কাউন্সিল ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কোনো বৈধ আইনি বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সুযোগ দেয় না। এদিকে তিউনিসিয়ান জাজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জানিয়েছেন, তারা বিচার বিভাগ ও আদালতের মর্যাদা রক্ষায় পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করছেন। প্রেসিডেন্ট সাইদের পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে তিউনিসিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আননাহদার প্রধান ও দেশটির স্থগিত পার্লামেন্টের স্পিকার রশিদ গানুশি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছেন। এছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও সাইদের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। গত বছর ২৫ জুলাই করোনা পরিস্থিতিতে তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জেরে আকস্মিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর রাতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ দুই বছর আগে নির্বাচিত পার্লামেন্ট ৩০ দিনের জন্য স্থগিত, প্রধানমন্ত্রী হিশাম মাশিশিকে বরখাস্ত ও দেশের নির্বাহী ক্ষমতা নিজের হাতে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে আদেশ জারি করেন। পরে ২৩ আগস্ট 'রাষ্ট্রের জন্য হুমকি' বিবেচনায় পরবর্তী আদেশ দেয়া না পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার আদেশ দেন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ। অপরদিকে ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের কিছু অংশ স্থগিত করার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা জোরদার করেন সাইদ। তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো এই আদেশকে 'সাংবিধানিক অভ্যুত্থান' বলে অভিযোগ করে আসছে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সূচনাকারী দেশ তিউনিসিয়ায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে ২৪ বছর দেশটি শাসন করা একনায়ক জাইন আল আবেদীন বিন আলী ক্ষমতাচ্যুৎ হন। এর পর থেকেই গত দশ বছর ভঙ্গুর অবস্থা সত্ত্বেও আরব বিশ্বের একমাত্র গণতান্ত্রিক শাসন উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে চালু ছিলো। সূত্র : আলজাজিরা
3
শেরপুর ৮তলা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের দুটি লিফটই চার দিন ধরে বিকল হয়ে আছে। এতেবেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। চিকিৎসক নার্সদেরও ভোগাচ্ছে এই দুর্ভোগ। ওই ৮তলা বিশিষ্ট হাসপাতালজুড়েই রয়েছে করোনা ইউনিট,জরুরি ভর্তি রোগীর শয্যা, ডাক্তার চেম্বার, অপারেশন থিয়েটারসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবা দানের বিভিন্ন বিভাগ। এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক গর্ভবতী নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লিফট না পেয়ে সিড়ি বেয়ে পাঁচতলা গাইনি ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় প্রথম তলার সিঁড়িতেই বাচ্চা প্রসব করেছেন। জানা গেছে, এ বছরের ৭ জানুয়ারি লিফট ও ওই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। এই আট মাসের মধ্যে দুটি লিফটই অন্তত চারবার নষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট থেকে লিফট দুটি বিকল হয়ে আছে। এতে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে করোনা আক্রান্ত,প্রসূতি নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। সরজমিনে দেখা গেছে, দুটি লিফট এক সাথে বিকল হওয়ায় রোগী, রোগীর স্বজন ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িতরা উঠানামা করতে পারছেন না। শনিবার সকালে হাসপাতালে সেখানে দেখা যায়, লিফট বন্ধ থাকায় অতি অসুস্থ মানুষজন সিঁড়ি ব্যবহারে কষ্ট পাচ্ছেন। ভুক্তভোগী ও সাধারণের অভিমত এত বড় হাসপাতালে শুধুমাত্র দু'টি লিফট দেওয়া ঠিক হয়নি। আরও বেশি লিফট দরকার ছিল। হাসপাতাল কর্তপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির পানিতে চারদিন যাবৎ লিফট নষ্ট। ঠিক করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুর রউফ জানিয়েছেন, লিফট চালু করতে ইতোমধ্যে জেলার গণপূর্ত বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। গণপূর্ত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ বিষয়ে শেরপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তবে লিফটে পানি ঢুকলে লিফট নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকতে পারে বলে তার (গণপূর্ত) এক কর্মকর্তা নির্বার্হী প্রকৌশলীকে অবগত করেছিলেন। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিকল হওয়ার বিষয়ে কেউ তাকে অবগত করেনি। এখন স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অবগত হয়ে ব্যবস্থা নেবেন জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
বেলারুশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী পোল্যান্ডে প্রবেশ করছে। এই অভিযোগ তুলে বেলারুশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোল্যান্ড। গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্ত। আফগানিস্তান থেকে আসা একদল শরণার্থীকে 'পুশব্যাক' করে বেলারুশে পাঠিয়ে দিয়েছিল পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী। বেলারুশও ফের তাদের পোল্যান্ডে পাঠানোর চেষ্টা করে। শরণার্থী নিয়ে গত কিছুদিন ধরে রীতিমতো উত্তপ্ত পোল্যান্ড। পার্লামেন্টে শরণার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার জেরে ওয়ারশয়ের রাস্তায় ব্যাপক আন্দোলন করেছেন শরণার্থীদের পক্ষে কাজ করা একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। কিন্তু বেলারুশ থেকে শরণার্থী প্রবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সরব পোল্যান্ড। তাদের অভিযোগ, রাশিয়া এবং বেলারুশ ইচ্ছে করে পোল্যান্ডে শরণার্থী ঢোকানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওই শরণার্থীরা পোল্যান্ডে ঢুকছে। বেলারুশের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। তার প্রতিশোধ নিতে বেলারুশ এ কাজ করছে বলে পোল্যান্ডের অভিযোগ। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, শুধুমাত্র সোমবার ৬১২ বার সীমান্ত পার করে বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছেন শরণার্থীরা। যারা অধিকাংশই ইরাকের বাসিন্দা। আর এই মাসে নয় হাজার ৬০০ বার সীমান্ত পার করার চেষ্টা চলেছে। পোল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষত, বেলারুশের সীমান্ত পার করে কেউ পোল্যান্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। ইরাকের বেশ কিছু নাগরিককে মঙ্গলবার ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারও করা হয়েছে। ছয় হাজার সেনা প্রয়োজনে গুলিও চালাতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এদিকে, জার্মানিও পোল্যান্ডের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জার্মানি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে পোল্যান্ডের সীমান্তও সুরক্ষিত রাখা হবে। এবং সে কারণে পোল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে প্রহরার আহ্বান জানানো হয়েছে। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি চিঠিও দিয়েছে। জার্মানি জানিয়েছে, পোল্যান্ডের সমস্যা তারা বুঝতে পারছে এবং সে কারণেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রাশিয়া হয়ে বেলারুশ ঢুকে পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া-সহ একাধিক দেশে ঢোকার নতুন রাস্তা তৈরি করেছেন শরণার্থীরা। অভিযোগ, বেলারুশ এ কাজে শরণার্থীদের মদত দিচ্ছে। যদিও বেলারুশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের আগামীকাল সকাল ৬টার পরিবর্তে সোয়া ৭টায় থেকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।বিজয় দিবস ২০২১ উদ্যাপন উপলক্ষে আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের উক্ত অনুষ্ঠানে সকাল ৬টার পরিবর্তে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত থাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।আজ বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় শুধু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং এই দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানোর জন্য উপস্থিত থাকবেন।
6
আল-জাজিরা টিভি ও পাঁচজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। এতে আল-জাজিরায় সম্প্রচারিত 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন'-এর ভিডিও অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিবাদীদের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ রাব্বী আলমসহ পাঁচজন ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অব মিশিগানে এই মামলার আবেদন করেন। স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় রাব্বী আলম নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার আবেদনের বিষয়টি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে রাব্বী আলম জানান, মামলার অন্যান্য বাদীদের মধ্যে রয়েছেন শেরে আলম, রিজভী আলম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু কমিশন্স নামের সংগঠন।মামলার বিবাদীরা হলো আল-জাজিরা ইংলিশ, দেশত্যাগী সাংবাদিক কনক সারোয়ার, ইলিয়াস হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জুলকার নাইন সায়ের, ডেভিড বার্গম্যান ও আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক। মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা যোগসাজশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন' শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই তৎপরতা বিদ্বেষপ্রসূত। এর মধ্যে দিয়ে বাদীর ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে, উল্লেখ করে তথ্যচিত্রটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য আদালতের আদেশ কামনা করা হয়েছে। এ ছাড়া মানসিক ক্ষতির দায় হিসেবে বিবাদীদের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আদায়ের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মিশিগানের আদালতে তাঁরা প্রথম মামলার নথি জমা করেছেন। রাব্বী আলম প্রথম আলোকে বলেছেন, দেশের স্বার্থে তিনি ব্যয়বহুল মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশের বাইরে অবস্থানরত কিছু লোকজন দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাব্বী আলম দীর্ঘদিন থেকে মিশিগানে বসবাস করেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা।
3
সবুজ চা-বাগান, টিলা, নদী, ঝরনাসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সিলেট। সাদা পাথরের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছানাকান্দি হাতছানি দেয় ভ্রমণপিপাসুদের। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকায় সিলেটে স্বস্তিতেই পৌঁছাতে পারেন পর্যটকেরা। কিন্তু শহর থেকে বের হলেই অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় যোগ হয় অস্বস্তি। সব পর্যটনকেন্দ্র ঘিরেই এমন অভিযোগ পর্যটকদের।স্থানীয় সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক সিলেটে বেড়াতে যান। অন্যান্য দিনে পর্যটকসংখ্যা কম থাকে।ভোলাগঞ্জে ধলাই নদীর বুকে সাদাপাথর গত কয়েক বছরে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পাথর, পাহাড় আর নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকেরা। সিলেট নগর থেকে ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে ভোলাগঞ্জ পৌঁছেই গুনতে হয় ৮০০ টাকা নৌকা ভাড়া। ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন চড়তে পারেন। দূরত্বের তুলনায় এই ভাড়া অতিরিক্ত বলে পর্যটকদের অভিযোগ। নেই শৌচাগার, খাবারের ভালো দোকান।ঢাকা থেকে আরিয়ান, মাসুদ, ফয়সালসহ পাঁচ বন্ধু ভোলাগঞ্জ বেড়াতে যান। এক নৌকার জন্য এত ভাড়া দিতে হবে, জানা ছিল না তাঁদের। পরে মাসুদ বুদ্ধি করে অপর তিন পর্যটককে তাঁদের সঙ্গী করেন। তিনি বলেন, এখানে সবাই সিন্ডিকেট। সব নৌকার মাঝি এক ভাড়া চান।একই অভিযোগ করেন ঢাকা থেকে বেড়াতে যাওয়া জাকিয়া সুলতানা পপি। তিনি মা, বাবা ও খালাকে নিয়ে সাদাপাথর যান। তিনি বলেন, নৌকার ভাড়া অনেক বেশি। এছাড়া কাপড় পাল্টানোর ভালো জায়গা না পেয়ে ভেজা কাপড়ে ফিরতে হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাদাপাথরে পর্যটকদের জন্য সরকারিভাবে তেমন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। নৌকা ভাড়া আগে আরও বেশি ছিল। শরীফ নামের এক মাঝি বলেন, আগে কেউ দেড় হাজার, কেউ ১২০০ টাকা নিত।বেড়াতে যাওয়া ফয়সাল নামের এক তরুণ বলেন, সাদাপাথরে প্রতিদিন অনেক মানুষ বেড়াতে এলেও খাবারের ভালো ব্যবস্থা নেই। ভ্রাম্যমাণ কিছু খাবারের দোকানে নিম্নমানের খাবারের গলাকাটা দাম নেওয়া হয়। ধুলোবালির মধ্যে বসে খেতে হয়।সাদাপাথর এলাকায় বেড়ানোর স্থানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজারে ভারতীয় চকলেট, চিপস, সাবান, তেল এমনকি পোশাকও বিক্রি হচ্ছে। সুমন নামের এক বিক্রেতা বলেন, 'বর্ডার দিয়ে আসে। আমরা বিক্রি করি। কীভাবে আসে সেটা জেনে কি করবেন?'এসব বিষয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য আজকের পত্রিকাকে বলেন, এতদিন নানা অসুবিধার কথা শুনেছেন। এখনো আছে। তবে ২২ অক্টোবর পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নে বড় একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। এর আওতায় সবকিছু থাকবে। দোকানপাট বসিয়ে ভারতীয় পণ্য বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, 'এখানে কোনো দোকানপাটের অনুমোদন নেই। আমাদের কার্যক্রম শুরু হলে সব উচ্ছেদ হয়ে যাবে। আর ভারতীয় পণ্যও বিক্রি করতে হবে নিয়ম মেনে।'গোয়াইনঘাটে পিয়াইন নদী বুকে জাফলংয়েও একই চিত্র। এখানেও পর্যটকদের জন্য নেই সুযোগ-সুবিধা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্মিত একটি গণশৌচাগার থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে পর্যটকেরা তা ব্যবহার করতে পারেন না। মহিলা ও শিশুদের জন্য নেই বিশ্রামাগার কিংবা কাপড় পাল্টানোর সুবিধা। জাফলং জিরো পয়েন্টে বালুর মাঠেও বড় বাজার বসিয়েছেন স্থানীয়রা। এখানেও ভারতীয় পণ্যে সয়লাব। পর্যটকেরা বলেন, অনেকে চকলেট, চিপসসহ নানা খাবার খেয়ে প্যাকেট ফেলে যান।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলী আজাদ এমপি সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এঘটনায় গাড়ি চালক সামান্য আঘাত পেয়েছেন।গতকাল বুধবার রাত ৮টায় সরাইল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এমপিকে বহনকারী গাড়িটির সামনের অংশ দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে গেলেও অক্ষত আছেন এমপি শিউলী আজাদ।বুধবার রাত ১০টায় শিউলী আজাদ এমপি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেন, 'আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ও আপনাদের দোয়ায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।'এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
6
পাকিস্তান ক্রিকেটকে বেশ ভালোভাবেই জেঁকে ধরেছে করোনাভাইরাস। ৪ মার্চ করোনার কারণে তো স্থগিতই হয়ে গেছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। আজ করোনা হানা হেনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান অফিসেও। যার জেরে বন্ধ হয়ে গেছে লাহোরে অবস্থিত পিসিবি অফিস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার করোনা শনাক্ত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করা সেই কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় পিসিবি অফিস বন্ধ করে দিয়ে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এরপর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠে গেছে পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়া নিয়েও। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে জাতীয় হাই পারফরম্যান্স কেন্দ্রে পাকিস্তান দলের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা এভাবে জেঁকে ধরায় সে ক্যাম্পে পুরোপুরি জৈব সুরক্ষাবলয় নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ। এর আগে করোনার কারণে ৪ মার্চ স্থগিত হয়ে যায় পিএসএল। পিএসএল খেলতে এসে প্রথমে করোনা শনাক্ত হয় অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ফাওয়াদ আহমেদের। এরপরই পিএসএলের সঙ্গে যুক্ত সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। - ://./ ../ সেখানে ছয় ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের এক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বিবৃতি দিয়ে টুর্নামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান বোর্ড। অথচ পিএসএলকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে জৈব সুরক্ষাবলয় নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। এরপরও কেন করোনায় আক্রান্ত হলো, তার কারণ বের করার নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি।
12
নেত্র নিউজ নামের একটি গণমাধ্যমে র্যাবকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে র্যাব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কারওয়ান বাজারে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্রেপ্তার তিন আসামির বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।কমান্ডার মঈন বলেন, 'নেত্র নিউজে র্যাবকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীকে যখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁর স্ত্রী যখন আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা করেছি। তিনি যেখানে যেখানে তাঁর স্বামী অবস্থান করতে পারেন এমন সন্দেহ করেছেন বা তিনি যদি তথ্য দিয়েছেন র্যাবের টিম তাঁর সহযোগিতায় তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।'র্যাবের সব অভিযান আইন মেনে করা হয় উল্লেখ করে খন্দকার মঈন বলেন, র্যাব একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রকাশিত সংবাদটিতে যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রচারিত হয়েছে, তা সবই ভিত্তিহীন। এটাই আমাদের বক্তব্য। কারণ এখানে যেভাবে তথ্য-উপাত্ত দেখিয়েছে, বিষয়টি আসলে সঠিক না।গতকাল বুধবার মধ্যরাতে মানিকগঞ্জে র্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, সাভার থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে র্যাবের একটি মাইক্রোবাস যাচ্ছিল। পথে র্যাবের গাড়ির ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এটি র্যাব-৪-এর একটি গাড়ি ছিল। তারা একটি অভিযানে যাচ্ছিল। মূলত গাড়িটি থামানোর উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। এতে র্যাবের গাড়িটিতে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছে। এরপরই পেছনে থাকা আমাদের টহল টিমের সঙ্গে হামলাকারীদের গুলিবিনিময় হয়। ঘটনার পরপরই আমাদের ফরেনসিক টিম গিয়ে কাজ শুরু করে। আরেকটি দল অস্ত্রের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেখানে একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতের নাম মো. কাওসার বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। আহত কাওসারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে র্যাব জানতে পারে আহত কাওসার আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাসহ ১২টিরও বেশি ডাকাতি মামলা রয়েছে। আহত কাওসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়।র্যাবের ওপর বারবার এমন হামলা হয়েছে উল্লেখ করে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, র্যাবের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেও কুমিল্লায় র্যাবের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে র্যাবের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁকে আইসিইউতে নিয়ে গুলি বের করতে হয়েছে। মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অভিযানে র্যাবের ওপর হামলা হয়েছে। এসব হামলায় র্যাবের ২৯ জন সদস্য মারা গেছেন, প্রায় ১ হাজারের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলা থাকবেই। এটা মেনে নিয়ে আমরা কাজ করছি।
6
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সিএসডি মাদক, ঝাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান, অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ কমানো ও কোন সেনা কর্মকর্তার নৈতিক পদস্খলনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির নির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের একটি 'নির্দেশনামা' ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য জারী করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১২ লাখ সদস্যকে এসব অপকর্ম প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে বলেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। জেনারেল বিপিন রাওয়াত সেনাবাহিনীর নিজস্ব সাইটে একটি নির্দেশনা প্রেরণ করেছেন। একটি শক্তিশালী ও সুশৃখল সেনাদল গড়তে বাহিনীর সর্বস্তরে এই নির্দেশনা প্রেরণ করেছেন। কয়েকটি নির্দেশনা সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিষয়গুলো আরো ভালো করতে প্রেরণা দিবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড বেসামরিক মানুষের কর্মকাণ্ডের চেয়ে ভালো। কিন্তু অপরপক্ষ মনে করেন জেনারেল রাওয়াত এমন এক সময় এসব নির্দেশনা জারি করেন, যখন সেনাবাহিনী 'সরকারি চাপের মুখে' আছে। সেনাবাহিনীকে ৬২টি ক্যান্টনমেন্টের রাস্তা বেসামরিক লোকদের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কাজ যেমন, বিভিন্নস্থানে সেতু নির্মাণ, ময়লা পরিস্কার করার মতো কাজও সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হচ্ছে। যদিও কয়েক দশক ধরেই এমন নির্দেশনা চলে আসছে একজন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা বলেন, জেনারেল রাওয়াত সেনাবাহিনীকে নাড়া দিতে চাচ্ছেন তাদের মধ্যে যে অবসাদ ভর করেছে তা থেকে বের করে আনার জোর প্রচেষ্ঠার একটি হলো এইসব নির্দেশনা। তাছাড়া সেনাবাহিনীর অস্ত্র ক্রয়, ভাতা, পেনশনের পেছনে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে। আরো দেখুন :মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত ভক্তি দেখাতে গিয়ে যে মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে তিনি প্রণাম করেছিলেন, তার নির্দেশেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাসপেন্ড হলেন ভারতের পাঞ্জাব পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর। ফোনেই সাসপেন্ড করা হয় বাটালার ফতেহগড় চুরিয়ান থানার ওই পুলিশ অফিসারকে। পিটিআই সূত্রে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। সূত্রের খবর, সোমবার পুলিশের পোশাক পরেই পাঞ্জাবের মন্ত্রী তৃপ্ত রাজিন্দর সিং বাজওয়ার কাদিয়ানের বাসভবনে যান এএসআই পলবিন্দর সিং। তার দু-পা ছুঁয়ে তিনি প্রণাম করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে যান মন্ত্রী। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তত্ক্ষণাত্ তিনি ফোন করেন আইজি এসপিএস পারমারকে। এএসআইকে সাসপেন্ড করার জন্য ফোনেই ওই পুলিশকর্তাকে নির্দেশ দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এএসআই পলবিন্দরের ফোনে সাসপেনশন নির্দেশের মেসেজ আসে। তাকে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়। এএসপি ওপিন্দরজিত্ সিং গ্রুমান খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। এতে পুলিশের পোশাকের অপমান করা হয়। যে কারণে এএসআইকে সাসপেন্ড করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বাজওয়ার বক্তব্য, 'বাড়ির বাইরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে, কেউ পা ছুঁয়ে প্রণাম করবেন না। তার পরেও ওই এএসআই পুলিশের পোশাক পরে এসে আমাকে প্রণাম করে।'
3
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় এক ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আট বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্দুর রহমান। শিশুটি ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার চক শ্যামরামপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। টঙ্গী পূর্ব থানার পাগার ঝিনু মার্কেট এলাকার চঞ্চল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন শিশু আব্দুর রহমান ও তার পরিবার। আগুনে তাদের ভাড়া ঘরটি ছাই হয়ে হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বাবা-মা প্রতিদিন শিশু জাবেদকে ঘরে একা রেখে কাজে যান। শুক্রবার বিকেলে শিশুটি ঘরে একা শুয়ে ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘরে হঠাৎ আগুন লাগলে শিশুটি ভয়ে খাটের নিচে লুকায়। এক পর্যায়ে আগুন ঘরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে শিশুটি খাটের নিচে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। স্থানীয়রা আরো জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের দরজা খোলা ছিল। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান বলেন, 'ঘরের দরজা খোলা থাকলে শিশুটি আত্মরক্ষার্থে প্রথমেই বাহিরে বেরিয়ে আসত, খাটের নিচে লুকাতে যেত না। ঘরের দরজা বন্ধ ছিল বলে আমরা ধারণা করছি।' তিনি আরো জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু'টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এর আগেই এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশে হস্তান্তর করে।
6
ছোট পর্দায় তিনি 'মামুর বেটা' বা 'তোতা মিয়া'খ্যাত অভিনেতা। 'সিটি বাস' নাটকে রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সেই অভিনেতাকেই এখন আর নাটকে দেখা যায় না। চলচ্চিত্র এবং ওয়েভ সিরিজে এখন তিনি খল অভিনেতা হিসেবেই জনপ্রিয় বেশি। গত এক বছরে ১৫টির মতো সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মে খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন। অভিনয়ের প্রস্তাব যা পাচ্ছেন, শতভাগই খল চরিত্র। 'নবাব এলএলবি' সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে প্রথম প্রধান ভিলেন হিসেবে অভিনয় করেন রাশেদ মামুন। সিনেমাটি মুক্তির পরে 'জানোয়ার' ওয়েব সিরিজ দিয়ে আলোচনায় আসেন। রাশেদ মামুন বলেন, 'গত বছর করোনার মধ্যেও আমি ক্যারিয়ার নিয়ে দোটানায় ছিলাম। একধরনের হতাশার মধ্যে দিন যাচ্ছিল। সেখান থেকে হঠাৎ করেই আমার খল চরিত্রে যাত্রা। খল চরিত্রই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি পুরোদস্তুর খল অভিনেতা। কতটা হয়ে উঠতে পেরেছি জানি না। প্রতিনিয়ত খল অভিনেতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। প্রায় প্রতিদিনই যে চিত্রনাট্য পাই-সবই খল চরিত্রের। খল চরিত্রে নির্মাতারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন, এটা আমার জন্য আশীর্বাদ। এখন যেখানেই যাই সবাই বলেন, অভিনেতা থেকে ভিলেন হয়ে গেলেন। এটা আমাকে খল চরিত্রে আরও আগ্রহী করে তোলে।' রাশেদ মামুন বলেন, 'বড় পর্দা আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। সেটা যে এভাবে পূরণ হবে ভাবিনি। একসময় চলচ্চিত্রের অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। গত দুই বছরের মধ্যে আমার ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে এখন আমি ভিলেন।' টেলিভিশন দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। এখন টেলিভিশন নাটকেই আপনাকে দেখা যায় না। 'সিনেমা এবং ওয়েবে ব্যস্ততার কারণে সময় বের করতে পারি না। ভালো গল্প পেলে চেষ্টা করি শিডিউল দিতে।' রাশেদ মামুন সম্প্রতি শেষ করেছেন 'করপোরেট' সিনেমার শুটিং। শুরুতে এটি ওয়েব সিনেমা হলেও এখন সিনেমা হলের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। সিনেমায় তিনি গডফাদার। আরও শেষ করেছেন 'নরসুন্দরী'র কাজ। শুরু করতে যাচ্ছেন ওয়েব ফিল্ম 'নেটওয়ার্ক' ও সিনেমা 'জলরঙ'-এর শুটিং। মুক্তির অপেক্ষায় আছে 'পরান', 'দামাল', 'অমানুষ', 'মিশন এক্সট্রিম', 'মুখোশ'সহ ১৩টি সিনেমা। রাশেদ মামুন বলেন, 'ছোট পর্দায় বঞ্চিত হয়েছি। কাজে কোনো সন্তুষ্টি পাচ্ছিলাম না। টানা আট বছর একঘেয়ে সব চরিত্রে বাধ্য হয়ে অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়েছিলাম। এখন নিয়মিত ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করি। এসব চরিত্রে অভিনয়ের একটা জায়গা থাকে, প্রস্তুতি থাকে। দিন শেষে কাজ করে হাসিমুখে ফিরতে পারি।'
2
চলতি মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। এর পরিবর্তে মিয়ানমারের কোনো অরাজনৈতিক প্রতিনিধিকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেবে সংগঠনটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর শান্তি রোডম্যাপ মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসিয়ান।আসিয়ানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারের সংকট নিরসনে জান্তা সরকার যথেষ্ট করেনি।গত আগস্টে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন তিনি জানান, মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে। সম্প্রতি দেশটিতে বিদ্রোহী এবং সেনাদের সঙ্গে তুমুল লড়াই শুরু হয়েছে।চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল এনএলডিকে উৎখাত করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সে সময় তারা সুচির দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিল এবং সুচিসহ দেশটির প্রেসিডেন্টকে বন্দী করেছিল। তবে জালিয়াতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল দেশটির নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় জান্তাকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে একটি ছায়া সরকার গড়ে তোলেন মিয়ানমারের রাজনীতিবিদেরা, যার বেশির ভাগ সদস্যই এনএলডির। জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) নাম দিয়ে এটিকেই মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে দাবি করেন তাঁরা। অবশ্য মিয়ানমার জান্তা এনইউজি'কে 'সন্ত্রাসী' বলে ঘোষণা দিয়েছে।অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সময় জাতিসংঘের মতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।
3
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজের পর ইস্ট লন্ডনে এবার ওয়ানডেতেও হোয়াইটওয়াশ হতে হলো মাশরাফিদের। ৩ ম্যাচের সিরিজে প্রাপ্তি বলতে মুশফিকের সেঞ্চুরি আর রুবেলের বোলিংটা। মুশফিক-রুবেল ছাড়া আর কেউ মনে রাখার মত কিছু করতে পারেননি। যা করেছেন সেটা কেবল আত্মসমর্পণ। পাহাড়সম রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ইমরুল কায়েসকে হারায় বাংলাদেশ। প্যাটারসনের বলে বেহারদিনের হাতে ক্যাচ দেন ১ রান করা ইমরুল। ৬ রান করা লিটন দাসকেও এলবিডাব্লিউ করে প্যাভিলিয়নে পাঠান প্যাটারসন। সিরিজে প্রথম সুযোগ পেয়ে আবারও ব্যর্থ সৌম্য সরকার (৮) রাবাদার বলে মার্করামের তালুবন্দী হন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক আজ ভরসা দিতে পারেননি। ফেলোকায়োর বলে আউট হয়ছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের বিদায়ের পর মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদও টানা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ২ রান করে অভিষিক্ত মুলডারের শিকার হন। ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয় দেখে টাইগাররা। বেশ কিছুক্ষণ সাব্বিরকে নিয়ে ৬৭ রানের জুটি গড়ে লড়াই করেন সাকিব। কিন্তু ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফ সেঞ্চুরির পর ৬৩ রানে মার্করামের বলে ক্যাচ দেন তিনি। ঠিক আগের বলেই একই রকম শটে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন। পরের বলেই আত্মহত্যা। সাকিব আউট হওয়ার পর নূন্যতম লড়াইয়ের আশাটাও শেষ হয়ে যায়। ভালো খেলতে খেলতে মার্করামের দ্বিতীয় শিকার হন ৩৯ রান করা সাব্বির। খেলাটা এর আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাকী ছিল আনুষ্ঠানিকতা। অধিনায়ক মাশরাফি আউট হন ১৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৭ রান করে। তাসকিন (২) আর মেহেদী মিরাজের (১৩) বিদায়ে ১৬৯ রানে শেষ হলো বাংলাদেশের ইনিংস। লন্ডন পার্কে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। জুটি ছাড়িয়ে যায় শতরান। শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের দলীয় ১১৯ রানে বাভুমাকে (৪৮) ব্রেক থ্রু এনে দেন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৮ বলে ৭৩ রান করা কুইন্টন ডি ককও শিকার হন মিরাজের। দুই ওপেনারের বিদায়ের দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস এবং অভিষিক্ত এইডেন মার্করাম। পেশিতে টান লেগে ডু-প্লেসিসের (৯১) মাঠ ছাড়ার আগে দুজনের জুটিতে এসেছে ১৫১ রান। এইডেন মার্করাম টেস্টের মত অভিষেক ওয়ানডেতেও রান-আউট হয়েছেন। টেস্টে হয়েছিলেন ৯৭ রানে; এবার ৬৬ রানে। উইকেট গেলেও রানের গতি কমেনি প্রোটিয়াদের। তবে আজ ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার আগেই রুবেল হোসেনের বলে মাশরাফির তালুবন্দী হন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাইক্লোন বইয়ে দেওয়া এবিডি ভিলিয়ার্স (২০)। এরপর জোড়া আঘাতে অভিষিক্ত মুলডার (২) এবং ফিলোকায়োকে (৫) প্যাভিলিয়নে পাঠান তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত পেসার রাবাদার ১১ বলে ২৩ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিডিপ্রতিদিন/ ২২ অক্টোবর,২০১৭/ ই জাহান
12
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান যে ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে তাকে অবশ্যই অভিনন্দন জানাতে হবে। আমরা আশা করি, ভারতের বন্ধুরা একইভাবে ইতিবাচক পদক্ষেপ ও উদার মনোভাব প্রকাশ করবেন। পাক-ভারত চলমান যুদ্ধাবস্থায় কারোরই লাভ হবে না বলে উল্লেখ করেন এরদোগান। তিনি বলেন, আমরা আশা করব আমাদের ভারতীয় বন্ধুরাও একই রকম আন্তরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। আগামী ৩১ মার্চ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় ট্রাবজন শহরে এক গণ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। চলমান উত্তেজনা নিরসনে তুরস্ক সব ধরনের সহায়তা করবে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, পাক-ভারত চলমান উত্তেজনা নিরসনে যা কিছু দরকার তা করতে প্রস্তুত রয়েছে তুরস্ক। তিনি বলেন, 'আমরা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সঙ্কট সমাধানে আমাদের যা করতে হবে তা নিশ্চিত করব এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।' যুদ্ধ কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয় ইঙ্গিত দিয়ে এরদোগান বলেন, 'তীব্র উত্তেজনা ও আগুন জ্বালানো তেল কারো উপকারে আসে না।' তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরো জানান, এই ইস্যুতে উত্তেজনা নিরসনে কী করা উচিত সে বিষয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে তিনি টেলিফোনে আলাপ করেছেন। ইমরান খানকে কাতার আমিরের অভিনন্দনএদিকে ডন ও জি নিউজ জানায়, ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ফেরত দেয়াসহ চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে-সানি। রোববার টেলিফোন করে এ অভিনন্দন জানান কাতার আমির। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মুসলিম বিশ্বের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা চলমান পাক-ভারত সমস্যা ও বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে কথা বলেছেন।
3
১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ড এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। পাকিস্তানের 'দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন' পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে নির্বাচনী সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বেনজির ভুট্টো। আজ সোমবার এ হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৪ বছরেও এই হত্যার রহস্য উন্মোচন করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলাটি এখন লাহোর হাইকোর্টের রাওয়ালপিন্ডি বেঞ্চে বিচারাধীন। হামলার ঘটনায় বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ২০ জন নেতা-কর্মী নিহত হন, আহত হন প্রায় ৭০ জন। বেনজির ভুট্টো হত্যার ঘটনায় চারটি তদন্ত হয়। তদন্তকারীদের মধ্যে ছিল পুলিশের যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি), কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ), জাতিসংঘ (ইউএন) ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। তারা হত্যার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করলেও কোনো ফল আসেনি। মামলায় মোট ১২টি নথি দাখিল করা হয়, ৩৫৫টি হাজিরা রেকর্ড করা হয়। ১০ জন বিচারক পরিবর্তিত হন। ৬৮ জন প্রসিকিউশন সাক্ষীসহ মোট ১৪১ জন সাক্ষ্য দেন। মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়, তাঁদের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তালেবান কমান্ডার বায়তুল্লাহ মেহসুদ ড্রোন হামলায় নিহত হন। অন্য পাঁচ অভিযুক্ত নাদির খান, নাসরুল্লাহ, আবদুল্লাহ, ইকরামুল্লাহ, ফয়েজ মুহাম্মদ কাসকাত বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হন। বেনজির ভুট্টোর ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর নাম সাঈদ, তিনি বিস্ফোরণে নিহত হন। পুলিশ পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন আইতজাজ শাহ, শের জামান, রশিদ আহমেদ, রাফাকাত ও হাসনাইন গুল। পরে এফআইএ এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ, সাবেক সিটি পুলিশ অফিসার সৌদ আজিজ ও পুলিশ সুপার রাওয়াল খুররম শেহজাদকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরে তাঁরা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের (এটিসি) বিচারক মুহাম্মদ আসগর খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে খালাস দেন বিচারক। পারভেজ মোশাররফকে পলাতক ঘোষণা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। প্রমাণ ধ্বংস ও নিরাপত্তা ভঙ্গের দায়ে পুলিশ কর্মকর্তা সৌদ আজিজ ও খুররম শেহজাদকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে ১০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়। তবে তিন মাস পর হাইকোর্ট এ সাজা স্থগিত করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেন। অভিযুক্ত ও বাদীর আপিল চার বছরের বেশি সময় ধরে লাহোর হাইকোর্টের রাওয়ালপিন্ডি বেঞ্চে বিচারাধীন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
3
টেলিভিশন নাট্য পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড টেলিভিশন মাধ্যমকে শিল্প ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠককলে ডিরেক্টরস গিল্ডের নেতারা এই দাবি জানান। এ সময় ডিরেক্টস গিল্ডের উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু, সহ-সভাপতি কচি খন্দকার ও শহীদ রায়হান, সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। টেলিভিশন মাধ্যমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবির সঙ্গে পরিচালকরা জানান, প্রতিবছর টেলিভিশন নাটক ও অনুষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগ হওয়া সত্ত্বেও এই মাধ্যমটিকে শিল্পী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যান্য পেশার মতো টেলিভিশন নাটক নির্মাতাদের পেশার স্বীকৃতি, বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক ও অনুষ্ঠানে মান যাচাই-বাছাই করতে গঠিত কমিটিতে ডিরেক্টর গিল্ডের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি পর্যায়ে যেসব কমিটি গঠিত হয় সেইসব কমিটিতে ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নাট্য পরিচালকরা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও শারীরিকভাবে অক্ষম পরিচালকদের সহযোগিতায় ডিরেক্টরস গিল্ডের কল্যাণ তহবিলে সরকারের অর্থ প্রদান, টেলিভিশন নাটক সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাটক নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা। ডিরেক্টরস গিল্ডের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তথ্যমন্ত্রী টিভি সম্প্রচার প্রসঙ্গে বলেন, '২০০৬ সালের ক্যাবল টিভি আইনানুসারে ডাউনলিংক করে সম্প্রচারিত বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপন প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। সেইসাথে বিদেশ থেকে দ্বিতীয় গ্রেডের কুশলী দিয়ে নিম্নমানের বিজ্ঞাপন তৈরি করে আনার হিড়িকও অনভিপ্রেত।' টিভি নাটক পরিচালকদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি বিবেচনারও আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।
2
রান উৎসবের পাল্লায় ড্রয়ের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার পাল্লেকেলে টেস্ট। শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ তিন উইকেটে ৫১২ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল সাত উইকেটে ৫৪১ রান (ডিক্লিয়ার)। এখনো ২৯ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। রোববার ম্যাচের শেষ দিন। ম্যাচের ফল যেন সবার জানা হয়ে গেছে। শনিবার সারাটাদিন ব্যাট করেছে শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটসম্যান করুনারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। এই জুটি ভাঙতেই পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩২২ রান করেও এই জুটি এখনো অবিচ্ছন্ন, বল খেলেছে ৫২৪। তৃতীয় দিনে করুনারত্নে ৮৫ ও ধনাঞ্জয়া ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। চতুর্থ দিন শেষেও তারা দুজন অপরাজিত। দুজনের নামের পাশেই সেঞ্চুরি। লঙ্কান অধিনায়ক করুনারত্নেতো ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন ২৩৪ রানে। বল খরচ করেছেন ৪১৯। চার হাঁকিয়েছেন ২৫টি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি এটি করুনার। অন্যদিকে ১৫৪ রানে অপরাজিত আছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ২৭৮ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান ২০টি চার। টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি ধনাঞ্জয়ার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে চারবার দেড় শ' ছুঁয়ে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পাননি করুনারত্নে। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাই টেস্টে আউট হয়েছিলেন ১৯৬ রান করে। পরের বছর গলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫৮ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছিল সঙ্গীর অভাবে। একই মাঠে ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ১৮৬, এর আগের বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে ১৫২। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া চতুর্থ ব্যাটসম্যান করুনারত্নে। মাহেলা জয়াবর্ধনে তিনবার এই কীর্তি গড়েছেন নেতৃত্বের ম্যাচে, একবার করে মারভান আতাপাত্তু ও কুমার সাঙ্গাকারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি ২৮তম ডাবল সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি ৭টি করেছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরাই। সাঙ্গাকারা একাই করেছেন তিনটি।
12
কিছুদিন আগেই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা করেছিলেন অনুপম রায়। গেল কয়েকদিন ধরে ব্যক্তি জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে চলেছেন তিনি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে তাঁর দুঃখে কাতর ভক্তরাও।মনখারাপের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপম শেয়ার করলেন তাঁর নতুন গান 'আমি অনেক দূরের মানুষ। কাছে থাকি কিছুক্ষণ তুমি মিথ্যে আমায় দিলে তোমার মন। আমি নিজেই নিজেকে ঠকাই, ভুলে থাকি কিছুক্ষণ, তুমি মিথ্যে আমায় দিলে তোমার মন।' গানেও উঠে এল বিচ্ছেদের কথা। অনুপম রায় তো এমনই। তাঁর গানে বারবার ধরা দিয়েছে প্রেম থেকে বিচ্ছেদ, রাগ, দুঃখ, মান অভিমান। এই গানটি তিনি লিখেছেন, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি 'অনুসন্ধান'-এর জন্য। ছবির মূল চরিত্রে দেখা যাবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে, তাঁর বিপরীতে রয়েছেন পায়েল সরকার। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, প্রিয়াঙ্কা সরকার, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। গানের এই চারলাইন লেখা দেখে কোনও এক ভক্ত লিখেছেন, 'হোক না যত আঁধার কালো, তবুও তুমি ভাল থেকো।' কেউ লিখেছেন, 'অনেক ভালোবাসা আপনার জন্য', কেউ আবার লিখেছেন,'ভালোবাসা নিও এত সুন্দর কথা দিয়ে গানটা বাঁধতে পারার জন্য'।'অনুসন্ধান' ছবির ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। ছবির ট্রেলার দেখলেই বোঝা যায়, এ ছবির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে রহস্য। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনুপম রায়। সেই ছবিতেই শোনা যাবে এই গান। তবে আপাতত গানের কথাতেই মজেছেন অনুপমের ভক্তরা।
2
শায়েষা সায়গল। বলিউডের অন্যতম সুন্দরী অভিনেত্রী বলা হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে বলিউডের একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেটা তার মায়ের দিক থেকে। সালমান খানের কলেজ জীবনের প্রথম প্রেমিকা ছিলেন শাহিন। শায়রা ও দিলীপ কুমারের সঙ্গে সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা ছিল সেই সময়। সেই শাহিনেরই মেয়ে শায়েষা। সালমান তাই এই অভিনেত্রীকে নাকি ডেবিউ করাতেও চেয়েছিলেন। বলিউড সূত্রের খবর, সালমান অত্যন্ত খেয়াল রাখেন 'শিবায়ে' অভিনেত্রীর, স্নেহও করেন। এর আগে এক পার্টিতে দেখাও গেছে তাদের। সালমান নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে এও বলেছেন, শায়েষাকে দেখলেই অল্প বয়সের শাহিনের কথাই তার মনে পড়ে যায়। অজয় দেবগণের 'শিবায়ে' ছবিতে অভিনয় করেছেন শায়েষা। আবারও শিগগিরই নতুন ছবিতে দেখা যেতে পারে এই অভিনেত্রীকে। তবে শায়েষার প্রথম ছবি তামিল। ছবির নাম ছিল অখিল। সেটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। মুম্বাইয়ের ইকোলে মণ্ডলে স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন শায়েষা। কোনদিন ৯০ শতাংশের কম নম্বর পাননি এই মেধাবী ছাত্রী। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই এ কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/৩০ জানুয়ারি ২০১৯/আরাফাত
2
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে সোমবার প্রায় শতভাগ পোশাক কারখানায় বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত বাকি থাকা জুনের বেতনও পেয়েছেন শ্রমিকরা। বেতন-বোনাস পরিশোধ শেষে এক রকম অনশ্চিয়তার মধ্যেই প্রায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট কারখানা খোলার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে ঘোষিত তারিখের আগে বা পরে কারখানা খোলা হতে পারে। সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের মোবাইলে জানিয়েছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঈদুল আজাহা উপলক্ষে বিজিএমইএ'র কারখানার বেতন-বোনাস সংক্রান্ত পরিদর্শন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের শেষ কর্মদিবসে সোমবার পর্যন্ত বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট এক হাজার ৯০৭টি কারখানার শ্রমিকরা বোনাস পেয়েছেন। মাত্র ৫টি কারখানায় বিকেল পর্যন্ত বেতন-বোনাসের কোনো সুরাহা হয়নি। তবে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়ায় আছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজিএমইএ'র সক্রিয় কারখানার সংখ্যা এক হাজার ৯১২টি। এর মধ্যে ঢাকায় এক হাজার ৬৬৬টি এবং চট্টগ্রামে ২৪৬টি সক্রিয় কারখানা রয়েছে। জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম সমকালকে বলেন, এবার ঈদেও বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তবে লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে আগামী মাসে বেতন পরিশোধ করা নিয়ে হিমশিম খেতে হবে উদ্যোক্তাদের।
0
ভোক্তা পর্যায়ে লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে ডিজেল ও কেরোসিনের। নতুন দাম প্রতি লিটার ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার জ্বালানি তেলের দাম ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। যা আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।উপসচিব শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা স্মারকমূলে বিভিন্ন প্রকারের পেট্রোলিয়াম পণ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য সংশোধন করা হলো।ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে শোধিত এবং সরাসরি আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল ও কেরোসিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন তেল বিপণন কোম্পানিসমূহের কাছে নতুন মূল্যে সরবরাহ করবে। ডিজেলের কর-উত্তর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ টাকা ৪৪ পয়সা। কেরোসিনের কর-উত্তর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ টাকা ৪৯ পয়সা।তবে অকটেনের দাম ৮৯ টাকা ও পেট্রোলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ৮৬ টাকা থাকছে।দেশে যত জ্বালানি তেল বিক্রি হয় তার প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল ও কেরোসিন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হিসাব বলছে, দেশে প্রতিদিন ১১ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। আর কেরোসিন বিক্রি দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টনের মতো।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান ক্রয়মূল্য বিবেচনা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ডিজেলে লিটারপ্রতি ১৩ দশমিক ০১ এবং ফার্নেস অয়েলে লিটারপ্রতি ৬ দশমিক ২১ টাকা কমে বিক্রি করে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিভিন্ন গ্রেডের পেট্রোলিয়াম পণ্য বর্তমান মূল্যে সরবরাহ করায় মোট ৭২৬ দশমিক ৭১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার শুধু ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে।
0
নতুন বছরের শুরুর রাত ভিন্নভাবে উদ্যাপন করেছে নওগাঁর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'রূপসী নওগাঁ'। সংগঠনের সদস্যরা জেলা ও পার্শ্ববর্তী সান্তাহার রেলস্টেশনে ঘুরে দুস্থ, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের কাছে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। পুরো দেশ যখন আতশবাজি, ফানুস উড়িয়ে, মাইক বাজিয়ে উৎসবে মেতে উঠেছে, তখন ওই রেলস্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র।তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপসী নওগাঁ সংগঠনের সদস্যরা রাত ৯টা থেকে নওগাঁ শহর ও পার্শ্ববর্তী সান্তাহার রেলস্টেশনে ঘুরে দুস্থ, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের কাছে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাঁরা ভিন্নভাবেই বছরের শেষ রাতটা উদ্যাপন করেন। রাতে তাঁরা ৫০ জন শীতার্তকে কম্বল বিতরণ করেন।এ সময় সেখানে রূপসী নওগাঁর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি খালেদ বিন ফিরোজ, সহসাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান সাদ্দাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাজু রহমান সুজন, প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামাল, অর্থ সম্পাদক আহসান হাবিব মহন, সহপ্রচার সম্পাদক বদিউজ্জামান টিটু, সদস্য রনি, মিনারুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।রূপসী নওগাঁর পরিচালক খালেদ বিন ফিরোজ বলেন, অনেকেই বছরের প্রথম দিন আতশবাজি, ফানুস উড়িয়ে, বক্স ভাড়া করে নাচ-গানের আয়োজন করে। যার পুরোটায় অপচয়। এ ছাড়া ফানুস উড়িয়ে অনেক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তাই অপচয় না করে সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
6
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, 'পরপর কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুধু দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতামূলক, সেটি তদন্তাধীন আছে। তবে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।' আজ সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় মাহবুব উল আলম হানিফ অভিযোগ করেন, এর আগে ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৯৩ দিন সারা দেশে পেট্রল দিয়ে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পোড়ানো হয়েছিল। আগুন দিয়ে গাড়িঘোড়া ধ্বংস করা হয়েছিল। সে কারণে পরপর যে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে অনু বাহারকে নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই সে রাস্তায়, গাড়িতে, ফুটপাতে হয়রানির শিকার হচ্ছিল। রাস্তার এই রোজকার হয়রানি যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, একদিন অনু সিদ্ধান্ত নেয় একটা স্কুটার কেনার। কিন্তু সেখানে শুরু হয় আরেক সংগ্রাম।এমন এক সাধারণ নারীর অসাধারণ গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'স্কুটি'। তরুণ পরিচালক আরিফুর রহমান পরিচালিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি চরকি নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষভাবে মুক্তি দিচ্ছে।৮ মার্চ, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে 'স্কুটি' দেখা যাবে চরকিতে। এখানে মূল ভুমিকায় দেখা যাবে নাজিফা তুষিকে। তুষি বাদেও এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম রায়হান, সঙ্গীতা চৌধুরী, অশোক ব্যাপারী, হেদায়াত নান্নু, আদনান আদিব খান, আশফাকুল আশেকিন, রেশমী, মোহনা, শশী আফরোজা, সোনিয়া ইয়াসমিন, আমিন, মারিয়া, তানিশা, অহনা, কৃষ্ণা প্রমুখ। পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, 'আমার এই সিনেমার স্ক্রিপ্টটা কয়েকটি প্রতিযোগতায় অংশ নিয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বাইরে কয়েকটি ফেস্টিভালে দেখানো হয়েছে। তবে এইবার বাংলাদেশের দর্শক স্কুটি সিনেমাটি দেখতে পাবে চরকির মাধ্যমে। আমার মনে হয়েছে স্কুটি সিনেমাটা এই দেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি মাস্ট ওয়াচ সিনেমা।'বিশেষ করে যে মেয়েটি, যে বোনটি প্রতিদিন রাস্তায় বের হয় তারা এই ছবি দেখে অনুর মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবে। কে জানে অনুকে দেখে তাদের জীবনেও কোনো বদলের হাওয়া লাগতে পারে। সেটাই হবে আমার এই গল্প বলার স্বার্থকতা।'এর আগে 'মাটির প্রজার দেশে' ছবির প্রযোজক হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন পরিচালক আরিফ।
2
বিয়ে করতে যাচ্ছেন অঙ্কিতা লোখান্ডে। প্রয়াত বলিউড তারকা সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে 'পবিত্র রিশতা' ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। পরে সুশান্তর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে যান তিনি। সুশান্তর মৃত্যুর পর বিপুল আলোচনায় উঠে আসে তাঁর নাম। অঙ্কিতা বিয়ে করতে যাচ্ছেন প্রেমিক ভিকি জৈনকে। একপ্রকার মুখ ফসকেই সে কথা ফাঁস করে দিয়েছেন অঙ্কিতার সহ-অভিনেতা শাহির শেখ। তাঁর বিয়ের খবর নিয়ে এর আগেও নানা রকম গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল মুম্বাইয়ের টেলিভিশন পাড়ায়। ওটিটিতে শুরু হতে যাচ্ছে 'পবিত্র রিশতা টু'। সাত বছর পর আবার পর্দায় ফিরছে সেই জনপ্রিয় ধারাবাহিক, যেখানে অভিনয়ের পরেই খ্যাতির মুখ দেখেছিলেন সুশান্ত এবং অঙ্কিতা। সুশান্তর পরিবর্তে এবার 'মানব' চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা শাহির। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা বলেন, 'ধারাবাহিক শেষ হয়ে গেলে অঙ্কিতা বিয়ে করবেন ভিকিকে।' অঙ্কিতা অবশ্য ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। শাহিরকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'সে রকম কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি এখনই নতুন কিছু করছি না। তবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন একটি পরিকল্পনা আছে।' তিন বছর হলো প্রেম করছেন অঙ্কিতা। গত মে মাসে আরেক সাক্ষাৎকারে ভিকি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের চিন্তাভাবনা করছেন তিনি।
2
ঈদের ভারী খাওয়ার পর শরীরকে ফিরিয়ে আনতে হবে স্বাভাবিক খাবারের জায়গায়। 'স্টাইলক্রেজ' অবলম্বনে কিছু পরামর্শ রইল আপনাদের জন্য।কুসুম গরম পানি পান: কুসুম গরম পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি পাচনতন্ত্র সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। এতে ভাজাপোড়া ও তেলজাতীয় খাবার হজম সহজ হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।ডিটক্স পানীয়: তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর পাচনতন্ত্রে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে ডিটক্স পানীয় পান করতে পারেন। লেবুর শরবত খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যায়।হাঁটা: খাওয়ার পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। তৈলাক্ত ও ভারী খাবার খাওয়ার পর শরীরে যে অস্বস্তি হয়, তা কাটাতেও হাঁটা উপকারী।স্বাভাবিক খাবারের পরিকল্পনা: টানা মসলাদার খাবার খাওয়ার পর দ্রুত স্বাভাবিক খাবারে ফিরে আসার চেষ্টা করুন। সকালের নাশতায় গমের আটার রুটি, সবজি, পানি ও জুস পান করুন। অন্যদিকে রাতের খাবারে রাখুন হালকা খাবার। দুপুরে ভারী ও মসলাদার খাবার দূরে রাখুন।প্রোবায়োটিকস: হজম প্রক্রিয়া ও অন্ত্র ভালো রাখতে রোজ প্রোবায়োটিকস খাবার খাওয়া ভালো। প্রতিদিন এক কাপ করে টকদই খাওয়ার চেষ্টা করুন। পেটের অস্বস্তি দূর করতে ও হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে টকদই ভূমিকা রাখে।ফল ও শাকসবজি খান: ফলমূল ও শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ। এগুলো শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। পোলাও, ঝাল মাংসের মতো খাবার খাওয়ার পর অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। ফলমূল ও সবজির আঁশ পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। হালকা খাবার হিসেবে ফল, বাদাম ও বীজ খেতে পারেন। খাবারের সঙ্গে সালাদ খেলেও আরাম পাবেন।ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন: ঠান্ডা খাবার খেলে অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাবার সহজে হজম করা কঠিন। ফলে পেট ফাঁপা ও বদহজমের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই আইসক্রিম ও অন্যান্য ঠান্ডা খাবার না খাওয়ার অভ্যাস করুন।
4
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে ইতিহাস গড়লেন টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানের লিড আর নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রান। সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মুমিনুল-মুশফিকরা। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিরুদ্ধে টেস্টে প্রথম জয়তো বটেই, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশ পেল প্রথম জয়। শেষ দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন রস টেইলর। দিনের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেট বাংলাদেশকে এনে দিলেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এই ম্যাচে দলের চাওয়া যেমন পূরণ করলেন তিনি, তেমনি অবসান হলো দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের এক অপেক্ষারও। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের শেষ দিন সকালে টেইলরকে আউট করে ইবাদত পূর্ণ করলেন ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে ৪৬ রানে তার শিকার ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে তার প্রথম তো বটেই, প্রায় ৯ বছর ও ৪৭ টেস্ট পর টেস্টে ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। ২০১৩ সালে রবিউল ইসলাম শিপলুর পর প্রথম পেসার হিসেবে ইবাদত পেলেন ফাইফার। অবশেষে ইবাদতের হাত ধরে কাটল সেই খরা। অথচ এই টেস্টের আগে তার উইকেট ছিল ১০ টেস্টে মাত্র ১১টি। বোলিং গড় ছিল ৮১.৫৪, ১০টির বেশি উইকেট শিকারিদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে গড় যা। সেই তিনিই এবার উপহার দিলেন অসাধারণ বোলিং। ইবাদতের এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয় চতুর্থ দিন দ্বিতীয় সেশনে। টানা ৯ ওভারের স্পেলে ২৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। এরপর শেষ সেশনে অসাধারণ এক স্পেলে তিনি ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়ই। ৭ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নেন ওই স্পেলে। সব মিলিয়ে স্পেলটি ছিল ৭-৩-১৫-৩। ৪ উইকেট নিয়ে শেষ দিন শুরুর পর আরেকটি উইকেটের জন্য অপেক্ষা খুব একটা করতে হয়নি। দিনের দ্বিতীয় আর নিজের দ্বিতীয় বলেই ধরা দেয় সেই উইকেট। ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন অভিজ্ঞ টেইলরকে। ষষ্ঠ শিকার জেমিসন আউট হন শর্ট মিড উইকেটে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচে। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আগে ছিল স্রেফ ৪ জন পেসারের। সর্বোচ্চ ৪ বার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন, রবিউল ইসলাম ২ বার। একবার করে মঞ্জুরুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো পেসারের ৫ উইকেট ছিল একটি। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে বেদম মার খেয়ে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট নিতে পেরেছিলেন রুবেল হোসেন। ইবাদত এবার তাকে পেছনে ফেললেন অনেকটা ব্যবধানে। বিডি-প্রতিদিন/সিফাত
12
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে দুবলার চরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১০ মণ ওজনের একটি বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছ। সোমবার ভোরে বাগেরহাটের মোংলার জেলে কুতুব আলীর গলসা জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে এই বিশাল আকৃতির মাছটি দুপুরে মোংলা বাজারে নিয়ে আসলে উৎসুক জনতা মাছটি দেখতে ভিড় জমায়। মোংলা মৎস্য সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ১০ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছটি মোংলার প্রধান মৎস্য বাজারের রাইজিং ফিসের মালিক দীন ইসলাম ৬ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে ৬৪ হাজার টাকায় মাছটি কিনে তারা। পরে এই মাছ ভাগ করে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
১৯৪৫ সালের ৯ মে তারিখের সকাল রাশিয়ায় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের দিন হিসেবে স্মরণীয়। রোববার নাৎসিদের হারানোর ৭৬ বছর পূর্তি উদযাপন করলো রাশিয়া। নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের ৭৬ বছর পূর্তি উদযাপনের দিনে মস্কোর রেড স্কয়ারে রুশ সেনাবাহিনী কুচকাওয়াজ করে এ দিনটি উদযাপন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়ের এ স্মরণীয় দিনে মস্কোর রেড স্কয়ারের এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ দিন স্টেট হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের ওপরে মিগ-২৯ ও সু-৩০এসএম জেট বিমানের মহড়া প্রদর্শিত হয়। মস্কোর রেড স্কয়ারে হয় বুক-এম-থ্রি মিসাইল প্রদর্শনী ও বিএমডি-ফোরএম ইনফেন্ট্রি যুদ্ধযানের মহড়া। এছাড়া রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নারী সদস্যদের কুচকাওয়াজও হয় সেখানে। এদিনে আকাশে জাতীয় পতাকার রঙে ধোয়ার রেখা একে দেয় সু-২৫ জেট বিমান। সেন্ট পিটার্সবুর্গেও নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের ৭৬ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। সেখানে জেট স্কি চালকদের দৃষ্টিনন্দন র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মস্কোয় দ্বিতীয় বিশ্বযু্দ্ধে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় উদযাপনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের বিদেশী অতিথিরা যোগ দেন। এ স্মরণীয় দিনে যুদ্ধে প্রাণ হারানো বীরদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাখমন। এ সময় সমবেত রণসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর বিজয়ের ৭৬ বছর পূর্তির দিনে মস্কোবাসীরা এক বিশেষ ভোজের আয়োজনও করে। সূত্র : ডয়চে ভেলে
3
মেসি-এমবাপ্পের জাদুতে ৩-১ গোলে নঁতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে পিএসজি। শনিবার ঘরের মাঠে পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ানে প্রথম গোল করার পাশাপাশি দলেরজয়েআনন্দে ভাসেন মেসি।লাল কার্ডকেও নিজেদের জয়ের পথে বাধা হতে দেয়নি পিএসজি। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।এরপর আরও অনেক সুযোগ পেয়েছিল দলটি। তবে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পিএসজির গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। তাই বাধ্য হয়েই আরেকজন গোলরক্ষক নামাতে গিয়ে নেইমারকেও বদলি করতে হয় কোচ পচেত্তিনোকে। আর ৮৭ মিনিটে লিওনেল মেসি গোল করে পিএসজির ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শীর্ষস্থান মজবুত করল পিএসজি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
12
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের (বিধিনিষেধের) মধ্যে ঈদুল ফিতরের তিন দিনের ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলেই থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
করোনার অতিসংক্রামক ধরন অমিক্রন রোধে করোনা টিকার নতুন সংস্করণ নিয়ে কাজ করার কথা আগেই জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক। এবার ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। খবর বিবিসির। নতুন টিকার পরীক্ষা চালানো হবে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের ওপরে। যাঁরা এখনো করোনার টিকার কোনো ডোজ নেননি তাঁদের নতুন টিকার তিনটি ডোজ দেওয়া হবে। অপরদিকে এর আগেই টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা পাবেন একটি বুস্টার ডোজ। ফাইজার-বায়োএনটেক যখন নতুন টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে, তখন একই কার্যক্রম শুরু পরিকল্পনা করছে আরেক মার্কিন ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মডার্না। শিগগিরই নিজেদের একই ধরনের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে যাচ্ছে তারা। অপরদিকে অমিক্রন রোধে টিকার নতুন সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা। করোনার দাপটে লাগাম টানতে এর মধ্যেই অনেক দেশে বাজারে প্রচলিত টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। দেখা গেছে বাড়তি এই ডোজ করোনা আক্রান্ত রোগীর মারাত্মক শারীরিক জটিলতা এবং মৃত্যু রুখে দিতে বেশ কার্যকর। এমনটি অমিক্রনের বিরুদ্ধেও ভালো ফল দিয়েছে বুস্টার ডোজ। ফাইজার-বায়োএনটেক বলছে, চলতি বছরে তাদের ৪০০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অমিক্রন রোধে নতুন টিকা পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে, এটিও যুক্ত করা হবে ৪০০ কোটি ডোজ টিকার মধ্যে। নতুন টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক লোকজনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১৫ জনকে প্রথমে বাজারে প্রচলিত ফাইজারের টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হবে। এরপর তাঁরা নতুন টিকার একটি অথবা দুটি ডোজ পাবেন। অপরদিকে এর মধ্যেই প্রচলিত টিকার তিনটি ডোজ নিয়েছেন এমন ৬০০ জনকে একই টিকার বাড়তি একটি ডোজ অথবা অমিক্রন রোধে তৈরি টিকার একটি ডোজ দেওয়া হবে। আর এখনো টিকা নেননি এমন ২০০ জনকে নতুন টিকার তিনটি ডোজ দেওয়া হবে। গত বছরের নভেম্বরে আফ্রিকায় প্রথম অমিক্রন শনাক্ত হয়। এর কয়েক দিন বাদেই করোনা টিকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছিল, ১০০ দিনের মধ্যেই ধরনটি রোধে নতুন টিকা প্রস্তুত করবে তারা। তবে প্রচলিত ও নতুন টিকার মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনো সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
3
কাজাখস্তানে গণবিক্ষোভ সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভ কোনো সতর্কীকরণ ছাড়াই সৈন্যদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। টেলিভিশনে এক ভাষণে তিনি বলছেন, কাজাখস্তানের পরিস্থিতি মূলত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু তার ভাষায়, সন্ত্রাসীদের দেখামাত্রই গুলি করা হবে। কাজাখস্তানে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভ বলেন, কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাটির ওপর ২০ হাজার গুণ্ডা হামলা চালিয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে না, তাদের সবাইকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে সে দেশে সন্ত্রাস হয়েছে বলে তোকায়েভ যে দাবি করছেন, বিরোধীদলগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজাখস্তানের পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাশিয়ার সৈন্য পাঠানোর জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। একটি আঞ্চলিক চুক্তি অনুযায়ী কাজাখস্তানে রুশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। টেলিভিশনের ওই ভাষণে সঙ্কট সমাধানে বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা দাবিকে তোকায়েভ 'হাস্যকর' বলে বর্ণনা করেন। 'খুনি ও অপরাধীদের সাথে আলোচনার কী আছে?" বলেন তিনি, 'আমরা দেশী-বিদেশী সশস্ত্র অপরাধীদের মোকাবেলা করেছি। আরো স্পষ্ট করে বললে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছি। তাই এদের আমরা ধ্বংস করবো। আর এটা হবে খুব শিগগিরই।' হঠাৎ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ছয় দিন আগে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন কাজাখস্তানের কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে তা এক গণবিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি
3
কক্সবাজারের উখিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শুরু হবে দিবসের কর্মসূচি। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।সভা শেষে প্রাথমিক পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ পর্যালোচনা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার।দুপুরে ১৯৭৫ এর ১৫ এ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের স্মরণে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় চলবে বিশেষ প্রার্থনা।উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, "যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সকলের অংশগ্রহণে গৃহীত কর্মসূচিগুলো পালন করা হবে।"
6
স্ত্রীর সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান ফুলতলার ব্যবসায়ী নেতা ও 'দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী' রকিবুল ইসলাম। এ সময় তার স্ত্রীও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। শুক্রবার বিকেলে ফুলতলা কলেজ মাঠে রকিবের জানাজা শেষে সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানায়, মামলা প্রক্রিয়াধীন। রকিবুল খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের মাহাবুব জমাদ্দারের ছেলে। তিনি ফুলতলা বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দত্তগাতী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে রকিবুল ইসলাম খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, রকিবুল ইসলাম ফুলতলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। নওয়াপাড়া পৌরসভার কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা মোল্যা ওলিয়ার রহমান হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে অভয়নগর ও ফুলতলা থানায় তিনটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রকিবুল ইসলাম তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে মনিরামপুরের কপালিয়া গ্রামে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দত্তগাতী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি তার বুকের বাঁ পাশে ও মাথায় লাগে। তাকে ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। রকিবুলের স্ত্রী বর্ষা বেগম বলেন, আমি ও আমার স্বামী মোটরসাইকেল করে দত্তগাতি এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে স্বামীর মাথায় ও বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দত্তগাতী দামুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নিয়োগে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এ লেনদেনে রকিবুল ইসলাম ৯ লাখ টাকা দাবি করেন। অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন মণ্ডল বলেন, রকিবুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তিনি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
6
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যেই নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও স্বাধীনতাকে হত্যার চক্রান্তেই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা শ্রমিক লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী এ সময় ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে শহীদ জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা এ দেশের স্বাধীনতা চাননি, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, খন্দকার মোশতাকসহ সেই সব বর্ণচোরা ষড়যন্ত্রকারীরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটি অগ্রগতির উদাহরণ হয়ে উঠত, এশিয়ায় সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার আগে মানুষ বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শুনত, কিন্তু তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি, উল্লেখ করেন মন্ত্রী। হাছান মাহমুদ বলেন, 'স্বাধীনতার পর তিন কোটি গৃহহারা মানুষের একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে দাঁড় করিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়, তখন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আমরা চার দশক পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৬-১৭ সালে অতিক্রম করতে পেরেছি।' তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যাতে হত্যার বিচার না হয়, সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, জিয়া সেটাকে ১৯৭৯ সালে আইনে পরিণত করেন। একইভাবে ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অপারেশন ক্লিনহার্ট পরিচালনা করে প্রায় এক শ মানুষ হত্যা করে তার বিচার বন্ধেও ইনডেমনিটি দেয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা তৈরি করা হয়েছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার, জাতীয় পতাকা ও সংগীত পরিবর্তন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে রেডিও পাকিস্তানের আদলে রেডিও বাংলাদেশ করা হয়েছিল। নারী উন্নয়ন বিষয়ে এ সময় মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে নারী অগ্রগতিতে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। দেশে আজ নারীরা বিচারপতি, সচিব, জেনারেল হয়েছেন, যা আগে কেউ ভাবেননি। শেখ হাসিনাই সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করেছেন। কারণ, একজন মা কখনো সন্তানকে ছেড়ে যান না। অন্যদিকে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের ও নিজের বেশভূষার উন্নয়ন ঘটালেও নারী উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। সভার আগে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খানের জানাজায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। এদিকে বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিজ্ঞপ্তি।
9
আগামীকাল বুধবার ১৭ মার্চ। প্রখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী সাংবাদিক সফিউল আলম রাজার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ মিরপুর পল্লবীতে নিজ কার্যালয় কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমীতে ঘুম থেকে চিরঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমান ক্ষণজন্মা ভাওয়াইয়ার এই রাজকুমার। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় জন্ম নেওয়া শফিউল আলম রাজা শ্রোতা-দর্শকের কাছে 'ভাওয়াইয়া রাজা', 'ভাওয়াইয়া রাজকুমার' ও 'ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা' নামে পরিচিত ছিলেন। ভাওয়াইয়া গানের এই শিল্পী কৈশরে পিতা মরহুম নাজমুল হক ও মাতা মরহুমা শামসুন্নাহার বেগমের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় তার গান শেখা শুরু। সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তবে ভাওয়াইয়ার কিংবদন্তি-গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী নুরুল ইসলাম জাহিদের কাছে সংগীতের তাত্ত্বিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন রাজা। সফিউল আলম রাজা বাংলাদেশ বেতারের 'বিশেষ' ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের 'প্রথম' শ্রেণীর শিল্পী ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি দেশের সব ক'টি চ্যানেলে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। সংগীত পরিবেশন করেছেন বিদেশী বিভিন্ন মঞ্চ এবং মিডিয়াতেও (এরমধ্যে কলকাতার তারা মিউজিক এবং কলকাতা টিভি উল্লেখযোগ্য)। লোক সঙ্গীতের অন্যতম ধারা ভাওয়াইয়া গানের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে শিল্পী রাজা ২০০৮ সালে রাজধানীতে 'ভাওয়াইয়া' গানের দল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন 'ভাওয়াইয়া স্কুল'। যে স্কুলে ভাওয়াইয়ার ওপর এক বছরের ফ্রি সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সংস্কৃতির সকল শাখা নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে 'কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি' প্রতিষ্ঠা করেন এই শিল্পী। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র 'উত্তরের সুর'-এ চারটি মৌলিক ভাওয়াইয়া গান গেয়েছেন। শিল্পী জীবনে স্বীকৃতি স্বরূপ সফিউল আলম রাজা বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল বিকাশ প্রতিভা অন্বেষণে লোকসঙ্গীত বিভাগে (ভাওয়াইয়া নিয়ে) ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজধানীতে এ পর্যন্ত রাজা'র ৬ টি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে দু্ইটি, আঁড়িয়াল সেন্টারের উদ্যোগে একটি, আঁলিয়স ফ্রঁসেজের উদ্যোগে একটি, গুরুর চিকিৎসা সহায়তায় 'ভাওয়াইয়া' গানের দল-এর আয়োজনে একটি এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে একটি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি মিক্সড অ্যালবাম এবং ভায়োলিন মিডিয়া থেকে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়েছে একক ভাওয়াইয়া অ্যালবাম 'কবর দেখিয়া যান'। সংগীত নিয়ে সফর করেছেন অষ্ট্রেলিয়া, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে 'বিচারক' হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিল্পী সফিউল আলম রাজা পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক যুগান্তরে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে ১৪ বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রিয়.কম-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে এই পরীক্ষা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।এবার 'ক' ইউনিটে ১ হাজার ৮৫০টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭২৬ জন আবেদন করেছেন। সেই হিসাবে এবার প্রতি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় লড়বেন অন্তত ৬৩ জন শিক্ষার্থী।'ক' ইউনিটের অধীন মোট পাঁচটি অনুষদ ও পাঁচটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। পাচঁটি অনুষদ হচ্ছে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ফার্মেসি, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদ। সব অনুষদে মোট ৩৪টি বিভাগ রয়েছে।পাঁচটি ইনস্টিটিউট হচ্ছে স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সেস, ইনফরমেশন টেকনোলজি, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।এর আগে গত ৩ জুন ব্যবসায় অনুষদভুক্ত 'গ' ইউনিটের, ৪ জুন কলা অনুষদভুক্ত 'খ' ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ক' ইউনিটের পরীক্ষা।আগামী ১১ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা এবং ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত 'চ' ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
6
লালিমা বা লাল বাঁধাকপি বদলে দিয়েছে কৃষক বেলালের ভাগ্য। সারা বছর বিভিন্ন সবজি চাষের পাশাপাশি লালিমা বীজ রোপণ করেন। ফলন ভালো, দামেও ভালো। এরই মধ্যে দুই লাখ টাকার লালিমা বিক্রি হয়েছে তাঁর।গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়ায় বাড়ি কৃষক বেলাল হোসেনের। দুই মেয়ে, এক ছেলে আর স্ত্রীসহ পাঁচজনের সংসার। নিজের জমি বলতে সামান্য। তাই অন্যের জমি নিয়ে চাষ বাস করেন।কৃষক বেলাল বলেন, 'জমিতে কাজ করি আমি, আমার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে সিনথি আখতার, বন্যা বেগম ও ছেলে সিহাব আলীসহ সবাই। সময় হলে মেয়েরা বই-খাতা নিয়ে কলেজে যায়। তারপর আবার জমির আইলে বাপের সঙ্গে কাজ করে। সে কারণে আমার কামলা খরচটা কম হয়। একটার পর একটা সবজি চাষ করি জমিতে। কখনো ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ, আলু, টমেটো, লাউ, শিম, ক্যাপসিকাম, মিষ্টি কুমড়াসহ বারো মাস সবজির চাষ করে প্রতিবছর অন্তত বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘরে তুলি।'বেলাল আরও বলেন, লাভের টাকায় তিনি একটি বাড়ি করেন। মেয়েদের কলেজে পড়ালেখা শেখাচ্ছেন। আর নিজের পকেট খরচ, বাজার-হাট করে রাজার হালে সংসার চালিয়ে হাতে রাখেন নগদ টাকা।ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বীজ ভান্ডারে খোঁজ করেন ভিন্ন কিছু চাষ করা যায় কি না। মনে মনে ভাবেন জমিতে এবার ভিন্ন কিছু চাষ করতে হবে। এবার তাক লাগিয়ে দিতে চান মানুষকে। সেই সঙ্গে নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তারপর বীজ ভান্ডার থেকে খুঁজে পান লাল বাঁধাকপি বা লালিমার।
6
গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুত না করতে মালিকপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, 'দুর্যোগের মধ্যে সবাই উৎকণ্ঠিত থাকে। এ সময় যেকোনো ধরনের চাকরিচ্যুতি অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এ সময় মালিক পক্ষের যদি কোনো কারণে অসুবিধাও হয়, তারপরও সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত না করার জন্য তাদের অনুরোধ জানাচ্ছি।' সোমবার (২৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতাদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য সম্প্রচার আইন হবে, গণমাধ্যমকর্মী আইন হবে। গণমাধ্যমকর্মী আইন মন্ত্রিসভা হয়ে আগামী পার্লামেন্টে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। যদি এটি সেখানে পাস হয়, তবে ইলেক্ট্রনিক-প্রিন্ট-অনলাইনসহ সব মিডিয়ার সাংবাদিক আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি সম্প্রচার আইন তৈরিতেও আইন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। এই দুটি আইন হলে সব গণমাধ্যমকর্মীর আইনি সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। সবারই আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন। আমি আশা করি, খুব শিগগিরই গণমাধ্যমকর্মী আইনটি করতে পারবো।' হাছান মাহমুদ বলেন, 'ইতোপূর্বে আমি ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাসহ অন্যদের বলেছিলাম, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স করতে। মিডিয়া হাউজগুলো গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স করলে হাউজের জন্যই ভালো। গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স করলে কোনো সংবাদকর্মী অসুস্থ হলে কিংবা কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অন্যকোনো কারণে তার কোনো অসুবিধা হলে, এর মাধ্যমে সহায়তা দেয়া যায়। শুধু মিডিয়া হাউজগুলোই নয়; আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোও যোগ দিতে পারে।' নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। এগুলো চাইলেই আমার পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব নয়। আপনাদের বিষয়গুলো আমি জানি। যে ওয়েজ বোর্ডটি ঘোষণা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে যে কমিটি গঠন করা দরকার ছিল, সেই মনিটরিং কমিটি আমরা করে দিয়েছি। সেখানে সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিও থাকবেন। ওই কমিটি বিষয়টি মনিটর করবে। আশা করি, বিভিন্ন সংবাদপত্র নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করবে।' করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবি জানালে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের পারসোনাল প্রোটেকশনের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেবো।' তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। এটি সবাইকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একে অপরকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি বাদ দিয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।' এ সময় সেখানে ছিলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দস, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, সাংগাঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, জনকল্যাণ সম্পাদক সোহেলী চৌধুরী প্রমুখ।
6
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের জয়দেবপুরের যুগীচালা এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ।মেহেদী হাসান কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।পুলিশ ও পরিবারসূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসান গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। অবশেষে আজ সকালে জয়দেবপুর এলাকার যুগীচালার একটি দোকানের সামনে থেকে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফেসবুকে স্টাটাস দেন মেহেদী। স্টাটাসে তিনি লেখেন, 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, প্রিয় এলাকাবাসী আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি, আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার আগামী দিনের পথচলা সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন অথবা কাউন্সিলর এটাতো উসিলা মাত্র, আমি সারাজীবন আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের হয়ে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।'এই ফেসবুক স্ট্যাটাস এর সূত্র ধরে আজ সকালে জয়দেবপুর এলাকার যুগীচালার একটি দোকানের সামনে থেকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন।কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নিখোঁজের পাঁচ দিন পর মেহেদী হাসানকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সুস্থ আছেন। আপাতত থানা হেফাজতে আছেন। কোনো অভিযোগ না থাকলে পরিবারের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাচন কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন মেহেদী হাসান। গতকাল রোববার এ পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
6
স্কটল্যান্ডের পর ওমানের বিপক্ষেও শুরুতে কেঁপেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। ২১ রানেই বাংলাদেশ হারায় ২ উইকেট। সেখান থেকে সাকিব-নাঈমের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখান সাকিব। তাঁকে সঙ্গ দিয়ে জ্বলে উঠেন মোস্তাফিজুর রহমানও। সাকিব-মোস্তাফিজ-নাঈমের নৈপুণ্যে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ।লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই ১২ রান তোলে ওমান। তবে দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজ। আকিব ইলিয়াসকে ফিরিয়ে দেন প্রথম বলেই। উইকেট হারিয়েও হাল ছাড়েনি ওমান। ৫ ওভারে তুলে নেয় ৪০ রান। ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন যতীন্দর সিং। মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ ফেলে দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে যতীন্দরকে না পারলেও একই ওভারে ফিজ ফিরিয়ে দেন কাশিয়াপ প্রজাপতিকে। ১০ ওভার শেষে ওমানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭০ রান। দলীয় ৮১ রানে ফেরেন জিশান মাকসুদ। ১২ রান করা জিশানকে ফেরান মেহেদী।নিজের তৃতীয় ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক হতে থাকা জিতেন্দরকে। ৩৩ বলে ৪০ রান করে আউট হন জিতেন্দর। ১৫ তম ওভারে এক শ ছাড়ায় ওমানের রান। তবে দ্রুত আরও তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান সাইফউদ্দিন ও সাকিব। তিন উইকেটের দুটিই নেন সাকিব। এমনকি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন বাংলাদশ অলরাউন্ডার। ১০৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ওমান। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় ২৬ রানে।বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশএর আগে ওমানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। একাদশে সৌম্য সরকারের জায়গায় দলে আনা হয় মোহাম্মদ নাঈমকে। ওমানের পেস আক্রমণের সামনে বেশ সতর্কভাবে শুরু করেও ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি দুই ওপেনার লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই লিটনকে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতেন ওমানি পেসার কলিমুল্লাহ। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লিটন। জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। পরের ওভারে বিলাল খানের লেগবিফোরের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিলে ফিরে যান লিটন। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর ইনিংসের চতুর্থ ওভারে আসে বাংলাদেশের প্রথম বাউন্ডারি। পরের ওভারে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন ফাইয়াজ বাট। দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচে ফিরিয়ে দেন তিন নম্বরে উঠে আসা মেহেদী হাসানকে। রানের খাতায় খুলতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাবধানী হয়ে খেলতে শুরু করেন নাঈম ও সাকিব। তবে একের পর এক ডটে চাপ বাড়ছিল রানরেটে। প্রথম ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২৯। এরপর ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পান নাঈম। ক্যাচ মিস করে নাঈমকে ছয় উপহার দেন যতীন্দর সিং। বাজে ফিল্ডিং প্রদর্শনীতে পরের ওভারে দ্বিতীয় জীবন পান নাঈম।বোলিংয়ে শুরু থেকে ছন্দে থাকলেও, ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ে শুরু থেকেই ভালো করতে পারেনি ওমান। ওমানি ফিল্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নেন নাঈম-সাকিব। ১০ ওভারে এ দুজন দলকে নিয়ে যান ৬৩ রানে। ধীরে ধীরে রানের গতিও বাড়ান এ দুজন। বিশেষ করে ব্যাট হাতে সাকিব ছিলেন বেশ সাবলীল।১২ তম ওভারে চার-ছয়ে ১৭ রান নিয়ে স্ট্রাইক রেটও কিছুটা বাড়িয়ে নেন সাকিব-নাঈম। ১৪ তম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ এক শ ছাড়ায়। একই ওভারে ফিরে যান সাকিব। শুরু থেকে বাজে ফিল্ডিং করা ওমান সাকিবকে ফেরায় দুর্দান্ত এক রান আউটে। আকিব ইলিয়াসের সরাসরি থ্রুতে ফেরেন ২৯ বলে ৪২ রান করা এই অলরাউন্ডার। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নুরুল হাসান সোহানও। ফিরছেন ৩ রান করে।তবে প্রান্ত আগলে ফিফটি তুলে নেন নাঈম। ১ রান করে আউট হয়ে যান আফিফ হোসেনও। শেষ দিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান নাঈমও। ৪৯ বলে ৬৪ রান করেন এই ওপেনার। দলের সংগ্রহে তেমন অবদান রাখতে পারেননি মুশফিকও। ৬ রান করে ফিরেছেন ফাইয়াজ বাটের বলে নাসিম খুশিকে ক্যাচ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৩ রান।
12
হারারে টেস্টে আজ শনিবার চতুর্থ দিন বেশ সতর্ক হয়ে ব্যাটিং করছে টাইগাররা। নিজেদের পরিকল্পনামতোই এগোচ্ছে মুমিনুল বাহিনী। স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে বড় লিড দিতে দ্রুত রান তুলছেন সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। এমনকি আজ টাইগার ব্যাটসম্যান সাদমান ইসলাম টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তিনি ১৮০ বলে ৭টি চার হাঁকিয়ে শতক পূর্ন করেছেন। এর আগে দুটি হাফ সেঞ্চুরি থাকলেও এবার তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগারের দেখা পেলেন তিনি। তাছাড়া সাদমানকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমানের পরেই টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। তিনি ১০৯ বলে ৫ চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১০১ রান করেন। তাদের দুজনের জোড়া সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ ওভারে ২৬১ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা ৪৫৩ রানের লিড পেয়েছে। এখন উইকেটে অপরাজিত আছেন সাদমান ১১৩ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১১০ রান। এছাড়া সাদমান সেঞ্চুরি তুলে নিলেও ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি মিস করেছেন সাইফ হাসান। তিনি আজ ৭ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হন। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে না পারা সাইফ হাসান আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রান করে আউট হন। এদিন প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংসটি সেখানে থামিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভা। তার অফস্টাম্পের বাইরের বল কাট করেছিলেন সাইফ। পয়েন্টে দারুণ ক্যাচ নেন ডিনো মায়ার্স। এদিকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৪৬৮ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ২৭৬ রানে।
12
কুমিল্লা মহানগর কৃষক লীগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখার কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নগরীর পাথুরিয়া পাড়া শাহে পানুয়া আহম্মদিয়া জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে এ সম্মেলন হয়। এতে সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে শওকত আকবরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।৩৭ সদস্যের এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. লিয়াকত হায়দার, হোসেন মিয়া, মনির হোসেন, আক্তার হোসেন, সৈয়দ হেলালুর হকে।সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। কৃষক লীগ ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখা আয়োজিত কর্মী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম।
6
একাদশ সংসদ নির্বাচনে গতকাল সোমবার দলীয় প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়া শুরু করে বিএনপি। প্রথম দিনে রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের (আংশিক) শতাধিক আসনে দেড় শতাধিক দলীয় প্রার্থীর প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দেয় দলটি। মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়নপত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। বেলা ৩টা পর্যন্ত দলটির মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন- ঢাকা-১৩ আসনে মোহাম্মদ আবদুস সালাম। মুন্সিগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আবদুল হাই। ফরিদপুর-১ আসনে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ফরিদপুর-২ আসনে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর-৪ আসনে শাহরিয়া ইসলাম শায়লা। টাঙ্গাইল-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হালিম মিয়া। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ রেজাউল করিম খান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। ময়মনসিংহ-১ আসনে এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনে শাহ শহীদ সারওয়ার, ময়মনসিংহ-৩ আহম্মেদ তায়েবুর রহমান ওরফে হিরন, ময়মনসিংহ-৪ আসনে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৮ আসনে শাহ নূর কবির শাহীন, ময়মনসিংহ-৯ আসনে ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনে মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। জামালপুর-১ আসনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-৩ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুর কবির তালুকদার শামীম। নেত্রকোনা-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম হেলালি, নেত্রকোনা-৫ আসনে আবু তাহের তালুকদার, নেত্রকোনা-২ আসনে আশরাফুদ্দীন খান। চট্টগ্রাম-১ আসনে কামাল উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মুস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. শওকত আলী নূর। কুমিল্লা-৩ আসনে শাহিদা রফিক, কুমিল্লা-৫ আসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, কুমিল্লা-৬ আসনে হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ তৌফিকুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল। সুনামগঞ্জ-১ আসনে আনিসুল হক। কুষ্টিয়া-৩ আসনে অধ্যাপক সোহরাব উদ্দীন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুনি ও নুরুল ইসলাম আনসার পরামাণিক। রাজশাহী-৬ আসনে রমেশ দত্ত। বরগুনা-২ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন তালুকদার।
6
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূর ওপন যৌন নির্যাতনসহ সারাদেশে নারী ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা এবং বীভৎস নির্যাতনের বিচারের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ শনিবারও উত্তাল ছিল। এদিন রাজধানীর শাহবাগ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষক ও নির্যাতকদের গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে 'ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্রোধ' প্রকাশ করেছেন হাজারো মানুষ। 'প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী'র কর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নেন। যৌন সহিংসতাকে জাতীয় জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা দেওয়া হয় অবস্থান কর্মসূচি থেকে। এ সময় বিনা অনুমতিতে যে কোনো যৌনকর্মকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংশোধনসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠনের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। প্রথাবহির্ভূতভাবে আয়োজিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে কোনো বক্তা ছিলেন না। সবাই একযোগে স্লোগানে স্লোগানে ধর্ষকের বিচার, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। এ সময় নিপীড়নবিরোধী ছবি ও প্ল্যাকার্ড আঁকা হয়। বাদ্য বাজিয়ে 'রাষ্ট্র ও পরিবারে সমান হবো অধিকারে', 'না মানে, না' ফেস্টুন প্রদর্শন করেন অবস্থানকারীরা। 'ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্রোধ' প্রকাশে বিকেল ৩টা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত হন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সংসদের সামনে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনে অনড় থাকেন। তাদের তরফ থেকে বলা হয়, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে তারা যে কোনো স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার রাখেন। তারা সমাবেশ করবেন না। শুধু ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের ক্রোধ জানাবেন। পরে পুলিশের বেষ্টনীর মধ্যেই জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ বিশিষ্ট নাগরিকরাও তাদের সঙ্গে অবস্থান নেন। নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন হক ১০ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কোনো সমাধান নয়। ধর্ষণের সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন চান তারা। উত্তাল প্রেস ক্লাব এলাকা: নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা। বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। তাদের দাবি ছিল, ধর্ষণের ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে আমলে নিয়ে বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্ষণ ও লুটপাটের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) আয়োজিত মানববন্ধনে নেতারা বলেন, দেশে সন্ত্রাস ও ব্যভিচারবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এটা দমনের চিন্তা কেউ যেন না করে। ধর্ষকদের উপযুক্ত বিচার না হলে জনগণ মানবে না। মুখে 'জিরো টলারেন্স' বলে বাস্তবে আপস করলে সরকার জিরো হয়ে যাবে। বাংলাদেশ জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবদুস সালাম খোকনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, কেন্দ্রীয় নেতা করিম সিকদার, মনজুর আহমেদ মনজু, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, আসাদুজ্জামান জাকির, মহিউদ্দিন আহম্মদ, আশফাকুর রহমান সবুজ, ফারুক হোসেন চঞ্চল, সোলেমান দেওয়ান, শাহজাহান আলী সাজু, মাহফুজুর রহমান রাহাত, গৌতম শীল প্রমুখ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্ষণের প্রতিবাদে আরও বিক্ষোভ করেছে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, আওয়ামী ওলামা লীগ, মইনীয়া যুব ফোরাম, জাতীয় মহিলা পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি এবং আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠন। আরও প্রতিবাদ: রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ধর্ষক, স্বাস্থ্য খাতসহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজ ও রাষ্ট্রীয় লুটেরাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে জাতীয় যুব জোট। এ সমাবেশ থেকে ধর্ষকদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করে প্রকাশ্য দিবালোকে উন্মুক্ত স্থানে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্ষকের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে নির্যাতিতাকে প্রদান করার বিধান রেখে আইন সংস্কার করার দাবিও জানান নেতারা। জাতীয় যুব জোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম, সাইফুজ্জামান বাদশা, শরিফুল কবির স্বপন, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, কাজী সালমা সুলতানা, আশিফুর রহমান বাবু, প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ সুমন, সামছুল ইসলাম সুমন, পারভেজ আক্তার শিল্পী, রাশিদুল হক ননি, রেশমা হাবিব প্রমুখ। সারাদেশে নানা কর্মসূচি: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে রাজশাহীতে কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। সরকার ধর্ষণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে সংগঠনগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে পঞ্চম দিনের মতো গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে ছাত্রনেতা তামিম সিরাজী, আল রশিদ রাহী, মন্দিরা ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য দেন। জিরো পয়েন্টে নারী মুক্তি সংসদ রাজশাহী জেলা শাখা মানববন্ধন-সমাবেশ করে। নারী মুক্তি সংসদের জেলা শাখার সভাপতি তসলিমা খাতুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, নাজমুল করিম অপু, মনিরুজ্জামান মনি, অঞ্জনা সরকার প্রমুখ। এ ছাড়া নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের মানববন্ধনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বক্তব্য দেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজশাহী জেলা সংসদ নগরীর আলুপট্টি মোড়ে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করে। উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ জুলফিকার আহমেদ গোলাপের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মণ্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রশান্ত কুমার সাহা, অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকার, শাজাহান আলী বরজাহান, সেলিনা বানু, প্রশান্ত মিনজ প্রমুখ। খুলনা ব্যুরো জানায়, পিকচার প্যালেস মোড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দু'দিনব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম খুলনা মহানগর শাখা কর্মসূচির আয়োজন করে। সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটেও বিভিন্ন সংগঠন নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ সিলেট জেলা কমিটি ছাড়াও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলার মুখ সিলেট, গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, দুস্কাল প্রতিরোধে আমরাসহ কয়েকটি সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা শাখা। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করাসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক শওকত বাঙালি। কিশোরগঞ্জে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে শহরের নজরুল ইসলাম চত্বরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাবনা শহরের সাংস্কৃতিক চত্বরে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ, আলোচনা সভা ও গণসংগীত অনুষ্ঠান করেছে প্রত্যাশা, ব্রেড, পিসিডি, জনহিতৈষী সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। প্রত্যাশার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল বাতেন রুশদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সালফী আল ফাত্তাহ, সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ র্যালির আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এ সময় বক্তারা বলেন, ধর্ষক কোনো দলের হতে পারে না। ধর্ষকের পরিচয় সে ধর্ষক। ময়মনসিংহ জেলা সমকাল সুহৃদ নগরীর টাউন হল মোড়ে মানববন্ধন করে ধর্ষণকারীদের ফাঁসি দাবি করে। ভোলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে সুজন ভোলা জেলা কমিটি। তাদের স্লোগান ছিল 'সচেতন, সংগঠিত ও স্বোচ্ছার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ'। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী সাঁওতালদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালীতে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে চারটি মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা নাগরিক ফোরাম। মেহেরপুরের গাংনীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। দেশব্যাপী সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরের মিঠাপুকুরে মানববন্ধন করেছে মিঠাপুকুর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ। ঝিনাইদহের শৈলকূপায় শহরের চৌরাস্তা মোড়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে ঘরে-বাইরে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সুনামগঞ্জের ছাতকে কেশুর গ্রুপ টুরের উদ্যোগে জাউয়াবাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। লক্ষ্মীপুরে সুজনও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া বগুড়ার শেরপুর, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
6
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার আইন নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতসহ কোনও যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের কেউ স্বতন্ত্রভাবেও যেন অংশ নিতে না পারে সে দাবি জানাতে মঙ্গলবার কমিশনে সাক্ষাৎ করতে যান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ৮ সদস্য। কমিটির নেতারা আরো দাবি জানিয়েছেন, জামায়াতের অনুসারী বা নেতাকর্মী কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে যেন নির্বাচনে কোনোভাবে অংশ নিতে করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সিইসি এ বিষয়ে বলেছেন, এজন্য প্রয়োজনীয় আইন বাংলাদেশ নেই। পরবর্তীতে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়টিও আছে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংগঠনটির নেতারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে যাতে নির্বাচনে না নিয়োজিত করা হয়, সে দাবিও করেছে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের দাবীগুলো জানিয়েছেন। জামায়াত, যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আইন-কানুন পরীক্ষা করে আমরা অবহিত করবো। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি তো দল নয়, তারা কি এমন দাবি করতে পারে কিনা এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিব বলেন, যে কোনো সংগঠন আলোচনার জন্য সময় চাইলে, সিইসি সময় দিলে, আলোচনা করা যেতে পারে। তারাও তো ভোটার। ভোটাররাও তো আমাদের স্টেকহোল্ডার। আরো দেখুন : নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল : ইসি সচিবনয়া দিগন্ত অনলাইন;১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৪৫ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাকক্ষে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ওই বৈঠকে বসে কমিশন। বৈঠকের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিংক সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা আশা করি নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ইইউ বিশষজ্ঞ টিম পাঠাবে। তফসিলের পরে নভেম্বরে তারা দুই সপ্তাহ অবস্থান করে ভোটের পরস্থিতি দেখবে।' বৈঠকের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিংক সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা আশা করি নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ইইউ বিশষজ্ঞ টিম পাঠাবে। তফসিলের পরে নভেম্বরে তারা দুই সপ্তাহ অবস্থান করে ভোটের পরস্থিতি দেখবে।'
9
পঞ্চগড়ের বোদায় সরকারি গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।বোদা খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মো. সোলেমান আলী।এ সময় উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মকলেছার রহমান জিল্লু, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা আলিফ রেজা ও খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য ইউসুফ আলী দুলাল। চলমান আমন সংগ্রহ মৌসুমে বোদায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ধান প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে।
6
বরগুনার পাথরঘাটায় বীরাঙ্গনা পারুল রানীর (৯০) রানীর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তদন্ত সংস্থা শোক বার্তা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সংস্থার কো-অর্ডিনেটর এম. সানাউল হকের স্বাক্ষরিত একটি শোক বার্তা পাঠান মৃত পারুল রানীর বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানি গ্রামে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের সময় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বিরঙ্গনা পারুল রানী। পরদিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পাথরঘাটা উপজেলার নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) পারুল রানী মিস্ত্রীকে (৯০) যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়। মৃতুকালে তিনি দুই ছেলে দুই মেয়েসহ অনেক গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্বামী মনোহর মিস্ত্রী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, ছেলে মনমথ মিস্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেবর কর্নধর মিস্ত্রী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের শোক বার্তায় জানানো হয়, পারুল রানী নির্ভিক সাক্ষি, শত প্রতিকুলতার মাঝেও দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রমানে তদন্তকালে সাক্ষ প্রদান করেছেন। তার এই মাজসি কার্যক্রমের ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তদন্তকার্য করা করা সম্ভবপর হয়েছে। তার মৃতুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও তার আত্নার মাগফিরাত কামনা করছি। বীরঙ্গনা পারুল রানীর পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন ওই শোকবার্তায়। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রতিনিধি মো. জুলফিকার হায়দার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনমথ মিস্ত্রীর হাতে শোক বার্তা ও নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।
6
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং করেছে কি না, তা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল ছয় মাস ধরে তদন্ত করছে। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৪ জুলাই দুদককে এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে ইভ্যালির অগ্রিম নেওয়া ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শন প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই চিঠি দেওয়া হয়। যোগাযোগ করা হলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ইভ্যালির বিষয়ে ইতিপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের মানি লন্ডারিং অনুবিভাগের দুই সদস্যের টিমের মাধ্যমে প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করা হয়। নতুন অভিযোগ আগের অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন অভিযোগটি আরও সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এখন অনুসন্ধান কার্যক্রম যে গতিশীল হবে, বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত দলটির নেতৃত্বে আছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। অপর সদস্য হলেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক শিহাব সালাম। দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে নেওয়া ৩৩৯ কোটি টাকা ইভ্যালির আত্মসাৎ করা বা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে ২১৪ কোটি টাকা আর মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য কিনেছে ১৯০ কোটি টাকার। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু সম্পদ আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করে দুদককে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ইভ্যালির কোনো আর্থিক অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও ইভ্যালির ব্যাপারে আলাদা চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, 'সরকারি যেকোনো সংস্থার অনুসন্ধান ও তদন্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এটুকু বলতে পারি যে আমরা কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি, বিদেশে পাচারও করিনি। টেকসই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর স্বার্থে আমরা ব্যবসার উন্নয়নে খরচ করেছি। পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা আছে, সেগুলো ঠিক করার জন্য আমরা দিনরাত কাজ করছি।'
0
পদ্মা ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চর এলাকা আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন। শনিবার দিবাগত রাতে ভবনটি বিলীন হয়ে যায়।জানা যায়, ২০০৮ সালে হরিরামপুরের চরাঞ্চলে আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়। ভাঙন রোধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানিয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার প্রতিবেদন পাঠালেও ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এদিকে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভবনও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে স্কুল ভবন থেকে নদী তীরের দূরত্ব মাত্র ১৫০ মিটার।আজিমনগর ইউনিয়নের হালুয়াঘাট এলাকার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, পদ্মা ভাঙনে হুমকির মুখে আজিম নগর ইউনিয়নের ৬,৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। এই চারটি ওয়ার্ডে আজিমনগর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে চর অঞ্চলের একমাত্র এমপিওভুক্ত আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৭ নম্বর হারুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিঘাটা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে। আমরা চরাঞ্চলের লোকজন ত্রাণ চাই না, ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই।আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৌধুরী আওলাদ হোসেন বিপ্লব বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমার স্কুল ভবনটিও চলে যাবে।আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পদ্মা যখন ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে তখন একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। ইউএনও মহোদয়ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি। ভবনটি ভেঙে পদ্মায় চলে গেছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনসহ আজিমনগরে পদ্মার ভাঙন রক্ষায় একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি'।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আজিমনগর এলাকায় পানির স্রোত বেশি থাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভবনটি রক্ষা করা যেতো না। আর চরাঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ারও সুযোগ নেই'।
6
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠার পেছনে যে মহীয়সী নারীর নেপথ্য ভূমিকা আমরা দেখি, তিনি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর দুটি গ্রন্থ 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং 'কারাগারের রোজনামচা'র উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছেন তার প্রিয়তমা স্ত্রী 'রেণু'। বৃহৎ সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি অর্থসহ রাজনীতিতে নানাভাবে সহযোগিতা করে কীভাবে অনুপ্রেরণাদাত্রী হিসেবে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ভূমিকা পালন করেছেন, সে এক বিস্ময়। জেলবন্দি বঙ্গবন্ধুর কাছে জরুরি খবর, কর্মীদের কাছে নেতার নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়াসহ বহুমুখী ভূমিকা পালন করেছেন 'বঙ্গমাতা'। অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ঘটনাপর্ব ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৫। 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' লেখার প্রেরণা হিসেবেই বঙ্গবন্ধু সহধর্মিণীর কথা বলেছেন- "আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, 'বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী।' আমার স্ত্রী- যার ডাকনাম রেণু- আমাকে কয়টা খাতাও কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।" বঙ্গবন্ধু জীবনী লিখতেই বংশপরিচয় পর্বে আবার রেণুর প্রসঙ্গ। 'আমার দাদার চাচা এবং রেণুর দাদার বাবা কলকাতা থেকে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে চলে আসেন বাড়িতে। ...রেণুর দাদা আমার দাদার চাচাতো ভাই। তিনি তাঁর জীবনী লিখে রেখে গিয়েছিলেন সুন্দর বাংলা ভাষায়। রেণুও তার কয়েকটা পাতা পেয়েছিল যখন তার দাদা সমস্ত সম্পত্তি রেণু ও তার বোনকে লিখে দিয়ে যান তখন। রেণুর বাবা মানে আমার শ্বশুর ও চাচা তাঁর বাবার সামনেই মারা যান। মুসলিম আইন অনুযায়ী রেণু তার সম্পত্তি পায় না। রেণুর কোনো চাচা না থাকার জন্য তার দাদা সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। আমাদের বংশের অনেক ইতিহাস পাওয়া যেত যদি তাঁর জীবনীটা পেতাম। রেণু অনেক খুঁজেছে, পায় নাই।' কৈশোরেই কীভাবে শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে হয়, এ ব্যাপারে 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে বলা হয়েছে- "একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স ১২-১৩ বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাওয়ার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, 'তোমার বড় ছেলের সাথে আমার এক নাতনীর বিবাহ দিতে হবে। কারণ, আমি সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাবো।' রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হল। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন তার মা মারা যান। একমাত্র রইল তার দাদা। দাদাও রেণুর সাত বছর বয়সে মারা যান। তারপর সে আমার মায়ের কাছে চলে আসে। আমার ভাইবোনদের সাথেই রেণু বড় হয়। রেণুর বড় বোনেরও আমার আরেক চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিবাহ হয়। এরা আমার শ্বশুরবাড়িতে থাকল, কারণ আমার ও রেণুর বাড়ির দরকার নাই। রেণুদের ঘর আমাদের ঘর পাশাপাশি ছিল, মধ্যে মাত্র দুহাত ব্যবধান।" বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তা নানাভাবেই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে এসেছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জে মুসলিম লীগের এক কনফারেন্স করেন। তিনি লিখেছেন, 'অতিথিদের খাবার বন্দোবস্ত করার জন্য আমার মা ও স্ত্রী গ্রামের বাড়ি থেকে গোপালগঞ্জের বাড়িতে এসেছে। তিন দিন হলো আমার শরীরও খারাপ হয়ে পড়েছে অত্যধিক পরিশ্রমে। বিকেলে ভয়ানক জ্বর হলো। ...রেণু কয়েক দিন আমাকে খুব সেবা করল। যদিও আমাদের বিবাহ হয়েছে ছোটবেলায়। ১৯৪২ সালে আমাদের ফুলশয্যা হয়। জ্বর একটু ভালো হলো। কলকাতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবর্তী।' সময়ে সময়ে বঙ্গবন্ধুর অর্থের প্রয়োজন হলে কীভাবে ফজিলাতুন্নেছা হাত বাড়িয়ে দিতেন, এমনকি তিনি নিজে বেশিদূর লেখাপড়া না করলেও বঙ্গবন্ধুর শিক্ষায় কতটা যত্নবান ছিলেন তাও আমরা দেখি- 'আব্বা ছাড়াও মায়ের কাছ থেকেও আমি টাকা নিতে পারতাম। আর সময় সময় রেণুও আমাকে কিছু টাকা দিতে পারত। রেণু যা কিছু জোগাড় করত, বাড়ি গেলে এবং দরকার হলে আমাকেই দিত। কোনোদিন আপত্তি করে নাই, নিজে মোটেই খরচ করত না। গ্রামের বাড়িতে থাকত, আমার জন্যই রাখত।' রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু তখন ঢাকা জেলে বন্দি। জেলখানায়ও স্বামীকে টাকার কথা লিখেছেন রেণু। বঙ্গবন্ধুর বরাতে, 'রেণু তখন হাচিনাকে নিয়ে বাড়িতেই থাকে। হাচিনা তখন একটু হাঁটতে শিখছে। রেণুর চিঠি জেলেই পেয়েছিলাম। কিছু টাকাও আব্বা পাঠিয়েছিলেন। রেণু জানত, আমি সিগারেট খাই। টাকাপয়সা নাও থাকতে পারে। টাকার দরকার হলে লিখতে বলেছিল।' বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রীর কষ্ট নিজেও বুঝতেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, 'রেণু খুব কষ্ট করত, কিন্তু কিছুই বলত না। নিজে কষ্ট করে আমার জন্য টাকাপয়সা জোগাড় করে রাখত, যাতে আমার কষ্ট না হয়।' তিনি আরও লিখেছেন, 'রেণু তো নিশ্চয়ই পথ চেয়ে বসে আছে। সে তো নীরবে সকল কষ্ট সহ্য করে, কিন্তু কিছু বলে না। কিছু বলে না বা বলতে চায় না, সেই জন্য আমার আরও বেশি ব্যথা লাগে।' ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। অনশনে ছিলেন তিনি। ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। বাড়ি পৌঁছার পর রেণু বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে যা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষায়- "তোমার চিঠি পেয়ে আমি বুঝেছিলাম, তুমি কিছু একটা করে ফেলবা। আমি তোমাকে দেখবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। কাকে বলব নিয়ে যেতে, আব্বাকে বলতে পারি না লজ্জায়। নাসের ভাই বাড়ি নাই। যখন খবর পেলাম খবরের কাগজে, তখন লজ্জা-শরম ত্যাগ করে আব্বাকে বললাম... রওয়ানা করলাম ঢাকায়, সোজা আমাদের বড় নৌকায় তিনজন মাল্লা নিয়ে। কেন তুমি অনশন করতে গিয়েছিলে? কিছু একটা হলে কী উপায় হতো? আমি এই দুইটা দুধের বাচ্চা নিয়ে কী করে বাঁচতাম? হাসিনা, কামালের অবস্থা কী হতো? তুমি বলবা, খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট তো হতো না? মানুষ কি শুধু খাওয়া-পরা নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়? আর মরে গেলে দেশের কাজই বা কীভাবে করতা?' আমি তাকে কিছুই বললাম না। তাকে বলতে দিলাম, কারণ মনের কথা প্রকাশ করতে পারলে ব্যথাটা কিছু কমে যায়। রেণু খুব চাপা, আজ যেন কথার বাঁধ ভেঙে গেছে। শুধু বললাম, উপায় ছিল না।" বঙ্গবন্ধুর জন্য সর্বাবস্থায় নিজেকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখতেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পরের ঘটনা কীভাবে সামলান এই সংগ্রামী নারী, তা বঙ্গবন্ধুর জবানিতে- "বাসায় এসে দেখলাম, রেণু এখনও ভাল করে সংসার পাততে পারে নাই। তাকে বললাম,চ্ 'আর বোধ হয় দরকার হবে না। কারণ মন্ত্রিত্ব ভেঙে দিবে, আর আমাকেও গ্রেপ্তার করবে। ঢাকায় কোথায় থাকবা, বোধ হয় বাড়িই চলে যেতে হবে। আমার কাছে থাকবা বলে এসেছিলা, ঢাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ হবে, তা বোধ হয় হল না। নিজের হাতের টাকা-পয়সাগুলিও খরচ করে ফেলেছি।' রেণু ভাবতে লাগল, আমি গোসল করে ভাত খেয়ে একটু বিশ্রাম করছিলাম। বেলা তিনটায় টেলিফোন এল, কেন্দ্রীয় সরকার ৯২(ক) ধারা জারি করেছে। মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করা হয়েছে।" আমরা দেখি, 'কারাগারের রোজনামচা' গ্রন্থে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল জেল-জীবনচিত্র স্থান পেয়েছে। এই গ্রন্থেও বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রসঙ্গ এনেছেন বারবার। বঙ্গবন্ধুর জেলে থাকার সময়কালে তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে জেলে আসতেন স্ত্রী। ১৫ জুন ১৯৬৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, "সাড়ে চারটায় জেলের লোক এসে বলল- চলুন, আপনার দেখা আসিয়াছে, আপনার স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে বসে আছে জেল অফিসে। তাড়াতাড়ি রওয়ানা করলাম। দূর থেকে দেখি রাসেল, রেহানা ও হাচিনা চেয়ে আছে আমার রাস্তার দিকে। ১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসে না- যে পর্যন্ত আমাকে না দেখে। দেখলাম দূর থেকে পূর্বের মতোই আব্বা আব্বা বলে চিৎকার করছে। জেলগেট দিয়ে একটা মালবোঝাই ট্রাক ঢুকেছিল। আমি তাই জানালায় দাঁড়াইয়া ওকে আদর করলাম। একটু পরেই ভিতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিল। ওরা বলল, আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে আব্বার বাড়ি। এখন ওর ধারণা হয়েছে, এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়। ছোট মেয়েটার শুধু একটা আবদার। সে আমার কাছে থাকবে। আর কেমন করে কোথায় থাকি, তা দেখবে। ...কে বুঝবে আমাদের মতো রাজনৈতিক বন্দিদের বুকের ব্যথা। আমার ছেলেমেয়েদের তো থাকা-খাওয়ার চিন্তা করতে হবে না। এমন অনেক লোক আছে, যাদের স্ত্রীদের ভিক্ষা করে, পরের বাড়ি খেটে, এমনকি ইজ্জত দিয়েও সংসার চালাতে হয়েছে। জীবনে অনেক রাজবন্দির স্ত্রী বা ছেলেমেয়ের চিঠি পড়ার সুযোগ আমার হয়েছে। সে-করুণ কাহিনী কল্পনা করতেও ভয় হয়।" ২৬ জুন ১৯৬৬ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেলখানায় দেখা করতে আসেননি বটে, তাকে স্মরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু এভাবে- 'আজ তো রবিবার। কয়েদিরা কাপড় পরিস্কার করবে। ঠিক করেছি, স্যারিডন সহজে খাব না। মেট ও পাহারা কাহাকেও কিছু বললাম না। প্রায় দশটার দিকে আরাম লাগছিল। বাইরে থাকতে মাথাব্যথায় অনেক সময় কষ্ট পেতাম। স্যারিডন দু-তিনটা খেয়ে চুপ করে থাকতাম। আধা ঘণ্টা পরেই ভালো হয়ে যেতাম। আবার কাজে নেমে পড়তাম। রেণু স্যারিডন খাইতে দিতে চাইত না। ভীষণ আপত্তি করত। বলত, হার্ট দুর্বল হয়ে যাবে। আমি বলতাম, আমার হার্ট নাই, অনেক পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। বাইরে তার কথা শুনি নাই। কিন্তু জেলে ভিতর তার নিষেধ না শুনে পারলাম না।' বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা শেষ হয় ১৯৬৮ সালের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে। ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পেলেও সেনাবাহিনী পুনরায় তাকে আটক করে। এ সময়ও তার রোজনামচায় দুঃসহ বন্দিজীবন ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় উঠে এসেছে। জাতির পিতার জবানিতেই স্পষ্ট- শেখ মুজিব থেকে 'বঙ্গবন্ধু' হয়ে ওঠার পেছনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই মহীয়সী নারীর জন্মদিনে আমরা জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
6
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি বিধায়কের রহস্যজনক মৃত্যুর আঁচ পৌঁছাল দিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও অরবিন্দ মেননের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেছে। জানা গেছে, প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়, স্বপন দাশগুপ্ত এবং রাজু বিস্তা। বিজেপির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা যে ভেঙে পড়েছে, বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় 'খুন' হওয়ার ঘটনা তারই প্রমাণ। এজন্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার দাবিও তুলেছে বিজেপি। সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কোনো স্বরই নেই। পুরো ছড়ি ঘোরাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক তথ্য না-জেনে মিথ্যা চিত্রনাট্য তৈরি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতিকে 'প্রকৃত ও বিস্তারিত তথ্য' জানাতে আজ সকালে রাষ্ট্রপতি ভবন যেতে পারেন ডেরেকরা। বিজেপি প্রতিনিধিদল যেভাবে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে রাজ্য সরকারকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষ নির্বাচিত সরকারকে সরানোর ব্যাপারে বলেন, সেটা রাষ্ট্রপতি ঠিক করবেন। আমরা এখনো নৈতিক দিক দিয়ে ৩৫৬ চাই না। অগণতান্ত্রিকভাবে সরকার ফেলতে চাই না। আর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করলেও, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা ভাবা হচ্ছে না। উপরন্তু রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে সহানুভূতির ঝড় উঠবে। ভোটের বাক্সে তার ফায়দা পাবে তৃণমূল। অন্যদিকে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারির দাবিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চায় রাজ্য বিজেপি। এ নিয়ে পূজার পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছিল তারা। বিধায়কের রহস্যজনক মৃত্যু তাতে ইন্ধন যুগিয়েছে। এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিরোধীদের হত্যা ও কেন রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন তা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরব হবে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন হস্তক্ষেপ করে, সে জন্যও নিয়মিত কেন্দ্রের দ্বারস্থ হবে বিজেপি। সূত্র : আনন্দবাজার। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
নাটোরের সিংড়াউপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধ, শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেবৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ১৫২ জন ছাত্রছাত্রী তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদান করে। প্রতি ক্লাসে দু'জন করে মোট সাতজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম খোকন, সাবেক সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, সহকারী শিক্ষিকা দিপালী খাতুন, লতা আক্তার ওসহকারী শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
নিজ দেশে নির্বাসিত আমরা কিছু লোকএক চোখে জ্বালা আর অন্য চোখে শোককথা বুজে আসে রক্তে, শ্বাসে চাপা দমহত্যার লটারি আজ তুলল কার নাম? জঙ্গি নামক খুনিদের হামলার সময়ও মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়। ভয় না-পাওয়া কিছু মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ, যাঁদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের লোকও আছেন, তাঁদের হাতেও ধরা পড়েছিল কয়েকজন। বনানীর সুউচ্চ ভবনের সেই আগুনে মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন অগ্নিসেনা সোহেল। ভয় তাঁকে অবশ দর্শক করেনি। রানা প্লাজার নরকের গর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাঁচাতে ভয় পায়নি অজস্র তরুণ। কিন্তু যখন প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়, যখন বদরুল চাপাতি তোলে খাদিজার গায়, যখন হাতুড়ি পিটিয়ে কোমর ভাঙা হয়, আর যখন বরগুনার রিফাত শরীফকে কোপানো হয়, তখন মানুষ জড় পদার্থের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। প্রকাশ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাস দেখামাত্রই মানুষ বুঝে যায় তাদের পরিচয়। কারা এখন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ঘুরতে পারে? কোপাতে পারে যাকে-তাকে? কারা তারা, কারা তারা? চাপাতি-হাতুড়ি-বন্দুক কয়েকজনকে হয়তো খুন করে, কিন্তু হত্যা করে অধিকাংশের মানবতাকে, সাহসিকতাকে। মানুষ সবচেয়ে ভয় পায় তাদেরই, যাদের নাম নেওয়াও বিপজ্জনক। তখন মানুষ দর্শক হতেও ভয় পায়, পুলিশে ফোন দিতেও ভয় পায়। ধরুন, কিছু মানুষ ঘুরে দাঁড়াল। জাপটে ধরতে গেল অস্ত্রধারীকে। হয়তো সে নিজেও আহত হলো। কিন্তু সেখানেই তো ঘটনাটা শেষ হবে না। দুষ্টের বিচার আর শিষ্টের সুরক্ষা হবে না। অস্ত্রধারীরা ফোন দেবে তার দলবল-ভাইবেরাদরকে। তারা আসবে। প্রতিবাদকারীদেরও পেটাবে বা খুন করবে। থানা থেকে অপরাধীকে ছিনিয়ে নেবে। বিচারের দড়ি লম্বা করতে করতে কয়েক বছর পার করে ফেলবে। এর মধ্যে বাধাদানকারীরা তো বটেই, তাদের আপনজনেরাও ঝুঁকিতে পড়বে। সোনাগাজীর আগুনে-শহীদ নুসরাতের বাড়িতে পুলিশ পাহারা দিতে হয়েছিল কেন? অপরাধীদের পুলিশে দিয়েও ভয়ে থাকতে হয়, এই বুঝি খুনিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে প্রতিশোধ নিতে এল? এমনকি বিচারে শাস্তি হওয়ার পরও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না, মহান ক্ষমার ছায়া যদি ওদের বিদেশ পাঠিয়ে দেয়! মানুষ সব জানে ও দেখে। মানুষকে দুষে লাভ নাই। রিফাত শরীফের হত্যাকাণ্ড বোঝায়, কোন চেতনা অবশ করা ভয়ের পরিবেশে আমরা বাস করছি। যে ক্ষমতার চাপাতি রিফাত-খাদিজা-তনু-সাগর-রুনীকে কোপায়, যে ক্ষমতার হাতুড়ি মাজা ভাঙ্গে ছাত্রের, সেই চাপাতি-হাতুড়ি-বন্দুকই ক্ষমতার আসল চরিত্র-বাকিসব লোকভোলানো বিজ্ঞাপন। মানুষ দর্শক হয়ে যায়। কারণ মানুষ জানে চাপাতি একা নয়, সঙ্গে সহমতভাইরা আছে। এক চাপাতি বাধা পেলে হাজারো চাপাতি দৌড়ে আসবে, এক মানুষ খুন হলে লাখো মানুষ ভয় পাবে। মানুষ নৃশংস হয়ে যায়, কারণ তারা ক্ষমতার চরিত্রকে কপি করে ক্ষমতায়িত হতে চায়, কোনো বাধা তো নেই। বাধা তো আছে কেবল বাঁচতে চাওয়ায়। দুর্বৃত্ত ক্ষমতা মানুষকেও নষ্ট করে কাউকে ভীরু দর্শক আর কাউকে নির্দয় জানোয়ার বানিয়ে তোলে। আমরা তো আরও বহু অন্যায়ের দর্শক। আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপ, হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও পাচার। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি সুন্দরবন ধ্বংস হচ্ছে, ভোট ডাকাতি হচ্ছে, প্রতিবাদের অধিকার লোপাট হচ্ছে ৫৭ ধারায়। দেখতে দেখতে আমরা চীনদেশীয় সম্রাটের মাটির প্রজার মতো ভঙ্গুর ও জবরজং হয়ে গেছি। একটা আদিবাসী প্রবাদ আছে, যখন মাটি নষ্ট হয়, তখন মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়। সমাজ হলো মানবজমিন, সেই জমিনটাকে দুঃশাসন, দুর্নীতি, লোভ, ভয় আর লাভের টোপে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। যখন জনগণ শাসক বদলাতে পারে না, তখন শাসকেরাই জনগণের চরিত্র নষ্ট করে দেয়, বদলে দেয়। তাদের করে তোলে ভীরু, লোভী ও পলায়নপর। সাধারণ মানুষের দশা এখন খাঁচায় পোরা মুরগির মতো। একটি মুরগিকে তুলে নিয়ে জবাই করার সময় বাকি মুরগিগুলো কিন্তু নীরবই থাকে। তারা একসঙ্গে চিৎকার করে না, ছোটাছুটি করে না, খাঁচায় কামড় বসায় না। তাতে হয়তো কিছুই হতো না, কিন্তু কসাইয়েরা জানত যে মুরগিরা পোকামাকড়ের চেয়ে বেশি সরব ও প্রতিবাদী। যদি মানুষ এমন করে চিৎকার করত, ঠেকাতে যেত বা দূর থেকে ঢিলটাও মারত, তাহলে একজন মানুষের প্রাণ বাঁচতো আর খুনিরাও বুঝত, নাগরিক একা নয়, বিচ্ছিন্ন নয়, দুর্বল নয়। তারা ভয় পেত। বুঝে যেত যে কারও বউকে চুরি করা, কারও বোনকে উত্ত্যক্ত করা, কারও মেয়েকে ধর্ষণ করা কারও ভাইকে বা কারও বাবাকে হত্যা করা যাবে না। কিন্তু তা হয় না আর আজকাল। খুনের দৃশ্যের দর্শকেরা জানে, যে যেখানে দাঁড়িয়ে সে একাই দাঁড়িয়ে। সে বিচ্ছিন্ন নাগরিক। আইনের সুরক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন, সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন। সে নৈরাষ্ট্রের নৈনাগরিক। কিন্তু একজন মাস্তান, সন্ত্রাসী, ক্যাডার, নেতা যখন একটা আঙুলও তোলে, মানুষ বুঝে যায় সেই আঙুলের পেছনে পাওয়ারফুল বডি আছে। সেই বডিতে রাবণের মতো আছে মাস্তান, সন্ত্রাসী, ক্যাডার, নেতা, দল, এমনকি প্রশাসনের বহু মাথা। একটি রাখাল যেভাবে শত শত ভেড়ার পালকে নিয়ন্ত্রণ করে, আমরা সেভাবেই জীবন চালাচ্ছি। আমাদের হাত বাঁধা। বাঁধা অবস্থায় আমরা বিশ্বজিতের খুনিদের ছাড়া পেতে দেখি, সাগর-রুনি-তনু-অভিজিতের খুনের বিচার হতে দেখি না, দেখি প্রতিবাদীকে আরও বিপদ চাপাতে। দেখে দেখে আমরা নীরব হয়ে যাই। বাস্তবতা নামক টেলিভিশনে আমরা দেখি অপরাধের দৃশ্য আর হাত গুটিয়ে থাকি। হাত তুলতে পারি কেবল তালি দেওয়ার জন্য, যখন নাকি সেখানে ক্রিকেট খেলা হয়। যাদের কোনো ক্ষমতা নেই, তাদের জন্য অবশ্য রয়েছে ফেসবুকে সীমিত সুযোগের বিরাট অফার। প্রতিবাদ প্রতিবাদ প্রতিবাদ প্রতিবাদ। ভুলে যাওয়া ভুলে যাওয়া ভুলে যাওয়া ভুলে যাওয়া। আবার হত্যা হত্যা ধর্ষণ ধর্ষণ। আবার প্রতিবাদ, ভুলে যাওয়া, আহা উহু উফ্। ফেসবুকের প্রতিবাদের উৎসবে বিবেক শান্ত হতে পারে কারও, কিন্তু বাস্তবতা কিছুমাত্র বদলায় না। সীমিত মাত্রায় প্রতিবাদ করা যাবে কিন্তু কিছুই বদলাবে না, এমন পরিস্থিতিও টিকিয়ে রাখা হয় যাতে শেষ পর্যন্ত মানুষ বুঝে ফেলে যে প্রতিবাদ করে লাভ নেই। গত কয়েক বছরে সমাজে যে ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটতে দেখছি, তা ধ্বংসপ্রাপ্ত সমাজের আলামত। মানবজমিন যদি বিষাক্ত হয়ে যায়, মানুষ যদি ক্ষমতার দ্বারা অবদমিত থাকে, তাহলে বিকারগ্রস্ততা দেখা দেবে। বিদেশি দখলদারির কঠিন পরিবেশে, স্বৈরশাসনে, ভয়ানক দারিদ্র্য ও বেকারত্বে হতাশা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে সামাজিক স্তরে একের দ্বারা অপরের বিনাশ। এই বাস্তবতা আলজেরিয়ায় দেখেছি, হাইতিতে দেখেছি, আফ্রিকা-এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসনাধীন দেশে দেখেছি। মানুষ যখন নিপীড়নকারী ব্যবস্থা বদলাতে পারে না, তখন নিজেরাই বদলে যায়। তখন কেউ হয়ে পড়ে নিপীড়নের সহযোগী আর কেউ তার শিকার। শিকার ও শিকারি ছাড়া জংলি বাস্তবতায় আর কাউকে দেখা যায় না। ভাই তখন ভাইকে হত্যা করে, প্রতিবেশী ছাল তোলে প্রতিবেশীর। সমস্যার মধ্যেই সমাধান আছে। যখন প্রতিবাদে কাজ হয় না, তখন প্রতিরোধ করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়নের প্রতিবাদে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড লিখে একাই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেছিলেন। বিবেক যাদের ছিল, তারা তাতে নড়ে উঠেছিল। আমেরিকায় ষাটের দশকে এক কৃষ্ণাঙ্গ মা তাঁর শিশু হত্যার প্রতিবাদে লড়াই শুরু করে অনেককে জাগিয়েছিলেন। একসময় বদলে গিয়েছিল আমেরিকার বর্ণবাদী চেহারা। আজ আমাদের দৃষ্টান্ত চাই প্রতিবাদের, জাগরণ চাই মানবিকতার। একটা-দুটা বিচার হলেই সব থেমে যাবে না-যদিও সেই বিচারই-বা করে কে। বিচার হলেও হয় অনেক দেরিতে। এমন অবস্থায় সমাজ ও জনতা বলে কিছু যদি থেকে থাকে, তলানি থেকে তাকে জেগে উঠতেই হবে। মাঠপর্যায়ে অপরাধীরা অপরাধ করার আগে, পকেটে পিস্তল বা হাতে চাপাতি নেওয়ার সময়ই যাতে ভয় পায় পুলিশকে। পুলিশ যাতে ভয় পায় জনতার কাছে জবাবদিহিকে। জনতাকে যাতে ভয় পায় প্রশাসক ও শাসকেরা। তাই গণতন্ত্র যেমন লাগবে, তেমন লাগবে আইনের গণপাহারা। কিন্তু যখন জনতার মধ্যে সুবিধাবাদ, পুলিশ-শাসক-প্রশাসকের মধ্যে জবাবদিহির অভাব খুব বেশি, তখন সমাজটা হয়ে ওঠে মুরগির খোঁয়াড়। তখন অপরাধী ভয় পায় না, পুলিশ যেমন উচিত তেমন করে নড়ে না, তখন ক্ষমতাসীনেরা সুবচন দিয়ে শিশু ভোলানোর মতো কোটি কোটি মানুষকে ভোলান। তখন যা হওয়ার কথা, তা-ই হলো বরগুনার শরীফ হত্যাকাণ্ডে। আমরা কোন অবস্থায় বেঁচে আছি, তা যেন দেখিয়ে দিয়ে গেল। আমরা এমন এক জীবনমৃত্যুর খেলার লটারি কিনেছি, যেখানে কবে কার নাম উঠবে, তা আগাম বলার উপায় নেই। তবে এটা নিশ্চিত, আমাদের কারও কারও জন্য হয়তো আজই শেষ দিন। শেষ হবার আগেই জেনে যাওয়া ভাল, প্রথম হত্যাটা হয় অবিচারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া খুনের পরিবেশ, দ্বিতীয় হত্যা জনতার দর্শক হয়ে যাওয়ার মধ্যে। তৃতীয় যে হাতটি হত্যাটা ঘটায় সেটা করে খুনীরা। রিফাত হত্যা দৃশ্যে এই তিনপক্ষই যার যার ভূমিকায় দাঁড়ানো। নুসরাত হত্যায়ও কিন্তু জড়িত ছিল বহুপক্ষ। আমরা বড়জোর, খুনের প্রত্যক্ষ হাতটার বিচার চাই, প্রথম দুই হাতটাকে রেহাই দিয়ে গেলে মৃত্যুর লটারিতে আমাদের নাম ওঠানো আর বন্ধ হবে না। ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক। [] আরও পড়ুন:'আমি শত চেষ্টা করেও তাঁকে রক্ষা করতে পারিনি'এই রামদা কে দিয়েছে?রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১সমাজটা কোথায় যাচ্ছে: হাইকোর্টএভাবে প্রকাশ্যে কোপাল!
8
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ৪ মে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান সমকালকে এই তথ্য জানান। ওই দিন সকালে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করবেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন তিনি। এরপরই শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইলে ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ ফেব্রুয়ারিা। এরপর ২ মার্চ লিখিত পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন।
6
বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হওয়ার পর এর মালিক মোহাম্মদ সাহেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে থাকা তার ছবি পোস্ট করে লোকজন প্রশ্ন তুলছে, এমন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেরিয়েছেন? তার মালিকানাধীন অনুমোদনহীন হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন চুক্তি করল, তাও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন কেউ কেউ। অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেছেন, দুটি হাসপাতালের মালিক হওয়ার পরও মোহাম্মদ সাহেদ কখনও নিজের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেন না। তিনি দেশের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ব্যবহার করে অপকর্ম করতেন। নিয়ম না থাকলেও ফ্লাগস্ট্যান্ডের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও তাকে প্রায় দেখা যেত। টেলিভিশন টকশোতে প্রায়ই হাজির হতেন সাহেদ। সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত র্যাবের অভিযানের পর করোনা চিকিৎসা আর টেস্টের নামে রিজেন্টের ভয়ংকর অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের নামকাওয়াস্তে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে হাসপাতালটির মিরপুর শাখাও বন্ধ করে দিয়ে 'সিলগালা' করে দেয় র্যাব। এর আগে সেখানে ভর্তি কয়েকজন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যত্র। অভিযানের মুখে রিজেন্ট হাসপাতালের বহুল আলোচিত সমালোচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন। পালিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরাও। অবশ্য র্যাবের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ সাহেদ ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেও চিকিৎসার নামে কেন এত অনিয়ম করা হয়েছে, তা জানতে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। করোনা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের এমন অপকর্ম সামনে আসার পর কেন এ ধরনের ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানকে করোনা চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে মনোনয়ন করল সেই প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে জেকেজি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের অভিযানের পর ওই প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেকিজিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে করোনার টেস্ট করাচ্ছিল। মানহীন অখ্যাত এসব প্রতিষ্ঠানকে করোনার চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য মনোনয়নের পেছনে বড় ধরনের অসাধু চক্রের আর্থিক বাণিজ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে একাধিক সংস্থা। র্যাব জানিয়েছে, সোমবার অভিযান শুরুর পর রাতেই রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই হাসপাতালটির মালিক মোহাম্মদ সাহেদ এ কাজ করতেন। এ ছাড়া দুটি অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ব্যক্তির করোনার টেস্ট করায় রিজেন্ট হাসপাতাল। তার মধ্যে চার হাজার ২৬৪টি বৈধ জায়গা থেকে করানো হয়েছে। ছয় হাজারের মতো করোনার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে কোনো বৈধ টেস্ট ছাড়াই। প্রথমবার টেস্টের জন্য জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা ও দ্বিতীয়বার টেস্টের জন্য এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতারণার এ ঘটনায় নিজে বিপদে পড়তে পারেন, এটা আঁচ করতে পেরেই কর্মচারী ছাঁটাইয়ের নাটক সাজান রিজেন্ট মালিক সাহেদ। শুধু কর্মচারীদের ওপর এ অপকর্মের দায় চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন। আবার গোপনে কর্মচারীদের এটাও বলেছেন, খুব বেশি সমস্যায় তোদের পড়তে হবে না। তবে চার মাস ধরে বেতন-ভাতা অনিয়মিত হওয়ায় কর্মচারীরা রিজেন্টের মালিক পক্ষের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতাল অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হচ্ছিল। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, 'রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ তারা পেয়েছেন। প্রথমত, তারা করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করত। এ ধরনের ১৪টি অভিযোগ র্যাবের কাছে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় করেছে। পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়। তারা কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছেন, রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত ২০০ কভিড রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে। তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৃতীয় অপরাধ হলো সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের তারা কভিড পরীক্ষা করবে বিনামূল্যে। নমুনা পরীক্ষা করার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সারোয়ার আলম আরও জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স ২০১৪ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। র্যাব এমন একটি অভিযান চালাবে, তা টের পেয়েছেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। এজন্য কয়েকদিন আগে নিজের ফেসবুকে প্রচারণা চালাতে থাকেন অন্য কেউ তার নামে এমন অপকর্ম করছে। কৌশল করে তিনি এ নিয়ে থানায় জিডিও করেন।
6
'সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাঁচাতে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন চাই' স্লোগানে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এনভায়রনমেন্ট পিপল'। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটিঘাটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনটির ৪৫ স্বেচ্ছাসেবীসহ কয়েকশ' পর্যটক ও দ্বীপের বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে দ্বীপ বাঁচাতে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো বিদ্যমান প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, দ্বীপে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা, পর্যটক ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা, পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ করা। এর আগে দ্বীপ রক্ষায় সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনটি গত সোমবার সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন বাজার এলাকায় দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে। পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এনভায়রনমেন্ট পিপল'-এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহম্মদ। এ সময় বক্তব্য দেন চ্যানেল আইয়ের 'জীবন ও প্রকৃতি' অনুষ্ঠান বিষয়ে কপবাজারের উপদেষ্টা সরওয়ার আজম মানিক, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হক, ইউপি সদস্য আব্দু রউফ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ইয়াছিন, রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি এইচ এম নজরুল ইসলাম, এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর পরিচালক মো. হোসাইন, পরিচালক আজিম নিহাদ ও সেন্টমার্টিন যাত্রী পরিবহন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির আরেক পরিচালক শাহেদ মিজান।
6
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদ হোসেনের সঙ্গে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমানের বিরোধ চলছে। গতকাল রোববার পান্টির ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সামিউর সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। নির্বাচনে জয়ী গোলাম নবী আজ সকালে সান্দিয়ারা বাজারে জাহিদ হোসেনের সমর্থক শরিফুল ইসলামকে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন শরিফুলের লোকজন গোলাম নবীকে পিটিয়ে আহত করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম সেতু এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামদা, ঢাল, সড়কি, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ বিষয়ে সামিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'গতকালের নির্বাচনে আমার প্যানেল জয়লাভ করে। আজ সকালে জয়ী গোলাম নবী সান্দিয়ারা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গোলাম নবী, হৃদয়, হাসান, মহব্বত, টিপুসহ ১০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।' জাহিদ হোসেনের সমর্থক শরিফুল ইসলাম বলেন, 'সামিউরের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে কটূক্তি করেন। তাঁরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন। তখন আমাদের লোকজন তা প্রতিহত করেন। এ ঘটনায় আমাদের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।' এ বিষয়ে জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি এলাকার বাইরে আছেন। তবে উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক বলে তিনি জানান। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে এখনো জানা যায়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি
6